বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০

রাজনীতি বিমুখ একটা ইতর সমাজ ও আসন্ন পরিণতি

 


এ লেখা ঠিক সকলের জন্য নয়, তাই যারা মজার নেওয়ার জন্য পড়েন- তারা এখানে না ঢুকলেই ভালো হবে, কারণ এখানে আসলে কিছুটা প্রলাপ বকা হয়েছে। লাইক-কমেন্ট যদি একটাও না নয়, সেখানে আমার আক্ষেপ তো নেই ই বরং ভাবনাটা প্রতিষ্ঠা পাবে।

আমাদের আগের কয়েকটা প্রজন্ম কখনও এমন ভয়াবহতার সম্মুখীন হয়নি, যেটা আমরা দেখছি। অনাসৃষ্টির বিপর্যয়, সুতো ছেঁড়া পুঁতির মালার মতো যেন হঠাৎ করেই সবটা খুলে হাত শূন্য করে দিচ্ছে। আজ গোটা বিশ্বজুড়ে প্রায় প্রতিটি দেশেই নানা ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে- কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সকলে শুধুই যাচ্ছে, নীরব নিশ্চুপ ভাবে যাচ্ছে।

উৎসব আর মনোরঞ্জনের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা সভ্যতার ‘সভ্য’ জাতি আমরা, তাই আমাদেরকে কোনও কিছুই আর সেভাবে প্রভাবিত করে না, করলে তার মেয়াদ ওই ভার্চুয়াল যোগাযোগ মাধ্যমের মাপকাঠি মেনে একটা কি দুটো বেলা৷ তবে রাষ্ট্রের গোলামি করা তথাকথিত মিডিয়ার উৎসাহের খামতি নেই রাষ্ট্রকে জনগণের সামনে থেকে লুকাতে, সেই প্রচেষ্টাতেই কেবল তারা ব্রতী, যেমন তারা তাদের ইয়েস ম্যানেদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য যাকে খুশি যা খুশি বলি প্রদত্ত করে দিতে পারে, আমাদের কিন্তু এই নিরুত্তাপতাই আমাদের সৌন্দর্য।

দেশে দেশে অর্থনৈতিক দুরাস্থা চরম আকার ধারণ করেছে, বাজারে চাকরি নেই, রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে বেনিয়াদের কাছে, প্রদেশে প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বাড়বাড়ন্ত, সংবাদমাধ্যম জুড়ে নিকৃষ্ট তোষামোদ আর ঘৃণার চাষ, সমাজের সর্বত্র নিন্মমেধার মানুষদের উত্থান ঘটছে ব্যাঙের ছাতার মতো, দ্রব্যমূল্য আকাশ ছুঁয়েছে, ধনী আরও বিত্তশালী হয়ে উঠছে- গরীব সর্বস্বহারা হয়েছে, বিভেদকামী শক্তির রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাপ্রাপ্তি ঘটেছে উচ্ছ্বাসের সাথে, চোর ধাপ্পাবাজেরা বুদ্ধিজীবীতে উন্নীত হয়েছে, সুশীলেরা উমেদার হয়ে গেছে, সাহিত্যিকেরা সরকার পোষিত, কবিরা রাজনীতি করছে- এমতাবস্থায় গোটা পৃথিবীতে ধর্মকেন্দ্রিক রাজনৈতিক ভ্যান্ডালিজমের উত্থান আমাদের চোখের সামনে ঘটলেও আমরা তা থেকে প্রায় অন্ধ হয়ে বসে আছি। ধর্ম যে আগে ছিলনা তা বলছিনা, কিন্তু আধুনিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় ধর্মকে তো দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক করেই রাখার কথা হয়েছিল, আসলে আমরা আত্মায় বিশ্বাস করা প্রজন্ম, প্রেতাত্মায় নয়।

রোজগারের সঙ্কট, পুঁজিবাদের ফাঁসে আটকা পড়া সমাজ, আহাম্মক নেতার ছবি তোলার ভাঁড়ামি নিয়ে প্রচারের বাগড়াম্বনা, বিবস্ত্র চিকিৎসা ব্যবস্থার মাঝে জীবন যেখানে ঘোর অমানিশায়, সেখানে 'রাজনীতি নিয়ে আলোচনা অশালীন ও ‘ওটা আমার জন্য নয়’ বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মতো ইতরেরা সমাজে ভরে গেছে বলেই আজকের সমাজ ব্যবস্থা এমন জড়ধী অনবগতের দিকে দৌড়ে চলেছে- কোনটা আসলে ইস্যু, কোনটা বৈশ্বিক সংকট এ সবের তোয়াক্কা না করেই স্থানীয় ভাবে ‘আমি তো নিরাপদ’ ধরে নিয়ে দিনের পর দিন নির্বিকার থাকাটা মজ্জাগত করে নিতে পেরেছি৷

কিন্তু চাইলেই যে আমরা প্রতিরোধ করতে পারি সেটার কিছুটা এই করোনার ক্রান্তিকাল আমাদের সামনে প্রমাণ করে দিয়েছে। আমরা এমন এক বিপদের সাথে যুঝে চলেছি যা আমাদের সবাইকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে, কী সুন্দর সরকারের সকল অত্যাচার মেনে নিচ্ছি তার ভালমন্দ বিচার বিবেচনা না করেই, এক্কেবারে আজ্ঞাবহ ভৃত্য৷ বিশ্বজুড়ে এখন মানবজাতির কাছে অজানা শত্রু তথা ত্রাসের নাম- নভেল করোনা ভাইরাস; যেহেতু এট আমাদেরকে প্রচারের বাহুল্যতায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে তাই আমরা বিনা বাক্য ব্যয়ে সব মেনে নিয়েছি৷

কিন্তু এর মোকাবিলাতেও আমরা আমাদের স্বভাবসুলভ হিংসা-দ্বেষ-স্বার্থপরতা থেকে বের হয়ে আসতে পারি নি৷ আমরা ভুলে গেছি যে ভাইরাস যেমন কোনো ধর্ম চেনে না, দল চেনে না- খিদেও তাই; সে আসলে ভাইরাসের চেয়েও অনেক বড় মহামারী৷ আসলে যারা মিডিয়ার মালিক, যারা বিজ্ঞাপন দেয়- তারাই তো শোষণ যন্ত্রের চালক, তাই তারা খিদের বিষয়টাকে সর্বদা এড়িয়ে গেছে, ভুলিয়ে দিয়েছে প্রতিটি মৌলিক অধিকারের গুরুত্বকে। তাই আশঙ্কাটা ভাইরাসের জন্য নয়, বরঞ্চ আমাদের সমাজের গণ উদাসীনতা অনেক বেশি আতঙ্কময়৷

প্রিয় ইতরেরা,

কেউ মানুক আর না-ই মানুক, আমি জানি এই যুদ্ধে আপনারা জয়ী হয়েই গেছি; সেটা আপনাদের গালভরা আত্মনির্ভরতা দিয়ে নয়- বরং আপনাদের উপেক্ষা করার আশ্চর্য ক্ষমতাগুণে৷ এই বিজয়ে আপনাদের নায়ক আমাদের ‘বিকৃত বিবেক’৷ এ এক এমন বিজয়, যেখানে আপনারা এগিয়ে চলেছেন ঠিকই কিন্তু সেটা কবরের দিকে; বিজ্ঞাপনের চাকচিক্যে আসল নকলের ফারাক ভুলে আপনি কেবলই নির্জীব প্রাণী আজ, যে জুলুলুজু চোখে অথর্বের মতো শুধু চেয়ে থাকে- আপনাদের সকলকে অভিনন্দন ও আমার পক্ষ থেকে স্যালুট রইল৷ যেভাবে গোটা বিশ্বজুড়ে নিজের ও নিজের পরিবারের প্রাণকে বিপন্ন করে আপনারা লক্ষ কোটি মানুষেরা এই সমাজকে পচিয়ে তুলেছেন আধুনিকতার নামে, আসলে একা করে দিয়ে নিজে একা হয়ে গেছেন- যদি আগামী বলে কিছু অবশিষ্ট থাকে, তারা চিরকৃতজ্ঞ থাকবে আপনাদের প্রতি; কারণ কয়েক'শ কোটি মানুষ নিজেদেরকে ‘দাঁত ক্যালাতে ক্যালাতে’ যেভাবে আত্মহুতি দিচ্ছেন- তা তাদের জন্য হাজার বছরের সেরা শিক্ষা হয়ে থাকবে।

যুদ্ধের নিয়ম হলো মাথা লক্ষ্য করে অস্ত্রচালনা, তীর-বল্লম-অসিচালনার যুগ পেরিয়ে এসে আমরা এখন ‘১ ও ০’ এর ঘরে বন্দি। হয় অড বা ইভিন- মাঝামাঝি বলে কিছু নেই। না আছে আভিজাত্য, না সংস্কৃতি- স্পন্দনহীন অসমীক্ষ্য চোখের নির্বাক যন্ত্র করে রেখে দেওয়ার যে অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে সভ্যতার কাণ্ডারিরা- কোথায় লাগে অতীতের সব মারণ অস্ত্র! লক্ষ্য আজও সেই মাথা, সেটাকে ভুলভুলাইয়ার মাঝে বুঁদ করে দিতে পারলেই আর কী চাই? প্রহসনের লকডাউনে দেশের রেল ব্যবস্থা যেখানে আজও স্তব্ধ, সেখানে IPL আর সুশান্ত সিং আত্মহত্যার চেয়ে জরুরী কোনো আলোচনা আর নেই। একটা জাতিকে লুটেপুটে খেয়ে ছিবড়ে করে দেওয়ার জন্য দরকার অন্ধ উন্মাদনা, আর তার জন্য চায় নেশাদ্রব্য, রাষ্ট্রযন্ত্রের সহযোগীতায় ক্ষমতাসীনেরা স্তোভের পানীয় গিলিয়ে যাচ্ছে অমৃতের নামে, আমারা সেই জ্ঞান থেকে অনেক এগিয়ে চলে এসেছি অগ্রগতির নামে- যার দ্বারা পূর্বজেরা ভালো ও মন্দের প্রভেদ করতে পারতেন।

একজন জীবিত বিবেকের, নাগরিক হিসেবে মিথ্যার বিরুদ্ধে লড়াই ও সত্য প্রতিষ্ঠার একটা বিশাল দায় যে রয়ে যায়, সেটার অনুভব ক্ষমতাটাই ‘অ্যাপেন্ডিক্স’ হয়ে গেছে৷ সিনেমাতে মিথ্যা VFX এসেছে, বিবেকেরা হারিয়ে গেছে আক্ষরিক অর্থেই। গবেষণা লব্ধ ফলাফল নয়, অনুমান ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেছে সর্বত্র- যা দ্রুত সমাধান করে দিচ্ছে; লাগলে তুক আর না লাগলে তাক। গোটা বৈশ্বিক সমাজ জুড়েই মত প্রকাশ ও ‘সংবাদ’ প্রকাশের ওপর খড়গ নেমে এসেছে, প্রতিটা মানুষের বেঁচে থাকাটাই যেন বিলাসিতা। আজকের দিনে সকলেই সাংবাদিক, সকলেই বুদ্ধিজীবী আর সকলেই তার্কিক, সকলেই শিক্ষিত- তাই সকলেই বলতে চায় অথচ কেউ শুনতে চাই না। কারও মাঝে জ্ঞানের দীপন নেই, শিক্ষাদান আজ পেশা, রোগীরা খদ্দের যেখানে - আত্মিয়তা সেখানে বোঝা হবে এটাই তো স্বাভাবিক। এ সময় মনে হয় সাধারণ হয়ে যারা যাপন করতে পারছে তারাই বোধহয় বেঁচে আছে, আসলে বাঁচাই তো সম্পর্ক- অনেকগুলো সফল সম্পর্কই তো বেঁধে রাখে মানুষকে অদৃশ্য বন্ধনে।

ইটালি, স্পেন, চীন, ব্রিটেন, ইউরোপের প্রায় প্রতিটি দেশ নিজেদের সামলে নিয়েছে, সেখানে শিক্ষিত সরকার আছে কিনা সেটা বিবেচ্য নয়- কিন্তু সেখানে কিছু শিক্ষিত নাগরিকের বাস আছে- তাই তারা পেরেছে আপাতভাবে। আমরা ক্যাজুয়ালি নিয়েছি, আর নিজেদের ক্রমেই জরুরি অবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছি। ক্রমশ সবটাই আমাদের অদৃষ্টের হাতে বন্দি হয়ে যাচ্ছে, এমতাবস্থায় কে যে নিরাপদ আর কে অসুরক্ষিত তার কোনো গাইডলাইন নেই।

ফার্মেসি, সুপারমার্কেট, পোস্ট অফিস, ব্যাঙ্কের মতো কিছু পরিষেবা ছাড়া যে বিষয় দুটো খোলা আছে তা হলো সংবাদমাধ্যম আর রাজনীতি। এই ফাঁকে সবচেয়ে বড় দুর্যোগটা ছড়াচ্ছে সংবাদ মাধ্যম নিজেই। দুর্যোগের সময় যা চালু থাকে তা যে নিত্যপ্রয়োজনীয় সেটা সুশীল ইতরেরা কবে বুঝবে? রাজনীতি- যা আমাদের বাঁচা মরার মাঝে রেফারির ভুমিকায় অভিনয় করছে সেটা যে ভীষণ একটা সিরিয়াস বিষয় এটা নিয়ে ভাবনা ভাবার মতো সময়ই নেই সমাজের। কিছু অকর্মন্য যারা নিজেদের পেশায় লাথ খেয়েছে তারা রাজনীতিতে মৌরিসপাট্টা গাড়ছে, আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করছে তারা।

সরকারি যন্ত্র- গুজবে কান দেবেন না বলে কিছু বর্বরকে সাদা কাপড়ে সাজিয়ে সমাজবিজ্ঞানী সাজিয়ে গোটা সমাজকে বিষিয়ে তুলেছে রাজনীতি সচেতনতা থেকে, মাঝখান থেকে লুটেপুটে খাচ্ছে নক্তচরের বংশবদেরা। এরাই আজ বিজ্ঞানী, এরাই ডাক্তার, এরাই হাকিম। রাজনীতিটাও পেশাদারিত্বের বিষয়, এটারও যে নিত্য অনুশীলন দরকার সেটা আমাদের মূলধারার শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে উঠিয়ে দিয়েছে এই সুশীলেরাই, আজকের এই রাজনীতি বিমুখ যুবসমাজ যে নপুংশক খোজাদের প্রতিনিধি সেটা বোঝার মতো সমর্থ্যই অবশিষ্ট নেই।

সভ্যতার উন্নতির নামে ক্রমশ নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা ও চূড়ান্ত নিরুদ্বেগ থাকার যে অভিযান- অজান্তেই আমরা সেই সেনাবাহিনীর সক্রিয় সদস্যে পরিণত হয়েছি৷ আলাদা করে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সত্যিই কি প্রয়োজন আছে? কাল যদি জায়নবাদীরা আমেরিকা মহাদেশের বিনাশ ডেকে আনে ভূমিকম্প, উল্কা হামলা বা ওই জাতীয় প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মতো- তাতেও আমরা কিন্তু নির্লিপ্তই থাকব, আমরা সুউচ্চ বিল্ডিং বানাচ্ছি, চারিদিক খোলা ঘর বানাচ্ছি মজবুত ছাদের নিচে- কিন্তু আমরা আমাদের মনুষত্বকে বাঙ্কারে নিয়ে গেছি মার্কিন ধনকুবের এলিটদের মতো, আমাদের মনের জানালার কব্জাতে জং ধরে গেছে শিক্ষার অনুশীলনের অভাবে; আমরা ভুলে গেছি- ‘জানার নাম জ্ঞান নয়, মানার নাম জ্ঞান’ এই সহজ সত্যটা।

আমরা ভ্যাকসিনের জন্য উদগ্রীব হয়ে বসে আছি, কিন্তু এটা জানি না যে আমদের রাষ্ট্র- ভ্যাকসিন উৎপাদক বিশ্বমারণ কর্পোরেট কুমিরগুলোর কোন ফাঁদে পা দিতে বাধ্য করছে, হতেই পারে আমাদের আগামীর প্রতিটি মুভমেন্টের জন্য এমন কোনো মাইক্রচিপস আমাদের দেহে ইন্সটল করে দেবে ভ্যাকনিসের ছুতোয়, যেখানে আমরাই আসলে একেক জন আসল যন্ত্রমানবে পরিণত হবো। এমনিতেই আমাদের মাঝে বোধবুদ্ধির পরিমাণ লোপ পেয়েছে, যেটুকু মানবীয় গুণ অবশিষ্ট আছে সেটাও কর্পরেটদের দাক্ষিণ্য ও আমাদের লাগামহীন উদাসীনতায়- আমরা গণ দাসত্বের স্বীকার হয়ে যাব। আজকে একটা হোয়াটস অ্যাপ, একটা ফেসবুক বা একটা টুইটারের মেসেজ যদি আমাদের এভাবে বুঁদ করে রেখে দিতে পারে- যখন খেলাটা প্রকাশ্য ময়দানে হবে, তখন যে তা একতরফা ভাবেই হবে সেটা বলাই বাহুল্য।
গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা, বাস্তবিক এই ব্যবস্থার মেয়াদ আর কতদিন থাকবে এই পৃথিবীতে সেটা নিয়ে আমরা কখনও ভেবেছি? যেদিন সভ্যতার সূচনা হয়েছিল, তার পর পরই আইন প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, আর আইন ভঙ্গকারীদের জন্য তৈরি হয়েছিল জেল। প্রকৃতির তৈরি যে আইন, যে নিয়মমালা- তাকে অবলীলায় অস্বীকার করে যাচ্ছি। তাহলে এই আইনভঙ্গের জন্য কি আমরা অচিরেই গণ জেলখানাতে দাখিল হয়ে যাব না? আমাদেরই মূর্খতার সুযোগ নিয়ে একটা ক্ষুদ্র দল আমাদের উপরে প্রভুত্বের চাবুক নিয়ে নতুন সমাজব্যবস্থা এনে হাজির করবেই।

ঐতিহ্যের নামে ধর্মকে ঢাল করে একশ্রেনীর নিকৃষ্ট ব্যবসায়ীরা নেতার ছদ্মবেশে গোটা বিশ্বজুড়ে বিবসনা এক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্ম দিয়েছে, যেখানে মেকি দেশপ্রেমের সত্তার জাগরণের নামে কিছু মুষ্টিমেয় ব্যতিরেকে- যেই ক্ষমতার সায়ে সায় দিচ্ছে না তারাই দেশদ্রোহী হয়ে যাচ্ছে; আর এই ভয়েই সমাজ ‘প্রশ্ন করা’ ভুলে গিয়ে ক্রমশ বধিরতার দিকে এতটাই এগিয়ে গেছে, যেখান থেকে আর ফেরা যায় না। আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্ম যেটার সূচনা করেছিল আমরা সেই ব্যটনটা আমাদের উত্তরসূরীদের কাছে আরও অনাবৃত একটা সমাজ তুলে দিয়েছি, যেখানে কুক্ষিগত ব্যক্তি স্বার্থের বাইরে সমাজ বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। পশ্চিমা সভ্যতা, পরিবারগত ঐতিহ্য সংস্কৃতি আগেই বিসর্জন দিয়ে আধুনিক হয়েছিল, এখন সেই ধারা এশিয়া আফ্রিকায় ছড়িয়ে পড়েছে যা করোনার চেয়েও মারাত্বক।

আমাদের লক্ষ্য কী? অর্থ, খ্যাতি, যশ, ঐশ্বর্য নাকি সুস্থ স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকা? আমাদের এই নীল পৃথিবীর গোটা অর্থ ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে, কতদিন আর- বড়জোর ২০২১ এর মার্চ এপ্রিল; এর পর যারা মাটির সাথে যুক্ত তারা ছাড়া বাকিরা যদি একে অন্যকে খেতে শুরু করে তাতে কি আশ্চর্য হবেন? পেট্রো ডলারের ফাঁপানো অর্থনীতি কবেই দেউলিয়া হয়ে গেছে, এখন শুধু পচা গাবের মতো ঝড়ে পড়ার অপেক্ষায় আছে; আমাদের এই স্বার্থপর আধুনিকতা, তা তো এই অর্থ ব্যবস্থারই যে দান, সুতরাং সে যাবার সময় আপনার থেকে কিছু না নিয়ে এক্কেবারে যে খালি হাতে যাবে না- সে কথা ভাবার মতো ইচ্ছা বা ক্ষমতা কোনোটাই যে আপনার নেই।

সুতরাং কোথায় রাখবেন এত প্রাইভেসি, এত এলিটপনা- যদি পাশের মানুষটাই না বাঁচে! অর্থের অভাবে লাল্লি মারা যাচ্ছে, স্পেসএক্স মঙ্গল অভিযান করছে, হাজার কোটির মূর্তি তৈরি হচ্ছে, আর এগুলোই হচ্ছে- কারণ আমরাই আসলে এগুলোর অনুমতি দিয়ে রেখেছি, এরপর খেলার নিয়মে যখন নিজের টার্ন আসছে তখন মুমূর্ষুতা এমন অবস্থায় পৌঁছাচ্ছে যে গলা দিয়ে আর আওয়াজ বেরোচ্ছে না। অবশ্য বের করলেই বা শুনছেটা কে, সে কি তার সুসময়ে অন্যের কথা শুনেছিল? এই মুহূর্তে আমাদের বহু কিছু না হলেও চলবে, মেগা প্রজেক্ট পিছিয়ে গেলেও ক্ষতি নেই- কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধানেরা কীভাবে নির্বাচনকে পিছিয়ে দিয়ে ক্ষমতার মেয়াদ বাড়াতে পারে সেই নীল নক্সায় ব্যস্ত। একটা সময় মানবকে সম্পদ বলে মনে করা হতো, এখন মানব আর সম্পদ নয়, দায়- তাই মন্ত্রকও আর নেই। গুরুত্ব শুধুমাত্র ভোটের গুণতিতে, এরা ভুলে গেছে ঠাটবাটের সাথে শাসন করার জন্য মানুষ প্রয়োজন, নতুবা অপেক্ষাকৃত শক্তিশালীরা কানে মোলা দিয়ে ক্ষমতা কেড়ে নেবে।

সমাজতন্ত্র আর একনায়ক তন্ত্রকে আজ গুলিয়ে ফেলেছে কমিউনিস্টদের অনেকে, গণতন্ত্রের ধ্বজাধারীরা পুঁজিবাদের আফিম খেয়ে বুঁদ হয়ে রয়েছে, তাই আদর্শ আজ কিলো দরে পাওয়া যায় ফুটপাতে। ধর্মভীরুতা আর ধর্মব্যবসা- প্রোপাগান্ডার ছদ্মবেশে এমন ‘চালে মুসুরে’ ঘেঁটে গেছে যে আর আলাদা করা যায় না তাদের।

এমতাবস্থায় আপনার মৃতপ্রায় বিবেকের জাগরণই একমাত্র 'হক ও বাতিলের' মাঝে সঠিকটাকে বেছে- সঞ্জীবনী সুধা হিসাবে কিছুটা অক্সিজেন সরবরাহ করে পচে যাওয়া সভ্যতার ধ্বংসকে কিছুটা বিলম্বিত করতে পারে, নতুবা আগামীর 5G গতির সাথে তাল মিলিয়ে এই ফ্যাব্রিকেডেট সমাজব্যবস্থা যদি ২০৩০শেই ওলট-পালট হয়ে যায়, আশ্চর্য হবেন না; আর এর টেরটা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পাওয়া শুরু হয়ে যাবে।

ধর্মভিত্তিক রাজনীতি গোটা বিশ্বকে দ্রুত গ্রাস করল বলে, কারণ আপনি কতটা প্রস্তুত তার জন্য ধ্বংস প্রতীক্ষা করে না।

রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২০

মরবিড জেলাসি বা ওথেলো সিনড্রোম



সাংস্কৃতিক, সামাজিক, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও অপরাধবিজ্ঞান সহ মরবিড জেলাসি মনস্তাত্ত্বিক জটিল সম্পর্কের প্রায় প্রতিটি সূক্ষ্ম অংশগুলোকে স্পর্শ করে যায়, এ কারণেই ‘মরবিড জেলাসি’ গল্পকার, ঔপন্যাসিক এবং নাট্যকারদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি বিষয়।

সন্দেহ, কথাটি আমরা সকলেই শুনেছি; এবং প্রতিটি বোধসম্পন্ন মানুষই সন্দেহ করেনি এমন দিন আসেনি, তা সে যে বিষয়ের উপরেই হোক না কেন। যাবতীয় আবিষ্কারের মূলে কিন্তু এই সন্দেহবাতিক মনই দায়ী, এই সন্দেহই প্রশ্নদের জন্ম দেয়- কী ও কেন!

সন্দেহ মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য হলেও কিছু কিছু মানুষ এটাকে অসুস্থতার পর্যায়ে নিয়ে চলে যায়, যাদের সন্দেহবাতিক বলে চিহ্নিত করা হয়, মাত্রাধিক সন্দেহ প্রবণতাই আবার বহু অপরাধের জন্ম দেয়। মানুষের মন ও ভাবনার জটিল বিচিত্র মনস্তত্ত্বকে বিচার বিশ্লেষণ করার কোনো যন্ত্র নেই। তার পরেও বিভিন্ন মনোবিদ তথা মনোবিজ্ঞানীরা কিছু কিছু ধারণা দিতে সক্ষম হয়েছে যার দ্বারা ঘটে চলা এই জাতীয় মানসিক দশার একটা যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা দেওয়া হয়ত বা সম্ভব।

মরবিড জেলাসি হলো সেই যুক্তিসূত্র যার দ্বারা সন্দেহবাতিক মনকে ব্যাখ্যা করা যায়। সমাজে নারীদের মাঝে এই ‘মরবিড জেলাসি’ উপসর্গ প্রবণতা ৮৭% ক্ষেত্রে ও পুরুষের ক্ষেত্রে ৩৪% ক্ষেত্র বলে দেখা গেছে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায়।

দু’জন মানুষের মাঝে থাকা সুস্থ ও স্বাভাবিক সম্পর্ককে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাক করে দেওয়ার জন্য সন্দেহের একটা স্ফুলিঙ্গই যথেষ্ট। মাত্রাধিতিরিক্ত রাগ বা অভিমানই আসলে সন্দেহের সূচনা করে, বিশেষত সম্পর্কে। ভালোবাসার সাথে সন্দেহ ওতপ্রোতভাবে জড়িত, সন্দেহের সিঁড়ি পেরিয়ে তবেই তা বিশ্বাসের মজবুত স্থায়িত্বে পৌঁছায়, যেহেতু সন্দেহ একটি স্বতঃস্ফূর্ত ক্রিয়া তাই অনেকে যেমন এটাকে বাড়াবাড়ির পর্যায়ে নিয়ে চলে যান; তেমনই অনেকে আবার বুঝতেই পারে না যে আসলে তারা তাদের সম্পর্কের সন্দেহ পিরিয়ডটা পেরিয়ে চলে এসেছে ইতিমধ্যে, কারণ সেখানে ব্যাক্তিদ্বয়ের মাঝের শারীরিক ও মানসিক দুরত্বটা খুবই কম থাকার দরুন একে অপরের সহচর্যের উষ্ণতাতে সন্দেহকে তার বিস্তার লাভের সামান্যতম সুযোগ দেয়নি। এক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার, কখনই কোনো সন্দেহ নিজে থেকে জন্ম নেয় না, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও চারিত্রিক আচারের প্রকাশের দরুনই সন্দেহরা জন্ম নেয়।

সম্পর্কের শুরুতে বিশ্বাসবোধটা উন্নত ও মজবুত পর্যায়ে থাকেনা, ‘রুচি ও সংস্কৃতি’ এই দুই প্রাথমিক শর্ত মিলে গেলে সম্পর্কের প্রাথমিক পর্যায় হল পারস্পরিক সম্মানজ্ঞাপনা বোধের স্ফুরণ। এটাই দুটো আলাদা আলাদা মানুষকে কাছাকাছি আসতে সাহায্য করে, আত্মিক বোধ গড়ে তোলে। এই পর্যায়ে শালীনতার ঘেরাটোপে কৌতূহল মিশ্রিত সান্দ্র মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা থাকে, যেখানে আবেগ বেশি যুক্তি কম থাকে। প্রচ্ছন্ন ‘অস্বস্তি ও বিব্রত’ বোধগুলো সময়ের সাথে সাথে অবলুপ্ত হয়ে, পলির মতোন বিশ্বাসের পরত জমিয়ে তোলে মনের গভীরে, এর পরেই নামহীন সম্পর্কগুলো সামাজিক বন্ধনের দ্বারা পরিচিতি পায়।

মানুষ বৈচিত্র্য পছন্দ করে, স্বীকৃত সম্পর্কের মাঝে বিষণ্ণতা, কষ্ট আর অভিমানের ভাগ অধিক মাত্রায় থাকলে হতাশার জন্ম দেয়। হতাশা জন্ম দেয় ক্লান্তি, আর ক্লান্তি নিয়ে আসে বৈরিতা। একসময় একঘেঁয়ে জীবনধারায় পারস্পরিক বোঝাপড়াটা কমতে কমতে- পারস্পরিক সম্মানবোধের স্থানটা আঘাতপ্রাপ্ত হয়, বিলুপ্ত হয় সহজাত সমঝোতার মন্ত্রগুপ্তি। দুজন আলাদা আলাদা ব্যাক্তির শৈশবকালীন অভিজ্ঞতা, অর্থনৈতিক অবস্থান, নিরাপত্তাহীনতা, অপ্রত্যাশতা, পরস্পর নির্ভরতা এবং নির্দিষ্ট সম্পর্কের অতীতের হরেক অভিজ্ঞতার মতো স্বতন্ত্র উপাদানগুলিও তখন বিচার্যের বিষয় হয়ে উঠে। দায়িত্ববোধের চেয়ে অধিকার বোধকে গুরুত্ব প্রদান করে একে অন্যের উপরে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে মানসিক স্থিতিশীলতাকে দুরমুশ করে সম্পর্কের গভীরে ক্ষতের সৃষ্টি করে আর এই ক্ষতস্থানেই বাসা বাঁধে সন্দেহের জীবাণু যা ক্রমেই সূক্ষ্ম অনুভুতিগুলোকে হত্যা করে মানসিক সুখশান্তিকে চূড়ান্তভাবে ব্যাহত করে বিচ্ছেদের পরিণতি এনে দেয়।

সাধারণভাবে সন্দেহকে ইংরাজিতে ‘সাসপিশাসনেস’ বলে, কিছু মনোবিজ্ঞানীদের মতে সন্দেহপ্রবণতা হলো একধরনের মানসিক অবস্থা- যার নাম ‘ডিলিউশন প্যারানয়েড সাইকোসিস’। সোজা বাংলায় কিন্তু এটা কোনো মানসিক রোগ তথা মনোব্যাধি নয়, বরং এ হলো জটিল মানসিক ব্যাধির পূর্বলক্ষণগত অসুস্থতা। একই সাথে সুখ, আনন্দ, রাগ, অপ্রাপ্তি ও অধিকারবোধের এক জটিল সংমিশ্রণ। এই ধরনের চারিত্রিক উপসর্গের পেছনে কোনো বাস্তব ভিত্তি থাকে না, কিছু আধা যৌক্তিক কারণের উপরেই গোটা বিষয়টাই স্থাপিত। এই জাতীয় উপসর্গ যেহেতু ব্যাক্তির মানসিক একটা পর্যায়, তাই বাকি আর পাঁচটা স্বাভাবিক কাজকর্মের কাজে এই সন্দেহপনাও দিব্যি বহাল তবিয়তে বেঁচে থাকে বছরের পর বছর, অটলভাবে।

একে অনেক সময় ‘ওথেলো সিনড্রোম’ নামেও অভিহিত করা হয়ে থাকে কারণ, শেক্সপিয়ারের অমর সৃষ্টি ওথেলো নাটকে দেখা যায়- নায়ক ওথেলো এই ‘সন্দেহে ভূতে’ আক্রান্ত হয়েই তার সুন্দরী প্রিয়তমা স্ত্রী ডেসডিমোনাকে হত্যা করেছিল। মাত্রাধিরিক্ত ভালোবাসা তথা চাহিদা থেকেই খুঁতখুঁতে মনোভাব জন্ম নেয়, আর এ থেকেই সমস্যার জন্ম হয় বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করে থাকে। বিখ্যাত তামিল লেখক কালকি’র ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে লেখা দুটো উপন্যাস ‘পার্থিবান কানাভু’ ও ‘পন্নিইন সেলভান’ মূলত এই মরবিড জেলাসির উপরে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। আবার উল্টোদিকে পৌরাণিক আখ্যান অহল্যার ক্ষেত্রে দেখা যায়, সে ইন্দ্রদেবকে চিনতে পেরেও তার সাথে স্বেচ্ছায় যৌনতায় মত্ত হয়েছিল, এগুলোও একধরনের মানসিক অপূর্ণতার ফসল- যাকে আমরা চালু ভাষায় বলি ‘অতৃপ্ত আত্মা’। পাশাপাশি মহাভারতের চরিত্র সত্যবতী তার পুত্রবধূদের জন্য বা পান্ডু তার দুই স্ত্রীদের জন্য স্বেচ্ছায় পরপুরুষের কামনা ও তার বন্দোবস্ত করেছিল- এগুলোও একধরনের ব্যতিক্রমী মানসিক বিকার। কবিগুরুর ‘মালঞ্চ’ উপন্যাসে নিরজার চরিত্রে সুখ, আনন্দ, বিষাদ, উপেক্ষা, হিংসার এক বিশেষ ধরনের মরবিড জেলাসি লক্ষ্য করা যায়।

এই মরবিড জেলাসি সিনড্রোম মূলত দুই ধরনের-

ক) সিম্পটনিক জেলাসিঃ কিছুটা বংশগত ক্ষেত্রে কলহপ্রিয় পরিবারের সন্তানদের মাঝে এই উপসর্গ দেখা যায়। চরিত্রগতভাবেই এরা সন্দেহপরায়ণ হয় যা সাধারণভাবে বাইরে থেকেই পরিলক্ষিত হয়।

খ) রিয়্যাক্টিভ জেলাসিঃ এটি ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে সঙ্গীর সাথে মানসিক সম্পর্কের সূচকের উপরে নির্ভর করে, যা পারস্পরিক বিশ্বাসের তুল্যমূল্য বিচারের উপরে নির্ধারিত হয়। দুর্বল আত্মসম্মানবোধ, অধিক সংবেদনশীলতা, নিম্ন আত্মবিশ্বাস, অপর্যাপ্ত মর্যাদা, অত্যাধিক চাহিদা, প্রতারণা, প্রতিশ্রুতিভঙ্গ, নিরন্তর বিষাদযাপন, অতিরঞ্জিতকরণের লিপ্সা, অতৃপ্ত যৌনতা এবং নিম্ন আচরণবোধ সম্পন্ন ভুল সঙ্গী নির্বাচনের কারণে জটিল মনস্তাত্ত্বিক সিনড্রোম দেখা দেয়।

মূলকথা, বিভিন্ন কারণে এই সিনড্রোমের লক্ষণ দেখা যায়, অতিরিক্ত নেশা, ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব বৈকল্য, যৌনসমস্যা, মানসিক অবসাদ ইত্যাদির মতো হরেক কারণ থাকলেও ‘উপেক্ষা’ সবচেয়ে বড় কারণ।

উভয়ের সমবেত সিদ্ধান্তকে যখন একজন তার প্রতিশ্রুতিময় সময়কে হেলায় হারিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের উপরে যেকোনো মূল্যে পৌঁছাবার দায়ে- অপরজনের চাহিদাকে সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করে নিজের স্বার্থ হাসিল করে, তখনই সঙ্গীর সম্বন্ধে অত্যন্ত শঙ্কিত হয়ে পরে অপর ব্যক্তিটি। এই ধরণের ব্যক্তিরাই পরবর্তী সময়ে আত্মবিশ্বাসহীন হয়ে পড়ে তার সাথী সম্বন্ধে, যা তাদের ভাবনাতে তীব্র উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করে। পূর্ব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দায়ে সেই সঙ্গীর বিরুদ্ধে কোনো প্রকারের প্রতিষ্ঠিত প্রমাণ ছাড়াই ব্যক্তির অজান্তেই তার মনে বদ্ধমূল ধারণাপুঞ্জ জন্মাতে শুরু করে হরেক মাত্রায়, এ এক মানবীয় জটিল মনস্তাতাত্ত্বিক পর্যায়ের বহুমাত্রিক ত্রুটি হিসাবেই বিবেচনা করা হয়।

প্রতিশ্রুতিমূল ভিত্তির উপরে গড়ে ওঠা অধিকাংশ ‘ডিস্টেন্স রিলেসনসিপে’ এই জাতীয় সন্দেহ প্রবণতার মাত্রা পরিলক্ষিত করা যায়। তখন আরও বেশি বেশি করে সঙ্গীকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, নিজের জোর খাটাতে চায়, যা এক পর্যায়ে মারাত্মক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে। একে অনেক বিজ্ঞানী ‘ডিলিউশনাল জেলাশি’ বা ‘প্যাথোলজিক্যাল জেলাসি’ নামেও অভিহিত করে থাকেন, যা এক ধরনের মানসিক রোগের প্রাথমিক পর্যায়। তবে শুরুতেই কেউ প্যাথোলজিক্যাল বা ডিলিউশনাল জেলাসি রোগে আক্রান্ত হয় না। এর পূর্বে কমপক্ষে দুটি পর্যায় রয়েছে যেগুলো অতিক্রম করে তবে এই পর্যায়ে পৌঁছায় আক্রান্ত ব্যাক্তি। সর্বপ্রথম যেটা দেখা যায় তার নাম ‘হাইপারস্টেথিক জেলাসি সিনড্রোমে’, এর পরের পর্যায়ে ব্যক্তির আরও মানসিক পরিস্থিতির অবনতি হলে তখন তাকে বলে ‘মোনোম্যানিয়াক জেলাসি সিনড্রোমে’, এবং শেষ দশাটি হলো প্যাথোলজিক্যাল জেলাসি।

সম্পর্কের দায়বদ্ধতা এক্ষেত্রে গৌণ হয়ে দাঁড়ায়, যা ব্যক্তির অবচেতন মনে সারাক্ষণ সন্দেহ নামের একজাতীয় বিকারের সৃষ্টি করে সর্বদা চিত্তবিভ্রম ঘটিয়ে রাখে। তখন ‘আমিই একমাত্র মুরুব্বি’, সুতরাং একমাত্র আমার কথা অনুযায়ীই সম্পর্কের দিনযাপন হবে এই পর্যায় শুরু হয়ে যায়, যা ঘটে আক্রান্ত ব্যক্তির অজান্তেই। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তির সর্বদা মনে হয় ‘আমার’ সাথে প্রবঞ্চনা করা হয়েছে, যেহেতু সম্পর্কের শুরুটাই শর্ত সাপেক্ষ ছিল। ক্রমে এটাকে বিশ্বাসঘাতকতার রূপ দিয়ে হিংস্র প্রতিশোধের স্পৃহা জেগে উঠলে তখনই ভয়াবহ অপরাধগুলো ঘটে যায়, বহুলাংশেই অসুস্থ ব্যক্তি আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে ওঠে। যারা সন্দেহবাতিকতাজনিত ব্যক্তিত্ব জটিলতায় ভুগছেন তারা সর্বদাই আশপাশের লোকজনকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণে রাখেন এবং সমাজকে তার সঙ্গীর জন্য একটি ভয়ানক স্থান হিসাবে দেখতে পছন্দ করেন।

এই সিন্ড্রোমের ক্ষেত্রে যেগুলো দেখা যায়-

১) সঙ্গী/সঙ্গীনির প্রতি অস্বাভাবিক আচরণ।
২) সারাক্ষণ হুমকি প্রদান, সেটা নিজের প্রতি হোক বা অপর পক্ষের।
৩) সঙ্গী/সঙ্গীনিকে তার পরিবার ও নিকটাত্মীয় থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া।
৪) ফোনের কললিস্ট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা।
৫) মানসিক ও শারীরিক সহিংসতা প্রদর্শন।
৬) সঙ্গী/সঙ্গীনি কোথায় রয়েছে এ বিষয়ে সর্বক্ষণ খোঁজ নেওয়া

এর সাথে বিপথগামী চরিত্রের আদর্শ প্রতিভূ হিসাবে তাকে দাঁড় করিয়ে পরক্ষণেই আবার অস্থির আচরণ শুরু করে যা পূর্বের সম্পূর্ণ বিপরীত। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে সঙ্গীর অধিক বিষাদময়তার মাত্রাতিরিক্ত প্রভাবে ব্যক্তির মানসিক জগতে এক অদ্ভুত ধরনের পরিবর্তন সাধিত হয় এবং তা আক্রান্ত ব্যক্তির অজান্তেই, ফলস্বরূপ সে সঙ্গীকে শোধরাতে গিয়ে নিজেই এমন কিছু আচরণ করে ফেলে যেগুলো সুস্থ স্বাভাবিক সমাজের পরিপন্থী। দাম্পত্য কলহের ক্ষেত্রে এ এক অতিসাধারণ ঘটনা, যাদের দাম্পত্য শেষ হয়েছে বিচ্ছেদের পরিণতিতে। কিন্তু প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা গেছে বিচ্ছেদও সেই সিনড্রোমের সমাধান করেনি; সামাজিক হেনস্থা, শারীরিক নিগ্রহ, জখম এমনকি খুনোখুনির মতো পর্যায়েও পৌঁছে যায় অনিয়ন্ত্রিত সন্দেহজনক রাগের পরিণাম হিসাবে।

এই উপসর্গই যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় তখন একে ‘প্যারানয়েড পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার’ বলা হয়ে থাকে। জার্মানির মিউনিখ ইউনিভার্সিটির গবেষণা অনুযায়ী বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৭% মানুষ এই ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত, যা মানসিক ব্যাধির পর্যায়ে চূড়ান্ত। শুরুর দিকে মৃদু মাত্রার প্যারানয়েড ডিসঅর্ডার রোগীর ক্ষেত্রে আবেগজনিত প্রকাশ বিপুল মাত্রায় কমে যায়, একে ‘ডিলিউশন অব পারসিফিউশন’ বলে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তির কর্মক্ষেত্রে তার কর্মদক্ষতা কমে যায় বিপুল ভাবে, বিচিত্র কারণজনিত ভ্রান্ত বিশ্বাসে ভোগার দরুন আপনা থেকেই নানা ধরনের দুরারোগ্য শারীরিক ব্যাধির শিকার হয়ে যান। বিশেষ ক্ষেত্রের ওই বিশ্বাস ক্ষেত্র ব্যতীত আক্রান্তদের চিন্তা-ভাবনার ধরণ বাকি অনেকের চেয়ে উৎকৃষ্ট মাত্রায় পরিষ্কার ও স্বাচ্ছন্দ্য ধারণা থাকে, যা অনেকের কাছে ঈর্ষনীয়। স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে গেলেও এরা সারাক্ষণ দ্বিধান্বিত অবস্থায় ভোগে, যদিও এদের মজবুত আবেগজনিত চারিত্রিক আচরণ ও তার প্রকাশ দিয়ে এরা সমাজের যেকোনো অংশে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেওয়ার অদ্ভুত দক্ষতা হাসিল করে নেয়।

প্যারানয়েড পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারে আক্রান্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অতিমাত্রায় সতর্ক এবং সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। তখন নিজস্ব সঙ্গীর গন্ডি ছাড়িয়ে অপর কোনো ব্যাক্তিকে অন্য আরেকজন কেউ সন্দেহ করলে বা কেউ কারো বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলে সংশ্লিষ্ট অসুস্থ ব্যক্তিটি ভীষণ রকমের প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠেন, কখনও কখনও তা কাউকে আক্রমণ করার পর্যায়েও নিয়ে যেতে পারে। এমনিই কেউ তার দিকে তাকালে সে মনে করে “নিশ্চয়ই ব্যাটার কোনো কুমতলব আছে”, যদিও এটা প্রতিটি মায়েরই স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য তার সন্তানের সুরক্ষার বিষয়ে।

সাধারণত বহুমুখী চিন্তাশীল ব্যক্তির ক্ষেত্রে, মাত্রাতিরিক্ত অহেতুক যুক্তিহীন কু-তর্কে জড়িয়ে অতিরিক্ত আবেগ প্রকাশের দরুন ও উচ্চমাত্রার আবেগের ধরনের পরিবর্তনের জন্য একটা সময়ের পর এরা নিজেরাই সমাজ থেকে ক্রমশ নিজেকে গুটিয়ে ফেলে। এদের মানসিক ‘অত্যাচারে’ বিরক্ত হয়ে প্রায় প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে এদের যারা নিকটাত্মীয়- তারা বিরক্ত হয়ে দূরে সরে যান, এতে করে আক্রান্ত ব্যক্তির সন্দেহবাতিক মন প্রত্যেকটি মানুষকেই উদ্দেশ্যমূলক চিন্তাধারার অধিকারী বলে সন্দেহ করা শুরু করে আর বেশি বেশি সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এই পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কোনোপ্রকার সমঝোতা বা মীমাংসায় আসতে চায় না, এবং দীর্ঘদিন এই অবস্থা চলতে থাকলে এদের ‘প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া’ নামের এক জটিল ব্যাধি গ্রাস করে, যেখানে ব্যক্তির স্বাভাবিক বোধবুদ্ধি লোপ পেয়ে অনেকটা জড়বুদ্ধি সম্পন্ন হয়ে যায়, যাকে সাধারণভাবে ‘পাগল’ বলা হয়। এই সময় ব্যক্তিটিকে মানসিক হাসপাতালে পাঠিয়ে আবাসিক চিকিৎসা করানোটাই সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ পন্থা সমাজের পক্ষে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুরুতেই যত্ন নিলে এই সিনড্রোমের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। সঙ্গীর সাথে দৃষ্টিভঙ্গির ফারাকের কারণেই যেহেতু এই সন্দেহ উপসর্গের সূত্রপাত হয়, তাই ঠিক সে সময় থেকে এমন সমস্যার সূত্রপাত, তার মূলে গিয়ে এর প্রকৃত কারণ নিরুপণ করে সেই ‘সময়ের চাহিদা না মেটার’ ক্ষতকে- নিরাময় রা বাঞ্ছনীয় উপযুক্ত প্রতিস্থাপক দিয়ে। এই উপসর্গের চিকিৎসা হিসাবে কোনো মনোবিদের সাথে কাউন্সেলিং করলে তা এক্কেবারে প্রাথমিক স্তরের উপশম হিসাবে নির্বাচিত হয়, এক্ষেত্রে উপসর্গকে রোগে পর্যবাসিত করা থেকে তাৎক্ষনিকভাবে রোধ করা সম্ভব হয়। এর সাথে চিকিৎকের পরামর্শে আধুনিক চিকিৎসা বিদ্যার নির্দিষ্ট ধরনের মানসিক রোগের ঔষধ সেবন করলে ধীরে ধীরে বিষাদগ্রস্থতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পাশাপাশি, পারিবারিক ভাবে তার সঙ্গীটি যদি স্ত্রী বা পরিবারের অতি ঘনিষ্ট কেউ হয়, তাহলে তার জন্যও কাউন্সেলিং সমভাবে প্রযোজ্য; কারণ এই ধরনের সমস্যার সূত্রপাতই হয়েছিল তার ‘ব্যবহারিক আচরণগত’ সমস্যার কারণেই। যদিও ‘মন-বিশ্লেষনের’ মাধ্যমে এই ডাক্তারি চিকিৎসা এক ‘জটিল, ব্যায়সমৃদ্ধ ও সময়সাপেক্ষ’ বিষয়, তবুও পরিবারের সমর্থন ও সঠিক সহচর্য পেলে উপসর্গাক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ জীবনে দ্রুত ফিরে আসতে সক্ষম।

এর সাথে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতি বিশেষভাবে সামাজিক যত্ন নেওয়াটাও ভীষণ জরুরী। উপসর্গাক্রান্ত ব্যক্তি ও তার সঙ্গী একত্রে বসবাস করলে তাদের মাঝে সাময়িক বিচ্ছেদ এই সমস্যার নিরাময় করে তুলতে পারে উপরোক্ত চিকিৎসা প্রণালীর সাহায্যে। উল্টোদিকে তারা যদি একে অপরের থেকে দূরে থাকে তাহলে তাহলে তাদের কমপক্ষে বেশ কয়েকমাস একত্রে থাকা বাঞ্ছনীয় তবেই উপরোক্ত চিকিৎসা কাজে আসবে।

শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০

নোট বন্দি খেলা- রহস্যটা কোথায়?

 



ব্ল্যাক মানি’র গল্প শুনিয়ে তথা অসদুপায়ে উপার্জিত অর্থকে নিয়ন্ত্রণ করার নামে ২০১৬ সালে ভক্ত সম্রাট মোদীজি নোট বন্দি করেছিলেন সে সময় কোটি কোটি টন নিউজ প্রিন্ট সহ, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া হোক বা সোস্যাল মিডিয়া- সর্বত্র হাহাকার পরে যাওয়া বিভিন্ন ধরনের বিষয়গুলো সামনে এসেছিল পক্ষে বা বিপক্ষে। অবশ্য এমন অবিবেচকের মত কোন উদ্দেশ্যে কিছু (মোট জন সংখ্যার ১-২% বড়জোর) অসাধু ব্যবসায়ী-আমলা- রাজনীতিবিদদের জন্য দেশের আমজনতা কেন এই চরম নারকীয় ভোগান্তির শিকার হবে!

প্রশ্ন করতে গেলেই “হামারে জাওয়ান সিয়াচেন মে লড় রাহা হ্যায়” জাতীয় কথাবার্তা সামনে আনা হয়েছিল বিজেপির প্রোপাগান্ডা মেসিনারি দ্বারা, এবং নাগপুর নিয়ন্ত্রিত দিল্লি কেন্দ্রিক টেলিভিশন সংবাদ মাধ্যমের দ্বারা। সেই সময়ে আমি বহুবার বলার চেষ্টা করেছিলাম- এখানে একটা দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্র রয়েছে। জানিনা সে সময় কতজনের মাথায় ঢুকেছিল, আমাকে পাগল ছাগল ভাবেনি এমন মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল

গোটা বিশ্বজুড়ে ওয়াল্ড অর্ডার নামে যে বিষয়টা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে তার অন্যতম কান্ডারী বিল গেটস তা আজ প্রমানিত সত্য, গত করোনাকালে সময়ে আমরা না ভাবে এই বিল গেটসকে দেখেছি চিকিৎসা ব্যবসায়ী কিভাবে পয়সা লাগিয়েছে আপনার আশ্চর্য হয়ে যাবেন যদি একটু নিজেরাই গবেষণা করেন তাহলে দেখতে পাবেন আশি খানা দেশের সরকার যারা এই এক বিশ্ব শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগোচ্ছে তাদের মূল ফাইন্যান্স স্যার হচ্ছে বিল গেটসএদের উদ্দেশ্য কি উদ্দেশ্য একটাই মানুষের সম্পদকে নিয়ন্ত্রণ করা? ২০১৬ এর আগে UPI কোন বিষয় আমাদের কোথাও ছিল না অথচ আজকে দিনে দাঁড়িয়ে ইউপিআই ছাড়া google pay ফোন-পে ইত্যাদি বাদ দিলে জীবনটাই যেন অন্ধ হয়ে যায়. এটা করে আমাদের সুবিধা হয়েছে বিস্তর কিন্তু তলে তলে ক্ষতির পরিমাণটাও কম কিছু নয়

আগে আপনার হাতে সম্পদ থাকলে আপনি সেটা দেখতে পেতেন, আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকতো আজকে এই 500 টাকা আর হাজার টাকা ডি-মনিটাইজেশনের মাধ্যমে আপনার কাছে আপনার মনে ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে ক্যাশ টাকা রাখা দেবে যাবে না শিকারি সেটারই সিকুয়েল হিসেবে আজ ২০০০ টাকার নোটও ব্যান করে দেয়া হলো এতে করে মানুষ আরো ডিজিটাল কারেন্সির দিকে ঝুঁকে যাবে সেদিন খুব বেশি দূরে নয় যেদিন সরকার চাইলেই আপনার একাউন্ট ব্লক করে দেবে। রাতারাতি ফকির হয়ে যাবেন কয়েক মুহূর্তে হ্যাকিং এর নাম করে যেকোনো দাদাগিরি কোন সংস্থা আপনার অ্যাকাউন্ট জিরো করে দিতে পারে, কারণ আপনার কাছে সম্পদ বলতে খাওয়া দাওয়া সামান্য টাকা আর একটা বাড়ি গাড়ি

সম্পত্তি হিসেবে স্থাবর কিছু, যদি না সেগুলো লোনে থাকে বাকি সবকিছুই কিন্তু অ্যাকাউন্টে ছিল এবার আপনাকে দিয়ে যা খুশি কুড়িয়ে নেওয়া যাবে, কারণ আপনার সমস্ত সম্পদ স্বীকৃত সরকার দাড়া কোন একটা বিশেষ গোষ্ঠী আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে বা করবে সেই দিনটা খুব বেশি দূরে নয় হয়তো আগামী ১০ বছর, ততদিনে যাবে কিনা সন্দেহ আজকের এই কথাগুলো সেদিন চোখের সামনে ফলতে দেখবেন। তাই অনুরোধ করব অর্থ যদি আপনার থেকে থাকে সেটাকে স্থাবর সম্পত্তিতে কনভার্ট করে ইনভেস্ট করুন জমিতে ইনভেস্ট করা সবথেকে ও সহজ কিন্তু এর বাইরেও একটা সত্য আছে যেটা লাগতে পারে ফানি কিন্তু সোনা মজুদ করার চেয়ে ভালো অপশন আর কিচ্ছু নেই কিচ্ছু নেই

আগামী দিনে বিশ্বপ্রভুদের একটা গোষ্ঠী সরকারকে কেন্দ্র করে শ্রমজীবী মানুষের উপরে কি পরিমান যে যথেচ্ছাচার চালাবে সেটা আজকের দিনে স্পষ্ট এরা পেপার কারেন্সির মাধ্যমে সর্ব প্রথমে নিজেরা সোনা মুদ্রা হস্তগত করে নিয়ে আপনার হাতে কাগজ ধরিয়ে দিয়েছিল এরপরে প্লাস্টিক মানি তারপরে বুলি বা বন্ড আর এখন সংখ্যা এরপর সংখ্যা তো যে কোন মুহূর্তে জিরো হয়ে যেতে পারে। তাই এর পিছনের কন্সপিরেসি খুব ঠান্ডা মাথায় না বুঝলে আপনার আগামী প্রজন্মের জন্য আপনি হাহাকার ছাড়া কিছু রেখে যাবেন না

হয়তো বলবেন সকলের যা হবে আমারও তাই হবে, কিন্তু না গরিব খেটে খাওয়া মানুষ তারা যারা দিন আনে দিন খায় তাদের খুব একটা অসুবিধা হবে না কেননা তাদের মজুদ সঞ্চয় বলে কিছু নেই, কিন্তু আপনি আজকে গোটা জীবন ধরে যেটা সঞ্চয় করলেন কালকে সরকারকে শিখন্ডী বানিয়ে বিশ্বপ্রভুদের একটা অংশ আপনার সেই কষ্টার্জিত অর্থ ভোগ করবে অথবা আপনাকে দিয়ে এমন কাজ করাতে বাধ্য হবে যা আপনি কখনো চান না আর এই ফাঁদ থেকে বাঁচার কোন অপশন নেই, আপনাকে ডিজিটাল কারেন্সিতে ঢুকতেই হবে, সে আপনি চান না চান

আমি আপনাকে প্রেসক্রাইব করব ব্যাংকে ততটুকু টাকায় রাখুন, যতটুকু না রাখলে নয় বাকিটা সোনা বা ওই জাতীয় সম্পদ এবং স্থাবর সম্পত্তিতে কনভার্ট করে ফেলুন বাকিটা আপনার মর্জি আমাদের স্মরণকালের মধ্যেই কিন্তু ২০০০ নোট এর জন্ম হয়েছিল, পরবর্তী ইউপিআই এর প্রচলন, সেটার ব্যাপকভাবে প্রসারের জন্য করোনা নাম দিয়ে প্রোপাগান্ডা এবং আজ ২০০০ নোট সুতরাং সময় খুব দ্রুত গতিতে চলছে, এই গতি রোজ আরো ত্বরান্বিত হবে আপনি নিজেই দেখে যাবেন এদের চক্রান্তটা, কিভাবে আপনাকে সর্বস্বান্ত করার জন্য করা ছিল

বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২০

২১শে বামফ্রন্টঃ নিয়মাবলী

 


২১শে বামফ্রন্ট

 কি ও কেন?

ফ্যাসিবাদী, সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক শক্তিগুলো বর্তমানে রাজ্য ও দেশের ক্ষমতাতে, সাম্প্রদায়িক বিষ দ্বারা সমাজের বুকে বিভাজন ঘটিয়ে সংসদীয় রাজনীতির ‘ভোটব্যাঙ্ক’ রাজনীতির দ্বারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে চাইছে- শাসনে টিকে থাকার ঘৃণ্য প্রয়াসের দরুন আজ প্রকাশ্যে উলঙ্গ হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে শাসক। আইনশৃঙ্খলা অবনতি দেখে CCTV ক্যামেরাও মুখ লুকাচ্ছে, প্রশাসন যন্ত্র অসহায়, কিছু স্বার্থপর ধান্দাবাজকে বুদ্ধিজীবী বানিয়ে তাদের দিয়ে ভণ্ডামির বলয় তৈরি করে রাষ্ট্রের বুকে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। চতুর্দিকে হাহাকার, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, শিল্পের কফিনে পেরেক ঠোঁকা সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিষেবা সহ প্রতিটি দপ্তরের নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছে। 

সুশাসন দুরঅস্ত, সরকারি কোষাগারের অর্থ বিভিন্ন বাহানাতে লুঠে নেওয়ার জন্যই যেন এদের জনপ্রতিনিধি হয়ে আসা, যেকোনো দুর্যোগে আক্রান্ত পরিবারের বদলে শাসকদলের নেতার ‘উন্নয়ন’ আজ স্বীকৃত সত্য; অবশ্য যারা বুকে ‘আমরা সবাই চোর’ লিখে প্রকাশ্য শহরের রাজপথে মিছিল করতে পারে তাদের জন্য চুরি ও তার ৭০:৩০ হারের সুষম বখরার মাঝেই টিকে আছে ‘চটি’ সরকার। ফাঁপাবুলি সর্বস্ব ভাঁওতাবাজি দিয়ে সমাজের গরীব জনগণকে ধোঁকা দেওয়া লুটে খাওয়া সরকারের আমলে দেশে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ সীমা ছুঁয়েছে। নীতিহীন তাই দিশাহীন জনবিরোধী ‘পরিকল্পিত’ প্রোপ্যাগান্ডা, বামেদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ইত্যাদিকে প্রতিহত করে- এই গ্রুপের মূল উদ্দেশ্য বামপন্থা ও তৎসংক্রান্ত বিষয়গুলোকে সমাজে প্রচার করা।

সুতরাং, বামপন্থী মানসিকতা ব্যাতিরেকে এই গ্রুপের সাথে যুক্ত না হবেননা; কারন এখানে নিয়মিত বাম সমর্থকদের মাঝে আপসে ভাবের তথা মতের আদানপ্রদান, পার্টি নেতাদের সাক্ষাৎকার প্রচার ও রাজ্য তথা দেশজুড়ে ছিটিয়ে ছড়িয়ে থাকা কমরেডদের মানসিকভাবে উদ্বুদ্ধ করাই এই গ্রুপের এক ও অদ্বিতীয় লক্ষ্য; যাতে করে ২১শে বামফ্রন্ট সরকার গঠিত হয়।

নিয়মাবলী

 1.    প্রথমেই আমাদের মাথায় রাখতে হবে- এটা পাবলিক গ্রুপ, বামপন্থী রাজনীতি একটা শৃঙ্খলাবদ্ধ অনুশীলন, যা নির্দিষ্ট নীতিমালার উপরে প্রতিষ্ঠিত আদর্শের উপরে ভিত্তি করে চালিত হয়। সুতরাং এমন কোনো শব্দ, ভাষা, প্রবন্ধ, প্রতিবেদন, মন্তব্য বা ওই জাতীয় কিছু ‘পোষ্ট বা কমেন্ট’ করা যাবেনা যা পার্টি লাইনের বিরোধী বা পার্টি তথা সম্মিলিত বাম ঐক্যের স্বার্থবিরোধী। ‘আপনার যাবতীয় অপ্রসন্নতা ও অভিযোগ’ পার্টির অভ্যন্তরে দলীয় গণতন্ত্র মেনে আপনার উর্ধ্বতন নেতৃত্বকে জানান, সেখানেই আপনি প্রতিকার পাবেন। প্রকাশ্য মঞ্চে ‘খাপ’ বসিয়ে প্রতিকার মিলবেননা।

 2.    পরিচ্ছন্ন ভাবমুর্তিই বাম রাজনীতির গ্রহণযোগ্যতার প্রাথমিক শর্ত।

 3.    ২১শে বামফ্রন্ট গ্রুপ কোনো প্রকার প্রতক্ষ্য অর্থনৈতিক লেনদেনের সাথে যুক্ত নয়, এটি কোনো পরিষেবামূলক প্রতিষ্ঠানও নয় তথা কাউকে কিছু পাইয়ে দেবার প্রতিশ্রুতি দেয়না। এটি বামঘরাণার রাজনৈতিক সমর্থকদের দ্বারা পরিচালিত স্বেচ্ছাশ্রম ও পারস্পরিক আদানপ্রদানের নিমিত্ত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মঞ্চ।

4.    প্রাকৃতিক বা সামাজিক বিপর্যয় হেতু ব্যাতিক্রমী সময়ে জনসেবার প্রয়োজনে কোনও আবেদন হলে তা কখনই গোপনে কিছু সংগঠিত হবেনা, সঞ্চালকমণ্ডলীর বরিষ্ঠ সদস্যের দ্বারা- গ্রুপে ‘সাহায্য’ সংক্রান্ত প্রকাশ্য পোষ্ট এলে, তার ‘কমেন্ট সেকশনে’ মন্তব্য প্রতিমন্তব্যের প্রতি খেয়াল রেখে তবেই এ সম্বন্ধে নিশ্চয়তা গ্রহণ করবেন। 

 5.    প্রোফাইল লক করা থাকলে সঞ্চালকদের সত্যাখ্যান করা সম্ভবপর হবেনা, সেক্ষেত্রে গ্রুপের যুক্ত হওয়ার আর্জি খারিজ হবে।

 6.    ‘২১শে বামফ্রন্ট’ গ্রুপ কোনো ধরনের ‘Plagiarism’ বা রচনাচুরিকে সমর্থন করেনা। অন্যের লেখা, ছবি, শ্লোগান ইত্যাদি শেয়ার করলে লেখকের নাম উল্লেখ থাকা আবশ্যিক। প্রতিটি পোষ্টের দায় সংশ্লিষ্ট সদস্যের, সেক্ষেত্রে উক্ত সদস্যটি সঞ্চালকমণ্ডলীর অন্তর্ভুক্ত নিয়মের ব্যত্যয় হবেনা।

 7.    ২১শে বামফ্রন্ট গ্রুপের কাছে এমন কোনো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নেই যার দ্বারা এই গ্রুপের সঞ্চালকেরা প্রতিটি সত্যমিথ্যার প্রভেদ নিরুপন করতে সক্ষম, তাই ব্যাক্তির ভুলের দায় কখনই গ্রুপের উপরে বর্তাবেনা।

 8.    Fake news তথা মিথ্যা বা ভুয়ো খবর আজকের সমাজে একটা মহামারী; তাই একে কঠোর ভাবে প্রতিরোধ করতে সমাজের কাছে দায়বদ্ধ ‘২১শে বামফ্রন্ট’। কমরেডদের কাছে অনুরোধ, রীতিমত যাচাই করে সম্পুর্ণ নিশ্চিত হয়ে তবেই কোনো পোষ্ট করুন গ্রুপে। জেনেবুঝে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে মিথ্যা গুজব ছড়ালে তাকে শুধু গ্রুপ থেকে বহিষ্কারই করা হবেনা, বরং পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচারে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনের দ্বারস্থ হতেও পিছুপা হবেনা ‘২১শে বামফ্রন্ট’ গ্রুপ।

 9.    কমরেডরা নিজেদের মাঝে উত্তেজনা বা ভুলবোঝাবুঝি বসত অশালীন ভাষার ব্যবহার করবেননা, প্রতিকুল পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সৌর্হার্দ্যই মুখ্য পাথেয়, অন্যথায় আবেগী ব্যাক্তিকে পথভ্রষ্ট হতে হয়। রাজনৈতিক আবেগ যেটুকু, সবটাই পার্টির জন্য সংরক্ষিত থাক, যা আদর্শের উপরে ভিত্তি করে নির্মিত। মতের মিল না হলে হয় যুক্তি দিয়ে যুক্তি খণ্ডন করুন নতুবা পোস্ট উপেক্ষা করুন।

 10.  গ্রুপে অনেক সক্রিয় মহিলা সদস্যেরা রয়েছেন, সঞ্চালক মণ্ডলীতেও রয়েছেন। আপনার পোষ্ট, কমেন্টে তিনি লাইক বা প্রত্যুত্তর করেছেন মানেই আপনি তার ইনবক্সে যাওয়ার ছাড়পত্র পাননি। বামপন্থীর ভেক ধরে প্রণয়ের ছিপ ফেলবেননা গ্রুপে, প্রমাণ সহ এমন সঙ্কেত পেলে শুধু গ্রুপ থেকেই নয়- ফেসবুক থেকেই আপনার ID টিকে অবলুপ্ত করে দেওয়া হতে পারে প্রযুক্তির সহায়তায়। এ বিষয়ে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সতর্কতা অবলম্বন করবেন।

11.  ব্যাতিক্রমী ক্ষেত্র ছাড়া ‘শেয়ার্ড পোষ্ট’ এপ্রুভ হবেনা। নির্দিষ্ট কিছু ব্যাতিক্রম যেমন, পার্টির ওয়েবসাইট, পার্টির ফেসবুক পেজ, টুইটার হ্যান্ডেল, রাজ্য বা কেন্দ্রীয় স্তরের নেতার ভাষণ ইত্যাদির মত ক্ষেত্রে সঞ্চালক মণ্ডলীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শেয়ার্ড পোষ্ট এপ্রুভ হবে। তবে নিজের টাইমলাইনের শেয়ার কখনই এপ্রুভ হবেনা।

12.  ভিডিও পোষ্টের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সদস্যই শেয়ার করে থাকেন, এক্ষেত্রেও ‘অতি গুরুত্বপুর্ণ’ পর্যায়ের পোষ্ট না হলে তা এপ্রুভ হবেনা।

13.  এটা কোনো মনোরঞ্জনধর্মী গ্রুপ নয়। টু’লাইনার জাতীয় পোষ্ট গুলোকে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা হবে, নতুবা বিশ্লেষণ মূলক ও গুরুত্বপূর্ন বার্তা সম্বলিত পোষ্ট গুলো গ্রুপ টাইমলাইনের অন্ধকূপে হারিয়ে যায়। এছাড়া গল্প, উপন্যাস, চুটকি, কবিতা, সুপ্রভাত-শুভরাত্রির বার্তা, নীল ঘাস, সবুজ পাখী, গোলাপি আকাশ ইত্যাদি বিষয়ে পোষ্ট করার জন্য ফেসবুকে অন্য লক্ষ গ্রুপ আছে, ‘২১শে বামফ্রন্ট’ শুধুমাত্র বাম রাজনীতি বিষয়ক আলোচনার মঞ্চ, অন্য কোনো কিছুর জন্য নয়।

 14.  আপনার লেখনী বা ভিডিওতে কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, নৃগোষ্ঠী, ধর্মীয় সম্প্রদায়, ভাষাভাষিগত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আপত্তিজনক কিছু থাকলে তা এপ্রুভ হবেনা।

15.  নিজে ‘যা খুশি একটা পোষ্ট’ করার চেয়ে, ইতিমধ্যে গ্রুপে থাকা পোষ্ট গুলো পড়ে তার কমেন্টে মন্তব্য করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্যান্য কমরেডদের মাঝে আলাপচারিতার বিকল্প নেই। বহু কমরেড বাম মতাদর্শের উপরে প্রবন্ধ লেখেন, বা সাম্প্রতিক সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-প্রশাসনিক সমস্যার কথা সুন্দর করে তুলে ধরেন, সেগুলোর বিতর্কসভাতে অংশ নিয়ে কমেন্ট বক্সে, ভাব ও যুক্তির আদানপ্রদান করে নিজেকে এমন ভাবে গড়ে তুলুন যাতে আপনার পাশে ঘটা কোনও কুকর্ম বা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে পারেন, জনগণকে ভরষা দিতে পারেন পার্টির পক্ষ থেকে।

16.  নিতান্ত ব্যাতিক্রমী পরিস্থিতি ছাড়া এপ্রুভ হওয়া কোনো পোষ্ট ‘ডিলিট’ হবেনা; যেকোনো জটিল পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট পোষ্টটির কমেন্টিং বন্ধ করে দেওয়া হবে, কারন তাতে পোষ্ট ও কমেন্টের নথি তথ্য ইত্যাদিও ডিলিট হয়ে যায়। ইনেক্টিভিটির দরুন অচিরেই পোষ্টটি গ্রুপ টাইমলাইনের অন্ধকূপে হারিয়ে যাবে।

17.  একই লেখা বার বার পোস্ট করা থেকে বিরত থাকুন, পোষ্ট করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন যে এই লেখাটিই অন্য কেউ গ্রুপে ইতিমধ্যে পোষ্ট করেছেন কিনা। আলাদা আলাদা সঞ্চালক দ্বারা একই পোষ্ট আলাদা আলাদা কমরেডদের দ্বারা পোষ্ট হয়ে গেলে তা নজরে আসা মাত্র দ্বিতীয় পোষ্টটির কমেন্টিং বন্ধ করে দেওয়া হবে।

18.  একটি লেখা অ্যাপ্রুভ হবার অন্তত চার ঘন্টা পর অন্য লেখা পোস্ট করুন। গ্রুপের কোন লেখাই না পড়ে অ্যাপ্রুভ করা হয় না, সুতরাং পোস্ট অ্যাপ্রুভ হতে সময় বেশি লাগলে অনুগ্রহপূর্বক অপেক্ষা করুন।

19.  নির্দিষ্ট ইভেন্ট ব্যাতিরেকে নিজের ছবি গ্রুপে পোস্ট করা নিষেধ।

20.  কোনো রকমের ধর্মীয় প্রচার মূলক পোস্ট করা নিষেধ, তা সপক্ষে হোক বা বিপক্ষে।

21.  আপনার পণ্যের বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য এই গ্রুপ নয়, তাই পোষ্ট করার মুহুর্তে বিষয়টি মাথায় রাখবেন।

22.  বাজারী যেকোনো সংবাদমাধ্যমের কোনো রকম ভোটাভুটির পোস্ট পরিহার করুন, এতে পার্টির আখেরে কোনও লাভ হয়না।

23.  গ্রুপের লোগো গ্রুপের সঞ্চালক ছাড়া ব্যবহার করা অবৈধ।

24.  সরকারের নীতির সমালোচনা করুন, ব্যাক্তির নয়; কারন বাম ঘরানার রাজনীতিতে ব্যাক্তির চেয়ে নীতি ও সমষ্টির মূল্য সকলসময়ই বেশি।

25.  কুরুচিপূর্ণ অন্ধ বিরোধিতা মার্কা কোনও পোষ্ট না করে, যুক্তিগ্রাহ্য পার্টির প্রচারনামূলক ও দৈনন্দিন হরেক সমস্যার বিষয়কে তুলে ধরুন।

26.  গ্রুপের যেকোনো ধরনের গঠনমূলক সমালোচনা আমরা সাদরে আহ্বান করছি, কিন্তু সকল শুভাকাঙ্ক্ষীগণের কাছে আবেদন- সেটা প্রকাশ্য পোস্ট বা কমেন্ট করে প্রকাশ করা নিষেধ। ২১শে বামফ্রন্ট পেজের ইনবক্সে আপনার অভিযোগ বা পরামর্শ লিখুন, সঞ্চালক মণ্ডলীতে আলোচনার ভিত্তিতে আমরা দ্রুত আপনাকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দেব।

27.  ছদ্মনাম ব্যবহারে গ্রুপের পক্ষ থেকে কোনো বিধিনিষেধ নেই, শুধু গ্রুপের নিয়ম ভঙ্গ না করলেই হল।

28.  নিয়মিতভাবে উপরোক্ত নিয়মমালা ভঙ্গ করলে তাকে একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর বিনা নোটিশে গ্রুপ থেকে মুক্ত করে দেওয়া হবে।

29.  সঞ্চালকেরা কেউ নির্ভুল যন্ত্র নয়, তাই ভুলবশত কোনো অসংলগ্ন পোষ্ট-কমেন্ট কোনও সঞ্চালক দ্বারা এপ্রুভ হয়ে গেলে কমেন্টে কেউ জবাব না দিয়ে সরাসরি “রিপোর্ট টু এডমিন” করবেন; কিছুক্ষনের মধ্যেই সঞ্চালক মণ্ডলী ব্যবস্থা নেবে। অনুগ্রহকরে মাথায় রাখবেন, সঞ্চালকেরা কেউ বেতনভুক কর্মচারী নয় যে, কেউ ডাকা মাত্রই তিনি হাজির হতে বাধ্য; ব্যাক্তি ও বন্তু জীবনের কর্ম সম্পাদন করার ফাঁকে সময় বের করে তিনি এখানে স্বেচ্ছাশ্রম প্রদান করে, বাম আদর্শে ব্রতী হয়ে। তাই অপেক্ষা করবেন।

30.  উত্তেজনা, আবেগ বা প্ররোচনার কারনবসত কোনো কমরেড ভুল করে ফেললে, তা সঞ্চালকদের নজরে আসা মাত্র তাকে সতর্ক করে দেওয়া হবে, কিন্তু পরবর্তীতে সংশোধন না হলে গ্রুপে থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিকে মুক্ত করে দিতে বাধ্য হবে আমাদের ‘সঞ্চালক পরিষদ’।

 

** মনোযোগ সহকারে পুরোটা পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ **

রবিবার, ৫ জুলাই, ২০২০

ভূমিকম্প, বজ্রপাতঃ বর্তমান সময় ও সোলার মিনিমাম

 

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, অধিকাংশ প্রাচীন সভ্যতাই মাটি খুঁড়ে বা ঢিবি সরিয়ে আবিষ্কার করেছে নৃবিজ্ঞানীরা। সুতরাং, বড় বড় সভ্যতার শহরাঞ্চলে ভূমিকম্পের নমুনা ইতিহাসে কিন্তু ভুরিভুরি। আমাদের দেশের হিমালয় থেকে হিন্দুকুশ পর্যন্ত অঞ্চলটি ভূ-কম্প পীড়িত এলাকা হিসাবে প্রসিদ্ধ, ২০১৫ সালের কাঠমান্ডু ভূমিকম্পই সাম্প্রতিক কালের সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আমাদের দেশের রাজস্থান অঞ্চলে মাসে এক আধবার ভূমিকম্প হওয়াটা স্বাভাবিক জীবনযাত্রারই অংশ হিসাবে মেনে নেওয়া হয়। মাউন্ট আবু থেকে আরাবল্লী পর্বতশ্রেণী পর্যন্ত এই ভূ-প্রাকৃতিক ক্রিয়া চলতেই থাকে।
প্রখ্যাত ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ‘হর্ষ গুপ্ত’র, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া একটা সাক্ষাৎকার মোতাবেক- প্রতিবছরই গোটা পৃথিবীতে হাজার খানেক বড় ভূমিকম্পের ঘটনা রেকর্ড করা হয়, যেগুলো মূলত আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণের ফলেই সৃষ্টি হয়। বর্তমানে দিল্লী সংলগ্ন অঞ্চলের এই মুহুর্মুহু ভূমিকম্পের কারণের উৎস সম্বন্ধে তিনি ও তাদের বিজ্ঞানী মহলও ভীষণ রকমের উদ্বিগ্ন, কারণ দিল্লীর সাথে হিমালয় অঞ্চলের টেকটোনিক প্লেটের কোনো সম্পর্ক নেই, যেখানে দুটি টেকটোনিক প্লেট একে অপরের সাথে সংস্পর্শে আসছে এমন কোনো ‘প্লেট বাউন্ডারি’ ওই অঞ্চলে পড়ে না। ভূ-আভ্যন্তরীণ কোনও ত্রুটি-বিচ্যুতিও ভূমিকম্পের আগে পরিলক্ষিত হচ্ছে না, সুতরাং গোটা বিষয়টি বিজ্ঞানী মহলে বিশ্রী রকমের ধোঁয়াশার জন্ম দিয়েছে।
জানুয়ারি ২০২০ তে ভারতে রেকর্ড করা হয়েছিল ৫টি ৪ মাত্রার উপরের ভূমিকম্পের ঘটনা, ফেব্রুয়ারিতে সেটা দাঁড়ায় ২৩টি তে। মার্চে ২৪টি, এপ্রিলে ২৬টি, মে মাসে ১৭টি, জুন মাসের ২৯ তারিখ পর্যন্ত ৪৩টি ভূমিকম্পের ঘটনা রেকর্ড করেছে ‘National Center for Seismology’. বর্তমান কম্পিউটার সভ্যতার ইতিহাসে শেষ দুই শতকে ৬ মাসে ১৩৮টি ভূমিকম্পের কোনো বিবরণী নেই।
শুধু দিল্লিতেই যে এমন বিষয়টা ঘটছে তেমনটা নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশ বাদ দিন, আমাদের পড়শি দেশগুলোর দিকে খেয়াল করলে দেখা যাবে, চিনে ৪২৩টা, শুধুমাত্র জুনেই ৫৪টা। আফগানিস্তানে ৩০৮টা, পাকিস্তানে ৫৬টা, বাংলাদেশেও শেষ ২ মাসে ২০টিরও বেশি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে ৪ মাত্রা বা ততোধিক। শুধুমাত্র এশিয়াতেই জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে ২৯ তারিখ পর্যন্ত ১৫২টা ভূমিকম্প রেকর্ড করেছে, যা কয়েক শতাব্দীতে সর্বোচ্চ।
জাপানকে ভূমিকম্পের দেশ বলে অবহিত করা হয়, যেখানে রিখটার স্কেলে ১-৪ মাত্রার মধ্যে দৈনিক কমবেশী ২০-২৫টি ভূ-কম্পণ হয়। তাই জাপানকে বাদ দিয়ে বাকি বিশ্বের পরিসংখ্যানের দিকে তাকিয়ে দেখলে বিষয়টা বোঝা যাবে যে, এটা ঠিক কোন ভয়াবহ পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে।
বিশ্বের নিরিখে ছোট বড় মিলিয়ে (৩ থেকে ৭ মাত্রার), জানুয়ারি ২০২০ সালে ১১১৮৫টি, ফেব্রুয়ারিতে ৯৭৮২টি, মার্চে ১১০৮০টি, এপ্রিলে ১১০৯১টি, মে মাসে ১২৫১৩টি ও জুন মাসে ১২১০৪টে নিয়ে সর্বমোট ৬৭৭৫৫টি ভূমিকম্প রেকর্ড করেছে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো, তাদের বরাতে এই তথ্যগুলো প্রকাশ করেছে ‘ভলকানো ডিসকভারি’ নামের একটি ওয়েবসাইট, যা মার্কিন-ইউরোপীয় ভূ-বিশেষজ্ঞ দল দ্বারা পরিচালিত। ২০২০ পূর্ববর্তী দশ বছরে এই ভূ-বিশেষজ্ঞ দলটির দ্বারা রেকর্ড করা ছোট বড় মিলিয়ে মোট ভূ-কম্পনের পরিমাণ ছিল- ১১৭৬৪৩টি। সেখানে ২০২০ সালের প্রথম ৬ মাসেই ৬৭৭৫৫টি ভূমিকম্প রেকর্ড হয়েছে।
গতপরশু মানে ৩রা জুলাই তারিখে মিজোরামের চম্ফাই অঞ্চলে এক স্থানেই পর পর ক্রমান্বয়ে তিনবার চার মাত্রার উপরে ভূমিকম্প হয়েছে, এই দিন সন্ধ্যাতেই দিল্লিতে ভূমিকম্প হয়েছে দুবার, হরিয়ানাতেও একই ঘটেছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি সূত্রের বরাতে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে।
মাসখানেক বা তার কিছু আগে একটা বিষয়ে খুব ছোট্ট করে একটা প্রবন্ধ লিখেছিলাম, ‘সোলার মিনিমাম’ বিষয়ে। এই ধরণের সময়গুলিতে কী হয়, কী হয় না ইত্যাদি বিষয়ে কিছুটা প্রাথমিক ধারণা দেবার প্রচেষ্টা করেছিলাম। অনেকেই হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলেন, বেশ কিছু গ্রুপে সেই পোস্ট বন্ধুদের কেউ কেউ শেয়ার করলে সেটা নিয়ে বেশ খিল্লিও করেছিলেন, তো সে যাই হোক- সেই প্রবন্ধ কোনো মনগড়া গল্পকথা ছিল না, প্রতিটির তথ্য বিভিন্ন বিজ্ঞান বিষয়ক ওয়েবসাইট থেকে প্রাপ্ত, যার লিঙ্ক দেওয়া ছিল।
আজকের দিনে এসে কিন্তু এই মহাজাগতিক ঘটনাবলির প্রতিক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে ভূ-মন্ডলে। বর্তমান সময়ে যদি আমরা খেয়াল করি তাহলে শুধু ভারত ভূ-খন্ডেই আমরা অতি অস্বাভাবিক অনেক কিছু বিষয় পরিলক্ষিত করতে পারছি। কোনো বিষয়টাই যে কাকতালীয় হয় না বা হচ্ছে না এ নিয়ে আমরা নিশ্চিত থাকতে পারি। কিছু আমুদে পাবলিক সবেতেই মজা খোঁজেন, খুঁজতে দিন তাদের।
একটু শান্তভাবে ভেবে দেখুন তো, এ বছরের গ্রীষ্মে কি সেই রৌদ্র তেজ রয়েছে যেগুলো বিগত বছরগুলোতে ছিল! নাহ কোনো বৈজ্ঞানিক হওয়ার প্রয়োজন নেই, শীত-গ্রীষ্মের স্বাভাবিক প্রাঞ্জল অনুভূতি আপনাকে কী জানান দিচ্ছে? এ বছরে সেই উত্তাপ নেই, কিছুটা হলেও কম, যা আমরা সকলেই অনুভব করতে পারছি, বিগত বছরগুলোর সাথে যার প্রভাব লক্ষ্যনীয় ভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এবারে আসি বজ্রপাতের বিষয়ে।
BBC এর একটা রিপোর্ট অনুযায়ী বজ্রপাতের কারণে, ভারতে গড়ে ২০০০-২৩০০ মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়। ‘লাইটনিং রেসিলিয়েন্ট ক্যাম্পেন ইন্ডিয়া’ এর চেয়ারম্যান কর্ণেল সঞ্জয় কুমার শ্রীবাস্তবের একটা সাক্ষাৎকার অনুযায়ী- মোট বজ্রপাতের ৬৪.৫৭% ই IC (In cloud) জাতীয়, বাকি ৩৬.৪৩% হচ্ছে CG (cloud to ground). ভারতের রাজ্যগুলোর মাঝে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয় উড়িষ্যাতে, সারা দেশের মোট বজ্রপাতের ১৫%ই এই রাজ্যে হয়। এর পর মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকের পর আমাদের পশ্চিমবঙ্গ চতুর্থ স্থানে, সারা দেশের নিরিখে ৮%। উত্তরপ্রদেশ ৮ নম্বরে ও বিহার ১১ নম্বরে এই তালিকাতে; দেখা যাচ্ছে এই দুই রাজ্যতেই বর্তমানে বজ্রপাতের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি।
ইন্ডিয়ান মেট্রলজিক্যাল ডিপার্টমেন্টের অধীনে থাকা IAF সেন্সর, পুণের IITM সেন্সর নেটওয়ার্ক ও INSAT-3D উপগ্রহ চিত্র, ইত্যাদি এক বিশাল কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে পাওয়া সূত্রানুযায়ী কোনো এক অজানা কারণে IC মাত্রার বজ্রপাতগুলো মাটিতে ছুঁয়ে যাচ্ছে বা আছড়ে পড়ছে কয়েকটা। শুধু তাই নয়, ভূমিতে (CG) যে ধরনের বজ্রগুলো আঘাত হাতে সেগুলো মোটের উপরে উলম্ব প্রকৃতির খাঁজকাটা ধরণের হয়ে থাকে, কিন্তু যেগুলো মেঘের মাঝেই সীমাবদ্ধ থেকে যায় (IC), সেগুলো চাদরের মতো আনুভূমিক ভাবে পতিত হয়, বিমানচালকদের কাছে এ অতি পরিচিত একটা দৃশ্য। কিন্তু বর্তমানে কোনো এক অজানা মহাজাগতিক কারণে ভূমিতে যে বজ্রগুলো স্পর্শ করছে তাদের মধ্যে অনেকগুলোই উলম্ব হয়ে না আঘাত হেনে চাদরের মতো আনুভূমিক ভাবে মাটিতে আছড়ে পড়ছে।
উলম্ব হয়ে পড়লে সাধারণত যে বিন্দুতে পড়ল সেই বিন্দুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যেমন বিদ্যুতের খুঁটি, তালগাছ, চিমনি ইত্যাদি। এতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কম হয়, কিন্তু আনুভূমিকভাবে পড়লে তার ব্যাপ্তি বিশালাকার ধারণ করে, আর এই কারণেই বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এত বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে রোজ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, কিছুদিন আগে ব্রাজিলে একটা এমনই আনুভূমিক বজ্রপাত হয়েছিল যার দৈর্ঘ্য ছিল ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি, জাতিসঙ্ঘের পরিবেশ সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে গেলেই এই বিষয়ে বিশদে তথ্য পেয়ে যাবেন। শুধু তাই ই নয়, চিলি, ইকুয়েডর, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া জুড়েও এমন আনুভূমিক বজ্রপাত বিস্তর মানুষ ও গবাদি পশুর প্রাণহানি ঘটাচ্ছে, বনাঞ্চলে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক কানাডা, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চল, ক্যারাবিয়ান সমুদ্রাঞ্চল, পশ্চিম আফ্রিকা, স্ক্যান্ডেনভিয়ান দেশ সকল, ইস্টব্লক, রাশিয়া, অষ্ট্রেলিয়াতেও এই ধরণের বজ্রপাত লক্ষ্য করা গেছে নাসার জলবায়ু সংক্রান্ত উপগ্রহের মহাকাশ চিত্র থেকে। কিছুদিন আগে জুন মাসেই কাশ্মীর ও হিমাচল প্রদেশের বহু পার্বত্য এলাকাতে এমন আনুভূমিক বজ্রপাতের কারণে কয়েক হাজার গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জাতীয় বিপর্যয় সূত্রে খবর বেরিয়েছে।
সুতরাং কোনো কিছুই যে কাকতালীয় হচ্ছে না, এটা কিন্তু পরিষ্কার। এ বছরে বর্ষাও অন্যান্য বছরের তুলনাতে বেশি, জুন মাসেই সারা দেশে গড় বৃষ্টিপাত ১৮% বেশি, রাজস্থানে ৪০ দিন আগে বর্ষা পৌঁছেছে, আসামে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, গোটা উত্তর-পূর্ব ভারত সহ উত্তরবঙ্গ, বিহার, উত্তরপ্রদেশে একাংশ তথা গাঙ্গেয় অববাহিকা অঞ্চলকে বন্যার অরেঞ্জ জোন হিসাবে আগাম ঘোষণা করে সতর্ক করে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার।
এ বিষয়ে বিজ্ঞান তার সাধ্যমতো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে আগাম খবর সংগ্রহ করে বা আবহাওয়া বিশ্লেষণ করে মানুষের ক্ষতির পরিমাণ কমাতে। আমরা সাধারণ মানুষ বিজ্ঞান ততটা জানি না, যতটা ধর্ম বিষয়ে জানি। আমি আমার ইসলাম ধর্মের হাদিসে এমন বেশ কিছু টিকা পড়েছিলাম, যেখানে ভবিষ্যৎ বাণী করা আছে এমন বজ্রপাত বিষয়ে, যে- “এমন একটা সময় আসবে যখন মানুষের দৈনন্দিন আলোচনাতে এটাই মুখ্য বিষয় থাকবে, কতজন আজ বজ্রপাতে মারা গেছে”। প্রসঙ্গত ২রা জুলাই ২০২০ তারিখেই বিহারে কমপক্ষে ৩১ জন মারা গেছে বজ্রপাতে, উত্তরপ্রদেশে ২৭ জন, ৩রা ও ৪ঠা জুলাই বিহারে যথাক্রমে মারা গেছে ৩৩ ও ২২ জন। যা এই সময়ের জন্য এই অঞ্চলগুলোতে এক ভয়াবহ রেকর্ড তৈরি করে চলেছে রোজই।

যার যার ধর্ম বিশ্বাস তার কাছে, বিজ্ঞান সর্বজনীন। জীবন বাঁচাতে ‘আল্লা-ভগবান-গড’ সকলের একটাই ওষুধ- প্রাথমিক সতর্কতা অবলম্বন করুন। বৃষ্টির সময় ঘরেই থাকুন, জানি না পরবর্তী মুহূর্ত আমাদের জন্য কী নিয়ে অপেক্ষা করছে। প্রসঙ্গত সোলার মিনিমাম সবে শুরু হয়েছে, ২০২৫ এ এটা সর্বোচ্চ দশায় পৌঁছাবে, যদি এই কারণেই এমন প্রাকৃতিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয় তাহলে আগামী যে আরও অনেক বেশি ভয়ংকর তা বলাই বাহুল্য।

শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২০

এর চেয়ে মুন্নাভাই MBBS এর সেট বেশী বিশ্বাসযোগ্য ছিল

দেখুন, ধাপ্পাবাজ মোদি কিভাবে ভক্তদের বোকা বানাচ্ছে। ভালো করে পড়ে, পার্থক্য বুঝুন।


দেশদ্রোহী চীনের সাথে লড়ার মুরোদ নেই, ফটোসেশান করতে গিয়ে লেজে গোবরে


ছবি: 1 লাদাখের নিমুতে সেনাবাহিনীর কমিউনিটি হল। যাকে মোদীর জন্য তড়িঘড়ি করে অভিনয়ের জন্য হাসপাতালের সেট বানিয়েছেন। যেখানে ভালো সুস্থ সেনাদের পেশেন্টের পোশাক পরানো হয়েছে। হাসপাতালে নেই কোনো নার্স, ডাক্তার, অক্সিজেন, চিকিৎসা সামগ্রী এমনকি হসপিটাল সংক্রান্ত কিছুই নেই।
শুধুই উনি ভালো অভিনেতা বলে ছবি তুলে প্রচারে আসতে চাইছেন।



ছবি: 2 ঐ কমিউনিটি হলেই সেনার পোশাকে ধোনীর সাথে সেনাদের বিশেষ মুহূর্ত(অবশ্যই পুরোনো ছবি)



ছবি ৩- ১০ দিন আগে এই ব্যাক্তি আলাদা বেডে, যখন সেনা প্রধান গেছিল। আশেপাশে কোনো মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট নেই, এমন আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, ইভেন একটা জলের বোতল পর্যন্ত নেই।



ছবি ৪ঃ মোদীর সামনেও ওই একই ব্যাক্তি, শুধু বেডটা বদলেছে। মুখে মুখোশ, চিকিৎসা সরঞ্জাম নেই, নেই জলের বোতল টুকুও।

ঝুট বোলো ঝুট বোলো অউর ঝুট বোলো

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...