বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

WOW! Momo

 


#boycottwowmomo


কলকাতা শহরের বুকে এত বড় অগ্নিকাণ্ড, অথচ চারিদিকে কেমন যেন একটা অদ্ভুত নীরবতা, বরং বইমেলা নিয়ে অনেক বেশি মাতামাতি শহুরে শিক্ষিত মহলে। সোশ্যাল মিডিয়াতে হুজুকে পাব্লিকের মাথা ব্যথা অরিজিৎ সিংহের ফিল্মি গান না গাওয়ার খবর নিয়ে। বিধানসভা নির্বাচন মাত্র দু’মাস বাকি আছে, সেই নিয়ে তর্জার খামতি নেই, SIR নিয়েও চায়ের কাপে তুফান উঠছে। এদিকে তোলামূলের নেত্রী Mamata Banerjee ও তাদের যুবরাজ Abhishek Banerjee এই দুটো পেজে, আজকে বেলা ১২টা অবধি কোনো পোস্ট নেই এই ভয়াবহ অগ্নিকান্ড বিষয়ে সহমর্মিতা বিষয়ে। অথচ অন্যান্য পোলিও বা হুপিং কাশিতে কিম্বা পেঁচো মদ খেয়ে ড্রেনে ডুবে মৃত্যু হলেও পিসি ভাইপো মিলে SIR এ মৃত্যু বলে নৃত্যনাট্য শুরু করে দিয়েছেন গত ২ মাস ধরে। 

ওদিকে তোলামূল যত লাফায়, বিজেপি ততটাই লাফায় মেপে মেপে। ওয়াও মোমোর মালিক যেহেতু মারোয়াড়ি, স্বাভাবিকভাবেই বিজেপির অফিসিয়াল পেজে BJP West Bengal বেলা ১২টা অবধি অগ্নিকান্ড নিয়ে কোনো পোস্ট নেই। মজা হলো ছাগলের তিন নাম্বার ছানা বামেদের নিয়ে, তারা এমনই সরলমতি নির্বোধ- CPIM West Bengal পেজের সর্বজ্ঞ রিংটাল এডমিনেরা নিজেরা জানে না কোনটার প্রতিবাদ কখন করতে হয়, আর কোনটা করতে নেই। যেহেতু তোলামূল বা বিজেপির পক্ষে কেউ কিছু বলেনি, তাদের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলেও অফিসিয়ালি কোনো বিবৃতি জাতীয় কিচ্ছু নেই আজ বেলা ১২টা অবধি, অথচ অগ্নিকান্ডের সময় পেরিয়ে প্রায় দেড় দিন অতিক্রান্ত। একদল চোর বাটপার সরকারে রয়েছে, বাকি দুটোর একটা ধর্মীয় উন্মাদ আর একটা নির্বোধ সর্বজ্ঞ ক্ষমতায় আসতে চায়। এই হলো বাংলার রাজনৈতিক নির্যাস।

আশঙ্কা করা হচ্ছে নিখোঁজ এবং খুঁজে পাওয়া মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা ৫০ জন বা তার বেশি হতে পারে, যারা সকলেই গরিব শ্রমজীবী মানুষ। আজ অবশ্য আরেক ভাইপো অজিত পাওয়ার নিয়ে সকলে ব্যস্ত। সঞ্জয় গান্ধী, রাজেশ পাইলট, বিজয় রূপানি, খান্ডু, YSR রেড্ডি, মাধব রাও সিন্ধিয়া- এই তালিকাতে আরেকটা নাম ৭০ হাজার কোটি চুরি করা ডাকাত অজিত পাওয়ার। প্রমোদ মহাজন, গোপীনাথ মুণ্ডে, বিপিন রাওয়াত, মনোহর পারিকর, এমন অনেক নামের ভিড়ে আরেকটা নাম অজিত পাওয়ারেরও রইল, শাহী জামানাতে যার মৃত্যুর কোনও তদন্ত হবেনা। সে যাই হোক, আনন্দপুরে ফিরি । তবে পিসি সহজে আনন্দপুরে ফিরতে পারছেন না, শরদ পাওয়ারের ভাইপোর এক্সিডেন্ট তার শরীর রক্তশূন্য করে দিয়েছে। হাজার হোক ভাইপো তারও একটা আছে। কে জানে তার কী পরিণতি ঘটাবে! 

বাংলার পক্ষী Garga Chatterjee চৌদারও কিন্তু কোনো দেখা নেই, কোনো আওয়াজ নেই। মেড়োদের টাকায় খেয়েপড়ে সংগঠন চালায়, বলবেটা কীভাবে! দুটো শ্রমজীবী বিহারি মেরে এদের যত বিপ্লব। প্রতিটা শহুরে বুদ্ধিবিচিদের মুখে মাড়োয়ারির বীর্যে ভেজানো বার্গার ঠাসা রয়েছে, চোখে মাসিকের ন্যাকড়া, তাই এরা শুনতে পেলেও- না কিছু দেখতে পাচ্ছে না কিছু বলতে পারছে। সকলের জ্ঞানগরিমা নিজেদের ইজেরে সঞ্চিত রয়েছে, বেশি লাফাঝাঁপা করলে কালীঘাটের মাসোহারা বন্ধ হয়ে যাবে। তাই এরা সকলে বইমেলা নিয়ে ব্যস্ত, কতগুলো ছোটলোক আগুনে পুড়ে মরল না বাঁচল তা দেখার ফুরসত কোথায়!

আনন্দপুরের জতুগৃহে মৃতদের বেশিরভাগের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা। পুলিশ অবশ্য প্যান্ডেল ব্যবসায়ী খেজুরির গঙ্গাধর দাসকে বলির পাঁঠা বানাতে উঠেপড়ে লেগেছে, কারণ মাড়োয়াড়ির টিকি ছুঁলে ঝটকা লাগবে। পুলিশ যেটা ভালো পারে সেটাই করছে, অধিকাংশ বডি হাফিস করে দিয়েছে। তারপরেও ১৬টা লাশ বাইরে চলে এসেছে। ২০ জনের নামে নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে, বারুইপুর পুলিশ জেলার সুপার জানিয়েছেন, বিষয়টা তদন্ত করে দেখছেন।

সোনারপুর উত্তর বিধানসভা এবং নরেন্দ্রপুর থানার অন্তর্গত ওই এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পৌঁছেছিলেন বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম, দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু দাঁড়িয়ে থেকে তথ্য লোপাটে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন। স্থানীয় স্তরে কমরেডেরা আজ হয়তো কোনো প্রতিবাদ মিছিল করবেন, কিন্তু কোলকাতার রাস্তা স্তব্ধ করে দেওয়ার দিন সেই বাম আমলেই ফুরিয়ে গিয়েছে। অবাঙালি মাড়োয়াড়ির নাম উচ্চারণ করে সাধ্যি কি!

উন্নয়নের জোয়ারে আসা কয়েকটি অগ্নিকান্ডের ছোট্ট ঘটনা –

  • ১) ৯ ডিসেম্বর ২০১১, AMRI Hospital অগ্নিকাণ্ড (ঢাকুরিয়া, কলকাতা)। মৃত্যু সংখ্যা প্রায় ৮৯ জন।
  • ২) ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, কলকাতা মার্কেট অগ্নিকাণ্ড (Surya Sen Street Market)। পাঁচ তলা মার্কেটের আগুনে শ্রমিক ও ব্যবসায়ী ছিলেন কাজ শেষে/ঘুমানো অবস্থায়। মৃত্যু সংখ্যা কমপক্ষে ১৯ জন।
  • ৩) ১৫-১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বাগরি মার্কেট (Bagri Market) আগুন দীর্ঘদিন ধরে জ্বলে প্রায় ১,০০০+ দোকান ও সামগ্রী ধ্বংস করেছিল। মৃত্যু সংখ্যা সবটাই ধামাচাপা দিতে সক্ষম হয়েছিল। 
  • ৫) ২৭ আগস্ট ২০২৩, দত্তপুকুর ফায়ারওয়ার্কস ব্লাস্ট (Duttapukur blast)। অবৈধ বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ ও আগুন। মৃত্যু সংখ্যা কমপক্ষে ৯ জন।
  • ৬) ৩০ এপ্রিল ২০২৫, Rituraj Hotel অগ্নিকাণ্ড (বড়বাজার, কলকাতা)। মৃত্যু সংখ্যা ১৪ জন।

এছাড়া পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরার একটি বেআইনি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছিল ১৬-১৭ মে ২০২৩-তে। প্রথম খবর অনুযায়ী ঘটনাস্থলে ২০ জন ঝলসে যায়, তারপর তোলামূল প্রশাসন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সব ধামাচাপা দিয়ে দেয়। গত ১৫ বছর ধরে রাজ্যের প্রতিটা অংশে কত বিয়ে বাড়ি, বাজি কারখানার নামে বোমা ব্লাস্ট করিয়ে কত মানুষ পুড়িয়ে খুন করে কাঠ কয়লা বানিয়ে দিয়েছে, তার কোন লেখাজোখা নেই।

চারিদিকে মিথ্যা প্রশ্নের ভিড় জড়ো করে মাড়োয়াড়িকে বাঁচাবার চেষ্টাতে কোনো খামতি নেই তোলামূল প্রশাসন ও বিজেপির। জলাজমি কবে ভরাট হয়েছে? দমকলের পারমিশন ছাড়া গোডাউন কেন চলছিল? মৃতদের পরিবারের জন্য সরকারের কী বার্তা দিয়েছে, এই সব আবাল প্রশ্নে ছেয়ে রয়েছে বঙ্গ মিডিয়া। 

৫০টা শ্রমজীবী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ কীভাবে দেবে আর কে দেবে ও কবে? কেন ২৪ ঘন্টা কেটে গেলেও WOW মোমোর কেউ গ্রেফতার হয়নি ও কেন! কেন বিরোধীরা এমন গান্ধীজির বাঁদর সেজে বসে রয়েছে?

আম বাঙালিকে শুধাচ্ছি- আপনারা পারেন না আজ থেকে WOW মোমোকে সমুচিত জবাব দিতে, দিন না এই কোম্পানিটাকে বয়কট করে। আপনাদের অন্তরে তো এই খুনিদের প্রতি তীব্র ঘৃণা রয়েছে। সরকার ভাড় মে যাক, নিদেনপক্ষে আপনি তো মৃতদের প্রতি সহমর্মিতা দেখাতেই পারেন- এই মেড়ো কোম্পানিটাকে কালো তালিকাভুক্ত করে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...