বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ঘৃণার যাত্রাপথঃ স্টেট স্পনসর্ড টেরোরিজম ও RSS

 


ধর্মীয় শোভাযাত্রা এখন দাঙ্গা বাঁধানোর মূল অস্ত্র, নাগপুরের হিন্দুত্ব আধিপত্যবাদীরা ভারতের আত্মাকে ছিন্নভিন্ন করছে দিয়েছে; যার মেরামতিতে কয়েকটা দশক লাগবে এদের সম্পূর্ণ নির্মূলকরনের পরেও। 

RSS এর কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোকে- নূন্যতম ১০ মিনিট হলেও স্থানীয় কোনো মসজিদের সামনে এসে ডিজে বাজিয়ে উদ্দাম নাচনকোঁদন, বাজি ফাটানো, তীব্র ঘৃণাসূচক স্লোগান দিতেই হবে। এর উপরেই তাদের অস্তিত্ব টিকে আছে; যেখানে মুসলমান আর মসজিদ অপসন নেই, সেখানে এদেরকে আদিবাদী ও ব্রাহ্মণ ব্যতিত অন্যান্য ‘ছোট জাতের’ হিন্দুদের উপরে আক্রমণ করতে হবে। এসবের পেছনে রাজনৈতিক সিদ্ধি লাভের অঙ্ক ছাড়া কিচ্ছুটি নেই, নুন্যতম সামাজিক কিম্বা ধর্মীয় উদ্দেশ্য খোঁজা অর্থহীন সময় নষ্ট। একটা সময় অবধি এই ধরনের ঘটনাগুলো মূলত রাম নবমী, হনুমান জয়ন্তী জাতীয় হাতেগোনা অনুষ্ঠানের দিনেই সীমাবদ্ধ ছিলো, আজ ১২ বছর ধরে মহাদানবের শাসনের পর- যে কোনো উঠতি হিন্দুত্ববাদী নেতা, যার রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রবল, কিম্বা যে নেতার সদ্য ডিমোশন হয়েছে, তাদেরকে লাইমলাইটে আসতে গেলে একটাই সহজ পথ; মসজিদের সামনে গিয়ে তান্ডব করো কিম্বা কোনো গরীব মুসলমানকে প্রকাশ্যে হেনস্থা করো। এই পদ্ধতিতে, বিজেপির আদর্শগত অভিভাবক ‘সঙ্ঘ পরিবারের’ নেক নজরে এলেই, তাকে সরাসরি সরকার ও প্রশাসনের উচ্চপদে নিয়োগ দিয়ে পুরষ্কিত করা হচ্ছে প্রতিটা ক্ষেত্রে।

মুসোলিনির ফ্যাসিস্টদের প্রতি মোহগ্রস্ত কিছু গোঁড়া ও সুবিধাবাদী বেইমানদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত RSS হলো হিন্দু আধিপত্যবাদের মোড়কে নিকৃষ্ট উগ্র জাতীয়তাবাদীর জনক, যারা রাজনীতি করে ধর্মের বর্ম বানিয়ে। ইহুদী জায়োনিজম ছাড়া আজকের পৃথিবীতে RSS-এর মতো এমন ইতর প্রতিরূপ খুঁজে পাওয়া কঠিন। ভারতীয় হিন্দু ধর্মতত্ত্বের উৎসের দিকে তাকালে দেখবেন- এটা সেই অর্থে শ্রেণিবদ্ধ ও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত কোনো ধর্ম ব্যবস্থা নয়, বিবিধতাই এর মূল পরিচয়বাহক। কিন্তু ব্রাহ্মন্যবাদী যাজক সম্প্রদায় RSS এর রূপে এসে; এই বহুত্ববাদী ধর্মতত্ত্বকেই রাষ্ট্রপরিচালনার একটি প্রকল্পে রূপান্তরিত করেছে। হিন্দুধর্মের কোনো প্রধান মন্দির নেই, যেমন ক্যাথলিকদের ভ্যাটিকান বা মুসলমানদের মক্কা-মদিনা আছে। হিন্দুধর্মে পোপের মত কোনো একক ধর্মগুরু নেই যার একক বাণীই ধর্মের শেষ কথা। RSS ঠিক এই সুযোগোটাকেই লুফে নিয়েছে, নিজেদেরকে হিন্দু ধর্মতাত্ত্বিক নিয়ামক বানানোর প্রচেষ্টাতে লেগে রয়েছে। রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের জন্য ‘হিন্দু-রাষ্ট্র’ স্থাপনের মাধ্যমে ধর্মীয় সুড়সুড়ি তাদের প্রধান অস্ত্র। এখন হিন্দুরাষ্ট্র বানাবার প্রথম ধাপ কি? মুসলমান ও তাদের ধর্মীয় উপাসনাস্থল মসজিদে আক্রমণ। এখান থেকে অশান্তির মূল শুরু।

মসজিদের সামনে নেচে জাতিগতভাবে হিন্দু ধর্মের কোন উন্নতি আজ অবধি হয়েছে? মানে বিজেপির নেতাদের ছাড়া আম হিন্দুর কোনো লাভ হয়েছে? উস্কানিমূলক আচরণের মাধ্যমেই ‘সঙ্ঘ সংশ্লিষ্ট’ গোষ্ঠীগুলো ঘৃণার বারুদ ভরা শব্দে শাওয়ার হয়ে গোটা দেশজুড়ে তাদের রাজনৈতিক আধিপত্য বা ক্ষমতা প্রদর্শন করে চলেছে। মূলত কোনো বড় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মেরুকরনের জন্য ধর্মীয় উত্তেজনা তৈরি করে এরা, যাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট হয়। যারা মনের মাঝে ইসলামোফোবিয়া পালন করে, সেই ভোটব্যাংক শক্তিশালী হয় এই বিভিষীকা দেখে। উস্কানি ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি এদের অন্যতম উদ্দেশ্য, যাতে অপর পক্ষকে উত্তেজিত করে কোনো হিংসাত্মক প্রতিক্রিয়ায় জড়িয়ে যায়। তখন সেটাকেও ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেওয়া সহজ হয়। এর মাধ্যমে মুসলমান সম্প্রদায়ের মনে ভয় বা নিরাপত্তাহীনতার বোধ তৈরি করা যায় সহজে, যাতে তারা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে তৃতীয় শ্রেনীর নাগরিক হয়ে যায়।

আর এই সবকিছুকে নির্মান করা হয় জাতীয়তাবাদের গাঁজা খাইয়ে। ‘জয় শ্রীরাম’ যেমন বিজেপির রাজনৈতিক স্লোগান, ‘ভারত মাতা কি জয়’ও তাদের রাজনৈতিক স্লোগানের অংশ বর্তমানে। কট্টরপন্থী উগ্র জাতীয়তাবাদী ভাবধারা থেকে সর্বসমক্ষে অন্য ধর্মের উপাসনালয়ের সামনে নিজেদের ধর্মীয় শক্তির প্রকাশ ঘটানো এখন প্রতিটা বিজেপি সরকারের বীরত্বের প্রতীক। ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতার যে কাঠামো ছিলো, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্প্রীতি ছিলো, তা এই বারো বছরে শুধু ক্ষতিগ্রস্তই হয়নি, অনেকটা তলিয়ে গেছে। ঘৃণার বিষ সমাজের কয়েকটা প্রজন্মের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে- চাইলেই যা রাতারাতি উদ্ধার করা যাবেনা। 

কয়েকটা উদাহরণ দেখুন, এই সেপ্টেম্বর ২০২৬ এর; উত্তর প্রদেশর মিরাট শহরের ঐতিহাসিক শাহী জামা মসজিদ নাকি সম্রাট অশোকের আমলের একটি মঠ ধ্বংস করে নির্মাণ করা হয়েছিল। একজন নাগপুরী জঙ্গি রামকুমার শর্মার অভিযোগের ভিত্তিতে মসজিদটিতে তালা লাগিয়ে দিতে বলেছিলো নিম্ন আদালত, স্থানীয় প্রশাসন যথারীতি বুলডোজার চালিয়ে দিয়েছে। ইতিমধ্যের শতবর্ষ প্রাচীন ব্রিটিশ আমলের শাহারানপুর মসজিদে বুলডোজার চালিয়ে দিয়েছে, একই জমিতে একই সময়ে নির্মিত মন্দিরটি অক্ষত রয়েছে। ওদিকে মোরাদাবাদ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ স্থানীয় মুস্তাফা মসজিদের তত্ত্বাবধায়কে ভবনের নকশা চেয়ে একটি নোটিশ জারি করেছে। এটাকেও যেকোনো দিন ভেঙে দেবে, তার আগে একটু আইনি আইনি খেলার নকশা না করলে কেমন যেন মজা আসেনা। অথচ একই মালিকের দান করা জমিতে এই মোরাদাবাদ জামা মসজিদের ঠিক পাশেই থাকা জৈন মন্দির নিয়ে না হিন্দুত্বের রক্ষাকর্তা না প্রশাসন- কারো কোনো সমস্যা নেই।

মহারাষ্ট্রের অচলপুরে কানওয়ার যাত্রার সময় স্থানীয় একটি মসজিদের সামনে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান সম্বলিত যাত্রাপালাটি প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ নভনীত রানা এবং বিজেপি বিধায়ক প্রবীণ তায়েদের উপস্থিতিতে চলেছে। বেশ কয়েকঘন্টা ধরে মসজিদ অবরুদ্ধ রেখে, সেখানে হনুমান চালিসা পাঠ করা হয়। সবচেয়ে মজা হলো পুলিশ ও প্রশাসন এই নির্দিষ্ট গেরুয়া জঙ্গিদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়, যাতে তারা সুশৃঙ্খল ভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। আগামীতে যখন ইতিহাস লেখা হবে, স্টেট স্পনসর্ড টেরোরিজম কাকে বলে, এই গুলো প্রতিটার উল্লেখ থাকবে আগামীর গবেষকদের জন্য।

গবেষনা প্রসঙ্গে বলি, Routes of Wrath: Weaponizing Religious Processions নামের একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিলো- ‘সিটিজেন অ্যান্ড লইয়ার্স ইনিশিয়েটিভ’ দের দ্বারা। Weaponizing Religious Processions: Communal Violence During Ram Navami and Hanuman Jayanti (April 2022) শীর্ষক এই রিপোর্টে বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে RSS ও নানান শাখাগুলো পরিকল্পিত দাঙ্গা বাঁধায়, দাঙ্গার নেপথ্যভূমি কী থাকে, পুলিশ-প্রশাসনই-বা কী ভূমিকা নেয়, কারা ক্ষতিগ্রস্ত হয় সবচেয়ে বেশি আর মিডিয়াই-বা কী ভূমিকা পালন করে। পারলে রিপোর্টটি অবশ্যই পড়ে দেখবেন। 

মন্দির নয়, মসজিদই হচ্ছে RSS এবং তার হিন্দুত্ববাদী শাখা সংগঠনগুলির মূল উপাসনালয়, মুসলমান বিরোধিতার এক ভয়ঙ্কর শাণিত অস্ত্র। এরা মন্দিরে সাধন ভজন করুক বা না করুক, মসজিদের সামনে এসে নাচতেই হবে, নাহলেই ‘হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়’। হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক ফায়দার লক্ষ্যে মুসলমানদের আক্রমণ আর থকথকে ঘৃণা মেশানো বিষাক্ত স্লোগান একে অপরের পরিপূরক, যে শোভাযাত্রার রঙ গেরুয়া। যে রং আবহমানকাল ধরে ভারতীয় সন্ন্যাসীদের ত্যাগ ও তিতিক্ষার প্রতীক, যে রং ভারতের জাতীয় পতাকার অঙ্গ- সেই গেরুয়া আজ ঘৃণা, বিদ্বেষ, ভয়, ধ্বংস, দাঙ্গা, হত্যা, বুলডোজারের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। চেতনাহীন উন্মত্ত কিছু যুবক-যুবতী, তাদের উন্মাদ-তাণ্ডব নাচ, হাতে হাতে নাচে যুগপৎ ধারালো অস্ত্রশস্ত্র, লাঠিসোটা, আগ্নেয়াস্ত্র- আর জারিকেন ভরা সহজদাহ্য জ্বালানি। 

RSS স্বীকৃত একদল জঙ্গি গেরুয়া রংটাকে অবলম্বন করে সমস্ত তাণ্ডব গুলো চালাচ্ছে। গৌতম বুদ্ধের চীবর, শংকরাচার্য, স্বামী বিবেকানন্দ সহ রামকৃষ্ণ মিশন বা ভারত সেবাশ্রম- সকলে গেরুয়া রং ব্যবহার করে এই রংকে শান্তির প্রতীক হিসাবে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠিত করে রেখেছেন। ব্যক্তিগত সংসার, সম্পদ, ভোগ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের জীবন ত্যাগ করে তবে নিজেকে প্রকৃত গেরুয়া রঙে রাঙানো যায়। RSS এর দূর্বৃত্তের দল নিজেদের নিকৃষ্ট উদ্দেশ্য ও ক্ষয়িষ্ণু অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে- হিন্দুত্বের অস্তিত্ব ও চলমান আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে পড়ে গিরগিটির মতো গেরুয়া রঙে নিজেদের ছাপিয়ে নিজেদের বাঁচিয়ে রেখেছে।

রং বিভাজনের যে নিকৃষ্ট খেলা, যেটার সফল পরীক্ষা তৃণমূল কংগ্রেসের মাধ্যমে বাঙলাতে করিয়েছিল RSS, সেটা আজ বাঙালির মননে ঢুকে গেছে। একটা রাজনৈতিক দলের পতাকা তৈরি হয়েছে কংগ্রেসের পতাকাকে চুরি করে, যেখানে নীল সাদা রঙের কোন অস্তিত্বই নেই, অথচ তৃণমূল নামক দলটির অস্তিত্ব টিকে আছে নীল সাদা রঙের মধ্যে। এই নিকৃষ্ট সাম্প্রদায়িক মানসিকতা সমাজের নিচের দিকে একশ্রেনীর লুম্পেন তৈরি করেছে বলে ভুল হবে, বাঙালি সমাজের মাথা থেকে পা অবধি বায়োলজিক্যাল ফর্মটা চেঞ্জ হয়ে গেছে। পৃথিবীর যে কোন দেশে রেড কার্পেট বিছানোর মাধ্যমে তাকে সর্বোচ্চ সম্মান দেয়া হয়। এটাই সভ্যতার গতিপথের অভিমুখ, মানুষ যেমন উল্টোদিকে হাঁটতে পারে না, সিগন্যালের আলো লাল, হলুদ আর সবুজের বাইরে অন্য কিছু ব্যবহার করতে পারেনা- তেমনই রেড কার্পেটও একটা একক। অথচ একদল অজ গেরুয়া রঙের কার্পেট বিছিয়ে পুরনো নীল সাদা মূর্খ ঐতিহ্যের উত্তরসূরী হতে চাইছে। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটা সুপরিকল্পিত।
রামনবমী তো রামের জন্মোৎসব পালন, কোথায় সেই ধার্মিক আদি দেবতা সূর্যকে জলদান? কোথায় অধর্মের বিনাশ আর শুভশক্তির জয় আকাঙ্ক্ষায় উপবাস, বৈদিক মন্ত্র, রাম কাহিনি পাঠ! কোথায় রামভজন! নাগপুরের হিন্দুত্বে পরিভাষায় তা এখন শুধুই মসজিদ কেন্দ্রিক, যার মূল মন্ত্র হচ্ছে মুসলমান বিদ্বেষ ও তীব্র ঘৃণাসূচক গালিগালাজ। এই ধর্মোন্মাদদের চরম অধর্ম আর অশুভ পরধর্ম বিদ্বেষ দেখে, জানিনা কতজন প্রকৃত ধর্মপ্রাণ হিন্দু শিউরে উঠছেন, কিন্তু এটাই আজকের ভারতীয় মুসলমানদের রোজনামচা। 

অথচ, একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের উচিৎ ছিল সংবিধান মানা। সংবিধানের মৌলিক অধিকার রক্ষা, নাগরিকের কর্তব্য পালন, আইনসভার সদর্থক প্রতিক্রিয়া, সমঅধিকারে সংখ্যালঘুর বাঁচার শর্ত, নিজ ধর্ম পালনের অধিকার- এগুলোই তো সংবিধান। কিন্তু রাষ্ট্র নিজেই যখন ধর্মীয় সন্ত্রাসকে হাতিয়ার বানায়- তার বর্তমান রাষ্ট্রচালককে ক্ষমতায় চির অমর করে রাখতে, তখন আইন অন্ধ হয়ে যায়, প্রশাসন সন্ত্রাসীদের সুরক্ষা দেয়। তবে না দেশ জুড়ে এই ঘৃণার শোভাযাত্রার অনুমতি পায়, এবং আইন ধৃতরাষ্ট্র সেজে থাকে। দেশের আলপথ থেকে রাজপথ, ঝুপড়ি-বস্তি, মহল্লার পর মহল্লা সর্বত্র এই ঘৃণার ছত্রাক পৌঁছে দিয়েছে RSS, তার বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরঙ দল, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ এমন হরেক কিসিমের হিন্দুত্ববাদী জঙ্গি শাখা সংগঠনগুলোর মাধ্যমে। এ যদি রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ না হয়, তবে সন্ত্রাসবাদ সংজ্ঞা কী কেউ বোঝাবেন?

প্রতিটা দাঙ্গার নিখুঁত তথ্য উপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরন গচ্ছিত রয়েছে প্রশাসন ও আদালতের কাছে। তার পরেও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি পুলিশ-প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দল বা সরকারের মদতে একের পর এক সংখ্যালঘুর উপরে অত্যাচার ও দাঙ্গা সংঘটিত করে চলেছে- দেশের সর্বোচ্চ আদালত অবধি নিশ্চুপ, এর চেয়ে বড় তামাশা আর কি হতে পারে! বিগত ১৫ বছরে উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও উত্তরাখণ্ডে, এই নাগপুরী আদর্শের গুন্ডাদের হাতে আক্রান্তদের শেষ সম্বলটুকুও ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন-পুলিশ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বুলডোজার নামিয়ে প্রমাণ লোপাট করে দিয়েছে। উপরে উল্লেখিত রিপোর্টটির সম্পাদক, সিনিয়র অ্যাডভোকেট চন্দর উদয় সিং প্রমাণ সহ দেখিয়েছেন- কীভাবে বিগত ৭৮ বছরে স্বাধীন ভারতে ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে দাঙ্গা বাঁধানোর অস্ত্র হিসাবে বারবার ব্যবহার করেছে RSS এর হিন্দুত্ববাদী জঙ্গীরা। 

ঔপনিবেশিক সময়ে ১৮৬০ সালে প্রথম ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধি চালু হয়। তার ১৮৮ ধারায় বলা হয়েছে, প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট রাস্তা ছাড়া ধর্মীয় শোভাযাত্রা, মিছিল করলে, এবং তার জন্য যদি দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হয় তবে, যারা জেনেবুঝে ওই রাস্তায় মিছিল  করেছে তা্রা ঐ ধারা মোতাবেক অপরাধী। ১৫৩ ধারায় বলা হয়েছে, দাঙ্গা ঘটানোর জন্য  প্ররোচনা দেওয়া হলে ৬ মাস জেল এবং সেই প্ররোচনার ফলে দাঙ্গা ঘটলে এক বছরের কারাদণ্ড হবে। প্রতিটা দাঙ্গার ক্ষেত্রেই সংবেদনশীল অঞ্চল দিয়ে মিছিল নিয়ে যাওয়া এবং প্ররোচনা বা উস্কানি দেওয়ার ব্যাপারটা মুখ্য ছিল। পুলিশ-প্রশাসনের দুর্বলচিত্ততা, হিন্দুত্ববাদীদের প্রতি প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয় ও গোপন বোঝাপড়াই মূলত এই হানাহানির পিছনে কাজ করে। আইন-আদালত উপেক্ষা করে দাঙ্গাহাঙ্গামার প্রত্যুত্তরে পুলিশ-প্রশাসনের শিখণ্ডীর ভূমিকাই সবচেয়ে বেশী দোষী।

একটা সময় সরকার ও প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা দাঙ্গা ঘটলে তীব্র দুঃখ ব্যক্ত করতেন, দাঙ্গার কারণ নির্ধারণ করতে তদন্ত কমিশন বসানো হত এবং দাঙ্গার শিকার ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হত। বিজেপির আমলে সরকার অস্বীকার করার সহজ পন্থা নিয়েছে, এবং নানান হাস্যকর ‘আপাত অজুহাতের’ দায় দেখিয়ে লজ্জার আবরনটুকুও ঝেড়ে ফেলেছে। এখানেই থেমে না থেকে, অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে দাঙ্গাকারীদের রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছে MLA/MP বা মন্ত্রী বানিয়ে। তদন্ত কমিশনের বদলে বুলডোজার পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট মুসলমান মহল্লার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, জীবন-জীবিকা, ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য। এক্ষেত্রে আদালত অব্ধি বিচার যাওয়ার আগেই, স্থানীয় প্রশাসন ও বিজেপির নেতৃত্বই- বিচারক ও জুরির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে যায়, পুলিশ এখানে বুলডোজার বাহিনীর সর্দার হয়ে ফাঁসুড়ের ভূমিকা পালন করে দক্ষতার সাথে। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে উচ্ছেদ, ধ্বংসাত্মক কাজকে ধামাচাপা দেওয়া, লন্ডভন্ড অবস্থা সাফসুতরো করার জন্য- স্থানীয় পঞ্চায়েত বা পুর কর্তৃপক্ষকে দিয়ে, নিজেরা দাঁড়িয়ে থেকে পুলিশ এগুলোকে সুচারুভাবে সম্পন্ন করায়।
আদালত ও পুলিশ প্রশাসনের বাইরে আর যার অবদান সবচেয়ে বেশী এই মসজিদ সংস্কৃতিতে, তা হলো Archaeological Survey of India নামক সংস্থার। বিজ্ঞান ও পুরাতাত্ত্বিক প্রমানের চেয়ে, Religious outcomes আর public sentiment বেশি গুরুত্বপূর্ণ এদের কাছে; কারন এগুলোই রাষ্ট্রীয়ভাবে হিন্দুত্বের মিথ মেকিং টুল হিসাবে কাজ করে। ASI অফিসিয়ালি লিখিত বিবৃতি দেয়না শুরুতে, স্ট্রাটেজিক লিক, সিলেক্টিভ ডিসক্লোজার দিয়েই ব্রেকিং নিউজ চালিয়ে জনমত বানিয়ে টিভি মিডিয়া বিশেষজ্ঞর দল সমাজে ছড়িয়ে দেয়। এটাই হিন্দুত্ব আর্কিওলজি, যারা অতীতকে আবিষ্কার করেনা, অতীতকে প্রোডিউস করে। ফলত, ASI বর্তমানে আর্কিওলজিকাল সংস্থা থেকে আইডিওলজিক্যাল সংস্থায় রুপান্তরিত হয়ে গেছে, যার মূল কাজ মসজিদের নিচে দেবদেবীর মূর্তি খোঁজা; অথচ ভারত একসময় সামগ্রিকভাবে বৌদ্ধদের দেশ ছিল, তাদের মনাস্ট্রি আর মঠ গুলোকে কারা ভেঙেছে বা দখল করেছে? মিডিয়ার তৈরি এই হিন্দুত্বের হাওয়া বেলুনের গ্যাস ততক্ষণ, যতক্ষন বর্তমান ফর্মে মিডিয়া এগজিস্ট করবে, মিডিয়ার ঘটি উল্টালেই এই নাগপুরী হিন্দুত্বের বেলুন ফেঁসে যাবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এই উগ্রবাদীদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি, সেখানেও রোজ চরম সহিংসতার মুখোমুখি হচ্ছে হয়েছে মুসলমান ও দলিতেরা। কখনও কখনও লোহার রড, ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে আক্রমণ করা হচ্ছে। এরা প্রশিক্ষিত দুষ্কৃতির মত মুখোশে ঢেকে আসে, যারা প্রত্যেকে অখিল ভারতীয় বিদ্যা পরিষদ (এবিভিপি) এর সদস্য; যারা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) যুব শাখা। বিজেপির নয় কিন্তু, সরাসরি RSS এর যুবশাখা। বাংলার বামেরা আজও এই তফাৎ টিকে আত্মস্থ করতে পারেনি। বাংলার কথা উঠাতে বলি, খোদ কোলকাতার বুকে কাশিপুরের জ্যোতিনগরের একটি মুসলিম-প্রধান কলোনি, যেখানে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষের বাস, সেখানে গত ২৯শে জুলাই থেকে বিজেপি সরকার পানীয় জল বন্ধ করে রেখেছে। এদের অনুশোচনা, লজ্জা, সহানুভূতি কিচ্ছু অবশিষ্ট নেই, সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির ক্ষেত্রে।

সন্ত্রাসীদের মুখ আর মুখোশ সবসময়েই আলাদা হয়, তাই RSS নিজে কোনো নির্বাচনী রাজনীতিতে অংশ না নিয়ে, বিজেপির মুখোশে এই কাজটা করে। গত এক শতাব্দী ধরে গুপ্তহত্যার ষড়যন্ত্র (প্রয়োজন ফুরানো বা বেঁকে বসা নিজেদের নেতাকেও), সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উস্কানি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপেরর মাধ্যমেই এরা আজ রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসীন। কিন্তু চুরি, দুর্নীতি, হিংসা, সাম্প্রদায়িক হানাহানির সাথে তীব্র মূল্যবৃদ্ধি, বেকরত্বের জ্বালা ধর্মের নেশা কাটিয়ে দিয়েছে অনেকটাই- যারা কয়েক বছর আগেও RSS এরই সমর্থক ছিল। গরু শুয়োর, মন্দির মসজিদ আর পাকিস্তানের বাইরে তারা তিনটে লাইন বলতে পারবেনা, বড় অংশের জনগন বুঝেছে নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির বাইরে এই অশিক্ষিত জীবাণুগুলোর আর দেওয়ার কিছুই নেই। সামনেই, উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনে বিজেপি শোচনীয় পরাজয়ের মুখে, ফলত নতুন করে মসজিদের সামনে এই নাচ, গান, উস্কানি দিয়ে- দাঙ্গা লাগাবার ষড়যন্ত্র করছে।

এদের তৈরি জম্বিরা আজকে মনিপুরীকে শিক্ষককেও ছাড়ছেনা। ২ দিন আগে রাস্তায় বাড়ির সামনের শব্দদূষনের প্রতিবাদ করায় একজন ঐ মনিপুরী সঙ্গীত শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা করে দিয়েছে। আইনের শাসন উবে গিয়ে এই সন্ত্রাসই এখন সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অত্যাচার সংস্কৃতির কথা আসলে, পশ্চিমবাংলায় গত বিধানসভা ভোটের সময় বাঙালী নিগ্রহ একটা পপুলার কালচার হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। লেখক ললিত ভাচানির ‘দ্য মেন ইন দ্য ট্রি’ (২০০২) বইতে উনি বিপুল তথ্য সহ লিখেছেন, কীভাবে RSS- আম হিন্দুদের মধ্যে ভয় ও ক্ষোভ সৃষ্টির লক্ষ্যে মুসলিমদের ছদ্মবেশ ধারণ করে হিন্দুদের উপরে আক্রমণ অত্যাচার করেছে। বিগত ১০০ বছর ধরে RSS এর এটাই চরিত্র, আগে এটি করা হতো সংবাদপত্র, পোস্টার ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে, এখন হোয়াটস্যাপ ইউনিভার্সিটি।

১৪৭ কোটি জনসংখ্যার একটি দেশে, শুধু মসজিদই কি অবৈধ? মন্দির বা গির্জা নয়? প্রতিটা রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবৈধ মন্দির রয়েছে, যেমন অবৈধ মাজারও রয়েছে। আইন কি শুধু মসজিদ আর মাজারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? নিম্ন আদালত গুলোও আজকাল ভারতীয় সংবিধানের চেয়ে নাগপুরী আদর্শের ভিত্তিতেই অধিকাংশ রায়দান করছে। যেখানে চার্চও রক্ষা পাচ্ছেনা, সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের পিমপ্রি-চিঞ্চওয়াড় এর ‘জিসাস ইজ লর্ড’ নামের চার্চকে দুপুরে বেআইনি আখ্যা দিয়ে মধ্যরাতেই ভেঙে ফেলা হয়, অথচ পরদিন যতক্ষণে আদালতের স্থগিতাদেশ নোটিশ আসে, ততক্ষণে ভবনটি ময়দান হয়ে গেছে। উড়িষ্যা, ছত্রিশগড়, মহারাষ্ট্র কোথায় খ্রীষ্টানদের উপরে হামলা হচ্ছেনা? RSS কে অনুকরন করতে গিয়ে, RSS এর ঘৃণার আদর্শে দীক্ষিত কোনো এক নিকৃষ্ট মোল্লা ভিড় রাস্তাতে নামাজ শুরু করে দিচ্ছে। 

আইন সবার জন্য এক হোক, রাস্তায় নামাজ পরা মুসলমানটিকে যেমন আইনের আওতাতে নিয়ে সাজা দেওয়া হোক, মসজিদের সামনে উন্মাদ নাচ করা জঙ্গীগুলোকেও আইনের আওতাতে নিয়ে আসা হোক। সময় কিন্তু সর্বদা নিজের অনুকুলে থাকেনা, নদীর এক পাড় ভাঙে, অন্য পাড় গড়ে। আজ RSS শক্তিশালী, অত্যাচার করে নিচ্ছে- কাল যখন সুখের দিন ফুরাবে সময়ের পরিক্রমায়, সংগঠনটা অদৌ টিকবে তো? এতোদিন নানান ছদ্মবেশ ধরে এর তার আঁচলে লুকিয়ে টিকে ছিল, ১২ বছরের শাসনামলে সব পর্দা ছিঁড়ে গেছে কিন্তু। আপনাদের তৈরি করা ইয়েস ম্যানগুলোই কিন্তু আইন আদালত প্রশাসনের শীর্ষে আছে, কাল নতুন সরকার ক্ষমতায় এলে- এরা তাদেরকেও খুশি করতে আপনাদের উপরে বুলডোজার আর মিথ্যা মামলার খড়্গ চাপিয়ে দেবে। কতটা দেওয়াল লিখন পড়োতে পারছেন জানিনা, কিন্তু সেই দিন খুব দূরে নেই এটুকু বলতে পারি। 

আপনারা আর কতটুকু ক্ষমতাবান হয়েছেন! মধ্যযুগে ইউরোপের চার্চ আর তাদের ইনকুইজিশন আপনাদের এই ধর্মের ভেক আর জাতীয়তাবাদী তামাশার চেয়ে কয়েক লক্ষ গুণ বেশী শক্তিশালী ছিলো, আজ তারা কোথায়? আপনাদের কাপুরুষ বজরং দলের চেয়ে নাইট টেম্পলারেরা আলোকবর্ষ এগিয়ে ছিলো ধর্মের রক্ষার্ত্রে আর বীরত্বে; সেই তাদের আজ কোনো অস্তিত্ব আছে ইউরোপের জনজীবনে? খ্রীষ্টান ধর্ম টিকে আছে, চার্চের শাসন কালের গর্ভে তলিয়ে গেছে; হিন্দুত্ব বেঁচে থাকবে আপনারা তলিয়ে যাবেন ইতিহাসের আস্তাকূড়ে। আর সে দিন অতি সন্নিকটে।

মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অমৃতকালের জম্বি

 


সাহেবের ১২ বছরের অমৃতকালের নর্দমা থেকে জন্মানো কিছু মারণ জীবানু, যাদের দেহ সচল কিন্তু মস্তিষ্ক বা বুদ্ধিমত্তা মৃত ও যান্ত্রিক। মগজে গোবর, রক্তে গোমুত্র আর 'মিত্রো...' শব্দের কু-প্রভাবে, বিকৃত আচার-অনুষ্ঠানে এদের প্রানীর দেখতে লাগলেও, এরা বস্তুত চেতনাহীন।

পরজীবীরা বিভিন্ন কৌশলে পোষকের  শরীর থেকে পুষ্টি শোষণ করে এবং ধীরে ধীরে তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে দেয়। RSS এভাবেই কংগ্রেস সহ প্রতিটা বিরোধী দলকে পোষক হিসাবে ব্যবহার করে এসেছে ৮০ বছর ধরে। পরজীবী পোষককে সরাসরি মেরে ফেলে না, RSS ও সেটাই করেছে, দীর্ঘদিন ভেতর থেকে নিঃশেষ করেছে। 

এই RSS নামের পরজীবীরা আজকে রাষ্ট্রের শরীরে মলমূত্র ও বিভিন্ন বিষাক্ত ত্যাগ করে সমাজকে পচিয়ে দিয়েছে। এই টক্সিনগুলো রাষ্ট্রযন্ত্রের রন্ধ্রে মিশে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক শরীরের স্বাভাবিক মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়া নষ্ট করে দিয়েছে, যার ফলে সমাজের প্রতিটা স্তরে ক্রনিক ক্লান্তি, অ্যালার্জি এবং প্রতিটা গণতান্ত্রিক কাঠামোগত অঙ্গের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে দিয়েছে।

এখানে কি নিকৃষ্ট ব্রাহ্মণ্যবাদের নিদর্শন দেখুন, সংরক্ষণ বিরোধী একটা সমাবেশের ডাক দিয়েছিল এদের সকল উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ নেতৃত্ব। দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘সংরক্ষণ হটাও আন্দোলন’ ব্যানার ও বিভিন্ন উচ্চবর্ণের সংগঠনের ডাকে যে বড়সড় আন্দোলন শুরুর ডাক দিয়ে হাতে গোনা কিছু ঐ পরজীবি 'জম্বি'  গুন্ডামি শুরু করলে- পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে দমন ও ছত্রভঙ্গ করে। মজার কথা হচ্ছে, ১ জনও ব্রাহ্মণ ছেলেপুলে মার খানি, সিঙ্গেল পার্সন কেউ নয়, যাদের পালিশ করেছে পুলিশের ডান্ডা তারা হয় ঠাকুর, নাহয় অন্য অব্রাহ্মণ। লুকিয়ে পরা এদের DNA এর রন্ধ্রে রন্ধ্রে।

এদেরকে রাজনোৈতিক ভাবে, মতাদর্শগতভাবে, গণতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে এবং আত্মসুরক্ষার প্রয়োজনে প্রতিরোধমূলক প্রতিরক্ষার জন্য যত বেশি মুখোমুখি হবে জনগনণের, ওরা তত বেশি পিছিয়ে যাবে। কারণ সত্যিকারের কোন লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা ওদের নেই, ওরা সবসময় এর ধুতির তলায় তার প্যান্টের তলায় থাকতে অভ্যস্ত। কখনও সামন্ত রাজাদের ধুতির নিচে, কখনও ব্রিটিশদের, তারপর কংগ্রেসের ভিতরে, কখনও জনতা পার্টির ভিতরে আত্মগোপন করে হিন্দু সংস্কৃতিকে সুরক্ষাকবচ বানিয়ে তারা পরজীবির মত টিকে ছিলো। 

অ্যাকচুয়ালি আগে রাজনৈতিক দলের বিচক্ষণ নেতা নেত্রীরা জনগণকে মোটিভেট করত, এখন আমরা জনগণ তাদের মোটিভেট করি। ব্যাপারটা মেধার সঙ্গে মেধার লড়াই হয়ে গেছে। যে মানের ছেলেপুলে আগে রাজনৈতিক দলের ফ্রন্টলাইনে থাকতো, দেশজুড়ে সেই মানের ছাত্ররাজনীতি না থাকার কারনে এখন তারা আর উঠে আসেনা। নেতা তোৈরি হয় বড় নেতার চামচাগিরি করে কিম্বা ভ্যান্ডালিজমের মাধ্যমে। মধ্যম মানে ছেলেপুলে শুধু একসময় বামপন্থীদের মধ্য তথেকে নিয়ন্ত্রণ করত, তাদের মানও এতটাই নিম্নমানের যে, আর তারা সমাজের শিক্ষিত শ্রেনীর কাছেই পৌঁছাতে পারছেনা, নিয়ন্ত্রণ করা তো অনেক দূর। 

তাই আপনিও লিখুন, আপনার লেখনি কতটা মানের কিম্বা সেটা লিখে আপনি মনের শান্তিত অনুভব করছেন কিনা সেটা আজ ততটা মুখ্য নয়, সেটা মধ্যম কিম্বা অত্যন্ত নিম্নমানের হলেও, তা জনগণকে মোটিভেট করতে পারছো কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন।

সাধারণ মানুষের আচ্ছেদিনের ঘোর মেটে গেছে, ফলত লড়াইটা এখন মুখোমুখি। এটাই এ্যান্টিবায়োটিক এই পরজীবীদের নির্মূল করতে - মুখোমুখি লড়াই।

সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্বগুরু- The Real Pappu

 


প্যারাডাইস লস্ট এর করুণ নিদারুণ দৃশ্য আজকের ভক্তপিতার মাঝে দৃশ্যমান, যা শিক্ষনীয়। ক্ষমতা আঁকড়ে পড়ে থাকা এক ভীরু ও নৈতিকভাবে দেউলিয়া লোলচর্ম পলিতকেশ বৃদ্ধ; এতটাই নির্লজ্জ ও মেধা-বুদ্ধিতে দীন যে, নিজেকে খোদ রাষ্ট্রের সমার্থক হিসেবে তুলে ধরতে তার বিন্দুমাত্র চক্ষুলজ্জা নেই। অথচ এই দেশ তাকে অনেক আগেই পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে, সেই দেশের ছাত্রসমাজের কাছেই উনি ভাঁট বকে মরিয়া হয়ে প্রশংসা পেতে চাইছেন- চরম শোচনীয় একটা পরিস্থিতিউনি ভুলে গিয়েছিলেন যে- ভাষনটা শিক্ষার্থীদের সামনে দিচ্ছেন, লীয় গোবরভক্ত কর্মীদের কাছে নয়।

গত ১৪ বছর ধরে পোষ্য মিডিয়া যে একখানা সুপারহিরো প্রতিমূর্তি বানিয়েছিলো, এবং উনি নিজেও নিজের নন বায়োলজিক্যাল ইমেজ তৈরি করেছিল- সেই কল্পিত ভ্রমের স্বর্গ থেকে নিজেই নিজেকে টেনে হিচড়ে নামিয়ে ফেলে রক্তমাংসের একজন কুৎসিত উদ্ভ্রান্ত বিকৃত মনস্ক স্থবির বৃদ্ধ মানুষ হিসেবে উন্মোচিত করে ফেলেছে- যাবতীয় ব্র্যান্ডিংয়ের ধরাচুড়ো আজসে গেছে। ২০০২ এর দাঙ্গাবাজ মোদী, ২০১৪ এর স্বপ্নফেরি করা মার্কেটিং গুরু মোদী আর ২০২৬ এর ব্যার্থ মোদী- কোনো ফারাক নেই বয়স ছাড়া; একটাই গু, আলাদা রঙে আলাদা নক্সায়। সবচেয়ে সংবেদনহীন এবং সহানুভূতি-বর্জিত ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী, যখন দিল্লিতে বিল্ডিং ধসে পড়ার দরুন যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু শিক্ষার্থী আটকা পরেছে বা মারা গেছে, এ নিয়ে তার মুখে একটি কথাও নেই, অথচ ঠিক সেই সময় প্যারিসে মন্দির নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে তিনি উৎসব করছেন

শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে Centenary Celebrations of Shri Ram College of Commerce (SRCC) এর এক অনুষ্ঠানে মহামানব গিয়েছিলেন ভাষণ দিতে। নেহরু তার আমলে এই SRCC-তে ভাষণ দিতে এলে, তাঁর ভাষণটি কেবল বাণিজ্য শিক্ষার ওপরই নিবদ্ধ থাকত। রাজীব গান্ধী এসে ভারতের আধুনিকীকরণের কথা বলতেন। এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে মনমোহন সিং এর পুরাতন ভিডিওর অর্কাইভ ভাষণ শুনে দেখবেন, মনে হবে যেন তারা কোনো বিশ্বায়ন শিক্ষার শ্রেণিকক্ষে বসে আছে। এমনকি বাজপেয়ীও আলোচনার মাধ্যমে কথোপকথনের শিল্প শেখাতেন। আজকে এই 'গুহামানব' এর বক্তিতা শুনুন, যেন বিজেপির কোনো নির্বাচনী জনসভায় বসে অন্ধভক্তদের সামনে গোবরের প্রবচন দিচ্ছেন।

নরেন্দ্র মোদী কোনোভাবেই দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্য নন বর্তমানে, প্রধানমন্ত্রীর পদের গরিমা আর মর্যাদাকে ভাঙরির দড়ে বেচে দিয়েছেন ক্ষমতা করায়ত্ব করতে গিয়ে। পোষ্য মিডিয়া এতদিন পর্যন্ত বিদেশে গিয়ে ওনার নির্বোধের মত ‘হাসি-ঠাট্টার’ শব্দই মিউট করতো, এখন শিশুদের সাথে উনিজির কথাবার্তাও ANI-কে মিউট করতে হচ্ছে, অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি। বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী প্রকাশ্যে হ্যাটা করলেও উনি অন ক্যামেরা নির্বোধের মত খি-খি করে হাসেন। সেই তিনি, যুবসমাজকে আকৃষ্ট করতে গিয়ে এখন Gen-Z প্রজন্মের ব্যবহৃত স্ল্যাং ভাষা ব্যবহার করে নিজেকে উপহাসের পাত্র বানিয়ে ফেলেছেন। আসল ব্যাপার হলো, মহাপুরুষ ও তার অন্ধ ভক্তরা 'জেন-জি'ও বোঝেনা, সভ্য সমাজের ব্যঙ্গ বা শ্লেষের মর্ম বোঝেনা।

৭৬ বছর বয়সী একজন গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রী, ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণ-তরুণী ছাত্রছাত্রীদের 'মানসিক নকশাল' (Dimagi Naxal) বলছে শুধুমাত্র প্রশ্ন করার অপরাধে। ছাত্রছাত্রীদের চাহিদা কি! তারা একটি নিরাপদ ভবিষ্যৎ চায়, তারা চায় গণতন্ত্র টিকে থাকুক, পাশাপাশি জনগন দ্বারা নির্বাচিত সরকার জনগণের জবাবদিহিতার আওতায় আসুক। কিন্তু বিশ্বগুরুর সেই মুরোদ নেই যে একটা সাংবাদিক সম্মেলন করেন, তিনি কেবল রেডিওতে নিজের পেটের মন্দ বায়ুর আওয়াজ শোনান ‘মন কি বাত অনুষ্ঠানে’, আর পোষ্য অভিনেতা-সাংবাদিকদের সামনে আম খাওয়ার গল্প শোনান।

দিশাহীন যুবসমাজ কোনো সন্ত্রাসী নয়, নকশাল কি জিনিস- খায় না গায়ে মাখে তাও জানেনা অধিকাংশ। চতুর্দিকে দুর্নীতির পাহাড়, লক্ষ কোটি টাকা লুন্ঠনের পাপে নিমজ্জিত একটা দল, এদিকে যুবসমাজের সামনে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। এই সরকারেরই নীতি আয়োগের তথ্য বলছে দেশে NEET - Neither in Education, Employment nor Training এর সংখ্যা ৮ কোটি ৭০ লাখ। ২৫ বছর বয়স অবধি স্নাতক যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ৪০%মোট কর্মহীন যুবসমাজের প্রায় ৬৯% উচ্চমাধ্যমিক বা তার চেয়েও উচ্চশিক্ষিত ডিগ্রিধারী। এরা কাজ চাইছে, এরা জিজ্ঞাসা করছে প্রশ্নপত্র কেন ফাঁস হচ্ছে, গতানুগতিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ কি! এই বিষয়গুলোর উত্তর দেওয়ার বদলে- মহারাজ যুবকদের বিরুদ্ধে 'লেবেল' বা তকমা সেঁটে একটা অসম লড়াই লড়ছেন

SRCC এর ছাত্রছাত্রীরা আশা করেছিল তিনি চাকরি, শিক্ষা ও সংস্কারের বিষয়ে কথা বলবেন, অথচ ‘সাহেব’ 'দিমাগি নকশাল' আর 'নারাজ পিসেমশাই'-র মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ তত্ত্ব হাজির করেছেন। আসলে তরুণদের জন্য কোনো অনুপ্রেরণা বা দূরদর্শী চিন্তার কথা বলার যোগ্য উনি কোনোদিনিই ছিলেননা। টেলিপম্পটার ম্যান কি আদৌ শিক্ষক দিবসের মর্যাদা বোঝেন? যিনি সারাক্ষণ দাঙ্গা, মুসলমান, গরু, পাকিস্তান নিয়ে পরে থাকেন, তাদের বক্তব্য ঠিক এতোটাই নিম্নমানের হ। শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার প্রবণতা এই Divider-in-Chief কে হীনম্মন্যতারই সবচেয়ে বিরক্তিকর বহিঃপ্রকাশে বাধ্য করেছেদেশের একটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দেশের তরুণদের সামনে তুলে ধরার মতো কোনো সুদূরপ্রসারী দৃষ্টিভঙ্গি বা অনুপ্রেরণাদায়ক বার্তা তার নেই, তিনি বিজেপির কর্মকর্তা হিসাবে বিরোধী পক্ষকে গালিগালাজ করার পথ বেছে নিলেন। চরম ব্যর্থ ফেকুজির কাছে এখন আর কোনো নতুন ভাবনা বা সারবত্তা অবশিষ্ট নেই এবং বলার মতো অর্থবহ কোনো কথাও ফুরিয়ে গিয়েছে

গুহামানব এখানেও ‘মাই ফ্রেন্ড দোলান্ড’কে কপি করেছে। গত ২৮শে আগস্ট মার্কিন মুলুকের হিউস্টনে আয়োজিত Congressional Space Medal of Honor এর বার্ষিক অনুষ্ঠানে গিয়ে ট্রাম্পও হেগে ছড়িয়েছে। এই অনুষ্ঠানটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ অনুসন্ধান ক্ষেত্রে প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান প্রদানের মঞ্চ ছিল। সেখানে নাসার তাবড় বিজ্ঞানী এবং মহাকাশে নানান মিশনে যাওয়া এ্যাস্ট্রোনটেরা উপবিষ্ট ছিল। ট্রাম্প নির্ধারিত সময়ের দেড় ঘন্টা দেরিতে পৌঁছায়, মোদীও যা অনুসরণ করেছে। এরপর তার প্রফেসর কাকা জন ট্রাম্পকে নিয়ে বক্তিতা দেয় যার সাথে মহাকাশ গবেষনার কোনো সম্পর্ক ছিলোনা। সকলকে আশ্চর্যকরে উন্নত জিনের কারনেই যে গবেষনার কাজে উন্নতি হয়, এই গল্পও নাসার বিজ্ঞানীদের সামনে বমি করেন। RSS ও তো উন্নত ব্রাহ্মন জিনের পক্ষেই সাওয়াল করে। এর পরেই মঞ্চটা মিডিটার্মের নির্বাচনের প্রচারসভায় পরিনত করে ফেলে- বাইডেন, ওবামা থেকে ইরান, রাশিয়া সকলকে আক্ষরিক অর্থে গালিগালাজ শুরু করে। ফ্রেন্ডের দেখানো পথেই হেঁটে মহামানব SRCC তে ছড়িয়েছেন।

অশিক্ষিত রাজনীতিবিদ ভারতের জন্য একটি বড় সমস্যা, বলাই বাহুল্য RSS-BJP এর প্রায় সকলেই অশিক্ষিত গাম্বাট। যারা খাতায় কলমে শিক্ষিত, তারা নিজ আখের গুছাতে এই দলে ভিড়ে রয়েছে। এরা কোন দিক থেকেও কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভাষণ দেওয়া উপযুক্ত? যাবতীয় অবৈজ্ঞানিক ও ভিত্তিহীন গল্পগুজব প্রচার করে, ধর্মকে বরর্ম বানায়, যা একান্তই অপ্রাসঙ্গিক ও অবান্তর। বাকী সবটাই দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ধরে চলা বিদ্বেষপূর্ণ, উগ্রবাদী ও প্ররোচনামূলক সাজানো-গোছানো রাজনৈতিক পরাকাষ্ঠা। আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহ তথা সময়ক্রমকে যাচাই করে দেখার মত বোধবুদ্ধি ও সঙ্গতি টুকুও এদের অবশিষ্ট নেই। আমি ব্যক্তিগত ভাবে মানি যে, ইনি আমার প্রধানমন্ত্রী নন। একজন মর্যাদাহীন ও সস্তা মানসিকতার নির্লজ্জ কেউ আমার নেতা হতে পারেনা। স্বাধীনতা দিবসের ভাষণ থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নি প্রতিবার এগুলোকেই তার রাজনৈতিক প্রোপ্যাগান্ডার মঞ্চ হিসাবে বেছে নিচ্ছেন। সাংবিধানিক পদের নিরপেক্ষতা এই লোকের থেকে কোনো সুস্থ মানুষ আর আশা করেনা।

ভারতীয় ব্যাঙ্ক গুলোর কর্মক্ষমতা বিষয়ে ভাষনের নামে দুর্গন্ধ ছড়ানো এই মস্তিষ্ক-কলুষিত মূর্খটা সংশ্লিষ্ট কলেজের শত বছরের ইতিহাসে প্রথম নন-পারফর্মিং হতাশা প্রদান করেছেন। প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকট আন্তর্জাতিক অর্থায়নের বহু বড় বড় নামকে ডুবিয়ে দিয়েছিল। উনি জানালেন ২০০৮ এর সঙ্কট নাকি ২০০০ সাল অবধি লুকিয়ে রেখেছিল মনমোহন সরকার, তা কাকা- সময়ের পিছনে যাওয়ার গাড়িটা কি আপনি চালাচ্ছিলেন সেই সময়? কতবড় নির্লজ্জ হলে এমন মিথ্যাচার কেউ করতে পারে। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে, শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই ৪৮৯টি বিমাভুক্ত ব্যাঙ্ক এবং সঞ্চয়ী প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে যায়। ভারতের শেয়ার বাজার, রপ্তানি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল এতে, কিন্তু আমাদের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা অক্ষত ছিল, একটিও ভারতীয় বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক দেউলিয়া হয়নি। এটা তথকালীন RBI এবং ডঃ মনমোহন সিং সরকারের বিচক্ষণ নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষ সংকট ব্যবস্থাপনার ফসল ছিলগুহামানব নিজের কার্যকালে কি করেছেন?

২০১৯ সালের শুরুতেই এগারোটি সরকারি ব্যাঙ্ক এবং একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ককে RBI-এর ‘প্রম্পট কারেক্টিভ অ্যাকশন’ কাঠামোর অধীনে আনা হয়েছিল। সরকারকে ২.১ লক্ষ কোটি টাকার একটি পুনঃমূলধন প্যাকেজ ঘোষণা করতে হয়েছিল। ২০২০ সালে, RBI-এর বর্ণনা অনুযায়ী ইয়েস ব্যাংকের দ্রুত অবনতিশীল আর্থিক অবস্থা এবং গুরুতর প্রশাসনিক সমস্যা-র কারণে ব্যাঙ্কটিকে একটি মোরাটোরিয়ামের অধীনে রাখা হয়। এর জন্য SBI-এর নেতৃত্বে একটি পুনর্গঠনের প্রয়োজন হয়েছিল। লক্ষ্মী বিলাস ব্যাঙ্ককে একটি মোরাটোরিয়ামের অধীনে রাখা হয়েছিল এবং এটিকে DBS ব্যাঙ্কের সাথে একত্রীভূত করতে হয়েছিল। বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম, ব্যর্থ অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ এবং মিথ্যা প্রতিবেদন আবিষ্কার করার পর PMC ব্যাংকের আমানতকারীদের প্রাথমিকভাবে তাদের নিজেদের মাত্র ১,০০০ টাকা তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ব্যাঙ্কটিকে অবশেষে ইউনিটি স্মল ফাইন্যান্স ব্যাংকের সাথে একীভূত করা হয়।

তিনি দেশের সবচেয়ে নামকরা বাণিজ্য কলেজে ঢুকে, বিশ্ব আর্থিক সংকটের ইতিহাসের নামে আক্ষরিক অর্থে ‘হেগে’ ছড়ালেন। হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটিতে হয়তো এটাকে অর্থনীতি বলে চালিয়ে দেওয়া যায়, SRCC-তে এটা একটা অক্ষম মূর্খের ভাঁড়ামো বই কিছু নয়আসলে অর্থনীতি কোথায় দাঁড়িয়ে তা ঋণের দিকে চেয়ে দেখুন। এই ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাঙ্কের সবচেয়ে বড় ঋণ গ্রীহিতার নাম জানেন? ইয়েস, আত্মনির্ভর ভারত। দু’য়ে ইন্দোনেশিয়া, তিনে পাকিস্তান আর চারে বাংলাদেশ। বিশ্বব্যাঙ্কের ভারতীয় ঋণের অঙ্ক- ৩ লক্ষ ৭১ হাজার কোটি টাকা। আজকের দিনে আভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক হিসাব মিলিয়ে প্রত্যেক ভারতীয়ের মাথাপিছু ঋনের পরিমান ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, ২০১৪ সালে এটা ছিলো ৪৩০০০ টাকা। সাহেবের শাসনামলের ১২ বছরে তিন গুণ ঋণ বেড়েছে, আপনার আয় কি তিন গুণ বেড়েছে? ২০১৪ সালেও ভারত এক নাম্বারেই ছিলো বিশ্বব্যাঙ্কের ঋণ নেওয়ার তালিকাতে, দ্বিতীয়ে ছিল চিন, তৃতীয় ব্রাজিল, পঞ্চমে মেক্সিকো, এরা সকলে প্রথম ১০ থেকে বেড়িয়ে গেছে। কেবল আমরা এই মহাদানবের রাজত্বে আরো ডুবে গেছি। এই হচ্ছে বিকশিত ২০৪৭ সালের গাঁজাগল্প।

গত ১২ বছরে গুহামানবের খাতায় শুধুই ব্যর্থতা আর বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। সবার শীর্ষে রয়েছে দুর্নীতি, অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থান সংকট। দুর্নীতির কথা কাগজে লিখতে গেলে সেই তালিকা চাঁদ অবধি পৌঁছে যাবে, ওটা অন্য দিন লেখা যাবে। ২০১৬ সালের নোটবন্দী  ক্ষুদ্র শিল্প ও অসংগঠিত ক্ষেত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। কালোটাকা আর জাল নো ধ্বংসের গল্প দিয়েছিল, এখন তো ব্যাঙ্কের ভোল্টে কালো টাকার পাহাড়। ত্রুটিপূর্ণ ও জটিল GSTকে তড়িঘড়ি করে চালু করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মড়ার উপরে খাঁড়ার ঘা মেরে দিয়েছে। বেকারত্বের প্রশ্ন আসতেই তো ‘দিমাগি নকশাল’ বানীর উৎপত্তি। মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার মূল্যের রেকর্ড পতন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ওনার মুকুটের কোহিনুর। ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে সম্পদের ব্যবধান বৃদ্ধি এবং আম্বানি আদানির মত কর্পোরেট মাফিয়াদের হাতে দেশের মূল পরিকাঠামো, যেমন ব্যাঙ্কে থাকা জনগনণের গচ্ছিত অর্থ, সমুদ্র বন্দর, বিমানবন্দর, অস্ত্র উৎপাদন সেক্টর, বিদেশনীতির থিঙ্কট্যাঙ্ক, আর্মি ইস্কুল, খনি, জঙ্গল সব তুলে দিয়েছে। এমনকি আমাদের গর্ব ISRO আর DRDO কেও বেচে দিয়েছে সাম্প্রতিক অতীতে। বিতর্কিত কৃষি আইন, কৃষকদের আয় হ্রাস, ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি গ্যারান্টি না দেওয়া ওনার অনন্য কীর্তি বৈকি। আর সামাজিক ও গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের বিচারে উনি নোবেলের দাবীদার। CAA/NRC বিতর্ক, বিরোধী রাজনৈতিক দল, সমাজকর্মী ও সাংবাদিকদের দমনে ইডি (ED) এবং সিবিআই (CBI)-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার, মূলধারার গণমাধ্যমকে পোষ্য বানিয়ে আন্তর্জাতিক 'প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে' ভারতকে হাস্যস্পদ করে তোলা, চীন সীমান্ত সংকট এগুলো তো আছেই। সব কীর্তি ছাপিয়ে- মাই ফ্রেন্ড দোলান্ড টাম্পের সামনে সারেন্ডার করাটা তার বিশেষ সিদ্ধিলাভ

এদিকে ভক্তদের নতুন ফাদারল্যান্ড দেওয়ার পরেও যখন বামাল সামলানো যায়নি, তখন বিনাশপুরুষ এই SRCC এর ভাষনে তার UPI আবিষ্কারের গল্প শোনালেন ও কৃতিত্ব নিলেন। আসলে উনি বুঝে গেছেন যে ওনার দাঁতক্যালানো থোবরা দেখিয়ে ভোট টানার মতো কোনো সাফল্য নেই, তাই তিনি UPI-এর কৃতিত্ব নিজের বলে মিথ্যা দাবি করছেন অত্যান্ত গর্বের সাথেবস্তুত, মনমোহন সিং সরকারের আমলেই ইউপিআই-এর পরিকল্পনা, প্রস্তাবনা, অনুমোদন, নকশা ও উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছিল এবং আরবিআই (RBI)-এর গভর্নর হিসেবে ড. রঘুরাম রাজনের কার্যকালেই এটি চালু করা হয়েছিল। ২০০৮ সালে ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া(NPCI) তৈরি হয়, ২০১০ সালে IMPS চালু করা হয়- যা কঙ্গনা রানাউতের মতে- ভারতের প্রকৃত স্বাধীনতার আগেই। অন্যের তৈরি করা কাঠামোর ওপর নিজের নাম বসিয়ে দিলেই ইতিহাস বদলে যায় না, ভাঁড় মহাশয়। যখন কারো ডিগ্রি হয় ‘এন্টার পলিটিক্যাল হিস্ট্রি’র ওপর, তখন এমনটাই ঘটে।

ভুয়া ডিগ্রির অধিকারী মহামানব নিজের অশ্লীল কর্মকাণ্ডকে হোমিওপ্যাথির সাথে তুলনা করে, মেটাফোরের মা-মাসি এক করে দিয়েছেন। বিশ্বের সমস্ত প্রধান চিকিৎসা-সংস্থা হোমিওপ্যাথিকেই ছদ্মবিজ্ঞান হিসেবে অভিহিত করে থাকে। নন-বায়োলজিক্যাল, তাঁর বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তৃতার মাধ্যমে ভিত্তিহীন ও অযৌক্তিক কথা বলে ভেবেছেন- দারুন বাহাদুরির কাজ করে ফেলেছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচার এবং যৌক্তিক ও সমালোচনামূলক ভিন্নমতকে দমন করার জন্য, হাস্যকরভাবে হোমিওপ্যাথির কার্যপদ্ধতির উদাহরণটি- মগজে কার্ফিউ এবং জড়ভরত বৈশিষ্ট্য যুক্ত অক্ষম বুদ্ধিবৃত্তিক একজন উন্মাদের ঝাপসা দৃষ্টি। যিনি এক অযৌক্তিক চিন্তাধারা, অবৈজ্ঞানিক বিশ্বাস এবং আত্মমুগ্ধতা-জনিত নিরাপত্তাহীনতা ও ভঙ্গুর আত্মমর্যাদাবোধে ভুগছেন। প্রকৃত শিক্ষার সাথে যাদের দূর দুরান্তেও সম্পরর্ক নেই, তারা এই ধরনের হীন মানবিক বৈশিষ্ট্য হয়। ইনি আক্ষরিক অর্থেই স্বতন্ত্র ভরদ্বাজের বড় ভাই। 

ছাত্রদের সামনে দেওয়া ভাষনেও মহাপুরুষ তার ইমেজ নিয়ে উদ্বিগ্ন, ওনার ওই সারবত্তাহীন বক্তৃতার ছোট ছোট অংশ নাকি ভাইরাল হয়ে যেতে পারে। পরিহাসের বিষয় হলো, ২০১৪ সাল থেকে তিনি এবং তার দলদের আঁটিসেল- সমস্ত বিরোধী নেতা সহ রাহুল গান্ধীর ভিডিও এডিট করে সেগুলোকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে নিকৃষ্ট উপস্থাপনা করেই সোস্যালমিডিয়াতে টিকে আছে ঘৃনা ছড়িয়েকিন্তু গুহামানবের ক্ষেত্রে ভিডিওর অংশগুলো মোটেও এডিটেড নয়। তিনি নিজেই কথা বলতে গিয়ে তোতলান ও ভুলভাল বকে, যার ফলে তার আসল রূপ বেরিয়ে মানুষ প্রকৃত বাস্তবতা দেখতে পাচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক

শ্রীরাম কলেজে গুহামানবের ভাষণ উপলক্ষে ঠিক কি কি ধরণের সুরক্ষা নিয়েছিলো ওনার সুরক্ষাতে থাকা SPG? কালো জামা, কালো প্যান্ট, কালো বেল্ট, কালো টুপি, এমনকি কালো রুমাল অব্ধি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল- SRCC এর এই অনুষ্ঠানে। আগে মুসলমান চিনতে উনি কাপড় দেখতেন, এখন বিক্ষোভের আঁচ থেকে পালাতে, আক্ষরিক অর্থে কাপড় দিয়ে পরিচয় দিতে হচ্ছে ছাত্রদেরও। যে কারণে ওই ইন্সটিটিউটের ৪০০০ ছাত্রর মধ্যে মাত্র ৬০০ জনকে অনুমতি দিয়েছিল এই সভাতে দর্শক হিসেবে অংশগ্রহণ করার। প্রত্যেকের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, পারিবারিক রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড, সেই ছাত্রের নিজের রাজনৈতিক মতাদর্শ, এই সমস্ত কিছু খুঁটিয়ে বিচার করে- তবেই এই ৬০০ জনকে অনুমতি দিয়ে ছিল। এই অনুষ্ঠান চলাকালীন দিল্লি ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন হোস্টেলে এবং যেখানে যেখানে ছাত্ররা জটলা করে বা আড্ডা দেয় নিজেদের মধ্যে, সেই প্রত্যেকটা স্থানে দিল্লি পুলিশ রীতিমতো নাকাবন্দি করে রেখেছিল, যাতে ভুল করে একজন কোনরকম বিরুদ্ধ মত তুলতে না পারে। ছাত্রদের মধ্যে যারা নেতৃত্ব স্থানীয়, তাদের প্রত্যেকের ফ্ল্যাটে পুলিশ পোস্টিং করে তাদের হাউস অ্যারেস্ট করে রাখা হয়েছিল।

গুহা মানব, আপনার খেলা শেষ হয়ে গেছে ফ্রান্ডস। দেশের জন্য আপনি লজ্জা ছাড়া আর কিছুই দিতে পারবেন না।

 

 

 


রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিজেপির খাদ্য বিধান ও বাঙালি হিন্দু সমাজ

 


মিডিয়া খুললেই এখন সর্বত্র সনাতনী নিদান বা বিধানের রিলস বা লেখা চোখে পরছে, সদ্য গজানো বাবা বা সনাতনী  সদ্য গজানো ধর্মগুরুর দল রীতিমত দোকান খুলে বসেছে। আর নিশ্চিতভাবেই এই প্রতিটা ধর্মগুরুদের একটাই মূল সংগঠন, যার নাম RSS, এই আর.এস.এস পশ্চিমবঙ্গের সাড়ে ৬ কোটি হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ এর দীর্ঘদিনের আচার, সংস্কৃতি, পদ্ধতিগত ও আবহমান চিরায়ত কৃষ্টিগত রুচি বদলে যাক, যার সাথে বাকী ভারতের হিন্দুদের পার্থক্যটা বেশ মোটাদাগের। কোনো অঞ্চলের খাদ্যাভ্যাস এবং সংস্কৃতি- নানান উপাদানের ভিত্তিতে ক্রম অনুশীলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। মানুষ তার বেঁচে থাকার তাগিদে এবং চারপাশের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে নিতেই এই অভ্যাসগুলো স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে তৈরি করে ফেলে।

সংস্কৃতির সবচেয়ে প্রধান ভিত্তি হচ্ছে ভৌগোলিক অবস্থান ও এলাকার জলবায়ু, আমাদের বাংলা নদীমাতৃক ও উর্বর পলিমাটির দেশ হওয়ায় প্রধান খাদ্য মাছ-ভাত, স্বভাবতই বঙ্গবাসী মানুষের ধর্মীয় অনুশাসন ও বিশ্বাস তাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসকে গভীরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। দুর্গাপূজার মহোৎসব সেই খাদ্য সংস্কৃতিরই অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাঙালী হিন্দু সমাজে ব্রাহ্মণ ৪%, বৈশ্যও সম শতাংশের বা কিছু কম, বাকীরা ক্ষত্রিয় ও শুদ্র বা দলিত সম্প্রদায়ের, নাগপুরের ব্রাহ্মন্যবাদীদের ভাষায় ‘ছোটজাতের’, যারা মোট বাঙালী হিন্দু জনসংখ্যার ৯২%। এরা আমিষ খাবেনা তো কারা খাবে? বাঙালী ব্রাহ্মনদেরও আমিষ নিয়ে কোনো ছুৎমার্গ নেই আজও। নৃতত্ববিজ্ঞানকে আপনি কীভাবে উপেক্ষা করবেন বা ভুলিয়ে দেবেন নাগপুরি হিন্দুত্বের আরক গিলিয়ে?

হিন্দু ধর্মের যে মূল গ্রন্থ, চার বেদ, উপনিষদ, গীতা রামায়ণ, মহাভারত এবং সমস্ত স্মৃতি গ্রন্থের কোথাও বৈশ্য, ক্ষত্রিয় ও শুদ্রদের আমিষে মানা করা নেই। এমনকি RSS এর প্রস্তাবিত সংবিধান ‘মনুস্মৃতির’ ৫ম অধ্যায়ের ৩২ ও ৩৩ নম্বর শ্লোকে বলা হয়েছে, যজ্ঞের উদ্দেশ্যে কিংবা শাস্ত্রীয় বিধি মেনে মাংস খাওয়া কোনো অপরাধ নয়। এছাড়া যুদ্ধবিদ্যা বা শিকারের মাধ্যমে অর্জিত মাংস ভক্ষণ ক্ষত্রিয়দের পূণ্যের কাজ। শূদ্রদেরও কঠোর শারীরিক পরিশ্রম ও কৃষিকাজের সাথে যুক্ত থাকতে হতো, যার কারণে তাদের খাদ্যাভ্যাসে মাংসের ওপর কোনো কঠোর ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়নি কোনো শাস্ত্রেই। দেবতার উদ্দেশ্যে যজ্ঞ মানেই তো ছিলো বলি, সেই মাংস কি ফেলে দিতো পুরাকালে?

এর পর আসে মানুষ জীবিকা। আমাদের কৃষিপ্রধান সমাজ, ফলত ঘরে ঘরে পশুপালনের চল রয়েছে। অতএব, আমাদের খাদ্যাভ্যাস্যে মাংস থাকাটা কোনো ইউরোপীয় বা আরবি সংস্কৃতি থেকে আসেনি। কঠোর পরিশ্রমী কৃষক বা শ্রমজীবী মানুষের খাদ্য তালিকায় কার্বোহাইড্রেট তথা পেটপুরে ভাত খাওয়াটাই থাকে, যা তাৎক্ষণিক শক্তি দেয়। সুতরাং, এই সমাজে প্রতিটা লোকৎসব তা দুর্গোৎসব হোক বা অন্য উৎসব- সবই এই বঙ্গীয় খাদ্য সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠেছে কালের পরিক্রমায়।

বর্তমানে বিশ্বায়নের যুগেও বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মেলানো আধুনিক বাঙালি হিন্দু, শরীর সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর খাবার এড়িয়ে গেলেও, জলবায়ু তথা প্রকৃতিকে কীভাবে অস্বীকার করবে? বাঙালি কি গণহারে বার্গার, পিৎজা, সুসি কিম্বা থাই খাবারে অভ্যস্ত হতে পেরেছে আজও? বাংলার এই প্রকৃতিতে জন্ম নেওয়া কৃষ্টি সংস্কৃতিকে কীভাবে রাতারাতি ছুঁড়ে ফেলে দেবে? 

ইতিহাসের পরিভ্রমণে, অভিবাসন আর বিশ্বায়নের নানান পর্যায়ে মানুষ যখন অন্য দেশে প্রব্রাজন বা দেশান্তরী হয়েছে, কিম্বা অন্য দেশ বা অঞ্চল থেকে আমাদের ভূমিতে অন্যেরা এসে স্থায়ী হয়েছে- তখন ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি নিজেদের মিথস্ক্রিয়া ও আদান-প্রদানের মাধ্যমে, একটা দীর্ঘ সময়ের আবর্তে বৈচিত্র ঘটিয়েছে। এভাবেই আমরা আলু, টমেটো, ও লঙ্কা খেতে শিখেছি, বিরিয়ানি, মোগলাই কিম্বা শুক্তো খেতে শিখেছি। বাঙালী মেয়েরা শাড়ির বদলে সালোয়ার, নাইটি, জিন্স; পুরুষেরা কামিজ ধুতির বদলে ট্রাউজার শর্টস আর শার্টে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আর এগুলোর কোনোটার ফতোয়া বা ধর্মীয় বিধানের ফাঁসজালে বেঁধে রেখে ঘটেনি।

বড়পুজোতে বাঙালি হিন্দুর নস্টালজিক আবহ ছিল নিতান্তই ঘরোয়া, আন্তরিক এবং মানবীয় অনুভূতির মেলবন্ধন। আজকের কর্পোরেট জাঁকজমক আর সোশ্যাল মিডিয়ার রিল বানানোর হুজুগও সেই আবেগ কেড়ে নিতে পারেনি। এই সময় ছুটি যেহেতু সার্বজনীনভাবেই পরে সরকারী ভাবে, স্বভাবতই বাঙালির ঘরগুলোতে উচ্ছাসে ভরা অদ্ভুত শান্ত, স্নিগ্ধ এবং আবেগে ভরা উৎসবমন্ডিত পরিবেশ থাকে। এই ছুটির আবহে জীবনকে শুষে নেয় প্রত্যেকে তার নিজের মত করে। কেউ পুজোবার্ষিকী ও নানান ধরণের গল্পের বই পড়ে ফেলে, কেউ এই অবসরে বেড়াতে যায়, নতুন জামার গন্ধ ও আলমারি বন্দি সুখ সারা শরীর ও মনে রোমাঞ্চ তৈরি করে আজও। পাড়ার বয়োঃজ্যেষ্ঠদের আড্ডা, সন্ধিপুজোতে পাঁঠাবলি ও যৌথ পাত পেড়ে খাওয়া, সব শেষে বিজয়ার শুভেচ্ছা। আজকের আমিষ ফতোয়ার ফরমানে এই টুকরো টুকরো মূল্যবান আবেগ গুলোকে একটা নির্দিষ্ট গণ্ডিতে বেঁধে ফেলা সম্ভব?

বিজেপির সাংস্কৃতিক ফরমান পুরো ভারতীয় ঐতিহ্যকে কলুষিত করছে এই ‘হিন্দি অগ্রাসন’ চাপিয়ে দিয়ে। বিজেপি তার রাজনৈতিক ফায়দার জন্য মানুষকে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ে জবরদস্তি বেঁধে ফেলতে খড়গহস্ত হয়ে উঠেছে। ভারতের মত সুবিশাল দেশের সংস্কৃতিতে বিবিধতা বা সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য হাজার বছরের পরম্পরা; প্রতিটা সমাজ, অঞ্চল থাকা ভিন্ন ভিন্ন জাতি, ধর্ম, ভাষা, লিঙ্গ, খাদ্যাভ্যাস ও ভিন্ন জীবনযাত্রার মানুষেরা স্বচ্ছন্দ্যে সহাবস্থান করে তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ধরে রেখেছে। এটাই জীবনের বহুরূপতা বা রকমারি ভাব। বিজেপি এখানে কোনো হিন্দি বলয়ের হিন্দুত্ববাদকে শ্রেষ্ঠ হিসাবে ধার্য করে, প্রতিটা দ্বিতীয় সংস্কৃতিকে গোবলয়ের হিন্দুত্ব সংস্কৃতির চেয়ে নিকৃষ্ট হিসাবে দাগিয়ে দিয়ে নির্দিষ্টভাবে RSS এর ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতি জবরদস্তি করে চাপিয়ে দিচ্ছে। বিগত দুই বা তিন শতাব্দী ধরে বাঙালি হিন্দু যে সংস্কৃতিকে নিজস্ব রূপ, নিজের সম্মান ও নিজেদের মর্যাদা হিসাবে দেখে এসেছে, আজ তাকে শেখানো হচ্ছে তুমি পাপ করেছো। এতে বাঙালি জাতির নুন্যতম কোনো বৌদ্ধিক, সামাজিক কিম্বা অর্থনৈতিক উন্নতি হবে কি? যা হবে সেটা বিজেপির রাজনৈতিক এজেন্ডার বাস্তবায়ন। এটা ধর্ম নয়, এটা শাস্ত্রীয় বিধান নয়, এটা রাজনৈতিক ভণ্ডামি আর দ্বিচারিতা।

নিজ নিজ আচার-অনুষ্ঠান পালন, ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী মানুষের পোশাক ও খাবারের ভিন্নতা, ভিন্ন অঞ্চলের নাচ, গান, স্থাপত্য এবং লোকশিল্প, একটি বিশাল দেশে একঘেয়ে সংস্কৃতির মাঝে বৈচিত্র্য নিয়ে আসে। সমাজকে অনেক বেশি প্রাণবন্ত ও দৃষ্টিনন্দন করে তোলে। ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সাথে মেলামেশা, মানুষকে উন্নত করে তোলে, মন উদার হয় এবং অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা বাড়ে। বিজেপি-RSS এর লক্ষ্য শুধুমাত্র ভোটে জিতে ক্ষমতায় জেতা, তাই বৈচিত্র্যকে যেকোনো মূল্যে খুন না করলে বৈপরীত্য চলে আসবে। দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতা পেতে অচলায়তন সৃষ্টি করা জরুরী বা প্রাথমিক লক্ষ্য। অচলায়তন-এর মূল ভিত্তিই হলো স্থবিরতা, অন্ধ সংস্কার, প্রাচীর দিয়ে ঘেরা এক কৃত্রিম জগত যা পরিবর্তনকে রুখে দেয়। ক্ষমতা চলে যাবার প্রতি প্রতি চরম ভয় থেকে এই ধর্মীয় কুনাট্যের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে নাগপুর, যাতে বৈচিত্র্য এবং বৈপরীত্য পাশাপাশি অবস্থান না করতে পারে, যা জড়তাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং ক্ষমতাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। বিজেপি এই কারনে ধর্মকে হাতিয়ার করে সমাজ বদলে দিতে চাইছে একটা সমসত্ব ভোটব্যাঙ্ক তৈরি করতে। ভুয়ো আদর্শিক রূপকল্প- ‘এক দেশ, এক আদর্শ’, ফাঁপা দেশপ্রেমের বুলি দিয়ে একটা মেকি দর্শন বানাতে চাইছে, যেখানে সমগ্র রাষ্ট্রকে একটা নির্দিষ্ট স্থান থেকে ‘একক কমান্ড’ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় খুব সহজে।

মহারাষ্ট্র ছত্রপতি শিবাজীর ভূমি, সেখানে নাগপঞ্চমী দিয়ে যে অশ্লীলতা শুরু হয়েছিল, এখন ‘দহি হান্ডি’র মাধ্যমে তা আরও এক ধাপ এগিয়েছে। গোবলয়ের কুরুচিকর ছামিয়া নাচের দৃশ্য আমরা সকলেই কাঁওয়ার যাত্রার সময় দেখেছি, এটাকেই নতুন হিন্দু সংস্কৃতির একক বানিয়ে দিয়েছে নাগপুরের RSS কর্তৃপক্ষ, উগ্র ধর্মীয় আচারের সাথে মদ গাঁজা, অশ্লীল নৃত্য পরিবেশনা আর অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষমূলক ঘৃণাসূচক মন্তব্য- এটাই বিজেপির রাজনৈতিক হিন্দুত্বের প্রতীক। একটা সময় দূর্গাপুজো মানে ছিলো বাংলা আধুনিক গান, বিজেপি গোবলয়ের ঐ ছামিয়া নাচকেও বাংলাতে প্রতিষ্ঠা করতে চাইবে দূর্গাপুজোতে, নাহলে সবাই কীভাবে লেজকাটা শেয়াল হবে!

আজকে পশ্চিমবাংলার পুরো মন্ত্রীসভা মধ্যপ্রদেশের হিন্দি বলয়ের ‘ভন্ড বাবা’ ধীরেন্দ্র গর্গকে নিয়ে এসে ‘মেদনীপুরী’ মুখ্যমন্ত্রীর পাশে বসে দুর্গাপুজোর খাদ্যাভাস্যের নিয়ম ঠিক করে দিচ্ছে। যে বাংলা সন্ন্যাসী হিসাবে স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রী রামকৃষ্ণ, ঋষি অরবিন্দ, স্বামী প্রণবানন্দ বা অভয়চরণ দে এর মত বিশ্বমানের মনীষীর জন্ম দিয়েছে, সেই বাঙলি হিন্দুর উপরে বিজেপির হিন্দি ও RSS এর হিন্দুত্ব চাপিয়ে দিচ্ছে- একটা উদ্ধত, দাম্ভিক, বিনয়হীন দেড় পয়সার বাগাড়ম্বরকারী অসারবাগী কপট ভন্ড ধর্ম ব্যবসায়ী। এটা আজকের বাঙালী হিন্দু সমাজের জন্য লজ্জা আর কলঙ্কের দিন বৈকি। বাঙালী হিন্দুসমাজ যদি কাপুরুষ না হয়, অবশ্যই আসন্ন দুর্গাপুজোতে সমুচিত জবাব দেবে, মুখে নয়- কাজে।

উত্তরপ্রদেশে ভোট আসছে

 


✅ ভাষনে পাকিস্তান- চলে এসেছে

✅ মসজিদ ভাঙা- ৫ই সেপ্টেমর ভোরে শাহারানপুরে কমপ্লিট

🚩 মন্দিরে গোমাংস- লোডিং

⛔ দাঙ্গা- মন্দিরে মাংস ফেললেই অগ্নিসংযোগ ঘটতে পরবর্তী কয়েকঘন্টা যথেষ্ট। দেশ জুড়ে ভিন্ন ভিন্ন মুসলমান মহল্লাতে আরএসএসের হিন্দুত্ববাদী সেনাদের তাণ্ডব এবং অসংখ্য লাশের ভিড়। তার সাথে হাজার হাজার মামলা। 

📛 দেশের মাটিতে জঙ্গি হামলা- উপরের ধাপ গুলো শেষ হলেই ওটা অটোমেটিক এ্যাক্টিং এ এসে যাবে। নাগপুর থেকে ডিরেকশন এসে গেলেই, শুটিং স্পটে কুশীলবেরা পৌঁছে যাবে।
⚠️ যুদ্ধ যুদ্ধ পরিমণ্ডল - জঙ্গি হামলা ঘটলেই,  সীমান্তে সেনা সমাবেশ,  পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি... বীর সেনার জয়গান...  তাদের ইজেরের মধ্যে ঢুকে পড়ে 'ভারত মাতা কি জয়' স্লোগান এর তীব্র রাজনীতি করন

🕉️ কোন এক বিখ্যাত মন্দিরে গিয়ে বিশ্বগুরুর অধিষ্ঠান নেওয়া, এবং বিগ্রহকে সরিয়ে নিজেই উপাস্যের প্রতিমূর্তি হয়ে যাওয়া। 

🔊 মিডিয়া জুড়ে অষ্টপ্রহর বিশ্ব গুরুর নাম মহিমার সঙ্কীর্তন.....
খুব চেনা প্লট মনে হচ্ছে তাই না? গত ১৫ বছর ধরে এটাই তো হয়ে আসছে দেশে, ঠিক বলিউডি মসলা সিনেমার চিত্রনাট্যর মত টানটান জমজমাট রোমহর্ষক। কিন্তু বড্ড সেকেলে হয়ে গেছে, আমাদের মত আনাড়িগুলোও ধরে ফেলছে। 

হ্যাঁ, আপনিও ঠিক ঠিক ধরতে পেরেছেন। উত্তরপ্রদেশে ভোট আসছে......


শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১০ বছর ধরে লাগাতার ফ্লপ ফিল্ম করার পর একটা হিট রিল

 


এই মহিলা সত্যিই একটা হাসির খোরাক। আজ মান্ডিতে কঙ্গনা রানাউত দিশার (Disha) সাথে বৈঠক চলাকালীন মেজাজ বিগড়ে- আহা, সে কি ধমক চমক। এমপি তহবিল থেকে ১১ কোটি টাকা নিজেরাই খেয়ে ফেলেছে। ফলাফলঃ কাজের কাজ—শূন্য। 

কঙ্গনার ওই কেন্দ্রে মোট ৭৫ কোটি টাকা বিজেপির নেতারা আর সেখানকার আমলারা যোগসাজস করে সরকারী টাকা নিজেরা হজম করে ফেলেছে। ১১টা সড়ক প্রকল্পের ১টাও শুরু হয়নি বিগত ৩ বছরে, অথচ সেখানে ১ কোটি টাকা শুধু শিলান্যাস আর তার অনুষ্ঠানে খরচা করে ফেলেছে।

সিনেমার সংলাপ আওড়ে আর রাহুল গান্ধীকে আক্রমণ করে যে নিজের চেয়ার বাঁচবেনা বুঝে গেছে। তবে এই নাটকীয়তা বা মেজাজ দেখানোর জুমলাও কি শেষমেষ কাজে দেবে? সরকারী টাকার হরির লুঠ যা হওয়ার তা তো হয়েই গেছে।

বিজেপি মানেই চোর- সেটা এরা প্রকাশ্যে রোজ প্রমান করছে। তবে কঙ্গনার রাগের কারনটা পরিষ্কার নয়, যা বোঝা যাচ্ছে, লুঠের ভাগা পেয়ে গেলে এতটা হয়ত রাগতনা, তখন যাবতীয় দোষ রাহুল গান্ধী আর কংগ্রেসের উপরে চাপিয়ে দিত। ৭৫ কোটির ঘাপনা, আর তার ভাগে ঠনঠন গোপাল! এইস্যা ক্যাইসা চলেগা ভাই!

মোদী হ্যায় তো মুমকিন হ্যায়

আচ্ছে দিন বলবেন নাকি অমৃতকাল?

 



উত্তরপ্রদেশে যোগীর পুলিশ সাংবাদিক অভিষেক উপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ও তথ্য প্রযুক্তি আইনের (IT Act) বেশ কয়েকটি ধারায় FIR করেছে।

কে এই সাংবাদিক অভিষেক? ইনিই প্রথম রাম মন্দিরের চাঁদা চুরির বিষয়টা জনগনণের সামনে আনেন।

উত্তরপ্রদেশের রাজ্য প্রশাসনের জাতপাতভিত্তিক সমীকরণ নিয়ে ‘X’ (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে "যাদব রাজ বনাম ঠাকুর রাজ (অথবা সিং রাজ)" শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের বিরুদ্ধে প্রতথম মামলা দায়ের করা হয়েছে।  BNS ধারা ৩৫৩(২) অনুযায়ী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ ছড়ানো বা ঘৃণা উস্কে দেওয়ার চেষ্টা। BNS ধারা ১৯৭(১)(C) অনুযায়ী জাতীয় সংহতি বা অখণ্ডতার ক্ষতিসাধন করতে পারে এমন বক্তব্য দেওয়া বা প্রচার করা।BNS ধারা ৩০২ অনুযায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে শব্দ উচ্চারণ বা মন্তব্য করা। BNS ধারা ৩৫৬(২) অনুযায়ী মানহানি বা মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের শাস্তি। তথ্য প্রযুক্তি আইন (IT Act)-এর ধারা ৬৬ ধারা অনুযায়ী কম্পিউটার বা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে আপত্তিকর বার্তা বা তথ্য ছড়ানো।

এতেও যখন প্রাণে তৃপ্তি আসেনি, তখন একটা রোড-রেজ বা পথ-বিবাদ সংক্রান্ত মামলা করা হয়,  এফআইআর নম্বর -৬৭৮/২০২৬) । মজা হলো, তাকে কাস্টাডিতে নিয়ে পুলিশ ব্যাপক মারধোর করে একটাই তথ্য জানতে চায়- কেন সে চাঁদা চুরির ভিডিও বাজারে ছেড়েছে আর কে তাকে এই গোপন তথ্য সরবরাহ করেছিলো। রামমন্দিরের চাঁদা চুরির তদন্তের সূত্র এবং তার ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট (Digital Footprint) ঘেঁটে তার গোপন তথ্য ও সোর্সদের চেনার উদ্দেশ্যেই পুলিশ সর্বস্ব লাগিয়ে দিয়েছিল।

পুনের সন্তোষ পণ্ডিতের ক্ষেত্রেও একই বিষয় ঘটে। সন্তোষ পণ্ডিত তার ইউটিউব চ্যানেলে পুনের কোথরুড এলাকার নাগরিক সমস্যা ও উন্নয়নমূলক কাজ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় মহারাষ্ট্রের উচ্চ ও প্রযুক্তি শিক্ষামন্ত্রী চন্দ্রকান্ত পাতিল এবং পুনে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (PMC) কাউন্সিলর মিতালি সালভেকারের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করেছিলো।
আক্ষরিক অর্থেই আজ হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়।


মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

নাগপুর ও শিক্ষা দূুর্নীতি


পেপার লিক বা প্রশ্নপত্র ফাঁস কোন বিচ্ছিন্ন দুর্নীতি নয়।  এটা একটা পরিকল্পিত অর্থনৈতিক মডেল যেটা সরাসরি নাগপুর থেকে পরিচালিত হয়। এটার পেছনে একটা পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক কাঠামো কাজ করে, যা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলাফল নয়।

পেপার লিক দুর্নীতির ক্ষেত্রে একটা বড় অংশ ইচ্ছাকৃত আঁধারে রেখে দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো, যে বিষয়ে আলোকপাত হওয়া অত্যন্ত জরুরী। গদি মিডিয়া এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করবে না এটা স্বাভাবিক কিন্তু তথাকথিত নিরপেক্ষ youtube সাংবাদিক কুলও নিম্নলিখিত বিষয়ের উপর কোনো ধরনের আলোকপাত করতে সক্ষম হয়নি। স্বভাবতই রাহুল গান্ধী থেকে দীপকে অব্দি কারও মুখে কোনো রা নেই।

বর্তমানে যে পেপার লিক বিষয়টা নিয়ে এত আন্দোলন, সেটার হুইসেল ব্লোয়ার হিসাবে রাজস্থানের সিকর জেলার রসায়নের শিক্ষক শশীকান্ত সুতার প্রথম বিষয়টি সামনে আনেন। সেখানেই প্রথম FIR হয়। তদন্তে দেখা যায় কয়েকজন বিহারের বাসিন্দা যারা দিল্লি লাগোয়া হরিয়ানার গুরগাঁও থেকে গোটা বিষয়টা অপারেট করত। প্রশ্নপত্র ছাপা হতো রাজস্থানের প্রেসে, সেখান থেকে দিল্লির বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে অবিশ্বাস্য মোটা দামে বিক্রি করা হতো। এই অব্দি দেখে মনে হবে- মোটামুটি সবকিছুই একটা দুষ্ট দুর্নীতি চক্র জড়িত - যেমনটা প্রতিটি দুর্নীতিতে হয়ে থাকে। 

কিন্তু এই প্রশ্ন ফাঁস করেছিল কারা? যারা করেছিল তারা প্রত্যেকে মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা, পেশায় অধ্যাপক। লাতুরের অধ্যাপক পি. ভি. কুলকার্নি ও প্রফেসর শিবরাজ রঘুনাথ মোটেগাঁওকর, পুনের মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে এবং মনীষা হাভালদার, মনীষা বাঘমারে, নাসিকের শুভম খায়রনার ও ধনঞ্জয় লোখান্ডে। এরা প্রত্যেকে মহারাষ্ট্রের। এদের আরো বড় পরিচয় হচ্ছে এরা প্রত্যেকে হয়- অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (ABRSM), কিম্বা ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল (BSM) অথবা    বিদ্যা ভারতী (Vidya Bharati) সংগঠনের সাথে যুক্ত। এই তিনটে সংগঠনই নাগপুরের গোয়াল ঘরের নিজস্ব সংস্থা।

অর্থাৎ প্রশ্নপত্র ফাঁস দুর্নীতিতে যুক্ত প্রত্যেকে আরএসএস এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।  এমনকি রাজস্থানের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কে যেসব ছাত্র এবং কাউন্সিলর নামের দালালেরা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তারাও অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP) এর সাথে সম্পৃক্ত। 

প্রতিটা সাংবিধানিক পদ সেটা বিচারব্যবস্থা হোক কিংবা নির্বাচন কমিশন, প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য পদে সরাসরি RSS এর প্রচারকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।  সুতরাং যারা প্রশ্নপত্র তৈরি দায়িত্বে ছিল, তারা সেই দায়িত্ব পেতই না- যদি না তারা সরাসরি নাগপুরের আস্থাভাজন হতো। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বলি দেওয়ার আড়ালে মহারাষ্ট্র সরকার আর আরএসএস নিজেদের লুকিয়ে ফেলতে চাইছে।

এই পেপার লিক থেকে প্রাপ্ত দুর্নীতির আর্থিক লাভের একটা বড় অংশ সরাসরি আরএসএস এর হেডকোয়ার্টারে পৌঁছে যেত বা যায়। বরং বলা ভালো নাগপুর থেকে সরাসরি এই দুর্নীতিটাকে সঞ্চালন করা হতো। যে কারণে এই কেলেঙ্কারিতে ধরা খাওয়া প্রতিটা 'কিংপিন' মহারাষ্ট্রের। অথচ মহারাষ্ট্রের শিক্ষামন্ত্রী, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাড়নবীসের নাম একবারও শুনেছেন এ বিষয়ে? শোনেননি,  কারণ ব্যথা জায়গায় হাত পড়লেই সেই হাত সরাসরি নাগপুরের গোয়াল ঘরে পৌঁছে যাবে। এই কারণেই পেপার লিক হওয়ার পর দেবেন্দ্র ফড়নবীসকে রাজস্থানে ডেকে পাঠিয়েছিল। তাকে ধমকাতে কিংবা তদন্তে সহযোগিতা করতে নয়, কেন ফাঁস হলো সম্ভবত এই বিষয়ে জানার জন্য। 

ধর্মেন্দ্র প্রধান বলি গেছে, সেটা যাওয়ারই ছিল অপদার্থ শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে। কিন্তু মূল মাস্টারমাইন্ড মহারাষ্ট্র সরকার এবং আরএসএস সরাসরি এই দুর্নীতিতে জড়িত। নতুবা এটা কখনও সম্ভব হতো না। একটা ধর্মেন্দ্র গিয়ে আরেকটা নতুন চোর চলে আসবে,  কিন্তু নাগপুরের গোয়াল ঘরের যারা মাস্টারমাইন্ড তারা বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। যতক্ষণ না এদের কান ধরে আইনের সামনে দাঁড় করানো হবে ততদিন এরকম প্রশ্নপত্র ফাঁস চলতেই থাকবে। 

২০১৫ সালের 'ব্যাপম' কেলেঙ্কারিতে ৪০ জনের রহস্য মৃত্যু আমরা কেউ ভুলিনি, কে জানে এবারে কতজন সাক্ষী এবং অপরাধী রহস্য মৃত্যুর শিকার হয়। ব্যাপম কেলেঙ্কারির নায়ক  শিবরাজ সিং চৌহানের সাজা হওয়া তো দূরস্থান, ন্যূনতম তদন্ত টুকু হয়নি। মহারাষ্ট্র সরকার এবং সেই সরকারের মাথা এবং দেবেন্দ্র ফড়নবীশকেও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে মনে হয় না। যে সমস্ত কিংপিন ধরা পড়েছে, সেই অপরাধীরা যে সংগঠনের সঙ্গে জড়িত, সেই RSS এর শিক্ষক সংগঠনগুলোকে কেন তদন্তের আওতায় আনা হবে না? 

মোহন ভাগবত এমনি এমনি জেন-জি কে সার্টিফিকেট বিলি করতে বসে যায়নি কিংবা মাঝরাতে হ্যালো ফ্রেন্ডস বলে বিশ্বভাঁড় মিছিমিছি ভাঁড়ামি করতে আসেনি instagram এ, RSS কে আড়াল করতে যাবতীয় এইসব ফন্দিফিকির।

রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬

হঠাৎ কেন বন্দেমাতরম?



যাদবপুর, এই বিষয়টা ১০ কোটি পশ্চিমবঙ্গবাসীর মধ্যে- ৯ কোটি ৯৯ লক্ষ ৯০ হাজার জন ব্যাক্তি ব্যক্তিগতভাবে কোনোভাবেই 'নূন্যতম' জড়িত নয়।

বন্দেমাতরম, দেশের ১ জন জনগনের রুটি-রুজি জন্যও জরুরী কি? দেশের ইন্ট্রিগ্রিটি, বর্হিশত্রুর আক্রমণ ঠেকাতে জড়িত? এটা গাইলে কী দেশে মেধা, শিল্প, আর্থিক শ্রীবৃদ্ধির বন্যা না হোক, চোরা স্রোতও কি বইবে? যদি সেটা না ই হয়, তাহলে এটাই কেন দেশের একমাত্র প্রাইম ঈশ্যু? দেশদ্রোহী চোর ধর্ষক বিজেপি/RSS এর জন্য এটা একান্ত জরুরী, কারন প্রতারিত 'হিন্দু' জনগনের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্যান্টে হেগেমুতে ফেলছে তাই ধামাচাপা দিতে এটা তাদের জন্য জরুরী। যে হিন্দু জনগণ এদের পরিত্রাতা ভেবেছিল, আজ তারা দেখছে তাদের পরনের কাপড় টুকুও নেই- বিজেপি বেচে দিয়েছে।

আম নাহয় কাটার বাচ্চা, যেকোনো সময় কোনো দেশপ্রেমিক বাঁদর বা বলদের বাচ্চা আমাকে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেবে- কিন্তু রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে অষ্টপ্রহর অবিচ্ছিন্ন বন্দেমাতরম গাইলে কী "হিন্দু অস্মিতার" নিশান রামমন্দির বা বৈষ্ণদেবী মন্দিরের চুরি যাওয়া অর্থ ফেরৎ আসবে? বাকি কোনো সামাজিক জলন্ত ঈশ্যুকে নাহয় সামনে আনলামই না।

আমাকে বলুক আমার ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধির জন্য আমাকে সরকারী তহবিল থেকে অতি সামান্য আর্থিক সুবিধা দেবে- যেমনটা আম্বানি আদানি পেয়েছে, তার ভগ্নাংশের ভগ্নাংশ মাত্র; আমি রাস্তার মোড়ে চেঁচিয়ে রোজ ৩ বেলা বন্দেমাতরম গাইবো। 

ভাত দেওয়ার ভাতার নয়, তুমি মরালিটি চোদাবার গোঁসাই। 

শমীক ভট্টাচার্য খুব সচেতন ভাবেই নিজেকে 'কমিক' ভট্টাচার্যে ট্রান্সফর্ম করে- যাত্রাদলের বিবেকের ভূমিকাতে শান্তিগোপাল হয়ে যায়- আপনাকে চুতিয়া বানাতে। RSS/BJP যখন সে ঈশ্যু গুলোকে মুখ্য বানায়, জানতে হবে তারা প্যান্টে হেগে বসে আছে- কিম্বা কোনো বড় চুরির ফাঁদ পেতেছে। তাই আলবাল ঈশ্যু তুলে আপনাকে মানে দেশের ৭০% হিন্দুকে মাতিয়ে রেখে, কিছু লুকাতে চাইছে। দেশ বেচে দিচ্ছে।

গ্যাস, চিনি, বাইকের জ্বালানি, সরসের তেল থেকে প্রতিটা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম রোজ বাড়ছে- বাড়েনি আপনার রোজগার। "ভারত মাতা কি জয়" স্লোগান ওই "জয় শ্রী রাম" স্লোগানের মতই আগামীতে বিজেপির রাজনৈতিক স্লোগান হিসাবে চিহ্নিত হবে। কুলদীপ সেঙ্গার, প্রজ্জ্বল রোভান্না, ব্রিজ ভূষণ সিং, চিন্ময়ানন্দ, আশারাম বাপু বা বাবা রামরহিমও "ভারত মাতা কি জয়" স্লোগানের আড়ালে ধর্ষন করেছে। রামমন্দিরের চাঁদা চোরটাও "জয় শ্রীরাম" বলেই বামাল নিয়ে পালিয়েছে নাগপুরে। এরা সকলে কি বন্দেমাতরম জানত? ধরে নিচ্ছি নিশ্চই জানতো, যেহেতু বিজেপি করতো। সুতরাং, বন্দেমাতরম বললে কোনো কিছুরই সমাধান হবেনা।

ভোটের আগে এই বেজন্মারাই রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা করে মুখ পোঁদ সকল ফুটো দিয়ে আওয়াজ বের করত, আজ সেই সব ফুটোতে- হয় বাপের ফাটা কন্ডোম কিম্বা মায়ের মাসিকের ন্যাকড়া গুঁজে রেখেছে। আর রোহিঙ্গা শব্দ কেউ শুনতে পান কেউ? এই শুয়োরের বাচ্চাদের কাজই হচ্ছে আম মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপ্রাপ্তি থেকে আসা প্রশ্ন গুলো থেকে ক্ষোভকে অন্য পথে চালনা করতে এই সব আলবাল ঈশ্যুকে এমন ভাবে সামনে আনে, যেন এটা ছাড়া জীবন অচল। 

একই পথে কোরবানি বন্ধ করতে গিয়ে গোপালক সম্প্রদায়ের পেটে পা দিয়ে দিয়েছে। আজ রাস্তায় নামাজ বন্ধ, আজান বন্ধ, ঝটকা মাংস- এই সব করে একটা শতাংশ উন্মাদের মানসিক অর্গাজম হচ্ছে- তাতে পেট ভরছে কি? সেই তো মেয়ে বৌকে ন্যাংটা করে র‍্যান্ডি নাচ নাচিয়ে টাকা কামাতে হচ্ছে।

পাঁঠা চোদাগুলো বন্দেমাতরম নিয়ে গাঁড় পেঁয়াজির নতুন নক্সা এনেছে। বন্দেমাতরম অদৌ গাইবো কিম্বা কতটা গাইবো- সেটা তো যারা দেশ স্বাধীন করেছিলো তারাই ঠিক করেই দিয়ে গিয়েছে। আজ যখন সমগ্র বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো ড্রোন টেকনোলজি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে এগোচ্ছে চুতিয়ার বাচ্চারা বন্দেমাতরম নিয়ে হুপ হুপ শুরু করে দিয়েছে। IIT/IIM এ কখনও ক্যালা কাত্তিক মহারাজ তো কখনও শ্রীশ্রী রবিশঙ্করকে ডেকে এনে বক্তিতা দেওয়াচ্ছে- IT সেক্টারে আমাদের দেশের যে উৎকর্ষ ছিলো সেটারও মা-চুদে দেওয়ার পরিকল্পনা একদম খাপে খাপ। ওদিকে ট্রাম্প থেকে পুতিন, যে যখন পারছে বিশ্বগুরুর মায়ের ১০৮ করে দিচ্ছে। 

যেদিন RSS নিজেদের সরকারের খাতায় রেজিস্ট্রেশন করে তাদের সমস্ত সম্পদ ও অর্থের হিসাব দেবে, যেদিন RSS লিখিতভাবে ভারতীয় সংবিধানকে তাদের সংবিধান মানবে, যেদিন "নমস্তে সদা বৎসলে" এর পরিবর্তে সঙ্ঘে বন্দেমাতরম এর পূর্ণ গীত গাওয়া হবে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসাবে- সেদিন তারা ১৫০ কোটি ভারতবাসীকে বাধ্য করুক।

আর তা না করলে, এদের কাঁচা খিস্তিখেউড় করাটা নাগরিক কর্তব্য। যে এদের খিস্তিখেউড় করবেনা, কিন্বা মনে করে এদের খিস্তি দেওয়াটা অন্যায়- তার বাপের DNA এর সাথে নিজের DNA চেক করা দরকার, কে জানে পাড়ার কাকুদের দল দুপুর ঠাকুরপোর ভূমিকাতে আপনার মাতৃদেবীর পোয়াতির কারন হয়েছিলেন কিনা- যেমন আদানি আম্বানি বাবা মিলে "বিজেপির ভারত মাতা"কে পোয়াতি করে দিয়েছে।

শালারা বন্দেমাতরম আর যাদবপুর চোদাচ্ছে।

সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

কানাবাবার পাল্টি



পতঞ্জলি ফুডস লিমিটেড (Patanjali Foods Ltd)-এর শেয়ার দর গত ১ বছরে প্রায় ৪০.০৬% নিচে নেমে এসেছে।

এই বছরের ত্রৈরাশিকের রিপোর্ট বলছে পতঞ্জলির শেয়ার ১০০ টাকারও নিচে চলে যাবে আগামী কয়েকটা কোয়ার্টারে, মানে ৯০% এরও বেশী মার্কেট ভ্যালু ফল করবে। 

ফলত, এই ট্যাঁরাচোদ ভণ্ড বাবা নিজের ব্যবসার সাম্রাজ্য বাঁচাতে ড্রেনের ভাসমান গু'এর মত স্রোতের অনুকুলে ভেসে টিকে থাকার লড়াই করছে। বিগত বছরগুলোতে পতঞ্জলির বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন এবং আধুনিক চিকিৎসার (Allopathy) বিরুদ্ধে মন্তব্যের কারণে সুপ্রিম কোর্ট পতঞ্জলিকে তীব্র তিরস্কার এবং জরিমানা করে। এই সংকটের সময়ে বিজেপি সরকার বা আয়ুষ মন্ত্রক রামদেবকে সুবিধা দেয়নি ফার্মা লবির চাপে। এতে কানাবাবা ক্ষুব্ধ হয়েছে।   

বিজেপির অন্তর্জলী যাত্রা শুরু হয়েছে, আজ অমিত মালব্যের উইকেট গেছে, যে মালব্য গত ১ দশক অমিত ক্ষমতাধর ছিল বিজেপি ও সঙ্ঘের অন্দরে- মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা আর বিদ্বেষমূলক ন্যারেটিভ সেট করার গুণে। রামদেবও এই বিজেপিকে আনতে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা ছিল, এই কানাবাবার এমন "দিমাগি নকশাল" হয়ে যাওয়াটা,বিজেপির পক্ষে অনেকটা আত্মলিঙ্গমভাবো হওয়ার মতই।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক দুর্নীতি এবং সরকারি চাকরিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস (Paper Leak), ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯০% থেকে ৯৯% দুর্নীতির যে গল্প নিয়ে মিডিয়াতে মসিহা সাজার চেষ্টা করছে, দ্রুত এই দুর্নীতি বন্ধ না হলে ২০১১ সালের রামলীলা ময়দানের মতো আবারও বড় আন্দোলনে নামার ফাঁপা আওয়াজ তার চাড্ডির নিচে নামবেনা। এই কানাচোদা নিজেই ভুরি ভুরি দুর্নীতিতে সরাসরি যুক্ত, সাথে নেপালি স্যাঙাৎ টা।  

শ্রম আইন লঙ্ঘন ও কর্মীদের ওপর নির্যাতন, জমি কেলেঙ্কারি, টেন্ডারে ঘাপলা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ভুয়া লোগো ও সার্টিফিকেট ব্যবহার করে করোনিল এর প্রচার, অন্যের তৈরি পণ্য নিজের নামে চালানো, খাবারে ভেজাল ও পেস্টিসাইড, সুপ্রিম কোর্টের অবমাননা, আয়ুর্বেদিক স্কুলের নামে জমি আত্মসাৎ, সরকারী কর্মীকে গুম খুন করে দেওয়া। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি এবং ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় করতে পারার মিথ্যা দাবী করে কোটি কোটি টাকা লুঠ সহ পাপের শেষ নেই। রামদেব আর দূর্নীতি এখন সমার্থক। এখন এই পাপের ঘড়া সম্ভবত পূর্ণ হয়েছে। যার ফলাফল সরাসরি তার ব্যবসাতে পরেছে।

প্রথমত তার সাধু বেসে রাবনের যে ইমেজ তৈরি করেছে, সেটাকে নতুন ভাবে রং করার প্রচেষ্টা, দ্বিতীয়ত উত্তরপ্রদেশ ভোটের আগে নিজের দাম বাড়িয়ে নিতে চাইছে বিজেপির কাছে, এই কারনে খানিকটা ভৌ ভৌ করছে মিডিয়াতে।

বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬

নপুংসক মরদ


মাননীয় শুক্রবারী Suvendu Adhikari মহাশয়, বিষয় হলো- আপনার মস্তিষ্কপ্রসূত গরু আন্দোলন বাজারে খায়নি, সরকারি নোটিফিকেশন ছাড়াই আজান বন্ধের মুখেও থুতু দিয়ে দিয়েছে। এখন 'ল্যান্ড জিহাদের' প্রোজেক্ট এনেছেন। এরপর সিভিল কোড লাগু ব্লা ব্লা ব্লা..., মুসলমান টাইট দিলে কি হিন্দুর ঘরের গ্যাসের দাম কমবে? প্রসঙ্গত, আপনি তো আধাবেলার যোগী, আপনার পিতা মানে মোদী ও নাগপুর সম্মিলিত ভাবে মুসলমানের কিচ্ছুটি ছিঁড়তে পারেনি লিঞ্চিং ছাড়া, আপনার মুরোদ তো তার চেয়েও কম। আপনি বড়জোর একটা রাজনৈতিক ছাপড়ি মাত্র, যার অউকাত ওই হাত-পা ছোড়া অবধিই।

মমতার আমলে চুরিটা 'চুরি' হিসাবেই ছিলো। আপনার আমলে সবটাই ধর্মীয় মোড়কে, দেশপ্রেম, হিন্দুত্ব আর মুসলমানকে টাইট দিতে এই চুরি। নিচে জয়ন্তীর ভিডিওটা একটা অতিক্ষুদ্র উদাহরন মাত্র। ভাইপো বিদেশ যায় জেলের বদলে, কারন ভাইপোকে জেলে পাঠালে আপনি শুভেন্দু অধিকারী নিজেও জেলের স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যাবেন। ভাইপো কোনো নতুন কিছু করেনি যে পাপ আপনার ছিলোনা তোলমূলে থাকা অবধি। একই চোর কোম্পানির ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ছিলেন ২০২০ অবধি। সুতরাং আপনার অউকাত নেই তোলামুলের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার, তাই রোজ মুসলমান টাইট দেওয়ার গল্পে RSS এর উন্মাদ গুলোকে অর্গাজম দিতে হবেই আপনাকে। ওদিকে অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে মুখ বন্ধ, জানিনা পোঁদ ওনার জন্য ওপেন কিনা।

আগে নীলসাদা তোলামূল ছিলো, এখন গেরুয়া তোলামূল। নবান্নে কয়েকপিস নমুনা ছাড়া নিচের তলায় কিচ্ছু পরিবর্তন হয়নি একপ্রকারে। সেই এক আমলাতন্ত্র আর একই চুরির ইনফ্রাস্ট্রাকচার। বস্তুত ২০১১ থেকে এই চুরির পাইপলাইন তো আপনারই বিছানো। তাই নাটক কম করো পিয়ো, 

আপনি গে, নপুংশক বা হিজরে যেটা খুশি হতেই পারেন, পুরুষ যে নন এটা ৩ মাসে প্রমান করেছেন, তবে স্বীকৃত চোর বটে। নারদায় প্রকাশ্য ভিডিও না থাকলেও সকলে এটা জানে। রাজ্যের চোরেরা নতুন নেতৃত্ব পেয়েছে, আগে দিদির অধীনে চুরি করত, এখন দাদার অধীনে।  আগে অম্বা রম্বা হাম্বা শুনতো, এখন ভুলিনি ভুলিনি ভুলিনি শুনছে। ১ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে হাম হাম গুড়ি গুড়ি নেত্ত্যও দেখবে। কারন একজন ব্যার্থ মানুষ(!) যার প্রতিটা প্রতিশ্রুতি ধাপ্পাবাজি, আর সেই ধাপ্পা থেকে বাঁচতে মুসলমান টাইটের হরেক ফিকির এনেও প্রতিবার নিজের থুতু চাঁটা বুঁকে হাঁটা কেউ- সার্কাসের ভাঁড়ের চেয়ে উন্নত কিছু হতে পারবেনা।

এগুলো লেখার জন্য এ্যারেস্ট করবেন? অবশ্য মিথ্যা মামলাতে ফাঁসিয়ে জেলে ভরা তো আপনার স্পেশালিটি। ২০১১ থেকে পুলিশকে সাথে নিয়ে কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ- সিপিএম আর কংগ্রেসকে পুলিশের মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে যেকোনো মূল্যে রাজ্যকে বিরোধী শূন্য বানিয়েছিলেন। আজ গেরুয়া পরলেই সাধু হয়ে যাবেন! অবশ্য, এর বাইরে আপনার অউকাতই বা কি!

মজা কি জানেন, দিল্লিতে জোড়া পাঁঠা বলির প্রতিক্ষায়। দিল্লির ঘটি উল্টালে, পরবর্তী ১ ঘন্টায় রাস্তায় উলঙ্গ করে বাংলার মা-বোনেরা আপনাকে দৌড় করিয়ে ঝাঁটা দিয়ে ক্ষ্যাপা কুকুরকে যেমন পেটায়, আপনার অবস্থা তার চেয়েও অধম করে দেবে।

জয় শ্রী রাম।

ঘৃণার যাত্রাপথঃ স্টেট স্পনসর্ড টেরোরিজম ও RSS

  ধর্মীয় শোভাযাত্রা এখন দাঙ্গা বাঁধানোর মূল অস্ত্র, নাগপুরের হিন্দুত্ব আধিপত্যবাদীরা ভারতের আত্মাকে ছিন্নভিন্ন করছে দিয়েছে; যার মেরামতিতে কয়...