সোমবার, ৯ নভেম্বর, ২০২০

না ফেরার দেশে ভাল থেকো বোন....



দৈনিক মিডিয়াতে মুখ দেখানোর খরচা ২ কোটি।

দৈনিক বডিগার্ড পোষার বহরে যায় দেড় কোটি।

উড়ো জাহাজ আসে ৮০০০ কোটির।

২০ হাজার কোটির গল্পও আসে 'মন কি বাতে'

PM কেয়ারে কালাধন হাজার কোটির গুপ্তধন।

MLA-MP কিনতে কত শত হাজার লক্ষ কোটি-

শুধু আমাদের ঘরের সন্তানেরা, যারা নোটবন্দি থেকে শুরু হয়ে এই লকডাউনের অভিশাপে দেউলিয়া-

তাদের জন্য আত্মহত্যাই একমাত্র পথ। বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুই তখন সহজতম পন্থা হয়ে যায়, যখন শাসক দুরাচারী ক্ষমতালোভী দুর্বৃত্ত হয়ে উঠে অন্ধ হয়ে যায়, সভাসদ, উমেদারের চাটুকারিতার বৃত্তে জনগনের আকুতির আওয়াজ পৌছায়না- রাষ্ট্র যখন বধির হয়ে যায়।

এই মৃত্যু, এই হাহাকার অভিশাপ হয়ে বর্ষিত হোক অত্যাচারী মিথ্যুকদের উপরে।

না ফেরার দেশে ভাল থেকো বোন....

শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২০

খোলা চিঠিঃ জো বাইডেন


 

সুধী

বাইডেন দাদু,

শুরুতেই সালাম নেবেন, ঠাকমাকেও সালাম দেবেন। ট্রাম্প দাদুর সাথে দেখা হলে আমার পক্ষ থেকে তাঁর টাকে একটা রাম গাট্টা মারবেন- আর বলবেন ওটা বিবেকানন্দ, ভিভেকামুন্নোন নয়।

এবং, এবং ও এবং.......

আমাদের জন্মভূমি আমাদের কাছে পুণ্যতীর্থ, এটা filthy নয়। ফিল্টি কিছু হয়ে থাকলে সেটা আমাদের দেশের কিছু রাজনৈতিক নেতা, ওগুলোকে দলমত নির্বিশেষে আপনি ট্রাম্পদাদাদুর সাথে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে পাঠিয়ে দিলে এঁটো করে হামি খেয়ে দেব আপনাকে। ট্রাম্প নিজেই একটা নোংরা আবর্জনা, আমাদের দেশ নয়।

যাই হোক, আপনি প্রমাণ করে দিলেন, শিক্ষাই পার্থক্য গড়ে দেয় ভদ্র সভ্য আর ইতরের।

আমাদের ময়ূর বাহন কখনও বলতে পারেনি- 'তুমি আমাকে ভোট দাও বা না দাও আমি তোমারও প্রেসিডেন্ট '। থুড়ি ওটা প্রেসিডেন্ট হবে না, প্রধানমন্ত্রী হবে। ইয়ে, আমাদের যিনি প্রেসিডেন্ট তাঁর অবস্থা ল্যাম্পপোস্টের চেয়েও সঙ্গীন, নিচু জাতের হওয়ার দরুন রামমন্দিরের ভিত্তিস্থাপনের মতো অধিকাংশ অনুষ্ঠানে ডাকই পান না। ল্যাম্পপোস্টের মাথায় তবু একদুটো আলো আছে, এঁনার যে কী আছে সেটা বললেন আমাকে UAPA দিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেবে।

বেলাইন হয়ে যাচ্ছি আবেগের চোটে, আমাদের মিত্রোঁর প্রসঙ্গে ফিরি, মহাশয়ের বিভাজনের রাজনীতিই তাকে ক্ষমতায় এনেছিল গুজরাতে দাঙ্গা করে, শকুন যত উঁচুতেই উঠুক নজর তার ভাগাড়েই থাকে।

আপনি পেরেছেন, বলতে পেরেছেন- আমি সকলেই, তোমরা সকলে আমার। দারুণ ভাবে ইনিংসের শুরুটা করলেন, ধ্রুপদী ঘরানায়। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফেরা থেকে শুরু করে উন্মাদ ট্রাম্প যেগুলো করেছিলো ও যেগুলো করেনি সেগুলোর ভালটা আপনি করবেন ও মন্দটা বিসর্জন দিয়ে বিশ্বের কল্যানের পক্ষে থাকবেন বলেই আপাতত বিশ্বাস রাখিছি। কারন শুরুতেই বিশ্বাস হারানো পাপ ও অপরাধ।

আপনি কতটা জিতেছেন তা পরিষ্কার না হলেও, আপনার দেশের জনগণ কিন্তু ট্রাম্পের হাত থেকে মুক্তি চেয়েছিল, তাই ট্রাম্প হেরেছেন। বার্নি ও ব্লুমবার্গের অনেকটা দৌড় শেষ পর্যন্ত আপনাকে সুযোগটা সহজ করে দিয়েছে এটাও সত্য। কিন্তু দিনের শেষে আপনিই সত্য, আপনার জয়ও সত্য। যেমন আমাদের দেশে 'মন কি বাতের' ভাঁড়ামো সত্য, আমাদের ১৮ জন সাংসদও সত্য।

নাহ, ব্যক্তিগত কোনো চাহিদা নেই আপনার প্রতি। কারণ মার্কিনীদের বিদেশনীতি প্রত্যক্ষভাবে CIA নিয়ন্ত্রণ করে, বর্তমানের 'সেক্রেটারি অফ স্টেট' যা আপনাদের বিদেশমন্ত্রী পদের নাম, সেই মাইক পম্পেও মশাইও CIA এর প্রাক্তন অধিকর্তা। তাই বিদেশনীতি প্রায় একই রকম ধ্বংসাত্মক থাকবে যেমন আগে ছিল।

তবে চাইব, তৃতীয় বিশ্বে সন্ত্রাস দমনের নামে গণহত্যা যেন না হয় আপনার আমলে। যেন সমগ্র মুসলমান সম্প্রদায়কে ভিক্টিমাইজড করে তাদের উপরে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে অত্যাচার না করা হয়।

আপনি যথেষ্ট স্পষ্ট করে নিজের মতবাদ জানাতে পারেন বলে আপনার সুপরিচিতি রয়েছে। তুরস্কের উত্থান, মিশর, সুদান ও লিবিয়ার উত্তেজনা, সৌদি ইয়েমেনের দৌরাত্ম্য, ইরাক ও সিরিয়াতে দাদাগিরি, রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক, ইউরোপের ঘরোয়া কোন্দল, লাতিনীয়দের রাজনৈতিক অস্থিরতা সহ আপনার নিজের দেশের জাতি দাঙ্গা ও সামাজিক অস্থিতিশীলতাকে টপকে আপনাকে যা সামাল দিতে হবে তা হলো- আপনাদের দেশের অর্থনীতি।

তার চেয়েও বড় সমস্যা ইজরায়েল, কারণ সে আপনার দেশকে টপকে দাদা হতে চায়। আর এর জন্য সে সব কিছু করতে প্রস্তুত। এটাকে সামাল দেওয়াই আপনার মূল চ্যালেঞ্জ।

বর্তমান ফিয়াট কারেন্সির ব্যাটারি শেষ, এদিকে ইজরায়েল ভার্চুয়াল কারেন্সির দখল নিয়ে সুপ্রিম পাওয়ার হবে বলে স্বপ্ন দেখছে। কাজটা ভীষণ কঠিন আপনার সামনে। তাই আমার মনে হয় না নিজেদের দেশ ও নিজের স্বার্থের বাইরে মাথামোটা ট্রাম্পের মরো আমাদের দেশের দু'আনা মূল্যের মূর্খের কাঁধে হাত রেখে হাউডি বলে লাফাবেন কখনও।

ব্যাস, এটুকুই। আর কিছু আশা রাখি না। অস্ত্র বিক্রিই যাদের মূল রোজগার, তারা যে অশান্তি লাগাবে এতে সন্দেহ নেই, কিন্তু ট্রাম্প বাবাজীবন কিন্তু কাউকে বোমা মারেনি, এই ধারা যেন বজায় থাকে- এটা প্রার্থনা হিসাবেও নিতে পারেন।

আপনার ডেপুটি, কমলা দেবীর দাদু অর্থাৎ মায়ের পিতা গোপালন বাবু, নেহেরুর ক্যাবিনেট সচিব ছিলেন। তাকেও জয়ের স্বাগত জানাই, আড়াই শতাব্দীর ইতিহাসে প্রথম মহিলা যিনি এই পদে এলেন। এটাও ইতিহাসের সন্ধিক্ষণ।

আপনি আমাদের দেশের NRC এর ঘোষিত বিরোধী, এর জন্য আপনাকে শুভেচ্ছা। আবার আপনি কাশ্মীর নিয়ে পকিস্থানপন্থী, এটার জন্য আপনাকে ধিক্কার জানাই। আপনি কিছুটা চীন ঘেঁষা, এটা কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া যুক্ত হলে ঋণাত্মক ভাবে ভাবছি না।

আমাদের দেশের ভালো কিছু করুন চাই না করুন, আপনার শাসনামলে দেশের মানুষের ক্ষতি যেন না হয় ও দেশের অখন্ডতা যেন বজায় থাকে। অস্ত্র বেচে নিজের দেশের মানুষের স্বার্থ সুরক্ষা দিতে গিয়ে যেন আমার দেশের লোক যুদ্ধের অভিশাপের শিকার না হয়।

যদিও সুযোগ নেই, আর হবেওনা। তবুও বিরিয়ানি খাওয়ার নিমন্ত্রন জানালাম, রুমির হাতের রান্না গরম কাশ্মীরি বিরিয়ানি, নিহারি, কাচুম্বর, আর ফিরনি-। জেতার আনন্দে যদি ২ প্লেট বিরিয়ানিই না খেলেন তাহলে আর উদযাপন কিসের- যাই হোক, আপনার ডেলওয়ারেও নিশ্চই বিরিয়ানি পাওয়া যায়। এক প্লেট কিনে খেতে ভুলবেননা যেন।

অভিনন্দন জানাই দাদু,
স্বাগত স্বাগত জানাই।

- শুভেচ্ছান্তে

তন্ময় হক,
একজন ভারতীয় মুসলমান ব্যবসায়ী, নিম্ন মধ্যবিত্ত সাংসারিক মানুষ।

এক দেশ, পৃথক আইন

 


এক দেশ, কিন্তু আইন সকলের জন্য এক নয়। দেশে অমৃতকাল চলছে, তাই রাজনৈতিক রঙ অনুযায়ী আইনের প্রয়োগ আলাদা আলাদা।

অর্ণব গোস্বামীর জন্য ছুটির দিনেও স্পেশ্যাল কোর্ট বসে। গ্রেপ্তার হওয়ার পরদিনই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি মামলা শোনে, ২৭ জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও ২৪৬ জন বিজেপির বিভিন্ন স্তরের উঁচু নেতা টুইটে প্রতিবাদ জানান। বিজেপির মুখপাত্র দিল্লির হেড অফিসে বসে অর্ণবের পক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন করে ইত্যাদিএগুলো কোনোটাই ব্যতিক্রমী ঘটনা নয়।

পয়সা মেরে দেওয়া চিটিংবাজ অর্ণবকে সাংবাদিক সাজিয়ে গণতন্ত্র বিপন্ন বলে প্রচারের ত্রুটি রাখছে না বিজেপির আঁটি সেল আর রিপাবলিক মিডিয়া। কিন্তু আশ্চর্য ভাবে সমগ্র গোদী মিডিয়া যেন অকাল বিধবার মতো মৌনতা অবলম্বন করেছে। পাবলিক কী জানে অর্ণব আসলে কে? যারা বিচারপতি তারাও কী জানেন অর্ণব কী ও কেন?

যে মামলায় অর্ণব গ্রেফতার হয়েছে সেটা সাংবাদিকতার কারণে নয়, সিম্পলি গায়ের জোরে টাকা না দেওয়ার মামলা। তৎকালীন বিজেপির ফড়নবিস সরকারকে দিয়ে মামলা দ্রুত ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু পাপ যে বাপকে ছাড়বে না, কর্মফল পেতেই হবেঅবশ্য তাতে কি, বিজেপি থুড়ি RSS শাসিত সুপ্রিম কোর্ট আছে যাদের, তাদের কোনো চিন্তা নেই। সুপ্রিম ভাঁড়ামোর বিরুদ্ধে বেশী কিছু বললে আবার আমাকে ডিফেমেশনের দায়ে জেলে ভরে দেবে।

বিগত কয়েকটা বছর ধরে অর্ণব সাংবাদিক সেজে প্রতিটি দিন সমাজের বুকে ঘৃণার চাষ করে গেছে। রোহিত ভেমুলা হোক বা নাজিব, গৌরী লঙ্কেশ, দাভালকর, কাফিল খান বা হালের রিয়া চক্রবর্তী- প্রত্যেককে দেশদ্রোহী সাব্যস্ত করেছে মিডিয়া ট্রায়ালে- নিজেকে বিচারকের আসনে বসিয়ে। দিল্লি দাঙ্গায় অভিযুক্ত অনুরাগ ঠাকুর, রামভক্ত গোপাল, কপিল মিশ্রদের মহান সাজিয়ে, মিথ্যা মামলাতে গ্রেপ্তার হওয়া উমর খালিদ, গুলফিজাদের দেশদ্রোহী বানিয়ে রোজ খাপ পঞ্চায়েত বসিয়েছে। প্রতিদিন কাউকে না কাউকে সে ভিক্টিম বানিয়েছে যারা সরকারের সমালোচনা করেছে, বিজেপির সমালোচনা করেছে

বিজেপি বিরোধী যেকোনো নেতা বা সমাজকর্মীকে নাম ধরে ডাকা, তাচ্ছিল্য, তুই-তোকারি, ছাল ছাড়াব, মামার জন্ম, থেকে এমন কোনো ইতরামি নেই যা লাইভ টিভিতে অর্ণব গোস্বামী করেনি। সারাক্ষণ সে RSS এর প্রোপাগান্ডার পক্ষে সমাজের বুকে মুসলমান ও মসজিদকে নিয়ে ঘৃণার বর্বরতা ছড়িয়েছে। দলিতদের অপমান করেছে, বিরোধীদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বদলে শত্রু হিসাবে সম্প্রচার করেছে টিভিতে। মিথ্যা TRP দেখিয়ে বিজ্ঞাপন আদায় করে তা দিয়ে সমাজে বিভাজন তৈরি করেছে বিজেপির ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থে

অর্ণবকে ধ্রুবক মেনে আমিশ দেবগন, দীপক চৌরাসিয়া, সুধীর চৌধুরী, রজত শর্মা, অঞ্জনা কাশ্যপ, নবীকা কুমার, রুবিকা লিয়াকত সহ না-জানে এমন কত শত হাজার অসভ্য সাংবাদিকতার নামে সমাজের বুকে বিষ ঢেলে যাচ্ছে রোজ। আজ এদের চোখে মুখে স্পষ্ট আতঙ্ক, প্রেসবক্সে শ্মশানের নিরবতাআগামীদিনে একমাত্র দিল্লি ছাড়া গোদি মিডিয়া আর কোথাও অফিস খুলবেনা, যেখানে শুধুমাত্র অমিত শাহের পুলিশ থাকবে। দিনের পর দিন এরা গুণিতক হারে নির্লজ্জতা ও বর্বরতা প্রচার প্রকাশ করে যাচ্ছিল। ৪টে দিনের জন্য হলেও এতে কিছুটা বাঁধ পরেছে

প্রকৃতি নিজেই সাম্য এনে দেয় প্রতিটি ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে দেশজ মিডিয়ার এই পতিতাবৃত্তিতে পুনরায়নীভবন ঘটানোর জন্য মহারাষ্ট্র সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা বিতর্কহীন ভাবে সাধুবাদযোগ্য। ক্ষমতাবান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যার নামে বিচারক খুনের অভিযোগ, তার জামানায় অর্ণবকে জেলে ভরা বাপের ব্যাটার কাজ, বুকের পাটা লাগেঅবশ্য সোহরাউদ্দিন হত্যা মামলার বিচারপতি মাননীয় লোয়া’ই শুধু খুন হননি, সোহরাবুদ্দিনের স্ত্রী কাউসার বানু, সেই মামলার উকিল প্রকাশ শ্রীকান্ত ও মামলার সাক্ষী তুলসিরাম- সকলকেই মার্ডার করিয়েছে তড়িপাড়। খোদ বিজেপির হারিন পান্ডিয়া, প্রমোদ মহাজন, গোপিনাথ মুন্ডে এদের এক্সিডেন্টের কোনো বিচার হয়েছে মোদী-শাহ এর আমলে? মনোহর পারিক্করের রহস্য মৃত্যুর কারন কেউ জানিনা।

অর্ণবকে গ্রেফতার করে সমাজে বার্তাটা দেওয়া জরুরি ছিল এবং সেটা পৌঁছেছে। সব বিচারক যে এখনও রঞ্জন গগৈ হয়নি তা আজকের দিনটা প্রমাণ করে। সংবিধানের ধর্ষকের যদি মুখ থাকতো সেটা রঞ্জন গগৈ অবশ্যই। যদিও জাস্টিস বোবদে তুলনামূলক নিরপেক্ষ, কিন্তু আগামীর জাস্টিস চন্দ্রচূড়, জাস্টিস খান্না, জাস্টিস রামান্না ও জাস্টিস গাভাই কে নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে, এনাদের অতীতের কাজকর্ম যথেষ্ট সন্দেহজনক যা সঙ্ঘপন্থী। এনারাই আগামী পাঁচ বছর ধরে বিচারব্যবস্থার শীর্ষ পদে আসীন হবেন। ভারতীয় বিচারব্যবস্থাকে আজও সাধারণ মানুষ তাদের ভরষার শেষ জাইগা বলে বিশ্বাস করে নির্দ্বিধায়। সুতরানং গণতন্ত্র বেঁচে থাকবে কিনা, কিম্বা থাকলেও কীরূপে থাকবে তা আগামীর এই বিচারপতিদের উপরে নির্ভর করবে অনেকটাই।

অর্ণব গোস্বামী নিশ্চয়ই কয়েকদিনের মাঝে জামিন পাবে। বিজেপি সর্বস্ব শক্তি দিয়ে তাদের মাউথপিসের মুক্তি ঘটাবে। প্রকাশ্যে তার বিষদাঁত না ভাঙলেও বাকিদের অল্পবিস্তর ভয় ধরবেকারন বাকিরা যদি জেলে যায়, তাদের হয়ে হরিশ সালভের মত উকিলকে নিয়োগ করাবে কে? ছুটির দিনে সারাদিন কোর্টে শুনানি কে করাবে? কে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে মামলা পৌঁছাবে ২৪ ঘন্টার মধ্যে?

সুতরাং, একটা অর্ণবের মাথা ধরতেই দেশজ মিডিয়ার গোটা দেহটাতে বার্তা পৌঁছে গেছে শিরায় শিরায়। নতুবা সুধীর চৌধুরী প্রাইম টাইমে 'ক্যায়া পত্রকারিতা ছোড়নেকা সময় আ গ্যায়া' বলে অনুষ্ঠান করত না। কোথাও কোনো চ্যানেলে অর্ণবকে নিয়ে কোনো খবর নেই, এক রিপাবলিকেই অর্ণব ছাড়া অন্য খবর নেই। বিজেপির OPindia বা নাগপুরের মুখপত্র ছাড়া প্রত্যেকেই খুশি প্রকাশ্যে বা গোপনে। জেলে যাওয়ার পর অর্ণবের প্যান্টটুকুই অবশিষ্ট থাকবে, কারণ যে জেলে গেছে তারা জানে সেখানে কি কি ঘটে এমন পয়সাওয়ালা 'হেটমঙ্গার' দের সাথে। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ঘটবে না বলেই আমার বিশ্বাস

দ্যায়্যার রিপোর্ট করেছে ৫০০ সাংবাদিকদের বিষয়ে, যারা লিখেছে- 'আমি নিজে সাংবাদিক, তাই অর্ণবের বিরুদ্ধে, কারণ সে সাংবাদিকের পোষাক পরে হিংস্র অসভ্যতামি করে'ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি, নাগপুরের একটা অংশের অদৃশ্য সায় আছে এই গাম্বাটটাকে সায়েস্তা করার। কারণ চৌকিদারের ‘মালিক’ আম্বানির রিলায়েন্সের News18 মিডিয়া গ্রুপ বাজারে নেমেছে অনেকগুলো শীর্ষস্থানীয় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও টিভি মিডিয়া কিনে। আদানিও কিছু ‘রেডি চ্যানেল’ কেনার দোর প্রান্তে। সুতরাং অর্ণবদের বলিপ্রদত্ত হওয়ার সময় এসে না গেলেও, গুরুত্ব কিছুটা কমাতেই হবে, তাই বিজেপি টুইট করেই দায় সেরেছে

১৩% এর ভোটব্যাঙ্ক ওয়ালা বিজেপি ৩৩% হয়েছে, ভোট প্রক্রিয়াতে দুর্নীতি আর এই নিউজ মিডিয়া, সোশ্যাল মিডিয়ার ঘৃণার চাষের দৌলতেতাই বিজেপি আজ ন্যাংটা হয়ে বিক্ষোভ করছে নিচু স্তরে, কিন্তু উপরের নেতারা আম্বানী পিতার নির্দেশে চোখে পট্টি বেঁধে নিয়েছে। ব্যাস, খেল খতম-

যদিও বাজার গরম রাখার চেষ্টায় ঘাটতি নেই ‘পমেরিয়ান’ মিডিয়া ও আঁটি সেলের, তারা টুইটার মাতিয়ে রেখেছে। কিন্তু টুইট করে তো আর জামিন হয় না। বেচারা হরিশ সালভে- নতুন বিয়ে করা বৌয়ের সাথে মধুচন্দ্রিমাটুকু স্বচ্ছন্দে সারতে পারলেন না। প্রসঙ্গত সালভে বাবু আধুনা খ্রীস্টান হয়েছেন ও বর্তমানে ইংল্যান্ডের নাগরিক

দেশের বিচারকেরাও এই আবহাওয়াতেই শ্বাস নেন যেখানে আমি আপনি নিই, তারাও কি অর্ণবের এই বর্বরতার পক্ষে? পক্ষে হলে আজ অর্ণব মুক্ত হতো, সকলেই কি আর রঞ্জন গগৈ? তারপরেও বিশ্বাস নেই, আজ হয়নি ঠিকিই, কাল হবেনা কে জানে! সুপ্রিম কোর্টের উপরে ভরষা নেই। তবে, বিজেপির পূর্ণ ক্ষমতায় যদি অর্ণবের এই দশা হয়, কাল বিজেপি যখন কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকবেনা তখন আজকের এই ঘৃণাচাষিরা কোথায় থাকবে? যারা মাপার তারা জল মাপছে ঠিকই

মোদিজী নিজেই স্বাধীন মিডিয়াতে বিশ্বাস রাখেননা, নতুবা তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করতেন। তার পরেও যারা বিশ্বাস রাখে সংবাদমাধ্যমে, তাদের জন্য গোদী মিডিয়াকে তিনি স্বযত্নে লালন করে- পুঁই এর লতার মত কলেবড়ে বাড়িয়ে তুলেছেন। অতি বাড় বাড়তে নেই, ঝড়ে ভেঙে যাবে। গোদী মিডিয়া সেটা একদিন প্রমাণ করবেই করবে ইতিহাসের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেঅর্নব যদি সুপ্রিম কোর্ট থেকে বাইচান্স অনৈতিকভাবে জামিন পেয়ে যায়, তাহলে রবিশ কুমারদের মত সাংবাদিকদের কিন্তু চাকরি নিয়ে টানপারাপারি পরে যাবে আগামীতে। এর সাথে আরো অনেকেই চাকরি খোয়াবে, কারন তখন বিষয়টা গদি মিডিয়ার মাস্টারদের মনোপলি হয়ে যাবে। যা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর হবে গণতন্ত্রের জন্য।

বোম্বে হাইকোর্টে সাওয়াল জবাবের সময় বিজেপি পক্ষের আইনজীবি- সালভে, পন্ডা ও আগরওয়াল প্রচুর সাওয়াল জবাব করেও জামিন হাসিল করতে পারেনি- টাকা মেরে দেওয়া ও খুনের প্ররোচনা দেওয়া বিজেপির মুখপাত্র অর্ণব গোস্বামীরহয়ত জামিন পেয়েও যেত, মনে হচ্ছিল এক সময়, কিন্তু হরিশ সালভে- অর্ণবকে সাংবাদিক বলতেই সব কেঁচে যায়

মহারাষ্ট্র সরকার ও নিহতের মেয়ের আইনজীবি বললেন- সেই ১৬ জন সাংবাদিকদের কথা, যাদের সাথে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশের কোর্ট সহ সুপ্রিম কোর্টের যেমন মনোভাব দেখিয়েছে- সেটাই কেন অর্ণব গোস্বামীর ক্ষেত্রেও লাগু হবে না? কেন্দ্র সরকারই তো এই মামলা গুলোর বেশিরভাগটা চালাচ্ছেআজ দেড় মাসের অধিক সময় জেলবন্দি উমর খালিদ সহ আরো ৭-৮ জন, এদের ট্রায়াল কবে শুরু হবে কেউ জানেনা। মোদী সরকারের ইচ্ছানুযায়ী আইন চললে- আগামী ৫-৭ বছরেও এরা কেউ জামিন পাবেনা, পাশাপাশি কপিল মিশ্রেরা আগামীতে মন্ত্রী হবে।

তবে ঠিক এই মুহুর্তে যা ঘটছে তা চরম বিনুদুনঅন্যকে নিয়ে খাপ বসিয়ে তামাশাকারী আ নিজেই তামাশার পাত্রতবে এতে হবে না, পাতি ক্যালানি দরকার। সিম্পলি কম্বল ধোলাই, সব রোগ সেরে যাবেএকটা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- অর্ণব মসজিদের বাইরের ভিড় নিয়ে মুসলমানদের টার্গেট করেছে, অথচ তার আগে নমস্তে ট্রাম্প নিয়ে মুখে কুলুপ ছিল। নমস্তে ট্রাম্পই দেশে করোনার বিস্তার ঘটিয়েছে, সেখানে উপস্থিত ৬৮% মানুষ করোনা আক্রান্ত ও ১৭% মানুষ মৃত। তথ্যই যথেষ্ট

আরেক ভিডিওতে একজন মুসলমানকে বলছে- আজ তুই আমার পেঁয়াজ, তোর ছাল ছাড়াব। কর্মফল, অর্ণব আজ জেলে- রিয়া চক্রবর্তীর জন্য ৩০৬ চেয়ে চেয়ে আজ নিজেই সেই জালে বন্দিএই কারণেই আলিবাগ আদালত অর্ণবকে জেল কাস্টডিতে পাঠালেও পুলিশ তাকে কোয়ারেন্টিনের দোহাই দিয়ে রায়গড়ের একটা প্রাথমিক স্কুলের ঘরে রেখে দিয়েছেউদ্দেশ্য পরিষ্কার, মনের সুখে ক্যালাবে গোটা দীপাবলি জুড়ে যদিনা জামিন পায়

ইয়েস, এটাই তো প্রকৃতির ন্যায়। আমরা কেউ এর বাইরে নই

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০

ফেসবুকের ফুলেফেঁপে উঠা



ফেসবুকের বিজ্ঞাপন থেকে আয় 3600% বেড়েছে 2010 সালের নিরিখে, কিন্তু ব্যবহারকারী সংখ্যা কেবল 310% বৃদ্ধি পেয়েছে।

2019 সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাব প্রকাশিত করেছে একটি মার্কিন সংস্থা, সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী- আসল হোক বা নকল, আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশ অঞ্চলের প্রতিটি প্রোফাইল পিছু ফেসবুক $27 বা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২০৫০ টাকা রোজগার করেছে প্রতি বছর। যা যে কোনো অন্য সোশ্যাল মিডিয়া জায়েন্ট গুলোর চেয়ে অনেক অনেক গুন বেশি।
গুগলের নানাবিধ পরিসেবা থাকা সত্বেও 2019 সালে তাদের সবক্ষেত্রের বিজ্ঞাপন থেকে প্রাপ্ত সর্বাধিক আয় ছিল 134 বিলিয়ন ডলার, প্রতি ব্যবহারকারী পিছু প্রায় ৫০০০ টাকার কাছাকাছি।
ফেসবুককে আমরা আমাদের বহুমূল্য সময় ও আমাদের পছন্দ অপছন্দের খুঁটিনাটি তথ্যের বিনিময়ে কিনে ব্যবহার করি, ফেসবুক কোনো বিনামুল্য দাতব্যসেবা নয়।
ফেসবুকের অফিসিয়াল চাড্ডিগিরির হাতে হ্যারিকেন ঝুলিয়ে দিতে পারি আমরা এই ব্যবহারকারীরাই। হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপনের সুযোগ নেই, ফেসবুকের আয়ের একটাই উৎস, সেটা ফেসবুকের বিজ্ঞাপন, আর চুরির তথ্য বিক্রি। যত বেশি প্রোফাইল, তত বেশিক্ষণ ফেবুতে এক্টিভ, তত বেশি রোজগার তাদের।
7 দিন যদি আমরা একটা অংশ কোনোভাবে সংগঠিত হয়ে একে বয়কট করে দেখাতে পারি, বিজ্ঞাপনদাতারা মুখ ফিরিয়ে নেবে, ভক্তবৃন্ধ তো ক্ষনিকের ছেলে তাদের জুকারবার্গ বাবা পর্যন্ত শুধরে যাবে রাতারাতি।
সুতরাং, আপনি যতই বয়কট ফ্রান্স বা মুসলমান তাড়াও, চাড্ডি-ছাগু, বিজেপি-বাম বা অন্য আন্দোলন করবেন তাতে আপনার লাভ কি হবে তা কেউ জানেনা, কিন্তু ফেসবুক যে উত্তরোত্তর আরো ধনী হবে তা বলাই বাহুল্য।
ও হ্যাঁ, ঘরে বৌ বা গার্লফ্রেন্ডের এর সাথে যখন আদর মোহাব্বত করি- কাকে দেখিয়ে করি? তাহলে আমার ধর্মের নবী (সাঃ) বা আমার ইসলাম প্রেমের প্রমান স্বরুপ ফেবুতে বিজ্ঞাপন দিয়ে আমাকে জানাতে হবে কেন? ইসলাম কি প্রচারনা সর্বস্ব না কি কর্মসম্পাদন সর্বস্ব!
প্রতিবাদ করুন, কিন্তু সেটা শুধুই বাহ্যআড়ম্বরপূর্ণ না হয়ে দাঁড়ায়, বস্তু জীবনে যা অনুশীলিত হচ্ছে সেটার প্রতিফলন ঘটুক সোস্যাল মিডিয়াতে, আমরা তো উল্টোটা করছি। এতে আমার আপনার লাভ কি হচ্ছে কেউ জানেনা, ফেসবুক কিন্তু লাভবান হচ্ছে প্রতি সেকেন্ডে- উপরের ৩৬০০% বৃদ্ধি তারই প্রমান।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২০

গোয়ার্তুমি


বহু সময় আমাদের সৎ প্রচেষ্টা থাকে গোয়ার্তুমি ছেড়ে দেওয়ার, কিন্ত গোয়ার্তুমি আমাদের ছেড়ে যায়না- যখন তা চরিত্রের সমার্থক হয়ে যায়। কোনো কিছুর মুল্যেই যখন চরিত্রে বদল আসেনা তখনই এগুলো হয়।

আসলে যা আমি চাইছি তা কেবল আমার জন্যই চাইছি, এবং সম্পূর্ণ আমার মতো করেই চাইছি এটা মহা সমস্যার।
আমি সময় চাইছি, কিন্তু সময় দেবনা, আমি সমাধান চাইছি কিন্তু সমস্যা তৈরি ছাড়বনা, আমি নিবেদিত প্রাণ কিন্তু নৈবেদ্য চাই- আমি তোমাকে চাই কিন্তু আমি তোমার নয়, তুমিই সবকিছু কিন্তু আমি তার চেয়ে সামান্য বেশি, আমি তোমারই অংশ কিন্তু সেটা কেবল ধ্বনাত্বক টুকু, আমি সবকিছু চাই সম্পূর্ণ ভালটুকু, আমি পরিপূর্ণ মনোযোগ চায় কিন্তু আমি অবজ্ঞার বাইরে কিছু দেবনা, আমি পরিপূর্ণ অধিকার চায় কিন্তু বিরক্ত হতে চাইনা- আমি দোষারোপ করবো কিন্তু নিজেকে আয়নায় দেখবোনা, আমি স্বত্তের দাবী জানাবো কিন্তু দায়ভার নেবোনা- আমি জলে সাঁতার কাটবো, গা ভিজবেনা-
এমনই সকল কিছু যখন চরিত্রের অংশ হয়ে যায় তখন তা আর ব্যাক্তির থেকে এগুলোকে আলাদা করা যায়না। তখন ব্যাক্তি মানেই এগুলোই- এটাই দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে যায়।

সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০

ছেলেবেলা থেকেই মেয়ে প্রোগ্রামার হয় যেন...



ভাবছেন হঠাৎ সুমনের গানের লাইনটা পাল্টে লিখলাম কেন? কারণ, কিছুদিন ধরেই আশেপাশে দেখছি - বাবামায়েদের নতুন অ্যাসপিরেশন - ছেলেমেয়ে যেন অল্পবয়স থেকেই ভালোভাবে কোডিং (বা প্রোগ্রামিং) শিখে নেয়। শুধু বাবামা নয়, আমাদের স্কুলশিক্ষা দপ্তরও মনে করে ভবিষ্যতে প্রতিটা বাচ্চাই প্রোগ্রামার হবে, নইলে জীবন চলবে না, অতএব স্কুলে মানুষ হয়ে ওঠা শেখার চেয়ে সি, পাইথন, জাভা শেখা বেশি দরকারি।

এইটা নিয়েই দুচারটে কথা বলার ছিলো।

একেবারে অনভিজ্ঞ নই। আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে বিশ বছরের বেশি আছি, কোডিং ইত্যাদি ভালোই পারি। বহুদিন নানা টেকনোলজি নিয়ে গবেষণার ফলে খান সত্তর পাব্লিকেশন আর খান কুড়ি গ্রান্টেড পেটেন্টও রয়েছে। একদম ক অক্ষর গোমাংস নই কো বাবুমশাইরা।

মানে বলে রাখলাম আর কী...যদি একটু মন দিয়ে পড়েন আর ভাবেন।

আমার একটা ছোট মেয়ে আছে, ক্লাস এইটে পড়ে। ক্লাস সেভেন অবধি এদের ICT বলে একটা সাবজেক্ট ছিলো - Information and Communication Technology, লক্ষ্য কম্পিউটারের ব্যবহারিক দিকগুলো সম্পর্কে ছেলেমেয়েদের ওয়াকিবহাল করা। আপাতদৃষ্টিতে ঠিকই আছে। হ্যাঁ, ডিজিটাল ডিভাইডের জন্য আমার আপনার ছেলেমেয়েদের স্কুলেই এসব পড়ানো হয়, এরা বাড়িতে ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ পেয়ে হাত মকশো করতেও পারে। নইলে বাদবাকি ক'টা স্কুলের ছেলেমেয়েরা এসব সুযোগ পায় বলুন...

তা সেই প্রিভিলেজের গল্প না হয় আপাতত থাক। যেটা নিয়ে বলছিলাম - এই মেয়ের ক্লাস এইটেও ICT পড়ানো হয়, আর এতদিন যে শুধুমাত্র ব্যবহারিক দিকগুলো ছিলো - মানে ওই বাক্সটার মধ্যে কী থাকে, জিনিসটা চলে কী করে, ডকুমেন্ট বানায় কী করে, স্লাইড বানায় কী করে...ইত্যাদি... - এর বাইরেও জানলাম আরো অনেক কিছু আছে। মেয়ে একদিন বললো - BlueJ ইনস্টল করে দাও। আমি অবাক হওয়াতে জানালো এই ক্লাস এইটে নাকি জাভা প্রোগ্রামিং আর অবজেক্ট ওরিয়েন্টেশন শেখাবে! ক্লাস এইটে অবজেক্ট ওরিয়েন্টেশন? আমার এক বন্ধুর কাছে শুনলাম সিবিএসই বোর্ডে ক্লাস নাইনে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্সের কোর্স রয়েছে, তাতে নিউরাল নেটওয়ার্কও রয়েছে। ক্লাস নাইনে নিউরাল নেটওয়ার্ক! যার ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে ম্যাট্রিক্স অ্যালজেব্রা আর ডিফারেনশিয়াল ইকুয়েশনের ওপর!

ক্লাস এইট, নাইনে এইসব কীভাবে পড়ানো সম্ভব, যখন এই কনসেপ্টগুলো যে সমস্ত বিষয়ের ওপর দাঁড়িয়ে তার কিছুই এই বয়সে পড়ানো হয় না?

এরপর খেয়াল করে দেখতে শুরু করলাম - ফেসবুক বা গুগলের নতুন বিজ্ঞাপণগুলো - যেমন WhiteHat Junior, বা Vedantu - এইসব বেসরকারি অনলাইন টিউশন স্টার্টাপগুলোর। এরা স্কুলের বাচ্চাদের অনলাইনে কোডিং শেখায়। অবশ্যই বিনা পয়সায় নয়। একটা উদাহরণ যেমন ৪৮টা ক্লাসের প্যাকেজের দাম ৩৫,০০০ টাকা। কেন শেখায়? বরং, বলা ভালো কেন এই প্যাকেজগুলো বিক্রি হয়? কারণ, এরা আমার আপনার মধ্যে একটা সংশয় তৈরী করে দিতে পেরেছে - যে ভবিষ্যতে আমার আপনার ছেলেমেয়েগুলো ইন্ডাস্ট্রিতে করে খেতে পারবে তো? তাছাড়া, ভবিষ্যতে সবকিছুই যদি কম্পিইউটারাইজড হয়ে যায়, সফটওয়্যারের ওপরেই চলে, তাহলে নিজের ছেলেমেয়েকে সেসব কীভাবে বানায় সেইটা শেখানোই কি ঠিক রাস্তা নয়?

আর এখনকার সামাজিক অর্থনৈতিক রাজনৈতিক অবস্থা এই সংশয়কে আরো বাড়িয়েছে...যেমন জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ এর "স্কিলনির্ভর শিক্ষা" - যেখানে স্পষ্টই ক্লাস সিক্সের পর কোডিং বা প্রোগ্রামিং শেখানোর সুপারিশ করা হয়েছে। আপনাকে বাধ্য করা হচ্ছে ওরা যেভাবে চায় সেইভাবে ভাবতে।

আপনি শুধু একটু চেষ্টা করুন বাস্তবটাকে চিনতে।

(১) কোডিং অবশ্যই বিরাট হাতিঘোড়া কিছু বস্তু নয়। বেসিক লজিক বুঝতে পারলে একটা অ্যালগরিদম বোঝা কঠিন নয়। আর আমাদের শিক্ষার স্ট্যান্ডার্ড কারিকুলাম এই লজিকের ভিত তৈরী করার জন্য যথেষ্ট পোক্ত। ধরুন, আপনি আপনার বাচ্চাকে শেখালেন কীভাবে চা বানাতে হয় - তার পরপর কিছু ধাপ আছে - পাত্রে জল নাও, গ্যাস জ্বালাও, পাত্রটাকে গ্যাসে বসিয়ে জল ফুটতে দাও...ইত্যাদি। সেই ধাপগুলো লিখে ফেলে সে কিন্তু তার বন্ধুদেরও একই কাজ শেখাতে পারবে। সাথে, আপনি তাকে এক্সপেরিমেন্ট করে দেখতে বললেন যে ধাপগুলোকে উল্টোপাল্টা করে দিলে কী হয়...কোডিং বাস্তবে এরকমই অ্যালগরিদমগুলোকে কম্পিউটারের পক্ষে বোঝা সম্ভব এমন ভাষায় - মানে সি, জাভা, পাইথন ইত্যাদিতে লিখে ফেলা। স্কুল লেভেলে আমরা যদি লজিকালি ভাবতে শেখাতে পারি, তাহলেই কিন্তু অনেকটা কাজ এগিয়ে যায়।

(২) কিন্তু ঠিক যেমন বেসিক অঙ্ক না শিখে অ্যালজেব্রার ইকুয়েশন সলভ করা যায় না, বলা ভালো বোঝা যায় না, ঠিক যেমন নিউটোনিয়ান মোশন বা মেকানিক্স না শিখে কোয়ান্টাম মেকানিক্স শেখা যায় না, একইভাবে কিছু গাণিতিক প্রিন্সিপল না শিখে ভালো প্রোগ্রামার হওয়া যায় না। হ্যাঁ, কিছুটা প্যাটার্ন চিনে ফেলে সেইটা দিয়ে গরুর রচনা লেখা যায় অবশ্যই, কিন্তু তাই দিয়ে ইন্ডাস্ট্রি চলে না। উল্টে যেটা হয় (আর এটা আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলা) সেটা হল এর পরে, কলেজ-ইউনিভার্সিটি বা কর্মক্ষেত্রে, এই শেখাকে ভুলিয়ে নতুন করে আবার সবটা শেখাতে হয়। ভেবে দেখুন - ছয় বছর বা আরো বেশি সময় ধরে আধাখ্যাঁচড়া ব্যাটিং শেখার পর আপনাকে যদি ওয়াসিম আক্রমের সামনে ফেলে দেওয়া হয়...

(৩) খেলাচ্ছলে প্রোগ্রামিং অবশ্যই কিছুটা শেখা যায়। এমআইটি মিডিয়া ল্যাবের তৈরী স্ক্র্যাচ দিয়ে গ্রাফিকালি লেগো ব্লক জোড়ার মত ব্লক জুড়ে জুড়ে ছোটোখাটো গেমও বানিয়ে ফেলা যায়। বা, এমআইটিরই অ্যাপ ইনভেন্টর দিয়ে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপও বানিয়ে ফেলা যায় - আর এগুলো ইস্কুলের বাচ্চাদের জন্যেই তৈরী। কিন্তু এগুলো সবই ওই বেসিক কনসেপ্ট বা খেলাধুলোর জন্য। কেউ আগ্রহ পেলে আরো ভিতরে গিয়ে শিখতে পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে স্কুলে কোডিং বাধ্যতামূলক করতে হবে। তাছাড়া, প্রোগ্রামিং এর বেসিক কনসেপ্ট, আর অঙ্কের যে নিয়মের কথা আগে বলেছি, সেগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে এখানেও সমস্যা হয়ই।

(৪) প্রত্যেকটা বাচ্চার ভবিষ্যতই কি কোডার হওয়া? পৃথিবীতে আর কোনো কাজ থাকবে না, বা অন্য কোনোকিছু চলবে না? বরং, এত যে অটোমেশনের কথা হচ্ছে চারদিকে, তাতে তো বরং এই প্রোগ্রামারদের ভবিষ্যত বরং বেশি আশঙ্কার। গার্ডিয়ান পত্রিকায় GPT-3 নিয়ে একটা আর্টিকল বেরিয়েছিলো অল্প কয়েকদিন আগে (https://www.theguardian.com/.../robot-wrote-this-article...) - আর্টিকলটা লেখা একটি এআই সফটওয়্যার দিয়ে। তাহলে কোনো গ্যারান্টি আছে যে প্রোগ্রামের কন্ডিশনাল স্টেটমেন্টগুলো - অন্ততঃ খুব রিপিটেটিভ স্টেপ যেসব কোডে আছে সেগুলো আরেকটা এআই সফটওয়্যার লিখতে পারবে না? (এই নিয়ে একটা গাণিতিক তর্ক আছে, সেটা আপাতত থাক)

আর সবচেয়ে রূঢ় বাস্তবটা কী জানেন? খুব কম সংখ্যক ছেলেমেয়ের বাবামায়েরাই বাড়িতে এই প্রোগ্রামিং এর ব্যাপারে সাহায্য করতে পারবেন। আমি বা আপনি হয়তো পারবো, বাকি ক'জন পারবে? সেখানেই এই হোয়াইটহ্যাট জুনিয়রদের খেলা। এরা ক্রমাগতঃ আপনার কানের কাছে বলে যাবে - প্রোগ্রামিং প্রোগ্রামিং প্রোগ্রামিং, আপনার বাচ্চার ভবিষ্যত শুধু এর ওপরেই দাঁড়িয়ে রয়েছে - আর আপনিও ছেলেমেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ৪৮টা ক্লাসের জন্যে কড়কড়ে ৩৫,০০০ টাকা দিয়ে ফেলবেন...আফটার অল, যদি আপনার সন্তান কম্পিটিশনে পিছিয়ে পড়ে, যদি হেরে যায়...

মায়ের ভীষণ ইচ্ছে মেয়ে আঁকার স্কুলেও যাক,
বাবার দাবী তারই সঙ্গে কত্থকটাও থাক...

লেখকঃ অরিজিৎ মুখার্জী

সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২০

রাত জাগানিয়াঃ একটি সুখের ডাকনাম

 


বন্ধু শুভঙ্করদা সেদিন আমাদের আড্ডায় শুধিয়েছিল যে- কেন তুমি রাত্রে জেগে থাক, কীভাবে?
আসলে আমরা অনেকেই সারারাত বা প্রায় সারারাত জেগে থাকি, প্রত্যেকের নানান আলাদা আলাদা কারন৷ আমার কিন্তু জেগে থাকা সম্পুর্ণ অকারণে, যার বস্তুগত কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা নেই, সেই অসামাজিকতার কথাই আজ কিছুটা শোনাবো যদি ধৈর্য থাকে।
অনেকে বলে শিল্প কেউবা বলে প্রতিভা, কিন্তু ভীষণ ঘুম ধরা চোখ নিয়েও মোবাইলের কিংবা কম্পিউটারের পর্দায় আলো জ্বালিয়ে রাখটা কোনো স্বাভাবিক ব্যাপার নয় মোটেও। কি মনে হয়, রাত জেগে কারো সাথে কথা বলি কিম্বা প্রেমালাপ? ম্যাসেজের টুংটাং কিম্বা ভাইব্রেটারের গোঙানি শব্দে ফোনের কম্পন… নাহ এসবের প্রতীক্ষা করিনা, পরোয়াও করিনা। তবুও জেগে থাকি, শুধুই জেগে থাকি রাতভর- জেগে থাকার আতিসায্যে। রাতের একাকিত্ব যখন অন্তরের সবচেয়ে আপন হয়ে যায় তখন সেই চরম সুখের মূহুর্তগুলোকে উপভোগ করার জন্য নিজেকে জাড়িত করে তার শেষ রস বিন্দু টুকু আস্বাদন করার জন্যই তো এই জাগরণ।
সমগ্র চরাচর যখন নিস্তব্ধ, নিশ্চিন্ত ঘুমের পরিরম্ভে মত্ত, দিকচক্রবালে গ্রহ নক্ষত্রেরা নিজেদের ক্লান্ত একঘেয়ে পরিক্রমায় ব্যাস্ত, শ্বাপদেরা অরণ্যে শিকারের জন্য বেরিয়ে পরেছে- তখনই জাগা শুরু হয়। পূর্নিমা রাত্রিতে আকাশের দিকে চেয়ে থাকার যে অপার্থিব সুখ তা ঘুমের মাঝে কোথায়? অমাবস্যার সীমাহীন অন্ধকারের মাঝে দিকচক্রবাল জুড়ে কালো কালো প্রেতসম ছায়া, এক আকাশ তারাদের মাঝে নিজেকে ওই তাদেরই একজন হিসাবে কখনও কি ভাবতে পারতাম যদিনা রাত্রিতে জেগে থাকতাম?
এই জেগে থাকতে থাকতেই তো নিজেকে চিনেছি, কখনও রবি ঠাকুরের লেখায় ডুবে গেছি তো কখনও বঙ্কিমের সাথে বাংলা ভাষা শিখেছি। শরৎচন্দ্রের ইন্দ্রের সাথে তো আমার রাত্রেই পরিচয়, কিছুক্ষণ সেক্সপিয়ার হাতড়ে আবার পরক্ষণেই জীবনানন্দের শঙ্খ চিল হয়ে নবান্নের স্বাদ চেখেছি। অপুর পাঁচালী হোক বা ফেলুদার সাথে মগজাস্ত্রে শান সবই এই রাত্রির আঁধারেই ঘটা। কখনও বিভূতিভূষণের ইছামতিতে ভেসে চলা তো কখনও আবার বিমল মিত্রের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েনের চড়াই উৎরাই পেরানো- জেগে থাকার জন্য আর কোন বাহানা প্রয়োজন!
এই রাত্রিতেই কী অনায়াসে আতালান্তিক পেরিয়ে হাজির হয়ে যায় লাতিন আমেরিকার মানুষখেকোদের ডেরায়, আফ্রিকার উপজাতিদের মাঝে কিম্বা আরবের রঙিন রজনীগুলোতে। কখনও ব্রোঞ্চ যুগে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে ছুটে বেড়ায় ভূমধ্যসাগরের তীর ঘেঁষে, দেখি ইউরোপের আধুনিকতা, ক্লান্ত হয়ে সাঁতার কাটি কৃষ্ণ সাগরের বন্দি জলে। কখনো হেঁটে চলি ইবনে বতুতার সাথে, চলে যায় স্ক্যান্ডেনেভিয়ানদের ভাইকিং রাজ্যে, গোবি মরুভূমির গিরগিটিদের সাথে কিছুক্ষণ সময় লুকোচুরি করে ফিরে আসি গঙ্গার উৎসমুখে, হিমালয়ের কোলে।
ভূগোলের ম্যাপে থাকা সরু সরু শিরা উপশিরা বেয়ে চলতে থাকি জ্ঞানের অন্বেষণে, যত জানি ততই স্তব্ধ হয়ে যায় নিজের অজ্ঞানতা দেখে, পাছে লোকে জেনে যায় এই মূর্খতার কথা, তাই তো রাত্রের আঁধার বেয়ে পাড়ি দিই শান্ত নদী বেয়ে কখনও চীনে, কখনও মিশরে কখনও বা মস্কোর অলিতে গলিতে। বিপুলা এই ভারতের কত সভ্যতা, কত সংস্কৃতি কত ভাষা- লতার মতো চেপে ধরে রাত্রিকে অবলম্বন করে। বিস্মৃতির চোরাবালির আড়ালে একান্ত গোপনে তারা নিজের মধ্যে আপাদমস্তক টেনে নেয় আমাকে রাত্রির আঁধারে।
ভাবনার মাঝে কতশত দ্বন্দ্বেরা যখন নিজেদের মাঝে হুলুস্থুল বাঁধিয়ে রাখে, তখন তাকে কাছ থেকে পরখ করা জন্য রাত্রির নির্জনতা ভিন্ন আর সময় আছে? বাষ্পীয় আত্মার পরিভ্রমণের পথে মুক্ত প্রাণের স্লোগান লেখা চিঠি গুলো তো এই রাত্রের ডাকেই এসে পৌঁছায় হৃদয়ের প্রকোষ্ঠে। ব্যাঙাচির জীবনচক্রে নীতি গ্রন্থের অসহায় আত্মসমর্পন ঘটলে লেজ খসে পরে, মৃত্যুর দূতেরা বার্তা দিয়ে যায় তির্যক দীর্ঘশ্বাসে, পরিচিত গন্ধেরা কুড়ে খায় মগজের ধন- এসব কি জানতে পারতাম রাত্রি না জাগলে?
অপ্রাপ্তিকে হাতড়িয়ে হা হুতাশ না করে নৈঃশব্দকে যারা আপন করতে পারে তাদের কাছে অবসাদই প্রিয়ার বেশে ধরা দেয় আলুথালু বেশে, কালের খাতায় লিপিবদ্ধ হয় ঘড়ির নির্বাক পরিযায়, অভিমানের সীলমোহরে থাকা কলঙ্কেরা ধরা দেয় রঙিন স্বপ্নের বসনে। রাত্রি জেগে থাকার পেছনে বিশেষ কোনো কারণ লাগেনা, দুঃখ সুখ হাসি কান্না ব্যথা আনন্দ বেদনা- এসব কিছুকে বস্তুগত ভাবে স্পর্শ করে তাদের সাথে কিছুটা সময় একান্তে কাটানো যায়না দিনের কোলাহলে।
ব্যার্থ প্রেম, প্রিয় মানুষের ছেড়ে চলে যাওয়াতে যারা কাঁদতে পারেনা, রাত্রির আঁধারই তো তাদের শুশ্রূষা করে পরম মমত্বে, সমৃদ্ধ হয় উপলব্ধির ঝুলি। পুরোনো স্মৃতির সরণীতে পিছলিয়ে না চলে, মাকড়সার ঝুল সরিয়ে সিঁড়ি পথে স্যাঁতস্যাঁতে জমিতে নামার জন্য রাত্রির গভীরতাই যে আদর্শ, আঁধারের আঁধার চোখকে সইয়ে দেয়। তাইতো জেগে থাকি রাতের নিস্তব্ধতার মোড়কে থাকা যত্নেকে অনুভব করতে৷
মুখোশের আড়ালে থাকা বিরহের আগুনকে দীর্ঘদিন ধরে লালনের রমণ আসলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেশা, কবিরা কাব্যে তার বিষ্ফোরন ঘটাতে পারেন, কিন্তু আমাদের মতো যারা অকবি তারা রাতের পাহারাদার হয়ে বিরহের সূচ দিয়ে জীবনের কাঁথা সেলাই করে ফুলকারি নক্সা আঁকে। শরতের আকাশে ভেসে যাওয়া সাদা মেঘের মতো অনিশ্চিত এই জীবনে কখন যে কে কোথায় টুক করে ঝরে পড়বে তার ঠিকানা কে রাখে, ব্যর্থতার কালো মেঘ হয়ে জমে থাকা অপ্রিয় স্মরণিকাদের সাথে একান্তে কিছুটা সঙ্গম সুখ নিশীথের একাকিত্বে যার শীৎকারে রোমকূপে শিহরণ জাগে, ঝরে পড়ার ঠিক আগে।
বিরাট এই বিশ্বের মাঝে নিজে যে কি সামান্য ক্ষুদ্র অস্তিত্ব তা রাত্রির আরসির মুখোমুখি হলে তবেই উপলব্ধি করা সম্ভব। আলোকের আনন্দে উল্লসিত প্রাণ, তুচ্ছ আমিত্বকে উপেক্ষা করে শোকসর্বস্ব পৃথিবীর জন্মজন্মান্তরের যে নিগুঢ় রহস্য- তার স্বাদ আস্বাদন করতে পারেনা। জীবনের পথে চড়াই কম উৎরাই বেশি, বিপদেরা ঝাঁক বেঁধে ওৎ পেতে বসে থাকে জোনাকির মতো, যা অমাবস্যার রাত্রিতে আবিষ্কার করা যায়। ভীরুতা, শঠতা, কাপুরুষতাকে অন্ধকার কখনও দৃশ্যমান করেনা লোকসমাজে, দেখনদারির ঝুলন উৎসবে সামাজিক বর্ম পরিহিত ‘আমি’ কে চিনিয়ে দেওয়ার জন্য আঁধারের চেয়ে বড় বন্ধু আর কেউ নেই।
নিজের মাঝে ইশ্বরের খোঁজ পেতে হলে, ভেঙে যাওয়া মুহুর্ত গুলোর প্রতিটি টুকরো খুঁজে আবার নতুন করে বানিয়ে, অলীকের সাথে আবার নতুন করে শুরু করে সেই ভুল শুধরে নেওয়ার মাঝেই তো ঈশ্বরের বাস। দিনের আলো জীবনকে শুষে নিয়েই তো সে উজ্জ্বল হয়, রাত্রি আবার সেই পরমায়ু ফিরিয়ে দেয়।
সকলের মাঝে থেকে সম্পূর্ন একটা নিঃসঙ্গ জীবন যাপন আসলেই একটা কলা, জেদ না থাকলে শিল্পী হওয়া যায়না, প্রয়োজন অধ্যাবসায়। মানবীয় সম্পর্কের বন্ধনে জড়িয়ে থাকা সাংসারিক সদস্য- মা, ভাই, বোন, স্ত্রী, সন্তান, বন্ধু, আত্মীয় স্বজনেরা জীবনের অবিচ্ছেদ্য, কিন্তু তার জন্য নিজেকেও প্রয়োজন, আর নিজেকে জানতে কিছুটা অধিকার নিজের জন্যও সংরক্ষণ করতেই হয়, আর তার জন্যই রাত্রির প্রহর গুলোকে কারোর সাথে ভাগ করতে মন সায় দেয়না।
মাঝরাতে খুব প্রিয় মানুষ ছাড়া বাকি সকল কিছুকেই যেন অনাহূত মনে হয়, কেউ যদি নতুন করে জীবনে আসতে চায়- বস্তু হোক বা জীবন; মনটা শিউরে উঠে, ভয়ে পেয়ে চমকে যায়- যদি সেই সম্পর্ক সেই ভালোবাসা নিজেকে ভালবাসার চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়ে যায়, তখন আমি তো আর আমার সাথে বাঁচতে পারবনা। তাই ভয় পায়, সম্পর্কেরা হারিয়ে যায় সীমান্তে বিলীন হয়ে নিজ কক্ষপথে...
হারিয়ে যাওয়া সকল কিছুই আর কখনও ফিরে আসেনা, এটাকে নগ্ন ভাবে আঁকার জন্য একটা বিস্তৃত ক্যানভাস দরকার হয়, রাত্রের গাঢ় অন্ধকারের চেয়ে মসৃণ ক্যানভাসের বিকল্প আর কিছু আছে কি অদৌ? পোড়া বুকের মাঝে তাজা ফুসফুস বড় বেমানান জুটি, এদের মাঝে সন্ধির জন্য প্রয়োজন সীমাহীন কল্পনার প্রলেপ, যে কল্পনা জন্ম দেয় দুর ভবিষ্যতের, জন্ম দেয় নব নব সৌন্দর্যের- যাকে পুঁজি করে আগামীর সকল রাত্রে জেগে থাকার জন্য রসদ সংগ্রহ হয়।
একা থাকাটা আসলেই ভালোবাসা, নিঃস্বার্থ ভালবাসার জন্য অখন্ড অবকাশ প্রয়োজন যেখানে কেউ শান্তিভঙ্গ করবেনা৷ সারারাত জেগে রাতের নির্জনতাকে উপভোগ করতে শিখে গেলে অবশিষ্ট প্রার্থিব সকল কিছুকেই অত্যন্ত সস্তা বলে মনে হয়। রাতজাগা অস্বস্তির নয়, বরং সুখের- অনন্ত সুখের পরশ; তাই তো বছরের পর বছর ধরে রাত্রিগুলো সুখের ওমেই কাটিয়ে দেওয়া যায় জেগে জেগে।

প্রতিদিন একটা নতুন ভোরের জন্ম দেবার সুখ কেবলমাত্র সে ই জানে যে রাত্রি জেগেছে শখ করে।

রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০

মরলে চাষা খাবি কি


#Say_No_to_farm_bill

হাথারাস গণধর্ষণ কিম্বা বাবরির ‘আত্মনির্ভর আত্মহত্যার’ রায়- পরিকল্পিত এই দুটো ঘটনা দিয়ে কৃষক বিদ্রোহের আঁচে অনেকটাই জল ঢেলে দেওয়া গেছে আপাতত। কিন্তু এটা জনগণের পাপী পেটের প্রশ্ন, তাই #মরলে_চাষা_খাবি_কি স্লোগান চালাতেই হবে অন্তিম শ্বাস পর্যন্ত।

গত কয়েক বছরে দেশে কৃষকবিদ্রোহ ৭০০% বেড়েছে, স্বভাবতই মিডিয়া জুড়ে কৃষক আর কৃষকের পক্ষে মোদীসেনারা স্তুতি করবে, এটাই ছিল তাদের স্ট্রাটেজি। সেটা ফেল মেরে যেতেই হাথারাসের মেয়েটিকে জ্যান্ত পুড়িয়ে খুন করে দেশের মানুষের নজর ঘুরিয়ে দেওয়া হলো।

জীবনে যারা লাঙ্গল দেখেনি, বৃষ্টি ভেজা আলে হাঁটেনি, সেচের স জানেনা, ফসল কখন কীভাবে কাটে জানেনা, বাজারে গিয়ে সবজি বিক্রির গুঁতো বোঝেনি- তারা এখন সোশ্যাল মিডিয়াতে এখানে কৃষি বিল ও কৃষকের উন্নয়নের কথা বোঝাতে আসরে নেমেছে। স্নো-প্পাউডার-লিপস্টিক মেখে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো তৃতীয় শ্রেণীর ফিল্মি নায়িকা, জীবনের দ্বিতীয় পেশায় এসে এখন রাস্তায় নেমে ‘চাষির কিসে ভালো’ তা বোঝাতে নেমেছে। আমাদের সমাজও এমনই উচ্ছন্নে গেছে যে এদের বলার এক্তিয়ার দিচ্ছে অনেকে। যাদের জন্য এত ভালো ভালো সিদ্ধান্ত, তারা ছাড়াই যে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় সেটা পৃথিবী দেখেছিল কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা রদের সময়, এখন চাষিরা দেখছে।

মোদী সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপের প্রতিটিই ডাহা ভুল নয়, যা করেছে জ্ঞানত করেছে ও আম্বাদানির জন্য করেছে। খুব স্বাভাবিকভাবে প্রত্যেকটি সিদ্ধান্ত জনহিতের বিপক্ষে গেছে। মোদী মন্ত্রী ও RSS এর ভক্তদের দাবী মতো-

1. নোট বন্দিঃ জনগণ ভুল বুঝেছে
2. জিএসটিঃ জনগণ ভুল বুঝেছে
3. অর্থনীতিঃ সারা বিশ্বের তাবড় পন্ডিতরা ভুল বুঝেছে
4. বেকারিঃ ৪৭ বছরে সর্বাধিক এটাও জনগণকে ভুল বোঝানো হয়েছে।
5. করোনাঃ _____________________________ চলছে-
6. পরিযায়ীঃ শ্রমিকদের ভুল বুঝিয়ে হাজার মাইল হাঁটানো হয়েছে।
7. কৃষক বিলেও স্বাভাবিক ভাবেই চাষিকে ভুল বোঝানো হচ্ছে।

সারা দেশের সবাই ভুল, শুধু মোদী ও তার ভক্তেরাই একমাত্র ঠিক। বর্তমান বিশ্বে যে কয়েকটি মহামূর্খ নিকৃষ্ট শাসকবর্গ রয়েছে- ইনি তাদের মধ্যে এক্কেবারে শিরোমণি লেভেলের। ভোটের আগে বলেছিল, ক্ষমতায় এলে ১০০ দিনের মধ্যে জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে দেবে, ৫ ট্রিলিয়ন অর্থনীতি স্বপ্ন দেখিয়ে দেশের GDP ডুব সাঁতার দিচ্ছে, রাজকোষ ঘাটতি ১০৯%। ধার করে দেশ চলছে, বাজারে গেলে ভক্ত চাড্ডীদেরও পাছা ফাটে মাল পত্র কিনতে, কিন্তু মুখে ‘মোদী মহান’ কারণ হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়। LIC, রেল, এয়ারপোর্ট সহ দেশের সবই প্রায় বিক্রির দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, সেই কাজকে সুগম করার জন্যই বাকি যাবতীয় সবকিছু।

মূর্খ, দাম্ভিক, আত্মকেন্দ্রিক, একনায়কতান্ত্রিক মানসিকতার লোকজনেরা ক্ষমতা দখলের স্বার্থে বৈষম্য আর বিভাজনকে প্রশ্রয় দিয়ে, ধর্মীয় আবেগ উন্মাদনা সহযোগে ঘৃণার চাষ করে মুষ্টিমেয় কয়েকটি ঘুনপোকা গোটা দেশকে আম্বাদানির কাছে বেচে দিয়েছে।

সিনেমার ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের মতো কিছু অসফল গায়ক নায়ককে ভাড়ায় খাটিয়ে, মিডিয়াকে অর্থ ও ক্ষমতার দ্বারা দলদাস করে, আইন ব্যবস্থার মাথায় প্রস্রাব করে দিয়ে এমন একটা আবহাওয়া তৈরি করে রেখেছে যে মানুষ আজ দিশেহারা। কানের কাছে সারাক্ষণ সেই সানাইটা বেজে চলেছে যাতে জনগণের ব্যাথার আওয়াজ ঢাকা পরে যায়, মানুষ সেটাই কেবলমাত্র শুনবে যেটা মোদী সরকার শোনাতে চায়। দ্বিতীয় টার্মে এরা এমন সব বিল আনছে, জনগন ভয়েই অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এরা জানে এসবের কি পরিণতি হবে, তাই বোঝানোর জন্য আলাদা কর্মসুচিও রাখছে। আগের ঘা না মিটতেই আবার এত বড় ঘা তৈরি করে দিচ্ছে যে আগের ঘা টাকে তখন কম বলে মনে হচ্ছে।

চাষির কিসে ভালো তা নিয়ে এরাই জ্ঞান দিতে আসবে চাষি সেজে, ঠিক যেভাবে বিদ্যাসাগর কলেজে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার পর রাতারাতি অসংখ্য বিদ্যাসাগর কলেজের ছাত্র ছাত্রী জন্মেছিল সোশ্যাল মিডিয়াতে। এবারে কিন্তু কোদাল চালানো কড়া পরা হাত, আতঙ্কবাদী স্বৈরাচারী সরকারের ভাড়াটে টাট্টুদের পেঁদিয়ে পঞ্চান্ন করে দেবে চাষির দল।

কৃষকদের ভুল বুঝিয়ে, গরীব গ্রাম্য ফোড়ে-দালালদের রুজি কেড়ে, মহাজন ও পুঁজিপতিদের কাছে চাষের মাল বিক্রি করতে বাধ্য করার নামই নতুন কৃষি বিল। এখন পথে নেমে আন্দোলনই কৃষকদের বাঁচার একমাত্র পন্থা। এই সরকার গরীব মারা সরকার, এদের যারা স্যাঙাত আছে তারাও সানাই এর পোঁ। সিঙুরের মানুষ আজ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে মা-মাটি-মানুষের ধাপ্পা ‘জোর কা ঝটকা’ কেমন ‘ধীরে সে লাগা’। আজ পরিষ্কার, কারা ক্ষতিগ্রস্থ আর কারা লাভবান, গোটা বাংলা এর সাক্ষী। না হয়েছে শিল্প, না অন্য কোনো ব্যবসা, না হয়েছে কারোর চাকরী, না হচ্ছে কোনো চাষ- একবার তৃণমূলের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হয়ে ১০ বছর জলাঞ্জলি গেছে, আবার যদি বিজেপির ফাঁদে পড়ে- এবারে নিজের গু নিজেকেই খেতে হবে। আগের বার ঠকেছে, আবারও রাম ঠকান ঠকবে রামের নামেই।

যেসব চাড্ডি ও নাইটি সেলের ভাড়াটে টাট্টু সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে কৃষক মারা বিলের সমর্থনে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে তাদের বলছি বিলটি যদি কর্পোরেটের দালালির বদলে সত্যিই কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার জন্য আম্বাদানির চৌকিদার এনেছে- তাহলে বিলে লিখে দিক –

১) সরকারই একমাত্র MSP ঠিক করবে।
২) সরকার যেরকম হারে আজকের দিনে ফসল প্রোকিওর করে ও নিজস্ব ক্যাপাসিটিতে মজুত করে সেরকমই করবে আগামীতে । FCI কখনও উঠবেনা।
৩) ছোট হোক বা বড়, কোনো সংস্থাই MSP এর চেয়ে কমদামে ফসল কিনতে পারবে না।
৪) কৃষি ব্যবসার সাথে যুক্ত প্রতিটি কোম্পানিকে তবেই লাইসেন্স দেওয়া হবে যে, ‘কোনো পরিস্থিতিতেই MSP এর চেয়ে কম দামে কিনবেনা’। এই মর্মে মুচলেকা দিক কোম্পানি গুলো, এবং দুর্নীতি প্রমাণে ফৌজদারি মামলার রাস্তা খোলা থাকুক।
৫) চুক্তি চাষে কর্পোরেটের তরফে প্রতারণা করলে চাষি আইন-আদালতের সহায়তা পাবে।
৬) আগামী দিনে কোনো পরিস্থিতিতেই রাষ্ট্রীয় খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হবেনা। দেশের প্রতিটি পেট যেন দুমুঠো ভাত/রুটির নিশ্চয়তা পায় রাষ্ট্রের তরফে।

আমাদের দেশের মিডিয়া বিকৃত ও বিক্রিত না হলে তারা যে প্রশ্ন গুলো হয়তো করতো-

১) বেসরকারি সংস্থা কেন খাদ্য মজুত করবে?
২) আগামীতে ফসলে কালোবাজারি হবে না তার গ্যারান্টি কে নেবে?
৩) কালোবাজারি থেকে চাষি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে বাঁচানোর জন্য বিকল্প ভাবনা কি রয়েছে?
৪) ফসলের কৃত্রিম শূন্যতা সৃষ্টি করে জনগণের পকেট কাটবেনা তার নজরদারি কে করবে ও কোন দপ্তর?
৫) রাজ্যে রাজ্যে FSD দপ্তর গুলোর ভবিষ্যৎ কি?
৬) এসেনসিয়াল কমোডিটির সংজ্ঞা কি?
৭) সরকার কার স্বার্থে কাজ করছে, জনগণ না আম্বাদানি?
৮) কৃষিক্ষেত্রের উৎপাদনে প্রত্যক্ষ করের বিষয়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি কি?

আজকাল আর কিছু বলতে সাংবাদিক সম্মেলন করতে হয়না, টুইটারেই দু’লাইনে মিটে যায়। তার পরেও মোদী ৬ বছরের রাজত্বকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সামনা করার মুরোদ জন্মা দিতে পারেনি। দেশজোড়া বিরোধের মুখে নাগপুরের কয়েকজন বলদপিতা টুইটে বার্তা দিয়ে পরিস্থিতি নরম করার চেষ্টা করেছে, শিরোমণি আকালির হরসিমরত কৌরের প্রি-প্ল্যানড নাটকীয় পদত্যাগের যাত্রাপালা ফাঁস হয়ে যেতে। সুতরাং, এখন কিছুই আর মুখের কথায় হবে না, প্রস্তাবিত বিল ‘রাবার স্ট্যাম্প রাষ্ট্রপতি’র টিপসইও হয়ে গেছে, শুধু গেজেটে প্রকাশ বাকি। দাবী উঠুক, প্রতিটি আপত্তির বিষয়ে স্পষ্ট দিশা নির্দেশ বিলে লিখে দিক এমেন্ডমেন্ড করে, অথবা সম্পূর্ন বিল প্রত্যাহার করুক।

এই মোদীই বলেছিলো- “৫০ দিন সময় দিন, কালো টাকা ফেরত না এলে রাস্তার মোড়ে যেখানে পারবেন ঝুলিয়ে-জ্বালিয়ে দেবেন”। শুধু হিসেব দিক কালো টাকা কত ফেরত এসেছে, ওনাকে জ্বালাবার বা টাঙাবার কারো কোনো শখ নেই। জ্বালানো তার শখ, গোধরা-গুজরাত জ্বালিয়ে এখন প্রতিটি নাগরিকের ঘরে আগুন পৌঁছে দিয়েছেন সযত্নে। অবশ্য প্রতিটি ফ্যাসিবাদিদেরই শেষটা ওই ঝুলিয়ে-জ্বালিয়েই শেষ হয়েছে মুসোলিনির মতো- তাই এনারা নিজেদের ভবিতব্য জেনেই হয়তো এতোটা কনফিডেন্সের সাথে জ্বালিয়ে ঝুলিয়ে দেবার কথা বলতে পারে।

বাতেলাবাজিতে জনগণ আর কেউ আশ্চর্য হয়না, ‘প্রভুজি’ কামকি বাতের বদলে রেডিওর আড়ালে ‘লোমকি বাত’ এর ভাঁড়ামো করে, আগে পাবলিক রাগ করতো, এখন খিস্তিখাস্তা করে অবিরত। ফাঁকা টানেলে হাত নেড়ে, পান্ডববর্জিত স্থানে গাড়ির ভিতরে নিজের মাথায় নিজেই আলো ফেলে নিজেকে কার্টুন নেটওয়ার্কের জনপ্রিয় জোকার চরিত্রে নিজেকে উন্নিত করেছে। সেই নোট বন্দি থেকে শুরু করে, এরাই সম্মিলিতভাবে বুঝিয়েছিল ২০০০ টাকার নোটে ন্যানো চিপ আছে। জিএসটি, ৩৭০ ধারা লোপ, করোনাকালের শুরুতে থালা-ঘন্টা বাজানো, মোমবাতি জ্বালানো, ফুল ছড়ানো ইত্যাদি নিয়ে খেয়ালী আঁতলামো-মাতলামো কম হয়নি। ২১ দিনে করোনা ‘আল-গায়েব’ হওয়ার চার ফেলেছিল, সে চারও ডুবেছে। বৃষরাজ, ভক্তদের মূর্খ বানিয়ে রেখেছে আর মূর্খদের ভক্ত।

কাজের কাজ কি হয়েছে- প্রতিটা মানুষই নিজের জীবনের দুর্বিষহ সময়গুলো দিয়ে রন্ধ্রে রন্ধ্রে সয়ে বুঝেছে। স্বৈরাচারী সরকারের এটাই চরিত্র হয়, তারাই একমাত্র ঠিক আর বাকিরা ভুল- রাজ্যসভাতে মাইক বন্ধ সেটাকেই প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে। ‘ইন্টারন্যাশানাল এ্যামেনেষ্টি’ সরকারের অত্যাচারে দেশ ছেড়েছে, সুতরাং সরকারের দিশা কোন পথে তা ভক্ত ছাড়া সকলেই হাড়ে হাড়ে বুঝতে পারছে। এরা আর বুঝতে পারছেনা যে জনগণ আর এদের মানতে চাইছে না, এদের ধাষ্টামো ধরে ফেলেছে। পরিকল্পিত ধর্ষনের পর আমাদের ঘরের মেয়েদের চিতায় তুলে প্রমাণের অবশেষটুকুকে এরা মিটিয়ে দিতে চায়, পুলওয়ামার কণভয়ে হামলা হয় সুরক্ষার অভাবে আর হাথারাসের রাস্তায় হাজার পুলিসের নিশ্ছিদ্র বলয় তৈরি হয় বিরোধী আঁটকাতে- এটাই এরা পারে। তবে এদেরও বোধোদয় হবে, অবশ্য তদ্দিন এদের রাজনৈতিক স্বত্তা ওভাবেই রাতের আঁধারে চিতাতেই যে জ্বলবে তা বলাই বাহুল্য, কারণ এটাই ইতিহাসের শিক্ষা।

অপরিকল্পিতভাবে লকডাউনে অধিকাংশ ব্যক্তিই নিজেকে সুনিশ্চিত ভাবে নিজেকে কর্মহীন করতে পেরেছে, এই সরকারের কাছে লকডাউনের ক্ষয়ক্ষতি তো দুরস্থান- কত MSME কারখানা বন্ধ হয়েছে, কতো পরিযায়ী শ্রমিক মরেছে, দেশে বেকারত্বের হার কতো এ সব বিষয়ে কোনো তথ্যই নেই। তথাপি নির্লজ্জের মতো এগুলো স্বীকার করতেও ইজ্জতে বাঁধেনা এদের। সরকারের উমেদার- গাঁজাখোর সফট পর্ন নায়িকাকে জেড-প্লাস সিকিউরিটি দেওয়া আর সরকারের মানুষ বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে মুখ খোলা ব্যক্তিকে মামলা দিয়ে হ্যারেজমেন্ট করার বাইরে এদের কোন তৃতীয় এজেন্ডা নেই।

‘এ কেমন রাষ্ট্রপিতা’ প্রশ্ন তোলার দিন শেষ, এখন গণবিদ্রোহের মধ্য দিয়ে এদের ক্ষমতাচুত্য করাই হোক এক ও অদ্বিতীয় লক্ষ্য।

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...