রবিবাসরীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রবিবাসরীয় লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৪ এপ্রিল, ২০১৯

।। হে রাম ।।



"ধার্মিকেরা নিজ ধর্মের আচার পালনে মগ্ন থাকে, ধর্ম ব্যবসায়ীরা অন্য ধর্মের প্রতি আক্রমন করে ধর্মাচার্য পালন করে"। এটাই আপ্তবাক্য।
আজকের দিনে এই যে রামনবমী নামের একটা হাল উৎসব নিয়ে এতো অস্ত্রের মাতামাতি, ঝঙ্কার, ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি, সমাজে অস্থিরতা, এর শিকড় কোথায়? কিইবা এর আসল ইতিহাস? চলুন একটু শাস্ত্র ঘ্যেটে দেখা যাক।
ঋগ্বেদে (১০-৯৩-১৮) সর্ব প্রথম ‘রাম’, নাম হিসাবে শব্দটির প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়। সুতরাং রামায়ণের অনেক পূর্ব থেকেই রামনাম্নী অনেকের উল্লেখ রয়েছে শাস্ত্রে। যদিও তারা একই ব্যাক্তি বা আলাদা কিনা সবটা সুস্পষ্টভাবে জানা যায়না। শ্রী বিষ্ণুর অবতার ‘পরশুরাম’, বা মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণের ভাই ‘বলরাম’ এবং দশরথ পুত্র রঘুবংশীয় ‘রাম’ এমন অনেক বিশিষ্ট রাম হিন্দু ধর্মে আরাধ্য।
সূর্যবংশীয় তথা রঘুনাম্নী রাজার নামানুসারে রঘুবংশীয় রাজা দশরথের জ্যাষ্ঠ পুত্র শ্রী রামচন্দ্র। আর্য রাজা, তৎকালীন দিনে আজকের মত পদবী গুরুত্ববাহী ছিলনা তাই শুধুই রাম। রাম কাহিনী সম্পর্কিত এক আধটা উপাখ্যান বাদ দিলে সবগুলোকেই রামায়ন নামে অবিহিত করা হয়েছে। রামায়ণ নিঃসন্দেহে মহাভারত আখ্যানের অনেক পূর্বে লিপিবদ্ধ হয়েছিল, কারন মহাভারতে রামায়ণের কথা উল্লেখ থাকলেও রামায়ণের কোথাও মহাভারতের ছিটেফোঁটা নেই। মহাভারত প্রায় সমস্তটাই নগরজীবনের কথা বলে, অনেক বেশি জটিল, এখানের সকল বড় চরিত্র গুলোই আর্য। সেদিক থেকে রামায়ণ অনেকটা অরণ্য কেন্দ্রিক, অনারম্বর, আর্য অনার্যের লড়াই।
পতঞ্জলি মুনির ‘ত্রিমুনিব্যকরণ’ অনুযায়ী ‘লৌকিক সংস্কৃত’ ভাষাতে, রাম শব্দের আক্ষরিক অর্থ সম্ভবত ‘শুরু’; অবশ্য আদি শঙ্করাচার্যের মতে রাম মানে হল- ঋষি বা তাপসেরা যার সাথে রমণ তথা ধ্যন করে সর্বোচ্চ তৃপ্তি লাভ করেন তিনিই রাম, শ্রীবিষ্ণুর সপ্তম অবতার। সংস্কৃত ভাষায় রচিত আদি রামায়ণের রচয়িতা হিসাবে মহর্ষি বাল্মিকীর নাম আমরা সকলেই জানি, কিন্তু এই সংস্কৃত ভাষাতেই আরো বেশ কয়েকটি রামায়ণের সন্ধান মেলে; যেমন আধ্যত্ব রামায়ণ, আনন্দ রামায়ণ, যোগ রামায়ণ, ভুশন্ডি রামায়ণ ইত্যাদি।
যেহেতু সংস্কৃত ভাষার নির্দিষ্ট কোনো বর্ণমালা ছিলনা, (আজও নেই, নাগরী বা দেবনাগরীই বেশি ব্যবহৃত হয় সংস্কৃত লিখনে) তাই শ্রুতি পদ্ধতিতে সংরক্ষিত রামায়ণ মূল কাঠামো অপরিবর্তিত রেখে স্থান কাল পাত্র ভেদে, বারে বারে পরিবর্তিত হয়েছে। নানা যুগে নানা দেশে কবিরা তাদের মনের মাধুরী মিশিয়ে, তাদের নিজস্ব কল্পনাতে রামকে এঁকেছেন। বাল্মীকির রামায়ণের রাম মহাশক্তিধর পরাক্রমশালী, তুলসীদাসী রামায়ণের রাম রক্তমাংসের মানুষ, যাকে চাইলেই ধরা যায় এতটাই সার্বজনীন। আবার কৃত্তিবাসী রাম নয়নাভিরাম সুন্দর পুরুষ, অপরিসীম করুণার ধারা, অলৌকিক শক্তিতে ভরপুর ও ভীষণ প্রজাবৎসল রাজা। রামায়ণের বিখ্যাত গবেষক কেমিল বাঙ্ক, 1950 সাথে প্রকাশিত “Three Hundreds Ramayana’s” নামক বইটিতে তিনি সারা বিশ্বে প্রায় ৩০০ টি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের রামায়ণের কথা উল্লেখ করেছেন। যেখানে বৌদ্ধ রামায়নে রাম-সীতা ভাইবোন, জৈন রামায়নে রাবন ভীষণ সৎ একজন রাজা, নেপালি কবি ভানু ভক্তের ‘নেপালি রামায়ণ’, কন্নর ভাষায় ‘তোরবেয় রামায়ণ’ এখানে সীতার পিতা রাবণ, যিনি হাঁচির মাধ্যমে জন্মগ্রহন করেছিলেন। অহমিয়া ভাষাতে ‘মাধব কণ্ডলীর’ রামায়ণ, তামিল কোম্বন ভাষাতে ‘ইরামবাতায়ম’, আর বাংলাতে কৃত্তিবাসী রামায়ণ ভীষণ প্রসিদ্ধ।
বিদেশের মাটিতে মানে এশিয়ার অন্যান্য দেশেও রামায়ণের হদিশ পাওয়া গেছে। শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যাণ্ড, ফিলিপিন্স সহ অনেক দেশেই রামায়ণের অস্তিত্ব ও চর্চা আজও বিদ্যমান। মূল রামায়ণকে কেন্দ্র করে যেমন অনেক ভাষায় রামায়ণ লেখা হয়েছে, ঠিক তেমনই রামায়ণের অংশ নিয়ে প্রচুর গ্রন্থ লেখা হয়েছে। মনের রঙে মাধুরী মিশিয়ে রচিত হয়েছে নতুন নতুন কাহিনি। রঘুনন্দন গোস্বামী, রামানন্দ ঘোষ, জগৎরাম, রামপ্রসাদ প্রমুখ এরকম অনেকেই রামায়ণ অবলম্বনে কাব্য রচনা করে প্রভূত খ্যাতি লাভ করেছেন। কালিদসের ‘রঘুবংশম্’, ভাসের ‘প্রতিমা’ ও ‘অভিষেক’, ভবভূতির ‘মহাবীরচরিত’ ও ‘উত্তররামচরিত’, ভট্টির ‘রাবণবধ’, কুমারদাসের ‘জানকীহরণ’, মুরারির ‘অনর্ঘরাঘব’, ক্ষেমেন্দ্রর ‘রামায়ণমঞ্জরী’, রাজশেখরের ‘বালরামায়ণ’, জয়দেবের ‘প্রসন্নরাঘব’, ভোজের ‘চম্পূরামায়ণ’, ঈশ্বরচন্দ্রের ‘সীতার বনবাস’, রবীন্দ্রনাথের ‘বাল্মীকির প্রতিভা’, রামশঙ্করের ‘রামায়ণ’, দ্বিজলক্ষ্মণের ‘শিবরামের যুদ্ধ’, মাইকেল মধূসূদনের ‘মেঘনাদবধকাব্য’ ইত্যাদি গ্রন্থগুলি রামায়ণের অংশ নিয়েই রচিত হয়েছে এবং ভারতীয় সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।
কোথাও অস্ত্র সহযোগে মিছিলের বিবরণ নেই। এই মিছিল কি রামকে সন্তুষ্ট করার সাধনা? কোনো মুনিঋষিই এই তান্ডব সাধনা করেছেন বলে শাস্ত্রে নেই। ক্ষত্রিয়ের ধর্ম অস্ত্রচালনা, যেটা আজকের দিনে পুলিস বা সেনার কাজ, নাগরিকের নয়। যদি নাগরিকের হয় তাহলে রাজ্যের (পড়ুন দেশের প্রধানমন্ত্রী/মুখ্যমন্ত্রী) চুরান্ত অপদার্থ ও অযোগ্য। তাদের মুখোশ খুলে দিয়ে ওদের বদলে দিতে আবার শাস্ত্রে ফেরা যাক।
এতদ সকল কিছুকে ছাপিয়ে তুলসীদাসি রামায়ণ সবচেয়ে জনপ্রিয়। এক বাঁদরের/কপির মুখে একটা দোঁহা শুনে শ্রীরামের প্রতি তীব্র অনুরাগ জন্মায়। যুবক তুলসীদাস গোস্বামী বারানসির কুটিরে প্রভু রামের নিমিত্ত একান্ত সাধনা করে চলেছেন, তার ইচ্ছা প্রভু রামের সাক্ষাৎ লাভের। কিন্তু কোনো প্রচেষ্টাই ফলপ্রসু হচ্ছেনা, ঠিক এই সময় একদিন কাশীর উপবনে প্রাত্যঃকৃত করে অবশিষ্ট জলটুকু প্রতিদিনের ন্যায় একটি একটি নির্দিষ্ট গাছের গোঁড়ায় ঢালার সময় সেই গাছ থেকে নেমে আসে একটি প্রেতযোনি। সাধক তুলসীদাসের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে শ্রীরামের সাক্ষাতের উপায় বাতলে দেন সেই প্রেতযোনি।
দশাশ্বমেধ ঘাটের নিকট কর্ণঘন্টায় প্রতিদিন যে রামায়ণ পাঠ হয় সেখানে এক বৃদ্ধ সাধুর বেশে স্বয়ং অঞ্জনীপুত্র মহাবীর হনুমান আসেন। সেই মত সাধক তুলসীদাস মহাবীরের সাক্ষাৎ পেলেন, এবং হনুমান তুলসীদাসকে চিত্রকূটে যাবার পরামর্শ দিলেন। সেই মত চিত্রকূটে গিয়ে আরো দীর্ঘ তপস্যার পর মন্দাকিনীর তীরে, রাম-লক্ষণ জুটির সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে তুলসীদাসের দাবী অনুযায়ী আরো দুইবার দেবসাক্ষাৎ এর সৌভাগ্য তার হয়েছিল। কখনই তাঁকে গদা আস্ফালন বা গলার শিরা ফুলিয়ে শিশুদের হাতে তরোয়াল দিয়ে জয় শ্রীরাম ধ্বনিতে আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে দিতে হয়নি। অবশ্য তাঁকে MLA বা MP হতেও হয়নি কখনো, বাসনা ছিল বলেও জানা যায়না।
এদিকে আমাদের সাধক শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জীবনী থেকে জানা যায়, তিনিও বুঝেছিলেন তাদের কূলদেবতা রঘুবীরের দর্শন পেতে শুধু ‘মা’কে ধরলেই চলবেনা, তাই তিনি মহাবীর হনুমানের স্মরণাপন্ন হয়েছিলেন। সে সময় হনুমানের আশির্বাদ লাভের জন্য, তার ধ্যনে বিভোর হয়ে মানবসত্তা পরিপূর্ণ রূপে লোপ পেয়ে গেছিল। সেই সময় তিনি বৃক্ষেই বসবাস করিতেন, ফলমূল খেতেন ও সেখানেই শুতেন। রঘুবীর-রঘুবীর বলে নিরন্তর গম্ভীর ভাবে শ্রীরামের অন্বেষণ করতেন। ঠাকুরের নিজের জবানিতে- “আমার মেরুদণ্ডের শেষভাগ প্রায় ইঞ্চিখানেক বৃদ্ধিও পাইয়াছিল, পরে যা কালের নিয়মে যবে মনের উপরে মহাবীরের ভাবের প্রভাব চলিয়া গেছিল, তবে পুনরায় উহা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়া আসে”। সুতরাং ইনিও অস্ত্র মিছিল করেননি।
শ্রী চৈতন্য ও স্বামী বিবেকানন্দও রামভক্ত মহাবীর হনুমানের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধালু ছিলেন। স্বামীজির কথায়- “মহাবীরের চরিত্রকে তোমরা আদর্শ করে নাও। তার জীবন মৃত্যু সংক্রান্ত ভয়কে তিনি জয় করেছিলেন, নিজের বিচার বুদ্ধির উপরে ওনার সম্যক ধারণা ছিল ও সেটাকে কিভাবে সত্যের পথে চালনা করতে হয় সেটা তিনি জানতেন। গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা ভক্তি ও কঠোর ব্রহ্মচর্য তাঁর সাফল্যের কারন। তাই তোমরা তোমাদের জীবনকে তাঁর আদর্শে গড়ে তোলো, যাতে অন্যান্য আদর্শ ও ভালগুলো নিজ নিজ জীবনে নিশ্চিত হয়”। আমরা এগুলোর একটাও না মেনে শুধু গাড়লের মত কিছু নেতাদের অন্ধ ভক্ত হয়ে বসে আছি।
অলৌকিকতা, অপ্রার্থিবতা, জনসাধারনের কাছে রহস্যাবৃত আর কুহেলিকাময় কারনবসত অকারন যুদ্ধের কারনে, ‘রামায়ণ ও মহাভারত’ অতি উচ্চমানের রচনা- ধর্মীয়ভাবে পূজিত ও সমাদৃত হয়ে রইলেও, ঐতিহাসিক দলিল হিসাবে মোটেই স্থান করে নিতে পারেনি। ধর্মীয় জাতিগত আবেগ ও বিশ্বাস দিয়ে ইতিহাসকে ব্যাখ্যা করা যায়না। রামায়ণ বা মহাভারতের ইতিহাসের প্রতি দায় না থাকার কারনে সহজেই একে পরিবর্তন করে দেওয়া যায়, সনাতন ধর্মের উদারতার নামে। যুক্তিযুক্ত নিরপেক্ষ বিচার বিশ্লেষণ পৃথিবীর কোনো ধর্মই চাইনা। ধর্ম মানেই প্রশ্নহীন আনুগাত্য। ভোটের কারবারিরা এই ব্যাথার স্থানটাকেই ধরে ‘রামরাজ্য’ প্রতিষ্ঠার জন্য উদগ্রীব। এখানে শম্বুক বা বালির দোষ জানতে চাওয়া মানেই ধর্মের শত্রু। তাই এ লেখার ক্ষেত্রেও সংঘাতের সম্মুখীন হলে তা মোটেই আশ্চর্যের কিছু নয়।
ব্রাহ্মন্যবাদীদের অত্যাচারে অতিষ্ট ভারতীয় নিম্নবর্ণের হিন্দুরা যখন মুক্তির পথ খুঁজছে ঠিক তখনই উত্তর ভারতে এই তুলসীদাসি রামায়ণের আবির্ভাব। সময়টা ১৫০০ শতকের শুরুর দিকে, যখন এই বঙ্গ দেশেও ব্রাহ্মণ্যবাদীদের মৌরিশপাট্টায় কুঠার হেনেছেন শ্রী বিশ্বম্ভর মিশ্র তথা শ্রীচৈতন্য (ফেসবুকের ভাষায় ফেক একাউন্ট) নামের যুগপুরুষ সমাজ সংস্কারক। তখন প্রতিনিয়ত মিথ ভেঙে তৈরি হচ্ছে নতুন সামাজিক ইতিহাস।
তুলসীদাস সেইসময়ের কথ্য ব্রজবুলি, পালি বা প্রাকিত ভাষাতে তাঁর রামকে বর্ণনা করতে যাননি, বরং সহজিয়া লৌকিক সংস্কৃতের ছন্দে তিনি রামকে শূদ্রের ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিলেন। তুলসীদাসের রাম মোটেই বাল্মিকীর রামের মত অতিপ্রাকৃত নয়। উচ্চবর্ণের হিন্দুর ঘরে যখন শিব, নারায়ণ, বিষ্ণু, কালী, চন্ডীতে একচেটিয়া আধিপত্য; হরেক ছুঁইছাতের মাঝে তুলসীদাসের রাম হয়ে উঠে সধারনের ঘরের ছেলে। দ্রুত নিম্ন বর্ণের হিন্দু সমাজের কাছে উচ্চবর্ণের অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়ার প্রতীক হয়ে উঠে রাম। গননার শুরু থেকে বা পরস্পরের দেখা হলে, কিম্বা মৃতকে সৎকারে নিয়ে যাবার সময় , প্রায় প্রতিটি ‘ছোটলোকেদের’ নামের মাঝে রাম শব্দটি ভীষণ ভাবে জুড়ে যায়। আজও চামার বা দলিতদের মাঝে রাম নামের প্রচলন ব্যাপক অর্থে। এখানেই তুলসীদাসের কৃতিত্ব, এখান থেকেই রামের একচেটিয়া জনপ্রিয়তা গোটা উত্তরভারত জুড়ে। বাংলায় এই প্রভাব না পরার কথা আগেই বলেছি, কারন তখন বৈষ্ণব মতবাদীয় ধারা ঐ রামের কাজটাই এই অঞ্চলে করেছিল শ্রীচৈতন্যের দ্বারা।
গোস্বামী তুলসীদাস ৪ নারীকে দেবী লক্ষ্মীর অবতারস্বরূপা জ্ঞান করেছেন। এবং জানিয়েছেন, এই চার প্রকার নারীকে অবমাননা করলে পুরুষের সর্বনাশ অবশ্যম্ভাবী।
• পুত্রবধূ— পুত্রবধূ সংসারের শ্রীকে ধরে রাখেন। বংশকে গতি প্রদান করেন। সেই কারণে তিনি শ্রদ্ধেয়া। তাঁর প্রতি কোনও রকম অসম্মান প্রদর্শন সংসারকে ছারখার করে দিতে পারে।
• ভ্রাতৃজায়া— বড় ভাইয়ের স্ত্রীর প্রতি অসম্মান প্রদর্শন বস্তুত নিজের মা-কে অপমানেরই সামিল। আর কনিষ্ঠ ভ্রাতার স্ত্রী পূত্রবধূরই তুল্য। সে কারণে এঁদের প্রতি অসম্মান প্রদর্শন মহাপাপ।
• ভগিনী— ভগিনীকেও তুলসীদাস মাতৃসমা বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁকে অসম্মান করা মানে নিজের কুলকে অসম্মান করা।
• কন্যা— তুলসীদাস কর্তৃক প্রদত্ত তালিকার সব শেষে রয়েছে কন্যা। পিতা ও কন্যার সম্পর্ককে পবিত্রতম বলে মনে করছেন কবি তুলসীদাস। তাকে অবমাননা করার অর্থ নিজেকেই অবমাননা করা, এমনই মত গোস্বামীজির।

আমরা অস্ত্র মিছিল করি, কিন্তু ঘরে ঘরে এই সম্মান নারীদের দিই তো যারা রামকে মানেন ভগবান হিসাবে?
‘রামচরিতমানস’-এর মূল কাহিনি কাঠামোতেও বার বার উঠে এসেছে এই প্রসঙ্গ। শ্রীরামচন্দ্রের জীবনকে সামনে রেখে গোস্বামী জানিয়েছেন নৈতিক বিধানগুলিকে। নারী তাঁর কাছে অতি পবিত্র। তাঁর রামকথা-তেও তাই সেই দৃষ্টিভঙ্গি অব্যাহত।
চন্দ্রাবতী রামায়ণ বা সুকুমারী রামায়নে কোথাও রামজন্মের তিথি পালনে হিংসা বা শৌর্যের প্রকাশের উল্লেখ নেই। ডাঃ আম্বেদকরের ‘হিন্দুধর্মের হেঁয়ালি” গ্রন্থের একটা বঙ্গানুবাদ রয়েছে পয়ার ছন্দে, শ্রী সুধীর রঞ্জন হালদার মহাশয় অত্যন্ত নিপুণ ভাবে ‘রামচরিত কথা’ বর্ণনা করেছেন তীব্র শ্লেষের সাথে। শ্রী হালদার আরেক ব্রাহ্মণ শোষিত হিন্দু সমাজ মতুয়া সম্প্রদায়ের।
শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব নিজেও রামের দেখা পাননি, তবে সীতা মায়ের মাতৃরূপের দর্শন পেয়েছিলেন। সুতরাং প্রভু রামের সান্নিধ্য পেতে এই সকল মহাপুরুষেরা কঠিন ব্রহ্মচর্য থেকে আরো কঠিন সাধনার মাধ্যমে সেই লক্ষ্য পূর্ণ হয়েছিল। ডিজে বাজিয়ে বাইকে চড়ে গদা নাচিয়ে নয়।
প্রশ্নটা এখানেই, শাস্ত্রে এই অস্ত্র প্রদর্শনের কথা কোথায় উল্লেখ রয়েছে? যদি না থাকে তাহলে পুনরায় রামায়ণ লিখিত হয়েছে আজকের সমাজের প্রয়োজন অনুসারে। সেই রামায়ণের লেখক কে? মাথায় ফেট্টী বেঁধে হাতে খোলা তরিবারি আসলে মহরমের সময় শিয়া মুসলমানদের করা নিকৃষ্ট আচারের অনুপন্থী, এটাই চুম্বকে আজকের এই রামনবমীর বিকৃত উল্লাস চিত্রের ধাত্রী।
এই রাম একান্তই RSS এর কল্পনাপ্রসূত। এই ‘বিভেদকামী রাম সংস্কৃতি’ বিজেপি নামের দলটি বাস্তবায়ন করেছে অর্ধেক দেশে। খোদ অয্যোধ্যা, ইলাহাবাদ সহ গোটা উত্তর ভারতে এমন উন্মত্ত রামনবনীর দেখা মেলেনা, যেটা আজকাল বাংলার রাস্তায় দেখা যাচ্ছে। অনেক স্থানে রামনবমী উপলক্ষে আবীর খেলা হয়। আসলে এটা তো ভগবানের জন্মদিন উৎসব পালন। শিয়া’রা হাসান হোসেনের মৃত্যু শোক যে উপায়ে পালনের সংস্কৃতি দেশে আমদানি করেছে, রামের জন্ম উপলক্ষে সেই একই সংস্কৃত হল আজকের রামনবমী। বাংলার আকাশ কলুষিত করেছে এই দুই দূষিত সংস্কৃতি।
খুব সুস্থ ভাবে ভাবুন, আমার আপনার বাড়িতে কেউ জন্মালে বা কারো মৃত্যু হলে আমরা লোকদেখানো তলোয়ার, গদা, আগ্নেয়ান্ত্র নিয়ে সদলবলে মিছিল করি? অন্য ধর্মের মানুষদের হুঁশিয়ারি দিই? দিইনা, তাহলে ঈশ্বরের নামে এই অনাচার কিসের স্বার্থে?
রাজ্যের শাসক দল তৃনমূল কংগ্রেস, আজ নিজেদের হিন্দু প্রমান করতে মরিয়া, তারাও সম উদ্যোমে RSS সংস্কৃতির অনুশীলন করছে বিজেপিরিই দেখানো পথে। কার মিছিল কতটা লম্বা, কে কত জোরে জয়-শ্রী-রাম নাদে হৃদকম্প তুলতে পারে তারই ঘৃণ্য কসরৎ চলছে রাজ্যজুড়ে। এদের স্যাঙাৎ হচ্ছে টেলিভিসন মিডিয়া। কোনটা ধর্ম আর কোনটা ধর্মের নামে ভাঁওতা বাজি সেটার ফারাক করার মত শক্তি একটা ফ্যাসিবাদি দলের কাছে থাকেনা। তার উপরে ভুকা মানুষগুলোর সামনে উৎসব আর রাষ্ট্রীয় শাস্তির চাবুক যারা ঝুলিয়ে রেখে শাসন করে, ধর্মের নামে এমন নেশাদ্রব্য কেউ কিভাবে ছেড়ে দেয়!
যারা নাকি বুদ্ধিজীবি, তারাও আজ প্রতিবাদ ভুলে রাষ্ট্রের গুডবুকে আছে, ঝঞ্ঝাটমুক্ত আগামীকালটা ভাল থাকার দায়ে। বড় অল্পে এনারা আজকাল বিকিয়ে যান, এটাই আজ বাংলার সংস্কৃতি।
নিকৃষ্ট দেউলিয়া রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ধর্মের মুখোস পরে। জাতি হিসাবে বাঙালী তরতর করে অবনমনের রাস্তায় ধাবমান। এবাংলা থেকে ওপাড় বাংলা, ফলাফল একই। এখানে RSS, ওখানে জামাত। নিচুতলার দুষ্কৃতীরা আজকের রাজনীতিকে তোলার/চাঁদার বিনিময়ে নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে অশিক্ষিত লুম্পেনরা ধর্মের জিগিরে পেশি আস্ফালন করে চলেছে। বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি আজ সঙ্কটে।
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে কৌশলে হাসিল করার জন্য এক শ্রেনীর লোভী নিকৃষ্ট ‘হিন্দু’ নাম নিয়ে এই ঘৃণ্য চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে প্রথমে ভীত করে দাও, যে ২০% মুসলমান তোমাদের ৮০%কে ভয়ানক বিপদের মাঝে রেখে দিয়েছে। অতএব অস্ত্র তুলে নাও। শুধু বললে কি আর কেউ অস্ত্র নেয়! অতএব শাস্ত্রের ষোড়শপাক রেঁধে তাঁর উচ্ছিষ্ট গুলো দিয়ে নিজেদের স্বার্থমত ধর্মগ্রন্থকে খোলনাচলে বদলে যেটাকে শাস্ত্র বলে চালানোর প্রচেষ্টা হচ্ছে, তা ভয়াবহ। এটাই আজকের রামনবমী, হিন্দু ভোট BJP এর পক্ষে যাক, মুসলমানগুলো TMC এর দিকে ঝুঁকুক। বামেদের থেকে রক্ষা করার জন্য দেশদ্রোহী শব্দটাই যথেষ্ট।
আজ দেশীয় মুসলমানেরা ভাবুক, বিজেপি বিরোধী শক্তি হিসাবে তৃনমূল অদৌ বিশ্বাসযোগ্য? তৃণমূলকে ভোট দেওয়া মানেই পরোক্ষে RSS এর দুর্গার হাত শক্ত করা। দেশের জন্য বিপদের নাম RSS, এরাই আফগানিস্থানে তালিবান, সিরিয়াতে ISIS, অতীতে নাৎসি। দেশপ্রেমের নামে দেশে এক মারন বিচ্ছিন্নতাবাদের খেলা শুরু হয়েছে। রামনবমীর এই অস্ত্র মিছিল সেই খেলারই মুখরা বা অন্তরা।
আমরা তো আবার বামপন্থী, ধর্ম শব্দেই এলার্জি। আমরাও সেই ভক্তদের মত কপিপেষ্টের ভরষাতে থাকি, নিজেদের পড়াশোনার যে কৃষ্টি, সেটা জলাঞ্জলি দিয়ে ওদের লেভেলে নেমে আসি। ওদের ভাষাতে কথা বলে নিজেরা ভাবি জিতে যায়, মোটেই সেটা হয়না। বরং নিরপেক্ষ মানুষেরা খুঁজে পায়না বামপন্থীদের ব্যাবিহারিক ও আদর্শগত সৌন্দর্য। ভক্ত আর কড়া বামেদের মাঝে মৌলিক কিছু ফারাক খুঁজে পাওয়া যায়না দৃশ্যত। ওরা রামের নামে খিস্তি মারে, আমরা বামের নামে, সোশ্যাল মিডিয়া বাম-অবাম কৃষ্টির ফারাকটা অনেকটা ঘুচিয়েছে। আসলে কি জানেন, আমাদের নুন্যতম এই জ্ঞানের অভাবের জন্যই মানুষকে বোঝাতে পারিনা, যে এটা ধর্ম নয় যেটা বিজেপি-RSS-তৃনমূল রামধনু জোট বাংলার বুকে সর্বনাশের খেলাতে নেমেছে। এমনতো নয় যে ধার্মিক মানুষের ভোট বামেদের প্রয়োজন নেই। সুতরাং জেনে রাখলে লাভটা বামেদের, আর বামেরা জিতে গেলে সমাজ জিতে যাবে। ভবিষ্যৎ ভয়ঙ্কর যদি না এদের রোখা যায়।
নিখুঁত প্রেক্ষাপট। কুশীলবেরাও দুর্দান্ত অভিনয় করে চলেছে। আমরা ঠূটো জগন্নাথ হয়ে রয়েছি। সামনেই ভোট, আপনি ঠিক করবেন আপনি কার পক্ষে? রামের পক্ষে না রামকে যারা কলুষিত করেছে তাদের পক্ষে?
না শাসক মানছে রামের আদর্শ, না পারিষদেরা মানছে মহাবীরের জীবনী ধারা। গোটা সমাজটাই আজ বোবা হয়ে রয়েছে। কোনো কিছুতেই আর এর বিবেক জাগ্রত হয়না, উৎসবাক্রান্ত শবের দল। ঐহিত্যপূর্ণ সনাতন ধর্ম আজ সত্যিই সঙ্কটে। গোঁড়া মুসলমানদের জন্য আজ গোটা জাতিকে পরিকল্পিতভাবে বদনাম করা হয়। সেই দিন খুব দূরে নয়, যখন হিন্দু জাতিকেও পৃথিবীর হিংস্র জাতি হিসবে তকমা লাগিয়ে দেবে। নাস্তিকেরা চিৎকার করে প্রতিবাদ করুন, ধার্মিকেরা ধর্মকে রক্ষা করুন এই ধর্মব্যাবসায়ীদের হাত থেকে, যারা গোমাতার পুজো করে ভোট ভিক্ষা করে আর দেশকে ১ নম্বারে নিয়ে যায় ওই গোমাংশ রপ্তানি করে।
ধিক এই মৃত সমাজকে।
তথ্যসুত্রঃ বাংলাপিডিয়া
উইকিপিডিয়া
ডেইলি হান্ট নিউজ
এবেলা
চরৈবেতি ব্লগ

রবিবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৯

।। পুরীষ খোশনাম ।।





সাম্য বিষয়টা কি? সারা পৃথিবীতে সর্বত্র শুধু এরই ভজনা করা হয়ে থাকে। মহাজ্ঞানীরা বলে থাকে মদের ঠেক আর বেশ্যালয় নাকি সাম্যের আঁতুড়ঘর। এই দুই স্থানে কেউ কারো জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায়, বয়স ইতাদি জিজ্ঞাসা করেনা। শ্রেনীহীন, শোষনহীন, ব্যাক্তি মালিকের জবরদস্তিহীন একটা ক্ষেত্র, কিন্তু এর পরেও এর মাঝে রাষ্ট্র ও পুঁজিবাদের একটা ভয়াল ভ্রূকুটি দুই ক্ষেত্রকেই গ্রাস করে রাখে। তাহলে সত্যিকারের সাম্য কোথায়?
সাম্য একমাত্র ব্যাহ কর্মে; মানে আমরা যাকে পায়খানা-প্রস্রাব বলি। পায়খানা ও প্রস্রাব ধনী গরীব, সাদা কালো, লম্বা বেঁটে, কুৎসিত সুন্দরী, শত্রু বন্ধু, বুর্জোয়া প্রলেতারিয়েৎ, শাসক শোষিত, বুদ্ধিজীবী গন্ডমুর্খ ইত্যাদি নির্বিশেষে সকলের উদরে এই বিষ্ঠা কারখানা রয়েছে। কেউই এই বিষ্ঠা সংরক্ষণ করেনা, প্রত্যেকের গু-মুতই বিশ্রী একটা ঘিনিঘিনে ব্যাপার। নির্দিষ্ট কারো গু-মুত আলাদা করে চিহ্নিত করা যায়না। পৃথিবীতে কখনো কোথায় ব্যাহসঙ্কট নামে কোনো জরুরী অবস্থা তৈরি হয়নি, পৃথিবী বহু বিপ্লবের সাক্ষী থেকেছে কিন্তু বিষ্ঠাবিপ্লব শব্দটিও সম্ভবত আমিই প্রথব বাংলা সাহিত্যে আমদানি করলাম, যা কখনই কোনোও কালে সংঘটিত হয়নি। পাতলা পায়খানা, কোষ্ঠকাঠিন্য, বহুমুত্র, স্বল্পমুত্র ইত্যাদি লক্ষনগুলো কেউ কখনো ইচ্ছাকৃত ঘটিয়েছে বলে ইতিহাসে উল্লেখ নেই, এর জন্য নির্দিষ্ট পথ্য ও চিকিৎসকও রয়েছে। পৃথিবীতে কোথাও কখনোও গোপনে বা প্রকাশ্যে পুরীষসমিতি নামের সংগঠন গড়ে উঠেনি। অথচ মলত্যাগ আমাদের দৈনন্দিন একটা অতিপ্রয়োজনীয় শরীরবৃত্তীয় কর্ম।
কেউ কখনও গেয়ে উঠেনি- “আমাকে আমার মত হাগতে দাও... আমি নিজেকে নিজের মত ছুঁচিয়ে নিয়েছি” ইত্যাদি। ‘মম ব্যাহে নিতে নৃত্যে কে যে নাচে টুপা টুপ টুপ টুপা টুপ’ বলে কেউ নাচেনি। পিকু নামে একটিই সিনেমা পায়খানার উপরে নাকি তৈরি হয়েছিল, কিন্তু আসল হিরো গুএর দেখা কখনই মেলেনি, কয়েকটি ক্ষেত্রে উচ্চারিত হয়েই রয়ে গেছে মাত্র। মলকালচার নামে যেটা বিশ্ব সমাজে গড়ে উঠেছে, তার দুর দুরান্তেও গুয়ের ছিটেফোঁটা গন্ধটুকু থাকেনা, এতবড় ধোঁকা। বিশ্বজুড়ে প্রত্যেকের মলমুত্রই এক স্থানে গিয়ে তাদের অন্তিম ক্রিয়া সম্পন্ন করে, নর্দমাতে। বিরিয়ানিতে উচ্চমার্গীয় গু আর শাক শুঁটকিতে উৎপাদিত গু অবরশ্রেনী ভুক্ত এমনটা ভাবার কোনো কারন নেই। এখানে কবর, চিতা, কফিনের মত শ্রেণীবিন্যাস নেই। বিশ্বজুড়ে ভোগের কতশত লেখাজোখা হিসাব, ত্যাগের জন্য শুধুই মহাপুরুষ আর মুনিঋষিরা বরাদ্দ; কিন্তু আমাদের নিত্য যে ত্যাগ তার হিসাব আমরা আমমানুষেরা কখনো রেখেছি কি? আরো অনেক কিছু বক্তিমে লেখাই যেত, বড় হয়ে গেলে পড়বেনা এই ভয়ে এখানেই ভূমিকাতে ক্ষান্ত দেওয়া হল। তবে জন অনুরোধ এলে আবার এ শর্মা- কলম থুড়ি কি বোর্ড তুলতেই পারে। চলুন তাহলে বিষয়ে ফেরা যাক।
পৃথিবীর এক ভাগ স্থল আর তিন ভাগ জল। পৃথিবীতে মোট জল গোটা গ্রহের ৭১ শতাংশ, মানে ৩২.৬০ কোটি কিউবিক মাইল পরিমাণ (৩)। এর মধ্যে মাত্র ০.৫% ই পান যোগ্য জল। ১ কিউবিক মাইল মানে ৪১৬৮১৮২০০০০০০ লিটার পরিমাণ, পানীয় জলের পরিমাণ সে তুলনাতে খুবই নগণ্য।
বন, জঙ্গল, পশু, পাখী, কীট পতঙ্গ বাদ দিলে শুধু মানুষেরই সংখ্যাই ৭৩৪ কোটিরও বেশি। শুধু জানার জন্য জেনে রেখে দিতেই পারেন যে পৃথিবীতে শুধু স্থলজ প্রানীর প্রজাতিই আছে ১ লক্ষ ৯০ হাজার প্রকারের (১); আর যদি সমুদ্রের আণুবীক্ষণিক প্রানীদের গ্রাহ্য করা হয় তাহলে সেটা কম করেও ২০ লক্ষ পেরিয়ে যাবে হাসতে হাসতে(১)। বুঝতেই পারছেন জীবজন্তুদের সাথে তুল্যমূল্য বিচারে আমরা ওই ২০ লক্ষের একটি মাত্র।
তাহলে ওই পেয় জল শুধু মাত্র যদি মানুষই পান করে, তাহলে কত বছর লাগত ওই মজুদ পানীয় জল শেষ হতে সেটার হিসাব নাহয় আপনারাই করুন, এখানে জনপ্রতি দিনে মাত্র ২ লিটার জলই বরাদ্দ হিসাবেই ধরবেন যেন।
আমাদের বেঁচে থাকা থেকে মৃত্যু পর্যন্ত মূলত আমাদের দু-তিনটে কাজই নিজে থেকে উদ্যোগ নিয়ে করতে হয়। বড় হওয়া, ঘুম, নিঃশ্বাস নেওয়া আর মরে যাওয়া এমনি এমনিই হয় আমাদের, মানে এর জন্য আমাদের আলাদা করে মেহনত করতে হয়না।
বাকি যেটা করতে হয় সেটা হল দু তিনটি জৈবিক কার্যের জন্য লড়াই, আর এতেই জীবন ফুরিয়ে যায়। এর প্রথমেই আসে খাদ্য, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এটা লাগেই, পানীয় সহ; না পেলে মৃত্যু অবধারিত। দ্বিতীয় হচ্ছে যৌনতা, কৈশোর বেলার শেষ থেকে পুরুষের জন্য প্রায় শেষ বয়স পর্যন্ত ও মহিলারা শেষ মধ্যবয়স পর্যন্ত এর পিছনেই ছুটতে থাকে খাদ্যের পর। এর পর বাসস্থান, নাহলে সুস্থ থাকা যাবেনা। বাকি সকল কিছুই এর পরে পরে আসবে। কিন্তু অত্যাবশ্যকীয় নয় উপোরোক্তগুলোর মতন।
এই যে আমরা সকলে খায়, শরীর নামের মেশিনটা চালাবার জন্য, বেড়ে উঠার জন্য বা বুড়ো হওয়ার জন্য শক্তি বাবদ ক্ষয় স্বরূপ ও চর্বিরুপে কিছুটা জমিয়ে রাখা বাবদ বাদে, বাকি সকল পাচ্য ও অপাচ্য সকল খাদ্য ও পানীয় বর্জ্য রূপে এই পৃথিবিতেই সকল প্রানীরা ফিরত দিয়ে থাকি। এই বর্জ্য উদ্ভিদের কাছে খাদ্য, প্রানীদের মধ্যে কিছু নিকৃষ্ট শ্রেনী এই বর্জ্য খাদ্য হিসাবে গ্রহন করে (যেমন কৃমি, গুবরে পোকা, গিনিপিগ, নেড়ি কুত্তা, শুয়োর, RSS ইত্যাদি)।
চলুন এবার ব্যাহ্যালোচনাতে আসি। শুধু মাত্র মানুষ দিনে কত পরিমাণ বর্জ্য পরিত্যাগ করে জানেন কি? একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষ দিনে গড়ে প্রায় ৫০০ গ্রাম মলত্যাগ করে। যারা বেশি খায় তারা বেশি ত্যাগ করেন, সেদিকে শিশুরা অল্প খেয়ে অল্প মলত্যাগ করে গড়টা মোটামুটি একটা বিশ্বজনীন রেখে দেন। এই ত্যাগের হিসাবটা সপ্তাহে প্রায় সাড়ে তিন কিলোর মত ও বছরে ১৮০ কেজি প্রায়। যেগুলোর মধ্যে ৭০% সেমি সলিড, ও ৩০% তরল পদার্থ থাকে। মানুষ পায়খানা ঘরে যাবার ১২-১৫ সেকেন্ডের মধ্যেই মলত্যাগ সম্পূর্ণ করে ফেলেন স্বাভাবিক ক্ষেত্রে(২)। অবশিষ্ট সময়টা আসলে ত্যাগের সুখানুভুতি গ্রহণ করি।
মুত্রের ক্ষেত্রে এটার গড় পরিমাণ প্রতি দিন প্রায় ১৫০০ মিলিলিটার (রেঞ্জ ৮০০-২০০০ মিলি)। বছরে প্রায় সাড়ে ৫০০ লিটার।
অতএব একজন মানুষের ৭০ বছর গড় আয়ু ধরে নিলে কমবেশি প্রায় ১২৬০০ কেজি মত মলত্যাগ করে। মুত্রের হিসাবটা ৩৮৫০০ লিটার মানে ১০১৭০ মার্কিন গ্যলন (৪)।
৭৩৪ কোটি মানুষ রোজ ৩৬ লক্ষ ৭০ হাজার টন মলত্যাগ করে। বছরে যেটার পরিমাণ প্রায় ১৩৪ কোটি টন। হিসুর হিসাবটা বছরে ১১০১০০০০০০০ লিটার, কথায় লিখলে এক হাজার একশত এক কোটি লিটার ।
এই গু-মুতের বাইরে মানুষের ঘাম, থুথু, পোঁটা, পিঁচুটি, কফ, বমি, পুরুষের বীর্য, নারীর ঋতুস্রাব, ঘায়ের পুঁজ, হাজা, কান্নার জল ইত্যাদি সহ পশু পাখিদের বর্জ্য, মরা চামড়া, মৃত মানুষ, মৃত পশু, মৃত বাকি সবকিছু, কাপড় কাচা ও শরীর ধোয়ার সার্ফ-সোডা-সাবান, কারখানার দূষিত রাসায়নিক ইত্যাদির পরে আসলে পরিশ্রুত বাঁচে কতটুকু? আমরা কি পরিশ্রুত মলমুত্র বর্জ্যই খেয়ে চলেছি?
ছোট বড় সকল শহরের নর্দমাগুলোই প্রবাহিত হয়ে নদীতে এসে পরে, যা সমুদ্রে গিয়ে মেশে। খুব অল্প ক্ষেত্রেই নর্দমাগুলো সরাসরি নদীতে মেশেনা, নতুবা যারা আমরা নদীর জলে জলকেলি করি বা সরাসরি বলা ভাল যারা গঙ্গাস্নানে যায় নিজেকে পবিত্র করার অভিপ্রায়ে; তারা কিসে যে ডুব দিয়ে আসেন সেটা কেবল ভগাই জানত, আজ আপনিও জানলেন।
প্রসঙ্গত বলে রাখি, আমাদের বাতকর্মের পরিমানটাও নেহাত কম কিছু নয়, রোজ গড়ে আমরা দেড় লিটারের মত গন্ধবায়ু পরিত্যাগ করি। হ্যাঁ, মহিলারাও, ওনারা একটু আড়ালে আবডালে করেন এই যা শুধু ফারাক।
রাষ্ট্র সংঘের হিসাব মতে ২০১৮ সালেও ৬১.৩০% মানুষই পরিচ্ছন্ন ও নির্দিষ্ট স্থানে মলমুত্র ত্যাগ করেনা, খোলা স্থানে পাছায় আলো বাতাস লাগিয়ে মলত্যাগের মজাটা বোধহয় কেউ ছাড়তে চাইনা। সংখ্যাটা প্রায় ৪৫০ কোটি মানুষের খোলাস্থানে ত্যাজিত মলমুত্র, প্রত্যক্ষ ভাবে নদী নালা ডোবা হ্রদ হয়ে সমুদ্রে মেশে। ১৮০ কোটি মানুষের পানীয় জলের উৎসও এই নদ, নদী, নালা ও হ্রদ গুলিই। বুঝতেই পারছেন তৃতীয় বিশ্বে মহামারীর আগমনের কারন।
কোলকাতা শহরে ৫৮ লক্ষ মানুষের বাস ও শহরতলীতে আরো দেড় কোটিরও বেশি। ঢাকা শহর ও শহরতলীতে সংখ্যাটা প্রায় আড়াই কোটির একটু বেশি। শুধু কোলকাতার এই ২ কোটি মানুষের রোজকার পরিত্যাজ্য বর্জ্য, মল ও মুত্রের পরিমাণ ১ কোটি কেজি মানে ১০ হাজার টন প্রায়, আর মুত্রের পরিমাণ সাড়ে ৯৪.৩৪ লক্ষ মার্কিন গ্যালন পরিমাণ। স্বাভাবিক ভাবেই ঢাকা শহরে এই পরিমানটা আরো বেশি।
সামান্য বৃষ্টিতে যখন রাস্তা ছাপিয়ে গোড়ালি ডুবো জলে ‘নাচুঙ্গি ম্যায়- ছম ছম ছম, ছম ছম ছম’ করে নাচেন, বুঝবেন ওটাতে মিশে রয়েছে শহরের নর্দমার জল; আর নর্দমার জল মানে কি পরিমাণ গু-মুত যে মজুত রয়েছে সেটার অনুমান এর পর থেকে নিজেই করে নিতে পারবেন।
১ টন মল দিয়ে ১৬ বর্গ মিটার স্থান ভরাট করে দেওয়া সম্ভব, আর দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা আয়তনে ৩০৯৪৭৩ বর্গ মিটার ফ্লোর এরিয়া। হিসাবটা হচ্ছে ১ কিউবিক মিটার মুত্র মানে ২৬৪.১৭ গ্যালন মুত্র। এবার বুঝে নিন, আমাদের কোলকাতা আর ঢাকা শহরের মুত্র দিয়েই প্রতিদিন ২৩ খানা বুর্জ খলিফা ভরে দেওয়া সম্ভব; পাশাপাশি কোলকাতা আর ঢাকা শহরের মানুষদের মলের পরিমাণ দিয়ে রোজ একখানা করে বুর্জ খলিফা বানানো বা ভরাট করে দেওয়া যাবে। একটা এভারেষ্ট বানানোও কি খুব কঠিক কিছু কাজ!
ভাবুন ভাবুন, ভাবা প্র্যাক্টিস করুন। কতটা পরিশ্রুত ও পরিচ্ছন্ন আপনি বাঁচছেন এই গুয়ে ভরা পৃথিবীতে।
পায়খানা সংক্রান্ত ফুটনোটঃ
ক) জানেনকি গু’এর ৭৫% ই জল। বাকি ২৫% মৃত ব্যাক্টিএরিয়া, খাবারের পাচিত অংশ, চর্বি, প্রোটিং ইত্যাদি।
খ) পিত্তরসের কারনেই গু’এর রঙ হলুদ বর্ণের হয়।
গ) দিনে একবার হাগু করাটাই সুস্থতার লক্ষণ। একমাত্র যুবতী মেয়েরাই এই বিষয়ে ধারাবাহিক। 
ঘ) বসার অভ্যাসের তারতম্য ঘটলে আমাদের হাগুনুভুতি আঘাতপ্রাপ্ত হয়।
ঙ) আমরা প্রায় প্রত্যেকেই কতটা পরিমাণ আর কি ধরনের হাগলাম সেটা একবার না দেখলে আত্মায় তৃপ্তি পৌছায়না, সেটা স্বীকার করুক বা না করুক। 
চ) নীল আমস্ট্রং চাঁদ থেকে কি এনেছেন সেটা আমরা জানি, কিন্তু এটা জানিনা যে উনি প্রায় চার প্যাকেট ভর্তি ‘গু’ রেখে এসেছিলেন চাঁদের মাটিতে। 
ছ) মানুষের পরিবর্তনশীল মানসিক অবস্থা অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াদের প্রভাবিত করে, এর প্রভাবে আমাদের মল-সংস্কৃতিরও পরিবর্তন ঘটে দ্রুত। টেনশনে চুন হাগা আরকি- 
জ) ঋতুস্রাবের সময় মহিলাদের স্বাভাবিক মলত্যাগের নিয়মে অনেকটা পরিবর্তন আসে।

মুত্র সংক্রান্ত ফূটনোটঃ(৫)
ক) আমরা দিনে মোটামুটিভাবে সাতবার হিসু করি।
খ) স্বাভাবিক ভাবে গড়ে আমরা ৭-১২ সেকেন্ডের মধ্যে মূল হিসি সম্পন্ন করি। মহিলাদের ৫ সেকেন্ড ও পুরুষদের সর্বোচ্চ ১৮ সেকেন্ড।
গ) আমাদের তলপেটে অবস্থিত মুত্রাশয়ে ৩০০-৫০০ মিলি পর্যন্ত তরল মজুদ থাকতে পারে।
ঘ) যৌবন পরবর্তী বয়স বাড়ার সাথে সাথে হিসুর বেগ কমতে থাকে আর পরিমাণ বাড়তে থাকে। 
ঙ) অনেক মহিলাদের মধ্যে ‘হিসু করব করব’ ও ‘অকারণে হিসু চেপে রাখব’ টাইপের কিছু মানসিক রোগ এর লক্ষণ দেখা যায়।
চ) গর্ভবতী মায়েরা ‘চলন্ত মুত্র উতপাদনকারী মেসিনে’ পরিণত হয়, কারন বর্ধিত ইউটেরাস মুত্রাশয়কে সঙ্কুচিত করে রাখে।
ছ) যৌনক্রীড়া করার পর অবশ্যই হিসু করা উচিৎ, বিশেষ করে মহিলাদের তো অবশ্যই। 
জ) হিসুতে প্রায় ৩০০০ ধরনের রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যদিও এর ৯৫% ই জল। বাকি ৩% ইউরিয়া ও ২% ওই ২৯৯৮ ধরনের পদার্থ, যা আমাদের শরীরের অপ্রয়োজনীয় রেচন। 
ঝ) অতি চরম যৌন অনুভূতির সময়ে, বিশেষত অনেক মহিলাই প্রচন্ড বেগে স্বল্পপরিমান মুত্রত্যাগের মাধ্যমে নিজেদের চুরান্ত মানসিক যৌনসুখের (অর্গাজম) দৈহিক বহিঃপ্রকাশ করে থাকে।



রবিবার, ২৪ মার্চ, ২০১৯

।। অনশন- হবু শিক্ষকঃ লজ্জা ।।


আজ রোববার। ২৫শে মার্চ ২০১৯।
কোলকাতা বনাম হায়দেরাবাদ এর কোটিপতি লিগের ক্রিকেট ম্যাচের বাৎসরিক আয়োজনের শুরু, কলকাতাতেই সেই ম্যাচ চলছে। ম্যাচটা দুপুরে শুরু হয়েছে, ক্রিকেটমোদী জনগণ তাই ওই এলাকাতে শহরের গোধূলিবেলার মলিন রূপটা দেখতে পাবেননা। সুউচ্চ বাতিস্তম্ভ থেকে আলোকের ঝর্ণাধারা সবুজ মাঠকে আলোকিত করে তুলেছে, হর্ষধ্বনিতে মুখরিত হবে কল্লোলিনী তিলোত্তমা।
আপনি কি ময়দানে গোধূলি দেখতে চান? তাহলে চলে আসুন, ইডেনে যাবার আগে যে আইল্যান্ডটাতে একটা সবুজ ঘাসের হাত থেকে ফোয়ারার সুদৃশ্য জল ঝরছে, যার পোষাকি নাম ‘নেতাজি আইল্যান্ড ইকো গার্ডেন’; ওইখানে দক্ষিণ মুখো দাঁড়িয়ে রাজভবনের দিকে পিঠ করলে বাঁহাতে একটু তেরছা ভাবে যে রাস্তাটা সোজা গিয়ে চৌরঙ্গী রোডে মিশছে ওই রাস্তাটার নাম মেয়ো রোড। রাষ্ট্রীয় মর্যাদাতে বঞ্চনার টেষ্ট ম্যাচ চলছে এখানে; উইকেট পড়ল বলে। মেয়ো রোড ধরে কিছুটা হেঁটে আসুন ইডেনকে পিছনে রেখে, দেখবেন আপনার রাস্তাটা যেখানে আরেকটা রাস্তা কাটছে ওই খানে এসে সামান্য বাঁয়ে তাকান। একটু কষ্ট করতে হবে, কারন কোলকাতা পুলিস আগে এই স্থানটিতে বাস দাঁড়াতে দিতনা মোটেই, প্রেসক্লাবে নিত্য মান্যিগন্যি ব্যাক্তিদের আনাগোনা। ঠিক এই মুহুর্তে সেই পুলিশিই সারিসারি বাস দিয়ে শাসকের দুর্নীতি ও কলঙ্ক ডাকার ব্যার্থ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
আরেকটা রাস্তা যেটা মেয়ো রোডকে কাটল, তার নাম ডাফরিন রোড। এখানেই সাইনবোর্ড পেয়ে যাবেন অভিজাত কোলকাতা প্রেশ ক্লাবের। সামনেটা অবশ্য মাটি খুঁড়ে রেখেছে, কারন অজানা। হয়তবা শাসকের প্রতীকী কবর খোঁড়া হল, বা অন্য কিছু। যাই হোক কোলকাতার অন্য অনেক রাস্তার নাম বদলালেও এই মেয়ো বা ডাফরিন নামক ঔপনিবেশিক যুগের নাম গুলোকে আজও প্রাসঙ্গিক করে রেখেছে বর্তমান দশকের ‘গণতান্ত্রিক’ পদ্ধতিতে নির্বাচিত একটি ফ্যাসিস্ট সরকার। সেই একই রকমের মেজাজ, অত্যাচার ও বাকি সকল আনুসাঙ্গিক। বৃটিশ রাজে রাণীমা সুদূর ইংল্যান্ড থেকে অত্যাচার পরিচালিত করতেন; ইনিও লন্ডন করতে চেয়েছিলেন, আপাতত নবান্ন নামক লাটভবনের ত্রয়োদশ তলা থেকে সুষ্ঠু অত্যাচার পরিচালিত করেন। ইংরেজ লুন্ঠন করেছিল বনিকের ছদ্মবেশে শাসকের মসনদ দখল করে, ইনিও তাই। সততা বিক্রি করে, তৎকালীন উন্নাসিক ও অযোগ্য বাম নেতৃত্বের দুর্বলতার সুযোগে ধাপ্পা দিয়ে বাংলার শাসন ক্ষমতাতে একটা নীতিহীন লুঠেরার দল নিয়ে জাঁকিয়ে বসে রয়েছেন।
একদা ওনার প্রিয় শব্দ ৪০০। তখন একরের গল্প ছিল, এখন ৪০০ জন যোগ্য কর্মপ্রার্থী। অনশনের বীভৎসতা ওনারই সরকারের তুঘলকি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।
যেটা বলছিলাম, ওই প্রেসক্লাবের ছায়া সুনিবিড় গলিপথটার মুখে দাঁড়িয়ে শুধু ঘাড়টা বাঁদিকে একটু ঘোরান, ব্যাস। গোধূলির যাবতীয় মলিনতা দেখতে পাবেন থরে থরে সাজানো কিছু মানুষ্যতর জাতীয় মুখে। উন্নয়ন শুয়ে আছে ফুটপাথে। হয় এরা মানুষ, নতুবা আমরা মানুষ; কারন এরা মানুষ হলে আমরা আবার মানুষ হবার যোগ্যতা হারায়। নিতান্ত ছাপোষা দেখতে, আটপৌরে কিছু যুবক যুবতী ফ্যাকাসে মুখে কিসের যেন প্রতীক্ষায় অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন ফুটপাতে অসহায় হয়ে, বসন্তের রূঢ় প্রকৃতি আর একটা ইতর শাসকের দম্ভের সাথে অসম লড়াই লড়ে চলেছে।
আজ ২৫ তম দিন।
আসলে ছেলেমেয়েগুলো বড় বোকা, তারা কোথাও লেখেনি “মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণাতে...” বাক্যবন্ধটি। লিখলে না জেনেও তিনু সমর্থকেরা অগ্নিকণ্যা জিন্দাবাদ বলে স্লোগান তুলতো। মাননীয়া এখন স্থাবক পরিবৃত্তা, কালিঘাটের বসত বাড়ি থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দুরত্বে প্রায় চারশো SSC পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হবু শিক্ষক তাদের ন্যায্য চাকুরী না পেয়ে, দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে করতে মরিয়া হয়ে আমরণ অনশনে শুয়ে আছে। হ্যাঁ শুয়ে আছে, কারন বসে থাকার মত শক্তি আর নেই তাদের। ২৫ তম দিন!! নাহ, তারা মাননীয়ার মত চকোলেট, স্যন্ডুইচ খেয়ে ধর্ণা দিচ্ছেনা, দেশী বিদেশী মিডিয়ার বুমও নেই। সামান্য মাথার উপরে ছাউনি টাঙাবার অধিকার টুকুও নেই। তবে এরা ধনী, এদের প্রাণশক্তি আছে; দুরাচারী শাসকের চোখে চোখ অহিংস আন্দোলন করার জন্য যোগ্যতা রয়েছে।
এদের ডিগ্রী কোনো ভৌতিক ইষ্ট জর্জিয়া ইউনিভার্সিটির নয়, আমাদেরই রাষ্ট্রের কোনোনা কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত ও চাকুরীর চরম পরিক্ষাতেও উত্তীর্ণ। তাহলে এরা চাকুরী পেলনা কেন? কারন এদের চাকুরি বিক্রি হয়ে গেছে অযোগ্যদের কাছে মোটা অর্থের বিনিময়ে। এদের কাছে ঘুষ দেবার মত অর্থ নেই বা থাকলেও দেবেনা। যে ঘুষের পোষাকি নাম এ রাজ্যে ‘উন্নয়ন’, উন্নয়ন থাকলে যোগ্যতার পরিক্ষাও দিতে লাগেনা, কোচবিহারের তৃনমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী শ্রীমান পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতাকেই দেখুন। ৭৫-২৫ এর অনুপাত মেনে স্থানীয় নেতার মাধ্যমে ঘুষের টাকা পৌঁছে দিন সততার বাড়িতে, আপনার চাকরি হয়ে যাবে। ওই টাকাতে ৭ তলা প্রাসাদে চলন্ত সিড়ি বসবে, বিদেশ থেকে কিলো কিলো সোনা এনে গহনা গড়া হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনি যখন বাহ্যিক লোক ঠকানো টালির চাল আর হাওয়াই চটি দেখে শ্রদ্ধাতে মুর্চ্ছো যাবেন, ততক্ষণে ওনার চ্যালাচামুন্ডারা আপনার পকেট কেটে সাফ করে দেবে। রাস্তাজুড়ে লড়ি থেকে সিভিক আর্মি দিয়ে তোলা তুলতে ব্যাস্ত পুলিস, তাদের সময় কোথায়?
অসভ্যেরা অসভ্যতামি করবে এটাই দস্তুর। এ যাত্রাতে রাজ্যের শাসক ‘বর্বরতায়’ ফেল করেনি শেষ সাত বছরের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী। কিন্তু আমাদের বিরোধী দলগুলো? শক্তিশালী গণতন্ত্র গঠনে বিরোধী শক্তিশালী না হলে ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দেয়। বলছিতো ঠিকিই, কিন্তু মানছে বা করছেটা কে? সত্যিকথা বলতে পার্টি অফিস আর কয়েকজন জীবন্ত জীবাশ্ব নেতা ছাড়া ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস কোলকাতার ২০০ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে নেই। বিজেপি নামক দলটি ওই দাঙ্গা, মন্দির-মসজিদ, লুঠতরাজ, হুমকি, অশ্রাব্য বার্তালাপ, গরু-শুয়োর আর টিপিক্যাল ধান্দাবাজ প্রজাতি ইত্যাদি গুলোর সাথেই যায়। সভ্য ভদ্র সমাজে আজও বিজেপি-RSS পরজীবি জীবানু রূপেই পরিগণিত হয়, ও আগামীতেও হবে।
বাকি রইল বামফ্রন্ট। ফ্রন্টের কথায় বলি, এ বঙ্গে CPM ছাড়া বাকি শরিকেরা প্রায় সকলেই ছেলে বৌ বা নিজে প্রতক্ষ্য ‘উন্নয়নে’ সামিল হয়েছে লোভে বা ভয়ে। চটির ফিতেতে নতুন করে সংসার বেঁধেছেন ওনারা। বাকি রইল সিপিএম; কেন্দ্রীয় বা রাজ্য নেতৃত্ব। পঞ্চায়েত স্তরে এনারা CPM সেজে বিজেপিতে বা তৃনমূল নেতাদের আশ্রয়েই আছেন অধিকাংশ। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সিপিএম নেতৃত্বের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যই বর্তমানে মেয়াদ উত্তীর্ণ জীবনদায়ী ঔষুধ। খেলেও মৃত্যু না খেলেও ফল একই, বরং খেলে মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়। আমরা যারা শুধুই বাম সমর্থক, বাম আদর্শকে বিশ্বাস করি বা ভালোবাসি তারা রয়ে গেছি আকুলপাথারে। বর্তমান নেতৃত্ব মনে ভাবে জনগণ বোধহয় এনাদের চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে গিয়ে ক্ষমতাতে বসিয়ে দেবে। ৭ বছর অতিক্রান্ত, দীর্ঘদিন ক্ষমতার অলিন্দে বাস করায় আজও বিরোধী রাজনীতির সহজপাঠ টুকু শিখে উঠতে পারেনি। তাই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা বা বলা ভাল মমতার ভুলের প্রতীক্ষা করছে প্রভু জগন্নাথ সেজে। শয়ে শয়ে ছটফটানো ইস্যু গুলো হাতের আঙুল গলে চলে যায়, কর্মী সমর্থকেরা চোরের দলের লুঠেরাদের হাতে ও রাষ্ট্রযন্ত্রের পিষনে পিষতে থাকে। নেতারা বিপ্লবের ভোর খুঁজতে ব্যাস্ত পার্টি প্লেনামে বা কংগ্রেসে।
বিরোধী হিসাবে মমতা ব্যানার্জী আদর্শ হওয়া উচিৎ প্রতিটি রাজনৈতিক দলের কাছে। যেকোনো আন্দোলনকে নিজের অনুকুলে ভিড়িয়ে ‘আমার’ বলে রীতিমত হাইজ্যাক করে পাবলিকের কাছে খবরে থাকতেন। এদিকে অনশনের ২৪ তম দিনে আমাদের বামফ্রণ্ট চেয়ারম্যানের মনে পড়ল ‘ওখানে তো একবার যাওয়া দরকার’। ধিক এই রাজনীতিতে। মহিলা সমিতির নামে পার্টির শয়েশয়ে হোলটাইমারদের কাজটাই বা কি? তারাও কি ওই মেয়েগুলোর সাথে রিলে করে বসতে পারতনা?
কটা দিন আগেই জাতীয় পতাকা নিয়ে কিছু স্বঘোষিত দেশপ্রেমী রাস্তায় রাস্তায় দেশদ্রোহী খুঁজে নিয়ে বেদম হুমকি বা মারধর করছিল। আজ তাদেরই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। আপনারা যারা তৃনমূল সমর্থক তারাও কি এতটুকু খোঁজ নিয়েছে? আপনাদের ছেলেপুলেদের চাকরীর দরকার নেই? ভুলে যাবেননা শকুনের কোন বাছবিচার থাকেনা।
ত্রিশ ফুট বাই দশ/বারো ফুটের একটা ফুটপাত, সেখানে পশুখামারের মত গাদাগাদি করে কিছু ভদ্রঘরের শিক্ষিত সন্তান না খেয়ে অধিকার রক্ষার জন্য অহিংস লড়াই চালাচ্ছে। এদের অন্যায় এরা চপশিল্পকে অগ্রাহ্য করে পড়াশোনা চালিয়ে শিক্ষক হবার স্বপ্ন দেখেছিল। তাই ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গুর মশার কামড়কে ছোঃ বলে হেলায় উড়িয়ে নির্ধ্বিধায় বসে থাকতে শিখেছে। ফুসফুসে ও মূত্রাশয়ে সংক্রমণ, নিন্ম রক্তচাপ, পিত্তবমন, স্নায়ু শৈথিল্য সহ নানান ধরনের অজানা রোগ বাসা বাঁধছে ওদের শরীরে। সরকারী হাসপাতালে গেলে থুড়িবুড়ি করে স্যালাইন দিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে, চিকিৎসা নৈব নৈব চ। রাজ্যজুড়ে প্রার্থী তালকাতে কত নামের আগে ডাঃ শব্দটি লেখা। মুখ্যমন্ত্রীর সাধের কন্যাশ্রী, রুপশ্রী প্রকল্পের গালভরা প্রচারের সাথে নারী শক্তির উপরে জোর দিয়ে শতাব্দী, অর্পিতা ঘোষ, মুনমুন সেন থেকে মিমি বা ধর্ষকের প্রেয়সী ও প্রশ্রয়দাত্রী নুসরত যখন স্নো পাউডার মেখে লোক ঠাকাতে ব্যাস্ত, তখন অনাহার, অপুষ্টি ও শহুরে বাতাসের জীবানু পোকামাকড়ের কামড় মেয়েগুলোর শ্রী’তে চর্মরোগ সৃষ্টি করেছে। এরা প্রতীকী, আসলে গণতন্ত্রের কাঠামোতে ঘুণ ধরে গেছে।
বেকারত্বের হরেক জ্বালা; সাথে আত্মসম্মান বোধ থাকলে তো পোয়া বারো। স্বাভাবিকভাবেই ভাঁড়ারে টান পড়লেও পাবলিক ফান্ডিং এর নাম শুনলেই যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখগুলোতেও ফুটে উঠছে প্রত্যয়- “আমাদের টাকার দরকার নেই, পাশে থাকুন। সাহস যোগান দয়াকরে”। তার পরেও মানবিক খাতিরে টিম অকপট সামান্য কিছু ORS সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য প্রায় জোরকরে যখন দিয়ে এলো, আবেগে ওদের চোখে জল। তীব্র অভাব ওই একখন্ড ভূমি যেন আফ্রিকার সোমালিয়া। পানীয় জলের হাহাকার, প্রাত্যহিক বাহ্যকর্মের জন্যও ‘ব্যাওসা’ চলছে নিত্য। ড্রেনের দুর্গন্ধে গা গুলিয়ে উঠলেও সইতে হচ্ছে, দরকার কিছু ব্লিচং পাওডারের; কিন্তু দিচ্ছেটা কে। যাননা এক কেজি ব্লিচিং নিয়ে ওই অনশন ফুটপাতে।
অদূরেই সাপ্তাহিক পুলিশি মাসোহারার বিনিময়ে গড়ে ওঠা গুমটিগুলোর ছায়াতে খোঁচা খোঁচা দাড়ির কঙ্কালসার অনসন কারী ছেলেগুলো জুলজুল চোখে ধুঁকছে। স্বপ্নগুলো একটু একটু করে হয়ত নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, অনেকেরই আর পরীক্ষাতে বসার জন্য বয়স নেই। হয়ত জেদের বসে লাশ হয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের শকুনের প্রখর নজরে পাহারারত।
বিক্ষিপ্তভাবে অনেকেই আসছেন, আসবেও। কোটিপতি ক্রিকেট লীগের খেলাতে হাজার লোকের জমায়েত হয়েছে ফুর্তির জন্য, হাওয়াতে উড়ছে কোটি কোটি টাকা, অতঃপর উল্লাসের শব্দব্রম্ভও ঢাকা দিতে পারবেনা নৃশংস নীরবতার অনশন উদযাপনকে। গর্ভবতী মায়েরই কেবল গর্ভপাত হয়নি, বন্ধ্যা রাষ্ট্রও তৃনমূল নামক একটি অশিষ্ট দলের সাথে অবৈধ সঙ্গমে গণতন্ত্রের গর্ভপাত করিয়েছে।
এরা হেরে গেলে আপনিও আপনার সন্তানের জন্য হয় ২০-৩০ লক্ষ জোগার রাখুন নতুবা চপশিল্পে তার ভবিষ্যৎ লগ্নি হয়ে যাবে আপনা থেকেই। চাকরি অবশ্য দুটো থাকবে, প্রথমত দলদাস হয়ে চাটুকারবৃত্তি ; দ্বিতীয়টা সিভিক আর্মির মত মমতা ব্যানার্জী সৃষ্ট সরকারী চাকুরী। দৈনিক ২০০ টাকা রোজে।
বড় লজ্জা হয় বর্তমানে যারা পেশাগত ভাবে ইস্কুলে পড়ান। এদের সকলকে আমি শিক্ষক বলতে নারাজ, শিক্ষক হতে প্রয়োজন শিক্ষা, আর শিক্ষা আনে চেতনা। শিক্ষক পদে চাকুরীজীবি অধিকাংশই মানুষরূপী জীবজন্তু সম্প্রদায়ের; চেতনাই তো নেই, শিক্ষা পেয়েছে কোথায়? শিক্ষা বিনে শিক্ষকই কেমনে? ভালকে ভাল আর খারাপকে খারাপ যে বা যারা বলতে পারেনা তারা আর যাই হোক শিক্ষিত নন। মাসিক বেতনের সুরক্ষা এদের বিবেকের ঘরে মোটা স্বার্থপরতার আস্তরণ ফেলে দিয়েছে, যা প্রায় অভেদ্য। চোখে বেহায়াপনার ঠুলি লাগিয়ে প্রায় প্রত্যেকেই বসন্ত উৎসবে মত্ত, এদেরই প্রায় প্রত্যেকের সন্তান বেসরকারি স্কুলে পড়ে। যারা বড় হয়ে ডাক্তার, প্রফেসর, বড় ইঞ্জিনিয়ার হবে হয়ত, যদি না হয়? এমনই অনশনের জন্য প্রস্তুত থাকুন আপনারা। সেদিনও আপনি একা হয়ে যাবেন আজ যদি আপনি না যান। একই কথা বলব পুলিস সম্প্রদায়ের জন্য। আপনাদেরও DA নেই, আর যা পে-স্কেল, তাতে তুমুল পরিমাণে ঘুষের টাকা না জমাতে পারলে আপনার ছেলেকেও রেলের হকারি বা চপ সেন্টার খুলতে হবে।
তবে সবচেয়ে করুণা হয় সাংবাদিকতা পেশা যাদের তাদের জন্য। সংবাদ পত্র বা চ্যানেলের কেউ না কেউ মালিক থাকে, যাদের থাকে রাজনৈতিক পরিচয়। কাগজের সাংবাদিক বা চ্যানেলের এঙ্করকে ব্যাবসা দিতে হয় মালিকের সংবাদ ‘কোম্পানির’ জন্য। তাই যেখানে পয়সা, তাদের চাহিদা মত করেই খবর পরিবেশনা করা হয়। বাকি রইল কিছু ফ্রি ল্যান্সার সাংবাদিক, তাদের যা মেধা তাতে মুদি দোকানে কর্মচারিটি হওয়ারও অযোগ্য অতএব সাংবাদিক হয়ে যাও। স্বাভাবিক ভাবেই অনশনের ২০ দিন পর্যন্ত গণশক্তি কোনো মেইনস্ট্রিম মিডিয়াতে অনশনের খবর ছিলনা। প্রেসক্লাবের উঠোনেই কিন্তু এই অনশন চলছে, গুণে গুণে ২০ হাত দূরে তারা মঞ্চ বেঁধে বসন্ত উৎসব চালাচ্ছে।
আমরা, হ্যাঁ, আমরা ‘অকপট’ দলগত ভাবে, ফেসবুকে ইতস্তত বিক্ষিপ্তভাবে পোষ্ট হওয়া ‘অনশন’ খবর গুলোকে জঙ্গি আন্দোলনের জন্য তীব্রভাবে প্রচার চালায় অনশনের ১৭ তম দিন থেকে। আজ ফেসবুক ভরে গেছে অনশনের পোষ্টে, মেইনস্ট্রিম মিডিয়াও দেখাতে বাধ্য হচ্ছে। তাবড় রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব থেকে সামাজিক বরেণ্য মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই, কিন্তু আমরা আমাদের উদ্দেশ্যে সফল; বন্ধু জয় ব্যানার্জী সহ সুব্রত মণ্ডল, তন্ময় হক, সৌরভ মাঝি, প্রদীপ শাসমল, তমাল বোসের মত যারা এই লড়াই এগিয়ে নিয়ে গেছেন তাদের সাধুবাদ জানানোর ভাষা নেই। ওনাদের পাশে যান, কাছে যান, আপনাকে ভীষণ প্রয়োজন ওদের। অনেক অনেক সাহায্য প্রয়োজন তাদের, যা পৌছাচ্ছে তা বিস্তীর্ণ মরুভূমে একফোটা জল সম, আরো অনেক প্রয়োজন। আপনারা এগিয়ে আসুন সভ্য সমাজ।
স্বঘষিত কবিদের গোপনাঙ্গে ফুসকুড়ি উঠলে সেই ব্যাথাতে দুই পক্ষকালীন বেদনার কাব্য উৎসব চলে। যদিও উৎসবে আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর একচেটিয়া পেটেন্ট, জঞ্জালসম কবিতা লিখনেও যেকোনো ফেবু সেলেব কবিকে গুণে গুণে ১০ গোল দেবেন। ফেসবুকের প্রায় প্রত্যেক কবিই আজ ভয়ঙ্করভাবে নিশ্চুপ, ব্যানানা ফ্লেভারের এক্সট্রা ডটেড কাব্যে নিজের সেলফি সহ কবিতার আস্তাকুড় জুড়ে থিকথিক করছে তাদের টাইমলাইন; শুধু এই ছেলেমেয়েগুলোর জন্য অবাক করা নিশ্চুপতা।
পশুপ্রেমীরা দোলে কুত্তাকে রঙ মাখানোর বিপক্ষে ইয়াব্বড় ধমকিওয়ালা পোষ্ট করেছে, কিন্তু অনশনে? মোটেই না। এরপর গালে রঙ মেখে প্রো-পিক বানিয়ে লাইক গুণে কমেন্টে ‘নেকুপুসু’ একঘেয়ে ঘেয়ো শব্দবন্ধ পড়ে পড়ে অর্গাজমের ফিলিং নিতে ব্যাস্ত। সমাজকর্মীদেরও দেখা পাওয়া যাচ্ছেনা, তারা বোধহয় কালীঘাটের ইশারার প্রতীক্ষাতে। তার সাথে রয়েছে ভোট রঙ্গ। প্রার্থীরা বেকারত্ব ঘোচাতে পাশে আছেন দলমত নির্বিশেষে। শুধু অনশনমঞ্চের ছেলেমেয়েগুলোই বিষয়টা জানতে পারলনা, তাদের বাড়িতে অবশ্যই হবু জনপ্রতিনিধিরা গিয়ে কর্মসংস্থানের আশ্বাস দেবেন। সত্যিই আজ উন্নয়ন ফুটপাতে জীবন যৌবন বাজি রাখে গড়াগড়ি খাচ্ছে। এটা দেখিয়ে কি কোনো আন্তর্জাতিক পুরস্কার আসবে মমতার ঝুলিতে?
অপদার্থ শিক্ষামন্ত্রী, মাৎস্যন্যায়ের যুগ বলে কটা বছর ক্ষমতা ভোগ করে নিল। কাঠপিঁপড়ের ঝাঁকে এনাকে বসিয়ে দিলে সংলাপবাজি ভুলে পথে আসবেন এনারা। মমতা দক্ষিণ কোলকাতার স্তাবক ছাড়া কাওকে ক্ষমতা দেননি। সবকটা পদই আ-পদ। নিতান্ত অসভ্য এনারা, নুন্যতম লজ্জা শরমের বালাই টুকু নেই। ক্ষমতা আর অহংকারের দম্ভে এরা সপ্তমে চড়ে বসে। সামনেই ভোট, এবারে ভুল করলে গোটা রাজ্যজুড়ে ফুটপাত কম পড়বে অনশনে বসার জন্য।
রামায়নে রামচন্দ্র বনবাসে গেলে, ভাই ভরত দাদাবৌদিকে ফিরিয়ে নিয়ে আসার জেদে যখন ঘাসের উপরে শুয়ে অনশনের প্রতিজ্ঞা করে বসলেন তখন দাদা রামচন্দ্র বুঝিয়েছিলেন- অনশন ব্রাহ্মণের কাজ ক্ষত্রিয়ের কর্ম লড়াই করা। ব্রাহ্মণের ধার কেউ পরিশোধ না করলে তারা গৃহস্থের দোরের সামনে অন্নবস্ত্র পরিত্যাগ করে শুয়ে থাকত। ব্রহ্ম হত্যার পাপ থেকে বাঁচতে গৃহস্থ যতশীঘ্র সম্ভব ধার পরিশোধ করত। মমতা ব্যানার্জী আপনি তো ব্রাহ্মণ কন্যা, ও নারী; একটু তো লজ্জা করুন। খান তিনেক প্রজন্মকে বেকারত্বের অভিশাপ দান করেছেন, এরাই আপনাকে ক্ষমতাতে এনেছিল। আজ রাষ্ট্রীয় পেশীশক্তি দমন করছেন।
তবে ক্ষত্রিয়ের হাতে কি কিছুই নেই? আছে আছে, রাজা কৌশিক বশিষ্ঠের আশ্রম আক্রমণ করে হেরে গোহারা হয়ে ব্রহ্মতেজের জন্য শিবের উদ্দেশ্যে অনশনে বসে রাজর্ষী বিশ্বামিত্র হয়ে ছিলেন। মুনিঋষিদের যে ধ্যান, সে তো অনশনেরই নামান্তর। মহিষাসুর সহ তাবড় দৈত্যকুলপতিরাও অনশনের অস্ত্রে দেবতার বর লাভ করেছিলেন। শুধুই কি সনাতন ধর্মে অনশন সিদ্ধ? মোটেই না , ইহুদিদের মোজেসও সিনাই পর্বতে দীর্ঘদিন অনশন করে তবেই অগ্নিগোলক রুপী ঈশ্বরের দেখা পেয়েছিলেন। ইসলামে মুহাম্মদ (সাঃ) হেরাগুহাতে অনশন করেছিলে আল্লাহর নৈকট্যলাভের জন্য। খ্রীষ্ট ও বৌদ্ধ ধর্মেও অনশনের গুরুত্ব অসীম। হোগেলপন্থী যুব মার্কসও নানা সময়ে অনশনের আশ্রয় নিয়েছিলে। তাই অনশন এক অতি প্রাচীন অস্ত্র।
প্রাক খ্রীষ্ট যুগে প্রাচীন আয়ারল্যান্ডে প্রথমবার অনশনকে হাতিয়ার রূপে ব্যবহার করার ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায়। এটা ‘সিলাকান’ নামে পরিচিত ছিল সেই কালে। ১৯২৩ সালে এক ঘটনার পরিপেক্ষিতে প্রায় ৮০০০ মানুষ অনশন করেন। বিংশ শতকে বিভিন্ন ব্রিটিশ কারাগারে বন্দিদের মধ্যে অনশন আন্দোলন ভীষণ জনপ্রিয় ছিল, যাদের মধ্যে মেরিল ডানলপ নামে এক বন্দিকে মুক্তিও দেয় তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। কারন তারা চায়নি ডানলপ শহীদ হোক। ১৮৬১ সালে প্রথমবারের জন্য ভারতে অনশনের লিখিত ইতিহাস পাওয়া যায়।
অনশনের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, দেশীয় রাজনীতিতে স্বাধীনতার আগে যতীন দাস, গান্ধীজী, ভগত সিং ও স্বাধীনতার পরে পট্টী শ্রীরামালু থেকে ইরম শর্মিলা চানু হয়ে আজকের এই ছাত্রছাত্রীরা। কাকে খুঁজছিলেন? উনি চকোলেট আর স্যান্ডুইচ খেয়ে ধাষ্টামো মেরেছিলেন, ওটা অনশন ছিলনা- ছিল নাটক। যেমন আন্না হাজারে, আরেক বড় অনশন শিল্পী। অনেকেই জানেনা নরেন্দ্র মোদীও অনশন করেছে ৭২ ঘন্টা, এসি ঘরে বসে। আর সেটা ছিল ‘সম্প্রীতি ও সদ্ভাবনা’ শীর্ষক। হ্যাঁ ঠিকিই পড়ছেন। আরেক অভিনেত্রী তথা জননেত্রী জয়ললিতাও কাবেরী নদীর ইস্যু নিয়ে অনশন করেছিলেন।
ইডেন উদ্যানেও অন্ধকার নেমেছে, ক্ষণিকের উত্তেজনা সমাপ্ত হলে, অনেকগুলো টাকা খরচা করে ফুর্তি করে ফেরা জনগণ একবার হলেও দেখে যেতে পারেন, কিভাবে রাষ্ট্র মানুষকে পশুর মত করে তুলতে পারে। আজকাল কত রকমের ট্যুরিজম হয়, এটা নাহয় অনশন ট্যুরিজম বা ‘উন্নয়ন’ ট্যুরিজম এর নামে এদের কাছে একবার ঘুরে গেলেন। দায়িত্ব নিয়ে বলছি, হতাশ হয়ে ফিরবেননা। বিবেককে জবাব দিয়ে পারবেননা দায়িত্ব নিয়ে বলছি। যেভাবেই হোক এদের পাশে ও সাথে থাকুন। এরা বড় অসহায়।
উন্মাদ হার্মাদ
২৪/০৩/২০১৯

শনিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

।। ফেউ ।।


অঙ্ক বড় গোলমেলে তাদের জন্য, যারা সন্ধিক্ষনে দাঁড়িয়ে থাকেন। অবশ্য বর্তমান এই সময়ের মাঝে বাঁচার একটা আলাদা উতকর্ষতা আছে। জীবন সকলে যাপন করেননা, কেউ কেউ করেন; বাকিরা বেঁচে থাকেন। সন্ধিক্ষণের মানুষেরা যাপন করেন, ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত। গুটেনবার্গ সাহেবের ছাপাখানা আবিষ্কার করবার পূর্বে হাতে লেখা পুঁথি আর শ্রুতিপাঠ্যই ছিল অধ্যয়নের একমাত্র উপায়। যখনকার দিনে আজকের ব্যবহৃত কিছু লিপি থাকলেও আজকের এই বুলি অবশ্যই ছিলনা, প্রাচ্যে হোক বা প্রাশ্চাত্যে। ক্রমে ক্রমে প্রযুক্তি এসেছে, সেই মোতাবেক সকল কিছুই সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে আধুনিকিকরন হয়েছে, যারা পারেনি তারা হারিয়ে গেছে। এটাই বিবর্তনের নিত্যতা সুত্র।

গত শতাব্দিতেও মনোরঞ্জনে ও জ্ঞানার্জনের একমাত্র উপায় ছিল বিভিন্ন লেখকদের দ্বারা লিখিত বই বা পুস্তক ও অনেক লেখকদের দ্বারা লিখিত পত্রিকা। এখন পত্রিকা কথাটির সাত্থে পত্র কথাটি অঙ্গাঙ্গভাবে জড়িত। কারন হয়তবা পত্র মারফৎ লেখা পাঠানো হত বলে, অন্য গ্রহণযোগ্য কারন থাকতেই পারে, হয়তবা সেটাই ঠিক। আমাদের আলোচনা সেটা নিয়ে নয়।

একসময় কলেজস্ট্রিটের কফিহাউজ ছিল সাহিত্যাড্ডার অন্যতম পীঠস্থান, বড়বড় লেখক কবি সাহিত্যিকের প্রাক্তন আড্ডাখানা। অবশ্য যখন তাঁরা যেতেন, তাঁরা নিতান্তই সাহিত্য জগতের অঙ্কুর মাত্র। এমন অনেক অঙ্কুরেরই বাস ছিল ওই অলিন্দে, তাঁদের গুটি কয়েকজন বটবৃক্ষ হয়ে পেরেছেন। বাকিরা হারিয়ে গেছেন সময়ের গর্ভে কালের নিয়মে তখন সোশ্যাল মিডিয়া ছিলনা, তবুও।

এই কফিহাউজটা আসলে কি? কফি খেয়ে কি সাহিত্য প্রতিভা খোলে? নাকি ওই পুরাতন উঁচু বাড়িটার দেওয়ালে পিঠ ঘষলে কলমের ডগে লেখা আসে? আসলে হল কিছু সমমনষ্ক মানুষের ঠেক ওটা, ওখানের টেবিলে কেন্দ্রীভুত হত বা হয় নানান তরতাজা ভাবনারা। সেই ভাবনা থেকে জন্মানেয় আত্মবিশ্বাস আর তাতে ভর দিয়ে চলে সাহিত্যচর্চা।

আজকের ট্যেকস্যাভি যুগে কি মানুষ আড্ডা ভুলে গেছে? মোটেই না। সেই কফিহাউজের সোনালি দিন এখন অতীত, জনপ্রিয় আড্ডা এখন ভার্জুয়াল জগতেই ব্যাপক বিস্তার লাভ করছে। ঘরাণাটা বদলেছে, আঙ্গিক বদলেছে, নামটাও হয়ত। মূল বিষয়টা কিন্তু সেই একই আছে। তাহলে অনলাইনের আড্ডার সাহিত্যচর্চা থেকে যদি নির্যাস রূপে দু দশটা পত্র-পত্রিকা বাজারে আসে, তাতে সাহিত্য সমৃদ্ধ হওয়ারই কথা। আপনার কি কোনো সমস্যা আছে? না নেইকারন সোশ্যাল মিডিয়ার বাইরে যেগুলো ছাপা হয় সেগুলোরও একটা বড় অংশ খাজা মানের। আপনি পাঠক, আপনি ভাল লেখা খোঁজ করেনসেটা যেখানে পাবেন, পড়বেন। সেক্ষেত্রে উৎস সেটাই হোকনা কেন, পত্রিকা মান ধরে রাখতে পারলে টিকে থাকবে, নাহলে কালের নিয়মে হারাবে। কারন বিনামূল্যে বা বিনাশ্রমে তো আর কিছু হয়না, জ্ঞান দেওয়া ছাড়া।

কিছু পত্রিকাকে হিসাবের মাঝে আনছিনা কারন তাঁদের গন্ডি খুবই ছোট। শিল্পী মনের বহিঃপ্রকাশের বাস্তবরুপ সেই গুলো। কোলকাতার পাঠক জানেননা বর্ধমানের সম্পাদক কি পত্রিকা নতুন ছেপেছে, তামনই পুরুলিয়ার আদ্রা শহরের পাঠক জানেননা আলিপুরদুয়ারে কোন পত্রিকা কবে মার্কেটে আসছে এগুলো ১০০ বছর আগেও ছিল, আজও আছে , কালও থাকবে; স্বমহিমায়। শুধু নামগুলো বদলে বদলে যায় বাকি একই থাকে, তবে হ্যাঁ পুজো উদ্যোগতাদের বিজ্ঞাপন ক্রোড়পত্রগুলোকে আবার ম্যাগাজিন ভেবে বসবেননা যেন। 

তাহলে কি সমস্যা নেই? অবশ্যই আছে। যারা এই বাজারের বড় মাথা, গোটা পত্রপত্রিকার বাজারটাকে একচ্ছত্রভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন বা করতেন তাঁদের ‘ফাটছে’। কি রকম ও কেন? চলুন দেখা যাক।

এই সোশ্যাল মঞ্চ থেকে শারদীয়াতে সব মিলিয়ে ১০০-১৫০ পত্রিকা বাজারে এসেছে। যাদের মধ্যে পাতে দেবার মত হাতে গুণে ১০-১৫ টি। আমি নিজে কয়েকদিন আগে কলেজস্ট্রিট আঁতিপাঁতি করে ঘুরেছি, কলেজ স্কোয়ারের ধ্যানবিন্দু থেকে কলেজ স্ট্রিটের পাতিরাম। তারও আগে শেষ ৬টি মাসধরে নতুন বাংলা ম্যাগাজিন দেখলেই কিনেছি, রাজ্য তথা দেশের যে প্রান্তেই গেছি। শুধু শেখার জন্য যে, কেমন করে কাগজের অক্ষরে লেখকের ভাষা প্রাণ পায়! সেই ধারা আজও বহমান, যদিও এ শিক্ষার কোনোদিনও শেষ হবেনা সেটা আমি মোক্ষোম বুঝে গেছি।

সমস্যা “আমাদের”কে নিয়ে, যারা এখনও পর্যন্ত নুন্যতম পেশাদারিত্ব দেখাতে পেরেছি।  মানে ওই ১০-১৫ জন উদ্যোক্তা আর কি। যাদের একেকজনের পত্রিকার নুন্যতম বাজার কাটতি কমবেশি প্রায় পাঁচ হাজার সংখ্যা।  সকলের মিলিত ভাবে সংখ্যাটা লক্ষকপির আশেপাশেএটা শুধু সাহিত্য পত্রিকার কথা হচ্ছে। রান্না, গসিপ, ভ্রমণ, মেডিকেল বিজ্ঞান, জ্যোতিষঃ ইত্যাদিগুলো আলাদা হিসাব। তাহলে এই লক্ষাধিক কপি মোট বিক্রিত সংখ্যার বাজারের অর্ধেকের সমপরিমাণ প্রায়অতএব বাজারি মিডিয়ার মাথা খারাপ হবে এটাই স্বাভাবিক। রীতিমত গাত্রদাহও হচ্ছে, নিশানা বানিয়ে ঝামেলা বাঁধানোর প্রচেষ্টাও হচ্ছে সযত্নে

নির্দিষ্ট কিছু ‘লেখক-সাহিত্যিক-কবি’দের বহাল করেছেন ‘তাঁদের’ বিবেকের বাণী প্রচার করতে, বুদ্ধিজীবি বেশেঅবশ্যই বিক্রিত বিবেক, কারন দেশে এতো কিছু ঘটে যাচ্ছে যখন, তখন এনাদের বিবেক সারা দেয়না এখন দিচ্ছে; ঠিক কেমন দিচ্ছে? শ্রদ্ধেয় এক বড় মাপের প্রতিষ্ঠিত ‘কবি ও সাহিত্যিক’ মহাশয় যেমন, তিনি নাকি কোথাও বলেছেন “সাহিত্যের নামে এই জঞ্জালের ভবিষ্যৎ কি? এতো জঞ্জাল আগে দেখিনি, সবই তো পরস্পরের পিঠ চুলকানি” আমি একটা জিনিস জানতে চাই, জঞ্জাল শব্দে আপনি ঠিক কি বোঝাতে চেয়েছেন? পাঠককে আপনি বা আপনারা মুষ্টিমেয় কয়েকজন মিলে ঠিক করে দেবেন তাঁরা কি পড়বে? এতদিন অবশ্য বাজারি মিডিয়ার বাবুরা তেমনটাই করে এসেছেন। বাজারি মিডিয়া প্রতিবছর অনেককেই তোলেন, অধিকাংশই হারিয়ে যান। আপনিও হয়ত খাদের কিনারায় হয়ত, কলমে লেখা আসেনা আর তেমন তাই বুদ্ধিজীবির বাজারে নিজেকে লঞ্চ করলেন। প্রভুভক্তের মত শেখানো কোটেশন বাজারে ছেরে কিছু রোজগারপাতি মন্দ কি? বাজারি বাবুরা জানেন এই সোশ্যাল মাধ্যম ‘ঘন্টাখানেক’ করার উপযুক্ত স্থান নয়। সোশ্যাল মিডিয়া মুক্তমঞ্চ, এবং উভমুখী। এখানে সরাসরি জবাবদিহি চাইবার সুযোগ আছে, পছন্দ অপছন্দ সবটাতেই কড়া প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় বংশবদ কিছু দালালকে দিয়ে টিভি চ্যানেল হোষ্ট করা নয় এই সোশ্যাল মিডিয়া তারা ১০টা বেতনজীবি লোক পুষে তাদের দিয়ে নানান ট্রল বানিয়ে , উষ্কানি লাগাতে চেষ্টা করছে। তব্র এখানে কিভাবে ওই সব ভাড়াটে টাট্টূদের মোকাবিলা করতে হয় জানা আছে।

একটা সংবাদ পত্র চালাতে প্রচুর আর্থিক বিনিয়োগ সাথে একটা শক্তিশালী নেটওয়ার্ক দরকার, কিন্তু পত্রিকা চালাতে তার অনেক অনেক গুণ কম ইনফ্রাস্ট্রাকচার হলেও চলেযখন সোশ্যাল মিডিয়া নামক প্লাটফর্ম ছিলনা, তখনও নানাভাবে এরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করত। ফলশ্রুতি হসাবে অল্প দিনেই পাততারি গুটাতো সংশ্লিষ্ট সংস্থা। আমারই বাবার এক বন্ধ শ্রদ্ধেয় মনোহর ঘোষাল বাবুকে জেলে পর্যন্ত পাঠিয়েছিল মিডিয়া বিধাতারাকিন্তু সেটা এক যুগ আগে, এটা ২০১৭; সেই পরিস্থিতি সেই মোনোপলি আর নেই। মাননীয় লেখক সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ সাহেব বাজারি পত্রিকাতে চাকরি করলেও তার অধিকাংশ জনপ্রিয় লেখা অখ্যাত ‘ছোট’ পত্রিকাতে ছেপেছিলেন। যেগুলো পরে বই আকারে সঙ্কলিত হয়েছিল।

পত্রিকা টিকে থাকে তার মধ্যে থাকা লেখার (কন্টেন্ট) মানের উপরে। তারও পরে রঙে- রুপে- যেচে- গচিয়ে "আমাদের" মত ১০-১৫ জনেদের পত্রিকা সংখ্যা লক্ষ কপি "বিক্রি" হচ্ছে বলেই বাজারি পত্রিকা- আষাঢ় মাসে শারদ সংখ্যা প্রকাশ করে দিয়েছেযারা ভগবানকে ছাড়া কাওকে ভয় পাননা তাঁরাও নির্ভয়ে শ্রাবন মাসে ‘সেফ’ খেলেছেন। বাকি প্রতিষ্ঠিতেরা শুরুর ভাদরে। কাকে ভয়? কিসের ভয়? সম্প্রতি দেশ পত্রিকা লিখিত বিজ্ঞপ্তি ঘোষণা করেছে যে তাঁদের পত্রিকার লেখা যেন সোশ্যাল মিডিয়াতে কখনই প্রকাশ করা না হয়। প্রচ্ছন্ন ধমকি আর কি। কড়ায়ের তরকারি পুড়লে তলদেশ পর্যন্ত দেখার ক্ষমতা থাকার দরকার নেই, গন্ধ শুকেই বোঝা যায়।

আসলে এনারা পাক্কা ঝানু ব্যাবসাদার। সাহিত্যপ্রেম আমার আপনার থাকতে পারে, আর সেটাই ওনাদের পুঁজি। ওনাদের রুটিরুজি ও বিলাসবসন সবকিছুর উপায় আমাদের সাহিত্য প্রেমএতদিন একচ্ছত্রভাবে ওনারা কিছু নির্দিষ্ট জনের লেখা ছেপে গেছেন, তাতে পাঠকের ভাল লাগুক বা না লাগুক। যতজনের পাঠক রিভিউ যায় বা গেছে, ওনারা কি সেগুলো অকপটে প্রকাশ করেন? কিছু জন লেখক সাহিত্যিক তো আবার রীতিমত এনাদের বংশবদ। চাটুকারিতার চুরান্ত প্রতিফলন ছত্রে ছতে। দেশের প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়াতে। সংবাদমাধ্যম, গায়ক, নায়ক, ইউটিউব, শর্টফিল্ম কনসেপ্ট, হটস্টার, নেটফ্লিক্স, আমাজন প্রাইম সহ সকলেই নতুন মঞ্চ আনছেন বা এনেছেন। আমরা সাহিত্য পত্রিকা আনলেই সেগুলো জঞ্জাল? তাঁরা বুঝেছেন যে এই সুখের দিন খুব বেশিদিন আর নেই। তাই দাঁত নখ বেড় করতে শুরু করে দিয়েছে, প্রভুর আদেশে।

নতুন লেখকেরা পত্রিকাতে লেখা ছাপাবার জন্য একটা সময় এনাদের পায়ে হত্যে দিয়ে বসে থাকতেন। স্বাভাবিক ভাবেই এখন সেটা ৫% হলেও কমেছে। আর এটা যে দিনে দিনে বাড়বে সেটা বলাই বাহুল্য। সাহিত্য পত্রিকার নামে বিজ্ঞাপন ক্রোড়পত্র বেচে বাজারি মিডিয়া ব্যারন মহাশয়গণ, তাতে কতটুকু সাহিত্য থাকে? ইয়া ঢাউস বইতে গুণে গুণে ১০-১২টা লেখা , বাকি সবই বিজ্ঞাপন। যে আয় থেকে প্রভুরা বংশবদদের সামান্য কিছু ছুঁড়ে ফেলে দেন কুড়িয়ে নেবার জন্য, বাকিটাতে তাঁদের বিদেশে প্রমোদভিলা তৈরি হয়।

এই সোশ্যাল মিডিয়ার জঞ্জাল বাবুদের প্রত্যেকেরই ভদ্রস্থ জীবনধারন করার জন্য স্থায়ী রোজগার আছে, প্রানের টানে ও কিছুটা যশলাভের আশাতে পকেটের পয়সা আর সময় খরচা করে অনেকে মিলে নিজেদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করে একটা কাঠামো খাঁড়া করে চলেছেনআর এখানেই ফারাকটা গড়ে দিচ্ছে আমরা যারা সোশ্যাল মিডিয়াতে পত্রিকা প্রকাশ করছি। আমাদের সামনে কোনো মডেল ছিলনা, গোটাটাই আমাদের নিজেদের প্রচেষ্টা। তাই আমাদের হারানোর কিছু নেই, কারন লাভ করতে আসিনি। তবে একটা সম্ভাবনার বীজ বপন করতে সক্ষম হয়েছি।

৫০, ৬০, বা ৭০ এর দশকেও বাজারি পত্রিকার যে মান ছিল আজ তা তলানিতে। কিশোরবেলার পোড়া আনন্দমেলা, সন্দেস বা সমগোত্রীয় পত্রিকার সুখস্মৃতি কি আজকের 'চালু' পত্রিকাতে খুঁজে পান? একটানা ১০ জন আধুনিক এইসময়ের লেখকের নাম মনে করতে পারবেননা। কেন? সোশ্যাল মিডিয়া তো এসেছে আজ ৫ বছর, মানে এই পত্রিকা নিয়ে মার্কেটে আসার কথা বলছি। আসলে পুঁজিবাদের লোভ আর তাঁদের ঘিরে থাকা বংশবদ উমেদার নামক সাহিত্যিক কবির দল বাজারি মিডিয়ার ছায়ায় নিজেদের কবর দিয়েছেন। সেই ঘুরে ফিরে একই মুখ আর তাঁদের লেখা। মানুষ আলাদা টেষ্ট খুঁজছে, আমারা তাই পাঠকের দরবারে সুযোগ পাচ্ছি নিজেদের প্রমান করবার

টানা দু-তিনটে শতক ধরে প্রতি বছর ১২টা করে পত্রিকার সংখ্যাতে ৫ জন করে নতুন লেখক সুযোগ পেলেও বছরে ৬০ জন হয়। আর ত্রিশ বছরে ওই ১৮০০ লেখকের মধ্যে ১৫-২০ জন নিয়মিতের দলে টিকে যান ও ৫-৭ জন সেলিব্রিটি হয়ে উঠেন। এটাই সিস্টেম। হাতে গোনা কয়েকজনকে বাদ দিলে, বিখ্যাত লেখক সাহিত্যিকেরাও সম্ভবত বলতে পারবেননা সারা জীবনে যেগুলো লিখেছেন সেগুলোর সব কটা নাম, কবিদের অবস্থা আরো খারাপ। নিজেরই মনে আছে নেই ২ বছর আগে কি লিখেছিলেন, পাঠকের মনে থাকা তো দূর। তবে সেগুলোকে আমরা জঞ্জাল বলব সেই আস্পর্ধা বা অধঃপতন এখনও হয়নি , ভবিষ্যতেও হবেনা। সোশ্যাল মিডিয়াকেও সময় দেওয়া হোক, সবে তো শিশু। এরও দুটো দশক কাটুক তবে না ভাল মন্দ বিচার। অনেকে বলছে এখানে পরস্পরের পিঠ চুলকে দেওয়ার প্রসঙ্গ।

মশাই আপনাকে বলি, আমি যদি প্রতিষ্ঠিত কবি ও সাহিত্যিকবাবুর সাথে হ্যাতে হ্যাঁ মিলিয়ে শেয়ালের মত চিল্লিয়ে উঠি তাহলে আমি বিপ্লবী প্রগতিশীল আর নিজেরা কিছু আলাদা করে করার চেষ্টা করলেই পিঠ চুলকে দেওয়া নরসুন্দর কানাই শীল? আপনার মতের সাথে আমার মত না মিললেই সেটা বাতিল মত? পিঠচুলকানির বড় এম্বাসেডর তো মশাই আপনি নিজে। বড় মিডিয়া হাউজের হয়ে দালালি করতে লেগে পরেছেন। কিছুদিন আগে দেখছিলাম, মাননীয় সৌমিত্র বাবুও টিভিতে হুনুমান চালিশার অলৌকিক ক্ষমতার বিজ্ঞাপন দিচ্ছেন। আসলে পয়সা বড় বিষম বস্তু, যেখানে শিল্পী হোক আ শিল্প সবটাই হয়ে যায় বাজারি মিডিয়ার পন্য। যেখানে পিঠোপিঠি করে শরৎচন্দ্রের দেবদাস, জাপানী তেল দিয়ে বাসর সাজায় এ লজ্জার দায় কার প্রতিষ্ঠিত কবি ও সাহিত্যিকবাবুদের দল? এখানে বিবেক জাগেনি?

ফেসবুকেও কিছু স্বঘোষিত বুদ্ধিজীবি রয়েছেন, যাদের ভীষণ চুলকানি হয় স্যোশাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্ম থেকে বই বার করলে। এমনকি চিল্লিয়ে দু-কষ বেয়ে থুতুর বন্যা বইয়ে দেন। মশাই আপনার নাভির নিচের লোম পাকলে সেই খবর ফলাও করে বিজ্ঞাপিত করেন, নিজের ছেঁড়া ইজেরের ১৭ তম রিফুর খবর গর্বের সাথে প্রজ্ঞাপিত করেন। কিছুটা যৌনতা কিছুটা পরকীয়া সাথে কিছু বাংলা চুল্লু মার্কা অর্ধ খিস্তি কাহিনীও সেঁটে বেড়ান দেওয়াল জুড়েনিজে গু-গোবর যাকিছু পাচ্ছেন সেঁটে দিচ্ছেন পাঠককে পড়ানোর জন্য, আপনি কিন্তু লেখক নন তবুও দিচ্ছেন, কেন দিচ্ছেন? বলবেন পারেন বলে দিচ্ছেন। সেখানে কেউ একটা বই প্রকাশ করলেই দোষ? আপনাকের পড়তে বলেনি, আপনার কাছে সাহায্যও চাইনি। তাহলে আপনার গুহ্যদেশে জ্বালা ধরার কারন কি? কোন নাপিতে আপনাদের চিকিৎসা করে বলুনতো? চারটে লাইক আর ১১টা খিল্লি কমেন্ট নিয়ে লুঙ্গি ঝেড়ে উলটো কাতে শোয়ার তৃপ্তি পেতে অবশ্য এতটুকুই যথেষ্ট। সেটাও বলুন, বিকৃত কামের কি আর শেষ আছে! উদ্যোক্তারা চেষ্টা করে প্রানে সুখ পাচ্ছেন, আপনারা শুঁকে।

পরিশেষে বলি, আজ ‘আমাদের’ হাতে সময় রয়েছে তাই ‘আমরা’ এই মাধ্যমে সেই সময়টা ব্যায় করতে পারছিকাল সময় না দিতে পারলে আমাদের পত্রিকা থাকবেনা। কিন্তু এর মাধ্যমেই একটা ঘরানা তৈরি হয়ে যাচ্ছে, মডেল তৈরি করে দিতে সক্ষম হয়েছি যেটা নতুন যুগের সন্ধিক্ষন বৈকিএখানে বড় দাদাদের যেকোনো চোখরাঙানি কে উপেক্ষা করাই যায় কাঁচ কলা দেখিয়ে, মুক্ত বাজার। প্রয়োজন শুধু একটু পেশাদারিত্ব আর উপযুক্ত কন্টেন্ট। জঞ্জাল- পিঠ চুলকানি ইত্যাদি নানা ধরনের কথাবার্তা বলে ফোকাস নষ্ট করার চেষ্টা করলেও লাভের লাভ কিছু হবেনা, সেটা আমরা জানি; ওনারাওআমাদের সম্মিলিত এই প্রচেষ্টা থেকেই নানান ভাঙাগড়া উঠাপড়ার মধ্যেদিয়ে আগামীদিনের সেরা লেখক কবি সাহিত্যিকেরা বেড়িয়ে আসবে বলেই বিশ্বাস করি। যারা সোস্যাল মিডিয়ার এই বিশাল মঞ্চে নিজেদের ঢেলে দিতে পারবেন বা পারছেন শ্রীজাত বা সায়ন্তনী পুততুন্ড প্রমুখের মত; তাঁরা টিকে যাবেন। বাকিরা সংখ্যালঘু হতে হতে ডোডো পাখির মত তাঁদের পুরাতন স্মৃতিতেই বন্দি থেকে যাবেন। প্রসঙ্গত এনারা কেউ গুরুদেব রবিঠাকুর নন, নিদেন পক্ষে বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র বা বিভুতিভূষনও নন যে শতবর্ষ পরেও তাঁদের নিজস্ব প্রভাতে অম্লান থাকবেন
  
আমরা প্রতিযোগী হতে আসিনি, আপনারা প্রতিযোগী করে দিচ্ছেন। আমাদের লড়াই আমাদের সাথে, যেহেতু কোনো মডেল ছিলনা তাই প্রতিবার নিজেদেরকে ছাপিয়ে যাবার প্রয়াসটাই আমাদের পাথেয়। তবে, আমদের দয়াকরে লিটিলম্যাগ বলবেননা। লিটিল কথাটার মধ্যে যেন একটা দৈন্য, গরীবি লুকিয়ে আছেআমরা সাহিত্য পত্রিকা। কোনটা সাহিত্য আর কোনটা অপসাহিত্য সেটাও প্লিজ আপনি ঠিক করবেননা বা বাজারি মিডিয়ার তাবেদারেরা ঠিক করে দেবেনা।  আমরা টিকে থাকব কি না, সেটা পাঠকেরা ঠিক করবেন। কারন দিনের শেষে অবিক্রিত সংখ্যাগুলো দিয়ে ঘরসজ্জা করা যায়না, আর সেগুলো ছাপাতে খরচা হয়। সংগ্রহ, সম্পাদনা, বিপণন, মোটেই সহজতম কার্য গুলোর মধ্যের একটা নয়। পত্রিকা বিক্রি হলে স্পনসর আসবে, পত্রিকা টিকে থাকবে। কোনো বাজারি মিডিয়ার দালালেরা ঠিক করে দেবেনা সোশ্যাল মিডিয়ার প্লাটফর্ম থেকে জন্ম নেওয়া পত্রিকার ভবিষ্যৎ। আমার এক অগ্রজ দাদা যিনি এই প্ল্যাটফর্মের একজন কর্মী, তিনিই যথার্থ শব্দটি বলেছেন এনাদের সম্বন্ধে-“আরে ছারো তো এসব ন্যাষ্টি মালদের কথা, যার হাতে কাজ আছে তার বকার সময় কোথায়?  এমন ‘ফেউ’ অনেক লাগবে। প্রশ্নটা ওদের রুজির সাথে জড়িত”সত্যিই তো এগুলো আমাদের শখ বিলাস, কিন্তু ফেউদের সরাসরি পেট সম্পর্কিত। তাই বিকৃত ও বিক্রিত প্রভুভক্তির প্রকাশ আগামী কয়েকবছর চলবেই চলবে। যতক্ষন না হাফিয়ে গিয়ে হাল ছেরে দিচ্ছে।

নদীর জলের উৎস প্রবাহ যদি ঠিক থাকে, তাকে বাঁধ দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করলে সভ্যতা ভাসিয়ে দিয়ে প্লাবন তৈরি করে। আর সেই ধংসের মধ্য দিয়েই তার নতুন গতিপথ সূচিত হয়। সাহিত্য জগত এখন সেই সন্ধিক্ষণে। আমরা সেই বিপ্লবের গর্বিত পদাতিক সৈন্য।

~উন্মাদ হার্মাদ 

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...