যারা ভাবেন মার্কিন ও ন্যাটো জোট অবিনশ্বর, অজেয় ও একমাত্র সত্য, তাদের জন্য কিছু তথ্য-
কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
শুক্রবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
মার্কিন ও ন্যাটো জোট অবিনশ্বর?
আমেরিকা ক্ষ্যাপা কুত্তার মত আজ ভেনেজুয়েলার পা ধরিতে গেছে, কাল ইরানকে বাপ বলে ডেকে তাকেও লোভ দেখাবে, শেষ পা ধরবে। সৌদির সামনেও সাষ্টাঙ্গসিজদা করা সময়ের অপেক্ষা।
বস্তুত- করোনাও যে ৮০% পশ্চিমা মিডিয়াশক্তির দ্বারা পরিচালিত একটা চক্রান্ত তা আজ দিনের মত পরিষ্কার। করোনা পুঁজিবাদী বিশ্বের অর্থনৈতিক রোগ, গরীব খেটে খাওয়া মানুষের কখনই করোনা ছিলনা, আজও নেই। আর যুদ্ধের বাজারে প্ল্যানডেমিক বিষয়টাই অপ্রাসঙ্গিক ও হাস্যকর হয়ে গেছে।
তাহলে- নজর থাকুক চলমান ঘটনাপ্রবাহের উপর।
মঙ্গলবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
সব দায় সরকারের, শিক্ষকরা ধোয়া তুলসিপাতা?
ইস্কুল বিক্রির বিরুদ্ধে লড়াইটা শুধুই 'পিসি' সরকারের বিরুদ্ধে নাকি শিক্ষকদেরও বিরুদ্ধে?
সামনের সপ্তাহেই বেশ কিছু পুরসভায় ভোট। পুরসভা অঞ্চলেই মূলত চাকুরীজীবিরা বসবাস করেন।
ভোটকর্মীদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠরাই হলেন শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মী। এনারা মূলত পোষ্টাল ব্যালটে ভোট দেন, এই পুরসভা ভোটেও তেমনই দেবেন। পোষ্টাল ব্যালটের ভোটে কারচুপির সম্ভাবনা খুবই কম থাকে, ছাপ্পা, জালিয়াতি বা রিগিং করার তেমন সুযোগ থাকেনা বা হয়না এই মাৎসন্যায় এর যুগেও।
কারন বিষয়টা সরাসরি যাদের পেটের সাথে যুক্ত, তারা যদি ফুলের মধুর উপরে বিশ্বাস রাখে আজও বা নপুংসক হয়ে- অন্যের ঔরসে জন্মানো সন্তান সুখে বাৎসল্যের সোহাগ পাবার আশায় দিন গোনে-
আন্দোলনের রূপরেখা বদলাতে হবে বৈকি। কারন তখন আন্দোলনটা এই স্বার্থপর শিক্ষক সমাজের বিরুদ্ধেও হবে। সরকারের পাশাপাশি এই অপদার্থ ধান্দাবাজ (অ)শিক্ষকদের হাত থেকেও প্রজন্মকে সুরক্ষা দিতে হবে।
বাংলা একসময় শিক্ষায় উৎকৃষ্ট ছিল, সেইসময় উচ্চমেধার চাষ ছিল। এখন মধ্যমেধাও অতীত, গোটা সমাজেই নিম্নমেধা ছত্রাকের মতো ছেয়ে গেছে। ফলত আত্মসম্মান বোধটুকু হারিয়ে তথাকথিত শিক্ষিত সমাজ। শিক্ষকেরাও এর বাইরে নয়- তারা অধিকাংশই ১০টা-৫টার পেশাদার 'টিচার', এনারা শিক্ষক ছিলেন বা আছেন কিনা এটার মূল্যায়ন জরুরী।
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড, আর সেই শিক্ষা প্রদানটা অমেরুদণ্ডী চটিচাঁটা ক্লীবদের দ্বারা হয়না- সিদ্ধান্ত নেব আগামী পুরোভোটের পোস্টাল ব্যালটের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী শতাংশের হিসাব মিলিয়ে- তারা কোন দিকে আছে!
মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
অর্থনীতি বাঁচাতে যুদ্ধ একটা ভীষণ প্রয়োজন
রাশিয়া নিজেদের দেশে সৈন্য মহড়া করে, তাই সে যুদ্ধবাজ।
ইউক্রেন নিজেই জানেনা তারা আক্রান্ত হতে চলেছে, সেভাবে কোথাও মড়াকান্না কাঁদেনি- অথচ তাদের দেশ থেকে কূটনীতিক অফিসিয়াল দের তুলে নিয়ে এসে চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে ইউক্রেনের অর্থনীতি ধসিয়ে দিয়েছে আমেরিকা ও ন্যাটো জোট। অস্ত্র কিনতে বাধ্য করছে ইউক্রেনকে। এটা খোদ ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ‘ভলোদিমির জেলেন্সকি’ ও প্রধানমন্ত্রী ‘ড্যেনিস স্মিহ্যাল’ এ কথা জানিয়েছে সাংবাদিক সম্মেলন করে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেই- আমেরিকার মাতব্বরি ও অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি, সাথে ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রেসার সৃষ্টি করার জন্য মার্কিন প্রশাসনের জন্য নিন্দা প্রস্তাব এনেছে।
কিন্তু, যুদ্ধ একটা না লাগালে আমেরিকার যে আর হাঁড়ি চলেনা, অস্ত্র বিক্রি নেই বা থাকলেও তলানিতে। ‘সফটলোনের’ ছিপে উঠা দেশগুলোর কাছে চীনা পটকা বিনে আর গতি নেই, সেই সব দেশগুলোর অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে ‘কমিউনিস্ট’ লাল চীন। সস্তার অস্ত্রে অস্ত্রবাজারের একটা বেশ বড় অংশে জাঁকিয়ে বসে বাজিমাৎ করছে চীন। ড্রোন প্রযুক্তিতে তুরস্ক আর ইজরায়েল সর্বাগ্রে। দামী ট্যাঙ্ক বা অন্যান্য মিশাইল জাতীয় সমরাস্ত্রে রাশিয়া তো মার্কিনীদের মুখ্য প্রতিদ্বন্দ্বী। এদিকে ব্রিটেন, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স ইত্যাদির মত দেশগুলো তাদের এককালের উপনিবেশ গুলোতে এখনও অস্ত্রশস্ত্র বিক্রির একটা বাজার ধরে রেখেছে। বাকি ছিল মধ্যপ্রাচ্য, তাদের মাঝেও সেভাবে বড় কোনো যুদ্ধ নেই এক দশকে- উপরন্তু সকলের গুদামেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত মারণাস্ত্র জং ধরে নষ্ট হচ্ছে বা উৎসবে হাউই-তুবরির মত করে মিশাইল ছুড়ছে শূন্যে। তার উপরে গত এক দশকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বহীন করে প্রায় গায়েব করে দিয়েছে তুরস্ক-রাশিয়া জোট। গত আর্মেনিয়া যুদ্ধেও মার্কিনী গন্ধ টুকু ছিলনা, এমনকি কাজাকিস্তান যুদ্ধেও আমেরিকা অন্তত কোথাও নেই।
যুদ্ধবাজ সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা বদ- তার মানে কি রাশিয়া দুধে ধোয়া পূত পবিত্র! মোটেও তা নয়, কয়েক বছর আগেই ক্রিমিয়া জবর দখল করেছিল- আজব উপসাগরের কের্চ প্রনালির উপরে নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করতে। ইতিহাস ঘাঁটলে শেষ ৫০০ বছরে এই ক্রিমিয়া অঞ্চলের কের্চ প্রনালির দখলকে কেন্দ্র করে অন্তত ৫টা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দেখেছে বিশ্ব। কারন রাশিয়া ভূখণ্ডের মোট ব্যবসার ৬৮%ই সমুদ্রপথের উপরে নির্ভরশীল, আর রাশিয়ার মূল বন্দর কৃষ্ণসাগরের নভোরোসিয়স্ক বন্দর- কারন বছরের অর্ধেক সময় অগভীর আজব সাগর বরফ জমে থাকে, বাকি বন্দরগুলো দিয়ে আফ্রিকা বা এশিয়ার বাজার ধরা ভীষণ ব্যায় সাপেক্ষ। সুতরাং ইউক্রেনের দু-একটা সমুদ্র বন্দর যুক্ত অংশকে দখল করে নিলেই যোগাযোগ ব্যবস্থার অনেকটাই উন্নতি হবে- সুতরাং রাশিয়াও ‘জোর যার মুলুক তার’ সাম্রাজ্যবাদী নীতিতেই চলছে।
কিন্তু এই যুদ্ধ হবো হবো করেও হয়না বা হচ্ছেনাটা কেন? এর কারন বিশ্লেষণ করে আরেকটা গোটা প্রবন্ধ লিখব এরই ধারাবাহিকতায়।
রাশিয়াকে টাইট দিতে গেলে কৃষ্ণসাগরে মার্কিনী নৌবহর ঢোকাতেই হবে, সেটা করতে গেলে তুরস্কের থেকে ১৫ দিন অন্তর অন্তর অনুমতি নবায়ন হবে কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে বেড়িয়ে এসে ১০ দিন ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে থেকে তারপর- আজব শর্তের কল।
ইউরোপের অধিকাংশ দেশ জ্বালানী- বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য কেউ কেউ ১০০% রাশিয়ার উপরে নির্ভরশীল, যেমন জার্মানি। সুতরাং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নেরও অলআউট আক্রমণের সুযোগ নেই- তাই ন্যাটোও ‘ধরি মাছ, না ছুঁই পানি’ নীতি নিয়ে চলে রাশিয়া প্রসঙ্গে।
ওদিকে দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চলে মার্কিনীরা এমন সেঁকে রয়েছে যে তাইওয়ানের আকাশে চীন ফাইটার জেট পাঠালেও মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে তাইওয়ানের সামরিক অংশীদার আমেরিকা। বুক ফাটলেও মুখ ফাটছেনা চীন জুজুতে। এদিকে চীনা সস্তা পণ্য ইউরোপের বাজারজাত করতে ‘ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলের’ বিকল্প নেই, তাই চীন ব্যবসায়িক কৌশলগত ভাবে রাশিয়ার দিকেই ঝুঁকে রয়েছে- ফলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একপ্রকার একঘরে হয়ে গেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে।
আচ্ছা গত ৩ দশকে আমেরিকার হয়ে পাড়ায় পাড়ায় যুদ্ধ লাগিয়ে মোড়ল সেজে যে ব্যক্তি গুলো দৈনিক আলোচনার টেবিলে থাকত- তাদের একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছাড়াও আরেকটা নাম সংবাদের শিরোনামে থাকত- সেটা ‘সেক্রেটারি ওফ স্টেট’ পদাধিকারী। হেনরি কিসিঞ্জারের মত সেলিব্রিটিকে বাদ দিলেও- ওয়ারেন ক্রিস্টোফার, কলিন পাওয়েল, কন্ডোলিজা রাইস, হিলারি ক্লিন্টন, জন কেরি থেকে ট্রাম্প জামানার মাইক পম্পেও কেও গোটা বিশ্বজুড়ে মোড়লগিরি করতে দেখা গেছে। এরাই অশান্ত দেশগুলোতে গিয়ে অস্ত্র বেচে বেড়াতো, আর লম্বা চওড়া ভাষণ দিতো।
আজকের এই বাইডেন জামানার সেক্রেটারি অফ স্টেট এর নামটুকু আপনি জানেননা গ্যারান্টি, গুগুল করে তবে বলতে পারবেন- ‘এ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন’ বলে কেউ একজন আছে এই পদে, যার কাজ ছিল দেশে দেশে অশান্তি লাগিয়ে বেড়ানো- কিন্তু সে সামগ্রিকভাবে ব্যর্থ। মোদ্দাকথা, ‘ব্লিঙ্কেন-বাইডেন’ জুটি চরম ভাবে ফ্লপ অস্ত্র বিক্রির বাজার তৈরি করতে। ট্রাম্প তার চার বছরে যুদ্ধ না লাগালেও অস্ত্র বিক্রিতে বেশ দড়ের ছিল। বাইডেন ঠনঠন গোপাল-
এখনও তিন বছর যদি আমেরিকায় এই বাইডেন থাকে, ‘ইউনাইটেড স্টেট’ আর কতদিন ‘ইউনাইটেড’ থাকবে সেটা যথেষ্ট গবেষণার বিষয়।
৮০ বছরে অতিবৃদ্ধ বাইডেনকে কি ক্ষমতায় রাখবে পুঁজিবাদী অস্ত্র ব্যবসায়ী জায়োনিষ্টরা? নাকি কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ইহুদী কমলা হ্যারিসকে পুতুল সরকার বানিয়ে একটা মরিয়া চেষ্টা চালাবে এই অস্ত্র ব্যবসায়ীর দল?
উত্তর অবশ্যই সময়ের গর্ভে, কিন্তু বিশ্ব রাজনীতিতে শেষ সাত দশকে আমেরিকা কখনও এতটা গুরুত্বহীন, পঙ্গু তথা অবাঞ্ছিত হয়ে যায়নি। বস্তুত মার্কিন পেট্রো-ডলার অর্থনীতি না থাকলে আমেরিকার নুন্যতম গুরুত্ব নেই আজকের 'সফট লোন সাম্রাজ্যবাদী' চৈনিক দুনিয়াতে।
তাহলে কি অচিরেই পেট্রো ডলারের যুগের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে?
পেপার কারেন্সি আবার সেই নব্বই এর দশকের ‘সোভিয়েতের রুবেলের’ মত কেজি দড়ে বিকোবে?
ব্যাঙ্কের জমা পুঁজি রাতারাতি ‘নেই’ হয়ে যাবে?
এর জন্যই কি আমাদের কেন্দ্র রাতারাতি বিল আনছে- ‘ব্যাঙ্ক দেউলিয়া’ হলে গ্রাহক কত পাবে?
কাকে বাঁচাতে করোনা ভাইরাসের আড়ালে ধনীদের সুদি পুঁজিবাদী অর্থনীতিকে ভেন্টিলেটর দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে গরীব মেরে?
২০২২ উত্তর না দিলেও ২০২৩ কিন্তু অনেক কিছুর জবাব দিয়ে যাবে। কারন লুসার্ণ চুক্তি উত্তর তুরস্ককে রুখতে ইজরায়েল মরণ কামড় দেবেই- আর সেটা সুপার পাওয়ার হওয়ার লক্ষে।
বাকিটা ক্রমশ প্রকাশ্য....
সময় জবাব দেবে।
তবে ‘ইউনাইটেড স্টেট অফ আমেরিকাকে’ বাঁচতে গেলে একটা বড় যুদ্ধ খুব প্রয়োজন, ইজরায়েলকেও সুপার পাওয়ার হতে গেলে ঠিক ততটাই যুদ্ধ প্রয়োজন- যেভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সুপার পাওয়ার ব্রিটেনের থেকে নিঃশব্দে মার্কিনীদের কাছে ক্ষমতার হস্তান্তর হয়েছিল।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে, আমরা যুগ সন্ধিক্ষণে। অবশ্য ফেসবুকে বুঁদ ও xhamster বা ইউটিউব শর্টস সর্বস্ব প্রজন্মের কাছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে পড়া বা ভাবার সময় কোথায়!
রবিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২২
ভ্যাকসিন ও উদগান্ডু সমাজ
ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে কিছু উদগান্ডু এমন নাচছে যেন বাপের বিয়ের বরযাত্রীতে ফ্রির ফুচকা খাচ্ছে।
*ভ্যাক্সিন কে আবিষ্কার করেছে কেউ জানেনা,
*ভ্যাক্সিনের নামে নুনজল দিচ্ছে কিনা কেউ জানেনা,
*কেউ সেরেছে কিনা কেউ জানেনা,
*কারা কারা কোন দেশে কোন রোগী ভ্যাক্সিনে সুস্থ হয়েছে কেউ জানেনা, কারা এর স্বেচ্ছাসেবক ছিল কেউ জানেনা।
*সম্পূর্ণ ট্রায়ালের রেজাল্ট কি কেউ জানেনা,
কিন্তু এদের আনন্দের শেষ নেই- কেন আনন্দ কেউ জানেনা, কিন্তু তূরীয় আমোদে ভাসছে কেউ কেউ।
ভ্যাক্সিনের ব্যবসায়ীরা মরিয়া হয়ে মুরগি ধরতে নেমে পড়েছে, অথচ আমি আপনি সকলেই হিল্লি দিল্লি ঘুরে দিব্যু বেঁচে আছি, তার পরেও ভ্যাক্সিন আসার আনন্দে কী উল্লাস, উফ... পারলে জাঙিয়ার যন্ত্রপাতি কপালে সাজিয়ে প্রদর্শন করে সাফল্যের আতিশায্যে।
কিন্তু সাফল্যটা কার আর কিসের সাফল্য?
ম্যালেরিয়ার ভ্যাক্সিন আবিষ্কার করে নোবেল পেয়েছিল রোনাল্ড রস , কিন্তু দুনিয়া কাঁপিয়ে দেওয়া করোনার ভ্যাক্সিন আবিষ্কার কারককে কেউ দেখেনি পৃথিবীতে। কোনো কোম্পানি পেটেন্টও নেয়নি। তার পরেও কোথা থেকে ভ্যাক্সিন এলো কোনো জবাব নেই, না যুক্তি আছে না তর্ক। শুধু আছে উল্লাশ, আর অবোধ ভক্তদের আবেগের বিচ্ছুরণ।
সাধারণ মানুষকে চুতিয়া আর বোকাচোদা বানাবার কি দারুণ খুড়োর কল।
হাজার হোক, বাপের বিয়ের সুখই আলাদা- তার জন্য ফেবুতে একটু উৎসব না দেখালে সমাজ বলবে কি! জানিনা এদের বাপের বিয়ের কি কাগজ আছে, তবুও কেউ কেউ ভ্যাক্সিনেও কাগজ ঢুকিয়ে দিয়েছে, আসলে ঢোকানো বার বেড় করার মাঝেই জীবন আঁটকে গেছে, তাদের মাঝে এমন বিপ্লবের জন্ম দেয় বৈকি।
ভ্যাক্সিনটা ড়াগে নেওয়ার আগে লাইভ কোরো বাছা, তবে নতুন স্টেইন এসে গেছে, তাই 'আসচে বচর আবার হপ্পে'। আবার এর চেয়েও বেশি উল্লাস।
কেউ কিন্তু বলেনি ব্রিটেন নতুন স্ট্রেন ছড়িয়েছে, আসলে ভক্তদের মুচলেকা দেওয়া বাপ তো হাজার হোক, অবৈধ বাপের বিরুদ্ধে আর কি বৈধ পদক্ষেপ নেবে!
তাহলে কাকা- এক সিরিঞ্জে ক ফোঁড় ?
3
বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২২
গল্পঃ পাঠশালা ও টিউটোপিয়া।
'নামে কিইবা আসে যায়'।
শেক্সপিয়ার বলেছিলেন এই কথা, অবশ্য না বললেও আমাদের অন্তত ক্ষতি হতোনা। করোনা কখন যে ওমিক্রণ থেকে ফ্লোরোনা হয়ে যাবে ধরতেই পারবেননা, যেমন 'লকডাউন' নাম বদলে 'করোনা প্রোটোকল' হয়ে যাবে ধরতে পারা যাবেনা। সে যাই হোক- নামে যে কিছু যায় আসেনা সেটা আমাদের চেয়ে আর কে ই বা বেশি জানে! মুঘলসরাই, সরি পন্ডিত দীনদয়ালজীর দিব্যি।
করোনা আছে কি নেই, চরিত্র বদলাচ্ছে কি বদলাচ্ছেনা, ভ্যাক্সিন কার্যকরী না ভুয়ো - এগুলোর বিষয়ে যা যা কিছু বলার সেগুলো সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা কেউ বলছেন না। বললেও তাদের কথা আমাদের কানে আসছেনা, যা আসছে সবই ভায়া। যা কিছু বলার তার সবটাই বলছে সংবাদমাধ্যম, বাকিটা সরকার করছে ও করাচ্ছে। আর সরকার যখন বলছে সেটাই আদেশ, না মানলেই জেল জরিমানা।
'besarkari hola porisaba bhala hoba' বিশ্বাসীদের মতই "করোনা ভ্যাক্সিন নিলে, ইমিউনিটি বাড়ে" মন্ত্রে বিশ্বাসী একজাতের ভক্তের জন্ম হয়েছে। এদের কাছে কোনো যুক্তি নেই, তবুও পবিত্র বিশ্বাসে কোনো কমতি নেই। যারা যারা ভ্যাক্সিনেশন কমপ্লিটেড, তাদের অধিকাংশেরই আবার করোনা হয়েছে। Covid ভ্যাক্সিনের ফয়েলের গায়েই লেখা আছে- ইমারজেন্সি ইউজ অনলি ইত্যাদি। এর পরেও সরকার প্রায় জোর করে ভ্যাক্সিন দিচ্ছে। কিন্তু ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন করলেই "লাদেনের নাতিকে" দেখার লুক নিয়ে আমার দিকে চেয়ে থাকবে অর্ধেক সমাজ। ফলাফল- বেনিয়ারা চুটিয়ে ভ্যাক্সিন ব্যবসা করছে।
আসলে আমরা রয়েছি বৃহৎ যন্তরমন্তর ঘরে।
করোনা নাকি বাড়ছে। যে কিটে করোনা ধরা পরছে- আপনি কি জানেন ওটাতে ক্যামিকেলের মাত্রা কমবেশি করলে পজিটিভ/নেগেটিভ সূচক বদলে যায়। আর এই কিট কেবলমাত্র সরকার অনুমোদিত কয়েকটি হাতে গোনা কোম্পানিই তৈরি করে, যেগুলোর ডিটেলস- সাধারন মানুষের জানার অধিকারের বাইরে।
ইন্টারনেটের যুগে মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতে এমনিতেই বিজ্ঞাপনের অর্থে ভাটির টান। সেই সুযোগে বিকৃত ও বিক্রিত মিডিয়া মালিকেরা ফার্মা কোম্পানির থেকে মোটা পয়সা খেয়ে গুছিয়ে ভয়ের চাষ করাচ্ছে। আর সাংবাদিকদের কথা নাইবা বললাম, সমাজের নিরেট মূর্খ, মানে যাদের কোনো কাজ জোটেনা তারাই সাংবাদিক হয় আজকের দিনে, যেমন অধিকাংশ শিক্ষক মানেই বাস্তববোধ হীন একপ্রকারের ক্লীব জীব, যারা মানুষের মতই বাচ্চা উৎপাদন করে। তাহলে জানাবেটা কে বা শেখাবেটা কে, যে- চারিদিকে যা হচ্ছে তা ভালো হচ্ছেনা বা ভুল হচ্ছে।
আচ্ছা এই যে ২ তারিখ থেকে লকডাউন হয়ে গেল, কেন হলো? জনগণের কথা ভেবে? সরকার মানুষের কথা ভাবলে তো ২৫শে ডিসেম্বর বা ১লা জানুয়ারি জমায়েতে বাঁধা দিতো। ট্রেন বন্ধের সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাড়িয়ে রাত্রি ১০টা করে দিলো। কিন্তু সবার আগে যে সিদ্ধান্ত নিলো- ইস্কুল বন্ধ, সেটা বহাল রইলো। মদ যেহেতু 'নেই রাজ্যের' একমাত্র রোজগেরে দপ্তর, তাই ওটা খোলা রইলো। ইস্কুল বন্ধ মানেই হাজার হাজার কোটি টাকার ঘাপলা করার সুযোগ, তৃণমূল স্তর থেকে আমলা স্তর অবধি, সর্বত্র।
ইস্কুলে যারা যায়, তাদের বাড়ির লোক কি রাস্তাঘাটে যাচ্ছেনা ঝুলেঝুলে! বাচ্চারা কি বাপ-মায়ের হাত ধরে মেলা, খেলা, পার্কস্ট্রিট, মন্দির, মসজিদ, ভ্রমণ করতে যাচ্ছেনা? কিন্তু ইস্কুলে গেলেই নাকি এদের করোনা হবে। অথচ গোটা পৃথিবীতে করোনাতে আক্রান্ত কোনো শিশুর সন্ধান মেলেনি আজ অবধি।
কিন্তু কেন ইস্কুল বন্ধ? মানে আমাদের বাংলাতে? কেন আনন্দ গ্রুপের সংবাদমাধ্যম করোনা নিয়ে সারাক্ষণ হুমকি ধমকি বা বলা ভালো ভয় দেখাচ্ছে? কেউ প্রশ্ন তুলছেনা অশুভ আঁতাত নিয়ে।
রাজ্যে কোনো বিরোধী দল না থাকলে এটাই হয়। তৃণমূল নামক দলের প্রতিষ্ঠাতা নিজেই স্বীকার করছে বিজেপি মানেই তৃণমূল, আর সরকার পোষিত কিছু বুড়ো-হাবড়া আর গিটারিষ্ট/নির্বীজ, ভীতু আঁতেল ছেলেপুলে কমিউনিষ্ট সেজে পদে পোঁদ গুঁজে রয়েছে, যারা- না হোমে লাগে না যজ্ঞে। ফেসবুকে এসে দুটো বৈপ্লবিক কথাবার্তা বলে ফেললেই এদের অর্গাজম হয়ে যায়, ব্যাস তাহলে আর বাকি কী থাকে! গোটাটা নীলসাদা অনুপ্রেরণা। সরকারের সমালোচনা করা বা ভুল ধরার কেউ নেই।
আমরা ইন্টারনেটে 'হোয়াইট হ্যাট জুনিয়ার', বা বাইজুস এ্যাপসের বিষয়ে জানি। এমন আরো বেশ কিছু এ্যাপস রয়েছে যারা অনলাইন দোকান খুলেছে ইস্কুলের। জয় শাহ এর নামে বকলমে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রবল ক্ষমতাশালী অমিত শাহ BCCI এর প্রেসিডেন্ট, তারাই বাইজুকে প্রোমোট করছে ক্রিকেটের উন্মাদনার আড়ালে। ভাবুন, এই অমিতক্ষমতাধর 'বাইজু' কি চাইবে- সনাতন পদ্ধতির স্কুল খোলা থাকুক?
বাংলাতে 'টিউটোপিয়া' নামের একটা এ্যাপ চালু হয়েছে, যাদের উদ্বোধনে বাংলার তথাকথিত "বুদ্ধিজীবিদের" প্রায় সকলে উপস্থিত ছিল। তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখুন, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী, হার্ভার্ড প্রবাসী সরকারী দলের অধ্যাপক সাংসদ, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে কে নেই সেখানে। ঘোষীত বিবৃতি রয়েছে এদের প্রত্যেকের। আর আমরা কে না জানি,"তাঁর অনুপ্রেরণা" ছাড়া শিক্ষামন্ত্রী বা অন্য যে কেউ- কারো স্বেচ্ছা পাঁদার অনুমতিটুকুও নেই। অতএব....
এই টিউটোপিয়ার পার্টনার কে? আমাদের ABP গ্রুপ, মানে আনন্দবাজার পত্রিকা, ABP আনন্দ ও টেলিগ্রাফ। শহরের সকল গুরুত্বপূর্ণ বিলবোর্ড জুড়ে রয়েছে টিউটোপিয়া। কয়েকলাখের অথোরাইজড ক্যাপিটালের কোম্পানির মুল্য সাড়ে পাঁচকোটি আজকের দিনে, কয়েক বছরে এরাই হাজার কোটিতে পৌছাবে- যদি ইস্কুল এইভাবে বন্ধ থাকে। এই টিউটোপিয়া প্রাঃ লিঃ এর যারা ডিরেক্টর তাদের সম্বন্ধে MCA তে গিয়ে একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন- সরকার সহ মিডিয়া, এদের অবাধ যাতায়াত। কমেন্টে লিঙ্ক চাইবেননা, সামান্য খুঁজলেই সব লিঙ্ক পাওয়া যায়। আর না পেলে আপনার মত হাঁটুতে বুদ্ধিওয়ালা পাব্লিকের জন্য 'এক্স হ্যামস্টার ডট দেশিই" শ্রেষ্ঠ ঠিকানা, ইয়েস- বিপ্লবের।
সুতরাং, টিউটোপিয়া-সরকারে থাকা মন্ত্রী সান্ত্রী ও আমলা- ABP গ্রুপ সহ এদের এই পূর্ণ চক্রের- ইস্কুল খোলা থাকলে লাভ নাকি বন্ধ থাকলে লাভ? সুতরাং সামান্য ধোঁয়ার গন্ধ পেলেই মনসা এবার নেত্ত্য করবেই, ঢাক বাজুক বা না বাজুক। সামান্য ছুতোনাতা পেলেই ইস্কুল বন্ধ করে দেবে। এর বেশি বলবোনা, আমারও প্রোফাইল বাঁচাবার ভয় আছে, বেফালতু মামলা খেয়ে যাবার ভয় রয়েছে।
সুতরাং বুঝেই গেছেন, গোটাটাই একটা অর্থনৈতিক দুর্নীতি, যার পরিকল্পিত স্ক্রিপ্টে ফেঁসে গেছি আমি, আপনি, আমরা সহ গোটা সমাজ। কাল হোক বা পরশু, ইতিহাসের চাবুক এই সত্য একদিন দিনের আলোতে আনবেই। সেদিনের সংবাদপত্রে আজকের দুর্নীতির খবরও ছাপবে, কিন্তু সেটা পড়ার মত শিক্ষিত থাকবেনা আপনার আগামী পুরুষ। অত্যন্ত দামী অনলাইন শিক্ষা কেবল ধনীদের জন্যই সংরক্ষিত হতে চলেছে অদূর ভবিষ্যতে।
সস্তার অদক্ষ শ্রমিক তৈরির জন্য পুঁজিবাদী বিশ্ব সবার আগে শিক্ষাই বন্ধ করবে এবং করেছেও। আপনি সতর্ক হননি, হবেনওনা। ভুগবে আপনারই উত্তরপুরুষ, না হবে মানুষ না হবে মুনিশ।
টিউটোপিয়া বা এই বাইজুস- এদের বিরুদ্ধে পালটা ক্যাম্পেন চালু করুন আমাদের জনগণের তরফে। এদেরকে গণ বয়কট করুন, পুঁজি কেবল লাভ বোঝে, বয়কট করে এদের লোকশানের ব্যালেন্সসিট ধরান, দেখবেন BlackBerry মোবাইলের মত এরাও জাষ্ট গায়েব হয়ে যাবে। ইস্কুলও খুলবে। হোয়াইট হ্যাট ইতিমধ্যেই 'কোডিং শেখো' থেকে সরে গিয়ে মিউজিক শিক্ষার এ্যাপে পৌঁছে গেছে, কাল ঝাঁপ বন্ধ হলো বলে। আমাদের গণ বয়কটই আমাদের আগামীকে সুরক্ষিত করতে পারে, আমরা ছাড়া আমাদের বাঁচাবার কেউ নেই।
বাকিটা মাস্টারদের হাতে, কারন ছাত্ররা জিয়ো বা এয়ারটেলের মত বিকল্প বেছে নেবে যা পাবে সামনে, অদূর ভবিষ্যতে মাস্টারদের BSNL কর্মীদের হয়ে যাওয়ার দিনটা আজই দেখা যাচ্ছে। সরকারি স্কুলই থাকবেনা যখন, তখন সরকারি স্কুল টিচারদের কী প্রয়োজন! আজ মাস্টাররাই ঠিক করুক, এই অশান্ত সময়ে তারা বেতনযুক্ত আরাম সুখ ভোগ করে আগামীর BSNL কর্মী হবে, নাকি ইস্কুল খোলার জন্য জঙ্গি আন্দোলন করবে।
সহমত হলে লেখাটা শেয়ার করে সমাজকে জানাতেই পারেন।
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যসমূহ (Atom)
তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না
⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...
-
(১) জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তাল...
-
ছোটবেলায় বাবা বলতেন "শাগ খেলে বাঘের বল"। যদিও তিনি ওটাকে শাকই বলতেন আমরা কচি কানে বাঘের সাথে মিলিয়ে শাগ শুনতাম। এহেন পরিস্থ...