বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

নায়ক বনাম অভিনেতা



নায়ক বনাম অভিনেতা



তেরোর গেঁড়ো, অনেকের অশুভ হলেও অনেকের পৌষমাস। কি আশ্চর্য আজ নাকি মানবাধিকার দিবস। কি ন্ত কে মানব? যে ফুটপাতে গাড়িচাপা পরে মারা গেছে, নাকি যারা পঙ্গু হয়েছেন? নাকি সাক্ষী রবীন্দ্র পাতিল? নাকি ভাইজান মানে সুলতান।

প্রথম প্রশ্নঃ ফুটপাতে মানুষ শোবে কেন?
দ্বিতীয় প্রশ্নঃ গাড়ি কে চালাচ্ছিল?
তৃতীয় প্রশ্নঃ সালমান খান মদ্যপ ছিলেন কি না!!
উত্তরঃঃ সালমান খান বেকসুর খালাস।
অর্থনৈতিক বৈষম্য দ্বন্দ্ব কারী দুই ব্যাক্তির মধ্যে আসমান জমিনের ফারাক হলে, অনেক প্রশ্ন করতে নেই, যেমন মৃত্য বা অঙ্গহানির প্রশ্নই এখানে মোটেই বিবেচ্য নয়। আরে বাবা পায়সা তো দিয়ে দিয়েছে। ভাইজান। বজরঙ্গী ভাইজান।
পুলিস গ্রহনযোগ্য তথ্যপ্রমান দিতে পারেনি। সেটাই কি স্বাভাবিক নয় কি? ভারতবর্ষের আইন কচ্ছপের গতিতে এগোয়, কিন্তু মানুষ তো আর কচ্ছপের আয়ু বিশিষ্ট নয়। তাই আইন আইনের পথেই চলে। মাঝখানে ভাইজানের দেহরক্ষী রবীন্দ্র পাতিল সাক্ষ্য দেওয়ার দরুন চাকরি যায়, না মানে চাকরি যাবার জন্য অবশ্য অন্য অজুহাত ছিল।
এর পর কোন এক অজানা ক্ষয়রোগে রবীন্দ্র আক্রান্ত হয়, পুলিস উল্টে রবীন্দ্রর নামে হুলিয়া জারি করে। এরপর ২০০৭ সালে সঠাত মুম্বই এর রাস্তায় সেই রবীন্দ পাতিলকে দেখা যায়। এর পর সব শেষ। শেষ দিন পর্যন্ত সে নিজে অবশ্য তাঁর বয়ানে অটুট ছিল। যদিও পুলিস সেটা মানেনি।
সাক্ষীর অভাবে সালমান খান মুক্ত। নিশ্চই আইনের প্রতি ভরসা বাড়বে। অন্তত যারা প্রভাবশালী, ও বিপুল অর্থ আছে খরচ করার মত। অন্ধ আইনকে সময়ের আবর্তে ফেলে সময়মত বেড়িয়ে আসতে পারবে। আইন আইনের পথে চিরকালই চলে।
সব কিছু একটু থিতিয়ে গেলেই বেকসুর খালাস। আর সাক্ষী? রাখেন আপনার সাক্ষী। সব হাপিস হয়ে যাবে।
আইন কখনোই যে প্রশ্ন টি দেখবে না (কারন আইনের চোখ বাধা): ফুটপাত বাসী ওই মৃত মানুষ টি মৃত হল কিভাবে? নাকি ওই লোকটি মাতৃগর্ভ থেকেই গাড়িচাপা পড়ে মৃত বড় হয়ে ছিল।
"বিয়িং হিউম্যান"
নাহ রবীন্দ্র পাতিল বা তাঁর পরিবার কখনো এই নাম শুনেছেন বলে জানা যায় নি। বিয়িং হিউম্যান ও কখনো রবীন্দ্র পাতিল নামের কারোর নাম শোনেনি।
সালমান খান দুরন্ত সফল অভিনেতা নিঃসন্দেহে, "নায়ক" নন।
~উপরের ছবিটি ইন্টারনেট থেকে নিয়ে এডিট করা, রবীন্দ্র পাতিলের, সুস্থাবস্থার ও ক্ষয় রোগগ্রস্থ অবস্থার। 

উন্মাদ হার্মাদ

রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

একটি শিক্ষক দিবস


*****উন্মাদীয় রবিবাসর*****

(উন্মাদীয় বানানবিধি অনুসারে)


এটা একটা স্কুল পালানো আমোদগেড়ে- অর্ধশিক্ষিতের শিক্ষক দিবস উদযাপন। সক্কাল সক্কাল স্নানটান করে, গলায় পাওডার ও বগলে ডিও মেখে ভাবতে বসে যায়, কার গলায় ঠিক মালাটা চড়াবো? কারন যার জন্মদিন উপলক্ষে, এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপন, তাঁর নামটা উচ্চারনেও তো জিভ জড়িয়ে যায়। আর ঠিক কি কি ভাবে উদযাপন টা করবো! শিক্ষার ব্যাপ্তি ও গভীরতা যাহেতু মোটেই নেই , তাই ভাবনারা মাঝপথেই অনাথ হয়ে যায়। তবুও কিছু তো একটা করতে হবে তাই আর কি, তবে কেও ব্যাক্তিগত ভাবে নেবেন না, এটাও অনুরোধ.........

সকালে একটা পোষ্ট দেখলাম, জনৈক ব্যাক্তির করা সেটি...

“স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলছিল। 'যেমন খুশি সাজো' ইভেন্ট। বিভিন্ন জন নানারকম সেজেছে। হঠাৎ একজন ছাত্র সামনে বসে থাকা শিক্ষকদের ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে, চেয়ার টেবিল উলটে ফেলে দিল। সুললিত খিস্তি সহকারে শিক্ষকদের পরিবারের এমনকি স্বর্গত সদস্যদের প্রতি সমভাষায় তর্পন করে চলেছে। সকলে মিলে তাকে আটকানোর চেষ্টা করছে। তখন ছাত্রটি চিৎকার করে উঠলো ' আমি সরকারি দল সেজেছি, আমি রাজ্যপাটে থাকা দলের প্রতিনিধি সেজেছি'”।

তবুও, আপনি কিন্তু কিচ্ছু দেখেন নি মাষ্টার মশাই...

এটা একটা দারুন প্রবাদ, যদিও আমদের কিছু অগ্রজ শিক্ষকেরাই এটাকে বাস্তবায়িত করেছি। বর্তমান প্রজন্মের বৃহদাংশ সেই পতাকাটাকে বয়ে নিয়ে চলেছেন স্বগর্বে।

শিক্ষক দিবস, এটাকে কি উদযাপন করা যায়? না কি শিক্ষক জাতির উদ্দেশ্যে অবশিষ্ট জাতির বাৎসরিক তর্পন। আচ্ছা শুধু মাত্র একটা বিশেষ দিনে শিক্ষকদের পেন বা বই উপহার দিয়ে আর তাঁদের সম্বন্ধে দু-চারটে বাছা বাছা শব্দবন্ধ প্রয়োগ করেই কি সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি পূর্নতা পায়! বোধয়হয় আমরা দায় মুক্ত হতে যায়, আমরা প্রত্যেকেই তো স্বাধীনচেতা, তাই এটাকে সাধ্যমত ঋণশোধের একটা নির্লজ্জ প্রয়াস হিসাবেও দেখা যেতেই পারে। নাহলে আজকাল প্রায় প্রতিদিনই সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামে শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনা। কিছুকাল আগেও জনমানসে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হতো, এখন এমন অবস্থা যে রোজকার এই ক্রমবৃদ্ধিমান এই ঘটনাপরম্পরা শিক্ষকেরাও মেনে নিয়েছেন, বা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন, দৈনন্দিন প্রাতঃকর্মের মত।

শিক্ষার সাথে দানের সম্পর্ক অঙ্গাগীভাবে জড়িত। বিদ্বানরা বলে থাকেন, শিক্ষা এমন একটা সম্পদ যা দান করলে, উক্ত সম্পদের ক্রমবৃদ্ধি ঘটে, অর্থাৎ শিক্ষাদানের সাথে যুক্ত ব্যাক্তি ধনী হয়ে উঠেন, অন্তত জ্ঞানগত ভাবে। কিছু কাল পুর্বেও, প্রণামী হিসাবে যা জুটতো, তাতে করে শিক্ষকদের উনোনে কোনমতে জল গরম হত। সাহিত্যের পন্ডিত মশাইদের লক্ষ্য করুন, দেখবেন প্রায় সকলেরই এক একজন মহান পন্ডিত রুপে বর্নিত ও সাথে সাথে দরিদ্র ও বটে। কেও কেও হতদরিদ্র। মানে সমাজচিত্র টা এমন , যেন শিক্ষকের দরিদ্র হওয়াটা শিক্ষাপেশার অন্যতম চারিত্রিক ও সামাজিক গুন। নাহলে আপনি শিক্ষক নন। আর এইটাই আমাদের মনে বদ্ধমূলে প্রেথিত, যে শিক্ষককে ধনী হইতে নাই।

পণ্ডিত নেহেরু বলেছিলেন, ‘আগামী দিনের ভারত কেমন হবে, তা নির্ধারিত হবে শ্রেণীকক্ষসমূহে।’ কথাটা কালজয়ী, কারন এটা আজও সত্য।

শিক্ষার্থীদের কাছে বিদ্যালয় আনন্দদায়ক করে তুলতে হবে, এটাই নীতিতিত্ব। শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় প্রাণের স্পন্দন জাগবে না। যদিও শিখিয়ে পড়িয়ে একটা রবীন্দ্রনাথ তো দূরঅস্ত একটা সচেতন রবীন্দ্ররচনার বোদ্ধা বা তাঁর দর্শনের আলোকে আলোকিতো করা যেতেই পারে। শিক্ষাকে ফুর্তিময়, আনন্দঘন, করে তুলতে পারলে শিক্ষার্থীরা নিজের জীবনের জন্য শিক্ষাতে উদ্ভূত হবে নিজে থেকেই, তাঁর জন্য শিক্ষকদের উদ্যোগ নিতে হবে।

পেশাদারিত্বের মোড়কে স্নেহশীল পিতার মত শিক্ষার্থীদের মনের কাছাকাছি পৌছে তাদের সমস্যার সমাধান করতে হবে। নীতিহীন শিক্ষা আর অশিক্ষার মধ্যে ফারাক সামান্যই, দুটোই সমাজের পক্ষে ক্ষতিকর। নিজেদের ভুল নিজেরা না শোধরালে অন্যের ক্ষমতাও নেই পরিবর্তন আনা। আমাদেরে বেশিরভাগ শিক্ষকেরাই মিথ্যে হলফ খাচ্ছেন আর প্রাইভাট টিউশনের নামে, মোটা বেতনের বিনিময়ে লক্ষীলাভ করছেন। তবুও দষ শুধু ছায়া প্রকাশনীর। মেঝেতে টাইলস বসছে, ঘরে এসি বা চারচাকা গাড়ি। এখনো আমরা মানে শিক্ষকেরা যে বেতনই পাই না কেন , তাতে করে এই দুর্মুল্যের বাজারে সংসার চালিয়ে ওই বাহুল্য করা যায় না, যদি না শিক্ষক পরিচয় টা আমরা বেচতে পারি। ক জন আছেন এমন? যারা বিনামুল্যে শিক্ষাদান ব্যাবস্থার সাথে যুক্ত। মানে নিজেকে দাতা হিসাবে তুলে ধরতে!

বর্তমানে সমাজ বদলেছে, নানান আন্দোলন ও গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষকরা সমাজের মধ্যবিত্ত সমাজের সর্ব্ববৃহৎ প্রতিনিধি। বিশ্বায়নের বাজার কর্তাদের অন্যতম লক্ষ্য শিক্ষক সমাজ। কারন তাঁদের কে শিক্ষার্থীসমাজ অনুসরণ এর সাথে সাথে অনেক অবিভাবকগন অনুকরনও করেন। মহার্ঘভাতা সহ কেন্দ্রস্তরের সাথে রাজ্যস্তরের বেতন কাঠামোর ও অসামঞ্জস্য থাকতে পারে, তবুও অতীতের আরশিতে মুখ দেখলে, বর্তমান শিক্ষকেরাই নিজেদের ভাগ্যবান দেখবেন। ইহা বিতর্কিত ও প্রমানিত সত্য।

শিক্ষকতা বর্তমানে একটা পেশাও বটে। কারন ক্ষুধা বলে অধ্যয়টা জীবন নামক পুস্তকের সর্বাপেক্ষা বৃহৎ অধ্যায়। সেখানে শিক্ষকেরা ব্রাত্য থাকেন কেমনে! শিক্ষকেরাও মানুষ, আমার বা আপনার ঘরেরই ছেলে বা ভাই। বণিককুল, রাজনীতিক বা সমাজবিরোধী সহ আমার মত উন্মাদদের মত চাহিদার উন্মত্ততা না থাকলেও, যেটা থাকে সেটাও একজন সামাজিক জীব হিসাবে সমপরিমানের এবং কম কিছুনা। তাঁদের জীবনেও নিত্যচাহিদা, লোভ, লালসা, কাম, ক্রোধ, ক্লান্তি, ইত্যাদি সহ সবকিছুই আছে, যা শিক্ষা ছারা অন্যপেশার মানুষজনদের ভিতরেও বিদ্যমান। সর্বপরি বিজ্ঞাপনের নির্লজ্জ ও দুর্দমনীয় হাতছানিকে উপেক্ষা করা, অতিবড় সন্তেরও যেখানে অসাধ্য, সেখানে বেচারা শিক্ষককুল আর কি করে। গা বাঁচানো যে অসম্ভব। তাছারা শিক্ষকের পরিবারের বাকি সদস্যগণ, তাদেরও চাহিদা বিশ্বায়নের সুত্র মেনেই, কিন্তু প্রত্যেকে উপার্যনাক্ষম নন। তাই শিক্ষকদের, উপায়ান্তর ভাবে শিক্ষাকে পন্য হিসাবে বাজারজাত না করা ছারা বিকল্প পন্থা কি আছে?

বেচারা শিক্ষক...
একজন মুদি দোকানি, বা কাপড়ের ফিরিওয়ালা বা চিকিৎসক, তাদের টা ও পেশা, কিন্তু সেখানে অনুকরন বা অনুসরণ খুবই নগন্য পরিমানে, কিন্তু শিক্ষা পেসার সাথে যুক্ত মানুষজন! সদা সর্বদা শিক্ষার্থী আর তাদের অবিভাবক সহ রাষ্ট্র যন্ত্রের আণুবীক্ষণিক নজরের আওতায়। জীবনিসুত্রের নুন্যতম তাৎক্ষনিক প্রতিবর্ত ক্রিয়াগুলোও অদৃশ্য সেন্সরের হাতে বাঁধা। বাকি পৃথিবী যেগুলো কে আমোদ হিসাবে মান্যতা দিয়েছে, উতশৃঙ্খল না হলেও, প্রকাশ্যে সেগুলোর বহু কিছুতেই, শিক্ষকদের কিন্ত উদযাপনে মানা। পেশাগত কারনেই অনেক ছোট ছোট সামাজিক বা ব্যাক্তিগত চাওয়াপাওয়া কে বলি কাষ্ঠে চড়াতে হয় বা আপস করে নিতে হয়। প্রথম প্রথম বাধ্য হলেও পরবর্তীতে অভ্যস্ত হয়ে যান।

এখন সাফল্য নির্ভর করছে আপনি কি, তাঁর উপর। যদি শিক্ষাজিবী হন তাহলে শুধুমাত্র শিক্ষা কে পন্য হিসাবে বাজারজাত করে পেশা তথা রুজি রক্ষা র তাগিদ, এতে করে সর্বচ্চ বুদ্ধিজীবির খেতাবটা পেতে পারেন। আর বৃহস্পতি তুঙ্গে থাকলে ঠাটবাটে রাজপুত্তুর কেও হার মানানোর ক্ষমতা রাখবেন। মুশকিল দ্বিতীয় পন্থীদের নিয়ে , যিনারা শিক্ষাবিদ। এনাদের চাকুরি থেকে অবসরের পর পেনসনের টাকা ঠিক আটকাবেই আটকাবে। আসলে বিদ্যাটাকে ইনারা দানের বস্তু হিসাবেই দেখেছেন, আর বেতন কে সাম্মানিক হিসাবে। যারা জীবনে একটাবারও প্রমোদ ভ্রমনে যেতে পারেননি, কষ্টে সৃষ্টে কোনমতে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। তবে এনাদের নিয়ে শিক্ষার্থীমহলে একটা গর্ব করার মত ব্যাপার থাকে। রাস্তাঘাটে যেখানে সেখানে টুক করে মিলে যায়, এক আধটা, কান পর্যন্ত এঁটো করা হাসি সহ পেন্নাম।

কিন্তু ক জন দ্বিতীয় শ্রেনিভুক্ত হতে পারেন?? আমাদের অনেক শিক্ষকেরাই নগন্য ব্যক্তি স্বার্থের জন্য, ব্যাক্তিত্ব খুইয়ে প্রায় চরিত্রহীন হয়ে ক্ষমতাবানদের কাছাকাছি গা ঘেঁষা ঘ্যেষি করে বসছি। মেরুদন্ডকে বিক্রি করেদিচ্ছি। রাষ্ট্রের তৈরি চিত্রনাট্য অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পরিচালিত করার ভাবনা পোষন করে চলেছি। এই চরিত্রের কিন্তু কোন আমরা ওরা নেই, সব দশকেই এটা সত্য। শাষক বদল হয়েছে, চিত্রপটের পরিবর্তন হয়নি, বরং নির্লজ্জতার মাত্রা অনেক ক্ষেত্রেই সহ্যের সীমা ছারিয়েছে। শিক্ষিকেরা নিজেদের নিজেরা হেও করলে, বাকি সমাজের কি দায় থাকে সম্পূর্ন শ্রদ্ধা প্রদর্শনের? সমস্যা হলে, কুকর্ম করে মুষ্টিমেয় কয়েকজন, কিন্তু দুর্নামের ভাগীদার হয় গোটা শিক্ষক সমাজ।

এই লেখার শুরুটা ঠিক কোন স্থান থেকে করা উচিৎ এটা ভাবতে গিয়ে বিষয়টা ওভাবেই শুরু হয়ে গেলো। কেন শিক্ষকদের মধ্যে এমন শ্রেনি বিন্যাস ঘটলো? সেই ঘটনার দিকে দৃষ্টি পাত করলে দেখা যাবে - ‘বঙ্কিমচন্দ্র ছিলেন বাঙালিদের মধ্যে প্রথম গ্র্যাজুয়েট। কিন্তু অবাক করা মত বিষয় যে, তিনি বাংলা ভাষায় অনুত্তীর্ন হবার দরুন, কৃপা স্বরূপ কিছু নাম্বার ধরে দিয়ে তাঁকে উত্তীর্ন করানো হয়েছিল। এভাবে বাঙালি গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে তিনি প্রথম গ্র্যাজুয়েট হওয়ার গৌরব লাভ করেন। অথচ তাঁর লেখা বাংলা পড়েই কতজন উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করছেন। আমার মত উন্মাদ ও বঙ্কিমি সাহিত্য দ্বারা অনুপ্রানিত হয়ে এই কাকের বাসার মত প্রবন্ধ লিখতে উৎসাহিত হয়েছি।’

কিন্তু বঙ্কিমচন্দ্র এর মত প্রতিভাসম্পন্ন মানুষ কেন এমন ফলাফল করলেন? কারণ, বাংলা ছিল তখন দারুণ সংস্কৃত ঘেষা। সেই সংস্কৃতের কঠিন ও দুরূহ বিষয়গুলো তাদের পক্ষে মুখস্ত করা ছিল কঠিন। মুখস্ত বিদ্যা শুধু একটি মুখস্ত জাতি উপহার দিয়েছে তা নয়, বরং কালের পর কাল জাতিকে পিছিয়ে দিচ্ছেও। আর সেই শিক্ষায় বলিয়ান আমাদের বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষকেরাও। কবিগুরুর ভাষায় ‘যে ছাত্র পকেটে করে নকল নিয়ে পরীক্ষার হলে ঢোকে তাকে তোমরা বিদ্যালয় থেকে খেদিয়ে দাও, আর যে মগজের ভেতর চুরি করে নিয়ে ঢোকে তাকে তোমরা শ্রেষ্ঠ ছাত্রের সম্মান দাও, এটাই প্রকৃত শিক্ষা ব্যাবস্থা।’ শুধুই বা ছাত্র কেন, শিক্ষকেরাও তো অনেকেই এই পথেরই পথিক, বা সরক্ষনের প্রতক্ষ ফসল।

আজকের বিদ্যালয় গুলোতে যারা কৃতী হচ্ছেন, তাদের কে জাঁকজমকপূর্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে, পুরস্কারও দেয়া হচ্ছে। কিন্তু যারা তুলনামূলক খারাপ ফলাফল করেছে বা পাশ করতেই পারেনি সেই বৃহৎ অংশের হিতের জন্য কতজন শিক্ষক কি কি ধরনের উদ্যোগ নেন, ওই রকম ঘটা করে?। শিক্ষার আলো থেকে অপসৃত, অকালে হারানো বা অনগ্রসর প্রচুর শিক্ষার্থীরা পরিবারের কাছে তো দায় স্বরুপ। হতাশা আর অবহেলা থেকে এরা সমাজের অন্ধকার পথে পা বাড়ায়। অথবা শিশু শ্রম, ভিক্ষাবৃত্তি বা ওই ধরনের দুষ্কর্মের সাথে জড়িয়ে পরে। সমাজের শান্তিশৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটায়। অথচ এই অকালে ঝরে পড়া, পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের যদি সমাজমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করা যেতো, তাহলে নিজেদের পছন্দমত পেশা বেছে নিয়ে তারা সুন্দর জীবন যাপন করতে পারতো। কিন্তু সেই শিক্ষা দেবে কে? আজ যারা শিক্ষক বলে নিজেদের দাবি করেন, তাঁরা কতটা ওয়াকিবহাল, এই সকল বিষয়ের উপর? নিজের পেশা নিয়ে কজন কতটুকু গবেষনা করেছেন, নিজেকে সহ সম্পূর্ন ব্যাবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে।
শিক্ষকরা যদি এই বিষয়ে আরো মনোযোগী হতেন , তবেই বোধ হয় প্রকৃত শিক্ষক হয়ে উঠতে পারতেন। অন্যেরা শিক্ষকদের আর তাদের পেশাকে এতো হেও করতে পারতো না।

শিক্ষার উদ্দেশ্য মানুষকে বিকশিত করা, তাই শিক্ষক জাতির মেরুদন্ড। আর মেরুদন্ডের নিজেই যদি ক্যালসিয়ামের অভাবে ভোগা রুগী হন, পুরো সমাজটাই ঝাঁঝরা হয়ে যাবে, শিক্ষার্থীরা দক্ষ মানবসম্পদের জাইগায় দক্ষ অসুরে রূপান্তরিত হবে। তবে বেশ কিছু ক্ষেত্রেই এই মেরুনন্ড কথাটা কেমন যেন আত্মশ্লাঘার মত শোনায়, আয়নার সামনে দারিয়ে অনেক শিক্ষকই বলতে পারবেন না যে আমিই সেই , যাকে আদর্শ শিক্ষক বলা চলে, আসলে নিজেকেই নিজে ধাপ্পা দেওয়ার মত ঘটনা। কবিগুরু বলেছিলেন, ‘জীবন যেমন হওয়া উচিত, শিক্ষাও তেমন হওয়া উচিত।’ জীবন ও শিক্ষা একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তাই জীবনের চাহিদা মেটাতে সক্ষম সেরকম শিক্ষা চাই। আর শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষক বিনা কারোর পক্ষেই সম্ভব নয়। আজকের ভারত দ্রুত উন্নয়নশীল রাষ্ট্র। কিন্তু অধিক জনসংখ্যার ভারে নুজ্ব। তাই শিক্ষকদেরই এগিয়ে আসতে হবে সামাজিক পরিবর্তন আনতে। আমরা যারা শিক্ষক, তাঁরা নিজেদের একটু সম্মান করার পাশাপাশি নিজেদের পেশাদার করে তুলতে পারলে সত্যিকারের শিক্ষক হিসাবে পরিচিতি পাবো বা পরিচয় দিয়েও গর্ব অনুভব করতে পারবো।

এখানেও শেষ হয়ে গেল, আসলে আমি এর বেশী আর জানিই না যে।

~ উন্মাদীয় বানানদোষে দুষ্ট 


শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

প্রতিষ্ঠান


বদলে চলা সমাজের চলচ্ছবির সাথে আমরাও অবিরাম বদলে চলেছি। আজকের সভা সমিতিও আমাদের প্রযুক্তিময়। আমাদের বন্ধুমহল, সংঘ অন্তর্জালের মাধ্যমে শয়নকক্ষের কুঠুরিতে বন্দি। সেখানে কিছু দূরদৃষ্টি সম্পন্ন সভ্য, এই বহুজনের সমাগমকে নিছক সময় অতিবাহনের মাধ্যম হিসাবে না দেখে, নিজেদের চাওয়া পাওয়া দুঃখ আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি, ইতস্তত বিক্ষিপ্ত, সমাজের সকল বুনিয়াদি পেশার সাথে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত মানুষদের, লেখক, পাঠক, সমালোচক,  ছাত্র,  শিক্ষানুরাগী, মাতাল,  দাঁতাল সহ অনেককে- বিশেষত একটি নতুন বন্ধুবৃত্তকে একত্র করে, এক ঘাটে এসে পর্যালোচোনার জন্য ভিন্ন নামের ভিন্ন চরিত্রের গ্রুপ নামক প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি করেছেন। সময়ের সাথে আরো গুনীজনের সমাগম ঘটে সেই ভাবনাদের পরিস্ফুটন ঘটায়।

এমনই এক গ্রুপে হঠাৎ করেই আমার জন্ম। যেখানে গ্রুপের বিষয়টা কেবলমাত্র এই বুড়োঙুলের ডগাতে না থেকে পারিবারিক সম্পর্কের বাঁধনে জড়িয়ে পড়েছি। এটা শুরুটা অন্তর্জালীয় হলেও সময়ের দাবি মেনেই আজ আমরা আত্মীয়, তা আমরা যেখানেই থাকিনা কেন। সেই দিনের খেয়ালে নামহীনতার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ন শুন্য থেকে শুরু করার মাধ্যমে যে ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাট এই কিম্ভূত নামের যে যাত্রা শুরু হয়েছিল সেই... গ্রুপ নামক 'পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে', আজ তা সকলের ভালোবাসা, শুভেচ্ছা আর আস্কারাতে তৃতীয় বর্ষ অতিক্রম করল। দেখতে দেখতে নানান ওঠাপড়ার মাধ্যমে, বন্ধুত্বের সংযোজন বিয়োজন সহকারে, নিত্যনতুন অস্থানে কুস্থানে নোঙর ফেলে আবার গুটিয়ে এই বান্দর বন্দর খোঁজার চেষ্টায় মুহ্যমান। বহুবার কিছু বন্ধু(!) অস্তিত্বটাকেই মুছে দিতে চেয়েছেন, কিন্তু আপনাদের এই আঁশটে সোহাগের লোভে সেই বিনাশের চিতা থেকেই পূনর্জন্ম লভেছি। এটাই উন্মাদের আনন্দ আর সাফল্য, কারন আমি একা উন্মাদ নই। আমার সাথের সকলেই একটা গন ভাবনার শরিক, যেটার নাম উন্মাদনা। দুঃখ ক্লেশ বিরহ ব্যাথা কার জীবনে নেই, সেটাকে দূরে রেখে জীবনকে উপভোগ করার উন্মাদনা। হাজার ব্যাস্ততার ফাঁকে নিজেকে সময় দেবার উন্মাদনা, নিজেকে বিনোদন দেবার উন্মাদনা, যেটার মুখ্যভাগে মর্কট নাচটা আমি নাচি প্রকাশ্যে এই যা ফারাক।  এই তৃতীয় বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আমার একটি ক্ষুদ্র প্রবন্ধ বিনম্র উৎসর্গ সকল গ্রুপ নামক পরিবারের কর্মকর্তাদের প্রতি-

প্রতিষ্ঠা

প্রচলিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিছু জীব বা মনুষ্য একান্তিভূত বা একত্রিভূত হয়ে, ব্যক্তি লক্ষ্যে বা যৌথ লক্ষ্যে, সঠিক সাথী বা পাথেয় বা গুনগত সদস্য নির্বাচন করে, কোন লক্ষ্যকে নির্দিষ্ট করে, যে কোন উদ্দেশ্যে, সাক্ষাৎ বা কয়েক জন কে নেতা নির্বাচন করার মাধ্যমে, একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশের সংস্থাপনকে প্রতিষ্ঠা হিসাবে উল্লেখ করা যেতে পারে।

প্রতিষ্ঠা নানা ধরনের হতে পারে, প্রতিষ্ঠার সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম প্রতিষ্ঠান। ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠা হতে পারে, সমষ্টিগত প্রতিষ্ঠা হতে পারে। ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠার অভ্যন্তরে ব্যক্তিজীবনের সকলকিছুই, যা নিত্যপ্রয়োজনীয় বা বিনোদনমূলক দৈনন্দিন কার্যকলাপ, প্রচেষ্টা ও অনুশীলনের মাধ্যমে বিকাশ লাভ করে। কিন্তু একজন ব্যক্তি আরো কয়েকজন সমমনষ্কদের সাথী করে, সমভাবনার যাত্রী হয়ে, সমস্বার্থে একটি সমবায় গঠনের মাধম্যে পরিষেবা দিতে বা পেতে শুরু করে তখন তাকে প্রতিষ্ঠান বলে।

ব্যক্তিস্বার্থের খাতিরেই নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার তাগিদে পথ চলার সূত্রপাত হয়। কিন্তু কথায় আছে একা মানে বোকা। চলার পথে সহকারি প্রয়োজন, ব্যাধি, ক্লান্তি ও একঘেয়েমি দূর করার জন্য সাথী প্রয়োজন, উৎসাহ দান হোক বা সমালোচোনা তার জন্যও দ্বিতীয় ব্যক্তি বা বহু ব্যক্তিবর্গের প্রয়োজন। এর জন্যই একক ক্ষমতার অধিকারী সত্ত্বার প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিরও বহুল সমাগম সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন। সেখানে যোগ্যতা অনুসারে দায়িত্বের বন্টন হয় এবং সমাহারে অর্থনৈতিক লাভের ফসল ঘরে তোলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে সম্পূর্ন প্রয়াসে দৈহিক ও মানসিক শ্রম প্রতিষ্ঠানে প্রদান করে।

প্রতিষ্ঠানের একবার শুরু হয়ে গেলে তাকে বলপূর্বক না থামালে তাহা কখনই থামে না। এখন নিউটনের সুত্রানুসারে সেই বল আভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক যে কোন প্রকারেরই হতে পারে। বিশুদ্ধবাদীরা ভ্রু কোঁচকাবেন। প্রত্যহই সকাল সন্ধ্যা হাজার প্রতিষ্ঠানের জন্ম হচ্ছে আবার সমহারে বন্ধ ও হয়ে যাচ্ছে। বিদ্বজ্জন বলবে ভাবনার পরিসরটাকে আরো বিস্তৃত করুন। লক্ষ্য করুন বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলোর দিকে, মানব সভ্যতার ইতিহাসে আজ পর্যন্ত কোন প্রতিষ্ঠানই কী বন্ধ হয়েছে? রুপান্তরিত হয়েছে, তাও খুবই সামান্য রুপে। ইসলামের মত কোন কোন প্রতিষ্ঠানে তো বদল তো দূরস্থান, বদলের কথা বলাই অন্যায় ও প্রতিষ্ঠান বিরোধীতার চরমতম ধাপ।

যে কোন প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা একটি গুরুত্বপূর্ন শর্ত তার দীর্ঘমেয়াদিত্বের জন্য, আর তার জন্য প্রয়োজন অনুশাসন। যে প্রতিষ্ঠান যত বড়, জানতে হবে সেই প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনী প্রক্রিয়ার প্রসূতি গাহ ততটাই উন্নত। ক্রমউদ্ভাবনী শক্তি ভিন্ন, সমাজে টিকে থাকা দুরুহ।

যিনি প্রতিষ্ঠানকে প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলেন বা যার মস্তিষ্কপ্রসূত এবং যারা তার সহকর্মী তথা সহ উদ্যোগী ছিলেন তারা প্রত্যেকেই সর্বোচ্চ প্রসংসার যোগ্য, এবং তারাই মুখ্য উদ্ভাবক। তবে প্রতিষ্ঠানের জন্মদাতার দায় থাকে প্রতিষ্ঠান কে মসৃণ গতি প্রদানের। প্রতিষ্ঠানকে চালাবার দায় তার উপরেই সবচেয়ে বেশি বর্তায়। একটা প্রতিষ্ঠানকে চালনা করার জন্য পরিচালন মণ্ডলী আবশ্যক। যেখানে ভালো নেতার সাথে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারদর্শী বৃত্তাংশকে জুড়তে সক্ষম হলে তবেই একটি উদ্ভাবক রসশালাতে পরিনত করা সম্ভব।

নেতাকে সকল বিষয়ে পারদর্শী না হলেও চলবে, কিন্তু তাৎক্ষণিক বিচক্ষনতা সহ প্রত্যুৎপন্নমতিত্বাও নেতৃত্বের গুণটা থাকা আবশ্যক। যিনি যে কোন পরিস্থিতিতে, উদ্ভূত সমস্যার হাল ধরে তার সুষ্ঠ সমাধান করতে পারেন। কিন্তু কালের নিয়মে মেধায় স্থবিরতা আসে, মস্তিষ্ক নতুন ভাবনার জন্ম দিতে পারে না, তার জন্য উদ্ভাবনী শক্তির সরবরাহের প্রতিবিধানটাও জরুরী। এবং এটা বর্তমান পরিচালকমণ্ডলীদের সহ নেতার দায়িত্ব, সেই সরবরাহের পথটা সকল সময় ক্রিয়াশীল রাখা। যেখানে ওই পরিচালকমন্ডলী বুদ্ধ্যাঙ্ক ও শ্রমের নিরিখে মেয়াদ উত্তীর্ণ করলেও, প্রতিষ্ঠান স্বমহিমায় বিরাজ করে।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের একটা ভিত্তি থাকে। আর সেই ভিত্তি ততটাই মজবুত যতটা বেশি ওই প্রতিষ্ঠানের শিকড় মাটির অন্তরে প্রেথিত। প্রতিষ্ঠান যত উচুতেই উঠুকনা কেন, তাকে টিকে থাকতে গেলে যেটা বা যিনি বা যারা মূল কাঠামো, সেটা বা তাদের মাটির সাথে সম্পর্ক আরো নিবিড় করতে হয়, আর এই সম্পর্কে ছেদ মানেই ধরাশায়ী হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা।

নির্মান করা আর টিকিয়ে রাখার মাঝখানের অংশটুকুর নাম পরিচালনা। নির্মানের পিছনে থাকে একটি অভিলাষের রেখচিত্র আর শ্রমিকের শ্রমের সংমিশ্রণ। টিকিয়ে রাখতে চাই নিখুঁত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, এবং সাথে জুড়ে থাকা সকলের স্বার্থ সুরক্ষিত করা। আর এই জ্ঞানটুকুর নামই প্রাতিষ্ঠানিক ভাষায় ‘কৌশলি তদারক’। তারাই আসলে সমাজের অভিমুখ নির্ধারন করে দেয়।

একজন শিল্পী, যার শিক্ষনিবিশি কালে অথবা শিল্পকে যখন পেশা হিসাবে বাছলেন তখন তিনি এক্কেবারেই অচেনা। কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া, তাদের সেই সংগ্রামের পিছনে এই তথাকথিত প্রতিষ্ঠানেরাই আর্থিক ও যোগাযোগের উপস্থাপক রূপে কাজ করেন। আর এই প্রতিভাকে খুঁজে বের করেন সেই কৌশলি তদারকের দল যারা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার দায়িত্বে। একজন শিক্ষক, ডাক্তার, বড় শিল্পী, অভিনেতা, জননেতা যে কেউই এই তদারকের ভুমিকাতে উত্তীর্ন হতে পারেন। হয়ত তাঁরা কোন ঘোষিত আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানের অংশ নন। কিন্তু একটু গভীর ভাবে পর্যবেক্ষন করলেই দেখা যাবে আসলে এগুলো বা ওই ব্যাক্তি বর্গরা নিজেই এক ধরনের প্রচ্ছন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান বা তার অংশ, যার সাথে আমাদের দৈনন্দিন ভালমন্দ গুলো জড়িয়ে থাকে। বিনোদনের ক্ষেত্রেও একই। 

বিশাল ধরাধামে বিপুল জনরাশি, এখানে স্থান কাল পাত্র ভেদে সমাজ একেক রকমের। তাদের জীবনধারনের নূন্যতম শর্ত থেকে চাহিদা, মূল্যবোধ সকল কিছুই আলাদা আলাদা। তাই পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠানেরও শেষ নেই। বিভিন্ন রকমের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কিছু মূল প্রতিষ্ঠানের উল্লেখ করলাম, যাহার মধ্যে প্রায় সকল ধরনের প্রতিষ্ঠানই ঠাঁই পেয়ে যাবে।

একক প্রতিষ্ঠানঃ যেমন রাষ্ট্র বা সংঘ, দাতব্য সংস্থা ইত্যাদি। এরা প্রায়শই স্বয়ংসম্পন্ন।

সহকারি প্রতিষ্ঠানঃ যেমন রাজনৈতিক দল, ধর্ম সমাজ ইত্যাদি। এদের কেবল মাত্র জনগনকে প্রয়োজন।

 

বৃহত্তর সমযোজী প্রতিষ্ঠানঃ যেমন পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সর্বোপরি প্রশাসন সহ ইত্যাদি ইত্যাদি, এটা রাষ্ট্রের বা রাষ্ট্র অনুমোদিত ব্যক্তি মালিকানাধীনস্ত, এবং রাষ্ট্রের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গুলোর সাথে সমন্বয় রেখে চলার মধ্যেই তাদের অস্তিত্ব। বিবাহও কিন্তু এক ধরনের সমযোজী প্রতিষ্ঠান।

পরজীবী প্রতিষ্ঠানঃ ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান, ইউনিসেফ, কর্মী ইউনিয়ন, ইত্যাদি। এরা সকল সময়েই কারো না কারোর উপর বিভিন্ন ভাবে নির্ভরশীল।

কিছু ব্যাতিক্রমী ব্যাক্তিবর্গ, বিশ্বব্যাপি কোন নতুন যুক্তিবাদের আবির্ভাব ঘটিয়ে, বিশ্বসমাজকে নতুন পথে চালিত করে, এবং তাদের ভাবনাকে বিভিন্ন বৃহত্তর প্রতিষ্ঠান, যেমন রাষ্ট্র ... নির্দ্বিধায় মেনে নেয় বা মানাতে বাধ্য করে। তারাও একটা গোটা প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা পেয়ে থাকে। যেমন ম্যান্ডেলা, গান্ধী, আইনস্টাইন, লিঙ্কন, মার্ক জুকেরবার্গ, বা স্টিভ জোবস সকলেই প্রতিষ্ঠান

সমগোত্রীয় বা সমস্বার্থের জন্য একটি সমাজে গড়ে উঠা প্রতিষ্ঠান গুলির মধ্যে সংঘাত অবশ্যম্ভাবী। সেটা স্বাস্থ্যকর বা হানাহানি যে কোন স্তরের হতে পারে, যতই উভয়েই সমাজের পক্ষে কল্যানকর হোক না কেন।
ডারউইনের তত্ব এক্ষেত্রেও সমান প্রযোজ্য। যোগ্যতমের উদবর্তন। সেই টিকে থাকবে, যে লড়াই করে বিজয়ী হবে- এবং এই লড়াই নিরন্তর ঘটে চলা একটা প্রক্রিয়ার নাম। কখনো কখনো যা নিজের সঙ্গেও হতে পারে। টিকে থাকার জন্য উকর্ষের কোন বিকল্প নেই।

প্রতিষ্ঠা হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া কোন বিশেষ ক্ষনের নাম নয়, প্রতিষ্ঠা হলো একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, সেখানে ইচ্ছাশক্তির ফলিত রুপ লক্ষিত হয়। প্রতিষ্ঠালব্ধ মনুষ্য হইবার বাসনা উন্মাদ ভিন্ন সকলেই পোষণ করে থাকে। বুদ্ধি-শ্রম--ভাগ্য এই তিনের সঙ্গম সঠিক সময়েই হলে, প্রতিষ্ঠা পাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। প্রতিষ্ঠা লাভ করার জন্য পূর্বসুরি সফল প্রতিষ্ঠান গুলির নিয়ম বিধি গুলিকে অনুসরণ করার প্রয়োজন, অনেকে অনুকরন করে ফেলেন, কিন্ত পরিস্থিতি ভেদে অনুকরন বিপদ সৃষ্টি বা বৃদ্ধি করে, কিন্তু অনুসরণ সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ সুগম করে।

_______
@উন্মাদ হার্মাদ



রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৫

দুই দুগুনে চার


*****উন্মাদীয় রবিবাসর*****

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
দুই দুগুনে চার
.........................
“আতা গাছে তোতা পাখী , ডালিম গাছে মৌ।
হীরে দাদার মড়মড়ে থান, ঠাকুরদাদার বউ”।

আর সে সুখ নাই কত্তা , আর সে সুখ নাই। আমাদের শিশুকালীন ছড়া গুলো কত প্রাসঙ্গিক ছিলো। কি সুন্দর লাগে এখনো এ গুলো শুনলে, কিন্ত আজকাল কেও আর পড়ে না এগুলো সাধারনত। হ্যা, কিছু গোমুখ্যের দল তো চিরদিনই থাকবে, তারাই পড়ে। তবে একটা কথা কি আমরা তো প্রগতিশীল, তাই সময়ের সাথে সাথে বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই সকল ছড়ার গ্রহনযোগ্যতা হারিয়েছে। তারই একটু উন্মাদীয় ধারায় বিষ- Lesson।

এর দুটো কারন হতে পারে, একঃ- বাজারে নতুন নতুন ছড়া এসেছে, এখন তো আবার সারা পৃথিবী আমার ড্রয়ংরুম টাইপ। তাই বাপ মায়েদের কলার টিউন “খেলিছো এ বিশ্ব লয়ে...” গোছের, সেখানে ছেলেকে পাক্কা খেলোয়ার বানাতে, তাকে সেই আদ্দিকালের রদ্দিমার্কা ছড়া না পড়িয়ে “চলো নতুন কিছু করি” গোছের ভাবনার পথিক, তবে বাপ-মায়ের আবার ওই সব ছড়ার প্রতি ভীষন দুর্বলতা, আমারই মত, হতভাগা। কারন তারা তো ওগুলো পড়েই বয়েসে বেড়েছে, তারা ভাবেন আমি আমার বাচ্চাদের, না পড়ালেও কি হবে! কেও না কেও ঠিক পড়াবে, আর বাকি ওই নষ্টালজিকতার দায়!! গা-গঞ্জের হা ভাতের দল গুলো ঠিক জিইয়ে রেখে দেবে। কিন্তু দুধপুকুরে মবাই মিলে জল ঢাললে যা হয়, এখানেও তাই, ক্রমবলুপ্তির পথে এই শিশুপাঠ্য।

দুইঃ- পাঠ্য আর পরিবেশের মধ্যে মিল খুঁজে না পাওয়া। বাচ্চা যদি জানতে চাই, পাপা পাপা, What is Ata gach?? কিম্বা মাম্মা মাম্মা what is dalim ghach?? তখন বাবা বা মা উত্তর দেবেন , হয় গুগুলে সার্চ মেরে বেটা কে ছবি দেখিয়ে, নিজেকে ও বাচ্চাকে ধন্য করবে, নতুবা বলবে, বেটা ছুটি পরুক তখন চিড়িয়াখানা বা বোটানিক্যাল গার্ডেনে নিয়ে গিয়ে তোমাকে আতা গাছ, ডালিম গাছে চিনিয়ে আনবো, তোতা পাখী দেখাবো জ্যান্ত। বাচ্চা মোটেই এই বস্তুগুলোর সাথে নিজেকে রিলেট করতে পারে না। আজকালকার বাচ্চাদের কাছে মৌমাছি আর মিশরের পিরামিডের মধ্যে যে কোন ফারাক নেই। কারন তারা দুটোকেই চর্মচক্ষুতে দেখিনি, তাই রিলেট করতে পারে না।

বাকি রইলো হিরে দাদার থান, মৃত ব্যাক্তি ছারা থান আর ব্যাবহার করে কে? সকলেই সুটেট বুটেড মানে পুরুষেরা, আর ললনাগন, খিক খিক...... যদি হও সুজন , তেঁতুল পাতায় ন জন। একটা থান কেটে ৭০ জনের অবলার পোষাক। তবে মা মাসিরা এখনো শড়ির চল কেও কেও রেখে ছিয়েছেন বটে, তবে তার মেয়াদ দীর্ঘদিন আর নেই, সেটা বলাই বাহুল্য। শেষের টা, ঠাকুর দাদা আর তার বউ, মানে ঠাকুমা। তারা কোথায়?? আনবিক পরিবারে তাদের ঠিকানা তো বৃদ্ধাশ্রম।
সুতরাং বাচ্চারা কেন এই ছড়া পড়বে!!

এবার গুরুদেবের রচনা, মানে কবি গুরুর সহজ পাঠের কথায়। নিজগুণে মার্জনা করিবেন, স্পর্ধা করার জন্য।

শুরুটাই তো ভুল, “ছোট খোকা বলে “অ-আ”, কে বলে আজকাল!! সবাই ABC , Mamma , DADDA বলে। একটু বড় হলে Jonny jonny, yes papa। “হ্রস্ব-ই দীর্ঘ-ঈ, বসে খায় ক্ষীর খই”। কি যন্ত্রনার কথা বলুন তো! বসে খাওয়ার সময় কার আছে?? বাপ – মা- বাচ্চা, কারো নেই। তাছারা ক্ষীর খাওয়ার জন্য কি আর বসার লাগে!! বুদ্ধি লাগে আর রুলিং পার্টির সাথে লেগে থাকতে হয়। তাছারা ক্ষীরে চিনি আর ঘি থাকে, ডায়েটের জন্য খাওয়া মানা। আর বাই দা ওয়ে , ‘খই’ টা কি চাইনিজ ডিস!! কেমন যেন নামটা শোনা শোনা লাগছে না? 


তবে যাই বলুন, “ডাক পারে ও ঔ, ভাত আনো বড় বৌ”। কি যে বলি মেসো, এই একটা কথা কে বাপ-মায়ে মিলে গুরুদেব কে মাথায় তুলে রেখেছে, কি ভাবছেন! ইন্দ্রানী-সিনা-পিটার? আরে নাহ, স্টার জলসা-প্লাস- সহ বাকি গুলো দেখেছেন কখনো? ডেলি সোপ, সব একটা ছেরে দুই বা ততোধিক। কোন ভরষায় বাচ্চারা এগুলো পড়বে বলুন তো। যাই হোক স্বরবর্ণ পর্যন্তই থাক, ব্যাঞ্জন বর্নের বিচিত্রদৃকের বর্নন ধাপে ধাপে আসবে।


“বনে থাকে বাঘ,
গাছে থাকে পাখী,
জলে থাকে মাছ,
ডালে থাকে ফল”

বুঝুন কান্ড, বন বলে আর কিছু আছে? দু চারটে বাঘ যাও বা আছে, সে চিড়িয়াখানায়, আর পাখী খাঁচায় থাকে বা এ্যানিম্যাল প্লানেট বা ন্যাশানাল জিওগ্রাফীকে। মাছ থাকে বাজারে বা একোরিয়ামে, কারন জলা সব বুজে গেছে প্রায় বা বুজিয়ে দিয়েছে, নদী মজে গেছে। আর গাছ? কই? থাকলে তো সেখানে ফল ধরবে বা পাখী থাকবে! সত্যি বলতে তো বিছুটি বা এলাকুশি ও পর্যন্ত দেশে অমিল।

“আলো হয়, গেলো ভয়”। বা “বাঁশ গাছ, করে নাচ”, বা “পাতু পাল, আনে চাল”। এখন পরমানু চুল্লি বা সৌর শক্তির কল্যানে আলো প্রায় জাইনা বললেই চলে, তাই ভয় ও বিদায় নিয়েছে, অন্তত গুরুদেব যে ভয়ের কথা ভেবে লিখেছিলেন। আর বাঁশ গাছ... হে হে হে। ওটার নেত্তই তো চলছে, খালি বাঁশ আর বাঁশ। সার্থক গুরুদেব, কি অসাধারন দূরদৃষ্টি। পাতু পাল... পাল বাবু পেশা পরিবর্তন করেছেন, উনি এখন মানবসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরে রয়েছেন। ছেলেপিলে পাঠান আর কি। আর চাল এখন দু টাকা কেজি। সবুজ রেশনকার্ড থাকলেই পাওয়া যাবে।


“রাম বনে ফুল পাড়ে. গায়ে তার লাল শাল. …।।
জবা ফুল তোলে. বেল ফুল তোলে. বেল ফুল সাদা. জবা ফুল লাল. জলে আছে নাল ফুল”.

রাম তো দূরস্থান খোদ দশরথ বা বাল্মিকীর ও অসাধ্য ফুলে হাত দেওয়া। দিলেই নতুন রামায়ন রচিত হবে। এক মিনিটে ফিনিশ। আর লাল ফুল?? আর ফোটে না। ওদের এ্যনিমিয়া হয়েছে। জবার রঙ ও নীল। আর যারা রামকে তুলে রেখেছেন, তাদের তো সব ফুলের রঙ ই গেরুয়া। বড্ড বিতর্কিত, তাই... এগুলোও পড়া মানা বাচ্চাদের। তবে বেশ কিছু জিনিস একটু অন্যভাবে ফুটে উঠেছে, যেমন, “লাল বাতি নীল বাতি, কত লোকে খাবে, কত লোক গান হবে, সাত দিন ছুটি”। অব্যার্থ ভবিষ্য কথন। আচ্ছা গুরুদেবও কি বুদ্ধিজীবি ছিলেন? নাহলে এই সব উৎসবের কথা টের পেয়েছিলেন কেমন করে!

“নাম তার মতিবিল, বহুদুর জল...... ডিঙি চড়ে আসে চাষী, কেটে লয় ধান, বেলা গেলে গাঁয়ে ফেরে গেয়ে সারিগান”। বর্তমানে কোথায় এমন বিল আছে? যার বহু দূর জল? যদিও বা কিছু জল থেকে থাকে, দূষণের চোটে তাতে হাঁস মাছ থাকে? চাষী এখন সবুজ সাথী চড়ে আসে বা ট্রাক্টারে। জাতীয় জামাই মানে ভদ্র বাবু তো আবার হেলিকপ্টারে চড়ে আসেন, উনিও চাষী কিনা। ধান কাটার মেসিনে ধান কেটে নেয়। আর বেলা শেষ হলে শহর পানে ধায় চাষীর দন, কানে হেডফোন গুঁজে, আর তাতে বাজে-হাপ্তে মে চার শনিবার হোনা চাহিয়ে। বাচ্চারা এসব পড়বে!! এর থেকে তো ক্লাস ওয়ানে পিথাগোরাস সহজ মনে হবে।

“ছায়ার ঘোমটা মুখে টানি, আছে আমাদের পাড়া খানি” , এ পর্যন্ত ঠিকিই আছে। কিন্ত তালবন, বাঁশবন, ঝুরু ঝুরু পাতা, টলটল জলে ভরা দিঘী কোথায়? এখন তো সব লম্বা লম্বা আবাসনের ছায়া, আর টলটলে নীল জল একোয়াটিকায়। “ঢেকি পেতে ধান ভানে বুড়ি” আরে ঢেকী তো কার্টুনে নারদমুনির গলায় দেখেছে বাচ্চা, ওতে আবার ধান ও ভাঙা হয় বুঝি! তাছারা ধান ভেঙে হয় টা কি? বাচ্চারা খায় তো কর্নফ্লেক্স আর পিৎজা বার্গার। মাঝে সাজে রাইস খায়, কিন্তু ধানের সাথে তার কি সম্পর্ক।
“আমাদের ছোট নদী চলে আঁকে বাঁকে, বৈশাখ মাসে তার হাটু জল থাকে” ছোট নদী কোথায়? সব তো হেজে গেছে, নতুবা ড্রেনের জল এসে প্রাকৃতিক হাই ড্রেনে পরিনত হয়েছে, সেখানে নেমে হাটু মেপে দেখবে কে? সব তো মশা মাছি আর জীবানু তে থিক থিক করছে। ভাইরালে আক্রান্ত করার তাল নাকি! “চিক চিক করে বালি কোথা নাই কাদা”, গুরুদেবের কি দোষ, তখন কি আর বালি মাফিয়া ছিল দেশে! “আঁচলে ছাকিয়া তারা ছোট মাছ ধরে”, ছোট মাছ টা কি বস্তু? কারো জানা থাকলে হেল্প মি প্লিজ। আমরা চোখে দেখিনি যে সব প্রাগৈতিহাসিক বস্তু, বাচ্চা রা সেই সব পড়বে! এতো ইতিহাস মহায়।
“বেলা যায়। তেল মেখে ড়ুব দিয়ে আসি। তার পরে খেলা হবে। একা একা খেলা যায় না”। সম্পূর্ন ইরোটিক। বাবা মা তেলের বিজ্ঞাপনে বাচ্চাদের বলেছে যে, বাবুসোনা ওই তেল বড়দের খেলার তেল বাবা। তাই এগুলোও টোটাল অযৌক্তিক। হ্যাঁ, একটু বড় হলে যৌন শিক্ষার কাজে চলতেই পারে। এই “এসেছে শরৎ হিমের পরশ, লেগেছে হাওয়ার পরে” এটাতে সিজেন খানিক টা পিছিয়ে গেলেও বাচ্চাদের পড়ানোর একটা জাইগা আছে।
“কাল ছিলো ডাল খালি, আজ ফুলে যায় ভরে। বল দেখি তুই মালী, হয় সে কেমন করে”। এটার রচনাকালে সেটিং শব্দটা ছিল না বোধ হয়, একবার সেটিং ঠিকঠাক হয়ে গেলে, সব রাতারাতি ফুলে ট্রান্সফার হয়ে যায়। তবে বাচ্চাদের এই সব পলিটিক্যাল মালমসলা না পড়ানোই ভালো। “নদীর ঘাটের কাছে , নৌকা বাঁধা আছে”। এখন নৌকা থাক বা না থাক, মদের বোতল- প্রতিমার কঙ্কাল- প্লাস্টিকের প্যাকেট- পচা গলা দেহ- কন্ডোম-ন্যাকপিন ইত্যাদি, আবার শহরে হলে যুগল-মিলন, সাট্টা-চুল্লুর ঠেক সব পাওয়া যায়। ছ্যাঃ- ম্যাগো... কি বলে বাচ্চাদের ওসব পড়াবো! যদি নদীর পাড়ে যাবার জেদ ধরে তখন!। “বাঁশগাছে কত বাঁদর, যত ঝাঁকা দেয় ডাল তত কাঁপে” , বাঁদর খুঁজতে আর গাছে কেন, লেখকই বা কম কি, তবে ঝাঁকা দিলে নিজে নিজেই কাঁপি, এই যা ফারাক।

“কতদিন ভাবে ফুল উড়ে যাবো কবে, যেথা খুশী সেথা যাবো ভারী মজা হবে” এতো পুরো কল্পনা মানে ফিক্সন। আরে বাওয়া বাচ্চা এ সব ই যদি শিখবে ছোটাভীম দেখুক, বা ডিজনিল্যান্ড যাক। ওখানেও তো ভরপুর কল্পনা আর মস্তি। উপরন্তু মায়েরা ও একট সেই ফাঁকে সোশ্যাল মিডিয়াতে একটু চড়েখুটে আসতে পারে। যাক এই ভাবে প্রথম ভাগের দায়মুক্ত।
এবার দ্বিতীয় ভাগ।
বেটা সব কুৎসা কারির দল, নীলসাদা দেখে সব হেদিয়ে গেলো, ওদিকে দ্বিতীয় ভাগের প্রথম সহজ পাঠের শুরুই তো হচ্ছে “বাদল করেছে, মেঘের রঙ ঘন নীল”। এখান থেকে শুরু করলেও করা যেতে পারে। দ্বিতীয় পাঠে সেই আদ্যনাথ বাবুর কন্যার বিয়ে, মানে তখনও কন্যাশ্রী। অবশ্যই শিশু পাঠ্য। বড় প্রাসঙ্গিক। এখানে দান ধ্যানের কথাও আছে। আবার নেত্ত করার কথাও, মন খুশী হলে ব্যাটবল খেলা কে উৎসাহ সেওয়ার কথাও। এটাকেই জাতীয় প্যারাগ্রাফ হিসাবে ঘোষণা করার উপযুক্ত।

আর বেশী লম্বা করবো না, এটার একটু বিশ্লেষণ করেই শেষ করবো। এর পরেও যদি বেঁচে থাকি, মানে আপনারা বাচিয়ে রাখেন, তখন বাকি টুকুর শ্রাদ্ধ করার দুঃসাহষ করবো।

এবারে সেই মহান রোবিনদো সংগীত। আরে বাবা, বাচ্চা কে এটাই সুর করে শেখান দেখবেন, বড় হয়ে অন্নু মালিক বা জিৎ গাঙ্গুলি হয়ে গেছে।

কুমোর-পাড়ার গোরুর গাড়ি —
বোঝাই-করা কল্‌‍সি হাঁড়ি ।
গাড়ি চালায় বংশীবদন ,
সঙ্গে-যে যায় ভাগ্নে মদন ।
হাট বসেচে শুক্রবারে
বক্সীগঞ্জে পদ্মাপারে ।
জিনিষপত্র জুটিয়ে এনে
গ্রামের মানুষ বেচে কেনে ।
উচ্ছে বেগুন পটল মূলো ,
বেতের বোনা ধামা কুলো ,
সর্ষে ছোলা ময়দা আটা ,
শীতের র্যা পার নক্ম‌শাকাটা ।
ঝাঁঝ্ ‌রি কড়া বেড়ি হাতা ,
শহর থেকে সস্তা ছাতা ।
কল্‌‍সি-ভরা এখো গুড়ে
মাছি যত বেড়ায় উড়ে ।
খড়ের আঁটি নৌকো বেয়ে
আন‌ল ঘাটে চাষীর মেয়ে ।
অন্ধ কানাই পথের ‘ পরে
গান শুনিয়ে ভিক্ষে করে!
পাড়ার ছেলে স্নানের ঘাটে
জল ছিটিয়ে সাঁতার কাটে ।

প্রথমত, কুমোর পাড়া আর নেই, পাল বাবুরা ওই... আগেই বলেছি। গরু হলো গিয়ে মাতা, সুতরাং তাঁকে দিয়ে গাড়ি চালানোর কথা ভাবাও পাপ। তাছারা দুর্গাপুজোর সময় মন্ডপসজ্জা বা সংসদে বিক্ষোভ দেখানো, এ সব ছারা হাঁড়ি কলসি কোথায় লাগে! কোচবিহারের বংশীবদন জেলের ঘানি টানছে। সঙ্গের মদন টি ... হি হি হা হা হা, আমি আর বললুম না সব্বাই জানে। বাচ্চাদের না পড়ালোই ভালো, কচি মাথায় সারদা-রোজভ্যালি-পিয়ালি, কত প্রেশার ভাবুন তো। হাট এখন শুক্রবারে বসে না, হপ্তাকে সবসে সস্তা দিন “উইডনেস-ডে বাজার” বা “উইকএন্ড ধামাকা’ সেটাও বক্সীগঞ্জের পদ্মাপারে নয়, নেট গঞ্জে ও সপিং মলে। জিনিসপত্র এখন বহুজাতিক সংস্থাগুলো জুটিয়ে আনে, কেনার কাজটা শুধু গাঁয়ের মানুষ গুলো করে।

উচ্ছে-বেগুন-পটল- মুলো, এই সব গুলো নাম এক নিঃশ্বাসে যদি কেও নিয়ে ফেলেন প্রকাশ্যে, সেই রাত্রেই তোলা চেয়ে দুবাই থেকে ভাই এর ফোন আসবে, এতটাই দুর্মুল্য সম্পদ এগুলো। আর বেত কোথায়? যে ধামা কুলো বাধবে। তবে হ্যাঁ, যে কটা বাধে ওই সংসদে ঠিক খায়াল রাখলে দেখা যায়। সর্সে ছোলা ময়দা আটা- এগুলো নিজ নিজ স্থানেই এখনো পর্যন্ত আপাতত রয়েছে। শীতের র্যা্পার, সেটা কি? আমরা তো ব্লাঙ্কেট গায়ে দিই। ছারো ও কথা, পরের লাইনে আসি। ঝাঁঝরি কড়া বেড়ি হাতা, ও সব তো রেস্টুরেন্টে পাওয়া যায় , ক্যান্টিন মালিকের ছেলে বা হোটেল ম্যানেজমেন্টের বিষয় এটা, বাচ্চাদের পড়িয়ে কি লাভ! আমরা তো উইকডে তে ক্যান্টিনে খায়, বাচ্চারা ক্রেশে বা ডে বোর্ডিং এ। উইকএন্ডে রেস্তোরাতে। এগুলো পড়া মানে অহেতুক লোড বাড়ানো। 


কলসি ভরা এখো গুড়ে, মাছি যত বেড়াই উঠে, এই সব আনহেলদি ব্যাপার বাচ্চাদের শেখানো মানে সেটা এক ধরনের ক্রাইম। একে তো হেলথ কনসাস্নেস বাড়ানোর জন্য সুগারফ্রিও খাওয়াই বারন, সেখানে জীবানু সম্মিলিত মাছি ভর্তি এখো গুড়। হাও ক্যান আই বিলিভ দিস, গুরুদেব এগুলো বাচ্চাদের জন্য লিখে গেছেন! খড়ের আঁটি তো যারা কুশপুতুল দাহ করবে বা যার ঘরে গরু আছে বা যাদের ঠাকুর গড়ার ব্যাবসা তাদের সাবজেক্ট, এগুলো বাচ্চারা জেনে কি করবে! জাষ্ট রিডিকিউলাস।
অন্ধ কানাই এখন ট্রেনে গান করে, পথের ধারে সে থাকে না, ওখানে এখন ফাস্টফুড সেন্টার। তাছারা ওরা অনেক সময় পলিটিক্যাল ক্যাম্পেনিং ও করে শুনেছি, তাই বাচ্চাদের ও সব থেকে শতহস্ত দূরে রাখায় ভালো। পাড়ার সাতার কাটা ছেলে গুলোর আর সময় কই! তারা গেমস খেলে, ক্লিপিংস দেখে, এক্টিভিটিস করে, কেও কেও আমার লেখাও পড়ে। তাই ওটাও গুরুত্বহীন। আর গুরুত্বহীন বিষয় পয়ে কি লাভ!

এবার বলুন , গুরুদেব বেচে থাকলেও কি, নিজে নিজেই ট্রাফিক পোষ্টের মাথায় চড়ে বসে থাকতেন না?
এখন শত্তুরে শুনলে বলবে, হ্যাঁরে মর্কটোন্মাদ, তোর নিজের ত্যানা আগে ঠিক কর, একে তো ছাইভস্ম লিখিস, দুর্বোধ্যো সব ভাষার প্রয়োগ সহ বানান এর অবস্থা কি! সহজপাঠ পড়েই কি শেখা এই উন্মাদীয় বানানবিধি! ব্যাটা নরসুন্দর।

আরে না বাবু, আত্মপক্ষ সমর্থন না, সমর্পন করে বলছি, এটা তো আমার নিজশ্বপাঠ, সহজপাঠ সত্যিই সহজপাঠ্য, আমিও তাই পড়েছিলাম। এতে গুরুদেবের কি দোষ। বদলেছি আমরা, সময় বদলায় নি। আজও সুর্য ওঠে, মেঘ করে, মানুষ প্রেম করে, ঘুম পায়, খিদে পায়, কবিতা পায়। সব কিছু জোর করে বদলেছি আমরা, নিজেদের স্বার্থে। আমরা যে Ctrl+c & Ctrl+V এর জামানার মানুষ, নিজের সম্পদ ছেরে দুর্দমনীয় অন্য হবার চেষ্টা। ভালো মন্দ বাছার দায় নেই।

আমার সাহিত্য তো ইস্কনের খিচুড়ি। যৌবনে বঙ্কিম কঠিন প্রেমের ব্যামো বাধালো, তার পর এই... দুকাপ সহজপাঠ, আড়াই টেবিল চামচ বঙ্কিমি সাহিত্য মিশিয়ে, সুকুমারি পাত্রে গুলে চার ঢোঁক খেয়ে নিন। সাথে মুখশুদ্ধি হিসাবে বিভুতি-সুনীল-শরৎ এক-দুদানা করে চুষে নিন, ব্যাস। পরেরদিন কোঁথ আসার আগে উন্মাদীয় বানানবিধি এসে যাবে, আই শপথ।
একবার টিরাই মেরেই দেখুন না।

রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৫

অসামাজিক - শেষ পর্ব


উম্মাদীয় রবিবাসর
********************
অসামাজিক (শেষ পর্ব)
~~~~~~~~~~~~~~~

একটা সময় কাল ছিলো, যখনকার সামাজিকতাতে সম্মান টা লজ্জাকে নিয়ন্ত্রের উপর নির্ভর করতো, এখন বিশ্বায়নের সমাজ, কত ভাবে লজ্জাকে লজ্জিত করা যায়, তার উপর সামাজিকতা নির্ভর করে। হ্যাঁ লজ্জাও আজকাল লজ্জিত হয়, কিন্তু মানুষের তাতে দায় নেয়, কারন সময়ের নিরিখে একজন মানুষের আয়ু কতটুকু?? নদীর পারে বালীর মত। আর সমাজে এই ধরনের মানুষের ভীর ই বেশী।  

সংগ্রামে ভরপূর সমাজে, সকলে সমাজপতি হতে পারেন না, সকলের সেই ইচ্ছাও থাকে না, কিছু জনের ই থাকে, এদের মধ্যেও কিছু জনই কাঙ্খিত সাফল্য লাভ করেন, বাকিরা... এখানে সমাজের অনেক দিক খুলে যায়। যারা সাফল্য পেলেন, সেই সাফল্য কে ধরে রাখতে, অধিকাংশ জন নিজের প্রানপাত ছারা, বাকি সবকিছুই করতে পারেন। এখান থেকে ক্রোধ, ঘৃনা, হানাহানি, রক্তারক্তি যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়। তার মানে কি অসফল ব্যাক্তিরা এ সব করে না?? না, তারাও করেন, কিন্তু তাদের ক্ষমতা এতো টাই সীমিত থাকে যে ক্ষতিটা তাঁকে ছারিয়ে খুব বেশী দূর ছরায় না। কারন অর্থবল ও লোকবল, বলার মত তার কাছে কিছুই থাকে না। যেখানে সমাজপতিদের স্বার্থ কে গোটা সমাজের স্বার্থ হিসাবে দেখাটাই রেওয়াজ। কারন তাদের কাছে থাকে রাষ্ট্রযন্ত্র।

যারা সাফল্য পান নি, তাদের হারাবার ও কিছু থাকে না। তাই তাদের নিয়ে সমাজের বিশেষ ভয়ের কিছু থাকে না। তাদের কাছে অবশিষ্ট বলতে থাকে সামান্য জীবনিশক্তি, যেটা আবার পঙ্গু। 

কখনো কোন পাগলাগারদে গেলে মনে হয়, সত্যিই তো... কারা সামাজিক?? পাগলগুলো?? না ডাক্তার বা স্বাস্থকর্মী রা। তারাও তো এই ভরা সমাজের মধ্যে কাওকে ভীষনরকম ভালোবেসে, মানসিক স্থিরতা খুইয়ে পাগল হয়েছে। অসামাজিক শব্দ টা এই সকল স্থাকে বড্ড মেকি মনে হয়।  

সমাজ তো একটা আয়না স্বরূপ। একটু উপর থেকে ফেলে দিন এই আয়না টা কে, দেখবেন কত রূপে কত ভাবে কত এঙ্গেল থেকে নিজেকে দেখা যাবে। একটা সমাজ কে টিকে থাকতে গেলে পারস্পারিক বিশ্বাস টা থাকা একদম প্রাথমক শর্ত। সেখানে কম বেশী হতেই পারে। আর বিশ্বাসের জন্য চাই ভালোবাসা। যেটার অভাবে আজকের সমাজে একান্নবর্তী পরিবার প্রায় নেই বললেই চলে। যার জন্য এক সমাজের মধ্যেও হাজার টুকরো সমাজের বাস। 

বৈষম্য। যা সমাজের এক চির প্রতিষ্ঠিত ব্যাধি। সামাজিক ও অসামাজিকের দ্বন্দ্বের মাত্রাটা এটা দ্বারাই পরিমাপ করা হয়ে থাকে। সমাজ মানে তো সহোযোগিতা, সহচর্য, ও সহভাগিতার একটি সম্মতিসুচক সহাবস্থান। সুতরাং বৈষম্য এলে সমাজ অসামাজিক ব্যাক্তিতে ভরে উঠবেই। সমবায় ও অনুসঙ্গ, এই দুই ছারা অসামাজিকতা কে রোধ করা অসম্ভব। তাতে সেটা কে আপনি যে ছাচেই উচ্চারন করুন না কেন।    

শিল্পকর্ম চলমান সমাজের প্রতিচ্ছবি। যুগে যুগে সমাজপতিদের এ এক বিচিত্র যোগাযোগ যে, সেই সময়কার সকল কিছু শিল্পকর্মই যেন তাদের বন্দনা গাথার এক রুপকথা হয়। মানলে রাজমন্ড , অন্যথায় অসামাজিকতার দায়ে রাজদন্ড। বৃহত্তর সমাজ সকল সময় ক্ষমতাবান দের অনুসরন করে, কিছুক্ষেত্রে অন্ধ ভাবে। রেশ টুকু রয়ে যায় শুধু। সেকালের রামমোহন থেকে রবীন্দ্রনাথ, দীর্ঘ মুসলমান শাসনকালের রেশের দরুন পোষাক পরিচ্ছদ তাদের মতই পরতেন, যেমন টি আমরা ব্রিটিশ দের অনুকরন করে থাকি। এককালে অবিভাবকরা সন্তানদের নাম দেবদেবী দের নাম ও উপনাম অনুযায়ী রাখতেন, সেটাই ছিলো সামাজিকতা, এখনো দক্ষিন ভারতে যেটা চরম ভাবে চালু, কিন্তু অবশিষ্ট ভারতে বিচিত্র তথা প্রথমবার ব্যাবহৃত কোন আবিধানিক শব্দ বা ধরেমুড়ো সন্ধি করে কোন শব্দ কে নাম বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে, আর এটাই আধুনিক সামাজিকতা বলে স্বীকৃতি পেয়েছে।

সমাজ বিবর্তিত হয়ে চলেছে অবিরত, তার সাথে পাল্লা দিয়ে সামাজিকতার সংজ্ঞাও বদলে যাচ্ছে। কিন্তু কিছু জিনিস ধ্রুবক হিসাবেই থেকে যায়, যেমন উত্তরে রামের ভজনা তো দক্ষিনে রাবনের। ধর্মের নামে নিরীহ মানুষের বলি। জান্নাতের লোভ দেখিয়ে মগজ ধোলাই করে, সাধরানের কল্পনার অতীত অপকর্ম কে সামাজিকতার মর্যাদা দিয়ে, গোটা সমাজকে সন্ত্রস্ত করে রাখা। অস্ত্র ব্যাবসায়িরা মুনাফার লোভে উৎকোচ প্রথাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে “ভয় দীর্ঘজীবি হোক” মন্ত্রে সমাজ কে দিক্ষিত করা। এগুলোর কোন পরিবর্তন হয় নি। 

আজকের বিজ্ঞাপন সর্বস্ব সমাজে, সামাজিকতাও বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থা পন্য হিসাবে বিক্রি করে, যেমন “সোস্যাল পার্টি” “গেট টোগেদার” “কিটি পার্টি” ইত্যাদি ইত্যাদি। যেখানে আপনাকে অনেক জরুরি পন্যের সাথে, এক্সট্রা ডটেড ফ্লেভারড কন্ডোমের গুনাবলী থেকে কোন কোন সুগন্ধিতে একই লগ্নে বহু ললনা রা আকৃষ্ট হবেন, বা সাতদিনে ভাঙবে না, এমন খাটের প্রদর্শনী। এগুলো একজন মাকে তার অষ্টাদশী কন্যার সাথে অত্যন্ত সাবলীল ভাবে দেখতে হবে, নাহলে ওখানে অসামাজিক হবার ভয় থাকবে।

সীমান্তের এপার, ওপারের মা বোন সহ গোটা সমাজকে তীব্র ভাষায় আক্রমন করবে এবং ওপার ও একই ভাষায় প্রত্যুত্তর দিয়ে সামাজিকতার দায় রক্ষা করবেন। আজকের সমাজে ধর্ষন থেকে পিতার খুন, অর্থের বিনিময়ে ক্ষতপূরণ হয়ে যাচ্ছে। ক্ষতি পূরন নয়, ক্ষতপূরন। এটাই আধুনিক সামাজিকতা। 

সামাজ কে থাকতে গেলে তার বংশবৃদ্ধি প্রয়োজন, তার জন্য বিগত সকল সমাজেই বিবাহকে সামাজিকতার অন্যতম স্তম্ভ রুপে মর্যাদা দিয়েছিলো, বর্তমানে পুরুষে-পুরুষে বা নারীতে নারীতে বিবাহ স্বীকৃত, এটাই সামাজিকতা। এনাদের ভবিষ্যতের দায় নেই, কারন বর্তমান সমান নিজের জন্য বাঁচে। একটা সময় প্রকৃতিকে সমাজ পূজা করতো সমবেত ভাবে, এর পরের পর্বে সমাজ প্রকৃতিকে গনধর্ষন করেছে, প্রকৃতি এখন শোধ নিচ্ছে, তার রুদ্র রোষের মাধ্যমে। এটাও সামাজিকতা। 

ভারতের কোন স্থানে অগ্নেয়াস্ত্র সহ চলাফেরা করা যতটা অসামাজিক, পশ্চিম আফ্রিকা সহ মধ্যপ্রাচ্যের বহু দেশেই এ অত্যন্ত সামাজিক। এক সময় কোনো ব্যাক্তির একটি মোটর সাইকেল আর ঘরে রঙ্গিন টেলিভিসন থাকা মানে, শুধু ওই বস্তু গুলির জন্যই তিনি সমাজের উচ্চকোটি তে অবস্থান করতেন। এখন একটি হ্যাচব্যাক চারচাকা মোটর থাকলেও তিনি তেমন সম্মান লাভ করেন না। পুরুরঘাট বা কলপাড়ের গপ্প বা আটচালা বা বেড়ার ক্লাব ঘরের নিখাদ আড্ডা আজ সকলই তালুবন্দি। মুঠোফোন খুললেই আপনি ইচ্ছামত স্থানে পৌছেযাবেন, শুধু গন্তব্যের ঠিকানাটা জানা চাই। এটাই আধুনিক সামাজিকতা, আপনি মানাতে না পারলেই বাতিলের দলে নাম লেখাবেন, অসামাজিক হয়ে যাবেন। 

ধর্ম গুরু থেকে শিল্প জগত, আধুনিক কালে সমাজের শীর্ষ স্থানীয় যারা, সমাজের উন্নতি সাধনের জন্য প্রত্যেকেই রাজনীতির আশ্রয় নেন, কারন রাজনীতিতে একটা তৈরি সংগঠন পাওয়া যায়, তাই অপর পক্ষে রাজনীতির কারবারিরাও এই জগতের লোকেদের খোঁজে, তাৎক্ষনিক জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগানোর জন্য। কিন্তু সামাজিকতার সাথে মুনাফা শব্দ টা যে যায় না। তখন ই ভোল বদলের প্রয়োজন হয়। সমাজের সকল স্তরের প্রতনিধিত্বমূলক অংশগ্রহন তথা কেন্দ্রীভূত পরিকল্পনায় সকল স্তরের মতামত কে গুরুত্ব দেওয়া গেলে অসামাজিকতা কে দূর করা সম্ভম। 

প্রথমে প্রানী সমাজ। তারপর মনুষ্য সমাজ, সাদা কালো সমাজ, হিন্দু সমাজ মুসলমান সমাজ, আদিবাসী সমাজ, খ্রিষ্টীয় সমাজ  শিখ সমাজ, ইত্যাদি ধারায় বিভক্ত ছিলো।  বর্তমানে সুশীল সমাজ সংবাদ শিরোনামে, বুদ্দিজীবি সমাজ ও একটা স্থান দখল করেছে। এ সবটাই পুঁজিবাদী সমাজের শোষণ কৌশল, অবশিষ্ট গাড়ল সমাজ কে ক্রীতদাস সমাজে পরিনত করা। সামাজিকতাকে মান্যতা দিতে হলে সমাজতন্ত্র কে প্রতিষ্ঠা করতে হবে সর্ব প্রথমে। 

সমাজতন্ত্র কে একটা গঠন মূলক রুপ দিতে, রাজা মান্ধাত্বা থেকে শুরু করে রাজা ভরত, শ্রীকৃষ্ণ হয়ে খ্রীষ্ট ও মুহাম্মদের সারনী বেয়ে, শ্রী চৈতন্য, মার্কস, এঙ্গেল ও হাল আমলের রাজা রামমোহন, প্রভুপাদ বা আন্না হাজারে। জনগন দেকেছে, ইতিহাস সাক্ষী। সকলেই বিগরে যাওয়া সমাজ কে শোধরানোর পন্থা নিজের নিজের দৃষ্টিভঙ্গিতে বাতলে গেছেন বা যাচ্ছেন। বর্তমানে ও আছে , কোথাও আইসিস বা লস্কর, তো কোথাও বজরঙ্গ সেনা। কারন তারা শক্তিশালী। আর জনগন?? তারা চার দেওয়ালের নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে, কেও কেও এই সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বিপ্লব ও হচ্ছে, ইথারে, মিলিয়েও যাচ্ছে, ইথারেই। সমাজবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ আর জাতীয়তাবাদ এখন সমান্তরাল সরলরেখায় অবস্থান করছে, সেখানে অসামাজিক শব্দ টা অবসর নিয়েছে।
এখন তো রাজনীতিতে সমাজবাদী কথা টাই বেশী জনপ্রিয়। সমাজতন্ত্র কে বাদ দিয়ে গনতন্ত্র কখনো প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। হলেও সেটা হয় ক্ষনস্থায়ী হয় বা কালক্রমে রুপান্তরিত রাজতন্ত্রে পরিনত হয়।  ভাষাভেদ থাকতে পারে, কিন্তু দেশে দেশে এটাই শেষ্ঠ খুড়োর কল কিন্তু সেই “সমাজবাদী” শব্দ টি, কারন ইহাই ব্রম্ভ।  সেখানে মুলায়ম সিং বাবুরা পরিস্থিতির লাভ উঠিয়েছেন মাত্র। কারন এই লিষ্ট (https://en.wikipedia.org/wiki/Socialist_Party ) টা থেকেই দেখা যায়, পৃথিবীর সর্বত্র এই নামের রাজত্ব। 
শ্রেনি হীন সমাজ , সোনার পাথর বাটি। অলীক স্বপ্নের পিছনে ধাওয়া করলে বাস্তব আছার মেরে ফেলে দেবেই। তখন সমাজের দোষ দেওয়া ছারা হা-হুতাস করার কিছু থাকে না। তাহলে প্রশ্ন, জনগন এদের ই কেন নির্বাচিত করছে না?? কারন আদর্শগত ফারাক, সমাজের সকল স্তরের সাথে এবং নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের ও সমন্বয়ের অভাব। এবং পুঁজিপতি দের ক্রমবাড়বারন্ত। এনাদের সকলের ই যদি, ভালো করার ক্ষমতা থাকতো তাহলে দক্ষিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশ সহ চীন বা উত্তর কোরিয়া তে বা আমাদের এই পোড়া বাংলাতে সমাজবাদে ঝান্ডা ধরা সমাজপতিরা কিছু করতে না পারুক সকলের সুষ্ঠ রোজগারের পথটা অন্তত বাতলাতে পারতেন। পারেন নি কারন ব্যাক্তি স্বার্থ এক সময় সমাজ থেকে ব্যাক্তিদের পৃথক করে দেয়। তাই সমাজের অহর্নিশ ঘটে চলা পরিবর্তনে নিজেকে প্রস্তুত করতে না পেরে, দমনের রাস্তা বেছে নেয়, ফলশ্রুতি হিসাবে বিপ্লবের জন্ম হয়। নতুন সমাজ সৃষ্টি হয়। আসে পরিবর্তন।   

এখন চাই উন্নতশীল সমাজ। দ্রুত উন্নয়ন। দ্রুত উন্নতি মানেই, সমানে পরিবর্তন কে স্থান করে দেওয়া। কিন্তু শাষকের পছন্দ অচলায়তন। তাই সেটা কে অগ্রাহ্য করে সমাজ কিভাবে সামাজিক হয়ে উঠে, সেই ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে ইতিহাস। আর আমরা!! আমাদের লক্ষ্য থাকুক দৈনিকের পাতায় বা বৈদ্যুতিন মাধ্যমে বা এই ... সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এর বেশী আর আমরা কি ই বা করতে পারি।

সেবাই হল সমাজিকতার শ্রেষ্ঠ কর্ম। সেটা নিঃস্বার্থ না হয়ে স্বার্থসম্মিলিত হলেও তা সমাজের জন্য মঙ্গলদায়ক ই হয়। কারন বাস্তবতা কে স্বিকার করে নেওয়াটাও উন্নতশ্রেনির সামাজিকতা। চলমান সামাজিকতাতে উদ্দিপনা কম, কিন্তু পরিসর অনেক বেশী, জনহিত করার। মুক্তবাজারের বিশ্বে সহজলভ্য ঋণের হাতছানি, ক্ষনকালিক ব্যাক্তিকে অহঙ্কারি করে তুলছে, সুনিশ্চিত রোজগার না থাকার দরুন, দেওলিয়া হতে বেশী সময় লাগছে না, দড়ি টানাটানির খেলা শুরু হয়ে যাচ্ছে ব্যাক্তি আর প্রতিষ্ঠানের মধ্যে, যেখানে সমাজপপতির দল প্রতষ্ঠানের পক্ষে, সেখানে অসামাজিকতার বীজ ছরিয়ে পরছে কর্কট রোগের ন্যায়গোটা সমাজের বুকে।

সমাজপতিরা সহ গোটা সমাজের দায়বদ্ধ থাকা উচিৎ অসামাজিক দের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে, সুস্থ বাঁচার পরিবেশ প্রদান করতে। সমাজ চাই তার নিরাপত্তা, সমাজপতিদের কাছে রাষ্ট্রের কাছে। স্বাধীন চিন্তাভাবনাদের প্রসব কে সুরক্ষিত করতে হবে সমাজ পতিদেরই। সেটা যতই ব্যাক্তিস্বার্থের পরিপন্থী হোক না কেন। তবেই অসামাজিকতার করাল গ্রাস থেকে সমাজ সুরক্ষিত থাকতে পারবে।  

পরিশেষে অসামাজিক বলে আর কিছুদিন পর হয়তো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না , কারন সেটাই তখন উন্নতশীল সামাজিক প্রবনতা বলে গ্রাহ্য হবে। এ নিতান্তই উন্মাদীয় ভাবনা। সুতরাং নির্ভয়ে উন্নীত হবার বাসনা নিয়ে সমাজের ভিতরে ঝাপিয়ে পরুন। 

জয় হিন্দ
(উন্মাদীয় বানানবিধি অনুসৃত)

উন্মাদ হার্মাদ​


তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...