বিশ্লেষণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিশ্লেষণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঘৃণার যাত্রাপথঃ স্টেট স্পনসর্ড টেরোরিজম ও RSS

 


ধর্মীয় শোভাযাত্রা এখন দাঙ্গা বাঁধানোর মূল অস্ত্র, নাগপুরের হিন্দুত্ব আধিপত্যবাদীরা ভারতের আত্মাকে ছিন্নভিন্ন করছে দিয়েছে; যার মেরামতিতে কয়েকটা দশক লাগবে এদের সম্পূর্ণ নির্মূলকরনের পরেও। 

RSS এর কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোকে- নূন্যতম ১০ মিনিট হলেও স্থানীয় কোনো মসজিদের সামনে এসে ডিজে বাজিয়ে উদ্দাম নাচনকোঁদন, বাজি ফাটানো, তীব্র ঘৃণাসূচক স্লোগান দিতেই হবে। এর উপরেই তাদের অস্তিত্ব টিকে আছে; যেখানে মুসলমান আর মসজিদ অপসন নেই, সেখানে এদেরকে আদিবাদী ও ব্রাহ্মণ ব্যতিত অন্যান্য ‘ছোট জাতের’ হিন্দুদের উপরে আক্রমণ করতে হবে। এসবের পেছনে রাজনৈতিক সিদ্ধি লাভের অঙ্ক ছাড়া কিচ্ছুটি নেই, নুন্যতম সামাজিক কিম্বা ধর্মীয় উদ্দেশ্য খোঁজা অর্থহীন সময় নষ্ট। একটা সময় অবধি এই ধরনের ঘটনাগুলো মূলত রাম নবমী, হনুমান জয়ন্তী জাতীয় হাতেগোনা অনুষ্ঠানের দিনেই সীমাবদ্ধ ছিলো, আজ ১২ বছর ধরে মহাদানবের শাসনের পর- যে কোনো উঠতি হিন্দুত্ববাদী নেতা, যার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রবল, কিম্বা যে নেতার সদ্য ডিমোশন হয়েছে, তাদেরকে লাইমলাইটে আসতে গেলে একটাই সহজ পথ; মসজিদের সামনে গিয়ে তান্ডব করো কিম্বা কোনো গরীব মুসলমানকে প্রকাশ্যে হেনস্থা করো। এই পদ্ধতিতে, বিজেপির আদর্শগত অভিভাবক ‘সঙ্ঘ পরিবারের’ নেক নজরে এলেই, তাকে সরাসরি সরকার ও প্রশাসনের উচ্চপদে নিয়োগ দিয়ে পুরষ্কিত করা হচ্ছে প্রতিটা ক্ষেত্রে।

মুসোলিনির ফ্যাসিস্টদের প্রতি মোহগ্রস্ত কিছু গোঁড়া ও সুবিধাবাদী বেইমানদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত RSS হলো হিন্দু আধিপত্যবাদের মোড়কে নিকৃষ্ট উগ্র জাতীয়তাবাদীর জনক, যারা রাজনীতি করে ধর্মের বর্ম বানিয়ে। ইহুদী জায়োনিজম ছাড়া আজকের পৃথিবীতে RSS-এর মতো এমন ইতর প্রতিরূপ খুঁজে পাওয়া কঠিন। ভারতীয় হিন্দু ধর্মতত্ত্বের উৎসের দিকে তাকালে দেখবেন- এটা সেই অর্থে শ্রেণিবদ্ধ ও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত কোনো ধর্ম ব্যবস্থা নয়, বিবিধতাই এর মূল পরিচয়বাহক। কিন্তু ব্রাহ্মন্যবাদী যাজক সম্প্রদায় RSS এর রূপে এসে; এই বহুত্ববাদী ধর্মতত্ত্বকেই রাষ্ট্রপরিচালনার একটি প্রকল্পে রূপান্তরিত করেছে। হিন্দুধর্মের কোনো প্রধান মন্দির নেই, যেমন ক্যাথলিকদের ভ্যাটিকান বা মুসলমানদের মক্কা-মদিনা আছে। হিন্দুধর্মে পোপের মত কোনো একক ধর্মগুরু নেই যার একক বাণীই ধর্মের শেষ কথা। RSS ঠিক এই সুযোগোটাকেই লুফে নিয়েছে, নিজেদেরকে হিন্দু ধর্মতাত্ত্বিক নিয়ামক বানানোর প্রচেষ্টাতে লেগে রয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের জন্য ‘হিন্দু-রাষ্ট্র’ স্থাপনের মাধ্যমে ধর্মীয় সুড়সুড়ি তাদের প্রধান অস্ত্র। এখন হিন্দুরাষ্ট্র বানাবার প্রথম ধাপ কি? মুসলমান ও তাদের ধর্মীয় উপাসনাস্থল মসজিদে আক্রমণ। এখান থেকে অশান্তির মূল শুরু।

মসজিদের সামনে নেচে জাতিগতভাবে হিন্দু ধর্মের কোন উন্নতি আজ অবধি হয়েছে? মানে বিজেপির নেতাদের ছাড়া আম হিন্দুর কোনো লাভ হয়েছে? উস্কানিমূলক আচরণের মাধ্যমেই ‘সঙ্ঘ সংশ্লিষ্ট’ গোষ্ঠীগুলো ঘৃণার বারুদ ভরা শব্দে শাওয়ার হয়ে গোটা দেশজুড়ে তাদের রাজনৈতিক আধিপত্য বা ক্ষমতা প্রদর্শন করে চলেছে। মূলত কোনো বড় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মেরুকরনের জন্য ধর্মীয় উত্তেজনা তৈরি করে এরা, যাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট হয়। যারা মনের মাঝে ইসলামোফোবিয়া পালন করে, সেই ভোটব্যাংক শক্তিশালী হয় এই বিভিষীকা দেখে। উস্কানি ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি এদের অন্যতম উদ্দেশ্য, যাতে অপর পক্ষকে উত্তেজিত করে কোনো হিংসাত্মক প্রতিক্রিয়ায় জড়িয়ে যায়। তখন সেটাকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেওয়া সহজ হয়। এর মাধ্যমে মুসলমান সম্প্রদায়ের মনে ভয় বা নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি করা যায় সহজে, যাতে তারা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে তৃতীয় শ্রেনীর নাগরিক হয়ে যায়।

আর এই সবকিছুকে নির্মান করা হয় জাতীয়তাবাদের গাঁজা খাইয়ে। ‘জয় শ্রীরাম’ যেমন বিজেপির রাজনৈতিক স্লোগান, ‘ভারত মাতা কি জয়’ও তাদের রাজনৈতিক স্লোগানের অংশ বর্তমানে। কট্টরপন্থী উগ্র জাতীয়তাবাদী ভাবধারা থেকে সর্বসমক্ষে অন্য ধর্মের উপাসনালয়ের সামনে নিজেদের ধর্মীয় শক্তির প্রকাশ ঘটানো এখন প্রতিটা বিজেপি সরকারের বীরত্বের প্রতীক। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার যে কাঠামো ছিলো, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্প্রীতি ছিলো, তা এই বারো বছরে শুধু ক্ষতিগ্রস্তই হয়নি, অনেকটা তলিয়ে গেছে। ঘৃণার বিষ সমাজের কয়েকটা প্রজন্মের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে- চাইলেই যা রাতারাতি উদ্ধার করা যাবেনা। 

কয়েকটা উদাহরণ দেখুন, এই সেপ্টেম্বর ২০২৬ এর; উত্তর প্রদেশর মিরাট শহরের ঐতিহাসিক শাহী জামা মসজিদ নাকি সম্রাট অশোকের আমলের একটি মঠ ধ্বংস করে নির্মাণ করা হয়েছিল। একজন নাগপুরী জঙ্গি রামকুমার শর্মার অভিযোগের ভিত্তিতে মসজিদটিতে তালা লাগিয়ে দিতে বলেছিলো নিম্ন আদালত, স্থানীয় প্রশাসন যথারীতি বুলডোজার চালিয়ে দিয়েছে। ইতিমধ্যের শতবর্ষ প্রাচীন ব্রিটিশ আমলের শাহারানপুর মসজিদে বুলডোজার চালিয়ে দিয়েছে, একই জমিতে একই সময়ে নির্মিত মন্দিরটি অক্ষত রয়েছে। ওদিকে মোরাদাবাদ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ স্থানীয় মুস্তাফা মসজিদের তত্ত্বাবধায়কে ভবনের নকশা চেয়ে একটি নোটিশ জারি করেছে। এটাকেও যেকোনো দিন ভেঙে দেবে, তার আগে একটু আইনি আইনি খেলার নকশা না করলে কেমন যেন মজা আসেনা। অথচ একই মালিকের দান করা জমিতে এই মোরাদাবাদ জামা মসজিদের ঠিক পাশেই থাকা জৈন মন্দির নিয়ে না হিন্দুত্বের রক্ষাকর্তা না প্রশাসন- কারো কোনো সমস্যা নেই।

মহারাষ্ট্রের অচলপুরে কানওয়ার যাত্রার সময় স্থানীয় একটি মসজিদের সামনে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান সম্বলিত যাত্রাপালাটি প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ নভনীত রানা এবং বিজেপি বিধায়ক প্রবীণ তায়েদের উপস্থিতিতে চলেছে। বেশ কয়েকঘন্টা ধরে মসজিদ অবরুদ্ধ রেখে, সেখানে হনুমান চালিসা পাঠ করা হয়। সবচেয়ে মজা হলো পুলিশ ও প্রশাসন এই নির্দিষ্ট গেরুয়া জঙ্গিদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়, যাতে তারা সুশৃঙ্খল ভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। আগামীতে যখন ইতিহাস লেখা হবে, স্টেট স্পনসর্ড টেরোরিজম কাকে বলে, এই গুলো প্রতিটার উল্লেখ থাকবে আগামীর গবেষকদের জন্য।

গবেষনা প্রসঙ্গে বলি, Routes of Wrath: Weaponizing Religious Processions নামের একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিলো- ‘সিটিজেন অ্যান্ড লইয়ার্স ইনিশিয়েটিভ’ দের দ্বারা। Weaponizing Religious Processions: Communal Violence During Ram Navami and Hanuman Jayanti (April 2022) শীর্ষক এই রিপোর্টে বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে RSS ও নানান শাখাগুলো পরিকল্পিত দাঙ্গা বাঁধায়, দাঙ্গার নেপথ্যভূমি কী থাকে, পুলিশ-প্রশাসনই-বা কী ভূমিকা নেয়, কারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় সবচেয়ে বেশি আর মিডিয়াই-বা কী ভূমিকা পালন করে। পারলে রিপোর্টটি অবশ্যই পড়ে দেখবেন। 

মন্দির নয়, মসজিদই হচ্ছে RSS এবং তার হিন্দুত্ববাদী শাখা সংগঠনগুলির মূল উপাসনালয়, মুসলমান বিরোধিতার এক ভয়ঙ্কর শাণিত অস্ত্র। এরা মন্দিরে সাধন ভজন করুক বা না করুক, মসজিদের সামনে এসে নাচতেই হবে, নাহলেই ‘হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়’। হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক ফায়দার লক্ষ্যে মুসলমানদের আক্রমণ আর থকথকে ঘৃণা মেশানো বিষাক্ত স্লোগান একে অপরের পরিপূরক, যে শোভাযাত্রার রঙ গেরুয়া। যে রং আবহমানকাল ধরে ভারতীয় সন্ন্যাসীদের ত্যাগ ও তিতিক্ষার প্রতীক, যে রং ভারতের জাতীয় পতাকার অঙ্গ- সেই গেরুয়া আজ ঘৃণা, বিদ্বেষ, ভয়, ধ্বংস, দাঙ্গা, হত্যা, বুলডোজারের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। চেতনাহীন উন্মত্ত কিছু যুবক-যুবতী, তাদের উন্মাদ-তাণ্ডব নাচ, হাতে হাতে নাচে যুগপৎ ধারালো অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোটা, আগ্নেয়াস্ত্র- আর জারিকেন ভরা সহজদাহ্য জ্বালানি। 

RSS স্বীকৃত একদল জঙ্গি গেরুয়া রংটাকে অবলম্বন করে সমস্ত তাণ্ডব গুলো চালাচ্ছে। গৌতম বুদ্ধের চীবর, শংকরাচার্য, স্বামী বিবেকানন্দ সহ রামকৃষ্ণ মিশন বা ভারত সেবাশ্রম- সকলে গেরুয়া রং ব্যবহার করে এই রংকে শান্তির প্রতীক হিসাবে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছেন। ব্যক্তিগত সংসার, সম্পদ, ভোগ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের জীবন ত্যাগ করে তবে নিজেকে প্রকৃত গেরুয়া রঙে রাঙানো যায়। RSS এর দূর্বৃত্তের দল নিজেদের নিকৃষ্ট উদ্দেশ্য ও ক্ষয়িষ্ণু অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে- হিন্দুত্বের অস্তিত্ব ও চলমান আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে পড়ে গিরগিটির মতো গেরুয়া রঙে নিজেদের ছাপিয়ে নিজেদের বাঁচিয়ে রেখেছে।

রং বিভাজনের যে নিকৃষ্ট খেলা, যেটার সফল পরীক্ষা তৃণমূল কংগ্রেসের মাধ্যমে বাঙলাতে করিয়েছিল RSS, সেটা আজ বাঙালির মননে ঢুকে গেছে। একটা রাজনৈতিক দলের পতাকা তৈরি হয়েছে কংগ্রেসের পতাকাকে চুরি করে, যেখানে নীল সাদা রঙের কোন অস্তিত্বই নেই, অথচ তৃণমূল নামক দলটির অস্তিত্ব টিকে আছে নীল সাদা রঙের মধ্যে। এই নিকৃষ্ট সাম্প্রদায়িক মানসিকতা সমাজের নিচের দিকে একশ্রেনীর লুম্পেন তৈরি করেছে বলে ভুল হবে, বাঙালি সমাজের মাথা থেকে পা অবধি বায়োলজিক্যাল ফর্মটা চেঞ্জ হয়ে গেছে। পৃথিবীর যে কোন দেশে রেড কার্পেট বিছানোর মাধ্যমে তাকে সর্বোচ্চ সম্মান দেয়া হয়। এটাই সভ্যতার গতিপথের অভিমুখ, মানুষ যেমন উল্টোদিকে হাঁটতে পারে না, সিগন্যালের আলো লাল, হলুদ আর সবুজের বাইরে অন্য কিছু ব্যবহার করতে পারেনা- তেমনই রেড কার্পেটও একটা একক। অথচ একদল অজ গেরুয়া রঙের কার্পেট বিছিয়ে পুরনো নীল সাদা মূর্খ ঐতিহ্যের উত্তরসূরী হতে চাইছে। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটা সুপরিকল্পিত।
রামনবমী তো রামের জন্মোৎসব পালন, কোথায় সেই ধার্মিক আদি দেবতা সূর্যকে জলদান? কোথায় অধর্মের বিনাশ আর শুভশক্তির জয় আকাঙ্ক্ষায় উপবাস, বৈদিক মন্ত্র, রাম কাহিনি পাঠ! কোথায় রামভজন! নাগপুরের হিন্দুত্বে পরিভাষায় তা এখন শুধুই মসজিদ কেন্দ্রিক, যার মূল মন্ত্র হচ্ছে মুসলমান বিদ্বেষ ও তীব্র ঘৃণাসূচক গালিগালাজ। এই ধর্মোন্মাদদের চরম অধর্ম আর অশুভ পরধর্ম বিদ্বেষ দেখে, জানিনা কতজন প্রকৃত ধর্মপ্রাণ হিন্দু শিউরে উঠছেন, কিন্তু এটাই আজকের ভারতীয় মুসলমানদের রোজনামচা। 

অথচ, একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের উচিৎ ছিল সংবিধান মানা। সংবিধানের মৌলিক অধিকার রক্ষা, নাগরিকের কর্তব্য পালন, আইনসভার সদর্থক প্রতিক্রিয়া, সমঅধিকারে সংখ্যালঘুর বাঁচার শর্ত, নিজ ধর্ম পালনের অধিকার- এগুলোই তো সংবিধান। কিন্তু রাষ্ট্র নিজেই যখন ধর্মীয় সন্ত্রাসকে হাতিয়ার বানায়- তার বর্তমান রাষ্ট্রচালককে ক্ষমতায় চির অমর করে রাখতে, তখন আইন অন্ধ হয়ে যায়, প্রশাসন সন্ত্রাসীদের সুরক্ষা দেয়। তবে না দেশ জুড়ে এই ঘৃণার শোভাযাত্রার অনুমতি পায়, এবং আইন ধৃতরাষ্ট্র সেজে থাকে। দেশের আলপথ থেকে রাজপথ, ঝুপড়ি-বস্তি, মহল্লার পর মহল্লা সর্বত্র এই ঘৃণার ছত্রাক পৌঁছে দিয়েছে RSS, তার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরঙ দল, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ এমন হরেক কিসিমের হিন্দুত্ববাদী জঙ্গি শাখা সংগঠনগুলোর মাধ্যমে। এ যদি রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ না হয়, তবে সন্ত্রাসবাদ সংজ্ঞা কী কেউ বোঝাবেন?

প্রতিটা দাঙ্গার নিখুঁত তথ্য উপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরন গচ্ছিত রয়েছে প্রশাসন ও আদালতের কাছে। তার পরেও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি পুলিশ-প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দল বা সরকারের মদতে একের পর এক সংখ্যালঘুর উপরে অত্যাচার ও দাঙ্গা সংঘটিত করে চলেছে- দেশের সর্বোচ্চ আদালত অবধি নিশ্চুপ, এর চেয়ে বড় তামাশা আর কি হতে পারে! বিগত ১৫ বছরে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও উত্তরাখণ্ডে, এই নাগপুরী আদর্শের গুন্ডাদের হাতে আক্রান্তদের শেষ সম্বলটুকুও ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন-পুলিশ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বুলডোজার নামিয়ে প্রমাণ লোপাট করে দিয়েছে। উপরে উল্লেখিত রিপোর্টটির সম্পাদক, সিনিয়র অ্যাডভোকেট চন্দর উদয় সিং প্রমাণ সহ দেখিয়েছেন- কীভাবে বিগত ৭৮ বছরে স্বাধীন ভারতে ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে দাঙ্গা বাঁধানোর অস্ত্র হিসাবে বারবার ব্যবহার করেছে RSS এর হিন্দুত্ববাদী জঙ্গীরা। 

ঔপনিবেশিক সময়ে ১৮৬০ সালে প্রথম ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধি চালু হয়। তার ১৮৮ ধারায় বলা হয়েছে, প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট রাস্তা ছাড়া ধর্মীয় শোভাযাত্রা, মিছিল করলে, এবং তার জন্য যদি দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হয় তবে, যারা জেনেবুঝে ওই রাস্তায় মিছিল  করেছে তা্রা ঐ ধারা মোতাবেক অপরাধী। ১৫৩ ধারায় বলা হয়েছে, দাঙ্গা ঘটানোর জন্য  প্ররোচনা দেওয়া হলে ৬ মাস জেল এবং সেই প্ররোচনার ফলে দাঙ্গা ঘটলে এক বছরের কারাদণ্ড হবে। প্রতিটা দাঙ্গার ক্ষেত্রেই সংবেদনশীল অঞ্চল দিয়ে মিছিল নিয়ে যাওয়া এবং প্ররোচনা বা উস্কানি দেওয়ার ব্যাপারটা মুখ্য ছিল। পুলিশ-প্রশাসনের দুর্বলচিত্ততা, হিন্দুত্ববাদীদের প্রতি প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় ও গোপন বোঝাপড়াই মূলত এই হানাহানির পিছনে কাজ করে। আইন-আদালত উপেক্ষা করে দাঙ্গাহাঙ্গামার প্রত্যুত্তরে পুলিশ-প্রশাসনের শিখণ্ডীর ভূমিকাই সবচেয়ে বেশী দোষী।

একটা সময় সরকার ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা দাঙ্গা ঘটলে তীব্র দুঃখ ব্যক্ত করতেন, দাঙ্গার কারণ নির্ধারণ করতে তদন্ত কমিশন বসানো হত এবং দাঙ্গার শিকার ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হত। বিজেপির আমলে সরকার অস্বীকার করার সহজ পন্থা নিয়েছে, এবং নানান হাস্যকর ‘আপাত অজুহাতের’ দায় দেখিয়ে লজ্জার আবরনটুকুও ঝেড়ে ফেলেছে। এখানেই থেমে না থেকে, অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে দাঙ্গাকারীদের রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে MLA/MP বা মন্ত্রী বানিয়ে। তদন্ত কমিশনের বদলে বুলডোজার পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট মুসলমান মহল্লার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, জীবন-জীবিকা, ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য। এক্ষেত্রে আদালত অব্ধি বিচার যাওয়ার আগেই, স্থানীয় প্রশাসন ও বিজেপির নেতৃত্বই- বিচারক ও জুরির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে যায়, পুলিশ এখানে বুলডোজার বাহিনীর সর্দার হয়ে ফাঁসুড়ের ভূমিকা পালন করে দক্ষতার সাথে। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে উচ্ছেদ, ধ্বংসাত্মক কাজকে ধামাচাপা দেওয়া, লন্ডভন্ড অবস্থা সাফসুতরো করার জন্য- স্থানীয় পঞ্চায়েত বা পুর কর্তৃপক্ষকে দিয়ে, নিজেরা দাঁড়িয়ে থেকে পুলিশ এগুলোকে সুচারুভাবে সম্পন্ন করায়।
আদালত ও পুলিশ প্রশাসনের বাইরে আর যার অবদান সবচেয়ে বেশী এই মসজিদ সংস্কৃতিতে, তা হলো Archaeological Survey of India নামক সংস্থার। বিজ্ঞান ও পুরাতাত্ত্বিক প্রমানের চেয়ে, Religious outcomes আর public sentiment বেশি গুরুত্বপূর্ণ এদের কাছে; কারন এগুলোই রাষ্ট্রীয়ভাবে হিন্দুত্বের মিথ মেকিং টুল হিসাবে কাজ করে। ASI অফিসিয়ালি লিখিত বিবৃতি দেয়না শুরুতে, স্ট্রাটেজিক লিক, সিলেক্টিভ ডিসক্লোজার দিয়েই ব্রেকিং নিউজ চালিয়ে জনমত বানিয়ে টিভি মিডিয়া বিশেষজ্ঞর দল সমাজে ছড়িয়ে দেয়। এটাই হিন্দুত্ব আর্কিওলজি, যারা অতীতকে আবিষ্কার করেনা, অতীতকে প্রোডিউস করে। ফলত, ASI বর্তমানে আর্কিওলজিকাল সংস্থা থেকে আইডিওলজিক্যাল সংস্থায় রুপান্তরিত হয়ে গেছে, যার মূল কাজ মসজিদের নিচে দেবদেবীর মূর্তি খোঁজা; অথচ ভারত একসময় সামগ্রিকভাবে বৌদ্ধদের দেশ ছিল, তাদের মনাস্ট্রি আর মঠ গুলোকে কারা ভেঙেছে বা দখল করেছে? মিডিয়ার তৈরি এই হিন্দুত্বের হাওয়া বেলুনের গ্যাস ততক্ষণ, যতক্ষন বর্তমান ফর্মে মিডিয়া এগজিস্ট করবে, মিডিয়ার ঘটি উল্টালেই এই নাগপুরী হিন্দুত্বের বেলুন ফেঁসে যাবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এই উগ্রবাদীদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি, সেখানেও রোজ চরম সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে হয়েছে মুসলমান ও দলিতেরা। কখনও কখনও লোহার রড, ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে আক্রমণ করা হচ্ছে। এরা প্রশিক্ষিত দুষ্কৃতির মত মুখোশে ঢেকে আসে, যারা প্রত্যেকে অখিল ভারতীয় বিদ্যা পরিষদ (এবিভিপি) এর সদস্য; যারা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) যুব শাখা। বিজেপির নয় কিন্তু, সরাসরি RSS এর যুবশাখা। বাংলার বামেরা আজও এই তফাৎ টিকে আত্মস্থ করতে পারেনি। বাংলার কথা উঠাতে বলি, খোদ কোলকাতার বুকে কাশিপুরের জ্যোতিনগরের একটি মুসলিম-প্রধান কলোনি, যেখানে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষের বাস, সেখানে গত ২৯শে জুলাই থেকে বিজেপি সরকার পানীয় জল বন্ধ করে রেখেছে। এদের অনুশোচনা, লজ্জা, সহানুভূতি কিচ্ছু অবশিষ্ট নেই, সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে।

সন্ত্রাসীদের মুখ আর মুখোশ সবসময়েই আলাদা হয়, তাই RSS নিজে কোনো নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ না নিয়ে, বিজেপির মুখোশে এই কাজটা করে। গত এক শতাব্দী ধরে গুপ্তহত্যার ষড়যন্ত্র (প্রয়োজন ফুরানো বা বেঁকে বসা নিজেদের নেতাকেও), সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উস্কানি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপেরর মাধ্যমেই এরা আজ রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন। কিন্তু চুরি, দুর্নীতি, হিংসা, সাম্প্রদায়িক হানাহানির সাথে তীব্র মূল্যবৃদ্ধি, বেকরত্বের জ্বালা ধর্মের নেশা কাটিয়ে দিয়েছে অনেকটাই- যারা কয়েক বছর আগেও RSS এরই সমর্থক ছিল। গরু শুয়োর, মন্দির মসজিদ আর পাকিস্তানের বাইরে তারা তিনটে লাইন বলতে পারবেনা, বড় অংশের জনগন বুঝেছে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির বাইরে এই অশিক্ষিত জীবাণুগুলোর আর দেওয়ার কিছুই নেই। সামনেই, উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনে বিজেপি শোচনীয় পরাজয়ের মুখে, ফলত নতুন করে মসজিদের সামনে এই নাচ, গান, উস্কানি দিয়ে- দাঙ্গা লাগাবার ষড়যন্ত্র করছে।

এদের তৈরি জম্বিরা আজকে মনিপুরীকে শিক্ষককেও ছাড়ছেনা। ২ দিন আগে রাস্তায় বাড়ির সামনের শব্দদূষনের প্রতিবাদ করায় একজন ঐ মনিপুরী সঙ্গীত শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা করে দিয়েছে। আইনের শাসন উবে গিয়ে এই সন্ত্রাসই এখন সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অত্যাচার সংস্কৃতির কথা আসলে, পশ্চিমবাংলায় গত বিধানসভা ভোটের সময় বাঙালী নিগ্রহ একটা পপুলার কালচার হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। লেখক ললিত ভাচানির ‘দ্য মেন ইন দ্য ট্রি’ (২০০২) বইতে উনি বিপুল তথ্য সহ লিখেছেন, কীভাবে RSS- আম হিন্দুদের মধ্যে ভয় ও ক্ষোভ সৃষ্টির লক্ষ্যে মুসলিমদের ছদ্মবেশ ধারণ করে হিন্দুদের উপরে আক্রমণ অত্যাচার করেছে। বিগত ১০০ বছর ধরে RSS এর এটাই চরিত্র, আগে এটি করা হতো সংবাদপত্র, পোস্টার ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে, এখন হোয়াটস্যাপ ইউনিভার্সিটি।

১৪৭ কোটি জনসংখ্যার একটি দেশে, শুধু মসজিদই কি অবৈধ? মন্দির বা গির্জা নয়? প্রতিটা রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবৈধ মন্দির রয়েছে, যেমন অবৈধ মাজারও রয়েছে। আইন কি শুধু মসজিদ আর মাজারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? নিম্ন আদালত গুলোও আজকাল ভারতীয় সংবিধানের চেয়ে নাগপুরী আদর্শের ভিত্তিতেই অধিকাংশ রায়দান করছে। যেখানে চার্চও রক্ষা পাচ্ছেনা, সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের পিমপ্রি-চিঞ্চওয়াড় এর ‘জিসাস ইজ লর্ড’ নামের চার্চকে দুপুরে বেআইনি আখ্যা দিয়ে মধ্যরাতেই ভেঙে ফেলা হয়, অথচ পরদিন যতক্ষণে আদালতের স্থগিতাদেশ নোটিশ আসে, ততক্ষণে ভবনটি ময়দান হয়ে গেছে। উড়িষ্যা, ছত্রিশগড়, মহারাষ্ট্র কোথায় খ্রীষ্টানদের উপরে হামলা হচ্ছেনা? RSS কে অনুকরন করতে গিয়ে, RSS এর ঘৃণার আদর্শে দীক্ষিত কোনো এক নিকৃষ্ট মোল্লা ভিড় রাস্তাতে নামাজ শুরু করে দিচ্ছে। 

আইন সবার জন্য এক হোক, রাস্তায় নামাজ পরা মুসলমানটিকে যেমন আইনের আওতাতে নিয়ে সাজা দেওয়া হোক, মসজিদের সামনে উন্মাদ নাচ করা জঙ্গীগুলোকেও আইনের আওতাতে নিয়ে আসা হোক। সময় কিন্তু সর্বদা নিজের অনুকুলে থাকেনা, নদীর এক পাড় ভাঙে, অন্য পাড় গড়ে। আজ RSS শক্তিশালী, অত্যাচার করে নিচ্ছে- কাল যখন সুখের দিন ফুরাবে সময়ের পরিক্রমায়, সংগঠনটা অদৌ টিকবে তো? এতোদিন নানান ছদ্মবেশ ধরে এর তার আঁচলে লুকিয়ে টিকে ছিল, ১২ বছরের শাসনামলে সব পর্দা ছিঁড়ে গেছে কিন্তু। আপনাদের তৈরি করা ইয়েস ম্যানগুলোই কিন্তু আইন আদালত প্রশাসনের শীর্ষে আছে, কাল নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে- এরা তাদেরকেও খুশি করতে আপনাদের উপরে বুলডোজার আর মিথ্যা মামলার খড়্গ চাপিয়ে দেবে। কতটা দেওয়াল লিখন পড়োতে পারছেন জানিনা, কিন্তু সেই দিন খুব দূরে নেই এটুকু বলতে পারি। 

আপনারা আর কতটুকু ক্ষমতাবান হয়েছেন! মধ্যযুগে ইউরোপের চার্চ আর তাদের ইনকুইজিশন আপনাদের এই ধর্মের ভেক আর জাতীয়তাবাদী তামাশার চেয়ে কয়েক লক্ষ গুণ বেশী শক্তিশালী ছিলো, আজ তারা কোথায়? আপনাদের কাপুরুষ বজরং দলের চেয়ে নাইট টেম্পলারেরা আলোকবর্ষ এগিয়ে ছিলো ধর্মের রক্ষার্ত্রে আর বীরত্বে; সেই তাদের আজ কোনো অস্তিত্ব আছে ইউরোপের জনজীবনে? খ্রীষ্টান ধর্ম টিকে আছে, চার্চের শাসন কালের গর্ভে তলিয়ে গেছে; হিন্দুত্ব বেঁচে থাকবে আপনারা তলিয়ে যাবেন ইতিহাসের আস্তাকূড়ে। আর সে দিন অতি সন্নিকটে।

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

নাগপুর ও শিক্ষা দূুর্নীতি


পেপার লিক বা প্রশ্নপত্র ফাঁস কোন বিচ্ছিন্ন দুর্নীতি নয়।  এটা একটা পরিকল্পিত অর্থনৈতিক মডেল যেটা সরাসরি নাগপুর থেকে পরিচালিত হয়। এটার পেছনে একটা পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক কাঠামো কাজ করে, যা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলাফল নয়।

পেপার লিক দুর্নীতির ক্ষেত্রে একটা বড় অংশ ইচ্ছাকৃত আঁধারে রেখে দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো, যে বিষয়ে আলোকপাত হওয়া অত্যন্ত জরুরী। গদি মিডিয়া এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করবে না এটা স্বাভাবিক কিন্তু তথাকথিত নিরপেক্ষ youtube সাংবাদিক কুলও নিম্নলিখিত বিষয়ের উপর কোনো ধরনের আলোকপাত করতে সক্ষম হয়নি। স্বভাবতই রাহুল গান্ধী থেকে দীপকে অব্দি কারও মুখে কোনো রা নেই।

বর্তমানে যে পেপার লিক বিষয়টা নিয়ে এত আন্দোলন, সেটার হুইসেল ব্লোয়ার হিসাবে রাজস্থানের সিকর জেলার রসায়নের শিক্ষক শশীকান্ত সুতার প্রথম বিষয়টি সামনে আনেন। সেখানেই প্রথম FIR হয়। তদন্তে দেখা যায় কয়েকজন বিহারের বাসিন্দা যারা দিল্লি লাগোয়া হরিয়ানার গুরগাঁও থেকে গোটা বিষয়টা অপারেট করত। প্রশ্নপত্র ছাপা হতো রাজস্থানের প্রেসে, সেখান থেকে দিল্লির বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে অবিশ্বাস্য মোটা দামে বিক্রি করা হতো। এই অব্দি দেখে মনে হবে- মোটামুটি সবকিছুই একটা দুষ্ট দুর্নীতি চক্র জড়িত - যেমনটা প্রতিটি দুর্নীতিতে হয়ে থাকে। 

কিন্তু এই প্রশ্ন ফাঁস করেছিল কারা? যারা করেছিল তারা প্রত্যেকে মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা, পেশায় অধ্যাপক। লাতুরের অধ্যাপক পি. ভি. কুলকার্নি ও প্রফেসর শিবরাজ রঘুনাথ মোটেগাঁওকর, পুনের মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে এবং মনীষা হাভালদার, মনীষা বাঘমারে, নাসিকের শুভম খায়রনার ও ধনঞ্জয় লোখান্ডে। এরা প্রত্যেকে মহারাষ্ট্রের। এদের আরো বড় পরিচয় হচ্ছে এরা প্রত্যেকে হয়- অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (ABRSM), কিম্বা ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল (BSM) অথবা    বিদ্যা ভারতী (Vidya Bharati) সংগঠনের সাথে যুক্ত। এই তিনটে সংগঠনই নাগপুরের গোয়াল ঘরের নিজস্ব সংস্থা।

অর্থাৎ প্রশ্নপত্র ফাঁস দুর্নীতিতে যুক্ত প্রত্যেকে আরএসএস এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।  এমনকি রাজস্থানের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কে যেসব ছাত্র এবং কাউন্সিলর নামের দালালেরা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তারাও অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP) এর সাথে সম্পৃক্ত। 

প্রতিটা সাংবিধানিক পদ সেটা বিচারব্যবস্থা হোক কিংবা নির্বাচন কমিশন, প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য পদে সরাসরি RSS এর প্রচারকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।  সুতরাং যারা প্রশ্নপত্র তৈরি দায়িত্বে ছিল, তারা সেই দায়িত্ব পেতই না- যদি না তারা সরাসরি নাগপুরের আস্থাভাজন হতো। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বলি দেওয়ার আড়ালে মহারাষ্ট্র সরকার আর আরএসএস নিজেদের লুকিয়ে ফেলতে চাইছে।

এই পেপার লিক থেকে প্রাপ্ত দুর্নীতির আর্থিক লাভের একটা বড় অংশ সরাসরি আরএসএস এর হেডকোয়ার্টারে পৌঁছে যেত বা যায়। বরং বলা ভালো নাগপুর থেকে সরাসরি এই দুর্নীতিটাকে সঞ্চালন করা হতো। যে কারণে এই কেলেঙ্কারিতে ধরা খাওয়া প্রতিটা 'কিংপিন' মহারাষ্ট্রের। অথচ মহারাষ্ট্রের শিক্ষামন্ত্রী, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাড়নবীসের নাম একবারও শুনেছেন এ বিষয়ে? শোনেননি,  কারণ ব্যথা জায়গায় হাত পড়লেই সেই হাত সরাসরি নাগপুরের গোয়াল ঘরে পৌঁছে যাবে। এই কারণেই পেপার লিক হওয়ার পর দেবেন্দ্র ফড়নবীসকে রাজস্থানে ডেকে পাঠিয়েছিল। তাকে ধমকাতে কিংবা তদন্তে সহযোগিতা করতে নয়, কেন ফাঁস হলো সম্ভবত এই বিষয়ে জানার জন্য। 

ধর্মেন্দ্র প্রধান বলি গেছে, সেটা যাওয়ারই ছিল অপদার্থ শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে। কিন্তু মূল মাস্টারমাইন্ড মহারাষ্ট্র সরকার এবং আরএসএস সরাসরি এই দুর্নীতিতে জড়িত। নতুবা এটা কখনও সম্ভব হতো না। একটা ধর্মেন্দ্র গিয়ে আরেকটা নতুন চোর চলে আসবে,  কিন্তু নাগপুরের গোয়াল ঘরের যারা মাস্টারমাইন্ড তারা বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। যতক্ষণ না এদের কান ধরে আইনের সামনে দাঁড় করানো হবে ততদিন এরকম প্রশ্নপত্র ফাঁস চলতেই থাকবে। 

২০১৫ সালের 'ব্যাপম' কেলেঙ্কারিতে ৪০ জনের রহস্য মৃত্যু আমরা কেউ ভুলিনি, কে জানে এবারে কতজন সাক্ষী এবং অপরাধী রহস্য মৃত্যুর শিকার হয়। ব্যাপম কেলেঙ্কারির নায়ক  শিবরাজ সিং চৌহানের সাজা হওয়া তো দূরস্থান, ন্যূনতম তদন্ত টুকু হয়নি। মহারাষ্ট্র সরকার এবং সেই সরকারের মাথা এবং দেবেন্দ্র ফড়নবীশকেও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে মনে হয় না। যে সমস্ত কিংপিন ধরা পড়েছে, সেই অপরাধীরা যে সংগঠনের সঙ্গে জড়িত, সেই RSS এর শিক্ষক সংগঠনগুলোকে কেন তদন্তের আওতায় আনা হবে না? 

মোহন ভাগবত এমনি এমনি জেন-জি কে সার্টিফিকেট বিলি করতে বসে যায়নি কিংবা মাঝরাতে হ্যালো ফ্রেন্ডস বলে বিশ্বভাঁড় মিছিমিছি ভাঁড়ামি করতে আসেনি instagram এ, RSS কে আড়াল করতে যাবতীয় এইসব ফন্দিফিকির।

রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬

হঠাৎ কেন বন্দেমাতরম?



যাদবপুর, এই বিষয়টা ১০ কোটি পশ্চিমবঙ্গবাসীর মধ্যে- ৯ কোটি ৯৯ লক্ষ ৯০ হাজার জন ব্যাক্তি ব্যক্তিগতভাবে কোনোভাবেই 'নূন্যতম' জড়িত নয়।

বন্দেমাতরম, দেশের ১ জন জনগনের রুটি-রুজি জন্যও জরুরী কি? দেশের ইন্ট্রিগ্রিটি, বর্হিশত্রুর আক্রমণ ঠেকাতে জড়িত? এটা গাইলে কী দেশে মেধা, শিল্প, আর্থিক শ্রীবৃদ্ধির বন্যা না হোক, চোরা স্রোতও কি বইবে? যদি সেটা না ই হয়, তাহলে এটাই কেন দেশের একমাত্র প্রাইম ঈশ্যু? দেশদ্রোহী চোর ধর্ষক বিজেপি/RSS এর জন্য এটা একান্ত জরুরী, কারন প্রতারিত 'হিন্দু' জনগনের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্যান্টে হেগেমুতে ফেলছে তাই ধামাচাপা দিতে এটা তাদের জন্য জরুরী। যে হিন্দু জনগণ এদের পরিত্রাতা ভেবেছিল, আজ তারা দেখছে তাদের পরনের কাপড় টুকুও নেই- বিজেপি বেচে দিয়েছে।

আম নাহয় কাটার বাচ্চা, যেকোনো সময় কোনো দেশপ্রেমিক বাঁদর বা বলদের বাচ্চা আমাকে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেবে- কিন্তু রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে অষ্টপ্রহর অবিচ্ছিন্ন বন্দেমাতরম গাইলে কী "হিন্দু অস্মিতার" নিশান রামমন্দির বা বৈষ্ণদেবী মন্দিরের চুরি যাওয়া অর্থ ফেরৎ আসবে? বাকি কোনো সামাজিক জলন্ত ঈশ্যুকে নাহয় সামনে আনলামই না।

আমাকে বলুক আমার ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধির জন্য আমাকে সরকারী তহবিল থেকে অতি সামান্য আর্থিক সুবিধা দেবে- যেমনটা আম্বানি আদানি পেয়েছে, তার ভগ্নাংশের ভগ্নাংশ মাত্র; আমি রাস্তার মোড়ে চেঁচিয়ে রোজ ৩ বেলা বন্দেমাতরম গাইবো। 

ভাত দেওয়ার ভাতার নয়, তুমি মরালিটি চোদাবার গোঁসাই। 

শমীক ভট্টাচার্য খুব সচেতন ভাবেই নিজেকে 'কমিক' ভট্টাচার্যে ট্রান্সফর্ম করে- যাত্রাদলের বিবেকের ভূমিকাতে শান্তিগোপাল হয়ে যায়- আপনাকে চুতিয়া বানাতে। RSS/BJP যখন সে ঈশ্যু গুলোকে মুখ্য বানায়, জানতে হবে তারা প্যান্টে হেগে বসে আছে- কিম্বা কোনো বড় চুরির ফাঁদ পেতেছে। তাই আলবাল ঈশ্যু তুলে আপনাকে মানে দেশের ৭০% হিন্দুকে মাতিয়ে রেখে, কিছু লুকাতে চাইছে। দেশ বেচে দিচ্ছে।

গ্যাস, চিনি, বাইকের জ্বালানি, সরসের তেল থেকে প্রতিটা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম রোজ বাড়ছে- বাড়েনি আপনার রোজগার। "ভারত মাতা কি জয়" স্লোগান ওই "জয় শ্রী রাম" স্লোগানের মতই আগামীতে বিজেপির রাজনৈতিক স্লোগান হিসাবে চিহ্নিত হবে। কুলদীপ সেঙ্গার, প্রজ্জ্বল রোভান্না, ব্রিজ ভূষণ সিং, চিন্ময়ানন্দ, আশারাম বাপু বা বাবা রামরহিমও "ভারত মাতা কি জয়" স্লোগানের আড়ালে ধর্ষন করেছে। রামমন্দিরের চাঁদা চোরটাও "জয় শ্রীরাম" বলেই বামাল নিয়ে পালিয়েছে নাগপুরে। এরা সকলে কি বন্দেমাতরম জানত? ধরে নিচ্ছি নিশ্চই জানতো, যেহেতু বিজেপি করতো। সুতরাং, বন্দেমাতরম বললে কোনো কিছুরই সমাধান হবেনা।

ভোটের আগে এই বেজন্মারাই রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা করে মুখ পোঁদ সকল ফুটো দিয়ে আওয়াজ বের করত, আজ সেই সব ফুটোতে- হয় বাপের ফাটা কন্ডোম কিম্বা মায়ের মাসিকের ন্যাকড়া গুঁজে রেখেছে। আর রোহিঙ্গা শব্দ কেউ শুনতে পান কেউ? এই শুয়োরের বাচ্চাদের কাজই হচ্ছে আম মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপ্রাপ্তি থেকে আসা প্রশ্ন গুলো থেকে ক্ষোভকে অন্য পথে চালনা করতে এই সব আলবাল ঈশ্যুকে এমন ভাবে সামনে আনে, যেন এটা ছাড়া জীবন অচল। 

একই পথে কোরবানি বন্ধ করতে গিয়ে গোপালক সম্প্রদায়ের পেটে পা দিয়ে দিয়েছে। আজ রাস্তায় নামাজ বন্ধ, আজান বন্ধ, ঝটকা মাংস- এই সব করে একটা শতাংশ উন্মাদের মানসিক অর্গাজম হচ্ছে- তাতে পেট ভরছে কি? সেই তো মেয়ে বৌকে ন্যাংটা করে র‍্যান্ডি নাচ নাচিয়ে টাকা কামাতে হচ্ছে।

পাঁঠা চোদাগুলো বন্দেমাতরম নিয়ে গাঁড় পেঁয়াজির নতুন নক্সা এনেছে। বন্দেমাতরম অদৌ গাইবো কিম্বা কতটা গাইবো- সেটা তো যারা দেশ স্বাধীন করেছিলো তারাই ঠিক করেই দিয়ে গিয়েছে। আজ যখন সমগ্র বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো ড্রোন টেকনোলজি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে এগোচ্ছে চুতিয়ার বাচ্চারা বন্দেমাতরম নিয়ে হুপ হুপ শুরু করে দিয়েছে। IIT/IIM এ কখনও ক্যালা কাত্তিক মহারাজ তো কখনও শ্রীশ্রী রবিশঙ্করকে ডেকে এনে বক্তিতা দেওয়াচ্ছে- IT সেক্টারে আমাদের দেশের যে উৎকর্ষ ছিলো সেটারও মা-চুদে দেওয়ার পরিকল্পনা একদম খাপে খাপ। ওদিকে ট্রাম্প থেকে পুতিন, যে যখন পারছে বিশ্বগুরুর মায়ের ১০৮ করে দিচ্ছে। 

যেদিন RSS নিজেদের সরকারের খাতায় রেজিস্ট্রেশন করে তাদের সমস্ত সম্পদ ও অর্থের হিসাব দেবে, যেদিন RSS লিখিতভাবে ভারতীয় সংবিধানকে তাদের সংবিধান মানবে, যেদিন "নমস্তে সদা বৎসলে" এর পরিবর্তে সঙ্ঘে বন্দেমাতরম এর পূর্ণ গীত গাওয়া হবে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসাবে- সেদিন তারা ১৫০ কোটি ভারতবাসীকে বাধ্য করুক।

আর তা না করলে, এদের কাঁচা খিস্তিখেউড় করাটা নাগরিক কর্তব্য। যে এদের খিস্তিখেউড় করবেনা, কিন্বা মনে করে এদের খিস্তি দেওয়াটা অন্যায়- তার বাপের DNA এর সাথে নিজের DNA চেক করা দরকার, কে জানে পাড়ার কাকুদের দল দুপুর ঠাকুরপোর ভূমিকাতে আপনার মাতৃদেবীর পোয়াতির কারন হয়েছিলেন কিনা- যেমন আদানি আম্বানি বাবা মিলে "বিজেপির ভারত মাতা"কে পোয়াতি করে দিয়েছে।

শালারা বন্দেমাতরম আর যাদবপুর চোদাচ্ছে।

বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

ডেরাইভার কোন জন!



বগি কতগুলো আছে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ- ইঞ্জিনের ডেরাইভার কোন জন, আর ইঞ্জিনের ইন্ধনের উৎস কী! তেল, কয়লা না বিদ্যুৎ। জীবনের প্রথম বিশ বছর যিনি গান্ধীবাদি ছিলেন, মাওবাদী থেকে খাওবাদী- অবাধ বিচরণ ছিল সর্বত্র। পরের ৯ বছর তিনিই আবার তোলামুল সরকারের হয়ে হেন কোনো পাপাচার দুর্নীতি করতে বাকি রাখেননি- যার দায়ে আজকের দিনে বহু তোলামুলের নেতা জেলে যাচ্ছে রোজ মিছিল করে।

রত্নাকর মানে সমুদ্র, বাল্মীকি মানে উই ঢিবি জাতীয় কিছু। বেশি কিছু লিখলে আবার 'রথ'প্রাপ্তী হবার পুরষ্কার জুটে যেতে পারে।  তবে কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা দেখার সুখ এক তূড়ীয় কামনাতৃপ্তি বটে। তোলামুলের ধ্বংস জরুরী ছিল, কে করছে, কীভাবে করছে- সে সব অপ্রয়োজনীয় গৌণ বিষয়। যারা এখানে মানবিকতা আর গণতন্ত্র খুঁজছে- তারা সিপিএমের 'ভক্ত' সম্প্রদায়, যারা না মানুষ না মুনিষ। এরা যতদিন বেঁচে থাকবে, ততদিন CPI(M) বেঁচে থাকবে ভুঁয়ে মুড়ে, সিপিএম বা সিপেম কিম্বা সিপিএন করি আমি বলার লোকগুলো ফিরবে না।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দল থাকবে, রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকবে, কিন্তু রাজ্যের মানুষ তৃণমূলকে কি দেখে ভোট দিয়েছিল ? বামফ্রন্ট আসার আগে জাতীয় কংগ্রেস ক্ষমতায় ছিল, তার তো একটা নীতি-আদর্শ ছিল। এখন যে দল ক্ষমতায় এসেছে- তাকে আপনি পছন্দ করুন বা অপছন্দ, তারও নীতি আদর্শ আছে, তৃণমূল কী তুলে ধরেছিল? কী দেখে ভোট দিয়েছিল? শুধু আজকের দিনটা দেখার জন্য? এই প্রজন্মের ভোটার যখন ফটো হয়ে দেওয়ালে ঝুলবে, তখন তার পরবর্তী প্রজন্ম ছবিতে থুতু দেবে- যে এরা তৃণমূলকে ভোট কেন দিয়েছিল। পাপ একা তোলামুল করেনি, বড় অংশের তোলামুল সমর্থক ও ভোটারের দল প্রত্যেকে এর পাপের ভাগিদার।

ভোটে হারতে অমুসলিম তোলামুলেরা না হয় বিজেপির দরজাতে ভোদাংশু হয়ে ঝনকাঠে শুয়ে আছে। কিন্তু সিদ্দিকুল্লাহর দল আবার জামা বদলে 'জমিয়ত-উলামা-ই-হিন্দ' এর মোড়কে নিজেদের লুকিয়ে ফেলেছে। জমিয়ত এতোদিন তোলামুলের সাথে একদেহে লীন হয়ে ছিল, আজকে নতুন করে আর একে আলাদা করা সম্ভব নয়। মুসলমান পাড়া থেকে তোলামুলকে নিশ্চিহ্ন করতে হলে, পুরাতন জমিয়ত এর পূর্ণ কাঠামোটাকে কবরে পাঠাতে হবে। অন্য সংগঠন আসুক, কিম্বা যারা আছে তাদের প্রত্যেকটা মালকে তাড়িয়ে নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসুক জমিয়তে। জমিয়তের পাড়ার নেতা থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্দিকুল্লাহ- প্রত্যেকে ন্যাংটা হয়ে তৃণমূলের হয়ে প্রকাশ্যে ভোটের রাজনীতি করেছে, প্রত্যেকে এতদিন চুরি, ডাকাতি, কাটমানি, তোলাবাজি করেছে বা সমর্থন করেছে, আজ এরা কেন রেয়াত পাবে ধর্মীয় বর্মের কারণে?

এদের ৯০% নেতৃত্বরা কেউ অ্যাকাডেমিকভাবে সেই অর্থে শিক্ষিত নয়, জমিয়ত মানেই যে তৃণমূল নয়, সেটা এদের আর বুঝিয়ে বোঝানো যাবে না। এদের স্থায়ী রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে গেছে। মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটে গেছে, এদের কোনো নেতা রাস্তায় নেই- তারপরেও পরে মুসলমান পাড়াগুলোয় আবার ভোট হলে আবার তৃণমূলই জিতবে- ফেয়ার ভোট হলে। এর কারণ এই জমিয়ত। ইমামভাতা বন্ধের পর প্রতিটা ইমাম ব্যক্তিগত লেভেলে ক্ষতিগ্রস্ত, তারা তো মমতাকে আল্লাহর ফেরেস্তা বানিয়ে ফেলেছে, যিনি ওদের রুটিরুজি দিত। তারা পেটের দায়ে মরিয়া, সুতরাং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মমতা ব্যানার্জী যে আজ কেবল একটা লাশ, সেটা বিশ্বাস করাতে পারবেন না। এরা পীরের মাজারের মতো মমতার মাজার বানিয়ে নিলেও আশ্চর্য হবো না। তারা পুনরায় যেকোনো উপায়ে মমতাকে বাঁচাতে চাইবে।

এই সুযোগটাই সিদ্দিকুল্লাহ ও তার পেটোয়া বাহিনী নিয়ে নিজেদের বাঁচাতে চাইছে। এদের সকলের গিঁট সিদ্দিকুল্লাহতে এসে বেঁধেছে। মুসলমান সমাজের এই অংশে নৌসাদ, হুমায়ূন, সেলিম কোনোদিন পোঁছাতে পারবে না। আবার এদের অস্বীকার করার বিকল্পও নেই। অতএব, যেকোনো মূল্যে রাজ্য জমিয়তকে ভেঙে দিতেই হবে, নতুবা রাজ্যের মুসলমান সমাজের মুক্তি নেই। তেমনই তোলামুলকেও সমূলে উৎপাটিত করা যাবে না, জীবাণু রয়েই যাবে। 

আমার টাইমলাইন থেকে ধারাবাহিকভাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে লেখা নেমেছিল গত ৩ বছর ধরে, তার এক শতাংশ আজকের বহু নির্বাচিত বিজেপি MLA নিজের বিধানসভা কেন্দ্র দূরের কথা, গোটা রাজ্যে কোথাও বক্তব্য পর্যন্ত দিয়ে দেখাতে পারেনি। আজকে যদি তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরত তাহলে আমার জেল অবধারিত ছিল, না হলে প্রকাশ্যে মার্ডার। এই ঋজু দত্ত, দীপক ব্যাপারি, কোহিনুর, কার্তিক এরা সবাই ফেসবুকে অন্তত ২০০ খানা প্রোফাইলকে টার্গেট করে রেখেছিল। তার পরেও ৩ গাড়ি বাঁশ নিয়ে যাচ্ছে দেখেও, কাউন্টিং হল অবধি স্বশরীরে তোলামুলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে উপস্থিত থাকতে পারাটা আমার ঘনিষ্ঠ জনেদের উৎসাহ ও পাশে থাকার কৃতিত্ব। 

ইজরায়েলের জনগণ আর নেতাদের মধ্যে যেমন খুব একটা পার্থক্য নেই, যেমন তৃণমূলের সমর্থক তৃণমূলের ছোট নেতা মেজো নেতা বড় নেতা সবাই সমান। তৃণমূল সমর্থক থেকে নেতা প্রত্যেকে অপরাধী। তৃণমূলের ৮০ জন MLA এর মধ্যে মাত্র ৩৪ জন প্রথম দিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিল। MP দের  হাল অত্যন্ত খারাপ। 

এদের বড় অংশ শুধু বিজেপি নয়, কংগ্রেসে জয়েন করার জন্য লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে কে কতটা দুর্নীতিগ্রস্ত বা কে আগামীকাল গ্রেপ্ততার হয়ে যেতে পারে, সেটা নিশ্চিত না হয়ে কংগ্রেস কাউকে নিতে চাইছে না। এদিকে বিজেপি নতুন নেতৃত্ব তুলতে চেয়ে, তোলামুলের দাগী মালেদের নিতে চাইছে না। ফলে এইরকম পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে, তাহলে অন্তত কয়েক লাখ লোকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেছে। তবে এদের মধ্যে যারা ইতিমধ্যে জেলে যেতে সক্ষম হয়েছে, তারা পুলিশকে টাকা দিয়ে জেলে গেছে- এটাও  প্রমাণিত হয়ে গেছে, পরে পরে খবর সামনে আসবে। এরা আপাতত ক্যালানি থেকে বাইরে আছে। বাইরে থাকলে যে ফাইন দিতে হতো তার কিছুটা অংশ পুলিশকে দিয়েছে অর্থাৎ এইটা আর একটা কেলেঙ্কারিও চলছে।

এদিকে গোয়ালঘরের গুঁতোগুঁতি, আজ অবধি জর্জ অরওয়েলের 'পশুখামার' গঠিত হলো না পূর্ণাঙ্গ রূপে। কোরবানি সপ্তাহ পেরিয়ে গেলে হাতে রইল 'ফক্কা', প্রতিশ্রুতি মত কতটা পাওনা গণ্ডা পেলো, তার চেয়েও বড় ফোকাস আসবে- তোলামুল ক্যালাচ্ছি, এই রতিসুখ নিয়েই সোনাপোনা বাগিয়ে চাদর মুড়ি দাও। যারা নাচছে, নাচতে দিন। ওনারা বিনা মিউজিকে জেনারেটার এর শব্দেও নাচে, ক্লান্ত হলে নাচ নিজে থেকেই থেমে যাবে। তখন তারা পরনের ইজের খুঁজে ফিরুক নাহয়- আজ অবধি কোন রাজ্যে গোমাতার বলদ সন্তানেরা কার ভালো করেছে- নিজেদের ছাড়া?

প্রশ্নে বড় গাত্রদাহ হয়, মেজোখোঁকাও আগামীতে স্যারেন্ডার পিতার পথে চলা শুরু না করলেই আশ্চর্য হবো। সাংবাদিক নৈব নৈব চ। ইঞ্জিনের নিজস্ব ইন্ধনের সরবরাহ লাইনই যে মৃত এ রাজ্যে, অগত্যা-

পুনশ্চঃ- ইতিহাস বলছে, নরওয়ে ফেরৎ কেউ আর সুস্থ জীবনে ফেরৎ আসেনি, ফিল্মের মিসেস চ্যাটার্জি হোক কিম্বা বাস্তবের হিরো হুলিগান অনির্বাণ। মোদীজির সুস্থতা কামনা করি। 

বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬

বামেদের 'শিক্ষিত' ভ্রান্তিবিলাস

যাক পেরেছেন, সেলিম সাহেব এ যাত্রায় পেরেছেন, 
যাক শুরুটা তো হলো, এটাই কি কম আশার কথা!

সিপিএমের কথা বলছিলাম, রাজ্য জুড়ে আক্রান্ত হচ্ছে তৃণমূলের লুঠেরা বাহিনী সন্দেহ নেই, কিন্তু কিছু কিছু পকেটে সাধারণ মানুষও আক্রান্ত হয়ে চলেছে, মূলত মুসলমান সম্প্রদায় টার্গেট হলেও ওই দলে নিম্নবর্নের হিন্দু ও আদিবাসীও রয়েছে। ধনী শ্রেনীর কোনো তোলামুল বা সাধারণ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে বলে এই অপবাদ- আজ এই লেখার সময় অবধি নেই। ধনী মুসলমান অবধি আক্রান্ত হওয়ার খবর নেই। জনগণের তো আর রঙ হয় না, তারা ভোটার, আজ ফুলের তো কাল কাঁচির, এদের জন্যই তো এত সভা-সমিতি-বক্তৃতা-প্রকল্প-নীতি-আদর্শ। এই আক্রান্ত জনগণের পাশে গিয়ে দাঁড়াবার দরকার ছিল সিপিএম দলের, একে তো এরা গরিব মানুষ, তথাপী এরাই তাত্ত্বিক বামপন্থার ‘শ্রেণিবন্ধু’। দেরি করে হলেও, এবারে সিপিএম জেলা অবধি যেতে সক্ষম হয়েছে। 

বামেদের মানে সিপিএমের সমস্যাটা কোথায়! লাল ফিতের ফাঁস হলো মূল সমস্যা। ধরুন, কারও বুকে ব্যাথা উঠেছে, কোন হাসপাতালে নিয়ে যাবে, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে আদৌ হাসপাতালে নিয়ে যাবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন জেলা বা রাজ্য কমিটির থেকে অনুমতি নিতে হবে। ততক্ষণে রুগী পটল তুলেছে। হুগলির নেতা পাশের জেলা পূর্ব বর্ধমানে বা হাওড়াতে যেতে পারবে না, অনুমতি প্রয়োজন। শৃঙ্খলার নামে এক বিকৃত নাগপাশে বন্দি করে ফেলেছে সাহসী উদ্যমী নেতাদের। সেলিম সাহেবের আজকে খেজুরি যাওয়া কিছুটা আশার আলো অবশ্যই, তবে উনি রাজ্য সম্পাদক, সুতরাং আরও অচলায়ন ভাঙতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশের QRT এর মতো ৫টা প্রশাসনিক বিভাগে ৫টা টিম গঠন করা হোক নবীন প্রবীণ নেতাদের মিলিয়ে যারা দ্রুত পৌঁছে যেতে পারবে। আগামীতে সমস্যা আর সমাধান নামে একটা প্রবন্ধ লিখব।

আলিমুদ্দিন, তাদের পক্ককেশ বর্ষীয়ান নেতা, উঠতি নেতা, যুব নেতা, ছাত্র নেতা, দিল্লী লবি, জেলার লবি, বিশেষ নেতার লবি, এরিয়া কমিটির লবি, শরিকের লবি- সর্বত্র যেটা সর্বজন স্বীকৃত, সেটা হচ্ছে বামেদের প্রার্থীরাই বিধানসভাতে যাওয়ার একমাত্র যোগ্য। কারণ তারা শিক্ষিত, যুব সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও রুচিবান। একচক্ষু বিশিষ্ট হরিণ যতটা শঙ্কিত থাকে তার যে দিকের চোখটা নেই সেই দিক বিষয়ে, তার চেয়েও বেশি আত্মবিশ্বাসী থাকে যে পানে চোখ রয়েছে সেই দিকে। দেখা যায়, অধিকাংশ শিকারির আক্রমণ ভালো চোখের দিক থেকেই হয়। সিপিএমেরও সেটাই হয়েছে- ফাঁপা আত্মবিশ্বাস। গণেশ যেমন মাতা পার্বতীর চতুর্দিকে পাক দিয়ে বিশ্ব পরিভ্রমণ করেছিলেন, বামেরা সেই নিজেদের সংক্ষিপ্ত ‘বিন্দু’ বৃত্ত পানে চেয়েই শিক্ষিত ও রুচিবানের ট্রেন্ড সেট করেছে। গণেশ নিজেই বিঘ্নহর্তা ও সিদ্ধিদাতা ছিলেন, সিপিএমের শিক্ষিতেরা হোলটাইমার- ফলত সিপিএমের একজন জনপ্রিয় মুখও ‘গণপতি’ হয়ে উঠতে পারেনি।

শুরুতেই একটা ডিসক্লেইমার দিয়ে রাখি, যে লোকটা বিজেপি করে- তার মনের কোণে অনু পরিমাণ হলেও সাম্প্রদায়িকতা থাকবেই, মনুবাদ থাকবে, ব্রাহ্মণ্যবাদ থাকবে, মুসলমানদের প্রতি অকারণ তীব্র ঘৃণা থাকবে, সমাজের প্রতি ধর্ষকাম মানসিকতা থাকবে, পুঁজির প্রতি তীব্র মোহ থাকবে, ভণ্ডামি থাকবে, ভেক থাকবে, নিয়মিত মিথ্যাচারে অভ্যস্ত হতে হবে। এগুলো একজন প্রাথমিক বিজেপি সমর্থক হওয়ার সহজাত বৈশিষ্ট্যসমূহ। যিনি বিজেপির প্রার্থী হন, সবার আগে উনি দলের সমর্থক। প্রার্থী হয়ে নেতা হওয়ার মাধ্যমে উনি ওই নিকৃষ্ট মানসিকতা যুক্ত মানুষগুলোকে একত্রিত করে, উপরে উল্লেখিত বৈশিষ্টগুলো গুণিতক হারে বাড়িয়ে অসভ্য চূড়ামণি রত্নে পরিণত হন। গু’য়ের ভালো ও মন্দ দিক হয় না, শুকনো বা কাঁচা হতে পারে, কিন্তু গু মানে গু ই। 

তোলামুল স্বীকৃত চোর, সেটা পাড়ার ভ্যানওয়ালা হলে সে ও চোর, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে উচ্চস্তরের আমলা যে খুশি হোক- সে চোর চোর চোর। কিন্তু বিজেপির প্রার্থী তালিকার দিকে কখনও তাকিয়ে দেখেছেন? মেজো খোকার মত দু-এক জন ছাড়া যেহেতু কেউ কখনও প্রশাসনিক পদে গিয়ে শাসক হয়নি, তার চোর হওয়ার সুযোগও আসেনি, অর্থাৎ আজকের দিন অবধি বিজেপির ৯৯% বিধায়ক অর্থনৈতিক ভাবে ‘অপরীক্ষিত’ সৎ। দেখুন, শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, মমতা ব্যানার্জী, বিনয় কোনার, বিমান বসু এনাদের মতো মানুষদের নেতৃত্ব গুণ দিয়ে মাপা হয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা নেহাতই অপ্রাসঙ্গিক একটা বিষয় এনাদের ক্ষেত্রে। কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যোতা যখন প্রার্থীদের মাপকাঠি, বিজেপি সেখানে কোথায় দাঁড়িয়ে? তাদের ৫২ জন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট, ৯৬ জন গ্র্যাজুয়েট/গ্র্যাজুয়েট প্রফেশনাল, ৩১ জন উচ্চমাধ্যমিক পাশ, ১৯ জন মাধ্যমিক পাশ। ৯ জন এ্যাকাডেমিক ভাবে স্বাক্ষর। ২০৭ জনের মধ্যে PhD / ডক্টরেট ডিগ্রিধারী, স্বনামধন্য বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারী, ইঞ্জিনিয়ার ও টেকনিক্যাল গ্র্যাজুয়েট, ডাক্তার, আইনজীবীর সম্মিলিত সংখ্যা ৮৪ জন। এই বিজয়ী সদস্যদের মধ্যে ৭৬% জনের বয়স ৪২-৪৮ এর মধ্যে অর্থাৎ তরুণ। 

বিজেপির প্রার্থী তালিকা গবেষণা করে দেখা গেছে, সেখানে একটা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন রয়েছে। প্রথম ধাপে উচ্চ শিক্ষিত শ্রেণি, দ্বিতীয় ধাপে বিপুল বিত্তবান মধ্য মেধার লোকজন, এনারা রীতিমতো পেশা উল্লেখ করে ITR ফাইলে দাখিল করা সম্পদ উল্লেখ করেছে হলফনামাতে। তৃতীয় শ্রেণিতে RSS লবি থেকে সরাসরি আসা লোকজন, যেখানে শিক্ষা-রুচি বিষয়টা অপ্রয়োজনীয়; চতুর্থত গুন্ডা মস্তান শ্রেণির যারা তোলামুলের লেঠেল বাহিনীর সাথে লড়াই করেছে মাঠে ময়দানে, সেটা তাদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলার সংখ্যা দেখলেই বোঝা যায়। 

খরগ্রামের মিতালী মাল, চণ্ডীপুরের পীযুষ কান্তি দাস এরা দ্বিতীয় শ্রেণির- মূলত বিত্তবান। গোটা হুগলি, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ ও উত্তরবঙ্গ জুড়ে দলে দলে RSS এর মুখেরা বিজেপির বিধায়ক হয়েছে, যারা তৃতীয় পর্যায়ে ছিল। কাটোয়ার কৃষ্ণ ঘোষ, পাঁশকুড়া পশ্চিমের সিন্টু সেনাপতি, আসানসোলের কৃষ্ণেন্দু মুখার্জী এনারা চতুর্থ শ্রেণিতে, যারা গুন্ডা মস্তান। বিজেপির নেতারা একদিন সিপিএমের জনপ্রিয় মহিলা নেত্রীদের কাজের মাসীর সাথে তুলনা করে ছিল বলে সমাজমাধ্যমে ঢি-ঢি রব পরে গিয়েছিল, সেই বিজেপিই এবারে রেখা পাত্র, কলিতা মাঝি, মামনি বারুই, শুক্রা মুন্ডাদের বিধানসভাতে এনেছে, যাদের পেশা আক্ষরিক অর্থেই কাজের মাসি বা দিনমজুর; বাম মেনিফেস্টোর তত্ত্বগত হিসাবে এরাই ‘শ্রেণিবন্ধু’। 

প্রথম শ্রেণিতে তাহলে কারা আছে? জামুরিয়ার ডাঃ বিজন মুখার্জী, কাঁথির অরুপ কুমার দাস, কুলটির অজয় পোদ্দার, তমলুকের হরেকৃষ্ণ বেরা, রাম নগরের ডাঃ চন্দ্রশেখর মন্ডল, ভগনবানপুরের শান্তনু প্রামাণিক, পাঁশকুড়ার সুব্রত মাইতি, কেসিয়ারির ভদ্র হেমব্রম, মেদিনীপুর শহরের শঙ্কর গুছাইত, শিলিগুরির শঙ্কর ঘোষ, ডেবরার শুভাশীষ ওম, সিউরির জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, মুর্শিদাবাদের গৌরি শঙ্কর ঘোষ, কালনার সিদ্ধার্থ মজুমদার, বর্ধমানের মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র, বারাবনির অরিজিৎ রায়, রানীগঞ্জের পার্থ ঘোষ, গোপীবল্লভপুরের রাজেশ মাহাতো, ঝাড়গ্রামের লক্ষীকান্ত, নয়াগ্রামের অমিয় কিস্কু, কাশিপুরের কমলাকান্ত হাঁসদা, বড়জোড়ার বিল্লেশ্বর সিনহা, দুবরাজপুরের অনুপ সাহা, সাঁইথিয়ার কৃষ্ণকান্ত সাহা, বহরমপুরের সুব্রত মৈত্র, কৃষ্ণনগরের তারকনাথ চ্যাটার্জি, এনারা প্রত্যেকে উচ্চশিক্ষিত এবং প্রায় সকলেই শিক্ষাগত যোগ্যোতা নূন্যতম মাস্টার্স, যার মধ্যে বিজ্ঞান ও আইন বিভাগই আধিক্য। এছাড়া বাকিরা রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ভূগোল ও ইংরাজি সাহিত্যের মানুষও আছে। আরও ৮০-১০০ জনের নাম লেখাই যায়, তাতে অহেতুক তালিকা লম্বা করা ছাড়া কোনো লাভ নেই। 

সেখানে বামেদের তথাকথিত শিক্ষিত ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের একাডেমিক যোগ্যোতা কি এদের চেয়ে বেশি? মিলিয়ে দেখেছি, কাঁধেকাঁধেও বলার উপায় নেই। সিপিএমে মূলত নিম্ন ও মধ্যমেধার হামবড়া সবজান্তা উন্নাসিক লোকজন। কেউ কেউ আবার উত্তরাধিকার সূত্রে বাম বা সিপিএম; কোন বাবা, দাদু, মেসো, ঠাকুমা কবে বাম নেতা ছিলেন সেই কারণে তার সিপিএম হওয়াটা অধিকার, যেন জিনে বাম আদর্শ জিনবাহিত একটা বিষয়। মানে আত্মজাহির পরায়ণতার পরাকাষ্ঠা। ব্রাহ্মন্যবাদীরা যেমন গোত্র খোঁজে জন্ম, মৃত্যু বা বিয়ের সময়, একইভাবে সিপিএম বৃত্তে পারিবারিক বাম ঐতিহ্যের গন্ধ বিচার করে একশ্রেণির পোঁয়াপাকা যন্তরের দল কুলীন সাজার মরিয়া প্রয়াস চালাচ্ছে। বিজেপির প্রার্থীদের দেখুন তারা সকলে কমবেশি খেটে খায়, পেশা যা খুশি হোক। বামেদের ‘যোগ্য’ প্রার্থীদের অধিকাংশের পেশা কী? পার্টির হোলটাইমার, যারা জীবনে কখন ২ পয়সা রোজগার করে দেখেনি, তারা নাকি রুজি রোজগারের আন্দোলন করছে! বিজেপির প্রার্থীদের আমরা চিনি না, কিন্তু প্রতিটা এলাকার মানুষ তো তার প্রার্থীকে চিনতো, বামেদের প্রচার ছিলো শিক্ষিত রুচিশীল যোগ্যকে বেছে নিন, তারা বেছে নিয়েছে। 

বামেদের তথাকথিত যোগ্য প্রার্থীদের প্রায় প্রত্যেকে পার্টির হোলটাইমার হিসাবে পাওয়া সামান্য টাকায় দিন গুজরান করে। কে কে কোন নিরাপদ স্থায়ী ব্যবসা/চাকরি ছেড়ে অনিশ্চিত রাজনীতিতে জনসেবা করতে এসেছে? কঠিন জীবন সংগ্রামের লড়াইতে কাল থেকে ছেড়ে দিলে, এদের একজনও সামান্য টোটো চালিয়ে, দুটো কোদাল কুপিয়ে, কাস্তে টেনে, হাতুড়ি পিটিয়ে, সামান্য মুদি দোকান, মিস্টির দোকানে, এমনকি শপিং মলের সেলস গার্ল/বয়ের কাজটুকুও করতে পারবে না, এমন অজ অকর্মার ঢেঁকি এগুলো। কেন এই মেধাহীন কাগুজে শিক্ষিত ধর্মের ষাঁড় গুলোকে মানুষ বেছে নেবে? তাহলে কি এরা বাতিলের দলে, মোটেও নয়, এদের শুধুমাত্র শিক্ষিত, একমাত্র যোগ্য, রুচিশীল এই সব প্যাকেজিং করে রাজনীতির বাজারে বিক্রি করা বন্ধ হোক। সাধারণ বাম আন্দোলনের সর্বক্ষণের কর্মী হিসাবে আসুক না ভোটের ময়দানে, কে মানা করেছে! 

পুঁথিগত শিক্ষাই কি শিক্ষার একমাত্র মাপদন্ড? যিনি নৌকার মাঝি, সে তার পেশায় অশিক্ষিত? যিনি নাপিত, যিনি দর্জি, যিনি জুতো সেলাই করে, মাঠে ধান রোয়ার কাজ করেন, যিনি লেদ মেসিনে কাজ করেন, যিনি রঙের মিস্ত্রি, যিনি মাঠে হাইটেনশন বিদ্যুৎ লাইনের তার লাগাচ্ছেন, এনারা কি অশিক্ষিত? আসলে তিনি তার বৃত্তিতে সর্বোচ্চ শিক্ষিত। ওই ফাঁপা একাডেমিক ডিগ্রীধারী ‘মেধাহীন’ শিক্ষিত সিপিএমের দল, যারা একবেলা নিজের পেটের ভাত নিজে যোগাড় করে খেতে সক্ষম নয়, তারা অন্যকে কাজের দাবীতে আন্দোলন বোঝাতে গেলে লোকে শুনবে কেন? সিপিএম সর্বক্ষণ একটা ইলিউশন বৃত্তের বাস করে, যেখানে আমরাই শ্রেষ্ঠ, আমরাই সৎ, আমরাই একমাত্র গরিবের বন্ধু, আমরা 'লড়াকু' যারা ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেয়। আরে বাম পাঁঠার দল, সৎ আর শিক্ষিত হওয়াটা কোনো যোগ্যোতা নয়, মানুষের স্বাভাবিক গুণ এগুলো, আর বামপন্থী দল করতে গেলে এটা আবশ্যিক শর্ত। দুর্নীতিবাজ তোলামুলের কল্যাণে সততাকে আজকাল ডিগ্রী বলে মনে হয়।

একটা দলে তাত্ত্বিক নেতা অবশ্যই দরকার, সেটা ১০% বা বড়জোড় ২০%, আজকের সিপিএমে প্রায় সকলে তাত্ত্বিক নেতা, সকলে পার্টির লেভি বা চাঁদার রোজগারে পালিত। দল করাটাই যেহেতু এদের পেশা, তার কারণে এনারা সারাবছর রাস্তায় থাকেন। জ্যোতি বসুকে কখনও ব্যারিস্টার শিক্ষিত প্রমাণ করতে হয়েছিল? হরেকৃষ্ণ কোনার বা সুকুমার সেনগুপ্তেরা হোলটাইমারের টাকায় পেট চালাতেন? কেউ এনাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা কখনও জানতে চেয়েছিল? বিজেপি এই ২০২৬ ভোটে তাদের কোন প্রার্থীকে শুধুমাত্র ‘শিক্ষিত’ প্রোজেক্ট করে ভোট চেয়েছে? তাদের প্রতিটা ‘শিক্ষিত’র কেউ হোলটাইমার নয়, প্রত্যেকের নিজ নিজ পেশা আছে, এমনকি RSS এর রক্তবীজগুলোও কিছু না কিছু করে খায়। যদিও এরা সাম্প্রদায়িক রাজনীতিই করবে আগামীতে, তার পরেও এদের মুখে কাজের দাবির কথা, রুটি রুজির কথা মানায়। সুতরাং, বামের ভোট শুধুমাত্র ধর্মীয় মেরুকরণের ফলে রামে যায়নি। যারা নিজেরা কাঠ বেকার, কোনো কাজটি করে না- তাদের মুখে কাজের দাবীতে লড়াই এর কথা আর মমতার মুখে দুর্নীতি মুক্ত সততার কথা আসলে একই। এই কারণেই জনপ্রিয় কোনো সিপিএম ‘শিক্ষিত তরুণ’ নেতার বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হয়নি সমাজে।

শিক্ষিত নেতা অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু আসল দরকার শ্রমিকদের মধ্যে থেকে নেতা, কৃষকদের মধ্যে থেকে নেতা চাই, ট্যাক্সিচালকদের মধ্যে থেকে নেতা চাই, শিক্ষকদের মধ্যে থেকে নেতা চাই, আইনজীবীদের মধ্যে থেকে চাই, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে আসা ছেলেপুলে চাই, গ্রামের রাস্তায় রাস্তায় ধুলোমাখা নেতা চাই। আলিমুদ্দিনে বসা নের্তৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গির বদল সবার আগে দরকার। নির্দিষ্ট ছোট ছোট লক্ষ্য দরকার, যেগুলোকে পূর্ণ করার উপরে আগামী নির্ভর করবে। মঞ্চের সামনে নাচ গান দিয়ে কোলকাতার রাজনীতিও চলে কিনা জানি না, গ্রামে এগুলোকে নেটোপালা বলে। এখানে মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক, এখানে মানুষ ১৫ বছর ধরে তোলাবাজদের অত্যাচারের শিকার, এখানে স্কুল কলেজ নেই, ধর্মীয় মেরুকরণের শিকার, একঘরে হয়ে থাকা, ঘরছাড়া হয়ে পালিয়ে বেড়ানো, ক্ষুদ্রঋণের ফাঁস গ্রামে গ্রামে ক্যান্সার হয়ে গেছে। এগুলোর জন্য শুধু মাত্র ‘মেধাহীন কাগুজে শিক্ষিত’ নেতা চায় না জনগণ।

ISF নিজের পায়ে কুড়ুল মেরেছে। আরাবুলকে দলে না নিলে তারা দুই ২৪ পরগণা মিলিয়ে কমপক্ষে ৭-৮টা আসন পেতে পারত। আরাবুল ইসলাম হচ্ছে- ক্রমশ অত্যাচারীদের মুখ হয়ে ওঠা মমতা ব্যানার্জীর কোম্পানির বিজ্ঞাপনী মডেল, তৃণমূল সংস্কৃতির মূল্যায়নের একক। তাকে দলে নিতেই সাধারণ মানুষ সরে গেছে, যারা এতদিন অত্যাচার করেছে, তাকেই কেন আবার অন্য দলের জামায় ফিরিয়ে আনবে? অতি লোভ নৌসাদ-আব্বাসকে ১০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে, যতই নৌসাদের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি থাক, মিন্টু সাহজি আর আরাবুলের অতীতের পাপ কি আন্না হাজারের ভাগে যাবে? জোট যেমন আছে থাকুক, কিন্তু বুথ স্তরে সিপিএম নিজে সংগঠন গোছাক। ISF কোনো দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান নয়।

রাজ্যের প্রকৃত বাম কারা? পথ ভাবে আমি দেব, রথ ভাবে আমি, মূর্তি ভাবে আমি দেব, হাসেন ‘ক্ষিতি গোস্বামী’। আসলে নরেন চট্টোপাধ্যায়, মনোজ ভট্টাচার্য, স্বপন ব্যানার্জীদের মতো বোঝাদের বয়ে চলা সিপিএম এর জবাব দিতে পারবে না। দীপঙ্কর ভট্টাচার্য আসলে কার প্রতিপক্ষ! এক্ষেত্রে একটাই নাম SUCI, ব্র‍্যাকেট ক্লোজড। এনাদের ম্যানিফেস্টোর সাথে কর্মকান্ডের মিল খোঁজার মতো লুম্পেন নিশ্চয় আপনি নন। দক্ষিণ কোলকাতার রাস্তায় বিপ্লবের ‘রগরগে' স্লোগান, পাহাড়ি নদীর মতো স্রোতস্বিনী মিছিল, এর সাথে পিটুনি খাওয়া আদিম প্রতিভা, সরকারের পর সরকার বদলালেও এদের ঠ্যাঙানি সহ্যের যে সহজাত সৃজনী ক্ষমতা তা বঙ্গ রাজনীতিতে বিরল। আবেগতাড়িত সুড়সুড়ি ভাষণ, মিথ্যার মোড়কে বিল্পবের আরক মিশিয়ে লেখার ‘চালাকি’ এবং বিপ্লবের মরুদ্যানে ‘মরীচিকা’ বিক্রির রাজনৈতিক লাইন বেয়ে অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাওয়া SUCI এই বিধানসভা ভোটে কোথায় দাঁড়িয়ে কেউ কি খোঁজ করেছেন?

আমরা একটা নিষ্কর্ষে পৌঁছেছি- শ্রমজীবি মানুষ, শোষিত প্রান্তিক মানুষ, বঞ্চিত অত্যাচারিত নিম্নবিত্ত, নিপীড়িত তফসিলি আদিবাসী সংখ্যালঘু মানুষদের সাথে থাকা (কঠোরভাবে যাদবপুর থেকে ধর্মতলা অবধিই) রাজ্যের ‘আগামার্কা’ খাঁটি বিপ্লবী দল যারা, সেই SUCI এর ভোট শতাংশ বিশ্রী হারে কমে গেছে এই ২০২৬ এর ভোটে। এটা যে বাঙালি সমাজের একটা চূড়ান্ত অবক্ষয়, মহান বিপ্লবী শিবদাস ঘোষ এবং নীহার মুখার্জীর আত্মার তরফে সেই আকাশবাণী আসার অপেক্ষায় প্রভাষ ঘোষ, কে রাধাকৃষ্ণ, কৃষ্ণ চক্রবর্তীর মতো পলিটব্যুরোর আগুনখেকো বিপ্লবীরা প্রতীক্ষায় রয়েছেন। তাদের বাঙালি ‘চে’ আনন্দরূপ বা তাদের জন রিড, গ্লেন গ্রিনওয়ার্ল্ড, এজরা ক্লেইন কিম্বা পাতি ভারতীয় সাঁইনাথের চেয়েও উন্নত, বিশ্ববরেণ্য সাংবাদিক ভাদুড়ি মশাইও গবেষণা করে বের করতে পারেননি যে- ৯৯.৯০% আসনে NOTA কেন তাদের সাথে লড়াই করল? 

বিজেপি, তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএম এরা তো সামান্য মুষ্টিমেয় দু’চারটে স্বৈরাচারী, কর্তৃত্ববাদী, সর্বগ্রাসী, বুর্জোয়া দল; SUCI দাঁতে দাঁত চেপে প্রতিটা কেন্দ্রে লড়াই করেছে তাদের নির্দিষ্ট টার্গেট নোটা’র সাথে। এর সাথে ছিল হাজারে হাজারে ভিন্ন ভিন্ন মতাদর্শ যুক্ত নির্দলদের দল। নির্দলদের সাথে আসল টক্কর বাংলা জুড়ে কে নিয়েছে? SUCI নিয়েছে, তথ্য মিলিয়ে দেখে নিতে পারেন। NOTA কি পর্ণশবরীর অভিশাপ নাকি নিকষছায়া? নোটা কি বুর্জোয়া? নোটা ফ্যাসিস্ট? নোটারা ঠিক কোনো কোনো ক্ষেত্রে SUCI এর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে যার কারণে নোটা SUCI এর চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে? এ বিষয়ে তারা একটা একটা প্লেনাম ডেকে পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছে বিশ্বস্ত সুত্র। 

পক্ষীদের গর্গদা নাকি মামাবাড়ি গেছে, ভাগ্যিস কুমির সৈকত বিদেশে সেটেলড, কে জানে বরেণ্য সাংবাদিক জিম সাহেব(করবেট নন) আজকাল কোথায় আছে, গত ১৫ দিনের সমস্ত ফেসবুক পোস্ট ডিলিটেড, লর্ড জাহাঙ্গীরের সাথে ছবি সহ। দীপক ব্যাপারি, নির্ভীক অনিন্দ্য এরা প্লাস্টিক সার্জারি না করে কি বাজারে লঞ্চ হবে? বাকি অনেক শুঁয়োপোকা, এ্যানাল-থিসিস লেখা লোকজন এখন রাহুল গান্ধীর সাথে থাকা ছবি দিচ্ছে। এরা প্রত্যেকে তৃণমূলের শাখা সংগঠনের প্রধান, কোনো নিরপেক্ষ কেউ নন। কেউ কি মেজো খোকা, সোনা বিজ্ঞানী তথা রিঙ্কু বৌদির উনি, পাল বাড়ির দর্জি কাকিমার বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারী মামলাগুলো পড়ে দেখেছেন? কারা সেই মামলার বাদীপক্ষ? দেখলে বুঝে যাবেন ঋজু দত্ত, কোহিনুর মজুমদার, কার্তিক ঘোষ, সুপ্রিয় চন্দ বা রাজ চক্রবর্তীরা কোনো রাসায়নিক পরিবর্তনের ফলে কেউ তাড়াতাড়ি সাসপেনশ আনিয়ে নিল বা কেউ রাজনীতি ছেড়ে দিল, সব উত্তর ওখানেই নিহিত রয়েছে।

রাজনীতিতে মূলত তিন ধরনের দুষ্কৃতি থাকে, প্রথমটা মস্তান, এরা ধর্ষণ, চুরি, খুন বা হত্যা করতে পারে না। অশান্তি, মারামারি, লাঠালাঠি, মাথা ফাটানো, উত্তপ্ত ভাষণ দেওয়া এগুলো এদের কাজ। দ্বিতীয় হচ্ছে গুন্ডা, যারা তোলা আদায়, থ্রেট দেওয়া, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, এমনকি উত্তেজনার মাথায় খুন অবধি করে ফেলে নির্দ্বিধায়। মস্তানেরা গুন্ডাদের আইডল মানে। তৃতীয় শ্রেণি হচ্ছে ক্রিমিনাল, এরা মাঠে নেমে মারামারি করে না, কখনও নিজের হাতে চাকু, বোমা, বন্দুক হয়ত ছুঁয়ে দেখেনি। কিন্তু প্রতিটা গুন্ডাকে এরা নিয়ন্ত্রণ করে, প্রতিটা গুন্ডার ধর্ম বাপ হচ্ছে এই ক্রিমিনালেরা। প্রতিটা তোলাবাজি, প্রতিটা দাদাগিরি, প্রতিটা দাঙ্গা, প্রতিটা খুনের পিছনে এনাদের বরফ শীতল মস্তিষ্ক কাজ করে, এনাদের অঙ্গুলি লেহনেই বাবলু সিংহ, নিশিকান্ত মন্ডল, নান্টু প্রধান, দেবাশীষ আচার্য কিম্বা চন্দ্রনাথেরা খুন হয়। হিরেন পান্ডিয়া, গোপীনাথ মুণ্ডে, দীনদয়াল উপাধ্যায়, মনোহর পারিক্কর, বিপিন রাওয়াতদের খুনের কোনো তদন্ত হয় না যাদের নির্দেশে, বিচারপতি লোয়ার আত্মা আজও ভুত হয়ে জাস্টিস খোঁজে যাদের কারণে- তারাই হচ্ছে ক্রিমিনাল। রাষ্ট্রীয় স্তরে এই শিল্পের গুণীশ্রেষ্ঠ শিল্পী মোটাভাই হলে, রাজ্যস্তরে সেই গুণের গুণী যে আমাদের মেজোখোকা, সেটা আলাদা করে উল্লেখ করতে হয় না। এদের আসল নাম আপনি জানেন, আমি খুন হতেও চাইনা, জেলে যাবারও শখ নেই আর, তাই লিখিনি। 

এই যে এতদিন সিপিএমের আক্রান্ত স্থলে যেতে না পারা, এই অক্ষমতার দর্পনেই আজ তোলামুল দলটার ‘নেই’ হয়ে যাবার বীজ রোপন করা আছে। মাত্র ১ সপ্তাহ আগেও রাজ্যের সবচেয়ে সংগঠিত রাজনৈতিক দলটার নাম ছিল তৃণমূল কংগ্রেস, এরাই প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৪০ জনের ভোট পেয়েছে। পুলিশ প্রশাসন, গুন্ডা, মস্তান, ক্রিমিনালের ৯৯% এদের অধীনেই ছিল। ফল বের হওয়ার মাত্র ৭ দিনে তারা বৈধব্যে এসে গেছে, ৭ সপ্তাহে তারা যক্ষ্মা রোগীর মতো কঙ্কালসার হয়ে যাবে, ৭ মাসে তাদের বংশে বাতি দেওয়ার মতো কেউ রইবে না, ৭ বছর পর নামটুকু নেওয়ার জন্য কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। দল হিসাবে সিপিএম তাদের চেয়ে অনেক অনেক উন্নত, ক্ষমতা যাবার দেড় দশক পরেও রাজ্যের ৮০% বুথে নিজেদের এজেন্ট দিতে পেরেছিল। আগামীতে রাজ্যে যখন পরিবর্তন আসবে, সেই সরকার CPM ছাড়া গঠিত হবে না- দেওয়ালে খোদাই নিন। কিন্তু সেটা ৫ বছর পর নাকি ২৫ বছর পর সেটা নির্ভর করবে গত বিধানসভা ভোট থেকে তারা কিছু শিক্ষা নিয়েছে কিনা তার উপরে।

গণশক্তির একটা ট্যাগলাইন আছে, “আমরা নিরপেক্ষ নই, মেহনতী মানুষের পক্ষে”। কিন্তু মেধাহীন শিক্ষা দিয়ে মেহনতী মানুষের কাছে আদৌ আপনারা পৌঁছতে পারবেন? শেষ ১৮ বছর ধরে পারেননি, উন্নাসিকতা ঝেরে ফেলে ‘বাস্তবিক’ শিক্ষিত না হলে আগামী ১৮০ বছরেও পারবেন না।

রবিবার, ১০ মে, ২০২৬

মমতা ব্যানার্জি একটা অপ্রাসঙ্গিক অবাঞ্ছিত নাম আজকের তারিখে

 

মুষলপর্ব- ১

 

মমতা ব্যানার্জী খেজুরিতে যেতে পারবে না। যাওয়া উচিত ছিল নিশ্চিতভাবে, কিন্তু যেতে পারবে না, সাহস নেই। ভাইপো এখন দিল্লি পালিয়ে গেছে, সেখান সেফ হাউজে থেকে জনগণকে একত্রিত হওয়ার উপদেশ দিচ্ছে। কল্যাণ ব্যানার্জীও সেফ হাউজে, বাকি সমস্ত তোলামুলী লোকজন অজ্ঞাতবাসে লুকিয়ে কুলোর বাতাস দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছে।

ভাইপো ঠান্ডা ঘরের নেতা, লড়াই আন্দোলনে জন্মানো ঘাম রক্তের নেতা নয়, সারোগেসি বা টেস্টটিউব বেবী। বাইরে বের হলেই আক্ষরিক অর্থে সে বলাৎকারের শিকার হবে। আগে তাকে তৃণমূলের একটা বড় অংশ ক্যালাবে, তাদের হাত থেকে যদি কিছুটা বেঁচে ফেরে প্রাক্তন তৃণমূলীরা মারবেই মারবে, এরপর শাসক দল বিজেপি ক্যালাবে এবং বামেদের একটা অংশ আদা ছ্যাঁচা করবে, আর আমার মতো যারা মনে মনে অন্তত ভাইপোর গায়ে থুতু দিতে চায়- তারাও তো লাইনে আছি। মমতার যে কেরিয়ার শেষ, ২০২৩ থেকে প্রতি মাসে একবার করে লিখেছি, তাই ওটা নিয়ে আজ নতুন করে লেখার কিচ্ছু নেই, বর্তমান রাজনীতির মঞ্চে মমতা ব্যানার্জী একটা অপ্রাসঙ্গিক অবাঞ্ছিত নাম।

২০১১ তে সুর্যকান্ত মিশ্র, নিরূপম সেন, বিমান বসু, মহঃ সেলিম, বুদ্ধদেব বাবু কেউ যেতে পারেনি অধিকাংশ আক্রান্তদের পাশে, দলটা উঠে গিয়েছিল। বৃদ্ধ কিছু নেতার দল, তাদের পার্টি অফিস, তাদের ফাঁপা শৃঙ্খলা, অতীতের পাহাড় প্রমাণ বনেদিয়ানা জমিদারির ইতিহাস, আর শূন্যগর্ভ বক্তৃতা- ২০২০ অবধি সিপিএম এই ফাঁদে আঁটকে গিয়েছিল। তোলামুলের ক্ষেত্রেও এর কোনো আলাদা কিছু হবে না। আগামী ৩ মাস মাস পর প্রতিটা তোলামুল নেতার স্নায়ুরোগ হবে। কলিং বেল বাজলে প্যান্টে মুতে ফেলবে।

আজ তৃণমূল মার খেলেই সে মুসলমান হয়ে যাচ্ছে, এটা কি অস্বীকার করা যাবে রাজ্যের ৯০% মুসলমান ভোট তৃণমূলের ঝুলিতে গেছে। প্রতিটা গ্রামের প্রায় প্রতিটা ইমামকে দিয়ে মসজিদে মাদ্রাসাতে ভোট প্রচার করিয়েছিল মমতা ব্যানার্জী, জমিয়ত উলামা প্রকাশ্যে তৃণমূলের হয়ে ভোট প্রচার করেছে, তাদের অফিসগুলো তৃণমূলের পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছিল। প্রতিটা মুসলিম সংগঠন উলঙ্গ হয়ে ‘বিজেপিকে রুখতে’ তৃণমূলকে ভোট দিন বলে তান্ডব নৃত্য করেছিল। ভোটের সময় সময় তুমি তৃণমূল ছিলে, নির্দিষ্ট করে তোমাদের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল, তুমি চুরি তোলাবাজি কাটমানির ভাগা নিয়েছ; আজ মার খাওয়ার সময় ধার্মিক হয়ে ধর্ম এগিয়ে আসছে কেন; কেন বলতে পারছ না যে আমরা তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি, আমরা ওই দলেরই কর্মী সমর্থক, ওদের হয়ে সমস্ত পাপ করেছি বা করাকে সমর্থন করেছি বলে, আজ আমাদের উপরে অত্যাচার হচ্ছে! আসলে তৃণমূলও চাইছে এই ক্যালানির ঘটনাতে সাম্প্রদায়িক রঙ লাগুক। 

মমতা ব্যানার্জী সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ছিল। আপনাদের পাড়া এবং চেনা জানা সমস্ত মুসলমান পাড়ায় কোন উন্নতিটা করেছে? সংখ্যালঘু মানে শুধু মুসলমান? বৌদ্ধ, জৈন, খ্রীষ্টান এরা সংখ্যালঘু নয়? এদের পিছিয়ে পড়া সমাজ থেকে কতজনকে গত ১৫ বছরে চাকরি দিয়েছে?

☞ কতজন গরিব মুসলমানের চিকিৎসার দায় নিয়েছে?

☞ কতজন জেলে থাকা মুসলমানকে আইনি সাহায্য দিয়েছে?

☞ মুসসলমান সমাজের পিছিয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীর কতজনকে স্কলারশিপ দিয়েছে? 

☞ কতজন মুসলমান ব্যবসায়ীকে বিনা সুদে লোন দিয়েছে? 

☞ কতজন গরিব মুসলমানকে বাড়ি করে দিয়েছে? 

☞ কটা আধুনিক মাদ্রাসা তৈরি করেছে বা মাদ্রাসার আধুনিকীকরণ করেছে? 


আসলে কয়েকটা লোক যারা এই দপ্তরের নামে মন্ত্রিত্ব পায়, তারা নিজেরা আপন আখের গুছিয়েছে, তার বাইরে এই দপ্তর থেকে আমাদের চেনা জানা একটিও মানুষ উপকৃত হয়নি। 

এর মানে কি হিন্দুত্ববাদী RSS এর দুষ্কৃতিরা হামলা করছে না মুসলমান ও তাদের সম্পত্তির উপরে? অবশ্যই করছে; কিন্তু তেমনটা ১টা হলে, ৯টা তোলামুলের উপরে আক্রমণ হচ্ছে, যেটাকে মুসলমানের উপরে অত্যাচারের মোড়ক লাগিয়ে পরিবেশনা করা হচ্ছে, কারণ বিজেপি মানেই সাম্প্রদায়িক, ফলত তাদের ওই খাতে মিটার উঠে যাচ্ছে।

আগামীতে ৩ দফায় আসল মার শুরু হবে তোলামুলের। আজ কাল যেগুলো হচ্ছে সেগুলো সেই- হ্যালো হ্যালো মাইক টেস্টিং ১ ২ ৩ ৪... এই হচ্ছে। তোলামুল নামের দানবের বিসর্জন হয়েছে বলে আমাদের মতো অনেকেই খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছি, তার মানে এই নয় যে বিজেপি সভ্য মানুষের দল হয়ে গেছে। তারা যে পর্যায়ের নিকৃষ্ট বেহায়া নির্লজ্জ পুঁজিপতিদের দাস ছিল সেটাই থাকবে, তারা সাম্প্রদায়িক ছিল, তারা সংখ্যালঘু অত্যাচারী ছিল, মনুবাদী ব্রাহ্মন্যবাদী ছিল, সেটাই থাকবে। এবারে লড়াইটা আর ঘোমটার আড়ালে নয়, সরাসরি হবে।

তোলামুলের হিন্দু অংশের অধিকাংশই বিজেপিতে চলে যাবে, যাদের হাতে হারামের টাকা আছে, তারা অনেকে টাকা জরিমানা দিয়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও- প্রত্যেকে আগামী ৬ মাসে বুঝবে আতঙ্ক কাকে বলে। মুসলমান অঞ্চলের মালগুলো মূল ক্যালানিটা খাবে। আর এদের হাল দেখার পর- তোলামুলের ডিমে তা দিয়ে কোনো বাচ্চা ফু্টবে না। বরং আগামীতে তোলামুল নেতানেত্রীদের যৌন প্রোটেকশন দরকার হবে না- ক্ষমতায় থাকাকালীন তৃণমূলের যেকোনো স্লোগান বললেই বীর্যের শুক্রাণুগুলো নিজেই আত্মহত্যা করে মরে যাবে। না কন্ডোম, না কন্ট্রাসেপটিভ পিল- নির্বীজকরণের এটা এক যুগান্তকারী আবিষ্কার। আজ বুঝবে না সকলে, যত সময় যাবে, আমার কথাগুলোর বাস্তবতা বুঝতে পারবে।

বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদে বসছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ডেপুটি বিরোধী দলনেতা হচ্ছেন তৃণমূলের দুই মহিলা মুখ, অসীমা পাত্র এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী দল তৃণমূলের চিফ হুইপ পদে বসছেন ফিরহাদ হাকিম। মমতা শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা করেছে এক নম্বর কারণ নিজের কন্ট্রোলে থাকবে, শোভনদেবের বয়স ৮৩ উল্টোদিকে ববি ৭০। দুই নম্বর কারণ- দক্ষিণ কলকাতা। তিন নম্বর কারণ মমতা ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক, ব্রাহ্মণ বলে একমাত্র নির্বাচিত করেছে। নয়না সুদীপের বউ এবং ব্রাহ্মণ দুই ক্যাটাগরিতে ঢুকেছে। অসীমা পাত্র ওর বাড়ির কাজের লোক। তালিকা সমাপ্ত।

দেবী ঘৃণাতে সাওয়ার হয়ে এসেছিলেন, ঘৃণাতেই বিসর্জন হয়েছে। বিজেপি RSS উভয়েই জানে, তারা মমতার প্রতি ঘৃণার স্রোতে ক্ষমতায় এসেছে, যেমন বামেদের প্রতি তীব্র রাগের নৌকায় চড়ে মমতা ক্ষমতায় এসেছিল। শুভেন্দু যদি যোগীর মতো আচরণ না করে তাহলে বাংলার লোকজন খানিকটা জায়গা দেবে। বিজেপির শুভেন্দুর সবচেয়ে বড় সমস্যা তৃণমূলের শুভেন্দুর বলা সংলাপগুলো। পরবর্তী সমস্ত জীবন তাকে নিজের সাথে লড়াই করতে হবে। বাঙালি হিন্দুদের ৬০% এর বেশি ভোট বিজেপির ঝুলিতে গেছে বিজেপির হিন্দুত্বকে সাপোর্ট করে নয়, মমতাকে উৎখাত করতে, বহু মুসলমান বুথেও বিজেপির প্রার্থীরা না হলে ভোট পেতো না।

খুব সত্য ঘটনা হচ্ছে, বহু স্থানে বিজেপি কর্মীরা আফসোস করছে, তাদের হাত নিসপিস করলেও ,সাম্পদায়িক রং লাগার ভয়ে তারা তোলামুলকে চেয়েও ক্যালাতে পারছে না। অনেক স্থানে অশান্তি করতে চেয়েও পারছে না, যা সময়ের দাবী; উলটে ব্রেক মারতে হচ্ছে, পাছে তোলামুল ক্যালাতে গিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বলে চিহ্নিত হয়ে যায়। সদ্য এরা সরকার এসেছে, এই লাইনে অনেক চোর তোলাবাজ বেঁচে যাচ্ছে এই মুহূর্তে। এর পরের মারগুলো গতরে হওয়ার চেয়েও পুলিশি আর অর্থনৈতিক মার বেশি হবে। তাই যারা ভাবছে বেঁচে যাচ্ছি, তারা কেউ বাঁচবে না, কাকে কতটা ক্যালানি দেওয়া হবে এবং কোন লেভেলের হবে- সেইটার তালিকা তৈরি হচ্ছে।

চোরগুলো কেউ ১০০ কোটির মালিক, কেউ ৫০ কোটি তো কেউ ৫ কোটির। সামান্য পঞ্চায়েতের সদস্যও ৫০ লাখ বাগিয়ে বসে আছে। কাকে জরিমানা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে, কাকে অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে বলবে, প্রতিটা প্রেসক্রিপসন আলাদা আলাদা হবে। মেদিনীপুরিয়ান কি জিনিস, বিশ্ব সংসারে এদের নিয়ে যে বা যারা ঘর করেছে একমাত্র তারাই জানে। এদের মত জেদী, গোঁয়ার, ছেঁড়া ন্যাকড়ার আগুনের মতো লেগে থাকার মানসিকতা যুক্ত প্রতিহিংসা পরায়ণ জাতি বিশ্ব সংসারে দ্বিতীয়টি নেই, আসল তো বটেই- এরা সুদেরও সুদ আদায় করা লোকজন। সুতরাং, ছাড় দিলেও ছেড়ে দেবে না। 

এতো কিছু বলার উদ্দেশ্য একটাই, পূর্ব বর্ধমানে কমল গায়েন, প্রদীপ তা খুন হয়েছিলেন মমতার প্রত্যক্ষ মদতে, তিন মেদিনীপুর, বাঁকুড়া পুরুলিয়া - সিপিএম সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছিল এই জেলাগুলোতে। আজও সিপিএম সেই আতঙ্ক কাটিয়ে উঠে একটা কচি নেতাও জন্ম দিতে পারেনি। সরি, জন্ম দেওয়া দূর অস্ত, গর্ভধারণ অবধি করতে পারেনি। আরো ৫-৭ বছর লাগবে ২০১১ সালের আতঙ্ক দূর করে, সেই ট্রমা কাটিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক হতে। 

বামেদের নিজশ্ব ইউনিক সাপ্লাই লাইন থাকা সত্বেও তারা আজ অবধি মানসিক ভীতি কাটিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি, রাজ্য জুড়ে অন্তত ১৬টা জেলাতে তারা হামাগুড়ি দিচ্ছে। শরিকগুলোর তো ঝাঁপ বন্ধ হয়ে গেছে। ২০১১ এর সময়কার কোনো বড় বাম নেতার যা খুশি রোগ থাক, কোষ্ঠকাঠিন্য নেই। মমতার নাম দু'বার করলে পোঁদ দিয়ে জিভ বেরিয়ে আসে, সেখানে রেক্টামে গু আঁটকে থাকার প্রশ্নই নেই। আজ তোলামুল নামের সাপটা মারা গেছে, খোলস পরে আছে। সেটাকে দেখেই পাখি আর বাঁদরের দল কিচিরমিচির করছে। ভুলে যেও না SUCI এরও পলিটব্যুরো আছে। ২০ বছর পরেও অফিসিয়ালি তৃণমূল কংগ্রেস দলটার অফিস থাকবে কোলকাতার কোথাও না কোথাও। কিন্তু এরা ৫% ভোটও পাবে না ঠিক আগামীকাল নির্বাচন হলেও। যেসব ঘাটের মরাদের যাবার জাইগা নেই, তারা কালীঘাটের ভিকিরি আর ঘেও কুত্তা হয়ে পরে থাকবে।

পরবর্তী ৬ মাসে যে হারে এরা শারীরিক, মানসিক এবং অর্থনৈতিক যে মার খাবে, সেই আতঙ্ক কাটানো তো দুরস্থান- এদের শুক্রাণুর কেউ রাজনীতির নামটুকু মুখে আনবে না। নির্দিষ্ট আদর্শ থাকা সিপিএমের ধ্বজভঙ্গ আজও দশা কাটেনি, কারণ সিপিএম যখন মার খেয়েছিল সাধারণ মানুষ সেটাকে উদযাপন করেছিল। কোনো ধরনের আদর্শহীন তোলামুলকেও যখন মার খেতে দেখবে, একটা পাশবিক জিঘাংসা বৃত্তি কাজ করবে জনগণের মনে। ১৫ বছর ধরে করা প্রতিটা পাপের সাথে আজকের অত্যাচারকে জাস্টিফাই করে- হিসাব মিলিয়ে দেবে। এরপর এরা এতোটাই দুর্বল হয়ে যাবে যে, ওই গোটা বাংলা জুড়ে সাকুল্যে ২-৪টে পার্টি অফিস বাঁচবে, SUCI এর সাথে জোটে করে, কংগ্রেসের রক্ষীতা হয়ে তাদের দয়া দাক্ষিণ্যের উপরে বেঁচে থাকবে। ঘাটের মরা মালগুলো, যেগুলোকে আস্তাকুঁড়ের ডাব্বাও নেবে না- সেগুলোই জলসাঘরের ছবি বিশ্বাসের মতো বসে থাকবে।

এরপর সিভিক পুলিশ ধরবে, এদের উপরেই ফার্স্ট ফ্লাসের ক্যালানি শুরু হবে। সিভিকের পরেই পঞ্চায়েত, মিউনিসিপ্যালিটির ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের শরীরে হাত বোলালেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো প্যান্টে হেগে মুতে দেবে, তাদের থেকে পাওয়া তথ্যতেই তো মূল প্রাণভোমরা রয়েছে সরকারি চুরিচামারির। এরপর আইপ্যাকের মেজো ও উঁচু পদের পেদোর দল, ডেটা তাদের কাছেও কম কিছু নেই। দুর্নীতির হাতে-কলমে প্রয়োগ যদি সিভিক পুলিশগুলো করে থাকে, তাহলে এসি ঘরে বসে তার রূপায়ণ করেছে এইসব ডেটা এন্ট্রি অপারেটরগুলো- আইপ্যাকের তত্ত্বাবধানে। পঞ্চায়েতে পঞ্চায়েতে লক্ষ কোটির ঋণ আছে নানান কন্ট্রাকটারের। তারা টাকা পাবে না, তোলামুলের নেতাদের সম্পত্তি বেচে টাকা আদায়ের আগে দ্বিতীয় দফার ক্যালানি ও খুনোখুনি শুরু হবে এদের মাধ্যমে। এর পর তো পঞ্চায়েত ভোটের আগে আসল সাম্প্রদায়িক খেলা শুরু হবে।

তাই যারা ভাবছে খেলা শেষ, তাদের বলি- খেলা শুরুই হয়নি এখনও।



রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

মুসলমান ও হুমায়ূনের বাবরি মসজিদ

 

বাবরি মসজিদ, বেলডাঙা


বাবরি মসজিদ আর পাঁচটা মসজিদের মত শুধুমাত্র চার দেওয়ালের একটা নামাজ পড়ার ঘর নয়, এটা আপামর মুসলমানের আবেগের নাম। উগ্র হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিরা ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদের মাথায় চড়ে তাকে ধ্বংস করে ভারতের মুসলমানদের উপরে উত্যাচারের যে সূচনা করেছিলো, তারই হাত ধরে প্রথমে বাজপেয়ী সরকার ও বর্তমানের অত্যাচারী ফেরাউন মোদী সরকারের আগমন ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় মুসলমান হত্যাকারী কশাই যোগী আদিত্যনাথ ও হেমন্ত বিশ্বশর্মাদের মত জাহান্নামের কীটেদের উত্থান। এদের মূল এ্যাজেন্ডাই হলো মুসলমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করো, মুসলমানের সম্পদ কেড়ে নাও, তাকে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে উল্লাস করো। ভারতের মাটিতে উগ্রহিন্দুত্ববাদী রাজনীতির যে যুগ, সেটার সূচনা হয়েছিলো এই বাবরি মসজি ধ্বংসের হাত ধরেই। এটাই হিন্দুত্ববাদী উগ্রপন্থীদের, নাগপুরের গোয়ালঘরের জিতে যাওয়ার প্রাথমিক ধাপ ছিলো।

এক শ্রেণীর বুদ্ধিভ্রষ্ট উন্মাদ হিন্দু ভাইয়েরা RSS-BJP এর রাজনৈতিক কর্মসূচীকে, সনাতন ধর্মের অনংশ ভেবে ভেবে RSS এর প্রোপাগান্ডাতে ভেসে গিয়ে, তারাও সরাসরি এই মুসলমান ও দলিত নিধন যজ্ঞে সামিল হয়ে যাচ্ছে। এরা সকলে ব্রেন ওয়াস করা জঙ্গি। এমনই এক জঙ্গি আমাদের স্বাধীন ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করেছিল- স্বাধীনতা উত্তর ভারতের প্রথম জঙ্গি যাকে সাপ্লাই করেছিলো এই RSS। এরা নিকৃষ্ট ব্রাহ্মণ্যবাদী একটা মুষ্টিমেয় সম্প্রদায়, যারা জঘন্য বর্ণ প্রথায় বিশ্বাসী, মনুবাদ যাদের সংবিধান- তারা যে কোন মূল্যে নিম্ন বর্ণের হিন্দু এবং আদিবাসীদের উপর অমানুষিক অত্যাচার করে, তাদের সম্পদ কেড়ে নেওয়াকে, তাদের উপরে নারকীয় হামলা করাকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ও বীরত্ব বলে দাবি করে। এরা একসময় ব্রিটিশদের দালালি করত, এখন গুটিকয়েক গুজরাতি পুঁজিপতির ওই দালালি করে; যাদের মূল উদ্দেশ্য দেশের সম্পদ জনগণের সম্পদ লুটপাট করে বিক্রি করে দেওয়া। হিন্দুত্বের নামে এরা দেশের সংখ্যাগুরু সনাতনী ভাইদের সাথেও ভয়ংকর রকম প্রতারণায় লিপ্ত। মুসলমানেদের কচুকাটা করে, তাদের সম্পদ দখল করে নিয়ে বেনাগরিক কিম্বা তৃতীয় শ্রেনীর নাগরিক বানিয়ে দেবার যে চক্রান্ত- এই সবের প্রতীক হচ্ছে বাবরি মসজিদের ধ্বংস হওয়া। 

দীর্ঘ ৩৩ বছর পর এই সুবিশাল ভারবর্ষের বুকে 'বাপের ব্যাটা' হুমায়ুন কবীর, প্রতিদিন হেরে যাওয়া মুসলমানের হেঁট হয়ে থাকা যে শির- সেটাকে আবার উঁচু করে দিয়েছে। বাংলার পাক জমিনে বাবরি মসজিদকে পুনরায় নির্মাণ করার মাধ্যমে। রাজনৈতিক চরিত্রের বিচারে হুমায়ূন কবীর একজন গণিকা হলেও, একটা হেরে যাওয়া আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগা জাতিকে জাগাতে যেভাবে সাহস নিয়ে এগিয়ে এসেছে, তার জন্য কোনো সাধুবাদই যথেষ্ট নয়। হিন্দু ধরর্মেও তো বেশ্যাবাড়ির মাটি ব্যাতিরেকে দুর্গাপুজা সম্পন্ন হয়না, হুমায়ুনও এক্ষেত্রে সেই সাহসী ব্যাক্তিটা, যে মিইয়ে যাওয়া বারুদের স্তুপেও যে স্ফুলিঙ্গ ধরানো যায় সেই বিশ্বাসটা জাগাতে সক্ষম হয়েছে।

RSS, বিজেপি ও তাদের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটা সংস্থা ও প্রতিটা তন্ত্রকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাংলার জমিনে ভারতীয় মুসলমানের ইজ্জত 'বাবরি মসজিদ' স্থাপনের যে হিম্মত দেখিয়েছেন হুমায়ুন কবীর- গত ৩৩ বছরে তাবড় মুসলমান নেতৃত্ব এবং গালভরা নামের সংগঠন যত ছিল- তাদের সকলকে ছাপিয়ে গেছেন। যে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির এতো ফুলে ফেঁপে উঠা, সেই মসিজিদ পুনঃনির্মানের মাধ্যমে আজ মুসলমান সমাজকে একত্রিত করে- বিজেপি, RSS আর তাদের রাজনৈতিক হিন্দুত্বকে কবর দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই যেকোনো সুস্থ মুসলমানের লক্ষ্য। এই বাংলা রবীন্দ্র নজরুলের মাটি, এই বাংলা শ্রীচৈতন্যের সাম্যের গান গাওয়ার মাটি, এই মাটি অসংখ্য পীর আউলিয়ার মাটি, এখানে RSS এবং তাদের মত সমমতাদর্শিত দলের কোন স্থান নেই। 

আজ আমাদের সামনে কেবল বিজেপিই বাঁধা নয়, RSS এর অন্যান্য শাখা সংগঠন যেমন তৃণমূল কংগ্রেস বা তাদের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি, যিনি ১৯৯২ সালে নরসিমা রাও এর মন্ত্রীসভাতে ৩টে দফতরের মন্ত্রী ছিলেন, তিনি সে সময় ন্যূনতম প্রতিবাদ টুকু করেননি। কোনো ভিডিও বা সংবাদ পত্রের কাটিং এমন দেখাতে পারবেন না, যেখানে মমতা ব্যানার্জি বাবরি মসজিদ ধ্বংসের জন্য কোনরকম নিন্দা প্রস্তাব করেছিলেন।

আজকে এই মমতা ব্যানার্জি গত ১৫ বছর ধরে মুসলমানদের ভোটে জিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ২০২৬ এর নির্বাচনেও তিনি কমপক্ষে ৫০ জন RSS এর ক্যাডারকে তার দলের প্রার্থী বানিয়েছে। RSS এর পরিকল্পনা মত মুসলমানকে ঠকিয়ে তাদের ওয়াকফ সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছে, OBC থেকে মুসলমানকে বঞ্চিত করেছে, মাদ্রাসা শিক্ষাতে প্রায় লাটে তুলে দিয়েছে, শিক্ষা এবং চাকরি থেকে মুসলমানকে বঞ্চিত করে তাদের সন্তানকে পরিযায়ী শ্রমিক বানিয়ে দিয়েছে। SIR এর নামে মুসলমানকে জিম্মি করে, বৈধ ভারতীয় হওয়ার পরেও তাদের নাম কেটে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করেছে।

RSS এর অফিসিয়াল রাজনৈতিক দল বিজেপি এবং ঘোমটা পরা মুখোশধারী রাজনৈতিক শাখা- তৃণমূল কংগ্রেসকেও রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করতে না পারলে, প্রতিবার এরা মুসলমানের বন্ধু সেজে ভেক ধরে মুসলমান সমাজের সাথে প্রতারণা করবে। মুসলমানের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় যাবে, তারপর তারা সরকারি টাকায় মন্দির বানাবে, দুর্গাপুজোয় হাজার হাজার কোটি টাকা বিলি করবে, কার্নিভ্যাল করবে, মেলা খেলা করবে; আর মুসলমান যে তিমিরে ছিল এখানেই রয়ে যাবে, সমাজের অন্ত্যজ শ্রেনী হয়ে। 

এই ভোটে মুসলমান সমাজকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার, যা আমাদের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র আমাদের গোষ্ঠীকে দিয়েছে, সেটাকে বুঝে নেওয়ার এটাই সময়। একটা হুমায়ুন কবীর, একটা বাবরি মসজিদ আমাদের বাঙালি মুসলমানদের সামনে দুর্দান্ত সুযোগ এনে দিয়েছে- সমস্ত ফিরকা বিবাদ ভুলে মুসলমান সমাজকে এক হয়ে মুসলমানের শত্রুদের বিপক্ষে একজোট হয়ে লড়ার। এর জন্য সাচ্চা মুসলমানের প্রতিনিধি চাই। কোনো চটি চটা RSS এর দালালি করা মুনাফিক মুসলমান দিয়ে এ কাজ হবে না। আমাদের প্রতিনিধি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে আল্লাহর কসম, তারা আমাদের কওমের জন্য আওয়াজ তুলবে এবং আমাদের সাংবিধানিক অধিকার ছিনিয়ে আনবে আমাদের সন্তানদের জন্য।


মুসলমান পিছিয়ে পড়া জাতি নয় আমাদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে। আজ অধিকার বুঝে নেওয়ার সময়। আলহামদুলিল্লাহ, আমদের প্রত্যেককে লড়াইয়ের পথে ফিরতে হবে। অন্নবস্ত্র বাসস্থান, উন্নত সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, কৃষি ও শেচ ব্যবস্থায় উন্নতি, বৃত্তিমূলক কর্মসংস্থান গড়ে তোলা, হাতে হালাল রোজগার এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য সম্মানের জীবনযাপন এর সুযোগ করে জয় আমাদের লক্ষ্য। সুদের ফাঁস থেকে গ্রামীণ সমাজের মা বোনদের রক্ষা করাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিৎ। 

জনগণকে সাথে নিয়ে, আমরা আমাদের লক্ষ্যে সফল হবো ইনশাল্লাহ। 

আমিন



শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬

২০২৬ বিধানসভা ভোটের প্রথম দফাঃ একটি তুল্যমূল্য আলোচনা


উত্তরবঙ্গের ৬টা জেলার ২৭ আসনে, তোলামূল সর্বোচ্চ ৬-৮ টা পেতে পারে কুঁতিয়ে কঁকিয়ে। দুই দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৫টা। মালদাতে সর্বোচ্চ ২টো। মুর্শিদাবাদে ২টো সর্বোচ্চ। বীরভূমে খুব ভালো হলে তবে ৫টা। পুরুলিয়া- ০-১ টা। বাঁকুড়া- ০-১ টো। পূর্ব মেদিনীপুর ৬-৮ টা, আরো কম হবে আশা করা যায় পশ্চিম মেদিনীপুর ৮-১০টা। পশ্চিম বর্দধমানে ৩-৪টে। সব মিলিয়ে: +-৪৫টা আসন, যা বাড়ার কোনো জাইগা নেই। বরং ত্রিমুখী চতুর্মুখী লড়াইতে সংখ্যাটা ৩০এ নেমে না গেলেই আশ্চর্য হবো।

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে মুর্শিদাবাদের ২২টা আসনের মধ্যে ২০টা তোলামূল পেয়েছিল। ৫৪.৫% ভোট পাওয়া তোলামূল- ২৩.১% ভোট পাওয়া বিজেপির চেয়ে এগিয়ে ছিলো ৩১.৪% ভোটে, যেখানে বামে কংগ্রেস মিলে ১৯% ভোট পেয়ে তিন আর চার নাম্বারে ছিলো। SIR এ এই মুর্শিদাবাদে নাম বাদ গেছে প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার, যেখানে মোট ভোটার ৫০ লাখ ২৬ হাজার মতো। যেমন শামসেরগঞ্জে ২৯.৫%, রঘুনাথগঞ্জে ১৭.২৯%, সুতিতে ১৩.৪২% ভোটার তালিকাতে নেই। অর্থাৎ, গোটা জেলার নিরিখে ১৪.৭২% ভোটার নেই হয়ে গেছে প্রথম দফার ভোট অবধি।

অনুরূপ মালদা জেলায় SIR এ বাদ চিত্রে- ৩১ লাখ ৯৯ হাজার ভোটারের ২ লাখ ৩৯ হাজার নেই। এখানে জেলার নিরিখে শতাংশের হার তেমন ভয়াবহ না দেখালেও, মোথাবাড়ি ১৮.৩%, মালতীপুর, রতুয়া, মানিকচক এই আসনগুলোতেও গড়ে ১২-১৪% নাম নেই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলগুলির প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল- তৃণমূল কংগ্রেসঃ ৫৩.০%, বিজেপিঃ ৩২.৮%, জাতীয় কংগ্রেসঃ ৮.৮%, সিপিএমঃ ১.৬%। তোলামুলের জয়ের মার্জিন ছিল গড়ে ২০.২%। 

মুর্শিদাবাদে ১৫% ভোটার নেই, মালদাতেও যেগুলো মুসলমান অধ্যুষিত তৃণমূলের আসন সেখানে গড়ে ১৪% ভোটার নেই। এই নেই ভোটারদের যারা সত্যিকারের মৃত-স্থানান্তরিত বা পাতি বাংলাতে ভুতুড়ে ভুয়ো ভোটার, তারা তোলামুলের বাক্সেই ভোটটা দিয়ে যেতো। যেটা কমপক্ষে গত ভোটার লিস্টে থাকা ভোটারের ৯% এর কাছাকাছি।

ধান ভানতে এত শিবের গীতের কেন প্রয়োজন হলো! ৯% মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটার যার পুরোটাই একপ্রকার তোলামূলের নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক ছিল, যারা এবারে নেই। এর পাশাপাশি যারা বৈধ হওয়া সত্বেও ‘ডিলিটেড’ তাদের পরিবারের লোকেরা কোন দিকে ভোট দিয়েছে কেউ জানে না। ১০ হাাজার বৈধ ‘ডিলিটেড’ পরিবারে গড়ে ৩ জন করে থাকলেও, সংখ্যাটা নুন্যতম ৩০ হাজারে দাঁড়ায়। এনাদের সামান্য কিছু ভোট তোলামূল নিশ্চিত পাবে, কিন্তু অধিকাংশ ভোট তো তোলামূলের বিপক্ষেই পরবে, বিজেপির পাওয়ার প্রশ্নই নেই। এর সাথে আছে বাম ও কংগ্রেসের দুর্দান্ত উত্থান। কোন অঙ্কে তোলামূল মালদা ও মুর্শিদাবাদে তাদের বিগত নির্বাচনের জয়ের মার্জিন ৩১% ও ২০% কে ধরে রাখবে? মানে কোন মন্ত্রে?

কোলকাতার মেট্রোগলির ফুটপাতে যারা কখনও কেনাকাটা করেছেন তারা জানেন, এখানে মালের দাম শুরু হয় ৩০০০ টাকা থেকে। আমাদের মা-বোনেরা ও স্ত্রী ধনেরা বার্গেনিং এ প্রত্যেকে গবেষক লেভেলের, তারাও চোখ বুঝে বলে দেন ৫০টাকায় দিলে দিন, না দিলে গেলাম। দোকানদার বলে আর ২০টাকা দিন প্লিজ, কেনা দামেই ছেড়ে দিচ্ছি বৌনির সময়। এটাও ঐ বৌনির সময়, প্রথম দফায় হয়ে যাওয়া ১৫২ আসনের মধ্যে তোলামূল বলছে ১৩৫টা তো বিজেপি বলছে ১২৫টাতে জিতবে। এমন দিনকাল এলো যে, হুমায়ূনও দাবী করছে ৭৮টা আসন পাবো। আসলে কে কী পাবে সেটা গতকাল অনুব্রতর ভিডিও ও আজকের বাইরন বিশ্বাসের ভিডিও তে পরিষ্কার। কুনাল ঘোষ বা ভাইপো নিজেরাও জানে ২৯ তারিখ অবধি তাদের কর্মী সমর্থকদের আত্মবিশ্বাসের যেন যাতে ঘাটতি না হয়, তার জন্য এই প্রকাশ্য মিথ্যা চালিয়ে যেতেই হবে। সকলেই খেয়ালি পোলাও বানাচ্ছে, সুতরাং তাতে ঘি চামচের বদলে বালতি করে ঢাললে ক্ষতিটা কোথায়।

২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের সময় তোলামূল ১২.২৯% ভোট বাড়িয়েছিল। তবে কংগ্রেস যেহেতু তাদের জোটসঙ্গী ছিল, তাই পুরো ভোটটা যে তাদের পক্ষে এটা বলা যাবে না। এদিকে এই ভোটে বামেরা ভোট খুইয়ে ছিল ৭.০৫%। যা ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চের প্রায় কাছাকাছি। তথ্য বলছে ২০১১ সালে কংগ্রেসের ভোট ১৪.৭১% থেকে ৯.০৯ % তে নেমে যায়, মানে ৫.৬২% কংগ্রেস ভোট খেয়েই তোলামূল যাত্রা শুরু করেছিল। বিজেপি যথারীতি ৫% এর নিচে ছিল।

১৯৭৭ সালে যখন বামেরা ক্ষমতায় এসেছিল, একা সিপিএম ৮% এর সামান্য বেশি সুইং এর লাভ পেলেও, দলগতভাবে ক্ষমতায় আসা বামজোট ৬% এর সামান্য বেশি সুইং হাসিল করেছিল নিজেদের পক্ষে।

স্বাধীনতা পরবর্তী ইতিহাসের দিকে তাকালে দেশের সর্বত্র দেখা যায়- সাধারনভাবে ৪/৫% ভোটের সুইং করলে সরকার টলে যায়, পরিবর্তন ঘটে যায়। আজ অবধি সরকারে থাকা দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ভোট সুইং এর পরিমাণ রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ ৭.৪৯%। সেখানে ১৪-১৫% ভোট যখন নেই, সেখানে তোলামূলকে যদি তার পুরনো ৯৩টা আসন ধরে রাখতে হয়, ঠিক এই ১৪% ভোট নিজেদের অনুকুলে ফেরাতে হবে এই SIR ও এ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সির পরেও; যা অতীতে কখনো হয়নি কোন শাসকদলের জন্য। চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরতে গেলে তৃণমূলকে পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাস ও সেফোলজি বিজ্ঞানকে মিথ্যা প্রমাণিত করতে হবে।

প্রথম দফার নির্বাচন শেষে মূল প্রাপ্তির বিষয়টা কী কী-

  1. বামেরা কান্নাকাটি করে সহানুভূতি ভিক্ষা করেনি। এমনকি ফেসবুকের বাম্বাচ্চা গুলোও ফুটো এ্যালুমিনিয়ামের বাটি হাতে করুণা ভিক্ষা করেনি। একই সাথে আলিমুদ্দিন থেকে এখন অবধি কোন ভাটের বিবৃতি প্রকাশ হয়নি।
  2. কংগ্রেস বিধবার মতো চিল্লিয়ে মরাকান্না কাঁদেনি। অধীর চৌধুরী প্রকাশ্যে অন্তত ২৫ হাজারের বেশি ভোটে জিতবে যেমন ঘোষণা করে দিয়েছে, তেমনই কংগ্রেসের তরফে কোথাও ত্রিমুখী বা কোথাও চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বীতার জন্য আরও অনেকগুলি আসন জেতা সম্ভব বুঝতে পেরে,  ফেসবুকে সময় নষ্টের বদলে, তাদের নিজস্ব বাহিনী নিয়ে স্ট্রংরুম পাহারা দিতে মাঠে নেমে পড়েছে।
  3. হুমায়ূন হাউমাউ করে রুদালি গীত গায়নি। সারাদিন ধরে বিভিন্ন ভাষায় তৃণমূলের মাতৃ-পিতৃ বন্দনা করার পর, এখন অবধি টানা প্রত্যেকটি সাংবাদিকের ফোন ধরছে এবং যথাযথভাবে তার ভাষায় উত্তর দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, মোদীর মতো পালিয়ে না গিয়ে প্রত্যেকটি সাংবাদিক সম্মেলনে রীতিমতো ঝড় তুলে দিচ্ছে। 
  4. এমনকি মেদিনীপুরের রুহুল আমিনও নূন্যতম ফোঁপায়নি। তেমনি বীরভূম থেকে মেদিনীপুর এমনকি পশ্চিম বর্ধমানে পর্যন্ত বিরোধীদল আর জনগণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে খালি ইভিএম বয়ে নিয়ে যাওয়া ফেক কর্মীদের সমস্ত পরিকল্পনা জন্মের উৎসস্থলে পাঠিয়ে দিয়েছে।


এর পাশাপাশি দেখা গেল বিজেপির প্রার্থী, ইলেকশন এজেন্ট, পোলিং এজেন্ট এনারা কেউ কেউ বেধড়ক মার খেয়ে জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেললেন, কেউ বা অজ্ঞান হয়ে গেলেন, কারো গাড়ি ভাঙচুর হলো, কেউ আবার প্যান্টে হেগে মুতে ফেললেন আক্ষরিক অর্থেই। যা খুশি হোক, বিরোধীদের কেউ বুথ দখলের অভিযোগ করেনি, কেউ ছাপ্পা জালিয়াতির অভিযোগ করেনি, কেই রি-পোলের দাবী তোলেনি। তৃণমূল জিতুক বা হারুক, নির্বাচনটা যে সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়েছে এটা অন্তত নিশ্চিত করেছে কমিশন। মোটামুটি ভাবে মানুষ নিজের ভোট নিজেই দিয়েছে। প্রথম দফায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজ সম্পূর্ণ সন্তোষজনক না হলেও অসন্তোষজনক নয়, কারণ প্রথম দফায় একটা মায়ের কোলও খালি হয়নি; যেটার ক্রেডিট ১০১% কমিশনেরই প্রাপ্য। তবে হ্যাঁ, এতো কাঁড়া-নাগারা বাজিয়ে বিজেপি যদি তার লক্ষ্যে সফল না হয়, জ্ঞানেশ কুমারকে ইমপিচ করতে চাওয়ার রাহুল গান্ধীর যে বাসনা, সেটারও প্রয়োজন ফুরাবে। রসগোল্লার কড়াই থেকে যেরকম আরশোলা তুলে ফেলে দেয় ময়রা, বিজেপিও ঠিক ওইভাবে জ্ঞানেশ কুমারকে ছুঁড়ে ডাস্টবিনে ফেলে দেবে। 

২৩ তারিখ সারাদিনে গোটা রাজ্য থেকে ৬৩৫টা অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে জমা পড়লেও সিরিয়াস এলিগেশন আসলে ওই ১৭০ টা মতো, যা অন্যান্য গত ২৫ বছরের অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় মাত্র বাইশ শতাংশ। নির্বাচন উপলক্ষে প্রায় রক্তপাতহীন ও মৃত্যুহীন একটা ভোট- এটা সুস্থ নাগরিকদের জন্য একটা বিরাট প্রাপ্তি। পাইকারি ভাবে ছাপ্পা বা রিগিং, ভয় দেখিয়ে বুথে আসতে না দেওয়া ইত্যাদি শিল্পকলাগুলো সেভাবে করতে পারেনি তোলামূলের সম্পদেরা। প্রথম দফার, প্রায় ৪৫০০০ বুথের মধ্যে কোথাও দু'চারটে বা দশটা বুথে এই ধরনের শৈল্পিক কাজ যদি তোলামূল করে থাকেও, সেটা শতাংশের বিচারে কোন গণনাতেই আসবে না।

অনেকে একটা সরলীকরণ করছে পোলিং ভোটের শতাংশ হার নিয়ে। ১০০০ তে ভোট পড়তো ৮০০, সেটা ১২% SIR এ বাদ পড়ার পর ৮৮০টা ভোটারে ভোট পড়েছে ৮২০, তাই শতাংশের হার বেশি দেখাচ্ছে।  মোটামুটি প্রায় সমস্ত বিশেষজ্ঞদের এটাই মতামত। কিন্তু একটা জিনিস ভুলে যাচ্ছে এই ১২ শতাংশের মধ্যে অন্তত সাত থেকে আট শতাংশ মৃত স্থানান্তরিত ইত্যাদি ভুয়ো ভোটার ছিল, বিকাল তিনটার পর তারা সকলে ঊর্ধ্বলোক থেকে সরাসরি নেমে এসে ভোটটা শাসকদলের বাক্সে দিয়ে আবার বাতাসে মিলিয়ে যেত। 

অর্থাৎ, ভোট শতাংশে যারা গণনার হিসেবে থাকতো,  এবারে সেই অদৃশ্য পিতৃ পুরুষদের আত্মার আগমন ঘটাতে পারেনি তোলামূলের অকাল বোধন।  ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যে ৭৯.৫৯ শতাংশ ভোট পড়েছিল, তার মধ্যে সাত থেকে আট শতাংশ পিতৃপুরুষের আত্মা ছিল। ওটাকে ভোট বাদ দিলে একচুয়াল অঙ্কটা দাঁড়াত- ৭১/৭২% এর কাছাকাছি। সুতরাং ৯২% হারে এই বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় যে ভোট পড়েছে সেটা আদতেই ১০ শতাংশ বেশি ভোট পড়েছে।

তৃতীয়, হুমায়ূন ফ্যাক্টর। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ এবং মালদার একটা বড় অংশে হুমায়ূন ফ্যাক্টর ঘামাচির মতো লেপ্টে ছিল। মৃত পশুর ভুঁড়ি যেভাবে ফাঁসানো হয় ভাগাড়ে, ঠিক সেইভাবে তৃণমূলের দুধেল-গাই সম্প্রদায়ের ভোট ব্যাঙ্ক এর উন্মত্ত ভক্ত সম্প্রদায়কে- ভুঁড়ি ফাঁসানোর মতো ফাঁসিয়ে দিয়েছে। হুমায়ূনের ‘বাঁশি’ যে কটা ভোট পাবে, তার ১০০% তৃণমূলের বাক্স থেকেই আসবে, তাতে সে একটি ভোট পাক কিংবা ১০০ টি, হুমায়ূনের লোকসানের দায় একমাত্র তোলামূলকে বইতে হবে।

তাহলে বাকি রইল কী! ২৯ তারিখের নির্বাচনে তৃণমূল মরিয়া হয়ে অলআউট আক্রমণে চলে যাবে। যারা অন্যান্য দল করে, প্রত্যেকের কিছু না কিছু পেশা আছে। তৃণমূল দল যারা করে, রাজনীতি করাটাই তার একমাত্র রুটিরুজি। এখান থেকেই হারামের কামাই তোলাবাজি, কাটমানি, চুরি, লুটপাট ইত্যাদি করে পেট চালায়। সুতরাং, তারা পেটের দায়ে জান লড়িয়ে দেবে। দ্বিতীয় পর্যায় লাশবিহীন করাটাই আসল চ্যালেঞ্জ। অতএব বাম-কংগ্রেস এদের আশান্বিত হওয়ার ভয়ংকর রকম কারণ রয়েছে। যদি না কোন মিরাকেল হয় আগামী ৩-৪ দিনে, কোনো যাদুকরের পক্ষেও তৃণমূলের সরকার গঠন করে দিতে পারবে না। 

চটি চাটা মিডিয়া অঙ্কের মা-মাসি করে তথ্য উপাত্ত ইতিহাস ভূগোল ভাঙ্গারি বাজারে বিক্রি করে দিয়ে, মমতাকে খুশি করতে কালীঘাটের ছাঁচে ফেলা গল্প আপনাকে শোনাবে, যার সঙ্গে বাস্তবের কোনো সম্পর্ক নেই। শেষ দফার নির্বাচনে যাতে বামেরা আরও বেশি পরিমাণ আসন নিয়ে একটা সুস্থ সরকার গঠন করতে পারে, প্রয়োজনে কংগ্রেস বা অন্যান্য ছোট দলের সাথে জোট করে হলেও, তার জন্য বাম এবং আইএসএফ প্রার্থীদের বিপুল ভোটে জয়ী যুক্ত করুন। এই চোর তোলাবাজ ধাপ্পাবাজদের রাজনৈতিক কবর দিন।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

বিজেপি কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসবে না



বিজেপি কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসবে না এ রাজ্যে, আসতে পারে না, যদিনা তৃণমূল দলটা তাদের বিজয়ী MLA নিয়ে সরাসরি বিজেপিতে মিশে যায় ভোট পরবর্তী সময়ে বহুমুখী সমীকরণে। তাই তৃণমূল ও মমতা ব্যানার্জী- যে বিজেপি জুজু দেখিয়ে আরও একবার মুসলমান ভোটকে নিজের বাক্সে ফেলতে চাইছে, তার উপরে থুতু ছিটিয়ে দিন। নিচের অঙ্কটা দেখে নিন, বাকি সিদ্ধান্ত আপনার।

২০১৯ লোকসভা, ২০২১ বিধানসভা এবং ২০১৪ লোকসভা, এই তিনটে নির্বাচনের নিরিখে বিজেপি ৫৫ টা আসনে তিন বারই টানা জিতেছে বা এক নম্বর স্থানে ছিল। ৩৮ টা আসনে দু'বার জিতেছে কিংবা এগিয়েছিল। আর ৫৩ টি আসনে এই তিনটে নির্বাচনের, অন্তত একবার তারা জিতেছিল কিংবা এগিয়েছিল। 

সবেধন নীলমনি এই ১৪৬ আসনেই আজ অবধি বিজেপির চাষবাস। একটা নতুন আসনের দোকান খুললে, অন্য ২টো দোকানের ঝাঁপ বন্ধ হয় তাদের, এটাই তাদের ভোট চরিত্রের স্ট্রাকচার। বেশ কয়েকটা এমন আসনও ছিল যেখানে মুসলমান ভোট মেজরিটি। এবারে সেটি হবে না, তেমনই মতুয়া অঞ্চলে বিজেপির 'পতিদাহ' প্রথা পালিত হবে জীবন্ত চিতায় তুলে।

সুতরাং পাটিগণিতের নিয়ম বলুন কিংবা পারমুটেশন কম্বিনেশন, রেসিপ্রোক্যাল, জিওমেট্রি কিম্বা ফিবোনাচ্চি- আপনি যেভাবেই হিসেব করুন না কেন, ইতিহাসের পর্যালোচনা এবং পশ্চিমবঙ্গের জাতি জনঘনত্বের পরিমাপের অঙ্কে, বিজেপি কোনো গণিতের বলেই সংখ্যাটা একলাফে কক্ষণও ১০০ পার করতে পারবে না। বাকিটা মমতা ব্যানার্জীর বিজেপি জুজুর নামে নির্লজ্জ মিথ্যাচার প্রহসন, আর বিজেপির বিপুল অর্থব্যায়ে চালানো প্রচারযন্ত্রের আষাঢ়ে গল্প। তাতেও আজ অবধি ১৪৬টা আসনেই বুড়ি ছুঁতে পেরেছে বিজেপি, আর কনফার্ম বলতে সেই ৫৫টি। বাকিটা গ্যাস বেলুন যা শুধুমাত্র মিডিয়াতেই উপস্থিত।

পশ্চিমবঙ্গের মাটি চৈতন্যের মাটি, সম্প্রীতির মাটি, একটা দীর্ঘ সময় ধরে চলা কমিউনিস্ট আদর্শ ও আন্দোলনের মাটি, এখানে RSS এর উগ্র হিন্দুত্ব আর বাঁদর রাজত্ব- ওই নির্দিষ্ট সংখ্যক একটা জম্বি হিন্দুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাকিরা কেউ মানুষ নয়, সামান্য কিছু ভক্ত, বাকিরা মহাদেবের ধর্মের ষাড়। অধিকাংশ সুস্থ স্বাভাবিক হিন্দুই, সন্ত্রাসী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন RSS কে অন্তর থেকে ঘৃণা করেন, একটা মুসলমান যতটা ঘৃণা করে বরং তার চেয়েও বেশি প্রতিবাদ-প্রতিরোধ দেশের সংখ্যাগুরুদের তরফেই পরিলক্ষিত হয়। 

তাই যারা ভাবছেন বিজেপিই বোধহয় তৃণমূলের বিকল্প, তারা আসলে তৃণমূলের পায়ে শক্তি যোগাচ্ছেন আরও একটা টার্ম ক্ষমতায় আসার দৌড়ে। গত ১৫ বছর ধরে এই বিজেপির বেনা বনে মুক্ত ছড়িয়েছেন, আগে রাম পরে বামের তত্ত্ব ছড়িয়ে ছিলেন। নিট ফল- ফক্কা। মমতার নের্তৃত্বে প্রতিবার RSS এর সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। 

এবারও যদি আপনি হিন্দু ভাইটি বিজেপিকেই ভোট দেন, এবার কিন্তু তৃণমূলের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে না। কারণ মুসলমান সমাজ মমতা ব্যানার্জীর ভন্ডামি প্রতারণা ধরে ফেলেছে ,তাকে উচিত শিক্ষা দিতে সমগ্র মুসলিম সমাজ বদ্ধপরিকর।  সুতরাং আপনারা যারা যেকোনো মূল্যে তৃণমূল-বিজেপি বাইনারির মধ্যে থেকে একটা RSS এর সরকার প্রতিষ্ঠা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ, তাদের জন্য মহা দুঃসংবাদ। ২০২৬ সালে RSS এর সরকার গঠিত হবে না পুনরায়।

গত একুশের নির্বাচনে এবারের প্রথম ফেজে হতে চলা ১৫২টা আসনের মধ্যে তোলামূল পেয়েছিল ৯২টি, আপনি নিশ্চিত থাকুন আজকের ভোটে তোলামূল ৫০ ক্রশ করবে না কোনোভাবেই, আর বিজেপিও যেখানে ছিল তার আশেপাশেই থাকবে, কমলেও কমতে পারে। মালদা মুর্শিদাবাদ এবং দুই দিনাজপুরে তৃণমূল খাতা খুলতে পারলে সেটাই তার জন্য চরম প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য হবে। বাকি সমস্ত সমীক্ষা- টিস্যু পেপারে করে যেমন পায়ুপথ মোছে, সেইভাবে মুছে ফেলে দিন ওগুলো। এগুলো সব পেইড প্রোমোশন, আপনার ভাবনাকে ডাইভার্ট করার জন্য। 

সুতরাং তোলাবাজ, কাটমানি খোর, প্রবঞ্চক, প্রতারক, ধর্ষক, চোর, পাতাখোর, দুশ্চরিত্র, মিথ্যাবাদী, সাম্প্রদায়িক এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ এই তোলামূল সরকারকে যদি বিসর্জন দিতে চান তাহলে- বিজেপিকে ভোট দিয়ে সেই লক্ষ্য হাসিল করা সম্ভব নয়। সাম্প্রদায়িক বিজেপি কখনো বিকল্প হতে পারে না শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বাংলাতে, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ,  নজরুল, হাজী মহসিনের বাংলাতে।

তৃণমূল এবং বিজেপি বাদে যে যেখানে শক্তিশালী তাকে ভোট দিন।  বাম জোট-ISF কে পছন্দ হলে তাদের দিন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এদেরই রেকমেন্ড করবো। বামে এলার্জি থাকলে কংগ্রেসকে ভোট দিন। এমনকি হুমায়ূন কিম্বা রুহুল আমিনের প্রার্থীকে পছন্দ না হলেও, সে যদি শক্তিশালী হয় আপনার এলাকায় তাহলে এবারের ভোটটা তাকেই দিন। ভোট যেন নষ্ট না হয়। 

আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন তৃণমূল কোনভাবেই তিন সংখ্যার ভিজিট পার হবে না আগামী ৪ঠা মে। আর বিজেপির অতীত কোষ্ঠী কি বলছে তা উপরে লেখা আছে, তার জিনের মধ্যে ঢুকে রয়েছে তার অউকাত, ঐ সর্বোচ্চ ৯০ এর আশেপাশে- ব্যাস গল্প শেষ। 

যুক্তফ্রন্ট জাতীয় একটা সংযুক্ত সরকার গঠন হতে চলেছে এবারে, যেখানে বামজোট নির্ণায়ক শক্তি হবে। আপনার মূল্যবান ভোট দুই বিষ ফলের মধ্যে কাউকে দিয়ে যদি নষ্ট করেন, তার দায় একান্তই আপনার। এর মূল্য রক্ত দিয়ে চোকাতে হবে। তৃণমূল হোক বা বিজেপি সে আপনার রক্ত চুষে নেবেই।  এর সাথে আপনার সন্তানকেও বইতে হবে আপনার এই পাপের ভার। উত্তর প্রজন্মের কাছে অপরাধী হয়ে জবাবদিহি করতে হবে - ১৫ বছর ধরে প্রতিটি লোকসভা, প্রতিটি বিধানসভা, প্রতিটি পঞ্চায়েত, প্রতিটি পুরসভায়- প্রতিবার ঠকার পরেও একই পাপের পুনরাবৃত্তি কীভাবে করেছিলেন!!


শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

আলেম ক্যালানো যখন ফরজ



টুপি দাড়িওয়ালা একশ্রেনীর আলেম মৌলানা হাফেজ যেভাবে মমতা ব্যানার্জীর উম্মত সেজে, উলঙ্গ হয়ে ফতোয়াবাজি শুরু করেছে, ভোটের পর যখন এদেরকে রাস্তায় ফেলে লোকে কুত্তা ক্যালান দেবে- তখন কি এরা 'সংখ্যালঘু মুসলমান' আক্রান্ত বলে ‘র‍্যান্ডি রোনা’ করলে কি জনগণ প্রভাবিত হবে?

আমি হলফ করে বলতে পারি, অরাজনৈতিক মুখোশধারী এই চটি চাঁটা 'দাড়ি-টুপি' ওয়ালা খবিশ ইবলিশ গুলোকে ঝুলিয়ে ক্যালানোটা ফরজ ইবাদতের মধ্যে গন্য হবে ভোটের পর। নতুবা মুসলমানের ঈমান নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। আবু-জেহেল, আবু-লাহাব, মুগিরা এরাও সকলে লম্বা জোব্বা, লম্বা দাড়ি, মাথায় টুপি লাগিয়েই থাকত, এটা যেন মুসলমান সমাজ ভুলে না যায়।

এক শুয়োরের বাচ্চা এর আগে মুখ খোলেনি, যখন- ওয়াকফের সম্পত্তিকে যখন ১ নং খতিয়ানে তুলে দিয়েছিলো মমতা ব্যানার্জির সরকার, কেউ কোনো সাংবাদিক সম্মেলন করেনি। OBC, মাদ্রাসা শিক্ষা, SIR এর নামে মুসলমানকে যখন জিম্মি করা হয়েছিলো- এই প্রতিটা খ'য়ের ছেলে মুখে চটি গুঁজে বসে ছিলো, মমতা বিপদে পরতেই এরা রে রে করে এক হাতে ফতোয়া আর এক হাতে বিচি সম্বল করে ধেই ধেই করে নাচতে শুরু করে দিয়েছে।

এক শালার কোনো চাকুরি বা ব্যবসা নেই, প্রায় সবকটা খারিজী মাদ্রাসার শিক্ষক। সেই খারিজী মাদ্রায় আয় বলতে দান আর চাঁদার টাকা। মাদ্রাসা চালাবার নামে সাদাকা, জাকাতের পয়সাতে যারা নিজেদের পেট ভরায়, আজ তারা তোলামূলের হারামের টাকা খেয়ে বিজেপির জুজু ফেরি করছে। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ একটাও এই জাতের কোনো মুনাফেক রেহাই পাবেনা ইনশাল্লাহ। মিথ্যাচার করে একটা সমাজকে গুমরাহ করার মূল্য নগদে চোকাতে হবে, কোনো ধারবাকি থাকবেনা।

বাকিরা দেওয়াল লিখন পড়ে যা বোঝার বুঝে নিন। জনগণের মার, ক্যাওড়াতলা পাড়। ভাইপো তো বিদেশ পালাবে, এই বেশ্যার বাচ্চা বেজন্মা ফতোয়াবাজদের কে বা কারা বাঁচাবে?


সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

 


ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী আশাবাদী হয়ে লাভ নেই আসন্ন নির্বাচনে। একটা নেহাৎ উদগান্ডু সম্প্রদায় এরা, পুঁথিগত শিক্ষাদীক্ষা কমবেশি সকলের থাকলেও বাস্তব বোধের দিক থেকে ও বোধবুদ্ধিতে এরা গাঁড়লদের চেয়ে সামান্য নিচুতে ও দাড়িওয়ালা ছাগল তথা পাঁঠার চেয়ে সামান্য উচ্চ মর্যাদার। এরা মূলত মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, যারা যুগে যুগে দেশ কাল সীমানার গন্ডি পেরিয়ে ভীরু ধান্দাবাজ লোভী ও পলায়নপর কাপুরুষ মানসিকতার জন্য সুপরিচিত।

তোলামূল বা বিজেপির সাথে অহেতুক তুলনা টেনে লাভ নেই, তোলামুল মানেই চোর বা স্বীকৃত সমাজবিরোধী। বিজেপি মানে মগজহীন কিছু ধর্মান্ধ অশিক্ষিত বর্বর অন্ধভক্ত, এদের চরিত্র নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে একটা রিসার্চ পেপার পাবলিস করেছিলাম, 'ভক্ত' নামে; টাইমলাইন ঘেঁটে দেখে নিতেই পারেন। এই দুই দলের একটা বড় গুণের কথা উল্লেখ না করলেই নয়, সেটা হলো যে- শিক্ষা দীক্ষার বিষয়ে এরা কোনো দাবী বা তর্কে যায়না, সততার বিষয়েও নূন্যতম বিজ্ঞাপন করেনা নিজেদের ও তাদের দলের বিষয়ে। এরা সকলেই জানে এদের নেতারা প্রত্যেকেই দুশ্চরিত্র, তোলাবাজ, কাটমানি খোর, মিথ্যাবাদী, লম্পট, সাম্প্রদায়িক লুম্পেন, এবং যে কোনোদিন দল পালটে অন্য দলে চলে যেতে পারে; এদের কোনো কর্মী সমর্থক আঁতলামো করেনা বা ভাবের ঘরে চুরি করেনা অতএব এই দুই দলের কর্মী সমর্থক জাত-কুল নিয়ে আলোচনাই চলেনা। 

👉 অনেকগুলো ছাগল একসঙ্গে একটা মঞ্চে কোনো নেতার পিছনে দাঁড়ালে, একগাদা ছাগল মিলে যদি কোনো সোস্যালমিডিয়া পেজ চালায় ও সেটাকে ফলো করে, একটা ছাগলের দল যদি কোনো হোয়াটস্যাপ বা ফেসবুক গ্রুপ খুলে বসে, চোখ বন্ধ করে নিশ্চিতভাবে জানবেন পেজ/গ্রুপটা সিপিএমের সমর্থকদের দ্বারা পরিচালিত। এদের মূল দাবী এরা সৎ ও শিক্ষিত সম্প্রদায়। 

 

✅ ছাগলের আবার সৎ আর অসৎ, আপনি পৃথিবীতে কোনো একটা দেশ থেকে একটা অসৎ ছাগল খুঁজে এনে দেখান! আইপ্যাক বা আঁটিসেল গত ১৫ বছরে যা করতে পারেনি কাড়ি কাড়ি অর্থ খরচা করে, এই অবৈতনিক স্বেচ্ছাসেবকের দল দলবেঁধে আক্রমণ করা বা প্রোপ্যাগান্ডা ছড়ানোতে বাকি সকলের চেয়ে কয়েক আলোকবর্ষ এগিয়ে। ক্যাপ্টেন আমেরিকার মত দেশ ও জাতি রক্ষার ভার একা হারকিউলিস হয়ে এরা সমস্ত বিরোধ বিক্ষোভ প্রদর্শনের দায় নিজেদের ঘাড়ে তুলে নিয়েছে। কিন্তু ওই- ফিউজ হয়ে যাওয়ার আনগাউইডেড কামিকাজি আত্মঘাতী ড্রোনের মত। শত্রুকে আক্রমণ করার পরিবর্তে নিজের ভূমেই ছারখার করে দিয়ে নিজেরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। 

এরা মূলত কি করে? 

✊ এরা মূলত খিল্লি করে, কাকে খিল্লি করছে সেটা বড় বিষয় নয়, রোজ কোনো না কোনো একটা সাবজেক্ট বেছে নিলেই হয়। তাতে সেই ব্যাক্তি বা দলের নেগেটিভ প্রচারটা হচ্ছে কিনা- সে সব ভাবা নেহাৎ বাজে সময় খর্চা। জীবন পন করে ট্রোল করার মাঝেই বিপ্লবের যজ্ঞে এরা ঘৃতাহুতি দিয়ে, চে এবং লেনিনের আত্মার প্রতি তর্পন করে। 

✊ দ্বিতীয়ত, এরা রোজ খাপ পঞ্চায়েত বসায়, SS চালাচালি করে এবং দ্রিঘাংচুর মত মাঝে মাঝে গম্ভীর ভাবে কেউ একজন ‘কঃ’ বলে ডেকে উঠলে, বাকিরা মাথা চুলকে টাকের ছালচামড়া তুলে ফেলে ভাব সম্প্রসারন করতে বসে যায় জটিল সব আঁক কষতে কষতে। 

✊ তৃতীয়ত, লাল পতাকা বা নিজেদের নেতার ছবি সম্বলিত কোনো পোষ্ট, আনন্দ চ্যানেলে বলা নেতার অগ্নগর্ভ ভাষণ, বিরোধীদের আক্রমণ করে কোনো বিবৃতি বা পোষ্টার পেলে- সেটার ফ্যাক্ট চেক না করেই; হুলিয়ে শেয়ার করতে শুরু করে দেয়, পরিনাম না জেনেই। যেন একটা শেয়ার একটা পঞ্চায়েত/ওয়ার্ডে জিতে যাওয়া। একজন হুক্কাহুয়া করলেই বাকিরা সমস্বরে সেই টোনেই হু হু করে ডেকে উঠে। 

✊ এরা প্রত্যেকে বিশেষজ্ঞ, প্রতিটা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, যে কোনো দ্বিতীয় ব্যাক্তির চেয়ে যে কোনো মূহুর্তে এরা বিজ্ঞ, নতুন করে এদের শোনা বা জানার আর কিচ্ছুটি অবশিষ্ট নেই ধরাধামে। আপনি যদি এদের কথা শুনতে অস্বীকার করেন, আপনি প্রগতিবিরোধী, অতি প্রতিক্রিয়াশীল, লুম্পেন জাতের শ্রেনীশত্রু।

✊ কমেন্ট বক্সে এদের চেনার উপায় হচ্ছে লাল সেলাম, রেড স্যালুট, মুষ্ঠিবদ্ধ হাতের ইমোজি কিম্বা সাবাস কমরেড। এছারা বিপ্লব, লড়াই লড়াই লড়াই চাই, ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই হবে, শূন্যকে এতো ভয় কেন, হারলেও বাম জিতলেও বাম, রাস্তাই রাস্তা, এভাবেও ফিরে আসা যায়, শিরদাঁড়া বিক্রি নেই, ফেরাতে হাল ফিরুক লাল, রক্তিম অভিবাদন, চোখে চোখ রেখে লড়াই হবে- এই কটা শব্দ ও লাইনের মাঝে প্রতিটা ফেসবুকীয় বাম্বাচ্চাকে নিখুঁত ভাবে শনাক্ত করে ফেলবেন মূহুর্তে।

এবারে কংগ্রেসের সাথে জোট নেই, অতএব বুড়ো হাবড়া কচি হাবা নেকু ডাঁসা ঝিঙ্কু সেয়ানা সহ, যত প্রজাতির বামমনস্ক ‘মাল’ হতে পারে, তেনারা প্রকাশ্যে-গোপনে গুদাম বা ভাঁড়ারে যেখানে যত মজুদ ছিলো, সবাই গোঁফে তা দিয়ে দাবনা চাবকে টাইমলাইনে বেরিয়ে পরেছে। সময় এগিয়ে গেলেও এনারা মানসিকভাবে সেই আশির দশকের শুরুতেই রয়ে গেছেন, ৯০ এর দশকের মত ছড়া কেটে দেওয়াল লিখছে, তারপর সেটারই ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করছে। পাড়ায় মিটিং হলে মঞ্চের ধারে ভিড় করে দাঁড়াচ্ছে, সবাই মিলে একই লাইভ করছে, সবাই মিলে একই ছবি তুলছে। সবাই ‘অনলি ফ্রেন্ড’ করে পোষ্ট করছে, এবং এরা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের বন্ধু যারা নিজেরা বাকিদের সকলকে ট্যাগও করছে। যদিও ছবি ভিডিও দেখে বোঝার উপায় নেই এটা শ্রাদ্ধ বাড়ির গুমোট পরিবেশ, নাকি গায়ে হলুদের ফাজিল হুল্লোর কিম্বা কোনো রাজনৈতিক গুরুগম্ভীর সভা। মিছিল হলে এরা নেতাদের পিছু পিছু হাঁটছে। এই সব কিছুর মাঝে প্রতি ২ ঘন্টা অন্তর ১১টা সেলফি আর ৩টে গ্রুপ ফটো ফোনের SD কার্ডে জমা হচ্ছে। সেগুলোকে কেটে ছেঁটে with অমুক নেতা & 99 others ট্যাগ মেরে বিপ্লবকে গর্ভবতী করে দিচ্ছে। 

এরপর দুপুরে অধিকাংশ দিন মাটিতে বসে নেতা/নেত্রীর সাথে বসে ছ্যাঁচড়া, ডাল ও মাংস ভাত সাঁটিয়ে, অন্তর থেকে ‘সিপিএমে’ অন্তর্ভুক্তির ব্যাপ্টিস্টকরণ সম্পন্ন করছে অত্যন্ত ভক্তির সাথে। যারা হিন্দু, তারা জবরদস্তি সেকুলার সাজতে গিয়ে সর্বক্ষণ বিজেপি এবং RSS কে এলোমেলো আক্রমণ করছে, যে যেখানে সুযোগ পাচ্ছে। যারা মুসলমান, তারা সহানুভুতি আর আর্তির দোকান খুলে- আমার সব গেলো, আমি বঞ্চিত বলে “জীবনটা বেদনা” নামের পণ্য লেনদেনের পসরা সাজিয়ে বসছে।

ক্রিকেটের নিয়ম বলে, কোন বলটা অফ স্ট্যাম্পের ১ ইঞ্চি বাইরে বিষাক্ত বাউন্সার, কোনটা অনসাইডের লোপ্পা ফুলটস আর কোন বলটা ইয়ার্কার সেটা দেখে, তবে তো সেইভাবে ব্যাট চালাতে হবে। ফেসবুকের বাম্বাচ্চারা বল দেখলেই চোখ বন্ধ করে চালাচ্ছে, সেটাতে নিজেদের নেতার মাথার খুলি উড়ে যাক কি আম্পায়ারের হাড় ভাঙুক কিচ্ছু দেখার দরকার নেই।

পৃথিবীতে যে কোন রাজনৈতিক দলের চারটি স্তর থাকে। ১) মূল নেতৃত্ব, ২) কর্মী, ৩) দরদী সমর্থক ও ৪) জনগন। প্রতিটা রাজনৈতিক দলের ভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে দরদী সমর্থকের উপরে। এরাই মূলত জনগণকে প্রভাবিত করে নিয়মিত ও সমাজের সর্বত্র। ফেসবুকীয় বামেরা তাদের সামাজিক সমস্ত দরজা জনলা মোটামুটি বন্ধ করে একটা ছোট্ট বৃত্তের মাঝে নিজেদের বন্দি করে নিয়েছে। একে অন্যের পোষ্টে লাইক কমেন্ট করে নিজেদের গা শোঁকাশুঁকি করে। অথচ, এখন অবধি যতগুলো সাক্ষাৎকার দেখেছি বা শুনেছি CPIM West Bengal পার্টির সম্পাদক সহ বাকি শীর্ষ নেতৃত্বের- সেখানে প্রত্যেকে বারবার একটা জিনিস বলার চেষ্টা করেছে যে, বৃত্তটা বাড়াতে হবে। দরদী সমর্থককে আরো বেশি প্রসারিত হতে হবে, জনগণের কাছে পৌঁছবার যতরকম বৈধ পথ আছে, তার প্রত্যেকটি পথ অবলম্বন করতে হবে। 

পার্টির সর্বজনীন সিদ্ধান্ত ‘গ্যায়া ভার মে’, ফেসবুক খুলে অ্যাং ব্যাং চ্যাং যা খুশি লিখে, সেটাকে পার্টির মতামত বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টাতে বাম্বাচ্চাদের মেহনতের ঘাটতি নেই। মনের মাধুরী মিশিয়ে গল্প উপন্যাস বা ডেলি সিরিয়ালের স্ক্রিপ্ট লেখা যায়, রাজনৈতিক বার্তা বা কূটনৈতিক ভাবে এগিয়ে গিয়ে মাত করে দেওয়া যায়না। 

উদাহরণ হিসাবে সম্প্রতি উত্তরপাড়ার দীপাঞ্জন বা হুমায়ুনকে তেড়ে ন্যাংটা হয়ে আক্রমণকে উল্লেখ করা যেতে পারে। আরে বাবা ঢঙী দীপাঞ্জন কিছু ভক্তের ভোট কাটলে, কিম্বা রাজনৈতিক পতিতা হুমায়ূন কিছু দুধেল গাই এর ভোট কাটলে তবে উত্তরপাড়ার বামপ্রার্থী কিম্বা অন্যান্য সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনে বামেরা খাতা খোলার গণিতে একলপ্তে প্রথম দুই-এ পৌঁছে যাবে। নতুবা ওই ভোট গুলো সব তোলামুলের ঝাঁপিতে গিয়ে জড়ো হবে। রাজনীতি তো মারপ্যাঁচের খেলা, নিজের ভোট নিজের প্রতীকে ফেলার পাশাপাশি অন্যের শিওর ভোটকেও ল্যাঙ মেরে মেলোমেলো ডাইভার্ট করে দেওয়ার নাম ভোটের রাজনীতি। 

পানিহাটিতে বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়ে গেছে, দেওয়ালে দেওয়ালে সবর্ত্র রত্না দেবনাথের নামের পাশে বড় বড় করে আঁকা পদ্মফুল চিহ্ন, তবুও আলগা পিরিতে কোনো ঘাটতি নেই। কখনও অভয়ার মা, কেউ আবার কাকিমা- একাত্ম হওয়ার চেষ্টাতে এ যেন এক প্রতিযোগিতা চলছে। কেন রে ভাই, তিনি কি কোনো ছাড় দিচ্ছে সিপিএমকে? বরং চূড়ান্ত আক্রমণ করে চলেছেন অশালীন ভাষাতে; কারণ ওনাকে লাইম লাইটে আসতে গেলে দ্বিতীয় কোনো উপায় নেই। আমার প্রতিপক্ষকে আমি কতটা ধরব, কোথায় কতটা ছাড়ব- এটাও তো রাজনীতির অন্যতম বড় শিক্ষা। অসম্মান করব না বা অলআউট আক্রমণও করব না, তা বলে হেদিয়ে আত্মীয়তার শুকনো পিরিত দেখাতে যাব কেন? এই গোটা সিস্টেমটাকে বাম্বাচ্চারা দায়িত্ব নিয়ে রোজ ধর্ষন করে দিচ্ছে।

এদের অভিশাপ থেকে পার্টি কীভাবে মুক্তি পাবে তা অজানা, এর কোনও এ্যান্টি ডোট বাজারে নেই। আয়নাতে আপনি আবার কোনো বাম্বাচ্চাকে দেখেননা তো রোজ?

ঘৃণার যাত্রাপথঃ স্টেট স্পনসর্ড টেরোরিজম ও RSS

  ধর্মীয় শোভাযাত্রা এখন দাঙ্গা বাঁধানোর মূল অস্ত্র, নাগপুরের হিন্দুত্ব আধিপত্যবাদীরা ভারতের আত্মাকে ছিন্নভিন্ন করছে দিয়েছে; যার মেরামতিতে কয়...