শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫

ডোলান্ড ট্রাম্প ও মাই ফ্রেন্ড মোদী



মূর্খ কখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনা, গোবর খেকো কোন বাঁদরের সৎ সাহস থাকতে পারে না। নতুবা ট্রাম্পের মত একজন উন্মাদগ্রস্থ রাষ্ট্রপ্রধান সকাল সন্ধ্যা উঠতে বসতে আমাদের দেশের মান ইজ্জত নিয়ে চু-কিতকিত খেলতে পারত না।

নির্বোধ শ্রেষ্ঠ মোদী আর তার তড়িপার স্যাঙাৎ - নির্লজ্জতার অপর নাম, নতুবা সামান্যতম আত্মসম্মানবোধ যদি থাকতো, তারা জবাব দিত।
২০১৩ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত তৎকালীন একজন ভারতীয় কূটনীতিক- দেবযানী খোবরাগাড়ের সাথে দুর্ব্যবহার করেছিল মার্কিন প্রশাসনের কিছু লোকজন।
এর পদক্ষেপ অনুসারে, সেই সময়ের ভারতবর্ষের শিক্ষিত প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, মার্কিন কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে এবং মার্কিন দূতাবাস থেকে নিরাপত্তা ব্যারিকেড অপসারণ করে প্রতিক্রিয়া জানান। ভিডিওতে দেখুন-
ফলশ্রুতিতে দ্রুত মার্কিন প্রশাসনের হুশ ফেরে এবং শীঘ্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হাঁটু গেড়ে বসে ক্ষমা স্বীকার করে।
রাষ্ট্রের একটা বিদেশ নীতি থাকতে হয় আর নীতি তৈরি করতে গেলে সঠিক শিক্ষা সহ নৈতিকতার বোধ থাকতে হয়। মোদি সরকারের বিদেশ নীতি তৈরি করে রিলায়েন্সের তথা আম্বানির ORF আর আদানি ফাউন্ডেশনের অধীনস্থ CRF (Chintan Research Foundation) এবং APSE এর মত সংস্থাগুলো - অজিত ডোভালের ছেলে বা জয়শঙ্করের ছেলেদের ফ্রন্ট লাইনে রেখে নিজেদের স্বার্থ অনুযায়ী কর্পোরেট ধান্দাবাজি করে- আপনি আমি ভাবি মোদী-শাহ এর মন্ত্রী সভাই বোধহয় দেশের বিদেশনীতি ঠিক করছে।
আসলে গুজ্জু কার্টেলের দুই সর্বোচ্চ ক্রিমিনাল- শুধু দেশের সম্পত্তি লুট করছে তাই নয়, দেশের রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা, সাংবিধানিক সংস্থা ও আমলা তন্ত্রকে সম্পূর্ণ হজম করে ফেলেছে। না হলে ভাবা যায় - দেশের বিদেশ নীতি তৈরি করছে দুটো পুঁজিবাদী কর্পোরেট সংস্থা। কোন লুকোচাপা করে নয় প্রকাশ্য এবং অফিসিয়ালি।
এরা ভাববে দেশের মানুষের স্বার্থ?
বিদেশে গিয়ে চারটে ভাড়াটে নাচিয়ে গিয়ে রুঁদালি গেয়ে "ডায়াস্ফোরা" বানিয়ে আর পমেরিয়ান মিডিয়াকে দিয়ে সর্বক্ষণ ঘেউ ঘেউ করিয়ে কাউকে শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রী বানানো যায়না৷ চুরি করে হওয়া প্রধানমন্ত্রী - তার কোন দায়বদ্ধ থাকে?
বর্তমানে মোদী উদ্বোধন মিনিস্টার হয়ে গেছে। রেলের উদ্বোধন রেলমন্ত্রী করে না, রাস্তার উদ্বোধন রাস্তা মন্ত্রী করে না, এয়ারপোর্টের উদ্বোধন বিমান মন্ত্রী করে না। যাবতীয় উদ্বোধন এবং তার কৃতিত্ব শুধুমাত্র মোদির; আর যখন সেগুলো ফেটেফুটে যায় বা যখন দায় নেওয়ার প্রশ্ন আসে তখন মোদি মিউট মোডে চলে যায়।
নিরক্ষর মিথ্যাবাদী প্রচারসর্বস্ব একটা ক্লীব- ক্যামেরা খুঁজে খুঁজে নিয়ে অভিনয় টুকু করে। আপনি আমি রোজকার এই ডেইলি টেলি সিরিয়াল দেখে হিন্দু-মুসলমান, গরু-শুয়োর, মন্দির-মসজিদ নিয়ে মেতে থাকি।
আমাদের ঘরের যুবকেরা থাকে রাস্তায় বসে রোজগার চেয়ে, বিচার চেয়ে। বিনা বিচারে ৫ বছর ধরে উমর খালিদ বন্দী থাকে জেলে, দিল্লি পুলিশ এই একটা কাজ নিশ্চিত করেছে। এটাই গোয়ালঘরের গণতন্ত্র।
ওদের লজ্জা হবে না কারণ ওরা চুরি করতেই এসেছে, আপনার কি লজ্জা হয়?

মঙ্গলবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৫

সিদ্দিকুল্লাহ~ আসানসোলে গোরক্ষার তান্ডব



সিদ্দিকুল্লাহ নামের নেড়িটা জীবিত আছে? মাস দেড়েক আগে যে নাকি লক্ষ লক্ষ ঘেউ নামিয়ে রাজ্য অবরুদ্ধ করে দিতে চাইছিলো! পারলে ওর গাঁড়ে গোলমরিচের আরক গুঁজে বলে আসতাম- আসানসোল শহরটা বাংলাতে রে বেইনস্টোক। এখানে ওকে কেউ ঘেউঘেউ করতে দেখেনি।

আরেকটা মর্কট আছে, ত্বোহা সিদ্দিকি, যার পেশাই হলো ধর্ম ব্যবসা- তাবিজ কবজ। এর বাইরে অনেক এঁটোকাঁটা খোর জীবজন্তু আছে, যারা নিজেদের ভাগায় কম পরলে ফোঁস করে উঠে।
এরাই পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে বোঝায়- তৃণমূলকে ভোট না দিলে বিজেপি চলে আসবে। রাজ্যে তৃণমূল থাকলে বিজেপির প্রয়োজনটা কী?
মুসলমান সম্প্রদায় কী বুঝতে পারছে যে এই সব আলেম সাজা চুতিয়া গুলো আসলে RSS এর দালাল। ধর্মকে সামনে রেখে, হাদিস-কোরানকে সামনে রেখে গোটা বাঙালি মুসলমান সমাজকে বোকাদোচা বানাচ্ছে।
এরা চুরির ভাগা তথা হারামের টাকার জন্য দ্বীন-দুনিয়া-আখেরাত সব বেচে দিয়েছে। জোব্বার আড়ালে। সবকটা শয়তান-এ-আজম, মুনাফেক। ইহুদীরা প্রকাশ্য শত্রু, এই আলেম সাজা মালগুলো তার চেয়েও ভয়ানক।
ভাই মুসলমানেরা, জেগে উঠো। এই শয়তানদের দোজোখে পাঠাবার সময় এসেছে। জিহাদ যদি করতে হয়, আগে এদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক জিহাদ করুন। এটাও ফরজ, এটাও সুন্নত ইবাদত এখন। শয়তানকে বর্জন করা। নুতুবা কিয়ামতের ময়দানে জবাব দিতে পারবেন তো এই কবিরা গুনাহের?

রবিবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৫

দুবলাগুড়ি


 

Dublagadi Sea Beach দুবলাগাড়ি সমুদ্র সৈকত

বাঙালীর ভ্রমণ এখন আর শুধু দীপুদাতে আঁটকে নেই। পাহাড় ব্যতিরেকে সমুদ্র বলতেই দীঘা আর পুরী দুচোখের মনিতে ভাসে আম বাঙালীর, তার বাইরে মন্দারমনি, তাজপুর মোটামুটি এই বৃত্তেই ঘোরাঘুরি করে গন্তব্য গুলো। এবারে যদি স্বাদ বদলাতে চান, তাহলে হাওড়া থেকে ট্রেন যোগে মাত্র ঘন্টা চারেকের দুরত্বে পড়শি রাজ্যের একটা সমুদ্র সৈকত থেকে নাহয় টুক করে একটু ঘুরে আসুন। ঘুড়ে দেখুন দুবলাগারি সমুদ্রসৈকত। ধু ধু বালিয়ারি, ঝাউবনকে সঙ্গী করে যারা নির্জনতাকে উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য ‘পারফেক্ট ডেস্টিনেশন’। কোলাহল মুক্ত দুষণহীন পরিবেশে খানিক লাল কাঁকড়ার সাথে লুকোচুরি নেহাত মন্দ লাগবেনা

দুদিনের ছুটিতে হাওড়া থেকে টুক করে বালাসোর স্টেশনে নেমে পরুন। সিজেন টাইমে গেলে হোটেল বুক করে রাখা উত্তম, সেক্ষেত্রে হোটেলে বলে রাখলেই তারা স্টেশনে গাড়ি পাঠিয়ে দেবেদুবলাগাড়ি নির্জন মানে জনহীন এমনটা নয়, সপ্তাহান্তে বা ছুটির দিনগুলোতে অল্পবিস্তর পর্যটক সমাগম হয় বৈকি, তবে সেটা দীঘা বা পুরীর তুলনাই নেহাতই নগণ্য, তাই প্রশান্তি খুঁজলে এই গন্তব্যের বিকল্প কম। ছোট বড় নানা মানের ক্যাম্প, রিসর্ট, হোমস্টে বা হোটেল পেয়ে যাবেন সুলভে, আবার রুমেরও নানান মান আছে- স্ট্যান্ডার্ড-ডিলাক্স এসি বা নন এসি সবই আছে।

খাবার দাবার সাধারনত রিসর্ট/ক্যাম্পেই পেয়ে যাবেন। ডাবের জল দিয়ে খানিকটা নিজেকে রিফ্রেস করে মধ্যাহ্নভোজন আর তারপর ক্লান্তি জুড়িয়ে নিতে একটা ছোট্ট করে ভাতঘুম। বাঙালী ঘাবারদাবারের কোনো কমতি পাবেননা এখানে। কাছেই পাঁচুপাড়া-বারাদিয়া নদীর মোহনা ও সেই সংলগ্ন একটা মাছ বাজার থাকাতে সি-ফুডের বিপুল সম্ভার পেয়ে যাবেন। ইলিশ, ভেটকি, পাবদা, পারসে, আমুদি, চিঙড়ি, কাঁকড়া, পমফ্রেট কোন মাছ চাই আপনার, রসনা তৃপ্তির সমস্ত উপাদান পেয়ে যাবেন। সন্ধ্যায় বন্ধু বা পরিবারের সাথে বসে জমাটি আড্ডার সময় বারবিকিউ’ এর স্বাদ নিতেই পারেন এমন অবসরে। রাত্রে কব্জি ডুবিয়ে খাসির মাংস খেয়ে সদলবলে নৈশ ঝাউবন অভিসারে যাওয়াটা বেশ এডভেঞ্চারাস অভিজ্ঞতা।

এখানকার এই ঘন ঝাউবন বরাবর তিনটে সৈকত পরে, দুবলাগারি, বাগদা আর পারিখি, একটাই লম্বা সমুদ্রতট- আলাদা আলাদা নাম। এখানে সমুদ্রের জল জোয়ার ভাঁটার সাথে বেশ খানিকটা এগিয়ে পিছিয়ে যায়। ভাঁটা পরলে সৈকত জুড়ে অসংখ্য রংবেরংয়ের বিভিন্ন সাইজের ঝিনুক, শামুক, শঙ্খ দেখে মন পুলকিত হবেনা এমন মানুষ পাওয়া ভার

এখানে ঘুরতে এসে খুব বেশী লম্ফঝম্প, সাইটিসিয়িং এর নামে গলদঘর্ম হওয়ার মাঝে তেমন সার্থকতা নেই। তবে ঐতিহাসিক বুড়িবালাম নদীর পাশে গিয়ে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের প্রতি শ্রদ্ধা অর্পন করাটা নাগরিক কর্তব্য। অন্যথায় চুপটি করে বন্ধুদের সাথে বা প্রেয়সীর সাথে নির্জন দুপুরের ঝাউবনে নাম না জানা পাখিদের সাথে নাহয় একটু নিভৃত যাপন করলেন। মন চাইলে একটু সমুদ্র স্নান, আর বাকি সময় নিখাদ ল্যাদ খেয়েই কাটিয়ে দিন। তবে হ্যাঁ, স্থানীয় বাজার খানিকটা দূরে। ধূমপায়ী ও সুরাপায়ীরা অবশ্যই তাদের পাথেয় আগাম মজুদ করেই নিয়ে আসবেন, চা বা কফিপ্রেমীরা তাদের যাবতীয় উপাদান হোটেলেই পেয়ে যাবেন।

ভাপা ইলিশ, সরষে ইলিশ, ডাব চিঙড়ি বা চিঙড়ির মালাইকারি, ভেটকির পাতুরি, পমফ্রেটের রোষ্ট, পাবদার ঝাল, গন্ধরাজ কাঁকড়া, পারশে মাছের তেল ঝোল, কুড়কুড়ে আমুদে, চিকেন বার্বিকিউ কিম্বা মাটন কষা- এই নিরিবিলির রাজ্যে দুদিনের রাজা হতে আর কিইবা চায়! রাজকীয় খাওয়াদাওয়া, আন্তরিক আপ্যায়ন, প্রকৃতির সাথে তার মত করে দুটো দিনের এই অবসর যাপনের অভিজ্ঞতাকে সহজে ভোলা যাবেনা। তাহলে প্ল্যান বানান, আর উপভোগ করুন একটা দুর্দান্ত উইকএন্ড।

 

 

বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫

দ্য এন্টায়ার পলিটিক্যাল সায়েন্স



আগে গুজরাত বিশ্ববিদ্যালয় নাকি এমন একটা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি দিতো। এখন এই সাবজেক্ট পড়ানো বন্ধ করে দিলেও সাবজেক্টের অধ্যয়গুলো পরিষ্কার হয়েছে গত ১১ বছরের অধ্যয়নে

ভয়ানকভাবে উগ্র দেশপ্রেমের সংকীর্তন করো, যাতে অতীতে ব্রিটিশের দালালি ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বিরুদ্ধে থাকা জনসঙ্ঘ বা RSS এর ঘৃণ্য ইতিহাস চাপা দেওয়া যায়

ভীতু মধ্যবিত্ত ও লোভী বে-রোজগার যুব সমাজকে টার্গেট করো, হিন্দুত্ব আর দেশপ্রেমের মদ গেলাও। এরাই আগামীর অন্ধ ভক্ত শ্রেনী সাপ্লাই দেবে, এদের ভোটই ক্ষমতার গদিতে টিকে থাকার অন্যতম উৎস

নিজেরা এলোপাথাড়ি চুরি করো। আদানি আম্বানির মত পুঁজিপতিদের আরো নতুন নতুন চুরির ক্ষেত্র রেডি করে দাও। রামদেবের মত চোর লঞ্চ করো বাজারে। আপদে বিপদে এই পুঁজিপতিরাই দলীয় তহবিলে টাকা দেবে ইলেকটোরাল বন্ডের নামে, যেগুলো ভোট, বোমা, বারুদ, অস্ত্র সহ- মিডিয়া ও দুর্নীতিবাজ সরকারী কর্মচারী কিনতে অর্থ যোগান দেবে

চুরি করে ধরা খাওয়া জনিত বিপদে পরলে, প্রথমে রামের নামে অস্বীকার করো। এরপর হনুমানের দিব্যি খাও

রোজ সন্ধ্যায় পুষে রাখা ‘পমেরিয়ান কুত্তা’ গোদী মিডিয়াকে লেলিয়ে দাও

আঁটিসেল নামের ট্রোল ব্রিগেডকে ছেড়ে দাও মিথ্যার বাজার বসাতে

বলিউডকে দিয়ে নতুন ইতিহাস বানাও

পাকিস্তানকে দিয়ে উত্তেজক ডায়লোগবাজি করাও। দেশে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করো, কিছু জওয়ানকে শহীদ করে দিয়ে যেকোনো ইসলামিক জঙ্গীগোষ্ঠীর নামে বিল ফেরে দাও- পুলওয়ামার মত

এরপর সেনাবাহিনীর কর্তাদের নিয়ে এসে বিবৃতি দেওয়া করাও। সেনার আবেগকে কাজে লাগাও ভোটের ময়দানে

দেশে দাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধিয়ে দাও। মসজিদ বা কবরের নিচে মন্দির চাপা আছে বলে, লাঠিসোঁটা বন্দুক তরোয়াল নিয়ে লেগে পরো রামের নামে মুসলমান নিধনে।

প্রকাশ্য মঞ্চে রামদেবের মত গেরুয়া পোষাকধারীদের দিয়ে বলাও- হিন্দু খতরে মে হ্যাঁয়

ব্যাস- সব পাপ ধুয়ে গেলে, আবার পুরাতন সাইকেলের পুনরাবৃত্তি করো


এটাই এন্টায়ার পলিটিক্যাল সায়েন্সের মূল সিলেবাস। নাগপুরের গোয়ালঘর থেকে এখন এই বিষয়ে শুধু ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট কোর্স করানো হয়। ইষ্ট জর্জিয়া থেকে যারা পাশ করে এসেছে, তারাই একমাত্র ডিগ্রি কোর্সের জন্য আবেদন করতে পারে

সাহেব যেহেতু এন্ট্যায়ার পলিটিক্স, ফলত শুরুতেই ED CBI এর মত সহজ অধ্যয় গুলোকে চাড্ডির নেই-পকেটের লোমশ অঞ্চলে রেখে দিয়েছিলেন। কঠিন সাবজেক্ট ছিলো সুপ্রিম কোর্ট নামের অধ্যয়টা, বড় কঠিন ও জটিল সব ইকুয়েশন। কিন্তু সাহেব এক্সট্রা 2ab খুঁজে পেয়ে গেলেন রঞ্জন গগৈ আর চন্দ্রচুড় নামের দুই বরাহ অবতারের স্বরূপ হিসাবে। এক্সট্রা 2ab মানেই এক্সট্রা এনার্জি। বাকিটা অত্যন্ত সহজ ছিলো। এর পর যখন উনি নন বায়োলজিক্যাল হিসাবে আবিষ্কৃত হলেন- সেই মায়াতে ভেসে আসা সুনীল আরোরা ও রাজীব কুমারের মত IAS অফিসারদের সাহেবে তার বগলের তলায় লোমে আশ্রয় দিলেন।

এমন চাটুকার আইনব্যবস্থা আর সরকারি কর্মচারী পেয়ে গেলে, অরাজকতা নিও-নর্মালাইজড হয়ে যায় সমাজে। গোটা গুজরাত জুড়ে মোদী-শাহ একটা আতঙ্কের নাম ২০০২ থেকেই, শুধু যে কংগ্রেস সেই রাজ্য থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে এমনটা নয়, বিজেপির মধ্যেও সকল বিরুদ্ধ মত ভ্যানিস হয়ে গিয়েছিল। হারিন পান্ডিয়া বা বিচারপতি লোয়া কান্ড ঘটিয়ে ‘ডর কা মাহল’ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল, বাকীটা গোপিনাথ মুন্ডের মার্ডার সেই আতঙ্কককে 'হল অফ ফেমে' পৌঁছে দেয়। দীপক মিশ্র ও চন্দ্রচূড়ের বেঞ্চই লোয়া হত্যার তদন্ত খারিজ করে দেয়, পুরো রাজযোটক যুগলবন্দি।

স্বভাবতই সাহেব উপলব্ধি করলেন ‘আমি’ ইশ্বরের প্রতিরূপ। ব্যাস, নোটবন্দি নিয়ে মানুষের হয়রানি হোক বা GST নিয়ে ছোট ব্যবসায়ীদের নাভিশ্বাস, ২ বছর ধরে চলা আন্দোলনে ৭০০ কৃষকের শাহাদাত বা CAA- ছোট বড় কোনো ঘটনাতেই এন্টায়ার পলিটিক্যাল সাইন্স আর ভয়ভীত হলোনা, কারন ক্ষমতার গদিতে অমরত্ব পাওয়ার টোটকা তার করায়ত্ব- ভোটারলিষ্ট ম্যানিপুলেশন তথা ভোট চুরির মহাবিদ্যা। তাতেও শেষ রক্ষা হলোনা, আবকি বার চারশো পার- হাঁক দেওয়া বিশ্বগুরু ২৪০শে আঁটকে যেতেই ক্ষীর খেকো নিতিশ আর চন্দ্রবাবুর বরাত খুলে গেলো।

কথায় আছে ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। ব্যাপার হলো, মাঝেমাঝে সিলেবাসের বাইরের প্রশ্নও চলে আসে। যদিও আমাদের মত নিম্নমানের ছাত্রদের সামনে প্রতিটা প্রশ্নপত্র সিলেবাসের বাইরেই থাকে। অতএব, স্বঘোষিত বিশ্বগুরুকে রোজ দুবেলা পায়ুপথে পরিরম্ভন করতে লাগলো ‘গোমাতার নাথ’ দোলান্ড ভাই। বিশ্বগুরুর প্রাণভোমরা আদানি শেঠ- শেঠের অণ্ডকোষ ‘ট্রু ফ্রেন্ড এ্যাট হোয়াইট হাউজের’ হাতে। সেই রেশ ফুরাবার আগেই ফাঁস হয়ে গেলো এক্সট্রা 2ab এর জটিল অঙ্কের সমাধান- ভোট চুরি।

বাবা সাহেব আম্বেদকর সংবিধানে সাধারণ মানুষকে একটি ভোট দেওয়ার অধিকার দিয়েছিলেন, মোদী তার ভক্তদের চারটি-পাঁচটা ভোট দেওয়ার অধিকার দিয়েছে। ভাবটা এমন- রামের নাম নিয়ে আগামীতে মোদী নিজেই ১৫০ কোটি ভোট একাই দেওয়ার অধিকার দাবী করতে পারে। কারন- প্রাক্তন আইয়াইটিয়ান ও হার্ভার্ডিয়ান জ্ঞানেশ কুমার।

বর্তমান এই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার অমিত শাহ এর উচ্ছিষ্ট ভোগী সারমেয় মাত্র। এর আগে কো-অপারেশন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। তারও আগে কাশ্মীরের ৩৭০ ধারা বাতিল, জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল প্রণয়ন এবং বাতিল-পরবর্তী ব্যবস্থা বাস্তবায়ন, তিন তালাক বিল, এবং অযোধ্যার রাম মন্দির নির্মাণ তত্ত্বাবধানে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠায় এই জ্ঞানেশ কুমার সরকারের OSD হিসাবে প্রতিটা ঘটনাতে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এর লিঁয়াজো হিসাবে। কে জানে ইনি আগামীতে দেশে থাকবেন নাকি তার পূর্বসূরির মত ‘মাল্টা’তে পালিয়ে যাবেন

যাই হোক, বিপদ আসতেই সায়েব উপরের সিলেবাস মতই খেলা শুরু করে দিলেন। কিন্তু-

👉পমেরিয়ান মিডিয়ার ভৌ ভৌ ব্যার্থ হলো, আঁটিসেলের এঁটুলি বাহিনী ছন্নছাড়া।

👉 ED-CBI খাঁচায় বন্দি, ফাঁপা মিথ্যা ভাষণ ‘লোম কি বাত’ আর খাচ্ছেনা, এমনকি ভক্তেরাও চার অক্ষরের সম্বোধন করছে রাঙ্গা-বিল্লাকে।

👉 বায়ুসেনা কর্তার ৪ আগষ্টের ভাষনের ক্লিপ ১০ তারিখে দেখিয়েও বাজার গরম করা যায়নি, তাই তিন মহিলা সেনা আধিকারিককে KBC তে পাঠিয়েছে- মরিয়া চেষ্টা; সেনার বর্মের আড়ালে লুকাবার।

👉 পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও তাদের কয়েকটা রাজনৈতিক জোকারকে দিয়ে পাকিস্তান দেশের ওজনের চেয়ে বড় বড় বুলি-ধমকি দেওয়া করিয়েছে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে, পাবলিক খায়নি।

👉 নেহেরুকে আনা যায়নি।


🔥 অতএব দাঙ্গা বাঁধাও –🔥


হ্যাঁ, উত্তরপ্রদেশের ফতেপুরের একটি মাজার, মানে আব্দুল সামাদ নামের কোনো এক গুণী ব্যক্তির সমাধিস্থল আসলে নাকি শিব/কৃষ্ণ মন্দির বিজেপির হিসাবে। বিজেপির জেলা সভাপতি মাজার ঘেরাও এর ডাক দিলো। যথারীতি প্ল্যানমাফিক RSS এর গ্যাংব্যাং এ জন্মানো বালবাচ্চারা তথা বিশ্বহিন্দু পরিষদ, বজরঙ দল ও আরো এই জাতীয় ‘হিন্দু’ জঙ্গী সংগঠনের উন্মাদেরা- যোগীর পুলিশের নিশ্চিন্ত ঘেরাটোপে উল্লেখিত মাজারে ধ্বংসলীলা চালিয়ে দিলো

কিন্তু, কিন্তু, এতে ধর্মের নামে হাইপ তোলা তো দূরস্থান, বরং জাতিধর্ম নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি সুস্থ মানুষের খিস্তি খেয়ে RSS গর্ভবতী হয়ে গেলো। সবচেয়ে বেশি প্রতিবাদ এসেছে দেশের ‘গণতান্ত্রিক ও সেকুলার’ হিন্দুদের তরফ থেকেই আর এতেই ফেল মেরে গেছে BJP-RSS এই দাঙ্গার রাজনীতি। ভোট চুরি ধরা পরতে, RSS তাদের সকল ধরনের অস্ত্র তুণীর থেকে বের করে ফেলেছে। গোটা বিজেপি দল এখন নির্বাচন কমিশনের স্বঘোষিত উকিল সেজে বসে আছে

এই ‘চোর’ সরকার আগামী ৬ মাস গড়ালে আশ্চর্য হবো। হয়তোবা অকাল লোকসভা নির্বাচনের দেশগোড়ায় দেশ, সৌজন্যে মোদীর ‘ভোট চুরি’। কিন্তু RSS আর গুজ্জু কার্টেল কী এত সহজে উৎখাত হবে? ১৫ই আগষ্ট লালকেল্লা থেকে সারেন্ডার মোদী নতুন গল্প শোনাবে। চক্রান্তের গল্প। ১১ বছর ধরে নিজের ‘মনকি বাত’ শোনানো এ্যান্টায়ার পলেটিক্যাল সায়েন্স এখন জনগণের কথা শোনাতে চাইবে

🟧 কৃষক, শ্রমিক, জেলে, তাঁতি আর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কেঁদে বুক ভাসাবে। এদের আড়ালে নিজেকে আর চুরি লুকাবে লালকেল্লার ভাষনে। জাতির সামনে নাম নেওয়ার মুরোদ নেই ‘মাই ফ্রেন্ড দোলান্দ’ এর, তথাপি আমেরিকান প্রভুকে তুষ্ট রেখে, ভক্তদের বোঝাবার চেষ্টা করবে- ‘ম্যা ঝুঁকেগা নেহি শালা’। ‘ঝোলা উঠাকে চলে যায়েঙ্গে’ গানের আগে নতুন চক্রান্তের গল্প ফাঁদবে।


বলবে- আমেরিকার CIA রাহুল গান্ধীকে ফান্ডিং করে দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী স্টেবল সরকার ফেলে দেওয়ার চক্রান্তে সামিল হয়েছে। বিরোধীদের দেশদ্রোহী প্রমানের অপচেষ্টা করবে। এটাই শেষ হাতিয়ার বিহার ভোটের আগে। ডিসেম্বরের আগে দেশ প্রথম কোনো নন-বায়োলজিক্যাল রাষ্ট্রপতি পেলেও পেতে পারে, জেলযাত্রা থেকে বাঁচার মরিয়া চেষ্টা কিছু তো করবেই। এন্টায়ার পলিটিকাল সায়েন্স বিষয়টাই এমন যে

😃 ইলেকশন কমিশন দুর্দান্ত মুডে আছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের মতই বলছে- “মায়ের দিব্যি কেটে বল, আমার গা ছুঁয়ে বল সত্যি বলছিস”। মা কালীর দিব্যি না কাটলে- আমি তোকে দলে নেব না। “Manufacture of voteএর ভুরি ভুরি প্রমাণ সত্বেও পক্ষাঘাতগ্রস্থ সুপ্রিম কোর্টের এতটুকু মুরোদ বেঁচে নেই যে, একটা সুয়োমোটো মামলা করে ইলেকশন কমিশনের বিরুদ্ধে, জনগণের স্বার্থে। যে আদালতে এতদিন দীপক মিশ্র, রঞ্জন গগৈ এবং চন্দ্রচূড়ের মতো বিজেপির পদলেহনকারী দালালেরা রাজত্ব করে গেছে, সেই বিচারব্যবস্থার বেঁচে থাকা নিয়ে সন্দেহ করা প্রতিটি ভারতবাসীর কর্তব্য

সিটবেল্ট কষে বসে পরুন, মোদী ম্যাজিক আর RSS এর ‘হিন্দুত্ব-দেশপ্রেম’ এর আবেগ ফেরির রাজনীতির খাণ্ডবদাহন পর্ব চলছে। এরপর মৌষলপর্ব, ও মহাপ্রস্থানিকপর্ব এর বদলে জেলগমনপর্ব আসবে ক্রমান্বয়ে। জাষ্ট ক্রনোলজি সামঝিয়ে

পাশাপাশি আমাদের রাজ্যের রাজনৈতিক বেশ্যা তোলামুলকেও দেখবেন কেমন ক্ষ্যাপা কুত্তার মত এর তার পায়ে পরে- পেছন চাঁটা শুরু করবে। ইষ্ট জর্জিয়ার সিলেবাস আরেকদিন লিখব

🟥 আমাদের রাজ্যে স্যাডিস্টিক বাম বাচ্চাগুলো রাহুল গান্ধীকে পাপ্পু ডেকে, খানিকটা শুভঙ্কর সরকারের উপরে ঝাল ঝেড়ে- অর্গাজম নিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ইলেকশন কমিশন নিশ্চুপ, তার কারণ আছে। কমিশন নিজেরা বিজেপির Crime partnerরাজ্য সিপিএম ঠিক কোন কারণে মৌনতা নিয়ে রয়েছে- এ বিষয়ে জানতে গেলে আপনাকে টাইম ট্রাভেল করে ২০২৮ সালে যেতে হবে। এই সামান্যটুকু টাইম তো লাগবে সম্মেলন/প্লেনাম করে- অনেকক্ষণ বিচি চুলকে দুটো লোম ছিঁড়ে- “কী বলা যায়” সেই সিদ্ধান্ত নিতে। বাম্বাচ্চা গুলো তাদের নেতাদের শুধাচ্ছেনা, তাদের প্রশ্ন- রাহুল গান্ধী কেন মমতা আর ভাইপোর বিরুদ্ধে বলছেনা?

সারাদিন সেটিং সেটিং করে কসে ফেনা তুলে ফেলা আবালগুলো, নিজেদের অন্ধত্ব-ব্যর্থতা- অপদার্থতা ঢাকার জন্য এই সেটিং এর ইকোসিস্টেম তৈরি করেছে। আলিমুদ্দিনের পক্ককেশ জঞ্জালগুলো বিগত ছয় দিনে ‘গোপনে হ্যান্ডেল মারা’ ছাড়া কোনো কিচ্ছু করেনি ভোট চুরি ঈশ্যুতে। সুতরাং, বাম্বাচ্চারা যদি নিজেদের নেতাদের প্রতি ক্ষোভ ঘরে নিয়ে গিয়ে বউয়ের সামনে জানায়- না থালায় ভাত জুটবে, না রাতে বিছানায় জায়গ। ফলত রাহুল গান্ধীই এখন এদের ক্ষোভ নিরসনের এর জায়গা

☢️ ও হ্যাঁ, অখিলেশ ফতেপুর নিয়ে মুখ খুললেও, রাহুল গান্ধী এই ঘটনা বিষয়ে নিরবই রয়েছে। যদিও পথ কুকুর নিয়ে ভিডিও বা টুইট করতে ভোলেননি। তাকে আগামীতে দিল্লির মসনদ পেতে হবে, কী লাভ বেকার RSS কে চটিয়ে! আসলে অপদার্থ শয়তান বাপের জিন যে কথা বলবেই, বাবরি মসজিদের তালা খুলে আজকের দিনের ‘উগ্র হিন্দুত্ব রাজনীতির’ আহ্বান যে তার হাতেই হয়েছিল। তাই রাহুলকে মসিহা ভাবার কোনো কারন নেই মুসলমানের। গু, তবে শুকনো- জুতোয় লেগে ঘরে ঢুকনেনা, এটুকুই স্বস্তি

১৯৪৭ঃ দেশভাগ নাকি দেশ জুড়ে ছিলো?

 


কারা নাগরিক আর কারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, আজকের দিনে এটাই দেশজুড়ে মুখ্য আলোচনার বিষয়। চলুন একটু অন্যভাবে ভাবি আজকে এই স্বাধীনতার দিনে, একটু অন্য আঙ্গিকে।

গতকাল ছিল ১৪ আগস্ট, ৭৯ তম দেশভাগের দিন।

আমাদেরকে এটাই শেখানো হয়েছিল। হয়েছিল, কারন এতে একটা কায়েমী শ্রেনীর লাভ ছিল, আর অবশ্যই সেটা জাতীয় কংগ্রেসের। আজকের বিজেপির বাবা ঠাকুরদারা যেহেতু ইংরেজদের দালালি করত, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরিয়ে দেওয়াটা তৎকালীন ভক্তদের রুজি রোজগার ছিল- তাই তারা কংগ্রেসের বিরোধিতা করার পর্যায়েই ছিলোনা। স্বভাবতই নেহেরু-প্যাটেলের প্রোপ্যাগান্ডা মেশিনারি সমস্ত ক্রেডিট নিয়েছিল স্বাধীনতার।

‘সেকুলার এবং মুসলিম দুটো আলাদা আলাদা রাষ্ট্রে ‘দেশভাগের’ প্রায় সমস্ত দায় তুলে দেওয়া হয়েছিল ব্রিটিশদের ঘাড়ে; সামান্য কিছুটা দায় জিন্নার ফেজ টুপিতে আর কিছুটা মুচলেকা বীর- সাভারকরের চাড্ডিতে ভরে দিয়েছিল তৎকালীন কংগ্রেসের প্রোপাগান্ডা মেশিনারি।

আসলেও এই ধারণা কি সঠিক? আজকে প্রায় ৮০ বছর পর কী আমরা একটু অন্য ভাবে ভাবতে পারিনা! দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত ইংরেজ যদি আর ৫টা বছর টেনে নিয়ে যেত পারত তাদের শাসনকাল, ইতিহাস অনুযায়ী হয়ত গান্ধী, প্যাটেল বা জিন্না- কেউই আর বেঁচে থাকতনা। ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো। হতেই পারে আমার ভাবনা ভুল, তবুও একটু ব্যতিক্রমী ভাবলে ক্ষতিটা কী!

আমাদেরকে শেখানো ইতিহাস- স্বাধীনতার মত এতো বিশাল মাপের একটা ঘটনাকে অতি সরলীকরণ করে একটি সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিকোণে বেঁধে দেয় না কি? কংগ্রেস স্বাধীনতার ক্রেডিট দাবী করে, RSS-BJP মুসলমান বিতারণ ও দেশে হিন্দুত্ব শাসন প্রতিষ্ঠার কৃতিত্বের দাবী করে। পাশাপাশি নেহেরু ও জিন্নাকে এই অতিভক্তির কারবারি নাগপুরীরা দেশভাগের জন্য দায়ি করে। কিন্তু মগজের দৃষ্টি দিয়ে যদি দেখা যায়, প্রশ্ন উঠবেই- সত্যিই কি দেশ ভাগ হয়েছিল?

নিচের ছবিতে দেওয়া মানচিত্রের প্রতি এবার লক্ষ্য করুন, স্বাধীনতা পুর্ব ১৯৪৭ সালের ভারত উপমহাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্র এটা। ছোট বড় মিলিয়ে ৫৭০ টিরও বেশি রাজনৈতিক অস্তিত্ব ছিলো তৎকালীন সময়ে। আপনি এককথায় দের দেশীয় রাজ্য বলতে পারেন, তবে এরা আসলে ছিল বংশানুক্রমিক নেটিভ নবাব, রাজা, জমিদার, জায়গীরদার, মনসবদার, চৌধুরি, তালুকদার এমন নানান ব্যাক্তিবর্গের নিজশ্ব ক্ষমতার সমষ্টি, যাদের পরিষ্কার নিজশ্ব সীমানা ছিল। যেখানে নিজ কর ব্যবস্থা ছিল এই নেটিভ ক্ষমতাবানদের হাতে।

দিল্লির সুলতান হোক বা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি হয়ে রানীর শাসন- সরকারকে সামান্য খাজনা তুলে দেওয়ায় পরিবর্তে তারা যথেচ্চাচারের ক্ষমতা পেতো মোটামুটিভাবে বাত্সরিক আয়ের এক দশমাংশ তৎকালীন ‘সেন্ট্রাল GST’ তথা খালিসাতে পাঠাতে হতো। নিজামত, দেওয়ান, কানুনগো, এই পদবীধারি অধিকারীরা সেন্ট্রালের সাথে নেটিভদের মাঝে যোগাযোগকারী ‘সেন্ট্রালের বেতনভুক’ কর্মচারী ছিল। এরা বিভিন্ন এলাকায় বদলিও হতেন নেটিভ জমিদারেরা কর ফাঁকি দেবার জন্য ধর্মের নামে নিষ্কর জমি’ নামের এক ধরনের জমির চরিত্র তৈরি করেছিল- মদদইমাশ, লাখেরাজ, খয়রাত, আয়মা, পীরোত্তর, দেবোত্তর, মহাত্রাণ, চাকরান, পাইকান ইত্যাদি হিসেবেআলাদা আলাদা স্টেটে আলাদা আলাদা নাম থাকলেও, সুলতানি আমল থেকে ব্রিটিশ শাসন অবধি কমবেশী একই ব্যবস্থা ছিল। মোদ্দাকথা ছোট ছোট রাজ্য গুলো বহাল তবিয়তেই ছিল নিজশ্ব পরিচয়ে।   

১৯৪৭ সালে ৫৬২টি দেশীয় রাজ্য ভারতীয় কনফেডারেশনে যোগদানের জন্য সম্মতি জানিয়েছিল; হায়দ্রাবাদ, জুনাগড়, ভোপাল ও কাশ্মীর- এরা ১৫ই আগষ্ট কিন্তু ভারতে যোগ দেয়নিকারন একে অপরের থেকে স্বাধীন শক্তি ছিল। নিজশ্ব স্বাধীন আইন-কানুন ও নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ছিল। শুদধুমাত্র বৃহত্তর প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র এবং সন্ধি জাতীয় আলাপ আলোচনার ক্ষেত্রে তারা ব্রিটিশদের উপরে নির্ভরশীল ছিলো। ব্রিটিশরাও লেলিয়ে দিতো একে অন্যের বিরুদ্ধে।

 

তাহলে কী দাঁড়ালো! ১৪ আগস্ট দেশ ভাগ হয়েছিলো নাকি এতগুলি বিভাজিত রাজ্যের একত্রীকর হয়েছিল।

মিউনিটিনির পর থেকে পরবরর্তী ৯০ বছর ধরে ব্রিটিশদের দ্বারা সরাসরি শাসিত অঞ্চলগুলি, সকলে ১৯৪৭ এর নতুন একত্রীকরণের অংশীদার হয়নিদুটো আলাদা সংস্কৃতি এক শাসনের অধীনে বসবাস করতে অস্বীকার করেছিল। ভারত উপমহাদেশের একটা শ্রেনী ব্রিটিশদের পুর্বে ভারতে আসা মুঘলদের বা এককথায় ‘মুসলমানদের’ অনুপ্রবেশকারী বলে দাগিয়ে দিয়ে, তাদের বংশধরদের সাথে কেন্দ্রীয় ক্ষমতা বন্টন করে ‘এক দেশ’ পরিচয়ের অধীনে থাকতে অস্বীকার করেছিল।

তৎকালীন কিছু মুসলমান এমন ছিল যারা নবাবী যুগের আধিপত্যতায় আচ্ছন্ন ছিল। এই ‘অভিজাত’ বিভোরতা তাদের উন্নাসিক ও ঔদ্ধত্ব বানাবার পাশাপাশি ও হিন্দুদের অযোগ্য, তুচ্ছ বা নিচু জাত মনে করত। তারা জানত ভারত উপমহাদেশে ‘মুসলমানেরা’ সংখ্যালঘু, তাই একটা মাত্র ঐক্যবদ্ধ দেশ গঠিত হলে ‘তাদের’ রাজনৈতিক ক্ষমতা সীমিত হয়ে হ্রাস পাবে। স্বভাবতই এই ‘অভিজাত’ নবাবী মেজাজের মুসলমান ক্ষমতাবান শ্রেনী- হিন্দুদের সাথে থাকতে অস্বীকার করল। উভয় জাতের অভিজাতদের অহং- ‘গরীবদের’ ঠেলে দিলো স্থায়ী রক্তক্ষয়ী ধর্মীয় জাতি দাঙ্গার যুদ্ধে।

তারা এটা ভুলে গেল- আসল ভারতের অধিবাসী সাঁওতাল, গন্ড, দ্রাবিড়, ভীল, কোল, মুন্ডা, ভূমিজ প্রমুখেরা। মুসলমানদের আগে তারাও ভারতের মূলনিবাসীদের আক্রমণ করেছিল, তারাও আসলে অনুপ্রবেশকারীই। তারা সকলেই হিট্টি, সিথিয়ান, তুর্কি শক, হুন, পারস্য ও গ্রীকদের বংশজ। যেহেতু যুদ্ধে মুঘলদের সাথে পেরে উঠেনি পরবর্তী ১০০০ বছর ধরে, তাই ব্রিটিশেরা চলে যাওয়ার গন্ধ পেতেই– বিন কাশিম (৭১২ খ্রীষ্টাব্দ থেকে ১৭৫৭ খ্রীষ্টাব্দ) থেকে শেষ মুঘলের বংশধর ও তাদের অনুগামীদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক করতে উঠে পরে লাগল; ১০০০ বছরের ব্যর্থতার প্রতিশোধ নিতে।

২০২৫ সালে এসে যে সব জাতীয়তাবাদী স্লোগান শুনতে পায় আমরা, ফেসবুক, টুইটার বা হোয়াটসঅ্যাপে যে বিদ্বেষ গুলোড়ি, তার সূচনা ১২০০ বছর আগে কোনো এক অতীতকালের গর্ভে হয়েছিল, যা আজও বহমান। সত্যটা হল মুসলমান হোক বা হিট্টি, সিথিয়ান, তুর্কি শক, হুন, পারস্য ও গ্রীকদের বংশজ- যারা ‘পিওর ব্লাড’ ছিলো, আজকের ১৪৪ কোটি সংখ্যার নিরিখে তারা গননাতেও আসেনা। এদের বীর্যজাত সন্তানই হোক বা ধর্মান্তরিত হওয়া কোনও উত্তরপুরুষ- সবাইকে নিয়েই তো ‘আমরা’। ‘তাদের’ পৌরুষে জন্মানো আমরা, আমাদের পূর্বপুরুষরা, আমাদের রক্ত, আমাদের জিন- সব এই দেশের, এই মাটিরই বাসিন্দা ছিলেন। সুতরাং, ভাগ যদি হয়ে থাকে সেটা বিশ্বাসের ভাগ হয়েছে, মাটির নয়।

১৯৪৭ সালে বহু ভাষাভাষী, বহু জাতীয় কণ্ঠস্বর, ভিন্ন ভিন্ন অভ্যাসের জাতির অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ একত্রীত হয়েছিল। বিপুল সামাজিক-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশ ভূ-রাজনৈতিক ভাবে, তার স্বাধীন ‘নেটিভ স্টেট’ গুলোকে সম্মিলিত করে দুটো আলাদা আলদা মেরুতে, আলাদা শিবিরে যোগ করেছিল, ভাগ করেনি। সুতরাং বিভাজন শব্দটি আমার মতে স্বাধীনতা দিবসের সাথে যায়না, এটা একটা দূরদর্শী প্রোপাগ্যান্ডার অংশ মাত্র।

যদি প্রশ্ন করেন এর জন্য দায়ী কে! এটা কোনো এক বাক্যের জবাব হতে পারেনা, সেই দাবি করাও অন্যায়। কেউ কেউ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল, আবার কেউ দ্বিজাতি তত্ত্ব নিয়ে হাজির হয়েছিল। আসলে সকলেই নিজের তরফ থেকে সঠিক ছিল, প্রত্যেকের কাছে নিজশ্ব ক্ষুরধার যুক্তিও ছিলো। কিন্তু সবচেয়ে বড় ছিল, আবার ক্ষমতা হারাবার ভয়। এটা কোনো ধর্ম বা জাতিকে সুরক্ষিত করার উদ্দেশ্যে ছিলোনা।

একদল নেহেরুকে দোষ দেয় তো অন্য দল জিন্নাহকে কেউ সাভারকরের দলকে। সত্যতা বিচার করলে, তৎকালীন ভারতের এই রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের- দেশভাগের মত এতবড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল? যেকোনো সামাজিক আন্দোলন শুরু হয়, একসময় এর গতি চুড়াতে পৌঁছায়, ক্রমশ বৃদ্ধি হ্রাস পায়, অবশেষে ক্লান্ত হয়ে শেষ হয়। আন্দোলন সিদ্ধান্ত নেয়না, বড়জোর প্রভাবিত করে মাত্র, গতিপথ নির্ধারণ করেনা পাকিস্তানকে দুই টুকরো তাদের নেতারা করেনি, মুজিব আন্দোলন করেছিল মাত্র। আমাদের রাষ্ট্রপ্রধানের ইচ্ছায়, ভারতের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে - ইন্দিরা গান্ধী তা করিয়েছিলেন।

স্বাধীন ভারতের তেলেঙ্গানা, ঝাড়খণ্ড গঠিত হয়েছিল। ক্ষমতাসীন সরকার যখন চেয়েছিল তখনই এগুলি গঠিত হয়েছিল। নতুবা ছত্তিশগড়ের জন্য কে আন্দোলন করেছিল? কাশ্মীরকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার জন্য কে আন্দোলন করেছিল? খালিস্তান বা গোর্খাল্যান্ডের আন্দোলন আজ অবধি কোনো ফলাফল পেয়েছে? আন্দোলনের ফলাফলের চেয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত সবসময় বেশি গুরুত্ব পেয়ে থাকে। সেদিনও ব্রিটিশ সরকারের সিদ্ধান্তই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আমাদের লোভ লালসা, অহং, অভিজাত আর প্রতিশোধ মানসিকতা, অন্য পক্ষকে দ্বিতীয় শ্রেনির নাগরিক বানিয়ে রাখার পাশবিক তৃপ্তিকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। পুর্বপুরুষের সেই ত্রুটি-বিচ্যুতির সুযোগ নিয়ে দুটি দেশ তৈরি হয়েছিল, যার কোনো দায় আমাদের আজকের প্রজন্মের নয়। আমরা শুধু ঘৃনা আর ক্ষোভ বয়ে বয়ে যাচ্ছি রক্তের নদী পথে, কেন- তার কারন কেউ জানিনা, খুঁজিনা

একটা রাষ্ট্রের সংজ্ঞা কি? জয় শ্রী রাম ধ্বনি, বন্দেমাতরম, সোনার বাংলা বা পাক সরজমিন বললেই কী রাষ্ট্রের পরিচয় দেওয়া হয়ে যায়? সংজ্ঞা নির্ভর করে সেই রাষ্ট্রের ভাষা, সংস্কৃতি, খাদ্য, ধর্মাচারন ও কৃষ্টি দিয়ে। একটা স্লোগান কখনও একটা জাতিকে সংজ্ঞায়িত করেনা। স্বাধীনতা কোনো শারীরিক বস্তু নয়, এটা একটা দর্শন, মানসিক চিন্তাভাবনা।

স্বাধীনতা আমাদের বৈচিত্রে, এই মাটিতে বসবাসকারী প্রতিটি ব্যক্তির মর্যাদা, একে অন্যের খুশিতে অংশগ্রহণে, দুঃখে কাঁধ দেওয়াতে, সংস্কৃতির মেলবন্ধনে এবং প্রতিটা ভাষাকে সমানভাবে মূল্য দেওয়াতে, তবে ঐক্যের অনুভূতি জাগবে। ক্ষমাসুলভ ভালোবাসা দিয়ে ছোট ছোট ত্রুটি-বিচ্যুতি পূরণ করতে না পারলে, ক্ষমতালোভী স্বার্থান্বেষীদের আবার সুযোগ দেওয়া হবে- ১৯৪৭ সালে যে সংযুক্তি হয়েছিল, তার বিভাজনে

উপমহাদেশে ‘দেশ-যোগ’ ভারতের জন্য যন্ত্রণার কারন হয়েছিল ১৯৪৭ সালে, ‘দেশভাগ যন্ত্রণার কারণ হয়েছিল ১৯৭১ সালেযোগ বা ভাগ, কোনটাই মানুষের জন্য সুখ বয়ে আনেনি। আজকের দিনেও আমরা রুটিরুজির চিন্তার চেয়ে বড় আতঙ্কে থাকি- আমাদের রাষ্ট্রগত পরিচয় কি? সংখ্যাগুরু সবসময় অন্যপক্ষকে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক বানাবার সামান্য সুযোগ ছাড়েনা। ফলে মানুষ ছিন্নমূল হয়ে যায়, অবৈধ হয়ে যায় নিজের অজান্তে, নিজভূমে, নিজের রক্তের কাছে।

মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫

দুর্গাপুজোতে ১১০০০০ টাকা অনুদান



গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে যেদিন ইমাম ভাতার ঘোষণা হয়েছিল, সেইদিনই এই দুই হাজার কোটির মাতাল-মচ্ছবের ভিত্তি নিহিত ছিল। আগামী প্রজন্ম পরিতাপ করার ভাষা খুঁজে পাবেনা। আমাদের উত্তর প্রজন্ম যদি আমাদের খ-য়ের ছেলে বলে গালিগালাজ দেয়, আমাদের ছবির সামনে জুতোর মালা ঝুলিয়ে রাখে, তাহলেও আমাদের প্রজন্মের এই পাপ, এই অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত হবে না।

DA দেওয়ার পয়সা নেই, নতুন সরকারি চাকরি দেয়ার পয়সা নেই, শিক্ষক নিয়োগের মুরোদ নেই, শিল্প কলকারখানা স্থাপনের দায় নেই। আমাদের করের টাকায় মোচ্ছব করার জন্য টাকার অভাব নেই। এটাই তোলামুল সরকার, এটাই মমতা ব্যানার্জির উন্নয়ন।
টাটাগোষ্ঠী সিঙ্গুরের জন্য পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে চেয়েছিল তৎকালীন ১৪০০ কোটি টাকা। সেই সব মায়ের ভোগে তুলে দিয়ে, সিঙ্গুরের জমি এখন বনবাঁদারে পরিনত হয়েছে। গোটা সিঙ্গুর পর্বে কে লাভবান হয়েছে? রাজ্য? সিঙ্গুরের জনগন? কোনো শিল্পগোষ্ঠী? নাহ, কেউ হয়নি, মমতা ব্যানার্জী আর তার তোলামূল দলের চোরেরা ছাড়া।
শিল্পহীন বাংলার ছেলেরা পরিযায়ী হয়ে অন্য রাজ্যে চলে গেছে। রাজ্যে কর্মসংস্থান নেই, যদি তোলামূল করো- চুরির ভাগ পাবে। চুরিই একমাত্র শিল্প। একটা সময় ছিল যখন অর্ধেক ভারতবর্ষ থেকে মানুষ কলকাতায় তথা বাংলায় আসত কাজের সন্ধানে।
আজকের দিনে বাংলা থেকে কত শ্রমিক অন্য রাজ্যে বা অন্য দেশে রয়েছে পরিযায়ী হয়ে, তার কোন তথ্য সরকারের কাছে নেই। তোলা আদায়ের জন্য কেষ্টর মত তোলা-শিল্পীরা ফিরেফিরে আসবে নানা রূপে।
টাটাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে, সেই ক্ষতিপূরণও আমাদের পকেট থেকেই গেছে, ৭৬৬ কোটি টাকা। যদিও টাটা এখনও সুদ সহ পুরো ১৪০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণই চায়। আগামিতে দিতেও হবে, তার জন্য মামলা চলছে সর্বোচ্চ আদালতে।
আমার আপনার পরিশ্রমের টাকা, ঘামের টাকা দিয়ে লুম্পেন শ্রেণীকে বিলানোর যে মচ্ছব চলছে মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বে, সেটা লুটে খাওয়া সমাজবিরোধী এবং ভোটের দিন বুথ দখলের কারিগরদের প্রতি সামান্য উৎকোচ এই ২০০০ কোটি, পাশাপাশি স্বীকৃতিও বটে- তোমরা সততা ব্রিগেডের সভ্য।
RSS প্রকাশ্যে উগ্রহিন্দুত্বের রাজনীতি করে। মমতা ব্যানার্জি তার থেকেও ভয়ানক, দুধেল গাইদের মসিহা সেজে RSS এর প্রতিটা এ্যাজেন্ডাকে বাস্তবায়ন করেছে ও করে চলেছে।
রাজ্যে বিজেপি বলে কোনো সংগঠন নেই, যা আছে তা দল তোলামূলের গোষ্ঠীকোন্দলের দরুন বিক্ষুব্ধ তোলামূল আর RSS ও তাদের প্রত্যক্ষ শাখা গুলো। মমতা ব্যানার্জী RSS এর সবচেয়ে বড় প্রচারক। নেই বিজেপির জুজু দেখিয়ে দুধেল গাইদের দুয়ে নিচ্ছে ভোটের বাক্সে। ক্ষমতার চেয়ারে বসে নাগপুরের স্বপ্নপূরণ করছে।
আমরআ যদি চোখ বন্ধ রেখে মমতাকে বিশ্বাস করে ভেবে নিই- জোড়াফুলে ভোট না দিলে বিজেপি চলে আসবে- সেক্ষেত্রে নতুন করে আমাকে আর কেউ চুতিয়া বা গান্ডু বানাতে পারবে না, কারণ অলরেডি আমি চুতিয়া-শ্রী হয়েই রয়েছি তার অনুপ্রেরণায়।
প্রতিটি সুস্থ এবং স্বাভাবিক মানুষের উচিত মমতা ব্যানার্জিকে অবিশ্বাস করা। প্রতিটি মুসলমানের উচিত মমতা ব্যানার্জীর গোটা মুখ্যমন্ত্রীত্ব কালকে পর্যালোচনা করা। বিজেপি পরিচালিত কোন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও এই পর্যায়ের RSS তোষণ করেনি।
মাথায় হিজাবি ঘোমটা দিয়ে দুধেল গাইকে মানব-অস্ত্র বানাচ্ছে, ফলত মারছে মুসলমান, মরছে মুসলমান। যে মরল তার পরিবারও শেষ, যে খুন করলে সে জেলে গিয়ে তার পরিবারকেও শেষ করলো।
কোনো উচ্চবর্ণের হিন্দু তৃণমূল নেতা বা তাদের ছেলেপুলেকে কোনোদিন বোমা মারতে দেখেছেন? তারা নেতা হয়, মুসলমান আর নিম্নবর্গের হিন্দুদের শাসন করে। বোমা বাঁধে মুসলমান আর সিডিউল কাস্ট, মরেও এরাই।
আপনারা দুধের গাই সেজে সামান্য কিছু এটোকাটা খেয়ে নিজের পরিবারকে ভাসিয়ে দিচ্ছেন, রাজ্যকে ডুবিয়ে দিচ্ছেন। লজ্জা লাগে না আপনাদের আয়নাতে মুখ দেখতে, নিজেকে মুসলমান বলতে লজ্জা লাগে না? ঘেন্না হয় না সন্তানের দিকে তাকাতে?
মগজ অনেকের হাঁটুতে থাকে, আপনারা যারা দুধেল গাই রয়েছেন, আপনাদের মগজ বিচিতে। কমোডে ফ্ল্যাশ করা বীর্যের সুরুয়া খেয়ে শুয়োরের খামারে জন্ম নিলে তবে এই জেনেটিক্যাল পরিবর্তন ঘটে, মাথা থেকে বিচিতে মগজ চালান হয়। প্রতিবার মুঠো মারার সাথে সাথে ঘিলু তথা বীর্য নিঃসরণ হয়। নতুন দুধেল গাই এর জন্ম হয়, সিম্পল ও কিউট প্রসেস।
আপনার ঈমান যদি থাকে- নিজেকে প্রশ্ন করুন, যদি আপনি চোর না হন, চুরির টাকার বখরা না পেয়ে থাকেন, তাহলে আপনি বা আপনার পরিবার, আপনার সম্প্রদায় কি পেয়েছে এই তোলামূলের চোর সাম্রাজ্যে?
ভাবুন, ভাবা প্রাক্টিস করুন।

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...