
(১)
জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তালিকা সংশোধন ও ভোটার কার্ডকে ভোটিং এর জন্য একমাত্র পরিচয়পত্র করতে হবে- এই দাবিতে কোলকাতার রাজপথে মান্নীয়ার নেতৃত্বে সেই গুন্ডামি মারদাঙ্গা হয়েছিল। যা আজকের ভাষায় SIR এর পূর্বপুরুষ, ২১শে জুলাই সেই দাবিতেই হয়েছিলো। সেখানে ১৩ জনের লাশ পাওয়া গিয়েছিলো লাভ হিসাবে, যা তোলামূল সুপ্রিমোর রাজনীতির জমি তৈরি করেছিলো। শহীদ দিবসের চাহিদা ছিলো এই SIR.।
২০০৫ সালে সংসদে উনি বলেছিলেন- “বাংলায় অনুপ্রবেশ এখন এক বিপর্যয়ে পরিণত হয়েছে, আমার কাছে বাংলাদেশি এবং ভারতীয় উভয়ের ভোটার তালিকা আছে। এটি খুবই গুরুতর বিষয়। আমি জানতে চাই কখন সংসদে এটি নিয়ে আলোচনা হবে?” স্পিকার সোমনাথ চ্যাটার্জি যখন প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন, তখন তৎকালীন অগ্নিকন্যা- পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে, ডেপুটি স্পিকার চরণজিৎ সিং আটওয়ালের দিকে কাগজপত্রের একটি গুচ্ছ ছুঁড়ে মারেন এবং তার আসন থেকে পদত্যাগ করার চেষ্টা করেন। দেশে SIR বা NRC এর লাগু পক্ষে সংসদে বিদ্রোহ করা ব্যাক্তিটির নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ইতিহাস শেষ।
এবার আজকের বাস্তবে ফিরি চলুন। SIR নিয়ে বাজারে একটাই দাবী- AI দিয়ে নাকি নির্যাতন কমিশন শয়তানিটা করছে। চলুন দুটো দ্রুত দুটো ইতিহাস দেখে নিয়ে আলোচনাটা শুরু করি।
হক কথা সন্দেহ নেই, অবশ্যই নির্যাতন কমিশন হারামি; কিন্তু সেই বৃহত্তর হারামির ছায়াতলে খুচরো হারামি গুলো, যারা গোপনাঙ্গের লোমফোঁড়ার মত আমাদের জীবন অতিষ্ট করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত, তাদেরকে কেন অদেখা বা উপেক্ষা করে যাচ্ছেন! নির্যাতন কমিশন দিল্লিতে বসে চারটে অবাঙালি গুজ্জু অফিসার দিয়ে কলকাঠি নেড়ে আমার বা আমার বাপের নামের বানান ভুল করেনি, না আমার বা আমার বাপের ৬টা সন্তান তারা বানিয়ে দিয়েছে! তাহলে এগুলো কে বা কারা করেছে নির্যাতন কমিশনের পক্ষে?
সোজা উত্তর, সাদা খাতা জমা দেওয়া ৩২ হাাজার সেই প্রাইমারি শিক্ষক রূপী তোলামূলের ক্যাডার বাহিনী- যারা BLO ছিলো, এদের যোগ্য সঙ্গত দিয়েছে ডেটা এন্ট্রি অপারেটরেরা, যারা সারা বছর তোলামূল সরকারের পে-রোলে পঞ্চায়েত লেভেলে নানা সরকারী কাজের সাথে যুক্ত। সমস্যা হলো, এই অবধি শোনার পরেই আমার মা মাসি তুলে খিস্তি করবেন আপনি, ছুপা চাড্ডি স্পটেড কিম্বা রামরেড বলাটাই দস্তুর; কারন আপনাকে যে ন্যারেটিভ জানানো হয়েছিলো, কিম্বা সোশ্যাল মিডিয়া সহ নানান সংবাদমাধ্যম দেখে যে ন্যারেটিভ আপনার ভাবনাতে তৈরি হয়ে রয়েছে, তার সাথে খাপ খাচ্ছেনা আমার ভাবনা। তা সে আপনি আপনি গালি খিস্তি করতেই পারেন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বাধীন নাগরিক হিসাবে, তাতে আপনিও যে বিশ্লেষণের বাইরে গিয়ে একজন উৎকৃষ্ট ভক্ত, সেটাও প্রমাণ হয়ে যায়। চলুন দেখে নিন, এই আতঙ্ক কেন ও কারা কীভাবে তৈরি করেছে!
রাজ্যের পশুপালন মন্ত্রী ‘যাত্রাপালা’ দেবনাথ মহাশয় SIR সহায়তা কেন্দ্রের সামনে নিজের বীরত্ব দেখাতে গিয়ে একটা বাচ্চা ছেলের হাত থেকে মাইক কেড়ে নিয়েছেন খবরে প্রকাশ। জেল ফেরত আসামী ‘গরুচোর’ অনুব্রতকে চোর বলাতে দৌড়ে গিয়ে মাইক কেড়ে নিয়েছে, যেটা আসলে ওনার ব্যক্তিগত হতাশার বহিঃপ্রকাশ। যেই মাত্র শুনেছেন ২০২৬ সালে ভাইপো তাকে টিকিট দেবেনা, সেই মুহুর্তে এমন কিছু একটা করতে চেয়েছেন, যাতে তিনি খবরের শিরোনামে ফিরে আসেন। এভাবেই এরা খবরে থাকে, আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে।
যে সুস্থ আছে তাকে ভয় দেখাও, যে ভয়ে আছে তাকে আতঙ্কিত করো, যে আতঙ্কে আছে তাকে চরম পথ বেছে নেওয়ার জন্য উত্তেজিত করো। লাশের রাজনীতি করা শকুনের দল অধীর আগ্রহে ‘একটি লাশের জন্য’ হা-পিত্যেস করে বসে রয়েছে। ২১শে জুলাই গুলি খাওয়া লাশের রাশি, রিজওয়ানুরের লাশ থেকে তাপসী মালিকের লাশ হয়ে, নন্দীগ্রামের অগণিত লাশ- মান্নিয়ার ক্ষমতা দখলের সিঁড়িই হলো লাশ। দুর্গন্ধ বাজার, হাগো বাংলা, মর্তমান কিম্বা সংবাদ অতিদীন খুললেই এখন SIR এর কারনে আতঙ্কে মৃত্যুর কলামে গোটা কাগজ ভর্তি, তা অনলাইন হোক বা অফলাইন। প্রতিটা ঘটনার নেপথ্যে একটা মোটিভ থাকে, আর এটা যখন রাজনীতির ময়দান, সেখানে লাভ ক্ষতির হিসাব থাকবেই। সুতরাং, এখানে আপনি আমি ভয় পেলে লাভ কার?
আমাকে নিজেকেও ডাকা হয়েছিলো কমিশনের তরফে, আধার কার্ডের সাথে ভোটার কার্ডে থাকা নামে মিস ম্যাচ। পাশাপাশি আমার বাবার নাকি আমি বাদেও একাধিক পুত্র সন্তান রয়েছে। দুটো অপশন ছিলো, আমি মুসলমান বলেই দিল্লির বিজেপি সরকার আর নির্যাতন কমিশন মিলে আমার বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র করেছে; সুতরাং সবার আগে সোস্যাল মিডিয়া গরম করে তবে হেয়ারিং এর লাইনে দাঁড়ানো, দ্বিতীয়ত চুপচাপ লাইনে দাঁড়ানো ও সমস্যার শিকড় খোঁজা। আমি দ্বিতীয়টা করেছিলাম, কারন আমি জানি আমাদের এই বুথ লেভেলের নাম তোলার কাজটা দিল্লি থেকে এসে কেউ করেনি, বিজেপির পার্টি অফিস থেকেও কেউ করেনি; এটা আমার BLO কিম্বা ডেটা এন্ট্রি যারা করেছে- তাদের কারো কীর্তি। সুতরাং এই পরিস্থিতিতে ‘ইশ বিষ ধানের শিষ’ পদ্ধতিতে আমার পিতার ৬ সন্তানের যে কাউকে বাদ দিতে গেলে, আমার বাদ চলে যাওয়ার সম্ভাবনাও ছিলো। আবার মোটেই কাউকে বাদ না দিলে, বা আমি রয়ে গেলাম পরিচিত মুখ হওয়ার কারনে, পাশাপাশি অন্য ভুয়ো ৫ জনের ১ জনেরও নাম যদি রয়ে যায়, পরের মাসেই আমার বাড়ি সম্পত্তির দখল নিতে চলে আসবে সে। উভয় সঙ্কটের কারনে আমি গিয়ে যা বুঝলাম, মূলত বানান ভুল এবং ইচ্ছাকৃত ভাবে আমার বাবার সাথে অন্য কোনো অসাধু ব্যাক্তি প্রজনি ম্যাপিং করার কারনে মানুষের এই হয়রানি।
এই নামের ভুলটা কে করেছে? AI? AI নিজে থেকে নাম গুলো তুলেছিলো? নাকি BLO/ডেটা এন্ট্রি অপারেটরেরা নাম তুলেছিলো? AI ভুল ধরছে, সেটা মানুষের করা ভুল। যখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে SIR এর প্রাথমিক প্রক্রিয়া চলছিলো, তখন BLO রা অসুস্থ হয়ে পরছিলো, তাদের উপরে অমানুষিক চাপ ইত্যাদি বলে একটা ভয়ানক প্রোপ্যাগান্ডা চালিয়ে- শুধু মাত্র মৃত আর স্থায়ী ভাবে স্থানান্তারিত বাদে প্রতিটা নাম ড্রাফট লিষ্টে তুলে দেওয়া হয়েছিলো। সেখানে, যে যার সাথে খুশি প্রজনি ম্যাপিং করেছিলো, খুব অল্প সংখ্যক আবার ম্যাপিং অংশটা ‘ব্ল্যাঙ্ক’ রেখেই নাম তুলে দিয়েছিলো। বামেরা সহ কোনো রাজনৈতিক দল চায়নি- এ রাজ্যে কোনো অবৈধ ‘হিন্দু’ নাম বাদ যাক। এটা ছিলো একটা অলিখিত মেমোরান্ডাম যা প্রতিটা রাজনৈতিক দলের মধ্যে কাজ করেছে। ফলে শুরুতেই যে স্ক্রুটিনি হওয়ার ছিলো, সেটা হয়নি। তার জন্য আজকে এসে এই হয়রানি।
পশ্চিমবাংলা ছাড়া আরো ১১টা রাজ্যে একই SIR প্রক্রিয়া চলছে, উত্তরপ্রদেশে সবচেয়ে বেশী নাম বাদ গেছে- কারন অবৈধ নেপালি ও দ্বিতীয়ত পরিযায়ী শ্রমিক। সেখানে এত গেল গেল রব নেই, তামিলনাড়ু, গুজরাত, রাজস্থান সর্বত্র বাংলার চেয়ে বেশী হারে নাম বাদ গেছে একদম প্রাথমিক পর্যায়েই। অথচ পশ্চিমবাংলাতে বাংলাদেশী, নেপালি, ভুটানি, কামতাপুরি, রাজবংশী অনুপ্রবেশ সমস্যা রয়েছে। এছাড়াও কলকাতা ভারতের রাজধানী থাকার সুবাদে, এক সময় উন্নত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সুবিধা নেওয়ার জন্য- আসাম, উড়িষ্যা, আজকের ঝাড়খন্ড, বিহার, পূর্ব উত্তর প্রদেশ সমেত স্বাধীন ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের লোক এসে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অংশে ঘাঁটি গেড়েছিলো, যাদের পিতৃপুরুষের গ্রামের সাথে সংযোগটা একেবারে ছিন্ন হয়ে যায়নি। তবুও বাকি সকল রাজ্যের নিরিখে শতাংশের বিচারে প্রথমিক পর্যায়ে সবচেয়ে কম নাম বাদ গেছে। এ রাজ্যের প্রতিটা রাজনৈতিক দল মিলে ভোটের রাজনীতির দিকে তাকিয়ে একটা নামও বাদ দিতে নারাজ, কারন যেন-তেন ভাবে তার পরিবারের ভোটটা যেন আমরা পায়- এই দেউলিয়া রাজনীতি চলছে।
ভয়টা কে দেখাচ্ছে? দেখাচ্ছে তোলামুল কংগ্রেস। শুরু থেকেই তারা এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটাকে রাজনৈতিক এ্যাজেন্ডা বানিয়ে নিয়েছে। তলে তলে SIR করার জন্য লোক লস্কর ও বাজেট বরাদ্দ রেখে, জনগণ ক্ষ্যাপাবার জন্য SIR হতে দেবোনা বলে প্রোপ্যাগান্ডা করে গেছে। যখন পাড়ায় পাড়ায় এই BLO গুলো যাওয়া শুরু করেছিলো, তখনও চুড়ান্ত অসহযোগিতা শুরু করেছিলো এই তোলামুলের লোকজনেরাই। তার পর পর্যায়ক্রমে নানান অশান্তির পর ‘কোনো নাম’ বাদ দিতে দেবোনা- গোঁ ধরে বসে ছিলো, এর পর শুরু করেছিলো BLO রা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে, ইত্যাদি। ক্রণোলজি মেনে একটার পর একটা রিল মঞ্চস্থ হয়ে চলেছে। কিন্তু কেন?
হেয়ারিং শুরু হবার আগে খসড়া তালিকার ৫৮ লাখ বাতিল ভোটের বিশ্লেষণ করে আইপ্যাক দেখতে পেয়ে গেছে, গতবারের জেতা ৭০ টি আসনের জয়ের ব্যবধানের থেকে কাটা যাওয়া ভোটের সংখ্যা বেশি। হেয়ারিংয়ের পর কত সংখ্যক ভোট আরো কাটা যাবে সেই ব্যাপারে কোন স্থির সিদ্ধান্তে আসা যাচ্ছে না। অর্থাৎ রাজ্যের ২৫-৩০ হাজার ভোটে জেতা প্রায় সব বিধানসভা আসন। এখন হয় ক্লোজ কন্টেস্ট হবে অথবা ফলাফল যা খুশি হয়ে যেতে পারে। এতেই তোলামূলের মাথা ঘুরে গেছে। দুরবীন দিয়েও বিজেপিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা R Bangla এর বাইরে, মতুয়া অঞ্চলে বিজেপি যে গাড্ডায় পড়েছে তথাপি SIR নিয়ে তাদের নাচন কোদন যে বাঙাল অঞ্চলে ব্যাকফায়ার করেছে, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু বিজেপি জুজু না থাকলে তোলামুলের ঝাঁপ বন্ধ, তাই তারা নির্যাতন কমিশন মানেই বিজেপি- এই লাইনে ব্যাটিং করছে।
মুসলমানদের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে ‘ইজতেমা’ কেন্দ্রিক রাজনৈতিক প্রোপ্যাগান্ডা
থেকে তোলামুলের কোনও রাজনৈতিক লাভ হয়নি। মন্ত্রী, সান্ত্রী, আমলা, গামলার এক বিপুল
বাহিনী নামিয়েও পুরো ফ্লপ শো হয়েছে তোলামুলের তরফে। ইজতেমায় আসা কোটি কোটি মানুষ- সকলে
কার পাড়ায় কোন ওয়াকফ সম্পত্তি তুলতে পারেনি, হুমায়ূনের বাবরি মসজিদ, আর RSS এর দুর্গার
‘দুর্গা অঙ্গন’ ও মহাকাল মন্দির সংক্রান্ত আলোচনাতেই সময় কাটিয়েছে ধর্মীয় অংশের বাইরে।
উন্নয়ণের কাণ্ডারি যিনি মুসলমানদের মসিহা, তিনিই যদি ‘হিন্দু তোষণে’ এতো মন্দির বানান
সরকারি কোষাগার থেকে, RSS এর কি বিজেপিকে খুব দরকার! ধর্মীয় অংশের বাইরে এই ছিলো ইজতেমার
মূল সাংসারিক আলাপ চারিতা। এরপর নীপা ভাইরাসকে বাজারজাত করার কম চেষ্টা হয়নি মিডিয়া
মেশিনারি দিয়ে; কিন্তু সে গুড়ে বালি নয়, পিঠে পড়েছে। মানুষ গুছিয়ে নলেণ গুড় খেয়েছে
বাঁদুরের আতঙ্ক উড়িয়ে।
(২)
সিদ্দিকুল্লাহ নাকি মঙ্গলবার রাজভবন অভিযান করবে! রাজভবনে কোন নির্বাচন কমিশনার বসেন? কোন সমাধানের জন্য রাস্তায় নেমে এই উৎপাত? আসল উদ্দেশ্য জমিয়তের নামে ফের মুসলমানকে ভয় দেখানো, মুসলমান আতঙ্কে না থাকলে তোলামুল ফিনিশ, তাই হাতের সব তাস খুলে ফেলেছেন ঘুগনিকন্যা।
আতঙ্কের ফেরিওয়ালারা সমস্বরে মৃত্যুর বিজ্ঞাপন করে যাচ্ছে। তেলাপিয়া নন্দী থেকে ডেটওভার ঘোষালদের মত গৃহপালিত পোষ্যদের নামিয়ে দিয়েছে কালীঘাট, এরই পরম্পরায় ‘শুক্রবারে বেলডাঙায় ২৪ ঘন্টা আক্রান্ত’ হালে পানি পায়নি। নন্দীগ্রাম কান্ডের সময় থেকে বাজারে নেমে পড়া ছুপা রুস্তম নকশাল, অতিবাম, তোলামূলী বুদ্ধিজীবী, কিছু লাথখোর ব্যক্তি, সাংবাদিকের নামে ইউটিউবে হাত পেতে খাওয়ার জন্য তোলামূলের চটি চাঁটা সারমেয়র দল- এরা এই প্রোপাগান্ডাটা শুধু হাতে ফ্রিতে করছে, এটা কোন মতেই সম্ভব নয়; এদের কারো কোনো নীতি ও আদর্শ রয়েছে বলেও কেউ বদনাম দিতে পারবেনা। সবটাই তোলা আদায়ের অর্থের বিনিময়ে চলছে। এরাই জিম নাওয়াজের মত দালালটাকে নামিয়ে দিয়েছে। এর মাঝখান থেকে গর্গের ‘পক্ষী’ ময়দান থেকে আউট হয়ে গেছে, যখন ইউসুফ পাঠান, শত্রুঘ্ন সিনহা আর কীর্তি আজাদ বাংলা থেকে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছে। বাকি রইল আনন্দ বাজারের মেয়াদ উত্তীর্ণ কয়েক পিস ফসিল সাংবাদিক আর একদল সর্বজ্ঞ জ্ঞান চূড়ামণি বামেদের ছানা, যাদের যাবতীয় বিপ্লব সোস্যাল মিডিয়াতেই সীমাবদ্ধ।
মুসলমান ভয় পাচ্ছেনা, এটাই তোলামুলের আতঙ্কের কারন। শান্তিনিকেতনের শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে এসকেলাটরে চড়ে। প্রাক্তন ‘সততার প্রোকিত’ আতঙ্কে আছে বলেই আবার নতুন করে মুসলমানকে আতঙ্কিত করার চেষ্টা করছে, যাতে ‘তোলামুল গেলে বিজেপি চলে আসবে’ সেই আতঙ্কে বেঁধে রাখা যায় মুসলমানকে। অগ্নিকন্যার আগুন নিভে এখন পাঁশুটে ধোঁয়া আর লাশ পোড়া দুর্গন্ধ চতুর্দিকে। তিনি আর ভোটে লড়ার মত মানসিক অবস্থাতেও নেই, আগুন জ্বলার মত তেল শেষ। রাজনৈতিক শহীদ হওয়ার মত ইমেজও আর অবশিষ্ট নেই, আমার হিসাব অনুযায়ী ২০২৬ নির্বাচনে তিনি নিজে লড়বেননা।
রাজ্যে থাকা ৮৮ হাজার BLO এর মধ্যে ৩২ হাজার সাদা খাতা আর কয়েকলক্ষ টাকা দিয়ে যারা চাকরিটা করছে, তারা নিজের নামটুকুও সই করতে গেলে কলম ভেঙে যায়। ডিসেম্বরে এই BLO গুলোই মূলত অসুস্থ হয়ে যাচ্ছিলো, এর পর যখন ডেটা এন্ট্রির সময় এসেছে, এই মালগুলোই তো আমার আপনার নাম তুলেছে অনলাইনে। সেখানে ভুল হবেনা কি তারা সেক্সপিয়ার বা স্বরচিত রবীন্দ্র রচনাবলী লিখবে? প্রসঙ্গত না বিজেপি না আলিমুদ্দিন, কেউ এই বিষয়ে একবারও কোনো বিবৃতি দেয়নি, যে- ভুলের বড় অংশটা তো বুথ লেভেলেই হয়ে রয়েছে বলে AI সেই ভুলটা ধরছে, AI তো যন্ত্র, সে তো বিজেপির হিন্দুত্ব আর তোলামুলের হিন্দুত্বের ফারাক করতে পারেনা। তাহলে কেন ও কোন উদ্দেশ্যে বুথ লেভেলের এন্ট্রি পয়েন্টে এই ভুলগুলো হলো, কেউ প্রশ্ন তুলেছে কি?
নির্যাতন কমিশন হারামি সন্দেহ নেই, বিজেপি আরো বড় বিপদ এটাও প্রমানিত সত্য। আপনার বাবার নামে ৬/৭টা সন্তান অতিরিক্ত মিথ্যা তথ্য থাকলে সেই ভুলের দায় কার? মানে কমিশনের পক্ষে সেই কাজটা কে করেছে? আধার কার্ডের সাথে ভোটার কার্ডে নিজের বা বাবার নামে নামে ভুল অধিকাংশের আছে, এটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই। তাহলে AI যদি সেই ভুল গুলো শোধরাতে যায়, আমাকে আপনাকে ডাকবেনা কী আমেরিকা আফ্রিকা থেকে কাউকে ডাকবে? নতুবা যে ভুল রয়েছে তা রয়েই যাবে, আর টস করে নাম বাদ দিলে যার খুশি নাম বাদ যেতেই পারে।
SIR প্রক্রিয়া মাঝামাঝি সময় থেকেই তোলামুল তথা আইপ্যাক খুব কৌশলে উন্নয়নের পাঁচালির প্রচারের বাহানাতে, ৬/৭টা বুথ মিলিয়ে, একটা করে টোটো সারাদিন ধরে পাড়ায় পাড়ায় ঘোরাচ্ছে গোটা বাংলা জুড়ে। সেই হিসাবে ৮৮ হাজার বুথে অন্তত ১০ হাজার টোটো সক্রিয় আছে গত এক মাস ধরে, সকাল সন্ধ্যা অন্তত ২ বার করে তারা একটা পাড়াতে ঢুকছে। এই গাড়িতে অন্তত ২ জন তোলামুলের ক্যাডার রয়েছে, যাদের কাজই হচ্ছে মূলত অশিক্ষিত, অল্পশিক্ষিত, শ্রমিক, কৃষক তথা শ্রমজীবী শ্রেনীকে ভয় দেখানো। মতুয়া পাড়ায় তাদের মত করে ভয় দেখাচ্ছে, মুসলমান পাড়ায় তাদের ভাষায়, মানে যেখানে যে ভয়টা খাবে সেখানে সেই টেমপ্লেট কাজে লাগাচ্ছে, তার সাথে আছে ফেসবুক ইউটিউবে পেইড প্রোপ্যাগান্ডা। আর স্বঘোষিত বাম্বাচ্চার দল লেজ তুলে এঁড়ে না বকন- বাছবিচার না করেই, সেই সব কিছু হুলিয়ে শেয়ার করে বিপ্লবের মাকে গর্ভবতী করে দিচ্ছে, ভাবছে বিজেপি ও নির্যাতন কমিশনকে আচ্ছা করে দিলাম- ফুল অর্গাজম।
নাহলে বালীর ‘PhD ধরের’ মত শিক্ষিত বাম নেত্রী কীভাবে হাস্যকর পোষ্ট করতে পারে হেয়ারিং এ ডাক পাওয়াকে কে কেন্দ্র করে! সে কী একবারও তার স্থানীয় BLO বা ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের নামে কিছু বলেছে? শুভেন্দু খারাপ সন্দেহ নেই, কিন্তু শুভেন্দু নিজে বা তার কোনো লোক এসে কী নেত্রীর বাবার নামের ভুলটা করে দিয়ে গিয়েছিলো? নাকি AI নিজে, অথবা দিল্লির কোনো অফিসার ইচ্ছাকৃত এই অপকর্মটি করেছিলো উনি সিপিএম করেন বলে? যেটা পূর্বস্থলীর কৌশিক প্রকাশ্যে বলতে পারছে, সেটা বামেদের মধ্যে মীনাক্ষী আর শতরূপের মত হাতে গোনা একআধা জন ছাড়া বাকিরা বলতে পারছেনা কেন?
SIR কে কেন্দ্র করে শীর্ষ স্থানীয় বাম নেতৃত্বেরা তোলামূলের বিরুদ্ধে বলতে ভয় পাচ্ছে কেন? কেন আলিমুদ্দিন কোনো স্পষ্ট বিবৃতি দিচ্ছেনা সাংবাদিক সম্মেলন করে? “একটাও বৈধ ভোটার যেন বাদ না যায়” জাতীয় গোঁজামিল একটা লাইন আউড়ে যাচ্ছে। আরে, সমস্যাটা কে বা কারা তৈরি করেছে, কারা এই মিথ্যা হয়রানিটা করাচ্ছে, সেটা মানুষের কাছে বামেরা তুলে ধরবে, এটাই তো শিক্ষিত মানুষ আশা করে, তারাই যদি গোলগোল জবাব দেয়, মানুষ আতঙ্কিত হবেই। বরং সারাদিন সর্বত্র বিজেপির ভুত দেখে এরাই বিজেপিকে বাঁচিয়ে রেখেছে সংবাদে।
শুভেন্দুর ২ কোটি রোহিঙ্গার ত্বত্ত প্রকাশের দিনেই সে মহা মুর্খ হিসাবে হল অফ ফেমে জাইগা করে নিয়েছিল। গোটা বিশ্বে রোহিঙ্গার সংখ্যা মাত্র ১৫ লাখ, তারমধ্যে মুসলমানের সংখ্যা বেশী, তবে বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান রোহিঙ্গাও রয়েছে, এমনকি কিছু হিন্দু রোহিঙ্গারও খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। তাই সব রোহিঙ্গাই যদি বাংলাতে ঢুকে রয়েছে ধরে নিই তর্কের খাতিরে, তাহলেও তা ১৫ লাখের বেশী হবেনা। সুতরাং মিথ্যাবাদী শুভেন্দুর কথা যে- চোঁয়া বদ ঢেকুরের মতই অপ্রয়োজনীয় অস্বস্তিকর সেটা বিজেপিও জানে। কিন্তু বাম শিবিরে এতো যে নিম্নমেধার ছাগলেরা ঢুকে রয়েছে, তা হজম করা কষ্টকর। এই সোশ্যাল বাম্বাচ্চা গুলো সারাদিন ধরে এই ২ কোটি রোহিঙ্গার দোহাই দিয়ে চোলাই শুভেন্দুর কথাকে মাপকাঠি ধরে- ট্রোল করে যাচ্ছে। আসলে এরাই শুভেন্দু ও বিজেপির নেগেটিভ প্রচারটা করে যাচ্ছে।
যে ৩ লাখ নন ম্যাপিং ভোটার শুনানিতেই আসেনি, অথচ ড্রাফট লিষ্টে নাম ছিলো, বামেরা সেই তালিকা প্রকাশ করে সেই BLO/BLA দের নাম ও তালিকা কী প্রকাশ করতে পারবে? সেই সৎ সাহস বা মুরোদ কী রয়েছে আলিমুদ্দিনের বাঙাল নেতৃত্বের? নাকি সেখানকার বাম BLA গুলোও এই জালিয়াতিতে যুক্ত? আর সেই পাপকে ধামাচাপা দিতে আলফাল ট্রোল করে যাচ্ছে। তবে যা খুশি করুক, এরা তোলামুলকে কিছু বলতে নারাজ, অনন্ত ভয়ের সমুদ্রে শয্যা পেতে এরা নাকি বিপ্লবী কমিউনিস্ট দল করে!! ডুবে মরুন আপনারা ঘটির জলে।
এবার আসি পাব্লিকের কথায়। গত ২৩ বছর ধরে নির্বাচন কমিশন আপনাকে লাইনে দাঁড় করায়নি, আপনি প্রশ্ন তোলেননি – যে ভোটের দ্বারা স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে দিল্লির সরকার নির্বাচিত হয়, যেখানে কেন প্রতি পাঁচ বছর অন্তর সংশোধন হবেনা! এত কোটি কোটি ভুলে ভরা ভোটার লিষ্ট দ্বারা নির্বাচিত সরকার কোন আইনের বলে ক্ষমতায় থাকে? কেন সংবিধান সংশোধিত হবেনা?
RSS এর সরকার যে কোনো ছুতোতে গত ১২ বছর ধরে পাব্লিককে লাইনে দাঁড় করানোটাই গুড গভর্নেন্স এর অঙ্গ বানিয়ে দিয়েছে। তাই হেয়ারিং এ কোন ডকুমেন্টস নিচ্ছে আর কী নিচ্ছেনা- সেগুলো বাস্তবিকই একটা পর্যায়ের পর মূল্যহীন হয়ে যাচ্ছে। লাইনে দাড়ানোটা অবশ্যই নির্যাতন, কিন্তু গড্ডালিকা প্রবাহে গা না ভাসিয়ে তলিয়ে দেখুন, এই হয়রানির পিছনের আসল কুশিলব কারা? তোলামুল এই আতঙ্ক তৈরি করতে চাইছে। মুসলমান যদি তোলামুলকে ভোট না দেয়, সরকারের হাতে হ্যারিকেন, তাই নির্যাতন কমিশনের নামে বিজেপির জুজুটাকে বড় বড় করে চোখের সামনে বারেবারে দেখাচ্ছে।
তোলামুল যেহেতু ন্যারেটিভ সেট করেছে যে মানুষ কেন হয়রান হচ্ছে লাইনে দাঁড়িয়ে, পাবলিক তাই লাইনে দাঁড়ানোকেই সবচেয়ে বড় সমস্যা মনে করছে। আমি লাইনে দাঁড়ানো বিষয়টাকে জাস্টিফাই করছিনা, কিন্তু আমাদের জীবনই কেটে যায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে। আরে জন্ম থেকে মৃত্য অবধি আজীবন কাল আপনি লাইনেই দাড়িয়ে চলেছেন, অতীতে দাঁড়িয়ে ছিলেন, আজও দাঁড়াচ্ছেন, আগামীতেও দাঁড়াবেন। রেশনের দোকানে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, ট্রেন বাস ফ্লাইট ধরতে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, পার্কে প্রেমিক/প্রেমিকার জন্য দাঁড়িয়ে অপেক্ষা, ইস্কুলে বাচ্চাকে আনতে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন, মন্দিরে মসজিদে গির্জাতে লাইন দিচ্ছেন, রাত ২টোর সময় প্যান্ডেলের বাইরে লাইন দিচ্ছেন, আইফোন কিনতে লাইন দিচ্ছেন। মদের দোকান থেকে শ্রীলেদার্স- কোথায় আপনি স্বেচ্ছায় লাইনে দাঁড়াচ্ছেন না? একবার সরকারী ব্যাঙ্ক বা যেকোনো সরকারী অফিসে গেলে লাইন থেকে কখন বের হবেন কেউ জানেনা। জন্মের সার্টিফিকেট থেকে শ্মশান- সর্বত্র লাইন আর লাইন। অথচ ২৩ বছর পর দেশের সরকার নির্ধারনের প্রক্রিয়াতে অংশ গ্রহন করার লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে সকলের সে কী বিপ্লব!
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেখানে প্রতিটা ভোটের মূল্য সমান, যেখানে একজন আব্দুল শেখ কিম্বা ছিদাম বাগদির সাথে অমর্ত্য সেন কিংবা শঙ্খ ঘোষের ফারাক কোনখানে? যার ভুল হবে তাকেই ডাকবে, এটাই তো রাষ্ট্রের আইন। বুদ্ধিজীবী এলিট কোটায় কি কোনো সাত খুন মাপের আইন রয়েছে দেশে? তাদের ভুল থাকলে ডাকা যাবেনা, ডাকলেই তারা অবৈধ বিদেশী? তাঁরা বিশিষ্টজন বলে আইনের উর্ধ্বে- এই এলিটিজম আমাদের সংস্কৃতিতে কবে থেকে ঢুকেছে? শুধু নোবেল লরিয়েটই নয়, এলিতেলি টিভির দেড় পয়সা সিরিয়ালের অভিনেত্রী বলছে আমাকে স্পেশাল ব্যবস্থা করে দিতে হবে, ভাবুন অবস্থা।
আসলে এই প্রতিবাদের কতটা স্বতঃস্ফুর্ত আর কতটা ব্রেন হ্যাকিং বা জ্যাম করে করা! আবারও বলছি, SIR এর প্রথম ধাপে মুসলমানকে ভয় দেখাতে পারেনি তোলামূল, তাই এই পর্যায়ে এসে তুমুল একটা ভীতিজনক পরিস্থিতিতে ফেলতে চাইছে তাদের প্রচার যন্ত্রের মাধ্যমে। উন্নয়নের পাঁচালির টোটো থেকে ছড়ানো ভয় তো রয়েছেই, তার পাশাপাশি ইচ্ছাকৃত মারদাঙ্গা সৃষ্টি করে জনগণের মধ্যে গেল গেল রব তুলেছে। রাজ্যের বিভিন্ন অংশে তোলামূলের দুষ্কৃতীরা বিডিও অফিস থেকে এসডিও অফিস আক্রমণ করছে পুরো প্রক্রিয়াকে ভন্ডুল করে দেওয়ার জন্য। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে তোলামূলের এমএলএ ডকুমেন্ট লুটপাট করে নিয়ে চলে যাচ্ছে, অথচ তার বিরুদ্ধে একটা এফআইআর পর্যন্ত করার ক্ষমতা নেই মেরুদণ্ডহীন পুলিশ প্রশাসনের।
অবোধ বাম্বাচ্চাগুলো যদি, তোলামুলের এই প্রপাগান্ডার ফাঁদে পরে ফেসবুক আর ইউটিউবে প্রচারের কাজটা না করত, সমাজের মধ্যবিত্ত অংশে এই আতঙ্ক অনেকাংশেই কম হতো নিশ্চিত ভাবে বলা যায়। একজন এমন মানুষের ঠিকানা দিন যাকে হেয়ারিং এ ডাকা হয়েছে, অথচ তার কোন অংশে কোন ভুল ছিল না- আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আমি নিজের খরচে কমিশনের নামে হয়রানির জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা করব ও লড়ব শেষ অবধি।
BLO যখন বাড়ি বাড়ি গিয়েছিলো, তখন ভাবখানা এমন ছিলো যে- হেয়ারিং এ গিয়ে দেখে নেব। এখন সেই দেখে নেওয়ার সময়ে এসে চেঁচিয়ে গাঁ মাথায় করে আসলে কাকে ডিভিডেন্ট দিচ্ছেন আপনি? এই ভুলের দায় হিসাবে BLA হিসাবে কাজ করা কংগ্রেস, বিজেপি এমনকি বামেদের পক্ষে থেকে যুক্ত থাকা BLA রাও কি নিজেদের সাধু দাবী করতে পারেন?
একটা প্রসেস যখন শুরু হয়েছে সেটাকে শেষ করতে হবে। কিন্তু তোলামূল ও তাদের সবরকম বাহিনীর একটাই লক্ষ্য- ঘেঁটে দাও, যাতে মুসলমান ভয় পায়, আতঙ্কে থাকে আর তাদের দুধেল গাই ভোট ব্যাঙ্ক অটুট থাকে। নতুবা RSS এর গাইডলাইন মেনে তোলামুল সরকার সেই সব কটা নির্দেশ ফলো করেছে, যেগুলো অন্য ১১টা SIR হওয়া রাজ্যও করেছে। তোলামুলের উদ্দেশ্য সমাধান করা নয়, মানুষকে সহযোগিতা করাও নয়, তাদের উদ্দেশ্য আতঙ্কিত করা।
পাশাপাশি মিডিয়া জুড়ে বাইনারিটা যেন তৃণমূল আর বিজেপির মাঝেই থাকে, অর্থাৎ RSS এর মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকে বিষয়টা। মুসলমান জানে
সবই, কিন্তু বামেদের শীর্ষ নেতৃত্বের অপদার্থতার কারনে তাদের বিকল্প হিসাবে গ্রহণ করেনা। তাই মুসলমান জেনে বুঝে তোলামুল নামের
বিষ খাচ্ছে। বস্তুত দুটো
দলেরই বাপ এক- নাগপুরের গোয়ালঘর, একই প্রোডাক্ট দুটো আলাদা আলাদা
দোকান। যতদিন বাংলার মুসলমান এটা না অন্তর থেকে মানবে, তাদের এই নিত্য আতঙ্ক
থেকে মুক্তি নেই।
আপনার শুভ বুদ্ধি কী বলে?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন