শনিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৯

।। মোদী ম্যাজিকঃ ফিনিস ।।



২ই মার্চ ২০১৯ থেকে ১৬ই মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত বিজেপি প্রায় তিন কোটি টাকা "ফেসবুক-হোয়াটসএপ-ইন্সটাগ্রাম" একাউন্টে বিজ্ঞাপন বাবদ খরচা করেছে। যেখানে পেইড নিউজ দিয়ে প্রচার করানো হচ্ছে - মোদী বিপুল ক্ষমতায় ফিরৎ আসছে। হরেক রকমের ভেল্কিবাজি, এক লাইনের ক্যাচি স্লোগান সহ IT cell ব্রিগেড সবই আছে এই হিসাবের বাইরে।
সুতরাং যাবতীয় মোদী ম্যাজিক যা দেখছেন আশেপাশে, সবটাই টাকা দিয়ে বিজ্ঞাপন, জবরদস্তি করে টাইমলাইনে এনে দেখানো হচ্ছে। জনভিত্তির সারবত্তা থাকলে এগুলো লাগতনা। কোনো ফেসবুক আইডি মোদী বা বিজেপির হয়ে প্রচার করছে মানেই জানবেন সেটা বিজ্ঞাপন। টাকার বিনিময়েই সেটা করছে।
মন্দির ওহি হয়নি।
বিকাশ কে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।
জঙ্গি আক্রমণ বেড়েছে।
ওদেরই মতে হিন্দু খতরেমে হ্যায়।
বেকারত্ব বেড়েছে।
কৃষক আরো গরীব হয়েছে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পথে বসেছে।
আম্বানী আদানি ধনী হয়েছে।

কত লেখা যায় বা সম্ভব? 
অতএব বহুরুপীরা ঠিকে মুনিষ রেখেছে সোশ্যাল মিডিয়াতে।

যদিও পাবলিক জানে এগুলোও এক ধরেন জুমলা।
অন্যদলগুলোও বিজ্ঞাপন দিয়েছে, নবীন পট্টনায়কের BJD দ্বিতীয় স্থানে অন্য বাকিরা বিজেপির তুলনাতে শতাংশের হিসাবে নগণ্য প্রায়।
অল্ট নিউজের একটা লিঙ্ক রইল, বিষদে জেনে নিতেই পারেন।

।। SSC সঙ্কট ।।



ও হীরক রানী, আপনি চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে জামানাতে বাস করছেননা। যে জনগণ আপনাকে নবান্নের ১৩ তলাতে চড়িয়েছিল, তারাই চাবকে আপনাকে ফুটপাতে এনে নামাবে। বিশ্ব ইতিহাসে স্বৈরাচারী শাসকের পরিণতি দেখে পয় পান,বড় নির্মম ।
অনশনের নাটক করে আপনি জনগনকে বোকা বানিয়ে ক্ষমতা দখল করে মহারাণী সেজে বসে আছেন, সিঙ্গুরের চাষীরা জমি ফিরত পায়নি। লুকিয়ে চকলেট আর স্যান্ডুইচ খেয়ে ধাষ্টামো মারা অনশন নামের যাত্রা পালা শেষে আপনি নবান্নের ১৩ তলায়, আপনার ভাইপো প্রায় রাজা মহারাজার মত বাড়ি, ঘর, সম্পত্তি চালচলন। আপনি আর আপনার সাঙ্গোপাঙ্গ চোর বাটপারগুলো লাভবান হয়েছেন।
আজ আপনার দেখানো পথেই আমাদের বেকার ভাই বোনেরা রাস্তার ফুটপাতে অর্ধমৃত।
এই ছেলে গুলো কর্মের দাবীতে আজ ২৪ দিন ধরে অনশনে। ওরা ক্ষমতার জন্য লড়ছেনা, কিন্তু এই লড়াই আপনার দম্ভের খুটিকে কাঁপিয়ে আপনার পতন ঘটাবে। প্রস্তুত থাকুন।
ইতিহাসের কালো অধ্যয়ে যাবার আগে ভাল কিছু করে যান। অভিশপ্ত আপনার জীবন। ছিঃ

মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ, ২০১৯

।। বউদির ছড়া ।।



ও বৌদি, বৌদি মনি
দুষ্টু এয়ারপোর্ট
বামাল সমেত পরলে ধরা
এবার চলো কোর্ট।
রাজ্য জুড়ে পিসশ্বাশুড়ি
বিছিয়ে উন্নয়ন,
'লাফানো ঠোঁটে' মরদ তোমায়
লুটেছে গরীব ধন।
এসকেলেটর, সাতটি তলা
রাণীর হালে আছো,
রাজ্য জুড়ে তোলার টাকা
ধিচিং ধিচিং নাচো।
রাস্তা রোখে সিভিক বেকার
তোমার মরদ গেলে
অনশনে গর্ভপাত হয়
জেনো সময় পেলে।
তুমিতো জানো অনশন মানে
লুকিয়ে ক্যাডবেরি
ঢপেশ্বরী সারদামাতা
সততা করেন ফেরি।
নীলসাদা রঙ রাজ্য জুড়ে
বেচেন তোমার স্বামী
জানোকি তুমি দুকেজি সোনা
ঠিক কতটা দামি?
পিসশ্বাশুরির ভাইগুলো সব
তোমার বাড়ির ভৃত্য
ফুরালে সময় টেরটি পাবে
সর্বহারার নৃত্য।
ষোলোকলা পূর্ণ হলেই
বরটি যাবে জেলে
গণধোলাইয়ে ছেঁচাও হবে
পাবলিক হাতে পেলে।
পারলে বোলো, "পিসশ্বাশুড়ি,
হও যে মানবিক,
অন্ধ তুমি, মিথ্যে জগৎ
চামচা'রা চারিদিক"।
চটি শ্বাশুড়ি ডুববে যেদিন
তোমার হবে কি!
লুঠের ধনে সওদাগরী
পান্তাভাতে ঘি...
লক্ষ বেকার রাজ্যজুড়ে
হাহাকারে উৎসবে,
বরটি তোমার দুকাঠি সরেস
ধরাকে সরা ভাবে।
কেড়ে নেবে সব, সব সম্পদ
লুট হয়েছে যারা
গুঁড়িয়ে দেবে Z plus, ত্রাণ
আসছে সর্বহারা।
উন্মাদ হার্মাদ
(জেলে পাঠাবেননা প্লিজ)

সোমবার, ১৮ মার্চ, ২০১৯

।। কামনা ।।



গ্রীবাদেশ ছুঁয়ে ওষ্ঠচিহ্ন, উতপ্ত প্রশ্বাস
আঙুলেরা বিলি কাটে চুলের খাঁজে
অনতিদূরে অনাবৃত নাভিকূপের ইশারা
নাক ডুবে আছে বক্ষবিভাজিকা মাঝে
অবিরাম বাদলধারা ঝিরিঝিরি, গোপন
প্রবাহে শিক্ত পদসন্ধিস্থল, মন প্রান,
স্ফিত বক্ষমাঝে সঞ্চিত অমৃত, কলসদ্বয়
সুতীব্র অভিঘাতে সুডৌল, সুখের স্রাবস্নান
শিথিলতা গ্রাস করে মেরুদণ্ড বেয়ে
কামনার অগ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত হৃদে
পরবর্তী কার্যক্রমে সাময়িক বিরতি
ক্লান্তিহীন আশ্লেষ , অতৃপ্ত লালসার খিদে।
জিহ্বার অগ্রভাগে কামোদ্দীপ্ত চুচুক
লালায় ভেজা সর্বাঙ্গে তড়পানি
বৈদ্যুতিন শিহরনে মত্ত মাতাল মুহুর্মুহু
ভগপোস্থের যুগপৎ মেল, সুখের রাজারানী।
শিথিলতা গ্রাস করে প্রেম, মেরুদণ্ড বেয়ে
কামনার অগ্নিশিখা তবু প্রজ্জ্বলিত হৃদে
পরবর্তী কার্যক্রমে সাময়িক বিরতি
বিরামহীন মেদুরতা, অতৃপ্ত কামনার খিদে।

।। অসৎ পাত্র ।।




জানতে পেলুম টুইটারেতে-
চৌকিদারে সবাই মেতে ?
নির্বাচনে প্রার্থী পেলে ?
খুঁজছে মুকুল দিলু মিলে।

"চোর হিসাবে প্রতিষ্ঠিত
সারদা পিসির উন্নয়ন তুতো ;
হালকা করে বাটপারিটা
জানলে দাঙ্গা, জমবে মিঠা।
বিদ্যে বুদ্ধি ? প্রয়োজনই নেই-
ভরষা কেবল গো-শাবকেই "!

পাঁচটি বছর চুরাশি দেশে
ভোট আসতে থাম্‌ল শেষে ।
বিষয় আশয় ? গরীব বেজায়-
দশলাখী সুট্যে সেলফি খিঁচায় ।
মানুষ ত নয় দল জুড়ে তার-
বাঁদর, বেবুন, গরুর খোঁয়াড় ;

ভক্তরা সব তৈরি ছেলে,
নোটবাতিল খায় রাফাল ঢেলে।
পাত্র ষাঁড়টি খিস্তি বাজায়
রিপাবলিকে অর্ণবকে পায়।
জেটলিটা তো কেবল ভোগে
পাকিস্থান আর নেহেরু রোগে ।
কিন্তু তারা উচ্চ ঘর 
চৌকিদারের বংশধর !

নীরব, অনিল, আদানি, বিজয়, 
চৌকিদারের কি যেন হয়।-
যাহোক্‌, এবার EVM পেলে!
চৌকিদারকে পাঠাও জেলে।
উন্মাদ হার্মাদ
(জেলে পাঠাবেননা প্লিজ)

বুধবার, ১৩ মার্চ, ২০১৯

।। উন্নয়ন ।।


ইলেকট্রিক অফিস যাবার জন্য বাইক চালাচ্ছিলাম, ঘর থেকে খানিক দূর যেতেই, যথারীতি গেরিলা ট্রেনিং প্রাপ্ত পিসির সিভিক আর্মি পথ রুখে দাঁড়ালো। এরাই গোটা পশ্চিমবঙ্গের রাস্তা জুড়ে তোলা আদায় করে ছোটবড় নির্বিশেষে।
মাথায় হেলমেট নেই আমার, কথা বলার আগেই গাড়ি থেকে চাবিটা খুলে পকেটে চালান করে নিল এক সিভিক সোয়াট সদস্য। চেনা ছেলেগুলো সাধারনত আমাদের মত মার্কামারা 'মাল' গুলোকে না দেখা করে ছেড়ে দেয়, এ নিশ্চিতভাবে নতুন আমদানি, ওপাড় বাংলাতে জন্ম নব্য ভারতীয়। ভোটের কথা মাথায় রেখে এরা ভারতীয় নাগরিক ও সিভিক সম্মাননা প্রাপ্তি। রেশন কার্ড, প্যান কার্ড আধার কার্ড সব সব আছে এদের আপনার থাক বা না থাক।
আমার মাথায় আসলি সেনা টুপি, সেনা সুভ্যেনিয়ার সপ থেকে ক্রেডিট কার্ডে কেনা। বললাম আমি দেশপ্রেমিক, তাই সেনা ক্যাপ পরেছি। সেনা হেলমেড বাজারে পাইনি - পেলে ওটাই পরতাম।
নতুন দেশের সদ্য নাগরিকের হৃদয়েও কি গভীর ও তাজা তাজা দেশপ্রেম দেখে আমার দেশপ্রেমিক মন কেঁদে উঠার আগেই, কেমন যেন ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল, নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে মিনিট দেড়েকের মধ্যে বাইকের চাবি ফেরত দিয়ে পালিয়ে বাঁচল।
বুঝলাম, এ দেশে ধর্ম আর ঘুষের পর 'সেনা'ই সুষম খাদ্য। যেখানে যাবতীয় যুক্তি, আইন সবই বিলীয়মান।

শুক্রবার, ৮ মার্চ, ২০১৯

।। ম এ মতুয়া ।।



একজন আমাকে বললো, "দাদা, মতুয়া সঙ্ঘের বড়মা বীণাপাণি দেবী যে মারা গেলেন সে সম্পর্কে কিছু লেখো "
যে কোনো মৃত্যুই দুঃখের। .. বীণাপাণি দেবীর আত্মা শান্তি পাক এটাই চাই। ..
কারণ ওই "শান্তি " জিনিসটিই শেষ বয়সে উনি পাচ্ছিলেন না...
দুই দিক থেকে মমতা ব্যানার্জী এবং নরেন্দ্র মোদীর যুগপৎ চাপ এই ভারতের অন্য কেউ ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করেছেন কিনা সে খবর আমার কাছে নেই।
বীণাপাণি দেবী কিন্তু ৯৯ বছর বয়সে এই দুই চাপের জাঁতায় পিষ্ট হয়েছেন। ..
না হলে আরো কিছুদিন বাঁচতেন বলে আমার অন্ততঃ মনে হয়েছে। ..
মমতা ব্যানার্জীর এমনিতে স্বভাবই হলো, বুড়ো মানুষদের উত্যক্ত করা। .. সুভাষ মুখোপাধ্যায়, মহাশ্বেতা দেবী, মান্না দে থেকে শুরু করে দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় , অমলাশঙ্কর , সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় সবাইকে মমতা ব্যানার্জী ধরে ধরে উত্যক্ত করতেন এবং এখনো করেন। .. কখনো ঠায় বসিয়ে রাখেন সভায় , কখনো সময়ে অসময়ে display করতে এখানে ওখানে নিয়ে যান , কখনো শীতের রাত্রে হাতে মাইক ধরিয়ে আদেশ করেন, "গান গাইতে হবে "... সেই কারণে বুড়ো মানুষরা মমতা ব্যানার্জীকে দেখতে পেলেই আজকাল অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আর বাড়ি থেকে বেরোতে চান না... তবুও মমতা ব্যানার্জী তাঁদের বাড়িতে গিয়ে গিয়ে তাঁদের বিরক্ত করেন। .. করে করে অনেককেই মহাপ্রস্থানের পথে পাঠিয়ে দিয়েছেন। .. সুচিত্রা সেন যতদিন সজ্ঞানে ছিলেন মমতা ব্যানার্জীকে ধারে কাছে ঘেঁষতে দেন নি। .. অসুস্থতার আধা - জ্ঞান আধা - অজ্ঞানের মধ্যে মমতা ব্যানার্জী গিয়ে তাঁর ঘরেও হামলা চালিয়ে এসেছেন। .. ওঁনার তিরোধান মমতা ব্যানার্জীর উপস্থিতিতেই ত্বরান্বিত হয়েছে। .. এর আগে জ্যোতি বসুকেও মমতা ব্যানার্জী উত্যক্ত করতেন। .. এই কারণে "স্বভাব বিচক্ষণ " পল্টুদা পশ্চিমবঙ্গে এলেই আর মমতা ব্যানার্জীকে খবর দিচ্ছেন না... যেই শুনছেন মমতা বীরভূমে আসছেন, "পল্টুদা" সীমান্ত পেরিয়ে ঝাড়খণ্ডে ঢুকে যাচ্ছেন। .. মমতা ঝাড়খণ্ডে ওঁনার খোঁজে detour নিলে পল্টুদা সোজা হেলিকপ্টারে জঙ্গিপুরে। .. মমতা জঙ্গিপুরে ওঁকে ধাওয়া করলে পল্টুদা সফরসূচি কাটছাঁট করে কলকাতা হয়ে দিল্লী ফিরে যাচ্ছেন। ..
"মমতা, আমি বাঁচতে চাই "
সেই দিক দিয়ে নরেন্দ্র মোদির ট্র্যাক রেকর্ড ভালো ছিল। .. উনি বুড়ো লোক দেখলেই তাড়িয়ে দিতেন। .. বাজপেয়ী , আদভানি , মুরলি জোশি, যশবন্ত সিং , যশবন্ত সিনহা সবাইকে দূর দূর করে তাড়িয়ে ছেড়েছেন। .. ওনার সব অত্যাচার ছিল কেবল নিজের মায়ের উপরে। .. ৯০ বছর বয়সে টাকা তোলার লাইনে দাঁড় করিয়েছিলেন শুধু ছবি তোলাবেন বলে। .. নরেন্দ্র মোদির অত্যাচার মূলতঃ বাচ্চাদের উপরে হয়... দেখতে পেলেই কান টানেন ধরে ধরে। ..
তা এবারের নির্বাচনটি এমনই সমস্যাসংকুল হয়ে উঠেছে মোদীজির কাছে যে উনি আর কোনো chance নিচ্ছেন না... বীণাপাণি দেবীর কাছে পৌঁছে গেছিলেন। .. সেখানে যেতেই বীণাপাণি দেবীকে নিয়ে সে কি "বীণা" টানাটানি। .. একদিক দিয়ে মমতা ঠাকুরের নাতনি হাত টানে তো অন্যদিকে থেকে মঞ্জুল ঠাকুর পা টানে। .. শান্তনু ঠাকুর তো পারলে বীণাপাণি দেবীর চুল ধরেই টেনে দেয়। ..
এমতাবস্থায় বীণাপাণি দেবী নিজের জীবনের প্রতিই আস্থা হারাচ্ছিলেন। .. ভাগের মা গঙ্গা পায় না। ..উনি অত্যন্ত বেশি বয়সে এসে "celebrity" হয়েছিলেন। .. ৯০ টা সেলিব্রিটি হওয়ার ঠিক বয়স নয়। .. অনেক উৎপাত বাড়ে। .. ৯৯ বছর বয়সে মমতা ব্যানার্জী ও নরেন্দ্র মোদির মাঝখানে স্যান্ডউইচ হয়ে উনি বুঝলেন যে , "খাচ্ছিলো তাঁতি তাঁত বুনে, কাল হয়েছিল এঁড়ে গরু কিনে " ... মাত্র ৩ লক্ষ ভোটের জন্যে ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসের দুই ষণ্ড - পাষণ্ড ওনাকে স্রেফ নাগপুরের বিদর্ভ মাঠের রোলারের মতো পিষেছে। ..
সেখান থেকে বীণাপাণি দেবীর "মুক্তি " ওঁনার নিজের জন্যেই একটি "কার্নিভ্যাল "... "বেঁচে গেছি, বেঁচে গেছি, ইয়ো...ইয়ো " ..
কিন্তু "মতুয়া মহাসংঘ"-এর কি হবে ? 
উঃ ওটিই আদতে গত হইলো। .. মমতা ব্যানার্জী এবং নরেন্দ্র মোদী যা ছুঁয়ে দেন, তাই "ভস্মলোচন"-এর ছোঁয়ায় "ভস্ম" হয়ে যায়। .. latest casualty ওই "মতুয়া মহাসঙ্ঘ "... এবারে ওখানে শুধু তৃণমূল আর বিজেপির মারামারি হবে। .. তৃণমূল বলবে, "ঘাসফুল দিয়ে হরিচাঁদ - গুরুচাঁদের পূজা হবে "... বিজেপি বলবে , "না , পদ্মফুল দিয়ে "... মমতা ব্যানার্জী আবার মাঝখান থেকে হরিচাঁদ - গুরুচাঁদকে sideline -এ পাঠিয়ে "বীণাপাণি দেবী"-র মূর্তি বসাতে চাইবেন। .. "নতুন আরাধ্য দেবী এসে গেছেন। .. শ্রী বীণাপাণি ঠাকুর "...

মমতাবালা আর মঞ্জুলকৃষ্ণের সমস্যা আসলে দুই "ম "... "মমতা" ও "মোদী "...
ওই জোড়া "ম"-এর ধাক্কায় আরো কত "মতুয়া " মরবে সে কথা চিন্তা করলেই হাড় হিম হয়ে যাচ্ছে। ..
শাস্ত্রে বলেছে , "পঞ্চ ম -কারের চক্করে থেকো না। "
"মতুয়া মহাসংঘ" ওই "পঞ্চ ম"-এর চক্করে পড়ে গেছে : মমতা, মুকুল , মোদী, মমতাবালা এবং মঞ্জুল। ..
উদ্ধারের কোনো আশা পরিলক্ষিত হইতেসে না

ভায়া- সায়ক ঘোষ চৌধুরী 

শুক্রবার, ১ মার্চ, ২০১৯

।। স্যানিটাইজেশন ।।

ওয়াঘা বর্ডার থেকে সব দলের নেতাগুলোকে ২ কিলোমিটার দূরে তাড়িয়ে দিয়েছে, রেড ক্রসের ভাষাতে "স্যানিটাইজেশন"।
জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে "সেনার ব্যবহার" যদি এমনটা স্যানিটেশনের মধ্যে হত আহা.......

নেহেরু, অটল, মনমোহনের সাথে সাথে কঁ-চু-কী মোদীর জুমলার হাত থেকে দেশবাসী ও সেনা নিজে বেঁচে যেত।
সবচেয়ে বেশি হা-হুতাস করছে ভারতীয় TV মিডিয়া, অনাথ অনাথ ভাব। কারন কোন গাড়িতে অভিনন্দনজীকে আনা হবে সেটাও জানা যাবেনা, আগামী ৩-৪ সপ্তাহ নাকি অন্তরালেই থাকবে। স্ট্রোক হয়ে যাবার পরিস্থিতি প্রায়। ওদিকে পাকিস্তানি টিভি চ্যানেল নাকি দেখাচ্ছে, সন্ধ্যা ৬টা ১৫ এর NDTV এর খবর। এটাও শ্লা ভারতীয় TV মিডিয়ার রক্তবমি প্রায়। কারন চুতিয়াস্তান এটাকে একটা ইভেন্টের মত করে দেখাচ্ছে।
যাই হোক, প্রতিটি চ্যানেলে চ্যানেলে প্রায় ডজন খানেক "সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ" থাকতেও এগুলো কেউ জানতনা? স্ট্রেঞ্জ...….

বৃহস্পতিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

।। অস্ত্র কেনা ।।

তো ভক্তো অ্যান্ড মিত্রোঁ...
হাত জোড় করে, ব্যাকগ্রাউন্ডে মৃত CRPF জওয়ানদের ছবি নিয়ে, ধরা গলাতে বলছেন " দেশকা সুরক্সা মজবুত হাতোমে হ্যায়"
কাজ সারা হয়ে গেল, ভোটের ফান্ডের জন্য কাটমানিও এসে গেল। অস্ত্র ব্যবসায়ীরা তাদের কাজ সেরে নিয়েছে। এখন ভোটটা শুধু পদ্মতে দিলেই ১৬ কলা পূর্ণ হবে। পাকিস্তানে কি হবে তারা ভাবুক, আমাদের দেশপ্রেমিক নেতারা আমাদের জাতীয় কোষাগারে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকটা করে ফেলেছেন।🤣🤣🤣
আরে!!!! আপনি তো দেশদ্রোহী খুঁজতে অন্ধ, এগুলো জানেনইনা। আপনার চৈতন্য হোক।

বুধবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

।। প্রশ্নঃ ১৮ দফা ।।

৫.৬ ইঞ্চির ফেকু আজ আবার সেনাকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছেন, ABP আনন্দের খবর, ২৭/০২/২০১৯ সন্ধ্যা। কিন্তু এটা তো দিন দশেক আগেই দিয়েছিলেন, কেড়ে নিয়েছিলেন কবে, কেন, কার স্বার্থে?
প্রশ্ন ১) সেনা কি আর রাষ্ট্রপতির আওতাতে নেই? সংবিধান অনুযায়ী তিন সেনার সুপ্রিম কমান্ডার ভারত গণতন্ত্রের প্রেসিডেন্টের। প্রেসিডেন্টের কথায় মনে পড়ল, ভারতে কে যেন আছেন এই পদে!! আসলে এতো বড় ক্রিটিকাল পরিস্থিতিতেও মৌনি বুদ্ধ ভদ্রলোক, মনমোহন সিংকেও গুনে গুনে গোল দিচ্ছে। আসলে ওনার যোগ্যোতা "শুনেছিলাম" মোদীজির রুমমেট ছিলেন RSS প্রচারক থাকাকালীন। তাই কেউ এই প্রশ্ন করছেনা, কাশ্মীরে এই মুহুর্তে যার শাষন চলছে, তিনি এমন নির্বিকার কেন?
প্রশ্ন ২) যুদ্ধ ঘোশনা না করে পূর্ণ স্বাধীনতার মানেটা ঠিক কেমন সোনার পাথরবাটি? কেউ যদি বুঝে থাকেন একটু বলবেন প্লিজ?
প্রশ্ন ৩) আমাদের বীর জওয়ান অভিনন্দন জীর মুক্তির বিষয়ে কোনো কথা কি কেউ শুনেছেন? প্রায় ১০ ঘন্টা অতিক্রান্ত। জেনিভা চুক্তি কি এখানে প্রযোজ্য? জানতে চাইছি।
প্রশ্ন ৪) দেশের সুরক্ষা, সার্বভৌমত্ব বেশি জরুরী নাকি মোদির ইমেজ রক্ষা? সেনা মারা গেলে তার দোষ আর যারই হোক মোদী বা তার সহ পকিসিমেকারদের নয়। সেনা শত্রু দেশে শত্রুর হাতে ধরা পরলে কার দায় কে জানে, মোদী বা তার সরকারের কক্ষনও নয়। কিন্তু সেনা যখন জঙ্গি/পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে সমুচিত জবাব দেয়, প্রত্যাঘাত করে- সব ক্রেডিট তখন মোদির। মোদি নিজেও দুহাত আস্ফালিত করে বলেন "দেশ কা সুরক্সা কাবিল হাতো মে হ্যায়"। এটা কেন হয়? সেনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যপবহারের অনুমতি সংবিধানের কত নং ধারাতে উপলব্ধ?
প্রশ্ন ৫) চাড্ডি ও ভক্তদের কে দেশদ্রোহী খোঁজা ও চিহ্নিত করণের দায়িত্ব সঁপেছে? তাদের IT cell সারা বছর এই ভার্চুয়াল দুনিয়াতে নিজের দেশের একটা বড় শ্রেনীর জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রোজ যুদ্ধ করছে। পাকিস্তানী মদতপুষ্ট জঙ্গিদের সাথে সাথে দেশজ RSS পুষ্ট পাড়ায় পাড়ায় গড়ে ওঠা জঙ্গি লঞ্চিং প্যাড গুলোকে ধ্বংসের জন্য সেনাবাহিনীর কোন অংশ কাজে লাগবে? কবে থেকে? 
মুর্খ ভক্ত/চাড্ডিরা কমেন্টও কপি-পেস্ট করে। অশিক্ষাই মূলত এদের চাড্ডি বানায়। এদের শিক্ষা ব্যবস্থা বিনে ১৩৬ কোটির দেশে এমন সুদক্ষ সেনা বাহীনি থাকতেও, দিনের শেষে প্রতিটা ভারতবাসীকে দায় বয়তে হয়। এদের শিক্ষার পরিকল্পনা কি?

প্রাশ্ন ৬) রাম মন্দির হয়নি, GST, নোটবন্দি সহ ৫ বছরের অপদার্থতা কি যুদ্ধের জিগিরে চাপা পরে যাবে? পাকিস্তান জুজু আর কতদিন দেখব? বিজেপি এলেই এই জৈশ নামের নির্দিষ্ট সংগঠনটি জেগে ওঠে কিভাবে?
প্রশ্ন ৭) বিরোধীরা প্রায় সকলেই ভোটের প্রচার থেকে ২০ মাইল পিছিয়ে, মোদী ও তার দল রোজ এটা করে যাচ্ছে। এর সমাধান কিসে?
প্রশ্ন ৮) 95% মিথ্যুক ভারতীয় TV মিডিয়ার মিথ্যাচারের বিকল্প কি? কেন এদের বিরুদ্ধেও জনরোষ আছড়ে পরবেনা? কেন আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা এদের লাগামছাড়া অন্যায়ের বিরুদ্ধে?
প্রশ্ন ৯) ভোটের আগে কতদিন এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা সইতে হবে জানিনা। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেবেটা কে? সবাই তো নিজের আখের নিয়ে ব্যাস্ত।
প্রশ্ন ১০) যুদ্ধের আবহের পর্দার আড়ালে ঠিক কি কি সিদ্ধান্ত এই সরকার নিল, যেগুলো আমরা জানতেও চাইলামনা, তাই জানতে পারলামনা।
প্রশ্ন ১১) RSS কবে স্বতঃপ্রণদিত হয়ে LOC তে খাঁকি হাফপ্যান্টিদের পাঠিয়ে পাকিস্তানকে ম্যাপ থেকে মুছে দেবে? কার অনুমতির জন্য ওনারা অপেক্ষা করছেন?
প্রশ্ন ১২) কাশ্মীর ছাড়া আমাদের আর কোন সমস্যা অদৌ গুরুত্বপূর্ণ রয়েছে কি? থাকলে সেগুলো কবে, কে, কোথায় আলোচনা করছে?
প্রশ্ন ১৩) রামদেব, শ্রী শ্রী, অনুপম খের, অক্ষয় কুমার, সিফুজি, সহ স্বঘোষীত দেশপ্রেমের অধ্যাপকদের কাশ্মীর ঈশ্যু সমাধান করতে পাঠানো হচ্ছেনা কেন?
প্রশ্ন ১৪) জেনিভা যুক্তির কথা আজ যারা বলছেন, সিন্ধুর জল বন্ধের জুমলার সময় এটা মাথায় কেন ছিলনা? পাকিস্থানকে কেন ভাতে মারা হচ্ছেনা?
প্রশ্ন ১৫) ১৩৬ কোটির দেশে সবাই সেখানে দাঁড়িতে মুতে দিলে যে দেশ ভেসে যায়, সেই ২০ কোটির দেশকে জিইয়ে রাখা কি ভোটের রাজনীতিতে? আকসাই চীনকে কেন চীন অধিকৃত কাশ্মীর বলা হয়না?।
প্রশ্ন ১৬) উইং কামান্ডার অভিনন্দনের নাম আপামর ভারতবাসী প্রায় সকলেই জেনে গেচহে ইন্টারনেটের দৌলতে। এখন রাত সাড়ে এগারোটা ২৭/০২/১৯, কোনো ভারতীয় মিডিয়াতে কেন এনাকে কেউ দেখালোনা। সামান্য তম আলোচোনা টুকুও নেই এক আধটা ছোট খাটো চ্যানেল ছাড়া!!
প্রশ্ন ১৭) পাকিস্থানকে কেন এডভান্ডেজ পাইয়ে দেওয়া হল, আমাদের সেনাকে পরিকল্পনা বিহীন ভাবে আক্রমণে পাঠিয়ে? এখন বাকি পৃথিবীর কাছে হারামি পাকিস্থান প্রমান দেখাচ্ছে দেখো ইন্ডিয়া আমাদের দেশে বিমান পাঠিয়েছে, আমরা ধরে রেখেছি। অথচ ২৬/০২/১৯ এর স্ট্রাইকের ৩০০ লাশের কোনো ছবি ছাবা কিচ্ছু নেই। কেন?
প্রশ্ন ১৮) পাকিস্থানে ২ জন ধরা পরেছে বলে দাবী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের। একজন অভিনন্দন জী, অন্য জন কে? প্রশ্ন টুকু আমরা করতে পারছিনা।এই অদুরদর্শীতা কার?
কত আর করব?? আপনারাও করুন।
আপনিও চাইলে প্রশ্ন করুন। প্রশ্নই পারে দেশকে দিশা দেখাতে। তাবেদারি তো অর্ণব গোস্বামীও করে।

মঙ্গলবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

।। জুমলা ।।

আজ ২৬/০২/২০১৯ তারিখ সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন, অবশ্যই দেশের হিতের জন্য, জঙ্গীদের আঁতুরঘর পাকিস্থানকে উচিৎ শিক্ষার জন্য, আগামীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ "সমবেত" গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে।
১০০০ কেজিরটা কি ট্রেলার ছিল? নাকি পরমানুবোমা ফেলবেন কিনা সেটা বাকি দলগুলোর কাছে জেনে নেবেন মোদীজি? আমি নিশ্চিত, আর যাই হোক লুডো খেলা হবেনা। সেই সাথে এই প্রশ্নটাও জন্ম দেয়- আজকের এটা মোটেই "গুরুত্বপূর্ণ" কিছু ছিলনা। থাকলে আজ আফটার "ফিনিস" বৈঠকের প্রয়োজন হতনা।
এছাড়াও, নিশ্চই মোদীজি এটার জন্য ডাকেননি যে, "IAF এর এই কৃতিত্বের আসল অধিকারী আসলে আপনারা, হাম তো ফাকির হ্যায়"।
হতেই পারে, আজকেরটা তাহলে মিডিয়ার জন্য ছিল!! কারন ১২ দিনে অনেকটাই চাপা পরে গেছিল উথলে ওঠা যুদ্ধপরিস্থিতি। ভক্তরা নিরাশ, ডায়লোগ দিয়ে ঘরই সামলানো যাচ্ছেনা তো বিরোধীদের কিভাবে সামলাবো!! ইত্যাদি ইত্যাদি
কিন্তু তো একটা ঘটেছেই ঘটেছে। নতুবা পাকিস্থান এমন মর্কট নাচ নাচতনা। ওদের ক্যালানি হয়েছে আওয়াজ হয়নি, তাই বুক ফাটলেও মুখ ফুটছেনা। চিন বিবৃতি দিচ্ছে, আমেরিকা বিবৃতি দিচ্ছে মিছিমিছি নয়। তাই যারা হামলা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে তারা মহাগান্ডু। কিন্তু যারা তুড়িয়ে উল্লাস প্রকাশ করছে তারা কোন প্রজাতির জীব? সেনার কৃতিত্বে গর্ব করার দিন, ভক্তেরা দেশজ বামপন্থী আর মুসলমানদের টিজ করতে লেগে গেছে কারন এরা BJP এর ভোট ব্যাঙ্ক নয়। সুতরাং সেনা নিয়ে বিজেপির এ এক চমৎকার রাজনীতি, দেশপ্রেমের সুরমা লাগিয়ে। ভোট শিয়রে। নতুবা গত ৫ বছরে বিজেপির আমলে কম সেনা শহীদ হয়নি পুলওয়ামার ৪৫ জন ছাড়াও। তাই সেনার এই আক্রমণ খুবই স্বতঃস্ফুর্ত, এই জন্য মোদীজির দুই দলের ক্রেডিটটা কোথায়?
অতএব আসল জঙ্গীঘাতী হামলাটা সম্মিলিত সিদ্ধান্তের পর আগামী কাল, পরশু বা তরশু বা তারও পরে হবেই। কারন আমাদের সেনা তো শুধু অর্ডারের প্রতিক্ষাতে, কিন্তু ৫.৬ ইঞ্চির ছাতিতে একটু ভালকরে সর্দি কফ, হুপিং কাশি বা হাঁফানি নেওয়া যায়না, যুদ্ধের মত সিদ্ধান্ত কোত্থেকে নেবেন!!
জঙ্গিরা আজ হোক বা কাল, নিশ্চিত সমুচিত জবাব পাবে, যেটা উচিৎ ও কাঙ্ক্ষিত।
কিন্তু BJP-RSS কি শঙ্কিত অন্য কারনে। ভোটের পালে দেশপ্রেমের হাওয়া কাজে লাগে, চাড্ডি বেয়ে পেটের মন্দবায়ুর হাওয়া নয়।
নির্লজ্জের মত সেনাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে, মিডিয়ার জন্য একটা হালকা করে PUBG খেলে নেওয়া হল!! রাষ্ট্র বলছে তাই মানতে বাধ্য, কারন প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে বলিছেন, অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট না দিয়ে। সন্দেহ হবেই।
প্রচারে ভয়ঙ্কর খরার সম্ভাবনা, কারন অষ্ট্রেলিয়া সিরিজ চলছে, সামনেই IPL, তার পরেই বিশ্বকাপ। দেশপ্রেমের দেখানোর মূল স্থান তো ক্রিকেট মাঠে, এবং সারা বছরের জন্য ওটাই স্বিকৃত। যুদ্ধ কি আর রোজ রোজ হয়! সেই কবে ৯৯তে পাকিস্থানের ঘুম হারাম করে এসেছিল আমাদের সেনারা। কিন্তু ক্রিকেট দেশপ্রেম দর্শাবার স্থান হিসাবে প্রমানিত। ক্রিকেট বনাম যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বলাই বাহুল্য, ক্রিকেটই জিতবে। কারন এটা লাইভ উত্তেজনা, স্বভাবতই খুব বেশি দিন এই দেশপ্রেম বেচা যাবেনা যুদ্ধের শো "শুনিয়ে"।
আজকে আপামর ভারতবাসী হেব্বি খুশি, এক্কেবারে জঙ্গীদের ভাষাতেই তাদের জবাব দেওয়াতে। কিন্তু এটা তো পালটা, হতেই হত। এটা স্বাভাবিক নয় কি? এ নিয়ে উচ্ছাসের কি আছে? বরং মাসুদ সহ লস্কর ও আরো যে কীট গুলো আছে, তাদের নিকেশ করাতেই তো উদযাপন।
ভক্ত, IT cell, আর গেরুয়া মিডিয়াতে যেমন দেখাচ্ছে, যেন মোদিজী উড়ন্ত গোমাতাকে মিসাইল খাইয়ে, তার পিঠে চড়ে স্বয়ং মোদীজি নির্দিষ্ট জঙ্গিঘাটিতে গোমাতাকে নাদিয়ে সার্জিক্যাল স্ট্রাইকটা করে এলেন। যেন আমাদের সেনারা আসলে চামগুলতি নিয়ে চু কিতকিত খেলছিলেন পাকিস্থানের আকাশে।
আপনি হেব্বি দেশপ্রেমী, আপনি বা আপনারা যারা সার্টিফিকেট প্রদান করেন দেশপ্রেমের, এখানে তাদের খিস্তানোর জন্য সাদরে আমন্ত্রন রইল। আর হ্যা, এই ছোট প্রশ্ন- যেটা মিডিয়া আর মোদীজির জন্য তুলেছি- এটাকে দেশদ্রোহীদের কাজের সাথে সমতুল্য করে আমাকে পাকিস্থানে পাঠানোর আগে ভামপ্যান্টি/মুসলমান বলে দুই পাছাতে অবশ্যই স্ট্যাম্প লাগাতে ভুলবেননা।
ভক্তরাও প্রশ্ন করেনা, মোদীজি মন্দির কেন হলনা? মোদীজি প্রথম সার্জিক্যল স্ট্রাইকেই তো লঞ্চপ্যাড সহ জঙ্গি ঘাটি উড়িয়ে দিয়েছিলেন, তাহলে আজকে এগুলো কোত্থেকে এলো?
জঙ্গিরাও প্রশ্ন করেনা 'হুজুর', বোমা হয়ে ফেটে ভারতীয় মারলে- ৭২ হুর, আর গ্যালন গ্যালন সুগন্ধি চোলাই যখন পাওয়া গ্যারান্টি, তাহলে আপনি কেন আগে যাননি?
ভক্তরাও দল বেঁধে প্রশিক্ষিত হয়, জঙ্গিরাও তাই। অশিক্ষা আর মিথ্যাই যে এদের বড় শত্র সেটা এরা কেউ মানতে চাইনা। দুই প্রজাতিই ঘৃণার আবহে লালিত পালতে হয়ে সমাজে এসে অশান্তি সৃষ্টি করে।
তাই, ভাবছি-
আজকের এই সর্বদলীয়টা কি উদ্দেশ্যে!! আপনি কোনো অবস্থাতেই ভাববেননা, শুধু দেখুন টিভি আর পড়ুন ফেসবুক। এরপর মাসুদ আজাহারের কোন কোন আত্মীয়েরা মারা যাবেন শুধু সেটার দিকে নজর রাখুন, যে সকল সম্পর্কের কথা জানেননা। যেমন আপনি আগে কি জানতেন - মাসুদ জঙ্গির শালা বা বট ভাই জংগী? কালকে আরো কতগুলো ভাই ও শালা দুমদাম জন্মামে সেটা শুধু নাগপুর আর বিকৃত মিডিয়াই শুধু জানে।
এর বেশি কিছু লিখলে আবার সেনা তুলে নিয়ে যেতে আরে বাওয়া। তার চেয়ে বরং রাত্রে 'নেশন ওয়ান্টস টু নো' দেখার জন্য প্রস্তুত হই।
_____________________
জয় হিন্দ,
জয়তু বীর ভারতীয় সেনাবাহিনী 
অখন্ড ভারত, অতুল্য ভারত।
RSS - জৈশ মুর্দাবাদ 
হে ভারতমাতা, হে গোমাতা 
ভক্তদের চৈতন্য হোক।

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...