সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬

ভারতীয়েরা কী বিপদ টের পাচ্ছি?



যুদ্ধকে যারা আমরা একটা রিয়েলিটি শো এর মতো রোজ উপভোগ করছি ফেসবুক ইউটিউব রিলসে, তাদের ধারণা নেই এই যুদ্ধ আর কিছুদিন চললে আমাদের ভারতের মতো দেশের বিপদ আসলে ঠিক কতটা।

হয়তো ভাবছেন যুদ্ধটা সুদূর মধ্যপ্রাচ্যে, আপনার ডাইনিং টেবিলে তার উত্তাপ পৌঁছাবে না? যুদ্ধের ধোঁয়াতে আকাশ ঢাকতেই কুয়েত, কাতার, বাহারিন সহ সৌদির তেল উত্তোলনে ধস নেমেছে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম রোজ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে। আমেরিকা তেলের দাম ধরে রাখতে মরিয়া, যাতে দেখানো যায় যে ইরানের কোনো ক্ষমতাই নেই তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের। এর ফলে জি-৭ দেশগুলির ইমার্জেন্সি তেল রিজার্ভ হতে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার বিষয়ে বিবেচনা করছে। যদিও এই রিজার্ভ তেল দিয়ে বড়জোর ২ সপ্তাহ মত সাপ্লাই চেইন সামলাতে পারবে। এই সময়টুকু তারা ইরান হুমকি মোকাবেলা ও হরিমুজ প্রনালি মুক্ত করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে। 

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে কেউই গভীরে যাচ্ছেনা, ভাবছে তেল গ্যাসের দাম বাড়ার মতো প্রত্যক্ষ দুটো ক্ষতি হবে, আর পরোক্ষ হিসাবে অল্প বিস্তর দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়বে পরিবহণ ও উৎপাদনের খরচ বাড়ার দরুন। বাস্তবে ভয়টা আরও ভয়াবহ ও সর্বনেশে। ভিডিওতে দেখুন, এক্সপোর্ট মোটামুটি একপ্রকার বন্ধই হয়ে রয়েছে আমাদের পশ্চিম উপকুলের বন্দরগুলো দিয়ে। পেরিসিবল আইটেম মানে কাঁচা মালগুলো আর কয়েকদিনের মধ্যেই পচে যাবে যেগুলো রাস্তায় রয়েছে, ওদিকে উৎপাদনও থেমে নেই। রোজার সময় ওখানে একটা বড় বাজার থাকে, সেটা তো শেষই, নর্মাল বাজারও শেষ। ফলত মারা যাবে আমাদের দেশের চাষী, কৃষিকাজের সাথে জড়িয়ে থাকা ভারতের ৫৮% মানে প্রায় ৮৫ কোটি মানুষ সর্বনাশের সম্মুখীন হবে। আমাদের মত উন্নয়নশীল ‘গরিব’ দেশের জন্য এটা অপূরনীয় ক্ষতি। 

রপ্তানি সংক্রান্ত তথ্যের দিকে নজর দিলে দেখবেন, মধ্যপ্রাচ্য মাত্র ১৫% এর রপ্তানি অনংশীদার। কিন্তু যখন আপনি নির্দিষ্ট করে কৃষি পণ্যের দিকে তাকাবেন, দেখবেন আমাদের চালের  ৪০% এই অঞ্চলেই যায়। মাংস রপ্তানির প্রায় ৭১% এবং ডিমের ৬৭% রপ্তানি এই আরব দেশগুলোতে যায়। মোট মসলা, চা এবং কাজু বাদামের মতো পণ্যের ৫৫% রপ্তানি এই অঞ্চলের বাজারের সাথে যুক্ত। 

সাধারণ চাল ছাড়াও গম এবং ভুট্টা প্রচুর পরিমাণে পাঠানো হয় ওই দেশগুলোতে। মুসুর, মটর, ছোলা এবং অন্যান্য ডালজাতীয় শস্য সহ ঘি, পনির এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত সামগ্রী সবই বিপুল মাত্রায় পাঠাই আমরা। আম, কলা, বেদানা, আঙুর এর মতো তাজা ফল যায় লক্ষ লক্ষ ডলারের। সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন পেঁয়াজের বাইরেও, টমেটো, আলু, ভেন্ডি থেকে লাউশাক কোন সব্জি যায় না? ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত ও পরিশোধিত চিনি রপ্তানি করা হয়। প্রক্রিয়াজাত খাদ্য যেমন ফলের রস, আচার, শুকনো ফল, রেডি-টু-ইট খাবার। মধ্যপ্রাচ্য মূলত একটা হাব, বিশেষত দুবাই, সেখান থেকে ইউরোপ ও আফ্রিকার বহু দেশে ট্রান্সশিপমেন্ট হয়। এই যুদ্ধের কারণে সেটাও সম্পূর্ণভাবে ধ্বসে পরেছে, আসন্ন মুক্তির দিশা নাই।

গোটা বিশ্বকে আজ ক্ষতির সামনে এনে দিয়েছে এপস্টিং গ্যাং এর এই যুদ্ধ। সমগ্র পৃথিবী যুদ্ধের আঁচে জ্বলছে আর আমাদের সরকার সত্য লুকাচ্ছে। যুদ্ধের প্রথম ৬ দিনের হিসাবটা কিছু এমন, এপস্টিন গ্যাং এর দণ্ডমুণ্ডের কর্তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে ৩.২ ট্রিলিয়ন ডলার মুছে গেছে, ভারতীয় টাকার হিসাবে ২৯১ লক্ষ কোটি টাকা। এপস্টিন গ্যাং এর মূল দালাল ইসরায়েল বাজার থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা গায়েব হওয়ার সাথে সাথে প্রতিদিন ভারতীয় মুদ্রাতে ৩৫ হাজার কোটি টাকার অস্ত্র সরঞ্জাম পুড়ে যাচ্ছে, এর সাথে কয়েক লক্ষ টাকার অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি যা তাদের অনুমানের বাইরে ছিল। 

দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, সহ ইউরোপের প্রতিটি দেশের শেয়ার মার্কেট থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূলধন জাস্ট মুছে গেছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, জর্ডন, লেবানন, ওমান সর্বত্র কাজকর্ম উৎপাদন সব বন্ধ, খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে, লুঠপাঠ হচ্ছে রীতিমত। ইরাক ইয়েমেনে আবার দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ শরণার্থী হয়ে গেছে। মাঝখান থেকে পাকিস্তান নামের ভিখারিটা সৌদির সাথে সামরিক চুক্তি করে ফেঁসে গেছে, তার উপরে রমজান মাসে জাকাতের মরসুমে এমন আর্থিক অবরোধে তাদের হাঁড়ি বন্ধ হয়ে যাবার দশা, জ্বালানি গ্যাস ও তেলের আকাল শুরু হয়েছে, দ্রুত পাকিস্তানেও জনবিদ্রোহ শুরু হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে।

ইরানও ধ্বংসের কিনারাতে দাঁড়িয়ে। তাদের ৭০% তেল অবকাঠামো ধ্বংস, ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০ লক্ষ ইরানি জনগণ বাস্তুচ্যুত। যেহেতু তারা খাদ্য উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ, তাই আধপেটা খেয়ে বেঁচে যাবে হয়তো বা, এপস্টিন গ্যাং যায়োনিস্টদের এই বিধ্বংসী মার হজম করে। কারণ ৫০ বছর বৈশ্বিক অবরোধের অভ্যাস তাদের রয়েছে, পাশাপাশি তারা এনার্জিতেও স্বয়ংসম্পূর্ণ।

জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাবেই। চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্য তেল, এসব ৩০-৫০% অবধি বেড়ে যাবে; এলপিজি, কনজিউমার গুডস, ছোটখাটো নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি জিনিস, গরীব ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গিয়ে নাভিশ্বাস তুলে দেবে। এই সংকট বর্তমানে আপনার উঠোনে অপেক্ষা করছে, যেকোনো মুহুর্তে ঘরে ঢুকে পরলো বলে। রফতানি কমলে কলকারখানা বন্ধ হয়ে সাপ্লাই চেন ভেঙে যাবে, মানুষ ভোগ্যপন্য কম ক্রয় করবে, পর্যটন ও রেস্টুরেন্ট শিল্প মার খাবে, গিগ শ্রমিকেরা কর্মহীন হয়ে যাবে; দেশ এক ভয়াবহ দীর্ঘমেয়াদী মন্দার কবলে পড়বে। সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে মরিয়া হয়ে নোট ছাপাবে, আর সেই ছাপানো কাগজের ভিড়ে আপনার জমানো টাকার মান খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে, ১ ডলারের বিপরীরে ভারতীয় টাকা দেড়শো পাড় করে গেলেও আশ্চর্য হবেননা। শ্রমজীবী মানুষের জন্য এ এক অস্তিত্বের সংকট তৈরি করতে পারে।

পার্থিব ইকোসিস্টেমে সূচ থেকে হাতি, সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে বৈশ্ব রাজনীতির বাপ-কাকারা। যারা চাষাবাদ করে খান, তারা অন্তত না খেতে পেয়ে মরবেনা, বাকিদের জন্য অপেক্ষা করছে এক অন্ধকার সময়। এই মহাদুর্যোগে একমাত্র সোনা, রুপা কিংবা ভূমিতে বিনিয়োগ করা লোকেরাই নিজেদের সম্পদ রক্ষা করতে পারবে, কারণ খুব দ্রুত এগুলোর দাম দফার দফায় গতিতে বাড়বে।

আমরা যারা সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ, আমাদের হাতে কোনও উপায় নেই এই যুদ্ধকে নিয়ন্ত্রণ করার, আমাদের দেশেরও বস্তুত কোনো ক্ষমতা নেই এই যুদ্ধ থামাবার দিশা দেখাবার, প্রয়োজনও নেই যুদ্ধের শরিক হওয়ার। কিন্তু অতি উৎসাহী হয়ে আড়ঙের বাজি পটকা ফাটা দেখা আর হলিউডি যুদ্ধের সিনেমাকে লাইভ দেখার মতো করে আনন্দ নেওয়া থেকে মানসিকভাবে বিরত থেকে, নিজেদের আসন্ন অতীত নিয়ে ভীত হতেই পারি। দেশের চাষী মরলে আপনার বেঁচে পালাবার কোনো সুযোগ নেই। কেউ নিরাপদ নয়, কেউ নিরাপদ নয়।

রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

দুই ফুলের ধাষ্টামিকে এড়িয়ে যান

 


৬০ লাখ মানুষ যেখানে রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকত্বের প্রশ্নে জিম্মি হয়ে হয়েছে, সেখানে রাষ্ট্রপতি পদে থাকা একজন RSS এর কাঠপুতুলকে নিয়ে সময় নষ্ট করার বাহুল্যতা কি খেটে খাওয়া মানুষের রয়েছে? RSS এর নির্দেশে বিজেপিকে প্রাসঙ্গিক করতে মিডিয়ার ন্যারিটিভ ফিরিয়ে আনতে এই সমস্ত আয়োজন। এই বিতর্কে দেশের কোনো মানুষের কিচ্ছুটি লাভ বা ক্ষতি নেই। এমনিতেই রাজ্যপাল আর রাষ্ট্রপতি পদ দুটোর নামে সাদা হাতি পোষার প্রয়োজন রাষ্ট্রের রয়েছে কিনা সেটাই সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক প্রশ্ন আজকের দিনে দাঁড়িয়ে।

বুকে হাত রেখে বলুন তো, এই ‘ফালতু’ ঘটনা না হলে ভারতের রাষ্ট্রপতির নাম আপনার মনে ছিলো? কালাম সাহেবের পর ভারতের রাষ্ট্রপতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বহীন রবার স্ট্যাম্প মার্কা পদ হয়ে গেছে। গুগল না করে এর আগের রাষ্ট্রপতির নাম বলতে পারবে না অধিকাংশ মানুষ, শুধু এইটুকু মনে আছে আগের রাষ্ট্রপতি তপশিলি জাতির ছিলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি তপশিলি উপজাতির। গত ১০ বছরে দেশের তপশিলি জাতি ও উপজাতিরা ঠিক কতটা উপকৃত হয়েছে কেউ জানাবেন দয়া করে? 

এখনও অবধি বিজেপি যাদের যাদের সাথে জোট করেছে তাদের সবাইকে খেয়ে ফেলেছে, বাকি শুধু তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা ব্যানার্জী অত্যন্ত নিকৃষ্ট শ্রেনীর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, চূড়ান্ত অসৎ ও বেপারোয়া। তার পরেও এমন ব্যক্তিকে সেই ১৯৮৯ সাল থেকে বয়ে চলেছ, একদিন হজম করে ফেলবে এই বিশ্বাসে। যেহেতু মমতা ভাবের ঘরে চুরি প্রায় করে না বললেই চলে, তাই তাকে এখনও হজম করা হয়নি বিজেপির। এর মূল কারণ RSS যতটা ছোটলোক ইতর ও বর্বর, প্রয়োজনে মমতা ব্যানার্জী তার থেকেও নিচে নামতে পারেন, দ্রুত ও প্রকাশ্যে। এবারে প্রায় চিবিয়ে এনেছে, শুধু গিলে নিতে হবে ঢক করে, আর ঠিক এই স্থানেই মমতা ব্যানার্জী বিজেপির কন্ঠনালীতে আঁটকে রয়েছে।

রাষ্ট্রপতিকে রাজ্যে প্রাসঙ্গিক করতেই হতো, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া সম্ভবত সময়ের অপেক্ষা, অন্তত মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেও পরিষ্কার- ‘কদিন বিশ্রাম করে নিয়ে আবার নামতে পারব’।

স্বভাবতই, কোন ভণ্ডামি মঞ্চে কে পায়চারি করছেন, মহুয়া ‘শশী’ মৈত্র কাকে কীভাবে বাঙালি পরিচয়ের সার্টিফিকেট বিলি করছেন, কোথায় কখন রাষ্ট্রপতি এসে কী বলছেন, দাঙ্গা বাবুল এবিপির কাকে চমকালো, চটিচাঁটা গায়িকা ইমন সোশ্যাল মিডিয়াতে ফিরল কিনা, কবির সুমন কোন গান গাইছে বা কোন ধান্দাবাজ কোন দল থেকে কোন আস্তাকুঁড়ে গিয়ে পৌঁছাল তাতে আমাদের কিচ্ছুটি যায় আসে না। যুদ্ধের আবহে তেল গ্যাসের বাজারে আগুন, নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে হাহাকার শুরু হলো বলে, তার উপরে SIR এর নামে ইচ্ছাকৃত নাগরিক বিপর্যয়, এসবকে উপেক্ষা করে দুই ফুলের ধাষ্টামিকে নাকের পোঁটার মতো ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আন্দোলনের পথেই থাকুন।



আল আকসা আর কতদিন টিকবে?


পরিস্থিতি যা এগোচ্ছে, তাতে আমি একটু শঙ্কিত আল আকসা মসজিদ নিয়ে। ফিলিস্তিনের দখলদার রাষ্ট্র ইজরায়েলের মূল উদ্দেশ্য- মিশরের নীলনদ থেকে ইরাকের ইউফ্রেটিস তথা ফোরাতের মধ্যবর্তী অংশটাকে নিয়ে গ্রেটার ইজরায়েল বানানো হলেও, ইম্মিডিয়েট লক্ষ্য একমাত্র জেরুসালেম দখল করা; আর এই কারণেই গাজাকে খালি করা এত প্রয়োজন। সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন-কানুনকে কাঁচকলা দেখিয়ে এই গণহত্যার সুপরিকল্পিত আয়োজন।

ইহুদীদের ঈশ্বর 'জিহোভার' দ্বারা প্রতিশ্রুত ভূমির সীমানা ওটাই তাদের ধর্মগ্রন্থ তানাখ-তোরাহ অনুযায়ী। আপনি এসব গাঁজাখুরি বিশ্বাস করুন বা না করুন- তাতে তাদের কিছু যায় আসে না, তাদের কাছে সত্যও বদলায় না। আর এই ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী পরিস্থিতি তৈরি করার জন্যই এত হত্যা, এত অত্যাচার; অবশ্য তাতে ওদের সামান্যতম অনুতাপ নেই, কারন ইহুদীরাই একমাত্র ঈশ্বরের 'চুজেন ওয়ান' জাতি, অবশিষ্ট পৃথিবীর সবাই জেনটাইল বা বর্বর দাস সম্প্রদায়ের, যাদের জন্মই হয়েছে ইহুদীদের সেবা করার জন্য, ওদের দ্বারা শাসিত হওয়ার জন্য, সে আপনি মুসলমান, খ্রিস্টান, হিন্দু বৌদ্ধ যা খুশি হোন- কোনো ফারাক নেই। আপনি সামান্যতম প্রতিবাদ করতে গেলেই আপনাকে অ্যান্টি-সেমেটিক নাম দিয়ে দাগিয়ে, আপনার উপরে সাজা ঘোষনা করবে, আপনার সম্পদ কেড়ে নেবে, পরিশেষে যেকোনো ছুঁতোতে হত্যা করবে।

নিকৃষ্ট ব্রাহ্মণ্যবাদের যদি কোনো প্যারামিটার হয়- যারা ইহুদীদের সামনে থেকে দেখেছে, তারা জানে ওই প্যারামিটারে ১ থেকে ১০ অবধি সবটা ইহুদীদের দখলে থাকবে, এর পর আমাদের দেশের  RSS মাইন্ডেড লোকজন। অন্ধবিশ্বাস আর হিংস্রতাতে কেউ ইহুদীদের স্পর্শ করতে পারবে না। পৃথিবীতে এমন একটা পাপ বা অপরাধের নাম বলুন যেটা তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে করেনি বা করছে না! জায়োনিস্ট প্রোপাগান্ডার ফাঁদে পড়ে আপনি নিজেও যদি মানসিকভাবে ইহুদী না হয়ে যান, তাহলে সামান্যতম সুস্থ চিন্তা করলেই এই অভিশপ্ত জাতির প্রতিটা ষড়যন্ত্রকে চোখের সামনে ন্যাংটা ভাবে দেখতে পাবেন, ইতিহাসের সারণী ধরে হাঁটলেই। 

যা বলছিলাম, জেরুসালেম দখল না হলে তাদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী তাদের হাজার বছরের প্রতীক্ষিত প্রফেট বা নবী  তথা ঈশ্বরের দূত 'মাশায়ার' আগমন হবে না। তারা বিশ্বাস করে মশায়া আসা মাত্র ইহুদীরা গোটা বিশ্বের শাসক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সমগ্র বিশ্বের সমস্ত কিছু তারা জেরুসালেম থেকে নিয়ন্ত্রণ করবে, গোটা পৃথিবী একটাই রাষ্ট্র হবে, আক্ষরিকভাবেই তাদের লালিত স্বপ্ন one order word প্রতিষ্ঠিত হবে। এদিকে এই তথাকথিত মাসায়ার আসার প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে জেরুসালেমকে অ-ইহুদিদের হাত থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করা। 

আজ অবধি তারা টেম্পল রক দখল করতে পারেনি, মুসলিমদের দখলেই রয়েছে মসজিদটা, বা বেথেল থেকে খ্রিস্টানদেরও তাড়াতে পারেনি। আর না পারার জন্যই তারা অস্থির অধৈর্য হয়ে উঠেছে বর্তমান সময়ে, তাদের ধর্মীয় গণনা অনুযায়ী এই দশকেই মাসায়া বা মেসীর আবির্ভাব ঘটবে, তাই তারা চূড়ান্ত প্রস্তুতিপর্বে রয়েছে মাসায়া বরণের।

ইরাণ বোমা ফেলেছে এমন গল্প শুনিয়ে নিজেরাই ড্রোন বা মিসাইল দিয়ে টেম্পল রক সহ, ডোম রক ও আল আকসা- সবটা নিশ্চিহ্ন করে দিতেই পারে। যাতে তারা সেখানে থার্ড টেম্পল বানাতে পারে? এটাই তো তাদের মূল লক্ষ্য জেরুসালেমকে নিয়ে। সৌদির তেলক্ষেত্র বা সাইপ্রাসের ব্রিটিশ সেনা ছাউনিতে যেভাবে ফলস ফ্লাগ আক্রমণ চালিয়েছে ইজরায়েল- তাতে তারা পারে না এমন কোনো নিকৃষ্ট কাজ নেই পৃথিবীতে।

ওহ, আপনি তো আবার কোট পরিহিত পশ্চিমা ইহুদী-খ্রিস্টান জায়োনিস্টদের দেখে ভাবেন তারা শুধু বিজ্ঞানে বিশ্বাস করে, অন্ধ ধার্মিক নয়। আপনার কানে সপাটে থাপ্পড় মেরে জায়োনিস্টদের বাপ ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে এক অবোধ্য ধর্মীয় রিচুয়াল প্রদর্শনের মাধ্যমে বিজ্ঞানের মা মাসী এক করে দিয়েছে। যদিও আপনি প্রতিটি ইহুদীকে দেখেছেন মাথায় টুপি পড়ে ১ ফুট লম্বা ঝুলফি সহ, তারপরেও তাদের প্রতি আপনার পবিত্র বিশ্বাস তথা ঈমানের জন্য ওদেরকে আপনি ধর্মান্ধ ভাবতেই পারেননি কখনও। যেন ওদেরকে ধর্মান্ধ ভাবলে আপনার নিজের ধর্ম পতিত হয়ে যাবে, আপনি মানুষ কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। আসলে তাদের নিয়ন্ত্রিত গোটা বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো আপনাকে এমনটাই ভাবতে শিখিয়েছে। 

ব্রিটেনের পতন না হলে আমেরিকার উত্থান হতো না বিশ্ব পরাশক্তি হিসেবে। জামাল নাসেরের হাত ধরে সুয়েজের জলে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশদের অর্থনৈতিক কূটনৈতিক ও সামাজিক ভরাডুবি ঘটে। অত্যন্ত অপমানজনকভাবে মিশরের মাটি থেকে বাধ্য হয়ে ব্রিটেনকে পালিয়ে যেতে হয়, যার ফলে বৈশ্বিক পরাশক্তির মর্যাদা হারায় ব্রিটেন। এর পরের ৭০ বছর মাইটি আমেরিকার হিংস্র সন্ত্রাসের শতক। ইরানের দৌলতে এবারেই হয়তো হরমুজের জলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সলিলসমাধি ঘটবে! 

১৯৫৬ সালের ব্রিটেনের ছায়া দেখা যাচ্ছে আমেরিকার মধ্যে। এটাই ইহুদীদের জন্য সুবর্ণ সূযোগ, অন্তত তাদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী- তারা নিজেরা সুপার পাওয়ার বিশ্ব পরাশক্তি হতে চায়। এর জন্য মাসায়াকে আসতে হবে, মাসায়ার জন্য থার্ড টেম্পল বানাতে হবে, থার্ড টেম্পল বানাতে গেলে আল-আকসা মসজিদ নিশ্চিহ্ন করতে হবে- পরিষ্কার ক্রনোলজি।

সে যাই হোক, আল আকসা আর কতদিন টিকে থাকবে সেটাই বড় প্রশ্ন। বর্তমানের ইরাণ যুদ্ধ সর্বনাশের শুরু মাত্র, এই জায়োনিস্ট ইহুদীরা আরও বড় সর্বনাশ  বয়ে নিয়ে আসছে আগামীতে, সমগ্র অ-ইহুদী বিশ্বের জনগণের জন্য যা অভিশাপ।



শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

দালাল থেকে সাবধানঃ তৌসিফ হক

 


২০২১ এর নো-ভোট্টুর দল নতুন জামা পরে ‘সারা বাংলা বিচারাধীন ভোটার মঞ্চ’ হোয়াটস অ্যাপ ঠেক বানিয়েছে একদল ‘প্রতিকুর’। এই নো-ভোট্টু দের চরিত্র সকল বাম সমর্থকেদের জানা রয়েছে। গতকাল তোলামূলের ভন্ডামি মঞ্চ থেকে, শ্রীমান ভাইপো অফিসিয়ালি নোভোট্টু শাখার সমাপ্তি টেনে নতুন জামায় এদেরকে আনার ঘোষণা দিয়েছে, উপরোক্ত ‘হোয়াটস অ্যাপ মঞ্চ’ সেটারই অন্যতম পার্ট। ধর্ণার মাচা থেকে পাঠ করা ভাইপোর ভাষণ, আর এই whatsapp গ্রুপের এডমিনের বক্তব্য- জেরক্স কপির মতো মিলে যাওয়া কোনো কাকতালীয় নয়। বক্তব্য আসলে একটাই, যেটা i-pac লিখে এদের সকলের কাছে কপি সাপ্লাই করেছে। বাকিটা বোঝার জন্য পোস্টটা পড়ুন।

তৌসিফ হক, নামটা আমাদের মতো বামবৃত্তে যারা রয়েছি তাদের সকলেরই কমবেশি পরিচিত। নিজেকে বাম হিসাবেই পরিচয়ও দেন, আলিমুদ্দিনে যাতায়াতও আছে বলে দাবী করে নানান স্থানে। এই ‘তৌসিফ হক’ যদি সত্যিই বাম হতো- তাহলে ঘোষিতভাবে তৃণমূলের লোকজনের রাজনৈতিক সম্প্রীতির এমন সোনাগাছি গ্রুপ কোন উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছে? CPIM West Bengal তো রাজ্যের সর্বত্র কম বেশি শক্তি অনুসারে রাস্তায় রয়েছে এই ইস্যুতে। অন্যান্য বাম দলগুলোর মধ্যে CPI, RSP, ফরওয়ার্ড ব্লক, এমনকি বিধানসভায় মাত্র একটি MLA নিয়ে প্রবল লড়াই দেওয়া Indian Secular Front এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে Indian National Congress পর্যন্ত সামর্থ্য অনুযায়ী লড়াই করছে, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও আন্দোলনে যুক্ত। এর উদ্দেশ্য সৎ হলে, রাজ্যের সর্বত্র যেখানে বামেরা অবরোধ মিছিল করছে, সেখানে যোগ দেয়নি কেন?

শিল্পী মানুষ, গুণ থাকবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এমন মাদারচোদ যে তলে তলে ‘প্রতিকুর’ হয়ে বসে আছে সেটা গোপন হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে কেউ আমাকে যুক্ত না করলে জানতেই পারতাম না। নিচের ছবিগুলো দেখুন, বাকী বিচারের ভার একান্তই আপনার, একে আপনি কীভাবে দেখবেন! আর এই “সারা বাংলা বিচারাধীন ভোটার মঞ্চের” হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের সাথে বামমনস্ক যারা যুক্ত হয়েছেন ‘আপন’ ভেবে তারা আপনাদের চিহ্নিতকরণের কাজটা করছে i-pac এর হয়ে, যাতে বেছে নিয়ে বাদ দেওয়াটা নিশ্চিত করতে পারে। এরা আপনাকে ডিটেনশন ক্যাম্প অবধি নিয়ে যাবার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, এদের মিছিলে হেঁটে নিজের পেছন নিজে মারাবেন কিনা সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার। পোঁদ আপনার, গণতান্ত্রিক দেশে নিজ নিজ সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন অনুযায়ী কার সামনে প্যান্ট খুলে উবু হয়ে শোবেন সেটাও আপনার চয়েস। প্রত্যেকের বোকাচো দা হওয়ার অধিকার রয়েছে।

এরা রীতিমতো সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ খুলে রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা প্রতারিতদের একস্থানে জড়ো করে তাদের আন্দোলনকে ভুল পথে চালনা করছে। গ্রুপের এডমিনদের একাংশ অতিবাম, কয়েকটা বোকা সিপিএম সমর্থক আর বাকি সবটা i-pac এর পে-রোলে থাকা পোষ্য বুদ্ধিবিচিদের হায়নার দল। আপনি বলবেন একটা হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ কী এমন আর করে নেবে; ভুল। ত্রিপুরাতে এমনই শয়ে শয়ে আপাত নিরীহ হোয়াটাস অ্যাপ গ্রুপ খুলে সেখানে একেকটা ‘প্রতিকুরদের’ বসিয়ে রেখে বাম সমর্থকদের সাথে ধোঁকাবাজি করে বিপথে চালনা করেছিল। ফলাফল আমরা সকলেই জানি, বাম সরকারের পতন হয়েছিল। আমাকে কেউ এমন একটা গ্রুপে জুড়ে দিয়েছিল বলে নাহয় সেই ‘একটা’ গ্রুপের বিষয়ে জানতে পেরেছি, এমন আরও কত শত গোপন গ্রুপ আছে কে বলতে পারবে? এরা একটা হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ খোলেনি, আমি যেটাতে ছিলাম সেটা মাদার গ্রুপ; এখান থেকে প্রতিটা জেলার জন্য ছোট ছোট গ্রুপ, আরো বিভিন্ন সাবগ্রুপ করেছে। ব্লকে ব্লকে এই ছত্রাকের জাল কতটা বিছিয়েছে এখনই জানা যাচ্ছে না।

আমরা যারা বাম মনস্ক ও বাম সমর্থক, তারা সন্দেহাতীত ভাবে একটু বেশিই আবেগী। কেউ দু’বার লাল সেলাম বা ইনক্লাব জিন্দাবাদ বললেই ধরে নিই- এ তো আমার বৃত্তের লোক, পার্টিজান। আর এই সুযোগে মুখোশ পরা চমনচুতিয়ার দল আমাদের আবেগকে পুঁজি করে আমাদের ধোঁকা দেয়। আসলে এরা সকলে মীরজাফর, সরি মীরজাফর অনেক বস্তাপচা একটা উপমা, বরং ‘প্রতিকুর’ শব্দটাই একদম আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত। এই প্রতিকুরেরা লাল পোশাকে সেজে তলে তলে i-pac এর হাতে তামাক খেয়ে দলের ক্ষতি করে চলেছে নিজের সাধ্যমতো। হ্যাঁ, ব্যক্তি তৌসিফ হক কোনো বড় হনু নয়, কিন্তু দলের সর্বত্র এমন ছোট বড় খেঁকি নেড়িতে ভর্তি, যারা আসলে তোলামূলের উচ্ছিষ্ট ভোগী দালাল। তোলামূলের হারামের টাকায় এরা পেট চালায়, আর সোশ্যাল মিডিয়ার একটা বড় অংশের বাম সমর্থকদের কনফিডেন্সে নিয়ে তাদের ভুল পথে চালনা করে। উদাহরনস্বরূপ, এই তৌসিফের ৫৮ হাজার ফলোয়ারের ৫৭ই বাম মনস্ক, লালজামা এদের টোপ এর ফাৎনা। ‘এঁকে খাই’ না, চেটে খাই।

এই বেজন্মার বাচ্চা ‘বামমনস্ক শিল্পী’ অন্তত হাজার খানিক আন্ডার-এডজুডিকেসনে থাকা মানুষদের নিয়ে আন্দোলনের নামে রাজনৈতিক সম্প্রীতির নামে একটা ফাঁদ খুলেছে, যা i-pac এর নির্দেশিত পথে চালনা হচ্ছে। জয়হিন্দ, বিজেপি হটাও ইত্যাদি স্লোগানের প্র্যাকটিস হচ্ছে। আজকের ধর্না মঞ্চে ভাইপোর করা ভাষণের সাথে যার কোনো ফারাক নেই, কমেন্টে সেই ছবি দিলাম। আমি যেই প্রশ্ন করেছি- “ভুল করেও কেউ যেন তৃনমূল হটাও স্লোগান দেবেন না, তাহলে খাসি করে দেবে”। আমার সেই কমেন্ট প্রথমে ডিলিট করে, ও পরে ডিলিটের কারণ জানতে চাইলে আমাকে গ্রুপ থেকে রিমুভ করে। আমি অবশ্য লিখেছিলাম তোদের গ্রুপ তৃণমূলের দালালি করার জন্য জানলে, শুরুতেই গ্রুপে মুতে দিতাম। আমার প্রশ্নে উলঙ্গ হয়ে যেতেই, মহঃ সেলিমের একটা উক্তি সম্বলিত একটা পোস্টার এনে চিপকে দিয়ে নিজেকে সিপিএম প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছে, কতবড় শুয়োরের বাচ্চা এই মালটা। ছবিতে দেখুন।

জয় হিন্দ, বিজেপি হটাও এইসব স্লোগানের আড়ালে কোমায় থাকা তৃণমূলকে আমেরিকায় বসে দালালী করা লোক ধরে এনে বাঁচাবার চেষ্টা করছে। তারা জেনে শুনে এরকম কর্মসূচি নিয়েছে, যাতে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচীতে যাতে কোনো সমস্যা তৈরি না হয়, উল্টে অরাজোনৈতিক মুখোশের আড়ালে মুখ্যমন্ত্রীর ভণ্ডামি মঞ্চে লোক পাঠানো যায়। এই কারণেই গতকাল একটা প্রি প্ল্যান কর্মসূচি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পার্ক সার্কাসের বুকে নিয়েছিল, যাতে ওই দিক থেকে গতকাল ধর্মতলার মঞ্চে দেখানো পার্শ্ব-শিক্ষকদের বিক্ষোভ কর্মসূচির মতো কেউ এসে কেউ বিক্ষোভ দেখাতে না পারে। শয়তানি ১০০ শতাংশ শুধু পেটে পেটে নয় মাথা থেকে পা অব্দি। আপনারা দেখে নেবেন ‘প্রতিকুর’ যখন কোনো ইন্টারভিউ দেয়, তখন তিনজন একসাথে কথা বলে। প্রথমত, ফিকে হয়ে যাওয়া লাল জামা পরে ব্যক্তি প্রতিকুর, দ্বিতীয়ত- প্রতিহিংসাপরায়ণ ঋতব্রত এবং বুদ্ধিদাতা সংস্থা আইপ্যাক। ‘মুসলমান’ প্রতিকুরকে ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখা এখন i-pac তথা তৃণমূলের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। 

আমার টাইমলাইনের বন্ধুবৃত্তে থাকা অনেকেই সেই গ্রুপে রয়েছেন, আপনারা গতকাল সন্ধ্যার সেই চ্যাট নিজেরাই দেখতে পাবেন ওই গ্রুপে স্ক্রল করে উপরের দিকে গেলে। বাকিরা অ্যাটাচড ছবিতে দেখে নিন। এটা বিশেষ একটা বাল-ব্যাটার বিরুদ্ধে কোনো ‘খাপ পঞ্চায়েত’ বসানো নয়, এটা প্রতিকুরদের চিহ্নিতকরণের একটা প্রক্রিয়া। তৌসিফ হক এমন কোনো কিডনি ফুসফুস নয় যে সমাজের কাছে সে ম্যান্ডেটারি কিছু, এগুলো বস্তুত ঝাঁটের বাল, ছেঁটে দিলেই নর্দমাতে শোভা পাবে। 

এদের হোয়াটস অ্যাপ মঞ্চের মুখে পেচ্ছাপ করে দিন। এরা গতকাল শুক্রবার বেলা ১টার সময় পার্কসার্কাসে ধর্ণার আয়োজন কর্মসূচি নিয়েছিল। রোজার মাস, তার উপরে জুম্মাবার। বেলা দেড়টার সময় কে বা কারা যাবে সেখানে? যেখানে বিচারাধীন ভোটারদের ৭৩%ই মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ! যদি না জেনে এমন কর্মসূচি করে থাকে তাদের তাদের বোধবুদ্ধি আর অওকাত বিষয়ে প্রশ্ন উঠবে, আর জেনেবুঝে করে থাকলে, যাতে এই ‘অরাজনৈতিক’ আন্দোলন কোনোভাবেই দানা না বাঁধতে পারে সেই জন্য এমন টাইমিং। পরিষ্কার শয়তানি। অরাজনৈতিক রাত দখলের ডাক দেওয়া যাদবপুরের সেই তথাকথিত ‘বামমনস্ক’ মহিলাকে নিশ্চয়ই কেউ ভুলে যাননি, যিনি সিপিএমকে ভেঙে যেতে দেখার জন্যই আজও বেঁচে রয়েছেন। এরা সকলেই একটা করে প্রতিকুর। কেউ রাতারাতি প্রতিকুর হয় না, দীর্ঘদিন তোলাবাজদের সাথে একথালায় ভাত না খেলে এমন বিশ্বাসঘাতক ‘প্রতিকুর’ জন্মায় না। এদের সর্বাত্মক ছোঁয়াচ না ত্যাগ করলে, কোনদিন দেখবেন আপনাকেও প্রতিকুর বানিয়ে দিয়েছে। 

তাই সাধু সাবধান, তৌসিফের মতো প্রতিকুরেরা ভেড়ার ছাল গাঁয়ে নেকড়ে, আপনার ইজমকে নষ্ট করতে এরা মরিয়া। নতুবা যেই মাত্র তৃণমূলের বিরুদ্ধে বলেছি, ওমনি বিপ্লবী বাবুর গায়ে ফোস্কা পরে গেছে, এবং সাথে সাথে আমাকে রিমুভ করে দিয়েছে। গান্ডু জানে না আমার তো আরও চারটে নম্বর ওখানে থাকতেই পারে, খেলা কি i-pac একাই জানে! আপনি যদি সত্যিই আপনার আন্দোলনকে কোনো সদর্থক পথে নিয়ে যেতে চান, সেক্ষেত্রে যারা ঘোষিত RSS (বিজেপি ও তৃনমূল দুটোই RSS এর শাখা) বিরোধী দল রাস্তায় আছে, যার যে দল পছন্দ তার মিছিলে যান, i-pac এর এই খোঁচরদের ফাঁদে পরলে আপনি জান মাল ইজ্জত সব খোয়াবেন। অতীত থেকে শিক্ষা নিন। 

ইলেকশন কমিশনের মাধ্যমে RSS যে বৃহত্তর বে-নাগরিকী করণের চক্রান্ত করেছে; প্রান্তিক মানুষকে, বিশেষ করে মুসলমান ও তফসিলি হিন্দু সমাজের যে সকল মানুষকে বেনাগরিক করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র রচেছে ‘বিজেপি ও তৃণমূলে’র মাধ্যমে, সেই জাঁতাকলে মানুষগুলো দিশেহারা। যে যার যার মতো করে মরিয়া হয়ে আন্দোলনের পথ খুঁজছে। মানুষ তৃণমূলের ভণ্ডামি ধরে ফেলেছে, রাজ্যসরকারী কর্মী BLO/AREO/BDO ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের একাংশের ইচ্ছাকৃত ভুলের দরুন, ডকুমেন্টস সময়মতো আপলোড না করার দরুন ৬০ লক্ষের বেশি মানুষকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ২৭শে ফেব্রুয়ারিই বলে দিয়েছিল ১ কোটি ২০ লাখ নাম বাদ যেতে চলেছে, তার মানে উনি শুরু থেকেই সবটা জানতেন। বেছে বেছে সংখ্যালঘু মুসলমান, মতুয়া ও নিম্নবর্ণের হিন্দুদের নাম বিচারাধীন তালিকাতে রাখা হয়েছে। ৬০ লাখ মানুষকে জিম্মি বানিয়েছে RSS এর দুই ফুল মিলে।

কেরল এবং তামিলনাড়ু সরকার SIR এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে। DA না দেওয়ার জন্য আদালতের মাছি হয়ে পরে থাকা তৃনমূল সরকার কোনো আদালতে যায়নি, উল্টে মানুষকে মিথ্যা বলেছে যে SIR করতেই দেবো না। অথচ মমতা সরকারই ৮০ হাজার BLO  সাপ্লাই করেছে, BDO অফিসের লোকজন সাপ্লাই করেছে, গোটা প্রক্রিয়ার জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। তারপর আমাদের ফিলাপ করা ফর্ম নিয়ে গিয়ে i-pac এবং তৃণমূল দলের পে-রোলে থাকা ডাটা এন্ট্রি অপারেটর দিয়ে- যার যা খুশি নামের বানান আপলোড করেছে। আমাদের মতো যাদের হিয়ারিংয়ে ডাক পড়েছিল, তাদের ডকুমেন্ট কারও আপলোড করেছে, কারও করেনি। 

বাঙালির পদবীতে ব্যানার্জি-বন্দ্যোপাধ্যায়, চ্যাটার্জী-চট্টোপাধ্যায় কিংবা শেখ বানান চার রকম, হক বানান তিন রকম, মোহাম্মদের হরেক বানান লেখা হয়। সরকার সেটা জানত না? সরকারের তরফ থেকে নির্যাতন কমিশনকে পরিষ্কার করে একটা একটা হলফনামা বিবৃতি দিলে- সমস্যা শুরুর আগেই সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু মমতা ব্যানার্জী তো RSS এর সাথে চুক্তি করেছে মুসলমান, মতুয়া আর তপশিলী হিন্দুদের পথে বসাবে। নতুবা SIR প্রক্রিয়া শুরুর আগেই শুভেন্দুর দাবী করা এক কোটি কুড়ি লাখ, ২৭শে ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর অনুমান করা এক কোটি কুড়ি লাখ, আর ফাইনাল লিস্টের এক কোটি কুড়ি লাখ- হুবহু কী করে মিলে যায়? 

আসামে D-Voter শব্দ একবার ব্যবহার হয়ে গেছে, সেখানে বিতর্কের জন্ম হওয়ার কারণে এবারে নতুন শয়তানি এনেছে নির্যাতন কমিশন- আন্ডার এডুডিকেশন। দুটো একই শব্দ, নতুন বোতলে পুরাতন আইডিয়ার প্রয়োগ। মমতা ব্যানার্জী ও i-pac এর পাশাপাশি, লাল জামা পরিহিত ‘প্রতিকুরদের’ ফাঁদ থেকে বেঁচে থাকাটা বাম সমর্থক ও কর্মীদের প্রাথমিক সফলতা, আপনি কতটা সতর্ক তার উপরে আপনার এই সাফল্য নির্ভর করবে।

বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬

মার্কিন দম্ভ ঔদ্ধত্যঃ অন্ধত্ব


 এটাকে গান্ডুগিরি না বোকাচো দামো বলব জানি না।


ভিডিওতে আক্রমণের পর হেলিকপ্টারের রোটার ব্লেডগুলো ভালো করে দেখুন। এটা হেলিকপ্টার নয়, এটা শুধু মাটিতে আঁকা একটি ছবি। ইরান- এপস্টিন বাহিনীকে ধোঁকা দেওয়ার জন্য মাটিতে আঁকা অ্যানামরফিক ছবি ব্যবহার করছে। যেহেতু রাডার নষ্ট, অনেকটা আন্দাজে মিসাইল ফেলছে আমেরিকা এবং ইসরায়েল বাহিনী, তারা ইরানের ছবি ধ্বংস করার জন্য তাদের মিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র নষ্ট করছে। আর সেই ভিডিও তারা নিজেরা  ‘বিশাল বড় অর্জন’ হিসেবে সরকারী ওয়েবসাইটে আর সোশ্যাল লমিডিয়াতে প্রকাশ করছে। 

রোজ প্রতি মুহূর্তে আমেরিকা নামের সাদা হাতিটা একটু একটু করে ন্যাংটা হয়ে যাচ্ছে ইরানের হাতে। মিসাইল খেয়ে কেবল হিজড়ে হয়ে যায়নি, বিচি শুকিয়ে পাকস্থলিতে উঠে গেছে এপস্টিন বাহিনী। আতঙ্কে বিচি মাথায় চড়ে গেলে এমনই হয়। মাথায় মগজ থাকে যা দিয়ে মানুষ সুস্থভাবে সিদ্ধান্ত নেই, সেখানে বিচি উঠে গেলে- মগজ যথারীতি স্থান বদল করে অন্ডোকোষে উপস্থিত হয়েছে এপস্টিন বাহিনীর। ফলত মিথ্যাচার, ভুলভাল এমন আলবাল কাজকর্ম হতেই থাকবে।

খবরে প্রকাশ, মাইটি আমেরিকা নাকি US trials LGM-30 G. মিসাইল রেডি করেছে ইরানে মারবে বলে। এর সাথে সাথে যে সত্যগুলো নিজেরাই প্রতিষ্ঠিত করে দিল- মধ্যপ্রাচ্যে কোনো মিলিটারি বেস আর বেঁচে নেই, মধ্যপ্রাচ্যে এপস্টিন বাহিনীর অস্ত্রসস্ত্রের ভান্ডার ফাঁকা, যুদ্ধজাহাজগুলো গাধার গাঁ ড়ে। আমেরিকা যদি তাদের মেইন ল্যান্ড থেকে মিসাইল মারে, তখন নিউইয়র্ক, ওয়াসিংটন ডিসি তথা পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউজও ইরানি ICBM খাবার জন্য চরম দাবীদার হয়ে উঠবে। 

আমেরিকার যত ICBM আছে। তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি আছে রাশিয়া , চীন, উঃ কোরিয়ার কাছে। সকলেই মৌকা বুঝে হাত সেঁকে নেবে। ন্যাটোর নড়ার ক্ষমতা নেই, সে পাঁঠা থেকে নির্বীজ খাসি হয়ে বসে আছে।সমস্যা হচ্ছে ভক্তদের মায়ের, কে যে তার আসল 'সুহাগ' বুঝে উঠার আগেই নতুন বাপ বেছে নিচ্ছে ভক্তের দল। প্রথমে আমেরিকা, তারপর চীন, মাঝে রাশিয়া, এখন ইসরায়েল। ভক্তরা যে রেটে বাপ পাল্টেছে, এত ঘন ঘন ডাইরিয়ার রুগীও পায়খানায় যায় না। ভক্তদের মায়ের কি এতে এইডস বা STD হবার ঝুঁকি রয়েছে মিত্রো?

রাশিয়ার মারে ধ্বজভঙ্গ হওয়া ন্যাটো তথা ইউরোপ জায়গা না দেওয়া তে আমেরিকার আর কোনো অপসন বেঁচে নেই। ঔদ্ধত্ব আর অহংকার যখন অন্ধ করে দেয় ক্ষমতার দম্ভে, তখন ফাঁপানো শক্তির গল্প  যা দিয়ে বিশ্বজুড়ে ৮০০টা ভয়ের দোকান খুলে বসেছিল সেগুলো রাতারাতি ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যাবে। ঝাঁপ বন্ধ হলে দাদাগিরি সহ লুঠের রোজগার শেষ। অতএব দাদাগিরির ইজ্জত বাঁচাতে এমন ভুল প্রতিবার করবে আমেরিকা, রোজ করবে, বারবার করবে। ক্ষমতার দাম্ভিকতাতেই কফিনের শেষ পেরেক নিজেরাই মারবে। ইরান তো ওছিলা মাত্র।

ইরান যদি ICBM খায়, নিউইয়র্কেও ইরান জোট বেশ কয়েকটা গুঁজে দেবেই। হিজড়ের বাচ্চাদের কুত্তা দৌড় গোটা দুনিয়া দেখবে। আর ৭টা দিন এভাবেই চলুক, আমেরিকার ৫২টা ভাই হওয়ার অন্নপ্রাশন হবে ইরানের তরফে।

দুঃখের বিষয় হল, অফিসিয়ালি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ যেকোনো মুহূর্তে ঘোষণা হলো বলে।



মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

আমরা কী আমেরিকার কাছে পরাধীন?


 আমাদের দেশের বন্দরে আমেরিকান নৌবাহিনীকে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে কেন? 


মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তাড়া খাওয়া আমেরিকা নামের খেঁকি ঘেয়ো কুত্তাকে আমাদের সমুদ্র বন্দরে এ্যালাও করছে বিশ্বগুরুর সরকার? কোন স্বার্থে? আমাদের পার্লামেন্টের অনুমোদন নিয়েছে? জাতি কী চায় জানতে চেয়েছে? আমরা কি অলিখিতভাবে আমেরিকার উপনিবেশ হয়ে গেছি? আমাদের রাষ্ট্রের কোনো সার্বভৌমত্ব টিকে আছে? নাকি সব বালবিচি ওই নেতানুনু আর বেটিচো দ ট্রাম্পুদের এপস্টিন বাহিনীর কাছে গচ্ছিত রেখেছি? 

আমেরিকা যার বন্ধু, তার আলাদা করে শত্রুর দরকার হয়? মধ্যপ্রাচ্যের মোল্লা রাজাগুলোকে দেখেও শেখেনি ইন্ডিয়ান জেমস বন্ড? ওরাই তো পেট্রোডলার দিয়ে আমেরিকাকে মাইটি বানিয়েছিল। আজ যখন তাদের গাঁ ড়ে মিসাইল দাগা হচ্ছে- কোথায় আমেরিকা? পালিয়ে ভারত উপকুলে এসে প্রাণ বাঁচাচ্ছে। যে কাঠ খেয়েছে সে ফার্নিচার হাগুক, আমরা কেন ভিসকাপের নিচে শোবো? আমেরিকার নৌবাহিনীর জাহাজ আক্রমণ করতে গিয়ে চারটে মিসাইল যদি মুন্দ্রা, কান্ডলা, মুম্বাই, JNPT, মার্মাগাঁও, নিউ ম্যাঙ্গালোর বা কোচিন বন্দরে পরে, সেগুলোকে সওয়ার মুরোদ বা শক্তি আছে তো আমাদের? যেখানে আমেরিকা নিজের থুতু চেটে খেয়ে প্যান্টে হাগছে সেখানে আমাদের প্রতিরোধ শক্তি মার্কিনীদের চেয়েও বেশি? মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইরানের তাড়া খেয়ে ঘেয়ো খেঁকি কুত্তার মতো আমেরিকা যেদিকে পারছে পালাচ্ছে। গ্রীস সহ অনেকেই জায়গা দেয়নি, যদিও স্পেনের একমাত্র প্রকাশ্য বিবৃতি রয়েছে যে, আমাদের মাটিতে যুদ্ধাপরাধী মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কোনো স্থান নেই। ন্যাটোকে একা রাশিয়াই নাশবন্দি ভ্যাসেকটমি করিয়ে দিয়েছে, ন্যাটোর আর উঠে বসার ক্ষমতা নেই।

ইরান ইসরায়েলকেও জাহান্নামে ছুঁড়ে ফেলেছে। তেল আবিবে ফক্স নিউজের প্রতিবেদক বলছে- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ এতটাই ভয়াবহ যে, ১ কোটি মানুষকে বাঁচার জন্য আড়াল খুঁজতে দৌড়াতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এটা আর কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পুরো শহর জুড়ে প্রতিটা বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি হচ্ছে - আরও বড়, আরও মারাত্মক, যেন সবকিছু গিলে খাচ্ছে। পুরনো বস্তাপচা স্ক্র‍্যাপ মিসাইল দিয়ে এপস্টিন বাহিনীর প্রতিরোধ সিস্টেমকে মেলার পাঁপড়ভাজা বানাবার পর, এখন ইরান চেপে ধরছে তার অস্ত্রাগার থেকে সেরা মালগুলোর সামান্য কয়েকটা বের করে। ইউক্রেন থেকে ইতিমধ্যেই যা প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এনেছিল সে সব ফিনিস। এখন ইরান ফেলে ক্যালাচ্ছে যায়নবাদী দুই কশাইকে।

মাইনাবের ইস্কুলে অতর্কিত আক্রমণে ১৬৭ জন শিশু কন্যাকে খুন করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ শুধু তাদেরই মারেনি, আজ গণকবরের দৃশ্যমানতার মাঝে সবচেয়ে বড় অদৃশ্য কবরটা আমেরিকারই ছিল। ইরানের বাঁচার সম্ভাবনা অতিক্ষীন হচ্ছে রোজ, কিন্তু সে নিজে মরতে মরতে আমেরিকা মিথ ও তাদের লুঠের সাম্রাজ্যকে হরমুজের জলে নিয়েই ডুবছে। তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খুন হতেই, ইরান ক্ষ্যাপা জম্বি ষাঁড় হয়ে গেছে। এখন তাদের কোনো কূটনীতি নেই, কোনো পররাষ্ট্রনীতি নেই, বিশ্বের প্রতি মানবতা নেই, আইনকানুন কিচ্ছু নেই। কারণ বাকি দুনিয়া তার জন্য এগুলোর একটাও দেখয়নি, ফলত আজ সে নবারুণের ভাষায়- গাঁ ড় মারি তোর এথিক্সের। ইরানের একটাই নীতি- যে আমেরিকাকে সাপোর্ট দেবে তার গাঁড়ে মিসাইল গোঁজো, তাতে তার দেশে ১০ হাজার শহীদ হলে হোক। একটা নেতা মরতেই আরেক জন এসে হাজির শহীদ হতে, যিনি আরও বিক্রমে মিসাইল ফাটাচ্ছে। তাদের পরিষ্কার দর্শন- আমরা মরছিই, তবে বাকিদের মেরে মরব।

এমন ক্ষ্যাপা জম্বি ষাঁড়ের সামনে আমেরিকা তার নেভাল বাহিনী মানে নৌবাহিনীকে আরবসাগর বরাবর আমাদের ভারতের নানান বন্দরে স্থান দিয়েছে এপস্টিন বাহিনীর ভারতীয় পার্ট- আমাদের চমন চোদনা বিশ্বগুরু। এই হাওয়া বেলুন মার্কিন বাহিনীকে 'আলফা মেল' ভেবে এদ্দিন হারেমখোর মোল্লারাজা গুলো পুষে এসেছে, আজ প্রতিটা আরব মোল্লা রাজার দেশে তান্ডব চালাচ্ছে ইরান নামের উন্মাদ, সে পণ করেছে আমেরিকা আর তার প্রতিটা সহযোগীকে এলাকা ছাড়া করবে। দিশাহীনভাবে অলআউট আক্রমণে যাওয়ার বাইরে একটাই পথ ছিল- আত্মসমর্পণ করা আমেরিকার পায়ে। কিন্তু সবাই তো নরেন্দ্র মোদী নয়, কেউ কেউ তো মানুষও হয় যার মেরুদন্ড আছে। ৪টে মিসাইল আর কিছু কামিকাজে ড্রোনের মার খেতেই যেভাবে আমেরিকা নামের বিশ্বপরাশক্তির মিথকে উলঙ্গ করে ভেতর থেকে খেঁকি কুত্তাটাকে বের করে দিয়েছে, এর পর আর পিছিয়ে আসার জায়গা নেই ইরানের। এক নারকীয় উল্লাসে ইরান বিনাশের খেলায় মেতে উঠেছে- যেটা এপস্টিন বাহিনী নিজেরা যেচে শুরু করেছিলো। এই আমেরিকাই মোদীকে নপুংসক বানিয়ে মাদারির বাঁদরের মতো নাচাচ্ছে।

RSS সমস্যা, তার চেয়েও আমাদের দেশের বড় সমস্যা 'গুজ্জু কার্টেল'। আদানি-আম্বানি-মোদী-শাহ ব্যাস, ভারত সম্পূর্ণ। এদের বিচি আর মগজ দুটোই এপস্টিন বাহিনীর হাতে বন্দি, তাই আমারা ১৪০ কোটি জনগণ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের হাতে জিম্মি হয়ে গেছি। এদিকে ওপেন টিভি চ্যানেলে হিজরায়েলি রাজনীতিবিদ বলছে আমাদের জন্য অস্ত্র তৈরি করতে ১৪০ কোটি ভারতীয় 'দাস' রয়েছে। আমাদের নপুংসক গুলোর একটারও প্রতিবাদ করার অউকাত টুকু নেই, কী করে করবে! আদানি তো ইজরায়েলের হয়ে লক্ষ্মৌ আর নাগপুর অস্ত্র কারখানাতে সত্যিই ইজরায়েলের অস্ত্র বানায়। এরা দেশকে ভালবাসে? এরা নাকি দেশপ্রেম দেখায়? ওয়াক থু তোদের মুখে। এরা মরে গেলেও এদের কঙ্কালের উপরে আগামীতে প্রতিটা ভারতীয়ের পেচ্ছাপ করা নৈতিক দায়িত্ব। সোস্যাল মিডিয়ার একাদধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- ফাদারল্যান্ডের প্রভু নেতানুনু আমাদের দেশ সম্বন্ধে কেমন ধারণা পোষন করে। ইহুদিদের বাচ্চারা ভারতীদের সাথে কেমন আচরন করে, ভক্তের মূর্খ বাপ এদেরকে পিতাশ্রী বানিয়ে এসেছে। ওয়াক থুঃ

বেটিচো দ ট্রাম্পুর মাইটি আম্রিকা গাঁ ড়ে যা মিসাইল আর ড্রোন ভরেছে, তার বিচি সমেত সমস্ত যন্ত্র কিডনিতে উঠে গেছে। এখন আর প্যান্টেও মোতার মুরোদ নেই, নিজের পেটেই মুতছে। যত দিন যাবে নিজেরা হাগবে নিজেরাই সেটা খাবে। যেকোনো মূল্যে এখন সিজফায়ারের ঘোমটা চাইছে, যাতে পালিয়ে বেঁচে মুখরক্ষা হয়। সে তারা গাঁ ড় মারাক ঘটি হারাক, যুদ্ধ তারা শুরু করেছিল, তারা মূল্য গুনুক- আমরা কেন আমাদের সমুদ্র বন্দরে আমেরিকাকে সেল্টার দেব? দীর্ঘদিনের বন্ধু ইরানকে হারিয়েছি, এ অবধিও ঠিক আছে নাহয়; কিন্তু তাকে শত্রু বানানোর মধ্যে ভারতের কোন স্বার্থ সুরক্ষিত হবে? আর আমেরিকাকে সেল্টার দিয়েই বা আমদের কোন লাভটা হবে? কদম্বা কারওয়ার, মুম্বই, পোরবন্দর, কোচিন ভেন্ডুরুথে, গোয়া ও লাক্ষাদীপ- এই ভারতীয় নৌ সেনাঘাঁটির প্রতিটাতেই নাকি পলাতক কাপুরষ মার্কিন যুদ্ধবাজ নৌসেনাদল তাদের অবশিষ্ট বেঁচে থাকা জাহাজ নিয়ে উপস্থিত হয়েছে- সোস্যালমিডিয়ায় বিভিন্ন এক্সপার্টের দাবী অনুযায়ী। শুধু উপস্থিতই হয়নি, গুজ্জু কার্টেল তাদের জামাই আদরে পুষছে খাদ্য, মদ, মেয়েছেলে- সবের যোগান দিয়ে। কত টাকায় দেশকে বিক্রি করেছে এই গুজ্জু কার্টেল?

কোথায় আমাদের দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো? কেন আমরা রাস্তায় নামছিনা RSS এর এই আত্মঘাতী বিদেশনীতির বিরুদ্ধে? RSS আগে ব্রিটিশের জুতো চাঁটতো, এখন আমেরিকার চাঁটছে। মালিক বদলেছে শুধু, এদের জিনে সাদা চামড়ার প্রতি অকৃত্রিম "I beg to remain, SIR, Your most obedient servant" পরিভাষার কিছুই বদলায়নি।

ঝাড়ের বাঁশ গাঁ ড়ে নেওয়ার মূল্য দিতে আমরা ভারতবাসীরা প্রস্তুত তো? 

তাহলে, বলো আম্রিগা মাই কি....... 


সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

ইরান যুদ্ধঃ একটা অশ্লীল পোষ্ট


 Disclaimer: অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায় কথাবার্তা লেখা আছে এখানে, প্লিজ কেউ পড়বেন না। 


মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে যারা ঘৃণা করেন, তারা কিন্তু এটা পড়লে মানসিক তৃপ্তি পাবেন। আপনি যে ভাষায় বলতে পারছেন না এখানে সেই ভাষাতে লেখা রয়েছে। তবে যারা নাকি সুশীল, কিন্তু লুকিয়ে পানু দেখার অভ্যাসের দরুন ‘ভুল করে’ পড়বেন ভাবছেন- তারা মধু মাখানো তুলসী পাতা দিয়ে পোঁ দে গার্ড দিন, নাহলে আপনার ওটাই মারা যাবে আমার এই অকথ্য ভাষার চোদনে। হালাল হোক বা স্বাত্ত্বিক উপায়ে, যার যেটা পছন্দ ও ওরিয়েন্টেশন- সেই অনুযায়ী পোঁ দের সুরক্ষা নিন; ঠিক যেভাবে ‘আয়রন ডোম’ ইজরায়েলকে সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে। চলুন শুরু করা যাক- 

কার্পেট বোম্বিং দেখেছি, ক্লাস্টার প্রযুক্তির কার্পেট মিসাইলিং- নাবালক চো দা এপস্টিন বাহিনীর কাছে এ রীতিমতো দুঃস্বপ্নের। ইরানের বর্তমান রাষ্ট্রগীত হচ্ছে- ইতনা বোম ফোড়েঙ্গে, কী এলাকা ধুঁয়া ধুঁয়া হো জায়েগা। গাজাকে গাজা বানানোর কারিগরেদের মড়াকান্নার ভিডিওটাও সাথে দিলাম 

এপস্টিন বাহিনীর সেক্রেটারি ডোলান্ড টাম্প, এপস্টিনের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতনায়াহু, আর এপস্টিনের স্পেশাল মুজরোওয়ালি ৫৬ ইঞ্চির ভোঁদড়ের দল ভেবেছিল তাদের যৌন শীঘ্রপতনের মতোই- দু’দিনে যুদ্ধ শেষ হবে। খামেইনিকে মার্ডার করে দিলেই উদ্বাহু নেত্ত করতে করতে রেজা পহ্লবীর নেতৃত্বে আবার একটা বিশ্বমাচাদো সরকার আসবে। শুরুটা টিম এপস্টিন প্ল্যানমাফিক করলেও, শেষটা করতে পারল না, শিবলিঙ্গ গড়তে গিয়ে বাপের বাঁ ড়া গড়ে ফেলেছে। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই আত্মলিঙ্গম পশ্চাদপূরণে বাধ্য করেছে ইরান। পালিয়ে যাবার শেষ উদাহরণ হিসেবে আফগানিস্তানের মাটিতে মার্কিন অহমিকার কবর দেওয়া হয়েছিলো। সেখানে আমেরিকার কাপর খুলে নেওয়া হয়েছে, মার্কিন বেস গুলোতে আজকের দিনে ঘুঘু চড়ছে। কুত্তানিয়াহু প্রথমে গ্রীসে গেছিল সেল্টার নিতে, সেখান থেকে লাথ খেয়ে জার্মানিতে পালিয়েছে।

ইরানের তরফে মিসাইল হামলা হচ্ছে সিংহের মতো করে। সিংহের কামোত্তেজনা উঠলে প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর অন্তর লাগাতার প্রায় সপ্তাহ খানেক তারা এলোমেলোভাবে লাগায় ২৪ ঘন্টা ধরেই। এতেই সিংহী প্রেগন্যান্ট হয়ে যায়, আমেরিকা কি সিংহীর চেয়ে কম কিছু? এদিকে সিংহীও কম তেজী নয়, তার দাঁত নখের আঁচড়ে সিংহ আক্রান্ত রক্তাক্ত হয় বটে, কিন্তু সঙ্গম থামে না। স্বভাবতই আমেরিকার পেট না বাঁধিয়ে ইরান ছাড়বে না, তাতে পুরুষ মৌমাছির মতো লাগাতে লাগাতেই বীর্য আর প্রাণ একসাথে ত্যাগ করতে হলে হয়তো ইরান সেটাই করবে। মৌমাছি, অক্টোপাস, প্যাসিফিক স্যামন, স্কুইড কিম্বা সিংহ- কায়দা যা খুশি হোক, লাগাচ্ছে কেবল ইরান। আমেরিকাই নিজে থেকে লাগাতে এসেছিল, কিন্তু তার ধন কুত্তার মতো ফুটোয় আঁটকে গেছে, এখন সেই গিঁট না ছাড়া অবধি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্যালানি খেতেই হবে আর গলা ছেড়ে ঘেউ ঘেউ করতে হবে। 

আমেরিকার ল্যাওড়ার আইরন ডোম, থার, ডেভিডস স্ল্যাং, প্যট্রিওট, কত কী সব নাম- সব আক্রমণ নাকি আঁটকে দেবে! ডামি মিসাইল দিয়েই এগুলোর এমন ভাবে গুয়া মেরে দিয়েছে যে, পোঁ দের ফুঁটো দিয়ে দাঁত দেখা যাচ্ছে। খেলা শুরু হতে কী দেখা গেল? আমেরিকা পানু ফিল্মের নায়িকা আবেলা ডেঞ্জার, মিয়া খলিফা/মালকোভা বা লানা রোডস সেজে প্রতিটা ফুটো দিয়ে নিজের ভেতরে- ইরানের সমস্ত মিসাইল জনি সিন্সের ডান্ডার মতো শীৎকার করে ভরে নিচ্ছে। সব ধরনের পোজে একা ইরান ১৪টা দেশকে গ্যাংব্যাং এর অর্গাজম দিচ্ছে জাপানি তেল থুরি চাইনিজ তেল লাগিয়ে। আমেরিকার বিলিয়ন ডলারের রাডার সিস্টেমকে মেলার পাঁপর ভাজার মতো করে খাস্তা মুড়মুড়ে করে দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছে। ইরানের প্রতি ১০০ ডলার খরচের বিপরীতে আমেরিকার খরচা ১ লাখ ডলার, এখানেও চু দে চাপ, পঞ্চুর বাপ।

আপনি তো আবার ধ্রুবক ধরে বসে আছেন, আমেরিকা মানে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, তার কোনো বিনাশ নেই। ওরে বাবাচোদা ফ্যাদামুখো, আমেরিকার ২৪০ বছরের ইতিহাসের শেষ ২০০ বছরে তারা কোনো যুদ্ধ জেতেনি, আর শেষ ৬০ বছরে তারা প্রতিটা যুদ্ধে ল্যাজে গোবরে হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় ইরান যুদ্ধেও সেটাই হচ্ছে, নাকাল নাজেহাল বিপর্যস্ত অব্যবস্থা আর চুড়ান্ত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি শুরু হবে তাদের মেইন ল্যান্ডেও। শিশু যৌন নিপীড়ক ট্রাম্পু এবারে ট্যারিফ চোদাতে গেলে আর ইরানকে লাগবে না, তাদের দেশের লোকই গাঁড়ে ফ্যাটবয় আর লিটিলম্যান একসাথে গুঁজে দেবে। পাতি বাংলায় বললে, আমেরিকার ফাটা বাঁশে বিচি আঁটকে গেছে, সিজফায়ারের নামে যেকোনো মূল্যে এখন বিচি বাঁচিয়ে পালাতে চাইছে। কিন্তু চাইলেই তো আর হবে না, ইরান মরনপণ বাজি রেখে অলআউটে গেছে, অন্তত মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বিচি কেটে খাসি না করে ছাড়বে না। ব্রিটেন ফ্রান্স জার্মানির বিচি শুকিয়ে কিসমিস করে রেখে দিয়েছে রাশিয়া ভায়া ইউক্রেন যুদ্ধ, তাই তারা দূর থেকে হুক্কাহুয়া করছে ও করবে, তেড়ে ছুটে আসার ভান করবে, কিন্তু কামড়াবার কোনো অউকাত অদের অবশিষ্ট নেই। কামড়ালে পরের মিসাইলগুলো বার্লিন লন্ডন কিম্বা প্যারিসের ভূমিতে ‘ফুল’ ফোটালে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

আরবের খোজা মোল্লাদের দেশগুলোকে দিয়ে, ইরান তার ইমানদন্ডকে শুধু চুষিয়ে নিচ্ছে মাঝেমধ্যে- যাতে আমেরিকাকে ঠাপানোর সময় পিচ্ছিলতা বরাবর বজায় থাকে। আসলে চু ত মারা যাচ্ছে আমেরিকার মা মাসির- সামনে পিছনে দুদিক দিয়েই। যা দেখা গেল, আমেরিকার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের চেয়ে চিনা মালের গ্যারান্টি বেশি। আর সেই হিসাবে S-400 তো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিস্ময়, অবশ্য রাশিয়ান মানেই অনেকের চোখে গোলাপি বিস্ময় জাগে। ইজরায়েলকে আলাদা করে উল্লেখ করে লাভ নেই, যৌবনে পুরুষ বীর্যবান হলে যেমন ফ্রিতে বাল গজায় গুপ্তাঙ্গে, ইজরায়েল হচ্ছে আমেরিকার এঁড়-বিচির ঝাঁটের বাল। এর আলাদা কোনো অস্তিত্ব নেই, এক্সটেন্ডেড আমেরিকাই ওটা। যা বাকি বিশ্বে CIA নামে পরিচিত, সেটাই ইজরায়েলী ডাকনাম মোসাদ। আমেরিকাই তার ওই ঝাঁটের বালে শ্যাম্পু সাবান তেল দিয়ে বিনুনি করে রেখেছে, যেদিন আমেরিকার বিচি কেটে খাসি করা হবে সেদিন এঁড়ের বালও আস্তাকুঁড়ে চলে যাবে।

গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধে ইজরায়েল ন্যাংটা হয়ে পায়ে ধরে সিজফায়ার নিয়েছিল, এই যুদ্ধে আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাপড় খুলে নিয়েছে ইরান। বেটিচো দ ট্রাম্পুও এখন লেজ গুটিয়ে পালাতে চাইছে। আমেরিকাও তাদের সক্ষমতার চেয়ে শতগুণ ফোলানো হাওয়া বাঁদর, ইরান সেটাকে উন্মোচন করে দিয়েছে। রীতিমতো পাড়ার মোড়ে ফেলে ক্যালাচ্ছে আমেরিকার ১৯টা ঘাঁটির প্রতিটাতে। আব্রাহাম লিঙ্কন নামের বিমানবাহী জাহাজের খোঁজ নেই, তাকে সম্ভবত জলকবরে পাঠিয়ে দিয়েছে ইরান। বাহারিনের পঞ্চম নৌবহর গাধার গাঁ ড়ে। B-2 কে আনার সাহস দেখাতে পারেনি, কে জানে তার জন্য কোন মিসাইল স্টকে রাখা রয়েছে। B-2 এর একটাকে প্যাকেট করে দিলে তো আমেরিকার ৫০টা ভাই হবে রাতারাতি। তাই তারা পরমাণু বোমা বহনকারী সাবমেরিন আনার হুমকি ধমকি দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটা USA এ্যাম্বাসিতে এখন ঘুঘু চরছে। ট্রাম্পের চিৎকার এখন শীৎকার মনে হচ্ছে, হিজরাএলি বীর কুত্তা জার্মানিতে পালিয়েছে- ‘প্রমিশ ল্যান্ডে’ কয়েক লাখ বেজন্মাকে মরার জন্য ফেলে রেখে। সেই বেজন্মারাও পালাতে গিয়ে রোড জ্যাম করে উদোম খিস্তাচ্ছে। আমেরিকা যদি ইরানে পরমানু হামলা করে, রাশিয়া ইউক্রেনে আর কিম জং দক্ষিণ কোরিয়াতেও পরমাণু বোমার ছুঁচো বাজি ছাড়ার লাইসেন্স পেয়ে যাবে। সুতরাং, হরিনাম খাবলা খাবলা করে গাওয়া যাবে না- আমেরিকার মেনল্যান্ড প্রতিটা ICBM মিসাইলের রেঞ্জের মধ্যে। 

হলিউডি সিনেমাতে আমরা প্রতি বছর ২০টা করে এমন সিনেমা দেখি যেখানে আমেরিকা আক্রান্ত, আজ সত্যিই যখন তারা চুলকাতে এসে আক্রান্ত- 'আজকের দিন অবধি' প্যান্টে হেগে ফেলেছে, ইরানের মতো একটা ক্ষুদ্র শক্তির কাছে। যে ইরানের না বিমান বাহিনী আছে, না নৌবহর আছে, না আধুনিক বিমান আক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা রয়েছে, না আছে সেই মানের আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা রাডার সিস্টেম। যা আছে তা হলো চরম আত্মবিশ্বাস, অকুতোভয় সাহস আর নিবিড় দেশপ্রেম, এর সাথে তাদের মিসাইল প্রযুক্তি। আমাদের ৫৬ ইঞ্চি ভাঁড়ের মতো ট্রাম্পের পোঁ দ চেটে জ্বী হুজুরি তো আরবের মোল্লাচো দা গুলোও করেছে, মানুষ আর মানুষরূপী জানোয়ারের ফারাক থাকবেই। সবাই খামেনিই হতে পারে না।

অবশ্য ফেসবুক টুইটারে কিছু মাল খামেইনির মৃত্যুতে এমন উল্লাস করছে, যেন তার বুড়ি তুবড়ি মাকে পাড়ার কাকারা মিলে গাভিন করে দিয়েছে, তাই ভাই হবার আনন্দে নাচছে জারজ গুলো। তাদের হিসাবে ইরান মহিলাদের বন্দি বানিয়েছে, ওদিকে যারা নারী মুক্তির স্বঘোষিত ধারক বাহক তারা ইরানি বাচ্চা মেয়েদের ইস্কুলে বোমা মেরে ১৫০ জনকে খুন করেছে, কিম্বা কচি ও ডাঁসা বেছে বেছে এপস্টিন দ্বীপ হোক বা আরো অন্যান্য স্থানে নিয়ে গিয়ে সেই মেয়েদের ধর্ষণ করেছে। ইরানে থাই-মাই দেখানো তথাকথিত নারী স্বাধীনতার সময়ে মহিলা শিক্ষার হার ২৪% থেকে বেড়ে আজ ৯৭% পৌঁছেছে। তাদের সরকারি চাকরিতে নারীরা ৫০%, মিসাইল প্রযুক্তির ওয়্যার রুমে নারী বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, কৌশলীরা গিজগিজ করছে। এসব আমাদের দেশের নেড়ীবাদি খেঁকি চমন চুতিয়াদের চোখে-কানে ঢোকে না। আমেরিকান প্রোপাগান্ডা মিডিয়া বলেছে ইরান পচে গেছে, এই বাঞ্চোদেরা সেটাকেই একমাত্র সত্য হিসাবে বাপের বিচির মত আঁকড়ে ধরে বসে আছে। এদের চোখে তার মায়ের মাসিকের রক্তমাখা ন্যাকড়া আর কানে বাপের বাঁ ড়া গোঁজা আছে। এই সব ফেসবুকের আড়াই আনার বিপ্লবীদের জন্ম কীভাবে হয়েছে জানেন? এর বাপেরা বাথরুমে হ্যান্ডেল মারতে গিয়ে কমোডে মাল ফেলেছিল, সেই কমোডের জলে এরা কীভাবে যেন জন্মে গেছে মশার মতো। স্বভাবতই কমোডের গর্ভে জন্মানো মালেদের উল্লাস তখনই হয়, যখন কেউ আবার খিঁচে তাদের মুখে চোখে উষ্ণ বীর্যপাত ও মুত্র বিসর্জন করে দেয়। কে জানে এদের মায়েরাও হয়ত কখনও এপস্টিনের মতো মালেদের খাটে শুয়ে ‘অউফ’ শব্দে অর্গাজম নিয়ে ফেরার ফসল ফলিয়েছিলো কিনা।

সবচেয়ে আনন্দ লাগছে আরবের মোল্লাগুলোর গাঁ ড়ে মিসাইল ভরে দেওয়া দেখে, যেন শৈশবের ঈদের আনন্দ পাচ্ছি। ভেড়াগুলো ভেবেছিল আমেরিকা তাদের বাঁচাবে, তাই গত ৫০ বছর ধরে দুধ কলা আর পেট্রোডলার দিয়ে আমেরিকান সেনাদের পুষে এসেছিল। আজ ইরানের চোদনে আমেরিকার ভাই হবার দশা এসে গেছে, ফলে আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহারিন, ওমান, জর্ডন ও সৌদি- সবকটা বেজন্মা রাজাদের দেশে ইরান মিসাইল-ড্রোন দিয়ে চড়কিবাজি খেলছে। এই সবকটা কাটামোল্লা রাজা বৈভব আর বিলাসিতার চুড়ান্ত পর্যায়ে থাকে সারাবছর, এরা না মুসলমান না ইহুদি না হিন্দু না খ্রিস্টান - এরা জিন্দা শয়তান। এদের হারেমে সাদা চামড়ার বেশ্যাতে ভর্তি, গলা অবধি মদে ডুবে, শুয়োরের মতো ডজন ডজন বাচ্চা পয়দা করাই এদের একমাত্র কাজ। বাচ্চারা যেমন মুখে ললিপপ গুঁজে থাকে, এই শুয়োরের বাচ্চা বেজন্মা মোল্লাগুলো মার্কিনীদের বাঁ ড়া মুখে গুঁজে বসে থাকে। 

দুবাই সহ সমগ্র আরব দেশে চরম খাদ্য সঙ্কট দেখা দেবে অচিরেই। একটারও নিজেদের দেশে খাদ্য উৎপাদন হয় না, বাইরে থেকে আসার উপায় নেই, জল জাহাজ, উড়ো জাহাজ সব পথ বন্ধ। যুদ্ধ পরিস্থিতি আগামী ২ সপ্তাহ চললে খাদ্যের জন্য গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে মোল্লা খা নকির বাচ্চাদের ঘরে ঘরে, শালারা কেরোসিন খেয়ে মরুক। গোটা গাজা’কে যারা মাসের পর মাস অভুক্ত রেখে নিজেরা ফুর্তি লীলা করেছে দিনের পর দিন, আজ সেই সকল গর্ভস্রাব বোকাচো দা দের শুকিয়ে থাকার দিন এসে গেছে। 

বাহারিন নামের দেশটা আপাতত অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে। আর দুবাই এর যা হাল করেছে তাতে আবার তারা ৪০ বছর পিছিয়ে যাবে, সাথে এতো এতো বিদেশী লগ্নির যে বিস্ফোরণ- তাও গাধার গাঁ ড়ে চলে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা। মোল্লাচো দা দের হারেমে একটা করে কামিকাজি ড্রোন গুঁজে দেওয়া না দেখতে পাওয়া অবধি আত্মায় শান্তি আসছে না। সবকটার বিচিতে আলুবোমা দিয়ে ব্লাস্ট করাতে হবে। আলকায়দা আর আইসিস নামের বেশ্যার বাচ্চাগুলো, আরব রেন্ডিদের পেটে আমেরিকার বীর্যজাত বেজন্মা। এদেরকেও এই সময়ে প্যাকেট করে দিতে হবে। ইসলামের নাম নিয়ে কম গণহত্যা খুল লুঠতরাজ এরা করেনি। এই সবকটা মোল্লাদের সর্দার হচ্ছে সৌদি নামে খান কির ছেলেরা, এদের প্রত্যেকটাকে বেছে বেছে আলাদা করে একটা করে মিসাইল পোঁ দে ভরতে হবে। সৌদির পেট বরাবর পূর্ব মাথা থেকে পশ্চিম মাথা অবধি তেলের লাইন পাতা রয়েছে, যা তাদের তেল সরবরাহের মূল ধমনী, সেখানে মিসাইল না গুঁজলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরবে না, ফিরতে পারেনা। শুনলাম তুরস্কে থাকা মার্কিন সেনা ঘাঁটির বিচিতেও নাকি হালকা টঙ্কার মেরেছে আজ ইরানি মিসাইল। ন্যাটোর সাথে মিলে গাজাতে গণহত্যা চালানো- মুসলিম বিশ্বের খলিফা হতে চাওয়া গাঁ ড়দোয়ানের বিচিতেও হালকা চুলকে দিলে, পীর সেজে বায়ানবাজিটা বন্ধ হয়ে হয়।

বর্তমান সভ্যতার বয়স যদি আনুমানিক ৫০০০ বছর হয়, ‘আজকের দিনের’ গণতন্ত্রের বয়স আর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বয়স একই, কমবেশি ওই ৮০ বছর। দুজনেই একে অন্যের হাত ধরাধরি করে এসেছে বিশ্বের সকলের মা বোন চু দে দিয়ে লুঠতরাজ করতে। ‘গণতন্ত্র’ নামের যে মুলো এপস্টিন বাহিনী গোটা পৃথিবীকে দেখায়, সেটা তারা নিজেরাই কখনও প্রাক্টিস করেনি। এই মাচো দাদের কাছে গণতন্ত্র মানে শুধু লুটপাট আর যুদ্ধ হিংসা। মানবতা, নারী স্বাধীনতার ভরং ধারী বাঁদির বাচ্চারা নিজেরা বাচ্চা মেদের যৌনদাসী বানায়, আর স্বাধীন সার্বভৌম দেশে বোমা মারে, তাদের রাষ্ট্রনেতাকে তুলে নিয়ে যায় সম্পদ আত্মসাৎ করতে। গোটা বিশ্বের একটা শ্রেনীর কাছে পশ্চিমা গণতন্ত্রের এই মুলোই একমাত্র আইডল, তারা তাদের পৈতৃক গাঁ ড়ে মুলো হুড়কো খেজুর গাছ যা খুশি গুঁজুক, আমেরিকা যেদিন ‘লৌড়েন ভোজ্যম’ হয়ে যাবে, আজকের রূপে থাকা গণতন্ত্রও ‘বাপরে’ বলে পটল তুলবে নিশ্চিত।

এসব থেকে যা বোঝা গেল, আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আর মমতা ব্যানার্জীর ভাষন- দুটোই এক। এরা দুজনেই যেটাকে বলে আঁটকে দেব, সেটাকে পরিপূর্ণ employment করে ছাড়বেই। এদিকে ভারতের মিডিয়া আর পেঁপে গাছের খাট- দুটোর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কুয়েতে একটি F-15 বিমানের মা চু দে দেওয়া হয়েছে, গোদী মিডিয়ার এ্যাঙ্কর জানাচ্ছে সেটা নাকি পড়ে গেছে, ওলে বাবালে, গুলুগুলু। ফাইটার জেট যেন তার বাপের নু নু, সেই যন্ত্রের শীঘ্রপতনের মতো ফাইটার জেটও ঝরে ঝরে পড়ে।

ইজরাইল কিন্তু সহজে শেষ হওয়ার নয়, হবেও না।  আমেরিকাকে বলি দিয়ে টিমটিম করে হলেও তারা কিন্তু টিকে থাকবে। আমেরিকার বয়স ২৪০ বছর ইহুদিরা টিকে আছে সাড়ে তিন হাজার বছর ধরে। এই সাড়ে তিন হাজার বছরে আমেরিকার মতো কত বিশ্বমোচাদো এসেছে গেছে, এই চোদনা গুলো ঠিক টিকে আছে। এদের মতো ধান্দাবাজ শয়তান পৃথিবীতে দ্বিতীয় কোনো জাত নেই। 

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিবিদরা কাল থেকেই বলছিল শেয়ারবাজার খুললে মার্কিন অস্ত্র কোম্পানিগুলোর শীঘ্রপতন অবশ্যম্ভাবি। CNN, FOX এর মতো বিজ্ঞবিচিদের মুখে রজঃস্রাব করে, আজ শেয়ার বাজার মাল ফেলা ধনের মতো নেতিয়ে পড়েছে। SIR নাটিকা আর ইরান যুদ্ধের বাইরে আপাতত এটাই গল্প। এই শেয়ারবাজার পতন থেকে ডিপস্টেট কতটা মুনাফা কামাবে জানি না, কিন্তু পশ্চিমা সাধারণ জনগণের পুঁজির আবার আঠা আঠা করে গাঁ ড়টি মারা গেলো সেটা বলাই বাহুল্য। আমাদের বাংলাতে দোল উৎসব চলছে, সকালের দিকে ফগও থাকছে। আমেরিকা চু দে যেতেই পাকিস্তান এখন অনাথ হয়ে গেছে। আফগানিস্তানের নামে বিল কেটে আমাদের RAW ইসলামাবাদে হীরামান্ডি খুলে বসেছে পাকিস্তানী সেনার মা বোনেদের নিয়ে, এটাও শরীর ঝাঁকিয়ে সুখ দিচ্ছে। শুনছি নূর খানেরও নাকি খাৎনা করে দিয়েছে আবার! নপুনংশক স্যারেন্ডার মোদীর কতটা মুরোদ হবে এমন সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানকে টুকরো টুকরো করে ফেলার, সেটাই বড় প্রশ্ন।

তবে লোকসান টাকার হলো জানেন, ক্ষতিকুরের। তার পোঁদকাস্টের গাঁ ড় মারা গেছে। SIR নিয়ে তোলামুলের ঢামনামি চাপা পরে গেছে। এতো লক্ষ লক্ষ টাকা খরচা করে i-pac এর যে প্রচেষ্টা, সব মাঠে মারা গেছে ইরান যুদ্ধের কারনে। 

শালে দুখ কা দিন খতম কাহে নেহি হোতা হ্যায় বে!

রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬

ইরান যুদ্ধঃ প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া

 


ইরান ভয়াবহ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে কোন সন্দেহ নেই। কতক্ষণ সে প্রতিরোধ করতে পারবে- সে বিষয়েও নিশ্চিত করে কিছু বলার উপায় নেই। এটা তার টিকে থাকার লড়াই। এসবের মধ্যে প্রথম দিনের হালতামামি করে যতটুকু পাওয়া গেল, তার একটা সারসংক্ষেপ মোটামুটি এইরকম -

ভক্তদের বাপের ফাদারল্যান্ডকে আবার একবার গ্যাংব্যাং করে তাদের মা-বোন-মেয়ে সবাইকে এক খাটে শুইয়ে ন্যাংটা মাচাদো করে বাঙ্কারে ঢুকিয়ে চুতিয়া বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। 

নিজেদের সর্বশক্তিমান বলে দাবী করা বিশ্ব মাচাদো আম্রিগা ল্যান্ডের ১৯টা মধ্যপ্রাচ্য ঘাঁটির মধ্যে ১৫টাই দাউদাউ করে জ্বলছে। জাতিসংঘে গিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের নামে চীন রাশিয়ার পা ধরে পালিয়ে বাঁচতে চাইছে পেডোফাইল ট্রাম্পু। আয়রন ডোমকে মুতে ভাসিয়ে দিয়েছিলো আগেই, এ যাত্রায় 'থার' আর প্যাট্রিয়ট ডিফেন্স সিস্টেমের মা-মাসির ১০৮ বার করে দিয়েছে। মার্কিন ডিফেন্স সিস্টেমও যে আসলে বালির বাঁধ, রথের মেলার পাপড় ভাজার মতন ভঙ্গুর তাদের ডিফেন্স সিস্টেম- সেটাকে ন্যাংটাভাবে প্রমান করে দিয়েছে। যা অবস্থা তাতে আব্রাহাম লিংকন হরমুজের জলেই না সলিল সমাধি নেয়। 

আমেরিকার জেতার একমাত্র পথ হচ্ছে পারমাণবিক আক্রমণে যাওয়া। সেক্ষেত্রে রাশিয়া একই ভাষায় ইউক্রেনে লাভ লেটার পাঠাবে। ওদিকে কিম জং উন, মানে আমাদের ছোট ভাই, তাকে কেউ খেলাতে ডাকছে না। এতে করে সে যদি আবার অপমানিত বোধ করে - কার পিছনে মিসাইল গুঁজে দেবে কেউ জানে না। সব মিলিয়ে এক ভজকট পরিস্থিতি। 

ইরানের দাবি মত ১টা 'ওরেসনিক মিসাইল' যদি মার্কিন মেনল্যান্ডে ফেলতে পারে, তাকে বেশী কিছু করতে হবে না, শুধু একটু সাপ বাজির মতন ধোঁয়া আর ছাই তৈরি করতে হবে- তাতেই গোটা ইউরোপের আন্ত্রিক হয়ে যাবে। আমেরিকার বীর সাভারকেরেরাও তখন গর্তে লুকাবে। এটা কোনো কষ্ট কল্পনা নয়- একটা ঘটলে পালটা হিসাবে দ্বিতীয়টাও ঘটবেই । 

আমেরিকা কার্যত এই মুহুর্ত অবধি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্যালানি খাচ্ছে। ইরাণের মাটিতে তাদের GPS অকেজো, ফলত অন্ধের মত কার্পেট বোম্বিং করে গণহত্যা করলেও- মূল কাজের কাজ করতে পারেনি। উলটে তাদের মধ্যপ্রাচ্য সেনাকমান্ড, সেনা হেড কোয়ার্টার, রাডার, সেনাঘাঁটি, এয়ার বেস এর অধিকাংশই আপাতত 'গাজা'য় পরিনত হয়েছে। কমলা হ্যারিস ট্রাম্পের ইমপিচমেন্ট চাইছে, নিউয়র্কের রাস্তায়, হোয়াইট হাউস পেন্টাগন ওয়াশিংটন ডিসি - সর্বত্র যুদ্ধ বিরোধী জনগণ মিছিল করছে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে।

 ব্রিটেন ফ্রান্স জার্মানি সহ আরবের মোল্লা চো দা গুলো আপাতত সকলে রাজনাথ সিং মোডে চলে গেছে- সবাই কেবল কড়ি নিন্দা জানাচ্ছে। 

 BBC, রয়টার্স, ফক্স, ABC মিলে ২৮ তারিখ দুপুর থেকে প্রতি ঘন্টায় খামেইনিকে ২ বার করে হত্যা করেছে। হত্যার তালিকাতে নাম তোলার ক্ষেত্রে ইরানের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি সেনাপ্রধান বিদেশ মন্ত্রী সহ অনেকেই কয়েকবার নাম তুলেছ এবং ক্রমাগত তুলে যাচ্ছে। নিজেরাই নিজেদের প্রতি আধাঘন্টা অন্তর উদগান্ডু বানাচ্ছে।

 বাহারিন নামের দেশটা আগামীকাল সকাল অবধি থাকবে কিনা কেউ জানেনা। রিয়াধ, জর্ডন, কাতার, কুয়েত সবকটা মার্কিন ঔরসে জন্মানো মোল্লাদের দেশে মিশাইলের গ্রিটিংস পাঠিয়েছে ইরাণ। ওদিকে UAE এর দুবাই আবুধাবিতে T-10 স্টাইলে খেলা হচ্ছে দুবাই এয়ারপোর্ট, জাবেল আলী, জুমেইরা, বুর্জ খলিফাকে- মিয়া খলিফা ভেবে পেলে দিচ্ছে ইরানি ড্রোন আর মিশাইল। 

ইরাণ কতক্ষণ বেঁচে থাকবে জানিনা, কিন্তু এই অবধি আমেরিকাকে এইভাবে উপর্যুপরি ধর্ষিত লাঞ্চিত আর শুয়ে পরে যন্ত্রনায় ছটপট করে পলায়নপর কতরাতে দেখে এক পাশবিক উল্লাস হচ্ছে। যেখানে আমাদের স্বঘোষিত বিশ্বগুরু এক ফোনেই চাড্ডি হলুদ করে ফেলে, ট্যারিফ নামের ভেসলিন দিয়ে পোঁ দ মেরে দিলেও, সামান্য আহ টুকু বের করার মুরোদ হয়না- সেখানে একটা অবরুদ্ধ দেশ তার ক্ষুদ্রশক্তি দিয়ে এভাবে বিশ্বের পরাশক্তিকে ন্যাংটা করে দিচ্ছে- এখানেই তো বেঁচে থাকার সার্থকতা। যুদ্ধবাজ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এমন ধ্বজভঙ্গ দশা আগে দেখা দুরস্থান- কল্পনা করেছিলো কেউ?


শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না


⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔

আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাাসক তৃনমূল ও i-Pac, রাজ্যের সমস্ত মানুষকে ভীষণভাবে সতকর্তা অবলম্বন করার জন্য আন্তরিকভাবে অনুরোধ করছি। বিশেষ করে ‘চাপড়া থেকে চোপড়া’ এই অঞ্চলের মুসলমান অধ্যুষিত এলাকা, SC জনবহুল অঞ্চলে পরিকল্পিত হুজ্জোতি, ভাঙচুর ও অরাজকতা সৃষ্টি করার তালে রয়েছে এই তোলাবাজদের সরকার, যাতে 2024 এর ভুতুরে ভুয়ো ভোটার সম্বলিত ভোটারলিষ্ট অনুযায়ী আগামী বিধানসভা নির্বাচন করাতে পারে।

নির্যাতন কমিশনের ইচ্ছাকৃত সৃষ্ট নানান সমস্যা বিবিধ আইনি পথে সমাধান করতে হবে, তার জন্য সুষ্ঠু আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। যে সকল নাগরিককে নানান ফন্দি ফিকিরে অবৈধ ঘোষণা করবে বিজেপি পরিচালিত নির্যাতন কমিশন- তাদের জন্য নির্দিষ্ট আইনি লড়াই এর প্রস্তুতি নিতে হবে। তৃণমূলের রাজনৈতিক কুহকে পা বাড়ালে, তাদের পুলিশই আপনাদের নামে মামলা মোকদ্দমা দিয়ে জেরবার করে দেবে। সমস্ত ধরণের উস্কানি উত্তেজনাকে উপেক্ষা করে, ধীর স্থির ভাবে নিজেদের সংগঠিত করে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে আন্দোলন গড়ে তুলে নিজেদের হক ফিরিয়ে আনতে হবে। মিথ্যা মামলাতে জড়িয়ে গেলে তার ভোগান্তি একমাত্র আপনার ও আপনার পরিবারের, দল তৃনমূলের লাশ দরকার- তারা আমার আপনার লাশ নিয়ে রাজনীতি করে রাজনৈতিক তুলতে মরিয়া। 

তৃণমূল পোষিত প্রতিটা মিডিয়া হৈ হৈ করে এই সমস্ত অশান্তির খবরই একমাত্র ‘প্রায়োরিটি’ সহকারে Breaking News হিসাবে প্রচার করতে শুরু করবে, যদি তারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে সফল হয়। RSS সম্পূর্ণ ভাবে মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে এই সুযোগে দাঙ্গা বাঁধাবার ফিকির খুঁজবে, বিশেষত মালদা মুর্শিদাবাদ ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে। তখন মুসলমানদের টার্গেট করে মিডিয়া ট্রায়াল শুরু করে দেবে ভাতাজীবি সাংবাদিকদের দল।

তৃণমূল কংগ্রেস একটা সামাজিক আস্তাকুর, রাজনীতির অন্তরালে যেখানে সারা রাজ্যের যত সমাজবিরোধী, দুষ্কৃতি, চোর, ধর্ষক, তোলাবাজ, দাঙ্গাবাদ, ধর্মোন্মাদ পচাগলা মালেদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল। নিষিদ্ধ সংগঠন 'সিমি'র ইমরান থেকে আসানসোলের খুনী দাঙ্গাবাজ বাবুল সুপ্রিয়ের পৃষ্ঠপোষকতা তৃণমূল কংগ্রেস করে এ রাজ্যে। সম্প্রীতির মুখোশ খসে পরে তৃণমূলের নিকৃষ্ট মুসলমান বিদ্বেষী মুখটা বাইরে চলে এসেছে আরো একবার- যেখানে RSS নেতার সমকামী কন্যা মুসলমান মৌসম নূরের স্থলাভিষিক্ত হয়। এর পরেও মুসলমান সমাজকে তারা বলে- বিজেপিকে নাকি তারা আঁটকাবে! RSS এর এ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন তৃণমূলই করে দিলে, বিজেপির দরকারটা কোথায়?

🔰 SIR ও মমতা ব্যানার্জী- টাইমলাইন 🔰

✅ SIR আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে হবে 
✅ একটা নামও বাদ দিতে দেব না 
✅ একটা বৈধ নাম বাদ দিতে দেবো না

❌ কিন্তু একবারও বলেনি- একটাও অবৈধ নামও থাকতে দেবো না। ❌

উল্টে কি বলেছেন? প্রি SIR যে ভোটার তালিকা অর্থাৎ ২০২৪ সালের যে ভোটার তালিকা সেই তালিকা অনুযায়ী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন করতে হবে। এটা শুধু মুখে বলেছেন এমনটা নয়, রীতিমত সুপ্রিম কোর্টের হলফনামায় লিখিতভাবে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে এফিডেভিট দিয়ে।

দেশের বারোটা অঙ্গরাজ্যে SIR প্রক্রিয়া কাজ শুরু হয়েছিল, তার মধ্যে কেরল, তামিলনাড়ু জাতীয় বিজেপি বিরোধীদের রাজ্য, এমনকি বিজেপি শাসিত গুজরাট রাজস্থান মধ্যপ্রদেশ ছত্রিশগড় এর মত বড় রাজ্যের প্রত্যেকের পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তাহলে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে তালিকা এইরকম আধা-খেঁচড়া অবস্থায় পড়ে আছে কেন?

সাদা খাতার BLO, তৃনমূলের পে রোলে থাকা ডেটা এন্ট্রি অপারেটর দিয়ে সমস্যা তৈরি শুরু করেছিলো। যত সময় গেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের পায়ের তলার মাটি সরে যেতে শুরু করেছে; ততই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অসহযোগিতা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। দিন যত গড়িয়েছে, পর্যাপ্ত সরকারি অফিসার না দেওয়া, জেলা প্রশাসন ও AERO পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ অসহযোগিতা শুরু করেছিলো। আদালতের নির্দেশের আগে অবধি চূড়ান্ত অসহযোগিতা করা হয়েছে ও হচ্ছে। যার ফল আজকে এরকম একটি অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে। প্রত্যেকটি বৈধ নাগরিকের আজকের এই অসহনীয় পরিস্থিতির মুখে পড়ার দায় যতটা নির্যাতন কমিশনের তার চেয়েও বেশী দায় এক ও অদ্বিতীয় শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের। সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য রাজ্যের জনগণের একটা বড় অংশকে নাগরিকত্বের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। 

সীমান্ত অঞ্চলে বিজেপি যতটা বিপাকে পড়েছে, গোটা রাজ্যজুড়ে তৃণমূল তার থেকেও অনেক বেশি বিপদে পড়েছে। SIR নিয়ে শুরুতে অতি উৎসাহ দেখাতে গিয়ে যখনই বিজেপি বুঝতে পেরে গেছে যে, অবৈধ ভোটার বাদ গেলে প্রকৃতপক্ষে গাড্ডায় পড়তে চলেছে তৃণমূল, আর ২ কোটি রোহিঙ্গা জাতীয় ফাঁপা মিথ্যা কথার জন্য তাদেরকে থুতু চেটে খেতে হবে, তখনই 'বিষাক্ত ভোঁদর' শুভেন্দু মিডিয়া থেকে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে দু-সপ্তাহ আগেই। এমনকি কোলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে হওয়া ২৭শে ফেব্রুয়ারি বিজেপির বড় পর্যায়ের দলীয় মিটিং-এ অবধি শুভেন্দুকে আনেনি তারা, পাছে অতীতের মিথ্যার দরুন অপ্রস্তুতে পরতে হয়।

তাই করজোড়ে অনুরোধ- তৃণমূলের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে নিজের ও পরিবারের সর্বনাশ ডেকে আনবেননা। 🙏

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ফ্যাসিজম ও আজকের পৃথিবী


সমগ্র বিশ্বজুড়ে 'ফ্যাসিবাদী ডানপন্থা' ছত্রাকের মত আষ্টেপৃষ্টে বর্বরতার নাগপাশে বেঁধে ফেলেছে। বর্ডারের সীমানা পেরিয়ে মাকিন মুলুকের ট্রাম্প হোক কিম্বা মোল্লাদের সৌদি, ভোগবাদী ইউরোপ  বা RSS এর ভারত- উগ্র জাতীয়তাবাদী মিথ্যা ভুয়ো দেশপ্রেমের নামে দেশের সম্পদ নির্দিষ্ট কিছু পুঁজিবাদী শোষক সংস্থার কাছে তুলে দেওয়ার জন্য যাবতীয় নিপীড়নের আয়োজন। 

১২ বছরের BJP শাসন রাষ্ট্রের প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দিয়েছে, সর্বত্র নোংরা ধর্মীয় মেরুকরন করা হয়েছে ভোটের বাক্সে তাৎক্ষণিক ফায়দা লুঠতে আর এই জন্য যেকোনো মাত্রার সহিংসতাতে মেতে উঠতে এদের কোনো ক্ষেপ-আক্ষেপ থাকেনা। আমাদের ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী সংবিধান ও তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে রোজ আক্রমণের মুখে ফেলে ভঙ্গুর করে তোলা হচ্ছে। সিভিল সোসাইটি উদভ্রান্ত, আদালতের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, নির্বাচন সংস্থার ভূমিকা শাসকের দলদাসের, সর্বত্র একটা অশান্তি আর অবিশ্বাসের পরিবেশ। কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্যাক্তি তথা কয়েকটি পুঁজিবাদী গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে। এরা যেকোনো মূল্যে নির্বাচন বা গণতান্ত্রিক কাঠামোর বিলোপ চায়।

বিরোধী কন্ঠস্বরকে তাচ্ছিল্ল্যের সাথে হিংস্রভাবে দমন করা হচ্ছে সর্বত্র, যাতে প্রশ্ন করতে ভয় পায়। জাতিগত হানাহানি, ধর্মীয় বা অভিবাসী সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক নীতি গ্রহণ করে এরা নাগরিক অধিকার সংকুচিত করতে মরিয়া, তাই কখনও NRC তো কখনও SIR এর মত নিরীহ পদ্ধতিকে ধারালো অস্ত্রের মত ব্যবহার করছে সংখ্যালঘু সংহারের জন্য। ভিন্নমতাবলম্বীদের যেকোনো মুল্যে নৃশংস হাতে দমন করা নিত্য নৈমিত্তিক প্র্যাকটিস। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য বা নিপীড়ন করাটাকে রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টো বানিয়ে ফেলেছে এই চরম ফ্যাসিবাদী RSS. 

স্বাধীন সাংবাদিকতা যা সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখে, তাদের সিংহভাগকে কিনে নিয়ে পোষ্য কুকুর বেড়ালে পরিনত করেছে, তারা সেটাই বলছে যা শাসক চায়। যাদের কিনতে পারেনি তাদের গলায় মামলার বেড়ি লাগিয়ে দিয়েছে, তাতেও না হলে হত্যা করে দিয়েছে। এই হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের ঘুণে ধরা দশা, কোনটা সংবাদ আর কোনটা প্রোপাাগান্ডা সেটার ফারাক করাই আজ জনগণের কাছে কঠিন হয়ে গেছে। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের প্রকোপ আজ সর্বত্র, তা প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া হোক কিম্বা সোশ্যাল মিডিয়া।
.
আমাদের রাজ্যের দিকে তাকালেও একই দশা, একটু অন্য আঙ্গিকে কিন্তু লক্ষ্য সেই এক- প্রশ্নহীন আনুগাত্য। শাসক দল, রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ একদেহে লীন হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় বলে আর কোনো শব্দ নেই, সবটাই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। সর্বত্র চুরি রাহাজানি আর লুঠপাঠ অন্ধকারের রাজত্ব। সরকার নিজে তার কর্মীদের টাকা চুরি করছে প্রাপ্য DA না দিয়ে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কোমায় পাঠিয়ে কর্পোরেট পুঁজির জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করে গেছে গত ১৫ বছর ধরে। RSS এর মন্দির মসজিদ গরু শুয়োরের রাজনীতিকে যথাযত প্রয়োগ করে ঠিক ভোটের আগে দাঙ্গার রাজনীতি করা, ধর্মীয় মেরুকরন ও ভোট লুঠের উদ্দেশ্যে গাঁ-গঞ্জে রক্তের নদী বইয়ে দিয়ে নির্লজ্জ নিরুত্তাপ থাকার এক অদ্ভুত কৌশল আমরা দেখেছি RSS স্পনসর্ড তৃনমূল সরকারের আমলে।

পশ্চিমা ভাবধারার দক্ষিণপন্থা, দিনের শেষে আপনার টুঁটি ধরবেই- তা সে যে ভেক ধরেই আসুকনা কেন। একে প্রতিহত করার নামই বিজয়। গণতন্ত্রে ভোটের মাধ্যমেই নীরব বিপ্লব সংগঠিত হয়, আগামীতে আমাদের সামনে সুযোগ এসেছে সেই বিপ্লবের সাক্ষী হতে, যোদ্ধা হতে, যুগ বদলের অন্যতম কাণ্ডারি হতে। চলুন সমূলে উপড়ে দিয়ে, ছুঁড়ে ফেলি এই বিষাক্ত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে।

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অঙ্কঃ ২০২৬ ভোটের আগেই তৃনমূল ফিনিশ

 

মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ, ভোটের আগেই তৃণমূলও ফিনিস। অঙ্ক সেটাই বলছে। মিলিয়ে নিন নাহয়-

মুখ্যমন্ত্রী মোটামুটি নিশ্চিত ১কোটি ২০ লাখ নাম কাটা যাচ্ছেই। কিছু ভুলভ্রান্তি বাদে, ধরে নেওয়া যায় ১ কোটি ১০ বা ৫ লাখ অবৈধ ও ভুয়ো ভোটার। নিদেন পক্ষে ১ কোটি নাম বাদ যাওয়া কেউ রুখতে পারবেনা।

রাজ্যে ২০২৪ সালের ভোটার লিষ্টে ৭ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ছিলো। যার মধ্যে পোল হয়েছিলো ৬ কোটি ৫ লাখ মত ভোট। উপরোক্ত ওই সম্ভাব্য বাদ যাওয়া ১ কোটির আশেপাশে ভুতুরে ভোটারের প্রায় সমস্ত ভোটটাই পোল হয়েছিলো, যার ৮০% তৃণমূলের বাক্সেই গিয়েছিলো, এটা বলার জন্য কোনো বিশেষজ্ঞ হতে হয়না। 

পোলিং ভোটের ৬ কোটির নিরিখে ওই ১ কোটি মানে ১৬.৬৬% ভোট নেই হয়েছে। যার মধ্যে ১৪% এরও বেশী ভোট ভুতুরে ভোট তৃণমূলের ছিলো, যেটা গায়েব হতে, ২০২৪ এর ভোটে প্রাপ্ত তৃণমূলের ৪৩.৬৯% ভোট শেয়ার কমে দাঁড়াবে- ২৯.৬৯% তে। 

২০২৬ এর নিরিখে রাজ্যে মুসলমান ভোট দাঁড়াবে কমবেশী ৩০%, যার মধ্যে বাম+কংগ্রেস ও অন্যান্য ছোট দল মিলে ৫% পায়। বাকি ২৫% এর গোটাটা তৃণমূল পেয়ে এসেছে গত ১৪ বছর ধরে প্রতিটা নির্বাচনে। এখন এই মুসলমান ভোটের মাত্র অর্ধেক, হ্যাঁ- যদি অর্ধেকও যদি তৃণমূলের মুখে ঝাঁটার বারি মারে, তৃণমূলের ২৯.৬৯% ভোট কমে ১৭%তে মুখ থুবড়ে পরবে। ৫০টা আসনে জিতলেই তৃণমূল বর্তে যাবে। এর পর চুরি দুর্নীতির কারনে কিছু বাদ গেলে তো আরো শেষ। 

পিসি ভাইপো গায়ক নায়ক ধমকে চমকে টাকা ছড়িয়ে,  জাপানি তেল রকেট ক্যাপসুল ভায়াগ্রা সর্বিট্রেট RSS কোনো ওষুধই তৃণমূলের শ্মশানযাত্রা আঁটকাতে পারবেনা নিশ্চিত। দুর্নীতিগ্রস্থ BDO/SDO আর থানার অসাধু দলদাস OC/IC এর দলও যদি তৃণমূলের হয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় নেমে পরে উলঙ্গ হয়ে- তারাও জনরোষের শিকার হবে, তাদেরও পরিবার পরিজন আছে। হারামের টাকায় ফুর্তিমারা কোনো চোর বাটপার এবারে পাড় পাবেনা।

সুতরাং, আতঙ্কিত মমতা ও i-Pac সমানে SIR এর মুসলমানকে বাদ দিচ্ছে এমন গল্প ফেঁদে মুসলমান সমাজকে অশান্ত করে রাজ্যে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে। মুসলমান সম্প্রদায়কে ভয় দেখিয়ে উস্কিয়ে রাজ্যে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। আসল সমস্যার লক্ষ গুন মিথ্যা প্রচার। যেমন SIR এর লাইনে লোকে অসুস্থ হবার গল্প ছড়াচ্ছিলো, অথচ বেকার ভাতার লাইনে সবাই ফুর্তিতে রয়েছে। আতঙ্কিত মুসলমান নয়, আতঙ্কিত তৃণমূল। মুসলমানের নাম বাদ কতটা যাবেনা জানিনা, কিন্তু তৃণমূলের নাম নিশান মুছে যাবে রাজ্যের বুক থেকে- এটার দেওয়াল লিখন পড়া যাচ্ছে।

যতটা আতঙ্কিত হবার কথা, তার লক্ষ গুণ আতঙ্ক তৃণমূল নিজে ছড়াচ্ছে তাদের পোষ্য মিডিয়া আনন্দবাজার, সংবাদ প্রতিদিন, TV9 বাংলা, আজকাল আর বর্তমান মিলে। সাথে ফেসবুক আর ইউটিউবের ভাতাজীবি কিছু স্বঘোষিত মিডিয়া আর বিশ্বমাচাদো সাংবাদিক কুল। তোলামূলের হারামের টাকায় পুষ্ট এরা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য জান কবুল লড়াই করছে যাতে তাদের রোজগার বেঁচে থাকে।

মমতা ব্যানার্জীও সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টায় আছে, যেন তেন প্রকারে ২০২৪ এর ভুতুরে ভোটারলিস্ট ধরে ভোট করাতে। SIR নিতে তার মূল আপত্তি ভুতুরে ভোটার বাদ দেওয়া যাবেনা। মমতা ব্যানার্জী নিজেও ভোটে না দাঁড়িয়ে পালাতে চাইছে- এতে তাদের ভয় ও আতঙ্ক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামীতে যা খুশি হোক- মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক কেরিয়ার দৃশ্যত ফিনিস।

সুতরাং, কোমর বেঁধে রাস্তায় নেমে পরুন। আমীতে রাজ্যের ক্ষমতায় কে আসবে তার চিত্র আজও পরিষ্কার নয়, কিন্তু এটা নিশ্চিত যে- ২০২৬শে কোনো অঙ্কে তোলামূল আর ফিরছেনা- এটার চেয়ে সত্যি এই মুহুর্তে আই কিচ্ছু নেই।

CPIM এর জন্যও এ এক চুড়ান্ত সুযোগ, মিডিয়াকে ভৌ ভৌ করতে দিন, কুত্তা ভৌভৌ করবে, কষিয়ে ক্যাৎ করে একটা লাথ মারলে কেঁউকেঁউ করে লেজ গুটিয়ে পালাবে। শুধু মাটিতে দাঁত কামড়ে পড়ে থেকে ভোট গণনা অবধি জান লাগিয়ে দিতে হবে। 


জনগণের বিজয় অদুৱেই। 


ভারতীয়েরা কী বিপদ টের পাচ্ছি?

যুদ্ধকে যারা আমরা একটা রিয়েলিটি শো এর মতো রোজ উপভোগ করছি ফেসবুক ইউটিউব রিলসে, তাদের ধারণা নেই এই যুদ্ধ আর কিছুদিন চললে আমাদের ভারতের মতো দেশ...