কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
মঙ্গলবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০১২
ধর্ম দর্শন
শুক্রবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০১২
প্রেম প্রেম খেলা
সম্পর্কের টানাপোরেন আনেক দিনের, শেষমেশ সম্পর্কটা ভেঙেই গেল। হঠাৎ করেই কালবৈশাখি যেন সব কিছু ওলঠ পালট করে দিল। শামিমের জীবনে এটাই ছিল সব চাইতে বেশি হারানোর যন্ত্রণা কারন নিলুফাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে ছিল সে। জীবনের প্রথম ভালো লাগা, প্রথম প্রেম। এভাবে সব কিছু শেষ হয়ে যাবে কোনো দিন কল্পনাও করেনি শামিম। শ্রাবনে অঝোর ধারায় যেমন বৃষ্টি ঝরে তেমনি প্রতি মাঝ রাতেই বালিশ ভিজে যেত কান্নায়, দুচোখ বাঁধা মানেনি। নিলুফার হঠাৎ করে এই পরিবর্তনের মানে খুঁজতে গিয়ে বার বার জড়িয়ে পরেছে স্মৃতির অন্তরালে। মনে পরে যায় সেই সব দিন গুলোর কথা, একদিন নিলুফা শামিমকে না দেখলে থাকতে পারতো না। আজ ভাবলে অবাক লাগে শামিমের।
এই কি সেই নিলুফা যে শামিমের মুখে একবার “এই শোনোনা” শোনার জন্যে হাপিত্যেশ করে বসে থাকত। হুম, সত্যিই সব কিছুর পরিবর্তন হয় সময়ের সাথে, তাই আজ সব কিছু নকল লাগে, নকল ভালোবাসা, মনে হয় সবই অভিনয়! কাছে আসা, হাজার প্রতিশ্রুতি আর ভালোবাসার অণঙ্গীকার, যার সবই আজ মলিন হয়ে গেছে। তবু তো চলতে হবেই, জীবন থেমে থাকেনা। শামিমও তাই ব্যাথাকে সঙ্গী করেই আইন পড়া শেষ করে।
দেখতে দেখতে অনেক গুলো বৎসর কেটে গেছে, শুনেছে নিলুফার বিয়ে হয়ে গেছে এ শহরেরই এক বড় শিল্পপতির সাথে। সেটাও নাকি আবার লভ ম্যারেজ। এদিকে শামিম ‘ভালবাসাকে’ তার জীবনের অভিষাপ মেনে নিয়ে দ্বিতীয়বার আর কাউকে আনতে চাইনি জীবনে, কিম্বা বলা ভাল আনতে পারেনি। অবশ্য মনে মনে অন্য মেয়েদের প্রতি কেমন যেন একটা বিতৃষ্ণা তাড়া করে ফেরে। দেখতে দেখতে আরো তিনটে বৎসর কেটে যায়। আজও স্মৃতির পাতা থেকে ঝরে পরে অতীতের টুকরো টুকরো মান, অভিমানে জড়ানো কথামালা। এখনো মাঝে মাঝে ঘুম ভেঙে যায়, স্বপ্ন দেখে নিলুফার- মনের অজান্তেই চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। সে রাতে আর ঘুম আসেনা, মোবাইলের ইন্টারনেটে আজগুবি সব জিনিস খুঁজতে থাকে।
পেশাগতভাবে শামিম আজ আইনজীবি, অতিদ্রুত যথেষ্ট
সুনামও করেছে মার্কেটে। তাই মা লক্ষীর কৃপায় ধন সম্পদ উপচে পরেছে। হাজারো বস্তু সুখের ভিড়েও মানসিক সুখ যেন তার কাছে চাতক পাখি, আজও প্রথম প্রেমকে ভুলতে পারেনি। মাঝে মাঝে ককিয়ে ওঠে
মনের অন্তঃকোনে লুকিয়ে থাকা নিষ্পেষিত যন্ত্রণা। তাই কাজের ব্যাস্ততার মধ্যে দিয়ে
জোর করে ভুলে থাকার চেষ্টাই করে চলে রোজ।
সেদিন যখন শামিম তার বৈঠকখানায় বসে মক্কেলদের সাথে কথা বলছিল হঠাৎ চমকে ওঠে একটা চেনা গলার
স্বর শুনে। আসতে পারি শামিম বাবু? পক্ককেশ যে বৃদ্ধটি দ্বারপ্রান্তে তিনি যে নিলুফার বাবা, যেটা চিনতে এতটু ভুল হয়নি তার। যিনি এক সময় শামিমকে নিজের সন্তানের থেকে কম স্নেহ
করতেননা,
শামিমও তাঁকে বাবামশাই বলেই ডাকতো। তাই নামধরে
ডাকা মানুষের কন্ঠে ‘বাবু’ ডাক শুনে শামিম একটু চমকেই উঠেছিল। সে
উঠে গিয়ে প্রণাম করে, তাঁকে নিয়ে তার অতিথিশালায় গেল।
সোফায় বসে নিলুফার বাবা সাগর বাবু শামিমের দিকে কাষ্ঠল নজরে চেয়ে থাকে।
তাঁর চোখ এড়াইনা শামিমের পরিপাটি করে সাজানো গোছান ঘরবাড়ি। শামিমের কথাতেই ধ্যান ভাঙার মতো চমকে ওঠেন,
-কেমন আছেন বাবামশাই,
-তোমার কিছুই পাল্টাইনি শামিম, তুমি সেই আগের মতই আছো।
শামিম এবার তার আবেগ
ধরে রাখতে পারেনা, হ্যাঁ বাবামশাই
আমি সেই আগের শামিমই। কিন্ত মনের গভীরে একটা বিরাট এক
জ্বালাময়ী ক্ষত বইতে বইতে জীবনের গতিপথটাই পরিবর্তন হয়ে গেছে। মজার
ব্যাপার হল সেটা আপাতদৃষ্টিতে দেখা যায় না। সাগর বাবু মাথা নিচু করে নিশ্চুপ হয়ে
যান।
সুদীপ্তঃ ছাড়ুন সে সব কথা, বলুন আজ এতো গুলো
বৎসর পর হঠাৎ!
চোখের কোনায় তখন জল সাগর বাবুর। জানো শামিম, জীবন বড়
বৈচিত্রময়, কখনও আলো আবার কখনও আঁধার, কখনও ভালো কখনও মন্দ, কখনও জোয়ার তো
কখনও আবার ভাঁটা, আজ আমরা বড় অসহায় শামিম। পেনশানের সামান্য টাকায় তোমার মাসিমার চিকিৎসা করা
হয়,
তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি। তোমার মাসিমা গত হবার পর একটা রোড এক্সিডেন্টে নিলুফাও বিধবা হয়। শেষের দিকে ব্যাবসা ভালো যাচ্ছিল না
বলে মোটা টাকার লোন নেয় জুবিন, মৃত্যু অবধি অপেক্ষা
না করেই সব সম্পত্তি ব্যাঙ্ক নিলাম করিয়ে নেয়। নিলুফা এখন আমার
কাছেই থাকে।
শামিমের মনে হল যেন মথায় আকাশ
ভেঙ্গে পরেছে, এই পরিস্থিতির
জন্য ও মোটেও প্রস্তুত ছিলনা। ঠিক কি উত্তর দেবে বা কি উত্তর হওয়া উচিৎ সেটা ভুলে খানিক স্থবির হয়ে রইল। আনন্দ হচ্ছে, না করুনা হচ্ছে, না প্রিয়জন বিয়োগের যন্ত্রণা, নাহ শামিম কিছুই ব্যাখ্যা করতে
পারলোনা পরিস্থিতিটাকে।
গৃহসহায়ক মন্টুদার ডাকে শামিমের সম্বিৎ ফিরল। কল্পনার জগত থেকে এক লহমায়
বাস্তবের রুক্ষ জমিতে আছড়ে পড়ল, ভাবল এই নিলুফাই একদিন আমাকে অস্বীকার করে চলে গেছিল, কারন সেদিন তার কাছে আয়েশ
করার মত যথেষ্ট ধনসম্পদ ছিলনা। শামিমের বাগদত্তা হয়েও বিনা কারনে দীর্ঘদিন বিয়েটা ঝুলিয়ে রেখেছিল, একটা দীর্ঘস্থায়ী রোজগারের বাহানা দেখিয়ে। সেদিন দোষ ছিল শামিম বেকার, উকালতি জমেনি সেভাবে, রোজগারহীন অসহায়, নিলুফার সরকারি চাকুরে বাবার তুলনায় সে গরিব ছিল। সেদিন সকলেই দায় এড়িয়েছিল। বাবামশাইও কোনো প্রতিবাদ করেননি
সেদিন, না তাদের বিয়েতে কোনো উদ্যোগ নিয়েছিলেন, বরং মেয়ের সিদ্ধান্তেই প্রচ্ছন্ন সম্মতি
চছিলো।
এই ভাবনাগুলো মাতথাতে
আসতেই, শামিমও কেমন যন্ত্রের মত বলে ফেলল, এখন আমি কি করতে পারি বাবা মশাই!
-নিলুফা ভীষন ভেঙে পরেছে। কারোর সাথে কথা বলেনা, কোথাও বেড় হয়না সেভাবে। তোমার সামনে এসে দাড়াবে সে সাহসই বা পাবে কোথায়।
নিয়তির কাছে সব হরিয়ে ভরসা শুধু আমাদের শেষ সম্বল জুবিনের
করা ইন্সুরেন্সের টাকাটুকু, কিন্তু ইন্সুরেন্স কোম্পানি
নানা আজুহাত বানিয়ে ভিন্নভিন্ন কাগজপত্র চেয়ে ক্রমাগত
হয়রান করাচ্ছে। এই অবস্থায় তুমি ব্যক্তিগতভাবে যদি আমাদের একটু সাহায্য করো, তাহলে চিরজীবন ঋণী হয়ে থাকব।
শামিম আমতা আমতা করে শুধাল,
- কগজ পত্র সব এনেছেন।
- না বাবা সবতো আনা হয়নি, তবে কাল যদি
তুমি একবার আমাদের বাড়িতে আসো তাহলে ভালো হয়। এটা আমার অনুরোধ।
শামিম আজান্তেই হারিয়ে
যায় পুরানো স্মৃতির পথ ধরে, হেঁটে চলে যায়- এমনই রোজ বিকালে শামিম নিলুফার সাথে দেখা করতে যেত ওদের
বাড়িতে। মনে পরে সেদিন বিকালের কথা, আকাশে কালো মেঘে ছেয়ে ছিলো।
বৃষ্টিও হচ্ছিলো মুশলধারে, শামিম ভেবেছিলো সেই
বিকালে আর যাবেনা এই এলোপাথাড়ি বৃষ্টিতে। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমেছিলো, বৃষ্টি তবুও নাছোড়বান্দা- তখনি নিলুফার ফোন, হ্যালো, কি হলো তুমি আজ এলেনা যে। বাবা মা নেই বাড়িতে, বাজার করতে গিয়ে
বৃষ্টিতে আঁটকে পরেছে তারাও।
প্লিজ বাবু এসো না, কাতর কন্ঠে নিলুফা কণ্ঠে ভয় মিশ্রিত আতণঙ্ক ও অনুরাগের ছায়া। শামিমের ক্ষমতা ছিলোনা নিলুফার কাতর মায়াভরা কন্ঠকে উপেক্ষা করার, প্রায় বশিকরণের মত শামিম বেরিয়ে পরে পলকা ছাতা নিয়ে ওই বৃষ্টিতেই। আকাশে ঘন ঘন বিদ্যুতের চমক, শামিম নিলুফাদের গেটে পৌঁছে কলিং বেল বাজাতেই ত্রস্তপদে বেরিয়ে আসে নিলুফা। শামিম বুঝতে পারে তার জন্যই অধীর
ভাবে নিলুফা প্রতিক্ষা করছিল। লোডশেডিং, তাই চতুর্দিক ঘন অন্ধকারে
বৃষ্টি ভেজা শরীরে ড্রইং রুমে প্রবেশ করে শামিম।
-এমা তুমিতো একদম
ভিজে গেছো, শামিম হাসি মুখে বলে তুমিও তো ভিজে রয়েছো। একটা জোর বিদ্যুৎ সহ বজ্রপাত নিলুফা আর শামিমকে আলিঙ্গন বদ্ধ করার জন্য অনুঘটকের কাজ করল। দুজনের শরীরেও যেন বিদ্যুৎ খেলে গিয়েছিলো, এই প্রথম এতো কাছে আশা দুজনার। বৃষ্টি ভেজা শীতল শরীরে দুজনই
উষ্ণতা খুঁজে পেতে নতুন এক আজানা শিহরন খেলে যায়। শামিম নিলুফার চিবুক উঁচু করে তুলে ধরে
কম্পিত ওষ্ঠে এঁকে দেয় প্রথম চুম্বনের রেখা।
শামিমকে উন্মত্তের মত আঁকড়ে ধরে নিলুফা, আন্ধকার ঘরে
দুজনেই চুপ। সলজ্জ আকুতি তখনও বেশী সাহসী করতে বাধা দিচ্ছে, আরেকটা বজ্রপাত। কে জানে বজ্রপাত আদৌ হয়েছিলো কিনা, সেই বাহানাতে আর কোন বাধা মানেনি দুটি উষ্ণ
শরীর। জীবনের প্রথম আলিঙ্গন বয়ে আনে যৌবনের আদিম খেলা। তাদের উষ্ণ ঠোঁট, প্রতিটা রোমকূপ বিন্দু বিন্দু যৌনতার মধু শুষে নিয়েছিলো। তার পর শৃঙ্গার ভালোবাসার সোহাগে আজানা সুখের পরশ, উত্তেজিত মাংসপেশীর আঘাত করাঘাতের পর, দুজনেই দুজনকে আরো মোহিত করে, শৈথিল্য সুখের সাগরে ভেসে
যায় উভয়েই। চাঁদ তারা হীন সেদিনের মধুর সন্ধ্যার সাক্ষী রয়ে যায় একটা আটপৌরে বিছানার চাদর।
…ক্রমশ
শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১২
উন্মাদ নামা ~ ০৭
উন্মাদ হার্মাদ
তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না
⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...
-
ছোটবেলায় বাবা বলতেন "শাগ খেলে বাঘের বল"। যদিও তিনি ওটাকে শাকই বলতেন আমরা কচি কানে বাঘের সাথে মিলিয়ে শাগ শুনতাম। এহেন পরিস্থ...
-
(১) জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তাল...
