সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬

ইরান যুদ্ধঃ প্রতিশোধ ও প্রতিরোধের এক অসম লড়াই


(১)

হিন্দ রজবকে চেনেন আপনারা? সম্ভবত না। ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’ নামের একটা সিনেমা আছে, দেখে নিতে পারেন। না চেনা অস্বাভাবিক নয়, হিন্দ রজবের নামানুসারে যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হলকে ‘হিন্ডস হল’ (Hind’s Hall) নামে নামকরণ করা হয়েছে। কে এই হিন্দ রজব?

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে গাজায় ইজরায়েলি হামলায় নিহত অপুষ্টিতে ভোগা ৫ বছরের এক নিরীহ ফিলিস্তিনি শিশুকন্যা, যার আর্তনাদ ও উদ্ধারের জন্য ফোনকলের অডিও আমাকে প্রতিবার কাঁদিয়ে দেয়। হিন্দ রজবের ভাষা আমি বুঝিনা, কেবল আকুতিটা বুঝি, তাই একজন সন্তানের বাবা হয়ে নিজেকে ধরে রাখতে পারি না। গাজা ছেড়ে হিন্দের পরিবার যখন পালাচ্ছিল, সেই সময় ইজরায়েলি সেনারা তাদের গাড়িটিকে আক্রমণ করে। এরপর বেশ কয়েকটি ইজরায়েলি ট্যাঙ্ক ও সেনা সদস্য মিলে এক নৃশংস খেলায় মেতে উঠে, যার ভিডিও রেকর্ড করে তারা। খেলার ছলে তাড়িয়ে তাড়িয়ে গুলি করে পরিবারের সবাই খুন করে। 

গাড়িতে হিন্দ এবং তার কিশোরী দিদি লায়ান বেঁচে ছিল, যারা প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিকে (PRCS) ফোন করে সাহায্য চায়। প্রচণ্ড আতঙ্কে ও কান্নারত অবস্থায় হিন্দ ফোনে বলেছিল, ‘আমাকে আপনারা নিতে আসবেন? আমি খুব ভয় পাচ্ছি’। ওদের উদ্ধারের জন্য পাঠানো অ্যাম্বুলেন্সটিও ইজরায়েলি ট্যাঙ্কের গোলায় দুজন প্যারামেডিক স্টাফ সহ উড়ে যায়। অতঃপর সব চুপচাপ। ১২ দিন পর, হিন্দ, তার আত্মীয় মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, তার সাথে ফোনে রেকর্ড হয়ে থাকা, কচি গলার সেই মর্মান্তিক আর্ত বাঁচার আবেদন- ইজরায়েলি গণহত্যায় শিশু মৃত্যুর প্রতীক হচ্ছে হিন্দ রজব। এক নারকীয় উল্লাসে হিন্দের অতটুকু ছোট্ট শরীরে তারা মাত্র ৩৫০টা বুলেট গেঁথে দিয়েছিল।

হিন্দ রজবের খুনের বিচার হবে না? হবে নয়, হচ্ছে। তেল আবিব আর গাজা- ধ্বংসস্তুপ দেখে বোঝার উপায় নেই এটা কোন জাইগা। তেল আবিবের বিস্তীর্ন এলাকা, বাত ইয়াম, হোলোন, রামাত গান, বেরশেবা, হাইফা, রেহোভোট জুড়ে আজ চরম বিশৃঙ্খলা, রাজপথের সর্বত্র নাগরিক বিদ্রোহ। সর্বনাশা সাইরেন বাজলেই দৌড় দৌড় আর দৌড়ে পালিয়ে গর্তে আশ্রয়, কে জানে কার মাথায় নামে মৃত্যুর ছোবল। নেতানিয়াহুকে ঘিরে গুজব চরমে উঠেছে, মিথ্যা তথ্য ক্ষেপণাস্ত্রের মতোই বিধ্বংসী। সোশ্যাল মিডিয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, ইজরায়েলি সরকার নীরব। যুদ্ধবাজদের ঘরে আজ যুদ্ধ ঢুকতেই তাদের ‘শক্তিশালী’ নেতারা অদৃশ্য হয়ে গেছে। তাদের প্রধানমন্ত্রী সহ অধিকাংশ কর্মকর্তা যেমন বেন গাভির, ইওভ গ্যালান্ট, হারজি হালেভিরা, হয় মরে গেছে অথবা পালিয়েছে। ইরানি ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্রে দিশেহারা যুদ্ধোন্মাদ জায়োনিস্টরা, হিন্দ রজবের শরীরে বুলেট বেঁধানো কাপুরুষদের আজ ভূগর্ভস্থ পাতালবাসী করে দিয়েছে অদৃষ্টের পরিহাস।

পশ্চিমা সাম্রাজ্য সর্বশক্তিমান সাজার একটা মিথ্যা আখ্যান তৈরি করেছিল, আজকের বাস্তবতা এটিকে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। এখানে ইরানি শৌর্যের রূপকথা লেখা হচ্ছে না, ৪৮ ঘন্টা ধরে একটা গাড়িতে বাবা মায়ের লাশের সাথে বন্দি থাকা হিন্দ রজবের ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বোবা কান্নার তীব্র শ্লেষ মাখানো ঘৃণামাখা অভিসম্পাতের চারণকাব্য আঁকা হচ্ছে। নরহত্যাকারী নেতানিয়াহু হয়তো মারা গেছে কিম্বা যায়নি, কিন্তু কাপুরুষদের সাহস মারা গেছে সন্দেহ নেই। তেল আবিবের রাস্তাগুলি খাঁ খাঁ শূন্য, মাটির নিচের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আতঙ্ক আর হিন্দ রজবের মত ১৯ হাজার ফিলিস্তিনি অবোধ শিশুর খুনিরা- দিশেহারা হয়ে ভয়াল ত্রাসকে আলিঙ্গন করে মৃত্যুর প্রতীক্ষা করছে। 

বিশ্ব মানচিত্র থেকে ইসরাইল নামক রাষ্ট্রটা মানসিকভাবে মুছে গেছে গতবছর জুন মাসেই। প্রদীপের মতো নিভে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো জ্বলে উঠতে চেয়েছিল; কিন্তু একটু একটু করে গ্রাস হয়ে যাওয়া পূর্ণাঙ্গ ফিলিস্তিনের শেষ নায়ক- ইয়াসির আরাফাতের কবরে শ্রদ্ধা জানাতেই হোক, কিম্বা ছিটমহলের মতো টিকে থাকা একটুখানি গাজা, একটু খানি ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক অথবা গোলান উপত্যকার মানুষের বোবা কান্না মুছে দেবার দায়িত্বেই হোক, মধ্যপ্রাচ্যের নপুংশক মোল্লা রাজাগুলোর কবরের পথ প্রশস্ত করার তাগিদেই হোক, অথবা নিরপরাধ নিরীহ মানুষের রক্তঋণ শোধ করার সব দায়িত্ব একা নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে, বিশ্ব ইতিহাসকে নতুন করে লেখার তাগিদে, কয়েক হাজার বছরের পুরনো কৃষ্টি সংস্কৃতি ইতিহাস অর্থনীতি আর দেশের প্রত্যেকটি মানুষের জীবনকে বাজি রেখে, সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে দাঁড়িয়ে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে এস্পার-ওসপার নির্ণায়ক লড়াইতে অসম যুদ্ধ করছে ইরান।

ইজরায়েল নামের টিউমার রাষ্ট্রটা জন্মের পর প্রতিবেশী প্রায় সকলকে আঁচড়ে কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে এসেছে ৭৭ বছর ধরে। এগুলো করতে গিয়ে তারা যখনই বিপদে পরেছে, অ্যাম্বুলেন্সের মতো সাইরেন বাজাতে বাজাতে আমেরিকা তার ন্যাটো বহর নিয়ে নির্বিচারে আসমানি বোমাবর্ষণ করে ইজরায়েলকে রক্ষা করার চেয়েও সংশ্লিষ্ট দেশটিকে ধুলিস্যাৎ করে দিয়েছে। ইয়াম কিপুর আর ছয় দিনের যুদ্ধে মিশর, জর্ডান এবং সিরিয়ার বিশাল ভূখণ্ড দখল করে ইজরায়েল; প্রতিটাতে দুর্বল প্রতিপক্ষের সাথে জয়ী হয়, সৌজন্যে উপরোল্লেখিত আমেরিকা। ইতিহাসে প্রথমবার ইজরায়েলে এমন থার্ডডিগ্রি কম্বল ধোলাই খাচ্ছে, প্রতিবারের মত এবারেও আমেরিকাকে ডেকে এনেছিল ইরানকে জবাই করতে, উল্টে আমেরিকাই জীবনে প্রথমবার বেধড়ক স্যাটাভাঙা ক্যালানির সামনে দাঁড়িয়েছে। রাগে, হতাশায় উন্মত্ত হয়ে চীনের সহযোগিতা চাইছে, যাকে শায়েস্তা করতেই শেষ দু’বছর খরচা করে ফেলেছিলো ট্রাম্প। আজকে আবার বলেছে- “হয়তো আমাদের ইরানে যাওয়া একেবারেই উচিত হয়নি, কারণ আমাদের সেটার প্রয়োজন ছিলোনা। আমাদের কাছে প্রচুর তেল আছে।”

AIDS কোনো রোগ নয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা চলে যাবার লক্ষণ মাত্র, এটা সিস্টেমের পতন। এই রোগে সামান্য হাঁচি কাশি কিম্বা বাতকর্ম করতে গিয়েও স্ট্রোক হয়ে মারা যায় রোগী। সুরক্ষা বিনা লাগাতে গেলে AIDS অবশ্যম্ভাবী, আমেরিকা এই ভুলটাই করেছে, বিনা এক্সিট প্ল্যানে বিনা সুরক্ষাতে ইরানকে ঠুকে দিয়েছে। ফলাফল চোখের সামনে, আমেরিকার যাবতীয় ফাঁপানো ফোলানো পরাশক্তির মিথ, মেলার পাঁপড়ভাজা হয়ে হুড়মুড় করে ভেঙে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ইরানের এই স্যাটাভাঙা মারে হোয়াইট হাউজের প্রতিটা বক্তব্য এখন অক্সিমোরন। মিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে, সামান্য মোটর সাইকেলের ইঞ্জিন, এগজহস্ট ফ্যানের ব্লেড, লেদ মেসিনে বানানো কাঠামোর ভেতরে, গন্ধক, কাঠকয়লার সাথে মেসানো সোরা দিয়ে বানানো পাতি হাউই বা ছুঁচোবাজি প্রযুক্তিতে বানানো, ঝাঁক ঝাঁক ড্রোন দিয়ে মার্কিন ঔদ্ধত্যের চামড়া খিঁচে নিচ্ছে ইরান। এভাবে আর কিছুদিন চললে ট্রাম্পের অণ্ডকোষই শেষ সম্বল হয়ে রয়ে যাবে আমেরিকার হাতে। 

ইরান হঠাৎ করে ঘুম থেকে উঠে আমেরিকাকে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিগত ৩০ বছর ধরে তিল তিল করে অস্ত্র আর সাহস সঞ্চয় করেছে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে রাখা নানান প্রতিবন্ধকতাকে টপকে। ইরান এই যুদ্ধে একবারও জেতার চেষ্টা করেছে কি? তারা যুদ্ধবাজ আমেরিকাকে হারাচ্ছে, যুদ্ধ শুধু মিসাইল দিয়ে লড়ছে না ইরান, আমেরিকার অর্থনৈতিক পাঁজরকে ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে কার্ফিউ জারি রেখে রেখে। আচ্ছা, ইরানও কি জানত তারা এভাবে আমেরিকা ইজরায়েলকে একসাথে বেঁধে পেটাতে পারে? সম্ভবত তারাও জানত না আমেরিকাও আসলে কাগুজে বাঘ। এই আতঙ্কিত আমেরিকাকে সামনে থেকে পেটানো ইরান কি আর সেই আগের দুর্বল ইরানের মতো আচরন করে আমাদের ইন্ডিয়ার সাথে তথাকথিত 'বন্ধুত্ব' বজায় রাখবে? নাকি পাড়ার নতুন দাদা হিসাবে তারাও আমাদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করবে শত্রু দেশ হিসাবে- সৌজন্যে বিশ্বগুরুর বিদেশনীতি! ক্ষমতার তো নিজস্ব পরিভাষা আছে, বাকিটা সময় জবাব দেবে আগামীতে।

ইরান কোনো এলোমেলো ভাবে এগোচ্ছেনা, অত্যন্ত অঙ্ক কষে দাবার বোর্ডের ঘোড়ার মত আড়াই চালে মাত করে দিচ্ছে। প্রতিটা মোল্লারাজাকে হারেমে থাকা তাদের বিবিদের আঁচলের খুঁটে বেঁধে রেখেছে চরম আতঙ্কের জোব্বায় ঢেকে রেখে, আমেরিকার ১টা মিত্র দেশ তাকে সাথ দেয়নি যুদ্ধে, রোজ একা ট্রাম্প আর তার যুদ্ধ মন্ত্রী খেঁকি কুত্তার মত চেঁচিয়ে যাচ্ছে। প্রথম দিন থেকে আজকের ১৬ তম দিনে, প্রতি মুহুর্তে আমেরিকার মুখ লুকাচ্ছে মিথ্যার পাহড়ের আড়ালে। সর্বক্ষণ কুৎসিত ঔদ্ধত্য দম্ভ ভরা মিডিয়া প্রেজেন্টেশন আসছে, যে- দেখো আমেরিকা আসলে কতটা শক্তিশালী, বস্তুত ন্যাংটাকেই প্রমাণ করতে হয় তার ইজ্জত অবশিষ্ট আছে। এর পরেও মিডিয়ার বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা দিচ্ছে ট্রাম্প। বন্ধুপরিজন রহিত এই চরম দুরবস্থায় অবস্থায়, ট্রাম্প হয় পরমানু হামলা করবে কিম্বা কুত্তার মত লেজ গুটিয়ে পালানোর বাইরে বস্তুত কোনো তৃতীয় অপসন নেই আমেরিকার।

এপস্টিন গ্যাং ইরানের অস্ত্র ভান্ডার শেষ করতে গিয়েছিলো, উলটে তাদের অস্ত্র শেষ হয়ে বাকি দুনিয়া সেঁচে অস্ত্র জড়ো করে ইজরায়েলকে বাঁচাতে হচ্ছে। যে কটা রণতরী নিয়ে এসেছে তার অধিকাংশই বিকলাঙ্গ হয়ে গেছে, জেরাল্ড ফোর্ড ও ইউএসএস নিমিৎজ নামের আমেরিকার গৌরব, এই দুটো বিমানবাহী অত্যাধুনিক জাহাজকে লোহিত সাগরে মেরে তুবড়ে দিয়েছে। এই হচ্ছে পরাশক্তির বাস্তব অবস্থা, ওদিকে ইজরায়েলের কথা যত কম বলা যায় ততই ভালো। দেশের ৭০% নাগরিক পালিয়েছে, অবশিষ্ট ৩০% কে আমেরিকা মৃত্যুমুখে জিম্মি করেছে, ইরানের ক্ষেপনাস্ত্রের সামনে নিজেদের মুখ রক্ষার খাতিরে। দেশের ৪০% স্থাপনা সম্পূর্নভাবে ধ্বংসস্তুপে পরিনত হয়েছে। ককিয়ে কাঁদার মত শক্তি অবশিষ্ট নেই, সোস্যালমিডিয়াতে ত্রাণ ভিক্ষা করছে। 

ইজরায়েল আড়াই বছর ধরে নিরবিচ্ছিন্ন হাজার হাজার টন বোমা বর্ষণ করেও হামাস শেষ করতে পারেনি, উলটে নিজেদের কিছু জনকে হামাস সাজিয়ে False Flag Operation করিয়েছে, যাতে গাজার উপরে মানবেতর হামলার পক্ষে ওজর খাড়া করতে পারে। গত ৪০ বছর ধরে চার হাজার বার ‘হিজবুল্লাহ’ খতম দাবী করা ইজরায়েলী সেনা আজও সেই হিজবুল্লাহ আতঙ্কে কিংকর্তব্যবিমূঢ়। বাধ্য হয়ে আজ ১৬ই মার্চ ২০২৬, লেবাননের ভূমি দখল করতে নেমেছে ইজরায়েল। আসলে এই proxy war এর মাধ্যমে আমেরিকাকে বুঝে নিতে চাইছে, স্থলযুদ্ধে ইরানের কতটা সক্ষমতা আছে। ওদিকে, হুথি বলছে বাব-আল-মান্দাব বন্ধ করে দিয়ে গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে জিম্মি করে নেবে। আসলে এরা কেউ হামাস, হিজবুল্লাহ বা হুথি নয়, সবটাই ইরাণের আর্মি। যেমন আমাদের ভারতের মূল সেনা ইন্ডিয়ান আর্মি হলেও CISF, CRPF, BSF, ITBP, SSB, NSG, আসাম রাইফেলস ইত্যাদি নানা ধরণের ফ্রন্ট খুলে রাখা আছে আলাদা আলাদা এলাকার নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে; ইরানও দীর্ঘদিন ধরে উপসাগরীয় এলাকাতে বিভিন্ন ফ্রন্টে ভিন্ন ভিন্ন নামে বাহিনী রেখে দিয়েছে। তাই ইজরায়েল কখনই এগুলোকে শেষ করতে পারেনি, পারবেওনা। এপস্টিন গ্যাং ইরানের সামরিক শক্তিকে খাটো করে দেখাবার জন্য মিলিশিয়া নাম দিলেও , আজকে দিনে সবটা পরিষ্কার হয়ে গেছে, এরা কি ও কেন!


 (২)

আজকের দুনিয়া বড় নির্মম আর প্রতিশোধ স্পৃহা অতি ভয়ংকর। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী রাশিয়া, চিন ও ইরানকে নিয়ে গড়ে ওঠা ত্রিভুজ এর যে অক্ষটা ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে চলেছে, ব্রিকস এর ছাতার আড়ালে তারা যেকোনো মূল্যে ভারতের রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষ পদ থেকে বিশ্বগুরুর রাজনৈতিক ধ্বংস চায়। দিল্লির বুকে একটা শক্তিশালী রাষ্ট্রপ্রধানকে তারা চায়, যে আমেরিকার পোষ্য নপুংসক ক্লীব না হয়ে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম ব্যক্তিত্বের সাথে। এটা শুধু তাদের নিজেদের স্বার্থ রক্ষার তাগিদে নয়, বরং ভক্তরা সহ ১৪০ কোটি ভারতবাসীর প্রত্যেকের সম্মানজনক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনীতির নিরাপত্তা স্বার্থেও বিশ্বগুরুর বিসর্জনই এখন একমাত্র বিকল্প।

ফাইনান্সিয়াল টাইমস এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্স ও ইতালি বুঝতে পেরেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজের নিরাপদ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের অনুমতিই গুরুত্বপূর্ণ, আমেরিকা নয়। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অষ্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড সহ বহু দেশ এখন সরাসরি ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। আজ অবধি এটাকে ইরানের জন্য এটাকে বড় জয় বলা যেতে পারে। দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অবরোধ ও আমেরিকাকে পাশ কাটিয়ে পূর্ব এশিয়া ও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণের এক বড় সুযোগ হতে চলেছে এটা। আটলান্টিকের পশ্চিম পাড়ের কানাডা, পূর্বপাড়ে ইংল্যান্ড ফ্রান্স জার্মানি স্পেন ইতালি ছাড়াও, আটলান্টিক থেকে বহু দূরে পূর্ব ইউরোপের বাল্টিক সাগর বা কাস্পিয়ান সাগরে কোলের রাষ্ট্রগুলি, এমনকি মধ্য ইউরোপের রাষ্ট্রগুলিকে অবধি ন্যাটো নামক সামরিক জোটের সদস্য করা হয়েছিলো ধীরে ধীরে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে আমেরিকার সবচেয়ে বড় অস্ত্র বিক্রির বাজার এটাই। 

আমেরিকার ছাতার তলায় থেকেও যদি ইসরাইল এইভাবে প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, তাহলে ইসরাইলের পশ্চিম দিকের ইষ্টব্লক এবং পূর্ব দিকে মধ্যপ্রাচ্য আগামীতে মার্কিন অস্ত্র কিনবে কেন? আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি অস্ত্র বিক্রি করতে না পারে তাহলে তাদের ডমিন্যান্স তাদের হেজিমনি ধরে রাখতে পারবেনা। এই কারনে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক বেস গুলো তারা ধরে রাখতে যেমন মরিয়া, তেমনই চীন রাশিয়া ব্লকও আমেরিকাকে এখানেই পুঁতে দিতে বদ্ধপরিকর। ইজরায়েলকে বাঁচাতে দুনিয়া সেঁচে অস্ত্র জড় করতে হচ্ছে, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যেই মাত্র ‘থার’ তুলে আনছে, অমনি কিম জং উন মার্কিন সেনা ঘাঁটির কানের কাছ দিয়ে ১০টা ব্যালেস্টিক মিসাইল এর গান শুনিয়ে দিয়েছে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভিতরে ঢুকেই রয়েছি আমরা, অফিসিয়ালি ঘোষনা তখনই হবে যখন আমেরিকা তার মিত্রদের সহ মধ্যপ্রাচ্যের মোল্লা রাজাগুলোকে যুদ্ধে সামিল করে নিতে সক্ষম হবে।

পশ্চিমা জায়োনিষ্ট প্রোপ্যাগান্ডা মিডিয়ার কাছে গোদি মিডিয়া নেহাতই দুগ্ধ পোষ্য শিশু। সেই পশ্চিমা মিডিয়া আজ অবধি আমেরিকাকে জেতাতে পারেনি ন্যারেটিভ বানিয়ে। অথচ ট্রাম্প, তার বিদেশ মন্ত্রী, যুদ্ধ মন্ত্রী, সেনাকর্তারা সকলে মিলে সমস্বরে দিনে চারবার করে শেষ ১৪ দিন ধরে দাবী করেছে- ইরান ধ্বংস হয়ে গেছে ও আমেরিকার বিজয় হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর রাডার, ইন্টারসেপ্টরকে কালী পুজোর পটকার পর্যায়ে এনে নামিয়ে দিয়েছে ইরান। ওদিকে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ থেকে F সিরিজে, B সিরিজ, MQ সিরিজ, A সিরিজ, EA সিরিজ, KC সিরিজ, এমনকি আর্মি কার্গো C সিরিজের বিমানকেও ভাদ্রমাসের পাকা তালের মত ঝরে পরতে দেখা যাচ্ছে অনবরত; আলজাজিরার মতে ৩১টি বিমান ঝরেছে, আমেরিকা ১৯টা স্বীকার করেছে। ১৭টি মার্কিন ফ্লাগের মার্চেন্ট নেভি ডুবে যাবার খবর হোয়াইট হাউস স্বীকার করেছে, ইরানের দাবী ৩৩ টা। ৯টা সর্বাধুনিক বিমানবাহী জঙ্গি যুদ্ধ জাহাজেরও পঞ্চত্বপ্রাপ্তি ঘটেছে। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলে মিডিয়া ট্রায়াল হাস্যকর হয়ে যায়।  

পশ্চিমা মিডিয়ার আরেক চরম প্রোপ্যাগান্ডা হচ্ছে, যারা তার বিরুদ্ধে- তারাই চরম খারাপ। চিন, রাশিয়া, নর্থ কোরিয়া থেকে ইরান, কোথাও নাকি সাংবাদিক স্বাধীনতা নেই, নারীরা গৃহবন্দি। এই দেশগুলোর সব কিছুতে ভয়াবহ সেন্সরসিপ। অথচ এই যুদ্ধের সময় কি দেখা গেলো? ইরানের মাটিতে CNN আর BBC চুটিয়ে সংবাদ সংগ্রহের কাজ করছে, ওদিকে সৌদি, কুয়েত কাতার, বাহারিনের মার্কিন বেসের ছবি তুলতে গিয়ে সাংবাদিকেরা গুলি খেয়েছে, জেলে পচছে। ইজরায়েলে সাংবাদিক ঢোকা তো দূরঅস্ত, সাধারণ মানুষ অবধি মোবাইলে ছবি তুলতে গেলে তাকে জেলে ভরে দেওয়া হচ্ছে। তাদের নিজেদের হিব্রু সংবাদ মাধ্যম ছাড়া কেবল আদানি প্রভুর NDTV আর আজতককে রেখেছে ইন্ডিয়ার ভক্তদের সাথে সাথে বিশ্বজোড়া মার্কিন ভক্তদের চোখে ‘কিচ্ছু হয়নি’ ইমেজ টিকিয়ে রাখতে। ইরানের মিসাইল আঁটকাতে না পারা IDF সেনারা কেবল ভিডিও ক্যামেরা আঁটকাচ্ছে বা CCTV ভাঙছে, যাতে সুপার পাওয়ারের মার খাওয়ার ছবি, প্রকৃত মৃত্যু সংখ্যা বাইরে না যায়। এতেও হচ্ছেনা, আজকে ট্রাম্প দাবী করেছে মিডিয়া সঠিকভাবে আমেরিকা ইজরায়েলের পক্ষে বলছেনা, আসলে সোস্যালমিডিয়ার দাপটে মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার মিথ্যার বেসাতিতে ত্রাহি মধুসূদন রব উঠে যেতে- তারা মাঝেমাঝে সত্যও দেখিয়ে ফেলছে, এখানেই আমেরিকার পরাশক্তি সাজা ‘শান্তিগোপালের’ পোশাক খুলে যাচ্ছে।

খামেইনির মৃত্যুর খবরে সমগ্র ফার্সি জাতি নিজেদের আভ্যন্তরীণ সকল দ্বন্দ্ব ভুলে, সিয়া-সুন্নি সহ নানান ধরনের ফিরকার ঊর্ধ্বে গিয়ে তারা এক হয়ে গেছে। নেতানিয়াহুর গায়েব হয়ে যাওয়া ও মৃত্যুর খবর চাউর করে ইজরায়েলও যে এমন কিছু একটা করার ব্যর্থ চেষ্টা করছে না, সেটা কে বলতে পারে! ইরানের নকল করতে সক্ষম হলেও, ইরানের মানুষের মতো সাহস আর ইমানি জোশ কোথা থেকে আনবে দখলদারেরা? ফলত নেতানিয়াহু সত্যিই মারা যাক বা লুকিয়ে থাকুক, আজ ৮ দিন ধরে ইচ্ছাকৃত রহস্য জিইয়ে রেখেছে ইজরায়েল। অন্য আরেকটা সম্ভাবনাও রয়েছে, মৃত্যুর খবর বাইরে আসা মানেই পশ্চিমা পরাশক্তির চোখ উপড়ে নেওয়ার সামিল। তাদের সেনারা মানসিকভাবে হেরে যাবে, তাদের নেতার মৃত্যুর খবরে। এই কারনেই ক্রমাগত AI দিয়ে ভিডিও বানিয়ে ভক্তদের মুর্কখ বানানো হচ্ছে।

সমগ্র পৃথিবীতে মানবতা, শান্তি, গণতন্ত্র, নারী স্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতার নামে বোমা মেরে মানুষ খুন করা পশ্চিমারা মধ্যপ্রাচ্যের মোল্লারাজাদের প্রাসাদে কখনও বোমা ফেলেনি, কারন ওই হারেম গুলোই পশ্চিমাদের পরাশক্তি সাজার ইন্ধন। অনেকেই উত্তর খুঁজে ফেরেন- কেন মোল্লা রাজাগুলো সিরিয়া, ইয়েমেন, ইরাক, লেবাননের মুসলমানদের উপরে বোমা ফেলে? কেন মোল্লা রাজা গুলো নিজেরা বৈভবের নিকৃষ্ট প্রদর্শনে ব্যস্ত থাকলেও তারা গাজা, ইয়েমেন বা লেবাননের উদবাস্তু শিবিরে নিপীড়িত অসহায় মানুষকে নুন্যতম খাদ্য দেয়না? কেন মোল্লা রাজাগুলো আলকায়দা, আইসিস, IS এর মত জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষক? কি কারনে মোল্লারাজাগুলো জায়োনিষ্টদের সাথে আব্রাহাম চুক্তিতে গিয়ে ফিলিস্তিনি লেবাননি ইয়েমেনি শিশুদের রক্তে মাখা ভাত নিশ্চিন্তে খায়? মোল্লারাজা গুলো কেন কোনো মুসলমান দেশগুলোকে কেন রক্ষা করতে এগিয়ে আসছেনা? এমন অসংখ্য প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে নিজেরা কোন্দলে জড়িয়ে পরছে।

যারা ভাবে মোল্লারাজা গুলো আসলে আমেরিকার দালাল, তারা গোড়ায় ভুল করছেন; এরা ব্রিটেন ও আমেরিকারই নপুংসক সন্তান। এদের নিজস্ব কোনো চিন্তাভাবনা নেই, শারীরিক আর মানসিক খিদে মেটানো জঘন্য পশু এরা। এদের জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যই খুব নির্দিষ্ট ছিলো- আজকের এই অত্যাচারকে মঞ্চস্থ করা, নৃশংস খুনিদের পৃষ্ঠপোষকতা করার মাধ্যমে আরব মুলুকের সম্পদকে যাতে পশ্চিমা শয়তানের দলেরা কুক্ষিগত করতে পারে। যারা নবী(সাঃ) এর দেশ, পবিত্র হজ্বের ভূমি বলে কেঁদে গাঁ মাথায় করছেন, তারা নবীর(সাঃ) দেশের বর্তমান জালিম শাসকের ইতিহাস আর অপকর্ম বিষয়ে চোখ নাক কান বন্ধ করে রেখে শুধু ফতোয়া দেয়। শেষ দেড় হাজার বছরের ইতিহাসে, মধ্যপ্রাচ্য গত শতাব্দি অবধি কোনো না কোনো সাম্রাজ্য অথবা খিলাফতের অধীনে ছিলো, রাষ্ট্র হিসাবে এদের কখনও কোনো অস্তিত্ব ছিলোনা। আজকের আকারে যে দেশগুলো দেখছেন, এদের জন্মই দিয়েছে ইংল্যান্ড আর আমেরিকার ‘লরেন্স অফ আরাবিয়া’ জায়োনিস্টরা, গত শতাব্দীর তিনের দশকের আশেপাশে, একটা দেশেরও বয়স ১০০ বছর নয়। যে দেশগুলোর জন্ম জায়োনিস্টদের গর্ভে, কীভাবে তারা আমেরিকা ইজরায়েলের বিরুদ্ধে যাবে?

গোটা বিশ্বজুড়ে একশ্রেণির মানুষ আবার ভয়াবহ হতাশার মাঝে ডুবে যাচ্ছে রোজ, ইরান কেন এখনও আত্মসমর্পন করেনি এই দেখে তারা স্থবির বাকরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। এরা যে কেউ ইরানের ঘোর বিরোধী তেমনটা হয়, আবার চরম ইজরায়েল প্রেমীও নয়। কিন্তু এরা ভয়ানকভাবে আমেরিকান ড্রিমে বিশ্বাসী, পৃথিবীতে যদি সত্য বলে কিছু থাকে সেটা ‘সুপার পাওয়ার’ আমেরিকা। বিষয়টা আর কিছু নয়, মাসল মেমোরির সাথে বাস্তব যখন খাপে খাপে মিলছে না, অমনি এদের মাইগ্রেন শুরু হয়ে যাচ্ছে। এতদিন ধরে লালন করা পশ্চিমা প্রোপাগান্ডা জনিত বিশ্বাসে এরা আমেরিকার উপরে ঐশ্বরিকত্ব আরোপ করে ফেলেছেন। মাইটি আমেরিকাকে এভাবে মার খেতে দেখে যুদ্ধ শুরুর প্রথম ৩ দিন চরম অবিশ্বাসে আয়না অবধি দেখেনি এরা, নিজের প্রতি ঘৃণায়। এরপর সেটা হজম হোক বা না হোক, গিলে নিলেও এখন চরম বিভ্রমে ফেঁসে রয়েছে। একটা বিশ্বাসে রোজ ঘুমাতে যাচ্ছে- কালকে ঠিক ইরান হেরে যাবে, আমেরিকান হেজিমনি আবার প্রতিষ্ঠা পেয়ে যাবে। চোখের সামনে সত্যকে দেখতে পেলেও বিশ্বাসকে টোল খাওয়াতে নারাজ, এরা মিরাকেলের প্রত্যাশাতে রয়েছে, একমাত্র অন্ধ বিশ্বাসের বাইরে যার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই। 

ফারিস উদেহ, একটা ফিলিস্তিনি কিশোর। সমগ্র বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্যবাদী প্রতিরোধের মুখ এই কিশোরটি, যে সর্বাধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত একটা ইজরায়েলি ট্যাঙ্কের সামনে সামান্য একটা মাটির ঢিল হাতে রুখে দাঁড়িয়েছিল। কারণ তার খেলার সাথী খুড়তুতো ভাইকে ঘুমন্ত অবস্থায় ‘বাকিদের ভয় দেখাতে’ হত্যা করেছিল এই জায়নবাদি দখলদার বাহিনী। যে বয়সে রঙিন মাছ, মুনিয়া পাখি কিম্বা খরগোস পোষে সমস্ত পৃথিবী, যে বয়সে কোনো এক কিশোরীকে দেখে প্রথম প্রেমের অব্যক্ত রঙিন স্বপ্ন আঁকে, সদ্য গজানো গোঁফের রেখা নিয়ে স্কুল জীবনের বড় পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নেয়, ক্রিকেট ফুটবল ভিডিও গেমসে বুঁদ থাকার বয়স যেটা- নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও ফারিস ওই বয়সে এক আসামঞ্জস্য প্রতিরোধ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো, চরম ক্ষমতাবানের ঔদ্ধত্য, দম্ভ আর উন্মত্ততার সামনে। ফারিস জানত তার হাতের মাটির ঢিলে ওই শক্তিশালী ট্যাঙ্কের লোহার বর্মের শরীরে একটা আঁচড় অবধি কাটবে না, ফারিসেরা জানে তারা মৃত্যু থেকে মাত্র একটা বুলেট দূরে, যেকোনো মুহূর্তে দখলদারেরা তাকে হত্যা করে উল্লাস উদযাপন করবে। তাও তারা হাতের ঢিল নিয়েই রুখে দাঁড়ায়, লক্ষ দিন লক্ষ ফারিসের দল মরতে মরতে একদিন ঠিক তার উত্তরাধিকার প্রাপ্ত কেউ জিতে যুদ্ধে জিতে যায় কয়েকযুগ বা কয়েক শতাব্দী পর। প্রসঙ্গত, ইজরায়েলি সেনা ফারিসের গলায় গুলি করে হত্যা করেছিল। 

এটা লক্ষ লক্ষ শহীদ ফারিসদের প্রতিরোধের উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যুদ্ধ। এটা ফারিস উদেহদের জীবন উৎসর্গ করা প্রতিরোধের যুদ্ধ, সামান্য সক্ষমতা দিয়ে সাহস, আত্মবিশ্বাস দিয়ে শৌর্যবীর্যের লড়াই এটা। সেই মহাশক্তিধর নরপিশাচ কাপুরুষদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, যারা বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ কিশোরকে হত্যা করেছে, তাদের নিজস্ব ভূমির সম্পদ লুঠ করতে। এটা প্রতিশোধ নেওয়ার লড়াই, হিন্দ রজবের মতো দুই লক্ষ শিশুদের যারা বুলেট আর বোমার আঘাতে গত ৮০ বছর ধরে খুন করেছে, লাতিন আমেরিকা থেকে আফ্রিকা হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে, এশিয়ার অন্যান্য দেশে; সেই সকল নিষ্পাপ শিশুদের তরফে প্রতিশোধ নেওয়া পতাকাটার নাম আজ- হিন্দ রজব। 

এটা যুদ্ধক্ষেত্র, এখানে একমাত্র নিশ্চিয়তা হলো অনিশ্চয়তা। এটা কেবল ইরান আমেরিকার যুদ্ধ নয়, এটা প্রতিরোধ ও প্রতিশোধের যুদ্ধ। এটা গাজার অপুষ্টিতে ভোগা নিরস্ত্র অবোধ শিশুটিকে ট্যাঙ্ক দিয়ে পিষে দেওয়া নয়, এটা সত্যিকারের যুদ্ধ। এটা সেটলার হয়ে গরিব ফিলিস্তিনি লেবানিজের বাড়িটা বন্দুকের ডগায় দখল করে নেওয়া নয়, এটা সেয়ানে সেয়ানে যুদ্ধ। এটা টিভিতে দেখা যুদ্ধের খবর নামের এন্টারটেনমেন্ট নয়, রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রতীকী যুদ্ধ বিরোধী আন্দোলনের আদুরে আলাপ নয়, এটা রক্তের বন্য বইয়ে দেওয়া যুদ্ধ, রক্তের বদলা হিসাবে রক্তাক্ত করার যুদ্ধ। শোষনের বিরুদ্ধে, বঞ্চনার বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ভন্ডামির বিরুদ্ধে, উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। এটা গুজবের প্রহেলিকা, এটা ভয়ের সাম্রাজ্যকে ছারখার করে দেওয়ার যুদ্ধ। এটা যুদ্ধ, এটা পাপের শাস্তি, এটা ঔদ্ধত্যের সমাধি, এটা ভবিষ্যতকে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ থেকে মুক্তি দেওয়ার যুদ্ধ। 

রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬

ইজরায়েলে কী নেতানিয়াহু রিজিমের পতন ঘটলো?

 



শেষমেশ কি তাহলে রেজিম চেঞ্জ হয়েই গেল? 

না হলে যুদ্ধ চলাকালীন ইসরাইলে বসে ইসরাইলের 'আনন্দবাজার' পত্রিকা হারেৎজ, প্রতিপক্ষ ইরানের নেতা লারজানি সম্পর্কে এরকম উচ্ছাসিত খবর ছাপে কী করে ! 

অন্য সময় হলে আলাদা কথা ছিল, এখন সামনাসামনি যুদ্ধ চলছে, রিজিম চেঞ্জ না হলে সরকারি পার্টির লোক পিটিয়ে ছাল ছাড়িয়ে দেবে। যাইহোক, নেতানুনু আর তার সাগরেদ বেন গাভর মরুক বা গর্তে লুকিয়ে থাকুক, বর্তমান বিষয়টাতে মজা পাইসি।

ঝিনুকের চাঁদ দেখা নিয়ে একটা বহুল প্রচলিত গল্প রয়েছে। আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে পেলে নাকি সামুদ্রিক ঝিনুক তার খোলস খুলে দেয়, আর কাঁকড়ার দল সেই ফুরসতে একটা বড় পাথর তার ভেতরে ফেলে দেয়। আর কী, ঝিনুক শতচেষ্টা করেও খোলস বন্ধ করতে পারেনা। তখন কাঁকড়ার দল ঝিনুকের নরম মাংস কুরে কুরে খায়। চিন আর রাশিয়া মিলে আমেরিকা নামের ঝিনুকটাকে ইরানের আকাশে খামেইনি নামের চাঁদ দেখিয়ে খোলস খুলিয়ে দিয়েছে, এরপর হরমুজ নামের পাথর ফেলে দিয়েছে খোলা ঝিনুকের ভিতরে। বাকিটা তো চোখের সামনে।

এদিকে খবর হচ্ছে, আজ থেকে ইরান 'সিজ্জিন' নামের অস্ত্র প্রয়োগ করবে। আরবিতে সিজ্জিন মানে জাহান্নাম তথা নরকের তলদেশ। এক ফাতাহ এর চোটে কাঁথা কাপড়ে হেগে বসে আছে মাইটি পরাশক্তির দল, সিজ্জিনের ছ্যাঁকা খেলে কী হবে কে জানে! ওদিকে হোয়াইট হাউজের লিখিত বিবৃতি এসেছে- হরমুজ খুলে দিতে পারলেই নাকি আমেরিকা জয়ী হবে। অথচ আমেরিকা ইরানে স্বতপ্রবৃত্ত হয়ে বোমা মারার আগে তো হরমুজ খোলাই ছিলো, তাদের বোমা হরমুজ বন্ধ করেছে। আসলে, গরু হারিয়ে উন্মাদ হলে, বৌকে মা বলে ডাকতে হয়।

তবে বিশ্বগুরুর 'মাই ফেন্ড দোলান' যেভাবে অন্য দেশের সহযোগিতা চাইছে চিনের নাম লিখিতভাবে দিয়ে, তাতে আমেরিকান ড্রিমস এর প্রতি ঐশ্বরিক বিশ্বাস স্থাপন করা মার্কিন ভক্তদের নির্ঘুম রাতগুলো আরো লম্বা হতে চলেছে।


https://www.haaretz.com/middle-east-news/2026-03-14/ty-article-magazine/.highlight/ruthless-leader-brilliant-philosopher-ali-larijani-irans-most-powerful-man/0000019c-e193-d6d5-af9c-e5f35e980000?fbclid=IwY2xjawQkqmRleHRuA2FlbQIxMABicmlkETFCcXZacDg1aDJRdW15dFFyc3J0YwZhcHBfaWQQMjIyMDM5MTc4ODIwMDg5MgABHjjpSodCo_FeeJUt06VWc3s88TWs3U0aWuarz5yh0sRizrI9ayeWgba-pvKH_aem_-qd1kC0N38xTevcE4YnUGw

যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা।

 


গতকালের গিরীশ পার্কের ‘হামলা’, এটা তাদের ভোট প্রচারের ‘আত্মার’ প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতেই।

যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা।

ডিসক্লেইমারঃ- আইপ্যাক অনেক আগেই বুঝে গিয়েছিল দলদাস পুলিশ সরে গেলেই, স্যাটাভাঙা ক্যালানি দিয়ে চোর, কাটমানিখোর তোলাবাজগুলোর পিঠের চামড়া খিঁচে চুরির মাল বের করে নেবে জনতা। সেই ভয়ে ভীত তোলামুলের ওই চোর, কাটমানিখোর তোলাবাজ সম্প্রদায়কে ভরষা দিতেই লেখা হয়েছে এই চরম দূরদর্শী স্লোগানটা- যতই করো হামলা, আবার জতবে বাংলা। বার্তা পরিষ্কার, এই দফাতে ক্যালানি খেয়ে টিকে যেতে পারলে আবার চুরিচামারির সুযোগ পাবি। তাই হামলা হলে ভেঙে পড়িস না, এটুকু সইতেই হবে, পেটে খেলে পিঠে সয়।

এই ছবিটা গত ২৭শে ডিসেম্বর তোলামূলের অফিসিয়াল পেজে প্রকাশিত হয়েছিল। এটাই এবারের ভোট বৈতরণী পেরোতে আইপ্যাকের মস্তিষ্কপ্রসুত ন্যারেটিভ, যেমন একবার ছিল ‘পরিবর্তন চাই’, একবার ‘খেলা হবে’ ইত্যাদি। তা সে যাই হোক, ন্যারেটিভ না হয় নামানো হলো, কিন্তু শাসক দলই যে তোলামূল, হামলা করবেটা কে? করলেই সরকারি পুলিশ প্রশাসন দিয়ে গাঁজা কেস, সাজানো রেপ কেস, মার্ডার কেস ইত্যাদি, এমন শিল্পের তো অভাব নেই প্রতিটা থানার IC/OC ও লোকাল BDO/SDO দের অস্ত্রভান্ডারে।

এদিকে হামলা না হলে ন্যারেটিভ দাঁড় করানো যাচ্ছে না, আবার হামলা হলে আইনশৃঙ্খলা ও গোয়ান্দা ব্যর্থতার দায়ও ঘুরেফিরে পুলিশমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর উপরেই এসে পড়ে। উভয়সঙ্কট পরিস্থিতি। এগোলে সর্বনাশ, না এগোলে নির্বংশ। এদিকে সিপিএম/ISF এর হাতে মার খেলে শুধু জাত যাবে তা ই নয়, প্যান্ডরার বাক্স খুলে যাবার চান্স প্রবল- বাংলা জুড়ে ছোঁয়াচে রোগের মতো কুত্তা ক্যালানি শুরু হয়ে যেতে পারে পাড়ায় পাড়ায়। নিদেন পক্ষে হুমায়ুনের উপরেও ক্যালানি বিষয়ে ভরষা করতে পারেনি কালীঘাট, পাছে সত্যি সত্যি কেলিয়ে লাট করে দেয়। 

তাহলে সব বাঁচিয়ে, কীভাবে ‘হামলা’ পরিস্থিতি তৈরি করা যায়, যেখানে মান খোয়ালেও জাত যাবে না। RSS প্রভুর দারস্থ হতেই, তাদের মূল প্রোডাক্টে সিগন্যাল দিয়ে দেওয়া হলো, বাকিটা তো স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী একটা লং সিন শ্যুট করা। বিজেপিও তাদের প্রভুর সভার দিন মেইনট্রিম টিভি মিডিয়াতে, ‘ব্রিগেড’ শিরোনামে নিরবচ্ছিন্ন বিজ্ঞাপন দেখাবার সুযোগ পেয়ে গেলো সকাল থেকেই। অতএব, মোদীর ব্রিগেডকে লক্ষ করে ব্রাহ্মমুহুর্ত স্থির করা হলো, মোদীর বদলে যদি যোগী বা জুমলা শাহও এমন বড় কোনো পাবলিক মিটিং করতেন এই সময়, সেখানেও এমন হামলা নামের চিৎপুরের যাত্রাপালাটা অনুষ্ঠিত হতো।

এমতাবস্থায়, গতকালের তারিখটাকে বেছে নেওয়া, আসলে আইপ্যাকের এবারের ‘থিম সং’ স্লোগানটা বাস্তবের মঞ্চে মঞ্চস্থ করতে। এমনিতেই ব্রিগেডে বিজেপির সভাতে আসাম, ঝাড়খন্ড বিহার থেকে কয়েক লাখ ভাড়াটে দিনমজুরকে নিয়ে আসেতে হয় মাঠ ভরাতে; এই দিন ‘হামলা’ হলে এই অজ্ঞাত পরিচয়দের নামে বিল ফেড়ে দিলে, জাত কুল দুটোই রক্ষা হবে। হামলাও হলো, দোষও কারো ঘাড়ে পরল না, পারফেক্ট উইন উইন সিচুয়েশান। 

সোনাগাছি থেকে দালাল শ্রেণির কিছু মালকে দিয়ে র‍্যান্ডম ঢিল ছোঁড়ানো চলছিল কোলকাতা পুলিশের কঠোর তত্ত্বাবধান ও নজরদারিতে। প্রথম আধাঘন্টায় কেউ সেভাবে বিষয়টাকে আমলে নেয়নি, কিন্তু একটা বাসে ‘বিজেপি’র কিছু মাতাল বোঝাই ছিল, সেখানে ঢিল পড়তে তারাও খানিক ঢিল ছুঁড়ে ব্রিগেডের দিকে রওনা হয়ে যায়। এ অবধি ঠিকই ছিল, প্রশ্ন হলো এতো ঢিল কোলকাতা শহরের বুকে এলো কীভাবে? হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তি থেকে জানলাম, NASA স্যাটেলাইট চিত্র মোতাবেক, কোলকাতা পুলিশই নাকি পার্কসার্কাস রেললাইনের ধার থেকে খোয়া এনে ‘হামলা’র মঞ্চ প্রস্তুত করে রেখেছিল, কীজানি হবেও হয়তো বা, যারা আন্তর্জাতিক মিডিয়া ফলো করে তারাই ভালো বলতে পারবে এই দাবীর সত্যতা। তো ছিল গতকালের গোটা গল্পটা।

তোলামূলের এবারের থিম যেহেতু ‘হামলা’, আগামীতে ভোটের অন্তিম দিন অবধি আবার এরা নিয়মিত পাতানো ম্যাচে হালকা ফুলকো ক্যালানি খেয়ে সহানুভূতির দোকান খুলে বসবে রোজ। গতকাল যেমন জামার উপর দিয়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা আহত রোগী দেখলাম, ভয়ঙ্কর অসুস্থ শশী পাঁজা যিনি নাকি বসতে পারছিলেন না, তিনিও অবলীলায় ১ ঘন্টার উপরে সাংবাদিক সম্মেলন করে গেলেন। এমন টিভি সিরিয়াল মার্কা ‘হামলা’ শুটিং আগামীতে যখনই হবে, জনগণের উচিৎ হাতের কাছে ঝাঁপের লাঠি, খুঁটির বাঁশ যা কিছু পাবে, তাই দিয়ে এলোপাথাড়ি ভাবে ফেলে ক্যালানো চোর, কাটমানিখোর তোলাবাজ সম্প্রদায়কে। ডজন খানকে চোর, কাটমানিখোর তোলাবাজকে সত্যি সত্যি হাসপাতালে পাঠিয়ে দিলেই, এদের এবারের ন্যারেটিভ ধ্বসে যাবে ভোটের আগে।

সিপিএম, কংগ্রেস ও ISF, এদের প্রত্যেকের নৈতিক ও সামাজিক দায় রয়েছে এই হামলাতে অংশ নেওয়া, প্রত্যক্ষ পরোক্ষ যেভাবে খুশি হোক। পাতানো ম্যাচে হামলা নামের খেলা হলে, সেটাকে কাঠে কপাটে লাগিয়ে গণধোলাই এর বন্দোবস্ত করা- জাতির সাথে সাথে আইপ্যাকও সেটাই চাইছে। ফাঁসির আসামীরও শেষ ইচ্ছা পূর্ণ করা হয়, সেখানে তোলামূলের ক্যালানি খাওয়ার শেষ ইচ্ছা পূর্ণ না করলে ‘রাজনাথ সিং’ও আপনাদের জন্য কক্ষণও কড়ি নিন্দা করবে না। আপনারা মহাপাতকের দলে পরিগণিত হবেন। 

তামাম পাবলিককে বিষয়টা জানিয়ে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব আপনার, কারণ এবারে ক্যালানি খাবে বলেই বাংলার সর্বত্র হোর্ডিং টাঙিয়েছে তোলামূল, ওদের মনোবাসনা পূর্ণ করা আমাদের পবিত্র কর্তব্য। নতুবা ওরা আবার ফিরে এলে কেন ‘হামলা’ করিনি, এই অপরাধে আমার আপনার চামড়া খিঁচে নেবে, যেমনটা গত ১৫ বছর ধরে করেছে।

শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬

খুব সোজা একটা একটা প্রশ্নঃ মোদীর পরিবর্তে কাকে আনবে RSS?


 

খুব সোজা একটা একটা প্রশ্নঃ মোদীর পরিবর্তে কাকে আনবে RSS?


মোদীকে বানপ্রস্থে যেতে হবেই যদিনা মিরাকেল কিছু ঘটে, কারন আদানি। আমাদের চুরি যাওয়া টাকা দিয়ে আদানি ইজরায়েলের হাইফা বন্দর লিজে নিয়েছে বলে? আজ্ঞে না, ইরানের মাটিতে যে সব অস্ত্র গোলাবারুদ ইজরায়েলের তরফে ফেলা হচ্ছে এই যুদ্ধে, তার সিংহভাগ তৈরি করেছে Adani Defence & Aerospace। কোথায় তৈরি করেছে? মোসাদ ও CIA এর ভয়ানক কড়া পাহাড়ায় আমাদের ভারতের মাটিতে, উত্তরপ্রদেশের কানপুর আর প্লাসনা কারখানাতে গোলাবারুদ তৈরি হচ্ছে, তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদ ফ্যাক্টারিতে– ড্রোন উৎপাদন হচ্ছে, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু ফেসেলিটিতে- মিসাইলের যন্ত্রাংশ ও হাইটেক ড্রোনের যন্ত্রাংশ বানানো হচ্ছে। ইজরায়েলের অস্ত্রের সাপ্লাই লাইন মানে Adani Defence, আদানি মানে তার চাকর স্বঘোষিত বিশ্বগুরু, আর আমরা হলাম ভারত রাষ্ট্রের হতভাগ্য নাগরিক। 

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত কখনই চাপরাশি বা চাকরবাকর ছিল না আজকের মতো, মঞ্চের প্রথম সারির নেতা না হলেও রাজারাজড়ার সাথেই উঠাবসা ছিল। পারিবারিক ঐতিহ্য সম্মান ধরে রাখতে হয়, বিশ্বগুরুর মতো তৃতীয় শ্রেণির নিকৃষ্ট দালাল, আজ দেশের সম্মান নিয়ে লোফালুফি খেলতে খেলতে আজ ভারতকে অচ্ছুতের দলে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।যুদ্ধের ১৩ তম দিনে টুইটারে ফার্সি ভাষায় ইরানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা হওয়ার যে দাবী, সেটাকে ইরানের প্রধানমন্ত্রী স্বীকারই করেনি। ইরানের প্রধানমন্ত্রী কোনো ‘গাটর গ্যাস বিজ্ঞানী’ নন, সামান্য একজন কার্ডিয়্যাক সার্জেন, তিনি হৃদয়ঘটিত বিষয়টা বেশিই বোঝেন। তারপরেও বিশ্বগুরুর জন্য ১টা অক্ষর খরচা করেননি, অথচ সেখানে রাশিয়া ও পাকিস্তান আছে। অন্য টুইটে অন্য দেশের উল্লেখও রয়েছে। এটা হচ্ছে গোদী মিডিয়ার বানানো বিশ্বগুরুর অউকাত।

‘হিন্দু খতরে মে’ এর মিথ্যা স্লোগানকে আজ সত্যি হতে দেখছি। আদানি প্রভু আর তার পোষ্য বিশ্বগুরু আক্রান্ত হলে আমরা দেশবাসি কীভাবে সুস্থ থাকব! আমরাও কমবেশি সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হবো, যেমন তেল গ্যাস সঙ্কটে ক্ষতির মধ্যে আছে দেশের প্রতিটা মানুষ, প্রতিটা হিন্দু। সত্যিই তো আজ হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়, সৌজনে বিজেপি। সৌজন্য বিশ্বগুরুর লালুভুলু দলের বিদেশনীতি, সৌজন্যে এপস্টিন গ্যাং এর সাথে অতিরিক্ত সখ্যতা, সৌজন্যে গুজরাত কার্টেল। ইরানের নতুন লিডার লিখিত বিবৃতি দিয়েছে যে তারা এবার প্রতিশোধ নেবে ইজরায়েল, আমেরিকা ও তাদের মিত্রদের উপরে; বোঝা গেলো আজ অবধি যা তান্ডব করেছে সেগুলো ‘প্রতিরোধ’ এর নামে নেট প্র্যাকটিস। ইজরায়েলের অস্ত্র কারখানায়, মানে আদানির অস্ত্র কারখানায় মানে আমাদের দেশের শহরগুলোতে! আসলে যেভাবেই আপনি উল্লেখ করুন, জাইগা তো আসলে একটাই- Adani Defence। এটা লেখার জন্য আমাকে কি দেশদ্রোহী ঘোষণা করতে পারে অমিত শাহ এর প্রশাসন?

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে অক্ষটা ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে ইরান যুদ্ধের অজুহাতে, তারা যে কোনো মুল্যে মোদীর রাজনৈতিক নিধন চায়। বিগত ৬ বছর ধরে BRICS এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা তো আছেই, মূল সমস্যা আরো গভীরে। ইরানের মুখোশ পরে এই যুদ্ধে চিন ও রাশিয়া যে পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে তা কুনাল ঘোষের মত ইডিয়ট থার্ডক্লাস মুর্খটাও জানে। চিন আমাদের ঘোষিত শত্রু হলেও রাশিয়া ও ইরান পরম মিত্র হিসাবে গত ৫ দশকের সুসম্পর্ক, আমাদের বিশ্বপ্রভু দায়িত্ব নিয়ে এপস্টিন গ্যাং এর সাথে আতালান্তিকের জলে ডুবিয়ে এসেছে। 

রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক স্বাধীনতার সেই জন্ম লগ্ন থেকে। আলাদা করে ১৯৭১ সালে Indo-Soviet Treaty of Peace, Friendship and Cooperation সই পর্যন্ত হয়েছিল। আজও  ভারতের প্রতিরক্ষা অস্ত্রের বড় অংশ রাশিয়ান, যেকোনো চিন পাকিস্তান যুদ্ধই তার প্রমাণ। আলাদা করে পারমাণবিক শক্তি, মহাকাশ গবেষণা সহযোগিতা, জ্বালানি, শিল্প ও কৃষি বিপ্লবের প্রত্যেকটি ধাপের উন্নতি, রাশিয়া তথা সোভিয়েত ইউনিয়নের হাত ধরেই। আজকে আমাদের অস্ত্র ভাণ্ডারের কোহিনুর ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র, যেটার বলে আমেরিকাও আমাদের সম্ভ্রমের চোখে দেখে, সেটাও রাশিয়ার সহযোগিতায় বানানো। আমাদের ব্রহ্মপুত্র আর রাশিয়ার মস্কোভা নদীর আদ্যংশ জুড়ে তাই এমন নাম।

ইরানের সাথে আমাদের প্রায় ২৫০০ বছরেরও বেশি পৌরাণিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক, বেদ-জেন্দা আবেস্তা কালের চেয়েও পুরাতন। প্রাচীন পারস্য সাম্রাজ্যের সময় থেকেই ভারত ইরানের মধ্যে বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক লেনদেনে নাড়ির যোগাযোগ। স্বাধীনতার পর দেশভাগের কারণে ইরানের সাথে সরাসরি সীমান্ত হারালেও, বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে তাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরে বিনিয়োগ এর সুযোগ করে দেয়। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের মাটিতে তৈরি চিনের গদর বন্দরকে টক্কর দেওয়াতে, ভারতের দিকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো ইরান। এতে করে আফগানিস্তান সহ পুরো মধ্য এশিয়ার বাণিজ্যের দরজার খুলে গিয়েছিল ভারতের ব্যবসায়ীদের জন্য। কিন্তু ওই, চোর আদানি। আদানিকে ইজরায়েল ট্র‍্যাপ করল, তার দেশের অস্ত্র বানানোর জন্য। অমনি দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে আমরা সমস্ত ঐতিহ্য, কূটনীতি, বিদেশনীতি ভুলে ইজরায়েলকে ‘ফাদারল্যান্ড; বানিয়ে ফেললাম। উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির ময়দানে সিগন্যাল পাঠিয়ে দিল, ইরান মোল্লাদের দেশ বলে হিন্দু হৃদয় সম্রাটের এই ইজরায়েলি মাস্টারস্ট্রোক। ফলাফল? তেল-গ্যাস কিনতে গিয়ে ‘হিন্দু খতরেমে’। দেশের মূল সমস্যা আদানি, ওরফে তার পোষ্য চাকরটা।

তেল আভিবের বাতাসে পোড়া লাশের চেয়েও যে খবরটা সবচেয়ে বেশী দুর্গন্ধময় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে তা হলো- নেতানুনু অদৌ বেঁচে আছে তো! ওদিকে শ্যাম চাচার দেশে, উন্মাদ ট্রাম্পকে হয়ত CIA ই খালাস করে দিয়ে যুদ্ধের উপসংহার টানবে, স্থায়ী ভাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে। তাহলে হাতে পেন্সিল ছাড়া আর কি রইলো? একমাত্র আদানি। আদানি সংহার হবেই, যতই তার নিজের কেনা মিডিয়া আর গুজরাত কার্টেলের পে-রোলে থাকা প্রতিটা ধামাধরা চাটুকার মোসায়েবের, বিশ্বগুরুকে গ্লোরিফাই করে পরিস্থিতি ও প্রশ্নকে ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা করুকনা কেন, এ যাত্রায় সম্ভবত রক্ষে নেই আদানি শেঠের, স্বর্গীয় absolute miracle ছাড়া। বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান, এবার ঘুঘু তোমার বধিব পরান।

আদানি ভোগে গেলে বিশ্বগুরুর অস্তিত্বের প্রয়োজনটা কোথায় রাষ্ট্রের কাছে? আক্ষরিক অর্থেই তো তিনি মুর্খ ভাঁড়, বেতনভুক ভৃত্য মাত্র। মালিক যখন চিতায় উঠবে তার পোষ্যকেও সহমরণে যেতে হবে, বাকিরা বলোহরি হরিবোল বলে প্রভুর সাথে সতী বানিয়ে ছবি করে দেবে। আদানির বড় ভাই বিনোদ, এই মালটা সাইপ্রাস দ্বীপের নাগরিক হলেও, বাস করে দুবাই-এ। আমাদের দেশের যাবতীয় চুরচামারির মাল নিয়ে মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনা ঘাঁটির কাছাকাছি একটা দূর্গ মত বাড়িতে গচ্ছিত রাখা আছে সাইপ্রাসে। এই কচ্ছপটাকে খ্যাপলা জাল দিয়ে টেনে নিয়ে এসে চাবাহারের মাছ বাজারে আঁশ ছাড়ানো, হলেই প্রভু আদানি প্রাণপাখি ছটপট করা শুরু করবে। এদিকে আম্বানি মোটাভাই আমাদের থেকে চুষে নেওয়া হারামের সম্পদ আমেরিকাতে সাইফন করতে মরিয়া, রাশিয়া-চিন-ইরান অক্ষ ওনাকে আমেরিকায় যেতে দেবে বামাল সহ? আর গেলে জামনগরের অয়েল রিফাইনারি বেঁচে থাকবে বলে আপনি বিশ্বাস করেন?

আমাদের MEA মুখপাত্র সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন- আফ্রিকার নাম না জানা দেশগুলো হরমুজ দিয়ে তেল গ্যাস নিয়ে চলে যাচ্ছে, আমারা যাদের রোজ হ্যাটা করি সেই বাংলাদেশও হরমুজ কূটনীতিতে সফল, সেখানে আমরা মিডিয়া প্রোপাগান্ডা দিয়ে জাহাজ ভরছি তেল গ্যাসের বদলে। আদানির পোষা লেজ বিশিষ্ট কেউ নয়, কোনো একজন ‘ভারতের’ প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিক- দেশের স্বার্থে হওয়া বিদেশনীতির পক্ষে, ভারতের প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দল বিনা বাধায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে সর্বদলীয় প্রস্তাব পাশ করিয়ে দেবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে। তখন ওই ইরান, ওই রাশিয়া, ওই চিনা জাহাজ আমাদের  ১৩টা আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দরে লাইন দিয়ে তেল গ্যাস পৌঁছে দিয়ে যাবে নিজেদের খরচায়। 

২০২৫ এর ফেব্রুয়ারি থেকে ট্রাম্প কাড়া নাগাড়া বাজিয়ে ‘ট্যারিফ’ ওয়্যার শুরু করেছিল, বাবু তার ইচ্ছামতো যাকে খুশি যেমন খুশি ট্যারিফ লাগাচ্ছিলেন, যাকে খুশি স্যাংশন এর সাজা ঘোষণা করে দারুণ একটা খেলা খেলছিল। সেই প্রতিটা ট্যারিফ-স্যাংশনকে আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে ইরান, ২০২৫ জুড়ে ট্রাম্পের পুরো ‘ট্যারিফ’ মেহনত জাগ্রোস পাহাড়ির খাদে কবর দিয়ে দিয়েছে। ট্যারিফ যুদ্ধে চিনের সাথে মুখ থুবড়ে পরলেও রাশিয়ার উপরে হাজারটা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সে যুদ্ধে প্রায় একতরফা জিতে গিয়েছিল আমেরিকা। আমাদের বিশ্বগুরুকে মাদারির বাঁদরের মতো লাঠির ডগায় নাচিয়ে একতরফা শর্তে যখন যেমন খুশি, তেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে, আর আমাদের লালুভুলু কোম্পানি মেনেও নিয়েছে টুঁ শব্দটি না করে। প্যান্টের উপরে লাল জাঙিয়া পরলেই সুপার হিরো হওয়া যায় না, চাড্ডি তো নাগপুরের গোয়ালের রাখালগুলোও পরে। একটা ভিসন লাগে, যা দিয়ে মিশন কমপ্লিট করতে হয়। RSS এর মুচলেকা আর জুতো চাঁটা আদর্শ দিয়ে হিরো হওয়া যায় না, সারেন্ডার করাই যায়।

গত কালও লিখেছিলাম, আমাদের দেশের মূল সমস্যা হচ্ছে বিশ্বগুরু। বাজপেয়ীও বিজেপি তথা RSS ছিলেন, কিন্তু বিশ্বগুরুর মতো এমন প্রকাশ্য নির্লজ্জ মিথ্যাবাদী ছিলেননা, এমন দেশদ্রোহীর মতো কর্পোরেটের গোলামি করেননি। বাজপেয়ী ‘উনিজির’ মতো নিরেট মুর্খও ছিলেন না, নাহলে কংগ্রেস ওনাকে বিরোধীদলের নেতা হিসেবে রাষ্ট্রসঙ্ঘে দেশের প্রতিনিধি করে পাঠাতো না। নেতা, চাকরবাকর আর দালালের মাঝে ঠিক যতটা ফারাক, বিশ্বগুরুর সাথে তার পূর্বসূরিদের পার্থক্য ঠিক ততটাই। বাজপেয়ি দেশের বিদেশনীতি ঘেঁটে দেওয়ার চেষ্টা করেননি, সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছিলেন- “সাম্রাজ্যবাদী ইসরাইল, ফিলিস্তিনের মাটি থেকে সরে যাও। ভারতবর্ষ অখন্ড ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের পাশে ছিল আছে থাকবে”। 

এখন আমেরিকার এমন শোল পোড়া অবস্থায়, তার যারা চাটুকার ফ্যান বয়, যেমন আমাদের বিশ্বগুরু- ওনাদের কাঠে কপাটে অবস্থা, না বইতে পারছেন- না সইতে পারছেন; প্রাণ খুলে কাঁদার উপায়ও নেই। মন্ডপের মুর্তি যখন বানানো হয়, কাঠামো খড় মাটি লেপে পুঁছে রঙ চড়িয়ে কাপর ফুল মালা দিয়ে অনেক কটা দিন ধরে সাজানো হয়, অনেকগুলো মানুষের মেহনতে; বিসর্জন কিন্তু টুক করে সবটা একসাথে হয়। আমাদের বিশ্বগুরু গেলে তার সাথে তার সাথে থাকা ভক্তের দল, তার পিছনে মিছিল করে চলা গুজরাত কার্টেল, তার অনুগত মিডিয়া বাহিনী, তার রাষ্ট্রযন্ত্র, অতীত বর্তমান সব কিছু নিয়েই উনি অস্ত যাবেন। কেউ কেউ সোলার টোপরের মত হয়তবা ভেসে গিয়ে বেঁচে যাবে। ঠাকুর বিসর্জনের সময় ঢোল কাঁসা নিয়ে তারাই উল্লাস করে কোলাকুলি করে, যারা এতোদিন এই মুর্তিটারই আরাধনা করেছে। সুতরাং, কাঁসি ঢোল নিয়ে RSS ই যে বিসর্জনের ভাসান ড্যান্স করবে, সেটা বলাই বাহুল্য।      

ইরানের পুরাতন নের্তৃত্বের প্রায় সকলকেই খালাস করে দিয়েছে এপস্টিন গ্যাং, নতুন নের্তৃত্ব হিসাবে যারা এসেছে, তাদের নুন্যতম ঘনিষ্টতা নেই বর্তমান ভারতীয় প্রায় সকল নের্তৃত্বের সাথে, ফলত সম্পর্কের লেগাসিও নেই। এই কারনেই প্রথমে লেজারশঙ্কর ও পরে বিশ্বগুরু নিজে ফোন করে মৌখিক মুচলেকা দিলেও, কাজের কাজ হয়নি। চিনা নের্তৃত্ব আমাদের বিশ্বপ্রভুকে কখনও গুনতিতেই ধরেনি মানুষ হিসাবে। ওদিকে শোনা যাচ্ছে রাশিয়ান প্রথম সারির কূটনীতিবিদেরা ফোনের ওপার থেকে বিশ্বগুরুর সাথে কথাই বলতে চায়নি শেষ ২ সপ্তাহ ধরে, গ্রুপ-সি টাইপ চাপরাশি লেভেলের রাশিয়ান কর্তারাও বিশ্বগুরুর মা মাসিকে ‘সম্মান’ করে সম্বোধন করেছে বলে জোর খবর। এই অবস্থায় মস্কোতে গিয়ে মুজরো করলে কোনো কাজে দেবেনা, তেহরানে গিয়ে যে কান ধরে উঠবোস করবে বা নাকে খৎ দেওয়ার রিল বানাবে ‘বিরাট শিক্ষিত’ মন্ত্রী বৈষ্ণবকে দিয়ে, সে সম্ভাবনারও গোঁড়া কেটে দিয়েছে ইরানের প্রধানমন্ত্রী, গতকালের মাত্র ৯০ সেকেন্ডের ফোনালাপে।

দেশে সারের সঙ্কট শুরু হবার মুখে, কৃষক মার খাবে, খাদ্য শস্যে টান পরবে। পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, কাচ ও সিরামিক শিল্প, স্টিল ও ছোট ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যাবে। মিডডে মিল থেকে উৎসব অনুষ্ঠান, হোটেল রেস্টুরেন্ট ও পর্যটন শিল্প ধ্বসে যাচ্ছে রান্নার গ্যাসের অভাবে। অনেকে বলছে রেস্টুরেন্ট বাবু বিবিদের খাবারের জাইগা, আজ্ঞে না, ওখানে যারা কাজ করে তারা অধিকাংশই শ্রমিক ও দিনমজুর, আর দেশে এদের সংখ্যাটা প্রায় ২৮ কোটি মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রুটিরুজির প্রশ্ন। এক অদ্ভুত গণসঙ্কটের দিকে চলেছি আমরা।

বিশ্বগুরুর ফাঁপা বেলুনে কতক্ষণ আর হাওয়ার ভেসে থাকবে! বিশ্বগুরুকে রোজ সকালে বিকালে নিয়ম করে কান মুলে দেন যিনি, সেই ট্রাম্প ও তার প্রশাসন নিজেরাই ল্যাজেগোবরে, এখন সাহেবকে কে সেল্টার দেবে? মুচলেকা যাদের জিনে রয়েছে, সারেন্ডার তাদের চরিত্রের সৌন্দর্য। এখন কি দলবদল করে রাশিয়া ইরানের পায়ে ধরে বিশ্বপ্রভুকে দিয়ে সারেন্ডার করালে, আদানি প্রভুর মুক্তি মিলবে? আমেরিকা আরেকটা কাজ করতেই পারে, তারা শাহ এর পুত্র, ওই বেঢপ নাকের ভাঁড়টাকে আয়াতেল্লা রেজিমের বিপক্ষে প্রোজেক্ট না করে, আমাদের দেশের শাহ টাকে ওখানে নিয়ে ছেড়ে দিলে তো পারে। ‘টাকলা শাহ জুমলাবাদী’ গাঁজা কেস, রেপ কেস, আর্মস কেস, UAPA দিয়ে কিছু জনকে ভরে দিয়ে, বাকি সবাইকে কিনে নিয়ে মার্কিন পন্থী সরকার বানিয়ে দেবেন। নেহাত সেটাও না হলে, ইরানের নাম চেঞ্জ করে হরমুজে বুলডোজার নামিয়ে দেওয়া শিল্পীও তো আমাদের দেশেই ছিলো। শুধু বিশ্বগুরুর একার দিকে নজর দিতে গিয়ে হোয়াইট হাউজ এই দুটো নমুনা, সরি প্রতিভাকে মর্যাদাই দিতে পারলোনা।

স্বস্তিক বাহিনী স্ট্যালিনগ্রাদে কবরস্থ হয়েছিলো, তার সাথে জাপান, ইতালি সহ হাঙ্গেরি, রোমানিয়া , বুলগেরিয়া, ফিনল্যান্ড, থাইল্যান্ড কেউ রক্ষা পায়নি। হরমুজ নামের আজকের স্ট্যালিনগ্রাদে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ রূপী ‘ভেরমাখট’ বাহিনী একা ডুববেনা, মাই ফ্রেন্ড দোলান্ড মঞ্চে কিম্বা Godhra Meets Gaza সামিটে কোলাকুলি করে ফাদারল্যান্ড আবিষ্কার করা- বিশ্বগুরুর মত মোসায়েব খোঁচর গুলোকে সাথে নিয়েই ডুববে। নিউটনের সুত্র বলে, পতনশীল বস্তুর প্রাপ্ত বেগ সময়ের সাথে সমানুপাতিক। সুদান ইতিমধ্যেই আমিরাতের দখলদার বাহিনীকে খেদা করে দেশ উদ্ধার করা শুরু করেছে, আমাদের দেশেও আদানি আম্বানির খপ্পর থেকে দেশজ সম্পদ ফিরিয়ে আনতে হবে।  ইরানে যদি আয়াতেল্লার হেজিমনি থাকে, আমাদের দেশে সঙ্ঘের হেজিমনি চলছে কর্পোরেটদের সাথে পার্টনারসিপ করে, শেষ দুই দশক ধরে। যারা ইরানের রেজিম চেঞ্জের পক্ষে গলার শিরা ফোলাচ্ছে, সেই তারাই আবার মনুবাদী সঙ্ঘের রেজিমের পক্ষে। এটার নামই হিপোক্রেসি, এই ফাঁদেই আমরা ১৪০ কোটি ভারতীয় আঁটকা পরে বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে জিম্মি হয়ে গেছি।

ভারতের একটা ‘ভারতীয়’ প্রধানমন্ত্রী দরকার, যে চাটুকার ভাঁড় সেজে কোনো কর্পোরেটের দালালি করবেনা, দেশের মানুষের কথা বলবে। সরকারী টাকায় ১১৩ বার বিদেশে প্রমোদ ভ্রমণে গিয়ে, নির্লজ্জের হাসি হেসে ছোটলোকের মত জড়িয়ে ধরবেনা। ইজরায়েলি পতাকার সামনে মাথা নোয়াবেনা। ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে সম্মান করে, দেশের মানুষের জন্য পদক্ষেপ নেবে জাতি ধর্মের উর্ধ্বে উঠে।

পরিস্থিকে যথাসাধ্য ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলাম। অনেকটা এডভান্স লিখে ফেলছি বলে অনেকেরই হজম হবেনা আমার আজকের কথা গুলো, ভক্তরা যারা বিশ্বগুরুর ছবিতে ঈশ্বর প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন, তারা বাদেও অনেক নিরপেক্ষ সুশীলেরও পরিপাক হবেনা। তাই শুরুর প্রশ্নে ফিরে যায়, ইরান যদি না হারে, আদানির বিরুদ্ধে আক্রমনাত্বক হামলা আসবেই। তখন লক্ষবার ধ্যানে বসলেও ক্ষমতার গনেশ উল্টাবেই। এমতাবস্থায়, বিশ্বগুরুর স্থলাভিষিক্ত কে হবে? নতুন আনকোরা কাউকে ঝুলি থেকে বের করবে নাকি পুরাতন কোনো ভাঁড়কে সিংহাসনে বসাবে RSS! 


আপনার কি মনে হয়?

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য গতিপথ ও নতুন বিশ্বব্যবস্থা


বিশ্ব রাজনীতির এক যুগান্তকারী সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা। চলমান পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী জিওপলিটিক্সের স্নায়ুতন্ত্রের DNA পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে। এটা বাষ্প-জল-বরফের মতো কোনো অন্তহীন পরিবর্তন চক্র নয়, এটা কাঠ পুড়ে ছাই হওয়ার মতো, যেখানে ছাই কখনই আর কাঠে রুপান্তর হবে না। এটা পক্ষ নেওয়ার সময়, আমি কোন দলে সেটা বেছে নিতে হবে। রাষ্ট্রের পরিচালকেরা তারা নিজের মতো করে বেছে নেবে, অধিকাংশ জনগণ যে পক্ষে থাকবে, রাষ্ট্রকেও সেই পক্ষে যেতেই হবে নতুবা জনগণ রাষ্ট্রের নের্তৃত্বেরই পরিবর্তন ঘটিয়ে দেবে ভোটের মাধ্যমে।

আমাকে অনেকে দাগিয়ে দিচ্ছে, আমি ইরানকে সমর্থন করছি কারণ আমি নিজে মুসলমান বলে। অথচ বাংলাদেশে যখন জুলাই বিপ্লবের সময় আওয়ামি লিগ মার খাচ্ছিলো, একটাও ভারতীয় মুসলমান বাংলাদেশের কোনো মুসলমানের পক্ষ নিয়েছিলো? RSS এর মতো উগ্র ধর্মান্ধ জম্বিদের রাজত্বে এটা বাক্তিগত বিড়ম্বনার কারণ না হলেও, নিয়মিত কটুক্তির সামনে পড়তে হয়, এবং আমি নিশ্চিত এটা শুধু আমাকে নয়, আমার মতো প্রতিটা মুসলমান সহ অসাম্প্রদায়িক হিন্দু ভাই বোনেদেরও হয়রানির শিকার হয়ে হয় RSS এর অনুগামীদের কাছে। বস্তুত, হিন্দুদের সাথে ইহুদিদের ধর্মগত কোনো মিল নেই, তবুও রাজ্যে বা দেশের বড় অংশের হিন্দু ইরানের বিরুদ্ধে। কারণ এরা আমেরিকাকে মানসিকভাবে সমর্থন করছে শুধুমাত্র ইসলামোফোবিয়ার কারণে, যেহেতু ইরান মুসলমান রাষ্ট্র।

আমাদের মতো কিছু মানুষের চরিত্র বড় অদ্ভুত। দেশজ রাজনীতিতে আমরা সিপিএম এর সমর্থক, যারা রাষ্ট্রের খাতায় শূন্য। বিশ্ব রাজনীতিতে আমরা পুতিনের ফ্যান বয়। আমরাই একসময় ভিয়েতনাম ছিলাম, আজ আমরা ভেনেজুয়েলা, আমরা সোমালিয়া, আমরা তালিবান বিরোধী কিন্তু আমরা আফগানিস্তানের সাধারণ নাগরিকের পক্ষে, আমরা কিউবা, মরোক্কো, বসিনিয়া, আর্মেনিয়া, ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া, গাজা, বুরকিনা ফাসো, এমনি করে সেই সব দেশের পক্ষে মানসিকভাবে অবস্থান করি, যারা কোনো না কোনো শক্তির হাতে অত্যাচারিত। এই দেশগুলোর সাথে আমাদের কারও কোনো সম্পর্ক নেই, না কখনও সেখানে গেছি; না সে সব দেশের কাউকে চিনি, কিম্বা তারা আমাদের কাউকে চেনে। কোনো ব্যক্তিগত বা অর্থনৈতিক লেনদেন নেই, তবুও তারা আমার আপন, কারণ তারা অত্যাচারিত। ক্ষমতার দিকে থাকাটা খুব সহজ, চাটুকারিতা আর উপস্থিতি থাকলে পকেটেও লক্ষীলাভও ঘটে। তবুও আমরা কেউ ক্ষমতার পদলেহনে নেই।

হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ এমন মানসিক সংস্থাপনায় বসবাস করেন, যারা গোটা বিশ্বজুড়ে যেখানে যে লোকটা অত্যাচারিত, মানসিকভাবে আমরা তার আত্মীয় ভাই-বেরাদার হয়ে যায়; নিজেদের রিলেট করতে শুরু করি; তাদের ধর্ম কী, জাত কী, বর্ণ কী কিছুই জানি না, জানতেও চাইনি কখনও। আমরা যতটা হলোকাস্টকে ঘেন্না করি, ঠিক ততটাই ঘেন্না করি জায়নবাদকে, সমান ঘেন্না করি আইসিস, আলকায়েদা ও RSS কে। আমরা তোজোকে ঘেন্না করি আবার হিরোশিমা নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা ফেলাটাকেও পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্টতম পাপ মনে করি। এমনকি আমরা জেলবন্দি ইমরান খানের পক্ষে, ইসরাইলের পার্লামেন্টে কোন বামপন্থী সাংসদ জিতে এলে আমরা তার পক্ষে

আমেরিকান নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডের পক্ষে যেমন আমরা ছিলাম, তেমনই ইরানের আয়াতল্লার বিরুদ্ধে গিয়ে মাসা আমিনির পক্ষ নিয়েছিলাম আমরা। আজকের ইরান আমেরিকার প্রেক্ষিতে, তখন আমাদের পক্ষ বদলে গিয়েছিল, সেদিন আমরা আমেরিকার সাধারণ মানুষের পক্ষে আর ইরানের খামেইনির বিরুদ্ধে ছিলাম। আমরা উন্মত্ত শ্রীলঙ্কার জনগণের পক্ষে ছিলাম, আবার ভারতবিরোধী বাংলাদেশী উন্মত্ত জনগণেরও বিপক্ষে ছিলাম, আমরা ইউনুনের নাবালক সমন্বায়ক সরকারের বিপক্ষে ছিলামআমরা নেপালে জেঞ্জিদের পক্ষে ছিলাম না। আমরা দেশ জুড়ে কৃষক আন্দোলনের পক্ষে, আমাদের ধরে পেটানো তৃণমূলের দলদাস সেই DA না পাওয়া পুলিশটার ন্যায্য দাবীর পক্ষে, আমরা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করা ‘খাঁটি ভারতীয়’ আদানির বিরুদ্ধে। আমরা দেশজ রাজনীতিতে যেখানে বামেরা নেই সেখানে কংগ্রেসের পক্ষে। বিজেপির তুল্যমূল্য বিচারে আমরা বাজপেয়ী জামানার পক্ষে, আমরা আদবানীর সাথে হওয়া দুর্ব্যবহারের বিপক্ষে।

আমরা সেই অর্থে পাল্টিবাজ ধান্দাবাজ হতে পারিনি। আমাদের বন্ধু বৃত্তের অধিকাংশের বয়সটা ৪০ পেরিয়েছে ইতিমধ্যে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে তো দেখতে হয়, নিজেকে শুধাতে হয়- আমি আসলে কে! আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে থাকা একটা জীবন্ত সত্ত্বা নাকি লোভের পুঁজে ঠাসা মৃত লাশ? আমি সিপিএম নই, আমি কমিউনিজমের ভাবধারায় বিশ্বাসী। আমি কাঠ মোল্লার অন্ধ বিশ্বাসী ফতোয়ার বিপক্ষে কোরানকে শাশ্বত মানা মুসলমান, আমি কখনই নাগপুরের গাইডলাইন মেপে ‘গুড মুসলিম’ নই, বরং আমি দেশের সংবিধানকে সর্বোচ্চ সম্মান করা এভং অন্তরের ভালোমন্দ বোধের প্রতি দায়বন্ধ- একজন ভারতীয় মুসলমান।

মানুষের মনে যদি বিতৃষ্ণা থাকে সেটা কোনো না কোন দিকে, কখনো না কখনো প্রকাশ পাবেই। সেটা ঘটি বাঙাল ইস্যু হতে পারে, হিন্দু মুসলমান ইস্যু, নারী পুরুষ ইস্যু, ধনী-দরিদ্র ইস্যু অথবা এরকম অসংখ্য ছোট বড় ক্ষেত্রে এটা প্রকাশ পাবেই পাবে। তেমনই মুসলমানেদের মাঝেও শিয়া-সুন্নি একটা প্রভেদ আড়াআড়ি ভাবেই রয়েছে। যেহেতু এই যুদ্ধটা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, তাই পৃথিবীর সকল সুন্নিরা সমস্ত রকম প্রভেদ ভুলে শিয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছে, দু’চারজন দালাল ব্যাতিরেকে। দেশের শাসক যে দলের খুশি হোক, তার যা খুশি বিদেশনীতি হোক, পৃথিবীর ৮০% মানুষ প্রকাশ্যে বা গোপনে তারা ইরানের সমর্থক। আসলে এরা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে ঘৃণা করে বলে ইরানের উপরে এদের সমর্থন পুঞ্জীভূত হয়েছে, ইরানকে ভালবেসে নয়।

শুধু মুসলমান বলে যদি কেউ ইরানের প্রতি সমর্থন দিয়ে থাকে, তাহলে ইজরায়েল আমেরিকার দিকে বহু লোকের সমর্থন শুধুমাত্র মুসলমানের প্রতি তীব্র ঘৃণা থেকে ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে- এটাকে কীভাবে অস্বীকার করবেন? তুল্যমূল্য আলোচনার টেবিলে, দুটো পয়েন্টই একসঙ্গে এই রূপে হাজির করতে হবে। ধর্মান্ধ মৌলবাদ মানে তো শুধু তো র‍্যাডিক্যাল ইসলাম নয়, প্রতিটা ধর্মকেই সেক্ষেত্রে আতশ কাঁচের নিচে নিয়ে আসতে হবে, তবে সত্য প্রতিষ্ঠা পাবে।

পরিস্থিতিকে সময়ের মানদণ্ডে তুল্যমূল্য বিচার করতে হবে পক্ষপাতমুক্ত হয়ে। আমাদের ভারত সরকারকেও সময়ের নিক্তিতে মেপে দেখতে হবে, নতুবা আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ ছবি পরিষ্কার হবে না।

বিজেপি নিশ্চিত সমস্যার, কিন্তু বিশ্বগুরুকে মুজরোওয়ালি সাজিয়ে গুজরাত কার্টেল যেভাবে লুঠ করছে, উলঙ্গ হয়ে আমেরিকা CIA এর দালালি করছে, এই গুজরাত কার্টেল বিজেপির চেয়েও ১ কোটি গুণ বেশি ক্ষতিকর ও বিনাশকারী। বাজপেয়ীও বিজেপিই ছিলেন, তাকেও আমরা খারাপ বলতাম ওনার সময়ে। বিশ্বপ্রভুর নের্তৃত্বে বর্তমানে বিজেপির নামে এই গুজরাত কার্টেল না আসলে কী, বাজপেয়ীকে এতোটা উদার, দুরদৃষ্টিসম্পন্ন নিরপরাধ মনে হতো? আমরা মনমোহন সিংকে পাপেট বা মৌনমোহন বলতাম, আজকে বিশ্বগুরু না এলে আসল পাপেটের সংজ্ঞা জানতাম কি? আজকের দিল্লি সরকারকে আমেরিকা রোজ বলাৎকার করে দিলেও, এদের এতটুকু গাটস নেই আমেরিকার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে পারে; অন্যের বিরুদ্ধে না হোক নিদেনপক্ষে নিজেদের স্বপক্ষেও এরা স্ট্যান্ড নিতে পারে না। আমেরিকার দিকে ন্যূনতম চোখ তুলে তাকাতে পারেনা এরা। ৯৯% মিডিয়াকে ভেড়ুয়া দালাল বানাবার পরেও যার এতটুকু সাহস ও আত্মবিশ্বাস নেই সাংবাদিক সম্মেলন করার, তার চেয়ে বড় পাপেট কে? রাহুল গান্ধীর সাথে রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও সে বিশ্বগুরুর মতো মিথ্যাবাদী, দুশ্চরিত্র, লম্পট, হিংস্র, নির্লজ্জ, বেহায়া, ধর্মান্ধ, গণহত্যাকারী, নিরক্ষর নার্সিসস্ট নয়।

এই মুহূর্তে দেশের মূল সমস্যার নাম তাই নরেন্দ্র মোদী। নপুংশক, ভীতু, দুর্বল, অসুস্থ মানসিক বিকারগ্রস্থ এই বৃদ্ধ, এমন একটা ব্যক্তি, যে প্রশ্নকে ভয় পায়, জনগণকে ভয় পায়, পাছে জবাব দিতে হয়! এনাকে আমাদের দেশের পুঁজিবাদী লুঠেরা গোষ্ঠী ‘সাক্ষীগোপাল’ নেতা বানিয়ে রেখেছে। ট্রাম্পও উন্মাদ মেগালো ম্যানিয়াক, তবুও  সে দৈনিক সাংবাদিক ফেস করছে। আমাদের প্রভু সেই মুরোদ টুকু রাখেন না, অশিক্ষা ও মূর্খামি এনার পুঁজি। এনাকে দিয়ে বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে ভারতীয় হিসাবে অপমানিত আর লঞ্চিত হওয়ার বাইরে কিছুই মেলেনি আজ অবধি, মিলবেও না।

গ্যাসের দাম ৫০০০ টাকা হোক, ডিজেল ২০০০ টাকা লিটার হোক, ভক্তরা না হয় ইট চিবিয়ে খেয়ে সহ্য করে নেবে, যারা সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ- সেই ভারতবাসীদের ভবিষ্যৎ কী?

নরেন্দ্র মোদীর এই শাসনকাল দেশের ভিতে ঠিক কতটা ক্ষতি করেছে, যারা বেঁচে থাকবে আগামী ১৫ বছর পর তারা দেখে যাবে। তৎকালীন বিশ্লেষকেরা ডেটা দিয়ে প্রমাণ করবে, যখন গোদী মিডিয়া সময়ের চিতায় পুড়ে ভষ্ম হয়ে যাবে, দুন্দুভি নাগাড়া বাজিয়ে মোদীর ব্যর্থতাকেই সফলতা হিসাবে মিথ্যা প্রচারের ফানুসে ঢেকে দেবে না। ব্রিটিশরা প্রথম ১০০ বছরে যা লুঠ করেনি, অঙ্কের হিসাবে মোদীর ১২ বছরে জামানাতে আদানি আম্বানি ও এমন কর্পোরেট হাঙরেরা তার চেয়ে বেশী লুঠ করেছে আমাদের জনগণের সম্পদ। বুকে হাত রেখে বলুন, গত ১২ বছরে মোদীর সরকার আপনাকে কোন বেনিফিট দিয়েছে?

সংবিধানের প্রতিটা কাঠামোকে এরা দুমড়ে মুচড়ে তুবড়ে দিয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত বিশ্বাসের ভিত্তিতে রায় দিচ্ছে, বিচারপতিরা অবসরের পরদিনেই বিজেপি জয়েন করছে। বিজেপির মুখপত্র সরাসরি বিচারকের আসনে আসীন হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের কথা নাই বা বললাম, এদের চেয়ে নিকৃষ্ট আর কিছু পৃথিবীতে কিছু আছে কিনা সেটা গবেষণার বিষয়, এরা সরকারকে প্রশ্নের বদলে ক্ষমতার চাটুকারিতা আর দালালি করে, বিরোধীদের টার্গেট করে তাদের malign করে প্রশ্ন করে। নির্বাচন কমিশন ভোট চুরিতে বিজেপিকে সাহায্য করে, আমাদের মতো ৬০ লক্ষ মানুষকে জিম্মি করে রাখে যারা অধিকাংশই মুসলমান, যাতে বিজেপিকে ক্ষমতার কাছাকাছি এনে দেওয়া যায়। আজকের ভারতে সবচেয়ে যে সরকারী সংস্থাকে মানুষ অবিশ্বাস করে সেটা নির্বাচন কমিশন, আর মিথ্যাবাদী গবেট দালাল বললেই চোখের সামনে যাদের ছবি ভেসে উঠে, তারা দেশের মিডিয়া হাউজগুলো। বিজেপির মুখপাত্র রাজ্যপাল হয়ে যাচ্ছে আর রাজ্যপাল বিজেপির মুখপাত্র হয়ে যাচ্ছে গত ১২ বছরে মোদীর সরকার এটাই করেছে, গণতন্ত্রের স্তম্ভগুলোকে খোকলা করে দিয়ে এই ১৪০ কোটির দেশকে এই পর্যায়ে এনে দাঁড় করিয়েছে।

বিশ্বগুরুর শাসনে আজকের ইন্ডিয়ার যা রেপুটেশন, আগামীতে BRICS আমাদের রাখবে কিনা সন্দেহ। শুধু ১৪০ কোটির বাজার দেখলে হবে না, দিল্লি সরকারের বিদেশ দপ্তরের নেড়ি কুত্তাগুলোকে রোজ ঝাঁটা দিয়ে মেরে, মুখে প্রস্রাব করে দিচ্ছে আমেরিকা, এরা নির্বিকার বদনে সেই মুতই গিলছে সামান্য আওয়াজ না করে। মধ্যপ্রাচ্যে গণধোলাই খাওয়া আমেরিকা পরবর্তী বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার প্রাক্কালে, রাশিয়া চিন ইরান সহ সকলেই দেখেছে ইন্ডিয়ান নের্তৃত্বের এই কাপুরুষোচিত অসহায় আত্মসমর্পন। আগামীতে দিল্লিতে এই বর্তমান নের্তৃত্ব যতদিন থাকবে, এদের সাথে ছালউঠা খেঁকি কুত্তার মতোই আচরণ করে তাদের দাবী মানতে বাধ্য করবে, যেমনটা আজ আমেরিকা করছে। বিশ্বে নতুন যে ক্ষমতার অক্ষ তৈরি হচ্ছে, সেই ঘরে ঢুকতে দেবে না আমাদের দেশকে, কারণ মোদী ব্রিক্সের পিছনে ছুরি মেরেছে আমেরিকার পা চাঁটতে গিয়ে। দরকারে ডেকে, ঘরের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে দেবে, আমাদের উনিজি তো আবার স্বঘোষিত চৌকিদার। আসলে আমেরিকার বিছানাতে শুয়ে আমাদের জাত গেছে, পেট ভরেনি।

আমাদের দেশের সুবর্ণ সুযোগ, চিতায় তুলে দিয়েছে বিশ্বগুরু আদানি জুটি। আগামীতে BR'I'CS এর I ফর ইন্ডিয়ার বদলে ইরান জুড়ে গেলে আশ্চর্য হব না। ব্রিক্সে, আমাদের ব্যক্তিত্বহীন খোজা বিদেশমন্ত্রী আর এপস্টিন ফাইলের মুজরো প্রভু নের্তৃত্বাধীন ইন্ডিয়ার বিশ্বাসঘাতকতার দরুন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা বেশ্যাপল্লীর পতিতাদের সতীত্বের মতো পবিত্র হিসাবে গৃহীত হচ্ছে। গৃহ পরিচারিকার সাথে এক থালায় তবুও খাওয়া যায়, এক পায়খানাতে হাগা যায় না, এটা ভুলে যাবেন না।

মুচলেকা RSS এর জিনে রয়েছে, ইতিমধ্যেই হরমুজের গ্যাস চেয়ে ইরানের কাছে মৌখিক মুচলেকা দিয়েছিল ভয়শঙ্কর; স্বাভাবিকভাবেই ইরান তা মানেনি, আসলে তারা লিখিত মুচলেখা চায়। ক্রমশ পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, নাগপুরের বৃদ্ধ ষন্ড প্রভুর দল ইরানের মোল্লাদের কমোডে ঢুকে- টয়লেট পেপারের বদলে জিভ দিয়ে তাদের শৌচকর্ম না করে দেয়। আমেরিকার এভাবেই তারা তাদের পাছা পরিষ্কার করে চলেছে আমাদের বিদেশ দপ্তরকে দিয়ে। নাগপুরের গোয়ালঘর শক্তের ভক্ত নরমের যম, নেহাত মুর্খ অসভ্য ও বর্বর। এতো কিছুর পরেও- বিতর্কিত ভোটারলিস্ট দিয়ে গত লোকসভার ভোট হলেও, গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সরকার পরে যাক তা কখনই চাইব না, সংবিধানের এই কাঠামোটা বড় জরুরী আমাদের সকলের জন্য, যেটাকে মনুবাদীরা ধ্বংসের জন্য উঠে পড়ে লেগে রয়েছে।

ফ্যাব ফোরে সমসাময়িক হিসাবে বিশ্বের চারটে প্রান্তে যে চারজন প্রায় দুর্বৃত্ত ক্ষমতার শীর্ষে উঠেছিল, তাদের মধ্যে ব্রাজিলের বালসেনারো ২৭ জন্য বছরের জেলে বন্দি। নেতানিয়াহুর মৃত্য নিয়ে সোশ্যালমিডিয়ার প্রোপ্যাগান্ডা গুলোকে মান্যতা না দিলেও, বর্তমান যুদ্ধে ইজরায়েলের যা হাল হয়েছে, আপনি লিখে নিন ইজরায়েলে নেতানিয়াহু অধ্যায় ফিনিশ। তালিকাতে ছাগলের তিন নম্বর ছানা মাই ফ্রেন্ড দোলান্ড। পাতাখোর ছাপড়ির মতো মুখ খুললেই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে; আতঙ্ক, অপমান, অবিশ্বাসে ভুল বকছে নিয়মিত। আগের একটা প্রতিবেদনে লিখেছিলাম- অ্যাাসাসিনেশন না ইমপিচমেন্ট কোনটা যে আগে হবে সেটাই একমাত্র আলোচনা বিষয়। এবারে আপনিই বলুন, এক যাত্রায় পৃথক ফল কীভাবে সম্ভব? আমাদের বিশ্বপ্রভু কোন মন্ত্রে ফাঁকতালে গলে বেরিয়ে যাবে? ‘Godhra meets Gaza’ সফরে, Power on their minds, Hatred in their hearts, Blood on their hands বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। বাকিটাও brother in the same boat থিওরি মেনেই ঘটবে, সে আপনি বিশ্বাস করুন বা না করুন।

এই রকম ঘৃণ্য DNA যুক্ত শাসক আজকের পৃথিবীতে আরও কয়েক পিস আছে, তারা এদের তুলনাতে কম কুখ্যাত, কিন্তু জিনগত মিল রয়েছে। তুরস্কের এরদোয়ান, ইতালির মেলোনি, পোল্যান্ড দুদা, স্লোভাকিয়া ফিৎসো, হাঙ্গেরির অর্বান, অস্ট্রিয়ার কুর্ৎস, সহ প্রত্যেকের বিদায় ঘটবে, যে মুহূর্তে ইউক্রেনের ভাঁড়টার বিদায় ঘটবে। ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হলেই এগুলোরও রাজনৈতিক বিসর্জন হয়ে যাবে দ্রুত। আমেরিকার পরাশক্তি সেজে থাকার ধড়াচুড়ো যত খসতে থাকবে, জাপানের কিশিদা, দক্ষিণ কোরিয়ার ইউন সুক ইয়ল, ফিলিপিন্সের দুতার্তে, এবং সিঙ্গাপুরের লি সিয়েন লুং এর চেয়ার তত টলমল হবে। বাকিটা কিম জং উন সামলে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এর মধ্যেই তাইওয়ানকে চিন হজম করে নেমে। বাকি থাকল লাতিনাতে আর্জেন্টিনা আর আর এল-সালভাদর, ব্রাজিলের বর্তমান সরকার টিকে থাকলে এদেরও পিটিয়ে সোজা করে দেবে।

সকলের কথা হলো, ট্রাম্পকে নোবেলের জন্য সুপারিশ করা প্রথম দেশটা তালিকাতে না থাকলে হবে? বিশ্বজুড়ে আমেরিকার সেনা ঘাঁটি থাকলেও, মার্কিন সেনা ও CIA এর একটা নিজস্ব দেশও আছে, সেটা আমাদের পড়শি। যে দেশের হাঁড়ি চলে ভিক্ষা করে, আর আমেরিকার পরমাণু বোমা পাহারা দিয়ে। আমেরিকা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার আগে সবার আগে পাকিস্তানের রিজিম চেঞ্জ হয়ে যাবে, শরীফ আর মুনির নামের সার্কাসের জোকার দুটোই ইউরোপ বা আমেরিকায় পালাবে।

পাশাপাশি এটাও সত্য, বিশ্বজুড়ে আমেরিকার দাদাগিরি ইলেকট্রিক বাল্বের সুইচ টেপার মতও করে রাতারাতি বন্ধ হবে না, এটাও কয়েক বছরের চলমান প্রক্রিয়া। এই একই সময়ে গোটা বিশ্বজুড়ে বামপন্থীদের উত্থান হতেই হবে, NGO জীবীদের কাছে যে মার্কিন ডলারের স্রোত আসত এতদিন, কমিউনিজমকে ধ্বংস করার জন্য- সেগুলো বন্ধ হলে আমাদের রাজ্যেও বামেদের অবস্থান মজবুত হবে। তার আগে অবশ্যই দলের ভিতরে থাকা প্রতিকুকুর গুলোকে চিহ্নিত করে, তাদের তাড়িয়ে পার্টিকে জঞ্জাল মুক্ত করতে হবে; এরা মমতার চেয়েও বড় ক্ষতিকর।

আরব রাষ্ট্রগুলির পক্ষে মার্কিন ফৌজ সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া যথেষ্ট কঠিন। প্রথমত, সব সময়েই নিজ পরিবারের ভেতর থেকেই অন্তর্ঘাত ও সেনা অভ্যুত্থানের আতঙ্কে ভোগে সেখানকার রাজপরিবারগুলির ক্ষমতাবানেরা। উপসাগরীয় দেশগুলোর জনসংখ্যাও ক্ষুদ্র, সেনাবাহিনীর বহরও তথৈবচ। প্রায় প্রত্যেকেই অগাধ সম্পদের মালিক হওয়ার জন্য নাগরিকদের কেউ সেনা বাহিনীতে যেতে চায় না, ভাড়াটে সৈন্য একমাত্র ভরষা- যারা যেকোনো সময় বিকিয়ে যেতে পারে। সামরিক সহযোগিতাতে চীন বা রাশিয়া কেউই পাশে থাকার বিষয়ে প্রমাণিত নয়, ফলত বিকল্প নিরাপত্তা অক্ষ না থাকার কারণে মধ্যপ্রাচ্য রীতিমতো ধর্ম সঙ্কটে পড়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, উপসাগরীয় দেশগুলির একমাত্র উপার্জনের জায়গা হলো অপরিশোধিত খনিজ তেল ও গ্যাস। বিশ্ববাজারে যা আজও বিক্রি হয় মার্কিন ডলারেই। দৃশ্যত ডলারের কোনো বিকল্প অর্থব্যবস্থা আজকের পৃথিবীতে নেই যা সর্বজনগ্রাহ্য ও প্রতিস্থাপনযোগ্য। স্বভাবতই রাতারাতি আমেরিকার সেনাঘাঁটি ও তাদের মুদ্রা ডলারকে বাতিল করে দিলে সৌদি, আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, ওমান বা বাহরিনের অর্থনীতি রাতারাতি ধ্বসে গিয়ে সিরিয়া বা ইরাকের মতো হয়ে যেতে পারে।

রেজিম চেঞ্জ, মধ্যপ্রাচ্য, হলুদ সাম্রাজ্য, East Block, আরব লীগ সহ আমাদের ভারত- সকলে যুগ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ইরান যুদ্ধটা শুরু করেছিল তাদের দেশের মধ্যে থাকা প্রতিকুরগুলোকে চিহ্নিতকরণের মধ্য দিয়ে। নিজের দেশের বিরোধীরা আজ শাসকের তান্ডব ও পরাক্রম দেখে বিরোধী কন্ঠস্বর রণেভঙ্গ দিয়েছে, ফলে ইরানের আভ্যন্তরীণ সমস্ত রকম বিদ্রোহ চাপা পড়ে গিয়ে তারা একটা ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত হয়েছে। আব্রাহাম এ্যাকর্ড ও পিস ফোরামের মত এঁটোকাঁটা কমিটিকেও কবর দিয়ে দিয়েছে ইরান। পারস্য উপসাগরের ওপারের পাশের দেশগুলোর পরিণতি ওরা দেখে নিয়েছে। ইরান এবারে যুদ্ধটাকে কাস্পিয়ানের দিকে নিয়ে যেতে চাইবে। ডানে বাঁয়ে আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, জর্জিয়া, তুর্কমেনিস্তান, তাজিখ, কিরঘিজ, কাজাখ, উজবেকিস্তানের মতো যে যে দেশে আমেরিকার ঘাঁটি আছে, সেগুলোকে ঘেঁটে দেবে। মোদ্দা কথা আর একটা ওয়্যারফ্রন্ট খুলে দেবে আমেরিকার সামনে, তাদের নাজেহাল করে দেবার জন্য।

আমাদের কী হবে? আগামী ৩ বছর আমাদের দেশেও কমপক্ষে বিজেপি সরকার থাকছেই, সংসদেও লো-কনফিডেন্স কোনো মুভমেন্ট নেই। কিন্তু, নরেন্দ্র মোদী ও তার বর্তমান প্রশাসনের মোটাভাই, ইন্ডিয়ান জেমস বন্ড, কড়ি নিন্দা সিং, ভয়শঙ্কর, বিরাট শিক্ষিত সেলফি মন্ত্রীর মতো লালুভুলুর টিমের রাজনৈতিক বিসর্জন হওয়া একান্ত জরুরী- এটাই জাতির একমাত্র স্বার্থ। বিজেপির অন্য নতুন টিম আসুক, নতুন ভাবনা আসুক, তারা আর কত খারাপ করবে এদের চেয়ে! অবশ্য যোগী গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়াতে তার পক্ষের প্রচারনা শুরু করে দিয়েছে, সে এলে ভারতের প্রতিটা জনগণের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ সময় অপেক্ষা করছে, লিখে নিন। বিরোধী হিসাবে রাহুল গান্ধী পাপ্পু হোক বা না হোক, কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় বোঝা হচ্ছে সোনিয়া গান্ধী, মোদির থেকেও বেশি ক্ষতিকর প্রোডাক্ট এই মহিলা। ইতিহাস সাক্ষী আছে 'once a spy, always a spy', তার মন্ত্র অবশ্যই if you're on the team for life, then you're bound by team rules for life. 

আমেরিকা ডুবন্ত নৌকা, ওতে যে চড়বে তাকে নিয়েই ওরা ডুববে। অনেকেই ভাবছেন এপস্টিন দ্বীপে কোনো যৌন শিশু কেলেঙ্কারির কুকীর্তি করে আসার দরুন, বিশ্বগুরু আমেরিকার হাতের পুতুল হয়ে গেছে। একটা দুধের শিশুও জানে আমেরিকা-ইসরাইলের সাথে ভারতের যে তথাকথিত ‘বন্ধুত্ব’, সেটা সমতা, সক্ষমতা ও পারস্পারিক সম্মান, মূল্যবোধের কূটনৈতিক নিয়মের ভিত্তিতে নয়; এটা একতরফা, অপমানজনক, স্বার্থপরতা হিংসায় ডোবানো তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের একপেশে ব্ল্যাককমেলিং, যেখানে নিয়মিত হীন প্রতিপন্ন করে রোজ একবার আমাদের অউকাত বুঝিয়ে দেয়। এই পশ্চিমা নের্তৃত্ব কখনই মোদীকে তাদের সমকক্ষ মনে করে পাশে বসায়নি, যখনই ডেকেছে চাকরবাকরের মতো কান মুলে তাদের ইচ্ছামত চুক্তিতে সই করিয়ে নিয়ে, সামান্য উচ্ছিষ্ট ছুঁড়ে দিয়ে পিছনে লাথ মেরে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। নিজে থেকে যখন বিদেশ সফরে গেছে, তার দেশজ প্রভু আদানির হয়ে দালালি করতেই গেছে, দেশের কাজে যায়নি। এই হচ্ছে আমাদের দেশের ‘আয়াতোল্লা মোদানীর’ অউকাত।

তাই আমার ভাবনা একটু ভিন্ন, মোদী/RSS এর ভোটে জেতার যে প্রাণভোমরা- সেই যাবতীয় EVM ম্যানিপুলেশন তথা হ্যাকিং এর সিক্রেট তাদের সম্ভবত এপস্টিন গ্যাং এর হাতে রয়েছে। এই কারণেই মোদী ও তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা CIA/ইজরায়েল এর বিরুদ্ধে যেতে পারবে না, ঝাঁটা লাথি খেয়েও তাদের দরজার ঝনকাঠে শুয়ে থাকতে হবে নামাজের সিজদা দেওয়ার ভঙ্গিতে।

 

অধিকাংশ জনই এটাকে কন্ট্রোভার্সিয়াল এবং কন্সপিরেসি থিওরি বলে উড়িয়ে দিতে চাইবে, আপনি কী মনে করেন?


ইরান যুদ্ধঃ প্রতিশোধ ও প্রতিরোধের এক অসম লড়াই

(১) হিন্দ রজবকে চেনেন আপনারা? সম্ভবত না। ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রজব’ নামের একটা সিনেমা আছে, দেখে নিতে পারেন। না চেনা অস্বাভাবিক নয়, হিন্দ রজবের...