বুধবার, ১১ মে, ২০১৬

রাইসমিল সংক্রান্ত কিছু কথা

 


সংবাদে প্রকাশ রাইসমিল সংগঠনগুলির সরকারি ধান ভাঙানোতে না, ও সেই সংক্রান্ত কিছু কথা।

 

সবার আগে রাইসমিল গুলোর ইতিহাসটা একটু জানা প্রয়োজন

৭০-৮০ এর দশকে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় সর্বত্রই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা হাস্কিং মিল বা পাড়ন রাইস মিলগুলো মূলত তারাই করেছিলেন যারা মফঃস্বলের ‘বড়লোক’, বাড়িতে একটা গাদা বন্দুক আছে, যাদের বাবা কাকা মিলিয়ে বেশ কিছু পরিমান জমিজমা ছিল তারাই। আর হাতে কিছু নগদ টাকারও জোগান ছিল তাদের। ব্যাঙ্ক লোন তখনও এই পৃথিবীতে প্রবেশ করেনি। তখন আজকের এই উচ্চফলনশীল লালস্বর্ন বা IR- 64, বা নিদেন পক্ষে গুটকা GS ক্যাটাগোরির ধান ছিলনা। তাই নামে রাইসমিল হলেও আসলে একটু উন্নত ধানকলই ছিল

এর পরে কৃষতে আমুল পরিবর্তন ঘটে। সেচে, বীজে, ট্রাক্টরে, কৃষি ঋণ সংস্কারের ফলে গ্রাম্য কৃষিতে বিপ্লব আসে, ৯০ এর দশকের শুরু থেকেই। উপরন্তু সরকারি মিনিকেট (ধানবীজ) পেয়ে উচ্চ ফলনশীল ফসল ফলাতে শুরু করে চাষীরা। তখন শহরাঞ্চল ব্যতিত চাল কেউই কিনে খেত না তেমন। গ্রামের সম্পন্ন মানুষেরা বাড়িতেই সিদ্ধ-ভাপাই করে চাল বানাতেন। মজুরেরা গৃহস্হের থেকে মজুরী বাবদ চাল পেতেন। তাতেই চলে যেত। এইসময় নিজের প্রয়োজন মিটিয়েও অতিরিক্ত ধান বেচতে গিয়ে চাষীরা দেখল ধান কেনার খরিদ্দার নেই। যদিও বা কেও নিতে রাজি হলেন পয়সা কবে দেবেন তার কোন গ্যারান্টি ছিলনা।

ঠিক এইমত পরিস্থিতিতে বাজারে অবতীর্ন হলে মাড়োয়ারী সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীরা। সাথে নিয়ে এলেন সামান্য পুঁজি, তৎকালীন উন্নত প্রযুক্তি আর প্রখর ব্যবসা বোধ। ব্যাস প্রতিযোগিতাতে ঠিকে থাকতে না পেয়ে অচিরেই সেই পুরাতন বাঙালী রাইসমিলগুলির অবলুপ্তি ঘটল। তখনও সরকার ধানকল সম্বন্ধে চরম উদাসিনতাই দেখিয়েছিল যেন চালচুলোটা তো ঘরোয়া বিষয়, ওখানে আর সরকার কি করবে?

৯০ এর দশকের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই, মানে ৫-৭ বছরের মধ্যেই “রাইসমিল” বাজারের ৯৫% এর বেশি মালিকানা অবাঙালীদের হাতে চলে গেল। চাষীদের কাছে তখন অতিরিক্ত ফলনের ধান মজুত। সুতরাং বাজারে ধানের ফড়ে বা দালাল গোষ্ঠীর জন্ম হল। মানে এনারা চাষীর থেকে , বস্তা- লেবার – গাড়ি করে ধানটা মেপে নিয়ে মিল পর্যন্ত পৌছে দেবে, তার জন্য মিলের আর চাষী উভয়ের থেকেই একটা পার্সেন্টেজ পাবে। আর চাষীকে টাকা দ্রুত পেতে সাহায্য করবে। দাম দরের তেমন সুযোগ ছিলনা, মিলারের খুশিতে দাম নির্ধারিত হত।

আমি নিজে সাক্ষী, কালনার এক মাড়োয়ারী রাইসমিলে আমার দাদু ধান বেচে এসে ১১ মাস পর টাকা ফিরত পেয়ে ধন্য হয়েছিলেন। এটাই ছিল খুব স্বাভাবিক ঘটনা। ফলে সেই আমলের রাইসমিলার গুলো রাতারাতি ফুলে কোলাব্যাঙ হয়ে যায়। অগাধ পুঁজির রমরমাতে একটা থেকে পাঁচটা রাইসমিল তৈরি হতে সময় লাগলনা। সাথে অন্যান্য ব্যাবসাতেও সেই বিনা সুদের চাষীদের টাকা খাটতে লাগল। সরকার সেই সময় একটাই কাজ করেছিল। প্রতিটি রাইসমিলের গেটে লাল ঝান্ডা লাগিয়ে একটা করে সিটু ইউনিউন বানিয়েছিল, যাতে প্রতিটি মিছিলে প্রতি রাইসমিল থেকে কমপক্ষে ২০০ লোকের যোগান নিশ্চিত করতে

এর পর নতুন শতাব্দীর দোরগোড়ায়। যখন খোলা বাজারে নানান অর্থলগ্নী সংস্থাগুলো নতুন মেসিনারির উপরে লগ্নি করার জন্য গায়ের চামড়া খুবলে নিচ্ছে। রাইসমিলগুলিতে আবার গন আধুনিকিকরণ ঘটল। অটোমেটিক সিস্টেম চালু হল। ১০ বিঘা মেঝেতে ধান শুকানোর রেওয়াজ উঠে গিয়ে ছয় বাই ছয় ফুট জমিতে ৭০ ফুট উঁচুতে মাথা তুলে দাড়াল ড্রায়ার। একলপ্তে প্রোডাকশন ডবল থেকে পাঁচ গুন পর্যন্ত বেড়ে গেল

এতো অতিরিক্ত চালের হবেটা কি? সুতরাং বহির্বিশ্বে নন-বাসমতি চাল রপ্তানির জন্য একটা দিগন্ত খুলে গেল। কেন্দ্রীয় সরকার বিদেশী মুদ্রা আয়ের গন্ধ পেয়ে EC Act amendment করে, নতুন রূপে Rice miller & Wholesaler, Levy Act প্রনয়ন করল। এর আগে রাজ্যসরকারের Food & Supplier দপ্তর ছিল ঠিকই। কিন্তু তারা মূলত কেন্দ্রীয় সংস্থা Food Corporation of India (FCI) এর শাখা হিসবেই কাজ করত। আর এই FCI সম্বৎসর কাল ধরে চালের প্রোকিওরমেন্টটা করত। সেখান থেকে তারাই তাদের গোডাউনে মজুত চাল থেকে রাজ্যের সংস্থা দ্বারা বিলিবন্টন করত। এই সময় রাজ্য খড়গপুর IIT এর বিশেষজ্ঞ দ্বারা ধান চালের Ratio পরীক্ষা করায় বাংলার ধান নিয়ে। পাশাপাশি কেন্দ্রও পাঞ্জাবের ধান দিয়ে রুরকি থেকে একই পরীক্ষা করায় । তাতে দুস্থানে দু রকম ফলাফল আসে। সেটাই স্বাভাবিক। বাংলা আর পাঞ্জাবের পরিবেশ আলাদা, চাষের পদ্ধতি আলাদা। তাই পাঞ্জাবের ধান থেকে ৬৮% চাল নিষ্কাশন সম্ভব হলেও বাংলার ধানে টেনেটুনে ৬৪% এর বেশি দাঁড়ায়নি। অতএব দুই স্থানে দুই রকম চালের হিসাব চালু হয়ে গেল। মিলাররা তখনও লেভি দিলে সেই টাকা পেতে নিদেন পক্ষে মাস চারেক লাগতই। FCI টাকাটা তাড়াতাড়িই পেমেন্ট করত।

এই সময়েই সরকার খাদ্য সুরক্ষা প্রকল্পের অন্তর্গত নানান জনমুখী প্রকল্পের জন্য প্রচুর পরিমানে চাল মজুত করার সিদ্ধান নিল। এবং আইন বানিয়ে 50% of total yearly production লেভি হিসাবে দেওয়াটা বাধ্যতামুলক হল। সেই লেভি না দিলে বাকি অর্ধেক চাল বাজারে বিক্রির অনুমতি মিলবেনা। ওই লেভির ৫০% রাজ্যসরকারের খাতায় আর ৫০% সেই FCI কে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হল। আইনটা খাতায় কলমেই রয়ে গেল। কারন রাইসমিল ব্যাবসাটা বর্ধমান কেন্দ্রিক, আর তৎকালীন শাসকদলের একটা অলিন্দ সেই বর্ধমানেই। তাই পার্টির নেতাদের নাকের ডগাতে বসে দিব্যি থাবামুঠো লেভি দিয়ে পার পেয়ে গেল। সরকারি প্রকল্পের জাল মালগাড়ি করে ভিনরাজ্য থেকে FCI করতে লাগল। প্রসঙ্গত যেখানে একটা রাইসমিলের ৯৯% লেনদেনই কাঁচা টাকাতে হত, সুতরাং আইন শিকেয় না উঠলে এটা সম্ভব ছিলনা। সরকার যথারীতি ধৃতরাষ্টের ভুমিকায়। DM, SP, Income Tax, Sale Tax, থানা পুলিশের সামনে ২০০ মিটারের মধ্যে যখন, রোজ এই কোটি কোটি টাকার নগদ কারবার আজও রমরমিয়ে চলে, তখন বুঝতে হয় সরকার আসলে কয়েকজন মানুষ, বাকি সবটাই তাদের মর্জি মাত্র, আমরা বোকারা ভাবি গণতন্ত্র।

রাইসমিলগুলো তখনও অধিকাংশই বর্ধমান মেদিনীপুর বা রায়গঞ্জ শহর কেন্দ্রিক বা মফঃস্বলের ছোট পুরসভার ভিতরে বা তার আশেপাশে। সুতরাং এই রাইসমিলার এসোসিয়েসনগুলোর মাথাগুলোও শহুরে কোন মিলারই হতেন স্বাভাবিক নিয়মেই। যিনি মন্ত্রী না হয়েও চুড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী হতেন। এক বিপুল পরিমানে চাঁদা, দ্বিতীয় মিটিং মিছিলে লোকের যোগান। ভাবুন ৪০০ রাইসমিল হলে ১০০০০ টাকা করে চাঁদা আর ২০০ করে লেবার শ্রমিক হলে সংখ্যাটা চোখ ধাঁধিয়ে দেয়। অতএব নেতারাও আইনে কারচুপির মাধ্যমে রিটান কৃতজ্ঞতা জানাতে কসুর করতেন না। এভাবেই চলছিল লেনদেন

যিনি ভাগ্যগুণে একবার এই এ্যাসোসিয়েশনের পদাধিকারি হয়েছেন, তার স্টেটাস যে কোন লেভেলে পৌঁছেছে, সে শুধু মিলারেরাই জানেন। এ্যাসোসিয়েশনের বাৎসরিক চাঁদা নুন্যতম ২০০০০ টাকা বছরে, অন্যান্য আয় বা অনুদান বাদ দিন। শুধু বর্ধমানেই নথিভুক্ত রাইসমিলের সংখ্যা ৫৮০+। যদিও চালু ছোট বড় মিলিয়ে আড়াইশোর কাছাকাছি। বছরে ৫০০ টি মিল নিয়মিত সদস্যপদ রিনিউ করে। তাহলে টাকার সংখ্যাটা কত দাঁড়াচ্ছে? আমি দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, আপনি কোথাও এমন কোন বদনাম বা অপপ্রচার শোনেননি, যে রাইসমিল এ্যাসোসিয়েশন কোন সমাজ সেবার সাথে যুক্ত। তাহলে এই বিপুল অর্থ কি হয়? জানার চেষ্টা করলেই মামলার খাঁড়া ঝুলবে, স্থানীয় নেতাদের উৎপাত শুরু হবে, নানা অশান্তি । তাই জানতে চেয়ে কে যেচে ঝামেলা নেবে?

এর পর রাজ্যে ২০০৯ থেকেই রাজনৈতিক পালাবদল ঘটতে থাকে। তার প্রভাব এই চাল শিল্পে প্রচুর। কেন্দ্রীয় সরকার চালের উপর থেকে সেলট্যাক্স তুলে নেয়। এমনকি রাইস ব্রানের উপর থেকেও যাবতীয় কর উঠিয়ে নেয়, আর সেই ৬৮% চালের নিয়মটা সারা দেশ ব্যাপি চালু করে দেয়। এছাড়া অনেক ছোট খাটো সংস্কার হয়। কিন্তু শাসক দল ঘর বাঁচানোর তাগিদে সেসব দিকে নজর দেওয়ার ফুরসতই পায়নি।

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতে না আসতেই, গুয়ের মাছির মত এই এ্যাসোসিয়েশনের নেতারা রঙ পাল্টাতে সবুর করেননি। তাই হাকিম বদলালেও হুকুম বদলায়নি।

শেষ পাঁচ ছয় বছর বাজার অর্থনীতির পাশাপাশি যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবর্ণযুগ। শহরের রাইসমিলগুলোর একলপ্তে বিপুল জমি আবাসন শিল্পের জমি হিসাবে বিকিয়ে গেল। সেই টাকাতে তারা গ্রাম সাইডে রাইসমিল খুলে বসল। কাঁচামাল আরো সহজলভ্য এখানে। তবে এখন চাষী শুধু ধান বিক্রির টাকার উপরে সংসার নির্ভরশীল নয়। প্রয়োজনে সুদুর উড়িষ্যাতে ধান বেচছে আবার মিলারেরাও বিহার ছত্রিসগড় থেকে ধান আমদানি করছে। ২০০৮ সালের আশপাশ থেকে চাষীরা মিলারদের কাছে টাকা রাখার চেয়ে ব্যাঙ্কে টাকা রাখতে বেশি পছন্দ করার দরুণ আর বাজাতে চিটফান্ডের রমমমাতে মিলারদের হাতে নগদ টাকার যোগান কমতে শুরু হয়। আগের মত ধান আর স্টক করা যাচ্ছিলনা। কিন্তু খরচা তো সেই আগের মতই ছিল সব। আবাসন শিল্পে রাইসমিলের অনেক টাকা বেনামে খাটত, সেগুলোতে টাকার যোগান বন্ধ করলে আমছালা সব যাওয়ার সম্ভাবনা। তাই রাইসমিলগুলোতে টাকার অভাব শুরু হল।

এবার গনহারে ব্যাঙ্কের মূল ঋণখাতা NPA হওয়া শুরু হল। যেটা এই এ্যাসোসিয়েশনেরই হিসাব অনুযায়ী, ৬০% রাইসমিলই ২০১৪ সালে এই NPA ক্লাবের সদস্য হয়েছে। ঋণখেলাপিটা যারজন্য লজ্জার কারণ হয়নি

নতুন সরকার ক্ষমতাতে আসার পরেই বিচিত্র সব বুদ্ধির আমদানি করল। আসলে সবটাই তো গায়ক নায়কদের মত এন্টারটেনার বুদ্ধিজীবি দিয়ে তৈরি খসড়া। তাই এগুলো দেখে সকলেই হাসতো বেশি। তবুও কর্তীর ইচ্ছাই হুকুম। ফড়ে বন্ধের নামে কালোবাজারির দিগন্ত খুলে দিলেন। সম্ভবত সর্বোচ্চ স্তরের নির্দেশেই লোকাল নেতারা সরকারি দরে ধান বিক্রির জন্য কুইন্টাল পিছু স্থায়ী বখরার ননডিস্ক্লোজার এগ্রিমেন্ট চালু করল। যেটা আজও চাষী মহলে ওপেন সিক্রেট।

স্বয়ম্ভর গোষ্ঠী, বিভিন্ন সমবায়, আর চিনি বা লোহা চুরির দায়ে অভিযুক্ত মির্জাগালিব স্ট্রিটের অত্যাবসকীয় খাদ্য নিগমকে(WBECSC) মুখ্য করে নানান সরকারি আধা সরকারি সংস্থাকে দিয়ে ধান কেনাতে লাগল সরকার। টাকা অবশ্য মিলারকেই লাগাতে হইয়েছিল, কারন আগের সরকার রাজ্যকে দেনায় ডুবিয়ে গেছে (তেনার কথাতে) অতএব টাকা নেই। যাদের ধান কেনার দায়িত্ব, সেই সংস্থাগুলোর না আছে ঢাল না তলোয়ার, তাই হওয়া থেকে মড়া সবটাই মিলাররা করত, আজও করে। বামদলগুলির তবুও একটা কৃষক শাখা ছিল, বর্তমান দলের সেই বালাই নেই অবশ্য। এখানে সবটাই তেনার ইচ্ছাতে হয়। তাই এই ‘তানাসাহি’ তে, চাল মজুদের নিজশ্ব পরিকাঠামো না তৈরি করেই ধান মিলিং করে ফেলার ফলস্রুতিতে এই ‘সরকারি চাল” মিলারের ঘরেই রয়ে গেছিল মাসের পর মাস।

কিছু মিলার সেই বিপুল চাল টাকাতে রুপান্তরিত করে ফেলতে বাধ্যহল ব্যাবসায়িক প্রয়োজনে। অনেকের চাল মিলের গোডাউনেই ছত্রাক ধরে গন্ধ হয়ে গেল। এমতাবস্থায় একটা বিশাল অঙ্কের চাল মিলারদের কাছ থেকে অনাদায়ি রয়ে যায়। এর পর মামলা, গ্রেফতার, জরিমানা মিলগেটে তালা ঝোলানো নানান পন্থা ঘটতে থাকে। শুধুমাত্র আইনের ফাদে আটকাপরে নিজের ধনেই নিজেরা চোর বেনে যায় মিলারেরা

এর এফেক্টটা পরের সিজেনেই মোক্ষম টের প্রলো সরকার। পকেটের পয়সা লাগিয়ে চাষীর ধান কেনার জন্য মিলার নেই। দিকে দিকে চাষী বিদ্রোহে রাজ্য পয়সার বরাদ্দ করল ECSC কে। কিন্তু সেই পরিকাঠামো নেই, এবারেও সব চাল নিতে পারলনা সরকার, অতএব আবার কিছু মিলার জেল জরিমানা খাটল। লেভিটা কেমন যেন বিনা আইনেই অবলুপ্তির পথে হাটতে লাগল। গত শস্য বছরেও প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ECSC আদায় করতে পারেনি। কারন যাদের ধান দিয়েছিল তারা অধিকাংশেই কাগজে কলমে রাইসমিল। বাকিটা রাজনীতির পাঁক আর ফ্যাক্টরিতে আগাছা। সুতরাং টাকা নিয়ে চম্পট। ফলস্বরুপ গোটা ৫০ মিলারের নামে এরেষ্ট অর্ডার জারি হয়েছে

এখন প্রশ্ন এতোদিন এইসব প্রশ্ন উঠেনি কেন?

এই সরকারি আর চাষীর অত্যাচার(!) বা চাপ কেবলমাত্র গ্রাম সাইডের মিলগুলোর উপরে। চাষীদের এক্সট্রা চাপ দিলেও তারা দিন নষ্ট করে শহরে যেতে নারাজ। যত দোষ নন্দঘোষ গ্রামের মিলারগুলো। তাই ওই শহুরে মিলারদের তেমন অসুবিধা হয়নি গত পাঁচ ছয় বছরে। এরা আবার এ্যাসোসিয়েশনে নেতাও বটে। বর্তমানে গ্রামের মিলগুলোর অধিকাংশই বর্তমানে কোমায়। যারা বেঁচে আছে তারাও মরে যাবার ভান করে আছে বেঁচে থাকার তাগিদে।

সরকারি এজেন্সির ধান নিলে সরকার ধানের কুইন্টাল পিছু ৬৮ কেজি হারে ফিরত নেবে, যে আইনটা কেন্দ্রীয় সরকার গত সিজেনে তুলে নিলেও রাজ্যে বহাল আছে।

ধান উঠার মরসুমে ধানের বাজার দর কম থাকে, কিন্তু সরকারের দর ফিক্সড, যেটা বাজার থেকে দুই তিনশো টাকা বেশি। তাই মিলাররা ব্যাবসায়িক কারনেই সরকারি ধান কিনতে অনীহা দেখায়। বিগত দশ বছরে ধান চালের দাম চার থেকে পাঁচ গুন বেড়েছে। লেবারের মজুরী, চাল মজুদের জন্য নতুন চটের বস্তা, ডিজেলের ও বিদ্যুতের খরচা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। সেখানে মিলারের ভাঙানি মজুরী দ্বিগুন বৃদ্ধিটুকুও হয়নি। ২০০৩-০৪ সাথে এক বস্তা লালস্বর্ন ধানের দাম ছিল (৬০ কেজি) ২৩০টাকা। সেটা এখন ৯০০ টাকার আশেপাশে (পুরাতন ধান অক্টোবরে ছিল)। প্রতি বছরেই একটু একটু করে এটা বেড়েছে। শস্য বছরের শেষে সেপ্টেম্বরে সরকার যখন চাল ফিরত নেবার তাগাদা দেয়, তখন সেই চালের দাম অনেকটায় বেড়ে বেড়ে যায় সিজেনের শুরুর থেকে। তাই সরকারি ধান ভাঙা মানেই লোকসান অনিবার্য।

তাহলে এখন সরকারি প্রকল্পের কি হবে? APL, BPL, অন্নপূর্না যোজোনা, অন্ত্যোদয় যোজনা, ICDS Project, ইত্যাদি ছাড়ৈও মিডডে মিল আর সিঙ্গুর জঙ্গলমহলের চাল রয়েছে। সেগুলো চালু রাখতে বিপুল চাল প্রয়োজন। বাইরের রাজ্যে সাধারনত আতপ চাল খায়, তাই সেই চাল রাজ্যে এনে চলবেনা, এখানেই চাল বানাতে হবে। এখন মিল চাই ধান ভাঙাবার জন্য। কিন্তু সুস্থ শরীরে বেঁচে আছে শহরের মিলগুলোই। সুতরাং সরকারের এবারের নজর তাদের উপর।

সরকারকে ধার দেবার রেওয়াজ আগেও ছিল, আজও আছে আগামিতেও থাকবে। যে কেও তথ্য জানার অধিকার আইনে জেনে নিতে পারেন। টাকার অঙ্কটা হয়ত কম থাকত, কিন্তু টাকার দামও তো আগের থেকে কমেছে। আসলে পার্থক্যটা হল, আগে যাদের টাকা সরকারের কাছে থাকত তারা কেও নেতা ছিলনা, তারা ব্যাবসাদার ছিল। এই ধারটাকে ব্যাবসার অঙ্গ হিসাবেই দেখত। আজ তারা হয় আমলাশোলের অপুষ্ট রিকেট শরীর নইয়ে বাঁচার লড়াই করছে, বা রাইসমিলার হিসাবে মৃত। বর্ধমানেই ৩০০ এর বেশি মিল শুধু বন্ধ, কারন ঘোড়ারোগ। এখন নেতাদের মিল আর তাদের তহবিলে নজর পড়েছে। এ্যাসোসিয়েশনের অর্ধেকের বেশি সদস্যের নিজেরা রাইসমিল চালায় না। অন্যকে লিজে দিয়ে নিশ্চিন্তে ইউনিয়নবাজি করছে। এখন কাকে কাকের মাংসে নজর দিতেই চতুর্দিক কা কা রবে মুখরিত

আগের সরকারের আমলেও রাইসমিল ছিল, লেভিছিল, চাষীছিল, সহায়ক মুল্যে ধান ক্রয় ছিল। আইনও ছিল দুর্নীতিও। কিন্তু তারা কোর্টে থানা পুলিশের বাইরে একটা মিমাংসা ঠিক করেই নিত। যার জন্য কোন রাইসমিল বন্ধ হয়নি সরকারি অত্যাচারে, সরকারও লোকসানে পড়েনি। বর্তমানে খিস্তিপ্রিয় বেল্লিকের দল ক্ষমতার দম্ভে, শিল্পের জন্য হাহাকার করা এই কৃষিজাত ক্ষুদ্রশিল্পের ভবিষ্যতকেই প্রশ্নের মুখে দাড় করিয়ে দিয়েছে।

এছাড়াও নোট বাতিলের কারণে মূলত কাঁচাতে লেনদেন হওয়া কারখানাগুলোতে সেলাইন ঝুলছে। রাইস মিলগুলো তার অন্যতম। সরকার আগেও রাইসমিলকে দেখেনি, এখনও দেখেনা। সেই অসংগঠিতই রয়ে গেল। চীন বাদ দিন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স বা নূন্যতম পাঞ্জাব সরকারের ৫০% রাইসমিল নীতি এই রাজ্য যদি গ্রহন করত তাহলে গোটা দেশটাই আরো অনেকটা বেশি এগিয়ে যেতে পারত

 


মঙ্গলবার, ১০ মে, ২০১৬

মানালি ভ্রমণ

 


গরমে প্রা হাঁসফাঁস, রোদের তেজে চাঁদি টকবগ করে ফুটছে, গায়ে ফোষ্কা পরার জোগাড়। ঘনঘন ঠান্ডা জল পান করার পরেও গলা শুকিয়ে কাঠ। এরপর আছে সবার উপরে ঘাম সত্য তাহার উপরে ডিও। সামনেই স্কুলে স্কুলে গরমের ছুটি, ভোটের ফলাফলও আসন্নপ্রায়। ডান-বাম-রাম যে খুশি আসুক অশান্ত বাংলায় উষ্ণতা যে আরো বাড়বে তাতে আর আশ্চর্যের কি!

কথিত আছে বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে, কিন্তু 'থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড়' দীপুদার বাইরে তো ওই শুধু গ্যাংটক, আম বাঙালির এটাই ছুটির অতিপরিচিত গন্তব্য। তবে বাঙালী সুযোগ পেলে মাস্কের রকেটে চড়ে মঙ্গলেও যাওয়ার জন্য প্রস্তুত

তাহলে আর দেরি কেন, চলুন দীপুদার বাইরে একটা ভ্রমন সুচী তাহলে বানিয়েই ফেলা যাক- চলুন যাই দেবভূমি

গরমের শান্তি শীতলতায়, আর সেটার জন্য বাতানুকুল যন্ত্র ব্যাতিরেকে একমাত্র শান্তি বরফের দেশে। সেই বরফের দেশে অন্যতম সেরা গন্তব্য কুলু উপত্যাকার মানালি শৈল শহর। শান্ত ছিমছাম, আপেল আর পাম গাছে ঘেরা স্বপ্নের দেশ। স্ট্রবেরির লতার ফাঁকে স্বপ্নরা যেখানে বাসা বাঁধে। দুপাশে খাড়া পাহাড়, মাঝে অতল খাদ, কচি মেঘেদের ইতিউতি ছোটাছুটি, তীব্র মিঠে রোদ্র, মাঝে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, আর মধ্যে পাহাড়ের বুক চিড়ে একপাস দিয়ে ছুটে চলেছে পর্যটকদের যানবাহন। দুপাশে কত শত পাহাড়ি ঝর্ণা, অজানা অচেলা লতা গুল্ম, ফুল, অর্কিড, প্রাথমিকভাবে নেশা ধরিয়ে দেবার পক্ষে যথেষ্ট। যদিও হিমাচল প্রদেশ রাজ্যের গোটাটাই পোষ্টকার্ডের ছবির মত সুন্দর। ভিডিও গ্যামসের কম্পিউটারাইজড দুর্গম রাস্তা গুলো এখানে জ্যান্ত হয়ে উঠে, দিনের বেলায় এই পথে সাওয়ারি করলে তবেই পথের মজাটা উপভোগ করা যা

মানালি, কথিত আছে, সনাতন ধর্মের আদি পুরুষ মনুর বাসভুমি ছিল এই মানালি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৭০০ ফুট উচ্চতায়, খরস্রোতা বিপাসা নদের তীরে অবস্থিত এই শৈলশহর। মনু আলয়া কথাটি থেকেই হয়ত মানালি শব্দটার উৎপত্তি। অসংখ্য মুনি ঋষিবরেরা পুরাকালে এই সকল অঞ্চলেই নাকি ধ্যন সাধনায় বসতেন। মহাভারতের পান্ডবদের বনবাস পর্ব ও নাকি এখানেই হয়েছিল। এই কারনেই মানালিকে দেবভূমি রূপে চিহ্নিত করা হয় মুলত পর্যটন এখানকার মুল রুটিরুজি, তাই স্থানীয় মানুষেরা অত্যন্ত পর্যটক সচেতন। এদের দ্বিতীয় আয় আসে আপেল থেকে, তাই আপেল বিলাসী বাঙালীদের সেরা গন্তব্য মানালি। আপেলের সাদা ফুলে দৈনন্দিন জীবনের যাবতীয় দুঃখ-কষ্ট, চাওয়া-পাওয়াকে ভুলে থাকতে, কটাদিন মানালিতে নিশ্চিন্ত যাপন করতেই পারেন।

কিভাবে যাবেন? ট্রেনে হাওড়া বা শিয়ালদা স্টেশন থেকে সোজা দিল্লি বা চন্ডীগড়। কালকা মেলে ডাইরেক্ট কালকা পর্যন্তও যেতে পারেন। ট্রেন ভেদে ১৭ থেকে ২৬ ঘন্টা পর্যন্ত সময় লাগে। দিল্লি পর্যন্ত ভাড়া স্লিপার ক্লাসে ৬০০-৭০০ টাকা, 3AC তে ১৫০০ থেকে ২১০০ টাকা পর্যন্তরেস্ত বেশি থাকলে বিমানে কোলকাতা থেকে দিল্লি, চন্ডিগড় বা মানালির সবচেয়ে নিকটবর্তী ভুন্তার বিমানপোত অবতরন করতে পারেন। ভুন্তারকে মিনি ইজরায়েল বলা হয়ে থাকে।

বাসে/মোটোর গাড়িতে ৮ থেকে ১১ ঘন্টার জার্নি। দিল্লি চন্ডিগড় থেকে বৈকাল চারটে থেকে, প্রতি আধাঘন্টায় ২/২ পুশব্যাক ভলভো বাস পেয়ে যাবেন। দিল্লির আজমিরী গেট, পাহাড়গঞ্জ, মজনু কা টিলা ইত্যাদি বাসস্টপ থেকে বাস পেয়ে যাবেন। তবে অগ্রিম অনলাইন বুকিং করে নেওয়া ভালো, RED BUS, yatra.com, makemytrip ইত্যাদি সাইট গুলো থেকে বাস বুকিং করা যায়। সিজেন ভেদে AC তে সিট প্রতি ভাড়া ৯০০ থেকে ১৬০০ টাকা পর্যন্ত।

কমপক্ষে জনের গ্রুপ তথা ২-৩ টে পরিবার একসাথে থাকলে, সেক্ষেত্রে Tempo Traveler ভাড়া করে নেওয়া অত্যন্ত সাশ্রয়ী। ৯, ১২, ১৫, ও ১৮ সিটারের পর্যন্ত টেম্পো পাওয়া যায়। ৩ রাত-৪ দিন, ৫ রাত-৬ দিন, ৬রাত-৭ দিন হিসাবে ভাড়া পেতে পারেন। মোটামুটি ২০০০০/- টাকা থেকে ৫০০০০/- টাকা পর্যন্ত ভাড়া পরে

সকালে রোদের সাথে চোখ খুললেই ভেসে উঠবে কবির কল্পনায় উঠে আশা সকল দৃশ্যপট, যেন কোন শিল্পীর লাইভ চিত্র প্রদর্শনী দেখছেন। পাহাড়ের আড়ালে হঠাৎ করে উদয় হওয়া দিগন্ত বিস্তৃত চোখ জুড়ানো সবুজের প্রান্তে বরফের মুকুট পরে হিমালয় আপনাকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত। আরেকটু সময় এগোলেই যখন সুর্যের প্রথম কিরন ওই বরফে প্রতিফলিত হবে, সেই রূপ কল্পনারও অতীত। যেন হিরকের দ্যুতি।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ভিরে শহরের সৌন্দর্য খুজতে গেলে একটু কষ্টই পাবেন। অন্যান্য শৈল শহরগুলোর মতই মানালির মূল শহরতলীরাস্তার দুধারে হোটেল, রেস্তোরা, ট্রাভেল এজেন্টদের অফিস, আর পর্যটকদের যানবাহনের ভিড়। পরিচ্ছন্নতায় মানালি শহর মধ্যম মানের, অনেক স্থানেই নর্দমার জল সোজা নদীতে গিয়েই পড়ছে। গাড়ির কালো ধোঁয়াতে বরফ পর্যন্ত কালো কয়লার মতন দেখতে লাগে সোলাং ভ্যালির ওই দিকটাতে। এগুলোকে অবশ্যই ভাবনার মধ্যে রাখতে হবে।

কোথায় থাকবেন? এক রাত্রি ট্রেন জার্নির পরদিন সারারা বাসে বা গাড়িতে এসে যখন পৌছাবেন, ইচ্ছা তো করবে যেখানে খুশি শুয়ে পরতে। কুলকুল শব্দে বয়ে চলা নদী তীরই হোক বা সবুজ ঘাসের গালিচা কিম্বা আপেল বাগান, যেখানে শোবেন সেখানেই ঘুম আসতে বাধ্য, অন্তত মানালিতে।

সরাই খানা বা মুসাফিরখানা থেকে এক্কেবারে সাততারা বিশিষ্ট হোটেল মজুদ রয়েছে মানালিতে। সস্তার ডর্মেটরিও পেয়ে যেতেই পারেন খুঁজলে। যদি ট্যাঁকের জোর থাকে সেক্ষেত্রে নদীর এক্কেবারে তটে বা বরফের চাদরের উপরে টেন্ট হাউস নিতেও পারেন, যা এক কথায় অনবদ্য। তবে বাচ্চা বা বয়স্কদের জন্য সম্পূর্ন নিরাপদ নয়। হোটেল এড়িয়ে সবচেয়ে ভালো বিভিন্ন জাতের হলিডে হোম, বাংলো, কটেজ, হোমস্টে ইত্যাদি, এখানে মান অনুযায়ী রেস্তটা খসবে। মোটামুটি ৫০০ টাকা প্রতি রাত থেকে ২০০০০/- টাকা প্রতি রাত পর্যন্ত বাজেটের পাওয়া যায়। হানিমুন কাপলদের জন্য সর্বত্র বিশেষ প্যাকেজ বা সুবিধা থাকে, এখানেও তার ব্যতিক্রম নেই। অবিশ্যি মনের মাঝে প্রেম জ্যান্ত থাকলে যে কোন কাপলই হানিমুন করতেই পারেন। তাতে বয়স ১৮ হোক বা ৮১, মনটা যুবক থাকলেই হল। তবে কটেজে থাকার অভিজ্ঞতা সবচেয়ে অনন্য, নিজেরা থেকে এই রিভিউ দিচ্ছি। গ্রুপ ট্যুর বা ফ্যামিলি ট্যুরে ৩-৪ বেডরুম বিশিষ্ট একটা গোটা কটেজ বুক করতে পারলে আপনি সত্যিই জিতে যাবেনগোটা বিল্ডিং এ নিজেদের লোক ছাড়া কোন ঝঞ্ঝাট নেই, মোবাইলটা সাইলেন্ট মোডে রেখে দিলেই- শান্ত নিস্তব্ধ নিরুপদ্রব জীবনযাপন। যদিও এখানে সর্বত্র মোবাইলের সিগন্যাল পাওয়া যায়না, তা সত্বেও অন্তর্জাল দুনিয়া থেকে এই সময়টুকু দূরে থাকায় শ্রেয়।

সকল পাহাড়ি জায়গার মতন এখানেও খাবারের দাম সমতলের তুলনায় অনেকটায় বেশী, তবে নাগালের বাইরে নয়। অবশ্য ঘুতে গিয়ে খাবারের পিছনে পরে থাকা অর্থহীন বোকামি! দিনপ্রতি মাথাপিছু ২৫০-৪০০ টাকার মানসম্মত ব্রেকফাষ্ট থেকে ডিনার করা সম্ভব। জাঙ্কফুড বা বিরিয়ানি পোলাও এর মত ভারী খাবার না খাওয়াই ভাল। জলটা সকল সময় পাউচ বা সিল প্যাকড বোতল কিনে খাবার চেষ্টা করবেন। পাহাড়ি জল খেয়ে অনেক সময় পেটের সমস্যা তৈরি হয়।

কোথায় ঘুরবেন? গোটা হিমাচল প্রদেশটার প্রতিটা অংশই বোধহয় ভ্রমনপিপাসুদের স্বর্গ। তার মধ্যেও বিশেষ কিছু কিছু স্থানে গেলে কেকের উপরে চেরির কাজ করবে। পাহাড়ি খরস্রোতা বিপাসা নদটিকেই দেখার মতন, যদি কষ্টকরে এই প্রানবন্ত বরফ শীতল জলে সাহ করে পৌছাতে পারেন, তাহলে তার সুখানুভুতি অতীতের অনেক সুখকে ম্লান করে দেবার ক্ষমতা রাখে। লক্ষ কোটি নুড়ি পাথরের বাঁধাকে টপকে সমতলের উদ্দেশ্যে ছুটে চলা নদীতে- দুই তীরের অত্যাশ্চর্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দেখতে র‍্যাফটিং অন্যতম আকর্ষন।

মহাভারতের একটা বড় অংশ এখানকার স্থানীয় ঘটনা। যেমন মহাবলী ভীমে ও রাক্ষসী হিড়িম্বার পরিনয়, তাদের পুত্র ঘটোৎকচের জন্ম। সুতরাং ধর্মে বিশ্বাস থাকুক বা না থাকুক, সুন্দর বনানীতে ঘেরা কাঠের কারুকার্য খচিত প্যাগোডা ধাঁচের হিড়িম্বা মন্দিরটি মানালির অন্যতম আকর্ষন।

সোলাং ভ্যালি। একে আপনি বাংলায় বলতেই পারেন সিনেমায় যেমনটি হয়। আসলেও তাই। শীতকালে পুরু বরফের চাদরে মোড়া, মাথার উপরে রোপওয়ে সাথে স্কি সহ নানা আইস গেম। বরফ না থাকলে, যেন একটুকরো সুইজারল্যান্ড, সব পেয়েছির দেশ। প্যারাগ্লাইডিং অন্যতম আকর্ষন। বহু বলিউডি বা বাংলা সিনেমায় দেখা দৃশ্য হঠাৎ নিজের চোখে আবিষ্কার করলে চমকানোর কিছু নেই। আসলে আপনিও ঠিক সেই খানেই আছেন, যেখানে আপনার স্বপ্নের নায়ক নায়িকারা বিচর করেছিল

ইয়ে ইস্ক হায়... শাহিদ কাপুর আর করিনা কাপুর অভিনিত জাব উই মেট সিনেমাটার দৃশ্যটা একবার জাষ্ট চোখবুজে কল্পনা করে নিন। ঠিক ধরেছেন, অন্তত ১৫-২০ ফুট বরফ গভীর ভাবে কেটে রাস্তা বানিয়ে নায়ক নায়িকা জিপ গাড়ি করে গান গেয়ে চলেছেন, দুপাশে বরফের দেওয়াল। রোটাং পাস হল সেই জাইগা। এখানে এলে মনে হবে পৃথিবিতে অদৌ মাটি আছে! নাকি সবটাই বরফ? আসলে এখানে যতদুর চোখ যাবে সবটাই বর বরফ আর বরফ। এমন নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে পাবেন রোটাং পাসে। যেটা কেবল মাত্র গ্রীষ্মকালেই উপলব্ধ, কারন গ্রীষ্মে যেখানে এতো বরফ, শীতে যে সেই রাস্তা যান চলাচলের অযোগ্য, তা বলাই বাহুল্য।

নাজ্ঞার ক্যাসেল, যেখানে নাজ্ঞা রাজাদের স্থাপত্য আপনাকে এক লহমায় পাঁচ সাতশো বছর পিছনে নিয়ে যাবেই। মণিকরণ উষ্ণ প্রসবন, সে এক অপরুপ দৃশ্য। নিজের চোখে না দেখলে এই স্থানের বর্ননা করা মুসকিলএছারা বিপাসা কুন্ড, ভৃগু কুন্ড, যোগিনী প্রপাত, ভ্যানবিহার, কলা মিউজিয়াম, গুলাবা, মনু মন্দির, ইত্যাদি দর্শনীয় স্থান

রক ক্লাইম্বিং, ট্রেকিং প্যারাগ্লাইডিং, জাম্পিং, সহ বাইক ট্যুর আপনি করতেই পারেন। এখানে প্রতি দিন হিসাবে মোটর বাইক ভাড়া পাওয়া যায়। সুতরাং শখ থাকলে একবার ট্রায় করতেই পারেন। খরচ নাগালের মধ্যেই।

কুলু উপত্যাকা, ফুলের সমারোহ। বহু এ্যালোপ্যাথি ওষুধের কারখানা বা রসায়নাগার এখানেই তাদের কারখানা খুলে বসেছে। মানালী শীত প্রধান অঞ্চল, তাই এখানে বাহারী শাল- সোয়েটার টুপি মাফলার অত্যন্ত সস্তাতে পাওয়া যায়, নক্সাদার শীত বস্ত্রের নিজশ্ব ঠিকানা।

দৈনিক অর্ধ দিবস ও পূর্ন দিবসের ভিত্তিতে লোকাল সাইট সিয়িং এর জন্য গাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। ১২০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা দৈনিক ভাড়া। অল্টো থেকে ইনোভা যা খুশি আপনি ভাড়া করতে পারেন। এছারাও অনেক ছোট ছোট স্থান পথে পরবে , যা আপনাকে বিমোহিত করার জন্য যথেষ্ট।

এবার ফেরাফেরার রাস্তাটা যদি মানালি থেকে ভায়া সিমলা হয়ে করতে পারেন এবং সেটা দিনের বেলায়, তাহলে পয়শা উশুল ট্রিপ হতেই হবে। এক্কেবারে সোনায় সোহাগা। পৃথিবীর অন্যতম ভয়ঙ্কর দুর্গমতম সুন্দর রাস্তার শিরোপা পেয়েছে এই রাস্তাটি। সুতরাং সুযোগ হাতছারা না করাই ভাল। এর পরে সম্ভব হলে আধাবেলা চন্ডীগড় মার্কেটটা ঘুরে দেখুন, আপনার ভাল লাগতে বাধ্য।

অবশ্য করনীয়শীত পোষাক অবশ্যই সাথে রাখতে হবে, বিশেষ করে বাচ্চা আর বয়ষ্কদের জনা। পরিচয় পত্র, জলের বোতল বা ক্যান, রোদ চসমা, সানক্রিম, স্পোর্টস স্যু, এটিএম কার্ড আর যতটা সম্ভব কম লাগেজ। চার রাত পাঁচদিনের ট্যুরে কমপক্ষে মাথাপিছু ১৬- থেকে কুড়ি হাজারের মত খরচ হবে সর্বমোট।

ব্যাস আর কি তাহলে ব্যাগ প্যাক করে রওনা হওয়ার জন্য প্রস্তুতি শুরু করা যাকআর হ্যাঁ, আমি আবার সপরিবারে যাচ্ছি মানালির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে আরো একবার নিজেকে হারিয়ে ফেলতে। আমাদের রওনা ২৩শে মেচলেই আসুন, হয়তো একসাথেই এঞ্জয় করা যাবে

 

১০/০৫/২০১৬

 

সোমবার, ২১ মার্চ, ২০১৬

জাতীয়তাবাদ ও ক্রিকেট



জাতীয়তাবাদের হিড়িগ কি শুধু মাত্র খেলার মাঠেই আবদ্ধ? যদি সেটাই হয় তাহলে ক্রিকেট ছাড়া অন্য খেলাগুলোর দোষ কি? সেখানে দেশপ্রেমিক দের ভীর কোথায়?
সেখানে জয় ভারত মাতা বলে চিৎকার করলে, এথলিট গুলো অন্তত খেতে পায়। স্পনসর পায়, যাতে যাতাওয়াতের খরচটা উঠে। এদিনিই তো সৌরভের দাদাগিরি অনুষ্ঠানে এক ভারত্তোলক মহিয়সী কে দেখছিলাম। পয়সার অভাবে তিনি বিদেশ যেতে পারেননি, অথচ উনি জাতীয় চ্যান্মপিয়ন, নিজের বিভাগে।
উনি বিজ্ঞাপনের মুখ হবার যোগ্য হয় বলে, যদি ওনার কীর্তিটা দেশপ্রেম দেখানোর অযোগ্য হয়, তাহলে ধিক এই দেশপ্রেমকে।
আমি যতই ভারতীয় হইনা কেন, একমাত্র ভারতের বিপক্ষে না খেললে, আমি চিরদিনিই ওয়েষ্ট ইন্ডিজের ফ্যান। বিশেষ করে ওদের কেয়ারলেস ফিল্ডিং স্টাইটা আমায় দারুন আকর্ষন করে। ভাবটা এমন যেন "আরে দূর আমরা তো বোল্ড করব, বা যতই রান করনা কেন, আমাদের গেইল আছে, জাষ্ট উড়িয়ে দেব"। আমি এটাকে তীব্রভাবে উপভোগ করি। তার জন্য দেশপ্রেমিক হবার প্রয়োজন নেই। ক্রিকেটকে ভাল বাসলে, সচীন-সৌরভ কে তাকে তুলে রেখে, আক্রম-জয়সুরিয়া- সাকলিন- এন্ডি ফ্লাওয়ার- ম্যাকুলাম- হেডেন- গিলক্রিষ্ট- ডিভিলিয়ার্স বা জন্টিকে ভাসবাসতে হলে দেশদ্রোহী হবার প্রয়োজন নাই, ক্রিকেট প্রেমিক হলেই হবে।
আজকাল সব দেশেই একটা ট্রেন্ড চালু হয়েছে। জনপ্রীয় দেশীয় প্রোডাক্টের সাথে দু চামচ দেশপ্রেম গুলে দাও। সেটা বাবা রামদেবের পতঞ্জলী হোক বা বাবা আদমের জামানার BSNL। এদের রকমাত্র সম্পদ উগ্র দেশপ্রেমিকরা। পরিসেবা যেমন নিকৃষ্টই হোক না কেন। দেশপ্রেমের এক ডোজ বাটিকা থাকলেই প্রোডাক্ট হিট।
সেখানে ক্রিকেট অলরেডি হিট, এখানে দেশপ্রেমকে সংগঠিত করে অন্য প্রোডাক্ট বেচা যায়।
যতই ক্রিকেট তৃতীয় বিশ্বের মাত্র ১৬ টা দেশ খেলুক, জনসংখ্যার বিচারে সেটা চিন বাদে অবশিষ্ট পৃথিবীর জনসংখ্যার থেকে অনেক বেশি।
তেলা মাথায় তেল দেবার পদ্ধতিটি সকলের জানা।
ফ্যান হিসাবে আমিও ক্রিকেটের অন্ধ ভক্ত। ম্যাচ দেখতে এক সময় ঢাকাতেও গেছিলাম। ভারতের অধিকাংশ স্টেডিয়ামেও গেছি তীর্থ দর্শনের ঢং এ। সেটা অবশ্যই ক্রিকেটের প্যাশনে। এর সাথে অন্ধ জাতীয়তা বাদ গুলিয়ে ফেলিনি কোন দিন।
আজ কি আমাদের দেশে, কি বাংলাদেশে কি পাকিস্থানে, খেলাটা আর খেলার জাইগায় রাখেনি। কি সব তীক্ষ্ণ অসহ্য গালিগালাজ। সোস্যাল মিড়িয়ার অবস্থা আরো ভয়াবহ।
কাল ইডেনে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে, জাতীয় সঙ্গীত গাইবার সময়, পাকিস্থানে টা আগে কেন গাওয়া হবে, এই মর্মে আমার D ব্লকের কিছু জাতীয়তাবাদী(!) তীব্র চিৎকার জুড়ে দেন, আর শাফকাত আমানত আলি গানটা ধরার সাথেই "জয় মাতা দি" বলে কি তীব্র হুঙ্কার। হয়তবা লজ্জা পেয়েই হবে, ২০-৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ব্যাপারটার পরিসমাপ্তি ঘটে, মিনিট দুয়েকের মধ্যে অমিতাভের সাথে সকলে গলা মিলালাম।
অন্যকে অসম্মান করে এটা কোন জাতীয়তাবাদ? অন্তত খেলার মাঠে "স্পোর্টসম্যান স্পিরিট" বলে যে শব্দটা আছে, সেটার কি আসপাস দিয়েও যায় এই ঘটনাক্রম গুলো?
বাংলাদেশ না হয় নোংরামির চুরান্ত রুপ প্রদর্শন করছে, জাতীয়তাবাদের নামে। আমরাও তো পাল্লা দিচ্ছি সমান তালে। তাহলে পার্থক্য কোথায় থাকলো?
ক্রিকেট ছারাও অনেক খেলা আছে, যারা সত্যিই রুগ্ন। তাদের সরকারও দেখেনা ঠিকঠাক। আমরা যদি তাদের জন্য "জয় হিন্দ ধ্বনি তুলি, তাদের পিছনেও কর্পোরেট হাউস গুলো তাকার থলে নিয়ে দৌড়াবে।
সম্মান পরে জানাবেন, আগে একটা নুন্যতম চাহিদা পুরনের জীবনটা তাদের দেওয়া যায় কিনা ভেবে দেখি। তারা বিরাট কোহলির সম্মান না পাক, অন্তত "রণদেব বসু" মার্কা আয় জুটলেই বর্তে যাবেন।
যাঁরা টিভিতে ম্যাচ দেখেছেন, তাঁদের না জানারই কথা। আমরা যারা মাঠে গেছিলাম, বিশেষত আমি, সন্ধ্যা পাঁচটাই মাঠে মানে ইডেনে ঢুকেছি, পাঁচটা দুই থেকেই তীব্র বৃষ্টি, মুষলধারে। মোট তিনবারে শেষবারের মতন ছারল ০৬:৩৫ এ। এর পর প্রায় দেড়শো জনের মত একটা দল, যারা সেই পাঁচটা থেকেই সমানে মাঠে বসে বসে ভিজচ্ছিলো, তাদের অমানুষিক পরিশ্রম। খেলাটা চালু করার জন্য। তারা একবারও পাকিস্থান মুর্দাবাদ বলেনি, বা জয় মাতাদি ও বলেনি। অথচ ওই মানুষগুলো না থাকলে আমরা এই আমোদ করার সুযোগই পেতাম না।
আসলে কর্তব্য আর ক্যালামো এক নয়। ওদের কে ধন্যবাদ দিয়েছে আমার জানা নেই। না দেওয়াটাই যে আমাদের রেওয়াজ।
দেশপ্রেমিক তো ওরাই, দেশকে জেতানোর জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করে দেওয়া। আমরা যারা মর্কট নাচ নাচছিলাম, তারাও কি একবার তাদের জন্য মেক্সিকান ওয়েভ তুলেছি? ক্যামেরা ব্লিঙ করেছি? করিনি, কারন ওরা যে বিজ্ঞাপনের মুখ নন, ছাপোষা কতগুলো গরীবগুর্বো। ওটাই তো ওদের কাজ রোদে পিড়বে জলে ভিজবে।
আর আমরা ২০ টাকা প্যাকেট জলের পাউচ সাথে নিয়ে, জাঙ্গিয়ায় লুকিয়ে আনা সিগারটে কাউন্টার নিতে নিতে (আশ্চর্যজনকভাবে কেও কাওকে শুধান নি যে কোন জাত, মহার্ঘ সিগারেট আনা ব্যাক্তি হসাবে আমি এমনিতেই তাদের কাছে বীরের মর্যাদা পাচ্ছি, সেখানে জাতের কথা মনে আছে কার? চার ঘন্টা সিগারেট না খেয়ে থাকার চেয়ে, চার ঘন্টা জাতীধর্ম ভুলে থাকাটাই বুদ্ধুমানের কাজ। আর কে না জানে অভাবে বুদ্ধি বেশি কাজ করে) সুন্দরী মহিলার পুরুষ সঙ্গীটি, তাদের জন্য বরাদ্দ সিটের জবরদখলকারি ব্যাক্তিটিকে টিকিট দেখাতে বলায় " দেখি আপনার টা" এই বলার অপরাধে প্যান্টের চেন খুলে লিঙ্গ প্রদর্শন করে ও অট্টহাস্যে মেতে উঠে দেশপ্রেমিক বনে যায়, আর বাকিদেরো ঠিক করে দিই, কারা কারা দেশদ্রোহী
এথলেটিক্স এর প্লেয়ারদের নুন্যতম মজুরি টুকু কি তাঁরা পান, বিশ্বমঞ্চে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে?

অবশ্য জিতে গেলে তাঁকে পুরষ্কারের বন্যায় ভাষানো হয়, আর না হলে! সে নিজেই সময়ের স্রোতে ভেষে যায়।
এটা কি বিকিয়ে যাওয়া পঙ্গু দেশপ্রেম নয়? নাকি এ সবই বিজ্ঞাপনী চমক মাত্র।
কে না জানে দেশপ্রেমের কাটতি এখন বেশ তেজী। হোক, সাথে সাথে এথলিট রা ও মর্যাদা পাক, নুন্যতম ইনকামের গ্যারান্টি সহ।

@উন্মাদ_হার্মাদ

সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

একটি অন্তঃক্ষরণ আশ

ছবিঃ ইন্টারনেট 

ফাগুনের আগুনে পুড়ে যাক জ্বলন্ত হৃদয়,

সেখান হতেই জন্ম নেবে, একটা ট্রাজিক প্রেমগাথা।
হয়তো বা জানবে না কেউ! সবার অলক্ষ্যে বাষ্প হবে চোখের জল । প্রকাশ্যে তোমাকে দেখার আতিশয্যে চোখ থেকে পায়ের সমস্ত রোম উত্তেজনায় শিহরণে খাড়া হয়ে যাওয়া, হয়তো কেউই খেয়ালই করবেনা। হয়তো আনন্দাশ্রু লুকাতে চোখে থাকবে সানগ্লাসের বিলাস।

আমি জানি, আমি কাঁদছি, তবে তুমিও পাথর হয়ে গেছো নিশ্চিত। তোমার উদাসীনতায় আমার উষ্ণ রক্ত শীতল জল হয়ে গেছে। আর পরিস্থিতির চাপ নিশ্চই তোমার রক্তকে শুষ্ক বরফ বানিয়ে ছেরেছে।যার শীতলতা আমায় আরো অতলস্পর্ষী করে তুলছে।

তাই যতনা নিজের জন্য কষ্ট হয়, তার চেয়ে ঢের গুন বেশী তোমার জন্য "মায়া" হয়।

না পাওয়াটা আজকাল আর তেমন পীড়াদায়ক নয় আমারজন্য। আগুনে পাখির ডানাতেই তো আগুন থাকে, পালক পুড়ে যাবার প্রশ্নই নেই। আমি কচ্ছপের মতই যন্ত্রনাকে আমার পিঠের বর্ম বানিয়েছি। শুধু ওই কুর্মের সেই বয়সটা চাই, যাতে আরো আরো আরো... বেশি পুড়তে পারি তোমার স্খলিত বির্যের মত প্রেমানলে।

উফ !!! .... কি ভীষন সেই দহনজ্বালা!!
সাথে এক অপার্থিব তৃপ্তিকারক ও বটে।

'জনের ভাগ্যে এমন জীবন্ত তন্দুর জোটে?হৃদয় থেকে নিংড়ানো বিন্দু বিন্দু রক্ত, অশ্রুরুপে নির্গত হয়ে আমার শরীর তন্দুরে ঘৃতাহুতি স্বরুপ দিচ্ছে।
জানি সামনে অনাজা বিস্তীর্ন ভবিষ্যত, উত্তরমুখী এবং নিরুত্তর।
জমাট অন্ধকার, তরল আলকাতরার মত।
তোমার হাতটা ধরতেই তো বেড়িয়েছিলাম। সে ছিল এক প্রলয়ের ক্ষন। তবে সেই সকলই এখন ক্ষয়াটে স্মৃতি।


কিন্তু, অন্ধকার আর আমি লীন হয়ে গেছি। সমার্থকই হবে হয়তো। আমার জন্মের ক্ষনে কি শৃগাল বা বায়স্পক্ষীর তান্ডব দেখা গেছিল? নাকি অপদেবতাদের বিশেষ বরে আশির্বাদপ্রাপ্ত আমি? কর্পূরের যেমন জন্মই হয় উবে যাবার জন্য, আমারও বোধহয় তেমনই কিছু একটা রয়েছে।
তাই ভবিষ্যত আর ভাবি না।


জানো, আমার মনের পাড়ায় পূর্নিমার চাঁদ কোনদিনই আসেনি। পথ ভুলেও না। কারন সংকীর্ন এও পথটা বড়ই রুক্ষ। পথটা যদি নারী হত, তাহলে যৌবন কালে রজঃস্বলা হয়েওবা হয়ত পথটাকে পিচ্ছিল বানাতে ই পারতো, যে পথে চাদেরা আশাযাওয়া করতে পারতো। কিন্তু আমার মতই এ পথ মৃত।

যে আসত সে এক পিঙ্গল বর্ণের ঘষা তামার পয়সার মত, ------- অচল।
আচ্ছা কান্নাতে বেশি সুখ ? নাকি হাঁসিতে !? নাকি ঘৃনা আর প্রতিহিংশা তে?
জানো তো আমি দারুন একরোখা, আর স্বার্থপর, নিজে জ্বলছি, আগেও জ্বলব, কিন্তু এর ভাগ কাওকে দেবো না।

খুব শখ ছিল, তোমার বুকে মাথা রেখে তেপান্তরের মাঠে নিজেকে সঁপে দিতে।
আমার আদুর শরীরটাকে তোমার বাহুবন্ধনিতে পিষ্ট করে, নিজেকে মিষ্টি যন্ত্রনা তো দেওয়া হল না। আমার নারীত্বের শাপমোচোনই ঘটলো না। বয়েসের ভারে শরীর, চামরা-বুক সহ , সকলই হয়ত-বা ঝুলে পড়বে, কিন্তু আমার স্তনবৃন্ত কোনদিনিই পরিস্ফুটিত হবে না। অক্ষত যোনীর মুহুর্মূহ অভিসন্তাপে আমি বিদ্ধ। শিল্পীর পূর্নতা শৃষ্ট কর্মের উন্মোচনে। আমি ঈশ্বরের সৃষ্টি, কিন্তু হতভাগ্যের মত অনাবৃতই রয়ে গেলাম। সলজ্জ নির্লজ্জতার অধরা মাধুরি, অধরাই রয়ে গেল।


আমার সকল গোপনীয়তা তো তোমার কাছে বলব বলেই, আজ পর্যন্ত সেগুলো সবই গোপন।
আহ !!! ......

সে সবই গোপন রয়ে যাবে। যুগযুগান্তর, একদিন আমার সাথেই আবার ইচ্ছা গুলো, আমার সকল গোপনীয়তার শেষ রেখাটি অবলুপ্ত হয়ে যাবে।
বন্যতার সাধের কাঙালী ছিলাম ; নিতান্ত আটপৌরে সোহাগ টুকুও যে অধরাই রয়ে গেল।

আমি কাকে বলব আমার সকল আবদার ? কোথায় অনুযোগ করবো?
আমার খুনসুটি কে সহ্য করবে?

নাহঃ। আমি মরবো না। কারন এমনভাবে বেচে থাকার চেয়ে মৃত্যু অনেক অনেক বেশি সহজ।
---- আর সহজলভ্য বস্তুতে আমার কোনকালেই লোভ নেই।
আগে তোমার জন্য কবিতা লিখতাম,
আজ কাল কবিতা তোমায় অনুসরণ করেছে ।

আমার মনের পাড়ায় তাদের পদসঞ্চালনার শব্দ কানেই আসে না। কেবলই নিঃস্তব্ধতার আর্তনাদ। হাহাকার করে বেরাচ্ছে কত না বলা কথার দল। যারা দলা পাকিয়ে গলার কাছে মাঝে মাঝেই অবোরোধ করে।কান্না তো চোখে প্রকাশ পায়, কিন্তু এর উৎস মূখ কোথায়? নাভির তলদেশ? নাকি বাদিকের যেখানটা ধুকপুক করছে , সেখানটা?

আমি আজও সাজি, অত্যন্ত উগ্র সে কামিনী সাজ। আমি সাজি মাঝরাত্রে, একাকি, নির্জনে, প্রায়ান্ধকারে। নিজে নিজে দেখার জন্য। পিশাচসিদ্ধ যোগীনির মত উন্মত্ত সে ভয়ঙ্কর সে সাজ।

হ্যাঁ, তোমার কথা ভেবেই সাজি। আর মনকে বলি, দেখ নির্লজ্জ, মনটাকে যদি এইভাবে সাজাতে পারতিস, আজকে এই খালি বাসরে নি:সঙ্গ হুতাস যাপন করতে হতো না।

সে থাকতো তোরই কাছে।
কিন্তু আমি যে জানি অন্য কথা,
এ ভুল আমার নয়, ভুল সময়ের। হ্যা ভুল সময়ে জন্ময় আমাকে আজ মীরা বানিয়েছে।
জীবনের চক্রবুহ্যে সময় কে একদিন কি নাগালে পাবো না !?
সমস্ত স্পৃহা, লোলুপতা মিটিয়ে নেব মুহুর্তে।

প্রজাপতি আজ বোধহয় শুয়ো থেকে জন্মায় না। প্রজাপতির হতে চাই আমি, ওর শুড় আছে, কিন্তু আমি শুঁয়ো, আমার ঠোট আছে, আর আছে ওই ঠোঁটে অজস্র জ্বলাপোড়া, নিকরা ও হওয়ার তীব্র আকাঙ্খা।
জানো, আমি সুদুরেরও পিয়াসী, --- 'টা কবির কল্পনা নয়। না কল্পনা নয়।
এ আমার আরশি। আমার নিজের জগত।


জানো, ভালোবাসাতে আমি আজ কানায় কানায় পূর্ণ।
আমার দরকার ভালো বাঁসা।
বাবুই হলে নিজেই বুনে নিতুম। তোমার চওড়া কাধে ঘামের গন্ধে ম ম করে পাগল করে দেওয়া রোমশ বুকেই তো আমি বাসা বানাতে চেয়েছিলাম।

কেউ কেউ আছে এক মুহুর্তের ভালবাসার ভারে সারাজীবন কাটিয়ে দেয় ; ওটাই তার বাঁচার রসদ।
আর, কিছুজন সারাজীবন এক মুহুর্তের ভালবাসার জন্য চাতক হয়ে থাকে। কিন্তু সেই সৌভাগ্য হয় না। 

আমি অবশ্যই প্রথম দলে। পেতে আর কোন কিছুই বাকি নেই। কিন্তু আমি যে, কাম-ক্রোধ-লালসা-অহঙ্কার-মদ-মাৎসর্য এই ছটি রিপু ধাতু দিয়েই গড়া,--তোমারই মত। তাই অল্পেতে আমার তৃষ্ণা কেমনে মিটবে? আমার জঠরাগ্নি নাহয় শস্য দিয়ে ভরবে, আমার মন শরীর কে ভরাবো কি দিয়ে, তারা চরম ক্ষুধার্ত, মন্বন্তরের অভিযাত্রী সে।


আমি আকণ্ঠমগ্ন থাকতে চাই, তোমার উষ্ণ প্রেম গরলে।
আমি জ্বলতে চাই। আগ্নেয় লাভা পানের মধ্যে যে দগ্ধ সুখ, তা তোমরা কেমনে জানবে !!?
জানি, আমি শীঘ্রই বিস্মৃতির অন্তরালে হারিয়ে যাবো।
কেউই জানবে না আমার অস্তিত্ব ছিল বলে।
জানবে শুধু তুমি, তোমার প্রতিটি রোম।


-------- শেষ নি:শ্বাস পর্যন্ত।
শুধু এটাই জেনে রেখো, আমি তোমায় এঁটো করেছি। তোমাকে যে ই ভোগ করুক, সেটা আমার উচ্ছিষ্ট বই আর কিছু নয়।
--------- এটাই আমার তৃপ্তি, এটাই স্বার্থকতা।।।




#উন্মাদ_হার্মাদ

মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারি, ২০১৬

টাটকা অনুভুতি




টাটকা অনুভুতি
****************

অভিযোজন




আজ দুপুরে আমার কোলকাতা অফিসে বিল্ডিং এর নিচের তলায় এর দুজন ছেলেকে ওই অফিস বাড়ির বাকিরা, মানে দারোয়ান বা ওই জাতীয় কর্মচারিরা গনধোলাই দিয়ে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে পাঠিয়ে দিয়েছে। শুনেই তরিঘরি ছুটলাম। চারিদিকে যা জঙ্গিযোগ যা কিছু হতেই পারে। কমপক্ষে চোর। যদিও তারা আমার অফিসের কর্মচারি নয়, মনটা ধুকপুক করছিল। গিয়ে যা দেখলাম, চক্ষু চড়কগাছ।

ছেলে দুটো উড়িষ্যার কোন একটা স্থান থেকে কাজ করতে এসেছে। বয়স বছর ২৫শের মধ্যেই। হতদরিদ্র পরিবারের। মুলত পিয়নের কাজ করা বিধান । কিন্তু সকাল সন্ধ্যের ঝাড়ুদার থেকে রাতের নাইট গার্ড ওরাই। পায়খানা বাথরুম পরিষ্কার করার কাজটিও ওদের মত ছেলেগুলোই করে। দুটো এক্সট্রা পয়সা আমদানি হয় তাদের। বছরে ২-১ বার বাড়ি যায়।

আজ রবিবার, সব ছুটি। ওরাও নিজেদের মত নিজেদের রুমে ছুটি উপভোগ করছিল। ঘটনাচক্রে ওরা গে। হঠাৎ ওই বিল্ডিং এর অন্যা এক দু জন কর্মচারী তাদের তাসের আড্ডায় নিমন্ত্রণ দিতে এসে, অপ্রস্তুত অবস্থায় দেখেফেলে।

পরবর্তী ঠিকানা SSKM.

যৌনতা কি জন্মের সময়ে নির্ধারণ করা হয় বা যায়?
প্রকৃতিই তো আমাদের নারী বা পুরুষ বা সমকামি বানায়।
আস্তিকরা বলবেন ঈশ্বর। তাহলে তো সমস্যাই শেষ।

তাহলে যারা জন্মগত লেসবিয়ান বা গে, তাদের সাথে সমাজ এতো দূর্ব্যবহার করে কেন? সমাজ কে ছেরে দিন, আমরা ব্যাক্তিগত ভাবে কি সমকামিদের সুনজরে দেখি? দেখি না। আমরা বরং ভাবি, কি ভাবে তাদের মিলন হয়? সঙ্গম সুখ কিভাবে তাঁরা উপভোগ করে? প্রশ্নের শেষ নেই। অথচ প্রত্যেক স্ট্রেট যৌনতা যুক্ত নারী বা পুরুষ মৈথুন করেননি, এমন সতী কেউ নেই। তা সে স্বিকার করুক বা না করুক। তাহলে তখন কিভাবে সুখ লাভ করেন? কেউ কি কখন ও ভেবেছেন, যারা পৃথিবীর বিভিন্ন সেনাবাহিনির বীর জওয়ান, তাদের চাকুরি জীবনের তথা যৌবনের ওই বিস্তীর্ণ অংশে কি ভাবে যৌন ক্ষুধা মেটান?

যদি সমকামিতাকে ত্রুটিই ধরে নিই, তাহলে জন্মগত ত্রুটি কে কেন সারাজীবন একজন সুস্থ মানুষ সারাজীবন ক্যান্সারের মত নিজেকে অসুস্থ মনে করে অপরাধীর মত বেঁচে থাকবে?

যৌন অভিযোজন সাথে করে নিয়েই তো আমরা জন্মলাভ করি। যৌনতা তো স্বাভাবিক জৈবিক ক্রিয়া। বিজ্ঞানী, ধর্মীয় নেতা, জন প্রতিনিধি নির্বাচন করা যায় তাদের মেধার ভিত্ততে। যৌনতাকে কি বেছে নেওয়া যায়? আমরা যারা স্ট্রেট তাঁরা কি কখনো সমকামে নুন্যতম আগ্রহ দেখিয়েছি? বরং আমার ব্যাক্তিগত মতে ব্যাপারটা বেশ ঘৃনাই লাগে। এখন ভাবুন কেও যদি আমাদের সমকামে জোর জবরদস্তি করে, অবস্তা টা কি দাঁড়াবে।

অপরিবর্তনীয় জৈব কারণের দ্বারা নির্ধারিত হয় কে সমকামী, .কে নারী কে পুরুষ। সেই মত সমাকে নারী ও পুরুষের স্থান। নারীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা থাকলে সমকামিদের জন্য কেন নয়? জিন বা হরমোন কে কে অস্বিকার করতে পারে? আর কেও পুরুষ জিনের অধিকারী থাকলে কেনই বা সেই ঔদ্ধত্য বাকিদের উপরে প্রকাশ করবে?

অধিকাংশ পুরুষ জাতিই শুক্র প্রদান করা ছারা সন্তান পালনে কোন প্রত্যক্ষ ভুমিকা থাকেনা। পক্ষান্তরে অনেক পুরুষই সন্তানের পিতা হতেন না, যদি না যৌনতার সাথে শুক্রের ব্যাপারটা জড়িত থাকত। আজকে নারীবাদিরা আওয়াজ তুলছেন, তাঁরা সন্তান উৎপাদনের মেসিন নন। সঠিক কথা। তাহলে শুধু বংশ রক্ষার দোহায় দিয়ে সমকামিদের উপরে রাষ্ট্র বা সমাজ বা পরিবার কেন তাদের মত ও শারীরিক চাহিদার বিপরিত তথা এক অত্যাচার চাপিয়ে দেবে?

সমকামী মানুষদের নিয়ে, বৈষম্য সুরক্ষা দিতে, এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বাধ্যবাধকতাকে দূরে রেখে শুধু মাত্র মানবিকতার নজরে বিষয় টা কে কি ভাবা যায় না?


ছবিঃ ইন্টারনেট 

সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৫

অবলায়ন


উন্মাদীয় সোমরস

(উন্মাদীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে বর্নিত প্রতি সোমবারের জন্য নতুন সিরিজ)

অবলায়ন


নারী।

নারী মা, নারী স্ত্রী, নারী কন্যা, নারী ভগিনী, প্রকৃতিকেও আমরা নারী রুপেই পূজিত করিইয়া থাকি। কিন্তু আজিকের যুগে নারী মানে রক্তমাংসের ভোগ্যসামগ্রী। কর্মরত চাকুরীজিবী মহিলা বা উদ্যোগপতি থেকে বারবনিতা হয়ে নিতান্ত গৃহবধু, প্রায় সকলেই অধিকাংশ পুরুষের চোখে জৈবিক লালসা চরিতার্থ করিবার জীবন্ত যন্ত্র।
নারী মাত্রেই অবশিষ্ট মানবকুলের নিকটে সৌন্দর্যাভিমানিনী কামিনীকুল। গরবিনী আবেগিনি স্ত্রী রত্ন ললিতলবঙ্গলতা। ধর্ম মানবকে ধারন করুক বা মানবকুল ধর্মকে আহোরন করিয়া থাকুক, ধর্মচরিতানুসারে প্রায় সকল ধর্মেই নারী মানেই অবলা, প্রায় করুনার পাত্র, এবং তাহাদিগকে লইয়া ভাবনার অন্ত নাই। নিজ নিজস্ব সংবিধানানুসারে নারী মাত্রেই অশান্তির কারকের সহিত সমান্তরালভাবে দেবী রুপেও পূজিতা।
শারীরিক ক্ষমতার বিচারে প্রাকৃতিক নিয়মেই রমণীকুল পূং জাতি হইতে সামান্য পিছিয়ে। আর ইহা লইয়া দ্বন্দের অবকাশ নাই। আর বিভেদের বিষবৃক্ষ এই জমিতেই খুব সম্ভবত অঙ্কুরোগমিত হইয়াছিল। রমনী পেলব, মোহিনী শক্তিধারী, কৌমুদীয় রসময়ী, শরীরিসঞ্চালক লাবণ্যলীলাময়ী, সর্বপরী নারীই একমাত্র প্রজননক্ষম। সুতরাং মমত্ব নারীত্বের অন্যতম গুন, কিন্তু সবথেকে বৃহৎ গুনপনা সহ্যশক্তিতে। জীবজগতের সর্বাপেক্ষা সহ্য ও ধৈর্যশীলা জীব।
কবিগন যুগে যুগে নারী কে লইয়া কাব্যরচনা করিয়াছেন, কেহ সিন্ধুহিল্লোল চন্দ্রিকার সহিত, তো কেহ প্রভাকিঙ্করি উচ্ছলাভানুমতী, কোথাও রুপ হংসগামিনী তো কেহ গজেন্দ্রগামিনীর সহিত তুলনা করিয়াছে মৃগনয়নাদিগকে। সাহিত্যিক, ভাষ্কর, চিত্রকরেরা নারী শরীরকে মনুধ্যায়ের ছুরিকাঘাতে ভিন্নভিন্ন অংশে কর্তিত করিয়া সুললিত কাব্যে রসসঞ্চার করিয়াছেন যুগে যুগে। নারীই ভাবনার উৎস। শিল্পসাহিত্যের ভাণ্ডার উচ্ছলিত চিররঙ্গীনি তরঙ্গনী রসবতী দ্বারাই সজ্জিত, কখনো যদি তাহা মানসে তো কখনো প্রতীয়মানে।
কিন্তু ক্ষমতার প্রশ্নে অবলায়নের ইতিহাস অত্যন্ত দ্বীনদরিদ্র। নিতান্তই ব্যাতিক্রম কিছু অধ্যয় ব্যাতিরেকে রমনীদের সহিত রমনীমোহনদের দুরত্ব বেশ কয়েক আলোকবর্ষের। হাতসেপসু, নেফারতিতি, ক্লিওপেট্রা, ইসাবেলা, এলিজাবেথ, ভিক্টোরিয়া, আফ্রিকার আমিনা বা জিঙ্গা, রাশিয়ান এম্পেয়ারের ক্যাথরিন, চাইনিস তু-সাই, বা হাওয়ায়ের লিলিউকালানি হয়ে আমাদের দেশের সুলতানা রিজিয়া বা ইন্দিরা গান্ধী। আর কতিপয় ইতিইতি বিক্ষিপ্ত নাম ব্যাতিত এই তালিকা প্রায় সমাপ্ত। কথিত প্রচলন আমাদিগকের সমাজব্যাবস্থা নাকি ‘পূরুষশাষিত’। কিন্তু সৃষ্টির আদিতে শুধুমাত্র পুরুষ তো আর একা তো এই সমুদায় মানবজাতির বংশবিস্তার ঘটাইতে পারেনি, প্রথম মানবের আবির্ভাবের সাথে সাথেই প্রথম নারীরও নিশ্চিত আগমন ঘটিয়াছিল। নতুবা এই বংশবিস্তার সম্ভবপর হইতো না।
সুতরাং একই সাথে যাত্রা শুরু করিয়াও, স্ত্রীজাতি ক্রমপশ্চাদাভিমুখে প্রত্যাবর্তন করিয়াছে বা বলা ভাল প্রায়ংশে পত্তনাঘটেই রহিয়া গিয়াছে। কেহ বলিবে স্বল্পবুদ্ধাঙ্কের কারনে বা কেহ বলিবে পুরুষের সমকক্ষ দৈহিক বলশালিতা না রহিবার হেতু এই পশ্চাদবিলাশ তথা স্থবিরতা। কারন সে যাহাই হউক এই বর্তমান প্রযুক্তি বিজ্ঞানের যুগেও, যেখানে মঙ্গলকাব্য মঙ্গলগ্রহের লালমাটিতে বসিয়া রচিত হয়, সেই যুগেও সামাজিক বিন্যাসের প্রতি পদক্ষেপে নারীশক্তি কে আলাদাভাবে উল্লেখ করিতে হয়। নারী ক্ষমতায়নের জন্য পৃথকভাবে ভাবনা করিতে হয়।এবং তাহা পুরুষ জাতিই করিয়া থাকেন, অনেকটা দাক্ষিণ্য হিতৈষিতাবৎ।
ক্ষমতা কাহাকে বলে? সমাজবিজ্ঞানের পরিভাষায় ও রাজনৈতিক মতানুযায়ী, নিজস্ব পরিমণ্ডলে কতৃত্বের অধিকারকে ক্ষমতা বলিয়া গন্য করা হয়। বৈধ সামাজিক পরিকাঠামোতে কতৃত্ব সাধনের পথটি একাকি সংগঠিত হইবার পরিসর অত্যন্ত ঋজু। কতিপয় ব্যাতিক্রম ব্যাতিরেকে প্রায় সকল ক্ষেত্রেই কতৃপক্ষ নামের একটি সমবায় ক্ষমতার ব্যাবহারিক প্রয়োগগুলি করিয়া থাকেন সদস্যদিগের যোগ্যতার বিন্যাসানুসারে।
এবার যোগ্যতা। যোগ্যতা হইল একটি অতি আপেক্ষিক বিষয়। কোন একটি ধ্রুবক যোগ্যতাস্থানে অন্য একটু উচ্চমার্গীয় যোগ্যতার আবির্ভাব হইলে, সেই ক্ষনেই সেই ধ্রুবক যোগ্যতার পদাবনতি ঘটে। অপরপক্ষেও উচ্চযোগ্যতার অপসারনের সাথে সাথেই, নিম্নযোগ্যতা ধ্রুবক মান হিসাবে পরিগনিত হয়। সুতরাং ক্ষমতার কক্ষকেন্দ্রও যে কোন মুহুর্তে পরিবর্তিত হয়। এখন এই যোগ্যতা মান নির্ধারন হইয়া থাকে বলের উপরে ভিত্তি করিয়া। বাহুবল, বুদ্ধিবল আর অর্থবলই যাহার মধ্যে মুখ্য।
নারীকে সন্তানের জন্মদান থেকে তাহাদের লালনপালন করার হেতু, কর্মজীবনের এক বৃহৎ অংশ গৃহুভ্যন্তরেই অতিবাহিত হয়। অরণ্য বাসী জনগোষ্ঠীতে স্ত্রীজাতীও পুরুষদিগের সহিত স্কন্ধ্যে স্কন্ধ জুরিয়া শিকার হইতে যুদ্ধ সকল দৈন্দদিন কর্মই করিত, যাহা আজও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান। এবং যাহা একমাত্র শিশু ব্যাতিত সকল সদস্যদের জন্যই অবধারিত। প্রাচীনকালে একাধিক সন্তান সন্ততি জন্মদান ও পালনের হেতু যৌবনের এক বিস্তৃত অধ্যায় পক্ষান্তরে অধিকাংশ অধ্যয়ই কোথাও বা সমস্ত যৌবনই স্বামী-পরিবার পরিজনের উপরে নির্ভরশীল হইতে হইতেই আজকের রমনী বহুলাংশে কেবলমাত্র গৃহিণী রুপেই রহিয়া যান। অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষাই নারীর ক্ষমতায়নের মূল অংশ, যাহা তাহাদের মৌলিক অধিকারও বটে। তাহাদের ব্যাক্তিগত সমস্ত কিছুই স্বামী-সন্তান- আর পরিবার পরিজনদিগকে আবর্ত করিয়া সংগঠিত হইয়া থাকে। বর্তমান সভ্যতাতেও নারী কেবলিমাত্র পুরুষের ভোগ্যবস্তু, সন্তানজন্মদাত্রী ও গৃহকর্মের জন্য বিশ্বস্ত অবৈতনিক সেবিকা রুপেই স্বীকৃতি লভিয়াছে।
এই অবনতির পিছনে প্রধান দায়ী প্রকৃতি, নারীকে সৃষ্টিগত ভাবেই বেশ খানিকটা দুর্বল রুপে আত্মপ্রকাশ করিয়াছে। যাহার কৌশলগত লাভ পুরুষজাতী চতুরতার সহিত করায়ত্ব করিয়াছে। এই ভাবেই ধীরে ধীরে ক্ষমতার মূলস্রোত হইতে বিচ্ছন্ন হইতে হইতে , রমণীকুল নিজ স্পর্ধাকে প্রায় ভুলিয়া পুরুষের পদতলে নিজেকে সঁপিয়া দিয়াছে। অভ্যাস বড় বিষম বস্তু। সুতরাং শত সহস্র বৎসরের যুগাভিযোজনের মধ্যদিয়ে এই স্ত্রীস্বত্তা অতিবাহিত হইতে হইতে বর্তমানে অন্তঃপুরের বস্তুসামগ্রীতে পরিনত হইয়াছে, যাহার নিজস্ব মত প্রকাশের সেরুপ স্বাধীনতা নেই। লৌহখণ্ড নির্মিত ধারালো তরিবারিও অব্যাবহারে মরিচা ধরিয়া চূর্নবিচূর্ন হয়। স্ত্রীশক্তিও বর্তমানে সেই ক্ষয়িষ্ণু দশায় উপনীত।
আমরা দেবীরুপে স্ত্রী জাতির পূজা অর্চনা করিয়া থাকি। শক্তির প্রতিক রূপে মান্যতা দিই। কিন্তু ব্যাবহারিকি ক্ষেত্রে এই প্রয়োগ উল্লেখযোগ্য ভাবেই অন্তর্হিত। ইহার কারন নিশ্চিত রুপেই সেই ‘কতৃপক্ষ’ নাম্নী প্রতিষ্ঠান। কারন মানব সমাজবদ্ধ জীব। কতিপয় ক্ষমতাবান ব্যাক্তি, পূর্বে উল্লেখিত ক্ষমতার উৎপত্তি ও বিন্যাস অনুসারে তাহাদের সংবিধান রচনা করিয়া আসিয়াছে। মানব চরিত্রে স্বার্থ ও তৎসম্বলিত অধ্যয় বিচিত্র বিন্যাসে সজ্জিত। আর এই স্বার্থ চরিতার্থ করিবার উদ্দেশ্যে ও অযোগ্যকে যোগ্য করিয়া তুলিবার অভিপ্রায়ে রাজনীতির ছল-চাতুরীর প্রনয়ন ঘটে। সাংসারিক ও প্রাকৃতিক বাধ্যবাধকতার কারনে সৃষ্ট অনুপস্থিতি হেতু কতৃপক্ষ নামক সমিতিতে, মহিলা সদ্যসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কম। নীচস্বার্থের কায়ীমি রাজত্ব রক্ষার্তে অযোগ্য পুরুষ কতৃপক্ষ গন, কখনো সামাজিক বিধান, কখনো ধর্মীয় বিধান বা কখনো নিতান্তই বলপূর্বক, ক্ষমতার অপব্যাবহার করিয়া নারীকে যোগ্য মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করিতে করিতে, সেই চলমান ঘরানাকেই বিধান রূপে স্থাপনা করিতে সক্ষম হইয়াছে।

বিজ্ঞানের নিয়মেই, কেহ মূলকক্ষপথ থেকে বিচ্ছিন্ন হইয়া গেলে পুনরায় নতুন কোন বল ব্যাতিরেকে সেই পুরাতন কক্ষপথে পুণঃস্থাপিত হইবার আশা নাই বলিলেই চলে। এক্ষনে এই বল বাহ্যিক বা আভ্যন্তরিন, যেকোনটিই হইতে পারে। মাঝে মধ্যেই আমরা ইতিস্তত যে নারী শক্তির উত্থান পরিলক্ষিত করি তাহা নিতান্তই কোন এক বিশেষ ব্যাক্তির আভ্যন্তরিন বলের দ্বারা প্রাপ্ত শক্তির জয়। যাহা ওই নারীকে ক্ষমতার কেন্দ্রস্থলে লব্ধপ্রতিষ্ঠ করিতে সক্ষম হইয়াছে।
আজিকে চতুর্দিকে একটা গুরুগম্ভীর ঢক্কানিনাদ, যে নারীকে ক্ষমতা প্রদান করিতে হইবে। বর্তমান বিশ্বলোকে ইহাই অন্যতম সার্বজনীন বিষয়। কিন্তু আমরা এই নির্লজ্জ উদযাপন করিয়া কি রমনীকুলকে অনুকম্পা দেখাইতেছি না! নারীর মৌলিক ক্ষমতা, তাহাদের জন্মগত অধিকার, বাকি সমাজ অনৈতিক উপায়ে যারা রুদ্ধ করিয়া রাখিয়াছিল, তাহা সলজ্জ ও সসম্মানে নারীজাতিকে ফিরিইয়া দেয়ার মধ্যেই গৌরব, সলাঙ্কার অনুষ্ঠানের মধ্যে নহে। উন্মাদীয় মতে সেটা নিশ্চিত রুপেই স্ত্রীজাতীর অপমান। কারন নারী কখনই অনুগ্রহের পাত্র নহে। দান করা বস্তুর উপরে দাতার একটা আমিত্ব ভাব লুকাইয়া থাকিবেই। অনেক ক্ষেত্রে দানকৃত বস্তু কারিয়া বা ছিনিয়া লইবার নিকৃষ্ট উদাহরনেরও অভাব নাই। তাই ক্ষমতায়ন দান বা প্রদান নয়, নারীকে স্বীয় বলে তাহা অধিকার করিতে হবে। তবেই তাহা কায়েমি ও গরিমাময় হইবে।
নারীর ক্ষমতায়ন শুধুমাত্র নিজস্ব স্বার্থ বা স্ত্রীজাতীর স্বার্থ সুরক্ষিত করিবার উদ্দেশ্যে হইলে, তাহা অল্পদিনেই আবার হাতছারা হইতে বাধ্য। পরিবার ও সংসারই হইল রাজনীতির সুতিকাগৃহ, আর সেই সংসদের অধিপতি নিঃসন্দেহে রমনীগন। তাহা হইলে সঠিক শিক্ষা ও পরিচর্চা পাইলে স্ত্রী জাতির অসাধ্য কোন কোন কর্ম নাই এই ভূলোকে, যাহার সম্পাদন করিতে অক্ষম। ক্ষমতাবান নারীগনদিগকে গোটা সমাজের জন্য ভাবিবার অভ্যাস করিতে হইবে। এমন এক পরিবেশের জন্ম দিতে হইবে যেখানে প্রভুত্বের বদলে মমত্বের রাজত্ব চলিবে। উদাহরণস্বরূপ একজন মহিলা আরক্ষা কর্মীর পিছনে যেন তিন জন পুরুষ কর্মীকে পাহারা দেবার জন্য না থাকিতে হয়। উক্ত পেশায় যথেষ্ট পরিমানে প্রশিক্ষিত মহিলা কর্মীর সংস্থান থাকিলে তাঁহারা নিজেরাই নিজেদের রক্ষা করিবার পাশাপাশি সমাজকে সুরক্ষা প্রদান করিতে সক্ষম। কারন এই নারীই নিতান্ত অসহায় শিশুকে আপন ক্রোরে সুরক্ষা প্রদান করিয়া তাহাকে পৃথিবীর উপযুক্ত করিয়া তোলে। অন্যথায় এই দূর্দশাগ্রস্থ বৈষম্য ঘুচিবার নহে।
অনেক পন্ডিতগন সমাজের সর্বস্তরে নারীদের সমান অধিকারের দাবী উঠাইয়া থাকেন। কিন্তু তাহা সমাজের পক্ষে আরো ভয়াবয়। অধিকারের দাবি যদি তুলিতেই হয়, তাহা হইলে মহিলাদের জন্য উচ্চশিক্ষা আবশ্যিক করার দাবি করা হউক। প্রয়োজনে প্রকৃত দুঃস্থদের জন্য নিঃখরচায় তাহার বন্দ্যবস্ত করা হউক। স্বভিমান জাগ্রত না হইলে, সমান অধিকার কখনই রক্ষিত হইতে পারে না। আর স্বধিকারকে প্রকৃত শিক্ষা বিনা জাগ্রত করিবার দ্বিতীয় পন্থা নাই।
সরকার বাহাদুর আইন প্রনয়ন করিয়া, স্বীয় পছন্দ ও স্ববিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার ক্ষমতাকে নারীদের মধ্যে আনয়ন করিয়া, ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরনের একটা সৎ প্রয়াস চালাইতেছেন, নিঃসন্দেহে সাধু প্রয়াস, কিন্তু কতজন নারী সেই পর্যন্ত পৌছাইতে পারিতেছেন! ইহা কেবলিমাত্র কয়েক শতাংশ দপ্তরী রমনীকুলের ক্ষেত্রেই লাগু। বিভিন্ন সামাজিক , সরকারি ও ধর্মীয় মানদন্ডের যাঁতাকলে পিষ্ট, গৃহ ও কর্মস্থলের মধ্যেকার দুঢ়হ সমন্বয় রক্ষা করিবার কর্মটি অত্যন্ত বন্ধুর, তাহার উপরে চলমান লিঙ্গবৈষম্যের এক অলঙ্ঘ্যনীয় বেড়াজাল নাগপাশের ন্যায় বেশকয়েকটি প্রজন্মকে ঘিরিয়া রহিয়াছে, সেই প্রাচীরকে সকলের পূর্বে বিলীন করিতে পারিলে, তবেই কর্মস্থল কে নিরাপদ বানানো যাইতে পারে।
স্ত্রীলোকাদিগনে ক্ষমতাবান হইতে গেলে নিশ্চিত রুপেই সৌন্দর্যের অধিষ্ঠাত্রী রুপে আত্মজাহির করিতে হইবে। এই সৌন্দর্য মোটেই রঙ ও প্রসাধন সর্বস্ব কোমোলাঙ্গী নহে, বিদ্যা বুদ্ধি ব্যাক্তিত্ব ও সুস্থ সক্ষম শরীর দ্বারা প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতাকে পরাক্রান্ত করিয়া সৌন্দর্যের বিকাশ ঘটানোর নামই সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ। এবং এই পদ্ধতিটিকে ব্যাক্তিকেন্দ্রিক আবদ্ধ না রাখিয়া সমাজের প্রত্যন্ত স্তরে পৌছাইইয়া দেবার মধ্যেই এর ক্ষমতায়নের সফলতা নির্ভর করিবে। কারন কতৃপক্ষ নামক সমিতিতে যতক্ষন না সমসংখ্যক বা পুরুষের অধিক স্ত্রী ক্ষমতার উপস্থিতি থাকিবে, ততক্ষন পর্যন্ত ক্ষমতায়নের বিন্যাস পরিষ্ফুটিত হইতে পারেনা। আর শিক্ষাই এই ক্ষমতায়নের প্রাথমিক শর্ত। কারন শিক্ষা ব্যাতিত জ্ঞানের উন্মোচন সম্ভবপর নহে। অধিকার বোধ সঞ্চারিত করিতে আত্মপ্রত্যয়ের প্রয়োজন, আর সেই শক্তি অবশ্যই মানসিক। যাহা চরিত্র গঠনের অনুশীলনের মাধ্যমে গঠিয়া উঠে। সহিষ্ণুতা নারী চরিত্রের অন্যতম গুন, যাহা পুরুষ অপেক্ষা কয়েকগুন বেশী। সতরাং সহিষ্ণু ব্যাক্তির নিকটে ক্ষমতা ন্যাস্ত থাকাটা, সকল ক্ষেত্রেই সামাজিক সুরক্ষা প্রদান করিয়া থাকে।
শিশুর প্রথম শিক্ষা মাতৃক্রোড়েই। তাই স্ত্রীশক্তির জাগরন বিনা বীর জন্ম নিতে পারেনা, ব্যাতিক্রম রহিত। নারীর শৃঙ্গার নিশ্চই থাকিবে, সনাতনী ভ্রুপল্লবের ছুরিকাঘাতের সাথে সাথে অসিবিদ্যাতেও পারঙ্গম হইতে হইবে। স্তন- যোনী-নিতম্বের অধিকারিণীগন শুধুই শয্যাসঙ্গিনী নয়ে, তাহা প্রমানের দায়িত্বভার স্ত্রীজাতিরই। সলজ্জ অবগুণ্ঠন উঠাইয়া জ্ঞানের আলোককে প্রবেশের অধিকার দিতে হইবে। যে পুরুষ নারীকে অবদমিত করিয়া রাখিয়াছে, তাহারা ওই নারীর যোনীদ্বার হইতেই ভুমিষ্ট হইয়া স্তনযুগল হইতে অমৃত সুধা পানকরাইয়া দৈহিক শক্তি প্রদান করিয়াছে। সুতরাং যাহারা পুরুষের জন্ম দেন, তাঁহারা কোন অংশেই পুরুষ হইতে কম যোগ্যতার হইতে পারেনা। শুধু আত্মবিশ্বাসটুকু প্রয়োজন।
আমরা যারা নারী ক্ষমতায়নের জন্য চিৎকার করছি, তাঁহারা সর্বপ্রথমে নিজ গৃহের ভগিনী, কন্যা, ও স্ত্রীকে শিক্ষিত করিয়া তুলি। তাহার পর নিজ পড়শিগনকে, স্পম্ভপর হইলে আত্মীয়স্বজনদিগকে। এইভাবে সম্মিলিত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা সমবেত ভাবে শুভারাম্ভ করিলে অচিরেই নবরুপে ক্ষমতার বিন্যাস হইবে। যাহার প্রত্যক্ষ সুফল গোটা সমাজের সাথে সাথে বিশেষ করিয়া পুরুষ জাতিই উপভোগ করিবে। দায়িত্বের বাঁটোয়ারা হইবে। প্রদেয় ক্ষমতা হইতে স্বহস্তারোপিত ক্ষমতা অনেক অধিক ইজ্জতের।
কারন ক্ষমতা মানে শুধুই প্রভুত্ব নহে, ক্ষমতা মানে স্কন্ধে ভরষার হস্ত অর্পন করিয়া, সকল পরিস্থিতিতে সাথে থাকিবার আশ্বাস।
তবেই হইবে ক্ষমতার প্রকৃত অবলায়ন।
~~~~~~~~~
বিঃদ্রঃ- উন্মাদীয় বানানবিধি অনুসৃত।
উন্মাদ হার্মাদ
১৪/১২/২০১৫

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...