সোমবার, ৮ মে, ২০১৭

।। আরশি ।।

কখনও কি মুখ দেখেছো আরশিতে!
বেগুনি আলোর আলোয়ান পরে!
আদুর গায়ে কোন জোৎস্না ভেজা রাতে
আচম্বিত শিহরণে; ধু ধু চরাচরে।
 
কাছ থেকে দেখো, মনযোগী হয়ে অন্তত একবার 
ভরষা হারানো এ মুখে হাজার ক্ষত
আত্মাহুতি হয়তবা হবে, বেদনার বিষাক্ত উপসম
কি এসে যায় খোয়ালে একে, মিলবে কতশত।
 
প্রানে সুখ নাই, তাই লিখি এ কাঁদুনিগাথা
সেটা হারাবে কালের অন্তরালে,
ধিকিধিকি বাঁচা, সুদিনের আশে অনন্ত অপেক্ষা;
নিরবে কিস্তিমাৎ, অসংখ্য ভুল চালে।
সীমাহীন ক্ষুধা জঠরে জ্বলে, শুন্য ভাঁড়ারখানি
সোহাগের ডালি ফেঁপেছে অকারণ
নিষ্পাপ ফুল অবুঝ তারা, জানেনা কি মরণ
শুষ্ক চোখে গুজরান করে, শুকানোর দিনক্ষণ।
কালবোশেখি চাল কেড়েছে, হাল করেছে দৈন্য
এই অপেরার দর্শকেরা, নির্বাক ও মৌন;
ফিরলে সুদিন আসবে সবে, যিনি পাঁজরার অংশ
মনে মনে মিল, মননে মননে; বাকি সবটাই যৌন।


রবিবার, ৭ মে, ২০১৭

।। মন ও বিশ্বাস ~ ভণিতা ।।

    
শিশুকালে মনের খেয়ালে আকাশ পানে ঢিল ছুড়তাম, রাগ হলেই। তখন খিস্তি নামক রোগের প্রাদুর্ভাব থেকে মুক্ত ছিলাম। সেই সময়ের আশা আকাঙ্ক্ষা গুলোও ছিল বড্ড শিশুসুলভ। সর্বোপরি কোনোকিছুতে অসফল হলেই সবচেয়ে মজবুত ও কার্যকরী হাতিয়ার প্রস্তুত থাকত, যেটার মোক্ষম প্রয়োগ হত, - "কান্না"।
যেটা প্রায় বিগত ২২ বছরের অনভ্যাসে প্রায় ভুলতে বসেছি। তবে সেই অলীকে বিশ্বাসটা আজও রয়ে গেছে। আজও ঢিল ছুরি, বিশ্বাসের, ভরষার। লাগলে তুক আর না লাগলে তাক। তবে এখন আর কাঁদতে পারিনা, লজ্জা লাগে বা হয়ত লজ্জাটাই নেই। তাছারা চোখের জল মুছিয়ে কোলে টেনে নেবার মতও আর কেও নেই। যারা আছেন তারা সকলেই শুকনো পিড়িতের। থুথু দিয়ে ছাতু মাখার দল। হ্যাঁ, মা অবশ্য আছেন আজও। কিন্তু তার সামনে কাঁদলে তবেনা! তার শুশ্রূষা করতেই একজন লাগে, আশক্ত তার সামনে অনুভুতি লুকাতে হয়।
তাছারা পুরুষ মানুষকে নাকি কাঁদতে নেই। কিন্তু যদি সে পুরুষ হল ঠিকিই, কিন্তু যদি মানুষ না হয়? আমি আমি আমি- আমিটাই দামি। অন্ধকারে নিজের ছায়াও সাথ ছেরে দেয়, এটা বিশ্বাস নয় সত্য, নির্মম সত্য। নিখুঁত অভিনয় গুন করায়ত্ব যে করতে পারে, সম্ভবত সেই সবচেয়ে সুখী। সাথে কিন্তু চড়া ইমোশনাল সংলাপ আবশ্যিক। বাজার আজকে হিট চায়, মেলোড্রামা চাই, হোক না সে অন্ত:সার শূন্য। অন্তর কে দেখে! বহিঃরঙ্গ নিয়েই ব্যাবসা..... অনন্তসুখের খোঁজ।
প্রাণপ্রনে মানুষ না হবার চেষ্টা করেছি। অসভ্য ইতর অন্ধকারটা হতে দিলনা, ঠিক গাল বেয়ে টুপ করে বুকের উপরে একটা ফোঁটা। কে জানতো এই একটা ফোঁটার ওজন কয়েক টন! আর প্রতিটি বু্কই কত শত টন ভার বয়ে চলেছে হাসি মুখে সমাজের চোখে। অন্যে কি ভাববে সেই ভাবনাতে সেই অনুভুতিগুলো শুষ্ক বরফের মত পান্ডুর চোখের কোনে দোল খায়, নিস্তরঙ্গ অপলক অভিপ্রায়।
বেঁচে থাকার প্রথম শর্ত যদি শ্বাস হয়, দ্বিতীয়টি অবশ্যই বিশ্বাস। যদিও এটা অনেকটা নখ বা চুলের মত। আপনা নিয়মেই বাড়ে, তাতে টান পরলে আঘাত লাগে, রক্তাক্তও হতে হয়। কিন্তু কেও মারা যায়না। তবে ঘা হয় বটে, দগদগে ঘা। সেই লোম বা নখ বা বিশ্বাস, স্বযত্নে একটিবার কেটে ফেললে সেই কর্তিত অংশটি অসার হয়ে পরে থাকে, আবর্জনাভূমে স্থান পাবার জন্য। তাই বিশ্বাস করতে হয়, ঠকতে হয়। ঠকতে ঠকতে একটিবার জেতার আনন্দ অসীম। কি পেলাম কি পেলাম হিসাবে ভুলি কি দিলাম।
সস্তা মানুষের কাছে ভরষা বা বিশ্বাস করতে নেই, এটা মহাপুরুষদের বানী। তবুও মানুষ বিশ্বাস করে কারন আমি বা আপনার মত সস্তা লোকেদের ভাগ্যে কি জ্যাক মা না বিল গেটস জুটবে? রোজ সকালে পিচুটিপরা ম্যাড়ম্যাড়ে চোখে একরাশ স্বপ্ন ফ্লোরাইডের ঝাঁঝে বেসিনের নল দিয়ে বয়ে চলে যায়, তবুও আশার শেষ কোথায়?
বিন্দু বিন্দু করে জমে চলা অবিশ্বাসের পুঁজগুলো গোটা শরীরে কর্কট রোগের বাঁসা বেঁধে ফেলে অজান্তে। হালকা চুলকানি তথা সুড়সুড়ি আপাত সুখ দিলেও পরবর্তীতে সেটাই মারণ ঘা এর কারন হয়ে দাঁড়ায়। তবুও মানুষ ভরষা বা বিশ্বাস করে। পাত্রে অপাত্রে।
মানুষের মনের দুটো দশা। একটা অধিকাংশই ব্যাক্তির নিজের দখলে, সেটার নাম সচেতন মন। অন্যটি সম্পূর্ন আমাদের প্রতক্ষ্য খবরদারির বাইরে, যেটার নাম অবচেতন মন। সচেতন মনের কাজগুলোর একটা প্রতিলিপি আমাদের মস্তিষ্ককোষে জমা হয়। ক্রম অনুশীলনের ফলে সেটার একটা ভাবনাগত ত্রিমাত্রিক রূপও আমাদের অন্তরস্থলে তৈরি হয়। ঠিক যে কারনে শিশু বয়সে আমরা রূপকথাককে সত্য ভাবি। বা অন্ধ ধর্ম বিশ্বাসীদের যেটা মূল হাতিয়ার।
এই রূপের চক্করেই যাবতীয় আগামীর বিশ্বাসে জন্ম নেয়। অবচেতন মন অন্যে অবলোকন বা প্রতক্ষ্য করতে পারেনা, তাই সামনের মানুষটিও বোঝেনা তার সামনের মানুষটির মনে ঠিক কি চলছে। কথা ও কাজের ফারাকের মূল কান্ডারিই হল অবচেতন মন।
এই অবচেতন মনই আমাদের ভবিষ্যই নিয়ন্ত্রন করে। আমাদের স্বপ্ন দেখায়। যা অধিকাংশ মানসিক সুখ বা অশান্তির কারন। ভিড় ট্রেনে কোন কিশোর বয়সের প্রেমিক প্রেমিকা যুগলকে দেখে আপনি সহসা আপনার সেই বয়েসে চলে যেতেই পারেন অবচেতন মনের হাত ধরে। এদিকে সচেতন মন জানে যে আপনি ট্রেনে বসে আছেন, আর গন্তব্য পর্যন্ত সময়টা এমন কিছু করেই কাটাতে হবে। তাই নিশ্চিন্তে নিজেকে অবচেতন মনের হাতে তুলে দিয়ে পরিতোষ লাভ করছেন।
এদিকে অবচেতন মন আপনার কিশোর বয়েসের প্রেমিক বা প্রেমিকা বা প্রেমিকা দল দের নিয়ে ভাবনাতে বিভোর মানে শরীর ট্রেনে থাকলেও আসল আপনি টাইমমেসিনে চড়ে অতীতে অবস্থান করছেন। এ এক অদ্ভুত ধাঁধা। কোনো আপেক্ষিত তত্বই একে বিশ্লেষন করতে অক্ষম।
কেন এমনটা হয়? আমরা তো জানি এগুলো অলীক, তার পরেও কিসের সুখ?
জানতে হলে পড়ুন আমার লেখা সম্পূর্ন ছোট প্রবন্ধ "মন ও বিশ্বাস", একমাত্র অকপট সাহিত্য পত্রিকাতে।আসছে আগামী কবিপক্ষে।

ছবিঃ ইন্টারনেট


শুক্রবার, ৫ মে, ২০১৭

।। যতীন ।।

বড়ে আচ্ছে লাগতে হ্যায়...
না, আমার বা আপনার মোটেই তেমনটা লাগছে না এই ছালওঠা ও ঘামে স্নান করা গরমে। তবে কারো কারো লাগছে।
"যে করে খনিতে শ্রম
জেনো তাকে ডরে যম......"
আর সেই খনিজের যিনি মালিক হন, তিনি? তার অবস্থাটা কি? 

তাকে যমের বাবা মানে স্বয়ং ৫৬ ইঞ্চিও ডরে।
আসলে বখরা আর কি!! গুজ্জু গুজ্জু ভাই ভাই, লুটে খাও যা পাই।

ভণিতা শেষ, কাজের কথায় আসি, ভারতের মুকুটে নতুন পালক সংযোজন হল। কিংফিসারের মালিকের 'পার্টনার ফর গুড টাইম' এ সংযজিত হল নতুন নাম যতীন মেহতা।
যতীন, এ যতীন অবশ্য সেই মহেশ মান্নার চামচা যতীন নয়। ইনি হলেন গিয়ে জাতীয় বেয়াই। ইয়ে মানে মন কি বাতের থুড়ি গৌতম আদানীর বেয়াই। হিরের ব্যাবসাদার গুজরাতি। অবশ্য অন্যায় অবচার ফুল দমে।
বর্তমানে ইনি সেই ক্রিকেট নষ্টালজিয়ার দেশ ওয়েষ্ট ইন্ডিজের ( ক্যারাবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ) সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস নামক দ্বীপের বাসিন্দা। যেমনটি বিজয় মালিয়া লন্ডনের।
তবে যাওয়ার আগে, হ্যাঁ... মিরাক্কেল স্টাইলে...
যাবার আগে...

এদেশের বিভিন্ন ব্যাঙ্কে কমপক্ষে ৭ হাজার কোটি টাকা লোন নিয়েছিলেন। অতঃপর... স্বস্ত্রীক চম্পট ( এটা অনুমান, অন্যের স্ত্রী যে নিয়ে যাননি, সেই প্রমান জোরালো নয়)
এর আগেও অবশ্য পাঞ্জাব ন্যাশানাল ব্যাঙ্ক, বিজয়া ব্যাঙ্ক ও সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ককে বেশ কয়েক হাজার কোটি টাকা প্রতারণা করে হাত পাকিয়েছিল। সেখান থেকে দেশপ্রেমিদের নেকনজরে সম্ভবত।
আচ্ছেদিনের স্বপ্নদেখানো কারবারিরা প্রকাশ্যে গরু আর সীমান্তের ছায়া যুদ্ধ নিয়ে ব্যাস্ত। আর গোপনে অস্ত্র কেনাবেচার বখরা। সাথে মনকি বাত, এদিকে হাইজ্যাক পিসিও নিজের প্রতিভা রাখছেন
নোট বাতিলে সন্ত্রাসবাদ শেষ হয়ে যাবার কথা ছিল, দুদিন আগেও পাকিস্থানি সেনা দুজন ভারতীয় বীর জওয়ানের মুন্ডু কেটেছে। কথাছিল দেশের অর্থনীতি পুঁই শাকের মত বাড়বে লকলকিয়ে, আজ সম্ভবত সেই পুঁই চারা বনসাই এর মত বনপুঁই হয়ে গেছে।মাঝখান থেকে আমি আপনি হয়রান হলাম। দেশপ্রেমিক গোসন্তানেরা অবশ্য বাঁদরের লেজ লাগাতে ব্যাস্ত, সাথে অস্ত্র নিয়ে নিকৃষ্ট মুসলমানিত্বের মহরমকে নকল।
ওয়াক থু...
এই সাত হাজার কোটির রিকভারি কিসে হবে বন্ধুরা??
৫৬ ইঞ্চি নতুন কি গল্প ফাঁদে সেই প্রতিক্ষায়, কারন ওই দ্বীপ রাষ্ট্রের সাথে ভারতের বন্দি বিনিময় চুক্তি নেই। অতএব হোলবোল।


শনিবার, ২২ এপ্রিল, ২০১৭

।। সাধর্ম্যনীক ।।

কপাটরুদ্ধ দ্বিপ্রহর, সোঁ-সোঁ ধ্বনিতে ম্লেচ্ছ বাতাস দিশাহীনভাবে দুয়ারে কষাঘাত করিয়া চলিতেছে। আশেপাশে দর্শককুল কমবেশি উৎকণ্ঠাতে, কি হয় কি হয়, ভাবিতে ভাবিতে ঘামিতেছেন, ঘামিতে ঘামিতে ভাবিয়া ক্লান্ত হইতেছেন পুনরায়। কণ্ঠনালী শুকাইয়া জৈষ্ঠমধুর ন্যায় কাষ্ঠল, সামান্য রসের সঞ্চার হইলেই মিষ্টতার আগমন ঘটে।
   বৈশাখস্য শুক্লাভূ তীযাযাঅক্ষত্তীষাব্রত
      তস্য শুক্লা দ্বাদশী পিপীতকী 
        তচতুর্দশী নৃসিংহচতুর্দশী
      তস্য কৃষ্ণাষ্টমী ত্রিলোচনাষ্টমী
       তস্য রূষ্ণচতুর্দশী সাবিত্রী

অনুচ্চারিত বৈদিক মন্ত্রে পবনে পবনে অজানা শিহরন। এই ভাবেই উতকন্ঠার সহিত কয়েকটি প্রহর অপগত হইবার পর অবশেষে সেই মহেন্দ্রক্ষন। ক্রমে ক্রমে কৃষ্ণবর্নের গগনপটে কালিমার পর্দা উন্মোচন করিয়া, শুক্লা দ্বাদশীর চন্দ্র পসৃত হইল। অতৃপ্ত আত্মাদলেরা, নক্তচরের ন্যায় যারপরনাই বিচলিত হইয়া উঠিল সহসা। সূক্ষাদর্শী বিবাচকগন আপন আপন জ্ঞান করণ্ড অসম্বাধ করিয়া চকিতেই নিলাম কক্ষে রুপান্তর করিয়া দিল সমগ্র "অক্রূর" মলয় কাননটিকে। সে এক সুপ্ত ও বিলুপ্তপ্রায় নির্মাণশক্তিসম্পন্ন প্রজ্ঞা।
সে এক অসম যুদ্ধ। যথারীতি দূঢ়হ কর্মটি সাধিত হইল ক্ষনিমতি বান্ধব দ্বারা। আরক্ষাবাহিনীর উপজীব্যে উচ্চপদে আসীন ব্যাক্তিদ্বারাই প্রতিষ্ঠিত ও পরিচিত বিপরিতবুদ্ধিগামী চক্ষুতারার সহিত বিবাদে জড়াইয়া স্ফুলিঙ্গের পত্তনটি সুচারু রূপে করিলেন। অবশেষে অনধিকারচর্চার বিষয়টি অনুধাবিত হইবার পর তৎক্ষণাৎ পৃষ্ঠদর্শন। দিবি্‌যাদ্ধিপতি যথারীতি তূনিরের সম্মুখে হাস্যমান।
বিভীষণ একটি চিরকালীন চরিত্র, যুগের চাহিদা মানিয়া কেমলমাত্র নামগুলি বদলাইয়া যায়। এক্ষেত্রেও তাহার কোন অন্যথা ঘটিলনা। অন্যতম অধীক্ষকই ধার্মিক বলীবর্দের ভুমিকায় সিং বাগাইয়া বাকি অন্যদের পশ্চাদদেশে দাম্ভের প্রকাশ ঘটাইতে থাকিলেন, সম্পূর্ন অযোউক্তিক ও অকারনেই। বৃহন্নলার রমনসুখ সম্ভবর এই পথেই সাধিত হয়।
সৃষ্টির অপার মহিমা, সাধুপ্রান হউক কিম্বা তস্কর, স্যাঙাৎ জুটিতে বেশি সময় ব্যায় হয়না। সেই অমোঘ নিয়মের পৃষ্ঠে সাওয়ার হইয়া, সর্বজ্ঞ মহিয়সী- কুচক্রে বৈদগ্ধ্যতা প্রাপ্ত ও সবলা 'দু:খাপনোদন দেবী', তাহার চূর্ণকুন্তল প্রত্যায়িত করিয়া বায়ুমন্ডল মৃত্যুয কনাদ্বারা পরিপূর্ণ করিলেন।
আপাত দৃষ্টিতে আনুরক্তি সর্বশ্ব মাতৃরূপেন সংস্থিতা, তিনিও ভক্তকুলের প্রহ্লাদ সাজিয়া কীর্তনিয়া দলে আপন খোরাকের নিমিত্তে প্রত্যহ খঞ্জনি বাজাইতেন। পরিচিত আস্তাকুরের পরিবেশে অন্তরের যাবতীয় কালিমার পূনর্জাগরন ঘটায়। অতএব তিনি কাব্যসংহারক হইয়া প্রানত্যাগের মত কঠিন ব্রতের নিদান দিয়া উপস্থিত সকলজনকে বিস্ময়াভিভূত করিয়া তুলিলেন।
যুদ্ধ বিদ্যার সর্বোতকৃষ্ট রীতি হইল, সম্মুখসমর। শক্তি ও প্রত্যুৎপন্নমতিতার সহিত বুহ্য রচনা, পরিশেষে গুপ্তচরবৃতির মোক্ষম বানে একে একে সকল বীর ও বীরাঙ্গানা পলায়নে ব্রতী হইলেন। উলুধ্বনি সহযোগে পূর্বক্তো সেই মাতৃরূপেন নব কলেবরে মেনকা- রম্ভা সদৃশ্য উল্লম্ফন করিবার নিমিত্ত দেহ ধারন করিয়া লুব্ধকের ন্যায় পরিখার চারিপাশে নাসিকা দ্বারা খোসবু আরোহণে ব্যাস্ত।
পারাঙ্গানা না জানি কোহার সমিপে তাহার জ্ঞানশলাকা প্রজ্বলিত করিতেছেন। নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সাধুতা সম্বলিত আরক্ষা উবজীব্য পরিজনের স্ব-চিত্র সম্বলিত প্রজ্ঞাপন নাজানি কাহার দুয়ারে নিষ্ফল ক্রন্দনে রত।
মহেঞ্জোদড়ো সভ্যতার সেই অন্তিম বীর, যার পূর্বে তাহার ন্যায় না কেও জনমিয়া ছিলেন, না আর কেহ জন্মাইবেন। আপন উপকন্ঠে বিষাগ্নি বরষিয়া আজি ক্ষান্ত দিয়াছেন, সুহৃদের অনুকম্পা ধীরে ধীরে মৃয়মান।
আজি আর্ধপাক্ষিক কাল অতিক্রান্ত, সময়ের রতিক্রিয়াতে নব নব শুভার্থীর আগমন ঘটাইয়াছে। অজেয় আত্মা বিজয়ী হইয়া আপন গুহ্যদ্বারে স্বমেহনে তৃপ্ত।
উল্লাস, সম্মুখে কৃষ্ণপক্ষ। কালের গহ্বরে কালিমা বিসর্জিত হইয়া নবচন্দ্রের উদযাপনে শোনিত তরল পান করিয়া আগামির দিশারী হইতে হাতছানি দিতেছে। অগ্নিক্রীড়াতে ত্রসন রহিয়াছে বলিয়াই না উহা বলীদের জন্য সংরক্ষিত।
উপেক্ষা করিবার সাধ্য কাহার আছে?


শুক্রবার, ২১ এপ্রিল, ২০১৭

নামহীন

দ্বন্দ্বের শুরুটা খুব ছোট্ট করে শুরু হয়, যখন প্রত্যাশার পারদ আকাশ ছোঁয়।

সোমবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১৭

। উন্মাদীয় প্রলাপ ~ ৩০ ।।

চাকুর ধার সুযোগ পেলেই কাটবে, সে জাত চেনেনা। ফুলও গন্ধ ছারে আপন খেয়ালে, সেও মানুষের দ্বন্দ্ব বোঝেনা। শিশু নিজমনেই অনবিল হেসে উঠে অকারনেই, কেঁদেও উঠে কারন সে শিশু। কুকুরও কোথাও থেকে পাছাতে লাথ থেকে, ন্যাজ গুটিয়ে নিজের পাড়াতে গিয়ে বেশ খানিক্ষন চিল্লিয়ে পাড়া মাথায় তোলে।
আদতে বুদ্ধিমান নামের বস্তুটা পাতি মানুষের মাঝে খুঁজে পাওয়া যায়না। পারিবারিক সম্পর্কের মাঝের বিবাদটা সর্বজনবিদিত, উচ্ছিষ্টভোগিরা ভদ্রবেশে সাথে বসলেই চারিত্রিক উন্নতি ঘটে না। বংশ পরিচয় অবশ্যই একটা পরিচয় বহন করে, কিন্তু সবটা নয়। নিন্মরুচির কাক, যতই ময়ুরের পালক পরে নাচাগানা করুক, আস্তাকুর দেখলেই ঘৃন্য চরিত্র প্রকট হয়ে যায়। অযোগ্য অক্ষমের একটাই হাতিয়ার, নিপীড়িতের অভিনয়, আর শীৎকার।
নিজের সাবজেক্টের উপরে দখল কমবেশি সকলেরই থাকে, নাহলে ডানহাত বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সেটা বুদ্ধিমত্তা নয়। কথিত আছে স্বস্তা মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা আশা করা অন্যায়। মুশকিল হল, এই বুদ্ধিভ্রমের জন্য শক্ত খোলস দেখে ঘরে তুলে দেখা যায়, ভিতরটা জাষ্ট ভটভটে পচা।
আত্মবিশ্বাস আর আত্মঅহংকার, মাঝের ফারাকটা খুব কম। অহংবোধ না থাকা মানুষ জড়বৎ, আবার অতি অহং দ্রুত বিচ্ছেদ ঘটায়।
আবেগ দিয়ে পেট ভরেনা, মন ভরে তাও সর্বক্ষেত্রে নয়। মূল বিষয় বেগ। এটাই দরকার। চলন্ত গাড়িতে সাওয়ারি করলে এগোনো ছাড়া উপাই নেই।


সোমবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৭

।। লোকাল ট্রেন ।।

একটি অভিজ্ঞতার ধারাবাহিক
-------------------------------

হাঁফাতে হাঁফাতে হাওড়া ষ্টেশনে ঢুকতেই বর্ধমান লোকালটা বেরিয়ে গেল। ঘড়িতে চোখ রাখতেই দেখি ঘড়ির কাঁটা আটটা দশ ছাড়িয়েছে। অতএব ছটা আটান্নর বর্ধমান লোকালের আর কি দোষ! অগত্যা এই সাতসকালে বিফল মনোরথে কী আর করি, পাঁচ নং প্ল্যাটফর্মের সোজাসুজি ওয়েটিং প্লেসের সামনে উত্তর দিকের হুইলার বুক স্টলের দিকে হাঁটা জুড়লাম। হৃদয়ে মস্তিষ্কে এখন শুধুই সেই পত্রিকা, নিরুপায় হয়ে দিবারাত্র স্বপনে জাগরনে পত্রিকা খাই, ওতেই শুই সব কিছুই জুড়েই, মানে পুরো একটা কেলেঙ্কারিয়াস পুদিচেরি আর কি! সাথে খালি বোতলটাও ব্যাগে গোঁজাই ছিল, সামনেই অ্যাকোয়া গার্ড ওয়াটার ফিল্টার দেখে ঠান্ডা জল নেওয়ার কথাটা বেমালুম মনে এসে গেল।
আচ্ছা করে সাতসকালে পেট ও মন দুটোই ভরে জল খেয়ে হুইলারের সামনে গিয়ে দেখি তখনও সেটা বন্ধ। পাশেই সার দিয়ে দোকান। গোরক্ষপুর প্রেসের স্টলের পাশের দোকানটাতে চা চাইতেই ওই টি-ব্যাগ ওয়ালা চা হাতে ধরিয়ে দিল। "ছ্যাঃ ছ্যাঃ এই চা আবার মাইনসে খায়!!" জানিনা বাপু কার কেমন লাগে, আমার আবার ফুটে ফুটে গজ না হলে চা এ টেষ্টই খোলে না। অগত্যা নাতজামাই ভাতার, ওই ই খেলাম নাকমুখ ভেংচে। দেরী যখন হয়েইছে, তাহলে কিছু কাজ করে নিই। রোব্বারের সকাল, অতএব ষ্টেশনে অন্যদিনের মত তেমন তারা নেই। ধীরে সুস্থে হেঁটে গিয়ে গজচালে বড়ঘড়ির নীচে গিয়ে বসে মোবাইলের দোকানটা খুলে বসলাম। সাথে গোটা চারেক এন্ড্রোয়েড ফোন।
ডিজিটাল দেশের রিংটাল আতাক্যালানে পাব্লিক আমি। এক এক করে সবকটাতে ফ্রির হাইস্পিড ওয়াইফাই করার জন্য গুগুল ষ্টেশনে গিয়ে মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশন করে কানেকশন জুড়ে ফোন কটার সাবতীয় সকল অ্যাপসের আপডেটেশন স্টার্ট করে দিলাম। ফ্রির এই ইন্টারনেট কার কী কাজে লাগে জানিনা, প্রেমিকদের চ্যাট আর পানু বিলাসীদের ডাউনলোডের স্বর্গোদ্যান এই সব স্থান। যদিও পাটনা এদের মধ্যে পানু ডাউনলোডে অগ্রগন্য- দেশের মধ্যে। মোটামুটি চারটে মোবাইলের সফটওয়্যারের যাবতীয় আপডেটেসনের চক্করে কখন যে সময় ফক্কা হয়ে গেছে বুঝতেই পারিনি, সাথে একটা ফোনে অকপট তো আছেই। সাধারনত এতো সকালে কোনোদিনই অনলাইনে আসিনা, আজ এসে মজা নিতে গিয়ে সুকন্ঠী ঘোষিকার আটটা পাঁচের লোকালও যায় যায়। পড়িমড়ি করে কোনোমতে ৪ নং প্ল্যাটফর্ম থেকে লেডিসের আগের কামরাতে চড়তেই মোটরম্যানের হুইসেল কানে এলো।
ভিতরপানে ঢুকতেই একটা মাতাল দায়িত্ব নিয়ে বেশ বমি করে একটা এদিক ওদিক গ্যাপের চার প্লাস চারটে সিটের স্থান ফাঁকাই রেখে দিয়েছে আমার জন্য। বমিটা এক্কেবারে সামনে, তাই চাপ না নিয়ে ওটাকে দেখে, ডিঙিয়ে জানালার ধারটা দখল করে বসলাম। হালকা গন্ধ যে ছারছেনা তা নয়, কিন্তু সেটাকে বাকি ভিড়ের তুলনাতে উপেক্ষা করাই যায়। কারণ এই মালটাই লোকটার পেটে থাকলে কী আর তার পাশে বসতাম না ! বোম তো আর নয় যে ফেটে যাব।
...ক্রমশঃ


শুক্রবার, ৩১ মার্চ, ২০১৭

।। স্যার গীতি ।।

প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে
মোরে আরো আরো আরো দাও "স্যার"।
তব রুমে উপরের রুমে
মোরে আরো আরো হাওয়া দাও "স্যার" ॥
আরো মশা শত মশা
এই রুমেতে, স্যার, তারাও।
ঘরে ঘরে ধুনিচি নিয়ে
তুমি আরো আরো আরো ধুনো দাও ॥
আরো বেদনা আরো খোঁজ নেওয়া,
স্যার, লাও মোর কত ঠিকানা।
বাইক ছুটায়ে দ্বার টুটায়ে
মোরে করো ত্রাণ মোরে করো ত্রাণ।
আরো প্রেমে আরো প্রেমে
আমি চুবে থাকি ফ্রিজে নেমে।
সুধাধারে আপনারে
মোরে আরো আরো আরো দাও স্যার ॥

বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৭

।। আঘাত ।।



ওরে ধর্মোন্মাদের দল!
অনুভূতি তোদের কোথায় থাকে বল
যার আহত হওয়া দোষ!
সেটা কী মায়ের ভরা গর্ভ, নাকি বাপের অন্ডকোষ?
যেখানে ধাক্কা লাগতে মানা-
ধর্ম মানে ধারণ করা, নেই বুঝি তা জানা!
আমরা জানি অনুভূতিদের মনের গভীরে বাস,
ষড়রিপু ঘেরা আবেগ চেতনা, মানবীয় গুণ খাস।
আছে তোদের ওসব কিছু? ওরে তোরা জীবন্ত লাশ!
ধর্মের বিষ বিকিকিনি করে জোটাস মুখের গ্রাস।
ধর্ম শেখায় সেবাযত্ন, ধর্ম মানবিকতা,
তোদের ধর্ম হিংসা বিভেদ এক্কেবারে যা তা!
আমার ধর্ম মানব ধর্ম, তোদের সবটা ভুল
পরিচয় যার টিকি আর দাড়ি, সেই ধর্মই চুল।
লোমের ধর্মে নিমজ্জিত, তোরা বেল্লিক বজ্জাত
লোম চুল জানি অনুভূতিহীন, কিভাবে তাতে আঘাত?
ধর্ম তোদের হানাহানিতে, গরু শুয়োরের মাংস
আসলে তোরা সমাজের কীট, আহাম্মকের বংশ।

মঙ্গলবার, ২১ মার্চ, ২০১৭

।। দোষ।।



সমাজের বুকে লক্ষ সমাজ, অন্ধআবেগ চাষ
স্বার্থবিকারে বিবেক বন্ধ্যা, লাশেদের ভীড়ে বাস।

হে কবি!
কাব্যে কি শুধুই প্রেম প্রকৃতি! তার উল্টো পিঠে যে ঘৃণা!
কিভাবে কাব্য জীবন হবে! সমাজদর্শন বিনা?
তাই বারংবারে ঝলসিয়ে উঠে তোমার কলম অসি
চেতনা এখানে পচাগলা লাশ,
সুতরাং তুমিই আসল দোষী।

কেন খোঁজো দাগ আলখাল্লায়, কেন ত্রিশূলের খন্দ
কেন তুমি নও আমাদের মত, চেতনার ঘরে অন্ধ?

হে কবি!
তুমি রাজরোষে ডোবো আঁধার কাব্যে, লিখে নৈতিক হাহাকার
কেন তুমি শুধু সত্য দেখাবে, তোমার সাকিন কারাগার!
তুমি শুধু লেখো সাজানো কথা, রূপকথা রাশি রাশি
কেন তুমি লেখো বিবেকের কথা!
সুতরাং তুমিই আসল দোষী।

তোমার ভাবনার ঘরে দৈনন্দিন, এমনই মূর্তি গড়ো
লাঞ্ছিত বোবা জাতির মুখে বারুদের ভাষা ভরো।

জীবিত মননে ছবি আঁকো কবি, যার নেই কোন প্রতিকল্প
তফাৎ গড়েছো শিরদাঁড়াতে, যেথা চাটুকারিতাই শিল্প।
কানা বিশ্বাস প্রসবিত করে, শুধু মৌলবাদ আর রোষ
কবি, তুমি উপশম দাও কলম পথ্যে,
নতুবা তোমারই সব দোষ।

বুধবার, ১৫ মার্চ, ২০১৭

মন ও বিশ্বাস


 

মানুষ।

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব ও বুদ্ধিমান। প্রতিটি মানুষের নিজের মত করে একটা জীবন সৌন্দর্য থাকে, যেটা মূলত চেতনা, বিবেক, সংবেদনশীলতা, আর আবেগ দিয়ে পুষ্ট। জীবন শুরু হয় অতি অরক্ষিত ও অসহায় অবস্থার মধ্যদিয়ে। সেই পরিস্থিতি থেকে প্রতিনিয়ত জৈবিক বৃদ্ধির সাথে সাথে জ্ঞানার্জনও চলতে থাকে সমান গতিতে। ধীরে ধীরে যার মধ্যে মানবিক ও পাশবিক দুটো ধারাই বিকাশ লাভ করে। যাদের মধ্যে মানবিক গুনের মাত্রা সর্বচ্চো ও সর্বোৎকৃষ্ট মানের থাকে তিনি উচ্চ সামাজিক মর্যাদার অধিকারী হয়ে উঠেন, দ্বিতীয়টা ঘটলে সেক্ষেত্রে তিনি ঘৃণিত ব্যাক্তি হিসাবে স্বিকৃত হন। যেকোন কিছু অর্জন করার জন্য একটি ভিত্তির প্রয়োজন , আর সেই ভিত্তিটির নাম হল বিশ্বাস।

সন্ত ব্যাতিত সকল মানবের জীবন ষড় রিপু দিয়েই ঘেরা। আর এই রিপুর ক্ষুন্নিবৃত্তি শুরুই হয় একটা আশাকে কেন্দ্র করে। প্রশ্ন উঠবে এই আশার উৎস কি? উৎস হল বিশ্বাস। বিশ্বাস হল একটা ভাবনাগত অবস্থান। যেটা সম্পূর্ন মস্তিষ্ক দ্বারা পরিচালিত ও হৃদয় দ্বারা নিয়ন্ত্রিত মানসিক স্থিতির দুর্দম ও আচ্ছন্নকারি দশা। যেখানে সেই মানসিক দশা, যাবতীয় পারিপার্শ্বিক ঘটনাবলী তথা সময় ও জীবনের সমান্তরাল গতি সমূহের সত্য বা মিথ্যাকে প্রতিনিয়ত বিচার বিশ্লেষণ করতে দেয়না, তাকেই বিশ্বাস বলে। মানুষ তার অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের উপর দাঁড়িয়ে যে মানসিক সংগঠন তৈরি করে, সেখানে বিভিন্ন ব্যাক্তিত্ব বর্গ, পুঁথিগত জ্ঞান, পরিক্ষালব্ধ জ্ঞান, ব্যাবহারিক জ্ঞান, গবেষণা অর্জিত জ্ঞান, অপরের প্রতি সামাজিক শ্রদ্ধাবোধ, পরিস্থিতি ভেদে তাৎক্ষণিক আচরনের বহিঃপ্রকাশের উপরে ভিত্তি করে নিজেকে তৈরি করে। যেটা একটা পৃথক মৌলিক স্বত্তা। এই মৌলিক স্বত্তাকে যাহা সন্তুষ্টি প্রদান করে তাকেও বিশ্বাস বলে।

বিশ্বাসের আবাসস্থল মানুষের মন, তাহলে একবার দেখে নেওয়া যাক মনের কার্যপদ্ধতি।   মানুষের মনের দুটো দশা, একটা সচেতন দশা আর দ্বিতীয়টা অবচেতন দশা। আমরা যাকিছু দেখি বা শুনি সেগুলো সচেতন মনে, আর সেগুলো আমাদের মস্তিষ্কের ধূসর স্মৃতিপাত্রে সঞ্চিত ও সংরক্ষিত হতে থাকে। সেই স্মৃতিপাত্রের ক্ষমতা থাকেনা সেগুলির সত্যমিথ্যা যাচায়ের। যে অভ্যাসের স্মৃতিগুলো বারংবার করে সঞ্চিত হতে থাকে, আমাদের অবচেতন মনে সেগুলোর একটা স্থায়ী কাঠামো তৈরি হয়। তখন কোন দ্বিতীয় ভাবনাকে সচেতন মন উপস্থাপন করলেও , অবচেতন মন তাকে প্রত্যাখ্যান করে সযত্নে। কারন বারংবার পুনরাবৃত্তি হয়ে চলা ঘটনাকেই আমাদের অবচেতন মন সত্য বলে ধরে নেয়, এবং তার ভিত্তিতেই একটা আদর্শ তৈরি করে। মানব চরিত্রের যাবতীয় অভ্যাসগুলো আসলে পরিচালিত হয় অবচেতন মনের নেতৃত্বে।  যেমন যেকোন নেশা, যথা তামাকসেবন বা মদ্যপান বারংবার করে অভ্যাসিত হয়ে চললে আমাদের অবচেতন মনে তার একটি প্রতিভূ তৈরি হয়, এবং সেটাকেই সত্য বলে মেনে নেয়। এমতাবস্থাতে ওই সত্যকে, সচেতন মনের অর্জিত নতুন কোন সত্য, বা সেই পূর্ব সত্যের মিথ্যাচার সম্বন্ধীয় যাবতীয় সতর্কবার্তাকে ফুৎকারে উড়িয়ে দেয়। এটাই আসলে বিশ্বাস। অতএব আমাদের চরিত্রের অভ্যাস নির্মিত হয় আমাদের অবচেতন মনের নিয়ন্ত্রণে। অনুশীলন তথা পুনরাবৃত্তিই আমাদের চরিত্র গঠন করে।     

বিশ্বাসের জন্মদাতা সচেতন মন, কিন্তু বাসস্থান অবচেতন মনে। বিচিত্র কল্পনা, দর্শন আর দীর্ঘসময় যাবৎ সেই বিশ্বাসকে অবচেতন মনের জমিতে কর্ষন করে লালন পালন করতে করতে একসময় সেই জন্মদাতা সচেতন স্বত্তাকেও গ্রাস করে, এবং সম্পূর্ন জীবনের দখল নিয়ে নেয় সেই বিশ্বাস। আত্মহত্যা আসলেই এই ঘটনারই কার্যকরী রূপ। কোন একটি পরিস্থিতিকে আমরা যখন আমাদের অর্জিত জ্ঞান ও মেধার পরিস্ফুটন দ্বারা বিশ্লেষনে অক্ষম হই বা বিশ্লেষনে মানসিক ভাবে কোন শক্তি দ্বারা বাঁধা প্রাপ্ত হই তাকেও বিশ্বাস বলে। ঈশ্বরবাদের ধারনার শুরুও সম্ভবত এই পরিসর থেকেই। মানুষ শিশুকাল থেকে সে সমাজে বড় হয়, যেখানে জ্ঞানলাভ করে, যাকিছু চোখে দেখে, কানে শোনে, সেটাই মননে প্রতিফলিত হয়ে একটা ভাবমূলক বিমূর্ত ধারনার জন্ম দেয়, তাকেও বিশ্বাস বলে। এই বিশ্বাস গড়ে উঠতে অনেকটা সময় নেয়, কিন্তু এক লপ্তেই সেটা অবলুপ্ত হওয়ার ক্ষমতা রাখে।

আমরা মানুষ স্বনির্ভর নই। দুএকটি ক্ষেত্র ব্যাতিত প্রায় সকল ক্ষেত্রেই আমরা কারো না কারোর উপরে নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতা থেকেই আমাদের মধ্যে বাকিদের সাথে একটা আদানপ্রদানের সম্পর্কসুত্র তৈরি হয়। দীর্ঘস্থায়ী এই লেনদেন একটা ভরষার স্থান তৈরি করে। মানুষের চাহিদা আর তার বাস্তবায়ন যদি সেই ভরষাস্থলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে তখন সেই ব্যাক্তি, বস্তু, বা আদর্শকে মানুষ ধ্রুবক হিসাবে মেনে নেয়। তখন সেই ধ্রুবককে ঘিরে স্বতঃস্ফুর্ততাকে মানুষের বিশ্বাস বলে অবহিত করি। সচেতন মনন যে কোন পরিস্থিতিকে সকল সময় পুঙ্খানুপুঙ্খ যুক্তি দিয়ে বিচার করে, ব্যাক্তি, বস্তু বা আদর্শকে। এখানকার লেনদেনে অর্ধাঅর্ধি লাভক্ষতির সম্ভাবনা সেটা সকলেই মানি ও জানি। কিন্তু অবচেতন মনের কোটরে লালিত বিশ্বাস যদি কোথাও সামান্যতমও পরাভুত বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়, সেখান থেকেই হতাশার সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে প্রথম ফাটলটা দেখা যায় আত্মবিশ্বাসে।

যেকোন বিশ্বাসের মূলটা শুরু হয় সৃজনশীল ও কল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে, নিজস্বার্থে ও পরার্থে। মানুষ তার নিজস্ব বিশ্বাসকে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সুদৃঢ়ভাবে মূল্যবোধ রূপে উপস্থিত করে থাকে। মূল্যবোধ এমনই একটি গুন, যার দ্বারা সমাজের বুকে ব্যাক্তি তার স্বকিয়তার ছাপ রেখে যেতে সক্ষম। নিজের অতুল্য বৈশিষ্ঠকে প্রতিষ্ঠা দান ও বাকিদের থেকে স্বতন্ত্রতা রক্ষিত করে এই মূল্যবোধ। এই মূল্যবোধের কাঠামোটাই তৈরিহয় ব্যাক্তির দর্শনের উপরে ভিত্তি করে, আর দর্শনের ভিত্তি সেই বিশ্বাস ও তার সার্থক বাস্তব প্রতিফলন। প্রতিটি মানুষ তার বিশ্বাসকে অন্যের মধ্যে সঞ্চারিত করতে ভালবাসে, বা সেই বিশ্বাস দ্বারা অন্যকে প্রভাবিত করে থাকে। সেই বিশ্বাসবাদের সার্থক প্রতিফলনে যদি বৃহত্তর সমাজের প্রতিচ্ছবি প্রতিভাত না হয়, তখন সেই বিশ্বাসের উপরে অভিঘাত এসে পরে। অবচেতন মন সত্যমিথ্যার পার্থক্য নিরূপণ করতে অক্ষম। যার জন্য জীবনের কোন একটি সময়কালে গৃহীত বিশ্বাস , একটি নির্দিষ্ট সময়ের পথ অতিক্রান্তে সেটাকে বড্ড জোলো মনে হলেও অবচেতন মন সেটাকে অগ্রাহ্য করে পূর্বতন ধারনাকেই মান্যতা দিয়ে থাকে, এই ধরনের বিশ্বাসকেই বলা হয় খেয়ালি বা উদ্ভট কল্পনা।

মহামানবেরা তাদের জীবন দর্শন দিয়ে সমাজের বুকে নানান ধরনের পৃথক পৃথক বিশ্বাসের জন্ম দিয়ে গেছেন। যেগুলোকে কেন্দ্র করে ধর্ম, বিজ্ঞান, রাষ্ট্র, পরিবার ইত্যাদি ছোট থেকে বড় নানান ধরনের গোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়েছে। এই বিশ্বাস ঘরানা গুলোর নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান ঘিরেও চলে নিরন্তর প্রতিযোগিতা। ভবিষ্যতের উন্নতির জন্য মানবের নিজের ক্ষমতা, জ্ঞান, প্রভাব ও বিচক্ষনতার উপরে বিশ্বাস রাখতে হয়, এই বিশ্বাসকে আত্মবিশ্বাস বলা হয়। আবার এই আত্মবিশ্বাস যখন সচেতন মনের অনুভুতিকে উপেক্ষা করে, নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে উদ্যত হয়, সেটাকেই অহংকার বলে ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে শেষমেশ নিজেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বী রূপে প্রকট হতে হয়। তিনিই সমাজের প্রভাবশালী ব্যাক্তি, যিনি নিজের মধ্যে থাকা বিশ্বাসকে জনসমাজে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।  

বিশ্বাস আঘাতপ্রাপ্ত, আজকের সমাজে এটা একটা বহুলপ্রচলিত শব্দ। দেখা যাক এটি কিভাবে সম্পাদিত হয়। অবচেতন মন প্রায় সর্বদা ব্যাক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করে। এই অবচেতন মনের শক্তির কেন্দ্রস্থল হচ্ছে আমাদের মস্তিষ্কের স্মরণ কোষিকাগুচ্ছ। এরা সেই স্মৃতিশক্তি, যারা শুধুই সংরক্ষিত হয়, যাদের কোন অতীত নেই, বর্তমান নেই, ভবিষ্যতও নেই। শুধু ফিকে হয়ে যাবার ক্ষমতা রয়েছে। আর বিশ্বাসের ও দর্শনের বাস ওই স্মৃতিকোষের আস্তরনে ও পরতে পরতে।  আমরা যা কিছু দেখছি যা কিছু শুনছি, সচেতন মনের আরশিতে সকল কিছুই সেটা প্রতিফলিত হয়ে চলে। সচেতন মন সময়ের সারণির সাওয়ারি। যার জন্য প্রতিমূহুর্তেই দৃশ্য, পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট বদলে চলে, এখানে বিরাম বলে কিছু নেই। কিন্তু অবচেতন মনের কোন কাল জ্ঞান নেই, আর রয়েছে ভাবনার জন্য অফুরন্ত সময়। সকালের কোন ঘটনা তাৎক্ষণিক ভুলে গেলেও, দেখা যায় রাত্রিতে শুয়ে মনে মনে সেটারই বিচার বিশ্লেষণ করে চলেছি। আমাদের অন্তরের বিশ্বাসের ছাকনিতে যাকে চুলচেরা বিচার করে থাকি। যেখানে একটা মানসিক টানাপোড়েনের পরিস্থতির উদ্ভব হয়, যাকে মানসিক পীড়ন বা টেনসন বলে। এই পীড়ন যখন সহ্যের সীমা অতিক্রম করে যায়, তখন সেই নব্য চিন্তাধারাকে মেনে নিতে না পারার দরুন ও নিজেকে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খাপ না খাওয়াতে পেরে, অন্যের কাছে বা নিজের কাছেই পরাজিত বোধ হয়। এটাকেই বিশ্বাসের ঘরে আঘাত বলে ধরা হয়। হিংসা, ক্রোধ, বৈরিতা ও সংহার প্রবৃত্তির বোধ মননে জাগ্রত হয় ও চরিত্রে ফুটে উঠে।

বিশ্বাস বদল হয়। কারন ওই আগেই বলা হয়েছে, অবচেতন মনের গহিনে কোন কালজ্ঞান নেই। অবচেতন মনের কোন ক্ষমতা নেই কোন প্রকারের প্রভাবকে শনাক্ত করা। যে ঘটনাটা এই মুহুর্তে আপনার মনের ভিতরে আপনাকে ব্যাস্ত রেখেছে, সেটাই আপনার অবচেতন মনের কাছে একমাত্র বাস্তব। সচেতন মনের দৃষ্টিতে আজকে কোন একটা দর্শন, আপনার জ্ঞানের ঘরে বাতি প্রজ্বলিত করে দিল, দেখা গেল তার সাথে অনেক পুরাতন ঘটনা স্মৃতিপটে নতুন করে ভেষে উঠল। যেমন শৈশবের অশরীরি অস্বিত্ব যতটা ভয় প্রদান করত, মধ্য বয়েসের কোন বিশেষ ঘটনাতে তার স্বরূপ উন্মোচন করলে সেই পুরাতন শিশুশুলভ বিশ্বাসের কথা স্মৃতিতে জেগে উঠে, ও স্বনিয়মেই বিশ্বাসের পরিমার্জন ও পরিবর্ধন ঘটে যায়। মানুষ ঘুমের মধ্যে যে স্বপ্ন দেখে সেটাও এই অবচেতন মনেরই কারসাজি। যে বিশ্বাসের প্রকোপে ব্যাক্তি বিভোর বা আতঙ্কগ্রস্থ, সাধারনত সেই ধরনের স্বপ্নই মানুষ দেখে থাকে। মজার বিষয় হল , যে বিশ্বাসের দরুন স্বপ্ন দেখা, সেই স্বপ্নকেই আবার বিশ্বাস করতে শুরু করে দেয়। যার জন্য  বিশ্বাসের কোন অন্ত নেই। সচেতন মন যুক্তি নির্ভর, হ্যাঁ বা না এ উত্তর দিয়ে দেয়, এবং ভুলে যাওয়ার ক্ষমতা আছে। কিন্তু অবচেতন মনে সঞ্চিত বিশ্বাসের সাথে যুক্তির সমানে দ্বন্দ্ব চলে কারন তার ভুলে যাওয়ার ক্ষমতা নেই। বলাই বাহুল্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিশ্বাস বিজয়ী হয় মনের ঘরে। 

আবার ফেরা যাক সেই রিপুতে। বিচার ক্ষমতার গুণে সচেতন মন জানে নিজের এক্তিয়ার কতটা আর কতটা তার প্রাপ্য। কিন্তু অবচেতন মনের লালিত বিশ্বাস সেটাকে স্বিকার করতেই চাইনা। একটা সংঘাতের স্থান তৈরি হয়। আর যারা এই সংঘাত এড়াতে চান, তারা ওই বিশ্বাসকে একটা নতুন মোড়কে নিজের কাছে পরিবেশন করেন, যাকে অন্ধবিশ্বাস বলা হয়। যে বিশ্বাস কোন তথ্য মানেনা, যুক্তির আশপাশ দিয়ে হাটেনা, বিশ্লেষণ থেকে শতহস্ত দূরে অবস্থান করে, সেই বিশ্বাসই নিশ্চিত রূপে অন্ধবিশ্বাস। আর অন্ধবিশ্বাসে ভর করে সে সংস্কার ও সংস্কৃতি জন্মলাভ করে, তাদের যথাক্রমে কুসংস্কার ও অপসংস্কৃতি নামেই আমরা চিনি। আমাদের সমাজে বহু কিছুর অভাব থাকতেই পারে, কারন এটা সত্য। তবে যেটার অভাব নেই সেটার নাম হল অন্ধবিশ্বাস। কিছু বিশ্বাস যতই ঠুনকো হোকনা কেন, যদি তাতে স্বার্থের আতর মেসানো থাকে, সেখানে তাঁকে নিদেনপক্ষে ঐতিহ্যের নাম দিয়েও বিশ্বাসকে জীবন্ত করে রাখা হয়।

যৌনতা, সংখ্যাগুরু ও লঘু, নাগরিকত্বের বৈধ ও অবৈধতা, কর্ম ও বয়েসের কল্পিত সীমারেখা, সামাজিক প্রভেদ সহ নারী পুরুষের অধিকারের চিরাচরিত ধারনা প্রভুত বিষয়ে আমাদের যুক্তির থেকে আবহমান কাল ধরে চলে আসা বিশ্বাসই প্রাধান্য পেয়ে থাকে। তবেই না অধিকার নিয়ে এতো আন্দোলন। তাহলে এই সমস্যার মূলেও সেই বিশ্বাস।  জীবন যৌবন, দেশ কাল, জাতি ধর্ম, শিল্প কৃষ্টি, সহ প্রতিটি মুহুর্তেই অধিবিশ্বাসে বা অন্ধবিশ্বাসের বাড়বাড়ন্ত। একমাত্র উন্মাদ ব্যাতিত সকল সুস্থ মানুষই সচেতন মনের অধিকারী। সচেতন মন থাকা মানেই দেখা, শোনা, পড়া। যথারীতি এগুলো মস্তিষ্কে সংরক্ষিত হতেই থাকে ক্রমান্বয়ে। অনুশীলিত কর্মকান্ডগুলোর প্রভাবে নতুন নতুন বিশ্বাস জন্মনেয়, পুরাতন কিছু বিশ্বাস খন্ডিত হয় যুক্তির কাছে। কিছু মানুষ বলে থাকেন, তিনি কোন কিছুই বিশ্বাস করেননা। এটাও আসলে সত্যের অপলাপ। হতেই পারে কেও ঝাড়ফুঁক , তাবিক, কবজ, রত্নপাথর, মন্ত্রপূত সুতো বা জল তেলে বিশ্বাসী ছিলেন। কিন্তু তাতে তার কাঙ্খিত স্বার্থ চরতার্থ না ঘটতেই তিনি নাস্তিক হয়ে গেলেন। আসলে কিন্তু তার ঈশ্বর বিশ্বাসের মৃত্যু ঘটে ঈশ্বর নেই বিশ্বাসের সূচনা হল। আগে সকল কিছুতেই তিনি ঈশ্বর দেখতেন, এখন প্রমান করতে ব্যাস্ত যে কোথাও ঈশ্বর নেই। বস্তত বিশ্বাসের কোন পরিবর্তন ঘটলনা, শুধু বিশ্বাসের দিক পরিবর্তন ঘটল মাত্র। সমাজসংস্কারক গন যুগে যুগে আবির্ভুত হন দশক দশক ধরে চলে আসা ক্ষয়িষ্ণু মুল্যোবোধ যুক্ত বিশ্বাসগুলোকে পূনর্মুল্যায়ন করতে। আধুনিক সমাজের উন্মেষের যুক্তিতে আলোকিত করে সমাজের বুকে চেপে বসা জগদ্দল পাথর সরিয়ে, মুক্ত বাতাস আনয়ন করেন। যেখানে বিষ-শ্বাসের অবলুপ্তি ঘটিয়ে বিশ্বাসের পরিমার্জন ঘটে।     

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...