বিশ্ব রাজনীতির এক যুগান্তকারী সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা। চলমান পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী জিওপলিটিক্সের স্নায়ুতন্ত্রের DNA পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে। এটা বাষ্প-জল-বরফের মতো কোনো অন্তহীন পরিবর্তন চক্র নয়, এটা কাঠ পুড়ে ছাই হওয়ার মতো, যেখানে ছাই কখনই আর কাঠে রুপান্তর হবে না। এটা পক্ষ নেওয়ার সময়, আমি কোন দলে সেটা বেছে নিতে হবে। রাষ্ট্রের পরিচালকেরা তারা নিজের মতো করে বেছে নেবে, অধিকাংশ জনগণ যে পক্ষে থাকবে, রাষ্ট্রকেও সেই পক্ষে যেতেই হবে নতুবা জনগণ রাষ্ট্রের নের্তৃত্বেরই পরিবর্তন ঘটিয়ে দেবে ভোটের মাধ্যমে।
আমাকে অনেকে দাগিয়ে দিচ্ছে, আমি ইরানকে সমর্থন করছি কারণ আমি নিজে মুসলমান বলে। অথচ বাংলাদেশে যখন জুলাই বিপ্লবের সময় আওয়ামি লিগ মার খাচ্ছিলো, একটাও ভারতীয় মুসলমান বাংলাদেশের কোনো মুসলমানের পক্ষ নিয়েছিলো? RSS এর মতো উগ্র ধর্মান্ধ জম্বিদের রাজত্বে এটা বাক্তিগত বিড়ম্বনার কারণ না হলেও, নিয়মিত কটুক্তির সামনে পড়তে হয়, এবং আমি নিশ্চিত এটা শুধু আমাকে নয়, আমার মতো প্রতিটা মুসলমান সহ অসাম্প্রদায়িক হিন্দু ভাই বোনেদেরও হয়রানির শিকার হয়ে হয় RSS এর অনুগামীদের কাছে। বস্তুত, হিন্দুদের সাথে ইহুদিদের ধর্মগত কোনো মিল নেই, তবুও রাজ্যে বা দেশের বড় অংশের হিন্দু ইরানের বিরুদ্ধে। কারণ এরা আমেরিকাকে মানসিকভাবে সমর্থন করছে শুধুমাত্র ইসলামোফোবিয়ার কারণে, যেহেতু ইরান মুসলমান রাষ্ট্র।
আমাদের মতো কিছু মানুষের চরিত্র বড় অদ্ভুত। দেশজ রাজনীতিতে আমরা সিপিএম এর সমর্থক, যারা রাষ্ট্রের খাতায় শূন্য। বিশ্ব রাজনীতিতে আমরা পুতিনের ফ্যান বয়। আমরাই একসময় ভিয়েতনাম ছিলাম, আজ আমরা ভেনেজুয়েলা, আমরা সোমালিয়া, আমরা তালিবান বিরোধী কিন্তু আমরা আফগানিস্তানের সাধারণ নাগরিকের পক্ষে, আমরা কিউবা, মরোক্কো, বসিনিয়া, আর্মেনিয়া, ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া, গাজা, বুরকিনা ফাসো, এমনি করে সেই সব দেশের পক্ষে মানসিকভাবে অবস্থান করি, যারা কোনো না কোনো শক্তির হাতে অত্যাচারিত। এই দেশগুলোর সাথে আমাদের কারও কোনো সম্পর্ক নেই, না কখনও সেখানে গেছি; না সে সব দেশের কাউকে চিনি, কিম্বা তারা আমাদের কাউকে চেনে। কোনো ব্যক্তিগত বা অর্থনৈতিক লেনদেন নেই, তবুও তারা আমার আপন, কারণ তারা অত্যাচারিত। ক্ষমতার দিকে থাকাটা খুব সহজ, চাটুকারিতা আর উপস্থিতি থাকলে পকেটেও লক্ষীলাভও ঘটে। তবুও আমরা কেউ ক্ষমতার পদলেহনে নেই।
হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ এমন মানসিক সংস্থাপনায় বসবাস করেন, যারা গোটা বিশ্বজুড়ে যেখানে যে লোকটা অত্যাচারিত, মানসিকভাবে আমরা তার আত্মীয় ভাই-বেরাদার হয়ে যায়; নিজেদের রিলেট করতে শুরু করি; তাদের ধর্ম কী, জাত কী, বর্ণ কী কিছুই জানি না, জানতেও চাইনি কখনও। আমরা যতটা হলোকাস্টকে ঘেন্না করি, ঠিক ততটাই ঘেন্না করি জায়নবাদকে, সমান ঘেন্না করি আইসিস, আলকায়েদা ও RSS কে। আমরা তোজোকে ঘেন্না করি আবার হিরোশিমা নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা ফেলাটাকেও পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্টতম পাপ মনে করি। এমনকি আমরা জেলবন্দি ইমরান খানের পক্ষে, ইসরাইলের পার্লামেন্টে কোন বামপন্থী সাংসদ জিতে এলে আমরা তারও পক্ষে।
আমেরিকান নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডের পক্ষে যেমন আমরা ছিলাম, তেমনই ইরানের আয়াতল্লার বিরুদ্ধে গিয়ে মাসা আমিনির পক্ষ নিয়েছিলাম আমরা। আজকের ইরান আমেরিকার প্রেক্ষিতে, তখন আমাদের পক্ষ বদলে গিয়েছিল, সেদিন আমরা আমেরিকার সাধারণ মানুষের পক্ষে আর ইরানের খামেইনির বিরুদ্ধে ছিলাম। আমরা উন্মত্ত শ্রীলঙ্কার জনগণের পক্ষে ছিলাম, আবার ভারতবিরোধী বাংলাদেশী উন্মত্ত জনগণেরও বিপক্ষে ছিলাম, আমরা ইউনুনের নাবালক সমন্বায়ক সরকারের বিপক্ষে ছিলাম। আমরা নেপালে জেঞ্জিদের পক্ষে ছিলাম না। আমরা দেশ জুড়ে কৃষক আন্দোলনের পক্ষে, আমাদের ধরে পেটানো তৃণমূলের দলদাস সেই DA না পাওয়া পুলিশটার ন্যায্য দাবীর পক্ষে, আমরা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করা ‘খাঁটি ভারতীয়’ আদানির বিরুদ্ধে। আমরা দেশজ রাজনীতিতে যেখানে বামেরা নেই সেখানে কংগ্রেসের পক্ষে। বিজেপির তুল্যমূল্য বিচারে আমরা বাজপেয়ী জামানার পক্ষে, আমরা আদবানীর সাথে হওয়া দুর্ব্যবহারের বিপক্ষে।
আমরা সেই অর্থে পাল্টিবাজ ধান্দাবাজ হতে পারিনি। আমাদের বন্ধু বৃত্তের অধিকাংশের বয়সটা ৪০ পেরিয়েছে ইতিমধ্যে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে তো দেখতে হয়, নিজেকে শুধাতে হয়- আমি আসলে কে! আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে থাকা একটা জীবন্ত সত্ত্বা নাকি লোভের পুঁজে ঠাসা মৃত লাশ? আমি সিপিএম নই, আমি কমিউনিজমের ভাবধারায় বিশ্বাসী। আমি কাঠ মোল্লার অন্ধ বিশ্বাসী ফতোয়ার বিপক্ষে কোরানকে শাশ্বত মানা মুসলমান, আমি কখনই নাগপুরের গাইডলাইন মেপে ‘গুড মুসলিম’ নই, বরং আমি দেশের সংবিধানকে সর্বোচ্চ সম্মান করা এভং অন্তরের ভালোমন্দ বোধের প্রতি দায়বন্ধ- একজন ভারতীয় মুসলমান।
মানুষের মনে যদি বিতৃষ্ণা থাকে সেটা কোনো না কোন দিকে, কখনো না কখনো প্রকাশ পাবেই। সেটা ঘটি বাঙাল ইস্যু হতে পারে, হিন্দু মুসলমান ইস্যু, নারী পুরুষ ইস্যু, ধনী-দরিদ্র ইস্যু অথবা এরকম অসংখ্য ছোট বড় ক্ষেত্রে এটা প্রকাশ পাবেই পাবে। তেমনই মুসলমানেদের মাঝেও শিয়া-সুন্নি একটা প্রভেদ আড়াআড়ি ভাবেই রয়েছে। যেহেতু এই যুদ্ধটা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, তাই পৃথিবীর সকল সুন্নিরা সমস্ত রকম প্রভেদ ভুলে শিয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছে, দু’চারজন দালাল ব্যাতিরেকে। দেশের শাসক যে দলের খুশি হোক, তার যা খুশি বিদেশনীতি হোক, পৃথিবীর ৮০% মানুষ প্রকাশ্যে বা গোপনে তারা ইরানের সমর্থক। আসলে এরা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে ঘৃণা করে বলে ইরানের উপরে এদের সমর্থন পুঞ্জীভূত হয়েছে, ইরানকে ভালবেসে নয়।
শুধু মুসলমান বলে যদি কেউ ইরানের প্রতি সমর্থন দিয়ে থাকে, তাহলে ইজরায়েল আমেরিকার দিকে বহু লোকের সমর্থন শুধুমাত্র মুসলমানের প্রতি তীব্র ঘৃণা থেকে ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে- এটাকে কীভাবে অস্বীকার করবেন? তুল্যমূল্য আলোচনার টেবিলে, দুটো পয়েন্টই একসঙ্গে এই রূপে হাজির করতে হবে। ধর্মান্ধ মৌলবাদ মানে তো শুধু তো র্যাডিক্যাল ইসলাম নয়, প্রতিটা ধর্মকেই সেক্ষেত্রে আতশ কাঁচের নিচে নিয়ে আসতে হবে, তবে সত্য প্রতিষ্ঠা পাবে।
পরিস্থিতিকে সময়ের মানদণ্ডে তুল্যমূল্য বিচার করতে হবে পক্ষপাতমুক্ত হয়ে। আমাদের ভারত সরকারকেও সময়ের নিক্তিতে মেপে দেখতে হবে, নতুবা আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ ছবি পরিষ্কার হবে না।
বিজেপি নিশ্চিত সমস্যার, কিন্তু বিশ্বগুরুকে মুজরোওয়ালি সাজিয়ে গুজরাত কার্টেল যেভাবে লুঠ করছে, উলঙ্গ হয়ে আমেরিকা CIA এর দালালি করছে, এই গুজরাত কার্টেল বিজেপির চেয়েও ১ কোটি গুণ বেশি ক্ষতিকর ও বিনাশকারী। বাজপেয়ীও বিজেপিই ছিলেন, তাকেও আমরা খারাপ বলতাম ওনার সময়ে। বিশ্বপ্রভুর নের্তৃত্বে বর্তমানে বিজেপির নামে এই গুজরাত কার্টেল না আসলে কী, বাজপেয়ীকে এতোটা উদার, দুরদৃষ্টিসম্পন্ন নিরপরাধ মনে হতো? আমরা মনমোহন সিংকে পাপেট বা মৌনমোহন বলতাম, আজকে বিশ্বগুরু না এলে আসল পাপেটের সংজ্ঞা জানতাম কি? আজকের দিল্লি সরকারকে আমেরিকা রোজ বলাৎকার করে দিলেও, এদের এতটুকু গাটস নেই আমেরিকার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে পারে; অন্যের বিরুদ্ধে না হোক নিদেনপক্ষে নিজেদের স্বপক্ষেও এরা স্ট্যান্ড নিতে পারে না। আমেরিকার দিকে ন্যূনতম চোখ তুলে তাকাতে পারেনা এরা। ৯৯% মিডিয়াকে ভেড়ুয়া দালাল বানাবার পরেও যার এতটুকু সাহস ও আত্মবিশ্বাস নেই সাংবাদিক সম্মেলন করার, তার চেয়ে বড় পাপেট কে? রাহুল গান্ধীর সাথে রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও সে বিশ্বগুরুর মতো মিথ্যাবাদী, দুশ্চরিত্র, লম্পট, হিংস্র, নির্লজ্জ, বেহায়া, ধর্মান্ধ, গণহত্যাকারী, নিরক্ষর নার্সিসস্ট নয়।
এই মুহূর্তে দেশের মূল সমস্যার নাম তাই নরেন্দ্র মোদী। নপুংশক, ভীতু, দুর্বল, অসুস্থ মানসিক বিকারগ্রস্থ এই বৃদ্ধ, এমন একটা ব্যক্তি, যে প্রশ্নকে ভয় পায়, জনগণকে ভয় পায়, পাছে জবাব দিতে হয়! এনাকে আমাদের দেশের পুঁজিবাদী লুঠেরা গোষ্ঠী ‘সাক্ষীগোপাল’ নেতা বানিয়ে রেখেছে। ট্রাম্পও উন্মাদ মেগালো ম্যানিয়াক, তবুও সে দৈনিক সাংবাদিক ফেস করছে। আমাদের প্রভু সেই মুরোদ টুকু রাখেন না, অশিক্ষা ও মূর্খামি এনার পুঁজি। এনাকে দিয়ে বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে ভারতীয় হিসাবে অপমানিত আর লঞ্চিত হওয়ার বাইরে কিছুই মেলেনি আজ অবধি, মিলবেও না।
গ্যাসের দাম ৫০০০ টাকা হোক, ডিজেল ২০০০ টাকা লিটার হোক, ভক্তরা না হয় ইট চিবিয়ে খেয়ে সহ্য করে নেবে, যারা সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ- সেই ভারতবাসীদের ভবিষ্যৎ কী?
নরেন্দ্র মোদীর এই শাসনকাল দেশের ভিতে ঠিক কতটা ক্ষতি করেছে, যারা বেঁচে থাকবে আগামী ১৫ বছর পর তারা দেখে যাবে। তৎকালীন বিশ্লেষকেরা ডেটা দিয়ে প্রমাণ করবে, যখন গোদী মিডিয়া সময়ের চিতায় পুড়ে ভষ্ম হয়ে যাবে, দুন্দুভি নাগাড়া বাজিয়ে মোদীর ব্যর্থতাকেই সফলতা হিসাবে মিথ্যা প্রচারের ফানুসে ঢেকে দেবে না। ব্রিটিশরা প্রথম ১০০ বছরে যা লুঠ করেনি, অঙ্কের হিসাবে মোদীর ১২ বছরে জামানাতে আদানি আম্বানি ও এমন কর্পোরেট হাঙরেরা তার চেয়ে বেশী লুঠ করেছে আমাদের জনগণের সম্পদ। বুকে হাত রেখে বলুন, গত ১২ বছরে মোদীর সরকার আপনাকে কোন বেনিফিট দিয়েছে?
সংবিধানের প্রতিটা কাঠামোকে এরা দুমড়ে মুচড়ে তুবড়ে দিয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত বিশ্বাসের ভিত্তিতে রায় দিচ্ছে, বিচারপতিরা অবসরের পরদিনেই বিজেপি জয়েন করছে। বিজেপির মুখপত্র সরাসরি বিচারকের আসনে আসীন হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের কথা নাই বা বললাম, এদের চেয়ে নিকৃষ্ট আর কিছু পৃথিবীতে কিছু আছে কিনা সেটা গবেষণার বিষয়, এরা সরকারকে প্রশ্নের বদলে ক্ষমতার চাটুকারিতা আর দালালি করে, বিরোধীদের টার্গেট করে তাদের malign করে প্রশ্ন করে। নির্বাচন কমিশন ভোট চুরিতে বিজেপিকে সাহায্য করে, আমাদের মতো ৬০ লক্ষ মানুষকে জিম্মি করে রাখে যারা অধিকাংশই মুসলমান, যাতে বিজেপিকে ক্ষমতার কাছাকাছি এনে দেওয়া যায়। আজকের ভারতে সবচেয়ে যে সরকারী সংস্থাকে মানুষ অবিশ্বাস করে সেটা নির্বাচন কমিশন, আর মিথ্যাবাদী গবেট দালাল বললেই চোখের সামনে যাদের ছবি ভেসে উঠে, তারা দেশের মিডিয়া হাউজগুলো। বিজেপির মুখপাত্র রাজ্যপাল হয়ে যাচ্ছে আর রাজ্যপাল বিজেপির মুখপাত্র হয়ে যাচ্ছে। গত ১২ বছরে মোদীর সরকার এটাই করেছে, গণতন্ত্রের স্তম্ভগুলোকে খোকলা করে দিয়ে এই ১৪০ কোটির দেশকে এই পর্যায়ে এনে দাঁড় করিয়েছে।
বিশ্বগুরুর শাসনে আজকের ইন্ডিয়ার যা রেপুটেশন, আগামীতে BRICS আমাদের রাখবে কিনা সন্দেহ। শুধু ১৪০ কোটির বাজার দেখলে হবে না, দিল্লি সরকারের বিদেশ দপ্তরের নেড়ি কুত্তাগুলোকে রোজ ঝাঁটা দিয়ে মেরে, মুখে প্রস্রাব করে দিচ্ছে আমেরিকা, এরা নির্বিকার বদনে সেই মুতই গিলছে সামান্য আওয়াজ না করে। মধ্যপ্রাচ্যে গণধোলাই খাওয়া আমেরিকা পরবর্তী বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার প্রাক্কালে, রাশিয়া চিন ইরান সহ সকলেই দেখেছে ইন্ডিয়ান নের্তৃত্বের এই কাপুরুষোচিত অসহায় আত্মসমর্পন। আগামীতে দিল্লিতে এই বর্তমান নের্তৃত্ব যতদিন থাকবে, এদের সাথে ছালউঠা খেঁকি কুত্তার মতোই আচরণ করে তাদের দাবী মানতে বাধ্য করবে, যেমনটা আজ আমেরিকা করছে। বিশ্বে নতুন যে ক্ষমতার অক্ষ তৈরি হচ্ছে, সেই ঘরে ঢুকতে দেবে না আমাদের দেশকে, কারণ মোদী ব্রিক্সের পিছনে ছুরি মেরেছে আমেরিকার পা চাঁটতে গিয়ে। দরকারে ডেকে, ঘরের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে দেবে, আমাদের উনিজি তো আবার স্বঘোষিত চৌকিদার। আসলে আমেরিকার বিছানাতে শুয়ে আমাদের জাত গেছে, পেট ভরেনি।
আমাদের দেশের সুবর্ণ সুযোগ, চিতায় তুলে দিয়েছে বিশ্বগুরু আদানি জুটি। আগামীতে BR'I'CS এর I ফর ইন্ডিয়ার বদলে ইরান জুড়ে গেলে আশ্চর্য হব না। ব্রিক্সে, আমাদের ব্যক্তিত্বহীন খোজা বিদেশমন্ত্রী আর এপস্টিন ফাইলের মুজরো প্রভু নের্তৃত্বাধীন ইন্ডিয়ার বিশ্বাসঘাতকতার দরুন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা বেশ্যাপল্লীর পতিতাদের সতীত্বের মতো পবিত্র হিসাবে গৃহীত হচ্ছে। গৃহ পরিচারিকার সাথে এক থালায় তবুও খাওয়া যায়, এক পায়খানাতে হাগা যায় না, এটা ভুলে যাবেন না।
মুচলেকা RSS এর জিনে রয়েছে, ইতিমধ্যেই হরমুজের গ্যাস চেয়ে ইরানের কাছে মৌখিক মুচলেকা দিয়েছিল ভয়শঙ্কর; স্বাভাবিকভাবেই ইরান তা মানেনি, আসলে তারা লিখিত মুচলেখা চায়। ক্রমশ পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, নাগপুরের বৃদ্ধ ষন্ড প্রভুর দল ইরানের মোল্লাদের কমোডে ঢুকে- টয়লেট পেপারের বদলে জিভ দিয়ে তাদের শৌচকর্ম না করে দেয়। আমেরিকার এভাবেই তারা তাদের পাছা পরিষ্কার করে চলেছে আমাদের বিদেশ দপ্তরকে দিয়ে। নাগপুরের গোয়ালঘর শক্তের ভক্ত নরমের যম, নেহাত মুর্খ অসভ্য ও বর্বর। এতো কিছুর পরেও- বিতর্কিত ভোটারলিস্ট দিয়ে গত লোকসভার ভোট হলেও, গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সরকার পরে যাক তা কখনই চাইব না, সংবিধানের এই কাঠামোটা বড় জরুরী আমাদের সকলের জন্য, যেটাকে মনুবাদীরা ধ্বংসের জন্য উঠে পড়ে লেগে রয়েছে।
ফ্যাব ফোরে সমসাময়িক হিসাবে বিশ্বের চারটে প্রান্তে যে চারজন প্রায় দুর্বৃত্ত ক্ষমতার শীর্ষে উঠেছিল, তাদের মধ্যে ব্রাজিলের বালসেনারো ২৭ জন্য বছরের জেলে বন্দি। নেতানিয়াহুর মৃত্য নিয়ে সোশ্যালমিডিয়ার প্রোপ্যাগান্ডা গুলোকে মান্যতা না দিলেও, বর্তমান যুদ্ধে ইজরায়েলের যা হাল হয়েছে, আপনি লিখে নিন ইজরায়েলে নেতানিয়াহু অধ্যায় ফিনিশ। তালিকাতে ছাগলের তিন নম্বর ছানা মাই ফ্রেন্ড দোলান্ড। পাতাখোর ছাপড়ির মতো মুখ খুললেই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে; আতঙ্ক, অপমান, অবিশ্বাসে ভুল বকছে নিয়মিত। আগের একটা প্রতিবেদনে লিখেছিলাম- অ্যাাসাসিনেশন না ইমপিচমেন্ট কোনটা যে আগে হবে সেটাই একমাত্র আলোচনা বিষয়। এবারে আপনিই বলুন, এক যাত্রায় পৃথক ফল কীভাবে সম্ভব? আমাদের বিশ্বপ্রভু কোন মন্ত্রে ফাঁকতালে গলে বেরিয়ে যাবে? ‘Godhra meets Gaza’ সফরে, Power on their minds, Hatred in their hearts, Blood on their hands বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। বাকিটাও brother in the same boat থিওরি মেনেই ঘটবে, সে আপনি বিশ্বাস করুন বা না করুন।
এই রকম ঘৃণ্য DNA যুক্ত শাসক আজকের পৃথিবীতে আরও কয়েক পিস আছে, তারা এদের তুলনাতে কম কুখ্যাত, কিন্তু জিনগত মিল রয়েছে। তুরস্কের এরদোয়ান, ইতালির মেলোনি, পোল্যান্ড দুদা, স্লোভাকিয়া ফিৎসো, হাঙ্গেরির অর্বান, অস্ট্রিয়ার কুর্ৎস, সহ প্রত্যেকের বিদায় ঘটবে, যে মুহূর্তে ইউক্রেনের ভাঁড়টার বিদায় ঘটবে। ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হলেই এগুলোরও রাজনৈতিক বিসর্জন হয়ে যাবে দ্রুত। আমেরিকার পরাশক্তি সেজে থাকার ধড়াচুড়ো যত খসতে থাকবে, জাপানের কিশিদা, দক্ষিণ কোরিয়ার ইউন সুক ইয়ল, ফিলিপিন্সের দুতার্তে, এবং সিঙ্গাপুরের লি সিয়েন লুং এর চেয়ার তত টলমল হবে। বাকিটা কিম জং উন সামলে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এর মধ্যেই তাইওয়ানকে চিন হজম করে নেমে। বাকি থাকল লাতিনাতে আর্জেন্টিনা আর আর এল-সালভাদর, ব্রাজিলের বর্তমান সরকার টিকে থাকলে এদেরও পিটিয়ে সোজা করে দেবে।
সকলের কথা হলো, ট্রাম্পকে নোবেলের জন্য সুপারিশ করা প্রথম দেশটা তালিকাতে না থাকলে হবে? বিশ্বজুড়ে আমেরিকার সেনা ঘাঁটি থাকলেও, মার্কিন সেনা ও CIA এর একটা নিজস্ব দেশও আছে, সেটা আমাদের পড়শি। যে দেশের হাঁড়ি চলে ভিক্ষা করে, আর আমেরিকার পরমাণু বোমা পাহারা দিয়ে। আমেরিকা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার আগে সবার আগে পাকিস্তানের রিজিম চেঞ্জ হয়ে যাবে, শরীফ আর মুনির নামের সার্কাসের জোকার দুটোই ইউরোপ বা আমেরিকায় পালাবে।
পাশাপাশি এটাও সত্য, বিশ্বজুড়ে আমেরিকার দাদাগিরি ইলেকট্রিক বাল্বের সুইচ টেপার মতও করে রাতারাতি বন্ধ হবে না, এটাও কয়েক বছরের চলমান প্রক্রিয়া। এই একই সময়ে গোটা বিশ্বজুড়ে বামপন্থীদের উত্থান হতেই হবে, NGO জীবীদের কাছে যে মার্কিন ডলারের স্রোত আসত এতদিন, কমিউনিজমকে ধ্বংস করার জন্য- সেগুলো বন্ধ হলে আমাদের রাজ্যেও বামেদের অবস্থান মজবুত হবে। তার আগে অবশ্যই দলের ভিতরে থাকা প্রতিকুকুর গুলোকে চিহ্নিত করে, তাদের তাড়িয়ে পার্টিকে জঞ্জাল মুক্ত করতে হবে; এরা মমতার চেয়েও বড় ক্ষতিকর।
আরব রাষ্ট্রগুলির পক্ষে মার্কিন ফৌজ সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া যথেষ্ট কঠিন। প্রথমত, সব সময়েই নিজ পরিবারের ভেতর থেকেই অন্তর্ঘাত ও সেনা অভ্যুত্থানের আতঙ্কে ভোগে সেখানকার রাজপরিবারগুলির ক্ষমতাবানেরা। উপসাগরীয় দেশগুলোর জনসংখ্যাও ক্ষুদ্র, সেনাবাহিনীর বহরও তথৈবচ। প্রায় প্রত্যেকেই অগাধ সম্পদের মালিক হওয়ার জন্য নাগরিকদের কেউ সেনা বাহিনীতে যেতে চায় না, ভাড়াটে সৈন্য একমাত্র ভরষা- যারা যেকোনো সময় বিকিয়ে যেতে পারে। সামরিক সহযোগিতাতে চীন বা রাশিয়া কেউই পাশে থাকার বিষয়ে প্রমাণিত নয়, ফলত বিকল্প নিরাপত্তা অক্ষ না থাকার কারণে মধ্যপ্রাচ্য রীতিমতো ধর্ম সঙ্কটে পড়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, উপসাগরীয় দেশগুলির একমাত্র উপার্জনের জায়গা হলো অপরিশোধিত খনিজ তেল ও গ্যাস। বিশ্ববাজারে যা আজও বিক্রি হয় মার্কিন ডলারেই। দৃশ্যত ডলারের কোনো বিকল্প অর্থব্যবস্থা আজকের পৃথিবীতে নেই যা সর্বজনগ্রাহ্য ও প্রতিস্থাপনযোগ্য। স্বভাবতই রাতারাতি আমেরিকার সেনাঘাঁটি ও তাদের মুদ্রা ডলারকে বাতিল করে দিলে সৌদি, আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, ওমান বা বাহরিনের অর্থনীতি রাতারাতি ধ্বসে গিয়ে সিরিয়া বা ইরাকের মতো হয়ে যেতে পারে।
রেজিম চেঞ্জ, মধ্যপ্রাচ্য, হলুদ সাম্রাজ্য, East Block, আরব লীগ সহ আমাদের ভারত- সকলে যুগ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ইরান যুদ্ধটা শুরু করেছিল তাদের দেশের মধ্যে থাকা প্রতিকুরগুলোকে চিহ্নিতকরণের মধ্য দিয়ে। নিজের দেশের বিরোধীরা আজ শাসকের তান্ডব ও পরাক্রম দেখে বিরোধী কন্ঠস্বর রণেভঙ্গ দিয়েছে, ফলে ইরানের আভ্যন্তরীণ সমস্ত রকম বিদ্রোহ চাপা পড়ে গিয়ে তারা একটা ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত হয়েছে। আব্রাহাম এ্যাকর্ড ও পিস ফোরামের মত এঁটোকাঁটা কমিটিকেও কবর দিয়ে দিয়েছে ইরান। পারস্য উপসাগরের ওপারের পাশের দেশগুলোর পরিণতি ওরা দেখে নিয়েছে। ইরান এবারে যুদ্ধটাকে কাস্পিয়ানের দিকে নিয়ে যেতে চাইবে। ডানে বাঁয়ে আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, জর্জিয়া, তুর্কমেনিস্তান, তাজিখ, কিরঘিজ, কাজাখ, উজবেকিস্তানের মতো যে যে দেশে আমেরিকার ঘাঁটি আছে, সেগুলোকে ঘেঁটে দেবে। মোদ্দা কথা আর একটা ওয়্যারফ্রন্ট খুলে দেবে আমেরিকার সামনে, তাদের নাজেহাল করে দেবার জন্য।
আমাদের কী হবে? আগামী ৩ বছর আমাদের দেশেও কমপক্ষে বিজেপি সরকার থাকছেই, সংসদেও লো-কনফিডেন্স কোনো মুভমেন্ট নেই। কিন্তু, নরেন্দ্র মোদী ও তার বর্তমান প্রশাসনের মোটাভাই, ইন্ডিয়ান জেমস বন্ড, কড়ি নিন্দা সিং, ভয়শঙ্কর, বিরাট শিক্ষিত সেলফি মন্ত্রীর মতো লালুভুলুর টিমের রাজনৈতিক বিসর্জন হওয়া একান্ত জরুরী- এটাই জাতির একমাত্র স্বার্থ। বিজেপির অন্য নতুন টিম আসুক, নতুন ভাবনা আসুক, তারা আর কত খারাপ করবে এদের চেয়ে! অবশ্য যোগী গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়াতে তার পক্ষের প্রচারনা শুরু করে দিয়েছে, সে এলে ভারতের প্রতিটা জনগণের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ সময় অপেক্ষা করছে, লিখে নিন। বিরোধী হিসাবে রাহুল গান্ধী পাপ্পু হোক বা না হোক, কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় বোঝা হচ্ছে সোনিয়া গান্ধী, মোদির থেকেও বেশি ক্ষতিকর প্রোডাক্ট এই মহিলা। ইতিহাস সাক্ষী আছে 'once a spy, always a spy', তার মন্ত্র অবশ্যই if you're on the team for life, then you're bound by team rules for life.
আমেরিকা ডুবন্ত নৌকা, ওতে যে চড়বে তাকে নিয়েই ওরা ডুববে। অনেকেই ভাবছেন এপস্টিন দ্বীপে কোনো যৌন শিশু কেলেঙ্কারির কুকীর্তি করে আসার দরুন, বিশ্বগুরু আমেরিকার হাতের পুতুল হয়ে গেছে। একটা দুধের শিশুও জানে আমেরিকা-ইসরাইলের সাথে ভারতের যে তথাকথিত ‘বন্ধুত্ব’, সেটা সমতা, সক্ষমতা ও পারস্পারিক সম্মান, মূল্যবোধের কূটনৈতিক নিয়মের ভিত্তিতে নয়; এটা একতরফা, অপমানজনক, স্বার্থপরতা হিংসায় ডোবানো তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের একপেশে ব্ল্যাককমেলিং, যেখানে নিয়মিত হীন প্রতিপন্ন করে রোজ একবার আমাদের অউকাত বুঝিয়ে দেয়। এই পশ্চিমা নের্তৃত্ব কখনই মোদীকে তাদের সমকক্ষ মনে করে পাশে বসায়নি, যখনই ডেকেছে চাকরবাকরের মতো কান মুলে তাদের ইচ্ছামত চুক্তিতে সই করিয়ে নিয়ে, সামান্য উচ্ছিষ্ট ছুঁড়ে দিয়ে পিছনে লাথ মেরে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। নিজে থেকে যখন বিদেশ সফরে গেছে, তার দেশজ প্রভু আদানির হয়ে দালালি করতেই গেছে, দেশের কাজে যায়নি। এই হচ্ছে আমাদের দেশের ‘আয়াতোল্লা মোদানীর’ অউকাত।
তাই আমার
ভাবনা একটু ভিন্ন, মোদী/RSS এর ভোটে জেতার যে প্রাণভোমরা- সেই যাবতীয় EVM ম্যানিপুলেশন তথা হ্যাকিং এর সিক্রেট তাদের সম্ভবত এপস্টিন
গ্যাং এর হাতে রয়েছে। এই কারণেই মোদী ও তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা CIA/ইজরায়েল এর বিরুদ্ধে যেতে পারবে না, ঝাঁটা লাথি খেয়েও তাদের দরজার ঝনকাঠে শুয়ে থাকতে হবে
নামাজের সিজদা দেওয়ার ভঙ্গিতে।
অধিকাংশ জনই এটাকে কন্ট্রোভার্সিয়াল এবং কন্সপিরেসি থিওরি বলে উড়িয়ে দিতে চাইবে, আপনি কী মনে করেন?



