সোমবার, ৩ মে, ২০২১

২০২১ নির্বাচনের ফলাফলঃ সিপিএমের কী করা উচিত আর কী নয়

তৃতীয় পর্ব

সিপিএমের কী করা উচিত আর কী নয়। রইল ব্যাক্তিগত মতামত।

বেলা দুপুর গড়িয়ে ঘড়িতে ২টো অতিক্রান্ত, রাজ্যের ভোটের ফলাফল পরিষ্কার। রাজ্যের প্রতিটি কেন্দ্রে বামপ্রার্থীরা সহ জোট কার্যত কোথাও লড়াইয়ে নেই। খুব কষ্ট করে একটা আধটা দ্বিতীয় স্থান পেলেও বাকিগুলোতে জামানত বাঁচানো সম্ভব কিনা সেটাই প্রশ্ন। কোথাও কোথাও ভোট শতাংশ সামান্য বৃদ্ধি হলেও সেটাও প্রাপ্তি নয়, এই মুহূর্তে ২০১৯ লোকসভার চেয়েও ২% ভোট কম পেয়েছে। আমার অনুমান- এটা মূলত মোদী বিরোধী ভোট, লকডাউনে নাজেহাল মানুষের ভোট, পাশাপাশি NRC এর ভয়ে ভীত সংখ্যালঘু ভোটের প্রায় সবটাই তৃণমূলের ঝুলিতে গেছে। মিডিয়াতে একতরফাভাবে বিজেপির সাম্প্রদায়িকতা প্রোপাগান্ডা প্রচার, আর তৃণমূলের ‘দানের রাজনীতি’- এই পর্যায়ে সফল, দুটোরই লাভ তৃণমূল পেয়েছে।
যে সকল তথাকথিত বামপন্থী গর্বের সাথে বলেন- আমরা ভোটের জন্য রাজনীতি করি না, আমরা রাস্তায় থাকি- তাদের মনোস্কামনা পূর্ণ হয়েছে। যারা ভোটের রাজনীতি করে তারাই ভোট পেয়েছে, মানুষ তাদেরই বিকল্প বেছে নিয়েছে। রাস্তায় থাকা আপনার গর্ব, আপনাকে সেখানেই স্থান দিয়েছে- উল্টে আপনার হাতে জুটেছে একটা ফুটো বাটি। এইবার ন্যূনতম লাজলজ্জা থাকলে ওই হেজে যাওয়া আঁতলামো-মাতলামো ভক্তমার্কা ডায়লোগ কপচাবেন।
একজন পার্টি কর্মী হিসাবে- এই পর্যায়ে কিছু পরিষ্কার কথাবার্তা বলি, যা মনে এল। কেউ আবার বলবেন না যেন- ভিতরে আলোচনা করতে হয়, প্রকাশ্যে নয়। গোটা সিস্টেমটাই যেখানে ন্যাংটা হয়ে গেছে যেখানে, সেখানে কীসের ভিতর আর কীসের বাইরে! তাই আপনাদের জন্য জন্য ছোট্ট টিপস- আপনারা বিশাল মাতব্বর, চেকা গিরি ঘরে বসে দেখান, নতুবা গণধোলাই এর শিকার হবেন।
১) কোনোভাবেই কোনো অজুহাত সৃষ্টি করা যাবে না। নীতিগতভাবে এই নির্বাচনে রাজ্যের সাধারণ মানুষ বিপুলভাবে বামপন্থীদের প্রত্যাখ্যান করেছেন৷ কোনো বাম প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আলোচনা করে নিজেদের খিল্লি করা যুক্তিহীন। তারা নিজেদের মতো চেষ্টা করেছে, বাকিটা জনতা জনার্দন।
২) মানুষের রায় সার্বিকভাবে মেনে নিতে হবে। রাজ্যের মানুষ সঠিক অর্থে বামপন্থীদের বিরোধী দলের মর্যাদাটুকুও কেড়ে নিয়েছে। মানুষ বামপন্থীদের ন্যূনতম যোগ্য বলে মনে করেনি। বামেদের বিকল্প বার্তা এই পর্যায়ে কোনো কাজে আসেনি, সেটা নিয়েও নতুন করে ভাবতে হবে। ফেব্রুয়ারীর ব্রিগেডে আসা মানুষ ও তাদের পরিবার গুলোও সকলে ভোট দেননি।
৩) ‘আমরা মানুষকে বোঝাতে পারিনি’ এসব ছেঁদো গল্প নয়, আসলে আমাদের মধ্যে মানুষকে বুঝতে পারার শক্তি আদৌ অবশিষ্ট আছে কি- এটা নিয়ে ভাবনা দরকার, আমার ব্যক্তিগত হিসাবে এটা নেই। তাই আদ্যিকালের ভাবনা ছেড়ে আরও সংস্কার আসুক দলে।
নিজেরা শ্রমিকের ৭০০ টাকা নুন্যতম দৈনিক মজুরীর জন্য আন্দোলন করব, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কথা ভাষনে শোনাবো- "মাসে নুন্যতম ২১ হাজার টাকা আয় না থাকলে একটা সংসার চলেনা"। আর পার্টির সর্বক্ষণের কর্মীদের ৪-৫ হাজার টাকা দেবো। জানি এটা বেতন নয়, এটা ভাতা; কিন্তু একজন হোলটাইমার তো অন্য কোনো পেশার সাথে যুক্ত নন, তাহলে তার সংসার কীভাবে চলবে? হোলটাইমার বলে তার পরিবার থাকবেনা বা তার খিদে অন্যের তুলনায় কম লাগবে এমন তো নয়। ভাতা হোক বা যা খুশি, হোলটাইমার রাখতে হলে তাকে নুন্যতম সাম্মানিক দিন, যাতে তার প্রয়োজন মেটে। ভাঁড়ারে চালের পরিমান বুঝে নিমন্ত্রণ করুন, ৩৪১ ব্লকে ১টা করে হোলটাইমার থাক প্রয়োজনে, কিন্ত তারা যেন সাম্মানজনক একটা ভাতা পাক। দরকারে গ্রেড সিস্টেম হোক। নতুবা এ পদ তুলে দিন। বিকল্পের কথা মুখে বলব আর নিজেদের দলের পার্টিজানদের জন্য সেই আদ্যিকালের রদ্দি মার্কা নীতি- এটা স্পষ্ট দ্বিচারিতা। এগুলো ত্যাগ করতে হবে।
৪) ২০১১ নির্বাচনের পর থেকে দলের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত সিনিয়র নেতাদের মানুষ ন্যূনতম বিশ্বাস করছে না, এটা আবারও প্রমাণিত, তাদের মুখ দেখলেই জনগণ তেড়ে বিরুদ্ধে যাচ্ছে। সেই নেতারা সহ তাদের আশেপাশে থাকা সকলে একযোগে সরে না গেলে এটাই স্বাভাবিক পরিণতি হতে থাকবে। প্রার্থী তরুণ দিয়ে লাভ হয়নি, কারণ ভাবনাতে তারুণ্য নেই। পার্টির ভিতরে সংস্কার আনতে হলে ওই প্রত্যাখিত নেতাদের সামনে রেখে করা অসম্ভব। আপনারা যথেষ্ট মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন, এবারে ছাত্রযুবদের স্ট্রোক দিতে দিন। এটা কাদা ছোঁড়াছুঁড়ির বিষয় নয়, সংসদীয় গণতান্ত্রিক পশ্চিমবঙ্গে বামেদের নিজেদের আগামীর অস্তিত্বের প্রশ্ন।
৫) এখন আর কোনো অজুহাত নয়, না পরবর্তী সম্মেলনের অপেক্ষা। ন্যূনতম চক্ষুলজ্জা থাকলে- যত দ্রুত সম্ভব রাজ্যের সমস্ত জেলা সম্পাদক, জেলা কমিটি এবং রাজ্য কমিটির সদস্যরা পদত্যাগ করুন। অধিকাংশ জেলা কমিটি, এরিয়া কমিটি কার্যত ঘুঘুর বাসা, অধিকাংশ জনই কাজকর্ম করে না মাটিতে, কবে ঘি দিয়ে ভাত খেয়ে বিপ্লব করে ছিল- সেইটার গল্প বলে ‘কোটায়’ রয়ে গেছে। সারাক্ষণ লবিবাজি করে, পদ বাঁচিয়ে রাখতে। কেউ কেউ তো সরকার পোষিত বামপন্থী।
সংগঠনকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে দিন তরুণ প্রজন্মকে, তারা এর চেয়ে বেশি কীই বা খারাপ করবে যেখানে আপনারা ছেড়ে গেলেন (যদি ছেড়ে যান তবেই)? তার সাথে অবশ্যই বিভিন্ন গণ সংগঠনগুলির মুখগুলিও পদত্যাগ করুন। এখানে বাস্তুঘুঘুদের বাস অধিকাংশ ক্ষেত্রে। চেকা গুলোকে চিহ্নিত করে ঝেঁটিয়ে বিদায় করা হোক।
৬) পার্টির কিছু নেতাদের ছেলে, মেয়ে, আত্মীয়, চামচা এমন বহু প্যারাসাইট অযোগ্য সদস্য থিকথিক করছে দলে- যারা এই নির্বাচনে প্রচার সামলানো সহ নানান গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে- যথারীতি দায়িত্ব নিয়ে ডুবিয়েছে দলকে। তারাও ব্যর্থতার দায় নিয়ে, সম্মান বজায় থাকতে থাকতে নিজেরাই পদত্যাগ করুন নতুবা পার্টিকর্মীরা ঘাড় ধরে আপনাদের নামিয়ে দেবে এবং সেটা ভীষণ অসম্মানজনকভাবে। লেভির টাকায় এসব অপুষ্যি পোষা বন্ধ করতে হবে।
৭) রেড ভলেন্টিয়ার্স নামের হুজুগে আঁতলামো বন্ধ করুন। মানুষ সরকার বেছে নিয়েছে, পরিষেবা দেওয়া সরকারের কাজ। আমাদের কাজ আমাদের পার্টি কর্মী কমরেডদের বিপদে-আপদে পাশে থাকা আর সংগঠন বাড়ানো, সরকারের ব্যর্থতার জায়গাতে গিয়ে NGO বা প্যারালাল সরকার চালানো নয়। এটা রাজনৈতিক দল, কোনো সেবাশ্রম বা ক্লাব নয়। সোস্যাল মিডিয়াতে বহু স্থানে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছে- একশ্রেনীর ছদ্মবেশী বামপন্থী ভেক ধরে থাকা দুর্বৃত্তরা, পার্টি শীর্ষ নেতৃত্বের বিশ্বাস ও সরলতার সুযোগ নিয়ে এই গোটা পরিকল্পনাটা PK এর কাছে টাকা খেয়ে তৃণমূলের অপদার্থতা ঢাকার জন্য করেনি তো? এটা অন্তর্ঘাত নয় তো? ভোটের ফলে পরিষ্কার, আমরা মানুষের পাশে থাকতে গেলেও-
মানুষ আমাদের পাশে রাখার যোগ্য মনে করেনি। অনেকে ব্রিটিশ জামানার বিপ্লব কিম্বা তেভাগার সাথে তুলনা করছেন, তারা ইতিহাস জানে না- ব্রিটিশ জামানাতে সংসদীয় গণতন্ত্র তথা ভোটের রাজনীতি ছিল না, ছিল বাঁচার লড়াই। তেভাগা ছিল নিজের অধিকার বুঝে নেওয়ার লড়াই! ভলেন্টিয়ার্সের নামে এই শ্রম ফেরি করা কোন অধিকারের লড়াই?
৮) পার্টির ছাত্র যুবদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে, এই মহামারীকালে পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়া তাদের রাস্তায় নামিয়ে, কোভিডে আক্রান্তদের বাড়ি বা সংস্পর্শে পাঠিয়ে দিয়েছে। যেখানে পলিটব্যুরো সদস্য মহঃ সেলিম বিবৃতি দিয়ে মিটিং-মিছিল করব না বলে ঘোষণা দিলেন, যখন আংশিক লকডাউন চলছে, ইস্কুল-কলেজ, হাটবাজার সব বন্ধ, আক্রান্তের সংখ্যা রোজ বাড়ছে পাল্লা দিয়ে, এলোপাথাড়ি মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, সেখানে আমাদের ভবিষ্যৎ- ছাত্রযুবরা শুধুমাত্র একটা কাপড়ের মাস্কের ভরসা করে রাস্তায় ছুটে চলেছে। কাল এদের কিছু হয়ে গেলে কে তার দায় নেবে? কিছু ফেসবুক বিপ্লবী ও আলিমুদ্দিনে থাকা কোটার প্যারাসাইট এই কাজগুলো করছে, যাদের সাথে মাটির যোগাযোগ নেই। এটা অবিলম্বে বন্ধ করুন, আমাদের প্রতিটি কমরেড আমাদের সম্পদ, তাদের জীবন এভাবে বিপন্নতার মুখে ঠেলে দেওয়া- আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এটা বিপ্লব নয়, তা যদি হতো- সেক্ষেত্রে গত লকডাউনে রাজ্য জুড়ে পাশে থেকেও ভোটবাক্সে এই দশা হতো না। রাজনীতিটা করুন গুছিয়ে স্বল্প শক্তি নিয়েই এবং করতে দিন মন দিয়ে যারা এটা করছে।
১০) সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুন করে একটা অপেক্ষাকৃত কম বয়সী তরুণ মুখের দল পার্টির মধ্যেও উঠে আসুক, নেতৃত্বের হাল ধরুক। সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে হারতে হারতে তারাও নিজেদের তৈরি করে নেবে, যাদের নিয়ে আগামী ২০২৪ ও ২০২৬ নির্বাচনের আগে মানুষের কাছে একটা স্পষ্ট সুভদ্র মুখের বার্তা দেওয়া যাবে। দলে আইনের ছাত্রদের, অর্থনীতি জানা কমরেডদের সামনে নিয়ে আসা হোক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে।
১১) খেতমজুর সংগঠন এর উপর জোর দেয়া হোক। এই নির্বাচনে পার্টির সর্বাধিক সদস্য ABTA থেকে এসেছিল৷ সবচেয়ে বেশি দ্বায়ভার নিশ্চিত ভাবেই তাদের নিতে হবে। গত এক বছর ধরে লকডাউনে বেশিরভাগ শিক্ষক- সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন, তারই একটা ভার একটা নির্বাচনে দলকে বইতে হলো। রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ধর্মীয়ভাবে নয় সরাসরি স্পষ্ট করে কেরলের মত কর্মের দিকে তাকাতে হবে। তারুণ্যের দিকে তাকাতে হবে।
সুদীর্ঘ পথে আমাদের জন্য নিশ্চিত ভালো কিছু অপেক্ষা করে আছে ৷
১২) তথ্য, বিশ্লেষণ, পরিকল্পনা ও রূপায়ন- এটা নিয়ে আলাদা সেল খোলা হোক। আগামীর নির্বাচন নিয়ে দ্রুত কর্মশালা করে প্রস্তুতি নেওয়া হোক, সেই মতো দায়িত্ব বণ্টন করে সেখানেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের এখন থেকে কাজে লাগিয়ে দেওয়া হোক। সোশ্যাল মিডিয়া টিম পেশাদারভাবে চালানো হোক, পার্টি লাইনের মধ্যে থেকে। রাজ্য জুড়ে জেলা ওয়ারি ভৌগোলিক পরিবেশ অনুযায়ী ডেমোগ্রাফি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা, পরিচ্ছন্ন ধারণা থাকা মানুষদের সামনে আনুন। তরুণেরা অনেকেই ভোট বোঝে না, তাদের জন্য কর্মশালা হোক, ভোট ম্যানেজারেরা সারা বছর মাটিতে থেকে প্রার্থীদের জন্য ডেটা রেডি করুক।
১৩) শরিক দলগুলোকে আর কতদিন ও কেন বইবে এই নিয়েও আলোচনা হোক। কারোর কোথাও কোনো সংসঠন নেই সেই অর্থে। CPIM থাকলে তবে তারা আছে, এখন নিজেরাই সমস্যাতে, সেখানে কীসের শরিক আর কীসের বামফ্রন্ট? আজকের দিনে দাঁড়িয়ে মূল্যায়ন করুন।
১৪) কংগ্রেস নিয়ে মোহভঙ্গ কবে হবে সেটা নিয়ে ভাবতে বসুন।
১৫) শহুরে সস্তা প্রচারের রাজনীতিতে না গিয়ে সিটু, কৃষকসভা এগুলোতে জোর দেওয়া হোক। এখানে খোলনাচলে নেতৃত্ব বদল হোক। SFI ও DYFI তৈরি আছে যোগ্য সঙ্গত দেওয়ার জন্য। দলের ব্যাটনটা তাদের হাতেই যাক এবারে।
আমাদের সময় লাগতে পারে কিন্তু বামপন্থীরা নিশ্চিত ভাবে ঘুরে দাঁড়াবেই। ইতিহাস সাক্ষী।

রবিবার, ২ মে, ২০২১

ফিলিস্তিন ২০২১- প্রথম পর্ব



পর্ব-১
অবৈধ দখলকারী টিউমার ‘ইজরাইল’, নিরপরাধ ফিলিস্তিনি সাধারণ জনগণের ওপর নতুন করে আবার যে হামলা শুরু করেছে তা আজ একাদশতম দিনে পড়েছে। একছত্রভাবে এরিয়াল রকেট হামলায় ভূমি দখলের পুরাতন খেলার ছক মেনেই- বেশ কয়েকশ লাশ আর হাজারে হাজারে মানুষকে বিকলাঙ্গ বানিয়ে দিয়েছে নতুন করে। ইজরায়েলের নিশানার তালিকায় সবার আগে থাকে অসুরক্ষিত নারী ও শিশুরা। কেন এই হামলা বা কী কারণে হামলা অনেক বড় একটা চ্যাপ্টার, বছর ২-৩ আগে আমি সিরিজ করে ১৪-১৫ পর্বের বিপুল বড় প্রবন্ধ নামিয়েছিলাম নানা তথ্য-উপাত্ত সহ, সেটা পড়ে নিতে পারেন। তাই সে বিষয়ে আপাতত যাচ্ছি না, শুধু কিছু বেসিক বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব।
একটা বিষয় পরিষ্কার, খেলা এখন একতরফা হচ্ছে না। ফিলিস্তিনিদের পক্ষেও চূড়ান্ত প্রতিরোধ শুরু হয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে পাল্টা আক্রমণ শানানো হচ্ছে। এবারের এই ইচ্ছাকৃত হামলাতে ইজরায়েল চরম ভুল করেছে, এবারে মাশুল গুনতে হবে চড়া মূল্যে। পরবর্তী পর্বগুলোতে এর বিশদে ব্যাখায় যাব।
আমাদের দেশের মিডিয়া সহ, জায়োনিস্ট পরিচালিত সকল মিডিয়াই ইজরায়েলি সেনাবাহিনীকে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত আর পারদর্শী বলে সর্বত্র প্রচার করে, ফলে এদেশের ভক্ত সম্প্রদায় এক চরম আত্মরতিময় সুখ অনুভব করে- ‘আরবের মোল্লা ক্যালানো’ যোদ্ধাদের জন্য। কিন্তু বাস্তবতা, তথ্য ও ইতিহাস কী বলছে? ইজরায়েল এমন একটা দেশ যারা আজ পর্যন্ত কোনো দেশের সাথে সরাসরি যুদ্ধ করেনি, সুতরাং জেতা বা হারার প্রশ্নই নেই। ১৯৪৮, ১৯৫৬, ১৯৬৭, ১৯৭০, ১৯৭৩, ১৯৮২, ১৯৯৫, ২০০০, ২০০৩, ২০০৮, ২০১২ ও ২০১৪- মোটামুটিভাবে এই ক’বার তাদের সেনাবাহিনীর লড়াইয়ের রেকর্ড রয়েছে। প্রতিবারই এরা কেবল নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি জনগণকে খুন করেছে, এক আধাবার মিশরীয়, জর্ডনীয়, সিরিয়ান কিম্বা লেবাননী অধিবাসীদের খুন করেছে। যখন ফিলিস্তিনিদের হয়ে কোনো দল পাল্টা আক্রমণে গেছে, প্রতিবারই হেগেমুতে কাপড়ে-চোপড়ে করেছে। প্রতিবারই ইজরায়েলের অবৈধ পিতা আমেরিকা ও বৈধ পিতা- ন্যাটো এসে ইজরায়েলকে বাঁচিয়ে নর্দমা থেকে তুলেছে। অতএব, বিশ্বের সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও কাপুরুষ সেনাবাহিনীর নাম ‘ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্স’ এতে কোনো সন্দেহ নেই।
অনেকেই জানেন ইজরায়েল-ফিলিস্তিনের মূল দ্বন্দ্ব ধর্মীয় বিশ্বাসের উপরে স্থাপিত, যা ৫ হাজার বছরেরও বেশি পুরাতন। নৃতত্ত্ববিদ্যা অনুযায়ী জাতি হিসাবে আরবিয়ানরা ‘সেমেটিক গোষ্ঠীর’, তাতে তাদের ধর্মবিশ্বাস ইহুদি, খ্রিস্টান, মুসলমান কিংবা মূর্তিপুজারক প্যাগানও হতেই পারে। এছাড়াও আরো অন্যান্য যদি ছোট কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠী থাকে, তার নিশ্চিত ভাবেই সেমেটিক। কিন্তু এই মুহূর্তে ইজরায়েলের মাটিতে যারা নিজেদেরকে ইহুদি বলে দাবি করছে, তারা ওই আরবিয়ান ভাষাভাষী ও সংস্কৃতির ‘সেমেটিক’ জিনের উত্তরাধিকারী নয়। তারা নিজেরাও সে দাবী করে না, বরং নিজেদের অ্যান্টিসেমেটিক-জায়োনিস্ট বলেই পরিচয় দিয়ে গর্ববোধ করে। এরা প্রায় সকলেই দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকারী, ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত ‘খাজার ককেশীয় জিনের’ উত্তর পুরুষ। খাজার কারা ও কেন, তা নেট ঘাঁটলেই পেয়ে যাবেন, আমি শুধু ক্লু দিলাম।
অর্থাৎ, আজকে যারা ফিলিস্তিনের ভূমিকে নিজেদের পিতৃপুরুষের ভূমি দাবী করে জবরদখল করে ‘ইজরায়েল’ রাষ্ট্র বানিয়ে- অবাধে লুঠতরাজ ও হত্যালীলা চালাচ্ছে, এদের পূর্বপুরুষের সাথে কখনও ‘আরব’ যোগ ছিল না। আরবের অন্যান্য বহু দেশ- সৌদি, সিরিয়া, মিশর এমন কি ইরানেও ইহুদিরা বেশ ভাল সংখ্যাতে গোষ্ঠীবদ্ধ হয়ে বাস করে, যারা অন্যান্য আরবিয়ানদের মতো দেখতে, অর্থাৎ তারাও সেমেটিক। এরা কিন্তু নানান ইজরায়েলি প্রলোভন স্বত্বেও ইজরায়েলে যায়নি। ইজরায়েলের খাজার ইহুদিরা ‘কটা’ চামড়ার, ‘কটা’ চুল, টিকালো নাক, নীল রঙের চোখের মণি যুক্ত, এবং অধিকাংশই রুক্ষ মেদহীন চেহারা বিশিষ্ট। সেখানে আরবিয়ানরা কালো চুলের, ইজরায়েলিদের তুলনাতে ভোঁতা নাক, কালো চোখের মণি, পেলব মেদযুক্ত শরীরের অধিকারী। নৃতত্ত্ববিজ্ঞানের হিসাবে কোনোভাবেই দুটো জাতি এক নয়, এরা একে অন্যের জাতিগত আত্মীয় নয়। তাহলে কোন হিসাবে এই ইহুদিদের পিতৃভূমি হতে পারে ফিলিস্তিনের ঊষর মরুপ্রান্তর?
বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে কীভাবে ইজরায়েলের জন্ম সেটার জন্য আপনাকে ‘জায়োনিস্ট’ মতবাদ নিয়ে পড়াশোনা করতে হবে, এই পর্ব পর্যন্ত গ্রেট ব্রিটেনই ছিল মূল কুশীলব, নেপথ্যে রথচাইল্ড পরিবার। কিন্তু সুয়েজে দাদাগিরি কেন্দ্র করে- মিশরীয় নাসেরের কাছে হেরে নীলনদে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সলিল সমাধি ঘটলে, মূলত আমেরিকার একটা স্থায়ী সেনাঘাঁটি হিসেবে ইজরায়েলের অভ্যুত্থান ঘটে ষাটের দশকে। আমেরিকা ইজরায়েলের পিতৃত্বের দাবী নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে আবির্ভূত হয়। অবশ্য, ১৯৩৮ সালে আরবে খনিজ তেলের আবিষ্কার না হলে আদৌ সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা, ইজরায়েলকে এভাবে পুত্রস্নেহে লালন করত না, তা বলাই বাহুল্য। ইজরায়েল আদপে আমেরিকার একটা সেনা ঘাঁটি, যেখান থেকে ‘অশিক্ষিত-মূর্খ’ আরবিয়ান রাজাদের ‘মদ-মেয়েমানুষের’ টোপে ডুবিয়ে রেখে, তাদের দিকে অজস্র বোমাবারুদ তাক করে রেখে- তাদের খনিজ সম্পদ কুক্ষিগত করে লুঠ করছে।
বর্তমান ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু- নিজ দেশের রাজনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত নড়বড়ে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেমন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, ঠিক তেমনি গত নির্বাচনে নেতানিয়াহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল- গাজা ভূখণ্ড দখল করে দেশের জনগণকে উপহার দেবে। সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছিল, এবং এই বিষয়টা নিয়ে এই মে’২০২১ এর প্রথম সপ্তাহের শুরুর দিকেই বিশ্বজোড়া শীর্ষস্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলো একজোটে নেতানিয়াহুর নামে বিষোদ্গার শুরু করে দেয়। লিঙ্ক রইল-
বর্তমান ইজরাইলের প্রধানমন্ত্রী, বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এর নিজ দেশে রাজনৈতিক অবস্থান অত্যন্ত নড়বড়ে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যেমন মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল, ঠিক তেমনি গত নির্বাচনে নেতানিয়াহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল- গাজা ভূ-খণ্ড দখল করে দেশের জনগণকে উপহার দেবে। সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছিল, এবং এই বিষয়টা নিয়ে এই মে’২০২১ এর প্রথম সপ্তাহের শুরুর দিকেই বিশ্বজোড়া শীর্ষস্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলো একজোটে নেতানিয়াহুর নামে বিষোদগার শুরু করে দেয়। লিঙ্ক রইল-
এমনিতেই এই নেতানিয়াহু বিপুল পরিমাণ আর্থিক দুর্নীতি, জালিয়াতি, স্বজনপোষণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে অভিযুক্ত, ক্ষমতায় আছে বলে গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যায়নি। কিন্তু গত দু'বছরে চারটে নির্বাচনে তার দল ‘লিকুদ পার্টি’ গোহারা হেরে ধুঁকছে, তার প্রতিপক্ষও বিপুল ক্ষমতাধর দেশজ রাজনীতিতে, তিনি দেশটির বর্তমান রাষ্ট্রপতি- ‘রেউভেন রেভলিন’। এমতাবস্থায় নেতানিয়াহুর পক্ষে সরকার টিকিয়ে রাখাটাই দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সরকারের পতন মানেই তার জেলযাত্রা অবধারিত- অতএব লাগাও যুদ্ধ।
নেতানিয়াহু সরকার গত নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে এবং তাকে বাধ্য হয়ে জোট সরকার চালাতে হচ্ছে, ফলে ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না, এবং এই কারণেই গোলমাল পাকিয়ে নতুন নির্বাচন চাইছে। যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে মানুষ সব ভুলে যাবে, দেশপ্রেমের আবেগকে কাজে লাগিয়ে আবার ক্ষমতায় থেকে যাওয়াও যাবে বা নির্বাচনে জেতা যাবে। আসলে প্রতিটি অপদার্থ শাসকের, নিকৃষ্ট পদ্ধতিগুলোও বিশ্বজনীনভাবে ঠিক মিলে যায়। আমরা জানি ২০১৯ সালের পুলওয়ামা ভুলিনি, নিজেদের সেনা হত্যা করে করে দেশপ্রেমের আবেগে ভাসিয়ে ক্ষমতায় আসার সুফল আজ করোনাকালে মানুষ প্রতিটি শ্বাসে টের পাচ্ছে। যাই হোক, বিষয়ে ফিরি-
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কতটা ইজরাইলপন্থী ছিল তা আমরা জানি, কিন্তু তার পরেও তার শাসনামলে গোটা বিশ্বে আমেরিকা কোথাও যুদ্ধে জড়ায়নি, না ইজরায়েলকে জড়াতে দিয়েছিল। এই কারণেই সম্ভবত তার বিদায় ঘটল এবং বাইডেন এল। ১৯৯৬ পরবর্তী সময়ে থেকে ২০১৬ ট্রাম্পের জমানা অবধি, বিশ্বরাজনীতির ইতিহাস যদি ঘাঁটাঘাঁটি করা যায়, দেখতে পাওয়া যাবে- এ যাবৎ কালে পৃথিবীতে যতগুলো যুদ্ধ হয়েছে- তার প্রতিটিতে আমেরিকা যুক্ত ছিল। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা হচ্ছে- প্রতিটা যুদ্ধের উপদেষ্টামণ্ডলীতে কোনো-না-কোনোভাবে বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপস্থিতি অত্যন্ত জোরালোভাবে ছিল।
সুতরাং সেই যুদ্ধবাজ ব্যক্তিটি যখন স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট, তখন ইজরায়েলের নতুন করে বাড়াবাড়ি করাটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। ক্ষমতায় আসার সময় দেশে করোনা ও বেকারত্বের পাশাপাশি সাদা-কালো দ্বন্দ্বটা আড়াআড়ি ছিল, স্বভাবতই শুরুতে বাইডেন নিজেকে ততটা প্রকাশ করতে পারেনি। কিন্তু গত মার্চ থেকে লাগাতার তার প্রতিটি বক্তৃতাতে ইজরাইলকে নিয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছিল, এবং যুদ্ধের জন্য প্রকাশ্য উস্কানি দিতেও কুন্ঠা বধ করেনি। স্বাভাবিকভাবেই দুর্নীতিবাজ নেতানিয়াহুর পতনের দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হতেই, বাইডেনের উস্কানির সূত্র ধরে নিরীহ ফিলিস্তিনিদের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছে ইজরায়েলি নপুংশক সেনার দল।

~ক্রমশ

বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১

এক্সিট পোল সমীক্ষা কেন করবেন ও দেখবেন?

 


২৯শে এপ্রিল শেষ দফার নির্বাচন শেষ হতে না হতেই- সন্ধ্যা থেকে বুথ ফেরত সমীক্ষা তথা এক্সিট পোল নিয়ে বিশেষজ্ঞের দলেরা খাপ পঞ্চায়েত খুলে বসবে। কতশত বড়, মেজো, সেজো ভোট কুশলী সর্বজ্ঞ সহ- কাল্ট সব সমীক্ষা হাউজেরা নিজেদের নামিয়ে দেবে নির্দিষ্ট টিভি চ্যানেল ধরে। এর পাশাপাশি অজস্র ওয়েবমিডিয়া, যারা নিজেরাই নিজেদের ডিগ্রী প্রদান করে বিশেষজ্ঞের আসনে উন্নীত করেছে- তারাও ফেসবুকের লাইভ ও ইউটিউবে এসে সমানে শব্দবমি করতে থাকবে।
ইতিহাস বলছে- ১৯৬৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকিতে একটি স্থানীয় নির্বাচনে প্রথম এক্সিট পোল পরিচালিত হয়। একই বছরে ডাচ রাজনীতিবিদ মার্সেল-ভ্যান-দাম এই এক্সিট পোলের ব্যবহার করেছিলেন। তার পর থেকেই বিজ্ঞাপনী মিডিয়া হাউজগুলোর কাছে এটা একটা চাঁদমারি হয়ে উঠে। অকারণ হাস্যকর বিতর্কসভা, খেউর এবং বিনোদনের ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমানে। অর্থবান যে কেউ তার পক্ষে পেইড প্রি-পোল সমীক্ষা প্রকাশ করে, এক্সিট পোলের ক্ষেত্রেও করে- শেয়ার বাজারের ফাটকা সহ কর্মীদের মনোবল বাঁচিয়ে রাখতে। এক্সিট পোলের কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই, পদ্ধতিটাই বিতর্কিত; তাই শুরু থেকে আজ পর্যন্ত যত এক্সিট পোল সমীক্ষা হয়েছে বিশ্বজুড়ে- তার ৮৭% মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত। বাকি তো লাগলে তুক, না লাগলে তাক। সে যাই হোক, এইবারের নির্বাচনে ফিরি।
এবারের ভোটটা হয়েছে মূলত- ক্ষমতাসীন দলের সীমাহীন দুর্নীতি, মূল্যবৃদ্ধি, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, সরকারি চাকরি, ফসলের ন্যায্য দাম, শ্রমিকের নুন্যতম মজুরী, নাগরিকের সামাজিক সুরক্ষা, প্রশাসনের পঙ্গুত্ব ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্লোগানকে সামনে রেখে। বিজেপি ও সংযুক্ত মোর্চার পক্ষে ঘুরেফিরে এগুলোই মুখ্য ইস্যু ছিল। তৃনমূলের পক্ষে একটা এমন শ্লোগান ছিল- যেটার ব্যাখ্যা তারা নিজেরা কেউ জানে কিনা জানিনা। ‘খেলা হবে’- একটা নীতিহীন দুর্নীতিবাজ দলের জন্য এক্কেবারে আদর্শ শ্লোগান, যার কোনো মা-বাপ নেই। এই পরিস্থিতিতে ডান-বাম-রাম সকল সাধারণ ভোটারের নিত্য সমস্যা উপরের প্রত্যেকটি ইস্যু। এখন ভোট সাম্প্রদায়িকতার উপরে হয়েছে না জীবনের ইস্যুর উপরে তা তো EVM খুললে তবে বোঝা যাবে।
ডিসক্লেমারঃ- আমি কোন জ্যোতিষী নই যে ভবিষ্যদ্বাণী করব, না রয়েছে সমীক্ষার কোনও ইনফ্রাস্ট্রাকচার, না সেই উচ্চমানের মেধা। পাশাপাশি- না রয়েছে আমার কোন মিডিয়া ব্যবসা, না টিআরপি ধরে রাখার দায়, না প্রোফাইলের রিচ বাড়ানোর নিনজা টেকনিকের জন্য এই পোষ্ট। আমার এই প্রোফাইলটি একান্তই আমার নিজস্ব, এখানে শুধুই নিজের তথা নিজেদের কথা বলার হয়। লাইক কমেন্ট হলেইবা কী আর না হলেইবা কী, লিখি তো নিজের খুশিতে, তাই শেয়ারের কোনো অপসনও রাখিনা।
এমতাবস্থার প্রাকলগ্নে কতগুলো তথ্য দিই। আমরা শেষ ৩০ বছরে পশ্চিমবঙ্গের ভোটের হিসাব যদি দেখি, সেখানে দেখা যাবে বিজেপি আরএসএস-এর নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে। যেটা গড়ে পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ ছিল ২০১৩ পর্যন্ত, তার পরবর্তীতে তৃণমূলের বদান্যতায় সেটা বাড়তে বাড়তে ১০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। এটাই মোটামুটি এদের পকেট ভোট। সুতারাং মোট প্রদেয় ভোট ১০০% হলে বাকি থাকে ৯০ শতাংশ।
বামেদের সবচেয়ে খারাপ রেজাল্ট বর্তমান সময়কালের মধ্যে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে। সেখানে সিপিএম নিজে পেয়েছিল ৬.৩৪%, বাকি বামদল গুলো মিলে ওই ৭% প্রায়। অর্থাৎ এই মারীকালে টিকে থাকা এই ৭% এক্কেবারে বামেদের নিজেদের ভোট বলে ধরে নেওয়া যায়। তাহলে বাকি থাকে ৮৩% ভোট।
২০১৯ মোতাবেক কংগ্রেস পেয়েছিল ৫.৬৭% তথা ৬% প্রায়। বাকি থাকে ৭৭% ভোট।
এবারে তৃণমূল কংগ্রেসের হিসাব। এদের দলে যতই দুর্নীতি থাকুক একটা ছোট্ট অংশের মানুষ এখনও মমতা ব্যানার্জি ছাড়া কিছু বোঝেনা, তারা ফুলেই ছাপ দেবে। এর বাইরে গোটা রাজ্য জুড়ে ২০১৮ পঞ্চায়েত সিলেকশনে পাওয়া- ৩৮১১৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত, ৮০৬২টি পঞ্চায়েত সমিতি ও ৭৯৩টি জেলাপরিষদের আসনে তৃনমূলের কুচো, মাঝারী ও কিছু বড় নেতা আসীন রয়েছে। এদের সিংহভাগ জনের এটাই পেশা, সুতরাং এদের প্রত্যেকের নিজের ‘দোকান’ বাঁচাবার তাগিদে ভোটটা তৃনমূলের পক্ষে দেবে ও করাবে। এই কয়েকলক্ষ জবরদখলী তৃণমূল প্রতিনিধি, তাদের পরিবার পরিজন, এদের উপরের উর্ধ্বতন নেতা ও তাদের পরিবার, কাটমানি-তোলাবাজির ভাগ পাওয়া চামচা-লোকলস্কর নিয়ে ভোটের অঙ্কটা মোটেই ১০% এর কম নয়।
এদের পাশাপাশি সমগ্র বাংলা জুড়ে মুসলমান অধ্যুষিত মহল্লাগুলোতে যারা ভোট প্রচার করতে গেছিল এই নির্বাচনে, তারা সকলেই জানে- একটা বড় অংশের অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও গোঁয়ার মুসলমান সম্প্রদায়ের মনে বদ্ধমূল ধারণা- NRC থেকে বাঁচাতে বিজেপিকে রুখতে হবে, আর এই কাজে একমাত্র মসিহা মমতা ব্যানার্জী। ২০২১ নির্বাচনে যে সকল গ্রামে বিজেপি ও জোট প্রার্থীরা প্রচারেই ঢুকতে পারেনি- তার প্রায় সবকটি মুসলমান গ্রাম। এখানে কার্যত ওয়াকওভার পেয়েছে তৃনমূল, এই অংশটুকুতে তৃনমুলের তথা মমতা ব্যানার্জির একচ্ছত্র আধিপত্য। RSS এর ক্রমাগত ধর্মীয় উস্কানি ও মেরুকরণ প্রচারের পিঠে এটাকেই পুঁজি করে তৃণমূলের প্রচার কৌশলের প্রত্যক্ষ সুফল এই ট্রেন্ড। সুতরাং প্রায় ৩০% মুসলমান ভোটারের অন্তত ১০% এখনও তৃনমূলের বাক্সেই যাবে, প্রচারের সময়কার ট্রেন্ড অনুযায়ী। মানে তৃনমুলের পক্ষে যাচ্ছে ২০% ভোট। অবশিষ্ট থাকে ৫৭% ভোট
এর পর নির্দল, নোটা, অন্যান্য ছোট ছোট দল ইত্যাদি সব মিলে ২% মত গেলে- বাঁচে ৫৫%। মানুষ সকলসময় বিজয়ী দলের পক্ষে ভোটটা দিতে চায়, নতুবা ‘কেন ভোটটা অমুকদে দিয়ে নষ্ট করব’ কথাটার উৎপত্তি হতনা। এটা গণতন্ত্রের গর্ভপাত হলেও সবটা নিয়েই আমাদের নির্বাচনী পরিকাঠামো। মোটের ওপর বলা যেতে পারে টুকরো-টাকরা কিছু অশান্তি ছাড়া সপ্তম দফা অবধি মানুষ নিজের ভোট নিজে দিয়েছ। তাই এই পর্বে এসে একটা কথা পরিষ্কার, কিছু বিচ্যুতি হলেও দিনের শেষে মানুষই শেষ কথা বলবে গণতন্ত্রে।
এই অবশিষ্ট ৫৫ শতাংশ ভোট থেকে প্রচারের সময় হাওড়া, হুগলি ও দুই ২৪ পরগণাতে বিপুল জনসমাগম করা আব্বাস সিদ্দিকীর ISF একটা ভাল ভোট টেনে নেবে। এই ৫৫% এর মধ্যেই বিপুল পরিমাণে নতুন ভোটার রয়েছে, যুবক বেকার রয়েছে, শ্রমিক, কৃষক, পরিযায়ী, ভোট দিতে না পারা ভোটার, সরকারি দলের জুলুমের শিকার হওয়া ভোটার, মিথ্যা মামলার শিকার হওয়া ভোটার, আমপানে নাজেহাল হওয়া ভোটার, মধ্যবিত্ত, চাকুরীজীবী প্রমুখেরা সকলেই রয়েছে। সকলেই মারাত্বক মুল্যবৃদ্ধির শিকার, দুর্নীতিবাজ অযোগ্য প্রশাসনের অত্যাচারের শিকার। এদের ভোটটা কোথায় যাবে কে হলপ করে বলতে?
এই ৫৫% ভোটারদের অধিকাংশই সাইলেণ্ট ভোটার, কোন সমীক্ষক কোন মন্ত্রে তার মনের ভিতরে ঢুকবে? অঙ্ক বিচার তো শুধু ৪৫% এর, বাকি ৫৫% ভোটের মধ্যে যে সিংহভাগ পাবে সে ই সরকার গড়বে, ত্রিশঙ্কুও হতে পারে। যদি এই বিপুল ভোটারদের ভোটদানের প্রবনতাকে যুক্তি সহ ধরতে না পারেন, তাহলে সমীক্ষায় নামে ঢক্কানিনাদের দাম জাষ্ট শূন্য, তাতে আপনি যত বড় সমীক্ষকই হোননা কেন, আর যত বড় চ্যানেলেই আপনার সমীক্ষাকে ঘটা করে দেখানো হোক- শত বিজ্ঞাপন সহযোগে।
পশ্চিমবঙ্গের মানুষের অধিকাংশই রাজনীতির খবর গিলতে পছন্দ করেন, তারাও ২৯শে এপ্রিল পরবর্তী ৩টে দিন ধরে হরেক চর্বিত চর্বন শুনে যে যার যার মত করে সিদ্ধান্ত নেওয়া শুরু করবে। এনারা মূলত তিনটে দলে বিভক্ত-
প্রথম দলঃ এরা স্বয়নে স্বপনে মন্ত্রিসভা গঠন করতে থাকবে, কিন্তু হিসাব মিলবেনা- বাঘের বাচ্চা মুখ্যমন্ত্রী হবে নাকি জাত গোখরো? নাকি দাদাকেই শেষ পর্যন্ত ময়দানে নামিয়ে মাস্টারস্ট্রোক দেবেন মোটা ভাই। শেয়ালদা স্টেশনের দোতলা ফুল বুক, তাই ঘর না পেয়ে করোনাকালে ফাঁকা ফ্ল্যাট খোঁজার ধান্দা করবে আগাম বিজয় উদযাপন করতে, ইত্যাদি। দলের নাম বলার প্রয়োজন নেই, সবাই জানে।
দ্বিতীয় দলঃ আগামী কিছুদিন কোথায় পালিয়ে গা ঢাকা দেবে তার ফন্দী আটবে, যদিও আগেভাগে নগদ অর্থ যতটা পারা যায় সরিয়ে দেবে, বৌ বাচ্চা বাপের ঘর পাঠিয়ে দেবে। ভোট চলাকালীনই কেউ কেউ এমন হুমকি ধমকি বা প্যাঁদানি খেয়েছে- দলেরই অন্য গোষ্ঠী বা আধুনা ‘দলবদলু মিরজাফরেদের’ কাছ থেকে, তাতেই ভয়ে তটস্থ। ‘খেলাটা’ আসলে কী যে হয়েছে বুঝেই উঠতে পারেনি। ভোট গণনা মিটে যাওয়ার পর যদি পরিস্থিতি অনুকূল হয়, তবেই ঘরে ফিরবে নতুবা এখন অনির্দিষ্টকাল আত্মগোপন। হারামের সম্পত্তি- গেলে যাক, বাপের দেওয়া জান একটাই- গণধোলাইতে ওটা গেলে আর ফিরবেনা। এখানেও দলের নাম বলা অপ্রাসঙ্গিক।
এই দুই দলকে নিয়ে ততটা চিন্তা নেই- এরা মূলধারার মিডিয়া পর্যন্ত পৌঁছায়না, সোশ্যাল মিডিয়াতেও নিজেরা ততটা দড়ের নয়, সামান্য একটা হ্যাজও নামাতে পারেনা- কেবল কপিপেষ্ট করে আঁটিসেলের দেওয়া উচ্ছিষ্ট, আর রোমান হরফে বাংলা কমেন্ট করে। আসল খেলোয়ার তো অসংগঠিত বিপুল ‘ক্যাডেড কপেরা’। তারা হ্যাজ নামায়, চিন্তন বৈঠক করে, মিনিটস বুক আপডেট রাখে, কমেন্টে বুদ্ধিদীপ্ত ভাষার ব্যবহার করে, প্রচুর ফেসবুক গ্রুপ আর পেজের এডমিন, এ কারনে এনারা পরিচিত মহলে মিনি সেলেবের স্ট্যেটাস খোঁজে। এর চেয়েও এদের বড় চারিত্রি বৈশিষ্ট হচ্ছে, এরা সর্বদা শঙ্কাগ্রস্থ থাকে; তাই এদের বিজ্ঞানসম্মত নাম- চেকা। এরাই তৃতীয় দল, এদের দলীয় পরিচয় দেওয়া ‘কগনিজেবল অফেন্স’, অগত্যা… চলুন বিশদে জানি এদের সম্পর্কে।
তৃতীয় দলঃ এনাদের ক্লাব, মাচা, চায়ের দোকান, বদ্ধ কেবিন, পাড়ার রক, ক্লোজ গ্রুপ, মেসেঞ্জার, হোয়াটস্যাপ জুড়ে সর্বত্র ‘ভয়ের’ কচি কচি ছানাপোনাদের দৌরাত্ব্য, টেলিফোন কলে শ্মশানের নীরবতা বিরাজ করে অধিকাংশ সময়ে। কিছু কল্পিত আত্মলাপ- “আরো পাঁচ বছর পিছিয়ে গেলাম! আচ্ছা আমাদের কে মারতে পারে, যারা ছিল তারা- নাকি যারা আসবে তারা? সরকার গঠন সম্ভবত উনিই করবেন, প্রচুর টাকা যে ওদের- সারদা, নারদা, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, কাটমানি…। অবশ্য দিল্লি থেকে ওদেরও কম কিছু মাল্লু আসেনি, বুথ পিছু নাকি ১০ হাজার ছিল ভোটের দিন, সব ভোট কি নিজে নিলো? যদিও সব হিন্দু মোদিফায়েড হয়ে গেছে, আণ্ডার কারেন্ট, এবারে উত্তরপ্রদেশ হবে ভাই- কিচ্ছু করার নেই। কি আর হবে, এদ্দিন ওদের হাতে ক্যাল খাচ্ছিলাম, নাহয় তোদের হাতে খাবো”। মস্তিষ্কের উন্নত গোবর সারে জন্মানো ভীতি, আতঙ্ক ও ত্রাসের জমির লকলকে ফসলের গুণে- ক্রমশ পিছতে পিছতে আলাস্কা পৌঁছে যাবেন ইনারা।
এনাদের প্রত্যেকের মাঝে ১০০ জিবি করে ইনবিল্ট ‘ভয়’ ইনস্টল রয়েছে সিস্টেমে, যেখানে রোজ সামান্য জাঙ্ক ফাইল তৈরি হয়। এদের যারা সমমতাদর্শী বন্ধু, তাদেরও একই প্রসেসর। এখন এমন ২৫ জনের ক্লোজ গ্রুপে নিজেদের ভয়ের ফাইলগুলোকে অন্যের সিস্টেমে ট্র্যান্সফার করে নিজেকে হালকা করে নেয় একটু। এখন ‘ক’ বাবু যদি ২৪ জনের থেকে অল্প অল্প ভয়ের ফাইল নিজের সিস্টেমে নিয়ে আসে- সেটা ১ জিবি করে হলেও ২৪ জিবি অতিরিক্ত ভয় জমা হয় সিস্টেমে, ইনবিল্ট ছিল ১০০ জিবি, এর সাথে দৈনিক নিজস্ব জাঙ্ক। ব্যাস ওভারলোড হয়ে গিয়ে ‘ক’ বাবু তখন ভয়ের সুপার স্প্রেডারে পরিণত হয়ে যায়, যেটা ভাইরাসের মত সম্পুর্ণ কমিউনিটিতে ছোঁয়াচে হয়ে যায়। কোনো স্যানিটাইজার, মাস্ক এক্ষেত্রে কাজে আসেনা। একটাই উপায়- জাঙ্ক ক্লিন করা ও ইনফেক্টেডদের থেকে দুরত্ব মেন্টেন করা। এদের কাউন্সিলিং দরকার- ভয়ের ভাইরাস তোমাকে মেরে ফেলবেনা, শুধু একটু অঙ্ক কষো- দেখো সুস্থ লাগবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এই তৃতীয় দলের সমীক্ষকরা ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে সমীক্ষা করে ধরতেই পারেননি- কীভাবে রাতারাতি ২০-২৫ শতাংশ ভোট উবে গেছিল। সেই তারাই আবারও আন্তঃসমীক্ষা করছেন অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে- একেই হয়ত আত্মনির্ভরতা বলে।
গোটা লকডাউনে মানুষের পাশে কার্যত বামেদের তরুণ প্রজন্মের বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়ে গুলো ছাড়া কেউ ছিলনা, পরিযায়ী শ্রমিক ও তাদের পরিবারগুলোর পাশে এরাই ছিল। এরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে জরুরী পরিসেবার সহযোগিতা পৌঁছে দিয়েছে, বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে কমিউনিটি কিচেন তথা শ্রমজীবী ক্যান্টিন চালিয়েছে, ন্যায্যমুল্যের বাজার চালিয়েছে ইত্যাদি। এই ছাত্রযুবর দলেরাই আম্পানে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল সর্বশক্তি নিয়ে। যার উপর ভিত্তি করে বেশ কয়েকটি বড় বড় গণ-আন্দোলন- দীর্ঘদিন পরে রাজ্যের রাজধানীতে শাসক দলের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে। এরফলে সমাজের তরুণ যুবক যুবতীরা হঠাৎ করে এই ছাত্রযুবদের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছে। সংগঠনের বহুবিধ ঘাটতি এদের দ্বারা ঢেকে গেছে। এই নির্বাচনে বামেদের রক্তক্ষরণ পুষিয়ে, ঘুরে দাঁড়িয়ে লড়াই দেবার পরিবেশ তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ উজ্জল একঝাঁক তরুণ তরুণী। তাহলে লকডাউনে পরিষেবা নেওয়া এই মানুষগুলো কাকে ভোট দেবে? সেই সহায়ক লড়াকু মুখ গুলোই তো এলাকাতে ভোটে দাঁড়িয়েছে যারা দুর্বিপাকের কালে রাস্তায় মানুষের পাশে ছিল। এ হিসাব কে কষেছে?
এর সাথে রয়েছে আব্বাস ফ্যাক্টর। দুই ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলি ও কোলকাতার খান চারেক আসন মিলে দাঁড়ায় ১০২টি বিধানসভা, যেখানে আব্বাস একটা বিশাল ফ্যাক্টর। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য- গোটা উত্তরবঙ্গ সহ মালদা পর্যন্ত মাত্র ৫৪টা বিধানসভা আসন। সুতরাং বাকি কোথাও আব্বাস ফ্যাক্টর থাক বা না থাক- এই চার জেলার ১০২ খানা আসনে বিগ ফ্যাক্টর, যা রাজ্যের মোট আসনের এক তৃতীয়াংশের কিছুটা বেশি। গত ডিসেম্বরেও এই বিপুল সংখ্যক আসনে তৃণমূল হাসতে হাসতে ৯০টারও বেশি সিট জিতে যাবার মত অবস্থায় ছিল, কারন আরাবুল-শওকত মোল্লার ঠ্যাঙারে বাহিনী ভোট লুঠ করত চোখের সামনে। দুম করে বঙ্গ রাজনীতিতে উদয় হওয়া আব্বাস সিদ্দিকী আরাবুল-শওকত সহ ওই ১০২ খানা বিধানসভার ভোট লুঠেরাদের কার্যত পথে বসিয়ে দিয়েছে, যেটা বাংলা জুড়ে শাসকদলের দুষ্কৃতীদের কাছে কড়া বার্তা গিয়েছে, এতে করে বিরোধীরা আরো আত্মবিশ্বাসী হয়েছে- ‘এদেরও রুখে দেওয়া যায়’। ক্যানিং এ ভোটের দিন তথাকথিত দোর্দণ্ড প্রতাপশালী শওকত মোল্লা রাস্তাতেই বসে ছিল ISF অত্যাচার করছে এই অভিযোগে।
আব্বাস আর কিছু পারুক বা না পারুক, সে তৃনমূলের ঠ্যাঙারে বাহিনীর ভোট লুঠ রুখে দিয়েছে, মোটের উপরে মানুষ নিজের ভোট নিজে দিয়েছে। তাহলে কাকদ্বীপ থেকে কোচবিহার- যে ভোটারদের ১০ বছরে ভোট দিতে দেয়নি শাসকদল, তারা কোনদিকে ভোটটা দিয়েছে? এর সমীক্ষা কে করেছে?
মুসলমানেদের ১০% মত নাহয় তৃনমূলের কমিটেড ভোটার, বাকি প্রায় ২০% কাকে ভোট দেবে? এরা যে বিজেপিকে দেবেনা এতে তো কোন সন্দেহ নেই খালি চোখে, এদের মনের সমীক্ষা কে করেছে?
এমন নানান সূত্র দুমুখ থেকেই খোলা আছে, যার জন্য এখনই আনন্দিত হওয়ার মত কিছু তথ্য নেই- না হতাশ হওয়ার কিছু হয়েছে, যা খুশি হতে পারে।
এই ভোটের ফলাফল যা খুশি হতে পারে, ত্রিমুখী লড়াইতে তৃণমূল ক্ষমতায় থেকে যেতে পারে, বিজেপি আসতে পারে, সংযুক্ত মোর্চারও না আসার কোনও জটিল অঙ্ক নেই। মোদ্দা কথা, যা হওয়ার হয়ে গেছে- তা বাক্স বন্দি রয়েছে। ফলাফল একমাত্র জানা যাবে ২রা মে বেলা ২টোর পর। তাই মন্ত্রীসভা গঠন করেও লাভ নেই, পালিয়েও সমাধান হবেনা, আর ভয়ের দোকান খুলে বিপ্লব হবেনা। ধৈর্য ধরুন, অঙ্ক কষুন, যা হবার হবে, দেখা যাবে। ভোটে জিতলেও কঠিন লড়াই, না জিতলেও তাই। টিভি মিডিয়াকে ব্যাবসা করতে হবে, তাই সে সমীক্ষা দেখাবে। ওদেরটা ঠিক হবার চান্স যতটা- ভুল হবার চান্সও ততটাই। আসল কাজ মানুষের পাশে থাকা, মানুষ ঠিক করুক কাকে পাশে রাখবে- কাজের মানুষ না চোর দলবদলুদের।

তাই এখন থেকে রক্তচাপ বাড়িয়ে লাভ নেই, আপনাকে আমাকে খেটেই খেতে হবে। ঠিক আছে!

উত্তর ২রা মে বিকালে, তার আগে NO জ্যোতিষ গিরি।
কী, বুঝা আসছে?

চিল্লাইয়া কন- ঠিক কি বেঠিক!

বুধবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২১

ভ্যাক্সিনঃ বিজ্ঞান, ভয় না ভক্তি?



দেশের নিউজ মিডিয়ার লাগাতার ভয়ের প্রচার দেখে শুনে, সম্পূর্ণ হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দল সহ অধিকাংশ আমজনতা ‘ভ্যাক্সিন দাও ভ্যাক্সিন দাও’ বলে এক বিচিত্র আন্দোলন শুরু করেছে। ভ্যাক্সিন নিয়ে গত বছরের লেখাটা নিচে রইল, সেখানে আরো অনেক লেখার লিঙ্ক পাবেন। এছাড়াও এই গত মার্চে, গত এপ্রিলেও কিছু লেখা রয়েছে।
সেই ধারাবাহিকতাতেই কিছু প্রশ্ন রাখি আপনার সামনে, প্রশ্নগুলো নিজেকে করবেন, উত্তর পেলে ভ্যাক্সিনের জন্য আরো তেড়েফুঁড়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ুন।
১) COVID একটি RNA ভাইরাস। অন্যান্য RNA ভাইরাসের কী কী ভ্যাক্সিন বাজারে আছে? র্যা বিস, জিকা, সাইটোমেগাল, ডেঙ্গু এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি ভাইরাসের mRNA ভ্যাক্সিন বাজারে থাকলেও সেগুলো কোনো মেডিকেল কাউন্সিল দ্বারা স্বীকৃতি পায়নি কেন? অন্য কোনো RNA ভাইরাসের ভ্যাক্সিন যেখানে আবিষ্কৃতই হয়নি, সেখানে একই জাতের কোভিডের ভ্যাক্সিন কোন পদ্ধতিতে আবিষ্কৃত হলো?
২) যদি সত্যিই mRNA কোভিড ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হয়েই থাকে, তাহলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটা যুগান্তকারী আবিষ্কার। তাহলে এমন মহান কীর্তি কে আবিষ্কার করল, সেই বিজ্ঞানী বা বিজ্ঞানী দলের নাম কী? তিনি বা তাদের জন্য নোবেল পুরষ্কারের দাবী উঠেনি কেন?
৩) কোন বড় ডাক্তার সংগঠন এই ভ্যাক্সিনকে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে স্বীকৃতি জানিয়েছে?
৪) রাষ্ট্রীয় বা রাজ্যোয়ারি বিজ্ঞান মঞ্চগুলো ভ্যাক্সিনের পক্ষে পরিষ্কার লিখিত বিবৃতি দিয়েছে?
৫) দুই ভ্যাক্সিন কোম্পানি বাদে- অন্য কোনো ভাইরাস বিজ্ঞানী, গবেষক, মাইক্রোবায়োলজিস্ট কিম্বা বায়োটেকনোলজিস্টদের কোনো সংগঠন এই ভারতীয় ভ্যাক্সিনগুলোকে জেনুইন বলে লিখিত ঘোষণা দিয়েছে?
৬) কোভিশিল্ড নামের ভ্যাক্সিনের ওয়েবসাইটে সিরাম ইন্সটিটিউট গোটা গোটা অক্ষরে লিখে রেখেছে এটা কেবলমাত্র ‘ইমারজেন্সী’ রোগীদের ব্যবহারের জন্য। অতএব ভ্যাক্সিন নেবার পরও মরে গেলে তারা দায় নেবেনা, নেয়ওনি।
তাহলে মারাত্বক অসুস্থ রোগী ব্যাতিরেকে সকল সুস্থ মানুষকে এই ভ্যাক্সিন কেন জোর দেওয়ার জন্য আন্দোলন হবে?
৭) ভারত বায়োটেক নামের ভ্যাক্সিন কোম্পানি তার চতুর্থ অধ্যায়ের ট্রায়াল শুরু করেছে গত সপ্তাহে। ট্যুইটার-ফেসবুক সহ সমস্ত শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রে সে খবর বেরিয়েছিল। তাহলে ভ্যাক্সিনের নামে যেগুলো বিক্রি হচ্ছে সেটাও কী ওই ট্রায়ালের অন্তর্ভুক্ত? কোম্পানি তো বিজ্ঞাপন দিয়ে খোলসা করেছে, সরকার কি খোলসা করেছে এ বিষয়ে? এটা ট্রায়াল কিনা জানতে চেয়ে- কোনো মামলা হয়েছে হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে?
৮) ভ্যাক্সিন নেবার পর এর সাইড এফেক্টে কোনো সুস্থ মানুষের মৃত্যু হলে ‘কেন্দ্র-রাজ্য’ কোনো সরকার কোন দায় নিচ্ছে না, আগে থেকেই ডিক্লিয়ারেশন ফর্মে সই করিয়ে নিচ্ছে যে স্বেচ্ছায় নিচ্ছি। তাহলে ভ্যাক্সিন নেবার এই ভয়ানক প্রচারের ফাঁদে পরে যাদের মৃত্যু হচ্ছে সে দায় কার, শুধুই ব্যাক্তির?
৯) পৃথিবীতে অন্যান্য যত ভ্যাক্সিন বাজারে বেরিয়েছিল, এগুলোর ট্রায়াল পর্বে যাদের উপর ট্রায়াল করা হতো তাদের প্রত্যেককে বিপুল অর্থের বীমা করাতে বাধ্য ছিল বায়োটেক কোম্পানিগুলো। যাতে ঘটনাচক্রে সেই ব্যক্তি মারা গেলে তার পরিবার যেন আর্থিক ক্ষতিপূরণ পায়। এবারে তো আমরা নিজেরা বলছি- স্বেচ্ছায় নিচ্ছি।
এক্ষেত্রে সারা দেশের বহু মানুষের উপর দুটো কোম্পানি ট্রায়াল দিচ্ছে সম্পূর্ণ বিনা খরচাতে। এ যেন আধুনিক নুরেমবার্গ ট্রায়াল। পড়ুন- https://breaking-news.ca/the-new-nuremberg-trials-2021.../
১০) কোনো প্রশ্নের উত্তর না জেনেই কাতারে কাতারে সুস্থ মানুষ ভ্যাক্সিনেশন করিয়েছে- প্রথম ডোজ। তার ভ্যাক্সিন পরবর্তী জীবনের সাথে অন্যের জীবন ধারার বিন্দুমাত্র ফারাক নেই, সেই মাস্ক, সেই দুরত্ব মেন্টেন, সেই ঘরবন্দি, সেই ভয়। সেই তারা উতলা হচ্ছে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার জন্য।
প্রথম দফার ভ্যাক্সিন নেওয়ার পরেও কত মানুষ মারা গেছে সে তথ্য কার কাছে আছে? আর দ্বিতীয় দফার ভ্যাক্সিন ডোজ নেওয়ার পরেও কত মানুষ মারা গেছে? ভ্যাক্সিন নেওয়ার আগে এটা জানার চেষ্টা করবেননা না? গত এক মাসে যারা করোনাতে মারা গেছেন তাদের সকলে না হলেও বিরাট একটা অংশের মৃত- ভ্যাক্সিন নেওয়ার দলে ছিলেন। একটু খোঁজ নিয়েই দেখুননা, সবটা সব সময় অন্যের কথা কেন বিশ্বাস করবেন!
১১) কখনও ভেবে দেখেছে, আমাদের দেশে এই মুহুর্তে ভ্যাক্সিন নিতে কে বলছে? সাংবাদিক, রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতানেত্রী, আইনজীবী, অর্থনীতিবিদ, ক্রীড়াবিদ, অভিনেতা, শিল্পী সাহিত্যিক, কলা ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপকেরা, চায়ের দোকান বা ফেসবুকের সর্বজ্ঞ জ্যাঠামশাই প্রমুখেরা। অথচ যাদের বলার দরকার- সেই জীবাণুবিজ্ঞানীদের দল, স্বীকৃত ডাক্তার সংগঠন কিম্বা বায়োটেকনোলজিস্টরা কিছুই বলছেন না। মেরা ভারত মহান।
১২) WHO গতবছর প্যান্ডেমিক ঘোষণার শুরুর দিন থেকেই COVID বিষয়ে নিয়মিত মানুষকে বিভ্রান্ত করে এসেছে, যা আজও সফলতার সাথে করে চলেছে। কেন এটা কার স্বার্থে?
১৩) ওদিকে মার্কিন CDC গতকাল ঘোষণা করেছে যারা ভ্যাক্সিন নিয়েছে- তাদের মাস্ক লাগবে না, সামাজিক দূরত্বও মেন্টেন করার দরকার নেই। অথচ আমাদের দেশের ভ্যাক্সিন নিয়েও হাজারে হাজারে মানুষ মরেছে। https://breaking-news.ca/the-new-nuremberg-trials-2021.../
১৪) ট্রাম্প চলে যেতেই আমেরিকাতে করোনা প্রায় গায়েব হয়ে গেছে। সব লোক ভ্যাক্সিন নিয়ে নিয়েছে এমনটা মোটেও নয়, কিন্তু ভ্যাক্সিন দালালদের সাথে রাষ্ট্র বা রাষ্ট্র চালনা করা সরকারি দল অশুভ আঁতাত বন্ধ হয়েছে- তাই করোনা গায়েব। আমাদের মোদীজির সাথে গেটস ফাউন্ডেশনের পিরিত মাখামাখা, যাদের অর্থ লগ্নি আছে অক্সফোর্ড এস্ট্রোজেনিকা, এদই সাবসিডিয়ারি সিরাম ইন্সটিটিউট। ভারত বায়োটেকও গেটস ফাউন্ডেশনের বাইরে নয়। আমার আগের বহু পোস্টে ভুরি ভুরি তথ্য-প্রমাণ দেওয়া আছে।
১৫) মাননীয় মোদী ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের রাষ্ট্রনায়ক হিসাবে আসীন থাকবেন। অর্থাৎ করোনার পঞ্চম ঢেউকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। সে আপনি যত চেষ্টাই করুন- মৃত্যুমিছিল বা ভয়ের চিতা ছাড়া কিছুই দেখবেন না। নতুবা ভ্যাক্সিনের নামে ভয় বেচে দলীয় তহবিলে টাকা সাইফন কীভাবে হবে? দুটো ভ্যাক্সিন ভ্যাক্সিন কোম্পানিকে এই বছরে কত হাজার কোটি টাকার সাহায্য করেছে কেন্দ্রীয় সরকার সেটাতে চোখ বুলান- আরাম পাবেন। অথচ কেন্দ্রীয় ভাইরাস গবেষণা কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ তো বাড়েইনি, উল্টে কমেছে।
১৬) আগে ছিল চিনা স্ট্রেন, ইতালি স্ট্রেন, ব্রিটিশ স্ট্রেন ইত্যাদি। এখন হয়েছে কোলকাতা স্ট্রেন, উড়িষ্যা স্ট্রেন, দিল্লী স্ট্রেন, গুজরাত স্ট্রেন, বিহার স্ট্রেন ইত্যাদি। এরপর আসবে বর্ধমান স্ট্রেন, হুগলি স্ট্রেন, জলপাইগুড়ি স্ট্রেন। তারপর আসবে বিধানসভা ধরে ধরে স্ট্রেন, এভাবে পঞ্চায়েত স্ট্রেন। শেষে ব্যাক্তিগত পর্যায়ে তন্ময় স্ট্রেন, মৃন্ময় স্ট্রেন, চিন্ময় স্ট্রেন আসতেই থাকবে।
কত ভ্যাক্সিন বানাবি বানা না। আমরা সব নেব- কারণ মিডিয়াতে যে ভয়ের দোকান। দেশে ১৪০ কোটি জনগণ, পড়শী দেশগুলোও আমাদেরই ফলো করে। এরপর পার্সোনালাইজড রঙবেরঙের মাস্কের মত, পার্সোনালাইড অর্ডারি করোনা ভ্যাক্সিনও বাজারে আসবে। ‘ধান্দা চল রাহা হ্যায় ভাই’।
১৭) আজও কোনো বস্তি এলাকাতে বা গ্রামীণ এলাকাতে সেই অর্থে সচেতনতা নেই, সেখানে মড়ক লেগেছে? কতজন মুসলমান মরেছে করোনাতে? কেন মৃত্যুহার কম এই বিশেষ সম্প্রদায়ের? আপনি খোঁজেননি, কারণ মিডিয়া আপনাকে দেখায়নি, তাই মাথাতেও আসেনি।
১৮) করোনাতে মৃত রোগীর কি পোস্টমর্টেম হচ্ছে? হলে সেই সব নমুনার রিপোর্ট কী ? কতজন গবেষক তার উপরে থিসিস লিখেছেন?
১৯) করোনার প্রকোপে বিশ্বজুড়ে ছিটিয়ে থাকা আরো হাজার রোগ অন্যান্য মৃত্যু কী বন্ধ আছে? বাকি রোগেরাও কি লকডাউনের আওতাতে কোয়ারেন্টিনে আছে? যাদের স্বাভাবিক ইনফ্লুয়েঞ্জার মৃত্যু, হাপানির মৃত্যু সহ নানান ধরনের চেনা রোগের যে সব মৃত্যু হতো সেগুলো কোথায়?
২০) একটা ভ্যাক্সিন কোম্পানি কিছুদিন আগে বলেছিল চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ, তারপর বলল ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ, অতঃপর ১২ থেকে ১৮ সপ্তাহ, এখন বলছে ৩২ সপ্তাহ পর, এরপর হয়ত বলবে এক বছর।
এরপরও এখন আপনি ভারতীয় ভ্যাক্সিনের মধ্যে বিজ্ঞান খুঁজছেন।
বিশ্বের কোনো সরকার ভ্যাক্সিন নেওয়া বাধ্যতামূলক করেনি, তবে উন্নত বিশ্ব মৃত রোগীর দায় নিচ্ছে- আমরা আচ্ছেদিনের নাগরিক তাই আমাদের উপরে গণ ট্রায়াল চলছে। আমরাই তো আন্দোলন করছি- দিতে হবে দিতে হবে। কী কিউট তাই না!
২০২১ এর করোনা উৎসব মে মাসটা পেরোলে হয়, সে আবার বাইশে আসবে ঈদের আগে আগে। চলুন বসে না থেকে কিছু তো করতে হবে, এই বারে লাল-সবুজ-গেরুয়া সব রঙ মিশে গিয়ে হ্যাসট্যাগ আন্দোলন করি ফ্রি ভ্যাক্সিন দিতে হবে। মামলা করি- সুপ্রিম কোর্টে।
কে বাঁচাবে আমাদের? আমরা তো নিজেরাই জীবন্ত গিনিপিগ।
টেলিগ্রাম গ্রুপের মেসেজে লেখকের নামহীন একটা ভালো পেলাম, সেটাই দিয়েই লেখাটা শেষ করি-
“সরকারী ফরমান নিয়ে একজন ফাঁসির আদেশ প্রাপ্ত আসামীর উপরে একটা গবেষণা করব বলে ঠিক করল বিজ্ঞানীরা। আসামীকে বলা হল- “আপনাকে ফাঁসি দেওয়া হবে না, সাপের দংশনে মারা হবে”। নির্দিষ্ট দিনে বিজ্ঞানীরা আসামীকে একটি চেয়ারে বসিয়ে হাত পা বেধে মুখ ঢেকে দিলো। বিজ্ঞানীরা একটি বিষহীন আলপিন দিয়ে তার পায়ের আঙুলে দুটো ফুটো করে দিলো। অল্প কিছু সময়ের মধ্যে লোকটি ভীষণ ঘেমে মারা গেলো।
বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে এলো- আসামীর শরীরে ভয়ানক রকমের নেগেটিভ এনার্জি কাজ করেছে, শেষ কয়েকদিন সারাক্ষণ ‘সাপের ছোবলে মারা যাবো’ এই চিন্তাই করেছে। পায়ে আলপিন ফুটতেই সেই ভয় ও নেগেটিভ এনার্জি তার হার্ট ফেল করিয়েছে।
মিডিয়ার কল্যাণে, করোনা নিয়েও মানুষের মনে নেগেটিভ এনার্জি কাজ করছে, এটা ভয়ঙ্কর প্রবনতা যা ছোঁয়াচে। যে কোনো মানুষ এই প্রবনতার শিকার হলে, তার বাঁচা মুশকিল। পজেটিভ ভাবুন, Covid মানেই হেরে যাওয়া নয়, এটা একটা স্বাভাবিক লড়াই। আক্রান্তদের ৯৭-৯৮% মানুষ, করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাধারন চিকিৎসা আর পুষ্টিকর খাবারেই সুস্হ হচ্ছে। তাই Covid লড়ায়ে জয়টাই সামনে থাকুক। মনে শরীরে সতেজ থাকুন, ভয় পাবেন না, কাউকে ভয় দেখাবেন না। সুস্থ থাকুন”।
___________
বিঃদ্রঃ- এই পোস্ট শিক্ষিত মানুষের জন্য। ডিগ্রীধারী মুর্খ বা ভক্তদের জন্য নয়।

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...