কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
বুধবার, ১৮ মে, ২০১৬
অদ্বুধুরে
অদ্বুধুরে সমকালঃ ভোটের প্রাককথন
অদ্বুধুরে
বিষয়ঃ সমকাল
‘কি করে তোকে বলব, তুই যে চামার’। না পেশাদার চসমখোর না হলে দুম করে কাওকে চামার বলা যায় না। তবে গলায়
গলায় বন্ধু হলে অবশ্য সবটাই সম্ভব। অবিশ্যি আজকাল গলায় গলায় বন্ধুত্ব আর হয় কোথায়, সবটাই জালি বন্ধুত্ব, মানে অন্তর্জালের মায়া। তার পরেও যদি বন্ধুত্বটা গলাতে কফের মত এসে আটকে
যায়,
তাহলে নির্ঘাত আপনি রামধনু পতাকার নিশ্চিন্ত
ছায়াতলে।
রামধনুর কথা উঠলে বঙ্গ
রাজনীতির কথা আর চাপা থাকে কি করে! অম্বলের চোয়া ঢেকুরের মত ঠিক টাকরার কাছে
জ্বালা করবেই। জোট ঘ্যোট রামধনু এই শব্দগুলো সারদা নারদা উড়ালপুলের মতই
প্রাসঙ্গিক। তাই, মমতাহীন সূর্যের
তাপে রাজনীতির মানসপুত্র পাবলিক, অধীর আগ্রহে
চাতকের মত ফলের প্রতিক্ষায় অমিতবিক্রম দেখানোর জন্য প্রস্তুত। অনু, পরমানুবোমা নিয়ে
ভেরীকাঘাতের জন্য প্রস্তুত। বিমান বাহিনী থেকে অর্জুনাশিষ্য সক্কলেই সব্যসাচী
স্বরুপ পঞ্চহস্তে প্রত্যাঘাতের জন্য প্রস্তুত। গণতন্ত্রের ভোটোৎসব, বঙ্গদেশে যেখানে চোদ্দতম পার্বন রুপে অত্যান্ত ভক্তিভরে ও সমারোহে পালিত
তথা পূজিত, এবং আরাধ্য দেব-দেবীরাও অত্যন্ত
জাগ্রত,
সেখানে বিনা রক্তপাতে পূজাচার সম্পন্ন হবে, সেটা ভাবার মত ম্লেচ্ছতর কর্ম আর দ্বিতীয়টি নাই।
রক্তের কথায় মনে পরে, প্রথম দৃশ্যঃ- কোলকাতায় মাথার উপরে, বিরোধীদের ভাষায় উন্নয়ন ভেঙ্গে পড়ল, বাম –ডান –রাম সকলেই ছুটিয়া চলেছে নিজের নিজের ইস্টাইলে। শাষক গোটা
মহাকরণটিকেই ঘন্টা দুয়েকের জন্য ভাঙ্গা ব্রিজের তলে স্থানান্তরিত করে ফেল্লো, তো আবার বাম মানিকতলায় রক্তারক্তি কান্ড ঘটাচ্ছে, আর ‘রাম’ মাঝ রাতের কিছু আগে সুসজ্জিত হইয়া একবার আবশ্যিক হাজিরা দিয়ে মুখ
রক্ষা করল। সমগ্র বঙ্গবাসীর সে কী আকুল হায় হায় রব। এমনকি
তাসলিমা নাসরিনও ফেসবুকে একটা গোটা প্রবন্ধ লিখে ফেল্লো। সমবেত দীর্ঘশ্বাসের গরম হাওয়াতেই যাবতীয় ঘা- ফুসকুরির
উপরে পুরু মামরি জমে গেল।
এবার দৃশ্য দুইঃ শান্তিপুর। আবার ঘটল নৌকাডুবি। না, এ মোটেই কাব্যের নৌকাডুবি নয়, তাই অন্যের বউ লাভের সৌভাগ্য ঘটে নাই। যেটা ঘটেছিল তা হল
শুধু হাহাকার। স্থানের নাম কাল-না হলে কি হবে, কালবিলম্বের অন্য তম সাক্ষী এই নৌকাডুবি এবং কালনা মহকুমা হাসপাতাল।
চুরান্ত প্রশাসনিক অদক্ষতা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। আমাদের বিদায়ী (জানিনা পরবর্তী তে
আসবেন কিনা তাই) মুখ্যমন্ত্রীর দর্শনে “ ওটা তো গ্রামের ঘটনা”, বলিয়া উনি হয়ত আসেন নাই। যেহেতু ওখানে শাসক নেই, তাই খুব স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের মহাজোটও নেই। লম্বা দাড়ির জমিয়েত নেই, হাফপ্যান্টের গলার শির ফোলানো দেশপ্রেমিকের দলও নেই।
তবে জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থীর মারের চোটে লাল হয়ে ফুলে যাওয়া লোমশ
পৃষ্ঠদেশ যতটা ফুটেজ পেয়েছে, মূল নৌকাডুবি
কিছুক্ষনের জন্য TRP হারিয়েছিল।
আসলে এমনিতেই বিরাট কোহলির ফর্ম সপ্তমে, তাই আইপিএল আর ভোটের ফলের পূর্বাভাস দেওয়া হাফ জ্যোতিষী হবার মত গরম রগরগে টপিক ছেড়ে
কে ওই ঘোলা জলে যায় বলুন তো?
আরে বাবা কটা হিন্দু মরলো, কটাই বা নেড়ে
পাপীষ্ঠ, কতগুলো
দেশদ্রোহী, গুন্তি করার
জন্য কেউ নেই। দাড়ি হয়ত ভাবল , আরে ও কটা তো হিঁদু, মরুকগে। টিকির দল ভাবল , এ হল ইশ্বরের আশীর্বাদ, সরাসরী গঙ্গাপ্রাপ্তি। এ বড়ই সৌভাগ্যের, তাই ভগবানের কর্মে কাঠি না করায় শ্রেয়। পাবলিক কিন্তু ভাবিয়াছে। তাদের
যাবতীয় ক্ষোভ সহ সলিলসমাধি হওয়া মানুষ গুলোর আত্মার তর্পনের উদ্দেশ্যে কয়েকটা নৌকা
ট্রলার পুড়িয়ে শ্রাদ্ধ শান্তি দায়িত্ব সহকারে করেছেন। মাঝখান থেকে ভবাপাগলা মুচকি
হেসে এককুড়ি লাশের তর্পন অত্যন্ত প্রসন্ন চিত্তে গ্রহন করিয়া নিজেকে জাগ্রত প্রমান
করিলেন।
দুঃখের কথাটা অন্য স্থানে। নির্বাচন কমিশনকে ভোটে লড়তে হয়না, তাই তাদের মৃত পরিবারকে ক্ষতিপূরন দেবারও দায় নেই।
ঘটনাক্রমে রাজ্যটা এখন তাদেরই অধীনে। দিদি বা দাদা কেউই পরবর্তী উৎপীড়ক পদের জন্য ঠিকঠাক আত্মবিশ্বাসী নয়, তাই কেও জলে ঝাঁপিয়ে পড়েনি। ২০ টা লাশ মিলুক বা নিখোঁজ, এখন সেটা ৪০ হলেও কী আসে যায় তাতে, কারন জল বা জলপথ কোনটাই যে ইঞ্চিতে মাপা সম্ভব নয়।
ধর্ষণ এখন, বোরোলীনের বিজ্ঞাপনের মতই “বঙ্গ জীবনের অঙ্গ”। আজকাল
বৈদুত্যিন মিডিয়ার কল্যানে জাপানী তৈল আর রকেটে ক্যাপসুলের দরাজ উপস্থিতিই চোখের
তথাকথিত পটিকে উল্টিয়ে দিয়েছে। তাই দুই হস্ত ও পদযুগল ব্যাতিরেকেও পুরুষলিঙ্গ এক্ষেত্রে পঞ্চম হস্ত স্বরূপ। রাগ হলে ধর্ষণ করা যায়, একাকিত্ব কাটাতে ধর্ষণের জুড়ি নেই, হর্ষ ও উল্লাসের
আধুনিকতম মূর্ত প্রতীক হল এই ধর্ষণ। ক্লাবে, রকে, ঠেকে, কোর্টে, সংবাদপত্রে, আইনসভা থেকে মাচা সর্বত্র ধর্ষণ সম্বন্ধীয় গূঢ় আলোচোনায়
নিমগ্ন। মুড়ি আর আলু শুনেছিলাম সব কিছুতেই চলে, ধর্ষণটা নবতম সংযোজন। এর পর জন্মদিন বা শ্রাদ্ধানুষ্ঠানের মেনুতে হয়ত একটা
ধর্ষণের পদ রাখা হবে। কারন বৈবাহিলক
সম্পর্কে ইতিমধ্যেই ধর্ষণ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
অনেকেই সুখ পেতে চায়, কারো সুখ ত্যাগে- তো কারো ভোগে।
ঠিক তেমনই কেউ কেউ যন্ত্রণা চায়।
কারন তারা একঘেয়ে সুখের জীবনে আর বৈচিত্র পাচ্ছেনা, তাই যন্ত্রনাই চাই, যাতে সুখকে আবার খুঁজে পাওয়া
যায়। আজকাল দেশের হত্তাকর্তারা চারিদিকে মৌলবাদী মেরুকরনকে এলাকোষীর মত, চুলকানির কারক হিসাবে ছিটিয়ে , দ্রব্যমুল্য বৃদ্ধি ও দুর্নীতির রাম চিমটি কেটে , পাবলিককে বলছে “একটু হাসুন”। বলি কাকা, আফনেরা যা কত্তিচেন, তাতে ঘোড়াতেও হাসতিসে, আমি তো কোন ছাড়।
দোলে দোদুল দোলে দোলোনা... কি করে আর দোদুল দুলবে! আন- দোলনের চোটে ত্রাহী
ত্রাহী রব বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর গুলোয়। বিশেষ করে যেখানে লাল ঝান্ডার রাজত্ব।
ঐতিহাসিক ভাবে সত্য এটাই যে, চুরান্ত
ধান্দাবাজ ছাড়া কোন শিক্ষিত চিন্তাশীল রুচীবান মানুষ উগ্র মতাদর্শবাদী কোন দল বা
সংগঠনের সাথে নিজেকে জড়াবেন না। তার পরেও যদি কেউ জড়িয়ে যান, সেটা নিশ্চই তার
সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে। আর এ রোগ বড় ছোঁয়াচে। বিগত শতাব্দীর হাম, যক্ষা বা কলেরার থেকেও মহামারী। সমগ্র বিশ্বে নানা বেশে, নানা রঙে রাঙানো এদের পতাকা। নাম আর অবস্থান ভেদে এদের
মৌলিক চরিত্রের কোন পার্থক্য নেই। আমাদের দেশের সমস্যাটা হল, এরাই দেশপ্রেমের সার্ভিস সেন্টার খুলে বসেছে। হয় এদের
রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নাও, নইলেই চাপাতি।
ধুতে বাছতেই সাবার, তো পাগলা খাবি
কি!
মধ্যবিত্তের অবশ্য কোন কিছুতেই কোন হোলদোল নেই। মেনকা বৌদির সাথে ঘেমো
সম্ভোগে বরং বেশি কসরৎ করতে হয়, আর তা না থাকলে
মোবাইলের মায়াবী স্ক্রীনে সানি মামনি।
স্খলনের রেডিমেড পন্থা। ওই টুকুই তো রোমান্স, দেড় থেকে বড় জোর ১০ মিনিট, বাকি তো সেই
এবিপি আনন্দ নাহলে সাবটিভির জ্যেঠালাল। সকালে উঠে ইলিশের দাম দড় করে চুনো মাছ কিনে বাড়ি এসে, একটা ‘উইন উইন’ ভাব তৈরি করা। অফিসে... গরমে দুদন্ড শান্তি নাই। গরমকাল এমনিতেই “ফলে
ফলে ঢলে ঢলে... , আম জাম কাঠাল তো
আছেই সাথে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক
জয়েন্ট,
আর এবছর তো কুম্ভযোগ। বিধানসভার ফল। আর তার
জন্য কী রোমান্টিক দীর্ঘ প্রতিক্ষা।
প্রতিযোগীদের জন্য অবশ্য কমোডে বসে কোষ্ঠকাঠিন্যের
সুখানুভূতি।
একটা দল যদি মনোজদের অদ্ভুতবাড়ি হয়, তাহলে আরেকটি নিশ্চিত হযবরল। নরেন খুড়ো মাঝে মাঝে তারিণী খুড়ো স্টাইলে
আষাঢ়ে গপ্পো শুনিয়ে যাচ্ছেন, সে পর্যন্তও
মানা যেতেই পারে, বাস্তবিক
মানছিও। কিন্তু এরা টম জেরির স্টাইলে মারামারিটা করতে পারেনা। মারবে কিন্তু মরবে
না। কথায় কথায় বাপ-মা তুলে উদোম খিস্তি। বলি সাগর ঘোষ বেনে বা বানিয়ে কি লাভ! আদপে
তো সব্বাই সেই হৃদয়।
দেশ যে দ্রুত হারে উন্নয়ন করছে তা আমাদের শাষক দলের নেতাদের দেখলেই বোঝা যায়।
দেখুন কেউ তো আর দাতা কর্ন নয়, যে সব ভুলে পরোপকার্থে ঝাঁপিয়ে পরবেন। আরে বাবা ঝাঁপানোর জন্য দেহে বল
প্রয়োজন, তার জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন নিজের
উন্নতি,
স্ব-উন্নয়ন চুরান্ত সীমা অতক্রম করে নিশ্চিত
উপচে পরবে, আর আগামীতে তারা ক্ষমতায় এসে এই
উপচে পরা উন্নয়নের বন্যায় দেশবাসীকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। বিরোধী আসনে বসলে শক্তিশালী বিরোধী হবেন যে তাতে সন্দেহ
নাই।
বিপ্লব স্তিমিত নেই, কোথাও প্রেমের
তো কোথাও যৌনতার। বিপ্লব এখন রিলে রেস হিসাবে চলছে। আজ রোহিত ভেমুলা তো কাল কানাইয়া কুমার। অবশ্যই মাননীয়
শঙ্কু স্যার প্রবাদপ্রতিম। মাঝে ঘোষ বাবুও লাইমলাইটে আসার কম চেষ্টা চালাচ্ছেন না।
কিন্তু লাইম মানে চুন, আর পরিমান না
জেনে খেলে গাল পুড়বে, হচ্ছেও তাই। ইথারের দুনিয়া বিপ্লবের পরিসরকে বাড়িয়ে দিয়েছে সন্দেহ
নাই। কিন্তু সমাজটা তো মধ্যবিত্তের। যারা সেফ খেলতেই পছন্দ করেন। এনারা
অন্তর্জালের সম্রাট, নিতান্তই ভাতের
থালায় লাথ না পরলে পথে নামেন না, তাও সেলফি
তুলতেই অর্ধেক সময় কেটে যায়। এর পর আছে ঠিকিঠাক
প্রফস নির্বাচন। বায়ু আর ইশ্বরের মতই তৃতীয় সত্য হচ্ছে মিডিয়া, জলে স্থলে অন্তরিক্ষ সহ এরা সকল স্থানেই হাজির। কিছু কিছু মানুষের
মনেও। বিপ্লবের শীঘ্রপতন। বাটিকা স্বরুপ যে সকল জরিবুটির
আমদানি হচ্ছে তাতে স্ট্যান্ড আপ কমেডিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে- বিপ্লব বাবু। যেন, চুমু- ন্যাপকিন বা ব্রা-প্যান্টি।
চটির স্বর্ণযুগ কখনও লেখা হলে, তা নিশ্চত এই সময়কালটাই যে হবে তাতে কারো সন্দেহ নাই। নবান্নে হোক বা
সাংবাদিক বৈঠকে- বক্তাকে লক্ষ্য করে ছুড়ে, আবার বটতলার চটির অনলাইন সংস্করণের একনিষ্ঠ পাঠক হয়ে, চটিকে আমরা অমরত্ব প্রদান করেছি।
বিগত পাঁচ বছরে ভাগ্যিস আর কোন শিক্ষক নিয়োগ হয়নি, নাহলে সমাজে ক্লীব লিঙ্গের সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেত
আদমশুমারিতে। শিক্ষক প্রজাতি এক বিশেষ ধরনের অজানা ভাইরাসের প্রভাবে অভিযোজিত হয়ে এই পর্যায়ে উপনীত। এরা সময়ে বেতন পান না, কাজের ঠিক নেই, অনেক শিক্ষক আছেন যাদের ছাত্রদের পড়ানো ছাড়া বাকি সকল কিছুই করতে হয়। এনারা
নিজেদের প্রাচীন যুগের দাস হিসাবে ভাবতে পছন্দ করেন। প্রতিবাদ কী জিনিস এনারা জানেননা, কেও কেও তো এই শব্দটার নামই শোনেননি, কেও ভুলক্রমে শুনে ফেললে এটা নিষিদ্ধতালিকায় ফেলে ব্লক
করে দিয়েছেন। নিতান্ত হাতেগোনা ব্যাতিক্রম ছাড়া কেউ শত অপমানেও মুখে রা কাটেন না, কিন্তু ফেসবুকে নীতিকথায় ফোয়ারা ছোটান। মোটকথা সমাজের সবচেয়ে ভীরু প্রজাতি
হল শিক্ষক সমাজ।
উদয়ন পন্ডিতেরা আজ রাজার আস্তিনের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। এবিপিতেও এক উদয়ন
আছে বটে। বাকি যারা ছিলেন তাদের জন্য যন্তরমন্তর ঘরের মগজধোলাই। ব্যাস, বৃত্ত সম্পূর্ন। তাই কেউ বলার নেই ‘দড়ি ধরে মারো টান”... তবে হ্যাঁ, আধুনিক শিক্ষকেরা ফেসবুকটা করেন মন দিয়ে, সাথে এঁড়ে তর্ক।
আমার চেনা পরিচিত এমন কয়েকজন আছেন, আগামিতে বিএড করার পাশাপাশি ফেসবুকের এক্টিভিটিও যেন মার্কসে যোগ হবে এই ভেবে ফেসবুক করেন ও করতে
উৎসাহ দেন। আসলে পেটের গন্ধবায়ু পায়ুদেশ দিয়ে নির্গমন হবার যেমন রাস্তা, বর্তমানে ফেসবুকও শিক্ষকদের গন্ধবায়ু নির্গমনের স্থান। যাবতীয় না পাওয়ার ক্ষোভগুলো ফেবুতে এসে বমি করেন।
শিক্ষকদের জাতীয় মুখ যদি বিজন সরকার হয়, তাহলে বলতে হবে এটাই হওয়ার ছিল। আমার লেখায় যাদের যাদের গাত্রদাহ শুরু হল, তাদের বলি একটু নবরত্ন ঠান্ডা কুল পাওডার মেখে উলটো কাতে
শুয়ে পরুন। কারন ওর বেশি কিছু করতে মন চাইলেও মুরোদ নেই।
সুতরাং, নিঃবংশের নাতি মরে আগে, সেই অমোঘ সুত্র মেনেই সকলের আগে, এককালে কথিত সমাজের মেরুদন্ড স্বরুপ শিক্ষক জাতটার
মেরুদন্ডই ঘুন পোকায় ঝনঝনে হয়ে গেছে। বাঁচাবে কে আমাদের? নিন্মমেধার বা অশিক্ষিত রাষ্ট্রনায়কদের দাপাদাপি তাই
তলিয়ে যাওয়া সমাজের প্রকৃষ্ট বিজ্ঞাপন।
শনিবার, ১৪ মে, ২০১৬
পরিনয় সুত্র
সামনেই পরিনয় মরসুম, অনেক বন্ধুই ভীষন অনিয়মিত সোশ্যালমিডিয়াতে। আমরা জানি ওরা যুদ্ধপ্রস্তুতিতে নিমগ্ন। আমরা যেমন সং সেজে নাচছি সার ভেবে, হয়ত কিছুটা তেমনই। তাই ওদের জন্য কিছু বর্ষা সেলের ফ্রি টিপস রইল।
সে যাই হোক আশু, তোমাদের সামনে কুরুক্ষেত্র, সেপ্টোপাসের খিদে বলেও অত্যুক্তি হয়না। ডাইনে বাঁয়ে অগুন্তি পোড়খাওয়া যোদ্ধা, সশস্ত্র; কিন্তু এ যুদ্ধে তুমিই একমাত্র বর্মধারী সৈনিক। শিরোস্ত্রান পরিধান করে ক্ষুধার্ত বিড়ালের মত চুপিসারে লেজ ফুলিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দাও। এ যুদ্ধে হুঙ্কার চলেনা, তাই ওটার চেষ্টা কোরোনা। যানবাহন ব্যাবহার কোরোনা যুদ্ধস্থলে। যদিও স্থলে যুদ্ধ, তবে জলের উপস্থিতিও আছে যদিও তাতে ডিঙি ভাসবেনা। আকাশ থেকেও আক্রমন করতে পারো তবে সেটা ‘রকেট’ নিয়ে নয়। বরং, ইন্দ্রজিতের মত মেঘের আড়ালে, ‘ঘোমটা সরিয়ে’।
জানো বন্ধুরা, যুদ্ধ ময়দানে কবিতা লেখা হয়না, কিন্তু যুদ্ধ কবিতার জন্ম দেয়। ফুল যুদ্ধ চেনেনা, উর্বর মাটি আর যোগ্য আবহাওয়া পেলেই ফুল ফুটে যায়; তাই আগে দেখে নিও, নাহলে যুদ্ধে হারজিৎ তো আছেই, মাঝখান থেকে তোমার অজান্তেই হয়ত ফুলের বাগানটা তছনছ হয়ে যাবে। দেখা যাবে ভরন্ত বাগানে যখন ফুলের গন্ধে নিজেকে হারাবার সময়, তুমি যুদ্ধ শুরু করলে। বিশ্রী কান্ড, তখন শুধুই মাটি পরে থাকবে। তাই শুরুতেই বোমা মেরোনা, প্রথমে হাতাহাতিই শ্রেয়। তারপর নাহয় অস্ত্র।
বন্ধুরা, পেটে খেলে পিঠে সয়, কিন্তু পিঠে সইলেই পেট ভরেনা। বরং পিঠে ভরসার হাত রাখলে পেটের কথা ভুলে থাকা যায়। কসরৎ অতি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য, কিন্তু ওতে অযথা শক্তি ক্ষয় করে ময়দানে ফুলোফেঁউটি বনে গেলে- আমিই লজ্জাই মরে যাবো।
এর পর সময় করে পরিকল্পনা করে নিও। মহুল বনের সেরেঙদের কাছে পাওয়া পাকা খবর, মধুকরেরা প্রস্তুত। শশীরঞ্জনকে সাথে করে নিয়ে দখিনা বাতাসের বাড়ি যেতে ভুলোনা। যুদ্ধে রক্তপাত অবসম্ভাবি বহিঃরঙ্গে বা অন্তরে। কারন রক্তের চরিত্র অশ্রুর মতই- খুশিতেও বের হয়, দুঃখেও। তোমরা সৈনিক, সেতুবন্ধন যে তোমাদেরই দায়িত্ব। তাই কেউ চেনেনার দেশে নিজেকে নিয়ে যেতে ভুলো না।
তোমরা এখন সুত্র মুখস্ত করো বরং। যেমন আর্কিমিডিস, কেসি নাগ ইত্যাদি। ‘কাম’-কাজে আজকাল সুত্র ভীষন জরুরী। প্রয়োজনে রেখাপাত অনুশীলন করো। রবি ঠাকুরকে (আক্ষরিক অর্থে ইংরাজী তর্জামা নিজেই করে নিও) জপ করো। গান করো ও প্রস্তুত রাখো। তেল মেরোনা কাওকে, পারলে ‘একসপ্তাহে তিনবার’ মন্ত্রটা ঘুমাতে যাওয়ার আগে নিবিষ্ট চিত্তে গোঁঙানি সহ রেওয়াজ করো। ভীষন জরুরী।
পুনশ্চ:: মন অশান্ত হলে ফুলছাপ অন্তর্বাসে ডিও স্প্রে কোরো। এমন জ্বলবে যে মন খারাপের কথা নিশ্চিত ভুলে যাবে। এর চেয়ে সহজ আরো একটা উপায়- মদনবালা দেবীর কামনাপরাগ, সরবিট্রেটের মত জিভের নিচে এক ডোজ রেখে দিও, মনে পুলক জাগবেই।
উপরক্ত সকল কর্মকাণ্ড গুলি নিজশ্ব পরিক্ষাগারে পরিক্ষিত। নাবালকেরা প্রশিক্ষক ছাড়া চেষ্টা করিবে না।
তোমার শুভাকাঙ্ক্ষী।
ইতি-
তোমার ভাই
বুধবার, ১১ মে, ২০১৬
রাইসমিল সংক্রান্ত কিছু কথা
সংবাদে প্রকাশ রাইসমিল সংগঠনগুলির সরকারি ধান ভাঙানোতে না, ও সেই সংক্রান্ত কিছু কথা।
সবার আগে রাইসমিল গুলোর ইতিহাসটা একটু জানা প্রয়োজন।
৭০-৮০ এর দশকে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় সর্বত্রই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাস্কিং মিল
বা পাড়ন রাইস মিলগুলো মূলত তারাই করেছিলেন যারা মফঃস্বলের ‘বড়লোক’, বাড়িতে একটা গাদা বন্দুক আছে, যাদের বাবা কাকা মিলিয়ে বেশ কিছু পরিমান জমিজমা ছিল
তারাই। আর হাতে কিছু নগদ টাকারও জোগান ছিল তাদের। ব্যাঙ্ক লোন তখনও এই পৃথিবীতে
প্রবেশ করেনি। তখন আজকের এই উচ্চফলনশীল লালস্বর্ন বা IR- 64, বা নিদেন পক্ষে গুটকা GS ক্যাটাগোরির ধান ছিলনা। তাই নামে রাইসমিল হলেও আসলে একটু উন্নত ধানকলই ছিল।
এর পরে কৃষতে আমুল পরিবর্তন ঘটে। সেচে, বীজে, ট্রাক্টরে, কৃষি ঋণ সংস্কারের ফলে গ্রাম্য কৃষিতে বিপ্লব আসে, ৯০ এর দশকের শুরু থেকেই। উপরন্তু সরকারি মিনিকেট
(ধানবীজ) পেয়ে উচ্চ ফলনশীল ফসল ফলাতে শুরু করে চাষীরা। তখন শহরাঞ্চল ব্যতিত চাল
কেউই কিনে খেত না তেমন। গ্রামের সম্পন্ন মানুষেরা বাড়িতেই সিদ্ধ-ভাপাই করে চাল বানাতেন। মজুরেরা গৃহস্হের
থেকে মজুরী বাবদ চাল পেতেন। তাতেই চলে যেত। এইসময় নিজের প্রয়োজন মিটিয়েও অতিরিক্ত
ধান বেচতে গিয়ে চাষীরা দেখল ধান কেনার খরিদ্দার নেই। যদিও বা কেও নিতে রাজি হলেন
পয়সা কবে দেবেন তার কোন গ্যারান্টি ছিলনা।
ঠিক এইমত পরিস্থিতিতে বাজারে অবতীর্ন হলে মাড়োয়ারী সম্প্রদায়ের
ব্যবসায়ীরা। সাথে নিয়ে এলেন সামান্য পুঁজি, তৎকালীন উন্নত প্রযুক্তি আর প্রখর ব্যবসা বোধ। ব্যাস প্রতিযোগিতাতে ঠিকে
থাকতে না পেয়ে অচিরেই সেই পুরাতন বাঙালী রাইসমিলগুলির অবলুপ্তি ঘটল। তখনও সরকার
ধানকল সম্বন্ধে চরম উদাসিনতাই দেখিয়েছিল যেন চালচুলোটা তো ঘরোয়া বিষয়, ওখানে আর সরকার কি করবে?
৯০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই, মানে ৫-৭ বছরের মধ্যেই “রাইসমিল” বাজারের ৯৫% এর বেশি মালিকানা অবাঙালীদের
হাতে চলে গেল। চাষীদের কাছে তখন অতিরিক্ত ফলনের ধান মজুত। সুতরাং বাজারে ধানের ফড়ে
বা দালাল গোষ্ঠীর জন্ম হল। মানে এনারা চাষীর থেকে , বস্তা- লেবার – গাড়ি করে ধানটা মেপে নিয়ে মিল পর্যন্ত পৌছে দেবে, তার জন্য মিলের আর চাষী উভয়ের থেকেই একটা পার্সেন্টেজ
পাবে। আর চাষীকে টাকা দ্রুত পেতে সাহায্য করবে। দাম দরের তেমন সুযোগ ছিলনা, মিলারের খুশিতে দাম নির্ধারিত হত।
আমি নিজে সাক্ষী, কালনার এক
মাড়োয়ারী রাইসমিলে আমার দাদু ধান বেচে এসে ১১ মাস পর টাকা ফিরত পেয়ে ধন্য
হয়েছিলেন। এটাই ছিল খুব স্বাভাবিক ঘটনা। ফলে সেই আমলের রাইসমিলার গুলো রাতারাতি
ফুলে কোলাব্যাঙ হয়ে যায়। অগাধ পুঁজির রমরমাতে একটা থেকে পাঁচটা রাইসমিল তৈরি হতে
সময় লাগলনা। সাথে অন্যান্য ব্যাবসাতেও সেই বিনা সুদের চাষীদের টাকা খাটতে লাগল।
সরকার সেই সময় একটাই কাজ করেছিল। প্রতিটি রাইসমিলের গেটে লাল ঝান্ডা লাগিয়ে একটা
করে সিটু ইউনিউন বানিয়েছিল, যাতে প্রতিটি
মিছিলে প্রতি রাইসমিল থেকে কমপক্ষে ২০০ লোকের যোগান নিশ্চিত করতে।
এর পর নতুন শতাব্দীর দোরগোড়ায়। যখন খোলা বাজারে নানান অর্থলগ্নী সংস্থাগুলো
নতুন মেসিনারির উপরে লগ্নি করার জন্য গায়ের চামড়া খুবলে নিচ্ছে। রাইসমিলগুলিতে
আবার গন আধুনিকিকরণ ঘটল। অটোমেটিক সিস্টেম চালু হল। ১০ বিঘা মেঝেতে ধান শুকানোর
রেওয়াজ উঠে গিয়ে ছয় বাই ছয় ফুট জমিতে ৭০ ফুট উঁচুতে মাথা তুলে দাড়াল ড্রায়ার। একলপ্তে প্রোডাকশন ডবল থেকে পাঁচ গুন পর্যন্ত
বেড়ে গেল।
এতো অতিরিক্ত চালের হবেটা কি? সুতরাং বহির্বিশ্বে নন-বাসমতি চাল রপ্তানির জন্য একটা দিগন্ত খুলে গেল।
কেন্দ্রীয় সরকার বিদেশী মুদ্রা আয়ের গন্ধ পেয়ে EC Act amendment করে, নতুন রূপে Rice miller
& Wholesaler, Levy Act প্রনয়ন করল। এর
আগে রাজ্যসরকারের Food & Supplier দপ্তর ছিল ঠিকই। কিন্তু তারা মূলত কেন্দ্রীয় সংস্থা Food
Corporation of India (FCI) এর শাখা হিসবেই
কাজ করত। আর এই FCI সম্বৎসর কাল ধরে
চালের প্রোকিওরমেন্টটা করত। সেখান থেকে তারাই তাদের গোডাউনে মজুত চাল থেকে রাজ্যের
সংস্থা দ্বারা বিলিবন্টন করত। এই সময় রাজ্য খড়গপুর IIT এর বিশেষজ্ঞ দ্বারা ধান চালের Ratio পরীক্ষা করায় বাংলার ধান নিয়ে। পাশাপাশি কেন্দ্রও
পাঞ্জাবের ধান দিয়ে রুরকি থেকে একই পরীক্ষা করায় । তাতে দুস্থানে দু রকম ফলাফল
আসে। সেটাই স্বাভাবিক। বাংলা আর পাঞ্জাবের পরিবেশ আলাদা, চাষের পদ্ধতি আলাদা। তাই পাঞ্জাবের ধান থেকে ৬৮% চাল
নিষ্কাশন সম্ভব হলেও বাংলার ধানে টেনেটুনে ৬৪% এর বেশি দাঁড়ায়নি। অতএব দুই স্থানে
দুই রকম চালের হিসাব চালু হয়ে গেল। মিলাররা তখনও লেভি দিলে সেই টাকা পেতে নিদেন
পক্ষে মাস চারেক লাগতই। FCI টাকাটা
তাড়াতাড়িই পেমেন্ট করত।
এই সময়েই সরকার খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের অন্তর্গত নানান জনমুখী প্রকল্পের
জন্য প্রচুর পরিমানে চাল মজুত করার সিদ্ধান নিল। এবং আইন বানিয়ে 50% of total
yearly production লেভি হিসাবে দেওয়াটা
বাধ্যতামুলক হল। সেই লেভি না দিলে বাকি অর্ধেক চাল বাজারে বিক্রির অনুমতি মিলবেনা।
ওই লেভির ৫০% রাজ্যসরকারের খাতায় আর ৫০% সেই FCI কে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হল। আইনটা খাতায় কলমেই রয়ে গেল। কারন রাইসমিল
ব্যাবসাটা বর্ধমান কেন্দ্রিক, আর তৎকালীন
শাসকদলের একটা অলিন্দ সেই বর্ধমানেই। তাই পার্টির নেতাদের নাকের ডগাতে বসে দিব্যি
থাবামুঠো লেভি দিয়ে পার পেয়ে গেল। সরকারি প্রকল্পের জাল মালগাড়ি করে ভিনরাজ্য থেকে
FCI
করতে লাগল। প্রসঙ্গত যেখানে একটা রাইসমিলের
৯৯% লেনদেনই কাঁচা টাকাতে হত, সুতরাং আইন
শিকেয় না উঠলে এটা সম্ভব ছিলনা। সরকার যথারীতি ধৃতরাষ্টের ভুমিকায়। DM, SP, Income
Tax, Sale Tax, থানা পুলিশের সামনে ২০০
মিটারের মধ্যে যখন, রোজ এই কোটি
কোটি টাকার নগদ কারবার আজও রমরমিয়ে চলে, তখন বুঝতে হয় সরকার আসলে কয়েকজন মানুষ, বাকি সবটাই তাদের মর্জি মাত্র, আমরা বোকারা ভাবি গণতন্ত্র।
রাইসমিলগুলো তখনও অধিকাংশই বর্ধমান মেদিনীপুর বা রায়গঞ্জ শহর কেন্দ্রিক বা
মফঃস্বলের ছোট পুরসভার ভিতরে বা তার আশেপাশে। সুতরাং এই রাইসমিলার এসোসিয়েসনগুলোর
মাথাগুলোও শহুরে কোন মিলারই হতেন স্বাভাবিক নিয়মেই। যিনি মন্ত্রী না হয়েও চুড়ান্ত
ক্ষমতার অধিকারী হতেন। এক বিপুল পরিমানে চাঁদা, দ্বিতীয় মিটিং মিছিলে লোকের যোগান। ভাবুন ৪০০ রাইসমিল হলে ১০০০০ টাকা করে
চাঁদা আর ২০০ করে লেবার শ্রমিক হলে সংখ্যাটা চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। অতএব নেতারাও আইনে
কারচুপির মাধ্যমে রিটান কৃতজ্ঞতা জানাতে কসুর করতেন না। এভাবেই চলছিল লেনদেন।
যিনি ভাগ্যগুণে একবার এই এ্যাসোসিয়েশনের পদাধিকারি হয়েছেন, তার স্টেটাস যে কোন লেভেলে পৌঁছেছে, সে শুধু মিলারেরাই জানেন। এ্যাসোসিয়েশনের বাৎসরিক চাঁদা
নুন্যতম ২০০০০ টাকা বছরে, অন্যান্য আয় বা
অনুদান বাদ দিন। শুধু বর্ধমানেই নথিভুক্ত রাইসমিলের সংখ্যা ৫৮০+। যদিও চালু ছোট বড়
মিলিয়ে আড়াইশোর কাছাকাছি। বছরে ৫০০ টি মিল নিয়মিত সদস্যপদ রিনিউ করে। তাহলে টাকার
সংখ্যাটা কত দাঁড়াচ্ছে? আমি দায়িত্ব
নিয়ে বলতে পারি, আপনি কোথাও এমন কোন বদনাম বা
অপপ্রচার শোনেননি, যে রাইসমিল
এ্যাসোসিয়েশন কোন সমাজ সেবার সাথে যুক্ত। তাহলে এই বিপুল অর্থ কি হয়? জানার চেষ্টা করলেই মামলার খাঁড়া ঝুলবে, স্থানীয় নেতাদের উৎপাত শুরু হবে, নানা অশান্তি । তাই জানতে চেয়ে কে যেচে ঝামেলা নেবে?
এর পর রাজ্যে ২০০৯ থেকেই রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতে থাকে। তার প্রভাব এই চাল
শিল্পে প্রচুর। কেন্দ্রীয় সরকার চালের উপর থেকে সেলট্যাক্স তুলে নেয়। এমনকি রাইস
ব্রানের উপর থেকেও যাবতীয় কর উঠিয়ে নেয়, আর সেই ৬৮% চালের নিয়মটা সারা দেশ ব্যাপি চালু করে দেয়। এছাড়া অনেক ছোট
খাটো সংস্কার হয়। কিন্তু শাসক দল ঘর বাঁচানোর তাগিদে সেসব দিকে নজর দেওয়ার ফুরসতই
পায়নি।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতে না আসতেই, গুয়ের মাছির মত এই এ্যাসোসিয়েশনের নেতারা রঙ পাল্টাতে সবুর করেননি। তাই
হাকিম বদলালেও হুকুম বদলায়নি।
শেষ পাঁচ ছয় বছর বাজার অর্থনীতির পাশাপাশি যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবর্ণযুগ।
শহরের রাইসমিলগুলোর একলপ্তে বিপুল জমি আবাসন শিল্পের জমি হিসাবে বিকিয়ে গেল। সেই
টাকাতে তারা গ্রাম সাইডে রাইসমিল খুলে বসল। কাঁচামাল আরো সহজলভ্য এখানে। তবে এখন
চাষী শুধু ধান বিক্রির টাকার উপরে সংসার নির্ভরশীল নয়। প্রয়োজনে সুদুর উড়িষ্যাতে
ধান বেচছে আবার মিলারেরাও বিহার ছত্রিসগড় থেকে ধান আমদানি করছে। ২০০৮ সালের আশপাশ
থেকে চাষীরা মিলারদের কাছে টাকা রাখার চেয়ে ব্যাঙ্কে টাকা রাখতে বেশি পছন্দ করার
দরুণ আর বাজাতে চিটফান্ডের রমমমাতে মিলারদের হাতে নগদ টাকার যোগান কমতে শুরু হয়।
আগের মত ধান আর স্টক করা যাচ্ছিলনা। কিন্তু খরচা তো সেই আগের মতই ছিল সব। আবাসন
শিল্পে রাইসমিলের অনেক টাকা বেনামে খাটত, সেগুলোতে টাকার যোগান বন্ধ করলে আমছালা সব যাওয়ার সম্ভাবনা। তাই
রাইসমিলগুলোতে টাকার অভাব শুরু হল।
এবার গনহারে ব্যাঙ্কের মূল ঋণখাতা NPA হওয়া শুরু হল। যেটা এই এ্যাসোসিয়েশনেরই হিসাব অনুযায়ী, ৬০% রাইসমিলই ২০১৪ সালে এই NPA ক্লাবের সদস্য হয়েছে। ঋণখেলাপিটা যারজন্য লজ্জার কারণ
হয়নি।
নতুন সরকার ক্ষমতাতে আসার পরেই বিচিত্র সব বুদ্ধির আমদানি করল। আসলে সবটাই
তো গায়ক নায়কদের মত এন্টারটেনার বুদ্ধিজীবি দিয়ে তৈরি খসড়া। তাই এগুলো দেখে সকলেই
হাসতো বেশি। তবুও কর্তীর ইচ্ছাই হুকুম। ফড়ে বন্ধের নামে কালোবাজারির দিগন্ত খুলে
দিলেন। সম্ভবত সর্বোচ্চ স্তরের নির্দেশেই লোকাল নেতারা সরকারি দরে ধান বিক্রির
জন্য কুইন্টাল পিছু স্থায়ী বখরার
ননডিস্ক্লোজার এগ্রিমেন্ট চালু করল। যেটা আজও চাষী মহলে ওপেন সিক্রেট।
স্বয়ম্ভর গোষ্ঠী, বিভিন্ন সমবায়, আর চিনি বা লোহা চুরির দায়ে অভিযুক্ত মির্জাগালিব
স্ট্রিটের অত্যাবসকীয় খাদ্য নিগমকে(WBECSC) মুখ্য করে নানান সরকারি আধা সরকারি সংস্থাকে দিয়ে ধান কেনাতে লাগল সরকার।
টাকা অবশ্য মিলারকেই লাগাতে হইয়েছিল, কারন আগের সরকার রাজ্যকে দেনায় ডুবিয়ে গেছে (তেনার কথাতে) অতএব টাকা নেই।
যাদের ধান কেনার দায়িত্ব, সেই সংস্থাগুলোর
না আছে ঢাল না তলোয়ার, তাই হওয়া থেকে
মড়া সবটাই মিলাররা করত, আজও করে।
বামদলগুলির তবুও একটা কৃষক শাখা ছিল, বর্তমান দলের সেই বালাই নেই অবশ্য। এখানে সবটাই তেনার ইচ্ছাতে হয়। তাই এই
‘তানাসাহি’ তে, চাল মজুদের নিজশ্ব পরিকাঠামো না
তৈরি করেই ধান মিলিং করে ফেলার ফলস্রুতিতে এই ‘সরকারি চাল” মিলারের ঘরেই রয়ে গেছিল
মাসের পর মাস।
কিছু মিলার সেই বিপুল চাল টাকাতে রুপান্তরিত করে ফেলতে বাধ্যহল ব্যাবসায়িক
প্রয়োজনে। অনেকের চাল মিলের গোডাউনেই ছত্রাক ধরে গন্ধ হয়ে গেল। এমতাবস্থায় একটা
বিশাল অঙ্কের চাল মিলারদের কাছ থেকে অনাদায়ি রয়ে যায়। এর পর মামলা, গ্রেফতার, জরিমানা মিলগেটে তালা ঝোলানো নানান পন্থা ঘটতে থাকে। শুধুমাত্র আইনের ফাদে
আটকাপরে নিজের ধনেই নিজেরা চোর বেনে যায় মিলারেরা।
এর এফেক্টটা পরের সিজেনেই মোক্ষম টের প্রলো সরকার। পকেটের পয়সা লাগিয়ে
চাষীর ধান কেনার জন্য মিলার নেই। দিকে দিকে চাষী বিদ্রোহে রাজ্য পয়সার বরাদ্দ করল ECSC কে। কিন্তু সেই পরিকাঠামো নেই, এবারেও সব চাল নিতে পারলনা সরকার, অতএব আবার কিছু মিলার জেল জরিমানা খাটল। লেভিটা কেমন যেন
বিনা আইনেই অবলুপ্তির পথে হাটতে লাগল। গত শস্য বছরেও প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ECSC আদায় করতে পারেনি। কারন যাদের ধান দিয়েছিল তারা
অধিকাংশেই কাগজে কলমে রাইসমিল। বাকিটা রাজনীতির পাঁক আর ফ্যাক্টরিতে আগাছা। সুতরাং
টাকা নিয়ে চম্পট। ফলস্বরুপ গোটা ৫০ মিলারের নামে এরেষ্ট অর্ডার জারি হয়েছে।
এখন প্রশ্ন এতোদিন এইসব প্রশ্ন উঠেনি কেন?
এই সরকারি আর চাষীর অত্যাচার(!) বা চাপ কেবলমাত্র গ্রাম সাইডের মিলগুলোর
উপরে। চাষীদের এক্সট্রা চাপ দিলেও তারা দিন নষ্ট করে শহরে যেতে নারাজ। যত দোষ
নন্দঘোষ গ্রামের মিলারগুলো। তাই ওই শহুরে মিলারদের তেমন অসুবিধা হয়নি গত পাঁচ ছয়
বছরে। এরা আবার এ্যাসোসিয়েশনে নেতাও বটে। বর্তমানে গ্রামের মিলগুলোর অধিকাংশই বর্তমানে কোমায়।
যারা বেঁচে আছে তারাও মরে যাবার ভান করে আছে বেঁচে থাকার তাগিদে।
সরকারি এজেন্সির ধান নিলে সরকার ধানের কুইন্টাল পিছু ৬৮ কেজি হারে ফিরত
নেবে,
যে আইনটা কেন্দ্রীয় সরকার গত সিজেনে তুলে
নিলেও রাজ্যে বহাল আছে।
ধান উঠার মরসুমে ধানের বাজার দর কম থাকে, কিন্তু সরকারের দর ফিক্সড, যেটা বাজার থেকে
দুই তিনশো টাকা বেশি। তাই মিলাররা ব্যাবসায়িক কারনেই সরকারি ধান কিনতে অনীহা
দেখায়। বিগত দশ বছরে ধান চালের দাম চার থেকে পাঁচ গুন বেড়েছে। লেবারের মজুরী, চাল মজুদের জন্য নতুন চটের বস্তা, ডিজেলের ও বিদ্যুতের খরচা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। সেখানে
মিলারের ভাঙানি মজুরী দ্বিগুন বৃদ্ধিটুকুও হয়নি। ২০০৩-০৪ সাথে এক বস্তা লালস্বর্ন
ধানের দাম ছিল (৬০ কেজি) ২৩০টাকা। সেটা এখন ৯০০ টাকার আশেপাশে (পুরাতন ধান
অক্টোবরে ছিল)। প্রতি বছরেই একটু একটু করে এটা বেড়েছে। শস্য বছরের শেষে
সেপ্টেম্বরে সরকার যখন চাল ফিরত নেবার তাগাদা দেয়, তখন সেই চালের দাম অনেকটায় বেড়ে বেড়ে যায় সিজেনের শুরুর থেকে। তাই সরকারি
ধান ভাঙা মানেই লোকসান অনিবার্য।
তাহলে এখন সরকারি প্রকল্পের কি হবে? APL, BPL, অন্নপূর্না যোজোনা, অন্ত্যোদয় যোজনা, ICDS Project,
ইত্যাদি ছাড়ৈও মিডডে মিল আর সিঙ্গুর
জঙ্গলমহলের চাল রয়েছে। সেগুলো চালু রাখতে বিপুল চাল প্রয়োজন। বাইরের রাজ্যে
সাধারনত আতপ চাল খায়, তাই সেই চাল
রাজ্যে এনে চলবেনা, এখানেই চাল
বানাতে হবে। এখন মিল চাই ধান ভাঙাবার জন্য। কিন্তু সুস্থ শরীরে বেঁচে আছে শহরের
মিলগুলোই। সুতরাং সরকারের এবারের নজর তাদের উপর।
সরকারকে ধার দেবার রেওয়াজ আগেও ছিল, আজও আছে আগামিতেও থাকবে। যে কেও তথ্য জানার অধিকার আইনে জেনে নিতে পারেন।
টাকার অঙ্কটা হয়ত কম থাকত, কিন্তু টাকার
দামও তো আগের থেকে কমেছে। আসলে পার্থক্যটা হল, আগে যাদের টাকা সরকারের কাছে থাকত তারা কেও নেতা ছিলনা, তারা ব্যাবসাদার ছিল। এই ধারটাকে ব্যাবসার অঙ্গ হিসাবেই
দেখত। আজ তারা হয় আমলাশোলের অপুষ্ট রিকেট শরীর নইয়ে বাঁচার লড়াই করছে, বা রাইসমিলার হিসাবে মৃত। বর্ধমানেই ৩০০ এর বেশি মিল
শুধু বন্ধ, কারন ঘোড়ারোগ। এখন নেতাদের মিল আর
তাদের তহবিলে নজর পড়েছে। এ্যাসোসিয়েশনের অর্ধেকের বেশি সদস্যের নিজেরা রাইসমিল
চালায় না। অন্যকে লিজে দিয়ে নিশ্চিন্তে ইউনিয়নবাজি করছে। এখন কাকে কাকের মাংসে নজর
দিতেই চতুর্দিক কা কা রবে মুখরিত।
আগের সরকারের আমলেও রাইসমিল ছিল, লেভিছিল, চাষীছিল, সহায়ক মুল্যে ধান ক্রয় ছিল। আইনও ছিল দুর্নীতিও। কিন্তু
তারা কোর্টে থানা পুলিশের বাইরে একটা মিমাংসা ঠিক করেই নিত। যার জন্য কোন রাইসমিল
বন্ধ হয়নি সরকারি অত্যাচারে, সরকারও লোকসানে
পড়েনি। বর্তমানে খিস্তিপ্রিয় বেল্লিকের দল ক্ষমতার দম্ভে, শিল্পের জন্য হাহাকার করা এই কৃষিজাত ক্ষুদ্রশিল্পের
ভবিষ্যতকেই প্রশ্নের মুখে দাড় করিয়ে দিয়েছে।
এছাড়াও নোট বাতিলের কারণে মূলত কাঁচাতে লেনদেন হওয়া কারখানাগুলোতে সেলাইন
ঝুলছে। রাইস মিলগুলো তার অন্যতম। সরকার আগেও রাইসমিলকে দেখেনি, এখনও দেখেনা। সেই অসংগঠিতই রয়ে গেল। চীন বাদ দিন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স বা নূন্যতম পাঞ্জাব সরকারের ৫০% রাইসমিল নীতি এই রাজ্য যদি গ্রহন
করত তাহলে গোটা দেশটাই আরো অনেকটা বেশি এগিয়ে যেতে পারত।
ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন
ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...
-
(১) জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তাল...
-
ছোটবেলায় বাবা বলতেন "শাগ খেলে বাঘের বল"। যদিও তিনি ওটাকে শাকই বলতেন আমরা কচি কানে বাঘের সাথে মিলিয়ে শাগ শুনতাম। এহেন পরিস্থ...
