শনিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৮

।। রাশিভ্রম ।।



“এই যে আপনি, শুনিতেছেন; আপনার সহিত আমার যাবতীয় সম্পর্ক এই অবধিই সমাপ্ত হইল। আজি হইতে আমা সহিত কোনো প্রকারের যোগাযোগ করিবার প্রচেষ্টা করিবেননা, আশা রাখি। দুরাভাষ যন্ত্র যোগে ক্রমপীড়ন সহ সর্বপ্রকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আমাকে নিষ্কৃতি প্রদান করিবেন কামনা করি। প্রসঙ্গত, সমুদায় এ সকল আখ্যায়িকার অবতারনের হেতু হইল, আমার অভিভাবকেরা পাণিগ্রহণ নির্ঘন্ট চূড়ান্ত করিয়াছেন পাত্র উচ্চপদস্থ সরকারী আমলা। উক্তদিবসের প্রীতিভোজে আপনার সপরিবারে নিমন্ত্রণ রইল, অন্তিমবারের মত শ্রীমন্তের পাদস্পর্শে আমাদিগকে ধন্য করিলে বাধিত হই। অবশ্য ইহাতে অস্মদীয় ‘প্রথম ও অন্তিম’ অবেক্ষণ পর্বটিও বরদাস্ত করিয়া লইব।
শুভায়ু ভবত”

চলমান দূরাভাষযন্ত্রের প্রদর্শন যবনিকার উপরিতলে দৃষ্টিপাত করিয়া- দেবাহুতির অন্তিম বৈদ্যুতিন-বার্তাটি বারংবার পড়িতেছিল বভ্রুবাহন দেবাহুতি তো তাহার প্রণয়াসঙ্গী ছিল না! তথাপি তাহার এই মনবেদনার হেতু কি? বক্ষদেশের বামপার্শ্বেও মৃদু শূলনাভুত হইতেছে। মনে হইতেছে যেন, অতি মূল্যবান কোনো বস্তু হারাইয়া যাইবার উপক্রমক্ষণ উপস্থিত হইয়াছে!

সংযোগ রাশির ভ্রমবসত, চলমান বার্তাযন্ত্রের মাধ্যমে কিয়ৎ পরিমাণ অদ্ভুত ভাবে পরিচয় ঘটিয়াছিল বভ্রুবাহনের সহিত দেবাহুতির। বভ্রুবাহন স্মৃতিপথ বাহিয়া ঠিক এক বৎসর পূর্বে পশ্চাতধাবন করিল।
-       অপরপ্রান্তে কে রহিয়াছো সুহৃৎ?
-       আজ্ঞে আমার নাম বভ্রু, বভ্রুবাহন শুভার্থী। আপনি কে প্রিয়ংবদা?
-       আমি! আমি আপনার সখী...
-       সখী? কোন সখী?  কি বলিয়া সম্বোধিত করিব আপনারে?
-       দেবাহুতি, আমার নাম দেবাহুতি
-       দুঃখিত, এ নামধারী কেহ আমার পরিজনবৃত্তে ঠাহর হয়না।
-       তাহাতে দোষের কি হইল, ভাবিয়া নিন আজি হইতেই পরিচয় হইলআমি আপনার নতুন সখী! হিহিহি...
 
গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা মতে উহা ছিল বিশ্বমৈত্রী দিবস। অনর্থক তামাসাজনিত কারনেই, আপন দূরাভাষ সংযোগ-রাশি-ক্রমঙ্কন সমন্বয়ের বিন্যাস বিচ্যুতি ঘটাইয়া, উদ্ভুত রাশিতে দূরাভাষ সংযোগ করিল দেবাহুতি অতঃপর সেই যন্ত্রচালিত আহ্বানটি বভ্রুবাহনের মুষ্ঠিযন্ত্রে অবলোকিত হইয়াছিল, বাকিটা ইতিহাস

প্রারম্ভকালীন সময়ে বভ্রুবাহন কন্যাটিকে উপেক্ষা করিলেও, অনতিবিলম্বেই দুইজনের মধ্যে অন্তরাল মিত্রতার সম্পর্ক স্থাপিত হইয়া গেলললনাটি কিঞ্চিৎ প্রগলভ স্বভাবজাত ও বাচাল, তথাপি এই চারিত্রিক বৈশিষ্টটিই বিশেষভাবে মনে ধরিল বভ্রুবাহনেরবভ্রুবাহনের সরলতায় সম্পৃক্ত গম্ভীরভাবে বলা কথাগুলিও হৃদয়াবৃত্তিতে নাড়া দিতে লাগিল দেবাহুতির
ইতিপূর্বে এইরূপে কোনো রমণীর সংস্পর্শে আসিবার সুযোগ ঘটেনি বভ্রুবাহনেরবাল্যকাল হইতে মা ব্যাতিত অন্য স্ত্রীজাতি হইতে নিজেকে গুটাইয়া রাখিয়াছিল কোনো নির্দিষ্ট কারন ব্যাতিরেকেই। সহসা অনাহূত আগুন্তকের ন্যায় তাহার জীবনে আসিয়া পরা দেবাহুতি নাম্নী কন্যাটি তাহাকে পরিপূর্ণ রূপে বদলাইয়া দিল। হৃদয়ের অন্তঃপুরে এই কন্যার নিমিত্ত প্রাসাদও নির্মিত হইল যতনেবভ্রুবাহনের উপলব্ধি করিল, এই কন্যাটি তাহার আগত ভবিষ্যতের জন্য একমাত্র ভরসা যোগ্য

সত্য সত্যই এই কন্যাটির মধুর কথাবার্তাতে একটা নিঃসংশয় আস্থাভাব ফুটিয়া উঠিয়াছিল। মায়াবতীর ন্যায় প্রতিটি বাক্যে একটু একটু করিয়া বভ্রুবাহনকে আচ্ছন্ন করিয়া ফেলিয়াছিল। বভ্রুবাহনেরও মানসপটে কন্যাটির পরিপূর্ণ একটি চিত্র অঙ্কায়িত হইয়াছিল, উহা যতটা না বাহ্যিক তাহা হইতেও চিত্তগত অধিক ছিল। অতএব আগামী জীবনটুকু অতিবাহনের জন্য জীবনসঙ্গী হিসাবে ইহার থেকে উত্তম আর কাহাকে ভাবিতে পারিলনা উভয়েই, তাহাদের প্রত্যেকর ভাবনা জুড়িয়া অপরজন বিরাজ করিতে লাগিল এমনভাবে যে, অন্য কাহারো প্রতি ভাবনা ও দৃষ্টিই যাইতনা।

বভ্রুবাহন দেবাহুতির অন্তিম বার্তাটির প্রতি নিষ্পলক দৃষ্টিপাত করিয়াই রহিয়াছে। চক্ষু দুইটি ক্রমশ ঝাপসা হইয়া আসিতেছিল রোদনবাষ্পের প্রভাবে, ভাবিতেছিল মনুষ্যের প্রনয় জীবন কেনইবা এমন নিষ্ঠুর হইয়া থাকে! যেন ভয়াবহ কোনো গোলকধাঁধাঁর পরিলেখতে জীবনটি চিরতরে আঁটকা পড়িয়া রহিয়াছে, যাহা হইতে মুক্তি নাই।

আজ দেবাহুতির গৃহে বিবাহঅনুষ্ঠানের আসরসমস্ত গৃহখানি রঙ্গিন সুদৃশ্য বাহারি আলোক সজ্জায় ঝিকমিক করিতেছে। বভ্রুবাহন ভাবিতেছে, হয়ত অনতিবলম্বেই অশ্বপাল তাহার বিত্তের প্রদর্শন স্বরূপ দামি বাহনে চড়াইয়া দেবাহুতিকে তুলিয়া লইয়া যাইবে। সমগ্র অনুষ্ঠানবাটিকা শশব্যস্ত নানাবিধ অনুষ্ঠানাচারেবভ্রুবাহন একটি অট্টালিকা স্তম্ভের কোণায় দাঁড়াইয়া নিবাসটির অঙ্গসজ্জার প্রতি স্থাণু দৃষ্টিতে চাহিয়া রহিয়াছেআঁখিপল্লব দুইটি আজ যারপরনাই পরিমাণে দুর্বহ অনুভূত হইতেছে অচম্বিতে বভ্রুবাহনের চলমান দূরভাষ যন্ত্রে, বার্তা আগমনী সুরটি বাজিয়া উঠিল;  দেবাহুতি কিছু সন্দেশ পাঠাইয়াছে-

-
আপনি কি আসিয়াছে?

বভ্রুবাহন ঈষৎ বিবেচনা করিয়া দেখিল, শিষ্টাচার বসত যেহেতু আচারঅনুষ্ঠানে উপগত হইয়াছেই সুতরাং অন্তিমলগ্নে প্রতুত্তর না দেওয়ার মত দুর্বিনীত হইতে অন্তর সায় দিলনা। অতঃপর জবাব দিল-

-
হুম, আসিয়াছি।
- আমি আপনাকে দেখিতে পাইতেছিকষ্ট করিয়া ক্ষণকাল অপেক্ষার আর্জি রাখিলাম, আমি স্বয়ং আসিতেছি সাক্ষাৎ অভিপ্রায়ে
পাদঘন্টা মুহুর্তের মধ্যেই অতিক্রান্ত করিল বভ্রুবাহন, অতঃপর মনোহরা গোলাপশোভিত এক অপরূপা উর্বশীসম কন্যা বভ্রুবাহনের সম্মুখে আসিয়া মৃদুভাবে বভ্রুবাহনের নাম উচ্চারণ করিতে তার চকিতভাব কাটিল। আজিই প্রথববারের জন্য চাক্ষুষ করিল দেবাহুতিকে, তাহা আবার রক্তিম সাজে। কি অপূর্বই না লাগিতেছে, যেন স্বর্গ হইতে কোনো দেবী মর্তধামে আসিয়াছে, নতুবা বভ্রুবাহন কল্পলোকে বিরাজিছে। পুনঃর্বার চকিতভাব কাটিল আলাপনের প্রশ্নে-
-
আপনিই বভ্রুবাহন?
- আজ্ঞে আমিই
- আপনি তো দেখছি ভক্ষ্যাদি বিষয়ে অত্যন্ত লালস প্রজাতির ব্যাক্তি? আপন গৃহে কি যথেষ্ট পরিমাণে ভোজন সামগ্রী বাড়ন্ত? আসুন মণ্ডপের অভ্যন্তরে প্রবেশ করুন। আমিষদ্রব্য, মণ্ডামিঠাই সহ ষোড়শোপাচারে আপ্যায়নের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা রহিয়াছে, প্রাণভরিয়া উদরপূর্তি করিতে দ্বিধা করিবেননা।
- তাহার আর প্রয়োজন নাই, ধন্যবাদ সাক্ষাতের জন্য। এ অভিপ্রায়েই আসিয়াছিলাম, অতএব এবারে আমি চলিলাম, বিদায়।
- ঠিক আছে, আপনার মনোকামনাই পূর্ণ হউক। তবে একটি প্রশ্ন ছিল, আপনার অক্ষিগোলক কি এমনই স্বাভাবিক রঞ্জিত রক্তাভ বর্ণের!

বভ্রুবাহন বাকশক্তি হারাইয়াছে, যেন কোনো অপ্রার্থিব শক্তি তাহার গ্রীবাদেশে সর্বশক্তি প্রদান করিয়া পেষন করিতেছে। 
-
আমাপ্রতি আপনার অনুষঙ্গ ঠিক কোন পর্যায়ের? উহাকে কি প্রণয়প্রীতি হিসাবে গ্রহন করিতে পারি?
দেবাহুতির এই বাক্যাটি শ্রবণমাত্র ভীষণ বিষম খাইল বভ্রুবাহনমেকি হাসি হাসিয়া বভ্রুবাহন কহিল-“ নাহ, মোটেই নয়। কেন তাহা হইবে। আপনার সহিত...! সামান্যটুকুও না”।

অন্তিম শব্দটিকে, বক্ষদেশের অভ্যন্তরের দলাপাকানো একরাশ বেদনা ও ক্ষোভ- ঈষৎ কম্পিত করিয়া দিল। সাথে সাথে দুই ফোঁটা অশ্রুও চিবুক পর্যন্ত শিক্ত করিয়া তুলিল, যাহা দেবাহুতির অগোচরে রহিলনা

দেবাহুতি কহিল, “আচ্ছা, প্রণয় বা ভালো না হয় না ই বাসিলেন,  এক্ষণে অন্দরমহলে তো চলুন। ভোজনাদিও নাহয় একসাথে মিলিয়াই করিব, সত্বর চলুন, অবকাশ অত্যন্ত কম। বরযাত্রী আসিল বলিয়া, দিদিকে তাহারা অচিরেই লইয়া যাইবে”

বভ্রুবাহন পেল্লাই আকারের বিষম খাইয়া ও বিহ্বল হইয়া বিস্ফোরিত চক্ষু করিয়া দেবাহুতির পানে চাহিয়া রহিল। দেবাহুতি কপট ক্রোধ প্রদর্শিত করিয়া কহিল, “ভারি অসভ্য মানুষ বটে আপনি, কি ভাবিয়াছেন, সখ্যতাও আমি যাচিয়া করিয়াছিলাম, তথাপি ভালোবাসার প্রস্তাবনাও আমাকেই করিতে হইবে? মহা বেহায়া ধরনের ধৃষ্ট পুরুষ আপনি। যে কাজ পুরুষের তাহা আমি কোনো অবস্থাতেই করিবনা, আই বলিয়া দিলাম, হ্যাঁ।  

এতক্ষণে অন্তঃপুরে কনে’র ঘরে পৌঁছাইয়া গিয়াছে উভয়ে, উপস্থিত সকলের সহিত বভ্রুবাহনকে আপন বিশিষ্ট বন্ধু হিসাবে পরিচয়ের সাথে সাথে বধুবেশী কন্যাটিকে আপন জ্যাষ্ঠো ভগিনী হিসাবে উল্লেখ করিয়া উপর্যুপরি খিলখিলাইয়া হাসিয়া উঠিল দেবাহুতি। যাহা বভ্রুবাহন ব্যাতিরেকে অবশিষ্ট সকলের মাঝে সংক্রামিত হইল

বধুরূপী হিরন্ময়ী কহিল, আমার তো গতি হইল, কিন্তু আমার ভগিনীর প্রেমিকপ্রবরটি ঠিক কতখানি প্রণয়াশক্ত সেইটি দেখিবার জন্যই এই নাটিকার অবতারণা, যাহা হউক আপাতত যবনিকা পরিল ভাই। তুমি আমাদের পরমাত্মীয়, ক্ষণকালের এই মনকষ্টের জন্য বড় দিদি ভাবিয়া মার্জনা করিয়া দিও”। ঘরে পুনঃরায় হাসির রোল উঠিল।

দেবাহুতি কৌশলী দন্তবিকাশ করিতে করিতে বলিল , আমি কিন্তু কখনো বলিনাই আমারই বিবাহবভ্রুবাহনের হতচকিত পরিস্থিতি অনুধাবন করিয়া আকাশ বাতাস কম্পিত করিয়া আবার সকলে খিলখিলিয়ে হাসিয়া উঠিলমুগ্ধতা ছড়ানো সেই হাসিতে সমস্ত পৃথিবির যাবতীয় সুখের সন্ধান পাইতেছিল বভ্রুবাহন, সে দেবাহুতির প্রতি নির্নিমেষে চাহিয়া অপার মুগ্ধতায় ভাসিয়া যাইতে লাগিল
 
অভাগা লেখকও এমনই কোনো অযাচিত দূরাভাষের প্রতীক্ষায়, যদি পাঠককূলের কোনো সহৃদয় ললনা আকৃষ্ট হয়, অকৃতদার তকমাটি ঘুচে তাহা হইলে।

-সমাপ্ত

শুক্রবার, ৩ আগস্ট, ২০১৮

।। প্রসঙ্গঃ আসামে NCR ।।


যাদের "বাপ ঠাকুরদার" যে কোনো একজনের জন্ম বিদেশে (পড়ুন বাংলাদেশে), ফাটবে তাদের বেশি। তারা তবুও হাসছে, কারন ভাবছে সে বোধহয় টিকে যাবে ভক্তো হবার মন্ত্রবলে, আর পরিস্থিতি না বুঝে ওঠার কারনে। তথ্য বলছে বহু অসমিয়া ভক্তো অবৈধ হয়েছে, তারা হারিয়ে বুঝেছে। অবশ্য বুঝদার চিন্তাশীল কোনো মানুষ বিজেপি করে বলে শুনিনি। আরেক দল হাসছে অভ্যাসে, এদের বরাহনন্দন বললেও হাসে বৃহন্নলা নামেও খুশি হয়। এরা জানেনা বিজেপি মানেই 'ঘরের ষাঁড়ে গবনা হওয়া"

জানিনা আমার ফেবু পরিচয় তালিকার কতজনের বাবা-দাদুর জন্ম স্বাধীন ভারতে। তাদের জন্য এক মিনিট নিরবতা পালন হোক।

সদ্য তথা বিগত ৩০ বছরের মধ্যে আপনার এলাকার আশেপাশে যে কয়পিস "অবৈধ বাংলাদেশী" ডেরা গেড়েছে (as per Assam NCR conditions) , চেয়ে দেখুন প্রায় সব কটা মাল বিজেপির প্রকাশ্য সমর্থক। পাশাপাশি বখরার লোভে তিনুর সিন্ডিকেটেও নাম লিখিয়ে হারাম কামাচ্ছে ফ্যামিলির অনেকে। কেউ কেউ তো "কাইট্যা হালাইমু" জাতের উগ্র। যদিও নিজের নিন্মাঙ্গের লোমটুকু কাটার মত মরদ হয়ে উঠেনি।

এরাই আদি বিজেপি এই বঙ্গে। হর হর মোদীনাদে একদা বাতাস কাঁপিয়ে ছিল, এখন মোদীর NCR তাসে ঘুঁটে নাদছে। এরপর চোখ দিয়ে হিসি করবে, মুখ দিয়ে গালি আর পোঁদ দিয়ে লালনীল সুতো বেরোবে। আবকি বার কি মোদী সরকার হবে বন্ধু? জবাব আসার সম্ভাবনা ক্ষীন, খিস্তি আসলে আসতে পারে। এরা জানে আচ্ছে দিন কাকে বলে, ২০১১ পূর্ববর্তী বাংলা এরা দেখেছে অনেকেই।

আত্মলিঙ্গম পশ্চাদপুরম হয়ে শিখন্ডীর মত বুঝে নেবার চেষ্টা করছে, জল কদ্দুর গড়ালো, কার উঠোন পর্যন্ত। জাতের ফুঁপি প্রকাশ্যে টানা যাবেনা, তাই কোল্যাটারাল ড্যামেজে ১০০ কোটি হিন্দুর স্বার্থে ১-২ কোটি হিন্দু বলি অনৈতিক বা অযৌক্তিক কোনোটাই নয়। আচ্ছেদিনে উত্তীর্ন হতে গেলেও এই সামান্য ট্রাঞ্জিষ্ট লষ্ট মেনে নিতেই হবে অর্থনৈতিক সুত্র মেনে।

আপনি বোঝেননি আমি ঠিক কি বলতে চাইছি, তাই তো? আমি নিজেই বুঝিনি তো আপনি কি বুঝবেন।

ভক্তবৃন্দের, ছুঁচোর সাপ গেলার মত - চোখে মুখে বঞ্চিত বাঞ্চোত হয়ে যাবার রেখা স্পষ্ট। না গিলতে পারছে না উগরাতে।

মমতা ব্যানার্জীর, একদা স্পিকারকে লক্ষ্যকরে কাগজ ছুড়ে মারার ইতিহাস মিডিয়ার দৌলতে চোখে চোখে। শরনার্থী বা উদ্বাস্তু প্রশ্নে তার নিজ দলের লোকেরাই বিশ্বাস করে কিনা বুকে হাত রেখে বলতে পারবেনা। সততা আবার নিলামে চড়েছে সোনাগাছির হাটে। উন্মাদেরা প্রতিবেদন লিখছে, উন্নয়ন তবু অসমে যায়নি, কারা গেছে? মমতাবালা -মহুয়ার মত রাজনৈতিক অপাংক্তেয় কিছু ভেসে থাকা শিকরহীন কচুরিপানার দল। লাগলে তুক, না লাগলে তাক।
সত্যিই বাংলাতে আজ বড় অংশের নিন্মবর্ণের হিন্দুরা অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় ভবিষ্যতের সামনে। এতোদিন মোদী মুসলমান ঠেঙিয়ে এসেছে, এখন সেম সাইড গোলে হিন্দু উচ্ছেদ শুরু করেছে। এ বিষয়ে হিন্দু সংহতির তপন গোয়ালার কোনো মন্তব্য নেই, RSS এর তরফেও কোনো এঁড় কপালের অফিসিয়াল বিবৃতি নেই।

আগামীতে বাংলার এক খেই বালও ছিঁড়তে পারবেনা মোদী সরকার, এটা নিশ্চিত। কারন অল্পদিনেই তুলসিতলায় উঠবে গোটা সরকার। তবুও অশান্তি করাতে পারলেই মাংসলোভী কুত্তাদের লাভ। তাই বাঙালিকে দ্রুত শত্রু চিনে নিতে হবে, যাবতীয় পুরাতন ভুল শুধরে। এটা অস্তিত্বের প্রশ্ন। নতুবা প্রাক্তন বৃটিশ প্রভুদের কাছে মুচলেকা দেওয়া বাপের বীর্যে জন্মানো গোসন্তানেরা আবার বাংলাকে লুটে নিয়ে বেচে দেবে। রক্ত বেইমানি করেনা।

** বিজেপি তথা মোদী বাঙালী বিরোধী। প্রমানিত। মেদনীপুরের জোকারটা জানেনা যে, দুই ২৪ পরগনা হয়ে পূর্ব বর্ধমান, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদা, দুই দিনাজপুরের বৃহত্তর অঞ্চলের বড় সংখ্যার মানুষ শেষ ৪০ বছরে এসেছে।

** কংগ্রেস নেই এ রাজ্যে। ওদের নিয়ে বলা বেকার।


** শাসক তৃণমূল বিজেপির বিপক্ষে গেলেই "ভাইপো" জবাই সময়ের অপেক্ষা। মোদী, রাজনাথ, আদবানীর ঝরে পরা অবাঞ্চিত লোম দিয়ে নির্মিত তাবিজ দিয়ে ভাইপো বাঁচানোর মিথ্যা চেষ্টা আরো মাস আষ্টেক চলবে। "নিজে বাঁচলে বাপের নাম" সুত্রে লোক দেখানো বিরোধিতা ছাড়া তৃণমূল কংগ্রেস প্রাঃ লিঃ এর কিচ্ছুটি করার নেই। করবেও না।

** সুসি, আর এস পি, সিপিআই ইত্যাদি নামক বালছাল দল গুলো সার্কাস পার্টি থেকে যাত্রাপার্টিতে পরিনত হয়েছে, যাদের সবকটার মুকাম চিৎপুর থুরি কালীঘাটে।

** বাকি রইল বাম....
বাকিরা তো অন্তত নামেও আছে। এনারা কোথায় কে জানে! একা বিকাশ কোনদিকে যায়! সুজন পাড়ার নেতা, বাকিরা শিশুশ্রেনীর কৌতুক অভিনেতাতে পর্যবাসিত হয়ে চলেছে। নব্য নেতাদের প্রাজ্ঞতা বটতলার সাহিত্যিকদের মানের।

মানুষ বড় অসহায়। পাশে কেউ নেই। বাঙালীর আজ নেতার অভাব। নতুবা একটা দাম্ভিক অরুচি বাতিকগ্রস্থ অসুস্থ মহিলা জাতির মাথায় নেত্ত করতে পারতনা।



বুধবার, ১ আগস্ট, ২০১৮

।। অলস কাব্য- ১ ।।


শ্রাবনের ঘনঘটা, মুখ ভার আকাশের,
প্রিয়তমা, তোমারও....

সাজানো উপবনের রেকাবি জুড়ে
 
রোজই প্রেমের হাট বসে.. আজও পৃথিবী জুড়ে।
চোখ ছোঁয়া প্রেম শরীর ছুঁয়ে শেষও হয়-
আদুর পায়ে মাড়িয়ে চলা বর্ষাস্নাত ঘাস, 
বিলয়িত হয়েছে সময়ের কাছে
বোঝোনি তুমি কি হারিয়েছো
খুশি হওয়ার চেষ্টাতে সুখের দিন অতিক্রান্ত

তবে তাই হোক...

তোমার ঠোঁটে ছুঁয়ে থাক অপবাদের পরত
তোমার হাসির কারণ হোক কান্না লুকানোর প্রয়াস,
 
পায়েপায়ে বয়ে নিয়ে চলা দলাপাকা অনিষিক্ত স্বপ্নেরা।
যাকে দেখা যায় কিন্তু চাখা যায়না, তোমারই মতো।
তবুও অন্তরের অন্তস্থলে তোমার বিপণি জুড়ে ছলনার বিজ্ঞাপন,
 
আলিঙ্গনে রোজ নতুন ঘামের গন্ধের দ্বৈধীভাব-

প্রেম- তবুও তুমি ধন্য, তোমায় সাধুবাদ।
নিরুদ্দেশের যাত্রী করেছো, বিকলনে জীর্ণ
পরিপত্র বিনাই হারিয়ে যাবো টুক করে
অনেকের মতো স্মৃতিতে রয়ে যেতে-
তোমাদের ভালো থাকার জন্য উৎসর্গীত যে জীবন
হাসিটুকু থাক শেষদিন পর্যন্ত জিয়ানো
 
এতটুকু আত্মত্যাগ যে নিয়তিরই লিখন।

আমাকে খুঁজে পাবে প্রতিটি তৃষ্ণার্ত অনুভবে
প্রেম তুমি বেঁচে থেকো আমার ডাকনামে।


মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই, ২০১৮

।। উন্মাদনামা- ৩২ ।।


Disclaimer: কাঁচা খিস্তিতে যাদের এলার্জি তারা এই বাটিকা সেবন থেকে বিরত থাকুন।
™™™™™™™™™™™™™™™™™™

চিন্তাটা আসলে আপনি ঘটি না বাঙাল সেটা নিয়ে নয়, সমস্যা হল আপনি নাগপুরের বলদগুলোর পূজারী কি না। ওখানেই যাবতীয় সিদ্ধান্ত লুকিয়ে। আসলে কি জানেন, একটা লোকেরও বাল ছিড়তে পারবেনা এই বিজেপি এন্ড কোম্পানি। আইন পালটা আইনের গ্যাঁড়াকলে পাবলিক ভুলে যাবে- কে কি ও কেন। কিন্তু এটাকে কেন্দ্র করে যে প্রবল আলোচনার সামিয়ানা খাটানো হয়েছে দেশ জুড়ে তার তলাতে মোদী সরকার আরো বেশ কিছু অবৈধ কাজ সেরে হাত ধুয়ে নেবে।

ওদের উপরে চোখ বুজে ভরষা করুন, কারন ওরা পেশাদার উন্নতশ্রেনীর চুতিয়া ধাপ্পাবাজ আর আমরা বোকাচোদা গান্ডু।
মিডিয়া, প্রোপাগান্ডা আর হুজুকে পাবলিকের এখন ত্রিসাম চোদনলীলা চলছে, মাল খসলে সবাই দেখবে আসলে সবাই যার যার লাভ ঘরে তুলেছে, শুধু পাবলিকের পোঁদ মারা গেছে আর রাষ্ট্রীয় বীর্যে গর্ভবতী সরি ঋণবতী হয়েছে। আবকি বার ফিরসে মোদী সরকার, কেন? যে জাতি নিজের পোঁদ মারিয়ে সুখ পায় তার জন্য এমন জুমলাবাজই আদর্শ নেতা।

মলম লাগাতে মিডিয়া মাসির কন্ডোম তো আছেই, যেটা আপনার মুখে গুঁজে দেবে। অপেক্ষা করুন, কোন জুমলা প্রকাশ পেল এই অসমিয়া জুমলার পাঁকে। কারো থেকে মন্তব্যের আশা রাখছিনা, তবুও জানতে চাই "মন্দির ওহি বানেঙ্গে" মাগর কাবতক!!

উদ্বাস্ত ও সমুদ্রগড়


লেখকঃ তন্ময় হক 

আমাদের সমুদ্রগড়
এমন বর্ষাদিনে আমাদের মায়েরা তখন স্কুল পর্যন্ত পৌঁছে দিতেন হাতে ধরে। ক্লাস ফাইভে উঠেছি , স্কুল বাড়ি থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে, তবুও। সেটা ১৯৯৩-৯৪ সাল, আমাদের বিবিরহাট গ্রামের অদূরে একটা মোল্লারবিল নামক গ্রামে বেশ কিছু বাঙালবাসা বেঁধেছে শুনেছি, শেষ ১৫-২০ বছরের হতদরিদ্র মানুষজনের কলোনি। সমুদ্রগড় মূলত হাঁড়ি, ধাঙড়, কিছু অত্যন্ত দরিদ্য শ্রেনীর মুসলমানদের সাথে কালীনগর ও জালাহাটির অবস্থাপন্ন সদগোপ চাষাদের বাস। দাদুর কাছে শোনা, ৭১ এর আগেই মোদকরা বর্তমান পূর্ব পাকিস্থান থেকে এসে কালীনগরের অদূরে কালীতলাতে বসবাস শুরু করে। ৭১ এর পরে দেবনাথ, বিশ্বাস, সরকার, হালদার, মজুমদার, মণ্ডল, ইত্যাদি পদবীর বাংলাদেশী লোকজন অল্প আকারে গ্রামের বাইরের দিকে চূড়ান্ত হতদরিদ্র পরিবেশে কেউ কেউ জলাজংলার মধ্যেই বসবাস শুরু করে, যেখানে যাতায়াতের কোনো রাস্তাঘাটও ছিলনা। আমি তখনও জন্মায়নি অবশ্য। জন্মের আগের একদশকের মাঝেরকার ঘটনা, তখনকার মিস্ত্রি পরিবারটিকে ঘিরেই সমুদ্রগড় নামক গা-গঞ্জের দিনাতিপাত। এটা নবদ্বীপ শহর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে, তবুও অজ পাড়াগাঁ বলতে ঠিক যা বোঝায় ঠিক তাই ছিল।

নবাব আমল, গৌড়রাজ, বর্ধমানরাজ, কৃষ্ণনগরের রাজা হয়ে বৃটিশদের সাথে চলাচলি হরেক চিঠিপত্র, সম্পত্তির দলিল, ব্যবসায়িক দস্তাবেজ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আমাদের মিস্ত্রি বংশের (পরবর্তীতে হক্‌) বাস এই অঞ্চলে প্রায় ৩০০ বছরেরও অধিক। যদিও মাঝে একবার এনারা মানে আমার পূর্বপুরুষেরা সুলুন্টু নামক একটা স্থানে থাকতেন, যেটা বর্তমান সমুদ্রগড় থেকে ১৬ কিমি উত্তরে। কোনো এক মড়কের কবলে সেই গ্রাম উলা হয়ে গেলে এরা বর্তমান এই স্থানে বসতি স্থাপন করে, সেটাও কমপক্ষে ২০০ বছর আগে। তারপরে কোম্পানির সাহেবইঞ্জিনিয়ারদের নক্সাতে তৈরি আমাদের দু-দুখানা কোঠাবাড়ি আজও ৩০ শতাংশ বসবাস যোগ্য হয়ে ইতিহাস বহন করে চলেছে। আমাদের বংশের অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষয়িষ্ণু দুটো ধারা আজও সেখানে বসবাস করে, এই ২০১৮ তেও।

আমিও বেশ কিছু কথা লিখে ফেললাম আবেগে, আসলে এই আচ্ছেদিনের ভারতে যেখানে প্রমথেশ বড়ুরার পরিবার থেকে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির পরিবার সুরক্ষিত নয় সেখানে আমাদের মত বালস্য বাল তায় মুসলমান- কিভাবে আতঙ্ক থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখতে পারি?

হ্যাঁ, চলুন ফিরি সেই নব্বই এর দশকে। বামফ্রন্টের বর্গাতে এই অঞ্চলের যাদের একমাত্র ক্ষতি হয়েছিল সেটা আমাদের পরিবারের। কারন তখন একলপ্তে এতোটা জমি এখানে কারোই ছিলনা। জমিই বা বলছি কেন! বলা ভাল চাষযোগ্য জমি, পুকুর, বাগান আর বনবাদাড়। বর্গা শুধু চাষ জমিতে হয়েছিল, তাই ওই মধ্য ৯০ এর দশকেও বনবাদাড় সাফ করে আবার প্রভূত জমি জন্মেছিল দাদু সহ তার ভাই দের হাতে, যেগুলো বিক্রয়যোগ্য। তখনও আজকের "সমুদ্রগড় বাজার" নামক স্থানটির জন্ম হয়নি, বিবিরহাটই স্থানীয় ব্যবসার ভরকেন্দ্র। যেটা আগামী ২৫ বছর পর ভারতবর্ষের এক নম্বর তাঁত কাপড়ের বাজার হবে, শত কোটি টাকা রোজ বাজারে উড়ে বেড়াবে, গোটা ভারত থেকে হাজারে হাজারে কারিগর, ফোড়ে, মহাজন, তাঁতিরা ভাগ্য অন্বেষণে এসে পসার জমিয়ে বসবে ইত্যাদি।

আজকের দিনে সন্ধ্যার সমুদ্রগড় বাজারের দু কিলোমিটারের যা যানজট তা কোলকাতার বড়বাজারকেও টেক্কা দেয় সময় সময়। নান্দাই গাবতলা থেকে নবদ্বীপের দিকে নিমতলা বাজার পর্যন্ত এই ৩-৪ কিলোমিটারে বিক্রিযোগ্য ফাঁকা জমিই অবশিষ্ট নেই রাস্তার ধারে, একচিলতে কারো বাড়ির উঠোন বা ছাঁচতলা থাকলেও তার যা দাম তাতে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে দিব্ব্যি একটা ফ্ল্যাট কেনা যাবে এমন অবস্থা। মূলকথা উদ্বাস্তুদের স্বস্তার শ্রম পুঁজিকে টেনে এনেছিল আমাদের সমুদ্রগড়ে, যার সুফল সবচেয়ে বেশি পেয়েছে ঘটিরাই। পুঁজি জাত, ধর্ম, রাষ্ট্র মানেনা কখনই, জীবনযাত্রার মান দ্রুত হারে বদলেছে এই 'অবৈধ অনুপ্রবেশকারী' দের কল্যাণে। তাই কেউ ট্যাঁ ফুঁ করেনি।

কেন এমন অবস্থা?
নব্বই এর শুরু থেকেই আমাদের বাড়ির পূর্বদিকটা মানে যেদিকে বাংলাদেশ সেই বরাবর রেললাইনের ধার পর্যন্ত পতিত অঞ্চলগুলোতে ওপাড় বাংলার মানুষেরা পাটকাঠি, বাঁশের দরমা, তালপাতার ছাউনি দিয়ে ঘর বানিয়ে বাস শুরু করে। কেউই শনি খ করে এমন জীবন যে বেছে নেয়নি সেটা বলাই বাহুল্য। আজকের বিজেপির ভারতে যাদের পরিচয় অনুপ্রবেশকারী, এবং অবশ্যই অবৈধ।
ওপাড় থেকে যারাই এসেছিল বা আসে, তারা দুম করে কেউ আসেনি বা আসেনা। নির্দিষ্ট রুট মেনে এরা সকলেই গেদে-বসিরহাট বর্ডার হয়ে বনগাঁ বসিরহাট বারাসাত হয়ে নদীয়াতে অনেকটা দিন কাটিয়ে তবে ঢোকে। সে সমুদ্র গড়ে আসতে গিয়ে নদীয়া বা শান্তিপুরের জীবিকাটা কিছুটা চেনা ছিল। এই উদবাস্তুদের অলিখিত রাজধানী হল কল্যাণী, এর পর হাতে মজুদ অর্থের উপরে ভিত্তিকরে নিজেরাই ঠিক কর নিত তারা কলকাতা শহরতলিপান যাবে না গ্রামের দিকে। আজও কোনো বাঙাল দুম করে এখানে ওখানে ঘাঁটি গাড়েনা, তারা বর্ডার থেকে এক পা এক পা করে এসেই দু চার বছরে দই জমিয়ে নেয়। জীবন জীবিকার স্বার্থে এরা যা খুশি কিছু করতে তৈরি ছিল সে সময়। এভাবেই শান্তিপুর, ফুলিয়ার তাঁত শিল্পের পাশাপাশি নবদ্বীপের গামছা বয়ন শিল্পের মতন করে টাঙ্গাইল, বরিশাল, ফরিদপুর ও ঢাকার আশেপাশের দেবনাথ- বসাকেরা সামুদ্রগড়কে কেন্দ্রকরে পাইকারি হারে বসতি স্থাপন করতে শুরু করল। যে ধারা আজও বহমান। সমুদ্রগড়ে তাঁতশিল্পের রমরমা শুরু হয়ে গেল।

৯৩-৯৪ সালে মা ছেলেকে হাতে ধরে স্কুলে পৌঁছে দিতেন, পাছে শেয়ালে, নেকড়ে বা হায়নাতে টেনে না নিয়ে যায়, বা বনে জঙ্গলে ছেলেধরা বা ভুতে ধরে নিয়ে যায় সেই ভয়ে; সেখানে রীতিমত এখন গোটা ৮-১০ সিভিক পুলিস থাকে যানজট পাহাড়া দিতে, নতুন পুলিস থানাও হয়েছে স্কুল চত্বরেই। জনসংখ্যার নিরিখে আসানসোল দূর্গাপুর শহরের চেয়েও বেশি জনঘনত্ব সমুদ্রগড়-ধাত্রীগ্রাম অঞ্চলে, কালনা-নবদ্বীপ তো অনেক পিছনে। এই অঞ্চলের সমুদ্রগড়ের রেশন ডিলারটি আমাদের পরিবারের হওয়ার সুবাদে, কিভাবে কোন কৌশলে নতুন রেশন কার্ড পেয়ে যেত সেই উদ্বাস্তু মানুষজন সে সকলও মুখস্ত। যেটা লিখতে গেলে বড় রোমঞ্চকর উপন্যাস হয়ে যাবে। এটা কিন্তু আধার আর এই ডিজিটাল যুগের অনেক আগের গল্প, তখন পরিচয় পত্র বলতে রেশনকার্ডই মুখ্য ছিল।

তাহলে এরা কারা? এই উদ্বাস্তুদের কাছে বনবাদাড়কে বাস্তু জমি হিসাবে বেচে ঘটিরা একসময় লাল হয়ে গেছিল, কিন্তু আজকের দিনে আমাদের এলাকার গোটা অর্থনীতিটা এই নব্যভারতীয়দেরই দখলে। রাজনৈতিক দল হিসাবে এরা প্রথমে সব সিপিএম ছিল, তৃনমূল কংগ্রেস দলটার জন্মের পর থেকে ওদিকে ধাত্রীগ্রাম আর এদিকে কালেখাতলা (পূর্বস্থলী) পর্যন্ত প্রায় সবকটা অঞ্চলের গ্রাম পঞ্চায়েতই বামেদের হাতছাড়া হয়ে যায় বছর পাঁচেকের মধ্যে। কারন এই উদ্বাস্তুরাই ঠিক করে দিত রাজনৈতিক ভবিষ্যত। যেটা বাম নেতারা কোনোদিনিই ধরতে পারেনি। পরবর্তী আরো বছর পাঁচেকের মধ্যেই সেটার রং পাল্টাতে পাল্টাতে আজকের দিনে এই অঞ্চলগুলো বিজেপির অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। আমরা যারা ব্যবসাদার মানুষ, আপাত রাজনীতির রঙ বিহীন, তাই সকলের সাথেই যথেষ্ট ঘনিষ্টতা রয়েছে, জাতি ধর্ম ও রাজনৈতিক সম্পর্কের উর্ধ্বে। কিন্তু তারও পরে আজকের এই হোয়াটসএপ ফেসবুক প্রজন্মের ছেলেরা যারা ২৫ বছর আগের সমুদ্রগড় অঞ্চলের বনবাদাড় দেখেনি, ভাল বা খারাপ সিপিএম কি জানেনা, এরা বোধ হয়ে অবধি অল্প সময় দাপুটে বিরোধী মমতা ব্যানার্জীকে দেখেছে তার পরে শাসক মমতাকে, এই মায়েরা বা মেয়েরা যারা হায়না, ছেলেধরা, ভুত বা শেয়ালের ভয় পায়নি তাদের এই পৈশাচিক উন্মত্ততা স্বাভাবিক আর সেটা আমাদের ভাবায় বৈকি, ভাবতে বাধ্য করে।

আজকের দিনে তো সমুদ্রগড়ের জনসংখ্যার ৯৫%ই বিগত ২৫ বছরে পূর্ববঙ্গ থেকে আসা মানুষজন। আর তাদের ধর্মবিশ্বাস? এটুকু জানুন তারা কেউ মুসলমান অন্তত নয়। কেন তারা নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে এদেশে এসেছেন সেটা তারা আর তাদের ছেড়ে আসা রাষ্ট্রই ভাল বলতে পারবে। এটা বলা যায় কেউ মহানন্দে এই চ্যালেঞ্জ নিতে আসেনি। আমাদের ঘটিরা তাদের আপন করে নিতে, মিশে যেতে তেমন একটা অসুবিধা হয়নি। এরা প্রথম প্রথম উদাস্তু হয়ে এর তার বাগানে বাঁদাড়ে থাকত, স্থানীয়রা মেনেও নিত সানন্দে, পরবর্তীতে নিজ নামে পাট্টা বেড় করেছিল।

আজই হিসাব করছিলাম, এরাই পরবর্তীতে ভারত সরকারের যাবতীয় চাকরীর কোটাগুলো দখল করে নিয়েছে। তারও পরে এদেরকে প্রতিদ্বন্দী বা উড়ে এসে জুড়ে বসেছে মনে হয়নি কখনো, কিন্তু আজ হচ্ছে। কারন এদেরই উত্তরপুরুষদের, আসামের ঘটনার প্রেক্ষিতে ও তার সমর্থনে যেভাবে তারস্বরে উল্লাস ও মিছিল করছে, তাতে মনে করিয়ে দিচ্ছে- তোদের ঠিক আগের পুরুষটাই ছিন্নমূল হয়ে এই মাটিতে শেকড় গেড়েছিল। এই মডিফায়েড হুজুকে প্রজন্মটাই আসামে বিপদ ডেকে এনেছে।

এরা জানেনা সমুদ্রগড় ও তার পাশ্বর্বর্তী অঞ্চলে যাবতীয় প্রাচীন শিবমন্দির গুলো জনৈক সেখ বাবুলাল মিস্ত্রি ও তার তনয় নকিবুদ্দিন মিস্ত্রির অর্থব্যায়ে নির্মিত। যিনি তার কায়েমি প্রজাজের জন্য সমসংখ্যখ মসজিদ নির্মানের জন্যও অর্থ বরাদ্দ করেছিলেন। প্রতিটি নির্মানের গায়ে আজও মর্মর পাথরে লিখিত সেই ব্যবসায়ীদের ইতিহাস ধরে রেখেছে। আমার টাইমলানে আমার অনেক স্থানীয় বন্ধুবান্ধব আছেন, কিছু ভুল বলে থাকলে শুধরে দিতে অনুরোধ রইল। আজকের এই হুজুকে প্রজন্মটা হিন্দুত্বের সেনা, জাতির সেনা নয়; হলে ইতিহাসকে পড়ে দেখত যে কোন জমিতে আমাদের সৃষ্টি। তাই ইতিহাস ভুলতেই হবে এবং গুলিয়েও দিতে হবে। কারন ভোটের রজনীতির কারবারিরা সেটাই চায়, সাথে ধর্মনিরপেক্ষতার ভেকধরে আধুনা উন্নয়নের দলের দিকপালেরা ক্ষমতা ধরে রাখতে এই বিষবৃক্ষে সমানে সার-খোল দিয়ে চলেছে। ফলাফল আজকের এই উল্লাস।

আমাদের শৈশবের সমুদ্রগড় থেকে কালনা যেতে ভরষা ছিল একটা ক্ষয়ে যাওয়া ঝামা ফেলা রাস্তা, কোথাও সামান্য পিচ অবশিষ্ট ছিল। সেখানে চুপি-কালনানামের একটা লজ্ঝ্বরে বাস চলত, সাথে সামনে হ্যান্ডেল মারা একটা আপছদ্দির ডজ, কুঁতিয়ে চলাটা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছিল যে বাসটি। কোলকাতা বা বর্ধমান গিয়ে দিনের দিন ফেরার কল্পনা ছিল চ্যালেঞ্জ নেবার নামান্তর। ট্রেন বলতে সকালের দিকে তিনটে- ফার্ষ্ট ট্রেন, সেকেন্ড ট্রেন, আর থার্ড ট্রেন, মাঝে ক্যাস গাড়ি, কিউল, একটা নলহাটি ব্যাস। ফেরার গাড়িও ওই গুলোই, নাম অবশ্য আলাদা হয়ে যেত। এই ছিল চালচিত্র। রেশন অফিসের জন্য সপ্তাহে নিয়ম করে কালনা যেতে হত দাদুকে, যাতায়াত মানে গোটা দিনের গেঁড়ো। আমার বিষয়ী দাদু তাই আমার বাবার বিয়ে কালনা শহরে দিয়েছিলেন, বোঝাই যায় একটা ঠেকের জন্য। এত কিছু বলা, আসলে এই ২৫ বছরের ফারাকটা বোঝানোর জন্য, আর এই সবটাই সম্ভব হয়েছে মূলত পূর্ববঙ্গ থেকে এসে ভারতীয় হওয়া মানুষদের কল্যাণে। নতুবা আজও পুরুলিয়া বা বাঁকুড়ার কোনো প্রতন্ত্য অঞ্চলের মত হয়ে থাকত আমাদের সমুদ্রগড়। তাই ওদের আসার একটা যেমন নেগেটিভ ইম্প্যাক্ট আছে তেমনই পজিটিভ দিকও প্রচুর। জীবন যেমন সুখ দুঃখ মিলিয়ে, এটাও যেন তাই। আর এটাকে আমরা যে মেনে নিয়েছি সহজে, সেটাই নির্লজ্জভাবে বিজেপি নামের কীটেরা রোজ কুড়েকুড়ে খাচ্ছে ঘুন পোকা সেজে।

উপসংহারে বলি , আজকের এই লেখাটা লিখতামই না, কালকেই এক দাদা তথা বন্ধুকে ফোনে বলছিলাম আমি কিছু লিখবনা এই সম্বন্ধে, কিন্তু আজকে সব্জি বাজারে গিয়ে পরিস্থিতি আঁচ করে লিখতে বাধ্য হলাম। বিশ্বাস করুন আজও কখনো মনে হয়না বা হয়নি এরা আমাদের স্বদেশী নয়। আমরা কিন্তু ঘরের মাঝে ভিডিও গেম খেলে বড় হয়নি, রীতিমত মাঠে ঘাটে বাঁদরামো করেই বড় হয়েছি। ৮ বছরের স্কুল জীবনে কত বাংলাদেশী ছেলেকে ডাইরেক্ট ভর্তি হতে দেখেছি, কখনো মনে হয়নি আমার ভাগে ভাগ বসালো। আমাদের বাড়ির সামনেই ডাক্তার দাদু, ভীষন গরীব অবস্থা থেকে ছেলে দুটোকে বড় করতে দেখেছি। সম্পর্কেই দাদু, কিন্তু বাবার বয়সী। আমার শৈশব কৈশরের প্রায় সমস্ত স্মৃতি জুড়েই উদ্বাস্তুদের বাস। কারন দাদুদের পূর্বপুরুষ ছোটোনাগপুরের আদিবাসী এনে রেখেছিল জমিতে কাজ করাবার মুনিশ হিসাবে, তারা ফেরেনি আর। এসেছে মুর্সিদাবাদ কান্দির কিছু বাগদি, গঙ্গাপাড়ের কপালি, সুন্দরবন অঞ্চলের মাহাতো সহ- ছেলেদের সাথে ঝগড়া করে আমার দাদু ফজলুল হক্‌ সাহেব- ২২ ঘর হতদরিদ্র চৌধুরী এনে মাগনা বসিয়ে যায় প্রজা হিসাবে। বিহারের ছাপরা জেলা থেকে। কিন্তু গঙ্গারপাড়ের জলমাটির এমনই গুণ যে, সকলেই আমরা সমুদ্রগড়ের লোকহয়ে যেতে সময় নিইনি।

আজকে যুব সমাজের একটা অংশ ভীষণ উল্লাসিত, এখানেও আসামের মতন করে উদ্বাস্তু হাঠাও অভিযান করবে। কারন তাঁত ব্যাবসার টানে বহু দেশ দুনিয়ার লোক বাসা গেড়েছে আমাদের সমুদ্রগড়ে, সেটা আসাম ত্রিপুরা সহ অন্যান্য প্রতিবেশী রাজ্য থেকে ও বিপুল পরিমাণে। তাদের তাড়াতে হবে। এরা পারবে কিনা, সে প্রশ্ন অবান্তর, কিন্তু এই যে উল্লাস; এটাই অশনী সঙ্কেত। কারন কাদের তাড়াবে এরা? এদের বাপ মায়েরাই তো উদ্বাস্তু হয়ে খুদ কুঁড়ো খেয়ে বনে বাদাড়ে এদের জন্ম দিয়েছিল। আমি দেশের তো দুরস্থান এ রাজ্যেরই অন্য অঞ্চলের বিষয় পরিস্থিতি সম্বন্ধে বিশদে ওয়াকিবহাল নই। তাই কোথায় মুসলমান অনুপ্রবেশ আছে জানিনা, আমি জানি আমাদের এলাকার মতই বাকিরাও হয়ত নমঃশুদ্র। কিন্তু আমি জানি এখানে এমন কিছু পরিকল্পনা করলে আসলে কিন্তু নিজেরাই নিজেদেরই সাম্প্রতিক অতীতকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসবে। ইতিমধ্যেই হিন্দু সংহতির ছায়াতলে তিন তিনবার মিনি দাঙ্গা ঘটে গেছে নসরতপুরের বুকে, সমুদ্রগড় বাজার নামক স্থানটা যে পঞ্চায়েতের অধীনে, সেখানে। আজ থেকে ১০ বছর আগেও যেটা ভাবা ছিল কষ্টকল্পনা মাত্র। আজকের একটা প্রজন্মের মজ্জায় মজ্জায় হিংসা আর বিভেদের বিষ ভরে দিতে সক্ষম হয়েছে RSS ও তার শাখা সংগঠন গুলো।

এখন এই কোটি কোটি রাষ্ট্রহীন মানুষ বর্তমান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নেবে, বা আলাদা ভুখন্ডের দাবি করবে কিনা তা ইতিহাসের গর্ভে। আমার নয় জের বিশ্বাস কিস্যু হবেনা, বা বলা ভাল মোদী-সর্বানন্দ জুটি একটা পরিবারেও লোম বাঁকাতে পারবেনা। হয়ত তাদের উদ্দেশ্যও সেটা নয়, কারন ভারতীয় আইন ব্যবস্থার দীর্ঘসুত্রত্রিতা এতই দীর্ঘ যে গোটা প্রজন্মই হয়ত পাড় হয়ে যাবে সিদ্ধান্তে পৌছাতে। কিন্তু বিজেপির এই তাৎক্ষণিক হুলাবিলা মাচিয়ে দেওয়াটাই মুখ্য উদ্দেশ্য। কিছু মানুষকে সবসময় আতঙ্কগ্রস্ত করে রেখে লাভের রাজনীতি করা। আদপে কিন্তু জাতি ধর্ম নির্বিশেষে অন্য সকল জুমলার মত আমাদের আমআদমিকেই কালীদাস করে ছাড়ছে। মজা হল যতক্ষণে এটা এই উল্লাসকরেরা বুঝবে ততক্ষণে নিজেরাই হয়ত আসামের ওই চল্লিশ লক্ষের পরবর্তী মিছিলে নিজেকে খুঁজে পাবে কিনা কে জানে!

ছোটোবেলা থেকে ভিটেমাটিহীন উদ্বাস্তদের সাথে থেকে ও দেখে যেটা উপলব্ধি করেছি, সেটা বড় ভয়াবহ। তা থেকে বলতে পারি- আগামীটা কিন্তু আমরা নিজেরাই পছন্দ করছি, যার শেষটা ভয়াবহ। এমনটা চলতে থাকলে আবার কিন্তু দেশভাগের ভ্রূকুটি খাঁড়া হবে, পেট কিন্তু জাত মানেনা, যেমন কবরে কাঁদলে কবর সাড়া দেয়না। তাই সময় থাকতে আশ্রয়স্থল হিসাবে সংবেদনশীল জ্যান্ত বুক খুঁজে তাতে আশ্রয় নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের। বিজেপি হচ্ছে সেই কবর, যেখানে ফাঁদ আছে, পরিনতিও আছে, কিন্তু সেটা একমুখী, যা বিভাজন ও নিজের অস্তিত্ব বিলয়ের মধ্যেই সম্পৃক্ত। যেখান থেকে ফেরার রাস্তা নেই। তাই সিদ্ধান্তটা এখনই নিন, কি করবেন, অন্তত যে এলাকা গুলো আমাদের সমুদ্রগড়ের মত তাদের প্রতি আবেদন রাখলাম। হিন্দুত্ববাদী হয়ে বাঁচবেন নাকি ভারতবাসী হিসাবে! যেমনটা এতদিন বেঁচে এসেছেন!

অসমের একজনও এমন বন্ধু আছেন যিনি দাবি করবেন তার বাড়িতে এই ৪০ লক্ষের একজনকে স্থান দিয়েছিলেন? একজনেরও খাদ্যের দায়িত্ব নিয়েছিলেন? তাহলে তারা গেল আর এলো আপনার কি এসে যায়? ভাত দেবার ভাতার নয় কিল মারার গোঁশাই। বহু ফেবু বিপ্লবীদের মাবাপ বৃদ্ধাশ্রমে পচছেন, কিজানি তারা কি নিয়মে অবৈধ। মারোয়ারিরা গোটা ভারত জুড়ে ছড়িয়ে আছে জাতের দোয়ায় বা দয়াতে নয়, ব্যবসায়িক বুদ্ধিতে, সুতরাং এদের সাফল্যে বা ব্যার্থতাতে নিজের অন্ডকোষ চুলকানো উন্মাদ ছাড়া আর আপনি কিছুটি নন। আজ এদের তাড়ালেও আপনারা কিছু করতে পারবেননা, কারন আপনারা সেই কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। আপনার জীবনটা হিন্দু-মুসলমান, গরু-শূয়োর, মিথ্যা দম্ভ আর অক্ষমের শিৎকারে ঘেরা, এখান থেকে বেড়োতে মনুষত্ব লাগে।

আচ্ছা এমন কোনো প্রতিবেদন কি কোনো আসমিয়া বন্ধু কি লিখেছেন? বোধনয় না, কারন তারা এখন মাথার ঘায়ে কুকুর পাগল অবস্থা, প্রতিবেদন বিলাস তাদের মানায়না, তবে খোঁজ নিয়ে দেখবেন, এমন অনেক সমুদ্রগড়ও আসামের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে লুকিয়ে রয়ে গেছে। আমরা অনেকেই এমন প্রতিবেদন বিলাস করছি, করবও। কিন্তু কতক্ষণ?

বৈধ অবৈধের মাপকাঠি কি? আর কে মাপবে তৃনমূল স্তরে?



বুধবার, ১৮ জুলাই, ২০১৮

।। শিশুর ভালোবাসা ।।

ভালবাসার কোনো ভাষা হয়না, শর্তও হয়না। আবারও তা প্রমাণিত।
আমার ছোট মেয়ে সারাহ, বয়স সবে চার শেষ করেছে, কয়েক মাস হল স্কুলও যাচ্ছে। কথাবার্তা এখনও আধোআধো।
আজ স্কুল থেকে আসা অবধিই সমানে ফুঁপিয়ে কান্না। এমনিতে দস্যি, কোথাও না কোথাও চোট লাগাবেই। প্রথমে ওর মা ভেবেছিল তেমনই কিছু। কারন সারাহ এখনও গুছিয়ে কিছু বলতে পারেনা, মাঝেমাঝেই খেলা করছে - আবার কাঁদছে।
ভুল ভাঙল সন্ধ্যার পর। ওর স্কুলের ম্যাম ফোন করেছে সারাহকে। তার মন খারাপ, তাই সারার সাথে কথা বলবেন।
প্রথমে যবে শুধিয়েছিলাম তোমার মিসের নাম কি বাবু? সারাহ বলেছিল “পারোতা আর তিসিটা ম্যাম”।
এর মাঝে পাকা পেয়ারা, টফি, লজেন্স ইত্যাদি মাঝেমাঝেই দেখি ঘরে আসে, মেয়ের ব্যাগ বয়ে। মেয়ের গালেও লিপস্টিকের দাগ, পোষাকে সুগন্ধি পায় মেয়ের মা। বুঝতে অসুবিধা হয়না, ক্লাস টিচারের কোনো একে জন বা দুজনেই এই দুগ্ধপোষ্য শিশুটির বা শিশুগুলোর মনে অনেকটা স্থান করে নিয়েছেন।
আজকাল শিক্ষিক শিক্ষিকারা বড় ভয়ে ভয়ে থাকেন, এই বুঝি অতিরিক্ত আদর দিলে বা কিছু এদিক সেদিক হলে গার্জেনকুল সহ স্কুল কতৃপক্ষ বাপান্ত করে তোলেন। কারন সময় বড় অস্থির, নরম সম্পর্কগুলোর মাঝে কিছু জানোয়ার বিষাক্ত বাতাস ঢুকিয়ে দিয়েছে। সেখানে সারাহর মায়ের তরফে এই ভালবাসা গ্রহনে কোনো আপত্তি না থাকাতে সম্পর্কটা এতোটাই গভীরে, যে আজকের পরিস্থিতি। ইয়ে, আমি অবশ্য এতো কিছুর খবর জানতামই না। আপনাদের মতই আমিও খানিক আগেই জানলাম।
জানিনা এই প্রাইভেট ইংরাজি মাধ্যমের স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকারা কত বেতন পান, নিশ্চই যোগ্যোতার তুলনাতে অতি সামান্য। অনেকেই দূর দুরান্ত থেকে আসেন, শুধু মাত্র বেকার বদনাম ঘোচাতে বা সত্যকারের কিছু ভদ্রস্থ রোজগারের কারনে। শিক্ষাগত যোগ্যোতার সাথে কিন্তু এনাদের অতিরিক্ত যেটা থাকে সেটা হল এই আপন করে নেবার ক্ষমতা। শিশু চারাগাছে এনারাই জ্ঞানের প্রাথমিক সার-খোলটা দিয়ে আগামীকে তৈরি করেন।
আজ সেই তিসিটা ও পারোতা ম্যাম, সরি পারমিতা ও তিস্তা ম্যাডাম সারাহ’র গলা জড়িয়ে কেঁদেছে, বেলুন দিয়েছে, চকলেট দিয়েছে, সারাহর নোটবুকে ফোন নাম্বারও লিখে দিয়েছে আর অনেক অনেক আদর করে বলেছে- আমি আর আসবনা।
হয়ত কোনো বেটার অপারচুনিটি পেয়েছে মেয়েদুটি, বা হয়ত কোনো পারিবারিক অসুবিধা বা সুবিধার কারনে তারা আমাদের মেয়েদের মন ভেঙে নিজের দেশে বা অন্যত্র চলে যাচ্ছে। কিন্তু এই অবোধ শিশুর কান্না ওদের কর্মের সার্থকতা বুঝিয়ে দিয়ে যাচ্ছে। শিশুরা স্বার্থ বোঝেনা, তারা ভালোবাসা বোঝে, তাই একটা ক্ষণে আমার নিজেরও মনটা একটু ভারি হয়ে গেছিল। শিশু মন নিশ্চই অচিরেই তার পারোটা আর তিসিটা ম্যামকে ভুলে যাবে- ম্যামও কালের নিয়মে সারাকে ভুলবেন।
মেয়েদুটি আমার বোনের চেয়েও বয়সে অনেক ছোট, ২১-২২ এর কোঠায়, আগে কোনোদিন দেখিনি ভবিষ্যতেও কখনো আর দেখা হবেনা, কিন্তু তারা ভালবাসার গুণে, সারাহর শিশুকালের সাথে আমাদের স্মৃতিপটে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিল। যতটা ভাবনা মনের মাঝে ছিল ততটার ২০%ও লিখতে পারলাম না। একটা অদ্ভুত খুশি অনুভূত হচ্ছে এই ভেবে যে, মেয়ে আমার আদরে শিখছে। এটাই চাই, শাসনের আদরে বড় হোক। শাষন করা তারই সাজে আদর করে যে।
কোমল নিঃস্বার্থ ভালবাসার প্রকৃত উদাহরন। ব্যাবসাতেও লেনদেন হয়, পেশাদারিত্বের মোড়কেও অনেক কিছু বিকিয়ে যায়, কিন্তু ভালোবাসার বন্ধন থাকলে তা জীবনের মাত্রা পায়, দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। অম্লান হোক এমন সকল শিশু-দিদিমনি সম্পর্ক।
থ্যাঙ্কু “পারোতা ম্যাম তিসিটা ম্যাম”, আপনারা দুজনে গিয়ে জানিয়ে গেলেন ভালবাসার পথটাই একমাত্র পথ, বাকি সব শূন্যগর্ভ বা মানিয়ে নেওয়া মাত্র।

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...