মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

PM Cares Fund


 

স্বাধীন ভারতের কোনো প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মত ঠগ, প্রবঞ্চক, নিকৃষ্ট দুর্নীতিগ্রস্ত হতে পারেনি, আগামীতেও পারবে কিনা সন্দেহ আছে। জাতিদাঙ্গা, আদানি, আম্বানি, করের টাকায় মোচ্ছব করে বিদেশভ্রমণ সে সব একদিকে, আর PM কেয়ার ফান্ডের নামে প্রকাশ্য রাহাজানি অন্যদিকে। এলেকটোরাল বন্ডের মত এটাও সমমানের দুর্নীতি, যার গোটাটাই প্রায় কালো টাকা, সংবিধানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাষ্ট্রশক্তি ব্যবহার করে দিনে ডাকাতি করছে মোদী সরকার। পাশাপাশি মানুষের স্মৃতি থেকে এই দুর্নীতিটা ক্রমশ গায়েব করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

২০২০ সালে করোনার সময়, নাগরিক সহায়তা ও জরুরি অবস্থা তহবিল এবং অন্যান্য উচ্চ জরুরি পরিস্থিতিতে প্রতিরোধ এবং ত্রাণের কাজে ব্যবহারের জন্য ‘পাবলিক ফান্ডিং’ উদ্দেশ্যে- মাননীয় নরেন্দ্র মোদী তার PM CARES’ তহবিল গঠনের ঘোষণা করেছিলেন। সেখানে সরকারী .gov ডোমেইন এবং ভারতের জাতীয় প্রতীক সহ একটি ওয়েবসাইট ব্যবহার হয়েছিলো ও হয়ে চলেছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা তহবিল এবং রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিল থাকা সত্বেও সেগুলোকে উপেক্ষা করে এই নতুন ফাঁদ পাতা হয়েছিলো। বিভিন্ন বেসরকারি তথ্যমতে মোদীর ব্যক্তিগত PM-CARES তহবিল মাত্র ৩ বছরে ৩০,০০০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে জনগণের থেকে।

সরকারের নাম, সরকারী প্রচারযন্ত্র, সরকারী পরিচয়বাহক ওয়েওসাইট ব্যবহার করা সত্ত্বেও, RTI আইনের অধীনে যতবার তথ্য জানতে চেয়ে ‘নিয়ম মেনে’ আবেদন করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর অদ্ভুত যুক্তি দেখিয়ে বিষয়টিকে প্রতিবার নস্যাৎ করে দিয়েছে- এটা প্রধানমন্ত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত তহবিল’, যা কোনও সরকারি সম্পত্তি নয়। ভোটচোর জ্ঞানেশ কুমারের- “ক্যায়া আপনি মাতাও, বহুও, বেটিও সহেত কিসি ভি মতদাতা কি CCTV ভিডিও চুনাও আয়োগ কো সাঁঝা করনা চাহিয়ে ক্যা?” এই স্ক্রিপ্টেড ডায়লোগের সাথে পুরোপুরো মিলে যাচ্ছেনা কী!

ই PM কেয়ার তহবিলের চেয়ারম্যান হলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য ট্রাস্টিরা হলেন অমিত শাহ, রাজনাথ সিং এবং নির্মলা সীতারমন। সমস্ত রকম আইনকে কাঁচকলা দেখিয়ে কোন অনুমতি ছাড়াই কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মীদের ১ দিনের বেতন জবরদস্তি ভাবে কেটে নিয়েছিল PM Care এর নামে। ফলত এর উপরে দিল্লি কোর্টে মামলা দাখিল হয়, সুপ্রিম কোর্টেও একটি পৃথক মামলা দায়ের হয় প্রশান্ত ভূষণ কর্তৃক। সরকারের স্বচ্ছতা বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে, আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলে যে- কোনো ব্যক্তিগত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কীভাবে জাতীয় প্রতীক ব্যবহার করতে পারে? ফাঁদে পরা সরকার তখন একে ‘পাবলিক তহবিল’ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।

তবে এর সাথে একটা আইন জুড়ে দেয় যে, PM কেয়ার তহবিল- ২০০৫ সালের তথ্যের অধিকার আইনের অন্তর্ভুক্ত নয়। এমনকি কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG) আওতাধীন অডিটের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এক্ষেত্রেও কেন্দ্রের অদ্ভুত যুক্তি ছিল- যেহেতু কাউকে জবরদস্তি টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছেনা, তাই এটা জনগণের পাবলিক সম্পত্তি হতে পারেনা। কার থেকে কী লুকাতে এই লুকোচুরি তা কেউ জানেনা। লক্ষ লক্ষ মামলার মত এই মামলাও ঝুলে রয়েছে আদালতে, বিজেপি সরকার থাকা অবধি এই মামলা কখনই যে দিনের আলো দেখবেনা তা বলাই বাহুল্য।

PM CARES-কারা দান করেছে, তাদের নাম কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি আজ অবধি। কিছু মোদী ঘনিষ্ট কোম্পানি নিজেরা তাদের প্রদেয় দানের অঙ্ক ঘোষণা করেছে, যেমন রিলায়েন্স গ্রুপ ৫০০ কোটি, আদানি গ্রুপ ১০০ কোটি, পেটিএম ৫০০ কোটি, জেএসডব্লিউ গ্রুপ ১০০ কোটি, BCCI ৫১ কোটি, ভারতীয় রেল ১৫১ কোটি ইত্যাদি। সরকারের মালিকানাধীন এবং পরিচালিত কমপক্ষে ৩৮টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, তারা PMCARES তহবিলে ২,১০৫ কোটি টাকার বিশাল অনুদান দিয়েছেরাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা কর্মচারী সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী ৪৮৭ কোটি টাকা এসেছে তাদের ১ দিনের কাটা বেতন থেকে। যেটুকু তথ্য এসেছে সবটাই অনুদান দাতাদের থেকে, হিসাবনিকেশের এখানেই শুরু আর এখানেই শেষ।

যেহেতু বিদেশী অনুদান অনুমোদিত ছিল, সেখান থেকে কতটা এসেছে কেউ জানেনা। কোম্পানি আইনের অধীনে এই অনুদানকে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা ব্যয় (CSR)’ হিসাবে বিবেচনা করার যোগ্য করা হয়েছিল। এই বাবদ কত এসেছে কেউ জানেনা। বেশ কিছু চীন ভিত্তিক চীনা মালিকানাধীন সংস্থা PMCARES তহবিলে অনুদান দিয়েছে। TikTok এর দাবি অনুযায়ী তারা ৩০ কোটি টাকা দিয়েছিলো, Xiaomi দিয়েছে ১০ কোটি টাকা, Huawei ৭ কোটি টাকা এবং OnePlus ১ কোটি টাকা দেয় ওই সময়। বাকি হিসাব কেউ কিচ্ছু জানেনা, যা একই সাথে সন্দেহজনক ও উদ্বেগজনক।

এই তফবিল ব্যবহার করে কিছু হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সিস্টেম পাঠিয়ে ছিলেন মাননীয় ‘অমৃতকালের কসাই’। সেই সকল হাসপাতাল এর রিপোর্ট দেখুন, প্রতিটি মেসিন অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ার দরুন ১ বছরের মধ্যে সেগুলোকে আস্তাকুঁড়ে ফেলে দিতে হয়েছে। বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশ সরকারের স্করপিও গাড়ি কেনার মত পুকুরচুরির ঘটনার সাক্ষীও তো আমরাই। সুতরাং, এই ভেন্টিলেশন মেসিন কেনার মধ্যেও নিশ্চিত ভাবে কাটমানি ছিল।

এ অবধিও ঠিক ছিল, আরো নির্লজ্জ ভাবে ২০২৩ সাল থেকে PM CARES তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট পাবলিক্যালি প্রকাশ করার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এটা কোনো আশ্চর্য নয় যে মোদী এমনটা করবে, তার অতীত কর্মকান্ডের সাথে এটা একদম খাপেখাপে বসে যায়। প্রথম তিন বছরে যারা ৩০,০০০ কোটি টাকা পেয়েছে, পরবর্তী আড়াই বছরে কত পেয়েছে, কেউ জানেনা। কোনো অডিট নেই, কে টাকা পাঠাচ্ছে আর কোথায় খরচা হচ্ছে তার কোনো জবাবদিহি নেই। অথচ এখানে কেউ দান করলে সেই টাকা সম্পূর্ণ করমুক্ত। 100% tax deduction under Section 80G of the Income Tax Act, 1961.

করোনার ভ্যাক্সিন কেনার জন্য মোদী সরকার Asian Development Bank থেকে বিলিয়ন মার্কিন ডলারের লোন নিয়েছিলো, Asia Pacific Vaccine Access Facility programme এর নামে। সিংহভাগ ভ্যাক্সিন কেনা হয়েছিলো ব্রিটেনের অ্যাস্ট্রাজেনেকা তৈরি কোভিশিল্ড, সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া’ সংস্থার ভায়া হয়ে। অল্প কিছুটা কেনা হয়েছিলো ভারত বায়োটেকের’ থেকে যার নাম ছিল কোভ্যাক্সিন। আজকের দিনে সকলেই জানে অ্যাস্ট্রাজেনেকাতে বিল গেটসের লগ্নি ছিল, আর বকলমে ভ্যাক্সিনের সব টাকা তার পেটেই ঢুকেছিলো- হুজুরের ৭৫তম জন্মদিনের শুভেচ্ছা মাগনা আসেনি।

প্রশ্ন বিল গেটস বা তার শুভেচ্ছা নয়, প্রশ্ন হচ্ছে PM CARES-এ ৩০,০০০ কোটি টাকা জমা থাকা সত্ত্বেও, ভ্যাক্সিন কেনার জন্য মোদী সরকার ২৭,০০০ কোটি টাকার বিদেশী ঋণ কেন নিয়েছিলো? দ্বিতীয় প্রশ্ন- ২০২১ সালের সেই লোনের দরুন এখনও ১০ হাজার কোটি টাকার উপরে বাকি, যার দরুন বার্ষিক ১৫০০ কোটি টাকা সুদ গুনে চলেছে দেশের জনগণ- অথচ পিএম কেয়ারের কোনো হিসাব নেই।

যে ব্যাঙ্কে PM CARE এর একাউন্ট রয়েছে, সেখানকার এক ‘নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক’ ব্যাক্তির তথ্য অনুযায়ী- গত আড়াই বছরে আরো প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা ঢ়ুকেছে, অর্থাৎ সব মিলিয়ে ৫৫ হাজার কোটি টাকার উপরে। অপ্রকাশিত ২৫ হাাজার কোটির কথা ভুলে যান, প্রথম ৩ বছরের প্রকাশিত ৩০ হাজার কোটি টাকায় কী কী করা যেতে পারত! ত্রিশ হাজার কোটি টাকা দিয়ে ভারতের মতো উন্নয়নশীল দেশে বহু মেগাপ্রকল্প করা সম্ভব। জাতীয় স্তরে অবকাঠামো তৈরি, পরিবহন, জ্বালানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নতি প্রয়োজন। এই জাতীয় প্রকল্পগুলি গুলিই তো একটা জাতিকে অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি এনে দেয়।

এই টাকাতে ২০টি নতুন AIIMS হাসপাতাল, ২০ টা নতুন IIT বানানো সম্ভব। চারটে মেট্রো শহরে অন্তত চারটে আধুনিক AI ভিত্তিক ডিজিটাল গবেষণা কেন্দ্র বানানো সম্ভব, ১০টা IT সংক্রান্ত গবেষণা কেন্দ্র বানানো সম্ভব। নতুন ২টো ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর বা আধুনিক রেলওয়ে এক্সপ্রেস-ওয়ে বানানো সম্ভব। চারটে অত্যাধুনিক নবায়নযোগ্য শক্তি কেন্দ্র বানানো সম্ভব। আধুনিক মানসম্পন্ন নতুন ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বানান সম্ভব, ২০০টি আধুনিক ITI তথা বৃত্তিমূলক কারিগরি প্রতিষ্ঠান বানানো সম্ভব। দেশের প্রত্যন্ত জেলাগুলিতে ১০০ টি আধুনিক মেডিকেল কলেজ বানানো সম্ভব। তামিলনাড়ুতে পরিকল্পিত দুটি গ্রিনফিল্ড বাণিজ্যিক শিপইয়ার্ড নির্মাণের আনুমানিক বাজেট ওই ৩০ হাাজার কোটি টাকা, যেখানে ৫৫,০০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে- এমন আরও দুটো বন্দরে বানানো সম্ভব ছিল।

কিন্তু এসবের কিছুই হয়নি, হবেওনা; কারন এটা মোদীর ব্যক্তিগত তহবিল, জানিনা কোন দামোদরদাস মোদী ওনাকে গিফট করেছিল এই ৫৫ হাজার কোটি টাকা। আজও এই PM Care স্কিম চালু রয়েছে। সেখানে টাকা ঢুকছে নিয়মিত। কারা দিচ্ছে, তার বিনিময়ে কোন অনৈতিক সুযোগ সুবিধা নিচ্ছে তা কেউ জানেনা। আমার প্রশ্ন, মোদিজীর হঠাৎ এই ,০০০ কোটি টাকার ব্যক্তিগত তহবিলের প্রয়োজন হলো কেন? আর এই টাকা দেশেই থাকবে, নাকি অচিরেই সুইস ব্যাঙ্কে চলে যাবে? গদি টলোমলো হলে পালানো ছাড়া মোদীর কোনো দ্বিতীয় উপায় আছে হিটলারের মত আত্মহত্যা ছাড়া!

 


সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

রো কো


ক্রিকেটার অতীতে অনেক এসেছে, অনেক আসছে, আগামীতে অনেক আসবে, বহু জন গ্রেট হবে। কিন্তু কতজন ক্যারেক্টার হয়ে উঠতে পারবে! Sourav Ganguly গ্রেট ক্রিকেটার, তার ক্রিকেট দর্শন অনেক ঋদ্ধ, অনেক সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া আছে তার ক্রিকেট জীবনে, কিন্তু সেই অর্থে ক্যারেক্টার হয়ে উঠতে পারেনি। ক্রিকেটীয় রাজনীতির পাঁকে জড়িয়ে গিয়ে কেরিয়ার ছোট হয়ে গেছে।

Great Sachin Tendulkar আক্ষরিক করতেই গ্রেট, ক্রিকেটের ভগবান। দক্ষতা, শৈল্পিক নৈপুণ্য এবং পরিসংখ্যান - সবকিছুতে তিনি ধরা ছোঁয়ার উর্ধ্বে। সেই অর্থে বাকিদের সঙ্গে তিনি তুলনায় আসেন না। তিনি নিজে একটা ক্লাস এবং সেই ক্লাসে তিনিই একমাত্র প্রতিনিধি। সারা জীবনটা পলিটিক্যালি কারেক্ট থেকেছেন।
Rahul Dravid, ক্রিকেট যদি ধর্ম হয় তাহলে দ্রাবিড় হলো সেই ধর্মের প্রফেট। একাগ্রতা, শৃঙ্খলা, নিয়মানুবর্তিতা আর সাধনার সংমিশ্রণের সাথে চারিত্রিক সংযমের এক বিরল সঙ্গমের নাম রাহুল দ্রাবিড়। তারপরও দিনের শেষে তিনি নিজের সার্কিটেই সীমাবদ্ধ। বিতর্ক আর রাহুল দ্রাবিড় ছিলেন চুম্বকের দুটো আলাদা মেরু।
আজকের গিল, অভিষেক চমৎকার, কিন্তু তারা কেউ Yuvraj Singh নয়, হবেওনা। তারপরেও যুবরাজ সিং আর বৈভব এই দুটো সমর্থক হয়ে গিয়েছিল - দেখনদারির নিরিখে। এরা নিজ নিজ সময়ের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড় হওয়ার সাথে সাথে দুর্দান্ত বর্ণময় ছিল। MS Dhoni অত্যন্ত সফল এবং আগ্রাসী। তারপরেও নিজের ক্যারিয়ার নিজের প্রফেশন এইটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছেন। Chris Gayle খেলোয়ার হিসেবে যোগ্যতা যেমনই হোক ক্যারেক্টার হিসাবে পারফেক্ট হয়ে উঠেছিল। এরা কেউ আম ক্রিকেট সমর্থকের নিজশ্ব আইকন হয়ে উঠতে পারেনি।
কিন্তু আমারা যাদের এই চল্লিশের আশেপাশে যাদের বয়স, যাদের শৈশব ছিল সচিনময়, সেই আমাদের যৌবনের বাগানেই তো রোহিত আর কোহলি 'যৌবনের প্রতিনিধি' হিসাবে ক্রিকেটে মাঠে ফুল হয়ে ফুটেছিলো। নেভিল কার্ডাস বলে গিয়েছিলেন - স্কোরবোর্ড গাধা। একদমই তাই-
রোহিত কোহলির স্কোরবোর্ড গাধাময় নয়, বরং হাতি ঘোড়ার ছড়াছড়ি- সেসব তথ্য একদিকে, অন্যদিকে হচ্ছে গোটা শুরুর যৌবন টাকে মাতিয়ে রাখা দুটো ক্যারেক্টার। যারা ক্রিকেট খেলতো তো বটেই, পাশাপাশি আমাদের মতন করে আমাদের ভাষায় কথা বলতো। রিলেট করতে পারতাম এমন ভাষায়। কালের নিয়ম মেনে তারা বাণপ্রস্থে চলে যাওয়ার পথে।
খেলা আজকেও হচ্ছে আগামীতেও হবে। টিম ইন্ডিয়া মাঠে নামলে উচ্ছ্বাস থাকবে, আবেগ থাকবে, উত্তেজনা থাকবে, হেরে গেলে দোষারোপ গালিগালাজ সব থাকবে। তাদের গালিগালাজ কে গ্লোরিফাই করছি না, কিন্তু এমন ক্যারেক্টার পাব কোথায়!!
miss you both very badly

রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

নেপো কিড ও ক্রিকেটে


 

আমার মত বহু মানুষ ক্রিকেটে বেঁচে থাকি, ক্রিকেট খায়, ক্রিকেটে শ্বাস নিই। কিন্তু ছেলেবেলার অন্ধ আবেগ আর আজকের বাস্তবতা এক নয়। আজও ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা বা প্রেমের ঘাটতি নেই, আমৃত্যু সেটা একই রয়ে যাবে অভ্যাসের কারনে। কিন্তু বর্তমান তথ্য উপাত্ত গুলো মগজে ধাক্কা দেয়, অন্ধ আবেগকে প্রশ্ন করে। বর্তমান ক্রিকেটটা আসলে কয়েকটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তি মিলে চালাচ্ছে, একান্তই নিজেদের প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি।

আমাদের ক্রিকেট বোর্ড তথা BCCI আবার একটি সমবায় সমিতি, ১৯৭৫ সালে ‘তামিলনাড়ু সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন আইনের অধীনে নিবন্ধিতএশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (ACC) মালয়েশিয়াতেও একটি কোম্পানি হিসাবে রেজিস্টার্ডযেমন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা ইত্যাদি গভর্নিং বডি গুলো ‘কোম্পানি’ হিসাবে রেজিস্টার্ড রয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল লিমিটেড (ICC), কর ফাঁকির স্বর্গ ‘ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস (BVI)‘কোম্পানি বডি’ হিসাবে রেজিস্টার্ড রয়েছে। অথচ সমজাতীয় অন্যান্য স্পোর্টসের বৈশ্বিক নিয়ামক সংস্থা গুলো যেমন FIFA, International Hockey Federation (FIH), International Olympic Committee (IOC) ইত্যাদি গুলো NPO/NGO হিসাবে রেজিস্টার্ড রয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সংস্থা FIFA যেখানে তাদের আইন-কানুন সবটা উন্মুক্ত স্বচ্ছ করে রেখেছে, সেখানে ICC এর অধিকাংশ নিয়ম কানুন যথেষ্ট ধোঁয়াসা যুক্ত। FIFA সুইজারল্যান্ডে নিবন্ধিত একটি নন প্রফিটেবল অর্গানাইজেশন, তাই রোজগারের উপরে TAX তাদেরও দিতে হয়না। কিন্তু টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে সেই দেশের নিয়ম অনুসারে ফিফাকে হিসাব কষেই TAX দিতে হয়

জয় শাহ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে আইসিসির নেতৃত্বে রয়েছে, বোর্ডের সুবাদে ২০১৯ সাল থেকে আইসিসির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। কংগ্রেসের বড় নেতা রাজীব শুক্লা আবার বোর্ডের বড় নেতা, ACC-এর নির্বাহী সদস্য। এখানে সেই অর্থে রাজনৈতিক দলাদলি ততটা নেই, ক্ষমতাসীন দলের প্রতিনিধি বেশী থাকে, এটুকুই। তার পরেও সকলে মিলেমিশে ক্ষমতা ভোগ করে এখানে।

২০২২ সালে ৪৮,৩৯০ টাকায় আইপিএল মিডিয়া স্বত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল BCCI। শুধুমাত্র আইপিএল থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫,৭৬১ কোটি টাকা আয় করেছে বোর্ড, যার গোটাটা করমুক্ত। বর্তমান আর্থিক বর্ষে BCCI-এর রোজগারের উপরে ট্যাক্সের পরিমান দাঁড়াবে ,৩৬২ কোটি টাকা, কিন্তু BCCI আদালতে গিয়েছে এই ট্যাক্স থেকে তাদের অব্যাহতির দেবার জন্য। সরকার সেটা দিয়েও দেবে। বিসিসিআইকে শুধু প্রফিট এর উপরে ইনকাম ট্যাক্স দিলে হবে না, প্রতিটি ম্যাচের টিকিটের উপরে অ্যামিউসমেন্ট ট্যাক্স দিতে কেন বাধ্য করা হবেনা, যেখানে ভারতীয় ফুটবল লীগ তথা ISL কে গুণেগুণে TAX দিতে হয়

অর্থাৎ ICC, ACC এমনকি BCCI দ্বারা আয়োজিত এই সকল বাণিজ্যিক টুর্নামেন্ট একান্তই ব্যক্তিগত কোম্পানি ভিত্তিক আয়োজন। কোনো মিউজিক্যাল শো, সার্কাস, কিম্বা থিয়েটারের সাথে এর ফারাক কোথায়? তবু তো এরা রোজগারের উপরে সরকারকে TAX দেয়, BCCI সেটাও দেয়না। ক্রিকেট বোর্ডে রাষ্ট্রের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই, দেশের ক্রীড়া আইন এদের উপরে লাগু হয়না, এদের আয় ব্যায়ের হিসাব একান্তই এদের নিজশ্ব, জনগণ চাইলেও তা জানার অধিকার রাখেনা। মোদ্দাকথা এই ক্রিকেটের সাথে ‘দেশ’ ভারতের তথা জাতির কোনো সম্পর্ক নেই, না সরকারের সাথে কোনও সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং কিসের জাতীয় সম্মান এবং আর কীভাবে জাতির গর্ব হতে পারে ক্রিকেট?

আসলে পৃথিবী জুড়ে সমস্যা হচ্ছে নেপো-কিড। কোন যোগ্যোতার বলে এই নেপো কিড গুলো ক্ষমতার চেয়ারে বসে তার পৃষ্ঠপোষকতা করছে কেউ জানেনা। BCCI এর পদে থাকা ‘সিদ্ধান্ত নেওয়া’ ব্যক্তিদের অধিকাংশই ক্রিকেটের সাথে কখনও জড়িত ছিলোনা। বাকি যারা রয়েছে তাদের প্রশাসনিক দক্ষতাও পরীক্ষীত নয়, আর এমন সব অযোগ্য ব্যাক্তিদের খুঁজে খুঁজে এনে চেয়ারে বসানো হচ্ছে পুতুল হিসাবে, যাতে অবৈধ ভাবে পর্দার পিছন থেকে তৃতীয় কেউ ছড়ি ঘোরাতে পারে

বাংলাতে একটা প্রবাদ রয়েছে- নেপোয় মারে দই। বর্তমানে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সেই নেপো অর্থাৎ নেপো-কিড দের সংগঠনে পরিণত হয়েছে। অনুরাগ ঠাকুর, বিজেপি নেতা প্রেম মুকার ধুমলের ছেলে। অনুরাগের ছোট ভাই অরুন ঠাকুর, হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। তার চেয়েও বড় পরিচয় সে IPL এর চেয়ারম্যান। মধ্যপ্রদেশে মহানারায়ণ রাও সিন্ধিয়া জ্যোতিরাদিত্যের ছেলে, অরুন জেটলির ছেলে রোহন জেটলি দিল্লি বোর্ডের মাথায়।

প্রাক্তন সচিব নিরঞ্জন শাহের ছেলে জয়দেব সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি চেন্নাই এর শ্রীনিবাসনের মেয়ে রূপা গুরুনাথ তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিগোয়াতে বিনোদ ফাড়কের ছেলে বিপুল ফাড়কে চেয়ারে বসে পরেছে আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে। চিরায়ু আমিনের ছেলে প্রণব আমিন বরোদা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিল। প্রাক্তন বিসিসিআই সভাপতি রণবীর সিং মহেন্দ্রের ছেলে, অনিরুদ্ধ চৌধুরী বিসিসিআই কোষাধ্যক্ষ ছিল। বাংলাতে অভিষেক ও বৈশাখী ডালমিয়ারাও ক্ষমতায় বসেছিলো। আসলে সবটাই বিজেপির স্বজনপ্রীতি

ই নেপো গুলো শুধু পদে বসে ক্ষমতার ওম নিচ্ছেনা, চেয়ারকে ব্যবহার করে, হোল্ড করা পজিশনের অপব্যবহারের মাধ্যমে বিপুল হারামের অর্থ উপার্জন করেছে প্রত্যেকে। নতুবা এতো লালায়িত হতোনা পদে বসার জন্য। উদাহরণ হিসাবে জয় শাহ’কে দেখুন, গত পাঁচ বছরে এর ১৪০০ শতাংশ সম্পদ বৃদ্ধি হয়েছে এই পাপ্পুর। আজ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি সম্পত্তির মালিক। এর বাইরে বিদেশে কতটা আছে কে জানে! পৃথিবীর কোনো চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট, কোনও বিজনেস ম্যানেজমেন্ট স্কুল, কোনো ব্যবসা এই অগ্রগতি দেখাতে পারবেনা এর মত গুণীজনকে ICC এর চেয়ারম্যানের মত নগণ্য পদে আঁটকে রাখা কী ভারতের মেধা বিনষ্ট করা হচ্ছেনা? দেশের অর্থমন্ত্রকের উপদেষ্টা কিম্বা রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর, নিদেনপক্ষে সকল IIM মুখ্য পদ সৃষ্টি করে সেখানে কে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছেনা কেন!

এশিয়া কাপের এই ভারত পাকিস্তান ম্যাচের আয়োজন থেকে রোজগারকৃত অর্থ দ্বারা আমাদের দেশ ‘ভারত’ কীভাবে উপকৃত হবে? যারা রোজগার করবে, তারা তো TAX দেবেনা। বর্তমানে ACC এর চেয়ারম্যান পাকিস্তানের বর্তমান স্বরাষ্ট্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ মন্ত্রী মোহসিন নকভি। জয় শাহ মোহেন নকভি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত- BCCI, ACC এবং ICC দ্বারা পরিচালিত ভারত পাকিস্তান’ ম্যাচ না হওয়ার দরুন সত্যিই যদি বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হয়- রাষ্ট্র হিসাবে ভারতের জনগণের বা ভারত সরকারের কী যায় আসে?

মোদী সরকারের কোন দায় ছিল BCCI এই বানিজ্যিক ধান্দাবাজিতে- দেশের মানুষের আবেগ, সেনার আত্মবলিদান, এতো গুলো লাশ ডিঙিয়ে খেলার অনুমতি দেওয়ার? আসলে ম্যাচ বন্ধ হলে বিজেপির ‘নেপো কিডস’ এর দলের পেশাদার জীবন ঝুঁকির মুখে পরততাদের মুনাফা কমে যেতো। তাই রাষ্ট্রের স্বার্থের আগে নেপোকিডদের স্বার্থকে অগ্রাধিকারের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে। পাকিস্তানের সাথে একই সাথে রক্ত ও বল গড়াচ্ছে।

 


শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

নিষিদ্ধ পত্র- একটি গদ্য কাব্য

 


প্রিয় প্রাক্তন,


পত্রের শুরুতেই আমার ভালোবাসা নিও। অন্তরের অন্তরস্থল থেকে পাঠানো একগুচ্ছ গন্ধরাজের শুভেচ্ছা গ্রহণ করলে আনন্দিত হবো। আজ তোমাকে লিখতে বসেছি, তুমি ভাবতেই পারো- আজ হঠাৎ কি এমন হলো! জানিনা কি হলো, তবে আমার বিচিত্র খেয়ালের কথা তো তুমি জানো, তবে আজ তোমাকেই লিখতে বসেছি। বিলাপী বৃষ্টি তান ধরছে জানালার বাইরে, বর্ষার সাথে অকৃত্রিম যুগলবন্দি। এই মুর্চ্ছনাতে আমি আজ তোমায় বিষাদের গল্প শোনাবোনা, তোমার উদ্দেশ্য কিছু কথা বলতে চেয়ে আমার এই লেখা।

আচ্ছা, আজকাল তুমি কি প্রেম কর কারো সাথে? সে করতেই পার, তবে যুগ-জামানা ভালো নয়, একটু বুঝে শুনে, একটু সাবধানী…এখন আবার কমপক্ষে খান দু’চার খানা ছাড়া নাকি চলেনা ‘আধুনিক’ সমাজে। শুধুই কী প্রেম করো? ভালোবাসোনা তাকে? ভালোবাসা ছাড়া প্রেম হয়? তার চোখের দিকে তাকাতে লজ্জা পাওয়া, চুম্বনে কঠোর নিষিদ্ধতা, আজও কী তোমার কাছে শুরুর প্রেমের এমনই মানে! তার সাথে নিয়মিত দেখা করো? কেমন লাগে তার আলিঙ্গণে নিজেকে সঁপে দিতে! তুমি নির্জনতা উপভোগ করো, নাকি তাকে? মগজে উত্তেজনা, হৃদয়ে কম্পন আর শরীরে শীতলতার সেই অসাধারণ সম্মেলন নিয়ে আসতে পারো আজকাল?
 
আজও তার সাথে একান্তে সময় কাটাও, হাতে হাত, কাঁধে মাথা রাখো! আজও কি এলোমেলো চুলগুলো ছুঁয়ে গেলে জানান দেয় তোমার হৃদয়ের আকুলতা! আজও কি কোনো নদীর ঘাটে, পার্কের কোনে, নিরিবিলি রাস্তায়, সিনেমা হলের অন্ধকারে তার ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁয়ে দেখো- তার নিঃশ্বাসে বিষ আছে কিনা! কথা বলো রাত জেগে? অজস্র খুনসুটিসৌরভ মুখরিত করে তোমার সারাদিন? আসও ভালোবাসার প্রতিটা মূহুর্ত বসন্তের বিকালের মত অনুভূত হয়? আজও তার বুকে বিলীন হতে চায় বেহায়া মন? আদিম উন্মাদনার প্রলোভনে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারো আজও? আজও কী তার পাশে বসে নিঃশব্দে ধ্রুবতারা থেকে স্বপ্ন পেড়ে আনো? 
 
আজও কি বলো ‘বহিরঙ্গের রূপ নয়, আমি গুণের প্রেমে পরেছি’, আজও কি ‘জীবনের প্রথমখুঁজে ফিরছো- যে তোমাকে ভালোবাসে! আজও আলিঙ্গনের ইঙ্গিতেই তোমার গভীর অনুভূতিরা বাঙ্ময় হয়ে উঠে? আজও কি শরীরকে উদযাপন করো? করলে কীভাবে সান্ত্বনা দাও প্রতিটা কলঙ্ককে, কীভাবে নিজেকে মানসিক সমর্থন করো? আজকে তোমার কাছে স্নেহের সংজ্ঞা কি বদলে গেছে? সুযোগ নেওয়ার পরিভাষাই বা কী? আজ কীভাবে সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করো জীবনে, আজও কি তোমার নিঃস্বার্থ বন্ধুত্ব হয়?

তাকে অনুভব রো প্রতিটা মুহুর্তে, প্রতিটা নিশ্বাসে। তার হাসির মিষ্টতা তোমার দৃষ্টিতে মিশে মায়াবী চাহনি তৈরি করে? সেই পুড়িয়ে দেওয়া দৃষ্টি দিয়ে শরীর জুড়ে ভালোবাসার উষ্ণতা ছিটিয়ে পারো? লক্ষ কোটি বছর ধরে পলকহীন চেয়ে আজও কী হৃদয়ের সবচেয়ে শীতলতম স্থানটিতে ভালোবাসার চাষাবাদ হয়। আজও কি তার চোখের দিকে তাকিয়ে দিগন্ত জোড়া সোহাগের ময়দানে অবুঝ শিশুর মত ছুটে বেড়াও! আহ্লাদে স্পর্শরা কি সকল বাঁধ ধ্বসিয়ে দিয়ে লজ্জায় মুখ নীল করে চোখ বন্ধ করে দেয়?
 
নাহ, কোনো বিস্তৃত প্রেক্ষাপটের উপরে জবাবদিহি চাইছিনা, সামগ্রিকভাবে বদলে যাওয়া সময়ে তোমার আচরণ বিবেচনা করতে সাহস সঞ্চয় করতে পারার তাগিদও দিচ্ছিনা। জানো তো, পালিয়ে যাওয়ার জন্য কোনো কিছুই অপরিহার্য নয়শুধু থেকে যেতে, বহু কিছু লাগে, বহু কিছু।
 
আমি কী করছি? জানি তুমি জানতে চাইবেনা, তবুও বলি- আমি দেখি, কেবল দেখি। দেখতে দেখতে লিখি, লিখতে লিখতে দেখি।
 
দেখি, রাস্তার ধারের কোনো ছাওয়াতে বুড়ো কুকুরটা ক্লান্তিতে জিভ বের করে নিজেকে ঠান্ডা করছে। দুপুরের রোদে বিতৃষ্ণ পথিকের মুখে বিরক্তের বলিরেখা, মোছার ব্যার্থ চেষ্টা করছে জামার আস্তিন দিয়ে। উদাস এলোমেলো হাওয়া সমস্ত দুর্গন্ধ শুষে নিচ্ছে কি যেন মন্ত্রবলে। ঢেউহীন নির্ভীক নদী নিঃশব্দে বয়ে চলেছে অন্তহীন, যুগযুগান্ত ধরে নিঃস্ব, নিরাসক্তভাবে একই অভিমূখে, কখনও যার উল্টোপথে হাঁটার সাধ জাগেনা। তার বয়ে যাবার জন্য জমিকে জঞ্জালমুক্ত করতে হয়নি কখনও।  
 
শাশ্বত সভ্যতা রোজ বদলে যাচ্ছে সংস্কৃতির পথ বেয়ে, মানবতার স্বল্পায়ত জীবনসীমায় কিছু মহৎ শব্দেরা গদ্য এঁকে যায় আপন মনে। তবু ঘেঁটু, কলমি, হেলেঞ্চার মত আদুরে শিকড়ের বলে টিকে থাকা লতারা চেয়ে দেখে বাঁশবন, হিজলের ছায়া, আমবন, পুরোনো বটের শিকড়ে ঘিরে ধরা পোড়ো ভিটে, গুঁড়ি-মোটা পাকুরের ডালে গাংচিলের বাসা। কে জানে আজও কেন নিষ্ঠুর পৃথিবীটা শুধু ঘুরে চলে অক্লান্ত মোহে, কে জানে কোন উদ্দেশ্যে, কার টানে।
 
ছায়াচ্ছন্ন গুমোট প্রাণে খুঁজে ফিরি কর্মখালির বিজ্ঞাপন, প্রেমিকের কাজ জানা ‘লোক’ চাই। আমি অবসরে যাওয়া পরিত্যাক্ত প্রেমিক, যে নির্জলা ‘আদরের’ উপবাস করছি। পার্থিব হৃদয়ের পবিত্র বাসস্থানে বসে নগ্ন জীবনের ব্যর্থতাকে উপভোগ করছি চুটিয়ে। আনন্দঘণ শহরের পথে পথে নিপুনতার মুখোস, উপশিরা জুড়ে ক্রোধ আর ভাবনাতে ধর্মঘটআতঙ্কের ফাঁসি কাঠে ঝুলতে থাকা কারো কাছে, ভ্রমণের গল্পের চেয়ে বড় নির্যাতন আর হয়না। তাই মিলেমিশে চেয়ে থাকি অপেক্ষার সাথে, এক অস্থির কলহাস্যে অপেক্ষার মুখেও প্রশান্তি খেলে যায়, আবার হৃদয়ে গিঁট দিই সজোরে। মরমে আগুন জ্বালিয়ে এক দুর্বোধ্য অজুহাতে, সমস্ত লণ্ডভণ্ড হওয়ার প্রতীক্ষাতে বসে থাকা আমার হৃৎস্পন্দনেও হরতাল
 

 


ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...