মঙ্গলবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৭

ফেবু মাহাত্ম্য - ২

টেঁপি সমাচার

আমি আর ইস্কুলে যাবনা মা...
এ কি অলিক্ষুনে কথা, কেন
যাবনা তাই যাবনা
ভয়ঙ্কর চাপে কুলোদারানী দেবী। আর চাপে পরবেই না ই বা কেন! পারুলবাবার মতি সুবিধের ঠেকছে না। রাত্রে কত্তা পুলিন বাবু ঘরে এলে তাকে কথাটা খুলে বতলেই তিনি ঝাঁঝিয়ে উঠলেন।
“আজ পোরজোন্তো কোন সুবিদার কতা আমাকে বলেচো যে আজ সমোসসার কতা কইতে এসেচো? যাও তোমার গুনোধর ভাইকেই ডেকেই বলো” - বলে ‘জড়োয়ার ঝুমকোতে’ মন দিলেন।
কেঁদো মিনসে, মেয়ে যেন আমার একার
সেটা জানিনে, তবে আমার ভূমিকা ছিল কিনা জানিনা...
স্বামী-স্ত্রীর ঝামেলাতে আর ঢুকে লাভ নেই আমাদের

পরেশ মাইতি ইনস্যুরেন্সের দালাল, খাঁটি মেদনীপুরিয়ান হলে বর্তমানে একযুগ ফরাসডাঙাতেই ঘাঁটি গেঁড়ে আছেন। সকালে বোন কুলোদারানীর ফোন পেয়েই সাইকেল হাঁকিয়ে অফিস ফেরতা পরেশ সোজ্জা বোনের বাড়ি।

হ্যাঁ মা পারুল, তা ইশকুলে কি কেউ কিচু বলেচে?
পারুলবালা চুপ করে নখ খুঁটছেআশেপাশে ভাইবোনেরা ছিটিয়ে ছরিয়ে খেলা করছে।
কিচু তো বল মামামাকে বলবিনা তো কাকে বলবি!
ব্যাকগ্রাউন্ডে কুলোদারানীর ফ্যাচ ফ্যাচ করে কান্নার সাবটাইটেল।
পারুল...
আমি যাবনা মানে যাবনা।
আহা , কেনো সেটা তো বল
লতিকা, বাঁশরী, শঙ্করী... – বলতে বলতেই পারুলবালা ফুপিয়ে কেঁদে উঠতেই কুলোদারানী বুকে টেনে আঁচলে নাকের পোঁটা মুছিয়ে দিলেন। এবং দিতেই আবার শুরু করল পারুলবালা
আমার মান সম্মান কি কিছু নেই মামা
আলবাত আছে, কোন শুয়োরের বাচ্চা কি করেছে বল

এই কথাতেই চিৎকার করে ভেউ ভেউ করে কেঁদে উঠল পঞ্চদশী পারুলবালা, সাথে মেয়ের কাঁদন দেখে কুলোদারানী ও বাকি চুনো বাটখারা গুলোও “ ও বাবাগো আমার কি হবে গো” বলে গেয়ে উঠল। আশেপাশের পড়শি বাড়ির জানালা ফাঁক হল বটে কিন্তু তারা মা-মেয়ের যুগলবন্দী চণ্ডীরূপ সম্বন্ধে ভীষণ ভাবে ওয়াকিবহাল, তাই ওই ফাঁক টুকু দিয়েই মজা নেওয়া।
“আমি জানতাম এমনটাই কিছু হবে, যেখানে মায়ের শাসন নেই সেখানে ভালটা হয় কি করে”- ক্লান্ত পুলিন বিহারী অফিস থেকে ফিরে ফ্যানটা ফুল স্পিডে খুলে সিলিং এর দিকে তাকিয়েই বলে ফেল্লো কথা কটা।
অন্য সময় হলে ঝাঁ ঝাঁ করে উঠত কুলোদারানী, এখন কান্না মোড থেকে চণ্ডী মুডে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন না।
বল পারু, বিষয়টা তোর মা-মামাকে বল। আমি বাতরুম থেকে শুনচি
“সারাজীবনটা খেয়ে, হেগে আর টিভি খবরের কাগচেই কাটিয়ে দিল মরণটা” – কেন কেন কেন! কেন বিয়ে দিয়েছিলি দাদা এই অনামুকোর সাথে
পারুল বুঝলো তার সাসপেন্সের চোটে সে আজও গুরুত্বহীন হয়ে যাবে, জেঁকে বসবে বাপ মায়ের রোজকার কুকুর কেত্তন। রিস্ক না নিয়ে বলে ফেললো-  
আমাকে মা কালীর বাচ্চা বলেচে। ওদের সবার ছেলে বন্ধু আছে, আমারও মদনকে পচন্দ। কিন্তু সে বল্লো আয়নাতে মুক দেকে আয় কামিনী ...

আরো অনেক কথাবার্তা বেশ কয়েকদিন ধরে হয়েছিল। যার মধ্যের মোদ্দা কথাটা হল, পারুলবালাকে কোনো ছেলে ঘাস দেওয়া তো দুরস্থান ফিরেও তাকায় না। পারুল চায় তাকে দেখেও ছেলে পিলের দল সিটি মারুক, চোখ মারুক, আড়াল আবডাল খুঁজে কারনে অকারণে একটু ছুঁয়ে দিক যেখানে যেখানে ছোঁয়া মানাএ সকল কিছু হয়না বলেই তার যার পর নাই কষ্ট। অথচ লতিকার ভরন্ত শরীর দেখে ছেলের দল গোয়ালার গাই বলে ডাকে, শাড়ি পরে স্কুলে যাবার সময় আদুরীর খোলা পেট দেখে ‘চিতলের পেটি’ বলে ছেলেরা তারাই বাঁশরীর স্নিগ্ধ রূপের জন্য মা দুর্গার সাথে তুলনা করে। আর সেখানে পারুলবালাকে ছেলে বুড়ো নির্বিশেষে সবাই টেঁপি বলে ডাকে, এমনকি মেয়েরাও; তাও প্রকাশ্যে। এই দুঃখ সে রাখে কোথায়! সে ও ‘টিজ” হতে চাই।

লাগাতার ডিপ্রেশনের ধাক্কায় বারোক্লাস টপকে আর কলেজে যাওয়া হলনা চার বারের চেষ্টার পরেও। ঘরে তার পরে আরো ২টে বোন ২ টো ভাই আছে। এবার বড় মেয়ের বিয়ের তোরজোর শুরু করলেন পুলিন-পরেশ জুটি। মাস ছয়েকের মধ্যে নিরাশ হয়ে গেলেন, এবং বছর তিনেকের মধ্যে ক্লান্ত। অষ্টম বছরের মধ্যে বাকি বোনেদের হাত হলুদ হল। পুলিন বাবু উদাসীন হলেও, বোনের চাপে তখনও শেষ চেষ্টা চালাচ্ছিলেন পরেশ

জিতেন রাজবংশী কোচবিহারের মানুষ, বদলির চাকরিতে হুগলীর এই প্রান্তে এসেছেন। ভুমি ও রাজস্ব দপ্তর। পরেশ বাবু বিমা বেচতে গিয়ে ক্রমে আবিষ্কার করলেন জিতেন অবিবাহিত। ব্যাস, লাগ ভেল্কি লাগ। মাঝে অনেক ঘটনা ঘটেছিল ইত্যাদি ইত্যাদি ও ইত্যাদি। ৭ মাসের মধ্যেই মিস টেঁপি, মিসেস রাজবংশী হয়ে গেলেন। দুপক্ষই অনেক কিছু লুকিয়েছিল। বাড়ির ইলেকট্রিক ফল্ট বলে প্রায় অন্ধকারে পারুলকে দেখিয়েছিল পাকা দেখাতেজিতেন পারুলের মায়ের থেকে বছর খানেকের বড় হলেও নিজেরাই শুনতে চাইনি কন্যাপক্ষ, শোনার আংটি আবার বাঁকা।

অভাগা যেদিকে যায়, সাগর শুকায়ে যায়। শত ভায়াগ্রাতেও এক বুন্দ জিন্দেগিকি ঝড়লনা, নায়াগ্রা শুকানো। বিয়ের পরে না জুটোলো স্বামীসুখ না দেওরশুধু টাকা এলো হাতে পদবীর সাথে সাথে।

রয়ে গেল অক্ষত কুমারিত্ব।

১৫ বছর অতিক্রান্ত, মোনোপজ পারুলবালা ফেসবুকে এসেছেন বেশ কিছু দিন হল। নাম “আমিই সেই পারু”, ডিপিতে শরৎচন্দ্র। প্রথমে কমেন্ট করতেন এখন টুকটাক লেখেনও বটে, যেমনটি দেখেন। হাত আর কল্পনা নেহাত মন্দ না। কিন্তু এর পর তিনি পেয়ে গেলেন সেলফি ক্যাম –B16প্রথমটা নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলনা, এটা কে? এতো সুন্দরী সে? ফর্সা, কোঁকড়ানো চুল, গোলাপি ঠোঁট, দীঘল কালো চোখ, গালে রুজ এফেক্ট, সাথে টোনড ফেস। আর কি চাই!  আয়না দেখা সেই কবে ছেরে দিয়েছছিলএকটা লেখার সাথে সেই ছবিটা ছেরে দিতেই, লেখা বিষয়বস্তু ভুলে ফেবু ভাষায় প্রশংসার ঝড়। অসাধারন , অনবদ্য, অপূর্ব, সৌন্দ্ররযের সংজ্ঞা, মোহময়ী ব্লা ব্লা ব্লা। এভাবেই দিন কাটছিল, তাল কাটল ফেবুদলের সাথে এপো টেপোতেও মাঝে মধ্যে যাওয়া শুরু করাতেসামনা সামনি দেখে গ্রুপের সুজন একবার বলেই বসল –“মাসি, ওটা কি আপনার যুবক বয়সের ছবি?” দাঁতে দাঁত চেপে পারুলবালা বলল- “ছোট বেলায় এক ভয়ঙ্কর এক্সিডেন্টে আমায় মুখে পাছার চামড়া লাগানো হয়েছিল, তাতেই মুখটা এমন বেহদ্দ হয়ে গেছেনচেৎ আমি হেব্বি সুন্দরী”এই পর্যন্ত ঠিকিই ছিল, মাসিটাও সহ্য করে নিয়েছিল। কিন তু রাত্রে একটা পোষ্টে খোকন লিখল টেঁপিদি কেমন আছো ব্যাস... বাকিটা ইতিহাস।  

__________________
নির্যাসঃ অতৃপ্ত নারী আত্মা, যাদেরকে পাড়ার নেড়িটা পর্যন্ত ছুঁয়ে দেখেনি কোনো দিন। মাতালের দল মাল খেয়ে বাওয়াল বাজি করতে গিয়ে শেষে মালের নেশাই কেটে গেছে যাদের রূপেরচ্ছটায়, সেই সকল অতৃপ্ত চিরকুমারীরা পূর্বে বৃন্দাবনে যেতেন বালকৃষ্ণের খোঁজে। একটিবার তো কেউ তাদের কুমারিত্ব হরন করুক, এখন ফেসবুকে মীরাবাই সেজে রমন খোঁজেন।      


...ক্রমশ 

সোমবার, ২ অক্টোবর, ২০১৭

ফেবু মাহাত্ম্য - ১


মাঝে মাঝে ভাবি এই ভিসুয়াল দুনিয়াটা না থাকলে কিছু জনের কি গতি হত... ইয়ে, মানে আমিও তার বাইরে নয়। তবুও চোখ আছে তাই দেখি, কান আছে তাই শুনি, আর কাজ নেই তাই ভাবি। কানা ছেলের নাম পদ্মলোচন পুরাতন প্রবাদ, বরং নতুন কিছুর সন্ধান করা যাক। তো সেই মোতাবেক পুজোর ছুটিতে ল্যাদ খেয়ে সময় সারণী বেয়ে বিজয়ার মিষ্টি, অষ্টমীর ভোগ, সপ্তমীর সেলফি, ষষ্ঠীর বৃষ্টি, তারও আগে মহরমের তাজিয়া ও বিসর্জনের কাজিয়ার পোষ্ট গুলোকে ড্রিবল করে খোঁজ পেতে কম বেগ পেতে হয়নি।

ছেনা
-----

ভালনাম হরিসাধন গুঁই। তা বাপের বহু টাকা ধ্বংশে বহু গুঁইগাই করে কোনো মতে মাধ্যমিকটা দিয়েই ছেনা বাবুর হেব্বি বিয়ে পেছিল। তো যেমন ভাবা তেমন কাজ। মোদক বাড়ির বড়াইও তখন সে পাড়ায় রীতিমত সিগনালিং এর টাওয়ার বসিয়েছে, পাড়া বেপাড়ার ছেলেদের ভিড় বড়াইয়ের বাপের তেলেভাজার দোকানে। বড়াই ঘুটে দেয় কোমরে ওড়না জরিয়ে, বাড়ির সামনের পুকুরে কাপড় কাচে ভিজে নাইটি গায়ে। সুষ্পষ্ট বক্ষ বিভাজিকা , কিঞ্চিৎ দৃশ্যমানও বটে অতএব পাড়ার চুম্বক সাধন মোদকের তেলেভাজার দোকাান। ছেনাও সাইকেল নিয়ে জোলা পাড়ার মফির সাথে গিয়ে প্রথম বার বড়াই কে দেখে। হতেই পারে বড়াই এর কুঁতো কুঁতো চোখ, শীল পানা গাঁয়ের রং। ছেনাই বা কি! জন্ডিস হয়েছিল বলে পাকা বেলের মত মাঝে একবার রঙ ধরেছিল, বাকিটা তো সেই ড্রেনে ভাসা মড়া ছুচোর মতই।

বাঙালী ছেলে আচলের নিচেই পৌরুষত্ব খুঁজে পায়। বড়াই কে দেখে ছেনার হৃদয় ট্রেনের মত হুইসেল দিতে পাগল। অমন ডাবকা মালকে না পেলেই শালা জীবনই বেকার, একথা মফিকে বলেই দিল। ২-৪ দিন আশেপাশে ফিল্ডিং করার সময় ছেনার হাবভাব চোখমুখ দেখে বিষয়ী সাধন তক্কেতক্কে থেকে একদিন বলে উঠলেন- "এই ছেলে তুই ভজা দালালের ছেলে না?" । ভজা মানে ভজন গুঁই ছেনার বাপ, জমি কেনাবেচার দালালি করে, সাথে আছে তেজারুতির ব্যাবসা। আর তারই একমাত্র গুনধর ছেলে ছেনা। এমন ছেলে হাতছারা করা অপরাধ সেটা সাধন জানে।অতএব তাকে ডেকেডুকে কদিন এমন চপ ও ঢপ খাওয়ালো যে হেগেমুতে বমি হয়ে এক সপ্তাহ বিছানাতে।

ফলত বড়াই ছানা নিয়ে ছেনাকে দেখতে এল তার মায়ের সাথে, ছেনাদের বাড়ি। সেই ফাঁকেই ছেনা বাপকে মনের কথাটা ঝুপ করে বলে দিল-
-' বাবা আমি দিদিকে বিয়ে করব' 
-বাঞ্চোত ছেলে বলে কি! দিদি বলছিস আবার একে করবি বিয়ে? তুই ওর হাটুর বয়সী মদন
-তাতে কি! তুমিও তো আমার থেকে বড়। তা বলে কি বাবা বলিনি? 
-ওরে শুয়োর, বাপ হলে তো বড় হবোই। দেশে আর মেয়ে নেই?
- অতশত জানিনা, আমি ওকেই বে করব। মা............
-"কেন!! কচি ছেলেটা একটা বায়নাক্কা করেছে আর আপনি তার মনে কষ্ট দিচ্ছেন? আপনি বাপ না সাপ। তাছারা কি বা আমার কমতি আছে?" - বড়াই ফোঁস করে উঠে।

কমতি কিছুই ছিলনা তার এটা সত্য, বয়সেও দেড় কুড়ি। চর্বি প্রয়োজনের তুলনায় ৩-৪ গুণ বেশি, রং পাকা ও নিরেট। সেই মানানে বুদ্ধিও। তার নামে বেশ কিছু জমিজমাও আছে বিলের মাঠে। অতএব...

২৯ এর বড়াই এর সাথে ১৬ এর ছেনার বিয়ে হয়ে গেল। আর ১১ তম মাসেই বড়াই এর উর্বর জমিতে ফসল ফলে গেল। উন্নজ বীজ ও উন্নত জমি, পরবর্তী ৭ বছরে আর চারটে ফসলের পর তেজী বড়াই এর শরীর ভাঙতে ডাক্তারের কাজে গেল এবং বড়াই থলে কেটে এলো। এবারে যতই স্প্রে হোক, মুচি আর বাধবেনা।

ধীরে ধীরে বড়াই ৫ টি আন্ডাবাচ্চা নিয়ে ব্যাস্ত, থুরি ৬ টা হবে। ছেনা নিজেও তো সবে ২৬। ওদিকে বছর যায়, বড়াই এর আঁচ নিভু নিভু প্রায়। আর বাপমরা ছেনা ব্যাবসা দেখে বৌ এর কড়া নজরে ও শাসনে, আর ১০ ঘড়া ইঞ্জিন নিয়ে মাঠে ঘাটে হ্যান্ডেল মারে।

অবশেষে একদিন এলো ফেসবুক, মানে ছেনার জীবনে। গতবছর পল্টুর বিয়েতে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে একটা কোট দিয়েছিল, সেটা পড়ে ছেনার একটা ছবি আছে। প্রথমে হরিসাধন নামে কালী দু্গগা শনি ঠাকুরের ছবি শেয়ার করত। একবার মোবাইলের ফ্রন্ট ক্যামেরা দিয়ে দেখে নাকের ময়লা সাফ করছিল, সেই ছবিটাই উঠে যেতে সে ফেসবুকে ছেরে দিল। ব্যাস ওই একটা ছবিই ছেনা কে ফেমাস করে দিল। পাবলিক ধরতেই পারলনা কিসে ছবি, প্রশংসার বন্যাতে ছেনা রসগোল্লা হয়ে গেল।


ছেনা ফেম বুঝল, সেই কোট পোড়া ছবিটা দিয়ে ডিপি বানালো, সাথে নাম পরিবর্তন করে রাখল হ্যারি জি। হরিসাধন গুই এর ফেবু ভার্সন, এবাউটে ফটোগ্রাফার ও প্রাইভেট ফাইনান্সার। ব্যাস এর পর একটা DSLR কিনে তাতে পরমানু বোম থেকে বগলের লোম যা পেত যেখানে পেত সেই ছবিই ফেবুতে দিয়ে আজ তার সাড়ে ছশো ফলোয়ার। আর কমেন্ট করে শুধু নির্বাচির মামনিদের পোষ্টে, ইনবক্সে নৈব নৈব চ। মাধ্যমিকের জ্ঞানে দানবাক্স ভরেনা তো ইনবক্স কোত্থেকে ভরবে! তাতে নিজেকে অত্যন্ত ভদ্র হিসাবে বাজারে প্রতিষ্টিত হতে সাহায্য করল।
______________
নির্যাসঃ ঘরে জাঁদরেল বিগত যৌবনা ঝাঁঝালো বৌ। অগত্যা ফেসবুকে এসে কচি মেয়েদের কমেন্টের মাঝে রমন সুখ খোঁজা। কিভাবে? যেভাবে আপনি আমি পানু দেখে স্খলন করি ঠিক সেই ভাবে। ফেবু না থাকলে ৩০ টাকায় ঘন্টা খুজতো কোনো অন্ধকার গলিতে, এখন ফেসবুক করে।

...ক্রমশ

বুধবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭




 
ইনডাকশান কয়েল

Ahashanul Karim এর উপন্যাস

সম্পাদনাঃ উন্মাদ হার্মাদ

কপটতাহীন অকপট প্রকাশনীর কর্ণধারগণের শুভ প্রচেষ্টায় প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী মাননীয় সমীর আইচ (Samir Aich) মহাশয়ের হাত দিয়ে তারই ড্রয়িং রুমে এই ১৪২৪ বঙ্গাব্দের নবপত্রিকা ও কলাবৌয়ের স্নানের শুভ দিনে, দেবী প্রতিমায় প্রাণপ্রতিষ্ঠার পুণ্যলগ্নে “ইনডাকশান কয়েল” নামক বইটি প্রকাশিত হলো তন্ময় হক, শেহনাজ আলম, সুব্রত মন্ডল, শ্রীকুমার ব্যানার্জী, কিংশুক হালদার, অর্ক সানা, আসদুল্লাহ খান আর জয়দীপ ঘোষের উপস্থিতিতে

ইনডাকশান কয়েল” পাঠককে পদার্থবিদ্যার কথা বলে না, সে জীবনের কথা বলে। বইটি বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির কথা বলে, ভালোবাসার গল্প শোনায়, প্রেষণা ও উদ্যমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। প্রসঙ্গক্রমে বইটিতে কোরানের সুরা আল-ফাতিহা যেমন আসে, তেমনি গীতা সারংশও চলে আসে অবলীলাক্রমে। বইটিতে “বিসমিল্লাহ্” এর ব্যুৎপত্তি যেমন আছে, তেমনি আছে “কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলোর নাচন” এর কথাও। উত্তর বাংলার গ্রামের অবিকল বর্ণনা যেমন আছে, তেমনি তাতে আছে উত্তর ভারতের কথা আর দক্ষিণভারতের একটি লেক শহরের গাঁথাও । বইটি মতীন্দ্র দেবনাথের মোটিভেশনাল ট্রেনিং এর পাঠ, জয়দীপ ঘোষের মাথার ভেতরের উইকিপিডিয়া, জয়দীপ চৌধুরীর হাস্যরস আর সুজিত দাসের রোমান্টিক কবিতার ব্যবহার করা হয়েছে অত্যন্ত সুচারুভাবে।

নায়ক একজন সামান্য পরিযায়ী শ্রমিক। ফ্যানের ভেতরকার ইনডাকশান কয়েল মেরামতি দিয়ে তার কেরিয়ার ও প্রেমের সূত্রপাত। বইটি পড়তে পড়তে মনে হয়, সত্যিই তো পরিবাহীর ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ পাঠিয়ে শুধু আলো জ্বালিয়ে মানুষ যদি বসে থাকতো, যদি না তড়িচ্চুম্বকীয় ক্ষেত্রের সন্ধান পেত সরুতারের চারপাশে , তবে সভ্যতা কি এত তাড়াতাড়ি এত উন্নতি করতো? সেই নরম লোহার দন্ড আর সরু সরু তারগুলোর কথা, তাদের সাথে বিভিন্ন পরিস্থিতি ও পাত্রপাত্রীদের সাদৃশ্যের কথা অনিবার্যভাবে পাঠককে চৌম্বকশক্তিতে টেনে রাখে শেষ লাইন অবধি।

নায়কের জীবনের নানা ওঠাপড়ায় পাঠক নিজেকে জুড়তে পারেন। নায়িকার মনের বিরহের ভাব পাঠককে ইনডিউস করে। মাতৃভূমিকে ছাড়ার যন্ত্রণা পাঠককেও পীড়িত করে নায়কের মতোই। এইভাবে পাত্র পাত্রীদের সুখ দু:খের সাথে পাঠকরাও অংশীদার হয়ে পড়েন।

শুরুতেই নায়ক-নায়িকার ছাড়াছাড়ি, পরবর্তীতে ঘটনাপ্রবাহে সহ-নায়িকাও আসে। নায়কের জীবনে প্রতিষ্ঠা আসে স্বাস্থ্য পরিসেবায় ব্যবসায়িক পথ করে। ওদিকে, নিজগৃহে স্থান না পাওয়া নায়িকা প্রায় আকাশ ছুঁয়ে ফেলে শুধু পড়াশুনোর জোরে। এ উপাখ্যান তাই “পড়হাই ঠিকসে করনা” র কথা বলে। "পড়হাই লেকিন নেহী ছোড়না" জানায়। নায়ক নায়িকার সংগ্রাম অবশ্য চলেছিল আলাদা আলাদা স্থানে ও পৃথক পৃথক পথে। আর: শারীরবিদ্যা, সাইকোসোমাটিক্স ও চিকিৎসা পরিসেবার নানাদিক এ উপাখ্যানের একটি মূল স্তম্ভ

তারপরে নায়ক নায়িকার মিলন কি হয়? জানতে হলে পড়তে হবে “ইনডাকশান কয়েল”। বর্তমানে অকপটের নিজস্ব সাইটে বইটি উপলব্ধ- http://bit.do/InductionCoil

এছারা অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্টেও মিলবে সেই বইটির হদিশ খুব শীঘ্র। মহানবমীর পুণ্যলগ্নে প্রকাশিত গ্রন্থটি, প্রকাশকদের সুনাম বৃদ্ধি করুক, এই আমাদের সকলের তরফে।


#অকপট_উৎসব

#ইনডাকশন_কয়েল

#অকপট_প্রকাশনী

#অকপট_ফাউন্ডেশন




 

শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

।। ফেউ ।।


অঙ্ক বড় গোলমেলে তাদের জন্য, যারা সন্ধিক্ষনে দাঁড়িয়ে থাকেন। অবশ্য বর্তমান এই সময়ের মাঝে বাঁচার একটা আলাদা উতকর্ষতা আছে। জীবন সকলে যাপন করেননা, কেউ কেউ করেন; বাকিরা বেঁচে থাকেন। সন্ধিক্ষণের মানুষেরা যাপন করেন, ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত। গুটেনবার্গ সাহেবের ছাপাখানা আবিষ্কার করবার পূর্বে হাতে লেখা পুঁথি আর শ্রুতিপাঠ্যই ছিল অধ্যয়নের একমাত্র উপায়। যখনকার দিনে আজকের ব্যবহৃত কিছু লিপি থাকলেও আজকের এই বুলি অবশ্যই ছিলনা, প্রাচ্যে হোক বা প্রাশ্চাত্যে। ক্রমে ক্রমে প্রযুক্তি এসেছে, সেই মোতাবেক সকল কিছুই সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে আধুনিকিকরন হয়েছে, যারা পারেনি তারা হারিয়ে গেছে। এটাই বিবর্তনের নিত্যতা সুত্র।

গত শতাব্দিতেও মনোরঞ্জনে ও জ্ঞানার্জনের একমাত্র উপায় ছিল বিভিন্ন লেখকদের দ্বারা লিখিত বই বা পুস্তক ও অনেক লেখকদের দ্বারা লিখিত পত্রিকা। এখন পত্রিকা কথাটির সাত্থে পত্র কথাটি অঙ্গাঙ্গভাবে জড়িত। কারন হয়তবা পত্র মারফৎ লেখা পাঠানো হত বলে, অন্য গ্রহণযোগ্য কারন থাকতেই পারে, হয়তবা সেটাই ঠিক। আমাদের আলোচনা সেটা নিয়ে নয়।

একসময় কলেজস্ট্রিটের কফিহাউজ ছিল সাহিত্যাড্ডার অন্যতম পীঠস্থান, বড়বড় লেখক কবি সাহিত্যিকের প্রাক্তন আড্ডাখানা। অবশ্য যখন তাঁরা যেতেন, তাঁরা নিতান্তই সাহিত্য জগতের অঙ্কুর মাত্র। এমন অনেক অঙ্কুরেরই বাস ছিল ওই অলিন্দে, তাঁদের গুটি কয়েকজন বটবৃক্ষ হয়ে পেরেছেন। বাকিরা হারিয়ে গেছেন সময়ের গর্ভে কালের নিয়মে তখন সোশ্যাল মিডিয়া ছিলনা, তবুও।

এই কফিহাউজটা আসলে কি? কফি খেয়ে কি সাহিত্য প্রতিভা খোলে? নাকি ওই পুরাতন উঁচু বাড়িটার দেওয়ালে পিঠ ঘষলে কলমের ডগে লেখা আসে? আসলে হল কিছু সমমনষ্ক মানুষের ঠেক ওটা, ওখানের টেবিলে কেন্দ্রীভুত হত বা হয় নানান তরতাজা ভাবনারা। সেই ভাবনা থেকে জন্মানেয় আত্মবিশ্বাস আর তাতে ভর দিয়ে চলে সাহিত্যচর্চা।

আজকের ট্যেকস্যাভি যুগে কি মানুষ আড্ডা ভুলে গেছে? মোটেই না। সেই কফিহাউজের সোনালি দিন এখন অতীত, জনপ্রিয় আড্ডা এখন ভার্জুয়াল জগতেই ব্যাপক বিস্তার লাভ করছে। ঘরাণাটা বদলেছে, আঙ্গিক বদলেছে, নামটাও হয়ত। মূল বিষয়টা কিন্তু সেই একই আছে। তাহলে অনলাইনের আড্ডার সাহিত্যচর্চা থেকে যদি নির্যাস রূপে দু দশটা পত্র-পত্রিকা বাজারে আসে, তাতে সাহিত্য সমৃদ্ধ হওয়ারই কথা। আপনার কি কোনো সমস্যা আছে? না নেইকারন সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরে যেগুলো ছাপা হয় সেগুলোরও একটা বড় অংশ খাজা মানের। আপনি পাঠক, আপনি ভাল লেখা খোঁজ করেনসেটা যেখানে পাবেন, পড়বেন। সেক্ষেত্রে উৎস সেটাই হোকনা কেন, পত্রিকা মান ধরে রাখতে পারলে টিকে থাকবে, নাহলে কালের নিয়মে হারাবে। কারন বিনামূল্যে বা বিনাশ্রমে তো আর কিছু হয়না, জ্ঞান দেওয়া ছাড়া।

কিছু পত্রিকাকে হিসাবের মাঝে আনছিনা কারন তাঁদের গন্ডি খুবই ছোট। শিল্পী মনের বহিঃপ্রকাশের বাস্তবরুপ সেই গুলো। কোলকাতার পাঠক জানেননা বর্ধমানের সম্পাদক কি পত্রিকা নতুন ছেপেছে, তামনই পুরুলিয়ার আদ্রা শহরের পাঠক জানেননা আলিপুরদুয়ারে কোন পত্রিকা কবে মার্কেটে আসছে এগুলো ১০০ বছর আগেও ছিল, আজও আছে , কালও থাকবে; স্বমহিমায়। শুধু নামগুলো বদলে বদলে যায় বাকি একই থাকে, তবে হ্যাঁ পুজো উদ্যোগতাদের বিজ্ঞাপন ক্রোড়পত্রগুলোকে আবার ম্যাগাজিন ভেবে বসবেননা যেন। 

তাহলে কি সমস্যা নেই? অবশ্যই আছে। যারা এই বাজারের বড় মাথা, গোটা পত্রপত্রিকার বাজারটাকে একচ্ছত্রভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন বা করতেন তাঁদের ‘ফাটছে’। কি রকম ও কেন? চলুন দেখা যাক।

এই সোশ্যাল মঞ্চ থেকে শারদীয়াতে সব মিলিয়ে ১০০-১৫০ পত্রিকা বাজারে এসেছে। যাদের মধ্যে পাতে দেবার মত হাতে গুণে ১০-১৫ টি। আমি নিজে কয়েকদিন আগে কলেজস্ট্রিট আঁতিপাঁতি করে ঘুরেছি, কলেজ স্কোয়ারের ধ্যানবিন্দু থেকে কলেজ স্ট্রিটের পাতিরাম। তারও আগে শেষ ৬টি মাসধরে নতুন বাংলা ম্যাগাজিন দেখলেই কিনেছি, রাজ্য তথা দেশের যে প্রান্তেই গেছি। শুধু শেখার জন্য যে, কেমন করে কাগজের অক্ষরে লেখকের ভাষা প্রাণ পায়! সেই ধারা আজও বহমান, যদিও এ শিক্ষার কোনোদিনও শেষ হবেনা সেটা আমি মোক্ষোম বুঝে গেছি।

সমস্যা “আমাদের”কে নিয়ে, যারা এখনও পর্যন্ত নুন্যতম পেশাদারিত্ব দেখাতে পেরেছি।  মানে ওই ১০-১৫ জন উদ্যোক্তা আর কি। যাদের একেকজনের পত্রিকার নুন্যতম বাজার কাটতি কমবেশি প্রায় পাঁচ হাজার সংখ্যা।  সকলের মিলিত ভাবে সংখ্যাটা লক্ষকপির আশেপাশেএটা শুধু সাহিত্য পত্রিকার কথা হচ্ছে। রান্না, গসিপ, ভ্রমণ, মেডিকেল বিজ্ঞান, জ্যোতিষঃ ইত্যাদিগুলো আলাদা হিসাব। তাহলে এই লক্ষাধিক কপি মোট বিক্রিত সংখ্যার বাজারের অর্ধেকের সমপরিমাণ প্রায়অতএব বাজারি মিডিয়ার মাথা খারাপ হবে এটাই স্বাভাবিক। রীতিমত গাত্রদাহও হচ্ছে, নিশানা বানিয়ে ঝামেলা বাঁধানোর প্রচেষ্টাও হচ্ছে সযত্নে

নির্দিষ্ট কিছু ‘লেখক-সাহিত্যিক-কবি’দের বহাল করেছেন ‘তাঁদের’ বিবেকের বাণী প্রচার করতে, বুদ্ধিজীবি বেশেঅবশ্যই বিক্রিত বিবেক, কারন দেশে এতো কিছু ঘটে যাচ্ছে যখন, তখন এনাদের বিবেক সারা দেয়না এখন দিচ্ছে; ঠিক কেমন দিচ্ছে? শ্রদ্ধেয় এক বড় মাপের প্রতিষ্ঠিত ‘কবি ও সাহিত্যিক’ মহাশয় যেমন, তিনি নাকি কোথাও বলেছেন “সাহিত্যের নামে এই জঞ্জালের ভবিষ্যৎ কি? এতো জঞ্জাল আগে দেখিনি, সবই তো পরস্পরের পিঠ চুলকানি” আমি একটা জিনিস জানতে চাই, জঞ্জাল শব্দে আপনি ঠিক কি বোঝাতে চেয়েছেন? পাঠককে আপনি বা আপনারা মুষ্টিমেয় কয়েকজন মিলে ঠিক করে দেবেন তাঁরা কি পড়বে? এতদিন অবশ্য বাজারি মিডিয়ার বাবুরা তেমনটাই করে এসেছেন। বাজারি মিডিয়া প্রতিবছর অনেককেই তোলেন, অধিকাংশই হারিয়ে যান। আপনিও হয়ত খাদের কিনারায় হয়ত, কলমে লেখা আসেনা আর তেমন তাই বুদ্ধিজীবির বাজারে নিজেকে লঞ্চ করলেন। প্রভুভক্তের মত শেখানো কোটেশন বাজারে ছেরে কিছু রোজগারপাতি মন্দ কি? বাজারি বাবুরা জানেন এই সোশ্যাল মাধ্যম ‘ঘন্টাখানেক’ করার উপযুক্ত স্থান নয়। সোশ্যাল মিডিয়া মুক্তমঞ্চ, এবং উভমুখী। এখানে সরাসরি জবাবদিহি চাইবার সুযোগ আছে, পছন্দ অপছন্দ সবটাতেই কড়া প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় বংশবদ কিছু দালালকে দিয়ে টিভি চ্যানেল হোষ্ট করা নয় এই সোশ্যাল মিডিয়া তারা ১০টা বেতনজীবি লোক পুষে তাদের দিয়ে নানান ট্রল বানিয়ে , উষ্কানি লাগাতে চেষ্টা করছে। তব্র এখানে কিভাবে ওই সব ভাড়াটে টাট্টূদের মোকাবিলা করতে হয় জানা আছে।

একটা সংবাদ পত্র চালাতে প্রচুর আর্থিক বিনিয়োগ সাথে একটা শক্তিশালী নেটওয়ার্ক দরকার, কিন্তু পত্রিকা চালাতে তার অনেক অনেক গুণ কম ইনফ্রাস্ট্রাকচার হলেও চলেযখন সোশ্যাল মিডিয়া নামক প্লাটফর্ম ছিলনা, তখনও নানাভাবে এরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করত। ফলশ্রুতি হসাবে অল্প দিনেই পাততারি গুটাতো সংশ্লিষ্ট সংস্থা। আমারই বাবার এক বন্ধ শ্রদ্ধেয় মনোহর ঘোষাল বাবুকে জেলে পর্যন্ত পাঠিয়েছিল মিডিয়া বিধাতারাকিন্তু সেটা এক যুগ আগে, এটা ২০১৭; সেই পরিস্থিতি সেই মোনোপলি আর নেই। মাননীয় লেখক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ সাহেব বাজারি পত্রিকাতে চাকরি করলেও তার অধিকাংশ জনপ্রিয় লেখা অখ্যাত ‘ছোট’ পত্রিকাতে ছেপেছিলেন। যেগুলো পরে বই আকারে সঙ্কলিত হয়েছিল।

পত্রিকা টিকে থাকে তার মধ্যে থাকা লেখার (কন্টেন্ট) মানের উপরে। তারও পরে রঙে- রুপে- যেচে- গচিয়ে "আমাদের" মত ১০-১৫ জনেদের পত্রিকা সংখ্যা লক্ষ কপি "বিক্রি" হচ্ছে বলেই বাজারি পত্রিকা- আষাঢ় মাসে শারদ সংখ্যা প্রকাশ করে দিয়েছেযারা ভগবানকে ছাড়া কাওকে ভয় পাননা তাঁরাও নির্ভয়ে শ্রাবন মাসে ‘সেফ’ খেলেছেন। বাকি প্রতিষ্ঠিতেরা শুরুর ভাদরে। কাকে ভয়? কিসের ভয়? সম্প্রতি দেশ পত্রিকা লিখিত বিজ্ঞপ্তি ঘোষণা করেছে যে তাঁদের পত্রিকার লেখা যেন সোশ্যাল মিডিয়াতে কখনই প্রকাশ করা না হয়। প্রচ্ছন্ন ধমকি আর কি। কড়ায়ের তরকারি পুড়লে তলদেশ পর্যন্ত দেখার ক্ষমতা থাকার দরকার নেই, গন্ধ শুকেই বোঝা যায়।

আসলে এনারা পাক্কা ঝানু ব্যাবসাদার। সাহিত্যপ্রেম আমার আপনার থাকতে পারে, আর সেটাই ওনাদের পুঁজি। ওনাদের রুটিরুজি ও বিলাসবসন সবকিছুর উপায় আমাদের সাহিত্য প্রেমএতদিন একচ্ছত্রভাবে ওনারা কিছু নির্দিষ্ট জনের লেখা ছেপে গেছেন, তাতে পাঠকের ভাল লাগুক বা না লাগুক। যতজনের পাঠক রিভিউ যায় বা গেছে, ওনারা কি সেগুলো অকপটে প্রকাশ করেন? কিছু জন লেখক সাহিত্যিক তো আবার রীতিমত এনাদের বংশবদ। চাটুকারিতার চুরান্ত প্রতিফলন ছত্রে ছতে। দেশের প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়াতে। সংবাদমাধ্যম, গায়ক, নায়ক, ইউটিউব, শর্টফিল্ম কনসেপ্ট, হটস্টার, নেটফ্লিক্স, আমাজন প্রাইম সহ সকলেই নতুন মঞ্চ আনছেন বা এনেছেন। আমরা সাহিত্য পত্রিকা আনলেই সেগুলো জঞ্জাল? তাঁরা বুঝেছেন যে এই সুখের দিন খুব বেশিদিন আর নেই। তাই দাঁত নখ বেড় করতে শুরু করে দিয়েছে, প্রভুর আদেশে।

নতুন লেখকেরা পত্রিকাতে লেখা ছাপাবার জন্য একটা সময় এনাদের পায়ে হত্যে দিয়ে বসে থাকতেন। স্বাভাবিক ভাবেই এখন সেটা ৫% হলেও কমেছে। আর এটা যে দিনে দিনে বাড়বে সেটা বলাই বাহুল্য। সাহিত্য পত্রিকার নামে বিজ্ঞাপন ক্রোড়পত্র বেচে বাজারি মিডিয়া ব্যারন মহাশয়গণ, তাতে কতটুকু সাহিত্য থাকে? ইয়া ঢাউস বইতে গুণে গুণে ১০-১২টা লেখা , বাকি সবই বিজ্ঞাপন। যে আয় থেকে প্রভুরা বংশবদদের সামান্য কিছু ছুঁড়ে ফেলে দেন কুড়িয়ে নেবার জন্য, বাকিটাতে তাঁদের বিদেশে প্রমোদভিলা তৈরি হয়।

এই সোশ্যাল মিডিয়ার জঞ্জাল বাবুদের প্রত্যেকেরই ভদ্রস্থ জীবনধারন করার জন্য স্থায়ী রোজগার আছে, প্রানের টানে ও কিছুটা যশলাভের আশাতে পকেটের পয়সা আর সময় খরচা করে অনেকে মিলে নিজেদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করে একটা কাঠামো খাঁড়া করে চলেছেনআর এখানেই ফারাকটা গড়ে দিচ্ছে আমরা যারা সোশ্যাল মিডিয়াতে পত্রিকা প্রকাশ করছি। আমাদের সামনে কোনো মডেল ছিলনা, গোটাটাই আমাদের নিজেদের প্রচেষ্টা। তাই আমাদের হারানোর কিছু নেই, কারন লাভ করতে আসিনি। তবে একটা সম্ভাবনার বীজ বপন করতে সক্ষম হয়েছি।

৫০, ৬০, বা ৭০ এর দশকেও বাজারি পত্রিকার যে মান ছিল আজ তা তলানিতে। কিশোরবেলার পোড়া আনন্দমেলা, সন্দেস বা সমগোত্রীয় পত্রিকার সুখস্মৃতি কি আজকের 'চালু' পত্রিকাতে খুঁজে পান? একটানা ১০ জন আধুনিক এইসময়ের লেখকের নাম মনে করতে পারবেননা। কেন? সোশ্যাল মিডিয়া তো এসেছে আজ ৫ বছর, মানে এই পত্রিকা নিয়ে মার্কেটে আসার কথা বলছি। আসলে পুঁজিবাদের লোভ আর তাঁদের ঘিরে থাকা বংশবদ উমেদার নামক সাহিত্যিক কবির দল বাজারি মিডিয়ার ছায়ায় নিজেদের কবর দিয়েছেন। সেই ঘুরে ফিরে একই মুখ আর তাঁদের লেখা। মানুষ আলাদা টেষ্ট খুঁজছে, আমারা তাই পাঠকের দরবারে সুযোগ পাচ্ছি নিজেদের প্রমান করবার

টানা দু-তিনটে শতক ধরে প্রতি বছর ১২টা করে পত্রিকার সংখ্যাতে ৫ জন করে নতুন লেখক সুযোগ পেলেও বছরে ৬০ জন হয়। আর ত্রিশ বছরে ওই ১৮০০ লেখকের মধ্যে ১৫-২০ জন নিয়মিতের দলে টিকে যান ও ৫-৭ জন সেলিব্রিটি হয়ে উঠেন। এটাই সিস্টেম। হাতে গোনা কয়েকজনকে বাদ দিলে, বিখ্যাত লেখক সাহিত্যিকেরাও সম্ভবত বলতে পারবেননা সারা জীবনে যেগুলো লিখেছেন সেগুলোর সব কটা নাম, কবিদের অবস্থা আরো খারাপ। নিজেরই মনে আছে নেই ২ বছর আগে কি লিখেছিলেন, পাঠকের মনে থাকা তো দূর। তবে সেগুলোকে আমরা জঞ্জাল বলব সেই আস্পর্ধা বা অধঃপতন এখনও হয়নি , ভবিষ্যতেও হবেনা। সোশ্যাল মিডিয়াকেও সময় দেওয়া হোক, সবে তো শিশু। এরও দুটো দশক কাটুক তবে না ভাল মন্দ বিচার। অনেকে বলছে এখানে পরস্পরের পিঠ চুলকে দেওয়ার প্রসঙ্গ।

মশাই আপনাকে বলি, আমি যদি প্রতিষ্ঠিত কবি ও সাহিত্যিকবাবুর সাথে হ্যাতে হ্যাঁ মিলিয়ে শেয়ালের মত চিল্লিয়ে উঠি তাহলে আমি বিপ্লবী প্রগতিশীল আর নিজেরা কিছু আলাদা করে করার চেষ্টা করলেই পিঠ চুলকে দেওয়া নরসুন্দর কানাই শীল? আপনার মতের সাথে আমার মত না মিললেই সেটা বাতিল মত? পিঠচুলকানির বড় এম্বাসেডর তো মশাই আপনি নিজে। বড় মিডিয়া হাউজের হয়ে দালালি করতে লেগে পরেছেন। কিছুদিন আগে দেখছিলাম, মাননীয় সৌমিত্র বাবুও টিভিতে হুনুমান চালিশার অলৌকিক ক্ষমতার বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। আসলে পয়সা বড় বিষম বস্তু, যেখানে শিল্পী হোক আ শিল্প সবটাই হয়ে যায় বাজারি মিডিয়ার পন্য। যেখানে পিঠোপিঠি করে শরৎচন্দ্রের দেবদাস, জাপানী তেল দিয়ে বাসর সাজায় এ লজ্জার দায় কার প্রতিষ্ঠিত কবি ও সাহিত্যিকবাবুদের দল? এখানে বিবেক জাগেনি?

ফেসবুকেও কিছু স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবি রয়েছেন, যাদের ভীষণ চুলকানি হয় স্যোশাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্ম থেকে বই বার করলে। এমনকি চিল্লিয়ে দু-কষ বেয়ে থুতুর বন্যা বইয়ে দেন। মশাই আপনার নাভির নিচের লোম পাকলে সেই খবর ফলাও করে বিজ্ঞাপিত করেন, নিজের ছেঁড়া ইজেরের ১৭ তম রিফুর খবর গর্বের সাথে প্রজ্ঞাপিত করেন। কিছুটা যৌনতা কিছুটা পরকীয়া সাথে কিছু বাংলা চুল্লু মার্কা অর্ধ খিস্তি কাহিনীও সেঁটে বেড়ান দেওয়াল জুড়েনিজে গু-গোবর যাকিছু পাচ্ছেন সেঁটে দিচ্ছেন পাঠককে পড়ানোর জন্য, আপনি কিন্তু লেখক নন তবুও দিচ্ছেন, কেন দিচ্ছেন? বলবেন পারেন বলে দিচ্ছেন। সেখানে কেউ একটা বই প্রকাশ করলেই দোষ? আপনাকের পড়তে বলেনি, আপনার কাছে সাহায্যও চাইনি। তাহলে আপনার গুহ্যদেশে জ্বালা ধরার কারন কি? কোন নাপিতে আপনাদের চিকিৎসা করে বলুনতো? চারটে লাইক আর ১১টা খিল্লি কমেন্ট নিয়ে লুঙ্গি ঝেড়ে উলটো কাতে শোয়ার তৃপ্তি পেতে অবশ্য এতটুকুই যথেষ্ট। সেটাও বলুন, বিকৃত কামের কি আর শেষ আছে! উদ্যোক্তারা চেষ্টা করে প্রানে সুখ পাচ্ছেন, আপনারা শুঁকে।

পরিশেষে বলি, আজ ‘আমাদের’ হাতে সময় রয়েছে তাই ‘আমরা’ এই মাধ্যমে সেই সময়টা ব্যায় করতে পারছিকাল সময় না দিতে পারলে আমাদের পত্রিকা থাকবেনা। কিন্তু এর মাধ্যমেই একটা ঘরানা তৈরি হয়ে যাচ্ছে, মডেল তৈরি করে দিতে সক্ষম হয়েছি যেটা নতুন যুগের সন্ধিক্ষন বৈকিএখানে বড় দাদাদের যেকোনো চোখরাঙানি কে উপেক্ষা করাই যায় কাঁচ কলা দেখিয়ে, মুক্ত বাজার। প্রয়োজন শুধু একটু পেশাদারিত্ব আর উপযুক্ত কন্টেন্ট। জঞ্জাল- পিঠ চুলকানি ইত্যাদি নানা ধরনের কথাবার্তা বলে ফোকাস নষ্ট করার চেষ্টা করলেও লাভের লাভ কিছু হবেনা, সেটা আমরা জানি; ওনারাওআমাদের সম্মিলিত এই প্রচেষ্টা থেকেই নানান ভাঙাগড়া উঠাপড়ার মধ্যেদিয়ে আগামীদিনের সেরা লেখক কবি সাহিত্যিকেরা বেড়িয়ে আসবে বলেই বিশ্বাস করি। যারা সোস্যাল মিডিয়ার এই বিশাল মঞ্চে নিজেদের ঢেলে দিতে পারবেন বা পারছেন শ্রীজাত বা সায়ন্তনী পুততুন্ড প্রমুখের মত; তাঁরা টিকে যাবেন। বাকিরা সংখ্যালঘু হতে হতে ডোডো পাখির মত তাঁদের পুরাতন স্মৃতিতেই বন্দি থেকে যাবেন। প্রসঙ্গত এনারা কেউ গুরুদেব রবিঠাকুর নন, নিদেন পক্ষে বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র বা বিভুতিভূষনও নন যে শতবর্ষ পরেও তাঁদের নিজস্ব প্রভাতে অম্লান থাকবেন
  
আমরা প্রতিযোগী হতে আসিনি, আপনারা প্রতিযোগী করে দিচ্ছেন। আমাদের লড়াই আমাদের সাথে, যেহেতু কোনো মডেল ছিলনা তাই প্রতিবার নিজেদেরকে ছাপিয়ে যাবার প্রয়াসটাই আমাদের পাথেয়। তবে, আমদের দয়াকরে লিটিলম্যাগ বলবেননা। লিটিল কথাটার মধ্যে যেন একটা দৈন্য, গরীবি লুকিয়ে আছেআমরা সাহিত্য পত্রিকা। কোনটা সাহিত্য আর কোনটা অপসাহিত্য সেটাও প্লিজ আপনি ঠিক করবেননা বা বাজারি মিডিয়ার তাবেদারেরা ঠিক করে দেবেনা।  আমরা টিকে থাকব কি না, সেটা পাঠকেরা ঠিক করবেন। কারন দিনের শেষে অবিক্রিত সংখ্যাগুলো দিয়ে ঘরসজ্জা করা যায়না, আর সেগুলো ছাপাতে খরচা হয়। সংগ্রহ, সম্পাদনা, বিপণন, মোটেই সহজতম কার্য গুলোর মধ্যের একটা নয়। পত্রিকা বিক্রি হলে স্পনসর আসবে, পত্রিকা টিকে থাকবে। কোনো বাজারি মিডিয়ার দালালেরা ঠিক করে দেবেনা সোশ্যাল মিডিয়ার প্লাটফর্ম থেকে জন্ম নেওয়া পত্রিকার ভবিষ্যৎ। আমার এক অগ্রজ দাদা যিনি এই প্ল্যাটফর্মের একজন কর্মী, তিনিই যথার্থ শব্দটি বলেছেন এনাদের সম্বন্ধে-“আরে ছারো তো এসব ন্যাষ্টি মালদের কথা, যার হাতে কাজ আছে তার বকার সময় কোথায়?  এমন ‘ফেউ’ অনেক লাগবে। প্রশ্নটা ওদের রুজির সাথে জড়িত”সত্যিই তো এগুলো আমাদের শখ বিলাস, কিন্তু ফেউদের সরাসরি পেট সম্পর্কিত। তাই বিকৃত ও বিক্রিত প্রভুভক্তির প্রকাশ আগামী কয়েকবছর চলবেই চলবে। যতক্ষন না হাফিয়ে গিয়ে হাল ছেরে দিচ্ছে।

নদীর জলের উৎস প্রবাহ যদি ঠিক থাকে, তাকে বাঁধ দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করলে সভ্যতা ভাসিয়ে দিয়ে প্লাবন তৈরি করে। আর সেই ধংসের মধ্য দিয়েই তার নতুন গতিপথ সূচিত হয়। সাহিত্য জগত এখন সেই সন্ধিক্ষণে। আমরা সেই বিপ্লবের গর্বিত পদাতিক সৈন্য।

~উন্মাদ হার্মাদ 

রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

।। ইচ্ছা ।।

ইচ্ছের শেষ নেই।
শরীর থাকাটা বোধকরি সবচেয়ে বড় বাঁধা ইচ্ছার। শরীরের কত শত নিষেধ - আর মন; সে তো বাঁধনহারা। শরীরকে মাধ্যম হিসাবে ব্যবহার করে মনই আসলে সব খোরাক মেটায়।
শরীরের ভক্তিবোধ আছে? পাপবোধ? ক্রোধ, লোভ, লালসা, প্রবৃত্তি কিচ্ছু নেই শুধু আছে ক্ষুধা আর কামের ইন্দ্রিয়গত প্রয়োগ। আর তাতেই অসুখের লক্ষণ ফুটে বেরর হয়। নতুবা মনে মনে কতইনা ইচ্ছা জাগে, কে তার পাপ পুণ্যের হিসাব রাখে! লেখাজোখাই বা কোথায়! মন থেকে মনান্তরে চট করে চলে গেলেই হল, আর চিহ্নটি কিছু রইলনা। শরীর ধরা পরে যায়, মনের তৃষ্ণা মেটাতে মেটাতে সে ক্রমে শিথিল হয়, ও বার্ধক্য গ্রাস করে, মন তখনও সতেজ। খ্যাতি, কুখ্যাতি ছড়িয়ে কুড়িয়ে বংশধর ও বংশবদ দের স্বার্থ সুরক্ষিত করার আমৃত্যু প্র‍্যয়াস।
ইচ্ছার বশবর্তী আমরা, সাধারন মানুষ।
ষড় রিপুর বাস মনে কিন্তু পঞ্চইন্দ্রিয়কে এই মন শস্ত্রভৃৎ এর ন্যায় ছুটিয়ে নিয়ে বেড়ায়। সাধু? তিনি নির্মোহ? মোটেই নয়, তিনিও মহামুক্তির মোহে আচ্ছন্ন, ত্যাগের মোহে তাঁর ইন্দ্রিয় অবলুপ্তির পথে। মহানির্বাণের নেশা তার সমস্ত ইচ্ছা জুড়ে। মোক্ষের লোভ থেকে মুক্তি নেই।
ইচ্ছার বশবর্তী সাধুসকলও।
নাস্তিক, অনেকটা পড়াশোনা না করলে হওয়া যায়না। বিশ্বজনীন মতবাদকে নাৎস করা স্বপ্ল বুদ্ধির কর্ম নয়। নিজেকে গোষ্ঠীর ভাবাদর্শের চেয়েও অধিকতর বিচক্ষণ প্রমানের ইচ্ছা আচ্ছন্ন করে অন্যান্য দৃষ্টিপট বদ্ধ করে দেয়। যুক্তি যখন বিশ্লেষণ করার করার ক্ষমতা হারায় নিষিক্ত ডিম্বানুরর অপত্যের লিঙ্গ কে নির্ধারণ করে! তখন প্রকৃতির দারস্থ হয়। ইচ্ছার মৃত্যু ঘটেনা, পটপরিবর্তন ঘটে দ্রুত।
ইচ্ছার অধীনে নাস্তিককুলও।
ধার্মিক, ও ধর্মান্ধ। এখানেও ইচ্ছাশক্তিই প্রভু। তবে প্রেক্ষিতটা আলাদা। নিজের যাবতীত ইচ্ছে অন্যের নিয়ন্ত্রণে। সবই তাঁর ইচ্ছা।
ইচ্ছার নাগপাশে ধর্ম বিশ্বাসী দল।
বেহায়ারও হায়া আছে। শালীনতার সংজ্ঞা বদলে যায় ইচ্ছার সাথে সাথে, নিজস্ত্রী পরস্ত্রী ভিন্ন দর্শন। ইচ্ছে দুটোতেই প্রায় একই, স্বিকার করি বা না করি।
আমার ভীষন ইচ্ছে হয়, মরে যেতে। আর মৃত মানুষের ইচ্ছার রঙ নিজে উপলব্ধি করা।
ভাবনা আমাদের পৃথক করলেও ইচ্ছাগত ভাবে আমরা এক পংক্তিতে বাঁধা, যেমন মৃত্যুতে।
প্রথমটাতে বিকল্প থাকলেও দ্বিতীয়টা অজানা। ইচ্ছের মৃত্যু বা ইচ্ছেমৃত্যু হলেও মৃত্যুর ইচ্ছে কি হয় কারো?

।।দুনিয়াদারি ।।

নিষিদ্ধতা জাঁকিয়ে বসে
পরকিয়াতে গুনী;
বদনামি আর মন্দকথা
চুপটি করে শুনি।
প্রেমের ঘরে কানা গোঁসাই
হাঁতড়ে খোঁজে মন
নষ্টামিতে স্বাধ মেটানো
তেষ্টা সারাক্ষণ।
আপদ বড় বিপদ যে নেই
শত্রু বড় মিত্র
ঠুনকো সবই আত্মীয়তা
দুনিয়াদারি চিত্র।
কার কথা তুই শুনবি ক্ষ্যাপা
কে সাধু কে খল
মত্ত পাগল রূপ আসলে
অসুখ ঢাকার ছল।


বুধবার, ৩০ আগস্ট, ২০১৭

।। বচনামৃত- ১ ।।

দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি জাপানী তেল কি বাবা কামদেব ভারতের বাজারে আনবেন?
যদি আনেন কি তার নাম হতে পারে? আপনারা কি সাজেষ্ট করবেন? ইন্ডিয়াল ওয়েল! হবে না, লাল তেল! হবে না, ভারত - হিন্দুস্থান...... নো চান্স স্যার। সব অলরেডি বুকড।

আমার সাজেসন : "পতন-জলী মহালিঙ্গম তেল"
বিজ্ঞাপনে দেখানো হোক পুঁই এর দরজা জানালার ফ্রেম। মানে পুঁই শাকের গাছে এই তেলের প্রভাবে প্রভাবে উহা শাল কাঠের মত মজবুত হয়ে গেছে।
এবং এর সাথে নির্দিষ্ট ধনুষ্টঙ্কার আসন শাষন করলে, পুঁইএর মিচুরির মত থোকা থোকা পুরুষ্ট *ন্ডকোষ জন্মাবে। যাহা স্বাস্থবান সেবকের জন্ম দেবে। এমনকি বাজারেএ পাতিলেবুর উপর দুফোঁটা ফেললেই সাথে সাথে উহা বাতাবি লেবুর আকার ধারন করিবে। বা পৌরসভার জল লাইনের পাইপের মুখে দিলেই.... বিদ্যুত বেগে হদহদ করে ধারা প্রবাহিত হবে। ইত্যাদি ইত্যাদি.....

যদিও বাবার নিজশ্ব কক্ষে বাবার প্রসাদ খেয়ে ২-৩ ঘন্টার কোর্স করলে তিনি নিজেকে গর্ভবতী রুপে আত্মপ্রকাশ করাতে পারবেন। ইহা পুরুষদের জন্য নহে। কা-পুরুষ, মহাপুরুষ ও মহিলারাই প্রযোজ্য। (লেসবো ব্যাতিরেকে, ওনার জন্য আধে-মা আছেন)

বি:দ্র:- ইহা কেবলিমাত্র 'গো' ও 'শাখামৃগ' সন্তানদের জন্যই প্রযোজ্য।


সোমবার, ২৮ আগস্ট, ২০১৭

।। প্রাণের অকপট ।।

মনখারাপের রাতে, জোনাকপোকার সাথে
যখন স্বপ্ন পাকায় জট;
হাট্টিমাটিম রবে, ঝাঁপিয়ে পরে সবে
তার, নামটি অকপট।
প্রেমের গলি কানা, তাই প্রশ্ন করা মানা
হৃদয় করছে যে ছটপট;
আরাম পাবে মনে, স্বেচ্ছা বা আনমনে
লীলার ক্ষেত্র অকপট।
পদ্য আসে খাসা? মনে জমাট বাঁধা আশা!
প্রসব করো ঝটাপট;
যদি উৎরিয়ে যায় মানে, প্রাণ জুড়ায় শুনে কানে
জেনো ছাপবে অকপট।
একলা ঘরে কোনে, মোটেই শান্তিটা নেই মনে
নি:সঙ্গ জীবন তট,
নতুন বন্ধুরাযে ঠাঁই, আছে তোমার অপেক্ষায়
জেনো সাকিন অকপট।
কূটকচালের ভিড়ে, যখন ক্লান্তি ধরে ঘিরে
ডোবে মানবতার ঘট;
মুক্ত বাতাস চাই? ভুলে ক্লান্তির সব দায়!
সদা উন্মুক্ত অকপট।
তমাল তরুর মাঝে, কৌলিণ্যের সাজে
পলাশ, ছাতিম, বট;
গুল্ম কিম্বা লতা, যখন জাত চেনানো কথা
ঔষধি অকপট।
আর্ত অসহায়, হাতে হাত রাখে ভাই
দেখায় সংহতি দাপট;
সকলের ছোট্ট প্রচেষ্টা, মেটায় দু:স্থের তেষ্টা
নবরূপে অকপট।
বন্ধু হয়ে দেখো, মননের নরম পৃষ্ঠে রাখো
মঞ্চে কেউ নটী বা নট
ফকির হোকবা রাজা, ভাবেভিজে তরতাজা
এ সাম্রাজ্য অকপট।
উৎসবেতে দড়, সবাই আপন নেইযে পর
ঈদ, দেওয়ালি ছট;
বড় দিনের কেকে, ফাগের রঙে মেখে
মিলন মঞ্চ অকপট।
হরেক মতের কুম্ভমেলা, সবাই গুরু সবাই চ্যেলা
সাওয়ারি দ্বন্দের সকট;
হিংসা বিভেদ ভুলে, অহং পোষাক খুলে
মেলায় অকপট।

বুধবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৭

।। এনিমি রিকোয়েষ্ট ।।

মহানুভব কাহারে কয়?
সবাই বলে, সমালোচনা হজম করতে শিখুন; তবে নিজের ক্ষেত্রে মানতে হলেই চিল্লিয়ে চিল্লানোসোরাস বনে যেতে দেরি হয়না।
ফেবু পাড়ায় সুপ্রভাতে আপনি আমি প্রায় মিনি মহাপুরুষ। কমোডে বসে, বিবেকানন্দ এন্ড সিক্সটিনাইন আদার্স করে টাইমলানে যেই না একটা বানী ঝাড়লেন অমনি পেট খোলসার প্রথম কিস্তি জলশিক্ত হল।
ঠিক ধরেছেন, এটাই হল কাঠিন্য, জ্ঞানকাঠিন্য যেটা কোষ্ঠনালিতে হরতাল ডেকেছিল।
আপনি শিল্পী মানুষ, ওয়ার্ক স্যাটিসফিক্সন ছাড়া কোনো কাজে উৎসাহী হবেন কেন? হোকনা সেটা বাহ্যকর্ম। টয়লেটের নামে সিনেমা তৈরি হচ্ছে, সুপারহিটও, আমি আপনি হাগাতে সুখ খুঁজলে দোষ?
মোটেই নয়, আপনি সেই সিক্সটিনাইন এণ্ড আদার্স পোষ্টটিকে আপনার সাধ্যে- যত্তো গ্রুপ আছে সবকটাতে সেঁটে দিন। এরই মাঝে নিরবে যে কখন প্যান ভরে উঠবে টেরই পাবেননা, একটিবার যখন সেই দিকে দৃষ্টিপাত করবেন.....
"এতোটা মাল? আমি? এতো বড় সত্যি?"
ইয়েস এটাই সেই ওয়ার্ক স্যাটিসফিক্সন।
স্টার হতে চান? না কত্তা শুধু কোবতে কোপচে হচ্ছেনি, হবার জো নেই। তবে হতাশ হবারও কিছুটি ঘটেনি।
পেরথমে একটা সাবজেক্ট বাছুন, সেটা লাল চিনের গরম বুলি থেকে গর্দানের দেদো ছুলি সব জায়েজ। এবারে তার সাথে লোকাল অডিয়েন্স থেকে একটা আপাত নিরীহ প্রজাতিকে বাছুন। তাপ্পরে আঠাকাঠি দিয়ে লাগাতার ৩৩ প্রহর যা খুশি কপচাতে থাকুন। তবে হ্যাঁ, প্রতিটি আপডেটে সাবজেক্টকে ছুঁয়ে থাকা মাষ্ট। রাতারাতি না হলেও কয়েকটা দিন আর রাত পর বেশ কিছু ফ্যান-এসি না হোক নিদেনপক্ষে তালপাতার হাতপাখা তথা ফলোয়ার জুটে যাবেই যাবে,বালক ব্রহ্মচারীর দিব্যি।
যাদের আভিধানিক নাম "দাঁত ক্যালানে বাঞ্চারাম"।
এতো গেল সব ভাল ভাল কথামালা, কিন্তু যদি ধরুন এমন নিয়ম হত যে, আপনি যা কিছু করবেন তার একটা সমানুপাতিক হারে বিরুদ্ধমতকে মর্যাদা দিতেই হবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে মান্যতা দিয়ে।
আপনার ১০ জনকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালেন ঝিঙ্কু মামনি সহ, ওমনি সিস্টেম নিজে থেকেই ৩জন কে এনিমি রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে দিল, ৩০% রেশিও হারে। ফ্রেন্ড হলে যেমন পিঠচুলকানি মাষ্ট তেমনই এনিমি হলেই পিছনে কাঠি ম্যান্ডেটারি নতুবা কমেন্ট লাইক অটো রিপোর্টেড হয়ে ব্লক খাবেন। ব্লকের ক্ষেত্রে রিভার্স নিয়ম অর্থাৎ পুরো শোলে সিস্টেম। তুম এক মারোগে সিস্টেম ৪ মারেগা, বহুত ইয়ারানা লাগতা হ্যায়.... আব আয়েগা মাজা।
কেউ বন্ধুদের নিজের "লোমের যত্ন নিন" গ্রুপে এডাচ্ছে, ওমনি সিস্টেম আপনার গ্রুপে "অবাঞ্চিত লোম মুক্তির সহজ উপায়" গ্রুপের সদস্যদের লেলিয়ে দেবে। লে বাওয়াল, টোটাল সাম্য।
ধরুন কেউ পোষ্টালো –
সুপ্রভাত বন্ধুরা। - ফিলিং এলোন এ্যাট কোলকাতা।
ফ্রেন্ডস কমেন্ট আমাদের সকলেরই জানা।
এনিমি কমেন্ট-
১) ওর ব্যাটা বোকাসোডা, আমি মুম্বইতে আর এখানে এখনও ভোর। ডিলিট কর পোষ্ট শ্লা।
২) সুধীরভাই একখান। ঘরে বৌ নেই নাকি!
এছাড়া, জঘন্য, ফালতু, অসভ্য, মার ভাঁড়ে লাথ, লিচি কপালে উঠিয়ে দেব, বৃহন্নলার সন্তান, নরসুন্দর, শাখামৃগ ইত্যাদি কমেন্টের বন্যা বয়ে ফিলগুড ব্যাপারটাতে সাম্যবস্থা আসত।
বোঝা যেত কিসকে বামমে কিতনা দম আর কতটা সমালোচনার আপনি আচারি ধর্মের পালক।
তো কাকাবিপ্লব হবে নাকি সাম্যের জন্য?

বুধবার, ১৬ আগস্ট, ২০১৭

অকপট পত্রিকা শারদ অর্ঘ্যঃ সম্পাদকীয়


সম্পাদকীয়

অকপট পত্রিকা শারদ অর্ঘ্য

সমাজ একটি জীবন্ত শরীরের ন্যায়, যাহার পদপৃষ্ঠের নখরও সামান্যতম চোটগ্রস্থ হইলে ওই শরীরের মস্তকে অস্থিরতা শুরু হইয়া যায়। অসুস্থতার মূল কারনই হইল দুষ্ট সংক্রামক রোগের বীজাণু, সমাজের পীড়ার ক্ষেত্রেও এ নিয়ম ব্যাতিক্রম নহে। প্রামাণ্য যুক্তিগ্রাহ্যতার বাহিরে যাইয়া কল্পিত ভ্রমকে, সত্য রূপে প্রতিষ্ঠিত করিবার ব্যাধি আজিকের সমাজে দুষ্ট সংক্রমণকারি মহামারী রূপে বিস্তারলাভ করিয়াছে। আশাবাদী মানুষসকলই ভবিষ্যৎ দ্রষ্টা হন ও উন্নত আগামী গঠন করিয়া থাকেন, যাহার জন্য প্রয়োজন দৃঢ় সংকল্প। তথাপি কেহ প্রবল আশাবাদী হইয়া, বাস্তব ভুলিয়া কল্পিত ভবিষ্যতে অনেকেই বসবাস করিতে শুরু করিয়া দেন; সেই একই বাস্তব সংকল্প ও উদ্যোমের সহিত। সমাজে তখনই উন্মাদ নামক প্রজাতির সৃষ্টি হয়, যাহাদের অযৌক্তিক উন্মত্ততাই সমাজের বুকে অস্থিরতার জন্ম দান করিয়া থাকে।
সামাজিক জীব মানব ক্ষুন্নিবৃত্তি নিবারনের জন্য পৃথক পৃথক পেশার সহিত যুক্ত হইয়া থাকে। সামাজিক অবস্থানের বিচারে গোটা পৃথিবীজুড়িয়া সম্মানের পেশা হিসাবে স্বীকৃত ‘বিজ্ঞানচর্চা’ জনপ্রিয়। আজিকের অবশিষ্ট শিক্ষিত সমাজ, বিজ্ঞানের সেবকদিগকে পৃথক সম্প্রদায় হিসাবে বিজ্ঞের মর্যাদা দান করিয়া থাকে। এক্ষেত্রে বিজ্ঞান আর বিজ্ঞ শব্দ দুইটি উপস্থিত, অতএব পরিসরে যুক্তি নামক শব্দ বন্ধটিকেই যে সর্বচ্চো পদে আসীন করানো হইবে, তাহা বলাই বাহুল্য। যুক্তি সর্বদাই প্রামান্য দলিলের উপরে নির্ভরশীল, কল্পিত প্রতীতি সংজ্ঞার উপরে নয়। কিন্তু সার্বিক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন উদ্যাপিত করিবার জন্য কতিপয় ব্যাক্তিবর্গের গন্ডি অতিক্রম করিয়া, গোটা সমাজেরই উচিৎ যুক্তিগ্রাহ্য মতামতকে প্রাধান্য দিয়া আপনাভ্যন্তরে জারিত করিয়া লওয়া।
প্রতিটি ধর্মীয় মতবাদই তাহাদের পুস্তকে দাবি করিয়া থাকেন যে তাহারাই শ্রেষ্ঠ ও সর্বচ্চ সহনশীল মতবাদের অধিকারী। আম জনগন, যাহাদের সাধারন বুদ্ধিতে সেই মতবাদ মর্মোদ্ধার করিতে অক্ষম হইলে বা প্রশ্ন উঠাইলেই সহনশীলতার ব্যবহারিক প্রয়োগ ভুলিয়া; মারন অস্ত্রের ঝঙ্কার দ্বারা শান্তি কায়েম করিতে রত হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ইহার কোনো হিন্দু, মুসলমান, খ্রীষ্টান, শিখ, বৌদ্ধ , ইহুদী ইত্যাদি প্রভেদ নাই, আঞ্চলিক শক্তির বিচারে যে দল বলশালী, তাহারাই উপরোক্ত পদ্ধতিতে সহনশীলতা প্রদর্শন করিয়া থাকে।
বিজ্ঞানীগনও এই সমাজেই বসবাস করেন, তথাপি আপন অধ্যয়ন বিনা বহির্বিশ্বের যাবতীয় সমাজের প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা সাধারনত তাঁহারা দেখাননা। যুক্তির দক্ষ বিশ্লেষণ এনাদের থেকে ভাল আর কেই বা করিতে সক্ষম নিজ নিজ বিষয়ে। অথচ সামাজিক অস্থিরতার প্রশ্নে তাঁহারা সম্পূর্ণ মূক ও বধিরতা অবলম্বন করিয়া থাকেন। ধর্মগ্রন্থগুলি দাবি করিয়া থাকে তাহার অভ্যন্তরেই যাবতীয় বিজ্ঞানচর্চার বীজ প্রেথিত, অথচ যাহারা নতুন কিছু আবিষ্কারক হিসাবে ঘোষিত; তাঁহারা কোথাও দাবি করেননি যে, কোনো বিশেষ ধর্মগ্রন্থ পড়িয়াই এই আবিষ্কার করিয়াছেন অথবা নুন্যতম সাহায্য পাইয়াছিলেন।। অথচ তাহারা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতাতে নিজেদের সুরক্ষিত কক্ষেই বন্দি করিয়া রাখেন, আর দেশ তথা সমাজকে কিছু অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত রাজনৈতিক নেতাদের হাতে উন্মুক্ত করিয়া দেন।
নিকৃষ্ট স্বার্থবাজেদের দল সকল সময় আবেগকে পুঁজি করিয়া থাকেন, গ্যালিলিও –কোপারনিকাসদের আমল হইতেই যুক্তির সহিত স্বার্থান্ধদের বৈরিতা সর্বজন বিদিত। ঈশ্বরবাদের সহিত বিজ্ঞানের প্রতক্ষ্য সংঘাত নেই, কুসংস্কার, অলৌকিক বিশ্বাসের সাহিত অবশ্যই রহিয়াছে। জনগন পরিকল্পিত ছলচাতুরিতে পারদর্শী নয়, তাহারা যুক্তিও বোঝেন। প্রয়োজন শুধু যুক্তিবাদীদের সাথে জনগনের ক্রম সম্মেলনের। রাষ্ট্রকেই এই সকল যুক্তিবাদী সম্মেলনের পৃষ্ঠপোষক হইয়া; ইহার সহিত জুড়িয়া থাকা সকল ব্যাক্তিকে সামাজিক সুরক্ষা প্রদান নিশ্চিত করিতে হইবে, মানবজাতীর স্বার্থে।
এক্ষনে রাষ্ট বা রাষ্ট্রপিতাই যদি কুযুক্তির প্রজ্ঞাপন করেন তথা পৃষ্ঠপোষক হয়, সাধারন জনগনের সমাজকে দুষ্ট সংক্রমন থেকে বাঁচাইবে কে?

শনিবার, ১২ আগস্ট, ২০১৭

।। ওয়াক থু... রাজনীতি ।।

গোরক্ষপুর নামটা আমি প্রথম শুনি শ্রীমদ্ভাগত গীতা নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখার সময়, তখন নিতান্তই শিশু বয়স। গোরক্ষপুরের একটা প্রেসে অনেক বই ছাপানো হয়, যেগুলো বড় বড় বইএর দোকানে নজরে পড়ত। এভাবেই নামটা হৃদয়ে গাঁথা।
এখন অবশ্য গোরক্ষপুর অন্য নামে শিরোনামে।
টাকা বাকি, অক্সিজেনের সাপ্লাই বন্ধ করে দিয়ে উচিৎ শিক্ষা দেওয়া গেছে। ৩০টি কচি প্রাণের কি আর কোনো মুল্য আছে?
থাকতো, যদি ওদের ভোটাধিকার থাকত। কুকুরের মত নেতানেত্রীদের কামড়াকামড়ি শুরু করে দিত লাশগুলো নিয়ে। বাছুর হলে অবশ্য তাদের জন্য বাহিনী রয়েছে।

নাহ, কেউ প্রশ্ন তোলেনি শিশুগুলোর জাত নিয়ে। সম্ভবত তারা এখনও গরু বা শুয়োর কি জানতনা তাই।
অবশ্য গোরক্ষপুরের MLA তথা প্রদেশের মূর্খমন্ত্রী কম ব্যস্ত নয়। মাদ্রাসাতে পতাকা তোলাটা অনেক বেশি জরুরী, হয়ত এটাই দেশের একমাত্র প্রায়োরিটি। ক্ষমতাতে টিকে থাকতে পুরকি প্রয়োজন। শিশুমৃত্যুতে নজর দেবার সময় কোথায়, দেশপ্রেমের মামড়িতে ঢেকে যাবে সব ক্ষত। বাপের বিয়ের বরযাত্রীতে খাঁকি হাফপ্যান্ট আর সিল্কের চেক লুঙ্গির সমযোজী বন্ধন।
বলি বেঁচেই যদি না থাকে ভবিষ্যত প্রজন্ম, দেশপ্রেম কি পোঁদে গুঁজবে?
কে জানে কাল আবার না সরকারি ফতোয়া জারি করে বলে বসে, বাচ্চাদের মাকে পাঠিয়ে দাও- "বসে *দো" প্রতিযোগিতা করে বলবে; নাও বাচ্চা বানিয়ে দিচ্ছি সম্পূর্ণ স্বদেশী বীর্য দিয়ে। মজার বিষয় হল কিছুজন এতেই এমন আপ্লুত হয়ে যাবে যে নিজেও পাছা উদোম করে দেবে পায়ুসঙ্গম করার জন্য। বিশ্বাস মিলায় বস্ত, অতএব তেজশ্বী পবিত্র বীর্য (কা) পুরুষদের গর্ভবতী বানিয়ে তুলবেনা তাতে অবিশ্বাসের কি আছে! সাধে কি আর বদল বা ষাঁড়দের জন্য আলাদাকরে কেউ ভাবেনা, তাদের অবস্থা না ঘরকা না ঘাটকা।
গরু, জ্যোতিষ, গোমাংস, দলিত, কাশ্মীর, JNU, মাদ্রাস, নোটবন্দী, মন্দির ওহি বানায়েঙ্গে, আচ্ছেদিন, হিন্দুত্ব, আরেকজনের নাম নিজগুনে বুঝে নিন। ব্যাস ঘড়িতে এই ভাবেই কাঁটা ঘুড়ে চলেছে মহান ভারতবর্ষের।
রাজ্যে শিক্ষিত বেকারদের মৃত্যু মিছিলে সবে নাম লিখিয়েছে দুজন, অফিসিয়ালি। মৃত্যুর পরে নিজেকে অমর করে তুলতে অনেকেই চাইবে। পিসির নেকনজরে এদের বাবা দাদা মায়েদের কেউ কেউ না আবার ভোটে দাঁড়িয়ে পরে। উত্তরবঙ্গ ভাষছে, সব্জিতে আগুন, DA নিষিদ্ধ শব্দ, বাটপারের দল দাঁত কেলিয়ে কেপমারির কথা কবুল করছে, দক্ষিন বঙ্গে ত্রান অপ্রতুল।
তিনি ব্যস্ত দিল্লি আর ভাইপো নিয়ে। ওদিকে মুকুল হেল মাড়ছে, জ্বালা কি কম!
বাম নিশ্চিন্তযাপনে সুরক্ষিত সোস্যালমিডিয়াতে, বাকিটা পলিটিবুর‍্যোতে। কিছু ভাষন আর লোক দেখানো শাসন ব্যাস.... লক্ষ্যহীনের বৃত্ত সম্পূর্ন। পরবর্তী ঐতিহাসিক ভুলের জন্য গভীর প্রস্তুতিতে মগ্ন।
আমি আপনিও আছি, পোষ্ট লিখছি কালেক্ষণে ঠিকিই। কিন্তু টেস্টনি, সারহা তে কি ছিলামনা? নাকি অরিন্দমে নেই? বিল্পব হচ্ছেতো।
সারাটিক্ষন সোনাপোনা আর স্বাদফেরাতে সোনাগাছি-
.........বেঁচে আছি বস, বেঁচে আছি।
ওয়াক থু: রে দেশের রাজনীতি

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...