মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

।। দুঃখ বিলাস ।।


সকলেই সুখে থাকতে চান, যে কোন মুল্যে। কিন্তু সকলে সুখের সাগরে ভেষে, তার উদযাপন নাও করতে পারেন, কল্পিত দুঃখের মানে নিজেকে সযত্নে লালন করে তার মাঝে জীবনের সারবত্তা খুঁজে ফেরেন বহুজনেই।

জগতে কিছু মানুষ আছেন, যারা অত্যন্ত পেশাদারি ঘরাণাতে দু:খ বিলাস যাপন করেন, সুখের নিমিত্তে।

আমার মতে তাদের যোগ্যোতা, ও ভাগ্যগুন বা ইশ্বর/আল্লার আশির্বাদেই বলুন, সুস্থভাবে বেঁচেথাকার জন্য একটা নির্দিষ্ট রোজগারের সাম্মানিক পেশা যাদের রয়েছে, তারাই মূলত এই বিলাসযাপনটা করেন। আপনারাও খেয়াল করে দেখবেন, বুঝবেন এরাই তারা।

পেটে টান পরলে বিলাসিতা জানালা দিয়ে পালায়।

এনারা ভুলে যায়, যে পৃথিবীতে কতশত মানুষ প্রতিনিয়ত ক্ষুধার জন্য কতটা বিকিয়ে দিচ্ছে নিজেকে, প্রতিমুহুর্তে কত শত আপোষ শুধু বাঁচবে বলে।

একজন বেশ্যা.......
সে কারো মেয়ে, কারো বোন, কারো স্ত্রী, কারো মা....
কতটা নির্মম পরিস্থিতি হলে, তিনি তার শরীর বেচেন!! ব্যাতিক্রমি দুশ্চারিণী দু একজন অবশ্যই থাকে, কিন্তু অধিকাংশই পেটের টানে বা দ্বিতীয় উপায়ান্তর না থাকার দরুন এই আদিম পেশার শিকার। প্রতিটি মানুষ তার নিজের শরীরটা সংরক্ষিত রাখে তার একান্ত মনের মানুষকে উপহার দেবার জন্য, কেও কতটা অসহায় হলে সেই একান্ত নিজের শরীরটি কিছু যৌনক্ষুধিত মানুষের সামনে নিজেকে নগ্ন করেন, সামান্য অর্থের বিনিময়ে। এটা একটা উদাহরণ দিলাম বেশ্যবৃত্তি দিয়ে, এমন অনেক পেশা আছে পৃথিবীতে। অনেক মানুষ ডাষ্টবিন থেকে খাবার খুঁটে খান....
বেঁচে থাকার জন্য...

এনাদের জীবনটা দু:খ দুর্দশার পাঁকে ডুবে থাকলেও দু:খ নিয়ে কোন বিলাস নেই। এরা বেঁচে থাকেন বাঁচার আনন্দে। রাশি রাশি দু:খ যন্ত্রনার বিনিময়ে কেনা সামান্যটুকু সুখ নিয়েই আগামীর জন্য স্বপ্ন দেখেন।ওই মানুষগুলোর আর্থিক অনটন নেই, তাই দুঃখটাকে বিলাসের পর্যায়ে নামাতে পেরেছেন।

ইচ্ছাশক্তি দ্বারা বহুকিছুই সম্ভব। এটা ধর্ম থেকে বিজ্ঞান সবক্ষেত্রেই প্রমানিত। তাই যারা এমন ধরনের বিলাস করেন তারা আসলে একটা নেশার ঘোরে ডুবে থাকেন। তাই সময়েন নিয়মে সুখ যদি জীবনে আসার চেষ্টাও করে, এনারা তাদের ওই ইচ্ছাশক্তির গুনে ওই সুখকেও দুঃখের নদীতে পরিণত করেই ছারবে, যে কোন মুল্যে। এই ধরনের মানুষদের মনে একটা প্রচ্ছন্ন অহংকার থাকে, যে তিনি যেটা করছেন সেটাই একমাত্র ঠিক, বাকি সবাই ভুল। সকল সময় একটা তীব্র ঋণাত্মক জীবনীশক্তি দিয়ে নিজের বলয় তৈরি করে রাখে, সেই বলয় কে টপকে অন্য কেও সুখ নিয়ে তার জীবনে প্রবেশই করতেই পারেনা। এমনও হয় যে, ওই বলয় ভেদকরা একসময় তার নিজের পক্ষেই দুঢ়হ হয়ে যায়।

ঘিরে ধরে নির্মম একাকিত্ব। সামাজিক ও মানসিক দুই জগতেই। তার নিজশ্ব মেকি বিচারবুদ্ধি দিয়ে গড়া পৃথিবী, শ্বাস নেওয়ার অযোগ্য হয়ে যায়। তখন মৃত্যুর শীতল যন্ত্রণা থেকেও বেঁচে থাকাটা আরো বেশি বিভীষিকা মনে হয়।

সমাজের নিন্মবৃত্ত পরিবারের ছেলেমেয়ের মাঝে এই ধরনের রোগের ব্যাকটেরিয়ার প্রাদুর্ভাব থাকেনা মোটেই, আবার যাদের জীবন পেশাগত ক্ষেত্রে অকৃতকার্যে ভরা, তারাও এই বিলাস করতে অক্ষম, কারন ভবিষ্যতের ভয়াল কল্পনা তাদের বিলাস করার সময়টুকু দেয়না। এটা করে মুলত মধ্যবিত্ত সমাজের আর্থিকভাবে স্বচ্ছল স্বাবলম্বী কিছু মানুষ, আর উচ্চবিত্ত ও হাতে কাজ না থাকা মানুষের দল, যাদের জীবনে বস্তুসুখের কোন অভাব নেই। মোটকথা, খেয়েপরে একটা সময়ের পর যখন জীবন লক্ষ্যহীন হয়ে যায় তখনই এমন বিচিত্র বিলাসের সূচনা।

হ্যাঁ, আপনাকেই বলছি। যদি মনেহয় আপনি সেই মানুষটা যাদের কথা উপরে লিখলাম, তাহলে বলি আপনি ভীষন ভীষন আর ভীষন ভাবে অসুস্থ, শারীরিক মানসিক দুভাবেই। আপনি কাউন্সিলিং করান, জীবনের মজা নিন। প্রেম করুন, আনন্দ করুন, দিনে একঘন্টা প্রান খুলে হাসুন। কোন মৌলিক, সামাজিক কর্ম বা নিজেকে কোন শিল্পকর্মের মাঝে নিয়োজিত করুন। দেখবেন জীবনকে অনেক স্বচ্ছ মনে হবে।

জীবনটা আপনার, তাই আপনিই জানেন কি পরিমাণ চড়াই উতরাই পেরিয়ে আপনি আজকের দিনে পৌঁছেছেন। আপনার জীবনটা কারো দয়ার দান নয় যে লুটের ভাগের মত, সময়ের সিড়িতে নিজেকে নিচের দিকে গড়িয়ে দেবেন, দিলে নিজেই আঘাতপ্রাপ্ত হবেন, অন্যেরা মজা দেখবেন। আপনি দু;খ উপভোগ করছেন, অন্যে আপনাকে দেখে বিনোদন প্রাপ্ত হবে। জীবন যদি শোনপাপড়ি হয় তাহলে কেবল তার গঠনগত ফোলানো ফাঁপানো আয়তন আর জটিলটার দিকে দৃষ্টিপাত করে, যন্ত্রনাক্লিষ্ট হয়ে কি লাভ! কার লাভ? বরং সেই সোনপাপড়ির মিষ্টতা নিন চুটিয়ে।

দেখুন প্রত্যেকের জীবনেই তার নিজের নিজের মতন করে দারুন দারুন জটিল সমস্যা আছে। যার জীবনের যতটা ব্যাপ্তি, তার যন্ত্রনা ততটাই বেশি থাকে। সফল ব্যাক্তিদের সফলতার আলোকে ব্যার্থতা চাপা পরে যায়, আর ব্যার্থ মানুষের ব্যার্থতাতে, মানুষটাই চাপা পরে যায়, তাই জীবনকে উপভোগ করুন। নাস্তিক হলে গল্প উপন্যাস বই পরুন না হলে ইশ্বর বিলাস করুন, দেখবেন আপনার কৃত যাবতীয় ভালমন্দের যায়, ঈশ্বরের ঘাড়ে চাপিয়ে নিশ্চিন্তে আগামির লক্ষে এগিয়ে যান। অবশ্যই অন্যের অযথা ক্ষতিসাধন না করে। ভাবনা চিন্তাতে ধনাত্বক ভাব আনুন। গ্লাস অর্ধেক খালি না দেখে দেখুন গ্লাস অর্ধেক ভর্তি। খুনটা খুনই, অন্যকে হত্যা করলেও সেটা অপরাধ, নিজেকে করলেও তাই।

জীবন সকলকে সুযোগ দেয়, নিজেকে বদলে নেবার, শুধরে নেবার। জীবনকে নিজের থেকে দূরে ঠেলে দিলে আপনিই আসলে একা হয়ে যাবেন।

নিজে বাঁচুন অন্যকে বাঁচার রসদ দিন।

মনে রাখবেন, অনেক দু:খ আছে বলেই না সুখের কদর এতো বেশি।


সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

।। ফেরিওয়ালা মন ।।

ইচ্ছে ছিল কবি হবো
গালিব তোর জন্য
সুখ বেচে তাই শান্তি কিনি
জীবনটা আজ পন্য
অন্ধ আবেগ গ্রাস করেছে
হিতাহিত জ্ঞান শূন্য
ষড়রিপু ঘেরা জীবন খাতায়
অশ্লীল পাপপুণ্য
এক শরীরে কত শত মন
শত মনে শুধু শরীর
মন খুঁজে চলা শরীরে শরীরে
শরীরি শবের ভীর
আমি প্রেম ফেরি করি ফিরি
লাশেদের ভীরে
সুখ লুন্ঠন সুলভ মুল্যে
মন লেনদেন ঘিরে

রবিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

উন্মাদের চোখে~ রইস


ধান্দাসে বড়া কোই ধরম নেহি হোতা...

এটাই চুম্বকে রইস সিনেমার সারবত্তা।

কি রকম দাঁড়ালো তাহলে ব্যাপারটা? আসলে এখানে সেটা দেখানো হয়েছে সেটাকেই কাঁঠালের আমসত্ব বলা হয়।

বহু অভাবী তৃতীয় বিশ্বের আর পাঁচটা মফঃস্বলের মত গরীব মানুষের বস্তি, পেটের টানে সেই অন্ধকারের অন্ধগলিতে মাথা খুঁটে মরা। গুজরাটের কোন একটা মুসলিম অধ্যুষিত মহল্লা, যেখানে অবৈধ দেশী মদের কারবার। মোটামুটি এটাই কাহিনীর শুরু ও একে কেন্দ্র করে আবর্তিত ঘটনাপঞ্জী। আর পাঁচটা বলিউডি মশালা সিনেমার সাথে যার কোন ফারাক নেই। সেই একটা গান বা পলকেই দুম করে নায়কের বড় হয়ে যাওয়া, তারপর শুরু হিরোগিরি। কিছু অতিমানবিক স্ট্যান্ট, হিরোর হিরোইজম থুরি শাহরুখইজম, এবং একদা দুষ্কৃতী তথা রাজনীতিতে নেমে পাপস্খলন ও একটা শুটআউট। শেষে সেই মৃত্যুটাকে একটা আত্মত্যাগের মতন করে পরিবেশনা।

ব্যাস, সিনেমা এইটুকুই। তবে যেটা পাওনা সেটা হল গান। অরিজিতের গলায় “ ...ও জালিমা...গানটা সেই থেকেই কানে সমানে বেজে চলেছে। বাকি সবটার কিছু কাহিনীর দাবি মেনে, কিছু মশালার দাবী মেনে, একআধটা এক্কেবারেই অপ্রয়োজনীয়, সানি মামনির মতই।

কাঁঠালের আমসত্বটা তাহলে কোথায়? মিডিয়ার দৌলতে সকলেই জানে এই রইস নামের চরিত্রটা আসলে গুজরাটের মাফিয়া দুষ্কৃতী তথা তৎকালীন অবৈধ চোলাই ব্যারন আব্দুল লতিফের আদলে গড়া। আমরা পাবলিক তেমন কিছুই জানি কি এই ব্যাক্তিটির বিষয়ে, কিন্তু রইসের সুত্রেই আবার লোকমুখে। যেমনটা দেখালো, একটা মানুষ যে যাবতীয় অপকর্ম করেন, তবুও মহান। মুসলমান অধ্যুষিত মহল্লা, কিন্তু সকলেই প্রায় মদ ব্যাবসার সাথে যুক্ত, যদিও ওই ধর্মবাদের হিসাবে মদ তাদের জন্য নিষিদ্ধ ও গর্হিত পাপকার্য, তারা খান ড্রেস পরে, নাচাগানা করে, সেখানে মহরম ছাড়া আর কোন উৎসবও হয়না। সবটাই মুসলমান কালচার, অবশ্য ৯৩ এ বিস্ফোরণের পর্যায়টি পর্দায় আসার পর রইসকে দিয়ে একটা সম্প্রীতির বানীও বলিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের চরিত্রটির মদে এলার্জি রয়েছে বোঝা গেল, কিন্তু তার রইসের সাথে শত্রুতাটা ঠিক ওই পর্যায়ে কেন গেল, সেটা ব্যোমকেশ বক্সীরও উন্মোচনের অসাধ্য।

শাহরুখের অভিনয় নিয়ে কারো কিছু বলার থাকতে পারেনা, আমি তো কোন ফুটো মস্তান। তবে নাওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি অভিনয়ে শাহরুখের চেয়েও কিছুটা এগিয়ে এ সিনেমাতে। বাকি চরিত্রগুলো বেশ জীবন্ত ও যথাযত কেবলমাত্র অভিনেত্রী নামক প্রানিটি ছাড়া।

মাহিরা খান। বাজারে প্রচুর হাওয়া গরম হয়েছিল এই পাকিস্থানি অভিনেত্রিটির কারনে। সিনেমাটা দেখার পরও বুঝলাম না একে ঠিক কি কারনে সিনেমাতে নেওয়া হয়েছিল। না আছে সৌন্দর্য, না কমনীয় শরীরি হিল্লোল, না ডায়লোগ থ্রোয়িং এ সাবলীলতা। তাহলে আছেটা কি, যার জন্য শাহরুখ খান প্রোডাকশন একে সিনেমাতে নিল? সৌন্দর্য বা অভিনয় গুন বিচার্য হলে আমাদের যেকোন টিভি চ্যানেলের, যেকোন ডেলিসোপের লিড হিরোইন এর থেকে সর্ব দিক থেকে উত্তম ছিল।

বিষয়টা সেই সিনেমার মূল প্রতপাদ্য, ধান্দা। আর মাহিরা খানের আছে পাকিস্থানি ট্যাগ, তথা পাকিস্থানের জনগনের নিজের সম্পদ। পাকিস্থানের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি কখনওই বলিউডের পড়শিটুকু হবার যোগ্যোতা রাখেনা, কিন্তু দর্শক তো দর্শক। বৈভব, চাকচিক্য, মুচমুচে স্বাদ সকলেই বোঝে। তাহলে ধান্দার হিসাবে পাকিস্থানের জনগন একটা বিশাল বাজার বলিউডের জন্য। সেটাকে ধরতেই হবে, খবরে দেখুন গেল সপ্তাহেই ভারতীয় সিনেমার প্রদর্শনির উপর থেকে পাকিস্থান ব্যান তুলে নিয়েছে। না কাকতালীয় নয় মোটেই। সবটাই পরিকল্পিত মার্কেটিং এর অঙ্গ। হিন্দি সিনেমা হলেও, দেশপ্রেম দেখানোর জন্য কোন তামিল বা মাল্লু মফস্বলে কেও শাহরুখ খান দেখেনা, কাবিলও নয়। সেখানে শাহরুখ আর কুনাল খেমু দুজনেই সমান, মানে একজন হিন্দি ফিল্মের অভিনেতা মাত্র, বাকি কিছু তারা জানেননা জানার চেষ্টাও করেননা, কারন তারা হিন্দি জানেওনা, তাই হিন্দি দেখার দায়ও নেই। অগত্যা খোঁজো মার্কেট। দেশপ্রেম আর দেশবিরোধী যায়ে ভারমে। ধান্দা সে বড়া কৈ ধর্ম নেহি, কোথায় লাগে হিন্দু মুসলমান বৌদ্ধ খ্রীষ্টান..., ধান্দাওয়ালাদের কাছে! সিনেমা নান্দনিকতা হলেও, বিক্রি করতে পারলে ব্যাবসা হিসাবে যে মুনাফার আখারা, সেটা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

আসল ইতিহাসটা কি ছিল সেটা ইতিহাসই জানে, তবে রাজনেতারা যে বৃত্তিতে বেশ্যাদেরও অধম সেটা আবারও প্রমানিত এ সিনেমায়। পুরোপুরি মসালা বিনোদন সিনেমা, সারাটা সময় ধরে আপনাকে টানটান করে বসিয়ে রাখবে, নিশ্চিত। দেখলে মনটা বেশ ফুরফুরেই লাগবে। কিন্তু সাবধান , পরে অন্য কিছু দেখলেই ভুলে যাবেন কি দেখেছিলেন তার আগে। যেটা ভুলতে পারবেননা, সেটা হল...

ও জালিমা... ও জালিমা...


শনিবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

।। হারিয়ে ফেরা ।।

হারিয়ে ফেরার মাঝেও একটা আলাদা সুখানুভুতি থাকে, আর সেটা যদি আপনজনেদের মাঝে হয় তাহলে তার মাধুর্য বর্ননা লিখি তার সাধ্যি কি। আমি জানি আমি আছি, কিন্তু আমার প্রিয়জনেরা আমার জন্য দুশ্চিন্তাগ্রস্থ, এতটুকু বিচ্ছেদ তাদের মনে শুন্যতার সৃষ্টি করেছে। অধিকাংশ জনে জানেইনা যে ছিলামনা, তবে যারা জানেন, তাঁরা কেও নিজেকে দোষারোপ করতে ব্যাস্ত। কেও আনন্দিত, কেও সফলতা উদযাপন করছেন, গোপনে সফল খুনের আনন্দে। আমি কিন্তু দেখছি, সবই দেখছি, বলতে পারছিনা। কারন আমার পরিচিতি সবটাই এই দেহ দ্বারা, বাকিটা দেহটা থেকেও যেন অস্তিত্বহীন।
একটা সম্পূর্ন অন্যরকম অনুভূতি।
আত্মা নাকি অবিনিশ্বর। আমরা ঘুমিয়ে যে সকল স্বপ্ন দেখি, তার সুখ দুঃখ সহ নানা অনুভুতিগুলো আমাদের নশ্বর শরীরে কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেনা সাধারনত, সকলটাই আমাদের অবচেতন মনের ফসল, ও যাবতীয় ক্রিয়া বিক্রিয়া আত্মার উপরে ফলিত হয়। ভয় পেলে চমকে, বা আনন্দের বহিঃপ্রকাশ মাত্রাতিরিক্ত হলে তবেই হঠাৎ করে জেগে উঠি।
আচ্ছা মৃত্যুর পরেও কি আমাদের আত্মা এমনটাই সবকিছু দেখতে পাবে? আমাদের দ্বারা কৃতকর্মের জন্য প্রলাপ- বিলাপ- সুনাম- বদনাম -সমালোচনা- আলোচনা ইত্যাদি সকল কিছুই। কিন্তু আমাদের যাদের মৃত্যু ঘটল, তারা শুধু দেখতেই পাবো, যেহেতু সেই দেহটা নেই যেটা দিয়ে আমার আমি কে মানুষ চিনত, তাই আমি যে রুপেই থাকিনা কেন, কেও দেখতেই পাবেনা আমাকে। তখন যে কি কষ্টটাই হবে সেটা খানিক টের পেলাম। কারন এখানে হারিয়ে ফিরতে পারলেও, ওখান থেকে তো ফেরা যায়না।
কি জানি কেমন হবে সেই দিনটা, সবটাই তো ধারনা মাত্র। মৃত্যুর ওপারের জীবনকে আর কে দেখেছে!!


বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

আসম্পূর্ন আমি



হারিয়ে ফেরার মাঝেও একটা আলাদা সুখানুভুতি থাকে, আর সেটা যদি আপনজনেদের মাঝে হয় তাহলে তার মাধুর্য বর্ননা লিখি তার সাধ্যি কি। আমি জানি আমি আছি, কিন্তু আমার প্রিয়জনেরা আমার জন্য দুশ্চিন্তাগ্রস্থ, এতটুকু বিচ্ছেদ তাদের মনে শুন্যতার সৃষ্টি করেছে। অধিকাংশ জনে জানেইনা যে ছিলামনা, তবে যারা জানেন, তাঁরা কেও নিজেকে দোষারোপ করতে ব্যাস্ত। কেও আনন্দিত, কেও সফলতা উদযাপন করছেন, গোপনে সফল খুনের আনন্দে। আমি কিন্তু দেখছি, সবই দেখছি, বলতে পারছিনা। কারন আমার পরিচিতি সবটাই এই দেহ দ্বারা, বাকিটা দেহটা থেকেও যেন অস্তিত্বহীন।

একটা সম্পূর্ন অন্যরকম অনুভূতি।
আত্মা নাকি অবিনিশ্বর। আমরা ঘুমিয়ে যে সকল স্বপ্ন দেখি, তার সুখ দুঃখ সহ নানা অনুভুতিগুলো আমাদের নশ্বর শরীরে কোন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেনা সাধারনত, সকলটাই আমাদের অবচেতন মনের ফসল, ও যাবতীয় ক্রিয়া বিক্রিয়া আত্মার উপরে ফলিত হয়। ভয় পেলে চমকে, বা আনন্দের বহিঃপ্রকাশ মাত্রাতিরিক্ত হলে তবেই হঠাৎ করে জেগে উঠি।
আচ্ছা মৃত্যুর পরেও কি আমাদের আত্মা এমনটাই সবকিছু দেখতে পাবে? আমাদের দ্বারা কৃতকর্মের জন্য প্রলাপ- বিলাপ- সুনাম- বদনাম -সমালোচনা- আলোচনা ইত্যাদি সকল কিছুই। কিন্তু আমাদের যাদের মৃত্যু ঘটল, তারা শুধু দেখতেই পাবো, যেহেতু সেই দেহটা নেই যেটা দিয়ে আমার আমি কে মানুষ চিনত, তাই আমি যে রুপেই থাকিনা কেন, কেও দেখতেই পাবেনা আমাকে। তখন যে কি কষ্টটাই হবে সেটা খানিক টের পেলাম। কারন এখানে হারিয়ে ফিরতে পারলেও, ওখান থেকে তো ফেরা যায়না।
কি জানি কেমন হবে সেই দিনটা, সবটাই তো ধারনা মাত্র। মৃত্যুর ওপারের জীবনকে আর কে দেখেছে!!

হুবহু প্রাক্তন

কয়েক বছর আগে লোকাল ট্রেনে আমার এক প্রাক্তনের সাথে আলাপ হয়েছিল। ঘটনাক্রমে আমি জাইগা পাইনি বসতে। দরজার রডটা ধরে হাওয়া খেতে খেতে যাচ্ছি। গ্যালপিং ট্রেন। ভাল ভীর। হঠাত পায়ে হাত...
দেখে প্রথমটা চিনতে পারিনি। ক্লাস এইট নাইনের কিশোর বেলার প্রেম। হাত থেকে রুমালটা ফেলে সেটা কুড়ানোর ওছিলাতে টুক করে পা টা ছুঁয়ে নেওয়া।
সেই কালে গ্রক পরা একটা রোগা পাতলা কিশোরী। এখন শাড়ি পরিহিতা, সুন্দরী। কপালে টকটকে সিঁদুরের আলপথ। হাসিটা দেখে চিনলাম। অবিকল একই আছে, শরীরটা নারীসুলভ। আমার চেহারাতেও ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন হয়েছে।
চোখের ইশারাতে ভিতর দিকে ডাকল। কেন জানিনা মন্ত্র মুগ্ধের মত গেলাম। সিটে বসে, শ্বাশুরিমা, এক পুত্র, ৫ বছরের। স্বামী ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাঙ্গালোরের পার্মানেন্ট বাসিন্দা।
আমার মাসির দেশের লোক, মা। অতনু এই সে... সে যার কথা তোমাকে বলেছিলাম।
~ঠিকানাটা লিখে নাও... 
স্বামীকে দেখিয়ে বলল- ও খুব ভাল মানুষ। আমার সব কিছু।
আমি মনে মনে বললাম সে তো প্রায় ১৫ বছর বা তারও বেশি সময় আগের ঘটনা। তখনও ভালবাসা কাকে বলে জানতামই না। শুধু চোখাচোখি। ব্যাস...
প্রেমের দই জমার আগেই আমি কোলকাতায় , আর সে আসানসোলে।
বাচ্চাটার নাম শুধালাম, 
-
কি নাম তোমার বাবা?
আমার পিতৃদত্ত মানটা শুনে বুকটা ছ্যাঁত করে উঠল। কি আর করি, কপালে একটা চুমু দিলাম।
বাচ্চার মা বাচ্চাকে দিয়ে আমায় প্রণাম করিয়ে তবে ছারলেন। 
হাওড়াতে নেমে বাচ্চার বাবা বাচ্চাকে বলল, বাবু মামাকে টাটা করে দাও। ওমনি বাচ্চার মা চোখ লাল করে বলে উঠল- আঙকেলকে একটা হামি দিয়ে দাও।
ক্রমে ভীরটা পুরো ঘটনাকে গ্রাস করে নিল।
এটাই জীবন। ভাগ্যিস ঠিকানা বা ফোননাম্বার দেওয়া নেওয়া হয়নি।কোন গল্পই আসলে গল্প নয়, কারন গল্পেরও একটা গল্প থাকে। এটা তার পরেই বাড়িতে মাকে, বোনকে জানিয়েছিলা অবশ্য।


বুধবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

।। তোর জন্য ।।

তোর আবেশে মোহাবিষ্ট 
ব্রণ ওঠা যৌবন
কামগন্ধি কল্পনাদল
খোয়াবনামার ধন।
কিরূপে হেরিব তোমায় সখী
পুষ্পিত আঁখি পল্লব 
চুম্বন আঁকি ললাটে যতনে
শিহরিত ওষ্ঠরব
কলঙ্ককে আপন করে
সাজলি অলঙ্কারে
লাজ হারাবি অলক্ষ্যেতে
মন দিয়েছিস যারে।
যদি অঞ্জলী দিই তোর পায়েতে
খুব কি হবে ক্ষতি!
তোর মাঝে দেখি দূর্গা কালী
লক্ষ্মী সরস্বতী।
ভালোবাসি আমি ভালোবাসো তুমি
সাক্ষী প্রতিটা রাত
গাঢ় প্রেম দিয়ে বাঁধি আশ্লেষে 
অধরেতে থাক সাথ
এই তো আমার অহঙ্কার 
হার না মানা হার 
তোর গলেতে পরাবো আমি
এটাই জীবন সার
কিছু সম্পর্ক এমনতর
ছুঁয়ে দিলে পোড়ে হাত
মিলনঅনলে পুড়ুক হৃদয়
দুই কুলে এক সাথ
তোর বুকে রাখা গোপন ব্যাথা
যদি আমায় ছুঁতে দিস
যতটুকু বিষ আমার অধরে
সবটুকু তুই নিস
মোর কামনাতে অমৃত ঢেলে
আগুন জ্বালিয়ে দিলি
আমার বিষেতে ছারখার হতে
কোথায় লুকিয়ে ছিলি!
যতটুকু মোর বাকি আছে প্রান
তোর জন্যই পন
সুখের সাগরে ভেষে যেতে হলে
থাকিস সারাক্ষণ
নাকে নাক রেখে উষ্ণতা নিবি!
চোখে চোখ রেখে ডুব
যদি মিশে যাস আমার বুকেতে
আদরে ভেজাবো খুব।

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...