কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
মঙ্গলবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১২
ধর্ম দর্শন
শুক্রবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১২
প্রেম প্রেম খেলা
সম্পর্কের টানাপোরেন আনেক দিনের, শেষমেশ সম্পর্কটা ভেঙেই গেল। হঠাৎ করেই কালবৈশাখি যেন সব কিছু ওলঠ পালট করে দিল। শামিমের জীবনে এটাই ছিল সব চাইতে বেশি হারানোর যন্ত্রণা কারন নিলুফাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে ছিল সে। জীবনের প্রথম ভালো লাগা, প্রথম প্রেম। এভাবে সব কিছু শেষ হয়ে যাবে কোনো দিন কল্পনাও করেনি শামিম। শ্রাবনে অঝোর ধারায় যেমন বৃষ্টি ঝরে তেমনি প্রতি মাঝ রাতেই বালিশ ভিজে যেত কান্নায়, দুচোখ বাঁধা মানেনি। নিলুফার হঠাৎ করে এই পরিবর্তনের মানে খুঁজতে গিয়ে বার বার জড়িয়ে পরেছে স্মৃতির অন্তরালে। মনে পরে যায় সেই সব দিন গুলোর কথা, একদিন নিলুফা শামিমকে না দেখলে থাকতে পারতো না। আজ ভাবলে অবাক লাগে শামিমের।
এই কি সেই নিলুফা যে শামিমের মুখে একবার “এই শোনোনা” শোনার জন্যে হাপিত্যেশ করে বসে থাকত। হুম, সত্যিই সব কিছুর পরিবর্তন হয় সময়ের সাথে, তাই আজ সব কিছু নকল লাগে, নকল ভালোবাসা, মনে হয় সবই অভিনয়! কাছে আসা, হাজার প্রতিশ্রুতি আর ভালোবাসার অণঙ্গীকার, যার সবই আজ মলিন হয়ে গেছে। তবু তো চলতে হবেই, জীবন থেমে থাকেনা। শামিমও তাই ব্যাথাকে সঙ্গী করেই আইন পড়া শেষ করে।
দেখতে দেখতে অনেক গুলো বৎসর কেটে গেছে, শুনেছে নিলুফার বিয়ে হয়ে গেছে এ শহরেরই এক বড় শিল্পপতির সাথে। সেটাও নাকি আবার লভ ম্যারেজ। এদিকে শামিম ‘ভালবাসাকে’ তার জীবনের অভিষাপ মেনে নিয়ে দ্বিতীয়বার আর কাউকে আনতে চাইনি জীবনে, কিম্বা বলা ভাল আনতে পারেনি। অবশ্য মনে মনে অন্য মেয়েদের প্রতি কেমন যেন একটা বিতৃষ্ণা তাড়া করে ফেরে। দেখতে দেখতে আরো তিনটে বৎসর কেটে যায়। আজও স্মৃতির পাতা থেকে ঝরে পরে অতীতের টুকরো টুকরো মান, অভিমানে জড়ানো কথামালা। এখনো মাঝে মাঝে ঘুম ভেঙে যায়, স্বপ্ন দেখে নিলুফার- মনের অজান্তেই চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। সে রাতে আর ঘুম আসেনা, মোবাইলের ইন্টারনেটে আজগুবি সব জিনিস খুঁজতে থাকে।
পেশাগতভাবে শামিম আজ আইনজীবি, অতিদ্রুত যথেষ্ট
সুনামও করেছে মার্কেটে। তাই মা লক্ষীর কৃপায় ধন সম্পদ উপচে পরেছে। হাজারো বস্তু সুখের ভিড়েও মানসিক সুখ যেন তার কাছে চাতক পাখি, আজও প্রথম প্রেমকে ভুলতে পারেনি। মাঝে মাঝে ককিয়ে ওঠে
মনের অন্তঃকোনে লুকিয়ে থাকা নিষ্পেষিত যন্ত্রণা। তাই কাজের ব্যাস্ততার মধ্যে দিয়ে
জোর করে ভুলে থাকার চেষ্টাই করে চলে রোজ।
সেদিন যখন শামিম তার বৈঠকখানায় বসে মক্কেলদের সাথে কথা বলছিল হঠাৎ চমকে ওঠে একটা চেনা গলার
স্বর শুনে। আসতে পারি শামিম বাবু? পক্ককেশ যে বৃদ্ধটি দ্বারপ্রান্তে তিনি যে নিলুফার বাবা, যেটা চিনতে এতটু ভুল হয়নি তার। যিনি এক সময় শামিমকে নিজের সন্তানের থেকে কম স্নেহ
করতেননা,
শামিমও তাঁকে বাবামশাই বলেই ডাকতো। তাই নামধরে
ডাকা মানুষের কন্ঠে ‘বাবু’ ডাক শুনে শামিম একটু চমকেই উঠেছিল। সে
উঠে গিয়ে প্রণাম করে, তাঁকে নিয়ে তার অতিথিশালায় গেল।
সোফায় বসে নিলুফার বাবা সাগর বাবু শামিমের দিকে কাষ্ঠল নজরে চেয়ে থাকে।
তাঁর চোখ এড়াইনা শামিমের পরিপাটি করে সাজানো গোছান ঘরবাড়ি। শামিমের কথাতেই ধ্যান ভাঙার মতো চমকে ওঠেন,
-কেমন আছেন বাবামশাই,
-তোমার কিছুই পাল্টাইনি শামিম, তুমি সেই আগের মতই আছো।
শামিম এবার তার আবেগ
ধরে রাখতে পারেনা, হ্যাঁ বাবামশাই
আমি সেই আগের শামিমই। কিন্ত মনের গভীরে একটা বিরাট এক
জ্বালাময়ী ক্ষত বইতে বইতে জীবনের গতিপথটাই পরিবর্তন হয়ে গেছে। মজার
ব্যাপার হল সেটা আপাতদৃষ্টিতে দেখা যায় না। সাগর বাবু মাথা নিচু করে নিশ্চুপ হয়ে
যান।
সুদীপ্তঃ ছাড়ুন সে সব কথা, বলুন আজ এতো গুলো
বৎসর পর হঠাৎ!
চোখের কোনায় তখন জল সাগর বাবুর। জানো শামিম, জীবন বড়
বৈচিত্রময়, কখনও আলো আবার কখনও আঁধার, কখনও ভালো কখনও মন্দ, কখনও জোয়ার তো
কখনও আবার ভাঁটা, আজ আমরা বড় অসহায় শামিম। পেনশানের সামান্য টাকায় তোমার মাসিমার চিকিৎসা করা
হয়,
তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি। তোমার মাসিমা গত হবার পর একটা রোড এক্সিডেন্টে নিলুফাও বিধবা হয়। শেষের দিকে ব্যাবসা ভালো যাচ্ছিল না
বলে মোটা টাকার লোন নেয় জুবিন, মৃত্যু অবধি অপেক্ষা
না করেই সব সম্পত্তি ব্যাঙ্ক নিলাম করিয়ে নেয়। নিলুফা এখন আমার
কাছেই থাকে।
শামিমের মনে হল যেন মথায় আকাশ
ভেঙ্গে পরেছে, এই পরিস্থিতির
জন্য ও মোটেও প্রস্তুত ছিলনা। ঠিক কি উত্তর দেবে বা কি উত্তর হওয়া উচিৎ সেটা ভুলে খানিক স্থবির হয়ে রইল। আনন্দ হচ্ছে, না করুনা হচ্ছে, না প্রিয়জন বিয়োগের যন্ত্রণা, নাহ শামিম কিছুই ব্যাখ্যা করতে
পারলোনা পরিস্থিতিটাকে।
গৃহসহায়ক মন্টুদার ডাকে শামিমের সম্বিৎ ফিরল। কল্পনার জগত থেকে এক লহমায়
বাস্তবের রুক্ষ জমিতে আছড়ে পড়ল, ভাবল এই নিলুফাই একদিন আমাকে অস্বীকার করে চলে গেছিল, কারন সেদিন তার কাছে আয়েশ
করার মত যথেষ্ট ধনসম্পদ ছিলনা। শামিমের বাগদত্তা হয়েও বিনা কারনে দীর্ঘদিন বিয়েটা ঝুলিয়ে রেখেছিল, একটা দীর্ঘস্থায়ী রোজগারের বাহানা দেখিয়ে। সেদিন দোষ ছিল শামিম বেকার, উকালতি জমেনি সেভাবে, রোজগারহীন অসহায়, নিলুফার সরকারি চাকুরে বাবার তুলনায় সে গরিব ছিল। সেদিন সকলেই দায় এড়িয়েছিল। বাবামশাইও কোনো প্রতিবাদ করেননি
সেদিন, না তাদের বিয়েতে কোনো উদ্যোগ নিয়েছিলেন, বরং মেয়ের সিদ্ধান্তেই প্রচ্ছন্ন সম্মতি
চছিলো।
এই ভাবনাগুলো মাতথাতে
আসতেই, শামিমও কেমন যন্ত্রের মত বলে ফেলল, এখন আমি কি করতে পারি বাবা মশাই!
-নিলুফা ভীষন ভেঙে পরেছে। কারোর সাথে কথা বলেনা, কোথাও বেড় হয়না সেভাবে। তোমার সামনে এসে দাড়াবে সে সাহসই বা পাবে কোথায়।
নিয়তির কাছে সব হরিয়ে ভরসা শুধু আমাদের শেষ সম্বল জুবিনের
করা ইন্সুরেন্সের টাকাটুকু, কিন্তু ইন্সুরেন্স কোম্পানি
নানা আজুহাত বানিয়ে ভিন্নভিন্ন কাগজপত্র চেয়ে ক্রমাগত
হয়রান করাচ্ছে। এই অবস্থায় তুমি ব্যক্তিগতভাবে যদি আমাদের একটু সাহায্য করো, তাহলে চিরজীবন ঋণী হয়ে থাকব।
শামিম আমতা আমতা করে শুধাল,
- কগজ পত্র সব এনেছেন।
- না বাবা সবতো আনা হয়নি, তবে কাল যদি
তুমি একবার আমাদের বাড়িতে আসো তাহলে ভালো হয়। এটা আমার অনুরোধ।
শামিম আজান্তেই হারিয়ে
যায় পুরানো স্মৃতির পথ ধরে, হেঁটে চলে যায়- এমনই রোজ বিকালে শামিম নিলুফার সাথে দেখা করতে যেত ওদের
বাড়িতে। মনে পরে সেদিন বিকালের কথা, আকাশে কালো মেঘে ছেয়ে ছিলো।
বৃষ্টিও হচ্ছিলো মুশলধারে, শামিম ভেবেছিলো সেই
বিকালে আর যাবেনা এই এলোপাথাড়ি বৃষ্টিতে। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছিলো, বৃষ্টি তবুও নাছোড়বান্দা- তখনি নিলুফার ফোন, হ্যালো, কি হলো তুমি আজ এলেনা যে। বাবা মা নেই বাড়িতে, বাজার করতে গিয়ে
বৃষ্টিতে আঁটকে পরেছে তারাও।
প্লিজ বাবু এসো না, কাতর কন্ঠে নিলুফা কণ্ঠে ভয় মিশ্রিত আতণঙ্ক ও অনুরাগের ছায়া। শামিমের ক্ষমতা ছিলোনা নিলুফার কাতর মায়াভরা কন্ঠকে উপেক্ষা করার, প্রায় বশিকরণের মত শামিম বেরিয়ে পরে পলকা ছাতা নিয়ে ওই বৃষ্টিতেই। আকাশে ঘন ঘন বিদ্যুতের চমক, শামিম নিলুফাদের গেটে পৌঁছে কলিং বেল বাজাতেই ত্রস্তপদে বেরিয়ে আসে নিলুফা। শামিম বুঝতে পারে তার জন্যই অধীর
ভাবে নিলুফা প্রতিক্ষা করছিল। লোডশেডিং, তাই চতুর্দিক ঘন অন্ধকারে
বৃষ্টি ভেজা শরীরে ড্রইং রুমে প্রবেশ করে শামিম।
-এমা তুমিতো একদম
ভিজে গেছো, শামিম হাসি মুখে বলে তুমিও তো ভিজে রয়েছো। একটা জোর বিদ্যুৎ সহ বজ্রপাত নিলুফা আর শামিমকে আলিঙ্গন বদ্ধ করার জন্য অনুঘটকের কাজ করল। দুজনের শরীরেও যেন বিদ্যুৎ খেলে গিয়েছিলো, এই প্রথম এতো কাছে আশা দুজনার। বৃষ্টি ভেজা শীতল শরীরে দুজনই
উষ্ণতা খুঁজে পেতে নতুন এক আজানা শিহরন খেলে যায়। শামিম নিলুফার চিবুক উঁচু করে তুলে ধরে
কম্পিত ওষ্ঠে এঁকে দেয় প্রথম চুম্বনের রেখা।
শামিমকে উন্মত্তের মত আঁকড়ে ধরে নিলুফা, আন্ধকার ঘরে
দুজনেই চুপ। সলজ্জ আকুতি তখনও বেশী সাহসী করতে বাধা দিচ্ছে, আরেকটা বজ্রপাত। কে জানে বজ্রপাত আদৌ হয়েছিলো কিনা, সেই বাহানাতে আর কোন বাধা মানেনি দুটি উষ্ণ
শরীর। জীবনের প্রথম আলিঙ্গন বয়ে আনে যৌবনের আদিম খেলা। তাদের উষ্ণ ঠোঁট, প্রতিটা রোমকূপ বিন্দু বিন্দু যৌনতার মধু শুষে নিয়েছিলো। তার পর শৃঙ্গার ভালোবাসার সোহাগে আজানা সুখের পরশ, উত্তেজিত মাংসপেশীর আঘাত করাঘাতের পর, দুজনেই দুজনকে আরো মোহিত করে, শৈথিল্য সুখের সাগরে ভেসে
যায় উভয়েই। চাঁদ তারা হীন সেদিনের মধুর সন্ধ্যার সাক্ষী রয়ে যায় একটা আটপৌরে বিছানার চাদর।
…ক্রমশ
শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১২
উন্মাদ নামা ~ ০৭
উন্মাদ হার্মাদ
বৃহস্পতিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০১২
উন্মাদ নামা ~ ০৬
উন্মাদ হার্মাদ
বৃহস্পতিবার, ৮ নভেম্বর, ২০১২
উন্মাদ নামা ~ ৫
(ক্যালাবেন না প্লিজ)
শনিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০১২
উন্মাদ ণামা ~ ০৪
মনকে ভুলিয়ে রাখা যায়।
আর পেয়ে হারানোর জ্বালা অসহ্য। সে যন্ত্রনা জাষ্ট নেওয়া যায় না।আর সেটা যখন আপনি বুঝতে পারছেন যে, এই সুখ প্রাপ্তি শুধু মাত্র ক্ষনিকের। তখন শরীর টা সম্পূর্ন কোমা তে চলে যায়।
সেটাই বড্ড কুঁরে কুঁরে খাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার, ৪ অক্টোবর, ২০১২
উন্মাদ নামা ~ ০৩
শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১২
উন্মাদনামা ~ ২
বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১২
উন্মাদ নামা ~ ১
শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০১১
উন্মাদের প্রিয় কবিতা
শুক্রবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১১
পুরুষেরা দীর্ঘজীবি হউক
নারীশক্তির জাগরণ হউক, নারীরা বিভবে ও
বৈভবে সমৃদ্ধিশালী হউক, ইহাতে
বিন্দুমাত্র আপত্তি নাই। কিন্তু এই যে নারীগণ বর্তমানে পুরুষজাতির নিন্দাবাদ করেন, তাহাদের বিনাশ কামনা করেন, তাহা আত্মহননের সমতুল নয় কি? পুরুষদল সমূলে বিনাশ হইলে নারীর স্তুতিগান কে গাহিবে? যুগ যুগান্তরের ধারাকে অক্ষুন্ন রাখিয়া নারীকে প্রেম
নিবেদন কে করিবে? নারীর মস্তকে
বরাভয় আশীষ ও নিরাপত্তার ছত্রচ্ছায়া কে প্রদান করিবে?
কালিদাস, জয়দেব, রবীন্দ্রনাথ ও জীবনানন্দ হইতে শুরু করিয়া বর্তমানের
কবিকুল কাহাদের রূপ বর্ণনায় কবি প্রতিভার বিকাশ ঘটায়, তাহা নারীগণ একবার ভাবিয়াছেন কি? অলঙ্কারে ব্যবহৃত হয় বলিয়াই স্বর্ণ এত মূল্যবান, নচেৎ উপযোগিতার বিচারে উহা লৌহ অপেক্ষাও শতগুণে নিকৃষ্ট।
নারী পুরুষের অঙ্গভূষণ, তাই না নারী
নিজেকে বহুবিধ প্রকারে সুসজ্জিত করিয়া, নানা বিহঙ্গে কবরী বন্ধন করিয়া, বহুবিধ চিত্রবিচিত্র পোশাক পরিধান করিয়া, নানা ভাব ভঙ্গিমার মাধ্যমে নিজেকে মেলিয়া ধরার প্রয়াস পায়। চাতক পান করে বলিয়াই স্ফটিক জলের এত কদর, নয়তো ভূমিতে পতিত হইলে সে জল কর্দমে মিশিয়া মূল্যহীন হয়।
নারী পুরুষের শ্রেষ্ঠ আকর্ষণ বিন্দু বলিয়াই যুগে যুগে নারীর এত কদর। নারীর
রূপের প্রশংসা না করিলে সে রূপের কদর কোথায়? পুরুষে কবিত্ব করিয়া বলে মৃগনয়না, তাই না রমণী নয়নযুগল কজ্জ্বল শোভিত করিয়া পুরুষের মুগ্ধ দৃষ্টি প্রত্যাশা
করে! পুরুষ মুগ্ধ হয় বলিয়াই না নারী ললাটে কুঙ্কুম বিন্দু, ওষ্ঠে ওষ্ঠরঞ্জনী, পদযুগলে অলক্তক ও কুন্তলে পুষ্পসুগন্ধী তৈল লেপন করে? জীবনানন্দ বলিয়াছেন বলিয়াই বনলতা সেনের চুল অন্ধকার
বিদিশার নিশা, মুখ শ্রাবস্তির কারুকার্য বলিয়া
বন্দিত হয়। নচেৎ কোন মহিলা কবি প্রাণ বিয়োগের সম্ভাবনা থাকিলেও স্বেচ্ছায় বনলতা
সেনকে ঐ প্রশংসায় ধন্য করিতেন না। বরঞ্চ অবকাশে পরনিন্দা ও পরচর্চার আসরে বিকৃত
মুখভঙ্গী করিয়া কথ্য ভাষায় বলিতেন, “মাগীর মুখ না যেন রান্না ঘরের পাতিল, আর চুলগুলো যেন কালো পাটের ফেঁসো”।
আমার বক্তব্যে সন্দেহের অবকাশ মাত্র ঘটিলে নারীগণই প্রমাণ করুন, কোথায় এক রমণী অপর রমণীর প্রশংসা করিয়াছে? নারীই যে নারীর অশ্রদ্ধা ও লাঞ্ছনার কারণ এমন প্রমাণ
কদাপি বিরল নহে।
পুরুষের অকুন্ঠ ভালবাসা না পাইলে নারীজীবনের সার্থকতা কোথায়? পুরুষ পতঙ্গের ন্যায় নারীর রূপাগ্নিতে প্রজ্জ্বলিত হইয়া
নারীর নিকটেই শীতলতা কামনা করে। তাই তো জয়দেব রচিত গীতগোবিন্দে দেখিতে পাই, লক্ষকোটি প্রেমিক পুরুষের প্রতিভু শ্রীকৃষ্ণ নিঃসঙ্কোচে
রাধিকাকে আপন মান, অভিমান সর্বস্য
বিসর্জনের গৌরবে বলিতে পারেনঃ
ত্বমসি মম ভূষণং ত্বমসি মম জীবনম্ ত্বমসি মম জলধিরত্নম্।
ভবতু ভবতীহ ময়ি সততম অনুরোধিনী তত্র মম হৃদয়মতিযত্নম্।।
নীলনলিনাভমপি তন্বি তব লোচনম্ ধারয়তি কোকনদ রূপম্।
কুসুমশর-বাণ-ভাবেন যদি রঞ্জয়সি কৃষ্ণমিদম এতদনুরূপম্।।
স্ফুরতু কুচকুম্ভয়োরুপরি মণিমঞ্জরী রঞ্জয়তু তব হৃদয়দেশম্।
রসতু রসনাপি তব ঘন জঘনমণ্ডলে ঘোষয়তু মন্মথনিদেশম্।।
স্থলকমলগঞ্জনং মম হৃদয়রঞ্জনম্ জনিত-রতি-রঙ্গ-পরভাগম্।
ভণ মসৃণ-বাণি করবাণি চরণদ্বয়ং সরস –লসদ অলক্তকরাগম।।
স্মর-গরল-খণ্ডনং মম শিরসি মণ্ডনমঃ দেহি পদ পল্লবম্ উদারম্।
জ্বলতি ময়ি দারুণো মদনকদনানলো হরতু তদুপাহিত বিকারম।।
অর্থ্যাত তুমিই আমার অঙ্গের ভূষণ, তুমিই আমার জীবন, এই ভব সংসারে
তুমিই আমার নিধিরত্ন। হে রাধে, তোমার
প্রীতিলাভার্থে এই ভুবন মাঝে সতত কেবল তোমাকেই আমি হৃদয় ভরিয়া যত্ন করিতে সচেষ্ট।
নীল নলিনী তুল্য তোমার নয়ন যুগল ক্রোধে ও অনুরাগে রক্তবর্ণের কমল তুল্য রূপ ধারণ
করিয়াছে। যদি ঐ রক্ত আঁখি পল্লবে কৃষ্ণকে মুগ্ধ করিতে সক্ষম হও, তবেই কমলের সঙ্গে তুলনা সফল হয়। তোমার সুগোল কুম্ভের
ন্যায় স্ফুরিত কুচ যুগলের উপরিভাগে শোভিত মণিখচিত মঞ্জরি তোমার হৃদয়দেশকে কি
সুষমাতেই না রঞ্জিত করিয়াছে! তোমার ঘন জঘনমণ্ডলে মেখলার বারংবার নিনাদ যেন
মদনদেবের কাম নির্দেশ ঘোষণা করিতেছে। মধুর
স্বরে শুধু একবার আদেশ দাও –‘স্থলকমলকেও গঞ্জনা দিতে সক্ষম, আমার হৃদয় রঞ্জনকারী তোমার ওই পদযুগলকে রতি রঙ্গে আমার
হৃদয়ে ধারণ করতঃ আলতারাগে রঞ্জিত । আমার শিরঃপীড়া নাশ করিয়া, কামযন্ত্রনার গরল নাশ করিয়া তোমার ঐ পদপল্লব কে মমতা ও উদারতায় প্রসারিত
করো। মদনের দারুণ অনল জ্বালা নিবারণার্থে তোমার দেহবল্লরীতে সংযুক্ত হইয়া আমার
সমস্ত বিকার নাশপূর্বক শীতল।
হে স্বভাবমুখরা রমণী কুল, একবার আপন
হৃদয়োপরি আপন হস্ত স্থাপন করিয়া সত্য কহ– ‘পুরুষের এমন আকুতি, এমন প্রেম নিবেদন, এমন সমর্পণের পরেও কোন নারী স্থির থাকিতে পারে কি? যদি কেহ পারে, তবে সে রমণী প্রস্তরবৎ নীরস বলিয়াই জানিবে। তাহার সংস্পর্শ ত্যাগ না করিলে
পদার্থের পার্শ্বটানের ধর্মানুযায়ী তোমার হৃদয় রসকেও সেই শুষ্ক প্রস্তর শুষিয়া
লইবে।
নারী দ্বিবিধ উপায়ে পুরুষের নিকট সম্পুর্ণ বশীভূত হয়। যথা-
১) উদ্যত তরবারির সন্মুখে
২) পুরুষের অকপট সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে।
প্রাচ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের কিছু যুদ্ধপ্রিয় জাতি তরবারির সন্মুখে বহু নারীকে
বশীভূত করিয়াছেন। কিন্তু ইহাতে বংশ বৃদ্ধি ঘটিলেও কোন গৌরব বৃদ্ধি ঘটে নাই। কারণ
পরাজিতের ভীতিজনিত বশ্যতা স্বীকারে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের গৌরব বিলুপ্ত হয়।
সেখানে পরাজিতের সন্মান হননপূর্বক বিজয়ীর মিথ্যা ইতিহাস রচিত হয় বলিয়া সুললিত
কাব্যের সৃষ্টি হয় না। যে প্রেমে অনুরাগ নাই, উভয়ের চরম আত্মসমর্পণ নাই, সেই প্রেম পশুর
পাশবিক শরীর সুখের সঙ্গেই তুলনীয়। আত্মসমর্পণে শতকরার হার হিসাব করার অর্থই বাকি
শতকরার অংশ সেখানে ভেজাল। আমি হলফ করিয়া বলিতে পারি, যদি কবি জয়দেবের মতো এমন কাব্য সৃষ্টির সুযোগ পাই, তবে বারংবার জন্মগ্রহণের কষ্ট স্বীকারে প্রস্তুত আছি।
অতএব হে রমণী কুল, এখন ও কি বলিবে–
পুরুষ জাতির বিনাশ চাই? পশুর স্বভাব
বিশিষ্ট যে কাপুরুষ অসহায় রমণীকে ধর্ষণ করে, ধন জনের শক্তিতে ক্ষমতাশালী যে নির্দয় পুরুষ নারী জাতির উপর নানা অত্যাচার
করে,
সুযোগ সন্ধানী যে কামাতুর পুরুষ আপন স্ত্রীকে
অন্যায় পথে পরিত্যাগ করে, সেই অশুভ
শক্তিরূপ অসুরের বিনাশ তো স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই চাহে। তাহাদের কারণে কেন
তোমাদের জীবনের একান্ত কামনার ধন মহাপুরুষদের বর্জন করিবে?
তাই বলি, হে গান্ধারীর মত কৃষ্ণবস্ত্রে নয়ন
আচ্ছাদনকারী অবলা নারীকুল, সময় থাকিতে
সতর্ক হও। বৃক্ষের অবলম্বন ব্যতীত লতিকা সকল উর্ধগামী আলোকের সাক্ষাত পায় না। যে
অহঙ্কারী লতিকা অহঙ্কার বলে বৃক্ষের সহায়তা গ্রহণ করে না, সেই লতিকা অবাঞ্ছিত জঙ্গল পরিবেষ্টিত অবস্থায় অন্ধকারে
পশুদিগের পদ দলন সহ্য করিতে বাধ্য হয়। তোমরাও আপনার বাঞ্ছিত পুরূষের সন্ধানে
সচেষ্ট হও। নূতন নুতন কবি, সাহিত্যিক ও
শিল্পীর প্রেরণার উৎস হও। আইস, তোমাদের লইয়া
আমরাও কালিদাস, জয়দেব, রবীন্দ্রনাথ, জীবনানন্দ ও অন্যান্য প্রথিতযশা কবি সকলের মতো কাব্য রচনা করি। তোমরা একবার
বলো,
পুরুষের ভালবাসার তুল্য ভালবাসা নাই।
বারংবার বলো পুরুষেরা দীর্ঘজীবি হউক।।
তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না
⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...
-
(১) জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তাল...
-
ছোটবেলায় বাবা বলতেন "শাগ খেলে বাঘের বল"। যদিও তিনি ওটাকে শাকই বলতেন আমরা কচি কানে বাঘের সাথে মিলিয়ে শাগ শুনতাম। এহেন পরিস্থ...
