বৃহস্পতিবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১১

Missing Goat Syndrome


 
অনুপস্থিত ছাগল সিন্ড্রোম বা অনুপস্থিত টাইলস সিন্ড্রোম (Missing Tiles Syndrome)


পড়ন্ত বিকেলে ক্লাস শেষে, কয়েকজন ছাত্র স্কুলের খেলার মাঠে খেলছিল। শেষ বিকেলে হঠাৎ তারা আবিষ্কার করল, খেলার মাঠের অন্য দিকে তিনটি ছাগল ঘাস খাচ্ছে। দলের নেতার মাথায় হঠাৎ একটা বুদ্ধি খেলে গেল। সে অন্যান্য ছেলেদের বোঝাল, "ছাগলগুলোর মাথায় নম্বর লিখে দিলে কেমন হয়?" তিনটি ছাগলকে ধরা হোল, রং এবং ব্রাশের ব্যবস্থাও হয়ে গেল।
ছাগলগুলিকে নম্বর দেওয়া হল; ১, ২, ৪, উদ্দেশ্যমূলকভাবে তারা “৩” নম্বরটি লিখল না। এরপর তারা তিনটি ছাগলকে সারা রাতের জন্য পর্যাপ্ত ঘাস এবং ঝোপঝাড়ের পাতা সমেত স্কুল ভবনের ভিতরে ঠেলে দিল। ততক্ষণে বিকেল শেষ, ছেলেগুলি নিজেদের বাড়ি চলে গেল।
পরের দিন সকালে স্কুল খোলার জন্য চাবি নিয়ে পিওন ঠিক সময়ে হাজির। তালা খুলতে গিয়ে নাকে এল তীব্র প্রস্রাব এবং বিষ্ঠার গন্ধ। তিনি অনুমান করতে পারলেন, নিশ্চয়ই কোন গবাদি পশু, স্কুল ভবনের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। তালা না খুলে, অন্যদের আসার জন্য কিছু সময়ের জন্য অপেক্ষা করল। কয়েক মিনিট পরে, প্রিন্সিপাল, সমস্ত শিক্ষক, ছাত্র, অফিস স্টাফ ধীরে ধীরে স্কুল-ভবনের গেটে জড়ো হয়ে গেল। যথারীতি, প্রিন্সিপাল নেতৃত্ব দিলেন এবং তালা খোলা হল।
একজন অতি উৎসাহী ছাত্র গেটের কাছে সিঁড়িতে ছাগলের বিষ্ঠা দেখে চেঁচিয়ে উঠল। বোঝা গেল, যে ভাবেই হোক স্কুল-ভবনে ছাগল প্রবেশ করেছে।
প্রিন্সিপালের নির্দেশে অনুসন্ধান শুরু হয়ে গেল। বারান্দা, শ্রেণিকক্ষ, অফিস এবং এমনকি ওয়াশরুম পর্যন্ত খুঁজে শেষ পর্যন্ত তিনটি ছাগল আবিষ্কার করা গেল। ছাগলগুলিকে অধ্যক্ষের ঘরে নিয়ে আসা হল। দেখা গেল, প্রত্যেকটি ছাগলের মাথায় একটি করে সংখ্যা লেখা আছে। অবাক কান্ড, সংখ্যা গুলি ১, ২ এবং ৪; সমস্যা হল যেহেতু ৪-নম্বরের ছাগল পাওয়া গেছে, তা হলে ৩-নম্বরের ছাগলটি গেল কোথায়?
প্রিন্সিপাল, সিনিয়র শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করলেন এবং আরও একবার গভীর অনুসন্ধানের নির্দেশ দিলেন।
কৃতিত্ব নিতে প্রত্যেকে, পাগলের মত, ৩-নম্বর ছাগল খুঁজতে লাগল। আশ্চর্যভাবে ৩-নম্বর ছাগল সন্ধানকারীদের মধ্যে কেউই ৫-নম্বর ছাগলের সম্ভাবনা ভেবে দেখল না। যেহেতু ৪-নম্বর ছাগল পাওয়া গেছে, তাই তারা নিশ্চিত ছিল, ৩-নম্বর ছাগল নিশ্চয়ই আছে।
সারাদিন অনুসন্ধান চলতে থাকল। ক্লাস বন্ধ করে দেওয়া হল। সবাই ক্লান্ত। ধীরে ধীরে আতঙ্ক ও হতাশার সৃষ্টি হল। অনিবার্যভাবে ৩-নম্বর ছাগলটি খুঁজে পাওয়া গেল না। কারণ এটির কখনও অস্তিত্ব ছিল না।
গল্পটি খুবই ছোট এবং মজার। তবে এটি এক গভীর শিক্ষা দেয় এবং তা সমস্ত মানব সমাজের জন্য প্রযোজ্য।
আমাদের মধ্যে অনেক আছেন, যারা একটি ভাল জীবন এবং তাদের প্রয়োজনীয় প্রায় সবকিছুই থাকা সত্ত্বেও, সবসময় একটি "তৃপ্তির অভাব" বোধ করতে থাকেন। করুণভাবে, হন্যে হয়ে খুঁজছেন সেই ছাগল নম্বর-৩, যেটি বাস্তবে অনুপস্থিত বা অধরা। মনস্তত্ববিদরা এটিকে বলেন "মিসিং গোট সিনড্রোম" বা " মিসিং টাইলস সিনড্রোম"। এটি হল যা আছে তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে, সোনার হরিন খুঁজে বেড়ানো। সব জিনিসের উপস্থিতি সত্বেও যা নেই তার জন্য বিলাপ করা। নিখোঁজ ছাগল নম্বর-৩ এর বিলাপ এড়ানোর সর্বোত্তম উপায় হ'ল ওইসব ব্যক্তিদের দিকে তাকানো, যারা বিলাসিতা তো দূর, তাদের প্রাথমিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
একটু ভেবে দেখুন:
  • “যদি আপনার ফ্রিজে খাবার থাকে, আপনার পরনের কাপড় থাকে, আপনার মাথার উপর একটি ছাদ থাকে এবং ঘুমানোর একটি জায়গা হয় তবে আপনি বিশ্বের ৭৫ শতাংশের চেয়ে বেশি সমৃদ্ধ।
  • যদি আপনার ব্যাঙ্কে টাকা থাকে, আপনার মানিব্যাগ এবং কিছু খুচরো থাকে, তবে আপনি বিশ্বের ৮ শতাংশ ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন।
  • যেহেতু, সুস্থ শরীরে আজ সকালে ঘুম থেকে উঠেছেন, তবে আপনি এক মিলিয়ন লোকের চেয়ে বেশি ভাগ্যবান যারা এই সপ্তাহে বেঁচে থাকবে না।
  • আপনি যদি কখনও যুদ্ধের ঝুঁকি, কারাবন্দি বা নির্যাতনের যন্ত্রণা বা অনাহারে ভয়াবহ যন্ত্রণার অভিজ্ঞতা না পেয়ে এখন ও বেঁচে আছেন তাহলে আপনি ৫০০ মিলিয়ন মানুষের চেয়ে বেশি ভাগ্যবান।
  • যদি আপনি এই লেখাটা পড়তে পারেন, আপনি বিশ্বের ৩ বিলিয়ন মানুষের চেয়ে যারা এ সব পড়তে পারে না তাদের চেয়ে বেশি ভাগ্যবান।
কোনরকম উদ্বেগ ছাড়াই জীবনটি অনেক বেশি সুখী হবে, যদি আমাদের যা আছে তা উপলব্ধি করি, জীবনের রঙগুলির প্রশংসা করি, আমাদের জীবনে প্রতিটি ব্যক্তির অনন্য গুণাবলীর প্রশংসা করি। সুতরাং, সুখ বা সাফল্যকে তাড়া করবেন না। এটি পৌঁছনোর কোনও গন্তব্য নয়, কেবলমাত্র হয়ে ওঠার যাত্রা। আপনার যে কোন অবস্থায়, পছন্দ করার অধিকার আছে একটি সুখী ও সফল জীবনের। কারণ ৩-নম্বর ছাগল কখনই খুঁজে পাবেন না, কারন এর বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই।
জীবন যেমনটি আছে, সেইভাবে উপভোগ করুন। আপনার যা আছে তা দিয়ে আপনার জীবন উপভোগ করুন। প্রথমে আপনার পরিবারের সাথে এটি শুরু করুন, আপনার স্ত্রী, বাবা-মা, সন্তান, শ্বশুর-শাশুড়ির দুর্দান্ত গুণাবলী দেখুন এবং তারপরে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন এবং সহকর্মীদের কাছে যান।
কাল্পনিক, অস্তিত্ববিহীন সোনার হরিন বা ৩-নম্বর ছাগল খুঁজে, আর আপনার সময় এবং সুখ নষ্ট করবেন না।
@

শুক্রবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১০

উন্মাদের শংসাপত্র

#কে_তুমি_উন্মাদ ??? 
~~~~~~~~

আমাদের গুড্ডুদেব #উন্মাদ_হার্মাদ কে নিয়ে অনেকের অনেক জিজ্ঞাস্য --- ব্যাটা, উন্মাদ_হার্মাদ কে ??? কোথায় থাকে, কি খায় ??? --- প্রথমেই বলে রাখি, "কে এই #উন্মাদ ?" এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে যাওয়া বৃথা, কেননা আমাদের #উন্মাদ কে কোন concrete সত্ত্বা হিসাবে ভাবলে চলবে না, বরং abstract noun হিসাবে ভাবতে হবে   

অনেকেই নিজের অজান্তেই উন্মাদের উপর Hindu ধর্মীয় পরিচিতি superimpose করে দিয়েছেন, কিন্তু কথা হচ্ছে religious identity তো নয়ই #উন্মাদের কোন National, Political, Cultural বা Gender identity ও নেই  -- কি করেই বা থাকবে #উন্মাদ নিজেই যে identity crisis এ ভোগে -- মাঝে মধ্যেই "Who am I, Who am I ??" করে চেচায়   , but #উন্মাদ "can THINK, therefore he is"  
 শুধুমাত্র নিজের ভাবপরিচিতি নিয়ে এভাবেই বেচে আছে #উন্মাদ -- ভাব জগতের এই ভার্চুয়াল ভবঘুরে নিজের উন্মাদীয় ভাবনা ও হার্মাদীয় কর্মকান্ড কে সম্বল করে টিকে থাকা ফেবুর ইথারীয় জগতের বিমূর্ত প্রতীক  

১৪ই অক্টোবর ২০১৫ 

**************************************



এখন আর ফেসবুকে আমাকে নূতন বলা যাবে না | ফলে Confession বছরের অন্তিম প্রান্তে করে নেওয়াই ভালো | লেখাটি অকপটে লিখলাম কেন না আমার মোট ফেসবুক সময়ের 60% এই গ্রুপটিই খেয়ে নেয় | আদপে এই এই গ্রুপের কোন সদস্যই আমার Friend List এ ছিল না | বর্তমানে অনেকেই আছেন | গ্রুপ Concept টিই আমার ছিল না | উন্মাদ হার্মাদ ই এই গ্রুপের শ্রষ্ঠা ও আমার কোন permission ছাড়াই অকপটে যোগ করে দেয় | প্রথম দিকের সব লেখায় উন্মাদের লেখা বলে পড়তাম কিন্তু সব লেখা উন্মাদের মানে হোত না | 

তার উপর আবার নিচে অন্য কি সব নাম লেখা থাকত | বাধ্য হয়ে উন্মাদ কে ধরলাম যে ব্যাপার টা কি ? কিন্তু তার উত্তর এল যে অন্যের লেখা নিচ্ছি নাম লিখব না | সত্যিই আমি জানতাম না কৃতজ্জতা স্বীকার ব্যাপার টি | তারপর একদিন হঠাৎ খুলে গেল গ্রুপ রহস্য তার সাথেই বুঝে গেলাম আরও অনেকেই Already ঢুকিয়ে রেখেছে অন্য এক গাদা গ্রুপে | একদিন এক ঘন্টাতে সব পরিষ্কার করে নিলাম | আরও অনেক কিছু বললে অনেকে ক্ষুব্ধ হতে পারেন এমন কি সম্মান হানিকর ও মনে হতে পারে তাই সে সব প্রসঙ্গ সযত্নে এড়ালাম |
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি উন্মাদ হার্মাদ এর প্রতি এত গুলি গুনী মানুষের মাঝে থাকার কয়েক মাস সুযোগ করে দেবার জন্য | 

২৩শে ডিসেম্বর, ২০১৫
*************************

তোমার চরণে তো সঁপেছি নিজেকে
আজ তোমার চরণও নেই ছোঁয়ার 
চরণে নাই ঠাঁই পাই
চরণ ধূলি একমুঠো দাও
তুলে নিই এই অভাগী কপালে

তোমার বক্ষে উজার হয়েছিলাম
আজ বক্ষ করে উপেক্ষা
বক্ষে না ধরো
সেই সুগন্ধ ছড়িয়ে দাও
ভরে নিই এই অতৃপ্ত নিঃশ্বাসে

তোমার চোখে দেখেছিলাম সুখ
আজ চক্ষু গেছে সরে
চেয়ে না দেখো
মুখ তোমার ফিরাও না
ও মুখেই তো পাই সুখের ঠিকানা


25-08-2015
**********************

সিক্ত আঁখি আজ বেপরোয়া 
নেই কোনো বাঁধ 
নির্বাক হয়ে দেখ শুধু 
কেমনে হই বরবাদ 

এ শাস্তিই দিলাম তোমায়
থাকো অসহায়তার জালে
জ্বলবো আমি অগ্নিগর্ভে
তৃষ্ণা থাকবে তোমারও গলে

নষ্ট আমি আজ নষ্টা হলাম
তোমারি প্রেম সিঞ্চনে
রাতের ঘুম দিলাম বলি
তুমিও থাকো জাগরণে

কণ্ঠ তোমার রুদ্ধ হলো
ভাঙলো না মনের দ্বার
অতৃপ্ত আত্মা দোহাই দেয়
বইবে তার ভার

24-08-15
********************




শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১০

দুর্গাপুজো


ছেঁড়া গেঞ্জিটাকে সেলাই করে, তার ওপর ঢলঢলে ফতুয়া পরে সবাইকে নিয়ে ঠাকুর দেখতে যাওয়া লোকটাকে- বাবা বলেএক কৌটো গোবিন্দভোগ চাল আর সামান্য ঘি বাঁচিয়ে রেখে পুজোর মধ্যে একদিন পোলাও রান্না করা মহিলাকে- মা বলে

বন্ধুর জন্মদিনে পাওয়া চকোলেট টাকে লুকিয়ে সালোয়ার কামিজের ওড়নায় ভাই এর জন্য বেঁধে আনা মেয়েটাকে দিদি বলেকাঠি আইসক্রিমটা অর্ধেক গলিয়ে ফেলে হাতে নিয়ে দিদির জন্য এক ছুটে মাঠ পেরিয়ে ছুটতে থাকা ছেলেটাকে ভাই বলেফুলে ওঠা নতুন তাঁতের শাড়ি পরে দুটো ছোট ছেলে মেয়ের হাত ধরে বেরোনো বাতে পঙ্গু বৃদ্ধাকে ঠাকুমা বলে

ডিজাইনার পাঞ্জাবি পরে অঞ্জলি দিতে দিতে পাশের বাড়ির নতুন শাড়ি পরা মেয়েটাকে কলেজ পড়ুয়া ছেলেটির আড়চোখে দেখাটাকে ভালোলাগা বলেটরন্টো দুবাই থেকে ফিরে অষ্টমীর রাতে সবাই মিলে একজোট হয়ে হুইস্কির আসরে পাড়ার ইলেকট্রিশিয়ান হাবুকে নিমন্ত্রণ করাকে ছোটবেলার বন্ধুত্ব বলেশিল্পীর হাতে ছমাসের মেহনতে বানানো দুর্গাঠাকুর টিকে নাড়ি ছিন্ন করে বিক্রি করে সেই টাকায় অনাথ অসহায় পথ শিশুদের জন্য  জামাকাপড় কেনাটাকে মানবিকতা বলে

সপ্তমীর সকালে বউছেলে নিয়ে টানা গাড়ি করে গ্রামের বাড়ির পুজোতে হাজির হয়ে কাকা জ্যাঠাদের প্রণাম করে আশির্বাদ নেওয়া মানুষগুলোকে পরিবার বলেপুজোর জন্য ছুটি বাঁচিয়ে রেখেও, ছুটি না পেয়ে বাড়ি ফিরতে না পারা কর্তব্যনিষ্ঠ কর্মরত মানুষ গুলোকে ফৌজী বলেবিশ্বের সবথেকে মনোরম আরামদায়ক জায়গা ছেড়ে এ কদিন বিবাহিত মহিলারা যে বাড়িটাতে স্বর্গ মনে করে সেই বাড়িটাকে বাপের বাড়ি বলে

আর এই চিত্রকল্প গুলোকে একসঙ্গে সাজিয়ে নিলে যেটা তৈরি হয়, বাঙালিরা তাকে এককথায় দুর্গাপুজো বলে

 

 

রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০০৯

বৃহস্পতিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০৮

মোক্ষ

 

লাশকাটা ঘরে শুয়ে

গলাপচা ধর-
খোয়াবেতে মিনা কারী
সহন নিথর।
কাল কাটে অভ্যেসে
ঘন্টা প্রহর-
অনধীন অবাধ্যতা
বিভীষিকা দৌড়।
অতৃপ্ত লোভ ভাবে
কামে সব সুখ
মদে ডোবা মোহ ভোলে
ভরষার বুক।

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...