বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই, ২০১৭

।। 'না' বলতে কবে শিখব! ।।



"আমার কি?
কুতাই কি ঘোটচে তানিয়ে আমার বাপু মাতাবেতা করে লাব নেই। আমি বরন কোবতে লিকি, জোকস শেয়ার করি। মামনিদের পোষ্টে জালাময়ী কমেন্ট করি।
আমার কি!
বাদুরিয়ার ঘটনাতে যারা ভাবছেন 'আমার কি!'
তাহলে মনে রাখুন পরবর্তী শিকার যদি আপনি হন তখন বাকি অন্যরাও আপনার মতই বলবে 'আমার কি'। তেরোটা নিউজ চ্যানেলের ১১ ঘন্টা ধরে স্ক্রলে আপনার নাম দেখাতে থাকবে আর পরদিন সংবাদপত্রে জ্যোতিষ বিজ্ঞাপনের পরে দু লাইনের একটা 'খবর', ব্যাস। সোস্যাল মিডিয়াতেও আপনার টপিক ততক্ষণ, যতক্ষ নতুন টপিক না আসছে। এপাড়াতে ঐশ্বর্যের মনোপজের শুষ্ক খবর বন্যাধসের মত খবরের গুরুত্বকেও এক লহমাতে শুঁষে নিতে সক্ষম।
ইন্দিরার জরুরী অবস্থা দেখিনি, ইনফ্যাক্ট আমার জন্মের আগেই ইন্দিরা গান্ধী খুন হন। চমকের বিষয়ে তিনি কোনো অংশে কম ছিলেননা। মমতা ব্যানার্জী কিছুটা সেই জুতোতেই পা গলিয়েছেন, দক্ষিনী প্লাস গবলয় প্লাস ইন্দিরার কম্বো ককটেল। ইন্দিরা আমলে না ছিল টিভি না ইন্টারনেট, সবেধন নীলমণি শুধু সংবাদপত্র। তাকেও ইচ্ছামত নিয়ন্ত্রণ করার পরেও পতন কিন্তু রোখা যায়নি। আজকে গোটা বিশ্বজুড়েই প্রচার সর্বস্ব অর্ধশিক্ষিত উন্মাদ হাল্লা রাজাদের দাপট, সেটা ট্রাম্প হোক বা মোদীজি বা মমতা ব্যানার্জী। আসলে এটা তথাকথিত শিক্ষিত সম্প্রদায়েরই অপদার্থতা। কেন্দ্রের শকথেরাপি সরকার বা রাজ্যের লুটেরাদের দলেরও পতন হবেই, সেটা আমি বা আপনি চাই বা না চাই, তাতে কারো যায় আসেনাএখন আমরা বাঙালী বীরপুঙ্গবরা যদি বউএর সায়ার নিচে নিশ্চিন্ত যাপনের সুখ ত্যাগ করে, "না" কথাটা মিনমিন করেও একযোগে বলার শক্তি রাখি, চোরচাপ্টার দলেরা নপুংসক হয়ে যাবে শীঘ্রই
সকাল থেকে আপনি বাস্তব দুনিয়াতে নানান রোজদিনকার কাজ সেরে ঘরে ঢুকলেন, এতক্ষণ কোথাও ধর্ম বালাই অত্যাবশ্যকীয় ছিলনা, অথচ ফেসবুকে যেই এলেন আপনি কিন্তু তীব্র ধার্মিক। কি আশ্চর্য দেখুন, জনৈক ঘোষ বাবু হিন্দু সংহতির পোষ্টার ছাপাতে প্রেস পাড়াতে যাবার আগে রাজাবাজারের সস্তা হোটেলে বিফ ভুনা দিয়ে তিন প্লেট ভাত সাবড়ে, একটা নিরামিষ পান স্বাত্তিক মতে তুলসি (রজনীগন্ধা থাকলে এক্সট্রা সোহাগ) সহযোগে মুসলমানের মা মাসি করতে বসলেনঅন্যদিকে মঞ্চে ওঠার আগে গ্রীনরুমে কাঁচের গ্লাসে বিশুদ্ধ হুইস্কি নিট, গলায় ঢেলে জনৈক হকসাহেব, মাথায় ফেজ টুপি চড়িয়ে হিন্দুত্বের মা মাসি করতে লাগবেন। এগুলো সবটা মিথ্যা, কারন আপনি এগুলো একটাও নিজে চোখে দেখেননি তাই। অথচ এরা যখন বলবে অমুকে স্থানে গোমাংস বিক্রি করছে তমুকে বা ওই গ্রামে মসজিদে কিছু লোক হামলা করেছে, অমনি রে রে করে লেগে পরবেন সত্যতা যাচাই না করেই। আপনি সত্যিই বিপ্লবী।  আর কবি! তুমি প্রেমের কবিতা আঁকো, তোমার কোনো দায় নেই, শুধু তোমাজ জন্য আমরা দায় বায়।
বাস্তবের মাটিতে আপনি একজন নিপাট ভদ্দরলোক। ফেসবুক বা টুইটারে আপনি বাঘমারা পালোয়ান, আসলেতে আপনি অমেরুদণ্ডী ক্লীবলিঙ্গ। আপনার মনুষত্বের ধ্বজভঙ্গ হয়েছে, যেটা ফেসবুকে এলে খানিক চিরিক মারে বাকিটা শীঘ্রপতন। যদি মানুষ হন, তাহলে যেভাবে পারেন প্রতিবাদ করুন। ফেসবুকে আছেন তো? পোষ্ট লিখুন , কমেন্ট করুন, প্রতি পদে বুঝিয়ে দিন আপনি হুলিগানদের দলে নেই।  কি বলছেন! কেও শুনবেনা? কেও পড়বেনা? ভিড় বাসে যখন বাতকর্ম করেছিলেন কে দেখেছিল? বা অপত্য সুখে যখন ভরা বাজারে সন্তানের কপালে চুমু এঁকেছিলেন কাকে দেখাবার জন্য? দুটোই তো স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে করেছিলেন। এবারেরটাও নাহয় তেমনটাই করুন। কেউ কেউ সোশ্যালমিডিয়াকে দোষ দিচ্ছে, তাদের বলি যখন সোস্যালমিডিয়া ছিলনা তখন কি এই ধরনের হানাহানি হয়নি! আসলে পেটোয়া মিডিয়া যখন যার খায় তার মানমত খবর সম্প্রচার করে। সোস্যালমিডিয়া যেমন দ্রুত গুজব ছড়ায় তেমনই তেতো সত্যিটাও প্রকাশ্যে আনে পরমুহুর্তেই। কই একটা রক্ত চেয়ে কোনো পোষ্টে স্বঘোষিত সমাজরক্ষকদের আতসকাঁচ দিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়না।    
ভার্চুয়াল বলে আদতে কিছু হয়না, বস্তু পৃথিবীতে বসেই আমরা হাওয়াতে ফানুশ ওড়াচ্ছি, আদপে ব্লক করা যায়না কাওকেই, ওটা উটপাখির মত বালিতে মাথা গুজে নেওয়ার নামান্তর। আমাদের দেশে গননন্ত্র নেই এটা প্রজাতন্ত্র, তাই রাজা আর প্রজার বিস্তর প্রভেদ। এদেশে পাই টু পাই মুল্য চোকাতে হয় নিজেকেই
মূল সমস্যাটা হচ্ছে দেশের যুবসমাজে, কর্মসংস্থান না থাকাতে বেকারের সংখ্যা হু হু করে রোজ বৃদ্ধিপাচ্ছে। যারা পুঁথিগত ভাবে অশিক্ষিত, আর যাই হোক তারা অন্তত বেকার নয়, মোট বয়েও রুজিরোজগার করছে। এদের কাছে জিওর ফ্রির নেট বড় জোর পানু আর নতুন গান ডাউনলোড করতে লাগে। ফেবু টুইট্যার এদের দুনিয়া নয়। সমস্যা তাদের নিয়ে, যাদের পেটে ভিক্ষার ঝুলিতে থাকা কাঁড়া চালের মত একটা ধারাপাত আর আর্ধেক পর্ণপরিচয় আছে, থুরি ওটা বর্ণপরিচয় হবে। এরা কাঠ বেকার, নিজের বাপ-মা এদের উপরে ভরষা করে বাড়ির সবজির বাজারে পাঠায়না, অন্যে এদের কি কাজ দেবে? বাইরে গিয়ে বাতলামো বা মাতলামো করলে নিশ্চিত ক্যালানি, আবার ভদ্রসমাজের আলচনাও এদের এন্টেনাতে নোসিগন্যালএদিকে মুহুর্মুহ বিজ্ঞাপনের হাতছানি ও নেশার প্রয়োজনে দু পয়সার জন্য এরা মরিয়া। হাতে অগাধ সময়, যারজন্য সমস্ত মৌলিবাদী ও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এই বেকার যুবাদের দলই সফট টার্গেট। ভাল আর মন্দের ফারাক বোঝার জ্ঞান এদের নেই, তাই অধিকাংসই অজান্তে এদের ফাঁদে পা দেয়। এদের কারো নাম জামাল কারো নাম তারক। অথচ জামালের বাড়ির দুধটা সমীর ঘোষই দিয়ে যায়, আবার তারকের বাড়ির সস্তা সব্জিটা মনসুরের জমির। এক্ষেত্রে কারোর জাত যায়না। যেমন মিয়া খলিফা বা সানি লিয়নের ভিডিও ক্লিপিংসের জাত নেই।
এখনও দাঁড়িয়ে মুতলে যাদের ১ ফুট দূরে ফেলার দম নেই, সোস্যাল মিডিয়াতে সব একেকজন জন সিন এর মত ফুটখানেক লম্বা লিঙ্গওয়ালা পুরুষ ভেবে জ্বালাময়ী সব পোষ্ট বা মন্তব্য করে। সৌভিক না কি যেন নাম, কাল নামটা সামাদ হতে পারে, পরশু অরুন বরুন, বাবর, শুকুর যে কোনো নাম হতে পারে। তালিকাটা রোজ লম্বা হচ্ছে। এদের পরিচয় এরা বেকার, হ্যাঁ ছাত্র হলেও তারা ছাত্র হিসাবেও তলানি শ্রেণীর। এরা সকলেই আভা টেলর, দিলো হার্পার, সিডনি কোল বা স্তোয়ার একনিষ্ঠ ভক্ত। ভক্তি রসে না হলেও খেয়ালি চুলকানি রসের প্রকোপে, বিকৃত ধর্মস্থানের বা ধর্মগুরুদের ছবিগুলোও মোফোস থেকে পানু ডাউনলোড করার ছলে ফেবুতে শেয়ার বা আপলোড করে দিয়েছে। রেন্ডিয়া, ফাকিস্থান বা কাংলাদেশীও ট্রলগুলোও এরাই বিপণন করে সযত্নে।  ভাবুন আমরা বাড়িতে বউ এর ক্যালানি পীড়িত মানুষ, কিম্বা বউ পিটিয়ে বিল্পবী। নিজে ইজের নিজে রক্ষা করতে পারিনা প্রায় সকল ক্ষেত্রে, আমরা সমাজকে রক্ষা করতে পারিনা, আমরা ধর্মকে কিভাবে রক্ষা করব? আর যে ধর্মকে কয়েকজন মানুষকে রক্ষা করতে হয় সেটা অদৌ ধর্ম?
সোস্যালমিডিয়াতে সবচেয়ে বেশি পোষ্ট ও কমেন্ট করেন তরুণ প্রজন্মের গবেষক ও শিক্ষকেরা। তারপর অন্যান্য চাকুরিজীবিরা, বাকি পেশাদারেরা এদের অনেক পরে। যারা আক্ষরিক অর্থে গতর খাটিয়ে তাদের সময় হয়না এই সব আতিসায্যের। অথচ কিছু শিক্ষক ও উচ্চশিক্ষিত (!) মানুষজনই লাইক আর কমেন্টের লোভে বিদ্বেষ বিষকে ক্যান্সারের মত ছরিয়ে দিয়ে মজা লোটেন। যাবতীয় অপপ্রচারের উস্কানিমূলক ট্রল বা ভিডিও গুলও এদের তৈরি। অধিকাংশই সংগঠিত মৌলবাদী সংগঠনের অদৃশ্য অঙ্গুলিহেলনে বাকিটা নিজ দুরভিসন্ধিতে। আর সেগুলোকে অবশিষ্ট অকর্মা শেয়ারবাজদের দল শেয়ারবাজারের সূচক বাড়বে মনে করে যা পাই সবের সাথে এগুলোও নির্বিচারে শেয়ার করে চলে। এই সকল শিক্ষক তথা শিক্ষিত(!) অ-মানুষদের থেকেই সবার আগে নিজেদের বাঁচাতে হবে, কারন এরা আসলে মাতুল বীর্যজাত জারজ। প্রতিদিন প্রতিনিয়ত এরাই স্লিপার এজেন্টের কাজ করে চলেছে, আর সমাজের সেই বেকার অর্ধ শিক্ষিত অংশকে হিংস্র করে তুলে হানাহানিতে ঘৃতাহুতি দিচ্ছে। এদের রঙিন মুখোশের আড়ালের কদর্যরূপটা অবলোকন করা অত্যন্ত দুরূহ কিন্তু অসম্ভব নয়। সবার আগে এদের বয়কট করুন।
তাই 'না' বলতে শিখুন।
ঠাকুরের মুর্তির মাটি কি হিন্দুর জমিরই হয়? কবরের ছাওনির বাঁশও কি মুসলমানের ঝাড়ের? মন্দিরে মসজিদে যে ধুপকাঠি জ্বলে সেগুলোর বানানেওয়ালারা কি সকলে স্ব স্ব জাতের? মাজারে বা মন্দিরের ফুলফুলো কি সব নিজ নিজ ধর্মের গাছের? কোন গাছের কি ধর্ম? ধুতি নামাবলী কি জোলারা বোনেনা? বোরখা বা কাফনের সুতো মুসলমানের তৈরি? হাসপাতালের বেডে শুয়ে কোনোদিন ডাক্তারের জাত শুধিয়েছেন? ছেলের স্কুলে কোন হিন্দু প্রথম হচ্ছে বলে আপনি হিন্দুবীর কখনও কি নিজের ছেলেকে বলেছেন - " না বাবা তোমার ফার্স্ট হয়ে লাভ নেই, তোমার হিন্দু ভাই ফার্স্ট হচ্ছে তো"আপনি তো মুসলমান, আর ইসলামে কোনো সাবকাষ্ট নেই বলেই জানি। তাহলে চাকরিতে সুবিধে পেতে OBC সার্টিফিকেটের জন্য যখন আবেদন করলেন তখন আপনার জাতিসত্বাতে কি কন্ডোম লাগিয়ে রেখেছিলন?
আপনার কি আছে একা লড়ার দম এই সংগঠিত মৌলবাদের বিরুদ্ধে? RSS হোক বা সিমি বা আধুনা জামাতপুষ্ট একটা অংশ, এরা ISIS বা তালিবানি দের ভারতীয় এডিশন, যাদের রাষ্ট্র পুষে রেখেছে জামাই আদরে নাহলে আপনি যদি প্রশ্ন করেন গঙ্গা প্রকল্পের টাকা কোথায়? বা এতো কৃষি বাজার করে কি বা কার লাভ হয়েছে! নায্যমূল্যের দাম কতটুকু চাষী নিজে পাচ্ছে! নোট বাতিলের সুবিধা কি হল! ক্লাব উন্নয়নের টাকা বিলি চার বছরে পড়ল, কটা যুব এথলিট আবিষ্কার হয়েছে! আসলে এই সরকারগুলো ঢক্কানিনাদের মধ্যদিয়ে অধিষ্ঠান লাভ করেছিল, পলেস্তারা খসতেই কুৎসিত কাঠামো গিলে খেতে আসছে বোকা জনগনকে। সেই আদি অনন্ত থেকেই এদের কোনো নীতি নেই, দাঙ্গা বা সামাজিক বিভেদ সৃষ্টির মাঝেই এদের অস্তিত্ব, যেমন গলা পচা স্থান ছাড়া ছত্রাক জন্মেনা তেমনই ঘৃণা আর হিংসা বিনে এরা ক্ষমতা পায়না, এদের সংবিধান গোয়েবলসীয় তত্ব। আমরা পাঁঠা জনগন, আমাদের সম্বল শুধু গাণ্ডেপিণ্ডে গেলার জন্য চামড়ার গলা  আর হাগার জন্য নধর পাছা; যেগুলো বলি ও মারার জন সদাই উন্মুক্ত। ওরা ঠান্ডা মাথার ক্রিমিনাল, আমাদের পাছা মেরে নিজেদের আখের গোছায়, আমরা মারিয়ে মৈথুন সুখ ভোগ করি। দুপক্ষের মিউচুয়াল বোঝাপড়া , দু পক্ষই খুশি।
আমরা কবে 'না' বলতে শেখার মত সাবালক হব?
কখনও সমুদ্রগড়, দেগঙ্গা, কখনও কালিয়াচক, কখনও ধুলাগড়, কখনও চন্দ্রকোনা রোড তো এবারে বাদুরিয়া বা বসিরহাট। বরকতির ঘরে কি আগুন জ্বলেছে? দীলিপ ঘোষ বা তপন ঘোষ কি পালিয়ে বেড়াচ্ছে? ইদ্রিশ আলী বা হাজি নুরুল কি কোর্টে চক্কর কাটছে? না কাটছে না। এরা সকলে বহাত তবিয়তে আছে। নেতা, নেতা থেকে কাউন্সিলর,সেখান থেমে MLA MP হয়ে মন্ত্রী হওয়ার ধাপ গুলো টপকে এরা ক্ষমতা ও সম্পদের চুড়োতে। ভাবুন একটা জাতীয় রাজনৈতিক দল কতটা শয়তান হতে পারে আর রাজ্যের ক্ষমতাশীল দলের নেত্রী সেই শয়তানির পালে হাওয়া লাগাচ্ছেন। উপায় নেই তার গোটা দলের সর্বাঙ্গ যে দূর্নীতির পাঁকে ডুবে।
রাজ্য ও তার প্রশাসন আসল ঘটনা পাস কাটিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তেনার মান অপমানের প্রশ্নে। সত্যিটা কে বলবে? এই শুভেন্দুই প্রকাশ্য মঞ্চে শিরা ফুলিয়ে বলেছিল আনন্দ দেখবেননা। সত্যিই এরা একজনও বিন্দুমাত্র বিশ্বাসযোগ্য? চ্যানেলের কথায় মনে এলল, অর্ণব গোঁসাই নিজেই একটা খুলে ফেলেছে ঘৃনা আর বিদ্বেষ বেচে, আর সেগুলো আমরাই খেয়েছি। তাহলে এই বিদ্বেষ পন্যটাকে অন্য ব্যাবসায়ী লোকেরা কেন ব্যাবহার করবেনা? আপনার রক্ত ঝরুক বা ধনেপ্রাণে শেষ হন, ওদের ঝুলি ভরে উঠছে, ওটা ওদের রাষ্ট্র স্বীকৃত ব্যাবসা। আজ একটা গোঁসাই, কাল দশটা গোঁসাই সাথে পাঁচটা ওয়াইসির আঙুল ফুলে কলাগাছ হবে, ওরা লড়িয়ে দেবে। কেলাকেলি ফাটাফাটি করার জন্য আমাদের মত আমোদগেঁড়ের দলেরা তো আছিইএর পরের এপিসোডের জন্য বাবা হামিদেব আছেনই, চোখে স্বদেশাঞ্জলীর এমন লেপ লাগিয়ে দেবে যে, আচ্ছেদিন আর উন্নয়নের জোয়ার ছারা কিচ্ছুটি দেখবেননা।
আজকে রাষ্ট্রে ধর্মের দোহায় দিয়ে খুনখারাপি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটা একটা কেন্দ্রিয়ভাবে সুনিয়ন্ত্রিত দীর্ঘমেয়াদি ধারাবাহিক কৌশল। যে খুন হল সে এবং তার পরিবার তো উচ্ছন্নে গেলোই, যারা মারল থানা-পুলিশ-কোর্ট-জেলের চক্করে তারা নিজেরা ও তাদের পরিবার গুলোও শেষ। ভারতের সংবিধান কি ধর্ম দেখে আজ পর্যন্ত কাওকে রেহায় দিয়েছে? তাহলে কার লাভ হয় এই দাঙ্গা হাঙ্গামাতে? বরবাদি ছাড়া অন্ধ ধর্ম বিশ্বাস থেকে কি সুফল পেল সেই ধর্মযোদ্ধার দল ও তাদের পরিবারগুলো?
আমাদের কি উন্নতি হয়েছে? বরং গোপোনাঙ্গের দাদ হাজা আরো ছরিয়েছে চুলকানির প্রকোপে। কিছু বুদ্ধিজীবী, ফেসবুকের স্বঘোষিত লেখক, কবি, ছবিওয়ালা, আমলা, ফলোয়ারের গামলা, ঝিঙ্কু মামনি, সামাজিক রক্ষাকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রিয় পেজের মালিক, গ্রুপের এডমিন এমন সব বৃহন্নলার মত পোজ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকি যে দেখে বোঝে কার সাধ্যি ইনি কোনদিকে! এরা এমন ভয়ানক যে, যেকোন সময় পালটি খেয়ে বিয়েতে শ্রাদ্ধের মন্ত্র পড়তে শুরু করে দেবে।
আপনারা যারা ধর্ম নিয়ে বিপ্লব করলেন, অদুর ভবিষ্যতে শহীদ হবেন, সর্বসান্ততে দৃঢ়সঙ্কল্প, তাদের শুধাচ্ছি, একটা নাম কারো মনে আছে হে বুদ্ধিমান জ্ঞানী বন্ধুরা, যিনি গত গতবছরে আপনার পূর্বসুরী ছিলেন?? তাহলে কিসের জন্য এই রগরগে তাপ উত্তাপ?
এটা সতী সেজে থেকে পলিটিক্যালি কারেক্ট উত্তর দেবার সময় নয়। পরিষ্কার পক্ষ নিতে হবে সমাজের স্বার্থে, রাজ্যের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে আমার আপনার পরিবার পরিজনের স্বার্থে। হয় মানুষের দলে নতুবা ধর্মীয় উন্মাদের দলে। আপনি ধার্মিক! কোন ধর্মে আপনি দিক্ষিত? যেখানে সহনশীলতার কথা নেই, যদি সত্যিই না থাকে তাহলে ধর্মের গোঁড়া থেকে ধর্মকে মূল্যায়ন করুন। যে ধর্ম অন্যকে সম্মান করতে শেখায়না তাকে কন্ডোমে ভরে কমোডে ফ্লাশ করে দিন। যারা গো সন্তান বা যাদের দাড়ির ডগাতে ধর্ম দোল খায় তাদের পরিষ্কার ভাষায় বলে দিন- আমি তোমার দলভুক্ত নই- আমি মানুষ।
যে ধর্মই হিংসার আঁচে হাওয়া দিকনা কেন, "মানুষ" এর দল রুখে দেবে।
এখনই সজাগ হোন, নাহলে আর সুযোগ পাবেননা। গরু, শুয়োর, পীর, মৌলানা, ফতোয়াবাজ মোল্লা, রাম, বাম, ভাম, ছাগু, চাপাতি, মক্কা, অযোধ্যা, মোদী মমতা, দীলিপ, সেলিম, ইদ্রিশ আলী,..... একদিন রোজগার না থাকলে এরা কেও খাওয়াবেনা আপনার পরিবারকে।
আপনি আজ মরলে কাল দুদিন। সপ্তাহ ঘোরার আগেই পরিজনেরা দোরে দোরে ভিখ করে বেরাবে। মৃত্যু পরবর্তী অধ্যয়ের অদেখা সুখের লোভে, জীবিত কালটাকে জাহান্নাম বা নরক বানিয়ে ফেলবেননা দয়া করে। আপনি নাহয় বৈকুন্ঠধামে ইন্দ্রদেবের পারিষদ হয়ে অপ্সরীদের নাচ দেখবেন সুরাপাত্র সহ বা জান্নাতে ৭২ টি হুর নিয়ে লুডো খেলবেন বিনা রকেট ক্যাপসুলে।
এদিকে আপনার বিধবা বৌ বা কুমারী মেয়েকে জাপানী তেল দিয়ে প্রতিদিন সাতবেলা নরক দর্শন করাবে যোনীপথ বেয়ে। আনন্দের বিষয় হল যোনীর জাত হয়না, ওখানে হিন্দু, মুসলমান, আদিবাসী, সাদা, কালো চোর, সাধু, আস্তিক, নাস্তিক সকল লিঙ্গের অবাধ প্রবেশ। ওখানে একটাই ধর্ম, সেটার নাম টাকা। তাহলে কোন ধর্মের জন্য এতো লড়াই বিপ্লবী বন্ধু?
আপনি নিশ্চই স্বর্গ সুখ পাচ্ছেন এগুলো পড়ে? অবশ্যই পাবেন, কারন আপনি ধার্মিক লোক বটে।
ধার্মিক পরিচয়কে ঘরের সর্বোচ্চ পবিত্র আসনে তুলে রেখে, একবার সাহস করে বলুন আমি "মানুষ"
দেখবেন শান্তি খুঁজতে ধর্মযাত্রা করতে হবেনা, নিজের পাড়া, নিজের মহল্লা, নিজের দেশেই সর্বপরি নিজের অন্তরের মধ্যেই ইশ্বর-আল্লাহ-রামকে খুঁজে পাবেন।

সদা সতর্ক থাকুন, অজান্তেই হয়ত আপনি বা আমি পরবর্তী ভিক্টিম।
@উন্মাদ হার্মাদ 

শনিবার, ২৪ জুন, ২০১৭

।। তৃষিত যোগী ।।


আজি সাত্ত্বিক মতে প্রেমজর্জর
বরষা আইল সমীপে;
মানসী, তব দেখা দাও সখী,
যৌবনমদ নীপে।
আকুলিত প্রাণে দুইচোখে হেরি
কোন সে অন্তরাল
অন্তর মম সঁপেছি তোমাতে
বেহায়া সুরের তাল।
প্রণয়আশে নয়নের ভ্রমে
বিলম্বিত লয় নৃত্য,
 
মলয়বায়ু বিষাদসিন্ধু
 
উন্মাদ সম চিত্ত।
আলোঁনীল চাঁদে লাগিছে গ্রহণ
হরষ চিতকাননে
মহলাতে আসি বাজাও গো বীণা
কুসুমিত যৌবনে।
আঁখিপটে লেপি স্বপন সুরভি 
মোহিনী প্রিয়ার তরে,
নিজহতে তুমি আসিয়া সমুখে
নাওগো আপন করে।

।। পরকীয়া ।।

চেনা পরিসরে অজানা আপদ
ভালনাম যার বিয়া,
অচেনা পথের চেনা যন্ত্রনা
লোকে বলে পরকিয়া।

সোমবার, ১৯ জুন, ২০১৭

।। গান স্যালুট ।।

স্বামী আত্মস্থানন্দ মহারাজ ও গান স্যালুট
*************
ওসব কিছু বুঝিনা, মাথায় হিজাব পরে যেমন ইফতার পার্টি এটেন্ড করে নিজেকে মুসলমান দরদি প্রমান করার হাস্যকর নাটক করে, এটাও নরম হিন্দুত্বকে প্রোমোট করার ব্যার্থ প্রয়াস। দেখাচ্ছেন দেখো আমিই এই ধর্মীয় মহাপুরুষ দের শ্রদ্ধা দিই।
গান দিয়ে নয় মান দিয়ে পাশে থাকতে হয়। একটা ফুল দিয়েই সম্মান দেখানো যায়, বিশ্বজুড়ে সেটাই রীতি। কিন্তু আপনি হলেন গিয়ে মহান চৌর্যবংশীয় থুরি সূর্য বংশীয় মমহারানী হাতসেপ্সুৎ, এক্সট্রা ক্যালি না দেখালে ভাইএর দল কথা কইবে কি নিয়ে! চুরি, মাফ করবেন; ডাকাতি আর কাঠিবাজির বাইরে বাংলাতে কিই বা আর অবদান রেখেছেন! ভাষণ আমাদের ভিত্তি, তেলেভাজা আমাদের ভবিষ্যত। আম আর আমাশার ফারাক রইল না। সুকুমার রায় এ আমলে জন্মালে নির্ঘাৎ দর্জি হতেন, ননসেন কমেডিরর সাক্ষাৎ প্রতিরূপ থাকতে উনি কি রিস্ক নিতেন?
রামকৃষ্ণ মিশন কি মঙ্গল গ্রহে? নিজেদের আদি তিনুগুলোকে কে ছারেনা এরা।কোন বেফন্দিতে ফন্দি লাগিয়ে সরল ব্রহ্মচারী মানুষগুলোকে ফাঁসাবে।যেচে বাঁশ মানা যায়, কিন্তু গোটা ঝাড় কেও নেয় পাগল ছাড়া! সবাই তো আর বরকতি বা পোষা মেনি তোহা নয় যে দাড়ি নেড়ে একটা ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীর ঠিকেদারি নিয়ে রাখবে।

আমি নিশ্চিত রামকৃষ্ণ মিশন কতৃপক্ষ এই ভেবেই অনুমতি দিয়েছেন।

পিসিগো, তোমার আঁচলের ছায়াতে থাকা বীর্যহীন পুলিশ বাহিনী দার্জিলিং থেকে ভাঙরে যা গান স্যালুট দিচ্ছে, সেই সোপ অপেরার কাছে এ নাটক বড় ঝনঝনে মস্করা মনে হয়।
আপনার দান স্যালুটের অবশ্য কোনো জবাব নেই। শুধু বিরোধীতা করবিনা আর সব জয়ন্তীতে আমার ছবি ছাপাবি, ব্যাস। আমিও তোদের ছাপিয়ে দেব। যেমন লুটেখাই শিল্পীবৃন্দ কে দিয়েছি। মদনা, বেচা থেকে শুরু করে কেষ্টাকেও উত্তরপ্রদেশীয় ঢঙে কালো ফেট্টির বডিগার্ড দান করেছেন। তবে হ্যাঁ একটা কাজলও পুঁষে রেখেছেন, বেচাল করলেই ওটা দিয়ে সাইজ করে দেন। বাকিটা দানের সাক্ষাৎ দেবি। সবের রেট আছে, করা থেকে মড়া সবের জন্য তিনি দান করেন। স্বচ্ছল চাষীকে তিনি চালের ভিখিরি বানান, পরে সরিষা দান করেন। সন্ধ্যা মুনমুন বেদম্যান অর্পিতা সহ কত্তোজনকে হাইকেলাস জীবন দান করলেন। ভাইপোকে, না ওটা বলবনা, আমার ক্যালান তাহলে এক ঘা ও মাটিতে পরবেনা।
তবে হ্যাঁ, ওই দান যে নিয়েছে তারই ইয়েটা মারা গেছে। ওই দানস্যালুট, তবে DA তিনি দেবেননা। নচিকেতা, সুমন, শাঁওলি, অপর্ণা, কাকপ্রশন্ন, চন্দননগরের মাল, কুণাল ছিনাল সহ পগেয়া পট্টির 'লুটেখাই শিল্পী বৃন্দ' সকল যারা আপনাকে সাথ দিয়েছিল সকলকেই এমন গান স্যালুট দিয়েছেন, যে যার জন্য তারা অল্পবিস্তর খ্যাতি লভেছিল সেটাই তারা ভুলে গেছে। এরা মরলে কি স্যালুট দেবেন ভেবেছেন?
কাল মনিরুল , আরাবুল, কেষ্টা সহ সম্পদ গুলো আপনার রাজত্বে খেয়োখেয়ি করে মরলে কি পেটোচার্য করে সম্মান প্রদর্শন করা হবে? ববির অন্তেষ্টিতে কি বগলের লোম আহুতি দিয়ে সেটা লাহোরের পূন্যভুমিতে কবর দেওয়া হবে? মদনা, ইকবাল, সুদীপরা যখন যাবে তখন নাহয় গন প্যনিক এট্যাক করে নিকটবর্তী হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে ভর্তি হয়ে এ্যাটাকস্যালুট দেবে। গরমেন্ট অবস্য সব বিল পে করে দেবে দান স্যালুটের বিল বলে। নির্মল মাঝিকে নিয়ে আরো চিন্তিত; হয়ত ১০১ টা কুত্তার ডায়ালিসিস করে তার আত্মার স্যালুট করা হবে। ভবনে অবশ্য লেহনকারী যুধিষ্ঠির সাথীর অভাব নেই।
এছারা, চমকানি স্যালুট, কোমরে দড়ি স্যালুট, বিশ্ব বাংলা স্যালুট, আরো কত্তো কি। তবে ওই রাষ্ট্রভাষা স্যালুটটা সবচেয়ে বিষাক্ত, জাষ্ট নেওয়া যায়না।
কি জানি যেদিন কালের নিয়মে কালীপিসির মরবে, রাজ্যজুড়ে ওনার ভাইয়ের দল গন ডাকাতিতে মাতবে কিনা। ইতিহাসের কয়েকটি প্রসিদ্ধ চুরির মূল কান্ডারী বলে কথা। পরে অবশ্য মিনিমাম ম্যাক্সিমাম ভাগ বাঁটোয়ারা করে নিলেই শুদ্ধ হয়ে যাবে।
ওয়েট করছি, বেঁচে থেকে সেই দিনটা দেখে যাবার খুব শখ। কিজানি এই পোষ্টের পর আমায় আবার গান স্যালুট দেয় কিনা।


রবিবার, ১৮ জুন, ২০১৭

।। ইয়ে, আমি রাআআ...ইটার।।


টু হুম, ইট মে কনসার্ণ
       *****************

একটা পত্রিকাতে যখন কিছু লেখা ছেপে বেড় হয় তার পিছনে অনেকেগুলো মানুষের অনেক মেহনত থাকে। একটা লেখাকে সাধারনত কখনই এডিট করার ঝুঁকি নেয়না সম্পাদক মন্ডলী; কিন্তু অনুরোধ, উপরোধ বা নামের গুঁতোতে অনেক সময় নামটাকে স্থান দিতে, তিনটে বা চারটে নজরে বারবার সেই লেখা পড়ে বুঝে দেখা হয়। একদম বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে জানি, একদম শেষ পরিস্থিতিতে এডিট করা হয়। অনেক অনাম্নী সম্পাদক নামী লেখকদের লেখা উড়িয়ে দিয়েছেন। অবশ্য যারা ফেবু সেলিব্রিটি লেখক, তারা এগুলো জানবেননা। অদ্দুর তাদের মুরোদ নেই।
লেখালেখির সাথে আমি বিভিন্নভাবে জড়িয়ে, যোগাযোগটাও সেই যাদবপুরে থাকাকালীন কলেজ লাইফ থেকে। বইপাড়াতে যাতায়াতটা এক্কেবারে নতুন কিছু নয়। অকপট সাহিত্য পত্রিকা করতে গিয়ে শুধু সর্বদিক থেকেই একটু বেশি দায়িত্ব নিয়ে হয়েছিল পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে, বাকি সম্পাদকমন্ডলীর সাথে।
আজকে ফেসবুক এসেছে, বাজারে লেখকের কমতি নেই। আগে একটা লেখা ছাপাতে পায়ের সুতো ছিড়তো, এখন বেশ কিছু "সেচ্ছাসেবক" প্রকাশনা সংস্থা নতুনদের সুযোগকে সহজলভ্য করে দিয়েছে। ফেসবুক লেখকদের কিছু লেখা তো এমন গুনসম্পন্ন, যেগুলো বিনা দ্বিধায় সেরা সাহিত্যের সরনিতে স্থান পেয়ে যাবে। কিন্তু বাকি গুলো?
সুব্রত মন্ডলদার ভাষাতে, অমন লেখা ঝাড়ু দিয়ে ঝাঁট দিলে সদরের বাইরে জমে ভ্যাট হয়ে গন্ধ বেড় হবে। কিছু লেখক ফেসবুকে কিছু লাইক কমেন্ট পেয়ে লক্কা পায়রার মত এমন দেমাক নিয়ে বকবকুম শুরু করেন, যেন বঙ্কিমচন্দ্র স্বয়ং তার একটা দাদের জার্মযুক্ত ইজের এই লেখকের নামে উইল করে উত্তারাধিকার স্বরুপ দিয়ে গেছিলেন। সেই অন্তর্বাসের গন্ধিওয়ালা লেখা আর সেই মানানের ফুলে কোলাব্যাঙ হওয়া।
বলি দাদা, নিজের নামে মাত্র একটা বই ছাপিয়ে দেখুননা, বাজারে ১০ পিস বিক্রি হয় কিনা! ঠিকিই শুনেছেন, মেজ শ্বশুরের বড় শালার ছোট মেয়ের ননদের বর যেটা কিনেছেন ওটা উপরোধে ঢেঁকি গিলেছেন। বই পাড়াতে ১০ পিস বিক্রি করে দেখান। ওখানে অন্ডকোষ কিসমিস হয়ে যায় কাকা। উদাহরন নেবেন? ট্রাক পাঠান আমামার ঠিকানাতে, লিষ্টি পাঠাবো বই নয়। অতদুরও যেতে হবেনা, গত সপ্তাহে যেটা লিখেছিলেন সেটা আপনার নিজেরই মনে নেই। চেষ্টা করেই দেখুননা। আসলে ফেসবুকে আপনি যেমন প্রাতঃকৃত্য করেন, বাকিরাও সেটাকে মানস জমিতে ওটাকে সার হিসাবে ছিটিয়ে দেয়, সেই মুহুর্তের খোরাক হিসাবে। তার পরেই ফুস....
যারা এই পত্রিকা গুলো ছাপাই না, সত্যিই প্রতিটা লোক সাহিত্য মাতাল। এরা আছে বলেই প্রকৃত গুনীদের পাশাপাশি কিছু পাবলিকের গু-গোবর গুলো, প্রথম কাগজে অক্ষরের রূপ পায়। এরা পকেটের পয়সা, আর অনেক মুল্যবান সময় জাষ্ট নষ্ট করে আপনাদের মত আবাল গুলোর জন্য। কারন যারা প্রকৃত ভাল লেখক, তাদের জন্য তো কোনো খাটনি নেই।
দাদা সম্মান করতে শিখুন, পাবেন। সম্মান নাইবা দিতে পারেন অসম্মান করবেননা দয়াকরে, কারন আপনার মত একপিস না থাকলেও পত্রিকাগুলোর চলে। আপনি পুরুষ হলে পত্রিকাগুলোকে উহ্য করে বীর্যের প্রমান দিন। উঁহু আমাদের নয়, আমরা তো আজ আছি কাল নেই। আপনার যে আত্ম অহং এর ফানুষটা উড়ছে ওটাকে টেষ্ট করিয়ে নিন যদি আত্মসম্মান বলে কিছু থাকে।
Top of Form
Bottom of Form


।। অংশুমানের গল্প ।।

রোববারের সকালে একটু বেলা করেই ঘুম ভাঙে অংশুর। এসিটা ২৪ শেই আছে, সুতরাং ঘরটা মিনি দার্জিলিং এ পরিণত; এখানেই হানিমুন চলছে ওদের। আসলে করবীর সাথে লাভ ম্যারেজটা গত পরশুই করেছে অংশুমান।

ব্যাঙ্গালোরে এসেছে বছর পাঁচেক হল, IT Sector এ এক বিদেশি কোম্পানির উচ্চপদস্থ চাকুরে। পুরুলিয়ার ঘটিব্রাহ্মন সন্তান সে, ছুটির দিনেও মন্দিরে যাওয়ার ভক্তিতে কমতি ছিল না অংশুমানের। বছর তিনেক আগে এক ভোরে সে করবীকে দেখে। সূর্যের নরম আলোতে কোনো রকম প্রসাধন ছাড়া এক অপরুপ দেব প্রতিমা মনে হয়েছিল অংশুর। তারপর থেকে ওই সপ্তাহে এক আধবার দেখা সাক্ষাৎ কয়েক মুহূর্তের জন্য, ব্যাস এটুকুই। ওদিকে বাড়িতে অংশুর মা তার রায়গঞ্জের বান্ধবীর একমাত্র মেয়ে অমলার সাথে যে বিয়ে প্রায় পাকা করে ফেলার উপক্রম। একথা জানতেই কিছু বন্ধুর সাহায্যে বিয়েটা চটপট সেরে নেয় অংশু। তারপর বাড়িতে বাবাকে ফোন করে খবরটা দেয়। যাইহোক এ খবর শুনে তারা আর কালক্ষেপ না করে আজই দুপুর ১২টা কুড়ির ফ্লাইটে চড়ে বসেছেন।
চাদরের বাইরে বের হয়ে থাকা মুখটুকুতে হঠাৎ বৃষ্টির ফোটা মত পড়তেই আধাঘুমের ম্যাড়ম্যাড়ে চোখে চেয়ে দেখলো করবী ওর দাড়ি সেভ করার ছোট্ট আয়নাটা নিয়ে কপালে সোহাগের সিঁদুর লাগাচ্ছে। আর সেই ভিজে চুল থেকেই শিশিরবিন্দুর মত জল ঝরে পড়ছে। চাদর থেকে হাতদুটো বের করে যেইনা কোমরটা ধরেছে অংশু, অমনি পাঁকাল মাছের মত শরীরটাকে হিলহিলিয়ে কপট রাগ সহ চোখ বড় বড় করে করবী ইশারা করলো অংশুকে ফ্রেশ হয়ে নিতে। পটে আঁকা সুন্দরী না হলেও, যে রূপ থেকে চোখ ফেরানো যায়না, করবী সেই সুন্দরী।
প্রাতঃরাশে পোহা মানে চিড়ের একটা পদ সাথে একটা ডিমের পোচ আর এক পেয়ালা চা। লাঞ্চের জন্য বাবা মায়ের পছন্দের সব্জি আর মাছ এনে, পাশের ফ্ল্যাটের বাঙালী সহকর্মীর বাঙালী স্ত্রী ইশানী বৌদিকে ডাকতেই, তিনি স্ব-উৎসাহে রান্নাবান্না করে দিয়ে গেলেন।
বৌদিই করবীকে একটা ঢাকাই জামদানি সুন্দর করে পরিয়ে দিয়ে গেলেন। ত্রয়োবিংশী করবীর চোখেমুখে শিশুসুলভ উচ্ছ্বাস। যথা সময়ে হৈ হৈ করে অংশুর বাবা ফ্ল্যাটে পৌঁছে গেলেন ওর মাকে সাথে করে। করবী শ্বশুর শাশুড়িকে টুপ করে প্রণাম করে এক্কেবারে লজ্জাবতী লতার মত ঘরের এক কোণে সরে দাঁড়িয়ে রইলো। এদিকে মা বাবার সাথে অংশু, শরীর স্বাস্থ্য, চাকুরি, এলাকা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা মগ্ন রইলো। করবী সবটাই দেখছে কিন্তু সে অংশগ্রহন করলোনা। অংশুর মাও যেন বৌমা হিসাবে করবীকে ঠিক মেনে নিতে পারছিলেন না। যাইহোক, ক্লান্ত শরীরে বাবা মা ফ্রেশ হয়ে বিশ্রাম নিতে গেলে করবীও একটু গা এলিয়ে দিল।
হঠাৎই অফিস থেকে বসের জরুরী একটা ফোনের জন্য অংশু বেরিয়ে গেল। মা বাবা, করবী তিনজনেই ঘুমাচ্ছে, ‘এই যাব আর এই আসব, অযথা জাগিয়ে লাভ কিএই ভেবে অংশু বেরিয়ে গেল। ঘুমভাঙা শাশুড়ি বৌমার দরজার সামনে গিয়ে অনেক ডেকেও সাড়া না পেয়ে রুষ্ট মনে বললেন-
"বাব্বা, মেয়েছেলের এতো দেমাক কেন বাবা। ছেলেটা যেন আমার নয়, টিকলে হয়!
সন্ধ্যার দিকে অংশুর সাথে ফোনে কথা বলে ওর বাবা জানলো তার আসতে লেট হবে। ওদিকে ওর মা স্থানীয় বাজারে যাবার জন্য উদগ্রীব, বিবাহ আশীর্বাদের লোকাচারের সামগ্রী কেনার জন্য। তিনি অংশুকে সে কথা বলতেই অচেনা জায়গার জন্য করবীকে সাথে নিয়ে যেতে বললেন-
" মা, আমি করবীকে মেসেজ দিয়ে দিচ্ছি। ওর সাথে চলে যাও।"

মায়ের ঠিক মনপুতঃ নাহলেও ছেলের কথাটা ফেলতে পারলেন না। তিনি বৌমার ঘরের দিকে যাওয়ার আগেই দেখেন করবী একটা শালোয়ার স্যুট পড়ে এক্কেবারে তৈরী। শাশুড়ি কোনো কথা বাড়ালেন না, চুপচাপ করবীর পিছনে অনুসরণ করলেন।
ব্যাঙ্গালোরের ভিড় রাস্তাতে করবী, শাশুড়ির হাতটা কয়েকবার ধরার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তিনি বললেন-
"থাক, আর আদিখ্যেতা করতে হবেনা, আমিও গড়িয়াহাটে শপিং করি। গেয়ো ভূত ভেবোনা। উঁ, আমার সোনার টুকরো ছেলেটার উপরে কালাজাদু করে বস করে আবার ঢং হচ্ছে! "
ফেরার সময় রাস্তাটা শাশুড়ি বৌমা পার হচ্ছিলেন, হঠাৎ দড়াম করে একটা শব্দ। তার পর লোকে লোকারণ্য।

আউটার রিং রোডের একটা হাসপাতালের মর্গের সামনে লাশ শনাক্ত করছে অংশু। ওর স্ত্রী করবী গাড়ি এক্সিডেন্টে মৃত। যাকে তিন দিন আগে একটি মন্দিরের অনাথ আশ্রম থেকে বিবাহ করেছিল। অংশুর মা ও কপাল চাপড়ে কেঁদে চলেছেন, "
যদি জানতাম বৌমা আমার মুক ও বধির, আমি কি ওর হাত ছাড়তাম?"
---- সমাপ্ত


শুক্রবার, ১৬ জুন, ২০১৭

এবং শেহনাজ

এই সারসংক্ষেপটি পাওয়া যাবে না। পোস্ট দেখার জন্য এখানে ক্লিক করুন

শুভেচ্ছা বাংলাদেশ।



তোমাদের বোলারা নি:সন্দেহে বিশ্বমানের। সাকিব, মুস্তাফিজুররা ভাল সঙ্গত পেলে কি করতে পারে IPL বড় প্রমান। দু একজন ব্যাটসম্যানও তাই। ফিল্ডিং অনেক উন্নত ও বেশ ভাল কিছু অলরাউন্ডার রয়েছে।

বড় কষ্ট হয়, ওদের কিছু ছোটলোক সাপোর্টারেরা অশ্লীলতা শুরু করে। নাচনকোঁদন দেখে ঝাঁট জ্বলে যায় আর কি।
সুতরাং, সেই ভাষাতে বাধ্য হলেও খিল্লি করতেই হয়। কারন জাত্যভিমান ও ক্রিকেটীয় গর্ব আমাদেরও কিছু কম নেই। ম্যাচ শেষ খিল্লি শেষ।
তবুও বলব-
সাবাস বাংলাদেশ। অষ্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ড ওয়েষ্ট ইন্ডিজের মত কুলীন দল গুলোকে টপকে শেষ চারে থাকাটা গর্বের বইকি।
বেষ্ট অফ লাক।


শুক্রবার, ৯ জুন, ২০১৭

।। কালিম্পং ভ্রমণ - ১ ।।

চলতে চলতে
পঞ্চম পর্ব-১
..................

"স্যারজি, ই তো হামারা হোটেল নাই হেই, ঘর আছে। থোরা এডজাষ্ট কিজিয়ে, আপ মেহমান হ্যায় হামারা, কাষ্টমার নেহি"
খানিকক্ষন আগে মনোসভাই যখন ডিনার সার্ভ করতে করতে কথাগুলো বলছিল, তখন একবারের জন্যও মনে হয়নি এই মানুশটি আমার আত্মীয় নন। অদুরেই রান্নাঘরে ওনার স্ত্রী দাঁড়িয়ে, স্টাটারের সাবুর বড় পাঁপড়ে কামর দিয়ে চোখাচোখি হতেই দেখি, তাঁরও নির্বাক চোখে সেই একই কথার জোরালো প্রতিধ্বনি।
এই প্রত্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড় সুলভ কঠিন পেটানো চেহারা ও মুখমন্ডলে যতটা সম্ভব হাসি আর উজ্জ্বল্য আনা যায়, তার চেয়েও একটু বেশি এনে, সত্যিই এনারা যেন মেয়ের শ্বশুরবাড়ির কুটুম্ব সদৃশ্য খাতিরতোয়াজ করছেন। বসুধৈব কুটুম্বকমের সাক্ষাৎ বিজ্ঞাপন, এটাই ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া, আমার স্বদেশ আমার বাংলা।
গতকাল যখন শিয়ালদা থেকে ট্রেনটা দুপুরে ছাড়ল, গনগনে জৈষ্ঠ্যের বেলা তখন গামছা নিচরানোর মত গতর থেকে ঘাম বের করে চলেছে। চালু টিকিটে ট্রেনে উঠে ভ্রমণ এ আমাদের ভবঘুরে বন্ধু কজনের অনেক দিনের রোগ। যথারীতি টিটিকে ম্যানেজ করা গেল। খাগড়াতে এসে স্থায়ী একটা সিট পাওয়ার আগে পর্যন্ত বেদের দলের মত কাঁধে রুকস্যাক আর হাতের ঝোলা ব্যাগ নিয়ে আর্ধেক ট্রেন চষে ফেললাম। পিঠের ব্যাগে সেই চিরাচরিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু জরুরী জিনিস। আর হাতের ঝোলাতে মায়ের গুছিয়ে দেওয়া ভাতের টিফিন, তরকারির কৌটো আর জলের জার। কে ওনাকে বোঝাবে যে আজকাল অনলাইনে রাস্তা জুড়েই খাবার পাওয়া যায়, আর জল? অন্তত শখানেক হকার বোধহয় 'ঠাণ্ডাপানি" বিক্রি করে চলেছে।

সিটটা জুটলো ৭১ নং এ বাথরুমের এক্কেবারে কাছেই। বসেই যেতে হবে গোটা রাস্তাটা, আরেকজনের সাথে। তিনি মাঝবয়সী কোচবিহারী মহিলা, সাথে একটি কিশোর ছেলে ও স্বামী। উল্টোদিকে ৬ টা সিট গোটাটাই আলিপুরদুয়ারের একটা পরিবারের দখলে, সাথে একটা কচি বাচ্চা। ব্যাগপত্তর সিটের নিচে চালান দিয়ে টিশার্ট টা খুলে বসেবসে যেই গা টা এলিয়ে দিয়েছি, ওমনি নিদ্রাদেবী ঢুলুনির প্রোমো চালিয়ে দিয়েছে।
কতক্ষন পর জানিনা, বাঁজখাই গলায় 'উঠুনতো মশাই' আওয়াজ সহ কাঁধে একটা মৃদু ধাক্কা অনুভুত হতেই, মেজাজটা চিড়বিড়িয়ে গেল। কাঁচা ঘুম ভাঙলে যা হয় আর কি। শকুনিমামা স্টাইলে একটা চোখ খুলেই মুখ ফসকে যথারীতি খাঁটি বাংলা উবাচ নির্গত হল- ধুর ওয়ারা, খোঁচাচ্চেন কেনে!!
-কি, আমাকে খিস্তি? টিটি কোথায় টিটি, টিটি.... পুলিশ...
- কি কেলো, আমি তো ঘুমাচ্ছিলাম, কি কেলো হল?
ব্যাগ গুলোর দিকে একবার চোখ বুলিয়ে দেখলাম, ওরা এই ঝামেলার আঁচ পাইনি, শান্তিতেই ঘুমাচ্ছে।

- আপনি জানেন আমি কে? অভদ্র চুয়ার....
এবারে একটু হাসিই পেয়ে গেল, বললাম-
- আপনার পরিচয় পেয়ে পেয়ে ভালই লাগল। তা বলুন কি সাহায্য করতে পারি!
- ওঠ আমার সিট থেকে, আমাকে কিনা খিস্তি! উঠ আমার সিট থেকে

পাশ থেকে একজন বয়স্ক ভদ্রলোক বলে উঠলেন, আহা মাস্টারমশাই অপেক্ষা করুন, এই জাতের লোকজনে আজকাল দেশ ছেয়ে গেছে, আমি রেলের হেল্পলাইনে কল করে দিয়েছি, পুলিশ এলো বলে। উল্টোদিক থেকে একজন মহিলা বলে উঠলেন ক্ষ্যাপা পাগল নয়ত আবার! কেজানে বাবা ভদ্রলোকের মতই কাপড় জামা... আরো বহুকিছু বলছিলেন। 
মজাটা হল এর পর, আমি কানে হেডফোন লাগিয়ে আবার চক্ষু মুদিতেই, ওদের আক্রোশ ফেটে পড়ল। পুরুষটি পুলিশ খুঁজতে গেছে, মহিলাগুলো রীতিমত উচ্চশ্রবে চেঁচিয়ে আমার চোদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করার দরুন কম্পার্টমেন্ট মাথায় তুলে বকি যাত্রিদের বিনোদন যোগাচ্ছেন। আমিও আজন্ম বেয়াড়া ত্যাঁদড়, শিব সেজে জানালাপানে মুখ করে বসে আছি, কারণ টিটি বাবাজী স্বয়ং নিয়মমাফিক চালান কেটে আমার সিট কনফার্ম করে এখানে বসিয়েছেন। তাই সে ব্যাটা না আসা পর্যন্ত এই বান্দর বন্দর ছেড়ে নড়ছেনা।

গাড়ি নিউ ফারাক্কা স্টেশনে পৌছাতেই কিছু হকার উঠল, এক ঝালমুড়ি ওয়ালার থেকে আমতেল মিশ্রিত ঝালমুড়ি আমেজ নিয়ে খাওয়া দেখে ওই ঝিমিয়ে যাওয়া মহিলারা আবার নতুন উদ্যোমে সিরিয়াল শুরু করেদিলেন। ট্রেন এতক্ষণ পর্যন্ত ঠিকঠাকই চলছিল, এখানে প্রায় টানা ২৮ মিনিট পর হুইসেল দিয়ে চাকা গড়াতেই দেখি সেই ভদ্রলোক গোটা দুই RPF আর খান তিনেক TTE নিয়ে হাজির আমাকে সবক শেখাতে। তারপরে সব কিছু চেকচাক করে কিছু না বলেই এক RPF বাবু আচমকা সেই "আমি কে জানিস" ভদ্রলোকের গালে সটান চড়। ফারাক্কা ব্রিজের ঝনঝনা আওয়াজকে ছাপিয়ে পুরো ইয়র্করের মত সকলের কানের পাতায় ধাক্কা খেয়ে বগিময় প্রতিধ্বনিত হতে লাগল সেই সুমিষ্ট আওয়াজ।
যেটা জানলাম, ওই ভদ্রলোকেরও ৭১ নং সিট, কিন্তু S5, আর এটা S4আর যেটা বুঝলাম যে, হামবড়া ব্যাক্তিটি নির্ঘাত এতো পরিমাণ হম্বিতম্বি করে এনাদেরকে এনেছিল, সেটারই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এই ঊনআশি শিক্কার চড়। মহিলাগুলো হঠাৎ করেই যেন লজ্জাবতী লতার মত কেমন নেতিয়ে গিয়ে সঙ্গী বীর পুরুষটির প্রতি কটাক্ষপাত করতে লাগলেন। যথারীতি রাত নটার কাঁটা পার হতেই ট্রেন মালদা টাউনে ঢুকলো। অতএব খাওয়াদাওয়া শুরু, ৫-৭ মিনিটেই আমার পর্ব শেষ হয়ে গেল। এদিকে সামনের সেই বৃহদ পরিবারে আরো বেশ কিছু সদস্য জুটেছে খাবার সময়ে, যারা হয়ত এদিকওদিক ছিটিয়েছড়িয়ে বসেছিল।

মজাটা আরো দীর্ঘায়িত হল এবারে; মালদা স্টেশন এক্কেবারে হকার শুন্য। বন্ধু Debesh নিশ্চই আসল কারনটা বলতে পারবে। অতএব জলওয়ালারা ট্রেন থেকে হাপিস। এদিকে ওই পরিবারের সঞ্চিত জল শেষ। সেই মাঝবয়েসী ভদ্রমহিলা আমাকে অমন একটা পঞ্চাশের দশক মার্কা বেঢপ জারে করে জল বইতে দেখে বেশ মুখ টিপে হেসেছিলেন, তার মাথাতেই এলো কথাটা।
- বলছিলাম কি দাদাভাই, জল আছে? 
জল বলে জল! সেই অবাক জলপানের মত, চোখের জল নাকের জল, ঘামের জল, ট্রেনের ট্যাঙ্কির জল... কত জল চাই! নাহ এ কথাগুলো শুধু ভেবেছি, ওনাদের বলিনি। যেটা বললাম সেটা হল-
- কেন থাকবেনা জল!! আছে তো। বলেই আমিও জারটা ব্যাগ থেকে বেড় করে দিলাম। এমনিতেই NJP তে ফেলেই দিলাম, যাক সৎকারে লেগে গেল।
- জলে কি সুগন্ধী দেওয়া আছে দাদা?

আমি শুনেও অগ্রাহ্য করলাম কথাটা, কারন জানি ওটা আমার মায়ের কীর্তি। উনি যে, ১০০ লেবুর শক্তি সম্পন্ন ভিম লিকুইড দিয়ে জারটি পরিষ্কার করেছিলেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যথারীতি প্রায় নিরুপদ্রবেই বাকি পথটা অতিক্রম করে, ভোর শোয়া তিনটের সময় নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নেমে এক কাপ চা-পান করে ঘুম তারালাম।

মনের সুখে একটা মান্নাদের গান গুনগুন করতে করতে দীর্ঘ ফুট ওভারব্রিজ বেয়ে বাইরে ট্যক্সি স্ট্যান্ডে এসেই বাজটা পড়ল। একটা গাড়িও পাহাড়ে যাবেনা, গুরুঙ এর নাকি পুরকি আবার চেগেছে। স্বয়ং বড়লাট (স্ত্রীলিঙ্গে পড়ুন) পাহাড়ে অধিষ্ঠান করছেন ভাইগুলোকে (কি জানি কিসের ভাই!!) নিয়ে, অতএব একটা হেব্বি থ্রিলিং। অধিকাংশ পর্যটকের দল ডুয়ার্স, গ্যাঙটক, নেপাল ভুটানের দিকে রওনা দেবে বলে সেই মাঝরাত্রে ডিসিসন নিয়ে অনলাইনে হোটেল খুঁজে বেড়াচ্ছে।
অনেক উঁচু থেকে ঠিকরে পরা সাদা আলোতে ধুয়ে দেওয়া হেরিটেজ রেল ইঞ্জিনের কাছে বসে খান দুয়েক সিগারেটের মুখাগ্নি করে ভাবতে লাগলাম-
যাব্বো কি যাবো না!!!
........ক্রমশ


ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...