কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০১৬
অকবির জন্মকথা.
বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৬
আমি ও অকপট
চব্বিশে আগষ্ট,২০১৬
বৃহস্পতিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৬
হাগু পুরাণ
১) ডেলা বাঁধা কোয়া হাগা।২) ডেলা বাঁধা সসেজ হাগা৩) ছদ্মবেশী সসেজ হাগা, যার গায়ে ফাটলের নক্সা আঁকা৪) সর্পিল নরম হাগা অনেকে একে সুস্বাদু জিলাপির সাথেও তুলনা করে থাকে।৫) স্পষ্ট প্রান্ত কাটা মোটা হগা, যাহাতে কালো রেখা সহ রক্তের ছাপ দেখা যায়।৬) নাদি হাগা৭) জীর্ণ প্রান্ত সঙ্গে ফুঁয়োফুঁয়ো টুকরা, এটি একটি আবেগপ্রবণ হাগা। এককথায় ভসকা হাগা, যাতে বায়ুর মিশ্রন থাকে।৮) পলকা ডট হাগা, এটি সাধারনত তীব্র বায়ু নির্গমনের সাথেসাথে নির্গত হয়, যার দ্বারা মূলত প্যানে বা কমোডে শৈল্পিক দাগ গুলো রচিত হয়।৯) ল্যাদ হাগা।১০) তরল হাগা (এর মধ্যেও প্রচুর শ্রেনি বিভাগ রয়েছে)
হাগছি মোরা হাগছি দেখোমুক্তস্থানে আহ্লাদীধরফরিয়ে ভরভরিয়েমুক্তহাগার পাল্লা দিই।অথবা
হারে রে রে রে রেআমায় হাগতে দেরে দেরেযেমন হাগে বনের পাখিমনের আনন্দে… রে।
বৃহস্পতিবার, ২১ জুলাই, ২০১৬
মেলার গান
মেলা আর মিলন শব্দটি বোধ হয় একই ধাতু থেকে উৎপত্তি। মেলাতেও মিলন হয়, আবার মিলনবেলাতেও মেলা বসে যায়, হয়ত সেটা সুখের মেলা বা সোহাগের। তাই মিলন আর মেলা একে অপরের পরিপূরক। মেলা ব্যাপারটা এই প্রজন্ম কিছুটা জানলেও আগামী ডিজিটাল
প্রজন্ম কিন্তু জানবেও না কি ছিল এই মেলা। ফিল্ম আর কাব্যেই হয়ত উল্লেখ পাবে।
জানবেই না, যে কি অমোঘ টান ছিল এই মেলার, সারা সারা বছর
অনন্ত প্রতিক্ষা।
ইন্টারনেট উত্তর যুগে তথা আজ থেকে কমবেশি ২৫ বছর আগেও মেলা কতটা প্রাসঙ্গিক
ছিল জনজীবনে, আজ হয়ত পুরোটা অপ্রাসঙ্গিক হয়ে
যায়নি,
তবে আজকের বিশ্বায়নের ভারতীয় জীবনে মেলার
প্রাসঙ্গিকতাও নেই। হয়ত এভাবেই যুগের পরিবর্তন হয়। আজকাল ফুড ফ্যাস্টিব্যাল হয়, ট্যুর ফ্যাস্টিব্যাল, শপিং ফ্যাস্টিব্যাল। গালভরা নাম সাথে তার মুল্য, যেন দেখনদারিটাই মুখ্য, ওতেই
আত্মতৃপ্তি। সিঙ্গাপুর -দুবাই-হংকং-ব্যাঙ্কক- আজকের
পৃথিবীর মেলার টপ গন্তব্য, যত মাদারির ভিড় ওখানেই।
যদিও গোটা অন্তর্জালের পৃথিবিটাই তো একটা মেলা। কত্ত মানুষ গিজগিজ করছে সব সময়।
হরেক স্যোস্যাল মিডিয়া, কোটি কোটি মানুষ সারা বিশ্বজুড়ে, পোষ্ট লাইক কমেন্টের বন্যা। আপন বাপন চৌকিচাপনের দিন শেষ, সবসময় হৈহৈ রইরই কান্ড- ২৪x৭ মেলা।
যা ইচ্ছা কেনা যায়, আলাপ বিলাপ সব
কিছুই। শুধু মাধ্যমটা পাল্টেছে। দ্রুততম যুগে সংজ্ঞা বদলাচ্ছে সবকিছুরই, সেখানে মেলাও বদলাচ্ছে।
আগে সার্কাসে বাঘ সিংহ থাকত, ওরা হিংস্র জানোয়ার, আজকাল সরকার
থেকে বন্ধ করে দিয়েছে, মানবিক কারনে। শুধু মানুষই খেলা
দেখায়, হয়ত এটা রূপক, কারন মানুষের হিংস্রতা আজ পশুর হিংস্রতাকে শত গুন ছারিয়ে
গেছে। তাই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর জীব তো মানুষই, তাই ওরাই আজ সার্কাস করে। মেলায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়।
আজকাল মেলা আমার কাছে কিছুটা আতঙ্কের, আমার মত ভিতুর সংখ্যা দেশে কম নেই। কোথায় যে কখন কোন হিংস্র জানোয়ার থুরি
মানুষ থাবা বসাবে কেউ জানেনা।
ইথারীয় জগতেও বা শান্তি কই! এখানে মুখ কম মুখোশ বেশি। আগেকার অনেক বড়লোকের পার্টিতে মুখোশ পরে নাচ হত, এখন এমন অবস্থা যে নিজের আসল মুখকেই লোকে চেনেনা, সবাই মুখোশ দেখেই অভ্যস্ত। আসলে মেলার অত্তো বড় মাঠ আজ ৬
ইঞ্চি স্ক্রিনে বন্দি, হাঁটছি দুই
হাতের দুটো বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে। কতদূর আর পারা যায়।
গ্রামীণ
মেলার উৎপত্তি হাজার হাজার বছরের পুরনো, যেগুলো নানান ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং স্থানীয় গ্রাম্য সংস্কৃতি থেকে উদ্ভূত হয়েছিল। গ্রামীণ
জীবনে আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্য নিয়ে আসত তাদের কৃষি পণ্য, কুটির শিল্প, খেলনা, সুস্বাদু খাবার বিকিকিনির মাধ্যমে। মেলা ছিল মূলত অর্থনৈতিক উৎসব, সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন যুক্ত হয়েছিলো গ্রামীণ জীবনে
প্রাণচাঞ্চল্য নিয়ে আসতে ও মেলাকে আকর্ষনীয় করে তুলতে। ফলত যাত্রাপালা, পুতুল নাচ, জারি-সারি, নাগরদোলা, লাঠি খেলা, হাডুডু, ষাঁড় ও মোরগের লড়াই আয়োজন করা হতো। সমাজের প্রত্যেক
শ্রেণীর মানুষকে একে অপরের সাথে মেলামেশা ও ভাব বিনিময়ের এ এক চমৎকার সুযোগ ছিলো।
মেলার ইতিহাস সম্পর্কে খুব কমই জানা যায় তবে ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এজেকিয়েলের বইতে কৃশষকদের
একটা মেলার উল্লেকখ পাওয়া যায়। ৫৮৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ‘টায়ার’-কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার এবং মেলা কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা
করে মেলার বিবরণ লেখা রয়েছে। মেলা শব্দটি ল্যাটিন শব্দ ‘ফেরিয়া’ থেকে এসেছে যার অর্থ একটি পবিত্র দিন। মধ্যযুগে ইউরোপের
গির্জাগুলি মেলা এবং উৎসব আয়োজন করত মূলত বিকিনির মাধ্যমে রাজস্ব
আদায় করতে।
আমাদের দেশের মেলাগুলির বৈচিত্র একলপ্তে শ্রেণীবদ্ধ করা অসাধ্য প্রায়। চরিত্র্য
বিচারে মোটামুটি সাতটি শ্রেণীতে বিন্যস্ত করা যেতে পারে-
১) ধর্মীয় মেলা
২) কৃষিভিত্তিক পণ্য মেলা
৩) ঋতুভিত্তিক মেলা
৪) সাধু-সন্তের মেলা
৫) বরেণ্য ব্যক্তিত্ব কেন্দ্রিক স্মারক
মেলা
৬) জাতীয় দিবস উপলিক্ষ্যে সাংস্কৃতিক মেলা
৭) বাণিজ্যিক সামগ্রী প্রদর্শনী মেলা
ছোটবেলায় পৌষ সংক্রান্তি মেলায় যেতাম বাঁশি কেনার লোভে, সাথে প্রচুর সস্তার খেলনা। মাদারি, সাপখেলা, দড়ির উপর হাঁটা, জিমন্যাস্টিকস, চড়কি, কালিপটকা বাজি, ফুলছড়ি, তারাবাজি, জিলাপি, প্যাঁদানি পরোটা, চিনেবাদাম, বুড়ির চুল সাথে বায়োস্কোপ আরো কত্তো কি। সে এক মায়াবি পৃথিবী। তখন ভাবতাম
বড় হয়ে যখন নিজে পয়সা রোজগার করব যখন আর ভিড়ে হারিয়ে যাবার ভয় থাকবেনা, লম্বা হব, সবটা দেখতে পাব, তখন সবটা একা একা ঘুড়ব আর যা ইচ্ছা খাবো। আজ প্রায় ৫ ফুট
১১ ইঞ্চি,
পকেটে টাকাও থাকে, অন্তত সেই দিনের থেকে ঢের বেশি, হারাবার ভয় ঘুনাক্ষরেও নেই। কিন্তু সেই কচি মনটা আর নেই।
তেতো একটা মানব সিংহ আজ উলঙ্গ সমাজে
ধর্ষিত হচ্ছি, পারলে নিজেও
ধর্ষন করছি। লম্বা হলে যে মেলা দেখার বদলে নিজেদের ঘাঁ ভরা ন্যাংটা স্বরূপটা আবিষ্কার করব তা স্বপ্নেও ভাবিনি।
মাঝে ইস্কুল লাইফের শেষে খুচরো
প্রেমের হিরোগিরি চলত, ভিড়ে
সাইকেল চালানোর কেরামতি দেখিয়ে কোন বিশেষ জনের দৃষ্টি আকর্ষন পেতে। মনে পরে নগদ ২০
টাকা দিয়ে কাঁচের শিশিতে একটা রজনীগন্ধা সেন্ট মেলা থেকেই কিনেছিলাম, ওটাই আমার কেনা প্রথম প্রসাধন। হরেক রকমের সস্তার
সিগারেট খাওয়ার মজা আজ বেনসন হেজেসেও পাইনি। তার সাথে থাকত ওই বয়সের দুর্নিবার
আকর্ষন স্বল্পপোষাক পরিহিত সভ্য সমাজের চোখে অশ্লীল নেটো গান। একমাত্র মেলাতেই সেটা সহজলভ্য ছিল। সেদিন বক্ষবিভাজিকা, থলথলে চর্বিযুক্ত নাভি সহ বেঢপ থাই দেখেই পিসার টাওয়ার
হেলে যেতো। আজও দেখি, তবে দর্শনটা অন্যত্র এটাই যা ফারাক।
গ্রামীণ
মেলা ক্রমশ প্রযুক্তির অগ্রগতি ও আধুনিক জীবনের চাহিদার সাথে দৌড়াতে না পেরে।
টেলিভিশন,
মোবাইল ফোন, এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিনোদন পাচ্ছে, ঘরে বসে মনের মত পণ্যের ডেলিভারি পেয়ে যাচ্ছে, ফলে মেলার প্রতি আগ্রহ ও প্রয়োজন দুটোই কমে যাচ্ছে।
অথচ গ্রামীণ
মেলা আমাদের স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি মূল্যবান অংশ। স্থানীয় গ্রামীণ
অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানও বটে।
সঠিক উদ্যোগ এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা মেলাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতেই পারি।
গ্রামীণ মেলাগুলোকে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। প্রযুক্তির সাথে তাল
মিলিয়ে সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়াটাই গৌরবের। নতুবা পরবর্তী
প্রজন্মের কাছে এককালের বাংলার জনপ্রিয় গৌরবময় অধ্যয় চিরতরে হারিয়েই যাবে।
এখনও আমি নিয়ম করে মেলায় যায়, তবে শুধু মানুষ দেখতে। তবে দিনে কম, রাতের দিকেই যায়। বয়েস বাড়ার সাথে সাথে লম্বাতেও যেমন বেড়েছি, দৈহিক ও সামাজিক আয়তনেও প্রয়োজনের তুলনায় বেশিই বেড়েছি, তাই সমাজটাকে খুব কাছ থেকে দেখা যায়। কত ধরনের মানুষ
মেলাতে ভিড় করে, দোকানদার, সস্তায় মাল খোঁজা খদ্দের, বাবাজী, ফকির, জ্যোতিষ, দালাল, মজুর, চাষী, প্রেমিক, শিল্পী, বাবু, সেচ্ছাসেবক, পুলিশ, সাইকেল স্ট্যান্ডের ডাকপার্টী , চাঁদা কালেক্টর, পকেটমার, মাইক হাতে ঘোষোক, বাউল, সেবাদাসী, পর্ন সিডির দোকানি, বাঁশি, ক্যাটক্যাট করে আওয়াজ করা বাজনার ভিড়ে রাজনৈতিক নেতাদের ভিড় সহ
বেশ্যা, তার দালাল, নব্য প্রেমিকের ছোঁকছোঁক করা হাত- অগুন্তি উদ্দেশ্যের ছড়াছড়ি।
কত্তো কিছু-
কত ধরনের গন্ধ যে মেলাতে উড়ে বেড়ায় তার খবরই বা কজন রাখে! মেলার প্রতিটি ধুলোতে একটা করে গল্প লুকিয়ে
থাকে। তাদের না শুধালে তারা বলেনা। সমাজকে এতো কাছথেকে দেখা ও উপলব্ধি করার আজও
সেরা উপাই এই মেলা।
শুধু এগুলো দেখতেই আমি কমপক্ষে চারপাঁচটা মেলা ঘুরি, শান্তিনিকেতন পৌষ মেলা, আমাদের উৎরান্তি মেলা, কলকাতা বইমেলা, নবদ্বীপ রাসমেলা- জীবন জানতে হলে মেলাই সেরা স্থান। নিজের মুল্যায়ন টাও এখানেই করা যায়, যদি আপনি চান।
শুক্রবার, ২০ মে, ২০১৬
রূপচর্চা
রূপচর্চা
ইহার পর সুজি দিয় পায়েস রন্ধন করিয়া রোগীনির খাবার পরিবেশন করিবার জন্য প্রস্তুত হইতে লাগিলাম। রোগীনি আমার গৃহিনী, তাহার রুগ্ন হইবার যথাযথ কারণ রহিয়াছে। কয়েক দিবস যাবত আটা-ময়দা-সুজি না মাখিতে পারিয়া, আমার উপর অভিমান করিয়া সে খানা- পিনা ছাড়িয়া দিয়াছিল। না খাইবার সেই তুমুল প্রচেষ্টা ইস্তক ক্রমশ সে অসুস্থ হইতে থাকে। আমি মরিয়া যাই অভাবের তাড়নায়, আটা-ময়দা- সুজিও না খাইয়া; আর সে মরিতে চায় সেই সকল অন্নদ্রব্যাদি না মাখিতে পারিয়া। তাহার মুখব্যাদানে জাবনার প্রতি আমার আপত্তি নাই; কিন্তু সেই খাদ্যদ্রব্য বিলেপনের প্রতি আপত্তি রহিয়াছে, এবং ঘোরতর আপত্তি।
পয়সার অভাবে যখন তাহার রূপচর্চার নিমিত্তে আটা-ময়দা-সুজি খরিদ করিতে পারিলামনা; তখন সে অভিমান করিয়া, না খাইয়া, ঝগড়া-ঝাঁটি করিয়া দিনাতিপাত করিতে লাগিল। এমতাবস্থায় আমার শ্বশুরকুল্যের বোধোদয় ঘটিয়া নিজের কন্যাকে বাপের বাড়িতে লইয়া গেলেন। সর্বসাকুল্যে আমার দোষ নির্ধারন করিয়া কর্ণ মলিয়া দিতে চান। শ্বশুর আমার কৃষক, তাহার উপরে অতিশয় কৃপণ, স্বভাবতই তাহার অবস্থা আমা অপেক্ষাও অতি দীন। তাই তাহার তুলনায় অবস্থাপন্ন আমাকেই তিনি তাহার পঞ্চম কন্যাকে পাত্রস্থ করিয়াছিলেন। সুতরাং ধনী স্বামীর নিকটে রূপচর্চার আবদার করাটা মৌলিক অধিকারের অন্তর্গত, কিন্তু সেটা পূরণ করা আমার বুনিয়াদী কর্তব্যের মধ্যে পরেনা।
আমার গৃহিণীর প্রতি আমার অনুরাগ প্রশ্নাতীত, তথাপি স্ত্রী বিয়োগের অভাব জনিত কারনে অন্তরে অন্তরে কাঁদিয়া বেড়াইতাম। তাহাকে পিতৃগৃহ হইতে প্রত্যার্পনের নিমিত্ত পৌঁছাইয়া ভেউভেউ করিয়া ক্রন্দন করলে পর- তৎক্ষণাৎ সে আমাকে ঘেউঘেউ করিয়া বিতারণ করিয়া দিত। তবুও অবস্থার বেগতিক দেখিয়া আমি বুদ্ধি আঁটিলাম যে, পুরাতন ফেসওয়াসের টিউবে আমার সমস্ত ক্রন্দনের জল আর তরল নাকের সর্দি জমা রাখিব, তাহাই করিলাম। টিউবটি পূর্ণ হইলে ফেসওয়াসের লোভ দেখাইয়া তাহাকে আনিয়া লইলাম বটে; তবে কথা লইয়াছিল তাহার আটা- ময়দা-সুজির অভাব অপূর্ণ রাখা যাইবেনা।
তৎক্ষণাৎ মনে মনে ভাবিলাম, প্রয়োজনে দশ টাকা দিয়া এক প্যাকেট চক(খড়ি) কিনিয়া তাহা পিষিয়া পাউডার বলিয়া চালাইয়া লইব। কারন পোড়া মুখে খড়ি হউক বা ল্যকমে, ফলাফল সেই একই। তদহেতু, বৌ এর রোগটাও যখন মানসিক, তখন এটাই যথেষ্ট।
অতএব, আমি বলিলাম, আচ্ছা-তাহাই হইবে। যাহাই হোউক, বাড়িতে ফিরিয়া ফেসওয়াস পাইয়া অতি খুশিতে বউ আমার লক্ষী হইয়া উঠিল, নিত্যদিন মনের আনন্দে বউটি সেই ফেসওয়াস মাখিয়া চলিল; আমি কেবলই অতি ক্লেশে দিনের খাবার দিনে যোগাড় করিয়া যাই। পায়ের ঘাম মাথায় তুলিয়া সারাদিনে যাহা রোজগার করি, তাহাতে সুজির লোনা পায়েস আর আটা-ময়দার পোড়া রুটিই কেবল গলাধঃকরণ করার জন্য জুটিতে পারে। তবুও ঠিক মতো যোগাড় করিতে পারিনা- দাম অতি চড়া, রোজগার অতি সামান্য। ওদিকে রুটি পুড়িয়া যায় কারন আমার বউয়ের বারবার আয়না দেখিবার জন্য সময়ের বেঘাত ঘটে ।
আটা-ময়দা-সুজি, হলুদ আর মুসুরির ডালের দাম কেবলই বাড়িয়া চলিয়াছে। যার অন্যতম কারন বোধহয় আমার বউয়ের মতো বউ সকলই এসব দিয়া রূপচর্চা করিয়া বাড়তি অপচয় করিয়া থাকেন; ফলস্বরূপ দ্রব্য সীমিত হইয়া যাওয়ায় দরুন দাম বাড়িয়া গিয়াছে। আমাদের মতো পতির পক্ষে রূপচর্চা তো দূরে থাউক; খাইবার জন্যও তাহা কিনিবার সামর্থ্য হারাইতেছি। তাছাড়া খাইবার জন্য যখন এইসমস্ত দ্রব্য কিনিয়া আনি, তখন আমার বউ আর আমার সহদোরা তাহা হইতে অধিকাংশ টাই উঠাইয়া আলাদা করিয়া রাখিয়া দেন, আর তাহাতে পোড়া বেগুনের মত ক্ষত ভরা মুখমন্ডলের রূপচর্চা হইয়া থাকে- তাহা সত্বেও বারবারই কম পড়িয়া যায় প্রসাধনে। প্রথমে মাখিবার জন্য ও পরে খাইবার জন্য।
আমি যখন বিষয়টা বুঝিতে পারিলাম, বোনকে মৃদু ভর্তসনা করিলাম ও তাহাকে যথাসাধ্য বোঝাইলাম যে সে কেন এই সকল খাদ্য দ্রব্যের অপচয় করা থেকে বিরত থাকিবেনা। ইহাতে সে ক্রুদ্ধ হইল, এবং স্বদর্পে তাহার বৌদির সহিত সেই ফেসওয়াস তৈরির গোপন ফর্মুলা ফাঁস করিয়া দিল। ব্যাস ভুকম্পের আর অবশিষ্ট রহিল না। সেই যাবৎ না খাইয়া, ঝগড়া-ঝাটি করিয়া আমার স্ত্রী রত্নটি অসুস্থ রহিয়াছে। ভাবিয়াছি- আগামী কাল্য হইতে আমার রুটি- পায়েসের ভাগে যে আটা-ময়দা-সুজি ব্যয় হয়, সেসমস্ত তাহাদের রূপচর্চার তরে ব্যয় করিব।
তাহাদিগকে খুশি রাখিতে, প্রয়োজনে আমি না খাইয়া থাকিব, যদি তাহাদের কিছু অবশিষ্ট থাকে তাহাই আমি ভক্ষন করিব। কোন কূলবধু হয়তো বলিবেন, স্বামীর সুস্থ থাকার জন্য ইহার অতি প্রয়োজন রহিয়াছে, কারন বেশি খাইলে মেদ বাড়িয়া যাইবার ঝুঁকি প্রবল, সুতরাং কম খাইবার দরুন খেদ না থাকায় শ্রেয়। এক্ষনে কেহ বলিবে স্বামীর মনে শান্তি না রাখিয়া শুধু রূপ দেখাইয়া সুখ দিতে যাওয়া অতি নিম্ন কর্ম, কিন্তু আমি বলি প্রথমে পেটে শান্তি প্রয়োজন, মানসিক শান্তি তো পরবর্তী পরিচ্ছদের পাঠ্য। বউ আমাকে ছাড়িয়া বাপের বাড়িতে যাইয়া থাকিতে পারিবেন; কিন্তু আটা-ময়দা-সুজি ছাড়িয়া রহিতে পারিবেন না, এ সত্য প্রমানিত। পাশাপাশি আমিও বউ বিনা রহিতে পারিব না।
একেক সময় ভাবি, কোনটা স্ত্রীজাতির অঙ্গ। শুভ্র সজ্জা বিশিষ্ট বহিরাঙ্গ? নাকি জন্মগত সুত্র প্রাপ্ত চর্ম সম্বলিত একটি কোমল স্ত্রী হৃদয়।
যে যাহাই হউক, পেটে ও মন দুটোই
অভুক্ত। কারন ঘরে ও মনে কোথাও আপাতত স্ত্রী
নাই, আছে শুধু অনেক অনেক বেশী রোজগারের
প্রয়াস। তাহাতে প্রান বাঁচুক আর নাই
বা বাঁচুক।
বুধবার, ১৮ মে, ২০১৬
অদ্বুধুরে
ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন
ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...
-
(১) জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তাল...
-
ছোটবেলায় বাবা বলতেন "শাগ খেলে বাঘের বল"। যদিও তিনি ওটাকে শাকই বলতেন আমরা কচি কানে বাঘের সাথে মিলিয়ে শাগ শুনতাম। এহেন পরিস্থ...
