সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০

গুরুদেব ও অকপট

 

কথা কও, কথা কও।
অনাদি অতীত, অনন্ত রাতে
কেন বসে চেয়ে রও?
কথা কও, কথা কও”

বাঙালি মানুষ, কবিগুরুকে পাশ কাটিয়ে কোনো কিছুর উদযাপন করবে এমন ভয়াবহ ও অসম্ভবতম দুঃস্বপ্ন কোনো শিক্ষিত বাঙালিই দেখতে পারে না। অকপট, দিনের শেষে শত তর্ক-বিতর্ক, রাজনীতি-সমাজনীতি, আড্ডা-মন্তাজ, দেশীয়-আন্তর্জাতিক, খেলা-তামাশা ইত্যাদির মাঝে সাহিত্যকে ভালোবেসে এর চর্চা করে যাওয়াটাকেই মূল পরিচয় হিসাবে আঁকড়ে ধরে বেড়ে উঠেছে জন্মলগ্নকাল থেকে।

সুতরাং কবিগুরুর চরণস্পর্শ না করে এই পথের পথিক হওয়া গেলেও টিকে থাকা যায় না। তো সে যাই হোক- এরপর সময়ের চাকা দ্রুত ঘুরেছে, আশা-নিরাশা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হরেক দোলাচলের মাঝে, ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টিয়ে স্মৃতিগুলো অবগুণ্ঠনের জট পাকিয়ে বুকের অতল গভীরে সেঁধিয়ে গেছে, কিন্তু তারা এতোটা দূরেও যায় নি যে- আত্মিক নাড়া দিলে তা ভোরের শিউলির মতো ঝরে পড়বে না। তাইতো কবিগুরুর লাইন ধার করে মনে করিয়ে দিই-

তোমায় খোঁজা শেষ হবে না মোর,
যবে আমার জনম হবে ভোর
চলে যাব নবজীবন-লোকে,
নূতন দেখা জাগবে আমার চোখে,
নবীন হয়ে নূতন সে আলোকে
পরব তব নবমিলন-ডোর
তোমায় খোঁজা শেষ হবে না মোর”

স্মৃতিগুলোকে ফিরে পাওয়া, ফিরে দেখা, সাম্প্রতিক সমসাময়িকালের সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশায় বিতর্কের আয়োজনে বসা মিলন মেলার মানচিত্রে 'অকপট' আসলে একটা ঐতিহ্যবাহী মেলবন্ধন- নবীন ও প্রবীণ কিছু মানুষের মাঝে, যে মেলবন্ধন আয়োজন করে মাত্র ৪২টা রেলের কনফার্ম টিকিটে ৫২জনের একটা দলের প্রফুল্লতামাখা যাত্রাপথ, যার কোথাও কোনও অভিযোগ নেই; অকপট মানে সেই ফেলে আসা দিন, ফেলে আসা শৈশবের সরলতা মাখা বন্ধুত্ব- যাকে চাওয়া ও পাওয়ার মাপকাঠিতে পরিমাপ করা যায় না। গুরুদেবের ভাষায় অকপট মানে-

নাই, নাই, কিছু নাই, শুধু অম্বেষণ--
নীলিমা লইতে চাই আকাশ ছাঁকিয়া
কাছে গেলে রূপ কোথা করে পলায়ন,
দেহ শুধু হাতে আসে-- শ্রান্ত করে হিয়া”

অকপট শিক্ষা দেয় নতুন করে পুরাতনকে জানার, নিত্য অন্বেষণের। ক্ষুদ্রজীবনে বিরামহীন যে খোঁজ- তার মাঝেই তো আমার আমিকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। আর অকপট অন্বেষণের মোক্ষ তো তখনই, যখন কেউ নিজেকে উপলব্ধি করতে পারে এককভাবে এই বিশ্বচরাচরে

জন্মজয়ন্তীর উৎসব পালনে দৃষ্টিগোচর বাঁধ ভাঙা উল্লাসের পুনরাবৃত্তি এবারে হয়তো হয় নি আনুষ্ঠানিকতার বাগড়ম্বরা সহ, কিন্তু অকপটের যে মূল চালিকা শক্তি তা হলো- সম্পর্কের বন্ধন; পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস। অকপটের যে প্রত্যয় তা আসলে সম্পর্কের সংস্কৃতিতে উচ্চমর্যাদা দিয়ে সেই কৃষ্টিকে পারিবারিকভাবে হৃদয়ে লালন করার মাধ্যমে, এর জন্য কে কোথায় ভৌগলিকভাবে অবস্থান করছে তার চেয়েও বড় হয়ে দেখা দেয়- আমার হৃ্দয়ে তাকে বা তাদের আসন দিতে পেরেছি কিনা। এভাবেই রাত্রি দেড়টার সময় হিমালয়ের পাদদেশে, ৩ ডিগ্রি শীতল আবহাওয়াতে বিনা নুনের বিরিয়ানিও অমৃতের স্বাদে ধরা দেয় অকপটুদের কাছে, আসলে এটা কোনো একক প্রচেষ্টার সফলতা নয়, দলগতভাবে আমিত্বের বিসর্জন দিয়ে আমরা হয়ে উঠার নামই 'অকপট'তাই তো কবিগুরু লিখেছেন-

মুক্ত করো হে মুক্ত করো আমারে,
তোমার নিবিড় নীরব উদার
অনন্ত আঁধারে
নীরব রাত্রে হারাইয়া বাক্
বাহির আমার বাহিরে মিশাক,
দেখা দিক মম অন্তরতম
অখণ্ড আকারে”

'অকপট' মানে তো নস্টালজিয়া, যেখানে হারিয়ে যায় উত্তর ও দক্ষিণের ভেদাভেদ, মুছে যায় পূর্ব-পশ্চিমের সীমানা। অবসরপ্রাপ্ত সম্মানীয় সদস্যেরাও অনায়াসে পাল্লা দেয় সদ্য যুবকের সাথে, আসলে বয়স এখানে কেবলই একটা ধ্রুবক মাত্র, অকপট আসলে একটা নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়, যেখানে আমরাই আমাদের শিক্ষক, আবার সকলেই মনোযোগী শিক্ষার্থী।

যে যেভাবে পারে খুঁজে ফেরে জীবনের একান্ত স্বাদটুকু, অকপট ‘ডেকার্স লেনের’ ব্যস্ত ফুটপাতের একটা ছোট্ট কাউন্টার স্বরূপ। এখানে খাবারের নামে আদর পরিবেশনা করা হয়, বিনিময়ে ঘৃণা দিলে অগ্নিবর্ষণ করতে পিছুপা হয় না কেউ- এটাই 'অকপট'যারা মানিয়ে নিতে পারেনা, তারা হয় সাথে পথচলা থামিয়ে স্তব্ধ হয়ে যায়, কেউ বা কক্ষ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। ইতিউতি আলাপচারিতায় ভেসে বেড়ায় অকপটের সমাপ্তিকাব্য। যখনই এমন কিছু শ্রুতিগোচর হয়, মনে পড়ে যায় কবিগুরুর অমোঘ সৃষ্টি-

শেষের মধ্যে অশেষ আছে,
এই কথাটি মনে
আজকে আমার গানের শেষে`
জাগছে ক্ষণে ক্ষণে
সুর গিয়েছে থেমে তবু
থামতে যেন চায় না কভু,
নীরবতায় বাজছে বীণা
বিনা প্রয়োজনে”

আসলে শেষের যে শেষ নেই এটাই তো অকপটের ধমনীর মূল, ব্যস্ত জীবনের মাঝে ঝরে পড়া শিউলির গন্ধ নিয়ে মাতোয়ারা হতে অকপটের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ঠিকানা আর কিই বা হতে পারে, এখানে জীবন আছে, তাই তো বিচ্ছেদ আছে, অভিমান আছে, বিষাদ আছে, প্রেম আছে, পরিণয় আছে, আছে কত শত অপত্য, রয়েছে মিলনান্তক-বিয়োগান্তক কতই না অধ্যায়, আসলে ব্যক্তিপরিসর যেখানে দলে এসে মিশে যায় তখন তাকে ‘অকপট’ ডাকনামে ডাকা হয়।

চলার পথে দিন যাপনের নানা ধরণের গ্লানির পলি জমে জমে অকপটের ভিত মজবুত না হলে, জনসেবার নামে লক্ষ লক্ষ টাকার সংস্থান করা সম্ভব হতো না, কৈশোরের অকপট সেই স্মৃতির ভারে তলিয়ে না গিয়ে তাকে ভর করেই নতুন উচ্চতায় উঠে এসেছে, মাথা তুলেছে নতুন ভোরের স্বপ্নে। অতিক্রান্ত ঋতুপর্যায়ে শীতের শেষে নব বসন্তের দখিনা হওয়ার সাথে অকপট প্রতিদিন চোখ মেলে পৃথিবীর পানে নতুন প্রত্যাশাতে। মনে পড়ে যায় কবিগুরুর লেখনী-

মনে করি এইখানে শেষ
কোথা বা হয় শেষ
আবার তোমার সভা থেকে
আসে যে আদেশ
নূতন গানে নূতন রাগে
নূতন করে হৃদয় জাগে,
সুরের পথে কোথা যে যাই
না পাই সে উদ্দেশ”

'অকপট' মানে তো নতুনকে গড়ে তোলার স্বপ্নকে লালন করা, পথ ভিন্ন হতেই পারে, মতের অমিল হতেই পারে কিন্তু অকপট শেখায় গন্তব্য যখন একটিই তখন সকল বৈরিতাকে একটি খোলসের মাঝে আবৃত রেখে যদি আমরা সাথে সাথে পথ চলি তাহলেই তো প্রাণে সমৃদ্ধি আসে জীবনীশক্তিতে- আর এই প্রাণশক্তিটার নামই তো আসলে অকপটতা। অকপট ভীরুতা, কাপুরুষতাকে প্রশ্রয় দেয় না, কিন্তু অশ্লীলতাকে কঠোর ভাবে দমন করার প্রেরণা দেয়, ক্ষমতার চোখে চোখ রাখতে শেখায়। দাসত্ব, অন্ধত্বের গরল থেকে স্বতন্ত্রতার গরিমার পথের প্রতিটি যাত্রীই আসলে একজন অকপটু

ওজোনের চাদর যেমন ঢেকে রাখে প্রকৃতির শুদ্ধতাকে, অকপটের শ্রেষ্ঠ সদস্যেরা পরিচালক রূপে অকপটের সেবা করে চলেছে প্রতিনিয়ত। বিদ্বেষ, হীনতা, স্বার্থপরতা, মিথ্যাচারের উত্তুরে হাওয়া যখন মুহূর্তে কাঁপন ছড়িয়ে দেয় শিরা-উপশিরায়, শক্ত হাতে তাঁরা পাল সামলে অকপট নামের ডিঙিকে ভাসিয়ে রাখে এই মহাসমুদ্রে। আজকে ‘সাথে সাত’ অকপটজয়ন্তী উৎসবের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন, বিশ্বব্যাপী মারণ রোগের সাথে ছড়িয়ে পড়া দেউলিয়া রাজনীতির নগ্নতা, অপরিকল্পিত রাষ্ট্রব্যবস্থা, সাম্রাজ্যবাদীদের যুদ্ধের দামামার সাথে সর্বগ্রাসী কর্পোরেটের ক্ষিদের সাথে যুঝতে গিয়ে আমরা সকলেই রণক্লান্ত, আমাদের হৃদয়ের উষ্ণতা হারিয়ে গেছে সামান্য খিদের চাহিদা মেটাতে। মিথ্যা প্রচারের অনন্ত শীতলতায় ঢেকে যাওয়া সমাজের বুকে একটুকরো রোদ হয়ে বুকের ভিটেতে একটুখানি ওম পৌঁছে দেওয়ার নামই অকপটতা। এ উষ্ণতায় কোনো ভেদাভেদ নেই, আছে মিলন পিয়াসী শুধু সুখ, আর ভাগ করে নেওয়া সুখানুভূতি।

সামাজিক বৈষম্য, জাত, ধর্ম, বর্ণ কিছুই অকপটের বাধা হতে পারে না, আর যেখানে এই বন্ধন আছে তা কখনও অকপট হতে পারে না। তাইতো কবিগুরু বলে গেছেন-

ললাটে দিয়েছে চিহ্ন ‘তুমি আমাদের চেনা' বলে
খসে পড়ে গিয়েছিল কখন পরের ছদ্মবেশ;
দেখা দিয়েছিল তাই অন্তরের নিত্য যে মানুষ;
অভাবিত পরিচয়ে
আনন্দের বাঁধ দিল খুলে
ধরিনু চিনের নাম, পরিনু চিনের বেশবাস
এ কথা বুঝিনু মনে,
যেখানেই বন্ধু পাই সেখানেই নবজন্ম ঘটে
আনে সে প্রাণের অপূর্বতা”

আর এই প্রাণের অপূর্বতা আছেই বলেই কখনও একঘেঁয়েমি গ্রাস করে না অকপটকে, অকপট কঠোর কিন্তু স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, ব্যক্তিত্ববোধের স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশের সহায়ক, মোহনীয় মানবিক গুণের পৃষ্ঠপোষক। অকপট বর্তমানে বাঁচে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুকে এঁকে, কিন্তু নিজেদের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে বর্তমানের অকপটুদের সাথে ভাগ করে নিয়ে স্মৃতিময় করে তোলে বর্তমানকে, আগামীর জন্য।

অকপট মানে তো সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের উজ্জ্বল্যের গান, স্মৃতিচারণা কেবলই একটা পথ নির্দেশনা মাত্র- সমাজের মাঝে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত অকপটুদের সাথে নিশ্চিন্তে বেড়ে উঠে নব প্রজন্ম, তাদের অভিজ্ঞতা থেকে প্রেরণা নিয়ে বস্তু জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারার নামই অকপট অনুশীলন। স্মৃতিধন্য বর্তমান প্রজন্মই পারে আগামীর স্বপ্ন পূরণে আন্তরিকতার অভিব্যক্তিময় পরম্পরা চালিয়ে যেতে। অকপট জানে কবিগুরুর এই কবিতাখানি-

সমুখে শান্তিপারাবার,
ভাসাও তরণী হে কর্ণধার
তুমি হবে চিরসাথি,
লও লও হে ক্রোড় পাতি,
অসীমের পথে জ্বলিবে জ্যোতি ধ্রুবতারকার”

অকপট সদা সর্বদা একটি অকৃত্রিম সংস্করণ, এখানে থাকা মানেই মনের স্ফূর্তি। সংসার-জীবনের কৃত্রিমতার বাধা পেরিয়ে সবাই নিজেকে হালকা করতে অকপট হওয়া, যেখানে কোনো অভিনয় থাকে না। নিজেকে খোলস থেকে বের করে আনার একটা প্রক্রিয়ার নাম 'অকপট'অকপট আসলে অনেক নাম, হরেক চেহারা, ভিন্ন ভিন্ন চঞ্চলতা, অপ্রতুল হর্ষ, অনিঃশেষ পরিতৃপ্তি ঘিরে ভিড় করে থাকা মানুষের দল। তাদের সামঞ্জস্যই হলো তাদের তারতম্যতায়, যেখানে রঙ, রূপ, বর্ণ, গন্ধ সবেতেতেই আছে দৃষ্টান্তমূলক ভিন্নতা; তা সত্ত্বেও প্রত্যেকের উজ্জ্বলতা ও আত্মার পরিশুদ্ধতা একইরকম দীপ্তিময়। একে বিচ্ছিন্ন করে এমন সাধ্যি কার!

কথিত আছে- ‘বিজ্ঞান আমাদের দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ’; কিন্তু অকপট একটা ভার্চুয়াল মাধ্যম হয়েও এর মানে হলো- বিগলিত আবেগের বারিধারা। জীবিকার তাগিদে যতোই যান্ত্রিকতায়- বস্তুজীবনের মানবিকতা পথ হারিয়ে ফেলুক, অন্তরের আবেগ কখনও ফুরিয়ে যায় না, আর এই আবেগকেই পুঁজি করে যারা বাসা বেঁধেছে, তাদের সেই বাসার নামই যে 'অকপট'নিরন্তর সংগ্রামে লিপ্ত সকলেই এক সমান্তরালে এসে পূর্ণ করে তুলেছে শ্রদ্ধা ও স্নেহের অপূর্ব এক মেলবন্ধনে। এমনই কোনো জন্মদিনের অবসরে কবিগুরু বলে গেছেন-

আজি এই জন্মদিনে
দূরের পথিক সেই তাহারি শুনিনু পদক্ষেপ
নির্জন সমুদ্রতীর হতে”

চোখ আমাদের সামনের দিকে হলেও আমরা দেখতে পায় কেবলমাত্র পিছনের অতীতকে, সেই নির্লোভ, নির্ভেজাল, নিষ্কলুষ শৈশবের কাছে বাঁধা আছে আমাদের প্রাণভোমরা। যাকে আক্ষরিকভাবে ছোঁয়া যায় না ঠিকই, তাই তো অকপট নামের এমন মঞ্চের প্রবর্তনা। অসীম আকুলতা মহাকালের পথ দিয়ে আমরা জীবনের সেই চরম সত্যের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে যায়- ‘সময় কখনও ফিরবার নয়’। তবুও মনের জানালা খুলে দিলে অকপট সমাজ আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায় মূর্তিমান হয়ে। তাই তো কবিগুরু প্রশ্ন করেছেন- তোমার গেছে যে দিন সে কি একেবারেই গেছে? কিছুই কি নেই বাকি? বিড়বিড় করতে করতে মন বলে উঠে- ‘রাতের সব তারা-ই আছে দিনের আলোর গভীরে’

কবি শঙ্খ ঘোষের একটি লাইন দিকে আমি নিজেকে অকপটের সাথে সম্পর্ক সম্পৃক্ত করতে পারি আজকের ন্যাংটা সমাজে, যেখানে আমার যা কিছু আছে সবটাই আসলে অকপটের জন্য- তাই তো এই কবিতাটা ‘আমি ও অকপটের’ মাঝে যোগসূত্র স্বরূপ

আমার জন্য একটুখানি কবর খোঁড়ো সর্বসহা
লজ্জা লুকোই কাঁচা মাটির তলে --
গোপন রক্ত যা-কিছুটুক আছে আমার শরীরে, তার
সবটুকুতে শস্য যেন ফলে”

শুভ জন্মবার্ষিকী 'অকপট', পায়ে পায়ে এই পথ চলা শতাব্দীর প্রাচীরকে ভেদ করে কালের গর্ভে যাত্রা করুক এটাই তো অকপট কামনা

শেষে বলি, কবিগুরু যেন অকপটের জন্যই এমন একটা কবিতা এঁকেছিলেন বোধহয়- একে ছাড়া যেন এই আত্মচর্চাটাই অসম্পুর্ণ-

সীমার মাঝে, অসীম, তুমি বাজাও আপন সুর
আমার মধ্যে তোমার প্রকাশ তাই এত মধুর
কত বর্ণে কত গন্ধে, কত গানে কত ছন্দে,
অরূপ তোমার রূপের লীলায় জাগে হৃদয়পুর
আমার মধ্যে তোমার শোভা এমন সুমধুর
তোমায় আমায় মিলন হলে সকলি যায় খুলে--
বিশ্বসাগর ঢেউ খেলায়ে উঠে তখন দুলে
তোমার আলোয় নাই তো ছায়া, আমার মাঝে পায় সে কায়া,
হয় সে আমার অশ্রুজলে সুন্দরবিধুর
আমার মধ্যে তোমার শোভা এমন সুমধুর”

-চরৈবেতি

শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২০

টেলিগ্রাম মেসিজিং এ্যাপস



হোয়াটস অ্যাপ নিঃসন্দেহে এই সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ। হোয়াটস অ্যাপে মেসেজ পাঠানো সম্পূর্ণ নিরাপদ, এত কাল এমনটাই ভেবে এসেছেন আপনি; কিন্তু এটা যে মোদী জামানা, সুতরাং এখানে এনস্ক্রিপ্সন ধাপ্পার উপরে নির্ভর করে আঁখি দাসেরা RSS-বিজেপির কাছে সম্পূর্ণ রূপে বিক্রি হয়ে বসে রয়েছে। আর বিক্রি হয়েছে বলে তবে না নাগপুর হোয়াটস অ্যাপকে ইউনিভার্সিটি বানিয়ে তুলেছে ভক্তদের জন্য, যে মাধ্যমে মিথ্যা ও ঘৃণা শব্দের চেয়েও দ্রুতগতিতে দৌড়ায়। অথচ আপনার সামান্য একটা নিরীহ লেখা বা ছবি যেখানে মোদীজীর সমালোচনার কথা রয়েছে তা যেকোনো সময় ব্লক হয়ে যেতেই পারে, এমনকি হোয়াটস অ্যাপও। এখন তো সরকারি ভাবেই জিও-হোয়াটস অ্যাপ-নাগপুর-জুকারবার্গ-রবিরঞ্জন-আঁখি দাস-উন্নয়ন-আচ্ছেদিন সবই একটা ছাতার তলায়, শিল্পের ভাষায় সিংগেল উইণ্ডো। যারা ভেবেছেন আমরা বোধহয় হোয়াটস অ্যাপে সুরক্ষিত, ভুল ভেবেছেন এত দিন। হোয়াটস অ্যাপে আপনার গোপনীয়তা আদৌ সুরক্ষিত নয়, বরং আপনার প্রতিটি মেসেজই রাষ্ট্রে বিক্রির দালাল তথা স্বঘোষিত দেশপ্রেমিকদের দ্বারা নজরবন্দী।

তাহলে উপায়? End to end এনক্রিপ্টেড মেসেজিং সার্ভিসের দিন কি তাহলে শেষ?

দেখুন শেষ কিনা জানি না, কিন্তু বেশি ভালো ভালো নয়- সেই সূত্র মেনে পাশাপাশি অন্য আর কিছু বিকল্প কি ট্রাই করা যেতে পারে না, বিশেষ করে তাদের জন্য যারা ফেসবুক গোষ্ঠীর দ্বারা RSS এর রক্তচক্ষুর শিকার হয়েছেন বা হয়ে চলেছেন। অনেকেই একে অক্সিমরোন বলবেন, কিন্তু দেখুন সোনার পাথরবাটি না হলেও সোনার বাটি কিন্তু হয়। অতএব কেন পড়ে আছেন হোয়াটস অ্যাপে, অন্য বিকল্প ট্রায় করে বুঝিয়ে দিন যে- কাল এই জিনিস ফেসবুকের সাথে হওয়াটাও অসম্ভব কিছু নয়। সাম্প্রতিক অতীতেই অর্কুট নামের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিল নেট দুনিয়াতে, যেমন ছিল নোকিয়া ফোন বা ফুজি ফিল্ম বা hmt ঘড়ি। কালের নিয়মে এরা সকলেই হারিয়েছে, সুতরাং ফেসবুকই একমাত্র বিকল্প এমনটা নাও থাকতেই পারে নিকট আগামীতে। তাই খুব স্বল্প ক্ষমতা দিয়ে আপনার আমার মতো প্রান্তিক গ্রাহকেরা জাস্ট একটা টোকা দিয়েই দেখি না, লক্ষ লক্ষ টোকা ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের মতো কাঁপুনি ধরিয়ে দেবে ক্যালিফোর্নিয়ার মেনলো পার্কের অফিস বাড়িতে।

কথা বলছি টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপ নিয়ে, তবে এটা কোনো পেইড বিজ্ঞাপন নয়। আমার টেলিগ্রামের প্রতি ভালোলাগা থেকে এই লেখা। টেলিগ্রাম হলো সিকিউরিটি ও প্রাইভেসির জন্য অন্যতম পরিচিত একটি অ্যাপ, যা দীর্ঘ ৭ বছর ধরে পরিষেবা দিয়ে আসছে। এটি কখনোই থার্ড পার্টির কাওকে আপনার কোন তথ্য দেয় না, বা দিয়েছে বলে এমন কোনো অপশ্রুতি বাজারে নেই। তথ্য না দেওয়ার কারণে অধিকাংশ দেশের সরকারের রক্ত-চক্ষুর মুখে পড়েছে টেলিগ্রাম, কিন্তু তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে অবিচল। এখানে আপনি নির্দিষ্ট একটা সময় পর্যন্ত এক্টিভ না থাকলে অটোমেটিক ভাবে আপনার একাউন্টটি সিস্টেম থেকে ডিলিট হয়ে যাবে, যা “Self Destructing” নামে পরিচিত, আর এই পিরিয়ডটা আপনি নিজেই সেট করতে পারবেন যে, ঠিক ‘কতদিন আমি ব্যবহার না করলে এটা অটো ডিলিট হয়ে যাবে’। তাই এমন একটা প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারী মানেই খরিদ্দার এমনটা মনে হয় না, অন্তত আজকের তারিখ পর্যন্ত।

টেলিগ্রাম ব্যবহার না করার জন্য আপনার বহু কারণ থাকতে পারে, আবার হোয়াটস অ্যাপ না ছাড়ার জন্যও লক্ষ কারণ থাকতেই পারে- আমার উদ্দেশ্য আপনাকে কনফিউজড করা নয়- উদ্দেশ্য আপনার কাছে বিকল্পটা সম্বন্ধে একটা স্বচ্ছ ও পরিষ্কার ধারণা দেওয়া। তবে সে যাই হোক না কেন এটি একটি পোক্ত মেসেজিং অ্যাপ এ নিয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। হোয়াটস অ্যাপ ব্যবহারকারিদের কাছে এর চেয়ে দুর্দান্ত বিকল্প এই মুহূর্তে আর নেই। যদিও মাইক্রোসফটের কাইজালা বা সিগন্যাল নামের দুটো অ্যাপও রয়েছে কিন্তু টেলিগ্রাম কিছু বিষয়ে একেবারেই অনন্য। এখানে গর্ভমেন্ট অফ ইন্ডিয়ার MyGov নামে চ্যানেল আছে, চেক করে দেখতে পারেন, যেখানে ২৫ লক্ষেরও বেশি সদস্য রয়েছে।

দুই রাশিয়ান ভাই- পাভেল জুরভ এবং নিকোলাই জুরভ এই সফটওয়্যারের জনক। এতে হোয়াটস অ্যাপের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা পাওয়া তো যায়ই, বরং আরও বেশি কিছু আছে এতে। তাছাড়া, ব্যবহারের দিক থেকে হোয়াটস অ্যাপের চেয়ে টেলিগ্রাম আরও বেশি ‘নিরাপদ’ ও ‘কার্যকর’ নির্মাতাদের দাবি অনুযায়ী, অ্যাপটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতই জোরদার করা রয়েছে যে, কেউ এটি ভাঙতে পারলে তাকে দুই লাখ ডলার পুরস্কার প্রদানের ঘোষণাও রয়েছে। টেলিগ্রামের সাত বছর পূর্ন করল মাত্র কয়েক দিন আগে, এর যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৩। এদের একমাত্র মোটো হচ্ছে সুরক্ষিত বার্তাপ্রেরণের উপর ফোকাস। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৫০ কোটিরও বেশি টেলিগ্রাম ব্যবহারকারী রয়েছে, সর্বাধিক ডাউনলোড হওয়া ১০ টি অ্যাপের মধ্যে টেলিগ্রাম অন্যতম।

এছাড়া টেলিগ্রাম একটি নন-প্রফিট কোম্পানি আর এর ক্লায়েন্টস হলো ওপেন সোর্স। নির্মাতা পাভেল জুরভ এবং নিকোলাই জুরভ জানিয়েছে, টেলিগ্রাম অ্যাপটিতে কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে না বা কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে এটি বিক্রিও করা হবে না ভবিষ্যতে, না করা হবে কোনো প্রকারের কর্পোরেট লগ্নি। অ্যাপটির পরিচালনার জন্য যদি কখনও অর্থের প্রয়োজন হয়, তবে ব্যবহারকারীদের কাছেই অনুদান চাওয়া হবে- যেভাবে উইকিপিডিয়া ক্রাউড ফান্ডিং করছে।

যে কারণে টেলিগ্রাম ব্যবহার করবেনঃ

একটা সময় পর্যন্ত টেলিগ্রামে ভিডিও কল করা যেত না, কিন্তু ১৫ই আগষ্ট ২০২০ সালে তাদের নতুন আপডেট ভার্সন তথা আলফা ভার্সনে ভিডিও কলের সুবিধা একে দুর্দান্ত বানিয়ে তুলেছে।

১) প্রাইভেসি: টেলিগ্রামের প্রতিটি মেসেজগুলো কঠোরভাবে এনক্রিপড করা। আপনার মেসেজগুলি হ্যাকারদের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখে, তেমনই রাষ্ট্রের নামে থাকা বেনামি দালালদের বদ মতলবের নজর থেকেও আপনার ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ হয় না।

২) ক্লাউড-বেসড সার্ভিসঃ যার জন্য আপনি অনেকগুলো ডিভাইসের মাধ্যমে একটাই টেলিগ্রাম ব্যবহার করতে পারবেন অনায়াসে। এর মধ্যে এন্ড্রয়েড, আইওএস, উইন্ডোজ, লিনাক্স, ম্যাক উল্লেখযোগ্য। এমনকি Web এও ব্যবহার করতে পারবেন। যেটা আগে ছিল না, এখন বাংলা ফন্টও সাপোর্ট করে।

৩) ফাস্টঃ টেলিগ্রাম অন্যান্য সকল এই জাতীয় অ্যাপ্লিকেশনের থেকে দ্রুত মেসেজ আদান-প্রদান করতে সক্ষম। প্রতিটি মেসেজের রিপ্লাই দেওয়া যায় বা মেসেজটিকে ফরোয়ার্ড করার সুবিধা রয়েছে।

৪) ডিস্ট্রিবিউটেডঃ নিরাপত্তা ও গতির জন্য টেলিগ্রামের সার্ভার বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত।

৫) ওপেন: টেলিগ্রামের উন্মুক্ত API ও Protocol যা সবার জন্য ফ্রি।

৬) ফ্রিঃ টেলিগ্রাম চিরদিনের জন্য ফ্রি। এতে কোনো ধরণের বিজ্ঞাপন বা সাবস্ক্রিপশন ফি নেই।

৭) অ্যানিমেটেড ইমোজিঃ আপনাকে আনন্দ দান করার জন্য টেলিগ্রামে থাকা হরেক অ্যানিমেটেড ইমোজিগুলো শুধু অনবদ্য বললে কিছুই বলা হয় না, এটার মজা শুধু সেই জানে যে ব্যবহার করেছে এই ইমোজি।

৮) পাওয়ারফুলঃ টেলিগ্রামে আপনি যেকোনো সাইজের মিডিয়া এবং ডকুমেন্ট (যে কোনো ধরনের) পাঠাতে পারবেন এটাচমেন্টে। সেখানে আপনি ভিডিওর কোয়ালিটি নিজেই কন্ট্রোল করতে পারবেন।

৯) সিক্রেট চ্যাটঃ অনেকের কাছে খুবই কাজের একটা জিনিস। সিক্রেট চ্যাটে যে বার্তা আদান প্রদান করা হয়ে থাকে তা প্রেরক ও প্রাপক ছাড়া কেউ দেখতে পারবে না, এমনকি যারা এটি বানিয়েছে তারাও দেখতে পারবে না।

১০) একাধিক ফোন নম্বর ব্যবহারঃ আপনার যদি কখনও নিজের ফোন নম্বর পরিবর্তন করার দরকার পরে, সেক্ষেত্রে অনায়াসে আপনার সমস্ত কনট্যাক্ট লিষ্ট এবং অন্যান্য তথ্যপঞ্জী নতুন নম্বরে স্থানান্তর করতে পারেন। আপনার চ্যাট বা কনট্যাক্ট গুলির কোনো ক্ষতি না করেই আপনি সহজে আপনার অ্যাকাউন্টের সাথে সংযুক্ত ফোন নম্বরটি পরিবর্তন করে নিতে পারবেন। যে নম্বরটি ব্যবহার করছেন তা পরিবর্তন করতে, বাম দিকের মেনুটি স্লাইড করুন, সেটিংস খুলুন এবং অ্যাকাউন্টে থাকা আপনার ফোন নম্বরটিতে আলতো চাপুন। তারপরে পরিবর্তিত নম্বরটি লিখে দিয়ে নির্দেশাবলী অনুসরণ করুন। কেল্লা ফতে-

১১) একই সাথে দুটো একাউন্টঃ আপনি যদি নম্বর পরিবর্তনের পরিবর্তে দ্বিতীয় আরেকটা নম্বর যুক্ত করতে চান, যেমন ফেসবুকে একাধিক একাউন্ট করা যায় তেমন- তাহলে টেলিগ্রামের বিকল্প আর কিছু নেই। বাম পাশের মেনুতে অ্যাকাউন্টের স্যুইচারটি প্রসারিত করে আপনার পরিচিতির তথ্যটিতে আলতো চাপুন এবং অ্যাকাউন্ট যুক্ত করুন যতগুলো খুশি। একাধিক মেসেঞ্জার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার না করেই আপনার ব্যক্তিগত এবং পেশাদার জীবনকে আলাদা রাখতে এর জুড়ি নেই।

১২) একাধিক প্রোফাইল ফটোঃ বহুগুণের কথা বললে- নিজের একাধিক পছন্দের ছবি ডিপিতে কে না রাখতে চায়, আর এর জন্য টেলিগ্রাম হলো সবচেয়ে সেরা স্থান, এই সিস্টেম আপনাকে অতিরিক্ত প্রোফাইল ফটো আপলোড করতে অনুমোদন দেয়। সর্বশেষতম ছবিটি আপনার পরিচিতিগুলির প্রোফাইল ছবি হিসাবে দেখা গেলেও যে কেউ আপনার বাকী ছবিগুলি দেখতে চাইলে শুধু তাকে সোয়াইপ করার কষ্টটুকু করতে করতে হবে।

১৩) আপনি যেকোনো সময় যেকোনো মেসেজ ডিলিট করে ফেলতে পারেন, এই মাধ্যমে তার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে।

১৪) কাস্টমাইজ থিমঃ টেলিগ্রামে আপনি ডিফল্ট বর্ণের রঙ এবং পটভূমির সামঞ্জস্য যেকোনো সময় বদল করে ফেলতে পারেন আপনার মনের রঙ দ্বারা। আপনি টেলিগ্রামটিকে ঠিক যেভাবে দেখতে চান তেমনই রঙে রাঙানোর স্বাধীনতা পেয়ে যাবেন স্বয়ংক্রিয় নাইটমোডের সুবিধা সহ। চাইলে ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবিটিও আপনি আপনার ফোনের গ্যালারি থেকে বেছে নিতে পারবেন।

১৫) প্রক্সি সার্ভারে ব্যবহারের স্বাধীনতাঃ আপনি যদি টেলিগ্রামটিকে এমন এক অঞ্চলে ব্যবহার করতে চান যেখানে এটির ব্যবহারকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে, সেক্ষেত্রেও বিন্দাস থাকুন। টেলিগ্রাম ফাংশনটির সকল সময় আপনাকে প্রক্সি সার্ভারের মাধ্যমে সংযোগ করার অনুমতি দেয়। বেশিরভাগ সময়, আপনার ফোনে একটি ভিপিএন ব্যবহার করেই করা যেতে পারে।

প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করতে, সেটিংস> ডেটা এবং স্টোরেজ> প্রক্সি সেটিংস।এবারে উইজ প্রক্সি এনাবেল করুন এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য পূরণ করে দিন, ব্যাস। প্রয়োজনে সার্ভার সম্বন্ধীয় তথ্য অনলাইনে খুঁজে পেয়ে যাবেন।

১৬) হ্যাশট্যাগঃ টেলিগ্রামে হ্যাশট্যাগ সুবিধা উপলব্ধ, আপনি যদি হ্যাশট্যাগটি ট্যাপ করেন তবে সেই নামে করা আপনার সমস্ত পূর্ব লিখিত বার্তা গুলো সহজে খুঁজে পেয়ে যাবেন, যা অনুসন্ধান করা বা নিজের জন্য তথ্য শ্রেণীবদ্ধ করা অত্যন্ত সহজ করে তোলে।

১৭) গ্রুপের সদস্য সংখ্যাঃ হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে যেখানে সর্বোচ্চ ২৫৬ জন মাত্র মেম্বারকে যোগ করা যায়, সেখানে টেলিগ্রাম আপনাকে একটি গ্রুপে সর্বোচ্চ দুই লক্ষ সদস্যকে যোগ করার স্বাধীনতা দেয়।

১৮) এখানে আপনি নিজের নামে চ্যানেল খুলতে পারেন।

১৯) পিন পোস্টঃ গ্রুপ বা নিজস্ব চ্যানেলের জন্য জরুরী বার্তাগুলোকে পিন পোস্ট আকারে গ্রুপের শুরুতেই সেঁটে রাখতে পারবেন ফেসবুকের মতো। একটি মেসেজ আলতো চাপুন এবং এটিকে চ্যাটের শীর্ষে রাখতে পিনটি চয়ন করুন, যেখানে প্রত্যেকে সহজেই এটি উল্লেখ করতে পারে। আপনি যদি এডমিন হন, সেক্ষেত্রে যেকোনো মেসেজকে আপনি এডিট করতে পারবেন।

২০) এখানে ছবি বা ভিডিও খুললেই তা অটোমেটিক গ্যালারিতে জমা হয় না, যেটা আপনি গ্যালারিতে সেভ করতে চান অপসনে গিয়ে তা সেভ করলে তবেই তা সেভ হবে, নচেৎ নয়।

২১) গোপনীয়তা এবং সুরক্ষা নিয়ন্ত্রণঃ গ্রুপের মধ্যে আপনি নিজের অ্যাকাউন্টটি আরও ব্যক্তিগত করতে চাইতে তা অনায়াসেই করতে পারেন। গোপনীয়তার বিকল্পগুলি পরিবর্তন করতে, সেটিংস> প্রাইভেসি এন্ড সিকিউরিটি তে গিয়ে- কে আপনার ফোন নম্বর, এক্টিভ স্ট্যাটাস এবং আরও অনেক কিছু দেখতে পাবে আর কার থেকে লুকাবেন তা অনায়াসেই ঠিক করতে পারবেন।

২২) এছাড়া আপনি ফিঙ্গারপ্রিন্ট লক বা পাশওয়ার্ড লক করে আপনার অ্যাপটিকে সুরক্ষিত করতে পারবেন।

২৩) টেলিগ্রামের যেকোনো মিডিয়াকে সরাসরি যেকোনো অন্য মাধ্যম যেমন হোয়াটস অ্যাপ, ফেসবুক, ইমেল বা অন্য কিছু ক্ষেত্রে শেয়ার করার সুবিধা আছে সেটিকে ডিভাইসে ডাউনলোড না করেই।

২৪) লাইভ লোকেশন পাঠাতে পারবেন।

২৫) সর্বোপরি, অতিরিক্ত মেসেজের দ্বারা কোনো ব্যক্তি বা গ্রুপের দ্বারা বিরক্ত হলে আপনি অনায়াসে সেই চ্যাটবক্সটি থেকে লিভ না করে মিউট করে রেখে দিতে পারেন।

এছাড়াও আর অনেক অনেক আকর্ষনীয় ফিচার্স রয়েছে যেগুলোর খবর হয়ত আমি নিজেই জানি না, আপনি ব্যবহার করতে করতে আবিষ্কার করবেন।

উপরে বর্ণিত প্রতিবেদনটি পড়ে আশা করি এবার বুঝতে পেরেছেন কেনো টেলিগ্রাম ব্যবহার করবেন।

তথ্যঃ মেক ইউস অফ,
বাংলা নিউজ এইট্টিন

সম্পাদনাঃ তন্ময় মিস্ত্রী

শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০

RSS এর প্রতি ঘৃণা প্রদর্শনই প্রকৃত দেশপ্রেম



সেদিনের দালালেরা যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তাদের বীর্যে জন্মানো সন্তানেরা আজকে দেশপ্রেমের ঠিকে নিয়ে ছদ্ম দেশপ্রেমের হুজুক তুলে পুঁজিপতিদের কাছে আবার পরাধীন করে দেওয়ার পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে।


এর পর সরকারের বেসরকারী করনটা করে দিলেই উন্নত পরিষেবা সম্পূর্ণ হবে, হবে ব্রিট্রিশদের প্রতি তাদের জুতো চাঁটা ভৃত্যদের উপহার।

আজকের স্বাধীনতা দিনে তাদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শনই আপনার দেশপ্রেমের প্রকৃত নমুনা।


নিচের অংশটাঃ গণদাবী থেকে

আমাদের দেশ ভারত যখন ব্রিটিশের উপনিবেশ ছিল, যখন দেশের তরুণেরা মুক্তির মন্দির সোপান তলে আত্ম বলিদান দিয়েছে, তখন কী ভূমিকা নিয়েছিল আরএসএস?

আরএসএস–এর প্রতিষ্ঠা ১৯২৫ সালে৷ প্রতিষ্ঠাতা ডঃ হেডগেওয়ারের পরে এম এস গোলওয়ালকর আরএসএস–এর পরিচালক হন৷ স্বাধীনতা আন্দোলন সম্পর্কে আর এস এস–এর দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে গোলওয়ালকর বলেছিলেন, ‘‘ব্রিটিশ বিরোধিতাকে ভাবা হচ্ছে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের সমার্থক৷ এই প্রতিক্রিয়াশীল দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের সমগ্র স্বাধীনতা আন্দোলন, তার নেতৃবর্গ ও সাধারণ মানুষের উপর বিনাশকারী প্রভাব ফেলেছিল’’ (চিন্তাচয়ন, ১ম খণ্ড, পৃ: ১২৫)৷ অর্থাৎ আর এস এস–এর কাছে ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল একটি ‘প্রতিক্রিয়াশীল আন্দোলন’৷ ফলে এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলা আর এস এস যে সর্বদাই জাতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে রাখবে এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই৷ বাস্তবে স্বাধীনতা আন্দোলনে সশস্ত্র বা শান্তিপূর্ণ কোনও সংগ্রামেই আর এস এস অংশগ্রহণ করেনি৷ এহেন আর এস এসকে কি দেশপ্রেমিক বলা যায়?

আর এস এস ভারতীয় জাতীয়তাবাদকেই স্বীকার করে না৷ হিন্দু–মুসলিম–বৌদ্ধ ইত্যাদি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের শত–সহস্র বছরের প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে এবং পরিশেষে ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদের অধীনে একই শোষণ–যন্ত্রণা, একই অত্যাচার–বঞ্চনার শিকার হওয়ার কারণে ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসাবে ভারতের গড়ে ওঠাকেই তারা অস্বীকার করে৷ তাদের মতে, ‘‘আমাদের দেশের হাজার হাজার বছরের ইতিহাস এই কথাই বলে যে, সব কিছু করেছে একমাত্র হিন্দুরা৷ এর অর্থ কেবল হিন্দুরাই এই মাটির সন্তান হিসেবে এখানে বসবাস করেছে’’ (গোলওয়ালকর, চিন্তাচয়ন, ২য় খণ্ড, পৃঃ ১২৩–২৪)৷ আর এস এস–এর এই বক্তব্য বিবেকানন্দের চিন্তার, রবীন্দ্রনাথের চিন্তার বিরোধী৷ বিবেকানন্দ বলেছেন, ‘কোনও সভ্যতা সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে গড়িয়া উঠিয়াছে, এরূপ দৃষ্টান্ত একটিও পাওয়া যায় না৷ একটি সুসভ্য জাতি আসিয়া কোনও জাতির সহিত মিশিয়া যাওয়া ছাড়াই যে জাতি সভ্য হইয়া উঠিয়াছে–এরূপ একটি জাতিও জগতে নাই৷’’ (বিবেকানন্দ রচনাবলি, ৩য় খণ্ড, পৃঃ ৩৪২)৷ রবীন্দ্রনাথও বলেছেন, ‘‘ভারতবর্ষের কেবল হিন্দু চিত্তকে স্বীকার করলে চলবে না৷ ভারতবর্ষের সাহিত্য, শিল্পকলা, স্থপতিবিজ্ঞান প্রভৃতিতেও হিন্দু–মুসলমানের সংমিশ্রণে বিচিত্র সৃষ্টি জেগে উঠেছে৷ তারই পরিচয়ে ভারতবর্ষীয়ের পূর্ণ পরিচয়’’ (রবীন্দ্র রচনাবলি, ১৪ শ খণ্ড, পৃঃ ২৫৯, বিশ্বভারতী সংস্ক্রণ)৷

জাতি গঠনের বৈজ্ঞানিক নিয়মকে তথাকথিত হিন্দুত্ববাদীরা কখনওই স্বীকার করেনি৷ তারা সর্বদাই হিন্দুরাষ্ট্রের দাবি করেছে৷ পরাধীন ভারতে তাদের শত্রু ব্রিটিশরা ছিল না, ছিল মুসলমানরা৷ এখনও তারা শোষক পুঁজিপতিদের নয়, শত্রু মনে করে মুসলিমদের৷ হায় রে দেশপ্রেম!

হিন্দু মহাসভাই প্রথম দেশভাগের দাবি তুলেছিল

সংঘ পরিবারের দেশ সেবকরা (!) দেশভাগের জন্য একতরফা ভাবে মুসলিম লিগ ও মুসলিম মৌলবাদী শক্তিগুলিকেই দায়ী করে৷ ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় মুসলিম লিগের প্রতিষ্ঠা হয়৷ ৩৪ বছর পর ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে লিগের ওয়ার্কিং কমিটির মিটিংয়েই তারা প্রথম পৃথক দেশের দাবি তোলে৷ কিন্তু তার ঢের আগে ১৯২৩ সালেই হিন্দু মহাসভার নেতা বি ডি সাভারকার ধর্মভিত্তিক পৃথক দেশের ধারণা উপস্থিত করেছিলেন৷ তিনি ‘হিন্দুত্ব’ নামক গ্রন্থে ভারতবর্ষে হিন্দু এবং মুসলিম দুটি পৃথক জাতির তত্ত্ব পেশ করেন৷ ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদার তাই বলেছেন, ‘‘সাম্প্রদায়িক পথে ভারত বিভাগের ধারণাটির উদ্ভাবনের জন্য বিপুল পরিমাণে দায়ী হল হিন্দু মহাসভা’’৷ তিনি আরও বলেছেন, ‘‘মুসলিম লিগ সাভারকারের ওই বক্তব্যকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে হৃদয়ঙ্গম করেছিল’’৷ ফলে এটা পরিষ্কার, ভারতভাগের জন্য হিন্দু মৌলবাদ ও মুসলিম মৌলবাদ উভয়ই দায়ী৷

ধর্মভিত্তিক জাতি বাস্তবে দাঁড়ায় না৷ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে খ্রিস্টানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও, ধর্মের ভিত্তিতে তারা কিন্তু ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারেনি৷ সেখানে কয়েক ডজন পৃথক দেশ রয়েছে৷ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে ইসলাম ধর্মও একটি ঐক্যবদ্ধ দেশ গঠন করতে পারেনি৷ যদি মুসলিমরা ধর্মের ভিত্তিতে একটি জাতি হত তাহলে পাকিস্তান ভেঙে বাংলাদেশ সৃষ্টি হত না৷ এ দেশে হিন্দুর সঙ্গে ‘জাতির’ বিষয়টিকে অত্যন্ত ধূর্ততার সাথে গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে হিন্দুত্ববাদীরা৷ কিন্তু তাদের এই প্রশ্নটির তো উত্তর দিতে হবে, হিন্দুমাত্রেই যদি এক জাতি হয়, তা হলে নেপালের হিন্দুরা কোন জাতি?

আর এস এস–এর দৃষ্টিতে অসহযোগ আন্দোলন ছিল অশুভশক্তির জাগরণ

ব্রিটিশ বিরোধী অসহযোগ আন্দোলন গোটা দেশে ১৯২১–২২ সালে তীব্র রূপে ফেটে পড়েছিল৷ ধর্ম–বর্ণ–সম্প্রদায়গত পার্থক্য গৌণ করে হাজার হাজার মানুষ এক হয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন৷ অবিভক্ত বাংলাতেও এই আন্দোলন প্রবলভাবে আছড়ে পড়েছিল৷ দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, সুভাষচন্দ্র বসু প্রমুখ নেতা সহ হাজার হাজার সত্যাগ্রহীকে ব্রিটিশ পুলিশ গ্রেপ্তার করে৷ আর এই গণসংগ্রামের মধ্যে আর এস এস প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ হেডগেওয়ার দেখতে পেলেন ‘অশুভ শক্তির জাগরণ’৷ তাঁর কথায়, ‘‘মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলনের ফলে দেশে উৎসাহ (জাতীয়তাবাদের জন্য) ক্রমে শীতল হয়ে যাচ্ছিল এবং এই আন্দোলন সৃষ্ট অশুভ শক্তিগুলি সমাজজীবনে বিপজ্জনকভাবে মাথা চাড়া দিচ্ছিল৷ …অসহযোগের দুগ্ধ পান করে বেড়ে ওঠা যবন–সর্প তার বিষাক্ত নিঃশ্বাস নিয়ে দেশে দাঙ্গার প্ররোচনা দিচ্ছিল’’ (ভিশিকার–১৯৭৯, পৃঃ ৭)৷ এই ছিল অসহযোগ আন্দোলন সম্পর্কে হেডগেওয়ার–এর বিদ্বেষপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি৷

স্বাধীনতা আন্দোলনকে দেশের পক্ষে ক্ষতিকারক এবং প্রতিক্রিয়াশীল ভাবার কারণেই বিজেপির পূর্বসূরি আর এস এস দেশকে স্বাধীন করার কোনও কর্মসূচিতেই ছিল না৷ ১৯২৮ সালে সাইমন কমিশন বিরোধী আন্দোলন থেকে তারা নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখে৷ ১৯২৯ সালে ভগৎ সিং এবং বটুকেশ্বর দত্ত দিল্লি অ্যাসেম্বলিতে বোমা নিক্ষেপ করলেন, উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদে আলফ্রেড পার্কে (১৯৩১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি) পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হলেন বিপ্লবী নেতা চন্দ্রশেখর আজাদ, ১৯৩১ সালে ২৩ মার্চ ভগৎ সিং, শুকদেব, রাজগুরুকে ফাঁসি দিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ৷ ব্রিটিশের বিরুদ্ধে গোটা দেশ যখন উত্তাল সে সময়, আর এস এস তার শরিক হল না৷ ১৯৩০ সালে কলকাতার রাইটার্স বিল্ডিং–এ বিনয়–বাদল–দীনেশ ঐতিহাসিক অলিন্দ যুদ্ধ, ১৯৩০–৩২ সালে চট্টগ্রামে মাস্টারদা সূর্য সেনের বীরত্বপূর্ণ লড়াই, প্রীতিলতার শহিদ হওয়া– কোনও ক্ষেত্রেই আর এস এস দেশের কল্যাণ দেখেনি৷ ১৯৪২–এর ভারত ছাড়ো আন্দোলন, ১৯৪৫ সালে আজাদ হিন্দ ফৌজের অফিসারদের বিচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৪৬ সালে নৌ–বিদ্রোহ, ওই বছরের ২৯ জুলাই দেশব্যাপী ধর্মঘট – এসবেও আর এস এস–এর নিষ্ক্রিয় ভূমিকা ইংরেজ প্রভুদের খুশি করেছে৷

১৯৪০–এর দশকে আর এস এস–এর ভূমিকা প্রসঙ্গে আন্ডারসন এবং ডামলে বলেছেন, ‘‘গোলওয়ালকর বিশ্বাস করতেন, আর এস এস–কে নিষিদ্ধ করার কোনও রকম অজুহাত ব্রিটিশ শাসকদের দেওয়া চলবে না’’৷ ১৯৪৩ সালের ২৯ এপ্রিল গোলওয়ালকর আর এস এস–এর সদস্যদের উদ্দেশ্যে একটি নির্দেশ জারি করে আর এস এস–এর সমস্ত বিভাগগুলি বন্ধ করে দেন৷ এই আনুগত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ আর এস এস সম্পর্কে ব্রিটিশ সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘‘আর এস এস আইন–শৃঙ্খলার পক্ষে এখনই বিপজ্জনক–এ কথা বলার যুক্তি নেই’’৷ অত্যাচারী ব্রিটিশ শাসকের পক্ষ থেকে ‘দেশপ্রেমিক’ আর এস এসের কাছে এর চেয়ে বড় সার্টিফিকেট আর কী হতে পারে? ভারত ছাড় আন্দোলন সম্পর্কে গোলওয়ালকর এও পর্যন্ত বলেছিলেন– ‘‘এই সংগ্রামের খারাপ ফল হতে বাধ্য৷’’ এহেন আর এস এস–এর চিন্তাকে পরাধীন ভারতের জনগণ গ্রহণ করলে দেশ স্বাধীনতা অর্জন করতে পারত না৷ এর পরেও আর এস এসকে দেশপ্রেমিক বলা যায়? না বলা উচিত দেশদ্রোহী?

হেডগেওয়ারের জেলে যাওয়ার নেপথ্যে

স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরোধিতা করে জনগণের কাছে চূড়ান্ত ধিক্কৃত আর এস এস ডাঃ হেডগেওয়ারের জেলে যাওয়ার কাহিনী পরিবেশন করে থাকে৷ এই কলঙ্ক ঢাকতে ধূর্ত আরএসএস প্রচার করে, ১৯৩০ সালে গান্ধীজির লবণ সত্যাগ্রহের সময় হেডগেওয়ার জেলে গিয়েছিলেন৷ আরএসএস প্রকাশিত তাঁর এক জীবনী গ্রন্থে বলা হয়েছে– ‘‘১৯৩০ সালে মহাত্মা গান্ধী আইন অমান্যের ডাক দিয়েছিলেন৷ …ডাক্তার সাহেব (ডাঃ হেডগেওয়ার) সব জায়গায় খবর পাঠালেন সংঘ এই সত্যাগ্রহে অংশগ্রহণ করবে না৷ সে যাই হোক ব্যক্তিগত ভাবে যারা অংশগ্রহণ করতে চাইবে তাদের বাধা দেওয়া হবে না৷ এর অর্থ হল সংঘের কোনও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এতে অংশগ্রহণ করতে পারবে না’’ (সিপি ভিশিকর, সংঘবিকাশ কে বীজ, ডাঃ কেশব রাও হেডগেওয়ার, নিউ দিল্লি, পৃ: ২০)৷

তাহলে ডাঃ হেডগেওয়ার নিজে ব্রিটিশ কারাগারে গিয়েছিলেন কেন? এর উত্তর পাওয়া যাবে আর এস এস প্রকাশিত হেডগেওয়ারের জীবনী গ্রন্থেই৷ ‘‘ডাক্তার সাহেবের এই প্রত্যয় ছিল জেলের ভিতর তিনি একদল স্বদেশপ্রেমী, অগ্রগামী, নামজাদা লোক পাবেন৷ তাঁদের সাথে তিনি সংঘ নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন এবং সংঘের কাজে তাঁদের টেনে আনতে পারবেন’’ (ঐ)৷

অর্থাৎ, স্বাধীনতা আন্দোলনের সমর্থনে হেডগেওয়ার জেলে যাননি, তিনি জেলে গিয়েছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামীদের যেভাবেই হোক স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে সরাতে৷

হিন্দু মহাসভা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকেই সমর্থন করেছিল

স্বাধীনতা আন্দোলনে হিন্দু মহাসভার ভূমিকা কী ছিল? যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারের প্রতি দেশবাসীর দৃষ্টিভঙ্গি কী হবে সেই প্রসঙ্গে বিনায়ক দামোদর সাভারকর ১৯৪১ সালে ভাগলপুরে হিন্দু মহাসভার ২৩তম অধিবেশনে বলেন, ‘‘ভারতের প্রতিরক্ষার কথা বলতে গেলে, ভারত সরকারের সমস্ত যুদ্ধ প্রস্তুতিকে হিন্দুদের অবশ্যই দ্বিধাহীন চিত্তে সমর্থন করতে হবে৷ …হিন্দুদের বৃহৎ সংখ্যায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে যোগ দিতে হবে’’ (সাভারকর সমগ্র, খণ্ড–৬, মহারাষ্ট্র প্রান্তিক হিন্দু সভা, পুণা, ১৯৬৩, পৃ: ৪৬০)৷

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার তার সাম্রাজ্যবাদী লক্ষ্য পূরণের জন্য যখন নতুন সশস্ত্র ব্যাটেলিয়ান তৈরির সিদ্ধান্ত নিল তখন সাভারকরের নেতৃত্বে হিন্দু মহাসভা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, এই প্রচেষ্টাকে সফল করতে একটা বড় সংখ্যক হিন্দু যুবকের নাম নথিভুক্ত করাতে হবে৷ সেদিন হিন্দু মহাসভা ব্রিটিশের যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে সাহায্য করার জন্য দেশের নানা প্রান্তে সহায়ক কেন্দ্র খুলেছিল যাতে হিন্দু যুবকেরা সহজেই ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে পারে৷ এই বাহিনীকেই ব্রিটিশ পাঠিয়েছিল আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনাদের হত্যা করতে৷ সাভারকর সেই কাজে ব্রিটিশদের পাশে ছিলেন৷ দেশপ্রেমের নামে কি নির্লজ্জ গোলামি!

এই গোলামির পুরস্কারস্বরূপ ভাইসরয়ের জাতীয় প্রতিরক্ষা কাউন্সিলে সাভারকরের পছন্দমতো লোক মনোনীত করা হল৷ সে জন্য টেলিগ্রামে ভাইসরয়কে ধন্যবাদ দিলেন সাভারকর৷ টেলিগ্রামটি এই রকম, ‘‘ইওর এক্সেলেন্সিজ অ্যানাউন্সমেন্ট ডিফেন্স কমিটি উইথ ইটস পারসোনেল ইজ ওয়েলকাম হিন্দু মহাসভা ভিউজ উইথ স্পেশাল স্যাটিসফেকশন অ্যাপয়েন্টমেন্ট অফ মেসার্স কালিকর অ্যান্ড জমনদাস মেহতা’’ (বিনায়ক দামোদর সাভারকর হোয়্যার্ল উইন্ড প্রোপাগান্ডা– এ এস বিন্দে, পৃঃ ৪৫১)৷ এমনই ছিল হিন্দু মহাসভার নেতা সাভারকারের সঙ্গে ব্রিটিশের সম্পর্ক বীর স্বাধীনতা সংগ্রামীই বটে!

মুচলেকা দিয়ে ব্রিটিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন সাভারকর

সাভারকর প্রথম জীবনে স্বদেশি আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন৷ ১৯০৭–১৯০৯, এই ক’বছর তিনি নানা বিপ্লবী উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন৷ ১৯১০ সালের মার্চে প্যারিসে তিনি গ্রেপ্তার হন৷ কিন্তু বহু অনামী বিপ্লবীরাও যে কাজ করতে ঘৃণা বোধ করতেন, সেই কাজটিই করলেন ‘বীর’ সাভারকর৷ ১৯১১ সালের ৩০ আগস্ট তিনি ক্ষমাভিক্ষার আবেদন করলেন৷ সে চিঠি খারিজ হয়ে যায়৷ ১৯১৪ সালের ১৪ নভেম্বর সাভারকর আবার ক্ষমাভিক্ষার আবেদন করলেন৷ সাভারকর লিখেছিলেন, ‘‘ …সরকার যদি তাদের বহুমুখী দয়ার দানে আমাকে একটু মুক্ত করে দেন তবে আমি আর কিছু পারি বা না পারি চিরদিন সাংবিধানিক প্রগতি এবং ব্রিটিশ সরকারের আনুগত্যের অবিচলিত প্রচারক হয়ে থাকব৷ …সরকার আমাকে যত কাজ করতে বলবে, সেই মতো প্রায় সব কাজ আমি করতে প্রস্তুত৷ কেন না আমার আজকের পরিবর্তন যেহেতু বিবেকের দ্বারা পরিচালিত, তাই আমার ভবিষ্যতের আচরণও সেই রকমই হবে৷ অন্যভাবে যা পাওয়া যেতে পারে সে তুলনায় আমাকে জেলে আটকে রাখলে কিছুই পাওয়া যাবে না৷ শক্তিশালীর পক্ষেই একমাত্র ক্ষমাশীল হওয়া সম্ভব৷ কাজেই অনুতপ্ত সন্তান পিতৃতুল্য সরকারের দরজায় ছাড়া আর কোথায় ফিরে যাবে? মহামান্য হুজুর অনুগ্রহ করে বিষয়গুলি বিবেচনা করবেন এই আশা রইল’’ (পেনাল সেটলমেন্টস ইন আন্দামানস, আর সি মজুমদার, পৃ: ২১১–১৩)৷

ক্ষমার জন্য কোনও ভিক্ষা, কোনও আবেদন, এর চেয়ে বেশি নীচ, বেশি হীন হতে পারে না৷ ক্ষমাভিক্ষার আবেদনের ছত্রে ছত্রে ফুটে উঠেছে একজন আত্মমর্যাদাহীন ব্যক্তির আত্মসমর্পণ৷ যে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীরা হাসতে হাসতে ফাঁসির দড়িকে চুম্বন করেছেন, সেই দেশের একজন ‘স্বাধীনতা সংগ্রামী’ হয়ে সাভারকর জেল থেকে বাইরে আসার জন্য নীতি–আদর্শ–মর্যাদা– সবই হেলায় বিসর্জন দিয়েছেন৷ এই হল হিন্দুত্ববাদী নেতা সাভারকরের দেশপ্রেমের নমুনা৷

হিন্দুত্ববাদী এই সব সংগঠনের যেমন ব্রিটিশপ্রীতি ছিল অফুরান, তেমনি ছিল মুসলিম লিগেরও৷ হিন্দু মহাসভা মুসলিম লিগের সাথে বাংলা, সিন্ধু ও উত্তর–পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে কোয়ালিশন মন্ত্রীসভা পরিচালনা করছিল৷ এর পিছনে যে ব্রিটিশ সরকারের মদত ছিল তাতে সন্দেহ নেই৷ ওই সময় সম্পর্কে হিন্দু মহাসভার কানপুর অধিবেশনে (১৯৪২) সাভারকর বলেছিলেন, ‘‘বাস্তব রাজনীতির ক্ষেত্রে হিন্দু মহাসভা জানে যুক্তিসঙ্গত আপসের দ্বারাই আমাদের এগোতে হবে৷ এই যুক্তিসঙ্গত আপসের প্রমাণ হল সম্প্রতি সিন্ধু প্রদেশে একত্রে সরকার চালানোর জন্য হিন্দু মহাসভা মুসলিম লিগের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছে৷ … ফজলুল হকের প্রধানমন্ত্রীত্বে এবং আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় নেতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর পরিচালনায় কোয়ালিশন মন্ত্রীসভা সাফল্যের সাথেই চলছে’’ (সাভারকর সমগ্র– খণ্ড ৬, পৃ: ৭৯–৮০)৷

এই কোয়ালিশন মন্ত্রীসভা ব্রিটিশ বিরোধিতার জন্য তৈরি হয়নি৷ সাভারকরের ‘পরম শ্রদ্ধেয়’ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বলেছিলেন, ‘‘এখন যুদ্ধকালীন অবস্থায় জাতীয় গভর্নমেন্ট এমনভাবে গঠিত হবে যাতে মিত্রপক্ষের সঙ্গে নিবিড় সহযোগিতায় যুদ্ধ করা সম্ভব হয়’’ (রাষ্ট্র সংগ্রামের এক অধ্যায়, শ্যামাপ্রসাদ, পৃঃ ১১৬)৷ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ’৪২–এর ভারত ছাড়ো আন্দোলনেরও বিরোধিতা করেছিলেন৷ তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমি মনে করি না, গত তিন মাসের মধ্যে যেসব অর্থহীন উচ্ছৃঙ্খলতা ও নাশকতামূলক কাজ করা হয়েছে, তার দ্বারা আমাদের দেশের স্বাধীনতা লাভের সহায়তা হবে’’ (রাষ্ট্র সংগ্রামের এক অধ্যায় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী, পৃঃ ৬১)৷ ভারত ছাড়ো আন্দোলন শ্যামাপ্রসাদের কাছে ‘অর্থহীন উচ্ছৃঙ্খলতা’ ও ‘নাশকতামূলক’ কাজকর্ম৷ তাই তিনি মনে করেছেন, এই আন্দোলন দমন করা উচিত এবং কীভাবে এই আন্দোলন দমন করা যায় তার একটা তালিকাও তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছে পেশ করেছেন৷ ব্রিটিশের কী নির্লজ্জ দালালি!

শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর কীর্তি এখানেই শেষ নয়৷ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে যখন আজাদ হিন্দ ফৌজ বীরত্বের সাথে লড়াই করছিল, সেই সময় শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ইংরেজ সাম্রাজ্যবাদকে সহায়তা করার জন্য আগ বাড়িয়ে বললেন, ‘‘বঙ্গদেশকে রক্ষা করিবার জন্য একটা গৃহবাহিনী গঠনের অধিকার আমাদের দেওয়া হউক’’ (রমেশচন্দ্র মজুমদার লিখিত ‘বাংলাদেশের ইতিহাস’ গ্রন্থে উল্লিখিত শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর পত্র থেকে উদ্ধৃত)৷ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী সুভাষচন্দ্রের পক্ষে না থেকে ব্রিটিশের পক্ষে ছিলেন৷ এর পরেও কেউ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে স্বাধীনতা সংগ্রামী বলতে পারেন?

বিজেপি–আর এস এসের বর্তমান ভূমিকাও অশুভ

হিন্দু মহাসভা থেকে ‘জনসংঘ’ গড়ে তুলেছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী, আর সেই ‘জনসংঘ’ থেকেই জন্ম আজকের ‘ভারতীয় জনতা পার্টি’ বা ‘বিজেপি’–র৷ সেই বিজেপিই আজ দেশপ্রেমের ধ্বনি তুলছে৷ যে নেতাজির আজাদ হিন্দ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়তে হিন্দুদের আহ্বান জানিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী, তাদেরই উত্তরসূরি বিজেপি আজ আজাদ হিন্দ বাহিনীর ৭৫ বছর উদ্যাপন করছে৷ এটা ভণ্ডামি ছাড়া আর কী?

শুধু পরাধীন ভারতেই নয়, স্বাধীনতার পরও বিজেপির ভূমিকা সমাজ প্রগতির বিরুদ্ধে৷ বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে যেভাবে উগ্র হিন্দুত্ববাদী তৎপরতা চলছে, ধর্মনিরপেক্ষতার উপর, সংখ্যালঘু জনগণের উপর আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে তা খুবই বিপজ্জনক৷ একই সাথে দেশি–বিদেশি পুঁজিপতি শ্রেণির স্বার্থে জনগণের উপর নানা অন্যায় জুলুম চলছে৷ হরণ করা হচ্ছে শ্রমিক কর্মচারীদের অধিকার৷ এই অপশক্তিকে সমূলে উৎপাটন করা আজ সমাজ প্রগতির স্বার্থে অত্যন্ত প্রয়োজন৷


বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০

সামাজিক বেশ্যাবৃত্তিঃ আন্না হাজারের আন্দোলন


সামাজিক বেশ্যা শুধু মহিলাই হয় না, পুরুষও হয়।


আচ্ছা, আন্না হাজারের কেউ খবর জানেন? মালটাকে করোনা এখনও গ্রাস করেছে নাকি অন্ধত্ব আর জরাগ্রস্ত হয়ে কয়েক শতাব্দী যন্ত্রণা ভোগের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সে! কংগ্রেস সরকারের আমলে দুর্নীতি ছাড়া কিছুই খুঁজে পায় নি সে, তাই #india_against_corruption ধুয়ো তুলে দেশপ্রেমিকদের সরকার চেয়েছিল। তা সে সরকার এলো ক্ষমতায়, যুগপুরুষ মোদীজির নের্তৃত্বে, এসেই মোদীজি বুঝলেন- আসলে দুর্নীতি তো সরকারি সম্পত্তিতে হয়, বেসরকারি হলে তার জন্য তো আর কেউ আন্দোলন করেনা, আন্না হাজারের সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে বর্তমান মোদী সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিই সব নিলামে উঠে গেছে বা যাচ্ছে, এর পর যদি কোনো বেসরকারি সরকারও আসে তাদের পক্ষে আর দুর্নীতি করার কোনো সুযোগই রইল না, কারণ সরকারি বলেই যে আর কিছু থাকবে না; অসম্ভব দুরদর্শীতা সম্পন্ন সামাজিক বেশ্যা ছিলেন আন্না হাজারে, থুড়ি আছেন।

সরকারী দুর্নীতি, পুলিশ দুর্নীতি, বিচারক দুর্নীতি, কর্পোরেট দুর্নীতি, কেল্পটোক্রেশি, নির্বাচনী জালিয়াতি, রেড টেপ, রাজনীতিবিদদের সর্বত্র নাক গলানো, কালো টাকা সব ইস্যুই রাসভ গুহ্যপথে প্রবেশ করেছে, বর্তমানে দেশে একটাই মডেল- “হয় বিক্রি হও না হলে জাস্টিস লোয়া”। লোকপাল এখন তাপস পালের ছেলে হয়ে ঘরে ঢুকে গেছে নিশ্চিত, কিন্তু আন্নার সাথে থাকা প্রতিটি ধান্দাবাজ মালামাল হয়ে গেছে- কেজরীওয়াল দ্বিতীয় টার্মে মুখ্যমন্ত্রী মর্যাদাসীন হয়েই দিল্লি দাঙ্গা করে RSS এর নয়নের মণি, প্রশান্ত ভূষণ আবার বিপ্লবী- মূলত চরের ভূমিকাতে, রামদেব হাজার কোটির সাম্রাজ্যের বেতাজ ন্যাংটা, কিরণ বেদী রাজ্যপাল আর কিই বা চাই! বিজেপির হয়ে ক্ষেপ খেটে সকলেই প্রতিষ্ঠিত, আন্না হাজারেও তাই।

কেউ খোঁজ পেলে তাকে জানিয়ে দিয়েন-

মোদী সরকারের সম্পূর্ণ ব্যর্থতার ফলে আজ দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২৫ লক্ষ ছোঁবে দু'এক দিনেই, মৃত্যু ৪৫ হাজার পেরিয়ে দ্রুত হাজারের হাফ সেঞ্চুরি স্পর্শ করবে; অথচ দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্লজ্জ হর্ষবর্ধন মুখবর্মের আড়ালে দাবী করছে “কোভিড সঙ্কটে দেশ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে”। কী আশ্চর্য! কোনো রকম অহঙ্কার ছাড়াই কেমন দাবী করে ভক্তদের খুশি করে দিচ্ছে, যদিও ভক্তপিতা মোদীর মতো কেউ সাংবাদিক সম্মেলন আর করে না, পাছে জবাবদিহি করতে গিয়ে পাকস্থলীর মল দেখা যায়।

এদিকে খোদ ‘ঠোকদো’স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করোনার প্রভাবে, পরিষেবা ভাল তাই। আসলে নির্লজ্জতাই এদের অহঙ্কার, আর এদের ভক্তরা এই সুখেই রামরাজ্যের ছায়া খুঁজে পেয়েছে, তা পাক- যারা বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছিল তাদের এটুকু আত্মত্যাগ তো করতেই হবে, রামরাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য কয়েক লক্ষ প্রাণের বলি কি রামজী চাইতে পারেন না? আর সেই আহূতি অবশ্যই রামভক্তদের মাঝখান থেকেই হওয়া চাই, বাকিরা হয় মুসলমান, নাহলে কমিউনিস্ট না হয় আর্বান নক্সাল কিম্বা ঘোষিত দেশদ্রোহী। মোদীজির এটাই হলো দূরদর্শিতা, তিনি কেমন হিন্দুদেরকে আত্মবলিদানের সুযোগ করে দিলেন, এমন ঘটনা তো স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে ইতিহাসের আস্তাকূড়ে। যেমন লেখা থাকবে নিজামুদ্দিনের জামাতিদের করোনা জিহাদ কেমন অযোধ্যার সেবায়েৎ বা তিরুমালার সেবায়েৎরা আপন দেহে ধারণ করেছেন। ভাবিজী পাঁপড়, করোনীল, গোমূত্র, গঙ্গাজল কি কেউ খেয়েছে? না খায় নি, কারণ তারাও তো আহূতি দেবেন বলেই শরীরে করোনা ধারণ করেছেন, রামনাম সত্যের বিষয়টা স্বয়ং রামজীর উপরে- তার দলা হলে ডেকে নেবেন নাহলে আবার এই মর্ত্যধামে থেকে যেতে হবে কিছু দিনের জন্য।

যদিও কিছু মুর্খ বলছে পার্সি-জৈন অমিত শাহ্ হিন্দু নয় বলে রাম মন্দির উদ্বোধনে ডাক না পেয়ে করোনার ভান করে মুখ লুকিয়েছে হাসপাতালে, সেটাই যেন হয় ঠাকুর (রীনা); কারণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনেক কাজ করতে হবে- দেশে যে এতো দেশদ্রোহী শুধু তাদের খুঁজে খুঁজে তাড়তে হবে তাই নয়, বিক্রির জন্য যে গোটা দেশটাই পরে আছে। তাছাড়া জয় শাহের বয়সটাই বা আর কত, ICC প্রেসিডেন্ট কি সে হবে না?

মোদী সরকার জাতীয় ব্যর্থতাকে রাজনৈতিকভাবে লাভের জন্য ব্যবহার করছে ভক্ত, গদি মিডিয়া, আটিসেলের মাধ্যমে নতুন হুজুক ‘রামরাজ্য’ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। ছদ্ম জাতীয়তাবাদ জাগ্রত করার মিশন ফেল মেরে গেছে। প্রধান মিথ্যুক বলছে ‘চঙ্গা সি’, GDP ক্রমনিন্মমুখী থাকা সত্ত্বেও অর্থনীতি নাকি দারুণ অবস্থায় রয়েছে, আসলে সবই তো রামরাজ্যের বিষয় তাই আধুনিক অর্থনীতিবিদ বা চিকিৎসকেরা এই “চঙ্গা সি” এর ব্যাখ্যা খুঁজে পাবে না এটা স্বাভাবিক। বিক্রি করার জন্য যতটুকু বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি মেহনতের যুক্তিই বা কি? রামমন্দিরের ধুনো দিয়েই ২১ সালের মাঝ পর্যন্ত টেনে দেওয়া যাবে, তারপর ইউনিভার্সাল সিভিল কোড আছে (মুসলমানের বাচ্চারা যে নিয়মে চাট্টে বিয়ে করে সেইটা), NRC তো আছেই; সাথে অমিতাভের করোনা বা একটা আধটা সুশান্ত মার্ডারের মতো কেস এলে জমে ক্ষীর। অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের প্রশ্ন তোলার সময় কোথায়? অবশ্য দেশপ্রেমিকেরা উন্নত পরিষেবার জন্য সব বেচে দিয়ে আপনাকে একটা বাটি হাতে মন্দিরের সামনে বসিয়ে দেবে, সেটা আদানী কোম্পানির বাটি, দিনের শেষে ভিক্ষালব্ধ রোজগারের একটা অংশ বাটি ভাড়া বাবদ দিতে হবে।

রাজনাথ সিং প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভতার জন্য ১০১টি অস্ত্র আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করায় ভক্তকূল গোদা বাঁদরের মতো টুইটার ফেসবুক চষে ফেলছে বার্নলের ছবি হাতে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় সংস্থা হ্যাল এর পরিবর্তে রাফেল মেন্টেনেন্সের ৩০ হাজার কোটির দায়িত্ব দেউলিয়া অনিল আম্বানীকে দেওয়া, কাকে আত্মনির্ভর বানাবার জন্য এটা শুধালেই- আপনার খিস্তির স্টক রিনিউ করে নিতে পারবেন ভক্তদের থেকে, সাথে লাল আঁখ। যেটা চীনকে দেখাতে গিয়ে সেনার নথি গায়েব হয়ে মোদীর মুখের বাল মানে দাড়িটাই বেড়ে গেল মাঝখানে।

নতুন করে আর ধোকা খায় না সাধারণ জনগণ, কিন্তু ভক্তেরা তো মানুষ নয়- মানুষ রূপী নির্বোধ মর্কট; ধোকাই তাদের একমাত্র খাদ্য। ভক্ত হওয়ার জন্য নিরেট মূর্খ হলেই যথেষ্ট, বাকিটা হোয়াটসএ্যাপ ইউনিভার্সিটি থেকে শিখে যাবে।

জইস-ই-রাম (RSS এর পাক অধিকৃত কাশ্মীরের স্বদেশী শাখা)

সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০

দেশ জুড়ে বন্যা ২০২০



১ কোটি মানুষ বন্যায় আক্রান্ত বাংলা, আসাম, বিহার, কেরালা ও কর্ণাটক জুড়ে।

৬ লক্ষ সামান্য ভাতাপ্রাপ্ত আশা কর্মী স্ট্রাইক করছে তাদের স্থায়ী বেতনের জন্য।

পৃথিবীর মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ করোনাক্রান্তের সন্ধান (৬৫০০০)

এদিকে গোবলয় মিডিয়া, বচ্চনের করোনার পরে আছে সুশান্ত মৃত্যু নিয়ে, কোথাকার কোন রিয়া আর তাদের লোমের খবর নিয়ে।

এরাই সম্মিলিত ভাবে নিজামুদ্দিনের করোনা খুঁজে ফিরেছিল, আজ তাদের চোখ একে অন্যের পায়ুপথে সেঁধিয়ে রেখে তাই তিরুমালায় ৭৭৬ জন সেবায়েৎ এর করোনাক্রান্তের খবর কানে পৌছায়নি, আসলে পায়ু থেকে মুখ বের করলে তবে না কান শুনবে বা চোখ দেখবে। সেগুলো একমাত্র নাগপুরের আদেশ ও নির্দেশেই খোলে বাকি সময় পরস্পরের পায়ুতেই সেঁধিয়ে থাকে। এটাই আসলে নমুনা আসন্ন ওই _ রাজ্যের।

ওয়াক থুঃ

সূচনা হিসাবে রামরাজ্য খারাপ কিছু নয়।

আসলে ভারত দেশ বিক্রির জন্য ক্যামোফ্লেজে এই ধরনের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দিয়ে রাখলে সুবিধে হয়।

একটা বেসরকারী সরকারও হয়ত শীঘ্রই আসবে উন্নত পরিসেবা নিয়ে

শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২০

জইস-ই-রাম- RSS এর পাকিস্তানি শাখা

 


নিন্মোক্ত মধ্যমনি ভদ্রলোক GC Murmu, ভারতের নতুন CAG. কাশ্মীরের গভর্নর হিসাবে ছড়িয়ে এই পদে বহাল হয়েছেন।

CAG এর কাজ হল সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের নানান ভুলত্রুটি ধরা

প্রসঙ্গত ইনি গুজরাত ক্যাডারের ১৯৮৫ ব্যাচের IAS অফিসার, যিনি ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গা ও ইসরাত জাহান ভুয়ো এনকাউন্টার কেস এর পক্ষে মোদী-শাহ এর পক্ষে বই এর উন্মোচন করেছিলেন

আসলে এভাবেও হয়ত রামরাজ্যের সূচনা হয়!

বিজেপির সম্পদ ও সাংসদ অনন্ত কুমার হেগড়ে BSNL কর্মীদের এ্যান্টিন্যাশানাল তথা দেশদ্রোহিদের তকমা দিয়ে বক্তিমে দিলো, সে ঘোষণা করেছে যে অতি দ্রুত BSNL কে বিক্রি করে এটিও কর্পোরেট মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। আসলে দেশপ্রেমের তেল বেচার একমাত্র স্বঘোষিত ঠিকাদার তো এরাই তাই যাকে যখন অপছন্দ হয় দেশদ্রোহী বলে দিলেই চুকে যায়, কাবি থাকে পাকিস্তান পাঠানো শুধু।

মাননীয় হেগড়ে, আপনার পিতা থুড়ি নেতা- মিথ্যাদাস মোদী এর আগেই BSNL কে কোমায় পাঠিয়ে দিয়েছিল 4G স্পেকট্রাম বরাদ্দ না করে, কারন তাদের মোদী যার চৌকিদার সেই আম্বানী প্রভুর জিওর স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।

BSNL বর্তমানে প্রায় বিস্মৃত, থাকার মধ্যে আছে তার বিপুল ভূসম্পত্তি, সেগুলোকে বেচে দেবার জন্য এই ভৌ ডাক, সেটা ভক্ত ব্যাতিরেকে সকলেই বোঝে

এই সরকারী কর্মচারীরাই মুসলমানের টাইট করার জন্য বিজেপিকে ঢেলে ভোট দিয়েছিল, যা প্রায় ৯০%। তাই জাতীয় সম্পদ বিক্রির জন্য কষ্ট যন্ত্রণা থাকলে এই "দেশদ্রোহীদের" জন্য বিন্দুমাত্র সহমর্মিতা নেই, কারন এরাই মূলত BJP-RSS এর প্রচারক ও ভক্ত। কাঠ খেলে ফার্নিচার হাগতেই হবে

যাই হোক রামরাজ্যে সবই হয়ত বেসরকারী ছিল

জইস-ই-রাম (RSS এর পাকিস্তানি শাখা)

 

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...