শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫

ভাইপো ইন, পিসি আউট


 খুব ভুল না হলে মমতা ব্যানার্জী তার শেষ নির্বাচন লড়ে ফেলেছেন।

একটা ট্রেন্ড খেয়াল করছেন কি, SIR ও এই সংক্রান্ত যাবতীয় খবরের শিরোনামে তৃনমূল দলের হয়ে কিন্তু মমতা ব্যানার্জী সেই অর্থে আর নেই, গায়েব হয়ে গেছে। উনি কেবল পুজো উদ্বোধন করছেন। আনন্দবাজার, এই সময়, সংবাদ প্রতিদিন, আজকাল, বর্তমান সর্বত্র শুধুই ভাইপো ব্যানার্জি। হাগো বাংলা বা খবর ৩৬৫ কে হিসাবে ধরলামনা, এগুলো বাড়ির ছোট বাচ্চাকে কাগজে বসিয়ে হাগাবার কাজেই লাগে, তোলামুলের সরকার থেকে এরা রসদ পায় বলে টিকে আছে, নাহলে এদের গণেশ কবেই উলটে যেতো। কোলকাতার টিভি চ্যানেলগুলো, ইংরেজি প্রিন্ট মিডিয়া, ইউটিউব চ্যানেল, তথাকথিত স্বাধীন মিডিয়া, সোস্যাল মিডিয়ার ফেসবুক, টুইটার, রেডিও- এমন প্রতিটি গণমাধ্যমে শুধুই ভাইপো ব্যানার্জি। 

নিত্যদিন ভাট বকা কাঁথির মেজো খোকা অস্তিত্বের সংকটে, আরেক বাতেলা বাজ দিলীপ ঘোষের গণেশ উল্টেছে। দেবাংশু নিজের দলেই খোরাক, কুনালের খিস্তি হজম করা ছাড়া কাজ নেই, বর্তমান পদ্মপাল বাজারে হিট হয়নি। টিকে থাকা সুকান্ত, শমীক কিংবা শিয়ালদার ওয়েটিং রুম থেকে মুক্তি পাওয়া জগন্নাথ অথবা দিশেহারা অসীম বা সুব্রত বা উন্মোচিত হয়ে যাওয়া পলাশ কিম্বা দীপ্সিতা সবাইকে ছাপিয়ে গিয়ে, SIR রঙ্গমঞ্চে মিডিয়া বৃত্তে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা গত চার দশক ধরে, রাজ্যের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিত্ব মমতা ব্যানার্জিকে কয়েক ক্রোশ পেছনে ঠুসে দিয়ে, ব্যানার্জি মিডিয়ার চটিচাটা আলোকে উদ্ভাসিত ভাইপোর নতুন অভিষেক।


ভাইপো ইন, পিসি আউট। 


চুম্বকে এটাই বঙ্গীয় রাজনীতির তোলামুলি দর্পন। আপনি বলতেই পারেন, ইন আর আউটের খেলা তো তোলামুলের আভ্যন্তরীন বিষয়। আজ্ঞে না, যেহেতু এই দলটাই আজ অবধি ক্ষমতায় ও আগামী বিধানসভা নির্বাচনের ফল বের হওয়া অবধি এরাই থাকবে, তাই ততদিন এটা- আমার আপনার সহ প্রতিটা বাংলাবাসীর জন্য গুরুত্ব দিয়ে ভাবার মত আখ্যান। আপনি মিডিয়ার বাইনারি দেখুন, BLO কে ম্যান মার্কিং করুন গল্প ফাঁদা থেকে পানিহাটিতে আত্মহত্যা করা বৃদ্ধের বাড়ি যাওয়া- সবেতেই ভাইপো ব্যানার্জি। তৃনমূল দলের নতুন যে রাজ্যকমিটি তৈরি হয়েছে তাতেও চিত্র খুব পরিষ্কার, কয়েকজন চটিপন্থী সেখানে রয়ে গেলেও, ফাইনাল রেসে তারা ছিটকে যাবেই। 


কিছুদিন আগেই দীপাবলির সময় বাংলার প্রায় সকল ‘চাঁটা’ মিডিয়াকে ডেকেছিলো ভাইপো, ধমকাতে চমকাতে নাকি ডোল উৎকোচ দিতে সেটা তারাই বদলতে পারবে, যারা উপস্থিত ছিলো। কিন্তু সেখানে কী হয়েছে না জানলেও একটা বিষয় পরিষ্কার, চাঁটার দলকে ‘চোষা’তে মাইগ্রেট করার পাঠ পড়ানো হয়েছিলো। বরুণ সেনগুপ্ত, সুমন চট্টোপাধ্যায়, হলধর পটল বা রন্তিদেব অথবা হাল আমলের পল্টুরাম অশোক দাশগুপ্ত কিংবা ২৪ ঘন্টা অথবা কেস খেয়ে ফেরত আসা ঘন্টাখানেক, 'যা গেছে তা গেছে' এর দৈববানীর টাকায় তৈরি অগুন্তি বাংলা চ্যানেল কিংবা তাদের ডালপালা চ্যানেলগুলো দীর্ঘ তিন দশকের 'রোদ জল বর্ষা মমতায় ভরসা', বন্দনা ভুলে, নাঙ এর নতুন বাবু ধরার প্রজেক্ট লঞ্চ করে, তখন ব্যাপারটা সিরিয়াসলি চিন্তাভাবনা করতেই হয়। স্বভাবতই, মিডিয়ার সৌজন্যে পাব্লিককে আপাতত উদয়াস্ত ভাইপোকেই হজম করতে হবে নতুন সরকার আসা অবধি। 

আসলে প্রত্যেকটা শুরুর একটা শুরু থাকে, একটু পিছন ফিরে দেখি। আপনি যদি সিঙ্গুর গিয়ে থাকেন, তাহলে সেখানে যে দিকটায় টাটা জমি অধিগ্রহণ করেছিল, ঠিক তার উল্টোদিকে একটা বড় ফ্যাক্টরি আছে যেটার নাম হিমাদ্রি কেমিক্যাল। বর্তমানে হিমাদ্রি কেমিক্যালসের কমান্ডিং ডিরেক্টর (CMD) অনুরাগ চৌধুরী। 'এই সময়' নামের পত্রিকার মালিকানা এখন সঞ্জয় বসু এবং অনুরাগ চৌধুরীর মালিকানাধীন 'টাইডিংস মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশনস প্রাইভেট লিমিটেডের’, পূর্বের মালিক: বেনেট কোলম্যান অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড (টাইমস গ্রুপ)। সঞ্জয় বসু কে, তার টাকার উৎস কী?  সঞ্জয় বসু ভাইপোর আইনজীবী, আর পরিচয় দরকার আছে কি? সবার অলক্ষে ২৪ ঘন্টা কিংবা আজকাল অথবা এনডিটিভি অস্তিত্ব বিপন্ন হবার পরিস্থিতি তৈরি হতেই বশ্যতা স্বীকার করেছিল।

২০১১ তে তোলামুল সরকার আসার পর, শুরু থেকেই পুলিশ-প্রশাসন দপ্তরটা মূলত মুকুল রায় দেখতো, মমতার বিশ্বস্ত হনুমান হয়ে। এরপর ঢালাও চুরিচামারিতে মন দিয়ে মুকুলের বিপুল হারামের অর্থ কামায় হয়, সেই বেহিসেবি বিপুল টাকা ও প্রফেশনাল মাতাল ছেলে হাঁপনের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে ‘আনন্দ বাজারের চাণক্য’ মুকুলের বিজেপির জামা পড়ে নেওয়া। আরো পরে মুকুল পাগলের অভিনয়ে ঢুকে যায়। ফলত, রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন চালকের আসন খালি হয়ে যায় ২০১৭ এর নভেম্বররের শুরুতে। এর পর কিছুদিন মমতা নিজেই সামলায় দপ্তরটা। মজা হলো এই সময় কাঁথির মেজো খোকা এই দপ্তর চেয়ে বসে ও অশান্তির মুষল পর্ব শুরু হয়। ততদিনে পিসির স্নেহ ও ছত্রছায়ায় সোনা পাচার, বালি, কয়লা, গরু, কাটমানি, চাকরি ইত্যাদি, এমন নানান ধরণের চুরি শিল্পকলাতে উস্তাদ হয়ে উঠেছে দুই খোকাই। দুজনেই তোলামুলী চৌর্য সাম্রাজ্যের পরবর্তী রাজাধিরাজ হওয়ার দৌড়ে সামিল। ক্ষমতার অলিন্দে বড় হওয়া ভাইপো ততদিনে বুঝে গেছে ক্ষমতার উৎস বন্দুকের নলে, অতএব সে কেন ছাড়বে পুলিশ প্রশাসনের ক্ষমতা, তারই তো উত্তরাধিকার! ব্যাস আর কি, মেজো খোকা বেঁকে বসে, অবশেষে খাকি হাফ প্যান্টুলুনটা প্রকাশ্যে পরে নিয়ে ২০২০ এর ডিসেম্বরে গোয়ালঘরে আশ্রয় নিয়ে নেয়। 

বর্তমানে বাংলা জুড়ে বিভিন্ন স্থানে একটা বিষয় ঘটছে, অনেক পঞ্চায়েত/পুরসভার সদস্য নিজে থেকেই পদত্যাগ করছে। সম্প্রতি হাওড়া পুরসভাতেও ২ জন প্রশাসক বিনা কারনে পদত্যাগ করেছে। এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। সম্প্রতি গুজরাতে সমস্ত মন্ত্রী পদত্যাগ করেছিলো, এরপর নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হয় কোনো ধরণের ট্যাঁ ফুঁ ছাড়াই। এটা কোনো ‘গুজরাত মডেল’ নয়, এটা বিশুদ্ধ RSS মডেল।

২০২১ বিধানসভা ভোট পরবর্তী গোটা বাংলা জুড়ে তোলামুলের যত এজেন্ট রয়েছে বিভিন্ন সরকারী ও রাজনৈতিক পদে, তারা পাঁচ বছর ধরে যে যেমন ভাবে পেরেছে চুরি, রাহাজানি, বাটপারি, চিটফান্ড ও কাটমানি তুলেছে ভাইপো পরিচালিত প্রশাসনের নিশ্চিন্ত ঘেরাটোপে। এখন নতুন ভোট আগত প্রায়, হালখাতা করতে হবে, অতএব আগে বয়েকা ভাগা পরিশোধ করে শান্তিনিকেতনে পাঠাও। দীর্ঘদিন পঞ্চায়েতে টাকার খরা চলছে, তৃনমূল স্তরে টাকার উৎস শুকিয়ে গেছে। পঞ্চায়েতে পঞ্চায়েতে বিপুল সরকারী দেনা স্থানীয় ঠিকেদারদের কাছে, ইমারতি দ্রব্যের ব্যবসায়ীরা আর কেউ ধারে মাল দিচ্ছে না পঞ্চায়েত পুরসভার কাজে। ‘উন্নয়ন’ এর কাজ বন্ধ হয়ে আছে, অথচ শিয়রে ভোট- টাকা আসবে কোত্থেকে! যে টাকা দিয়ে ভোটের বাজারে মাতাল, চোর ও গুন্ডা বাহিনীকে ফুল ফোর্সে কাজে লাগাবে, মোচ্ছব হবে। অতএব, শুধু বকেয়া পরিশোধ করলেই হবেনা- এডভান্সও দাও, কোথায় পাবে জানিনা। অগত্যা পদত্যাগ।

এটাই হচ্ছে ভাইপো পন্থী তোলামুল দলের নতুন সংবিধান। চটিপন্থী পুরাতন তোলামুলকে টিকে থাকতে গেলে, পরে চুরিচামারি করে তার বখরা দিলে হবেনা, শুরুতে ‘ডেভলপমেন্ট ফিজ’ জমা দিলে, তবেই ভাইপোর লিষ্টে আসা যাবে; তবে পঞ্চায়েত প্রধান, পুরসভার মেয়র, সভাধিপতি, বিধায়ক, সাংসদ বা ওই জাতীয় ‘কামাই ওয়ালা’ পদের যোগ্য হিসাবে প্রাথমিক ভাবে সিলেক্ট হবে, নতুবা সরাসরি আউট। 

আপনারা মিলিয়ে নেবেন, বর্তমানে তোলামুলের ২২২ জন ল্যাম্পপোষ্ট বিধায়কদের অধিকাংশই চটিপন্থী, যাদের ৮৫% আর কেউ টিকিটই পাবেনা ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে। আমাদের পূর্ব বর্ধমান জেলার এতদিন যারা নেতা ছিলো, যেমন আদি তোলামুল স্বপন দেবনাথ কিম্বা নব্য তোলামুল কাটোয়ার রবি চ্যাটার্জি- এনারা সকলেই চটিপন্থী। ভাইপোর কোনো দায় নেই এদেরকে জিইয়ে রাখার, একই ভাবে নবদ্বীপের নন্দ সাহা বা বীরভূমের আশিষ চ্যাটার্জি, হুগলীর তপন দাসগুপ্তের মত সমস্ত ঝানু তোলাবাজকে বাণপ্রস্থে পাঠিয়ে দেওয়ার নীল নক্সা আঁকা হয়ে গেছে। নতুন তাজা চোর ছ্যাঁচোর, গুণ্ডা, মস্তান নিয়ে এসে জনগণকে বোকাচন্দ্র বানাবার একটা প্রয়াস করবে। পাতি বাংলা কথা, যে রাস্তায় নেমে ক্যালাক্যেলি করে, বুথ দখল করে, পেটো মেরে, ধমকিয়ে, চমকিয়ে, বিরোধীদের রক্তগঙ্গা বইয়ে দিতে পারবে, সে টিকিট পাওয়ার যোগ্য। এর পাশাপাশি রাজ্য জুড়ে ১২০ টার আশেপাশে বিধানসভা আসনে মুসলমান নাম ধারীদের টিকিট দেবে ভাইপো ব্রিগেড, কারন SIR এর পর ‘পোলিং ভোটের’ গণিত আমরা গণনা করতে পারলে, পিকের টিক তো আর ফিডারে দুদু খায়না।

অনেকেই বলবেন, মমতা ব্যানার্জী ছাড়া তৃনমূল দলের ইকোসিস্টেমটা ভেঙে পরবে। তৃনমূল দল আদি বা নব্য দিয়ে চলেনা, চলে চোর চামার ও করে খাও বাহিনী দিয়ে, এদের নিয়ন্ত্রণ করে স্থানীয় থানার OC/IC ও BDO/SDO রা। দলের আসল নেতা এই পুলিশ আর প্রশাসনের অংশটা। মন্তেশ্বরের সৈকত পাঁজা যেদিন শোয়া এক লাখ ভোটে জিতেছিলো, সেদিন মমতার ইকোসেস্টেম অলিখিত বিসর্জন হয়ে গিয়েছিলো। মমতা ইকোসিস্টেম মিথ, ওটাকেই ‘রামচন্দ্রের’ জুতোর মত সাজিয়ে রাখবে ভাইপো। মমতাকে রাজনৈতিক ভাবে বাঁচিয়ে রাখার কোনো কারন নেই অভিষেকের। নতুবা এর পর আর সে সুযোগই পাবেনা কোনো অর্থে। ইতিমধ্যের ১৫ বছরে চুরিচামারির এ্যান্টি ইঙ্কাম্বেন্সি চুড়ান্ত পর্যায়ে, ২০২৬ টার্মেও তৃনমূল জিতলে- মমতাই যদি মুখ্যমন্ত্রীতে ফেরে, অভিষেকের কেরিয়ার শুরুর আগেই ফিনিশ। বাকি জীবনটা জেলে থাকুক বা বেলে, প্রাক্তন MP পদবী টুকুই থাকবে। তাই সে কোনো সুযোগ দেবেনা আর।

অতএব, বঙ্গ রাজনীতিতে পিসি পন্থী হাটিয়ে, কয়লা ভাইপো ইন। ভাইপোর PR টিম এখন সর্বক্ষণ কাঁসি নাগাড়া খোল-করতাল সহ অষ্টপ্রহর ভাইপো সংকীর্তন শোনাতে থাকবে আপনাকে। অপসৃয়মান চটিপিসি দিনে দিনে আরো বিবর্ণ মলিন ম্লান হতে হতে ক্রমশ শেষ বয়সের সুচিত্রা সেনের মত গায়েব হয়ে যাবে মিডিয়া থেকে। আদবানির মত একটা মার্গদর্শক মণ্ডলীর পদও পেতে পারে, হাত জোর করে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য। হয়ত বাকি জীবনটা শিল্পকর্মে নিজেকে সঁপে দেবেন ব্যাঙের পৌষ্টিকতন্ত্র আঁকাতে, কিম্বা সাহিত্য ক্ষেত্রে হাম্বা হাম্বা আব্বার পরবর্তী শিকুয়্যেল রচনাতে ব্রতী হবেন। কয়লা চোরের নতুন সাম্রাজ্যের খুঁটি পুজোর পর, তাদের পালাগানের সুরও বাঁধা হয়ে গেছে। এরপর যতদিন গড়াবে, তোলামুলের সমগ্র যাত্রাপালা ভাইপো কেন্দ্রিক বিকশিত হতে থাকবে। আপনি কী করবেন? সিদ্ধান্ত নেবেন, নতুন চোর গুলোকে আবার নির্বাচিত করবেন, নাকি বাংলাকে সাম্প্রদায়িক RSS ও চোরমুক্ত করে অতীতের পাপ খন্ডাবেন!  


শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫

মুসলমান সাবধান


বিগত ১ সপ্তাহ ধরে নদীয়া ও বর্ধমানের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে সিদ্দিকুল্লাহ দের মত কিছু আরবি নামধারী RSS (ভায়া তোলামুল) মুসলমান গ্রামগুলোতে এক অদ্ভুত ধরণের প্রচারনা চালাচ্ছে। বেছে বেছে নির্দিষ্ট কিছু মুসলিম গ্রামে তারা ‘অপারেশন’ চালাচ্ছে- ঠিক যার পাশে কোনো হিন্দু পাড়া রয়েছে। ইনিয়ে বিনিয়ে এদের মূল দাবী হলো, হিন্দু মানেই RSS, অতএব সঙ্ঘী জঙ্গিদের টাইট দিতে, নিজেদের মুসলমানত্ব জাহির করতে তাদের উপরে আক্রমণ করো। Attack is the best form of defence, এইটা মগজে ঢোকাচ্ছে অল্পবয়সী মুসলমান ছেলেপুলের মগজে, সাথে কিছু ভুলভাল হাদিশ কোরানের বানী মিশিয়ে ‘সহিহ’ বানিয়ে দিচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন জানেনা এটা হতেই পারেনা, তৃণমূল দলটাই চলছে পুলিশ আর BDO/SDO দিয়ে। তাই প্রশাসনের উপরে কোনো ভরষা নেই, বরং এরা নীরবে উস্কানি দেবে যতক্ষননা সেই রক্ষক্ষয়ী দাঙ্গা থেকে RSS সরাসরি লাভ পাওয়ার জাইগাতে পৌঁছে যায়।

মুসলমান- সাবধান হয়ে যাও। এটা RSS এরই পাতা ফাঁদ। কিছু কাটা মোল্লাকে কিনে নিয়ে তোলামুলের পোশাক পরিয়ে আপনাকে, আপনার সন্তান বা ভাইকে রক্তাক্ষয়ী ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। SIR নিয়ে মুসলমানকে ভয় দেখানো যায়নি, অথচ সামনে ৬ মাসের মধ্যে ভোট, একটা দাঙ্গা না হলে যে বাইনারি তৈরি হয়না RSS এর দুই দল- বিজেপি ও তৃণমূলের মাঝে। আপনি ওদের ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ জাহান্নামে পাঠাবেন কিনা সেটা আপনার সিদ্ধান্ত। আগামীতে এরা এমন নানা ধরণের ফাঁদ পাতবে ক্রমাগত, আপনাকে সাফল্যের সাথে বিজেপি-তৃণমূলকে অবিশ্বাস করে যেতে হবে দৃঢ় ঈমানের অঙ্গ হিসাবে। সেটাই আপনার সাফল্য। 

তথ্য কী বলছে জানেন? আমাদের দেশের প্রতি ১০০ জন মানুষের মধ্যে ১৪ জন মুসলমান। ৮০ জন হিন্দু ও ৬% অন্যন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়- যেমন শিখ, খ্রীষ্টান, জৈন, বৌদ্ধ প্রমুখ। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি সাকুল্যে ৩৬% ভোট পেয়েছিল। তাও এর মধ্যে চুরি চামারি, বাটপারি, লুঠপাঠ সব আছে।

মানে ১৪% মুসলমান, ৬ শতাংশ অন্যান্য সংখ্যালঘু ছাড়াও ৪৬% হিন্দু RSS এর বিরুদ্ধে রয়েছে আজও। যারা দেশের মোট মুসলমানের ৩ গুনেরও বেশী। এদের মধ্যে বামপন্থী বড়জোর ২-৩%, বাকিরা সমাজের প্রতিটা স্তর থেকে রয়েছে। হিন্দুত্ব RSS এর বাপত্ব সম্পত্তি, হিন্দুইজম নয়। না তারা দেশের ঠিকেদারি নিয়ে বসে আছে। যেকোনো সুস্থ, সভ্য, শিক্ষিত হিন্দু মানুষ RSS এর বিরুদ্ধেই রয়েছে আপনার মত, তারাও এই মনুবাদী জঙ্গীদের বিরুদ্ধে রোজ লড়াই করছে, কিছু ক্ষেত্রে আপনার চেয়ে বেশী লড়াই করছে। সুতরাং তোলামুলের যে মৌলবাদী অংশটা গ্রামে গ্রামে পাড়ায় পাড়ায় হিন্দু মানেই RSS, তাদের গিয়ে ক্যালাও বলে উস্কানি দিচ্ছে, তারা আসলে আপনাকে কুরবানির খাসি বানাবার প্রচেষ্টা করছে। আপনি RSS এর সাথে অতি সরলীকরন করে হিন্দু ক্যালাতে গেলেই ফেঁসে যাবেন। আপনার বাড়িঘর, পাড়া, মহল্লা জ্বলেপুড়ে যাবে।

RSS এটাই চায়, যেকোনো মূল্যে দাঙ্গা। RSS এর দুটো রাজনৈতিক মুখ, বিজেপি ও তৃনমূল- এই দুই দলের বাইনারির খেলাকে রুখে দিন। তোলামূলের চোর চামার গুলোর কথাকে শুয়োরের মাংসের মত হারাম না করতে পারলে, আপনার সন্তান আগামীতে আপনার মৃত্যুর পর আপনার জন্য মাগফেরাতের দোয়ার পরিবর্তে- জাহান্নামে যাওয়ার গালি দেবে, শাপশাপন্ত অভিশাপ দেবে; কারন আপনি তাদের জন্য একটা অশান্ত সমাজ রেখে গেছেন তৃনমূলের মাধ্যমে RSS কে বাংলাতে প্রতিষ্ঠা করে। আপনি সিপিএম হবেন, নাকি কংগ্রেস হবেন কিম্বা তৃতীয় যা খুশি কিছু হতে পারেন, শুধু RSS এর ঘৃন্য পাঁক থেকে বেরিয়ে এসে, তোলামুলের দুধেল গাই থেকে- মানুষ হোন প্রথমে।

ধর্ম মেখে যে ভাত খাওয়া যাবেনা এটা রাজ্যের হিন্দু মুসলমান সবাই বুঝে গেছে। এখন আপনি ঠিক করুন, আপনি তৃনমূলের দাড়িওয়ালা মোল্লা জঙ্গিগুলো, যারা RSS এর নামে বিল কেটে হিন্দু ক্যালাবার উস্কানি দিচ্ছে, তাদের ফাঁদে পড়বেন নাকি চোখ কান খুলে তথ্য দেখবেন, যে ৪৬% হিন্দু আপনার মতই RSS এর সাথে লড়াই করছে আপনাকে বাঁচাতে, আপনার হকের জন্য, সংবিধানের জন্য, দেশের জন্য।


সিদ্ধান্ত আপনার


নাগপুরী জঙ্গি রোহিত আর্য



গতকাল মুম্বাইয়ের পাওয়াই এলাকাতে একটা ফিল্মি স্টুডিও বিল্ডিং এ ১৭ জন বাচ্চাকে জিম্মি করে রোহিত আর্য নামের এক নাগপুরি RSS জঙ্গি। বিজেপির আঁটি সেল এর ট্রোল বাহিনী এটাকে ইসলামী জিহাদীদের কাজ বলে প্রোপাগান্ডা প্রচারণা চালাতে থাকে জানপ্রাণ লাগিয়ে। কিন্তু NSG কমান্ডো বাহিনী যখন এই জঙ্গিকে শুট এ্যাট সাইট অপারেশনে এনকাউন্টার করে, বিজেপির প্রোপাগান্ডা মেসিনারি রোহিত আর্য্যকে কংগ্রেস প্রমাণে মরিয়া চেষ্টা চালায় ও আবার নিজেদের গু নিজেরাই চেঁটে খায়।

একটা ওয়েব সিরিজের জন্য অডিশনের নামে ১০০ জনকে ডাকে ওই স্টুডিওতে। সেখান থেকে ১৭ জন বাচ্চাকে জিম্মি বানিয়ে তাদের হত্যা করার হুমকি দেয়। আসলে ফ্রাঙ্কেনস্টাইন এভাবেই জন্ম নেয়।

কে এই রোহিত আর্য? মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং RSS এর কার্যকর্তাও বটে। ২০২৩ সাল থেকে মহারাষ্ট্র সরকার এই জঙ্গীকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত করেছিল। ছবি কমেন্ট সেকশনে।

পেশায় স্কুল শিক্ষকতার পাশাপাশি রোহিত আর্য ইউটিউব ভিডিও দিয়ে দেশের মুসলমান ও দলিত নিধনের নানান পন্থার সন্ধান দিতো। মহারাষ্ট্রের শিক্ষামন্ত্রী দীপক কেসারকারের সাথে তার ডিল হয়েছিলো স্বচ্ছতা অভিযানের জন্য মহারাষ্ট্রে একটি প্রকল্প বিষয়ে। সেই প্রকল্পের বরাদ্দ দু’কোটি টাকা হজম করে দেওয়া নিয়ে মৃত জঙ্গী রোহিত আর শিক্ষামন্ত্রীর মাঝে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। বার দুয়েক অনশনের নাটকও মঞ্চস্থ হয়েছিলো, দুর্নীতিবাজ বিজেপির ঘরোয়া দ্বন্দ্বে ১৭ টা মাসুম বাচ্চার জীবন নিলামে উঠে গিয়েছিল। একে জীবন্ত এরেস্ট করলে বিজেপির দুর্নীতি ফাস্ট হয়ে যেত, তাই পুলিশ দিয়ে জঙ্গিটাকে নিকেশ করে দিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার।

হারীন পান্ডিয়া হয়ে বিচারপতি লোয়া থেকে বিজয় রূপানি- বিজেপি-RSS এর এই 'খতম' করে দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার তালিকাতে আরেকটা নাম যুক্ত হলো- নাগপুরী গোয়ালের গেরুয়া জঙ্গী, রোহিত আর্য।

RSS এবং জঙ্গি কার্যকলাপ একে অন্যের পরিপূরক, গত 100 বছর ধরে এটাই ওদের পরম্পরা, প্রতিষ্ঠা ও অনুশাসন। গান্ধীকে হত্যা করেছিল যে সংগঠন তারাই আজকের দিনে ফুলেফেঁপে উঠে গোটা রাষ্ট্র এবং সমাজকে পচিয়ে দিয়েছে। বিজেপি,বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল বা তৃণমূল কংগ্রেসের মতো রাজনৈতিক দলগুলো আসলে RSS এর মুখোশ, তাই মূল লড়াইটা RSS এর সাথেই লড়তে হবে গোটা ভারতবাসীকে।

যতদিন না পুনরায় RSS নিষিদ্ধ হবে, এবং এদের চাঁই গুলোকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হবে, ততদিন ভারতবর্ষে সাংবিধানিক আইন কানুন গণতান্ত্রিক নিয়ম মেনে প্রতিষ্ঠিত হবে না। মিডিয়া, বিচার ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অন্যান্য প্রতিটি সাংবিধানিক কাঠামো- যেগুলো নরেন্দ্র মোদি শোভিত RSS এর শাসন ব্যবস্থায় ভেঙে পড়েছে, সেগুলোকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে না।

RSS এর মূল কাজ হল সমাজে সাম্প্রদায়িক বিভেদ, দাঙ্গা, অস্থিরতা এবং অশান্তি তৈরি করা- রোহিত আর্যদের মত 'গেরুয়া' জঙ্গিদের জন্ম দিয়ে। রোহিত আর্য কোন বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি নয়, এ হলো নাথুরাম গডসের ধ্বজাধারী কয়েক লক্ষ উত্তরসূরীর অন্যতম, যার জীবনের মূল এজেন্ডা হল মুসলমান এবং দলিতকে অত্যাচার করা। এই দাঙ্গা হাঙ্গামা অস্থিরতা আড়ালে দেশের জনগণের সম্পদকে পুঁজিবাদী আদানি আম্বানির হাতে তুলে দিয়া এদের মূল লক্ষ্য।

বিহার নির্বাচনের আগে একটা দাঙ্গা লাগানোর লক্ষ্যে চেষ্টার কসুর করছে না RSS ও তার শাখা সংগঠনগুলো। মানুষকে সাবধান থাকতে হবে এদের তৈরি করা ফাঁদ থেকে।


#BanRSS

#ModiHaiToMumkinHai

বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৫

সংখ্যাঘুঘু

 


মাননীয়া বামনেত্রী দীপ্সিতা ধরের গতকালের একটা ফেসবুক পোষ্টের প্রেক্ষিতে এই লেখা


শেষ ২৫ বছরে ওপার বাংলা থেকে যারা এসেছেন- তাদের কতজন রাজনৈতিক অত্যাচারের শিকার আর কতজন ধর্মীয় অত্যাচারের শিকার হয়ে এসেছে? এর কোনো প্রামান্য তথ্য রয়েছে আপনার কাছে? থাকলে সরাসরি লিখুক অমুক 'জামাতি' কিম্বা তমুক 'ইসলামিক ফান্ডামেন্টালিস্ট' দলের অত্যাচারের কারনে অমুক অমুক ব্যাক্তি বা অমুক অমুক পরিবার বাংলাদেশ থেকে আপনার দাবী মত 'বাধ্য হয়ে' পালিয়ে এসেছে। কোন স্যাম্পেল সার্ভের ভিত্তিতে আপনি ৩৪৭৮৮৬৩৫৮৯৫৩ বার লিখে ফেললেন, তার কোনো তথ্য উপাত্ত রয়েছে আপনার কাছে? এখানেই লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের তথাকথিত অত্যাচারিত সংখ্যালঘু জনগণের ভিটে ত্যাগের ইতিহাসের পাশাপাশি ধান্দাবাজ সংখ্যাঘুঘুদের ‘বাধ্য হয়ে’ কাঁটা তার টপকাবার গল্প


আমি জানিনা আপনার পরিবার, তথা আপনার পিতৃকুল বা মাতৃকুলের কেউ ‘বাঙাল’ কিনা, তাই হলে তাঁরা কবে এদেশে এসেছিলেন আর ঠিক কার অত্যাচারে কি কি খুইয়ে এসেছিলেন! এদেশে আসার আগে সেখানকার আইন আদালতের কোথায় কোথায় গিয়ে নিজের ভিটেতে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে, অবশেষে ‘বাধ্য হয়েছিলেন’- আশা করি ১ বার এই তথ্যগুলোও দেবেন পাবলিক ডোমেইনে। ৩৪৭৮৮৬৩৫৮৯৫৩ বার লাগবেনা, ১ বার দিলেই জাস্টিফাই করে নেওয়া যাবে আপনি সংখ্যালঘু ছিলেন না সংখ্যাঘুঘু


SIR শুরু হয়েছে, কেউ বলছে মুসলমান তাড়াবে, কেউ হিন্দু বিতাড়নের স্বপ্নে বিভোর। আরে বাবা ২০০২ ‘কাটঅফ’ মার্কের পর যারা অন্য দেশ থেকে এসেছে তারা কেউ হিন্দু নয়, বৌদ্ধ নয়, মুসলমান নয়, এদের পরিচয় একমাত্র অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। নিশীথ প্রামাণিক, বিজেপির হয়ে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, তাকে কোন মোল্লা দেশ থেকে তাড়িয়ে ছিল? সে তো পড়তে এসে এদেশে ঘাঁটি গেড়েছিলো, এরপর রাজনীতির কল্যাণে মন্ত্রীও হয়েছে। সে কোন CAA তে অ্যাপ্লিকেশন করে দেশের নাগরিকত্ব পেয়েছিল?


আমার এলাকাতে, মানে পুর্ব বর্ধমান জেলার, কালনা মহকুমার নবদ্বীপ সংলগ্ন সমুদ্রগড়ে বর্তমান জনসংখ্যার ৯০% এর বেশী ওপার বাংলার মানুষ, যা ৯০ এর দশকের শুরুতে মোট স্থানীয় জনসংখ্যার ৩০% বা তারও কম ছিলো। শেষ পঁচিশ বছরে এরা রাষ্ট্র ভারতের বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ সুবিধা ও সুরক্ষা নিতেই এসেছে মূলত। ফ্রি রেশন, ফ্রি শিক্ষা, ফ্রি স্বাস্থ্য পরিষেবা, সস্তার পরিবহণ, অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মের নানান সুযোগ, এত বড় রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রকম সুযোগ সুবিধা, তুলনামূলক সস্তা জীবনযাত্রার সাথে একটা OBC বা SC সার্টিফিকেট যোগার করে নিতে পারলেই সংরক্ষিত আসনে চাকরির নিশ্চয়তা- আমার এলাকাতে এমন মানুষের সংখ্যাই বেশী। তথ্য চাইলে অন্তত ১০০টা নাম ও ঠিকানা দিয়ে দেব, যারা ১৯৯৫ সাল থেকে ২০২৪ এর মধ্যে এসেছে।

অর্ধেক বাংলাদেশী মানুষ আদম ব্যাপারিদের মাধ্যমে কামলা খটতে যায় গোটা বিশ্বজুড়ে, এরাই ভারতে এসে ভারতীয় সেজে তারা পার্মানেন্ট হওয়ার সুযোগ পায় নৃতাত্বিক মিলের কারনে, যা অন্য দেশে পায়না। এই ধান্দাবাজি করতে গিয়ে আজ আমাদের এলাকার মত, কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ এই বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে কেউ মতুয়া, কেউ মায়াপুরী বৈষ্ণব, কেউ হোপবোল, কেউ নমঃশূদ্র, কেউ কামতাপুরি, কেউ জমিয়ত উলামা, কেউ অনুকুলের শিষ্য হয়ে, ধান্দাবাজির প্রয়োজন মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। আমি আর আমার এক বন্ধু লাদাখ যাওয়ার পথে ১৭০০০ ফুট উচ্চতায় চা বিক্রেতা এক বয়স্ক মহিলাকে দেখেছি, যিনি শেষ ২০ বছরের মধ্যে এদেশে অনুপ্রবেশ করেছে, এবং নকল কাগজ বানিয়ে এই চরম প্রতিকুল অঞ্চলে ঘাঁটি গেড়েছেন। গোটা দেশ জুড়ে এমন সংখ্যা কোটি কোটি রয়েছে


১৯৪৭ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের জনসংখ্যা কত ছিলো? ৪ কোটি ২০ লাখ। ১৯৭১ সালে সদ্য জন্ম নেওয়া বাংলাদেশের জনসংখ্যা কত ছিলো? ৭ কোটি। একই সময়ে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জনসংখ্যা কত ছিলো, এমন ভাবে কখনও হিসাব করেছেন? ৪৭ সালে ছিলো আড়াই কোটি জনসংখ্যা, ৭১ সালে ৪ কোটি ৪২ লাখ। ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা ১০ কোটির সামান্য বেশী, বাংলাদেশে সাড়ে ১৭ কোটি। ৭০ এর দশক অবধি ভারতের জনসংখ্যা গ্রোথ রেট ছিলো ২.৫% এর মত, যা নব্বই এর দশকের পর কমে ১.৯% এসে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এই গ্রোথ রেট আরো কম। পুর্ব পাকিস্তানের পপুলেশন গ্রোথ রেট ছিলো ২.৪% মত, বাংলাদেশ রাষ্ট্র গঠিত হওয়া ইস্তক এরা ৩.৫ এর বেশীতে পৌঁছে দিয়েছে গ্রোথ রেট। এই হিসাবে বাংলাদেশের জনসংখ্যা হওয়া উচিৎ ছিলো ২৪.৫০ কোটি, তার বদলে ১৭ কোটি হিসাব দেয় তারা। এই সাড়ে সাত কোটি মানুষ গুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে গেছে কামলা শ্রমিক হয়ে, যারা আর স্বদেশে ফেরেনি। এদের সবচেয়ে বড় অংশটা ধর্মের দোহায় দিয়ে ‘শরনার্থী’ সেজে পিলপিল করে শেষ ২৫ বছরে আমাদের দেশে ঢুকে পরেছে, পশ্চিমবাংলা, আসাম, নর্থ ইষ্ট, সিকিম, ঝাড়খন্ড, উড়িষ্যা সহ পশ্চিমা রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ‘বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক’ পরিচয়ে কাজও করে। একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর এরাই ভুয়ো পরিচয়পত্র বানিয়ে ‘সেটেল’ হয়ে যাচ্ছে যে যেখানে পারছে।


বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপরে অত্যাচার কোনো লুকানো বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, গোটা বিশ্বজুড়ে সংখ্যাগুরুরা সংখ্যালঘুদের উপরে অত্যাচার করছে, এটাই সত্য, জাত পরিচয় যা খুশি হোক। তারপরেও ১ কোটি ৩০ লাখ হিন্দু সেদেশে বসবাস করেন, সে দেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ গুলোতে হিন্দু শিক্ষকদের আধিক্য রয়েছে আজও। দেশের জনসংখ্যার ৭.৯৫% হিন্দু হলেও সরকারি চাকরিতে তারা প্রায় ১৪% এর আশেপাশে রয়েছে। এটা বাংলাদেশের জামাত বা মৌলবাদী গোষ্ঠীকে গ্লোরিফাই করার জন্যও নয়, না বাংলাদেশে সংখ্যালঘু অত্যাচারকে লঘু করে দেখাবার প্রয়াস। এটা আমাদের দেশের সংখ্যালঘুদের সাথে তুল্যমূল্য ফারাক দেখাবার জন্য, যারা কেবল বাংলাদেশে ‘হিন্দু’ অত্যাচারের মড়াকান্না কেঁদে 'পালিয়ে আসা'কে জাস্টিফাই করে।


বিজেপির ভাষায় ‘মমতাজ বেগমের’ সরকারের রাজ্যে দুধেল গাই ২৭%, সরকারী চাকরিতে এরা মাত্র ৫.৭৩%। গোটা দেশের জনসংখ্যার নিরিখে মুসলমান ১৪%, সরকারি চাকরিতে এখানে ৫% এরও নিচে, এগুলো সবই সরকারি ডেটা। উচ্চশিক্ষিত রাজ্য কেরালা মডেল- ৩০% মুসলমান অধ্যুষিত রাজ্যে ১৩.৮% মুসলমান রাজ্য সরকারী চাকরিতে। কেন্দ্রীয় সরকারী চাকরিতে মুসলিম মালায়লী মাত্র ১.৮% । গুজরাতে আবার উলটপূরাণ, তাদের জনসংখ্যার মাত্র ৯.৯% মুসলমান, সরকারী চাকরিতে ১৬% এরও বেশী মুসলমান। উত্তরপ্রদেশে ১৯.৩০% মুসলমান, ২০১২ সালে সরকারী চাকরিতে এদের উপস্থিতি ছিলো ১২%, যোগীর কৃপায় সেটা এখন ৫% এরও নিচে। উত্তরপ্রদেশ থেকে কটা সংখ্যালঘু পড়শি দেশে পালিয়ে গেছে ‘বাধ্য হয়ে’।


আসলে পালানটা চয়েস, যেটা রক্তে থাকতে হয়, সকলে পলায়ন মনোবৃত্তি রাতারাতি জন্ম দিতে পারেনা অধিকাংশ ‘বাংলাদেশী হিন্দু’ দের মত। কিছুটা অপ্রাসঙ্গিক ও আনপপুলার হলেও- গাজায় গণহত্যা হয়েছে লাগাতার আড়াই বছর ধরে, নৃশংস নারকীয় সেই অত্যাচার গোটা বিশ্ব সাক্ষী। কতজন পালিয়েছে দেশ ছেড়ে? ট্রাম্প নিজে তাদের পুনর্বাসনের প্রস্তাব দিয়েছিলো, তারা ভিটে ছাড়তে চায়নি। ভিয়েতনাম? আফগানিস্তান? কিউবা? ইয়েমেন? কারা পালিয়ে গেছে? জঙ্গলমহলের কয়েক হাজার মানুষ মাওবাদী তথা তৃণমূলের হাতে মারা গেছিল। তারা তো পূর্ব বাংলার সংখ্যাঘুঘুদের মতো পালিয়ে যায়নি। পলায়ন একটা চয়েস, একমাত্র অপসন নয়।


দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষেরা পৃথিবীর অত্যাচারিত মানুষদের তালিকায় মোটামুটি সবার উপরে, কিন্তু নিজের দেশ স্বাধীন করে সেই দেশে বসবাস করতে গিয়ে কত মানুষের জীবনহানি হয়েছে তার সংখ্যা পাওয়া মুশকিল কিন্তু কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ানরা হিটলারের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যুদ্ধ করেছিল কেউ পালিয়ে যায়নি। রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলছে, আমরা যে পক্ষেরই সমর্থক হই না কেন ইউক্রেনের লোকেরা কিন্তু পালিয়ে যায়নি। ১৯৬৫-৬৬ সালের ইন্দোনেশীয় গণহত্যা হয়, এরা কেউ পালিয়ে আসেনি নিজের ঘর বাড়ি ছেড়ে। তৎকালীন যুগোস্লাভিয়া ভেঙে গিয়ে ৭ টি নূতন রাষ্ট্র তৈরি হয়েছে এবং দেশ গঠনের সময় প্রত্যেক ক্ষেত্রে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ করেছে, কিন্তু কোন দেশের নাগরিক পালিয়ে যায়নি। আলেকজান্ডারের বিরুদ্ধে পুরু পালিয়ে যায়নি। পালিয়ে যাওয়াটা চয়েস, একমাত্র বিকল্প নয়


উন্নত জীবনযাত্রার খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় মাইগ্রেশন করাটাই সভ্যতার পরিচয়। একে ঠিক বা ভুল নামের দুটো শব্দ দিয়ে এটি ব্যাখ্যা করা যায় না। কিন্তু যারা এটাকে গ্লোরিফাই করার জন্য ‘রক্ত দিয়ে কেনা মাটি’ আর কাঁটাতারের গল্প শুনিয়ে রোমান্টিক গল্প ফাঁদে, তারাই আসলে সংখ্যাঘুঘু। রক্ত দিয়ে কেনা মাটির গল্প কোন হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে এসে লাগু হয়? ওপারে যদি রক্ত দিয়ে আপনারা ভিটে মাটি রক্ষা করতে পারতেন, তাহলে সেটা না হয় গণ্য হতো, এপারে শরণার্থী হয়ে এসে কলোনির ভিক্ষার জমিতে আপনাদের বাপ দাদারা জীবন শুরু করেছিল। তারা কোন রক্তটা ঝরিয়ে ছিলো এপারে মাটিটা পাওয়ার জন্য? ১৯৮৯ সালে প্রথম বাংলাদেশ সীমান্তের ২০ শতাংশ অংশে কাঁটাতার লাগানো হয় তৎকালীন ভারত সরকার কর্তৃক, যার অধিকাংশটাই উত্তর-পূর্ব ভারত লাগোয়া। তাহলে কাঁটাতার পেরিয়ে আসার গল্পটাই বা কিভাবে আসে আপনাদের পালিয়ে আসার রোমান্টিক গল্পে? ৯০ এর দশকে উন্নত জীবনযাত্রার খোঁজে আপনাদের পূর্বপুরুষ এদেশে এসেছিলি সংখ্যাঘুঘু হয়ে, শরণার্থীর গল্প ফেঁদে। এটাকে লুকাতে বাকি গল্পগুলো ফাঁদা


সত্যজিৎ রায়, তপন সিনহা, ঋত্বিক ঘটক, রাজেন তরফদারের মত দিকপালের কোনো সিনেমাতেও সেই অর্থে মোল্লাদের অত্যাচার দেখিয়েছে? সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সমরেশ বসুদের লেখনি সময়ের সাথে একক। এনারা কোথায় লিখেছেন খিয়েছেন যে বাংলাদেশী মোল্লাদের চরম অত্যাচারের শিকার হয়ে তাদের চরিত্রেরা এদেশে এসেছিলেন। অথচ প্রত্যেকের নাড়ি বা শিকরের টান ছিল ওপাড় বাংলার প্রতি। আসামে বাঙালী খেদাও একটা রেজিস্টার্ড আন্দোলন। সেখানে বহু বাঙালী বিতাড়িত হয়েছিলো, এমন কোন আন্দোলন হয়েছিল বাংলাদেশে শেষ ২৫-৩০ বছরে?


সংখ্যাগঘুঘু বাঙালদের সাথে ইজরায়েলী ইহুদিদের হেব্বি মিল, ইহুদীদের সমালোচনা করলেই অ্যান্টি-সেমিটিক বলে দাগিয়ে দেয়। একই ভাবে সংখ্যাঘুঘুদের সমালোচনা করলেই এ্যান্টি উদবাস্তু, এ্যান্টি বাঙাল, এমনকি এ্যান্টি হিন্দু বলেও দাগিয়ে দেয়। সমালোচনা হলেই যে ধুতি খুলে যায়


শেষ ৫ বছরে শুধু গরু সংক্রান্ত বিষয়ে, RSS কতৃক মুসলমান অত্যাচারের ঘটনাতে নানান রাজ্যে FIR ও মামলা রেজিস্টার হয়েছে ৫৩০০ এর বেশী গোটা দেশজুড়ে। বাংলাদেশে এমন কতগুলো হয়েছে শতাংশের বিচারে? ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল অব্দি হাসিনা ওয়াজেদের সরকার ছিল, যারা রীতিমতো হিন্দু সমর্থক এবং হিন্দু রক্ষাকারী হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিত। এদেশের সংখ্যালঘুরা লড়াই করছে আদালতে গিয়ে, কেউ তো দেশ ছেড়ে পালায়নি। ওপাড়ের সংখ্যাঘুঘুরা লড়াই না লড়ে পালিয়ে আসছে কেন! তারা নেপালেও যেতে পারত, কিম্বা শ্রীলঙ্কাতে! যায়নি, কারন ওখানে RSS নেই, ‘বাধ্য হয়েছে’ গল্পে রাজনীতির রুটি সেঁকা যায়না, তাই তাদের সেটেল করে দেওয়ার চক্রও নেই। ১৯৭১ এর পরে বাংলাদেশের সমস্ত খুনি-ধর্ষক-ক্রিমিনাল আর রাজাকারেরা নিজেদের অপরাধ ঢাকতে এই দেশে আসতে শুরু করে। বাংলাদেশের হিন্দু অত্যাচারের কাহিনীর আড়ালে নিজেদের লুকিয়ে এই দেশে বসবাস করতে শুরু করে। যেকোনো ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটিতে বাংলাদেশী বলতে মুসলিমদের এককভাবে এরাই কাঠগড়াতে তুলতো, যদিও এই সকল ঘটনার পেছনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই ‘পালিয়ে আসা’ ক্রিমিনাল হিন্দুটার নিজের অত্যাচারের কু-কর্মও ছিলো, যেটাকে ধামাচাপা দিয়ে দিয়েছে


শেষ ২০-২৫ বছরে যারা এদেশে এসেছে, সেটা তামিল হোক, নেপালি, ভুটিয়া বা বাংলাদেশী, এদের অধিকাংশই রুটিরুজির ধান্দাবাজি আর ভারতীয় রাষ্ট্রীয় নাগরিক সুযোগ সুবিধার লোভে এসেছে। ১৯৯০ সালের পর ঠিক কত শতাংশ ‘বাংলাদেশী হিন্দু’ বাধ্য হয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে? কোনো স্বীকৃত তথ্য নেই, না সরকারী না বেসরকারী, কারো কাছেই নেই। নেই, কারন এই বিষয়ে সার্ভে করলেই উলঙ্গ হয়ে যাবে, প্রতিটা রাজনৈতিক দলের মাথাতেই ওপাড় বাংলার বাঙালদের একটা বড় অংশ বসে আছে, সেটা তোলামুল, কংগ্রেস, রাম, বাম, ঘাম প্রত্যেকটি দলের এক অবস্থা। তাঁরা তথা তাদের পরিবার ঠিক কোন দিন, কোন অত্যাচারের শিকারে এদেশে পালিয়ে এসেছিলো, তাঁরা নিজেরা ছাড়া কেউ জানেনা। তাই এমন কোনো সার্ভে কখনও হয়নি, হবেওনা। শুধু ‘আমাগো একখান দ্যাশ আসিলো’ হ্যাজ নামিয়ে আবেগের বর্জ্য ছড়িয়ে নিজেদের পালিয়ে আসাকে গ্লোরিফাই আর জাস্টফাই করে দেওয়ার মরিয়া প্রয়াস চালায়


বর্তমান SIR অনুযায়ী যারা ২০০২ সাল অবধি এদেশে প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ভোটারলিষ্টে নাম তুলিতে পেরেছিলো, তারা তো ভারতীয় নাগরিকই, এটাই তো পরিষ্কার কাট অফ মার্ক। এর পর যারা এসেছে তারা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। হিসাব সিম্পল, স্বভাবতই এ রাজ্যের ৯৯% মুসলমান দুশ্চিন্তামুক্ত। কিন্তু এটাকেই গুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে যেকোনো মূল্যে অবৈধভাবে আসা সংখ্যাঘুঘু গুলোকে বৈধতার মান্যতা দেওয়া যায়। এখানেই শরনার্থী আর অনুপ্রবেশকারীর গনিত গুলিয়ে দিচ্ছে ধর্মের পাঁক দিয়ে। কেন তারা শরণার্থী- এর কোনো সন্তোষজনক জবাব নেই অধিকাংশ সংখ্যাঘুঘুর কাছে- ‘হিন্দু’ জাত পরিচয় বাদে কোনো যুক্তি নেই।


বামদলগুলো বা এরাজ্যের সিপিএম যত বেশি SIR/NRC বলেছে, শঙ্কিত হিন্দু জনসংখ্যা তত বেশি পরিত্রতা হিসেবে বিজেপিকে আঁকড়ে ধরেছে, উল্টোদিকে অশিক্ষিত মুসলমান তত বেশি তৃণমূলকে জড়িয়ে ধরেছে। SIR নিয়ে বাহ্যিকভাবে সবচেয়ে শঙ্কিত বিজেপি কারণ ভোটার তালিকা পরিচ্ছন্ন করতে গিয়ে সবচেয়ে সমস্যার মধ্যে যে অংশটি পড়তে চলেছে সেটি মতুয়া ও নমঃশূদ্র জনগোষ্ঠী, যাদের একটি বড় অংশের লোক আপাতত বিজেপি ভোটার এবং বাকিরা তৃণমূল ভোটার। নিজেদের শঙ্কা ভয়ঙ্কর ভাবে লুকিয়ে রেখেছে দল তৃণমূল, কারণ কোথায় তারা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা নিজেরা ক্যালকুলেশন করতে পারছে না। চুরির ভোট শুকিয়ে গেলে কোথায় কোন ঘটি উল্টে যাবে তার হিসেব আইপ্যাক পর্যন্ত দিতে পারছে না। ফলশ্রুতিতে আগামী দিনে কাকে গাছে বাঁধা হবে আর কাকে লাইট পোষ্টে- তৃণমূল কোনো কিছুর হিসাব করতে পারছে না


SIR জুজুতে বিজেপি কোনভাবেই মুসলমানকে ভয় দেখাতে পারেনি উল্টে তাদের মতুয়া ভোট ভেঙে চুরমার। নমঃশূদ্র ভোটের অধিকাংশই তৃণমূলের দখলে ছিলো কিন্তু পশ্চিম বর্ধমান, দুই চব্বিশ পরগণা, নদীয়ার যা চালচিত্র উঠে এসেছে তাতে তৃণমূলের নমঃশূদ্র ভোট, মতুয়াদের থেকেও বেশি বিপদে পড়ে গেছে, কারণ মতুয়াদের নিয়ে তবুও তো চিৎকার চেঁচামেচি হচ্ছে; নমঃশুদ্র দের জন্য আলাদাভাবে বলার মত কেউ নেই। তৃণমূল চারপাশে শুধুমাত্র লাশ খুঁজে বেড়াচ্ছে, মুসলমানের বিজেপি ভয় কেটে গেলে আর নিজেদের নমঃশূদ্র ভোট হাতছাড়া হয়ে গেলে- ভাইপো সমেত গোটা দলের অধিকাংশ নেতা যে জেলে বসে চাক্কি পিসিং পিসিং, সেটা না বোঝার মত বোকা ওরা নয়। কিন্তু উভয় দলের ভয় স্পঞ্জের মতো শুষে নেওয়ার জন্য মাঠে নেমে পড়েছে একা কুম্ভ সিপিআইএম। গতকাল আনন্দ টিভিতে সুজন বাবুও, প্রদীপ করের মৃত্যুকে NRC এর সাথে জুড়ে দিয়েছেন। বাকীটা নিজেরা চেয়ে দেখুন, জবাব পেয়ে যাবেন। এর বেশী বললে ভক্ত বাম্বাচ্চার দল কামড়ে দিতে আসবে। এমন ‘রামকৃষ্ণ মিশন’ টাইপের NGO ভলেন্টিয়ার সার্ভিস মার্কা বিরোধী সিপিএম থাকলে, চোর তৃনমূল আগামী ১০০ বছর ক্ষমতায় থাকবে, এটা আপনি পাথরের দেওয়ালে খোদাই করে নিন


যাই হোক, মাননীয় নেত্রী সমীপেষু, আপনিই পেহেলগাম জঙ্গি হামলার সময় 'ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ' শব্দ লিখেছিলেন, যেটা RSS থেকে অমিত শাহ, মোদী এমনকি আপনার দল অবধিও বলেনি, আপনি বলেছিলেন। আজও আপনি 'বাধ্য হয়েছে' নামে একটা তত্ত্ব এনেছেন, কটা স্থানে রিসার্চ করে এনেছেন এই তথ্য? বাংলাদেশী অধুষ্যিত কটা স্যাম্পেল গ্রামে গঞ্জে কতগুলো দিন/রাত কাটিয়েছেন সত্য উদঘাটনে? কতজন স্যাম্পেল ব্যাক্তি ও পরিবারের তথ্য রয়েছে এমন 'বাধ্য হয়েছে' দের? নাকি একটু ধর্মগন্ধী ফ্লেভার ছড়িয়ে দিয়ে বঙ্গ রাজনীতিতে 'বুদ্ধিজীবি বাম' কোটাতে নিয়মিত ভেসে থাকতে চাইছেন? পাশাপাশি ‘গুড বামপন্থী’ হিসাবে গোয়ালঘরের অভিষ্ট স্থানে বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। আপনার এই প্রবনতা নতুন কিছু নয়, ধর্ম আর জিরাফে থাকার এটা চমৎকার ‘ধান্দাবাজি’ অনেক পুরাতন খেলা, অতীতে অনেকেই খেলে সফল হয়েছেন। আপনাদের মূল সমস্যা হলো, নিজেদের বিশাল শিক্ষিত আর জ্ঞানী ভাবেন। আপনার ভাষাতে 'এর সাথে সিপিএমের শূন্য হওয়ার সম্পর্ক নেই' নয়, এটাই শূন্য হওয়ার মূল কারন


SIR কে সামনে রেখে যে বা যারা ‘পালিয়ে যাওয়া’ কে জাস্টিফাই করার চেষ্টা করছে, তারা আসলে সুপ্ত RSS
লিবোরাল, ধর্মনিরেপেক্ষ এবং মুসলমান বিদ্বেষ RSS এর জিনে আছে; এই সুপ্ত বিদ্বেষ এতদিন যারা মনেপ্রাণে লালিত পালিত করছিল, আজকে SIR কে সামনে রেখে বমি করে ফেলেছে। এদের মনের বড় বড় পদ্ম দ্রুত বিকশিত হোক। যাদের সাদাকালো চেনার ক্ষমতা নেই, যাদের দিন রাতের পার্থক্য করার ক্ষমতা নেই যাদের ভালো-মন্দ বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা নেই, তারা পৃথিবীর যে দেশেই যে শিবিরেই থাকুক না কেন আদপে তারা সবাই ভক্ত


পৃথিবীতে কোথাও বামপন্থীদের পালিয়ে আসার ইতিহাস নেই। পালিয়ে আসার ইতিহাস একমাত্র RSS এর আছে। মুচলেকা দেওয়ার ইতিহাস একমাত্র RSS এর আছে। এই কারনেই সংখ্যাঘুঘু গুলো সব বিজেপির ভোটার। পাশের রাজ্য বিহারে ভোট চলছে। যেখানে ভূমি আন্দোলন এর বিরোধিতা এবং উচ্চবর্ণের লোকেদের দ্বারা গণহত্যা সমার্থক শব্দ। রণবীর সেনা এবং অন্যান্য মৌলবাদী মিলিশিয়া গোষ্ঠী গুলি নিম্নবর্গীয়দের উপর অসংখ্য গণহত্যা চালিয়েছে। যেমন, বেনিগ্রাম গণহত্যা, লক্ষ্মীপুর গণহত্যা, এবং রাউলি গণহত্যা উল্লেখযোগ্য। এই ঘটনাগুলোতে শত শত নিরপরাধ দলিতকে হত্যা করা হয়েছিল। বিহারে মাটি কামড়ে আজকেও বামপন্থীরা একজোট হয়ে এ নির্বাচনে লড়াই করছে। তাই পালিয়ে আসতে ‘বাধ্য হয়েছে’ বলে পালিয়ে আসাকে জাষ্টিফাই করাটা আপনারা- পলায়নকারী হিসেবে কার উত্তরসূরী?


চালাক বা বুদ্ধিমান হওয়া খুব ভালো, কিন্তু সেয়ানা সাজা আসলে একধরণের ভন্ডামি ও মূর্খতার পরিচয়। কাদের উদ্দেশ্য সাধন করতে আপনি এমন উদ্দেশ্যমূলক পোষ্ট করেন তা আজকে সবটা পরিষ্কার না হলেও, বালিশকুমারের মত অবশ্যই ধরা খেয়ে যাবেন। এই মুহুর্তে আপনাকে জবাব দিতে হবেনা, জনগণ আপনাদের গুন্তিতে ধরেনা, আলিমুদ্দিনে আপনি প্রিভিলেজড- জবাবদিহির বালাই সেখানেও নেই। এছাড়া বামেদের যে ‘অন্ধভক্ত শ্রেনী’ আকাট মূর্খর দল রয়েছে, তারাই আপনাকে ডিফেন্ড করবে জান লড়িয়ে দিয়ে, আপনার এই মুহুর্তে ভয়ের কিছু নেই। সেই দিনটার প্রতীক্ষাই রইলাম, যেদিন আপনিও ‘বাধ্য হবেন’ রাজনৈতিক মাইগ্রেশন করতে। ফেসবুকের পোষ্টে গল্পটা আমিই শেয়ার করব বেঁচে থাকলে।


আপনি প্রশ্ন করতেই পারেন, কেন আমি টার্গেট হলাম! আপনি নিজেকে 'বাম' নেত্রী বলেই তাই এই হ্যাজ নামানো, নতুবা শুভেন্দু অধিকারী বা দিলীপ ঘোষেরা নিয়মিত তাদের ভাষণে বলে- বাংলাদেশ থেকে হিন্দুরা পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। সুযোগ বুঝে তাদের ভাষা গুলো নিয়মিত আপনার মুখেও উঠে আসে, তাই আজকের পোষ্টটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এতদিন মনের মধ্যে যেটা গজ গজ করছিল, অনুকুল পরিস্থিতি পেতেই উগড়ে দিয়েছেন। পাঁহেলগাঁও ঘটনায় আপনার ‘ভাবনার’ ঝলক ইতিমধ্যেই দেশবাসি দেখে ফেলেছে। আপনারা আগামীর বাম রাজনীতিতে টিকে থাকলে, RSS এর তৃণমূল বা বিজেপিকে আলাদা করে আর দরকার লাগবে কেন! আপনার ৩৪৭৮৮৬৩৫৮৯৫৩ বার লিখে ফেলা কারনের সাথে আরো ৬০ গুন যোগ হয়ে যাবে আগামীতে, সাভারকর ওটাই পেনশন পেতেন যে। ঠিকাচে!

মনের মধ্যে একটা নির্দিষ্ট জাতের প্রতি বিতৃষ্ণা রেখে রঞ্জন গগৈ হওয়া যায়, চন্দ্রচূড় হওয়া যায, তসলিমা নাসরিন হওয়া যায, সুব্রামনিয়াম স্বামী বা প্রবীণ তোবাড়িয়া অথবা তথাগত রায় হওয়া যায়। জয় গোস্বামী, শুভাপ্রসন্ন, কবীর সুমন বা অপর্ণা সেনও হওয়া যায়, এমনকি শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বা তিলোত্তমা মজুমদার, এমনকি গৌতম গম্ভীর পর্যন্ত হওয়া যায়; কিন্তু বামপন্থী হওয়া যায় কি? যদি না একটা মুখোশ পরে থাকে!


আপনার মনের পদ্মফুল বিকশিত হোক


শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫

ভোগপাল

 


আন্না হাজারে নামের RSS এর একটা খোঁচরের নাম মনে আছে! লোকপাল নিয়ে মাথায় পাকস্থলীর দুষ্ট বায়ু মগজে তুলে ফেলেছিলো। মোদীর নেতৃত্বে RSS এর সরকার প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিকৃষ্টটা শুধু গায়েবই হয়ে যায়নি, তার আশেপাশে দেশ ও জনসেবার মুখোশ ধারী সবকটা ধান্দাবাজ ভিন্ন-ভিন্ন শাঁসালো রাষ্ট্রীয় পদে আসীন হয়েছিলো। তাদের থেকে উপঢৌকন পেয়ে মহানন্দে 'ফুল অর্গাজম' লাইফ কাটাচ্ছে, ফলত ‘হাাজারের ব্যাজার নেই’। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বহু দুর্নীতি দেখেছে দেশের মানুষ, কিন্তু আন্না আন্দোলনের মতো এই ধরণের ধাপ্পাবাজি স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে প্রথম।

যে লোকপালকে নিয়ে একটা সরকারই উলটে গেলো, বিজেপি তার প্রথম ৫ বছরের শাসনামলে বিষয়টাকে ছুঁয়েই দেখেনি। আন্নার কোনো কান্না কেউ শোনেনি, কারন ততদিনে তার সাঙ্গোপাঙ্গো, যেমন, রামদেব, অরবিন্দ কেজরীওয়াল, শান্তি ভূষণ, কিরণ বেদী, রাম জেঠমালানি, স্বামী অগ্নিবেশ, কর্নেল দেবেন্দর শেহরাওয়াত, সুনীতা গোদারা, হর্ষ মন্দার, দিল্লির আর্চবিশপ, বিচারপতি ডি. এস. তেওয়াটিয়া, দেবেন্দর শর্মা, পিভি রাজগোপাল, ত্রিলোক শর্মা সহ অনেকেই তকখন রাষ্ট্রীয় ক্ষীর খেতে ব্যস্ত। রামলীলা ময়দানের আন্দোলন ছিলো বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার লড়াই, লোকপাল বা লোকায়ুত ধাপ্পাবাজি ছিলো। স্বভাবতই, বিজেপি এই লোকপালকে শুধু নিষ্ক্রিয়ই করে রাখেনি, ২০১৯শে প্রবল চাপের মুখে চালু করলেও, পরবর্তী ৬ বছরে এরা ঠিক কোন কাজটা করেছে কেউ জানেনা। তাই লোকপাল আসলে ভোগপাল হয়ে গেছে। যেকোনো মূল্যে অবসরকালীন জীবনেও কিছু আমলা আর বিচারপতিদের সরকারী ‘ভোগের’ বন্দোবস্ত করে দেওয়া। কিন্তু, আজ হঠাৎ এই ভোগপালেরা আলোচনায় এলো কেন! এরা কোন এমন ভোগলীলা করলো?

নিম্নলিখিত এই চমন বাটপার কজনই হলো বর্তমান লোকপাল সদস্য, কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্নীতি রোধ করার জন্য গঠিত একটি কর্তৃপক্ষ (ভোগ সর্বস্ব)। এনারা বেশিরভাগই অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বা আমলা বাবু

  • Justice AM Khanwilkar
  • Justice LN Swamy
  • Justice Sanjay Yadav
  • Sushil Chandra
  • Justice RR Awasthi
  • Pankaj Kumar
  • Ajay Tirkey


এনারা নিজেদের চড়ার জন্য সাতটি গাড়ির দরপত্র আহ্বান করেছে, এর জন্য ৭০ লক্ষ মূল্যের BMW 3 সিরিজ Li গাড়ি নির্দিষ্ট করা রয়েছে। এলেবেলে গাড়ি হলে হবেনা, BMW ছাড়া এনাদের গুহ্যদ্বার রাষ্ট্রীয় আসনে আসীন হওয়ার মত যথেষ্ট সম্মানের অভাব বোধ করছেন। কতবড় ব্যাভিচারি নির্লজ্জ হলে এমনটা করা সম্ভব

পাতি বাংলাতে, হারামের মাল আত্মসাৎ, সরকারি টাকার হরির লুঠ, এবং ভণ্ডামির একটি নিখুঁত উদাহরণ এই লোকপাল কমিটিটা। ভারত রাষ্ট্রের প্রধান দুর্নীতি দমন তদারককারী হিসেবে কাজ করার কথা যাদের, তারা তাদের মূল কর্তব্য পালন ভুলে আয়েসি বিলাসিতায় লিপ্ত। এরপর এনাদের অতৃপ্ত বাসনা পূরণ করতে মুজরার জন্য লৌক্ষৌ স্টাইলে নবাবী মজলিস, রাতপরীদের নিয়ে মৌতাতের জন্য ছামিয়ার দরপত্র অর্ডার না করলেই সেটা আশ্চর্য হবে

সাত সদস্যের জন্য প্রতি বিএমডব্লিউ গাড়িতে ৭০ লক্ষ টাকা খরচ করা সত্যিই যুক্তিযুক্ত বটে। যেখানে স্বঘোষিত প্রধান সেবক ১০ লাখী স্যুট পরিধান করে- সেই দেশের নাগরিকদের কাছে ‘লোকপালের’ BMW না চড়াই বরং অপমানজনক। এই লোকপালের পদে পৌঁছাতে কম ঘুষ তো আর দিতে হয়নি, তারপর RSS এর পশ্চাদলেহন করতে হয়েছে! তাহলে আজ কেন  ব্যক্তিগত আরাম, বিলাসিতা এবং জাগতিক সুখ ভোগ রবেনা তারা! দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করার জন্য এই প্রতিষ্ঠান নামেই রয়েছে সাইনবোর্ড হিসাবে, আসলে প্রভুপাদ শ্রী শ্রী মোদী ও তার স্যাঙাৎ দের বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে সেই প্রমান গুলোকে নষ্ট করা এদের মুখ্য কর্তব্যবিজেপি ও RSS নেতাদের তস্করীয় ভোগ সর্বস্ব জীবনচর্যায় যাতে কোনো ধরণের নৈতিক স্খলনের না হয়, তার দিকে শ্যেনদৃষ্টি রাখাই ভোগপালেদের কাজ।

পরিসংখ্যান বলছে, বিগত পাঁচ বছরে ৮,৭০৩টি অভিযোগের মধ্যে মাত্র ২৪টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, আর তার মধ্যে হতে মাত্র ছয়টি তদন্ত মামলার মুখোমুখি হয়েছিল। ৯০% অভিযোগ কারিগরি বিষয়ের উপর দায় চাপিয়ে সেগুলো নথিবদ্ধ করতে প্রত্যাখ্যান করেছে মাননীয় ভোগপালেরাকরলে বিচারপতি যশোবন্ত ভার্মার ঘরে ‘নগদ’ সুখ কী সম্পন্ন হতো? গিরিরাজ সিং এর স্ত্রীর সম্পদ কীভাবে বৃদ্ধি পেতো! রীলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের Adler Industrial Services কোম্পানির ৭১৮% বৃদ্ধি হতো? ভোগপালরা ভোগ করবে, নাকি ফালতু ফালতু ‘অমৃতকালের মন্ত্রীদের’ বিরুদ্ধে অভিযোগ নেবে, সুতরাং তদন্ত কোন গ্রহের বস্তু বটে!

‘মিলে সুর মেরা তুমহারা’ গান গাইতে গাইতে ‘অযোগ্য’ হয়েও পদে আসীন হওয়া এমন একটি প্রতিষ্ঠান ন্যায়বিচার প্রদানের করবে শুনলে গাধায় হাসবে। ফলত, কর্মহীন ভোগপালের গোটা সিস্টেমটা আনুষ্ঠানিকতায় ধড়াচুড়োতেই অধিক আগ্রহী হিসাবে প্রমাণিতকেন অযোগ্য, আসলে অবসরপ্রাপ্ত কিছু নাগপুরী গোয়ালঘরের নৈতিকতাহীন ব্যক্তি, যারা কর্মজীবনে RSS এর পক্ষে কাজ করে গেছে, তাদের একটা বিলাবহুল বানপ্রস্থ দেওয়ার নাম লোকপালের মত কমিটিগুলো। মমতা ব্যানার্জী যেমন শাঁওলি মিত্র, অপর্না সেন দের একটা করে এঁটোকাঁটা কমিটিতে ঢুকিয়ে দিয়েছিলো সরকারি টাকা লুটে খাও প্রকল্পের অধীনে, বিজেপি আমলের লোকপালও তেমনই এঁটোকাঁটা কমিটি।

জনসাধারণের আস্থার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে গেছে আন্না নামের পাপাচারীটা, এজ তার মুকখে কুলুপ- যেন চির মৌনব্রত পাল করছে। তাহলে আজকে এই ভোগপাল পোষার নামে করদাতাদের অর্থের এই অপচয় কী এমনি এমনি? আজ্ঞে না, তদন্ত করতে গেলে ঠগ বাছতে গাঁ উজার হয়ে যাবে, মোদী ও তার সরকারের সবকটা মন্ত্রী দুর্নীতির আখড়া, কাটমানির অবতারএনাদের ঘনিষ্ট সবকটা আমলা, পুলিশকর্তা, অধিকাংশ বিচারপতিই ঘুষখোর ও দুর্নীতিবাজ। লোকপালেরা কখনও এদের বিপক্ষে একটাও টুঁ শব্দ করেছে! বরং প্রত্যেককে ছেড়ে রেখেছে, সেখানে সামান্য ৭০ লাখের গাড়ি চাওয়া কী খুব বেশী চাওয়া! অবসরপ্রাপ্ত বলে কী তারা করের টাকার হরির লুঠ আর চুরি থেকে বঞ্চিত থাকবে?

বিলাসবহুল গাড়ি প্রদর্শনের পরিবর্তে, লোকপাল সদস্যদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কার, অভিযোগের গুরুত্ব অনুধাবন করে সেটাকে দক্ষতার সাথে তদন্ত করা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের দিকে মনোনিবেশ- অন্তত মোদী সরকারের জামানাতে বেনা। করলে নিজের রাজত্বেই সবকটার হাজতবাস নিশ্চিত। দেশের সর্বোচ্চ বিচারব্যবস্থা যেখানে আস্থার ভিত্তিতে রামমন্দিরের রায় দেয়, বিনা বিচারে উমর খালিদরা জেলে পচে, ধৃতরাষ্ট্র সেজে বিচারপতিরা বিচারের প্রতীক অন্ধ নারীটার রজঃস্রাবের ন্যাকড়া নিজেদের চোখে বেঁধে রাখে; সেখানে এই বেজন্মার বাচ্চা ভোগপাল গুলো যে দুর্নীতি দমন সংস্থার মাথায় বসে জবাবদিহিতা পরিবর্তে চুরিই করবে, এতে আর আশ্চর্য কোথায়

এটাই মোদীর আতঙ্ককাল। মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়



 


বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫

পতিতা মিডিয়া


কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে কিছু 'অফবিট' বিষয়ে পড়াশোনার দরুন, আলাদাভাবে কিছু জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পেয়েছিলাম, যা অনেকের না থাকাটাই স্বাভাবিক

সামাজিক নৃবিজ্ঞান হল তেমনই বিষয়ক অধ্যয়ন। এই সুত্রে ছাত্রজীবনে কোলকাতার ‘সোনাগাছি’ নামক কুখ্যাত পতিতাপল্লীতে একটা সমীক্ষা করার সুযোগ পেয়েছিলামসেখানকার রূপজীবী মেয়েরা কী ভাবে এখানে এসেছে, কে বিক্রি হয়ে! কে জবরদস্তি কিম্বা কে সেখানেই জন্মেছে! কে কতটা রোজগার করে, সেই রোজগার কোথায় যায়, কারা তাদের গ্রাহক, তারা কীভাবে চিন্তাভাবনা করে, কীভাবে তাদের সামাজিক সম্পর্ক গুলো গঠিত ও রক্ষিত হয় ওই পরিবেশে ইত্যাদি গুলো স্বচক্ষে দেখেছিলাম

একটা অদ্ভুত বিষয় লক্ষ্য করেছিলাম, প্রথমত সমাজের প্রতিটি অর্থনৈতিক স্তর থেকেই এই পেশাতে মহিলারা রয়েছে। এতো বিপুল সংখ্যায় মহিলা যে এই পেশাতে স্বেচ্ছায় আসে, নিজে না দেখলে বিশ্বাস করা অসম্ভব ছিলো। মোট যৌনকর্মীদের ৬৭% এর উপরের মহিলাই মূলত স্বেচ্ছায় এসেছে, পারিপার্শ্বিক নানা গল্প, অধিকল্প, কাহিনী, অত্যাচার, পারিবারিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও, মূল যেটা হল- অসংগঠিত শ্রমের ক্ষেত্রে অন্যান্য শ্রমজীবী বৃত্তিতে একজন অদক্ষ মহিলার যতটা আয় করা সম্ভব, তার চেয়ে অনেক কম পরিশ্রমে যৌনপেশায় অনেক বেশী রোজগার সম্ভব। কেবল আবেগ বিসর্জন দিয়ে, লৌকিকতাকে হজম করে, নিজেকে লজ্জা ঘেন্নার উর্ধ্বে নিয়ে যেতে হবে। প্রথম দিন, প্রথম বার, প্রথম কয়েক মিনিট শুধু লজ্জা বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব, এরপর শুধুই অভ্যাস। বাকীটা পেশাগত সমস্যা, আপদ, বিপদ, জটিলতা। এখানে কোনো নীতি, কোনো নৈতিকতা, কোনো অবৈধতা, কোনো ভদ্রতা, কোনো নিষিদ্ধতা, কোন দায়বদ্ধটা নেই।

অধিকাংশ রূপজীবী সম্বন্ধে ওখানকার এক ‘মাসী’ বলেছিলেন- বাবারে, এখানে এসে এরা বেশ্যা হয়নি, বেশ্যা হয়ে তারপর এরা এখানে এসেছে। এ পাড়াতে আসার আগে কজনের সাথে শুয়েছিলো, সেটা বড় বিষয় নয়, একান্তই কুমারী মেয়েটিও মানসিকভাবে বেশ্যা না হলে স্বেচ্ছায় এখানে এসে পৌঁছাতে পারতনা। পৃথিবীর সব মহিলাই কারো না কারো সাথে শোয়, এটাই স্বাভাবিক। অনেকে একজনের সংসারে থেকে অন্য একাধিক পুরুষের সাথে শারীরিক সম্পর্ক রাখে, তারাও আসলে বেশ্যা, কিছু একটা কুযুক্তি খাঁড়া করে এই অবৈধ পাপকে ন্যায়সঙ্গত বানিয়ে নেয়। মহিলার বদলে তিনি ‘পুরুষ’ হলেও সত্য বদলায়না। আজকাল লিভইন কিম্বা বয়ফ্রেন্ড পালনের নামে অধিকাংশ মেয়েরা যতদিনে বিয়ের পিঁড়িতে পৌঁছায়, ততদিনে ‘আমার শরীর আমার অধিকার’ এই পশ্চিমা মন্ত্র জপে শতাধিক পুরুষের ইমানদণ্ডে সাওয়ার হয়ে ফেলে, এটাই এই প্রজন্মের সতী সাবিত্রীর সাত্ত্বিক সংজ্ঞা।

কেন এই বেশ্যাদের টানলাম আজ? কারন সুধীর চৌধুরী একটা পডকাস্ট। দেশজ মিডিয়া বেশ্যাদের এককালের মক্ষীরানী, এখন দালাল মাসি। আপনি উপরের গোটা লেখাটাতে ‘বেশ্যা’র স্থানে সাংবাদিক, আর পতিতাপল্লীর স্থানে ‘গোদি মিডিয়া’ পড়ুন, বাকী ১টা শব্দ আপনি পরিবর্তণ করতে পারবেননা, হুবহু মিলে যাবে ছত্রে ছত্রে। দেশজ মিডিয়ায় এরা কেউ পেটের দায়ে গদি মিডিয়া বা বেশ্যা মিডিয়া হয়নি, এরা ‘বাই চয়েস’ এটা হয়েছে। অযোগ্য সাংবাদিকেরা বিজেপির কাছে ‘লজ্জা ঘেন্না ইজ্জত’ বিক্রি করে, অর্থের বিনিময়ে বিকিয়ে গিয়ে সমাজে মিথ্যা, ঘৃণা, হিংসা, অপসংস্কৃতি, কুসংস্কার, বিদ্বেষ প্রচার করেছে- শুধুমাত্র যোগ্যতার বাইরে গিয়ে রোজগারের জন্য। এরাও আসলে সামাজিক বেশ্যাই, শুধু গোদি মিডিয়া নামের একটা সোনাগাছির রেড লাইট এরিয়া খুঁজে নিয়েছে, এটাই এদের একমাত্র সর্বোচ্চ পেশাগত নৈপুণ্য

এই মিডিয়া বেশ্যাদের অর্থের যোগান আসছে কোথা থেকে? জনগণের করের টাকায় সরকারে থাকা RSS- মিডিয়াকে নিজেদের ‘বাইজি’ বানিয়ে নিয়ে ইচ্ছামত নাচাচ্ছে। সেটা সরাসরি বিজেপি দলের মাধ্যমে হোক কিম্বা রাজ্যে রাজ্যে RSS এর বাফার রাজনৈতিক দল- যেমন তৃনমূল, নিতীশ, নবীন পট্টনায়ক কিম্বা আকালি দলের মত সরকারের মাধ্যমে ‘বেশ্যা’ মিডিয়াকে আর্থিকভাবে পুষ্ট করেছে। তৃণমূল বিজেপির মধ্যে কোনো সেটিং নেই, একে অন্যকে ছাপিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা আছে। কারন দুটো দলেরই মালিক এক, আলাদা আলাদা মঞ্চে আলাদা আলাদা ভাবে এরা অভিনয় করছে, ক্ষমতায় যে খুশি থাকুক- মালিক RSS এর উদ্দেশ্য সাধন হয়ে যাচ্ছে। একই ভাবে বিচার ব্যবস্থার একটা অংশকেও পতিতাদের মত লজ্জাহীন, নিকৃষ্টভাবে বিবস্ত্র করে ফেলেছে RSS এর সমাজবিজ্ঞানীরা। দিল্লি কেন্দ্রিক প্রিন্ট আর ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাথে, আমাদের বাংলার আনন্দ বা নিরানন্দ গ্রুপ কেউ কম যায়না, সকলেই এই ‘পতিতা’ মহাবিশ্বের অংশ। কেউ সোনাগাছিতে দোকান খুলেছে, তো কেউ কামাঠিপুরায়, কেউ জিবি রোডে; এটুকুই এদের ফারাক।

একটা সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে কিছুদিন নিত্য বসবাস না করলে, তাদের সম্বন্ধে গভীরভাবে জানা সম্ভব নয়। নিগূঢ় পর্যবেক্ষণ করে এবং তাদের সামাজিক জীবনযাত্রায় অংশগ্রহণ করে শেখার মাধ্যমে, সামাজিক নৃবিজ্ঞানীরা তাদের রীতিনীতি এবং জীবনযাত্রাকে গভীরভাবে বর্ণনা করতে সক্ষম হন। সংস্কৃতি এবং সমাজের তুল্যমূল্য মিল এবং পার্থক্য অন্বেষণ করে, অন্যান্য ইতিহাসবিদ, সমাজ বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকদের দেওয়া তথ্য উপাত্তের সাথে সাধারণীকরণ, একত্রীকরণ তথা সমাবেশ করে, অঙ্কের সুত্রে ফেলে, অর্থনীতির আঙিনাতে সমস্তটার প্রকৃতি বিশ্লেষণের মাধ্যমেই- সর্বোত্তমভাবে সেই সমাজকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব।

প্রতিটি সমসাময়িক বিশ্বে সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বিষয়গুলি সমাজ বিদ্যায় গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। ইতিহাস থাকবে, কিন্তু সে ইতিহাসকে সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করে, তার শিক্ষা গুলো সমাজে ছড়িয়ে দিতে গেলে সোশ্যাল ইঞ্জিয়ারিং একান্ত আবশ্যিক। আপনি সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী, দার্শনিক যে খুশি হন, নৃতাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পাওয়া তথ্য উপাত্ত ভিত্তিক অনুপ্রেরণা ছাড়া আপনি শ্রেণীর কাছে পৌঁছাতেই পারবেননা, পদ্ধতিটা আপনি জেনে বুঝে প্রয়োগ করুন, কিম্বা না জেনে বুঝে- দিনের শেষ পথ টাই

আমাদের বাংলার বামপন্থা রাজনীতি এখানে এসেই ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে, সমাজের সাথে যে এনারা কানেক্ট করতে পারছেন না, সেটাই এনাদের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বোধের বাইরে। তাই মুখে শ্রেনী শ্রেনী করে মুখে ফেনা তুলে ফেললেও, শ্রেনী এদের যোগ্য মনে করছেনা, নিজেদের আওয়াজ মনে করছেনা। শুধুমাত্র সৎ হওয়া কোনো মাপকাঠি হতে পারেনা, নিজেদের ‘শিক্ষিত’ বোদ্ধা দাবী করলে সমাজের পিছিয়ে পরা মানুষটা বামেদের পিছনে এসে লাইন দেবেনা, এই সত্যিটা বুঝতে হবে। আর বুঝে সেই মত কর্মসূচী নিতে হবে, দীর্ঘমেয়াদী হলেও এই পথে সফলতা আসতে বাধ্য। নতুবা সমাজে রাজনৈতিক বেশ্যাদের রাজত্ব কায়েম করেই রাখবে পুঁজিবাদ, বিকল্পের সন্ধানে থাকা কমরেডদের গালভরা বিপ্লবী স্লোগানের আঁচে হাড়ির জল ফুটবেনা।

RSS খুব মোটা দাগে সোস্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে ভারতীয় সমাজের উপরে। প্রশান্ত কিশোরের আই-প্যাকও সোশ্যাল ইনঞ্জিয়ারিং-ই করছে, নাম যা খুশি দিক। গোবলয়ে যা খুশি হোক, আমাদের পশ্চিম বাংলাতে বিজেপি আসলে একটা কনসেপ্ট, কোথাও এদের সেভাবে কোনো মজবুত সংগঠন নেই। এদের নেতৃত্ব আছে, আর আছে ভোট। সংগঠন সবটাই RSS এর, তাই RSS এর মোকাবিলা কনসেপ্ট স্তরে না করতে পারলে বিজেপিকে থামানো যাবেনা। RSS যেখানে সরাসরি বিজেপিকে ঢোকাতে পারেনি, সেখানে একটা মুখোশ বা ‘বাফার’ দল তৈরি করেছে। কংগ্রেসের ভেঙে আসা অংশ অথবা তাদের লোভী নেতাদের দিয়ে ছোট ছোট ‘বাফার’ দল তৈরি করিয়েছে গোটা দেশ জুড়ে। কোথাও এর নাম তৃনমূল, কোথাও নীতিশ, কোথাও এই বাফারের নাম নবীন পট্টনায়ক। এদের দিয়ে কমিউনিষ্ট ও সোসালিষ্ট দলগুলোকে RSS আস্তে আস্তে খেয়ে নিয়েছে। বর্তমানে এক দশকের বেশী কেন্দ্রীয়ভাবে RSS রাষ্ট্রের ক্ষমতায় থাকার দরুন, বাফার দলগুলোর প্রয়োজন ফুরিয়েছে। ফলত, আজকে RSS নিজেই এদের গিলে নিয়ে তাদের মূল রাজনৈতিক দল বিজেপিকে সামনাসামনি নামিয়ে দিয়েছে।

RSS, বহুত্ববাদী পৌত্তলিক সনাতনীদের, একেশ্বর বাদীদের মত একটা রামের দিকে বেঁধে ফেলতে চাইছে। তাই তো এরা- কে কি খাবে, কে কি পড়বে, কে কি পরিধান করবে, কোথায় যাবে বা কোথায় যাবেনা, এই সব মৌলিক অধিকারে অনৈতিক হস্তক্ষেপ করছে। আজ থেকে ২০-৪০ বছর আগের গ্রামীণ ভারতীয় পৌত্তলিক সমাজে, তৎকালীন যে সনাতনী সামাজিক ধর্মীয় সংস্কৃতি ছিলো, তাকে প্রায় ৯০% খেয়ে ফেলেছে RSS বিজেপির প্রচারযন্ত্র। এইভাবে চললে আগামী তিন চার দশক পর হিন্দুত্বও একেশ্বরবাদী ধর্ম হিসাবেই পরিগনিত হবে, নতুবা বহু ভাষাভাষী ভারতকে একটা কমন প্রোগ্রাম দিয়ে তারা বাঁধতে পারবেনা। এই কারনেই কাকদ্বীপে মুর্তি ভাঙলে, সেটাকেই RSS ঈশ্যু বানিয়ে তুলছে- বিজেপি তৃনমূল বাইনারির মাঝেই যেন সমাজটা ডুবে থাকে। এটাই এদের সাফল্য।

RSS এর এই যাত্রা পথে, তাদের বিচারধারাকে তৃণমূল স্তর অবধি পৌঁছে দিতে- সবচেয়ে বেশী যোগদান রয়েছে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাথে সাথে বলিউডি সিনেমারআজকে দেখুন দুটোই অন্তিম শ্বাস নিচ্ছে, এরা জানে এরা কোন পাপটা করেছে, অর্থের বিনিময়ে একটা সমাজকে আড়াআড়ি ভাগ করে দিয়েছে শেষ তিনটে দশক ধরে। সাধারণ মানুষ এদের থেকে গণহারে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, বিজেপি সরকারের চেষ্টার অন্ত নেই এদের টিকিয়ে রাখার। সোস্যালমিডিয়াতে সরকারের সেভাবে কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, আজকে সোস্যাল মিডিয়াতে একটা মিথ্যা প্রপাগান্ডামূলক প্রচার এলে, প্রায় সাথে সাথে তার পালটা চলে আসেযে কেউ তার জবাব দিতে পারেন, জনগন তার বিচারবুদ্ধি দিয়ে তুল্যমূল্য বিচার করতে পারে। কিন্তু সোস্যালমিডিয়া যুগের পূর্বে এই বিকৃত মিডিয়া আর সিনেমা- একতরফা আপনার আমার মনে বিদ্বেষের বিষ ঢুকিয়ে গেছে দিনের পর দিন। ঠিক আজ এই মুহুর্তে এরা সবকটা চ্যানেল ও সিনেমার মাধ্যম মরে গেলেও, এদের পাপ খন্ডন হবেনা। আগামী ৩০ বছর ধরে অন্তত ৩টে প্রজন্ম এই বিদ্বেষ, ঘৃণা বয়ে নিয়ে চলবে

বামেরা কেন এলো এই বেশ্যা মিডিয়ার আলাপে? আসলে ২০০৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকারে উপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহারের পর থেকেই RSS বিজেপির এই উত্থানটা সম্ভব হয়েছে সরকারি প্রশাসনিক স্তরে। মনমোহন সরকারের উপরে ‘ওয়াচ ডগের’ যে ভূমিকাটা বামেরা রাখতো, সেটা সরে যাওয়া একটা ব্লান্ডার। এই ফাঁক গলেই দুর্নীতি আর দুর্নীতির ধুয়ো ধরে RSS বিজেপি- কংগ্রেসকে প্রতিস্থাপিত করে ফেলে। ফলাফল আজকের উন্মাদ ভক্তদের ভারতবর্ষ, মোদীর আতঙ্ককাল। স্বাধীনতা পররর্তী সময় থেকে তো বটেই, ৭০ বা ৯০ দশকের শ্রেণীর সাথে আজকের ২০২৫ এর শ্রেণী মন মানসিকতা বহু পার্থক্য এসে গেছে বিশেষ করে ইন্টারনেট সহজলভ্য হওয়ার পর জগৎ জুড়ে চাহিদা, যোগান আর অর্থনীতির মৌলিক সংজ্ঞা গুলোই ধাক্কা খেয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। সেখানে প্রতি আক্রমণের পদ্ধতি, হৃত জমি পুনরুদ্ধার আর গণতান্ত্রিক ভাবে বৈপ্লবিক পুনরাক্রমণ সম্ভব নয়- তথাকথিত কপিবুক স্টাইলের তাত্ত্বিক বাম পন্থায়। এই সামান্যতম ধারণাটাই সর্বোচ্চ নেতৃত্বের মধ্যে আসছে না, ফলে অজুহাত হতাশা বিলাপ আর দোষারোপের গণ্ডিতেই- তাদের বিপ্লব প্রতি বিপ্লবের যুদ্ধ আঁটকা পরে গেছে

মোদ্দাকথা, দেশের স্বার্থে বামেদের শক্তিশালী হওয়াটা অন্তত জরুরী, আর শক্তিশালী হতে গেলে প্রান্তিক মানুষের আস্থা ভরষা ফিরে পেতে হবে। বাৎসরিক ব্রিগেড নয়, রোজকার মিছিলে তাদের স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান থাকতে হবে। তত্ত্বের কচকচি, ইতিহাসের দৃষ্টান্ত, পার্টির শৃঙ্খলা ইত্যাদি কপচিয়ে, টিভিতে বা সোস্যালমিডিয়াতে বোদ্ধা সেজে থাকলে, তা কেবল দেখতেই ভালো। খানিকটা আত্মরতির বাইরে- এতে না দলের, না দেশের, কারো জন্য মঙ্গল নেই। যদ্দিন এটা না হবে, ততদিন পুঁজিবাদ ঠিক একটা RSS বানিয়ে নেবে, জনগণের সম্পত্তি পাচার হয়ে যাবে, বেশ্যা মিডিয়া সেটাকেই দেশপ্রেম বলে প্রচার করবে। বর্তমান বাজারি মিডিয়া বেশ্যা, আর বেশ্যাদের থেকে স্বতন্ত্র দুরত্ব রক্ষা করাটাই ভদ্রসমাজের সৌন্দর্য। এই বিকৃত বেশ্যা মিডিয়ার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক যুদ্ধ করাটা বামেদের দায়।

ইতিহাস সাক্ষী, হিংসার কারবারীদের অন্তিম পরিনিতি অতি ভয়াবহ, ইতিহাস খুলে দেখুন- নির্মম পরিনতি অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। কিন্তু তার আগে আমাদের আরো কত প্রাণের বলিদান দিতে হবে, কত রক্ত গঙ্গা বইবে সেটাই জানিনা।

রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫

বাঙালির ভূত

 

ভুতকে সেই অর্থে বাঙালী কোনো কালেই জাতে তুলতে পারেনি। 

সাহিত্যের ভুত কখনই সেভাবে একটা জলজ্যান্ত চরিত্র হতে পারেনি, হাস্য কৌতুক বা গা ছমছমে পিশাচ রূপী পার্শ্ব চরিত্র হয়েই রয়ে গেছে। বাস্তব জীবনে ভুতের ভয়ে বুক ধুকপুক করলেও গবেষণায় দেখা গেছে ৯০% ভীতুর ডিম প্রকাশ্যে ভুতের ভয় স্বীকার করেনা লোকলজ্জায়। আবার অদ্ভুত বাঙালি নাস্তিক সমাজ আছে, যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস না করলেও ভূতে ভয় রয়েছে, সে ভূত অতীতকাল নয়- পাতি বিদেহি আত্মা, তাদের যুক্তিও আছে অতিপ্রাকৃত শক্তির উপরে।

ওদিকে ব্যাঙ্কোর স্কন্দকাটা ভূত, আর ডাইনি নিয়ে নটসম্রাট শেক্সপিয়ার যে কালজয়ী ম্যাকবেথ লিখে গেলেন, তাকে কেউ ভৌতিক উপন্যাস বা নাটক বলেনা, শুধু কাল্ট বা অমর ট্রাজেডি হিসাবে মহা মহা মহা সমাদৃত। ড্রাকুলা কিম্বা মেরি শেলীর ফ্রানকেনস্টাইনও আদতে আধাভৌতিক। এর বাইরে জম্বি, ভ্যাম্পায়ার, গবলিন কিম্বা হালের হ্যারি পটারেও ভূতকে কী দারুন ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। আরব্য রজনী বা ওই যুগের মধ্যপ্রাচ্যের সাহিত্যের  জ্বীন গুলোকে দেখুন, কী সব একেকটা চরিত্র, তাদেরকে কেন্দ্র করে গল্প, তারাই মূল চরিত্র।

পাশাপাশি আমাদের শীর্ষেন্দুর ভুত গোবেচারা বোকার হদ্দ, লীলা মজুমদার হয়ে সত্যজিতের ভুতও জাতে উঠতে পারেনি। বিভূতি বাবুর তারানাথের ভুতও মূল চরিত্র হয়ে উঠতে পারেনি। এমন বহু বাঙালী বা ভারতীয় লেখকের লেখনিতে ভুতের নানান উপদ্রব থাকলেও, সেগুলো শেষমেষ সাইড নায়ক হয়েই রয়ে গেছে। হরিনারায়ন চট্টোপাধ্যায়, সৈয়দ মুজতবা সিরাজ, অদ্রীশ বর্ধণ, হিমানীশ গোস্বামী, প্রমুখেরা ভূতকে এনেছেন সাসপেন্স তৈরির চরিত্র হিসাবে, ভুত কোথাও মুখ্য চরিত্র নয়। যেমন আমাদের ভাতের সাথে নানান পদ খায়, এখানে ভাত নায়ক, তরকারিরা রোজ বদলায়, আমাদের ভূতেরা তেমন মুখোরোচক তরকারি।

আমাদের অধিকাংশ সাহিত্যিক লেখকেরা বিদেশী সাহিত্যিকদের নিরিখে ভূতেদের প্রেস্টিজ পাংচার করে দিয়েছেন। সামান্য কিছু হানাবাড়ি, শ্মশান বা গোরস্থানের কিছুটা গায়ে কাঁটা দেওয়া ছমছমানি থাকলেও, বাকীরা প্রায় সবাই নির্বিষ কোমল হাস্যরস। আমাদের সাহিত্যে ভুতেরাও আত্মহত্যা করতে চায়, ভাবুন অবস্থা। 

সাহিত্যে ভূতের আলাপ হবে আর দাড়িবুড়ো বাদ যাবে সেই ধৃষ্টতা কার রয়েছে। বাংলা সাহিতে তিনিই প্রণম্য, ভূতকে চরিত্র বানাতেও। তিনি সিম্পলি বাকিদের বলতেই পারেন 'তফাৎ যাও তফাৎ যাও, সব ঝুট হ্যায়'। সেই কবিঠাকুরের ক্ষুধিত পাষাণ বাদে, মণিহারা,  কঙ্কাল কিম্বা মাস্টারমশাই, কোথাও ভুত সেভাবে মুখ্য চরিত্র হয়ে উঠেনি যারা রক্ত মাংসের মানুষের সাথে প্রভেদ ঘুচিয়ে দিয়েছে। 

আমাদের বাঙালী শিশুর জন্মই হয় জুজু নামের ভুতের সাথে, এর সাথে রাক্ষস খোক্কসের গল্প দিয়ে শৈশবের যাত্রা শেষ হতে না হতে, কৈশোরে ব্রহ্মদৈত্তি আর মামদোর পাল্লায় পড়ি। প্রথম যৌবনের প্রেমে ছ্যাকা খেয়ে সবাই শাঁকচুন্নি দর্শন করি। আমাদের বাঙালী জীবনটাই ভুতময়, কিন্তু বড্ড রুগ্ন আর অধিকাংশই আদর্শবান সব ভুত, সবাই পার্শ্বচরিত্র। 

সে যাই হোক, কোন সাহিত্য বড় সেটা আলাপের বিষয় নয়, সকলে তার স্থানে সুমহান। বিষয় হচ্ছে আমাদের সংস্কৃতি কোমলমতি ভুতেদের নিয়ে, আদুরে পোষ্যের মত কিছুটা, যেখানে শিরশিরানি ভয়ও আছে আবার এ্যাডভেঞ্চারও আছে। এটাই 'আমাদের' নিজস্বতা।

তাই আজকের এই ভূত চতুর্দশীর সাঁঝবেলাতে এটাই নাহয় থাকুক। এটা যাদের ধর্মীয় উৎসব, তাঁরা ধর্ম হিসাবে পালন করুক, আমরা নাহয় এটা আমাদের ছেলেবেলার ভয়কাতুরে সন্ধ্যা গুলোকে উদযাপন করি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে।

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...