বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

কাউসার বাই


 

কাউসার বাই, ২০০৫ সালে, রাতের গভীরে তাকেও নদীর তীরে আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। আপনি নিশ্চই ভুলে গেছেন তাকে কে জ্বালিয়েছে এবং কেন? কি দোষ ছিল কাউসার বাই এর? কেউ অভিযুক্ত হয়নি সেদিন, কেউ শাস্তি পায়নি।


কে ছিলো কাউসার বাই? হয় জানেননা, নতুবা ভুলে গেছেন। গুগুলে সার্চ করে জেনে নিন বা স্মৃতি ঝালিয়ে নিন। আজকের অর্থনৈতিক দুরবস্থা, বিচার ব্যবস্থার মৃত্যু, শ্রমিক-চাষি-কর্মীদের দুরবস্থা, মিথ্যাচার, মিডিয়ার দলদাস গিরি, মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণতন্ত্রের ধর্ষণ- এই সবের জন্য যে দায়ী আপনিই, সেটাও আয়নার মতই দেখতে পাবেন, নিজেকে উপলব্ধি করতে পারবেন।

কারন আপনারাই সেই গুজরাতকে 'মডেল' বলেছিলেন।

এখন আপনি পুড়ছেন, তাই হয়ত অনুতপ্ত। আপনার দীর্ঘ অনুশোচনা আপনাকে কুড়ে কুড়ে শেষ করবে। কাউসার বাই এর চিতা আজও জ্বলছে- এবং অনন্তকাল ধরে জ্বলবে।


সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

তৃণমূলী মুসলমান



বিজেপিকে আঁটকাতে তৃণমূলকে ভোটটি দেবেন, নতুবা "বিজেপি চলে আসবে"। এটাই তিনু নেতাদের ভাষণ- বিজেপিকে আঁটকানোর দায় কেবল মুসলমানেদের, বাকিরা বিজেপিতে যাতায়াত করবে ফুটবল মাঠের উইঙ্গারের মতো।

এদিকে তৃনমূল সরকার জণগণের ট্যাক্সের টাকায় পুরোহিত ভাতা হোক বা দুর্গাপূজায় ৫০ হাজার দিয়ে RSS তোষণ করে যাবে। অবশ্য তোষণ শব্দটা শুধুই মুসলমানেদের জন্য, বাকিদের জন্য তো খয়রাতি শব্দ ব্যবহৃত হয়। একটা সময় মেলা-খেলা-ক্লাবের নামে টাকা দান করতো, এখন চক্ষুলজ্জার শেষ পটিটা ছিঁড়ে সরাসরি RSS তোষণ।

বিজেপি শাসিত রাজ্যেও এতোটা নির্লজ্জতার সাথে এটা করতে পারেনি- কারন পরকিয়া সম্পর্কের টান অনেক বেশি হয়- যেমনটা তৃণমূল-RSS সম্পর্ক। আজকে যারা বিজেপি, গতকাল তারাই তো তৃণমূল ছিল। আজ পোশাক বদলে বিজেপি হয়েছে, কাল আবার বিপ্লব মিত্রের মতো কেউ কেউ ফিরে আসবে। রাজ্যে তৃণমূল থাকলে RSS এর বিজেপিকে প্রয়োজন কোথায়?

মুকুল বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ সম্পাদক হয়েছে, কাল হয়তো রাহুল সিনহা তৃণমূলে এসে বড় পদ বাগাবে। এতো হামেসাই ঘটবে। শুধু মুসলমান নামধারী তৃণমূল গুলো উটপাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে রইবে। একটা তৈরি সিদ্দিকুল্লাকে হারিয়ে দেবে, একটা ত্বহা সিদ্দিকী, একটা ইমাম বরকতী, একটা সুলতান আহমেদকে লোভের কাছে বিকিয়ে দেবে। দিনের শেষে মমতাই সংখ্যালঘু মন্ত্রী, RSS এর দুর্গাই মুসলমানেদের ত্রাতা- যে RSS দেশ থেকে মুসলমান তাড়াতে NRC করেছে। প্রসঙ্গত বাংলায় NRC এর প্রথম প্রস্তাব মমতারই ছিল।

আসলে বিজেপি, শিবসেনা, বজরং দল, তৃণমূল এদের বাপ তো একটাই- RSS

আজও এ রাজ্যে বিজেপি বলে আসলে কিছু নেই। কিছু ধান্দাবাজ রঙ পাল্টানো বাম নেতা, সাথে তৃণমূল থেকে লোনে যাওয়া কিছু রাজনৈতিক খেলোয়ার দিয়ে দল সাজিয়েছে RSS, মাথায় বসে আছে দিলীপ ঘোষের মতো গাম্বাট, যে RSS থেকেই এসেছে।

রাজ্যের ১৮টা আসন বিজেপি পেয়েছে এটা খাতায় সত্য, আসল ঘটনাটা আপনি আমি সবাই জানি যে এটা তৃণমূলের সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের প্রতিফলন। বিজেপি জেতেনি, বরং তৃণমূল হেরেছে। আর এ জন্যই মুসলমানেদের মগজধোলাই চলছে- বিজেপি এসে যাবে জুজু দেখিয়ে। আমার প্রশ্ন- যে রাজ্যে বিজেপি আছে তারা এ রাজ্যের চেয়ে কতটা খারাপ আছে?

তৃণমূল মুসলমানেদের জন্য করেছেটা কি ১০ বছরে? সাচার কমিটির রিপোর্ট তো আমরা জানি বামেরা কি দশা করেছিল তাদের ৩৪ বছরে, তাদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে তৃনমূলকে আনলেন। কিন্তু তৃনমূলের ১০ বছরের রাজত্বে মুসলমানকে এমন কবরে ঢুকিয়ে দিয়েছে যে দাবীর আওয়াজ টুকুও তুলতে ভুলে গেছে।

তাই তৃণমূলপন্থী মুসলমান বলদগুলোকে বলি, "সাঁইবাড়ির হত্যাকান্ড, মরিচঝাঁপি, নন্দীগ্রামে নদীতে লাশ ভাসিয়ে দেওয়ার উপকথা শুনতে শুনতেই" আপনারা সরাসরিই RSS করুন এবারে- শাহনওয়াজ হুসেন বা মুক্তার আব্বাস নকভির মতোন। ঘোমটার আড়ালে খ্যামটা নেচে লাভ কি? সরাসরি RSS করলে আপনাদের ক্লাবেও পূজোর নামে ৫০ হাজার তো আসবে। লম্বা দাড়ি রেখে মাথায় ফেজ পড়ে তৃণমূলের খয়রাতি দুর্গা পুজোতে প্রসাদ খেতে অন্তত ধর্মে বাঁধেনা আপনাদের। সর্বধর্ম সমন্বয়ের ব্রাণ্ডেম্বাসেডর হয়ে যাবেন পাড়ায় পাড়ায়।

চালচোরের দল করে যারা, ১০০ দিনের কাজের হারামের কামাই তে তাদের বংশের মর্যাদা বাড়বে তো বটেই। ভাইপো বিপুল সম্পদের অধিকারী হয়েছে ১০ বছরে, সে ব্যাঙ্কক সিঙ্গাপুরে পালাবে। আপনি কি পেয়েছেন? আপনি কোথায় পালাবেন?

তাই গরু খেকো নামধারী মুসলমান সেজে চটি চেঁটে RSS করার পন্থা ছেড়ে সরাসরি গোমুত্র খেয়ে ব্রাহ্মণ্যবাদকে স্বীকৃতি দিয়ে নিজের স্ত্রী কণ্যাদের উৎসর্গ করুন উঁচু জাতের নেতাদের প্রতি।

শিক্ষা আনে চেতনা, চেতনা আনে মুক্তি। যাদের চেতনা চটির নীচে, অন্ধকারেই যে তাদের মুক্তি তা বলাই বাহুল্য।

তৃণমূল সেজে যতই RSS করুন, না ঘরের হবেন না ঘাটের। ধোপার কুত্তার মতো অজাত হয়েই রয়ে যাবেন শেষে। NRC হলে আপনিই সবাই আগে বলি হবেন, NIA জঙ্গি নাম দিয়ে যাকে খুশি তুলে নিয়ে গেলে তৃণমূল কিছু বলবেনা, কারন তাদের কিছু যায় আসেনা।

রাজীব কুমারের জন্য ধর্মতলায় ধর্ণা হয়, ভাইদের ছাড়াতে ভবানীপুর থানায় পৌছে যেতে পারেন মমতা ব্যানার্জী। কিন্তু পায়খানার চেম্বারকে সুড়ঙ্গপথ নাম দিয়ে কতগুলো গরীব মুসলমান গ্রেপ্তার হলে মমতা কী দারুন নির্লিপ্ত থাকে। মমতার পোষ্য মুসলমানগুলোও তখন বৌ এর সায়ার তলায় নিজের মুখ লুকায়। আসলে 'মুসলমানের মুরগি পোষা' নামের একটা বাগধারা আছে যেমন, তেমনই তৃণমূলের মুসলমান প্রীতি। ভোটের সময় 'ওগো তুমি আমার' ভোট গেলেই 'দুধেলগাই'।

কোথাও একটা পড়েছিলাম- পাকিস্তান জন্মাবার পর রেলে করে জিন্নাহ একবার করাচি থেকে লাহোর যাচ্ছিলেন, মধ্যের কোনো একটা স্টেশনে উৎসাহী ভক্তের দল জিন্নার দর্শন পেতে নির্দিষ্ট বগির জানালার কাছে এসে হল্লা করছিল। ভীষণ বিরক্ত জিন্না নাকি জানালা না খুলেই বলেছিলেন " বেশ্যার বাচ্চারা একটু ঘুমাতেও দেবেনা?" এই কথা শুনেই উপস্থিত জনতা উল্লাসে ফেটে পরেছিল, যে - হুজুর আমাদেরকে সম্বোধন করেছেন। কি বলে সম্বোধন করেছে সেটা কোনো বিষয়ই নয়, সম্বোধন করেছে সেটাই বড় কথা। বর্তমানে মমতা ব্যানার্জী আর তৃণমুলের মুসলমানদের অবস্থা একই। নাহলে দুধেল গাই বলার পরও কেউ কিভাবে তৃণমূল করতে পারে?

অমুসলিম তৃনমূল নেতা-কাঁথা হলে তাদের জন্য বিজেপির দরজা খোলা, আপনাকে তারা দলে নেবেনা- মনিরুল সাক্ষী। বিজেপির সাবান মাখলেই সব পাপ মাফ, কিন্তু আপনি যখন জেলে বা খুন হয়ে গেছেন তখন- আপনার মেয়ে বৌ এর জন্য ভিক্ষাপাত্রই জুটবে। বেশ্যাখানা অবশ্য খোলা আছে। বেশ্যাখানায় কেউ জাত শুধায়না, এটা একটা ভাল দিক। যে নিজের ভালো বোঝেনা তার জন্য ধ্বংসই একমাত্র ভবিতব্য।

কুত্তার বাচ্চাদেরও ১০ দিনে চোখ ফুটে যায়, চটিপন্থী মুসলমানেদের ১০ বছরেও চোখ ফোটেনি। আপনারা কবে বুঝবেন যে মমতা আসলে আপনাকে RSS বানিয়ে দিয়েছে। আপনার ইমানকে প্রশ্ন করুন- আপনি অদৌ মুসলিম না মুনাফেক?

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০

বলিউড


এই ছবিটি বলিউডের পাশাপাশি প্রতিটি শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষদের জন্য একটি শিক্ষা বিশেষ। কোনও ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার সামনে যখনই মাথা ঝুঁকিয়ে ফেলবে, এর পর আর কোনো সাফল্য অর্জনই আপনাকে সম্মানের সাথে বাঁচাতে দেবেনা।

তোষামোদি একবার শুরু করলে তা বারংবার করেই যেতে হবে যতই বিরক্ত লাগুক না কেন, যতি পরলেই 'ডিভাইড এন্ড রুল' মেনে আপনাদের মাঝেই ফাটল সৃষ্টি করে আপনাদের খ্যাতিকে কলুষিত করে তার আড়ালে নিজেদের কুকীর্তি লুকাবে।
গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে আপনারা 'হিরো' 'হিরোইন'রা নিশ্চুপ থেকেছেন সমাজের বিপদের দিনে, উপরন্তু দাঁত বেড় করে 'ফিল গুড' বিজ্ঞাপন করেছেন অত্যাচারীদের হয়েই। আপনাদের সেই নিরবতা ও সুবিধাবাদী, পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকার মানসিকতাই আজ মূল্য দাবি করেছে, আপনাদের নীরবতাই আজ আপনাদের জীবন ও পেশাকে জটিল করে তুলেছে।
গুটি কয়েক হাতেগোনা ব্যাক্তি ছাড়া গোটা ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রির সকলকেই আজ প্রায় ভিলেন বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় শ্রেনীর অযোগ্যকে নায়কের মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে। দেশে যত সমস্যা সবই আপনাদের শো-বিজনেসের পাঁক লেপে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকছে- যাদের সাথে আপনারা গলাগলি করে ছবি তুলতে গেছিলেন, তারাই আপনাদের ব্যবহার করছে। যাবতীয় মান সম্মান আজ কোথায় আপনাদের?
বিকৃত মিডিয়ার শিকার আজ আপনারা নিজেই, অথচ এই মিডিয়াই যখন সমাজের মাঝে হিন্দু-মুসলমান বিভেদ রচনা করেছিল- তখন আপনারা চুড়ান্ত উদাসীন ছিলেন, আজ মুল্য চোকাতে হবে বৈকি।
কিন্তু এর পরেও তো বাঁচতে হবে, তাই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিন। সমাজের প্রতিটি স্তরই আজ ফ্যাসিবাদী মূর্খদের দ্বারা চরমভাবে নির্যাতিত। লাভ কেবল মুষ্টিমেয় সাংবাদিন নামধারী বেশ্যার আর কিছু পুঁজি পতিদের।
আজ এখনও আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়নি, এখনই এই বর্বর কর্তৃত্ববাদবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সোচ্চার না হন, আগামীতে এদের লাললা আপনাদের সম্পূর্ণ গ্রাস করে নেবে।

মোদিজী ও তার প্রচারযন্ত্র


এই ছবিটি বলিউডের পাশাপাশি প্রতিটি শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষদের জন্য একটি শিক্ষা বিশেষ। কোনও ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার সামনে যখনই মাথা ঝুঁকিয়ে ফেলবে, এর পর আর কোনো সাফল্য অর্জনই আপনাকে সম্মানের সাথে বাঁচাতে দেবেনা।

তোষামোদি একবার শুরু করলে তা বারংবার করেই যেতে হবে যতই বিরক্ত লাগুক না কেন, যতি পরলেই 'ডিভাইড এন্ড রুল' মেনে আপনাদের মাঝেই ফাটল সৃষ্টি করে আপনাদের খ্যাতিকে কলুষিত করে তার আড়ালে নিজেদের কুকীর্তি লুকাবে।

গড্ডালিকা প্রবাহে ভেসে আপনারা 'হিরো' 'হিরোইন'রা নিশ্চুপ থেকেছেন সমাজের বিপদের দিনে, উপরন্তু দাঁত বেড় করে 'ফিল গুড' বিজ্ঞাপন করেছেন অত্যাচারীদের হয়েই। আপনাদের সেই নিরবতা ও সুবিধাবাদী, পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকার মানসিকতাই আজ মূল্য দাবি করেছে, আপনাদের নীরবতাই আজ আপনাদের জীবন ও পেশাকে জটিল করে তুলেছে।

গুটি কয়েক হাতেগোনা ব্যাক্তি ছাড়া গোটা ফিল্ম ইন্ড্রাস্ট্রির সকলকেই আজ প্রায় ভিলেন বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় শ্রেনীর অযোগ্যকে নায়কের মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে। দেশে যত সমস্যা সবই আপনাদের শো-বিজনেসের পাঁক লেপে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকছে- যাদের সাথে আপনারা গলাগলি করে ছবি তুলতে গেছিলেন, তারাই আপনাদের ব্যবহার করছে। যাবতীয় মান সম্মান আজ কোথায় আপনাদের?

বিকৃত মিডিয়ার শিকার আজ আপনারা নিজেই, অথচ এই মিডিয়াই যখন সমাজের মাঝে হিন্দু-মুসলমান বিভেদ রচনা করেছিল- তখন আপনারা চুড়ান্ত উদাসীন ছিলেন, আজ মুল্য চোকাতে হবে বৈকি।

কিন্তু এর পরেও তো বাঁচতে হবে, তাই ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিন। সমাজের প্রতিটি স্তরই আজ ফ্যাসিবাদী মূর্খদের দ্বারা চরমভাবে নির্যাতিত। লাভ কেবল মুষ্টিমেয় সাংবাদিন নামধারী বেশ্যার আর কিছু পুঁজি পতিদের।

আজ এখনও আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়নি, এখনই এই বর্বর কর্তৃত্ববাদবাদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সোচ্চার না হন, আগামীতে এদের লাললা আপনাদের সম্পূর্ণ গ্রাস করে নেবে।

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মূর্খ নির্লজ্জ হলে সাংবাদিক হয়



এটা একটা জনপ্রিয় নিউজপোর্টাল এর খবর।


সাংবাদিকেরা কতবড় মূর্খ নির্লজ্জ হলে অবলীলায় এমনটা লিখতে পারে।

এখানে উল্লেখ্য সিঙ্গুরের সঞ্জীব বাবু তিনি কয়েক বিঘা জমির মালিক কিন্তু এই মুহূর্তেও তার কাছে 10 টন ধান মজুদ রয়েছে, মানে কথার প্রসঙ্গে ধরেই নেয়া যায় আগেও তার আরো ধান ছিল।

এক্ষেত্রে সিঙ্গুরের মাটিতে ধানের ফলন বিঘাপ্রতি ৫-৬ কুইন্টালের বেশি হওয়া সম্ভব নয় সেখানে ১০ টন ধান হতেও কমপক্ষে ১৮ থেকে ২০ বিঘা জমি প্রয়োজন। কয়েক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ২ টন ধান হওয়া সম্ভব তার বেশি হয়। আর যার ২৫-৩০ বিঘা জমি আছে তাকে কয়েক বিঘা বলা যায়?

তাছাড়া সঞ্জীব বাবু, এতোদিন আপনার ধান কে বেশি দামে বাইরে বেচতে মানা করেছিল? আমরা তো ছত্রিশগড়ের চাষীর থেকেও মাল কিনে এনেছি আমাদের ফ্যাক্টারির জন্য, চাষীর নিজের উৎপাদিত শস্য আগে গোটা দেশে বা দেশের বাইরে বেচতে অসুবিধা কোথায় ছিল? আর বাকি রইলো MSP, মমতার জামানাতেও বিগত ১০ বছর ধরে ও তার আগেও বাম জামানায় বেনফেড, নাফেড, ECSC ইত্যাদি সমবায় গুলো গ্রামে গ্রামে ক্যাম্প করে সারা বাংলা জুড়েই ধান সংগ্রহ করেছে। মমতা তো চেকে পেমেন্টও করেছে, তার পরেও প্রতি বছর ধানের দাম আকাশ ছুঁয়েছে যা MSP এর চেয়ে অনেকটাই বেশি। আপনি বা আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্টে কি MSP এর থেকে কমে মাল বিক্রির কোনো নথি আছে?

আদারে নোংরা মানসিকতার চাষী হলে অপরিপক্ষ নরম ভিজে ধান মেসিনে একদিনে কেটে এবারে যদি রাইসমিলারকে MSP তে কিনতে চাপ দেওয়া হয় তা কে নেবে? নর্মাল ধানে ১৬% ময়শ্চার স্বাভাবিক যাকে FAQ মান বলা হয়। এখনকার অধিকাংশ চাষীই অপরিপক্ক ভিজে ধান কেটে নেয়, যাতে কমপক্ষে ২৫% ময়শ্চার থাকে উর্ধে ৩৫% পর্যন্ত। স্বাভাবিকভাবেই ১৬ এর অধিক ময়শ্চার বিজ্ঞানের নিয়মে ওজন হিসাবে বাদ যাবেই। এই ধান ২৪ ঘন্টা মজুদ রাখা যায়না, গাদা করে রাখলে তলায় আগুন ধরে যাবে এমন অবস্থা হয়, সাথে পচে গিয়ে বিচ্ছিরি গন্ধ হয়ে তা থেকে আর গোটা চাল না হয়ে খুদ তৈরি হয়। সুতরাং MSP না পাওয়ার দায় সরকার বা অন্য কারোর নয়, ফসলের মান FAQ কিনা সেটা তো চাষীকেই নির্ধারন করতে হবে।

নতুন বিলে আগামীতে যে আর MSP টাই থাকলোনা, কারন EC এ্যাক্ট ধানে প্রযোজ্য নয়, যে কোনো সময় MSP বিলুপ্ত হতে পারে বিনা নোটিসে, তখন কি করবেন?

যত্তোসব ভুঁয়ো ফালতু গুল-গল্পের ভাঁওতাবাজি-

আসলে ঘরে বসে নেট ঘেঁটে কনটেন্ট রাইটার হয়ে গোদী মিডিয়া বা নাইটি সেলের ভাড়াটে সৈনিক হলে যা হয় আরকি-

ছ্যাঃ

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

কেন্দ্র সরকারের ঋণ

 


জুন ২০১৪ এ ভারতের মোট ঋণ ছিলো-

₹ 54,90,763 কোটি
জুন 2019 এ ভারতের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছিলঃ-
₹ 88,18,076 কোটি
2020 সালের জুন মাসে ভারতের মোট ঋণ দাঁড়িয়েছেঃ-
₹ 101,30,000 cr
বিগত ৬ বছরে মোদী ভারতের মোট ঋণের বোঝা দ্বিগুণ করেছে এবং GDP কে তলিয়ে দিয়েছে।
গড়ে প্রতিটা ভারতীয়ের মাথায় ৭৫ হাজার টাকার ঋণের বোঝা, যে বাচ্চাটি আজ জন্ম নিচ্ছে সে ও ৭৫ হাজার টাকার ঋণ নিয়েই জন্মাচ্ছে। বলাই বাহুল্য আগামী ৪ বছরে এই অঙ্ক কোথায় পৌছাবে কেউ জানিনা। আর এর পরেই দেশ বিক্রি করে দিতে হবে সাম্রাজ্যবাদীদের কাছে, ঋণের দায়ে। গোলামির ফাঁসে জড়িয়ে যাবে রাষ্ট্র ও সমাজ।
প্রসঙ্গত কংগ্রেস ৭০ বছরে যা করেছিল মোদী ৬ বছরে সেটাই করেছে এটা প্রমানিত।
তবে হ্যাঁ, সবাই ক্ষতিগ্রস্থের তালিকাতে নেই। যেমন আম্বানি। গত মাসে আম্বানির রিলায়েন্স ইন্ড্রাস্ট্রিজ নিজেদের debt শূণ্য সংস্থা মানে ঋণমুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসাবে ঘোষণা করেছে!
অর্থাৎ আমার আপনার সন্তান ঋণের ভারে জর্জরিত হয়েছে মোদীর কল্যানে, তাতে আপনি মুসলমান হোন বা দলিত বা ভক্ত। কিন্তু আম্বানির ছেলে ঋণমুক্ত হয়ে লক্ষ কোটির সম্পদ বানিয়েছে।
এটাই মোদীর আচ্ছে দিন।
চলুন রিয়া চক্রবর্তীর গাঁজা বা করিণার পেট কমাসের হলো বা IPL এ কে জিতবে সেটা নিয়েই চর্চা চলুক, কারন আম্বানীরা সেটাই চায়।

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০

রাজু বিস্ত ও বাংলা ভাগের প্রস্তাব



বাংলাভাগ মানছিনা মানবো না। একজন বাঙালি হয়ে এ অপমানের আঁচ যদি আপনার গায়ে না লাগে তাহলে আপনি আপনার বাঙালিয়ানা জন্ম নিয়ে জিন পরিক্ষা করান, কারন অবৈধ বীর্যে গুজরাতিরা শীর্ষে আছে- কে বলতে পারে আপনি সেই বীর্যে বলিয়ান কিনা।

গতকাল রাজু বিস্ত সংসদে দাঁড়িয়ে বাংলাকে ভাগ করে গোর্খাল্যান্ড তৈরির দাবি জানায় এবং ঠিক পেছনে বসে বিজেপির জোকার তথা রাজ্য সভাপতি ও সাংসদ দিলীপ ঘোষ সহ বাংলার বাকি বিজেপি সাংসদরা টেবিল চাপড়ে সেই দাবিকে সমর্থন জানায়। অবশ্য বিজেপি এটাই পারে, দেশের ও দেশের বাইরে সকল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাথে গভীর যোগাযোগ রেখে চলে।

এদের হাতে কি আপনারা ২০২১ সালে ক্ষমতা তুলে দেবেন বলে আপনারা অনেকেই বুক বেঁধেছেন, তা বাঁধুন- যা হয় হোক, মুসলমানকে শিক্ষা দিতে হবে। আজ এরা বাংলাকে ভাগ করার চক্রান্ত করছে, কাল মুসলমান-কমিউনিষ্টদের দোহায় দিয়ে আবার দেশ ভাগ করে আপনাকে হাতে বাটি ধরিয়ে দেবে সেদিনের আগের আপনাদের চোখ ফুটবেনা। কুকুরের বাচ্চারও ৬ দিনে চোখ ফোটে, আপনারা কুত্তারও অধম তাই ৬ বছরেও চোখ ফোটেনি, আগামীতে ফুটবে সে আশঙ্কাও নেই।

তাই সিটবেল্ট কষে নিন, শ্রমিক গেছে, ছোট ব্যবসায়ী মরেছে, চাকরি নেই, এখন কৃষকও সেই পথেরই পথিক। তবে আম্বানী চতুর্থ ধনী হয়েছে। এর পর লক্ষ্য আপনি।

এভাবেই বিজেপি একদিন বাংলাকে ভাগ করবে, তারপর দেশ। সেদিন আবার এমনই কিছু খেদবমি করবো যদিনা মিথ্যা মামলাতে ফাঁসিয়ে আওয়াজ বন্ধ করে দেয়।

তবে দেশ ভাগের আগে দেশের প্রায় যা কিছু বিক্রয়যোগ্য সবই গুজরাতীদের কাছে বেচে দেবে বা দান করে দেবে বা লুঠ করতে সহযোগিতা করবে বিজেপি-RSS সরকার। পরবর্তীতে গুজরাত রাষ্ট্রে তারা স্বমহিমায় ফিরে আসবে।

কারন মোদীকেও যে নোবেল পেতেই হবে।

মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়।

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০

খোলাচিঠিঃ শ্রদ্ধেয় শিক্ষক শিক্ষিকাগণ

 




মোদী সরকার যে দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে চলছে তাতে স্কুল শিক্ষকেরা মানে আপনারা আর কে কতদিন চাকরি করতে পারবেন তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ হচ্ছে আমার ব্যক্তিগতভাবে। আমাদের রাজ্য সরকার তৃণমূলও ওই পথেরই পথিক মানে বিজেপিরই সহোদর, এরা সকলেই RSS এর শাখা সংগঠন, কেউ প্রকাশ্যে স্বীকার করে কেউ গোপন রাখে রাজনৈতিক স্বার্থে। দিনের শেষে এদের শিকড় আসলে একটাই।

আজকের দিনে দেশের সর্বত্র সকল কিছুই খুলে গেছে প্রায়, সকলে সকল স্থানে যাতায়াত করছে। মেলা-খেলা-ধর্ম-বিয়ে-শ্রাদ্ধ-ভ্রমণ সবই হচ্ছে লেখাপড়া ছাড়া। যারা ধনী ও বেসরকারি ইস্কুলে পড়ে তাদের জন্য অবশ্য গালভরা নাম দিয়ে অনলাইন ক্লাস হচ্ছে, কিন্তু সেটা কতো শতাংশ মোট পড়ুয়া জনসংখ্যার? আজকের দিনে প্রতিদিন যারা করোনাতে আক্রান্ত হিসাবে ধরা পড়ছেন সেটা বেশি মাত্রায় টেষ্ট হওয়ার কারণে, গত এপ্রিলে এই মাত্রায় টেষ্ট হলে এটা তখনই ধরা পড়তো। তাছাড়া বিগফার্মা ও বিল গেটস দের মতো চিকিৎসা ব্যবসায়ীদের ভ্যাকসিনের বাজার তৈরি ও তাদের আগামীর পরিকল্পনার কথা নাহয় বাদই রাখলাম এই পর্বে।

ট্রেনটা খুলছেনা কারণ সেটা বিক্রিবাটা করে কতটুকু সরকারের ভাগে থাকবে সেটা স্থির করে নিয়ে তবে চালাবে এটা তো মোদী সরকারের ঘোষিত সিদ্ধান্ত। কিন্তু স্কুল খুলছেনা কেন? গোটা বিশ্বেই তো স্কুল কলেজ প্রায় সব স্বাভাবিক হয়ে গেছে তাও মাস তিনেকের কাছাকাছি হয়ে গেলো। যদিও অনেক দেশে স্কুল কলেজ বন্ধই করেনি, সে দেশ করোনার তালিকাতে আমাদের দেশের চেয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে রয়েছে সংখ্যাতে।

বিষয়টা কি দাঁড়ালো তাহলে! এখানেও কি তাহলে কোনো গোপন এজেন্ডা আছে সরকারের? ঠিক যেভাবে অন্য পেশার কয়েক কোটি মানুষজনের চাকরি খেয়ে তাদের পথে দাঁড় করিয়েছে তথাকথিত মোদীর মাস্টারস্ট্রোকের দাপটে।

শিক্ষক মানেই স্কুল তথা একটা প্রতিষ্ঠান দরকার, আর স্কুল থাকলেই সমাজ শিক্ষিত হবে, যাদের ধর্মের গাঁজা খাইয়ে বুঁদ রাখা যাবেনা সহজে। শিক্ষিত মানুষ ধর্মচারণ আর ধর্মোন্মাদের ফারাক বোঝে, তাই একজন অশিক্ষিত গাম্বাটকে আল্লাহু আকবর বা জয় শ্রীরাম বলিয়ে যত সহজে অন্যের মাথায় বারি দেওয়া সম্ভব, শিক্ষিতদের দিয়ে যেটা সহজ নয়। শিক্ষিত সম্প্রদায় মানেই প্রশ্ন করবে আধিকারিককে, অধিকার সম্বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।

রাজ্যের তৃণমুল সরকার তো শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করাকে শিল্পের পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। এখন মনে হচ্ছে এই লকডাউনের দীর্ঘসূত্রতার বাহানাতে- কেন্দ্র ও রাজ্য সম্মিলিতভাবে govt স্কুল বন্ধ রেখে শেষে অনলাইন শিক্ষা সমৃদ্ধ প্রাইভেট স্কুল খোলার বিল নিয়ে আসবে হয়তো।
ব্যস, তাহলে আর এতো শিক্ষকের কি দরকার? ইচ্ছামতো ছাঁটাই করে দেবে আপনাদের মধ্যে, যাকে খুশি। কি সুন্দর বসে বসে প্রতি মাসের ২৮ তারিখে বেতনটি ঢুকে যাচ্ছে অ্যাকাউন্টে, এমন সুখের সময় আর কার জীবনেই-বা এসেছে।

প্রতিটি বেসরকারি বা সরকারি অফিস কাছারি অর্ধেক কর্মচারী দিয়ে দিয়ে কাজ চালিয়ে নিয়েছে এই করোনাকালে, এবং কাজ চলেও গেছে বা যাচ্ছে। স্বভাবতই 'উন্নয়ন' ও 'আচ্ছেদিন' সরকারদ্বয় যদি এর পর অর্থনৈতিক মন্দার দোহাই দেখিয়ে কর্মী সঙ্কোচন করে, কিম্বা যদ্দিন কাজ তদ্দিনের বেতন, কিম্বা ছাত্রেরা টিউশন ফি দিলে তবেই বেতন হবে অথবা আপনাকে বর্তমান বেতনের অর্ধেক বা তারচেয়েও কম দিয়ে কাজ করতে বাধ্য করে- তাতে মোটেও আশ্চর্য হবেননা। মজার কথা হলো তাতেও আপনারা কাজ করবেন, কারণ প্রতিবাদের ভাষা আপনি ভুলে গেছেন স্যার/ম্যাডাম। Boiling frog syndrome এর শিকার আপনারা, সমষ্টিগত ভাবে। আত্মকেন্দ্রিকতার আদর্শ নমুনা আপনাদের এই সমাজটি।

শ্রমিকেরা ভুগেছে, শিক্ষকেরা মানে আপনারা সংগঠিতভাবে নীরব ছিলেন এক আধজন ব্যতিক্রমী ব্যাক্তি ছাড়া। পরিযায়ীরা পথে পথে মরে বেওয়ারিস লাস হয়েছে, আপনারা কানেও শোনেননি চোখেও দেখেননি। না আপনাদের কোনো সংগঠন কোনও প্রকারের ত্রান নিয়ে তাদের জন্য কোথাও হাজির হয়েছিল। ছোট ব্যবসায়ী ভুগেছে, আপনারা শিক্ষকেরা সম্প্রদায় হিসাবে নিশ্চুপ ছিলেন। দেশে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ হয়েছে- আপনাদের সমাজ চেয়ে চেয়ে দেখেছে আর সংবাদ চ্যানেল দেখতে দেখতে অস্বস্তির জাবড় কেটেছেন। কোটি কোটি মানুষ কর্মহীন হয়ে গেছেন, 'আমরা তোমাদের পাশে আছি' বার্তা নিয়ে কোনো শিক্ষক সমিতি দাবি করেছে বলে কেউ বদনাম দিতে পারবেনা। আজ কৃষকের উপরে স্টিম রোলার চলছে- আপনাদের শিক্ষক সংগঠনের তরফে শ্মশানের নিরবতা দেখা যাচ্ছে। বরং অনেকেই আপনারা বিজেপি তথা মোদীর ভক্ত কিম্বা নীলসাদা চটি চেটে নেই নেশাতেই বুঁদ হয়ে রয়েছেন, গত নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটের এটাই হিসাব ছিলো। কেউ কেউ ব্যাক্তিগত স্তরে মানবিক হয়ে উঠেছিলেন, কিন্তু একার শক্তি আর কততুকু?

প্রতি সপ্তাহে, খবরে যখন দেখাচ্ছে- আগামী ১৫ দিন স্কুল-কলেজ আরও বন্ধ থাকবে; আপনারা হয়তো উল্লাসে ফেটে পড়ছেন। আসন্ন পুজোতে কি স্বাভাবিক ছুটি দেবে না কি করোনার ছুটি কেটে নেবে এই ভাবনায় আপনারা ঘুমাতে পারছেননা অনেকে। আপনারা পরিবার নিয়ে পুজোর ভ্রমণের প্লানিং করতে ব্যস্ত, কিম্বা ফিমেল গ্রুপে কেনাকাটা বা উইন্ডো শপিং তে next Pp ইত্যাদি করে যাচ্ছেন মনের সুখে। কেউ কেউ সাহিত্য গ্রুপ গুলোর কোহিনুর হয়ে রোজ কাব্যের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন নিজেরাই নিজেদের গা চাটাচাটি করে। অন্তত ফেসবুকের গ্রুপ গুলোতে এটাই ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে।

এমনিতে যারা ঈদে মাথায় টুপি পড়ে ছবি দেন, পুজোয় নতুন জামা পরে পোজ দেন- তারাই আবার ‘আমি কি হিন্দু’ বা ‘আমি কি তাহলে আজ থেকে মুসলমান’ স্ট্যাটাস দিয়ে আবেগের সর্বধর্ম সম্মিলনীতে ষাড়াষড়ি বাণ ডেকে চরম তৃপ্তি লাভ করছেন অবসরে, যেন আগে ওনারা খ্রিষ্টান ছিলেন অথবা তারা যে হিন্দু/মুসলমান সেটা এই প্রথম জেনেছেন। যারা ফেসবুকে নেই তারা কেউ মাঝ ধরছেন, কেউ টিউশনি করাচ্ছেন, কেউ গান গাইছেন তো কেউ সেলাই এর বুটিক খুলে ভার্চুয়াল দোকান সাজিয়েছেন পরিবারের অন্যের নামে। এ এক দারুন সময়, অখন্ড অবসরের ফাঁকে- মিউচুয়াল ট্র্যান্সফার উইন্ডোটা খুলছেনা কেন বাপু ছাড়া একটা সার্বজনীন ভাবনা- স্যাটের রায়ে প্রাপ্য DA কবে পাবো!

কেউ এটা শুধাচ্ছেনা, বিনা পরিশ্রমে ট্যাক্সের টাকা ধ্বংসে কদ্দিন বেতন নেব? কদ্দিন আর কাজ না করে বসে থাকবো?

ব্যস, এ কথা যেই কেউ শুধাবে সাথে সাথে সে বা তারা ওঁদের গণশত্রু হয়ে যাবে। নীতি, নৈতিকতা, দাবি ও অধিকার কেবল বাকিদের দায়, শিক্ষক সমাজ noble proffession বলে কথা- তাদের আবার নৈতিকতা কি হে! কেউ কেউ আবার এতটাই রেগে যাবেন যে সামনে পেলে কামড়েও দিতে পারেন।

‘কবে স্কুল খুলবে’, ‘…আর ভাল্লাগছেনা’ এমনটা কটা শিক্ষক স্ট্যাটাস দিয়েছে দেখান দেখি? আসলে চূড়ান্ত স্বার্থপর একটা সমাজ, যাদের পেটে কিছু কাগুজে বিদ্যা রয়েছে ঠিকিই- তোতাপাখির মতো, পেশার খাতিরেই তারা শিক্ষক। চাকরি না পেলে ওয়াগান ব্রোকারও হতে পারত অথবা নগরবধূর সালিশ, কিম্বা সমাজ স্বীকৃতি দিলে পকেটমারিতেও এদের নৈতিকতা বোধে আটকাবে না, এতটাই তফাতে চলে গেছেন এনারা মূল সমাজ থেকে। আসলে সুদখোর কাবুলিওয়ালার সাথে এদের পেশাদারিত্ব দায়বদ্ধতা নিজেরাই এক করে ফেলেছে একটা বিন্দুতে এসে, দুটো সম্প্রদায়েরই চোখের পটি আর অবশিষ্ট নেই সম্মিলিত ভাবে। এক আধজন যারা ব্যতিক্রমী তারা শিক্ষক পরিচয়ের বাইরে এসেই তারা মানবিক ও বিরল ব্যক্তিত্বের। সিংহভাগ শিক্ষকেরই যেখানে সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষা নেই সেখানে আগামীকে শেখাবে কে?

আপনারা মানে সরকারি শিক্ষকেরা বেশ আয়েশের মাঝে, সামান্য ভার্চুয়াল বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জীবনের একটা সেরা সময় পার করে চলেছেন এটাই একমাত্র সত্য এই করোনাকালে।

কিন্তু কেন্দ্রের সরকার তো কসাই। কসাই পোলট্রি মুরগিকে বা গোয়ালের ছাগলকে এতো খাওয়ায় বা যত্ন নেয়- যাতে সে বসে খেয়ে অল্প দিনের মাঝেই বিপুল স্বাস্থ্য সৌন্দর্য অর্জন করে। শেষে কি হয়? জবাই।

কসাই সরকারের মাথারা যে আপনাদের শিক্ষক সমাজকে খাইয়ে দাইয়ে মগজে এতো পরিমাণ স্থবিরতার চর্বি জমিয়ে দিয়েছে যে আপনারা ভাবনা গত ভাবে অথর্ব হয়ে গেছেন। আসলে এই নিষ্কর্মা ভোঁতা করে রেখে দিয়ে আগামীতে যে জবাই করবেনা আপনাদের- তার গ্যারান্টি কে দিচ্ছে? শিক্ষক মানে তো আপনারা, সমাজের শিক্ষিত মানুষজনের দল, সরকারি বেতনের গাজরের সৌজন্যে আপনাদের সিংহভাগ শিক্ষক সদস্যই রাজনীতিকে ‘স্ত্রীর গুপ্ত প্রেমিক’ বা ততোধিক গর্হিত অপরাধের চোখে দেখেন।

যে সকল শিক্ষকেরা রাজনীতি সচেতন তাদের থেকে আপনারা বাকিরা ছোঁয়াচে দাদ-হাজা-এগজিমা রোগীর থেকে যেমন ছোঁয়াচ বাঁচায় তেমনটা এড়িয়ে চলেন, পাছে লোকে আপনাকে দেখে ফেলে। বর্তমানে সুস্থ রাজনীতি বোধকে আপনারাই আজ এই পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। না নিজেরা চর্চা করেছেন না ছাত্রদের এ বিষয়ে শিখিয়েছেন। রাজনীতি বিষয়ে টুঁ বা রা টুকু কাটেননা। স্বভাবতই গাঁটকাটা, ওয়াগান ব্রোকার, সিঁধেলচোর, ক্লাস টু ফেল বা এই ধরনের নিকৃষ্ট লোকজন আজ রাজনীতির নিয়ন্ত্রকের আসনে বসে আপনার ভবিষ্যত নির্ধারণ করছে। একেই বলে নিয়তির প্রতিশোধ, যেমনটি দিয়েছেন তেমনটিই ফিরৎ পাবেন গুণে গুণে। আজকে আমার মত মানুষের সাথে আপনার আর বস্তুগত কোনো ফারাক নেই ডিগ্রিটুকু ছাড়া।

আগামীকাল যদি সত্যিই সরকার বলে- এতো শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মচারীর কি দরকার! কারণ ইতিমধ্যেই কিছু মুর্খ নেতা বলতে শুরু করেছে (a+b)2 এর ফর্মুলা আমাদের কোনো কাজে আসে, বা একজন মানুষের এতো ডিগ্রির কি দরকার, মার্কসীটের প্রয়োজন নেই ইত্যাদি। আগামীতে এরাই- ডারউইন শিখে কি লাভ! মানুষ তো ঈশ্বরের সৃষ্টি। সালোকসংশ্লেষ মাস্টারমশাই অপ্রয়োজনীয় কারণ এই সংজ্ঞা তো আমাদের জীবনে কোনো কাজে আসে না। কিম্বা ধরুন পামীর মালভুমি বা আন্দিজ পর্বত সম্বন্ধে জেনে কি লাভ সেখানে কি আপনি যাবেন কখনও এই প্রশ্ন তোলে! অথবা ইতিহাস পাঠের প্রয়োজন নেই সকলের- ইত্যাদি।

অতএব এক ধাক্কায় শিক্ষক সংখ্যা অর্ধেক করে দিতে ১০ মিনিটের জন্য সংসদের মাইক মিউট করে রাখাই যথেষ্ট। এই সপ্তাহেই ২ দিনে বিরোধী শূন্য সংসদে ১৫টা গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করিয়ে নিয়েছে কোনো এথিক্সের তোয়াক্কা না করেই। সুতরাং বরখাস্ত হওয়া প্রাক্তন শিক্ষকেরা সেদিন আন্দোলনে নামবেন যাদের সদ্য চাকরি গেছে, কিন্তু আপনাদের পাশে সেভাবে কাউকে পাবেননা, কারণ অন্যদের দুঃসময়ে আপনারা কারো পাশে দাঁড়াননি। সেদিন বুঝবেন একটা অশিক্ষিত উন্মাদ রাষ্ট্রনেতাদের দল আসলে আপনাদের মাঝে আদর্শহীন আত্মকেন্দ্রিকতার ফসলের চাষ করিয়ে কৌশলে সমাজের ইউনিটিকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে, এবং সমাজ থেকে আসলেই আপনি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

অতএব সাধু সাবধান। এখনও সময় আছে, পথে যেতে না পারলেও আওয়াজ তুলুন যতটা আপনার সাধ্য, অন্তত মুখটা হাঁ তো করুন, সমাজের মাঝে লড়াই করা মানুষগুলোকে ভরসা দিন যে আপনারাও তাদের সাথে রয়েছেন। এটুকুই তো চায় সমাজ।

মনে রাখবেন এই কেন্দ্ররাজ্য সরকারদ্বয় একটাও নতুন কোনো সরকারি স্কুল তৈরি করেনি, উপরন্তু নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া এক প্রকার বন্ধই রেখেছে। আপনারা শিক্ষিত, কিন্তু বাস্তব জ্ঞানের প্রয়োগ বিধির অভাবে কতো বড় ভয়ঙ্কর বিপদের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন সেটার অনুমানই করতে পারেননি।

চাল-ডাল-আলু পেঁয়াজ যদি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে তাহলে সরকারি স্কুল শিক্ষকও একটা কলমের খোঁচায় অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাওয়াটা কোনো কষ্ট কল্পনা নয় অন্তত আজকের পরিস্থিতিতে। কর্পোরেট সংস্থার সাথে সরকারের অবৈধ প্রণয় আজ স্বীকৃত, তাই মুনাফার লক্ষ্যে শিক্ষার বেসরকারি করণের পদক্ষেপ হিসাবে- গণহারে শিক্ষক ছাঁটাই অভিযান শুরু হওয়াটা কোনো অলীক কল্পনা নয়। এ ক্ষেত্রে এখনই যদিনা আপনারা আপনাদের কর্মস্থল স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলার জন্য আন্দোলন শুরু না করেন তাহলে আপনাদের কর্মজীবনের ভবিষ্যতে ঘোর অমানিশা অপেক্ষা করছে।

আপনারা স্যার/ম্যাডাম শিক্ষিত সমাজ, এ নিয়ে কারো কোনো প্রশ্ন নেই। আপনারা কারোর জন্য কোনো প্রতিবাদ করেননা সম্মিলিতভাবে, তথা আপনারা স্বার্থপর সেটাও স্বীকৃত। এবারে তো আপনাদের নিজেদের গলা’ই হাঁড়িকাঠে চড়তে চলেছে, আমরা অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিতেরা সেটা আঁচ করতে পারছি, আপনারাও তলিয়ে দেখুন এবং সেই মতো অবস্থান নিন। আমার অন্তত বিশ্বাস আছে যে চেষ্টা করলেই আপনারাও বুঝতে পারবেন গোটা বিষয়টা।

আমার এই প্রতিবেদন যদি ভিত্তিহীন হয় তাহলেও আমার ব্যাক্তিগত ক্ষতি নেই, সত্য হলেও ক্ষতি নেই, তাই আমাকে নিয়ে ট্রল, জোকস, বানানভুল ধরতে ধরতেই একটিবার ভেবে দেখুন- কাল সকালে আপনার সাধের চাকরিটি আর নেই- না মাঠে খাটতে জানেন না পারেন ব্যবসা। সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে বাঁচাটাও শেখেননি, যেখানে আপনার দুর্দিনে পাশে পাশে কাউকে পাবে এমন শঙ্কাও ক্ষীন। অন্তত নিজের জন্য ভেবে ১% ভয় পেলেও অন্য অত্যাচারিতদের পক্ষে আওয়াজ তুলুন, তাদের পাশে দাঁড়ান। স্কুল খোলার জন্য আন্দোলন করুন, শিক্ষা দিন, সমাজ করে তুলুন- কারণ আপনারাই শিক্ষিত সমাজ, আপনারাই শিক্ষক।

নতুবা আপনি চরম একা আছেন, আরো একা হয়ে যাবেন। আত্মহত্যা করার জন্য দড়ি বা বিষ কেনার জন্য না আবার লোন করতে হয়।

ভালো থাকবেন।

রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২০

অনলাইন শিক্ষা




আমরা সেই ক্ষণজন্মা প্রজন্ম যারা যুগ সন্ধিক্ষণে জন্মেছি। শেয়াল ডাকা বাঁশবনের ধারে গা ছমছমে সন্ধ্যায় হ্যারিকেনের বাতি জেলে পড়া শুরু করে এখন কিন্ডেলে সদ্যপ্রকাশিত উপন্যাস দেখি। অন্ধকার প্রেক্ষাগৃহের টং এর ঘর থেকে ফেলা আলোয় রুপোলি পর্দা বদলে গিয়ে এখন OTT প্ল্যাটফর্মে হাতেগরম সরবরাহ, মাঝখানে এই আমরাই দেখেছি টিভির দাপাদাপি। এই আমরাই সাইকেল চলার অনুপযুক্ত মোরামের রাস্তাকে বদলে যেতে দেখলাম এসফল্টের পরত দেওয়া খেলনা গাড়ির দৌড় প্রতিযোগিতার ট্র্যাকে। পাড়ার সাপ্তাহিক হাট-বাজারও আজ একটা ক্লিকের অপেক্ষায় দুয়ারে এসে দাঁড় করিয়ে দেবে ‘ডেলিভারি বয়’ নামক রানারদের। হাতের মুঠোয় সবকিছুই প্রায় হাজির। জীবনটা এতটা দ্রুত বদলে গেল যে, কবে ক্যাসেট ফুরিয়ে সিডি এল, ডিভিডি এল, আর কবেই বা মাইক্রো চিপস এল- তার গ্রাফটাই এঁকে উঠতে পারলাম না।
এরই মাঝে আরেক ক্রান্তিকাল, গরিব ও মধ্যবিত্তের চরম বিভীষিকাময় অধ্যায়- করোনাকাল। করোনাকাল জীবনের বহু গতানুগতিক রীতিনীতিই বদলে দিয়েছে, শিক্ষাও যার ব্যতিক্রম নয়। স্বভাবতই গত এক শিক্ষা বছরে গতানুগতিক শিক্ষা আমূল পরিবর্তিত হয়েছে। ষড়যন্ত্রতাত্ত্বিকেরা নানান তথ্য-তত্ত্ব দিয়ে গোটা বিষয়টার পিছনে কোনো অসাধু উদ্দেশ্যকে চিহ্নিত করতেই পারেন, কিন্তু তাতে আম মানুষের রোজনামচাতে কোনও পরিবর্তন ঘটবে না। যা পরিবর্তন ঘটার ছিল সেটা ঘটে গেছে, এখান ভাল হোক বা মন্দ- সেটাকে সাথে করে নিয়েই আগামীর পথ চলতে হবে। আমরা একটি নতুন যুগে প্রবেশ করছি- অনলাইন শিক্ষা যুগে। সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং মেন্টেনের যুগে ক্লাসরুমে শারীরিকভাবে উপস্থিত থেকে শিক্ষালাভই একমাত্র উপায় নয়- পঞ্চম প্রজন্মের গতিময় ইন্টারনেট এবং তার সাথে সঙ্গত রেখে নিত্য প্রযুক্তির বিকাশ ও উত্থানের এই সমাজব্যবস্থায় অভ্যস্ত হতে হবে বিকল্পতে। প্রয়োজন শুধু নিজস্ব ইচ্ছা সাথে কিছুটা অর্থনৈতিক সামর্থ্য, আর পরিকাঠামোর সহযোগিতা- এই ত্রিবেণী সঙ্গমে আপনি যখন যেখানে চান, একটি মানসম্মত শিক্ষার প্রবেশদ্বার পেয়ে যাবেন।
ইন্টারনেট মাধ্যমে শিক্ষাকে ঘিরে সংশয় নিয়ে আমার এই প্রবন্ধ নয়, সব কিছুরই ভাল ও মন্দ দুটো দিক থাকে। বর্তমানে অনলাইন শিক্ষার নামে যা শুরু হয়েছে তা একদমই প্রাথমিক পর্যায়ে। এর ব্যাপ্তিও বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল, আর হাতেগোনা একআধটা সরকারি স্কুল ছাড়া সেভাবে উপলব্ধ নেই। সেটাও কতটা কার্যকরী তা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে, কারণ অনলাইনে মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী আদপে কতটা শিখছে সেটার গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে। এর মূল কারণ দুটো- প্রথমত, আমাদের গতানুগতিক মানসিকতা, দুই- অনলাইন শিক্ষার পরিকাঠামো। এই পরিকাঠামো তৈরি হলেই- বাচ্চা আদৌ শিখছে কিনা তার পর্যবেক্ষণের নিয়ম এসে যাবে।
শত সহস্র বছর ধরে প্রচলিত ক্লাসরুম ভাবনাকে এক লহমায় কয়েক মাসের মধ্যে ভুলে যাওয়া যাবে- এই ধারণাটি ভাবনাতে আনাও অপরাধ। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী কঠিন হলেও অসাধ্য নয়, কারণ ইন্টারনেটের মাধ্যমে ধরতে পারা পৃথিবীর ব্যাপ্তিটা ক্লাসরুমের চেয়ে ঠিক কতটা বিশাল- সেটা আমরা কল্পনাতেও আনতে পারি না। আজ করোনা পরিস্থিতি আমাদের ইন্টারনেটের মুখোমুখি দাঁড় না করালেও মুখাপেক্ষি করে তুলেছে।
বিকল্পকে সকল সময় স্বাগত জানাতে হয়, বিকল্প শক্তির পরিচায়কও বটে। এদেশের শিক্ষার্থীরা ডিসট্যান্স এডুকেশন বিষয়টার সাথে পরিচিত থাকলেও, সেটার অনলাইন মাধ্যমের সাথে পরিচিতই নই। ওদিকে পশ্চিমা দেশগুলোতে শিক্ষার্থীরা বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে হাতেকলমে শিখছে, আর একাডেমিক শিক্ষা শিখছে অনলাইনে ডিসট্যান্স কোর্সে। বিকল্পের নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, তারা পরিকাঠামোগত বাধা সরিয়ে ভাল দিকটা গ্রহণ করেছে, তাই তারা এগিয়ে যাচ্ছে। আপনি প্রাপ্তবয়স্ক হলে অনলাইন শিক্ষা সবসময় একটি বুদ্ধিদ্বীপ্ত বিকল্প। একটি কঠিন বিষয়ে দক্ষতাকে তীক্ষ্ণ করার জন্য অথবা নতুন দক্ষতা রপ্ত করার জন্য একজন ছাত্রের কাছে অনলাইন শিক্ষা অতি কার্যকরী বিকল্প। কিন্তু শিশু ও কিশোরদের জন্য বিষয়টি এখনও পরীক্ষিত নয়, এটাই এই মাধ্যমের মূল সমস্যা।
অনলাইন শিক্ষা সহজবশ্য। শিক্ষক এবং ছাত্রকে তাদের নিজস্ব সময়সূচি নির্ধারণের অতিরিক্ত নমনীয়তা রয়েছে যা প্রত্যেকের কর্মসূচির সাথে খাপ খায়। চলতি কিছু না ছেড়েই অনলাইন শিক্ষার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পেশা ও পড়াশোনার একটি ভাল ভারসাম্য তৈরি করা যায়। অনলাইন অধ্যয়ন সময় ব্যবস্থাপনার দক্ষতা শেখায়, যা জীবনে ভারসাম্য আনতে সাহায্য করে। এই মাধ্যমের যৌথ কর্মসূচি উভয় পক্ষকেই নতুন দায়িত্ব গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করে।
ইন্টারনেটের মতো বিস্তৃত স্থানে শেখানোর এবং শেখার জন্য অসীম দক্ষতা এবং বিস্তৃত বৈষয়িক পরিসর রয়েছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার সাথে সমসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয় এবং উচ্চশিক্ষা স্কুল সেভাবে তৈরি হয়নি আমাদের দেশে। অনলাইন সংস্করণ শিক্ষায় সংগীত শিক্ষা থেকে কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞান, সব ধরনের শিক্ষার্থীর জন্য একাধিক বিকল্প রয়েছে। ক্যাম্পাসে পা না রেখেও অফিসিয়াল সার্টিফিকেট, ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি পাওয়ার জন্য অনলাইন শিক্ষা দুর্দান্ত বিকল্প। বস্তুত বলতে গেলে আমরা গৃহিণীরা আজকাল ইউটিউব দেখে রান্না করি, এটাও তো এক ধরনের অনলাইন শিক্ষাই। আসলে শিক্ষাকে যদি এন্টারটেনমেন্টের পর্যায়ে উন্নীত করা যায়, তাহলেই শিক্ষা সহজ হয়ে যায়।
এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত না করেই অনলাইন মাধ্যম বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে শিক্ষা দিতে সক্ষম করে। এতে কেবল সময়ই বাঁচে তাই নয়, অর্থ সঞ্চয়ও হয়, যা অন্যান্য অগ্রাধিকারগুলিতে ব্যয় করা যেতে পারে। ভ্রমণে থাকাকালীনও ভার্চুয়াল ক্লাসরুমের সুবিধা নেওয়া যায়। ব্যক্তিগত শিক্ষা পদ্ধতির বিপরীতে, অনলাইন শিক্ষা সাশ্রয়ী হতে পারে। আপনি যাতায়াত এবং শ্রেণীর উপকরণ থেকেও ভালো অর্থ সাশ্রয় করতে পারেন। শিক্ষককেও আর্থিক বিনিয়োগ কম করতে হয়।
অনলাইন শিক্ষার নমনীয়তা অধ্যয়নের গতি নির্ধারণ করতে সাহায্য করতে পারে, প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বতন্ত্র প্রয়োজনীয়তা এবং যোগ্যতার স্তরের জন্যও এই মাধ্যম যথেষ্ট নমনীয়। প্রথাগত ক্লাসরুম শিক্ষার চেয়ে অনলাইন ক্লাসগুলি আকারে-আয়তনে চেয়ে ছোট হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষক ও শিক্ষার্ত্রীর মধ্যে অধিক মিথস্ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ এনে দেয়। ভিডিও, ফোটো এবং ইবুকের মতো খুব বৈচিত্র্যময় সামগ্রী অনলাইনে অতিসহজেই অ্যাক্সেস করা যায়, যা আগেকার দিনের ছাত্রবন্ধু কিংবা পাঠাগারের বিকল্প। পাঠ উন্নত করতে ফোরাম বা আলোচনার মতো বিবিধ ফর্ম্যাটগুলিকে অনলাইন শিক্ষা সংহত করতে পারে সহজেই। এই অতিরিক্ত বিকল্প বাস্তবে কোনো একটি মুহূর্তে একটি স্থানে পাওয়া অসম্ভব, ফলে শিক্ষাব্যবস্থাকে ভীষণ গতিশীল করে তোলে।
আমাদের প্রত্যেককে অবশ্যই অনন্য পরিস্থিতির মূল্যায়ন করতে হয় এবং সময়ের চাহিদা ও লক্ষ্য অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হয়। প্রথাগত শিক্ষার পরিবর্তে এই বিকল্প আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে সবার জন্য নয়, এই বাস্তব পরিস্থিতিতে যাকে উপেক্ষা করতে পারি না আমরা। অবশ্যই এটি একটি সুবিধাজনক বিকল্প যা বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক ছাত্রদের জন্য অনুকল্প- কিন্তু সেই আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত হওয়ার জন্য যে মৌলিক শর্তগুলো পূরণ করতে হয় আমাদের পরিকাঠামো তার শুরুটাই করে উঠতে পারেনি, অথচ অনলাইনে পঠনপাঠন শুরু করে দিয়েছে।
স্বভাবতই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ শিশু ও কিশোর ছাত্রছাত্রীরা এই লকডাউনে এক অন্ধকারাচ্ছন্ন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে গেছে বিনা দোষে, সমাজের মাঝে শিক্ষায় স্পষ্টত দুটো বিভেদ তৈরি হয়েছে অভিভাবকের অর্থ আর ডেমোগ্রাফিক লোকেশনের উপরে ভিত্তি করে। গুটিকতক ছাত্রছাত্রী যেখানে ২ বছর এগিয়ে গেলো সেখানে অবশিষ্ট গোটা ছাত্রসমাজ স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেই ২০২০ সালের মার্চ মাসেই, কে জানে কতজন পড়াশোনার অভ্যাসটাই ভুলে গেছে। কিম্বা পেটের জ্বালা মেটাতে কতজন কতজন সস্তার শ্রমিক হয়ে গেছে, কত বালিকা বাল্য বিবাহের অভিশাপে পাতিত হয়েছে। এদের চিহ্নিত করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে অনলাইন শিক্ষার বিকল্পকেই গ্রহণ করতে হবে। যাতে শ্রমিক তথা বালিকাবধুটি যেন শিক্ষাটা পায় তার বর্তমান অবস্থাতেও।
অনলাইন কোর্সের কিছু অসুবিধা~
  • অনলাইন ক্লাস পরিচালনার জন্য যে পরিকাঠামোর দরকার হয় আমাদের দেশের তার ন্যূনতম অবকাঠামো নেই। দেশের ৪২% মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে, যার মধ্যে ৮৪ শতাংশ আর্বান নাগরিক। তাছাড়া ১৩৯ কোটি জনসংখ্যার ১০৫ কোটি মানুষ জানেইনা স্মার্টফোনটা খায় না গায়ে মাখে। যে দেশে প্রায় ৪০ শতাংশের কাছাকাছি মানুষ দারিদ্রসীমার নিচে বা আশেপাশে বসবাস করে সেখানে অনলাইন শিক্ষা সোনার পাথরবাটির বাইরে কিছু নয়।
  • অনলাইন ক্লাস ক্যাম্পাস ক্লাসের চেয়ে বেশি সময় নেয়। প্রথাগত শিক্ষার সময়সীমার মতো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। উদাহরণস্বরূপ কোনো এক ইংলিশ মিডিয়ামের ছোট বাচ্চাকে সন্ধ্যে সাতটাতেও অনলাইন ক্লাস করতে হচ্ছে।
  • অনলাইন শিক্ষাতে যেহেতু শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে শারীরিক দূরত্ব থাকে, তাই প্রথাগত শিক্ষার মতো তাদের মাঝে আত্মিক যোগাযোগ গড়ে উঠে না। প্রত্যক্ষ সংযোগের অভাব পঠনপাঠনে একটা সময়ের পর অমনোযোগিতা দেখা দেয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে টেকনোলজির অপব্যবহারে শুধুমাত্র উপস্থিতি জানান দিয়ে ক্লাসে মানসিক ভাবে অনুপস্থিত থাকার প্রবণতা বাড়তে থাকে। বাচ্চারা ভিডিও গেমে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে, সারাক্ষণ ইউটিউব সহ নানান মাধ্যমে বুঁদ হয়ে থাকছে, বস্তু জগতের সাথে একপ্রকার কোনও সম্পর্কই থাকছেনা।
  • প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের নিজেদের মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে৷ একসাথে পাশাপাশি বসে ছোট থেকে তারা বড় হয়। তাদের মধ্যে গড়ে ওঠা আত্মিক সম্পর্ক শিশুর বিকাশে সাহায্য করে। শিক্ষার্থীরা মানবিক গুণাবলী রপ্ত করে প্রাকৃতিক ভাবেই। এসব যান্ত্রিক অনলাইন শিক্ষায় সম্ভব হয় না।
  • শিক্ষার্থীদের বেড়ে ওঠার বয়সে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা অনস্বীকার্য। অনলাইন ক্লাসের বিপুল চাপে খেলার অবসর হারিয়ে যাচ্ছে। মানসিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।
  • অনলাইন ক্লাস বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি তৈরি করে, কারণ এখানে পেশাদারিত্বই শিক্ষকের কাছে শেষ কথা।
  • অনলাইন ক্লাস মাত্রাছাড়া বেয়াড়া স্বাধীনতা দেয়, অধিকাংশ সময়েই যা ছাত্রের চরিত্র গঠনের পরিপন্থী।
  • অনলাইন ক্লাসে জন্য আপনাকে একজন সক্রিয় শিক্ষার্থী হতেই হবে। কিছু এড়িয়ে গেলে তা ছাত্রেরই যাবে, রিপিটের তেমন সুযোগ নেই। এটা কিছুটা কলেজের প্রফেসরদের লেকচারের মত।
  • অনলাইন কোর্সে কোন প্রশিক্ষক থাকে না যিনি নির্দিষ্ট ছাত্রের জন্যই লেগে থাকে।
  • অনলাইন ক্লাস একটি ছাত্রকে অনেক বেশি চাপ প্রদান করে যতটা সে সামলাতে পারেন তার চেয়ে অনেক বেশি!

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা :
করোনাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ অচলাবস্থা চলতেই থাকছে। তার দরুন বেশ কয়েক মাস আমার কর্মক্ষত্রের সহকর্মীরা মিলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনলাইন ক্লাস শুরু করেছি, যা এখনো চলছে। প্রকৃতপক্ষে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটা বড় অংশ আর্থিক দিক থেকে নিম্নমানের। তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে এই কর্মসূচিতে। অনলাইন শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তার মাধ্যম, যার দ্বারা শিক্ষা বাড়ি বসে পৌঁছানো হয়। আর্থ-সামাজিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শয়ে শয়ে পরিবারের মধ্যে হাতেগোনা কিছু পরিবারের কাছে এই মাধ্যম, অর্থাৎ ন্যূনতম একটা স্মার্ট ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা উপলব্ধ। ফলত এই উদ্যোগ কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে বা হচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়।
শিক্ষক হিসেবে প্রাথমিক ভাবে ব্যক্তিগত স্তরে নতুন ব্যবস্থার জড়তা আমাদের মধ্যেও ছিল। তা কাটিয়ে উঠে অপর দিকের শিক্ষার্থীদের দিকে হাত বাড়ালেই যে তারা খুব সহজে তা ধরে নেবে তা কিন্তু নয়। কারণ প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থার মূল অনেক গভীরে। হঠাৎ করে তা উপড়ে একশ শতাংশ পরিকাঠামো থাকলেও অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থার মূল অত গভীরে যাবে না সহজে। যার উপলব্ধি প্রত্যক্ষভাবে লাভ করেছি।
পরিশেষে আশা করি, এই করোনাকালকে হারিয়ে ফিরে আসুক প্রথাগত শিক্ষার পুরাতন ব্যবস্থা নতুন আঙ্গিকে। অনলাইন শিক্ষাও বিস্তার লাভ করুক সময় নিয়ে। একটি চারাগাছকে মহীরুহ হতে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি সবদিক থেকে শৃঙ্খলাপরায়ন হতে হয়, যা প্রথাগত শিক্ষার অন্যতম সুফল।


বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২০

মুসলমানঃ দেশের বিচারব্যবস্থা



যদিও আমি নিজে মহরমের শোকের নামে "তাজিয়া" অসভ্যতামির তীব্র বিরুদ্ধে, কারন শোকের সময় কে অমন নেচে গেয়ে লোক জড়ো করে জুলুস করে ভাই? ইসলামে ধর্ম পালন আল্লাহর জন্য, যেখানে লোক দেখানো উপাসনার নামে ভন্ডামির কোনো স্থান নেই।

কিন্তু প্রশ্নটা অন্য- নাগপুরের বিচারপতির অধীনে থাকা সুপ্রিম কোর্টের বিচার ব্যবস্থাকে ধন্যবাদ- বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য যে এ দেশে মুসলমানেরা দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক। আজকের বিচারপতিদের যে 'মহরম কি ও কেন' এ বিষয়ে জ্ঞান থাকবেনা সেটাই স্বাভাবিক, তারা এ জন্যই বিচারপতি হয়েছে কারন তারা কিছু জানেনা।
রথযাত্রা, গণেশ উৎসব, জৈন উৎসবের মত বহু উৎসব যেখানে বিপুল জনসমাগম হয়েছিল, সেখানে ছাড় দেওয়া হয় বিশেষ অর্ডার বের করে- করোনা ছড়াবে কেবল মাত্র মহরমে। তাই বাকি সবে সুপ্রিম কোর্ট অনুমতি দিলেও মহরম নিষিদ্ধ করে দেয়।
সাব্বাস, মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য- ভারতবর্ষের সূচনা মুসলমানেদের হাত ধরেই হয়েছিল, তার আগে ছোট ছোট দেশীয় হিন্দু রাজাদের রাজত্ব ছিল। এভাবে চললে আবার এ দেশের বুকে বেশ কয়েকটা ৪৭ যে নেমে আসবে সেটা বলাই বাহুল্য, তাদের আমার কথায় দেশদ্রোহীতার গন্ধ খুঁজে পেয়েছেন, তারা নেপাল চলে যেতে পারেন, কিম্বা যোগীর উত্তরপ্রদেশে।
মোদীয় গণতন্ত্রে সুপ্রিম কোর্টও যে সাম্প্রদায়িক বিভেদের জন্ম দেবে এতে আর আশ্চর্য কি, কিন্ত এতে করে যদি বিজেপি ভেবে থাকে দেশের মানচিত্র অক্ষত থাকবে তাহলে সেটাই ভেবে কিছুদিন সুখ পাক- কারন নির্বংশের নাতি মরে আগে।

সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০

গুরুদেব ও অকপট

 

কথা কও, কথা কও।
অনাদি অতীত, অনন্ত রাতে
কেন বসে চেয়ে রও?
কথা কও, কথা কও”

বাঙালি মানুষ, কবিগুরুকে পাশ কাটিয়ে কোনো কিছুর উদযাপন করবে এমন ভয়াবহ ও অসম্ভবতম দুঃস্বপ্ন কোনো শিক্ষিত বাঙালিই দেখতে পারে না। অকপট, দিনের শেষে শত তর্ক-বিতর্ক, রাজনীতি-সমাজনীতি, আড্ডা-মন্তাজ, দেশীয়-আন্তর্জাতিক, খেলা-তামাশা ইত্যাদির মাঝে সাহিত্যকে ভালোবেসে এর চর্চা করে যাওয়াটাকেই মূল পরিচয় হিসাবে আঁকড়ে ধরে বেড়ে উঠেছে জন্মলগ্নকাল থেকে।

সুতরাং কবিগুরুর চরণস্পর্শ না করে এই পথের পথিক হওয়া গেলেও টিকে থাকা যায় না। তো সে যাই হোক- এরপর সময়ের চাকা দ্রুত ঘুরেছে, আশা-নিরাশা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হরেক দোলাচলের মাঝে, ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টিয়ে স্মৃতিগুলো অবগুণ্ঠনের জট পাকিয়ে বুকের অতল গভীরে সেঁধিয়ে গেছে, কিন্তু তারা এতোটা দূরেও যায় নি যে- আত্মিক নাড়া দিলে তা ভোরের শিউলির মতো ঝরে পড়বে না। তাইতো কবিগুরুর লাইন ধার করে মনে করিয়ে দিই-

তোমায় খোঁজা শেষ হবে না মোর,
যবে আমার জনম হবে ভোর
চলে যাব নবজীবন-লোকে,
নূতন দেখা জাগবে আমার চোখে,
নবীন হয়ে নূতন সে আলোকে
পরব তব নবমিলন-ডোর
তোমায় খোঁজা শেষ হবে না মোর”

স্মৃতিগুলোকে ফিরে পাওয়া, ফিরে দেখা, সাম্প্রতিক সমসাময়িকালের সমস্যা সমাধানের প্রত্যাশায় বিতর্কের আয়োজনে বসা মিলন মেলার মানচিত্রে 'অকপট' আসলে একটা ঐতিহ্যবাহী মেলবন্ধন- নবীন ও প্রবীণ কিছু মানুষের মাঝে, যে মেলবন্ধন আয়োজন করে মাত্র ৪২টা রেলের কনফার্ম টিকিটে ৫২জনের একটা দলের প্রফুল্লতামাখা যাত্রাপথ, যার কোথাও কোনও অভিযোগ নেই; অকপট মানে সেই ফেলে আসা দিন, ফেলে আসা শৈশবের সরলতা মাখা বন্ধুত্ব- যাকে চাওয়া ও পাওয়ার মাপকাঠিতে পরিমাপ করা যায় না। গুরুদেবের ভাষায় অকপট মানে-

নাই, নাই, কিছু নাই, শুধু অম্বেষণ--
নীলিমা লইতে চাই আকাশ ছাঁকিয়া
কাছে গেলে রূপ কোথা করে পলায়ন,
দেহ শুধু হাতে আসে-- শ্রান্ত করে হিয়া”

অকপট শিক্ষা দেয় নতুন করে পুরাতনকে জানার, নিত্য অন্বেষণের। ক্ষুদ্রজীবনে বিরামহীন যে খোঁজ- তার মাঝেই তো আমার আমিকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব। আর অকপট অন্বেষণের মোক্ষ তো তখনই, যখন কেউ নিজেকে উপলব্ধি করতে পারে এককভাবে এই বিশ্বচরাচরে

জন্মজয়ন্তীর উৎসব পালনে দৃষ্টিগোচর বাঁধ ভাঙা উল্লাসের পুনরাবৃত্তি এবারে হয়তো হয় নি আনুষ্ঠানিকতার বাগড়ম্বরা সহ, কিন্তু অকপটের যে মূল চালিকা শক্তি তা হলো- সম্পর্কের বন্ধন; পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস। অকপটের যে প্রত্যয় তা আসলে সম্পর্কের সংস্কৃতিতে উচ্চমর্যাদা দিয়ে সেই কৃষ্টিকে পারিবারিকভাবে হৃদয়ে লালন করার মাধ্যমে, এর জন্য কে কোথায় ভৌগলিকভাবে অবস্থান করছে তার চেয়েও বড় হয়ে দেখা দেয়- আমার হৃ্দয়ে তাকে বা তাদের আসন দিতে পেরেছি কিনা। এভাবেই রাত্রি দেড়টার সময় হিমালয়ের পাদদেশে, ৩ ডিগ্রি শীতল আবহাওয়াতে বিনা নুনের বিরিয়ানিও অমৃতের স্বাদে ধরা দেয় অকপটুদের কাছে, আসলে এটা কোনো একক প্রচেষ্টার সফলতা নয়, দলগতভাবে আমিত্বের বিসর্জন দিয়ে আমরা হয়ে উঠার নামই 'অকপট'তাই তো কবিগুরু লিখেছেন-

মুক্ত করো হে মুক্ত করো আমারে,
তোমার নিবিড় নীরব উদার
অনন্ত আঁধারে
নীরব রাত্রে হারাইয়া বাক্
বাহির আমার বাহিরে মিশাক,
দেখা দিক মম অন্তরতম
অখণ্ড আকারে”

'অকপট' মানে তো নস্টালজিয়া, যেখানে হারিয়ে যায় উত্তর ও দক্ষিণের ভেদাভেদ, মুছে যায় পূর্ব-পশ্চিমের সীমানা। অবসরপ্রাপ্ত সম্মানীয় সদস্যেরাও অনায়াসে পাল্লা দেয় সদ্য যুবকের সাথে, আসলে বয়স এখানে কেবলই একটা ধ্রুবক মাত্র, অকপট আসলে একটা নিম্ন বুনিয়াদী বিদ্যালয়, যেখানে আমরাই আমাদের শিক্ষক, আবার সকলেই মনোযোগী শিক্ষার্থী।

যে যেভাবে পারে খুঁজে ফেরে জীবনের একান্ত স্বাদটুকু, অকপট ‘ডেকার্স লেনের’ ব্যস্ত ফুটপাতের একটা ছোট্ট কাউন্টার স্বরূপ। এখানে খাবারের নামে আদর পরিবেশনা করা হয়, বিনিময়ে ঘৃণা দিলে অগ্নিবর্ষণ করতে পিছুপা হয় না কেউ- এটাই 'অকপট'যারা মানিয়ে নিতে পারেনা, তারা হয় সাথে পথচলা থামিয়ে স্তব্ধ হয়ে যায়, কেউ বা কক্ষ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। ইতিউতি আলাপচারিতায় ভেসে বেড়ায় অকপটের সমাপ্তিকাব্য। যখনই এমন কিছু শ্রুতিগোচর হয়, মনে পড়ে যায় কবিগুরুর অমোঘ সৃষ্টি-

শেষের মধ্যে অশেষ আছে,
এই কথাটি মনে
আজকে আমার গানের শেষে`
জাগছে ক্ষণে ক্ষণে
সুর গিয়েছে থেমে তবু
থামতে যেন চায় না কভু,
নীরবতায় বাজছে বীণা
বিনা প্রয়োজনে”

আসলে শেষের যে শেষ নেই এটাই তো অকপটের ধমনীর মূল, ব্যস্ত জীবনের মাঝে ঝরে পড়া শিউলির গন্ধ নিয়ে মাতোয়ারা হতে অকপটের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ঠিকানা আর কিই বা হতে পারে, এখানে জীবন আছে, তাই তো বিচ্ছেদ আছে, অভিমান আছে, বিষাদ আছে, প্রেম আছে, পরিণয় আছে, আছে কত শত অপত্য, রয়েছে মিলনান্তক-বিয়োগান্তক কতই না অধ্যায়, আসলে ব্যক্তিপরিসর যেখানে দলে এসে মিশে যায় তখন তাকে ‘অকপট’ ডাকনামে ডাকা হয়।

চলার পথে দিন যাপনের নানা ধরণের গ্লানির পলি জমে জমে অকপটের ভিত মজবুত না হলে, জনসেবার নামে লক্ষ লক্ষ টাকার সংস্থান করা সম্ভব হতো না, কৈশোরের অকপট সেই স্মৃতির ভারে তলিয়ে না গিয়ে তাকে ভর করেই নতুন উচ্চতায় উঠে এসেছে, মাথা তুলেছে নতুন ভোরের স্বপ্নে। অতিক্রান্ত ঋতুপর্যায়ে শীতের শেষে নব বসন্তের দখিনা হওয়ার সাথে অকপট প্রতিদিন চোখ মেলে পৃথিবীর পানে নতুন প্রত্যাশাতে। মনে পড়ে যায় কবিগুরুর লেখনী-

মনে করি এইখানে শেষ
কোথা বা হয় শেষ
আবার তোমার সভা থেকে
আসে যে আদেশ
নূতন গানে নূতন রাগে
নূতন করে হৃদয় জাগে,
সুরের পথে কোথা যে যাই
না পাই সে উদ্দেশ”

'অকপট' মানে তো নতুনকে গড়ে তোলার স্বপ্নকে লালন করা, পথ ভিন্ন হতেই পারে, মতের অমিল হতেই পারে কিন্তু অকপট শেখায় গন্তব্য যখন একটিই তখন সকল বৈরিতাকে একটি খোলসের মাঝে আবৃত রেখে যদি আমরা সাথে সাথে পথ চলি তাহলেই তো প্রাণে সমৃদ্ধি আসে জীবনীশক্তিতে- আর এই প্রাণশক্তিটার নামই তো আসলে অকপটতা। অকপট ভীরুতা, কাপুরুষতাকে প্রশ্রয় দেয় না, কিন্তু অশ্লীলতাকে কঠোর ভাবে দমন করার প্রেরণা দেয়, ক্ষমতার চোখে চোখ রাখতে শেখায়। দাসত্ব, অন্ধত্বের গরল থেকে স্বতন্ত্রতার গরিমার পথের প্রতিটি যাত্রীই আসলে একজন অকপটু

ওজোনের চাদর যেমন ঢেকে রাখে প্রকৃতির শুদ্ধতাকে, অকপটের শ্রেষ্ঠ সদস্যেরা পরিচালক রূপে অকপটের সেবা করে চলেছে প্রতিনিয়ত। বিদ্বেষ, হীনতা, স্বার্থপরতা, মিথ্যাচারের উত্তুরে হাওয়া যখন মুহূর্তে কাঁপন ছড়িয়ে দেয় শিরা-উপশিরায়, শক্ত হাতে তাঁরা পাল সামলে অকপট নামের ডিঙিকে ভাসিয়ে রাখে এই মহাসমুদ্রে। আজকে ‘সাথে সাত’ অকপটজয়ন্তী উৎসবের প্রেক্ষাপট একেবারেই ভিন্ন, বিশ্বব্যাপী মারণ রোগের সাথে ছড়িয়ে পড়া দেউলিয়া রাজনীতির নগ্নতা, অপরিকল্পিত রাষ্ট্রব্যবস্থা, সাম্রাজ্যবাদীদের যুদ্ধের দামামার সাথে সর্বগ্রাসী কর্পোরেটের ক্ষিদের সাথে যুঝতে গিয়ে আমরা সকলেই রণক্লান্ত, আমাদের হৃদয়ের উষ্ণতা হারিয়ে গেছে সামান্য খিদের চাহিদা মেটাতে। মিথ্যা প্রচারের অনন্ত শীতলতায় ঢেকে যাওয়া সমাজের বুকে একটুকরো রোদ হয়ে বুকের ভিটেতে একটুখানি ওম পৌঁছে দেওয়ার নামই অকপটতা। এ উষ্ণতায় কোনো ভেদাভেদ নেই, আছে মিলন পিয়াসী শুধু সুখ, আর ভাগ করে নেওয়া সুখানুভূতি।

সামাজিক বৈষম্য, জাত, ধর্ম, বর্ণ কিছুই অকপটের বাধা হতে পারে না, আর যেখানে এই বন্ধন আছে তা কখনও অকপট হতে পারে না। তাইতো কবিগুরু বলে গেছেন-

ললাটে দিয়েছে চিহ্ন ‘তুমি আমাদের চেনা' বলে
খসে পড়ে গিয়েছিল কখন পরের ছদ্মবেশ;
দেখা দিয়েছিল তাই অন্তরের নিত্য যে মানুষ;
অভাবিত পরিচয়ে
আনন্দের বাঁধ দিল খুলে
ধরিনু চিনের নাম, পরিনু চিনের বেশবাস
এ কথা বুঝিনু মনে,
যেখানেই বন্ধু পাই সেখানেই নবজন্ম ঘটে
আনে সে প্রাণের অপূর্বতা”

আর এই প্রাণের অপূর্বতা আছেই বলেই কখনও একঘেঁয়েমি গ্রাস করে না অকপটকে, অকপট কঠোর কিন্তু স্বাধীনতায় বিশ্বাসী, ব্যক্তিত্ববোধের স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশের সহায়ক, মোহনীয় মানবিক গুণের পৃষ্ঠপোষক। অকপট বর্তমানে বাঁচে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুকে এঁকে, কিন্তু নিজেদের গৌরবোজ্জ্বল অতীতকে বর্তমানের অকপটুদের সাথে ভাগ করে নিয়ে স্মৃতিময় করে তোলে বর্তমানকে, আগামীর জন্য।

অকপট মানে তো সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের উজ্জ্বল্যের গান, স্মৃতিচারণা কেবলই একটা পথ নির্দেশনা মাত্র- সমাজের মাঝে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত অকপটুদের সাথে নিশ্চিন্তে বেড়ে উঠে নব প্রজন্ম, তাদের অভিজ্ঞতা থেকে প্রেরণা নিয়ে বস্তু জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারার নামই অকপট অনুশীলন। স্মৃতিধন্য বর্তমান প্রজন্মই পারে আগামীর স্বপ্ন পূরণে আন্তরিকতার অভিব্যক্তিময় পরম্পরা চালিয়ে যেতে। অকপট জানে কবিগুরুর এই কবিতাখানি-

সমুখে শান্তিপারাবার,
ভাসাও তরণী হে কর্ণধার
তুমি হবে চিরসাথি,
লও লও হে ক্রোড় পাতি,
অসীমের পথে জ্বলিবে জ্যোতি ধ্রুবতারকার”

অকপট সদা সর্বদা একটি অকৃত্রিম সংস্করণ, এখানে থাকা মানেই মনের স্ফূর্তি। সংসার-জীবনের কৃত্রিমতার বাধা পেরিয়ে সবাই নিজেকে হালকা করতে অকপট হওয়া, যেখানে কোনো অভিনয় থাকে না। নিজেকে খোলস থেকে বের করে আনার একটা প্রক্রিয়ার নাম 'অকপট'অকপট আসলে অনেক নাম, হরেক চেহারা, ভিন্ন ভিন্ন চঞ্চলতা, অপ্রতুল হর্ষ, অনিঃশেষ পরিতৃপ্তি ঘিরে ভিড় করে থাকা মানুষের দল। তাদের সামঞ্জস্যই হলো তাদের তারতম্যতায়, যেখানে রঙ, রূপ, বর্ণ, গন্ধ সবেতেতেই আছে দৃষ্টান্তমূলক ভিন্নতা; তা সত্ত্বেও প্রত্যেকের উজ্জ্বলতা ও আত্মার পরিশুদ্ধতা একইরকম দীপ্তিময়। একে বিচ্ছিন্ন করে এমন সাধ্যি কার!

কথিত আছে- ‘বিজ্ঞান আমাদের দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ’; কিন্তু অকপট একটা ভার্চুয়াল মাধ্যম হয়েও এর মানে হলো- বিগলিত আবেগের বারিধারা। জীবিকার তাগিদে যতোই যান্ত্রিকতায়- বস্তুজীবনের মানবিকতা পথ হারিয়ে ফেলুক, অন্তরের আবেগ কখনও ফুরিয়ে যায় না, আর এই আবেগকেই পুঁজি করে যারা বাসা বেঁধেছে, তাদের সেই বাসার নামই যে 'অকপট'নিরন্তর সংগ্রামে লিপ্ত সকলেই এক সমান্তরালে এসে পূর্ণ করে তুলেছে শ্রদ্ধা ও স্নেহের অপূর্ব এক মেলবন্ধনে। এমনই কোনো জন্মদিনের অবসরে কবিগুরু বলে গেছেন-

আজি এই জন্মদিনে
দূরের পথিক সেই তাহারি শুনিনু পদক্ষেপ
নির্জন সমুদ্রতীর হতে”

চোখ আমাদের সামনের দিকে হলেও আমরা দেখতে পায় কেবলমাত্র পিছনের অতীতকে, সেই নির্লোভ, নির্ভেজাল, নিষ্কলুষ শৈশবের কাছে বাঁধা আছে আমাদের প্রাণভোমরা। যাকে আক্ষরিকভাবে ছোঁয়া যায় না ঠিকই, তাই তো অকপট নামের এমন মঞ্চের প্রবর্তনা। অসীম আকুলতা মহাকালের পথ দিয়ে আমরা জীবনের সেই চরম সত্যের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে যায়- ‘সময় কখনও ফিরবার নয়’। তবুও মনের জানালা খুলে দিলে অকপট সমাজ আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায় মূর্তিমান হয়ে। তাই তো কবিগুরু প্রশ্ন করেছেন- তোমার গেছে যে দিন সে কি একেবারেই গেছে? কিছুই কি নেই বাকি? বিড়বিড় করতে করতে মন বলে উঠে- ‘রাতের সব তারা-ই আছে দিনের আলোর গভীরে’

কবি শঙ্খ ঘোষের একটি লাইন দিকে আমি নিজেকে অকপটের সাথে সম্পর্ক সম্পৃক্ত করতে পারি আজকের ন্যাংটা সমাজে, যেখানে আমার যা কিছু আছে সবটাই আসলে অকপটের জন্য- তাই তো এই কবিতাটা ‘আমি ও অকপটের’ মাঝে যোগসূত্র স্বরূপ

আমার জন্য একটুখানি কবর খোঁড়ো সর্বসহা
লজ্জা লুকোই কাঁচা মাটির তলে --
গোপন রক্ত যা-কিছুটুক আছে আমার শরীরে, তার
সবটুকুতে শস্য যেন ফলে”

শুভ জন্মবার্ষিকী 'অকপট', পায়ে পায়ে এই পথ চলা শতাব্দীর প্রাচীরকে ভেদ করে কালের গর্ভে যাত্রা করুক এটাই তো অকপট কামনা

শেষে বলি, কবিগুরু যেন অকপটের জন্যই এমন একটা কবিতা এঁকেছিলেন বোধহয়- একে ছাড়া যেন এই আত্মচর্চাটাই অসম্পুর্ণ-

সীমার মাঝে, অসীম, তুমি বাজাও আপন সুর
আমার মধ্যে তোমার প্রকাশ তাই এত মধুর
কত বর্ণে কত গন্ধে, কত গানে কত ছন্দে,
অরূপ তোমার রূপের লীলায় জাগে হৃদয়পুর
আমার মধ্যে তোমার শোভা এমন সুমধুর
তোমায় আমায় মিলন হলে সকলি যায় খুলে--
বিশ্বসাগর ঢেউ খেলায়ে উঠে তখন দুলে
তোমার আলোয় নাই তো ছায়া, আমার মাঝে পায় সে কায়া,
হয় সে আমার অশ্রুজলে সুন্দরবিধুর
আমার মধ্যে তোমার শোভা এমন সুমধুর”

-চরৈবেতি

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...