প্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

২০২৬ প্রাক বিধানসভা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটঃ সিদ্ধান্ত নেওয়া সময়

 

শত্রু কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করে না, তারা মন দিয়ে শত্রুতা করে; বিশ্বাসঘাতকতা ঘরের লোকে করে।

(৪)

বাংলা এখন ট্রাঞ্জিশন ফেজে রয়েছে, যা CPIM সহ বিরোধীদের জন্য ঘুড়ে দাঁড়াবার সুবর্ণ সুযোগ। সেখানে কবর খুঁড়ে সত্য-অসত্য- অর্ধসত্য মেসানো ইতিহাস হাাজির করছে তৃণমূল, দীপ্সিতার এই ফোঁপরদালালির সৌজন্যে। ১৯৬৪ থেকে ২০০৫, এই দীর্ঘ সময়ে পলিটব্যুরো সম্পূর্ণ মহিলা বর্জিত ছিল। পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা এবং ত্রিপুরা এই তিন রাজ্যে কয়েক দশক ধরে শাসন করলেও আশ্চর্যজনকভাবে গত ৬০ বছরে তারা এক জন নারী মুখ্যমন্ত্রীও তৈরি করতে পারেনি, ইত্যাদি ইত্যাদি। পদ্মনিধি ধরকেও টেনে এনেছে ওরা, আপনার চোখে পড়ছে না বলে এগুলো ঘটছে না তা নয়, চোখ বন্ধ করে থাকলে প্রলয়  থেমে থাকে না। বিপুল সম্ভাবনা অঙ্কুরে বিনষ্ট হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে।   

অনেকেই আবার নওশাদকে নিয়ে খিল্লি করছে তীব্র ভাষায়, এটাও একপ্রকার চরম উন্নাসিক ঔদ্ধত্বের প্রকাশ। টুপি মাথার মুসলমান দেখলেই একশ্রেণির সেকুলারের মুখোশ খুলে যায়, দাঁত নখ বেরিয়ে আসে। এই নওশাদ গত ৫-৬ বছরে বাংলার বুকে ততটুকু গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে দাঁড়িয়ে তারা বামফ্রন্টের কাছে ৪২ টা আসনের দাবি করছে। আজ ১৬/০২/২৬ বিকালে পার্টি সেক্রেটারি নিজে জানিয়েছেন ৫-৬টা আসন নিয়ে ISF এর সাথে মতানৈক্য ব্যাতিরেকে একটা সহমতে চলে এসেছে। ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা একটা দলকে যখন, নওশাদের মতো ৩ দিনের যোগীর সাথে আসন রফা করতে হয়, সেখানে আপনার মতো ফেসবুকীয় বিশ্বমাচাদোর কোনো অউকাত জন্মায়না ওকে রাজনীতির পাঠ পড়ানোর। দীপ্সিতারা যতদিন এমন লাগামহীন ভাবে বাম দলের নেত্রী থাকবে বা এদের লালন করবে আলিমুদ্দিন, আপনি লিখে নিন- আগামীতে দীপ্সিতা দেবীর দল কটা আসনে লড়াই করবে- সেটা এই সব ৩ দিনের আল-বাল-ছাল যোগীরা ঠিক করে দেবে। উদাহরণ চান? ইতিহাসে ফিরে গিয়ে দেখে আসুন, People's United Left Front (PULF), United Left Front (ULF), United Left Election Committee, Communist Revolutionary League of India (CRLI), West Bengal Socialist Party (WBSP), Nirjatita Samaj Biplabi Party, Right Party of India, The Religion of Man Revolving Political Party of India- এদের সমর্থকেরাও কম বোদ্ধা ছিলেন না নিজের সময়ে, আজ তাদের অস্তিত্ব আছে?

আমার পেশাগত কারণে রোজ কমপক্ষে ৮০-১০০ জন নতুন নতুন মানুষের সাথে আলাপের সুযোগ ঘটে। সকলের সাথে না হলেও অধিকাংশের সাথেই রাজনীতির প্রসঙ্গ চলে আসেই, দরদামের প্রাক্কালে হোক বা রাত্রে সমবেত ডিনারের টেবিলের খেজুরে আলাপে। আমার হোটেল ব্যবসা কোনো এলিট বা ধনীদের নিয়ে নয়, এনারা গোটা পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটা পকেট থেকে আসা নেহাতই গরিব, কেউ মধ্যবিত্ত, বড়জোর উচ্চমধ্যবিত্ত সমাজের, যাদের ৯৫% বাঙালি। ফলত চেয়ারে বসেই নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও এদের আশেপাশের সমাজটাকে জানা যায়, তাদের ভাবনাতে নিজের জ্ঞানকে পুষ্ট করা যায় অনেকটাই। তাই আমাকে প্রতিক্রিয়াশীল উন্মাদ বলে মিডিয়াতে না হয় দীপ্সিতাকে বাঁচিয়ে দিলেন, তাতে আপনাদের ভোটবাক্সে কোনো লাভের প্রতিফলন হবে না।

সোশ্যাল মিডিয়ার তথাকথিত ‘সেকুলার’ অমুসলিম সমাজ ঠিক করে দিচ্ছে মুসলমানদের কোন শব্দে কতটা প্রতিক্রিয়া দিতে হবে কিম্বা হবে না। এদের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে কিছু আরবী নামধারী যারা দীপ্সিতার হয়ে গলা চড়াচ্ছেন, তারা কি নিজেরা মসজিদে যান? এতক্ষণে তৃণমূল তো সেখানে সিপিএমের নামে বিষ ঢেলে এসেছে। এখন সেখানে একটা ভ্যানওয়ালা আপনাকে এ বিষয়ে শুধালে জবাব দিতে পারবেন তো? আজ অবধি ইমাম ভাতার টাকা সরকার না ওয়াকফ বোর্ড দেয়- সেটা বোঝাতে পারেননি। লক্ষ্মীর ভান্ডার সহ প্রতিটা সরকারি ভাতার টাকা যে আমার আপনার করের টাকা থেকে আসে, ওটা তৃণমূল বা মমতা ব্যানার্জীর পৈতৃক সম্পত্তি থেকে দেয় না- সেটা বোঝাতে পারেননি, আর দীপ্সিতার ‘উপহাস’ বুঝিয়ে দেবেন, তাও প্রতিকুর বিপর্যয়ের পড়েও! ঘোড়ায় হাসবে কাকা।

যারা হা রে রে করে দীপ্সিতার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছেন বিরাট সেকুলার হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, তারা কি নিজেরা জানেন ইনশাল্লাহ সুবহানাল্লাহ আলহামদুল্লিল্লাহ শব্দের মানে? এটা কী অমুসলিম সমাজের কথ্য শব্দমালা, যেমন বাবাগো, মাগো, Oh my God বা সমজাতীয় শব্দের মতো? আপনারা নিজেরা কখনও এই শব্দ দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করেন? এগুলো নির্দিষ্ট করে মুসলমানদের দৈনন্দিন মুখের ভাষা। যুক্তি হিসাবে- মমতা ব্যানার্জীকে ব্যঙ্গ করে নাকি এটা বলেছে। ভালো কথা, মমতা তো RSS এর নেত্রী, প্যাথোলজিকাল লায়ার ও ভড়ং ধরতে উস্তাদ, RSS এর এ্যাজেন্ডা লাগু করতে তার মুখে এই কথাই তো মানায়। 

আপনারাই মূলত ফেসবুক শাসন করেন, বছরে একবার ব্রিগেড যান, বড় নেতার সাথে ছবি তোলেন, নিজেদের মধ্যে গেট-টু করে আর সারাদিন খাপ পঞ্চায়েত বসিয়ে হোয়াটস অ্যাপে স্ক্রিনশট চালাচালি করেন। কিন্তু যখন রাস্তার মিছিলে হাঁটার ব্যাপারটা আসে, অমনি আপনাদের ৫০% গায়েব। এরপর নিজের পাড়ার জনসংযোগের সময় আরও ২০% হাওয়া হয়ে যান, আর লড়াই প্রতিরোধের পরিস্থিতে বাকি ২৮% হাওয়া। যতক্ষণে বুথে দাঁড়িয়ে থেকে ভোটটা করাবার দিন আসে- ২% পার্টিজান বাদে, আপনারা বাকি সমস্ত ফেসবুকীয় লালমুখো বাঁদরের দল গায়েব হয়ে যান। তাই, যারা ভাবে আপনারা পার্টির সম্পদ, আজ্ঞে না- আপনারা আপদ, মূর্তিমান অভিশাপ। আপনারা মেরুদন্ডহীন, আদর্শের ফাঁপা বুলি কপচানো কিছু কাপুরুষ, যারা টাইমপাসের জন্য বামবৃত্তের উপস্থিত হন মূলত মনোরঞ্জন খোঁজে। আপনারাই দলবেঁধে সর্বক্ষণ মমতাকে খিল্লির বাহানাতে, বস্তুত তৃণমূলের হয়েই নেগেটিভ প্রচারটা করে দেন দায়িত্ব নিয়ে।

ব্যক্তি দীপ্সিতাকে আমি চিনিনা, আগ্রহও নেই। তবে মিডিয়াতে দেখে যেটুকু অনুমান করেছি- তার গাত্রবর্ণ আমার মতোই কালো, এ নিয়ে তার ভিতরে চরম হীনমন্যতা কাজ করে। পাশাপাশি আবার বিদেশ ভ্রমণ, JNU ও PhD নিয়ে একটা সুপিরিয়র কমপ্লেক্সে ভোগে। যার দরুন একটা দ্বিমুখী বৈপরিত্য কাজ করে এর চরিত্রে। নিজেকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর মিডিয়াতে ভাসিয়ে রাখতে এ্যারোগেন্সি মাখা অসভ্যতামিটা চরিত্রে প্রকট করে তুলেছে। এর চেয়েও ভয়াবহ হলো- এটাকেই জনসংযোগের মাধ্যম বানিয়েছে। আছে বামদলে, কথা বলে মমতার ভাষায়, বার্তা দেয় RSS কে। সদ্য অতীতের আগুনখেকো বাম নেতৃত্বের ঋতব্রত, কানাইয়া কুমার কিম্বা প্রসেনজিত বসু- দীপ্সিতার চেয়ে কম ফুটেজ খাননি, এনারাও উস্তাদই ছিলেন। এদের হয়েও সে সময় ভক্ত লালবাবুর দল ঢাল হয়ে সে কী লড়াইটাই না দিতেন। 

এই আপাত উদগান্ডু কথাবার্তায় সূক্ষ্মভাবে একটা ব্রাহ্মণ্যবাদী মানসিকতা কাজ করে দীপ্সিতা ধরের মাঝে, যা জামাতিদের মূল চরিত্র। অমিত শাহ, মোহন ভাগবত আজও পহেলগাঁও হামলাতে ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ শব্দ বলেনি, দীপ্সিতা আগ বাড়িয়ে সেটা বলে খুব হাততালি কুড়িয়ে নিয়েছিল। অতীতে কত রথী মহারথী তলিয়ে গেছে ভোগের লালসার হাতছানির কুম্ভীপাকে, যাদের চরিত্র দীপ্সিতার সাথে হুববু মিলে যায়, তাহলে দীপ্সিতা কেন সন্দেহের গণ্ডিতে আসবে না?

যে এবিপি বামেদের কোনো কর্মসূচি নুন্যতম দেখায় না– সেই এবিপির TRP বাড়াতে ইনি অষ্টমীর সন্ধ্যায় দেবাংশুর সাথে খুনশুটি আড্ডায় হাজির হয়ে যান। তৃণমূলের কেউ নাকি বিপুল দামী ব্যাগ উপহার দেয় ওনাকে, কখনও নাচছে, কখনও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করছে, না এগুলো দোষের কিছু নয়; কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে যখন এগুলোই তার জনসংযোগের এর মুখ্য হাতিয়ার যায়, তখন উঠতি মুলো ঋতব্রততে চেনা যায়। এই কারণেই এই নেত্রীকে নিয়ে আমি ব্যক্তিগভাবে ভীষণ সন্দিহান। আমি বেঁচে থাকব কিনা জানি না, এই মহিলা আগামীতে ডানপন্থী পুঁজিবাদী কোনো দলে গিয়ে আলহামদুলিল্লাহ সুবহানাল্লাহ বলে আজকের বাম সমর্থকদের উপহাস করবে- বাকিটা জবাবটা ‘চে’ এর ট্যাটু ওয়ালা শঙ্কর ঘোষ, বঙ্কিম ঘোষ বা তাপসী মন্ডলদের কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন।

শেষ ৩টে নির্বাচনে হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলে ভোটে দাঁড়িয়েও আপনি দীপ্সিতা ধর তিন নাম্বার ছাগলছানা হয়েছেন, শুধুমাত্র ফেসবুকের ভক্তকুলের আদর্শবান ‘সেকুলার’ ভোট আপনাকে দু নাম্বারে তুলতে পারেনি। ইনশাল্লাহ সুবহানাল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ বলে যে সম্প্রদায়কে হ্যাটা করলেন ‘মমতা ব্যানার্জী’ নামের ঢালের আড়ালে, তাদের ভোটটা পেলে হয়তো জিতে যেতেন। আগামীতেও এদের ভোট না পেলে আপনি অন্য দলে পালিয়ে যাবেন মধু খেতে, আপনার দল SUCI এর সাথে মহাশূন্যে বসে 'গড পমিস' লিখে- আসমানি দেওয়ালে ধুসর আঁকিবুঁকি করবে। বামপন্থা আপনার পৈতৃক সম্পত্তি নয়। ফেসবুকের লাইক বিপ্লব, এ্যাকাডেমিক ডিগ্রী আর বিদেশে থাকার ছবি দিয়ে যে ভোটের রাজনীতিতে যে ঠনঠনে গোপাল হতে হয়- যেটা বাংলাদেশী জামাতের ফরাসি আমির পিনাকী ভট্টাচার্যকে দেখে কিছুটা শিক্ষা নিতে পারেন। 

হুমায়ুনের (আপনার আঙ্কল) সাথে আলাপের জন্য সেলিমকে সতর্ক করেছে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী, আর দীপ্সিতার মতো ফুটেজ সর্বস্ব ভোগবাদী মানসিকতার মহিলা- প্রকাশ্যে বারংবার সমগ্র মুসলমান কমিউনিটিকে কখনও জঙ্গী, কখনও উপহাস করেও, কোন যাদুমন্ত্রে ছাড় পেয়ে যায়, এটা কিন্তু আম মুসলমানকে ভাবাবে। প্রান্তিক মুসলমানকে বাদ দিয়ে কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ- CPIM কি খাতা খুলতে পারবে? আপনি ভাবছেন এটা আরও হাজারটা ইস্যুর মতো থিতিয়ে যাবে চতুর্থ দিনে, বিশ্বাস করুন তা হবে না। তৃণমূল ও RSS সেটা হতে দেবে না, এটা পাড়ায় পাড়ায় CPIM দলের মনোভাব বলেই প্রচার করবে। তাই, ইম্মিডিয়েট দলের তরফে সতর্ক না করলে এটা ক্যান্সার হয়ে যাবে, আর তা হলে মুসলমান ভোটব্যাংক ফিরবে না কাস্তেতে, হাতে রইবে পেনসিল। 

দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে SIR এর গুঁতোতে তৃণমুল ব্যাকফুটে, বিজেপি রিং এর বাইরে। RSS এর ফাটল এখন স্পষ্ট, কোনো মলমে কাজ কাজ হচ্ছে না মেরামতিতে। আগামীতে বামেদের বিপুল আসন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলত মুসলমান যাতে সিপিএমের থেকে দূরে সরে যায়, তারই হয়তো খেলাটা দীপ্সিতাকে দিয়ে খেলিয়ে দিয়েছে। একে তাকে দিয়ে নানাভাবে গুলিয়ে দেবেই RSS, তারাই এই ফুটেজখোর দীপ্সিতাকে ট্রোজেন হর্স বানায়নি কে গ্যারান্টি নেবেন ঋতব্রতের কসম খেয়ে? ফুটেজ খেতে গিয়ে, RSS এর হাতে লুকিয়ে তামাক খাওয়াটা ধরা পড়ে গেল কিনা- এটাও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে কি? 

আগের পর্বেই লিখেছি এ রাজ্যে বিজেপির প্রতিটা মহিলা লগ্নি সব ফেল মেরেছে, নাম ধরে ধরে লেখা আছে। সেই রকম একটা পরিস্থিতিতে দীপ্সিতাই কেন বারংবার এমনটা করছে! ৯০ দশকের মমতা ইচ্ছাকৃত অশান্তি সৃষ্টির জন্য তৎকালীন কংগ্রেসের তাবড় বাঘা নেতাদের টপকে প্রদেশের সর্বোচ্চ নেত্রী হতে চেয়েছিলো। ঋতব্রতর প্রকাশ্য অসভ্যতামি গুলো ভুলে গেছেন? এগুলোই তো লক্ষণ। উনি যে পথে সংসদীয় রাজনীতিতে এসেছেন, সেই JNU এর ছাত্রনেতা উমর খালিদ জেলে, ঐশি ঘোষের মাথা ফাটিয়েছিল, প্রাক্তন বাম ছাত্রনেতা কানাইয়াও কম মারধোর খায়নি, সেই তুলনাতে এই নেত্রীর বলার মতো কোনো সাফল্যটা আছে? মহিলা চাইছে দল তাকে তাড়াক, নতুবা পশ্চিমবঙ্গের নোংরা দিক নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছে কেন? মহিলার ‘পপুলার’ TRP জোন হচ্ছে মুসলমান আর বাঙাল পরিচয়। মূর্খ একটা চাষীও জানে ধান বীজতলায় বাড়ে না, তাকে অন্য স্থান থেকে তুলে জো ধরা জমিতে পুঁততে হয়। রাজন্যার মতো ‘পাতি’ প্রেসিডেন্সিতে যখন RSS বড়শি দেয়, তারা NJU কে টার্গেট করবে না?

বামপন্থা একটা জীবনশৈলীর নাম, সারাজীবন ধরে একে লালন ও যাপন করতে হয়। যে কারণে আমি বা আমার মতো কোটি মানুষ কখনও বামপন্থী হতে পারব না, কারণ আমাদের মাঝে ভোগের লালসা রয়েছে। আপনি বিমান বসুর ত্যাগের বিজ্ঞাপন করবেন, আর দীপ্সিতার মতো নমুনাকে বাজারে প্রকাশ্যে ছেড়ে রাখবেন- দুটো একসাথে হতে পারে না। ব্রতীন সেনগুপ্ত, ৩ বারের রাজ্যসভার মেম্বারকে সদ্য গোঁফ গজানো বামাতিদের মনে থাকার কথা নয়। মজিদ মাস্টার, রেজ্জাক মোল্লা, শওকত মোল্লা, তাপস চ্যাটার্জি, সুজিত বোস, আবু আয়েস মন্ডল, আব্দুল সাত্তার, মৈনুল হাসান- এনাদের অতীত পরিচয় কর্মী সমর্থকেদের কাছে বিস্মৃত হয়ে গেলেও, ঘর পোড়া শীর্ষ আলিমুদ্দিন আজও কীভাবে সিঁদুরে মেঘ চিনতে ভুল করেন! 

রাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা হাতের কাছে পেলে প্রত্যেকে নেবে, মুসলমানও নিয়েছে। কিন্তু সেই সহায়তা না পেলে মুসলমান মরে যাবে ব্যাপারটা এমন সরল নয়, তাই তাকে নিয়ন্ত্রণের দুটো জায়গা ধর্ম এবং ভয়। ভয়ের জায়গাটা যখন সে কাটিয়ে উঠে নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে একটা সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকে পা বাড়িয়েছে, তখনই শেষ চেষ্টা হিসেবে ধর্মের দিক থেকে ‘অকারণ’ কিছু একটা টেনে RSS অন্তিম চালটা দীপ্সিতার মাধ্যমে দেয়নি কে বলবে! 

কথিত আছে, ‘বিড়াল কালো না সাদা, তাতে কিছু যায় আসে না, যতক্ষণ না সে ইঁদুর ধরে’। নেকুপুষু দীপ্সিতাদের লালন করতে গিয়ে প্রতিকুরেরা যে ব্রাত্য হচ্ছে না, দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারবেন? এমতাবস্থায়, জনগণ যদি সর্বহারা এই উদ্ধত নেত্রীকে সেন্সার করার সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওজন দল CPIM বইতে পারবে তো?
 

২০২৬ প্রাক বিধানসভা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটঃ অন্তর্ঘাত পর্ব

 


ভীষণ আনপপুলার অপিনিয়ন


(৩)


দীপ্সিতা ধরকে CPIM সেন্সর করবে নাকি জনগণই তাকে সেন্সর করবে? 


ডিসক্লেইমারঃ ও পাড়ের জামাত আর এ পাড়ের RSS, এদেরকে যদি আপনি অন্তর থেকে ঘেন্না না করতে পারেন, তাহলে নিজের মনুষ্যত্ব নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত। তাই জামাত ও তাদের বিষাক্ত আমিরকে নিয়ে ব্যঙ্গোক্তি বিষয়ে- কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের। জামাত কোনো নির্দিষ্ট দেশের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল নয়, একটা একটা কুৎসিত কনসেপ্ট তথা আদর্শের নাম। নাইজেরিয়াতে বোকো হারাম, আফগানিস্তানের তালিবান, শ্রীলঙ্কার LTTE, মিয়ানমার সামরিক বাহিনী (তাতমাদো), গোটা পাকিস্তান রাষ্ট্র কিম্বা ভারতের RSS, এরা সকলেই জামাত। এদের এক ভাবাদর্শ, একই চিন্তাধারা, শুধু দেশ ভেদে নাম গুলো আলাদা।

বিজেপির জামানাতে তীব্র ইসলামোফোবিয়া আক্রান্ত টক্সিক রাজনীতির অভিঘাতে এদেশের মুসলমানরা প্রতি মুহূর্তে আতঙ্কিত হয়ে রয়েছে। আপনি অমুসলিম হলে সেই আতঙ্কের ধাক্কার ১% অনুভব করতে পারবেন না। এই আতঙ্কই মমতার মূল হাতিয়ার ছিল- তৃণমূলকে ভোট না দিলেই বিজেপি চলে আসবে। আমরা শুরু থেকে বলে আসছি, মমতা ব্যানার্জি প্রান্তিক মুসলমানকে ভয় দেখাতে পারেনি, যে মুসলমানের ভোট পেয়ে উনি ক্ষমতার মসনদে। ২০২১ সালে NRC জুজুতে মুসলমান ভোট পোলারাইজেশন হয়েছিল, SIR ইস্যুতে তৃণমূলের ভয় দেখাবার প্রতিটা চাল বিফলে গেছে। চুরি দুর্নীতি বাদেও OBC ও ওয়াকফ ইস্যুতে গোটা সম্প্রদায় ফুসঁছে। ভোট দিতে পারলে তারা তৃণমূলের বিকল্পেই ভোট দেবে, আর সেটাই CPIM এর সামনে সুবর্ণ সুযোগ। লড়াইটা তো অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের, লড়াইটা খেটে খাওয়া মানুষের রুটিরুজির। গত ১২ তারিখ অবধিও তো সেটাই ছিল। শেষ ৩ দিন ফেসবুক ইউটিউব খুললেই দীপ্সিতা, কেউ পক্ষে তো কেউ বিপক্ষে। গোটাটাই অনর্থক বিষয়ে, এমনকি আমার এই পর্বটাও। 

বামেদের এই সমূহ সম্ভাবনাময় পরিস্থিতে একমাত্র নিজেদের ঘর থেকে সাবোটেজ না হলে আশাতীত ফলাফল অপেক্ষা করছে CPIM ও তার শরিকদের জন্য। যেকোনো ধরনের ধর্ম নিয়ে এমন উপহাস বিদ্রুপাত্মক লাগাতার নিকৃষ্ট মন্তব্যের উদাহরণ, অতীতে কোনো বাম নেতার নেই, এটা বামেদের ঘরানাই নয় গোটা বিশ্বজুড়ে। 

প্রতিকুর কেন ইস্তফা দিয়েছে জানি না, কিছু আগামীর সম্ভাবনা বীজ পুঁতেই সে যে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটার জন্য গনৎকার হতে হবে না। কেউ যখন আজকে পালাচ্ছে, এটা শুধু ঘোষনার দিন মাত্র; মানসিকভাবে সে ছ’মাস এক বছর আগেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শাসকের মার খাওয়াটা কারো একমাত্র যোগ্যোতা হতে পারে না, রাজ্য জুড়ে প্রতিটা বুথে এমন অসংখ্য বামকর্মী সমর্থক আছে, যারা শাাসকের অত্যাচারে ঘটি বাটি পরিবার সব খুইয়েছে। ফুটেজখোর হয়ে যাওয়াটা ভয়াবহভাবে মানসিক সমস্যা তৈরি করে। সৃজন-প্রতিকুর জুটির আমলে SFI এর সংগঠনের অন্তর্জলী যাত্রা সবচেয়ে দ্রুত হয়েছে, নতুন ইউনিট খোলা তো দূরস্থান বরং একের পর এক কলেজে ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে, নির্বাচন হয়নি, তার জন্য আন্দোলনটুকুও করেনি এরা। সৃজন গিটারবাদক হয়ে এবিপিতে গান গেয়েছে, প্রতিকুর হাত্তালি দিয়ে দন্ত বিকশিত করে ওই পথ বেয়ে রাজ্য নেতৃত্বে উত্তীর্ণ হয়েছে। 

SFI এর পদ সরে যেতেই প্রচারের লাইমলাইট হাওয়া হয়ে গেছে, এবারে ফুটেজ পেতে গেলে ময়দানে দৌড়ে কাজ করতে হবে কিম্বা সাম্প্রদায়িক এ্যাঙ্গেলে ফেসবুকে খেলতে হবে, দুটোতেই ফেল মেরেছে। এদিকে ISF, INC, JUP এর নিষিদ্ধ হাতছানি তো আছেই, বাকিটা সময় উত্তর দেবে। সৃজন, প্রতিকুর, দীপ্সিতা এদের রোগই হচ্ছে ভোটে দাঁড়ানো, বিধানসভা হোক বা লোকসভা- অমনি দাঁড়িয়ে যাওয়া, ফুটেজের পরাকাষ্ঠা। একই রোগে আক্রান্ত সুজন চক্রবর্তী এবং পার্টি সম্পাদক নিজেও। ভবিষ্যতে যদি দলের হাল আরও খারাপ হয় কখনও, এনারা কোমর বেঁধে পঞ্চায়েত বা মিউনিসিপ্যাল ইলেকশনেও দাঁড়িয়ে পড়বেন অতীতের ট্রেন্ড অনুযায়ী। সকলকে MLA/MP ই হতে হবে কেন? বাম রাজনীতিতে ‘রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা’ নিজেকেই কেন পেতে হবে!

একে তো হিন্দু ভোটের একটা বড় অংশ RSS এর ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক উন্মাদনার কারণে বিভ্রান্তির শিকার। ফলত এনাদের ভোটটা BJP পায়, যেটা প্রায় ১০%। বিজেপির কোর ভোটার ৫-৬%। বাকি প্রায় ২৩% হিন্দু ভোটার CPIMকে শাসক হিসাবে বিশ্বাস করা তো দুরস্থান, সামান্য বিরোধী হিসাবেও ভরষা না করার কারণে, তারা তৃণমূলকে ঠেকাতে বিজেপিকে ভোট দেয়। উত্তরবঙ্গে ৭টা জেলার দিকে তাকালেই তো উদাহরণ পায়ে হেঁটে এসে চোখে ঢুকে যায়। ২৩+১০, এই ৩৩% ভোটকে রাতারাতি সিপিএমের বাক্সে আনা যাবে না যতদিন RSS এর সরকার থাকবে রাজ্যে। 

ইনশাল্লাহ সুবাহানাল্লাহ আলহামদুল্লিলাহ বলা জনগোষ্ঠীর পুরো ভোটটা CPIM এর ঘরে ফেরা সম্ভব তৃণমূলের ঘর থেকে। এই সম্প্রদায়ের ০.১% জনগণও বিজেপিকে ভোট দেবে না মরে গেলেও। এদের ভোটার সংখ্যা তালিকাতে ৩০% ছুঁইছুঁই হলেও, পোলিং ভোটের ৪৩%। এই ভোটটা পুঁজি করেই তৃণমূল ক্ষমতায়, যারা নানা ভাবে তৃণমূলের উপরে অতিষ্ট ও মুক্তির পথ খুজঁছে। সেই সময় তাদের পাশে মরমী হয়ে দাঁড়াতে হবে, তাদের আপনজন হতে হবে, দেখনদারিতেও কার্যক্ষেত্রেও। মার্ক্স মাও লেনিন কপচিয়ে, উপহাস, ব্যঙ্গ, বিদ্রুপ করে প্রান্তিক মুসলমানকে ভরষা দিতে পারবেন না। 

RSS এর বিরোধিতা করতে গিয়ে কেউ বেদের বিরুদ্ধে, রামায়ণ মহাভারতের বিরুদ্ধে বা হিন্দু ধর্মের আরাধ্য দেবদেবী বা পূজার মন্ত্র নিয়ে উপহাস তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে পারি না। আমাকে কেউ সেই অধিকার দেয়নি। তাই জামাত বা RSS এর নামের আড়ালে এগুলো যে করে, তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। এতে ধর্মীয় ভাবাবেগ আহত না হলেও সামনের ব্যক্তিটির মনোভাব পরিষ্কার হয়ে যায়।

আসল সমস্যাটা গোড়ায়। আমাদের সমাজের সংখ্যাগুরু হিন্দু সম্প্রদায়ের ৯৭% মানুষ, মুসলমান সমাজের পরিকাঠামো সম্বন্ধে নূন্যতম ধারণা রাখেন না, প্রয়োজনও বোধ করেননি কখনও। যা আছে তা ওই ভাষা ভাষা, ওরা গরু খায়, কাকাতো মাসতুতো ভাই বোনে বিয়ে করে, এক একজন একগাদা বিয়ে করে, ওরা সিমুই লাচ্ছা খেয়ে গাদা গাদা বাচ্চা পয়দা করে, আর ক্রিকেট ম্যাচে পাকিস্তানকে সাপোর্ট করে। ফুলস্টপ। এর বেশি কিচ্ছু জানে না। কিছু নাস্তিক, শহুরে আঁতেল ও সোস্যাল মিডিয়ার মুসলমানকে দেখেই গোটা সম্প্রদায়কে জেনারালাইজড করে ফেলে, যেখানে মুসলমান সমাজে নাস্তিকের সংখ্যা ১% বা তারও কম। গোটা সম্প্রদায়ের ৮৩% মানুষই কৃষক বা শ্রমিক- আমার জ্ঞান মতে এরাই তো শ্রেণি। এরা তত্ত্ব বোঝে না, ইনশাল্লাহ সুবহানাল্লাহ-টা এদের মুখের আম ভাষা, ধর্মের পাশাপাশি তাদের সংস্কৃতি এটা। মমতা ব্যানার্জীর স্টাইলের ভাষা ওগুলো নয়, যেটা উপহাসের সাবজেক্ট। 

মুসলমান চাষী, মুসলমান মুনিষ, মুসলমান রাজমিস্ত্রী, সোনার কাজ করে, তাঁতি, দর্জি, জরির কাজ, এমব্রডয়ারি, চামড়ার কাজ, পিতলের কাজ, পালিশের কাজ, বিড়ি বাঁধা, ধুপ তৈরি, পশু পালন, মাছ চাষ, ইত্যাদি জাতীয় পেশাগুলো মোটামুটিভাবে মুসলমান দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত। রাজ্য অর্থনীতিতে মুসলমান নারী সম্পূর্ণভাবে রাজ্যের লক্ষীর ভান্ডারের উপরে নির্ভরশীল নয়। অর্থনৈতিক দিক থেকে মুসলমানকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না, এটা বুঝতে পেরেই একমাত্র বিজেপি জুজুর রাজনীতি আর নাগরিকত্বের প্রশ্নে টালমাটাল করে দেওয়ার মতো আবহ তৈরি করে, মুসলমান ভোটকে এতদিন নিয়ন্ত্রণ করেছে শাসক তৃণমূল। 

যারা গাঁ, গঞ্জ, বস্তির প্রান্তিক গরিব মুসলমান, বিশ্বাস করুন তারা সিংহভাগ ওই তিনটে শব্দের বাইরে আল্লাহ আর নবীটুকুই জানে, আর তেমন কিছুই জানে না। কেউ কেউ বড় জোর নামাজের কয়েকটা সূরা, তাই আবার ১ লাইন আরবি শব্দের মানে জানে না অধিকাংশ। তাদের আস্তিক ধর্মাচারণের নিত্যদিনের জ্ঞাপনের ভাষা ওই ইনশাল্লাহ, মাশাল্লাহ। ‘ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত’ এমন ভারি শব্দের মানেও এদের কাছে অচেনা, কিন্তু ওরা এটা বোঝে- কে আপন আর কে নয়। এই ফুটেজখোর উদ্ধত মহিলাটি ‘আমাদেরকে’ উপহাস করছে, ব্যঙ্গ করছে, বারংবার করেছে- এটা না বোঝার মতো নির্বোধ তারা নয়। 

আপনি বা আমি লেখার ভাষায় যত খুশি তত্ত্বের কচকচি করি না কেন, আম পাবলিক ততটুকুই নেয়, যতটুকু তার দরকার। সাধারন গরিব মুসলমান তারা ডান বা বামপন্থা বোঝে না, তারা অত্যাচার বোঝে, তারা পরিত্রাণ খোঁজে। আর বোঝে- কে তাদেরকে বোঝে। দীপ্সিতার এই ভাষা, সাধারণ মুসলমানকে CPIM থেকে দূরে সরিয়ে দেবেই। এটা না রাজনৈতিক প্রাজ্ঞতার পরিচয় না বুদ্ধিদীপ্ত সারকাজম। স্যাটায়ার ব্যাকফায়ার করে গোটা বিষয়টাকে ছড়িয়ে লাট করে দিয়েছে। লড়াই এর ময়দানে কোনো স্নো পাউডার, রিটেক, পিছনে ফেরা, কোনো কিচ্ছু নেই। প্রান্তিক মুসলমান সমাজের কাছে বার্তা যাচ্ছে- এদের দলই হয়তো একে খোলা ছেড়ে রেখেছে, কারণ ইনি দলের অন্যতম মহিলা মুখ। এটাই তৃণমূল বোঝাচ্ছে, কারণ তাদের ভোটে জিততে হবে। মুসলমান ভোটেই তাদের প্রাণভোমরা টিকে আছে। সিপিএমের সংগঠন এমন অবস্থাতেও নেই যে তারা তৃণমূলের পাল্টা হিসাবে মাঠে ময়দানে মুসলমান মহল্লাতে ‘পাল্টা’ ন্যারেটিভ পৌঁছে দিতে পারবে। এই নেত্রী ও তার ভক্তকুলের মতো ফেসবুকের ফুটেজ বিপ্লবের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্গাজম দিয়ে শূন্য কাটবে না। 

অথচ, বিষয়টা তেমন গুরুত্বপূর্ণই ছিল না। সামান্য তিল, যাকে তাল পাকিয়ে দিয়েছে এ পাড়ের জামাত মনোভাবাপন্নেরা, যারা চায় CPIM শূন্যই থাকুক। এই মহিলা, বারংবার ফাঁপা স্টান্টবাজি করতে গিয়ে এমন কথা প্রতিবার লেখে, যেটা শুধু অশোভনই নয়, নিতান্তই অপ্রয়োজনীয়। এই ফাঁকে জিম নাওয়াজের মতো বিষাক্ত সাপগুলো, ছুপা জামাতেরা দাঁত নখ বের করে আক্রমণের সুযোগ পেয়ে গেছে। ব্যক্তি দীস্পিতা উহ্য হয়ে গিয়ে গাঁ গঞ্জের প্রান্তিক মুসলমানের কাছে CPIM কে মুসলমান বিদ্বেষী হিসাবে প্রতিকৃত করার অপচেষ্টায় লেগে পড়েছে। 

তৃণমূল রাজনীতি করতে এসেছে, এমন বহু phd ধারীকে ওরা চাকরবাকর বানিয়ে রেখেছে। ভায়া আইপ্যাক, তারা সোশ্যাল ইঞ্জিয়ারিংটা বোঝে, তাই তারা ইউসুফ পাঠান, জুন মালিয়া বা সায়ন্তিকার মতো অপগন্ডদের জিতিয়ে আনতে পারে। মমতা ব্যানার্জী RSS এর সহযোগিতাতে ইনশাল্লাহ সুবহানাল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ করতে করতেই গোটা সম্প্রদায়কে দুধেল গাই বানিয়ে দিয়েছে, আর সেটা থেকেই এই সমাজটা মুক্তি চাইছে। মমতা তার বুলি দিয়েই বামফ্রন্টকে শূন্য করে দিয়েছে। যারা দীপ্সিতার সমর্থনে শেষ ৩ দিন ধরে 'ভুলটা কী বলেছে' জপে গেল- তাদের সেই বোধটা থাকলে আর্যভট্টের আবিষ্কারের সাথে একাত্বীভূত হতে হতো না আপনাদের। জামাত শব্দের ঝুলফাঁদে আপনারা গুলিয়ে দিতে পারবেন না। না জানাটা অপরাধ নয়, কিন্তু সেই নির্বুদ্ধিতাকে প্রমাণ করার তাগিদে গলা ফাটালে সেটা যে শুধু হাস্যকরই হয় তা নয়, ভিতরের অন্তঃসার শূন্যতাটাও প্রকাশ পেয়ে যায়।

আমার বেশকিছু বামমনস্ক বন্ধুকে দেখলাম দীপ্সিতার হয়ে অভিষেক শর্মা স্টাইলে চালিয়ে খেলছেন। 'ম্যান টু ম্যান' বিতর্কে যাব না আমি, প্রত্যেকের নিজস্ব মতামত আছে। আমার ভাবনা যেমন আমি চাপিয়ে দিই না, তেমন আমাকেও তেমন আপনার সাথে প্রতিটা বিষয়ে লাইন বাই লাইন ঐক্যমত হতে হবে না। ভক্ত তাদেরই বলে যারা অন্ধ সমর্থক, এক্ষেত্রেও লাইন দিয়ে যারা অন্ধ সমর্থন করছেন আপনারা লালচাড্ডি বা লালবাবু। এই আপনারাই তো বামেদের পক্ষে জান কবুল করে দায়িত্ব নিয়ে দলকে শুধু শূন্যতেই পৌঁছে দেননি, ভোট শতাংশকেও ৫%এ টেনে নামিয়েছেন শেষ এক দশকে। ফেসবুকে আপনাদের ৫০০০ জন সর্বজ্ঞ আদর্শবান কমিউনিস্ট ও সেকুলারের ভোটে ২০২১ এর নির্বাচনে ১৫৮টা কেন্দ্রে জামানতটুকুও বাঁচাতে পারেননি নিজেদের দলের। চাইলেই একটু শিক্ষিত হওয়া যায় বৈকি, তবে মূর্খ ও উদগান্ডু হওয়ার অধিকার সকলেরই আছে।

…ক্রমশ


রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

২০২৬ প্রাক বিধানসভা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটঃ ভয় পর্ব

 


(২)

সোভিয়েত পতনের সাথে সাথে সাথেই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছোট বড় প্রত্যেকটি পকেটে বামপন্থী কর্মী সমর্থক এবং শাসকের উপরে বিভিন্ন পদ্ধতিতে হামলা শুরু হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গ তার ব্যতিক্রম ছিল না। ১৯৯৩ এ উগ্র বিধ্বংসী আন্দোলনের নামে মমতা ব্যানার্জীর উন্মত্ততা তারই প্রকাশ বলা যেতেই পারে। তাই ৯০ দশকের গোড়াতেই RSS এর ঔরসে কংগ্রেস গর্ভে তৃণমূলের জন্ম নেওয়া যে একটি সুদূর প্রসারী লগ্নি ছিল, তা মেনে নিতে আজ অন্তত দ্বিধা থাকার কথা নয়, যা আজকের তৃণমূলের রাজত্বে প্রমানিত। 

১৯৯৮ সালে জন্ম নিয়েই মমতা ব্যানার্জীর তৃনমূল ২৮টা লোকসাভা আসনে লড়াই করার মতো রসদ যোগাড় করেছিল RSS এর মাধ্যমেই, সেটা প্রামান্য নথিতেই রয়েছে। বিজেপির সাথে ২:১ আসন ভাগে লড়ার সিদ্ধান্ত তো RSS ছাড়া হয়নি, ২৮টা লোকসভা আসন মানে ১৯৬টা বিধানসভা আসনে লড়াই করা কী ছেলেখেলা? কে দিয়েছিল সেই বিপুল অর্থ? পাশাপাশি বিজেপিকেও ৯৮টা আসনে শক্তি দিয়েছিল। সেদিন কি বিজেপি সাম্প্রদায়িক ছিল না? বাবরির ঘা তো তখনও শুকায়নি! এই তৃণমূলই আজকে বিজেপিকে রোখার রঙিন গল্প বলে, মুসলমানকে ভয় দেখায়। আশ্চর্যভাবে দুধেলগাইগুলো বিশ্বাসও করেছিল ও করে। কটা দিন যেতে দিন, মমতার চোর ইমেজের ভাবমুর্তি মুছে দিতে তার নানান পডকাস্ট সাক্ষাৎকার বাজারে আসবে, নানান চ্যানেলে; যেন তিনি ‘দেবী’ এমন ভাবে পোট্রেট করা হবে।

৩৪ বছরের বাম শাসনামলে কংগ্রেস, তৃণমূল বা উভয় জোটের ভোটের শতাংশ কখনই ৩৫ শতাংশের নিচে নামেনি। তাই ২০০৯ বা তার পরবর্তী ২০১১ এর রণনীতি সাজাতে তথা কংগ্রেসের গুরুত্ব অনুধাবন করতে- তৃণমূল নেতৃত্বের খুব একটা ভুল হয়নি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ২০১১ এর পরিবর্তন- কংগ্রেসের সাহায্য ছাড়া কোনোমতেই সম্ভব ছিল না। শুধুমাত্র বাম বিরোধিতাকে ভিত্তি করে জন্মানো তৃণমূল- তার জন্মদাত্রী জাতীয় কংগ্রেসের সংগঠন ও ভোটাদের ধীরে ধীরে খেয়ে এমন ছিবড়ে করে ফেলেছে যে, আজকের তারিখে গনি খানের গড়ে তাদের পরিবার কিম্বা অধীর চৌধুরী পর্যন্ত নিজেদের আসন হারিয়ে ফেলেছে। সোমেন মিত্র থেকে মানস ভুঞ্যাঁ, এমন সকলকে চটির নিচে এক লজ্জাজনক আত্মসমর্পন করতে বাধ্য করেছে।

অপারেশন বর্গা ও দীর্ঘ বাম শাসনে রাজ্যের বিরোধী হিসাবে অধিকাংশ সময়কালটাই জাতীয় কংগ্রেসই ছিল। স্বভাবতই তাদের ভোটারের মধ্যে একটা স্থায়ী বাম বিরোধ, বিবাদ বা দ্বন্দ্ব যা খুশি বলুন- এগুলো স্থায়ী হিসাবে চরিত্রে গেঁথে গিয়েছিল। উল্টোদিকে কংগ্রেসের প্রতিও একই অসূয়া বামেদের মধ্যেও তীব্রভাবে ছিল, ফলে উপরতলার জোট তথা সমঝোতা কখনই নিচুতলায় স্বতঃস্ফূর্ততা আনেনি, উল্টে অভিযোগের অন্ত ছিল না। স্বভাবতই কংগ্রেসী ভোটারদের মধ্যে পারিবারিকভাবে একটা স্থায়ী বাম বিরোধীতা অনেকটা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত। তবুও একটা জিনিস বলা যেতে পারে, যেহেতু নির্বাচনে জিতলে শাসন ক্ষমতা মূল চাবিকাঠি বামেদের হাতে থাকতো, তাই জোটের ব্যাপারে বামেরা যতটা আন্তরিক এবং সক্রিয় ছিল; মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কংগ্রেস সমর্থকদের পক্ষে বামেদের জন্য ততটা আন্তরিক হওয়া সম্ভব ছিল না এবং বাস্তবে তারা হয়ওনি। 'কংগ্রেস আমাকে ভোট দেয় না' বলে কান্নাকাটি করা ফেসবুকের বাম সমর্থকদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা নিয়ে এই কারণেই বারবার প্রশ্নচিহ্ন ওঠে।

১০ বছরের সম্পর্কে পারস্পারিক অভিযোগগুলো মোটামুটি একই থাকলেও, বামকর্মী সমর্থদের তরফে দাবীগুলোর বাস্তব সারবত্তা ছিল। যেমন, বুথে ঝান্ডা টাঙ্গানোর লোক নেই কংগ্রেসের, পোস্টার ব্যানার ছাপাবার টাকা দেয় না, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার মঞ্চ থেকে মাইক সব নিজেদের খরচা করতে হয়। যেহেতু সবকিছুই চাঁদা দিয়ে করতে হয় তাই কংগ্রেসের প্রার্থীর নামে কেউ চাঁদা দিতে চায় না। কংগ্রেসী সমর্থকরা বাম নেতৃত্বের মিটিং মিছিলে মাঠে আসে না। বক্তা তালিকা কংগ্রেস নিজেদের মতো ঠিক করে, মঞ্চের টাইমে বামেদের বলার সুযোগ দেয় না বা কম দেয়। চাহিদা মতো কংগ্রেসী কোনো বিশিষ্ট বক্তাকে চাইলে তাদের উপেক্ষা করা। যেকোনো গন্ডগোল হলেই পলায়ন করে, পরবর্তী মামলা মোকদ্দমাতে সাথ দেয়না, ইত্যাদি। 

সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল- হাতে গোনা দু-চারটে আসনের বাইরে ৯৯% বুথে কংগ্রেসীদের এজেন্ট না দিতে পারার অক্ষমতা, উলটে বামেদের তরফে এজেন্ট বসাতে হয়েছে। এত কিছু করে ক্যান্ডিডেটকে জেতালে, সে বিক্রি হয়ে তৃণমূলে চলে যাবে না- এই আতঙ্ক সারাক্ষণ তাড়া করে ফিরেছে বামেদের। 

২০১৬ পরবর্তী বাম-কংগ্রেস জোটের পরীক্ষা যে একপ্রকার ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৬ এর নির্বাচনের আগে কংগ্রেস নেতৃত্ব তথা রাহুল গান্ধী বিষয়টা বুঝে, একটা স্থির সিদ্ধান্তে আসতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাহুল গান্ধীর কেরলের ওয়েনাড আসনে দাঁড়ানোটাই জোট ভাঙ্গার ইঙ্গিত ছিল, ২০২৪ এ প্রিয়াঙ্কাকে পুনরায় ওখান থেকে প্রার্থী করে সেটাতে সীলমোহর দিয়েছিল। ইয়েচুরি পরবর্তী বাম নেতৃত্বের তরফে দেওয়াল লিখন পড়তে না পারার দায় তাদের নিজস্ব এ্যাচিভমেন্ট, বিশেষ করে বঙ্গ সিপিএম এর। বঙ্গ CPIM কাটা হাতকে সামনে ঝুলিয়ে রেখে, দুটো চারটে আসনে বৈতরিনী পার হওয়ার ঘিনঘিনে প্রচেষ্টা করলেও, মাটিতে টিকে থাকা বামকর্মী সমর্থকরা যে খুব ভালোভাবে নেয়নি, সেটা শুরুর দিন থেকেই পরিষ্কার ছিল। তাই ভোট পরবর্তী নির্বাচনী ফলাফল ব্যাখ্যার নামে বিরাট একটা বিবৃতি প্রকাশের দ্বারা- দায়িত্ব অস্বীকারের যে প্রবণতা নেতৃত্বের মধ্যে দেখা দিয়েছিল, সেখান থেকে বিভিন্ন রকম অজুহাতের মধ্যে ‘আমরা ভোট দিলেও কংগ্রেস আমাদের ভোট দেয় না’ জাতীয় একটি অক্ষম অজুহাত শুরুতেই বাদ পড়ে গেছে। 

সবচেয়ে বড় সমস্যার মুখোমুখি হতে চলেছে বামফ্রন্টের তথাকথিত শরিক দলগুলি। RSP ইতিমধ্যেই রাজ্যে তাদের সিম্বল হারিয়েছে, এই শতকের শুরুর মুর্শিদাবাদের মাটিতে তাদের শক্তিশালী অংশগুলিতেই আজ হুমায়ূন এর পার্টির উদ্ভব হয়েছে, তবে হুমায়ূন সম্পর্কে মন্তব্য করার মতো সময় এখনো আসেনি। এদিকে CPI আর SUCI এখন এক সারিতে দাঁড়িয়ে, সেই অর্থে এরা পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে কোনো শক্তিই নয়। রাজ্যে CPI এর সিম্বলটুকু টিকে আছে শুধুমাত্র পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কল্যাণে। বামফ্রন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শরিক ফরওয়ার্ড ব্লক- কোচবিহার আর পুরুলিয়াতে পঞ্চায়েত স্তরে সামান্য অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারলেও, উত্তর দিনাজপুর, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা, এমনকি মূল শহর কলকাতার সংগঠন শক্তি ও ভোটার সবকিছুই হারিয়েছে। উত্তরবঙ্গে বিজেপির উত্থান ও দক্ষিণবঙ্গে ISF দলের উত্থানের অন্যতম কারণ ফরওয়ার্ড ব্লকের ব্যর্থতা। 

জোটের দায়বদ্ধতার দরুন সিপিএম নেতৃত্ব নিজের ভাগের আসন ছেড়ে জোট সঙ্গীদের দিলে কোন সমস্যা ছিল না, কিন্তু নিধিরাম সর্দার অন্যান্য বাম শরিক, যাদের দলের ৯৫% চটির নিচে সেঁধিয়ে গেছে, তাদেরকে আসন বিষয়ে ছাড় দিতে বললেই তারা বেড়ালের মতো ফ্যাচ ফ্যাচ করে দাঁত নখ বের করে বাম ঐক্যের বিষয়ে গল্পমালা ফাঁদাটা অভ্যাসে পরিনত করেছে। আশ্চর্যজনকভাবে কেরলের UDF ফ্রন্টে RSP-ফরওয়ার্ড ব্লক কংগ্রেসের সাথেই আছে, সেটা পুরোটাই ভাবের ঘরে চুরি বা ধ্যাষ্টামো।

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিরোধীরা রাজ্যের যে যেখানেই নির্বাচিত হয়েছে, তারা তৃণমূলের লুঠেরা বাহিনীকে প্রতিহত করে তথা পাল্টা ঠেঙিয়েই জিতেছে। আজ দীর্ঘদিন বাদে এমন ব্যাতিক্রমী পরিস্থিতে মহঃ সেলিম যেভাবে মিডিয়ার বাইনারিকে ভেঙে সিপিএমকে প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করছেন, সেটার জন্য কোনো সাধুবাদই যথেষ্ট নয়। তাই তৃণমূলীয় লেঠেল বাহিনীর বিরুদ্ধে জিততে গেলে, পাল্টা মার দিতে হবে। নিজেরা না পারলে, যে পারবে তাকে সাথে নিতে হবে। এটাই সমসাময়িক আদর্শ। নতুবা বাংলা কংগ্রেস, স্বরাজ পার্টি, রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস, প্রগতিশীল ইন্দিরা কংগ্রেস, বাংলা বাঁচাও ফ্রন্ট ইত্যাদির ভিড়ে নিজের দলকে দেখার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিন। CPI, RSP ও ফরোয়ার্ড ব্লক ওই অন্তর্জলী যাত্রার পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে। বামপন্থা তার বৈপ্লবিক আদর্শে নতুন অবতারে নতুন নামে আবার হাজির হবেই, কিন্তু আপনার পছন্দের দলটা এই ফর্মে থাকবে না, এটার গ্যারান্টি দিলাম।

RSS তাই পার্টি সেক্রেটারিকে মুসলমান হিসাবে দাগিয়ে দেবেই, কারণ ওরা মরিয়া। এই কারণেই যেকোনো মূল্যে ISF এর সাথে আসন সমঝোতাটাকে গুলিয়ে দিতে চাইছে RSS, বিজেপি যেহেতু ২০২৬ এর নির্বাচনে বাংলার ক্ষমতা দখলের লড়াই থেকে দৃশ্যত ছিটকে গেছে, তাই তাদের খোঁচর তৃণমূল যেন টিকে থাকে, এই চেষ্টাতে তারা জান লড়িয়ে দেবে, তবেই হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি জীবিত থাকবে এই বাংলার মাটিতে, তবেই RSS এর এ্যাজেন্ডার বাস্তবায়ন ঘটবে বিনা বাধায়। এই কারণেই হুমায়ূনের সাথে সামান্য মিটিং করলেই গোটা মিডিয়া ও স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবীরা অদ্ভুত জান্তব ব্যথায় ককিয়ে উঠে চেঁচিয়ে গাঁ মাথায় করছে। যেচে সিপিএমকে নীতি নৈতিকতার পাঠ পড়াচ্ছে, যাদের নিজেদের ও জিনিস কখনই ছিল না। 

সুতরাং, বাম-কংগ্রেস জোট না হয়ে বিরোধী ভোটের বিভক্তিতে যেখানে শাসক তৃণমূল শিবিরের উল্লসিত হওয়ার কথা ছিল, তার বদলে আইপ্যাক, তৃণমূল নেতৃবৃন্দ, তাদের কর্মীদল, তৃণমূল পোষিত বুদ্ধিজীবী, বিশ্বমাচাদো বিশ্লেষকের দল ও দালাল মিডিয়ার মধ্যে হাহাকার রব উঠে গেছে বহুমুখী ভোটের অজানা শঙ্কায়। এর পরেও এই পুঁজিবাদী ধর্মান্ধ RSS শেষ মুহুর্ত অবধি বামেদের ভিলেন বানাবার চেষ্টা করবেই। এর জন্য যেকোনো অসাধু উপায় তারা অবলম্বন করতেই পারে।

এখানেই আরো একটা ভয়াবহ বিষয় উঠে আসে, যা বামেদের গোটা সম্ভাবনাকে ভুঁয়ে মুড়িয়ে দিতে পারে। RSS এর ইতিহাস দেখলে দেখা যায়, প্রথমত তারা ডাবল এজেন্ট নিয়োগ করে। সবসময় অনেক দূরের লক্ষ্যে চারা রোপন করে, যেমন মমতা ব্যানার্জীর পিছনে তারা লগ্নি করেছিল, আজ পবন কল্যাণের পিছনে লগ্নি করছে। দ্বিতীয়ত, অন্যের খামারে বেড়ে উঠা তাজা প্রতিশ্রুতিমান লোভী নেতা-নেত্রীদের টার্গেট করে দলে ভিড়িয়ে, নিজেদের পার্পাস সার্ভ করে। ঠিক আজকের দিনে বাংলার শুভেন্দু, মহারাষ্ট্রে শিন্ডে, আসামে হেমন্ত বিশ্বশর্মা, মধ্যপ্রদেশে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। আসামে অগপ থেকে বিজয়া চক্রবর্তীকে নিয়ে এসেছিলো RSS, আজকের আসাম সহ গোটা উত্তরপূর্ব ভারতে যে সাম্প্রদায়িক অশান্তি- তার মূল বীজ বপন করেছিলো এই নৃশংস মহিলা। অতীত ঘাটলেও কংগ্রেস, সমাজবাদী দলগুলো এমনকি বামেদের ঘর থেকে গিয়েও অনেকে RSS এর প্রধান রাজনৈতিক শাখা BJP এর মুখ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারায়ন রাণে, রীতা বহুগুণা যোশী, রভনীত বিট্টু, মুকুল রায়, গৌরব ভাটিয়া, নীরজ শেখর- অগুন্তি। 

মমতাকে কাউন্টার করার জন্য বিজেপির প্রতিটা মহিলা প্রোজেক্ট ফেল করেছে। রূপা গাঙ্গুলী ফেল, লকেট চ্যাটার্জী ফেল, দেবশ্রী চৌধুরী ফেল, অগ্নিমিত্রাও আঁটকে গিয়ে- মুসলমানকে ক্রিমিনাল দাগিয়ে মিডিয়াতে ভেসে থাকার চেষ্টাতে মত্ত। এদিকে বিজেপির একটা আগামীর মুখ ভীষণ দরকার, ইতিমধ্যেই বামেদের মহিলা ব্রিগেড যথেষ্ট শক্তিশালী। ABVP এর পাইপলাইনে এমন একটাও মুখ নেই যাকে নিয়ে ব্রাহ্মণ্যবাদী RSS আশাবাদী হতে পারে। ফাল্গুনি পাত্র, পামেলা গোস্বামী, শ্রীরূপা মিত্র, মৌসুমী বিশ্বাস, চন্দনা বারুই দের নামই শোনেনি বাংলার মানুষ। তাহলে?

এখানেই রাজন্যা হালদারের এ্যান্ট্রি হচ্ছে। না তাকে দলে নিয়েছে বিজেপি, না সে তৃণমূলে রয়েছে। রাজন্যার ডেবিউ হয়েছে স্বপ্নের মত, মমতার উপস্থিতিতে ২১শে জুলাই এর মঞ্চে । রাজন্যা কখনও ভোটেও লড়েনি, অথচ সে যেকোনো বিজেপি নেত্রীর চেয়ে বেশী পরিচিত ও জনপ্রিয়। সে সুন্দরী, প্রেসিডেন্সীর ট্যাগ রয়েছে, ভালো কথা বলে, বাকীটা ঘষামাজা করে নিলেই আগামী এক দেড় দশকে রেডি হয়ে যেতে পারে। দৃশ্যত আজকের জটাধারী রাজন্য হ্যাক হয়ে গেছে RSS এর ফাঁদে। যেমন ৯০ এর দশকের শেষ লগ্নে মমতা ব্যানার্জীতে RSS লগ্নি করেছিলো। তবে রেডি করা আর রেডি হয়ে যাওয়া দুটো এক নয়, রাজন্য একটা বাজি, সে বাজি সফল হবার চান্স যতটুকু, ফেল করার চান্সও ততটুকুই। RSS কী আর কারো দিকে গোপনে ললিপপ ছুঁড়ে দেয়নি হলপ করে বলতে পারবেন? তারা কী অন্য দলের উঠতি নেত্রীদের দিকে টোপ ফেলেনি?

তাই আগামীতেও আমাদের রাজ্যে যে এমন পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বা ইতিমধ্যেই কাউকে গোকুলে গোপনে বাড়াচ্ছে না তারা, সে বিষয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সাথে সিপিএম নেতৃর্ত্বও কি সতর্কতা অবলম্বন করেছে?

এ বিষয়ে এই সিরিজের পরবর্তী কিস্তিতে লিখব, সম্ভাবনা ও সেই সংক্রান্ত ভয়।

…ক্রমশ


শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

২০২৬ প্রাক বিধানসভা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটঃ কংগ্রেস পর্ব


 পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের ৩৬০ ডিগ্রি এ্যাঙ্গেল খুলে গেছে


(১)

শিয়রে এক গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। যেখানে কমপক্ষে ৬টা আলাদা আলাদা ফ্রন্টে লড়াই হতে চলেছে সম্মুখ সমরে- যারা যেকোনো মুহূর্তে হিসাবনিকেশ ফলাফল উলটে দিতে পারে। ফলত, CPIM তথা বা বাম জোটের কাছে একটা সুবর্ণ সুযোগ এসেছে নিজেদেরকে বেশ কিছুটা গুছিয়ে নিয়ে, সংসদীয় রাজনীতিতে নিজেদের প্রাসঙ্গিক করে তুলতে, যাতে আগামী দিনে কমিউনিস্ট রাজনীতির আদর্শে আবার জনগণকে একটা উন্নত সরকার উপহার দিতে পারে। 

তৃণমূল, বিজেপি, বামফ্রন্ট, কংগ্রেস, হুমায়ূন ও সমগোত্রীয় এবং SIR; নূন্যতম এই ছ'টা আলাদা আলাদা ফ্রন্টে লড়াই হতে চলেছে। প্রথমেই প্রশ্ন জাগবে SIR কেন ষষ্ঠ সত্ত্বা বা entity? আসলে SIR হলো সেই মিস্ট্রি স্পিনার, যার স্পেলে বাদ যাওয়া ভোটারেরা কার ঘর কতটা ভেঙেছে সেটাই সবচেয়ে বড় রহস্য, যা নির্বাচনের অভিমুখ ও বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে দেবে। আজকের দিনে কটা আসন যে মার্জিনাল, তা অতি বড় ভোট বিশেষজ্ঞও বলতে পারেনি। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী খসড়াতে মোট বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯। মানে প্রতিটা বিধানসভায় গড়ে ২০ হাজার ভোটার নেই হয়ে গেছে। মিথ্যা নথি জমা দিলেই জেল- এই তথ্য জানতে পারার পর, বাগদা বিধানসভায় শুনানিতে ডাক পাওয়া ৬০,৯২৮ জনের মধ্যে মাত্র ২১,৬২৮ জন হাজিরা দিয়েছে। বনগাঁ উত্তরে ৫৪,৪৯৩ জনের মধ্যে ১০,০৬৩ জন হাাজির হয়েছে। বনগাঁ দক্ষিণে ৪৭,৮৮৯ ডাক পাওয়ার মধ্যে ১২,১০৩ জন এসেছিল, গাইঘাটায় ৫৪,৪০৪ জনের মধ্যে ১৬,০৮১ জন হাজির হয়েছে। সুতরাং বিজেপির বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এই পরিসংখ্যান কি যথেষ্ট নয়! ফাইনাল লিস্ট প্রকাশিত হলে প্রতিটা বিজেপি তৃণমূলের নেতামন্ত্রীদের ঘর থেকে মরাকান্নার গোঙানি ওঠা সময়ের অপেক্ষা।

তৃণমূলের হালের দিকে চেয়ে দেখুন, যেমন কোলকাতা পোর্ট কেন্দ্রে তৃণমূলের ফিরহাদ হাকিম ৬৮০০০ ভোটে জিতেছিল ২০২১ সালে, ওই কেন্দ্রে SIR এ বাদ গেছে ৭৪ হাজার নাম। অনুরূপ, বালিগঞ্জ কেন্দ্রে বাদ গেছে ৬৪ হাজার নাম, সেখানে বাবুল সুপ্রিয় ২০ ভোটে জিতেছিল। নন্দীগ্রামে হেরে এসে বাই ইলেকশনে ভবানীপুরে মমতা ব্যানার্জী জিতেছিলেন প্রায় ৫৯ হাজার ভোটে, সেই কেন্দ্রে SIR এ বাদ গেছে ৪৪ হাজার নাম। আর এ সবই প্রাথমিক খসড়া তালিকা অনুসারে, ফাইনাল তালিকাতে আরো কতটা কী বাদ যাবে কেউ জানে না। এই তিনটে তো স্যাম্পেল হিসাবে দিলাম, সবচেয়ে বেশী ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার নিরিখে প্রথম ১০টি বিধানসভা কেন্দ্র জোড়াসাঁকো, চৌরঙ্গী, হাওড়া উত্তর, কলকাতা পোর্ট, শ্যামপুকুর, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, বেলেঘাটা ইত্যাদির মতো সবকটা তৃণমূলের জেতা আসন। গোটা পশ্চিমবাংলা জুড়েই এই এক চিত্র, ২৯৪ টা আসনের কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না যে এটা আমাদের কনফার্ম আসন। এই কারণেই আইপ্যাক শহর কলকাতা সহ কোথাও এখনো প্রার্থী ঠিক করেই উঠতে পারেনি, ঘোড়ার মুখের খবর ববি হাকিমের রাজ্যসভায় পালিয়ে যেতে চাওয়ার কারণও নাকি এই ঘোলাটে পরিস্থিতি।

এদিকে বামকর্মী সমর্থকদের প্রবল অনিচ্ছা জ্ঞাপনের দরুনই হোক বা শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বাধীন জাতীয় কংগ্রেসের একলা চলো নীতি- বাম কংগ্রেস বিচ্ছেদ ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের মাঠটাকেই শুধু বড় করে দেয়নি, বাম ও কংগ্রেস উভয়কেই বিবিধ এক সম্ভাবনাময় পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করে দিয়েছে; যেখানে RSS তাদের পোষ্য মিডিয়া সৃষ্ট ‘তৃণমূল-বিজেপি’ বাইনারির হেজিমনি হাজারো চেষ্টাতেও দাঁড় করিয়ে রাখতে পারছে না ‘জাপানি তেল’ দিয়েও। 

SIR এ একমাত্র নিশ্চিন্ত কংগ্রেস এবং বামেরা, এদের হারাবার কিছু নেই। কিন্তু তৃণমূল ও বিজেপির নাভিশ্বাস উঠে গেছে, আগেও লিখেছি ৯৩ টা এমন আসন রয়েছে যেখানে তৃণমূলের জয়ের মার্জিনের চেয়ে, খসড়া তালিকাতেই বাদ যাওয়া ভুতুড়ে ভোটারের সংখ্যা অনেক বেশি। পাশাপাশি SIR প্রক্রিয়ার দরুন বিজেপি তার কোর ভোটারদের কাছেই অবিশ্বাসের পাত্র হয়ে উঠেছে।

দেশজ রাজনীতিতে জাতীয় কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে কখনও মুলায়ম, কখনও লালুপ্রসাদ, কখনও শিবু সোরেন, শরদ পাওয়ার, দেবগৌড়া, কিম্বা পশ্চিমবঙ্গে কখনও মমতা কখনও সিপিএম জাতীয় অসম জোটের মধ্যে থেকে- কংগ্রেস কোথাও শক্তি খুইয়েছে আবার পশ্চিমবঙ্গের মতো কোথাও একেবারে সাইনবোর্ডে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন পরে রাহুল গান্ধীর ‘সাহসী সিদ্ধান্ত’র দরুন বাংলার প্রতিটা প্রান্তের কংগ্রেসি ভোটারেরা অন্তত ২০ বছর পরে নিজের বুথে হাত চিহ্ন দেখতে পাবেন। 

কিন্তু কংগ্রেসের সাথে বামেদের জোট হচ্ছে না, তার জন্য সোশ্যালমিডিয়া জুড়ে তৃণমূল পোষিত বিশ্বমাচাদো বুদ্ধিজীবী, আইপ্যাক, মিডিয়া হাউস, এমনকি বিজেপি অবধি মরাকান্না জুড়েছে, কেন? 

শুরুতে কংগ্রেসী ভোটাররাই মূলত তৃণমূলে কনভার্ট হয়ে গিয়েছিলো বাম বিরোধীতার নামে। পরবর্তীতে তৃণমূল যখন জাতীয় কংগ্রেসকে গ্রাস করে নিঃস্ব করে দিল, তখন পিছন ফিরে আদি কংগ্রেসী ভোটারেরা দেখেছে- আমরা প্রতারিত হয়ে ফেঁসে গেছি, ফেরার পথ নেই। শুরুতেই বলেছি এরা বামেদের ভোট দেবে না কোনও ভাবেই, বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে এনারা ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে ঘেন্না করেন, পড়ে রইল তৃণমূল। গত ১০ বছরে কংগ্রেসের নিজস্ব সিম্বল না পেয়ে অনেকে বাধ্য হয়ে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে, যা এবারে হবে না। এটা তৃণমূলকে একপ্রকার উন্মাদ করে দিয়েছে। ১০ বছর আগের অগ্নিকন্যা দুর্নীতির আগুনে পুড়ে, আপাদমস্তক চোরের দলের মাথা হিসাবে ঘুগনি কন্যায় রুপান্তরিত হয়েছেন; তাই ‘হাত সিম্বল’ পেলে' এই তৃণমূল আর নয়” জপতে জপতে আদি কংগ্রেসী ভোটার ঘরে ফিরে যাবেই যাবে।

কংগ্রেসের ভোট কীভাবে বহুমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, সেটার দিকে তাকানো যাক। উপরেই বলেছি, নিজের দলকে ভোট দেওয়ার সুযোগ। তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে প্রতিবাদী ভোট, যারা তৃণমূলের নিপাত চায়, মুক্তি চায়। যারা বিজেপিকে কখনই গ্রহণযোগ্য মনে করে না এবং সাইলেন্ট কংগ্রেস ভোটার। গ্রামগঞ্জে এখনো অনেক বয়স্ক মানুষ আছে, যিনি নিজে ও তার পরিবার আদপেই কন-ম্যান, শাসক বিরোধী কোনো দলের সভায় যায় না, কিন্তু ভিতরে ভিতরে চরম কংগ্রেসপন্থী- এরা হাত চিহ্ন পেলে, ভোটটা তাতেই দেবে। দেশে বহু মানুষ এমন আছেন যারা ঐতিহ্যগত ভাবে কমিউনিজমের বিরুদ্ধে, কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ ও সংবিধানভিত্তিক শাসন চান, তারা কংগ্রেসে ছাপ মারবে। আরেকটা জটিল মনস্তত্ত্বও রয়েছে, বিশেষ করে শিক্ষিত মধ্যবিত্তের একটি অংশ যারা কেন্দ্রে বিজেপির পতন চায়, তারা কংগ্রেসকে শক্তিশালী করতে হাতে ছাপ দেবে, যাতে ভবিষ্যতের জন্য দলকে শক্ত করা যায়। অনেকের ভাবনা, তৃণমূলের পতন হলেই রাজ্যে ডানপন্থী বিজেপি বিরোধী শক্তি হিসাবে কংগ্রেসই আবার উঠে আসবে, যে ট্রেন্ড অন্য অনেক রাজ্যেই হয়েছে, সেটার নান্দীমুখ হিসাবেও অনেকে কংগ্রেসে ভোট দেবে। 

এই বহুমুখী লড়াই এর ময়দানে কংগ্রেস কালো ঘোড়া, তারা কটা আসন জিতবে সেটার চেয়ে বড় হচ্ছে তারা কত শতাংশ ভোট পাবে যদি অবাধ ও লুঠ মুক্ত নির্বাচন হয়। SIR পরবর্তী বাংলাতে অন্তত ১০০ টির বেশি বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেসের ভোট আশ্চর্যজনক ভাবে বাড়বে, আর এই ভোটের প্রতিটাই যে তৃণমূল ও বিজেপির ঘর কেটে বেরিয়ে আসবে সেটা বলাই বাহুল্য। আর কিছুদিন গেলেই মিডিয়া জুড়ে ‘বিজেপি আসতে চলেছে’ এই প্রচারে ঢেকে যাবে। প্রতিটা মৌলবাদী শক্তি এভাবেই বাইনারি তৈরি করে, সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশী নির্বাচনে জামাতের ফেসবুকীয় আমির- পিনাকী ভট্টাচার্য মন্ত্রীসভা অবধি গঠন করে দিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়াতে। বাস্তবের ফলাফল চোখের সামনে, সোশ্যাল মিডিয়া ন্যারেটিভ তৈরি করে, ভোটটা মাটিতে হয়- যেটা করাতে হয় ময়দানে উপস্থিত থেকে। মিডিয়ার বিভ্রান্তি থেকে বেঁচে থাকাটাও এবারে জনগণের বড় পরীক্ষা।

বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মিডিয়া প্রোপ্যাগান্ডাঃ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হাতিয়ার


আগামী শতকে যখন আজকের ইতিহাস লেখা হবে বিশ্লেষণের আলোকে, একটাই মূল ও সার সত্য হিসাবে উঠে আসবে- মিডিয়ার চেয়ে ক্ষতি আর কিচ্ছু করেনি সমকালীন সমাজকে, বিশেষ করে বিংশ শতের শেষ ও একবিংশ শতকের প্রথম দেড় দশক, মোট ৩০ বছর। বিষাক্ত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আর তাদের পেটোয়া পুঁজিবাদী প্রতিটা ল্যাসপেন্সারকে বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠা করিয়েছে ক্রমাগত মিথ্যা প্রচারণা আর প্রোপাগাণ্ডা দিয়ে। সংবাদপত্র, রেডিও, নিউজ চ্যানেল- এই ট্রায়ো দিয়ে জনমত তৈরি করেছে। মার্কিন কলোনিয়ালিজম এর মূল অস্ত্র পরমানু বোমা, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৭০০ সেনাঘাঁটি, আধুনিক রণতরী কিম্বা বোমারু বিমান নয়, মার্কিন ইম্পিরিয়ালিজমের মূল অস্ত্র হলো মিডিয়া। 

নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, Fox News, CNN, MSNBC, NBC, CBS, ABC - রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), নিউস কর্পোরেশন (রুপার্ট মারডক), ডিজনি, ওয়ার্নার ব্রাদার্স, ইত্যাদি এগুলো সব মার্কিন মিডিয়া জায়ান্ট। কলোনিয়াল সাম্রাজ্যবাদীদের বাবা অর্থাৎ ইউরোপের সংমাধ্যমগুলো আরো বড় মিথ্যুক, যেমন BBC, AFP, রয়টার্স, গার্ডিয়ান, ল্যা মঁদ বা ডয়েচে ভেলে প্রত্যেকে শয়তান। আমাদের তৃতীয় বিশ্বের প্রতিটা সংবাদ সংস্থার, আন্তর্জাতিক সংবাদের মূখ্য সোর্স এই উপরের প্রতিষ্ঠানগুলোই। এই কারনে ইরাণের কোথায় অশান্তি হচ্ছে সেটা আপনার কানে সর্বক্ষণ বাজানো হলেও, আমেরিকাতে যে রীতিমত গৃহযুদ্ধ চলছে ICE এর ধরপাকরের জন্য, সে খবরের কিছুই জানেননা আপনি। কারন, প্রোপাগান্ডা মেশিনারি আপনাকে জানাতে দিতে চাইনি। আমাদের সংবাদ সংস্থা গুলোর কাছে বিকল্প কোনো অপসনও নেই যেখান থেকে খবর সংগ্রহ করবে। এটাই মিডিয়ার খাদ্যশৃঙ্খল, এভাবেই গত ১০০ বছর ধরে চলে এসেছে, সাম্রাজ্যবাদীরা যেভাবে চেয়েছে যেমনটি চেয়েছে, সেভাবেই প্রচার করেছে। সোভিয়েত খারাপের প্রচার, উত্তর কোরিয়া, ইসলামোফোভিয়া, ‘ফিল্টি’ ভারত, কিম্বা অসভ্য আফ্রিকা- যাকে যা সাজাতে চেয়েছে, মিডিয়ার দ্বারা তারা সেটাই করিয়ে ছেড়েচে। তারা বলেছে ন্যাংটা হয়ে যাওয়া আধুনিকতা, বাকি বিশ্ব সেটাকেই সত্য জেনেছে।   

আজকে সোস্যালমিডিয়া পশ্চিমাদেরই তৈরি, এই অস্ত্র ব্যবহার করেই তিউনিসিয়া থেকে আরব বসন্ত শুরু করেছিলো, যার দ্বারা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে শ্মশান বানিয়ে ছেড়েছে। ইরাণের মাটিতেও যাবতীয় অশান্তি এই সোস্যালমিডিয়া দিয়েই শুরু করেছিলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, ইরান সরকার ইন্টারনেট কেটে দিলেও তারা স্টারলিঙ্ক ডিভাইস দিয়ে সন্ত্রাস জারি রাখার প্রচেষ্টা রেখেছিলো। চিনা প্রযুক্তি, ইলন মাস্কের স্টালিঙ্কের লেজ কেটে দিতে, তবে লাথ খাওয়া ঘেয়ো কুত্তার মত মুখ পুড়িয়ে ফিরেছে CIA  ও মোসাদ বাহিনী। সুতরাং, মিডিয়ার সাহায্য ছাড়া মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ পুরোপুরি অচল, যেমন গোদী মিডিয়া ছাড়া বিজেপি অস্তিত্বহীন। 

বাকি বিশ্বে সোস্যালমিডিয়ার দৌলতেই আজকের জামানাতে প্রিন্ট ও টিভি মিডিয়া পথে বসেছে। মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার সাজানো মিথ্যার বেসাতিতে ফর্দাফাই করে ছিঁড়ে দিচ্ছে, প্রতিটা মুহুর্তে তারা ধরা পরে যাচ্ছে। জবাবদিহি করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে। ইচ্ছামত ন্যারেটিভ বানাতে পারছেনা, সত্য এসে এদের মিথ্যা ফানুস ফাঁসিয়ে দিচ্ছে। নিজেদের তৈরি করা অস্ত্রেই নিজেরা কুপোকাত হয়ে গেছে। ফলত, মিডিয়া ব্যবসা ও এখান থেকে পেট চালানো বেশ্যা সাংবাদিকেরা আজ বাটি হাতে ভিক্ষার পাত্র নিয়ে বসে পরেছে সরকারের পায়ের নিচে। 

আজও তারা সেটাই করছে যা গত ১০০ বছর ধরে করে এসেছে- ক্ষমতার দালালি, পশ্চিমাদের লিখে দেওয়া স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী লাগাতার প্রচার। সেদিন মানুষ এদের অন্ধ বিশ্বাস করত, আজ সার্কাসের মত করে উপভোগ করে। তাদেরই তৈরি টুলকিট লাগাতার যেমন মিথ্যা প্রোপাগান্ডা পোষ্টগুলোকে সামনে আনে, তেমনই কুকি সিস্টেম সেই মিথ্যার পালটা সত্যকেও টাইমলাইনের ফিডে এনে হাজির করে দেয়। ফলে মানুষের সামনে একই সাথে সত্য ও মিথ্যা মুখোমুখি এসে ধরা দেয়। জ্ঞানবানেরা মিডিয়ার এই পক্ষপাতদুষ্টতা ও বিকিয়ে যাওয়া কলমকে দ্রুত ধরে ফেলে, এই জন্য আজ মেইনস্ট্রিম মিডিয়া পথে বসেছে, তাদের গণেশ উল্টানোর দশায় রয়েছে।

মিডিয়ার পাপ ধরতে গেলে রোজ ১০টা করে আর্টিকেল আগামী ১০ বছর ধরে লিখলেও শেষ হবেনা। পুঁজিপতি, এলিট আর ক্ষমতাবানের মুখপত্র হয়ে ছেয়ে রয়েছিলো এই মিডিয়া। সাধারণ মানুষের কথা ততটুকুই এরা ছাপতো, যতটুকু না ছাপলে মুখোশ খুলে যাবে। এই মিডিয়াই করোনার আতঙ্ক বিক্রি করেছিলো, মৃত্যুর খবর রোজ প্রতি ঘন্টায় আপডেট করে 'ভ্যাক্সিন' বিক্রির ব্যাবসার বিজ্ঞাপন করেছিলো। এটা সামান্য উদাহরণ মাত্র। আজ এদের তৈরি নিপা ভাইরাস বাজারে খায়নি। বাংলাদেশের মিডিয়ার দিকে চেয়ে দেখুন, ওদের মিডিয়া T-20 বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নিজেদের জনগণকে কেমন ‘চদু’ বানাচ্ছে। লাগাতার ভারত বিরোধী জনমত তৈরিতে মিডিয়াই তো মূল ভূমিকা পালন করেছে। দুই কোটি রোহিঙ্গা আর ২৬ লাখ ভারতীয়- হিসাবে খুব পার্থক্য রয়েছে কি? দুটো আলাদা আলাদা দেশ, কিন্তু মিথ্যার আকৃতি এক ছাঁচে তৈরি। যেমন গ্যাস চেম্বারে ৬০ লক্ষ বিশেষ ধর্মের জনগণকে হত্যার গল্প বাজারে এসেছিলো ইউরোপে, নন্দীগ্রামের রসুলপুর নদীর কুমিরের মতই। 

মিডিয়ার চেয়ে হারামি ও শয়তান আর কোনো অভিশাপ আধুনিক সমসাময়িক সমাজের উপরে আসেনি। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ থেকে মোদী- সব এই মিডিয়া প্রোপাগান্ডার ফসল। প্রায় ৮০% হিন্দুর দেশের ৩৪% হিন্দু জনগণ বিশ্বাস করে 'হিন্দু খতরেমে হ্যায়', শুধু মাত্র মিডিয়ার প্রচারণার ফলে- বলা ভালো গোদী মিডিয়ার সৌজন্যে। এই মিডিয়াই আগামী বিধানসভা ভোটে ঝাঁপিয়ে পড়বে বাইনারি তৈরি করতে, অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের দাবীকে চাপা দিয়ে মন্দির মসজিদ গরু শুয়োরে ব্যতিব্যস্ত করে রেখে দেবে। কোনো গালিগালাজই এদের জন্য যথেষ্ট নয়।

একটা বোমা একবার মানুষ হত্যা করে ২০০ হোক বা ৫০০ জন। যেকোনো মৌলিবাদী সন্ত্রাসী জঙ্গি হামলাতে নির্দিষ্ট এলাকার নির্দিষ্ট একটা মানুষ মারা যায়। মিডিয়ার সন্ত্রাসী প্রোপাগাণ্ডার ফলে যুগ যুগ ধরে মিথ্যাচার, ঘৃণা আর অবিশ্বাস ছড়ানোর ফলে- গোটা সমাজ পচিয়ে শেষ করে দেয় জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে। মিডিয়ার বাক্য বোমায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানসিকভাবে বন্ধ্যা হয়ে যায়। এরা বিশ্বাস করতে শেখে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ অজেয়, তারাই একমাত্র পৃথিবীর ভালো চায়, এরা শেখে ৭২ হুর প্রাপ্তিই জীবনের আল্টিমেটাম লক্ষ্য, এরা শেখে গোমুত্রেই জীবনের সারবত্তা লুকিয়ে আছে। মিডিয়াই শিখিয়েছে লোনের পাঁকে ডুবে থেকে, ধার করা জীবনের নাম সফলতা। এরা শয়তানকে ঈশ্বর বানায়, ঈশ্বরকে শয়তান। মিডিয়া জনগণের কল্যাণের জন্য নয়, সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদীদের মূল হাতিয়ার ছিলো। হ্যাঁ ছিলো, কারন মেইনস্ট্রিম মিডিয়া আজ তার নিজের পাপের ভারেই ভেন্টিলেশনে চলে গেছে।

গণতন্ত্রের যে ধারা আজ বিশ্বজুড়ে টিকে আছে, সেটা মার্কিনীদের ‘এপস্টিন’ মানবতাবদের অনুপ্রেরণাতে তৈরি। এরাই লাদেন, আলকায়দা, সাদ্দামকে তৈরি করে, আবার এরাই সন্ত্রাসের নামে এদের নিকেশ করে শান্তির দূত সাজে। এদের দাস হলে তুমি যা খুশি করো সব সিদ্ধ, নতুবা গণতন্ত্রের নাম করে ‘ভিয়েতনাম’ বা ‘ইরাক’ বানিয়ে দেবে। মাত্র ১০০ বছরে গণতন্ত্রকে পচিয়ে দিয়েছে এই মিডিয়া। গণতন্ত্রের নামে বিশ্বজুড়ে যা চলছে, সেটারও আপডেট তথা নবায়ন প্রয়োজন। নতুবা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে অন্ধকারে অপহরন করলে, বা কোন দেশ কোথা থেকে তেল কিনবে সেটা মোড়ল রাষ্ট্র ঘোষণা করে যখন, তখন এই গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রশ্ন না উঠলে নিজের সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। একে পচাবার একমাত্র মূখ্য কারিগর গণতন্ত্রেরই চতুর্থ স্তম্ভ- মিডিয়া।

বাকি তিনটে স্তম্ভের কী অবস্থা রয়েছে মিলিয়ে নিন। বিশ্বের সর্বত্র দেখার দরকার নেই, সামান্য নিজেদের রাজ্যটুকুতে দেখুন, তারপর নিজেকে প্রশ্ন করুন।

১ নং স্তম্ভ- আইনসভা। এই গুলো নাচিয়ে গাইয়ে মূর্খ অশিক্ষিত সমাজবিরোধী দিয়ে ভর্তি। কেন্দ্র হোক বা রাজ্য, সর্বত্র এক চিত্র। প্রায় সকলে মিথ্যুক, সকলে চোর। মানুষই এদের ভোট দেয় মিডিয়ার বাইনারিতে ফেঁসে গিয়ে। ২ নং স্তম্ভ- বিচার ব্যবস্থা। পুরোপুরি পচে না গেলেও- আস্থার উপরে ভরষা করে রামমন্দিরের রায় আসে আজকাল। অবসরের পরেই শাসকের দলে নাম লেখায় বিচারকেরা। যাবজ্জীবন দন্ডে দণ্ডিত ধর্ষক রামরহিম নিয়মিত ছাড়া পেলেও বিনা বিচারে উমর খালিদ বন্দি থাকে অর্ধ দশক। শাসকের ইচ্ছামত মামলা ঝুলিয়ে রাখা যায়, DA দিক বা না দিক, আদালত ঠুঁটো জগন্নাথ। আদানির বিরুদ্ধে মামলা শোনার সাহসই নেই আদালতের, কারন সে আইনেরও উর্দ্ধে। কত বলব এমন?

তৃতীয় হলো - পুলিশ ও প্রশাসন। ১৩ পাওয়া পলাতক বিডিও, আর চেয়ারের নিচে লুকানো ঘুষখোর পুলিশ। গণতন্ত্রের মা'কে এরা পতিতাপল্লীতে বেচে দিয়েছে। এদের সম্বন্ধে লেখা মানে নিজেকে নর্দমাতে ছেড়ে দেওয়া। আর শেষ স্তম্ভ হলো এই মিডিয়া। যারা সকল পাপের মা, কারন মিথ্যাচারটা এরাই করে, লাগাতার, বারবার। দাড়ি সুমন থেকে বিজ্ঞ ঘোষাল হয়ে কুণাল ঘোষ কিম্বা ময়ূখ- সামান্য আরামবাগ টিভির চিল্লানোসরাস থেকে বঙ্গ টিভির মহিলাটি, চেয়ে দেখলেই মিডিয়ার চরিত্র ধরা পরে যাবে।

স্বর্গ নরক জান্নাত জাহান্নাম কোনো জীবিত মানুষ দেখেনি, তবে প্রতিটা কঠিন পাপের সাজা জীবদ্দশায় পেয়ে যায় মানুষ ও তাদের সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। মিডিয়া ও তাদের সাথে জুড়ে থাকা প্রতিটা মিথ্যুক খুব দ্রুত কঠিন সাজার মুখে পরবেই, প্রত্যেকে পরবে। কীভাবে পরবে তা মহাকালই জানে। সেদিন তাদের হারামের কামাই এর সম্পদও বাঁচাতে পারবেনা।

মিডিয়াকে ঘৃণা করতে শিখুন ও আমাদের উত্তর প্রজন্মকেও শেখান। এটাই ধর্মের বা ইমানের অন্যতম অঙ্গ হওয়া উচিৎ। 



বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

Board of Peace, কি ও কেন?


 

Board of Peace, কি ও কেন?

 

মূলত গাজায় যুদ্ধবিরতি তদারকি এবং পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে এই কাউন্সিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তথা আমেরিকার নিজস্ব ও একান্ত উদ্যোগে। বর্তমানে সদস্য হিসেবে ২৬টি দেশ যুক্ত হয়েছে। এই হলো যুদ্ধবাজ আমেরিকার ‘শান্তি কমিটি’ স্থাপনের ইতিবৃত্ত, এ যেন মমতা ব্যানার্জীর উদ্যোগে ‘চোর ও কাটমানিখোর মুক্ত রাষ্ট্র’- এমন নামের সংগঠন তৈরি হওয়া।

পেট্রোডলারের সমাপ্তি, গোটা বিশ্বজুড়ে প্রতিটা দেশের ডি-ডলারাইজেশন এবং BRICS এর উত্থান গোটা আমেরিকার মাথা নষ্ট করে দিয়েছে, ডোলান্ড ট্রাম্প সেই আতঙ্ক সূচকের নমুনা মাত্র। ‘সুপার পাওয়ার’ শব্দটা বিষয়ে আমাদের সকলের সুপার ইলিউশন রয়েছে, এর অন্যতম কারণ আমেরিকার প্রোপ্যাগান্ডা মেশিনারি। গত ৭৫ বছরে ‘সুপার পাওয়ার’ আমেরিকা, তাদের শুরু করা প্রতিটা যুদ্ধ, হয় শেষ হওয়ার আগেই পালিয়েছে আফগানিস্তানের মতো, কিম্বা গোহারা হেরে মুখ লুকিয়ে মজন্তালি সরকারের মতো হাত উঁচিয়ে বলেছে জিতেছি- উদাহরণ ভিয়েতনাম। এপস্টিন ফাইলস পশ্চিমা ক্ষমতাধর ও বিত্তশালীদের তথাকথিত মানবতা, নারী ক্ষমতায়ন আর গণতন্ত্রের বুলি আওড়ানোকে প্রহসনে পরিণত করে, একটা মিথ্যুক বেহায়া ন্যাংটা হিসাবে উন্মোচিত করে দিয়েছে। ইতিহাস লেখা হয় বিজয়ীদের কলমে, এই ন্যাংটারা তাদের নিজেদের সুমহান উন্নত ও সভ্য হিসাবে দেখিয়ে এসেছে, আমরা সেটাকেই অমৃত ভেবে চেটেপুটে খেয়ে চলেছি।

তোমার নাম আমার নাম ভিয়েতনাম ভিয়েতনাম, ছোটবেলায় খুব শুনতাম বামপন্থীদের মুখে। সেই ভিয়েতনাম আজকে আর বামপথে নেই, যুদ্ধ পরবর্তী ভিয়েতনাম ‘Doi-Moi’ বা যাকে বাংলাতে বলে সংস্কার, অর্থাৎ অর্থনীতিকে মার্কিনীদের পায়ে সঁপে দেওয়ার প্রক্রিয়াতে চলে গিয়েছিল, যেমন ভাবে নব্বই এর দশকের শুরুতে গর্বাচেভের রাশিয়া ‘পেরেস্ত্রেইকা’ লাগু করেছিল। সুতরাং, আজকের ভিয়েতনাম আসলে মার্কিনীদের পোষা কুত্তার বেশি কিছু নয়, ফলত ২০ তম দেশ হিসাবে তারা ট্রাম্পের এই ‘এঁটো-কাঁটা’ কমিটিতে থাকবে, এতে আর আশ্চর্য কোথায়! ভিয়েতনামে আবার শেষে ফিরছি।

বাকি ২৫ টা দেশ কারা!  চলুন ম্যাপ অনুযায়ী একটু বোঝার চেষ্টা করি, কারণ বিশ্ব মানচিত্রে তাদের অবস্থানের তাৎপর্যই এখানে একমাত্র বিচার্য। নতুবা গাজার শান্তি নিয়ে প্যারাগুয়ে, মঙ্গোলিয়া, এল-সালভাদর, বেলারুশ বা কসভোর মতো দেশের কাজ কী? আজ ২ বছর ধরে গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে ইজরায়েল, এ বিষয়ে এদের কোনো বক্তব্য ছিল বলে কেউ জানে? এদের সকলের মাথা ঘামানো, অনেকটা ওই ২১শে জুলাই কোলকাতায় ডিম্ভাত খেতে যাওয়ার মতো। আপনার যাওয়া বা না যাওয়া, কোনো কিছুর উপরেই ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে কারা থাকবে সেটা নির্ভর করে না। আপনি না বলতে পারবেন কেন ১৯৯৩ সালে ২১শে জুলাই সমাবেশ হয়েছিল, না উদ্যোক্তারা জানেন আপনার উপস্থিতির কথা। কিন্তু পাড়ার বদ্দা যেহেতু ডেকেছে, তাই আপনি যান, তেমনই এই দেশগুলো কমিটিতে আছে। মিছিলের পিছন থেকে জিন্দাবাদ বলার লোক তো চাই, এছাড়া এদের ফুটো পয়সার গুরুত্ব নেই এই এঁটোকাঁটা কমিটিতে, এরা কখনও বিশ্ব রাজনীতিতে শেষ ৩০০ বছরে নূন্যতম  গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। 

 

১) চীনের উত্তর মাথায় স্থলবেষ্টিত চীন ও রাশিয়ার মধ্যেকার একমাত্র বিভাজক রাষ্ট্র মঙ্গোলিয়া।

২) কাস্পিয়ান সাগরের পূর্ব পাড়ের দুটি পূর্বতন সোভিয়েত রাষ্ট্র- কাজাকস্তান ও তারও দক্ষিণে থাকা উজবেকিস্তান। চীন এবং রাশিয়ার মধ্যে মধ্য এরাই এশিয়ার বৃহত্তম রাষ্ট্র। 

৩) কৃষ্ণসাগর আর কাস্পিয়ান সাগর এর মধ্যবর্তী ককেশীয় রাষ্ট্র, পূর্বতন সোভিয়েতের আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। 

৪) কৃষ্ণসাগর ও মারমারা সাগরের সংযোগস্থলের বসফরাস প্রণালী তথা ইস্তানবুল প্রণালী এবং মারমারা সাগর ও ভূমধ্যসাগরের সংযোগের রাস্তা দার্দানেলিস প্রণালীর নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র- তুরস্ক। 

৫) কৃষ্ণসাগরের পশ্চিম পাড়ে পূর্বতন সোভিয়েত নিয়ন্ত্রিত ইস্ট ব্লকের বুলগেরিয়া। তারই পশ্চিমে সার্বিয়ার দক্ষিণ মাথার বিতর্কিত অঞ্চলে তৈরি কোসোভো, ম্যাপে তার নিচে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত থাকা রাষ্ট্র আলবেনিয়া ও ইউরোপের কেন্দ্রবিন্দু হাঙ্গেরি। 

৬) পার্সিয়ান গাল্ফের পশ্চিম তীর ও গাল্ফ অফ আরবের পূর্ব পাড়, লোহিত সাগরের পূর্ব দিকে এশিয়া প্রান্তের নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র- সৌদি আরব।

৭) পার্সিয়ান গাল্ফের পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রক সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইন। 

৮) গাল্ফ অফ আরবের এর পূর্ব পাড়ের নিয়ন্ত্রক দুই রাষ্ট্রের অন্যতম জর্ডান।

৯) আতলান্তিকের উত্তর পাড় ও ভূমধ্যসাগরে দক্ষিণ মাথায় জিব্রাল্টার প্রণালীর অন্যতম নিয়ন্ত্রক আফ্রিকান রাষ্ট্র- মরক্কো। 

১০) ভারত, চীন ও ইরানের মাঝে আমেরিকান পরমাণু বোমার চৌকিদার, আরব সাগরের উত্তর পাড়ের রাষ্ট্র- পাকিস্তান। 

১১) বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ চীন সাগরের সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালীর দক্ষিণ প্রান্তের নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র- ইন্দোনেশিয়া।

১২) দক্ষিণ আতলান্তিকের পশ্চিম পাড়ে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র আর্জেন্টিনা, এবং ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যের স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র প্যারাগুয়ে। মেক্সিকোর লেজের নিচে থাকা এল-সলভাদর। 

১৩) দক্ষিণ চীন সাগরের পূর্ব মাথায় চীনের গা থেকে শুরু করে গাল্ফ অফ থাইল্যান্ড অবধি বিস্তৃত- ভিয়েতনাম। ভিয়েতনামের আরেক পড়শি কম্বোডিয়া।

১৪) রাশিয়া আর ইউক্রেনের পড়শি স্থলবেষ্টিত বেলারুশ। 

১৫) আর এদের সকলের সাথে রয়েছে গাজার উপরে এই গণহত্যার নায়ক ইজরায়েল স্বয়ং।

 

ট্রাম্পের দাবী অনুযায়ী এই কাউন্সিলের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য- ফিলিস্তিনের গাজায় সংগঠিত গণহত্যার প্রেক্ষিতে ‘শান্তি ও পুনর্গঠন’। এখানে ফিলিস্তিন শব্দের কোনো উল্লেখ বা বক্তব্য কিছুই নেই। পাশাপাশি এটার মাধ্যমে গোটা বিশ্বকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়াও হলো যে, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক এবং গোলান উপত্যকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে; তাই বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যে বিশ্বগুরুর দায়িত্ব কেবল- ইসরাইলের শরীরের মধ্যে এক টুকরো খাঁজের ভিতর কোনোমতে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এক ফালি কেকের মতো টুকরো ভূখন্ডিতে। গাজার সাইজ জানেন? লম্বায় ব্যারাকপুর থেকে জোকা, চওড়াতে বড়বাজার থেকে সল্টলেক, ব্যাস এতটুকুই মাত্র। এই লোকগুলোকে গুম খুন করে হাপিস করে না ফেললে, পালিয়ে প্রাণ বাঁচাবার একমাত্র জায়গা হচ্ছে মিশর, সেই মিশর কিন্তু এই কমিটিতে নেই। সুতরাং, একথা লেখার কোনো যুক্তি নেই যে গাজার নামে এই কমিটি বানালেও, এর উদ্দেশ্য কোনোভাবেই গাজা অন্তত নয়।

The UN chief has told states that the organization is at risk of “imminent financial collapse,” citing unpaid fees and a budget rule that forces the global body to return unspent money- এটা গত ৩০শে জানুয়ারি Times of Israel এ প্রকাশিত সংবাদ, গুগুলে খুঁজলেই পেয়ে যাবেন। অর্থাৎ জাতিসঙ্ঘ নামের সাদা হাতিটার ডেথ সার্টিফিকেট লেখাই আপাতত বাকি রয়েছে। অবশ্য তার মুরোদই বা কী ছিল!  গাজায় ১১২ বিলিয়ন ডলার লগ্নি হবে গাজাকে ‘লাক্সারি’ ভাবে পুনঃনির্মান করতে, যার আর্ধেক ৬০ বিলিয়ন দেবে আমেরিকা, বাকিটা সদস্য দেশ ও নানান লগ্নিকারী সংস্থা বিনিয়োগ করবে। 

এর অফিসয়াল নাম ‘প্রোজেক্ট সানরাইজ’, যার শীর্ষে রয়েছে ট্রাম্পের জামাই- জেরার্ড কুশনার। এই ‘রি-বিল্ড’ সময়কালে গাজার মানুষগুলোকে কোথায় সরিয়ে রাখবে? জবাব দেওয়ার কেউ নেই। পরবর্তীতে এই ‘লাক্সারি’ আল্ট্রা হাইটেক গাজা অদৌ সেখানকার অধিবাসীরা ফিরে পাবে? নাকি জেরুজালেম থেকে মাত্র ৬০/৭০ কিমি দূরের সমুদ্র সৈকত বিশিষ্ট গাজাকে একটা জনপ্রিয় টুরিস্ট ডেস্টিনেশন তথা বিজনেস হাব বানানো হবে? এক লক্ষ হাউজিং, ৭৫টা মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল, ২০০ আন্তর্জাতিক মানের ইস্কুল, ১৮০টা ধর্মস্থান এগুলো গাজার হাভাতে যুদ্ধ পীড়িতদের জন্য বানানো হচ্ছে? এসব অপ্রিয় প্রশ্নের উত্তর জাতিসঙ্ঘ দেয়নি, ট্রাম্পের এঁটোকাঁটা কমিটিও দেবে না, মাঝখান থেকে গাজার মানুষগুলোকে উচ্ছেদ করে স্থায়ী উদবাস্তু বানিয়ে দেওয়া হবে।  

ট্রাম্পের এই এঁটোকাঁটা কমিটি শুরুর আগে থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ, বিগত ১০০ বছর ধরে আমেরিকার প্রমাণিত বন্ধু দলের কেউ নেই, যেমন সমগ্র পশ্চিম ইউরোপ বা কানাডা। ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি ও জার্মানি রীতিমতো লিখিতভাবে এই কমিটিতে না থাকার কথা ঘোষণা দিয়েছে। ট্রাম্প ভারত ও চীনকে ডাকলেও, আজকের দিন অবধি সেই আমন্ত্রণকে দুই দেশের কেউ নূন্যতম গুরুত্ব দেয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এটিকে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে দেখছে, ফলে আন্তর্জাতিকভাবে আরেক বিতর্কের জন্ম হয়েছে। 

অবশ্য জাতিসংঘ নামের সাদা হাতিটা কী কারণে রয়েছে নিয়ে প্রশ্ন তোলা বারণ। আরব বসন্তের নামে তিউনিসিয়া, মিশর, লিবিয়া, ইয়েমেন এবং সুদানে সরকার ফেলে দিলেও এরা চোখ বন্ধ করে থাকে। ইরাক ও লিবিয়া নামের পেট্রোলিয়াম সম্পদে ভরপুর দেশগুলোতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে তাদের দেউলিয়া ভিখারি বানিয়ে দেওয়া যায়। অনায়াসে সুদান ইয়েমেনকে কেটে দু’টুকরো করে দেওয়া যায়, সিরিয়ার শাসক উৎখাত করা যায়, নাইজেরিয়ার গৃহযুদ্ধ বা ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে গেলেও- গান্ধীজীর বাঁদরের মতো চোখ, কান, মুখ বন্ধ করে থাকা যায়। আর্মেনিয়া, আজারবাইজান কিংবা লাওস, কম্বোডিয়া যুদ্ধ- যখন ইচ্ছা শুরু ও বন্ধ করা যায়। 

ভারত পাকিস্তান সংঘাতের ব্যাপারে যত কম বলা যায় ততই সময় বাঁচে। গুচ্ছের উদাহরণ টেনে আলোচনাটা বড় না করে বরং ঘরের পাশের বাংলাদেশের দিকে তাকালেই দেখা যায়, ইচ্ছামতো সরকার ফেলা বা ইচ্ছামতো অন্য দেশের নাগরিক এনে মন্ত্রীসভা তৈরি করে পৃথিবীর অন্যতম চলমান অর্থনীতিকে পথে বসিয়ে দেওয়া যায়। রাষ্ট্রপুঞ্জ বা জাতিসঙ্ঘ এটাই করে এসেছে শুরু থেকে, যা আমেরিকারই তৈরি ছিল। আজকের এই বহুমেরু পৃথিবীতে, আমেরিকা বা ইজরায়েলের দাদাগিরির বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘের সভাতে প্রতিবাদ হচ্ছে রোজই, তাই নিজের তৈরি সংস্থাকেই বাইপাস করে আবার একটা নতুন ফাঁদ পেতেছে এই নতুন এঁটোকাঁটা কমিটির মাধ্যমে। 

ঠিক এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে ৬৭ টি যুদ্ধ বা সংঘাত বা উত্তেজনা চালু থাকার পরও, যে সংস্থার মুখে সেলোটেপ মারা থাকে, তার মরে যাওয়াই ভালো। সদস্যদের কার ভেটো পাওয়ার আছে, কার নেই, কী তার উদ্দেশ্য- সেসব নিয়ে বিশ্বের বেশিরভাগ লোকের আজ আর মাথাব্যথা থাকার কথা নয়। একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের ঘরে ঢুকে, তাদের রাষ্ট্রপতিকে তুলে এনে নিজের কারাগারে বন্দি করে দিলেও, গুটিকয় রাষ্ট্র ছাড়া বাকি সবাই যখন চুপ থাকে, তখন জাতিসঙ্ঘ আসলে আন্তর্জাতিক প্রহসনের সার্কাস হয়ে যায়। 

আধিপত্য টিকিয়ে রাখার নেশায়, বিশ্বজোড়া মানুষের ক্ষোভ বিক্ষোভকে পরিমাপ করতে আর অর্থনীতির উপর নতুন করে নিয়ন্ত্রণ আনার প্রচেষ্টায় নতুন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বাসনা জন্মায় বটে। এহেন পরিস্থিতিতে আরেকটি আধিপত্যবাদী সমান্তরাল সংস্থার জন্ম হবে, এমন চিন্তার মেঘ উত্তর আটলান্টিকের পশ্চিম পাড়ে অনেক আগেই দানা বেঁধে ছিল; তাই এই পিস ফোরাম এর ভূমিষ্ঠ হওয়াটা মোটেই আশ্চর্য হওয়ার নয়। তবে অন্য সমস্যাও আছে, এই এঁটোকাঁটা কমিটির স্থায়ী সদস্য হতে প্রতি দেশকে নগদ ১০০ কোটি ডলার দিতে, এটাই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শেষ অবধি এই টাকা কতজন দেশ দেবে তা নিয়েও ঘোর সন্দেহ রয়েছে।

হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করেছে আরব সাগরের সঙ্গে। এই পথ দিয়ে প্রবাহিত হয় বিশ্বের মোট এলপিজি গ্যাসের তিন ভাগের একভাগ আর কাঁচা তেলের ৩৫ শতাংশ। প্রতিবছর ৯৪ হাজার জাহাজ চলাচল করে এই পথে। এশিয়ার সঙ্গে উত্তর আতলান্তিকের তীরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রধান দেশগুলির জলপথ বাণিজ্যের একমাত্র পথ সুয়েজ ক্যানেল। বসফরাস প্রণালী রাশিয়া এবং ইউক্রেনের কৃষি ও জ্বালানি বাণিজ্যের ভূমধ্যসাগরীয় একমাত্র সংযোগ পথ। সুতরাং, সমস্যা এখানেই বাঁধাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হিংস্র থাবা।

বোর্ড অফ পিস ব্লকে সই করা রাষ্ট্রগুলির মাধ্যমে, আসলে কম্পিয়ান সাগর, আরল সাগর, কৃষ্ণসাগর, মারমরা সাগর, সর্বোপরি ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়ার সবদিক থেকে ভূমধ্যসাগরের উপর নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে কের্চ প্রণালী, বসফরাস প্রণালী, দার্দানেলিস প্রণালী, পার্শিয়ান গাল্ফ, গাল্ফ অফ এডেন, লোহিত সাগর, গাল্ফ অফ আরব, জিব্রাল্টার প্রণালী, আরব সাগর, দক্ষিণ চীন সাগর ও গাল্ফ অফ থাইল্যান্ড, পূর্ব থেকে পশ্চিমের বাণিজ্য পথে সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালী, সর্বপরি দক্ষিণ আতলান্তিক মহাসাগরের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার কুনাট্য মঞ্চস্থ করা হচ্ছে। 

দৃষ্টি আরেকটু পরিষ্কার করলেই দেখা যাচ্ছে BRICS নতুন মুদ্রা চালু হবার আগে বা BRICS বাণিজ্য জোট সম্পন্ন হওয়ার আগেই বর্তমানে BRICS-এর মধ্যে পূর্ণ সদস্য দেশ গুলির মধ্যে ভাঙ্গন ধরিয়ে ধরিয়ে BRICS-এর উপর থাবা মারার প্রয়াসের অংশ এটা। BRICS এর ১০টি পূর্ণ সদস্য দেশের তালিকায় চোখ বুলালে ব্যাপারটা আরও পরিষ্কার হবে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত। শান্তি চুক্তি জোটের নামে রাশিয়া, চীন, ভারত, ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের বাণিজ্য পথের উপরে নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা শুরু করেছে।

চলুন আরেকবার ভিয়েতনামে ফিরি, Đổi Mi নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে, ঘোষিত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয়েও, মুক্ত বাজার অর্থনীতিকেই সমাধানের একমাত্র পথ হিসাবে আঁকড়ে ধরে। পদক্ষেপ হিসাবেঃ- 

 

১) অবাধ বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি

২) প্রতিটি বেসরকারি উদ্যোগে নানান ধরণের কর ছাড়

৩) রপ্তানিমুখী শিল্পের উপরে জোর দেওয়া। 


একই সাথে বিদেশ নীতির ১৮০ ডিগ্রী পরিবর্তন করে যুদ্ধের ২০ বছরের মাথায় পুঁজিবাদী আমেরিকার জন্য রেড কার্পেট পেতে দেয় ভিয়েতনাম। US–Vietnam কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ফলে ASEAN অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব বাড়তে থাকে।

ধীরে ধীরে US–Vietnam Trade Agreement আর ভিয়েতনামের WTO সদস্য পদ গ্রহণের মধ্যে দিয়ে, ভিয়েতনাম গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের অংশ হিসাবে আমেরিকান কোম্পানিগুলো গার্মেন্টস, ইলেকট্রনিক্স, চিপ অ্যাসেম্বলি ইউনিট চীন থেকে ভিয়েতনামে সরিয়ে নিয়ে আসে। কৌশলগত সহযোগিতার নামে মার্কিন সামরিক প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহযোগিতা শুরু হয়, ভিয়েতনামের উপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা প্রতাহার, US Navy র ভিয়েতনাম বন্দরে প্রবেশ, একই সাথে South China Sea এ তেল, গ্যাস, মৎস্য নিয়ে চীন ও ভিয়েতনামের বিরোধও শুরু হয়। রিমোট কন্ট্রোলে কলকাঠি নেড়ে চীনকে রুখে দিতে ভিয়েতনামের মাধ্যমে মার্কিন প্রয়াস চালু হয়। সুতরাং, এই আমেরিকাপন্থী অবস্থানের কারণেই, কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা নিতান্ত সম্পর্কহীন, গাজা শান্তি চুক্তির বোর্ড অফ পিসে সই করার জন্য মনোনীত করা হয়েছে ভিয়েতনামকে। বাকি ২৫টা দেশের ব্যাপারেও এভাবে ধরে ধরে বিশ্লেষণ করাই যায়, তাতে লেখনি লম্বা হবে মাত্র।

সাম্প্রতিককালে ইরানের উদ্দেশ্যে লিবিয়ার প্রাক্তন শাসক, গাদ্দাফি কন্যার একটি চিঠি প্রকাশিত হয়। সেখানে উনি খোলা চিঠিতে ইরানের জনগণের উদ্দেশ্যে আবেদন জানিয়ে বলেন, কীভাবে মার্কিন ফাঁদে পা দিয়ে তার বাবা লিবিয়ার মতো একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির সর্বনাশ ডেকে এনে, নিজের জীবন দিয়ে শেষে সর্বস্বান্ত লিবিয়াকে ফেলে রেখে যেতে বাধ্য হয়েছিল। হয়তো আগামী দিনে ভিয়েতনাম বা অন্য দেশ থেকেও থেকেও এরকম কোন চিঠি প্রকাশিত হবে, তখন অবশ্য অনেক দেরি হয়ে যাবে। প্রবাদ বাক্যে ন্যাড়া বেলতলা দিয়ে একবার যায়, কিন্তু বাস্তবের ভিয়েতনামেরা বারবার যায়।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার তথাকথিত মুরুব্বি রাষ্ট্রসঙ্ঘ, পরমাণু শক্তিধর সামরিক জোট ন্যাটো, বিশ্ব বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক বলে পরিচিত ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, মোল্লা রাজাদের মধ্যপ্রাচ্য ও খোদ ইসরাইল অবধি, আজ প্রত্যেকেই হাড়ে হাড়ে অনুভব করছে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আসলে কী এবং তা কতটা নির্মম ও স্বার্থান্ধ হতে পারে।

বামপন্থীরা বহু ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি- এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। নীতি ও আদর্শের সামান্য বিচ্যুতিকেও অনেক সময় অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার ফলে তাদের নিজেদের মধ্যেই ঐক্যের অভাব দেখা দিয়েছে। এর ফলেই হয়তো পৃথিবীর বুকে যে মাত্রার রাজনৈতিক ও সামাজিক আধিপত্য তারা বিস্তার করতে পারত, তা পুরোপুরি সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও, দূরদর্শী বামপন্থীরা যে একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী কুশলতার পরিচয় দিয়েছে, তা হলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে সময়ের অনেক আগেই সঠিকভাবে চিহ্নিত ও বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা। এই বোধ ও সতর্কতা পৃথিবীর অন্য কোনো গোষ্ঠী, সংগঠন বা মতাদর্শ সেই সময়ে দেখাতে পারেনি। বরং তারা ভুল সিদ্ধান্ত ও ভ্রান্ত মূল্যায়নের ফাঁদে পড়ে সময়ের স্রোতে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে গেছে।

 

রবিবার, ২ নভেম্বর, ২০২৫

শিন্ডলার এফেক্ট ও মার্ক্স


অস্কার শিন্ডলারকে চেনেন?

না চেনাই স্বাভাবিক, ইনি একজন জার্মান শিল্পপতি ও ফিকশনাল চরিত্র। বিশ্বখ্যাত সিনেমা পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ এর বানানো ১৯৯৩ সালের একটি সিনেমা শিন্ডলার্স লিস্ট Schindler's List- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পটভূমিকাতে নাৎসিদের হাত থেকে এক হাজারেরও বেশি ইহুদিকে ‘রক্ষা করা’ জার্মান শিল্পপতি অস্কার শিন্ডলারের গল্প নিয়ে তৈরি। সময় সুযোগ হলে একবার সিনেমাটা দেখে নেবেন, আমাজন প্রাইমে পেয়ে যাবেন।

বন্ধু কিংশুক তা আমাদের একটা ক্লোজ গ্রুপে প্রশ্ন করেছিলো, সত্যিই যদি কয়েক কোটি মানুষ বাদ পরে যায় SIR এ, তারা যাবে কোথায়! ওকে বলেছিলাম, আসামে D-Voter হওয়া ১৯ লক্ষ ভোটার কোথায় গেছে? সে উত্তর দিতে পারেনি। আপনার আমার কাছেও বিশদে এর জবাব নেই। যারা NRC করেছে, তাদের কাছেও জবাব নেই।

আচ্ছা রাষ্ট্র কি? রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তত্ত্ব মতে, গুগুল জবাব দিলো- রাষ্ট্র হলো একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলের জনগোষ্ঠী নিয়ে গঠিত একটি রাজনৈতিক সংগঠন, যার একটি সরকার আছে এবং এটি নিজস্ব আইন ও সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগ করে। রাষ্ট্রের চারটি মূল উপাদান হলো—জনসংখ্যা, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার এবং সার্বভৌম ক্ষমতা। অনেকে জাতির সাথে রাষ্ট্রকে গুলিয়ে ফেলে। জাতি তৈরি হয় একটা সার্বজনীন ভাষা, যৌথ ইতিহাস, যৌথ সংস্কৃতি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সন্নিহিত ভৌগলিক অঞ্চলের জনগণ দ্বারা তৈরি একটি গোষ্ঠী দ্বারা। এক জাতি হওয়ার জন্য সীমানা লাগেনা, সরকার গঠনের প্রয়োজনীয়তা থাকেনা, স্বভাবতই সার্বভৌমতার কোনো বিষয় থাকেনা সমজাতি হওয়ার জন্য। 

অর্থাৎ, নির্দিষ্ট ভৌগলিক এলাকার নির্দিষ্ট মানুষ তথা জনগণ তাদের সরকার চয়ন করবে, যারা একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সার্বভৌম ক্ষমতা পাবে রাষ্ট্র পরিচালনার। সুতরাং, বিদেশী কোনো অনুপ্রবেশকারী, আমাদের গণতান্ত্রিক সরকার চয়নের প্রক্রিয়াতে অংশগ্রহন করতে পারেনা, করলে সেটা অবৈধ ও বাতিল হিসাবের গন্য হবে। বাঙালি হিসাবে বাংলাদেশীদের প্রতি, তামিল হিসাবে শ্রীলঙ্কানদের প্রতি, বৌদ্ধ হিসাবে নেপালীদের প্রতি কিম্বা সিন্ধি বা পাঞ্জাবি হিসাবে পাকিস্তানীদের প্রতি আপনার দুর্বলতা তথা সহমর্মিতা থাকতেই পারে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তারা আমাদের দেশের সরকার গঠনের প্রক্রিয়াতে অংশ নেবে অবৈধ ভাবে- আর আপনি বা আমি আমাদের রাজনৈতিক দলের স্বার্থে সেই অবৈধতাকে সাপোর্ট করব, এটাও অপরাধ। এই পয়েন্টে এসে SIR মান্যতা পেয়ে যায় যে, ভারত রাষ্ট্রের ভোটাধিকার প্রক্রিয়াতে শুধু মাত্র ভারতীয়েরাই অংশগ্রহন করবে, বিদেশী কোনো অনুপ্রেবেশকারী নয়। রাষ্ট্রের সংজ্ঞাতে ভৌগলিক সীমানা যেমন গুরুত্বপূর্ন, তেমনই সীমানার গণ্ডিতে থাকা মানুষের পরিচয়ও গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্দিষ্ট। যে কেউ যখন খুশি তার ইচ্ছামত, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সাধনের জন্য আমি অমুক দেশের ‘নাগরিক’ দাবী করতে পারেনা।

সমস্যাটা কোথায়! সমস্যা প্রক্রিয়াতে নয়, প্রক্রিয়া সাধনের গূঢ় উদ্দেশ্য ও পদ্ধতিতে। সমস্যা প্রপাগান্ডায়। কারন কেন্দ্রে RSS পরিচালিত যে বিজেপি সরকার রয়েছে তাদের রাজনৈতিক পরিচয়ই হলো- মুসলমান, দলিতকে অত্যাচার করার মাধ্যমে হিন্দুত্ববাদী মেরুকরণ করে সেখান থেকে রাজনৈতিক লাভ নেওয়া। মনুবাদকে সংবিধান মেনে মানুষের খাওয়া, পরার মত মৌলিক বিষয়গুলোকে অনৈতিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। সর্বক্ষণ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, হিন্দু মুসলমান অপ্রয়োজনীয় দ্বন্দ্ব, মসজিদ মন্দির, গরু শুয়োরের বৃত্তে সাধারণ মানুষকে আঁটকে রেখে দেওয়া, যাতে পুঁজিবাদী শোষক গোষ্ঠী সেই অকারন অশান্তির আড়ালে ফাঁকতালে রাষ্ট্রের সম্পত্তি বেহিসাবি লুঠ করতে পারে। 

২০১৫ সালে এই বিজেপি NRC করার নামে দেশের জনগণকে ক্ষেপিয়ে তুলেছিলো। ১৪% মুসলমানের জন্য নাকি দেশের ৮০% হিন্দু ‘খতরেমে’। ভোটের হিসাবে অন্তত ৩৭% মানুষ এটাকে বিশ্বাসও করেছে বলে আরো দুটো টার্মে মোদী সরকারকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছে, ভোট চুরিকে আমি উহ্যই রাখলাম। দেশের ৪৬% হিন্দু RSS এর বিপক্ষে, এনাদের চাপ সহ মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, বামপন্থীদের লাগাতার আন্দোলনে সেই যাত্রাই NRC/CAA থেকে পিছু হাঁটলেও, ওরা ভুলে যায়নি। দৃশ্যত এদের উদ্দেশ্য, দেশ থেকে কিছু মুসলমানকে তড়ানো, আর বাকিদের উপরে হেনস্থা আর অত্যাচার করা- যাতে মৌলবাদী হিন্দু গোষ্ঠীটার কাছে একটা অর্গাজমের বার্তা পৌঁছায়, ঘৃণার আবহে ভোট কুক্ষিগত করা যায়। 


আসামের NRC এর রেজাল্ট ২০২৫ এর শেষে এসে কোন স্থানে দাঁড়িয়ে? ১৯ লক্ষের বেশী মানুষ অবৈধ ঘোষিত হয়েছিলো, যাদের মধ্যে সাড়ে ৯ লক্ষ হিন্দু রয়েছে, এবং বাকিরা মুসলমান বলে শুরুতে ঘোষণা করেছিলো আসাম সরকার। পরে দেখা যায় তার মধ্যে এক লক্ষ নেপালী গোর্খা, সাড়ে পাঁচ লক্ষ বাঙালী হিন্দু- যাদের মধ্যে কোচ, রাজবংশীই বেশী। ১৯ লাখের বাকি থাকে সাড়ে তিন লাখ, এদের মধ্যে বড়জোর দেড় লাখ মুসলমান। যাদের অধিকাংশকে জবরদস্তি ডিটেনশনে রেখে এসেছিলো বিজেপি সরকার, মামলা লড়ে বহু মুসলমান নাগরিক তার নাগরিকত্ব ফিরে পেয়েছে। অতএব বাকিরাও হিন্দু বা অন্যান্য উপজাতী সম্প্রদায়ের, যাদের পরিচয়পত্র নেই। CAA এর মাধ্যমে যারা নাগরিকত্ব ফিরে পায়নি। অর্থাৎ, হিন্দু খতরেমে। বিহারে রোহিঙ্গা তাড়াবার নামে SIR হলো হৈ হৈ রবে, সেখানে বাদ যাওয়া ৬৫ লাখ ভোটারের মধ্যে ২১ লাখ মৃত ও স্থায়ী পরিযায়ী। অবশিষ্ট ৪৪ লক্ষ মানুষের মধ্যে প্রায় সকলেই হিন্দু। অর্থাৎ, হিন্দু খতরেমে। পশ্চিমবঙ্গে SIR নিয়ে গরীব মানুষ কিছুটা বিভ্রান্তিতে থাকলেও, যে মুসলমানকে লক্ষ্য করে এত আয়োজন, তারাই একমাত্র নিশ্চিন্ত, প্রায় সকলেই কাগজ রেডি করে রেখেছে। কিন্ত অর্ধেকের বেশী হিন্দু সমাজ আতঙ্কিত, সেটা মতুয়া হোক বা নমঃশূদ্র। অর্থাৎ, হিন্দু খতরেমে। 

মুহাম্মদ বিন কাশিম থেকে শেষ মুঘল বাহাদুর শাহ জাফর অবধি দীর্ঘ ১০০০ বছরের মুসলমান শাসনে হিন্দুরা ‘খতরেমে’ ছিলনা, ২০০ বছরের ইংরেজ উপনিবেশিক শাসনামলেও হিন্দুরা বহাল তবিয়তে ছিলো। কংগ্রেস ও অন্যান্য জোট সরকার পরিচালিত স্বাধীন গণতান্ত্রিক ভারতের প্রথম ৬৭ বছরের ইতিহাসে হিন্দুরা অসুরক্ষিত ছিলোনা, কিন্তু ২০১৪ পরবর্তী RSS এর রাজত্বে সত্যিই হিন্দু খতরেমে। মোদীর প্রধানমন্ত্রীত্বে কোটি কোটি হিন্দু ভিটেমাটি হারিয়ে পথের ভিখারি হয়ে যাবার পথে। মোদী শুরু থেকেই জানত তাদের এ্যাজেন্ডা, তাই কোনো ভনিতা না করে ‘হিন্দু খতরেমে হ্যায়’ মন্ত্রে হিন্দুকে অভ্যস্ত করে দিয়েছিলো। কিন্তু এটা বলেনি- এই খতরাটা RSS এর নির্দেশে ‘বিকাশ পুরুষই’ লাগু করবে। মুসলমানকে জব্দ করা যাবে এই আনন্দে বিভোর হয়ে হিন্দুত্ববাদী ভক্ত পাবলিক তুড়ীয় মেজাজে সপ্তমে চড়ে ছিলো, আজ দেখছে মগডালে তুলে দিয়ে হিন্দু হৃদয় সম্রাট নিজেই মই কেড়ে নিয়েছে। তাই জগন্নাথকে ‘বর্ডার তুলে দেব’র মত আজগুবি গল্প বলতে হচ্ছে, মমতাবালাকে অনশনের নাটক করতে হচ্ছে।

শুধু মুসলমানকে তাড়াবার উদ্দেশ্য হলে, বেছে বেছে মুসলমানদের SIR/NRC করলেই ল্যাঠা চুকে যেতো। সমস্ত মতুয়া, নমঃশূদ্র হিন্দুদের যদি CAA তে এ্যাপ্লিকেশন করলেই নাগরিকত্ব দিয়ে দেবে, সেক্ষেত্রে সরাসরি দিলেই তো হয়ে যেতো, তাদের SIR প্রক্রিয়াতে আনার প্রয়োজনীয়তাই ছিলোনা। এই খানেই ধাপ্পাবাজিটা লুকিয়ে। আসামে আজ ৮ বছরের কতজন হিন্দুকে CAA এর মাধ্যমে ইন্ডিয়ান নাগরিকত্ব দিয়েছে বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন সরকার? তারা নাকি বাংলাতে SIR এর মাধ্যমে D-Voter হয়ে যাওয়া পাব্লিককে ভারতীয় নাগরিকত্ব দেবে, এটা আপনি বিশ্বাস করলে আপনি একজন ফুটফুটে চুতিয়া, আপনি নিজেই ‘আত্মলিণঙ্গম পশ্চাদপূরম’ করে বসে আছে, আপনার পায়ুমর্দন অন্য কেউ করবে সেই সুযোগ কোথায়! 

আপনি ছোট জাতের হিন্দু, তাই আপনার ক্ষয়ক্ষতিতে ব্রাহ্মণ্যবাদী মনুবাদীদের কিচ্ছু যায় আসেনা। RSS ব্রাহ্মণ্যবাদী দল, একটা মুসলমানের সাথে একটা দলিত, একটা মতুয়া বা একটা নমঃশূদ্রের কোনোর পার্থক্য নেই। সবকটাই তাদের কাছে অস্পৃশ্য, অশুচি, ম্লেচ্ছ মনুষ্যেতর ইতর জীব, যাদের জন্মের একমাত্র উদ্দেশ্য ব্রাহ্মণদের সেবা করা। কিন্তু মেকি হিন্দুপ্রেমী সেজে মধু ঝরায় আপনার ভোটটা নেওয়ার জন্য। সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমানাধিকারের ধারাতে এই কারনে RSS এর এতো গাত্রদাহ। এই কারনেই সংবিধান সংশোধন করতে চায়, যাতে মনুবাদকে লাগু করতে পারে।

কিংশুকের প্রশ্নে ফিরে আসি, কেন RSS এই SIR করাচ্ছে? কোথায় যাবে এত বিপুল সংখ্যার মানুষ? কী হবে এদের ভবিষ্যৎ? খুব সহজ, কোনো এক মহান অস্কার শিন্ডলার এসে এদের কর্মসংস্থান দিয়ে ঈশ্বর হয়ে যাবে। এই শিন্ডলারের এর ভারতীয় পদবী আম্বানি হতে পারে, আদানি, টাটা, বিড়লা, নারায়নমূর্তি, হক, খান, মন্ডল, ব্যানার্জি, প্যাটেল, শর্মা যা খুশি হতে পারে। শিন্ডলারেরা অতি সস্তার লেবার খুঁজে নেওয়ার মাধ্যমে অবৈধ দের পুনর্বাসন দেবে। এতদিন ভারত থেকে চাল, পাথর পেঁয়াজ, গোমাংস রপ্তানি হয়েছে অফিসিয়ালি, এরপর জ্যান্ত মানুষ রপ্তানি হবে। D-Voter মানুষ, যার দেশ নেই, যার পরিচয় নেই, যার রাষ্ট্র নেই। কিন্তু পেট আছে, বেঁচে থাকার আকাঙ্খা আছে, তাই সে যা খুশি কাজ করতে রাজি হয়ে যাবে- যে কোনো মূল্যে। দাসপ্রথা নতুন পোশাকে এসে হাাজির হবে সামনের দশকে।

কি হয় যখন কেউ D-Voter হয়ে যায়?

প্রথমত তার পরিচয় পত্র কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর সে একটা ফোনের সিম অবধি কিনতে পারবেনা। ট্রেনে ও বিমানে যাতায়াত করতে পারবেনা যেখানে পরিচয়পত্র দেখাতে হয়। যতই অত্যাচারিত হোক, আইন আদালতে যেতে পারবেনা, কারন সেখানেও পরিচয়পত্র লাগে। বাচ্চাদের ইস্কুলে ভর্তি করতে পারবেনা, বীমা পাবেনা, রেশন পাবেনা, সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা পাবেনা, কোনো কাজে গিয়ে হোটেলে থাকার ঘর পাবেনা। সরকারী বা বেসরকারি কোনো ক্ষেত্রেই চাকরি করতে পারবেনা। একমাত্র কাজ, যে এলাকাতে থাকবে সেই অতি সংক্ষিপ্ত এলাকাতে দম বন্ধ পরিস্থিতিতে গতরে খাটা কাজ, যারা নগদে মজুরী পেমেন্ট করে, সেই কাজ করতে বাধ্য হওয়া। এখানেই পুঁজিবাদ সস্তার শ্রমকে গ্রাস করতে আস্কার শিন্ডলার সেজে, ত্রাতা হয়ে দাঁড়াবে বুভুক্ষু আতঙ্কিত মানুষগুলোর সামনে। 

"Capital is dead labour, which, vampire-like, lives only by sucking living labour, and lives the more, the more labour it sucks."

এখানেই মহামতী মার্ক্স অমর হয়ে রয়ে গেছেন। আপনারা পালাবার পথ নেই। হেগেলের দ্বন্দ্ববাদ কিম্বা ফয়ারবাখের বস্তুবাদী দর্শনের সমন্বয় জটিল তাত্বিক বিষয়, যা সকলের বোঝার বিষয় নয়। মার্ক্স ঈশ্বর নন, না প্রফেট না কোনো স্বঘোষিত গুরু কিম্বা পাদ্রী, উনি চিরন্তন হয়ে রয়েছেন “শ্রমশক্তি, মূল্যের শ্রম তত্ত্ব এবং শ্রমের বিভাজন” এই শ্রমের মন্ত্রের উপরে। SIR ও তার ফলাফল আবার চোখে আঙুল দিয়ে মানুষকে বাধ্য করছে মার্ক্সের প্রাথমিক পাঠে ফিরে যেতে। পুঁজিবাদী সমাজে- শ্রমের বিভাজন শ্রমিককে তার শ্রমের পণ্য এবং নিজের কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে, যা শ্রমিককে শোষিত করে এবং এতে মুনাফা বৃদ্ধি পায়। SIR দ্বারা সৃষ্ট অদক্ষ ও অসংগঠিত শ্রমিকের শ্রমকে বিনামূল্যে, পেটেভাতে কিম্বা অতি স্বল্পমূল্যে কিনে নেবার জন্য এই বৃহত্তর আয়োজন। যে কোনো মূল্যে সস্তার লেবার ‘শ্রেনী’ তৈরি করা যাতে মুনাফা কামানো যায়। মার্ক্সের ‘সারপ্লাস ভ্যালু থিওরি’ অনুসারে শ্রমিকের শ্রমের একটি অংশ বিনা পারিশ্রমিকে দখল করা হয় এটাই শ্রমের 'মূল্য চুরি'। NRC-SIR এর গোপন ও মূল উদ্দেশ্য এটাই।

"The worker becomes an even poorer commodity the more wealth he produces; the more that his production increases in power and amount, the more orphaned he becomes of his own product and the more he is determined by the capitalist."

পশ্চিমা দেশগুলোতে সাধারণ মধ্যবিত্তরাও আমাদের টাকার নিরিখে মাসে ১০-২০ লাখ টাকা রোজগার করে, কিন্তু সে দেশের আইনের গেরোতে একটা গৃহ সহায়িকা, পরিচারিকা, ড্রাইভার বা মালি রাখার অউকাত থাকেনা। কারন একজনের সভ্যভদ্র ভাবে থাকা খাওয়া, বেতন ও অন্যান্য জরুরী নুন্যতম সুযোগ সুবিধা দিতে গেলে, ওই মাসিক ১০-২০ লাখও কম পরবে, অগত্যা জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ সবটাই নিজেকে করতে হয়। আগামীতে এই D-Voter ও তাদের সন্তানাদির দল, দলে দলে পশ্চিমা বিশ্বে শুধু পেটে খেতে পাবে এই শর্তেই যেতে রাজি হয়ে যাবে। মা ও মেয়ে একই সাথে মালিকের যৌন লালসা তৃপ্ত করবে। মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় আছে কী? 

তাদের তথাকথিত উন্নত বিশ্বের আইন? আইন তো মানুষের জন্য, দেশের নাগরিকদের জন্য, সেটা যে দেশেরই হোকনা কেন! D-Voter দের দেশ কোথায় যে তাদের উপরে শ্রম আইন লাগু হবে? বিনা মুল্যে শ্রমের অফুরান উৎস, মার্ক্স এই কারনেই পুঁজিবাদকে ঘেন্না করার সাথে সাথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নিদান দিয়ে গেছেন। 

"The philosophers have only interpreted the world, in various ways. The point, however, is to change it."

সুতরাং, এখানে কেউ ততটা হিন্দুপ্রেমী নেই, কেউ ততটা মুসলমান বিদ্বেষীও নেই, যতটা তারা পুঁজি বাদীদের দাস। RSS জন্মলগ্ন থেকে উপনিবেশিক শোষক ইংরেজ প্রভুদের হয়ে গোলামি করে এসেছে, তাদের লুন্ঠন, অত্যাচার ও বঞ্চিতদের উপরে শোষনকে সমর্থন করে এসেছে। তাদের রক্তে, তাদের জিনে রয়েছে শ্রেনীকে শোষণ করা। ২০১৪ এর পর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা পেতেই RSS পুঁজিবাদীদের এ্যাজেন্ডাকে বাস্তবায়িত করছে মাত্র, ধর্মের মোড়কে। আজ আদানি, আম্বানিকে দেশ বেচছে, কাল ভালো দাম পেলে পশ্চিমা হোক, চীন কিম্বা রাশিয়া, অথবা আরবী শেখ- যাকে খুশি বেচে দেবে যে বেশী দাম দেবে।

অস্কার শিন্ডলার এর গল্পে, নাৎসি বাহিনীর সমর্থক হিসেবে শিন্ডলার মেটাল, গ্লাস, সেরামিকের ব্যবসা করে ফুলে ফেঁপে ওঠেন। যুদ্ধের কালোবাজারি মরশুমে লাভের অঙ্ক আরও স্ফীত করবার জন্য ইহুদী ব্যবসায়ী, নাৎসি বাহিনীর উঁচু পদে থাকা অফিসারদের সাথে সম্পর্ক ভাল করে, এর ফলে ব্যবসা আরও বড় হয়ে যায়। এই ব্যবসার জন্য প্রচুর কর্মীর দরকার হয়। কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প ইহুদী বন্দীদের কাজে লাগানোর জন্য নাৎসি অফিসারদের সাথে আর্থিক লেনদেনের কথা শুরু হয়। এই যুদ্ধবন্দীরা জানত মৃত্যুই ছিল ভবিতব্য, তবুও নিয়তির মুচকি হাসি বেঁচে থাকবার আশা জিইয়ে রেখেছিলো। সামান্য অঙ্কের বিনিময়ে একেকজন বন্দীর জীবন রক্ষা করার নামে তালিকাভুক্ত বন্দিদের ওনার ফ্যাক্টরিতে পেটেভাতের শ্রমিক বানিয়ে দিয়েছিলো।

RSS এভাবেই ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্ট অধ্যয়গুলোকে জীবন্ত করছে, ভারতীয় সংস্কৃতির ধাঁচে ফেলে অনুশীলন করছে, এবং সুক্ষ প্রয়োগ করছে হিন্দুত্বের মোড়ক লাগিয়ে।

মধ্যযুগে বর্বর ইউরোপীয়েরা দেশ আবিষ্কার আর বানিজ্যের নামে এশিয়া আফ্রিকা আর লাতিন দেশ থেকে অবাধে লুন্ঠনের সাথে ‘মানুষ’ বেঁধে আনত খাঁচায় করে। সেই হতভাগাদের ইউরোপীয় শ্রমের বাজারে উচ্চমুল্যে বিক্রি করত- অতি সামান্য দৈনিক খাদ্য আর অকথ্য শারীরিক অত্যাচারের বিনিময়ে। সামান্য ২০০-৫০০ জন ইউরোপিয়ান কি আর নিজেদের শক্তি বলে সেই সব ভিনদেশি মানুষদের বন্দি বানাত? স্থানীয় অধিবাসীদের একটা অংশ, সাদা চামড়ার ইউরোপিয়ানদের দালাল হয়ে কাউকে লোভে ফেলে, কাউকে ফাঁদে ফেলে, কাউকে জবরদস্তি বন্দি বানিয়ে ইউরোপ গামী জাহাজে তুলে দিতো। SIR/NRC এর মাধ্যমে দালাল বিজেপি RSS এটাই করছে আদানি, আম্বানির হয়ে। 

তৃণমূল এই পুঁজিবাদেরই অংশ, RSS এর নানান ব্রান্ডের মধ্যে একটা মেকী গান্ধিবাদী দোকান। তারা কাড়া-নাকাড়া বাজিয়ে মানুষকে মূল সমস্যা থেকে বিমুখ করে দিচ্ছে। নন ইস্যুকে ইস্যু বানিয়ে আপনার যন্ত্রণার আওয়াজকে ঢেকে দিচ্ছে, কারন তাকেও দিনের শেষে পুঁজিকেই তুষ্ট করতে হবে। কোনো গান্ধীবাদ, কোনো মনুবাদ, কোনো মোদী ম্যাজিক, কোনো বড়মার ঠাকুরবাড়ি আপনাকে রক্ষা করবেনা। বুঝে হোক বা না বুঝে, মার্ক্সের স্মরণে আসা ছাড়া আপনার মুক্তি নেই। স্পিলবার্গের অস্কার শিন্ডলার কোনো ইশ্বর ছিলোনা, সে ছিলো শ্রমিকের রক্ত চুষে খাওয়া মুনাফাখোর পুঁজিবাদী শয়তান। RSS ও তাই, হিন্দুত্বের ত্রাতা মুখোশ পরে রক্তচোষা মুর্তিমান শয়তান।

সামনে ছয় মাসের মধ্যে বিধানসভা ভোট, সিদ্ধান্ত নিন- পুঁজিবাদীদের দালাল RSS এর দুই ফুলের ‘ধর্মের নামে’ মেকি লড়ায়ের মাঝে আতঙ্কে বাঁচবেন, নাকি পুরাতন পাপের প্রায়শ্চিত্ত করে, মার্ক্সবাদীদের হাত শক্ত করবেন, নিজের বেঁচে থাকার স্বার্থে। অপসন একটাই, সিদ্ধান্ত আপনার। 


#হককথন

#BanRSS

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...