বৃহস্পতিবার, ৮ মে, ২০১৪

উন্মাদ নামা ~ ১২

যৌনতা কি কোন ট্যাবু বা নিষিদ্ধ কাজ? না তা তো মোটেই নয়।
বরং এ হল সভ্যতা ও বংশ রক্ষার একমাত্র উপায়, কিছু নিকৃষ্ট জীব ব্যাতিরেকে।
তাহলে সেচ্ছায়, কোন একান্ত মুহুর্তে, দুটো প্রেমাষ্পদ মানুষ, উপচে পরা সোহাগের বালতি, মন যেখানে বাঁধা পরে গেছে, সেখানে শরীর নিয়ে ছুৎমার্গ কেন?

মানুষ ছারা যদিও, প্রানীকুলে আর কারোর মধ্যে এই ঢাকঢাক গুড়্গুড় নেই। খাওয়া, সুসু বা পটির মতই এটা একটা দৈনন্দিন কর্ম। বা হাঁসি কান্না বা রাগের মতই একটা অনুভুতি, যেটার মানিসিক তৃপ্তি, শারিরিক স্খলনে।
যার সাথে সব কিছু ভাগ করে নেওয়া যায়, শুধু শরীরের বেলায় সতীত্ব!
এ জিনিস ভাবের ঘরে চুরি।
তাছারা, কেনা নাঙল জিরোতে দিতে, খুন্তি দিয়ে চাষ করার কোন মানে হয়?
তাই নারী-পুরুষের গভীর প্রেম কখনই গভীর হতে পারে না, চামরার স্পর্শ ছারা। মনের গভীরে পৌছানোর সাথে সাথে, সেটাকে স্থায়ীত্ব দেয়, শরীরের গভীর অংশে পোছানো বা পৌছতে দেবার মধ্যে। মানে, বিনা অস্ত্রপ্রচারে যতটা যায় আর কি..........
প্রেমের বিশ্বস্ততা বেড়ে কি যায় না, যখন এটা শুনি:- "এই সব কিছু, এ তো শুধুই তোমার জন্য.........." ইত্যাদি ইত্যাদি....

রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৪

আমরা স্বাধীন?

একটা যা......তা......
*************
আমরা স্বাধীন?

অন্তত খাতায় কলমে ১৯৪৭ সালে আমরা তা নাকি লাভ করেছি। আজ দীর্ঘ ৬৬ বছর অতিক্রান্ত। ইতিহাসের বিচারে হয়তো এ সময় কাল টা হয়তো কিছুই নয়, কিন্তু গড়পড়তা আম মানুষের অনেকের কাছে, এটা একটা গোটা আয়ুষ্কাল। তাই যখন বিশেষ বিশেষ কিছু ঘটনা দেখি, স্বাধীনতা টা কেমন যেন অলঙ্কারিক মনে হয়। স্বাধীনতার বোড়খার আড়ালে যখন একটা বিশেষ সমাজ কে , গোটা অবশিষ্ট বিশ্ব বা বলা ভাল রাষ্ট্র অবিরত ধর্ষন করে চলেছে, তখন নিজেদের সত্যিই কেমন আতাকেলানে কূষ্মাণ্ড বলে মনে হয়।মনে হয় স্বাধীন বলে কি সত্যিই কি কোন শব্দ অভিধানে থাকা উচিৎ??

ঘটনার সুত্রপাত একটু অন্যভাবে হলো। এক অতি ঘনিষ্ট বন্ধুর সাংসারিক সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে আমি আর আমার আরেক ঘনিষ্ট সহচর রামচন্দ্র, বর্ধমানে কুচুট বলে এক স্থানের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। ঝড় বৃষ্টির দিন আবার যখন তখন ভুমিকম্প হচ্ছে। তাছারা বাড়ি ফিরে “আত্মা”র উপর একটা জাম্পেশ করে রচনা লিখবো বলে মনে মনে তার ভাঁজছিলাম।

পথি মধ্যে ইসলামপুর নামক এক গ্রামে, সেই সুত্রেই গমন। গ্রামে যাবার রাস্তা টা, পাকা রাস্তা থেকে হঠাত সরু হয়ে গেছে MGNRSY এর রাস্তায় এসে, আর এটাও জীর্ন হতে হতে ৮-১০ কিলোমিটারের মাথায় এক্কে বারে কাঁচা আল পথে পরিনত হয়েছে। অনেক কষ্টে আমাদের ড্রাইভার কালু, সে পথ অতিক্রম করে প্রায় ১২-১৫ কিলোমিটার পর গন্তব্যে পৌছালাম, আশ্চর্য হবার তখনো অনেক বাকি ছিলো। এই সকল গ্রামে সাধারনত মোটরবাইক ছাড়া কোন গাড়ি ঢোকে না। তাই বাচ্চা বা বয়স্কদের চারচাকা গাড়ির প্রতি একটা উৎসুখ থাকে, বাচ্চারা তো পিছনে উড়ে চলা ধুলোর সাথে পাল্লাদিয়ে দৌড়ায়। আজকেও দৌড়াচ্ছিলো।

গন্তব্যের একেবারে দোরগোড়ায় আমার হাল ফ্যাসানের সেডান কার পৌছাতে পারলো না, রাস্তা না থাকার দরুন। একটা মোড়ের মাথায় যখন দাড়ালাম। ততক্ষনে আমার দুধসাদা গাড়ি ধুলো আর কাদাতে মোটামুটি পিঙ্গল বর্ণ ধারন করে তার পূর্ব রুপ হারিয়েছে। গাড়ি থেকে নামতেই বেশ কিছু ছেলে চায়ের দোকান থেকে সেচ্ছাসেবকের কাজ করার জন্য দৌড়ে কাছে চলে এলো। গৃহ কর্তার নাম বলাতে , অতি উৎসাহে একটা দঙ্গল সামনে আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল।

তাদের ই মধ্যে মোমিন বলে একটা ছেলের সাথে পরিচয় হলো। রাস্তা নেই কেন জিজ্ঞাসা করাতে , খুব তাচ্ছিল্যের সুরে উত্তর দিলো “শালো দের খেই নিবার পর থাকিলে তো দেবে, প্যেত্যেক সময় ভোটের বাবুরা যখন আসে, তখন বর্ষা, নৌকায় চড়ে আসে, তাই ওরা রাস্তা দেখতি পান না। তবে আমাদের কুনু অসুবিদা নেই, ছোটো থেকে একানেই মানুষ তো” । সরল স্বীকারোক্তি।

যেতে যেতে দেখলাম পুকুর ঘাটে সব ইলেকট্রিকের পোষ্ট গুলো শোয়ানো, গ্রামের ছেলে বউরা স্নান করা থেকে কাপর কাঁচা সবই করছে। ইলেকট্রিকের পোল এখানে কেন, জিজ্ঞেস করতে মোমিনের আবার উত্তর , “আর বোলো নি বাবু, কারেন দেবে বলে সেই কবে সরকার থেকে এগুলো পুতে দিয়ে গেছিলো, আমার ই বয়েস এই ধরো ২০ হতে চল্লো, তো আব্বারা সবাই মিলে ওই পুকুরে নাবিয়ে দিয়েচে, কিচু তো একটা কাজে আসচে, আমরা তো আবার মাজে ভেঙে নিয়ে ফুটবলের তেকাঠির বাঁশ বানিয়েছি” ।

কারেন্ট আছে না নেই সেটা জিজ্ঞাস করার সাহস পেলাম না। “হ্যারে তো কত ঘড়ের বাস তোদের এখানে??” , জবাবে পিছন থেকে একজন বলল, তা ধরুন গিয়ে ইসলামপুর-আকবপুর-নিমের-খুজারি-কোদপাড়া মিলে হাজার পনেরো লোকের বাস তো হবেই। মনে মনেই ভাবলাম, ১৫০০০ লোকের বাস, রাস্তা নেই – ইলেকট্রিক নেই!!!! এই পশ্চিমবঙ্গেই!! হায় রে স্বাধীনতা!!

হ্যারে তো মোবাইল চার্জ কোথায় দিস?? না এখানে কারো মোবাইল ই নেই?? আমি শুধালাম। মোমিন বললো,- নেই মানে? বরং বলো একেকজনের কটা করে আছে, একোন তো সব বাড়িতে ২-১ জন একোন কেরল গুজরাত দুবাই এ থাকে গো, টেকার গাদা সবার কাছে। ওই সকালে বাজারে গিয়ে চাজ দিয়ে নিয়ে আসে, ছোরা ছূরিরা তো আবার চাইনা মোবাইল নিয়েচে, ২-৩ টে করে বেটারি।

অভিষ্ট গন্তব্যে পৌছে মিনিট দশেকের একটা সাক্ষাতপর্ব সেরে নিয়ে, সদর দিয়ে বেড়োতেই একটা জটলা চোখে পড়লো। পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যেতেই – একজন মধ্যবয়স্কা বৃদ্ধা পিছু থেকে ডাক দিলেন, “এ বাবু, সব লিয়া হয়ে গেচে”। আমি কিছু টা হকচকিয়ে গিয়ে বললাম, আ...আমি তো কিছু নিতে আসিনি। এই এরসাদ চাচার সাথে একটু দেখা করতে এসেছিলাম। আবার বললেন “তো আমাদের নিয়ে যান না কেনে”। আমি আমল না দিয়ে সামনের দিকে পা বাড়ালাম। তার পর খুব করে কাকে বা বলা ভালো কাদের উদ্দেশ্যে, ঐ মহিলা গালি দিতে লাগলেন, উচ্চশ্বরে বিলাপ করে।

ব্যাপার টা আরো পরিষ্কার হলো যখন গাড়ির কাছে পৌছালাম, দেখি বেশ কিছু গ্রাম মেয়ে আমার গাড়ি প্রায় ঘেড়াও করে রেখেছে। সকলের ই বয়স অই ১৪-২০ এর মধ্যেই হবে। কিছুটা ঘাবড়ে গিয়ে, একটু এদিক ওদিক তাকাতেই আমার ড্রাইভার, কালু কে ক্লিষ্ট অবস্থায় আবিষ্কার করলাম। আমি ওকে ডেকে একটু খাটো গলায় বললাম, এরা কারা?? এক্সিডেন্ট করেছিস নাকি?? কালুর বেদনাতুর জবাব, “এরা সব পুবে খাটতে এসেছে, আমন ধান কাটার মুনিষ। ঝাড়খন্ড মেদনিপুর, মুর্শিদাবাদ আসাম থেকে সব এসেছে”।

আমি কিছুটা বিরিক্ত হয়ে বললাম, তো আমার আছে আবার চাঁদা টাদা নেবে নাকি?? দশ বিশ টাকা দিয়েই তো ঝামেলা বিদেয় করতে পারতিস। কালুর উত্তরটা আসা করিনি। বলল, “ওরা কাজের জন্যে এসেছে, তোমার খামারে ওরা কাজ করবে। এখন তুমিই ওদের বিদেয় করো”। যাই হোক, আমার তো জমি সব ভাগে দেওয়া আছে, আমার নিজের কোন চাষ নেই, এখানে এমনিই এসেছিলাম... ইত্যাদি বলে, ওদের হাতে ৫০০ টাকার একটা নোট ধরিয়ে বললাম , এগুলো ভাগ করে নিস, ৯-১০ জন ছিলো। ওরা মোটেও খুশি না হয়েই সরে দাঁড়ালো। এগিয়ে চললাম কুচুটের দিকে, এখান থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার।

যেতে যেতে রামচন্দ্র বললো, কাকা এরা কেন তোমার কাছে এসেছিলো বলো তো?? বললাম কেন? বলল, তোমার দামি গাড়ি দেখে, বড় গেরেস্ত বাড়ি কাজে যাবার বাসনায় এসেছিলো। এরা ওই সুদুর দেশ থেকে কেউ কেউ ৪-৫ দিন আগে, এক্কেবারে অক্ষম বৃদ্ধ ছাড়া পুরো ফ্যামিলি এই বর্ধমান জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পরে, রোজগারের আশায়। জিজ্ঞেস করলাম, কার বাড়ি আসে? এদের চেনাজানা কে আছে? রাম বলল , কেউ নাই কাকা, এমনিই এরা আসে, বিভিন্ন বড় গ্রামের মোড়ের মাথায়, বট তলায় বা বাসস্ট্যন্ডের বিশ্রামাগারে, কারো বৈঠকখানার বারান্দা- পোড়ো বাড়ী, যেখানে সেখানে এরা বসে থাকে, ১ দিন, ২ দিন ৩ দিন। তার পর কোন গেরেস্তর সাথে চুক্তি হয়ে গেলে, তাদের বাড়ির গোয়াল ঘরের পাসে অস্থায়ি ত্রিপল বেঁধে আগামি ১৫-২০ দিনের ঠিকানা হবে, তারপর মজুরি আর সিধের চাল নিয়ে যে যার দেশে ফিরে যাবে। আবার বললাম এতে করে পোষায়?? ও বলল, নিশ্চই পোষায় না হলে আসে কেন!!

তাছারা ওই আছে তো, আমি বললাম কি?? ওই গো। যার জন্যে ওই ছুঁড়ি গুলো তোমার কাছে এসেছিলো।
- কি জন্য রে?
- ভালো বাবু পেলে সুন্দুরীদের খাতির একটু বেশী হয়, তাহলেই খেপে ৫০০-১০০০ টাকা বেশী রোজগার। খেয়াল করো নি, যে ওরা কেমন সেজেগুজে ছিলো!!
- না রে, কই তেমন তো কিছু খেয়াল করিনি। আর আমার ও সব দিকে নজর ও ছিলো না, তোর যেমন বিশাক্ত নজর।এবার তোর বিয়ে না দিলেই নয় দেখছি।

- আরে না গো, ওরা কি আর তোমার আমার বাড়ির মেয়ে বউ দের মত সাজবে, না সে সমর্থ ওদের আছে?? ওরা হাতে কাঁচের চুড়ি পরেছিলো, চুলে খোপা বেধেছিলো লাল কৃষ্ণচূড়া দিয়ে, ১ -২ জন তো আবার ঠোঁটে লিপস্টিক ও দিয়েছিলো। আর ওই মেয়ে মানুষ টা তো এদের কে ই গাল দিচ্ছিলো।

- কেন রে?
- এদের জন্যেই নাকি ওরা শাঁসালো বাবু পাচ্ছে না। বুড়ি হয়ে যাচ্ছে না।

রামচন্দ্র আরো অনেক কিছুই বলছিল। আমার আর সে দিকে মন ছিলো না। ভাবছিলাম, এই কি ৬৮ বছর বয়স্ক আমাদের স্বাধীনতা!! এ আমাদের কেমন অর্থব্যাবস্থা?? এতো সরকারি প্রকল্প, এতো উন্নয়নের বন্য, আচ্ছে দিনের প্রতিশ্রুতি। সব মিথ্যা। পৌরসভা নির্বাচন, IPL, মোদীর মেট্রো যাত্রা, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ঋণ নীতি, নেপালে প্রাকৃতিক বিপর্যয়, রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের সংখ্যা--- সব মিথ্যা।

পেটই শুধু সত্য। আর খিদে, ভাতের খিদে। আজ ও মানুষ কে কুকুর বেড়ালের মত অন্য মানুষের মত দুয়ারে দুয়ারে ঘুড়ে বেড়াতে হয়, কাজের জন্য। খোঁয়াড়ের মধ্যে শুতে হয়। নির্লজ্জের মত সুন্দরী সাজতে হয়। মজার বিষয় হলো এই কাজ করতে আসা মানুষ গুলো নিজেদের মানুষ ভাবতে ভরষা হয় না, আর প্রায় অধিকাংশ গেরেস্ত এদের মানুষ বলে স্বিকার করে না। কারন এরা তো মুনিষ।

এরা জানে!! স্বাধীনতা কি?? মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধই হোক বা আমেরিকার বিদেশ নীতি বা আমাদের এই ভার্চুয়াল দুনিয়া, এরা হয়ত নাম ই শোনেন নি। কেও শুনে থাকলেও সেটা বড়লোকের খেয়াল ব্যাতিত আর কিছু এরা ভাবতে পারবে না। সর্বগ্রাসী পেটের তারনায় এরা ছুটে বেড়াচ্ছে, এদেশ থেকে ওদেশ। এদের জন্য বিমা নেই, এদের জন্য কেও অনশন করে না, এদের ইউনিয়ন নেই, হরতাল নেই, বুদ্ধিজীবি-মোমবাত্তি- ফি সন্ধ্যায় টিভি চ্যানেলে কুকুর কেত্তন। কিচ্ছু নেই। তবে এরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। এনারাও গনতন্ত্রে বাস করেন।অনেকে আবার ভোট নাকি দেন, কাজ না থাকলে।


অন্ধকার হয়ে আসছিলো, ঘন কালো করে মেঘ করেছে... তাই মুখ লুকাতে কষ্ট করতে হলো না। এসি চলছিলো বলে আগেই জানালার কাঁচ তোলা ছিলো। এসির ঠান্ডা হাওয়াতেই বোধহয় চোখে একটু জল এসেছিলো। আমার আবার ঠান্ডায় এলার্জির ধাত আছে কিনা, আসলে সুখী মানুষ তো!! ওরা হয়তো এর তার বাড়ির দাওয়াত কোনমতে মাথা গুঁজেছে। আচ্ছা, ওই মেয়ে গুলো কি মনের মোতো কোন বাবু পেল?? আর ওই মধ্যবয়সী মেয়েমানুষ টা?? আর ওদের সাথে থাকা বাচ্চা গুলো, যারা তাদের বাবা মায়ের নিয়ে আসা যথসামান্য মালপত্রের বস্তার উপরে বসে, আদতে সেটা পাহাড়া দিচ্ছিলো?? সব কেমন এলোমেলো হয়ে গেলো...............

দু এক ফোঁটা বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো, এক্ষুনি ওরা ঝমঝমিয়ে এসে পরবে, ওরা তো স্বাধীন। ওদের গনতন্ত্র লাগেনা। বৃষ্টির জলে রাস্তার সমস্ত ধুলো কাদা ধুয়ে আরো নিকশ কালো অজগরের মত শুয়ে রয়েছে। স্বাধীনতা আরো নতুন নতুন পাঁকের মাঝে রোজ একটু একটু করে ডুবে যাচ্ছে। রামচন্দ্র তখন ও কিছু একটা বলেই চলেছে। দু ধারে সোনালী ধানের ক্ষেত ওই দূরে দিগন্ত কে স্পর্শ করেছে। গাড়ির সাদা রঙ টা নিশ্চই এতোক্ষনে আবার ফিরে এসেছে।

মোবাইলের ঘন্টিতে, হঠাত চকিতে ঘোর কাটলো, উইন্ডস্ক্রিনে বৃষ্টির ধারা প্রচন্ড ক্রুদ্ধতার সাথে করাঘাত করছে। ওয়াইপার গুলো যেন “ওদের” মত একবার এদেশ আর ওদেশ করে চলেছে, নিরন্তর ভাবে। কুচুট ও এসে পরব খানিকক্ষণের মধ্যেই। এর মধ্য কালু বাবা দেখি মিউজিক সিষ্টেমে গান লাগিয়েছে......

“ভগবান হ্যায় কাহা রে তু......” কে জানে ইনি স্বাধীন কি না!!!


*********
উন্মাদ হার্মাদ 
*********

রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০১৪

অবার্চীন ডুয়ার্স



উন্মাদীয় রবিবাসর



সালটা ২০০৮ এর সেপ্টেম্বর। মাঝরাত্রে হঠাৎ ই উন্মাদী খেয়াল মাথায় ভর করলো। অগত্যা গন্তব্য সেই ভাঙাকুলো সন্তু। ভাল নাম দেবব্রত। তখন রাত বোধহয় দেড়টা, ল্যান্ড ফোনের অপর প্রান্তে ঘুম জরানো গলায় “হ্যালো কে বলছেন”,


এই আমি রে...

সাথে সাথেই অবস্থার পরিবর্তন, আষাঢ়ের বর্ষনের ন্যায়, বড় কুটুম্ব, বোকাহাদা, কার যেন ভাই ইত্যাদি তে ভুষিত করে, শেষে শুধালো, বল কি খবর, বললাম..., “আমার না খুব বেড়ানো পেয়েছে, কোথাও গেলে হয় না রে! ঘরে খুব দম বন্ধ লাগছে”
...কোথায় যাবি?
...তা জানি না, ঠিক করিনি, এক কাজ কর ভোরে স্টেশনে গিয়ে ঠিক করবো।


সে যাই হোক, বাড়িতে কাওকে কিচ্ছুটি না বলেই ভোর বেলা হাওয়া। সকালে যথারিতী ট্রেনের টিকিট পেলাম না, অগত্যা ঠিক করলাম, প্রথম বাস টা যে দিকের পাবো সেটাতেই চাপবো। দেখলাম বহরমপুরের। চলো দিল্লি। যেমন ভাবা তেমন কাজ। চেপে পড়লাম। ৩৪ নং জাতীয় নরক থুরি সড়ক ধরে প্রায় চার ঘন্টার অসহ্য যন্ত্রনার পর বেলা ১১ টা নাগাদ বহরমপুর পৌছালাম। সাথে লাগেজ বলতে সাকুল্যে একটি, দুজনের মিলিয়ে, যার ভিতর শুধু ২ টো করে হাফ প্যান্ট, রুমাল, স্যান্ডো গেঞ্জি আর অন্তর্বাস ,আমার ছিলো। পরনের গুলো বাদে এক্সট্রা একটাই টি সার্ট ছিলো। দরকার পরলে কিনে নেবো, এই ভেবে রওনা দিয়েছিলাম আর কি। আর হ্যাঁ, নমিতা বিড়ি ছিলো প্যাকেট ৪০ মত, আর আমার প্রিয় ব্রান্ডের সিগারেট গোল্ডফ্লেক গোটা দশ প্যাক। সাবান, চিরুনি, টর্চ, ক্রিম, টিসু পেপার, বমি-মাথাব্যাথা-পায়খানার-অ আর এস- গ্লুকোজ, মানে জরুরি ঔষুধ পত্র আমার রুকস্যাকেই থাকে। আর আমার চিরসখা ল্যাপটপ। সাথে দূটো ফোন আর তাদের চার্জার। গোটা কয়েক এটিএম কার্ড।



দুপুরে লাঞ্চ টা বহরমপুরেই সারা হলো, বহরমপুরের গঙ্গার ব্রিজে কাজ চলার দরুন প্রায় সারাটা দিনই, ওখানেই কেটে গেলো, রোড জ্যামে। বৈকালে গঙ্গার পাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে শিলিগুড়ির বাস দে হাওয়া। অগত্যা একটা আলুর লড়ির ড্রাইভার কে ম্যানেজ করে ডালখোলা পর্যন্ত যাওয়া নিশ্চিত করলাম। কিছুক্ষনের মধ্যেই গাড়ির নাগর দোলায় এক্কে বারে মরণ ঘুম, টানা ১০ ঘন্টা। ডালখোলা এসেই খালাসি টার ডাকে চোখ খুললাম। তাদের নগদ বখশিশ দিয়ে বিদেয় করে চা জল খাবার খেয়ে আবার বাসে করে শিলিগুড়ি। ঘন্টা তিনেক লাগলো।



শিলিগুড়ি বাসস্ট্যান্ডে হাজার ট্রাভেল দালালের ভিড়। কোথায় যাবো পাজেল হয়ে গিয়ে শেষে সন্তুর কথায় টস করে সিদ্ধান্ত হলো জঙ্গলে। তাহলে চলো লাটাগুড়ি। পথের দুধারে অবিশ্রান্ত সবুজ। ঢেউ খেলানো নির্সগবিস্তৃত সবুজ চা বাগান, ছোট ছোট সোঁতা-সাঁকো, চড়াই উৎরাই রাস্তা। যেন একটা ভাললাগার বই নিজে হতেই আপনা আপনি পড়া হয়ে যাচ্ছে, যার নিজে থেকে পাতা উলটে যাচ্ছে। রাস্তার দুপাসে স্থানীয়রা চা- বাগানে কর্মরত, ক্ষেতে কাজ করছে কেউ বা মাছ ধরছে...



গাড়ি থামিয়ে তাদের এক আধটা ছবিও তুলছি, কিন্তু ওরা যেন কেমন একটা তাচ্ছিল্য ভরা দৃষ্টি তে আমাদের উপস্থিতি কে অগ্রাহ্য করছিলো। মানে মানে পাততাড়ি গুটিয়ে আবার চলাতে মনোনিবেশ করলাম। অপূর্ব সুন্দুরী ডুয়ার্স তুমি। অদ্ভুত এক ভালোলাগার মুখোমুখি আমি আর আমার কল্পনারা।



একটা ছোটো বাংলো বুকিং ঐ বাসস্ট্যান্ডের দালাল বাবুদের কৃপাতেই করা হয়েছিলো। আর জঙ্গল সাফারির গাড়িটা ও। মূল জঙ্গল থেকে ৫-৬ কিমি দূরে বাংলো টা, ছোট্ট করে। আসার পথের চারিদিকে অগুন্তি ছোট বড় কাঠ চেরাই কল। কেন জানি না ওগুলো দেখে খুব ভেতরে ভেতরে যন্ত্রনা হচ্ছিল।



তখন বেলা প্রায় ৩ তে। বাংলোতে পৌছে স্নানাহার সেরে দে ঘুম। এমনিতেই সেপ্টেম্বর মাস, খুব একটা গরম ছিলো না। ওদিকে সন্তু বাবা কত্থেকে দেখি একটা নিপ জোগার করে এনেছে, ও জানে আমি ও রসের রসিক নই, তাই আমাকে চানাচুর শশা আর লেইজের প্যাকেট টা এগিয়ে দিয়ে ও একা একাই চিয়ার্স করে খানিক পরেই ফুটুর দুম। আমি আর কি করি রাত ন টা পর্যন্ত একা একাই টিভির চ্যানেল সার্ফ করে অনিচ্ছার ঘুম।



ভোরে ড্রাইভারের ডাকে ঘুম ভাঙলো। একটা সাফারি জিপ ভাড়া করেছিলাম। ১৫-১৬ বছরের বাচ্চা ছেলে, নাম সুজয়। বললো , চলুন স্যার, সক্কাল সক্কাল না গেলে অনেক কিছুই মিস করবেন। প্রথমেই এন্ট্রি ফি। এক ধারে জঙ্গল আর অন্য ধারে চা বাগান। সবে সূর্য হামাগুড়ি দিচ্ছে, কি যে এক মায়াবী আবেশ...



এবার আমাদের সাথে একজন গাইড কে দেওয়া হলো, নাম মংলু, আদিবাসী সুঠাম ছেলে, আমাদের সমবয়সীই হবে। সে বললো, পশুপাখিদের কোন খাবার দেওয়া যাবে না, প্লাস্টিক ফেলা যাবে না ইত্যাদি ইত্যাদি। গায়ে জলপাই ছোপের পোশাক, আমারাও হাফ প্যান্ট পরে, ফুলস্লিভ টিসার্ট, আর পায়ে স্নিকার্স, সন্তুর পিঠে রুকস্যাক, আমার গলায়, বাইনোকুলার আর ছবি তোলার জন্য হাতে ক্যামেরা আর হালে কেনা আইফোন টা। এক দিনের জন্য চার জনের পর্যাপ্ত খাবারদাবার আর জল।



প্রথমে লাল সুড়কি বিছানো পথ। আসতে আসতে চলছি যতটা নিঃশব্দে যাওয়া যায়।। যত এগোই পথের লাল সুড়কিও ধীরে ধীরে এল্যিফ্যান্ট ঘাসের দখলে যেতে যেতে ক্ষীণকায় গাড়ির চাকার রেখাতে পরিনত হয়েছে। পথের দুধারে গামারি, লুম্পাতি, সিমুল, পানিসাস, চিকরাসি , টুন কত অজস্র আরো নাম না জানা গাছের সারি, না গুলো গাইড ই চেনাচ্ছিলো। মাঝে মাঝেই এক দুটো ময়ুরের দেখা মিলছে , নানা ধরনের চেনা অচেনা পাখীর দল এই জঙ্গলের নীরবতা ভঙ্গ করে চলেছে। গাছে গাছে কত নিত্য নতুন ধরনের লতানে ফুলের সাথে সুন্দর অর্কিড। পাতারই যে এতো বাহার হতে পারে, যে না এসেছে তিনি কল্পনাও করতে পারবেন না। উঁচু লম্বা লম্বা গাছ গুলোর শাখা প্রশাখা আর সবুজ ভেদ করে সূর্য কখনো কখনো ই মাটিতে এসে পৌছাচ্ছে, তাই হালকা সবুজের সাথে গাঢ় সবুজ এই আলো আধারীর সাথে মিলেমিশে এক অদ্ভুত সম্মোহিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।



আশেপাশে আমরা চারজন ছারা কেও কোথাও নেই। অরন্য যেন নিশির ডাকের মত হাতছানি দিয়ে ডাকছে।গন্তব্য ছিলো মেদলা, হাতি সাফারি করার জন্য। যাত্রামঙ্গল ওয়াচ টাওয়ার থেকে শূন্য হাতে রওনা দিলাম চুকচুকি ওয়াচ টাওয়ারের দিকে। সেখানে মূর্তি নদীর তীরে গোটা কয়েক গন্ডার আর দু একটা হরিণ ছারা আর কিছুই দেখতে পেলাম না। মনটা কেমন যেন উতালা হয়ে গেল। আমি আর সন্তু মুখ চাওয়াচাওয়ি করে নিলাম।



চুকচুকি থেকে ফেরার পথে আমার আর সন্তুর মাঝে টেলিপ্যাথিতে আলোচনা পর্ব টা শেষ হয়ে গেলো, চোখ ছিলো মাধ্যম। মিনিট পনেরো পরেই মারলাম গাড়ি থেকে ঝাঁপ। আর নেমেই দুজন মিলে উদ্ধশ্বাসে দৌড়।এখানে একা একা জঙ্গলে যাওয়ার পার্মিসন পাওয়া যায় না। প্রায় টানা মিনিট পনেরো কুড়ি ওই জঙ্গলের মাঝ খান দিয়ে এক উন্মাদ আর তার সাথী মাতালের মত দৌড়াচ্ছে, সে এক চুরান্ত উন্মাদীয় এডভেঞ্চার। পিছন পিছন ড্রাইভার আর গাইড খানিকটা এসেই হাল ছেরে দিয়েছিলো।



একটা বড় গাছের গুড়ির নিচে বসলাম, এটা রিজার্ভ ফরেষ্ট হওয়ার জন্য মরা গাছ গুলোও কঙ্কাল সমেত এখানেই পরে থাকে। কত নানারকমের পোকামাকরের যে ভিড় তার ইয়াত্তা নেই। একটু হালকা টিফিন খেয়ে নিয়ে জুড়লাম হাটতে।পথের ধারে কত রংবেরঙের লতা, পাতা ফুলের সমাহার, সত্যিই এভাবে না এলে জঙ্গল কে জানাই হলো না। পাইকারি হারে প্রচুর ছবি তুললাম। বিকালের দিকে একটা নদীর ধারে পৌছালাম, জানি না কি তার নাম। সারাদিন হেঁটে বেশ ক্লান্ত ও লাগছিলো। সামান্য কিছু খেতে বসলাম। নদীর জল প্রচন্ড রকমের পরিষ্কার। পাসের গাছগুলোতে বাঁদরের দল জিমনাষ্টিক দেখাচ্ছিলো।



কিছুটা এ্যালিফ্যান্ট ঘাস ছিড়ে নিয়ে তার উপর একটু চিৎ হয়ে শুলাম, আকাশ শরৎ এর আকাশের মত, বনটিয়া-ময়না-বসন্তগৌড়ি- তিতির- কাঠঠোকরা- ছাতারে- বুলবুল- দোয়েল, কত্তোরকম পাখীরা গাছের ফাঁকফোকরে লুকোচুরি খেলছে। আর হ্যাঁ, একটা ক্যাচ ক্যাচ আওয়াজ সারাক্ষণ এই জঙ্গলে শোনা যায়, সেটা ধনেশ পাখীর উপস্থিতি। রাতের বেলায় এই জঙ্গলে ভ্রমনের অনুমতি জোগাড় খুবই কষ্টসাধ্য, মন চাইছিলো রাতে থেকে যেতে, কিন্তু তক্ষনি জঙ্গল থেকে কি ভাবে লোকালয়ে ফিরবো, সেই ভাবনাই মাথায় জেঁকে বসল। এই জঙ্গলে তো চারটি নদী, এটা কোন নদী! মূর্তী না জলঢাকা না গরাতী না ইংডং?? মাথা ভোঁ ভোঁ করতে লাগলো, সাথে সন্তুর অজস্র বাক্যবাণ।



এই জঙ্গলে ল্যেপার্ড ও থাকে বলে শুনেছি, হাতি যেখানে সেখানে থাকতে পারে, বাঘ- সিংহ নেই তো আবার?? নিদের পক্ষে পাইথন!! গোখুরো, চন্দ্রবোড়া কেউটে তো দু চার খানা দেখেও ফেলেছি, কি জানি ও গুলো দাঁড়াস সাপ ও হতে পারে, ভয়ের চোখে সব যেন জাত সাপ দেখছি। সকালেই তো মাতাল গাউর দের খ্যাপামি দেখেছি। কাদা পাঁকে ভরা নদী তীর, ইতস্তত বেতের ঝাড় , মুলিবাসের বন। ওদিকে সূর্য ডুবেছে, আলোর রেশ টুকুও মিলানোর পথে। টর্চ টা হাতে নিলাম, সারাদিন মোবাইলে ছবি তুলে চার্জ খতম, সন্তুর নোকিয়া ১১০০ সেট, সিগনাল নেই। সম্পূর্ন দিশাহারা। তবে আজ ভাবি... ঠিক এটাই তো চেয়েছিলাম।



তখন চাঁদ উঠেছে, আধ খাওয়া, এখন জঙ্গল ঘন অন্ধকার। হাতড়ে হাতড়ে পথ খুজে চলেছি, একটা মর্কটের দল আমাদের পিছন পিছন চলেছে, বোধ হয় তাদের হেব্বি মজা লাগছে আমাদের এই উন্মাদীয় পরিস্থিতি। মাঝে মাঝে এক আধটা বনমুরগির ডানার ঝটপট আওয়াজ শোনা যাচ্ছে, ভাম বা বনবিড়ালের হাত থেকে পরিত্রান পেতে বোধ হয়।

কিছু দুরেই ঝোপ টা খানিক নড়ে উঠলো, আর একটা অদ্ভুত ধরনের আওয়াজ, আঁতকে উঠে দুপা পিছিয়ে গেলাম, এমনিতেই আজ মশাদের নর রক্তের নিমন্ত্রনের দিন, আমরা তাদের নিমন্ত্রন না করলেও তারা কিন্তু দলবেধে আসতে ভুল করেনি। আবার ঝোপটা নড়ে উঠলো। সাহষ করেই টর্চ টা মারলাম। ভূত দেখার মত চমকে উঠলাম। দেখি একটা মিসমিশে কালো মানুষের মতই কিছু একটা, ভূত হয় তো?? আমাদের শহরে তো তেমন আর জাইগা নেই হয়তো ভূতেদের, তাই জঙ্গলেই আশ্রয় নিয়েছে। সারা শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠলো। আবার লাইট টা মারলাম, এবার সেই জন্তু(!) টি দৌড় লাগালো সামনে। তখন বুঝলাম ওটা মানুষ ই। দু চার সেকেন্ড পর সম্বিৎ ফিরিতেই আমরাও মরিয়া দৌড় শুরু করলাম, আর তার সাথে সন্তুর গগনভেদী চ্যাঁচানো, দাঁড়া ব্যাটা দাঁড়া।


মিনিট পাঁচ সাত ওই রকম দৌড়ের পর মানুষ টি থামলো। কাছে গিয়ে টর্চ টা জ্বালাতেই দেখি একটা বালক, ১০-১২ বছরের বেশী বয়স হবার কথা নেই। কিন্ত এখানে এই জঙ্গলে মানুষ!! এই রাত্রিবেলা! শিশু টারজান নয় তো! চোখে পিচুটি, মাথার চুল গুলো যেন হাসুয়া দিয়ে কাঁটা, পাঁজরের সব কটি হাড় গোনা যাচ্ছে, কয়লা ও এর গায়ের রঙ দেখে লজ্জায় লাল হয়ে যেতেই পারে। পড়নে... কি আবার , কিচ্ছু নেই। আমি যা প্রশ্ন করলাম তাকে, সন্তু করলো তার চার গুন। কিন্তু সেই ব্যাটা নিরুত্তর। আচ্ছা ধারিবাজ তো রে।



তারপর কিছু নতুন ভাবার আগেই বালকটি হাটা জুড়লো, এমন ভাবে যে, শেষ আধা ঘন্টায় যেন কিছুই হয় নি। আমরা উপায়ান্তর পিছু নিলাম। এখানে চাঁদের আলো স্পষ্ট। রাস্তা বলে কিছু নেই, দুধারে মালাসা আর চেপাটি ঘাসের পুরু বন সরিয়ে সরিয়ে যাওয়া। মিনিট ৪০ হাটার পর একটা তুলনা মুলক পরিষ্কার স্থানে এলাম। টর্চের আলোয় যেটুকু বুঝলাম, এটি একটি পল্লী। এদিকে কিছু শাল, শিরিষ,আমলকি চালতা নানা ধরনের গাছ। কিন্তু গ্রাম বটে, নিচে কোন ঘর নেই। খানিক পরে জনা কুড়ি পুরুষ মহিলার আগমন, এবং তাদের মধ্যে একজনই পরিষ্কার, মানে আমাদের বোধগম্য বাংলা জানেন, তার অজস্র প্রশ্নমালা রাহুল্ল দ্রাবিড়ের স্টাইলে খেলে, মনে হল ওনারা মোটামুটি সন্তুষ্ট হয়েছে।



ওদিকে সন্তু এই গ্রামে আশা ইস্তকই, মাঝে মাঝেই মুর্চ্ছা যাচ্ছে। ভেবেই নিয়েছে আজ জংলী দের হাতে প্রান যাচ্চছেই, কনফার্ম। ওকেই নাকি শিক কাবাব করে খাবে। ভেউ ভেউ করে কাঁদছে মাঝে মাঝে। আমার মনেও যে সে ভাবনা আসেনি, তা নয়, তবুও তারমধ্যেই কিছুটা নার্ভ শক্ত রেখেছিলাম। খানিক পর আমাদের একটা ঘরে নিয়ে যাওয়া হলো। চারিধারে সুপারি বা ঐ শ্রেনির খূটি জাতীয় গাছ, মাটি থেকে কমপক্ষে ১৫-২০ ফুট উচুতে, বাস-কাঠ-আর বেত দিতে ছোট্ট ছোট্ট খুপরি ঘর। পাতি বাংলায় ‘ট্রি-হাউস’। উপরে শন- আর শুকনো ঘাস দিয়ে ছাওয়া। বন্য জন্তুদের রক্ষা পাবার একটা প্রয়াস। কষ্ট বলতে শুধু একটু বোটকা গন্ধ।



রাতেই আমাদের রাজসিক নৈশভোজের ব্যাবস্থা হল। পোড়া মাটি-আলু, হালকা নুন আর লংকার পেষ্ট দিয়ে ঝলসানো বুনোমুরগি, আর জীবনে প্রথম খাওয়া পিঁপড়ের ডিম। সারাদিনের ক্লান্তিতে সেটাই গোগ্রাসে খেলাম। কেমন যেন স্বপ্ন স্বপ্ন লাগছিল। খেতে খেতেই শুনলাম, ওই ছেলেটি বোবা। সারাদিন বনে বনেই ঘুড়ে বেড়াই। নামটা কি যেন একটা বলেছিল।



ওরা নাকি আদিবাসী নয়। তারা আর্য। সেটা নিয়ে দেখলাম বেশ একটা গর্ব আছে। আরো অনেক কথাই বলেছিলো, প্রচণ্ড ঢুলুনির চোটে সে সব আর খেয়াল নেই। সকালে এক জন বিট অফিসের কিছু কর্মীর ডাকেই ঘুমটা ভাঙলো। তাদের জিপে করেই রওনা দিলাম, ওই পল্লীকে বিদায় জানিয়ে। বহুকিছু জানার ইচ্ছা অপূর্ন রেখেই রওনা দিলাম। এর পর সরকারি মুচলেকা আর জরিমানা দিয়ে, বনবাংলো হয়ে সন্ধের সময় NGP তে এসে উপস্থিত হলাম। রাতের ট্রেনে বাড়ি।



সেদিন বাড়িতে খড় জাতীয় কুছুর নরম গদিতে শুয়ে একটা স্বপ্ন দেখে ছিলাম, দেখি সেই জংলী ছেলেটা আমাকে বলছে জাগো... উন্মাদ জাগো, সেদিন তুমি অনেক প্রশ্ন করেছিলে , আজ আমি এসেছি তোমাকে সেই সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে... জাগো... বলেই সে বলতে শুরু করলো...



আমি মণ্ডলীর শ্রেনিবিন্যাসের খন্দ, 
যার স্পর্শতে সদা সর্বদা শঙ্কা,
মদীয় সৃষ্ট অশৌচ গুপ্তি, প্রক্ষালিত ঋষভ 
বিষ্ঠাতে লব্ধকাম, মানবতার ডঙ্কা।



শ্লীলতার উপকন্ঠ হইতে বিযুক্ত আমি, দূরে...
কোন স্বতন্ত্র পল্লিতে, গোষ্ঠীগত;
ইতিহাস সাক্ষ্য, বেদের নির্যাস আরোপিত,
অচ্ছুৎ সংজনন, চর্তুবর্ণে নিহত।



জগুপ্সিত অভিধেও, প্রসব কালের সাথেই,
মদীয় ভগিনী প্রনরেনি ভার্যা,
রমন ক্রীড়া সরঞ্জাম তুল্য, অতিন্দ্র অস্পৃশ্য !
অঘোরীয় নহে, অতীব পূন্য কার্যা।



দীপনের রশ্মিবিচ্ছুরণ, দেবসেবা, আত্ম তেজ! 
যদিত্ত সকলি ব্রাম্ভন্য সম্পদ;
আমরা জন্মদোষে দোষী, অস্বীকৃত কর্মযোগী
নিপীড়নের বর্ণশ্রম, শ্বাপদ।



মনুস্মৃতি আকর শাস্ত্র, যুদ্ধে কেবল ক্ষত্রীয়
অসূয়াভর শুশ্রূষা, কিন্তু আমি আর্য,
উৎপীড়নের সাধনি অঙ্গ, উদ্গমাখ্যান?
মঙ্গল্য হরষে উচ্ছিষ্ট যত বীর্য।



বেনিয়া চাতুর্য কুসীদ! তালুক! স্থাবর-অস্থাবর
অলীক কল্পন; সবই বৈশ্য কুক্ষিগত;
বাকি সমাজের যাহা কিছু বর্জ্য, উহাই মদীয়
নিষ্কার্য, আয়ুস্কালভর শুদ্ধিরত।



অনুলোম পরিপূরণে সবর্ণা সিদ্ধ, নষ্ট কেবলি
স্বীয়নারী, ভোগ্যবস্তু আরত্তা;
ব্রহ্ম পাদ সৃষ্ট মোরা, রদবার্ত্ম ধনোপার্জন,
আগড়া বসনে অস্তিমান সুদত্তা।



উন্নাসিক মনোবৃত্তি! সে আমারে নাহি সাজে,
আমি দীন, অতি হীন ক্ষুদ্র, 
নীদাঘের কৃষ্ণবর্ন অম্বুদ রাজীর ন্যায় বৈভাষিক
আমিই সমাজের নিকৃষ্টতম! “শূদ্র”।




হঠাৎ ধরপড়িয়ে ঘুম টা ভেঙ্গে গেল, দেখি সামনে মা বলছেন, মানা করলে তো শুনবি না, ঘুমের ঘোরে কি রকম ভুলভাল বকছিলি বল দেখি। আরো অনেক কিছুই বলছিলেন, কিন্তু মন টা কি রকম যেন একটা অদ্ভুত ভাললাগার গ্রাসে ছিলো যে সে সব আর শোনাই হয়ে উঠেনি।



(প্রাপ্তমনস্কদের জন্য, উন্মাদীয় বানানবিধিতে সজ্জিত একটি সম্পূর্ন উন্মাদীয় ভাবনার ফসল)
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

উন্মাদীয় প্রেম বিশ্লেষণ


প্রেম, বড় মধুর......

 বিষ-lesson

দুজন মানুষের মধ্যে, হৃদয়ের টানে গড়ে ওঠে যে সম্পর্ক, তা হলো প্রেম। কোনো সময় এ সম্পর্ক রক্তের সম্পর্কেও নস্যাৎ করে দেয়। মানবতা, প্রেমকে আখ্যা দিয়েছে একটি মহান সম্পর্ক হিসেবে। কিন্তু, সমাজ ভিন্ন কথা বলে। আমাদের সমাজে প্রেমকে দেখা হয় নেতিবাচক দৃষ্টিতে, অনেক সময়ই ঠাট্টার ছলে। প্রেমের গভীরতা যতই হোক না কেন, তা আজও সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারেনি। সমাজের তালেবরদের কাছে, প্রেম মানেই সেখানে একজন পুরুষ ও একজন স্ত্রীর উপস্থিতি আবশ্যিক। 

বিষয় টা কি অদৌও শুধু মাত্র সেই ভাবনাতেই কি আটকে রয়েছে(!) প্রেম মানেই তো হল নতুন করে নিজের জন্য নিয়ম তৈরি করা, নিজের জন্য বাঁচা। কিছু ভিন্নধর্মী প্রেমকে আমাদের সমাজ দিয়েছে নিষিদ্ধ রূপ।
এই প্রেম ঈ হল, সকল শৃষ্টির আদি। প্রেম কে কখনো “পূর্ন – অপূর্ণতার” মাত্রা দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। ইস্পিত লক্ষ্যে পৌছাতে পারলেও প্রেম, না পারলেও। হোক না তাৎক্ষনিক, তাতে কি!! প্রেম কি কখনো কারো পরোয়া করেছে??? প্রেম যদি মিলনের রাস্তা ধরে তার যাত্রা শেষ করে, তবে তা সুখী জীবনের একটা অধ্যায় হিসাবে থেকে যায়। আর যদি বন্ধুর পথে বারংবার পরিক্ষার সম্মুখীত হতে হতে, মাঝপথে বিলীন হয়ে যায়, তাহলে সেটা ওই মানুষটিরজীবন ইতিহাসের পাতায় স্বর্নাক্ষনে অমরত্ব লাভ করে।

পরম করুনাময় ঈশ্বর, যদি তার শৃষ্ট মনু প্রজাকুলদের প্রেমের আগলে যদি বেঁধে না রাখতেন, আস্তিক মতে, তাহলে কবেই নাকি এই ধরাধাম থেকে মনুষ্যজাতি বিলুপ্ত হয়ে যেত। সেক্ষেত্রে প্রেম ই কি সৃষ্টির একমাত্র রহস্য নয়!!

“প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে ,কখন কে ধরা পরে কে জানে!
সকল গর্ব হায়, নিমেষে টুটে যায়,সলিল বয়ে যায় নয়ানে”।


তাই কে যে কখন এই ফাঁদে আঁটকা পরবে, তার গননা করা বোধহয় অতিবড় গনৎকার এর ও অসাধ্য। প্রেমের যে কোন আকার নাই। কোন নির্দিষ্ট সুত্র ও নেই। প্রত্যেক টি প্রেম, তার নিজের নিজের মত করে সতন্ত্র। তবুও আমরা ও আমাদের বৃহত্তর সমাজ, সব সময়ই চেয়েছি, একটা চিরচেনা গন্ডির মধ্যে, নির্দিষ্ট পরিচয়ের ঘেরাটোপে প্রেমের ঠিকানা এঁকে দিতে।
প্রেম অবাধ্যকে বাধ্য করে। ধৈর্য শক্তির ক্ষমতা বাড়ায়, দায়িত্ববোধ সৃষ্টি করে। প্রেম ক্ষমা করতে শেখায়। আমিত্ব ভাবের অবসান ঘটিয়ে আমরা তে ও তো উতীর্ন ঘটায় এই প্রেমেরই বন্ধন।
বিভিন্ন ধর্মের মাঝে একমাত্র সেকুলার ধর্ম :-

প্রেম 
***********************************************
ভালোবাসা মানে না কোনো বাঁধন। আর প্রেমাতুর হৃদয় হলো কোমলগান্ধার। তাই অনেক ক্ষত্রেই প্রেম ছাড়িয়ে যায় ধর্মের গণ্ডিকেও। দুজন ভিন্ন ধর্মের মানুষ জড়িয়ে পড়ে প্রেমের সম্পর্কে। মানুষ তো মানুষই। মাতৃ জঠর থেকে, সে তো ধর্ম নিয়ে জন্মায় নি, সে জন্মেছে হৃদয় নিয়ে। আর অন্তরের ডাকে বিমুখতা দেখানোর সাহস, সন্ত ভিন্ন, অসম্ভব। এ ব্যাপারটিই কাজ করে সমগ্র পৃথিবী জুড়ে, প্রায় প্রত্যেক ভিন্ন ধর্মের সমাজের ক্ষেত্রে। পশ্চিমি সভ্যতার দেশগুলো এটা কে অনুমোদন করলেও, এমন প্রেমকে আমাদের সমাজের বৃহৎ অংশ তো এখনো একে অনুমোদন দেয় না। শুধু সমাজই বা কেন, পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব সকলেরই রক্তচক্ষু পতিত হয়, যখন দুই ধর্মের দুটি মানুষের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে।

মহাকাব্য
লেখক যখন নিখতে বসেন, তিনি কি জানেন, যে তার এই লেখাটা পাঠক কুলের কাছে সমাদৃত হবে, কি না। ঠিক সেরকম ঈ, প্রেমের কোন পাটিগনিত নেই।উপপাদ্য নেই। হিসাব-নিকাষ করে আসলে প্রেম হয় না। তাই বয়সের হিসাবটাও মাঝে মাঝে বাদ পড়ে যায় প্রেমের সম্পর্কে। বয়সে ছোট কোনো ছেলেকে দেখা যায় বয়সে বড় কোনো মেয়ের প্রেমে পড়তে। এই অসম বয়সের প্রেমও আমাদের সমাজ নিষিদ্ধ বলে আখ্যায়িত করে। প্রেমিকযুগলকে যেতে হয় বিভিন্ন বিব্রতকর ও দুঃখজনক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে। সমবয়সী নারী-পুরুষের প্রেম তো হরহামেশাই দেখা যায়, বর্তমানে বেশি বয়সী নারী ও কম বয়সী পুরুষের মধ্য প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে প্রায়শই। কত প্রেম যে অধরা মাধুরী হয়ে থেকে যায়, শুধু মাত্র এই কারনে। যদিও প্রকাশ্যে এই মাধুরীর উদাহরণ, দেয়ার মতো সংখ্যায় বেশি নয়। তাছারা প্রেমের কোন অবস্থান নেই যে ভুগোলের ম্যাপে ফেলে তাকে ল্যাট-লং দিয়ে তাকে চিহ্নিত করা যায়। তাই মনের গহীন অন্তরালেই লুকিয়ে লুকিয়া শ্বাস বায়ু ত্যাগ করে যায়।
মাঝ বয়সি প্রেম
****-************
অনেক নারী ও পুরুষ রয়েছেন, যাঁদের অনেক বয়স হয়ে গেলেও বিভিন্ন কারণে বিয়ে না করে সমাজে বসবাস করছেন। কঠোর বাস্তবের মাটি হয়তো যৌবনের দ্বীপ্ত দ্বিপ্রহরে দায়বোধের যাঁতাকলে পিশতে পিশতে কখন যে জীবনের অপরাহ্নে পৌছে গেছেন। সেটা খেয়াল ঈ করা হয়নি।কিন্তু মনের মধ্যে সঞ্চিত প্রেম সুধা, তীব্র গড়লের ন্যায় পান করে বসে থাকেন। পুরুষদের ব্যাপারে সমাজ অতটা মাথা না ঘামালেও নারীদের প্রতিনিয়ত হতে হয় অসংখ্য প্রশ্নের সম্মুখীন। নারী ও পুরুষ উভয়কেই মুখোমুখি হতে হয় বিব্রতকর পরিস্থিতির। এহেন অবস্থায় যদি মধ্য বয়সী কোনো নারী বা পুরুষ প্রেমে পড়ে যায়, তাতেও রয়েছে সমাজের চোখ রাঙানি। এই বয়সে এসে প্রেমকে যেন নিষিদ্ধই ঘোষণা করা হয় নারী-পুরুষদের জন্য। কিন্তু কেন??? কথিত আছে ৪৫ বছরের পর নাকি, মানব জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায় রচিত হয়। তাহলে প্রথম ভাগে প্রেমের স্থান স্বিকৃত হলে, দ্বিতীয় ভাবে ওটা বিকৃত বলিব কেন?? শুধু মাত্র বিবাহ ঈ কি প্রেমের পরিনতি! প্রেমের গন্তব্য কি শারিরিক চাহিদার সাথেই নির্ধারিত হয়!! যদি তা না ঈ হয়, তাহলে বরং মানুষটি নতুন করে তাঁর জীবনে প্রেমাঙ্কুর বপন করলে, তীর্যক দৃষ্টি কি অতিপ্রয়োজনীয়। আমাদের সামাজিক অবস্থাটা এমন যে, মধ্য বয়সের প্রেমকে স্বীকৃতি তো দেয়াই হয় না, বরং দেখা হয় নেতিবাচক দৃষ্টিতে আরো অহরহ সামাজিক ভাবে তাদের বিবস্ত্র করা হয়। জীবন্ত লাশ হয়ে শুধু মাত্র ফাঁপা সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকার মধ্যে যৌতিকতা কতটুকু!!


পরকীয়া
~~~~~~
এমনিতেই নিষিদ্ধ বস্তু বা দ্রব্যের প্রতি মানব প্রজাতির অমোঘ টান। তাহার উপর "পর" শব্দ টা বোধ হয়, মনুষ্য জাতীর সর্বাপেক্ষা প্রিয় শব্দ, আর পরচর্চা যখন, তখন তো তা চোর্ব্য চোষ্য লেহ্য। আর পরকিয়া!!! এ রশের মিষ্টতা সে ঈ জানে, যে চেখেছে। কী পাশ্চাত্য কী প্রাচ্য, পরকীয়া প্রেম সকল সমাজেই নিষিদ্ধ একটি সম্পর্ক রুপে গনিত হয়। এটা এমন একটি সম্পর্ক, য্রখানে ভাবা হয় কখনোই ঐ সমস্ত ব্যাক্তিবর্গের পরিবারে নাকি শুভ ফল বহন করে না। পরকীয়ায় ভিন্ন মানুষ ভিন্ন কারণে জড়িয়ে পরেন। কখনো এর পেছনে কাজ করে বিবাহিত জীবনে অসুখী হওয়াটা, কখনো কাজ করে শুধুই ভালো লাগা বা নিগুঢ় হৃদয় এর টান, আবার কখনো কাজ করে শুধুমাত্র শারীরিক চাহিদা। অনেকেই এই প্রেম কে সর্বনাশা বলে অবিহিত করেন। সংসারে ভাঙ্গন, অশান্তি, নৈতিক অবনতি – এ সব কিছুর পেছনেই দায়ী করা হয়ে থাকে পরকীয়া নামক সর্বনাশা প্রেমের সম্পর্ককে। পরকীয়ায় জড়িয়ে পরা মানুষগুলিকে সামাজিক ভাবেও হেনস্থা হতে হয়।
আমরা যখন ভোজন করি তখন ভিন্ন ভিন্ন রকমের তরিতরকারি দিয়ে পরিবেশিত খাবার নোলা ডুবিয়ে খেয়ে তৃপ্তির সাথে ঢেকুর তুলি। কিন্তু প্রতিনিয়ত সংসারের ঘানি টানতে টানতে, একজন পুরুষ বা মহিলা যখন তার সংসারে কাছে, সুধুই মাত্র এটিম কাউন্টার হয়ে যায়। তখন হয় তাকে হৃদয় কে পাষানে পরিনত করে মূকবধীর সেজে যেতে হয়, নতুবা বিশাল ধরনীতলে সেই ব্যাক্তিটির মননের সাথে মিল যুক্ত সে রকম ঈ পাষান বিগলনে সমর্থ কোন তৃতীয় হৃদয় এর সন্নিকটে চলে আসে।

বিবাহের পূর্বে ভালো কে ভালো বলার, সুন্দর কে সুন্দর বলার অধিকার থাকে, কিন্তু বিবাহ যাঁতাকলে পড়ে গেলেই, এই মানবীয় গুন গুলো কে আকস্মাৎ ত্যাজিতে হবে। এ বড় ২১ শে আইন।পরকিয়া শুরু হয়, কোন একজন “পর” কে দিয়ে। কিন্তু একবার এ প্রেম শুরু হয়ে গেলে, তখন সে কি আর পর থাকে?? সে তো তখন, কখন মনের অজান্তে আপন হয়ে বসে আছে, গোপনে!! হোক না সে তো প্রমের শিকলে হৃদয়ে বন্দি। তাহলে পরকিয়া বলে কিছু আছে কি!!!


বিচ্ছিন্নতা এবং প্রেম
******************** 
একজন সুস্থ মানুষের জীবনে বিবাহ খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। এই বিবাহ বন্ধন ও ভেঙে যেতে পারে নানাবিধ কারণে। বিবাহ যদিও মোটেই ঠুনকো কোনো বন্ধন নয়, তবুও মতের অমিল, কলহ, মূল্যবোধের পার্থক্য অথবা নানা অজানা কারণে বিবাহের মতো একটি সম্পর্ক ভেঙে যেতে পারে। বিবাহ ভেঙে যাওয়ার পর সেই দুর্বল মানুষ টি যখন একাকিত্বের গহ্বরে তলিয়ে যেতে থাকে, অবিশ্বাসের গোলোকধাঁধায় পাক খেতে খেতে, সেই মানুষটির আবার স্বপ্ন দেখার ইচ্ছাই হলো প্রেম। বেঁচে থাকার রসদ খোঁজা, প্রান ভরে মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নেওয়া, এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। কিন্তু আমাদের সমাজ ডিভোর্সড মানুষের প্রেমের ব্যাপারে বড্ড কৃপন।যেন এটা একটা মানসিক বিকার। তাঁদের প্রেমে পড়াটা যেন নিষিদ্ধ একটা কাজ করা! বিবাহ ভেঙে যাবার পর আবার সম্পর্কে জড়াতে চাইলেই শুরু হয় হাজারো মানসিক লাঞ্ছনা-গঞ্জনা, কখনো কখনো শারিরিক ও। সমাজের দ্বারা প্রতি নিয়ত গন ধর্ষিত এই মানুষ গুলো যখন সমাজ থেকে বিতারিত মনে করতে শুরু করে, এই প্রেমই তাকে আবার সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনে। চতুর্দিকের ক্রমবর্ধমান চারিত্রিক খুঁতের অন্ধ কানাগলিতে, নিজের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতেও সইতে হয় নানান কটু কথা। সমাজ তাঁকে বিবেচনা করা অপরাধী হিসেবে।

কতটুকু লেখা সম্ভব এই প্রেমকে নিয়ে! তাই এখানেই ইতি... 


কিন্তু প্রেম চির মধুর।


(উন্মাদীয় বানানবিধি ও ভাবনায় পুষ্ট তথা দুষ্ট)



রবিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৪

পাগলী


*****পাগলি*****

কাল হাইকোর্টের কাজ শেষ করতে করতে একটু বেলাই হয়ে গেছিলো।যা গুমোট গরম, সারাদিনিই তো আকাশের মুখ ভার। আদ্রতার মাত্রা শরীরের যেখান সেখান দিয়ে জল বেড় করিয়ে ছারছে। সাড়ে চারটে নাগাদ কাজ শেষ হলো সেই দিনের মত, সেই সকাল সাড়ে দশটাই ঢুকেছি। লাষ্ট দুমাস এটাই যেন ভাত ঘড় হয়ে গেছে। বাড়ি ফিরবো, বেড়োবো বেড়োবো করছি, এমন সময়...
দক্ষিণেশ্বরে একটা ছোট্ট কাজের কথা মনে পরে যাওয়ায় সেই পথেরই পথিক হলাম। রাস্তায় মাত্রা ছারা ট্রাফিক। এটাই তো আমাদের তিলোত্তমার পরিচিতি। যাই হোক CR Avenue ধরে গন্তব্যে পৌছালাম। এবার কাজ সেরে ফেরার পালা। সাধারনত সেকেন্ড হুগলি ব্রিজ দিয়েই বাড়ি ফিরি। আর ওই বিভীষিকা পেরিয়ে সেকেন্ড হুগলিব্রিজ যাওয়ার প্রশ্নই ছিল না। তাই বালি ব্রিজ হয়েই NH-2 ধরার পরিকল্পনা নিলাম। ও বাবা সামান্য এগোতেই গোদের উপর বিষফোঁড়া ...
বালিব্রিজের এন্ট্রান্স মানে ডানলপ ব্রিজের নিচের জ্যামটা লাষ্ট ৪০ মিনিট নট নরনচরন। অগত্যা কল্যানি এক্সপ্রেসওয়ে।

হাঁড়ীচাঁচা কপাল। কল্যানি এন্ট্রাসের আগে যে রেলব্রিজটা আছে, সেটাও নাকি মেরামতির জন্য বন্ধ।
শেষমেশ, কাচরাপাড়া রোড, ব্যারাকপুর হয়েই রুটটা দাঁড়ালো।
যারা হাইকোর্ট বা ব্যাঙ্কশাল কোর্টে গেছেন, তাঁরাই একমাত্র জানেন যে কি আজব ঘুলঘুলাইয়া জাইগা। একবার ওই ফাঁদে ভাগ্যদোষে আটকা পরলে, দশ চক্র লাগবে না, একচক্রেই ভগবানকে ভুত বলে মনে হতে বাধ্য। পকেটে লাখ টাকা থাকলেও পেটে খাবার জুটবে না, কপালে না থাকলে।
শরীরটাও খারাপ বর্তমানে, কদিন ধরেই জ্বরে কাহিল। ডাক্তারে বলেছে স্ত্রী মশার চুম্বনের লেঙ্গিতে নাকি ডেঙ্গি হয়েছে। হতেও পারে... তা বলে তো আর কাজ থেকে থাকে না।
সন্ধ্যা সোয়া আটটা, পেটে বেশ কয়েকটি মুষিকের কথাকলি নৃত্যানুষ্ঠান চলছে, এক্কেবারে লাইভ। রোল বা চাউমিনের খোঁজ চলছিলো। তখন ব্যারাকপুর স্টেশনের বাঁক টা জাষ্ট ঘুরছিলাম। ঘুরেই বাঁ হাতে একটা খাবারের দোকান দেখলাম।
দাদা বৌদির হোটেল। উপরে ভিনাইল বোর্ডে জ্বলজ্বল করছিলো।
বাপরে বাপ। সে কি ভিড়। বিরিয়ানি বিলাসীদের ভিড়। রীতি মত লাইন দিয়ে লোকে পার্সেল নিচ্ছে ও বসে খাচ্ছে। ড্রাইভার গাড়ি নিজেই থামালো। আমার বিরিয়ানি বিলাসের খবর তার কাছেও ছিল। আমার একজন এটেডেন্ট মানে সহচর, বিরিয়ানি সংগ্রহের লাইন লাগালো, আমি একটা সিগারেট ধরিয়ে সুখটানের মৌতাত নিচ্ছিলাম, দীপ-অয়ন্তিকার ম্যাডলি মেলোডি শুনতে শুনতে।
হঠাৎ গাড়ির ডিকিতে একটা দরাম করে বেশ বিকট আওয়াজ। বাঁকের মোড়, সরু রাস্তা তার উপরে ভীর। পিছন থেকে কেউ ঠুকে দিলো নাকি!! মৌতাতের ঘোর কেটে, তৎক্ষণাৎ লাফ মেরে নেমে দেখি, এক পাগলি ডিকির প্রশস্ত জাইগাটাকে ড্রাম হিসাবে ব্যাবহার করছে, তূরীয় বেপরোয়া মেজাজে। দেখেই মটকা গরম হয়ে গেলো, কিছু বলতে যাবো, দেখি আমার ড্রাইভারের সাথে ইতিমধ্যেই ধাক্কাধাক্কি পর্ব শুরু হয়ে গেছে।
মাঝখান থেকে বেশ কিছু সমাজসেবির কোত্থেকে না জানি দুম করে আমদানি হয়ে গেলো। এবং তাঁরা পাগলির পক্ষ নিয়ে নিলেন অচিরেই। ফলস্বরুপ আমার ড্রাইভার ফ্রিতে একটা মাঝারি সাইজের থাপ্পর, অযাচিত উপহার স্বরূপ গ্রহন করে ফেলেছে। সমগ্র ঘটনাটার সময়কাল দু মিনিটেরও কম সময়ে।
সে যাই হোক, আসন্ন বিরিয়ানির খুশবুতে খানিকটা যে চোনা ফেলে দিলো তাতে সন্দেহ নেই।
তখনও আমার সহচরের সিরিয়াল ৬ জনের পর। দেখলামাবার ওই পাগলিটা কে কেন্দ্র করেই ফের একটা জটলা হচ্ছে। মুড ছিলো না, তাই যাবার প্রশ্নও ছিলো না। মাঝখান থেকে ওই দাদাবৌদি হোটেলের স্টাফ গুলোও দেখি ওই ভিরে সামিল হয়েছে। অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হচ্ছিল মিছিমিছি। লাইনে দাঁড়ানো ছেলেটাকে ডাকবো বলে গাড়ি থেকে নামতেই দেখি পাগলিটাকে বেধরক পেটাচ্ছিলো, সেই... সমাজসেবীর দলটা। প্রায় উলঙ্গ হয়ে আমার গাড়ির কাছটাতে আত্মরক্ষার্তে আসতেই , আমার ড্রাইভারও দেখি, পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনা ঝাল মেটাতে উদ্যোত। একটা ধমকি দিতেই , ও গজগজ করতে করতে থামতে না থামতে সেই দলটা এসে হাজির। কে আবার ফালতু লাপরা চাই বলুন।
আমার পিছনে পাগলিটা আশ্রয় নিয়েছে, এবং উচ্চস্বরে অপর পক্ষের উদ্দেশ্যে অশ্রাব্য গালি বর্ষন চলছে। তখন খেয়াল করলাম, একজন মাঝ বয়সী অত্যান্ত ফর্সা, স্বল্প উচ্চতার শীর্ণ চেহারার এক মহিলা। তাকে ধরতে হলে আমাকে টপকে ধরতে হয়। আমার বিশাল বপু দেখেই হবে বোধ হয়, ওই সেবাদলটির অগ্রাশন কিছুটা প্রতিহত হয়েছে। ওদেরই শুধালাম যে, ব্যাপারটা কি??
ওই দল থকেই একজন বাতুল গোছের ছোকরা জবাব দিলো, সে "ভবিপাগলি" নাকি আমার গাড়ি দেখে, একটা আইডিয়া করে আসে, উদ্দেশ্য বিরিয়ানি খাওয়া বা পেট ভরানো। খুশির চোটে পাগলির আভ্যন্তরিন মিউজিক সিস্টেম চালু হয়ে যায়, তবলার যোগ্য সঙ্গতের জন্য আমার গাড়ির ডিকিটিকে ব্যাবহার করে, তার পরে্র ঘটনা পূর্বেই উল্লেখিত।
এখন ওই পাগলির চরম রাগ ওই সেবা দলের লোক গুলোর উপর, কারন তারাই গাড়ির ড্রাইভারটিকে মেরেছিলো। পাগলির বিশ্বাস এই গাড়ি মালিকই তাকে বিরিয়ানির বা অন্নসংস্থান করে মাঝে মধ্যে, ঘটনাক্রমে সেটা যে আমি নই বা বেশিরভাগ সময়েই আলাদা আলাদা ব্যাক্তি থাকে সেটা পাগলির বুদ্ধিতে আসার কথা নয়, তাই গাড়ির ড্রাইভারকে চড় মারার দরুন ব্যাথাটা আসলে পাগলিটারই লেগেছিলো, সুতরাং তাদের মানে সেবাদলের উপরে খিস্তি বর্ষন হচ্ছিলো, সঙ্গত কারনেই। পরিনাম স্বরূপ ওই গনপ্রহার।
পয়সা মেটানো হয়ে যাবার জন্য, বিরিয়ানি শেষ পর্যন্ত নিতে হলো ঠিকিই। কিন্তু ততক্ষনে খাওয়ার মুড চলে গেছে। আস্তে আস্তে ভিড় টাও পাতলা হয়ে গেল। পাগলিটাও স্টেশনের দিকে এগিয়ে ভিড়ের মাঝে হারিয়ে গেলো। একটা প্যাকেট তাকে খুব দিতে ইচ্ছা করছিল, কিন্তু কেন জানিনা দিতে পারলাম না। বোধহয় একটা নিকৃষ্ট শ্রেনির লজ্জা ক্রিয়াশীল ছিল আমার ভিতরে...
আবার কোন গাড়ি আসবে, পাগলিটা এসে খিদের জ্বালায় কিছু পাগলপনা করবে। কিন্তু কি জুটবে জানা নেই, সাধারনত ধোলাইই খাবে, ভাগ্য ভালো হলে কিছু উচ্ছিষ্ট জুটে যাবে আর খুব ভালো হলে গোটা এক প্লেট খাবার। এভাবেই দিন চলে যাবে, হোটেলটার, ওই সরু বাঁকের রাস্তার, সাথে ওই পাগলিটারও। মাঝখান থেকে কিছু সেবাদল আর কিছু আমার মত অনিয়মিত পথিক মজা নিতে থাকবে, ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত।
আসতে আসতে ভাবছিলাম, ওই সেবাদলটির কথা। কি দরকার ছিল বাবা, প্রথমে বাঁচানো ও পরে ওই বিচ্ছিরি ভাবে গন প্রহার করার। শেষে একটা সিদ্ধান্তে পৌছালাম...

আমিও তো ওই দলেরই তো প্রতিনিধি। মেরুদণ্ডহীন স্বার্থপর কাপুরুষ।
আবার নির্লজ্জের মত লিখেও ফেললাম।
পাগলটা আসলে কে ছিল!!!!!!!!

শনিবার, ১৫ মার্চ, ২০১৪

মামলার চাপ


জুতোর সুখতলা.....
সে কবেই গেছে ক্ষয়ে
আমার আদালত যাত্রা
চলছে নিজের লয়ে।

উকিলের ফুলঝুরি বানী
প্রানে আনন্দধারা বয়,
হাকিমের নিষ্কম্প বাক্যবাণে
শিরদাঁড়ায় হিমেল ভয়।
আ-তে আনাগোনা নিরন্তর
দা-য়ে দায়ভার সাথে দেনাপাওনা,
ল-য়ে লানছনা গঞ্জনা
ত-য়ে তোষামোদ করো আছে যতজনা।
এই ধ্যানজ্ঞানে দিনকাল আজ
বাকি সব বরবাদ,
মামলার চাপে গামলা বন্দি
উন্মাদ হোলস্কয়ার হার্মাদ।

রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৩

বই বিলাস



আজকের পাঠক ও বই বিলাস

আমার বইয়ের গন্ধটা শুঁকতে ভারি ভাল লাগে, আনকোরা নতুন বইয়ে কত রকমের আলাদা আলাদা গন্ধ।শুকে দেখবেন কখনো, আঠার গন্ধ, কাগজের গন্ধ, ছাপার কালির গন্ধ, কাঠ মলাটের গন্ধ, মলাটের রঙিন রঙের গন্ধ, বইপোকা তারানোর কীটনাশকের গন্ধ সহ আরো কত্তো রকমের নিজশ্ব গন্ধে ভরপুর। পুরাতন হলেও কত মানুষের হাতের স্পর্শের গন্ধ। বড় পাগল করা সেই গন্ধ। যে বই শতছিন্ন, মানে সে বই বহু পাঠকের মগজে মননে স্থান পেয়েছে, সুতরাং সেই বইয়ের গন্ধ আমি প্রানপনে নিই, যে কোন সুগন্ধি ফুলের গন্ধের থেকে এমন বইয়ের গন্ধ আমার কাছে ভীষণ মন্ত্রমুগ্ধকর। এরপর যদি ওই বইয়ের লেখা যদি মনে ধরে গেল, তখন সব গন্ধ ছাপিয়ে সাহিত্যের গন্ধেই অনেকবার ওই বই বারবার খুলতে ইচ্ছা করে, হৃদয়ের কৌটোতে ভরে রেখেদিই চিরদিনের তরে।

আজকাল বই উপহার দেবার চল অনেকটাই কমেগেছে। ছোটবেলায় জন্মদিন, কুইজ প্রতিযোগিতা সহ বিভিন্ন ছুতোতে বইই উপহার দেওয়া হত। এখন অবশ্য মেকি উচ্চসামাজিকতা আর বিপণন সর্বস্ব যুগের প্রভাবে ক্যাডবেরি, সফট টয়, কিন্ডারজয়ের যুগ। এতেকরে শিশুদের তাৎক্ষনিক আনন্দ প্রদান করা যায় ঠিকিই, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি জ্ঞানমূলক কোন ভাল হয় কি? সুঅভ্যাসের জন্য শিশুকালের থেকে বড় ভাল সময় আর কিইবা আছে। আমাদের গুরুজনেরা আমাদের শিশুকালে রামায়ন মহাভারত, জাতকের গল্প, ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমী, নন্টেফন্টে, মহাপুরুষদের জীবনি সহ কত্তো দারুন দারুন বই উপহার দিতেন। কিন্তু আমরা কি আমাদের আগামী প্রজন্মকে সেরকম কিছু দিয়েছি? আসলে আমাদের অধিকাংশের নিজেদেরই তো পড়ার অভ্যাস নেই, তাহলে শিশুদের কিভাবে উৎসাহিত করব? ওরা কেন পড়াশোনাটাকে একটা দুর্বোধ্য কিছু ভাবনে না? কারন পাঠ্যপুস্তক তো সমস্ত পৃথিবিতেই প্রায় রসকষহীন। সেই পাঠ্যপুস্তকের বাইরে তাদের জন্য লোভনীয় পড়ার বই তো আমাদেরই যোগান দিতে হবে তাদের। আমাদের না পড়ার রোগটাই আগামী প্রজন্মের কাছে কিন্তু মহামারি রূপে ফেরত আসবে।

ছোট বেলায় মা ঠাকুমারা বলতেন আজ সিনেমা হলে অমুক বই এসেছে, টিভিতে তমুক বই দেবে ইত্যাদি। মানে তখন সিনেমাতেও একটা একটা বই থাকত, গল্প থাকত, মৌলিকতা থাকত। আর সেগুলো সেই দর্শক মনের স্মৃতিকোঠায় আজীবন রয়ে যেত। সিনেমা নাটক যাত্রা অবশ্যই আজকের ভাষায় এন্টারটেনমেন্ট, কিন্তু সেটা অবশ্যই একটা কাহিনী নির্ভর হওয়া উচিৎ। আজকের প্রজন্ম আর সিনেমাকে বই বলে না, মুভি বলে। ঠিকিই তো একটা নতুন মুভি এলেই পুরাতনটা মন থেকে মুভ হয়ে মানে সরে যায়, তারপর মুছে যায়। প্রতিটি বইয়ের ভিতরে তো একটা করে কাহিনী থাকে, আজকালকার প্রায় সব সিনেমায় ওই কাহিনী টা ছাড়া সবকিছু থাকে, তাই ওটার আর বই হওয়া হয়না। সিনেমাকে বই বানাতে হলে শুধু শিক্ষিত হলে হবেনা, পাঠক হতে হবে, পড়তে হবে, প্রচুর প্রচুর পড়তে হবে। তবে না মনের ভিতর একটা গোটা লাইব্রেরি তৈরি হবে। আর তারপরে সেই এক মস্তিষ্ক লাইব্রেরি সমৃদ্ধ পরিচালক সিনেমা বানাবেন, তখন শুধু সেটা এন্টারটেনমেন্ট না হয়ে আবার একটা বই হবে।

আমাদের কিশোর বেলাতেও উৎসবের মরসুমগুলোতে একটা উন্মাদনা থাকত। পত্রিকার উন্মাদনা। কত লিটিলম্যাগ ছাপা হত পাড়ায় পাড়ায়। তাতে বড়রা কবিতা প্রবন্ধ ছাপাতেন, তাদের ভিতরেও একটা উন্মাদনা থাকত। একটু বড় আকারের পত্রিকা গুলোতে নামী লেখকদের পাশাপাশি কত অনামি লেখকদের লেখা পাঠক হৃদয় হরন করত। আজকাল সে সবই সুখস্মৃতি। কার্টুন নেটওয়ার্ক, এংরিবার্ড বা ক্যান্ডিক্রাশ, বা আরেকটু সাহসি দের কাছে অবাধ সহজলভ্য পর্ণের পাঁকে আটকা পরা আজকের কৈশর কি জানে, যে লিটিলম্যাগ কি? পূজো সংখ্যা পত্রিকা কি? সুতরাং ছাপানো পত্র পত্রিকার সংখ্যা স্বভাবতই খুব কমে গেছে, মুষ্টিমেয় কর্ম পাগল মানুষ সেই সভ্যতাকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন আগামীর স্মৃতির উদ্দেশ্যে। অনেকাংশেই নিজের পকেটের পয়সা ধ্বংসে।  যারা হয়ত সারাজীবনে নিজের জমাখরচের খাতা ছাড়া, কোনদিনিই কোথায় এক কলমও লিখতেননা, বা সুযোগও পেতেননা, এই বর্তমান বৈদ্যুতিন সভ্যতার বিকাশের ফলে তাদের সামনে সেই জগৎ টা খুলে দিয়েছে। আজকের দিনে ভাললেখার পাঠক খুবই কম। কারন বেশিরভাগ জনই দুলাইনের চুটকি বা মস্করার ঝোঁক বেশি, অথবা বাকিরা লেখক। তারা অন্যের লেখা পড়েনও না, মন্তব্য করা তো দুরস্থান। তাহলে পাঠক কই?

আজকের যুগে যদি কেও ভাবেন লেখালেখিকে পেশা করবেন তাহলে তিনি মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। আরে বাবা সবাই কি আর জেকে রাউলিং বা চেতন ভকত হতে পারেন! নিদেনপক্ষে একটা শ্রীজাত! সেটাও সম্ভব নয় যে লেখার জন্য চাকুরি বা পেশা ছেরে দেবেন। আগেকার দিনে বই বিক্রির একটা অংশ লেখকেরা পেতেন, ভাল লেখকের বই বিক্রি বেশি, সুতরাং দিন চলে যেত। আজকাল তো বইই কেনেননা কেও তাহলে প্রকাশক লেখককে টাকা দেবে কি করে ? সুতরাং অন্য পেশা না থাকলে লেখক হিসাবে প্রতিষ্ঠা পাওয়া অসম্ভব।পেটচালানোর জন্য নিদেনপক্ষে রেলস্টেশনে মাদুলিও বিক্রি করতে হতে পারে।আর বাকি সকল পেশাই তো আগামীর চেষ্টার জন্য পরে রইল। তবে ওই মাদুলি বিক্রির পরে কবি বা সাহাত্যিক মন কতটা অবশিষ্ট থাকবে সেটা বলাই বাহুল্য। তবে তার পরেও অনেকেই সাফল্য লাভ করেন, তাই তো তাঁরা বুদ্ধিজীবি হিসাবে গন্য হন। ,

সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনি যখন বইয়ের ছবি আপলোড দেবেন। দেখবেন কত পাঠক, কত বন্ধু বলবে আমারও আছে, কেও  বলবে-- ইশ, আমার যদি থাকতো। অনেক বুক রিডার গ্রুপে দেখি, লাইব্রেরীর ছবি দিলেই লোকজন আহ-উহ করে বলে উঠে, আহা আমি যদি যেতে পারতাম তোমাদের ওই খানে। কিন্তু যায় কজন মানুষ? আর পড়েই বা কই? সামান্য ফেসবুকেই একটা সামান্য লম্বা পোষ্ট হলে সেটাকে দায়িত্ব নিয়ে সবার আগে এড়িয়ে গিয়ে অন্যস্থানে আড্ডা বা চুটুল জোকস খোঁজে। লেখক যদি পড়াবার জন্য ট্যাগ জোড়েন এবং সেই ভুলক্রমে ওই  যদিপোষ্টে লাইক পরে গেল, তাহলে পরে পড়তে হবার ভয়ে নোটিফিকেসন অফ করে দেয় সেই পোষ্টের। ইনারা আসলে পাঠক নামের জোচ্চোর। চায়ের দোকান হাটে মাঠে ঘাটে অনেকের সাথেই তো আমাদের সামাজিকতা করতে হয় রোজ, হাতে বই দেখলেই প্রশ্ন। 'এখনো এই সব পড়িস? আর পড়ে কি হবে? ব্যাবসা ভাল চলছেনা নাকি? বাড়িতে ঝগড়া? তীক্ষ্ণ আর চটুল সব প্রশ্নবানে জর্জরিত। ভাবখানা এমন যে,  জেনে জেনে জানোয়ার হবার মানে কি?' আরে সত্যজিৎ রায় তো হীরক রাজার দেশেতে বলেই দিয়েছেন মর্মকথা, জানার কোনো শেষ নাই, জানার চেষ্টা বৃথা তাই। পড়াশোনা করে যে, অনাহারে মরে সে। 


সিনেমাতে তো পলাতক শিক্ষকও ছিল তার কথা কেউ মনে রাখে নি। মনে রেখেছে একজন একনায়ক রাজার কথা। আর সেই রাজার অন্তিম পরিনতির কথাও বেমালুম ভুলে মেরেছে।আর সেই শিক্ষকের জয়ের কথাটাও।তাহলে সোশ্যাল মিডিয়ায়, ভাবের ঘড়ে চুরি কেন?  আমার বন্ধুদের মধ্যে আরেকটা বহুল প্রচলিত বুলি, আগে খুব পড়তাম, রবীন্দ্র-সমরেশ- সুনীল- শ্রীজাত। এখন আর পড়ি না, পড়ার অভ্যাস ও গেছে। সময় না পেলে ভিন্ন কথা। কিন্তু আগে পড়ার অভ্যাস ছিল এখন নাই, এ কি কথা? আরে প্রেম কি দুম করে পালানোর বস্তু নাকি? বিশেষ করে বইয়ের প্রতি প্রেম হল বাল্যপ্রেম ও উভমুখী, যে প্রেম কিছু না কিছু দেবেই। সুতরাং সেই প্রেম কে ভুলে যাওয়া??  তার মানে হলো সেই মানুষ কোনোকালেই ভালোবেসে পড়তো না বা পড়ার প্রেমে পড়েনি। আমরা চিরকালই পড়ুয়া জাতি হিসাবে সমাদর লাভ করেছি। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মে আমাদের পাঠভ্যাসও নির্জলা পাঠ্যপুস্তক কেন্দ্রিক। আমরা তো বয়ঃসন্ধিতে বা স্কুল জীবনের শেষের দিকে বটতলার চটি বইও গোগ্রাসে গিলতাম। যদিও ব্যাপারটা নির্লজ্জ কিন্তু সত্যিই আমরা পাঠক ছিলাম। এখনও মানুষ বই পড়েন, পাঠক কমেনি কমছে শুধু মার্গশ্রেনির পাঠকের সংখ্যা, কিন্তু জনসংখ্যা বেশ কয়েক কোটি বেড়েছে ।


মনে হতে পারে আমি নিজের ঢোলই পেটাচ্ছি। আসলে ভার্চুয়াল দুনিয়াই এতো বন্ধুর মাঝেও যখন কয়েকদিন পোষ্ট না করলে, কয়েকজন হাতেগোনা বন্ধু  খোঁজ নেন, কিছু হল নাকি? আমি ভালো আছি তো? সুতরাং মুখোশের পৃথিবিতেও খোঁজ খবরের আওতায় রয়েছি। আবার ক্রমাগতভাবে উৎসাহ দিয়ে যাওয়া আপনজনেরা, অকপটুরা,  বিশেষ করে আমার বড়দাসম জয়দা, অমলিন দা, ভাস্করদা, পটল, সুব্রত সহ প্রায় জনা পঞ্চাশ ষাট মানুষ,  এনারা না থাকলে এই আঙ্গুলের ডগার পৃথিবী টাও পানসে হয়ে যেত। এদের জন্যই এই বাজনা, এনারা সহ্য করেন বা প্রশ্রয় দেন বলেই। আমার লেখালেখি মূলত নিতান্তই "নেই কাজ তো খই ভাজ" প্রজাতির, এর মাঝে দয়া করে কেও কর্ষতা খুজবেন না, সাহিত্য রস তো ছেরেই দিন। আমি পড়তে ভীষণ ভালবাসি, মোবাইল হাতে পেলে কিছু সময় ফেসবুক আর জরুরী মেল আদানপ্রদানের সময়টুকু বাদ দিয়ে, সারাক্ষন উইকিপিডিয়া ঘাটতে থাকি। একবার ওই রসে মজলে বাকি সব নেশা মিথ্যা মনে হবে।সারাদিনে গোটা দু-তিন খবরের কাগজ ও মুখস্ত করে ফেলি। সময় কেটে যায় কোথা দিয়ে। আমি মেধাগতভাবে অত্যন্ত নিন্মশ্রেনির, তার একটা কারন আমার চরম ভুলো মন, শত্রুর সাথেও যেচে কথা বলি। কারন, হয় ভুলে গেছি যে কেন তার সাথে ঝগড়া হয়েছি, বা আদৌ ঝগড়া হয়েছিল তো!!! এই কারনে এই পড়ার অভ্যাস না থাকলে কবেই গজনীর আমির খান হয়ে যেতাম।

তবুও এত ফেসবুক, টুইটার, মোবাইল, চায়ের দোকান,আড্ডাবাজি, ব্লগিংয়ের কূটকচালি ফকচেমির ফাঁকেও আমার পড়তে বেশ ভালই লাগে। সব ট্রলেই যে ভাল লেখা থাকে তা নয়, বরং যারা লেখেন আমার খুব শ্রদ্ধা হয় তাদের দেখে। অন্তত এদের জন্যই সাহিত্যচর্চাটা এখনও টিকে আছে। কোন মহান কবি বা সাহিত্যিক কি মাতৃগর্ভ থেকে বেড়িয়েই কালি দোয়াত চেয়েছিলেন? তারাও আমাদেরই মত সাধারন মানুষই হিসাবে জন্মেছিলেন, নিষ্ঠা, অধ্যাবসায়, প্রেম, আর পড়ার অভ্যাসের গুনে ভাগ্য বা অদৃষ্ট তাদের খ্যাতির চুড়োয় পৌছে দিয়েছে। সুতরাং আজ যারা চেষ্টা চালাচ্ছেন, কাল তাদেরই মধ্যে থেকে কেউ কেউ বিখ্যাত হয়ে যাবেন বলেই বিশ্বাস রাখি। প্রয়োজন -লেগে থাকা আর আরো আরো বেশি করে পড়া। ভাল হোক বা খারাপ, আগে তো পড়তে হবে, তারপর তো ভালমন্দের বিচার, তাই আমি প্রায় সব কিছুই পড়ি। তার কোনোটা থেকে কস্তূরীর গন্ধ বিচ্ছুরিত হয় তো কোনোটা স্বাদগন্ধহীন।  সময় বের করতে না পারলে মন খারাপ হয়। পড়ার জন্য মন উশখুশ করে। অনেক ভাল ভাল অন্তর্জালীয় ঠেকে তো শুধু ভাল ভাল লেখা পড়ার শখেই অনলাইনে আসি। আর যখন সম্পূর্ন পড়ার মুডে থাকি তখন মনে হয় বাকি পৃথিবীই মিথ্যা, পড়াই সত্য। সবই তো প্রায় এখনো পড়ার বাকি! মোবাইলের ঘন্টি সবসময় তাল কেটে দেয় সেই মহেন্দ্রক্ষন গুলোর, সেই পেট ও সংসারের দায়। সব বই কিনে পড়া সম্ভব হয় না। অতো সমর্থ বা সাধ্য কোনোটাই নেই। লাইব্রেরী যাব? সে সময় নেই। পেটের জ্বালায় কিছু তো কর্ম করতে হয়, সুতরাং গ্রন্থাগার নৈব নৈব চ।

ভাগ্যিস আমার বই ধার দেওয়ার কয়েকজন বন্ধু আছে, তারাই ভরসা। তাঁরা দিয়ে খুশি হন, আর আমি পেয়ে ধন্য নই। আর বই মেলার জন্য তো আগে পার্থ-প্রদীপের মত গুটিকয় মানুষ ছিল, এখন কৌশিক দা আছে। যাদের সাথে ওই সৎসঙ্গ গুলো ঘোরা হয় নিয়ম করে।।এমন ভাবেই দিন চলে যাচ্ছে গড়িয়ে গড়িয়ে। আজকাল আনন্দ পাব্লিসার্স, পেঙ্গুইন, সহ নানা প্রকাশনা হাউজ ছাড়াও আমাজন ফ্লিপকার্ট থেকে তো অনলাইনে অর্ডার দেওয়া যাচ্ছে, সেই সুযোগও মাঝে মধ্যে নিই। শুধু পছন্দ আর পকেটের যুগলবন্দি হলেই হল।তবে আমার ওই একই রোগ, আমি কোন কাজেই একদম নিয়মিত করতে পারিনা। তবে অন্যকাজ শুরুকরে শেষ না করার ঘোড়ারোগ থাকলেও পড়াটা ঠিকিই শেষ করি, নাহলে যে সারারাত উশখুশ করব।

খাপছারা উদভ্রান্ততা তো আমার চরিত্রের মুকুট। তাই  আমি বই কিনলে কলেজ স্ট্রিট থেকেই কিনতে ভালোবাসি, রীতিমত দড়দাম করেই কিনি, দিলে দাও না হলে অন্য দোকান, ওর মজাই আলাদা। তবে আমাকে যারা বই ধার দেয় গুটি চারপাঁচ মানুষ, তাঁদের ভালোবাসাতেই আমি মুগ্ধ, আর আমার বইয়ের নেশার কারিগরও তাঁরাই। তাদের বাড়ি গেলেই এক গাদা বই বগলদাবা করে নিয়ে আমি বাড়ি ফিরি। তাঁদের আলমারীর সেল্ফ ভর্তি শুধু বই আর বই। চিন্তা করেই আনি, কারন যত্ন করে পড়ে ফেরত দিতে হবে। ভুলো মন, সব সময় ফিরত দেবার কথা মনেও থাকেনা, ওই নতুন বই আনতে গেলে, তবেই ফিরতের কথা মনে পড়ে।

আমার ঘরে বই রাখার স্থান বড়ই অপ্রতুল কারন আমার রুম ভর্তি নানা রকম জিনিস, বেশিরভাগই অদরকারী। মেয়েদের দুষ্টুমির জন্য বই সাধারন ভাবে শোবার ঘরে সুরক্ষিত নয়, আর সেলফের অভাব না থাকলেও তাতে অন্তত বই রাখার জায়গা নাই, মেয়ে ও তার মায়ের সামগ্রী তেই ভর্তি। ওদের খেলনা, সাজ, পোষাক ইত্যাদির দাপটে আমিই এককোনে কোনমতে ঠাই নিয়ে আছি উদ্বাস্তুর মত। তাই বই পড়ে থাকে- জানালার স্লপে, DTH মেসিনের উপরে, ফ্রিজের মাথায়, বিছানার ফাঁসে, বৈঠকখানার চা টেবিলে, অফিসের চেয়ার টেবিল আলমারি ফ্লোর সর্বত্র বই আর বই আর ভীষণ অগোছালো। মেয়েরা কথা বলতে পারেনা তাই তারা শাষন করেনা, নতুনা, আমি এই "বই ও অগোছালো" শির্ষক বিষয়ে সকলের কাছে শাষনের পাত্র। একলাট বই শেষ মানেই আবার নতুন বই ধার আনতে হবে। আমার সাথের মানুষেরাও এটা জানে, আর আমার এই রোগের কথা মানেন ও প্রশ্রয়ও দেন, তাই আমার এই বাহুল্যতা কিছুটা সাজে, আমার অগছালো জীবন তো তারাই পরিপাটি করে রেখেছে আর এদের উপরে ভর করেই চলছে আমার দিনযাপন।

তবে এই সুখ খুব বেশিদিন থাকবে বলে মনেহয়না। আজকাল অনলাইন গ্রন্থাগারে ইংরাজি সহ বিদেশী বইয়ের অভাব নেই। সেদিন আর দেরিনেই, বা হয়ত এসেই গেছে, যেদিন বাংলা বই পড়ার জন্য আর পাঠাগার বা বন্ধুর বাড়িতে ছুটতে হবেনা। কলেজস্ট্রিট ইতিহাস না হলেও গুরুত্ব হারাবে। অনলাইনেই সব পাওয়া যাবে। বাংলা ফন্ট এখন সহজলভ্য ইন্টারনেটে বা মোবাইল ডিভাইস গুলোতে। বাংলা হরফে লেখা স্ট্যাটাস বা মন্তব্যের তুফান তোলা পোষ্টে খুব শিজ্ঞিরই ছেয়ে যাবে বলেই আমার বিশ্বাস। বড় দুঃখের হবে সে দিন আমার মত উন্মাদদের জন্য। সবই থাকবে,লেখক- পাঠকের সম্পর্কের পরিধি অনেক বেড়ে যাবে, শুধু থাকবে না নতুন বইয়ের গন্ধ। থাকবেনা আমার বই সংক্রান্ত অগোছালতা, প্রয়োজন হবেনা সেলফের। আর তার সাথে সাথে হারাবো আমার কাছের মানুষগুলোর ভালবাসা মিশ্রিত কপট রাগান্বিত শাষন।

উন্মাদীয় বানানবিধিতে দুষ্ট

রবিবার, ২১ জুলাই, ২০১৩

মহান একুশে জুলাই



মহান স্মরণ দিবস 


মহান ২১ শে জুলাই, ঠিক কি কারনে শহীদ হয়েছিলেন, সেটা জানা না থাকিলেও এই শ্রদ্ধাঞ্জলি দিবসে কিছু শিখি।

২০১৫ সালে কৃতি ছাত্ররা মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে কথাঞ্জলী পুরষ্কার পেয়ে ও পড়ে শিক্ষক হয়ে, গ্রামের পাঠশালায় তারা শিক্ষাদান করতে গেছেন।

গ্রামের একটি পাঠশালায় ক্লাস শুরু হওয়ার আগে ছাত্ররা হইচই করছে (প্রশঙ্গত:- এখানে কোন হজবরল নেই, সকলেই দামাল)। এমন সময় পন্ডিত মশাই প্রবেশ করলেন।


পন্ডিত : ওরে কেষ্ট, বেচা, দেবু, সোমু, রুদ্র, নির্মল, কানন, মধু, গোবরা, গণশা ।

ছাত্ররা : (সমস্বরে) পেজেন সার।
পন্ডিত : সে তো চোখেই দেখতে পাচ্চি। বলচি গোলমাল করচিস কেন? এখানেও কি সিন্ডিকেট বানিয়েচিস নাকি?

ছাত্ররা : (সমস্বরে) এই গোলমাল করচিস কেন?

পন্ডিত : থাম, থাম, হতভাগার দল। ওরে দেবু, কাল ইস্কুলে আসিসনি কেনে রে?

দেবু: আজ্ঞে, কাল আমার মুখ দিয়ে ধোঁয়া বেরোচ্ছিল।

পন্ডিত : ওটা তো 
একটা ছোট্ট ঘটনা। বিড়ি টেনেছিলি বুঝি? না কি তাজা পেটো খেয়েছিলি??

দেবু: আজ্ঞে, না স্যার। সে তো আপনার কাঠ ক্যালানি খেয়ে কবেই ছেড়ে দিয়েছি। মা বললেন, তোর পেটে কি আগুন লেগেছে? ওতো খাই খাই করছিস কেন? তাই...

পন্ডিত : বটে। হ্যাঁ রে কেষ্টা। তুই কাল আসিসনি কেন রে?

কেষ্টা : কাল তো আপনার সঙ্গে হাটতলায় দেখা হয়েছে। আমি ঢিল মারা পেকটিস করছিলাম। প্যাক্টিক্যাল কেলাস স্যার।

পন্ডিত : ও, তুমি শুধু দেখা করতে আসো। পড়তে আসো না? কিরে বেচা কিছু বলবি? ওই চারসোর ঘরের নামতা টা মুখস্ত হয়েছে??

বেচা: পৃথিবীর আকার কিরূপ, স্যার?

পন্ডিত : ব্যাটা বড় হয়ে বেচবি তো মাছ, কোশ্চেনের ছিরি দেকো! তবে ইম্পর্টেন্ট কোশ্চেন, টুকে নে। এটাই আমি কথাঞ্জলী তে পড়েছিলাম। মহর্ষি সুদীপ্ত একবার পিসিঠাম্মা কে এই একই প্রশ্নই করেছিলেন। পিসি তাকে নিরাস করেন নি, বিশ্বলোক দর্শন করিয়েছিলেন। পৃথিবীর আকার চতুষ্কেকাণ।

যথা−ঈশান, অগ্নি, নৈর্ঋত ও বায়ু। যদিও কুচুটে লোকে অনেক কিছুই বলে জানবি, সে সকলই কুৎসা মাত্র।

ছাত্রী : পন্ডিত মশাই। একটা ট্রান্সেলেশন বলে দিন না?

পন্ডিত : কী ট্রান্সেলেশন, দিদি?


(পুরাকালে এখানে অনেকে ছাত্র ছাত্রী দের, বাবা বা মা নামে স্নেহের ডাক ডাকতেন, এখন "দিদি" ডাকই সার্বজনীন। দেবী দূর্গাকেও অনেনেকে দেবী দূর্গার বদলে দিদি দুর্গা নামে ডেকে থাকেন।)?

ছাত্রী : আজকাল হাতিবাগান বাজারে ছয় আনা সের কুচো চিংড়ি দিয়ে একটা বড় পরিবার ভালোভাবে চলে যায়।

পন্ডিত : ওরে বাবা, টুকে নে। ইম্পর্টেন্ট কোশ্চেন। ব্রাত্যকে ব্রাত্য করা হয়েছিল এই প্রশ্নের জবাব না দিতে পারার জন্য। "টুডে, টুমরো এলিফ্যান্ট গার্ডেন মার্কেটে সিক্স এনাস সের স্নল লবস্টার, এ বিগ ওয়াইফ গোজ ওয়েল"
নির্মল : আচ্ছা পন্ডিত মশাই, তার বংশে বাতি দিতে কেউ নেই, এর ইংরেজি কী?

পন্ডিত : এসব ইম্পর্টেন্ট কোশ্চেন কোত্থেকে খুঁজে বার করছিস?  বিরোধীদের চক্রান্ত নেই তো?? 
পিসিঠাম্মার বানী অনুসারে যদিও ওটা সিপিয়েন। নে টুকে নে। দেয়ার ইজ নো ওয়ান গিভ ক্যান্ডেল ইন হিজ ব্যাম্বু। 
এই কানন, ইংরেজিতে চিমনি বানান কর? নির্মল- ব্যাম্বু ব্যাপার টার উপরে ইসস্পেসাল ধ্যান দাও। এটি পিসিঠাম্মা মাতার অন্যতম প্রিয় শব্দ ছিল।

কানন : সি এইচ আর এমনি−চিমনি।

পন্ডিত : মার গেঁড়েচে। সি এইচ আর এমনি−চিমনি। ওকে নীল ডাউন করে দাও। তোদের যে প্রথন দু মাসেই ৯৯% শেখানো কমপ্লিট করালাম তার এই অবস্থা??

চলো এবার আমরা লবান্নে পড়তে বসবো। কারন পিসিঠাম্মা দেবি কখনো এক স্থানে বসা পছন্দ করতেন না।

ছাত্র : ডিম্ব কোন লিঙ্গ, স্যার?

পন্ডিত : কি কি লিঙ্গ?? তুই ও শেষে চক্রান্তকারী দের পাল্লায় পড়লি নাকি?? যাই হোক ইম্পর্টেন্ট কোশ্চেন। ডিমের ভেতর মেল হবে কি ফিমেল হবে, কে জানে রে, বাবা। নে টুকে নে। উভয় লিঙ্গ।

ছাত্র : পন্ডিত মশাই। ঘুড়িতে লাট খাচ্ছে, ইংরেজি কী?

পন্ডিত : ও, খুব ঘুড়ি ওড়ানো হয় বুঝি? টুকে নে। ইম্পর্টেন্ট কোশ্চেন। দি কাইট ইজ ইটিং গভর্নর। এই তুই বানান কর, ফটকে।

ছাত্র : ফটকে? ফ আর পা গেছে আটকে−ফটকে।

পন্ডিত : বটে। আচ্ছা বানান কর, রুক্সিণী।

ছাত্র : রুক্সিণী? স্বরে আ।

পন্ডিত : রুক্সিণীতে স্বরে আ কোত্থেকে পেলি? নাহ তোদের দেখছি শ্রী তাপসশাস্ত্রীর মাল শাস্ত্র পড়াতে হবে।

ছাত্র : গোড়া থেকে আউড়িয়ে নিচ্ছি।

পন্ডিত : আউড়িয়ে নেওয়াচ্ছি। হরিদাস পাল। ওকে ঠ্যাং তুলে হ্যান্ড আপ অন দি বেঞ্চ করে দাও। এই তোরা একটা খবর শোন। তোরা সবাই কাল ফরসা জামা-কাপড় পরে ফিটফাট হয়ে আসবি। কাল ইন্সপেক্টর সাহেব আসছেন।

ছাত্র : আচ্ছা স্যার, সাহেব ইংরেজিতে প্রশ্ন করলে আমরা কী করব?

পন্ডিত : আমি সব ম্যানেজ করে নেব। সে তোদের ভাবতে হবে না। দিদির কথাঞ্জলী আর একুশে আইন মর্মোদ্ধার করে, ৩৪ বছরের ঘাপলা সরবত সম্বচ্ছর খেয়ে তবেই ইংরেজিতে দখল হয়েছি। আমায় ঠেকায় কোন ব্যাটা। যা, এখন ছুটি। সবাই বাড়িতে যা, বাড়ি যা।

(পরের দিন সকালে পাঠশালায় ছাত্ররা উচ্চ স্বরে ইংরেজি পড়ছে)

পন্ডিত : এই, চুপ, চুপ। ইন্সপেক্টর সাহেব এসে গেছেন। গুড মর্নিং, স্যার।

ইন্সপেক্টর: গুড মর্নিং। এত কম ছাত্র কেন?

পন্ডিত : হতভাগা ছেলেরা জেলায় জেলায় শিক্ষা লাভ করতে গেছে, তাই সব আসেনি। আর কন্যাশ্রী রা সবুজসাথী চালাচ্ছে। কিছুজন তো যুবশ্রী, তাই তারা উৎসব করছে।  বাকি সব চাকরি পেয়ে গেছে।

স্যার, ইয়েস্টারডে ইঙ্কপূজা ছিল কি না। তারই উৎসব স্যার।

ইন্সপেক্টর: ইঙ্কপূজা?

পন্ডিত : হ্যাঁ, হ্যাঁ, ভেরি ভেরি ব্ল্যাক ওমেন। সোর্ড হ্যান্ড।

ইন্সপেক্টর: আই সি। ইউ মিন খালিপূজা?

পন্ডিত : খালিপূজা নয়। তাহলে তো এমটি পূজা বলতুম। কালিপুজো, কালিপুজো।

ইন্সপেক্টর: আচ্ছা, পন্ডিত। টুমি বাংলা বলো। হামি বাংলা বুঝতে পারি। আমি ঈষ্ট জর্জিয়া।

পন্ডিত : বাট স্যার, মাই ইংলিশ কামস মোর। অর্থাৎ আমার ইংরেজিটাই বেশি আসে। ফাদার্স নিয়ার টুয়েন্টি ওয়ান ইয়ার্স ইংলিশ লার্ন কি না। এন্ড আই লার্ণ কথাঞ্জলী অলসো।

ইন্সপেক্টর: ইউ আর এ বিগ ফুল। বাট মি অলসো কথাঞ্জলী।

পন্ডিত : সলালি, সলালি টেল, স্যার। ছেলেরা না শুনে ফেলে। আপনি ডেলো কায়দায় বলুন স্যার।

ইন্সপেক্টর: আপনি কী রকম পড়াচ্ছেন, আমাকে শোনান।

পন্ডিত : অল রাইট, স্যার। বাবা গণেশ, বলো তো ছাপ্পান্ন কড়ায় কত গন্ডা?

গণেশ : পন্ডিত মশাই, ঝালাই করা না পেটা করা?

পন্ডিত : দাঁড়া। সাহেব চলে যাক। তোকে মেরে আরও ধোলাই করে ছাড়ব। পুরো মদন বানিয়ে ছারবো।

ইন্সপেক্টর: ধোলাই কেয়া হায়?

পন্ডিত : ও মানে, ইয়ে মানে, কী বলি রে বাবা, মানে ইয়ে, ক্লথ ওয়াশিংয়ের কথা হচ্ছে, স্যার। আচ্ছা ভ্যাবলা, বলো তো ভুতপূর্ব হেড মাস্টার মানে কী? 
 তাছারা আপনি একবার বলুন যে আপনি হজরলব দলের সমর্থক, দেখবেন এই দুষ্টু দামালের দল আপনাকে যেমন ভাবে আদর করে দেবে,ওটাকেই ধোলাই বলা হয়।

ছাত্র : পারব না তো, স্যার।

পন্ডিত : টুকে নাও। যে হেড মাস্টার পূর্বে ভুত ছিলেন।

ইন্সপেক্টর: ননসেন্স।

পন্ডিত : এই মরেছে। ভ্যাবলা, তুমি বলো, বাবা। আমি তোমায় হাড়ে হাড়ে চিনি, ইংরেজি কী?

ছাত্র : হাড়ে হাড়ের ইংরেজি কী, স্যার?

পন্ডিত : বোন টু বোন।

ছাত্র : আর চিনি?

পন্ডিত : চিনির ইংরেজি জানো না? সুগার। টুকে নাও। আই সুগার ইউ বোন টু বোন।

ইন্সপেক্টর: হা হা হা। আচ্ছা পন্ডিত, গুড বাই।

পন্ডিত : গুড বাই। দেখলেন তো স্যার, আমার লার্নিংয়ের রান, মানে বিদ্যের দৌড়। টুয়েন্টি ওয়ান ইয়ার্স ইংলিশ লার্নিং ফাদার…

ইন্সপেক্টর: শাট, শাট আপ।

পন্ডিত : ও বা…বা (ইন্সপেক্টর চলে যায়)

ছাত্র : স্যার, একটা কথা বলব?

পন্ডিত : এক শ বার বলবে।

ছাত্র : আপনাকে বিগ ফুল বললেন কেন?

পন্ডিত : বিগ ফুল মানে বড় ফুল। ওই জোড়া ফুলের একটা। বিলেতে গিয়েই সাহেব নিজের বাগান থেকে যেটি সবচেয়ে বড় ফুল সেটি আমার জন্য উপহার পাঠাবেন। আমার পড়ানোর কায়দা শুনে সাহেবের তাক লেগে গেছে।

ছাত্র : স্যার।

পন্ডিত : কী?

ছাত্র : স্যার, দশহরা (নবান্নর সেই কালীন সংস্করণ) কী একটা চিঠি নিয়ে আসছে।

পন্ডিত : ও কিছু নয়। সার্টিফিকেট এসে গেল। সাহেবদের কাজই ঝটপট।

দপ্তরি : না, পন্ডিত মশাই। আপনি কিষেনজী হয়ে গেছেন। সাহেব আপনাকে বরখাস্ত করেছেন। পড়ে দেখুন।

পন্ডিত : সে আমি আগেই বুঝতে পেরেছি রে। এর পরও যদি ডিসমিস না করে তো ব্যাটার নিজের চাকরি নিয়েই টানাটানি পড়ে যেতো। এমনিতেই যা বেকায়দায় ফেলে দিয়েছি বাছাধনকে, ডিসমিস না করে যায় কোথায়?
............................................
(নির্বিষ ভাবে ফেসবুক থেকে আংশিক সংগ্রহীত ও উন্মাদীয় মসলাসহযোগে পরিবেশত, উন্মাদীয় বানানবিধি অনুসৃত)


ছবিঃ ইন্টারনেট 

মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০১৩

চন্দ্রাহতের মন্ত্রনা- ৬



বেশ কিছু নতুন ধরনের বুদ্ধিজীবির প্রকোপ হয়েছে আজকাল এই সোস্যাল মিডিয়াগুলোতে। সারা দিন বহু পোষ্ট হয় রোজ, ভালো-মন্দ পাঁচমেশালি। এরা তার পাস মারায় না ভুল করেও। কিন্তু ধর্ম সংক্রান্ত পোষ্ট এলেই ভাদ্রমাসের কুত্তার রমনেচ্ছার মত কোথাথেকে এরাও যেন হাজির হয়ে যায়। এদের হিন্দু মুসলিম বিভেদ নেই। সর্ব ধর্মেই সমানসংখ্যায় ইনারা বিরাজমান। খানিক উচ্চস্বরে চেল্লাচেল্লি, কাঁচা ও পাকা খিস্তির ঝর্না ঝরঝরিয়ে, মা বাপ সহ যত, পোষ্টদাতার নিকটাত্মীয় আছে সকলের শাস্ত্রমতে পিন্ডি দান করে, আবার ডোডো পাখির মত ভ্যানিস হয়ে যায়, ওই ধরনের নতুন পোষ্ট না আসা পর্যন্ত। আর এদের তর্কের মূল সারাংশ খোজার থেকে, বেশ্যার কুমারিত্বের অনুসন্ধান অনেক সহজবোধ্য কাজ।

কারন হিসাবে ভেবে নেওয়া যেতে পারে যে, 

১) এদের কথা বাস্তবে শোনার মত কেউ নেই, তাই সামান্য ঝগড়ার চান্স পেলেই, খেঁকি কুত্তার মত ঝাঁপিয়ে পরে।

২) বৌদি বমানে ওনার বউ নিয়মিত কর্মচারী দ্বারা দোকানের ঝাপ খোলা বন্ধ করেন, মজবুত ডান্ডা দিয়ে।

৩) খিঁচুনি রোগী।

৪) চর্ম ও যৌন রোগের ডিপো।

৫) ছেলে খ এর ছেলে ছারা কথা বলে না।

৬) মেয়ে ভালো রোজগার দেয়, কল সেন্টার কর্মী।
ইত্যাদি ইত্যাদি......
তাহলে ভাবুন, আপনি এদের সাথে তর্কে জড়াতে চান?? ইনারা মানসিক পঙ্গুত্বের শিকার। যা ঠিক হবার উর্দ্ধে।

বর্তমান পিতামাদের উদ্দেশ্যে একটাই অনুরোধ। কন্ডোম ব্যাবহার বাড়ান। নতুবা এই উচ্ছিষ্ট বীর্যথেকে জন্ম নেওয়া এই বুদ্ধিজীবিরা আপনাদেরও কিন্তু ছারবে না। এরা জাপানের নামে বুলেট ট্রেন বোঝে না, তেল বোঝে। চুল্লুতে তুলসি পাতা দিয়ে শুদ্ধ করে নেবার পদ্ধতি এনাদেরই অন্যতম মহান আবিষ্কার। এরাই তারা যারা দুবছর নিরিবিচ্ছন্ন ভাবে বিদেশে কর্মসন্ধানে থেকেও, বাড়ি ফিরে স্ত্রীর কোলে ৬ মাসের ছেলেটিকে চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে তোলেন। আর সন্ধ্যা বেলা বন্ধুদের পিতা হবার আনন্দে পার্টিও দেন।

যদিও এরাই আমাদের আদি পূর্বপুরুষ। নরতর শাখামৃগ। মৃগ মানে হরিণ, এই আনন্দেই আজ লুঙ্গি ড্যান্স হবে, আর শেষ রাতে চাদরে কোঁথ পেরে হেগে গাদা করবে।

চলুন এদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।

বি:দ্র:- বিশেষজ্ঞ খিস্তিবাজ দের সাদর আমন্ত্রন। মহিলাদের বসিবার মাল্টিবার ও সাইকেল রাখিবার পৃথক ব্যাবস্থা আছে। ইমানদন্ড গচ্ছিত রাখাও হয়। 

(বাজার চলতি চালু খিস্তি শুনে শুনে বোর হয়ে গেছি, তাই কমেন্টে শুধুমাত্র গবেষনামূলক খিস্তিই গ্রাহ্য)


তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...