রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫

ইসলামিক মৌলবাদ শব্দবন্ধ ও ভণ্ডামি

 




এই মুহুর্তে ভারত রাষ্টজুড়ে সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য ব্যাক্তি/প্রতিষ্ঠানের নাম কী?

TRF- দ্য রেজিস্ট্যান্ট ফোর্স

ঠিকই শুনেছেন, এটাই বা এরাই

পেহেলগাঁও জঙ্গি হামলার তদন্ত শুরু হয়েছে নিশ্চই, সেই সংস্থা বা টিম যারা তদন্তের সাথে জড়িত তাদের জানিনা, জানতেও চাইনা। কালের নিয়মে রাষ্ট্র হয়ত তদন্ত করবে, তার ফলাফল আসতেও পারে, নাও আসতে পারে পুলওয়ামার মত। তবে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জনগন হিসাবে দাবী আছে, সেটা হচ্ছে- তারা রিপোর্ট জমা দিয়েছে কী? ইন্টেলিজেন্স ও নিরাপত্তায় গাফিলতি স্বীকার করে নিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, এটা সর্বদলীয় বৈঠকে ‘অন রেকর্ড’, কিন্তু এই ব্যর্তথতার দায় কেউ নিয়েছে কী?

রাষ্ট্র হিসাবে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক “ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ” শব্দটি ব্যবহার করেনি সচেতনভাবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্ত জম্মুকাশ্মীর পুলিশ এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছে কী? দেশের প্রধানমন্ত্রী তথা ভক্তদের পিতা তথা হিন্দু হৃদয়সম্রাট কোনো বিবৃতিতে এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন? অমিত শাহ? দেশের সেনাবাহীনির প্রধান? এমনকি RSS এর প্রধান মোহন ভাগবত ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ শব্দের ব্যবহার করেনি। বিরোধী দলের কেউ এমন কিছু বলেনি। বামদল গুলোর পক্ষেও তাদের অফিসিয়াল পেজ থেকে বা শীর্ষস্থানীয় কোনো নেতাকেও এমন কিছু কোটেড শব্দ বলতে দেখা যায়নি।

চোদি মিডিয়া তাদের রাজনৈতিক দলের ফায়দা দেওয়ার জন্য বিভাজনের রাজনীতি করবে, এটা গত ১২ বছরের পরম্পরা ও স্বাভাবিক ঘটনা বিজেপির রাজত্বে। Post Truth যুগের এটাই ধর্ম

এই মিডিয়াকে হাতিয়ার করে দেশজুড়ে বানরসেনার দল লম্ফঝম্প করে করে যাচ্ছে, একজন নিরীহ বিরিয়ানি দোকানিকে হত্যার মত পবিত্র কর্ম সম্পন্ন করে ফেলেছে ইতিমধ্যে। মিডিয়া অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে সেই নির্বোধ খুনির আস্ফালন দেখিয়ে জঙ্গি হামলার প্রতিশোধ নিয়ে নিশ্চিত ‘হিন্দু’ অন্তর’কে তৃপ্তি দিয়েছে। এছাড়া দু-চারটে খুচরো মুসলমান নাগরিক বিনা কারনেই মিডিয়ার সামনে মারধোর খেয়েছে।

আমাদের রাজ্যের খোকা বাহিনী তাদের চরিত্র অনুযায়ী ‘সেকুলার’ সংহারের যাত্রাপালা চালিয়ে যাচ্ছে, যতই তাদের নাগপুরী বাবার দল তাদের পালে হাওয়া লাগাবার মত কোনো রসদ দিতে ব্যর্থ। ভক্তদের মায়ের পঞ্চম স্বামী ট্রাম্পেশ্বর মহারাজ আবার কাশ্মীর সমস্যাকে হাজার বছরের পুরাতন বলে দাবী করে দুই দেশেই তাদের বন্ধু বলে দাবী করে আঁটিসেলের মুখে প্রস্রাব করে দিয়েছে

এ অবধি সব কিছুই নিখুঁত ভাবেই চলছে। সমস্যা আমার বা আমাদের, যারা বিজেপি ও তৃনমূল দুইকেই ঘেন্না করি, দুটোই RSS এর সন্তান- একটা স্বীকৃত অন্যটা জারজ। আমরা বাম রাজনীতির একজন প্রান্তিক সমর্থক মাত্র। তবে রাজ্যের সিপিএম দলের বর্তমান অবস্থান, একটা অদ্ভুত ঘোলাটে, পুরোটাই ভাসাভাসা ও বিভ্রান্তকর পরিস্থিতি যুক্ত।

সিপিআই(এম) দলের অফিসিয়াল হ্যান্ডেলে ‘ইসলামিক সন্ত্রাস’ শব্দের ব্যবহার হয়নি। অথচ শতরূপ ঘোষ ও দীপ্সিতা ধর- দুজন প্রায় সর্বজ্ঞ ‘মহান’ লেভেলের বিপ্লবী নেতানেত্রী কিন্তু তাদের ফেসবুক টাইমলাইনে সুস্পষ্টভাবে এই শব্দবন্ধ উল্লেখ করেছেন। ভেবেছিলাম এটা হয়ত ব্যাক্তিগত মতামত, যদিও বামদলে এভাবে পার্টি লাইনের বাইরে গিয়ে নিজশ্ব মতামত থাকতে পারেনা। এর পরেই আবার শহীদ ঝন্টু সেখের বাড়িতেও যখন দেখি সেই শতরূপ ঘোষ হাজির, পার্টির পক্ষে অফিসিয়ালি- বিভ্রান্ত হই চরমভাবে।

রিপাবলিক টিভি ও তার এ্যাঙ্কর ময়ূখ মর্কটের সান্ধ্য খেউর শো-তে দৈনিক বামেদের ও সেকুলারদের মা মাসি উদ্ধার করা হয়, মুসলিম বিদ্বেষের মত প্রচারযন্ত্র আর দ্বিতীয়টি নেই এই বাংলাতে। প্রকাশ্যে ধর্মীয় বিভাজনের ঘৃণা ছড়িয়ে যাচ্ছে, মমতা প্রশাসনের সুরক্ষা ও আস্কারাতে। ময়ুখ নিজের ভূমিকাতে অভিনয় করছে মাত্র, তার উপরে রাগের চেয়ে করুনা বেশী হয়, এটা না করলে সে খেতে পাবেনা। এমনকি তেলাপিয়া নন্দীকেও পথে বসিয়েছে ময়ূকখের বাঁদরামি। এই রিপাবলিক চ্যানেলে সিপিএম পার্টির মুখপাত্র হিসাবে সিপিএম উপস্থিত থাকেন নিয়ম করে, বিশেষ করে শতরূপ ঘোষ। ফলত বাম সমর্থকেরা রিপাবলিক টিভি ও জোকার ময়ূখের মাদারি নাচ দেখে। এটা কোন মেহেনতি মানুষের স্বার্থে বলতে পারেন? রিপাবলিক তো এবিপির মত ঘোমটার আড়ালে বিজেপির মুখপত্র নয়, ঘোষিতভাবে বিজেপির চ্যানেল। সেখানে বাম প্রতিনিধি যাওয়া মানে, পার্টিও চায় বাম সমর্থকেরা রিপাবলিক দেখুক ও পোষ্ট ট্রুথের শিকারে বিভ্রান্ত হোক

রাজ্য সিপিএম দৃশ্যত দুদুও খাচ্ছে আবার তামাকও খাচ্ছে। হিন্দুত্ববাদীদের তুষ্ট করতে ‘হিন্দু’ শতরূপ-দীপ্সিতাদের দিয়ে ‘ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ’ পোষ্ট করাচ্ছে। আবার ‘মুসলমান’ সেলিম নতুন ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করছেন দুধেল গাইদের আস্থা অর্জনে, দেখো আমরা তোমাদেরই লোক। অথচ যখন কৃষক কালা আইন নিয়ে দেশ উত্তাল, সেই আইনের বিরুদ্ধে সেলিম সাহেব কিন্তু আদালতে যাননি। অবস্থান- Loud and Clear. সিপিএম নেতৃত্বের একটা অংশ ‘বিজেপি-তৃণমূলের’ usp এই হিন্দু মুসলমান রাজনীতির পালে পাখার বাতাস করছেন তা চোখ এড়াচ্ছেনা কারোরই

সঙ্গদোষে লোহা ভাসে, নিয়মিত রিপাবলিক যারা যাচ্ছে- অন্য বিজেপি-তৃণমূল মুখপাত্রদের সাথে বন্ধুত্ব হচ্ছে সিপিএম মুখপাত্রদের। নিত্য এই গা শোঁকাশুঁকিতে চরিত্র বদলাতে বাধ্য, হয় ওরা বাম দিকে ঘেঁষবে অথবা এদের বামপন্থী চরিত্র নষ্ট হবে। কী হয়েছে তা ‘ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ’ পোষ্টেই প্রমাণনিত। পার্টি কিন্তু কোনো কন্ডেমড করেনি, তারমানে সূক্ষ্মভাবে তোষনের রাজনীতির দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে প্রকাশ্যে।

ভক্ত কেবল চাড্ডি বা ছাগুদের হয়না, বামেদেরও হয়। তারা হাঁ হাঁ করে তেড়ে আসবে দলবেঁধে আমার বিরুদ্ধে, তা আসুন, কিন্তু দলকে প্রশ্ন করুন, এই দ্বিচারিতার মুখোস কোন মেহেনতি শ্রমজীবীর পক্ষে, কোন সেকুলারিজমকে বাঁচাতে? যা রাষ্ট্র বলেনি, যা দল বলেনি, এমনকি দেশের স্বীকৃত ঘৃণা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান- ভাগবতও যা বলেনি- শতরূপ ও দীপ্সিতা তা প্রকাশ্যে লিখেছে। এর দরুন সিপিএম রাজ্য কমিটি তিরষ্কার করেনি বরং পুরষ্কৃত করেছে, দলের প্রতিনিধিত্ব করেছে ঝন্টু সেখের বাড়িতে পাঠিয়ে।

অনেক বাম্বাচ্চা হয়ত লিখবেন- প্রকাশ্যে কেন সমালোচনা করছেন দলের! তাদের বলি শতরূপ বা দীপ্সিতা কী গোপন গ্রুপে পোষ্ট করেছিল? সমালোচনা হয় বলেই তো দলটা বামপন্থী পরিচয়ে আছে, নতুবা মৌলবাদীদের সাথে ফারাক কোথায়? প্রাইমেট বর্গের প্রানীদের মাথায় ঘিলু থাকে, তাই তারা উন্নত। আপনি যদি চিঙড়ির মত মাথায় গু ভর্তি করে অমেরুদণ্ডীদের মত নেতাদের পশ্চাদলেহন করেন, আপনিও বামপন্থীর ছদ্মবেশে একজন চাঁটাপন্থী মাত্র, সুযোগ পাননি বলে তৃণমূলে আপনি যাননি

বাম চরিত্র হারিয়ে যাওয়া আর চরিত্রহীন হয়ে যাওয়ার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। আমাদের চোখে মৌলবাদের চমা নেই, আমরা বোকা হতে পারি চার অক্ষরের বোকা ভাববেননা প্লিজতৃণমূল বিজেপি কিন্তু সফল বিভাজনের রাজনীতিতে জনগণকে বুঁদ করে রাখতে, ২৩ লক্ষ মানুষ পথে বসে আছে, ২৬ হাজারের চাকরি নেই, আরো ৬০ হাজারের মাথায় একই খাঁড়া ঝুলছে। ওয়াকফ, মালদা, মুর্শিদাবাদ আর কাশ্মীর দিয়ে রুটিরুজি আর চুরির প্রশ্ন আপাতত হারিয়ে গেছে। একই গড্ডালিকা প্রবাহে বাম রাজনীতিও ভেসে গেছে।

প্রশ্নটা রইল, সাধারণ মানুষকে গাঁড়ল ভাববেন না। শূন্যকে জাস্টিফাই করবেন না এভাবে, আজও আপনাদের বিশ্বাস করে বলে লক্ষ মানুষে ব্রিগেড ভরে যায়, আজও স্বচ্ছ নির্বাচন হলে মানুষ আপনাদের প্রার্থীদের ভোট দেয়। তাই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করুন, আপনারা ধর্ম আর জিরাফকে মিলিয়ে দিয়ে নতুন ইতিহাস তৈরির চেষ্টা আপনাদের নেতৃত্বকে আস্তাকুড়ে ছুড়ে ফেলে দেবে

 

শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৫

উত্তরাখণ্ড


 

ভারতীয় হিমালয়ান পার্বত্য রেঞ্জের এক অতি পরিচিত পর্যটন গন্তব্য। নৈনিতাল, দেরাদুন, মুসৌরি, আউলি- যেকোনো পাহাড়প্রেমীদের কাছে যেন এক স্বর্গের সমান। গাড়োয়াল আর কুমায়ুন এই দুই রেঞ্জ জুড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বিচিত্রতা ও বিবিধতা সমতলের মানুষকে মন্ত্রমুগ্ধের মত আকৃষ্ট করে আসছে যুগের পর যুগ ধরে।

২০১৪ সালের পর যখন দেশে অমৃতকাল এলো, কিছু গেরুয়া ভেকধারী ভণ্ড তাদের আয়ুর্বেদ ব্যবসাতে সুনামি নিয়ে এলো। পতঞ্জলি সহ রাতারাতি গজিয়ে উঠা এমন বহু কোম্পানি তখন হরিদ্বার ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা জুড়ে জমি অধিগ্রহন করতে লাগল স্বদেশী, দেশপ্রেম ও আয়ুর্বেদের নামে। এমনিতেই উত্তরাখণ্ড দেবভূমি নামে পরিচিত, সারা বছর বিপুল পরিমান পূণ্যার্থী যায়- পরিসংখ্যান পরে নিয়ে আসছি। আয়ুর্বেদের নামে শুরু করে পতঞ্জলি মাঝখানে কন্ডোম অবধি বানাতো, এর মাঝে মুদিদ্রব্য ও ভোগ্যপন্যের তথা FMGC বাজারে ‘সহি হিন্দু’ ও জাতীয়তাবাদী ট্যাগলাইন দিয়ে রীতিমত ফুলেফেঁপে উঠল, মানে আচ্ছে দিন এসে গেলো আরকি।

কিন্তু জমির যা দাম, তাতে কীভাবে এতো বেশী দাম দিয়ে জমি কেনা সম্ভব! ততদিনে ২০১৩ সালের কেদারনাথের মেঘভাঙা বৃষ্টির দরুন ভূমিধ্বস ও বন্যার ভয়াবহতা দেখে নিয়েছে পৃথিবী, গোটা রাজ্যটা একঅর্থে ছারখার হয়ে গিয়েছিল। মানুষ পেটের দায়ে জলের দরে ঘটি, বাটি জমি বিক্রি করে দিয়েছে। হাঙরেরা বুঝলো, বাহ- এই তো সুযোগ। আচ্ছেদিনের ফেরিওয়ালাদের সাথে মিলে একটা স্কিম চালু করল ওই জমি মাফিয়ারা, যেকোনো মুল্যে উত্তরাখণ্ডের পর্যটনশিল্পে ভাঁটা আনতে হবে, তাহলে হোটেল হোমস্টে নতুন করে হবেনা, পুরাতন গুলো বন্ধ হয়ে যাবে, লোকাল লোক সস্তায় জমি বেঁচে দিতে বাধ্য হবে। ২০১৬ সালে হরিশ সরকার চলে যেতে , RSS এর সরকার আসে ত্রিবেন্দ্র সিং এর নেতৃত্বে, এবং মাত্র ৩ বছরের মধ্যে শুধু পতঞ্জলী যোগপীঠ তাদের আশ্রমের নামে প্রায় ৪০০ একর জমি অধিগ্রহন করে নেয় একলপ্তে। রহস্যজনকভাবে তাদের আয়ুর্বেদ ব্যবসাতে সুনামি এল আজকে ২০২৫ এর তারিখে শুধু পতঞ্জলী ও তার আনুষাঙ্গিক কোম্পানি গুলো মিলে প্রায় ১৩ হাজার একর জমি গ্রাস করে রেখেছে। বেনামে কত আছে কে জানে! অন্য আরো এমন আচ্ছে দিনের শকুনেরা মিলে কমবেশী জমিতে ইনভেষ্ট করা শুরু করে। ৩৭০ বিলোপের পর যেটা নিয়ে কাশ্মীরেও হইচই শুরু হয়েছিল, ওখানে জমির মালিক হবো ইত্যাদি।

চারধাম যাত্রা ধর্মপ্রাণ হিন্দুদের কাছে অতি পবিত্র, জীবনে একবার হলেও যেন যেতে পারি এই আকাঙ্খা অধিকাংশেরই থাকে। এটার উপরে হাত দেওয়া যাবেনা, তাছাড়া ভেক গেরুয়াধারী জমি হাঙরেরা- ধর্ম বেচেই ক্ষুন্নিবৃত্তি করে, অতএব তীর্থস্থান কেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে ছোঁয়া যাবেনা। বাকি স্থান গুলোকে অদ্ভুত এক উপায়ে স্লো পয়জেনিং শুরু করে দিলো । বিখ্যাত বিখ্যাত যে সব ট্রেকিং রুট ছিল, সেখানে পর্যটকের চরম আকাল।

আমি নিজে পর্যটন শিল্পের সাথে যুক্ত, আমার ফেসবুক টাইমলাইনে অন্তত ২ ডজন এমন মানুষ আছেন যারা সমপেশায় যুক্ত। আপনারা শেষ কবে নৈনিতাল, আলমোড়া বা আউলির প্যাকেজ বিক্রি করেছেন? আমার বন্ধু তালিকাতে ১ জনও কেউ আছেন যিনি নৈনিতাল, দেরাদুন, মুসৌরি, আউলিতে হোটেল হোমস্টে চালান? যারা এই লেখা পড়ছেন তারা শেষ কবে এই স্থানগুলোতে বেড়াতে গিয়েছিলেন? কেউ চারধামের কোনো একটা স্থানে গেছেন, যাওয়া বা ফেরার পথে বুড়ি ছুঁয়ে যান বড়জোর। এই অবধি সব ঠিকিই ছিল।

এবার আসি পরিসংখ্যানে, আপনি যদি উত্তরাখণ্ডের সরকারি তথ্য দেখেন- দেখবেন সেখানে গতবছরে মানে ২০২৪ সালে পর্যটক গেছে প্রায় সাড়ে সাত কোটি মানুষ। ২০২৩ সালের ঘোষিত ডেটা অনুযায়ী 59636601, 2000-2023 Yearly Statics.xlsx,

ঘটনা হচ্ছে এটা পরিমাপ করার পদ্ধতি বিষয়ে কিছু জানা নেই। আমরা যারা সিকিমে ব্যবসা করি তারা জানি যে রংপো, রংলি বা জোরথাং চেকপোষ্ট দিয়ে সিকিমে ঢুকলেই একটা footfall নথিবদ্ধ হয়, দার্জিলিং এর হোটেলেও থানাতে গিয়ে দৈনিক আগের দিনের রেজিস্টার খাতার ডেটা কপি জমা করতে হয়। গত ২০২৪ সালে যেমন ১৪ লক্ষ পর্যটক সিকিমে ঢুকেছিল। কাশ্মীরেও এভাবেই পর্যটক গোনা হয়, ২০২৪ সালে সেখানে এই সংখ্যাটা ছিল ২৬ লক্ষ।

গতবছর সরকারী তথ্য মতে শুধু কেদরনাথ দর্শনে গিয়েছিলেন সাড়ে ১৬ লক্ষের কাছাকাছি কিছু পূণ্যার্থী, বদ্রীনাথে ১৪ লাখ মত। দার্জিলিং এ বছরে গড়ে ৬ লাখের মত পর্যটক আসেন, তাতেই ‘পিক সিজেনে’ পা রাখার জাইগা থাকেনা। সেখানে উত্তরাখণ্ডে নাকি সাড়ে ৭ কোটি পর্যটক গেছে ২০২৪ সালে। পিডিএফের চার্ট দেখুন, একই পর্যটককে বারে বারে গুনে সংখ্যা বাড়ি্যে গেছে। পরিসংখ্যান বলছে ৬০% কেদার যাত্রী- বদ্রি ধামেও যান। কিন্তু এনারা দেখিয়েছেন কেদার বদি মিলিয়ে গেছেন ৩০ লাখ যাত্রী। বাকি ৭ কোটি কোথায় কোন হোটেলে হোমস্টেতে ছিল?

এদিকে পতঞ্জলির আয়ুর্বেদ আর মেডিসিন ব্যবসা পাতালমুখী, “স্বদেশী’ ভোগ্যপন্য আর প্যাকেজড খাদ্যপন্য বিক্রি করে কোম্পানি চলছে, তাও ২১ অর্থবর্ষে যেখানে আয় ছিল ১০৭০০ কোটির, সেখানে গত অর্থ বর্ষে এতো নতুন নতুন ব্যবসা, ইস্কুল, ইউনিভার্সিটি খুলেও ২৪% আয় কমেছে, এই অর্থ বর্ষে সেই আয় ৫০০০ কোটিরও নিচে চলে যাবে বলে পূর্বাভাষ। সাধে কী আর ইসলামি জেহাদী রুহ আফজার পরিবর্তে পতঞ্জলী সরবত খেয়ে মোক্ষ লাভের বিজ্ঞাপন নিয়ে আসতে হচ্ছে।

মোদ্দা কথা হলো যে ভাঁওতা দিয়ে জমি নিয়েছিল পর্যটনকে খোঁজা করে দিয়ে, তাদের মুখোস খুলে গেছে। কোনো কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি বা এরা করেনি, শুধু নিজেদের আখের গুছিয়েছে। ধর্ম বেচে রামদেব লক্ষকোটির শিল্পপতি হয়েছে, সাধারণ গ্রামের মানুষটা কী পেয়েছে, ৮২% হিন্দু অধ্যুষিত রাজ্যে- দেখো আমি সহি হিন্দু বললে কী তাকে কেউ খেতে দেবে? সত্যিই তো ‘হিন্দু খতরেমে হ্যায়’ অমৃত কালে। অতএব এখন যেকোনো উপায়ে কর্মসংস্থান প্রয়োজন। ২০১০ এর আগের ডেটা অনুযায়ী রাজ্যের মোট আয়ের ৬০% ই আসত পর্যটন থেকে, এখন মিথ্যা ৭ কোটির গল্প সাজিয়েও সেটাকে ৪৩%তে এনে নামিয়েছে। ৭ কটি না হলেও ৭০ লাখ তো করাতে হবে, কিন্তু কীভাবে? এখানে সম্ভবত আসল কুমিরের গল্পটা রয়েছে।

এই বছরে কাশ্মীরে টুরিষ্ট ফুটফলের সম্ভাবনা ছিল ৪০ লাখ, আমার অনুমান নয়- যারা ৩৭০ বিলোপে মিষ্টি মিলিয়েছিল, এটা তাদের ডেটা, গুগুলে পেয়ে যাবেন। পেহেলগামে টুরিস্ট খুন হলো, সরি হিন্দু টুরিস্ট লিখতে হবে নাহলে দেশপ্রেমের ঘাটতি প্রমানিত হবে। যাই হোক, কাশ্মীরে আগামী অন্তত ২ বছর যাবেনা পর্যটক, কিন্তু মানুষ তো ঘুরতে যাবে। মধ্য ও উত্তর ভারতের মানুষ নর্থ ইষ্টে আসাতে ততটা সড়গড় নন। হিমাচল এমনিতেই ওভারলোড থাকে।

সুতরাং, কিছু একটা মাস্টারস্ট্রোকের দরকার ছিল ‘হিন্দু’ উত্তরাখণ্ডকে পর্যটনের ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনতে, ‘জিহাদি’ কাশ্মীরে জঙ্গি হানা তো স্বাভাবিক ব্যাপার – তাই না! অনেক সম্ভাবনার মাঝে এটা এক সম্ভাবনা মাত্র, কারন আমরা বোরখা রামদেবকেও দেখেছি।

কে বলে জঙ্গিদের ধর্ম হয়না, আলবাত হয়। ইসলামিক মৌলবাদ তো সত্যি বিশ্বজুড়ে, যেমন স্বাধ্বী প্রজ্ঞার হিন্দু জঙ্গিবাদ সত্যি। গ্রাহাম স্টেইন সত্য ছিল, জাত দেখে মেরেছিল। যেমন মনিপুরে মেইতেই জঙ্গিবাদ সত্যি। যে দেশের ২-৩টে বাদে প্রতিটা সরকারী ছুটি হয় ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুযায়ী, সেখানে জঙ্গিদের ধর্ম হবেনা? প্রশ্ন একটাই, এই 'হিন্দু' হত্যার লাভ কী কাশ্মীরীদের পক্ষে গেলো? নাকি অবশিষ্ট ভারতের ১ জন মুসলমানও এই নারকীয় হত্যাকান্ড থেকে কোনো প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ফায়দা পাবে? ফায়দা শুধু একটা দল ও তাদের বংশবদ মিডিয়া চ্যানেল গুলোই পায়। এই কারনেই হিন্দু হৃদয়সম্রাট সৌদি থেকে ফিরে কাশ্মীয় যাননি, না গেছেন শহীদদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে, না সর্বদলীয় মিটিং এ গেছেন, হামলার পরেই সফর কাটছাঁট করে দেশে ফিরেই তিনি বিহারে ভোট প্রচারে চলে গেছেন, লাভের গুড়  ঘরে তুলতে হবে যে।


যাই হোক, উত্তরাখণ্ড ভ্রমণে যাবেন নাকি?




বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৫

সন্ত্রাসী হানার বদলা চাই, সিম্পল



ইসলামিক সন্ত্রাসী? সিম্পলি খতম করো। অস্ত্র কী শুধু ২৬শে জানুয়ারি রাজপথে শো-অফ করার জন্য?
পড়শী দেশ জড়িত? সোজা হামলা করো। কার অনুমতির প্রতীক্ষা করছো?
বৈসরণের অজুহাতে তীব্র পোলারাইজেশন ও Single line narrative সেট করে বাকি দেশজুড়ে সেটার রাজনৈতিক ফসল তুলতে ব্যস্ত। আর এই একটা ন্যারেটিভেই যাবতীয় ব্যর্থতা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি সব উবে গেছে শেষ ৩ ঘন্টার সময়রেখাতে। যেন এ দায় জঙ্গিদের একার নয়, আপামর মুসলমান ধর্মের প্রত্যেকে এটার সাথে জড়িত; এটাই চুম্বকে সত্য প্রামাণে মরিয়া সকল মিডিয়া। প্রশাসন, সেনাবাহিনী কিম্বা গোয়েন্দা দফতর - এনারা তো গোটা বিষয়ের বাইরে শুরু থেকে।
বাংলা, বিহার, আসাম বা তেলেঙ্গনা থেকে কেউ গিয়ে এই নির্বিচারে গুলি চালিয়ে গণহত্যা করেনি, স্থানীয়েরা করেছে, কাশ্মীরীরা করেছে। কাশ্মীরী মুসলমানরা করেছে, এটাই একমাত্র সত্য।
অবশ্যই হিন্দু মরেছে, মুসলমানও মরেছে। তালিকাতে সেই হতভাগাদেরও নাম রয়েছে।
গত ১ বছরে আমেরিকাতে ১৪০০ বন্দুকবাজির ঘটনা ঘটেছে। হ্যাঁ বন্দুকবাজি, গুগুল করুন, প্রতিটা তথ্য পেয়ে যাবেন। কেউ খ্রীষ্টান সন্ত্রাসী বলেনি- কারন মিডিয়া সেই ন্যারেটিভ সেট করেনি। ওরাও বন্দুক নিয়েই মানুষ খুন করেছে পৃথিবীর তথাকথিত সবচেয়ে উন্নত ও সভ্য দেশে- ওরা উগ্রপন্থী নয়। ওদের জন্য খ্রীষ্টান ধর্মের বাকি অনুসারীরাও দোষী সাব্যস্ত হয়নি। যেহেতু ওটা সন্ত্রাস হিসাবে লেখাজোকা হয়নি- তাই বন্দুকবাজ হয়েই রয়ে গেছে ঘটনাগুলো।
অমুক স্থানে হিন্দু সন্ত্রাসীদের হাত তমুক খুন হয়েছিল, ইহুদীদের হাতে মুসলমান হত্যাযজ্ঞ চলছে, খ্রীষ্টানদের হাতে কেউ খুন হচ্ছে- এমন নানান পালটা কুযুক্তি খাড়া করে বৈসরণের বিষয়টির নৃশংসতাকে লঘু করার চেষ্টা করছে তাদের মুখে পেচ্ছাপ করে দিই।
যারা নিরীহ পর্যটকদের উপরে ইসলামের নামে এমন হত্যাযজ্ঞ চালায়- আমি "সেই ইসলামের" অনুসারী নই। আমার কোরান, হাদিস আমাকে শেখায়নি নিরপরাধ মানুষকে খুন করতে, যারা করেছে তাদের ধর্ম "খুনে ধর্ম"। নিজেদের স্বার্থের জন্য সাধারণ নাগরিক হত্যা করেছে।
এই 'হিন্দু' হত্যার লাভ কী কাশ্মীরী মুসলমানেদের নাকি অবশিষ্ট ভারতের ১ জন মুসলমানও এই নারকীয় হত্যাকান্ড থেকে কোনো ফায়দা পাবে? ফায়দা একটা দল ও দের বংশবদ মিডিয়া চ্যানেল গুলোই পায়। সেই জঙ্গি মুসলমানদের পাপের দায়ে যদি আমাকে বা আমার মত বাকি ভারতের মুসলমানদের যারা একপেশে ধর্মীয় পরিচয়গত কারনে bullying হচ্ছি, তাদের মুখেও থুতু দিই।
রাষ্ট্র যদি ধর্মীয়ভাবে এই নারকীয় কান্ড থেকে রাজনৈতিক ফায়দা না তুলতে চায়, পালটা হামলা করুক অপরাধীদের ঘরে ঢুকে। ভয়ানক বদলা নিক, মিডিয়াতে এই ২ লাইনের ন্যারেটিভ ঈশ্যু ক্ষণস্থায়ী। কাল IPL এ হায়দ্রাবাদ ৩০০ করলে সিংহভাগ পাব্লিক সেই নিয়ে মেতে উঠবে। এটাই পাব্লিক চরিত্র এই রিলস প্রজন্মে।
আজকের বৈসরণ একটা তাৎক্ষণিক ঈশ্যু হয়ে যেন না থাকে, পালটা প্রতিশোধ এমনভাবে নেওয়া হোক দাগী চিহ্নিত করে, দৃষ্টান্তমূলক হয়ে থাকে আগামীর জন্য। 

মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৫

বাংলাদেশ ক্রিকেটঃ আমাদের আনক্যাপড ব্রিগেড

 


আগামী আগষ্টে নাকি ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিম বাংলাদেশ সফরে যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে শক্তিশালী বাংলাদেশী দলের বিপক্ষে যদি ১ জনও স্বীকৃত তেমন প্লেয়ার ভারতীয় একাদশে থাকে- যারা জাতীয় দলে বর্তমানে নিয়মিত কিম্বা অতীতে কখনও না কখনও নিয়মিত ছিল, সেটা ভারতীয় ক্রিকেট ঐতিহ্যের প্রতি চরম অপমান হবে নিশ্চিত।

তাই একটা টিমের প্রস্তাবনা করলাম, যারা বিশ্বত্রাস বাংলাদেশ দলের আগাপাশতলা চুনকাম করে ফিরে আসার জন্য যথেষ্ট।

সাই সুদর্শন
প্রিয়াংস আর্য
অভিষেক পোড়েল (কিপার)
রজত পাতিদার (অধিনায়ক)
অঙ্গকৃশ রঘুবংশী
আয়ুষ বাদোনি
আশুতোষ শর্মা
সাই কিশোর
দিগ্বেশ রাঠি
যশ দয়াল
প্রিন্স যাদব

Sub-

জিশান আনসারি
শাহরুখ খান
বৈভব আরোরা
প্রভশিমরন সিং
বৈভব সূর্যবংশী

দেখা যাক BCCI কেমন দল পাঠায়

কাশ্মীরঃ মোদীর ইমেজ বিল্ডিং



বিশেষ কারো ইমেজ উদ্ধার করতে গিয়ে গলাপচা কাশ্মীরের উপরে সুন্দর সাজিয়ে গুছিয়ে দেখানো হয়েছিল। নতুবা ৩৭০ ইলোপের মাস্টারস্ট্রোক কীভাবে প্রমান হতো।

পুলওয়ামার ৬ বছর পরেও কোনো তদন্ত হয়নি, অথচ আমরা যারা কাশ্মীর গেছি তারা জানি বা দেখেছি আক্ষরিক অর্থে ১০ হাত দূরে দূরে সেনা/আধাসেনা মোতায়েন থাকে। তাদের হাতে বন্দুকও থাকে-
কিন্তু প্রশ্ন করা যাবেনা। বিশ্বগুরুর ঈশ্বর হওয়ার পথে যে কাঁটা পরবে, তড়িপার তো ওয়াকফ নিয়ে ব্যস্ত। দায়িত্ব আসলে কাশ্মীর বাদে ২৭টা রাজ্য ও ৮টা UT এর মুসলিমদের আর কংগ্রেসের। জেদ্দাতে বসে তিনি এখন আরব্য রজনীর সুরমা লাগাচ্ছেন। ভাগ্যিস সৌদিতে মোল্লাদের বাস নেই-
চোদি মিডিয়া অবশ্য শুধুই পাকিস্তানকে নিয়ে পরবে, আঁটিসেল সোস্যালমিডিয়াতে মোল্লা মারবে, অগ্নিহোত্রী ব্লকব্লাস্টার স্ক্রিপ্ট লিখবে। কিন্তু জনগন খুন হবে।
আসলে মৃত নেহেরু কোনো কমান্ড দিতে পারেনা সেনাদের, সুতরাং দোষ অবশ্যই রাহুল গান্ধীর। IPL এর মরসুম, গোয়েন্দা দপ্তর তো My 11 Circle এ টিম বানাতে ব্যস্ত নিশ্চিত।
তবে অবশিষ্ট ভারতে মুসলমানদের ঘরদুয়ার জ্বালাবার একটা মোক্ষম অস্ত্র পেয়ে গেলো RSS ও তাদের শাখা সংগঠন গুলো।
বৈস্বরণের এই নৃশংসতারও কোনো তদন্ত হবেনা নিশ্চিত থাকুন। কেউ শাস্তিও পাবেনা, কারন দেশে us vs them এর এতো ভালো পটভূমি আর কোথায় পাওয়া যাবে!
ওদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ইন্ডিয়া সফরে, তার সামনে "প্রমান" দেখাবার দায় থাকলেও থাকতে পারে। নতুবা এতো আঁটোসাটো নিরাপত্তার মধ্যে সত্যিই কী সম্ভব- গেলো, মারলো আবার পালিয়ে গেল? ডোভাল থাকাকালীন আসলে সবই সম্ভব।
হয় ইম্মিডিয়েট অপরাধী সনাক্ত করে তাদের কোর্ট মার্সাল করা হোক, নতুবা এই দুর্বল চিত্রনাট্য কিন্তু বিশ্বগুরুর ধুতি খুলে নেবে।
হতভাগা মানুষগুলোর বলি চড়ে শুধু।
হিন্দু খতরেমে সত্যিই হ্যায়।

পেহেলগাম হামলাঃ বদলা চাই



বদলা চাই, সিম্পল

ইসলামিক সন্ত্রাসী? সিম্পলি খতম করো। অস্ত্র কী শুধু ২৬শে জানুয়ারি রাজপথে শো-অফ করার জন্য?
পড়শী দেশ জড়িত? সোজা হামলা করো। কার অনুমতির প্রতীক্ষা করছো?
বৈসরণের অজুহাতে তীব্র পোলারাইজেশন ও Single line narrative সেট করে বাকি দেশজুড়ে সেটার রাজনৈতিক ফসল তুলতে ব্যস্ত। আর এই একটা ন্যারেটিভেই যাবতীয় ব্যর্থতা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি সব উবে গেছে শেষ ৩ ঘন্টার সময়রেখাতে। যেন এ দায় জঙ্গিদের একার নয়, আপামর মুসলমান ধর্মের প্রত্যেকে এটার সাথে জড়িত; এটাই চুম্বকে সত্য প্রামাণে মরিয়া সকল মিডিয়া। প্রশাসন, সেনাবাহিনী কিম্বা গোয়েন্দা দফতর - এনারা তো গোটা বিষয়ের বাইরে শুরু থেকে।
বাংলা, বিহার, আসাম বা তেলেঙ্গনা থেকে কেউ গিয়ে এই নির্বিচারে গুলি চালিয়ে গণহত্যা করেনি, স্থানীয়েরা করেছে, কাশ্মীরীরা করেছে। কাশ্মীরী মুসলমানরা করেছে, এটাই একমাত্র সত্য।
অবশ্যই হিন্দু মরেছে, মুসলমানও মরেছে। তালিকাতে সেই হতভাগাদেরও নাম রয়েছে।
গত ১ বছরে আমেরিকাতে ১৪০০ বন্দুকবাজির ঘটনা ঘটেছে। হ্যাঁ বন্দুকবাজি, গুগুল করুন, প্রতিটা তথ্য পেয়ে যাবেন। কেউ খ্রীষ্টান সন্ত্রাসী বলেনি- কারন মিডিয়া সেই ন্যারেটিভ সেট করেনি। ওরাও বন্দুক নিয়েই মানুষ খুন করেছে পৃথিবীর তথাকথিত সবচেয়ে উন্নত ও সভ্য দেশে- ওরা উগ্রপন্থী নয়। ওদের জন্য খ্রীষ্টান ধর্মের বাকি অনুসারীরাও দোষী সাব্যস্ত হয়নি। যেহেতু ওটা সন্ত্রাস হিসাবে লেখাজোকা হয়নি- তাই বন্দুকবাজ হয়েই রয়ে গেছে ঘটনাগুলো।
অমুক স্থানে হিন্দু সন্ত্রাসীদের হাত তমুক খুন হয়েছিল, ইহুদীদের হাতে মুসলমান হত্যাযজ্ঞ চলছে, খ্রীষ্টানদের হাতে কেউ খুন হচ্ছে- এমন নানান পালটা কুযুক্তি খাড়া করে বৈসরণের বিষয়টির নৃশংসতাকে লঘু করার চেষ্টা করছে তাদের মুখে পেচ্ছাপ করে দিই।
যারা নিরীহ পর্যটকদের উপরে ইসলামের নামে এমন হত্যাযজ্ঞ চালায়- আমি "সেই ইসলামের" অনুসারী নই। আমার কোরান, হাদিস আমাকে শেখায়নি নিরপরাধ মানুষকে খুন করতে, যারা করেছে তাদের ধর্ম "খুনে ধর্ম"। নিজেদের স্বার্থের জন্য সাধারণ নাগরিক হত্যা করেছে।
এই 'হিন্দু' হত্যার লাভ কী কাশ্মীরী মুসলমানেদের নাকি অবশিষ্ট ভারতের ১ জন মুসলমানও এই নারকীয় হত্যাকান্ড থেকে কোনো ফায়দা পাবে? ফায়দা একটা দল ও দের বংশবদ মিডিয়া চ্যানেল গুলোই পায়। সেই জঙ্গি মুসলমানদের পাপের দায়ে যদি আমাকে বা আমার মত বাকি ভারতের মুসলমানদের যারা একপেশে ধর্মীয় পরিচয়গত কারনে bullying হচ্ছি, তাদের মুখেও থুতু দিই।
রাষ্ট্র যদি ধর্মীয়ভাবে এই নারকীয় কান্ড থেকে রাজনৈতিক ফায়দা না তুলতে চায়, পালটা হামলা করুক অপরাধীদের ঘরে ঢুকে। ভয়ানক বদলা নিক, মিডিয়াতে এই ২ লাইনের ন্যারেটিভ ঈশ্যু ক্ষণস্থায়ী। কাল IPL এ হায়দ্রাবাদ ৩০০ করলে সিংহভাগ পাব্লিক সেই নিয়ে মেতে উঠবে। এটাই পাব্লিক চরিত্র এই রিলস প্রজন্মে।
আজকের বৈসরণ একটা তাৎক্ষণিক ঈশ্যু হয়ে যেন না থাকে, পালটা প্রতিশোধ এমনভাবে নেওয়া হোক দাগী চিহ্নিত করে, দৃষ্টান্তমূলক হয়ে থাকে আগামীর জন্য।

শুক্রবার, ২১ মার্চ, ২০২৫

দৈনন্দিন যৌনতা



শখের পুরুষকে বিয়ে করেছেন? তার পরেও অকারন মনোমালিন্য; আর সেই থেকে নিত্য অশান্তি?

দাম্পত্য কলহ যে সকল সময় হাতাহাতি পর্যায়েই পৌছাতে হবে তেমন কোনো মানে নেই, মানসিক দুরত্ব সবচেয়ে বড় সমস্যার কারন। দীর্ঘদিনের এই দুরত্ব ক্রমশ ফাটলে পরিনত হয়, পরকিয়ার জীবানু বাসা বাঁধে।

ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর সেক্সুয়াল মেডিসিন’ নামের একটা আন্তর্জাতিক সংস্থা ২০২০ সালে একটা জরিপ করে ২০-৪৫ বছর বয়সী বেশ কয়েক হাজার স্যাম্পল দম্পতির উপরে। তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই সংস্থার মতে, সেই সকল সম্পর্ক সুখী, যারা নিজেরা স্বেচ্ছায় যৌনতাকে উপভোগ করে, বাৎসরিক হিসাবে- সপ্তাহে নুন্যতম ১২ বার যৌন মিলন করে

পুরুষের চোখে নারী শরীরের সবটাই শিল্পকর্ম, তার কামনা কখনও শেষ হয়না। চোখের ভাষা, ঠোঁটের ইশারা, মুখশ্রীর মায়া, আলগা চুলের হালকা আলগোছামো, আঙুলের সরল সৌন্দর্য, ত্বকের কোমল উজ্জ্বলতা কিংবা পায়ের সূক্ষ্ম গড়ন- সব কিছুই মুগ্ধ বিস্ময়ে ছুঁয়ে যায় পুরুষের সচেতন অবচেতন অনুভব। পুরুষের ইন্দ্রিয়ের পর্দায়, কল্পনার ক্যানভাসে চিরস্থায়ী রঙিন মুর্তি কোন এক প্রেয়সীরই হয়। অপরদিকে শখের পুরুষের তারিফ করার মাঝেই নারী তার সৌন্দর্যের সার্থকতা খুঁজে পায়, নিজের পুরুষের শক্ত বাহুডোরেই তার যাবতীয় আত্মিক তৃপ্তি।

সুতরাং, পূর্ণ যৌবনে কোনো দাম্পত্ব্যে যদি স্বাভাবিক যৌনমিলন না হয়, তা নারী পুরুষের স্বাভাবিক চরিত্রের পরিপন্থী, অসুস্থতার লক্ষণ- যেটা শারিরীক হতে পারে বা মানসিক।

একজন দম্পতির কতবার যৌন মিলন করা উচিত তা নির্ভর করে সেই দম্পতি এই বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার উপর। যেসব স্বামী স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া ও মনোমালিন্য বেশি হয়, তাদের ‘ডেটা’ পর্যালোচনা করলে দেখা গেছে, তারা নিয়মিত যৌন সহবাস করেনা।

সহবাস করলে দেহ থেকে অক্সিটোসিন এবং নানা হরমোন নির্গত হয়ে দেহ এবং মনে প্রশান্তি-স্বাচ্ছন্দ্য আনে। বিশেষ করে সুস্থ যৌনসম্পর্ক মহিলাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ জরুরী। স্বামী স্ত্রী সহবাস না করলে এক অদ্ভুত ধরনের বৈরিতা শুরু হয় এবং যা বাড়তেই থাকে, ফলে ছোটখাটো বিষয়, মানে নন-ঈশ্যুকে ইশ্যু বানিয়ে নিয়ে আপসে ঝগড়া শুরু করে দেয়।

উপরোল্লেখিত সংস্থার জরিপ মতে, যে সকল স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক স্বাভাবিক ও হাসিখুশি, তারা সপ্তাহে অন্তত পক্ষে ৩ বার বা তার অধিকবার যৌনমিলন করে বাৎসরিক গড়ের হিসাবে। ডেটা এ্যানালিসিস করে দেখা গেছে যে দম্পতিদের মাঝে যৌনমিলন যদি সপ্তাহে ২ বারের কম হয় (২০-৪৫ বছরের দম্পতিদের মধ্যে), তাহলে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে যে দম্পতিটি তাদের দাম্পত্য নিয়ে অসুখী

যৌনমিলন স্ত্রী-পুরুষকে সবচেয়ে কাছাকাছি নিয়ে আসে, নিজেদের মাঝে রসাত্বক একান্ত আলাপচারিতা সম্পর্ককে স্বাভাবিক করে, সন্দেহ দূর করে, পরকিয়ার সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়, স্বাভাবিকভাবেই আত্মিক বন্ধন গভীর হয়। যে সম্পর্ক যতো গভীর হয়, তাদের সুখী হওয়ার সম্ভাবনাও ততটা বেশী

স্পর্শ, দৃষ্টি বিনিময়, নিঃশ্বাসের উষ্ণতা অনুভবই হলো ভালোবাসার নীরব ভাষা একসময় শরীর কেবলমাত্র আকর্ষণের বাহ হয়ে রয়ে থাকে না, হয়ে ওঠে হৃদয়ের সাথে হৃদয়ের নিঃশব্দ সংলাপের সেতুচরম মুহূর্তে কামনা আর ঐশ্বরিক প্রেম মিশে যায় এক অনির্বচনীয় পূর্ণতায়, যেখানে শরীর আর মন একে অপরকে জড়িয়ে এক পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতায় পরিনতি পায়।

অধিক যৌনতা অনুভব কোনো কুপ্রবৃত্তি নয়, বরং প্রকৃতির স্বাভাবিক আহ্বান, আগামীকে টিকিয়ে রাখার একমাত্র পদ্ধতি। পুরুষের সহজাত আকর্ষণ চোখ দিয়ে হৃদয়ে প্রবেশ করে, একজন স্ত্রী তার পছন্দের পুরুষের স্পর্শে আদরে তার মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পায়। সুস্থ স্বাভাবিক সাংসারিক জীবনে যৌনতা হল পেন্ডুলামের ছন্দ, যাতে মিশে থাকে মায়াবী কোমলতা, যা হৃদয়ের মাঝে ভালবাসাকে উষ্ণ রাখার কৌশলও বটে

ডিভোর্স হওয়া ৩০০০ স্যাম্পল দম্পতির মধ্যে দেখা গেছে ৮৩% ক্ষেত্রে সেই দম্পতিদের মধ্যে শেষ ৪ বছরের সম্পর্কে, সাপ্তাহিক ২ বারেরও কম তারা যৌনসম্পর্কে মিলিত হয়েছিল। দৈনিক শত সহস্র সংসার ভেঙে যা অহেতুক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অ-কারনে, যার সত্যিই তেমন কোনো ভিত্তি নেই। সঠিক বোঝাপড়া না হওয়ার কারণে, বন্ধন দানা বাঁধতে বাঁধতে রয়ে যায়, এই সময় দম্পতির মাঝে নিয়মিত দৈহিক সম্পর্ক অনেক ফুটোফাটা মেরামত করে দেয় রাগে অনুরাগে।

তাই নিজের সঙ্গী।/সঙ্গীনীর সাথে মনোমালিন্য থাকলে যত দ্রুত সম্ভব সমাধান করার চেষ্টা করুন উভয়ের ইচ্ছাকে সম্মান করে, অবশ্যই অনিয়মিত যৌনমিলনকে স্বাভাবিক করার মাধ্যমে, কারন একটা নারী পুরুষের জুটিকে এই সময়ের থেকে কাছে আর কোনো পরিস্থিতিই আনতে পারেনা।

পার্টনারের তরফে কবে শুরু হবে তার প্রতীক্ষায় সময় আর যৌবনকে খুন করবেন, নাকি আপনি নিজেই উদ্যোগী হবেন একটা দুর্দান্ত ‘শরীরী’ শুরুর জন্য, যা খাদের কিনারা থেকে দাম্পত্যকে বাঁচিয়ে একটা নতুন শুরু দেবে। 

বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০২৫

মূর্খের হাতে দেশ



আগামী ভয়ঙ্কর

মূর্খের হাতে দেশ থাকলে যা হবার সেটাই হচ্ছে, আর ধর্মীয় আরক খাওয়া পাবলিক এই আগামীই ডিজার্ভ করে।
মাস্ক তার বাড়ির বাড়ির ড্রয়িংরুমে বালবাচ্চা সহ বসে আদানীর রাখালরাজাকে দিয়ে ভিখারির মত বসিয়ে রেখে স্টারলিংক আমাদের দেশে অনুমতি নিয়ে নিল, হতে পারে কান মুলেও দিয়েছিল, ট্রাম্প-মাস্কের অসাধ্য কিছু নেই।
ইনি প্রধানমন্ত্রী? এনার নূন্যতম ইজ্জতবোধ আছে? অবশ্য বিজেপি RSS আর লজ্জা বিপরীতার্থক শব্দ।
এই কারনেই গত ২ সপ্তাহ ধরে শিবাজীর মাতাল লম্পট মাগীবাজ কুপুত্র বর্গীটাকে সামনে রেখে ৬০০ বছর আগে মরে মাটি হয়ে যাওয়া অউরেঙজেবকে নিয়ে ২ পয়সার মিডিয়া এতো নেত্ত করে বাজার মাত করে রেখেছিল। আঁটিসেল সত্যিই সফল।
ব্রিটিশ প্রভুদের পা চাঁটা দালালেরা আবার বাপ খুঁজে পেয়েছে, মাস্কের অবয়বে। সুতরাং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব আবার পশ্চিমাদের হাতে না তুলে দেওয়া অবধি কিন্তু নাগপুর থামবেনা।
আপনি বরং তদ্দিন ইন্ডিয়া ক্রিকেটে জিতলে মসজিদে আগুন লাগাবার খুশিতে হাত্তালি মেরে উঠুন, কিম্বা সামি কেন রোজা ভেঙেছে এই নিয়ে ফতোয়া দিন।
গান্ডুচোদা আবাল বকধার্মিকের দলেরা সব। যেমন হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির জারজ গুলো, তার পরিপূরক এই চুতিয়া মোল্লাতন্ত্র, গুয়ের এপিঠ।

https://www.youtube.com/watch?v=y7w-52C4p7k

বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

নেপালি অনুপ্রবেশকারী



বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী অবশ্যই সমস্যা। নেপালীরা যে বরযাত্রী হয়ে সে খেয়েদেয়ে হাত ধুয়ে চলে যাচ্ছে - তার তথ্য কে দেবে?

অবৈধ নেপালিদের তথ্য কি আদৌ আছে সরকারের কাছে?
নাকি তারা বিজেপির ভোট ব্যাংক বলে সুরক্ষিত?
আমাদের রাজ্যে উত্তরবঙ্গে অবৈধ অভিবাসী নেপালি আর ভুটিয়াদের সংখ্যা কি সরকার জানে? প্রায় ৩ কোটি ছুঁইছুঁই দেশের নাগরিকদের ৮০ শতাংশ ভারত রোজগার করে। সরকার ইন্টেলিজেন্ট পুলিশ প্রশাসন কেউ কিছু জানে না!!!
এদের বিরুদ্ধে সংসদে কোন দল কখনো মুখ খুলেছে? কোন প্রশ্ন তুলেছে? একটা তিন কোটি জনসংখ্যার দেশের নাগরিক খাচ্ছে, হাগছে, রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করছে, সরকারি চাকরি করছে, শিক্ষা স্বাস্থ্য সবকিছু নিচ্ছে, কর দেয় না।
কাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই জামাই আদর?

শনিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৫

অভিমান না অভিযোগ



আসলে আমরা বেশীরভাগ সময় ' অভিযোগ' কে ' অভিমান' ভেবে ভুল করি। এটাকেই সম্পর্কের ভিত মনে করি, অথচ সম্পর্কের ভিত ভালবাসা আর বিশ্বাস।

নিজেকে বুঝ দিতে নানা ধরনের মিথ্যে নিজেরাই তৈরি করে নিজেদের ভুলগুলোকে জাস্টিফাই করি। আত্মসম্মানের নামে অহঙ্কার পুষি, দৃঢ় চরিত্রের নাম দম্ভ আর ঔদ্ধত্য। নরম মনকে লুকিয়ে ফেলি - ইন্ট্রোভার্ট নামের পাথরের নিচে। আবেগের নামে পরে থাকে তর্ক।
কখনও ভেবে দেখেছেন, অভিযোগ গুলো আদৌ অভিযোগ ছিলো তো? যাকে অভিযোগ নামের পোষাক পরাচ্ছেন, সে কোনো ছদ্মবেশী ক্যান্সার নয় তো? ইচ্ছাকৃত কিন্তু অজ্ঞানে এই মারাত্বক ভুল করছেন না তো? যে প্রিয় মানুষ হবে তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ করা যায়? যার বিরুদ্ধে পৃথিবীর অভিযোগ, সে আদৌ প্রিয়? ভাবুন ভাবুন, ভাবা প্রাক্টিস করুন।
নতুবা একদিন হঠাৎ আবিষ্কার করবেন, শুধু একটা নিরুত্তর মুখ রয়েছে আপনার সাথে, সেটা আপনার নিজের। সেখানে না আছে আনন্দ, না আছে দুঃখ, না কোনো মানবীয় আবেগের ঢেউ খেলা করছে। অভিমানের ক্যান্সার আপনাকেও খেয়েছে, আপনার প্রিয় মানুষটাকেও খেয়ে নিয়েছে। আজ আর কোনো আপনার ভাষায় ' অভিযোগ ' কিম্বা অভিমান অবশিষ্ট নেই।

বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৪

মব-জাস্টিস ও মব-জাজমেন্ট


 

“মব-জাস্টিস ও মব-জাজমেন্ট— দুটিকেই আমি প্রচণ্ড ভয় পাই। 


মবের হাতে, অর্থাৎ গণমানুষের হাতে সবকিছু বিচারের ভার তুলে দেয়াটা বিপজ্জনক। কারণ গণমানুষের হার্ড-ইনস্টিঙ্কট রয়েছে। ঝোঁকের বশে পাল বেঁধে সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রবণতা তাদের আছে। যারা বিহ্যাভিয়োরাল ইকোনোমিক্স বা মব-সাইকোলোজি পড়েছেন, তারা ‘ইনফরমেশন ক্যাসকেড’ নামে একটি বিষয়ের সাথে পরিচিত থাকবেন। ইনফরমেশন ক্যাসকেডে কী ঘটে? ধরা যাক কোনো এলাকায় আপনি বেড়াতে গিয়েছেন। সেখানে আপনার ক্ষুধা পেয়েছে, এবং খাবার খাওয়ার জন্য রেস্তোরাঁর সন্ধান করছেন। হঠাৎ দুটি রেস্তোরাঁর দেখা পেলেন। একটির নাম ‘A’, আরেকটির নাম ‘B’। দুটি রেস্তোরাঁই খালি। সেগুলোতে কোনো কাস্টমার নেই। আপনি বুঝতে পারছেন না কোন রেস্তোরাঁটির খাবারের মান ভালো। 


এ অবস্থায় র্যান্ডোমলি, অর্থাৎ দৈব চৈয়নের ভিত্তিতে রেস্তোরাঁ ‘A’-তে ঢুকে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর আরও একটি লোক সেখানে খাবারের সন্ধানে এলো। সে দেখলো যে— রেস্তোরাঁ ‘B’ খালি পড়ে আছে, কিন্তু রেস্তোরাঁ ‘A’-তে একজন লোক বসে খাবার খাচ্ছে। সে ভাববে, রেস্তোরাঁ ‘B’-এর চেয়ে ‘A’-এর খাবারের মান নিশ্চয়ই ভালো। এ জন্য ‘A’-তে কাস্টমার আছে, ‘B’-তে নেই। লোকটি করবে কী, আপনার দেখাদেখি ‘A’-তে ঢুকে পড়বে। এভাবে আরও যারা আসবে, তাদেরও একটি বড় অংশ ‘A’-কে বেছে নেবে। এই যে একজনের দেখাদেখি আরেকজনের সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রবণতা, এটি গণমানুষের মধ্যে খুব দেখা যায়। কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই অন্যের সিদ্ধান্তকে অনুকরণ করে থাকে। নিজের বুদ্ধি-বিবেককে তারা সহজে খাটাতে চায় না। আগামীকাল যদি টেলিভিশনে কোনো জনপ্রিয় ব্যক্তি বলে ফেলেন— অমুক লেখক চোর, তার সব লেখা নকল, তাহলে গণমানুষদের একটি অংশ চোখ বুজে এ মিছিলে যোগ দিয়ে দেবে। তারা জানতে চাইবে না— ‘জনপ্রিয় স্যার, অমুক লেখকের কোন কোন লেখার কোন কোন বাক্য নকল? তিনি কোন মনীষীর কোন বইয়ের কোন পৃষ্ঠা থেকে নকল করেছেন? নকল কাকে বলে? আমাদেরকে দেখান, আমরা নিজে পড়ে, নিজে তুলনা করে সিদ্ধান্ত নিতে চাই।’ ফেসবুকে আমরা যে-ভাইরাল কন্টেন্টগুলো দেখি, সেগুলোও ইনফরমেশন ক্যাসকেডের ফসল। কেউ একজন কোনো জিনিস নিয়ে মাতামাতি করলো, আর অমনি তার অনুসরণকারীরাও এটি নিয়ে তুলকালাম শুরু করে দিলো। সবাই দলবেঁধে প্রথম জনের মতামতের পুনরাবৃত্তি করতে থাকে।


সেলেব্রিটি মন্টু যদি বলে— রবীন্দ্রনাথ ইসলাম-বিদ্বেষী লেখক, তাহলে তার বুদ্ধিবিমুখ অনুসারী পালও বলতে শুরু করবে— ‘রবীন্দ্রনাথ ইসলাম-বিদ্বেষী লেখক; তাঁকে জুতো মারতে হবে।’ কিন্তু রবীন্দ্রনাথের কোন কোন লেখার কোন কোন বাক্য ইসলাম-বিদ্বেষী, ইসলাম বিদ্বেষ কাকে বলে, কোনো লেখা ইসলাম-বিদ্বেষী কি না এটি কীভাবে নির্ধারিত হয়, একজন লেখকের ইসলাম-বিদ্বেষী বা ইসলাম-বিরোধী হওয়ার অধিকার আছে কি না, নাস্তিক-বিদ্বেষ জায়েজ হলে ইসলাম-বিদ্বেষ কেন জায়েজ নয়, এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন গণমানুষ করবে না। তারা চাইবে কেবল অন্যের টানা উপসংহার নকল করতে। কোনো বিষয়ে অন্যের দেখাদেখি সিদ্ধান্ত নেয়ার এই যে সংস্কৃতি, এটিকে গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বলে মনে করি। অমুকে অমুককে ভোট দিচ্ছে, তাই আমিও অমুককে ভোট দেবো, অমুকে অমুককে ঘৃণা করছে, তাই আমিও অমুককে ঘৃণা করবো, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যে-জাতি নিমজ্জিত থাকে, গণতন্ত্র তাদের জন্য উপযুক্ত নয়। রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক কাঠামো সৃষ্টির জন্য তাদের কোনো বুদ্ধনির্ভর প্রস্তুতি নেই।

হ্যাঁ, মানুষ যখন জঙ্গলে ছিলো, তখন হার্ড-ইনস্টিঙ্কট বেশ উপকারী ছিলো। এটি আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে অনেক বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করতো। সমাজে সবার পক্ষে সব বিষয়ে ইনফর্মড ডিসিশন নেওয়া সম্ভব নয়। কোনো ফল বিষাক্ত কি না, কোনো প্রাণী বিপজ্জনক কি না, এ বিষয়গুলো একজন অনভিজ্ঞ শিশুর পক্ষে জানা কঠিন। বাবা-মা’র দেখাদেখিই তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। একজন বয়স্ক মানুষ বাঘ দেখে দৌড় দিলে, একজন শিশুরও উচিত বাঘ দেখে দৌড় দেয়া। হার্ড-ইনস্টিঙ্কটের এটি একটি বড় ইভোলিউশোনারি কারণ। আমাদের মন বা বুদ্ধি এভাবেই বিবর্তিত হয়েছে। যে-মানুষ বাঘ দেখে পালিয়ে যায় না, তার পক্ষে প্রকৃতিতে টিকে থাকা কঠিন। তবে আদিম মানুষদের হার্ড-ইনস্টিঙ্কট আধুনিক মানুষদের মতো হুজুগে ও ভিত্তিহীন ছিলো না। বাই ইনডাকশন, অর্থাৎ পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তারা বুঝতে পারতো, কোন কোন বিষয়ে অন্যের সিদ্ধান্ত নকল করতে হবে। বিপদের সাথে লড়াই করে করে তারা বুঝতো, এই এই ব্যাপারে বিজ্ঞজনের মতামত অগ্রাহ্য করা বিপজ্জনক। আধুনিক সমাজে এমনটি ঘটছে না, কারণ এ সমাজ জঙ্গলের সমাজ থেকে একেবারেই আলাদা। মানুষের হার্ড-ইনস্টিঙ্কট এখন বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে রাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্ম, ও সোশ্যাল মিডিয়াতে।

প্রতিবাদীদের দিকে তাকান। সেখানে কী হচ্ছে? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানুষ পালবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করছে। অন্ধ ভাল্লুকের মতো আচরণ করছে। প্রতিবাদী মানুষদের আমি সম্মান করি। তাদের কাছে সভ্যতার ঋণ রয়েছে। কিন্তু প্রতিবাদকে পেশা হিশেবে নিলে বিপদ। দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশে পেশাদার প্রতিবাদজীবী রয়েছেন। নানা বিষয়ে বুঝে না বুঝে তারা প্রতিবাদ করেন। যেন প্রতিবাদ করার জন্যই জন্মেছেন। প্রতিবাদের বিষয় নির্বাচনেও তারা অসৎ। কর্মের চেয়ে কর্তা তাদের কাছে অধিক মুখ্য। সবাই প্রতিবাদ করছে, তাই আমাকেও করতে হবে— এমন প্রবণতা সমাজের জন্য আত্মঘাতী। আমি চাই মানুষ নিজ বুদ্ধি খাটিয়ে প্রতিবাদ করুক। অন্যের দেখাদেখি বা অন্যকে অনুসরণ করে যে-প্রতিবাদ হয়, তা সবসময় ভালো ফল বয়ে আনে না। বোধ-বিবেচনা হারিয়ে সারাক্ষণ অন্যের কণ্ঠের চিৎকার নকল করাকে প্রতিবাদ বলে না। বরং এটি ‘হার্ড বিহ্যাভিয়ার’ বা ‘পাল বেঁধে চলার সংস্কৃতি’-কে উৎসাহিত করে। ফ্যাসিবাদের মূল কারণ কিন্তু মানুষের এই ‘হার্ড বিহ্যাভিয়ার’। ভুলে গেলে চলবে না, ফ্যাসিজম ধারণাটির উদ্ভব ঘটেছিলো ‘লাঠির বান্ডিল’ থেকে। অনেকগুলো লাঠি মিলে একটি মুগুর তৈরি হয়। এ মুগুর যখন ভিন্নমতের মানুষদের মাথায় বাড়ি মারতে থাকে, তখন এটিকে ফ্যাসিবাদ বলে। শব্দটি এসেছিলো ইতালীয় ভাষার 'Fascio' থেকে, যার অর্থ বান্ডিল। সমাজে বাস করা প্রতিটি মানুষই লাঠি। এরা যদি কোনো রাজনীতিক বা ধর্মীয় বিশ্বাসের পক্ষে একত্রিত হয়, এবং ভিন্নমতের মানুষদের উপর চড়াও হয়, তখন বুঝতে হবে সমাজে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছে। পশুরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এ জন্য কোনো কাজ করার আগে ভেবে দেখা উচিত— আপনি ফ্যাসিবাদের লাঠি রূপে ব্যবহৃত হচ্ছেন কি না।

ফ্যাসিবাদবিরোধী মানুষও ফ্যাসিবাদী হতে পারেন। ফেসবুকে আমাকে প্রায়ই নানা পরীক্ষানিরীক্ষা করতে হয়। এসব পরীক্ষায় দেখেছি, এ দেশে যারা ফ্যাসিবাদ শব্দটি বেশি উচ্চারণ করেন, বা এর বিরুদ্ধে নিয়মিত শ্লোগান দেন, তারা নিজেরাও ফ্যাসিবাদী। এমন অনেককেই পেয়েছি, যারা ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে প্রতিবাদী ভূমিকা পালন করছেন— কিন্তু নিজেরা ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলন নন। অপছন্দের লেখা লেখেন, এমন লেখকদের শত্রু জ্ঞান করেন। প্রতিপক্ষের প্রতি মনে তীব্র বিদ্বেষ লালন করেন। পছন্দের বিশ্বাস, প্রতিষ্ঠান, হুজুর, নেতা, ও সেলেব্রিটির পক্ষে তারা যে-ভঙ্গিতে পাল বেঁধে কথা বলেন, এবং অপছন্দের লোকজনের বিরুদ্ধে যেভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে কুৎসা রটান, তাতে তারা মানুষ নাকি ভেড়া— এটি বোঝা কঠিন। ইংরেজিতে ‘Sheeple’ নামে একটি শব্দ আছে, যেটি তৈরি হয়েছে ‘Sheep’ ও ‘People’—কে একত্রিত করে। পিপল বা জনগণ তখনই শিপল হয়ে ওঠে, যখন তার ভেতর শিপ বা ভেড়ার গুণাবলী সংক্রমিত হয়। ভেড়া পাল বেঁধে চলতে পছন্দ করে। কারণ তার বুদ্ধি কম। গায়ের জোরও বেশি নয়। একা থাকলে সে নিরাপদ বোধ করে না। কিন্তু মানুষ বুদ্ধিমান। তার গায়ে জোর আছে, ব্যাংকে টাকা আছে। ফলে মানুষ যদি ভেড়ার মতো ইনস্টিংকটিভ আচরণ করে, তাহলে সমাজে রাজনীতিক ও অর্থনীতিক ঝুঁকি তৈরি হয়। দেখা যাবে, নেকড়েরাই ভেড়া সেজে শিকার নিয়ে ঢুকে পড়েছে অরণ্যে।”


—মহিউদ্দিন মোহাম্মদ

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...