করোনাকাল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
করোনাকাল লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

অর্থনীতি বাঁচাতে যুদ্ধ একটা ভীষণ প্রয়োজন

 


রাশিয়া নিজেদের দেশে সৈন্য মহড়া করে, তাই সে যুদ্ধবাজ।

কিন্তু এই অজুহাতে আমেরিকা মাতব্বরি করে অন্য দেশে 8500 সৈন্য পাঠিয়ে দিয়ে- সে মানবতার পক্ষে দন্ডায়মান।


 
ইউক্রেন নিজেই জানেনা তারা আক্রান্ত হতে চলেছে, সেভাবে কোথাও মড়াকান্না কাঁদেনি- অথচ তাদের দেশ থেকে কূটনীতিক অফিসিয়াল দের তুলে নিয়ে এসে চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে ইউক্রেনের অর্থনীতি ধসিয়ে দিয়েছে আমেরিকা ও ন্যাটো জোট। অস্ত্র কিনতে বাধ্য করছে ইউক্রেনকে। এটা খোদ ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ‘ভলোদিমির জেলেন্সকি’ ও প্রধানমন্ত্রী ‘ড্যেনিস স্মিহ্যাল’ এ কথা জানিয়েছে সাংবাদিক সম্মেলন করে।

❎
 ইউরোপীয় ইউনিয়ন নিজেই- আমেরিকার মাতব্বরি ও অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি, সাথে ইউক্রেনকে ন্যাটোতে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রেসার সৃষ্টি করার জন্য মার্কিন প্রশাসনের জন্য নিন্দা প্রস্তাব এনেছে।

✅
 কিন্তু, যুদ্ধ একটা না লাগালে আমেরিকার যে আর হাঁড়ি চলেনা, অস্ত্র বিক্রি নেই বা থাকলেও তলানিতে। ‘সফটলোনের’ ছিপে উঠা দেশগুলোর কাছে চীনা পটকা বিনে আর গতি নেই, সেই সব দেশগুলোর অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে ‘কমিউনিস্ট’ লাল চীন। সস্তার অস্ত্রে অস্ত্রবাজারের একটা বেশ বড় অংশে জাঁকিয়ে বসে বাজিমাৎ করছে চীন। ড্রোন প্রযুক্তিতে তুরস্ক আর ইজরায়েল সর্বাগ্রে। দামী ট্যাঙ্ক বা অন্যান্য মিশাইল জাতীয় সমরাস্ত্রে রাশিয়া তো মার্কিনীদের মুখ্য প্রতিদ্বন্দ্বী। এদিকে ব্রিটেন, স্পেন, ইতালি, ফ্রান্স ইত্যাদির মত দেশগুলো তাদের এককালের উপনিবেশ গুলোতে এখনও অস্ত্রশস্ত্র বিক্রির একটা বাজার ধরে রেখেছে। বাকি ছিল মধ্যপ্রাচ্য, তাদের মাঝেও সেভাবে বড় কোনো যুদ্ধ নেই এক দশকে- উপরন্তু সকলের গুদামেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত মারণাস্ত্র জং ধরে নষ্ট হচ্ছে বা উৎসবে হাউই-তুবরির মত করে মিশাইল ছুড়ছে শূন্যে। তার উপরে গত এক দশকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে গুরুত্বহীন করে প্রায় গায়েব করে দিয়েছে তুরস্ক-রাশিয়া জোট। গত আর্মেনিয়া যুদ্ধেও মার্কিনী গন্ধ টুকু ছিলনা, এমনকি কাজাকিস্তান যুদ্ধেও আমেরিকা অন্তত কোথাও নেই।

যুদ্ধবাজ সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা বদ- তার মানে কি রাশিয়া দুধে ধোয়া পূত পবিত্র! মোটেও তা নয়, কয়েক বছর আগেই ক্রিমিয়া জবর দখল করেছিল- আজব উপসাগরের কের্চ প্রনালির উপরে নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করতে। ইতিহাস ঘাঁটলে শেষ ৫০০ বছরে এই ক্রিমিয়া অঞ্চলের কের্চ প্রনালির দখলকে কেন্দ্র করে অন্তত ৫টা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ দেখেছে বিশ্ব। কারন রাশিয়া ভূখণ্ডের মোট ব্যবসার ৬৮%ই সমুদ্রপথের উপরে নির্ভরশীল, আর রাশিয়ার মূল বন্দর কৃষ্ণসাগরের নভোরোসিয়স্ক বন্দর- কারন বছরের অর্ধেক সময় অগভীর আজব সাগর বরফ জমে থাকে, বাকি বন্দরগুলো দিয়ে আফ্রিকা বা এশিয়ার বাজার ধরা ভীষণ ব্যায় সাপেক্ষ। সুতরাং ইউক্রেনের দু-একটা সমুদ্র বন্দর যুক্ত অংশকে দখল করে নিলেই যোগাযোগ ব্যবস্থার অনেকটাই উন্নতি হবে- সুতরাং রাশিয়াও ‘জোর যার মুলুক তার’ সাম্রাজ্যবাদী নীতিতেই চলছে।

কিন্তু এই যুদ্ধ হবো হবো করেও হয়না বা হচ্ছেনাটা কেন? এর কারন বিশ্লেষণ করে আরেকটা গোটা প্রবন্ধ লিখব এরই ধারাবাহিকতায়।

রাশিয়াকে টাইট দিতে গেলে কৃষ্ণসাগরে মার্কিনী নৌবহর ঢোকাতেই হবে, সেটা করতে গেলে তুরস্কের থেকে ১৫ দিন অন্তর অন্তর অনুমতি নবায়ন হবে কৃষ্ণসাগর অঞ্চল থেকে বেড়িয়ে এসে ১০ দিন ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে থেকে তারপর- আজব শর্তের কল।

ইউরোপের অধিকাংশ দেশ জ্বালানী- বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য কেউ কেউ ১০০% রাশিয়ার উপরে নির্ভরশীল, যেমন জার্মানি। সুতরাং ইউরোপিয়ান ইউনিয়নেরও অলআউট আক্রমণের সুযোগ নেই- তাই ন্যাটোও ‘ধরি মাছ, না ছুঁই পানি’ নীতি নিয়ে চলে রাশিয়া প্রসঙ্গে।

ওদিকে দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চলে মার্কিনীরা এমন সেঁকে রয়েছে যে তাইওয়ানের আকাশে চীন ফাইটার জেট পাঠালেও মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে তাইওয়ানের সামরিক অংশীদার আমেরিকা। বুক ফাটলেও মুখ ফাটছেনা চীন জুজুতে। এদিকে চীনা সস্তা পণ্য ইউরোপের বাজারজাত করতে ‘ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলের’ বিকল্প নেই, তাই চীন ব্যবসায়িক কৌশলগত ভাবে রাশিয়ার দিকেই ঝুঁকে রয়েছে- ফলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একপ্রকার একঘরে হয়ে গেছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে।

আচ্ছা গত ৩ দশকে আমেরিকার হয়ে পাড়ায় পাড়ায় যুদ্ধ লাগিয়ে মোড়ল সেজে যে ব্যক্তি গুলো দৈনিক আলোচনার টেবিলে থাকত- তাদের একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছাড়াও আরেকটা নাম সংবাদের শিরোনামে থাকত- সেটা ‘সেক্রেটারি ওফ স্টেট’ পদাধিকারী। হেনরি কিসিঞ্জারের মত সেলিব্রিটিকে বাদ দিলেও- ওয়ারেন ক্রিস্টোফার, কলিন পাওয়েল, কন্ডোলিজা রাইস, হিলারি ক্লিন্টন, জন কেরি থেকে ট্রাম্প জামানার মাইক পম্পেও কেও গোটা বিশ্বজুড়ে মোড়লগিরি করতে দেখা গেছে। এরাই অশান্ত দেশগুলোতে গিয়ে অস্ত্র বেচে বেড়াতো, আর লম্বা চওড়া ভাষণ দিতো।

আজকের এই বাইডেন জামানার সেক্রেটারি অফ স্টেট এর নামটুকু আপনি জানেননা গ্যারান্টি, গুগুল করে তবে বলতে পারবেন- ‘এ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন’ বলে কেউ একজন আছে এই পদে, যার কাজ ছিল দেশে দেশে অশান্তি লাগিয়ে বেড়ানো- কিন্তু সে সামগ্রিকভাবে ব্যর্থ। মোদ্দাকথা, ‘ব্লিঙ্কেন-বাইডেন’ জুটি চরম ভাবে ফ্লপ অস্ত্র বিক্রির বাজার তৈরি করতে। ট্রাম্প তার চার বছরে যুদ্ধ না লাগালেও অস্ত্র বিক্রিতে বেশ দড়ের ছিল। বাইডেন ঠনঠন গোপাল-

এখনও তিন বছর যদি আমেরিকায় এই বাইডেন থাকে, ‘ইউনাইটেড স্টেট’ আর কতদিন ‘ইউনাইটেড’ থাকবে সেটা যথেষ্ট গবেষণার বিষয়।

৮০ বছরে অতিবৃদ্ধ বাইডেনকে কি ক্ষমতায় রাখবে পুঁজিবাদী অস্ত্র ব্যবসায়ী জায়োনিষ্টরা? নাকি কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ইহুদী কমলা হ্যারিসকে পুতুল সরকার বানিয়ে একটা মরিয়া চেষ্টা চালাবে এই অস্ত্র ব্যবসায়ীর দল?

উত্তর অবশ্যই সময়ের গর্ভে, কিন্তু বিশ্ব রাজনীতিতে শেষ সাত দশকে আমেরিকা কখনও এতটা গুরুত্বহীন, পঙ্গু তথা অবাঞ্ছিত হয়ে যায়নি। বস্তুত মার্কিন পেট্রো-ডলার অর্থনীতি না থাকলে আমেরিকার নুন্যতম গুরুত্ব নেই আজকের 'সফট লোন সাম্রাজ্যবাদী' চৈনিক দুনিয়াতে।

তাহলে কি অচিরেই পেট্রো ডলারের যুগের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে?
পেপার কারেন্সি আবার সেই নব্বই এর দশকের ‘সোভিয়েতের রুবেলের’ মত কেজি দড়ে বিকোবে?
ব্যাঙ্কের জমা পুঁজি রাতারাতি ‘নেই’ হয়ে যাবে?
এর জন্যই কি আমাদের কেন্দ্র রাতারাতি বিল আনছে- ‘ব্যাঙ্ক দেউলিয়া’ হলে গ্রাহক কত পাবে?
কাকে বাঁচাতে করোনা ভাইরাসের আড়ালে ধনীদের সুদি পুঁজিবাদী অর্থনীতিকে ভেন্টিলেটর দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে গরীব মেরে?

২০২২ উত্তর না দিলেও ২০২৩ কিন্তু অনেক কিছুর জবাব দিয়ে যাবে। কারন লুসার্ণ চুক্তি উত্তর তুরস্ককে রুখতে ইজরায়েল মরণ কামড় দেবেই- আর সেটা সুপার পাওয়ার হওয়ার লক্ষে।

বাকিটা ক্রমশ প্রকাশ্য....
সময় জবাব দেবে।

তবে ‘ইউনাইটেড স্টেট অফ আমেরিকাকে’ বাঁচতে গেলে একটা বড় যুদ্ধ খুব প্রয়োজন, ইজরায়েলকেও সুপার পাওয়ার হতে গেলে ঠিক ততটাই যুদ্ধ প্রয়োজন- যেভাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সুপার পাওয়ার ব্রিটেনের থেকে নিঃশব্দে মার্কিনীদের কাছে ক্ষমতার হস্তান্তর হয়েছিল।

ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে, আমরা যুগ সন্ধিক্ষণে। অবশ্য ফেসবুকে বুঁদ ও xhamster বা ইউটিউব শর্টস সর্বস্ব প্রজন্মের কাছে আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে পড়া বা ভাবার সময় কোথায়!

বৃহস্পতিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২২

গল্পঃ পাঠশালা ও টিউটোপিয়া।



'নামে কিইবা আসে যায়'।
শেক্সপিয়ার বলেছিলেন এই কথা, অবশ্য না বললেও আমাদের অন্তত ক্ষতি হতোনা। করোনা কখন যে ওমিক্রণ থেকে ফ্লোরোনা হয়ে যাবে ধরতেই পারবেননা, যেমন 'লকডাউন' নাম বদলে 'করোনা প্রোটোকল' হয়ে যাবে ধরতে পারা যাবেনা। সে যাই হোক- নামে যে কিছু যায় আসেনা সেটা আমাদের চেয়ে আর কে ই বা বেশি জানে! মুঘলসরাই, সরি পন্ডিত দীনদয়ালজীর দিব্যি।
করোনা আছে কি নেই, চরিত্র বদলাচ্ছে কি বদলাচ্ছেনা, ভ্যাক্সিন কার্যকরী না ভুয়ো - এগুলোর বিষয়ে যা যা কিছু বলার সেগুলো সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা কেউ বলছেন না। বললেও তাদের কথা আমাদের কানে আসছেনা, যা আসছে সবই ভায়া। যা কিছু বলার তার সবটাই বলছে সংবাদমাধ্যম, বাকিটা সরকার করছে ও করাচ্ছে। আর সরকার যখন বলছে সেটাই আদেশ, না মানলেই জেল জরিমানা।
'besarkari hola porisaba bhala hoba' বিশ্বাসীদের মতই "করোনা ভ্যাক্সিন নিলে, ইমিউনিটি বাড়ে" মন্ত্রে বিশ্বাসী একজাতের ভক্তের জন্ম হয়েছে। এদের কাছে কোনো যুক্তি নেই, তবুও পবিত্র বিশ্বাসে কোনো কমতি নেই। যারা যারা ভ্যাক্সিনেশন কমপ্লিটেড, তাদের অধিকাংশেরই আবার করোনা হয়েছে। Covid ভ্যাক্সিনের ফয়েলের গায়েই লেখা আছে- ইমারজেন্সি ইউজ অনলি ইত্যাদি। এর পরেও সরকার প্রায় জোর করে ভ্যাক্সিন দিচ্ছে। কিন্তু ভ্যাক্সিনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন করলেই "লাদেনের নাতিকে" দেখার লুক নিয়ে আমার দিকে চেয়ে থাকবে অর্ধেক সমাজ। ফলাফল- বেনিয়ারা চুটিয়ে ভ্যাক্সিন ব্যবসা করছে।
আসলে আমরা রয়েছি বৃহৎ যন্তরমন্তর ঘরে।
করোনা নাকি বাড়ছে। যে কিটে করোনা ধরা পরছে- আপনি কি জানেন ওটাতে ক্যামিকেলের মাত্রা কমবেশি করলে পজিটিভ/নেগেটিভ সূচক বদলে যায়। আর এই কিট কেবলমাত্র সরকার অনুমোদিত কয়েকটি হাতে গোনা কোম্পানিই তৈরি করে, যেগুলোর ডিটেলস- সাধারন মানুষের জানার অধিকারের বাইরে।
ইন্টারনেটের যুগে মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতে এমনিতেই বিজ্ঞাপনের অর্থে ভাটির টান। সেই সুযোগে বিকৃত ও বিক্রিত মিডিয়া মালিকেরা ফার্মা কোম্পানির থেকে মোটা পয়সা খেয়ে গুছিয়ে ভয়ের চাষ করাচ্ছে। আর সাংবাদিকদের কথা নাইবা বললাম, সমাজের নিরেট মূর্খ, মানে যাদের কোনো কাজ জোটেনা তারাই সাংবাদিক হয় আজকের দিনে, যেমন অধিকাংশ শিক্ষক মানেই বাস্তববোধ হীন একপ্রকারের ক্লীব জীব, যারা মানুষের মতই বাচ্চা উৎপাদন করে। তাহলে জানাবেটা কে বা শেখাবেটা কে, যে- চারিদিকে যা হচ্ছে তা ভালো হচ্ছেনা বা ভুল হচ্ছে।
আচ্ছা এই যে ২ তারিখ থেকে লকডাউন হয়ে গেল, কেন হলো? জনগণের কথা ভেবে? সরকার মানুষের কথা ভাবলে তো ২৫শে ডিসেম্বর বা ১লা জানুয়ারি জমায়েতে বাঁধা দিতো। ট্রেন বন্ধের সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাড়িয়ে রাত্রি ১০টা করে দিলো। কিন্তু সবার আগে যে সিদ্ধান্ত নিলো- ইস্কুল বন্ধ, সেটা বহাল রইলো। মদ যেহেতু 'নেই রাজ্যের' একমাত্র রোজগেরে দপ্তর, তাই ওটা খোলা রইলো। ইস্কুল বন্ধ মানেই হাজার হাজার কোটি টাকার ঘাপলা করার সুযোগ, তৃণমূল স্তর থেকে আমলা স্তর অবধি, সর্বত্র।
ইস্কুলে যারা যায়, তাদের বাড়ির লোক কি রাস্তাঘাটে যাচ্ছেনা ঝুলেঝুলে! বাচ্চারা কি বাপ-মায়ের হাত ধরে মেলা, খেলা, পার্কস্ট্রিট, মন্দির, মসজিদ, ভ্রমণ করতে যাচ্ছেনা? কিন্তু ইস্কুলে গেলেই নাকি এদের করোনা হবে। অথচ গোটা পৃথিবীতে করোনাতে আক্রান্ত কোনো শিশুর সন্ধান মেলেনি আজ অবধি।
কিন্তু কেন ইস্কুল বন্ধ? মানে আমাদের বাংলাতে? কেন আনন্দ গ্রুপের সংবাদমাধ্যম করোনা নিয়ে সারাক্ষণ হুমকি ধমকি বা বলা ভালো ভয় দেখাচ্ছে? কেউ প্রশ্ন তুলছেনা অশুভ আঁতাত নিয়ে।
রাজ্যে কোনো বিরোধী দল না থাকলে এটাই হয়। তৃণমূল নামক দলের প্রতিষ্ঠাতা নিজেই স্বীকার করছে বিজেপি মানেই তৃণমূল, আর সরকার পোষিত কিছু বুড়ো-হাবড়া আর গিটারিষ্ট/নির্বীজ, ভীতু আঁতেল ছেলেপুলে কমিউনিষ্ট সেজে পদে পোঁদ গুঁজে রয়েছে, যারা- না হোমে লাগে না যজ্ঞে। ফেসবুকে এসে দুটো বৈপ্লবিক কথাবার্তা বলে ফেললেই এদের অর্গাজম হয়ে যায়, ব্যাস তাহলে আর বাকি কী থাকে! গোটাটা নীলসাদা অনুপ্রেরণা। সরকারের সমালোচনা করা বা ভুল ধরার কেউ নেই।
আমরা ইন্টারনেটে 'হোয়াইট হ্যাট জুনিয়ার', বা বাইজুস এ্যাপসের বিষয়ে জানি। এমন আরো বেশ কিছু এ্যাপস রয়েছে যারা অনলাইন দোকান খুলেছে ইস্কুলের। জয় শাহ এর নামে বকলমে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রবল ক্ষমতাশালী অমিত শাহ BCCI এর প্রেসিডেন্ট, তারাই বাইজুকে প্রোমোট করছে ক্রিকেটের উন্মাদনার আড়ালে। ভাবুন, এই অমিতক্ষমতাধর 'বাইজু' কি চাইবে- সনাতন পদ্ধতির স্কুল খোলা থাকুক?
বাংলাতে 'টিউটোপিয়া' নামের একটা এ্যাপ চালু হয়েছে, যাদের উদ্বোধনে বাংলার তথাকথিত "বুদ্ধিজীবিদের" প্রায় সকলে উপস্থিত ছিল। তাদের ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখুন, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী, হার্ভার্ড প্রবাসী সরকারী দলের অধ্যাপক সাংসদ, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে কে নেই সেখানে। ঘোষীত বিবৃতি রয়েছে এদের প্রত্যেকের। আর আমরা কে না জানি,"তাঁর অনুপ্রেরণা" ছাড়া শিক্ষামন্ত্রী বা অন্য যে কেউ- কারো স্বেচ্ছা পাঁদার অনুমতিটুকুও নেই। অতএব....
এই টিউটোপিয়ার পার্টনার কে? আমাদের ABP গ্রুপ, মানে আনন্দবাজার পত্রিকা, ABP আনন্দ ও টেলিগ্রাফ। শহরের সকল গুরুত্বপূর্ণ বিলবোর্ড জুড়ে রয়েছে টিউটোপিয়া। কয়েকলাখের অথোরাইজড ক্যাপিটালের কোম্পানির মুল্য সাড়ে পাঁচকোটি আজকের দিনে, কয়েক বছরে এরাই হাজার কোটিতে পৌছাবে- যদি ইস্কুল এইভাবে বন্ধ থাকে। এই টিউটোপিয়া প্রাঃ লিঃ এর যারা ডিরেক্টর তাদের সম্বন্ধে MCA তে গিয়ে একটু খোঁজ নিয়ে দেখুন- সরকার সহ মিডিয়া, এদের অবাধ যাতায়াত। কমেন্টে লিঙ্ক চাইবেননা, সামান্য খুঁজলেই সব লিঙ্ক পাওয়া যায়। আর না পেলে আপনার মত হাঁটুতে বুদ্ধিওয়ালা পাব্লিকের জন্য 'এক্স হ্যামস্টার ডট দেশিই" শ্রেষ্ঠ ঠিকানা, ইয়েস- বিপ্লবের।
সুতরাং, টিউটোপিয়া-সরকারে থাকা মন্ত্রী সান্ত্রী ও আমলা- ABP গ্রুপ সহ এদের এই পূর্ণ চক্রের- ইস্কুল খোলা থাকলে লাভ নাকি বন্ধ থাকলে লাভ? সুতরাং সামান্য ধোঁয়ার গন্ধ পেলেই মনসা এবার নেত্ত্য করবেই, ঢাক বাজুক বা না বাজুক। সামান্য ছুতোনাতা পেলেই ইস্কুল বন্ধ করে দেবে। এর বেশি বলবোনা, আমারও প্রোফাইল বাঁচাবার ভয় আছে, বেফালতু মামলা খেয়ে যাবার ভয় রয়েছে।
সুতরাং বুঝেই গেছেন, গোটাটাই একটা অর্থনৈতিক দুর্নীতি, যার পরিকল্পিত স্ক্রিপ্টে ফেঁসে গেছি আমি, আপনি, আমরা সহ গোটা সমাজ। কাল হোক বা পরশু, ইতিহাসের চাবুক এই সত্য একদিন দিনের আলোতে আনবেই। সেদিনের সংবাদপত্রে আজকের দুর্নীতির খবরও ছাপবে, কিন্তু সেটা পড়ার মত শিক্ষিত থাকবেনা আপনার আগামী পুরুষ। অত্যন্ত দামী অনলাইন শিক্ষা কেবল ধনীদের জন্যই সংরক্ষিত হতে চলেছে অদূর ভবিষ্যতে।
সস্তার অদক্ষ শ্রমিক তৈরির জন্য পুঁজিবাদী বিশ্ব সবার আগে শিক্ষাই বন্ধ করবে এবং করেছেও। আপনি সতর্ক হননি, হবেনওনা। ভুগবে আপনারই উত্তরপুরুষ, না হবে মানুষ না হবে মুনিশ।
টিউটোপিয়া বা এই বাইজুস- এদের বিরুদ্ধে পালটা ক্যাম্পেন চালু করুন আমাদের জনগণের তরফে। এদেরকে গণ বয়কট করুন, পুঁজি কেবল লাভ বোঝে, বয়কট করে এদের লোকশানের ব্যালেন্সসিট ধরান, দেখবেন BlackBerry মোবাইলের মত এরাও জাষ্ট গায়েব হয়ে যাবে। ইস্কুলও খুলবে। হোয়াইট হ্যাট ইতিমধ্যেই 'কোডিং শেখো' থেকে সরে গিয়ে মিউজিক শিক্ষার এ্যাপে পৌঁছে গেছে, কাল ঝাঁপ বন্ধ হলো বলে। আমাদের গণ বয়কটই আমাদের আগামীকে সুরক্ষিত করতে পারে, আমরা ছাড়া আমাদের বাঁচাবার কেউ নেই।
বাকিটা মাস্টারদের হাতে, কারন ছাত্ররা জিয়ো বা এয়ারটেলের মত বিকল্প বেছে নেবে যা পাবে সামনে, অদূর ভবিষ্যতে মাস্টারদের BSNL কর্মীদের হয়ে যাওয়ার দিনটা আজই দেখা যাচ্ছে। সরকারি স্কুলই থাকবেনা যখন, তখন সরকারি স্কুল টিচারদের কী প্রয়োজন! আজ মাস্টাররাই ঠিক করুক, এই অশান্ত সময়ে তারা বেতনযুক্ত আরাম সুখ ভোগ করে আগামীর BSNL কর্মী হবে, নাকি ইস্কুল খোলার জন্য জঙ্গি আন্দোলন করবে।
সহমত হলে লেখাটা শেয়ার করে সমাজকে জানাতেই পারেন।

সোমবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১

করোনা ভ্যাক্সিনের সাইড এফেক্ট


 

কিছুনা, আসলেই কিছুনা

করোনা পিরিয়ডে, মানে ভ্যাকসিন নেওয়ার আগে রোড এক্সিডেন্টে মরলেও সরকারি নথিতে করোনাতেই মরেছে লেখা হয়েছে- এর জন্য আবার লিঙ্ক চাইবেনা যেন

অবশ্য মিডিয়ার দেখানো ভয় বাজি, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলগুলোর টাকা সাইফনিং আর সরকারি বিজ্ঞাপনের দৌলতে একবার ভ্যাকসিন নেবার পর মরলে - আপনি হার্ট ফেল, কিডনি সহ মাল্টি অর্গান ফেলিওর হয়ে মরুন- করোনা আপনার কখনই হবেনা। মানে যারা এইভাবে মরেছে তাদের কারোরই করোনা হয়নি। কিন্তু সেই ডেটা আছেটা কার কাছে? কতজন সত্যকারের ভ্যাক্সিন নিয়েছে, সেই ডেটা প্রতিটি ভ্যাক্সিন কোম্পানির কাছেই আছে, কারন প্রতিটি ভ্যাক্সিনের নির্দিষ্ট নাম্বার ছিলো

প্রতিটি ভ্যাক্সিন কোম্পানি জানে তাদের "ট্রায়ালে" মর্টালিটি রেট কত। কিন্তু সেটা জনগণকে জানাবেনা। সরকার বা আদালত যারা চালায় তাদের মাঝেই তো "বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করে গরু অক্সিজেন দেয়" শীর্ষক রায় দেন। সুতরাং কোভিড সংক্রান্ত আসল তথ্য এ পোড়ার দেশের জনগন কখনই জানবেনা

হ্যাঁ, এখনও ট্রায়ালই চলছে- আজও সেল্ফ ডিক্লিয়ারেশন দিতেই হয়। মানে আপনার পটল তোলার দায় একান্তই আপনার নিজের- সরকার বা ভ্যাক্সিন কোম্পানির কোনো দায় নেই। বুঝতেই পারছেন, কেন আমাদের দেশের কোনো ভ্যাক্সিনই পরিপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়নি। তার মাঝে একটিকে তো কেউই মান্যতা দেয়নি

অনেকেই বলবেন, কোটি কোটি মানুষ ভ্যাক্সিন নিয়েছে, কতজন আর মরেছে! জ্বী, নুন-জলে কী আর মানুষ মরে! শুরুতেই বলেছি ট্রায়াল চলছে, তবেই না একটা এ্যাম্পুল থেকে ৫-৭ জনের মাঝে কাউন্টার বিলি করা যায়। যারা একটু কেউকেটা, তারা বাঁচার তাগিদে 'আসল' ভ্যাক্সিন নিয়েছিল- ফলাফল দেখুন- রেল লেগে গেছে সেলিব্রিটি মৃত্যুর। সেই তুলনাতে আপনার পাশের বস্তি বা গ্রামাঞ্চলে করোনা আছে?

জানি আপনি তর্ক করবেন, কারন ভ্যাক্সিন নিয়েছেন, তাই স্বপক্ষে আপনি বলতে দায়বদ্ধ- লেজকাটা শেয়ালের মত।

প্রশ্নই আগেও ছিল- করোনা অদৌ কোনো প্যাথোলজিক্যাল রোগ নাকি এটা একটা ক্যাপিটালিজম রোগ। ভ্যাক্সিনে করোনা না সারলেও যারা ভ্যাক্সিন কোম্পানি খুলেছিলো তাদের পৌষমাস- আঙুল ফুলে বাওবাব গাছ

ভেবে লাভ নেই, আপনি সেই নির্বোধের মতই নেচে দ্বিতীয় ডোজের ভ্যাক্সিন নেবেন, আর সপক্ষে এঁড়ে তর্ক করবেন যুক্তি ছাড়া

 


শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১

ভ্যাক্সিন ব্যবসাঃ একটা বাজে অঙ্ক


গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসানোতেই কি একমাত্র সমাধান?

টিভি খুলুন, সারাক্ষণ মারাত্মক ভয়ের পরিবেশ- এই বোধহয় আপনার পালা। সোশ্যাল মিডিয়াতে ‘ভলেন্টিয়ার’, এর সাথে রয়েছে মোদী-মমতার ইমেজ বাঁচানো হরেক পেইড বিজ্ঞাপন, যেগুলো ঠিক খবরের মতোন করেই আপনার কাছে পরিবেশন করা হচ্ছে। আপনি এইসবের মধ্যে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পরেছেন।
ধর্ম দিয়ে মানুষকে সফট টার্গেট বানানো যায় অনায়াসে, ফলত ধর্মও যে কখনও কখনও সফট টার্গেট হবে তা বলাই বাহুল্য। যার জন্য কখনও নিজামুদ্দিন জামাত কিম্বা এবারের কুম্ভ- দেগে দেওয়ার একটা সহজ পন্থায় মানুষকে কটা দিন এই সব ফালতু চর্চার মধ্যে রেখে সরকার দিব্যি গা বাঁচিয়ে নিল।
আচ্ছা বলুন তো, এতে আপনার কী লাভ হয়েছে?
মিডিয়া জুড়ে সারাক্ষণ চিতা জ্বলল, এলাহাবাদ গঙ্গার তীরে সারি সারি শব- আপনার ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। একবারও ভেবেছেন, মিডিয়ার যেখানে আপনাকে সচেতন করার কথা ছিল, সেটা না করে আপনাকে সন্ত্রস্ত করে রাখার মাঝে ওদের লাভ কী? ওরা শুধু চিতাল কেন দেখানো হল, কবর কী দেখান যেতনা! এক্ষেত্রে শুধুই হিন্দু কেন?
কেউ জানে না করোনা কীভাবে ছড়াচ্ছে, হ্যাঁ আজও কেউ জানে না। যে যা বলছে মনগড়া বলছে, সে মাস্ক হোক, দূরত্ব বজায় হোক বা অন্যান্য সাবধানতা অবলম্বন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) যারা এই প্যানডেমিক ও ইত্যাদি বিষয়ে মূল মোড়লের ভূমিকাতে, তারাও নিশ্চিতভাবে কিছু লিখিত দিতে পারেনি, উল্টে প্রায় প্রতিটি কথা একে অন্যের সাথে পরস্পরবিরোধী। এরা ক্ষুধিত পাষাণের মেহের আলী সেজে বসে আছে। লকডাউনের জন্য সর্বোচ্চ সাওয়াল করে বিশ্বের অর্থনীতিকে কোমায় পাঠিয়েছিল, এ বছরে বলছে ওটা ভুল ছিল।
গত বছর কেন্দ্র সরকার লকডাউন করেছিল, এ বছর রাজ্য সরকার করেছে, মানুষের ভোগান্তি একই আছে। প্রতীক্ষায় আছি, এরাও কবে বলবে- “তফাত যাও, তফাত যাও! সব ঝুট হ্যায়, সব ঝুট হ্যায়”।
আমরা সাধারণ জনগণ, পাকা আতার মতো বুদ্ধিমান; ঠিক ভুলের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব করি তার সাধ্য কী! তার উপরে- সরকার যাহা বলে তাহাই সত্য, তাহার ব্যত্যয় ভাবি সাধ্য নেই, পেয়াদা পাঠিয়ে কবে দেয় শ্রীঘরে ভরে। তার পরেও কিছু অসভ্য, প্রশ্ন তোলে বৈকি- যেমন আমি। দেশে অক্সিজেনের অভাব, এই নিয়েই সকলে মেতে রয়েছে। এর ফাঁকে বহু প্রশ্ন বর্ষার লবণের মতো গলে- সময়ের ড্রেনে মিশে হারিয়ে যাচ্ছে।
ভারতে এই মুহূর্তে উপলব্ধ দুটি ভ্যাক্সিনই তার তৃতীয় দফার ‘ট্রায়ালে’ রয়েছে। সরকার পরিষ্কার বলে দিয়েছে, ভ্যাকসিন নিয়ে সরকারের কোনো দায় নেই, নিলে নিজ দায়িত্বে নিন। পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী যা বলার বলে দায় সেরে রেখেছে।
দুটো ভ্যাক্সিন কোম্পানি- কোভিশিল্ড ও কোভ্যাক্সিন, তাদের ওয়েবসাইটেই গোটা গোটা অক্ষরে লিখে দিয়েছে- কেবলমাত্র ‘ইমারজেন্সি রোগীর ক্ষেত্রে’ ব্যবহারের জন্য। কিন্তু সুস্থ মানুষেরা পিঁপড়ের ঝাঁকের মতো ভ্যাক্সিনের জন্য হিতাহিতজ্ঞানশূণ্য হয়ে দৌড়াচ্ছে। প্রথম ডোজ নেওয়ার পরই শুধু নয়, দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরেও তাদের মাঝে মৃত্যুহার ব্যাপক। গ্রামাঞ্চলে সেভাবে ভ্যাক্সিনেশন হয়নি, যা হয়েছে শহরাঞ্চলের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তদের মাঝে, অথচ আশ্চর্যজনক ভাবে সেখানেই মৃত্যুহার বেশি। স্পষ্ট করে বললে দেখা যাচ্ছে- যারা মারা যাচ্ছে, তাদের অধিকাংশই ভ্যাক্সিন নেওয়া সুস্থ মানুষের দল।
গত পয়লা জুন তারিখ হিন্দি সন্মার্গ পত্রিকাতে একটা প্রতিবেদন বেড়িয়েছে, একটি RTI এর তথ্যে সরকার যা জবাব দিয়েছে- তাতে মৃতেরা আবার প্রশ্ন করতে পারে, “আমাদের কেন শুধুশুধু গিনিপিগ বানানো হলো!” সত্যি বলতে আপনাকে গিনিপিগ কেউ বানায়নি, না সরকার কোনো GO বেড় করেছে ‘ভ্যাক্সিন বাধ্যতামূলক’ মর্মে না ভ্যাক্সিন কোম্পনি নিজে বলেছে ভ্যাক্সিন কিনুন। আপনি মিডিয়ার নিরবিচ্ছিন্ন প্রচারেই মেতে গেছেন। অপেক্ষা করুন এরপর ‘ডিজাইনার ভ্যাক্সিন’ শপিংমলেও পাবেন।
কোনো বায়োকেমিষ্ট বলতে পারেনি, কেন করোনা জাতের অন্য ভাইরাসের ভ্যাক্সিন বাজারে নেই, তাও করোনার ভ্যাক্সিন বাজারে বিক্রি হচ্ছে। যে সরকার মূলত ভ্যাক্সিন কোম্পানির এজেন্টের ভূমিকাতে, সেই সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রকও স্বীকার করে নিয়েছে, দুটো ভ্যাক্সিনই হৃদয়ে রক্ত জমাট বাঁধাচ্ছে। আপনি চ্যালেঞ্জ করবেন, সে উপায় নেই- কারণ করোনাতে মরা রোগীর পোস্টমর্টেম হয় না কোনো এক অজানা কারনে। ভ্যাক্সিন-কোম্পানি ও সরকারের এক্কেবারে উইন-উইন সিচুয়েশন, কারণ আইন তারা আগেই ফেঁদে রেখেছে; তাছাড়াও ১৪০ কোটির গুন্তিতে আমাদের জান-মালের কোনও মূল্য আছে কি?
যাই হোক, নিজের ভাল ক্ষ্যাপাতেও বোঝে। প্রত্যেকে তার নিজের বুদ্ধি মতো সিদ্ধান্ত নিক, এই লেখায় প্রভাবিত না হয়ে। আমরা এই প্রবন্ধে একটা অন্য বিষয়ের উপরে নজর দেবো।
ভারতের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি কারা জানেন? ২০২১ সালের মার্চে প্রকাশিত ফোর্বস পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী অবশ্যই প্রথমে মুকেশ আম্বানি এবং দ্বিতীয়তে গৌতম আদানি।
এই তালিকাতে অষ্টম নম্বরে একটা নাম আছে- সাইরাস পুনাওয়ালা। শেষোক্ত দুইজন শেষ ৭ বছরে ৭ ধাপের চেয়েও বেশি উপরে উঠেছে।
একজন সামান্য ঘোড়ার ব্রিডার থেকে ভ্যাক্সিন কোম্পানির মালিক হওয়াটা তেমন আশ্চর্যের নয়, কারণ ভ্যাক্সিন তৈরির প্রক্রিয়ার সাথে ঘোড়ার সম্পর্ক অঙ্গাঙ্গী। কিন্তু সে কীভাবে এই জুনের শেষে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ ধনী হয়ে যাতে পারে! ইয়ে, একবার আগুনও ধরে গেছিল- ব্যাস নথি নেই বলার জন্য আর কি চায়!
একটা আনলিস্টেড কোম্পানি, যার অথোরাইজড ক্যাপিটাল ৫৫ কোটি টাকা, সে ৩০০০ কোটির ঋণ পেয়ে পায় পাবলিক ব্যাঙ্ক থেকে। তার পরেও সরকার তাকে সুদমুক্ত ৩০০০ কোটি টাকার সফট লোন দেয় ২০ বছরের মেয়াদে। এর জন্য নিশ্চই প্রয়োজনীয় আইনের সংশোধন যা করার দরকার ছিল, সেটা করে নিয়েছে।
POONAWALLA REAL ESTATES AND HOTELS
Jaypee Hotels
POONAWALLA CONSTRUCTIONS LLP
এই তিন কোম্পানি ২০১৩ সালে খোলা হয়েছিল। ২০১৮ পর্যন্ত সেভাবে আহামরি কোনো কর্মকাণ্ড ছিল না জেপি হোটেলস ছাড়া। তবে এসব নামে বেশ কিছু বড় বড় ব্যাঙ্ক লোন ছিল, যেটা ২০২১ সালে এসে সকলই ঋণ মুক্ত হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে এই কোম্পানি তিনটেই ঋণহীন ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। কেন ও কীভাবে নিজে বুঝে নিন- এটাও বুঝে নিন, শাসক দলের নির্বাচনী তহবিলে কীভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা উড়ে আসে!
আরেক কোম্পানি, POONAWALLA PROPERTIES PRIVATE LIMITED, এদের একজন হোলটাইম ডিরেক্টর রয়েছে যার নাম দীপক শাহ্, গুজরাটি। আমি সূত্র দিচ্ছি মাত্র, যোগ করে দেখার দায়িত্ব আপনার।
কিছু লোন, যেগুলো শোধ হয়ে গেছিল গত বছরে। প্রসঙ্গত, এরা বিল গেটসের থেকে গত বছর মোটা অনুদান পেয়েছিল।
১) 2020-06-16,
1,842,012,000
BNP Paribas
২) 2020-06-02
2,500,000,000
KOTAK MAHINDRA PRIME LIMITED
৩) 2020-06-08
2,500,000
INDUSIND BANK LTD.
৪) 2020-06-15
579,000,000
KOTAK MAHINDRA INVESTMENTS LIMITED
৫) 2020-05-29
3,279,060,000
The Hongkong and Shanghai Banking Corporation Limited
এছাড়াও-
KOTAK SECURITIES LIMITED
AMBIT CAPITAL PRIVATE LIMITED
PHILLIPCAPITAL (INDIA) PRIVATE LIMITED
ICICI SECURITIES LIMITED
BANK OF BARODA
EXPORT--IMPORT BANK OF INDIA
JULIUS BAER WEALTH ADVISORS (INDIA) PRIVATE LIMITED
Citi Bank N.A.
এই সকল ব্যাঙ্কগুলোতে এই মুহূর্তে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ বাকি ছিল, যা এই বছর শোধ হয়ে গেছে। মুকেশ আম্বানির রিলায়েন্সের পদাঙ্ক অনুসরণ করে অন্যতম ঋণমুক্ত কোম্পানি হয়ে গেছে, এবারে ইংল্যাণ্ডের অভিজাত পার্ক কেনার বিড করেছে ‘সিরামের’ মালিক, হয়ত বা ছোটখাটো একটা দেশও কিনবে শিগগিরি।
একটা অবাস্তব হিসাবের গল্প শোনায়। অঙ্কটা কিছুটা এমন- গড়ে প্রতি ডোজ (সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে) ৩০০ টাকা। বছরে দুটো করে ডোজ, ৩ বছর- অর্থাৎ ৬ টা ডোজ। ১০০ কোটি ভারতীয়কেই যদি কাস্টোমার ধরা হয়- ১৮০০ টাকা x ১০০ কোটি। কত হয়? ওই ১ লাখ ৮০ হাজার কোটির মতো। নতুন ১৮ বছর বয়সী, পড়শি দেশ মিলিয়ে ওটা ওই রাউন্ড ফিগারে ২ লাখ কোটি ধরেই নিন, মানা তো কেউ করছে না। ভ্যাক্সিনের দাম হয় আমার আপনার পকেট থেকে সরাসরি যাবে, নতুবা ট্যাক্সের টাকা থেকে সরকার দিয়ে দেবে- ভ্যাক্সিন কোম্পানি টাকা উশুল করে নেবে।
মিডিয়াকে ধরুন- ২০ হাজার কোটি
শাসক দলের ফান্ডে- ৩০ হাজার কোটি
ভ্যাক্সিন ওয়ালার- ৫০ হাজার কোটি
বাকিটা মাস্টারমাইন্ড- গেটস ফাউইন্ডেশনের।
লগ্নি কিন্তু ছিল- ৭ হাজার কোটি মাত্র।
আমার কচকচানি শেষ, চলুন- টিভিটা খুলে এবার ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের গল্পটা শুনি।

বুধবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২১

ভ্যাক্সিনঃ বিজ্ঞান, ভয় না ভক্তি?



দেশের নিউজ মিডিয়ার লাগাতার ভয়ের প্রচার দেখে শুনে, সম্পূর্ণ হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দল সহ অধিকাংশ আমজনতা ‘ভ্যাক্সিন দাও ভ্যাক্সিন দাও’ বলে এক বিচিত্র আন্দোলন শুরু করেছে। ভ্যাক্সিন নিয়ে গত বছরের লেখাটা নিচে রইল, সেখানে আরো অনেক লেখার লিঙ্ক পাবেন। এছাড়াও এই গত মার্চে, গত এপ্রিলেও কিছু লেখা রয়েছে।
সেই ধারাবাহিকতাতেই কিছু প্রশ্ন রাখি আপনার সামনে, প্রশ্নগুলো নিজেকে করবেন, উত্তর পেলে ভ্যাক্সিনের জন্য আরো তেড়েফুঁড়ে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ুন।
১) COVID একটি RNA ভাইরাস। অন্যান্য RNA ভাইরাসের কী কী ভ্যাক্সিন বাজারে আছে? র্যা বিস, জিকা, সাইটোমেগাল, ডেঙ্গু এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা ইত্যাদি ভাইরাসের mRNA ভ্যাক্সিন বাজারে থাকলেও সেগুলো কোনো মেডিকেল কাউন্সিল দ্বারা স্বীকৃতি পায়নি কেন? অন্য কোনো RNA ভাইরাসের ভ্যাক্সিন যেখানে আবিষ্কৃতই হয়নি, সেখানে একই জাতের কোভিডের ভ্যাক্সিন কোন পদ্ধতিতে আবিষ্কৃত হলো?
২) যদি সত্যিই mRNA কোভিড ভ্যাক্সিন আবিষ্কার হয়েই থাকে, তাহলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটা যুগান্তকারী আবিষ্কার। তাহলে এমন মহান কীর্তি কে আবিষ্কার করল, সেই বিজ্ঞানী বা বিজ্ঞানী দলের নাম কী? তিনি বা তাদের জন্য নোবেল পুরষ্কারের দাবী উঠেনি কেন?
৩) কোন বড় ডাক্তার সংগঠন এই ভ্যাক্সিনকে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে স্বীকৃতি জানিয়েছে?
৪) রাষ্ট্রীয় বা রাজ্যোয়ারি বিজ্ঞান মঞ্চগুলো ভ্যাক্সিনের পক্ষে পরিষ্কার লিখিত বিবৃতি দিয়েছে?
৫) দুই ভ্যাক্সিন কোম্পানি বাদে- অন্য কোনো ভাইরাস বিজ্ঞানী, গবেষক, মাইক্রোবায়োলজিস্ট কিম্বা বায়োটেকনোলজিস্টদের কোনো সংগঠন এই ভারতীয় ভ্যাক্সিনগুলোকে জেনুইন বলে লিখিত ঘোষণা দিয়েছে?
৬) কোভিশিল্ড নামের ভ্যাক্সিনের ওয়েবসাইটে সিরাম ইন্সটিটিউট গোটা গোটা অক্ষরে লিখে রেখেছে এটা কেবলমাত্র ‘ইমারজেন্সী’ রোগীদের ব্যবহারের জন্য। অতএব ভ্যাক্সিন নেবার পরও মরে গেলে তারা দায় নেবেনা, নেয়ওনি।
তাহলে মারাত্বক অসুস্থ রোগী ব্যাতিরেকে সকল সুস্থ মানুষকে এই ভ্যাক্সিন কেন জোর দেওয়ার জন্য আন্দোলন হবে?
৭) ভারত বায়োটেক নামের ভ্যাক্সিন কোম্পানি তার চতুর্থ অধ্যায়ের ট্রায়াল শুরু করেছে গত সপ্তাহে। ট্যুইটার-ফেসবুক সহ সমস্ত শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রে সে খবর বেরিয়েছিল। তাহলে ভ্যাক্সিনের নামে যেগুলো বিক্রি হচ্ছে সেটাও কী ওই ট্রায়ালের অন্তর্ভুক্ত? কোম্পানি তো বিজ্ঞাপন দিয়ে খোলসা করেছে, সরকার কি খোলসা করেছে এ বিষয়ে? এটা ট্রায়াল কিনা জানতে চেয়ে- কোনো মামলা হয়েছে হাইকোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টে?
৮) ভ্যাক্সিন নেবার পর এর সাইড এফেক্টে কোনো সুস্থ মানুষের মৃত্যু হলে ‘কেন্দ্র-রাজ্য’ কোনো সরকার কোন দায় নিচ্ছে না, আগে থেকেই ডিক্লিয়ারেশন ফর্মে সই করিয়ে নিচ্ছে যে স্বেচ্ছায় নিচ্ছি। তাহলে ভ্যাক্সিন নেবার এই ভয়ানক প্রচারের ফাঁদে পরে যাদের মৃত্যু হচ্ছে সে দায় কার, শুধুই ব্যাক্তির?
৯) পৃথিবীতে অন্যান্য যত ভ্যাক্সিন বাজারে বেরিয়েছিল, এগুলোর ট্রায়াল পর্বে যাদের উপর ট্রায়াল করা হতো তাদের প্রত্যেককে বিপুল অর্থের বীমা করাতে বাধ্য ছিল বায়োটেক কোম্পানিগুলো। যাতে ঘটনাচক্রে সেই ব্যক্তি মারা গেলে তার পরিবার যেন আর্থিক ক্ষতিপূরণ পায়। এবারে তো আমরা নিজেরা বলছি- স্বেচ্ছায় নিচ্ছি।
এক্ষেত্রে সারা দেশের বহু মানুষের উপর দুটো কোম্পানি ট্রায়াল দিচ্ছে সম্পূর্ণ বিনা খরচাতে। এ যেন আধুনিক নুরেমবার্গ ট্রায়াল। পড়ুন- https://breaking-news.ca/the-new-nuremberg-trials-2021.../
১০) কোনো প্রশ্নের উত্তর না জেনেই কাতারে কাতারে সুস্থ মানুষ ভ্যাক্সিনেশন করিয়েছে- প্রথম ডোজ। তার ভ্যাক্সিন পরবর্তী জীবনের সাথে অন্যের জীবন ধারার বিন্দুমাত্র ফারাক নেই, সেই মাস্ক, সেই দুরত্ব মেন্টেন, সেই ঘরবন্দি, সেই ভয়। সেই তারা উতলা হচ্ছে দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার জন্য।
প্রথম দফার ভ্যাক্সিন নেওয়ার পরেও কত মানুষ মারা গেছে সে তথ্য কার কাছে আছে? আর দ্বিতীয় দফার ভ্যাক্সিন ডোজ নেওয়ার পরেও কত মানুষ মারা গেছে? ভ্যাক্সিন নেওয়ার আগে এটা জানার চেষ্টা করবেননা না? গত এক মাসে যারা করোনাতে মারা গেছেন তাদের সকলে না হলেও বিরাট একটা অংশের মৃত- ভ্যাক্সিন নেওয়ার দলে ছিলেন। একটু খোঁজ নিয়েই দেখুননা, সবটা সব সময় অন্যের কথা কেন বিশ্বাস করবেন!
১১) কখনও ভেবে দেখেছে, আমাদের দেশে এই মুহুর্তে ভ্যাক্সিন নিতে কে বলছে? সাংবাদিক, রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতানেত্রী, আইনজীবী, অর্থনীতিবিদ, ক্রীড়াবিদ, অভিনেতা, শিল্পী সাহিত্যিক, কলা ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপকেরা, চায়ের দোকান বা ফেসবুকের সর্বজ্ঞ জ্যাঠামশাই প্রমুখেরা। অথচ যাদের বলার দরকার- সেই জীবাণুবিজ্ঞানীদের দল, স্বীকৃত ডাক্তার সংগঠন কিম্বা বায়োটেকনোলজিস্টরা কিছুই বলছেন না। মেরা ভারত মহান।
১২) WHO গতবছর প্যান্ডেমিক ঘোষণার শুরুর দিন থেকেই COVID বিষয়ে নিয়মিত মানুষকে বিভ্রান্ত করে এসেছে, যা আজও সফলতার সাথে করে চলেছে। কেন এটা কার স্বার্থে?
১৩) ওদিকে মার্কিন CDC গতকাল ঘোষণা করেছে যারা ভ্যাক্সিন নিয়েছে- তাদের মাস্ক লাগবে না, সামাজিক দূরত্বও মেন্টেন করার দরকার নেই। অথচ আমাদের দেশের ভ্যাক্সিন নিয়েও হাজারে হাজারে মানুষ মরেছে। https://breaking-news.ca/the-new-nuremberg-trials-2021.../
১৪) ট্রাম্প চলে যেতেই আমেরিকাতে করোনা প্রায় গায়েব হয়ে গেছে। সব লোক ভ্যাক্সিন নিয়ে নিয়েছে এমনটা মোটেও নয়, কিন্তু ভ্যাক্সিন দালালদের সাথে রাষ্ট্র বা রাষ্ট্র চালনা করা সরকারি দল অশুভ আঁতাত বন্ধ হয়েছে- তাই করোনা গায়েব। আমাদের মোদীজির সাথে গেটস ফাউন্ডেশনের পিরিত মাখামাখা, যাদের অর্থ লগ্নি আছে অক্সফোর্ড এস্ট্রোজেনিকা, এদই সাবসিডিয়ারি সিরাম ইন্সটিটিউট। ভারত বায়োটেকও গেটস ফাউন্ডেশনের বাইরে নয়। আমার আগের বহু পোস্টে ভুরি ভুরি তথ্য-প্রমাণ দেওয়া আছে।
১৫) মাননীয় মোদী ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের রাষ্ট্রনায়ক হিসাবে আসীন থাকবেন। অর্থাৎ করোনার পঞ্চম ঢেউকে কেউ ঠেকাতে পারবে না। সে আপনি যত চেষ্টাই করুন- মৃত্যুমিছিল বা ভয়ের চিতা ছাড়া কিছুই দেখবেন না। নতুবা ভ্যাক্সিনের নামে ভয় বেচে দলীয় তহবিলে টাকা সাইফন কীভাবে হবে? দুটো ভ্যাক্সিন ভ্যাক্সিন কোম্পানিকে এই বছরে কত হাজার কোটি টাকার সাহায্য করেছে কেন্দ্রীয় সরকার সেটাতে চোখ বুলান- আরাম পাবেন। অথচ কেন্দ্রীয় ভাইরাস গবেষণা কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ তো বাড়েইনি, উল্টে কমেছে।
১৬) আগে ছিল চিনা স্ট্রেন, ইতালি স্ট্রেন, ব্রিটিশ স্ট্রেন ইত্যাদি। এখন হয়েছে কোলকাতা স্ট্রেন, উড়িষ্যা স্ট্রেন, দিল্লী স্ট্রেন, গুজরাত স্ট্রেন, বিহার স্ট্রেন ইত্যাদি। এরপর আসবে বর্ধমান স্ট্রেন, হুগলি স্ট্রেন, জলপাইগুড়ি স্ট্রেন। তারপর আসবে বিধানসভা ধরে ধরে স্ট্রেন, এভাবে পঞ্চায়েত স্ট্রেন। শেষে ব্যাক্তিগত পর্যায়ে তন্ময় স্ট্রেন, মৃন্ময় স্ট্রেন, চিন্ময় স্ট্রেন আসতেই থাকবে।
কত ভ্যাক্সিন বানাবি বানা না। আমরা সব নেব- কারণ মিডিয়াতে যে ভয়ের দোকান। দেশে ১৪০ কোটি জনগণ, পড়শী দেশগুলোও আমাদেরই ফলো করে। এরপর পার্সোনালাইজড রঙবেরঙের মাস্কের মত, পার্সোনালাইড অর্ডারি করোনা ভ্যাক্সিনও বাজারে আসবে। ‘ধান্দা চল রাহা হ্যায় ভাই’।
১৭) আজও কোনো বস্তি এলাকাতে বা গ্রামীণ এলাকাতে সেই অর্থে সচেতনতা নেই, সেখানে মড়ক লেগেছে? কতজন মুসলমান মরেছে করোনাতে? কেন মৃত্যুহার কম এই বিশেষ সম্প্রদায়ের? আপনি খোঁজেননি, কারণ মিডিয়া আপনাকে দেখায়নি, তাই মাথাতেও আসেনি।
১৮) করোনাতে মৃত রোগীর কি পোস্টমর্টেম হচ্ছে? হলে সেই সব নমুনার রিপোর্ট কী ? কতজন গবেষক তার উপরে থিসিস লিখেছেন?
১৯) করোনার প্রকোপে বিশ্বজুড়ে ছিটিয়ে থাকা আরো হাজার রোগ অন্যান্য মৃত্যু কী বন্ধ আছে? বাকি রোগেরাও কি লকডাউনের আওতাতে কোয়ারেন্টিনে আছে? যাদের স্বাভাবিক ইনফ্লুয়েঞ্জার মৃত্যু, হাপানির মৃত্যু সহ নানান ধরনের চেনা রোগের যে সব মৃত্যু হতো সেগুলো কোথায়?
২০) একটা ভ্যাক্সিন কোম্পানি কিছুদিন আগে বলেছিল চার সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ, তারপর বলল ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ, অতঃপর ১২ থেকে ১৮ সপ্তাহ, এখন বলছে ৩২ সপ্তাহ পর, এরপর হয়ত বলবে এক বছর।
এরপরও এখন আপনি ভারতীয় ভ্যাক্সিনের মধ্যে বিজ্ঞান খুঁজছেন।
বিশ্বের কোনো সরকার ভ্যাক্সিন নেওয়া বাধ্যতামূলক করেনি, তবে উন্নত বিশ্ব মৃত রোগীর দায় নিচ্ছে- আমরা আচ্ছেদিনের নাগরিক তাই আমাদের উপরে গণ ট্রায়াল চলছে। আমরাই তো আন্দোলন করছি- দিতে হবে দিতে হবে। কী কিউট তাই না!
২০২১ এর করোনা উৎসব মে মাসটা পেরোলে হয়, সে আবার বাইশে আসবে ঈদের আগে আগে। চলুন বসে না থেকে কিছু তো করতে হবে, এই বারে লাল-সবুজ-গেরুয়া সব রঙ মিশে গিয়ে হ্যাসট্যাগ আন্দোলন করি ফ্রি ভ্যাক্সিন দিতে হবে। মামলা করি- সুপ্রিম কোর্টে।
কে বাঁচাবে আমাদের? আমরা তো নিজেরাই জীবন্ত গিনিপিগ।
টেলিগ্রাম গ্রুপের মেসেজে লেখকের নামহীন একটা ভালো পেলাম, সেটাই দিয়েই লেখাটা শেষ করি-
“সরকারী ফরমান নিয়ে একজন ফাঁসির আদেশ প্রাপ্ত আসামীর উপরে একটা গবেষণা করব বলে ঠিক করল বিজ্ঞানীরা। আসামীকে বলা হল- “আপনাকে ফাঁসি দেওয়া হবে না, সাপের দংশনে মারা হবে”। নির্দিষ্ট দিনে বিজ্ঞানীরা আসামীকে একটি চেয়ারে বসিয়ে হাত পা বেধে মুখ ঢেকে দিলো। বিজ্ঞানীরা একটি বিষহীন আলপিন দিয়ে তার পায়ের আঙুলে দুটো ফুটো করে দিলো। অল্প কিছু সময়ের মধ্যে লোকটি ভীষণ ঘেমে মারা গেলো।
বিজ্ঞানীরা সিদ্ধান্তে এলো- আসামীর শরীরে ভয়ানক রকমের নেগেটিভ এনার্জি কাজ করেছে, শেষ কয়েকদিন সারাক্ষণ ‘সাপের ছোবলে মারা যাবো’ এই চিন্তাই করেছে। পায়ে আলপিন ফুটতেই সেই ভয় ও নেগেটিভ এনার্জি তার হার্ট ফেল করিয়েছে।
মিডিয়ার কল্যাণে, করোনা নিয়েও মানুষের মনে নেগেটিভ এনার্জি কাজ করছে, এটা ভয়ঙ্কর প্রবনতা যা ছোঁয়াচে। যে কোনো মানুষ এই প্রবনতার শিকার হলে, তার বাঁচা মুশকিল। পজেটিভ ভাবুন, Covid মানেই হেরে যাওয়া নয়, এটা একটা স্বাভাবিক লড়াই। আক্রান্তদের ৯৭-৯৮% মানুষ, করোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাধারন চিকিৎসা আর পুষ্টিকর খাবারেই সুস্হ হচ্ছে। তাই Covid লড়ায়ে জয়টাই সামনে থাকুক। মনে শরীরে সতেজ থাকুন, ভয় পাবেন না, কাউকে ভয় দেখাবেন না। সুস্থ থাকুন”।
___________
বিঃদ্রঃ- এই পোস্ট শিক্ষিত মানুষের জন্য। ডিগ্রীধারী মুর্খ বা ভক্তদের জন্য নয়।

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...