বুধবার, ১৮ জুন, ২০২৫

জি সেভেন বৈঠক ও কিছু কথা।



জি সেভেন বৈঠক ও কিছু কথা।

কারা কারা ছিলো এই বৈঠকে? ইতালি, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, জাপান আর আমেরিকা। আজকের গুগুল মিট, জুম কল, মাইক্রোসফট টিম এ্যাপসের যামানাতে এমন মুখোমুখি মিটিং বিষয়টারই দাবী ফুরিয়েছে। তারপরেও একসাতথে হওয়ার উদ্দেশ্য, দেখো আমাদের ইউনিটি। আমরা সকলে এক আছি, এমরাই সবচেয়ে শক্তিধর।

জর্জিয়া মেলোনি, মোদি যার সাথে ছবি তুলতে পারলে জীবন সার্থক মনে করেন, তার দেশ ইতালি- বিশ্ব রাজনীতিতে শেষ কবে এই দেশটার কোন নাম শোনা গেছে! একটা সময় ফুটবলের কারণে শোনা যেত এখন সেটাও নেই। শুধু পোপটা মরে গিয়ে রোমের সাথে কয়েকবার ইতালির নামটা উচ্চারিত হয়েছে। আর শেক্সপিয়ার পড়লে ভেনিস চলে আসে, ইতালি নামটা তখন মনে পড়ে। একটা সময় বিজেপি যখন সোনিয়া গান্ধীকে ব্যাওক্তি আক্রমণ করত, ইতালি নামটা শোনা যেতো। নতুবা এরা এখন এদের কোনো গননাতেই ধরা যায় না

ফ্রান্সের নামটা গত সপ্তাহে ফাইরাল হয়েছিল তাদের প্রেসিডেন্ট বউ এর হাতে চড় বা ধাক্কা খেয়ে। তার আগে ফ্রান্সের নাম শোনা গিয়েচছিল ইব্রাহিম ট্রাওরের কারনে। তারও আগে আমাদের দেশে ফ্রান্সের নাম শনা যায় মদিজির দৌলতে, UPA সরকারের দড় করা রাফাল বিমান ৩ গুন বেশি দাম দিয়ে কিনেছে বলে। আত্নর্জাতিক রাজনীতিতে ওঁলাদের তেমন কোনো গুরুত্ব ছিলোনা, ম্যাক্রো তো স্পাইন লেস। ত্যাটোতে আঁছে কিন্তু রাশিয়ার পন্থী একধরনের। শোষন আর লুটঠপাঠ না করতে পারলে তথা আফ্রিকার সাপ্লাইলাইন বন্দধ হয়ে গেলে, ফ্রান্স আর লিথুয়ানিয়ার কোনো ফারাক থাকবে ধারে ভারে।

ব্রিটেন, বুড়ো সিংহ। এককালে অর্ধেক পৃথিবী জুড়ে লুন্টন চালিয়েছে একতরফা। বেকারত্ব চরমে। নেতৃত্ব নেই। পৃতথিবীর অদধিকাংস চোর যারা নিজ দেশের ব্যাঙ্ক লুঠে এসেচছে, তাদের জাইগা দেয়। গোটা ইকোনমিটা চলে কমনওয়েলতথ এর মানুষজন দিয়ে।

নোবেল প্রতি বছর দেয়, রাশিয়া, চীন, ইরান, উত্তর কোরিয়া কখনও এতে যোগ দেয়না। তাহলে কী তাদের দেশে বিজ্ঞানী নেই! আসলে ওরা এই পশ্চিমা সিস্টেমকে পাত্তাই দেয়না।

 

মঙ্গলবার, ১৭ জুন, ২০২৫

ফুটেজখোর ট্রাম্প



ট্রাম্প হচ্ছে আমেরিকার রাখী সাওয়ন্ত বা কঙ্গনা রানাওয়াত। ফুটেজ খাওয়ার জন্য যা খুশি আলবাল বলে দেয়। যেকোনো মূল্যে প্রতি ঘন্টার হেডলাইনে যেন তার নাম থাকে। তার যে শত্রু, সেই লোকের ততটা সমস্যা নেই, যতটা বিপদ বন্ধু হলে। কখন যে বন্ধুর ইজ্জতের নিলামি চড়িয়ে দেবে তা ধরতে পারবেননা। গতরাত্রে ইঁমানুয়েল ম্যাঁকো সেটা হাড়ে হাড়ে বুঝেছে।


মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বের নিরিখে- মমতা বাদে তৃণমূল দলের পদাধিকারীদের যতটা গুরুত্ব, কিম্বা বিজেপিতে জেপি নাড্ডার যতটা গুরুত্ব - মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পও তাই। ল্যাম্পপোস্ট। ট্রাম্প হচ্ছে ফাটাকেষ্ট, খবর দেখেনা, খবর পড়েনা- খবর তৈরি করে।

ওদিকে ইরাণের খামেইনি শাসকেরা কী ধোয়া তুলসীপাতা? মোটেও তা নয়, তাদেরও কুকীর্তির শেষ নেই। তারপরেও সে যখন মানবতার শত্রু দখলদার হিজরায়েলের বিরুদ্ধে একদম সামনের সারিতে, সেখানে ইরাণকে সাপোর্ট করা মানবিক দায়। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ গত ৪৬ বছর ধরে ইরাণের ধোপা-নাপিত বন্ধ করে একঘরে করে রেখেছে আন্তর্জাতিক ভাবে। যত ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধ দেওয়া সম্ভব, সবটা দিয়েছে। সমস্ত ধরনের মিথ্যা প্রোপাগান্ডা - চালিয়েছে। তার পরেও ইরাণ কিন্তু বুক চিতিয়ে এখনও ক্রিজে টিকে আছে।

খামেইনির ইরাণ- কার্টার, রেগন, কশাই বাপবেটা বুশ, শয়তান ওবামা ও যুদ্ধবাজ যায়োনিষ্ট বাইডেনকে দেখেছে, সয়েছে। সোভিয়েতের পতনের পর রাশিয়া-চীন জোড়া উত্থানের আগে অবধি অর্থাৎ নব্বই এর দশকের শেষ থেকে পরবর্তী প্রায় দেড় দশকের আমেরিকার মত একচ্ছত্র ক্ষমতাবান আমেরিকা- ইতিহাসে কখনও ছিলোনা। ইরান সেই পিরিয়ড সয়েও টিকে রয়েছে। শুধু টিকেই নয়- তারা যে অর্থনৈতিক ও সামরিক ভাবে ঈর্শনীয় সক্ষমতা হাসিল করেছে- গত চার রাত ধরে গোটা বিশ্ব তার সাক্ষী

সুতরাং, উন্মাদ ট্রাম্প কিছু একটা হেগেছে মুখ দিয়ে, মানেই ইরান পেচ্ছাপ করে ফেলবে এমনটা নয়। এটা নার্ভের লড়াই, আরো কিছুদিন চলবে। খোদ আমেরিকাতেই যায়োনিষ্ট ছাড়া সকলে যুদ্ধ বিরোধী। হিজরায়েলের জন্য আর তারা যুদ্ধে জড়াতে চায়না। যুদ্ধবাজ কুত্তানিয়াহুর অহঙ্কার দম্ভকে টিকিয়ে রাখতে আর মার্কিন নাগরিকেরা তাদের সন্তানের কফিনবন্দী লাশ দেখতে চায়না। তারা বলছে আমেরিকা ফার্স্ট স্লোগান দিয়ে ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেছিল, হিজরায়েল ফার্স্ট নয়। মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন, মেগ BiBi গ্রেট এগেন দাবী ছিলোনা।

অবশ্যই যুদ্ধ সক্ষমতায় আমেরিকা এগিয়ে, কিন্তু মানসিক কঠোরতা আর দাঁত চেপে টিকে থাকার লড়াইতে ইরাণ অনেক অনেক কদম এগিয়ে। পালিয়ে যাওয়ার ইতিহাস আমেরিকার আছে, মাত্র ৪ বছর আগেই আফগানিস্তান থাকে পালিয়ে এসেছিল। চরম স্বার্থপরেরা কারো বন্ধু হয়না। ইতিহাস বলছে পারস্য কখনও পরাধীন হয়নি, আমেরিকা কখনও কোনো যুদ্ধ জেতেনি।

বাকিটা অদূর ভবিষ্যৎ ই জবাব দিয়ে দেবে।

সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫

গাজায় জেনোসাইড



মানবতার দোহায় দিয়ে গত ৭৭ বছরে লক্ষ লক্ষ মানুষকে নির্বিচারে খুন করেছে হিজরায়েল। ফিলিস্তিনি ভূমি জবরদখল করে সেটলার বসিয়েছে। অমানবিক অত্যাচারকে এন্টারটেইনমেন্ট বানিয়েছে। পোষ্য মিডিয়া দিয়ে মহান সেজেছে।

ফিলিস্তিন, সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেনে অটোমেটিক মেশিনগান থেকে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে। এসিড বৃষ্টি করিয়েছে। ক্লাস্টার বোমা ফাটিয়েছে। বেছে বেছে ইস্কুল, হাসপাতাল, পানীয় জলের পরিসেবা, বিদ্যুৎকেন্দ্র জাতীয় জরুরী পরিসেবার স্থানে টার্গেট করে সেগুলোকে ধংস করে সাফল্যের সাথে সেটা বিশ্বকে দেখিয়েছে।



গাজায় জেনোসাইড হলোকাস্ট চালিয়েছে। তাদের সেনারা সেই বধ্য গোরস্থানে উল্লাসের নৃত্য করে সেটাকে গর্বের সাথে টিকটকে ছেড়েছে গোটা দুনিয়াকে দেখাবার জন্য। পশ্চিমা মিডিয়া এখানে কোনো অন্যায় খুঁজে পায়নি।

অনাহার, অপুষ্টিতে ভোগা রোগা দুর্বল শিশুরা ধুঁকে ধুঁকে মরেছে, হারামি বেশ্যার বাচ্চা মধ্যপ্রাচ্যের মোল্লা রাজার দলের সাথে, পশ্চিমারা হলিউডি মুভি সিনের মত, লাইভ ম্যাচ দেখার মত এঞ্জয় করেছে ফিলিস্তিনের উপরে হওয়া অন্যায় অত্যাচার।



ইরাণের এই আত্মরক্ষামূলক আক্রমণ, এই অবৈধ সেটলারেরা অন্তত ৩টে প্রজন্ম ভুলতে পারবেনা, অধিকাংশই ট্রমাগ্রস্থ। তারা আয়েসের বিলাসী জীবন যাপনে অভ্যস্ত। আজ নিজেদের বাচ্চাদের নিয়ে গর্তে বাস করতে করতে অনুভব করছে - এতোদিন এই পাপটাই তারা করে এসেছে।

অনেকের মধ্যে এখন ইসরাইল শিশু হত্যার বিরুদ্ধে ভয়ংকর পরিমাণ মানবিক বোধ জাগ্রত হয়েছে। বুক মুচরে উঠে হাহাকার বের হচ্ছে!

গত ৭৭ বছর ধরে আপনারা যুদ্ধ নয় শান্তি চাই করে গেছেন, তাতে আমেরিকা যুদ্ধ থামিয়েছে? নাকি ইসরাইল তার দখলদারী অগ্রসন থামিয়েছে। আজকে চার রাত ইরান হামলা করায়, সেই চারদিন গাজায় হামলা বন্ধ রয়েছে।

আতঙ্কের ঘরে আতঙ্ক না ঢোকালে শুধুমাত্র শান্তি চাই গান গেয়ে কীর্তন করলে যুদ্ধ থামবে না। যুদ্ধ দিয়েই যুদ্ধ থামাতে হয়। ইরান সেটাই করছে।



ইরাণ এখন যেটা করছে এটা অনিন্দ্য সুন্দর শৈল্পিক কাজ যা সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার কল্পনার বাইরে, তারা হতচকিত বাকরুদ্ধ প্রায়। এটাই ন্যাচারাল জাস্টিস।

আর এসব দেখে যদি "আহারে, নিরীহ নাগরিক মারা যাচ্ছে হিজরায়েলে" জাতীয় শোক উথলে উঠে- আপনিও একটা ফুটফুটে বেজন্মা চুতিয়া।

রবিবার, ১৫ জুন, ২০২৫

পশ্চিমাশক্তি ভরা গ্যাস বেলুন


ওরা ইরাক আক্রমণ করেছিল, নিউক্লিয়ার অস্ত্র আছে এই দাবি করে। সেখানে শিশু, মহিলা, বৃদ্ধবৃদ্ধা কাউকে ছাড়েনি। নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করেছে। এই একই পথে সিরিয়া, লেবানন, ইয়েমেন সর্বত্র মৃত্যুযজ্ঞ চালিয়ে গেছে, শেষ তিন চারটে দশক ধরে।

এরপর ফিলিস্তিন। গোটা রাষ্ট্রটাকে জাস্ট গায়েব করে দিয়ে গাজা আর ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক নামে দুটো স্পটে পরিণত করেছে। ইউটিউবে ইজরায়েলি সেটলার সার্চ করে দেখুন, কীভাবে ভূমি থেকে দখলদারেরা ফিলিস্তিনিদের উচ্চেদ করেছে দেখলে শিউরে উঠবেন। সেখানেও চলছে অমানবিক ধ্বংসলীলা মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে শিশু হত্যা করা এবং এ নিয়ে রীতিমতো উদযাপন পালন করা হয়।
এই গত সপ্তাহেও গাজাতে ওষুধ, খাবারের গাড়ি ঢুকতে দেয়িনি, অনাহারে শিশুমৃত্যু নিয়ে আশঙ্কা করেছিলো UN আর UNICEF, রক্তের নেশায় উন্মত্ত দখলদার হিজরায়েল কর্ণপাত করেনি।
আজ ইরাণ প্রত্যাঘাত করতেই মানবিকতা শব্দ মনে পরেছে, UN, UNICEF এদের মনে পরেছে। আন্তর্জাতিক মিডিয়া মনে পরেছে।
তোদের যায়নবাদী আন্তর্জাতিক মিডিয়াতো MOSSAD কে বিশ্বছেঁড়া কমান্ডার বানিয়ে দিয়েছিল। সমস্ত বুদ্ধি আর ইনটেলিজেন্স তাদের একার, সব প্রযুক্তি তাদের দখল। এর পর মোসাদের নিজেদের বিল্ডিং বাঁচাতে পারেনা, কুত্তানিয়াহুর বসতবাড়ি অবধি ধুলোতে গুঁড়িয়ে 'গাজা' বানিয়ে দেয়। তখন হাসি পায় বৈকি। আন্তর্জাতিক মিডিয়াও আজ উলঙ্গ।
মিডিয়াতে কুত্তাকে বাঘ করে দেখানো হয়। কুত্তারা নিজেদের মাঝে অশান্তি লাগিয়ে ফায়দা লোটে। একটু ঘুরে দাঁড়ান, UN আর UNICEF এর সাথে মানবিকতা, শিশু হত্যা আর মহিলা হত্যাগুলো দেখার চোখ ফুটে যাবে। দুনিয়ার কাছে আকুতি করবে।
বাঁচিত গেলে প্রত্যাঘাত করা জরুরী।
ইরাণ হারুক জিতুক যা খুশি হোক আগামীতে, এটা দেখিয়ে দিয়ে গেলো যে পশ্চিমাশক্তি আজকে ২০২৫ সালের প্রেক্ষাপটে হাওয়া ভরা গ্যাস বেলুন। পালটা দিলেই ন্যাংটা। চীন বা রাশিয়া তো আর অন্ধ নয়।

ইরাণ ইজরায়েল যুদ্ধ

 


যে কাঁদে কাঁদুক, তবু লিখি ফুটনোট,

ফুল তুই তেল আবিবে বোমা হয়ে ফোট

কবি ইমতিয়াজ মাহমুদ

 

দখলদার হিজরায়েলে ধ্বংসের যা মারাত্মক চিত্র, হিজরায়েল এখন লোটাকম্বল নিয়ে আমেরিকার পা জড়িয়ে বসে পরেছে বাঁচাও। মার্কিন পন্থীরা গত পরশুদিন অবধি যেরকম উল্লাস আনন্দে মেতে উঠেছিল একতরফাভাবে ইরানে আক্রমণ করার পর, গত রাত্রি থেকে ‘কোন ভয় নেই কোন ভয় নেই মার্কা বক্তব্য দিচ্ছে।

গতরাতে আক্রমণের ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে ন্যাটো একটা বিবৃতি পর্যন্ত দিতে পারেনি। হিজরাইলের পক্ষে বলা এখনও দূর অস্ত। ইব্রাহিম ট্রাওরে একাই আফ্রিকা থেকে যাওয়ারোপের সাপ্লাই লাইনে নাভিশ্বাস তুলে দিয়েছে

শোনা যাচ্ছে কুত্তানিয়াহু পালিয়ে গেছে, না পালালেও ইঁদুরের মত কোনো বাঙ্কারে লুকিয়ে রয়েছে, এমন বীরপুরুষ। আরেক হিজরায়েলী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নাফতলি বেনেট ইরানী জনগণের উদ্দেশ্যে লিখছে- শিজ্ঞিরি তোমরা বিদ্রোহ করে তোমাদের ডিক্টেটর সরকার পতন ঘটাও, ওরা সভ্যতার শত্রু। নিজেরা প্যান্টে হেগেমুতে এখন ইরানি জনগণের পায়ে ধরছে একপ্রকার।

আজ যুদ্ধবাজের ঘরে যুদ্ধ ঢুকেছে, এতোদিন নির্বিচারে যারা নিরীহ মানুষের উপরে হত্যালীলা চালিয়েছে, আজ তারা বিশ্বের দরবারে শিশু ও নারী হত্যার বিচার চাইছেনিজেদের দেশের নাগরিকদের মানব ঢাল বানিয়ে যুদ্ধবাজ খুনির দল গর্তে লুকিয়েছে।

ইহুদিবাদী মিডিয়ার অধীনে তথাকা উইকিপিডিয়া বা চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করে দেকখুন, তারা স্বীকার করেছে গত পাঁচ মাসের মধ্যে ষাট হাজার যায়নবাদী সেটলার তথা হিজরায়েলী দেশ ছেড়ে ইউরোপ-আমেরিকায় পালিয়ে গেছেপরিস্থিতি এরকম চলতে থাকবে অন্তত দু লক্ষ সেটলার পালিয়ে যাবে, যারা ঠিক এই মুহুর্তে আছে, তারা যে বিভীষিকার মধ্যে রয়েছে, একবার পালাতে পারলে ফেরার সম্ভাবনা নেই। এই পরিস্থিতিতে মৃত্যুহার বেড়ে যাবে আর জন্মহার আরো কমে যাবে। সব মিলিয়ে মাত্র ২ রাত্রে যায়নবাদীদের উলঙ্গ করে দিয়েছে ইরাণ।

আমাদের মতো বোকাচোদা নয় আর ভুঁড়িওয়ালা ও নয় প্রত্যেকটি লোকের দু'বছর পাক্কা মিলিটারি ট্রেনিং আছে

রীতিমতো গৃহযুদ্ধ লেগে গেছে তেল আভিভ সহ নানা এলাকাতে, পুলিশের সাথে খন্ডযুদ্ধ বেঁধে যাচ্ছে। হিজরায়েলের সেটলারেরা আমাদের মত পেট মোটা, ভুঁড়িওয়ালা আমাশার রোগী নয় প্রত্যেকের অন্তত দু'বছর মিলিটারি ট্রেনিং নেয়া রয়েছে তারপরও তারা কিন্তু মানুষ, কানের গোড়ায় মিসাইল ফাটলে সকলেরই পেছন ফেটে যায়, আতঙ্ক গ্রাস করে। যদিও এদের প্রতি কোনো সহানুভূতি নেই, গাজাকে শিশুশ্যূন্য করার টিশার্ট পরে এরাই মিছিল করে প্রতিটি বোমাকে উদযাপন করত। সুযোগ পেলে আবার এরা নিরীহদের খুন করবে গাজায়।

আমার অনুমান কুত্তানিয়াহু খুব বেশি দিন গদি আঁকড়ে বসে থাকতে পারবেনা। ওদেশে রাষ্ট্র তথা পুলিশের বিরুদ্ধে যে বিদ্রোহ ঘোষণা হয়েছে সেখানে হিজরাইলের বামপন্থীদের রীতিমতো মদত আছে।

হিজরায়েল দেশটা ঠিক কতবড়? মাত্র ২২ হাজার বর্গকিমি। মানে আমাদের দুটো চব্বিশ পরগনা, হাওড়া , কোলকাতা, হুগলী আর নদীয়া মিলে যতটা এলাকা হয়, ঠিক ততটা সামান্য কমবেশী। বেশী নয়, আর ৪-৫ দিন এই হারে যদি আক্রমণ ইরাণ আক্রমণ চালায়, হিজরায়েলের মার খাওয়ার মত ভূমি অবশিষ্ট থাকবেনা।

পাকিস্তানের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আমরা দেখেছিলাম আমাদের ইন্ডিয়ান প্রপাগান্ডা মেশিনারি ভয়ংকর ভাবে ফেল করেছিল আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তানি প্রোপ্যাগান্ডা মেসিনারি ও বাংলাদেশী মিতথ্যুকদের কাছে কুত্তার উপরে হলদে কালো ডোরাকাটা দাগ কেটে বাঘ সাজা মোসাদ নামের "ভিরাট ক্ষমতাবান" গোয়েন্দা সংস্থাকে চায়ের দোকান লেভেলে এনে ফেলেছেতাদের দেশের সদর দপ্তরটিকেই উড়িয়ে দিয়েছে ইরাণ। সমস্ত আন্তর্জাতিক মিডিয়া ইহুদিদের মালিকানাধীন, আমেরিকা এখানে একচ্ছত্র রাজত্ব করে।

ফেসবুক টুইটার ইউটিউব সব তাদের সম্পত্তি। তারপরেও সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে যায়নবাদীদের প্রোপাগান্ডা মেশিনারিকে চেকমেট করে দিয়েছে- গোটা মধ্যপ্রাচ্য, বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফ্রিকার একটা অংশের জনগন তথা নেটিজেন। ইউরো-আমেরিকান প্রোপাগান্ডা মেশিনারিকে নকআউট করে দিতেই সোস্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো ইরানীয়ান অফিসিয়াল বেশ কিছু সোস্যাল্মিডিয়া চ্যানেল ব্যান বা সাসপেন্ড করে দিয়েছে। এই যথেচ্ছ ভাবে একতরফা ব্লক রার মাধ্যমে এদের বুকের ভিতরের কাঁপুনি টের পাওয়া যাচ্ছে, কতটা ভয়ে থাকলে এমনটা করে! এতে লাভের লাভ কিছু হচ্ছে না, হই হই করে নতুন আরেকটা অ্যাকাউন্ট জেগে উঠছে ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে।

যুদ্ধের বাজারে বা সক্ষমতায় আমেরিকা চিরকালীন ফেকলু মাল, সবসময় তারা শুয়োরের মত দলবেঁধে আক্রমণ করে। ইতিহাস বলছে আজ অবধি তারা কোনো যুদ্ধ জেতেনি। তারপরেও পূর্ববর্তী বহু প্রেসিডেন্ট অন্তত ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ছিল। ট্রাম্প সেখানে মহা উন্মা, মেগেলোম্যানিয়াক বুড়ো ষাঁড়, বিশ্বজুড়ে সে হাসির পাত্র। এর মতো ব্যর্থ মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাদের ইতিহাসে কম এসেছে।

ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ঘোষণা করেছে, যে দেশের আমেরিকান ঘাঁটি থেকে মার্কিনিরা ইরানের ভূমিতে আঘাত হানবে, ইরাণ সেই দেশে সরাসরি আক্রমণ চালাবে। মদ, জুয়া, হারেমে শত সহস্র নারী আর বিলাসিতায় ডুবে তথাকা মধ্যপ্রাচ্যের মোল্লা রাজারা সব ভেড়ার পাল। এরা শক্তিশালী ক্ষমতাবানেদের পশ্চাদলেহন করে।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কুয়েত, মিশর, তুরষ্ক সহ মুসলমান দেশগুলি সমেত ৫৭ দেশের জোট হিজরাইলের বিপক্ষে সরাসরি ইরানের পক্ষে দাঁড়াবে কিনা এখনও সেটা পরিষ্কার নয়। এরা যদি বেইমানি না করে সত্যি সত্যি জায়নবাদী দখলদারদের বিরুদ্ধে একজোট হয়, সেক্ষেত্রে আলজেরিয়া, লিবিয়া সহ আফ্রিকার জনগণ আর শাসক উল্টো দিকে থাকলেও- ইরাক, জর্ডন, লেবানন, সিরিয়া সমেত নিকটবর্তী দেশের জনগণ চুপ করে বসে থাকবে না। রাজাগুলো পুতুল হলেও জনগণ কিন্তু চুপ করে বসে থাকবে না ইব্রাহিম ট্রাউরে শুধু একা ফ্রান্স নয় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের ভিতে কম্পন ধরিয়ে দিয়েছে আর ট্রাম্প নিজের দেশেই নিজে বিপর্যস্ত। এটাই তাই সুবর্ণ সুযোগ জমি উদ্ধার করে প্যালেস্টাইন রাষ্ট্র পুনঃ প্রতিষ্ঠার

শুধু মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামিক দেশের জনগণ নয়, ওই জাতির যেসব জনগণ প্রথম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে ন্যাটোর অন্তর্গত দেশগুলিতে বাস করে, সেখানেও বিশাল বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বার করেছে। ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, মরক্কো, গ্রীস, তুরস্ক, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, ও আমেরিকার বিভিন্ন শহরে বিশাল বিশাল মিছিল বার হয়েছে স্বাধীন ফিলিস্থিনের সমর্থনে ফিলিস্থিনি পতাকা হাতে কিংবা গায়ে জড়িয়ে

পারস্য উপসাগরকে সোজা করে দিয়ে ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব, ওমান, তুরস্ক আর ইয়েমেন সঙ্গে সোমালিয়াকে দিয়ে সুয়েজ ক্যানেলের ঢোকা বেরোনো বন্ধ করে দিয়ে এবং একই সাথে আরব সাগরকে ঘেঁটে ঘ করে দেবার এটাই সুবর্ণ সুযোগ। গত রাত্রের ফাইফা সহ জবরদকখলকারীদের দেশ হিজরায়েলে ইরাণের পারফরমেন্স দেখে বেশিরভাগ দেশ হতবাক হয়ে যাবার পরে তবে মিশরের মত মুনাফেক মোল্লা দেশগুলো এক এক করে লাইনে আসতে শুরু করেছে। সামগ্রিকভাবে ইসলামিক জোট কী করে সেই দিকেই কিন্তু আমরা তাকিয়ে আছি ওরা যদি একবার একটা সর্বসম্মত বিবৃতি দেয় তবে কিন্তু ইসরাইলের বাপ, আমেরিকার হাতে হ্যারিকেন ঝুলে যাবে

আমাদের মত ভারতীয়দের আর কী! শুধুমাত্র একটি দুর্নীতিগ্রস্ত লোকের ব্যবসায়িক স্বার্থ দেখতে গিয়ে ১৪০ কোটি লোকের বিদেশ নীতি প্রশ্ন চিহ্নের মুখেএতবড় একটা বৈশ্বিক ঘটনাতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জনবহুল রাষ্ট্রের নপুংসক অমেরুদন্ডী নেতা- মুখে গোবর গুঁজে বসে আছে। ছিঃ

শনিবার, ১৪ জুন, ২০২৫

গাজা নয়, তেল আবিব।



চোখের শান্তি, প্রাণের আরাম।

সিংহ সাজা কুত্তানিয়াহু দেশ ছেড়ে পালিয়ে গ্রীসে লুকিয়েছে।

☞ আয়রন ডোমকে আইরনি বানিয়ে দিয়েছে।
☞ ফাঁপানো বেলুন "মোসাদের" সদর দপ্তরে কামান দেগে - গ্যাস বেলুনকে তুবড়ে তার আসল অউকাত দেখিয়ে দিয়েছে।
☞ তেল আবিব ট্রেড সেন্টারের তেল বের করে দিয়েছে।
☞ ডিফেন্স মিনিস্ট্রির সদর দপ্তর আর গাজার মাঝে ফারাক নেই, দুটোই ধ্বংস স্তুপ।
☞ দেশের অর্থমন্ত্রকের মূল অফিস এখন খেলার মাঠ, নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
☞ তেল নফ এয়ারবেস- পুরোপুরি ধ্বংস
☞ হাইফা, গ্যালিলি সহ সবকটা বড় শহর আংশিক বা অধিকাংসই মারন ধ্বংসযজ্ঞের নিচে।
কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে- ➤দিমনা পরমানু গবেষণা কেন্দ্রে মারাত্বক আঘাত হেনে সেটাকে তছনছ করে দিয়েছে। প্রচুর গবেষক ও বিজ্ঞানীর মৃত্যুর আশঙ্কার পাশাপাশি তেজস্ত্রিয়তা ছড়িয়ে পরার সম্ভাবনা প্রবল। হিজরাইল ছেড়ে পালাচ্ছে অবৈধ সেটলার নামের পশু গুলো। বেন গুরিয়ন বন্ধ কিন্তু বিমানের জন্য বিক্ষোভ ভাঙভুর চালাচ্ছে জায়োনিষ্ট জানোয়ারগুলো।
ঘনবসতিপূর্ণ শহরের কেন্দ্রস্থলে সামরিক স্থাপনা বানিয়েছে মানবঢালের আড়ালে। সেগুলো সব বাপের ভোগে পাঠিয়েছে।
জায়োনিষ্ট মিডিয়ার তরফে লুকিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাতে খামতি নেই। রীতিমতো সত্য চাপা দিতে, ছবি ভিডিও প্রকাশ না করতে সমানে মাইকিং, সোস্যালমিডিয়াতে পোষ্ট করছে যায়নবাদী সরকার। তার পরেও সত্য ঠিক বাইরে আসছে লিক করে, সেটুকুতেই ধ্বংসের ভয়াবহতা দেখে শিউরে উঠছে বিশ্ব।
আজ ভয়ের ঘরে ভয় ঢুকিয়েছে ইরান। আমাদের তৃতীয় বিশ্বের জন্য আর কীইবা চায়! এটা আমাদের মত যারা তথাকথিত মানবতার স্বঘোষিত ধারকদের কাছে নিপীড়িত, লাঞ্চিত ও শোষিত- সেই সকলের কাছে আজ আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার দিন।
আমাদের ভক্তদের কথা ছেড়ে দিন, ওরা বিবর্তনবাদের শুরুর স্টেজে এখনও বাঁদর পর্যায়ে আছে। কিসে আনন্দ করতে হয় আর কিসে শোক- সেটা বুঝতে পারলে কেউ ভক্ত হয়না।
ওদিকে ট্রাম্প ছাগলটা সমানে ব্যা ব্যা করে যাচ্ছে। ছাগলের সুবিধা হলো- সে যেমন খুশি চেঁচাতে পারে, অসুবিধা হলো সে জানেনা সে ছাগল।
কবি কেঁদে কেঁদে এজন্যই বলেছে- শৃংখল ছাড়া হারাবার কিছু নেই এরকম অবস্থা করতে নেই কারো। কারন সে বাঁচার লড়াই দিলে তাকে রক্ষা করা কঠিন। যুদ্ধ শুধু অস্ত্র দিয়ে হয়না, মনের জোর থাকা দরকার। ভাড়াটে চাকর দিয়ে কমফোর্ট জোন থেকে মানুষ হত্যার নেশায় রক্ত নিয়ে হোলি খেলা, আর বাঁচতে গেলে লড়তে হবে- এমন জাতির লড়াই এক নয়ম
তবে ইরানি মিসাইল গুলো- তেল আবিব সহ হিজরাইলের বড় শহর গুলোতে পরলেও , আগুনটা লেগেছে আমাদের দেশের গোবরভক্তেদের মায়ের সায়াতলে আর বাপের রেক্টামে থাকা আয়রন ডোমে। যদিও বাপ ও বাপের ভাইদের মুখে সেলোটেপ আঁটা রয়েছে।
একটা সময় আসে যখন পক্ষ নিতে হয়। যুদ্ধোন্মাদ দের বিপক্ষে শান্তির পক্ষে থাকা মানে মৃত্যুতে আলিঙ্গন করা কাপুরুষের মতো। আমি চাই বা না চাই- পৃথিবীতে যুদ্ধ আসন্ন, বা বলা ভালো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক মহড়া চলছে। তাকে স্বাগত জানাই। তাতে সমস্ত পাপ ধুয়ে নতুন সুন্দর একটা পৃথিবী আসবে।
ইরানের এই প্রত্যাঘাত মানব সভ্যতার জন্য জরুরি ছিল। বিশ্ব আর একমেরু নয়।

বুধবার, ১১ জুন, ২০২৫

সে অনেক আগেই অন্যের নৌকায় সাওয়ার হয়েছে


শান্ত হও, মেনে নাও। যে যেতে বাধ্য করেছে, সে অনেক আগেই অন্যের নৌকায় সাওয়ার হয়েছে। চলে যাওয়াটা ফল, বিষ গাছের জন্ম অনেক অনেক আগে। তুমি বিষকে চিনতে পারোনি বা উপেক্ষা করে গেছো সেটা তোমার ব্যর্থতা। সে ভালো থাকতে চেয়ে তোমাকে তাড়িয়েছে, তার অধিকারে হস্তক্ষেপ কোরোনা। জোর করতে নেই। ভালোবাসার আগে ভালো থাকাটা জরুরী। শুধু সম্পর্ক রাখতে হবে বলেই জোর করতে নেই। লোক দেখানো ভালো থেকে তোমার কী লাভ? বাস্তবকে মেনে নাও।


সে তার স্বার্থে তোমাকে ব্যবহার করে ওয়াক থুঃ করে দিয়েছে, যখন তুমি সবথেকে অসহায়। যে পাখি কখনও তোমার ছিলোনা, তাকে ভালোবাসার শিকলে বাঁধতে চাওয়া- তোমার অন্য কোনো পাপের সাজা। সরল হবার আগে সহজ হওয়া জরুরী। মেনে নেওয়া কঠিন, কিন্ত শক্তি রাখা জরুরী। তোমাকেই আগলাতে হবে নিজেকে। যে মুহুর্তে সে সামাজিকভাবে যৌনতার স্বীকৃতি পেয়ে গিয়েছিল, তোমার সাথে আনুষ্ঠানিক দাম্পত্যের মধ্য দিয়ে- সেখানেই তার উদ্দেশ্য সাধন হয়ে গিয়েছিল। এই চালাকিটা হাসিলের জন্য এতো প্রেম ভালবাসার অভিনয় ছিলো, স্বীকৃতি.....

তুমি যে মূল্যহীন- তা বুঝতে সময় লেগেছে বলেই কষ্ট পাচ্ছো, মনে হচ্ছে ঠকে গিয়েছো। শুরু থেকেই তুমি বোঝা হয়ে গিয়েছিলে, মানুষ অনিচ্ছা সত্বেও তেতো অষুধ খায়- তোমাকেও তেমনই সহ্য করেছে সে, শুরুর দিন থেকে- নিঃশ্বাস বন্ধ রেখে। আজকের দিনটা কোনো ব্যতিক্রমী নয়, ব্যতিক্রমী সেদিন ছিল যেদিন তুমি বিবেক বিসর্জন দিয়ে আবেগের বসে তাকে সৎ ভেবে বসেছিলে। এটা পাপ ছিল। পাপের সাজা ভুগতেই হবে।

তুমি ধোকা খাওনি, সে দিয়েছে। সাদাচোখে মনে হচ্ছে সে জিতে গেছে, বিশ্বাস করো- এটা তাৎক্ষণিক। যত সময় যাবে সামাজিক সুরক্ষার পর্দা সরে গিয়ে কামের লোলুপ দৃষ্টি বিষে যখন প্রতিনিয়ত দংশন জ্বালা অনুভব করবে, সেদিন সেই যাতনার কথা বলার মত কাউকে পাবেনা পাশে। বিশ্বাস করো, এমন দিন আসবেই।

ধোকা ততক্ষণ রোমান্টিক যতক্ষন নিজে না খাচ্ছো। সে যেদিন ধোকা খাবে- লুকানোর জাইগা পাবেনা এতোবড় পৃথিবীতে

মঙ্গলবার, ২৭ মে, ২০২৫

মাননীয়া চোরেদের জন্য শিক্ষকদের বলি দিয়েছেন



আসলে তোলা যারা তুলেছে, চাকরি যারা বিক্রি করেছে, বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে যারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বসে আছে সরকারী চাকরির- তারা প্রত্যেকে "সততার প্রতীকের" দলের সম্পদ। সেই কারনেই ইনি নিয়মিত সময় অন্তর "কিছু একটা" বলে নিয়মিত সময় নষ্ট করে যাচ্ছেন। নতুবা যারা তোলামূলকে টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছে, তাদের পোঁ'দের চামড়া কপালে তুলে দেবে কেলিয়ে- যারা টাকা দিয়েছে। পুলিশ বা সিভিক দিয়ে এদের বাঁচানো যাবেনা।


একবার ধোলাই শুরু হলে- আবাস যোজনার কাটমানি, ফসলের ন্যায্য মূল্যের কাটমানি সহ যে যে যাকে যাকে যেখানে ঘুষ দিয়েছে, তাকেই ফেলে ক্যালাবে। আর গণধোলাই বড় ছোঁয়াচে রোগ, দাবানলের মত ছড়ায়। কেউ অযোগ্যতার কারনে স্বেচ্ছায় ঘুষ দিয়ে চাকরি চুরি করেছে, কেউ ভয়ে বাধ্য হয়ে ঘুষ দিয়েছে- কিন্তু ঘুষ যে দিয়েছে এটাই সত্য। উন্নয়নের প্রতীক একবারও অস্বীকার করেনি যে তার দলের সম্পদগুলোর উন্নতি তোলার টাকায় হয়নি।

এবারে সেই এজেন্টরা ক্যালানি খেলেই, একপর্যায়ে বলে দেবে যে, তারা তো মাত্র ৩০% এর মালিক, আসল ৭০ % কালীঘাটে গেছে।

সততার প্রতীক আসলে বাঁচাবার চেষ্টা করছে- দলের চোরগুলো ও নিজেকে। পাব্লিকে চুতিয়া বানাচ্ছে, প্রচারখানা এমন যেন উনি চাকরিহারাদের জন্য এতো পরিকল্পনা করছে। মাঝেমধ্যেই নানান পরিকল্পনা আর ঘোষণা নিয়ে আসছেন।

অহেতুক সময় নষ্ট করছে। প্রতিটা অসৎ ষড়যন্ত্রকারী যেকোনো মূল্যে সময় নষ্ট করার হরেক বাহানা খোঁজে, যুগে যুগে প্রতিটা সমস্যায় তোলামূলের মত 'দাগী' অপরাধীপক্ষ এটাই করে। মমতা ব্যানার্জী নতুন কিছু করছেনা, দলের চোরগুলোকে যতটা দিন সম্ভব রক্ষা করছে ভাঁট বকে।

খোঁজা বিরোধীরা যদি তিথিনক্ষত্র দেখে আন্দোলন করে, মমতা ব্যানার্জী আজীবন মুখ্যমন্ত্রী থাকবে। মুর্সিদাবাদ দাঙ্গা যে রাজ্য সরকারেরই কীর্তি - এটার কেন্দ্রীয় রিপোর্ট থাকা সত্বেও তথাকথিত বিরোধী পক্ষের মুখে এক্সট্রা ডটেড কণ্ডোম লাগানো রয়েছে। নিশ্চিদ্র ব্যবস্থা, এক ফোঁটা আন্দোলনের বীর্য ফেসবুকের বাইরে চোঁয়ানোর জো নেই। কে যে কার ডাবল এজেন্ট সেটা বোঝার জন্য ফেলুদা বা ব্যোমকেশ বক্সী হওয়ার দরকার নেই। সিধু জ্যাঠার মত তথ্য আর পরবর্তী গতিপ্রকৃতি- একটু স্থির ও সুস্থ মস্তিষ্কে নজর রাখলেই সবটা পরিষ্কার হয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, বিজেপি এরাজ্যের বিরোধী নয়। তারা সরকারের শরিক। বস্তুত বিজেপি আর তৃণমূলের ৫০% নেতাকাঁথার দল নিয়মিত এদল ওদলে যাতায়াত করে- এরা কমন ও সেম। বিজেপি দাঙ্গা বাঁধায়, তৃণমূল দুধেল গাইদের ভোটের ৯৫% নিশ্চিত করে, বিনিময়ে RSS তার কর্মকাণ্ডের জন্য উপযুক্ত ভূমি পায় তৃণমূল সরকারের তরফে।

আগামী বছরের ভোট আসতে আসতে ছোট বড় কয়েকটা দাঙ্গা বা দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হবে, মুর্সিদাবাদ দাঙ্গা দিয়ে তার ফিতে কাটা হয়েছে। "বিজেপি চলে আসবে" অতএব দুধেল গাইদের ভোট কনসলিডেট করতেই পারলেই আগামী ৫ বছর আবার চোরগুলো রাজত্ব করবে, সহজ ও সরল গণতান্ত্রিক উপায়- অন্ন বস্ত্র বাসস্থান চিকিৎসা নয়, জুজু দেখাও ক্ষমতায় থাকো।

ফলে মান্নীয়া এমন প্রকাশ্য মিথ্যাচার করেই যাবে, আপনি আমি সহ্যই করব। ফেসবুকে বিপ্লব করব ভিনরাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে।

রবিবার, ১৮ মে, ২০২৫

শখের পুরুষকে বিয়ে

 

‘ব্লাঁশে মনিয়ে’ তার শখের পুরুষকে বিয়ে করতে চেয়েছিলো, কিন্তু ব্লাঁশে’র মা রাজি ছিল না।
হঠাৎ একদিন লাপাত্তা হয়ে গেলো ব্লাঁশে। আত্মীয়স্বজন, পাড়াপড়শী, বন্ধুবান্ধব, সবাই বুঝে ফেললো— ওরা পালিয়ে কোথাও ঘর বেঁধেছে।
যাইহোক, এরপর ২৫ বছর কেটে গেছে। কেউ একজন পুলিশকে একটি গোপন তথ্য জানিয়ে দিলো। মনিয়ে’দের বাড়িতে পুলিশ এলো। কী আশ্চর্য, মনিয়েকে পাওয়া গেলো বাড়িতেই, বাড়ির চিলেকোঠার ভিতরে, শিকলে-বাঁধা, কঙ্কালসার, মৃত্যুপথযাত্রী। ব্লাঁশে’র মা-ই আঁটকে রেখেছিলো ২৫ বছর ধরে।
তথ্যসূত্র— উইকিপিডিয়া
(Blanche Monnier)


আজকের দিনেও অনেক ‘ব্লাঁশে’ আঁটকে রয়েছে অদৃশ্য শিকলে বন্দি হয়ে, অনেক ক্ষেত্রেই তাদের জন্মদাত্রী মা এই কাজটি করে। কখনও ঠুনকো সম্মানের দায়ে, কখনও অন্যকিছু। ব্লাঁশে যদি রোজগেরে হয়, তার নিশ্চিত অর্থের লোভে অনেক মা তার নিজ কন্যাকে বন্দি বানিয়ে রেখে দেয়, হরেক ফিকিরে। তাকে নিজের মত করে সংসার করতে দেয়না, যদি ব্লাঁশে তার সংসারে মগ্ন হয়ে যায় তাহলে প্রতিমাসে ব্লাঁশে’র রোজগারের অর্থ কীভাবে ভোগ করা যাবে নির্বিচারে!!
শিকল যে শুধু লোহার হয় কে বললো, শিকল অনেক সময় আবেগের হয়, মেকি অভিভাবকত্বের হয়। শিকল ঠুনকো জেদের হয়, ‘লোকে কী বলবে’ শিকল সবচেয়ে দুর্ভেদ্য।
সুতরাং, এই সমস্ত টক্সিক আত্মীয়দের যদি জীবন থেকে দূর না করে দেওয়া যায়, সেটা যত নিকটাত্মীয়ই হোকনা কেন, ব্লাঁশে কখনই সংসার সুখ পাবেনা, না পাবে নিজের মত করে মুক্ত বাতাসে বাঁচার শান্তি। অদৃশ্য শিকলে বন্দি হয়েই থাকবে, কোনো এক ২০ বছর পর একটা সকালে কঙ্কালসার অবস্থায় নিজেকে আবিষ্কার করবে। আত্মীয়েরা কী কিছু হারিয়েছে জীবনে? প্রত্যেকে নিজের নিজের শখের নারী/পুরুষের সাথে জীবন কাটিয়েছে নিজের শর্তে। তারা পৃথিবীর সমস্ত রঙ রূপ আস্বাদন করেছে সুখ দুঃখের আবছায়াতে।
ব্লাঁশে কী পেয়েছে? অনাহারে, অর্ধনগ্ন, শিকলে বাঁধা আলোবাতাসহীন একটা বদ্ধ কুঠুরি ছাড়া?

শুক্রবার, ১৬ মে, ২০২৫

ফুটফুটে চুতিয়া

 


ইয়ে, মিডিয়া আপনাকে চুতিয়া বানায়নি। আপনি চুতিয়াই ছিলেন, গতকাল একজন ভেরিফায়েড চুতিয়া হিসাবে প্রমানিত হলেন মাত্র

৯ই মে সকাল ৮টার সময় করা ভারতীয় আর্মির টুইট অনুযায়ী সত্যটা হচ্ছে- ইন্ডিয়া পাকিস্তান আক্রমণ করেনি, তেমন কোনো পরিকল্পনাও নেই। বেছে বেছে সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটি উড়িয়েছে, উড়াচ্ছে ও আগামীতে এটা চালু থাকবে নির্মূল না হওয়া অবধি।

গোদী মিডিয়া নাম এমনি এমনি হয়নি, একদিনেও হয়নি। যাকে ভক্তেরা ১০১% বিশ্বাস করে। আপনি হয়তবা বাম সমর্থক, তেনার মাঝে লেনিন দেখা অরাজনৈতিক, রাজনীতি বোঝেননা কিন্তু মোদীকে ভালো লাগে তাই বিজেপিকে ভোট দেন, অথবা নির্বিবাদী মানুষ কিম্বা শিক্ষক। তবে, কোথাও একটা বিশ্বাস তো ছিলো এই মিডিয়ার উপরে- যারা সরকারকে প্রশ্ন না করে গত ১২ বছর ধরে হিন্দু-মুসলমান, us vs them এর মাধ্যমে, বিজেপির যাতে রাজনৈতিক লাভ হয় সেই প্রোপাগান্ডা চালায়।

গতকাল ভারতীয় মূলধারার সব মিডিয়া ভুয়ো খবর দেখিয়েছে, এটা আজ প্রমানিত। কিন্তু এর উৎস কোথায়? স্বাভাবিক ভাবেই খোঁজেননি। নুন্যতম ফ্যাক্ট চেকের দিকেও নজর রাখেননি এমনই জোশ উঠে গিয়েছিল। একটু কষ্ট করে খুঁজে দেখলেই পেয়ে যাবেন। india.com, PMO India, Ajit Doval, Indian Military Fan Page, Sanatani Hindu- এই জাতীয় মাত্র খান দশেক পেজ থেকে ফেসবুক, এক্সহ্যান্ডল ও ইউটিউবে মূল পোষ্টার বা ফেক ভিডিও গুলো ছাড়া হয়ে ছিল।

সকলেই জানে এগুলো বিজেপির IT সেলের কাজ, যারা গ্রেটার দিল্লির নয়ডার একটা অফিস থেকে করেছে, অন্তত গত রাত্রের IP Address Traking এর হিসাব অনুযায়ী। এটা সরকার জানেনা? অবশ্যই জানে, সরকার মানে তো এই বিজেপি নেতাদেরই নিয়ন্ত্রনে রাষ্ট্র ব্যবস্থা, যাদের নিয়ন্ত্রণে আঁটি সেল নিশ্চিন্তে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালায়। অনেকটা সেম সাইড হয়ে যাচ্ছে দেখে ‘ডিফেন্স মিনিস্ট্রি’কে দিয়ে একটা লিখিত ঘোষণা করে দায় সেরেছে সরকার, আজ সকালে। যারা মিথ্যাচারের অপরাধ করলো তাদের একজনের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। বুঝেই গেলেন ১৮২ দেশের মাঝে কেন গোদী মিডিয়া ১৫১ তম স্থানে। গোয়েবলস অবধি লজ্জা পেতো এদের পেশাদারিত্ব দেখতে পেলে।

IPL ম্যাচ পরিত্যক্ত হতেই "নেট পাব্লিক" খোরাক চাইলো। মিডিয়া সাথে সাথে বলিউডি স্টাইলে পাকিস্তান এনে দিলো। কিছু জন উন্মাদনায় ফেটে পড়ল যুদ্ধ লেগেছে বলে, কেউ কেউ উচ্চমার্গীয় ছেনালি শুরু করল যুদ্ধ বন্ধের আর্জি জানিয়ে

দেখুন, ক্যান্সার সারাতে গেলে কেমো থেরাপির ইঞ্জেকশন, সেলাইন সইতে হবে। এই চিকিৎসাতে শরীর মুটিয়ে যাবেই, শরীরের লোম ঝরে যাবে, দেহে কালো কালো স্পট আসবে, সাথে অসহ্য যন্ত্রনা। তবেই ক্যান্সারের যন্ত্রনামুক্তি সম্ভব। পাকিস্তান রাষ্ট্র হলো সেই ক্যান্সার, এই রোগ সারাতে আমাদের কিছু ক্ষয়ক্ষতি সইতেই হবে, এটাই প্রাক্টিক্যাল ঘটনা। কিন্তু সেটা over the Night হয়না, সব কিছুর একটা প্রসেস আছে। যেমন বাংলাদেশের ভারত বিরোধী সমাজ, সেটাও রোগ, তবে গুপ্তরোগ, বড় জোর দাদ, হাজা বা অর্শ কিম্বা ঐ জাতীয়ই। মৃত্যুভয় নেই, কিন্তু সর্বক্ষণ ক্রনিক চুলকানি হতেই থাকবে।

আবেগ যখন বুদ্ধিকে গ্রাস করে তখন হিসাব-নিকেশ-অঙ্ক ইজেরে চলে যায়। মাত্র ৩৬৫ বর্গ কিলোমিটারের গাজাকে- ইজরায়েল, ন্যাটো এবং গোটা মার্কিন সেনা বহর তাদের যুদ্ধ সরঞ্জাম ও অস্ত্র দিয়ে সম্পূর্ণ নিকেশ করতে পারেনি ৭০ বছরে। সেখানে ৮৮১৯১৩ বর্গ কিলোমিটারের ‘ক্যান্সার’ পাকিস্তানকে ২৪ ঘন্টায় সাফাই করে ‘গাজা বানিয়ে’ দেবে এটা বিশ্বাস করা আপনার মত গান্ডুকেই মানায়। সময় লাগবে, ধীরে ধীরে মারবে, আর সেই অঙ্ক জানে যারা দেশ সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর কোনো দায় নেই আপনাকে অর্গাজম দেওয়ার জন্য T-20 মোডে বেহিসাবে কাজ করবে। রাজনৈতিক ফাঁসের চাপে সেনারা অনেক সময় চেয়ে পালটা দিতে পারেনা এটাকে মাথায় রেখেই লিখছি।

কিছু বাংলাদেশী ফেসবুক পেজ অকারনে ইন্ডিয়াকে গালাগালি করে, আমরাও আবেগ নিয়ন্ত্রণ না করতে পেরে হুলিয়ে কমেন্ট শেয়ার করি। এতে পেজের ভিউজ বাড়ে, মানিটাইজেশন করা থাকলে পেজ মালিকের রোজগার হয়। পাতি বাংলাতে খিস্তি খেয়ে যদি ডলার আসে, খিস্তিই সই। ওটাই রুটি রুজি। আমার পরিচিত এক ‘ডিজিটাল ক্রিয়েটর’ যুবতী- গত রাত্রে ২ ঘন্টায় ৩টে পোষ্ট করে বসে ছিল উত্তেজনায় “আজ সারারাত উদ্বিগ্নতার... জয় আমাদের হবেই”। যারা নিজের বাড়ির পুরো ম্যাপটাও সঠিকভাবে জানেনা তারাই মূলত গোদী মিডিয়া ভাইরাসে বেশী আক্রান্ত হয়েছে।

মিডিয়া হাউজ গুলোর কোনোটাই রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত নয়, বড় বড় পুঁজির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মালিকানাধীন যাদের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে। পুঁজি রাষ্ট্র বোঝেনা, নেতা মানেনা, তার জাত ধর্ম কিচ্ছু নেই। সে কেবল মুনাফা বোঝে। পাকিস্তান নিয়ে জনমানসে রাগ আছে, হতাশা আছে, সর্বোপরি বদলা নেওয়া চাহিদা আছে। মিডিয়া সেটাকেই নিজেদের আনুকূল্যে এনে ক্রিকেট/ফু্টবল ধারাভাষ্যের মত সমানে নব নব শিহরণ দিয়ে গেছে প্রতি মুহুর্তে। হামলে পরে মানুষ দেখেছে, অনংশগ্রহন করেছে, এতে চ্যানেলের ভিউ বেড়েছে, বিজ্ঞাপনের আয় বেড়েছে।

অতএব আপনি ফুটফুটে ‘ওলে বাবালে’ লেভেলের চুতিয়া ছিলেন, গতরাত্রে শুধু স্নাতক পর্যায়ের সার্টিফায়েড ‘উদগান্ডু চুতিয়া’ হলেন মাত্র

 

সোমবার, ১২ মে, ২০২৫

এক ফোনেই ফুস.........



এক ফোনেই ফুস.........

আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষন দেবেন মাননীয় সারেন্ডার মোদী।
কটা সাধারণ প্রশ্ন রইল-
১) যে ৫ জন জঙ্গী সন্ত্রাস চালালো, তারা কী ধরা পরেছে?
২) তাদের খতম করা হয়ে গিয়েছে?
৩) রাষ্ট্র কী পেলো মিডিয়ার মিথ্যার ফুলঝরি ছাড়া?
৪) ইন্টেলিজেনন্স ফেলিওর এর দায় কে নিয়েছে?
৫) আমরা যদি সার্বভৌম রাষ্ট্র হই, ট্রাম্প কীভাবে সবার আগে ঘোষনা করে?
৬) POK ফেরানোর কী হলো?
৭) কতগুলো জঙ্গীকে খতম করা গেছে?
৮) কারা প্রথমে আমেরিকার পায়ে ধরেছিল মধ্যস্থতার সাহায্য চেয়ে?
জানি ভক্তহৃদয় সম্রাট- মিসেস সরি, মিস্টার "সাইরেন লেডি" এসব প্রশ্নের আশপাস দিয়ে যাবেননা। যা কিছু সাফল্য সেটা সেনাবাহিনীর হোক বা অন্য কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের- সব কৃতিত্ব 'স্যারেন্ডার' সাহেবের, যা কিছু ব্যর্থতা সব নেহেরুর কিম্বা ঔরঙ্গজেবের।
যার সাংবাদিকদের সামনাসামনি করার মুরোদ নেই, যিনি মূলত প্রধানমন্ত্রীর ভুমিকাতে অভিনয় করছেন, আসল সরকারি সিদ্ধান্ত যা কিছু আমেরিকা নিচ্ছে, সেটা পাকিস্তানের সাথে বদলা হোক বা শুল্কনীতি। দেশের মাঝে সর্বদল বৈঠক করছে অমিত শাহ, পাকিস্তানের মত জঙ্গি রাষ্ট্রের মোকাবিলা করছে আমাদের সেনাবাহিনী- আর ১৪০ কোটি দেশ, তার গরিমা লুন্ঠিত হচ্ছে- একটা অযোগ্য সরকার আর তার দূুর্বল প্রধানমন্ত্রীয় দায়ে। বিশ্বজুড়ে খোরাক হচ্ছে আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে।
১৫ বছর ধরে প্রোপাগাণ্ডা মেসিনারি মোদীকে বাঘের পোশাক পরিয়ে একটা হারকিউলিস সম ফিগার বানিয়ে দিয়েছিল। লাগাতার প্রচারে ভক্ত সমাজ তৈরি হয়েছিল, যারা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে, মোদী মানেই সব কিছুর সমাধান। এদিকে এক ফোনেই ফুস হয়ে যাবিতীয় গ্যাস বেরিয়ে ছালটুকু পরে রয়েছে। ওদিকে মিথ্যুক পাকিস্তানের "যুদ্ধ জয়ের" নিলজ্জ উল্লাস সোস্যাল মিডিয়াতে ছড়াছড়ি। চুড়ান্ত খিল্লি হচ্ছে আঁটিসেলের ৫ টাকার সেনাদল। এদিকে দেশের সেনাকর্তাদের শান্ত, মার্জিত, পরিসীলিত অফিসিয়াল সাংবাদিক বৈঠকের বয়ানে ভক্তদের অর্গাজম হচ্ছেনা, ফলত তারা দিশেহারা হয়ে গেছে।
ভক্ত নামের আঁটি সেলের 'জম্বি' ক্ষ্যাপা কুত্তাগুলো দিকভ্রান্ত হয়ে রাষ্ট্রযন্ত্রকেই কামরাতে লেগেছে, তাদের জন্য কিছুটা এঁটোকাঁটা ছুড়ে দিতে হবে যে, তাই হয়ত জাতির উদ্দেশ্যে বাতেলাবাজি করতে আসছেন। সোস্যালমিডিয়াতে understanding versus agreement টুলকিট গতকাল গাধার ইয়েতে ঢুকে গেছে। গোদি মিডিয়া নিয়েই নিজের পশ্চাদ মেহন করে বিশ্বাসযোগ্যোতা মাইনাসে রান করাচ্ছে। ভক্তরাও বিশ্বাস করছেনা মিডিয়াকে, অতএব স্বয়ং ভক্তপিতাকেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামিয়ে দিয়েছে নাগপুর।
সরকারের বিদেশনীতি ফেইল মেরেছে, বিজেপির প্রোপ্যাগান্ডা মেসিনারি দেশের সাফল্যের কথা না বলে কেবল ব্যর্থ ভক্তপিতার ভাবমূর্তি উদ্ধারে ব্যস্ত। অর্ণবের মত বিজেপির অফিসিয়াল স্পোকপার্সনের তারকাটা মন্তব্য আসছে। সামনে বিহার নির্বাচন, ওয়াকফ বিল আর শরিয়া আইন বাতিলের মাস্টারস্ট্রোকের বাইরে এদের হাতে কিইবা রয়েছে ভোটের রাজনীতির জন্য?
স্বাধীনতার ৭৮ বছরে, কাশ্মীর নিয়ে প্রথমবারের জন্য তৃতীয় পক্ষ হাজির করে ফেলেছেন ৫৬ ইঞ্চির বামন পালোয়ান, পাকিস্তান নিয়েও যা বলার ট্রাম্প বলছে, উনিজি নতুন কী বলবেন আজ?
দেশের দলিত, বামপন্থী, প্রশ্ন করা বিরোধীপক্ষ, স্পষ্টবক্তা সাংবাদিক, সর্বোপরি মুসলমানদের উপরে অত্যাচার করে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতিতে জেতা যায়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নয়।
আমাদের রাষ্ট্র কার ইশারাতে চলছে? দেশের মানুষ যাকে দেশ চালাবার দায়িত্ব দিয়েছিল 'ফায়ার' ভেবে, তিনি তার মার্কিন 'মালিকের'' আদেশে নতজানু হয়ে 'সিজফায়ার' অবতারে প্রকট হয়েছেন।
একদা "চীনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান" বলে বামেদের যারা কটাক্ষ করতো, তারা আজ "আমেরিকার রাষ্ট্রপিতাই আমাদের রাষ্ট্র পিতা" মেনে নিয়েও- মুখ ফুটে বলতে পারছে না।
যেখানে আমাদের সেনা সর্বদিক থেকে এডভান্টেজে ছিল জলে-স্থলে-আকাশে, পাকিস্তানের একজন সাংসদ কাঁদছে, তাদের নিউজ এ্যঙ্কর কাঁদছে- এগুলো সব আমরা দেখেছি। আমাদের বীর নৌসেনার তরফে অফিসিয়ালি জানানো হয়েছে যে 'বিক্রান্ত' সেই রাত্রে এ্যাটাকের প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিল, তাহলে কার ইশারাতে, কার স্বার্থ সুরক্ষিত করতে পাকিস্তানকে আবার 'সুযোগ' দেওয়া হলো?
এই মুহুর্তে বিজেপি দল ও বিজেপি পরিচালিত সরকারের তরফে যা কিছু প্রচার, সবটাই ফেকুবাবুর ছবি সহ অপারেশন সিন্দুরের ক্রেডিটে নিজেদের ভাবমূর্তি উদ্ধারের জন্য। দেশ নয় ব্যাক্তিই এখানে প্রধান, কারন ভোটে জেতার জন্য এই মুখটাকেই গত ১৫ বছর ধরে ব্যবহার করেছে RSS- BJP.
রাষ্ট্র আর সরকার এক নয়। রাষ্ট্রকে সরকার পরিচালনা করে, আর এই সরকার মিথ্যা সর্বস্ব, ভীতু ও দুর্বল, যারা দেশের মধ্যে জাতিদাঙ্গা লাগাতে পারে, যুদ্ধের ময়দানে সেনাকে প্রয়োজনীয় বদলার নির্দেশ না দিয়ে 'সিজফায়ারের' কাপুরুষতা মেনে নিয়ে আলোচনায় রাজি হয়ে যায়?
২০১৬ সাল থেকে কূলভূষণ পাক জেলে বন্দি, দিন দশেক আগে পূর্ণম সাউ বন্দি হয়েছেন- তাদের বিনা শর্তে ছাড়িয়ে না এনেই আলোচনায় বসছে পাকিস্তানের সাথে, কেন এই ভীরুতা? কিসের ভয়?
আসলে আত্মবিশ্বাসের অভাব, যা মূর্খদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট। সেনা নিয়ে এরা রাজনীতি করে, কিন্তু দেশের সেনার প্রতি বিজেপি পরিচালিত সরকার, দল বিজেপি ও সঙ্ঘ নেতাদেরই ভরষা নেই। নতুবা নতজানু হয়ে মার্কিন প্রভুর নির্দেশে বাধ্য ছেলের মত আলোচনাতে বসতনা।
কাগুজে বাঘ আজ সন্ধ্যায় নতুন কোন ভাঁড়ামো করতে আসে সেটাই দেখার।
আপনার কী মনে হয়?

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...