সোমবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০১৬

খাজনা - ভারতীয় করব্যাবস্থা




কালো টাকা কালো টাকা করে দেশ উত্তাল। যার প্রতক্ষ্য আঁচ দেশের সংসদভবন থেকে প্রতিটি আমজনতার হেসেলে গিয়ে পৌছেচে। কিন্তু কালো টাকা কিভাবে জমা হয় জানা আছে? অবশ্যই জানেন। রাষ্ট্রকে কর ফাঁকি দেওয়া সম্পদই কালোধন।
আপনি বেনেকর হোন বা তেন্ডুলকর, চিত্রকর হোন বা জাদুকর বা সরকারের চা-কর বা গনৎকর, আপনি মুম্বইকর হোন বা বর্ধমানের মানকর নিবাসী , এমনকি পারিকর হলেও কর আপনাকে দিতেই হবে যদি তার আওতাভুক্ত হন। নাহলেই আপনার সমস্ত রোজগারই কালোটাকা হিসাবে জমা হবে। সেই আ-করে, পাতে কাঁ-কর পরার দরুন এ-কর এ-কর পরিমান জমি কেঁদে ভাসালেও, শেষে দুঃখ ভুলতে বাঁ-কর জলে তেষ্টা মেটাতে হবে। সুতরাং কর-জোড়ে অনুরোধ কর জমা করে সু নাগরিক হন। নিজে বাচুন ও দেশকে আগামীর জন্য সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে অংশিদারিত্ব করুন। নাহলে কর ফাঁকির দায়ে হাত-কর-আ পড়তে হবে, এবং জরিমানা সহ সবটা কর-আই-গন্ডায় উশুল করে নেবে সরকারি পেয়াদা। আর বলবে- বাকি রাখা খাজনা, মোটে ভাল কাজ না।
রাজ রাজরা আমলেও খাজনা ব্যাবস্থা ছিল, আজও রয়েছে। আজকের দিনেও আমাদের দেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ব্যাবস্থা সকলের জন্যই প্রায় বিনামুল্যে । খাদ্য সুরক্ষাতে গরীব প্রান্তিক মানুষদের জন্য নাম মাত্র মুল্যে খাদ্য সামগ্রী প্রদান করা হয়। শত্রুদের থেকে আমাদের দেশের সার্বভৌমতা রক্ষা করতে প্রতিরক্ষা খাতের বিপুল বরাদ্দ থেকে সারা দেশ জুড়ে লক্ষ লক্ষ কিলোমিটার সড়কপথ রেলপথের সব খরচাটাই রাষ্ট্রকে বহন করতে হয়। এছারাও আরো হাজার হাজার সরকারি প্রকল্প আছে যেগুলো আমরা আম-মানুষ সকলে সবটা জানিও না। তাহলে এগুলোর উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে এবং দেশকে আরো উন্নত করতে বিপুল অর্থের যোগানের প্রয়োজন। আর দেশের একমাত্র রোজগার এই কর ব্যাবস্থা থেকে। এখন দেশ মানে আমরা সকলেই।
তাহলে কর দেওয়া ছাড়া যেখানে গতি নেই , সেখানে আপনি-আমি কতটা ওয়াকিবহাল সার্বিক কর ব্যাবস্থা সম্বন্ধে! আসুন উন্মাদের নজরে একবার সেইজ্ঞানটা ঝালিয়ে নেওয়া যাক।
ভারতের কর ব্যাবস্থা নিয়ন্ত্রন করে ভারতের রাজস্বমন্ত্রক। এই মন্ত্রকের আওয়ায় নানান সংস্থা, ভিন্নভিন্ন খাত থেকে কর সংগ্রহ করে রাষ্ট্রের তহবিলে জমা করে। কিছু কর প্রতক্ষ্য কেন্দ্র সরকারের অধীনে, কিছু কর রাজ্যের হাতে। এখন ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতি ব্যাবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় পঞ্চায়েত বা পুরসভাও তাদের কর আদায় করে থাকে।
কর মূলত তিন প্রকারের হয়ে থাকে।
i) প্রতক্ষ্য কর
ii) পরোক্ষ কর
iii) অন্যান্য বা বিবিধ কর।

প্রতক্ষ্য কর
-----------
প্রতক্ষ্য করের প্রায় সবকটিই ভারতের কেন্দ্রিয় সরকারের সংস্থা সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডাইরেক্ট ট্যাক্স” (CBDC) নামক সংস্থা নিয়ন্ত্রন করে। এই প্রতক্ষ্য করের অধীনে থাকে যথাক্রমেঃ-

১) আয়কর
~~~~~~~
আয়কর বা ইনকাম ট্যক্সের নাম শোনেননি এমন মানুষ বিরল। ভারতের যেকোন বাসিন্দা, বা বিদেশী কোন নাগরিক ভারত থেকে রোজগার করলে, বাৎসরিক হিসাবে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের বেশি আয় করলে তার একটা অংশ সরকারকে কর হিসাবে জমা করতে হয়। আয় যত বেশি করের পরিমানও তত বেশি। আয়কর দপ্তরের আইন অনুযায়ী ভারতের বসবাসকারী প্রতিটি ব্যক্তি, HUF অর্থাৎ অবিভক্ত হিন্দু পরিবার, AOP তথা (ব্যক্তি এসোসিয়েশন, বিনিয়োগ বোর্ড, ব্যক্তিদের গোষ্ঠী), করপোরেট সংস্থাগুলো, কোম্পানি, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য সকল আইন, পেশার সাথে যুক্ত ব্যক্তি কে সরকার নির্ধারিত নুন্যতম আয়ের বেশি আয় করলেই তিনি আয়কর দিতে বাধ্য। পূর্ববর্তী বছরের মোট আয়ের উপর সহ, চলতি অর্থবছরের উপরে এস্যাসমেন্ট করে, করের পরিমান ধার্য করা হয়। একজন পুরুষ- মহিলা এবং বয়স্ক নাগরিকদের জন্য করের হার আলাদা আলাদা।

২০১৬-১৭ অর্থ বছরে হিসাবটা যেমন ছিল-
পুরুষঃ বাৎসরিক হারে 
,৫০,০০০/- টাকা পর্যন্ত করমুক্ত
,৫০,০০১/- থেকে ৫,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত ১০% হারে
,০০,০০১/- থেকে ১০,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত ২০% হারে
১০,০০,০০১/- থেকে ১,০০,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত ৩০% হারে
,০০,০০,০০০/- টাকা বা ততোধিক পরিমান ৪০% হারে (অতিরিক্ত ১০% সারচার্জ)

বয়স্ক নাগরিক বাৎসরিক হারে 
,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত করমুক্ত
,০০,০০১/- থেকে ৫,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত ১০% হারে
,০০,০০১/- থেকে ১০,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত ২০% হারে
১০,০০,০০১/- থেকে ১,০০,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত ৩০% হারে
,০০,০০,০০০/- টাকা বা ততোধিক পরিমান ৪০% হারে (অতিরিক্ত ১০% সারচার্জ)

অতি বয়স্ক অর্থাৎ ৮০ বছর বা ততোধিক বয়স্কদের জন্য করছারের উর্দ্ধসীমার মাত্রা ৫,০০,০০০/- টাকা। বাকিটা অন্যাদের মত একই।
আয়করের অধীনস্ত আরো দুই প্রকারের কর রয়েছে
ক) বেতনকর বা পে-রোল ট্যাক্স 
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ 
বেতনকর আসলে একজন চাকুরীজীবির বেতন কেন্দ্রিক যাবতীয় আর্থিক রেকর্ডের সমষ্টি কর। আদপে Paysheet এর উপরে উল্লেখিত, যেমন মজুরি, বোনাস, এবং সমস্ত রকমের ডিডাকসনের যোগফলের উপরে নির্ধারিত হয় এই ধরনের ট্যাক্স। সরকারি হোক বেসরকারি চাকুরি, সকল নিয়োগকর্তাকে তার কর্মচারীদের, নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণের মাধম্যে বেতনকর সরকারি খাতে জমা করতে হয়।

খ) উইথহোল্ডিং ট্যাক্স বা প্রতিসংহার কর
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
এই ধরনের করে, করের পরিমান টাকা আগেই কেটে নিয়েই বেতন প্রদান করা হয়। এছারা বিভিন্ন কমিশন ব্যাবসা, ভাড়া ব্যাবসা, পেশাদারি পরিষেবা, এগ্রিমেন্ট, প্রতক্ষ্য বেতন ইত্যাদির উপরে লাগু হওয়া করও এই প্রকারের করের অধীনেই গনিত হয়।



দ্বিতীয় কিস্তি
~~~~~~~~
২) মূলধনী ট্যাক্স বা ক্যাপিট্যাল গ্যেইন ট্যাক্স
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
১৯৬১ সালের আয়কর আইন অনুযায়ী, স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ থেকে অর্জিত যে কোনো প্রকার আয় মূলধনী থেকে আয়' হিসাবে বিবেচিত হয়। আর সেই আয়ের উপরে ধার্য হওয়া করকেই মূলধনী কর বলে। আরো সহজভাবে বললে, কোন মূলধনী সম্পত্তিথেকে তখনই আয় পাওয়া সম্ভব যখন সেটা বিক্রি বা ট্রান্সফার বা লিজ দেওয়া হয়। আর তা থেকে প্রাপ্ত অর্থরাশির উপরেই কর লাগু হয়।
ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স, স্বল্পমেয়াদী লাভ এবং দীর্ঘমেয়াদী লাভ- এই দুই ধরনের ভাগে বিভক্ত। যেমন কোন কোম্পানীর শেয়ার , বা সরকারি বা বেসরকারি বন্ড ইত্যাদি।
অবশ্য ব্যালেন্স সিট বা বাৎসরিক জমা খরচের খাতায় যদি উপরোক্ত লেনদেনকে মূলধনী সম্পদের আওতাতে দেখানো হয় , কেবলমাত্র তখনি এই কর ব্যাবস্থা লাগু হয়। অনেক সময় স্ক্রুটিনির সময় কর দপ্তরের অফিসারেরা হিসাবে অসঙ্গতি খুঁজে পেলে, রোজগারকৃত অতিরিক্ত অর্থ কে ক্যাপিট্যাল গ্যেইন হিসাবে দেখিয়ে দেয়।
৩)সম্পদকর বা ওয়েলথ ট্যাক্স
~~~~~~~~~~~~~~~
কোন ব্যাক্তির বা পরিবারের নিট সম্পদের পরিমান ছাড়িয়ে গেলে, সম্পদের তুল্যমুল্য ভ্যালুয়েসন করে তার উপরে ১% হারে কর ধার্য হয়। এটাই সম্পদ কর। কিন্তু কোন রাজনৈতিক দল, বা ট্রাষ্টি, কো-অপারেটিভ সোসাইটি ইত্যাদি সংস্থারা যত খুশি সম্পত্তি নিজেদের নামে রাখতে পারে, এরা সম্পদকরের আওতার বাইরে। যদিও এস্যাসেমেন্ট বছর 2016-2017 সাল থেকে কারোর ক্ষেত্রেই এই সম্পদকর আর প্রযোজ্য হবে না।
৪) সিকিউরিটিজ লেনদেন কর: -
অনেক মানুষ তাদের শেয়ার বা বন্ড কেনাবেচা সংক্রান্ত লেনদেন আয়কর দপ্তরের কাছে ঘোষনা করেনা ট্যাক্স ফাঁকি দেবার জন্য। এই পরিস্থিতিতে সরকার শুধু মাত্র এই মানুষগুলোর জন্য এক বিশেষ ধরনের করব্যাবস্থা চালু করেছে, যার নাম সিকিউরিটি ট্রানজাংসন ট্যাক্স (STT)স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিটি লেনদেনের উপরে লাগু হয় এই খুব নুন্যতম কর, যেমন শেয়ার কেনাবেচা, ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ডের ডিভিডেন্ট ইত্যাদি লেনদেনের উপরে ০.০১৭% থেকে ০.১২৫% পর্যন্ত সর্বোচ্চ হয়ে থাকে।
৫) কর্পোরেট ট্যাক্স
~~~~~~~~~~
প্রতিটি নথিভুক্ত ব্যাবসায়িক সংস্থা সারা বছরের মুনাফার উপরে একটি নির্দিষ্ট কর দিতে বাধ্য থাকে। এটাই কর্পোরেট ট্যাক্স। মোট রোজগার থেকে, উৎপাদন জাত খরচা, ডেপ্রিসিয়েসন, দৈনন্দিন অফিসিয়াল খরচা ইত্যাদি বাদে নিট আয়ের উপরে কর ধার্য হয়। এই করের হার দেশীয় আর বিদেশী কোম্পানীগুলোর জন্য আলাদা আলাদা। 
 
কোম্পানী- বাৎসরিক মুনাফা এক কোটির নিচে- বাৎসরিক মুনাফা এক কোটির উপরে-
দেশীয় কোম্পানী- ৩০% হারে + শিক্ষা সেস- ৩০% হারে + শিক্ষা সেস+ সারচার্য 
বিদেশী কোম্পানী- ৪০% হারে + শিক্ষা সেস - ৪০% হারে + শিক্ষা সেস + সারচার্য
ফ্রিঞ্চ বেনিফিট ট্যাক্স ট্যাক্স আর ডিভিডেন্ট ডিস্ট্রিবিউসন ট্যাক্স নামের দুটি প্রতক্ষ কর রয়েছে, যেগুলি এই কর্পোরেট ট্যাক্সের অধীনেই তথা সম্পর্ক যুক্ত।

তৃতীয় কিস্তি
~~~~~~~~~

পরোক্ষ কর বা ইনডাইরেক্ট ট্যাক্স
---------------------- 

যে কর কোন ব্যাক্তি বা কোম্পানির আয়ের সাথে প্রতক্ষ্য সংযোগ থাকেনা সেই ধরনের করই হল পরোক্ষ কর। যেমন বিভিন্ন ধরনের দ্রব্য বা পরিষেবার উপরে লাগু হওয়া রাষ্ট্র নির্ধারিত রাশি, সেই দ্রব্য ক্রয় বিক্রয়ের উপরে বা পরিসেবার মানের উপরে ধার্য হয়। 

১) এক্সাইজ ডিউটি বা আবগারি কর
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ 

দেশে উৎপাদিত পন্যের উপর লাগু হওয়া একধরনের করকে আবগারি কর বা অন্তঃশুল্ক বলা হয়। সেন্ট্রাল বোর্ড অফ এক্সাইজ আন্ড কাস্টমস (CBEC) নামক সংস্থার অধীনে রাষ্ট্র এই কর আদায় করে থাকে। এই করের অপর নাম CANVAT ২০১৬ সালের বাজেট অনুযায়ী একমাত্র রুপোর গহনা ছাড়া যেকোন ধরনের গহনা হিরে জহরতে ইনিপুট ট্যাক্স ক্রেডিট ছাড়া ১% আর ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট সহ ১২.৫০% কেন্দ্রকে দিতে হয়। একমাত্র মদ, স্পিরিট জাতীয় রাসায়নিক দ্রব্যাদি, চেতনানাশক এলকোহোলিক দ্রব্যে লাগু এক্সাইজ ডিউটি রাজ্য সরকার সংগ্রহ করে তাই একে স্টেট এক্সাইজ ডিউটিবলা হয়ে থাকে। বাকি সকলই কেন্দ্রীয় এক্সাইজ ডিউটির অধীনস্ত। যেমন- ১৬ই অক্টোবর ২০১৬ তারিখে ১ লিটার পেট্রোলের উপরে এক্সাইজ ডিউটির পরিমাণ ছিল ২১ টাকা ৪৮ পয়সা। 

২) আমদানি শুল্ক বা কাস্টমস ডিউটি
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ 

বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পন্যের উপরে লাগু হওয়া করকে আমদানি শুল্ক বা কাস্টমস ডিউটি বলা হয়। যেমন- ১৬ই অক্টোবর ২০১৬ তারিখে ১ লিটার পেট্রোলের উপরে কাস্টমস ডিউটির পরিমাণ ছিল ০৩ টাকা ৯২ পয়সা। 

৩) সার্ভিস ট্যাক্স বা পরিষেবা কর
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

দেশের মধ্যে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে কোন ব্যাক্তি, অপর কোন ব্যাক্তি বা সংস্থা দ্বারা পরিষেবা গ্রহন করলে সরকারকে একটা কর প্রদান করতে হয় , যার নাম সার্ভিস ট্যাক্স বা পরিষেবা কর। টেলিফোন, ট্যুর অপারেটর, আর্কিটেক্ট, গৃহসজ্জা, বিজ্ঞাপন, বিউটি পার্লার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ব্যাংকিং ও যেকোন আর্থিক সেবা, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, রেস্টুরেন্ট, রক্ষণাবেক্ষণ সেবা, পরামর্শ সেবা ইত্যাদি এই পরিষেবা করের আওয়ার অন্তর্ভুক্ত। এর সবচেয়ে চালু অঙ্কটি হল ১৪.৫০%, যেটা আমরা অনেকেই দিয়ে থাকি।

৪) বিক্রয় কর বা সেলস ট্যাক্স
~~~~~~~~~~~~~~~~~~ 

কয়েকটি বিশেষ পন্য ব্যাতিরেকে দেশের যেকোন স্থানে কোন অস্থাবর পন্য তথা দ্রব্য বা পরিষেবা বিক্রয় করতে হলে সরকারকে নির্দিষ্ট পরিমাণ একটা কর দিয়ে তবেই সেটা ক্রেতাকে হস্তান্তর করতে পারেন। সেলস ট্যাক্সের- রাজ্য ও কেন্দ্র বন্টন রয়েছে। কিছু কর আন্তঃরাজ্য বিক্রয়কর হিসাবে রাজ্য সরকার গুলো ভিন্ন ভিন্ন হারে আদায় করে থাকে। রাজ্যগুলিতে একে VAT বলে উল্লেখিত বর্তমানে, আর কেন্দ্রেরটা CST নামে পরিচিত। এর জন্য প্রতিটি বিক্রেতাকে VAT বা CST রেজিস্ট্রেসন করিয়ে নির্দিষ্ট নাম্বার নিতে হয় এবং সেই খাতে কর প্রদান করতে হয়। কারন এই কর অন্তিম বিক্রেতা দ্বারা পয়েন্ট অফ সেল থেকে বিক্রেতার থেকে ডাইরেক্ট কালেক্ট করা হয় পন্য বা পরিসেবার মূল দরের সাথে জুড়ে। এবং সেই অন্তিম বিক্রেতার দ্বারাই সরাসরি সরকারের কোষাগারে জমা হয়। 
যেমন- ১৬ই অক্টোবর ২০১৬ তারিখে , রাজ্যগুলিকৃত ভ্যাট আদায়ের পরিমাণ ছিল, ১ লিটার পেট্রোলের উপরে সেলস ট্যাক্সের ২৭% এবং ডিজেলের উপর ১৬.৭৫%। এর উপরে অতিরিক্ত ২৫ পয়সা পলিউসন সেস। 

৫) মার্কেটিং কমিশন বা চুঙ্গী কর
~~~~~~~~~~~~~~~~~~ 

আন্তঃজেলা পরিবহনের নিমিত্ত জেলা মার্কেটিং কমিসনের তত্বাবধানে এবং রাজ্য কৃষিবিপনন মন্ত্রকের অধীনে সকল প্রকার কৃষিজাত পন্য বিপননের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পন্যের উপরে ভিন্নভিন্ন শতাংসের হারে কর প্রদান করতে হয়। একেই মার্কেটিং ট্যাক্স বলা হয়। বিভিন্ন জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার মূল রাস্তার পাশে বাঁশের চুঙ্গী টাঙ্গিয়ে এই ধরনের কর পণ্যবাহী ট্রাকগুলো থেকে আদায় করা হয়, তাই একে চুঙ্গী করও বলা হয়।


বিবিধ কর
***********
১) প্রফেশনাল ট্যাক্স বা পেশাগত কর
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
উপার্যনক্ষম প্রতিটি স্বতন্ত্র ব্যাক্তিকে একটি নির্দিষ্ট হারে কর প্রদান করতে হয় রাজ্য সরকারকে। যেমন, উকিল, ডাক্তার, চাটার্ড একাউন্টটেন্ট, কোম্পানির চাকুরে ইত্যাদি ব্যাক্তিরা এই করের আওতায় পরেন। অনেক রাজ্যে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেসন দ্বারাও এই কর সংগ্রীহিত হয়ে থাকে, তবে এর হার রাজ্য ভেদে আলাদা আলাদা হয়।
২) উপহার কর
~~~~~~~~~
একজন জীবিত ব্যাক্তি অপর কোন জীবীত ব্যাক্তি বা করের আওয়ায় থাকা প্রতিষ্ঠানকে কোন সম্পত্তি বা অর্থ দান করলে গ্রহীতা ব্যাক্তির উপরেও কর লাগু হয়, যদিনা সেই অর্থের উপরে আয়কর বা সম্পত্তির উপরে সম্পত্তিকর প্রদান করা হয়ে থাকে। ১৯৫৮ সাল থেকেই এই কর ব্যাবস্থা সারা দেশে বলবৎ রয়েছে , জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য ছাড়া।
৩) স্বচ্ছভারত ট্যাক্স
~~~~~~~~~~~~
কেন্দ্রীয় সরকারের স্বচ্ছ ভারত মিশনকে সফল করতে ও তার জন্য তহবিল গঠন করতে ১৫ই নভেম্বর ২০১৫ থেকে যেকোন প্রকার করযোগ্য পরিমানের উপর ০.৫% হারে এই স্বচ্ছভারত ট্যাক্স আদায় করে ভারত সরকার। শৌচালয়, ওয়েষ্টবিন, থেকে শুরু করে পাবলিক প্লেস পরিচ্ছন রাখা কর্মীবন্ধুদের বেতন সহ আধুনা অমিতাভ বচ্চনের বিজ্ঞাপনের খরচও এই তহবিল থেকে খরচ করা হয়ে থাকে।
৪) কৃষি কল্যান কর
~~~~~~~~~~~~
নাম দেখেই বোঝা যাচ্ছে, দেশের কৃষিক্ষেত্রে গবেষনা ও বিবিধ ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য তহবিলের স্বার্থে, পয়লা জুন ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকার সকল করযোগ্য পরিমানের উপর ০.৫% হারে অতিরিক্ত কর আদায় করে থাকে।
৫) প্রমোদকর বা এন্টারটেনমেন্ট ট্যাক্স
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
যেকোন প্রকার সিনেমার মুক্তিতে কেন্দ্রসরকার এই কর আরোপ করে থাকে। তাছারা সিনেমার টিকিট, বেসরকারি উৎসব, মেলে-খেলা, জলসা, বানিজ্যিক বিনোদন, প্রমোদভ্রমন ইত্যাদির উপর থেকে সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার এই কর আদায় করে থাকে।
৬) স্ট্যাম্প ডিউটি, রেজিস্ট্রেশন ফি, মিউটেশন কনভার্সন ফি, ও ট্র্যান্সফার ফি 
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ভারত রাষ্ট্রের আইন মোতাবেক, যেকোন সম্পত্তির আইনানুগ দলিল বানানোর উপরে আরোপিত ট্যাক্সকেই স্ট্যাম্প ডিউটি হলা হয়। এরপর এই দলিলটিকে ১২০ দিনের মধ্যে কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে আইনানুগ নথিবদ্ধ করতে দলিল বানানোর যে কর দিতে হয় , তাকেই রেজিস্ট্রেশন ফি হলা হয়। জমি, বাড়ি, গাড়ি ইত্যাদি প্রতি ক্ষেত্রেই এই রেজিস্ট্রেশন ফি আবশ্যক। পরবর্তীতে উক্ত দলিলটির রেজিস্ট্রেশন হস্তান্তর বা মালিকানা পরিবর্তন হলে সেক্ষেত্রে সরকারকে ট্র্যান্সফার ফি প্রদান করেই নতুন রেজিস্ট্রেশন নাম্বার পাওয়া সম্ভব। জমির ক্ষেত্রে তার মান (কৃষি থেকে বাস্তু বা ইন্ড্রাট্রিয়াল) বা নাম (পরচাতে) পরিবর্তনের জন্য ভুস্বামীকে যে কর দিতে হয় তাদের যথাক্রমে মিউটেশন ও কনভার্সন ফি বলা।
৭) প্রবেশ কর
~~~~~~~~ 
আন্তঃরাজ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে, অর্থাৎ একরাজ্যের পন্য অন্য রাজ্যে প্রবেশ করার জন্য, কয়েকটি বিশেষ পন্য ব্যাতিরেকে সকল প্রকার পন্যের জন্য, একটি নির্দিষ্ট হারে গন্তব্য রাজ্য সরকারকে কর প্রদান করতে হয়। ভারতের অনেক শহরেও প্রবেশ করতে হলে, সেই শহরের নাগরিক ছাড়া অন্য নাগরিকদের ট্যাক্স দিতে হয় সংশ্লিষ্ট পুরসভাকে, এটাও এক ধরনের প্রবেশ কর।
৮) শিক্ষা কর
~~~~~~~~~ 
ভারতবর্ষের বিভিন্ন অবৈতনিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় গুলির পরিকাঠামো, শিক্ষা সরঞ্জাম ইত্যাদির উন্নতিকল্পে কেন্দ্রীয় সরকার কতৃক এই কর সাধারনত আয়করের সাথেই আদায় করা হয়ে থাকে।
৯) পুরকর
~~~~~~~ 
দেশের প্রতিটি পুরসভাতে বসবাসকারি প্রতিটি নাগরিক সংশ্লিষ্ট পুরসভাকে পুর পরিসেবার জন্য পুরকর দিতে বাধ্য।
১০) রোড ট্যাক্স, পলিউসন ট্যাক্স, টোল ট্যাক্স
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ 
ইঞ্জিনচালিত সকল প্রকার যানবাহনকে রাজ্যের অধীনে চলার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের ভিত্তিতে কর প্রদান করতে হয়, একে রোড ট্যাক্স কবে। দুষন পরিষদের ছারপত্রের জন্য প্রদেয় করকে পলিউসন ট্যাক্স বলে। কিছু কিছু রাস্তায় চলাচলের জন্য ইঞ্জিনচালিত গাড়িকে নির্দিষ্ট দুরত্বের ভিত্তিতে প্রদেয় করকে টোল ট্যাক্স বলে।
১১) পরিকাঠামো বা ইনফ্রাস্ট্রাকচার ট্যাক্স
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~ 
দেশে উৎপাদিত সকল প্রকার জ্বালানি চালিত যানবাহনের উপর এই কর আদায় করে থাকে। পেট্রোল, CNG বা LPG চালিত গাড়ির ক্ষেত্রে ১% হারে, ছোট ডিজেল গাড়ির ক্ষেত্রে ২.৫% হারে, SUV বা তদুর্ধ গাড়ির ক্ষেত্রে ৪ % হারে কর নেওয়া হয়। প্রসঙ্গত চলতি আর্থিক বছরে যার লক্ষ্যমাত্রা ৩০০০ কোটি টাকা।
১২) ভুমি রাজস্ব কর
~~~~~~~~~~~~
জমি, পুকুর, বাগান, বাড়ি, ফ্ল্যাট, দোকান, কারখানা, সহ সকল প্রকার ভুমি সম্পর্কিত সম্পত্তির উপরে আরোপিত করকে ভুমি রাজস্ব কর বলা হয়। রাজ্য সরকারের অধীনে ভূমি ও রাজস্ব দপ্তর এই কর আদায় করে থাকে।
বর্তমানে পরোক্ষ সকল করগুলিকে একত্রিভুত করে কেন্দ্রীয় সরকার পন্য ও পরিষেবা করনামক একটি কর সারা দেশ ব্যাপী লাগু করতে সংসদে বিল এনেছে। যদিও এই বিলটি পূর্বতন কেন্দ্রীয় সরকারই প্রবর্তন করতে চেয়েছিল, রাজনৈতিক জটিলটার কারনে যেটি এখনও ঝুলে রয়েছে। এই বিলটি পাস হয়ে গেলে কর ব্যাবস্থাতে অনেকটাই পরিবর্তন হবে, বিশেষ করে পরোক্ষ কর ব্যাবস্থাতে। বর্তমানে সবটাই প্রস্তাবিত ও আলোচোনার টেবিলে রয়ছে। সেটার বাস্তবায়ন হলে আরেকটা আলোচনা সকলের জন্যা তোলা রইল।
সমাপ্ত
উন্মাদ হার্মাদ
(
উন্মাদীয় বানানবিধি অনুসৃত)
বিভিন্ন সরকারি পোর্টাল ঠেকে তথ্য সংগৃহীত


বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

।। অথ কৃষ্ণধন কথা ।।



চতুর্দিকে একটাই রব এখন কালোটাকা।

তাহলে কালো টাকাটা ঠিক কি বস্তু?

পাতি বাংলাতে ট্যাক্স না দেওয়া রোজগারই হল কালো। তাহলে কালো টাকা কারা কামাই করে? আপনি আমি সকলেই কালো টাকা জমা রাখতে পারি, রাখিও। কিভাবে? আমাদের সামান্য জমির ট্যাক্সটুকু দিইনা, কোথাও থেকে অতিরিক্ত ইনকাম করলে সেটা প্রতিবেশী আত্মীয় এমনকি বউকেও লুকিয়ে যাই, সরকার তো কোন ছাড়। আমরা হলাম জনগন, রাজনীতিই হোক বা ধর্মনীতি আমাদের মতটার বাইরে যে কোন প্রকার মতকে আমাদের অমিত প্রতিভাবলে অস্বীকার করি।

আসলে আমরা অধীনস্ত থাকতে ভালবাসি। তা সে আগে রাজার রাজত্বেই হোক বা গনগন্ত্রে নেতার অধীনে। ধর্মীয় ভক্তিবিশ্বাসেও আমরা সেই অদৃশ্য ক্ষমতার দাস মনে করি। সুতরাং সকল প্রকার প্রভুদের দক্ষিনা দিতে হয়। ধর্মে যেটা দান, রাজ বা গণতন্ত্রে সেটাই খাজনা। আমার আয়ের একটা অংশ ক্ষমতাধরদের উদ্দেশ্যে ভেট চড়ানো, যাতে আমার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকে। ধর্মে নিয়ম থাকলে তাতে প্রতক্ষ্য পেয়াদা পাঠিয়ে শাস্তির বিধান বা নমুনা কোনটাই নেই। কিন্তু আগে রাজতন্ত্রে এখন গনতন্ত্রে তার জো টুকু নেই। রায় মহাশয় বলেই গেছেন, বাকি রাখা খাজনা- মোটে ভাল কাজ না। সুতরাং খাজনা বা কর বা ট্যাক্স আপনাকে দিতেই হবে। সমস্যা এখানে হয়না কখনই, আয় করব তাতে রাষ্ট্রকে তার আইন মোতাবেক কিয়দাংশ দিতেই হবে। কিন্তু সমস্যা তখন হয় যখন আমরা সেই রাষ্ট্রের নিয়মকে কাঁচ কলা দেখাই। বা রাষ্ট্র যখন রায়মহাশয়ের কায়দায় বলে উঠেন- কম খেলে নাহি খেদ- বেশি খেলে বাড়ে মেদ।

কর ফাঁকি রাষ্ট্রের চোখে অপরাধ, কারন রাষ্ট্র যদি ইঞ্জিন হয় তাহলে কর তার জ্বালানি। এখন করফাঁকি দেওয়া অপরাধ, কিন্তু রাষ্ট্র সর্ব শক্তিমান হয়ে কখনও কখনও গুলিয়ে দেয় তার প্রশাসন যন্ত্রের দ্বারা, যে এরা আসলে চোরের সমতূল্য বা ততোধিক। ট্রেনকে জনগনের সম্পত্তি বলে জ্ঞান করি। আর আমিও জনগন, তাই ফ্যান লাইট গুলো না খুলে নিয়ে এলেও দায়িত্ব নিয়ে বিনা টিকিটে যাতায়াত করি। নিজের তো তাহলে টিকিট কাটব কেন? মিনিবাস না হলে যারা, এক গেট দিয়ে উঠে অন্য গেট দিয়ে নেমে যায় টিকিট না কেটে, তাদের সাথে করফাঁকির দায়ে অভিযুক্তকে একপাত্রে গুলিয়ে দেওয়া হয় চতুরতার সাথে।

একজন ভিখারীও কালো টাকা রোজগার করতে পারে, যদি না সে তার আয়ের উৎস রাষ্ট্রকে জানায়। কর ব্যাবস্থা রাষ্ট্রের একমাত্র চালিকাশক্তি। সেটা প্রত্যক্ষ কর হোক বা পরোক্ষ কর। প্রত্যক্ষ কর হল ইনকাম ট্যাক্স, সেল ট্যাক্স, ভ্যাট, সার্ভিস ট্যাক্স ইত্যাদি। পরোক্ষ ট্যাক্স রাষ্ট্র তার নিজ ব্যাবসা থেকে আমদানি করে বা ব্যাক্তি পুঁজির উপরে লাগু করে। যেমন শুধু আমদানির হিসাবে যে পেট্রোল ভারতের বাজারে লিটার প্রতি ২৬ টাকায় পাওয়া উচিৎ ছিল, সেটা কিনতে হয় কমবেশি ৭০ টাকাতে। সুতরাং ৪৪ টাকা হল পরোক্ষ কর। আমাদের দেশের আয়ের মোটামুটি ১৮% প্রত্যক্ষ কর থেকে প্রাপ্ত। বাকি সবটাই পরোক্ষ কর।
আমাদের ১৩০ কোটির মাত্র দেড় কোটি মানুষ ইনকাম ট্যাক্স দেয়। শতাংশের বিচারে ১% মাত্র। যার মধ্যে ৮০% চাকুরিজীবি আর অবশিষ্ট ২০ % ব্যাবসাদার। এটাই আমার মতে কালোধন জমা হওয়ার সবচেয়ে বড় কারন। আমাদের দেশে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার নিয়মে IT File ম্যান্ডেটারি করলেই অনেকটা লাভ হত বলে আমার ধারনা। ট্যাক্স দিক বা না দিক, সকলের রোজগার খাতার সারাংশটা তো রাষ্ট্রের কাছে রইল। এখন প্রশ্ন কালো রোজগার বন্ধ না হলে কালো টাকা জমা বন্ধ হবে কিভাবে?

আমার ৫০ বিঘা সম্পত্তি রয়েছে। তার থেকে একটা রোজগার হয়। আমি যদি কালো টাকা রোজগার করি, সেটাও আমি বেশি বেশি করে দেখাবো, যে আমার এই বিপুল রোজগার কৃষি থেকে এসেছে যেটা সম্পূর্ন কর মুক্ত। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় আমার জমি আমার আসলে খাতায় কলমে, হয় সেটা ভেস্টেড, বা ভাগচাষী বর্গাদারেররা চাষ করে আমায় যৎসামান্য দেয়। কিন্তু এই কাগজগুলোর আড়ালে কালো টাকা ফুলে ফেঁপে উঠছে। এই কালো টাকা কিভাবে বন্ধ করবে সরকার, এই ১৩০ কোটির দেশে? আমাদের পাড়ার বিভিন্ন শ্রেণীর ৫০ জনকে শুধিয়ে দেখিছি, ৪৪ জনই তেমন কিচ্ছুটি জানেনা আয়কর সম্বন্ধে। সুতরাং শিশুমনের ভিতরেই এটা গেঁথে দেওয়া দরকার। অ এ অফিসারেরা আসবে তেড়ে... আ এ আয়করটি দেবো বেড়ে... এই ধরনের কিছু চালু করলে সকলের কাছে একটা সম্যক প্রাথমিক ধারনাটুকু জন্মাবে।

কালো টাকা আমার কাছে কালো। কিন্তু আমি যখন বাজারে গিয়ে দু কিলো খাসির মাংস ১২০০ টাকায় কিনলাম, বা এক কিলো গলদা চিংড়ি ১০০০ টাকায় কিনে নিয়ে বিজয়ীর হাসি হেসে বাড়ি ফিরলাম, টাকাটা কিন্তু সাদা হয়ে গেল। কারন ওই মাংস বা চিংড়ি বিক্রেতারা প্রান্তিক মানুষ। তারা করের আওতাতেও আসেননা। এভাবেই কালো টাকাগুলো বাজারে খাটে, যেটা বাজার অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। যতটা না একলপ্তে বার ঢের বেশি ছোট ছোট প্রকারে এই ভাবে।

তৃতীয় শ্রেনির একটা কর্মচারীর ঘুষের ৫০০০ টাকা বা সরকারি স্কুলের একজন শিক্ষকের গৃহশিক্ষকতা করে রোজগারের কালো টাকা ভোগ্যপণ্যের পিছনেই ব্যায় হয়ে যায়। ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, উৎপাদন বাড়ে, কর্মদিবসের সৃষ্টি হয়। রোজগার ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রিজ, টিভি, মোবাইল, মোটরসাইকেল, বাথরুমের টাইলস থেকে সৌখিন বালিশ, লেপ, কম্বল সবটাই এক্সট্রা ইনকামের টাকায় কিনি। আর কে কবে চেক দিয়ে কিনেছি? সবটাই নগদেই কিনেছি। মুষ্টিমেয় কিছু শহুরে বা উৎসাহী মানুষ ছাড়া বাড়ির খাবারের চালটা আলুটা কবে চেক বা কার্ড সোয়াইপ করে কিনেছি। সবটাই নগদে লেনদেন, সেটা সাদা তে হোক বা কালোতে। তাই দুম করে নগদের যোগান বন্ধ করা মানে সুস্থ শরীরে ইচ্ছাকৃত বিষ প্রয়োগ। তাতে মৃত্যু না ঘটলেও যে ঘাগুলো ক্রমে ফুটবে সেটা সারতে বহুবছর লেগে যাবে। তাই কালোটাকা রুখতে কালো রোজগারের পথটা কঠোর পথে বন্ধ করতে হবে।

কালো টাকা বাজারেই থাকে, সেটাও রোজকার অর্থনীতিরই অংশ। আর এই সত্যটা ঠিকঠাক না অনুধাবণ করে ডিমানিটাইজেসনের ফলে আজকের এই অচলাবস্থা। একটা ফোঁড়া হলে পাশ করা বড় ডাক্তার নানা পরিক্ষা করে দেখবেন, যে সেটা কাটতে গেলে কোন স্নায়ু বা শিরা আঘাতপ্রাপ্ত হবে কিনা, কিন্তু হাতুড়ে? ধর রোগী চালা চাকু। আরো ভয়ঙ্কর হচ্ছে সমাজ বিরোধীর চাকু আর ডাক্তারের চাকুর পার্থক্যটাই বুঝতে হবে। শুরু থেকেই ফলাও করে বলা হচ্ছিল জঙ্গীগোষ্ঠী গুলো ভয়ঙ্কর ভাবে জব্দ হবে। কিন্তু বাস্তব কি তাই বলছে? পড়শি দেশের জঙ্গি হামলা মোটেও কমেনি নোট বাতিলের প্রভাবে, রাষ্ট্রের সেই দাবি ফোলা বেলুনের মতই চুপসে গেছে। সংবাদে প্রকাশ সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর আমাদের ২৫ জন বীরসেনা শহীদ হয়েছেন। আর দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী একজন ব্যক্তিপূজাতেই ব্যস্ত।

বর্তমান রাষ্ট্র জনগনকে অবশ করে রাখতেই উৎসাহী। তাহলে যন্ত্রনা ভুলে থাকবে। তা সে রাজ্যই হোক বা কেন্দ্র। রাজ্য মিছরির ছুরি। নাচ গান উৎসব অনুদান ছুটি ইত্যাদি দিয়ে ব্যাথা ভুলিয়ে রেখেছে। কেন্দ্র আরেককাঠি সরেস। সেই প্রাচীন প্রবাদ "একটা লাঠিকে না ভেঙ্গে কিভাবে ছোট করবেন, সিম্পল - পাসে একটা বড় রেখে দাও। আপনা থেকে আগেরটা ছোট দেখাবে।" তাই কেন্দ্র কখনও গোমাংস, কখনও সীমান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি, শিক্ষাক্ষেত্রে জবরদখল, মেকি জাতীয়তাবাদের হুজুক আর এখন অর্থনীতিকে কোমায় পাঠিয়ে মানুষের রোজকার মৌলিক সমস্যাগুলোর মোকাবিলাতে বালির বাঁধ দিয়েছেন। জনহিতে করছি বলে বিজ্ঞাপনের অন্ত নেই দেশজুড়ে। কিন্তু কোন দিশাতে? শুধালে শুধু প্রাক্তনদের ব্যর্থতার তুলনা আর দেশদ্রোহীতার ছাপ্পা পাওয়া যাচ্ছে। আরে বাবা আগের সরকার ব্যর্থ বলেইনা আপনারা দায়িত্বে এসেছেন।

অনেকে ঘোলাজলে মাছ ধরতে ব্যাস্ত। ক্ষুদ্র আর মাঝারি ব্যাবসায়িদের জন্য। রাষ্ট্রই কেন শুধু খুচরো ব্যাবসায়িদের কথা ভাববে, তারা যদি রাষ্ট্রকে না দেখে? দেশের ৮০% ব্যাবসা খুচরো হলে সেখানেও তো আয় হয়, সেই আয় এই ব্যাবসায়িরা সরকারের কাছে গোপন করে কেন? নুন্যতম প্রভিশ্যনাল ট্যাক্সটুকু সকলে নিজের নিজের মত করে রাষ্ট্রের খাতায় জমা করলে রাষ্ট্রকে এতো ফন্দি বের করতে হতনা। বিন্দু বিন্দুতেই তো সিন্ধু হয়। সদিচ্ছাটা আসলে আমাদেরও নেই। আমরা একটাই পারি দোষারোপ করতে। সকলে ভুল শুধু আমিই ঠিক এই ভাবনার সংক্রমন মারাত্বক। যেটা রাষ্ট্র থেকেই খানিকটা ছড়াচ্ছে।

যুগেযুগে পন্ডিতরা বলে এসেছেন পেটে টান পরলে মানুষ ধর্মগ্রন্থ ছিঁড়ে খায়। এ পরিস্থিতিতে সেই পেটেই লাথ পড়েছে। তাই রাজনীতির রং, দল, জাত, সাদা কালো ভুলে এই নরনারায়ণের দল কিন্তু রাষ্ট্রের এই ভাঁওতাবাজিতে খুব বেশীদিন আচ্ছন্ন থাকবেনা। আমারা জনগন আসলে দারুন স্বার্থপর। যতক্ষন নিজের প্রয়োজন ততক্ষনই আমরা আগুনখেকো বিপ্লবী, নিজের টুকু মিটে যাক, পরক্ষনেই মৌনি মনমোহন। রাষ্ট্রের কর্তারা ক্ষমতার দম্ভে ভুলেগেছে তোষামোদি বংশদের দল সবার আগে পালটি খাবে। রাজনীতির যন্তরমন্তর ঘর থেকে মগজধোলাই করে যে নমুনাগুলোকে আপনাদের হয়ে চেঁচিয়ে বাজার গরম করে রেখেছে, আপনার থেকে উন্নত যন্তরমন্তর নিয়ে হাজির হলেই তারা ওদের হয়েই চেল্লাবে। ভুলে যাবেননা তাদের মগজটাই ধোলাইয়ের জন্য উপযুক্ত বলেই আপনি টুপি পরাতে পেরেছিলেন। তখন আপনারা না ঘরের থাকবেন না ঘাটের।

জানুয়ারি ২০১৭ সাল থেকে নাকি বেনামি সম্পত্তির উপরে নজর দেবে রাষ্ট্র। নামের আমি নামের তুমি নাম দিয়ে যায় চেনা। বেনামী সম্পত্তি গুলোও তো রাজনেতা আমলা আর তাদের প্রভু বৃহৎ পুঁজিপতিদেরই নামে!! ঠগ বাঁচতে গাঁ উজার হবে। বৃহৎ হনু আর রাজনীতির কারবারিদের সম্পর্কটা মিথোজীবিও। ভোটের সময় পুঁজি প্রয়োজনীয় নোটের যোগান দেয় যেটা সম্পূর্নটাই কালো, আর ক্ষমতায় এসে নেতা আমলারা সেই ঋণ কড়ায়গণ্ডায় চুকিয়ে দেয়। কারণ সামনের ভোটে একে আবার দরকার। গরীবের পেটে রোজ লক্ষ কোটি গরীব জন্মাচ্ছে, কিন্তু দেশে আম্বানী আদানী টাটারা মুষ্টিমেয় এবং সঙ্ঘবদ্ধ। তাই তাদের চটিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা দায়। সালমান খানের কিক সিনেমার কিছু দৃশ্যের কথা খেয়াল করলেই অনেকটা বুঝে যাওয়া যায়। সম্পত্তি যারা বানায় বা যারা কারবারি তারা রাষ্ট্রেরই তৈরি শিক্ষিত এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের মদতেই তাদের থেকে বেশি চালাক।

ডিসেম্বর, ২০১৬ মাসটা আগে কেন্দ্র সসম্মানে উৎরাক তারপর জানুয়ারি। আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, কেন্দ্র সরকার বেশ খানিকটা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যাবে ২০০৯ সালের রাজ্যে ক্ষমতাসীন দলের মত। কারণ নিজেরা যে সারমেয়গুলোকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল প্রশ্নকারীর পায়ে কামড়ানোর জন্য, রেস্ততে টান পড়লে সেই মালগুলোই প্রভুদের ছিঁড়ে খেতে দ্বিতীয়বার ভাববেনা। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এভাবেই হয়।

গ্রামেগঞ্জে বেকারের সংখ্যা রোজ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গতমাসেও একটা ভালো ড্রাইভারের জন্য মাথাকুটে মরেছি। আজকাল রোজ সকাল হলেই ২-৪ জন কর্মপ্রার্থী অফিসে আসছেন, যার ভিতরে একজন ড্রাইভার তো আছেনই। মুম্বই সুরাটে যারা কাজ করতেন গহনা শিল্পে, তারা ফিরে আসছেন। পর্যটন শিল্পেও মন্দার দরুন বেকারত্ব। এনারা না জানেন মাঠের কাজ, না সম্মানের খাতিরে ভ্যান রিক্সা চালাতে পারবেন। তাই চার দেওয়ালের ভিতরে স্থানীয় কোন প্রতিষ্ঠানে মোট বওয়ার কাজ হলেও সেটাই চাইছেন। গতকাল দেখি মুটিয়া দলের কয়েকটা লেবার দামি মোটরবাইক নিয়ে কাজে এলেন। সর্দারকে শুধাতে জানলাম, গাড়িটা আগের কেনা যখন বাইরে ছিল। এখন ওই গাড়ি আর তার স্ট্যাটাস রক্ষা করার জন্য এই ঘেড়াটোপের আড়ালে ভদ্রশিক্ষিত সন্তানের মুটেগিরি করা। এরা তবুও আপাতত ভাবে বেঁচে গেল, কিন্তু যারা এটাও করে উঠতে পারলনা?

আমাদের ব্যাবসা সূত্রেই সমাজের নানান শ্রেণীর সাথে রোজ উঠাবসা। তেমনই একজনের কাছে কৌতূহল বসতই জানলাম, পতিতা পল্লীগুলোর অবস্থা শিউরে উঠার মত, কাষ্টমার নেই। কারন এখানে সাধারনত সমাজবিরোধী, "কালো টাকার" কারবারি আর স্কুল কলেজের ছেলেছোকরাদেরই মূল আনাগোনা, যেখানে নিষিদ্ধ ফুর্তির আসরে নগদ টাকার ফোয়ারা ঝরে। অথচ এই পরিস্থিতিতেও রোজ এই আদিম পেশাতে অনেকেই পেটের জ্বালায় ভিড় জমাচ্ছে। এখন বলুন কে কার্ডে পেমেন্ট করে বেশ্যাবাড়ি যায় বা যাবে? রাষ্ট্র বোধহয় সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা এই ব্যাবসাতেই দিয়েছেন।

শীতে ফুল ও ফুলগাছের ব্যাবসা এককথায় ধ্বংস,পেটে খাবে না বাড়ির রূপচর্চা করবে! আমাদের জেলাগুলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা, শান্তিপুর-ফুলিয়া- ধনেখালি-সমুদ্রগড় ইত্যাদিতে তাঁতের ব্যাবসায় সেলাইন ঝুলছে। কারিগরেরা অধিকাংশেই ঘরে ফিরে গেছে। কারণ উৎপাদিত কাপড়ের খরিদ্দার নাই, তাই নতুন উৎপাদনও নেই। অকপট গ্রুপে এক বন্ধুর লেখাতে জানতে পারলাম চালের এক্সপোর্ট বন্ধ। সুতরাং তার সাথে জুড়ে থাকা ঠিকাশ্রমিকগুলোও কর্মহীন। কন্টেনার ট্রেলার তাদের ড্রাইভার মালিকেরা কড়িকাঠ গুনছেন। কৃষির কথা আর নাই বা বললাম, সমগ্র সংবাদ মাধ্যমে এখন শুধু এটাই খবর।

মুম্বয়ের গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া বা দিল্লির ইন্ডিয়া গেট ভারতের বিজ্ঞাপন হতে পারে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রাম আর সেখানকার জনজীবনই কিন্তু আসল ভারতবর্ষ, আর প্রকৃত ভারতবর্ষের চিত্রটা হল- শুধু একটা কথা বলি শস্যগোলা বর্ধমানের গতমাসেও যেখানে ধানের দাম ছিল চাষির বাড়িতে ৯০০ টাকা প্রতি ৬০ কেজি, সেটা আজ সন্ধ্যার পাকা খবর ৬০০ টাকা। চাষের খরচা উঠবেনা। মানছি নতুন ধান কিন্তু অন্যান্য বছরে সেই ফারাকটা থাকে ৫০-৭০ টাকার মত। রাষ্ট্র গর্ব ভরে ঘোষনা করবে কোল্যাটারাল ড্যামেজ।

প্লাস্টিক কার্ড হলেই দেশ ডিজিটাল হয়না। কারন আমরা কার্ড দিয়ে সেই নগদ টাকাই তুলি, ব্যাঙ্কের বদলে ATM থেকে। আমাদের দেশে অনলাইন সপিং করি, কিন্তু পে অন ডেলিভারি সিস্টেমে। এই তো আমরা ডিজিটাল দেশের নাগরিক।

দেশ ডিজিটাল হবে কিনা, সেটা সময় বললেও রিংটাল যে হয়ে বসে আছে সেটা বলাই বাহুল্য।


তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...