শুক্রবার, ৯ মে, ২০২৫

সার্টিফায়েড ‘উদগান্ডু



ইয়ে, মিডিয়া আপনাকে চুতি'য়া বানায়নি। আপনি চুতি'য়াই ছিলেন, গতকাল একজন ভেরিফায়েড চু'তিয়া হিসাবে প্রমানিত হলেন মাত্র।

৯ই মে সকাল ৮টার সময় করা ভারতীয় আর্মির টুইট অনুযায়ী সত্যটা হচ্ছে- ইন্ডিয়া পাকিস্তান আক্রমণ করেনি, তেমন কোনো পরিকল্পনাও নেই। বেছে বেছে সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটি উড়িয়েছে, উড়াচ্ছে ও আগামীতে এটা চালু থাকবে নির্মূল না হওয়া অবধি।
গোদী মিডিয়া নাম এমনি এমনি হয়নি, একদিনেও হয়নি। যাকে ভক্তেরা ১০১% বিশ্বাস করে। আপনি হয়তবা বাম সমর্থক, তেনার মাঝে লেনিন দেখা অরাজনৈতিক, রাজনীতি বোঝেননা কিন্তু মোদীকে ভালো লাগে তাই বিজেপিকে ভোট দেওয়া সেকুলার, অথবা নির্বিবাদী মানুষ কিম্বা শিক্ষক। তবে, কোথাও একটা বিশ্বাস তো ছিলো এই মিডিয়ার উপরে- যারা সরকারকে প্রশ্ন না করে গত ১২ বছর ধরে হিন্দু-মুসলমান, us vs them এর মাধ্যমে, বিজেপির যাতে রাজনৈতিক লাভ হয় সেই প্রোপাগান্ডা চালায়।
গতকাল ভারতীয় মূলধারার সব মিডিয়া ভুয়ো খবর দেখিয়েছে, এটা আজ প্রমানিত। কিন্তু এর উৎস কোথায়? স্বাভাবিক ভাবেই খোঁজেননি। নুন্যতম ফ্যাক্ট চেকের দিকেও নজর রাখেননি এমনই জোশ উঠে গিয়েছিল। একটু কষ্ট করে খুঁজে দেখলেই পেয়ে যাবেন। india.com, PMO India, Ajit Doval, Indian Military Fan Page, Sanatani Hindu- এই জাতীয় নামের, মাত্র খান দশেক পেজ থেকে ফেসবুক, এক্সহ্যান্ডল ও ইউটিউবে মূল পোষ্টার বা ফেক ভিডিও গুলো ছাড়া হয়ে ছিল।
সকলেই জানে এগুলো বিজেপির IT সেলের কাজ, যারা গ্রেটার দিল্লির নয়ডার একটা অফিস থেকে করেছে, অন্তত গত রাত্রের IP Address Traking এর হিসাব অনুযায়ী। এটা সরকার জানেনা? অবশ্যই জানে, সরকার মানে তো এই বিজেপি নেতাদেরই নিয়ন্ত্রনে রাষ্ট্র ব্যবস্থা, যাদের নিয়ন্ত্রণে আঁটি সেল নিশ্চিন্তে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালায়। অনেকটা সেম সাইড হয়ে যাচ্ছে দেখে ‘ডিফেন্স মিনিস্ট্রি’কে দিয়ে একটা লিখিত ঘোষণা করে দায় সেরেছে সরকার, আজ সকালে। যারা মিথ্যাচারের অপরাধ করলো তাদের একজনের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। বুঝেই গেলেন ১৮২ দেশের মাঝে কেন গোদী মিডিয়া ১৫১ তম স্থানে। গোয়েবলস অবধি লজ্জা পেতো এদের পেশাদারিত্ব দেখতে পেলে।
IPL ম্যাচ পরিত্যক্ত হতেই "নেট পাব্লিক" খোরাক চাইলো। মিডিয়া সাথে সাথে বলিউডি স্টাইলে পাকিস্তান এনে দিলো। কিছু জন উন্মাদনায় ফেটে পড়ল যুদ্ধ লেগেছে বলে, কেউ কেউ উচ্চমার্গীয় ছেনালি শুরু করল যুদ্ধ বন্ধের আর্জি জানিয়ে।
দেখুন, ক্যান্সার সারাতে গেলে কেমো থেরাপির ইঞ্জেকশন, সেলাইন সইতে হবে। এই চিকিৎসাতে শরীর মুটিয়ে যাবেই, শরীরের সব লোম ঝরে যাবে, দেহে কালো কালো স্পট আসবে, সাথে অসহ্য যন্ত্রনা। তবেই ক্যান্সারের যন্ত্রনামুক্তি সম্ভব। পাকিস্তান রাষ্ট্র হলো সেই ক্যান্সার, এই রোগ সারাতে আমাদের কিছু ক্ষয়ক্ষতি সইতেই হবে, এটাই প্রাক্টিক্যাল ঘটনা। কিন্তু সেটা over the Night হয়না, সব কিছুর একটা প্রসেস আছে। যেমন বাংলাদেশের ভারত বিরোধী সমাজ, সেটাও রোগ, তবে গুপ্তরোগ, বড় জোর দাদ, হাজা বা অর্শ কিম্বা ঐ জাতীয়ই। মৃত্যুভয় নেই, কিন্তু সর্বক্ষণ ক্রনিক চুলকানি হতেই থাকবে।
আবেগ যখন বুদ্ধিকে গ্রাস করে তখন হিসাব-নিকেশ-অঙ্ক ইজেরে চলে যায়। মাত্র ৩৬৫ বর্গ কিলোমিটারের গাজাকে- ইজরায়েল, ন্যাটো এবং গোটা মার্কিন সেনা বহর তাদের যুদ্ধ সরঞ্জাম ও অস্ত্র দিয়ে সম্পূর্ণ নিকেশ করতে পারেনি ৭০ বছরে। সেখানে ৮৮১৯১৩ বর্গ কিলোমিটারের ‘ক্যান্সার’ পাকিস্তানকে ২৪ ঘন্টায় সাফাই করে ‘গাজা বানিয়ে’ দেবে এটা বিশ্বাস করা আপনার মত গান্ডুকেই মানায়। সময় লাগবে, ধীরে ধীরে মারবে, আর সেই অঙ্ক জানে যারা দেশ সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর কোনো দায় নেই আপনাকে অর্গাজম দেওয়ার জন্য T-20 মোডে বেহিসাবে কাজ করবে। রাজনৈতিক ফাঁসের চাপে সেনারা অনেক সময় চেয়ে পালটা দিতে পারেনা এটাকে মাথায় রেখেই লিখছি।
কিছু বাংলাদেশী ফেসবুক পেজ অকারনে ইন্ডিয়াকে গালাগালি করে, আমরাও আবেগ নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে হুলিয়ে কমেন্ট শেয়ার করি। এতে পেজের ভিউজ বাড়ে, মানিটাইজেশন করা থাকলে পেজ মালিকের রোজগার হয়। পাতি বাংলাতে খিস্তি খেয়ে যদি ডলার আসে, খিস্তিই সই। ওটাই রুটি রুজি। আমার পরিচিত এক ‘ডিজিটাল ক্রিয়েটর’ যুবতী- গত রাত্রে ২ ঘন্টায় ৩টে পোষ্ট করে বসে ছিল উত্তেজনায় “আজ সারারাত উদ্বিগ্নতার... জয় আমাদের হবেই”। যারা নিজের বাড়ির পুরো ম্যাপটাও সঠিকভাবে জানেনা তারাই মূলত গোদী মিডিয়া ভাইরাসে বেশী আক্রান্ত হয়েছে।
মিডিয়া হাউজ গুলোর কোনোটাই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত নয়, বড় বড় পুঁজির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মালিকানাধীন যাদের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। পুঁজি রাষ্ট্র বোঝেনা, নেতা মানেনা, তার জাত ধর্ম কিচ্ছু নেই। সে কেবল মুনাফা বোঝে। পাকিস্তান নিয়ে জনমানসে রাগ আছে, হতাশা আছে, সর্বোপরি বদলা নেওয়া চাহিদা আছে। মিডিয়া সেটাকেই নিজেদের আনুকূল্যে এনে ক্রিকেট/ফু্টবল ধারাভাষ্যের মত সমানে নব নব শিহরণ দিয়ে গেছে প্রতি মুহুর্তে। হামলে পরে মানুষ দেখেছে, অংশগ্রহন করেছে, এতে চ্যানেলের ভিউ বেড়েছে, বিজ্ঞাপনের আয় বেড়েছে।
অতএব আপনি ফুটফুটে ‘ওলে বাবালে’ লেভেলের চুতিয়া ছিলেনই, গতরাত্রে শুধু স্নাতক পর্যায়ের সার্টিফায়েড ‘উদগান্ডু চুতি'য়া’ হলেন মাত্র।

বুধবার, ৭ মে, ২০২৫

কাশ্মীরিদের ভারতীয় ভাবেন?



পুঞ্চ, রাজৌরি সহ POK বরাবর কাশ্মীরে অন্তত ১০ জন নিহত আর অগুন্তি গুরুতর আহত হয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য পাক সীমান্তবর্তী জেলার এলাকাতেও বেশ কিছু সাধারন নিরপরাধ মানুষ না-পাক আর্মির দ্বারা খুন হয়েছে।

"অপারেশন সিঁদুর" এর আবেগে বিগলিত যমুনা হতে কারো মানা নেই, কিন্তু যারা কাশ্মীরে মারা গেলেন তারা ভারতীয় নাকি শুধুই কাশ্মিরী?
না মানে, টিভি মিডিয়া সহ সোস্যালমিডিয়াতে এ বিষয়ে ১%ও কোনো লেখাজোখা তথা তাপউত্তাপ শোকসন্তাপ নেই। ভাবটা যেন, আরে ওরা কাশ্মীরি তো- তার উপরে মুসলমান। পাঞ্জাব, হরিয়ানা বা গুজরাত রাজস্থানে তো আর কেউ মরেনি। শিখ বা হিন্দু হলেও একটা ফুটেজ হতো, এটা বাতিল সাবজেক্ট। কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই নয়।
এর পরে আমরা কাশ্মীর ভ্রমণ থেকে ফিরে এসে রসিয়ে রসিয়ে সোস্যালমিডিয়াতে লিখব, ইউটিউবে ভিডিও বানাবো-" জানেন মোহাই, কাশ্মীরিগুলো সব্বাই হাইলি সাসপিসাস জঙ্গি। নিজেদের ভারতীয় ভাবতেই চায়না"। হুলিয়ে লাইক শেয়ার আর বিশেষজ্ঞের কমেন্ট হবে।
কাশ্মীর অবিচ্ছেদ্য অংশ, কিন্তু আপনি কাশ্মীরিদের অন্তর থেকে ভারতীয় ভাবেন?
২৬+১০= মোট ৩৬ জন খুন হলো পেহেলগাঁও কান্ডে। এটাই সত্য। আপনি উল্লাসে মেতে থাকুন পাকিস্থানের ৭ জন মরেছে বলে, তাদের ৭০০ মারতে হবে, তবে উল্লাস আসবে অন্তর থেকে।
কে দ্যায় আপনাদের?

মঙ্গলবার, ৬ মে, ২০২৫

মক ড্রিল ও ছুটির অ্যাপ্লিকেশন

 


ছুটির অ্যাপ্লিকেশন, যদি কারো কাজে আসে ২৩ জেলার কোনো নাগরিকের


অফিস থেকে ছুটি নেওয়ার জন্য দরখাস্ত এর নমুনা জনস্বার্থে পোস্ট করলাম।

বিষয়: ৭ই মে তারিখে ছুটির জন্য আবেদন (মক ড্রিল উপলক্ষে)

মননীয় মহাশয় [ম্যানেজারের নাম],

আশা করি আপনি সুস্থ ও ভালো আছেন।

সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ৭ই মে তারিখে দেশজুড়ে একটি যুদ্ধকালীন মক ড্রিল আয়োজন করা হচ্ছে। এই ড্রিল চলাকালীন ঘরে অবস্থান করার এবং নিরাপত্তামূলক নির্দেশিকা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এই প্রেক্ষিতে, আমি ৭ই মে তারিখে এক দিনের ছুটির আবেদন জানাচ্ছি যাতে আমি নিরাপদে থাকতে পারি এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করতে পারি। বিশেষ করে আমার কর্মস্থল এলাকার ভিড় ও কর্মচাঞ্চল্য মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছি।

আমার অনুরোধটি বিবেচনা করে ওই দিনের জন্য আমাকে ছুটি মঞ্জুর করলে কৃতজ্ঞ থাকব। আমি আমার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে সামলানোর ব্যবস্থা করব।

আপনার সহানুভূতির জন্য ধন্যবাদ।

শুভেচ্ছান্তে,
[আপনার নাম]
[আপনার পদবী]
[যোগাযোগের তথ্য (যদি প্রয়োজন হয়)]

সোমবার, ৫ মে, ২০২৫

পেহেলগামঃ ১২ দিন



পেহেলগাঁও কাণ্ডের পর ১২ দিন অতিক্রান্ত।
বিজেপি নেতাদের ফাঁপা ডায়লোগবাজি ছাড়া নিট ফল শূণ্য বদলা নেওয়ার বিষয়ে। অবশ্য ১২টা পাকিস্তানি ইউটিউব চ্যানেল সহ দেশীয় ২টো ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ করে মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক।
অবশ্য পাকিস্তানিরা যে হারে নিজেদের নিয়ে খিল্লি মিম ছাড়ছে সোস্যাল মিডিয়াতে, পারলে ওরাই নিজেদের দেশে যুদ্ধ বাঁধিয়ে না দেয়- ইন্ডিয়ার অধীনে আসার জন্য। এটা ফ্যাক্ট, ওদের দেশের অধিকাংশ সাধারণ মানুষ পাকিস্তানি সরকারের থেকে মুক্তি চেয়ে ইন্ডিয়ার সাথে জুড়ে যেতে চাইছে। এই পাকিস্তানি মিম যুদ্ধ আমাদের গোদি মিডিয়াকে পথে বসিয়ে দিয়েছে- যারা প্রতি ৪৮ ঘন্টায় " বড়া কুছ হোনে যা রাহা হ্যায়" বলে দৈনিক একই কমেডি সার্কাস করে যাচ্ছিলো, তারা এখন পাকিস্তানি মিমারদের সাথে লড়ে যাচ্ছে, কারা বেশী হাস্যকর!
প্রাপ্তি শুধু আদানির, কেরলের সমুদ্রবন্দর, আর জাতিগণনার ঘোষনাতে রাহুল গান্ধীর আত্মতৃপ্তি। ভারতীয় মিডিয়াকুলের সার্কাস নিজেরাই সহ্য করতে পারছেনা, আজতক আজ পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির কথা বলছে, কারন TRP যে আর উঠছেনা মোদীস্তুতিতে।। শহীদদের ঘা এখনও দগদগে, মোদীর মন্ত্রীসভার পীযুষ গয়ালের দাবী ১৪০ কোটি জনগনের মাঝে রাষ্ট্রবাদীতার অভাব। অর্থাৎ জঙ্গীবাদের মাস্টারমাইন্ড খুঁজে পেয়েছে- ১৪০ কোটি জনগন।
প্রশ্ন অন্যত্র। সর্বদল বৈঠকে মোদী উপস্থিত ছিলোনা, বিহারের নির্বাচনী বৈঠকে উপস্থিত ছিল। মোদীকে কী তবে তারই মন্ত্রীসভা দুধে-ভাতে আব্বুলিস করে রেখে দিয়েছে কাগুজে বাঘ সাজিয়ে? সমস্ত মিটিং করছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা অন্য কেউ। মার্কিন উপরাষ্ট্রপতির সাথেও কোন সাক্ষাৎ ছিলোনা। মোদী তারমানে BJP দলে বোঝা বা অচল পয়সা আজকের দিনে?
কিন্তু মোদী নামের ওজন তো বিপুল, সেটাকে কীভাবে সামলাবে RSS-BJP নেতৃত্ব? প্রায় ২ দশক ধরে মোদী নামের ব্যক্তিটাকে Super Human পর্যায়ের যুগপুরুষ অবতারে নিয়ে গিয়েছে প্রচারমাধ্যমের দৌলতে। তাকে রাতারাতি ঝেড়ে ফেলা সম্ভব ওদের পক্ষে, যেখানে সরকার তাদেরই। জোড়াতালি দিয়ে হলেও অন্তত আগামী ৪ বছর তো বটেই।
যদি খুব ভুল অনুমান না হয়, আগামী আধা-এক বছরের মধ্যে মোদীর বাণপ্রস্থে যাওয়া একপ্রকার নিশ্চিত। তারপর তিনি অন্তর্ধানে চলে যেতে পারেন, আদবানীর কলিগ হয়ে মার্গদর্শক মণ্ডলীর 'কারিয়াকর্তা' হতে পারেন কিম্বা দৌপদী মূর্মূর স্থলাভিষিক্ত। যাখুশি হোক- নরেন্দ্র 'নন বায়োলজিক্যাল' মোদীর অবসরে যাওয়া একপ্রকারের নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছে ঘটনাক্রম মানে ক্রনোলজি অনুযায়ী। তবেই তাকে দেবত্বে উন্নিত করা যাবে।
বিজেপির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী মুখ কে? অমিত শাহ? গদকরি? নাড্ডা? চৌহান? নাগপুরী ফড়নবিস? নাকি গেরুয়া রাজনীতির পোষ্টার বয় যোগী?
আপনার কী মনে হয়?

পুঞ্চ, রাজৌরি সহ POK বরাবর কাশ্মীরে অন্তত ১০ জন নিহত আর অগুন্তি গুরুতর আহত হয়েছে। এর বাইরে অন্যান্য

পাক সীমান্তবর্তী জেলার এলাকাতেও বেশ কিছু সাধারন নিরপরাধ মানুষ না-পাক আর্মির দ্বারা খুন হয়েছে।

"অপারেশন সিঁদুর" এর আবেগে বিগলিত যমুনা হতে কারো মানা নেই, কিন্তু যারা কাশ্মীরে মারা গেলেন তারা ভারতীয় নাকি শুধুই কাশ্মিরী?
না মানে, টিভি মিডিয়া সহ সোস্যালমিডিয়াতে এ বিষয়ে ১%ও কোনো লেখাজোখা তথা তাপউত্তাপ শোকসন্তাপ নেই। ভাবটা যেন, আরে ওরা কাশ্মীরি তো- তার উপরে মুসলমান। পাঞ্জাব, হরিয়ানা বা গুজরাত রাজস্থানে তো আর কেউ মরেনি। শিখ বা হিন্দু হলেও একটা ফুটেজ হতো, এটা বাতিল সাবজেক্ট। কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই নয়।
এর পরে আমরা কাশ্মীর ভ্রমণ থেকে ফিরে এসে রসিয়ে রসিয়ে সোস্যালমিডিয়াতে লিখব, ইউটিউবে ভিডিও বানাবো-" জানেন মোহাই, কাশ্মীরিগুলো সব্বাই হাইলি সাসপিসাস জঙ্গি। নিজেদের ভারতীয় ভাবতেই চায়না"। হুলিয়ে লাইক শেয়ার আর বিশেষজ্ঞের কমেন্ট হবে।
কাশ্মীর অবিচ্ছেদ্য অংশ, কিন্তু আপনি কাশ্মীরিদের অন্তর থেকে ভারতীয় ভাবেন?
২৬+১০= মোট ৩৬ জন খুন হলো পেহেলগাঁও কান্ডে। এটাই সত্য। আপনি উল্লাসে মেতে থাকুন পাকিস্থানের ৭ জন মরেছে বলে, তাদের ৭০০ মারতে হবে, তবে উল্লাস আসবে অন্তর থেকে।
কে দ্যায় আপনাদের?

আচ্ছা, Kunal Ghosh বাবু
এমনও তো হতে পারে- সাইরেন বাজলো, সবাই মিলে ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিলাম। আলোও নিভিয়ে দিলাম। বাইরে তুমুল হট্টগোল, এলোমেলো আওয়াজ। এই সুযোগে গোয়ালের গরু, রান্নাঘরের মজুত চাল, ঘটিবাটি, উঠোনের ত্রিপল, সাইকেল, মোটরবাইক ইত্যাদি নিয়ে চম্পট দিলো আপনাদের তোলামূল বাহিনী। আপনারা তো এমনই আপদকালীন সুযোগের তালে থাকেন, তাই না!
জঙ্গিগোষ্ঠী, পাকিস্তান, যুদ্ধ ইত্যাদি নিয়ে গোটা ভারতের নাগরিকের একরকম ভাবনা। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দাদের অতিরিক্ত কিছু আউন্স আতঙ্ক- নাম তৃণমূল। সবই ওনার অনুপ্রেরণা

লাইট বন্ধ করে ঘরে না গেলে রাষ্ট্রদ্রোহের বিষয়টা আছে, গেলে চালে-ত্রিপলে নির্বংশের ভয়। কী জ্বালা বলুন তো!

শুক্রবার, ২ মে, ২০২৫

বঙ্গে গাঁজা

 


 ১) “ডলার এবং মেমসায়েবের লোভে সুকণ্ঠ ভেকধারী বাউলরা ক্রমে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। বাউল-ফকিররা গাঁজা খান। বাউলদের গাঁজা যৌনাচার হিপি ঐতিহ্যের স্মারক। অতএব ওই পথের পথিক মেমসায়েব বাউলের সঙ্গ ধরবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই

সৈয়দ মুস্তফা সিরাজ, দৈনিক আজকাল, ৩০শে মে, ২০০৪; সুধীর চক্রবর্তীর বই নানা মনের চোখে, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, পৃ ১১৪

২) বিদ্যাসাগর জিজ্ঞাসা করলেন, "কি হারান, শুনলাম তুমি নাকি কাশীবাসী হয়েছ? গাঁজা খেতে শিখেছ কি?” হারানবাবু উত্তর দেন, "কাশীবাসী হওয়ার সঙ্গে গাঁজা খাওয়ার কি সম্পর্ক' বুঝতে পারলাম না।" বিদ্যাসাগর বলেন, "এত সহজ ও সোজা সম্পর্ক'টা বুঝতে পারলে না? জান তো, লোকের বিশ্বাস কাশীতে যাঁর মৃত্যু হয় তিনি সাক্ষাৎ শিব হন। শিব হলেন পাঁড় গাঁজাখোর। কাশীতে মৃত্যুর পর যখন শিব হবে তখন তোমাকেও তো গাঁজা খেতে হবে। তাই বলছিলাম, মৃত্যুর আগেই যদি একটু প্র্যাকটিস করে রাখতে, তা হলে শিব হওয়ার সুবিধে হত

কেদারনাথ ভট্টাচার্য, প্রবন্ধ: শিক্ষা ও সংস্কৃতির অনন্য পথিকৃৎ ঈশ্বরচন্দ্র বিস্যাসাগর, 'বঙ্গীয় নবজাগরণের অগ্রপথিক' বইয়ে সংকলিত, পৃ ১৭৪, নবপত্র প্রকাশন, ১৯৫৯, কলকাতা

৩) ৩০ নং পদে প্রধান প্রধান হিন্দু সমাজের সম্প্রদায়গুলির বৈশিষ্ট্যসহ পরিচয় পাওয়া যায়। বৈষ্ণবেরা বিষ্ণুরূপ ধ্যান করত, মালা-তিলক ব্যবহার করত। শাক্ত করত শক্তির সাধনা। পঞ্চতত্ত্বজ্ঞানী পঞ্চোপাসনা করতেন। সপ্তপন্থী ব্যাখ্যা করতেন সপ্তরূপ। আগম-নিগমের উল্লেখ আছে গানে; আছে জটা, লোহার ত্রিশূল, গাঁজা প্রভৃতি ব্যবহারকারী শৈব, শাক্ত সাধুদের ছবি। অনেকে গাঁজা খেয়ে "ব্যোম কালী" ধ্বনি দিতেন। মদ খেয়েও মাতাল হতো অনেকে। নানারকম মালা, মড়ার মাথার খুলি, হাড় ও হাড়ের মালা এরা ব্যবহার করত।

শক্তিনাথ ঝা, ফকির লালন সাঁই: দেশ কাল ও শিল্প, পৃ ২৫৮, সংবাদ প্রকাশ, কলকাতা, ১৯৯৫

৪) গাঁজা খাওয়ার ব্যাপারে আমাদের সরকার মনে হয় নমনীয়। মাজার মানেই গোল হয়ে গাঁজা খাওয়া। লালনের গান শুনতে কুষ্টিয়ায় লালন শাহর মাজারে গিয়েছিলাম। গাঁজার উৎকট গন্ধে প্রাণ বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। এর মধ্যে একজন এসে পরম বিনয়ের সঙ্গে আমার হাতে দিয়ে বলল, 'স্যার, খেয়ে দেখেন। আসল জিনিস। ভেজাল নাই।' সিগারেটের তামাক ফেলে গাঁজা ভরে এই আসল জিনিস বানানো হয়েছে।

হুমায়ুন আহমেদ, হিজিবিজি, প্রবন্ধ: নিষিদ্ধ গাছ, পৃ ৬৫, প্রিন্ট: ২০১৩ 

৫) তবে গাঁজা মহালের প্রজাদের সঙ্গে মিশে আমার একটা শিক্ষা হয়েছিল। ওরা হাতে কলমে শিখেছিল কেমন করে গণতন্ত্র চালাতে হয়, সমাজতন্ত্রের জন্যে এগিয়ে থাকতে হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রামে গ্রামে সমবায় পদ্ধতিতে চাষবাস প্রবর্তন করতে যান। এর জন্যে ভিত পাতা হয়েছিল পঞ্চাশ বছর আগে নওগাঁয়। এখন তার কী অবস্থা জানিনে। কারণ গাঁজা যারা কিনত তারা প্রধানত হিন্দু ও তাদের বাস প্রধানত আজকের দিনের ভারতে। বাংলাদেশ এখন তার গাঁজার বাজার হারিয়েছে। খান সাহেব মোহাম্মদ আফজল লিখেছেন বর্তমানে গাঁজা চাষ ১০০ বিঘা জমির মধ্যে সীমাবদ্ধ। আগেকার সীমা ছিল ৯০০০ একর।

অন্নদাশংকর রায়, যুক্তবঙ্গের স্মৃতি, পৃ ১১, মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ, কলকাতা

৬) অভীষ্ট বস্তুর অনুসন্ধানে অভয়াচরণ সতের বৎসর পাহাড়-পর্বত পরিভ্রমণ করিলেন। বহু সাধু সন্ন্যাসীর সঙ্গে তাঁহার ( অভয় ব্রহ্মচারীর ) সাক্ষাৎ হইল। গঞ্জিকা-সেবন তাঁহার সাধন-ভজনের সহায়ক মনে করিয়া, তিনি ইহা অভ্যাস করিয়াছিলেন। সতের বৎসর পর তিনি পুনরায় ময়মনসিংহে ফিরিয়া আসিয়া নেত্রকোণা মহকুমায় মালনী গ্রামে একটি আশ্রম স্থাপন করিলেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁহার আশ্রমটির সংবাদ চতুর্দিকে ছড়াইয়া পড়িল, এবং তিনি "অভয় ব্রহ্মচারী" নামে অভিহিত হইলেন। নানা শ্রেণীর বহু লোক তাঁহার শিষ্য ও ভক্ত হইতে লাগিল।

শ্রী রমেশ চন্দ্র সরকার বি. এ. বি. টি. ; গ্রন্থ: বারদীর শ্রীশ্রীলোকনাথ ব্রহ্মচারী, পৃষ্ঠা নং ৯৯; প্রেসিডেন্সী লাইব্রেরী, কলিকাতা-১২; প্রকাশ: ১৮৯০ সাল

৭) অভয়াচরণ প্রায় প্রতি মুহূর্তেই গাঁজা খেতেন। কিন্তু শিব চতুর্দশীর দিন জীবন্ত শিবের দর্শন পাবেন বলে গাঁজার পিপাসা অতি কষ্টে দমন করে আছেন। অভয়াচরণ আশ্রমে আসার সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্যামী বাবা লোকনাথ তাঁর গাঁজার পিপাসা মেটান তাতে অভয়াচরণের মনে হয়েছিল, বাবার কৃপা অবশ্যই তিনি লাভ করবেন। কিন্তু তিনি যখন বাবার কৃপা প্রার্থনা করেন, তখন বাবা তাঁকে বলেন, তুই নিজেই ত ব্রহ্মচারী। আমার কাছে কৃপা প্রার্থনা করছিস কেন?

পরমপুরুষ শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী, পৃষ্ঠা নং ১৬৫

৮) শ্রীযুত তারাকিশোর চৌধুরী মহাশয়ের একবার খুব জ্বর হয়। তখন তিনি কলিকাতার "হাইকোর্টে" ওকালতি করেন। তাঁহার মনে হইল, শ্রীযুত বাবাজী মহারাজ গাঁজা খান, তাঁহাকে গাঁজা ভোগ দিয়া যদি সেই প্রসাদ পান, তাহা হইলে তাঁহার জ্বর ছাড়িয়া যাইবে। এই মনে করিয়া তিনি শ্রীযুত বাবাজী মহারাজকে গাঁজা ভোগ দিলেন এবং নিজে সেই গাঁজা খাইলেন। গাঁজা খাওয়া তাঁহার কখনও অভ্যাস ছিল না; কিন্তু সেই প্রসাদী গাঁজা যথেষ্ট পরিমাণ খাওয়া সত্ত্বেও তাঁহার কিছুই হইল না, জ্বর ছাড়িয়া গেল

কয়েক মাস পরে তিনি বৃন্দাবনে যান। তাঁহার সেখানে থাকিবার সময় শেষ হইলে তিনি কলিকাতায় ফিরিবার দিন স্থির করিলেন। রওয়ানা হইবার কিছু সময় পূর্ব্বে শ্রীযুত বাবাজী মহারাজ গাঁজার কল্কি হাতে দিয়া বলিলেন-"এ প্রসাদী গাঁজা, তুমি খাও।” সেখানে কয়েকজন ব্রজবাসী বসিয়াছিল, এত সময় শ্রীযুত বাবাজী মহারাজ তাঁহাদের সঙ্গেই গাঁজা খাইতেছিলেন। তন্মধ্যে একজন জিজ্ঞাসা করিল -"বাবু কি গাঁজা খান?" শ্রীযুত বাবাজী মহারাজ-“না, বাবু গাঁজা খান না বটে; তবে জ্বর হ'লে আমাকে ভোগ দিয়ে প্রসাদ পান।” ভাবিয়া দেখ, প্রকৃত সদ্গুরুর শক্তি কি অসীম!

শিশিরকুমার সাহা, কাঠিয়া বাবা, (শ্রীযুক্ত রামদাস কাঠিয়া বাবাজী মহারাজের জীবনী), পৃ ৮২-৮৩, প্রিন্ট ১৯৩০, কলকাতা

৯) ওরশের সময়ে এখানে হিন্দুয়ানী কায়দায় মেলা বসে। মেলায় নারী-পুরুষ সকলেই আসে। গান-বাজনা, মদ-গাঁজা, জুয়ার আড্ডা কিছুই বাদ যায় না। এখানকার খাদেমরা বেশরাহ ফকির। এদের ইংগিতে এখানে অনেক বেশরাহ কার্যকলাপ চলে। হযরত শাহজালালের নামে লেখা বহু গান প্রচলিত আছে। মারেফতী গান গাইলে সওয়াব মিলে, এমন একটা ধারণা অজ্ঞ মুসলমানদের মধ্যে এখনও রয়েছে। তাই নারী-পুরুষে সমস্বরে মারেফতী গান গায়। এ-রকম একটি গান:-

'তুমি রহমতের নদীয়া

দয়া করো মোরে হযরত

শাহজালাল আউলিয়া।'

এই গান যারা গায়, তারা জানে না যে, রহমত একমাত্র আল্লাহর এক্তিয়ারে।

মুহাম্মদ হাবীবুর রহমান, কিতাব: হযরত শাহজালাল (রহ.), পৃ ৪১, জয় প্রকাশন, ঢাকা, প্রিন্ট: ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

১০) উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর জেলায় কৃষকদের এক আঞ্চলিক ঠাকুর আছেন, যাঁর নাম 'কাণ্ডী'ইনি স্থানীয় অধিবাসীদের কাছে তাঁদের গবাদি পশুসমূহের রক্ষাকর্তা এবং ঐ সমস্ত পশুদের যন্ত্রণাদায়ক রোগের পরিত্রাতারূপে গণ্য হন। এখন এই দেবতাকেও প্রসন্ন করার জন্য গাঁজা দেওয়া হয় এবং যাতে তিনি ধূমপান করতে পারেন তার জন্য হুঁকা এবং ছিলিমও নিবেদন করা হয়।

— 'উত্তরবঙ্গের গ্রাম্য দেবতা-সমূহ': 'হিন্দুস্থান রিভিয়্যু' ফেব্রুয়ারি ১৯২২; পৃ. ১৫৩-৫৪; বাঘ ও সংস্কৃতি, সনৎকুমার মিত্র সম্পাদিত, পৃ ১৬, পুস্তক বিপণি, কলকাতা, প্রিন্ট ১৯৮০

 

১১) সমস্ত বাউল গাঁজা খায় না। বাউলদের একাংশ গাঁজার ভক্ত কিন্তু মদের বিরোধী। সাঁই এবং রাঢ়ের বহু গায়ক মদ্য-মাংসের একনিষ্ঠ সেবক

লালনের গান থেকে তাঁর সময়ের বহু তথ্য ও ইতিহাসের বহু উপাদান সংগ্রহ করা যেতে পারে। সেকালে তামাক, গাঁজা এবং মদ মাদকদ্রব্য হিসাবে সমাজে প্রচলিত ছিল। লালন নিজে গাঁজা খেতেন কি? তাঁর শিষ্য দুদ্দু গাঁজার তীব্র বিরোধী ছিলেন। প্রবাসীতে লালনের রচিত 'হুকার গান' নামে একটি পদ প্রকাশিত হয়েছিল। এ পদটি থেকে মনে হতে পারে যে তিনি 'হুকা' খেতেন।

শক্তিনাথ ঝা, ফকির লালন সাঁই: দেশ কাল ও শিল্প, পৃ ১৫৭ ও ২৪১, প্রিন্ট: ১৯৯৫, সংবাদ প্রকাশ, কলকাতা

 

১২) হালিশহর কোনা মোড় ছাড়িয়ে বিশালাক্ষ্মী ঘাট পেরোলেই শীতলাতলার সম্মুখে পূর্ণ সাধুর আশ্রম। লোকমুখে তিনি ফক্করবাবা। আশ্রম বলতে গঙ্গার কিনারায় বন-জঙ্গলে ঘেরা খানিকটা পরিত্যক্ত জমি, জমির আসল মালিক শুনেছি শ্যামদাস গুপ্তবাবুরা। পূর্ণ তার উপরে ঘর বেঁধে আছে বহুকাল ধরে জমিটার মাঝ বরাবর। মাথায় চালা ঠ্যাকে। হাত ছয় সাত প্রস্থে দৈর্ঘ্যে ছোট, বারান্দাসহ মাটির দেয়াল দেওয়া ঝুপড়ি ঘরখানিতে পূর্ণ থাকে। উত্তর সীমানায় আর একটু বড় আকারের প্রায় অনুরূপ বেড়া দেওয়া টালির ছাউনি ঘর। ওখানেই থাকেন মহেশ বাবা। সঙ্গে আছেন ওঁর সাধনসঙ্গিনী লীলা মা। নিভৃত নিলয়। পশ্চিমে গা ঘেঁষে গঙ্গা বইছে

বর্ষাকালে সীমানার ভাঙন পেরিয়ে উঠে আগে আসত গঙ্গা। এখন প্রতিরোধ পেয়েছে। সরকারি ওয়াল। এর ধারেই অন্য আর এক মালিকের একখণ্ড জমি। সেখানে ইট বাঁধানো দুর্গামাতার আশ্রমবাড়ি। মূর্তি নেই। ঘটে পুজো হয়। লীলা মা পুজো সারেন। মহেশ বাবার দুর্গামূর্তিতে বিশ্বাস নেই। বললে বলেন, শরীরের ভেতরই দুর্গা রয়েছেন। আলাদা করে আর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করার দরকার কী? মহেশ বাবা তাহেরপুরের বয়সের গাছ-পাথর পেরোনো সাধক দয়াল বাবার শিষ্য। কেউ বলেন, বাবার বয়স একশ বিশ, কেউ বা একশ তিরিশ। আমি গেছি ওঁর ওখানেছিন্নমস্তার উপাসক। বহাল তবিয়তে বেঁচেবর্তে আছেন দিনে একবার গাঁজা সেবা।


সুধাসুন্দরীর কাছ থেকে কোনওমতে পালিয়ে বেঁচেছি আমি। তিনি আমাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন কথা কিছুদূর এগোতে তাঁর বুকে হাত রাখতে। তাতেই না কি আমি বুঝতে পারব যে, সেখানে কেমন নদী বইছে। তিনি আমাকে এও বলেছিলেন যে, বীর্যধারণ আমাকে তিনি নিজে হাতে শিখিয়ে দেবেন। এতে যার-তার সঙ্গে যখন-তখন শোয়া যাবে। বাচ্চা হওয়ারও ভয় থাকবে না। একসময় তিনি চরম হতাশায় বললেন, 'বিন্দু ধরতে দম লাগে। এ ভৈরব এখন পারেন না। শালার দম নেই। সাধনে আসবেন। সব শেখায়ে দেবো আপনেরে। চলেন পালাই। আশ্রম বানাই।' একবার এক ভৈরব-ভৈরবী দুজনেই আমাকে শেষে বলে বসলেন, 'আপন শক্তিরে এখানে নিয়ে আসবেন। মা আপনার শক্তির দম-শ্বাস শেখাবেন। আমি আপনারে। কত লোকে শিখতে আসে।' বুঝতে আমার একটু অসুবিধে হল না শেখার নামে এখানে শরীর ব্যবসা আসলে চলে রমরমিয়ে। আর এক ভৈরবী আমাকে আরও অবাক করে বলেছিলেন, তাঁদের দেহমিলনের ছবি পর্যন্ত তুলে নিয়ে যায় অনেকে। এ ছবি নাকি ভালো বিক্রি হয়। লোকে দেখেদুখে শেখে। এভাবেই যুগল সাধনায় শরীরী ব্যবসা, নীল ছবির ব্যবসা চলছে রমরম করে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে। অনেক সময় নিজে দেখেছি প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা পর্যন্ত গিয়ে উঠেছেন তান্ত্রিকদের ডেরায়। মদ-গাঁজা-চরসের প্রাপ্য হিস্যা বুঝে নিতে, আবার মেয়েমানুষের লোভে। তন্ত্রসাধনার এও এক দিক। যেদিকে বিন্দুধারণের নামগন্ধে ম ম করছে কামগন্ধ, ব্যভিচার, যৌনবৃত্তি আর চোরাকারবার। তবে তার আলোর দিকটি গ্রীষ্মজীবনের বাইরে নক্ষত্রে নক্ষত্রে আকাশ ঝিকমিক

হালিশহর শাশানঘাটে বসে মূলাধার চক্রের ব্যাখ্যা এভাবেই আমাকে শোনাচ্ছিলেন তান্ত্রিক আলো সাধু। শ্মশানঘাটে মা ছিন্নমস্তার মন্দির বহুদিন ধরে সামলাচ্ছিলেন তিনি। প্রাজ্ঞ মানুষ তিনি। শাস্ত্রজ্ঞ। আমার সঙ্গে অনেকদিনেরই পরিচয়। আমার কৌতুহলকে তিনি মাঝে মাঝেই নিশ্চিহ্ন করতে সহায়ক হয়ে ওঠেন। আসতে বলেন। বিশেষত অমাবস্যায়। নিজে হাতে ভোগ রান্না করে তিনি তিনি প্রতি অমাবশ্যাতে মা-কে দেন। আমাকে বলেন প্রসাদ নেওয়ার জন্য। আমাকে তিনি তন্ত্রের নানা আয়োজন সম্পর্কে মাঝেসাজেই পাঠ দেন। তবে আমি জিজ্ঞাসা করলেই। না হলে তিনি সদাই ভাবমগ্ন। চুপ করে থাকেন। ভক্ত-শিষ্য আসেন। মদ-গাঁজা আনলে জোরাজুরিতে তিনি একটু প্রসাদ করে দেন।

সোমব্রত সরকার, কাপালিক তান্ত্রিক যোগী কথা, পৃ ১৩, ১০৬, ১৭০

১৩) এ গোকুলে শ্যামের প্রেমে কেবা না মজেছে সখি

কারো কথা কেউ বলে না আমি একা হই কলঙ্কী

অনেকে তো প্রেম করে

এমন দশা ঘটে কারে

গঞ্জনা দেয় ঘরে পরে

শ্যামের পদে দিয়ে আঁখি

তলে তলে তল গাঁজা খায়

লোকের কাছে সতী বলায়,

এমন সৎ অনেক পাওয়া যায়

সদর যে হয় সেই পাতকী

অনুরাগী রসিক হ'লে,

সে কি ডরায় কুলশীলে

লালন বেড়ায় কুছি খেলে

ঘোমটা দিয়ে চায় আড়চোখি ॥

লালন সাঁইয়ের গান, পূর্ণদাস বাউল সম্পাদিত, বই: বৃহৎ বাউল সঙ্গীত, পৃ ৫১, প্রিন্ট: জুলাই, ১৯৫৫, কলকাতা; লালন-গীতিকা, মতিলাল দাশ ও পীযূষকান্তি মহাপাত্র সম্পাদিত, ৩৬৪ নং গান, পৃ ২৫০, প্রিন্ট: ১৯৫৮, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত

১৪) বাসার সামনে এলে হারান ফকির আমার আগ্রহ দেখে আরও কয়েকটা গান শোনাল। প্রশ্ন করে জানতে পারলাম- গানগুলো লালন সাঁইজির। ছেউড়িয়া গ্রামে তাঁর আখড়া। এটা শুনবার পর, পরদিন সেখানে যাবার জন্য প্রস্তুতি নিলাম। তখন কেউই লালন ফকির এবং তাঁর গান সম্বন্ধে জানে না। ছেউড়িয়ার বন্ধু ইসমাইল বলল- তাদের গ্রামেই লালনের আখড়া। বললে, -তুই যাসনে। ওরা গাঁজা খায়। মেয়ে ছেলে একসাথে থাকে। সারারাত গান করে। তুই নামাজ পড়িস। ওখানে গেলে তোকে তুকতাক করে ফেলবে।

ড. সুজিতকুমার বিশ্বাস, বাংলার লোক ঐতিহ্যের অধিকারী যতীন্দ্রনাথ রায়, পৃ ৪২, প্লাসেন্টা পাবলিকেশন্স, নদীয়া, কলকাতা বইমেলা ২০২৪

১৫) "গাঁজা খোর গাঁজার মর্ম বুঝে মান্য করে মারে

বাদশা উজির নেশার ঘোরে

যখন গাঁজা খায় নবাবী ভয়পায়-দমে দম লাগায়

নেশায় ইস্তি কোন খোন্ডা দেবে

তালের আঁটি বানিয়ে খোলা বলে ব্রহ্মার কমণ্ডুল

বলে কৃষ্ণের হাতে বাঁশি

ডুমুরের ডাল লয়েছে করে; এক ছিলিম পুরে

চারইয়ারে লক্ষটাকার মজা মারে

নেশাতে হয় বিদগ্ধ, বলে পেলাম ব্রহ্মপদ যেমন ধারা চতুষ্পদ

কলুর ঘানি আছে ঘাড়ে, গাঁজার পাতা ভাসিয়ে জলে

ধূয়া কলের জাহাজ চলে

বসে থাকে নোঙর ফেলে অকূল পাথার সমুদ্দরে

গোঁসাই চরণ-চাঁদে বলেন কুবির, ভবির কথায় ভুলিসনারে"।

কুবির গোঁসাইয়ের রচিত লোকগীতি, 'সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে নদীয়ার গ্রাম' বইয়ে রণজিৎ কুমার বিশ্বাস কর্তৃক উদ্ধৃত, পৃ ১৯৯, ইন্দিরা প্রকাশনী, কলকাতা, ২০০২

 

   -তাহসিন আরাফত

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...