বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

।। অথ কৃষ্ণধন কথা ।।



চতুর্দিকে একটাই রব এখন কালোটাকা।

তাহলে কালো টাকাটা ঠিক কি বস্তু?

পাতি বাংলাতে ট্যাক্স না দেওয়া রোজগারই হল কালো। তাহলে কালো টাকা কারা কামাই করে? আপনি আমি সকলেই কালো টাকা জমা রাখতে পারি, রাখিও। কিভাবে? আমাদের সামান্য জমির ট্যাক্সটুকু দিইনা, কোথাও থেকে অতিরিক্ত ইনকাম করলে সেটা প্রতিবেশী আত্মীয় এমনকি বউকেও লুকিয়ে যাই, সরকার তো কোন ছাড়। আমরা হলাম জনগন, রাজনীতিই হোক বা ধর্মনীতি আমাদের মতটার বাইরে যে কোন প্রকার মতকে আমাদের অমিত প্রতিভাবলে অস্বীকার করি।

আসলে আমরা অধীনস্ত থাকতে ভালবাসি। তা সে আগে রাজার রাজত্বেই হোক বা গনগন্ত্রে নেতার অধীনে। ধর্মীয় ভক্তিবিশ্বাসেও আমরা সেই অদৃশ্য ক্ষমতার দাস মনে করি। সুতরাং সকল প্রকার প্রভুদের দক্ষিনা দিতে হয়। ধর্মে যেটা দান, রাজ বা গণতন্ত্রে সেটাই খাজনা। আমার আয়ের একটা অংশ ক্ষমতাধরদের উদ্দেশ্যে ভেট চড়ানো, যাতে আমার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত থাকে। ধর্মে নিয়ম থাকলে তাতে প্রতক্ষ্য পেয়াদা পাঠিয়ে শাস্তির বিধান বা নমুনা কোনটাই নেই। কিন্তু আগে রাজতন্ত্রে এখন গনতন্ত্রে তার জো টুকু নেই। রায় মহাশয় বলেই গেছেন, বাকি রাখা খাজনা- মোটে ভাল কাজ না। সুতরাং খাজনা বা কর বা ট্যাক্স আপনাকে দিতেই হবে। সমস্যা এখানে হয়না কখনই, আয় করব তাতে রাষ্ট্রকে তার আইন মোতাবেক কিয়দাংশ দিতেই হবে। কিন্তু সমস্যা তখন হয় যখন আমরা সেই রাষ্ট্রের নিয়মকে কাঁচ কলা দেখাই। বা রাষ্ট্র যখন রায়মহাশয়ের কায়দায় বলে উঠেন- কম খেলে নাহি খেদ- বেশি খেলে বাড়ে মেদ।

কর ফাঁকি রাষ্ট্রের চোখে অপরাধ, কারন রাষ্ট্র যদি ইঞ্জিন হয় তাহলে কর তার জ্বালানি। এখন করফাঁকি দেওয়া অপরাধ, কিন্তু রাষ্ট্র সর্ব শক্তিমান হয়ে কখনও কখনও গুলিয়ে দেয় তার প্রশাসন যন্ত্রের দ্বারা, যে এরা আসলে চোরের সমতূল্য বা ততোধিক। ট্রেনকে জনগনের সম্পত্তি বলে জ্ঞান করি। আর আমিও জনগন, তাই ফ্যান লাইট গুলো না খুলে নিয়ে এলেও দায়িত্ব নিয়ে বিনা টিকিটে যাতায়াত করি। নিজের তো তাহলে টিকিট কাটব কেন? মিনিবাস না হলে যারা, এক গেট দিয়ে উঠে অন্য গেট দিয়ে নেমে যায় টিকিট না কেটে, তাদের সাথে করফাঁকির দায়ে অভিযুক্তকে একপাত্রে গুলিয়ে দেওয়া হয় চতুরতার সাথে।

একজন ভিখারীও কালো টাকা রোজগার করতে পারে, যদি না সে তার আয়ের উৎস রাষ্ট্রকে জানায়। কর ব্যাবস্থা রাষ্ট্রের একমাত্র চালিকাশক্তি। সেটা প্রত্যক্ষ কর হোক বা পরোক্ষ কর। প্রত্যক্ষ কর হল ইনকাম ট্যাক্স, সেল ট্যাক্স, ভ্যাট, সার্ভিস ট্যাক্স ইত্যাদি। পরোক্ষ ট্যাক্স রাষ্ট্র তার নিজ ব্যাবসা থেকে আমদানি করে বা ব্যাক্তি পুঁজির উপরে লাগু করে। যেমন শুধু আমদানির হিসাবে যে পেট্রোল ভারতের বাজারে লিটার প্রতি ২৬ টাকায় পাওয়া উচিৎ ছিল, সেটা কিনতে হয় কমবেশি ৭০ টাকাতে। সুতরাং ৪৪ টাকা হল পরোক্ষ কর। আমাদের দেশের আয়ের মোটামুটি ১৮% প্রত্যক্ষ কর থেকে প্রাপ্ত। বাকি সবটাই পরোক্ষ কর।
আমাদের ১৩০ কোটির মাত্র দেড় কোটি মানুষ ইনকাম ট্যাক্স দেয়। শতাংশের বিচারে ১% মাত্র। যার মধ্যে ৮০% চাকুরিজীবি আর অবশিষ্ট ২০ % ব্যাবসাদার। এটাই আমার মতে কালোধন জমা হওয়ার সবচেয়ে বড় কারন। আমাদের দেশে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার নিয়মে IT File ম্যান্ডেটারি করলেই অনেকটা লাভ হত বলে আমার ধারনা। ট্যাক্স দিক বা না দিক, সকলের রোজগার খাতার সারাংশটা তো রাষ্ট্রের কাছে রইল। এখন প্রশ্ন কালো রোজগার বন্ধ না হলে কালো টাকা জমা বন্ধ হবে কিভাবে?

আমার ৫০ বিঘা সম্পত্তি রয়েছে। তার থেকে একটা রোজগার হয়। আমি যদি কালো টাকা রোজগার করি, সেটাও আমি বেশি বেশি করে দেখাবো, যে আমার এই বিপুল রোজগার কৃষি থেকে এসেছে যেটা সম্পূর্ন কর মুক্ত। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় আমার জমি আমার আসলে খাতায় কলমে, হয় সেটা ভেস্টেড, বা ভাগচাষী বর্গাদারেররা চাষ করে আমায় যৎসামান্য দেয়। কিন্তু এই কাগজগুলোর আড়ালে কালো টাকা ফুলে ফেঁপে উঠছে। এই কালো টাকা কিভাবে বন্ধ করবে সরকার, এই ১৩০ কোটির দেশে? আমাদের পাড়ার বিভিন্ন শ্রেণীর ৫০ জনকে শুধিয়ে দেখিছি, ৪৪ জনই তেমন কিচ্ছুটি জানেনা আয়কর সম্বন্ধে। সুতরাং শিশুমনের ভিতরেই এটা গেঁথে দেওয়া দরকার। অ এ অফিসারেরা আসবে তেড়ে... আ এ আয়করটি দেবো বেড়ে... এই ধরনের কিছু চালু করলে সকলের কাছে একটা সম্যক প্রাথমিক ধারনাটুকু জন্মাবে।

কালো টাকা আমার কাছে কালো। কিন্তু আমি যখন বাজারে গিয়ে দু কিলো খাসির মাংস ১২০০ টাকায় কিনলাম, বা এক কিলো গলদা চিংড়ি ১০০০ টাকায় কিনে নিয়ে বিজয়ীর হাসি হেসে বাড়ি ফিরলাম, টাকাটা কিন্তু সাদা হয়ে গেল। কারন ওই মাংস বা চিংড়ি বিক্রেতারা প্রান্তিক মানুষ। তারা করের আওতাতেও আসেননা। এভাবেই কালো টাকাগুলো বাজারে খাটে, যেটা বাজার অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। যতটা না একলপ্তে বার ঢের বেশি ছোট ছোট প্রকারে এই ভাবে।

তৃতীয় শ্রেনির একটা কর্মচারীর ঘুষের ৫০০০ টাকা বা সরকারি স্কুলের একজন শিক্ষকের গৃহশিক্ষকতা করে রোজগারের কালো টাকা ভোগ্যপণ্যের পিছনেই ব্যায় হয়ে যায়। ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, উৎপাদন বাড়ে, কর্মদিবসের সৃষ্টি হয়। রোজগার ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রিজ, টিভি, মোবাইল, মোটরসাইকেল, বাথরুমের টাইলস থেকে সৌখিন বালিশ, লেপ, কম্বল সবটাই এক্সট্রা ইনকামের টাকায় কিনি। আর কে কবে চেক দিয়ে কিনেছি? সবটাই নগদেই কিনেছি। মুষ্টিমেয় কিছু শহুরে বা উৎসাহী মানুষ ছাড়া বাড়ির খাবারের চালটা আলুটা কবে চেক বা কার্ড সোয়াইপ করে কিনেছি। সবটাই নগদে লেনদেন, সেটা সাদা তে হোক বা কালোতে। তাই দুম করে নগদের যোগান বন্ধ করা মানে সুস্থ শরীরে ইচ্ছাকৃত বিষ প্রয়োগ। তাতে মৃত্যু না ঘটলেও যে ঘাগুলো ক্রমে ফুটবে সেটা সারতে বহুবছর লেগে যাবে। তাই কালোটাকা রুখতে কালো রোজগারের পথটা কঠোর পথে বন্ধ করতে হবে।

কালো টাকা বাজারেই থাকে, সেটাও রোজকার অর্থনীতিরই অংশ। আর এই সত্যটা ঠিকঠাক না অনুধাবণ করে ডিমানিটাইজেসনের ফলে আজকের এই অচলাবস্থা। একটা ফোঁড়া হলে পাশ করা বড় ডাক্তার নানা পরিক্ষা করে দেখবেন, যে সেটা কাটতে গেলে কোন স্নায়ু বা শিরা আঘাতপ্রাপ্ত হবে কিনা, কিন্তু হাতুড়ে? ধর রোগী চালা চাকু। আরো ভয়ঙ্কর হচ্ছে সমাজ বিরোধীর চাকু আর ডাক্তারের চাকুর পার্থক্যটাই বুঝতে হবে। শুরু থেকেই ফলাও করে বলা হচ্ছিল জঙ্গীগোষ্ঠী গুলো ভয়ঙ্কর ভাবে জব্দ হবে। কিন্তু বাস্তব কি তাই বলছে? পড়শি দেশের জঙ্গি হামলা মোটেও কমেনি নোট বাতিলের প্রভাবে, রাষ্ট্রের সেই দাবি ফোলা বেলুনের মতই চুপসে গেছে। সংবাদে প্রকাশ সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর আমাদের ২৫ জন বীরসেনা শহীদ হয়েছেন। আর দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী একজন ব্যক্তিপূজাতেই ব্যস্ত।

বর্তমান রাষ্ট্র জনগনকে অবশ করে রাখতেই উৎসাহী। তাহলে যন্ত্রনা ভুলে থাকবে। তা সে রাজ্যই হোক বা কেন্দ্র। রাজ্য মিছরির ছুরি। নাচ গান উৎসব অনুদান ছুটি ইত্যাদি দিয়ে ব্যাথা ভুলিয়ে রেখেছে। কেন্দ্র আরেককাঠি সরেস। সেই প্রাচীন প্রবাদ "একটা লাঠিকে না ভেঙ্গে কিভাবে ছোট করবেন, সিম্পল - পাসে একটা বড় রেখে দাও। আপনা থেকে আগেরটা ছোট দেখাবে।" তাই কেন্দ্র কখনও গোমাংস, কখনও সীমান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি, শিক্ষাক্ষেত্রে জবরদখল, মেকি জাতীয়তাবাদের হুজুক আর এখন অর্থনীতিকে কোমায় পাঠিয়ে মানুষের রোজকার মৌলিক সমস্যাগুলোর মোকাবিলাতে বালির বাঁধ দিয়েছেন। জনহিতে করছি বলে বিজ্ঞাপনের অন্ত নেই দেশজুড়ে। কিন্তু কোন দিশাতে? শুধালে শুধু প্রাক্তনদের ব্যর্থতার তুলনা আর দেশদ্রোহীতার ছাপ্পা পাওয়া যাচ্ছে। আরে বাবা আগের সরকার ব্যর্থ বলেইনা আপনারা দায়িত্বে এসেছেন।

অনেকে ঘোলাজলে মাছ ধরতে ব্যাস্ত। ক্ষুদ্র আর মাঝারি ব্যাবসায়িদের জন্য। রাষ্ট্রই কেন শুধু খুচরো ব্যাবসায়িদের কথা ভাববে, তারা যদি রাষ্ট্রকে না দেখে? দেশের ৮০% ব্যাবসা খুচরো হলে সেখানেও তো আয় হয়, সেই আয় এই ব্যাবসায়িরা সরকারের কাছে গোপন করে কেন? নুন্যতম প্রভিশ্যনাল ট্যাক্সটুকু সকলে নিজের নিজের মত করে রাষ্ট্রের খাতায় জমা করলে রাষ্ট্রকে এতো ফন্দি বের করতে হতনা। বিন্দু বিন্দুতেই তো সিন্ধু হয়। সদিচ্ছাটা আসলে আমাদেরও নেই। আমরা একটাই পারি দোষারোপ করতে। সকলে ভুল শুধু আমিই ঠিক এই ভাবনার সংক্রমন মারাত্বক। যেটা রাষ্ট্র থেকেই খানিকটা ছড়াচ্ছে।

যুগেযুগে পন্ডিতরা বলে এসেছেন পেটে টান পরলে মানুষ ধর্মগ্রন্থ ছিঁড়ে খায়। এ পরিস্থিতিতে সেই পেটেই লাথ পড়েছে। তাই রাজনীতির রং, দল, জাত, সাদা কালো ভুলে এই নরনারায়ণের দল কিন্তু রাষ্ট্রের এই ভাঁওতাবাজিতে খুব বেশীদিন আচ্ছন্ন থাকবেনা। আমারা জনগন আসলে দারুন স্বার্থপর। যতক্ষন নিজের প্রয়োজন ততক্ষনই আমরা আগুনখেকো বিপ্লবী, নিজের টুকু মিটে যাক, পরক্ষনেই মৌনি মনমোহন। রাষ্ট্রের কর্তারা ক্ষমতার দম্ভে ভুলেগেছে তোষামোদি বংশদের দল সবার আগে পালটি খাবে। রাজনীতির যন্তরমন্তর ঘর থেকে মগজধোলাই করে যে নমুনাগুলোকে আপনাদের হয়ে চেঁচিয়ে বাজার গরম করে রেখেছে, আপনার থেকে উন্নত যন্তরমন্তর নিয়ে হাজির হলেই তারা ওদের হয়েই চেল্লাবে। ভুলে যাবেননা তাদের মগজটাই ধোলাইয়ের জন্য উপযুক্ত বলেই আপনি টুপি পরাতে পেরেছিলেন। তখন আপনারা না ঘরের থাকবেন না ঘাটের।

জানুয়ারি ২০১৭ সাল থেকে নাকি বেনামি সম্পত্তির উপরে নজর দেবে রাষ্ট্র। নামের আমি নামের তুমি নাম দিয়ে যায় চেনা। বেনামী সম্পত্তি গুলোও তো রাজনেতা আমলা আর তাদের প্রভু বৃহৎ পুঁজিপতিদেরই নামে!! ঠগ বাঁচতে গাঁ উজার হবে। বৃহৎ হনু আর রাজনীতির কারবারিদের সম্পর্কটা মিথোজীবিও। ভোটের সময় পুঁজি প্রয়োজনীয় নোটের যোগান দেয় যেটা সম্পূর্নটাই কালো, আর ক্ষমতায় এসে নেতা আমলারা সেই ঋণ কড়ায়গণ্ডায় চুকিয়ে দেয়। কারণ সামনের ভোটে একে আবার দরকার। গরীবের পেটে রোজ লক্ষ কোটি গরীব জন্মাচ্ছে, কিন্তু দেশে আম্বানী আদানী টাটারা মুষ্টিমেয় এবং সঙ্ঘবদ্ধ। তাই তাদের চটিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা দায়। সালমান খানের কিক সিনেমার কিছু দৃশ্যের কথা খেয়াল করলেই অনেকটা বুঝে যাওয়া যায়। সম্পত্তি যারা বানায় বা যারা কারবারি তারা রাষ্ট্রেরই তৈরি শিক্ষিত এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের মদতেই তাদের থেকে বেশি চালাক।

ডিসেম্বর, ২০১৬ মাসটা আগে কেন্দ্র সসম্মানে উৎরাক তারপর জানুয়ারি। আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, কেন্দ্র সরকার বেশ খানিকটা পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যাবে ২০০৯ সালের রাজ্যে ক্ষমতাসীন দলের মত। কারণ নিজেরা যে সারমেয়গুলোকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল প্রশ্নকারীর পায়ে কামড়ানোর জন্য, রেস্ততে টান পড়লে সেই মালগুলোই প্রভুদের ছিঁড়ে খেতে দ্বিতীয়বার ভাববেনা। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি এভাবেই হয়।

গ্রামেগঞ্জে বেকারের সংখ্যা রোজ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গতমাসেও একটা ভালো ড্রাইভারের জন্য মাথাকুটে মরেছি। আজকাল রোজ সকাল হলেই ২-৪ জন কর্মপ্রার্থী অফিসে আসছেন, যার ভিতরে একজন ড্রাইভার তো আছেনই। মুম্বই সুরাটে যারা কাজ করতেন গহনা শিল্পে, তারা ফিরে আসছেন। পর্যটন শিল্পেও মন্দার দরুন বেকারত্ব। এনারা না জানেন মাঠের কাজ, না সম্মানের খাতিরে ভ্যান রিক্সা চালাতে পারবেন। তাই চার দেওয়ালের ভিতরে স্থানীয় কোন প্রতিষ্ঠানে মোট বওয়ার কাজ হলেও সেটাই চাইছেন। গতকাল দেখি মুটিয়া দলের কয়েকটা লেবার দামি মোটরবাইক নিয়ে কাজে এলেন। সর্দারকে শুধাতে জানলাম, গাড়িটা আগের কেনা যখন বাইরে ছিল। এখন ওই গাড়ি আর তার স্ট্যাটাস রক্ষা করার জন্য এই ঘেড়াটোপের আড়ালে ভদ্রশিক্ষিত সন্তানের মুটেগিরি করা। এরা তবুও আপাতত ভাবে বেঁচে গেল, কিন্তু যারা এটাও করে উঠতে পারলনা?

আমাদের ব্যাবসা সূত্রেই সমাজের নানান শ্রেণীর সাথে রোজ উঠাবসা। তেমনই একজনের কাছে কৌতূহল বসতই জানলাম, পতিতা পল্লীগুলোর অবস্থা শিউরে উঠার মত, কাষ্টমার নেই। কারন এখানে সাধারনত সমাজবিরোধী, "কালো টাকার" কারবারি আর স্কুল কলেজের ছেলেছোকরাদেরই মূল আনাগোনা, যেখানে নিষিদ্ধ ফুর্তির আসরে নগদ টাকার ফোয়ারা ঝরে। অথচ এই পরিস্থিতিতেও রোজ এই আদিম পেশাতে অনেকেই পেটের জ্বালায় ভিড় জমাচ্ছে। এখন বলুন কে কার্ডে পেমেন্ট করে বেশ্যাবাড়ি যায় বা যাবে? রাষ্ট্র বোধহয় সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা এই ব্যাবসাতেই দিয়েছেন।

শীতে ফুল ও ফুলগাছের ব্যাবসা এককথায় ধ্বংস,পেটে খাবে না বাড়ির রূপচর্চা করবে! আমাদের জেলাগুলিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা, শান্তিপুর-ফুলিয়া- ধনেখালি-সমুদ্রগড় ইত্যাদিতে তাঁতের ব্যাবসায় সেলাইন ঝুলছে। কারিগরেরা অধিকাংশেই ঘরে ফিরে গেছে। কারণ উৎপাদিত কাপড়ের খরিদ্দার নাই, তাই নতুন উৎপাদনও নেই। অকপট গ্রুপে এক বন্ধুর লেখাতে জানতে পারলাম চালের এক্সপোর্ট বন্ধ। সুতরাং তার সাথে জুড়ে থাকা ঠিকাশ্রমিকগুলোও কর্মহীন। কন্টেনার ট্রেলার তাদের ড্রাইভার মালিকেরা কড়িকাঠ গুনছেন। কৃষির কথা আর নাই বা বললাম, সমগ্র সংবাদ মাধ্যমে এখন শুধু এটাই খবর।

মুম্বয়ের গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া বা দিল্লির ইন্ডিয়া গেট ভারতের বিজ্ঞাপন হতে পারে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গ্রাম আর সেখানকার জনজীবনই কিন্তু আসল ভারতবর্ষ, আর প্রকৃত ভারতবর্ষের চিত্রটা হল- শুধু একটা কথা বলি শস্যগোলা বর্ধমানের গতমাসেও যেখানে ধানের দাম ছিল চাষির বাড়িতে ৯০০ টাকা প্রতি ৬০ কেজি, সেটা আজ সন্ধ্যার পাকা খবর ৬০০ টাকা। চাষের খরচা উঠবেনা। মানছি নতুন ধান কিন্তু অন্যান্য বছরে সেই ফারাকটা থাকে ৫০-৭০ টাকার মত। রাষ্ট্র গর্ব ভরে ঘোষনা করবে কোল্যাটারাল ড্যামেজ।

প্লাস্টিক কার্ড হলেই দেশ ডিজিটাল হয়না। কারন আমরা কার্ড দিয়ে সেই নগদ টাকাই তুলি, ব্যাঙ্কের বদলে ATM থেকে। আমাদের দেশে অনলাইন সপিং করি, কিন্তু পে অন ডেলিভারি সিস্টেমে। এই তো আমরা ডিজিটাল দেশের নাগরিক।

দেশ ডিজিটাল হবে কিনা, সেটা সময় বললেও রিংটাল যে হয়ে বসে আছে সেটা বলাই বাহুল্য।


বুধবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৬

উন্মাদনামা ~ ২৫

তোর নত চোখের চাওনি
আমায় পাগল করে মেয়ে;
তোর প্রেমেতে মাতল পরাণ

তাই অকপটে থাকি চেয়ে। 

মঙ্গলবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৬

।। বেদ ।।



মনুষ্য।

মনুবংশীয় জাতক যারা, তারাই মনুষ্য হিসাবে গণ্য হয়ে থাকে। সেই সুদূর অতীত থেকে বর্তমান হাতেগরম অন্তর্জালের বিশ্ব নাগরিকের সভ্যতা। অত্যন্ত সমৃদ্ধ সেই ইতিহাস। যুগ যুগান্ত ধরে সেই সভ্যতা বিবর্তনের মধ্যে অতিবাহিত হয়ে বর্তমান দিনে এসে পৌঁছেছে। এই উন্নত উন্নাসিক সমাজের পিছনের ইতিহাসে দিকে তাকালে দেখতে পাই, তৎকালীন সময়ের প্রাচীন উন্নত সমাজ ব্যবস্থার যে মূল সংবিধান ছিল, তার নাম বেদ। আরো ভালো করে বললে ঋগ্বেদ সংহিতা।

ভারতবর্ষের সনাতন বিধিপন্থী ব্যতিরেকেও প্রাচ্য ও প্রাশ্চাত্যের আর্য ও ইন্দো-আর্য সমাজ, বেদ নামক অনন্ত জ্ঞান সমুদ্রের মধ্যে নিজেদের নিমজ্জিত করে সেখান হতে অর্জিত প্রাজ্ঞতাকে বক্ষে লালন করেই এই বর্তমান সমাজের জন্ম দিয়েছে। যাহাকিছুই আজ নুতন বলে দাবি করা হোক না কেন, আসলে সে সকলই বৈদিক অনুপিলি মাত্র। যেখানে অভিনবত্ব মানে বিস্মৃত অতীতের পুনরাবৃত্তি মাত্রবেদই হল আধুনিক সমাজের সুতিকাগাহ। ছিদ্রান্বেষীর দল ক্রমাগত, যত কটূ শ্লেষাত্মক অম্লভাষণে জর্জরিত করার প্রচেষ্টা করেছে, বেদ নিজস্ব মহিমায় নিজেকে ঠিক ততটাই সমালোচোনার উর্দ্ধলোকে স্থাপন করেছে।

ঠিক এই কারনেই আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল আণবিক সমাজ কাঠামোতেও, বেদ সমান প্রাসঙ্গিক।

এখন বিষয় বেদ কি? কাকে বলে? এটা কি শুধু মাত্র কিছুমাত্র সংস্কৃত শ্লোকের সমষ্টি? যাগ-যজ্ঞাদির সংবিধান! আসলে আমাদের এই বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যার্থীরা পেশাভিত্তিক ও কেবলমাত্র সুউপার্জনক্ষম শিক্ষা ব্যবস্থার ফসল। সেখানে জ্ঞান-মার্গ-অনুভব-চেতনার স্থান খুব কম। তাই শুনতে অপ্রিয় হলেও আমাদের এই প্রজন্ম বেদ পুরানের বিষয়ে প্রায় অজ্ঞ। যাঁরা জানেন বা চর্চা করেন তাঁরা শতাংশের বিচারেও আসেন না। এর জন্য চাই ধৈর্য, ইতিহাদের প্রতি আগ্রহ, আর শাস্ত্রবিদ্যা সম্বন্ধে নিগুঢ় প্রেম। একবার এই জ্ঞানের ভান্ডারের সঠিক হদিশ পেয়ে গেলে, বাকি সকল নীতিবাক্যকে বেদের অপত্য বলে মনে হতে বাধ্য। তাছাড়া  মূল গ্রন্থ বাংলা বা ইংরাজীতে লিপিবদ্ধও নয়, বা যেগুলি আছে সেগুলি আবার তুলনামূলক ভাবে সহজলভ্য নয়।

ব্যাকরণগত ভাবে বিদনামক ধাতু-শব্দ থেকে বেদ নামটির উৎপত্তি। 'বিদ' মানে হলো, জানা বা শেখা বা অবগতি প্রাপ্ত হওয়া। সুতরাং বেদ এর মানে হলো জানা, বাহ্যিক-ঐহিক জ্ঞানের আহরণ স্বত্বিক ও পরত্রিক জ্ঞানের আহরণের নামই বেদ। পরমাত্মার সাথে পরমেশ্বরের মিলন ঘটানো, অর্থাৎ সত্যের সাথে আত্মার মিলন ঘটাতে গেলে যে জ্ঞান বিনা গতি নেই তা হল বেদ। হিতকর উদ্দেশ্যে যাহা কিছু তাহাই জ্ঞান, জ্ঞানই সত্য, জ্ঞানই নিত্য। বৈদিক মতে জ্ঞানী আত্মাই শুদ্ধ, শুদ্ধ জ্ঞান হল সনাতন, সনাতনই কেবলমাত্র সিদ্ধিলাভ করতে পারে। সনাতন শুদ্ধতার নামই ধর্মচারণ। তাহলে জ্ঞানই হল ধর্ম। আর বেদের অপর নাম জ্ঞান। ধর্ম আর বেদ একে অপরের পরিপূরক, শুধু নামের ভিন্নতা মাত্র। যাহা কিছু ধর্মের পরিপন্থী তাহা জ্ঞানের পরিপন্থী, জ্ঞানের পরিপন্থী মানেই অজ্ঞানতা, জ্ঞানের বিরুদ্ধাচারণ মানেই ধর্মের বিরুদ্ধাচারণ। সুতরাং অজ্ঞানতা-অধর্ম সেখানেই বিরাজ করে যেখানে বেদের আলোক পৌঁছায়নি।

সুসময়ের অন্বেষণে আমরা দিগ্বিদিগ জ্ঞানশুণ্য হয়ে উদভ্রান্তের মত ছুটে চলেছি। সনাতন ধর্মালম্বী মানুষেরা কেন একক ভাবে রাজত্ব তথা দেশ শাষনের ভার পেতে অসফলকাম হচ্ছে! কেন সেই সুবর্নযুগ ফিরে আসছে না! সেই ৩০০-৬৫০ খ্রীষ্টাব্দের ধ্রুপদীযুগ। যেখানে গুপ্ত সাম্রাজ্য থেকে হর্ষসাম্রাজ্য ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। এই সময়েই সর্বপ্রথম হিন্দু মন্দির স্থাপিত হয় (তর্কের অবকাশ থাকরেই পারে)। আসলে এই যুগের প্রান্তিক রাজারা সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় নিজেদের স্থাপন করে ফেলার দরুন এই সাম্রাজ্য অচিরেই ধ্বংস প্রাপ্ত হয়।

নিজেদের প্রায় দেবতার স্থানে নিয়ে চলে যান , সাধারন প্রজাদের নজরে। আসলে তারা জ্ঞানবিমুখ হয়ে পড়েছিলেন, ধর্মজ্ঞান খুইয়ে পথভ্রষ্ট হয়েছিলেন, কারন বেদের পথ থেকে সরে গেছিলেন। আজও সেই ধারা প্রবাহমান। কিছু মুষ্টিমেয় জ্ঞানী, বিদ্বান, অন্বেষণকারী ও মুনিঋষি গন ব্যতিরেকে বেদের চর্চা কোথায়! বেদের আদর্শ শুধু মুনিঋষিরা মানবেন তা নয়, বেদ সার্বজনীন। এই জ্ঞানের বিকাশ সমাজের সর্বস্তরে প্রসার না ঘটাতে পারলে, সমাজের উন্নতি অসম্ভব। কি আছে বেদের অভ্যন্তরে, কতটাই বা প্রাসঙ্গিক এই বেদ, আজকের সমাজচেতনার সাথে কতটুকুই বা খাপ খাওয়াতে পারবে বেদের আদর্শ!! এগুলো জানতে হলে , বেদ পাঠই হল একমাত্র বিকল্প।

জ্ঞানার্জনের কোন শর্টকার্ট নিয়ম হয় না, সুতরাং বেদ কে আবিষ্কার করার কোন রেডিমেড নিয়ম নেই, সেই আদি সনাতন পন্থা। পাঠ করতে হবে। বেদ স্বপ্রমানিত এবং স্বতঃসিদ্ধ, ইহাই বেদের মাহাত্ব্য। বেদকে অজ্ঞানরা অভক্তি করতেই পারেন, কারন তাঁরা ওই সুধার সন্ধান পাননি। তাঁকে যদি কোনভাবে একবার সঠিক টিকা ও বিশ্লেষণ সহ বেদের গুঢ় অর্থ বর্ননা করা যায়, সে বেদের প্রেমে পড়ে সাধু চেতনায় উদ্ভাষিত হতে বাধ্য। বেদপাঠ মোটেই সহজকার্য নয়, তবে তার মর্মদ্ধার করা ততোধিক কঠিন। সঠিক জ্ঞানবান পন্ডিতের নিকটই দীক্ষাগ্রহণ করা উচিৎ।

বেদই এতই পুরাতন , যে তখনও কাগজ বা লিখিত সংরক্ষন প্রণালী আবিষ্কারই হয়নি। শুনে শুনেই বেদকে আয়ত্তে রাখা হয় সেই বৈদিককালে। যার জন্য বেদকে শ্রুতি নামেও অবিহিত করা হয়। গুরুশিষ্য পরম্পরায় সে প্রবাহ অবিচ্ছিন্ন থাকতো। বিভিন্ন জ্ঞানদ্রষ্টা বৈদিক ঋষিরা আধ্যাত্বিক জ্ঞানবলে বেদের মন্ত্র গুলিকে প্রত্যক্ষ করেন, যাঁদের মধ্যে বিশ্বামিত্র, ভরদ্বাজ, বিশ্ববারা, লোপামুদ্রা প্রমুখ মন্ত্রদ্রষ্টা ঋষিগণ অগ্রগন্য। তাঁরাই বেদের বিভিন্ন মন্ত্র ও সুক্তগুলিকে সংকলিত করেন। কিন্তু একে অপৌরুষেয় অর্থাৎ ঈশ্বরের বানী হিসাবেই মানা হয়। বেদের ব্যবহার শুধুমাত্র মঙ্গলজনক কার্যেই সীমাবদ্ধ। কারন অজ্ঞতার অন্ধকারে বেদ বসবাস করতে পারেনা।

বিধিসম্মতভাবে বেদ চতুবর্গ, মানে চার ভাগে বিভক্ত। ঋগ্বেদ- যজুর্বেদ- সামবেদ-ও অথর্ববেদ। যদিও অনেক মুনিঋষিরা একে ত্রয়ী নামে অবহিত করেন, কারন মিতত্ব, অমিতত্ব ও স্বরত্ব এই তিন ধরনের স্বরলক্ষন দ্বারা সজ্জিত হল বেদের বিন্যাস। যজ্ঞকার্যে সুবিধার জন্য শ্রীকৃষ্ণদ্বৈপায়ন শ্রীব্যাসদেব বেদকে চারিখন্ডে বিভক্ত করেন, যাহা বেদব্যাসনামে পরিচিত। বেদ শুধুমাত্র জ্ঞানকান্ডের সম্ভার নয়, কারন কর্মকান্ড ছারা জ্ঞানকান্ড প্রতিষ্ঠা পায়না। যজ্ঞস্তুতি, দেবস্তুতি ও প্রার্থনাপ্রনালী নিয়েই বেদের মূল মন্ত্রাংশ পদ্যাকারে সজ্জিত, বাকি অংশ গদ্যাকারে। বেদের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন রুপে বর্নিত, সংহিতা ও আরণ্যক অংশে জ্ঞানাশ্রয়ী নীতিকথার সম্ভার বর্নিত। আর জ্ঞানাংশই বেদের সারাংশ। ব্রাম্ভণ অংশে বেদের মন্ত্রের কর্মাশ্রয়ী ব্যখ্যা পাওয়া যায়। আর সমাজবিধি, শিক্ষা, শিল্প, ব্রম্ভ, জগতের সৃষ্টি রহস্য, রাজনীতি ইত্যাদির পরিপূর্ন উল্লেখ তথা নির্দেশ আমরা উপনিষদ অংশে পাওয়া যায়। এই ভাবেই দৈনন্দিন সনাতন হিন্দু সমাজ বিকাশ লাভ করে। তাই বেদ শুধুমাত্র প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ নয়, এটা আমাদের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন সামাজিক দলিলও বটে।

বেদের বাণী অবিনিশ্বর, কারন যাহা সনাতন তাহা তো অপরিবর্তনীয়।সকল শাস্ত্রের মন্থন করলে যে মজ্জাংশ অবশিষ্ট থাকে তাকেই বেদ বলে। বেদের দর্শন সম্বন্ধে আমরা কিছু জানার চেষ্টা করবো।

আমাদের তৃতীয় বিশ্বের এক বড় সমস্য হল জন বিস্ফোরণ। বিশেষ করে চীনদেশ ও ভারত উপমহাদেশ। অনিয়ন্ত্রিত জন্মহার সৃষ্টি করেছে খাদ্য ও বাসস্থানের অভাব। যার জন্য অপরিকল্পিত যৌন জীবন অনেকাংশেই দায়ী। যৌন পীড়নে আমাদের সমাজ আজ জর্জরিত। নানা বুদ্ধিজীবিদের দল নিজেদের নিজেদের মতন করে নানা প্রচেষ্টার পরেও সারা দেশে তেমন উল্লেখযোগ্য আইন প্রনয়ন করতে পারেননি। যেখানে অথর্ব বেদের  ৬.১৩.৮ অধ্যয়ে ও ৯.১০.১০ অধ্যয়ে যৌন নিপীড়ন মুলক কুৎসিত বিষয় ও সেই অপরাধ সম্বন্ধে পুঙ্খানুপুঙ্খ শাস্তিবিধানের উল্লেখ আছে। কিন্তু আমরা তো বেদ জানিই না। তাই সেখানে যে বিধান দেওয়া আছে যে বিষয়েও অজ্ঞাত।

কোন একজন ব্যক্তির উন্নয়নকে কখনোই প্রকৃত উন্নয়নের সূচক হিসাবে চিহ্নিত করা যায় না। কারন মানব সমাজবদ্ধ জীব। সমাজের সার্বিক উন্নয়ন না ঘটাতে পারলে নাগরিক জীবনে স্বস্তি বিরাজ করতে পারেনা। আর সার্বিক সামাজিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন প্রতিষ্ঠিত সমাজকল্যাণ ব্যবস্থার প্রমানিত স্মারকলিপি। আর সেটার জন্য বেদের থেকে প্রমানিত আর কিই বা থাকতে পারে, যাহা হাজার হাজার বছর ধরে প্রমানিত। সমাজকল্যাণের বিষয়ে বিশদে উল্লেখ আছে ঋগ্বেদের ১০.১১৭ অধ্যয়ে। আর আমরা অন্ধের মত সমগ্র দুনিয়া ঘুরে মরছি, বেদ অজ্ঞানতার জন্য।

গনতন্ত্র ব্যবস্থার মূল মন্ত্রই হল স্বাধীনতা, যেখানে থাকবে বাক্ স্বাধীনতা, তথ্য জানার অধিকার, গনমাধ্যমের অধিকার। এইগুলোর সামান্যতম বিচ্যুতি ঘটলেই গণতন্ত্রের উপর প্রশ্নচিহ্ন উঠে যায়। পাশবিক গুণের জন্য মানব, চরিত্রগত ভাবেই স্বার্থপর। যাহার জন্য দূর্নীতি মানব চরিত্রের অন্যতম বদগুণ। সন্ত ব্যতিত এই দোষের থেকে উত্তীর্ন হওয়া মুশকিল। আর এর জন্য প্রয়োজন সকল প্রকার কর্মযজ্ঞে স্বচ্ছতা। জনমানসে স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে জ্ঞান খুব পরিষ্কার ভাবে ছড়ানো প্রয়োজন, সেটা আজ আমরা বুঝি, নতুবা সামগ্রিক স্বচ্ছতা আনয়ন অসম্ভব। অথচ হাজার হাজার বৎসর পূর্বেই আমাদের স্বাস্ত্রে তথা অথর্ব বেদের ৫-১৮ ও ৫-১৯ অধ্যয়েখুব পরিষ্কার ভাবেই উপরোক্ত সকল গনতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্তম্ভ গুলির ব্যাপারে বিশদে দিক নির্দেশ তথা বর্ননা করা আছে ও গণতন্ত্রের সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যা রয়েছে।

সুতরাং আধুনিক যে গনতান্ত্রিক ব্যবস্থা, সেটা সেই প্রাচীন বেদের আবর্তেই সীমাবদ্ধ। এটাই বেদের মাধুর্য। এবং এখানেই বেদ প্রশ্নাতী ভাবে কাল সীমানার গন্ডি অতিক্রান্ত।

আবার এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে সমান অধিকারের ফলে দ্বন্দের উদ্ভব ঘটে। কারণ প্রত্যেক মানুষের সহনশীলতার মাত্রা আলাদা আলাদা। ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার এক নীচ প্রয়াস সকল সমাজেরই এক অতি পরিচিত অঙ্গ। তাই গণতন্ত্রকে সঠিক মর্যাদা দিতে ও দীর্ঘস্থায়ীভাবে টিকিয়ে রাখতে সমাধান সূচক জ্ঞানের প্রয়োজন, যাহার দ্বারা সুস্থতার সাথে দ্বন্দের মীমাংসা হবে। আর তার সবিস্তার ব্যাখ্যা যজুর্বেদের ১৬.৯-১৬.১৪ অধ্যয়ে বর্নিত। যে মন্ত্রে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায়, তার নামই হল বেদ।

সারা পৃথিবীর রাষ্ট্রনায়করা স্বীয় স্বীয় দেশের বৃদ্ধির জন্য কতই না পরিকল্পনা গ্রহণ করে চলেছে। সেখানে উন্নত বিশ্ব গুলো ইচ্ছা বা অনিচ্ছাতে শোষণ করে চলেছে দূর্বল রাষ্ট্রগুলিকে। আর আমাদের মত দ্রুত উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের মাথারা এখনো পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি দিশা দেখাতে ব্যর্থ। ররাজনীতির চক্রবূহ্যে ডান-বাম-রাম সকলেই এক ভূমে লীন। আচ্ছে দিনের প্রতিশ্রুতিই সার, কোন কার্যকরী পরিকল্পনাই নেই। অথচ শ্রুতির মানে ঋগ্বেদের ৮.৭৪ অংশে দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধির যে রূপরেখা রয়েছে, কজনের কাছে সেই বিদ্যার খোঁজ আছে! সুতরাং দিশাহীন তো হতেই হবে আমাদের সমাজকে এতে আর আশ্চর্যের কি!

আজকের যুগে আমরা সবুজায়ন নিয়ে মাথা ঘামিয়ে মাথায় টাক করে ফেলছি। সৌর বিকিরন সম্বন্ধে গবেষনার অন্ত নাই। হাড় ও হৃদয়ের বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের জন্য সবুজায়ন ও সুর্যের উপকারিতা সন্বন্ধে ঋগ্বেদের ১.৫০ অধ্যয়ে বিশদে বর্ণনা করা আছে। এটাই বেদ।

আজকের দিনে সংবাদমাধ্যম বা সামাজিক মাধ্যম সেটা কাগজ বা বৈদ্যুতিম যে মাধ্যমই হোক না কেন, খুললেই খুন, রাহাজানি হানাহানি ইত্যাদি খবরেরই ঘনঘটা। সেটা পারিবারিক থেকে সামাজিক সর্বস্তরে সহিংস আকার নিয়েছে। প্রশাসন হাজার রকমের নীতি গ্রহন করছে, এগুলোকে রোখার। কিন্তু এই সমস্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধিই পেয়ে চলেছে। কন্যাভ্রূণ হত্যা বর্তমান সমাজের জ্বলন্ত সমস্যার অন্যতম। গর্ভস্থ ভ্রুনের লিঙ্গনির্ধারন পদ্ধতি বন্ধ করে হয়ত বা কিছুটা কন্যাসন্তান রক্ষা করা যাচ্ছে। কিন্তু তাদের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ পালনপোষনে বহুলাংশেই ঘাটতি থেকে যাচ্ছে, লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছে ক্রমগত একটা বৃহত্তর নারী সমাজ সর্বদা, শোষিত হচ্ছে।

মহিলারাই তো সমাজের মা, তাই কন্যা শিশুদের সঠিক শিক্ষা থেকে সামাজিক সুরক্ষার জন্য সমাজের সর্বস্তরে মহিলাদের প্রতি অসহিষ্ণুতার মাত্রা নির্মূল করার জন্য যে সামাজিক সচেতনতা প্রয়োজন তাহার যাবতীয় বিধান রয়েছে আমাদের প্রাচীন রত্নভাণ্ডার বৈদিক শাস্ত্রের অভ্যন্তরে। কন্যাশ্রীথেকে বেটি বাঁচাও বেটি পড়াওইত্যাদি নানা সরকারি প্রকল্প কিছুদিন হল কন্যা শিশুদের জন্য চালু হয়েছে বটে, অথচ ঋগ্বেদের ১০.৮৫.৪ অধ্যয় ও অথর্ববেদের ৫.১৭, অধ্যয়ে সবিস্তারে উপরোক্ত সমস্ত প্রকারের সমস্যার সুস্পষ্ট সমাধানের বিধান লিপিবদ্ধ আছে।

শরীর হল মন্দির স্বরূপ এবং এটি একটি স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রও বটে। সুতরাং সেটির নূন্যতম ও যথাযত পরিচর্যা প্রয়োজন। নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি সঠিক ও পরিমিত খাদ্যাভাস অত্যন্ত জরুরি, যেখানে সঠিক পরিমানে কার্বোহাহড্রেট, প্রোটিন, লিপিড, ইত্যাদিসহ রক্তের সংবহন প্রণালী এবং অসুদ্ধি ক্ষতিকারক কোলেষ্টেরলের মাত্রার বিষয়ে সেই যগেও একটা পরিচ্ছন ধারনা দিয়ে গেছে বেদ। যাহা ঋগ্বেদের ৪.৫৮ ও অথর্ব্ বেদের ১২.৪ অধ্যয়ে বর্নিত।

এই হল সমুদ্রের সম্মুখে কপোতাক্ষির অশ্রুসম ব্যাখ্যা। বেদকে আরো জানতে জলে বেদ পড়ুন, নিজে। আর জানুন নিজেকে। কারন বেদই হলো জ্ঞান। যাহা আর পাঁচ জনের সাথে আপনাকে আলাদাকরে দেবে, জ্ঞানের গরিমায়। বেদ এই জন্যই আজও প্রাসঙ্গিক, আছে ও ভবিষ্যতেও থাকবে।

________
উন্মাদ হার্মাদ


সোমবার, ১৪ নভেম্বর, ২০১৬

জনস্বার্থে প্রচারিত

৫০০ বা ১০০০ টাকার নোট বদলাতে বা খুচরো আনতে ব্যাঙ্কে, ডাকঘরে বা ATM যাবেন আপনি? তাহলে যাবার আগে কিছু অবশ্যকরনীয় টিপস-
**************************
১) একটা বিগ শপার নেবেন।


২) সচিত্র পরিচয় পত্র। যেমন আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভোটার আইডি, পাসপোর্ট ইত্যাদি


৩) ব্যাঙ্ক একাউন্ট নাম্বার, যে ব্যাঙ্কের লাইনে যাচ্ছেন।
৪) একটা পেন নেবেন।


৫) জলের বোতল কমপক্ষে ৪ বোতল প্রতিদিন। কদিনে ইউরেকা বলতে পারবেন কে জানে!


৬) মধ্যাহ্নভোজ পেট কি আর কালাধন বোঝে! আহাম্মক শুধু খাবার ছাড়া কিচ্ছু চেনেনা। অবশ্যই দেখে নেবেন কোন কু মাংস না থাকে


৭) ছাতা অবশ্যই সাথে রাখবেন, লাইনের অধিকাংশটাই প্রায় রাস্তায় কাটাতে হবে।


৮) খাটিয়া হলে ভাল হত ঠিকিই, কারন মাসল ক্রাম্প হলে একটু গা গড়িয়ে নিতেই হবে। অগত্যা থলেতে একটা শতরঞ্জি মাষ্ট।


৯) জরুরীকালীন যাবতীয় ঔষুধ সাথে রাখুন। কারন আপনার সাথে থাকা নিষিদ্ধ কাগজগুলো দিয়ে ঔষুধ কিনতে পারবেননা, আসেপাসের লোকেদের কাছেও ওই একই, সুতরাং সাবধানের মার নাই।


১০) অতক্ষন লাইনে করবেনটা কি? অতএব মোবাইলে ডেটাপ্যাক যথেষ্ট পরিমানে মজুদ রাখবেন।


১১) এটাকে দুর্ভোগ ভাববেননা মোটেই, সেটাই রাজ-কীয় সিদ্ধান্ত। অতএব মুড বানাতে কয়েক ঠ্যোঙা পপকর্ন হলে ভাবনার ঘরে এক পরত দেশপ্রেমের পোঁচ পরবে। সেই ফাঁকে সুযোগ পেলে একআধকলি দেশাত্ববোধক গান গুনগুনালে বাকিরা অনুপ্রানিত হবেন


১২) হেডফোন লাগবেই, ফেসবুক ক্যান্ডিক্রাশ করে হাত ভেরিয়ে গেলে, গান শুনবেন।


১৩) মোবাইল চার্জিং এর সুবিধা লাইনে নেই, পাওয়ার ব্যাঙ্ক না নিলে ভুগবেন।
১৪) কিছু শুকনো খাবার রাখবেন, বিস্কুট চানাচুর ইত্যাদি। ওগুলো মাইন্ড ফ্রেস করে।


১৫) লাইনে দাঁড়িয়েই শুরু থেকে আগে পিছের জনদের সাথে সেধো-পিরিত শুরু করুন। নাহলে প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে গেলে লাইন মিস হয়ে যাবে, ওনা দের সাথে সুসম্পর্ক থাকলে উনি এখানেই ছিলেনবলে সাক্ষীদেবেন। মহিলাদের ক্ষেত্রে এটা প্রযোজ্য নয়, তাদের জন্য আত্মবলিদান করতে চাওয়া স্বেচ্ছাসেবী সৈনিকের অভাব পৃথিবীর কোথাও নেই।


১৬) একটা ছোট মগ, বড় বাইরে চালপে মাঠেই দৌড়াতে হবে যে।
১৭) অবশ্যই সাস্নক্রিম মেখে বেরোবেন, নাহলে সেলফিতে কেলে পাঁচু মার্কা ছবি আসবে।


১৮) এবার সবশেষে টাকা হাতে পেলে, সবার আগে তার সাথে একটা সেলফি তুলে সাথে সাথে সোসাল মিডিয়ায় আপডেড দিলে তবেই গোটা মিশনটা কমপ্লিট হবে।


এবার আত্মগর্ব অনুভব করুন। সবসময় মাথার রাখবেন জাতীর স্বার্থে আপনার এই মহান আত্মত্যাগ । সুতরাং


জয়হিন্দ।


তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...