প্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

মুসলমান ও হুমায়ূনের বাবরি মসজিদ

 

বাবরি মসজিদ, বেলডাঙা


বাবরি মসজিদ আর পাঁচটা মসজিদের মত শুধুমাত্র চার দেওয়ালের একটা নামাজ পড়ার ঘর নয়, এটা আপামর মুসলমানের আবেগের নাম। উগ্র হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিরা ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদের মাথায় চড়ে তাকে ধ্বংস করে ভারতের মুসলমানদের উপরে উত্যাচারের যে সূচনা করেছিলো, তারই হাত ধরে প্রথমে বাজপেয়ী সরকার ও বর্তমানের অত্যাচারী ফেরাউন মোদী সরকারের আগমন ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় মুসলমান হত্যাকারী কশাই যোগী আদিত্যনাথ ও হেমন্ত বিশ্বশর্মাদের মত জাহান্নামের কীটেদের উত্থান। এদের মূল এ্যাজেন্ডাই হলো মুসলমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করো, মুসলমানের সম্পদ কেড়ে নাও, তাকে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে উল্লাস করো। ভারতের মাটিতে উগ্রহিন্দুত্ববাদী রাজনীতির যে যুগ, সেটার সূচনা হয়েছিলো এই বাবরি মসজি ধ্বংসের হাত ধরেই। এটাই হিন্দুত্ববাদী উগ্রপন্থীদের, নাগপুরের গোয়ালঘরের জিতে যাওয়ার প্রাথমিক ধাপ ছিলো।

এক শ্রেণীর বুদ্ধিভ্রষ্ট উন্মাদ হিন্দু ভাইয়েরা RSS-BJP এর রাজনৈতিক কর্মসূচীকে, সনাতন ধর্মের অনংশ ভেবে ভেবে RSS এর প্রোপাগান্ডাতে ভেসে গিয়ে, তারাও সরাসরি এই মুসলমান ও দলিত নিধন যজ্ঞে সামিল হয়ে যাচ্ছে। এরা সকলে ব্রেন ওয়াস করা জঙ্গি। এমনই এক জঙ্গি আমাদের স্বাধীন ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করেছিল- স্বাধীনতা উত্তর ভারতের প্রথম জঙ্গি যাকে সাপ্লাই করেছিলো এই RSS। এরা নিকৃষ্ট ব্রাহ্মণ্যবাদী একটা মুষ্টিমেয় সম্প্রদায়, যারা জঘন্য বর্ণ প্রথায় বিশ্বাসী, মনুবাদ যাদের সংবিধান- তারা যে কোন মূল্যে নিম্ন বর্ণের হিন্দু এবং আদিবাসীদের উপর অমানুষিক অত্যাচার করে, তাদের সম্পদ কেড়ে নেওয়াকে, তাদের উপরে নারকীয় হামলা করাকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ও বীরত্ব বলে দাবি করে। এরা একসময় ব্রিটিশদের দালালি করত, এখন গুটিকয়েক গুজরাতি পুঁজিপতির ওই দালালি করে; যাদের মূল উদ্দেশ্য দেশের সম্পদ জনগণের সম্পদ লুটপাট করে বিক্রি করে দেওয়া। হিন্দুত্বের নামে এরা দেশের সংখ্যাগুরু সনাতনী ভাইদের সাথেও ভয়ংকর রকম প্রতারণায় লিপ্ত। মুসলমানেদের কচুকাটা করে, তাদের সম্পদ দখল করে নিয়ে বেনাগরিক কিম্বা তৃতীয় শ্রেনীর নাগরিক বানিয়ে দেবার যে চক্রান্ত- এই সবের প্রতীক হচ্ছে বাবরি মসজিদের ধ্বংস হওয়া। 

দীর্ঘ ৩৩ বছর পর এই সুবিশাল ভারবর্ষের বুকে 'বাপের ব্যাটা' হুমায়ুন কবীর, প্রতিদিন হেরে যাওয়া মুসলমানের হেঁট হয়ে থাকা যে শির- সেটাকে আবার উঁচু করে দিয়েছে। বাংলার পাক জমিনে বাবরি মসজিদকে পুনরায় নির্মাণ করার মাধ্যমে। রাজনৈতিক চরিত্রের বিচারে হুমায়ূন কবীর একজন গণিকা হলেও, একটা হেরে যাওয়া আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগা জাতিকে জাগাতে যেভাবে সাহস নিয়ে এগিয়ে এসেছে, তার জন্য কোনো সাধুবাদই যথেষ্ট নয়। হিন্দু ধরর্মেও তো বেশ্যাবাড়ির মাটি ব্যাতিরেকে দুর্গাপুজা সম্পন্ন হয়না, হুমায়ুনও এক্ষেত্রে সেই সাহসী ব্যাক্তিটা, যে মিইয়ে যাওয়া বারুদের স্তুপেও যে স্ফুলিঙ্গ ধরানো যায় সেই বিশ্বাসটা জাগাতে সক্ষম হয়েছে।

RSS, বিজেপি ও তাদের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটা সংস্থা ও প্রতিটা তন্ত্রকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাংলার জমিনে ভারতীয় মুসলমানের ইজ্জত 'বাবরি মসজিদ' স্থাপনের যে হিম্মত দেখিয়েছেন হুমায়ুন কবীর- গত ৩৩ বছরে তাবড় মুসলমান নেতৃত্ব এবং গালভরা নামের সংগঠন যত ছিল- তাদের সকলকে ছাপিয়ে গেছেন। যে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির এতো ফুলে ফেঁপে উঠা, সেই মসিজিদ পুনঃনির্মানের মাধ্যমে আজ মুসলমান সমাজকে একত্রিত করে- বিজেপি, RSS আর তাদের রাজনৈতিক হিন্দুত্বকে কবর দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই যেকোনো সুস্থ মুসলমানের লক্ষ্য। এই বাংলা রবীন্দ্র নজরুলের মাটি, এই বাংলা শ্রীচৈতন্যের সাম্যের গান গাওয়ার মাটি, এই মাটি অসংখ্য পীর আউলিয়ার মাটি, এখানে RSS এবং তাদের মত সমমতাদর্শিত দলের কোন স্থান নেই। 

আজ আমাদের সামনে কেবল বিজেপিই বাঁধা নয়, RSS এর অন্যান্য শাখা সংগঠন যেমন তৃণমূল কংগ্রেস বা তাদের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি, যিনি ১৯৯২ সালে নরসিমা রাও এর মন্ত্রীসভাতে ৩টে দফতরের মন্ত্রী ছিলেন, তিনি সে সময় ন্যূনতম প্রতিবাদ টুকু করেননি। কোনো ভিডিও বা সংবাদ পত্রের কাটিং এমন দেখাতে পারবেন না, যেখানে মমতা ব্যানার্জি বাবরি মসজিদ ধ্বংসের জন্য কোনরকম নিন্দা প্রস্তাব করেছিলেন।

আজকে এই মমতা ব্যানার্জি গত ১৫ বছর ধরে মুসলমানদের ভোটে জিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ২০২৬ এর নির্বাচনেও তিনি কমপক্ষে ৫০ জন RSS এর ক্যাডারকে তার দলের প্রার্থী বানিয়েছে। RSS এর পরিকল্পনা মত মুসলমানকে ঠকিয়ে তাদের ওয়াকফ সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছে, OBC থেকে মুসলমানকে বঞ্চিত করেছে, মাদ্রাসা শিক্ষাতে প্রায় লাটে তুলে দিয়েছে, শিক্ষা এবং চাকরি থেকে মুসলমানকে বঞ্চিত করে তাদের সন্তানকে পরিযায়ী শ্রমিক বানিয়ে দিয়েছে। SIR এর নামে মুসলমানকে জিম্মি করে, বৈধ ভারতীয় হওয়ার পরেও তাদের নাম কেটে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করেছে।

RSS এর অফিসিয়াল রাজনৈতিক দল বিজেপি এবং ঘোমটা পরা মুখোশধারী রাজনৈতিক শাখা- তৃণমূল কংগ্রেসকেও রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করতে না পারলে, প্রতিবার এরা মুসলমানের বন্ধু সেজে ভেক ধরে মুসলমান সমাজের সাথে প্রতারণা করবে। মুসলমানের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় যাবে, তারপর তারা সরকারি টাকায় মন্দির বানাবে, দুর্গাপুজোয় হাজার হাজার কোটি টাকা বিলি করবে, কার্নিভ্যাল করবে, মেলা খেলা করবে; আর মুসলমান যে তিমিরে ছিল এখানেই রয়ে যাবে, সমাজের অন্ত্যজ শ্রেনী হয়ে। 

এই ভোটে মুসলমান সমাজকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার, যা আমাদের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র আমাদের গোষ্ঠীকে দিয়েছে, সেটাকে বুঝে নেওয়ার এটাই সময়। একটা হুমায়ুন কবীর, একটা বাবরি মসজিদ আমাদের বাঙালি মুসলমানদের সামনে দুর্দান্ত সুযোগ এনে দিয়েছে- সমস্ত ফিরকা বিবাদ ভুলে মুসলমান সমাজকে এক হয়ে মুসলমানের শত্রুদের বিপক্ষে একজোট হয়ে লড়ার। এর জন্য সাচ্চা মুসলমানের প্রতিনিধি চাই। কোনো চটি চটা RSS এর দালালি করা মুনাফিক মুসলমান দিয়ে এ কাজ হবে না। আমাদের প্রতিনিধি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে আল্লাহর কসম, তারা আমাদের কওমের জন্য আওয়াজ তুলবে এবং আমাদের সাংবিধানিক অধিকার ছিনিয়ে আনবে আমাদের সন্তানদের জন্য।


মুসলমান পিছিয়ে পড়া জাতি নয় আমাদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে। আজ অধিকার বুঝে নেওয়ার সময়। আলহামদুলিল্লাহ, আমদের প্রত্যেককে লড়াইয়ের পথে ফিরতে হবে। অন্নবস্ত্র বাসস্থান, উন্নত সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, কৃষি ও শেচ ব্যবস্থায় উন্নতি, বৃত্তিমূলক কর্মসংস্থান গড়ে তোলা, হাতে হালাল রোজগার এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য সম্মানের জীবনযাপন এর সুযোগ করে জয় আমাদের লক্ষ্য। সুদের ফাঁস থেকে গ্রামীণ সমাজের মা বোনদের রক্ষা করাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। 

জনগণকে সাথে নিয়ে, আমরা আমাদের লক্ষ্যে সফল হবো ইনশাল্লাহ। 

আমিন



বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

আমেরিকা ইরানের মার থেকে পালিয়ে বাঁচল

 


Dickhead USA Democracy

 

১টা নার্সিসিস্ট উন্মাদ ধর্ষক ক্রিমিনাল, যে সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি দেয় ২ টাকার মাতাল গুন্ডার মত, তাকে যারা আঁটকাতে পারেনা- মুখে করে দিই তাদের 'মহান' রাষ্ট্র আর তাদের তথাকথিত ‘বিশ্বমোড়ল’ সিস্টেমের উপর। USA নামের গোটা রাষ্ট্রটা আসলে মানসিকভাবে জঙ্গি আর হারামের লুঠের টাকায় পুষ্ট, মোটামুটিভাবে প্রতিটা বেজন্মা আমেরিকানই যুদ্ধাপরাধী, শিশু ধর্ষক এপস্টিন ক্লাস ওদের রক্তে বইছে। সভ্যতার স্বার্থে যেকোন মূল্যে আমেরিকার বিনাশই একমাত্র বৈশ্বিক চাহিদা এই মুহুর্তে, এমন উদ্ধতস্বভাব অহংকারী বর্বর যারা- ইতিহাস কখনও তাদের ক্ষমা করেনি।

পাকিস্তান নাকি যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করিয়েছে! চাকরবাকর নাকি মালিককে অনুরোধ করছে! আসলেই মালিকের হুকুমেই চাকরের এই অনুরোধ। দুশ্চরিত্র মনিব তার লুচ্চা চাকরকে দিয়ে ধুতি পরিয়ে নিচ্ছে। পাকিস্তানের কানে বন্দুক রেখে সিজফায়ার করিয়ে আমেরিকা যুদ্ধ থেকে পালিয়ে বাঁচল। ইরাণ ট্রাম্পের এমন পায়ুমর্দন রেছে যে গোটা স্ট্যাচু অফ লিবার্টি সেখান দিয়ে ঢুকিয়ে কিডিনির ব্যালকনিতে সাজিয়ে রাখা যাবে। আপনি বরং মলদ্বারে গরম বোরোলিন দিয়ে নিজের বিজয় ঘোষণা করুন- পিছন মারতে দিলেও, মুখ মারতে দেননি, এর থেকে বড় বিজয় আর কিছু হতে পারে না। চাঁটা ও চোষার জন্য 'আমি' আপনার চাকর পাকিস্তান আছি তো। ফলত, বিশাল ধমকে চমকে স্বঘোষিত বিশ্বনেতা- একতরফা সিজফায়ার হেগেছে। আসলে ৪ তারিখের ব্যার্থ বিমান অভিযান, আমেরিকাকে মানসিকভাবে নির্বীজ খোজা করে দিয়েছে, তাদের ওউকাতে এনে দিয়েছে। বুড়ো ষাঁড় ট্রাম্প কি এবারে শাহবা শরীফ আর আসিম মুনিরের জন্য শান্তিতে নোবেলের জন্য নাম প্রস্তাব করবে?

সেনা উদ্ধারের নাটক করে, ইরানের ইউরেনিয়াম হরণের স্টান্টবাজি করতে গিয়েছিল 'মাদুরো অপহরণের' স্টাইলে। প্রায় ২ ডজন নানান জাতের জঙ্গি জাহাজ খুইয়ে, কয়েক ডজন পাইলট আর কমান্ডো খুইয়ে এপস্টিনের সেনারা আরো উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। ল্যাজেগোবরে শব্দটা 'ইস্পাহানে ভরাডুবি' শব্দ দিয়েও আগামীতে বোঝানো যেতে পারে। সব মিলিয়ে আমেরিকার হাতে কেবল লজ্জা, হতাশা, শোচনীয় পরাজয় আর বেধড়ক মার খাওয়ার অপনান, কলঙ্কিত ফক্কা।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের একটি ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।

1. ইরানের বিরুদ্ধে অ-আগ্রাসনের (non-aggression) মৌলিক অঙ্গীকার।

2. হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।

3. ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম মেনে নেওয়া।

4. সব ধরনের (primary secondary) নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

5. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডের সব রেজুলেশন বাতিল।

6. ইরানকে ক্ষতিপূরণ প্রদান।

7. অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধবাহিনীর প্রত্যাহার।

8. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিশেষ করে “ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স”-এর বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ।

এটা কার্যকর হলে দৈনিক ১৩০টি জাহাজ যদি হরমুজ দিয়ে অতিক্রম করে, ১৪ দিনে তাদের GDP এর সমপরিমান অর্থ সংগ্রহ করে নেবে ইরান। খাটে হোক বা মাঠে, টিকে থাকার নামই বীরত্ব। ১ মিনিটে শীঘ্রপাত- সে তো ট্রাম্পের কাজ। একবার নেতিয়ে পরলে যন্ত্র আর দাঁড়াবেনা। আগে ট্রাম্প একতরফা সিজফায়ার ঘোষণা দিয়েছে। সে জানে তার কথার ১ পয়সা ভ্যালু নেই, ফলে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর অফিসিয়াল বিবৃতি পোষ্ট করে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রমান দিয়েছে। একে বলে চুড়ান্ত হ্যাটা করা। আমাদের নপুংসক বিশ্বগুরু যা করতে পারেনি, ট্রাম্প একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষনা করেছিলো পাকিস্তানের বিপক্ষে। সেই উদ্ধত ট্রম্পকে শিক্ষা দিয়ে দিলো ইরান। হাঁটু মুড়ে 'প্যাহেলে আপ' সিজফায়ার ঘোষণা। মারের চেয়ে বড় ওষুধ আজও নেই। আর নপুংসক এর বিরুদ্ধেই আমেরিকার যাবতীয় দম। পুরুষাকার কারো সামনে পরলে যে আমেরিকাও প্যান্টে হাগে- তাই ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়ে গেলো। ট্রম্পের ট্যারিফ যুদ্ধ আর পিস কমিটি আপাতত হরমুজ প্রনালীর গভীরে তলিয়ে গেছে। আমাদের বিশ্বগুরুর ফাদারল্যান্ড তো কোমায়, ফাদারের বেজন্মা বাচ্চারা কি নতুন বাপ বানাবে ইরানকে?

আরবের মোল্লা রাজা যেগুলো মার্কিন অন্ডোকোষে অবাঞ্চিত চুলের মত লেগে রয়েছে আমেরিকাকে 'খোদা' মেনে, কারন আমেরিকা তাদের রক্ষাকর্তা এটাকেই তারা বিশ্বের একমাত্র সত্য মানে। যাদের ভূমি ও আকাশ ব্যবহার করে জায়োনিষ্ট এপস্টিন ক্লাস এই বর্বরতা চালাচ্ছে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে- তাদের প্রাসাদ গুলো আজও কেন অক্ষত আছে জানিনা। কুয়েত, আমিরাত, সৌদি আর জর্ডন- চারটে হারেমে চারটে মিসাইল, যুদ্ধ ৮০% শেষ হয়ে যাবে ওখানেই। প্রতিটা হারেমে ইহুদী জায়নিষ্ট বীর্যজাত বেশ্যার বাচ্চারা জন্ম নিয়েছে, যারা এপস্টিন বাহিনীর খাদেম হিসাবে সেবা করে চলেছে দশকের পর দশক।

আমেরিকা যে আসলে একটা ফাঁপা মাল, যতটা গর্জায় ভেতরে তার ৫% ও নেই, গত ৮-৯ দশক ধরে লুঠ রাহাজানি করে কামানো মাল দিয়ে যে হারামের সাম্রাজ্য বানিয়েছে, সেটা দুম করে কাল সকালেই ভেঙে যাবেনা। কিন্তু সেটাকে স্লো পয়জন করেও যে মেরে ফেলা যায়, তার হাড়ে মজ্জায় যে ঘুণ ধরিয়ে তার কাঠামোকেই পচিয়ে দেওয়া যায়- ইরান রোজ সেটা প্রমান করে দিয়েছে। ওদের যে 'মানবিকতার' দোকান, তার মুখোশ ছিঁড়ে খুলে ফেলে, ওরাই যে আসল সভ্যতা ধ্বংসের কারিগর, বিশ্বজুড়ে প্রতিটা জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান ও তাদের লালনের মাধ্যমে গত ৮০ বছর ধরে USA যেটা করে এসেছে সভ্যতা বিকাশের নামে- সেটাই আজ পিডো-ষাঁড়টার মুখ দিয়ে স্বীকার করিয়ে নিচ্ছে ইরান। আমেরিকা তার ভয়ের দোকান টিকিয়ে রাখতে শালীনতার সমস্ত মাত্রা অতিক্রম করে পাশবিক সত্তাকে তার আইডেন্টিটি হিসাবে বিজ্ঞাপিত করে যাচ্ছে।

চাপানো যুদ্ধে অস্ত্র বিক্রি, অন্যের প্রাকৃতিক সম্পদ দখল- সবটাই ছিলো ভয়ের সাথে 'ডিল' করে। আমেরিকা মানে তো একটা হিমশীতল ভয়ের নাম 'ছিলো', সেই ভয় আজ নিজেই 'the fucking joke' এ পরিনত হয়ে গেছে, সৌজন্যে ইরাণ। ভয়ের ঘরে আজ ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে পারস্য সভ্যতা। এই কারনেই এপস্টিন বাহিনী মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে আমেরিকার মুরোদ ওই হম্বিতম্বি আর চারটে ব্রিজ ভাঙা অবধিই, নিউক হেড ব্যবহার করতে গেলে- আমেরিকার অন্তত ১২টা শহরে icbm তাক করা রয়েছে বিশ্বের নানান প্রান্ত থেকে। আর মার্কিন আকাশ প্রতিরোধী ব্যবস্থা যে রথের মেলার পাঁপরভাজা - সেটা তো ইরানই প্রমান করে দিয়েছে আরেক বিশ্বছেঁড়া কমান্ডার ইজরায়েলে। আয়রণ ডোম আর মোসাদ- মিথ ফিনিস।

তাই পারমাণবিক হামলা অন্তত এই পর্যায়ে কিছু হবেনা বলেই আমার বিশ্বাস, বরং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাকচারাল এলাকাতে হামলা হতে পারে তেড়েফুঁড়ে- আসলে আমেরিকার নামে চলা মধ্যপ্রাচ্যের নানান প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেথ সার্টিফিকেট লিখে দিচ্ছে নিজেরাই। এভাবেই আরব এলাকা থেকে রিজিম চেঞ্জ হচ্ছে, USA হেজিমনির রিজিম। ডলার রিজিমের পতন চোখের সামনে ঘটতে দেখছি- লাইভ।

ইরান, মার্কিন পরাশক্তি নামের সাদা হাতিটাকে, খেঁকি কুত্তার পর্যায়ে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে পাড়ার মোডে। রাজকীয় তর্জন গর্জন ভুলে, তাদের প্রেসিডেন্ট এখন কাঁচা খিস্তিখেউর সহযোগে তার মিত্রদের অভিসম্পাত করছে, কখনও বালছাল গু-গোবর লিখে এ্যাটেনশন ক্রিয়েট করার চেষ্টা করছে তো কখনও ফুটো মস্তানদের মত নির্লজ্জ হুমকি দিচ্ছে। মোদ্দাকথা ছালউঠা কুত্তার মত ভৌ ভৌ করছে। যুদ্ধবাজদের সীমাবদ্ধতাগুলো ভয়াবহ প্রকাশ করে বিশ্বের 'বাপ' সাজার গল্পের নটে গাছ মুড়িয়ে দিয়েছে ইরান।

তাদের মিথ ছিলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, থাড ইন্টারসেপ্টর আর প্যাট্রিয়টস সিস্টেম- মোটামুটি এদের ব্যবসা নেই করে দিয়েছে। যাবতীয় স্টিলথ বিমানের ধাজিয়া উড়িয়ে দিয়েছে; লকহিড মার্টিন আর বোয়িং, এদের সক্ষমতা- মিথ থেকে সরাসরি 'নেই'। এক ইরান যদি এই করে দেয়, চীনের সাথে যদি যুদ্ধ লাগে তো আমেরিকা প্রথম রাতেই নকআউট হয়ে যাবে একপ্রকার।

তাদের মিথ ছিলো যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী এবং রাডার যুক্ত সামরিক ঘাঁটিগুলো। ডেল্টা ফোর্স, মেরিন কপস, নেভি সিল ইত্যাদি, এগুলোর এমন ভিখারির দশা করে দিয়েছে যে, এই রণকৌশল তথা সিস্টেমের কার্যকারিতা নিয়ে আজকের বিশ্বে প্রশ্ন উঠে গেছে। ইরানি হামলার যুদ্ধ জাহাজ কনসেপ্টটাকেই 'স্ক্র‍্যাপ' বানিয়ে দিয়েছে। হলিউডের সিনেমাতেই আমেরিকা একমাত্র অপরাজেয়, বাস্তবে মাছিমারা পালোয়ান।

আসলে তাদের মিথ গচ্ছিত ছিলো 'পেট্রোডলারে'। ইরান নামের কুড়ুলটা এইখানে পরেছে। আরবের তেল গ্যাসের টাকা লুঠের মধ্যে দিয়েই তথাকথিত 'সুপার পাওয়ার' আজ সেই তেল-গ্যাসের বধ্যভুমিতে বন্দি। ৮০ বছরের পাপ, ৩৭ দিনে শেষ হবেনা। আমেরিকা নামের অভিশাপকে বিশ্ব থেকে মুক্ত করতে, ইরান নিজেই একটা কামিকাজি ড্রোন হিসাবে সমগ্র অত্যাচারিত বিশ্বের পক্ষ থেকে আবির্ভূত হয়েছে। ইরাণের কাছে গোটা বিশ্ব ঋণী হয়ে গিয়েছে। তাই, ইরানের শাসকদের হরেক দোষ থাকা সত্বেও সে ফুলের মত পবিত্র ও সুন্দর হয়ে উঠেছে, কুৎসিত আমেরিকার বিপক্ষে বীরবিক্রমে দাঁড়িয়ে লড়াই দেওয়ার জন্য।

গণতন্ত্রের ধজাধারী আমেরিকা এবং তাদের সংস্থা মেটা আসলেই যে জায়নবাদী আর মুক্ত মতাদর্শ ও গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধকারী - তা রোজ প্রমান হচ্ছে। ইজরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো কার্টুন, কোন ফ্যাক্ট যুক্ত পোষ্টারকে সে পোষ্ট করতেই দেবেনা। এভাবে সেন্সর করে ইজরায়েলকে টিকিয়ে রাখা যাবে নাকি মেটা নিজে টিকবে? কোনো না কোন ইরাণ এসে যেদিন মেটার গাঁড়ে মিসাইল গুঁজে দেবে, ইজরায়েল বাপের মতই তখন সহানুভূতি ভিক্ষা ফেরি করতে হবে ধ্বংসস্তুপের ছবি দেখিয়ে। কমিউনিটি স্ট্যান্ডারের নামে এপস্টিন বাহিনী আসলে ইহুদী স্ট্যান্ডার্ড স্থাপনা করেছে।

ইরান আসলে একটা লুঠেরা খুনি দুর্বৃত্ত অসভ্য ন্যাংটা সভ্যতার বিষ দাঁত উঁপরে নিচ্ছে, নিজে সেই বিষ হজম করে। বিশ্ববাসী এবারে নিশ্চিন্ত হতেই পারে, কিছু মাসের মধ্যে ৫০ টি উত্তর আমেরিকান রাষ্ট্রের ইস্কুলের পাঠ্য ইতিহাসে লেখা থাকবে- আমরা এককালে USA নামের বর্বর দেশের অংশ ছিলাম। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়ে দিয়েছে- মার্কিন পক্ষের প্রতি পূর্ণ অবিশ্বাস নিয়ে আগামী শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, এই বিষয়ে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হবে।

 

সাম্রাজ্য পতনের শব্দ হয় না।

 


বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য গতিপথ ও নতুন বিশ্বব্যবস্থা


বিশ্ব রাজনীতির এক যুগান্তকারী সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা। চলমান পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী জিওপলিটিক্সের স্নায়ুতন্ত্রের DNA পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে। এটা বাষ্প-জল-বরফের মতো কোনো অন্তহীন পরিবর্তন চক্র নয়, এটা কাঠ পুড়ে ছাই হওয়ার মতো, যেখানে ছাই কখনই আর কাঠে রুপান্তর হবে না। এটা পক্ষ নেওয়ার সময়, আমি কোন দলে সেটা বেছে নিতে হবে। রাষ্ট্রের পরিচালকেরা তারা নিজের মতো করে বেছে নেবে, অধিকাংশ জনগণ যে পক্ষে থাকবে, রাষ্ট্রকেও সেই পক্ষে যেতেই হবে নতুবা জনগণ রাষ্ট্রের নের্তৃত্বেরই পরিবর্তন ঘটিয়ে দেবে ভোটের মাধ্যমে।

আমাকে অনেকে দাগিয়ে দিচ্ছে, আমি ইরানকে সমর্থন করছি কারণ আমি নিজে মুসলমান বলে। অথচ বাংলাদেশে যখন জুলাই বিপ্লবের সময় আওয়ামি লিগ মার খাচ্ছিলো, একটাও ভারতীয় মুসলমান বাংলাদেশের কোনো মুসলমানের পক্ষ নিয়েছিলো? RSS এর মতো উগ্র ধর্মান্ধ জম্বিদের রাজত্বে এটা বাক্তিগত বিড়ম্বনার কারণ না হলেও, নিয়মিত কটুক্তির সামনে পড়তে হয়, এবং আমি নিশ্চিত এটা শুধু আমাকে নয়, আমার মতো প্রতিটা মুসলমান সহ অসাম্প্রদায়িক হিন্দু ভাই বোনেদেরও হয়রানির শিকার হয়ে হয় RSS এর অনুগামীদের কাছে। বস্তুত, হিন্দুদের সাথে ইহুদিদের ধর্মগত কোনো মিল নেই, তবুও রাজ্যে বা দেশের বড় অংশের হিন্দু ইরানের বিরুদ্ধে। কারণ এরা আমেরিকাকে মানসিকভাবে সমর্থন করছে শুধুমাত্র ইসলামোফোবিয়ার কারণে, যেহেতু ইরান মুসলমান রাষ্ট্র।

আমাদের মতো কিছু মানুষের চরিত্র বড় অদ্ভুত। দেশজ রাজনীতিতে আমরা সিপিএম এর সমর্থক, যারা রাষ্ট্রের খাতায় শূন্য। বিশ্ব রাজনীতিতে আমরা পুতিনের ফ্যান বয়। আমরাই একসময় ভিয়েতনাম ছিলাম, আজ আমরা ভেনেজুয়েলা, আমরা সোমালিয়া, আমরা তালিবান বিরোধী কিন্তু আমরা আফগানিস্তানের সাধারণ নাগরিকের পক্ষে, আমরা কিউবা, মরোক্কো, বসিনিয়া, আর্মেনিয়া, ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া, গাজা, বুরকিনা ফাসো, এমনি করে সেই সব দেশের পক্ষে মানসিকভাবে অবস্থান করি, যারা কোনো না কোনো শক্তির হাতে অত্যাচারিত। এই দেশগুলোর সাথে আমাদের কারও কোনো সম্পর্ক নেই, না কখনও সেখানে গেছি; না সে সব দেশের কাউকে চিনি, কিম্বা তারা আমাদের কাউকে চেনে। কোনো ব্যক্তিগত বা অর্থনৈতিক লেনদেন নেই, তবুও তারা আমার আপন, কারণ তারা অত্যাচারিত। ক্ষমতার দিকে থাকাটা খুব সহজ, চাটুকারিতা আর উপস্থিতি থাকলে পকেটেও লক্ষীলাভও ঘটে। তবুও আমরা কেউ ক্ষমতার পদলেহনে নেই।

হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ এমন মানসিক সংস্থাপনায় বসবাস করেন, যারা গোটা বিশ্বজুড়ে যেখানে যে লোকটা অত্যাচারিত, মানসিকভাবে আমরা তার আত্মীয় ভাই-বেরাদার হয়ে যায়; নিজেদের রিলেট করতে শুরু করি; তাদের ধর্ম কী, জাত কী, বর্ণ কী কিছুই জানি না, জানতেও চাইনি কখনও। আমরা যতটা হলোকাস্টকে ঘেন্না করি, ঠিক ততটাই ঘেন্না করি জায়নবাদকে, সমান ঘেন্না করি আইসিস, আলকায়েদা ও RSS কে। আমরা তোজোকে ঘেন্না করি আবার হিরোশিমা নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা ফেলাটাকেও পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্টতম পাপ মনে করি। এমনকি আমরা জেলবন্দি ইমরান খানের পক্ষে, ইসরাইলের পার্লামেন্টে কোন বামপন্থী সাংসদ জিতে এলে আমরা তার পক্ষে

আমেরিকান নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডের পক্ষে যেমন আমরা ছিলাম, তেমনই ইরানের আয়াতল্লার বিরুদ্ধে গিয়ে মাসা আমিনির পক্ষ নিয়েছিলাম আমরা। আজকের ইরান আমেরিকার প্রেক্ষিতে, তখন আমাদের পক্ষ বদলে গিয়েছিল, সেদিন আমরা আমেরিকার সাধারণ মানুষের পক্ষে আর ইরানের খামেইনির বিরুদ্ধে ছিলাম। আমরা উন্মত্ত শ্রীলঙ্কার জনগণের পক্ষে ছিলাম, আবার ভারতবিরোধী বাংলাদেশী উন্মত্ত জনগণেরও বিপক্ষে ছিলাম, আমরা ইউনুনের নাবালক সমন্বায়ক সরকারের বিপক্ষে ছিলামআমরা নেপালে জেঞ্জিদের পক্ষে ছিলাম না। আমরা দেশ জুড়ে কৃষক আন্দোলনের পক্ষে, আমাদের ধরে পেটানো তৃণমূলের দলদাস সেই DA না পাওয়া পুলিশটার ন্যায্য দাবীর পক্ষে, আমরা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করা ‘খাঁটি ভারতীয়’ আদানির বিরুদ্ধে। আমরা দেশজ রাজনীতিতে যেখানে বামেরা নেই সেখানে কংগ্রেসের পক্ষে। বিজেপির তুল্যমূল্য বিচারে আমরা বাজপেয়ী জামানার পক্ষে, আমরা আদবানীর সাথে হওয়া দুর্ব্যবহারের বিপক্ষে।

আমরা সেই অর্থে পাল্টিবাজ ধান্দাবাজ হতে পারিনি। আমাদের বন্ধু বৃত্তের অধিকাংশের বয়সটা ৪০ পেরিয়েছে ইতিমধ্যে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে তো দেখতে হয়, নিজেকে শুধাতে হয়- আমি আসলে কে! আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে থাকা একটা জীবন্ত সত্ত্বা নাকি লোভের পুঁজে ঠাসা মৃত লাশ? আমি সিপিএম নই, আমি কমিউনিজমের ভাবধারায় বিশ্বাসী। আমি কাঠ মোল্লার অন্ধ বিশ্বাসী ফতোয়ার বিপক্ষে কোরানকে শাশ্বত মানা মুসলমান, আমি কখনই নাগপুরের গাইডলাইন মেপে ‘গুড মুসলিম’ নই, বরং আমি দেশের সংবিধানকে সর্বোচ্চ সম্মান করা এভং অন্তরের ভালোমন্দ বোধের প্রতি দায়বন্ধ- একজন ভারতীয় মুসলমান।

মানুষের মনে যদি বিতৃষ্ণা থাকে সেটা কোনো না কোন দিকে, কখনো না কখনো প্রকাশ পাবেই। সেটা ঘটি বাঙাল ইস্যু হতে পারে, হিন্দু মুসলমান ইস্যু, নারী পুরুষ ইস্যু, ধনী-দরিদ্র ইস্যু অথবা এরকম অসংখ্য ছোট বড় ক্ষেত্রে এটা প্রকাশ পাবেই পাবে। তেমনই মুসলমানেদের মাঝেও শিয়া-সুন্নি একটা প্রভেদ আড়াআড়ি ভাবেই রয়েছে। যেহেতু এই যুদ্ধটা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, তাই পৃথিবীর সকল সুন্নিরা সমস্ত রকম প্রভেদ ভুলে শিয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছে, দু’চারজন দালাল ব্যাতিরেকে। দেশের শাসক যে দলের খুশি হোক, তার যা খুশি বিদেশনীতি হোক, পৃথিবীর ৮০% মানুষ প্রকাশ্যে বা গোপনে তারা ইরানের সমর্থক। আসলে এরা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে ঘৃণা করে বলে ইরানের উপরে এদের সমর্থন পুঞ্জীভূত হয়েছে, ইরানকে ভালবেসে নয়।

শুধু মুসলমান বলে যদি কেউ ইরানের প্রতি সমর্থন দিয়ে থাকে, তাহলে ইজরায়েল আমেরিকার দিকে বহু লোকের সমর্থন শুধুমাত্র মুসলমানের প্রতি তীব্র ঘৃণা থেকে ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে- এটাকে কীভাবে অস্বীকার করবেন? তুল্যমূল্য আলোচনার টেবিলে, দুটো পয়েন্টই একসঙ্গে এই রূপে হাজির করতে হবে। ধর্মান্ধ মৌলবাদ মানে তো শুধু তো র‍্যাডিক্যাল ইসলাম নয়, প্রতিটা ধর্মকেই সেক্ষেত্রে আতশ কাঁচের নিচে নিয়ে আসতে হবে, তবে সত্য প্রতিষ্ঠা পাবে।

পরিস্থিতিকে সময়ের মানদণ্ডে তুল্যমূল্য বিচার করতে হবে পক্ষপাতমুক্ত হয়ে। আমাদের ভারত সরকারকেও সময়ের নিক্তিতে মেপে দেখতে হবে, নতুবা আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ ছবি পরিষ্কার হবে না।

বিজেপি নিশ্চিত সমস্যার, কিন্তু বিশ্বগুরুকে মুজরোওয়ালি সাজিয়ে গুজরাত কার্টেল যেভাবে লুঠ করছে, উলঙ্গ হয়ে আমেরিকা CIA এর দালালি করছে, এই গুজরাত কার্টেল বিজেপির চেয়েও ১ কোটি গুণ বেশি ক্ষতিকর ও বিনাশকারী। বাজপেয়ীও বিজেপিই ছিলেন, তাকেও আমরা খারাপ বলতাম ওনার সময়ে। বিশ্বপ্রভুর নের্তৃত্বে বর্তমানে বিজেপির নামে এই গুজরাত কার্টেল না আসলে কী, বাজপেয়ীকে এতোটা উদার, দুরদৃষ্টিসম্পন্ন নিরপরাধ মনে হতো? আমরা মনমোহন সিংকে পাপেট বা মৌনমোহন বলতাম, আজকে বিশ্বগুরু না এলে আসল পাপেটের সংজ্ঞা জানতাম কি? আজকের দিল্লি সরকারকে আমেরিকা রোজ বলাৎকার করে দিলেও, এদের এতটুকু গাটস নেই আমেরিকার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে পারে; অন্যের বিরুদ্ধে না হোক নিদেনপক্ষে নিজেদের স্বপক্ষেও এরা স্ট্যান্ড নিতে পারে না। আমেরিকার দিকে ন্যূনতম চোখ তুলে তাকাতে পারেনা এরা। ৯৯% মিডিয়াকে ভেড়ুয়া দালাল বানাবার পরেও যার এতটুকু সাহস ও আত্মবিশ্বাস নেই সাংবাদিক সম্মেলন করার, তার চেয়ে বড় পাপেট কে? রাহুল গান্ধীর সাথে রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও সে বিশ্বগুরুর মতো মিথ্যাবাদী, দুশ্চরিত্র, লম্পট, হিংস্র, নির্লজ্জ, বেহায়া, ধর্মান্ধ, গণহত্যাকারী, নিরক্ষর নার্সিসস্ট নয়।

এই মুহূর্তে দেশের মূল সমস্যার নাম তাই নরেন্দ্র মোদী। নপুংশক, ভীতু, দুর্বল, অসুস্থ মানসিক বিকারগ্রস্থ এই বৃদ্ধ, এমন একটা ব্যক্তি, যে প্রশ্নকে ভয় পায়, জনগণকে ভয় পায়, পাছে জবাব দিতে হয়! এনাকে আমাদের দেশের পুঁজিবাদী লুঠেরা গোষ্ঠী ‘সাক্ষীগোপাল’ নেতা বানিয়ে রেখেছে। ট্রাম্পও উন্মাদ মেগালো ম্যানিয়াক, তবুও  সে দৈনিক সাংবাদিক ফেস করছে। আমাদের প্রভু সেই মুরোদ টুকু রাখেন না, অশিক্ষা ও মূর্খামি এনার পুঁজি। এনাকে দিয়ে বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে ভারতীয় হিসাবে অপমানিত আর লঞ্চিত হওয়ার বাইরে কিছুই মেলেনি আজ অবধি, মিলবেও না।

গ্যাসের দাম ৫০০০ টাকা হোক, ডিজেল ২০০০ টাকা লিটার হোক, ভক্তরা না হয় ইট চিবিয়ে খেয়ে সহ্য করে নেবে, যারা সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ- সেই ভারতবাসীদের ভবিষ্যৎ কী?

নরেন্দ্র মোদীর এই শাসনকাল দেশের ভিতে ঠিক কতটা ক্ষতি করেছে, যারা বেঁচে থাকবে আগামী ১৫ বছর পর তারা দেখে যাবে। তৎকালীন বিশ্লেষকেরা ডেটা দিয়ে প্রমাণ করবে, যখন গোদী মিডিয়া সময়ের চিতায় পুড়ে ভষ্ম হয়ে যাবে, দুন্দুভি নাগাড়া বাজিয়ে মোদীর ব্যর্থতাকেই সফলতা হিসাবে মিথ্যা প্রচারের ফানুসে ঢেকে দেবে না। ব্রিটিশরা প্রথম ১০০ বছরে যা লুঠ করেনি, অঙ্কের হিসাবে মোদীর ১২ বছরে জামানাতে আদানি আম্বানি ও এমন কর্পোরেট হাঙরেরা তার চেয়ে বেশী লুঠ করেছে আমাদের জনগণের সম্পদ। বুকে হাত রেখে বলুন, গত ১২ বছরে মোদীর সরকার আপনাকে কোন বেনিফিট দিয়েছে?

সংবিধানের প্রতিটা কাঠামোকে এরা দুমড়ে মুচড়ে তুবড়ে দিয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত বিশ্বাসের ভিত্তিতে রায় দিচ্ছে, বিচারপতিরা অবসরের পরদিনেই বিজেপি জয়েন করছে। বিজেপির মুখপত্র সরাসরি বিচারকের আসনে আসীন হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের কথা নাই বা বললাম, এদের চেয়ে নিকৃষ্ট আর কিছু পৃথিবীতে কিছু আছে কিনা সেটা গবেষণার বিষয়, এরা সরকারকে প্রশ্নের বদলে ক্ষমতার চাটুকারিতা আর দালালি করে, বিরোধীদের টার্গেট করে তাদের malign করে প্রশ্ন করে। নির্বাচন কমিশন ভোট চুরিতে বিজেপিকে সাহায্য করে, আমাদের মতো ৬০ লক্ষ মানুষকে জিম্মি করে রাখে যারা অধিকাংশই মুসলমান, যাতে বিজেপিকে ক্ষমতার কাছাকাছি এনে দেওয়া যায়। আজকের ভারতে সবচেয়ে যে সরকারী সংস্থাকে মানুষ অবিশ্বাস করে সেটা নির্বাচন কমিশন, আর মিথ্যাবাদী গবেট দালাল বললেই চোখের সামনে যাদের ছবি ভেসে উঠে, তারা দেশের মিডিয়া হাউজগুলো। বিজেপির মুখপাত্র রাজ্যপাল হয়ে যাচ্ছে আর রাজ্যপাল বিজেপির মুখপাত্র হয়ে যাচ্ছে গত ১২ বছরে মোদীর সরকার এটাই করেছে, গণতন্ত্রের স্তম্ভগুলোকে খোকলা করে দিয়ে এই ১৪০ কোটির দেশকে এই পর্যায়ে এনে দাঁড় করিয়েছে।

বিশ্বগুরুর শাসনে আজকের ইন্ডিয়ার যা রেপুটেশন, আগামীতে BRICS আমাদের রাখবে কিনা সন্দেহ। শুধু ১৪০ কোটির বাজার দেখলে হবে না, দিল্লি সরকারের বিদেশ দপ্তরের নেড়ি কুত্তাগুলোকে রোজ ঝাঁটা দিয়ে মেরে, মুখে প্রস্রাব করে দিচ্ছে আমেরিকা, এরা নির্বিকার বদনে সেই মুতই গিলছে সামান্য আওয়াজ না করে। মধ্যপ্রাচ্যে গণধোলাই খাওয়া আমেরিকা পরবর্তী বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার প্রাক্কালে, রাশিয়া চিন ইরান সহ সকলেই দেখেছে ইন্ডিয়ান নের্তৃত্বের এই কাপুরুষোচিত অসহায় আত্মসমর্পন। আগামীতে দিল্লিতে এই বর্তমান নের্তৃত্ব যতদিন থাকবে, এদের সাথে ছালউঠা খেঁকি কুত্তার মতোই আচরণ করে তাদের দাবী মানতে বাধ্য করবে, যেমনটা আজ আমেরিকা করছে। বিশ্বে নতুন যে ক্ষমতার অক্ষ তৈরি হচ্ছে, সেই ঘরে ঢুকতে দেবে না আমাদের দেশকে, কারণ মোদী ব্রিক্সের পিছনে ছুরি মেরেছে আমেরিকার পা চাঁটতে গিয়ে। দরকারে ডেকে, ঘরের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে দেবে, আমাদের উনিজি তো আবার স্বঘোষিত চৌকিদার। আসলে আমেরিকার বিছানাতে শুয়ে আমাদের জাত গেছে, পেট ভরেনি।

আমাদের দেশের সুবর্ণ সুযোগ, চিতায় তুলে দিয়েছে বিশ্বগুরু আদানি জুটি। আগামীতে BR'I'CS এর I ফর ইন্ডিয়ার বদলে ইরান জুড়ে গেলে আশ্চর্য হব না। ব্রিক্সে, আমাদের ব্যক্তিত্বহীন খোজা বিদেশমন্ত্রী আর এপস্টিন ফাইলের মুজরো প্রভু নের্তৃত্বাধীন ইন্ডিয়ার বিশ্বাসঘাতকতার দরুন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা বেশ্যাপল্লীর পতিতাদের সতীত্বের মতো পবিত্র হিসাবে গৃহীত হচ্ছে। গৃহ পরিচারিকার সাথে এক থালায় তবুও খাওয়া যায়, এক পায়খানাতে হাগা যায় না, এটা ভুলে যাবেন না।

মুচলেকা RSS এর জিনে রয়েছে, ইতিমধ্যেই হরমুজের গ্যাস চেয়ে ইরানের কাছে মৌখিক মুচলেকা দিয়েছিল ভয়শঙ্কর; স্বাভাবিকভাবেই ইরান তা মানেনি, আসলে তারা লিখিত মুচলেখা চায়। ক্রমশ পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, নাগপুরের বৃদ্ধ ষন্ড প্রভুর দল ইরানের মোল্লাদের কমোডে ঢুকে- টয়লেট পেপারের বদলে জিভ দিয়ে তাদের শৌচকর্ম না করে দেয়। আমেরিকার এভাবেই তারা তাদের পাছা পরিষ্কার করে চলেছে আমাদের বিদেশ দপ্তরকে দিয়ে। নাগপুরের গোয়ালঘর শক্তের ভক্ত নরমের যম, নেহাত মুর্খ অসভ্য ও বর্বর। এতো কিছুর পরেও- বিতর্কিত ভোটারলিস্ট দিয়ে গত লোকসভার ভোট হলেও, গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সরকার পরে যাক তা কখনই চাইব না, সংবিধানের এই কাঠামোটা বড় জরুরী আমাদের সকলের জন্য, যেটাকে মনুবাদীরা ধ্বংসের জন্য উঠে পড়ে লেগে রয়েছে।

ফ্যাব ফোরে সমসাময়িক হিসাবে বিশ্বের চারটে প্রান্তে যে চারজন প্রায় দুর্বৃত্ত ক্ষমতার শীর্ষে উঠেছিল, তাদের মধ্যে ব্রাজিলের বালসেনারো ২৭ জন্য বছরের জেলে বন্দি। নেতানিয়াহুর মৃত্য নিয়ে সোশ্যালমিডিয়ার প্রোপ্যাগান্ডা গুলোকে মান্যতা না দিলেও, বর্তমান যুদ্ধে ইজরায়েলের যা হাল হয়েছে, আপনি লিখে নিন ইজরায়েলে নেতানিয়াহু অধ্যায় ফিনিশ। তালিকাতে ছাগলের তিন নম্বর ছানা মাই ফ্রেন্ড দোলান্ড। পাতাখোর ছাপড়ির মতো মুখ খুললেই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে; আতঙ্ক, অপমান, অবিশ্বাসে ভুল বকছে নিয়মিত। আগের একটা প্রতিবেদনে লিখেছিলাম- অ্যাাসাসিনেশন না ইমপিচমেন্ট কোনটা যে আগে হবে সেটাই একমাত্র আলোচনা বিষয়। এবারে আপনিই বলুন, এক যাত্রায় পৃথক ফল কীভাবে সম্ভব? আমাদের বিশ্বপ্রভু কোন মন্ত্রে ফাঁকতালে গলে বেরিয়ে যাবে? ‘Godhra meets Gaza’ সফরে, Power on their minds, Hatred in their hearts, Blood on their hands বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। বাকিটাও brother in the same boat থিওরি মেনেই ঘটবে, সে আপনি বিশ্বাস করুন বা না করুন।

এই রকম ঘৃণ্য DNA যুক্ত শাসক আজকের পৃথিবীতে আরও কয়েক পিস আছে, তারা এদের তুলনাতে কম কুখ্যাত, কিন্তু জিনগত মিল রয়েছে। তুরস্কের এরদোয়ান, ইতালির মেলোনি, পোল্যান্ড দুদা, স্লোভাকিয়া ফিৎসো, হাঙ্গেরির অর্বান, অস্ট্রিয়ার কুর্ৎস, সহ প্রত্যেকের বিদায় ঘটবে, যে মুহূর্তে ইউক্রেনের ভাঁড়টার বিদায় ঘটবে। ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হলেই এগুলোরও রাজনৈতিক বিসর্জন হয়ে যাবে দ্রুত। আমেরিকার পরাশক্তি সেজে থাকার ধড়াচুড়ো যত খসতে থাকবে, জাপানের কিশিদা, দক্ষিণ কোরিয়ার ইউন সুক ইয়ল, ফিলিপিন্সের দুতার্তে, এবং সিঙ্গাপুরের লি সিয়েন লুং এর চেয়ার তত টলমল হবে। বাকিটা কিম জং উন সামলে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এর মধ্যেই তাইওয়ানকে চিন হজম করে নেমে। বাকি থাকল লাতিনাতে আর্জেন্টিনা আর আর এল-সালভাদর, ব্রাজিলের বর্তমান সরকার টিকে থাকলে এদেরও পিটিয়ে সোজা করে দেবে।

সকলের কথা হলো, ট্রাম্পকে নোবেলের জন্য সুপারিশ করা প্রথম দেশটা তালিকাতে না থাকলে হবে? বিশ্বজুড়ে আমেরিকার সেনা ঘাঁটি থাকলেও, মার্কিন সেনা ও CIA এর একটা নিজস্ব দেশও আছে, সেটা আমাদের পড়শি। যে দেশের হাঁড়ি চলে ভিক্ষা করে, আর আমেরিকার পরমাণু বোমা পাহারা দিয়ে। আমেরিকা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার আগে সবার আগে পাকিস্তানের রিজিম চেঞ্জ হয়ে যাবে, শরীফ আর মুনির নামের সার্কাসের জোকার দুটোই ইউরোপ বা আমেরিকায় পালাবে।

পাশাপাশি এটাও সত্য, বিশ্বজুড়ে আমেরিকার দাদাগিরি ইলেকট্রিক বাল্বের সুইচ টেপার মতও করে রাতারাতি বন্ধ হবে না, এটাও কয়েক বছরের চলমান প্রক্রিয়া। এই একই সময়ে গোটা বিশ্বজুড়ে বামপন্থীদের উত্থান হতেই হবে, NGO জীবীদের কাছে যে মার্কিন ডলারের স্রোত আসত এতদিন, কমিউনিজমকে ধ্বংস করার জন্য- সেগুলো বন্ধ হলে আমাদের রাজ্যেও বামেদের অবস্থান মজবুত হবে। তার আগে অবশ্যই দলের ভিতরে থাকা প্রতিকুকুর গুলোকে চিহ্নিত করে, তাদের তাড়িয়ে পার্টিকে জঞ্জাল মুক্ত করতে হবে; এরা মমতার চেয়েও বড় ক্ষতিকর।

আরব রাষ্ট্রগুলির পক্ষে মার্কিন ফৌজ সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া যথেষ্ট কঠিন। প্রথমত, সব সময়েই নিজ পরিবারের ভেতর থেকেই অন্তর্ঘাত ও সেনা অভ্যুত্থানের আতঙ্কে ভোগে সেখানকার রাজপরিবারগুলির ক্ষমতাবানেরা। উপসাগরীয় দেশগুলোর জনসংখ্যাও ক্ষুদ্র, সেনাবাহিনীর বহরও তথৈবচ। প্রায় প্রত্যেকেই অগাধ সম্পদের মালিক হওয়ার জন্য নাগরিকদের কেউ সেনা বাহিনীতে যেতে চায় না, ভাড়াটে সৈন্য একমাত্র ভরষা- যারা যেকোনো সময় বিকিয়ে যেতে পারে। সামরিক সহযোগিতাতে চীন বা রাশিয়া কেউই পাশে থাকার বিষয়ে প্রমাণিত নয়, ফলত বিকল্প নিরাপত্তা অক্ষ না থাকার কারণে মধ্যপ্রাচ্য রীতিমতো ধর্ম সঙ্কটে পড়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, উপসাগরীয় দেশগুলির একমাত্র উপার্জনের জায়গা হলো অপরিশোধিত খনিজ তেল ও গ্যাস। বিশ্ববাজারে যা আজও বিক্রি হয় মার্কিন ডলারেই। দৃশ্যত ডলারের কোনো বিকল্প অর্থব্যবস্থা আজকের পৃথিবীতে নেই যা সর্বজনগ্রাহ্য ও প্রতিস্থাপনযোগ্য। স্বভাবতই রাতারাতি আমেরিকার সেনাঘাঁটি ও তাদের মুদ্রা ডলারকে বাতিল করে দিলে সৌদি, আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, ওমান বা বাহরিনের অর্থনীতি রাতারাতি ধ্বসে গিয়ে সিরিয়া বা ইরাকের মতো হয়ে যেতে পারে।

রেজিম চেঞ্জ, মধ্যপ্রাচ্য, হলুদ সাম্রাজ্য, East Block, আরব লীগ সহ আমাদের ভারত- সকলে যুগ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ইরান যুদ্ধটা শুরু করেছিল তাদের দেশের মধ্যে থাকা প্রতিকুরগুলোকে চিহ্নিতকরণের মধ্য দিয়ে। নিজের দেশের বিরোধীরা আজ শাসকের তান্ডব ও পরাক্রম দেখে বিরোধী কন্ঠস্বর রণেভঙ্গ দিয়েছে, ফলে ইরানের আভ্যন্তরীণ সমস্ত রকম বিদ্রোহ চাপা পড়ে গিয়ে তারা একটা ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত হয়েছে। আব্রাহাম এ্যাকর্ড ও পিস ফোরামের মত এঁটোকাঁটা কমিটিকেও কবর দিয়ে দিয়েছে ইরান। পারস্য উপসাগরের ওপারের পাশের দেশগুলোর পরিণতি ওরা দেখে নিয়েছে। ইরান এবারে যুদ্ধটাকে কাস্পিয়ানের দিকে নিয়ে যেতে চাইবে। ডানে বাঁয়ে আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, জর্জিয়া, তুর্কমেনিস্তান, তাজিখ, কিরঘিজ, কাজাখ, উজবেকিস্তানের মতো যে যে দেশে আমেরিকার ঘাঁটি আছে, সেগুলোকে ঘেঁটে দেবে। মোদ্দা কথা আর একটা ওয়্যারফ্রন্ট খুলে দেবে আমেরিকার সামনে, তাদের নাজেহাল করে দেবার জন্য।

আমাদের কী হবে? আগামী ৩ বছর আমাদের দেশেও কমপক্ষে বিজেপি সরকার থাকছেই, সংসদেও লো-কনফিডেন্স কোনো মুভমেন্ট নেই। কিন্তু, নরেন্দ্র মোদী ও তার বর্তমান প্রশাসনের মোটাভাই, ইন্ডিয়ান জেমস বন্ড, কড়ি নিন্দা সিং, ভয়শঙ্কর, বিরাট শিক্ষিত সেলফি মন্ত্রীর মতো লালুভুলুর টিমের রাজনৈতিক বিসর্জন হওয়া একান্ত জরুরী- এটাই জাতির একমাত্র স্বার্থ। বিজেপির অন্য নতুন টিম আসুক, নতুন ভাবনা আসুক, তারা আর কত খারাপ করবে এদের চেয়ে! অবশ্য যোগী গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়াতে তার পক্ষের প্রচারনা শুরু করে দিয়েছে, সে এলে ভারতের প্রতিটা জনগণের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ সময় অপেক্ষা করছে, লিখে নিন। বিরোধী হিসাবে রাহুল গান্ধী পাপ্পু হোক বা না হোক, কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় বোঝা হচ্ছে সোনিয়া গান্ধী, মোদির থেকেও বেশি ক্ষতিকর প্রোডাক্ট এই মহিলা। ইতিহাস সাক্ষী আছে 'once a spy, always a spy', তার মন্ত্র অবশ্যই if you're on the team for life, then you're bound by team rules for life. 

আমেরিকা ডুবন্ত নৌকা, ওতে যে চড়বে তাকে নিয়েই ওরা ডুববে। অনেকেই ভাবছেন এপস্টিন দ্বীপে কোনো যৌন শিশু কেলেঙ্কারির কুকীর্তি করে আসার দরুন, বিশ্বগুরু আমেরিকার হাতের পুতুল হয়ে গেছে। একটা দুধের শিশুও জানে আমেরিকা-ইসরাইলের সাথে ভারতের যে তথাকথিত ‘বন্ধুত্ব’, সেটা সমতা, সক্ষমতা ও পারস্পারিক সম্মান, মূল্যবোধের কূটনৈতিক নিয়মের ভিত্তিতে নয়; এটা একতরফা, অপমানজনক, স্বার্থপরতা হিংসায় ডোবানো তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের একপেশে ব্ল্যাককমেলিং, যেখানে নিয়মিত হীন প্রতিপন্ন করে রোজ একবার আমাদের অউকাত বুঝিয়ে দেয়। এই পশ্চিমা নের্তৃত্ব কখনই মোদীকে তাদের সমকক্ষ মনে করে পাশে বসায়নি, যখনই ডেকেছে চাকরবাকরের মতো কান মুলে তাদের ইচ্ছামত চুক্তিতে সই করিয়ে নিয়ে, সামান্য উচ্ছিষ্ট ছুঁড়ে দিয়ে পিছনে লাথ মেরে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। নিজে থেকে যখন বিদেশ সফরে গেছে, তার দেশজ প্রভু আদানির হয়ে দালালি করতেই গেছে, দেশের কাজে যায়নি। এই হচ্ছে আমাদের দেশের ‘আয়াতোল্লা মোদানীর’ অউকাত।

তাই আমার ভাবনা একটু ভিন্ন, মোদী/RSS এর ভোটে জেতার যে প্রাণভোমরা- সেই যাবতীয় EVM ম্যানিপুলেশন তথা হ্যাকিং এর সিক্রেট তাদের সম্ভবত এপস্টিন গ্যাং এর হাতে রয়েছে। এই কারণেই মোদী ও তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা CIA/ইজরায়েল এর বিরুদ্ধে যেতে পারবে না, ঝাঁটা লাথি খেয়েও তাদের দরজার ঝনকাঠে শুয়ে থাকতে হবে নামাজের সিজদা দেওয়ার ভঙ্গিতে।

 

অধিকাংশ জনই এটাকে কন্ট্রোভার্সিয়াল এবং কন্সপিরেসি থিওরি বলে উড়িয়ে দিতে চাইবে, আপনি কী মনে করেন?


মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

আমরা কী আমেরিকার কাছে পরাধীন?


 আমাদের দেশের বন্দরে আমেরিকান নৌবাহিনীকে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে কেন? 


মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তাড়া খাওয়া আমেরিকা নামের খেঁকি ঘেয়ো কুত্তাকে আমাদের সমুদ্র বন্দরে এ্যালাও করছে বিশ্বগুরুর সরকার? কোন স্বার্থে? আমাদের পার্লামেন্টের অনুমোদন নিয়েছে? জাতি কী চায় জানতে চেয়েছে? আমরা কি অলিখিতভাবে আমেরিকার উপনিবেশ হয়ে গেছি? আমাদের রাষ্ট্রের কোনো সার্বভৌমত্ব টিকে আছে? নাকি সব বালবিচি ওই নেতানুনু আর বেটিচো দ ট্রাম্পুদের এপস্টিন বাহিনীর কাছে গচ্ছিত রেখেছি? 

আমেরিকা যার বন্ধু, তার আলাদা করে শত্রুর দরকার হয়? মধ্যপ্রাচ্যের মোল্লা রাজাগুলোকে দেখেও শেখেনি ইন্ডিয়ান জেমস বন্ড? ওরাই তো পেট্রোডলার দিয়ে আমেরিকাকে মাইটি বানিয়েছিল। আজ যখন তাদের গাঁ ড়ে মিসাইল দাগা হচ্ছে- কোথায় আমেরিকা? পালিয়ে ভারত উপকুলে এসে প্রাণ বাঁচাচ্ছে। যে কাঠ খেয়েছে সে ফার্নিচার হাগুক, আমরা কেন ভিসকাপের নিচে শোবো? আমেরিকার নৌবাহিনীর জাহাজ আক্রমণ করতে গিয়ে চারটে মিসাইল যদি মুন্দ্রা, কান্ডলা, মুম্বাই, JNPT, মার্মাগাঁও, নিউ ম্যাঙ্গালোর বা কোচিন বন্দরে পরে, সেগুলোকে সওয়ার মুরোদ বা শক্তি আছে তো আমাদের? যেখানে আমেরিকা নিজের থুতু চেটে খেয়ে প্যান্টে হাগছে সেখানে আমাদের প্রতিরোধ শক্তি মার্কিনীদের চেয়েও বেশি? মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইরানের তাড়া খেয়ে ঘেয়ো খেঁকি কুত্তার মতো আমেরিকা যেদিকে পারছে পালাচ্ছে। গ্রীস সহ অনেকেই জায়গা দেয়নি, যদিও স্পেনের একমাত্র প্রকাশ্য বিবৃতি রয়েছে যে, আমাদের মাটিতে যুদ্ধাপরাধী মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কোনো স্থান নেই। ন্যাটোকে একা রাশিয়াই নাশবন্দি ভ্যাসেকটমি করিয়ে দিয়েছে, ন্যাটোর আর উঠে বসার ক্ষমতা নেই।

ইরান ইসরায়েলকেও জাহান্নামে ছুঁড়ে ফেলেছে। তেল আবিবে ফক্স নিউজের প্রতিবেদক বলছে- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ এতটাই ভয়াবহ যে, ১ কোটি মানুষকে বাঁচার জন্য আড়াল খুঁজতে দৌড়াতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এটা আর কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পুরো শহর জুড়ে প্রতিটা বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি হচ্ছে - আরও বড়, আরও মারাত্মক, যেন সবকিছু গিলে খাচ্ছে। পুরনো বস্তাপচা স্ক্র‍্যাপ মিসাইল দিয়ে এপস্টিন বাহিনীর প্রতিরোধ সিস্টেমকে মেলার পাঁপড়ভাজা বানাবার পর, এখন ইরান চেপে ধরছে তার অস্ত্রাগার থেকে সেরা মালগুলোর সামান্য কয়েকটা বের করে। ইউক্রেন থেকে ইতিমধ্যেই যা প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এনেছিল সে সব ফিনিস। এখন ইরান ফেলে ক্যালাচ্ছে যায়নবাদী দুই কশাইকে।

মাইনাবের ইস্কুলে অতর্কিত আক্রমণে ১৬৭ জন শিশু কন্যাকে খুন করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ শুধু তাদেরই মারেনি, আজ গণকবরের দৃশ্যমানতার মাঝে সবচেয়ে বড় অদৃশ্য কবরটা আমেরিকারই ছিল। ইরানের বাঁচার সম্ভাবনা অতিক্ষীন হচ্ছে রোজ, কিন্তু সে নিজে মরতে মরতে আমেরিকা মিথ ও তাদের লুঠের সাম্রাজ্যকে হরমুজের জলে নিয়েই ডুবছে। তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খুন হতেই, ইরান ক্ষ্যাপা জম্বি ষাঁড় হয়ে গেছে। এখন তাদের কোনো কূটনীতি নেই, কোনো পররাষ্ট্রনীতি নেই, বিশ্বের প্রতি মানবতা নেই, আইনকানুন কিচ্ছু নেই। কারণ বাকি দুনিয়া তার জন্য এগুলোর একটাও দেখয়নি, ফলত আজ সে নবারুণের ভাষায়- গাঁ ড় মারি তোর এথিক্সের। ইরানের একটাই নীতি- যে আমেরিকাকে সাপোর্ট দেবে তার গাঁড়ে মিসাইল গোঁজো, তাতে তার দেশে ১০ হাজার শহীদ হলে হোক। একটা নেতা মরতেই আরেক জন এসে হাজির শহীদ হতে, যিনি আরও বিক্রমে মিসাইল ফাটাচ্ছে। তাদের পরিষ্কার দর্শন- আমরা মরছিই, তবে বাকিদের মেরে মরব।

এমন ক্ষ্যাপা জম্বি ষাঁড়ের সামনে আমেরিকা তার নেভাল বাহিনী মানে নৌবাহিনীকে আরবসাগর বরাবর আমাদের ভারতের নানান বন্দরে স্থান দিয়েছে এপস্টিন বাহিনীর ভারতীয় পার্ট- আমাদের চমন চোদনা বিশ্বগুরু। এই হাওয়া বেলুন মার্কিন বাহিনীকে 'আলফা মেল' ভেবে এদ্দিন হারেমখোর মোল্লারাজা গুলো পুষে এসেছে, আজ প্রতিটা আরব মোল্লা রাজার দেশে তান্ডব চালাচ্ছে ইরান নামের উন্মাদ, সে পণ করেছে আমেরিকা আর তার প্রতিটা সহযোগীকে এলাকা ছাড়া করবে। দিশাহীনভাবে অলআউট আক্রমণে যাওয়ার বাইরে একটাই পথ ছিল- আত্মসমর্পণ করা আমেরিকার পায়ে। কিন্তু সবাই তো নরেন্দ্র মোদী নয়, কেউ কেউ তো মানুষও হয় যার মেরুদন্ড আছে। ৪টে মিসাইল আর কিছু কামিকাজে ড্রোনের মার খেতেই যেভাবে আমেরিকা নামের বিশ্বপরাশক্তির মিথকে উলঙ্গ করে ভেতর থেকে খেঁকি কুত্তাটাকে বের করে দিয়েছে, এর পর আর পিছিয়ে আসার জায়গা নেই ইরানের। এক নারকীয় উল্লাসে ইরান বিনাশের খেলায় মেতে উঠেছে- যেটা এপস্টিন বাহিনী নিজেরা যেচে শুরু করেছিলো। এই আমেরিকাই মোদীকে নপুংসক বানিয়ে মাদারির বাঁদরের মতো নাচাচ্ছে।

RSS সমস্যা, তার চেয়েও আমাদের দেশের বড় সমস্যা 'গুজ্জু কার্টেল'। আদানি-আম্বানি-মোদী-শাহ ব্যাস, ভারত সম্পূর্ণ। এদের বিচি আর মগজ দুটোই এপস্টিন বাহিনীর হাতে বন্দি, তাই আমারা ১৪০ কোটি জনগণ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের হাতে জিম্মি হয়ে গেছি। এদিকে ওপেন টিভি চ্যানেলে হিজরায়েলি রাজনীতিবিদ বলছে আমাদের জন্য অস্ত্র তৈরি করতে ১৪০ কোটি ভারতীয় 'দাস' রয়েছে। আমাদের নপুংসক গুলোর একটারও প্রতিবাদ করার অউকাত টুকু নেই, কী করে করবে! আদানি তো ইজরায়েলের হয়ে লক্ষ্মৌ আর নাগপুর অস্ত্র কারখানাতে সত্যিই ইজরায়েলের অস্ত্র বানায়। এরা দেশকে ভালবাসে? এরা নাকি দেশপ্রেম দেখায়? ওয়াক থু তোদের মুখে। এরা মরে গেলেও এদের কঙ্কালের উপরে আগামীতে প্রতিটা ভারতীয়ের পেচ্ছাপ করা নৈতিক দায়িত্ব। সোস্যাল মিডিয়ার একাদধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- ফাদারল্যান্ডের প্রভু নেতানুনু আমাদের দেশ সম্বন্ধে কেমন ধারণা পোষন করে। ইহুদিদের বাচ্চারা ভারতীদের সাথে কেমন আচরন করে, ভক্তের মূর্খ বাপ এদেরকে পিতাশ্রী বানিয়ে এসেছে। ওয়াক থুঃ

বেটিচো দ ট্রাম্পুর মাইটি আম্রিকা গাঁ ড়ে যা মিসাইল আর ড্রোন ভরেছে, তার বিচি সমেত সমস্ত যন্ত্র কিডনিতে উঠে গেছে। এখন আর প্যান্টেও মোতার মুরোদ নেই, নিজের পেটেই মুতছে। যত দিন যাবে নিজেরা হাগবে নিজেরাই সেটা খাবে। যেকোনো মূল্যে এখন সিজফায়ারের ঘোমটা চাইছে, যাতে পালিয়ে বেঁচে মুখরক্ষা হয়। সে তারা গাঁ ড় মারাক ঘটি হারাক, যুদ্ধ তারা শুরু করেছিল, তারা মূল্য গুনুক- আমরা কেন আমাদের সমুদ্র বন্দরে আমেরিকাকে সেল্টার দেব? দীর্ঘদিনের বন্ধু ইরানকে হারিয়েছি, এ অবধিও ঠিক আছে নাহয়; কিন্তু তাকে শত্রু বানানোর মধ্যে ভারতের কোন স্বার্থ সুরক্ষিত হবে? আর আমেরিকাকে সেল্টার দিয়েই বা আমদের কোন লাভটা হবে? কদম্বা কারওয়ার, মুম্বই, পোরবন্দর, কোচিন ভেন্ডুরুথে, গোয়া ও লাক্ষাদীপ- এই ভারতীয় নৌ সেনাঘাঁটির প্রতিটাতেই নাকি পলাতক কাপুরষ মার্কিন যুদ্ধবাজ নৌসেনাদল তাদের অবশিষ্ট বেঁচে থাকা জাহাজ নিয়ে উপস্থিত হয়েছে- সোস্যালমিডিয়ায় বিভিন্ন এক্সপার্টের দাবী অনুযায়ী। শুধু উপস্থিতই হয়নি, গুজ্জু কার্টেল তাদের জামাই আদরে পুষছে খাদ্য, মদ, মেয়েছেলে- সবের যোগান দিয়ে। কত টাকায় দেশকে বিক্রি করেছে এই গুজ্জু কার্টেল?

কোথায় আমাদের দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো? কেন আমরা রাস্তায় নামছিনা RSS এর এই আত্মঘাতী বিদেশনীতির বিরুদ্ধে? RSS আগে ব্রিটিশের জুতো চাঁটতো, এখন আমেরিকার চাঁটছে। মালিক বদলেছে শুধু, এদের জিনে সাদা চামড়ার প্রতি অকৃত্রিম "I beg to remain, SIR, Your most obedient servant" পরিভাষার কিছুই বদলায়নি।

ঝাড়ের বাঁশ গাঁ ড়ে নেওয়ার মূল্য দিতে আমরা ভারতবাসীরা প্রস্তুত তো? 

তাহলে, বলো আম্রিগা মাই কি....... 


মাননীয়া মমতা ব্যানার্জী

আজ আমি অনেকক্ষণ ধরে ভাবলাম, যা বুঝলাম- আমি সত্যিকারের একজন মমতাপ্রেমী মানুষ, আপনার সবচেয়ে জাবড়া ফ্যানদের মধ্যের শীর্ষস্থানীয়। আমি চটি চাঁটা ...