সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৫

পান্ডুরোগ


উন্মাদীয় সোমরস


(উন্মাদীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে বর্নিত প্রতি সোমবারের জন্য নতুন সিরিজ)

পাণ্ডুরোগ 


আজ আলোচনা করবো আমাদের কোলকাতার নগরজীবনের এক বিলুপ্ত হতে চলা চলমান ইতিহাস নিয়ে।
শেষ দুই সপ্তাহ প্রায় হাসপাতাল আর নার্সিংহোমেই কেটে গেল। নিঃসন্তান মাসীমার মিনি স্ট্রোক দিয়ে শুরু, ন-কাকার ফার্ষ্ট এটাক দিয়ে এযাত্রায় আপাতত স্বস্তি। জানিনা আবার কেও অপেক্ষা করছে কিনা। এই বহুল বিজ্ঞাপিত “_সান হাসপাতাল” ঠিক কতটা জোচ্চোর বিপদে না পড়লে তো বোঝা যায় না। চিকিৎসার মান ওই তথৈবচ। খুড়তুতো ভাইএর সকলেই স্কুল পড়ুয়া। বাড়ীর বড় ছেলে হবার দরুন দায়িত্বগুলো অটোমেটিক আমার কাঁধেই এসে পরে। কার ছুটি জানিনা, তবে আমার সত্যিই ছুটি ছিলোনা।
তবে আমি যদি এড়িয়ে যেতাম , তাহলে হয়তো দ্বিতীয়বার কেও আসতোই না। তবে আমি সচেতনভাবে মোটেই সেটা করিনা। আত্মীয় বা বন্ধু দের বিষয়ে তো যেচে, দায়িত্ব না নেবার কোন প্রশ্নই নেই। সেটা কর্মচারী হোক বা পড়শি , নিজের সেরা টুকু দিয়ে চেষ্টা করি। যাতে সময়মত নুন্যতম চিকিৎসা টুকু তিনি পান। আমার মতে কাওকে সত্যিকারের সাহায্য করতে চাইলে, তার মূমূর্ষ পরিস্থিতিতে হাতটা বাড়িয়ে দিন।
বন্ধু বা শত্রু, আপনি চাইলেই ইচ্ছামত স্বার্থত্যাগ বা জোড়ের মাধ্যমে সেটার পরিবর্তন করতেই পারেন। কিন্তু প্রতিবেশী বদলানো যাইনা। একান্তই বদলাতে চাইলে নিজের মূলই উৎপাটন করতে হয়। তাই তাদের প্রতি সহযোগিতা মুলক দৃষ্টিভঙ্গী রাখা প্রয়োজন। যদিও সেই সম্পর্ক অপরপক্ষ থেকে প্রেরিত প্রত্যুত্তরের উপর ভিত্তি করে স্থায়িত্বের সীমারেখা নির্দেশ করে।
এরই মাঝে বিপত্তি। আমার গাড়ির সারথি, তারাহুরো করে যাবার ব্যার্থ চেষ্টার দরুন, পরমা আইল্যান্ডে- যেখানে বিশ্ব বাংলা টা ঘুরছে ঠিক সেইস্থানে একটা সরকারী বাস, মানে ওই বিশালদেহী গুলো, গা জোয়ারী ওভারটেক করতে গিয়ে, পিছনের বাম্পারের দিকথেকে বিপজ্জনক ভাবে দাঁত বেড় করে থাকা একটা লোহার এঙ্গেল দিলো আমার গাড়ির ভিতরে সেঁধিয়ে। বডির কিছুটা অংশ চামচের মত খাবলা করে তুলে নিয়ে যাবার যেন বরাত পেয়েছিল। এমনিতেই এই হ্যাচব্যাক বা সেডান কার গুলোকে আমার দেশলাইয়ের খোল ব্যাতিরেকে অতিরিক্ত কিছুই মনে হয়না। আশ্চর্যজনক ভাবে আমি, আমার দুই সাথী ও ড্রাইভার অক্ষত রয়ে গেলেও, বামপাসের বনেট থেকে প্রায় তিন হাত ও ৫ ইঞ্চি চওড়া গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে দিয়ে গেল। আর সামান্য হলে আমার বাম ঊরুও গেছিলো আর কি। এক নিমিষেই গাড়িটি লজঝড়ে হয়ে গেলো।
কাকে কি বলবো? পুলিশকে বলতে গেলাম। উলটে তেনারা কোলকাতার বাইরের গাড়ির নাম্বার দেখে, স্বউৎসাহে আমার ড্রাইভারের লাইসেন্স সিজ করে নিয়ে, একটা কেস ঠুকে দিল। লে হালুয়া। হঠাৎ খেয়াল পড়ল, আইন আইনের পথে চলবে। এখানে পুলিশই আইন। তাই তাঁর নিদানই বিধান। তাছারা আমি নিজেও জানিনা আসল দোষী ঠিক কোন জন!! আমি তো ফেসবুকে ব্যাস্ত ছিলাম, রক্ষে সিটবেল্ট বাঁধা ছিল। বিরস বদনে হাসপাতালের প্রাথমিক কাজকর্ম ও আমার ব্যাবসায়িক কাজকর্ম আপাত সমাপ্ত করে পুনরায় হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।
তবে এটা গাড়ির হাসপাতাল, পোশাকি নাম সার্ভিসিং সেন্টার। এবং প্রত্যাশা মতই, ইনস্যুরেন্স থাকা স্বত্তেও যৎসামান্য ফিরত পাবারই আশার বানী শুনলাম। তখন সন্ধ্যা প্রায় ৬ টার উপর, সোয়া ৬ টা হবে বোধহয়। স্থানটা তোপসিয়া রোডে ট্যাংরার কোন অঞ্চল হবে বোধহয়। আশেপাশে চায়না টাউন। ঘিঞ্জি পরিবেশ। ধাপার সিগনেচার গন্ধ ও চামড়ার গন্ধ মিশে একটা অতি জঘন্য গন্ধে ম ম করছে, পরিবেশটা। সস ও নুডলসের কারখানার পাশে ছরিয়ে ছিটিয়ে বেশ কিছু নাইটক্লাব। হেঁটে হেঁটেই বড় রাস্তার দিকে আসছিলাম। হাওড়া স্টেশন পৌছাতে হবে। ওটাই আমাদের গন্তব্য।
খানিক চলতেই কি যেন একটা ভুলো কথা মনে পড়ল। হুম... সারাদিন কিছু খাওয়াই হয়নি। সাথের তিনজনও গাড়ির শোকেই হোক বা পরিস্থিতির প্রতিকুলতাতে, খাবার নিয়ে কেও এতক্ষন উচ্চবাচ্য করেনি। আসে পাশে বহু চাইনিজ স্টল। তবে প্রাথমিকভাবে আমার সাথীরা সেখানে কেউই রাজী হলো না ওখানে খেতে। ওদের মতে চীনারা নাকি গরু শুয়োর কুকুর টিকটিকি সবই খায়। তাই নো রিস্ক। অগত্যা আরো এক কিমি হেঁটে একটু এলেই গেছিলাম। মাঝে ট্যাক্সি পাবার বৃথা প্রচেষ্টা সমবেত ভাবেই চালু ছিল হাত নেড়ে নেড়ে।
নাহ... আর নয়। এখানেই বসবো। আর যা হোক কিছু এখানেই খায় বলে ক্লান্ত শরীরে, একটা স্টলের বেঞ্চিতে বসে পড়লাম। সাথে বেশ কিছু লাগেজ আছে। ভেজ চাও আর মোমো খেয়ে চায়ের অর্ডার দিয়ে সিগারেট ধরিয়ে ওই দোকানিকেই শুধালাম... দাদা হাওড়ার ট্যাক্সি কোথা থেকে পাওয়া যাবে? উনি চোখ ছানাবড়া করে বললেন, চাউলপট্টির ওদিকে দেখতে পারেন, এদিকে পাবেন বলে মনে হয় না। সত্যিই তাই হলো। যাও বা এক আধটা পেলাম, ভাড়া যা হাঁকল, তাতে বোধহয় ট্যাক্সি কেনার লোনের একমাসের কিস্তি দেওয়া হয়ে যাবে।
দোকানে এক টেনিয়া ছোকরা এঁটো বাসনকোসন ধোয়, আর টেবিল সাফ করে। সে ই বললো, ও দাদা... “মোবাইলে একটা টেকসি কেটে নিন না কেনে”! বিনাশকালে বুদ্ধিনাশ হয়, এফ এমে সারাদিন এতো এ্যাড শুনেও আমাদের কারোরই মাথায় আসেনি। ওলা, উবের, মেরু, ট্যক্সি ফর সিওর আরো কত্তো কি। রেস্টুরেন্টে স্ট্যাটাস রক্ষার তাগিদ সত্বেও সকল সময় ওয়েটার কে টিপস না দেওয়া সেই আমিই, অবচেতন মনে ছেলেটির হাতে ২০ টাকা গুঁজে দিলাম। আসলে ট্যক্সি না পাওয়ার অসহিষ্ণুতাটা চরমেই পৌছেছিল, ওটা তারই বহিঃপ্রকাশ ছিল। ওলা এপস দুম করে ডাউনলোড করে নিলাম।
মোবাইল এপসের স্বয়ংক্রিয় নির্দেশ অনুশরনের মাধ্যমে এক মিনিটের মধ্যেই আমার মোবাইলের স্ক্রিনে ট্যাক্সি নাম্বার, ড্রাইভারের নাম ছবি ও মোবাইল নাম্বার ভেসে উঠলো। এবং সময় নির্ধারন করেদিল, যে ৪ মিটিটের মধ্যে আপনার ট্যক্সি এসে পৌছাবে। যথারীতি ঠিক ৪ মিনিট হবার আগেই একটা সাদা ফিয়াট সেডান এসে হাজির। ভাড়ার দিকে খেয়াল করার সময় ছিল না। কারন যেকোন উপায়ে হাওড়া স্টেশনে পৌছনোটাই মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল।নাহলে ট্রেন মিস হবে।
গাড়িতে বসতেই AC স্টার্ট হয়ে গেল, সাথে মিউজিক সিস্টেমে সুমধুর সুরে চলতি হিন্দি গান। সুন্দর একটা ভুরভুরে মিষ্টি গন্ধ। মাথায় সাদা হ্যাট পড়া ড্রাইভার। সাদা ড্রেস। সামনে রাখা একটা মোবাইলস্ক্রিনে ম্যাপটা দেখাচ্ছে। খানিক পরেই হাওড়া পৌছলাম। স্ট্যান্ডে নামতেই টুক করে মোবাইলে ম্যাসেজ এলো। ড্রাইভার বললো “স্যারজি ম্যাসাজ আ গ্যায়া, দেখ লিজিয়ে” দেখলাম ১৪০ টাকা ভাড়া। কথা না বাড়িয়ে মিটিয়ে দিয়ে স্টেশনে ঢোকার তাড়ার মাঝেই, ড্রাইভারের উচ্চস্বরে একটা অনুরোধ কানে এলো, স্যারজি স্মাইলি মত দেনা ভুলিয়ে, গরিব আদমি হাম। ক্ষনিকের জন্য দাড়ালাম, মুখটি হাসিহাসি করে ড্রাইভারের আবদার মিটিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। পরে বুঝেছিলাম স্মাইলি আসলে এ্যাপসেই ফিডব্যাকে দেবার কথা বলছিল। কারন রাতে ইমেলে তাদের লম্বা একটা ফর্দ পেলাম, যাতে সবিস্তারে আমার যাত্রাপথের যাবতীয় বিষয়ে বিশদে বর্ননা করা ছিল।
SUV কোলকাতায় পার্কিং করার খুব ঝামেলা, তাই পরদিন ফের ভায়া ট্রেন হাওড়া। কারন আজব খুড়োর কলের সন্ধান পেয়ে গেছি। নিজস্ব গাড়ির মত্ন যখন খুশি রেস্ত ফেললেই সুসজ্জিত বিলাসী গাড়ি হাজির। তাই ট্রেনই বেষ্ট। এদিকে বহুদিনের অনভ্যাস। সেই কলেজ ছারার পর ১৪-১৫ বছর, পাবলিক ট্রান্সপোর্টে প্রায় চাপাই হয়না। একটু অনভ্যাসের ফোঁটা চড়চড় করছিলো। হাওড়ায় নেমে ঘাট পেরিয়ে হাইকোর্ট চত্বরে যাবো, ট্যাক্সি ধরার দরকার ছিল না। দুপর নাগাদ যাবো সেক্টর ফাইভ। একটা প্রোজেক্টের বিষয়ে আলোচনা ছিল। সর্বহরার একমাত্র হাতিয়ার স্মার্টফোন, এই যন্ত্রের মত ইউটিলিটি আর কোন ইলেকট্রিক গেজেট করেছে কিনা সন্দেহ। লিফট থেকে নামতে নামতেই ট্যাক্সি বুকড, ধাঁ করে সটাই হাজির। এটা ওই এ্যাপসের ভাষায় কালি-পিলি ট্যাক্সি। রাজস্থানি পদবীর বাঙালী ড্রাইভার। বেশ মিশুকে। আজ আর মানসিক তাড়া ছিল না। তাই এ্যাপস কোম্পানি আর এই গাড়ীওলাদের সমযোজী বন্ধন প্রক্রিয়াটা কে জানার ইচ্ছাটা বিপ্লব ঘোষণা করে উঠলো। গল্পবাজ ড্রাইভার পেয়ে চঞ্চলমতিকে উপশম দেবার অযাচিত সুযোগ হাজির। ড্রাইভারকে একটা সিগারেট অফার করতেই গদগদ। বয়স আন্দাজ ৫০ এর মধ্যেই। কিন্তু দারিদ্র্যের নৃশংস থাবা যেটাকে আরো বছর ১৫ বেশী দেখাচ্ছে।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম-
~ বাহ আপনি তো দারুন মোবাইল চালান। কবে শিখলেন?
~ বাবু, আমাদের স্ট্যান্ডে এসে কোম্পানীর লোক শিখিয়ে দিয়ে গেছে।
~ কোন কম্পানী?
~ ওই যে, চারিদিকে সব এড শুনছেন না, *** কোম্পানি। ওরা সল্টলেক থেকে আসেন, পার্কসার্কাসের কাছে কোন একটা মলে ওদের হেড অফিস।
~ তা, তোমাদের কত দিতে হল? মানে এই গুলো শিখতে?
~ হা হা হা, আমরা কেনে দেবো বাবু, বরং ওরাই আমাদের দেয়। যেদিন ক্লাস থাকে ওরা দুপুরে ফ্রিতে খাবার দেয়।
~ বাহ, এ তো দারুন ব্যাপার। আচ্ছা এই মোবাইলটা কত দিয়ে কিনতে হয়েছে?
~ কিছু না বাবু। ফ্রিতে দিয়েছে, এই মোবাইলটা আর এই ম্যাপ দেখা মেসিনটা। মোবাইলের কথাবলার বিল ওরা আর্ধেক দে, বাকিটা মার। আর ইন্টারনেটের টাকাও ওরাই দিয়ে দেয়।
~ আরে এতো ফাটাফাটি ব্যাপার, দেখছি। কিন্তু যদি কেও চুরি করে নিয়া পালাই?
~ না বাবু, ওদের লোক তো সব্ব স্ট্যান্ডেই আছে, ধরা পরে যাবে। আর পুলিসের সাথে কোম্পানীর খুব ভাব। আমাদের গাড়ির কাগজের জেরক্স আর ড্রাইভিং লাইসেন্সের জেরক্স রাখা আছে, ওদের কাছে। আর গাড়িতে কি একটা মেসিন লাগানো আছে, যার জন্য আমরা যেখানেই যাই না কেন , ওরা ঠিক বুঝে যায়।
~ বুঝলাম। তা এই যে আমার ভাড়াটা কোম্পানী তোমাকে পাইয়ে দিলো, তোমাকে কত কমিশন দিতে হবে কোম্পানীকে?
~ না বাবু। আমি কেনে দেবো? বরং কোম্পানী আমাকে প্রতি ট্রিপে ১০ টাকা দেয়। তবে সারা দিনে কোম্পানীর ৩ টে ট্রিপ মারতেই হবে, তাহলেই দেবে, মোট ৩০ টাকা। ওভার খেটে দিলে আরো বেশী। কোম্পানী এসে আমাদের বেশ ভালো হয়েছে বাবু। বিনা পয়সায় চিকিৎসা পর্যন্ত করিয়ে দিচ্ছে। আজকাল কে এমন মাগনা দেয় বলুন!
~ কিন্তু কোম্পানি এমন মাগনা কেন দেয়? তাদের কি লাভ?
~ সে আমি কি করে বলবো? আমার কাঁঠাল নিয়ে দরকার। কোন গাছের তা খুঁজে কি লাভ...
~ তা ঠিকিই বলেছো। কিন্তু এটা তো তোমার বা তোমাদের জানা দরকার। বিনা স্বার্থে কেও কিছু কি দেয়? তুমি হলে দিতে?
~ ওরা বলে বিজ্ঞাপন থেকে ওদের নাকি আয় হয়, সেখান থেকেই দেয় বোধহয়...............
ইতিমধ্যে আরো নানা কথার ফাঁকেই গন্তব্যে পৌছে গেছি। আর ততক্ষনে এই এ্যাপস ট্যাক্সির বিষয় পরিষ্কার করতে গিয়ে যে আরো জটিল আবর্তে পড়ে গিয়ে হাঁসফাঁস করছি, তা বলাই বাহুল্য। সেখানে কাজ সেরে আবার ট্যাক্সি, ওই একই উপায়ে। এভাবে ৫-৬ দিনে প্রায় ২০-২৫ বার ট্যাক্সিতে চেপে ও তাদের ড্রাইভারদের সাথে কথা বলে যেটা বুঝলাম, সেটা হল... এ এক নিদারুন প্রকাশ্য ডাকাতি। এবং স্লো পয়জেনিং। ভয়ঙ্কর রকমের চক্রান্ত।
কোম্পানী- রাষ্ট্র- আর ইউনিয়ন নেতাদের ত্রিবেনী সঙ্গম।
কিন্তু কি ভাবে?
ভারতের অন্যান্য বড় শহর গুলোর মধ্যে দিল্লিতে হলুদ ট্যাক্সি সবচেয়ে কম। ব্যাঙ্গালুরু মুম্বই বা চেন্নাইতেও তথৈবচ। অটোর দৌরাত্ব অবশ্য সব শহরেই বিদ্যমান। কিন্তু বছর পাঁচেক আগে তো এমন অবস্থা ছিল না। বাসের আধুনিকিকরন হয়েছে, এসি ভলভো বাস এখন অহরহ। অটোর স্থানও দ্রুত টোটো দখল করছে, তাহলে ট্যাক্সি কথায় গেলো? দিল্লিতে নাহয় মেট্রো ব্যাবস্থা খুবই উন্নত। হলুদ ট্যাক্সি কেন হারিয়ে যাচ্ছে ওই শহর গুলোতে? হয়তো প্রশ্ন উঠবে, কোথায়! এই তো কলকাতায় হাজার হাজার হলুদ ট্যাক্সি। বা এখন এম্বাস্যাডর বন্ধ হয়ে নীল সাদা ট্যাক্সির গাদা। আসলে মজাটাই ওখানে। পশ্চিম, দক্ষিন বা মধ্যভারতের মেগা সিটিগুলোতেও কয়েক বছর আগে এমন হাজার হাজার ট্যাক্সি দেখা যেত। আজ প্রায় বিলুপ্ত। আগামীর কোলকাতাতেও এই অবস্থা আসন্ন।
এই এপস নির্ভর কোম্পানী গুলোর এক আধটা বাদে সবই প্রায় বিদেশী কোম্পানী। কনসেপ্টটাও তাদেরই। আর তাদের লক্ষ্যমাত্রাটা দীর্ঘমেয়াদী। যেমনটি পুঁজিবাদেরা করে থাকে। প্রথম ৩-৪ টে বছর বিনিয়োগের সময়। তারপর থেকে মুনাফা। যেটা একসময় শোষনে পরিনত হয়। ছোট ছোট ব্যাবসায়দের প্রতিযোগিতাথেকে ছিটকে ফেলে দিয়ে, মোনোপলি ব্যাবসা। যেটার ট্রেলার দিল্লিতে সবে শুরু হয়েছে, কোলকাতায় আসতে আরো ২-৩ বছর কমপক্ষে।
প্রথমে প্রতিটা কোম্পানী প্রত্যেক এড়িয়ায় দু একটি করে গোটা ২০-৩০ নিজস্ব ক্যাব বাজারে নামিয়েছে। তাদের ড্রাইভার গুলো তবকাধারী। আমার প্রথম দিনের চড়া ড্রাইভারটির মত। ওই ড্রাইভারের আথিতেয়তা ও কেতা দেখলে, নিজেকে ওই যাত্রাকালীন সময়টুকু কেমন যেন কেউকেটা কনে হতে বাধ্য। এই ড্রাইভারগুলো প্রত্যেকেই কোলকাতার অন্যান্য ড্রাইভারের তুলনায় অনেক বেশি বেতনভুক। আর চরমভাবে প্রশিক্ষিত। স্ট্যান্ডে থাকা কালিন এরাই বাকি ড্রাইভারদের মগজ ধোলায় করে। এদের সফট টার্গেট একটু নতুন গাড়ি আর অল্পবয়স্ক ড্রাইভার। এরই মাঝে কোম্পানী তাদের ক্যাম্পেনিং প্রোগ্রাম চালায়, আর গরীব ড্রাইভারদের ফ্রি চিকিৎসা ও উপহারের উপঢৌকন। আর ভারতীয়দের সহজাত স্বভাবই হল, ২টাকার ফ্রি কে করায়ত্ব করতে ১০ টাকা পর্যন্ত খরচা করে ফেলে। আর এখানেই কবি কেঁদেছেন।
এই এ্যপস বা ফোনে বুকিং করা ট্যাক্সির ভাড়া সিস্টেম কেমন? এরা সাধারনত তিন ধরনের পরিষেবা প্রদান করে। এই শ্রেনিবিভাগকে বিভিন্ন কোম্পানীর তাদের নিজস্ব কোডনেম দ্বারা চিহ্নিত করে। ছোট হ্যাচব্যাক গাড়ি, সেডান গাড়ি, আর চিরাচরিত হলুদ ট্যাক্সি। ছোট হ্যাচব্যাক গুলোতে চাপলেই কমপক্ষে ৯৯ টাকা ভাড়া গুনতে হবে প্রথম চার কিলোমিটারের জন্য। পঞ্চম কিলোমিটার থেকে ৮/- কিমি হারে ধার্য হবে। এবং যাত্রা শুরুর ২ মিনিট পর থেকে যাত্রা শেষ হওয়া পর্যন্ত যতমিনিট হবে, ততটাকা দিতে হবে। মোদ্দা কথা হল, কেও যদি ১৫ কিমি দুরত্ব সাওয়ারি করেন ৩০ মিনিটে , তাহলে তাকে গুনতে হবে ৯৯+(১৫-৪)১১*৮=৮৮ + ২৮ টাকা।
সর্বমোট ২১৫ টাকা, আর এর সাথে সার্ভিস ট্যাক্স ৪ থেকে ১৪.৫ শতাংশ। গড়ে ৯ শতাংশ। মানে ২১৫ এর সাথে আরো কমপক্ষে প্রায় ২০ টাকা যোগ হয়ে, মোট ভাড়া দাঁড়াবে ২৩৫ টাকা মাত্র।
সেডানের ক্ষেত্রেও অনুরুপভাবেই, তবে ওই চার কিমির পর ভাড়া কমপক্ষে ১১ টাকা প্রতি কিমি। বিভিন্ন কোম্পানীর ফেরে এই কিলোমিটার প্রতি ভাড়ার দরটা সামান্য হেরফের করে মাত্র। বাকিটা কমবেশি প্রায়ই একই। শুধু নামের হেরফের। “সিওর ফর ট্যাক্সি” নামের মত এক আধটা কোম্পানিই আছে, যেখানে নুন্যতম ভাড়া ৯৯ এর স্থানে ৩৫ টাকা। বাকিটা একই পদ্ধতি। তবে এই পরিষেবা খুবই অপ্রতুল।
যেগুলো কোম্পানির নিজেদের গাড়ি সেগুলোতে ড্রাইভারদের ৮-১২ ঘন্টা করে ডিউটি। এর মাঝে সব মিলিয়ে এক ঘন্টার বিশ্রাম। মাসে চারটি ছুটি সহ ১২০০০/- থেকে ১৮০০০/- টাকার ইর্ষনীয় বেতন। বাকি সমস্ত উপার্জনই কোম্পানির। এবার যারা ভাড়া খাটে কোম্পানীদের কাছে, তাদের হিসাবে আসা যাক। এদের প্রত্যেকের সাথে আলাদা আলাদা স্বতন্ত্র চুক্তি। মোটামুটিভাবে ভাড়ার সমস্ত টাকাটা গাড়িমালিক পায়। ওয়েটিং মানে সময়ের দরুন মিনিট প্রতি যে টাকাটা হয়, সেটি কোম্পানির। যে পেমেন্ট গুলো অনলাইনে হয়, সেগুলো থেকে প্লাস মাইনাস করে একাউন্টস মেনটেইন করে থাকে।
এই গাড়িগুলোর প্রত্যেকের একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক কোটা থাকে, কোম্পানির অনুমতি ব্যাতিরেকে ইচ্ছাকৃত কম ভাড়া গ্রহন করলে এদের জরিমানা দিতে হয়, যেটা মাসের শেষে এডজাষ্ট হয়। তেমনই কম ভাড়া হলে বা কোটার বেশী ভাড়া খাটলে যথাক্রমে নুন্যতম ক্ষতিপূরণ ও পুরষ্কারের ব্যাবস্থা থাকে। সেটা কিন্তু হাতেগরম, রোজকারটা রোজ ব্যাঙ্ক একাউন্টে জমা হয়। এখানে অনেক প্রাইভেট গাড়ি, যারা কেবল নিজেরা যাতায়াত করেন, আর সেটা শুধু অফিস ড্রপ করে পার্কিং এ থাকতো, আবার সেই সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরা। এগুলোও কমার্সিয়াল ট্যাক্স দিয়ে হলুদ নাম্বারপ্লেট সহ মাঝখানের ওই সময়টুকু এই কোম্পানী গুলোর জন্য খেপ খেটে দিচ্ছে। যেহেতু ভাড়া খোঁজার ঝামেলা নেই, ড্রাইভারের চুরি করার স্কোপ ও কম, তাই “আমের আম, আটিরও দাম” অনেক গাড়ির মালিকই এই পন্থায় যুক্ত। এতে ইনকামটা খুব খারাপ আসে না। তার উপরে ধোপদুরস্ত শীততাপ নিয়ন্ত্রিত এই গাড়ি গুলো যাত্রীদের বেশিই পছন্দ।
শেষের জন। আমাদের চিরাচরিত হলুদ ট্যক্সি। এম্বাসেডর কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাবার দরুন বর্তমানে নীল বর্ডার সাদা সুজুকি ডিজায়ার অধিকাংশ জাইগা দখল করেছে। এদের দিয়েই কথোপকথনটা শুরু করেছিলাম। এদের ভাড়ায় কোম্পানির কোন হস্তক্ষেপ নেই। এদের ভাড়া সরকার নিয়ন্ত্রন করে। যাত্রী মোট ভাড়ার উপর অতিরিক্ত ১০ টাকা দেবে, আর কোম্পানি ১০ টাকা দেয়। মোট কুড়িটাকা।
তাহলে শুধু কি ২০ টাকার লোভেই হলুদ ট্যাক্সি গুলো কোম্পানীর কথামত চলছে? উত্তর হলঃ- না। কোম্পানীর সাথে জুড়ে থাকলে ফাঁকা গাড়ি নিয়ে কম ঘুরতে হয়। তেলের পয়সাটা বাঁচে। এবং কিছু নিশ্চিত ভাড়া পাওয়া যায়।
নগরজীবনের নাগরিকদের কাছে ট্যাক্সি এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাতবিরেত, অনুষ্ঠান বাড়ি, বেশী ব্যাগপত্র বহনের জন্য, বা দ্রুত পৌছানোর জন্য ট্যাক্সির বিকল্প নেই। কিন্তু ট্যক্সি ড্রাইভাররাও অনেকে মহা বেদো। ইচ্ছা করে যাত্রী তোলে না, মিটারে না গিয়ে অনেক সময়ই বেশি ভাড়া দাবি করে। যার জন্য আমাদের এই সরকার NO REFUSEAL TAXI ও বের করেছিল, তাতেও খুবই একটা সুরাহা হয়নি। পাবলিক যে কলু, সে কলুই রয়ে গেছে। এই এ্যাপস সিস্টেম অনেকের কাছেই চাঁদমারি হসাবে গৃহিত হয়েছে। সময় মত পরিষেবা, ন্যায্য মুল্য (!)।
তাহলে সমস্যাটা কোথায়? ভালোই তো হচ্ছে। নাহ ব্যাপারটা মোটেই তেমন নয়। হলুদ ট্যাক্সির ভাড়া সরকার নির্ধারিত। ডিজেলের দাম বাড়লেও ভাড়া তেমন বাড়েনি, বা জ্বালানীর দামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভাড়ার বিন্যাস নেই। উপরুন্তু আছে পুলিশি জুলুম, চাঁদার মহামারী সহ নানান ঝামেলা। বোঝার উপর শাকের আঁটির ড্রাইভার পাওয়ার সমস্যা তো নিত্য। পার্সোনাল গাড়িতে বেতন কিছু কম হলেও খাটনি অনেক কম, আর ভাড়া গাড়ি চালাতেই হলে মুম্বই দিল্লি বা চেন্নাইয়ের মার্কেটে কোলকাতার তুলনায় বেতন অনেক বেশী, প্রায় ডবলের আশেপাশে। তাই নতুন করে হলুদ ট্যাক্সি চালাবার পেশায় উৎসাহ খুবই কম। যারা বাইরে যাতে চাই না কিন্তু ভাড়া গাড়ি চালাতে চান, তাদের তুলে নিচ্ছে কোম্পানীগুলো, অনেক বেশী বেতনের সুবিধা দিয়ে।
একটা সময় বিহার বা উড়িষ্যা বা পাঞ্জাব থেকে এই কাজের জন্য পুরুষেরা দল বেঁধে আসতো। যেটা এখন প্রায় নেই বললেই চলে। কারন যারা বাইরেই থেকে কাজ করবে তারা এই কম বেতনের কোলকাতায় আসবে কেন? অন্য বড় শহরে অনেক বেশি বেতন। আগে দিনের ট্যক্সিটা, রাতে নিয়ে খেপ খাটার জন্য ২-৪ জন লাইন বেঁধে থাকতো। এখন পার্মানেন্ট ড্রাইভারই নেই , তো খেপ খাটার ড্রাইভার।বরং অন্য পেশায় ঝামেলা কম।
সরকার এক দুর্বোধ্য নীতি আঁকরে ভাড়া বাড়ানোর বিরোধী (আসলে এ এক নির্লজ্জ লেনদেনের ফসল) । এতে নাকি পাবলিকের উপরে চাপ কমছে। আদপে কি তাই? খরচের সাথে পাল্লাদিয়ে আটতে না পেরে , অনেকেই ট্যাক্সি তুলে নিচ্ছেন। এরই ফাঁকে ঢুকে পরছে এ্যাপস কোম্পানি। কারন আমার আপনার দরকার তো আর থেকে থাকবে না। আমাদের ট্যাক্সি দরকারই দরকার। সরকারের যত মাথাব্যাথা এই ব্যাক্তি মালিকানাধিন হলুদ ট্যাক্সির উপরে। অনেক বেকার ছেলে নিজেই একটা ট্যাক্সি কিনে চালিয়ে স্বরোজগারের পথ করে নিয়েছিল। বছর পাঁচেক আগে পর্যন্তও এটাই ছিল আমচিত্র। যাদের না ছিল কোন সার্ভিস ট্যাক্স না সেস।
কিন্তু কোম্পানিগুলি কি ভাড়া নেবে, সেটা একমাত্র তারাই ঠিক করে। সরকারের এখানে কোন নাক গলানোর জাইগা নেই। ইচ্ছামত দাম বাড়ায় বা দাম কমায়, আর সার্ভিস ট্যাক্সের গুঁতো তো আছেই। সরকার এপাড়ায় ভাসুর-বৌমার মতন আচরন করে। সবটাই সুপরিকল্পিত পরিকল্পনার ফসল।
এখানেই কোম্পানীর কারসাজি। সরকারের সাথে একটা বিশাল অঙ্কের লেনদেনের মাধ্যমে, ভাড়া না বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত। খুব স্বভাবতই বাজার থেকে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় হলুদ ট্যাক্সি লটকে যেতে বাধ্য। তাতেও যারা থেকে যাচ্ছে, তাদের উপর প্রথমে পুলিশি নিপীড়ন, সর্বশেষে দলের ছেলেদের দিয়ে চাঁদার বোঝা। হলুদ ট্যাক্সির অন্তর্জলি যাত্রার এ এক ফুল প্রুফ প্লান। সফল হতে বাধ্য।
অভ্যাস বড় খারাপ জিনিস। একবার হয়ে গেলে ছারা মুশকিল। আর কোম্পানীগুলো ২০ টাকার লোভ দেখিয়ে সাধারণ যাত্রীদের কাছে ওই নির্দিষ্ট হলুদ ট্যক্সির ড্রাইভারকে দিয়ে বিজ্ঞাপন করিয়ে নিচ্ছে। সেই ড্রাইভার জানে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার থেকে কোম্পানীর ভাড়া বেশী। তাই অগত্যা টিকে থাকার জন্য সেই ড্রাইভার বা মালিকটি ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় কোম্পানির সাথে জুড়ে যাচ্ছেন। এটাই ১০ টাকার সাফল্য। বাকি দশ টাকা তো আমি বা আপনি দিচ্ছি। কোম্পানির পুঁজি তো ১০ টাকা। পরে সুদে আসলে ঠিক তুলে নেবে।
কোম্পানীর মালিকদের সাথে সরকারের উচুতলার লোকেদের সাথে উঠাবসা। রাস্তায় কেসকাবারি ঝামেলা হলে, কোম্পানি সামলায়। চাঁদার বিলও কেন্দ্রিয় ভাবে দিয়ে দেওয়া হয়। নেতা মন্ত্রী যখন সেটিং, পুলিস খামোখা কেন কেস দেবে? সতরাং নির্জ্ঝঝাট কর্মজীবন। মালিক বা ড্রাইভারের গাড়িটি ভালানো ও তাঁর রক্ষণাবেক্ষণ ছারা কোন বিষয়ে মাথাব্যাথা নেই।
কিন্তু এতে করে এই সরকার স্বোরোজগারের বিলাসী যুবকদের ও অতি ক্ষুদ্র উদযোগপতিদের কর্মচারীতে রুপান্তরিত করে দিল সুচতুরতার সাথে। একটাই প্রভু। যার পুঁজি আছে। বাকিরা সবার তার অধীনের দাস।
এই কোম্পানীগুলোতে যুক্ত হবার প্রথম শর্ত ইউনিয়ন না করার মুচলেকা দেওয়া। আর এই হলুদ ট্যাক্সি সংগঠনের অনেক নেতাই কারনে অকারনে, কোম্পানীর থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে হরতাল ডেকে দিচ্ছে। যত বেশী হরতাল, তত বেশী এ্যপসের ট্যক্সিতে অভ্যাস। ততই আগামী উজ্জ্বল।
পুরোটাই একটা গট আপ খেলা, পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। আজ কোম্পানীগুলো তাদের ইনভেষ্ট করছে। ২-৪ বছরের মধ্যেই নিশ্চিত হলুদ ট্যাক্সি কোলকাতার বুক থেকে বিদায় নেবেই নেবে। তখন এরা দাঁত নখ বেড় করবে। যার ট্রেলার দেখা যাচ্ছে, বেঙ্গালুরু বা দিল্লিতে। মুম্বই ট্যাক্সি সম্বন্ধে আমার তেমন স্বচ্ছ ধারনা নেই। ইচ্ছামত পাবলিকের পকেট কাটবে। আর তখন কোন বিকল্প থাকবে না। অগত্যা সেটাই দিতে হবে।
এই ষড়যন্ত্রে সরকার অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে। আধুনিকিকরনের নামে, কর্মঠ যুবসমাজের একাংশকে চাকর হয়ে যাতে বাধ্য করছে।চুরান্ত ব্যাতিক্রম ছারা ব্যাক্তি কখনই ওই মহাশক্তিধর পুঁজির সাথে পাল্লা দেবার ক্ষমতা রাখেনা। তাই পরিবহন ব্যাবস্থাকে এইভাবে মুনাফাখোর পুজিপতিদের হাতে তুলে দিয়ে আখেরে বাঁশ টা আমাদেরই দিচ্ছে। মাঝখানে কিছু নেতামন্ত্রী হারামের পয়সায় কোটিপতি হয়ে টাকা উড়াচ্ছে।
প্রতিবাদ করার কোন স্কোপ নেই। এ যেন ক্যান্সার রোগী। মানে এই হলুদ ট্যাক্সি। যা কিনা কোলকাতার ঐতিহ্যের সাথে একাত্বভাবে জড়িত। খুব শীঘ্রই জাদুঘরে স্থান পেতে চলেছে।
ডিজিটাল ইন্ডিয়া ঢক্কানিনাদের সমাজের খুবই একটা ক্ষুদ্র আবর্তেই বন্দি। হয় গোটা সমাজকে “ট্যাক-স্যাভি” হয়ে হবে, নতুবা ঘোর দুর্দিন। দেশীয় মীরজাফরদের সহযোগিতায় বিদেশী পুঁজিপতিরা আমাদের দেশীয় রোজকার জীবনকে দখল করে তাঁর উপর প্রভুত্বের সেচ্ছাচার চালাবে। আরো দুর্দিন , যারা শহরতলী থেকে হলুদ ট্যাক্সির ভিতলে সব্জি থেকে লাশ, এক কথায় হিরে থেকে জিরে পরিবহন করে থাকে। কোম্পানীর ট্যাক্সি তা মোটেই করবে না। করলেও যা ভাড়া , তাতে ঢাকের দায়ে মনসা বিকোবে।
সমস্যা, মতির মা দের। তারা এ্যাপস কি জিনিস জানেনা। বস্তিতে কারো শরীর খারাপ করলেই “ ৩০ টা টাকা দিচ্ছি বাবা, এট্টু RG KAR এ নামিয়ে দিয়ে আয় না বাবা” এর দিন শেষ হবে। এই লোকগুলো আরো বেশি অসহায় হয়ে পড়বে।
কারন এরা না জানে এ্যাপসের ব্যাবহার, না আছে অগাধ টাকা। আর এপসছারা ওই বাহারি ট্যাক্সিএ চাকাটুকুও যে গড়াবে না। কারন অন্তর্জালের মাধ্যমে, সংশ্লিষ্ট গাড়ির সমত কিছুই কোম্পানিবাবুদের নখদর্পনে।
সামনেই ভোট, প্রচুর টাকার দরকার। পুঁজিপতিরা স্বয়ং কুবেরকে নিয়ে হাজির। ক্ষমতা দখলের রাজনীতিতে ক্ষমতা কুক্ষিগত করাটাই লক্ষ্য। জনগনকে সেবা আনুসাঙ্গিক কর্মের একটা। তাই আগামীতে অনেককিছুরই বিলুপ্তিকরন ঘটতে পারে, আমার আপনার মত অনেকেকে বলিকাষ্ঠে চড়িয়ে। হলুদ ট্যাক্সি তো যায় অন্যতম।
ভালো হলো! না কি খারাপ , এর উত্তর আগামীর গর্ভে।
তবে হারিয়ে যাবার আগে শেষ একবার হলুদ ট্যাক্সির সফরটুকু করেই নিই নাহয়।
বিঃদ্রঃ- উন্মাদীয় বানানবিধি অনুসৃত।
উন্মাদ হার্মাদ
০৭/১২/২০১৫

বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৫

এলার্জিঃ অনুগল্প



অফিস থেকে ফিরে জামাটা খুলে ফ্যানের নিচে বসে হাঁপাতে লাগলাম, একদম ঘেমে রয়েছি। বাইরে কি বিচ্ছিরি রোদ, একটা দিনও ছাতা নিতে মনে থাকে না, ধুর!

আমি চোখ বন্ধ করে সোফায় গা এলিয়ে বসে আছি, হঠাৎ শব্দ শুনে চোখ খুলে দেখি সুমি আমার সামনের টেবিলে একগ্লাস জল রেখে চলে যাচ্ছে। তার শাড়ির আঁচল কোমরে গোঁজ,। কপালে ঘাম। রান্না ঘরে ছিলো বোঝা যাচ্ছে।

"রান্না শেষ হয়নি?" আমি পেছন থেকে ডাকলাম, কন্ঠে অনিচ্ছাকৃত ঝাঁঝ।

মেয়েটা পেছনে ফিরে একটু লজ্জিত ভঙ্গীতে বললো "এই তো, প্রায় শেষ। একটু বসো, আমি এখুনি দিচ্ছি"

সকআল থেকে অফিসের কাজের চাপ, বাইরের গরম, পেটের খিদে সব মিলিয়ে মেজাজটা এত গরম হয়েছিলো যে, দুম করে মাথায় রাগ উঠে গেলো, মুখ বাঁকিয়ে বললাম "আমি সেই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সারা দুনিয়ার ঝামেলা ডিঙিয়ে এলাম আর আপনি দুটো পদ রান্না করতে পারলেন না? কি করেছেন বসে বসে? খালি টিভি দেখা!

মেয়েটা আহত গলায় বলার চেষ্টা করলো "গ্যাসের প্রেশার কম, তাই..." 

আমার হঠাৎ বিতৃষ্ণা লাগতে থাকে, আমি তাকে থামিয়ে দিলাম- থামো, থামো? আমি কিছু শুনতেও চাই না। যাও, ধীরে সুস্থে রান্না করো। জাস্ট মরে যাবার আগেই পারলে ডাক দিও, ওকে! আমি তার দিক থেকে চোখ সরিয়ে টিভির রিমোটের দিকে হাত বাড়ালাম। টাইম তো পাস করতে হবে! মেয়েটা ধীর পায়ে রান্না ঘরের দিকে চলে গেলো। আমার মেজাজ অকারণেই চড়তে লাগলো তার এই অল্প কষ্ট পাওয়া দেখে।

আমাদের এ্যারেঞ্জ ম্যারেজ, সেটা সমস্যা না। বিয়ের আগেই প্রেম ভালো বাসা না থাকলেও বিয়ের পরে নাকি সব ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু সমস্যা হলো আমি মেয়েটাকে কিছুতেই ভালোবাসতে পারছিনা। একসাথে থাকছি, একই বিছানায় ঘুমাচ্ছি, দিন গুলো পার হয়ে যাচ্ছে। এটুকুই। 

মেয়েটা মারাকাটারি সুন্দরী নয়, কিন্তু কমনীয়তা আছে। বড় মায়া ভরা একটা মুখ তার। ইংরাজীতে অনার্স করা সংসারী টাইপের ঘরোয়া মেয়ে। বড় নরম স্বভাবের। অপছন্দ করার কোন কারণ নেই। তাও আমি কেন জানি না- মেয়েটার সাথে কানেক্ট করতে পারছি না। সম্ভবত আমি আরো উচ্ছ্বল, আরেকটু সেন্স অফ হিউমার ওয়ালা কাউকে চাইছিলাম মনে মনে। যার সাথে আমি সিনেমা, ইতিহাস, সাহিত্য ইত্যাদি নিয়ে কথা বলতে পারবো। যে আমার চরিত্রের খাঁজ গুলো ছুঁয়ে যেতে পারবে। তার বদলে মেয়েটা একদমই চাপা স্বভাবের, ভয় করে না ভক্তি বুঝিনা। আমার সাথে কোন কিছুতেই তার পছন্দ মিলেনা, মুখে না বললেও স্পষ্ট বুঝি। বাকিটা জীবন এরকম বিরক্ত হয়েই কাটিয়ে দিতে হবে ভাবলেই আতঙ্কে আঁতকে উঠি আজকাল।

টিভির দিকে তাকাতে তাকাতে ক্লান্তিতে চোখ লেগে এসেছিলো, সুমির ডাক শুনে ঘুম চটকে গেলো, "খেতে এসো," 

মুখটা হাঁড়ি করে ডাইনিং এ গেলাম। খিদে পরে গেছে, তার উপর কাঁচা ঘুম ভাঙার দরুন বিরক্ত লাগছে। কিন্তু টেবিলের দিকে চোখ পড়তেই চমকে উঠলাম। পদ দু'রকমের নয়, সংখ্যা আরো বেশি। বসতে বসতে কিছুটা বিরক্ত গলায় বললাম "এত আয়োজন কোন উপলক্ষে?"

সে আমার প্লেটে ভাত তুলে দিতে দিতে বললো "মা গতকাল রাতে ফোনে কথায় কথায় বললেন তোমার নাকি মাটন কষা খুব পছন্দ। সাথে ইলিশের পাতুরি আর ঝুড়ি আলুভাজা। উনার থেকে রেসিপি নিয়েই ট্রাই করলাম একটু"

আমার গলা একটু নরম হয়ে আসে, আমি লাউ বড়ির ঘন্টের বাটির দিকে তাকিয়ে শুধালাম "এটা কার জন্য? মা তোমাকে বলেননি যে খাসির দিন- আমার লাউ পছন্দ নয়?"

সে একটু থেমে নিচু গলায় বললো "আসলে খাসি আমি খায়না। ইলিশ, চিংড়ি সব কিছুতেই প্রচন্ড এলার্জি আছে। ওষুধ খেয়েও কাজ হয় না। তাই আমার জন্য লাউ"

মেয়েটার কিছুটা লজ্জিত কিছুটা অপ্রস্তুত চেহারাটার দিকে আমার ভেতরে কি জানি নেড়ে চেড়ে গেলো। বেচারা এই গরমের মধ্যে দাঁড়িয়ে রান্না করেছে, নিজে খেতে পারবে না এরকম জিনিস গুলো রান্না করেছে- শুধু আমার জন্য। আর আমি রান্না করতে দেরি হওয়ায় কি না কি বলেছি এতক্ষণ ধরে!! আমি মাংসের, ইলিশের বাটি সরিয়ে লাউয়ের বাটিটা নিজের দিকে টেনে নিলাম। সে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। লাউয়ের তরকারি ভাত মাখিয়ে এক তার মুখের কাছে নিয়ে চোখে চোখ রেখে বললাম "যে রেঁধেছে সেই আগে খাবে, হাঁ করো"

মেয়েটা খানিকটা হতচকিত হয়ে গেলো। তারপর ভীষণ অপ্রস্তুত আর লজ্জিত ভাবে, নত মস্তকে চোখ নামিয়ে অল্প খানিকটা খেলো আমার হাত থেকে। চাপা স্বভাবের মেয়েটার বিস্ময়ে ভরা চোখ দুটো ভর্তি জল। বিহ্বলিত হয়ে মুছতেও পারছে না। হঠাৎ আমি টের পেলাম এই যে চোখের জল, এই মুখে তুলে খাইয়ে দেয়াটা, এই যে লাজুক কান্না মাখা হাসি- এগুলোই তো ভালোবাসা। অযথাই ভালোবাসার সংজ্ঞা খুঁজে মরি আমরা।

মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০১৫

নোটবন্দি, কালোটাকা ও রাজনীতি

 


কালো টাকাটা কি?

ট্যাক্স না দেওয়া রোজগারই হল কালো। কালো টাকা কারা কামাই করে?

একজন ভিখারীও কালো টাকা রোজগার করতে পারে, যদি না সে তার আয়ের উৎস রাষ্ট্রকে জানায়। কর ব্যাবস্থা রাষ্ট্রের একমাত্র চালিকাশক্তি, সেটা প্রতক্ষ্য কর হোক বা পরোক্ষ কর। প্রতক্ষ্য কর হল ইনকাম ট্যাক্স, সেল ট্যাক্স, ভ্যাট, সার্ভিস ট্যাক্স ইত্যাদি। পরোক্ষ ট্যাক্স রাষ্ট্র তার ব্যাবসা থেকে আমদানি করে বা পুঁজির উপরে লাগু করে। যেমন শুধু আমদানির হিসাবে যে প্রট্রোল ভারতের বাজারে লিটারপ্রতি ২৬ টাকায় পাওয়া উচিৎ সেটা কিনতে হয় কমবেশি ৭০ টাকাতে। সুতরাং ৪৪ টাকা হল পরোক্ষ কর। আমাদের দেশের আয়ের ১৩% সম্ভবত প্রতক্ষ্য কর থেকে প্রাপ্ত, বাকি সবটাই পরোক্ষ কর।

আমাদের ১২০ কোটির মাত্র দেড় কোটি মানুষ ইনকাম ট্যাক্স দেয়। এটাই আমার মতে কালোধন জমা হওয়ার সবচেয়ে বড় কারন। আমাদের দেশে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার নিয়মে IT File ম্যান্ডেটারি করলেই অনেকটা লাভ হত বলে আমার ধারনা। কালো কামাই বন্ধ না হলে কালো ধন জমা বন্ধ হবে কিভাবে?

আমার ৫০ বিঘা সম্পত্তি রয়েছে, তার থেকে একটা রোজগার হয়। আমি যদি কালো টাকা রোজগার করি, সেটা আমি বেশি বেশি করে দেখাবো আমার এই বিপুল রোজগার কৃষি থেকে এসেছে যেটা সম্পূর্ন কর মুক্ত। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় আমার জমি আমার খাতায় কলমে, সেটা ভেস্টেড বা ভাগচাষী বর্গাদারেররা চাষ করে আমায় সৎসামান্য দেয়। এই কালো টাকা কিভাবে বন্ধ করবে সরকার?

কালো টাকা আমার কাছে কালো, কিন্তু আমি যখন বাজারে গিয়ে দুকিলো খাসির মাংস কিনতে ১২০০ টাকা কখরচা করলাম, কিম্বা এককিলো গলদা চিংড়ি ১০০০ টাকায় কিনে নিয়ে এলাম, অমনি সেটা সাদা হয়ে গেল। কারন ওই মাংস বা চিংড়ি বিক্রেতারা প্রান্তিক মানুষ, যারা করের আওতাতে আসেনা

এভাবেই কালো টাকা বাজারে খাটে, যেটা আমাদের আভ্যন্তরীন বাজার অর্থনীতির চালিকা মূল শক্তি। যতটা না একলপ্তে, ঢের বেশি ছোট ছোট এই ভাবে। তৃতীয় শ্রেনির একটা কর্মচারীর ঘুষের ৫০০০ টাকা, সরকারি স্কুলের একজন শিক্ষকের গৃহশিক্ষকতা করে রোজগারের কালো টাকা- ভোগ্যপন্যের পিছনেই ব্যায় হয়ে যায়। ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধিপায়, উৎপাদন বাড়ে, কর্মদিবসের সৃষ্টি হয়। রোজগার ছড়িয়ে পরে। ফ্রিজ, টিভি, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল থেকে বালিস লেপ কম্বল সবটাই- অতিরিক্ত ভোগ্যপণ্যের অতিরিক্ত রোজগার থেকেই খরিদ করি, আর সেটা নগদে। ব্যাঙ্কার্স চেক বা নেট ব্যাঙ্কিং দিয়ে আমরা কজন এই জাতীয় বিকিকিনি করি! বাড়ির খাবারের চালটা, আলুটা, কেউ চেক বা কার্ডে কিনিনা মুষ্টিমেয় কিছু শহুরে বা উৎসাহী মানুষ ছাড়া। সবটাই নগদের কারবার, সেটা সাদাতে হোক বা কালোতে। তাই কালো রোজগারের পথটা কঠোর পথে বন্ধ করার পাশাপাশি নগদে কেনাবেচার পদ্ধতিতে কোনো বিকল্প সিস্টেম আনতে হবে, যাতে নগদের লেনদেন বন্ধ করা না গেলেও অধিকাংশটা কমানো যায়।

কালো টাকা বাজারেই থাকে, সেটাও রোজকার অর্থনীতিরই অংশ। সমস্যা অর্থ পাচার, সেটা হাওয়াল মাধ্যমে হোক বা গোপনে সুইস ব্যাঙ্কে, কিম্বা সেল কোম্পানি বানিয়ে তার মাধ্যমে টাকা চালান করা, এগুলো ক্ষমার অযোগ্য পাপ। এই সত্যটা না অনুধাবন করে নোটবন্দির ফলে সমাজে আজকের এই দুরবস্থা। সমাজ বিরোধীর হাতের চাকু আর ডাক্তারের চাকুর পার্থক্যটাই এখানে

 

নোট বাতিলের প্রভাবে জঙ্গী হামলা কমেনি, সরকারের সেই দাবি ফোলা বেলুনের মতই চুপসে গেছে। সংবাদে প্রকাশ সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর আমাদের ২৫ জন বীরসেনা শহীদ হয়েছেন। আর পারিক্কর বাবু মোদীজীর নামসঙ্কীর্তন গাইতেই ব্যাস্ত, বর্তমান জনগনকে বিভ্রান্ত করে রাখতেই উৎসাহী। রাজ্যই হোক বা কেন্দ্র, দুটোই মিছরির ছুরি- নাচ গান উৎসব দিয়ে অপ্রাপ্তির ব্যাথা ভুলিয়ে রেখেছে। একটা লাঠিকে না ভেঙ্গে কিভাবে ছোট করবেন, সিম্পল - পাশে একটা বড় রেখেদাও। আপনা থেকে আগেরটা ছোট দেখাবে”- মোদী সরকার এইটাই করছে।

একে আমাদের যন্ত্রণার শেষ নেই, তার উপরে অকারনে নতুন নতুন বেফালতু ইস্যু তৈরি করছে RSS, কখনও গোমাংস, কখনও সীমান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি, মেকি জাতীয়তাবাদ আর এখন অর্থনীতিকে কোমায় পাঠিয়ে মানুষের রোজকার মৌলিক সমস্যাগুলোর সামনে পর্দা টাঙিয়ে রেখেছে, বালির বাঁধ দিয়ে জনগণের ক্ষোভ প্রমোশন করছে। এদিকে মিডিয়ার আচরণ বড় বিভ্রান্তিকর, তারাও সরকারের সমালোচনার পরিবর্তে জনহিতে করছে বলে সরকারের বিজ্ঞাপনের হ্যাঁ এ হ্যাঁ মেলাচ্ছেপ্রশ্ন করা মানা, শুধালে নেহেরুর ব্যার্থতা, অতীতের সাথে অসম তুলনা আর দেশদ্রোহিতার ছাপ্পা মেরে যাচ্ছে। আরে বাবা আগের সরকার ব্যার্থ বলেইনা আপনারা দায়িত্বে এসেছেন

যুগেযুগে পন্ডিতরা বলে এসেছে পেটে টান পরলে মানুষ ধর্মগ্রন্থ ছিঁড়ে খায়, আজকের পরিস্থিতি পেটে লাথ মেরেছে। রাজনীতির রং, দল, জাত, সাদা কালো ভুলে এই নরনারায়নের দল কতদিন রাষ্ট্রের এই ভাঁওতাতে ভুল থাকবেধর্ম নিয়ে ভয়াবহ রকমের উন্মাদনা তৈরি করতে হবে, পাকিস্তানের সাথে অনেক যুদ্ধ বাঁধাতে হবে, নতুবা তোষামোদি বংশবদের দল আগে পালটি খাবে। যন্তরমন্তর ঘর থেকে মগজধোলাই করে যে নমুনাগুলোকে BJP/RSS বাজারে ছেড়ে রেকখেছে, যারা চেঁচিয়ে বাজার গরম করে রেখেছে, প্রথমত তাদের মগজটাই ধোলাই এর জন্য উপযুক্ত। দ্বিতীয় শ্রেনীটা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর, ভক্ত শ্রেনী। এটা হারামের টাকা কামাই এর লোভে ধর্মান্ধ জম্বি সেজে বসে গেছে। জানিনা এই অজ্ঞানতার শেষ কোথায়, যেদিন BJP/RSS থেকে উন্নত যন্তরমন্তর কে তৈরি করবে সেদিন এই জম্বি গুলোই রঙ বদলে ফেলবে- সেদিন এরা বিজেপিকেই খাবেসেদিন RSS বিজেপিকে আবার ৫০ বছরের জন্য গর্তে চলে যেতে হবে, আর বড় নেতাদের দেশ ছেড়ে পালাতে হবে।

জানুয়ারিতে নাকি বেনামি সম্পত্তির উপরে নজর দেবেন মোদী, বেনামী সম্পত্তি- হো হো করে হেসে উঠার পালাবিজেপি ও তার স্যাঙাৎ আদানি, রামদেবের মত জোঁক গুলো দেশসেবা করতে এসেছে বলে মনে হয়? নামে কী যায় আসে, আজ যে দেশপ্রেমিক সেজে বসে আছে, কাল ছেলের নামে কোম্পানি খুলে হারামের টাকা কামাবে। যারা অবৈধ সম্পত্তি যারা বানায়, যারা হারামের কারবারি তারা মোদীকে কেন বেছেছে! কারন তারা অনেকের থেকে থেকে বেশী সেয়ানা আর ধুর্ত, তারা শিক্ষিত ও সংঘবদ্ধ। আগে ডিসেম্বরটা কেন্দ্র উৎরাক তারপর জানুয়ারি নিয়ে ভাবব

আমার ব্যাক্তিগত বিশ্বাস, কেন্দ্র সরকার ক্রমশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যাবে ২০০৯ সালের রাজ্যে সিপিএম এর মত, যদিনা কংগ্রেস এর দালাল গুলো ভেতর থেকে নিজেদের ভেঙে দিয়ে- মোদীর সামনে কোনো বিকল্প না দাঁড় করাতে পারে। BJP যে হায়না গুলোকে হিংসার তালিম দিচ্ছে বিরোধী স্বর দমন করাবার জন্য, বিরোদধীদের পায়ে কামরানোর জন্য, সেই মালগুলোই একদিন প্রভুকদের ছিঁড়ে খাবে। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এভাবেই হয়, সমস্যা হচ্ছে সেই দিনটা আসবে কবে! কেন্দ্রের বিরোধী হিসাবে রাহুল গান্ধী সত্যিই পাপ্পু, ওকে না খাওয়া যায় না মাখা যায়- এই অপদার্থগুলোর জন্যই আজ মোদী প্রদধানমন্ত্রী।

পশ্চিমবঙ্গের মূল সমস্যা বিরোধীরা। রোজ কেউ না কেউ তৃনমূলে ভিড় জমাচ্ছে সিপিএম কংগ্রেস থেকে। আগামী ৫ বছর পর সিপিএম ছাড়া বাকি দল গুলোর অস্তিত্ব থাকবে কিনা আমার সন্দেহ হয়। যারা সরাসরি তৃণমূলে গেলো তারা নাহয় চিহ্নিত হয়ে গেলো, কিন্তু যারা গেলোনা তারা যদি গুপ্তচর হয়ে তৃনমূলের হয়ে খেপ খাটে মহান বামনেতা সেজে- তখন কী হবে! কারন তৃনমূল ক্রমশ সমাজবিরোধীদের হাতে চলে যাচ্ছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস একশ্রেনীর বাম নেতা মমতার হাতে তামাক খাচ্ছে। তবে দেশের হাল দল সিপিএমের মত এতটাও খারাপ নয়, এদের নিচেতলার মাটি ক্ষয়ে গেছে। কিন্ত ভাবসাবে জমিদারি, জনগণ মমতাকে তাড়িয়ে আবার বামেদের জবরদস্তি রায়টার্সে বসিয়ে দেবে। কর্মীরা মার খাচ্ছে, খুন হচ্ছে, বাস্তুহারা হচ্ছে, ওদিকে বাবুরা আলিমুদ্দিনে বসে জাবর কাটছেন। উপর তলার নেতারা জলসাঘরের ছবি বিশ্বাসের মত একটা দুর্বোধ্য অহং নিয়ে বসে আছে, সবজান্তা ভাব, আগামীতে এই অবস্থা চললে এদের শূন্য হয়ে যাওয়া সময়ের দাবী। ক্রমশ মাটির সাথে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

গ্রামেগঞ্জে বেকারের সংখ্যা রোজ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গতমাসেও একটা ভাল ড্রাইভারের জন্য মাথাকুটে মরেছি। আজকাল রোজ সকাল হলেই ২-৪ জন কর্মপ্রার্থী অফিসে আসছেন, যার ভিতরে একজন ড্রাইভার তো আছেনই। রাজ্যে কাজ নেই, এরা অধিকাংশ পরিযায়ী হয়ে যাবে। মুম্বই, সুরাতে যারা কাজ করতেন গহনা শিল্পে, তারা ফিরে আসছেন, পর্যটন শিল্পেও মন্দার দররুন বেকারত্ব। এনারা না জানে মাঠের কাজ, না ভ্যান রিক্সা চালাতে পারে। তাই চার দেওয়ালের ভিতরে স্থানী কলকারখানাতে মোট বওয়ার কাজ হলেও সেটাই চাইছেন।

কাল আমাদের ফ্যাক্টারিতে দেখি মুটিয়া দিলের কিছু লেবার দামি বাইক নিয়ে কাজে এলেন। সর্দারকে শুধাতে জানলাম, গাড়িটা আগের কেনা। এখন ওই গাড়ি আর তার স্টেটাস রক্ষা করার জন্য এই ঘেড়াটোপের আড়ালে ভদ্রশিক্ষিত সন্তানের মুটেগিরি করা। এরা তো আপাতত বেঁচে গেল, কিন্তু যারা এটাও করে উঠতে পারলনা? বেকার মস্তিষ্ক আরো ভয়াবহ, একখানেই সাম্প্রদায়িকতার চাষ করবে RSS, এক্ষেত্রে বিজেপি আর তৃণমূলে কোন তফাৎ নেই, দুটোই ওই গোয়ালের প্রডাক্ট। রাজ্যেও তামিলনাড়ুর জয়ললিতার মত মাসিক দানের টাকার রাজনীতি না নিয়ে আসে মমতা, তার মতিগতিও ভালো ঠেকছেনা। বেকার ছেলেপুলেকে টার্গেট করে তাদের দিয়ে ভোট লুঠ করাতে, সরকারি টাকা দিয়ে মোচ্ছোব করাবেনা কে বলতে পারে! যুবসমাজকে মদ, IPL এর মত জুয়ো, আর উৎসবে মাতিয়ে রাখলে- TMC নেতাদের চুরি করতে বড় সুবিধা হবে। যেটা বাজারে আসছেনা সেটা হলো এদের তোলা আদায়, সর্বত্র কাটমানির অত্যাচার। আমাদের ধান কিনতে, চাল বেচতে হেলেও একপ্রকারের হুমকি পাচ্ছি, মিডিয়াতে আসছেনা বলে সবাই চুপ। তৃনমূলের এই নেতাগুলোকে কোনোমতেই সৎ বলে মনে হয় আপনাদের?

আমাদের ব্যাবসা সুত্রেই সমাজের নানান মানুষের সাথে উঠাবসা। তেমনই একজনের কাছে কৌতুহল বসতই জানলাম, পতিতাপল্লিগুলোর অবস্থা শিউরে উঠার মত। কাষ্টমার নেই। কারন এখানে সাধারনত কালো টাকার কারবারিদের আর স্কুল কলেজের ছাত্রদেরই আনাগোনা নগদ টাকার ফোয়ারা। অথচ রোজ এই আদিম পেশাতে অনেকেই অভাবের জ্বালায় ভিড় জমাচ্ছে। বলুন কে কার্ডে পেমেন্ট করে বেশ্যাবাড়ি গিয়ে? মোদীজি বোধহয় সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা এই ব্যাবসাতেই দিয়েছেন

শীতে ফুল ও ফুলগাছের ব্যাবসা জাষ্ট ধ্বংস হয়ে গেছে। আমাদের সমুদ্রগড়ের তাঁতের ব্যাবসাতে সেলাইন ঝুলছে, GST লাগু হলে আগামী 5-7 বছরের মধ্যে তাঁত শিল্পে লালবাতি ঝুলবেমালিকদের হাতে নগদ নেই, কারিগরেরা অধিকাংশেই ঘরে ফিরে গেছে। চালের এক্সপোর্ট বন্ধ। তার সাথে জুড়ে থাকা ঠিকাশ্রমিকগুলোও কর্মহীন। কন্টেনার ট্রেলার তাদের ড্রাইভার মালিকেরা কড়িকাঠ গুনছেন। পেঁয়াজ সরষে চাষে ব্যাপক ঘাটতি

সম্পুর্ণ ম্যাসাকার অবস্থা।

প্লাস্টিক কার্ড হলেই দেশ ডিজিটাল হয়না, দিনের শেষে আমরা কার্ড দিয়ে নগদ টাকাই তুলি, ব্যাঙ্কের বদলে ATM থেকে। আমাদের দেশে অনলাইন সপিং করি, কিন্তু পে-অন ডেলিভারি সিস্টেমে। এই তো আমাদের ডিজিটাল দেশের নাগরিককোনো বিকল্প সিস্টেম নেই।

ডিজিটাল হবে কিনা সময় বলবে, রিংটাল যে হয়ে বসে আছে সেটা দেখাই যাচ্ছে

 

সোমবার, ২৩ নভেম্বর, ২০১৫

আমেরিকায় হলে বন্দুকবাজ


আমেরিকায় পার্কে বন্দুকবাজের হানা

এরা কিন্তু মোটেও জঙ্গী বা মানবতার শত্রু নয়, এরা হয় বিকৃত মস্তিষ্ট, বা বাচ্চাছেলের ভুল মাত্র।

এরা সাদা চামরার, তাই এদের নাম বন্দুকবাজ। যারা মারা গেছে এদের জন্য তেমন কোন শোক হবেনা, মোমবাতি জ্বলবে না, মিডিয়া উত্তাল হবে না। কারন এরা অমুসলিম ও এশীয় বংশোদ্ভুত নয়, তথা সাদা চামরার। এদের জন্য কোন সংগঠন দায় স্বিকার করবেনা। তৃতীয় বিশ্বের ছাগলেরা বাপ মা মড়া কান্না জুরবেনা। ভার্চুয়াল কুমিরদের কান্না ঝরবেনা। গলার শিরা ফুলিয়ে কোন বিশেষ জাতির বাপন্ত হবেনা। বাকি দুনিয়া একজোট জয়ে এদের শায়েস্তা করার প্রতিজ্ঞা করবে না। সবথেকে বড় কথা এর জন্য ঐ নির্দিষ্ট কয় জন ছারা আর কারো দোষ নেই। কারন মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী ও তাদের সহচর ও তাদের গুহ্যদেশ লেহনকারী কুত্তাদের চোখে ও মনে ও ভাবনায় ও প্রকাশে খ্রীষ্টান ও ইহুদী মাত্রই নিষ্পাপ নিঃকলঙ্ক।

এটা বিছিন্ন ঘটনা। 

রবিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১৫

গরুর পরিবার পরিকল্পনা

 



"সুধা হতে সুধাময় দুগ্ধ তার ; দেখে তারে পাপ ক্ষয় হয়,

মাতৃরূপা, শান্তিস্বরূপিনী, শুভ্রকান্তি, পয়স্বিনী ৷"

রবীন্দ্রনাথ এ ভাবেই গরুর গুন কীর্তন করেছেন ৷ শুধু গরু না, আমার ধারণা কিছু কিছু মানুষ দেখেও পাপ ক্ষয় হতে পারে - যেমন বুড়ি মা খোয়া ভাঙছেন, বুড়ো রিক্সা চালক, গার্মেন্টস কারখানার কিশোরী শ্রমিক, বাড়ির কাজের মেয়ে ৷ আর কাদের দেখলে পাপ বেড়ে যায় ? এদেরকে যারা অসন্মান করে তাদের ৷ অতি সামান্য মজুরির বিনিময়ে ক্লান্ত দেহে, বিনা অভিযোগে এই মানুষগুলো সবার কাজের বোঝা বয়ে বেড়ায় ৷ গরুর মতই পরোপকারী, সংবেদনশীল, কোমলপ্রাণ ৷ জীবনে পূণ্য সঞ্চয় তেমন ঘটেনি, তাই সুযোগ পেলেই এদের দিকে তাকিয়ে থাকি, পাপের বোঝা কিছুটা যদি হাল্কা হয় ৷

দশ হাজার বছর আগে মেসপটামিয়ার ইউফ্রেটিস-টাইগ্রীস, মিশরের নীলনদ, ভারতের সিন্ধু, চীনের হুয়াং-ইয়াংযী নদীর আশেপাশে মানুষ প্রথম ঘর বাঁধলো ৷ শুরু হলো কৃষিকাজ, সেই সাথে পশুপালন ৷ যে কয়েকটি বন্য প্রানীকে বশ করা গেলো গরু তাদের মধ্যে প্রধান ৷ গরুকে কাজে লাগিয়ে মানুষের কপাল গেল খুলে ৷ লাঙ্গলের সামনে গরু, গাড়ির সামনে গরু, গরুর দুধ, মাংস, রক্ত, চামড়া, হাড়, গোবর সবই মানুষের কাজে লাগে ৷ গরু ছাড়া জীবন চলে না ৷ গরু হয়ে পড়লো সম্পদ আর প্রাচুর্যের প্রতীক ৷ টাকা আবিষ্কারের আগে গরুই ছিলো টাকা ৷ যে বন্য গরু থেকে আজকের গৃহপালিত গরুর জন্ম, তারা চার'শ বছর আগেই পৃথিবী থেকে লুপ্ত হয়ে গেছে ৷ ঠিক গরু নয়, তবে গরুর মতো কিছু প্রাণী - আমেরিকার বাইসন, আফ্রিকার বিশাল আকৃতির মহিষ, ভারতের জল-মহিষ এখনো বনজঙ্গলে নিজের দায়ে কোনোরকমে টিকে আছে ৷

"Cowards die many times before their deaths;

The valiant never taste of death but once."

জুলিয়াস সিজারের মতো বীর আর কজনেই বা আছে, আমরা মরার আগেই অনেকবার মরি ৷ মরার দুশ্চিন্তা সারা জীবন মানুষকে তাড়া করে বেড়ায় ৷ গরু-মোষ-মেষ এদিক দিয়ে বেশ আছে, মরার কষ্ট একবারই পায় শিকারী প্রানীদের চোখ থাকে মাথার সামনে, চোখের মনি হয় গোলাকার - যেমন মানুষ, সিংহ, শেয়াল, পেঁচা ৷ শিকারের উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য সামনে দেখা এবং শিকারের দূরত্ব বোঝা ভীষণ জরুরী ৷ যে প্রাণীরা শিকার, তাদের চোখ থাকে মাথার দুধারে, চোখের মনি হবে লম্বাটে - যেমন গরু-মোষ-হরিন ৷ ওদের বিপদ আসে প্রধানত পেছন থেকে, সামনে পেছনে দু-দিকে দেখার জন্য এটাই চোখের মোক্ষম অবস্থান ৷ শিকার আর শিকারী দু'দলকেই একদিন মরতে হবে, তবে শিকারী প্রানীদের মরার কষ্ট বেশী ৷ বৃদ্ধ বয়েসে দীর্ঘ সময় ধরে মানুষকে ধুঁকে ধুঁকে মরতে হয় ৷ বুড়ো বয়েসে সিংহের একই দুর্দশা ৷ কয়েক মিনিটের মধ্যে বাঘের হাতে একটা হরিনের মৃত্যু ঘটে ৷ মানুষের হাতে গরুর মরণ ঘটে মিনিট দুয়ের মধ্যে ৷ যে প্রাণীরা শিকার তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি বেশী, কিন্তু শিকারী প্রাণীর জীবনেও দুঃখ কিছু কম নয়, তার উপরে আছে দীর্ঘ দিনের মরণ যন্ত্রণার পালা ৷

পৃথিবীতে প্রতি বছর মানুষের খাদ্যের প্রয়োজনে তিরিশ কোটি গরু, ষাট লক্ষ কোটি মুরগী, এবং বিশ লক্ষ কোটি শুকর বধ করা হয় ৷ সবচেয়ে গরু-খেকো দেশ হচ্ছে হংকং, ওখানে একজন লোক গড়ে বছরে ষাট কেজি গোমাংস খায়, তারপরেই আছে আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল ৷ আমেরিকা এবং ইউরোপের ধনী দেশগুলো খুব পিছিয়ে নেই - ওদের পেটে যায় প্রায় পঁচিশ কেজি ৷ গরু-খাওয়া মুসলমান বলে যে কথাটা প্রচলিত আছে সেটা ঠিক নয় ৷ জনবহুল মুসলিম দেশগুলো - যেমন ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, মিশর, সৌদি আরব, এবং ইরানে গড়ে প্রতিবছর একজন মানুষ খায় মাত্র চার থেকে দেড় কেজি গরুর মাংস ৷

পৃথিবীর সব প্রাণীর প্রাকৃতিক খাদক (natural predator) আছে, মানুষের নেই ৷ মানুষ খাদ্য শিকলের (food chain) একেবারে উপরে বসে আছে ৷ শিকলের মাঝে যারা আছে তারা উপরের প্রানীদের খাদ্য আর নীচের প্রানীদের খাদক ৷ একমাত্র ঘাস বা গাছের পাতা সূর্যের আলো, বাতাসের কার্বন ডাই অক্সাইড, আর জল মিশিয়ে খাদ্য বানাতে পারে ৷ আমরা সবাই সেই খাবারে ভাগ বসাই ৷ মানুষের প্রাকৃতিক খাদক নেই বলে মানুষের সংখ্যা অন্য প্রাণীর তুলনায় ভয়ানক বেগে বেড়ে চলেছে ৷ আগে কলেরা, বসন্ত, প্লেগ জাতীয় মহামারীতে লক্ষ লক্ষ লোক মরতো ৷ চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির কারণে তা আর এখন হয় না, মানুষের গড় আয়ু অনেক বেড়ে গেছে ৷ মানুষের খাবার যোগাড়ের আয়োজনে বনাঞ্চল উঠে যাচ্ছে, আকাশের ওজোন স্তরে ফাটল ধরেছে, পৃথিবীর তাপমাত্রা যাচ্ছে বেড়ে ৷ এরকম চললে একসময় এই পৃথিবী মানুষের বসবাসযোগ্য থাকবে না, অগনিত মানুষকে মরতে হবে, সমগ্র মানুষ জাতি-ই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে ৷ পরিবেশ বদলে গেলে অনেক প্রাণী লুপ্ত হয়ে যায় ৷ মানুষ জাতিকে বাঁচাতে হলে মানুষের সংখ্যা আর বাড়তে দেওয়া যায় না ৷ তার জন্য চাই জন্ম নিয়ন্ত্রণ - পরিবার পরিকল্পনা ৷

ধরা যাক মানুষ গরুর মাংস খাওয়া বন্ধ করে দিল ৷ বলদ বা ষাঁড় দিয়ে লাঙ্গল এবং গাড়ী চালনোর প্রয়োজন আজ আর নেই ৷ ওদেরকে পালন করে কৃষকের কি লাভ ? ওদেরকে মুক্তি দেওয়া হবে ৷ কিন্তু ওরা যাবে কোথায় ? একটা গরু যতদিন দুধ দিচ্ছে ততদিন তাকে পোষা লাভজনক, কিন্তু বুড়ো বয়েসে কৃষক ওর গলার বাঁধন খুলে দিবে ৷ ও যাবে কোথায়, খাবে কি ? ওদের জন্য বৃদ্ধাশ্রম খুলতে হবে ৷ পৃথিবীর আর কোথায় না হলেও, ধর্মীয় কারণে ভারতে হয়তো এরকম গোশালা খোলা সম্ভব যেখানে বিনা পরিশ্রমে বলদ এবং বুড়ো গরুদের খাবার মিলবে ৷ তবে আমার সন্দেহ আছে ৷ একজন সংখ্যালঘু বৃদ্ধ গোমাংস খেয়েছে এই গুজব শুনে তাকে পিটিয়ে হত্যা করার মতো বীরপুরুষের অভাব হয়তো নেই, কিন্তু নিজের পরিশ্রমের টাকা নি:স্বার্থভাবে গরুর পেছনে দীর্ঘদিন ব্যায় করবে এমন মহানুভব লোক খুব বেশী নেই ৷ গরুভক্ত বকধার্মিকদের মুখোশ দ্রুত খুলে যাবে ৷ শরৎচন্দ্রের মহেশ তার স্বাক্ষী ৷ গফুরের কান্না মনে আছে কি - "আল্লাহ ! আমাকে যত খুশি সাজা দিয়ো, কিন্তু মহেশ আমার তেষ্টা নিয়ে মরেছে ৷ তার চ'রে খাবার এতটুকু জমি কেউ রাখেনি ৷ যে তোমার দেওয়া মাঠের ঘাস, তোমার দেওয়া তেষ্টার জল তাকে খেতে দেয়নি, তার কসুর তুমি যেন কখনো মাপ ক'রো না ৷"

একটা গরু বেঁচে থাকে প্রায় বিশ বছর এবং প্রতি বছর সন্তান জন্ম দেয় ৷ তার কন্যা দুই বছর বয়সে মা হবে, তারপরে তার নাতনির পালা ৷ বুড়ো বয়েসে মরার আগে একটি গরু থেকে জন্ম নেবে অসংখ্য গরু ৷ কয়েকশ' বছরের মধ্যে ভারত গরুতে ছেয়ে যাবে, মানুষের ঠাঁই হবে না ৷ প্রানীদের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাবে, অগনিত প্রাণী প্রাণ হারাবে, অনেক প্রজাতি চিরতরে লুপ্ত হয়ে যাবে ৷ শেষপর্যন্ত গরুরা ধ্বংশ করে ফেলবে নিজেদের আবাসস্থল এবং পরিবেশ, অসংখ্য গরুকে মরে যেতে হবে ৷ গরুকে বাঁচাতে হলে গরুর সংখ্যা আর বাড়তে দেওয়া যায় না ৷ প্রাকৃতিক নিয়মে মানুষ হচ্ছে গরুর খাদক, গরুর মাংস খেয়েই সে বাঁচাতে পারে আরো অনেক গরুকে ৷ অথবা মানুষের মত গরুর জন্যেও চাই জন্ম নিয়ন্ত্রণ - পরিবার পরিকল্পনা ৷

একটি গরু দিনে প্রায় তিন'শ লিটার মিথেন গ্যাস বাতাসে ছড়ায় ৷ সেই সাথে আছে এমনিয়া এবং নাইট্রাস অক্সাইড ৷ জাবর-কাটা প্রানী গরুর পাকস্থলীতে আছে চারটি কক্ষ, যেখানে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে খাবার হজম করা হয় ৷ এই প্রক্রিয়া তৈরি করে প্রচুর মিথেন গ্যাস ৷ পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে মিথেন গ্যাসের জুড়ি নেই, এই গ্যাস কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়েও অনেক গুন ভয়ঙ্কর ৷ পৃথিবী জুড়ে যদি গরুকে রক্ষিত প্রাণী করে রাখা হয় তবে বাতাসে বাড়তে থাকবে মিথেনের পরিমান, সেই সাথে বাড়বে পৃথিবীর তাপমাত্রা, গলতে থাকবে মেরু অঞ্চলের বরফ, সমুদ্র গ্রাস করবে পৃথিবীর নীচু অঞ্চলগুলি, ভারত মহাসাগর হিমালয় পর্যন্ত পোঁছে যাবে, মানুষ-গরু, হিন্দু-মুসলমান, গরু-ভক্ত, গরু-খাদক কেউ রেহাই পাবে না ৷


কলমে- খন্দকার করিম

 

বিহার নির্বাচন

অবশেষে "নরমুত্রে" স্নান নিশ্চিত করলেন গো-মুত্র পানকারীর দল। যে পরিমান ময়লা জমেছিল, তাতে অম্লীয় পদার্থ ছারা পরিষ্কার সম্ভব ছিল না।
ধন্যবাদ ৮৪% হিন্দু(!)। কারন আপনারাই রুখে দিয়েছেন বানর সন্তানদের। জয় মানবতার জয়। গরু থেকে অবশেষে মুক্তি।
~সৌজন্যে বিহার।

মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০১৫

আমি তোমাকে ভালবাসি




পৃথিবীর প্রতিটি মুহুর্ত একটি বাস্তবতা। শুধু সময়ের অপেক্ষায় সেই সকল বাস্তবতা স্থির হয়ে থাকে। একটু সুযোগ পেলেই যেন কসাইয়ের মতো গায়ের চামড়া তুলতে শুরু করে। এটা একপক্ষে অন্যপক্ষে এমনটি নাও হতে পারে, দেখা যায় অন্যপক্ষে হাতে সেই রুপোর কাঠি আর সোনার কাঠির রাজপুত্রের মতো। রাজ সিংহাসন, রাজরানী, মাধুরীদীক্ষিত আর নামীদামি ব্যান্ডের পণ্য সামগ্রী…. কই কাউকেই তো দেখি না চেমেলীদের খবর নিতে, ভালবাসতে।
আসলে অন্ধকার জগত সৃষ্টি করা যতটা সহজ আলোকিত পৃথিবীর কথা ভাবা ততটা সহজ নয়, যেখানে আলোর কথায় উঠতে বসতে বিদ্রুপের কষাঘাত হৃদয়ে আঘাত দিতে পারে। ধবংস সেখানে খুবই সহজ ক্ষেত্র সে ভালবাসাই হোক আর বেঁচে থাকার নুন্যতম স্থান হউক আদিম জাত পারে না এমন কোন কাজ নেই।
মাঝেমাঝে মনে হয় ভালবাসা যেন সেই পুলসূরাত আবার ভুলে যাই ভাবতে থাকি ভালবাসা মানেই প্রতারণা, ভালবাসা মানে হাওয়ায় ভাসা কিছু বডি স্প্রে। ভালবাসতে পারিনি এমন কাউকে সেটা বলতে পারবো না। শত সহস্র আঘাতের পরেও ভালবাসা চেয়েছি ভালবাসা পেয়েছি ভালবাসার পিছু ছুটেছি। পরিশেষে ভালবাসা বলে কিছুই নেই। ভালবাসা মানেই সস্তা কিছু রসিকতা, ভালবাসা মানেই বিলাসীতার গোলামী, ভালবাসা মানেই দুষ্ট লোকের মিষ্টি মিষ্টি কথার প্রতারণা। অনেক গুলো বসন্ত এভাবে ঝরে পড়েছে যেখানে ভালবাসার স্পর্শের ঘাটতটি ছিলো বলে ভালবাসা দুর্বল ভেবে হারিয়ে গেছে। যখন এমনটি হয়েছে তার পরক্ষণেই মনে হয়েছে ভালবাসা মানে দুটি দেহের কিছু নোংরা ঘ্রাণের মিশ্রণ। সাদা পাউডারকে গুলিয়ে তরলে পরিণত করা। ঠিক এসিড ধর্ম।
কথায় বলে নারীর বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না। আমার কথা হলো যাকে ভালবাসি তার নিকট থেকে নিজের প্রাপ্যটা কেন বুঝে নিতে চাইবো না। যদি মনের ভেতর এমন বাসনা লুকিয়ে থাকে তাহলে চাইতে সমস্যা কি, স্বল্প মূল্যে অল্প স্পর্শ। এমনটি পারিনি বলেই হয়তো আজও ভালবাসা আমার শত্রু, ভালবাসা আমার আজরাঈল।
স্বপ্নপূরণের আলোক রশ্মি দেখেই তো হাজার কিলো কয়েক মিনিটেই তোমার নিকট চলে যাওয়া। না বলা কথা, না দেখা অনুভব, না বুঝা অনুভূতি সবকুটুই বুঝি নিতে চাই আজ। আজ আমি অন্ধগলির বাসিন্দা। তোমার লুকানো ঘ্রাণ অনুভব করতে চাই। প্রতারিত হতে চাই না, তোমায় পেয়েও হারাতে চাই না। তুমি না চাইলেও আজ আমি তোমার লুকায়িত জলের ঘ্রাণ নিতে মরিয়া। হারাতে চাই না গত হয়ে যাওয়া সকল স্মৃতি। সামান্য স্পর্শটুকুও।
বৌরি আবহাওয়ায় শরীরটা বেশ শীতল হয়ে গেছে। আকাশের কান্না বেড়েই চলেছে। কেন যে আকাশের এতো কান্না আজ বুঝতে পারছি না। কল্পনার সেই রংধনুগুলো তবুও মনের আকাশটাকে সাজিয়ে রেখেছে। প্রকৃতির বেদনাময় কান্নাকে যখন অনুভব করি তখন মনে হয় বড় ভুল পথে হাটছি এই যাত্রায়। আবার মনকে সান্ত্বনা দিয়ে বলি তুমি যতই কান্না করো না কেন আজ আর আমি আমার পথ থেকে পিছু পা হবো না। হারাতে চাই না গত হয়ে যাওয়ার মতো এবারের ভালবাসা। স্মৃতি যে আমায় সৃষ্টি করতেই হবে। হারাতে চাই ভালবাসা।
কাঙ্খিত সময় শেষ, দুটি মনের দেখা, দুটি চোখের না বলা কথাগুলো মিষ্টি মিষ্টি হাসিতে হৃদয়ের বিনিময় করে নেয়া। এখনোও শরীরের শীতলা কাটেনি। আকাশের কান্নাও থামেনি। এদিক ওদিক তাকিয়ে সময়ে নৌকার সেই পঙ্খীরাজে চলে ঘুরে বেড়ানো।
কি আজব এ পৃথিবী, কি আজব আলো কিরণ নেই, অনলের কোন শিখা নেই তবুও কেন জানি একটু একটু করে শীতলতা কেটে যাচ্ছে। উষ্ণতা বেড়ে চলেছে শরীরের। অন্যদিকে আকাশের কান্না যেন বেড়েই চলে। যতই উষ্ণতা অনুভব করছি ততই আকাশ অঝরধারায় কান্না করেই চলেছে। যখন আকাশ চিৎকার দিয়ে উঠলো ততক্ষণে অনেকটা স্পর্শে স্পর্শিত ভালবাসা। আলোকিত মানুষ যখন মারা যায় তখন যেমন চারিদিক স্তব্ধ মনে হয় ঠিক তেমনটি আকাশের অবস্থা। আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে হলো ভালোর জন্য এখন প্রকৃতি কাঁদে। প্রকৃতি কখনোই চায় না অন্ধ গলিতে ভালোর কোন পদচিহ্ন লেগে যাক।
লুকায়িত জলের নোংরা ঘ্রাণ নেয়ার সাহস হয়নি। বাহ্যিক স্পর্শকেই মনে হয়েছে ভালবাসা সময়ে স্বর্গ অসময়ে নরক। ভালবাসা যতদিন নাটাইয়ের সুতোয় বেঁধে রাখা যায় ততদিন ভালবাসায় ভারবাসার আকাঙ্খা বিরাজ করে। যে বা যারা ভালবাসার নীলনকশা নিয়ে আমার হাত ধরেছে, সবাইকে বলেছি জন্ম, মৃত্যু, বিবাহ এই তিনটি সৃষ্টিকর্তার হাতে। তুমি আমি চাইলেই আমাদের মিলন হতে পারে না। তবে নষ্ট ভালবাসার মিলনে সময়ের প্রয়োজন হয় না। সেটা ভালবাসা নয় বরং প্রতারণা করা।
আজও ভালবাসার কাঙ্গাল হয়ে মুখ থুবড়ে পারে আছি। ভালবাসার স্পর্শ কেন আজও বুঝতে পারলাম না। আজও মনের তারুণ্যে মনের পছন্দ হলেই ভালবাসাতে শুরু করি। এই ভালবাসা প্রায় সময় নির্জনতায় আমার একান্ত ভালবাসা হয়েই থাকে। ভালবাসার কথা আজও চোখ তুলে বলতে পারলাম না। বন্ধু আছি বেশ তো ভালই আছি, কাছাকাছি আছি। ভালবাসা যে অনেক সময় আপনকে পর করে দেয়। সেই ভালবাসা আমি চাই না। আমার ভালবাসার কোন মূল্য নেই যদি না সে আমায় ভালবাসে। আমি তাকেই ভালবাসবো যে আমায় ভালবাসে।

লেখক~ রুদ্র আমীন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...