রবিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

।। মিশ্র আদালত ।।




সর্বোচ্চ আদালত, তথা দীপক মিশ্র মোদীকে বাঁচতে একের পর এক কন্ট্রোভার্সি রায় দিয়ে যাচ্ছে।
আপনি আমি খেটে খাওয়া মানুষ, কে পোঁদ মারবে আইনত, কে বৌদির ঝাঁপ খুলবে আইনকে সাথে নিয়ে, মুসলমানেরা কোথায় নামাজ পড়বে, হিন্দুরা কোথায় মন্দির বানাবে, খ্রীষ্টানেরা কি খাবে, ইত্যাদি ইত্যাদি
সত্যিকরে বলুনতো, এ সবে আপনার কিচ্ছু যায় আসে? এগুলো হবার দরুন আপনার কিছু সুরাহা হয়েছে দৈনন্দিনের আগুনে ঘর খরচাতে? প্রেট্রোপন্য থেকে রুপির দাম, বেনিয়া চোরের কোনো ভ্রুক্ষেপ আছে? চোর গান্ডূটা আজ গান্ধী মুর্তির গলাতে মালা পরাচ্ছে, গত চার বছরে RSS দেশদ্রোহী নাত্থুরাম গডসের মুর্তিতে মালা পড়িয়ে এসেছে।
মুখ থেকে মুখোশ খসে পরেছে। তাই তো আজ সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নামের একটা বুদ্বুদের ছায়াতে নিজেকে বাঁচাতে চাইছে।
যেমন গোটা বিজেপি দলটা রবার্ট ভাদ্রা নামের একটা নামের আড়ালে লুকিয়ে পরতে চাইছে। কারন? কারন চুরি ধরা পরে গেছে, আর অজুহাত দেবার মত কিছু বেঁচে নেই।
সীমাহীন দুর্নীতি আর হিমালয় সম মিথ্যার পর্বতের নিচে চাপা পড়ে আছে একটা ধর্মীয় উগ্রবাদী সঙ্ঘ। এর পরেও মানুষকে বোকাচোদা ভাবছে!!
ঠিক এখনই কেন এই রায় গুলো? যাতে মানুষ বাকি সব সমস্যা ভুলে থাকে, থাকছেও।
এই সেই দীপক মিশ্র, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির চরম অভিযোগ এনেছিল পাঁচ বিচারক।
এর পর খুব শিজ্ঞির "যুদ্ধ যুদ্ধ" ভাব বাজারে চলে আসবে। এখন যুদ্ধ পুজোর প্যান্ডেল গড়া চলছে।
দেশপ্রেমের রজঃস্রাবে ভক্তরা রমন খুঁজে পাবে।
বুঝে পাইনা কজন ভক্ত বা নাগপুরী বলদ/মর্কট সেনাতে আছে? এরা তো ভাবে সেনা বোধহয় এদের বাপের সম্পত্তি। হতেই পারে সেনাদের বাপেরা এদের মায়ের ঘরে এসেছিল।
বাজারে "যুদ্ধ" এলো বলে, অপেক্ষায় থাকুন।
কিন্তু- এবারে ঘুঘু তোমার বাঁচার চান্স নাই-
"খোদা পাহাড়, নিকলা খটমল, চোর"

শুক্রবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৮

।। মর্ডান আর্ট ।।


এটা একটা ওয়ারা মার্কা টপিক, কঠোরভাবে প্রাপ্তমনস্কদের জন্য। ছবি দেখে কেউ দেওয়ালে বীর্যপাত করিবেননা, ইহা সংরক্ষিত অঞ্চল। দুর্বলচিত্তের মানুষেরা অন্য আরো বন্ধুদের ৩৩৩ টা পোষ্টে চলে যান।


মর্ডান তো ছেড়েই দিন, হেরিটেজ আর্ট বলুন বা এপিক কিছু-
আর্টের 'আ' তে আমি পাক্কা আবাল, এবং এ রোগ জন্মগত।
তবে হ্যাঁ, পিসির ছবিতে ব্যাঙের পৌষ্টিকতন্ত্রটা বুঝেছিলাম কারো সাহায্য ছাড়াই।
বাকি সবই ছবি বা আর্ট আমার কাছে একই লাগে, যেমন মোনালিসা পেইন্টে আজও আমি খুঁজি- ওতে আছেটা কি?
তবুও ঠিকিই ছিল এ পর্যন্ত, শুভাপ্রশন্নের কাক দেখে কয়েকবার আমি মাথা আর অণ্ডকোষ একই সাথে সমান তেজে চুলকে নুনছাল তুলে বিপ্লবও করেছি এক কালে। আজ ন্যাতানো যৌবনে বিপ্লব পুরো অনুপম খেরের মাথা, এক খেই ও বাল নেই।
এক ঢোক জল খেয়ে নিই দাঁড়ান। যদিও এই মধ্যরাত্রে পিসির জামানাতে মাল না খেলে নিজেকে তৃনমুলিই মনে হয়না, যাকগে সে অন্য কথা।
কিন্তু এর পরে ভুদ্ধিজীভীরা কহিবেন- ফ্রান্স- ডট ডট ডট এন্ড এটসেট্রা এটসেটরা.....
জানি বাবা জানি, অজান্তা-ইলোরার গুহাচিত্র বা প্রাচীন ভারতে কতশত স্থানেই নাকি মৈথুনরত যুগলের খোদিত মুর্তি আছে- তা বলে তো আর কেউ সেখানে ন্যাংটা হয়েও ঘোরেনা, আবার প্রকাশ্যে লাগায় ও না। ও সকল কিছু একটু লজ্জা লজ্জা হয়ে, ঘেরা অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানের করা ভাল। মুড বলেও তো একটা ব্যাপার আছে- না কি!
আমি বাপু মানুষের পরিশ্রমই দেখি ওতে মানে ওই স্থাপত্যে, যেহেতু শিল্প বুঝিনা তাই হাতে রইল শুধু একটা ধর্ষকামী চোখ ও খেঁচুরে মানসিকতা। পানু সিনেমাতেই শরীর গরম হয়না তো ওতে হবে এমন বালখিল্য বাল ওঠার আগেও করিনি কোনোদিন। তাই স্বমেহনে ছিটকিনি।
পুরুষের জীবন কি কেবল মেয়েদের দুই পায়ের ফাঁকে আবর্তীত হয়? কার হয় জানিনা, আমার অন্তত নয়। ওটা পার্ট ওফ লাইফ এন্ড আর্ট অফ লাইফ। একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। বাজারে ঘণ্টা মুল্যে পায়ের ফাঁক বিক্রি হয় ৫ মিনিটের জন্য।
বাকি রইল বুক। এ ভাই, দুধ বা ভদ্রভাষাতে স্তন- এটাকে যৌনাঙ্গ হিসাবে না দেখে আমি বাচ্চাদের খাবারের আধার হিসাবেই দেশি দেখি, তা বলে আমি ঋতুপর্ণ নই। ফোরপ্লে ওটা ছাড়া হয়না। আমি স্ট্রেট সেক্সের কথা বললাম, যারা হোমো বা লেসবো, তারা এডিট করে নিয়েন নিজ গুণে।
এবার বিষয়ে আসি, এলোমেলো ভনিতা অনেকটা করে ফেলেছি, অবশ্য এভাবে ছড়ানোটা আমার বদ অভ্যাসের গুণ। তার উপরে নারী শরীর-
বং ক্রাশের পেজে ছবিটা পেলাম। কেন এঁকেছে এ ছবি জানিনা, কে এঁকেছে লেখা আছে। আগেই বলেছি আর্টের বিন্দুবিসর্গ বুঝিনা। কার উপকার হবে সেটাও জানিনা, কার ক্ষতি হবে সেটাও অজানা। শিল্পীর কতটা অর্গাজম ঝড়েছিল সেটাও অজানা। তাই X=প্রেম ধরে এগোলাম।
আমি গরীব বাঙালী, বোধ জ্ঞানগম্ম্যি সামান্যের চেয়েও কিছুটা কম, খেটে খাই, মুনিষ গিরি করে। স্বাভাবিক নারী শরীরে আকর্ষন আর পাঁচটা সুস্থ সমর্থ পুরুষের মতই- তবুও মন অস্থির হচ্ছে-
জানিনা কেউ প্রশ্ন তুলবে কিনা- এই প্রদর্শিত শরীরটার জাত কি? মেয়েটা বাপের খেয়ে গোল্লাই গিয়ে ন্যাংটা হয়ে পোজ দিয়েছে? না কি পেটের দায়ে সমাজের গভীর অসুখ ঢাকতে সেবিকার ভুমিকাতে অবতীর্ণ।
কেউ কি মেয়েটির চোখের মায়া, গায়ের রঙ দেখবে? মাথার সুদৃশ্য টোপরটি? সুতনু কটিদেশ?
কিন্তু লম্বা চুল অন্যত্র ভাল্লাগলে এখানে বেশ বিরক্তই লাগবে আশঙ্কা রাখি।
নাহ, চোখ আঁটকে বুকে আর পদের বিভাজিকাতে।
এ ছবি তোলার জন্য, কেউ কেউ তো শিল্পীর মা বোন করছে, আবার কেউ শীল্পিকে মানে ফোটোগ্রাফারকে প্রশংসাতে চান করিয়ে দিচ্ছে।
১) এই ছবিটাতে ভাল কি আছে?
২) এই ছবিটাতে খারাপই বা কি আছে?
কোনো কিছুই তো স্পষ্ট দেখা যাচ্ছেনা, এর চেয়েও অনেক বেশি আজকালের হিন্দি সিনেমাতে দেখা যায়। অবশ্য আমাদের সব বিষয়টা তো এমন লুকোচুরির খেলা।
পরেশ অধিকারী কেন তৃণমূলে এসেছে, তার মেয়ের উন্নতিতে জানা গেল, সিরিয়াল ধর্মঘটও শেষ হল, গলায় রুদ্রাক্ষের মালা পড়ে রুপা গাঙ্গুলি অস্থিভষ্ম নিয়ে নৃত্যাঙ্গাদাও হয়ে দেখালেন, কিন্তু এটা বুঝলামনা মোটে-
যদিও সব জানতেই হবে এমন দিব্যি মোদীজির জামানাতে কেউ দেয়নি-
তবুও প্রশ্ন একটা রয়েই যায়-
আর সেটা হল-
______________________________
শেষ কথাঃ এদের দাবিটা কি ওয়ারা?
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°

শুক্রবার, ১০ আগস্ট, ২০১৮

পাঁচ এক্কে ৫ঃ অকপট

 


পাঁচ এক্কে ৫

 

পাঁচ এ পঞ্চবাণ

গাইব অকপটের গান।

প্রণটা যদি জুড়াতে চান,

দূর করে কপটতার ভান,

দিলে ফিরৎ পাবেন মান,

ভাবনার ঘরে দিয়ে শান,

বিদ্বেষ বিষ হোক যে ম্লান,

শীতল হাওয়ায় জুড়াবে জান।

 

সাবালকত্ব বলে একটা ভাষা থাকলে সাশিশুত্ব বলে কোনো শব্দ অভিধানে নেই, থাকলে মন্দ হতনা। মানবশিশু যে বয়সে সুন্দর ভাবে সেজে গেঁথে পরিজনের হাত ধরে ইস্কুলের দিকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার উদ্দেশ্যে রওয়া দেয়, সেটা ওই পাঁচবছর বয়সে। পাঁচ বছরের শুরুতেই দুষ্ট বুদ্ধি, চঞ্চলমতি, একটি শিশুর চোখে থাকে পৃথিবী জোড়া বিস্ময়, অবিরল বোলে মুখরিত প্রশ্নেরা একে অপরের গায়ে মাথা কুটে মরে। ঘরের চার দেওয়ালের বাইরে, সম্পূর্ণ অচেনা পরিবেশে, তারই মত কিছু সমবয়সীদের ভিড়ে নিজেকে আবিষ্কার করে। খেলতে খেলতে পড়ার ছলে জীবনের শৃঙ্খলা শিখতে শিখতে আসন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার সামনে নিজেকে সঁপে দেয় অজান্তেই। বড় হওয়ার প্রথম সিঁড়িতে সে চড়ে গেছে এটা বাকিরা বুঝতে পারে।

হ্যাঁ , এটাই পাঁচ বছর বয়সের কর্মকান্ড।

ভাবছেন কার আবার পাঁচ বছর হল? আজ্ঞে আমাদের সকলের প্রিয় অকপট আগামী ২৪শে আগস্ট ২০১৯ তার পঞ্চম জন্মদিনের শুভক্ষণে উপস্থিত হয়েছে। জন্মানোর পর থেকে শুয়ে, বুকে টেনে, হামাগুড়ি দিয়ে, ল্যাগব্যাগিয়ে একপা একপা করে হেঁটে, দৌড়ে, এখন নিজেই সে আপন ছন্দে খেলতে শিখে গেছে। অকপটকে যারা হাতে, পিঠে, কোলে করে গড়ে তুলেছেন সেই সকল সদস্যই যে আমাদের সাথে আছেন তা নয়, কারনে অকারণে অনেকেই অকপট ছেড়েছেন, আজ সেই সকল সদস্যদের ‘অকপট’ কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করছে। তাদের জন্য আপনিও গর্ব অনুবভ করলে কমেন্টে ওনাদের প্রতি একটা ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন। 

ফেসবুক মঞ্চটা তৈরি হওয়ার সাথে সাথেই ‘গ্রুপ কনসেপ্টোটা’ ছিলনা। এর পরে যখন এই ধারনাটা এলো, তখনও সকলের কাছে পরিষ্কার ছিলনা এখানে ঠিক কী করা যেতে পারে। পরবর্তীতে গুডমর্নিং, গুড ইভিনিং এর সাথে কালজয়ী সাহিত্য উপন্যাসের খণ্ডগুলো কেউ কেউ গ্রুপে পোষ্ট করতে থাকে। তখনও শিক্ষক গ্রুপ, সাহিত্য গ্রুপ ইত্যাদি আসেনি। এমনই পর্যায়ের শেষর দিকটাতে অকপটের জন্ম, ট্যাগ হীন ভাবে। এর পরে আজকাল প্রতিক্ষণে যেখানে নতুন নতুন গ্রুপ জন্মাছে “বাহুমূলের কেশরাজিকে রাঙা করার ৩১টি উপায়”, “হাত থাকতে মুখে কেন”, “বৌদির দেওর”, “সৌরমণ্ডল সাহিত্য গ্রুপ”, “ম্যাপ পয়েন্টিং কাব্য”, ‘আমরা খিস্তিপ্রেমী”  “সেলফিতে ঢাকা কবিতা” ইত্যাদি নামে সেখানে অকপটের স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখাটা ঝকমারির বৈকি, যেখানে বাতাসে অবিশ্বাস আর সাম্প্রদায়ি মেরুকরণের বিষবাষ্পে ভরপুর সেখানে অকপট কোনো রকমে পা ডুবিয়ে দলে আছি দেখিয়ে, বাকি শরীরটা পবিত্র রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বিশেষ কিছু উচ্চডিগ্রি থাকলে আপনি সেই একটা পেশাতেই আটকা পরে যান, কিন্তু ডিগ্রির বাঁধা না থাকলে আপনি যা খুশি করতে পারেন, অকপট তেমনই একটা ধারনাকে কেন্দ্রকরে গড়া হয়েছিল, যদিও মলাটের মাঝে ছাপা পত্রিকা প্রকাশনার সুবাদে অনেকেই শুধুই সাহিত্যধর্মী গ্রুপ বলে দাগিয়ে দেবার প্রচেষ্টা করলেও অকপট তার নিজের ছন্দেই থেকেছে এ যাবৎ। অনেকটা চড়াই উৎরায় পথ অতিক্রম করে আজ অনেকটা শক্ত জমি তথা নিজস্ব পরিচিতির মাঝে অকপট দাঁড়িয়ে রয়েছে। এ ঘাটে বহু নৌকা নোঙর হয়েছে, তাদের জ্ঞানগম্যিতে অকপট সমৃদ্ধ হয়েছে, অনেক লুটেরা এসেছে, এখান থেকে বৌদ্ধিক সম্পত্তি তস্করবৃত্তি করে নতুনকরে সমান্তরাল অকপটের প্রতিদ্বন্দী তৈরি করতে গিয়ে সময়ের কুম্ভীপাকে হারিয়ে গিয়েছে। সময়ের স্রোতে অনেক গাছের গুঁড়ি এসেছে, তারাও ভেসে গেছে কুলের ঠিকানা না পেয়ে, আর কচুরিপানার দলেদের হামেশাই আনাগোনা লেগে রয়েছে সকাল বিকাল। তার পরেও কিছু মহীরুহ রয়ে গিয়ে শাখাপ্রশাখা বিস্তার করে অনেকের প্রাণে শীতল ছায়া প্রদান করেছেন। সময়ের নিয়ম ও দাবী মেনে সবটাই ভীষণ প্রাসঙ্গিক।

অকপট শহুরে আঁতেলদের গন্ধবিচার ধরনের ঠেক নয়, সমমনস্ক হলে বয়সের বিভেদ ভুলে আপন করে নিতে জানে অকপটুরা কুচবিহার থেকে কাকদ্বীপে অনায়াস বাংলা, বাংলাদেশ থেকে গ্রীনল্যান্ড সকলকে এক সুত্রে বাঁধতে পারার ক্ষমতা রয়েছে অকপটের পরিবেশের। অকপটের নিজস্ব কোনো লক্ষ্য নেই, সদস্যদের সমসাময়িক চাহিদাই অকপটের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে, সদস্যদের মধ্যে থেকেই অকপটের প্রতি ভালোবাসা আর দায়বদ্ধতা দর্শন মোতাবেক পরিচালকেরাও উঠে আসে।

অকপট আগামীতে আরো ভাল কিছু করুক, কৃষ্টি সংস্কৃতিতে সরিষা পরিমাণ অবদান রেখে যাক এটাই কাম্য, সদস্যদের ইচ্ছানুসারে এই শুভকামনা রইল গ্রুপের একনিষ্ঠ ভৃত্য হিসাবে। যেদিন ফেসবুক বলে কিছু থাকবেনা, কালের গর্ভে তলিয়ে যাবে রেডিফবোল, ম্যেসেঞ্জার, অর্কুটের মত সেদিন স্মৃতিচারণাতে যেন ফেসবুকের সাথেই অকপটের নামটা রয়ে যায় উজ্জ্বলভাবে অনেক হৃদয়ে।

আগামী কাল থেকে আমাদের জন্মদিন উদযাপন সপ্তাহ শুরু হয়ে যাচ্ছে। সেই মোতাবেক প্রতিদিন কিছুনা কিছু বিশেষ ধরনের পোষ্ট হবে। অকপট গুরু, অকপট ভূষণ, অকপট সপ্তক, অকপট নব্যপটু, অকপট রত্ন, অকপট তুর্কি, অকপট শ্রী, অকপট চন্দ্র ও অকপট মহাগুরু সম্মানে ভূষিত করা হবে আমাদের বিশিষ্ট সব অকপটুদের, সারা বছর জুড়ে অকপটে তাদের অবদান মোতাবেক।


কিছু ইভেন্ট যেটা হবেঃ

অকপট বলতে আপনার হিসাবে কি ও কেন, এই বিষয়ে নতিদীর্ঘ প্রবন্ধ বা রচনা দিতে পারেন।

সদস্যেরা অকপটকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে পারেন, অকপটকে নিয়ে ছড়া বেঁধে, অকপটকে নিয়ে গল্প লিখে অকপটের দেওয়ালে পোষ্ট করতেই পারেন। #অকপটস্মৃতিচারণ, #অকপটছড়া, #অকপটেরগল্প ইত্যাদি হ্যাসট্যাগ সহ।

বিগত চার বছরের অকপটের পরিবেশের পর্যালোচনা করতে পারেন, কি হতে পারত এবং কি হতে পারে আগামীতে সেই সম্ভাবনা নিয়ে। #অকপটপর্যালোচনা।

আপনার প্রিয় অকপটু কোন বিশেষ জন বা একাধিক থাকলে তাঁরা কারা কারা? তাকে তথা তেনাদের নিয়ে একটা সম্মানসূচক পোষ্ট লিখতে পারেন অকপটকে জন্মদিনের ট্রিবিউট দিয়ে। অবশ্যই #আমারপ্রিয়অকপটু হ্যাসত্যাগ দিতে ভুলবেননা।

#আমি_ও_অকপট এই শীর্ষক কিছু লেখার ইচ্ছা হলে আপনি লিখতেই পারেন অকপটের সম্মানে।

অকপটে লাইভে এসে বা, খালি গলায় গান, কবিতা, গল্প পাঠের ভিডিও পোষ্ট করতে পারেন। যারা লিখতে তেমন অভ্যস্ত নন, আপনার বক্তব্য ভিডিও করে অকপটের দেওয়ালে পোষ্ট করে আপনার মনের ভাব অকপটুদের সাথে ভাগ করে নিতে পারেন।

অকপটকে কীভাবে আরো উন্নত করা যায় সেই সম্বন্ধেও আমাদের পরামর্শ দিতে পারেন অকপটে, #উন্নতঅকপট হ্যাসট্যাগ দিয়ে।

২৪শে আগস্ট ২০১৯ থেকে ফি সন্ধ্যা ৫টার সময় অকপটের দেওয়ালে আড্ডার আসর বসবে, ৩ দিন পরিচালক বা এডমিনেরা এটা পরিচালনা করবেন, বাকি ৪ দিন মেম্বারদের থেকে এ কেউ। আগে থেকেই মিউচিয়াল সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে আড্ডার বিষয় ও কে আড্ডা বসাবে সেটা নির্ধারিত হবে, #অকপটআড্ডা হ্যাসট্যাগ দিয়ে।

১০ জন পরিচালক, ১০ টি গল্পের সূচনা করে দেবেন, সেই পরিচালকের পছন্দমত কোনো সদস্য বাকি গল্পটাকে তার মত করে শেষ করে ২৪, ২৫, ২৬, ও ২৭শে আগস্ট গ্রুপে পোষ্ট করবেন ক্রমান্বয়ে। #জুটিতেলুটিঅকপটে হ্যাসট্যাগ সহ।

২৫ তারিখ সকালে আবারও একটু বারোয়ারী গল্পের সূচনা করা হবে, যেটা প্রতি ৩-৪ ঘন্টা অন্তর একজন নতুন লেখক গল্পটাকে টেনে নিয়ে যাবেন, ও ২৭ তারিখ রাত্রি ৮ টার সময় অন্তিম পর্ব পোষ্ট হবে।

প্রথম কোনো অকপটুর সাথে ইনবক্সে বা সামনাসামনি দেখা হওয়ার প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে স্মৃতিচারণা করতেই পারেন।

এছাড়া জয়ন্ত, জয়, শেহনাজ, সুব্রত, দেবেশ, শ্যাম, নয়ন, এম,  সহ অন্যান্য পরিচালকেরা নানা ধরনের মজাদার সব সাময়িক ইভেন্টে নিয়ে হাজির হবেন আপনাদের দরবারে। কটা দিন দেদার হুল্লোড় হবে অকপট ঘিরে।

চরৈবেতি।

তাহলে আর কি, লিখতে বা ভিডিও, অডিও বানাতে শুরু করে দিন।

     

      অকপটে থাকুন, অকপটে বাঁচুন,

আমরা ধর্মে নয়, জিরাফে বাঁচি 

বুধবার, ৮ আগস্ট, ২০১৮

অলবিদা মুঘলসরাই



১৯৬৮ সাল, রাত্রি প্রায় ৩:৩০ মিনিট, মুগলসরাই স্টেশনের ইয়ার্ডে লাইনের প্রায় ১৫০ গজ দূরে, ১২৬৭ নং বিদ্যুত স্তম্ভের প্রায় ৩ (তিন) ফুট দূরে লিভার ম্যান 'ঈশ্বর দয়াল' পড়ে থাকা একটি লাশ দেখতে পেলেন। তিনি সহায়ক স্টেশন মাস্টারকে এই সংবাদ পাঠালেন।
প্রায় পাঁচ (৫) মিনিট পরে সহায়ক স্টেশন মাস্টার ঘটনাস্থলে পৌঁছালেন। তিনি তার রেজিস্টারে রেল লাইনের ধারে পড়ে থাকা এই ব্যক্তির বিষয়ে লিখলেন- 'অল মোস্ট ডেড'।
এই লাশ ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রথম অধ্যক্ষ 'পন্ডিত দীন দয়াল উপাধ্যায়ের' ছিলো।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৮ সালে সংসদের বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা চিন্তা করে ভারতীয় জনসঙ্ঘ তাদের ৩৫ জন সংসদীয় দলের সদস্যদের একটি বৈঠক দিল্লীতে ডেকেছিল।
একদিন পূর্বে ভারতীয় জনসঙ্ঘের অধ্যক্ষ পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় লখনৌতে ছিলেন। কিন্তু উনি দিল্লী যাওয়ার পরিবর্তে কোন অজ্ঞাত কারণে দিল্লী-হাওড়া এক্সপ্রেসে উঠে পড়েন এবং হাওড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আর মুগলসরাই স্টেশনের কাছে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
CBI দুইজন আরোপীকে শনাক্ত করে এবং তাদের জবানবন্দী আদালতে পেশ করে। এই বয়ানে অপরাধীরা স্বীকার করেন যে, পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় চুরির বিরোধিতা করছিলেন, তাই তাকে ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু 'পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের' সামনের আসনে বসে থাকা সহযাত্রী 'এম. পি. সিং' -এর বয়ানে এমন কোনোও ঘটনার কথা উল্লেখ নেই।
আদালত তার রায়ে শোনালেন যে, দুইপক্ষ কেউ এমন সাক্ষী বা প্রমাণ হাজির করতে, আদালতে পেশ করতে পারেননি যে যাতে এই মামলার সঠিক বিচার করা যায়। সাক্ষীর অভাবে দুইজন হত্যার অপরাধীকে আদালত মুক্ত করে দেন।
পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের পরে অটল বিহারী বাজপেয়ী ভারতীয় জনসঙ্ঘের অধ্যক্ষ পদে আসীন হোন, তারপরে লালকৃষ্ণ আডবাণী।
'বলরাজ মোধক' তখন এই দুইজনের প্রতিদ্বনদ্বী ছিলেন। তিনি এই দুইজন নেতার নিকটে ভারতীয় জনসঙ্ঘের উপরে RSS -এর প্রভাব ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন। তৎকালীন অধ্যক্ষ 'লালকৃষ্ণ আডবাণী' পার্টি বর্হিভূত কাজ করার অপরাধে 'বলরাজ মোধক'কে ভারতীয় জনসঙ্ঘ থেকে বহিষ্কার করে দিলেন।
যে পার্টি 'ভারতীয় জনসঙ্ঘের' সংবিধান 'বলরাজ মোধক' লিখেছিলেন তাকে সেই পার্টি থেকে বহিষ্কার করে দেওয়ার পরে তিনি বাগযুদ্ধে নেমে এলেন। তিনি দীন দয়াল উপাধ্যায়ের মৃত্যুকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যা বললেন। আর এই হত্যার জন্য 'নানাজী দেশমুখ' এবং 'অটল বিহারী বাজপেয়ী' দায়ী বলে বললেন।
আজ সরকারি প্রচেষ্টায় মুগলসরাই স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে দীনদয়াল উপাধ্যায় নাম করে দেওয়ার পিছনে ব্যাস এটুকুই ইতিহাস। দীনদয়াল উপাধ্যায়ের সঙ্গে শুধুমাত্র এটুকুই সম্পর্ক রয়েছে মুগলসরাই স্টেশনের।
মুগলসরাই স্টেশনের নাম যদি মুঘলদের নামে না থাকতো তবে পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের নামের সঙ্গে 'মুগল' শব্দও জুড়তো না। এই মুগলসরাই স্টেশনের নাম পরিবর্তন করতে নাকি প্রায় ১০০ কোটি টাকা খরচ হবে বা হয়ে গেছে!
যাই হোক, মোদী জী আর যোগী জীর এই পদক্ষেপের ফলে ঐ স্টেশনে সকল ট্রেন এবার সঠিক নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলবে। পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের আত্মা এতোদিন এইসব করতে বাধা প্রদান করতো, সেটা আর হবে না। ট্রেন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে। আর যাত্রীরা যে স্টেশনে নামবেন সেই স্টেশন আসার এক মিনিট পূর্বে আসন পেয়ে যাবেন।
সবাই আনন্দ উৎযাপন করুন।
ভারতে মুসলিমদের রাজত্ব প্রায় ৬৫০ বছর ধরে চলেছিল। তাদের যদি কোনোও স্মৃতি মুছে ফেলার ইচ্ছা থাকতো তবে আজ না থাকতো অযোধ্যা, না থাকতো হাজার ঐতিহাসিক মন্দির, না থাকতো খাজুরাহো, না থাকতো অজন্তা-ইলোরা!

সোমবার, ৬ আগস্ট, ২০১৮

।। উন্মাদীয় বন্ধুত্বঃ সেকাল ও একাল ।।




যখন কোনো কারন ছাড়াই বন্ধুত্বটা এক লহমাতে হয়ে যেত, তখন বুঝতামনা বন্ধুদিবস কাকে বলে, বা কোনোদিন বোঝার দরকারও পরেনি। মনে আছে, নার্সারিতে দ্বিতীয় বেঞ্চের কর্ণারে বসে খুব কেঁদেছিলাম প্রথমদিন। একটা ছেলে আমার পাশেই বসা, সেও আমারই সাথে তারস্বরে কেঁদে চলছিল; কিন্তু এরই ফাঁকে আমাকে তার টিফিন থেকে একটা ক্রিম বিস্কুট এগিয়ে দিতেই আমরা বন্ধু হয়ে গেছিলাম অজান্তেই। তার নাম শুভেন্দু, পরবর্তীতে আজ ৩০ বছরেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়েছে, সময় আমাদের অদৃষ্টের লিখন অনুযায়ী ভিন্নমুখী গন্তব্যে নিয়ে চলেছে। নিয়মিত দেখাসাক্ষাৎ তো দূরস্থান, নিয়মিত ফোনটুকু পর্যন্ত হয়ে উঠেনা। কিন্তু দেখা মাত্রই- “বুকে আয় ভাই” বলে শুরু, তার পর নিজেদের কোড ল্যাঙ্গুয়েজ চালু হয়ে যায়। তাই বন্ধুর কথা মনে এলে সবার প্রথমেই যে নামটা মগজে ভেসে উঠে, সে নাম শুভেন্দু’ই।

তখন বন্ধুত্বটা একটা লজেন্স (চকোলেট নয়) দু’ভাগ করে খেতেখেতেই হয়ে যেত, বা স্যারের পানিশমেন্টে রোদে নিলডাউনের সাথী হয়ে। আর সেই চুক্তিপত্রটা থাকত ডানহাতের বুড়ো আঙুলের ছোঁয়াতে। কড়ে আঙুলের ডগে আড়িটা থাকলেও, সেটা ভুলে যাবার জন্য আলাদা কোনো কারন লাগতনা। শিশু বয়সে আমরা সর্বজ্ঞ থাকিনা, তাই অহং বোধটাও জন্মায়না, যেটা বন্ধুত্বের পথে সবচেয়ে বড় বাঁধা। সকাল থেকে সন্ধ্যা হয়ে রাত টুকুর বিরাম, পরদিন আবার সেই বন্ধুদের সাথে হৈহৈ চৈচৈ।

এর পর যখন স্ট্যান্ডার্ড ফোরে পড়ি, ততদিনে বিড়িখোর হিসাবে প্রাতিষ্ঠানিক স্বিকৃতি না পেলেও যেকোন প্রতিযোগিতাতে নাম দিলে নিশ্চিত পদক জিতব এমন ধারার নেশাড়ু হয়ে উঠেছি। এ সময় বন্ধু বলতে আমাদের ফার্টিলাইজার দোকানের অন্যতম কর্মচারী রসিদ। আমার থেকে বছর পাঁচেকের বড় ছিল, অভাবের সংসারে পেটের দায়ে দোকানে ফাইফরমাইস খাটত। এর ছিল তখন হিন্দি সিনেমার গল্পের প্রচুর স্টক, আর আমার বাড়িতে টিভি রান্নাঘরে পৌঁছেছে মায়ের কল্যাণে, রবিবার ছাড়া ছোঁয়া পাপ। সুতরাং বিড়ির আগুনের যোগান আর সিনেমার গল্পের সন্ধানে রসিদ ভাই ‘বন্ধু’ হয়ে উঠতে দেরি হয়নি।

ক্লাস ফাইভ; আমি তখন ভীষণ বেঁটে ও রোগা সাধারণ বাচ্চাদের তুলনাতে। বাবা নতুন কয়লার ব্যবসা শুরু করার দরুন সপ্তাহে ৩-৪ দিন পর পর বাড়ি ফিরতেন। অগত্যা স্কুলের পড়ার সময়টুকু বাদে, ঐ বয়সের খাজাঞ্চি/মুন্সি বিনয় দাদুর সাথে দোকানে টাটে বসতে শুরু করলাম। তখনই কোনো একসময় ভেবেছিলাম পড়াশোনা করে আসলে লাভটা কি হয়? মিছিমিছি খরচ বাড়ানো, সেই তো এই দোকানেই বসব, যেমন ভাবা তেমন কাজ। মনে মনে ‘আমিই মালিক’ ভাবটা জন্মানোর সাথে সাথেই বাহ্যিকভাবে তার প্রদর্শনও শুরু হল। বাড়িতে খবরটা পৌছাতে মায়ের মুষড়ে পরার পাশাপাশি দাদু তো আনন্দে আত্মহারা, বুঝেছিলাম নতুন একটা বন্ধু জন্মালো।

আমাদের দোকানের ঠিক গায়ে একটা চায়ের দোকান ছিল, মানে আজও আছে। প্রোডাকশন ব্যবসাতে চলে আসার দরুন আমাদের দোকান ব্যবসা কাকার হস্তগত হলেও, চায়ের দোকানটা আজও বিদ্যমান। তো ওই ক্লাস ফাইভের মাঝামাঝি কোনো এক শীতের দুপুরে দোকানের বারান্দাতে লাট্টূ ঘোরাচ্ছি, দেখি চায়ের দোকানেও আমারই বয়সি একটি ছেলে উনুন থেকে পোড়া কয়লার ছাই বেড় করছে। পরদিন আলাপ হল, জানলাম তার নাম পোসোন। ভালনাম প্রশেনজিৎ কর্মকার। এফ পি স্কুলের পাঠ সমাপ্ত, তার বাবা আর দাদার সাথে দোকানের চায়ের এঁটো কাঁচের গ্লাস ধোয়ার ডিউটিতে সদ্য বহাল হয়েছে। সে ও ছিল বিড়িখোর, সুতরাং বন্ধু হওয়াটা ছিল শুধু সময়ের প্রতীক্ষা। জীবনের অনেকটা সময় জুড়ে পোসোনের অবস্থান রয়েছে। বন্ধু পোসোন।

মাধ্যমিকের পর আমি সায়েন্সে যেতেই অধিকাংশ বন্ধু বিচ্ছেদ হয়ে গেল সময়ের অভাবে। তবে নতুন বন্ধুও এসেছিল, যদিও সেটা সংখ্যাতে খুবই কম। বরং তদ্দিনে বন্ধুর চেয়ে বান্ধবী পেতে বেশি মন হাঁকুপাঁকু করত। দু-ক্লাস উঁচু বুড়োদার সাথে বন্ধুত্বও করেছিলাম শুধু মাত্র এই কারনে যে, ও যাকে লাইন মারত সে আমার সাথেই পড়ত- নাম শ্রেয়সী। আমিও তাকে হেব্বি ইয়ে করতাম। বুড়োদাও ব্যাপারটা জানত, তারও পরে আমার থেকে এটা-সেটা খাওয়ার লোভে ওকে দেখার পার্মিশন দিত। তবে সেসব এক দিন ছিল। এর পরে অভিশ্রীর জন্য তো অনেক বন্ধু বিচ্ছেদও হয়েছিল, সে আলাদা কাহিনী। খেলার মাঠেও কি কম বন্ধু হয়েছিল! জয়দেব, গোপাল, ভোঁদা, পচা, তারক, যতীন, রফিক, সঞ্জয়, আসিফ, রিন্টু সহ কত নাম নেব! এক্ষেত্রে বয়সের কোনো বাঁধাধরা নিয়ম ছিলনা অন্য ক্ষেত্রগুলোর মত।

এভাবেই, প্রদীপ, সন্তু, ছট্টু, গৌরাঙ্গদের মোটাতাজা স্মৃতি নিয়ে বান্ধবীহীন হয়ে একদিন কোলকাতায় এসে পৌছালাম কলেজে ভর্তি হবার দরুন। যাদবপুরের মেসে যেতেই নিলুদা, সতীনাথদার সাথে পার্থ বারুই ও প্রদীপ নন্দী এমন ভাবে মিশে গেল, যেন আমার বন্ধু হবে বলেই অপেক্ষায় ছিল। সময় কিছুদিন যাবার সাথেই জীবনের একটা বড় ট্রাজিক অংশ ওই সময়ে আমার জীবনের সাথে জুড়ে গেল। একটি মেয়ে, ধরুন তার নাম ‘পাখি’। আমার জীবনের একমাত্র চরম বন্ধু বলে যদি কেউ থাকে তাহলে সেটি সে। আমার কাছে তার বন্ধুত্বের মূল্য এতটাই যে, তার নামটা পর্যন্ত আমি নিতে অপারগ। উল্টোদিকে বন্ধুত্বের খাতিরে আজ সেও সব ছেড়েছুঁড়ে নতুন একাকী জীবন বেছে নিয়েছে ভিনদেশে।

যাই হোক, কোলকাতার পাঠ শেষ করে ওই যে বেড় হলাম মুক্ত পৃথিবীতে, তার পর থেকে দীর্ঘদিন আর নতুন বন্ধু জোটেনি আমার। মাস্টার্স করতে হায়দ্রাবাদ গেলাম, চেনাজানা হল অনেকের সাথেই, কিন্তু বন্ধু? নাহ হলনা। এরপর পারিবারিক ব্যবসাতে ঢুকলাম, সেখানেও অনেক নতুন নতুন নামের সম্পর্ক তৈরি হল বা আজও হয় রোজই, কিন্তু বন্ধু! নৈব নৈব চ!

এরই মাঝে রেডিফ বোল, MSN মেসেঞ্জার, অর্কুট পর্ব পেরিয়ে এসেছি। ২০১১ থেকে ফেসবুক যুগের সুত্রপাত হল আমার জীবনে। অবশ্য সেই ২০০৮ এর শেষের সময়েই এই প্ল্যাটফর্মে এসে গেছিলাম। তখন কেউই ফেসবুককে সিরিয়াসলি নেয়নি আজকের দিনের অনেকের মত।

এখানে যেটা বুঝলাম, বস্তুজীবনে আগে চেনা হয় জানা হয়। মানুষটাকে খেয়াল করে তার সম্বন্ধে একটা স্পষ্ট ধারণা তৈরি হওয়ার মধ্যে দিয়ে বন্ধু নামের সম্পর্কটা অজান্তেই গড়ে উঠে। এই ভার্চুয়াল মাধ্যমে নিয়মটা অনেকটাই অন্যরকম। এখানে বন্ধুতালিকা নামে একটা খাঁচা করা রয়েছে। আগে সেই খাঁচাতে একে অন্যকে স্থান দিলে বা স্থান পেলে তবে সময়সারনী বেয়ে জানা ও চেনার সুযোগ ঘটে। তার পর অনেকটা দিন যাবার পর ঠিক হয় এরা বাস্তবের মাটিতে বন্ধু হবে কিনা। নতুবা ভার্চুয়াল স্তাবক বা চুলকানিবাজ বা কমল হাসানের পুষ্পক হয়ে রয়ে যায়।

বস্তুজীবনের শত্রুরাও ভীষণ চেনাজানা হয়। ভার্চুয়ালি অচেনা মানুষের সাথে অযথা তর্কাতর্কি হয়ে না থাকা সম্পর্কটি শত্রুতাতে পরিণত হয়। বস্তু জীবনে যাদের সাথে কখনই নুন্যতম আলাপ আলোচনা হতনা সামাজিক, অর্থনৈতিক, অবস্থানগত পার্থক্যের কারনে, ভার্চুয়ালি অবশ্য তা অহরহ হয়। আপনার বাড়ির ফাঁকিবাজ চৌকিদার ‘দামু’ আপনাকে আসাম NRC বিষয়ে অনেকটা জ্ঞান বিলিয়ে দেবেন অনুকুল চন্দ্র বিশ্বাস ID হয়ে। মুড়ি মিছড়ি অনেকটা এক দড় এই পাড়াতে। নিজেকে বিজ্ঞাপিত করার ব্যাস্ত সিডিউলে বন্ধু খোঁজার ফুরসৎ কই? স্তাবক চাই স্থাবক, পোষাকী নাম ফ্যান। যাদের বাণী হল- অপূর্ব, দারুণ, চমৎকার, দুর্দান্ত, শুভেচ্ছা রইল, অভিনন্দন, অনবদ্য ইত্যাদি।

এখানে দুপুর পাশ অটোরিক্সার খালাসিও কেমিস্ট্রির অধ্যাপকের ক্লাসনোটসের ভুল ধরে। বাংলাতে ফেল করে মুদি দোকানের কর্মচারীটিও বাংলাদেশী পেজ থেকে কবিতা ঝেঁপে কোনো নতুন পত্রিকাতে নিজের নাম তোলে। B-16 ক্যামেরার কল্যাণে মালু বৌদি কচি প্রেমিকা ধরছে, শরীর বাঁচিয়ে। একটু সুশ্রী মেয়ের ছবি DP তে দেখলেই তার সাথে বন্ধুত্ব করতে ৮ থেকে ৮০ এর পুরুষেরা হামলে পড়ে। কেন পরছে, ধরছে ও করছে? কারন এই মাধ্যম তাকে এসব করতে সুযোগ দিয়েছে তাই ধরছে। জ্ঞান আছে না নেই এ প্রশ্ন এখানে অবান্তর। এর মাঝে কেউ কেউ অবশ্য গুগুল করেও নেয়, বাকিরা নিজ বিষয়ে সর্বসময় ভীষণ কঠোর, আপন বাপন চৌকি চাপন। পান থেকে চুন খসলেই আপনাকে দলবেঁধে একঘরে করে ২ মাসের ফাসিতে লটকে দিয়ে যাবে, সে আপনি রাজা উজির যে ই হননা কেন। তাই এখানে বন্ধু হওয়াটা প্রতিপদে পরীক্ষা দিয়ে রীতিমত যোগ্যতমের উদবর্তন সুত্রের নিত্যতার ফলিতায়নের মধ্যদিয়ে অতিক্রম করতে হয়।

বস্তু জীবনে আপনি ১৭ বার মেট্রিকে ঘায়েল হলে পাড়ায় আর মুখ দেখাতে পারবেননা। ভার্চুয়ালি তাতে আপনার বিন্দুমাত্র অসুবিধা নেই, বরং আমি চূড়ান্ত অভিজ্ঞ ওই বিষয় অবধি। আপনি ট্রাম্পের বিদেশনীতি থেকে কাশ্মীরের পণ্ডিত সমস্যা হয়ে ব্রিটেনের ব্রেক্সিট, সর্বত্র সমানতালে মন্তব্য করে যেতে পারেন। কেউ কিচ্ছুটি বলবেনা। আগেকার সময়ে উমেদার তোষামোদকারীরা বেতনের বিনিময়ে রাজসভাতে বিরাজ করত আর সর্বজ্ঞেরা চায়ের দোকান বা বটতলা চণ্ডীমণ্ডপে। আজকাল এনারাই সকলে ফেসবুকে থাকেন, কবি লেখকদের সাথে সহাবস্থান করেন, খিল্লি করেন। চুম্বকে এই হল ফেবু বন্ধুত্ব, আজ আছে তাই আছে, কাল একটা ব্লক বা আনফ্রেন্ডের খোঁচাতে ভ্যানিস।

বন্ধুত্বটা অনেক ভারি শব্দ। দুম করে যাবার নয়। আর যেটা চলে যায়, সেখানে বন্ধুত্বটা বোধহয় থাকেনা। আজকাল অনেকেই বাবা, মা, বোন, স্ত্রী, সন্তানদেরও বন্ধু হিসাবে গন্য করে। আমার কাছে বন্ধু হল সে, যার কাছে প্রত্যেকের কথা নির্দ্বধায় শেয়ার করে নিতে পারি। বাবা, মা, বোন, স্ত্রী, সন্তানদের কাছে ‘সব’ কথা শেয়ার করা যায়না, কারন অধিকারবোধ আর ভালো থাকা ও রাখার দায়ে অনেক কিছু চেপে যেতে হয় তথা মানিয়ে নিতে হয়।

ভার্চুয়াল বন্ধুত্ব বলে আসলে কিছু হয়না, চেনাজানার মাধ্যম হিসাবে এটা সুত্রধরের কাজ করে মাত্র, মঞ্চ; এর বেশি কিছুনা। বাকি যাবতীয় বন্ধুত্বের শর্ত গুলো, মানে যদি কোনো শর্ত থাকে আর কি, সেগুলোকে বাস্তবের মাটিতে রূপ দিয়ে লালন করতে হয়। তাই ফেসবুকের ফ্রেন্ড লিষ্টে আছে মানেই সে বন্ধু নয়।

২০১৪ পরবর্তী জীবনে এই ফেসবুকই সুধা’র সাথে আমার পরিচয় ঘটিয়েছিল। পরে পরে আরো অনেকেই বন্ধু বৃত্তে মনের কাছাকাছি অবস্থান করে রয়েছেন ফেসবুক সুত্রে। এই পথ ধরেই শেহনাজেরও আগমন, অবশ্য সে পথ বেঁকে অন্যত্র মোড় নিয়েছে, বিষয়টা পারিবারিক সম্পর্কে পরিণত হয়েছে। যেমন শ্রীকুমারদা, কিংশুকদারা বন্ধুত্বের মোড়কে দৈনন্দিন পারিবারিক সুখদুঃখের সাথী হয়ে গেছেন। জগদীশদা, জয়ন্ত, সুপর্ণা, গোপালদা, সুব্রত, দেবু, শবনমদি, মতিদা, প্রশান্ত, সৌরভ, তাপসদা, আসাদ ভাই, পারমিতাদি সহ অনেক অনেক মানুষগুলো নিশ্চিতভাবে রোজ জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। কে, কি, কেন ইত্যাদির উর্ধ্বের আমাদের রোজকার ভাললাগা মন্দলাগা গুলোকে নিজেদের মধ্যে বিলিবন্টন করে, সুখ কুড়িয়ে বাঁচি।

তবে বন্ধু আর অবিভাবক এক হয়না। যার হয় সে অতিরিক্ত ভাগ্যবান। আমার সৌভাগ্য দু-দু’জন এমন মানুষ রয়েছেন। যারা না থাকলে আমার জীবনটা অন্য খাতে বইতেই পারত। একজন অবশ্যই ওই মোটাসোটা গুঁফো মোড়ল মশাইটা, সুব্রত মণ্ডল। অন্যজন- প্রসেনজিৎ গুহ, আমাদের জয়দা। আমার স্বঘোষিত গুরুদেব। প্রথমজনের জ্ঞান আর দ্বিতীয়জনের খিস্তি জীবনে না থাকলে জীবনটা অসম্পূর্ণ থাকত, বন্ধুত্বের সংজ্ঞাটাও।

এনাদের জন্যই সারাবছরই আমার কাছে বন্ধুদিবস। কারন বন্ধুরা ছাড়া জীবনের মূল্যমান শূন্য।

ভাল থেকো সবাই।   

শনিবার, ৪ আগস্ট, ২০১৮

।। রাশিভ্রম ।।



“এই যে আপনি, শুনিতেছেন; আপনার সহিত আমার যাবতীয় সম্পর্ক এই অবধিই সমাপ্ত হইল। আজি হইতে আমা সহিত কোনো প্রকারের যোগাযোগ করিবার প্রচেষ্টা করিবেননা, আশা রাখি। দুরাভাষ যন্ত্র যোগে ক্রমপীড়ন সহ সর্বপ্রকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আমাকে নিষ্কৃতি প্রদান করিবেন কামনা করি। প্রসঙ্গত, সমুদায় এ সকল আখ্যায়িকার অবতারনের হেতু হইল, আমার অভিভাবকেরা পাণিগ্রহণ নির্ঘন্ট চূড়ান্ত করিয়াছেন পাত্র উচ্চপদস্থ সরকারী আমলা। উক্তদিবসের প্রীতিভোজে আপনার সপরিবারে নিমন্ত্রণ রইল, অন্তিমবারের মত শ্রীমন্তের পাদস্পর্শে আমাদিগকে ধন্য করিলে বাধিত হই। অবশ্য ইহাতে অস্মদীয় ‘প্রথম ও অন্তিম’ অবেক্ষণ পর্বটিও বরদাস্ত করিয়া লইব।
শুভায়ু ভবত”

চলমান দূরাভাষযন্ত্রের প্রদর্শন যবনিকার উপরিতলে দৃষ্টিপাত করিয়া- দেবাহুতির অন্তিম বৈদ্যুতিন-বার্তাটি বারংবার পড়িতেছিল বভ্রুবাহন দেবাহুতি তো তাহার প্রণয়াসঙ্গী ছিল না! তথাপি তাহার এই মনবেদনার হেতু কি? বক্ষদেশের বামপার্শ্বেও মৃদু শূলনাভুত হইতেছে। মনে হইতেছে যেন, অতি মূল্যবান কোনো বস্তু হারাইয়া যাইবার উপক্রমক্ষণ উপস্থিত হইয়াছে!

সংযোগ রাশির ভ্রমবসত, চলমান বার্তাযন্ত্রের মাধ্যমে কিয়ৎ পরিমাণ অদ্ভুত ভাবে পরিচয় ঘটিয়াছিল বভ্রুবাহনের সহিত দেবাহুতির। বভ্রুবাহন স্মৃতিপথ বাহিয়া ঠিক এক বৎসর পূর্বে পশ্চাতধাবন করিল।
-       অপরপ্রান্তে কে রহিয়াছো সুহৃৎ?
-       আজ্ঞে আমার নাম বভ্রু, বভ্রুবাহন শুভার্থী। আপনি কে প্রিয়ংবদা?
-       আমি! আমি আপনার সখী...
-       সখী? কোন সখী?  কি বলিয়া সম্বোধিত করিব আপনারে?
-       দেবাহুতি, আমার নাম দেবাহুতি
-       দুঃখিত, এ নামধারী কেহ আমার পরিজনবৃত্তে ঠাহর হয়না।
-       তাহাতে দোষের কি হইল, ভাবিয়া নিন আজি হইতেই পরিচয় হইলআমি আপনার নতুন সখী! হিহিহি...
 
গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা মতে উহা ছিল বিশ্বমৈত্রী দিবস। অনর্থক তামাসাজনিত কারনেই, আপন দূরাভাষ সংযোগ-রাশি-ক্রমঙ্কন সমন্বয়ের বিন্যাস বিচ্যুতি ঘটাইয়া, উদ্ভুত রাশিতে দূরাভাষ সংযোগ করিল দেবাহুতি অতঃপর সেই যন্ত্রচালিত আহ্বানটি বভ্রুবাহনের মুষ্ঠিযন্ত্রে অবলোকিত হইয়াছিল, বাকিটা ইতিহাস

প্রারম্ভকালীন সময়ে বভ্রুবাহন কন্যাটিকে উপেক্ষা করিলেও, অনতিবিলম্বেই দুইজনের মধ্যে অন্তরাল মিত্রতার সম্পর্ক স্থাপিত হইয়া গেলললনাটি কিঞ্চিৎ প্রগলভ স্বভাবজাত ও বাচাল, তথাপি এই চারিত্রিক বৈশিষ্টটিই বিশেষভাবে মনে ধরিল বভ্রুবাহনেরবভ্রুবাহনের সরলতায় সম্পৃক্ত গম্ভীরভাবে বলা কথাগুলিও হৃদয়াবৃত্তিতে নাড়া দিতে লাগিল দেবাহুতির
ইতিপূর্বে এইরূপে কোনো রমণীর সংস্পর্শে আসিবার সুযোগ ঘটেনি বভ্রুবাহনেরবাল্যকাল হইতে মা ব্যাতিত অন্য স্ত্রীজাতি হইতে নিজেকে গুটাইয়া রাখিয়াছিল কোনো নির্দিষ্ট কারন ব্যাতিরেকেই। সহসা অনাহূত আগুন্তকের ন্যায় তাহার জীবনে আসিয়া পরা দেবাহুতি নাম্নী কন্যাটি তাহাকে পরিপূর্ণ রূপে বদলাইয়া দিল। হৃদয়ের অন্তঃপুরে এই কন্যার নিমিত্ত প্রাসাদও নির্মিত হইল যতনেবভ্রুবাহনের উপলব্ধি করিল, এই কন্যাটি তাহার আগত ভবিষ্যতের জন্য একমাত্র ভরসা যোগ্য

সত্য সত্যই এই কন্যাটির মধুর কথাবার্তাতে একটা নিঃসংশয় আস্থাভাব ফুটিয়া উঠিয়াছিল। মায়াবতীর ন্যায় প্রতিটি বাক্যে একটু একটু করিয়া বভ্রুবাহনকে আচ্ছন্ন করিয়া ফেলিয়াছিল। বভ্রুবাহনেরও মানসপটে কন্যাটির পরিপূর্ণ একটি চিত্র অঙ্কায়িত হইয়াছিল, উহা যতটা না বাহ্যিক তাহা হইতেও চিত্তগত অধিক ছিল। অতএব আগামী জীবনটুকু অতিবাহনের জন্য জীবনসঙ্গী হিসাবে ইহার থেকে উত্তম আর কাহাকে ভাবিতে পারিলনা উভয়েই, তাহাদের প্রত্যেকর ভাবনা জুড়িয়া অপরজন বিরাজ করিতে লাগিল এমনভাবে যে, অন্য কাহারো প্রতি ভাবনা ও দৃষ্টিই যাইতনা।

বভ্রুবাহন দেবাহুতির অন্তিম বার্তাটির প্রতি নিষ্পলক দৃষ্টিপাত করিয়াই রহিয়াছে। চক্ষু দুইটি ক্রমশ ঝাপসা হইয়া আসিতেছিল রোদনবাষ্পের প্রভাবে, ভাবিতেছিল মনুষ্যের প্রনয় জীবন কেনইবা এমন নিষ্ঠুর হইয়া থাকে! যেন ভয়াবহ কোনো গোলকধাঁধাঁর পরিলেখতে জীবনটি চিরতরে আঁটকা পড়িয়া রহিয়াছে, যাহা হইতে মুক্তি নাই।

আজ দেবাহুতির গৃহে বিবাহঅনুষ্ঠানের আসরসমস্ত গৃহখানি রঙ্গিন সুদৃশ্য বাহারি আলোক সজ্জায় ঝিকমিক করিতেছে। বভ্রুবাহন ভাবিতেছে, হয়ত অনতিবলম্বেই অশ্বপাল তাহার বিত্তের প্রদর্শন স্বরূপ দামি বাহনে চড়াইয়া দেবাহুতিকে তুলিয়া লইয়া যাইবে। সমগ্র অনুষ্ঠানবাটিকা শশব্যস্ত নানাবিধ অনুষ্ঠানাচারেবভ্রুবাহন একটি অট্টালিকা স্তম্ভের কোণায় দাঁড়াইয়া নিবাসটির অঙ্গসজ্জার প্রতি স্থাণু দৃষ্টিতে চাহিয়া রহিয়াছেআঁখিপল্লব দুইটি আজ যারপরনাই পরিমাণে দুর্বহ অনুভূত হইতেছে অচম্বিতে বভ্রুবাহনের চলমান দূরভাষ যন্ত্রে, বার্তা আগমনী সুরটি বাজিয়া উঠিল;  দেবাহুতি কিছু সন্দেশ পাঠাইয়াছে-

-
আপনি কি আসিয়াছে?

বভ্রুবাহন ঈষৎ বিবেচনা করিয়া দেখিল, শিষ্টাচার বসত যেহেতু আচারঅনুষ্ঠানে উপগত হইয়াছেই সুতরাং অন্তিমলগ্নে প্রতুত্তর না দেওয়ার মত দুর্বিনীত হইতে অন্তর সায় দিলনা। অতঃপর জবাব দিল-

-
হুম, আসিয়াছি।
- আমি আপনাকে দেখিতে পাইতেছিকষ্ট করিয়া ক্ষণকাল অপেক্ষার আর্জি রাখিলাম, আমি স্বয়ং আসিতেছি সাক্ষাৎ অভিপ্রায়ে
পাদঘন্টা মুহুর্তের মধ্যেই অতিক্রান্ত করিল বভ্রুবাহন, অতঃপর মনোহরা গোলাপশোভিত এক অপরূপা উর্বশীসম কন্যা বভ্রুবাহনের সম্মুখে আসিয়া মৃদুভাবে বভ্রুবাহনের নাম উচ্চারণ করিতে তার চকিতভাব কাটিল। আজিই প্রথববারের জন্য চাক্ষুষ করিল দেবাহুতিকে, তাহা আবার রক্তিম সাজে। কি অপূর্বই না লাগিতেছে, যেন স্বর্গ হইতে কোনো দেবী মর্তধামে আসিয়াছে, নতুবা বভ্রুবাহন কল্পলোকে বিরাজিছে। পুনঃর্বার চকিতভাব কাটিল আলাপনের প্রশ্নে-
-
আপনিই বভ্রুবাহন?
- আজ্ঞে আমিই
- আপনি তো দেখছি ভক্ষ্যাদি বিষয়ে অত্যন্ত লালস প্রজাতির ব্যাক্তি? আপন গৃহে কি যথেষ্ট পরিমাণে ভোজন সামগ্রী বাড়ন্ত? আসুন মণ্ডপের অভ্যন্তরে প্রবেশ করুন। আমিষদ্রব্য, মণ্ডামিঠাই সহ ষোড়শোপাচারে আপ্যায়নের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা রহিয়াছে, প্রাণভরিয়া উদরপূর্তি করিতে দ্বিধা করিবেননা।
- তাহার আর প্রয়োজন নাই, ধন্যবাদ সাক্ষাতের জন্য। এ অভিপ্রায়েই আসিয়াছিলাম, অতএব এবারে আমি চলিলাম, বিদায়।
- ঠিক আছে, আপনার মনোকামনাই পূর্ণ হউক। তবে একটি প্রশ্ন ছিল, আপনার অক্ষিগোলক কি এমনই স্বাভাবিক রঞ্জিত রক্তাভ বর্ণের!

বভ্রুবাহন বাকশক্তি হারাইয়াছে, যেন কোনো অপ্রার্থিব শক্তি তাহার গ্রীবাদেশে সর্বশক্তি প্রদান করিয়া পেষন করিতেছে। 
-
আমাপ্রতি আপনার অনুষঙ্গ ঠিক কোন পর্যায়ের? উহাকে কি প্রণয়প্রীতি হিসাবে গ্রহন করিতে পারি?
দেবাহুতির এই বাক্যাটি শ্রবণমাত্র ভীষণ বিষম খাইল বভ্রুবাহনমেকি হাসি হাসিয়া বভ্রুবাহন কহিল-“ নাহ, মোটেই নয়। কেন তাহা হইবে। আপনার সহিত...! সামান্যটুকুও না”।

অন্তিম শব্দটিকে, বক্ষদেশের অভ্যন্তরের দলাপাকানো একরাশ বেদনা ও ক্ষোভ- ঈষৎ কম্পিত করিয়া দিল। সাথে সাথে দুই ফোঁটা অশ্রুও চিবুক পর্যন্ত শিক্ত করিয়া তুলিল, যাহা দেবাহুতির অগোচরে রহিলনা

দেবাহুতি কহিল, “আচ্ছা, প্রণয় বা ভালো না হয় না ই বাসিলেন,  এক্ষণে অন্দরমহলে তো চলুন। ভোজনাদিও নাহয় একসাথে মিলিয়াই করিব, সত্বর চলুন, অবকাশ অত্যন্ত কম। বরযাত্রী আসিল বলিয়া, দিদিকে তাহারা অচিরেই লইয়া যাইবে”

বভ্রুবাহন পেল্লাই আকারের বিষম খাইয়া ও বিহ্বল হইয়া বিস্ফোরিত চক্ষু করিয়া দেবাহুতির পানে চাহিয়া রহিল। দেবাহুতি কপট ক্রোধ প্রদর্শিত করিয়া কহিল, “ভারি অসভ্য মানুষ বটে আপনি, কি ভাবিয়াছেন, সখ্যতাও আমি যাচিয়া করিয়াছিলাম, তথাপি ভালোবাসার প্রস্তাবনাও আমাকেই করিতে হইবে? মহা বেহায়া ধরনের ধৃষ্ট পুরুষ আপনি। যে কাজ পুরুষের তাহা আমি কোনো অবস্থাতেই করিবনা, আই বলিয়া দিলাম, হ্যাঁ।  

এতক্ষণে অন্তঃপুরে কনে’র ঘরে পৌঁছাইয়া গিয়াছে উভয়ে, উপস্থিত সকলের সহিত বভ্রুবাহনকে আপন বিশিষ্ট বন্ধু হিসাবে পরিচয়ের সাথে সাথে বধুবেশী কন্যাটিকে আপন জ্যাষ্ঠো ভগিনী হিসাবে উল্লেখ করিয়া উপর্যুপরি খিলখিলাইয়া হাসিয়া উঠিল দেবাহুতি। যাহা বভ্রুবাহন ব্যাতিরেকে অবশিষ্ট সকলের মাঝে সংক্রামিত হইল

বধুরূপী হিরন্ময়ী কহিল, আমার তো গতি হইল, কিন্তু আমার ভগিনীর প্রেমিকপ্রবরটি ঠিক কতখানি প্রণয়াশক্ত সেইটি দেখিবার জন্যই এই নাটিকার অবতারণা, যাহা হউক আপাতত যবনিকা পরিল ভাই। তুমি আমাদের পরমাত্মীয়, ক্ষণকালের এই মনকষ্টের জন্য বড় দিদি ভাবিয়া মার্জনা করিয়া দিও”। ঘরে পুনঃরায় হাসির রোল উঠিল।

দেবাহুতি কৌশলী দন্তবিকাশ করিতে করিতে বলিল , আমি কিন্তু কখনো বলিনাই আমারই বিবাহবভ্রুবাহনের হতচকিত পরিস্থিতি অনুধাবন করিয়া আকাশ বাতাস কম্পিত করিয়া আবার সকলে খিলখিলিয়ে হাসিয়া উঠিলমুগ্ধতা ছড়ানো সেই হাসিতে সমস্ত পৃথিবির যাবতীয় সুখের সন্ধান পাইতেছিল বভ্রুবাহন, সে দেবাহুতির প্রতি নির্নিমেষে চাহিয়া অপার মুগ্ধতায় ভাসিয়া যাইতে লাগিল
 
অভাগা লেখকও এমনই কোনো অযাচিত দূরাভাষের প্রতীক্ষায়, যদি পাঠককূলের কোনো সহৃদয় ললনা আকৃষ্ট হয়, অকৃতদার তকমাটি ঘুচে তাহা হইলে।

-সমাপ্ত

শুক্রবার, ৩ আগস্ট, ২০১৮

।। প্রসঙ্গঃ আসামে NCR ।।


যাদের "বাপ ঠাকুরদার" যে কোনো একজনের জন্ম বিদেশে (পড়ুন বাংলাদেশে), ফাটবে তাদের বেশি। তারা তবুও হাসছে, কারন ভাবছে সে বোধহয় টিকে যাবে ভক্তো হবার মন্ত্রবলে, আর পরিস্থিতি না বুঝে ওঠার কারনে। তথ্য বলছে বহু অসমিয়া ভক্তো অবৈধ হয়েছে, তারা হারিয়ে বুঝেছে। অবশ্য বুঝদার চিন্তাশীল কোনো মানুষ বিজেপি করে বলে শুনিনি। আরেক দল হাসছে অভ্যাসে, এদের বরাহনন্দন বললেও হাসে বৃহন্নলা নামেও খুশি হয়। এরা জানেনা বিজেপি মানেই 'ঘরের ষাঁড়ে গবনা হওয়া"

জানিনা আমার ফেবু পরিচয় তালিকার কতজনের বাবা-দাদুর জন্ম স্বাধীন ভারতে। তাদের জন্য এক মিনিট নিরবতা পালন হোক।

সদ্য তথা বিগত ৩০ বছরের মধ্যে আপনার এলাকার আশেপাশে যে কয়পিস "অবৈধ বাংলাদেশী" ডেরা গেড়েছে (as per Assam NCR conditions) , চেয়ে দেখুন প্রায় সব কটা মাল বিজেপির প্রকাশ্য সমর্থক। পাশাপাশি বখরার লোভে তিনুর সিন্ডিকেটেও নাম লিখিয়ে হারাম কামাচ্ছে ফ্যামিলির অনেকে। কেউ কেউ তো "কাইট্যা হালাইমু" জাতের উগ্র। যদিও নিজের নিন্মাঙ্গের লোমটুকু কাটার মত মরদ হয়ে উঠেনি।

এরাই আদি বিজেপি এই বঙ্গে। হর হর মোদীনাদে একদা বাতাস কাঁপিয়ে ছিল, এখন মোদীর NCR তাসে ঘুঁটে নাদছে। এরপর চোখ দিয়ে হিসি করবে, মুখ দিয়ে গালি আর পোঁদ দিয়ে লালনীল সুতো বেরোবে। আবকি বার কি মোদী সরকার হবে বন্ধু? জবাব আসার সম্ভাবনা ক্ষীন, খিস্তি আসলে আসতে পারে। এরা জানে আচ্ছে দিন কাকে বলে, ২০১১ পূর্ববর্তী বাংলা এরা দেখেছে অনেকেই।

আত্মলিঙ্গম পশ্চাদপুরম হয়ে শিখন্ডীর মত বুঝে নেবার চেষ্টা করছে, জল কদ্দুর গড়ালো, কার উঠোন পর্যন্ত। জাতের ফুঁপি প্রকাশ্যে টানা যাবেনা, তাই কোল্যাটারাল ড্যামেজে ১০০ কোটি হিন্দুর স্বার্থে ১-২ কোটি হিন্দু বলি অনৈতিক বা অযৌক্তিক কোনোটাই নয়। আচ্ছেদিনে উত্তীর্ন হতে গেলেও এই সামান্য ট্রাঞ্জিষ্ট লষ্ট মেনে নিতেই হবে অর্থনৈতিক সুত্র মেনে।

আপনি বোঝেননি আমি ঠিক কি বলতে চাইছি, তাই তো? আমি নিজেই বুঝিনি তো আপনি কি বুঝবেন।

ভক্তবৃন্দের, ছুঁচোর সাপ গেলার মত - চোখে মুখে বঞ্চিত বাঞ্চোত হয়ে যাবার রেখা স্পষ্ট। না গিলতে পারছে না উগরাতে।

মমতা ব্যানার্জীর, একদা স্পিকারকে লক্ষ্যকরে কাগজ ছুড়ে মারার ইতিহাস মিডিয়ার দৌলতে চোখে চোখে। শরনার্থী বা উদ্বাস্তু প্রশ্নে তার নিজ দলের লোকেরাই বিশ্বাস করে কিনা বুকে হাত রেখে বলতে পারবেনা। সততা আবার নিলামে চড়েছে সোনাগাছির হাটে। উন্মাদেরা প্রতিবেদন লিখছে, উন্নয়ন তবু অসমে যায়নি, কারা গেছে? মমতাবালা -মহুয়ার মত রাজনৈতিক অপাংক্তেয় কিছু ভেসে থাকা শিকরহীন কচুরিপানার দল। লাগলে তুক, না লাগলে তাক।
সত্যিই বাংলাতে আজ বড় অংশের নিন্মবর্ণের হিন্দুরা অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় ভবিষ্যতের সামনে। এতোদিন মোদী মুসলমান ঠেঙিয়ে এসেছে, এখন সেম সাইড গোলে হিন্দু উচ্ছেদ শুরু করেছে। এ বিষয়ে হিন্দু সংহতির তপন গোয়ালার কোনো মন্তব্য নেই, RSS এর তরফেও কোনো এঁড় কপালের অফিসিয়াল বিবৃতি নেই।

আগামীতে বাংলার এক খেই বালও ছিঁড়তে পারবেনা মোদী সরকার, এটা নিশ্চিত। কারন অল্পদিনেই তুলসিতলায় উঠবে গোটা সরকার। তবুও অশান্তি করাতে পারলেই মাংসলোভী কুত্তাদের লাভ। তাই বাঙালিকে দ্রুত শত্রু চিনে নিতে হবে, যাবতীয় পুরাতন ভুল শুধরে। এটা অস্তিত্বের প্রশ্ন। নতুবা প্রাক্তন বৃটিশ প্রভুদের কাছে মুচলেকা দেওয়া বাপের বীর্যে জন্মানো গোসন্তানেরা আবার বাংলাকে লুটে নিয়ে বেচে দেবে। রক্ত বেইমানি করেনা।

** বিজেপি তথা মোদী বাঙালী বিরোধী। প্রমানিত। মেদনীপুরের জোকারটা জানেনা যে, দুই ২৪ পরগনা হয়ে পূর্ব বর্ধমান, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, মালদা, দুই দিনাজপুরের বৃহত্তর অঞ্চলের বড় সংখ্যার মানুষ শেষ ৪০ বছরে এসেছে।

** কংগ্রেস নেই এ রাজ্যে। ওদের নিয়ে বলা বেকার।


** শাসক তৃণমূল বিজেপির বিপক্ষে গেলেই "ভাইপো" জবাই সময়ের অপেক্ষা। মোদী, রাজনাথ, আদবানীর ঝরে পরা অবাঞ্চিত লোম দিয়ে নির্মিত তাবিজ দিয়ে ভাইপো বাঁচানোর মিথ্যা চেষ্টা আরো মাস আষ্টেক চলবে। "নিজে বাঁচলে বাপের নাম" সুত্রে লোক দেখানো বিরোধিতা ছাড়া তৃণমূল কংগ্রেস প্রাঃ লিঃ এর কিচ্ছুটি করার নেই। করবেও না।

** সুসি, আর এস পি, সিপিআই ইত্যাদি নামক বালছাল দল গুলো সার্কাস পার্টি থেকে যাত্রাপার্টিতে পরিনত হয়েছে, যাদের সবকটার মুকাম চিৎপুর থুরি কালীঘাটে।

** বাকি রইল বাম....
বাকিরা তো অন্তত নামেও আছে। এনারা কোথায় কে জানে! একা বিকাশ কোনদিকে যায়! সুজন পাড়ার নেতা, বাকিরা শিশুশ্রেনীর কৌতুক অভিনেতাতে পর্যবাসিত হয়ে চলেছে। নব্য নেতাদের প্রাজ্ঞতা বটতলার সাহিত্যিকদের মানের।

মানুষ বড় অসহায়। পাশে কেউ নেই। বাঙালীর আজ নেতার অভাব। নতুবা একটা দাম্ভিক অরুচি বাতিকগ্রস্থ অসুস্থ মহিলা জাতির মাথায় নেত্ত করতে পারতনা।



তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...