বৃহস্পতিবার, ২২ এপ্রিল, ২০২১

প্রসঙ্গঃ রেড ভলেন্টিয়ার্স, পার্ট-২



আবার এক অপরিকল্পিত লকডাউন এসে গেছে, গতছরের মত এবছরও এক ভয়াল অর্থনৈতিক সঙ্কট আসতে চলেছে গরীবের ঘরে ঘরে। ট্রাম্পের মত একটা মাথামোটা অপদার্থ শাসকও গত অক্টোবরের ১২ তারিখের একটা টুইটে স্বীকার করেছিল- “Lockdowns are killing countries all over the world. The cure cannot be worse than the problem itself.”। ট্রাম্প গেছে, সেদেশে করোনাও গেছে। আমাদের দেশের মিনিয়েচার ট্রাম্প গুলো যায়নি, ১ বছর সময় পেয়েও কোনো পরিকল্পনা করতে পারেনি এরা, ফলত আবার আমরা লকডাউনের অভিশাপের শিকার।
যিনি মারা যাচ্ছেন, তিনি নাহয় মরে বাঁচছেন। কিন্তু তাকে বাঁচাতে গিয়ে সরকারি পরিষেবা না পেয়ে যদি বেসরকারি-কর্পোরেট হাসপাতাল নামের ফাঁসজালে ফেঁসে যাচ্ছে, তাহলে পরিবারটিও সর্বশ্রান্ত হয়ে যাচ্ছে। একই নিয়ম যিনি বেঁচে ফিরলেন সেই পরিবারটির জন্যও। অবশ্য গরীবের দল সিপিএম তার ক্ষুদ্র সামর্থ্য নিয়ে গরীবের জন্য তাদের পাশে আছে সাধ্যমত।
যারা বলে ‘ফেসবুকে লিখে কাজ হয় না’, তাদের জন্য ‘শূন্য’ সেকেন্ডের নীরবতা পালন করে আজকের লেখা শুরু করলাম।
৭ই মে তারিখে রেড ভলেন্টিয়ার্সদের কার্যপদ্ধতি নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলেছিলাম। নেতৃত্বকে ধন্যবাদ, বিষয়টিতে গুরুত্বসহ নজর দেওয়ার জন্য। যারা আমার ‘রেড ভলেন্টিয়ার, পার্ট- ১’ প্রতিবেদনের বিরোধিতা করেছিল, তাদেরও স্বাগত জানাই। কিছু নাবালক, যুক্তিহীন আবেগে বলছে- রেড ভলেন্টিয়ার্স একটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রশ্ন- এর মাঝে রাজনীতিটা কোথায় আছে? অবশ্যই সাধারণ মানুষ আর রাজ্য সরকার লাভবান হচ্ছে, পার্টি কী পেয়েছে আজ অবধি? যেকোনো রাজনৈতিক লড়াই দীর্ঘমেয়াদি, সেই সাপেক্ষে চলুন কিছু রাজনৈতিক লাভের স্বপক্ষে দিশা দিই।
গত পোস্টে আমি নির্দিষ্ট করে পাঁচটি পয়েন্ট উল্লেখ করেছিলাম।
প্রথমঃ- অনভিজ্ঞ ছাত্রযুব, যারা রেড ভলেন্টিয়ার্সের তরফে রাস্তায় আছে, তাদের প্রশিক্ষণের জন্য কর্মশালা করতে হবে, সেটার সফল সূচনা হয়েছে।
গত ৯ই মে তারিখে AIIMS এর অধ্যাপক ডাঃ অরুন সিং ও ডাঃ অংশুমান বসু এর তত্ত্বাবধানে সিপিআই(এম) দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটির উদ্যোগে রেড ভলান্টিয়ারদের কর্মশালা হয়। এমন কর্মশালা ভীষণ প্রয়োজন, প্রতিটি জেলার প্রতিটি মহকুমায় এমন কর্মশালার আয়োজন করতে হবে অভিজ্ঞ ডাক্তার ও ভলেন্টিয়ার সার্ভিসে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের দ্বারা। এবং সেগুলো লাইভে এভাবেই প্রচার করে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
দ্বিতীয়ঃ কোভিড বিধি মেনে সুরক্ষা পোশাক।
৭ তারিখের পোস্টের আগে যেখানে ১০০ ছবির মাঝে একটা আধটা ppe পরিহিত রেড ভলেন্টিয়ার দেখা যেত, আজকে ১ সপ্তাহের ব্যবধানে ১০০ ছবির মধ্যে একটা আধটা ppe ছাড়া ভলেন্টিয়ার দেখা যাচ্ছে, যদিও অফিসিয়ালি ১৫ ই এপ্রিলের আশাপাশ থেকে এই বছরের স্বেচ্ছাসেবা শুরু হয়েছিল। অনেক মানুষ এগিয়ে আসছেন PPE, উন্নত মাস্ক, গ্লাভস, ফেসশিল্ড দান করতে, বা এগুলো কিনতে অর্থ সাহায্য করতে। এটা ভীষণ প্রয়োজনীয় ছিল।
কিন্তু বাকি তিন দফা দাবী নিয়ে এখনও কোনো সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সেগুলো সহ আরও কয়েকটি বিষয় উত্থাপন করলাম।
১) ভলেন্টিয়াররা অসুস্থ হয়ে গেলে তাদের চিকিৎসা কীভাবে হবে? তার অর্থনৈতিক দায় কে বহন করবে?
ভলেন্টিয়াররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে, তারা যেকোনো সময় অসুস্থ হতেই পারে। প্রতিটি মহকুমা হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল, কোলকাতা, তৎসংলগ্ন শহরতলীর বড় হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে কমপক্ষে ২-৫টা পর্যন্ত বেড- ভলেন্টিয়ারদের জন্যই সংরক্ষিত করতে হবে।
কোনো অসুস্থ ভলেন্টিয়ারের অবস্থার অবনতি হলে, প্রয়োজনে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে সরকারি উদ্যোগে, যার সম্পূর্ণ খরচা সরকারকেই বহন করতে হবে। এছাড়াও কোনো ভলেন্টিয়ারের জীবনহানী হলে সরকার থেকে কমপক্ষে কুড়ি লক্ষ টাকা তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং সম্ভব হলে তার পরিবারের একজন সদস্যকে যেকোনো সরকারি দফতরে চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে হবে।
যদি সরকার এই সব দাবী মানতে রাজি না হয় তখন আন্দোলনের মাধ্যমে পার্টির নেতাকর্মীদের এটা আদায় করতে হবে। স্বাস্থ্য দফতরে ডেপুটেশন দিক, ধর্ণায় বসুক, প্রয়োজনে আদালতে যাক, কারণ রাস্তায় পার্টির ছেলেরাই বড় লড়াইটা লড়ছে মানুষের জন্য।
২) ভলেন্টিয়ার্সদের স্বাস্থ্যবিমা।
ইউনিসেফ, রেড ক্রশের স্বীকৃত ভলেন্টিয়ারি সার্ভিসে থাকা প্রতিটি ফিল্ড মেম্বারদের মোটা অঙ্কের ইনসুরেন্স করানো থাকে, যদি তারা আক্রান্ত হয় সেক্ষেত্রে ইনসুরেন্স কাজে আসে। প্রতিটি রেড ভলেন্টিয়ার্স “যারা শুধুমাত্র রাস্তায় আছে” পার্টি নির্দিষ্টভাবে তাদেরকে সিরিয়াল নম্বর যুক্ত ‘আইডেন্টি কার্ড’ দিয়ে আগে অফিশিয়ালি স্বীকৃতি দিক। সেই আইডেন্টি কার্ড ধরে পার্টি নিজের উদ্যোগে হোক, অন্য কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের থেকে সহযোগিতা নিয়ে হোক কিম্বা সরকারকে চাপ দিয়ে জনস্বাস্থ্য দপ্তর কিম্বা বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের অধীনে এই সকল রেড ভলেন্টিয়ারদের প্রত্যেকের জন্য স্বাস্থ্যবিমা করানো হোক।
সংখ্যা যত বাড়ে, বেনো জলও ঢুকে যায় খানিকটা। বদনাম করার জন্য বিপক্ষ পার্টি যে ফন্দি আটবেনা তার নিশ্চয়তা কোথায়? আইডেন্টি কার্ড থাকলে কোনো চোর ছ্যাঁচোর ‘রেড ভলেন্টিয়ারের নাম ভাঁড়িয়ে’ অবৈধ ভাবে টাকা তুলতে পারবেনা, দুর্নীতি হবার সুযোগ কমে যাবে।
সরকার সিভিক পুলিস নিয়োগ করতে পারলে, সিভিক রেড ভলেন্টিয়ার্সের স্বীকৃতি কেন দেবে না রেড ভলেন্টিয়ার্সদের?
সরকার না মানলে জেলায় জেলায় ডিএম অফিসে, মন্ত্রীর দপ্তরে দপ্তরে নেতারা ধর্ণায় বসুক, রাজভবনের গেটে ধর্ণায় বসুক, মোদ্দা কথা নেতারা মাস্ক পিপিই পরে রাস্তায় নেমে জঙ্গি আন্দোলন গড়ে তুলুক। সেবার জায়গাতে সেবা হলো, আবার রাজনীতিও হলো চুটিয়ে।
৩) কোনো সন্দেহ নেই, অপদার্থ সরকারের যে কাজ করার ছিল সেটা রেড ভলেন্টিয়ার্স করেছে তাও বিনামূল্যে। অর্থাৎ গোটা বিষয়টা অর্থনীতির দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করলে দেখা যাবে- এত বড় একটা স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক কর্মযজ্ঞ চলছে অথচ এর জন্য সরকারের রেভিনিউ এর উপরে ন্যুনতম চাপ পরছে না। আরও আশ্চর্যের বিষয় এ নিয়ে বামেদের সামান্যতম উচ্চবাচ্যটুকু নেই, যারা দাবী করে দেশের মধ্যে অর্থনীতিটা সামান্য হলেও বোঝে। ঠিক এই কারণে সরকার স্বাস্থ্য বাজেটে সামান্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করে ‘স্বাস্থ্যসাথী'র মতো জনমোহনী প্রকল্প চালু করে দিতে পারে, কারণ মানুষের অপ্রাপ্তিজনিত ক্ষোভের সবটাই প্রায় রেড ভলেন্টিয়ার্সরা শুষে নিচ্ছে।
গত ১৩ তারিখের আনন্দবাজার একটি রিপোর্টে লিখছে- সরকারি হেল্পলাইনগুলো অবধি রাত্রের দিকে ফোন ডাইভার্ড করে দিচ্ছে রেড ভলেন্টিয়ারদের নম্বরে। শুরু থেকেই আমাদের বক্তব্যের যেটা মুখ্য উপজীব্য ছিল সেটাই কিন্তু ঘুরে ফিরে প্রমাণিত হতে চলেছে, সরকারই সবচেয়ে লাভবান হয়েছে রেড ভলেন্টিয়ারদের কাজে। সরকারি ব্যর্থতা ঢাকার জন্য প্রশাসন এবং শাসক দল রেড ভলেন্টিয়ারদের নির্মমভাবে ব্যবহার করছে এবং আমাদের একশ্রেণীর নেতৃত্ব ঘরের ছেলেদের এইভাবে ব্যবহার করতে দিয়ে চরম আত্মশ্লাঘা অনুভব করছে৷
তাহলে- সরকার কেন প্রতিটি রেড ভলেন্টিয়ারকে ‘সার্টিফিকেট’ ইস্যু করবে না! আদতে রেড ভলেন্টিয়াররা সরকারি ব্যর্থতার ঘায়ের উপরেই মলম দিচ্ছে। দল নিরবচ্ছিন্নভাবে এটার জন্য সরকারকে অতিষ্ট করে দিক।
অধিকাংশ রেড ভলেন্টিয়ারই ছাত্রযুব, এরা প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির পরীক্ষাতে বসে। অধিকাংশ পরীক্ষার ইন্টারভিউতে ‘extracurricular activities’ উপরে একটা নম্বর থাকে। এই কোভিড মহামারীকালে রাস্তায় থেকে মানুষের পাশে থাকার চেয়ে বড় extracurricular activities আর কি হতে পারে? সরকার সার্টিফিকেট ইস্যু করুক।
৩রা ফেব্রুয়ারী ফ্রাঙ্ক ওরেল’ডে ও ১৬ই আগস্ট ফুটবল প্রেমী দিবসে নিয়মিত রক্তদান দিবস পালন হয়। সেখানে কোনো বিশিষ্ট স্বনামধন্য প্রথিতযশা ব্যক্তি রক্তদাতাদের সার্টিফিকেট প্রদান করেন, যা সারাজীবনের জন্য একটা বিরাট স্বীকৃতি। স্বাধীনতা সংগ্রামীরাও তো তাম্রফলক পদক পেতেন, সাম্মানিক পেতেন। রেড ভলেন্টিয়ার্সদের জন্যও এমন কিছু চালু হোক। দল নিজে হোক বা সরকারকে চাপ দিয়ে এটা করাবার ব্যবস্থা করুক, আগামীর জন্য এটা অমূল্য সম্পদ যা আগামী প্রজন্মকে উজ্জীবিত করবে।
৪) এখনও পর্যন্ত এই রেড ভলেন্টিয়ার কর্মকাণ্ড মূলত কোলকাতা, জেলা সদর ও তার সন্নিহিত অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। লিস্টে গ্রামাঞ্চলের ভলেন্টিয়ারদের নাম থাকলেও, সেই অর্থে কোনো পরিষেবা নেই- কারণ তাদের কোনো ইনফ্রাস্ট্রাকচার নেই, না রয়েছে প্রশিক্ষণ, যার জন্য ইচ্ছা থাকলেও শুরু করতে পারছে না। এটা ইম্মিডিয়েট চালু করতে হবে, যা শুধুই কোভিড কালে নয়, কোভিড পরবর্তীকালেও নিয়মিত চালু রাখতে হবে। রাজ্যের ৭০% জনগণই গ্রামের বাসিন্দা, সেখানে শহর ও শহরতলীর ছবি দেখিয়ে- না সংগঠন বাড়ানো যাবে বা না ভোটে কোনো লাভ পাওয়া যাবে।
৫) ডক্টরস ফোরাম নামের সংগঠনের কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের অবিলম্বে প্রশিক্ষণের কাজে নামানো হোক। দলের নার্সিং সংগঠনের সকল শ্রেণীর কর্মীদেরও হুইপ জারি করে তাদের প্রশিক্ষণের জন্য নিয়োগ দেওয়া হোক।
৬) রাজ্যের সকল স্কুলে ছুটি, সপ্তাহে এক-আধাদিন চাল-আলু বিলি ছাড়া এদের কোনো কাজ নেই। পার্টি ABTA নামক শিক্ষক সংগঠন আছে, পার্টির তরফে তাদের জন্য হুইপ জারি করে ডেটা কালেকশনের কাজে নিয়োগ করা হোক। ABTA পার্টির সবচেয়ে বিশ্বস্ত সংগঠন, অন্তত প্রার্থী তালিকায় ৪৩ জন প্রার্থীর নাম দেখে এটা সহজে অনুমান করাই যায়। যদিও ৪৩ জন প্রার্থীর সকলেই দলের ডাকা বন্ধে নিয়মিত স্কুলে অনুপস্থিত থেকে পার্টির দাবীকে সমর্থন করেছিলেন, এমন তালিকা এখনও আমার হাতে নেই।
রেড ভলেন্টিয়ার্স কর্মযজ্ঞে আজ পর্যন্ত কতটা ডেটা কালেক্ট করা হয়েছে জানি না, কিন্তু যারা ফোন করছেন তাদের ফোন নম্বর সেভ করে সেটা এরিয়া কমিটির অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হোক। প্রতিটি এরিয়া কমিটির অফিসে ABTA সদস্যদের বসিয়ে দেওয়া হোক। এরিয়া কমিটির সদস্যেরা এলাকা ধরে ধরে অফিস থেকেই, তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিক- যারা সাহায্য চেয়ে ফোন করেছিল। এতে করে এরিয়া কমিটির সাথে স্থানীয় স্তরে এমন অনেক মানুষের সাথে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ গড়ে উঠবে- যারা সিপিএমের নাম শুনলেই নাক সিঁটকাতো বা যারা আমাদের পার্টি অফিসকে শত্রুপক্ষের শিবির ভাবত।
এই ফোন নম্বরের সাথে যুক্ত ব্যক্তির ঠিকানার পূর্ণ তথ্য, তাদের পেশা, বয়স, লিঙ্গ, ধর্ম, পরিবারে সদস্যের সংখ্যা ইত্যাদি সেন্ট্রালি ডেটা স্টোরেজে সেভ করে রাখা হোক। আগামীতে নানা সমীক্ষাতে সরাসরি ফোন করা যাবে, সে না করতেও পারবে না- যদি আবার কাল তার বা তার পরিবারের কারও ভলেন্টিয়ারদের দরকার লাগে!।
৭) টোল-ফ্রি ফোন চালু।
কেন্দ্রীয় ভাবে ‘রেড ভলেন্টিয়ার্স’ এর নামে একটা টোল-ফ্রি নম্বর চালু করুক দল, তেমন বিশেষ কিছু খরচা নয়। সেখানে কিছু কমরেডদের রাখা হোক পালা করে, ABTA এর সদস্যেরা তো আছেনই। কিছু তৃণমূল-বিজেপির ক্যাডারেরা গালিগালাজও করে সমস্যা করতে পারে শুরুতে, কিন্তু তাদেরও নম্বর সেভ হয়ে যাবে। আগামীতে তাদেরও ফোন বা হোয়াটসএ্যাপেও মেসেজ পাঠানো যাবে দলীয় প্রচারের বক্তব্য। জানা যাবে কে কাকে কী গালি দিচ্ছে, কী তাদের ক্ষোভ, কাদের উপরে ক্ষোভ ইত্যাদি। ঘরে বসে ডেটা কালেক্ট করার জন্য টোল-ফ্রি নম্বরের বিকল্প নেই।
৮) সচেতনতা শিবির।
গ্রাম ও মফঃস্বলের বাজারের মোড়ে মোড়ে যেখানে বেশি মানুষের জনসমাগম হয়, সেখানে কোভিড বিধি মেনে, দুটো চেয়ার আর মাথায় বড় লাল ছাতা লাগিয়ে, দলীয় পতাকা ও ভলেন্টিয়ারের ব্যানার সহ দিনে কয়েক ঘন্টা করোনা ও অন্যান্য যেকোনো জরুরি বিষয়ে সারাক্ষণ একটা মাইক বা হ্যান্ড মাইক দিয়ে সচেতনতা প্রচার চালানো হোক। মহিলা সমিতির কমরেডরা গিয়ে সেখানে নিয়মিত বসুক, এটাই তো জনসংযোগ। মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়ানো হোক, সেখান থেকে মাস্ক বিলি করার সমর্থ থাকলে সেটা বিলি করা হোক।
যারা ফেসবুক করে না, তেমন লোকেরাও বাজারে আসে। ‘আমরা রেড ভলেন্টিয়ার্স, আপনি আমাদের এখানে নাম নথিভুক্ত করুন, স্বাস্থ্য সমস্যায় পড়লে আমাদের ডাকবেন’ এইভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ২ গজের দূরত্ব বজায় রেখে মানুষের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন, সাথে ফ্রি ডেটা চলে আসবে, মানুষ নিজ স্বার্থে ডেটা শেয়ার করবে।
স্বাস্থ্য পরিষেবা মানুষের মৌলিক অধিকার আমাদের দেশে, এটা কারও অনুকম্পা নয়- এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করুন। অতিরিক্ত পয়সা খরচা করে বেসরকারি-কর্পোরেট হাসপাতালে না গিয়ে, কিম্বা স্থানীয় অঞ্চলের অতি নিম্নমানের নার্সিংহোমে গিয়ে সর্বশ্রান্ত না হয়ে, মানুষ যেন স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে যেকোনো সরকারি হাসপাতাল, ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল হয়ে মেডিকেল কলেজ পর্যন্তই যেন যায়- সেই বিষয়ে মানুষকে মনে করিয়ে দিন বারে বারে।
হাসপাতাল থেকেই বিনামূল্যে প্রায় সব ওষুধ পাওয়া যায়, অধিকাংশ প্যাথোলজি টেস্টও হয়- এই সুযোগ-সুবিধা বুঝে নিতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। অনেকের নানা কারণে জনপ্রতিনিধিদের সার্টিফিকেট দরকার হয়, রেড ভলেন্টিয়ারেরা সে বিষয়ে সচেতন করুক। জনপ্রতিনিধিরা অসহযোগিতা করলে পার্টি আন্দোলনের মাধ্যমে দাবী ছিনিয়ে আনুক। স্থানীয় হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মেডিক্যাল ইকুইপমেন্টসের দোকানের ফোন নম্বর, নার্সিং পরিষেবার নম্বর, একাধিক প্যাথোলজি সেন্টারের নম্বর, এম্বুলেন্সের ফোন নম্বর, একাধিক ওষুধের দোকানের ফোন নম্বরগুলো ওই শিবির থেকে মানুষকে বিলি করুক। সরকারি পরিষেবা নিতে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়িয়ে দিক পার্টির সংগঠন, সরকার ব্যতিব্যস্ত হতে থাকবে।
৯) প্রি-প্রাইমারি ও প্রাইমারির ছাত্রছাত্রীরা চাল, আলু, সয়াবিন, ডাল ও ছোলা পায়। ভোটের ঠিক আগে সেটা নিয়মিত থাকলেও, ভোট ও ভোট পরবর্তী সময়ে তা অনিয়মিত বা গায়েব গয়ে গেছে। এদিকে লকডাউন। স্কুল বন্ধ থাকলেও যে শিশুটি ২০১৯শে চার বছরের ছিল, সে ২০২১শে ছয় বছরের হয়ে গেছে, কিন্তু তার প্রাথমিক শিক্ষাই শুরু হয়নি। সে চাল আলুও পায়না, আবার বইও নেই। অথচ ধনীর সন্তান অনলাইনে ক্লাস করছে, সে দু বছর এগিয়ে গেছে, গরীবের অক্ষরজ্ঞানই শুরু হয়নি। গত ৩৪ বছরে শহর গ্রামের শিক্ষার ভেদাভেদ যতটা কমাতে পেরেছিল বামফ্রন্ট সরকার, তা আবার ভয়ানকভাবে প্রকট হয়ে উল্টোপথে হাঁটা শুরু করেছে। শিক্ষায় চূড়ান্ত অবহেলার শিকার পিছিয়ে পরা শ্রেনী, যা আগামীতে আর ভয়ঙ্কর ইঙ্গিত করছে। দক্ষিনপন্থী ছাত্র সংগঠন এ বিষয়ে আন্দোলন করবে সেই বোধবুদ্ধি তাদের নেই, কিন্তু SFI কেন নিশ্চুপ?
SFI গত বছর কিছু বই-খাতা বিলি করেছিল বটে, কিন্তু তাদের কাজ কি বই বিলি করা, নাকি আন্দোলন করে সরকারকে বই দিতে বাধ্য করা? মহিলা সমিতির কমরেডরা পাড়ায় পাড়ায় খোঁজ নিয়ে সেই ছাত্রছাত্রীদের তথ্য জানাক, রেড ভলেন্টিয়ারদের। রেড ভলেন্টিয়ারেরা পার্টিকে জানাক। পার্টি SFI কে এনগেজ করে শিশু শিক্ষার জন্য আন্দোলন লড়াই করুক বই এর দাবীতে, মহিলা সমিতি আন্দোলন করুক সঠিক সময়ে চাল-আলুর বন্টনের দাবীতে। সরকারী ডাল-সয়াবিনের পুষ্টি না পেলে কীভাবে লকডাউনের অর্থকষ্টে গরীবের বাচ্চা পুষ্টি পাবে, কীভাবে তার ইমিউনিটি গড়ে উঠবে, কীভাবে করোনার সাথে লড়বে সেই গরীবের বাচ্চা?
১০) পিরামিডের চূড়া থেকে পাদদেশ- নেতা সহ তাদের ছেলেপুলেদের অধিকাংশ আজও রাস্তায় নামেনি। এতে করে রেড ভলেন্টিয়ার্স সহ সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে। কেউ কেউ দাবী করছে- নেতার সন্তানেরা কাজ করছে বলে, থাকলেও তারা কেউ রাস্তায় নেই, সব ঠাণ্ডা ঘরে ফোনের ওপারে আর ফেসবুকে বিপ্লব করছে। অবিলম্বে তারা রাস্তায় নেমে সাধারণ ছাত্রযুবদের পাশে দাঁড়াক সুরক্ষা বিধি মেনে। এদের সকলকে সচেতনতা শিবিরগুলোতে বসিয়ে দেওয়া হোক মহিলা সমিতির কমরেডদের সাথে। এরা রোজ পালা করে শিবিরে বসে এরিয়া কমিটি, রেড ভলেন্টিয়ার্স ও জনগণের সাথে সমন্বয় সাধন করুক।
দেশের প্রধান দুটো বামপন্থী দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এই করোনাকালে ভয়ংকর ক্ষতিগ্রস্ত দুজনেরই ব্যক্তিজীবন। প্রথম জন সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক কমরেড সীতারাম ইয়েচুরি, করোনায় তার পরমপ্রিয় পুত্র আশীষকে হারিয়েছেন। দ্বিতীয় জন সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক কমরেড ডি রাজা। গত তিন সপ্তাহে হারিয়েছেন তাঁর বড় ভাই, ছোট ভাই এবং ছোট বোনকে।
কিন্তু স্বজন হারানোর বিয়োগযন্ত্রণা বুকে নিয়েও তাঁরা নিয়মিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আছেন। আমাদের রাজ্য, আসাম, কেরল, তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত থেকেছেন, নিয়মিত দপ্তরে গিয়েছেন। এঁরা দুজনেই সর্বভারতীয় নেতা, পদ এবং দায়িত্বের গুরুত্ব যথার্থভাবে বোঝেন। তাই নন্দলালের মতো নিরাপদ জীবন আর পদ ও দায়িত্ব আঁকড়ে না রেখে মানুষের জন্য নিয়োজিত করুন।
ফিলিস্তিনের কমিউনিস্ট নেতারা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে রাস্তায় নামতে পারলে আমাদের সকল নেতারা কেন রাস্তায় থাকবে না? যখন ‘রাস্তা ছাড়া রাস্তা কী’, এই ভাবনা এসেছে, তখন সকলকেই রাস্তায় নামতে হবে এটাও বুঝুন। ভাষণটাও রাস্তা থেকে হোক, ঘর থেকে নয়।
১১) দেশের প্রথম সরকার হিসাবে কেরালার বাম সরকার- মাস্ক, পিপিই কিট, গ্লাভস ইত্যাদি চিকিৎসা সামগ্রীর দাম সস্তা করে তা নির্দিষ্ট দামে বেঁধে দিয়েছে। করোনার বিরুদ্ধে লড়াই এর জন্য মানুষকে অর্থনৈতিক ভাবে সুরক্ষা দিতে পেরেছে। যেখানে আমাদের রাজ্য সরকার করোনাকালে সকল ধরনের কালবাজারি রুখতে ব্যর্থ, মানুষ চূড়ান্ত হেনস্থার শিকার। এ নিয়ে #keralamodel হ্যাশট্যাগ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে আন্দোলনের ঝড় উঠুক। রাস্তাতেও মানুষকে বোঝানো হোক।
সঠিক ‘ডোজ’প্রসঙ্গে বনফুলের উপন্যাসের নায়ক ডাক্তার অগ্নীশ্বর মুখার্জীর একটা চরম ঔদ্ধত্বপূর্ণ কিন্তু অমোঘ সংলাপ ছিল, সিনেমাতে উত্তমকুমার স্ক্রিন কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন এটা বলে- “আপনার গালে যদি ঠাস ঠাস করে তিনটি চড় মারার দরকার হয়, তাহলে একটি চড় মেরে কোনও লাভ হবে কি? আপনাকে তিনটি চড়ই মারতে হবে”।
আব্রাহাম লিঙ্কনের একটা চমৎকার উক্তি আছে- “মানুষ যতটা সুখী হতে চায়, সে ততটাই হতে পারে। সুখের কোনো পরিসীমা নেই। ইচ্ছে করলেই সুখকে আমরা আকাশ অভিসারী করে তুলতে পারি”। জনসেবার সাথে সাথে রাজনৈতিক লাভ ঘরে তোলার সুখটাও সর্বোচ্চ লেভেলে পৌঁছাতে পারে, যদি আমরা তা চাই।
সুতরাং কে লিখছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, কী লিখছে সেটা বিষয়।
আশা রাখি, বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে অসংখ্য ছাত্রযুব, যারা অতিমানবিক কাজ করছে, তাদের জন্য দল প্রাণপণ লড়াই-আন্দোলন করে বিমা, স্বীকৃতি ও সার্টিফিকেট আদায় করুক- ঠিক যেভাবে ভলেন্টিয়াররা রাস্তায় লড়াই দিচ্ছে, সেভাবেই ।

মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১

অক্সিজেন প্লান্ট ও বাংলার সরকার



অক্সিজেন প্লান্ট যে আমাদের দরকার, বিগত এক বছর ছেড়ে দিন- এই নির্বাচন চলাকালে ডান-বাম-রাম-তিনু-হনু-নকু-সেকু-শুশি-লিবু কেউ একবারও 'অক্সিজেন প্ল্যান্ট'' শব্দটা উচ্চারণ করেছিলাম?

বিজেপি বেচে খাও পার্টি, সাম্প্রদায়িকতা তাদের ভিত্তি আর এমএলএ কেনা ভবিষ্যৎ। তৃণমূল দলটাই তো চোরেদের, কোনো শিক্ষিত ভদ্রলোক সেখানে নেই। এটা তো আমরা বামপন্থীরা জানি ও বিশ্বাস করি। কিন্তু আমাদের ভূমিকাটা কী? শুধুই আঙুল তোলা? বামেরাই বিকল্পের কথা বলে ও বলছে, সেই বিকল্পটা কি সীমাবদ্ধ? শ্রমিক, কৃষকের বাইরে বেকারের কর্মংস্থানের প্রশ্ন- বৃত্ত শেষ? এত বড় সমাজে এটুকুই চাহিদা? গোটা ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ায় মধ্যবিত্তদের বাস, জনবহুল ও শিক্ষার মান কম- একমাত্র বিকল্প ভাবনাই তো সম্বল।
আমাদের সত্যিকারের কোথায় ঘাটতি আছে সেই সব জানলে তবে তো আমরা কী জাতের প্লান্ট করব সেই নিয়ে চিন্তাভাবনা করব। আমরা কেউ পড়াশোনা করি? আমরা তো কেবল কপি-পেস্ট করি আর ভয় পাই। আমরা কেবল জ্ঞান দিই, আর একটু বড় প্রবন্ধ হলেই কেটে পড়ি। সবটা কি নেতারা করবেন? আমাদের নাগরিক সমাজ কি শুধু প্রশ্ন করবে?
কেরল প্ল্যান্ট বসিয়েছে, এই তথ্য গত সপ্তাহের আগে কে জানতাম? কেরল করে দেখাতে পারে, আমরা বাঙালিরা প্রশ্নটুকুও করতে পারি না। আসলে দীর্ঘ ১০/৭ বছরের শাসনে আমরা যারা তথাকথিত বামপন্থী তারাও সর্বজ্ঞ হয়ে উঠে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে জ্ঞানদা ভাণ্ডার খুলে রেখেছি, যেখান থেকে বিনামূল্যে ভয় বিলি করি। আমাদের ডিগ্রী কোন কাজে আসবে যদি চর্চা না থাকে?
শ্রমিকের সাথে হাত লাগিয়ে কাজ করাটাই কি নেতাদের একমাত্র দায়িত্ব? গরিবিয়ানাটাই কি একমাত্র যোগ্যতা ডিগ্রীর পাশে? তাহলে দিশা দেখানো কাকে বলে? নতুন ভাবনা কে ভাববে? যারা ছিলেন তাদের কাছে নতুন ভাবনা ছিল না বলেই তো অপাংক্তেয় হয়ে গেছিলাম, যারা নতুন এসেছেন তাদের কাছে 'ব্যতিক্রমী' ও 'এগিয়ে থাকা' ভাবনা না পেলে কীসের ডিগ্রী আর কীসেরই বা তরুণ?
কী হবে ফেবুতে বা মিডিয়াতে বড় বড় ডায়লোগ দিয়ে? এই মুহূর্তে কোন কাজে আসবে প্ল্যান্টের ভাবনা? সেটাপ করতে তো ২-৩ মাস, তদ্দিন কী হবে? ঘরে বসে ফোকটে বিবৃতি দিতে ভাল লাগে। আরও ভাল লাগে অন্যের সমালোচনা।
দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদে বিরুদ্ধ মতেরও তো চাষ থাকতে হবে, নতুবা তো উমেদারি করা মোসায়েবে ভরে যাবে পরিবৃত্ত। থিসিস, এ্যান্টিথিসিসের দ্বন্দ্ব হলে তবে না সিন্থেসিস আসবে। কিন্তু ওই- সেই দূরের বোকা মতো, যে লোকটা কখনও কিছু বলেনি, কারণ তাকে কেউ কখনও কিছু শুধায়নি। কেউ ভাবেইনি তারও কিছু বলার থাকতে পারে, যেটা গতানুগতিকতার বাইরে হতেও পারে। কয়েকবার সে বলার চেষ্টা করেছিল বৈকি, তাকে থামিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তাই- আগে নিজেকে বদলাই, তারপর না হয় সমাজ বদলের কথা ভাবব, তারপরে তো বিপ্লব।
অন্যের দিকে একটা আঙুল তুললে বাকি চারটে আঙুল নিজের দিকেই তাক করা থাকে-

সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১

লকডাউনের নামে ধান্দাবাজি বন্ধ হোক।


 

দিল্লিতে নাকি আজকে থেকে আবার করোনার নামে লকডাউন শুরু হবে। যদিও গতকাল WHO ঘোষণা করেছে লকডাউন একটা অবৈজ্ঞানিক বাজে সিদ্ধান্ত তথা ব্লাণ্ডার ছিল, যা সংক্রমণ রোধ করতে সামাজিকভাবে কোন কাজে আসেনি। উলটে মানুষের জীবন-জীবিকা সংকটে পড়েছে।

তারপরও আমাদের দেশে আবার লকডাউন হবেই, কারণ গত লকডাউনে আদানি আম্বানি সহ পুঁজিপতিদের সম্পদ বেড়েছিল বিপুল পরিমাণে ও তড়িৎগতিতে। এ বছরেও তেমনই কিছু একটা করার পরিকল্পনায় ফেঁদেছে ওই শোষকের দল।
লকডাউন যদি করতেই হয়-
১) সংসদের/ বিধানসভার অধিবেশন বন্ধ থাকলে সমস্ত সাংসদদের/ বিধায়কদের মাইনে দেওয়া বন্ধ রাখা হোক যেমন দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ কাজে উপস্থিত না থাকলে কোন অর্থ পায় না।
২) প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি থেকে একেবারে পঞ্চায়েত সদস্য রাষ্ট্র থেকে যে সুযোগ সুবিধা পায় প্রত্যেকটি টাকা তাদের কাছ থেকে গুনে ফিরৎ নিয়ে সরকারি কোষাগারে ঢুকানো হোক৷ তাদের সরকারি বাসভবন, সরকারি গাড়ি কেড়ে নেওয়া হোক। তারা নিজ নিজ ঘরে ফিরে যাক, যেমন পরিযায়ী শ্রমিকেরা ফিরে এসেছে।
৩) বিধায়ক ও সাংসদদের পেনশন আনুপাতিক হারে দেওয়া হোক। অর্থাৎ একবার নির্বাচিত হলে এত টাকা দুবার হলে এত টাকা এইভাবে। দু বছরের কম সংসদের অস্তিত্ব হলে সেই অবস্থায় পেনশন বন্ধ রাখা হোক।
৪) যত আইএএস-আইপিএস তথা উচ্চপদস্থ আমলা রয়েছে, যাদের সেই অর্থে কাজ করতে হচ্ছে না বা কাজ করার পরিস্যার নেই - তাদের বেতন আংশিক রদ করা হোক বা বন্ধ করা হোক। অতিরিক্ত পরিমাণ আমলাদের আপাতত বসিয়ে দেওয়া হোক বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে- যেভাবে সাধারণ শ্রমিক মজুররা কাজের অভাবে লকডাউনে বসে থাকে। আমলা প্রশাসনের অংশ, দেশে প্রশাসনই থাকলে করো না নতুন করে আবার এইভাবে ছড়াতে পারত না সুতরাং সেই সমস্ত অপদার্থ আমরা পৌঁছে আমাদের কি লাভ তাদের বেতন আমাদের করের টাকায় হয়।
সাধারণ গরিব খেটে-খাওয়া মানুষ লকডাউনে বাড়িতে হাত-পা বগলে ভরে বসে থাকবে, রোজগার থাকবে না- অথচ এই সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকায় আমলা, নেতা মন্ত্রী সান্ত্রীদের বেতন হবে- দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না।
কর্মহীন হলে গোটা দেশ কর্মহীন হোক আর বেতন পেলে গোটা দেশ বেতন পায়। সে ক্ষেত্রে যারা কর্মহীন সাধারণ মানুষ তাদের কেও বেতন দিতে হবে যদি আমলারা বেতন পায়, যদি নেতারা বেতন পায়, যদি সরকারি কর্মচারীরা বেতন পায় যাদের কাজ করতে হচ্ছেনা।
কেউ খাবে কেউ খাবে না
তা হবে না তা হবে না
লকডাউনের নামে ধান্দাবাজি বন্ধ হোক।

সুরক্ষা ও রেড ভলেন্টিয়ার্স




এত কিছুর পরেও রেড NGO চলছে আবেগের আফিম খাইয়ে। এক আধাজন উচ্চস্তরীয় নেতৃত্ব উস্কানি দিচ্ছে এর সপক্ষে। কিছু তথ্য কিন্তু আপনার পাড়াতেও আছে, তা আশ্চর্যজনক ভাবে চেপে যাচ্ছেন আপনি।
আজ পর্যন্ত কতজন ছাত্র যুব স্বেচ্ছাসেবক এই খয়রাতি শ্রমদান করতে গিয়ে আইসোলেশনে রয়েছে ও কতজন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এই সচেতনতা মূলক তথ্যগুলো সেবামূলক মহৎ কাজের প্রদীপের নিচের আঁধারে হারিয়ে যাচ্ছে, কেন? কাকে সুবিধা দিতে?
এই রেড ভলেন্টিয়ার্সদের অতিমানবীয় দৈনিক কর্মকাণ্ডের প্রচারনা দিয়ে কাদের ব্যর্থতাকে ঢাকতে চাইছেন?
রেড ভলেন্টিয়ারেরা নিশ্চিত অতিমানবিক কাজ করছে, যা ইতিহাস মনে রাখবে- কিন্তু কিছু প্রশ্নের জবাব কে দেবে?
সুস্পষ্ট জিজ্ঞাসা
××××××××××
১) রেড ভলেন্টিয়ারদের বেশিরভাগই সাধারণ ছাত্রছাত্রী, একেবারেই কোথাও কোনো ট্রেনিং নেই- কীভাবে করোনার সাথে যুদ্ধ করতে হয় সেই ব্যাপারে। না রয়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবা বিষয়ক সাধারণ জ্ঞান। তাহলে কোন যুক্তিতে এভাবে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে?
২) প্রয়োজনীয় সংখ্যায় এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে কিট নেই করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য। সামান্য কাপড়ের মাস্কই ভরসা, উচ্চসুরক্ষিত N-95 মাস্কটুকুও নেই। এমতাবস্থায় এরা, বিভিন্ন পজিটিভ রোগীর বাড়ি গিয়ে সংক্রামিত হলে অনেক ভলেন্টিয়ারকে দেখে বোঝার উপায় থাকছে না শুরুতে। ফলত এরা অনেক সময় উপসর্গহীন বাহকেরও কাজ করতে পারে৷ এদের মাধ্যমেই সংক্রমণ ছড়াচ্ছে না তো?
৩) তাছাড়াও এই বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েরা নিজেরা সংক্রমিত হয়ে গেলে এদের চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ করাবার কোন পরিকল্পনা কে নেবে? পার্টি কি দায়িত্ব নিয়েছে?
৪) ইউনিসেফ, রেড ক্রশের স্বীকৃত ভলেন্টিয়ারিয়ারি সার্ভিসে থাকা সভ্যদের মোটা অঙ্কের ইনসুরেন্স করানো থাকে, যদি তারা আক্রান্ত হয় সেক্ষেত্রে ইনসুরেন্স কাজে আসে। রেড ভলেন্টিয়ার্সদের করানো হয়েছে কি?
৫) ফেসবুকে এই খয়রাতি শ্রমের স্বপক্ষে যারা ক্রমাগত লিখছেন- তাদের কজনের ছবি দেখেছেন রাস্তায় দৌড়াতে? শুধান- আপনি কয়টি স্থানে গেছেন? আপনার বাড়ির কতজন রেড ভলেন্টিয়ার্স । রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি দূরের কথা, এরিয়া কমিটির কতজন সিনিয়র সদস্যের ছেলেমেয়েরা রেড ভলেন্টিয়ার্স এর সাথে যুক্ত, যারা মাঠে নেমে সরাসরি করোনা রোগীদের ঘরে/বাড়িতে যাচ্ছেন!
এবারে প্রশ্নটা নিজেকে করুন, উত্তর পেলে নিজের সন্তানকে কেন নামাননি সেই জবাবটা দেবেন দয়া করে।
আর 'CPIM Digital' নামের যে রিঙটাল সংস্থার মস্তিষ্ক প্রসূত এই বৈপ্লবিক ভাবনা- তারা কেউ কি রাস্তায় নেমেছে? নামলে তাদের ছবি কই? না নামলে - নিজেরা সেফ জোনে থেকে পরের ছেলেকে পরমানন্দ সাজিয়ে নামিয়ে কার লাভ করানো হচ্ছে? এটা কমিউনিস্ট আন্দোলনের কত নম্বর ধারার বিপ্লব? এরা কেউ কি নিজেদের দলের ছেলেমেয়েগুলোর সুরক্ষার জন্য কোথাও ১টা শব্দ লিখেছে? বলেছে এদের জন্য বিমার কথা?
আমি নিজে ইউনিসেফের হয়ে দীর্ঘ ৬ বছরেরও বেশি দেশ ও দেশের বাইরে নানা ধরনের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে ব্রতী ছিলাম, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক, মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ সহ আফ্রিকার পশ্চিম আফ্রিকার সোমালিয়া, পূর্ব আফ্রিকার অন্তত ৭টা দেশে একাধিকবার গেছি। ভিয়েতনাম গেছি, মায়ানমার গেছি, ফিলিপিন্স গেছি, ইষ্ট ব্লকের সার্বিয়া, হাঙ্গেরি, ইউক্রেনে গেছি। দেশের মধ্যে চা বাগান, জঙ্গলমহল, চা বাগান, ঝাড়খণ্ড, বাস্তার, কর্ণাটকের আদিবাসীদের উপরে আমরা কাজ করে এসেছি। তাই বিষয়টার কর্মপন্থা সম্বন্ধে অনেকের মতই অল্পস্বল্প জানি। আমাদের রেড ভলেন্টিয়ার্সের নামে যা হচ্ছে এটা আইনত অপরাধ। কেউ যদি মামলা করে কী হবে তার হুঁশ আছে? আমাদের দেশে তো কেউ আত্মহত্যার প্রচেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।
বিশেষ ভাবে দেখা যাচ্ছে, এসি ঘরে বসা খুব মাঝারি মানের নিম্নমেধার নেতা ও তাদের তল্পিবাহক চ্যালা চামুন্ডারা, যারা মূলত ভারতের অন্য রাজ্যে বা ভিনদেশে বাস করে, এরাই বাস্তবতা উপেক্ষা করে সমাজতন্ত্রের শখের পোলাও বানাচ্ছে আমার আপনার ঘরের ছেলে মেয়েটিকে নিয়ে। আদর্শের নাম করে আত্মহত্যার উস্কানি দেওয়া চলছে৷ সারাদিন মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার বাপান্ত করে এনারা, কিন্তু রেড ভলেন্টিয়ার নিয়ে একটা সংবাদ ছাপলেই এরা বাপের বিয়ের বরযাত্রীর মত ধেইধেই করে নাচতে শুরু করে দিচ্ছে প্রায় উলঙ্গ হয়ে।
এর সাথে রয়েছে রাস্তাঘাটে মারধোর খাওয়া, ফোনে উত্যক্ত করা- বিশেষ করে মহিলা কমরেডদের। এগুলো তো বোনাস হিসাবে জমছে। ইনবক্স বা ফোনে তাকে আদর্শের নামে 'চে-লাইট' হিসাবে আখ্যায়িত করে আবার গ্যাস ভরে দেওয়া হচ্ছে। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত অত্যাচার থেকে সুরক্ষা কে দিচ্ছে? কীভাবে দিচ্ছে?
অথচ অক্সিজেন অন হুইলস নামের একটা সংস্থা- প্রশিক্ষিত কর্মীদের সাহায্যে এই কাজটা চালাচ্ছে, তাদের সাধ্যমত ছোট আকারে। যেমন মাচা, তেমন তো নাচা। এরা নির্বোধের মত- পর্যাপ্ত পিপিই হীন, উন্নত মাস্ক হীন, স্যানিটাইজার হীন, গ্লাভস হীন, রসদ হীন, আপদকালীন চিকিৎসা বিহীন, প্রশিক্ষন বিহীন নয়- সর্বোপরি বিমা নেই এমন কাউকে রাস্তায় নামায়নি- এই ভয়ানক ছোঁয়াচে রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধে।
Dialectical materialism তত্ত্বে সজীব অংশটা মানুষ, বাকিটা জড়। যারা নড়তে চড়তে পারে না সেই অপদার্থগুলো আসলেই জড়, যতই দেখতে মানুষের মতো লাগুক। মার্ক্স বলেছেন স্বত্তা চেতনাকে নিয়ন্ত্রণ করে, চেতনা স্বত্তাকে নয়। আপনি "রিংটালের" গ্যাস খেয়ে স্বত্তা ও চেতনা দুটোই খুইয়ে ভুলে গেছেন আপনি কখনও মানুষ ছিলেন- এখন আপনি কোনো নেতার অন্ধ ভক্ত হয়ে সমানে লেহন করে চলেছেন কিম্বা নিতান্তই শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া জড় পদার্থ।
আপনি আদৌ কমিউনিস্ট নন, যদি আপনি আমাদের ঘরের ছেলেমেয়েদের এভাবে সুরক্ষাবিহীন রাস্তায় নামিয়ে দেওয়াকে সমর্থন করেন, আপনি একজন বিকৃত মস্তিষ্কের উন্মাদ। করুণা হয় আপনাদের জন্য।
নতুন করে মার্ক্সবাদ পড়ুন, কারণ মার্ক্সবাদ সত্য। স্বত্তাকে জীবত করে, মানুষ হয়ে উঠে চেতনাবান হন, এই সময় আপনার চেতনা ভীষণ প্রয়োজন কমিউনিস্ট সমাজে। নতুবা আপনার চেতনার রঙে পান্না সবুজ হবে কিনা জানিনা, রাজ্যটা সবুজ হয়েছে তা বাস্তব। আগে নিজেরা সেরে উঠি, তারপর না হয় সমাজকে সারাবো।

রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১

ইনকিলাব ব্রান্ড

 


কোনো ব্র্যান্ডের সব মডেল ভালো হয় না, হতে পারে না। কিন্তু যখন কোনো ব্র্যান্ডের কোনো মডেল বাকিদের তুলনায় ভালো হয়, তখন সেই ব্র্যান্ডটি নেওয়াই উচিত।

আমি ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের কথা বলছি। "পশ্চিমবঙ্গ" মডেল তৈরীর দৌড়ে মূলত দুটি ব্র্যান্ড ময়দানে রয়েছে। তৃণমূলের কথা ছেড়েই দিলাম, ওটা লোকাল কোম্পানি, অন্য ব্র্যান্ডের স্পেয়ার পার্ট জুড়ে এসেম্বলি করে। ওদের কোনো গ্যারান্টি নেই, আজ আছে কাল নেই ।

এবার আসি বাকি দুটো ব্র্যান্ডের কথায়।
কে কোন রাজ্যে কোন যুগে কি মডেল বানিয়েছে সেসব না দেখে আপনার রাজ্যের বর্তমান প্রার্থীদের দেখুন। কারণ নোকিয়ার সাদাকালো মডেল মানুষের উপকারে এলেও, এখনের উইন্ডোজ সেট গুলো তেমন চাহিদা মেটাতে পারছে না মানুষের। তাই বর্তমান ফিচারস দেখেই ব্র্যান্ড সিলেক্ট করুন, অতীত দেখে নয়।

বর্তমান প্রার্থীদের জন্য কারা মানুষের জন্য আগে লড়াই করে পরে ভোট চাইতে এসেছে দেখুন আর কারা আগে ভোট চাইতে এসে পরে মানুষের জন্য লড়াই করবে বলছে দেখুন। যে মেয়ে গুলো ছাত্রদের জন্য, বেকারদের জন্য দুষ্কৃতীদের কাছে, পুলিশের কাছে নিজেদের মাথা ফাটালো, আঙুল ভাঙলো, তারা মানুষের পাশে থাকবে নাকি যে মেয়েটা রাজনীতির নামে ক্ষেপ খাটতে আসলো, কেউ বারবার স্বামী চেঞ্জ করলো সে আপনাদের পাশে থাকবে।

সময় আছে এখনও, তফাৎ টা বোঝার চেষ্টা করুন। "সোনার বাংলা" গড়ার এই সুবর্ণ সুযোগ আগামী পাঁচ বছরে আর পাবেন না দ্বিতীয় বার। আপনার বাড়ির মা-বোনেদের রক্ষার্থে বধূ অত্যাচারে অভিযুক্ত অভিনেতা চাই নাকি সভ্য ভদ্র প্রতিটি সমস্যাতে পাশে পাওয়া বাম কর্মী ভাইটিকে চাই, তা ২ তারিখের আগে আপনারাই ঠিক করুন।

আগামী পাঁচ বছর কানের কাছে অকারন "জয় শ্রী রাম" শুনতে শুনতে ২০০ টাকা লিটার পেট্রোল চান নাকি নেতাজীর বলা "ইনকিলাব জিন্দাবাদ" শুনিয়ে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের পাশাপাশি কর্মসংস্থান চান তা আপনারাই ঠিক করুন।

Don't miss the offer, Choose The Wright Brand this year.... 

রবিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২১

খেলা হলো?

 


প্ররোচনার পর প্ররোচনা দিয়ে গেছে দুটো ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দলই। একজন অসভ্য মহিলা অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় গত এক সপ্তাহ ধরে "নির্বাচন কমিশন মানি না, করুক শোকজ, দেখে নেব, CRPF ঘিরে ধরুন" বলে যাচ্ছে। যত ধরনের নিকৃষ্ট কথাবার্তা হয় সব বলছে ক্ষমতায় টিকে থাকতে। সেটার জবাবে বিজেপির গাম্বাট ফিলিপ মোষ "রগড়ে দেব, জ্বালিয়ে দেব, পুড়িয়ে দেব" বলে যাচ্ছে।
দুটো দলের একটাকেও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চাকরি, মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে ক্যাম্পেন করতে দেখেনি কেউ। দাঙ্গাবাজরা বলে যাচ্ছে খেলা হবে। চালচোরের দিদিমণি "খেল কত খেলবি- আমি গোলকিপার" বলে উস্কে যাচ্ছে। এই হিংসা, এই প্ররোচনায় ৫টা লোক নিথর হয়ে গেল। ইলেকশন কমিশন গ্যালারিতে বসে খেলা দেখছে।
একটা শ্রেণী খুব খুশি- চারটেই দুধেল গাই গেছে, তাদের বলি- এটা তো একটা আবর্ত, এই আবর্তে কে যে কখন ভিক্টিম হবে মরার আগে জানতেও পারবে না। হ্যাঁ মৃতরা মুসলমান, কারণ বিজেপির জুজু দেখিয়ে এই গাম্বাটগুলোকে মমতা ব্যানার্জী নিজে প্রকাশ্য জনসভায় দাঁড়িয়ে উস্কে ছিল। লাভ মমতা পেয়ে গেছে, এরা খুন হয়েছে, ভেসে গেছে এদের পরিবারগুলো। কবে বুঝবি অশিক্ষিত গাম্বাট চটিচাঁটা তৃণমোল্লাগুলো! তোরা আসলে চটির বোরে, যারা খুন হবি, গুড় খাবে তো দক্ষিণ কোলকাতা।
কমিশনকে প্রস্তাব দিচ্ছি- অশালীন বক্তব্য ও উস্কানিমূলক কথাবার্তার দায়ে মমতাকে ইম্মিডিয়েট গৃহবন্দি করে রাখুন যদি লাশের পাহাড় না ডিঙাতে চান, পায়ে যেমন ব্যান্ডেজ বেঁধেছিল ছলা করে, মুখে ব্যাণ্ডেজ বেঁধে রাখুন ২ তারিখ পর্যন্ত- নতুবা যে তে যেতে কয়েকশ তাজা প্রাণ সে নিয়েই যাবে। ওর কানের গোঁড়ায় ১৮টা ডিজে বক্সে চালিয়ে দিন ওরই দলের তৈরি 'খেলা হবে' গান।
আপনিও কি এই লাশ দেখবেন বলে ভোটের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন?
আসলে আপনিও তো একজন ঠাণ্ডা মাথার কুচো সন্ত্রাসী, নতুবা এদের ভোট দিয়ে কীভাবে ক্ষমতায় আনেন? কীভাবে এদের ভোট লুঠ, এদের সন্ত্রাস, এদের চোখরাঙানি সহ্য করেন। আপনিও এদের বাইনারিতে মিডিয়ার তৈরি সিরাপ খেয়ে নিজের অজান্তেই সাম্প্রদায়িক হয়ে যান। এদের চুরির অর্থের বৈভবের কাছে আপনিও মাথা বিকিয়ে দেন।
ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের বৃহত্তর কল্যাণ ও সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্যে গড়ে ওঠা মান্য অনুশাসন ও অনুসরণীয় ন্যায়-নীতির মাঝে তৃণমূল আর বিজেপি নামের দল দুটোর অস্তিত্ব কোথায়? এরা লুম্পেন, সমাজের চোখে অন্যায়কারী ও আইনের চোখে অপরাধী হিসাবে বিবেচিত। এরা কবে কার ভাল করেছে?
আপনি কি নিজেকে দেখতে পাচ্ছেন? দুজন দাঁত বের করা ব্যাক্তির মাঝের জনই আপনি- চোখে কালো চশমা পরে কানা সেপাই হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, আপনিই এদের সিকিউরিটি দিচ্ছেন। বাকিটা আপনার শুভবুদ্ধির উপরে ছাড়া রইল।
কবিগুরু কবেই বলে গেছেন- 'অন্যায় যে করে, অন্যায় যে সহে- তব ঘৃণা যেন তারে তৃণ সম দহে'।

ফেরাতে হাল
ফেরাও লাল

শনিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২১

আমরা মুসলমানেরা সাম্প্রদায়িক?

 


১. পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার প্রায় ৩০% মুসলিম, অথচ চাকরিতে মাত্র ২% মুসলিম। তবু আমরাই সাম্প্রদায়িক।
২. আমাদের প্রাপ্য প্রায় ১৩ জন মুসলিম সাংসদ, আমরা পেয়েছি ৪ জন অযোগ্য মুসলিম সাংসদ। নয়(৯) জন এম পি আমরা কম পাচ্ছি। তবু আমরাই সাম্প্রদায়িক ।
৩. আমাদের প্রাপ্য প্রায় ৯০ জন মুসলিম বিধায়ক, আমরা পেয়েছি ৫৮, প্রায় ৩২ জন MLA আমরা কম পাচ্ছি-, তবু আমরাই সাম্প্রদায়িক।
৪. মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় অনায়াসে অমুসলিম MLA-MP তথা জনপ্রতিনিধিরা জিতছেন, অথচ অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকায় কোনো ভাবেই মুসলমান প্রার্থী দাঁড় করানোই হয় না, তাই জেতার প্রশ্নই নেই- তবু আমরাই সাম্প্রদায়িক।
৫. যে গ্রামে চার হাজার মুসলিমের বসবাস, সেই গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ জন স্থায়ী শিক্ষকই অমুসলিম, এমন ঘটনা আকছার- তবু আমরাই সাম্প্রদায়িক।
৬. মুসলিম অঞ্চলে শিক্ষার প্রসারের জন্য জনৈক কাদের চাচা একটি ইস্কুল তৈরি করেছিলেন। সেই স্কুলের ৩৫ জন শিক্ষকের মধ্যে মাত্র ৪ জন মুসলিম, তাও তারা প্যারা টিচার- তবু আমরাই সাম্প্রদায়িক।
৭. সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মুসলিম জেনারেল ও মুসলিম OBC-A; চাকরি প্রার্থীদের দুয়ার প্রায় বন্ধ- তবু মুসলিমরাই সাম্প্রদায়িক।
৮. মুসলিমরা কখনই সরকারি জায়গায় মসজিদ মাদ্রাসা তৈরি করেনি, কখনও প্রশ্নও করেনি কেন ফুটপাত, রেল স্টেশন, বাসস্ট্যাণ্ড, সরকারি অফিসের সামনে ও ভিতরে হাজারে হাজারে অন্য ধর্মের ছোট বড় উপাসনালয় ও ধর্মীয় সম্পত্তি আছে- তবু মুসলিমরাই সাম্প্রদায়িক।
৯. মুসলমান হজে সাবসিডি(ছাড় ) চায় না, কারণ ধর্মে কোথাও বলা নেই- নিজ সামর্থ্য না থাকলে অন্যের পয়সাতে হজে যাও। তবু এক ধরনের তোষণকারী নিজের ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থে যাতে অন্য ধর্মের ধর্মীয় উৎসবে লাগামহীন খরচা করতে পারে। এর পরেও মুসলমানেরাই নাকি সাম্প্রদায়িক।
১০. মুসলমানেরা তো শিক্ষা চায়। যে ছেলেটি শিক্ষিত সে কি কখনও গুন্ডা, মস্তান, সমাজবিরোধী দুষ্কৃতি হবে? আসলে নেতা, MLA, MP দের সমাজবিরোধী প্রয়োজন, আর এই জন্য সহজ টার্গেট অশিক্ষিত মুসলমান সম্প্রদায়। তাই রাজনৈতিক খুনের সিংহভাগই মুসলমান হয়, গরিব অশিক্ষিত মুসলমান। আমরা শিক্ষা চাই, অশিক্ষিত মুসলমান নেতা চাই না, ধর্মগুরু নেতা চাই না, আমরা আমাদের দেশের সংবিধান সম্মত শিক্ষার অধিকার চাই। শিক্ষার প্রসারণ ঘটলে এই সম্প্রদায়কে ভুল বোঝানো যাবে না- এটা চাইলেই কি মুসলমান সাম্প্রদায়িক?
১১. ওয়াকফ বোর্ডের টাকা মুসলমানেরা কী করবে সেটা মুসলিম স্কলাররা বুঝবে । মুসলমানের সম্পদ থেকে কয়েকজন গরিব মুসলমান ইমামকে মাসিক ২৫০০ টাকা ভিক্ষা দিচ্ছে, প্রচারণাটা যেন সরকার তার তার নিজ কোষাগার থেকে দিচ্ছে। সত্য তুলে ধরলেই মুসলিমরা সাম্প্রদায়িক।
১২.অমুসলিমরা SC, ST, OBC-A, OBC-B সবই হতে পারে। মুসলিমরা শুধু OBC-A ও OBC-B হচ্ছে। তবুও মুসলিমরাই সাম্প্রদায়িক।
সব রাজনৈতিক দলই বি জে পি'র ভয় দেখিয়ে মুসলিমদের ভোট লুটছে ও লোটার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু কোনো রাজনৈতিক দলই আমাদের ন্যায্য অধিকার দেয়নি। ৭৪ বছর ধরে আমরা হিস্টিরিয়া রোগে ভুগছি, মন্দের ভাল তবুও আগের সরকারেরা ছিল। কিন্তু ১০ বছরের তৃণমূল সরকার ও ৭ বছরের বিজেপি সরকার তো আমাদের সরাসরি দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক করে দিয়েছে।
কীসের দাবী, কীসের আদায় তৃণমূল-বিজেপির রাজত্বে?
যদি মুসলমান হও আগে প্রমান করো তুমি এ দেশের নাগরিক। CAA-NRC তো তোমার জন্যই তৈরি।
এই ভাবে বেঁচে থাকবেন?
সন্তানকে লেঠেল করার জন্য বড় করবেন?
অন্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য কুরবানি করার জন্য মুসলমান নিবেদিত?
জঙ্গি সন্দেহে বিনা বিচারে জেলের কুঠুরিতে মরার জন্য সন্তান জন্ম দেবেন?
একজন চ্যাটার্জি, ব্যানার্জী, ভট্টাচার্য, রায়, সেন, মণ্ডলদের সন্তানের মতো আপনার ছেলেকেও আমাদের দেশের সংবিধান শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাকস্বাধীনতা সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে পূর্ণ ও সমানাধিকার দিয়েছে। শর্ত একটাই- শিক্ষিত হতে হবে। সম্মানের রোজগার করতে হবে।
বঞ্চিত মুসলিমদের হয়ে আমি লিখছি, এটা যদি সাম্প্রদায়িকতা হয়- আমি তাতে গর্বিত। আমার চোখে তারা সবচেয়ে বড় সাম্প্রদায়িক- যারা মুসলমানের অশিক্ষার অসহায়ত্বকে রাজনৈতিক অস্ত্র বানিয়ে ক্ষমতার চেয়ারের পায়া বানায়।
মুখে উদারতার ঢাক পেটানো রাজনৈতিক দালালদের পেটোয়া চামচা নয়, নিজেরা রাজনৈতিক ভাবে সক্ষম হোন, তার জন্য শিক্ষিত হোন। যারা আপনাকে সাম্প্রদায়িক বলে দেগে দিতে আসবে তাদের মুখের উপরে উপরে পয়েন্টগুলো ছুড়ে মারুন তীব্র ঘৃণা মিশিয়ে।

বদল আসবে, আপনিই বদল আনতে পারেন, শিক্ষাই বদলের একমাত্র প্রাথমিক শর্ত। নতুবা ফুটবলের মতো শুধুই লাথি খেয়ে যাবেন।

সোমবার, ৫ এপ্রিল, ২০২১

নিজের কর্মসূত্রে কিছু নীলচে ধুসর অভিজ্ঞতা



ওরে.... ভবিষ্যতের নেতা......
এতো মিটিং করে করবি কি তা বল।
নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে, প্রার্থী কোথায় মানুষের বাড়ি বাড়ি যাবে তা নয়, তার বদলে শুধু মিটিং। নিজেদের মধ্যেই সাত রকম কমিটি বানিয়ে নিয়ে মিটিং। ছোট-বড় কমিটি তৈরি করে মিটিং। সকালে মিটিং, দুপুরে মিটিং, বিকালে মিটিং। মিটিংময় প্রচার প্রক্রিয়া।
মিটিংটা তাও যদি জনগণের উদ্দেশ্যে হতো তাহলেও একটা কথা থাকত। একই ব্যক্তি, একই কথা, একই বক্তব্য- সাত রকম কমিটিতে উপস্থিত থেকে বলে যাচ্ছে নাগাড়ে। একদল লোক বোকার মতো তা শুনে যাচ্ছে বিকারহীন ভাবে। শুনছে শুনছে, চিরকালই শুনবে। আদান-প্রদান বলে শব্দটাই এদের অভিধানের পাতা থেকে উঠে গেছে। সেই বোকার মতো ভ্যাবলা চোখে অন্যমনস্ক ভাবে তাকিয়ে থাকা লোকটা, যে লোকটার কিছু বক্তব্য থাকতে পারে তা কেউ কোনোদিন ভাবনায়-চিন্তায় আনেনি।
কেউ ভাবছে না, যে লোকটা ভ্যাবলার মতো তাকিয়ে আছে কিন্তু কোথাও বলার সুযোগ বা অধিকার পাচ্ছে না, আদপে লোকটার মধ্যে যে কিছু তো ট্যালেন্ট আছে সেটাই বিকশিত হওয়ার জায়গাই পাচ্ছে না।
নতুন ধারণা আমাদের মাঝে আসবে কী করে!
১০০টা ছেলে সাথে ঘুরছে, কেন ঘুরছে ছেলেগুলোও জানে না, প্রার্থীও জানে না, ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বও জানে না, কিন্তু ঘুরছে। মিডিয়া নেই নেই করেও আছে, তথাকথিত ডানপন্থী আন্দোলন ও উত্থানের গল্প আছে। নিজেদের মতো করে তৈরি করে নেওয়া ময়দান আছে, তাই নজর আছে। পয়সা আছে, ফ্লেক্স আছে, পোস্টার আছে, সংগঠন আছে, আত্মবিশ্বাস আছে, রোজ রোজ বড় বড় নেতা সেলিব্রিটির আমদানি আছে- যা যা থাকার দরকার সব আছে।
নেই শুধু পরিকল্পনা।
যেটা থাকতেই পারত সেটাও নেই- সোশ্যাল মিডিয়া। ৫০০ কোটির PK আর ৫০০০ কোটির আঁটি সেলের বিরুদ্ধে সেল্ফি তোলা টিভি সেলেব কিম্বা চার আনার ঘটিগরম। ফল যা হবার তাই হয়েছে- যে প্রচারটা পেতেই পারত, সেটাও পায়নি।
জল নেই, খাবার নেই, দিশা নেই, কিচ্ছু নেই, আছে শুধু আবেগ আর উচ্ছ্বাস। অথচ যেখানে কিছুই ছিল না প্রায়, সেখানে এগুলো সব ছিল, কারণ পরিকল্পনা ছিল। আবেগ-উচ্ছ্বাস দিয়ে একটা দূর পর্যন্ত যাওয়া যায়, তারপর কিন্তু বিনোদ কাম্বলি। ট্যালেন্ট আর সফলতা- দুয়ের মাঝের ফারাকটা হলো পরিকল্পনা।
বরই যখন বরকর্তা হয়, তার অনুষ্ঠান বাড়ি ঘেঁটে না যাওয়াটাই অস্বাভাবিক।
কী হবে এত মিটিং দিয়ে? মানুষের দোরে দোরে না পৌঁছলে হাতে রইবে শুধুই পেন্সিল।
প্রতিষ্ঠিত নেতা দেখেছি, স্ট্রাগলার নেতা দেখেছি, সোনার চামচ মুখে নেওয়া নেতা দেখেছি, ভাবুক আঁতেল দেখেছি, গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল দেখেছি, দরকারের সময় পালিয়ে যাওয়া নেতা দেখেছি, মার খাবার ভয়ে না এসে ফোনের সুইচ অফ করে দেওয়া নেতা দেখেছি, হুকুম জারি করা নেতা দেখেছি- সে কেন নেতা এইটা না জানা নেতা দেখেছি, সহজাত নেতৃত্বের গুণ কম মানুষেরই থাকে, তেমন বিরল নেতাও দেখেছি।
পাশাপাশি- পিতার স্নেহে লাটাই এর সুতো ছেড়ে দেওয়া নেতা দেখেছি, সন্তানকে আগলে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া নেতা দেখেছি- নেতার জন্ম হতে দেখেছি। কিন্তু গাছে ওঠার আগেই এক কাঁদি পেড়ে ফেলা নেতা দেখার বাকি ছিল। সেটাও দেখলাম। দেখলাম বেশ কয়েক স্থানে।
কেউ কেউ ইন্টারভিউ দিচ্ছে- তিনি আবার প্রার্থী
-প্রেম করেন?.
-কেন করব না...
এটা জবাব ছিল।
এতে মানুষের কোন সমস্যা মিটবে? প্রার্থী নাচতে জানলে বা গাইতে জানলে তাতে ভোটারদের কোন সমস্যার সমাধান হবে?
একটা রেসে অনেকে দৌড়ায়, জেতে একজনই। কিন্তু হারের অনুসন্ধান করতে যাওয়ার জন্য যারা যায় তারা মাটিতেই নামেন না, তাই মিটিং চলতেই থাকে। আর সামনের লোকটা বোবা দৃষ্টিতে বাইরের জানালা দিয়ে গ্রীষ্মের লু এর সাথে দৃষ্টি বিনিময় করে সময় কাটায় একই ক্লিশে ডায়লোগ শুনে।
হাল ফেরাতে
লাল ফেরাও
একদম ঠিক, কিন্তু তারও আগে শোনা অভ্যাস করতে হবে, অভিজ্ঞ পার্টি কমরেড মেন্টরের অধীনে ওয়ার্কশপ করতে হবে, এসবের বিকল্প নেই। আবেগে ভোট হয় না, ভোট করাতে হয়, মেসিনারি লাগে, আর লাগে পরিকল্পনা। শক্তি কম হোক বা বেশি, পরিকল্পনার ঘাটতি হলে লড়াই থেকে প্রথমেই পিছিয়ে পড়তে হয়। আর এটা উপলব্ধির বয়স কাঁচা চুলের সকলের থাকবে না এটাই স্বাভাবিক।
ফেসবুকের কিছু ক্লোজড গ্রুপ আছে, যেখানে রোজ পলিটব্যুরো বসে, সেখানে এসে প্রত্যেকে বা অনেকেই ভয়ানক ভাবগম্ভীর মতামত রাখে এমন ভাবে যেন - এটার এগনস্টে কাল পার্টি কংগ্রেস বসবে, গঠনতন্ত্র বদলে যাবে। কেউ কেউ ভবিষ্যৎবাণী করেন কারো কারো সম্বন্ধে, যিনি তার এলাকাতে ২২দিন থাকার পরেও প্রার্থীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেননি বা করার যোগ্যতা হয়ে উঠেননি। অথচ খাপ বসিয়ে দিশা ঠিক করে দেওয়ার জন্য সে কী প্রাণপাত লড়াই... তাই হাসি লাগে না, করুণা হয়। মনে হয় ওই মিটিং নেতারা এদেরই যোগ্য উত্তরসূরী নেতা।
বুঝলে ভাল, না হলে আসছে বছর আবার হবে।
ততক্ষণে সামনের বোবা লোকগুলো উসখুস করতে করতে ঘুমিয়ে যাক না হয়,
যে দেখে শেখে না, সে ঠেকে শেখে।
সবই ঠিক থাকে, শুধু সম্ভাবনার অপমৃত্যু ঘটে।

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...