বিপর্যয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিপর্যয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না


⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔

আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাাসক তৃনমূল ও i-Pac, রাজ্যের সমস্ত মানুষকে ভীষণভাবে সতকর্তা অবলম্বন করার জন্য আন্তরিকভাবে অনুরোধ করছি। বিশেষ করে ‘চাপড়া থেকে চোপড়া’ এই অঞ্চলের মুসলমান অধ্যুষিত এলাকা, SC জনবহুল অঞ্চলে পরিকল্পিত হুজ্জোতি, ভাঙচুর ও অরাজকতা সৃষ্টি করার তালে রয়েছে এই তোলাবাজদের সরকার, যাতে 2024 এর ভুতুরে ভুয়ো ভোটার সম্বলিত ভোটারলিষ্ট অনুযায়ী আগামী বিধানসভা নির্বাচন করাতে পারে।

নির্যাতন কমিশনের ইচ্ছাকৃত সৃষ্ট নানান সমস্যা বিবিধ আইনি পথে সমাধান করতে হবে, তার জন্য সুষ্ঠু আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। যে সকল নাগরিককে নানান ফন্দি ফিকিরে অবৈধ ঘোষণা করবে বিজেপি পরিচালিত নির্যাতন কমিশন- তাদের জন্য নির্দিষ্ট আইনি লড়াই এর প্রস্তুতি নিতে হবে। তৃণমূলের রাজনৈতিক কুহকে পা বাড়ালে, তাদের পুলিশই আপনাদের নামে মামলা মোকদ্দমা দিয়ে জেরবার করে দেবে। সমস্ত ধরণের উস্কানি উত্তেজনাকে উপেক্ষা করে, ধীর স্থির ভাবে নিজেদের সংগঠিত করে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে আন্দোলন গড়ে তুলে নিজেদের হক ফিরিয়ে আনতে হবে। মিথ্যা মামলাতে জড়িয়ে গেলে তার ভোগান্তি একমাত্র আপনার ও আপনার পরিবারের, দল তৃনমূলের লাশ দরকার- তারা আমার আপনার লাশ নিয়ে রাজনীতি করে রাজনৈতিক তুলতে মরিয়া। 

তৃণমূল পোষিত প্রতিটা মিডিয়া হৈ হৈ করে এই সমস্ত অশান্তির খবরই একমাত্র ‘প্রায়োরিটি’ সহকারে Breaking News হিসাবে প্রচার করতে শুরু করবে, যদি তারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে সফল হয়। RSS সম্পূর্ণ ভাবে মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে এই সুযোগে দাঙ্গা বাঁধাবার ফিকির খুঁজবে, বিশেষত মালদা মুর্শিদাবাদ ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে। তখন মুসলমানদের টার্গেট করে মিডিয়া ট্রায়াল শুরু করে দেবে ভাতাজীবি সাংবাদিকদের দল।

তৃণমূল কংগ্রেস একটা সামাজিক আস্তাকুর, রাজনীতির অন্তরালে যেখানে সারা রাজ্যের যত সমাজবিরোধী, দুষ্কৃতি, চোর, ধর্ষক, তোলাবাজ, দাঙ্গাবাদ, ধর্মোন্মাদ পচাগলা মালেদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল। নিষিদ্ধ সংগঠন 'সিমি'র ইমরান থেকে আসানসোলের খুনী দাঙ্গাবাজ বাবুল সুপ্রিয়ের পৃষ্ঠপোষকতা তৃণমূল কংগ্রেস করে এ রাজ্যে। সম্প্রীতির মুখোশ খসে পরে তৃণমূলের নিকৃষ্ট মুসলমান বিদ্বেষী মুখটা বাইরে চলে এসেছে আরো একবার- যেখানে RSS নেতার সমকামী কন্যা মুসলমান মৌসম নূরের স্থলাভিষিক্ত হয়। এর পরেও মুসলমান সমাজকে তারা বলে- বিজেপিকে নাকি তারা আঁটকাবে! RSS এর এ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন তৃণমূলই করে দিলে, বিজেপির দরকারটা কোথায়?

🔰 SIR ও মমতা ব্যানার্জী- টাইমলাইন 🔰

✅ SIR আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে হবে 
✅ একটা নামও বাদ দিতে দেব না 
✅ একটা বৈধ নাম বাদ দিতে দেবো না

❌ কিন্তু একবারও বলেনি- একটাও অবৈধ নামও থাকতে দেবো না। ❌

উল্টে কি বলেছেন? প্রি SIR যে ভোটার তালিকা অর্থাৎ ২০২৪ সালের যে ভোটার তালিকা সেই তালিকা অনুযায়ী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন করতে হবে। এটা শুধু মুখে বলেছেন এমনটা নয়, রীতিমত সুপ্রিম কোর্টের হলফনামায় লিখিতভাবে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে এফিডেভিট দিয়ে।

দেশের বারোটা অঙ্গরাজ্যে SIR প্রক্রিয়া কাজ শুরু হয়েছিল, তার মধ্যে কেরল, তামিলনাড়ু জাতীয় বিজেপি বিরোধীদের রাজ্য, এমনকি বিজেপি শাসিত গুজরাট রাজস্থান মধ্যপ্রদেশ ছত্রিশগড় এর মত বড় রাজ্যের প্রত্যেকের পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তাহলে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে তালিকা এইরকম আধা-খেঁচড়া অবস্থায় পড়ে আছে কেন?

সাদা খাতার BLO, তৃনমূলের পে রোলে থাকা ডেটা এন্ট্রি অপারেটর দিয়ে সমস্যা তৈরি শুরু করেছিলো। যত সময় গেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের পায়ের তলার মাটি সরে যেতে শুরু করেছে; ততই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অসহযোগিতা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। দিন যত গড়িয়েছে, পর্যাপ্ত সরকারি অফিসার না দেওয়া, জেলা প্রশাসন ও AERO পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ অসহযোগিতা শুরু করেছিলো। আদালতের নির্দেশের আগে অবধি চূড়ান্ত অসহযোগিতা করা হয়েছে ও হচ্ছে। যার ফল আজকে এরকম একটি অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে। প্রত্যেকটি বৈধ নাগরিকের আজকের এই অসহনীয় পরিস্থিতির মুখে পড়ার দায় যতটা নির্যাতন কমিশনের তার চেয়েও বেশী দায় এক ও অদ্বিতীয় শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের। সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য রাজ্যের জনগণের একটা বড় অংশকে নাগরিকত্বের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। 

সীমান্ত অঞ্চলে বিজেপি যতটা বিপাকে পড়েছে, গোটা রাজ্যজুড়ে তৃণমূল তার থেকেও অনেক বেশি বিপদে পড়েছে। SIR নিয়ে শুরুতে অতি উৎসাহ দেখাতে গিয়ে যখনই বিজেপি বুঝতে পেরে গেছে যে, অবৈধ ভোটার বাদ গেলে প্রকৃতপক্ষে গাড্ডায় পড়তে চলেছে তৃণমূল, আর ২ কোটি রোহিঙ্গা জাতীয় ফাঁপা মিথ্যা কথার জন্য তাদেরকে থুতু চেটে খেতে হবে, তখনই 'বিষাক্ত ভোঁদর' শুভেন্দু মিডিয়া থেকে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে দু-সপ্তাহ আগেই। এমনকি কোলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে হওয়া ২৭শে ফেব্রুয়ারি বিজেপির বড় পর্যায়ের দলীয় মিটিং-এ অবধি শুভেন্দুকে আনেনি তারা, পাছে অতীতের মিথ্যার দরুন অপ্রস্তুতে পরতে হয়।

তাই করজোড়ে অনুরোধ- তৃণমূলের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে নিজের ও পরিবারের সর্বনাশ ডেকে আনবেননা। 🙏

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অঙ্কঃ ২০২৬ ভোটের আগেই তৃনমূল ফিনিশ

 

মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ, ভোটের আগেই তৃণমূলও ফিনিস। অঙ্ক সেটাই বলছে। মিলিয়ে নিন নাহয়-

মুখ্যমন্ত্রী মোটামুটি নিশ্চিত ১কোটি ২০ লাখ নাম কাটা যাচ্ছেই। কিছু ভুলভ্রান্তি বাদে, ধরে নেওয়া যায় ১ কোটি ১০ বা ৫ লাখ অবৈধ ও ভুয়ো ভোটার। নিদেন পক্ষে ১ কোটি নাম বাদ যাওয়া কেউ রুখতে পারবেনা।

রাজ্যে ২০২৪ সালের ভোটার লিষ্টে ৭ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ছিলো। যার মধ্যে পোল হয়েছিলো ৬ কোটি ৫ লাখ মত ভোট। উপরোক্ত ওই সম্ভাব্য বাদ যাওয়া ১ কোটির আশেপাশে ভুতুরে ভোটারের প্রায় সমস্ত ভোটটাই পোল হয়েছিলো, যার ৮০% তৃণমূলের বাক্সেই গিয়েছিলো, এটা বলার জন্য কোনো বিশেষজ্ঞ হতে হয়না। 

পোলিং ভোটের ৬ কোটির নিরিখে ওই ১ কোটি মানে ১৬.৬৬% ভোট নেই হয়েছে। যার মধ্যে ১৪% এরও বেশী ভোট ভুতুরে ভোট তৃণমূলের ছিলো, যেটা গায়েব হতে, ২০২৪ এর ভোটে প্রাপ্ত তৃণমূলের ৪৩.৬৯% ভোট শেয়ার কমে দাঁড়াবে- ২৯.৬৯% তে। 

২০২৬ এর নিরিখে রাজ্যে মুসলমান ভোট দাঁড়াবে কমবেশী ৩০%, যার মধ্যে বাম+কংগ্রেস ও অন্যান্য ছোট দল মিলে ৫% পায়। বাকি ২৫% এর গোটাটা তৃণমূল পেয়ে এসেছে গত ১৪ বছর ধরে প্রতিটা নির্বাচনে। এখন এই মুসলমান ভোটের মাত্র অর্ধেক, হ্যাঁ- যদি অর্ধেকও যদি তৃণমূলের মুখে ঝাঁটার বারি মারে, তৃণমূলের ২৯.৬৯% ভোট কমে ১৭%তে মুখ থুবড়ে পরবে। ৫০টা আসনে জিতলেই তৃণমূল বর্তে যাবে। এর পর চুরি দুর্নীতির কারনে কিছু বাদ গেলে তো আরো শেষ। 

পিসি ভাইপো গায়ক নায়ক ধমকে চমকে টাকা ছড়িয়ে,  জাপানি তেল রকেট ক্যাপসুল ভায়াগ্রা সর্বিট্রেট RSS কোনো ওষুধই তৃণমূলের শ্মশানযাত্রা আঁটকাতে পারবেনা নিশ্চিত। দুর্নীতিগ্রস্থ BDO/SDO আর থানার অসাধু দলদাস OC/IC এর দলও যদি তৃণমূলের হয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় নেমে পরে উলঙ্গ হয়ে- তারাও জনরোষের শিকার হবে, তাদেরও পরিবার পরিজন আছে। হারামের টাকায় ফুর্তিমারা কোনো চোর বাটপার এবারে পাড় পাবেনা।

সুতরাং, আতঙ্কিত মমতা ও i-Pac সমানে SIR এর মুসলমানকে বাদ দিচ্ছে এমন গল্প ফেঁদে মুসলমান সমাজকে অশান্ত করে রাজ্যে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে। মুসলমান সম্প্রদায়কে ভয় দেখিয়ে উস্কিয়ে রাজ্যে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। আসল সমস্যার লক্ষ গুন মিথ্যা প্রচার। যেমন SIR এর লাইনে লোকে অসুস্থ হবার গল্প ছড়াচ্ছিলো, অথচ বেকার ভাতার লাইনে সবাই ফুর্তিতে রয়েছে। আতঙ্কিত মুসলমান নয়, আতঙ্কিত তৃণমূল। মুসলমানের নাম বাদ কতটা যাবেনা জানিনা, কিন্তু তৃণমূলের নাম নিশান মুছে যাবে রাজ্যের বুক থেকে- এটার দেওয়াল লিখন পড়া যাচ্ছে।

যতটা আতঙ্কিত হবার কথা, তার লক্ষ গুণ আতঙ্ক তৃণমূল নিজে ছড়াচ্ছে তাদের পোষ্য মিডিয়া আনন্দবাজার, সংবাদ প্রতিদিন, TV9 বাংলা, আজকাল আর বর্তমান মিলে। সাথে ফেসবুক আর ইউটিউবের ভাতাজীবি কিছু স্বঘোষিত মিডিয়া আর বিশ্বমাচাদো সাংবাদিক কুল। তোলামূলের হারামের টাকায় পুষ্ট এরা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য জান কবুল লড়াই করছে যাতে তাদের রোজগার বেঁচে থাকে।

মমতা ব্যানার্জীও সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টায় আছে, যেন তেন প্রকারে ২০২৪ এর ভুতুরে ভোটারলিস্ট ধরে ভোট করাতে। SIR নিতে তার মূল আপত্তি ভুতুরে ভোটার বাদ দেওয়া যাবেনা। মমতা ব্যানার্জী নিজেও ভোটে না দাঁড়িয়ে পালাতে চাইছে- এতে তাদের ভয় ও আতঙ্ক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামীতে যা খুশি হোক- মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক কেরিয়ার দৃশ্যত ফিনিস।

সুতরাং, কোমর বেঁধে রাস্তায় নেমে পরুন। আমীতে রাজ্যের ক্ষমতায় কে আসবে তার চিত্র আজও পরিষ্কার নয়, কিন্তু এটা নিশ্চিত যে- ২০২৬শে কোনো অঙ্কে তোলামূল আর ফিরছেনা- এটার চেয়ে সত্যি এই মুহুর্তে আই কিচ্ছু নেই।

CPIM এর জন্যও এ এক চুড়ান্ত সুযোগ, মিডিয়াকে ভৌ ভৌ করতে দিন, কুত্তা ভৌভৌ করবে, কষিয়ে ক্যাৎ করে একটা লাথ মারলে কেঁউকেঁউ করে লেজ গুটিয়ে পালাবে। শুধু মাটিতে দাঁত কামড়ে পড়ে থেকে ভোট গণনা অবধি জান লাগিয়ে দিতে হবে। 


জনগণের বিজয় অদুৱেই। 


বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদঃ সন্ত্রাসী তৈরির আঁতুড়ঘর

 


লেখকঃ রূপ ভট্টাচার্য

ন্যুরেমবার্গ দেখলাম, অবশ্যই সিনেমাটা, জায়গাটা গিয়ে দেখার সৌভাগ্য হয়নি এখনও। ডিসক্লেইমার দিতে হয় কারণ অনেকে এখন এতটাই ছেলেমানুষ যে ভেবে বসবে, আমি সত্যিই সত্যিই গেছি জায়গাটায়, ঠিক যেভাবে ভেবে নেয় তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছে।

এই জিনিস আদিকাল থেকে হয়ে আসছে। ব্রিটিশ, ফ্রেঞ্চ সহ ইউরোপের তাবৎ বড় শক্তি মনে করেছিল জার্মানিতে নাৎসিদের উত্থান তেমন সমস্যার নয়, মনে করেছিল যে হিটলার, সোভিয়েত দেশ আক্রমণ করলে ওদেরই ভালো, নবজাতক সমাজতন্ত্রের অঙ্কুরেই বিনাশ হবে, শুরু হয়েছিল অ্যাপিসমেন্ট পলিসি বা বাংলা মাধ্যমের ইতিহাস বইতে লেখা “তোষণনীতি”। জার্মানির মধ্যে যেটা হচ্ছিল সেটা আরো ভয়ানক। ইউরোপের অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে যে দম ফেলার সময়টুকু থাকে, দেশের মধ্যে তো সেটা থাকেনা তাও তৎকালীন জার্মানির কমিউনিস্ট, ট্রেড ইউনিয়নিস্ট, সোস্যালিস্ট সবাই নাৎসিদের এই উত্থানকে তুচ্ছজ্ঞান করেছিল এটা জেনেও যে, এই শক্তি ক্ষমতায় আসলে প্রথম আক্রমন হবে তাদেরই উপর। যে মার্ক্সীয় বিশ্বদর্শন বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে, যার মাধ্যমে সমাজ বিশ্লেষণ মোটামুটিভাবে অভ্রান্ত সেই তত্ত্বের দিকপাল তাত্ত্বিকেরা সেই সময়ে জার্মানিতে ছিলেন, তাও তারা ধরতে পারেননি কোন উচ্চকোটির অপশক্তি তার সর্পিল দেহ ঘষে ঘষে, অতি সন্তর্পনে জার্মান রাষ্ট্রযন্ত্রের দিকে এগোচ্ছে।

মানুষ ভুল করে কিন্তু মানুষই সেই ভুল শুধরে নিয়ে এমন একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয় যে নতুন ইতিহাস রচিত হয়। নাৎসি শাসিত জার্মান রাইখের বিধ্বংসী সেনার নাম ছিল ওয়ারমাখ্ট, যাদের যুদ্ধনীতি ব্লিৎজক্রিগ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর দিকে ছিল একটা দুঃস্বপ্নের নাম। জার্মান প্রযুক্তির বলে বলীয়ান প্যানজার (যুদ্ধ ট্যাংক) বাহিনীর প্রবল গোলাবর্ষণ, সাথে লুফ্তওয়াফার (বিমান বাহিনী) আকাশ বাতাস ফালাফালা করে দেওয়া গুলিবর্ষন এবং তার পরে প্রায় সাথে সাথেই ইনফ্যান্ট্রি অ্যাসল্ট, এই হচ্ছে ব্লিৎজক্রিগ যুদ্ধ পদ্ধতি। 

এই অজেয় সেনা নিয়ে, একের পর এক ইউরোপের স্বাধীন দেশ দখল করে, ইংল্যান্ড ফ্রান্সকে পায়ের নিচে চেপে, হিটলার আস্তে আস্তে এগোচ্ছিল তার স্বপ্নের থার্ড রাইখের (জার্মান সাম্রাজ্য) দিকে, স্বপ্নের বেলুন ফাটল পোল্যান্ড ক্রস করার পর। অতি বড় কনজারভেটিভও ঢোক গিলে স্বীকার করবে যে নাৎসি দানবকে কে কবর চেনালো, স্বীকার করবে সে হল সদ্যজাত USSR, সোভিয়েত দেশ, লেনিন স্টালিনের সোভিয়েত। যে কমিউনিস্টদের খুন করে, হিটলার, গেরিং, হিমলার, গোয়েবেলসদের ক্ষমতা দখল, সেই কমিউনিস্টদের সোভিয়েত লাল ফৌজ বার্লিন ধ্বংস করে ভাঙা রাইখস্ট্যাগের চূড়ায় উড়িয়ে দিল লাল ঝান্ডা, ঠুকে দিল শেষ পেরেক নাৎসিদের কফিনে। ইতিহাস তার বদলা নিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে কোনো সিনেমা, বা ডকুমেন্টরি বানানোর সময় পুঁজিবাদী মিডিয়াকে একটু বেশি দক্ষতার সাথে কাজ করতে হয়। তারা ভালোই জানে, হিটলার, মুসোলিনি, তোজো ইত্যাদি সবার জন্ম ওদেরই গর্ভে কারণ সাম্রাজ্যবাদ হচ্ছে পুঁজিবাদের শেষ স্তর। নিজের দেশে জিনিস বেচা যাচ্ছেনা, ইকোনমি সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে, সেটা কাটানোর জন্য প্রাচ্যের কৃষিপ্রধান জাতিগুলোকে জোর করে নিজের কন্ট্রোলে নিয়ে আসা। কে করেনি এই কাজ? ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন সবাই উপনিবেশ করেছে, লুঠ করেছে অন্য দেশ। এই সব দেশ মিলিত ভাবে বা একা একাই যথেষ্ট স্বেচ্ছাচার করেছে, খুন, ডাকাতি করেছে, যার ফলে ঘুমন্ত দানব জেগে উঠেছে। তাই যুদ্ধে খেলাটা ঘুরেছে যখন সেই দানব এসে দাঁড়িয়েছে স্টালিনগ্রাদে, মুক্ত মানুষের ফৌজের সামনে, যাদের কিছু হারানোর নেই, যারা মানবিকতার সবচেয়ে পবিত্র আবেগে একজোট হয়েছে আর সেটা হল ভালোবাসা। আচার্য ব্রহ্মানন্দ পারেনি বিক্রমের দিকে তাকাতে কারণ সে ছিল নিষ্পাপ, অজাতশত্রু। এই জিনিস খুব ভালো করেই জানে পুঁজিবাদী মিডিয়া, তাই এইসব সিনেমায় যখন নিজেদেরকে হিরো হিসেবে দেখাতে যায়, প্রাণপণ কৌশলে কয়েকটা জিনিস বাদ দেয়।

ন্যুরেমবার্গ দেখে ভালো লাগলো, কারণ গোটা সিনেমাটা যে ন্যারেটিভের উপর দাঁড়িয়ে অর্থাৎ, মানুষের ভুলেই দানব তৈরি হয় আর সেই মানুষই আবার ভীষণ গোলায়েথের সামনে ক্ষুদ্র কিন্তু মূর্তিমান শমনরূপে ডেভিড হয়ে এসে দাঁড়ায়, সেটা তৈরিই হয়েছে এক নবজাতক সমাজতন্ত্রের অনুগ্রহে। ভালো লাগার একটা কারণ হচ্ছে, পরিচালক থেকে প্রযোজক এই বিষয়টা ভালো করেই জানেন যে যখন বিচারক জ্যাকসন জুরি প্যানেলের দিকে ফিরে বলছেন যে সমস্ত দেশকেই আগ্রাসনের রাজনীতি থেকে সরে আসতে হবে, আইনের শাসনের প্রতি দায়বদ্ধ হতে হবে তখন প্যানেলে বসা সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিনিধি মনে মনে হয়ত বা মুচকি হাসছেন কারণ সোভিয়েত ইউনিয়ন একমাত্র মিত্র শক্তি যারা নিজেদের সাম্রাজ্য বাঁচানোর দায় নিয়ে যুদ্ধে যুক্ত হয়নি, প্রকৃতপক্ষেই হয়েছিল পিতৃভূমি রক্ষার দায় নিয়ে আর ফ্যাসিবাদের হাত থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করার জন্য। 

ছবির প্রযোজক এটাও জানেন, গত শতাব্দীর শেষ থেকে পুঁজিবাদ, বিশ্বকে একমেরু করার জন্য কি পরিমাণ অর্থ আর শ্রম ব্যয় করেছে। সোভিয়েত সহ প্রায় সব সমাজতান্ত্রিক দেশে ঝামেলা করিয়ে, গোলাপী বিদ্রোহ, গুমখুন, বেআইনি আন্তর্জাতিক ট্রায়াল ইত্যাদি সব রকমের পদ্ধতি ব্যবহার করেছে যাতে সমাজতন্ত্রের বদলে বুর্জোয়া গণতন্ত্রকে স্থাপন করা যায়। আজকের দিনে এই একমেরু দুনিয়া আরেকটা দানবের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিণত হচ্ছে এবং তাকে ঠেকানোর জন্য আর কোনো সোভিয়েত বেঁচে নেই। জাস্টিস জ্যাকসন সিনেমায় বলছেন, আমরা কোর্ট মার্শালের বদলে ট্রায়াল করছি কারণ আমরা চাইনা আমাদের কোনো ভুলে এই অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি হোক। 

জ্যাকসন উকিল মানুষ, জানতেন না যে আইনি ট্রায়াল এই রোগের একটা তুচ্ছ সাময়িক উপশম মাত্র। যে বিশ্ব অন্যায় অন্যায্যতাকে মান্যতা দেয়, বৈষম্যকে ভবিতব্য হিসেবে প্রতিপন্ন করে, বড়লোকের হয়ে কাজ করে, সেই বিশ্বে বারবার আর্থসামাজিকভাবে বিপর্যস্ত, বিপথুমান, অতি ক্ষুব্ধ যুবক হিটলার হিসেবে তৈরি হবে।


মিডিয়া প্রোপ্যাগান্ডাঃ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হাতিয়ার


আগামী শতকে যখন আজকের ইতিহাস লেখা হবে বিশ্লেষণের আলোকে, একটাই মূল ও সার সত্য হিসাবে উঠে আসবে- মিডিয়ার চেয়ে ক্ষতি আর কিচ্ছু করেনি সমকালীন সমাজকে, বিশেষ করে বিংশ শতের শেষ ও একবিংশ শতকের প্রথম দেড় দশক, মোট ৩০ বছর। বিষাক্ত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আর তাদের পেটোয়া পুঁজিবাদী প্রতিটা ল্যাসপেন্সারকে বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠা করিয়েছে ক্রমাগত মিথ্যা প্রচারণা আর প্রোপাগাণ্ডা দিয়ে। সংবাদপত্র, রেডিও, নিউজ চ্যানেল- এই ট্রায়ো দিয়ে জনমত তৈরি করেছে। মার্কিন কলোনিয়ালিজম এর মূল অস্ত্র পরমানু বোমা, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৭০০ সেনাঘাঁটি, আধুনিক রণতরী কিম্বা বোমারু বিমান নয়, মার্কিন ইম্পিরিয়ালিজমের মূল অস্ত্র হলো মিডিয়া। 

নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, Fox News, CNN, MSNBC, NBC, CBS, ABC - রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), নিউস কর্পোরেশন (রুপার্ট মারডক), ডিজনি, ওয়ার্নার ব্রাদার্স, ইত্যাদি এগুলো সব মার্কিন মিডিয়া জায়ান্ট। কলোনিয়াল সাম্রাজ্যবাদীদের বাবা অর্থাৎ ইউরোপের সংমাধ্যমগুলো আরো বড় মিথ্যুক, যেমন BBC, AFP, রয়টার্স, গার্ডিয়ান, ল্যা মঁদ বা ডয়েচে ভেলে প্রত্যেকে শয়তান। আমাদের তৃতীয় বিশ্বের প্রতিটা সংবাদ সংস্থার, আন্তর্জাতিক সংবাদের মূখ্য সোর্স এই উপরের প্রতিষ্ঠানগুলোই। এই কারনে ইরাণের কোথায় অশান্তি হচ্ছে সেটা আপনার কানে সর্বক্ষণ বাজানো হলেও, আমেরিকাতে যে রীতিমত গৃহযুদ্ধ চলছে ICE এর ধরপাকরের জন্য, সে খবরের কিছুই জানেননা আপনি। কারন, প্রোপাগান্ডা মেশিনারি আপনাকে জানাতে দিতে চাইনি। আমাদের সংবাদ সংস্থা গুলোর কাছে বিকল্প কোনো অপসনও নেই যেখান থেকে খবর সংগ্রহ করবে। এটাই মিডিয়ার খাদ্যশৃঙ্খল, এভাবেই গত ১০০ বছর ধরে চলে এসেছে, সাম্রাজ্যবাদীরা যেভাবে চেয়েছে যেমনটি চেয়েছে, সেভাবেই প্রচার করেছে। সোভিয়েত খারাপের প্রচার, উত্তর কোরিয়া, ইসলামোফোভিয়া, ‘ফিল্টি’ ভারত, কিম্বা অসভ্য আফ্রিকা- যাকে যা সাজাতে চেয়েছে, মিডিয়ার দ্বারা তারা সেটাই করিয়ে ছেড়েচে। তারা বলেছে ন্যাংটা হয়ে যাওয়া আধুনিকতা, বাকি বিশ্ব সেটাকেই সত্য জেনেছে।   

আজকে সোস্যালমিডিয়া পশ্চিমাদেরই তৈরি, এই অস্ত্র ব্যবহার করেই তিউনিসিয়া থেকে আরব বসন্ত শুরু করেছিলো, যার দ্বারা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে শ্মশান বানিয়ে ছেড়েছে। ইরাণের মাটিতেও যাবতীয় অশান্তি এই সোস্যালমিডিয়া দিয়েই শুরু করেছিলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, ইরান সরকার ইন্টারনেট কেটে দিলেও তারা স্টারলিঙ্ক ডিভাইস দিয়ে সন্ত্রাস জারি রাখার প্রচেষ্টা রেখেছিলো। চিনা প্রযুক্তি, ইলন মাস্কের স্টালিঙ্কের লেজ কেটে দিতে, তবে লাথ খাওয়া ঘেয়ো কুত্তার মত মুখ পুড়িয়ে ফিরেছে CIA  ও মোসাদ বাহিনী। সুতরাং, মিডিয়ার সাহায্য ছাড়া মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ পুরোপুরি অচল, যেমন গোদী মিডিয়া ছাড়া বিজেপি অস্তিত্বহীন। 

বাকি বিশ্বে সোস্যালমিডিয়ার দৌলতেই আজকের জামানাতে প্রিন্ট ও টিভি মিডিয়া পথে বসেছে। মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার সাজানো মিথ্যার বেসাতিতে ফর্দাফাই করে ছিঁড়ে দিচ্ছে, প্রতিটা মুহুর্তে তারা ধরা পরে যাচ্ছে। জবাবদিহি করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে। ইচ্ছামত ন্যারেটিভ বানাতে পারছেনা, সত্য এসে এদের মিথ্যা ফানুস ফাঁসিয়ে দিচ্ছে। নিজেদের তৈরি করা অস্ত্রেই নিজেরা কুপোকাত হয়ে গেছে। ফলত, মিডিয়া ব্যবসা ও এখান থেকে পেট চালানো বেশ্যা সাংবাদিকেরা আজ বাটি হাতে ভিক্ষার পাত্র নিয়ে বসে পরেছে সরকারের পায়ের নিচে। 

আজও তারা সেটাই করছে যা গত ১০০ বছর ধরে করে এসেছে- ক্ষমতার দালালি, পশ্চিমাদের লিখে দেওয়া স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী লাগাতার প্রচার। সেদিন মানুষ এদের অন্ধ বিশ্বাস করত, আজ সার্কাসের মত করে উপভোগ করে। তাদেরই তৈরি টুলকিট লাগাতার যেমন মিথ্যা প্রোপাগান্ডা পোষ্টগুলোকে সামনে আনে, তেমনই কুকি সিস্টেম সেই মিথ্যার পালটা সত্যকেও টাইমলাইনের ফিডে এনে হাজির করে দেয়। ফলে মানুষের সামনে একই সাথে সত্য ও মিথ্যা মুখোমুখি এসে ধরা দেয়। জ্ঞানবানেরা মিডিয়ার এই পক্ষপাতদুষ্টতা ও বিকিয়ে যাওয়া কলমকে দ্রুত ধরে ফেলে, এই জন্য আজ মেইনস্ট্রিম মিডিয়া পথে বসেছে, তাদের গণেশ উল্টানোর দশায় রয়েছে।

মিডিয়ার পাপ ধরতে গেলে রোজ ১০টা করে আর্টিকেল আগামী ১০ বছর ধরে লিখলেও শেষ হবেনা। পুঁজিপতি, এলিট আর ক্ষমতাবানের মুখপত্র হয়ে ছেয়ে রয়েছিলো এই মিডিয়া। সাধারণ মানুষের কথা ততটুকুই এরা ছাপতো, যতটুকু না ছাপলে মুখোশ খুলে যাবে। এই মিডিয়াই করোনার আতঙ্ক বিক্রি করেছিলো, মৃত্যুর খবর রোজ প্রতি ঘন্টায় আপডেট করে 'ভ্যাক্সিন' বিক্রির ব্যাবসার বিজ্ঞাপন করেছিলো। এটা সামান্য উদাহরণ মাত্র। আজ এদের তৈরি নিপা ভাইরাস বাজারে খায়নি। বাংলাদেশের মিডিয়ার দিকে চেয়ে দেখুন, ওদের মিডিয়া T-20 বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নিজেদের জনগণকে কেমন ‘চদু’ বানাচ্ছে। লাগাতার ভারত বিরোধী জনমত তৈরিতে মিডিয়াই তো মূল ভূমিকা পালন করেছে। দুই কোটি রোহিঙ্গা আর ২৬ লাখ ভারতীয়- হিসাবে খুব পার্থক্য রয়েছে কি? দুটো আলাদা আলাদা দেশ, কিন্তু মিথ্যার আকৃতি এক ছাঁচে তৈরি। যেমন গ্যাস চেম্বারে ৬০ লক্ষ বিশেষ ধর্মের জনগণকে হত্যার গল্প বাজারে এসেছিলো ইউরোপে, নন্দীগ্রামের রসুলপুর নদীর কুমিরের মতই। 

মিডিয়ার চেয়ে হারামি ও শয়তান আর কোনো অভিশাপ আধুনিক সমসাময়িক সমাজের উপরে আসেনি। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ থেকে মোদী- সব এই মিডিয়া প্রোপাগান্ডার ফসল। প্রায় ৮০% হিন্দুর দেশের ৩৪% হিন্দু জনগণ বিশ্বাস করে 'হিন্দু খতরেমে হ্যায়', শুধু মাত্র মিডিয়ার প্রচারণার ফলে- বলা ভালো গোদী মিডিয়ার সৌজন্যে। এই মিডিয়াই আগামী বিধানসভা ভোটে ঝাঁপিয়ে পড়বে বাইনারি তৈরি করতে, অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের দাবীকে চাপা দিয়ে মন্দির মসজিদ গরু শুয়োরে ব্যতিব্যস্ত করে রেখে দেবে। কোনো গালিগালাজই এদের জন্য যথেষ্ট নয়।

একটা বোমা একবার মানুষ হত্যা করে ২০০ হোক বা ৫০০ জন। যেকোনো মৌলিবাদী সন্ত্রাসী জঙ্গি হামলাতে নির্দিষ্ট এলাকার নির্দিষ্ট একটা মানুষ মারা যায়। মিডিয়ার সন্ত্রাসী প্রোপাগাণ্ডার ফলে যুগ যুগ ধরে মিথ্যাচার, ঘৃণা আর অবিশ্বাস ছড়ানোর ফলে- গোটা সমাজ পচিয়ে শেষ করে দেয় জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে। মিডিয়ার বাক্য বোমায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানসিকভাবে বন্ধ্যা হয়ে যায়। এরা বিশ্বাস করতে শেখে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ অজেয়, তারাই একমাত্র পৃথিবীর ভালো চায়, এরা শেখে ৭২ হুর প্রাপ্তিই জীবনের আল্টিমেটাম লক্ষ্য, এরা শেখে গোমুত্রেই জীবনের সারবত্তা লুকিয়ে আছে। মিডিয়াই শিখিয়েছে লোনের পাঁকে ডুবে থেকে, ধার করা জীবনের নাম সফলতা। এরা শয়তানকে ঈশ্বর বানায়, ঈশ্বরকে শয়তান। মিডিয়া জনগণের কল্যাণের জন্য নয়, সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদীদের মূল হাতিয়ার ছিলো। হ্যাঁ ছিলো, কারন মেইনস্ট্রিম মিডিয়া আজ তার নিজের পাপের ভারেই ভেন্টিলেশনে চলে গেছে।

গণতন্ত্রের যে ধারা আজ বিশ্বজুড়ে টিকে আছে, সেটা মার্কিনীদের ‘এপস্টিন’ মানবতাবদের অনুপ্রেরণাতে তৈরি। এরাই লাদেন, আলকায়দা, সাদ্দামকে তৈরি করে, আবার এরাই সন্ত্রাসের নামে এদের নিকেশ করে শান্তির দূত সাজে। এদের দাস হলে তুমি যা খুশি করো সব সিদ্ধ, নতুবা গণতন্ত্রের নাম করে ‘ভিয়েতনাম’ বা ‘ইরাক’ বানিয়ে দেবে। মাত্র ১০০ বছরে গণতন্ত্রকে পচিয়ে দিয়েছে এই মিডিয়া। গণতন্ত্রের নামে বিশ্বজুড়ে যা চলছে, সেটারও আপডেট তথা নবায়ন প্রয়োজন। নতুবা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে অন্ধকারে অপহরন করলে, বা কোন দেশ কোথা থেকে তেল কিনবে সেটা মোড়ল রাষ্ট্র ঘোষণা করে যখন, তখন এই গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রশ্ন না উঠলে নিজের সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। একে পচাবার একমাত্র মূখ্য কারিগর গণতন্ত্রেরই চতুর্থ স্তম্ভ- মিডিয়া।

বাকি তিনটে স্তম্ভের কী অবস্থা রয়েছে মিলিয়ে নিন। বিশ্বের সর্বত্র দেখার দরকার নেই, সামান্য নিজেদের রাজ্যটুকুতে দেখুন, তারপর নিজেকে প্রশ্ন করুন।

১ নং স্তম্ভ- আইনসভা। এই গুলো নাচিয়ে গাইয়ে মূর্খ অশিক্ষিত সমাজবিরোধী দিয়ে ভর্তি। কেন্দ্র হোক বা রাজ্য, সর্বত্র এক চিত্র। প্রায় সকলে মিথ্যুক, সকলে চোর। মানুষই এদের ভোট দেয় মিডিয়ার বাইনারিতে ফেঁসে গিয়ে। ২ নং স্তম্ভ- বিচার ব্যবস্থা। পুরোপুরি পচে না গেলেও- আস্থার উপরে ভরষা করে রামমন্দিরের রায় আসে আজকাল। অবসরের পরেই শাসকের দলে নাম লেখায় বিচারকেরা। যাবজ্জীবন দন্ডে দণ্ডিত ধর্ষক রামরহিম নিয়মিত ছাড়া পেলেও বিনা বিচারে উমর খালিদ বন্দি থাকে অর্ধ দশক। শাসকের ইচ্ছামত মামলা ঝুলিয়ে রাখা যায়, DA দিক বা না দিক, আদালত ঠুঁটো জগন্নাথ। আদানির বিরুদ্ধে মামলা শোনার সাহসই নেই আদালতের, কারন সে আইনেরও উর্দ্ধে। কত বলব এমন?

তৃতীয় হলো - পুলিশ ও প্রশাসন। ১৩ পাওয়া পলাতক বিডিও, আর চেয়ারের নিচে লুকানো ঘুষখোর পুলিশ। গণতন্ত্রের মা'কে এরা পতিতাপল্লীতে বেচে দিয়েছে। এদের সম্বন্ধে লেখা মানে নিজেকে নর্দমাতে ছেড়ে দেওয়া। আর শেষ স্তম্ভ হলো এই মিডিয়া। যারা সকল পাপের মা, কারন মিথ্যাচারটা এরাই করে, লাগাতার, বারবার। দাড়ি সুমন থেকে বিজ্ঞ ঘোষাল হয়ে কুণাল ঘোষ কিম্বা ময়ূখ- সামান্য আরামবাগ টিভির চিল্লানোসরাস থেকে বঙ্গ টিভির মহিলাটি, চেয়ে দেখলেই মিডিয়ার চরিত্র ধরা পরে যাবে।

স্বর্গ নরক জান্নাত জাহান্নাম কোনো জীবিত মানুষ দেখেনি, তবে প্রতিটা কঠিন পাপের সাজা জীবদ্দশায় পেয়ে যায় মানুষ ও তাদের সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। মিডিয়া ও তাদের সাথে জুড়ে থাকা প্রতিটা মিথ্যুক খুব দ্রুত কঠিন সাজার মুখে পরবেই, প্রত্যেকে পরবে। কীভাবে পরবে তা মহাকালই জানে। সেদিন তাদের হারামের কামাই এর সম্পদও বাঁচাতে পারবেনা।

মিডিয়াকে ঘৃণা করতে শিখুন ও আমাদের উত্তর প্রজন্মকেও শেখান। এটাই ধর্মের বা ইমানের অন্যতম অঙ্গ হওয়া উচিৎ। 



মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঘৃণ্য ব্রাহ্মণ্যবাদ, মমতা ব্যানার্জী ও রাজ্যের মুসলমান সম্প্রদায়

 


বিজেপির রাজনৈতিক ন্যারেটিভ কি?


হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়, কারন আগামী দশ বা বিশ বছরের মধ্যেই নাকি গোটা ভারত মোল্লাদের হাতে চলে যাবে, তারা সংখ্যাতে এতো বেশী বাড়ছে। অতএব বিজেপিকে ভোট দাও, RSS কে আর বেশী শক্তিশালী করো।

RSS এর সফট হিন্দুত্ববাদী ও মুসলমানকে অশিক্ষিত হাঙ্গামাবাজ দুধেলগাই বানাবার প্রধান মুখ- মমতা ব্যানার্জী। তোলামূলের আদর্শ বিজেপির ওই উগ্র হিন্দুত্বের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে, আমাকে ভোট দাও নাহলে বিজেপি চলে আসবে। বাইনারি সম্পূর্ণ।

RSS এর ব্রাহ্মণ্যবাদী উচ্চবর্ণের নেতাগুলো উচ্চবর্ণের হিন্দুদের নেতা তো বটেই, পাশাপাশি মুচি চামার বাগদি সহ প্রতিটা অন্তজ্যদের নেতা, আদিবাসীদের নেতা, মুসলমানদের নেতাও তারাই। এর বাইরে নিম্ন বর্ণের কোনো হিন্দু, কোনো মুসলমান, কোনো খ্রীষ্টান যতক্ষণ ব্রাহ্মণ্যবাদীদের লেঠেল ততক্ষণ সে ঠিক আছে; যদি তাদের কেউ নেতা হিসাবে উঠে আসে বা দাবী করে, এই সমগ্র ব্রাহ্মণ্যবাদী সিস্টেম তাকে সাম্প্রদায়িক হিসাবে দাগিয়ে দেবে। উদাহরণ হিসাবে হুমায়ূনই যথেষ্ট।

সমাজে মাত্র সাড়ে তিন শতাংশের কাছাকাছি একটা সম্প্রদায়, মানে যারা এই ব্রাহ্মণ্যবাদী তথাকথিত উচ্চবর্ণ সমাজ- এরা সকল ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করবে। আর এটাই সেকুলারের সংজ্ঞা, এটাই গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য, এটাই রাষ্ট্রবাদীতা। কিন্তু একজন মুসলমান বা একজন হরিজন কিম্বা কোনো খ্রীষ্টান যদি সেই দাবী করে, অমনি সে সাম্প্রদায়িক, সে মৌলবাদী। ব্রাহ্মণ তথা উচ্চবর্ণের হিন্দু হলে সে বাই ডিফল্ট সেকুলার। তারা হেমন্ত বিশ্বশর্মা বা অগ্নিমিত্রা পালের মত প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিলেও- রাষ্ট্রযন্ত্র, আইন, মিডিয়া সেগুলোকে তুচ্ছ হিসাবেই গ্রহণ করে। কারন এই সকল প্রতিষ্ঠানের মাথাতেও ব্রাহ্মণ্যবাদীদেরই ভিড়, স্বভাবতই তারা এ বিষয়ে অন্ধ।

এদিকে বামপন্থী সেলিম, হুমায়ূনের সাথে মিটিং করলে, ISF এর সিদ্দিকি ভায়েরা বক্তিতা দিলে, কিম্বা পূর্ব মেদিনীপুরের রুহুল আমিন নতুন JUP দল খুললেই, সে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক হয়ে যায়। আর এর প্রচারণাটা কে বা কারা করে? ওই ব্রাহ্মণ্যবাদীদের দ্বারা পরিচালিত, তথা ব্রাহ্মণের ঔরসে ‘নিয়োগপ্রথাতে’ যাদের জন্ম, সেই বেজন্মা মিডয়া হাউজ- যেমন আনন্দবাজার, প্রতিদিন, বর্তমান, আজকাল, জি মিডিয়া, রিপাবলিক, এই সময়- এই জাতীয় মিডিয়ার পতিতারা প্রচারের দায়িত্বে থাকে। এর বাইরে কিছু উচ্ছিষ্টভোগী অন্ত্যজ, যারা ব্রাহ্মণ্যবাদীদের পায়ের নিচে থাকাটাকে মোক্ষ মনে করে, তারাও এই প্রোপাাগান্ডার অংশ। এদের ন্যারেটিভ খুব স্পষ্ট- নেতা অবশ্যই ব্রাহ্মণ হতে হবে, নিদেনপক্ষে ক্ষত্রিয়; মুসলমান, বাগদি, আদিবাসী বা হরিজন তাদের স্বজাতির পক্ষে কথা বললেই সেটা সাম্প্রদায়িকতা, সেটাই মৌলবাদ। স্বজাতির মাঝেও তারা কেন নেতা হবে! নেতা শুধু ব্রাহ্মণবাদীদের মধ্য থেকে হবে।

শুরুটা যা দিয়ে করেছিলাম, আগামী সিকি শতকে ভারত নাকি মোল্লাদের দেশ হয়ে যাবে- তাই হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়, এটাই তো বিজেপির একমাত্র ও আদি ইস্যু। তথ্য কী বলছে? জেনে ও শিখে রাখুন, আগামীতে আপনাদের পেশাজনিত কাজে লাগবে, যারা সাংবাদিকতা করে পেট চালান।

তথ্য মোতাবেক আজকের তারিখে দেশের মোট জনসংখ্যার ১১৫ কোটিই হিন্দু, শতাংশের বিচারে যা ৭৯%। মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১৫%, সংখ্যার বিচারে যা ২১.৮০ কোটির আশেপাশে। খ্রিস্টানদের সংখ্যা প্রায় ৩% এর আশেপাশে, যদিও কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী এই সংখ্যা ১০% এরও বেশী, যা ক্রমবর্ধনশীল। গোপন ধর্মান্তরের কারণে বিপুল পরিমান হিন্দু ক্যাথোলিক খ্রীষ্টানে কনভার্ট হয়েছে, যেটা তথ্যে আসেনা। শিখধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, জৈনধর্ম ও অন্যান্য সম্প্রদায়গুলো যথাক্রমে ১.৭%, ০.৭% এবং জৈনরা ০.৪%।

১৯৫১ সালের তথ্য মোতাবেক সদ্য স্বাধীন দেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিলো ৩০.৪০ কোটি, ১৯৬১ সালে এটা পৌঁছায় ৩৬.৭০ কোটিতে। অর্থাৎ, ১০ বছরে বৃদ্ধি ৬.৩০ কোটি। ১৯৭১ সালে হিন্দু জনসংখ্যা ছিলো ৪৫.৩০ কোটি। এই ১০ বছরে বৃদ্ধি ছিলো ৮.৬০ কোটি। হিন্দু জনসংখ্যা ৫৬.২০ কোটিতে পৌঁছায় ১৯৮১ সালে, এই দশকে ১০.৯০ কোটি বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালের জনগণনাতে ১২.৮০ কোটি বৃদ্ধি পেয়ে এই জনসনংখ্যা ৬৯ কোটিতে দাঁড়ায়। ২০০০ সালের জনগণনা অনুযায়ী হিন্দু জনসংখ্যা ৮২.৮০ কোটিতে পৌঁছায়, ১৩.৮০ কোটির বৃদ্ধি সহ। সর্বশেষ জনগননা ২০১১ মোতাবেক হিন্দু জনসংখ্যা ৯৬.৬০ কোটিতে ছিলো, ২০২৬ এর আগত জাতি-জনগননা অনুযায়ী পরিসংখ্যান বিদেরা অনুমান করছেন হিন্দু জনসংখ্যা ১১৫ কোটি ছোঁবে। এই সংখ্যা শুধু জন্মহারেই বেড়েছে এমনটা নয়, নেপাল, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান থেকে আগত হিন্দু শরনার্থী অনুপ্রবেশকারীরাও রয়েছে।

তথ্যের সাদাকোলো হিসাবে মুসলিম জনসংখ্যার ‘গ্রোথ রেট’ কী বলছে!

১৯৫১ সালের তথ্য মোতাবেক সদ্য স্বাধীন দেশে মুসলমান জনসংখ্যা ছিলো ৩.৫০ কোটি, ১৯৬১ সালে এটা পৌঁছায় ৪.৭০ কোটিতে। অর্থাৎ, ১০ বছরে বৃদ্ধি ১.২০ কোটি। ১৯৭১ সালে মোল্লা জনসংখ্যা ছিলো ৬.১০ কোটি। এই ১০ বছরে বৃদ্ধি ছিলো ১.৪০ কোটি। ইসলাম জনসংখ্যা ৮.১০ কোটিতে পৌঁছায় ১৯৮১ সালে, এই দশকে ১.৯০ কোটি বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালের জনগণনাতে ২.৬০ কোটি বৃদ্ধি পেয়ে এই জনসনংখ্যা ১০.৭০ কোটিতে দাঁড়ায়। ২০০০ সালের জনগণনা অনুযায়ী মুসলমান জনসংখ্যা ১৩.৮০ কোটিতে পৌঁছায় ৩.১০ কোটির বৃদ্ধি সহ। সর্বশেষ জনগননা ২০১১ মোতাবেক মুসলমান জনসংখ্যা ১৭.২০ কোটিতে ছিলো, ২০২৬ এর আগত জাতি-জনগননা অনুযায়ী পরিসংখ্যান বিদেরা অনুমান করছেন দেশে মুসলমানের সংখ্যা ২১.৮০ কোটি ছোঁবে।

শেষ ৭৫ বছরে ভারতে হিন্দু বৃদ্ধি পেয়েছে বছরে ১.৭৯% হারে। পাশাপাশি মুসলমানেরা বৃদ্ধি পেয়েছে ২.৪৭% বাৎসরিক হারে। অঙ্কের হিসাবে এইভাবেই যদি চলতে থাকে, ৩২৬ বছর পর দুই সম্প্রদায়ের সংখ্যা সমান সমান হবে। ১৯৫১ সালের নিরিখে ৭৫ বছর ইতিমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে, আগামীতে হিন্দু মুসলমান সমান সমান হতে আরো ২৫১ বছর সময় লাগবে, ২২৭৭ সাল নাগাদ। এই হিসাব আজকের মত স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে ধ্রুবক ধরে ভাবা হয়েছে, গাজার মত নির্বিচারে মুসলিম হত্যা, আসামে বিশ্বশর্মা সরকারের তীব্র ইসলাম বিদ্বেষ, মিয়ানমারের মত রোহিঙ্গা বিতারণ, কিম্বা বাংলাদেশের মত হিন্দু অত্যাচার ও বিতারণ হলে হিসাব এলোমেলো যাবে।

২৫১ বছর আগের, মানে ১৭৭৫ সালের পৃথিবী কেমন ছিলো জানেন? স্বাধীন আমেরিকা তখনও জন্মায়নি, তখনকার ভারত ধীরে ধীরে ঔপনিবেশিক শাসনের দিকে চলে যাচ্ছে, একেবারে রূপান্তরের মাঝখানে থাকা বহুভাগে বিভক্ত একটা ভূখন্ড। আজকের ভারতের কনসেপ্টই ছিলোনা তখন, না ছিলো গণতন্ত্র। ভারতজুড়ে নানান আঞ্চলিক শক্তি, মারাঠা সাম্রাজ্য, মহীশূরের হায়দার আলি, লক্ষৌ, হায়দরাবাদ, বাংলা ইত্যাদি অঞ্চল বিবিধ নবাবদের দখলে। গ্রামাঞ্চলে জোতদার জমিদারদের রমরমা। পুরোনো সাম্রাজ্য ভাঙছে, নতুন শাসন গড়ে উঠছে। দিল্লির মুঘল সাম্রাজ্য ভাঙনের দোর গোঁড়ায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে দেশে, ১৭৫৭ পলাশীর যুদ্ধ ও ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধ জয়ের ফলে, ১৭৭৫ নাগাদ বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা কার্যত কোম্পানির অধীনস্ত। না ছিল রেল, না বাস বা ইঞ্জিন চালিত গাড়ি, না বিদ্যুৎ, না আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা। মানুষ চলাফেরা করত, ঘোড়া, হাতি, পালকি, গরুর গাড়ি, নৌকা আর পায়ে হেঁটে। শিক্ষা বলতে পাঠশালা, মাদ্রাসা আর টোল।

আগামী ২৫১ বছর পর, ২২৭৭ খ্রীষ্টাব্দে তৎকালীন সভ্যতা ও বিজ্ঞান আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে কেউ জানিনা, কিন্তু সেই দিনটার ভয় দেখিয়ে আজকের শিক্ষা, আজকের স্বাস্থ্য, আজকের রোজগার, আজকের প্রয়োজনীয় সব দাবিদাওয়া ভুলিয়ে দিয়ে ‘হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়’ বীজমন্ত্র জপিয়ে উলঙ্গ ভোটের রাজনীতি করছে বিজেপি- ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে। আর এই বিজেপিকে রুখতে আপনাকে তোলামূলের চোরগুলোকে ভোট দিতে হচ্ছে, যারা বিজেপিকে রাজনৈতিক জমি দিয়েছে ঘৃণা চাষের জন্য। নিজেকে চার অক্ষরের বোকা বলে মনে হয়না আপনার?

হ্যাঁ, মুসলমাদের এই বৃদ্ধিতে ব্রাহ্মণ্যবাদী RSS এর উচ্চবর্ণের নেতৃত্ব ভয় পেয়েছে বৈকি। ১৯৫১ সালে তাদের জনসংখ্যা ছিলো ওই ৫% এর কাছাকাছি, আজ ২০২৬ সালে সংখ্যাটা কমে সাড়ে তিন শতাংশ হয়ে গেছে। আদতে সংখ্যালঘু হয়ে, এই নিকৃষ্ট ব্রাহ্মন্যবাদীরা রাষ্ট্রের সমস্ত শাঁসালো পদ দখল করে বসে আছে। তারাই সকলের নেতা হয়ে বসে আছে। এরাই জন্মগত সেকুলার, এরা রাষ্ট্রবাদী এবং এরাই একমাত্র গণতান্ত্রিক। আপনি মুসলমান, নেতা হতে চাইলেই এই কায়েমি গোষ্ঠীটা আপনাকে মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক, সমাজবিরোধী এমনকি রাষ্ট্রবিরোধী বলে দাগিয়ে দেবে- আর এর জন্য কোনো প্রমাণ বা তথ্যের দরকার নেই, তাদের মুখের কথাই যথেষ্ট।

বিজেপি শয়তান এতে সন্দেহই নেই, কিন্তু মমতা ব্যানার্জী কি? দিনের শেষে তিনিও তো সেই RSS এরই নেত্রী। সাচার কমিটির রিপোর্ট ফেরি করে উনি মসিহা সেজে মুসলমানের ভোটে ক্ষমতার সিংহাসনে চড়েছিলেন, ওনার ১৫ বছরের রাজত্বে সরকারী চাকরিতে মুসলমানের সংখ্যা আরো আরো কমেছে। মুসলমানের মাথাপিছু রোজগার কমেছে, মুসলমানের ফ্যাক্টারি ও বড় ব্যবসা গুলো বন্ধ করিয়ে দিয়েছে, মুসলমানের সামাজিক সুরক্ষা কমেছে, OBC সংরক্ষণে মুসলমানদের পথে বসিয়েছে, ওয়াকফের বড় একটা সম্পত্তির অংশ ১ নং খতিয়ানে তুলে দিয়েছে।

বিজেপি জুজু দেখিয়ে সারাক্ষণ ভয়ের পরিবেশ টিকিয়ে রাখার জন্য মুসলমানের প্রশাসনিক হয়রানি বাড়িয়েছে। মুসলমান ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার WBCS অফিসার বাড়লে তার ক্রেডিট আল-আমিন মিশন জাতীয় একান্ত ইসলামিক সংগঠন গুলোর সৌজন্যে, মমতা ব্যানার্জীর কোনো কৃতিত্ব নেই। ওনার কৃতিত্ব ওয়াকফের টাকায় ইমাম ভাতা দিয়ে, সেটার উল্টোপিঠে পুরোহিত ভাতা দেওয়া ট্যাক্সের টাকায়। রেডরোডে ঈদের নামাজ হতো যেহেতু, পালটা হিসাবে সেখানে দুর্গা কার্নিভাল হওয়ানো। ট্যাক্সের টাকায় গুচ্ছের মন্দির বানানো, ক্লাবে ক্লাবে পুজোর জন্য টাকা উড়ানো। ওনার অবদান এটুকুই। মালদা মুর্শিদাবাদে একটা নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অদধি করেনি, যাতে সম্প্রদায়টা একটু উন্নত হয়; অবশ্য উন্নত হলে তাদের মানে ব্রাহ্মণ্যবাদীদের হয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াই করবে কে!

কিছু সময় বাদ দিলে, গত ১৫টা বছর ধরে রাজ্যের সংখ্যালঘু দপ্তরের মন্ত্রী, ব্রাহ্মণ মমতা ব্যানার্জী। তিনিই মুসলমানদের মসিহা সেজে সম্প্রদায়ের নাম দিয়েছে দুধেলগাই, আজকাল আবার ‘ওই ২৭%’ বলে তাচ্ছিল্যের ডাক ডাকেন উনি। তার বিধানসভায় বিজেপির অগ্নিমিত্রা মুসলমান সমাজকে ক্রিমিনাল বললেও তার মুখে সেলোটেপ বাঁধা থাকে, আসলে ২৯৩টা RSS এর সদস্যের একটা হাউজে কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিক্রিয়া দেবেন? এখানে দুজনেই RSS কর্মী, সহকর্মী নেত্রীর বিরুদ্ধে বললে নাগপুরে কৈফিয়ত দিতে পারবেন উনি? ব্রাহ্মণ স্পিকার বিমান ব্যানার্জী কী অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য বিধানসভার কার্য বিবরণী থেকে বাদ দিতে পেরেছেন? সারাবছর তিনি RSS এর মন্দির রাজনীতির বাস্তবায়ন করেন, পরিকল্পিত দাঙ্গা লাগান যাতে মুসলমান ভয়ে থাকে। আর ভোটের আগে মাথায় হিজাব বেঁধে ভড়ং সেজে, মুসলমানকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ময়দানে নামিয়ে দেয়, লুঠপাঠ মারামারি করে তোলামূলকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে।

শেষ ১৫ বছরে যতগুলো রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী মরেছে মুসলমান, পরিবারগুলো সর্বশ্রান্ত হয়েছে। এছাড়া মৃতের তালিকাতে নিম্ন বর্নের হিন্দু আছে, কিছু আদিবাসীর দেখাও মেলে; কিন্তু ১টা মৃত এমন দেখান, যিনি ব্রাহ্মণ। অথচ তোলামূলের মন্ত্রীসভা থেকে দলীয় পদের দিকে তাকান, সেখানে মুসলমান প্রায় নেই, থাকলেও ফিরহাদ হাকিমের মত- ‘গুড মুসলিম’। নেহাত SC, ST OBC সংরক্ষিত আসনগুলিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতিনিধি ও রাজ্য জুড়ে ১১০টা মুসলিম ভোটার অধ্যুষিত আসনে মুসলমানদের মধ্যে থেকেই প্রার্থী দিতে হয় বাধ্য হয়ে, নতুবা উনি সেখানেও দক্ষিণ কোলকাতার ব্রাহ্মণ সন্তানদেরই দাঁড় করাতেন, যিনি RSS এর প্রো-হিন্দুত্ববাদের ধ্বজাধারী।

রাজ্যে ২৭% মুসলমান, সেই হিসাবে ২০২১ সালের তোলামূলের ২৯১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭৮ জন মুসলমান হওয়া উচিৎ ছিলো, টিকিট পেয়েছিলো ৪২ জন। স্বভাবতই তোলামূলের ২২৩ জন MLA এর মধ্যে, ৬০ জন মুসলমান না থেকে, রয়েছে ৪১ জন। ৪৪ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১২ জন মুসলমান থাকার বদলে আছে তার অর্ধেক, মাত্র ৬ জন। এই হচ্ছে মমতা ব্যানার্জীর মুখ ও মুখোশ।

বিজেপি আর তোলামূল আলাদা কেউ নয়, দুটোই RSS এর শাখা, একটা মুখ অন্যটা মুখোশ। তাই তোলামূলের বিকল্প কখনও যেমন বিজেপি হতে পারেনা, তেমনই বিজেপি আসুক বা না আসুক- উগ্র হিন্দুত্ববাদ তথা RSS নামের ক্যান্সারের এর বিস্তার থামবেনা তোলামূলের রাজত্বে। গত ১৫ বছরে অফিসিয়ালি ১৫৭% বৃদ্ধি পেয়েছে RSS এর নানান খোঁচর সংস্থা গুলো, যারা সমাজে বিষ ছড়াবার কাজ করে। আপনার ভিতরে সুখের অর্গাজম হচ্ছে, কারন CPM জিরো। এদিকে সেই জিরোর সুবিধা নিয়ে গোটা রাজ্যে RSS এর ১,৪৯২টি শাখা, ৮০০টি মিলন ইউনিট এবং ৩০০টি মণ্ডলী রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে গজিয়ে উঠেছে। ব্লকের হিসাবে ৩৪১টির মধ্যে ২৬২টিতে তাদের অস্তিত্ব রয়েছে। যারা বিজেপি ও তোলামূল উভয়ের জন্যই কাজ করে। এরা চুড়ান্ত ব্রাহ্মণ্যবাদী, নিম্নবর্ণের হিন্দুদের লেলিয়ে দেয় মুসলমানের সাথে, কিম্বা নিজেদের মধ্যে মিথ্যা কারনে লড়াই করায়, যাতে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা ক্ষমতায় টিকে থাকে। কিন্তু আপনি জানেন CMP জিরো, আর সেই সুখেরই তো ঠিকানা নেই, বাকি কিছু ভাবার সময় কোথায়! 

আপনার নেতা কে হবে আপনি ঠিক করুন। উমা ভারতী, স্বাধ্বী প্রজ্ঞা বা যোগী আদিত্যনাথেরা যত গেরুয়া বস্ত্রের ভেক ধরে মূল ধারার রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার চাষ করবে, তারই উল্টো পিঠে মিমের আসাউদ্দিন ওয়েইসি, ISF এর নৌসাদ কিম্বা সদ্য গঠিত JUP এর রুহুল আমিনেরাও মাথায় ফেজ টুপি পরে মুসলমানদের নেতা হিসাবে আবির্ভুত হবেই। গত ১৫ বছর ধরে মুসলমানেরা ব্রাহ্মণ মমতা ব্যানার্জীকেই তো নিজেদের নেতা মেনে এসেছিলো, তাতে উনি কী দিয়েছেন? ওয়াকফের সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছেন, মুসলমানের সন্তানকে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক বানিয়েছেন, গোটা সম্প্রদায়কে দুধেল গাই বানিয়েছেন, গুন্ডা আর তোলাবাজ সিন্ডিকেটের লুঠেরা বাহিনী বানিয়েছেন, আর সর্বক্ষণ বিজেপির ভয় দেখিয়েছেন। আজ হুমায়ূন যদি বাবরি মসজিদের নামে নেতা হয়ে যায়, সেই দায় একমাত্র মমতা ব্যানার্জীর।

মুসলমান সমাজ ওনাকে নেতা হিসাবে মেনে নেওয়ার সাথে সাথে, ঢেলে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতাতে টিকিয়ে রেখেছিলো দেড় দশক। তাতে বিপুল চুরি চামারির শেষে মুসলমানদের জন্য কী করেছেন? বিজেপিকে তাড়াতে গেলে আগে তোলামূল তাড়ান, নতুবা আপনার কোনো ভবিষ্যৎ নেই, আতঙ্কে, দাঙ্গায়, অশিক্ষায় আর দারিদ্রের সাথে পদদলিত হয়ে, ব্রাহ্মণ্যবাদীদের দাস হয়ে বেঁচে থাকা ছাড়া বিকল্প নেই।


বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

এতো কূনাট্যের কারন কী?


 বাঁশ, তুঁষ, শুকনো পাতা, এমনকি শুকনো আবর্জনা বা ধানের ভুষি দিয়ে চুলো জ্বালাবার পরেও, আগুনকে বারবার খোঁচাতে হয়, নতুবা সেই আগুন ক্রমশ ছাই এর নিচে চাপা পরে নিভে যায়; এই অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকেরই রয়েছে। ছাই চাপা আগুনের নিচে যে অবশিষ্ট কার্বন থাকে তা অক্সিজেনের সংস্পর্শ না পেলে নিভে যায়।

SIR ইস্যুতে তোলামূল বিভিন্নভাবে খোঁচাবার চেষ্টা করেছে, বিশেষ করে মুসলমান পাড়াতে। সেই ২০২১ এর মতই এটা NRC ই হতে চলছে, নামটা শুধু আলাদা। এই যে তোমার শুনানিতে তোমার ডাক পড়েছে - একবার উপস্থিত হও, তাহলেই বুঝতে পারবে যে আইবুড়ো ভাতের মত শেষ বার তুমি ভারতীয় হিসেবে ভাত খাচ্ছ, তারপর সোজা NRC ক্যাম্প। মানেটা দাঁড়ালো কী! তোলামূল ও তাদের মগজ i-Pac বারবার খোঁচাখুঁচি করে বাইরে থেকে অক্সিজেন সাপ্লাই করার চেষ্টা করেছে ‘ভয়ের ভাটিতে’, কিন্তু মেটেরিয়াল এর মধ্যে উপযুক্ত পরিমাণ ‘কার্বন’ নেই বলে, হাজার অপচেষ্টা সত্বেও বাংলার বুকে অশান্তির আগুন জ্বালাতে পারেনি তোলামূল সুপ্রিমো।

গতকাল সুপ্রিমকোর্টে মান্নীয়া ও তাঁর দলবল, একগাদা মিথ্যার মাঝখানেও স্বীকার করে নিয়েছে- SIR এ তাদের কোন আপত্তি নেই, শুধু সেটা যেন ২০২৬ ভোটের পরে হয়। সাধারণ মানুষের জন্য মান্নীয়া দিল্লী যায় নি, কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন- যেন ২০২৪ এর ভোটার লিস্ট ধরে ছাপ্পাটা মারা যায় এটা নিশ্চিত করতে।

মান্নীয়া নিজে দুর্নীতির গু এর ট্যাঙ্কে ডুবে রয়েছেন আপাদমস্তক। ওয়াকফ সম্পত্তির কেসে মাত্র পাঁচ দিন আগে সরকার থেকে নোটিশ দিয়ে সমস্ত সম্পত্তি আপলোড করতে বলার দরুন, মুসলমান সম্প্রদায়ের বিপুল সম্পত্তি জেলাশাসকের নামে আপলোড হয়ে গেছে। OBC কে দু ভাগে ভাগ করে দিয়ে এবং বড় অংশের উচ্চবর্ণের হিন্দুকে এর সাথে জুড়ে দিয়ে রাজ্যজুড়ে মুসলমানের যেটুকু সুবিধা ছিল তাকে কেড়ে নেয়া গেছে। দুই ক্ষেত্রেই মুসলমানকে পথে বসাতে পেরেছেন RSS এর নেত্রী মান্নীয়া ব্যানার্জী। পাশাপাশি RSS এজেন্ডা রূপায়নে, দীঘার মন্দির সহ সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে মন্দিরের বন্যা বইয়ের দেবার একটা প্রকল্প চলছে, একই সাথে ইসকনকে বিপুল সরকারী জমি বিনামূল্যে দান করা হয়েছে, উপরের তিনটেই হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির অংশ, যা RSS চায়। এর পরেও দুধেলগাই এর দল কিন্তু মান্নীয়াকে ভোট দেয়।

SIR এর খসড়া তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে, ইচ্ছাকৃত ভুলভাল করে তোলামূল BLA এর দল, মুসলমানকে রীতিমতো পথে বসিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করেছিলো। ভুল হয়েছে বলেই নির্বাচন কমিশন ডাকতে বাধ্য হয়েছে, যদিও অধিকাংশ ষড়যন্ত্রের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে যা কিছু প্রচেষ্টা, তা মুসলমান সমাজ নিজের চেষ্টাতে করছে, যা আগে থাকতে প্রস্তুতি নেবার ফলাফল। এদেশীয় মুসলমানের নাম কাটার ক্ষেত্রে এক নম্বরে বিজেপি থাকলে, দু'নম্বরে অবশ্যই তোলামূল কংগ্রেস।

SIR শুরুর সময় থেকে মান্নীয়া রাস্তায় নেমে নাটক করেছিল, জনগণ ওনাকে গুন্তিতে নেয়নি, নাটক ফ্লপ হয়ে যায়। এরপর যেকোনো মৃত্যুকে SIR এর সাথে ম্যাপিং করার মরিয়া প্রচেষ্টাও জনগণ খায়নি। তোলামূলের ভাতাজীবী খোঁচর জিম নওয়াজ কোর্টে মামলা করেছিলো, কেউ জানেনা তার স্ট্যাটাস কি, মাননীয়াও সেই মামলার পার্টি হয়নি। সিদ্দিকুল্লার রাজভবন অভিযানের খবর পাড়ার নেড়িকুত্তা গুলোও টের পায়নি। পাঁচালীর গাড়ি থেকে ফেরি করা ভয়ে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেছে, অকেজো অস্ত্র। শুনানির প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে, যাকে ডেকেছে, তার ‘আপনা হাত জগন্নাথ’, নিজেকে সেই বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে হয়েছে, তোলামূলের কোনো প্রতিশ্রুতি কাজে আসেনি।

মরিয়া ভাইপোর নির্বাচন কমিশনের পায়ে ধরতে যাওয়াটাও এই ক্রনোলজিতেই পড়ে; বাইরে এসে হম্বিতম্বি না করলে তাকে কেউ পালোয়ান বলবে কেন! আসলে পিসির ফেউ হিসেবে নির্বাচন কমিশনারকে কোনভাবে ম্যানেজ করা যায় কিনা সেটা পরখ করতে গিয়েছিলো। পাশাপাশি ভাইপো ইম্মিডিয়েট ভোট ঘোষণা করে দেওয়ার দাবীও জানিয়েছিল, যাতে DA মামলার মুখোমুখি না হতে হয়। কিন্তু জ্ঞানেশ গুপ্তা আগেই বিজেপির হারেমের মক্ষীরানি, তোলামুলের ভাইপোর সাথে নষ্ট হতে সে রাজি হয়নি বাঁধাবাবু ছেড়ে। গুপ্তা মালও বাস্তুঘুঘু, SIR এ গোটা দেশের জন্য এক আইন আর পশ্চিমবঙ্গের জন্য আলাদা আইন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।

এদিকে আইপ্যাক (i-Pac) বলে দিয়েছে ২০২৪ সালের ভুয়া ভোটার তালিকা ছাড়া তোলামূলকে কোনমতেই পাশ করানো যাবে না। এই কারনেই মান্নীয়া কোর্টের কাছে গিয়েছে যাতে নির্বাচনটা ২০২৪ সালে ভোটার লিষ্ট ধরে করা হয় সেই অপচেষ্টা করতে, কারন SIR এর ফলে অন্তত ৯৩টা এমন কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে বাদ যাওয়া ভোটারের চেয়ে তৃনমূলের জেতার মার্জিন কম। তাই ভুয়ো, মৃত, অবৈধ ও ভুতুরে ভোটার ছাড়া মান্নীয়ার চোরবাহিনী কোনোভাবেই ২৬শে ক্ষমতায় ফিরতে পারবেনা। তাই তার প্রতিটা অস্ত্রকে রাস্তায় নামিয়ে ‘বিরোধী’ মোডে নিয়ে গেছে নিজেকে, যাতে পুরাতন ভোটার লিষ্ট বাতিল না হয়। পাশাপাশি খানিকটা কোরামিন দেওয়া যায় তোলামূলের তোলাবাহিনী কর্মী ও ভাতাজীবী গুলোকে। এই কারনেই মিডিয়াজুড়ে শুধু মান্নীয়ারই জয়জয়কার, যেন দিগ্বিজয় করে ফিরেছেন, এমন মিথ্যাবলয় তৈরি করা হয়েছে তাদের নিজেদের আত্মবিশ্বাসের অভাব ঢাকতে, কারন দেওয়াল লিখন স্পষ্ট।

পশ্চিমবঙ্গের প্রায় প্রতিটা BLO, তোলামূলের BLA দের দ্বারা সত্যি সত্যি বীভৎস চাপের মধ্যে ছিলেন। শেষমেষ ভাবটা এমন যে, আমি কেন ঝামেলা পোয়াবো, আমাকে তো এদের সঙ্গেই থাকতে হবে সারাবছর। এই ছোট্ট নীতিতে অবলম্বন করে যার নাম যে অবস্থায় এসেছে, সেই অবস্থাতেই BLO আপলোড করে দিয়েছিলো। যারা ডেটা এন্ট্রি অপারেটর হিসাবে কাজ করেছে, তারাও i-Pac এর কড়া নজরদারিতে তোলামূলের ইচ্ছানুযায়ী এই ভুলগুলো করেছে, যাতে গতকাল আদালতের ওই কূনাট্য মঞ্চস্থ করা যায়।

শেষ ১ মাস যাবত ধরে হওয়া হেয়ারিং এ ডাক পাওয়া মানুষের জিজ্ঞাসাবাদ করাটাকে, রাজনৈতিক লাভের উদ্দেশে সবার আগে তোলামূল ‘হয়রানি’র নাম দিয়েছে। বিজেপির নাম ইচ্ছা করে নেওয়া হলো না, তার কারণ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি বলে কোন রাজনৈতিক দলই নেই, তাদের অস্তিত্ব শুধুমাত্র টিভি, অন্যান্য মিডিয়া ও হাওয়াতে। তাদের ভোটব্যাঙ্ক সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত হয় তোলামূল তথা i-Pac দ্বারা যারা নাগপুরের সংবিধান অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে। আপাতত i-Pac, এই SIR শুনানি পর্বে বিজেপিকে গণশত্রুতে পরিণত করে দিয়ে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যের যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছিল তা খানিকটা ঘোলাটে করে দিতে সক্ষম হয়েছে। এপস্টিন ফাইলে নাম উঠে যাবার পরও যে নির্লজ্জ ব্যক্তি পদ আঁকড়ে বসে থাকে, তার পক্ষে গোটা দেশের কোন দুর্নীতি বিরুদ্ধে বলা সম্ভব নয়।

হেয়ারিং পর্বের শুরুতে BLO কেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ডকুমেন্ট ভেরিফাই করে আপলোড করার জন্য, একটি বড় অংশের BLO অথবা তাদের নিয়ন্ত্রক i-Pac পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে, ডকুমেন্ট ভেরিফাই করে আপলোড করার পরিবর্তে শুধুমাত্র ডকুমেন্ট ভেরিফাই বা সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে লিখে দেয়- যা মেশিন কোনোমতেই মানেনি। ফলত পাইকারি হারে শুনানিতে ডাক পড়েছে।

শুনানি থেকে ফেরত আসা প্রতিটা ব্যক্তি বুঝে গেছে যে, ওখানে কোন জুজু বুড়ি নেই। যতটা ডকুমেন্ট নিয়ে গেছে বিশেষ করে মুসলমান, তাতে তার মনে অন্তত এইটুকু বিশ্বাস জন্মেছে যে তার নাগরিকত্ব যাবেনা। ৩০ লাখ আন-ম্যাপিং ব্যক্তির মধ্যে যাদের নাম থাকবে না, তারা নিজেরাই বুঝে গেছে। একদম রঘু ডাকাত মালগুলো, যারা সংখ্যাতে প্রায় তিন লাখ, তারা নিজে থেকে আসেনি। যারা চুরি করে ম্যাপিং করেছিলো, তাদের মধ্যেও একটা বড় অংশ যে নাম রাখতে পারবে না সেটাও বুঝে গেছে। ১৩টা ডকুমেন্টের বদলে যারা উল্টোপাল্টা ডকুমেন্টস জমা করেছে হেয়ারিং এ, তাদের নামও ফাইনাল তালিকাতে থাকবেনা, লিখে নিন। পদবীর বানান ভুল, মধ্যম নাম থাকা বা না থাকা, আধার-ভোটার নামের মিসম্যাচ ও পিতা-পুত্রের নামের মিসম্যাচ- এই ক্যাটাগরি কটা ছাড়া বাকি যাদের ডাকা হয়েছে তারাও বেশিরভাগ নাম রাখতে পারবে না। মিসম্যাচ ক্যাটাগরিতে যে ৮৫ লাখকে ডাকা হয়েছে, তাদেরও কমপক্ষে ১০% এর নাম কাটা যাবেই, সেখানেও বিরাট একটা জুয়াচুরি রয়েছে ভুয়ো ভোটারদের।

তোলামূল সরকারের পে-রোলে থাকা তথাকথিত ‘ল্যে-ম্যান’, ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েটর’ কিম্বা ‘অরাজনৈতিক কিন্তু দিদিকে ভালো লাগে’- এমন সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সারেরা শুনানিতে ডাক পাওয়া মাত্র প্রথমে রাউন্ডে ফুটেজ খেয়ে নিতে কসুর করেনি। সমাজ তাকে মেনে নিক বা না নিক, তোলামূল/I-Pac থেকে আসা ভাতা বন্ধ হয়ে যাবার ভয় ছিলো রিলমারানীদের। অতএব সবার আগে নিজের হেয়ারিং ডকুমেন্ট এর ছবি সোস্যাল মিডিয়াতে আপলোড করে খানিকটা হেগে ফেলো, ভাইপোদাকে ট্যাগ করে। বাইচান্স মিনি সেলিব্রিটি হয়ে গেলে লাইভে এসে নিজের বংশের প্রাচীনত্ব প্রমাণ করার জন্য মেসোপটেমিয়া হরপ্পা মহেঞ্জোদারো যুগ থেকে বক্তব্য শুরু করে, যতটা পারা যায় ততটা লম্বা হ্যাজ নামানো। শেষ একমাসে চুম্বকে এটাই ছিলো রিলমারানীদের রোজনামচা।

মানুষের নাগরিকত্ব বিশাল বড় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, অতএব নির্বাচনকে শিয়রে রেখে এখনই এই কাজ করতে হবে, যাতে গত সরকারের পাঁচ বছরের প্রতিশ্রুতি এবং তা রূপায়ন নিয়ে কোন কিছু প্রশ্ন করা বা আলোচনার অবকাশ না থাকে জনগণের কাছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এমনই একটা পরিবেশ তৈরি করার অপচেষ্টা করা হয়েছিলো, এটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে আজ। পাতি বাংলাতে, SIR কে সামনে রেখে জনগণকে আতঙ্কিত করে অতীতের যাবতীয় অপকর্ম চাপা দেওয়া এবং সেই ফাঁকতালে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা চালাচ্ছে দিল্লি বিজেপি।

নির্বাচন তালিকা পরিষ্কার হোক এবং এর মাধ্যমে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক উপায়ে একটি সত্যি কারের জনগণের সরকার ক্ষমতায় আসুক- এই দাবি সবার আগে তুলেছে বামেরা এবং তাদের এই দাবির সাথে সহমত পোষন করেছে রাজ্যের বেশিরভাগ সুস্থ মানুষ। একই সাথে, SIR এর নামে জনগণের হয়রানি, মানসিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম যারা আদালতের দারস্থ হয়েছিলো, সেই মুস্তারি বানু ও তার আইনজীবি সব্যসাচী চ্যাটার্জির রাজনৈতিক পরিচয় যে হার্ডকোর সিপিএম- সেটা জৈষ্ঠের সূর্যের মতই প্রকাশিত।

তারপরেও তোলামূলের সুরে সুর মিলিয়ে বামেরা এরকম মিনমিনে দিশেহারা পরিস্থিতিতে পড়েছে কেন, ভাবলে অবাক হচ্ছি। দোষটা যে কেন্দ্রের শাসক বিজেপি, তাদের নিয়ন্ত্রক নির্বাচন কমিশন, রাজ্যের শাসক তোলামূল, তাদের বুদ্ধিদাতা সংস্থা i-Pac এর। এদের পরিচালিত একটা বড় অংশের সাদা খাতার BLO, তোলামূলের BLA আর তাদের নিয়ন্ত্রিত ডেটা সেন্টার- এই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল এই নৈরাজ্যের পরিস্থিতি, এটা পরিষ্কার করে মানুষের সামনে বলতে অসুবিধাটা কোথায়? আলিমুদ্দিন এমন ‘মিলে সুর মেরা তুমহারা’ রিংটোনে কথা বললে, রাজ্যের সভ্য ভদ্র শিক্ষিত ও গরিব মুসলমান- এইরকম দুঃসহ অবস্থাতে তোলামূলকে ছেড়ে যাবে কোথায়?

গতকাল মান্নীয়ার কোর্টেরুম সার্কাসের পর আজকে আলিমুদ্দিন স্বাভাবিকভাবেই প্রকাশ করতে চেয়েছে যে- আসল মামলাকারী আমাদেরই পার্টির মোস্তারি বানু। উদ্দেশ্য মহৎ সন্দেহ নেই, কিন্তু আজকের এই সভাতে মোস্তারি বানুকে আনা যেতোনা, ফোন কলের বদলে? ওনার যে বাস্তব সমস্যা, সেটার ‘রাজনৈতিক এ্যানক্যাশ করার চেষ্টায় আরেকটু যত্নবাণ হওয়া যেতো না কি? মন্দের ভালো এটাই যে- ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সাংবাদিক সম্মেলন করতে পেরেছেন, এটাও কম অগ্রগতি নয়।

তোলামূলের এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যদি সিদ্ধান্তহীনতার নামে আলিমুদ্দিনের আঁধার ঘনিয়ে থাকে; তোলামুলের থেকে ভাগাখোর মিডিয়া যদি এক হুমায়ূন অস্ত্রেই গোটা বাম শিবিরকে পক্ষাঘাত করিয়ে রেখে দেয়, এর চেয়ে বড় অপদার্থতায় আর কিছু হতে পারেনা। আমাদের খেলাটা আমাদের নিয়মেই হবে তো, আমরাই প্লেয়ার বাছব, আমরাই শুরু আর শেষের বাঁশি বাজাবো। এখানে কী হচ্ছে? তোলামূল ও তাদের পেটোয়া মিডিয়া, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা হুমায়ূনের সাথে মিটিং নৈতিকতা প্রশ্নেই আলিমুদ্দিনকে আবার কাছিমের মত খোলসের মাঝে নিজেকে ঢুকিয়ে দিয়েছে, এভাবে মানুষ ভরষা করে ভোট দেবে শুধু গাল ভরা ফাঁপা বুলি শুনে?

প্রতিবারের মত এবারও ‘ভয়’ নামের কুমিরছানাকে দেখিয়ে যদি তোলামূল ভোটের বৈতরণী পার করে যায়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের জন্য এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কিছু হবে না।



বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

Board of Peace, কি ও কেন?


 

Board of Peace, কি ও কেন?

 

মূলত গাজায় যুদ্ধবিরতি তদারকি এবং পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে এই কাউন্সিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তথা আমেরিকার নিজস্ব ও একান্ত উদ্যোগে। বর্তমানে সদস্য হিসেবে ২৬টি দেশ যুক্ত হয়েছে। এই হলো যুদ্ধবাজ আমেরিকার ‘শান্তি কমিটি’ স্থাপনের ইতিবৃত্ত, এ যেন মমতা ব্যানার্জীর উদ্যোগে ‘চোর ও কাটমানিখোর মুক্ত রাষ্ট্র’- এমন নামের সংগঠন তৈরি হওয়া।

পেট্রোডলারের সমাপ্তি, গোটা বিশ্বজুড়ে প্রতিটা দেশের ডি-ডলারাইজেশন এবং BRICS এর উত্থান গোটা আমেরিকার মাথা নষ্ট করে দিয়েছে, ডোলান্ড ট্রাম্প সেই আতঙ্ক সূচকের নমুনা মাত্র। ‘সুপার পাওয়ার’ শব্দটা বিষয়ে আমাদের সকলের সুপার ইলিউশন রয়েছে, এর অন্যতম কারণ আমেরিকার প্রোপ্যাগান্ডা মেশিনারি। গত ৭৫ বছরে ‘সুপার পাওয়ার’ আমেরিকা, তাদের শুরু করা প্রতিটা যুদ্ধ, হয় শেষ হওয়ার আগেই পালিয়েছে আফগানিস্তানের মতো, কিম্বা গোহারা হেরে মুখ লুকিয়ে মজন্তালি সরকারের মতো হাত উঁচিয়ে বলেছে জিতেছি- উদাহরণ ভিয়েতনাম। এপস্টিন ফাইলস পশ্চিমা ক্ষমতাধর ও বিত্তশালীদের তথাকথিত মানবতা, নারী ক্ষমতায়ন আর গণতন্ত্রের বুলি আওড়ানোকে প্রহসনে পরিণত করে, একটা মিথ্যুক বেহায়া ন্যাংটা হিসাবে উন্মোচিত করে দিয়েছে। ইতিহাস লেখা হয় বিজয়ীদের কলমে, এই ন্যাংটারা তাদের নিজেদের সুমহান উন্নত ও সভ্য হিসাবে দেখিয়ে এসেছে, আমরা সেটাকেই অমৃত ভেবে চেটেপুটে খেয়ে চলেছি।

তোমার নাম আমার নাম ভিয়েতনাম ভিয়েতনাম, ছোটবেলায় খুব শুনতাম বামপন্থীদের মুখে। সেই ভিয়েতনাম আজকে আর বামপথে নেই, যুদ্ধ পরবর্তী ভিয়েতনাম ‘Doi-Moi’ বা যাকে বাংলাতে বলে সংস্কার, অর্থাৎ অর্থনীতিকে মার্কিনীদের পায়ে সঁপে দেওয়ার প্রক্রিয়াতে চলে গিয়েছিল, যেমন ভাবে নব্বই এর দশকের শুরুতে গর্বাচেভের রাশিয়া ‘পেরেস্ত্রেইকা’ লাগু করেছিল। সুতরাং, আজকের ভিয়েতনাম আসলে মার্কিনীদের পোষা কুত্তার বেশি কিছু নয়, ফলত ২০ তম দেশ হিসাবে তারা ট্রাম্পের এই ‘এঁটো-কাঁটা’ কমিটিতে থাকবে, এতে আর আশ্চর্য কোথায়! ভিয়েতনামে আবার শেষে ফিরছি।

বাকি ২৫ টা দেশ কারা!  চলুন ম্যাপ অনুযায়ী একটু বোঝার চেষ্টা করি, কারণ বিশ্ব মানচিত্রে তাদের অবস্থানের তাৎপর্যই এখানে একমাত্র বিচার্য। নতুবা গাজার শান্তি নিয়ে প্যারাগুয়ে, মঙ্গোলিয়া, এল-সালভাদর, বেলারুশ বা কসভোর মতো দেশের কাজ কী? আজ ২ বছর ধরে গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে ইজরায়েল, এ বিষয়ে এদের কোনো বক্তব্য ছিল বলে কেউ জানে? এদের সকলের মাথা ঘামানো, অনেকটা ওই ২১শে জুলাই কোলকাতায় ডিম্ভাত খেতে যাওয়ার মতো। আপনার যাওয়া বা না যাওয়া, কোনো কিছুর উপরেই ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে কারা থাকবে সেটা নির্ভর করে না। আপনি না বলতে পারবেন কেন ১৯৯৩ সালে ২১শে জুলাই সমাবেশ হয়েছিল, না উদ্যোক্তারা জানেন আপনার উপস্থিতির কথা। কিন্তু পাড়ার বদ্দা যেহেতু ডেকেছে, তাই আপনি যান, তেমনই এই দেশগুলো কমিটিতে আছে। মিছিলের পিছন থেকে জিন্দাবাদ বলার লোক তো চাই, এছাড়া এদের ফুটো পয়সার গুরুত্ব নেই এই এঁটোকাঁটা কমিটিতে, এরা কখনও বিশ্ব রাজনীতিতে শেষ ৩০০ বছরে নূন্যতম  গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। 

 

১) চীনের উত্তর মাথায় স্থলবেষ্টিত চীন ও রাশিয়ার মধ্যেকার একমাত্র বিভাজক রাষ্ট্র মঙ্গোলিয়া।

২) কাস্পিয়ান সাগরের পূর্ব পাড়ের দুটি পূর্বতন সোভিয়েত রাষ্ট্র- কাজাকস্তান ও তারও দক্ষিণে থাকা উজবেকিস্তান। চীন এবং রাশিয়ার মধ্যে মধ্য এরাই এশিয়ার বৃহত্তম রাষ্ট্র। 

৩) কৃষ্ণসাগর আর কাস্পিয়ান সাগর এর মধ্যবর্তী ককেশীয় রাষ্ট্র, পূর্বতন সোভিয়েতের আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। 

৪) কৃষ্ণসাগর ও মারমারা সাগরের সংযোগস্থলের বসফরাস প্রণালী তথা ইস্তানবুল প্রণালী এবং মারমারা সাগর ও ভূমধ্যসাগরের সংযোগের রাস্তা দার্দানেলিস প্রণালীর নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র- তুরস্ক। 

৫) কৃষ্ণসাগরের পশ্চিম পাড়ে পূর্বতন সোভিয়েত নিয়ন্ত্রিত ইস্ট ব্লকের বুলগেরিয়া। তারই পশ্চিমে সার্বিয়ার দক্ষিণ মাথার বিতর্কিত অঞ্চলে তৈরি কোসোভো, ম্যাপে তার নিচে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত থাকা রাষ্ট্র আলবেনিয়া ও ইউরোপের কেন্দ্রবিন্দু হাঙ্গেরি। 

৬) পার্সিয়ান গাল্ফের পশ্চিম তীর ও গাল্ফ অফ আরবের পূর্ব পাড়, লোহিত সাগরের পূর্ব দিকে এশিয়া প্রান্তের নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র- সৌদি আরব।

৭) পার্সিয়ান গাল্ফের পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রক সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইন। 

৮) গাল্ফ অফ আরবের এর পূর্ব পাড়ের নিয়ন্ত্রক দুই রাষ্ট্রের অন্যতম জর্ডান।

৯) আতলান্তিকের উত্তর পাড় ও ভূমধ্যসাগরে দক্ষিণ মাথায় জিব্রাল্টার প্রণালীর অন্যতম নিয়ন্ত্রক আফ্রিকান রাষ্ট্র- মরক্কো। 

১০) ভারত, চীন ও ইরানের মাঝে আমেরিকান পরমাণু বোমার চৌকিদার, আরব সাগরের উত্তর পাড়ের রাষ্ট্র- পাকিস্তান। 

১১) বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ চীন সাগরের সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালীর দক্ষিণ প্রান্তের নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র- ইন্দোনেশিয়া।

১২) দক্ষিণ আতলান্তিকের পশ্চিম পাড়ে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র আর্জেন্টিনা, এবং ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যের স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র প্যারাগুয়ে। মেক্সিকোর লেজের নিচে থাকা এল-সলভাদর। 

১৩) দক্ষিণ চীন সাগরের পূর্ব মাথায় চীনের গা থেকে শুরু করে গাল্ফ অফ থাইল্যান্ড অবধি বিস্তৃত- ভিয়েতনাম। ভিয়েতনামের আরেক পড়শি কম্বোডিয়া।

১৪) রাশিয়া আর ইউক্রেনের পড়শি স্থলবেষ্টিত বেলারুশ। 

১৫) আর এদের সকলের সাথে রয়েছে গাজার উপরে এই গণহত্যার নায়ক ইজরায়েল স্বয়ং।

 

ট্রাম্পের দাবী অনুযায়ী এই কাউন্সিলের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য- ফিলিস্তিনের গাজায় সংগঠিত গণহত্যার প্রেক্ষিতে ‘শান্তি ও পুনর্গঠন’। এখানে ফিলিস্তিন শব্দের কোনো উল্লেখ বা বক্তব্য কিছুই নেই। পাশাপাশি এটার মাধ্যমে গোটা বিশ্বকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়াও হলো যে, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক এবং গোলান উপত্যকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে; তাই বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যে বিশ্বগুরুর দায়িত্ব কেবল- ইসরাইলের শরীরের মধ্যে এক টুকরো খাঁজের ভিতর কোনোমতে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এক ফালি কেকের মতো টুকরো ভূখন্ডিতে। গাজার সাইজ জানেন? লম্বায় ব্যারাকপুর থেকে জোকা, চওড়াতে বড়বাজার থেকে সল্টলেক, ব্যাস এতটুকুই মাত্র। এই লোকগুলোকে গুম খুন করে হাপিস করে না ফেললে, পালিয়ে প্রাণ বাঁচাবার একমাত্র জায়গা হচ্ছে মিশর, সেই মিশর কিন্তু এই কমিটিতে নেই। সুতরাং, একথা লেখার কোনো যুক্তি নেই যে গাজার নামে এই কমিটি বানালেও, এর উদ্দেশ্য কোনোভাবেই গাজা অন্তত নয়।

The UN chief has told states that the organization is at risk of “imminent financial collapse,” citing unpaid fees and a budget rule that forces the global body to return unspent money- এটা গত ৩০শে জানুয়ারি Times of Israel এ প্রকাশিত সংবাদ, গুগুলে খুঁজলেই পেয়ে যাবেন। অর্থাৎ জাতিসঙ্ঘ নামের সাদা হাতিটার ডেথ সার্টিফিকেট লেখাই আপাতত বাকি রয়েছে। অবশ্য তার মুরোদই বা কী ছিল!  গাজায় ১১২ বিলিয়ন ডলার লগ্নি হবে গাজাকে ‘লাক্সারি’ ভাবে পুনঃনির্মান করতে, যার আর্ধেক ৬০ বিলিয়ন দেবে আমেরিকা, বাকিটা সদস্য দেশ ও নানান লগ্নিকারী সংস্থা বিনিয়োগ করবে। 

এর অফিসয়াল নাম ‘প্রোজেক্ট সানরাইজ’, যার শীর্ষে রয়েছে ট্রাম্পের জামাই- জেরার্ড কুশনার। এই ‘রি-বিল্ড’ সময়কালে গাজার মানুষগুলোকে কোথায় সরিয়ে রাখবে? জবাব দেওয়ার কেউ নেই। পরবর্তীতে এই ‘লাক্সারি’ আল্ট্রা হাইটেক গাজা অদৌ সেখানকার অধিবাসীরা ফিরে পাবে? নাকি জেরুজালেম থেকে মাত্র ৬০/৭০ কিমি দূরের সমুদ্র সৈকত বিশিষ্ট গাজাকে একটা জনপ্রিয় টুরিস্ট ডেস্টিনেশন তথা বিজনেস হাব বানানো হবে? এক লক্ষ হাউজিং, ৭৫টা মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল, ২০০ আন্তর্জাতিক মানের ইস্কুল, ১৮০টা ধর্মস্থান এগুলো গাজার হাভাতে যুদ্ধ পীড়িতদের জন্য বানানো হচ্ছে? এসব অপ্রিয় প্রশ্নের উত্তর জাতিসঙ্ঘ দেয়নি, ট্রাম্পের এঁটোকাঁটা কমিটিও দেবে না, মাঝখান থেকে গাজার মানুষগুলোকে উচ্ছেদ করে স্থায়ী উদবাস্তু বানিয়ে দেওয়া হবে।  

ট্রাম্পের এই এঁটোকাঁটা কমিটি শুরুর আগে থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ, বিগত ১০০ বছর ধরে আমেরিকার প্রমাণিত বন্ধু দলের কেউ নেই, যেমন সমগ্র পশ্চিম ইউরোপ বা কানাডা। ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি ও জার্মানি রীতিমতো লিখিতভাবে এই কমিটিতে না থাকার কথা ঘোষণা দিয়েছে। ট্রাম্প ভারত ও চীনকে ডাকলেও, আজকের দিন অবধি সেই আমন্ত্রণকে দুই দেশের কেউ নূন্যতম গুরুত্ব দেয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এটিকে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে দেখছে, ফলে আন্তর্জাতিকভাবে আরেক বিতর্কের জন্ম হয়েছে। 

অবশ্য জাতিসংঘ নামের সাদা হাতিটা কী কারণে রয়েছে নিয়ে প্রশ্ন তোলা বারণ। আরব বসন্তের নামে তিউনিসিয়া, মিশর, লিবিয়া, ইয়েমেন এবং সুদানে সরকার ফেলে দিলেও এরা চোখ বন্ধ করে থাকে। ইরাক ও লিবিয়া নামের পেট্রোলিয়াম সম্পদে ভরপুর দেশগুলোতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে তাদের দেউলিয়া ভিখারি বানিয়ে দেওয়া যায়। অনায়াসে সুদান ইয়েমেনকে কেটে দু’টুকরো করে দেওয়া যায়, সিরিয়ার শাসক উৎখাত করা যায়, নাইজেরিয়ার গৃহযুদ্ধ বা ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে গেলেও- গান্ধীজীর বাঁদরের মতো চোখ, কান, মুখ বন্ধ করে থাকা যায়। আর্মেনিয়া, আজারবাইজান কিংবা লাওস, কম্বোডিয়া যুদ্ধ- যখন ইচ্ছা শুরু ও বন্ধ করা যায়। 

ভারত পাকিস্তান সংঘাতের ব্যাপারে যত কম বলা যায় ততই সময় বাঁচে। গুচ্ছের উদাহরণ টেনে আলোচনাটা বড় না করে বরং ঘরের পাশের বাংলাদেশের দিকে তাকালেই দেখা যায়, ইচ্ছামতো সরকার ফেলা বা ইচ্ছামতো অন্য দেশের নাগরিক এনে মন্ত্রীসভা তৈরি করে পৃথিবীর অন্যতম চলমান অর্থনীতিকে পথে বসিয়ে দেওয়া যায়। রাষ্ট্রপুঞ্জ বা জাতিসঙ্ঘ এটাই করে এসেছে শুরু থেকে, যা আমেরিকারই তৈরি ছিল। আজকের এই বহুমেরু পৃথিবীতে, আমেরিকা বা ইজরায়েলের দাদাগিরির বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘের সভাতে প্রতিবাদ হচ্ছে রোজই, তাই নিজের তৈরি সংস্থাকেই বাইপাস করে আবার একটা নতুন ফাঁদ পেতেছে এই নতুন এঁটোকাঁটা কমিটির মাধ্যমে। 

ঠিক এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে ৬৭ টি যুদ্ধ বা সংঘাত বা উত্তেজনা চালু থাকার পরও, যে সংস্থার মুখে সেলোটেপ মারা থাকে, তার মরে যাওয়াই ভালো। সদস্যদের কার ভেটো পাওয়ার আছে, কার নেই, কী তার উদ্দেশ্য- সেসব নিয়ে বিশ্বের বেশিরভাগ লোকের আজ আর মাথাব্যথা থাকার কথা নয়। একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের ঘরে ঢুকে, তাদের রাষ্ট্রপতিকে তুলে এনে নিজের কারাগারে বন্দি করে দিলেও, গুটিকয় রাষ্ট্র ছাড়া বাকি সবাই যখন চুপ থাকে, তখন জাতিসঙ্ঘ আসলে আন্তর্জাতিক প্রহসনের সার্কাস হয়ে যায়। 

আধিপত্য টিকিয়ে রাখার নেশায়, বিশ্বজোড়া মানুষের ক্ষোভ বিক্ষোভকে পরিমাপ করতে আর অর্থনীতির উপর নতুন করে নিয়ন্ত্রণ আনার প্রচেষ্টায় নতুন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বাসনা জন্মায় বটে। এহেন পরিস্থিতিতে আরেকটি আধিপত্যবাদী সমান্তরাল সংস্থার জন্ম হবে, এমন চিন্তার মেঘ উত্তর আটলান্টিকের পশ্চিম পাড়ে অনেক আগেই দানা বেঁধে ছিল; তাই এই পিস ফোরাম এর ভূমিষ্ঠ হওয়াটা মোটেই আশ্চর্য হওয়ার নয়। তবে অন্য সমস্যাও আছে, এই এঁটোকাঁটা কমিটির স্থায়ী সদস্য হতে প্রতি দেশকে নগদ ১০০ কোটি ডলার দিতে, এটাই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শেষ অবধি এই টাকা কতজন দেশ দেবে তা নিয়েও ঘোর সন্দেহ রয়েছে।

হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করেছে আরব সাগরের সঙ্গে। এই পথ দিয়ে প্রবাহিত হয় বিশ্বের মোট এলপিজি গ্যাসের তিন ভাগের একভাগ আর কাঁচা তেলের ৩৫ শতাংশ। প্রতিবছর ৯৪ হাজার জাহাজ চলাচল করে এই পথে। এশিয়ার সঙ্গে উত্তর আতলান্তিকের তীরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রধান দেশগুলির জলপথ বাণিজ্যের একমাত্র পথ সুয়েজ ক্যানেল। বসফরাস প্রণালী রাশিয়া এবং ইউক্রেনের কৃষি ও জ্বালানি বাণিজ্যের ভূমধ্যসাগরীয় একমাত্র সংযোগ পথ। সুতরাং, সমস্যা এখানেই বাঁধাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হিংস্র থাবা।

বোর্ড অফ পিস ব্লকে সই করা রাষ্ট্রগুলির মাধ্যমে, আসলে কম্পিয়ান সাগর, আরল সাগর, কৃষ্ণসাগর, মারমরা সাগর, সর্বোপরি ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়ার সবদিক থেকে ভূমধ্যসাগরের উপর নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে কের্চ প্রণালী, বসফরাস প্রণালী, দার্দানেলিস প্রণালী, পার্শিয়ান গাল্ফ, গাল্ফ অফ এডেন, লোহিত সাগর, গাল্ফ অফ আরব, জিব্রাল্টার প্রণালী, আরব সাগর, দক্ষিণ চীন সাগর ও গাল্ফ অফ থাইল্যান্ড, পূর্ব থেকে পশ্চিমের বাণিজ্য পথে সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালী, সর্বপরি দক্ষিণ আতলান্তিক মহাসাগরের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার কুনাট্য মঞ্চস্থ করা হচ্ছে। 

দৃষ্টি আরেকটু পরিষ্কার করলেই দেখা যাচ্ছে BRICS নতুন মুদ্রা চালু হবার আগে বা BRICS বাণিজ্য জোট সম্পন্ন হওয়ার আগেই বর্তমানে BRICS-এর মধ্যে পূর্ণ সদস্য দেশ গুলির মধ্যে ভাঙ্গন ধরিয়ে ধরিয়ে BRICS-এর উপর থাবা মারার প্রয়াসের অংশ এটা। BRICS এর ১০টি পূর্ণ সদস্য দেশের তালিকায় চোখ বুলালে ব্যাপারটা আরও পরিষ্কার হবে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত। শান্তি চুক্তি জোটের নামে রাশিয়া, চীন, ভারত, ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের বাণিজ্য পথের উপরে নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা শুরু করেছে।

চলুন আরেকবার ভিয়েতনামে ফিরি, Đổi Mi নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে, ঘোষিত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয়েও, মুক্ত বাজার অর্থনীতিকেই সমাধানের একমাত্র পথ হিসাবে আঁকড়ে ধরে। পদক্ষেপ হিসাবেঃ- 

 

১) অবাধ বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি

২) প্রতিটি বেসরকারি উদ্যোগে নানান ধরণের কর ছাড়

৩) রপ্তানিমুখী শিল্পের উপরে জোর দেওয়া। 


একই সাথে বিদেশ নীতির ১৮০ ডিগ্রী পরিবর্তন করে যুদ্ধের ২০ বছরের মাথায় পুঁজিবাদী আমেরিকার জন্য রেড কার্পেট পেতে দেয় ভিয়েতনাম। US–Vietnam কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ফলে ASEAN অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব বাড়তে থাকে।

ধীরে ধীরে US–Vietnam Trade Agreement আর ভিয়েতনামের WTO সদস্য পদ গ্রহণের মধ্যে দিয়ে, ভিয়েতনাম গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের অংশ হিসাবে আমেরিকান কোম্পানিগুলো গার্মেন্টস, ইলেকট্রনিক্স, চিপ অ্যাসেম্বলি ইউনিট চীন থেকে ভিয়েতনামে সরিয়ে নিয়ে আসে। কৌশলগত সহযোগিতার নামে মার্কিন সামরিক প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহযোগিতা শুরু হয়, ভিয়েতনামের উপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা প্রতাহার, US Navy র ভিয়েতনাম বন্দরে প্রবেশ, একই সাথে South China Sea এ তেল, গ্যাস, মৎস্য নিয়ে চীন ও ভিয়েতনামের বিরোধও শুরু হয়। রিমোট কন্ট্রোলে কলকাঠি নেড়ে চীনকে রুখে দিতে ভিয়েতনামের মাধ্যমে মার্কিন প্রয়াস চালু হয়। সুতরাং, এই আমেরিকাপন্থী অবস্থানের কারণেই, কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা নিতান্ত সম্পর্কহীন, গাজা শান্তি চুক্তির বোর্ড অফ পিসে সই করার জন্য মনোনীত করা হয়েছে ভিয়েতনামকে। বাকি ২৫টা দেশের ব্যাপারেও এভাবে ধরে ধরে বিশ্লেষণ করাই যায়, তাতে লেখনি লম্বা হবে মাত্র।

সাম্প্রতিককালে ইরানের উদ্দেশ্যে লিবিয়ার প্রাক্তন শাসক, গাদ্দাফি কন্যার একটি চিঠি প্রকাশিত হয়। সেখানে উনি খোলা চিঠিতে ইরানের জনগণের উদ্দেশ্যে আবেদন জানিয়ে বলেন, কীভাবে মার্কিন ফাঁদে পা দিয়ে তার বাবা লিবিয়ার মতো একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির সর্বনাশ ডেকে এনে, নিজের জীবন দিয়ে শেষে সর্বস্বান্ত লিবিয়াকে ফেলে রেখে যেতে বাধ্য হয়েছিল। হয়তো আগামী দিনে ভিয়েতনাম বা অন্য দেশ থেকেও থেকেও এরকম কোন চিঠি প্রকাশিত হবে, তখন অবশ্য অনেক দেরি হয়ে যাবে। প্রবাদ বাক্যে ন্যাড়া বেলতলা দিয়ে একবার যায়, কিন্তু বাস্তবের ভিয়েতনামেরা বারবার যায়।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার তথাকথিত মুরুব্বি রাষ্ট্রসঙ্ঘ, পরমাণু শক্তিধর সামরিক জোট ন্যাটো, বিশ্ব বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক বলে পরিচিত ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, মোল্লা রাজাদের মধ্যপ্রাচ্য ও খোদ ইসরাইল অবধি, আজ প্রত্যেকেই হাড়ে হাড়ে অনুভব করছে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আসলে কী এবং তা কতটা নির্মম ও স্বার্থান্ধ হতে পারে।

বামপন্থীরা বহু ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি- এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। নীতি ও আদর্শের সামান্য বিচ্যুতিকেও অনেক সময় অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার ফলে তাদের নিজেদের মধ্যেই ঐক্যের অভাব দেখা দিয়েছে। এর ফলেই হয়তো পৃথিবীর বুকে যে মাত্রার রাজনৈতিক ও সামাজিক আধিপত্য তারা বিস্তার করতে পারত, তা পুরোপুরি সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও, দূরদর্শী বামপন্থীরা যে একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী কুশলতার পরিচয় দিয়েছে, তা হলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে সময়ের অনেক আগেই সঠিকভাবে চিহ্নিত ও বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা। এই বোধ ও সতর্কতা পৃথিবীর অন্য কোনো গোষ্ঠী, সংগঠন বা মতাদর্শ সেই সময়ে দেখাতে পারেনি। বরং তারা ভুল সিদ্ধান্ত ও ভ্রান্ত মূল্যায়নের ফাঁদে পড়ে সময়ের স্রোতে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে গেছে।

 

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...