সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

ইরান যুদ্ধঃ একটা অশ্লীল পোষ্ট


 Disclaimer: অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায় কথাবার্তা লেখা আছে এখানে, প্লিজ কেউ পড়বেন না। 


মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে যারা ঘৃণা করেন, তারা কিন্তু এটা পড়লে মানসিক তৃপ্তি পাবেন। আপনি যে ভাষায় বলতে পারছেন না এখানে সেই ভাষাতে লেখা রয়েছে। তবে যারা নাকি সুশীল, কিন্তু লুকিয়ে পানু দেখার অভ্যাসের দরুন ‘ভুল করে’ পড়বেন ভাবছেন- তারা মধু মাখানো তুলসী পাতা দিয়ে পোঁ দে গার্ড দিন, নাহলে আপনার ওটাই মারা যাবে আমার এই অকথ্য ভাষার চোদনে। হালাল হোক বা স্বাত্ত্বিক উপায়ে, যার যেটা পছন্দ ও ওরিয়েন্টেশন- সেই অনুযায়ী পোঁ দের সুরক্ষা নিন; ঠিক যেভাবে ‘আয়রন ডোম’ ইজরায়েলকে সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে। চলুন শুরু করা যাক- 

কার্পেট বোম্বিং দেখেছি, ক্লাস্টার প্রযুক্তির কার্পেট মিসাইলিং- নাবালক চো দা এপস্টিন বাহিনীর কাছে এ রীতিমতো দুঃস্বপ্নের। ইরানের বর্তমান রাষ্ট্রগীত হচ্ছে- ইতনা বোম ফোড়েঙ্গে, কী এলাকা ধুঁয়া ধুঁয়া হো জায়েগা। গাজাকে গাজা বানানোর কারিগরেদের মড়াকান্নার ভিডিওটাও সাথে দিলাম 

এপস্টিন বাহিনীর সেক্রেটারি ডোলান্ড টাম্প, এপস্টিনের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতনায়াহু, আর এপস্টিনের স্পেশাল মুজরোওয়ালি ৫৬ ইঞ্চির ভোঁদড়ের দল ভেবেছিল তাদের যৌন শীঘ্রপতনের মতোই- দু’দিনে যুদ্ধ শেষ হবে। খামেইনিকে মার্ডার করে দিলেই উদ্বাহু নেত্ত করতে করতে রেজা পহ্লবীর নেতৃত্বে আবার একটা বিশ্বমাচাদো সরকার আসবে। শুরুটা টিম এপস্টিন প্ল্যানমাফিক করলেও, শেষটা করতে পারল না, শিবলিঙ্গ গড়তে গিয়ে বাপের বাঁ ড়া গড়ে ফেলেছে। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই আত্মলিঙ্গম পশ্চাদপূরণে বাধ্য করেছে ইরান। পালিয়ে যাবার শেষ উদাহরণ হিসেবে আফগানিস্তানের মাটিতে মার্কিন অহমিকার কবর দেওয়া হয়েছিলো। সেখানে আমেরিকার কাপর খুলে নেওয়া হয়েছে, মার্কিন বেস গুলোতে আজকের দিনে ঘুঘু চড়ছে। কুত্তানিয়াহু প্রথমে গ্রীসে গেছিল সেল্টার নিতে, সেখান থেকে লাথ খেয়ে জার্মানিতে পালিয়েছে।

ইরানের তরফে মিসাইল হামলা হচ্ছে সিংহের মতো করে। সিংহের কামোত্তেজনা উঠলে প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর অন্তর লাগাতার প্রায় সপ্তাহ খানেক তারা এলোমেলোভাবে লাগায় ২৪ ঘন্টা ধরেই। এতেই সিংহী প্রেগন্যান্ট হয়ে যায়, আমেরিকা কি সিংহীর চেয়ে কম কিছু? এদিকে সিংহীও কম তেজী নয়, তার দাঁত নখের আঁচড়ে সিংহ আক্রান্ত রক্তাক্ত হয় বটে, কিন্তু সঙ্গম থামে না। স্বভাবতই আমেরিকার পেট না বাঁধিয়ে ইরান ছাড়বে না, তাতে পুরুষ মৌমাছির মতো লাগাতে লাগাতেই বীর্য আর প্রাণ একসাথে ত্যাগ করতে হলে হয়তো ইরান সেটাই করবে। মৌমাছি, অক্টোপাস, প্যাসিফিক স্যামন, স্কুইড কিম্বা সিংহ- কায়দা যা খুশি হোক, লাগাচ্ছে কেবল ইরান। আমেরিকাই নিজে থেকে লাগাতে এসেছিল, কিন্তু তার ধন কুত্তার মতো ফুটোয় আঁটকে গেছে, এখন সেই গিঁট না ছাড়া অবধি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্যালানি খেতেই হবে আর গলা ছেড়ে ঘেউ ঘেউ করতে হবে। 

আমেরিকার ল্যাওড়ার আইরন ডোম, থার, ডেভিডস স্ল্যাং, প্যট্রিওট, কত কী সব নাম- সব আক্রমণ নাকি আঁটকে দেবে! ডামি মিসাইল দিয়েই এগুলোর এমন ভাবে গুয়া মেরে দিয়েছে যে, পোঁ দের ফুঁটো দিয়ে দাঁত দেখা যাচ্ছে। খেলা শুরু হতে কী দেখা গেল? আমেরিকা পানু ফিল্মের নায়িকা আবেলা ডেঞ্জার, মিয়া খলিফা/মালকোভা বা লানা রোডস সেজে প্রতিটা ফুটো দিয়ে নিজের ভেতরে- ইরানের সমস্ত মিসাইল জনি সিন্সের ডান্ডার মতো শীৎকার করে ভরে নিচ্ছে। সব ধরনের পোজে একা ইরান ১৪টা দেশকে গ্যাংব্যাং এর অর্গাজম দিচ্ছে জাপানি তেল থুরি চাইনিজ তেল লাগিয়ে। আমেরিকার বিলিয়ন ডলারের রাডার সিস্টেমকে মেলার পাঁপর ভাজার মতো করে খাস্তা মুড়মুড়ে করে দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছে। ইরানের প্রতি ১০০ ডলার খরচের বিপরীতে আমেরিকার খরচা ১ লাখ ডলার, এখানেও চু দে চাপ, পঞ্চুর বাপ।

আপনি তো আবার ধ্রুবক ধরে বসে আছেন, আমেরিকা মানে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, তার কোনো বিনাশ নেই। ওরে বাবাচোদা ফ্যাদামুখো, আমেরিকার ২৪০ বছরের ইতিহাসের শেষ ২০০ বছরে তারা কোনো যুদ্ধ জেতেনি, আর শেষ ৬০ বছরে তারা প্রতিটা যুদ্ধে ল্যাজে গোবরে হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় ইরান যুদ্ধেও সেটাই হচ্ছে, নাকাল নাজেহাল বিপর্যস্ত অব্যবস্থা আর চুড়ান্ত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি শুরু হবে তাদের মেইন ল্যান্ডেও। শিশু যৌন নিপীড়ক ট্রাম্পু এবারে ট্যারিফ চোদাতে গেলে আর ইরানকে লাগবে না, তাদের দেশের লোকই গাঁড়ে ফ্যাটবয় আর লিটিলম্যান একসাথে গুঁজে দেবে। পাতি বাংলায় বললে, আমেরিকার ফাটা বাঁশে বিচি আঁটকে গেছে, সিজফায়ারের নামে যেকোনো মূল্যে এখন বিচি বাঁচিয়ে পালাতে চাইছে। কিন্তু চাইলেই তো আর হবে না, ইরান মরনপণ বাজি রেখে অলআউটে গেছে, অন্তত মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বিচি কেটে খাসি না করে ছাড়বে না। ব্রিটেন ফ্রান্স জার্মানির বিচি শুকিয়ে কিসমিস করে রেখে দিয়েছে রাশিয়া ভায়া ইউক্রেন যুদ্ধ, তাই তারা দূর থেকে হুক্কাহুয়া করছে ও করবে, তেড়ে ছুটে আসার ভান করবে, কিন্তু কামড়াবার কোনো অউকাত অদের অবশিষ্ট নেই। কামড়ালে পরের মিসাইলগুলো বার্লিন লন্ডন কিম্বা প্যারিসের ভূমিতে ‘ফুল’ ফোটালে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

আরবের খোজা মোল্লাদের দেশগুলোকে দিয়ে, ইরান তার ইমানদন্ডকে শুধু চুষিয়ে নিচ্ছে মাঝেমধ্যে- যাতে আমেরিকাকে ঠাপানোর সময় পিচ্ছিলতা বরাবর বজায় থাকে। আসলে চু ত মারা যাচ্ছে আমেরিকার মা মাসির- সামনে পিছনে দুদিক দিয়েই। যা দেখা গেল, আমেরিকার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের চেয়ে চিনা মালের গ্যারান্টি বেশি। আর সেই হিসাবে S-400 তো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিস্ময়, অবশ্য রাশিয়ান মানেই অনেকের চোখে গোলাপি বিস্ময় জাগে। ইজরায়েলকে আলাদা করে উল্লেখ করে লাভ নেই, যৌবনে পুরুষ বীর্যবান হলে যেমন ফ্রিতে বাল গজায় গুপ্তাঙ্গে, ইজরায়েল হচ্ছে আমেরিকার এঁড়-বিচির ঝাঁটের বাল। এর আলাদা কোনো অস্তিত্ব নেই, এক্সটেন্ডেড আমেরিকাই ওটা। যা বাকি বিশ্বে CIA নামে পরিচিত, সেটাই ইজরায়েলী ডাকনাম মোসাদ। আমেরিকাই তার ওই ঝাঁটের বালে শ্যাম্পু সাবান তেল দিয়ে বিনুনি করে রেখেছে, যেদিন আমেরিকার বিচি কেটে খাসি করা হবে সেদিন এঁড়ের বালও আস্তাকুঁড়ে চলে যাবে।

গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধে ইজরায়েল ন্যাংটা হয়ে পায়ে ধরে সিজফায়ার নিয়েছিল, এই যুদ্ধে আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাপড় খুলে নিয়েছে ইরান। বেটিচো দ ট্রাম্পুও এখন লেজ গুটিয়ে পালাতে চাইছে। আমেরিকাও তাদের সক্ষমতার চেয়ে শতগুণ ফোলানো হাওয়া বাঁদর, ইরান সেটাকে উন্মোচন করে দিয়েছে। রীতিমতো পাড়ার মোড়ে ফেলে ক্যালাচ্ছে আমেরিকার ১৯টা ঘাঁটির প্রতিটাতে। আব্রাহাম লিঙ্কন নামের বিমানবাহী জাহাজের খোঁজ নেই, তাকে সম্ভবত জলকবরে পাঠিয়ে দিয়েছে ইরান। বাহারিনের পঞ্চম নৌবহর গাধার গাঁ ড়ে। B-2 কে আনার সাহস দেখাতে পারেনি, কে জানে তার জন্য কোন মিসাইল স্টকে রাখা রয়েছে। B-2 এর একটাকে প্যাকেট করে দিলে তো আমেরিকার ৫০টা ভাই হবে রাতারাতি। তাই তারা পরমাণু বোমা বহনকারী সাবমেরিন আনার হুমকি ধমকি দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটা USA এ্যাম্বাসিতে এখন ঘুঘু চরছে। ট্রাম্পের চিৎকার এখন শীৎকার মনে হচ্ছে, হিজরাএলি বীর কুত্তা জার্মানিতে পালিয়েছে- ‘প্রমিশ ল্যান্ডে’ কয়েক লাখ বেজন্মাকে মরার জন্য ফেলে রেখে। সেই বেজন্মারাও পালাতে গিয়ে রোড জ্যাম করে উদোম খিস্তাচ্ছে। আমেরিকা যদি ইরানে পরমানু হামলা করে, রাশিয়া ইউক্রেনে আর কিম জং দক্ষিণ কোরিয়াতেও পরমাণু বোমার ছুঁচো বাজি ছাড়ার লাইসেন্স পেয়ে যাবে। সুতরাং, হরিনাম খাবলা খাবলা করে গাওয়া যাবে না- আমেরিকার মেনল্যান্ড প্রতিটা ICBM মিসাইলের রেঞ্জের মধ্যে। 

হলিউডি সিনেমাতে আমরা প্রতি বছর ২০টা করে এমন সিনেমা দেখি যেখানে আমেরিকা আক্রান্ত, আজ সত্যিই যখন তারা চুলকাতে এসে আক্রান্ত- 'আজকের দিন অবধি' প্যান্টে হেগে ফেলেছে, ইরানের মতো একটা ক্ষুদ্র শক্তির কাছে। যে ইরানের না বিমান বাহিনী আছে, না নৌবহর আছে, না আধুনিক বিমান আক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা রয়েছে, না আছে সেই মানের আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা রাডার সিস্টেম। যা আছে তা হলো চরম আত্মবিশ্বাস, অকুতোভয় সাহস আর নিবিড় দেশপ্রেম, এর সাথে তাদের মিসাইল প্রযুক্তি। আমাদের ৫৬ ইঞ্চি ভাঁড়ের মতো ট্রাম্পের পোঁ দ চেটে জ্বী হুজুরি তো আরবের মোল্লাচো দা গুলোও করেছে, মানুষ আর মানুষরূপী জানোয়ারের ফারাক থাকবেই। সবাই খামেনিই হতে পারে না।

অবশ্য ফেসবুক টুইটারে কিছু মাল খামেইনির মৃত্যুতে এমন উল্লাস করছে, যেন তার বুড়ি তুবড়ি মাকে পাড়ার কাকারা মিলে গাভিন করে দিয়েছে, তাই ভাই হবার আনন্দে নাচছে জারজ গুলো। তাদের হিসাবে ইরান মহিলাদের বন্দি বানিয়েছে, ওদিকে যারা নারী মুক্তির স্বঘোষিত ধারক বাহক তারা ইরানি বাচ্চা মেয়েদের ইস্কুলে বোমা মেরে ১৫০ জনকে খুন করেছে, কিম্বা কচি ও ডাঁসা বেছে বেছে এপস্টিন দ্বীপ হোক বা আরো অন্যান্য স্থানে নিয়ে গিয়ে সেই মেয়েদের ধর্ষণ করেছে। ইরানে থাই-মাই দেখানো তথাকথিত নারী স্বাধীনতার সময়ে মহিলা শিক্ষার হার ২৪% থেকে বেড়ে আজ ৯৭% পৌঁছেছে। তাদের সরকারি চাকরিতে নারীরা ৫০%, মিসাইল প্রযুক্তির ওয়্যার রুমে নারী বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, কৌশলীরা গিজগিজ করছে। এসব আমাদের দেশের নেড়ীবাদি খেঁকি চমন চুতিয়াদের চোখে-কানে ঢোকে না। আমেরিকান প্রোপাগান্ডা মিডিয়া বলেছে ইরান পচে গেছে, এই বাঞ্চোদেরা সেটাকেই একমাত্র সত্য হিসাবে বাপের বিচির মত আঁকড়ে ধরে বসে আছে। এদের চোখে তার মায়ের মাসিকের রক্তমাখা ন্যাকড়া আর কানে বাপের বাঁ ড়া গোঁজা আছে। এই সব ফেসবুকের আড়াই আনার বিপ্লবীদের জন্ম কীভাবে হয়েছে জানেন? এর বাপেরা বাথরুমে হ্যান্ডেল মারতে গিয়ে কমোডে মাল ফেলেছিল, সেই কমোডের জলে এরা কীভাবে যেন জন্মে গেছে মশার মতো। স্বভাবতই কমোডের গর্ভে জন্মানো মালেদের উল্লাস তখনই হয়, যখন কেউ আবার খিঁচে তাদের মুখে চোখে উষ্ণ বীর্যপাত ও মুত্র বিসর্জন করে দেয়। কে জানে এদের মায়েরাও হয়ত কখনও এপস্টিনের মতো মালেদের খাটে শুয়ে ‘অউফ’ শব্দে অর্গাজম নিয়ে ফেরার ফসল ফলিয়েছিলো কিনা।

সবচেয়ে আনন্দ লাগছে আরবের মোল্লাগুলোর গাঁ ড়ে মিসাইল ভরে দেওয়া দেখে, যেন শৈশবের ঈদের আনন্দ পাচ্ছি। ভেড়াগুলো ভেবেছিল আমেরিকা তাদের বাঁচাবে, তাই গত ৫০ বছর ধরে দুধ কলা আর পেট্রোডলার দিয়ে আমেরিকান সেনাদের পুষে এসেছিল। আজ ইরানের চোদনে আমেরিকার ভাই হবার দশা এসে গেছে, ফলে আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহারিন, ওমান, জর্ডন ও সৌদি- সবকটা বেজন্মা রাজাদের দেশে ইরান মিসাইল-ড্রোন দিয়ে চড়কিবাজি খেলছে। এই সবকটা কাটামোল্লা রাজা বৈভব আর বিলাসিতার চুড়ান্ত পর্যায়ে থাকে সারাবছর, এরা না মুসলমান না ইহুদি না হিন্দু না খ্রিস্টান - এরা জিন্দা শয়তান। এদের হারেমে সাদা চামড়ার বেশ্যাতে ভর্তি, গলা অবধি মদে ডুবে, শুয়োরের মতো ডজন ডজন বাচ্চা পয়দা করাই এদের একমাত্র কাজ। বাচ্চারা যেমন মুখে ললিপপ গুঁজে থাকে, এই শুয়োরের বাচ্চা বেজন্মা মোল্লাগুলো মার্কিনীদের বাঁ ড়া মুখে গুঁজে বসে থাকে। 

দুবাই সহ সমগ্র আরব দেশে চরম খাদ্য সঙ্কট দেখা দেবে অচিরেই। একটারও নিজেদের দেশে খাদ্য উৎপাদন হয় না, বাইরে থেকে আসার উপায় নেই, জল জাহাজ, উড়ো জাহাজ সব পথ বন্ধ। যুদ্ধ পরিস্থিতি আগামী ২ সপ্তাহ চললে খাদ্যের জন্য গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে মোল্লা খা নকির বাচ্চাদের ঘরে ঘরে, শালারা কেরোসিন খেয়ে মরুক। গোটা গাজা’কে যারা মাসের পর মাস অভুক্ত রেখে নিজেরা ফুর্তি লীলা করেছে দিনের পর দিন, আজ সেই সকল গর্ভস্রাব বোকাচো দা দের শুকিয়ে থাকার দিন এসে গেছে। 

বাহারিন নামের দেশটা আপাতত অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে। আর দুবাই এর যা হাল করেছে তাতে আবার তারা ৪০ বছর পিছিয়ে যাবে, সাথে এতো এতো বিদেশী লগ্নির যে বিস্ফোরণ- তাও গাধার গাঁ ড়ে চলে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা। মোল্লাচো দা দের হারেমে একটা করে কামিকাজি ড্রোন গুঁজে দেওয়া না দেখতে পাওয়া অবধি আত্মায় শান্তি আসছে না। সবকটার বিচিতে আলুবোমা দিয়ে ব্লাস্ট করাতে হবে। আলকায়দা আর আইসিস নামের বেশ্যার বাচ্চাগুলো, আরব রেন্ডিদের পেটে আমেরিকার বীর্যজাত বেজন্মা। এদেরকেও এই সময়ে প্যাকেট করে দিতে হবে। ইসলামের নাম নিয়ে কম গণহত্যা খুল লুঠতরাজ এরা করেনি। এই সবকটা মোল্লাদের সর্দার হচ্ছে সৌদি নামে খান কির ছেলেরা, এদের প্রত্যেকটাকে বেছে বেছে আলাদা করে একটা করে মিসাইল পোঁ দে ভরতে হবে। সৌদির পেট বরাবর পূর্ব মাথা থেকে পশ্চিম মাথা অবধি তেলের লাইন পাতা রয়েছে, যা তাদের তেল সরবরাহের মূল ধমনী, সেখানে মিসাইল না গুঁজলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরবে না, ফিরতে পারেনা। শুনলাম তুরস্কে থাকা মার্কিন সেনা ঘাঁটির বিচিতেও নাকি হালকা টঙ্কার মেরেছে আজ ইরানি মিসাইল। ন্যাটোর সাথে মিলে গাজাতে গণহত্যা চালানো- মুসলিম বিশ্বের খলিফা হতে চাওয়া গাঁ ড়দোয়ানের বিচিতেও হালকা চুলকে দিলে, পীর সেজে বায়ানবাজিটা বন্ধ হয়ে হয়।

বর্তমান সভ্যতার বয়স যদি আনুমানিক ৫০০০ বছর হয়, ‘আজকের দিনের’ গণতন্ত্রের বয়স আর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বয়স একই, কমবেশি ওই ৮০ বছর। দুজনেই একে অন্যের হাত ধরাধরি করে এসেছে বিশ্বের সকলের মা বোন চু দে দিয়ে লুঠতরাজ করতে। ‘গণতন্ত্র’ নামের যে মুলো এপস্টিন বাহিনী গোটা পৃথিবীকে দেখায়, সেটা তারা নিজেরাই কখনও প্রাক্টিস করেনি। এই মাচো দাদের কাছে গণতন্ত্র মানে শুধু লুটপাট আর যুদ্ধ হিংসা। মানবতা, নারী স্বাধীনতার ভরং ধারী বাঁদির বাচ্চারা নিজেরা বাচ্চা মেদের যৌনদাসী বানায়, আর স্বাধীন সার্বভৌম দেশে বোমা মারে, তাদের রাষ্ট্রনেতাকে তুলে নিয়ে যায় সম্পদ আত্মসাৎ করতে। গোটা বিশ্বের একটা শ্রেনীর কাছে পশ্চিমা গণতন্ত্রের এই মুলোই একমাত্র আইডল, তারা তাদের পৈতৃক গাঁ ড়ে মুলো হুড়কো খেজুর গাছ যা খুশি গুঁজুক, আমেরিকা যেদিন ‘লৌড়েন ভোজ্যম’ হয়ে যাবে, আজকের রূপে থাকা গণতন্ত্রও ‘বাপরে’ বলে পটল তুলবে নিশ্চিত।

এসব থেকে যা বোঝা গেল, আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আর মমতা ব্যানার্জীর ভাষন- দুটোই এক। এরা দুজনেই যেটাকে বলে আঁটকে দেব, সেটাকে পরিপূর্ণ employment করে ছাড়বেই। এদিকে ভারতের মিডিয়া আর পেঁপে গাছের খাট- দুটোর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কুয়েতে একটি F-15 বিমানের মা চু দে দেওয়া হয়েছে, গোদী মিডিয়ার এ্যাঙ্কর জানাচ্ছে সেটা নাকি পড়ে গেছে, ওলে বাবালে, গুলুগুলু। ফাইটার জেট যেন তার বাপের নু নু, সেই যন্ত্রের শীঘ্রপতনের মতো ফাইটার জেটও ঝরে ঝরে পড়ে।

ইজরাইল কিন্তু সহজে শেষ হওয়ার নয়, হবেও না।  আমেরিকাকে বলি দিয়ে টিমটিম করে হলেও তারা কিন্তু টিকে থাকবে। আমেরিকার বয়স ২৪০ বছর ইহুদিরা টিকে আছে সাড়ে তিন হাজার বছর ধরে। এই সাড়ে তিন হাজার বছরে আমেরিকার মতো কত বিশ্বমোচাদো এসেছে গেছে, এই চোদনা গুলো ঠিক টিকে আছে। এদের মতো ধান্দাবাজ শয়তান পৃথিবীতে দ্বিতীয় কোনো জাত নেই। 

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিবিদরা কাল থেকেই বলছিল শেয়ারবাজার খুললে মার্কিন অস্ত্র কোম্পানিগুলোর শীঘ্রপতন অবশ্যম্ভাবি। CNN, FOX এর মতো বিজ্ঞবিচিদের মুখে রজঃস্রাব করে, আজ শেয়ার বাজার মাল ফেলা ধনের মতো নেতিয়ে পড়েছে। SIR নাটিকা আর ইরান যুদ্ধের বাইরে আপাতত এটাই গল্প। এই শেয়ারবাজার পতন থেকে ডিপস্টেট কতটা মুনাফা কামাবে জানি না, কিন্তু পশ্চিমা সাধারণ জনগণের পুঁজির আবার আঠা আঠা করে গাঁ ড়টি মারা গেলো সেটা বলাই বাহুল্য। আমাদের বাংলাতে দোল উৎসব চলছে, সকালের দিকে ফগও থাকছে। আমেরিকা চু দে যেতেই পাকিস্তান এখন অনাথ হয়ে গেছে। আফগানিস্তানের নামে বিল কেটে আমাদের RAW ইসলামাবাদে হীরামান্ডি খুলে বসেছে পাকিস্তানী সেনার মা বোনেদের নিয়ে, এটাও শরীর ঝাঁকিয়ে সুখ দিচ্ছে। শুনছি নূর খানেরও নাকি খাৎনা করে দিয়েছে আবার! নপুনংশক স্যারেন্ডার মোদীর কতটা মুরোদ হবে এমন সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানকে টুকরো টুকরো করে ফেলার, সেটাই বড় প্রশ্ন।

তবে লোকসান টাকার হলো জানেন, ক্ষতিকুরের। তার পোঁদকাস্টের গাঁ ড় মারা গেছে। SIR নিয়ে তোলামুলের ঢামনামি চাপা পরে গেছে। এতো লক্ষ লক্ষ টাকা খরচা করে i-pac এর যে প্রচেষ্টা, সব মাঠে মারা গেছে ইরান যুদ্ধের কারনে। 

শালে দুখ কা দিন খতম কাহে নেহি হোতা হ্যায় বে!

রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬

ইরান যুদ্ধঃ প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া

 


ইরান ভয়াবহ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে কোন সন্দেহ নেই। কতক্ষণ সে প্রতিরোধ করতে পারবে- সে বিষয়েও নিশ্চিত করে কিছু বলার উপায় নেই। এটা তার টিকে থাকার লড়াই। এসবের মধ্যে প্রথম দিনের হালতামামি করে যতটুকু পাওয়া গেল, তার একটা সারসংক্ষেপ মোটামুটি এইরকম -

ভক্তদের বাপের ফাদারল্যান্ডকে আবার একবার গ্যাংব্যাং করে তাদের মা-বোন-মেয়ে সবাইকে এক খাটে শুইয়ে ন্যাংটা মাচাদো করে বাঙ্কারে ঢুকিয়ে চুতিয়া বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। 

নিজেদের সর্বশক্তিমান বলে দাবী করা বিশ্ব মাচাদো আম্রিগা ল্যান্ডের ১৯টা মধ্যপ্রাচ্য ঘাঁটির মধ্যে ১৫টাই দাউদাউ করে জ্বলছে। জাতিসংঘে গিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের নামে চীন রাশিয়ার পা ধরে পালিয়ে বাঁচতে চাইছে পেডোফাইল ট্রাম্পু। আয়রন ডোমকে মুতে ভাসিয়ে দিয়েছিলো আগেই, এ যাত্রায় 'থার' আর প্যাট্রিয়ট ডিফেন্স সিস্টেমের মা-মাসির ১০৮ বার করে দিয়েছে। মার্কিন ডিফেন্স সিস্টেমও যে আসলে বালির বাঁধ, রথের মেলার পাপড় ভাজার মতন ভঙ্গুর তাদের ডিফেন্স সিস্টেম- সেটাকে ন্যাংটাভাবে প্রমান করে দিয়েছে। যা অবস্থা তাতে আব্রাহাম লিংকন হরমুজের জলেই না সলিল সমাধি নেয়। 

আমেরিকার জেতার একমাত্র পথ হচ্ছে পারমাণবিক আক্রমণে যাওয়া। সেক্ষেত্রে রাশিয়া একই ভাষায় ইউক্রেনে লাভ লেটার পাঠাবে। ওদিকে কিম জং উন, মানে আমাদের ছোট ভাই, তাকে কেউ খেলাতে ডাকছে না। এতে করে সে যদি আবার অপমানিত বোধ করে - কার পিছনে মিসাইল গুঁজে দেবে কেউ জানে না। সব মিলিয়ে এক ভজকট পরিস্থিতি। 

ইরানের দাবি মত ১টা 'ওরেসনিক মিসাইল' যদি মার্কিন মেনল্যান্ডে ফেলতে পারে, তাকে বেশী কিছু করতে হবে না, শুধু একটু সাপ বাজির মতন ধোঁয়া আর ছাই তৈরি করতে হবে- তাতেই গোটা ইউরোপের আন্ত্রিক হয়ে যাবে। আমেরিকার বীর সাভারকেরেরাও তখন গর্তে লুকাবে। এটা কোনো কষ্ট কল্পনা নয়- একটা ঘটলে পালটা হিসাবে দ্বিতীয়টাও ঘটবেই । 

আমেরিকা কার্যত এই মুহুর্ত অবধি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্যালানি খাচ্ছে। ইরাণের মাটিতে তাদের GPS অকেজো, ফলত অন্ধের মত কার্পেট বোম্বিং করে গণহত্যা করলেও- মূল কাজের কাজ করতে পারেনি। উলটে তাদের মধ্যপ্রাচ্য সেনাকমান্ড, সেনা হেড কোয়ার্টার, রাডার, সেনাঘাঁটি, এয়ার বেস এর অধিকাংশই আপাতত 'গাজা'য় পরিনত হয়েছে। কমলা হ্যারিস ট্রাম্পের ইমপিচমেন্ট চাইছে, নিউয়র্কের রাস্তায়, হোয়াইট হাউস পেন্টাগন ওয়াশিংটন ডিসি - সর্বত্র যুদ্ধ বিরোধী জনগণ মিছিল করছে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে।

 ব্রিটেন ফ্রান্স জার্মানি সহ আরবের মোল্লা চো দা গুলো আপাতত সকলে রাজনাথ সিং মোডে চলে গেছে- সবাই কেবল কড়ি নিন্দা জানাচ্ছে। 

 BBC, রয়টার্স, ফক্স, ABC মিলে ২৮ তারিখ দুপুর থেকে প্রতি ঘন্টায় খামেইনিকে ২ বার করে হত্যা করেছে। হত্যার তালিকাতে নাম তোলার ক্ষেত্রে ইরানের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি সেনাপ্রধান বিদেশ মন্ত্রী সহ অনেকেই কয়েকবার নাম তুলেছ এবং ক্রমাগত তুলে যাচ্ছে। নিজেরাই নিজেদের প্রতি আধাঘন্টা অন্তর উদগান্ডু বানাচ্ছে।

 বাহারিন নামের দেশটা আগামীকাল সকাল অবধি থাকবে কিনা কেউ জানেনা। রিয়াধ, জর্ডন, কাতার, কুয়েত সবকটা মার্কিন ঔরসে জন্মানো মোল্লাদের দেশে মিশাইলের গ্রিটিংস পাঠিয়েছে ইরাণ। ওদিকে UAE এর দুবাই আবুধাবিতে T-10 স্টাইলে খেলা হচ্ছে দুবাই এয়ারপোর্ট, জাবেল আলী, জুমেইরা, বুর্জ খলিফাকে- মিয়া খলিফা ভেবে পেলে দিচ্ছে ইরানি ড্রোন আর মিশাইল। 

ইরাণ কতক্ষণ বেঁচে থাকবে জানিনা, কিন্তু এই অবধি আমেরিকাকে এইভাবে উপর্যুপরি ধর্ষিত লাঞ্চিত আর শুয়ে পরে যন্ত্রনায় ছটপট করে পলায়নপর কতরাতে দেখে এক পাশবিক উল্লাস হচ্ছে। যেখানে আমাদের স্বঘোষিত বিশ্বগুরু এক ফোনেই চাড্ডি হলুদ করে ফেলে, ট্যারিফ নামের ভেসলিন দিয়ে পোঁ দ মেরে দিলেও, সামান্য আহ টুকু বের করার মুরোদ হয়না- সেখানে একটা অবরুদ্ধ দেশ তার ক্ষুদ্রশক্তি দিয়ে এভাবে বিশ্বের পরাশক্তিকে ন্যাংটা করে দিচ্ছে- এখানেই তো বেঁচে থাকার সার্থকতা। যুদ্ধবাজ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এমন ধ্বজভঙ্গ দশা আগে দেখা দুরস্থান- কল্পনা করেছিলো কেউ?


শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না


⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔

আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাাসক তৃনমূল ও i-Pac, রাজ্যের সমস্ত মানুষকে ভীষণভাবে সতকর্তা অবলম্বন করার জন্য আন্তরিকভাবে অনুরোধ করছি। বিশেষ করে ‘চাপড়া থেকে চোপড়া’ এই অঞ্চলের মুসলমান অধ্যুষিত এলাকা, SC জনবহুল অঞ্চলে পরিকল্পিত হুজ্জোতি, ভাঙচুর ও অরাজকতা সৃষ্টি করার তালে রয়েছে এই তোলাবাজদের সরকার, যাতে 2024 এর ভুতুরে ভুয়ো ভোটার সম্বলিত ভোটারলিষ্ট অনুযায়ী আগামী বিধানসভা নির্বাচন করাতে পারে।

নির্যাতন কমিশনের ইচ্ছাকৃত সৃষ্ট নানান সমস্যা বিবিধ আইনি পথে সমাধান করতে হবে, তার জন্য সুষ্ঠু আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। যে সকল নাগরিককে নানান ফন্দি ফিকিরে অবৈধ ঘোষণা করবে বিজেপি পরিচালিত নির্যাতন কমিশন- তাদের জন্য নির্দিষ্ট আইনি লড়াই এর প্রস্তুতি নিতে হবে। তৃণমূলের রাজনৈতিক কুহকে পা বাড়ালে, তাদের পুলিশই আপনাদের নামে মামলা মোকদ্দমা দিয়ে জেরবার করে দেবে। সমস্ত ধরণের উস্কানি উত্তেজনাকে উপেক্ষা করে, ধীর স্থির ভাবে নিজেদের সংগঠিত করে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে আন্দোলন গড়ে তুলে নিজেদের হক ফিরিয়ে আনতে হবে। মিথ্যা মামলাতে জড়িয়ে গেলে তার ভোগান্তি একমাত্র আপনার ও আপনার পরিবারের, দল তৃনমূলের লাশ দরকার- তারা আমার আপনার লাশ নিয়ে রাজনীতি করে রাজনৈতিক তুলতে মরিয়া। 

তৃণমূল পোষিত প্রতিটা মিডিয়া হৈ হৈ করে এই সমস্ত অশান্তির খবরই একমাত্র ‘প্রায়োরিটি’ সহকারে Breaking News হিসাবে প্রচার করতে শুরু করবে, যদি তারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে সফল হয়। RSS সম্পূর্ণ ভাবে মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে এই সুযোগে দাঙ্গা বাঁধাবার ফিকির খুঁজবে, বিশেষত মালদা মুর্শিদাবাদ ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে। তখন মুসলমানদের টার্গেট করে মিডিয়া ট্রায়াল শুরু করে দেবে ভাতাজীবি সাংবাদিকদের দল।

তৃণমূল কংগ্রেস একটা সামাজিক আস্তাকুর, রাজনীতির অন্তরালে যেখানে সারা রাজ্যের যত সমাজবিরোধী, দুষ্কৃতি, চোর, ধর্ষক, তোলাবাজ, দাঙ্গাবাদ, ধর্মোন্মাদ পচাগলা মালেদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল। নিষিদ্ধ সংগঠন 'সিমি'র ইমরান থেকে আসানসোলের খুনী দাঙ্গাবাজ বাবুল সুপ্রিয়ের পৃষ্ঠপোষকতা তৃণমূল কংগ্রেস করে এ রাজ্যে। সম্প্রীতির মুখোশ খসে পরে তৃণমূলের নিকৃষ্ট মুসলমান বিদ্বেষী মুখটা বাইরে চলে এসেছে আরো একবার- যেখানে RSS নেতার সমকামী কন্যা মুসলমান মৌসম নূরের স্থলাভিষিক্ত হয়। এর পরেও মুসলমান সমাজকে তারা বলে- বিজেপিকে নাকি তারা আঁটকাবে! RSS এর এ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন তৃণমূলই করে দিলে, বিজেপির দরকারটা কোথায়?

🔰 SIR ও মমতা ব্যানার্জী- টাইমলাইন 🔰

✅ SIR আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে হবে 
✅ একটা নামও বাদ দিতে দেব না 
✅ একটা বৈধ নাম বাদ দিতে দেবো না

❌ কিন্তু একবারও বলেনি- একটাও অবৈধ নামও থাকতে দেবো না। ❌

উল্টে কি বলেছেন? প্রি SIR যে ভোটার তালিকা অর্থাৎ ২০২৪ সালের যে ভোটার তালিকা সেই তালিকা অনুযায়ী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন করতে হবে। এটা শুধু মুখে বলেছেন এমনটা নয়, রীতিমত সুপ্রিম কোর্টের হলফনামায় লিখিতভাবে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে এফিডেভিট দিয়ে।

দেশের বারোটা অঙ্গরাজ্যে SIR প্রক্রিয়া কাজ শুরু হয়েছিল, তার মধ্যে কেরল, তামিলনাড়ু জাতীয় বিজেপি বিরোধীদের রাজ্য, এমনকি বিজেপি শাসিত গুজরাট রাজস্থান মধ্যপ্রদেশ ছত্রিশগড় এর মত বড় রাজ্যের প্রত্যেকের পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তাহলে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে তালিকা এইরকম আধা-খেঁচড়া অবস্থায় পড়ে আছে কেন?

সাদা খাতার BLO, তৃনমূলের পে রোলে থাকা ডেটা এন্ট্রি অপারেটর দিয়ে সমস্যা তৈরি শুরু করেছিলো। যত সময় গেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের পায়ের তলার মাটি সরে যেতে শুরু করেছে; ততই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অসহযোগিতা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। দিন যত গড়িয়েছে, পর্যাপ্ত সরকারি অফিসার না দেওয়া, জেলা প্রশাসন ও AERO পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ অসহযোগিতা শুরু করেছিলো। আদালতের নির্দেশের আগে অবধি চূড়ান্ত অসহযোগিতা করা হয়েছে ও হচ্ছে। যার ফল আজকে এরকম একটি অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে। প্রত্যেকটি বৈধ নাগরিকের আজকের এই অসহনীয় পরিস্থিতির মুখে পড়ার দায় যতটা নির্যাতন কমিশনের তার চেয়েও বেশী দায় এক ও অদ্বিতীয় শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের। সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য রাজ্যের জনগণের একটা বড় অংশকে নাগরিকত্বের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। 

সীমান্ত অঞ্চলে বিজেপি যতটা বিপাকে পড়েছে, গোটা রাজ্যজুড়ে তৃণমূল তার থেকেও অনেক বেশি বিপদে পড়েছে। SIR নিয়ে শুরুতে অতি উৎসাহ দেখাতে গিয়ে যখনই বিজেপি বুঝতে পেরে গেছে যে, অবৈধ ভোটার বাদ গেলে প্রকৃতপক্ষে গাড্ডায় পড়তে চলেছে তৃণমূল, আর ২ কোটি রোহিঙ্গা জাতীয় ফাঁপা মিথ্যা কথার জন্য তাদেরকে থুতু চেটে খেতে হবে, তখনই 'বিষাক্ত ভোঁদর' শুভেন্দু মিডিয়া থেকে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে দু-সপ্তাহ আগেই। এমনকি কোলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে হওয়া ২৭শে ফেব্রুয়ারি বিজেপির বড় পর্যায়ের দলীয় মিটিং-এ অবধি শুভেন্দুকে আনেনি তারা, পাছে অতীতের মিথ্যার দরুন অপ্রস্তুতে পরতে হয়।

তাই করজোড়ে অনুরোধ- তৃণমূলের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে নিজের ও পরিবারের সর্বনাশ ডেকে আনবেননা। 🙏

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ফ্যাসিজম ও আজকের পৃথিবী


সমগ্র বিশ্বজুড়ে 'ফ্যাসিবাদী ডানপন্থা' ছত্রাকের মত আষ্টেপৃষ্টে বর্বরতার নাগপাশে বেঁধে ফেলেছে। বর্ডারের সীমানা পেরিয়ে মাকিন মুলুকের ট্রাম্প হোক কিম্বা মোল্লাদের সৌদি, ভোগবাদী ইউরোপ  বা RSS এর ভারত- উগ্র জাতীয়তাবাদী মিথ্যা ভুয়ো দেশপ্রেমের নামে দেশের সম্পদ নির্দিষ্ট কিছু পুঁজিবাদী শোষক সংস্থার কাছে তুলে দেওয়ার জন্য যাবতীয় নিপীড়নের আয়োজন। 

১২ বছরের BJP শাসন রাষ্ট্রের প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দিয়েছে, সর্বত্র নোংরা ধর্মীয় মেরুকরন করা হয়েছে ভোটের বাক্সে তাৎক্ষণিক ফায়দা লুঠতে আর এই জন্য যেকোনো মাত্রার সহিংসতাতে মেতে উঠতে এদের কোনো ক্ষেপ-আক্ষেপ থাকেনা। আমাদের ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী সংবিধান ও তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে রোজ আক্রমণের মুখে ফেলে ভঙ্গুর করে তোলা হচ্ছে। সিভিল সোসাইটি উদভ্রান্ত, আদালতের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, নির্বাচন সংস্থার ভূমিকা শাসকের দলদাসের, সর্বত্র একটা অশান্তি আর অবিশ্বাসের পরিবেশ। কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্যাক্তি তথা কয়েকটি পুঁজিবাদী গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে। এরা যেকোনো মূল্যে নির্বাচন বা গণতান্ত্রিক কাঠামোর বিলোপ চায়।

বিরোধী কন্ঠস্বরকে তাচ্ছিল্ল্যের সাথে হিংস্রভাবে দমন করা হচ্ছে সর্বত্র, যাতে প্রশ্ন করতে ভয় পায়। জাতিগত হানাহানি, ধর্মীয় বা অভিবাসী সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক নীতি গ্রহণ করে এরা নাগরিক অধিকার সংকুচিত করতে মরিয়া, তাই কখনও NRC তো কখনও SIR এর মত নিরীহ পদ্ধতিকে ধারালো অস্ত্রের মত ব্যবহার করছে সংখ্যালঘু সংহারের জন্য। ভিন্নমতাবলম্বীদের যেকোনো মুল্যে নৃশংস হাতে দমন করা নিত্য নৈমিত্তিক প্র্যাকটিস। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য বা নিপীড়ন করাটাকে রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টো বানিয়ে ফেলেছে এই চরম ফ্যাসিবাদী RSS. 

স্বাধীন সাংবাদিকতা যা সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখে, তাদের সিংহভাগকে কিনে নিয়ে পোষ্য কুকুর বেড়ালে পরিনত করেছে, তারা সেটাই বলছে যা শাসক চায়। যাদের কিনতে পারেনি তাদের গলায় মামলার বেড়ি লাগিয়ে দিয়েছে, তাতেও না হলে হত্যা করে দিয়েছে। এই হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের ঘুণে ধরা দশা, কোনটা সংবাদ আর কোনটা প্রোপাাগান্ডা সেটার ফারাক করাই আজ জনগণের কাছে কঠিন হয়ে গেছে। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের প্রকোপ আজ সর্বত্র, তা প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া হোক কিম্বা সোশ্যাল মিডিয়া।
.
আমাদের রাজ্যের দিকে তাকালেও একই দশা, একটু অন্য আঙ্গিকে কিন্তু লক্ষ্য সেই এক- প্রশ্নহীন আনুগাত্য। শাসক দল, রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ একদেহে লীন হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় বলে আর কোনো শব্দ নেই, সবটাই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। সর্বত্র চুরি রাহাজানি আর লুঠপাঠ অন্ধকারের রাজত্ব। সরকার নিজে তার কর্মীদের টাকা চুরি করছে প্রাপ্য DA না দিয়ে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কোমায় পাঠিয়ে কর্পোরেট পুঁজির জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করে গেছে গত ১৫ বছর ধরে। RSS এর মন্দির মসজিদ গরু শুয়োরের রাজনীতিকে যথাযত প্রয়োগ করে ঠিক ভোটের আগে দাঙ্গার রাজনীতি করা, ধর্মীয় মেরুকরন ও ভোট লুঠের উদ্দেশ্যে গাঁ-গঞ্জে রক্তের নদী বইয়ে দিয়ে নির্লজ্জ নিরুত্তাপ থাকার এক অদ্ভুত কৌশল আমরা দেখেছি RSS স্পনসর্ড তৃনমূল সরকারের আমলে।

পশ্চিমা ভাবধারার দক্ষিণপন্থা, দিনের শেষে আপনার টুঁটি ধরবেই- তা সে যে ভেক ধরেই আসুকনা কেন। একে প্রতিহত করার নামই বিজয়। গণতন্ত্রে ভোটের মাধ্যমেই নীরব বিপ্লব সংগঠিত হয়, আগামীতে আমাদের সামনে সুযোগ এসেছে সেই বিপ্লবের সাক্ষী হতে, যোদ্ধা হতে, যুগ বদলের অন্যতম কাণ্ডারি হতে। চলুন সমূলে উপড়ে দিয়ে, ছুঁড়ে ফেলি এই বিষাক্ত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে।

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অঙ্কঃ ২০২৬ ভোটের আগেই তৃনমূল ফিনিশ

 

মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ, ভোটের আগেই তৃণমূলও ফিনিস। অঙ্ক সেটাই বলছে। মিলিয়ে নিন নাহয়-

মুখ্যমন্ত্রী মোটামুটি নিশ্চিত ১কোটি ২০ লাখ নাম কাটা যাচ্ছেই। কিছু ভুলভ্রান্তি বাদে, ধরে নেওয়া যায় ১ কোটি ১০ বা ৫ লাখ অবৈধ ও ভুয়ো ভোটার। নিদেন পক্ষে ১ কোটি নাম বাদ যাওয়া কেউ রুখতে পারবেনা।

রাজ্যে ২০২৪ সালের ভোটার লিষ্টে ৭ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ছিলো। যার মধ্যে পোল হয়েছিলো ৬ কোটি ৫ লাখ মত ভোট। উপরোক্ত ওই সম্ভাব্য বাদ যাওয়া ১ কোটির আশেপাশে ভুতুরে ভোটারের প্রায় সমস্ত ভোটটাই পোল হয়েছিলো, যার ৮০% তৃণমূলের বাক্সেই গিয়েছিলো, এটা বলার জন্য কোনো বিশেষজ্ঞ হতে হয়না। 

পোলিং ভোটের ৬ কোটির নিরিখে ওই ১ কোটি মানে ১৬.৬৬% ভোট নেই হয়েছে। যার মধ্যে ১৪% এরও বেশী ভোট ভুতুরে ভোট তৃণমূলের ছিলো, যেটা গায়েব হতে, ২০২৪ এর ভোটে প্রাপ্ত তৃণমূলের ৪৩.৬৯% ভোট শেয়ার কমে দাঁড়াবে- ২৯.৬৯% তে। 

২০২৬ এর নিরিখে রাজ্যে মুসলমান ভোট দাঁড়াবে কমবেশী ৩০%, যার মধ্যে বাম+কংগ্রেস ও অন্যান্য ছোট দল মিলে ৫% পায়। বাকি ২৫% এর গোটাটা তৃণমূল পেয়ে এসেছে গত ১৪ বছর ধরে প্রতিটা নির্বাচনে। এখন এই মুসলমান ভোটের মাত্র অর্ধেক, হ্যাঁ- যদি অর্ধেকও যদি তৃণমূলের মুখে ঝাঁটার বারি মারে, তৃণমূলের ২৯.৬৯% ভোট কমে ১৭%তে মুখ থুবড়ে পরবে। ৫০টা আসনে জিতলেই তৃণমূল বর্তে যাবে। এর পর চুরি দুর্নীতির কারনে কিছু বাদ গেলে তো আরো শেষ। 

পিসি ভাইপো গায়ক নায়ক ধমকে চমকে টাকা ছড়িয়ে,  জাপানি তেল রকেট ক্যাপসুল ভায়াগ্রা সর্বিট্রেট RSS কোনো ওষুধই তৃণমূলের শ্মশানযাত্রা আঁটকাতে পারবেনা নিশ্চিত। দুর্নীতিগ্রস্থ BDO/SDO আর থানার অসাধু দলদাস OC/IC এর দলও যদি তৃণমূলের হয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় নেমে পরে উলঙ্গ হয়ে- তারাও জনরোষের শিকার হবে, তাদেরও পরিবার পরিজন আছে। হারামের টাকায় ফুর্তিমারা কোনো চোর বাটপার এবারে পাড় পাবেনা।

সুতরাং, আতঙ্কিত মমতা ও i-Pac সমানে SIR এর মুসলমানকে বাদ দিচ্ছে এমন গল্প ফেঁদে মুসলমান সমাজকে অশান্ত করে রাজ্যে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে। মুসলমান সম্প্রদায়কে ভয় দেখিয়ে উস্কিয়ে রাজ্যে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। আসল সমস্যার লক্ষ গুন মিথ্যা প্রচার। যেমন SIR এর লাইনে লোকে অসুস্থ হবার গল্প ছড়াচ্ছিলো, অথচ বেকার ভাতার লাইনে সবাই ফুর্তিতে রয়েছে। আতঙ্কিত মুসলমান নয়, আতঙ্কিত তৃণমূল। মুসলমানের নাম বাদ কতটা যাবেনা জানিনা, কিন্তু তৃণমূলের নাম নিশান মুছে যাবে রাজ্যের বুক থেকে- এটার দেওয়াল লিখন পড়া যাচ্ছে।

যতটা আতঙ্কিত হবার কথা, তার লক্ষ গুণ আতঙ্ক তৃণমূল নিজে ছড়াচ্ছে তাদের পোষ্য মিডিয়া আনন্দবাজার, সংবাদ প্রতিদিন, TV9 বাংলা, আজকাল আর বর্তমান মিলে। সাথে ফেসবুক আর ইউটিউবের ভাতাজীবি কিছু স্বঘোষিত মিডিয়া আর বিশ্বমাচাদো সাংবাদিক কুল। তোলামূলের হারামের টাকায় পুষ্ট এরা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য জান কবুল লড়াই করছে যাতে তাদের রোজগার বেঁচে থাকে।

মমতা ব্যানার্জীও সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টায় আছে, যেন তেন প্রকারে ২০২৪ এর ভুতুরে ভোটারলিস্ট ধরে ভোট করাতে। SIR নিতে তার মূল আপত্তি ভুতুরে ভোটার বাদ দেওয়া যাবেনা। মমতা ব্যানার্জী নিজেও ভোটে না দাঁড়িয়ে পালাতে চাইছে- এতে তাদের ভয় ও আতঙ্ক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামীতে যা খুশি হোক- মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক কেরিয়ার দৃশ্যত ফিনিস।

সুতরাং, কোমর বেঁধে রাস্তায় নেমে পরুন। আমীতে রাজ্যের ক্ষমতায় কে আসবে তার চিত্র আজও পরিষ্কার নয়, কিন্তু এটা নিশ্চিত যে- ২০২৬শে কোনো অঙ্কে তোলামূল আর ফিরছেনা- এটার চেয়ে সত্যি এই মুহুর্তে আই কিচ্ছু নেই।

CPIM এর জন্যও এ এক চুড়ান্ত সুযোগ, মিডিয়াকে ভৌ ভৌ করতে দিন, কুত্তা ভৌভৌ করবে, কষিয়ে ক্যাৎ করে একটা লাথ মারলে কেঁউকেঁউ করে লেজ গুটিয়ে পালাবে। শুধু মাটিতে দাঁত কামড়ে পড়ে থেকে ভোট গণনা অবধি জান লাগিয়ে দিতে হবে। 


জনগণের বিজয় অদুৱেই। 


মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মুকুল রায়


বাংলায় সন্তজলীয় রাজনীতির অনুপেক্ষনীয় জনক


মুকুল রায়, যিনি ভবিষ্যৎ দেখতে পেতেন, শুধু এমনটা নয়; তিনি ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতেন ছলে বলে কৌশলে। কেউ তাকে চাণক্য বলেন কেউ বলে চোর, যে যা খুশি বলুক তার নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে, আমি তাকে ‘মুকুল রায়’ই বলব। বাংলার বুকে দক্ষিণপন্থী রাজনীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক পান্ডিত্যের উর্ধ্বে প্রণব মুখার্জির সমমানের ক্ষুরধার মস্তিষ্ক যদি কারো হয়ে থাকে, সেটা মুকুল রায়। চাণক্য তোপ বা পরমাণু বোমা ছিলেন হয়তবা, সেখানে মুকুল রায় সামান্য সূচ; কিন্তু সেই প্রায় অক্ষম সূচই এতটা বিষাক্ত হয়ে তার বিরোধী রাজনীতির শরীরে মনে গেঁথে গিয়েছিল, যেখান থেকে আজও কংগ্রেস ও বামেরা বের হতে পারেনি। 

মমতা ব্যানার্জী তৃণমূল দল তৈরি করেননি, দল অজিত পাঁজা বানিয়েছিলেন। মুকুল রায় সেই সদ্য ভূমিষ্ঠ তৃণমূলেরর সমস্ত ব্যাক অফিস পিঠে করে বয়ে নিয়ে একটা দল বানিয়ে তুলেছিলেন নেপথ্যে থেকে। মুকুল রায়ের ৩০% রাজনৈতিক প্রাজ্ঞতা, রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি, রিস্ক নেওয়ার সাহস, উপস্থিত বুদ্ধি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যদি আজকের বামেদের সবকটা নেতা মিলিয়েও থাকতো, দলটা কবে দাঁড়িয়ে যেতো। লোকে এটা ভুলে গেছে, মুকুল রায় ২০১৬ সালে তৃণমূল থেকে চলে যেতে আইপ্যাককে আসতে হয়েছিল মমতার পরামর্শদাতা হিসাবে। 

অত্যন্ত লো-প্রোফাইল, ভীষণ ডিসিপ্লিন, সাথে আন্তরিকতা- এটাই তাকে দক্ষ সংগঠক করে তুলেছিলো। যে মানুষ রাগে না, তার চেয়ে ডেডিকেডেট ত্রাস কম জনই হতে পারে, মুকুল রায় ছিল সেই ব্যতিক্রমী চরিত্র, যাকে রাগানো একপ্রকার অসম্ভব ছিল। একটা মানুষ কখন এগিয়ে যায় জানেন? না, প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রী কাউকে ধড়াচূড়া শিক্ষিত বানালেও জ্ঞানী বানাবে তার নিশ্চয়তা নেই। জ্ঞানী সেই লোক যিনি শুধু নিখুঁত পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত বিশ্লেষণ করে ফেলতে পারেন পরিস্থিতি বা ঘটনাকে। জ্ঞানী সেই লোক, যে বলে কম, শোনে বেশি- মুকুল রায় দ্বিতীয় ক্যাটেগরির লোক ছিলেন, যিনি নিজে হামবড়া না সেজে, রাজ্যের প্রায় প্রতিটা হামবড়াদের পথে বসিয়ে দিয়েছিল। এমনকি শেষ কালেও বিজেপি আর তৃণমূলে যে কোনো প্রভেদ নেই, এটাও তিনিই প্রমাণ করে দিয়ে গেছেন অফিসিয়ালি, এটাই মুকুল রায়। সৌজন্যবোধ আর শালীনতা তাকে অহংকারী আর অতিচালাকি করে তোলেনি, তাই তিনি তার রাজনৈতিক লক্ষ্যে অবিচল ও সফল ছিলেন।

তিনি শৈল্পিক ঘরানায় এসরাজ বেহালা তবলা বাজাতেননা, এক উদাসীন ভঙ্গিমায় প্রিলিউড ইন্টারলিউড গাইতেন কথ্য ভাষায়, তাতেই তার বিরোধী রাজনৈতিক মহলে হাহাকার পরে যেত। এটাই শিল্পী মুকুল রায় স্টাইল। মুকুল রায়ের মতন প্রোফাইল প্রতিটা রাজনৈতিক দলে হাজারে হাজারে আছে তারপরেও লোকটা 'স্বতন্ত্র' মুকুল রায় হয়ে বঙ্গীয় রাজনীতিতে অনন্য নিজস্ব ধারা সেট করে যেতে সক্ষম হয়েছে। আপনি ডানধারায় থাকুন কিংবা বামধারায়, মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতিকে উপেক্ষা করার উপায় নেই আপনার। আজকের পশ্চিমবঙ্গে যে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির ফর্মটাকে আমরা দেখছি, তার ইঞ্জিনিয়ারিং মুকুল রায়ের হাতে তৈরি করা। বঙ্গীয় রাজনীতিতে ঘোড়া কেনাবেচা মুকুল রায়ের তৈরি। চিটফান্ডকে সরাসরি দলীয় ফান্ড হিসেবে ব্যবহার করা, প্রশাসন আর দলকে গুলিয়ে দেওয়া- অত্যন্ত দক্ষতা ও কনফিডেন্টের সাথে প্রতিটা দুষ্কর্ম করেছেন।

এথিক্সহীন নোংরা রাজনৈতিক জামানার জননী মমতা ব্যানার্জী হলে, মুকুল রায় তার সুযোগ্য পালকপিতা। এটার সুচারু শুরু বা এটার গুরুও এই মুকুল রায়ই। তারপরেও একটা সুক্ষ পার্থক্য রয়ে গেছে উভয়ের মাঝে, প্রায় একই নামগোত্রহীন সামাজিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে উঠে আসা মুকুল রায়ের তথাকথিত শিক্ষাগত যোগ্যতার অস্তিত্বকে জাহির করতে কোন অসততা তঞ্চকতার পথ নিতে হয়নি। কথায় কথায় মিথ্যাচার করতে হয়নি, নিজেকে শিল্পী কবি সাহিত্যিক বানাবার চেষ্টা করতে হয়নি, তার এক ও অকৃত্রিম পরিচয় ছিলো- রাজনীতিবিদ। সেই অর্থে মিডিয়ার ব্লু-আইড বয় ইমেজও কখনও ছিল না। মুকুল রায়ের মূল কৃতিত্ব তার ভাবলেশহীন মুখের অসাধারণ ফ্লেক্সিবিলিটি এবং গোপনীয়তা রক্ষা করার এক অনন্য সাধারণ দক্ষতা। এক‌ই পার্টির দুই লবি বা গোষ্ঠী বানানো এবং সেখান থেকে জন্মানো দ্বন্দ কীভাবে মেটাতে হয়, এটার উপরে তার মাস্টার্স করা ছিল। 

পশ্চিমবঙ্গের এত বছরে বাম লেগাসিকে কেলিয়ে লাট করে, নৈতিকতার মুখোশ খুলিয়ে আর্থিক লোভের ফাঁদে ফেলে, যাকে যেভাবে পেরেছে ন্যাংটা করে হাতে বাটি ধরিয়ে, তাদের তীব্র অহং আর ঔদ্ধত্যকে দেওয়াল ধরিয়ে, পিঠের চামড়া গুটিয়ে পোঁদে নামিয়ে দিয়েছিল যে লোকটা- তার নাম মুকুল রায়। শুধু তাই নয়, গোটা বাম সমাজ আজ বাম রাজনীতির নামে যে ‘পার্লামেন্টারি আর জুডিশিয়ারি প্র‍্যাক্টিসের’ নাগপাশে বন্দি, সেই বৃত্তে তাদের গোলগোল ঘুরিয়ে বেরাবার যে ব্লুপ্রিন্ট তা মুকুল রায়ের তৈরি, মমতার নয়। নকশাল, কংগ্রেস, অতিবাম, এসোসুই, NGO, সিদ্দিকুল্লাহ, রাজবংশী, গোর্খা বিচ্ছিন্নতাবাদী, সিমি, জামাত, বিজেপি থেকে মাওবাদী- সমস্ত আলবালছাল এই সকলকে এক ছাতার তলায় আনার ক্রেডিট মুকুল রায়ের, সূচ হয়ে এদের সকলকে এক চাদরের নিচে সেলাই করেছিলেন তিনি। মমতার অগ্নিকন্যা আর সততার প্রতীক ইমেজ ছিল, সেই ইমেজের পারফেক্ট ব্যবহার মুকুল রায় করেছিল। 

ওই যে তাৎক্ষণিক মারপ্যাঁচ ও সেই মতো দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সকলকে যোগাড় করে এনে একটা চাদর বোনা- এটা বিরল কৃতিত্ব ছিল বাম বিরোধী রাজনীতিতে। না তিনি ভাল মঞ্চের বক্তা ছিলেন, না ক্যারিশ্ম্যাটিক উপস্থিতি, না ব্লু-ভেইন বংশমর্যাদা, না হাইফাই শিক্ষাগত যোগ্যোতা, তার পরেও একটা ৩৪ বছরের ক্যাডারভিত্তিক ক্ষমতাসীন আদর্শবাদী পার্টিকে সরাতে এই লোকটা কৃষ্ণের মতো যোগ্য সারথির মতো কাজ করে গেছেন। যিনি জানতেন তার সেই উজ্জ্বল ক্যারিশ্মা নেই, না তার পিছনে জেভিয়ার্স, যাদবপুর বা JNU ট্যাগ রয়েছে, না তিনি আইনজীবি বা অর্থনীতিবিদ, গায়ক, নায়ক ছিলেন। অনেকে বলেন তিনি নাকি ওয়াগান ব্রোকার বা সাট্টা দলের চাঁই ছিলেন- সত্যিও হতে পারে মিথ্যা হতে পারে। ধরে নিলাম এটাই সত্যি, তাহলে সেই নর্দমা থেকে উঠে এসে, কোলকাত্তাইয়া রাজনীতির বৃত্তে ঢুকে পড়ে, একটা তথাকথিত শিক্ষিত মানুষের দলকে পথে বসিয়ে দিয়েছিল, CPIM বাদে বাকি দলগুলোকে সাইনবোর্ড বানিয়ে দিয়েছিল তার কুৎসিত দুর্বুদ্ধি দিয়ে। তিনি তার সমস্ত লিমিটেশন ঢেকে দিয়েছিলেন ক্ষুরধার শয়তানি বুদ্ধি দিয়ে। মমতার ইমেজকে ব্লেডের মতো ব্যবহার করে সর্বত্র ফালাফালা তিনি করেছিলেন।

শত্রুকে ঘৃণা করতেই হবে, কিন্তু রাজনীতি করতে এসে রাজনৈতিক ব্যক্তিকে যে শুধু ঘৃণার বসে যারা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য উপহাস করে, তার মতো হতচ্ছাড়া মূর্খ গাম্বাট আর কেউ হয় না। সমালোচনা হতে পারে তীব্র ভাবে কিংবা প্রশংসা করতে পারেন, উপেক্ষা করতে পারেন না। তার সময়ে তাকে নিয়ে কেউ কেউ আশায় থাকত, কেউ আবার আশঙ্কায়। কিন্তু, এটা নিয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই, যে তিনি যদ্দিন প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে সুস্থ শরীরে ছিলেন- তাঁর নিজের মতো করেই ছিলেন।

এটা হচ্ছে মুকুল রায়ের সম্বন্ধে আমার মূল্যয়ন। আমি তার রাজনৈতিক আদর্শকে ঘেন্না করি, কিন্তু উপহাস করতে পারি না, কারণ সে চোখে আঙুল দিয়ে তার বিরোধী প্রতিটা রাজনৈতিক দলের ফাঁকফোঁকর দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। দম্ভ অহমিকার হাড়ে মজ্জায় জন্মানো ক্যান্সার খুঁচিয়ে দিয়ে তাসের ঘরের মতো একটা নীতি আদর্শবাদী দলকে প্রায় ডোডো পাখি করে দিয়ে গেছেন তার সময়ে। মরে যাওয়ার পর তাকে গালিগালাজ দিয়ে নিজের অপরাগতার ঘায়ে উপশম দেওয়ার ছলনা করা যায়, নিজেদের ব্যর্থতাকে জাস্টফাই করা যায় না। আগামীকাল আপনি সফল হবেন তখনই, যখন মুকুল রায়কে পর্যালোচনা করে দেখবেন যে, সে কোন পথে বাম সাম্রাজ্যকে ধ্বসিয়ে দিয়েছিল। যারা অতীতকে অন্তঃসারশূন্য হয়ে উন্মত্ত ভাবে কেবল ঘৃণা করতে শেখে, সেখান থেকে শিক্ষা নেয় না, তারা কখনও সোজা মানুষ হতে পারে না।


নদী যদি তার স্রোত হারায় তাকেও নর্দমায় পরিণত হতে হয়, শেষ জীবনে মুকুল রায়েরও সেটাই হয়েছিলেন। মৃত্যুর পর একটা মানুষকে সবাই মিলে শ্রদ্ধা দেখাতে হবেই বা কেন? কেনই বা তাকে সবাই মিলে মূল্যায়ন করতে হবে, প্রয়োজন নেই তো, যোগ্যতাই বা কজনের আছে? যারা রাজনীতির ছাত্র, তারা তথ্যগতভাবে ও সময়ের নিরিখে সুক্ষ বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার মন্দ রাজনৈতিক দিকগুলো নিয়ে মূল্যায়ন করবে, প্রয়োজনে তীব্র আক্রমনাত্বক হলেও তাতে দোষ নেই। কিন্তু ২ পয়সার জ্ঞান নিয়ে আপনি তাকে উপহাস তাচ্ছিল্য করতে পারেন না, কারণ এই ব্যাক্তিই আপনার রাজনৈতিক মতাদর্শকে তার ক্ষমতা দিয়ে দুর্বল করার সাথেসাথে, আপনাকেও তুচ্ছ হাসির পাত্র বানিয়ে যাবার কারিগর। আজ সোস্যাল মিডিয়ার সর্বত্র যে সব নপুংসক, ঘরে বসে জাতীয় কংগ্রেস বা কমিউনিস্ট রাজনীতির নামে বিশ্বজয় করে ফেরে, সেই সব কঙ্গু বা বাম্বাচ্চা যাদের প্যাকাটির মতো মেরুদন্ড, এদের প্রত্যেকের জন্ম মুকুল রায়ের বীর্যে। কারণ এদের বাপেদের ধরে ধরে মুকুল রায় খোজা করে দিয়েছিল তার সময়ে।

সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

দাঙ্গা ALART

 

যেকোনো সময় রাজ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে দিতে পারে তৃণমূল বিজেপি ও তাদের বাপ RSS. সমস্ত ধরনের জাপানি তেল, রকেট ক্যাপসুল, ভায়াগ্রা, তন্ত্রমন্ত্র, ঝাড়ফুঁক ইত্যাদি কোনো কিছুতেই বিজেপি - তৃণমূল বাইনারি দাঁড়াচ্ছে না। তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে সংবাদ শিরোনাম ফিরে পেতে।

রাজ্যের মুসলমান ১৫ বছর ধরে রোজ ঠকেছে মমতা ব্যানার্জীর কাছে। সাচার কমিটির রিপোর্ট দেখিয়ে ক্ষমতায় এসে, মুসলমানকে আরও খাদে ঠেলে দিয়েছে। মুসলমানের চাকরি হয়নি, তাদের OBC গেছে, ওয়াকফের সম্পত্তি খেয়ে নিয়েছে তৃণমূল সরকার, মুসলমান বাড়ির ছেলেরা পরিযায়ী হয়ে বালবাচ্চা পরিবার ছেড়ে ভিনরাজ্যে ধুঁকছে- তাই মুসলমান সমাজ এবারে তৃণমূলকে কুরবানি দিয়ে তবে কুরবানির ঈদ পালন করবে বলে একটা সিদ্ধান্তে এসে গেছে।

এদিকে মুসলমান ভোট না পেলে তোলামুলের হাতে হ্যারিকেন পিছনে বাঁশ। ভাইপো সহ গোটা মন্ত্রীসভা ও দলের হোমরাচোমরারা জেলের দেওয়ালে আঁকিবুঁকি কাটবে। স্বভাবতই দেবাংশু, কুণাল ঘোষ, পোষ্য ভাতাজীবি বুদ্ধিবিচি ভাঁড়ের দল, বিশ্বমাচাদো সাংবাদিক কুল, এবং স্বয়ং ভাইপো- চেষ্টার খামতি রাখেনি। কিন্তু কোনো অস্ত্রেই, মমতা ব্যানার্জী এই যাত্রায় বিজেপি জুজু দাঁড় করাতে পারেনি আজ অবধি। তাই বাধ্য হয়ে মোদীকে নামতে হয়েছে আসরে।

তৃণমূলের মুসলমান নেতাদের হাল দেখুন। জাভেদ খান গ্যারেজ, ববি হাকিম প্রতিষ্ঠিত চোর, ওয়াকফের সম্পত্তি চুরি করে রাজনীতি থেকেই পালিয়ে যেতে চাইছে। উত্তরের রব্বানি, হামিদুর, করিম চৌধুরী, আকতারুজ্জামান, খলিলুর, আবু তাহের, গিয়াসউদ্দিন মোল্লা, সহ অধিকাংশ মুসলমান MLA/MP লাগাতার চুরিচামারি করে এখন প্রায় চলৎশক্তিহীন লোলচর্ম বৃদ্ধ। সৌমিক হোসেনরা নেই, মৌসমের মত হাওয়া মোরগের দল আগেই দলবদল করে কংগ্রেসে ফিরেছে। সাবিনা ইয়াসমিন ধুঁকছে, পাবলিক জুতো ছুড়ছে। 

ডোমকলের জাফিকুল ইসলাম কয়েক'শ বিএড কলেজের মালিক ছিল, ইডি রেইড করতেই আতঙ্কে রক্তবমি করে পটল তুলেছে। কালীগঞ্জের নাসিরউদ্দিন আহমেদও মরে গেছে, তারপর সেই বোম কাণ্ডের পরে ওখানে তৃণমূল গোরস্থানে বসে আছে- মাটি দিয়ে জানাজা পড়া বাকি। নাকাশীপাড়ার কল্লোল খাঁ, পাঁচ'ছ বারের MLA, ভয়ংকর ভাবে অ্যান্টি এস্টাবলিশমেন্ট এর কবলে। একই কেস পাঁচলার গুলশন মল্লিকের।

বীরভূমে কাজল সেখ বা শাহনাওয়াজ পাড়ার কুত্তা, ফুটো মস্তান। একদা ফেমাস লাবপুরের মনিরুল কোথায় কেউ জানে না। সিদ্দিকুল্লাহ নিজের দলের কর্মীদের হাতেই সকাল বিকাল ক্যালানি খাচ্ছে। ভাই এর মৃত্যু বেচে নেতা হওয়া রুকবানুর চুরি ছাড়া আর কিছুই করেনি। ইউসুফ পাঠান- না খায় না গায়ে মাখে নিজেই জানেনা। আকবর আলি খন্দকার বা সুলতান আহমেদের বউ সহানুভূতির  বিধবা ভাতা কোটার প্রোডাক্ট। আফরিন আলির সত্যিকারের ধর্ম কেউ জানে না। পার্কস্ট্রিট ধর্ষণ কান্ডের আসামি কাদেরের বান্ধবী ন্যাংটা নুসরত কয়েকটা বিয়ে করে গ্যারেজ।

মমতার মুসলমান প্রেম দেখতে হলে অবিভক্ত মেদিনীপুরের দিকে তাকাতে হবে। এখানকার ৩৫ টা বিধানসভা কেন্দ্র মুসলমানদের কতটা গুরুত্ব দিয়েছে তা নিশ্চিত ভাবে বোঝা  যায়, যখন দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম থেকে মুসলমানদের প্রতিনিধি হচ্ছে জুন মালিয়া আর দেব। বর্ধমানের মুসলমান প্রতিনিধি রাজ চক্রবর্তীর স্ত্রী মহানায়িকা শুভশ্রী। পাঁশকুড়ার পশ্চিমের ফিরোজা বিবির শহীদের রক্তের গল্প ফুরিয়ে গেছে। হুগলিতে ফুরফুরার লাল দাড়ি ত্বহা চাচাকে মাঝে মাঝে ঝাঁপি থেকে বের করে আগে ফোঁস করাত, নৌসাদের চোটে কাকা পীরের দম শেষ। আগে টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম মমতার হয়ে ওয়াজ করতেন, তিনিও দেহ রেখেছেন।

সোনারপুর উত্তরের ফেরদৌসী বেগম 'মোমো কাণ্ডের' ২৫ টা লাশ লুকাতে ব্যস্ত, নিজে টিকিট পাবে কিনা তাই সন্দেহ। ওদিকে আমডাঙার রফিকুর যদি টিকিট না পায়, একদা বাম তথা অধুনা তোলামুলের সম্পদ আব্দুল সাত্তারের পেছনে হুঁড়কো গুঁজে দেবে, অতএব সাত্তার আউট।

কলকাতা সংলগ্ন ২৪ পরগনার ইদ্রিশ আলি, হাজি নুরুল, ইকবাল আহমেদ, এমন অনেকে কবরে শুয়ে কাটমানি খাচ্ছে। থাকার মধ্যে রয়েছে শওকত, কাইজার, আরাবুল, জাহাঙ্গির আর শাহজাহান - এই হচ্ছে মমতার আসল মুসলমান মুখ। সবকটা গন্ডমুর্খ, সবকটা প্রতিষ্ঠিত চোর, সবকটা দুষ্কৃতি সমাজবিরোধী হিসাবে 'বাংলার গর্ব'।  এরাই হচ্ছে মমতার পাঁচে পঞ্চবান।

সবেধন নীলমনি ছিল বেলডাঙার হুমায়ূন, সে তো এখন মোঘল সুলতান। ডেবরার পুলিশ অফিসার হুমায়ূন কবীর যেকোনো দিন মোঘলাই হুমায়ূনের টিমে চলে যাবে। বীরভূমের হাল আরো খারাপ, হাসান, নলহাটি, মুরারই তিনটে কেন্দ্রে প্রায় ৫৫% এর উপরে মুসলমান- মুসলমান জনপ্রতিনিধি নেই।

এরা মুসলমানকে উচ্ছিষ্টভোগী চোর আর লেঠেল বানিয়ে রেখেছে। 

তাহলে তোলামূলের ভোট বৈতরণী কাকে দিয়ে পার করাবে ২০২৬ এর নির্বাচনে? পাতি-কুরে এমনি এমনি লগ্নি করতে করতে হয়নি i-pac কে। তার পরেও মুসলমান ভোটকে ভয় দেখাতে পারছে না মমতা ব্যানার্জী, বিজেপি, RSS ও তাদের খোঁচর সংগঠনগুলো। এটা ভয়ানক সিঁদুরে মেঘ ওদের জন্য, অতএব সাধু সাবধান।

সবজি বাজার আগুন, মুদি, গ্যাস, ওষুধপত্র কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। কেউ হিন্দু বলে কি অন্য হিন্দু দোকানদারটা দাম কম নিচ্ছে? সুতরাং বিজেপির জামানার এই দ্রবমূল্যবৃদ্ধি ও কর্মহীনতা- বিভ্রান্ত হিন্দু ভাইবোনেদের অনেকেরই ধর্মান্ধতার নেশা ছুটিয়ে দিয়েছে।

এই অবস্থায় হিন্দু ও মুসলমান - উভয়ের ভোটকে মেরুকরণ করতে গেলে ভীষণভাবে একটা দাঙ্গা প্রয়োজন। ভীষণ ভীষণ ভীষণ। তাই আপনারা আমরা শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সকলেই যেন হুশিয়ার ও সতর্ক থাকি- তৃণমূল বিজেপির পাতা ফাঁদ থেকে। এরা পারে না হেন কোনো নিকৃষ্ট কাজ নেই। আর দাঙ্গা লাগানোতে RSS সার্টিফায়েড শয়তান। এদের সমস্ত চক্রান্ত আমাকে আপনাকেই ভেস্তে দিতেই হবে। দল হিসাবে CPIM, Indian National Congress, Nawsad Siddique প্রত্যেককে এই বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা মূলক উদ্যোগ নিতে হবে।

মুসলমান সমাজ জানে আগামী ২৭শে মে কোরবানির ঈদ, ২০২৬ বিধানসভা ভোটের ফলাফলও এর আশেপাশেই বের হবে সম্ভবত। এই কোরবানি ঈদেই আমরা তৃণমূল সরকারকে জবাই করে দেব গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে, ইনশাল্লাহ।

রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

শৃঙ্খলা ও বামপন্থা

 


(১)

টিভি মিডিয়ার সান্ধ্য খেঁউড়ের আসর আর সোশ্যাল মিডিয়ায় সর্বজ্ঞানী আখড়া থেকে- ২০০৯ পরবর্তী জন্মানো নেতাদের সেন্সর করুন, দেখবেন রাজ্য CPIM পার্টি দু'দিনে দাঁড়িয়ে পড়েছে। মূর্খ সমর্থকের দল শূন্য পাবে এটাই স্বাভাবিক ঘটনা। প্রজা রাজা নির্বাচন করবে, এটাও গণতন্ত্রেরই নিয়ম। বস্তুত, বামপন্থা, বিপ্লব এগুলো গণতন্ত্রের তরোয়াল, আর তরোয়াল মূর্খ গাধার হাতে মানায় না। সমর্থককূল মেরুদন্ড ফেরত পেলে, দল হরিণের মতো ছুটবে, এর জন্য সবার আগে শৃঙ্খলা প্রয়োজন।

কমিউনিস্ট পার্টিগুলো সমগ্র বিশ্বজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে শৃঙ্খলার উপরে। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের CPIM সহ বাকি বাম দলগুলোর বর্তমান মূল সমস্যা দেখা দিয়েছে শৃঙ্খলাতে। ২০০৯ পরবর্তী যে সকল তরুণ মুখ এসেছে ভায়া SFI, সবচেয়ে বড় সমস্যা এদের মাঝে। টিভির বুম পেলেই এদের প্রায় সকলে মুখ দিয়ে হাগতে শুরু করে দেয়। আজকাল আবার সেজেগুজে পডকাস্ট নামের এক শ্যো-অফ সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে। ফুটেজের কী নিদারুন লোভ! ফেসবুক ইউটিউভ খুললেই সদ্য লোম গজানো নেতানেত্রীরাও এমন ‘পোস্ট ও বাইট’ দিচ্ছে, যেন আদর্শ নৈতিকতার প্রশ্নে চে, ফিদেল বা চমস্কিকে এনারাই শিক্ষিত করেছিলেন। অধিকাংশ কথাবার্তায় রাজনীতির দূরদূরান্তে কোনো সম্পর্ক নেই। দলেরও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এদের উপরে। 

ছাত্রাবস্থায় বামপন্থা আঁকড়ে ধরে বহু ছেলেমেয়ে মানুষ হয়; সমাজবাদ, সাম্য, বিপ্লব নামের শব্দগুলো তখন নেশার মতো বুড়বুড়ি কাটে চেতনা জুড়ে। একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে মানসিকভাবে এই ভাবনাগুলোকে, মানে বামপন্থাকে নিয়মিত অনুশীলন তথা লালন করতে হয়। যেটা ৯০% ছেলেমেয়ে পারে না, পারিবারিক, সামাজিক, পারিপার্শ্বিক রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা ইত্যাদি নানা কারণে। কিন্তু সদ্য যৌবনের শেখা বামধারার চেতনা, আর ফলিত বাস্তবের লোভ, লালসা ও ভোগের তীব্র আকাঙ্ক্ষা কামনা বা অভিলাষ- মন আর শরীরকে দুটো পৃথক দিকে চালনা করে। পুরনো শিক্ষাও ফেলনা নয়, তাই সেগুলো মাঝে মাঝে বেরিয়ে আসে কিম্বা বের করে আনে সুযোগ সুবিধা মতো। গরুর মতো চর্বিত চর্বন করে জাবর কাটে, যা বিজ্ঞাপিত করে বেচাকেনার বাজারে নিজের দর বাড়িয়ে নেয়। 

২০০৯ সাল থেকে এ রাজ্যে যারা SFI এর শীর্ষপদ দখল করেছে, সংগঠনটার সেক্রেটারি প্রেসিডেন্ট পদে থাকার সুবাদে অটোমেটিক রাজ্য কমিটিতে চলে গেছে ‘কোটা’র বলে। কৌস্তভ চ্যাটার্জি-সায়নদীপ মিত্র, দেবজ্যোতি দাস-মধুজা সেন রায়, সৃজন ভট্টাচার্য-প্রতিকুর রহমান অবধি সেই একই ধারা। এরা কোন বিশেষ যোগ্যতায় পার্টির রাজ্য কমিটি অবধি যেতে পেরেছে কেউ জানে না। শেষের দুজনের আমলের মতো জঘন্য পিরিয়ড SFI এর জীবনকালে বেনজির। একের পর এক কলেজে সংগঠনের ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে, সৃজন গিটার বাজিয়েছে আর অমেরুদণ্ডী পরজীবী প্রতীকুর হাত্তালি দিয়েছে। এটা আজ বলছি না, সেই ২০২১ থেকে নিয়মিত বলে এসেছি, আমার টাইমলাইন ঘাঁটলেই পেয়ে যাবেন। কোন বিশেষ অউকাতে বা গুণের কারণে তারা প্রতিটা নির্বাচনে লড়ার টিকিট পেয়েছে- ফেলুদার ভাষায় ‘হাইলি সাসপিসাস’। ক্রমশ পাতালে প্রবেশ ছাড়া দল বা সমাজের প্রাপ্তি কী এদের থেকে? 

আমাদের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত তৃতীয় বিশ্বের দেশের রাজনীতিতে ‘সহানুভূতি’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোয়ালিফিকেশন; যে কারণে দলত্যাগ করে পালিয়ে যাবার আগে একটা সহানুভূতির জামা পরিধান করে, ঠিক কাউকে না কাউকে একটা ভিলেন বানিয়ে যাবে- এটাই প্যাটার্ণ। RSS-এর পরিসরে এটা খুব চেনা ছক- দলে থেকে কাজ করতে পারছি না বা আমাকে গলা টিপে ধরা হয়েছিল। তৃণমূল হোক বা বিজেপি, দিনের শেষে সেই তো RSS নামের গু, একটা কাঁচা আর একটা শুকনো। 

বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের প্রায় সকলেরই কলেজ জীবন শেষ হওয়ার আগে পার্টি ক্ষমতায় চলে এসেছিল। রাতারাতি প্রশাসক হয়ে গিয়েছিলেন, সময়ের পরিভ্রমণে মধ্য পঞ্চাশ তথা ষাট ছোঁয়ার আগেই এনারা বিরোধী আসনে। ফলত রাস্তায় নেমে যে জঙ্গী আন্দোলনের ধারা, এনারা তেমন কিছুই জানেন না। স্বভাবতই বর্তমান প্রজন্মের মাঝেও সেই স্পৃহা, সেই স্ফুলিঙ্গ ভরে দিতে পারেননি এনারা। ভারতীয় স্পেস টেকনোলজি চাঁদে চলে গেলেও, CPIM পার্টি রয়ে গেছে ষাটের দশকের আমলাতান্ত্রিক শিকলের গেরোতে, যেখানে হেঁচকি তুলতে গেলে লোকাল কমিটি থেকে পলিটব্যুরো- অনুমতি পেতে পেতেই ঈশ্যু পটল তোলে। ফলত আধুনিক ট্যেকস্যাভি সময়ের সাথে পার্টির ফলিত কার্যগত পরিচালনাতে এক ভয়াবহ দ্বান্দ্বিক ফাটল তৈরি হয়েছে, যা শীর্ষ নের্তৃত্বের সংজ্ঞার বাইরে; আর এইখান থেকে যাবতীয় উৎশৃঙ্খলতার সৃষ্টি। 

ভাইপো প্লান্টেড পরগাছা রাজনৈতিক সমাজের বুকে, পিসি যদ্দিন ক্ষমতায় আছে তদ্দিন ইনিও আছেন। ক্ষমতা হারালে সবার আগে যে লোকটি তৃণমূল ছেড়ে চম্পট দেবে- তার নাম ভাইপো। সুতরাং, আজকের দিনের তৃণমূল দল যে কোনো স্থায়ী আস্তানা নয়, চার অক্ষরের বোকা ছাড়া তা সকলেই বোঝে। ফলত যা কিছু লেনদেন সবই তাৎক্ষণিক ও সবটাই আর্থিক। তৃণমূল দল উঠে গেলে এই সব দলবদলুদের ছোট একটা অংশ জাতীয় কংগ্রেসের ঘরে পরিচারিকা সেজে ক্ষুন্নিবৃত্তি করবে, বাকিরা "I beg to remain, Sir, Your most obedient servant" জপতে জপতে নাগপুরের গোয়ালঘরে গোমুত্র সেবন করবে। এটাই ভবিতব্য। by the way,  মহুয়া মৈত্র কেন কাউকে ৪(চার) লাখের গুচি/লুইভিটোর হাত ব্যাগ গিফট করেছে, এসবের খোঁজও সেলিমকেই একা দায়িত্ব নিয়ে করতে হবে কেন? দলের অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর লালুভুলুর দল কি জাবর কেটেই ক্লান্ত? 

দোষ সেলিম সাহেবেরও আছে, একে হাঁড়িতে চাল বাড়ন্ত, তার উপরে রাজ্যেজুড়ে অন্তত ৬টা আলাদা আলাদা শিবির তৈরি হয়েছে; এর দায় মহঃ সেলিম এড়াতে পারেন না CPIM রাজ্য সম্পাদক হিসাবে। SFI এর পারফরম্যান্স ২০১১ পরবর্তী সময়টা আতস কাঁচের তলায় আনা হোক, মিলিয়ে দেখা হোক- অপদার্থ লোক ক্ষমতার বৃত্তে ঢুকে পড়ে কী কী আচরণ করেছিল, এদের সঙ্গে ঋতব্রতর পার্থক্য আসলে কতটা! তবে, কার সদস্যপদ দিল্লিতে আর সেটা সে রিনিউ করল কিনা, সেটার দায় সেলিমের নয়। আমাদের গ্রাম বাংলার রাজনীতিতে আদৌ চুল পরিমান গুরুত্ব রাখেনা এই সব আপদের ‘গলা নাচানো’ উপস্থিতি। কে শতরূপের বিরুদ্ধে প্রার্থী হবে আর কে মীনাক্ষীর বিরুদ্ধে দাঁড়াবে- এসব হিসাবনিকাশের গল্পও কানে আসছে বৈকি। দাঁত কেলিয়ে ‘জল মাপছি’ বলে ফুটেজ খাওয়ার দিন শেষ, হয় এস্পার নয় ওস্পার। আসলে শৃঙ্খলা অবলুপ্ত হলে বেহায়াপনাই সংস্কৃতি হিসাবে নিজেকে জাহির করে। 

এদিকে সারদার টাকা চোর কুনাল ঘোষ প্রকাশ্যে জোর গলায় বলছে- আলিমুদ্দিনের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এর মিনিটস ১০ মিনিটে তার কাছে পৌঁছে যায়। পার্টির অভ্যন্তরের গোপনীয়তা, আস্থা ও পারস্পরিক ভরষার বিসর্জনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এই দাবী। এখান থেকে কিন্তু পার্টি বের হতে পারবে না। শুধু একা সেলিম সাহেব নন, গোটা আলিমুদ্দিনকে এই প্রশ্নের জবাব আজ হোক বা কাল দিতেই হবে। সবাই মিলে দল বেঁধে কুণাল ঘোষকে খিল্লি করতেই পারেন, গোপনীয়তার প্রশ্নে কুনাল ঘোষ CPIM দলের প্যান্ট জামা খুলে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। রোগ সেই শৃঙ্খলাহীনতা। আসলে পার্টির কলকাতার বৃত্তের একটা অংশ কুনাল ঘোষের হারেমে খোজা সেজে উপুড় হয়ে শুয়ে পয়সা রোজগার করে।

কোলকাতার বাবু কালচারে জন্ম নেওয়া মধ্যমেধার কিছু উন্নাসিক দাম্ভিক লোকজন নিজেদের কমিউনিস্ট দাবী করে দলটাকে অক্টোপাশের মতো আষ্টেপৃষ্টে  বেঁধে রয়েছে। এই সব কলকাত্তাইয়া বাম, ফেসবুকের নির্বোধ বাম, কলেজ স্ট্রীটের আঁতেল বাম, JNU বাম, হারামের টাকায় আজও ক্যান্টিন চালানো যাদবপুরী বাম, এই সবগুলো অনেকটা ঘেয়ো কুত্তার মতো- কামড়ালেই ১৪টা ইঞ্জেকশন। ভোটের রাজনীতিতে এদের মূল্যমান জাস্ট শূন্য, অথচ এরাই পার্টির নিয়ন্ত্রক। শেষ ১৫ বছরে এই সেক্টর থেকেই বামেদের তথাকথিত ‘তরুন মুখে’দের ৮০% উঠে এসেছে। এদের পাশে গ্রাম মফঃস্বল থেকে আসার নেতানেত্রীরা নেহাতই সংখ্যালঘু, অথচ রাজ্যের ৭০%ই গ্রামাঞ্চল, যেখানে কৃষক পরিযায়ী শ্রমজীবী মানুষের বাস। উপরোক্ত শহুরে অন্তঃসারশূন্য ফাঁপা আদর্শের বুলি কপচানো মধ্যমেধার বামেদের কারণেই CPIM দলের মধ্যে কম্প্রোমাইজ করা অসৎ অংশের সৃষ্টি হয়েছে, এরাই পার্টির পতনের অন্যতম বড় কারণ, এদেরই কেউ কেউ প্যাক মানে খেয়ে দলের অভ্যন্তরে থেকে বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে।

(২)
আমাদের মা মেয়ে বোনেরা যবে থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হন, প্রতিমাসে একটা করে ডিম্বাণু জন্ম দেন। অধিকাংশই রজঃস্রাবে বের হয়ে যায় অনিষিক্ত অবস্থায়, কিছু নিষিক্ত হলেও অকালে গর্ভপাত হয়ে খানিকটা রক্তমাংসের দলার সাথে অনেকটা ব্যথা বেদনা উপহার দিয়ে যায়। এটা জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা। ১০০০টা চারাগাছ পুঁতলে তবে ১০০টা বাঁচার সম্ভাবনা থাকে। কিছু ছাগলে খাবে, কিছু রোদে শুকাবে, কিছু ঝড়ে উড়বে, কিছু বাঁদরে ভাঙবে ইত্যাদি। মহীরুহ রাতারাতি হয়না, বট, পাকুর বা অশ্বত্থের চারা নার্সারিতে তৈরি হয়না। তাই কে কোথাকার ছেঁড়া লোম যে, সেই গর্ভঃস্রাবের কথাকে ধ্রুবক মেনে গুরুত্ব দিতে হবে! বাজারি সংবাদ মাধ্যম তাদের মালিকের সদ্য কেনা ‘পাঁঠা’কে কাঁঠাল পাতা খাওয়াবার ভিডিও করবেই। CPIM পার্টির দেওয়া আলঙ্কারিক পদগুলো ছিলো বলেই বিক্রির বাজারে পাঁঠার দামটা মিলেছে। তৃণমূলের হারামের চুরির টাকায় ফুর্তি মারবে বলে যে দল ছেড়েছে, আজ শুধু দল ছাড়েনি কাল বউও ছাড়বে, পরশু ঘর ছাড়বে। কারণ লীলাতে এদের আদর্শ পার্থ আর শোভন, চুরিতে ভাইপো। যেখানে ঘরে বউ এর সাথে কয়েকটা রক্ষিতা রাখা যে দলের অন্যতম রাজনৈতিক ক্যালিবার- সেখানে কালো মোটা গেঁয়ো বউ খুব বেশি দিন পছন্দ হবে না বিপ্লবী বাবুর।

বিক্রির লাইনে তো অনেকেই আছে, ভট্টাচার্য থেকে সেন, রায়, দাস, মিত্র, ঘোষ, বোস, খান, সেখ অনেকেই। কিন্তু ভাইপোর ‘ভট্টাচার্য’ সহ বাকিদের ততটা দরকার নেই যতটা একটা রেডি দুধেলগাই বলদ দরকার ছিল। ওহ, আপনি তো আবার লালবাবু ভক্ত, এই সব ভট্টাচার্য, সেন, রায়, দাস, মিত্র, বোস, খান, সেখ, ঘোষেদের নাম শুনলে আপনার পবিত্র ঈমান টলে যায়। আপনি হালকা মুতে শুয়ে পড়ুন, কিম্বা খোঁচর নেত্রী যিনি দাদু থেকে বাবার জিন সেঁচে ‘ধর ধর’ রবে DNA বেয়ে বামপন্থা বয়ে এনেছেন, আপনি বরং সেই হেমাটোলজি জেনেটিক্স নিয়ে PhD করুন, জুটিতে মিলবে ভালো। দোষটা একা এই ভট্টাচার্য, সেন, রায়, দাস, মিত্র, বোস, খান, সেখ, ঘোষদের যতটা, আলিমুদ্দিনের বাস্তুঘুঘুদেরও দায় ঠিক ততটাই। যৌবনে স্খলন কোনো পাহাড় ভাঙা হাহাকার ব্যতিক্রমী নয়, উল্টোদিকে যখন চুরির টাকার কুমিরেরা সমানে হাতছানি দেয়। নিয়ন্ত্রণ আপনাকে করতে হবে, বেছে নেওয়ার দায় আপনার। উঠতি মূলো ঋতব্রতে চেনা যায়। 

৯৩ টা বুড়ো খাসি জবাই করা হবে, এই খাসি সব পিসি তোলামূলের হারেমের। কসাইখানার মালিকানা বদলেছে, তাই বাজারে নতুন পাঁঠা খোঁজার কাজ চলছে ভাইপোনিকেতনের খোঁয়াড়ের জন্য। মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক কেরিয়ার বয়সের কারণেই অস্তাচলে, ভাইপো নতুন টিম তৈরি করছে তার মতো। পাঁঠা বা পাঁঠি হিসাবে বিক্রি হতে অনেকেই রাজি কিন্তু ক্রেতাও চাইত। শাসক মমতার জামানাতে কোনো যুব নেতা নেত্রী তৈরি হয়নি, তারা চোর তৈরি করেছে। স্বভাবতই ভাইপো তার চারপাশে কাউকে পাচ্ছে না, যে হোমে যজ্ঞিতে লাগবে। এদিকে তিনি নিজেই ব্যানার্জী, ফলত যতটা মুসলমান তার দরকার, ততটা ভট্টাচার্য মিত্র দাস দরকার নেই ঠিক এই মুহূর্তে। তাই অনেকেই লাইনে থাকলেও সেভাবে দাম না পাওয়ার দরুন অনেকেই ‘আদর্শে’ অবিচল রয়ে গেছে এই যাত্রাতে। একটা কথা মনে রাখবেন, কমিউনিস্ট পার্টিতে ভোট হয় চিহ্ন দেখে, ব্যক্তি নয়।

সমস্যা সমর্থকদের তরফেও রয়েছে, তারা ভাবে আমাদের নেতাও ‘ওদের’ মতো করে বলুক সর্বত্র। জামা পরে থাকবো কমিউনিস্ট পার্টির, চাইব পুঁজিবাদী সিস্টেমের ভোগবাদী বিলাসিতা, ন্যাংটামো করব তৃণমূলের মতো- দুটো একসাথে হয় না। জাতীয় কংগ্রেস বা তৃণমূলের মতো পার্টির নেতাদের যেভাবে বলতে দেখে অভ্যস্ত, সেইভাবে দেখেই তাদের ভোটারেরা ভোট দেয়। প্রত্যেকটা সিস্টেম তার নিজের মতো করে আলাদা, গাছেরও খাবো আবার তলারও কুড়াবো একসাথে হয় না, অগত্যা দল পাল্টাতেই হবে। সমর্থকেরা অনেকেই ভাবে, এই তো খানিক আগেই ‘আমার’ সঙ্গে কথা বলল, সে তো আমাদের নিজেদের লোক। আসলে মানুষ সিদ্ধান্ত নেয় নিজের মতো করে, তখন আর কেউ নিজের লোক থাকে না। বিবাহিত মেয়েই যেখানে জন্মদাতা বাবার থাকে না, সেখানে আপনি তো কেবল পরিচিত মাত্র।

হোটেলের ওয়েটার বা পাড়ার মোড়ে পান বিড়ির টোঙ চালায় কিম্বা অনুষ্ঠানের সিজেনে ক্যাটারিং এ কাজ করে- মোদ্দাকথা কোনো ঢং এর কাজ যাদের জোটেনি, তারাই আজকাল সাংবাদিক। সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা বা জ্ঞান ওসব গাধার ঘাড়ে যাক, হাতে একটা ক্যামেরা মোবাইল আছে, ফেসবুক ইউটিউবে একটা পেজ- আর কী চায়! ঠিক আজকের দিনে দেশ জুড়ে ৯৯% সাংবাদিকই এই জাতের টুকটুকে গাব, যাদের না খাওয়া যায় না গায়ে মাখা যায়। এরা মূলত ক্ষমতার পদতলে চামচাগিরি করে পেট চালায়। বছরে যা মূলধারার রোজগার এদের, তাতে যেকোনো দক্ষিণপন্থী দলের নেতাদের উচ্ছিষ্টটুকু মাঝেসাঁঝে পেলেই এদের জীবনে অষ্টমী বা ঈদের সন্ধ্যা নেমে আসে। এদের সামনেই মুখ দিয়ে হাগতে শুরু করে দেয় উশৃঙ্খল স্বঘোষিত ‘বাম’ নেতানেত্রীর দল।

এটাকে কঠোর ভাবে বন্ধ করতে হবে, দ্বিতীয় কোনো অপসন নেই।

তোলামূলের ২২৫ জন MLA আছে কালিম্পং এর বিষ্ণু প্রসাদকে ধরে, ২৯ জন সদস্য লোকসভায় আর ১৩ জন রাজ্যসভার MP আছে। মেরেকেটে ৩০ জন বাদে বাকি ২৪৬ জনের কারো নামই আপনি জানেন না। সারা বছর তাদের পার্টির তরফে মূলত কুণাল ঘোষ কথা বলে, আলফাল বকার দপ্তরে দেবাংশু রয়েছে। পার্টির মালিক হিসাবে মমতা ব্যানার্জী আর ভাইপো কথা বলেন। বাকি কোনো নেতাকে দেখেছেন মাইক পেলেই উন্মত্ত হয়ে বিজ্ঞ সেজে জ্ঞানের জাঙিয়া মেলে ধরে? টিভিতে তাদের হয়ে আসে দেবনারায়ন আর বিজন মাস্টার, এরা তৃনমূলের কোন পদে রয়েছে? অনুরূপ বিজেপির ১২টা লোকসভা সদস্য, ২ জন রাজ্যসভা সদস্য, ৬৪ জন MLA আছে, কজন বিজ্ঞবিচি সর্বজ্ঞ সেজে টিভির খেঁউড়ে পৌঁছে যায় আর মাইকের বুম পেলেই মুখ দিয়ে বাতকর্ম করতে থাকে?

এই প্রজন্মের মধ্যে শতরূপই একমাত্র, যে দুর্দান্তভাবে মিডিয়া হ্যান্ডেল করে। বাকি প্রায় সকলেই যারা মূলত সোশ্যাল মিডিয়াতে ফুটেজ খায়, তারা রাজনীতির বাইরে সব কিছু করে। এদের সবার আগে রেস্ট্রিকশন করতে হবে। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের পঙ্কজ রায় সরকারও বিক্রি হয়ে গেছিল কিছু মাস আগে, আজ সে কোথায়? শোনা কথা- দুর্গাপুর পশ্চিম আসনের জন্য সে প্রত্যেকদিন ইচ্ছা প্রকাশ করছে আর আইপ্যাক তাকে রিজেক্ট করছে। মুখের সামনে ক্যামেরা ধরলেই যে গড়গড় করে বলতে আরম্ভ করবে, তাকে আমতলার পার্টি অফিসে পৌঁছে দেওয়া হোক জঞ্জাল ফেরার গাড়ি করে। ফেসবুকটাকে বারোয়ারী উঠোন বানিয়ে যারা ‘পার্টিকে’ বাপত্ব সম্পত্তি মনে করে, লাগামহীন নিজস্ব মতামত প্রকাশ করে চলেছে- হয় তাদের হুঁশিয়ার করা হোক, নতুবা লাথি মেরে তাড়ানো হোক। ভাবখানা এমন যেন একটা বামপন্থী দল নয়, সোশ্যাল মিডিয়ার পেজ চালাচ্ছে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে, প্রতিটা বিষয়ে রোজ নিজের মতামত দিয়ে যাচ্ছে। কোথায় থামতে হয় কেউ জানে না।

পুনশ্চঃ- কেউ দলত্যাগ করছে বা পার্টি সদস্যপদ রিনিউ করছে না বলেই, তার তোলা প্রশ্নগুলো ভিত্তিহীন অযৌক্তিক বলে দাগিয়ে দেয় যারা, তারাও আসলে শয়তান বা পার্টির ভাষায় প্রতিক্রিয়াশীল। সেই বক্তব্যগুলোর সবটা মিথ্যে বা অসমর্থনীয় নয়, ব্যক্তির স্খলনের বিরোধিতা করতে গিয়ে প্রদীপের নিচের আঁধারকে জাস্টিফাই করা যাবেনা। শৃঙ্খলা জরুরী, তার জন্য সেন্সরও জরুরী যদি প্রয়োজন পড়ে, কিন্তু পার্টির অভ্যন্তরে খোলামেলা আলোচনা যদি না হয়, ভুল বা দোষগুলো কিন্তু ঘা-আলসারের মতো আড়ালে বাড়তেই থাকবে ক্যান্সার না হওয়া অবধি।

২০১৬ সালের ব্রিগেডে ময়দানে CPIM এর তৎকালীন রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র প্রকাশ্য সমাবেশে বলেছিলেন- আমাদের পার্টিতে এমন অনেকে আছে, যাদের আমাদের দিকে থাকা উচিৎ নয়; আবার ওইদিকে এমন অনেক লোক আছে যাদের আমাদের দিকে থাকা উচিত ছিল। দশ বছর পরেও এখনো এই বাক্যের তাৎপর্য সেদিনের মতোই সমান উজ্জ্বল।



শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

প্রতিটা চোরের 'আঁশ ছাড়ানো' হবে



মাননীয় অপ্রিয় Kunal Ghosh মহাশয় সমীপেষু, 

আপনার দল তৃণমূল কংগ্রেস- রাজ্যের মুসলমানকে SIR এ ভয় দেখাতে পারেননি। OBC ও ওয়াকফ ঈশ্যুতে মুসলমান ভোট আপনাদের এই ঈদে 'জাকাতের' খাতায় তুলে দিয়েছে। ফলত আপনাদের মত প্রতিটা বিশেষজ্ঞ জেলখাটা চোরেদের অন্ডকোষ লাফ মেরে যে কপালে উঠে 'আব' হয়ে গেছে, তা আপনাদের ছটপটানি দেখে অনুমান করা কঠিন কিছু নয়।

সমগ্র মিডিয়া থেকে বিজেপি বাইনারি উবে গেছে, এই মুহুর্তে বাংলাতে বিজেপি খোঁজার চেয়ে 'ইয়েতি' খোঁজা সহজ। বিজেপি উবে যেতেই তৃণমূল অস্তিত্ব সঙ্কটে পরে গেছে। নাগরিকত্ব চলে যাওয়ার জুজু আর বিজেপি চলে আসবে আতঙ্ক কাটিয়ে- মুসলমান ঘুরে দাঁড়িয়েছে নিজের যোগ্যতায়। ইজতেমা করে যে মুসলমানদের সমাজে সুড়সুড়ি দেওয়া যাবে, সে গুড়েও বালি। মুসলমান ভোট আপনাদের চাই ই চাই, যেকোনো মূল্যে। উন্নয়ন যে গাধার ঘাড়ে চলে গেছে তা আপনারা জানেন। আপনাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ও i-Pac বলছে মুসলমান সম্প্রদায় আপনাদের হাতে বাটি ধরিয়ে দেবে। তাই আপনারা সিপিএমকে এভাবে টার্গেট করেছেন, কারন মুসলমান ভোট বিজেপিতে যাবেনা, সিপিএমেই ফিরবে। আপনারা চালাক হতেই পারেন, জনগণ উদগান্ডু বোকা নয়। 

প্রথমে ডায়মন্ড হারবারের পশুহাট থেকে রোজার শুরুতেই কোরবানির 'পাঁঠা' কিনলেন। আজ ফিরদৌস শামিমের নামে মলেস্ট মলেস্ট খেলা শুরু করেছেন। অচিরেই আপনাদের যে কাঙ্খিত লক্ষ্য- মহঃ সেলিমকে সাম্প্রদায়িক প্রতিপন্ন করা, অন্ধ ছাড়া যে কেউ এই লাইনটা ধরতে পেরে গেছে। আপনারা চালাক আর মানুষ বোকা, এতোটা সরলীকরণ নাইবা করলেন! আপনারা যে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক এ্যাঙ্গেলে খেলা শুরু করেছে আপনাদের পিতা RSS এর নির্দেশে, প্রার্থনা করুন আপনাদের RSS এর সরকারই যেন ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়- সেটা তৃণমূল বা বিজেপি যে ফর্মেই হোকনা কেন। নতুবা চুরির দায়ে জেলা খাটা আসামি আপনি ও আপনার প্রতিটা ছোট বড় স্যাঙাতের 'আঁশ ছাড়ানো' হবে ফেলুদা স্টাইলে।

আমরা বারংবার লিখছি- মুসলমান ভোটেই আপনাদের মানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাণভোমরা টিকে আছে। তাই মুসলমান বাম যুব নেতাকে কিনেছেন, মুসলমান বাম উকিলকে দুশ্চরিত্র প্রমানে দেওয়াল চাপড়াচ্ছেন, CPIM পার্টি সেক্রেটারি আসলে মুসলমান ও 'সাম্প্রদায়িক মানুষ'- এই সব কেচ্ছার তাস আপনি খেলবেন তা দিনের আলোয় প্রিজন ভ্যান চাপড়ানোর থেকেও পরিষ্কার। মাধ্যমিক পাশ বিশ্বমাচাদো সাংবাদিক আপনি আর আপনারা যাকে নেতা বানাতে চাইছেন- সেই কয়লা চোর মাধ্যমিক পাস বিশ্বমাচাদো বিপ্লবী ভাইপো, আপনাদের ভবিতব্য ওই চাক্কি পিসিং এন্ড পিসিং- তিন ছক্কা পুটে। প্রকাশ্য আদালতে আপনাদের পাপের বিচার হবে আইনের শাসনে।

পুলিশটা আপনাদের কন্ট্রোলে বলে এ সব লিখে বা বলে ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থনা করুন- জনগণ যেন সিপিএমকে সেই ম্যান্ডেট না দেয়। দিলে আপনাদের সান্ধ্য আড্ডার আসরটা জেলের ভিতরের অন্যান্য কয়েদীদের সাথেই হবে। জনৈক কুন্তল ঘোষের জন্য যে হারামের সম্পদ বানিয়ে যাচ্ছেন মূর্খপাত্র সেজে আলবাল বকে, সেই সব সম্পদ 'অপারেশন কাটমানি' করে চামড়ার মত সব খাবলে খুবলে টেনে বের করে নেবে দিনমজুর জনগন, আমরা দাঁড়িয়ে থেকে সেটাতে নেতৃত্ব দেব। 

আমাকে মামলা দেবেন? মেয়েছেলে কেস? গাজা কেস? পুরাতন কোনো মামলায় ধারা জুড়বেন? এসব অনেক পুরাতন খেলা, অলরেডি খেলে ফেলেছেন। প্রার্থনা করুন RSS যেন সহায় থাকে শেষ অবধি, নতুবা একই জিনিস আপনাদের সকলের সাথে হবে। তাই প্রার্থনা করুন, সিপিএম যেন নির্নায়ক শক্তি না হয়ে যায় আগামী নির্বাচনে। সততার কসম, এবারে আপনার দাড়ি পা অবধি ঝুলে আসবে, আর ঘুমের ওষুধ ৩০০টা থাকবে কৌটোতে। চক্র কিন্তু ঘুরছে। 

চলুন তদ্দিন বিজ্ঞবিচি সেজে বকে যান। আগামীর দিন গুলো আপনাদের মত জেলখাটা প্রতিটা চোরের জন্য ভয়ঙ্কর। প্রতিটা চোরের ঘর থেকে হারামের সম্পদ বার করে এনে গরীব গুর্বোর মাঝে বিলিয়ে দেব। এটাই আমাদের অলিখিত ম্যানিফেস্টো।


সাথের ছবিটা স্মৃতি রোমন্থনের জন্য। 


বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সাসপেন্ডেড AERO এর উপরে, মমতার এঁটো দরদ কিসের ইঙ্গিত?

 


মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেস ভুতুড়ে ভোটারওয়ালা ২০২৪ এর ভোটারলিস্ট দিয়ে ২০২৬ এর নির্বাচন করতে মরিয়া ছিল, তাই গোটা SIR প্রক্রিয়াটাকে গুলিয়ে দিতে অধিকাংশ জালিয়াতি অপকর্ম করেছে। তারা জানে আসন্ন নির্বাচনে জালিয়াতি না করলে সরকার টিকিয়ে রাখতে পারবে না।

SIR হেয়ারিং এর শুরু থেকেই এই কথাগুলো রোজ রোজ চেঁচিয়ে বলেছি- ইচ্ছাকৃত নামের ভুলগুলো মুরুলীধর স্ট্রিটের কেশব ভবন বা দিল্লির অশোক রোডে নির্যাতন কমিশনের সদর দপ্তর থেকে কেউ করেনি। বিজেপি ও নির্যাতন কমিশন উভয়েই শঠ, দুবৃত্ত, প্রবঞ্চক, মিথ্যুক, কিন্তু বাংলাতে এদেরকে ছাড়িয়ে গেছে শাসক তৃণমূল। সাদা খাতা জমা দেওয়া 'শিক্ষক' বাহিনী, বাহুবলী BDO দের দল ও তোলামূলের পে-রোলে থাকা ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এর ত্রিবেণী সঙ্গমের গর্ভে, i-Pac এর ঔরসে গোটা SIR ম্যাসাকারটা সংগঠিত হয়েছে। যাবতীয় হয়রানির মাস্টারমাইন্ড তৃণমূল কংগ্রেস, সাপ হয়ে কেটে ওঝা হয়ে ঝাড়তে এসেছে। না হলে কমিশন যদি দুর্নীতির দায়ে কাউকে সাসপেন্ড করে, মমতা ব্যানার্জীর এঁটো দরদ কেন উথলে পড়ছে? কারণ পরিষ্কার, তারা মমতা ব্যানার্জীর নির্দেশেই ইচ্ছাকৃত এই ভুলগুলো করেছিল।

এ বিষয়ে না আলিমুদ্দিন স্পষ্ট করে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে আজ অবধি, না তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার সর্বজ্ঞ 'আদর্শবাদী' বাম্বাচ্চাগুলো এ নিয়ে হল্লাচিল্লা করেছে, যতটা তারা দীপ্সিতার জামাত বধে উল্লসিত ছিলো। জেনেরিক উদগান্ডু হলে তাদের ভাবনাও আঁটকে যায় ভক্তির পর্দার মাঝে। যেহেতু শুরু থেকে সাদাকে কালো আর কালোকে সাদা শেখানো হয়েছে, তাই যতই আসল 'সাদা-কালো'র প্রভেদটা কেউ চোখে আঙুল দিয়ে দেখাক, এরা গান্ধারির মতো স্বেচ্ছা অন্ধ সেজেই থাকবে।

চুরি দুর্নীতির পাঁকে ডুবে রয়েছেন মমতা ব্যানার্জী। ফলত তার রাজনৈতিক চরিত্রের image cleansing এর জন্য এখন রোজ ‘প্যাথলজিক্যাল মিথ্যা’ সম্বলিত আলফাল বকবেন, মৃত মানুষদের নিয়ে মিথ্যাচার করবেন, নতুন ভড়ং ধরবেন, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ করবেন, ইনশাল্লাহ মাসাল্লাহ বিষ্ণুমাতা জয় জহর ইত্যাদি বকবেন, ছোটখাটো দাঙ্গা লাগাবেন ধর্মীয় মেরুকরণের জন্য, বিরোধী দল ভাঙানোর চেষ্টা করবেন, মিথ্যা মামলাতে ফাঁসিয়ে বিরোধী স্বরকে জেলহাজতে পাঠাবেন- ওনার গোটা রাজনৈতিক জীবনটাই এই কটা স্তম্ভের উপরে দাঁড়িয়ে আছে। পাশাপাশি RSS ও চাইবে না তাদের তাদের ‘দেবী’র গদি টলে যাক। মুসলমানকে SIR এ ভয় দেখানো যায়নি, তাই আতঙ্কিত গোটা তৃণমূল নেতৃত্ব অলআউট আক্রমণে গিয়ে দাঁতনখ দিয়ে ছিঁড়ে খাবার সব ধরণের অগণতান্ত্রিক অসংবিধানিক অপচেষ্টা চালাবে।

এখনও সময় আছে, SIR এ হেয়ারিং এর নামে এই হয়রানি ও তাতে নাম বাদ যাওয়ার মাস্টারমাইন্ড যে তোলামুল, সেটাকে অষ্টপ্রহর সঙ্কীর্তন এর মতো রোজ জনগণের সামনে বাজানো। এসবের বদলে মমতা ব্যানার্জী সাংবাদিকদের কী বলেছেন, সেই নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বস্তুত ওনারই প্রচার করে যাচ্ছে সমস্ত বিরোধী শিবির। এখনও বামাতি লালবাবুদের দল ‘সেটিং’ তত্ত্বের বাইরে বের হয়ে বলতে পারছে না- কোথাও কোনো সেটিং নেই, কেউ বিজেমূল নয়। 

বামেদের গোটা ন্যারেটিভ ‘সেটিং আর বিজেমূল’ তত্ত্বে আঁটকে রয়েছে, যা গত ১০ বছর ধরে লাগাতার ফেল মেরেছে, জনগণ এটা খায়নি প্রত্যাখ্যান করেছে। আসলে TMC ও BJP এরা এক মায়ের পেটের দুই ভাইবোন, এদের একটাই বাপ- RSS, ভাই ভাই-এ বা ভাইবোনে সেটিং হয় না, ওটা ওদের নাড়ির টান। বাকি সবটাই তাদের ঘরোয়া খুনসুটি কিম্বা পারিবারিক কলহ। ওরা কোনো ভিন্ন সত্ত্বা নয়। সেটিং শব্দে আসলে ওদের আলাদা করে দেওয়াই হয়, বিজেমূল নামের হাঁসজারু সন্ধি ওদের অভিন্ন সত্ত্বাকে অস্বীকার করে। গোটা ন্যারেটিভটাই ভুল ‘লাইন’।

ক্রিকেটে আপনি যদি ‘লাইন’ মিস করেন, লোপ্পা ছয় মারার বলেও খোঁচা লাগিয়ে ক্যাচ তুলে দিতে পারেন কিম্বা তিনকাঠি উড়ে যেতে পারে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ স্টেডিয়াম আপনার সমর্থকে ভর্তি, টিভির ওপারে আরও কয়েক কোটি আপনার জয়ের প্রতাশ্যাতে ক্ষণ গুনছে। রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশ, প্রতিপক্ষ চোটগ্রস্থ, আপনি ধড়াচুড়ো পরে রয়েছেন, প্যাড গ্লাভস হেলমেড এ্যাবডোমেন গার্ড সব রয়েছে। বাউন্ডারির বাইরে সাজঘরে দেওয়ালে আপনার সোনালী অতীতের দেওয়ালচিত্রের নিচে বসে থাকা বাঘা বাঘা এ্যানালিস্ট, কোচ, ট্রেনার, ব্রডকাস্টার সবাই প্রস্তুত। কিন্তু ‘লাইন’ মিস করে আপনি আত্মাহুতি দিলে, এই ম্যাচে আপনার কোনো সুযোগ নেই, এই যাত্রাতেও আপনার নামের পাশে ‘আর্যভট্ট’ই লেখা থাকবে। 

আমাদের নীতি, আমাদের প্রয়োজনে সেটার মাপকাঠি আমরা ঠিক করব প্রতিবার, বারংবার। এটা জোর দিয়ে বলতে কুন্ঠা কীসের?

কে গেল কিম্বা আর কে কে যাবে, ও সব ভবিতব্যের উপরে ছেড়ে দিন। যারা যাবার তারা ইতিমধ্যেই মানসিকভাবে চলে গেছে, ধরে বেঁধে রাখলে সেটাতে বড়জোর কিছুদিন লাশটা থাকবে, উল্টে আরও বেশী অন্তর্ঘাতের সুযোগ পেয়ে যাবে তাদের শয়তানি মস্তিষ্ক। গু খাওয়া গরুকে আপনি বেশিদিন ঘাস বিচালি খাওয়াতে পারবেন না, সে দড়ি ছিঁড়ে হলেও গু খেতে পালাবে। তৃণমূল চাইছে অপ্রয়োজনীয় ইস্যুতে বামেদের ফোকাস টলে যাক, তাই চুরির দায়ে জেলখাটা তাদের মূর্খপাত্র নীতি নৈতিকতার জ্ঞান দিচ্ছে, তাবড় মিডিয়াকুলও ঠেকা নিয়ে রেখেছে- কতটা হেলে গেলে বামেদের ‘নৈতিকতা’ কতটা টোল খাবে ইত্যাদি, যেন তাদেরকে নৈতিকতার চ্যুতির ঠিকেদারি দেওয়া আছে। সতীদাহ প্রথায় যেমন মৃতের স্ত্রীদের জ্যান্ত চিতায় জ্বালিয়ে দেওয়া হতো ধর্মীয় আদর্শের কথা বলে, একই ভাবে নীতি আদর্শের নামে বামকে শূন্যতেই রেখে দেওয়ার পবিত্র কর্তব্যে নিয়োজিত  এই দালাল মিডিয়া ও বিশ্বমাচাদো বুদ্ধিজীবিরা।  

আপনারা দ্রুত স্থির করুন করুন- আপনাদের ফোকাস ঠিক কীসে থাকবে আর কোন ‘লাইন’, কোন ন্যারেটিভ আপনাদের প্রচারে গুরুত্ব পাবে। আপনারা ঠিক করুন কোনটা আপনাদের নীতি আর কোনটা আপনাদের আদর্শ। আপনারা যেটাতে সীলমোহর দেবেন, সেটাই সঠিক- মিডিয়ার ঠিক করে দেওয়া পথে হেঁটে সম্ভাবনাকে ভুঁইয়ে মুড়িয়ে রাখার মাঝে আদর্শ নীতি নৈতিকতা বেঁচে থাকবে না। আদর্শ আর নীতি কপচিয়ে সতী হয়ে চিতায় উঠলে, বিপুল কর্মী সমর্থকেরা আপনাদের সাথে সহমরণে যাবে, অনাথ হবে শ্রেণি গরিবগুর্বের দল। মিডিয়া আবার তার রমনের সাথী খুঁজে নেবে আপনাকে চিতায় পাঠিয়ে। 

দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই মতো প্রচার শুরু করে দিন, হাতে সময় নেই আর।





সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

২০২৬ প্রাক বিধানসভা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটঃ সিদ্ধান্ত নেওয়া সময়

 

শত্রু কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করে না, তারা মন দিয়ে শত্রুতা করে; বিশ্বাসঘাতকতা ঘরের লোকে করে।

(৪)

বাংলা এখন ট্রাঞ্জিশন ফেজে রয়েছে, যা CPIM সহ বিরোধীদের জন্য ঘুড়ে দাঁড়াবার সুবর্ণ সুযোগ। সেখানে কবর খুঁড়ে সত্য-অসত্য- অর্ধসত্য মেসানো ইতিহাস হাাজির করছে তৃণমূল, দীপ্সিতার এই ফোঁপরদালালির সৌজন্যে। ১৯৬৪ থেকে ২০০৫, এই দীর্ঘ সময়ে পলিটব্যুরো সম্পূর্ণ মহিলা বর্জিত ছিল। পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা এবং ত্রিপুরা এই তিন রাজ্যে কয়েক দশক ধরে শাসন করলেও আশ্চর্যজনকভাবে গত ৬০ বছরে তারা এক জন নারী মুখ্যমন্ত্রীও তৈরি করতে পারেনি, ইত্যাদি ইত্যাদি। পদ্মনিধি ধরকেও টেনে এনেছে ওরা, আপনার চোখে পড়ছে না বলে এগুলো ঘটছে না তা নয়, চোখ বন্ধ করে থাকলে প্রলয়  থেমে থাকে না। বিপুল সম্ভাবনা অঙ্কুরে বিনষ্ট হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে।   

অনেকেই আবার নওশাদকে নিয়ে খিল্লি করছে তীব্র ভাষায়, এটাও একপ্রকার চরম উন্নাসিক ঔদ্ধত্বের প্রকাশ। টুপি মাথার মুসলমান দেখলেই একশ্রেণির সেকুলারের মুখোশ খুলে যায়, দাঁত নখ বেরিয়ে আসে। এই নওশাদ গত ৫-৬ বছরে বাংলার বুকে ততটুকু গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে দাঁড়িয়ে তারা বামফ্রন্টের কাছে ৪২ টা আসনের দাবি করছে। আজ ১৬/০২/২৬ বিকালে পার্টি সেক্রেটারি নিজে জানিয়েছেন ৫-৬টা আসন নিয়ে ISF এর সাথে মতানৈক্য ব্যাতিরেকে একটা সহমতে চলে এসেছে। ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা একটা দলকে যখন, নওশাদের মতো ৩ দিনের যোগীর সাথে আসন রফা করতে হয়, সেখানে আপনার মতো ফেসবুকীয় বিশ্বমাচাদোর কোনো অউকাত জন্মায়না ওকে রাজনীতির পাঠ পড়ানোর। দীপ্সিতারা যতদিন এমন লাগামহীন ভাবে বাম দলের নেত্রী থাকবে বা এদের লালন করবে আলিমুদ্দিন, আপনি লিখে নিন- আগামীতে দীপ্সিতা দেবীর দল কটা আসনে লড়াই করবে- সেটা এই সব ৩ দিনের আল-বাল-ছাল যোগীরা ঠিক করে দেবে। উদাহরণ চান? ইতিহাসে ফিরে গিয়ে দেখে আসুন, People's United Left Front (PULF), United Left Front (ULF), United Left Election Committee, Communist Revolutionary League of India (CRLI), West Bengal Socialist Party (WBSP), Nirjatita Samaj Biplabi Party, Right Party of India, The Religion of Man Revolving Political Party of India- এদের সমর্থকেরাও কম বোদ্ধা ছিলেন না নিজের সময়ে, আজ তাদের অস্তিত্ব আছে?

আমার পেশাগত কারণে রোজ কমপক্ষে ৮০-১০০ জন নতুন নতুন মানুষের সাথে আলাপের সুযোগ ঘটে। সকলের সাথে না হলেও অধিকাংশের সাথেই রাজনীতির প্রসঙ্গ চলে আসেই, দরদামের প্রাক্কালে হোক বা রাত্রে সমবেত ডিনারের টেবিলের খেজুরে আলাপে। আমার হোটেল ব্যবসা কোনো এলিট বা ধনীদের নিয়ে নয়, এনারা গোটা পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটা পকেট থেকে আসা নেহাতই গরিব, কেউ মধ্যবিত্ত, বড়জোর উচ্চমধ্যবিত্ত সমাজের, যাদের ৯৫% বাঙালি। ফলত চেয়ারে বসেই নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও এদের আশেপাশের সমাজটাকে জানা যায়, তাদের ভাবনাতে নিজের জ্ঞানকে পুষ্ট করা যায় অনেকটাই। তাই আমাকে প্রতিক্রিয়াশীল উন্মাদ বলে মিডিয়াতে না হয় দীপ্সিতাকে বাঁচিয়ে দিলেন, তাতে আপনাদের ভোটবাক্সে কোনো লাভের প্রতিফলন হবে না।

সোশ্যাল মিডিয়ার তথাকথিত ‘সেকুলার’ অমুসলিম সমাজ ঠিক করে দিচ্ছে মুসলমানদের কোন শব্দে কতটা প্রতিক্রিয়া দিতে হবে কিম্বা হবে না। এদের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে কিছু আরবী নামধারী যারা দীপ্সিতার হয়ে গলা চড়াচ্ছেন, তারা কি নিজেরা মসজিদে যান? এতক্ষণে তৃণমূল তো সেখানে সিপিএমের নামে বিষ ঢেলে এসেছে। এখন সেখানে একটা ভ্যানওয়ালা আপনাকে এ বিষয়ে শুধালে জবাব দিতে পারবেন তো? আজ অবধি ইমাম ভাতার টাকা সরকার না ওয়াকফ বোর্ড দেয়- সেটা বোঝাতে পারেননি। লক্ষ্মীর ভান্ডার সহ প্রতিটা সরকারি ভাতার টাকা যে আমার আপনার করের টাকা থেকে আসে, ওটা তৃণমূল বা মমতা ব্যানার্জীর পৈতৃক সম্পত্তি থেকে দেয় না- সেটা বোঝাতে পারেননি, আর দীপ্সিতার ‘উপহাস’ বুঝিয়ে দেবেন, তাও প্রতিকুর বিপর্যয়ের পড়েও! ঘোড়ায় হাসবে কাকা।

যারা হা রে রে করে দীপ্সিতার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছেন বিরাট সেকুলার হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, তারা কি নিজেরা জানেন ইনশাল্লাহ সুবহানাল্লাহ আলহামদুল্লিল্লাহ শব্দের মানে? এটা কী অমুসলিম সমাজের কথ্য শব্দমালা, যেমন বাবাগো, মাগো, Oh my God বা সমজাতীয় শব্দের মতো? আপনারা নিজেরা কখনও এই শব্দ দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করেন? এগুলো নির্দিষ্ট করে মুসলমানদের দৈনন্দিন মুখের ভাষা। যুক্তি হিসাবে- মমতা ব্যানার্জীকে ব্যঙ্গ করে নাকি এটা বলেছে। ভালো কথা, মমতা তো RSS এর নেত্রী, প্যাথোলজিকাল লায়ার ও ভড়ং ধরতে উস্তাদ, RSS এর এ্যাজেন্ডা লাগু করতে তার মুখে এই কথাই তো মানায়। 

আপনারাই মূলত ফেসবুক শাসন করেন, বছরে একবার ব্রিগেড যান, বড় নেতার সাথে ছবি তোলেন, নিজেদের মধ্যে গেট-টু করে আর সারাদিন খাপ পঞ্চায়েত বসিয়ে হোয়াটস অ্যাপে স্ক্রিনশট চালাচালি করেন। কিন্তু যখন রাস্তার মিছিলে হাঁটার ব্যাপারটা আসে, অমনি আপনাদের ৫০% গায়েব। এরপর নিজের পাড়ার জনসংযোগের সময় আরও ২০% হাওয়া হয়ে যান, আর লড়াই প্রতিরোধের পরিস্থিতে বাকি ২৮% হাওয়া। যতক্ষণে বুথে দাঁড়িয়ে থেকে ভোটটা করাবার দিন আসে- ২% পার্টিজান বাদে, আপনারা বাকি সমস্ত ফেসবুকীয় লালমুখো বাঁদরের দল গায়েব হয়ে যান। তাই, যারা ভাবে আপনারা পার্টির সম্পদ, আজ্ঞে না- আপনারা আপদ, মূর্তিমান অভিশাপ। আপনারা মেরুদন্ডহীন, আদর্শের ফাঁপা বুলি কপচানো কিছু কাপুরুষ, যারা টাইমপাসের জন্য বামবৃত্তের উপস্থিত হন মূলত মনোরঞ্জন খোঁজে। আপনারাই দলবেঁধে সর্বক্ষণ মমতাকে খিল্লির বাহানাতে, বস্তুত তৃণমূলের হয়েই নেগেটিভ প্রচারটা করে দেন দায়িত্ব নিয়ে।

ব্যক্তি দীপ্সিতাকে আমি চিনিনা, আগ্রহও নেই। তবে মিডিয়াতে দেখে যেটুকু অনুমান করেছি- তার গাত্রবর্ণ আমার মতোই কালো, এ নিয়ে তার ভিতরে চরম হীনমন্যতা কাজ করে। পাশাপাশি আবার বিদেশ ভ্রমণ, JNU ও PhD নিয়ে একটা সুপিরিয়র কমপ্লেক্সে ভোগে। যার দরুন একটা দ্বিমুখী বৈপরিত্য কাজ করে এর চরিত্রে। নিজেকে নির্দিষ্ট সময় অন্তর মিডিয়াতে ভাসিয়ে রাখতে এ্যারোগেন্সি মাখা অসভ্যতামিটা চরিত্রে প্রকট করে তুলেছে। এর চেয়েও ভয়াবহ হলো- এটাকেই জনসংযোগের মাধ্যম বানিয়েছে। আছে বামদলে, কথা বলে মমতার ভাষায়, বার্তা দেয় RSS কে। সদ্য অতীতের আগুনখেকো বাম নেতৃত্বের ঋতব্রত, কানাইয়া কুমার কিম্বা প্রসেনজিত বসু- দীপ্সিতার চেয়ে কম ফুটেজ খাননি, এনারাও উস্তাদই ছিলেন। এদের হয়েও সে সময় ভক্ত লালবাবুর দল ঢাল হয়ে সে কী লড়াইটাই না দিতেন। 

এই আপাত উদগান্ডু কথাবার্তায় সূক্ষ্মভাবে একটা ব্রাহ্মণ্যবাদী মানসিকতা কাজ করে দীপ্সিতা ধরের মাঝে, যা জামাতিদের মূল চরিত্র। অমিত শাহ, মোহন ভাগবত আজও পহেলগাঁও হামলাতে ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ শব্দ বলেনি, দীপ্সিতা আগ বাড়িয়ে সেটা বলে খুব হাততালি কুড়িয়ে নিয়েছিল। অতীতে কত রথী মহারথী তলিয়ে গেছে ভোগের লালসার হাতছানির কুম্ভীপাকে, যাদের চরিত্র দীপ্সিতার সাথে হুববু মিলে যায়, তাহলে দীপ্সিতা কেন সন্দেহের গণ্ডিতে আসবে না?

যে এবিপি বামেদের কোনো কর্মসূচি নুন্যতম দেখায় না– সেই এবিপির TRP বাড়াতে ইনি অষ্টমীর সন্ধ্যায় দেবাংশুর সাথে খুনশুটি আড্ডায় হাজির হয়ে যান। তৃণমূলের কেউ নাকি বিপুল দামী ব্যাগ উপহার দেয় ওনাকে, কখনও নাচছে, কখনও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করছে, না এগুলো দোষের কিছু নয়; কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে যখন এগুলোই তার জনসংযোগের এর মুখ্য হাতিয়ার যায়, তখন উঠতি মুলো ঋতব্রততে চেনা যায়। এই কারণেই এই নেত্রীকে নিয়ে আমি ব্যক্তিগভাবে ভীষণ সন্দিহান। আমি বেঁচে থাকব কিনা জানি না, এই মহিলা আগামীতে ডানপন্থী পুঁজিবাদী কোনো দলে গিয়ে আলহামদুলিল্লাহ সুবহানাল্লাহ বলে আজকের বাম সমর্থকদের উপহাস করবে- বাকিটা জবাবটা ‘চে’ এর ট্যাটু ওয়ালা শঙ্কর ঘোষ, বঙ্কিম ঘোষ বা তাপসী মন্ডলদের কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন।

শেষ ৩টে নির্বাচনে হিন্দু অধ্যুষিত অঞ্চলে ভোটে দাঁড়িয়েও আপনি দীপ্সিতা ধর তিন নাম্বার ছাগলছানা হয়েছেন, শুধুমাত্র ফেসবুকের ভক্তকুলের আদর্শবান ‘সেকুলার’ ভোট আপনাকে দু নাম্বারে তুলতে পারেনি। ইনশাল্লাহ সুবহানাল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ বলে যে সম্প্রদায়কে হ্যাটা করলেন ‘মমতা ব্যানার্জী’ নামের ঢালের আড়ালে, তাদের ভোটটা পেলে হয়তো জিতে যেতেন। আগামীতেও এদের ভোট না পেলে আপনি অন্য দলে পালিয়ে যাবেন মধু খেতে, আপনার দল SUCI এর সাথে মহাশূন্যে বসে 'গড পমিস' লিখে- আসমানি দেওয়ালে ধুসর আঁকিবুঁকি করবে। বামপন্থা আপনার পৈতৃক সম্পত্তি নয়। ফেসবুকের লাইক বিপ্লব, এ্যাকাডেমিক ডিগ্রী আর বিদেশে থাকার ছবি দিয়ে যে ভোটের রাজনীতিতে যে ঠনঠনে গোপাল হতে হয়- যেটা বাংলাদেশী জামাতের ফরাসি আমির পিনাকী ভট্টাচার্যকে দেখে কিছুটা শিক্ষা নিতে পারেন। 

হুমায়ুনের (আপনার আঙ্কল) সাথে আলাপের জন্য সেলিমকে সতর্ক করেছে রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলী, আর দীপ্সিতার মতো ফুটেজ সর্বস্ব ভোগবাদী মানসিকতার মহিলা- প্রকাশ্যে বারংবার সমগ্র মুসলমান কমিউনিটিকে কখনও জঙ্গী, কখনও উপহাস করেও, কোন যাদুমন্ত্রে ছাড় পেয়ে যায়, এটা কিন্তু আম মুসলমানকে ভাবাবে। প্রান্তিক মুসলমানকে বাদ দিয়ে কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ- CPIM কি খাতা খুলতে পারবে? আপনি ভাবছেন এটা আরও হাজারটা ইস্যুর মতো থিতিয়ে যাবে চতুর্থ দিনে, বিশ্বাস করুন তা হবে না। তৃণমূল ও RSS সেটা হতে দেবে না, এটা পাড়ায় পাড়ায় CPIM দলের মনোভাব বলেই প্রচার করবে। তাই, ইম্মিডিয়েট দলের তরফে সতর্ক না করলে এটা ক্যান্সার হয়ে যাবে, আর তা হলে মুসলমান ভোটব্যাংক ফিরবে না কাস্তেতে, হাতে রইবে পেনসিল। 

দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গেছে SIR এর গুঁতোতে তৃণমুল ব্যাকফুটে, বিজেপি রিং এর বাইরে। RSS এর ফাটল এখন স্পষ্ট, কোনো মলমে কাজ কাজ হচ্ছে না মেরামতিতে। আগামীতে বামেদের বিপুল আসন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলত মুসলমান যাতে সিপিএমের থেকে দূরে সরে যায়, তারই হয়তো খেলাটা দীপ্সিতাকে দিয়ে খেলিয়ে দিয়েছে। একে তাকে দিয়ে নানাভাবে গুলিয়ে দেবেই RSS, তারাই এই ফুটেজখোর দীপ্সিতাকে ট্রোজেন হর্স বানায়নি কে গ্যারান্টি নেবেন ঋতব্রতের কসম খেয়ে? ফুটেজ খেতে গিয়ে, RSS এর হাতে লুকিয়ে তামাক খাওয়াটা ধরা পড়ে গেল কিনা- এটাও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে কি? 

আগের পর্বেই লিখেছি এ রাজ্যে বিজেপির প্রতিটা মহিলা লগ্নি সব ফেল মেরেছে, নাম ধরে ধরে লেখা আছে। সেই রকম একটা পরিস্থিতিতে দীপ্সিতাই কেন বারংবার এমনটা করছে! ৯০ দশকের মমতা ইচ্ছাকৃত অশান্তি সৃষ্টির জন্য তৎকালীন কংগ্রেসের তাবড় বাঘা নেতাদের টপকে প্রদেশের সর্বোচ্চ নেত্রী হতে চেয়েছিলো। ঋতব্রতর প্রকাশ্য অসভ্যতামি গুলো ভুলে গেছেন? এগুলোই তো লক্ষণ। উনি যে পথে সংসদীয় রাজনীতিতে এসেছেন, সেই JNU এর ছাত্রনেতা উমর খালিদ জেলে, ঐশি ঘোষের মাথা ফাটিয়েছিল, প্রাক্তন বাম ছাত্রনেতা কানাইয়াও কম মারধোর খায়নি, সেই তুলনাতে এই নেত্রীর বলার মতো কোনো সাফল্যটা আছে? মহিলা চাইছে দল তাকে তাড়াক, নতুবা পশ্চিমবঙ্গের নোংরা দিক নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করছে কেন? মহিলার ‘পপুলার’ TRP জোন হচ্ছে মুসলমান আর বাঙাল পরিচয়। মূর্খ একটা চাষীও জানে ধান বীজতলায় বাড়ে না, তাকে অন্য স্থান থেকে তুলে জো ধরা জমিতে পুঁততে হয়। রাজন্যার মতো ‘পাতি’ প্রেসিডেন্সিতে যখন RSS বড়শি দেয়, তারা NJU কে টার্গেট করবে না?

বামপন্থা একটা জীবনশৈলীর নাম, সারাজীবন ধরে একে লালন ও যাপন করতে হয়। যে কারণে আমি বা আমার মতো কোটি মানুষ কখনও বামপন্থী হতে পারব না, কারণ আমাদের মাঝে ভোগের লালসা রয়েছে। আপনি বিমান বসুর ত্যাগের বিজ্ঞাপন করবেন, আর দীপ্সিতার মতো নমুনাকে বাজারে প্রকাশ্যে ছেড়ে রাখবেন- দুটো একসাথে হতে পারে না। ব্রতীন সেনগুপ্ত, ৩ বারের রাজ্যসভার মেম্বারকে সদ্য গোঁফ গজানো বামাতিদের মনে থাকার কথা নয়। মজিদ মাস্টার, রেজ্জাক মোল্লা, শওকত মোল্লা, তাপস চ্যাটার্জি, সুজিত বোস, আবু আয়েস মন্ডল, আব্দুল সাত্তার, মৈনুল হাসান- এনাদের অতীত পরিচয় কর্মী সমর্থকেদের কাছে বিস্মৃত হয়ে গেলেও, ঘর পোড়া শীর্ষ আলিমুদ্দিন আজও কীভাবে সিঁদুরে মেঘ চিনতে ভুল করেন! 

রাষ্ট্রের আর্থিক সহায়তা হাতের কাছে পেলে প্রত্যেকে নেবে, মুসলমানও নিয়েছে। কিন্তু সেই সহায়তা না পেলে মুসলমান মরে যাবে ব্যাপারটা এমন সরল নয়, তাই তাকে নিয়ন্ত্রণের দুটো জায়গা ধর্ম এবং ভয়। ভয়ের জায়গাটা যখন সে কাটিয়ে উঠে নিজস্ব বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগ করে একটা সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিকে পা বাড়িয়েছে, তখনই শেষ চেষ্টা হিসেবে ধর্মের দিক থেকে ‘অকারণ’ কিছু একটা টেনে RSS অন্তিম চালটা দীপ্সিতার মাধ্যমে দেয়নি কে বলবে! 

কথিত আছে, ‘বিড়াল কালো না সাদা, তাতে কিছু যায় আসে না, যতক্ষণ না সে ইঁদুর ধরে’। নেকুপুষু দীপ্সিতাদের লালন করতে গিয়ে প্রতিকুরেরা যে ব্রাত্য হচ্ছে না, দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারবেন? এমতাবস্থায়, জনগণ যদি সর্বহারা এই উদ্ধত নেত্রীকে সেন্সার করার সিদ্ধান্ত নেয়, তার ওজন দল CPIM বইতে পারবে তো?
 

ইরান যুদ্ধঃ একটা অশ্লীল পোষ্ট

 Disclaimer: অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায় কথাবার্তা লেখা আছে এখানে, প্লিজ কেউ পড়বেন না।  মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে যারা ঘৃণা করেন, তারা কিন্তু এটা পড়ল...