বিপর্যয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিপর্যয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্বগুরু- The Real Pappu

 


প্যারাডাইস লস্ট এর করুণ নিদারুণ দৃশ্য আজকের ভক্তপিতার মাঝে দৃশ্যমান, যা শিক্ষনীয়। ক্ষমতা আঁকড়ে পড়ে থাকা এক ভীরু ও নৈতিকভাবে দেউলিয়া লোলচর্ম পলিতকেশ বৃদ্ধ; এতটাই নির্লজ্জ ও মেধা-বুদ্ধিতে দীন যে, নিজেকে খোদ রাষ্ট্রের সমার্থক হিসেবে তুলে ধরতে তার বিন্দুমাত্র চক্ষুলজ্জা নেই। অথচ এই দেশ তাকে অনেক আগেই পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে, সেই দেশের ছাত্রসমাজের কাছেই উনি ভাঁট বকে মরিয়া হয়ে প্রশংসা পেতে চাইছেন- চরম শোচনীয় একটা পরিস্থিতি। উনি ভুলে গিয়েছিলেন যে- ভাষনটা শিক্ষার্থীদের সামনে দিচ্ছেন, দলীয় গোবরভক্ত কর্মীদের কাছে নয়।

গত ১৪ বছর ধরে পোষ্য মিডিয়া যে একখানা সুপারহিরো প্রতিমূর্তি বানিয়েছিলো, এবং উনি নিজেও নিজের নন ‘বায়োলজিক্যাল’ ইমেজ তৈরি করেছিল- সেই কল্পিত ভ্রমের স্বর্গ থেকে নিজেই নিজেকে টেনে হিচড়ে নামিয়ে ফেলে রক্তমাংসের একজন কুৎসিত উদ্ভ্রান্ত বিকৃত মনস্ক স্থবির বৃদ্ধ মানুষ হিসেবে উন্মোচিত করে ফেলেছেন- যাবতীয় ব্র্যান্ডিংয়ের ধরাচুড়ো আজ খসে গেছে। ২০০২ এর দাঙ্গাবাজ মোদী, ২০১৪ এর স্বপ্নফেরি করা মার্কেটিং গুরু মোদী আর ২০২৬ এর ব্যার্থ মোদী- কোনো ফারাক নেই বয়স ছাড়া; একটাই গু, আলাদা রঙে আলাদা নক্সায়। সবচেয়ে সংবেদনহীন এবং সহানুভূতি-বর্জিত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী, যখন দিল্লিতে বিল্ডিং ধসে পড়ার দরুন যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু শিক্ষার্থী আটকা পরেছে বা মারা গেছে, এ নিয়ে তার মুখে একটি কথাও নেই, অথচ ঠিক সেই সময় প্যারিসে মন্দির নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে তিনি উৎসব করছেন।

শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে Centenary Celebrations of Shri Ram College of Commerce (SRCC) এর এক অনুষ্ঠানে মহামানব গিয়েছিলেন ভাষণ দিতে। নেহরু তার আমলে এই SRCC-তে ভাষণ দিতে এলে, তাঁর ভাষণটি কেবল বাণিজ্য শিক্ষার ওপরই নিবদ্ধ থাকত। রাজীব গান্ধী এসে ভারতের আধুনিকীকরণের কথা বলতেন। এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে মনমোহন সিং এর পুরাতন ভিডিওর অর্কাইভ ভাষণ শুনে দেখবেন, মনে হবে যেন তারা কোনো বিশ্বায়ন শিক্ষার শ্রেণিকক্ষে বসে আছে। এমনকি বাজপেয়ীও আলোচনার মাধ্যমে কথোপকথনের শিল্প শেখাতেন। আজকে এই 'গুহামানব' এর বক্তিতা শুনুন, যেন বিজেপির কোনো নির্বাচনী জনসভায় বসে অন্ধভক্তদের সামনে গোবরের প্রবচন দিচ্ছেন।

নরেন্দ্র মোদী কোনোভাবেই দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য নন বর্তমানে, প্রধানমন্ত্রীর পদের গরিমা আর মর্যাদাকে ভাঙরির দড়ে বেচে দিয়েছেন ক্ষমতা করায়ত্ব করতে গিয়ে। পোষ্য মিডিয়া এতদিন পর্যন্ত বিদেশে গিয়ে ওনার নির্বোধের মত ‘হাসি-ঠাট্টার’ শব্দই মিউট করতো, এখন শিশুদের সাথে উনিজির কথাবার্তাও ANI-কে মিউট করতে হচ্ছে, অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে হ্যাটা করলেও উনি অন ক্যামেরা নির্বোধের মত খি-খি করে হাসেন। সেই তিনি, যুবসমাজকে আকৃষ্ট করতে গিয়ে এখন Gen-Z প্রজন্মের ব্যবহৃত স্ল্যাং ভাষা ব্যবহার করে নিজেকে উপহাসের পাত্র বানিয়ে ফেলেছেন। আসল ব্যাপার হলো, মহাপুরুষ ও তার অন্ধ ভক্তরা 'জেন-জি'ও বোঝেনা, সভ্য সমাজের ব্যঙ্গ বা শ্লেষের মর্মও বোঝেনা।

৭৬ বছর বয়সী একজন গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রী, ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণ-তরুণী ছাত্রছাত্রীদের 'মানসিক নকশাল' (Dimagi Naxal) বলছে শুধুমাত্র প্রশ্ন করার অপরাধে। ছাত্রছাত্রীদের চাহিদা কি! তারা একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ চায়, তারা চায় গণতন্ত্র টিকে থাকুক, পাশাপাশি জনগন দ্বারা নির্বাচিত সরকার জনগণের জবাবদিহিতার আওতায় আসুক। কিন্তু বিশ্বগুরুর সেই মুরোদ নেই যে একটা সাংবাদিক সম্মেলন করেন, তিনি কেবল রেডিওতে নিজের পেটের মন্দ বায়ুর আওয়াজ শোনান ‘মন কি বাত অনুষ্ঠানে’, আর পোষ্য অভিনেতা-সাংবাদিকদের সামনে আম খাওয়ার গল্প শোনান।

দিশাহীন যুবসমাজ কোনো সন্ত্রাসী নয়, নকশাল কি জিনিস- খায় না গায়ে মাখে তাও জানেনা অধিকাংশ। চতুর্দিকে দুর্নীতির পাহাড়, লক্ষ কোটি টাকা লুন্ঠনের পাপে নিমজ্জিত একটা দল, এদিকে যুবসমাজের সামনে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এই সরকারেরই নীতি আয়োগের তথ্য বলছে দেশে NEET - Neither in Education, Employment nor Training এর সংখ্যা ৮ কোটি ৭০ লাখ। ২৫ বছর বয়স অবধি স্নাতক যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৪০%। মোট কর্মহীন যুবসমাজের প্রায় ৬৯% উচ্চমাধ্যমিক বা তার চেয়েও উচ্চশিক্ষিত ডিগ্রিধারী। এরা কাজ চাইছে, এরা জিজ্ঞাসা করছে প্রশ্নপত্র কেন ফাঁস হচ্ছে, গতানুগতিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ কি! এই বিষয়গুলোর উত্তর দেওয়ার বদলে- মহারাজ যুবকদের বিরুদ্ধে 'লেবেল' বা তকমা সেঁটে একটা অসম লড়াই লড়ছেন।

SRCC এর ছাত্রছাত্রীরা আশা করেছিল তিনি চাকরি, শিক্ষা ও সংস্কারের বিষয়ে কথা বলবেন, অথচ ‘সাহেব’ 'দিমাগি নকশাল' আর 'নারাজ পিসেমশাই'-র মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব হাজির করেছেন। আসলে তরুণদের জন্য কোনো অনুপ্রেরণা বা দূরদর্শী চিন্তার কথা বলার যোগ্য উনি কোনোদিনিই ছিলেননা। টেলিপম্পটার ম্যান কি আদৌ শিক্ষক দিবসের মর্যাদা বোঝেন? যিনি সারাক্ষণ দাঙ্গা, মুসলমান, গরু, পাকিস্তান নিয়ে পরে থাকেন, তাদের বক্তব্য ঠিক এতোটাই নিম্নমানের হয়। শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার প্রবণতা এই Divider-in-Chief কে হীনম্মন্যতারই সবচেয়ে বিরক্তিকর বহিঃপ্রকাশে বাধ্য করেছে। দেশের একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দেশের তরুণদের সামনে তুলে ধরার মতো কোনো সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি বা অনুপ্রেরণাদায়ক বার্তা তার নেই, তিনি বিজেপির কর্মকর্তা হিসাবে বিরোধী পক্ষকে গালিগালাজ করার পথ বেছে নিলেন। চরম ব্যর্থ ফেকুজির কাছে এখন আর কোনো নতুন ভাবনা বা সারবত্তা অবশিষ্ট নেই এবং বলার মতো অর্থবহ কোনো কথাও ফুরিয়ে গিয়েছে।

গুহামানব এখানেও ‘মাই ফ্রেন্ড দোলান্ড’কে কপি করেছে। গত ২৮শে আগস্ট মার্কিন মুলুকের হিউস্টনে আয়োজিত Congressional Space Medal of Honor এর বার্ষিক অনুষ্ঠানে গিয়ে ট্রাম্পও হেগে ছড়িয়েছে। এই অনুষ্ঠানটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ অনুসন্ধান ক্ষেত্রে প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান প্রদানের মঞ্চ ছিল। সেখানে নাসার তাবড় বিজ্ঞানী এবং মহাকাশে নানান মিশনে যাওয়া এ্যাস্ট্রোনটেরা উপবিষ্ট ছিল। ট্রাম্প নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘন্টা দেরিতে পৌঁছায়, মোদীও যা অনুসরণ করেছে। এরপর তার প্রফেসর কাকা জন ট্রাম্পকে নিয়ে বক্তিতা দেয় যার সাথে মহাকাশ গবেষনার কোনো সম্পর্ক ছিলোনা। সকলকে আশ্চর্যকরে উন্নত জিনের কারনেই যে গবেষনার কাজে উন্নতি হয়, এই গল্পও নাসার বিজ্ঞানীদের সামনে বমি করেন। RSS ও তো উন্নত ব্রাহ্মন জিনের পক্ষেই সাওয়াল করে। এর পরেই মঞ্চটা মিডিটার্মের নির্বাচনের প্রচারসভায় পরিনত করে ফেলে- বাইডেন, ওবামা থেকে ইরান, রাশিয়া সকলকে আক্ষরিক অর্থে গালিগালাজ শুরু করে। ফ্রেন্ডের দেখানো পথেই হেঁটে মহামানব SRCC তে ছড়িয়েছেন।

অশিক্ষিত রাজনীতিবিদ ভারতের জন্য একটি বড় সমস্যা, বলাই বাহুল্য RSS-BJP এর প্রায় সকলেই অশিক্ষিত গাম্বাট। যারা খাতায় কলমে শিক্ষিত, তারা নিজ আখের গুছাতে এই দলে ভিড়ে রয়েছে। এরা কোন দিক থেকেও কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাষণ দেওয়া উপযুক্ত? যাবতীয় অবৈজ্ঞানিক ও ভিত্তিহীন গল্পগুজব প্রচার করে, ধর্মকে বরর্ম বানায়, যা একান্তই অপ্রাসঙ্গিক ও অবান্তর। বাকী সবটাই দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ধরে চলা বিদ্বেষপূর্ণ, উগ্রবাদী ও প্ররোচনামূলক সাজানো-গোছানো রাজনৈতিক পরাকাষ্ঠা। আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ তথা সময়ক্রমকে যাচাই করে দেখার মত বোধবুদ্ধি ও সঙ্গতি টুকুও এদের অবশিষ্ট নেই। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মানি যে, ইনি আমার প্রধানমন্ত্রী নন। একজন মর্যাদাহীন ও সস্তা মানসিকতার নির্লজ্জ কেউ আমার নেতা হতে পারেনা। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইনি প্রতিবার এগুলোকেই তার রাজনৈতিক প্রোপ্যাগান্ডার মঞ্চ হিসাবে বেছে নিচ্ছেন। সাংবিধানিক পদের নিরপেক্ষতা এই লোকের থেকে কোনো সুস্থ মানুষ আর আশা করেনা।

ভারতীয় ব্যাঙ্ক গুলোর কর্মক্ষমতা বিষয়ে ভাষনের নামে দুর্গন্ধ ছড়ানো এই মস্তিষ্ক-কলুষিত মূর্খটা সংশ্লিষ্ট কলেজের শত বছরের ইতিহাসে প্রথম নন-পারফর্মিং হতাশা প্রদান করেছেন। প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকট আন্তর্জাতিক অর্থায়নের বহু বড় বড় নামকে ডুবিয়ে দিয়েছিল। উনি জানালেন ২০০৮ এর সঙ্কট নাকি ২০০০ সাল অবধি লুকিয়ে রেখেছিল মনমোহন সরকার, তা কাকা- সময়ের পিছনে যাওয়ার গাড়িটা কি আপনি চালাচ্ছিলেন সেই সময়? কতবড় নির্লজ্জ হলে এমন মিথ্যাচার কেউ করতে পারে। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে, শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ৪৮৯টি বিমাভুক্ত ব্যাঙ্ক এবং সঞ্চয়ী প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যায়। ভারতের শেয়ার বাজার, রপ্তানি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এতে, কিন্তু আমাদের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা অক্ষত ছিল, একটিও ভারতীয় বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হয়নি। এটা তথকালীন RBI এবং ডঃ মনমোহন সিং সরকারের বিচক্ষণ নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষ সংকট ব্যবস্থাপনার ফসল ছিল। গুহামানব নিজের কার্যকালে কি করেছেন?

২০১৯ সালের শুরুতেই এগারোটি সরকারি ব্যাঙ্ক এবং একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ককে RBI-এর ‘প্রম্পট কারেক্টিভ অ্যাকশন’ কাঠামোর অধীনে আনা হয়েছিল। সরকারকে ২.১ লক্ষ কোটি টাকার একটি পুনঃমূলধন প্যাকেজ ঘোষণা করতে হয়েছিল। ২০২০ সালে, RBI-এর বর্ণনা অনুযায়ী ইয়েস ব্যাংকের ‘দ্রুত অবনতিশীল আর্থিক অবস্থা’ এবং ‘গুরুতর প্রশাসনিক সমস্যা’-র কারণে ব্যাঙ্কটিকে একটি মোরাটোরিয়ামের অধীনে রাখা হয়। এর জন্য SBI-এর নেতৃত্বে একটি পুনর্গঠনের প্রয়োজন হয়েছিল। লক্ষ্মী বিলাস ব্যাঙ্ককে একটি মোরাটোরিয়ামের অধীনে রাখা হয়েছিল এবং এটিকে DBS ব্যাঙ্কের সাথে একত্রীভূত করতে হয়েছিল। বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম, ব্যর্থ অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এবং মিথ্যা প্রতিবেদন আবিষ্কার করার পর PMC ব্যাংকের আমানতকারীদের প্রাথমিকভাবে তাদের নিজেদের মাত্র ১,০০০ টাকা তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ব্যাঙ্কটিকে অবশেষে ইউনিটি স্মল ফাইন্যান্স ব্যাংকের সাথে একীভূত করা হয়।

তিনি দেশের সবচেয়ে নামকরা বাণিজ্য কলেজে ঢুকে, বিশ্ব আর্থিক সংকটের ইতিহাসের নামে আক্ষরিক অর্থে ‘হেগে’ ছড়ালেন। হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটিতে হয়তো এটাকে অর্থনীতি বলে চালিয়ে দেওয়া যায়, SRCC-তে এটা একটা অক্ষম মূর্খের ভাঁড়ামো বই কিছু নয়। আসলে অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে তা ঋণের দিকে চেয়ে দেখুন। এই ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাঙ্কের সবচেয়ে বড় ঋণ গ্রীহিতার নাম জানেন? ইয়েস, আত্মনির্ভর ভারত। দু’য়ে ইন্দোনেশিয়া, তিনে পাকিস্তান আর চারে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাঙ্কের ভারতীয় ঋণের অঙ্ক- ৩ লক্ষ ৭১ হাজার কোটি টাকা। আজকের দিনে আভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক হিসাব মিলিয়ে প্রত্যেক ভারতীয়ের মাথাপিছু ঋনের পরিমান ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, ২০১৪ সালে এটা ছিলো ৪৩০০০ টাকা। সাহেবের শাসনামলের ১২ বছরে তিন গুণ ঋণ বেড়েছে, আপনার আয় কি তিন গুণ বেড়েছে? ২০১৪ সালেও ভারত এক নাম্বারেই ছিলো বিশ্বব্যাঙ্কের ঋণ নেওয়ার তালিকাতে, দ্বিতীয়ে ছিল চিন, তৃতীয় ব্রাজিল, পঞ্চমে মেক্সিকো, এরা সকলে প্রথম ১০ থেকে বেড়িয়ে গেছে। কেবল আমরা এই মহাদানবের রাজত্বে আরো ডুবে গেছি। এই হচ্ছে বিকশিত ২০৪৭ সালের গাঁজাগল্প।

গত ১২ বছরে গুহামানবের খাতায় শুধুই ব্যর্থতা আর বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। সবার শীর্ষে রয়েছে দুর্নীতি, অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থান সংকট। দুর্নীতির কথা কাগজে লিখতে গেলে সেই তালিকা চাঁদ অবধি পৌঁছে যাবে, ওটা অন্য দিন লেখা যাবে। ২০১৬ সালের নোটবন্দী  ক্ষুদ্র শিল্প ও অসংগঠিত ক্ষেত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। কালোটাকা আর জাল নোট ধ্বংসের গল্প দিয়েছিল, এখন তো ব্যাঙ্কের ভোল্টেই কালো টাকার পাহাড়। ত্রুটিপূর্ণ ও জটিল GSTকে তড়িঘড়ি করে চালু করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মড়ার উপরে খাঁড়ার ঘা মেরে দিয়েছে। বেকারত্বের প্রশ্ন আসতেই তো ‘দিমাগি নকশাল’ বানীর উৎপত্তি। মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার মূল্যের রেকর্ড পতন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ওনার মুকুটের কোহিনুর। ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে সম্পদের ব্যবধান বৃদ্ধি এবং আম্বানি আদানির মত কর্পোরেট মাফিয়াদের হাতে দেশের মূল পরিকাঠামো, যেমন ব্যাঙ্কে থাকা জনগনণের গচ্ছিত অর্থ, সমুদ্র বন্দর, বিমানবন্দর, অস্ত্র উৎপাদন সেক্টর, বিদেশনীতির থিঙ্কট্যাঙ্ক, আর্মি ইস্কুল, খনি, জঙ্গল সব তুলে দিয়েছে। এমনকি আমাদের গর্ব ISRO আর DRDO কেও বেচে দিয়েছে সাম্প্রতিক অতীতে। বিতর্কিত কৃষি আইন, কৃষকদের আয় হ্রাস, ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি গ্যারান্টি না দেওয়া ওনার অনন্য কীর্তি বৈকি। আর সামাজিক ও গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের বিচারে উনি নোবেলের দাবীদার। CAA/NRC বিতর্ক, বিরোধী রাজনৈতিক দল, সমাজকর্মী ও সাংবাদিকদের দমনে ইডি (ED) এবং সিবিআই (CBI)-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার, মূলধারার গণমাধ্যমকে পোষ্য বানিয়ে আন্তর্জাতিক 'প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে' ভারতকে হাস্যস্পদ করে তোলা, চীন সীমান্ত সংকট এগুলো তো আছেই। সব কীর্তি ছাপিয়ে- মাই ফ্রেন্ড দোলান্ড টাম্পের সামনে সারেন্ডার করাটা তার বিশেষ সিদ্ধিলাভ।

এদিকে ভক্তদের নতুন ফাদারল্যান্ড দেওয়ার পরেও যখন বামাল সামলানো যায়নি, তখন বিনাশপুরুষ এই SRCC এর ভাষনে তার UPI আবিষ্কারের গল্প শোনালেন ও কৃতিত্ব নিলেন। আসলে উনি বুঝে গেছেন যে ওনার দাঁতক্যালানো থোবরা দেখিয়ে ভোট টানার মতো কোনো সাফল্য নেই, তাই তিনি UPI-এর কৃতিত্ব নিজের বলে মিথ্যা দাবি করছেন অত্যান্ত গর্বের সাথে। বস্তুত, মনমোহন সিং সরকারের আমলেই ইউপিআই-এর পরিকল্পনা, প্রস্তাবনা, অনুমোদন, নকশা ও উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছিল এবং আরবিআই (RBI)-এর গভর্নর হিসেবে ড. রঘুরাম রাজনের কার্যকালেই এটি চালু করা হয়েছিল। ২০০৮ সালে ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া(NPCI) তৈরি হয়, ২০১০ সালে IMPS চালু করা হয়- যা কঙ্গনা রানাউতের মতে- ভারতের প্রকৃত স্বাধীনতার আগেই। অন্যের তৈরি করা কাঠামোর ওপর নিজের নাম বসিয়ে দিলেই ইতিহাস বদলে যায় না, ভাঁড় মহাশয়। যখন কারো ডিগ্রি হয় ‘এন্টার পলিটিক্যাল হিস্ট্রি’র ওপর, তখন এমনটাই ঘটে।

ভুয়া ডিগ্রির অধিকারী মহামানব নিজের অশ্লীল কর্মকাণ্ডকে হোমিওপ্যাথির সাথে তুলনা করে, মেটাফোরের মা-মাসি এক করে দিয়েছেন। বিশ্বের সমস্ত প্রধান চিকিৎসা-সংস্থা হোমিওপ্যাথিকেই ছদ্মবিজ্ঞান হিসেবে অভিহিত করে থাকে। নন-বায়োলজিক্যাল, তাঁর বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তৃতার মাধ্যমে ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক কথা বলে ভেবেছেন- দারুন বাহাদুরির কাজ করে ফেলেছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচার এবং যৌক্তিক ও সমালোচনামূলক ভিন্নমতকে দমন করার জন্য, হাস্যকরভাবে হোমিওপ্যাথির কার্যপদ্ধতির উদাহরণটি- মগজে কার্ফিউ এবং জড়ভরত বৈশিষ্ট্য যুক্ত অক্ষম বুদ্ধিবৃত্তিক একজন উন্মাদের ঝাপসা দৃষ্টি। যিনি এক অযৌক্তিক চিন্তাধারা, অবৈজ্ঞানিক বিশ্বাস এবং আত্মমুগ্ধতা-জনিত নিরাপত্তাহীনতা ও ভঙ্গুর আত্মমর্যাদাবোধে ভুগছেন। প্রকৃত শিক্ষার সাথে যাদের দূর দুরান্তেও সম্পরর্ক নেই, তারা এই ধরনের হীন মানবিক বৈশিষ্ট্যর হয়। ইনি আক্ষরিক অর্থেই স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের বড় ভাই। 

ছাত্রদের সামনে দেওয়া ভাষনেও মহাপুরুষ তার ইমেজ নিয়ে উদ্বিগ্ন, ওনার ওই সারবত্তাহীন বক্তৃতার ছোট ছোট অংশ নাকি ভাইরাল হয়ে যেতে পারে। পরিহাসের বিষয় হলো, ২০১৪ সাল থেকে তিনি এবং তার দলদের আঁটিসেল- সমস্ত বিরোধী নেতা সহ রাহুল গান্ধীর ভিডিও এডিট করে সেগুলোকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে নিকৃষ্ট উপস্থাপনা করেই সোস্যালমিডিয়াতে টিকে আছে ঘৃনা ছড়িয়ে। কিন্তু গুহামানবের ক্ষেত্রে ভিডিওর অংশগুলো মোটেও এডিটেড নয়। তিনি নিজেই কথা বলতে গিয়ে তোতলান ও ভুলভাল বকেন, যার ফলে তার আসল রূপ বেরিয়ে মানুষ প্রকৃত বাস্তবতা দেখতে পাচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।

শ্রীরাম কলেজে গুহামানবের ভাষণ উপলক্ষে ঠিক কি কি ধরণের সুরক্ষা নিয়েছিলো ওনার সুরক্ষাতে থাকা SPG? কালো জামা, কালো প্যান্ট, কালো বেল্ট, কালো টুপি, এমনকি কালো রুমাল অব্ধি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল- SRCC এর এই অনুষ্ঠানে। আগে মুসলমান চিনতে উনি কাপড় দেখতেন, এখন বিক্ষোভের আঁচ থেকে পালাতে, আক্ষরিক অর্থে কাপড় দিয়ে পরিচয় দিতে হচ্ছে ছাত্রদেরও। যে কারণে ওই ইন্সটিটিউটের ৪০০০ ছাত্রর মধ্যে মাত্র ৬০০ জনকে অনুমতি দিয়েছিল এই সভাতে দর্শক হিসেবে অংশগ্রহণ করার। প্রত্যেকের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, পারিবারিক রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড, সেই ছাত্রের নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শ, এই সমস্ত কিছু খুঁটিয়ে বিচার করে- তবেই এই ৬০০ জনকে অনুমতি দিয়ে ছিল। এই অনুষ্ঠান চলাকালীন দিল্লি ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন হোস্টেলে এবং যেখানে যেখানে ছাত্ররা জটলা করে বা আড্ডা দেয় নিজেদের মধ্যে, সেই প্রত্যেকটা স্থানে দিল্লি পুলিশ রীতিমতো নাকাবন্দি করে রেখেছিল, যাতে ভুল করে একজনও কোনরকম বিরুদ্ধ মত তুলতে না পারে। ছাত্রদের মধ্যে যারা নেতৃত্ব স্থানীয়, তাদের প্রত্যেকের ফ্ল্যাটে পুলিশ পোস্টিং করে তাদের হাউস অ্যারেস্ট করে রাখা হয়েছিল।

গুহা মানব, আপনার খেলা শেষ হয়ে গেছে ফ্রান্ডস। দেশের জন্য আপনি লজ্জা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারবেন না।

 

 

 


রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬

হঠাৎ কেন বন্দেমাতরম?



যাদবপুর, এই বিষয়টা ১০ কোটি পশ্চিমবঙ্গবাসীর মধ্যে- ৯ কোটি ৯৯ লক্ষ ৯০ হাজার জন ব্যাক্তি ব্যক্তিগতভাবে কোনোভাবেই 'নূন্যতম' জড়িত নয়।

বন্দেমাতরম, দেশের ১ জন জনগনের রুটি-রুজি জন্যও জরুরী কি? দেশের ইন্ট্রিগ্রিটি, বর্হিশত্রুর আক্রমণ ঠেকাতে জড়িত? এটা গাইলে কী দেশে মেধা, শিল্প, আর্থিক শ্রীবৃদ্ধির বন্যা না হোক, চোরা স্রোতও কি বইবে? যদি সেটা না ই হয়, তাহলে এটাই কেন দেশের একমাত্র প্রাইম ঈশ্যু? দেশদ্রোহী চোর ধর্ষক বিজেপি/RSS এর জন্য এটা একান্ত জরুরী, কারন প্রতারিত 'হিন্দু' জনগনের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্যান্টে হেগেমুতে ফেলছে তাই ধামাচাপা দিতে এটা তাদের জন্য জরুরী। যে হিন্দু জনগণ এদের পরিত্রাতা ভেবেছিল, আজ তারা দেখছে তাদের পরনের কাপড় টুকুও নেই- বিজেপি বেচে দিয়েছে।

আম নাহয় কাটার বাচ্চা, যেকোনো সময় কোনো দেশপ্রেমিক বাঁদর বা বলদের বাচ্চা আমাকে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেবে- কিন্তু রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে অষ্টপ্রহর অবিচ্ছিন্ন বন্দেমাতরম গাইলে কী "হিন্দু অস্মিতার" নিশান রামমন্দির বা বৈষ্ণদেবী মন্দিরের চুরি যাওয়া অর্থ ফেরৎ আসবে? বাকি কোনো সামাজিক জলন্ত ঈশ্যুকে নাহয় সামনে আনলামই না।

আমাকে বলুক আমার ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধির জন্য আমাকে সরকারী তহবিল থেকে অতি সামান্য আর্থিক সুবিধা দেবে- যেমনটা আম্বানি আদানি পেয়েছে, তার ভগ্নাংশের ভগ্নাংশ মাত্র; আমি রাস্তার মোড়ে চেঁচিয়ে রোজ ৩ বেলা বন্দেমাতরম গাইবো। 

ভাত দেওয়ার ভাতার নয়, তুমি মরালিটি চোদাবার গোঁসাই। 

শমীক ভট্টাচার্য খুব সচেতন ভাবেই নিজেকে 'কমিক' ভট্টাচার্যে ট্রান্সফর্ম করে- যাত্রাদলের বিবেকের ভূমিকাতে শান্তিগোপাল হয়ে যায়- আপনাকে চুতিয়া বানাতে। RSS/BJP যখন সে ঈশ্যু গুলোকে মুখ্য বানায়, জানতে হবে তারা প্যান্টে হেগে বসে আছে- কিম্বা কোনো বড় চুরির ফাঁদ পেতেছে। তাই আলবাল ঈশ্যু তুলে আপনাকে মানে দেশের ৭০% হিন্দুকে মাতিয়ে রেখে, কিছু লুকাতে চাইছে। দেশ বেচে দিচ্ছে।

গ্যাস, চিনি, বাইকের জ্বালানি, সরসের তেল থেকে প্রতিটা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম রোজ বাড়ছে- বাড়েনি আপনার রোজগার। "ভারত মাতা কি জয়" স্লোগান ওই "জয় শ্রী রাম" স্লোগানের মতই আগামীতে বিজেপির রাজনৈতিক স্লোগান হিসাবে চিহ্নিত হবে। কুলদীপ সেঙ্গার, প্রজ্জ্বল রোভান্না, ব্রিজ ভূষণ সিং, চিন্ময়ানন্দ, আশারাম বাপু বা বাবা রামরহিমও "ভারত মাতা কি জয়" স্লোগানের আড়ালে ধর্ষন করেছে। রামমন্দিরের চাঁদা চোরটাও "জয় শ্রীরাম" বলেই বামাল নিয়ে পালিয়েছে নাগপুরে। এরা সকলে কি বন্দেমাতরম জানত? ধরে নিচ্ছি নিশ্চই জানতো, যেহেতু বিজেপি করতো। সুতরাং, বন্দেমাতরম বললে কোনো কিছুরই সমাধান হবেনা।

ভোটের আগে এই বেজন্মারাই রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা করে মুখ পোঁদ সকল ফুটো দিয়ে আওয়াজ বের করত, আজ সেই সব ফুটোতে- হয় বাপের ফাটা কন্ডোম কিম্বা মায়ের মাসিকের ন্যাকড়া গুঁজে রেখেছে। আর রোহিঙ্গা শব্দ কেউ শুনতে পান কেউ? এই শুয়োরের বাচ্চাদের কাজই হচ্ছে আম মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপ্রাপ্তি থেকে আসা প্রশ্ন গুলো থেকে ক্ষোভকে অন্য পথে চালনা করতে এই সব আলবাল ঈশ্যুকে এমন ভাবে সামনে আনে, যেন এটা ছাড়া জীবন অচল। 

একই পথে কোরবানি বন্ধ করতে গিয়ে গোপালক সম্প্রদায়ের পেটে পা দিয়ে দিয়েছে। আজ রাস্তায় নামাজ বন্ধ, আজান বন্ধ, ঝটকা মাংস- এই সব করে একটা শতাংশ উন্মাদের মানসিক অর্গাজম হচ্ছে- তাতে পেট ভরছে কি? সেই তো মেয়ে বৌকে ন্যাংটা করে র‍্যান্ডি নাচ নাচিয়ে টাকা কামাতে হচ্ছে।

পাঁঠা চোদাগুলো বন্দেমাতরম নিয়ে গাঁড় পেঁয়াজির নতুন নক্সা এনেছে। বন্দেমাতরম অদৌ গাইবো কিম্বা কতটা গাইবো- সেটা তো যারা দেশ স্বাধীন করেছিলো তারাই ঠিক করেই দিয়ে গিয়েছে। আজ যখন সমগ্র বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো ড্রোন টেকনোলজি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে এগোচ্ছে চুতিয়ার বাচ্চারা বন্দেমাতরম নিয়ে হুপ হুপ শুরু করে দিয়েছে। IIT/IIM এ কখনও ক্যালা কাত্তিক মহারাজ তো কখনও শ্রীশ্রী রবিশঙ্করকে ডেকে এনে বক্তিতা দেওয়াচ্ছে- IT সেক্টারে আমাদের দেশের যে উৎকর্ষ ছিলো সেটারও মা-চুদে দেওয়ার পরিকল্পনা একদম খাপে খাপ। ওদিকে ট্রাম্প থেকে পুতিন, যে যখন পারছে বিশ্বগুরুর মায়ের ১০৮ করে দিচ্ছে। 

যেদিন RSS নিজেদের সরকারের খাতায় রেজিস্ট্রেশন করে তাদের সমস্ত সম্পদ ও অর্থের হিসাব দেবে, যেদিন RSS লিখিতভাবে ভারতীয় সংবিধানকে তাদের সংবিধান মানবে, যেদিন "নমস্তে সদা বৎসলে" এর পরিবর্তে সঙ্ঘে বন্দেমাতরম এর পূর্ণ গীত গাওয়া হবে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসাবে- সেদিন তারা ১৫০ কোটি ভারতবাসীকে বাধ্য করুক।

আর তা না করলে, এদের কাঁচা খিস্তিখেউড় করাটা নাগরিক কর্তব্য। যে এদের খিস্তিখেউড় করবেনা, কিন্বা মনে করে এদের খিস্তি দেওয়াটা অন্যায়- তার বাপের DNA এর সাথে নিজের DNA চেক করা দরকার, কে জানে পাড়ার কাকুদের দল দুপুর ঠাকুরপোর ভূমিকাতে আপনার মাতৃদেবীর পোয়াতির কারন হয়েছিলেন কিনা- যেমন আদানি আম্বানি বাবা মিলে "বিজেপির ভারত মাতা"কে পোয়াতি করে দিয়েছে।

শালারা বন্দেমাতরম আর যাদবপুর চোদাচ্ছে।

সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

ভারতের সর্বোচ্চ বিচার ব্যবস্থা ও RSS

 


গত ১২ বছর যাবৎ অমৃতকালের শাসন ব্যবস্থায় আমাদের সুপ্রিম কোর্ট নিজেই একটা সিলবন্ধ প্রহসনে পরিণত হয়েছে। শাসকের প্রতি আনুগত্যে গদগদ অধিকাংশ জোব্বাধারী ভাঁড়, যাদের কাজ শুধু সরকারকে পরিত্রাণ দেওয়া। কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপির আদর্শিক অভিভাবক RSS- শুরু থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে ভারত রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বিচারব্যবস্থাকে ব্যবস্থা নিজেদের অধীনস্ত দাসানুদাস ও পোষ্য পর্যায়ে টেনে নামিয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণই যখন একমাত্র লক্ষ্য, যেখানে গণতন্ত্র বাঁচল কি মরলো তার কোনো দায় নেই।

সুস্থ গণতন্ত্রে বিচার ব্যবস্থাই গণতন্ত্রের মূল রক্ষাকবচ, যা রাষ্ট্রের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শাসক ও আমলাতন্ত্রের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে, নাগরিকদের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখা ও সংবিধানকে প্রতিষ্ঠা রাখাই বিচার ব্যবস্থার একমাত্র কাজ। ফ্যাসিস্ট শাসকরা সাধারণত নিজেদের ক্ষমতাকে কায়েমি করতে এবং সমস্ত বিরোধিতা দমন করতে শাসনকালের শুরুতেই আইন ব্যবস্থাকে দুর্বল করা শুরু করে। RSS ঠিক এটাই করেছে একদম গোড়াতে। অমিত শাহ তো এক কাঠি সরেস হিসাবেই নিজের সর্বভারতীয় কার্যকাল শুরু করেছিল, জাস্টিস লোয়াকে স্বহাঃ করে দিয়ে।

ফলত, নিম্ন মেধার বিচারক, দলদাস বিচারক, উগ্র মৌলবাদী ভাবধারার বিচারকের পাশাপাশি- বিচার ব্যবস্থার মধ্যে থাকা দুর্নীতিপরায়ণ এমন সমস্ত ব্যক্তিকে খুঁজে তাদের সিস্টেমের শীর্ষ পসে বসানো, যারা ইতিমধ্যেই নানান ধরণের আর্থিক বা নারীঘটিত কেলেঙ্কারিতে গলা অবধি ডুবে। ফলত, তাদের অণ্ডকোষ চিপে রেখে ইচ্ছামত ‘যা খুশি’ কাজ করিয়ে নেওয়া যায় এবং যাচ্ছে। RSS অত্যন্ত মোটা দাগে এটাই করে চলেছে সাফল্যের সাথে প্রকাশ্যে।

বিচারপতি দাত্তু অবধি RSS নামের ভাইরাস ততটা জেঁকে বসেনি বিচার ব্যবস্থাতে। এর পর টি.এস. ঠাকুর, রঞ্জন গগৈ, দীপক মিশ্র, চন্দ্রচূড় হয়ে আজকের মহামহিম সূর্যকান্ত। এনাদের আমলে বিচারের বাণী যেন গুপ্তাঙ্গের লোম, প্রকাশ্য আদালতে দেখানো যা অশোভনীয়। তাই সরকার ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দাখিল হওয়া প্রতিটি স্পর্শকাতর মামলার তদন্ত রিপোর্ট ‘সিলবন্ধ’ খাম নামের ‘খুড়োর কলে’ জমা পরে অদৃশ্য হয়ে গেছে। এবং প্রতিটা মামলাতে অভিযুক্তরা বেকসুর ছাড়া পেয়ে গেছে, অভিযোগকারী সহ দেশের জনগণ  জানতেই পারেনি- তদন্তে ঠিক উঠে এসেছিল। সাধে কি ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের কাছ থেকে ডিগ্রি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আগামীতে এই প্রবণতা বৃদ্ধি পাবেই।

গণতন্ত্রকে পঙ্গু করে দেওয়া এমন অনুগত পদলেহনকারী এই সকল দলদাস বিচারকদের নাম গোবরের জলে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে লেখা থাকবে- সেটা বলাই বাহুল্য। কাল্পনিক শত্রুর ভয় দেখিয়ে দেশে দীর্ঘমেয়াদী জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে ২০১৪ থেকেই, ভোটের আগে দেশপ্রেমের সুড়সুড়ি দিতে পাকিস্তান আর জঙ্গিবাদ চলে আসে। এরপর মন্দির, মসজিদ, গরু শুয়োরের রাজনীতি। একটাই রাষ্ট্রীয় স্লোগান – হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়। পাকিস্তান, হিন্দু, মুসলমান, গরু- এই চারটে শব্দ বাদ দিলে RSS হাতে বক্তব্য দেওয়ার মতো ১০ মিনিটের কোনো সাবজেক্ট যেহেতু নেই, টেলিপ্রম্পটার লাগিয়েও; অতএব প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ১৫০ কোটি জনসংখ্যার দেশে কায়েমি শাসন প্রতিষ্ঠা করতে রঞ্জন গগৈদের মতো চোর শয়তানদের বিকল্প ছিল না নাগপুরের কাছে। এরাই Sealed Cover Jurisprudence এর ব্যবহার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করে- জাতীয় নিরাপত্তা, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মামলাগুলোতে প্রতিনিয়ত আপোষ করেছে নির্লজ্জভাবে, রাষ্ট্রের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। 


২০১৪ সালে আইপিএল (IPL) স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির তদন্তে বিচারপতির মুকুল মুদগল কমিটি তাদের রিপোর্ট একটি সিলবন্ধ খামে আদালতে জমা দেওয়া থেকে যে পরম্পরা শুরু হয়েছিল, সংখ্যার বিচারেই সেই তালিকা শুধু সুপ্রীম কোর্টের স্পর্শকাতর গুরুত্বপূর্ণ মামলার নিরিখে এমন ‘জাঙিয়ার আড়ালে রাখা যৌনাঙ্গ’ এর অনুরূপ সিলবন্ধ বিচার ব্যবস্থা- বেহায়াপনার সমস্ত সীমারেখা পার করে গেছে। একে একে রাফাল বিমানের দাম কেলেঙ্কারি, আসাম NRC আসাম মামলা, ভীমা কোরেগাঁও মামলা, CBI কর্তা অলোক ভার্মার ঘুষকান্ড, পি. চিদাম্বরম এর জামিন এর বিরোধিতা মামলা, বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন কেলেঙ্কারি মামলা, শাহিনবাগ মামলা, কেরল-ভিত্তিক নিউজ চ্যানেল 'মিডিয়া ওয়ান'-এর সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল মামলা, আদানি-হিন্ডেনবার্গ মামলা, ৩৭০ ধারা বিলোপ মামলা, দিল্লি বার কাউন্সিল নির্বাচন বিতর্ক মামলা, NEET পেপার লিক মামলা, আম্বানির নরহস্তির পেয়ারের ‘বনতারা মামলা’, মণিপুর জাতিগত সহিংসতা অডিও ক্লিপ মামলা, মানে এভাবে যদি তালিকা করা যায় সেটার সংখ্যা এতোদিনে ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। আজকে ভাইপোর বিদেশ যাত্রার অনুমতি, ঠিক কোন গ্রাউন্ডে মহামান্য বিচারপতিরা অনুমোদন দিয়েছেন, সেটা সিলবন্ধ খামেই হয়ত আঁটকা পরে গেছে। কোনো সন্দেহ নেই, RSS এর অনুমতিক্রমেই এই ‘ডিল’ সম্পন্ন হয়েছে। এর পরেও সুপ্রিম কোর্টের ধারাচূড়ো ধারী ‘খোজা’ বিচারপতিরা আর কিছু পারুক বা না পারুক, আমাকে এই লেখার জন্য বিনা বিচারে উমর খালিদ বানিয়ে দিতেই পারে। 

দুর্নীতিবাজ সরকার বা তার পেয়ারের ডাকাত শেঠেরা যখন জবাবদিহি করার মতো অবস্থায় থাকে না, কিম্বা যে জবাবদিহি পাব্লিক জানতে পারলে হেসেই খুন হবে এবং মূত্র বিসর্জন করে দেবে সিস্টেমের মুখমন্ডলে; সেই হেতু সিলবন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দেওয়ার চেয়ে সুরক্ষিতভাবে ‘চুতিয়া’ বানিয়ে গোটা খেল খতম করে দাও। এটাই তো মাস্টারস্ট্রোক, না রইল বাঁশ না বাজবে বাঁশি। এটাই দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কলঙ্কময় বাস্তবতা, আশ্চর্যজনকভাবে এতে এদের কারও নূন্যতম লাজলজ্জা নেই; কোনো এক দার্শনিক বলে গিয়েছিলেন- পতিতাপল্লীতে বসবাস করা বেশ্যাদের নিজেদের পরিবারের মাঝে লজ্জা পেতে নেই, পেলে রুজিরুটি চলবে না। এই লজ্জাহীনতার উপরে ভিত্তি করে দেওয়া বিচারের জন্য- পারম্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে, আইনের মা-বোনকে একসাথে বলাৎকার করে অযোধ্যার বিতর্কিত জমি রামমন্দির কমিটি পেয়ে যায়। এখানে একমাত্র সাংবিধানিক ভিত্তি ছিল ‘নাগপুরের’ প্রতি বিচারকের প্রশ্নহীন আস্থা। ফাঁপা বিশ্বগুরুর ছবিকে লটকে রাখতে মন্দির প্রোজেক্ট বাস্তবায়ন করতেই হতো, অতএব সিলবন্ধ খামই একমাত্র হাতিয়ার। রিপোর্টে কি আছে যেহেতু কেউ জানতে পারলনা, তাই সেই গাঁজাখুরি রিপোর্ট বা নগ্ন সত্যকে সামনে রেখে নতুন করে প্রশ্ন উঠার বদলে, গোটাটাকেই ধামাচাপা দিয়ে দেওয়া হল। 

এভাবে প্রতিটা সিলবন্ধ মামলার ময়না তদন্ত করাই যায়, আশা রাখব পরবর্তী এ্যান্টি RSS সরকার যেদিনই ক্ষমতায় আসুক, তারা প্রকৃত বিচার করবে। জানি না, আমাদের গণতন্ত্রের কঙ্কালটা সেদিন ঠিক কোন লজঝড়ে অবস্থায় থাকবে যখন RSS কে রাজনৈতিক চিতায় বিজেপির সাথে সহমরণে পাঠানো হবে। এই লজঝড়ে অসার গণতন্ত্রের কঙ্কাল নিয়ে এই দেশ কতক্ষণ লড়াই করতে পারবে চিন, পাকিস্তানের মতো শত্রুদের বিপক্ষে?  

এদিকে বাংলাতে মেজোখোকা সরকার ৩ মাসেই চাড্ডিতে ভড়ভড়িয়ে হেগে ফেলেছে। যখন প্রতিটা প্রতিশ্রুতিতে ফেল মেরেছে, তখন মেজোখোকা তার মুখ্যমন্ত্রীত্বের বাসর সাজালেও, কেন্দ্রের ‘আচ্ছে দিন’ এর আরকের নেশা ছুটে গেছে ভক্তদেরও। তার উপরে টিভি মিডিয়া ও আঁটিসেল তুলসীতলায় অন্তিম শ্বাস নিচ্ছে। স্বভাবতই বাংলাতেও শুরুতে RSS এর এ্যাজেন্ডা মতো গরু কুরবানি ঠেকাতে গিয়ে- সেই গরুই বিজেপি ভোটব্যাঙ্কের পায়ুপথে ঢুকে পড়েছে। এরপর রাস্তায় নামাজ নিয়ে ক্যাঁচাল, আম মুসলমান কিচ্ছু প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এখন মসজিদে মাইকে আজান বন্ধ আর ঝটকা মাংসকে মূল ইস্যু বানাচ্ছে, চাড্ডির গুয়ের গন্ধ ঢাকতে। মাইকের সামনে এসে যাত্রাপালার বিবেকের মত ‘আমরা অভয়াকে ভুলিনি’ বলে গলার শিরা ফোলাতে হচ্ছে। সমীকবাবু কি ভালো তোলামুল খুজতেই অতিব্যস্ত!! নতুবা ওনাকে কেউ মনে করিয়ে দিচ্ছেনা কেন, যে- এই মুহুর্তে আপনিই পুলিশ মন্ত্রী, জনগণ যাত্রাপালার সংলাপ নয়, কাজ দেখতে চাইছে, অপরাধের বিচার চাইছে। 

যেকোনো মূল্যে আলোচনাকে গরু-শুয়োর, মন্দির-মসজিদের বৃত্তে আঁটকে রাখতেই হতো। এদিকে কেন্দ্রের ১২ বছর অমৃতকালে সার্ভাইভ করা মুসলমানও তো চালাক হয়েছে, তারা শিখে নিয়েছে- এদের দৌড় কদ্দুর। অতএব, বিভেদের রাজনীতিতে সেভাবে লাভ হচ্ছে না। আম মুসলমান সমাজ শুধু তাচ্ছিল্যের বাঁকা হাসি দিয়েই মেজোখোকাকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। ইস্যুর মা রোজ গর্ভবতী হয়ে যাচ্ছে জাস্ট ‘উপেক্ষার’ বীর্যে; ফলত ‘ভালো তোলামূল’ সরকারের হাতে হ্যাঁরিকেন, পেছনে বাঁশ। মেজোখোকাকেও আগামীতে সিলবন্ধ খামের প্রমাণিত সিস্টেমে ফিরে যেতে হবে, নতুবা বিজেপিকে ভোট দেওয়া তথাকথিত ‘কট্টর হিন্দুরাই রেডি রয়েছে থুতু, পচা ডিম, পচা আলু নিয়ে।

তবে একটা কথা বলা যেতেই পারে, তোলামূলের বিসর্জনের পর তারা মারধোর আর ডিম থেরাপিতেই পার পেয়ে গেছে বৃহত্তর পরিসরে। RSS এর ক্ষেত্রে কিন্তু সেটা হবে না, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যাওয়া মাত্র পরবর্তী ১ মাসে গোটা দেশ জুড়ে কয়েকলক্ষ RSS এর সন্ত্রাসী কারিয়াকর্তা, বিজেপির উগ্রপন্থী নেতামন্ত্রীরা গুম, খুনের শিকার হবে জনরোষের বলি হয়ে। হিন্দুত্বের গাঁজা খাওয়া হিন্দুদের ঘরের ছেলেরাই আজ বেকার, ওদিকে RSS বিজেপির সন্তানেরা বিদেশে বসবাস করে ও কোটি টাকার মালিক। কে জানে, RSS বিজেপির উপরে হওয়া আক্রমণের বিচারও সেদিন সিলবন্ধ খামের তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে করা হবে কিনা, ঠিক আজকের মতো করে। 

বিজেপির শেষের শুরু হয়েছে, ব্রেণ ক্যান্সার- এটাই আশার কথা। বিশ্বগুরুর অন্তর্জলি যাত্রা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। এরপর এই সমস্ত মামলা পুণরায় চালু হয়ে নতুন করে তদন্ত হবে, আর বলাই বাহুল্য- প্রতিটা ক্ষেত্রে ফলাফল কী হবে! ততদিন একটু ধৈর্য ধরুন, সুযোগ আসবে আইনিভাবে RSS কে সমূলে নির্মুল করার, বিচারব্যবস্থাকে কলঙ্কমুক্ত করে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার।

শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬

HPV Vaccination by WB Govt


কুখ্যাত মারন 'গার্ডাসিল কোয়াড্রিভ্যালেন্ট' এর মারন থাবা। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় এই নিরবে মারন যজ্ঞ চালাচ্ছে, যেখানে কেউ প্রশ্ন করছে মানেই সে রাষ্ট্রদ্রোহী। এতোটা অসহায় জাতি ইতিহাসে কমই ছিলো, যারা নিজেরাও জানেনা তাদের মেয়েরা কেন এই ধ্বংসাত্মক পরীক্ষার শিকার।

আগামীর মায়েদের জন্য এ যে কতবড় অভিশাপ- এর জবাব আগামী দশক দেবে। অবশ্য ততদিন মোদী সরকার আর থাকবেনা। সুতরাং জবাবদিহির দায় নেই। অতএব, সব চাঙ্গা-সি।

২০০৯-২০১০ সালে অন্ধ্রপ্রদেশ এবং গুজরাটে এই ভ্যাকসিনের একটি পাইলট বা ডেমোনস্ট্রেশন প্রজেক্ট নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক, ক্ষোভ এবং তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। ২০০৯ সালে মার্কিন এনজিও 'PATH', 'ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ' (ICMR) এবং স্থানীয় রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে অন্ধ্রপ্রদেশের খাম্মাম জেলা এবং গুজরাটের ভদ্রোদয়ায় আদিবাসী মেয়েদের ওপর এই ভ্যাকসিনের একটি পর্যবেক্ষণমূলক কর্মসূচি চালানো হয়। 

এই ট্রায়াল চলাকালীন মোট ৭ জন কিশোরী (অন্ধ্রপ্রদেশে ৪ জন এবং গুজরাটে ৩ জন) মারা যায়। এর ফলে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং ২০১০ সালে ভারত সরকার এই প্রজেক্ট সম্পূর্ণ স্থগিত করে দেয়।

২০১৩ সালের ভারতের একটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির (Parliamentary Standing Committee) রিপোর্টে উঠে আসে যে, এই প্রজেক্টে গুরুতর প্রশাসনিক ও নৈতিক গাফিলতি (Ethical Violations) ছিল। অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের নিরক্ষর অভিভাবকদের না জানিয়ে বা কেবল টিপসই নিয়ে ট্রায়াল চালানো হয়েছিল, এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণের কোনো সঠিক ব্যবস্থা ছিল না।

২০১৪ এর পর মোদী ক্ষমতায় এলে, এই রিপোর্ট সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে উপরোক্ত মার্কিন সংস্থাকে ক্লিনচিট দিয়ে দেয়। এবং মৃত মেয়েগুলোকেই তাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়। পরিষ্কার করে রিপোর্টে লেখা হয়- মৃত্যুগুলো ভ্যাকসিনের বিষক্রিয়া বা রিঅ্যাকশনের কারণে হয়নি। একজন কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছিল, একজন কুয়োয় ডুবে মারা যায়, একজন সাপের কামড়ে এবং বাকিরা ম্যালেরিয়া ও তীব্র ভাইরাল জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিল। এবং এখানেই ধামাচাপা পরে যায় বিষয়টা।

করোনার ভ্যাক্সিন বিষয়টা আমরা জানি, অন্তত ২০টা লম্বা প্রবন্ধ রয়েছে আমার টাইমলাইনে। সেদিন যা যা অনুমান করতে পেরেছিলাম, আজ তা প্রতিটা সঠিক বলে প্রমানিত হয়েছে। সেবারেও ভ্যাক্সিন জনগণকে ফ্রিতে দিয়ে, সরকার আমাদের ট্যাক্সের টাকা থেকে ভ্যাক্সিন মাফিয়াদের পেমেন্ট করেছিলো। আপনি নিশ্চিত থাকুন, ২০০০ বছরের ভারতের ইতিহাসে, এমন মারন মহামারী কখনও আসেনি যা আগামী এক দশকে দেখবেন, সৌজন্যে মোদীজির ভ্যাক্সিন প্রীতি।

বর্তমান যে ভ্যাক্সিনটা দেওয়া হচ্ছে- এর রিপোর্ট কি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল? যাদের উপরে স্যাম্পল প্রয়োগ করা হয়েছিল, তারা কারা? কি তাদের পরিচয়? সেই স্যাম্পল পরীক্ষার রিপোর্ট কি ছিল? নাহ, এসব কিছুই করা হয়নি। কারন এই যে ফ্রি ভ্যাক্সিনেশন চলছে স্কুলের বাচ্চা মেয়েদের উপরে, এটাই তো আসল পরীক্ষা। দেশের সমস্ত সরকারী স্কুল গুলোই তো ল্যাব, এই বাচ্চারা তো গিনিপিগ। তৃতীয় বিশ্বের ২-১০ লাখ মা মারা গেলে কী যায় আসে! বন্ধ্যা হলেও বা কি! বিজেপি-RSS এর ঝুলি তো ভ্যাক্সিন বিক্রির দালালির টাকায় পুষ্ট হয়ে গেছে। অনেক বেশী বেশী তারা প্রচার করবে -হিন্দু খতরে মে হ্যায়।

আপনি ইন্টারনেট খুঁজে এদের বিরিদ্ধে কিছুই পাবেননা, এই ভ্যাক্সিন মাফিয়ারা যে পরিমান সম্পদশালী তথা শক্তিশালী, এদের বিরুদ্ধে টপ লেভেলের কোনো সমালোচক কিছু লিখলেই সেটাকে উড়িয়ে দেয়, প্রয়োজনে ব্যাক্তিও গায়েব হয়ে যায়। আর নিজেদের সপক্ষে এরা এতো বেশি বেশি কি-ওয়ার্ড দিয়ে হ্যাজ নামিয়ে রেখেছে যে- গোটাটাই ম্যানিপুলেট হয়ে রয়েছে। AI কে এরাই তো শিখিয়েছে, AI তো নিজে থেকে কিছু শেখেনা বা শিখতে পারেনা। ফলত, ইন্টারনেটে তেমন বিশেষ কিছু পাবেননা এদের সপক্ষে ছাড়া। আমাদের মত যারা বিন্দু, মানে কেউ নই, তাদের লেখাগুলোকে কন্সপিরেসি থিয়োরি বলে দাগিয়ে দেয়।

আমাদের দেশে ভ্যাক্সিন চক্রের গোটা চক্রটার সাথে শাসক বিজেপি/ আর.এস.এস ওতোপ্রোতো ভাবে জড়িত, এদের প্রতিটা টপ লেভেলের নেতা ও সরকারী উচ্চপদস্থ আমলা- এরা প্রত্যেকে ভাগা পায়, বাকিরা অর্ডার ফলো করে মাত্র। কারন খোলা বাজারে এই ভ্যাক্সিন কেউ কিনবেনা, অতএব সরকারকে দিয়ে বাধ্য করিয়ে কেনানো-

এটা আসলে কাদের সরকার? ভারতীয় জনগনের? নাকি ভ্যাক্সিন এর কারবারীদের? আসলে বিদেশী পুঁজিপতিদের দালাল গুলো রাষ্ট্রপ্রেমের গাঁজা খাইয়ে বিভোর করে রেখেছে।

আগামী ১০-১৫ বছরে এই ভ্যাক্সিনের ফলাফল সামনে আসবেই। সেদিন দোষী করার জন্য কাকে সামনে পাবেন? মসজিদের মাইক বন্ধ, ঝটকা মাংস আর ভালো তৃণমূল- এতেই রাজ্যের ৫০% মানুষের অর্গাজম হয়ে যাচ্ছে। ওদিকে আপনাদের নির্বংশ করার বীজ নিঃশব্দে বপন করা চলছে- ভগবান শ্রী মোদীজির কল্যাণে। আজ সত্যিই হিন্দু খতরে-মে। আগামীর মা এর ভবিষ্যৎ অন্ধকার, কেউ জানেনা কি হবে! হিন্দু জন্মাবে কার গর্ভে? জিজ্ঞাসা করবেননা- হিন্দুকে কে খতরে মে নিয়ে এলো?

মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়।

বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

বামেদের 'শিক্ষিত' ভ্রান্তিবিলাস

যাক পেরেছেন, সেলিম সাহেব এ যাত্রায় পেরেছেন, 
যাক শুরুটা তো হলো, এটাই কি কম আশার কথা!

সিপিএমের কথা বলছিলাম, রাজ্য জুড়ে আক্রান্ত হচ্ছে তৃণমূলের লুঠেরা বাহিনী সন্দেহ নেই, কিন্তু কিছু কিছু পকেটে সাধারণ মানুষও আক্রান্ত হয়ে চলেছে, মূলত মুসলমান সম্প্রদায় টার্গেট হলেও ওই দলে নিম্নবর্নের হিন্দু ও আদিবাসীও রয়েছে। ধনী শ্রেনীর কোনো তোলামুল বা সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে বলে এই অপবাদ- আজ এই লেখার সময় অবধি নেই। ধনী মুসলমান অবধি আক্রান্ত হওয়ার খবর নেই। জনগণের তো আর রঙ হয় না, তারা ভোটার, আজ ফুলের তো কাল কাঁচির, এদের জন্যই তো এত সভা-সমিতি-বক্তৃতা-প্রকল্প-নীতি-আদর্শ। এই আক্রান্ত জনগণের পাশে গিয়ে দাঁড়াবার দরকার ছিল সিপিএম দলের, একে তো এরা গরিব মানুষ, তথাপী এরাই তাত্ত্বিক বামপন্থার ‘শ্রেণিবন্ধু’। দেরি করে হলেও, এবারে সিপিএম জেলা অবধি যেতে সক্ষম হয়েছে। 

বামেদের মানে সিপিএমের সমস্যাটা কোথায়! লাল ফিতের ফাঁস হলো মূল সমস্যা। ধরুন, কারও বুকে ব্যাথা উঠেছে, কোন হাসপাতালে নিয়ে যাবে, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে আদৌ হাসপাতালে নিয়ে যাবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন জেলা বা রাজ্য কমিটির থেকে অনুমতি নিতে হবে। ততক্ষণে রুগী পটল তুলেছে। হুগলির নেতা পাশের জেলা পূর্ব বর্ধমানে বা হাওড়াতে যেতে পারবে না, অনুমতি প্রয়োজন। শৃঙ্খলার নামে এক বিকৃত নাগপাশে বন্দি করে ফেলেছে সাহসী উদ্যমী নেতাদের। সেলিম সাহেবের আজকে খেজুরি যাওয়া কিছুটা আশার আলো অবশ্যই, তবে উনি রাজ্য সম্পাদক, সুতরাং আরও অচলায়ন ভাঙতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশের QRT এর মতো ৫টা প্রশাসনিক বিভাগে ৫টা টিম গঠন করা হোক নবীন প্রবীণ নেতাদের মিলিয়ে যারা দ্রুত পৌঁছে যেতে পারবে। আগামীতে সমস্যা আর সমাধান নামে একটা প্রবন্ধ লিখব।

আলিমুদ্দিন, তাদের পক্ককেশ বর্ষীয়ান নেতা, উঠতি নেতা, যুব নেতা, ছাত্র নেতা, দিল্লী লবি, জেলার লবি, বিশেষ নেতার লবি, এরিয়া কমিটির লবি, শরিকের লবি- সর্বত্র যেটা সর্বজন স্বীকৃত, সেটা হচ্ছে বামেদের প্রার্থীরাই বিধানসভাতে যাওয়ার একমাত্র যোগ্য। কারণ তারা শিক্ষিত, যুব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও রুচিবান। একচক্ষু বিশিষ্ট হরিণ যতটা শঙ্কিত থাকে তার যে দিকের চোখটা নেই সেই দিক বিষয়ে, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকে যে পানে চোখ রয়েছে সেই দিকে। দেখা যায়, অধিকাংশ শিকারির আক্রমণ ভালো চোখের দিক থেকেই হয়। সিপিএমেরও সেটাই হয়েছে- ফাঁপা আত্মবিশ্বাস। গণেশ যেমন মাতা পার্বতীর চতুর্দিকে পাক দিয়ে বিশ্ব পরিভ্রমণ করেছিলেন, বামেরা সেই নিজেদের সংক্ষিপ্ত ‘বিন্দু’ বৃত্ত পানে চেয়েই শিক্ষিত ও রুচিবানের ট্রেন্ড সেট করেছে। গণেশ নিজেই বিঘ্নহর্তা ও সিদ্ধিদাতা ছিলেন, সিপিএমের শিক্ষিতেরা হোলটাইমার- ফলত সিপিএমের একজন জনপ্রিয় মুখও ‘গণপতি’ হয়ে উঠতে পারেনি।

শুরুতেই একটা ডিসক্লেইমার দিয়ে রাখি, যে লোকটা বিজেপি করে- তার মনের কোণে অনু পরিমাণ হলেও সাম্প্রদায়িকতা থাকবেই, মনুবাদ থাকবে, ব্রাহ্মণ্যবাদ থাকবে, মুসলমানদের প্রতি অকারণ তীব্র ঘৃণা থাকবে, সমাজের প্রতি ধর্ষকাম মানসিকতা থাকবে, পুঁজির প্রতি তীব্র মোহ থাকবে, ভণ্ডামি থাকবে, ভেক থাকবে, নিয়মিত মিথ্যাচারে অভ্যস্ত হতে হবে। এগুলো একজন প্রাথমিক বিজেপি সমর্থক হওয়ার সহজাত বৈশিষ্ট্যসমূহ। যিনি বিজেপির প্রার্থী হন, সবার আগে উনি দলের সমর্থক। প্রার্থী হয়ে নেতা হওয়ার মাধ্যমে উনি ওই নিকৃষ্ট মানসিকতা যুক্ত মানুষগুলোকে একত্রিত করে, উপরে উল্লেখিত বৈশিষ্টগুলো গুণিতক হারে বাড়িয়ে অসভ্য চূড়ামণি রত্নে পরিণত হন। গু’য়ের ভালো ও মন্দ দিক হয় না, শুকনো বা কাঁচা হতে পারে, কিন্তু গু মানে গু ই। 

তোলামুল স্বীকৃত চোর, সেটা পাড়ার ভ্যানওয়ালা হলে সে ও চোর, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে উচ্চস্তরের আমলা যে খুশি হোক- সে চোর চোর চোর। কিন্তু বিজেপির প্রার্থী তালিকার দিকে কখনও তাকিয়ে দেখেছেন? মেজো খোকার মত দু-এক জন ছাড়া যেহেতু কেউ কখনও প্রশাসনিক পদে গিয়ে শাসক হয়নি, তার চোর হওয়ার সুযোগও আসেনি, অর্থাৎ আজকের দিন অবধি বিজেপির ৯৯% বিধায়ক অর্থনৈতিক ভাবে ‘অপরীক্ষিত’ সৎ। দেখুন, শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, মমতা ব্যানার্জী, বিনয় কোনার, বিমান বসু এনাদের মতো মানুষদের নেতৃত্ব গুণ দিয়ে মাপা হয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা নেহাতই অপ্রাসঙ্গিক একটা বিষয় এনাদের ক্ষেত্রে। কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যোতা যখন প্রার্থীদের মাপকাঠি, বিজেপি সেখানে কোথায় দাঁড়িয়ে? তাদের ৫২ জন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট, ৯৬ জন গ্র্যাজুয়েট/গ্র্যাজুয়েট প্রফেশনাল, ৩১ জন উচ্চমাধ্যমিক পাশ, ১৯ জন মাধ্যমিক পাশ। ৯ জন এ্যাকাডেমিক ভাবে স্বাক্ষর। ২০৭ জনের মধ্যে PhD / ডক্টরেট ডিগ্রিধারী, স্বনামধন্য বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারী, ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিক্যাল গ্র্যাজুয়েট, ডাক্তার, আইনজীবীর সম্মিলিত সংখ্যা ৮৪ জন। এই বিজয়ী সদস্যদের মধ্যে ৭৬% জনের বয়স ৪২-৪৮ এর মধ্যে অর্থাৎ তরুণ। 

বিজেপির প্রার্থী তালিকা গবেষণা করে দেখা গেছে, সেখানে একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন রয়েছে। প্রথম ধাপে উচ্চ শিক্ষিত শ্রেণি, দ্বিতীয় ধাপে বিপুল বিত্তবান মধ্য মেধার লোকজন, এনারা রীতিমতো পেশা উল্লেখ করে ITR ফাইলে দাখিল করা সম্পদ উল্লেখ করেছে হলফনামাতে। তৃতীয় শ্রেণিতে RSS লবি থেকে সরাসরি আসা লোকজন, যেখানে শিক্ষা-রুচি বিষয়টা অপ্রয়োজনীয়; চতুর্থত গুন্ডা মস্তান শ্রেণির যারা তোলামুলের লেঠেল বাহিনীর সাথে লড়াই করেছে মাঠে ময়দানে, সেটা তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায়। 

খরগ্রামের মিতালী মাল, চণ্ডীপুরের পীযুষ কান্তি দাস এরা দ্বিতীয় শ্রেণির- মূলত বিত্তবান। গোটা হুগলি, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ ও উত্তরবঙ্গ জুড়ে দলে দলে RSS এর মুখেরা বিজেপির বিধায়ক হয়েছে, যারা তৃতীয় পর্যায়ে ছিল। কাটোয়ার কৃষ্ণ ঘোষ, পাঁশকুড়া পশ্চিমের সিন্টু সেনাপতি, আসানসোলের কৃষ্ণেন্দু মুখার্জী এনারা চতুর্থ শ্রেণিতে, যারা গুন্ডা মস্তান। বিজেপির নেতারা একদিন সিপিএমের জনপ্রিয় মহিলা নেত্রীদের কাজের মাসীর সাথে তুলনা করে ছিল বলে সমাজমাধ্যমে ঢি-ঢি রব পরে গিয়েছিল, সেই বিজেপিই এবারে রেখা পাত্র, কলিতা মাঝি, মামনি বারুই, শুক্রা মুন্ডাদের বিধানসভাতে এনেছে, যাদের পেশা আক্ষরিক অর্থেই কাজের মাসি বা দিনমজুর; বাম মেনিফেস্টোর তত্ত্বগত হিসাবে এরাই ‘শ্রেণিবন্ধু’। 

প্রথম শ্রেণিতে তাহলে কারা আছে? জামুরিয়ার ডাঃ বিজন মুখার্জী, কাঁথির অরুপ কুমার দাস, কুলটির অজয় পোদ্দার, তমলুকের হরেকৃষ্ণ বেরা, রাম নগরের ডাঃ চন্দ্রশেখর মন্ডল, ভগনবানপুরের শান্তনু প্রামাণিক, পাঁশকুড়ার সুব্রত মাইতি, কেসিয়ারির ভদ্র হেমব্রম, মেদিনীপুর শহরের শঙ্কর গুছাইত, শিলিগুরির শঙ্কর ঘোষ, ডেবরার শুভাশীষ ওম, সিউরির জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, মুর্শিদাবাদের গৌরি শঙ্কর ঘোষ, কালনার সিদ্ধার্থ মজুমদার, বর্ধমানের মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, বারাবনির অরিজিৎ রায়, রানীগঞ্জের পার্থ ঘোষ, গোপীবল্লভপুরের রাজেশ মাহাতো, ঝাড়গ্রামের লক্ষীকান্ত, নয়াগ্রামের অমিয় কিস্কু, কাশিপুরের কমলাকান্ত হাঁসদা, বড়জোড়ার বিল্লেশ্বর সিনহা, দুবরাজপুরের অনুপ সাহা, সাঁইথিয়ার কৃষ্ণকান্ত সাহা, বহরমপুরের সুব্রত মৈত্র, কৃষ্ণনগরের তারকনাথ চ্যাটার্জি, এনারা প্রত্যেকে উচ্চশিক্ষিত এবং প্রায় সকলেই শিক্ষাগত যোগ্যোতা নূন্যতম মাস্টার্স, যার মধ্যে বিজ্ঞান ও আইন বিভাগই আধিক্য। এছাড়া বাকিরা রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ভূগোল ও ইংরাজি সাহিত্যের মানুষও আছে। আরও ৮০-১০০ জনের নাম লেখাই যায়, তাতে অহেতুক তালিকা লম্বা করা ছাড়া কোনো লাভ নেই। 

সেখানে বামেদের তথাকথিত শিক্ষিত ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের একাডেমিক যোগ্যোতা কি এদের চেয়ে বেশি? মিলিয়ে দেখেছি, কাঁধেকাঁধেও বলার উপায় নেই। সিপিএমে মূলত নিম্ন ও মধ্যমেধার হামবড়া সবজান্তা উন্নাসিক লোকজন। কেউ কেউ আবার উত্তরাধিকার সূত্রে বাম বা সিপিএম; কোন বাবা, দাদু, মেসো, ঠাকুমা কবে বাম নেতা ছিলেন সেই কারণে তার সিপিএম হওয়াটা অধিকার, যেন জিনে বাম আদর্শ জিনবাহিত একটা বিষয়। মানে আত্মজাহির পরায়ণতার পরাকাষ্ঠা। ব্রাহ্মন্যবাদীরা যেমন গোত্র খোঁজে জন্ম, মৃত্যু বা বিয়ের সময়, একইভাবে সিপিএম বৃত্তে পারিবারিক বাম ঐতিহ্যের গন্ধ বিচার করে একশ্রেণির পোঁয়াপাকা যন্তরের দল কুলীন সাজার মরিয়া প্রয়াস চালাচ্ছে। বিজেপির প্রার্থীদের দেখুন তারা সকলে কমবেশি খেটে খায়, পেশা যা খুশি হোক। বামেদের ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের অধিকাংশের পেশা কী? পার্টির হোলটাইমার, যারা জীবনে কখন ২ পয়সা রোজগার করে দেখেনি, তারা নাকি রুজি রোজগারের আন্দোলন করছে! বিজেপির প্রার্থীদের আমরা চিনি না, কিন্তু প্রতিটা এলাকার মানুষ তো তার প্রার্থীকে চিনতো, বামেদের প্রচার ছিলো শিক্ষিত রুচিশীল যোগ্যকে বেছে নিন, তারা বেছে নিয়েছে। 

বামেদের তথাকথিত যোগ্য প্রার্থীদের প্রায় প্রত্যেকে পার্টির হোলটাইমার হিসাবে পাওয়া সামান্য টাকায় দিন গুজরান করে। কে কে কোন নিরাপদ স্থায়ী ব্যবসা/চাকরি ছেড়ে অনিশ্চিত রাজনীতিতে জনসেবা করতে এসেছে? কঠিন জীবন সংগ্রামের লড়াইতে কাল থেকে ছেড়ে দিলে, এদের একজনও সামান্য টোটো চালিয়ে, দুটো কোদাল কুপিয়ে, কাস্তে টেনে, হাতুড়ি পিটিয়ে, সামান্য মুদি দোকান, মিস্টির দোকানে, এমনকি শপিং মলের সেলস গার্ল/বয়ের কাজটুকুও করতে পারবে না, এমন অজ অকর্মার ঢেঁকি এগুলো। কেন এই মেধাহীন কাগুজে শিক্ষিত ধর্মের ষাঁড় গুলোকে মানুষ বেছে নেবে? তাহলে কি এরা বাতিলের দলে, মোটেও নয়, এদের শুধুমাত্র শিক্ষিত, একমাত্র যোগ্য, রুচিশীল এই সব প্যাকেজিং করে রাজনীতির বাজারে বিক্রি করা বন্ধ হোক। সাধারণ বাম আন্দোলনের সর্বক্ষণের কর্মী হিসাবে আসুক না ভোটের ময়দানে, কে মানা করেছে! 

পুঁথিগত শিক্ষাই কি শিক্ষার একমাত্র মাপদন্ড? যিনি নৌকার মাঝি, সে তার পেশায় অশিক্ষিত? যিনি নাপিত, যিনি দর্জি, যিনি জুতো সেলাই করে, মাঠে ধান রোয়ার কাজ করেন, যিনি লেদ মেসিনে কাজ করেন, যিনি রঙের মিস্ত্রি, যিনি মাঠে হাইটেনশন বিদ্যুৎ লাইনের তার লাগাচ্ছেন, এনারা কি অশিক্ষিত? আসলে তিনি তার বৃত্তিতে সর্বোচ্চ শিক্ষিত। ওই ফাঁপা একাডেমিক ডিগ্রীধারী ‘মেধাহীন’ শিক্ষিত সিপিএমের দল, যারা একবেলা নিজের পেটের ভাত নিজে যোগাড় করে খেতে সক্ষম নয়, তারা অন্যকে কাজের দাবীতে আন্দোলন বোঝাতে গেলে লোকে শুনবে কেন? সিপিএম সর্বক্ষণ একটা ইলিউশন বৃত্তের বাস করে, যেখানে আমরাই শ্রেষ্ঠ, আমরাই সৎ, আমরাই একমাত্র গরিবের বন্ধু, আমরা 'লড়াকু' যারা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেয়। আরে বাম পাঁঠার দল, সৎ আর শিক্ষিত হওয়াটা কোনো যোগ্যোতা নয়, মানুষের স্বাভাবিক গুণ এগুলো, আর বামপন্থী দল করতে গেলে এটা আবশ্যিক শর্ত। দুর্নীতিবাজ তোলামুলের কল্যাণে সততাকে আজকাল ডিগ্রী বলে মনে হয়।

একটা দলে তাত্ত্বিক নেতা অবশ্যই দরকার, সেটা ১০% বা বড়জোড় ২০%, আজকের সিপিএমে প্রায় সকলে তাত্ত্বিক নেতা, সকলে পার্টির লেভি বা চাঁদার রোজগারে পালিত। দল করাটাই যেহেতু এদের পেশা, তার কারণে এনারা সারাবছর রাস্তায় থাকেন। জ্যোতি বসুকে কখনও ব্যারিস্টার শিক্ষিত প্রমাণ করতে হয়েছিল? হরেকৃষ্ণ কোনার বা সুকুমার সেনগুপ্তেরা হোলটাইমারের টাকায় পেট চালাতেন? কেউ এনাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কখনও জানতে চেয়েছিল? বিজেপি এই ২০২৬ ভোটে তাদের কোন প্রার্থীকে শুধুমাত্র ‘শিক্ষিত’ প্রোজেক্ট করে ভোট চেয়েছে? তাদের প্রতিটা ‘শিক্ষিত’র কেউ হোলটাইমার নয়, প্রত্যেকের নিজ নিজ পেশা আছে, এমনকি RSS এর রক্তবীজগুলোও কিছু না কিছু করে খায়। যদিও এরা সাম্প্রদায়িক রাজনীতিই করবে আগামীতে, তার পরেও এদের মুখে কাজের দাবির কথা, রুটি রুজির কথা মানায়। সুতরাং, বামের ভোট শুধুমাত্র ধর্মীয় মেরুকরণের ফলে রামে যায়নি। যারা নিজেরা কাঠ বেকার, কোনো কাজটি করে না- তাদের মুখে কাজের দাবীতে লড়াই এর কথা আর মমতার মুখে দুর্নীতি মুক্ত সততার কথা আসলে একই। এই কারণেই জনপ্রিয় কোনো সিপিএম ‘শিক্ষিত তরুণ’ নেতার বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয়নি সমাজে।

শিক্ষিত নেতা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু আসল দরকার শ্রমিকদের মধ্যে থেকে নেতা, কৃষকদের মধ্যে থেকে নেতা চাই, ট্যাক্সিচালকদের মধ্যে থেকে নেতা চাই, শিক্ষকদের মধ্যে থেকে নেতা চাই, আইনজীবীদের মধ্যে থেকে চাই, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আসা ছেলেপুলে চাই, গ্রামের রাস্তায় রাস্তায় ধুলোমাখা নেতা চাই। আলিমুদ্দিনে বসা নের্তৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গির বদল সবার আগে দরকার। নির্দিষ্ট ছোট ছোট লক্ষ্য দরকার, যেগুলোকে পূর্ণ করার উপরে আগামী নির্ভর করবে। মঞ্চের সামনে নাচ গান দিয়ে কোলকাতার রাজনীতিও চলে কিনা জানি না, গ্রামে এগুলোকে নেটোপালা বলে। এখানে মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক, এখানে মানুষ ১৫ বছর ধরে তোলাবাজদের অত্যাচারের শিকার, এখানে স্কুল কলেজ নেই, ধর্মীয় মেরুকরণের শিকার, একঘরে হয়ে থাকা, ঘরছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়ানো, ক্ষুদ্রঋণের ফাঁস গ্রামে গ্রামে ক্যান্সার হয়ে গেছে। এগুলোর জন্য শুধু মাত্র ‘মেধাহীন কাগুজে শিক্ষিত’ নেতা চায় না জনগণ।

ISF নিজের পায়ে কুড়ুল মেরেছে। আরাবুলকে দলে না নিলে তারা দুই ২৪ পরগণা মিলিয়ে কমপক্ষে ৭-৮টা আসন পেতে পারত। আরাবুল ইসলাম হচ্ছে- ক্রমশ অত্যাচারীদের মুখ হয়ে ওঠা মমতা ব্যানার্জীর কোম্পানির বিজ্ঞাপনী মডেল, তৃণমূল সংস্কৃতির মূল্যায়নের একক। তাকে দলে নিতেই সাধারণ মানুষ সরে গেছে, যারা এতদিন অত্যাচার করেছে, তাকেই কেন আবার অন্য দলের জামায় ফিরিয়ে আনবে? অতি লোভ নৌসাদ-আব্বাসকে ১০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে, যতই নৌসাদের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি থাক, মিন্টু সাহজি আর আরাবুলের অতীতের পাপ কি আন্না হাজারের ভাগে যাবে? জোট যেমন আছে থাকুক, কিন্তু বুথ স্তরে সিপিএম নিজে সংগঠন গোছাক। ISF কোনো দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান নয়।

রাজ্যের প্রকৃত বাম কারা? পথ ভাবে আমি দেব, রথ ভাবে আমি, মূর্তি ভাবে আমি দেব, হাসেন ‘ক্ষিতি গোস্বামী’। আসলে নরেন চট্টোপাধ্যায়, মনোজ ভট্টাচার্য, স্বপন ব্যানার্জীদের মতো বোঝাদের বয়ে চলা সিপিএম এর জবাব দিতে পারবে না। দীপঙ্কর ভট্টাচার্য আসলে কার প্রতিপক্ষ! এক্ষেত্রে একটাই নাম SUCI, ব্র‍্যাকেট ক্লোজড। এনাদের ম্যানিফেস্টোর সাথে কর্মকান্ডের মিল খোঁজার মতো লুম্পেন নিশ্চয় আপনি নন। দক্ষিণ কোলকাতার রাস্তায় বিপ্লবের ‘রগরগে' স্লোগান, পাহাড়ি নদীর মতো স্রোতস্বিনী মিছিল, এর সাথে পিটুনি খাওয়া আদিম প্রতিভা, সরকারের পর সরকার বদলালেও এদের ঠ্যাঙানি সহ্যের যে সহজাত সৃজনী ক্ষমতা তা বঙ্গ রাজনীতিতে বিরল। আবেগতাড়িত সুড়সুড়ি ভাষণ, মিথ্যার মোড়কে বিল্পবের আরক মিশিয়ে লেখার ‘চালাকি’ এবং বিপ্লবের মরুদ্যানে ‘মরীচিকা’ বিক্রির রাজনৈতিক লাইন বেয়ে অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাওয়া SUCI এই বিধানসভা ভোটে কোথায় দাঁড়িয়ে কেউ কি খোঁজ করেছেন?

আমরা একটা নিষ্কর্ষে পৌঁছেছি- শ্রমজীবি মানুষ, শোষিত প্রান্তিক মানুষ, বঞ্চিত অত্যাচারিত নিম্নবিত্ত, নিপীড়িত তফসিলি আদিবাসী সংখ্যালঘু মানুষদের সাথে থাকা (কঠোরভাবে যাদবপুর থেকে ধর্মতলা অবধিই) রাজ্যের ‘আগামার্কা’ খাঁটি বিপ্লবী দল যারা, সেই SUCI এর ভোট শতাংশ বিশ্রী হারে কমে গেছে এই ২০২৬ এর ভোটে। এটা যে বাঙালি সমাজের একটা চূড়ান্ত অবক্ষয়, মহান বিপ্লবী শিবদাস ঘোষ এবং নীহার মুখার্জীর আত্মার তরফে সেই আকাশবাণী আসার অপেক্ষায় প্রভাষ ঘোষ, কে রাধাকৃষ্ণ, কৃষ্ণ চক্রবর্তীর মতো পলিটব্যুরোর আগুনখেকো বিপ্লবীরা প্রতীক্ষায় রয়েছেন। তাদের বাঙালি ‘চে’ আনন্দরূপ বা তাদের জন রিড, গ্লেন গ্রিনওয়ার্ল্ড, এজরা ক্লেইন কিম্বা পাতি ভারতীয় সাঁইনাথের চেয়েও উন্নত, বিশ্ববরেণ্য সাংবাদিক ভাদুড়ি মশাইও গবেষণা করে বের করতে পারেননি যে- ৯৯.৯০% আসনে NOTA কেন তাদের সাথে লড়াই করল? 

বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম এরা তো সামান্য মুষ্টিমেয় দু’চারটে স্বৈরাচারী, কর্তৃত্ববাদী, সর্বগ্রাসী, বুর্জোয়া দল; SUCI দাঁতে দাঁত চেপে প্রতিটা কেন্দ্রে লড়াই করেছে তাদের নির্দিষ্ট টার্গেট নোটা’র সাথে। এর সাথে ছিল হাজারে হাজারে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ যুক্ত নির্দলদের দল। নির্দলদের সাথে আসল টক্কর বাংলা জুড়ে কে নিয়েছে? SUCI নিয়েছে, তথ্য মিলিয়ে দেখে নিতে পারেন। NOTA কি পর্ণশবরীর অভিশাপ নাকি নিকষছায়া? নোটা কি বুর্জোয়া? নোটা ফ্যাসিস্ট? নোটারা ঠিক কোনো কোনো ক্ষেত্রে SUCI এর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে যার কারণে নোটা SUCI এর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে? এ বিষয়ে তারা একটা একটা প্লেনাম ডেকে পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছে বিশ্বস্ত সুত্র। 

পক্ষীদের গর্গদা নাকি মামাবাড়ি গেছে, ভাগ্যিস কুমির সৈকত বিদেশে সেটেলড, কে জানে বরেণ্য সাংবাদিক জিম সাহেব(করবেট নন) আজকাল কোথায় আছে, গত ১৫ দিনের সমস্ত ফেসবুক পোস্ট ডিলিটেড, লর্ড জাহাঙ্গীরের সাথে ছবি সহ। দীপক ব্যাপারি, নির্ভীক অনিন্দ্য এরা প্লাস্টিক সার্জারি না করে কি বাজারে লঞ্চ হবে? বাকি অনেক শুঁয়োপোকা, এ্যানাল-থিসিস লেখা লোকজন এখন রাহুল গান্ধীর সাথে থাকা ছবি দিচ্ছে। এরা প্রত্যেকে তৃণমূলের শাখা সংগঠনের প্রধান, কোনো নিরপেক্ষ কেউ নন। কেউ কি মেজো খোকা, সোনা বিজ্ঞানী তথা রিঙ্কু বৌদির উনি, পাল বাড়ির দর্জি কাকিমার বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারী মামলাগুলো পড়ে দেখেছেন? কারা সেই মামলার বাদীপক্ষ? দেখলে বুঝে যাবেন ঋজু দত্ত, কোহিনুর মজুমদার, কার্তিক ঘোষ, সুপ্রিয় চন্দ বা রাজ চক্রবর্তীরা কোনো রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কেউ তাড়াতাড়ি সাসপেনশ আনিয়ে নিল বা কেউ রাজনীতি ছেড়ে দিল, সব উত্তর ওখানেই নিহিত রয়েছে।

রাজনীতিতে মূলত তিন ধরনের দুষ্কৃতি থাকে, প্রথমটা মস্তান, এরা ধর্ষণ, চুরি, খুন বা হত্যা করতে পারে না। অশান্তি, মারামারি, লাঠালাঠি, মাথা ফাটানো, উত্তপ্ত ভাষণ দেওয়া এগুলো এদের কাজ। দ্বিতীয় হচ্ছে গুন্ডা, যারা তোলা আদায়, থ্রেট দেওয়া, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, এমনকি উত্তেজনার মাথায় খুন অবধি করে ফেলে নির্দ্বিধায়। মস্তানেরা গুন্ডাদের আইডল মানে। তৃতীয় শ্রেণি হচ্ছে ক্রিমিনাল, এরা মাঠে নেমে মারামারি করে না, কখনও নিজের হাতে চাকু, বোমা, বন্দুক হয়ত ছুঁয়ে দেখেনি। কিন্তু প্রতিটা গুন্ডাকে এরা নিয়ন্ত্রণ করে, প্রতিটা গুন্ডার ধর্ম বাপ হচ্ছে এই ক্রিমিনালেরা। প্রতিটা তোলাবাজি, প্রতিটা দাদাগিরি, প্রতিটা দাঙ্গা, প্রতিটা খুনের পিছনে এনাদের বরফ শীতল মস্তিষ্ক কাজ করে, এনাদের অঙ্গুলি লেহনেই বাবলু সিংহ, নিশিকান্ত মন্ডল, নান্টু প্রধান, দেবাশীষ আচার্য কিম্বা চন্দ্রনাথেরা খুন হয়। হিরেন পান্ডিয়া, গোপীনাথ মুণ্ডে, দীনদয়াল উপাধ্যায়, মনোহর পারিক্কর, বিপিন রাওয়াতদের খুনের কোনো তদন্ত হয় না যাদের নির্দেশে, বিচারপতি লোয়ার আত্মা আজও ভুত হয়ে জাস্টিস খোঁজে যাদের কারণে- তারাই হচ্ছে ক্রিমিনাল। রাষ্ট্রীয় স্তরে এই শিল্পের গুণীশ্রেষ্ঠ শিল্পী মোটাভাই হলে, রাজ্যস্তরে সেই গুণের গুণী যে আমাদের মেজোখোকা, সেটা আলাদা করে উল্লেখ করতে হয় না। এদের আসল নাম আপনি জানেন, আমি খুন হতেও চাইনা, জেলে যাবারও শখ নেই আর, তাই লিখিনি। 

এই যে এতদিন সিপিএমের আক্রান্ত স্থলে যেতে না পারা, এই অক্ষমতার দর্পনেই আজ তোলামুল দলটার ‘নেই’ হয়ে যাবার বীজ রোপন করা আছে। মাত্র ১ সপ্তাহ আগেও রাজ্যের সবচেয়ে সংগঠিত রাজনৈতিক দলটার নাম ছিল তৃণমূল কংগ্রেস, এরাই প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৪০ জনের ভোট পেয়েছে। পুলিশ প্রশাসন, গুন্ডা, মস্তান, ক্রিমিনালের ৯৯% এদের অধীনেই ছিল। ফল বের হওয়ার মাত্র ৭ দিনে তারা বৈধব্যে এসে গেছে, ৭ সপ্তাহে তারা যক্ষ্মা রোগীর মতো কঙ্কালসার হয়ে যাবে, ৭ মাসে তাদের বংশে বাতি দেওয়ার মতো কেউ রইবে না, ৭ বছর পর নামটুকু নেওয়ার জন্য কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। দল হিসাবে সিপিএম তাদের চেয়ে অনেক অনেক উন্নত, ক্ষমতা যাবার দেড় দশক পরেও রাজ্যের ৮০% বুথে নিজেদের এজেন্ট দিতে পেরেছিল। আগামীতে রাজ্যে যখন পরিবর্তন আসবে, সেই সরকার CPM ছাড়া গঠিত হবে না- দেওয়ালে খোদাই নিন। কিন্তু সেটা ৫ বছর পর নাকি ২৫ বছর পর সেটা নির্ভর করবে গত বিধানসভা ভোট থেকে তারা কিছু শিক্ষা নিয়েছে কিনা তার উপরে।

গণশক্তির একটা ট্যাগলাইন আছে, “আমরা নিরপেক্ষ নই, মেহনতী মানুষের পক্ষে”। কিন্তু মেধাহীন শিক্ষা দিয়ে মেহনতী মানুষের কাছে আদৌ আপনারা পৌঁছতে পারবেন? শেষ ১৮ বছর ধরে পারেননি, উন্নাসিকতা ঝেরে ফেলে ‘বাস্তবিক’ শিক্ষিত না হলে আগামী ১৮০ বছরেও পারবেন না।

রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

মমতা ব্যানার্জি একটা অপ্রাসঙ্গিক অবাঞ্ছিত নাম আজকের তারিখে

 

মুষলপর্ব- ১

 

মমতা ব্যানার্জী খেজুরিতে যেতে পারবে না। যাওয়া উচিত ছিল নিশ্চিতভাবে, কিন্তু যেতে পারবে না, সাহস নেই। ভাইপো এখন দিল্লি পালিয়ে গেছে, সেখান সেফ হাউজে থেকে জনগণকে একত্রিত হওয়ার উপদেশ দিচ্ছে। কল্যাণ ব্যানার্জীও সেফ হাউজে, বাকি সমস্ত তোলামুলী লোকজন অজ্ঞাতবাসে লুকিয়ে কুলোর বাতাস দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছে।

ভাইপো ঠান্ডা ঘরের নেতা, লড়াই আন্দোলনে জন্মানো ঘাম রক্তের নেতা নয়, সারোগেসি বা টেস্টটিউব বেবী। বাইরে বের হলেই আক্ষরিক অর্থে সে বলাৎকারের শিকার হবে। আগে তাকে তৃণমূলের একটা বড় অংশ ক্যালাবে, তাদের হাত থেকে যদি কিছুটা বেঁচে ফেরে প্রাক্তন তৃণমূলীরা মারবেই মারবে, এরপর শাসক দল বিজেপি ক্যালাবে এবং বামেদের একটা অংশ আদা ছ্যাঁচা করবে, আর আমার মতো যারা মনে মনে অন্তত ভাইপোর গায়ে থুতু দিতে চায়- তারাও তো লাইনে আছি। মমতার যে কেরিয়ার শেষ, ২০২৩ থেকে প্রতি মাসে একবার করে লিখেছি, তাই ওটা নিয়ে আজ নতুন করে লেখার কিচ্ছু নেই, বর্তমান রাজনীতির মঞ্চে মমতা ব্যানার্জী একটা অপ্রাসঙ্গিক অবাঞ্ছিত নাম।

২০১১ তে সুর্যকান্ত মিশ্র, নিরূপম সেন, বিমান বসু, মহঃ সেলিম, বুদ্ধদেব বাবু কেউ যেতে পারেনি অধিকাংশ আক্রান্তদের পাশে, দলটা উঠে গিয়েছিল। বৃদ্ধ কিছু নেতার দল, তাদের পার্টি অফিস, তাদের ফাঁপা শৃঙ্খলা, অতীতের পাহাড় প্রমাণ বনেদিয়ানা জমিদারির ইতিহাস, আর শূন্যগর্ভ বক্তৃতা- ২০২০ অবধি সিপিএম এই ফাঁদে আঁটকে গিয়েছিল। তোলামুলের ক্ষেত্রেও এর কোনো আলাদা কিছু হবে না। আগামী ৩ মাস মাস পর প্রতিটা তোলামুল নেতার স্নায়ুরোগ হবে। কলিং বেল বাজলে প্যান্টে মুতে ফেলবে।

আজ তৃণমূল মার খেলেই সে মুসলমান হয়ে যাচ্ছে, এটা কি অস্বীকার করা যাবে রাজ্যের ৯০% মুসলমান ভোট তৃণমূলের ঝুলিতে গেছে। প্রতিটা গ্রামের প্রায় প্রতিটা ইমামকে দিয়ে মসজিদে মাদ্রাসাতে ভোট প্রচার করিয়েছিল মমতা ব্যানার্জী, জমিয়ত উলামা প্রকাশ্যে তৃণমূলের হয়ে ভোট প্রচার করেছে, তাদের অফিসগুলো তৃণমূলের পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছিল। প্রতিটা মুসলিম সংগঠন উলঙ্গ হয়ে ‘বিজেপিকে রুখতে’ তৃণমূলকে ভোট দিন বলে তান্ডব নৃত্য করেছিল। ভোটের সময় সময় তুমি তৃণমূল ছিলে, নির্দিষ্ট করে তোমাদের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল, তুমি চুরি তোলাবাজি কাটমানির ভাগা নিয়েছ; আজ মার খাওয়ার সময় ধার্মিক হয়ে ধর্ম এগিয়ে আসছে কেন; কেন বলতে পারছ না যে আমরা তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি, আমরা ওই দলেরই কর্মী সমর্থক, ওদের হয়ে সমস্ত পাপ করেছি বা করাকে সমর্থন করেছি বলে, আজ আমাদের উপরে অত্যাচার হচ্ছে! আসলে তৃণমূলও চাইছে এই ক্যালানির ঘটনাতে সাম্প্রদায়িক রঙ লাগুক। 

মমতা ব্যানার্জী সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ছিল। আপনাদের পাড়া এবং চেনা জানা সমস্ত মুসলমান পাড়ায় কোন উন্নতিটা করেছে? সংখ্যালঘু মানে শুধু মুসলমান? বৌদ্ধ, জৈন, খ্রীষ্টান এরা সংখ্যালঘু নয়? এদের পিছিয়ে পড়া সমাজ থেকে কতজনকে গত ১৫ বছরে চাকরি দিয়েছে?

☞ কতজন গরিব মুসলমানের চিকিৎসার দায় নিয়েছে?

☞ কতজন জেলে থাকা মুসলমানকে আইনি সাহায্য দিয়েছে?

☞ মুসসলমান সমাজের পিছিয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীর কতজনকে স্কলারশিপ দিয়েছে? 

☞ কতজন মুসলমান ব্যবসায়ীকে বিনা সুদে লোন দিয়েছে? 

☞ কতজন গরিব মুসলমানকে বাড়ি করে দিয়েছে? 

☞ কটা আধুনিক মাদ্রাসা তৈরি করেছে বা মাদ্রাসার আধুনিকীকরণ করেছে? 


আসলে কয়েকটা লোক যারা এই দপ্তরের নামে মন্ত্রিত্ব পায়, তারা নিজেরা আপন আখের গুছিয়েছে, তার বাইরে এই দপ্তর থেকে আমাদের চেনা জানা একটিও মানুষ উপকৃত হয়নি। 

এর মানে কি হিন্দুত্ববাদী RSS এর দুষ্কৃতিরা হামলা করছে না মুসলমান ও তাদের সম্পত্তির উপরে? অবশ্যই করছে; কিন্তু তেমনটা ১টা হলে, ৯টা তোলামুলের উপরে আক্রমণ হচ্ছে, যেটাকে মুসলমানের উপরে অত্যাচারের মোড়ক লাগিয়ে পরিবেশনা করা হচ্ছে, কারণ বিজেপি মানেই সাম্প্রদায়িক, ফলত তাদের ওই খাতে মিটার উঠে যাচ্ছে।

আগামীতে ৩ দফায় আসল মার শুরু হবে তোলামুলের। আজ কাল যেগুলো হচ্ছে সেগুলো সেই- হ্যালো হ্যালো মাইক টেস্টিং ১ ২ ৩ ৪... এই হচ্ছে। তোলামুল নামের দানবের বিসর্জন হয়েছে বলে আমাদের মতো অনেকেই খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছি, তার মানে এই নয় যে বিজেপি সভ্য মানুষের দল হয়ে গেছে। তারা যে পর্যায়ের নিকৃষ্ট বেহায়া নির্লজ্জ পুঁজিপতিদের দাস ছিল সেটাই থাকবে, তারা সাম্প্রদায়িক ছিল, তারা সংখ্যালঘু অত্যাচারী ছিল, মনুবাদী ব্রাহ্মন্যবাদী ছিল, সেটাই থাকবে। এবারে লড়াইটা আর ঘোমটার আড়ালে নয়, সরাসরি হবে।

তোলামুলের হিন্দু অংশের অধিকাংশই বিজেপিতে চলে যাবে, যাদের হাতে হারামের টাকা আছে, তারা অনেকে টাকা জরিমানা দিয়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও- প্রত্যেকে আগামী ৬ মাসে বুঝবে আতঙ্ক কাকে বলে। মুসলমান অঞ্চলের মালগুলো মূল ক্যালানিটা খাবে। আর এদের হাল দেখার পর- তোলামুলের ডিমে তা দিয়ে কোনো বাচ্চা ফু্টবে না। বরং আগামীতে তোলামুল নেতানেত্রীদের যৌন প্রোটেকশন দরকার হবে না- ক্ষমতায় থাকাকালীন তৃণমূলের যেকোনো স্লোগান বললেই বীর্যের শুক্রাণুগুলো নিজেই আত্মহত্যা করে মরে যাবে। না কন্ডোম, না কন্ট্রাসেপটিভ পিল- নির্বীজকরণের এটা এক যুগান্তকারী আবিষ্কার। আজ বুঝবে না সকলে, যত সময় যাবে, আমার কথাগুলোর বাস্তবতা বুঝতে পারবে।

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদে বসছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ডেপুটি বিরোধী দলনেতা হচ্ছেন তৃণমূলের দুই মহিলা মুখ, অসীমা পাত্র এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী দল তৃণমূলের চিফ হুইপ পদে বসছেন ফিরহাদ হাকিম। মমতা শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা করেছে এক নম্বর কারণ নিজের কন্ট্রোলে থাকবে, শোভনদেবের বয়স ৮৩ উল্টোদিকে ববি ৭০। দুই নম্বর কারণ- দক্ষিণ কলকাতা। তিন নম্বর কারণ মমতা ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক, ব্রাহ্মণ বলে একমাত্র নির্বাচিত করেছে। নয়না সুদীপের বউ এবং ব্রাহ্মণ দুই ক্যাটাগরিতে ঢুকেছে। অসীমা পাত্র ওর বাড়ির কাজের লোক। তালিকা সমাপ্ত।

দেবী ঘৃণাতে সাওয়ার হয়ে এসেছিলেন, ঘৃণাতেই বিসর্জন হয়েছে। বিজেপি RSS উভয়েই জানে, তারা মমতার প্রতি ঘৃণার স্রোতে ক্ষমতায় এসেছে, যেমন বামেদের প্রতি তীব্র রাগের নৌকায় চড়ে মমতা ক্ষমতায় এসেছিল। শুভেন্দু যদি যোগীর মতো আচরণ না করে তাহলে বাংলার লোকজন খানিকটা জায়গা দেবে। বিজেপির শুভেন্দুর সবচেয়ে বড় সমস্যা তৃণমূলের শুভেন্দুর বলা সংলাপগুলো। পরবর্তী সমস্ত জীবন তাকে নিজের সাথে লড়াই করতে হবে। বাঙালি হিন্দুদের ৬০% এর বেশি ভোট বিজেপির ঝুলিতে গেছে বিজেপির হিন্দুত্বকে সাপোর্ট করে নয়, মমতাকে উৎখাত করতে, বহু মুসলমান বুথেও বিজেপির প্রার্থীরা না হলে ভোট পেতো না।

খুব সত্য ঘটনা হচ্ছে, বহু স্থানে বিজেপি কর্মীরা আফসোস করছে, তাদের হাত নিসপিস করলেও ,সাম্পদায়িক রং লাগার ভয়ে তারা তোলামুলকে চেয়েও ক্যালাতে পারছে না। অনেক স্থানে অশান্তি করতে চেয়েও পারছে না, যা সময়ের দাবী; উলটে ব্রেক মারতে হচ্ছে, পাছে তোলামুল ক্যালাতে গিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বলে চিহ্নিত হয়ে যায়। সদ্য এরা সরকার এসেছে, এই লাইনে অনেক চোর তোলাবাজ বেঁচে যাচ্ছে এই মুহূর্তে। এর পরের মারগুলো গতরে হওয়ার চেয়েও পুলিশি আর অর্থনৈতিক মার বেশি হবে। তাই যারা ভাবছে বেঁচে যাচ্ছি, তারা কেউ বাঁচবে না, কাকে কতটা ক্যালানি দেওয়া হবে এবং কোন লেভেলের হবে- সেইটার তালিকা তৈরি হচ্ছে।

চোরগুলো কেউ ১০০ কোটির মালিক, কেউ ৫০ কোটি তো কেউ ৫ কোটির। সামান্য পঞ্চায়েতের সদস্যও ৫০ লাখ বাগিয়ে বসে আছে। কাকে জরিমানা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে, কাকে অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে বলবে, প্রতিটা প্রেসক্রিপসন আলাদা আলাদা হবে। মেদিনীপুরিয়ান কি জিনিস, বিশ্ব সংসারে এদের নিয়ে যে বা যারা ঘর করেছে একমাত্র তারাই জানে। এদের মত জেদী, গোঁয়ার, ছেঁড়া ন্যাকড়ার আগুনের মতো লেগে থাকার মানসিকতা যুক্ত প্রতিহিংসা পরায়ণ জাতি বিশ্ব সংসারে দ্বিতীয়টি নেই, আসল তো বটেই- এরা সুদেরও সুদ আদায় করা লোকজন। সুতরাং, ছাড় দিলেও ছেড়ে দেবে না। 

এতো কিছু বলার উদ্দেশ্য একটাই, পূর্ব বর্ধমানে কমল গায়েন, প্রদীপ তা খুন হয়েছিলেন মমতার প্রত্যক্ষ মদতে, তিন মেদিনীপুর, বাঁকুড়া পুরুলিয়া - সিপিএম সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছিল এই জেলাগুলোতে। আজও সিপিএম সেই আতঙ্ক কাটিয়ে উঠে একটা কচি নেতাও জন্ম দিতে পারেনি। সরি, জন্ম দেওয়া দূর অস্ত, গর্ভধারণ অবধি করতে পারেনি। আরো ৫-৭ বছর লাগবে ২০১১ সালের আতঙ্ক দূর করে, সেই ট্রমা কাটিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক হতে। 

বামেদের নিজশ্ব ইউনিক সাপ্লাই লাইন থাকা সত্বেও তারা আজ অবধি মানসিক ভীতি কাটিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি, রাজ্য জুড়ে অন্তত ১৬টা জেলাতে তারা হামাগুড়ি দিচ্ছে। শরিকগুলোর তো ঝাঁপ বন্ধ হয়ে গেছে। ২০১১ এর সময়কার কোনো বড় বাম নেতার যা খুশি রোগ থাক, কোষ্ঠকাঠিন্য নেই। মমতার নাম দু'বার করলে পোঁদ দিয়ে জিভ বেরিয়ে আসে, সেখানে রেক্টামে গু আঁটকে থাকার প্রশ্নই নেই। আজ তোলামুল নামের সাপটা মারা গেছে, খোলস পরে আছে। সেটাকে দেখেই পাখি আর বাঁদরের দল কিচিরমিচির করছে। ভুলে যেও না SUCI এরও পলিটব্যুরো আছে। ২০ বছর পরেও অফিসিয়ালি তৃণমূল কংগ্রেস দলটার অফিস থাকবে কোলকাতার কোথাও না কোথাও। কিন্তু এরা ৫% ভোটও পাবে না ঠিক আগামীকাল নির্বাচন হলেও। যেসব ঘাটের মরাদের যাবার জাইগা নেই, তারা কালীঘাটের ভিকিরি আর ঘেও কুত্তা হয়ে পরে থাকবে।

পরবর্তী ৬ মাসে যে হারে এরা শারীরিক, মানসিক এবং অর্থনৈতিক যে মার খাবে, সেই আতঙ্ক কাটানো তো দুরস্থান- এদের শুক্রাণুর কেউ রাজনীতির নামটুকু মুখে আনবে না। নির্দিষ্ট আদর্শ থাকা সিপিএমের ধ্বজভঙ্গ আজও দশা কাটেনি, কারণ সিপিএম যখন মার খেয়েছিল সাধারণ মানুষ সেটাকে উদযাপন করেছিল। কোনো ধরনের আদর্শহীন তোলামুলকেও যখন মার খেতে দেখবে, একটা পাশবিক জিঘাংসা বৃত্তি কাজ করবে জনগণের মনে। ১৫ বছর ধরে করা প্রতিটা পাপের সাথে আজকের অত্যাচারকে জাস্টিফাই করে- হিসাব মিলিয়ে দেবে। এরপর এরা এতোটাই দুর্বল হয়ে যাবে যে, ওই গোটা বাংলা জুড়ে সাকুল্যে ২-৪টে পার্টি অফিস বাঁচবে, SUCI এর সাথে জোটে করে, কংগ্রেসের রক্ষীতা হয়ে তাদের দয়া দাক্ষিণ্যের উপরে বেঁচে থাকবে। ঘাটের মরা মালগুলো, যেগুলোকে আস্তাকুঁড়ের ডাব্বাও নেবে না- সেগুলোই জলসাঘরের ছবি বিশ্বাসের মতো বসে থাকবে।

এরপর সিভিক পুলিশ ধরবে, এদের উপরেই ফার্স্ট ফ্লাসের ক্যালানি শুরু হবে। সিভিকের পরেই পঞ্চায়েত, মিউনিসিপ্যালিটির ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের শরীরে হাত বোলালেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো প্যান্টে হেগে মুতে দেবে, তাদের থেকে পাওয়া তথ্যতেই তো মূল প্রাণভোমরা রয়েছে সরকারি চুরিচামারির। এরপর আইপ্যাকের মেজো ও উঁচু পদের পেদোর দল, ডেটা তাদের কাছেও কম কিছু নেই। দুর্নীতির হাতে-কলমে প্রয়োগ যদি সিভিক পুলিশগুলো করে থাকে, তাহলে এসি ঘরে বসে তার রূপায়ণ করেছে এইসব ডেটা এন্ট্রি অপারেটরগুলো- আইপ্যাকের তত্ত্বাবধানে। পঞ্চায়েতে পঞ্চায়েতে লক্ষ কোটির ঋণ আছে নানান কন্ট্রাকটারের। তারা টাকা পাবে না, তোলামুলের নেতাদের সম্পত্তি বেচে টাকা আদায়ের আগে দ্বিতীয় দফার ক্যালানি ও খুনোখুনি শুরু হবে এদের মাধ্যমে। এর পর তো পঞ্চায়েত ভোটের আগে আসল সাম্প্রদায়িক খেলা শুরু হবে।

তাই যারা ভাবছে খেলা শেষ, তাদের বলি- খেলা শুরুই হয়নি এখনও।



শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

আলেম ক্যালানো যখন ফরজ



টুপি দাড়িওয়ালা একশ্রেনীর আলেম মৌলানা হাফেজ যেভাবে মমতা ব্যানার্জীর উম্মত সেজে, উলঙ্গ হয়ে ফতোয়াবাজি শুরু করেছে, ভোটের পর যখন এদেরকে রাস্তায় ফেলে লোকে কুত্তা ক্যালান দেবে- তখন কি এরা 'সংখ্যালঘু মুসলমান' আক্রান্ত বলে ‘র‍্যান্ডি রোনা’ করলে কি জনগণ প্রভাবিত হবে?

আমি হলফ করে বলতে পারি, অরাজনৈতিক মুখোশধারী এই চটি চাঁটা 'দাড়ি-টুপি' ওয়ালা খবিশ ইবলিশ গুলোকে ঝুলিয়ে ক্যালানোটা ফরজ ইবাদতের মধ্যে গন্য হবে ভোটের পর। নতুবা মুসলমানের ঈমান নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। আবু-জেহেল, আবু-লাহাব, মুগিরা এরাও সকলে লম্বা জোব্বা, লম্বা দাড়ি, মাথায় টুপি লাগিয়েই থাকত, এটা যেন মুসলমান সমাজ ভুলে না যায়।

এক শুয়োরের বাচ্চা এর আগে মুখ খোলেনি, যখন- ওয়াকফের সম্পত্তিকে যখন ১ নং খতিয়ানে তুলে দিয়েছিলো মমতা ব্যানার্জির সরকার, কেউ কোনো সাংবাদিক সম্মেলন করেনি। OBC, মাদ্রাসা শিক্ষা, SIR এর নামে মুসলমানকে যখন জিম্মি করা হয়েছিলো- এই প্রতিটা খ'য়ের ছেলে মুখে চটি গুঁজে বসে ছিলো, মমতা বিপদে পরতেই এরা রে রে করে এক হাতে ফতোয়া আর এক হাতে বিচি সম্বল করে ধেই ধেই করে নাচতে শুরু করে দিয়েছে।

এক শালার কোনো চাকুরি বা ব্যবসা নেই, প্রায় সবকটা খারিজী মাদ্রাসার শিক্ষক। সেই খারিজী মাদ্রায় আয় বলতে দান আর চাঁদার টাকা। মাদ্রাসা চালাবার নামে সাদাকা, জাকাতের পয়সাতে যারা নিজেদের পেট ভরায়, আজ তারা তোলামূলের হারামের টাকা খেয়ে বিজেপির জুজু ফেরি করছে। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ একটাও এই জাতের কোনো মুনাফেক রেহাই পাবেনা ইনশাল্লাহ। মিথ্যাচার করে একটা সমাজকে গুমরাহ করার মূল্য নগদে চোকাতে হবে, কোনো ধারবাকি থাকবেনা।

বাকিরা দেওয়াল লিখন পড়ে যা বোঝার বুঝে নিন। জনগণের মার, ক্যাওড়াতলা পাড়। ভাইপো তো বিদেশ পালাবে, এই বেশ্যার বাচ্চা বেজন্মা ফতোয়াবাজদের কে বা কারা বাঁচাবে?


বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬

আমেরিকা ইরানের মার থেকে পালিয়ে বাঁচল

 


Dickhead USA Democracy

 

১টা নার্সিসিস্ট উন্মাদ ধর্ষক ক্রিমিনাল, যে সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি দেয় ২ টাকার মাতাল গুন্ডার মত, তাকে যারা আঁটকাতে পারেনা- মুখে করে দিই তাদের 'মহান' রাষ্ট্র আর তাদের তথাকথিত ‘বিশ্বমোড়ল’ সিস্টেমের উপর। USA নামের গোটা রাষ্ট্রটা আসলে মানসিকভাবে জঙ্গি আর হারামের লুঠের টাকায় পুষ্ট, মোটামুটিভাবে প্রতিটা বেজন্মা আমেরিকানই যুদ্ধাপরাধী, শিশু ধর্ষক এপস্টিন ক্লাস ওদের রক্তে বইছে। সভ্যতার স্বার্থে যেকোন মূল্যে আমেরিকার বিনাশই একমাত্র বৈশ্বিক চাহিদা এই মুহুর্তে, এমন উদ্ধতস্বভাব অহংকারী বর্বর যারা- ইতিহাস কখনও তাদের ক্ষমা করেনি।

পাকিস্তান নাকি যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করিয়েছে! চাকরবাকর নাকি মালিককে অনুরোধ করছে! আসলেই মালিকের হুকুমেই চাকরের এই অনুরোধ। দুশ্চরিত্র মনিব তার লুচ্চা চাকরকে দিয়ে ধুতি পরিয়ে নিচ্ছে। পাকিস্তানের কানে বন্দুক রেখে সিজফায়ার করিয়ে আমেরিকা যুদ্ধ থেকে পালিয়ে বাঁচল। ইরাণ ট্রাম্পের এমন পায়ুমর্দন করেছে যে গোটা স্ট্যাচু অফ লিবার্টি সেখান দিয়ে ঢুকিয়ে কিডিনির ব্যালকনিতে সাজিয়ে রাখা যাবে। আপনি বরং মলদ্বারে গরম বোরোলিন দিয়ে নিজের বিজয় ঘোষণা করুন- পিছন মারতে দিলেও, মুখ মারতে দেননি, এর থেকে বড় বিজয় আর কিছু হতে পারে না। চাঁটা ও চোষার জন্য 'আমি' আপনার চাকর পাকিস্তান আছি তো। ফলত, বিশাল ধমকে চমকে স্বঘোষিত বিশ্বনেতা- একতরফা সিজফায়ার হেগেছে। আসলে ৪ তারিখের ব্যার্থ বিমান অভিযান, আমেরিকাকে মানসিকভাবে নির্বীজ খোজা করে দিয়েছে, তাদের ওউকাতে এনে দিয়েছে। বুড়ো ষাঁড় ট্রাম্প কি এবারে শাহবাজ শরীফ আর আসিম মুনিরের জন্য শান্তিতে নোবেলের জন্য নাম প্রস্তাব করবে?

সেনা উদ্ধারের নাটক করে, ইরানের ইউরেনিয়াম হরণের স্টান্টবাজি করতে গিয়েছিল 'মাদুরো অপহরণের' স্টাইলে। প্রায় ২ ডজন নানান জাতের জঙ্গি জাহাজ খুইয়ে, কয়েক ডজন পাইলট আর কমান্ডো খুইয়ে এপস্টিনের সেনারা আরো উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। ল্যাজেগোবরে শব্দটা 'ইস্পাহানে ভরাডুবি' শব্দ দিয়েও আগামীতে বোঝানো যেতে পারে। সব মিলিয়ে আমেরিকার হাতে কেবল লজ্জা, হতাশা, শোচনীয় পরাজয় আর বেধড়ক মার খাওয়ার অপনান, কলঙ্কিত ফক্কা।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের একটি ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।

1. ইরানের বিরুদ্ধে অ-আগ্রাসনের (non-aggression) মৌলিক অঙ্গীকার।

2. হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।

3. ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম মেনে নেওয়া।

4. সব ধরনের (primary ও secondary) নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

5. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডের সব রেজুলেশন বাতিল।

6. ইরানকে ক্ষতিপূরণ প্রদান।

7. অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধবাহিনীর প্রত্যাহার।

8. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিশেষ করে “ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স”-এর বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ।

এটা কার্যকর হলে দৈনিক ১৩০টি জাহাজ যদি হরমুজ দিয়ে অতিক্রম করে, ১৪ দিনে তাদের GDP এর সমপরিমান অর্থ সংগ্রহ করে নেবে ইরান। খাটে হোক বা মাঠে, টিকে থাকার নামই বীরত্ব। ১ মিনিটে শীঘ্রপাত- সে তো ট্রাম্পের কাজ। একবার নেতিয়ে পরলে যন্ত্র আর দাঁড়াবেনা। আগে ট্রাম্প একতরফা সিজফায়ার ঘোষণা দিয়েছে। সে জানে তার কথার ১ পয়সা ভ্যালু নেই, ফলে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর অফিসিয়াল বিবৃতি পোষ্ট করে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রমান দিয়েছে। একে বলে চুড়ান্ত হ্যাটা করা। আমাদের নপুংসক বিশ্বগুরু যা করতে পারেনি, ট্রাম্প একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষনা করেছিলো পাকিস্তানের বিপক্ষে। সেই উদ্ধত ট্রম্পকে শিক্ষা দিয়ে দিলো ইরান। হাঁটু মুড়ে 'প্যাহেলে আপ' সিজফায়ার ঘোষণা। মারের চেয়ে বড় ওষুধ আজও নেই। আর নপুংসক এর বিরুদ্ধেই আমেরিকার যাবতীয় দম। পুরুষাকার কারো সামনে পরলে যে আমেরিকাও প্যান্টে হাগে- তাই ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়ে গেলো। ট্রম্পের ট্যারিফ যুদ্ধ আর পিস কমিটি আপাতত হরমুজ প্রনালীর গভীরে তলিয়ে গেছে। আমাদের বিশ্বগুরুর ফাদারল্যান্ড তো কোমায়, ফাদারের বেজন্মা বাচ্চারা কি নতুন বাপ বানাবে ইরানকে?

আরবের মোল্লা রাজা যেগুলো মার্কিন অন্ডোকোষে অবাঞ্চিত চুলের মত লেগে রয়েছে আমেরিকাকে 'খোদা' মেনে, কারন আমেরিকা তাদের রক্ষাকর্তা এটাকেই তারা বিশ্বের একমাত্র সত্য মানে। যাদের ভূমি ও আকাশ ব্যবহার করে জায়োনিষ্ট এপস্টিন ক্লাস এই বর্বরতা চালাচ্ছে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে- তাদের প্রাসাদ গুলো আজও কেন অক্ষত আছে জানিনা। কুয়েত, আমিরাত, সৌদি আর জর্ডন- চারটে হারেমে চারটে মিসাইল, যুদ্ধ ৮০% শেষ হয়ে যাবে ওখানেই। প্রতিটা হারেমে ইহুদী জায়নিষ্ট বীর্যজাত বেশ্যার বাচ্চারা জন্ম নিয়েছে, যারা এপস্টিন বাহিনীর খাদেম হিসাবে সেবা করে চলেছে দশকের পর দশক।

আমেরিকা যে আসলে একটা ফাঁপা মাল, যতটা গর্জায় ভেতরে তার ৫% ও নেই, গত ৮-৯ দশক ধরে লুঠ রাহাজানি করে কামানো মাল দিয়ে যে হারামের সাম্রাজ্য বানিয়েছে, সেটা দুম করে কাল সকালেই ভেঙে যাবেনা। কিন্তু সেটাকে স্লো পয়জন করেও যে মেরে ফেলা যায়, তার হাড়ে মজ্জায় যে ঘুণ ধরিয়ে তার কাঠামোকেই পচিয়ে দেওয়া যায়- ইরান রোজ সেটা প্রমান করে দিয়েছে। ওদের যে 'মানবিকতার' দোকান, তার মুখোশ ছিঁড়ে খুলে ফেলে, ওরাই যে আসল সভ্যতা ধ্বংসের কারিগর, বিশ্বজুড়ে প্রতিটা জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান ও তাদের লালনের মাধ্যমে গত ৮০ বছর ধরে USA যেটা করে এসেছে সভ্যতা বিকাশের নামে- সেটাই আজ পিডো-ষাঁড়টার মুখ দিয়ে স্বীকার করিয়ে নিচ্ছে ইরান। আমেরিকা তার ভয়ের দোকান টিকিয়ে রাখতে শালীনতার সমস্ত মাত্রা অতিক্রম করে পাশবিক সত্তাকে তার আইডেন্টিটি হিসাবে বিজ্ঞাপিত করে যাচ্ছে।

চাপানো যুদ্ধে অস্ত্র বিক্রি, অন্যের প্রাকৃতিক সম্পদ দখল- সবটাই ছিলো ভয়ের সাথে 'ডিল' করে। আমেরিকা মানে তো একটা হিমশীতল ভয়ের নাম 'ছিলো', সেই ভয় আজ নিজেই 'the fucking joke' এ পরিনত হয়ে গেছে, সৌজন্যে ইরাণ। ভয়ের ঘরে আজ ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে পারস্য সভ্যতা। এই কারনেই এপস্টিন বাহিনী মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে আমেরিকার মুরোদ ওই হম্বিতম্বি আর চারটে ব্রিজ ভাঙা অবধিই, নিউক হেড ব্যবহার করতে গেলে- আমেরিকার অন্তত ১২টা শহরে icbm তাক করা রয়েছে বিশ্বের নানান প্রান্ত থেকে। আর মার্কিন আকাশ প্রতিরোধী ব্যবস্থা যে রথের মেলার পাঁপরভাজা - সেটা তো ইরানই প্রমান করে দিয়েছে আরেক বিশ্বছেঁড়া কমান্ডার ইজরায়েলে। আয়রণ ডোম আর মোসাদ- মিথ ফিনিস।

তাই পারমাণবিক হামলা অন্তত এই পর্যায়ে কিছু হবেনা বলেই আমার বিশ্বাস, বরং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাকচারাল এলাকাতে হামলা হতে পারে তেড়েফুঁড়ে- আসলে আমেরিকার নামে চলা মধ্যপ্রাচ্যের নানান প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেথ সার্টিফিকেট লিখে দিচ্ছে নিজেরাই। এভাবেই আরব এলাকা থেকে রিজিম চেঞ্জ হচ্ছে, USA হেজিমনির রিজিম। ডলার রিজিমের পতন চোখের সামনে ঘটতে দেখছি- লাইভ।

ইরান, মার্কিন পরাশক্তি নামের সাদা হাতিটাকে, খেঁকি কুত্তার পর্যায়ে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে পাড়ার মোডে। রাজকীয় তর্জন গর্জন ভুলে, তাদের প্রেসিডেন্ট এখন কাঁচা খিস্তিখেউর সহযোগে তার মিত্রদের অভিসম্পাত করছে, কখনও বালছাল গু-গোবর লিখে এ্যাটেনশন ক্রিয়েট করার চেষ্টা করছে তো কখনও ফুটো মস্তানদের মত নির্লজ্জ হুমকি দিচ্ছে। মোদ্দাকথা ছালউঠা কুত্তার মত ভৌ ভৌ করছে। যুদ্ধবাজদের সীমাবদ্ধতাগুলো ভয়াবহ প্রকাশ করে বিশ্বের 'বাপ' সাজার গল্পের নটে গাছ মুড়িয়ে দিয়েছে ইরান।

তাদের মিথ ছিলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, থাড ইন্টারসেপ্টর আর প্যাট্রিয়টস সিস্টেম- মোটামুটি এদের ব্যবসা নেই করে দিয়েছে। যাবতীয় স্টিলথ বিমানের ধাজিয়া উড়িয়ে দিয়েছে; লকহিড মার্টিন আর বোয়িং, এদের সক্ষমতা- মিথ থেকে সরাসরি 'নেই'। এক ইরান যদি এই করে দেয়, চীনের সাথে যদি যুদ্ধ লাগে তো আমেরিকা প্রথম রাতেই নকআউট হয়ে যাবে একপ্রকার।

তাদের মিথ ছিলো যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী এবং রাডার যুক্ত সামরিক ঘাঁটিগুলো। ডেল্টা ফোর্স, মেরিন কপস, নেভি সিল ইত্যাদি, এগুলোর এমন ভিখারির দশা করে দিয়েছে যে, এই রণকৌশল তথা সিস্টেমের কার্যকারিতা নিয়ে আজকের বিশ্বে প্রশ্ন উঠে গেছে। ইরানি হামলার যুদ্ধ জাহাজ কনসেপ্টটাকেই 'স্ক্র‍্যাপ' বানিয়ে দিয়েছে। হলিউডের সিনেমাতেই আমেরিকা একমাত্র অপরাজেয়, বাস্তবে মাছিমারা পালোয়ান।

আসলে তাদের মিথ গচ্ছিত ছিলো 'পেট্রোডলারে'। ইরান নামের কুড়ুলটা এইখানে পরেছে। আরবের তেল গ্যাসের টাকা লুঠের মধ্যে দিয়েই তথাকথিত 'সুপার পাওয়ার' আজ সেই তেল-গ্যাসের বধ্যভুমিতে বন্দি। ৮০ বছরের পাপ, ৩৭ দিনে শেষ হবেনা। আমেরিকা নামের অভিশাপকে বিশ্ব থেকে মুক্ত করতে, ইরান নিজেই একটা কামিকাজি ড্রোন হিসাবে সমগ্র অত্যাচারিত বিশ্বের পক্ষ থেকে আবির্ভূত হয়েছে। ইরাণের কাছে গোটা বিশ্ব ঋণী হয়ে গিয়েছে। তাই, ইরানের শাসকদের হরেক দোষ থাকা সত্বেও সে ফুলের মত পবিত্র ও সুন্দর হয়ে উঠেছে, কুৎসিত আমেরিকার বিপক্ষে বীরবিক্রমে দাঁড়িয়ে লড়াই দেওয়ার জন্য।

গণতন্ত্রের ধজাধারী আমেরিকা এবং তাদের সংস্থা মেটা আসলেই যে জায়নবাদী আর মুক্ত মতাদর্শ ও গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধকারী - তা রোজ প্রমান হচ্ছে। ইজরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো কার্টুন, কোন ফ্যাক্ট যুক্ত পোষ্টারকে সে পোষ্ট করতেই দেবেনা। এভাবে সেন্সর করে ইজরায়েলকে টিকিয়ে রাখা যাবে নাকি মেটা নিজে টিকবে? কোনো না কোন ইরাণ এসে যেদিন মেটার গাঁড়ে মিসাইল গুঁজে দেবে, ইজরায়েল বাপের মতই তখন সহানুভূতি ভিক্ষা ফেরি করতে হবে ধ্বংসস্তুপের ছবি দেখিয়ে। কমিউনিটি স্ট্যান্ডারের নামে এপস্টিন বাহিনী আসলে ইহুদী স্ট্যান্ডার্ড স্থাপনা করেছে।

ইরান আসলে একটা লুঠেরা খুনি দুর্বৃত্ত অসভ্য ন্যাংটা সভ্যতার বিষ দাঁত উঁপরে নিচ্ছে, নিজে সেই বিষ হজম করে। বিশ্ববাসী এবারে নিশ্চিন্ত হতেই পারে, কিছু মাসের মধ্যে ৫০ টি উত্তর আমেরিকান রাষ্ট্রের ইস্কুলের পাঠ্য ইতিহাসে লেখা থাকবে- আমরা এককালে USA নামের বর্বর দেশের অংশ ছিলাম। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়ে দিয়েছে- মার্কিন পক্ষের প্রতি পূর্ণ অবিশ্বাস নিয়ে আগামী শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, এই বিষয়ে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হবে।

 

সাম্রাজ্য পতনের শব্দ হয় না।

 


ঘৃণার যাত্রাপথঃ স্টেট স্পনসর্ড টেরোরিজম ও RSS

  ধর্মীয় শোভাযাত্রা এখন দাঙ্গা বাঁধানোর মূল অস্ত্র, নাগপুরের হিন্দুত্ব আধিপত্যবাদীরা ভারতের আত্মাকে ছিন্নভিন্ন করছে দিয়েছে; যার মেরামতিতে কয়...