কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
মাননীয়া মমতা ব্যানার্জী
বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
ডেরাইভার কোন জন!
বগি কতগুলো আছে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ- ইঞ্জিনের ডেরাইভার কোন জন, আর ইঞ্জিনের ইন্ধনের উৎস কী! তেল, কয়লা না বিদ্যুৎ। জীবনের প্রথম বিশ বছর যিনি গান্ধীবাদি ছিলেন, মাওবাদী থেকে খাওবাদী- অবাধ বিচরণ ছিল সর্বত্র। পরের ৯ বছর তিনিই আবার তোলামুল সরকারের হয়ে হেন কোনো পাপাচার দুর্নীতি করতে বাকি রাখেননি- যার দায়ে আজকের দিনে বহু তোলামুলের নেতা জেলে যাচ্ছে রোজ মিছিল করে।
রত্নাকর মানে সমুদ্র, বাল্মীকি মানে উই ঢিবি জাতীয় কিছু। বেশি কিছু লিখলে আবার 'রথ'প্রাপ্তী হবার পুরষ্কার জুটে যেতে পারে। তবে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা দেখার সুখ এক তূড়ীয় কামনাতৃপ্তি বটে। তোলামুলের ধ্বংস জরুরী ছিল, কে করছে, কীভাবে করছে- সে সব অপ্রয়োজনীয় গৌণ বিষয়। যারা এখানে মানবিকতা আর গণতন্ত্র খুঁজছে- তারা সিপিএমের 'ভক্ত' সম্প্রদায়, যারা না মানুষ না মুনিষ। এরা যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন CPI(M) বেঁচে থাকবে ভুঁয়ে মুড়ে, সিপিএম বা সিপেম কিম্বা সিপিএন করি আমি বলার লোকগুলো ফিরবে না।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল থাকবে, রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকবে, কিন্তু রাজ্যের মানুষ তৃণমূলকে কি দেখে ভোট দিয়েছিল ? বামফ্রন্ট আসার আগে জাতীয় কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল, তার তো একটা নীতি-আদর্শ ছিল। এখন যে দল ক্ষমতায় এসেছে- তাকে আপনি পছন্দ করুন বা অপছন্দ, তারও নীতি আদর্শ আছে, তৃণমূল কী তুলে ধরেছিল? কী দেখে ভোট দিয়েছিল? শুধু আজকের দিনটা দেখার জন্য? এই প্রজন্মের ভোটার যখন ফটো হয়ে দেওয়ালে ঝুলবে, তখন তার পরবর্তী প্রজন্ম ছবিতে থুতু দেবে- যে এরা তৃণমূলকে ভোট কেন দিয়েছিল। পাপ একা তোলামুল করেনি, বড় অংশের তোলামুল সমর্থক ও ভোটারের দল প্রত্যেকে এর পাপের ভাগিদার।
ভোটে হারতে অমুসলিম তোলামুলেরা না হয় বিজেপির দরজাতে ভোদাংশু হয়ে ঝনকাঠে শুয়ে আছে। কিন্তু সিদ্দিকুল্লাহর দল আবার জামা বদলে 'জমিয়ত-উলামা-ই-হিন্দ' এর মোড়কে নিজেদের লুকিয়ে ফেলেছে। জমিয়ত এতোদিন তোলামুলের সাথে একদেহে লীন হয়ে ছিল, আজকে নতুন করে আর একে আলাদা করা সম্ভব নয়। মুসলমান পাড়া থেকে তোলামুলকে নিশ্চিহ্ন করতে হলে, পুরাতন জমিয়ত এর পূর্ণ কাঠামোটাকে কবরে পাঠাতে হবে। অন্য সংগঠন আসুক, কিম্বা যারা আছে তাদের প্রত্যেকটা মালকে তাড়িয়ে নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসুক জমিয়তে। জমিয়তের পাড়ার নেতা থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্দিকুল্লাহ- প্রত্যেকে ন্যাংটা হয়ে তৃণমূলের হয়ে প্রকাশ্যে ভোটের রাজনীতি করেছে, প্রত্যেকে এতদিন চুরি, ডাকাতি, কাটমানি, তোলাবাজি করেছে বা সমর্থন করেছে, আজ এরা কেন রেয়াত পাবে ধর্মীয় বর্মের কারণে?
এদের ৯০% নেতৃত্বরা কেউ অ্যাকাডেমিকভাবে সেই অর্থে শিক্ষিত নয়, জমিয়ত মানেই যে তৃণমূল নয়, সেটা এদের আর বুঝিয়ে বোঝানো যাবে না। এদের স্থায়ী রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে গেছে। মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটে গেছে, এদের কোনো নেতা রাস্তায় নেই- তারপরেও পরে মুসলমান পাড়াগুলোয় আবার ভোট হলে আবার তৃণমূলই জিতবে- ফেয়ার ভোট হলে। এর কারণ এই জমিয়ত। ইমামভাতা বন্ধের পর প্রতিটা ইমাম ব্যক্তিগত লেভেলে ক্ষতিগ্রস্ত, তারা তো মমতাকে আল্লাহর ফেরেস্তা বানিয়ে ফেলেছে, যিনি ওদের রুটিরুজি দিত। তারা পেটের দায়ে মরিয়া, সুতরাং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মমতা ব্যানার্জী যে আজ কেবল একটা লাশ, সেটা বিশ্বাস করাতে পারবেন না। এরা পীরের মাজারের মতো মমতার মাজার বানিয়ে নিলেও আশ্চর্য হবো না। তারা পুনরায় যেকোনো উপায়ে মমতাকে বাঁচাতে চাইবে।
এই সুযোগটাই সিদ্দিকুল্লাহ ও তার পেটোয়া বাহিনী নিয়ে নিজেদের বাঁচাতে চাইছে। এদের সকলের গিঁট সিদ্দিকুল্লাহতে এসে বেঁধেছে। মুসলমান সমাজের এই অংশে নৌসাদ, হুমায়ূন, সেলিম কোনোদিন পোঁছাতে পারবে না। আবার এদের অস্বীকার করার বিকল্পও নেই। অতএব, যেকোনো মূল্যে রাজ্য জমিয়তকে ভেঙে দিতেই হবে, নতুবা রাজ্যের মুসলমান সমাজের মুক্তি নেই। তেমনই তোলামুলকেও সমূলে উৎপাটিত করা যাবে না, জীবাণু রয়েই যাবে।
আমার টাইমলাইন থেকে ধারাবাহিকভাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে লেখা নেমেছিল গত ৩ বছর ধরে, তার এক শতাংশ আজকের বহু নির্বাচিত বিজেপি MLA নিজের বিধানসভা কেন্দ্র দূরের কথা, গোটা রাজ্যে কোথাও বক্তব্য পর্যন্ত দিয়ে দেখাতে পারেনি। আজকে যদি তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরত তাহলে আমার জেল অবধারিত ছিল, না হলে প্রকাশ্যে মার্ডার। এই ঋজু দত্ত, দীপক ব্যাপারি, কোহিনুর, কার্তিক এরা সবাই ফেসবুকে অন্তত ২০০ খানা প্রোফাইলকে টার্গেট করে রেখেছিল। তার পরেও ৩ গাড়ি বাঁশ নিয়ে যাচ্ছে দেখেও, কাউন্টিং হল অবধি স্বশরীরে তোলামুলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে উপস্থিত থাকতে পারাটা আমার ঘনিষ্ঠ জনেদের উৎসাহ ও পাশে থাকার কৃতিত্ব।
ইজরায়েলের জনগণ আর নেতাদের মধ্যে যেমন খুব একটা পার্থক্য নেই, যেমন তৃণমূলের সমর্থক তৃণমূলের ছোট নেতা মেজো নেতা বড় নেতা সবাই সমান। তৃণমূল সমর্থক থেকে নেতা প্রত্যেকে অপরাধী। তৃণমূলের ৮০ জন MLA এর মধ্যে মাত্র ৩৪ জন প্রথম দিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিল। MP দের হাল অত্যন্ত খারাপ।
এদের বড় অংশ শুধু বিজেপি নয়, কংগ্রেসে জয়েন করার জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কে কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত বা কে আগামীকাল গ্রেপ্ততার হয়ে যেতে পারে, সেটা নিশ্চিত না হয়ে কংগ্রেস কাউকে নিতে চাইছে না। এদিকে বিজেপি নতুন নেতৃত্ব তুলতে চেয়ে, তোলামুলের দাগী মালেদের নিতে চাইছে না। ফলে এইরকম পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে, তাহলে অন্তত কয়েক লাখ লোকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে। তবে এদের মধ্যে যারা ইতিমধ্যে জেলে যেতে সক্ষম হয়েছে, তারা পুলিশকে টাকা দিয়ে জেলে গেছে- এটাও প্রমাণিত হয়ে গেছে, পরে পরে খবর সামনে আসবে। এরা আপাতত ক্যালানি থেকে বাইরে আছে। বাইরে থাকলে যে ফাইন দিতে হতো তার কিছুটা অংশ পুলিশকে দিয়েছে অর্থাৎ এইটা আর একটা কেলেঙ্কারিও চলছে।
এদিকে গোয়ালঘরের গুঁতোগুঁতি, আজ অবধি জর্জ অরওয়েলের 'পশুখামার' গঠিত হলো না পূর্ণাঙ্গ রূপে। কোরবানি সপ্তাহ পেরিয়ে গেলে হাতে রইল 'ফক্কা', প্রতিশ্রুতি মত কতটা পাওনা গণ্ডা পেলো, তার চেয়েও বড় ফোকাস আসবে- তোলামুল ক্যালাচ্ছি, এই রতিসুখ নিয়েই সোনাপোনা বাগিয়ে চাদর মুড়ি দাও। যারা নাচছে, নাচতে দিন। ওনারা বিনা মিউজিকে জেনারেটার এর শব্দেও নাচে, ক্লান্ত হলে নাচ নিজে থেকেই থেমে যাবে। তখন তারা পরনের ইজের খুঁজে ফিরুক নাহয়- আজ অবধি কোন রাজ্যে গোমাতার বলদ সন্তানেরা কার ভালো করেছে- নিজেদের ছাড়া?
প্রশ্নে বড় গাত্রদাহ হয়, মেজোখোঁকাও আগামীতে স্যারেন্ডার পিতার পথে চলা শুরু না করলেই আশ্চর্য হবো। সাংবাদিক নৈব নৈব চ। ইঞ্জিনের নিজস্ব ইন্ধনের সরবরাহ লাইনই যে মৃত এ রাজ্যে, অগত্যা-
পুনশ্চঃ- ইতিহাস বলছে, নরওয়ে ফেরৎ কেউ আর সুস্থ জীবনে ফেরৎ আসেনি, ফিল্মের মিসেস চ্যাটার্জি হোক কিম্বা বাস্তবের হিরো হুলিগান অনির্বাণ। মোদীজির সুস্থতা কামনা করি।
সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
তোলামূলের রক্ষিতা
কুত্তাদের সামনে ভিক্ষার বাটি দিয়ে একশ্রেণির ধর্ম পেশাজীবিদের বাঁধা রক্ষিতা বানিয়ে রেখেছিল মান্নীয়া, ক্রমশ 'উম্মতে চটি' হয়ে ওঠা মুনাফেকদের আবার একবার উম্মতে মুহাম্মদী(সাঃ) হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে আজকের ঘোষণা।
যারা মাত্র হাজার-দু'হাজারে বিকিয়ে গিয়েছিল গত ১৫ বছরে, তোলামুলের হয়ে 'দুধেল গাই' সেজে ভোটের রাজনীতিতে ন্যাংটা 'জিহাদ' করেছিল, আপাতত অতীতের সেই নির্লজ্জতা থেকে এই হারামখোর ইমান-মুয়াজ্জিন প্রজন্ম কি মানুষ হতে পারবে? লিবরেন্ডূ ঝান্ডুর দল যারা চোখে তোলামুলী সুরমা লাগিয়ে জ্ঞানের রজঃস্রাব ছেটাতে আসবেন- জানবেন, আপনার ভ্যাসেকটমি করিয়ে দিয়েছে মান্নীয়ার ভায়ের দল। চেঁটে খাওয়ার স্বভাব বড় বদঅভ্যাস, খেটে খাওয়ার ইচ্ছা নষ্ট করে দেয়।
আগে এনারা মানুষ হোক, তারপর না হয় মুসলমান হবে। গরিলা, শিম্পাঞ্জি, ওরাংওটাং কিম্বা কুত্তা শ্রেণির মনুষ্যেতরদের জন্য কোনো লোকাচার ধর্মের বিধান নেই কোনো সমাজে। ইসলামি শরিয়তে পাগল উন্মাদের জন্যও কোনো ধর্মীয় বিধান নেই।
সরকার বদলাতে শুধু যে তোলামুলী চোর-ডাকাতগুলো যে অনাথ হয়েছে তা তো নয়, ভাতাজীবি ভাতারির দল সমেত সমস্ত এঁটোকাঁটা কমিটি, প্রতিটি বুদ্ধিবীচির গায়ে ঘাম দিচ্ছে আবার খেটে খেতে হবে ভেবেই। সিপিএম কে খানিক গালি দিয়ে তাল বুঝে নিতে চাইছে। আবার কোন ইজের ধরে ঝুলে পড়া যায়! এরা কেউ বিজেপি কে কিছু বলছে না। কে জানে কাল আবার ওদের হয়ে গোবর খেয়ে জয়শ্রীরাম বলতে হবে কিনা!
২০১৮ তে ক্ষমতা দখলের আগে ত্রিপুরায় মোদীজি সপ্তম বেতন কমিশনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতায় এসে বিজেপি ঢাকঢোল পিটিয়ে তা ঘোষণাও করে। কিন্তু আট বছর পেরিয়ে গেছে- পূর্ণাঙ্গ বেতন আজও কমিশন গঠিত হয়নি।
তৎকালীন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বলেছিলেন, রাজ্যের আর্থিক হাল ভালো নয়, তাই কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ্যভাতা দেওয়া সম্ভব নয়। পশ্চিমবঙ্গে ত্রিপুরার পুনরাবৃত্তি হওয়াটাই নিয়তি সম্ভবত। আশঙ্কা বাড়িয়ে, মন্ত্রীসভার বৈঠকের পর আজও কিছু ঘোষনা হয়নি, ফক্কা।
স্বীকৃত গরু-বাঁদরের দল সরকার এসেছে, তারা মানুষ নিয়ে খুব বেশি কথা বলবে সে আশা করি না, বললেই লোকে অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের কথা তুলবে। তাই এরা রাস্তায় নামাজ, কোরবানির গরু এসব নিয়েই থাকবে। আমাদের যারা খেটে খেতে হয়, তাদের কোনো ধরনের আশা না রাখাই ভালো।
শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
কোরবানি ও শুভেন্দু সরকার
বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
বামেদের 'শিক্ষিত' ভ্রান্তিবিলাস
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
বাংলার লজ্জা বাঙালীর লজ্জা
রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
মমতা ব্যানার্জি একটা অপ্রাসঙ্গিক অবাঞ্ছিত নাম আজকের তারিখে
মুষলপর্ব- ১
মমতা ব্যানার্জী খেজুরিতে যেতে পারবে না। যাওয়া উচিত ছিল নিশ্চিতভাবে, কিন্তু যেতে পারবে না, সাহস নেই। ভাইপো এখন দিল্লি পালিয়ে গেছে, সেখান সেফ হাউজে থেকে জনগণকে একত্রিত হওয়ার উপদেশ দিচ্ছে। কল্যাণ ব্যানার্জীও সেফ হাউজে, বাকি সমস্ত তোলামুলী লোকজন অজ্ঞাতবাসে লুকিয়ে কুলোর বাতাস দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছে।
ভাইপো ঠান্ডা ঘরের নেতা, লড়াই আন্দোলনে জন্মানো ঘাম রক্তের নেতা নয়, সারোগেসি বা টেস্টটিউব বেবী। বাইরে বের হলেই আক্ষরিক অর্থে সে বলাৎকারের শিকার হবে। আগে তাকে তৃণমূলের একটা বড় অংশ ক্যালাবে, তাদের হাত থেকে যদি কিছুটা বেঁচে ফেরে প্রাক্তন তৃণমূলীরা মারবেই মারবে, এরপর শাসক দল বিজেপি ক্যালাবে এবং বামেদের একটা অংশ আদা ছ্যাঁচা করবে, আর আমার মতো যারা মনে মনে অন্তত ভাইপোর গায়ে থুতু দিতে চায়- তারাও তো লাইনে আছি। মমতার যে কেরিয়ার শেষ, ২০২৩ থেকে প্রতি মাসে একবার করে লিখেছি, তাই ওটা নিয়ে আজ নতুন করে লেখার কিচ্ছু নেই, বর্তমান রাজনীতির মঞ্চে মমতা ব্যানার্জী একটা অপ্রাসঙ্গিক অবাঞ্ছিত নাম।
২০১১ তে সুর্যকান্ত মিশ্র, নিরূপম সেন, বিমান বসু, মহঃ সেলিম, বুদ্ধদেব বাবু কেউ যেতে পারেনি অধিকাংশ আক্রান্তদের পাশে, দলটা উঠে গিয়েছিল। বৃদ্ধ কিছু নেতার দল, তাদের পার্টি অফিস, তাদের ফাঁপা শৃঙ্খলা, অতীতের পাহাড় প্রমাণ বনেদিয়ানা জমিদারির ইতিহাস, আর শূন্যগর্ভ বক্তৃতা- ২০২০ অবধি সিপিএম এই ফাঁদে আঁটকে গিয়েছিল। তোলামুলের ক্ষেত্রেও এর কোনো আলাদা কিছু হবে না। আগামী ৩ মাস মাস পর প্রতিটা তোলামুল নেতার স্নায়ুরোগ হবে। কলিং বেল বাজলে প্যান্টে মুতে ফেলবে।
আজ তৃণমূল মার খেলেই সে মুসলমান হয়ে যাচ্ছে, এটা কি অস্বীকার করা যাবে রাজ্যের ৯০% মুসলমান ভোট তৃণমূলের ঝুলিতে গেছে। প্রতিটা গ্রামের প্রায় প্রতিটা ইমামকে দিয়ে মসজিদে মাদ্রাসাতে ভোট প্রচার করিয়েছিল মমতা ব্যানার্জী, জমিয়ত উলামা প্রকাশ্যে তৃণমূলের হয়ে ভোট প্রচার করেছে, তাদের অফিসগুলো তৃণমূলের পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছিল। প্রতিটা মুসলিম সংগঠন উলঙ্গ হয়ে ‘বিজেপিকে রুখতে’ তৃণমূলকে ভোট দিন বলে তান্ডব নৃত্য করেছিল। ভোটের সময় সময় তুমি তৃণমূল ছিলে, নির্দিষ্ট করে তোমাদের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল, তুমি চুরি তোলাবাজি কাটমানির ভাগা নিয়েছ; আজ মার খাওয়ার সময় ধার্মিক হয়ে ধর্ম এগিয়ে আসছে কেন; কেন বলতে পারছ না যে আমরা তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি, আমরা ওই দলেরই কর্মী সমর্থক, ওদের হয়ে সমস্ত পাপ করেছি বা করাকে সমর্থন করেছি বলে, আজ আমাদের উপরে অত্যাচার হচ্ছে! আসলে তৃণমূলও চাইছে এই ক্যালানির ঘটনাতে সাম্প্রদায়িক রঙ লাগুক।
মমতা ব্যানার্জী সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ছিল। আপনাদের পাড়া এবং চেনা জানা সমস্ত মুসলমান পাড়ায় কোন উন্নতিটা করেছে? সংখ্যালঘু মানে শুধু মুসলমান? বৌদ্ধ, জৈন, খ্রীষ্টান এরা সংখ্যালঘু নয়? এদের পিছিয়ে পড়া সমাজ থেকে কতজনকে গত ১৫ বছরে চাকরি দিয়েছে?
☞ কতজন গরিব মুসলমানের চিকিৎসার দায় নিয়েছে?
☞ কতজন জেলে থাকা মুসলমানকে আইনি সাহায্য দিয়েছে?
☞ মুসসলমান সমাজের পিছিয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীর কতজনকে স্কলারশিপ দিয়েছে?
☞ কতজন মুসলমান ব্যবসায়ীকে বিনা সুদে লোন দিয়েছে?
☞ কতজন গরিব মুসলমানকে বাড়ি করে দিয়েছে?
☞ কটা আধুনিক মাদ্রাসা তৈরি করেছে বা মাদ্রাসার আধুনিকীকরণ করেছে?
আসলে কয়েকটা লোক যারা এই দপ্তরের নামে মন্ত্রিত্ব পায়, তারা নিজেরা আপন আখের গুছিয়েছে, তার বাইরে এই দপ্তর থেকে আমাদের চেনা জানা একটিও মানুষ উপকৃত হয়নি।
এর মানে কি হিন্দুত্ববাদী RSS এর দুষ্কৃতিরা হামলা করছে না মুসলমান ও তাদের সম্পত্তির উপরে? অবশ্যই করছে; কিন্তু তেমনটা ১টা হলে, ৯টা তোলামুলের উপরে আক্রমণ হচ্ছে, যেটাকে মুসলমানের উপরে অত্যাচারের মোড়ক লাগিয়ে পরিবেশনা করা হচ্ছে, কারণ বিজেপি মানেই সাম্প্রদায়িক, ফলত তাদের ওই খাতে মিটার উঠে যাচ্ছে।
আগামীতে ৩ দফায় আসল মার শুরু হবে তোলামুলের। আজ কাল যেগুলো হচ্ছে সেগুলো সেই- হ্যালো হ্যালো মাইক টেস্টিং ১ ২ ৩ ৪... এই হচ্ছে। তোলামুল নামের দানবের বিসর্জন হয়েছে বলে আমাদের মতো অনেকেই খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছি, তার মানে এই নয় যে বিজেপি সভ্য মানুষের দল হয়ে গেছে। তারা যে পর্যায়ের নিকৃষ্ট বেহায়া নির্লজ্জ পুঁজিপতিদের দাস ছিল সেটাই থাকবে, তারা সাম্প্রদায়িক ছিল, তারা সংখ্যালঘু অত্যাচারী ছিল, মনুবাদী ব্রাহ্মন্যবাদী ছিল, সেটাই থাকবে। এবারে লড়াইটা আর ঘোমটার আড়ালে নয়, সরাসরি হবে।
তোলামুলের হিন্দু অংশের অধিকাংশই বিজেপিতে চলে যাবে, যাদের হাতে হারামের টাকা আছে, তারা অনেকে টাকা জরিমানা দিয়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও- প্রত্যেকে আগামী ৬ মাসে বুঝবে আতঙ্ক কাকে বলে। মুসলমান অঞ্চলের মালগুলো মূল ক্যালানিটা খাবে। আর এদের হাল দেখার পর- তোলামুলের ডিমে তা দিয়ে কোনো বাচ্চা ফু্টবে না। বরং আগামীতে তোলামুল নেতানেত্রীদের যৌন প্রোটেকশন দরকার হবে না- ক্ষমতায় থাকাকালীন তৃণমূলের যেকোনো স্লোগান বললেই বীর্যের শুক্রাণুগুলো নিজেই আত্মহত্যা করে মরে যাবে। না কন্ডোম, না কন্ট্রাসেপটিভ পিল- নির্বীজকরণের এটা এক যুগান্তকারী আবিষ্কার। আজ বুঝবে না সকলে, যত সময় যাবে, আমার কথাগুলোর বাস্তবতা বুঝতে পারবে।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদে বসছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ডেপুটি বিরোধী দলনেতা হচ্ছেন তৃণমূলের দুই মহিলা মুখ, অসীমা পাত্র এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী দল তৃণমূলের চিফ হুইপ পদে বসছেন ফিরহাদ হাকিম। মমতা শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা করেছে এক নম্বর কারণ নিজের কন্ট্রোলে থাকবে, শোভনদেবের বয়স ৮৩ উল্টোদিকে ববি ৭০। দুই নম্বর কারণ- দক্ষিণ কলকাতা। তিন নম্বর কারণ মমতা ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক, ব্রাহ্মণ বলে একমাত্র নির্বাচিত করেছে। নয়না সুদীপের বউ এবং ব্রাহ্মণ দুই ক্যাটাগরিতে ঢুকেছে। অসীমা পাত্র ওর বাড়ির কাজের লোক। তালিকা সমাপ্ত।
দেবী ঘৃণাতে সাওয়ার হয়ে এসেছিলেন, ঘৃণাতেই বিসর্জন হয়েছে। বিজেপি RSS উভয়েই জানে, তারা মমতার প্রতি ঘৃণার স্রোতে ক্ষমতায় এসেছে, যেমন বামেদের প্রতি তীব্র রাগের নৌকায় চড়ে মমতা ক্ষমতায় এসেছিল। শুভেন্দু যদি যোগীর মতো আচরণ না করে তাহলে বাংলার লোকজন খানিকটা জায়গা দেবে। বিজেপির শুভেন্দুর সবচেয়ে বড় সমস্যা তৃণমূলের শুভেন্দুর বলা সংলাপগুলো। পরবর্তী সমস্ত জীবন তাকে নিজের সাথে লড়াই করতে হবে। বাঙালি হিন্দুদের ৬০% এর বেশি ভোট বিজেপির ঝুলিতে গেছে বিজেপির হিন্দুত্বকে সাপোর্ট করে নয়, মমতাকে উৎখাত করতে, বহু মুসলমান বুথেও বিজেপির প্রার্থীরা না হলে ভোট পেতো না।
খুব সত্য ঘটনা হচ্ছে, বহু স্থানে বিজেপি কর্মীরা আফসোস করছে, তাদের হাত নিসপিস করলেও ,সাম্পদায়িক রং লাগার ভয়ে তারা তোলামুলকে চেয়েও ক্যালাতে পারছে না। অনেক স্থানে অশান্তি করতে চেয়েও পারছে না, যা সময়ের দাবী; উলটে ব্রেক মারতে হচ্ছে, পাছে তোলামুল ক্যালাতে গিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বলে চিহ্নিত হয়ে যায়। সদ্য এরা সরকার এসেছে, এই লাইনে অনেক চোর তোলাবাজ বেঁচে যাচ্ছে এই মুহূর্তে। এর পরের মারগুলো গতরে হওয়ার চেয়েও পুলিশি আর অর্থনৈতিক মার বেশি হবে। তাই যারা ভাবছে বেঁচে যাচ্ছি, তারা কেউ বাঁচবে না, কাকে কতটা ক্যালানি দেওয়া হবে এবং কোন লেভেলের হবে- সেইটার তালিকা তৈরি হচ্ছে।
চোরগুলো কেউ ১০০ কোটির মালিক, কেউ ৫০ কোটি তো কেউ ৫ কোটির। সামান্য পঞ্চায়েতের সদস্যও ৫০ লাখ বাগিয়ে বসে আছে। কাকে জরিমানা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে, কাকে অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে বলবে, প্রতিটা প্রেসক্রিপসন আলাদা আলাদা হবে। মেদিনীপুরিয়ান কি জিনিস, বিশ্ব সংসারে এদের নিয়ে যে বা যারা ঘর করেছে একমাত্র তারাই জানে। এদের মত জেদী, গোঁয়ার, ছেঁড়া ন্যাকড়ার আগুনের মতো লেগে থাকার মানসিকতা যুক্ত প্রতিহিংসা পরায়ণ জাতি বিশ্ব সংসারে দ্বিতীয়টি নেই, আসল তো বটেই- এরা সুদেরও সুদ আদায় করা লোকজন। সুতরাং, ছাড় দিলেও ছেড়ে দেবে না।
এতো কিছু বলার উদ্দেশ্য একটাই, পূর্ব বর্ধমানে কমল গায়েন, প্রদীপ তা খুন হয়েছিলেন মমতার প্রত্যক্ষ মদতে, তিন মেদিনীপুর, বাঁকুড়া পুরুলিয়া - সিপিএম সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছিল এই জেলাগুলোতে। আজও সিপিএম সেই আতঙ্ক কাটিয়ে উঠে একটা কচি নেতাও জন্ম দিতে পারেনি। সরি, জন্ম দেওয়া দূর অস্ত, গর্ভধারণ অবধি করতে পারেনি। আরো ৫-৭ বছর লাগবে ২০১১ সালের আতঙ্ক দূর করে, সেই ট্রমা কাটিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক হতে।
বামেদের নিজশ্ব ইউনিক সাপ্লাই লাইন থাকা সত্বেও তারা আজ অবধি মানসিক ভীতি কাটিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি, রাজ্য জুড়ে অন্তত ১৬টা জেলাতে তারা হামাগুড়ি দিচ্ছে। শরিকগুলোর তো ঝাঁপ বন্ধ হয়ে গেছে। ২০১১ এর সময়কার কোনো বড় বাম নেতার যা খুশি রোগ থাক, কোষ্ঠকাঠিন্য নেই। মমতার নাম দু'বার করলে পোঁদ দিয়ে জিভ বেরিয়ে আসে, সেখানে রেক্টামে গু আঁটকে থাকার প্রশ্নই নেই। আজ তোলামুল নামের সাপটা মারা গেছে, খোলস পরে আছে। সেটাকে দেখেই পাখি আর বাঁদরের দল কিচিরমিচির করছে। ভুলে যেও না SUCI এরও পলিটব্যুরো আছে। ২০ বছর পরেও অফিসিয়ালি তৃণমূল কংগ্রেস দলটার অফিস থাকবে কোলকাতার কোথাও না কোথাও। কিন্তু এরা ৫% ভোটও পাবে না ঠিক আগামীকাল নির্বাচন হলেও। যেসব ঘাটের মরাদের যাবার জাইগা নেই, তারা কালীঘাটের ভিকিরি আর ঘেও কুত্তা হয়ে পরে থাকবে।
পরবর্তী ৬ মাসে যে হারে এরা শারীরিক, মানসিক এবং অর্থনৈতিক যে মার খাবে, সেই আতঙ্ক কাটানো তো দুরস্থান- এদের শুক্রাণুর কেউ রাজনীতির নামটুকু মুখে আনবে না। নির্দিষ্ট আদর্শ থাকা সিপিএমের ধ্বজভঙ্গ আজও দশা কাটেনি, কারণ সিপিএম যখন মার খেয়েছিল সাধারণ মানুষ সেটাকে উদযাপন করেছিল। কোনো ধরনের আদর্শহীন তোলামুলকেও যখন মার খেতে দেখবে, একটা পাশবিক জিঘাংসা বৃত্তি কাজ করবে জনগণের মনে। ১৫ বছর ধরে করা প্রতিটা পাপের সাথে আজকের অত্যাচারকে জাস্টিফাই করে- হিসাব মিলিয়ে দেবে। এরপর এরা এতোটাই দুর্বল হয়ে যাবে যে, ওই গোটা বাংলা জুড়ে সাকুল্যে ২-৪টে পার্টি অফিস বাঁচবে, SUCI এর সাথে জোটে করে, কংগ্রেসের রক্ষীতা হয়ে তাদের দয়া দাক্ষিণ্যের উপরে বেঁচে থাকবে। ঘাটের মরা মালগুলো, যেগুলোকে আস্তাকুঁড়ের ডাব্বাও নেবে না- সেগুলোই জলসাঘরের ছবি বিশ্বাসের মতো বসে থাকবে।
এরপর সিভিক পুলিশ ধরবে, এদের উপরেই ফার্স্ট ফ্লাসের ক্যালানি শুরু হবে। সিভিকের পরেই পঞ্চায়েত, মিউনিসিপ্যালিটির ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের শরীরে হাত বোলালেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো প্যান্টে হেগে মুতে দেবে, তাদের থেকে পাওয়া তথ্যতেই তো মূল প্রাণভোমরা রয়েছে সরকারি চুরিচামারির। এরপর আইপ্যাকের মেজো ও উঁচু পদের পেদোর দল, ডেটা তাদের কাছেও কম কিছু নেই। দুর্নীতির হাতে-কলমে প্রয়োগ যদি সিভিক পুলিশগুলো করে থাকে, তাহলে এসি ঘরে বসে তার রূপায়ণ করেছে এইসব ডেটা এন্ট্রি অপারেটরগুলো- আইপ্যাকের তত্ত্বাবধানে। পঞ্চায়েতে পঞ্চায়েতে লক্ষ কোটির ঋণ আছে নানান কন্ট্রাকটারের। তারা টাকা পাবে না, তোলামুলের নেতাদের সম্পত্তি বেচে টাকা আদায়ের আগে দ্বিতীয় দফার ক্যালানি ও খুনোখুনি শুরু হবে এদের মাধ্যমে। এর পর তো পঞ্চায়েত ভোটের আগে আসল সাম্প্রদায়িক খেলা শুরু হবে।
তাই যারা ভাবছে খেলা শেষ, তাদের বলি- খেলা শুরুই হয়নি এখনও।
রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
“আমায় ক্যালানি থেকে কে বাঁচাবে”
আসসালামু আলাইকুম ,
প্রিয় মমতা ব্যানার্জীর উম্মত- দুধেল গাই সম্প্রদায়ের আঁতেল, চোদনা, বোকাচোদা, আলেম চোদা, বুদ্ধিবিচি, ঝুলন্ত বিচি, লাল দাড়ির ধর্মধ্বজী, সুদখোর, মাগীবাজ, মাতাল, গাঁজাখোর, চটিচাটা, চাচার জন্ম, মামার জন্ম, শরিয়তী শুয়োর, মারেফতি ভন্ড, সদগা জাকাতের হারাম খাওয়া উলামা মোহাদ্দিস, হ্যান্ডেল মারা পানুমাস্টার, দুপুর ঠাকুরপো, বেজন্মা ইতর, আতাক্যালানে, চুদিরভাই, নিমকহারাম, মুনাফেক ও সুস্থ সভ্য ভদ্র শিক্ষিত মুসলমান, কর্মঠ শ্রমিক কৃষক সম্প্রদায় গণ। আগামী ২৯ তারিখ ভোটের বোতাম টেপার আগে মনে রেখে ভোটটা দেবেন।
রাজ্যে মমতা ব্যানার্জী ক্ষমতায় থাকলে RSS এর বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার কোনো দরকার নেই। ২০২৬ এর তৃণমূল প্রার্থী তালিকাতে অন্তত ৫০ জন এমন আছে, যারা প্রত্যেকে সক্রিয় RSS কর্মী। উদাহরণ হিসাবে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের পবিত্র কর, ময়না কেন্দ্রের প্রার্থী চন্দন মন্ডল, ১ মাস আগেও এরা বিজেপি ছিল। হাওড়ার বাগনানের অরুনাভ সেন(রাজা) এমন তালিকা শেষ হবে না, যারা প্রকাশ্যে প্রত্যক্ষভাবে RSS এর সাথে যুক্ত। এই তৃণমূল মুসলমানকে শুধু ব্যবহার করে, আর সারা বছর RSS এর হয়ে কাজ করে।
২০১১ থেকে ২০২৬ সবচেয়ে বেশি অনৈতিক দল বদল হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। প্রত্যেকবার পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বিজেপি থেকে হয়েছে, পরবর্তীতে সে তৃণমূলে ঢুকে গেছে। যেহেতু প্রত্যেকটি চুরি যাওয়া টাকার তহবিল অনুমোদন করতে তাকে সই করতে হয়- সেই জন্য সে বাইরে তৃণমূল ভেতরে বিজেপি। বিধানসভার স্পিকার আর বিরোধী দলনেতা বসে বসে মজা নিয়েছে এতদিন, কারণ দুটো দলেরই মালিক এক। পশ্চিমবঙ্গের একটি লোকেরও এতোদিন এই গল্প মনে পড়েনি। নতুন সরকার গঠন হওয়া অবধি এই আইনের কোনো পরিবর্তন চাই না। কারণ তৃণমূল একশ'র নিচে সিট পাবে। সেক্ষেত্রে বিজেপি, কংগ্রেস, আব্বাস আর হুমায়ূন মিলে তৃণমূলকে সেই পথেই শেষ করবে, যেটা এতদিন তাদের অস্ত্র ছিল।
২০২৬ এর ৪ঠা মে, এই প্রথমবার নির্বাচনে একটা ত্রিশঙ্কু অবস্থায় তৈরি হতে চলেছে বাংলাতে, সেখানে তৃণমূল এবং বিজেপির MLA রা গরু ছাগলের মতো বিক্রি হবে এবেলা ওবেলা। তাদের সমর্থকদের সবচেয়ে বেশি ভয় হচ্ছে, আমার ভোট দেওয়া লোকটা আমার না কথা শুনে অন্যদিকে চলে গেলে আমার ক্যালানি কে বাচাবে! পশ্চিমবঙ্গে যে লুঠের রাজত্ব কায়েম ছিল, সেটা শুধুমাত্র সরকারি মদতে হয়নি, এখানে বিরোধী দল বিজেপির সাথে একটা প্রকাশ্য বোঝাপড়া ছিল। শুধু একা তৃণমূল চুরি করেনি, প্রত্যেকটি চুরির সাথে পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটির চেয়ারম্যান জড়িত ছিল। যেমন সুমন কাঞ্জিলাল, কৃষ্ণ কল্যাণী এরা সকলে RSS এর লোক, মমতা তাদের পদে বসিয়েছে, আর দুই ফুলে রাজ্যটাকে লুঠে খেয়েছে। তৃণমূল সমর্থকরা চুরি করেছে আর বিজেপি সমর্থকেরা সেই চুরিটাকে সমর্থন দিয়ে সই করে দিয়েছে, তাদের বড়বাবুরা ভাগও পেয়েছে। গত পাঁচ বছর ধরে পুরো দুর্নীতির ব্যবস্থাটাকে শুভেন্দু অধিকারী নিজে মদত দিয়েছে, কী মনে হয়- তিনি মাগনা করেছেন এসব?
বিজেপি কখনও তোলামূলের বিকল্প নয়, এরা তোলামূলেরই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী মাত্র। পুরুলিয়ার হরতান বুথ (১৬৩), জয়পুর বিধানসভা (২৪১) এলাকার মানুষেরা নাকি ভোট বয়কট করেছে। তাদের নাকি রাস্তাঘাট নেই, শিক্ষা নেই, রেশন বন্ধ, হাসপাতাল নেই ইত্যাদি এই সব নানা অভিযোগ। আরে শুয়ারের বাচ্চারা, ভোট দেওয়ার সময় বিজেপিকে ভোট দিবি যারা কেবল মাত্র হিন্দু খতরেমে হ্যায় গল্প শুনিয়েছে, কিম্বা তোলামূলকে ভোট দিবি যারা ‘আমরা না এলে বিজেপি চলে আসবে’ জুজু দেখিয়েছে। যারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উন্নয়নের কথা বলে- তাদের তো শূন্য করে দিয়ে বিজয়ীর হাসি হেসেছিলি। আজ পোঁদ মারা গেলে মুখ ফুটছে কেন! কাঠ খেয়েছিস, ফার্নিচার তোদেরই হাগতে হবে বাছা।
অবশিষ্ট বাংলাবাসীর জন্য এটা একটা বিপদ সঙ্কেত। যে বুঝবে না তাকে আত্মলিঙ্গম পশ্চাদপূরম করতে দিন, আপনি যদি না বোঝেন, আপনার সন্তানের ভবিষ্যতে গ্যামাক্সিন, কাঁদার জন্য ঘরের কোণা টুকু বাঁচবে না, দুই ফুলের গোলকধাঁধায় ঘুরে ঘুরে কুত্তার মতো মরে পড়ে থাকবেন। তাই সাধু সাবধান।
- • মুসলমানের ভোটে জেতা এই মমতা ব্যানার্জী ক্ষমতায় থাকাকালীন দীঘায় জগন্নাথ মন্দির, শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির, নিউটাউনে দূর্গা অঙ্গন করেছে, এই ১৫ বছরে মুসলমানদের জন্য কী করেছে?
- • বোমা শওকত, তোলাবাজ জাহাঙ্গির, দাঙ্গাবাজ শাহজাহান, জমিয়ত বেচে খাওয়া সিদ্দিকুল্লা, এদের মতো মুনাফেকদের মুসলমানদের নেতা বানিয়ে বাংলার ৩০% মুসলমান জাতি কী পেয়েছে?
- • আপনার সন্তান নিজের রাজ্যে কাজ পেয়েছে?
- • কেন সে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে বিজেপি শাসিত পশ্চিমের রাজ্যগুলোতে গিয়ে পড়ে রয়েছে?
- • বেকারদের কৰ্মসংস্থান কোথায় হয়েছে?
- • শিক্ষক নিয়োগের নামে নির্লজ্জ ও প্রকাশ্য চাকরি বিক্রি করা সরকার। আদালতে স্বীকার করেছে যে এরা চোর।
- • চাকুরিজীবীদের কুকুরের সাথে তুলনা করেছে।
- • মুসলমানকে দুধেল গাই বলে অপমান করেছে।
- • সরকারি চাকরিতে মুসলমানকে ইতিহাসের সবচেয়ে বঞ্চিত অবস্থানে নিয়ে গেছে এই তৃণমূল সরকার।
- • ওয়াকফের সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছে, আন্দোলন করতে গেলে দিল্লি যেতে বলা হয়েছে।
- • OBC থেকে মুসলমান ছাত্রছাত্রীদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
- • SIR এর নামে মুসলমানদের জিম্মি করে তাদের বেনাগরিক করে দেওয়ার চক্রান্ত করেছে।
- • কোরানের অপমান করেছে প্রকাশ্যে।
- • মাদ্রাসা শিক্ষা প্রায় তুলে দিয়েছে।
- • শুক্রবারে নামাজ পড়তে আসা সকলে সন্ত্রাসী বলে দাগিয়ে দিয়েছে।
- • ক্লাবে ক্লাবে টাকা বিলি করেছে অন্তহীন, অথচ সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য DA দেয়নি।
- • কয়লা চুরি করে কালো টাকার পাহাড় জমিয়েছে।
- • রেশনের চাল গম চিনি চুরি করেছে।
- • ত্রাণের চাল ত্রিপল চুরি করেছে।
- • আবাস যোজনার টাকায় কাটমানি খেয়েছে।
- • সরকারি মান্ডিতে ধান বিক্রি করতে গেলেও কাটমানি দিতে হয়েছে।
- • সর্বত্র সন্ত্রাস আর গুন্ডামির পরিবেশ কায়েম করেছে।
- • সারদা চিটফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করেছে।
- • নারদার থেকে প্রকাশ্যে ঘুষ খেয়েছে।
- • রোজভ্যালি চিটফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করেছে।
- • রাজ্যের সর্বত্র ন্যাংটা তোলাবাজির রাজত্ব কায়েম করেছে।
- • জমি মাফিয়া।
- • বালি মাফিয়া।
- • রাজ্য জুড়ে সিন্ডিকেট রাজ।
- • চপ শিল্প করতে বলে শিক্ষিত বেকারকে অপমান।
- • তার দলের পঞ্চায়েত স্তরের নেতারাও কি চপ ঘুগনি কেউ বিক্রি করে?
- • পঞ্চায়েত নির্বাচনে ব্যাপক সন্ত্রাস (যার বিভৎসতা চরমে পৌঁছে ছিল)।
- • কাটমানি খেয়ে উড়ালপুল বিপর্যয়।
- • চোলাই মদ বিপর্যয়।
- • সিভিক টিচার নিয়োগ।
- • মাধ্যমিকের সব পত্রের প্রশ্ন ফাঁস।
- • কোটি টাকার ছবি বিক্রি।
- • সর্বত্র মেলা খেলা উৎসব, যাতে সেখান থেকে সরকারি টাকা নয়ছয় করা যায়।
- • মুসলমানকে গুন্ডা বানানো, মারছে মুসলমান মরছে মুসলমান।
- • চোরদের বাঁচাতে তাদের সমর্থনে রাস্তায় ধর্ণা।
- • চোরদের বাঁচাতে প্রকাশ্যে তাদের সমর্থন।
- • ৬০০০০ Group-D কৰ্মী নিয়োগের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি।
- • কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে নিজের নামে চালানো।
- • শিল্প সম্মেলনের নামে মানুষকে বোকা বানানো, পছন্দের লোকেদের কোটি কোটি টাকা পাইয়ে দেওয়া।
- • ভাইপোর কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির উৎস কী? সে কোন ব্যবসা করে?
- • সততার প্রতীক স্লোগান কোথায় গেল?
- • যাত্রা শিল্পীদের 15000 টাকা ভাতা, আর শিক্ষকদের ২০০০ টাকা ভাতা!
- • কামদুনি ধর্ষণ কান্ডে শাস্তি না হওয়া।
- • সারের দাম জানতে চাওয়ায় "মাওবাদী" তকমা।
- • সরকারি টাকায় চামচাদের নিয়ে বিদেশে ফুর্তি মারতে যাওয়া।
- • যেকোনো মূল্যে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করা।
- • শিক্ষিত বেকার পরিযায়ী শ্রমিক হবে, ওদিকে গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব কিম্বা চোলাই খেয়ে মরলে হয় ১০ লাখ টাকা কিম্বা সরকারি চাকুরি।
- • সাদা খাতা জমা দেওয়া BDO ও শিক্ষক নিয়োগ। চাকুরি যারা পেয়ছে তারা কত নম্বর পেয়েছিল?
- • প্রশ্ন করলেই মাওবাদী তকমা।
- • পরিযায়ী শ্রমিকদের করোনা এক্সপ্রেস বলা।
- • নারী সুরক্ষার অবনতি ও RG Kar কান্ডে দোষীদের আড়াল করা।
- • মুর্শিদাবাদে সামশেরগঞ্জে হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস খুন।
- • নদীয়াতে বোমা মেরে তামান্না খাতুনকে খুন।
- • আইপ্যাকের সবুজ ফাইল লোপাট।
- • হাসখালী কাণ্ড।
- • বগটুই কাণ্ড।
- • নিরন্তর মিথ্যার ফুলঝুরি ছোটানো, উদ্ধত অহংকারী প্রতিহিংসা পরায়ণ আচরণ।
- • তৃণমূল সরকারের আমলে গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) বা সঙ্ঘের শাখা ৫৩০টি থেকে বেড়ে ৪,৩০০টির বেশি হয়েছে। এরা নাকি বিজেপিকে রুখবে?
- • ১৯৯৮ সালে বাজপেয়ী সরকারের রেল চেয়ারপার্সন এই মমতা ব্যানার্জী।
- • ১৯৯৯ সালে বিজেপি সরকারের রেলমন্ত্রী এই মমতা ব্যানার্জী।
- • ২০০২ সালে বিজেপির সরকারে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী এই মমতা ব্যানার্জী।
- • ২০০৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপির সাথে জোট করেছিল এই মমতা ব্যানার্জী।
- • ২০০৬ সালে বিধানসভা ভোটে পুনরায় বিজেপির সাথে জোট করেছিল এই মমতা ব্যানার্জী।
- • 'আমি RSS নেতাদের সম্মান করি'- বক্তা এই মমতা ব্যানার্জী।
- • স্বাধীনতার ইতিহাসে ব্রিটিশের দালালি করা RSS কে ‘প্রকৃত দেশপ্রেমিক’ আখ্যা দিয়েছিল এই মমতা ব্যানার্জী।
- • RSS এর সর্বোচ্চ নেতা এই মমতা ব্যানার্জীকে দুর্গা বলে সম্বোধন করেছিল।
বিজেপিকে রুখতে মমতা ব্যানার্জীকে দরকার? বিজেপির চাষ কে করেছিল এই রাজ্যে? একটাই নাম, মমতা ব্যানার্জী। মমতা ব্যানার্জি না থাকলে বাংলার মাটিতে বিজেপি আজকের রূপে আসত না। এই অসভ্য, ইতর, চোর, তোলাবাজ, কাটমানিখোর, মুসলমান বিদ্বেষী তোলামুল সরকারকে তাড়ানোটা একজন দায়িত্ববান পশ্চিমবঙ্গবাসী ও একজন ঈমানদার মুসলমান হিসাবে আমাদের সকলের কর্তব্য ও দায়িত্ব।
মুসলমান ও হুমায়ূনের বাবরি মসজিদ
বাবরি মসজিদ, বেলডাঙা
বাবরি মসজিদ আর পাঁচটা মসজিদের মত শুধুমাত্র চার দেওয়ালের একটা নামাজ পড়ার ঘর নয়, এটা আপামর মুসলমানের আবেগের নাম। উগ্র হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিরা ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদের মাথায় চড়ে তাকে ধ্বংস করে ভারতের মুসলমানদের উপরে উত্যাচারের যে সূচনা করেছিলো, তারই হাত ধরে প্রথমে বাজপেয়ী সরকার ও বর্তমানের অত্যাচারী ফেরাউন মোদী সরকারের আগমন ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় মুসলমান হত্যাকারী কশাই যোগী আদিত্যনাথ ও হেমন্ত বিশ্বশর্মাদের মত জাহান্নামের কীটেদের উত্থান। এদের মূল এ্যাজেন্ডাই হলো মুসলমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করো, মুসলমানের সম্পদ কেড়ে নাও, তাকে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে উল্লাস করো। ভারতের মাটিতে উগ্রহিন্দুত্ববাদী রাজনীতির যে যুগ, সেটার সূচনা হয়েছিলো এই বাবরি মসজি ধ্বংসের হাত ধরেই। এটাই হিন্দুত্ববাদী উগ্রপন্থীদের, নাগপুরের গোয়ালঘরের জিতে যাওয়ার প্রাথমিক ধাপ ছিলো।
এক শ্রেণীর বুদ্ধিভ্রষ্ট উন্মাদ হিন্দু ভাইয়েরা RSS-BJP এর রাজনৈতিক কর্মসূচীকে, সনাতন ধর্মের অনংশ ভেবে ভেবে RSS এর প্রোপাগান্ডাতে ভেসে গিয়ে, তারাও সরাসরি এই মুসলমান ও দলিত নিধন যজ্ঞে সামিল হয়ে যাচ্ছে। এরা সকলে ব্রেন ওয়াস করা জঙ্গি। এমনই এক জঙ্গি আমাদের স্বাধীন ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করেছিল- স্বাধীনতা উত্তর ভারতের প্রথম জঙ্গি যাকে সাপ্লাই করেছিলো এই RSS। এরা নিকৃষ্ট ব্রাহ্মণ্যবাদী একটা মুষ্টিমেয় সম্প্রদায়, যারা জঘন্য বর্ণ প্রথায় বিশ্বাসী, মনুবাদ যাদের সংবিধান- তারা যে কোন মূল্যে নিম্ন বর্ণের হিন্দু এবং আদিবাসীদের উপর অমানুষিক অত্যাচার করে, তাদের সম্পদ কেড়ে নেওয়াকে, তাদের উপরে নারকীয় হামলা করাকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ও বীরত্ব বলে দাবি করে। এরা একসময় ব্রিটিশদের দালালি করত, এখন গুটিকয়েক গুজরাতি পুঁজিপতির ওই দালালি করে; যাদের মূল উদ্দেশ্য দেশের সম্পদ জনগণের সম্পদ লুটপাট করে বিক্রি করে দেওয়া। হিন্দুত্বের নামে এরা দেশের সংখ্যাগুরু সনাতনী ভাইদের সাথেও ভয়ংকর রকম প্রতারণায় লিপ্ত। মুসলমানেদের কচুকাটা করে, তাদের সম্পদ দখল করে নিয়ে বেনাগরিক কিম্বা তৃতীয় শ্রেনীর নাগরিক বানিয়ে দেবার যে চক্রান্ত- এই সবের প্রতীক হচ্ছে বাবরি মসজিদের ধ্বংস হওয়া।
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর এই সুবিশাল ভারবর্ষের বুকে 'বাপের ব্যাটা' হুমায়ুন কবীর, প্রতিদিন হেরে যাওয়া মুসলমানের হেঁট হয়ে থাকা যে শির- সেটাকে আবার উঁচু করে দিয়েছে। বাংলার পাক জমিনে বাবরি মসজিদকে পুনরায় নির্মাণ করার মাধ্যমে। রাজনৈতিক চরিত্রের বিচারে হুমায়ূন কবীর একজন গণিকা হলেও, একটা হেরে যাওয়া আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগা জাতিকে জাগাতে যেভাবে সাহস নিয়ে এগিয়ে এসেছে, তার জন্য কোনো সাধুবাদই যথেষ্ট নয়। হিন্দু ধরর্মেও তো বেশ্যাবাড়ির মাটি ব্যাতিরেকে দুর্গাপুজা সম্পন্ন হয়না, হুমায়ুনও এক্ষেত্রে সেই সাহসী ব্যাক্তিটা, যে মিইয়ে যাওয়া বারুদের স্তুপেও যে স্ফুলিঙ্গ ধরানো যায় সেই বিশ্বাসটা জাগাতে সক্ষম হয়েছে।
RSS, বিজেপি ও তাদের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটা সংস্থা ও প্রতিটা তন্ত্রকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাংলার জমিনে ভারতীয় মুসলমানের ইজ্জত 'বাবরি মসজিদ' স্থাপনের যে হিম্মত দেখিয়েছেন হুমায়ুন কবীর- গত ৩৩ বছরে তাবড় মুসলমান নেতৃত্ব এবং গালভরা নামের সংগঠন যত ছিল- তাদের সকলকে ছাপিয়ে গেছেন। যে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির এতো ফুলে ফেঁপে উঠা, সেই মসিজিদ পুনঃনির্মানের মাধ্যমে আজ মুসলমান সমাজকে একত্রিত করে- বিজেপি, RSS আর তাদের রাজনৈতিক হিন্দুত্বকে কবর দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই যেকোনো সুস্থ মুসলমানের লক্ষ্য। এই বাংলা রবীন্দ্র নজরুলের মাটি, এই বাংলা শ্রীচৈতন্যের সাম্যের গান গাওয়ার মাটি, এই মাটি অসংখ্য পীর আউলিয়ার মাটি, এখানে RSS এবং তাদের মত সমমতাদর্শিত দলের কোন স্থান নেই।
আজ আমাদের সামনে কেবল বিজেপিই বাঁধা নয়, RSS এর অন্যান্য শাখা সংগঠন যেমন তৃণমূল কংগ্রেস বা তাদের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি, যিনি ১৯৯২ সালে নরসিমা রাও এর মন্ত্রীসভাতে ৩টে দফতরের মন্ত্রী ছিলেন, তিনি সে সময় ন্যূনতম প্রতিবাদ টুকু করেননি। কোনো ভিডিও বা সংবাদ পত্রের কাটিং এমন দেখাতে পারবেন না, যেখানে মমতা ব্যানার্জি বাবরি মসজিদ ধ্বংসের জন্য কোনরকম নিন্দা প্রস্তাব করেছিলেন।
আজকে এই মমতা ব্যানার্জি গত ১৫ বছর ধরে মুসলমানদের ভোটে জিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ২০২৬ এর নির্বাচনেও তিনি কমপক্ষে ৫০ জন RSS এর ক্যাডারকে তার দলের প্রার্থী বানিয়েছে। RSS এর পরিকল্পনা মত মুসলমানকে ঠকিয়ে তাদের ওয়াকফ সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছে, OBC থেকে মুসলমানকে বঞ্চিত করেছে, মাদ্রাসা শিক্ষাতে প্রায় লাটে তুলে দিয়েছে, শিক্ষা এবং চাকরি থেকে মুসলমানকে বঞ্চিত করে তাদের সন্তানকে পরিযায়ী শ্রমিক বানিয়ে দিয়েছে। SIR এর নামে মুসলমানকে জিম্মি করে, বৈধ ভারতীয় হওয়ার পরেও তাদের নাম কেটে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করেছে।
RSS এর অফিসিয়াল রাজনৈতিক দল বিজেপি এবং ঘোমটা পরা মুখোশধারী রাজনৈতিক শাখা- তৃণমূল কংগ্রেসকেও রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করতে না পারলে, প্রতিবার এরা মুসলমানের বন্ধু সেজে ভেক ধরে মুসলমান সমাজের সাথে প্রতারণা করবে। মুসলমানের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় যাবে, তারপর তারা সরকারি টাকায় মন্দির বানাবে, দুর্গাপুজোয় হাজার হাজার কোটি টাকা বিলি করবে, কার্নিভ্যাল করবে, মেলা খেলা করবে; আর মুসলমান যে তিমিরে ছিল এখানেই রয়ে যাবে, সমাজের অন্ত্যজ শ্রেনী হয়ে।
এই ভোটে মুসলমান সমাজকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার, যা আমাদের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র আমাদের গোষ্ঠীকে দিয়েছে, সেটাকে বুঝে নেওয়ার এটাই সময়। একটা হুমায়ুন কবীর, একটা বাবরি মসজিদ আমাদের বাঙালি মুসলমানদের সামনে দুর্দান্ত সুযোগ এনে দিয়েছে- সমস্ত ফিরকা বিবাদ ভুলে মুসলমান সমাজকে এক হয়ে মুসলমানের শত্রুদের বিপক্ষে একজোট হয়ে লড়ার। এর জন্য সাচ্চা মুসলমানের প্রতিনিধি চাই। কোনো চটি চটা RSS এর দালালি করা মুনাফিক মুসলমান দিয়ে এ কাজ হবে না। আমাদের প্রতিনিধি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে আল্লাহর কসম, তারা আমাদের কওমের জন্য আওয়াজ তুলবে এবং আমাদের সাংবিধানিক অধিকার ছিনিয়ে আনবে আমাদের সন্তানদের জন্য।
মুসলমান পিছিয়ে পড়া জাতি নয় আমাদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে। আজ অধিকার বুঝে নেওয়ার সময়। আলহামদুলিল্লাহ, আমদের প্রত্যেককে লড়াইয়ের পথে ফিরতে হবে। অন্নবস্ত্র বাসস্থান, উন্নত সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, কৃষি ও শেচ ব্যবস্থায় উন্নতি, বৃত্তিমূলক কর্মসংস্থান গড়ে তোলা, হাতে হালাল রোজগার এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য সম্মানের জীবনযাপন এর সুযোগ করে জয় আমাদের লক্ষ্য। সুদের ফাঁস থেকে গ্রামীণ সমাজের মা বোনদের রক্ষা করাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিৎ।
জনগণকে সাথে নিয়ে, আমরা আমাদের লক্ষ্যে সফল হবো ইনশাল্লাহ।
আমিন
শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
২০২৬ বিধানসভা ভোটের প্রথম দফাঃ একটি তুল্যমূল্য আলোচনা
উত্তরবঙ্গের ৬টা জেলার ২৭ আসনে, তোলামূল সর্বোচ্চ ৬-৮ টা পেতে পারে কুঁতিয়ে কঁকিয়ে। দুই দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৫টা। মালদাতে সর্বোচ্চ ২টো। মুর্শিদাবাদে ২টো সর্বোচ্চ। বীরভূমে খুব ভালো হলে তবে ৫টা। পুরুলিয়া- ০-১ টা। বাঁকুড়া- ০-১ টো। পূর্ব মেদিনীপুর ৬-৮ টা, আরো কম হবে আশা করা যায় পশ্চিম মেদিনীপুর ৮-১০টা। পশ্চিম বর্দধমানে ৩-৪টে। সব মিলিয়ে: +-৪৫টা আসন, যা বাড়ার কোনো জাইগা নেই। বরং ত্রিমুখী চতুর্মুখী লড়াইতে সংখ্যাটা ৩০এ নেমে না গেলেই আশ্চর্য হবো।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে মুর্শিদাবাদের ২২টা আসনের মধ্যে ২০টা তোলামূল পেয়েছিল। ৫৪.৫% ভোট পাওয়া তোলামূল- ২৩.১% ভোট পাওয়া বিজেপির চেয়ে এগিয়ে ছিলো ৩১.৪% ভোটে, যেখানে বামে কংগ্রেস মিলে ১৯% ভোট পেয়ে তিন আর চার নাম্বারে ছিলো। SIR এ এই মুর্শিদাবাদে নাম বাদ গেছে প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার, যেখানে মোট ভোটার ৫০ লাখ ২৬ হাজার মতো। যেমন শামসেরগঞ্জে ২৯.৫%, রঘুনাথগঞ্জে ১৭.২৯%, সুতিতে ১৩.৪২% ভোটার তালিকাতে নেই। অর্থাৎ, গোটা জেলার নিরিখে ১৪.৭২% ভোটার নেই হয়ে গেছে প্রথম দফার ভোট অবধি।
অনুরূপ মালদা জেলায় SIR এ বাদ চিত্রে- ৩১ লাখ ৯৯ হাজার ভোটারের ২ লাখ ৩৯ হাজার নেই। এখানে জেলার নিরিখে শতাংশের হার তেমন ভয়াবহ না দেখালেও, মোথাবাড়ি ১৮.৩%, মালতীপুর, রতুয়া, মানিকচক এই আসনগুলোতেও গড়ে ১২-১৪% নাম নেই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলগুলির প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল- তৃণমূল কংগ্রেসঃ ৫৩.০%, বিজেপিঃ ৩২.৮%, জাতীয় কংগ্রেসঃ ৮.৮%, সিপিএমঃ ১.৬%। তোলামুলের জয়ের মার্জিন ছিল গড়ে ২০.২%।
মুর্শিদাবাদে ১৫% ভোটার নেই, মালদাতেও যেগুলো মুসলমান অধ্যুষিত তৃণমূলের আসন সেখানে গড়ে ১৪% ভোটার নেই। এই নেই ভোটারদের যারা সত্যিকারের মৃত-স্থানান্তরিত বা পাতি বাংলাতে ভুতুড়ে ভুয়ো ভোটার, তারা তোলামুলের বাক্সেই ভোটটা দিয়ে যেতো। যেটা কমপক্ষে গত ভোটার লিস্টে থাকা ভোটারের ৯% এর কাছাকাছি।
ধান ভানতে এত শিবের গীতের কেন প্রয়োজন হলো! ৯% মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটার যার পুরোটাই একপ্রকার তোলামূলের নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক ছিল, যারা এবারে নেই। এর পাশাপাশি যারা বৈধ হওয়া সত্বেও ‘ডিলিটেড’ তাদের পরিবারের লোকেরা কোন দিকে ভোট দিয়েছে কেউ জানে না। ১০ হাাজার বৈধ ‘ডিলিটেড’ পরিবারে গড়ে ৩ জন করে থাকলেও, সংখ্যাটা নুন্যতম ৩০ হাজারে দাঁড়ায়। এনাদের সামান্য কিছু ভোট তোলামূল নিশ্চিত পাবে, কিন্তু অধিকাংশ ভোট তো তোলামূলের বিপক্ষেই পরবে, বিজেপির পাওয়ার প্রশ্নই নেই। এর সাথে আছে বাম ও কংগ্রেসের দুর্দান্ত উত্থান। কোন অঙ্কে তোলামূল মালদা ও মুর্শিদাবাদে তাদের বিগত নির্বাচনের জয়ের মার্জিন ৩১% ও ২০% কে ধরে রাখবে? মানে কোন মন্ত্রে?
কোলকাতার মেট্রোগলির ফুটপাতে যারা কখনও কেনাকাটা করেছেন তারা জানেন, এখানে মালের দাম শুরু হয় ৩০০০ টাকা থেকে। আমাদের মা-বোনেরা ও স্ত্রী ধনেরা বার্গেনিং এ প্রত্যেকে গবেষক লেভেলের, তারাও চোখ বুঝে বলে দেন ৫০টাকায় দিলে দিন, না দিলে গেলাম। দোকানদার বলে আর ২০টাকা দিন প্লিজ, কেনা দামেই ছেড়ে দিচ্ছি বৌনির সময়। এটাও ঐ বৌনির সময়, প্রথম দফায় হয়ে যাওয়া ১৫২ আসনের মধ্যে তোলামূল বলছে ১৩৫টা তো বিজেপি বলছে ১২৫টাতে জিতবে। এমন দিনকাল এলো যে, হুমায়ূনও দাবী করছে ৭৮টা আসন পাবো। আসলে কে কী পাবে সেটা গতকাল অনুব্রতর ভিডিও ও আজকের বাইরন বিশ্বাসের ভিডিও তে পরিষ্কার। কুনাল ঘোষ বা ভাইপো নিজেরাও জানে ২৯ তারিখ অবধি তাদের কর্মী সমর্থকদের আত্মবিশ্বাসের যেন যাতে ঘাটতি না হয়, তার জন্য এই প্রকাশ্য মিথ্যা চালিয়ে যেতেই হবে। সকলেই খেয়ালি পোলাও বানাচ্ছে, সুতরাং তাতে ঘি চামচের বদলে বালতি করে ঢাললে ক্ষতিটা কোথায়।
২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের সময় তোলামূল ১২.২৯% ভোট বাড়িয়েছিল। তবে কংগ্রেস যেহেতু তাদের জোটসঙ্গী ছিল, তাই পুরো ভোটটা যে তাদের পক্ষে এটা বলা যাবে না। এদিকে এই ভোটে বামেরা ভোট খুইয়ে ছিল ৭.০৫%। যা ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চের প্রায় কাছাকাছি। তথ্য বলছে ২০১১ সালে কংগ্রেসের ভোট ১৪.৭১% থেকে ৯.০৯ % তে নেমে যায়, মানে ৫.৬২% কংগ্রেস ভোট খেয়েই তোলামূল যাত্রা শুরু করেছিল। বিজেপি যথারীতি ৫% এর নিচে ছিল।
১৯৭৭ সালে যখন বামেরা ক্ষমতায় এসেছিল, একা সিপিএম ৮% এর সামান্য বেশি সুইং এর লাভ পেলেও, দলগতভাবে ক্ষমতায় আসা বামজোট ৬% এর সামান্য বেশি সুইং হাসিল করেছিল নিজেদের পক্ষে।
স্বাধীনতা পরবর্তী ইতিহাসের দিকে তাকালে দেশের সর্বত্র দেখা যায়- সাধারনভাবে ৪/৫% ভোটের সুইং করলে সরকার টলে যায়, পরিবর্তন ঘটে যায়। আজ অবধি সরকারে থাকা দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ভোট সুইং এর পরিমাণ রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ ৭.৪৯%। সেখানে ১৪-১৫% ভোট যখন নেই, সেখানে তোলামূলকে যদি তার পুরনো ৯৩টা আসন ধরে রাখতে হয়, ঠিক এই ১৪% ভোট নিজেদের অনুকুলে ফেরাতে হবে এই SIR ও এ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সির পরেও; যা অতীতে কখনো হয়নি কোন শাসকদলের জন্য। চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরতে গেলে তৃণমূলকে পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাস ও সেফোলজি বিজ্ঞানকে মিথ্যা প্রমাণিত করতে হবে।
প্রথম দফার নির্বাচন শেষে মূল প্রাপ্তির বিষয়টা কী কী-
- বামেরা কান্নাকাটি করে সহানুভূতি ভিক্ষা করেনি। এমনকি ফেসবুকের বাম্বাচ্চা গুলোও ফুটো এ্যালুমিনিয়ামের বাটি হাতে করুণা ভিক্ষা করেনি। একই সাথে আলিমুদ্দিন থেকে এখন অবধি কোন ভাটের বিবৃতি প্রকাশ হয়নি।
- কংগ্রেস বিধবার মতো চিল্লিয়ে মরাকান্না কাঁদেনি। অধীর চৌধুরী প্রকাশ্যে অন্তত ২৫ হাজারের বেশি ভোটে জিতবে যেমন ঘোষণা করে দিয়েছে, তেমনই কংগ্রেসের তরফে কোথাও ত্রিমুখী বা কোথাও চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বীতার জন্য আরও অনেকগুলি আসন জেতা সম্ভব বুঝতে পেরে, ফেসবুকে সময় নষ্টের বদলে, তাদের নিজস্ব বাহিনী নিয়ে স্ট্রংরুম পাহারা দিতে মাঠে নেমে পড়েছে।
- হুমায়ূন হাউমাউ করে রুদালি গীত গায়নি। সারাদিন ধরে বিভিন্ন ভাষায় তৃণমূলের মাতৃ-পিতৃ বন্দনা করার পর, এখন অবধি টানা প্রত্যেকটি সাংবাদিকের ফোন ধরছে এবং যথাযথভাবে তার ভাষায় উত্তর দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, মোদীর মতো পালিয়ে না গিয়ে প্রত্যেকটি সাংবাদিক সম্মেলনে রীতিমতো ঝড় তুলে দিচ্ছে।
- এমনকি মেদিনীপুরের রুহুল আমিনও নূন্যতম ফোঁপায়নি। তেমনি বীরভূম থেকে মেদিনীপুর এমনকি পশ্চিম বর্ধমানে পর্যন্ত বিরোধীদল আর জনগণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে খালি ইভিএম বয়ে নিয়ে যাওয়া ফেক কর্মীদের সমস্ত পরিকল্পনা জন্মের উৎসস্থলে পাঠিয়ে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
বিজেপি কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসবে না
বিজেপি কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসবে না এ রাজ্যে, আসতে পারে না, যদিনা তৃণমূল দলটা তাদের বিজয়ী MLA নিয়ে সরাসরি বিজেপিতে মিশে যায় ভোট পরবর্তী সময়ে বহুমুখী সমীকরণে। তাই তৃণমূল ও মমতা ব্যানার্জী- যে বিজেপি জুজু দেখিয়ে আরও একবার মুসলমান ভোটকে নিজের বাক্সে ফেলতে চাইছে, তার উপরে থুতু ছিটিয়ে দিন। নিচের অঙ্কটা দেখে নিন, বাকি সিদ্ধান্ত আপনার।
২০১৯ লোকসভা, ২০২১ বিধানসভা এবং ২০১৪ লোকসভা, এই তিনটে নির্বাচনের নিরিখে বিজেপি ৫৫ টা আসনে তিন বারই টানা জিতেছে বা এক নম্বর স্থানে ছিল। ৩৮ টা আসনে দু'বার জিতেছে কিংবা এগিয়েছিল। আর ৫৩ টি আসনে এই তিনটে নির্বাচনের, অন্তত একবার তারা জিতেছিল কিংবা এগিয়েছিল।
সবেধন নীলমনি এই ১৪৬ আসনেই আজ অবধি বিজেপির চাষবাস। একটা নতুন আসনের দোকান খুললে, অন্য ২টো দোকানের ঝাঁপ বন্ধ হয় তাদের, এটাই তাদের ভোট চরিত্রের স্ট্রাকচার। বেশ কয়েকটা এমন আসনও ছিল যেখানে মুসলমান ভোট মেজরিটি। এবারে সেটি হবে না, তেমনই মতুয়া অঞ্চলে বিজেপির 'পতিদাহ' প্রথা পালিত হবে জীবন্ত চিতায় তুলে।
সুতরাং পাটিগণিতের নিয়ম বলুন কিংবা পারমুটেশন কম্বিনেশন, রেসিপ্রোক্যাল, জিওমেট্রি কিম্বা ফিবোনাচ্চি- আপনি যেভাবেই হিসেব করুন না কেন, ইতিহাসের পর্যালোচনা এবং পশ্চিমবঙ্গের জাতি জনঘনত্বের পরিমাপের অঙ্কে, বিজেপি কোনো গণিতের বলেই সংখ্যাটা একলাফে কক্ষণও ১০০ পার করতে পারবে না। বাকিটা মমতা ব্যানার্জীর বিজেপি জুজুর নামে নির্লজ্জ মিথ্যাচার প্রহসন, আর বিজেপির বিপুল অর্থব্যায়ে চালানো প্রচারযন্ত্রের আষাঢ়ে গল্প। তাতেও আজ অবধি ১৪৬টা আসনেই বুড়ি ছুঁতে পেরেছে বিজেপি, আর কনফার্ম বলতে সেই ৫৫টি। বাকিটা গ্যাস বেলুন যা শুধুমাত্র মিডিয়াতেই উপস্থিত।
পশ্চিমবঙ্গের মাটি চৈতন্যের মাটি, সম্প্রীতির মাটি, একটা দীর্ঘ সময় ধরে চলা কমিউনিস্ট আদর্শ ও আন্দোলনের মাটি, এখানে RSS এর উগ্র হিন্দুত্ব আর বাঁদর রাজত্ব- ওই নির্দিষ্ট সংখ্যক একটা জম্বি হিন্দুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাকিরা কেউ মানুষ নয়, সামান্য কিছু ভক্ত, বাকিরা মহাদেবের ধর্মের ষাড়। অধিকাংশ সুস্থ স্বাভাবিক হিন্দুই, সন্ত্রাসী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন RSS কে অন্তর থেকে ঘৃণা করেন, একটা মুসলমান যতটা ঘৃণা করে বরং তার চেয়েও বেশি প্রতিবাদ-প্রতিরোধ দেশের সংখ্যাগুরুদের তরফেই পরিলক্ষিত হয়।
তাই যারা ভাবছেন বিজেপিই বোধহয় তৃণমূলের বিকল্প, তারা আসলে তৃণমূলের পায়ে শক্তি যোগাচ্ছেন আরও একটা টার্ম ক্ষমতায় আসার দৌড়ে। গত ১৫ বছর ধরে এই বিজেপির বেনা বনে মুক্ত ছড়িয়েছেন, আগে রাম পরে বামের তত্ত্ব ছড়িয়ে ছিলেন। নিট ফল- ফক্কা। মমতার নের্তৃত্বে প্রতিবার RSS এর সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
এবারও যদি আপনি হিন্দু ভাইটি বিজেপিকেই ভোট দেন, এবার কিন্তু তৃণমূলের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে না। কারণ মুসলমান সমাজ মমতা ব্যানার্জীর ভন্ডামি প্রতারণা ধরে ফেলেছে ,তাকে উচিত শিক্ষা দিতে সমগ্র মুসলিম সমাজ বদ্ধপরিকর। সুতরাং আপনারা যারা যেকোনো মূল্যে তৃণমূল-বিজেপি বাইনারির মধ্যে থেকে একটা RSS এর সরকার প্রতিষ্ঠা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ, তাদের জন্য মহা দুঃসংবাদ। ২০২৬ সালে RSS এর সরকার গঠিত হবে না পুনরায়।
গত একুশের নির্বাচনে এবারের প্রথম ফেজে হতে চলা ১৫২টা আসনের মধ্যে তোলামূল পেয়েছিল ৯২টি, আপনি নিশ্চিত থাকুন আজকের ভোটে তোলামূল ৫০ ক্রশ করবে না কোনোভাবেই, আর বিজেপিও যেখানে ছিল তার আশেপাশেই থাকবে, কমলেও কমতে পারে। মালদা মুর্শিদাবাদ এবং দুই দিনাজপুরে তৃণমূল খাতা খুলতে পারলে সেটাই তার জন্য চরম প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য হবে। বাকি সমস্ত সমীক্ষা- টিস্যু পেপারে করে যেমন পায়ুপথ মোছে, সেইভাবে মুছে ফেলে দিন ওগুলো। এগুলো সব পেইড প্রোমোশন, আপনার ভাবনাকে ডাইভার্ট করার জন্য।
সুতরাং তোলাবাজ, কাটমানি খোর, প্রবঞ্চক, প্রতারক, ধর্ষক, চোর, পাতাখোর, দুশ্চরিত্র, মিথ্যাবাদী, সাম্প্রদায়িক এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ এই তোলামূল সরকারকে যদি বিসর্জন দিতে চান তাহলে- বিজেপিকে ভোট দিয়ে সেই লক্ষ্য হাসিল করা সম্ভব নয়। সাম্প্রদায়িক বিজেপি কখনো বিকল্প হতে পারে না শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বাংলাতে, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, হাজী মহসিনের বাংলাতে।
তৃণমূল এবং বিজেপি বাদে যে যেখানে শক্তিশালী তাকে ভোট দিন। বাম জোট-ISF কে পছন্দ হলে তাদের দিন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এদেরই রেকমেন্ড করবো। বামে এলার্জি থাকলে কংগ্রেসকে ভোট দিন। এমনকি হুমায়ূন কিম্বা রুহুল আমিনের প্রার্থীকে পছন্দ না হলেও, সে যদি শক্তিশালী হয় আপনার এলাকায় তাহলে এবারের ভোটটা তাকেই দিন। ভোট যেন নষ্ট না হয়।
আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন তৃণমূল কোনভাবেই তিন সংখ্যার ভিজিট পার হবে না আগামী ৪ঠা মে। আর বিজেপির অতীত কোষ্ঠী কি বলছে তা উপরে লেখা আছে, তার জিনের মধ্যে ঢুকে রয়েছে তার অউকাত, ঐ সর্বোচ্চ ৯০ এর আশেপাশে- ব্যাস গল্প শেষ।
যুক্তফ্রন্ট জাতীয় একটা সংযুক্ত সরকার গঠন হতে চলেছে এবারে, যেখানে বামজোট নির্ণায়ক শক্তি হবে। আপনার মূল্যবান ভোট দুই বিষ ফলের মধ্যে কাউকে দিয়ে যদি নষ্ট করেন, তার দায় একান্তই আপনার। এর মূল্য রক্ত দিয়ে চোকাতে হবে। তৃণমূল হোক বা বিজেপি সে আপনার রক্ত চুষে নেবেই। এর সাথে আপনার সন্তানকেও বইতে হবে আপনার এই পাপের ভার। উত্তর প্রজন্মের কাছে অপরাধী হয়ে জবাবদিহি করতে হবে - ১৫ বছর ধরে প্রতিটি লোকসভা, প্রতিটি বিধানসভা, প্রতিটি পঞ্চায়েত, প্রতিটি পুরসভায়- প্রতিবার ঠকার পরেও একই পাপের পুনরাবৃত্তি কীভাবে করেছিলেন!!
নাগপুর ও শিক্ষা দূুর্নীতি
পেপার লিক বা প্রশ্নপত্র ফাঁস কোন বিচ্ছিন্ন দুর্নীতি নয়। এটা একটা পরিকল্পিত অর্থনৈতিক মডেল যেটা সরাসরি নাগপুর থেকে পরিচালিত হয়। এটার পেছনে...
-
(১) জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তাল...
-
(১) মহারাষ্ট্রের ৩০টা জেলার ৯০টা তালুক ভয়াবহ ভাবে বন্যা কবলিত হয়েছে শেষ ২ মাসে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ বিদর্ভ অঞ্চল। মারাঠওয়াড়ায় বন্য...