উন্মাদের টোল
কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
বাংলার লজ্জা বাঙালীর লজ্জা
রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
মমতা ব্যানার্জি একটা অপ্রাসঙ্গিক অবাঞ্ছিত নাম আজকের তারিখে
মুষলপর্ব- ১
মমতা ব্যানার্জী খেজুরিতে যেতে পারবে না। যাওয়া উচিত ছিল নিশ্চিতভাবে, কিন্তু যেতে পারবে না, সাহস নেই। ভাইপো এখন দিল্লি পালিয়ে গেছে, সেখান সেফ হাউজে থেকে জনগণকে একত্রিত হওয়ার উপদেশ দিচ্ছে। কল্যাণ ব্যানার্জীও সেফ হাউজে, বাকি সমস্ত তোলামুলী লোকজন অজ্ঞাতবাসে লুকিয়ে কুলোর বাতাস দিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছে।
ভাইপো ঠান্ডা ঘরের নেতা, লড়াই আন্দোলনে জন্মানো ঘাম রক্তের নেতা নয়, সারোগেসি বা টেস্টটিউব বেবী। বাইরে বের হলেই আক্ষরিক অর্থে সে বলাৎকারের শিকার হবে। আগে তাকে তৃণমূলের একটা বড় অংশ ক্যালাবে, তাদের হাত থেকে যদি কিছুটা বেঁচে ফেরে প্রাক্তন তৃণমূলীরা মারবেই মারবে, এরপর শাসক দল বিজেপি ক্যালাবে এবং বামেদের একটা অংশ আদা ছ্যাঁচা করবে, আর আমার মতো যারা মনে মনে অন্তত ভাইপোর গায়ে থুতু দিতে চায়- তারাও তো লাইনে আছি। মমতার যে কেরিয়ার শেষ, ২০২৩ থেকে প্রতি মাসে একবার করে লিখেছি, তাই ওটা নিয়ে আজ নতুন করে লেখার কিচ্ছু নেই, বর্তমান রাজনীতির মঞ্চে মমতা ব্যানার্জী একটা অপ্রাসঙ্গিক অবাঞ্ছিত নাম।
২০১১ তে সুর্যকান্ত মিশ্র, নিরূপম সেন, বিমান বসু, মহঃ সেলিম, বুদ্ধদেব বাবু কেউ যেতে পারেনি অধিকাংশ আক্রান্তদের পাশে, দলটা উঠে গিয়েছিল। বৃদ্ধ কিছু নেতার দল, তাদের পার্টি অফিস, তাদের ফাঁপা শৃঙ্খলা, অতীতের পাহাড় প্রমাণ বনেদিয়ানা জমিদারির ইতিহাস, আর শূন্যগর্ভ বক্তৃতা- ২০২০ অবধি সিপিএম এই ফাঁদে আঁটকে গিয়েছিল। তোলামুলের ক্ষেত্রেও এর কোনো আলাদা কিছু হবে না। আগামী ৩ মাস মাস পর প্রতিটা তোলামুল নেতার স্নায়ুরোগ হবে। কলিং বেল বাজলে প্যান্টে মুতে ফেলবে।
আজ তৃণমূল মার খেলেই সে মুসলমান হয়ে যাচ্ছে, এটা কি অস্বীকার করা যাবে রাজ্যের ৯০% মুসলমান ভোট তৃণমূলের ঝুলিতে গেছে। প্রতিটা গ্রামের প্রায় প্রতিটা ইমামকে দিয়ে মসজিদে মাদ্রাসাতে ভোট প্রচার করিয়েছিল মমতা ব্যানার্জী, জমিয়ত উলামা প্রকাশ্যে তৃণমূলের হয়ে ভোট প্রচার করেছে, তাদের অফিসগুলো তৃণমূলের পার্টি অফিসে পরিণত হয়েছিল। প্রতিটা মুসলিম সংগঠন উলঙ্গ হয়ে ‘বিজেপিকে রুখতে’ তৃণমূলকে ভোট দিন বলে তান্ডব নৃত্য করেছিল। ভোটের সময় সময় তুমি তৃণমূল ছিলে, নির্দিষ্ট করে তোমাদের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল, তুমি চুরি তোলাবাজি কাটমানির ভাগা নিয়েছ; আজ মার খাওয়ার সময় ধার্মিক হয়ে ধর্ম এগিয়ে আসছে কেন; কেন বলতে পারছ না যে আমরা তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি, আমরা ওই দলেরই কর্মী সমর্থক, ওদের হয়ে সমস্ত পাপ করেছি বা করাকে সমর্থন করেছি বলে, আজ আমাদের উপরে অত্যাচার হচ্ছে! আসলে তৃণমূলও চাইছে এই ক্যালানির ঘটনাতে সাম্প্রদায়িক রঙ লাগুক।
মমতা ব্যানার্জী সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী ছিল। আপনাদের পাড়া এবং চেনা জানা সমস্ত মুসলমান পাড়ায় কোন উন্নতিটা করেছে? সংখ্যালঘু মানে শুধু মুসলমান? বৌদ্ধ, জৈন, খ্রীষ্টান এরা সংখ্যালঘু নয়? এদের পিছিয়ে পড়া সমাজ থেকে কতজনকে গত ১৫ বছরে চাকরি দিয়েছে?
☞ কতজন গরিব মুসলমানের চিকিৎসার দায় নিয়েছে?
☞ কতজন জেলে থাকা মুসলমানকে আইনি সাহায্য দিয়েছে?
☞ মুসসলমান সমাজের পিছিয়ে থাকা ছাত্রছাত্রীর কতজনকে স্কলারশিপ দিয়েছে?
☞ কতজন মুসলমান ব্যবসায়ীকে বিনা সুদে লোন দিয়েছে?
☞ কতজন গরিব মুসলমানকে বাড়ি করে দিয়েছে?
☞ কটা আধুনিক মাদ্রাসা তৈরি করেছে বা মাদ্রাসার আধুনিকীকরণ করেছে?
আসলে কয়েকটা লোক যারা এই দপ্তরের নামে মন্ত্রিত্ব পায়, তারা নিজেরা আপন আখের গুছিয়েছে, তার বাইরে এই দপ্তর থেকে আমাদের চেনা জানা একটিও মানুষ উপকৃত হয়নি।
এর মানে কি হিন্দুত্ববাদী RSS এর দুষ্কৃতিরা হামলা করছে না মুসলমান ও তাদের সম্পত্তির উপরে? অবশ্যই করছে; কিন্তু তেমনটা ১টা হলে, ৯টা তোলামুলের উপরে আক্রমণ হচ্ছে, যেটাকে মুসলমানের উপরে অত্যাচারের মোড়ক লাগিয়ে পরিবেশনা করা হচ্ছে, কারণ বিজেপি মানেই সাম্প্রদায়িক, ফলত তাদের ওই খাতে মিটার উঠে যাচ্ছে।
আগামীতে ৩ দফায় আসল মার শুরু হবে তোলামুলের। আজ কাল যেগুলো হচ্ছে সেগুলো সেই- হ্যালো হ্যালো মাইক টেস্টিং ১ ২ ৩ ৪... এই হচ্ছে। তোলামুল নামের দানবের বিসর্জন হয়েছে বলে আমাদের মতো অনেকেই খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছি, তার মানে এই নয় যে বিজেপি সভ্য মানুষের দল হয়ে গেছে। তারা যে পর্যায়ের নিকৃষ্ট বেহায়া নির্লজ্জ পুঁজিপতিদের দাস ছিল সেটাই থাকবে, তারা সাম্প্রদায়িক ছিল, তারা সংখ্যালঘু অত্যাচারী ছিল, মনুবাদী ব্রাহ্মন্যবাদী ছিল, সেটাই থাকবে। এবারে লড়াইটা আর ঘোমটার আড়ালে নয়, সরাসরি হবে।
তোলামুলের হিন্দু অংশের অধিকাংশই বিজেপিতে চলে যাবে, যাদের হাতে হারামের টাকা আছে, তারা অনেকে টাকা জরিমানা দিয়ে প্রাণে বেঁচে গেলেও- প্রত্যেকে আগামী ৬ মাসে বুঝবে আতঙ্ক কাকে বলে। মুসলমান অঞ্চলের মালগুলো মূল ক্যালানিটা খাবে। আর এদের হাল দেখার পর- তোলামুলের ডিমে তা দিয়ে কোনো বাচ্চা ফু্টবে না। বরং আগামীতে তোলামুল নেতানেত্রীদের যৌন প্রোটেকশন দরকার হবে না- ক্ষমতায় থাকাকালীন তৃণমূলের যেকোনো স্লোগান বললেই বীর্যের শুক্রাণুগুলো নিজেই আত্মহত্যা করে মরে যাবে। না কন্ডোম, না কন্ট্রাসেপটিভ পিল- নির্বীজকরণের এটা এক যুগান্তকারী আবিষ্কার। আজ বুঝবে না সকলে, যত সময় যাবে, আমার কথাগুলোর বাস্তবতা বুঝতে পারবে।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা পদে বসছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ডেপুটি বিরোধী দলনেতা হচ্ছেন তৃণমূলের দুই মহিলা মুখ, অসীমা পাত্র এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী দল তৃণমূলের চিফ হুইপ পদে বসছেন ফিরহাদ হাকিম। মমতা শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা করেছে এক নম্বর কারণ নিজের কন্ট্রোলে থাকবে, শোভনদেবের বয়স ৮৩ উল্টোদিকে ববি ৭০। দুই নম্বর কারণ- দক্ষিণ কলকাতা। তিন নম্বর কারণ মমতা ভয়ঙ্কর সাম্প্রদায়িক, ব্রাহ্মণ বলে একমাত্র নির্বাচিত করেছে। নয়না সুদীপের বউ এবং ব্রাহ্মণ দুই ক্যাটাগরিতে ঢুকেছে। অসীমা পাত্র ওর বাড়ির কাজের লোক। তালিকা সমাপ্ত।
দেবী ঘৃণাতে সাওয়ার হয়ে এসেছিলেন, ঘৃণাতেই বিসর্জন হয়েছে। বিজেপি RSS উভয়েই জানে, তারা মমতার প্রতি ঘৃণার স্রোতে ক্ষমতায় এসেছে, যেমন বামেদের প্রতি তীব্র রাগের নৌকায় চড়ে মমতা ক্ষমতায় এসেছিল। শুভেন্দু যদি যোগীর মতো আচরণ না করে তাহলে বাংলার লোকজন খানিকটা জায়গা দেবে। বিজেপির শুভেন্দুর সবচেয়ে বড় সমস্যা তৃণমূলের শুভেন্দুর বলা সংলাপগুলো। পরবর্তী সমস্ত জীবন তাকে নিজের সাথে লড়াই করতে হবে। বাঙালি হিন্দুদের ৬০% এর বেশি ভোট বিজেপির ঝুলিতে গেছে বিজেপির হিন্দুত্বকে সাপোর্ট করে নয়, মমতাকে উৎখাত করতে, বহু মুসলমান বুথেও বিজেপির প্রার্থীরা না হলে ভোট পেতো না।
খুব সত্য ঘটনা হচ্ছে, বহু স্থানে বিজেপি কর্মীরা আফসোস করছে, তাদের হাত নিসপিস করলেও ,সাম্পদায়িক রং লাগার ভয়ে তারা তোলামুলকে চেয়েও ক্যালাতে পারছে না। অনেক স্থানে অশান্তি করতে চেয়েও পারছে না, যা সময়ের দাবী; উলটে ব্রেক মারতে হচ্ছে, পাছে তোলামুল ক্যালাতে গিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বলে চিহ্নিত হয়ে যায়। সদ্য এরা সরকার এসেছে, এই লাইনে অনেক চোর তোলাবাজ বেঁচে যাচ্ছে এই মুহূর্তে। এর পরের মারগুলো গতরে হওয়ার চেয়েও পুলিশি আর অর্থনৈতিক মার বেশি হবে। তাই যারা ভাবছে বেঁচে যাচ্ছি, তারা কেউ বাঁচবে না, কাকে কতটা ক্যালানি দেওয়া হবে এবং কোন লেভেলের হবে- সেইটার তালিকা তৈরি হচ্ছে।
চোরগুলো কেউ ১০০ কোটির মালিক, কেউ ৫০ কোটি তো কেউ ৫ কোটির। সামান্য পঞ্চায়েতের সদস্যও ৫০ লাখ বাগিয়ে বসে আছে। কাকে জরিমানা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হবে, কাকে অঞ্চল ছেড়ে চলে যেতে বলবে, প্রতিটা প্রেসক্রিপসন আলাদা আলাদা হবে। মেদিনীপুরিয়ান কি জিনিস, বিশ্ব সংসারে এদের নিয়ে যে বা যারা ঘর করেছে একমাত্র তারাই জানে। এদের মত জেদী, গোঁয়ার, ছেঁড়া ন্যাকড়ার আগুনের মতো লেগে থাকার মানসিকতা যুক্ত প্রতিহিংসা পরায়ণ জাতি বিশ্ব সংসারে দ্বিতীয়টি নেই, আসল তো বটেই- এরা সুদেরও সুদ আদায় করা লোকজন। সুতরাং, ছাড় দিলেও ছেড়ে দেবে না।
এতো কিছু বলার উদ্দেশ্য একটাই, পূর্ব বর্ধমানে কমল গায়েন, প্রদীপ তা খুন হয়েছিলেন মমতার প্রত্যক্ষ মদতে, তিন মেদিনীপুর, বাঁকুড়া পুরুলিয়া - সিপিএম সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছিল এই জেলাগুলোতে। আজও সিপিএম সেই আতঙ্ক কাটিয়ে উঠে একটা কচি নেতাও জন্ম দিতে পারেনি। সরি, জন্ম দেওয়া দূর অস্ত, গর্ভধারণ অবধি করতে পারেনি। আরো ৫-৭ বছর লাগবে ২০১১ সালের আতঙ্ক দূর করে, সেই ট্রমা কাটিয়ে সুস্থ স্বাভাবিক হতে।
বামেদের নিজশ্ব ইউনিক সাপ্লাই লাইন থাকা সত্বেও তারা আজ অবধি মানসিক ভীতি কাটিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি, রাজ্য জুড়ে অন্তত ১৬টা জেলাতে তারা হামাগুড়ি দিচ্ছে। শরিকগুলোর তো ঝাঁপ বন্ধ হয়ে গেছে। ২০১১ এর সময়কার কোনো বড় বাম নেতার যা খুশি রোগ থাক, কোষ্ঠকাঠিন্য নেই। মমতার নাম দু'বার করলে পোঁদ দিয়ে জিভ বেরিয়ে আসে, সেখানে রেক্টামে গু আঁটকে থাকার প্রশ্নই নেই। আজ তোলামুল নামের সাপটা মারা গেছে, খোলস পরে আছে। সেটাকে দেখেই পাখি আর বাঁদরের দল কিচিরমিচির করছে। ভুলে যেও না SUCI এরও পলিটব্যুরো আছে। ২০ বছর পরেও অফিসিয়ালি তৃণমূল কংগ্রেস দলটার অফিস থাকবে কোলকাতার কোথাও না কোথাও। কিন্তু এরা ৫% ভোটও পাবে না ঠিক আগামীকাল নির্বাচন হলেও। যেসব ঘাটের মরাদের যাবার জাইগা নেই, তারা কালীঘাটের ভিকিরি আর ঘেও কুত্তা হয়ে পরে থাকবে।
পরবর্তী ৬ মাসে যে হারে এরা শারীরিক, মানসিক এবং অর্থনৈতিক যে মার খাবে, সেই আতঙ্ক কাটানো তো দুরস্থান- এদের শুক্রাণুর কেউ রাজনীতির নামটুকু মুখে আনবে না। নির্দিষ্ট আদর্শ থাকা সিপিএমের ধ্বজভঙ্গ আজও দশা কাটেনি, কারণ সিপিএম যখন মার খেয়েছিল সাধারণ মানুষ সেটাকে উদযাপন করেছিল। কোনো ধরনের আদর্শহীন তোলামুলকেও যখন মার খেতে দেখবে, একটা পাশবিক জিঘাংসা বৃত্তি কাজ করবে জনগণের মনে। ১৫ বছর ধরে করা প্রতিটা পাপের সাথে আজকের অত্যাচারকে জাস্টিফাই করে- হিসাব মিলিয়ে দেবে। এরপর এরা এতোটাই দুর্বল হয়ে যাবে যে, ওই গোটা বাংলা জুড়ে সাকুল্যে ২-৪টে পার্টি অফিস বাঁচবে, SUCI এর সাথে জোটে করে, কংগ্রেসের রক্ষীতা হয়ে তাদের দয়া দাক্ষিণ্যের উপরে বেঁচে থাকবে। ঘাটের মরা মালগুলো, যেগুলোকে আস্তাকুঁড়ের ডাব্বাও নেবে না- সেগুলোই জলসাঘরের ছবি বিশ্বাসের মতো বসে থাকবে।
এরপর সিভিক পুলিশ ধরবে, এদের উপরেই ফার্স্ট ফ্লাসের ক্যালানি শুরু হবে। সিভিকের পরেই পঞ্চায়েত, মিউনিসিপ্যালিটির ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের শরীরে হাত বোলালেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো প্যান্টে হেগে মুতে দেবে, তাদের থেকে পাওয়া তথ্যতেই তো মূল প্রাণভোমরা রয়েছে সরকারি চুরিচামারির। এরপর আইপ্যাকের মেজো ও উঁচু পদের পেদোর দল, ডেটা তাদের কাছেও কম কিছু নেই। দুর্নীতির হাতে-কলমে প্রয়োগ যদি সিভিক পুলিশগুলো করে থাকে, তাহলে এসি ঘরে বসে তার রূপায়ণ করেছে এইসব ডেটা এন্ট্রি অপারেটরগুলো- আইপ্যাকের তত্ত্বাবধানে। পঞ্চায়েতে পঞ্চায়েতে লক্ষ কোটির ঋণ আছে নানান কন্ট্রাকটারের। তারা টাকা পাবে না, তোলামুলের নেতাদের সম্পত্তি বেচে টাকা আদায়ের আগে দ্বিতীয় দফার ক্যালানি ও খুনোখুনি শুরু হবে এদের মাধ্যমে। এর পর তো পঞ্চায়েত ভোটের আগে আসল সাম্প্রদায়িক খেলা শুরু হবে।
তাই যারা ভাবছে খেলা শেষ, তাদের বলি- খেলা শুরুই হয়নি এখনও।
রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
“আমায় ক্যালানি থেকে কে বাঁচাবে”
আসসালামু আলাইকুম ,
প্রিয় মমতা ব্যানার্জীর উম্মত- দুধেল গাই সম্প্রদায়ের আঁতেল, চোদনা, বোকাচোদা, আলেম চোদা, বুদ্ধিবিচি, ঝুলন্ত বিচি, লাল দাড়ির ধর্মধ্বজী, সুদখোর, মাগীবাজ, মাতাল, গাঁজাখোর, চটিচাটা, চাচার জন্ম, মামার জন্ম, শরিয়তী শুয়োর, মারেফতি ভন্ড, সদগা জাকাতের হারাম খাওয়া উলামা মোহাদ্দিস, হ্যান্ডেল মারা পানুমাস্টার, দুপুর ঠাকুরপো, বেজন্মা ইতর, আতাক্যালানে, চুদিরভাই, নিমকহারাম, মুনাফেক ও সুস্থ সভ্য ভদ্র শিক্ষিত মুসলমান, কর্মঠ শ্রমিক কৃষক সম্প্রদায় গণ। আগামী ২৯ তারিখ ভোটের বোতাম টেপার আগে মনে রেখে ভোটটা দেবেন।
রাজ্যে মমতা ব্যানার্জী ক্ষমতায় থাকলে RSS এর বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার কোনো দরকার নেই। ২০২৬ এর তৃণমূল প্রার্থী তালিকাতে অন্তত ৫০ জন এমন আছে, যারা প্রত্যেকে সক্রিয় RSS কর্মী। উদাহরণ হিসাবে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের পবিত্র কর, ময়না কেন্দ্রের প্রার্থী চন্দন মন্ডল, ১ মাস আগেও এরা বিজেপি ছিল। হাওড়ার বাগনানের অরুনাভ সেন(রাজা) এমন তালিকা শেষ হবে না, যারা প্রকাশ্যে প্রত্যক্ষভাবে RSS এর সাথে যুক্ত। এই তৃণমূল মুসলমানকে শুধু ব্যবহার করে, আর সারা বছর RSS এর হয়ে কাজ করে।
২০১১ থেকে ২০২৬ সবচেয়ে বেশি অনৈতিক দল বদল হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। প্রত্যেকবার পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বিজেপি থেকে হয়েছে, পরবর্তীতে সে তৃণমূলে ঢুকে গেছে। যেহেতু প্রত্যেকটি চুরি যাওয়া টাকার তহবিল অনুমোদন করতে তাকে সই করতে হয়- সেই জন্য সে বাইরে তৃণমূল ভেতরে বিজেপি। বিধানসভার স্পিকার আর বিরোধী দলনেতা বসে বসে মজা নিয়েছে এতদিন, কারণ দুটো দলেরই মালিক এক। পশ্চিমবঙ্গের একটি লোকেরও এতোদিন এই গল্প মনে পড়েনি। নতুন সরকার গঠন হওয়া অবধি এই আইনের কোনো পরিবর্তন চাই না। কারণ তৃণমূল একশ'র নিচে সিট পাবে। সেক্ষেত্রে বিজেপি, কংগ্রেস, আব্বাস আর হুমায়ূন মিলে তৃণমূলকে সেই পথেই শেষ করবে, যেটা এতদিন তাদের অস্ত্র ছিল।
২০২৬ এর ৪ঠা মে, এই প্রথমবার নির্বাচনে একটা ত্রিশঙ্কু অবস্থায় তৈরি হতে চলেছে বাংলাতে, সেখানে তৃণমূল এবং বিজেপির MLA রা গরু ছাগলের মতো বিক্রি হবে এবেলা ওবেলা। তাদের সমর্থকদের সবচেয়ে বেশি ভয় হচ্ছে, আমার ভোট দেওয়া লোকটা আমার না কথা শুনে অন্যদিকে চলে গেলে আমার ক্যালানি কে বাচাবে! পশ্চিমবঙ্গে যে লুঠের রাজত্ব কায়েম ছিল, সেটা শুধুমাত্র সরকারি মদতে হয়নি, এখানে বিরোধী দল বিজেপির সাথে একটা প্রকাশ্য বোঝাপড়া ছিল। শুধু একা তৃণমূল চুরি করেনি, প্রত্যেকটি চুরির সাথে পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটির চেয়ারম্যান জড়িত ছিল। যেমন সুমন কাঞ্জিলাল, কৃষ্ণ কল্যাণী এরা সকলে RSS এর লোক, মমতা তাদের পদে বসিয়েছে, আর দুই ফুলে রাজ্যটাকে লুঠে খেয়েছে। তৃণমূল সমর্থকরা চুরি করেছে আর বিজেপি সমর্থকেরা সেই চুরিটাকে সমর্থন দিয়ে সই করে দিয়েছে, তাদের বড়বাবুরা ভাগও পেয়েছে। গত পাঁচ বছর ধরে পুরো দুর্নীতির ব্যবস্থাটাকে শুভেন্দু অধিকারী নিজে মদত দিয়েছে, কী মনে হয়- তিনি মাগনা করেছেন এসব?
বিজেপি কখনও তোলামূলের বিকল্প নয়, এরা তোলামূলেরই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী মাত্র। পুরুলিয়ার হরতান বুথ (১৬৩), জয়পুর বিধানসভা (২৪১) এলাকার মানুষেরা নাকি ভোট বয়কট করেছে। তাদের নাকি রাস্তাঘাট নেই, শিক্ষা নেই, রেশন বন্ধ, হাসপাতাল নেই ইত্যাদি এই সব নানা অভিযোগ। আরে শুয়ারের বাচ্চারা, ভোট দেওয়ার সময় বিজেপিকে ভোট দিবি যারা কেবল মাত্র হিন্দু খতরেমে হ্যায় গল্প শুনিয়েছে, কিম্বা তোলামূলকে ভোট দিবি যারা ‘আমরা না এলে বিজেপি চলে আসবে’ জুজু দেখিয়েছে। যারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উন্নয়নের কথা বলে- তাদের তো শূন্য করে দিয়ে বিজয়ীর হাসি হেসেছিলি। আজ পোঁদ মারা গেলে মুখ ফুটছে কেন! কাঠ খেয়েছিস, ফার্নিচার তোদেরই হাগতে হবে বাছা।
অবশিষ্ট বাংলাবাসীর জন্য এটা একটা বিপদ সঙ্কেত। যে বুঝবে না তাকে আত্মলিঙ্গম পশ্চাদপূরম করতে দিন, আপনি যদি না বোঝেন, আপনার সন্তানের ভবিষ্যতে গ্যামাক্সিন, কাঁদার জন্য ঘরের কোণা টুকু বাঁচবে না, দুই ফুলের গোলকধাঁধায় ঘুরে ঘুরে কুত্তার মতো মরে পড়ে থাকবেন। তাই সাধু সাবধান।
- • মুসলমানের ভোটে জেতা এই মমতা ব্যানার্জী ক্ষমতায় থাকাকালীন দীঘায় জগন্নাথ মন্দির, শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির, নিউটাউনে দূর্গা অঙ্গন করেছে, এই ১৫ বছরে মুসলমানদের জন্য কী করেছে?
- • বোমা শওকত, তোলাবাজ জাহাঙ্গির, দাঙ্গাবাজ শাহজাহান, জমিয়ত বেচে খাওয়া সিদ্দিকুল্লা, এদের মতো মুনাফেকদের মুসলমানদের নেতা বানিয়ে বাংলার ৩০% মুসলমান জাতি কী পেয়েছে?
- • আপনার সন্তান নিজের রাজ্যে কাজ পেয়েছে?
- • কেন সে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে বিজেপি শাসিত পশ্চিমের রাজ্যগুলোতে গিয়ে পড়ে রয়েছে?
- • বেকারদের কৰ্মসংস্থান কোথায় হয়েছে?
- • শিক্ষক নিয়োগের নামে নির্লজ্জ ও প্রকাশ্য চাকরি বিক্রি করা সরকার। আদালতে স্বীকার করেছে যে এরা চোর।
- • চাকুরিজীবীদের কুকুরের সাথে তুলনা করেছে।
- • মুসলমানকে দুধেল গাই বলে অপমান করেছে।
- • সরকারি চাকরিতে মুসলমানকে ইতিহাসের সবচেয়ে বঞ্চিত অবস্থানে নিয়ে গেছে এই তৃণমূল সরকার।
- • ওয়াকফের সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছে, আন্দোলন করতে গেলে দিল্লি যেতে বলা হয়েছে।
- • OBC থেকে মুসলমান ছাত্রছাত্রীদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
- • SIR এর নামে মুসলমানদের জিম্মি করে তাদের বেনাগরিক করে দেওয়ার চক্রান্ত করেছে।
- • কোরানের অপমান করেছে প্রকাশ্যে।
- • মাদ্রাসা শিক্ষা প্রায় তুলে দিয়েছে।
- • শুক্রবারে নামাজ পড়তে আসা সকলে সন্ত্রাসী বলে দাগিয়ে দিয়েছে।
- • ক্লাবে ক্লাবে টাকা বিলি করেছে অন্তহীন, অথচ সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য DA দেয়নি।
- • কয়লা চুরি করে কালো টাকার পাহাড় জমিয়েছে।
- • রেশনের চাল গম চিনি চুরি করেছে।
- • ত্রাণের চাল ত্রিপল চুরি করেছে।
- • আবাস যোজনার টাকায় কাটমানি খেয়েছে।
- • সরকারি মান্ডিতে ধান বিক্রি করতে গেলেও কাটমানি দিতে হয়েছে।
- • সর্বত্র সন্ত্রাস আর গুন্ডামির পরিবেশ কায়েম করেছে।
- • সারদা চিটফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করেছে।
- • নারদার থেকে প্রকাশ্যে ঘুষ খেয়েছে।
- • রোজভ্যালি চিটফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করেছে।
- • রাজ্যের সর্বত্র ন্যাংটা তোলাবাজির রাজত্ব কায়েম করেছে।
- • জমি মাফিয়া।
- • বালি মাফিয়া।
- • রাজ্য জুড়ে সিন্ডিকেট রাজ।
- • চপ শিল্প করতে বলে শিক্ষিত বেকারকে অপমান।
- • তার দলের পঞ্চায়েত স্তরের নেতারাও কি চপ ঘুগনি কেউ বিক্রি করে?
- • পঞ্চায়েত নির্বাচনে ব্যাপক সন্ত্রাস (যার বিভৎসতা চরমে পৌঁছে ছিল)।
- • কাটমানি খেয়ে উড়ালপুল বিপর্যয়।
- • চোলাই মদ বিপর্যয়।
- • সিভিক টিচার নিয়োগ।
- • মাধ্যমিকের সব পত্রের প্রশ্ন ফাঁস।
- • কোটি টাকার ছবি বিক্রি।
- • সর্বত্র মেলা খেলা উৎসব, যাতে সেখান থেকে সরকারি টাকা নয়ছয় করা যায়।
- • মুসলমানকে গুন্ডা বানানো, মারছে মুসলমান মরছে মুসলমান।
- • চোরদের বাঁচাতে তাদের সমর্থনে রাস্তায় ধর্ণা।
- • চোরদের বাঁচাতে প্রকাশ্যে তাদের সমর্থন।
- • ৬০০০০ Group-D কৰ্মী নিয়োগের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি।
- • কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে নিজের নামে চালানো।
- • শিল্প সম্মেলনের নামে মানুষকে বোকা বানানো, পছন্দের লোকেদের কোটি কোটি টাকা পাইয়ে দেওয়া।
- • ভাইপোর কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির উৎস কী? সে কোন ব্যবসা করে?
- • সততার প্রতীক স্লোগান কোথায় গেল?
- • যাত্রা শিল্পীদের 15000 টাকা ভাতা, আর শিক্ষকদের ২০০০ টাকা ভাতা!
- • কামদুনি ধর্ষণ কান্ডে শাস্তি না হওয়া।
- • সারের দাম জানতে চাওয়ায় "মাওবাদী" তকমা।
- • সরকারি টাকায় চামচাদের নিয়ে বিদেশে ফুর্তি মারতে যাওয়া।
- • যেকোনো মূল্যে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করা।
- • শিক্ষিত বেকার পরিযায়ী শ্রমিক হবে, ওদিকে গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব কিম্বা চোলাই খেয়ে মরলে হয় ১০ লাখ টাকা কিম্বা সরকারি চাকুরি।
- • সাদা খাতা জমা দেওয়া BDO ও শিক্ষক নিয়োগ। চাকুরি যারা পেয়ছে তারা কত নম্বর পেয়েছিল?
- • প্রশ্ন করলেই মাওবাদী তকমা।
- • পরিযায়ী শ্রমিকদের করোনা এক্সপ্রেস বলা।
- • নারী সুরক্ষার অবনতি ও RG Kar কান্ডে দোষীদের আড়াল করা।
- • মুর্শিদাবাদে সামশেরগঞ্জে হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস খুন।
- • নদীয়াতে বোমা মেরে তামান্না খাতুনকে খুন।
- • আইপ্যাকের সবুজ ফাইল লোপাট।
- • হাসখালী কাণ্ড।
- • বগটুই কাণ্ড।
- • নিরন্তর মিথ্যার ফুলঝুরি ছোটানো, উদ্ধত অহংকারী প্রতিহিংসা পরায়ণ আচরণ।
- • তৃণমূল সরকারের আমলে গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) বা সঙ্ঘের শাখা ৫৩০টি থেকে বেড়ে ৪,৩০০টির বেশি হয়েছে। এরা নাকি বিজেপিকে রুখবে?
- • ১৯৯৮ সালে বাজপেয়ী সরকারের রেল চেয়ারপার্সন এই মমতা ব্যানার্জী।
- • ১৯৯৯ সালে বিজেপি সরকারের রেলমন্ত্রী এই মমতা ব্যানার্জী।
- • ২০০২ সালে বিজেপির সরকারে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী এই মমতা ব্যানার্জী।
- • ২০০৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপির সাথে জোট করেছিল এই মমতা ব্যানার্জী।
- • ২০০৬ সালে বিধানসভা ভোটে পুনরায় বিজেপির সাথে জোট করেছিল এই মমতা ব্যানার্জী।
- • 'আমি RSS নেতাদের সম্মান করি'- বক্তা এই মমতা ব্যানার্জী।
- • স্বাধীনতার ইতিহাসে ব্রিটিশের দালালি করা RSS কে ‘প্রকৃত দেশপ্রেমিক’ আখ্যা দিয়েছিল এই মমতা ব্যানার্জী।
- • RSS এর সর্বোচ্চ নেতা এই মমতা ব্যানার্জীকে দুর্গা বলে সম্বোধন করেছিল।
বিজেপিকে রুখতে মমতা ব্যানার্জীকে দরকার? বিজেপির চাষ কে করেছিল এই রাজ্যে? একটাই নাম, মমতা ব্যানার্জী। মমতা ব্যানার্জি না থাকলে বাংলার মাটিতে বিজেপি আজকের রূপে আসত না। এই অসভ্য, ইতর, চোর, তোলাবাজ, কাটমানিখোর, মুসলমান বিদ্বেষী তোলামুল সরকারকে তাড়ানোটা একজন দায়িত্ববান পশ্চিমবঙ্গবাসী ও একজন ঈমানদার মুসলমান হিসাবে আমাদের সকলের কর্তব্য ও দায়িত্ব।
মুসলমান ও হুমায়ূনের বাবরি মসজিদ
বাবরি মসজিদ, বেলডাঙা
বাবরি মসজিদ আর পাঁচটা মসজিদের মত শুধুমাত্র চার দেওয়ালের একটা নামাজ পড়ার ঘর নয়, এটা আপামর মুসলমানের আবেগের নাম। উগ্র হিন্দুত্ববাদী জঙ্গিরা ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদের মাথায় চড়ে তাকে ধ্বংস করে ভারতের মুসলমানদের উপরে উত্যাচারের যে সূচনা করেছিলো, তারই হাত ধরে প্রথমে বাজপেয়ী সরকার ও বর্তমানের অত্যাচারী ফেরাউন মোদী সরকারের আগমন ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় মুসলমান হত্যাকারী কশাই যোগী আদিত্যনাথ ও হেমন্ত বিশ্বশর্মাদের মত জাহান্নামের কীটেদের উত্থান। এদের মূল এ্যাজেন্ডাই হলো মুসলমানকে ক্ষতিগ্রস্ত করো, মুসলমানের সম্পদ কেড়ে নাও, তাকে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করে উল্লাস করো। ভারতের মাটিতে উগ্রহিন্দুত্ববাদী রাজনীতির যে যুগ, সেটার সূচনা হয়েছিলো এই বাবরি মসজি ধ্বংসের হাত ধরেই। এটাই হিন্দুত্ববাদী উগ্রপন্থীদের, নাগপুরের গোয়ালঘরের জিতে যাওয়ার প্রাথমিক ধাপ ছিলো।
এক শ্রেণীর বুদ্ধিভ্রষ্ট উন্মাদ হিন্দু ভাইয়েরা RSS-BJP এর রাজনৈতিক কর্মসূচীকে, সনাতন ধর্মের অনংশ ভেবে ভেবে RSS এর প্রোপাগান্ডাতে ভেসে গিয়ে, তারাও সরাসরি এই মুসলমান ও দলিত নিধন যজ্ঞে সামিল হয়ে যাচ্ছে। এরা সকলে ব্রেন ওয়াস করা জঙ্গি। এমনই এক জঙ্গি আমাদের স্বাধীন ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করেছিল- স্বাধীনতা উত্তর ভারতের প্রথম জঙ্গি যাকে সাপ্লাই করেছিলো এই RSS। এরা নিকৃষ্ট ব্রাহ্মণ্যবাদী একটা মুষ্টিমেয় সম্প্রদায়, যারা জঘন্য বর্ণ প্রথায় বিশ্বাসী, মনুবাদ যাদের সংবিধান- তারা যে কোন মূল্যে নিম্ন বর্ণের হিন্দু এবং আদিবাসীদের উপর অমানুষিক অত্যাচার করে, তাদের সম্পদ কেড়ে নেওয়াকে, তাদের উপরে নারকীয় হামলা করাকে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ও বীরত্ব বলে দাবি করে। এরা একসময় ব্রিটিশদের দালালি করত, এখন গুটিকয়েক গুজরাতি পুঁজিপতির ওই দালালি করে; যাদের মূল উদ্দেশ্য দেশের সম্পদ জনগণের সম্পদ লুটপাট করে বিক্রি করে দেওয়া। হিন্দুত্বের নামে এরা দেশের সংখ্যাগুরু সনাতনী ভাইদের সাথেও ভয়ংকর রকম প্রতারণায় লিপ্ত। মুসলমানেদের কচুকাটা করে, তাদের সম্পদ দখল করে নিয়ে বেনাগরিক কিম্বা তৃতীয় শ্রেনীর নাগরিক বানিয়ে দেবার যে চক্রান্ত- এই সবের প্রতীক হচ্ছে বাবরি মসজিদের ধ্বংস হওয়া।
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর এই সুবিশাল ভারবর্ষের বুকে 'বাপের ব্যাটা' হুমায়ুন কবীর, প্রতিদিন হেরে যাওয়া মুসলমানের হেঁট হয়ে থাকা যে শির- সেটাকে আবার উঁচু করে দিয়েছে। বাংলার পাক জমিনে বাবরি মসজিদকে পুনরায় নির্মাণ করার মাধ্যমে। রাজনৈতিক চরিত্রের বিচারে হুমায়ূন কবীর একজন গণিকা হলেও, একটা হেরে যাওয়া আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগা জাতিকে জাগাতে যেভাবে সাহস নিয়ে এগিয়ে এসেছে, তার জন্য কোনো সাধুবাদই যথেষ্ট নয়। হিন্দু ধরর্মেও তো বেশ্যাবাড়ির মাটি ব্যাতিরেকে দুর্গাপুজা সম্পন্ন হয়না, হুমায়ুনও এক্ষেত্রে সেই সাহসী ব্যাক্তিটা, যে মিইয়ে যাওয়া বারুদের স্তুপেও যে স্ফুলিঙ্গ ধরানো যায় সেই বিশ্বাসটা জাগাতে সক্ষম হয়েছে।
RSS, বিজেপি ও তাদের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটা সংস্থা ও প্রতিটা তন্ত্রকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাংলার জমিনে ভারতীয় মুসলমানের ইজ্জত 'বাবরি মসজিদ' স্থাপনের যে হিম্মত দেখিয়েছেন হুমায়ুন কবীর- গত ৩৩ বছরে তাবড় মুসলমান নেতৃত্ব এবং গালভরা নামের সংগঠন যত ছিল- তাদের সকলকে ছাপিয়ে গেছেন। যে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের মধ্যে দিয়ে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির এতো ফুলে ফেঁপে উঠা, সেই মসিজিদ পুনঃনির্মানের মাধ্যমে আজ মুসলমান সমাজকে একত্রিত করে- বিজেপি, RSS আর তাদের রাজনৈতিক হিন্দুত্বকে কবর দিয়ে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই যেকোনো সুস্থ মুসলমানের লক্ষ্য। এই বাংলা রবীন্দ্র নজরুলের মাটি, এই বাংলা শ্রীচৈতন্যের সাম্যের গান গাওয়ার মাটি, এই মাটি অসংখ্য পীর আউলিয়ার মাটি, এখানে RSS এবং তাদের মত সমমতাদর্শিত দলের কোন স্থান নেই।
আজ আমাদের সামনে কেবল বিজেপিই বাঁধা নয়, RSS এর অন্যান্য শাখা সংগঠন যেমন তৃণমূল কংগ্রেস বা তাদের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি, যিনি ১৯৯২ সালে নরসিমা রাও এর মন্ত্রীসভাতে ৩টে দফতরের মন্ত্রী ছিলেন, তিনি সে সময় ন্যূনতম প্রতিবাদ টুকু করেননি। কোনো ভিডিও বা সংবাদ পত্রের কাটিং এমন দেখাতে পারবেন না, যেখানে মমতা ব্যানার্জি বাবরি মসজিদ ধ্বংসের জন্য কোনরকম নিন্দা প্রস্তাব করেছিলেন।
আজকে এই মমতা ব্যানার্জি গত ১৫ বছর ধরে মুসলমানদের ভোটে জিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ২০২৬ এর নির্বাচনেও তিনি কমপক্ষে ৫০ জন RSS এর ক্যাডারকে তার দলের প্রার্থী বানিয়েছে। RSS এর পরিকল্পনা মত মুসলমানকে ঠকিয়ে তাদের ওয়াকফ সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছে, OBC থেকে মুসলমানকে বঞ্চিত করেছে, মাদ্রাসা শিক্ষাতে প্রায় লাটে তুলে দিয়েছে, শিক্ষা এবং চাকরি থেকে মুসলমানকে বঞ্চিত করে তাদের সন্তানকে পরিযায়ী শ্রমিক বানিয়ে দিয়েছে। SIR এর নামে মুসলমানকে জিম্মি করে, বৈধ ভারতীয় হওয়ার পরেও তাদের নাম কেটে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানোর ষড়যন্ত্র করেছে।
RSS এর অফিসিয়াল রাজনৈতিক দল বিজেপি এবং ঘোমটা পরা মুখোশধারী রাজনৈতিক শাখা- তৃণমূল কংগ্রেসকেও রাজনৈতিকভাবে ধ্বংস করতে না পারলে, প্রতিবার এরা মুসলমানের বন্ধু সেজে ভেক ধরে মুসলমান সমাজের সাথে প্রতারণা করবে। মুসলমানের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় যাবে, তারপর তারা সরকারি টাকায় মন্দির বানাবে, দুর্গাপুজোয় হাজার হাজার কোটি টাকা বিলি করবে, কার্নিভ্যাল করবে, মেলা খেলা করবে; আর মুসলমান যে তিমিরে ছিল এখানেই রয়ে যাবে, সমাজের অন্ত্যজ শ্রেনী হয়ে।
এই ভোটে মুসলমান সমাজকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার, যা আমাদের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র আমাদের গোষ্ঠীকে দিয়েছে, সেটাকে বুঝে নেওয়ার এটাই সময়। একটা হুমায়ুন কবীর, একটা বাবরি মসজিদ আমাদের বাঙালি মুসলমানদের সামনে দুর্দান্ত সুযোগ এনে দিয়েছে- সমস্ত ফিরকা বিবাদ ভুলে মুসলমান সমাজকে এক হয়ে মুসলমানের শত্রুদের বিপক্ষে একজোট হয়ে লড়ার। এর জন্য সাচ্চা মুসলমানের প্রতিনিধি চাই। কোনো চটি চটা RSS এর দালালি করা মুনাফিক মুসলমান দিয়ে এ কাজ হবে না। আমাদের প্রতিনিধি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে আল্লাহর কসম, তারা আমাদের কওমের জন্য আওয়াজ তুলবে এবং আমাদের সাংবিধানিক অধিকার ছিনিয়ে আনবে আমাদের সন্তানদের জন্য।
মুসলমান পিছিয়ে পড়া জাতি নয় আমাদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে। আজ অধিকার বুঝে নেওয়ার সময়। আলহামদুলিল্লাহ, আমদের প্রত্যেককে লড়াইয়ের পথে ফিরতে হবে। অন্নবস্ত্র বাসস্থান, উন্নত সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, কৃষি ও শেচ ব্যবস্থায় উন্নতি, বৃত্তিমূলক কর্মসংস্থান গড়ে তোলা, হাতে হালাল রোজগার এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য সম্মানের জীবনযাপন এর সুযোগ করে জয় আমাদের লক্ষ্য। সুদের ফাঁস থেকে গ্রামীণ সমাজের মা বোনদের রক্ষা করাও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিৎ।
জনগণকে সাথে নিয়ে, আমরা আমাদের লক্ষ্যে সফল হবো ইনশাল্লাহ।
আমিন
শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬
২০২৬ বিধানসভা ভোটের প্রথম দফাঃ একটি তুল্যমূল্য আলোচনা
উত্তরবঙ্গের ৬টা জেলার ২৭ আসনে, তোলামূল সর্বোচ্চ ৬-৮ টা পেতে পারে কুঁতিয়ে কঁকিয়ে। দুই দিনাজপুরে সর্বোচ্চ ৫টা। মালদাতে সর্বোচ্চ ২টো। মুর্শিদাবাদে ২টো সর্বোচ্চ। বীরভূমে খুব ভালো হলে তবে ৫টা। পুরুলিয়া- ০-১ টা। বাঁকুড়া- ০-১ টো। পূর্ব মেদিনীপুর ৬-৮ টা, আরো কম হবে আশা করা যায় পশ্চিম মেদিনীপুর ৮-১০টা। পশ্চিম বর্দধমানে ৩-৪টে। সব মিলিয়ে: +-৪৫টা আসন, যা বাড়ার কোনো জাইগা নেই। বরং ত্রিমুখী চতুর্মুখী লড়াইতে সংখ্যাটা ৩০এ নেমে না গেলেই আশ্চর্য হবো।
২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে মুর্শিদাবাদের ২২টা আসনের মধ্যে ২০টা তোলামূল পেয়েছিল। ৫৪.৫% ভোট পাওয়া তোলামূল- ২৩.১% ভোট পাওয়া বিজেপির চেয়ে এগিয়ে ছিলো ৩১.৪% ভোটে, যেখানে বামে কংগ্রেস মিলে ১৯% ভোট পেয়ে তিন আর চার নাম্বারে ছিলো। SIR এ এই মুর্শিদাবাদে নাম বাদ গেছে প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার, যেখানে মোট ভোটার ৫০ লাখ ২৬ হাজার মতো। যেমন শামসেরগঞ্জে ২৯.৫%, রঘুনাথগঞ্জে ১৭.২৯%, সুতিতে ১৩.৪২% ভোটার তালিকাতে নেই। অর্থাৎ, গোটা জেলার নিরিখে ১৪.৭২% ভোটার নেই হয়ে গেছে প্রথম দফার ভোট অবধি।
অনুরূপ মালদা জেলায় SIR এ বাদ চিত্রে- ৩১ লাখ ৯৯ হাজার ভোটারের ২ লাখ ৩৯ হাজার নেই। এখানে জেলার নিরিখে শতাংশের হার তেমন ভয়াবহ না দেখালেও, মোথাবাড়ি ১৮.৩%, মালতীপুর, রতুয়া, মানিকচক এই আসনগুলোতেও গড়ে ১২-১৪% নাম নেই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলগুলির প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল- তৃণমূল কংগ্রেসঃ ৫৩.০%, বিজেপিঃ ৩২.৮%, জাতীয় কংগ্রেসঃ ৮.৮%, সিপিএমঃ ১.৬%। তোলামুলের জয়ের মার্জিন ছিল গড়ে ২০.২%।
মুর্শিদাবাদে ১৫% ভোটার নেই, মালদাতেও যেগুলো মুসলমান অধ্যুষিত তৃণমূলের আসন সেখানে গড়ে ১৪% ভোটার নেই। এই নেই ভোটারদের যারা সত্যিকারের মৃত-স্থানান্তরিত বা পাতি বাংলাতে ভুতুড়ে ভুয়ো ভোটার, তারা তোলামুলের বাক্সেই ভোটটা দিয়ে যেতো। যেটা কমপক্ষে গত ভোটার লিস্টে থাকা ভোটারের ৯% এর কাছাকাছি।
ধান ভানতে এত শিবের গীতের কেন প্রয়োজন হলো! ৯% মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটার যার পুরোটাই একপ্রকার তোলামূলের নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক ছিল, যারা এবারে নেই। এর পাশাপাশি যারা বৈধ হওয়া সত্বেও ‘ডিলিটেড’ তাদের পরিবারের লোকেরা কোন দিকে ভোট দিয়েছে কেউ জানে না। ১০ হাাজার বৈধ ‘ডিলিটেড’ পরিবারে গড়ে ৩ জন করে থাকলেও, সংখ্যাটা নুন্যতম ৩০ হাজারে দাঁড়ায়। এনাদের সামান্য কিছু ভোট তোলামূল নিশ্চিত পাবে, কিন্তু অধিকাংশ ভোট তো তোলামূলের বিপক্ষেই পরবে, বিজেপির পাওয়ার প্রশ্নই নেই। এর সাথে আছে বাম ও কংগ্রেসের দুর্দান্ত উত্থান। কোন অঙ্কে তোলামূল মালদা ও মুর্শিদাবাদে তাদের বিগত নির্বাচনের জয়ের মার্জিন ৩১% ও ২০% কে ধরে রাখবে? মানে কোন মন্ত্রে?
কোলকাতার মেট্রোগলির ফুটপাতে যারা কখনও কেনাকাটা করেছেন তারা জানেন, এখানে মালের দাম শুরু হয় ৩০০০ টাকা থেকে। আমাদের মা-বোনেরা ও স্ত্রী ধনেরা বার্গেনিং এ প্রত্যেকে গবেষক লেভেলের, তারাও চোখ বুঝে বলে দেন ৫০টাকায় দিলে দিন, না দিলে গেলাম। দোকানদার বলে আর ২০টাকা দিন প্লিজ, কেনা দামেই ছেড়ে দিচ্ছি বৌনির সময়। এটাও ঐ বৌনির সময়, প্রথম দফায় হয়ে যাওয়া ১৫২ আসনের মধ্যে তোলামূল বলছে ১৩৫টা তো বিজেপি বলছে ১২৫টাতে জিতবে। এমন দিনকাল এলো যে, হুমায়ূনও দাবী করছে ৭৮টা আসন পাবো। আসলে কে কী পাবে সেটা গতকাল অনুব্রতর ভিডিও ও আজকের বাইরন বিশ্বাসের ভিডিও তে পরিষ্কার। কুনাল ঘোষ বা ভাইপো নিজেরাও জানে ২৯ তারিখ অবধি তাদের কর্মী সমর্থকদের আত্মবিশ্বাসের যেন যাতে ঘাটতি না হয়, তার জন্য এই প্রকাশ্য মিথ্যা চালিয়ে যেতেই হবে। সকলেই খেয়ালি পোলাও বানাচ্ছে, সুতরাং তাতে ঘি চামচের বদলে বালতি করে ঢাললে ক্ষতিটা কোথায়।
২০১১ সালে রাজ্যে পরিবর্তনের সময় তোলামূল ১২.২৯% ভোট বাড়িয়েছিল। তবে কংগ্রেস যেহেতু তাদের জোটসঙ্গী ছিল, তাই পুরো ভোটটা যে তাদের পক্ষে এটা বলা যাবে না। এদিকে এই ভোটে বামেরা ভোট খুইয়ে ছিল ৭.০৫%। যা ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চের প্রায় কাছাকাছি। তথ্য বলছে ২০১১ সালে কংগ্রেসের ভোট ১৪.৭১% থেকে ৯.০৯ % তে নেমে যায়, মানে ৫.৬২% কংগ্রেস ভোট খেয়েই তোলামূল যাত্রা শুরু করেছিল। বিজেপি যথারীতি ৫% এর নিচে ছিল।
১৯৭৭ সালে যখন বামেরা ক্ষমতায় এসেছিল, একা সিপিএম ৮% এর সামান্য বেশি সুইং এর লাভ পেলেও, দলগতভাবে ক্ষমতায় আসা বামজোট ৬% এর সামান্য বেশি সুইং হাসিল করেছিল নিজেদের পক্ষে।
স্বাধীনতা পরবর্তী ইতিহাসের দিকে তাকালে দেশের সর্বত্র দেখা যায়- সাধারনভাবে ৪/৫% ভোটের সুইং করলে সরকার টলে যায়, পরিবর্তন ঘটে যায়। আজ অবধি সরকারে থাকা দলের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ভোট সুইং এর পরিমাণ রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ ৭.৪৯%। সেখানে ১৪-১৫% ভোট যখন নেই, সেখানে তোলামূলকে যদি তার পুরনো ৯৩টা আসন ধরে রাখতে হয়, ঠিক এই ১৪% ভোট নিজেদের অনুকুলে ফেরাতে হবে এই SIR ও এ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সির পরেও; যা অতীতে কখনো হয়নি কোন শাসকদলের জন্য। চতুর্থবারের জন্য ক্ষমতায় ফিরতে গেলে তৃণমূলকে পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাস ও সেফোলজি বিজ্ঞানকে মিথ্যা প্রমাণিত করতে হবে।
প্রথম দফার নির্বাচন শেষে মূল প্রাপ্তির বিষয়টা কী কী-
- বামেরা কান্নাকাটি করে সহানুভূতি ভিক্ষা করেনি। এমনকি ফেসবুকের বাম্বাচ্চা গুলোও ফুটো এ্যালুমিনিয়ামের বাটি হাতে করুণা ভিক্ষা করেনি। একই সাথে আলিমুদ্দিন থেকে এখন অবধি কোন ভাটের বিবৃতি প্রকাশ হয়নি।
- কংগ্রেস বিধবার মতো চিল্লিয়ে মরাকান্না কাঁদেনি। অধীর চৌধুরী প্রকাশ্যে অন্তত ২৫ হাজারের বেশি ভোটে জিতবে যেমন ঘোষণা করে দিয়েছে, তেমনই কংগ্রেসের তরফে কোথাও ত্রিমুখী বা কোথাও চতুর্মুখী প্রতিদ্বন্দ্বীতার জন্য আরও অনেকগুলি আসন জেতা সম্ভব বুঝতে পেরে, ফেসবুকে সময় নষ্টের বদলে, তাদের নিজস্ব বাহিনী নিয়ে স্ট্রংরুম পাহারা দিতে মাঠে নেমে পড়েছে।
- হুমায়ূন হাউমাউ করে রুদালি গীত গায়নি। সারাদিন ধরে বিভিন্ন ভাষায় তৃণমূলের মাতৃ-পিতৃ বন্দনা করার পর, এখন অবধি টানা প্রত্যেকটি সাংবাদিকের ফোন ধরছে এবং যথাযথভাবে তার ভাষায় উত্তর দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, মোদীর মতো পালিয়ে না গিয়ে প্রত্যেকটি সাংবাদিক সম্মেলনে রীতিমতো ঝড় তুলে দিচ্ছে।
- এমনকি মেদিনীপুরের রুহুল আমিনও নূন্যতম ফোঁপায়নি। তেমনি বীরভূম থেকে মেদিনীপুর এমনকি পশ্চিম বর্ধমানে পর্যন্ত বিরোধীদল আর জনগণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে খালি ইভিএম বয়ে নিয়ে যাওয়া ফেক কর্মীদের সমস্ত পরিকল্পনা জন্মের উৎসস্থলে পাঠিয়ে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
বিজেপি কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসবে না
বিজেপি কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসবে না এ রাজ্যে, আসতে পারে না, যদিনা তৃণমূল দলটা তাদের বিজয়ী MLA নিয়ে সরাসরি বিজেপিতে মিশে যায় ভোট পরবর্তী সময়ে বহুমুখী সমীকরণে। তাই তৃণমূল ও মমতা ব্যানার্জী- যে বিজেপি জুজু দেখিয়ে আরও একবার মুসলমান ভোটকে নিজের বাক্সে ফেলতে চাইছে, তার উপরে থুতু ছিটিয়ে দিন। নিচের অঙ্কটা দেখে নিন, বাকি সিদ্ধান্ত আপনার।
২০১৯ লোকসভা, ২০২১ বিধানসভা এবং ২০১৪ লোকসভা, এই তিনটে নির্বাচনের নিরিখে বিজেপি ৫৫ টা আসনে তিন বারই টানা জিতেছে বা এক নম্বর স্থানে ছিল। ৩৮ টা আসনে দু'বার জিতেছে কিংবা এগিয়েছিল। আর ৫৩ টি আসনে এই তিনটে নির্বাচনের, অন্তত একবার তারা জিতেছিল কিংবা এগিয়েছিল।
সবেধন নীলমনি এই ১৪৬ আসনেই আজ অবধি বিজেপির চাষবাস। একটা নতুন আসনের দোকান খুললে, অন্য ২টো দোকানের ঝাঁপ বন্ধ হয় তাদের, এটাই তাদের ভোট চরিত্রের স্ট্রাকচার। বেশ কয়েকটা এমন আসনও ছিল যেখানে মুসলমান ভোট মেজরিটি। এবারে সেটি হবে না, তেমনই মতুয়া অঞ্চলে বিজেপির 'পতিদাহ' প্রথা পালিত হবে জীবন্ত চিতায় তুলে।
সুতরাং পাটিগণিতের নিয়ম বলুন কিংবা পারমুটেশন কম্বিনেশন, রেসিপ্রোক্যাল, জিওমেট্রি কিম্বা ফিবোনাচ্চি- আপনি যেভাবেই হিসেব করুন না কেন, ইতিহাসের পর্যালোচনা এবং পশ্চিমবঙ্গের জাতি জনঘনত্বের পরিমাপের অঙ্কে, বিজেপি কোনো গণিতের বলেই সংখ্যাটা একলাফে কক্ষণও ১০০ পার করতে পারবে না। বাকিটা মমতা ব্যানার্জীর বিজেপি জুজুর নামে নির্লজ্জ মিথ্যাচার প্রহসন, আর বিজেপির বিপুল অর্থব্যায়ে চালানো প্রচারযন্ত্রের আষাঢ়ে গল্প। তাতেও আজ অবধি ১৪৬টা আসনেই বুড়ি ছুঁতে পেরেছে বিজেপি, আর কনফার্ম বলতে সেই ৫৫টি। বাকিটা গ্যাস বেলুন যা শুধুমাত্র মিডিয়াতেই উপস্থিত।
পশ্চিমবঙ্গের মাটি চৈতন্যের মাটি, সম্প্রীতির মাটি, একটা দীর্ঘ সময় ধরে চলা কমিউনিস্ট আদর্শ ও আন্দোলনের মাটি, এখানে RSS এর উগ্র হিন্দুত্ব আর বাঁদর রাজত্ব- ওই নির্দিষ্ট সংখ্যক একটা জম্বি হিন্দুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাকিরা কেউ মানুষ নয়, সামান্য কিছু ভক্ত, বাকিরা মহাদেবের ধর্মের ষাড়। অধিকাংশ সুস্থ স্বাভাবিক হিন্দুই, সন্ত্রাসী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন RSS কে অন্তর থেকে ঘৃণা করেন, একটা মুসলমান যতটা ঘৃণা করে বরং তার চেয়েও বেশি প্রতিবাদ-প্রতিরোধ দেশের সংখ্যাগুরুদের তরফেই পরিলক্ষিত হয়।
তাই যারা ভাবছেন বিজেপিই বোধহয় তৃণমূলের বিকল্প, তারা আসলে তৃণমূলের পায়ে শক্তি যোগাচ্ছেন আরও একটা টার্ম ক্ষমতায় আসার দৌড়ে। গত ১৫ বছর ধরে এই বিজেপির বেনা বনে মুক্ত ছড়িয়েছেন, আগে রাম পরে বামের তত্ত্ব ছড়িয়ে ছিলেন। নিট ফল- ফক্কা। মমতার নের্তৃত্বে প্রতিবার RSS এর সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
এবারও যদি আপনি হিন্দু ভাইটি বিজেপিকেই ভোট দেন, এবার কিন্তু তৃণমূলের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে না। কারণ মুসলমান সমাজ মমতা ব্যানার্জীর ভন্ডামি প্রতারণা ধরে ফেলেছে ,তাকে উচিত শিক্ষা দিতে সমগ্র মুসলিম সমাজ বদ্ধপরিকর। সুতরাং আপনারা যারা যেকোনো মূল্যে তৃণমূল-বিজেপি বাইনারির মধ্যে থেকে একটা RSS এর সরকার প্রতিষ্ঠা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ, তাদের জন্য মহা দুঃসংবাদ। ২০২৬ সালে RSS এর সরকার গঠিত হবে না পুনরায়।
গত একুশের নির্বাচনে এবারের প্রথম ফেজে হতে চলা ১৫২টা আসনের মধ্যে তোলামূল পেয়েছিল ৯২টি, আপনি নিশ্চিত থাকুন আজকের ভোটে তোলামূল ৫০ ক্রশ করবে না কোনোভাবেই, আর বিজেপিও যেখানে ছিল তার আশেপাশেই থাকবে, কমলেও কমতে পারে। মালদা মুর্শিদাবাদ এবং দুই দিনাজপুরে তৃণমূল খাতা খুলতে পারলে সেটাই তার জন্য চরম প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য হবে। বাকি সমস্ত সমীক্ষা- টিস্যু পেপারে করে যেমন পায়ুপথ মোছে, সেইভাবে মুছে ফেলে দিন ওগুলো। এগুলো সব পেইড প্রোমোশন, আপনার ভাবনাকে ডাইভার্ট করার জন্য।
সুতরাং তোলাবাজ, কাটমানি খোর, প্রবঞ্চক, প্রতারক, ধর্ষক, চোর, পাতাখোর, দুশ্চরিত্র, মিথ্যাবাদী, সাম্প্রদায়িক এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ এই তোলামূল সরকারকে যদি বিসর্জন দিতে চান তাহলে- বিজেপিকে ভোট দিয়ে সেই লক্ষ্য হাসিল করা সম্ভব নয়। সাম্প্রদায়িক বিজেপি কখনো বিকল্প হতে পারে না শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বাংলাতে, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, হাজী মহসিনের বাংলাতে।
তৃণমূল এবং বিজেপি বাদে যে যেখানে শক্তিশালী তাকে ভোট দিন। বাম জোট-ISF কে পছন্দ হলে তাদের দিন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এদেরই রেকমেন্ড করবো। বামে এলার্জি থাকলে কংগ্রেসকে ভোট দিন। এমনকি হুমায়ূন কিম্বা রুহুল আমিনের প্রার্থীকে পছন্দ না হলেও, সে যদি শক্তিশালী হয় আপনার এলাকায় তাহলে এবারের ভোটটা তাকেই দিন। ভোট যেন নষ্ট না হয়।
আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন তৃণমূল কোনভাবেই তিন সংখ্যার ভিজিট পার হবে না আগামী ৪ঠা মে। আর বিজেপির অতীত কোষ্ঠী কি বলছে তা উপরে লেখা আছে, তার জিনের মধ্যে ঢুকে রয়েছে তার অউকাত, ঐ সর্বোচ্চ ৯০ এর আশেপাশে- ব্যাস গল্প শেষ।
যুক্তফ্রন্ট জাতীয় একটা সংযুক্ত সরকার গঠন হতে চলেছে এবারে, যেখানে বামজোট নির্ণায়ক শক্তি হবে। আপনার মূল্যবান ভোট দুই বিষ ফলের মধ্যে কাউকে দিয়ে যদি নষ্ট করেন, তার দায় একান্তই আপনার। এর মূল্য রক্ত দিয়ে চোকাতে হবে। তৃণমূল হোক বা বিজেপি সে আপনার রক্ত চুষে নেবেই। এর সাথে আপনার সন্তানকেও বইতে হবে আপনার এই পাপের ভার। উত্তর প্রজন্মের কাছে অপরাধী হয়ে জবাবদিহি করতে হবে - ১৫ বছর ধরে প্রতিটি লোকসভা, প্রতিটি বিধানসভা, প্রতিটি পঞ্চায়েত, প্রতিটি পুরসভায়- প্রতিবার ঠকার পরেও একই পাপের পুনরাবৃত্তি কীভাবে করেছিলেন!!
শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
আলেম ক্যালানো যখন ফরজ
টুপি দাড়িওয়ালা একশ্রেনীর আলেম মৌলানা হাফেজ যেভাবে মমতা ব্যানার্জীর উম্মত সেজে, উলঙ্গ হয়ে ফতোয়াবাজি শুরু করেছে, ভোটের পর যখন এদেরকে রাস্তায় ফেলে লোকে কুত্তা ক্যালান দেবে- তখন কি এরা 'সংখ্যালঘু মুসলমান' আক্রান্ত বলে ‘র্যান্ডি রোনা’ করলে কি জনগণ প্রভাবিত হবে?
আমি হলফ করে বলতে পারি, অরাজনৈতিক মুখোশধারী এই চটি চাঁটা 'দাড়ি-টুপি' ওয়ালা খবিশ ইবলিশ গুলোকে ঝুলিয়ে ক্যালানোটা ফরজ ইবাদতের মধ্যে গন্য হবে ভোটের পর। নতুবা মুসলমানের ঈমান নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। আবু-জেহেল, আবু-লাহাব, মুগিরা এরাও সকলে লম্বা জোব্বা, লম্বা দাড়ি, মাথায় টুপি লাগিয়েই থাকত, এটা যেন মুসলমান সমাজ ভুলে না যায়।
এক শুয়োরের বাচ্চা এর আগে মুখ খোলেনি, যখন- ওয়াকফের সম্পত্তিকে যখন ১ নং খতিয়ানে তুলে দিয়েছিলো মমতা ব্যানার্জির সরকার, কেউ কোনো সাংবাদিক সম্মেলন করেনি। OBC, মাদ্রাসা শিক্ষা, SIR এর নামে মুসলমানকে যখন জিম্মি করা হয়েছিলো- এই প্রতিটা খ'য়ের ছেলে মুখে চটি গুঁজে বসে ছিলো, মমতা বিপদে পরতেই এরা রে রে করে এক হাতে ফতোয়া আর এক হাতে বিচি সম্বল করে ধেই ধেই করে নাচতে শুরু করে দিয়েছে।
এক শালার কোনো চাকুরি বা ব্যবসা নেই, প্রায় সবকটা খারিজী মাদ্রাসার শিক্ষক। সেই খারিজী মাদ্রায় আয় বলতে দান আর চাঁদার টাকা। মাদ্রাসা চালাবার নামে সাদাকা, জাকাতের পয়সাতে যারা নিজেদের পেট ভরায়, আজ তারা তোলামূলের হারামের টাকা খেয়ে বিজেপির জুজু ফেরি করছে। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ একটাও এই জাতের কোনো মুনাফেক রেহাই পাবেনা ইনশাল্লাহ। মিথ্যাচার করে একটা সমাজকে গুমরাহ করার মূল্য নগদে চোকাতে হবে, কোনো ধারবাকি থাকবেনা।
বাকিরা দেওয়াল লিখন পড়ে যা বোঝার বুঝে নিন। জনগণের মার, ক্যাওড়াতলা পাড়। ভাইপো তো বিদেশ পালাবে, এই বেশ্যার বাচ্চা বেজন্মা ফতোয়াবাজদের কে বা কারা বাঁচাবে?
সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন
ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী আশাবাদী হয়ে লাভ নেই আসন্ন নির্বাচনে। একটা নেহাৎ উদগান্ডু সম্প্রদায় এরা, পুঁথিগত শিক্ষাদীক্ষা কমবেশি সকলের থাকলেও বাস্তব বোধের দিক থেকে ও বোধবুদ্ধিতে এরা গাঁড়লদের চেয়ে সামান্য নিচুতে ও দাড়িওয়ালা ছাগল তথা পাঁঠার চেয়ে সামান্য উচ্চ মর্যাদার। এরা মূলত মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, যারা যুগে যুগে দেশ কাল সীমানার গন্ডি পেরিয়ে ভীরু ধান্দাবাজ লোভী ও পলায়নপর কাপুরুষ মানসিকতার জন্য সুপরিচিত।
তোলামূল বা বিজেপির সাথে অহেতুক তুলনা টেনে লাভ নেই, তোলামুল মানেই চোর বা স্বীকৃত সমাজবিরোধী। বিজেপি মানে মগজহীন কিছু ধর্মান্ধ অশিক্ষিত বর্বর অন্ধভক্ত, এদের চরিত্র নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে একটা রিসার্চ পেপার পাবলিস করেছিলাম, 'ভক্ত' নামে; টাইমলাইন ঘেঁটে দেখে নিতেই পারেন। এই দুই দলের একটা বড় গুণের কথা উল্লেখ না করলেই নয়, সেটা হলো যে- শিক্ষা দীক্ষার বিষয়ে এরা কোনো দাবী বা তর্কে যায়না, সততার বিষয়েও নূন্যতম বিজ্ঞাপন করেনা নিজেদের ও তাদের দলের বিষয়ে। এরা সকলেই জানে এদের নেতারা প্রত্যেকেই দুশ্চরিত্র, তোলাবাজ, কাটমানি খোর, মিথ্যাবাদী, লম্পট, সাম্প্রদায়িক লুম্পেন, এবং যে কোনোদিন দল পালটে অন্য দলে চলে যেতে পারে; এদের কোনো কর্মী সমর্থক আঁতলামো করেনা বা ভাবের ঘরে চুরি করেনা অতএব এই দুই দলের কর্মী সমর্থক জাত-কুল নিয়ে আলোচনাই চলেনা।
👉 অনেকগুলো ছাগল একসঙ্গে একটা মঞ্চে কোনো নেতার পিছনে দাঁড়ালে, একগাদা ছাগল মিলে যদি কোনো সোস্যালমিডিয়া পেজ চালায় ও সেটাকে ফলো করে, একটা ছাগলের দল যদি কোনো হোয়াটস্যাপ বা ফেসবুক গ্রুপ খুলে বসে, চোখ বন্ধ করে নিশ্চিতভাবে জানবেন পেজ/গ্রুপটা সিপিএমের সমর্থকদের দ্বারা পরিচালিত। এদের মূল দাবী এরা সৎ ও শিক্ষিত সম্প্রদায়।
✅ ছাগলের আবার সৎ আর অসৎ, আপনি পৃথিবীতে কোনো একটা দেশ থেকে একটা অসৎ ছাগল খুঁজে এনে দেখান! আইপ্যাক বা আঁটিসেল গত ১৫ বছরে যা করতে পারেনি কাড়ি কাড়ি অর্থ খরচা করে, এই অবৈতনিক স্বেচ্ছাসেবকের দল দলবেঁধে আক্রমণ করা বা প্রোপ্যাগান্ডা ছড়ানোতে বাকি সকলের চেয়ে কয়েক আলোকবর্ষ এগিয়ে। ক্যাপ্টেন আমেরিকার মত দেশ ও জাতি রক্ষার ভার একা হারকিউলিস হয়ে এরা সমস্ত বিরোধ বিক্ষোভ প্রদর্শনের দায় নিজেদের ঘাড়ে তুলে নিয়েছে। কিন্তু ওই- ফিউজ হয়ে যাওয়ার আনগাউইডেড কামিকাজি আত্মঘাতী ড্রোনের মত। শত্রুকে আক্রমণ করার পরিবর্তে নিজের ভূমেই ছারখার করে দিয়ে নিজেরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে।
এরা মূলত কি করে?
✊ এরা মূলত খিল্লি করে, কাকে খিল্লি করছে সেটা বড় বিষয় নয়, রোজ কোনো না কোনো একটা সাবজেক্ট বেছে নিলেই হয়। তাতে সেই ব্যাক্তি বা দলের নেগেটিভ প্রচারটা হচ্ছে কিনা- সে সব ভাবা নেহাৎ বাজে সময় খর্চা। জীবন পন করে ট্রোল করার মাঝেই বিপ্লবের যজ্ঞে এরা ঘৃতাহুতি দিয়ে, চে এবং লেনিনের আত্মার প্রতি তর্পন করে।
✊ দ্বিতীয়ত, এরা রোজ খাপ পঞ্চায়েত বসায়, SS চালাচালি করে এবং দ্রিঘাংচুর মত মাঝে মাঝে গম্ভীর ভাবে কেউ একজন ‘কঃ’ বলে ডেকে উঠলে, বাকিরা মাথা চুলকে টাকের ছালচামড়া তুলে ফেলে ভাব সম্প্রসারন করতে বসে যায় জটিল সব আঁক কষতে কষতে।
✊ তৃতীয়ত, লাল পতাকা বা নিজেদের নেতার ছবি সম্বলিত কোনো পোষ্ট, আনন্দ চ্যানেলে বলা নেতার অগ্নগর্ভ ভাষণ, বিরোধীদের আক্রমণ করে কোনো বিবৃতি বা পোষ্টার পেলে- সেটার ফ্যাক্ট চেক না করেই; হুলিয়ে শেয়ার করতে শুরু করে দেয়, পরিনাম না জেনেই। যেন একটা শেয়ার একটা পঞ্চায়েত/ওয়ার্ডে জিতে যাওয়া। একজন হুক্কাহুয়া করলেই বাকিরা সমস্বরে সেই টোনেই হু হু করে ডেকে উঠে।
✊ এরা প্রত্যেকে বিশেষজ্ঞ, প্রতিটা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, যে কোনো দ্বিতীয় ব্যাক্তির চেয়ে যে কোনো মূহুর্তে এরা বিজ্ঞ, নতুন করে এদের শোনা বা জানার আর কিচ্ছুটি অবশিষ্ট নেই ধরাধামে। আপনি যদি এদের কথা শুনতে অস্বীকার করেন, আপনি প্রগতিবিরোধী, অতি প্রতিক্রিয়াশীল, লুম্পেন জাতের শ্রেনীশত্রু।
✊ কমেন্ট বক্সে এদের চেনার উপায় হচ্ছে লাল সেলাম, রেড স্যালুট, মুষ্ঠিবদ্ধ হাতের ইমোজি কিম্বা সাবাস কমরেড। এছারা বিপ্লব, লড়াই লড়াই লড়াই চাই, ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই হবে, শূন্যকে এতো ভয় কেন, হারলেও বাম জিতলেও বাম, রাস্তাই রাস্তা, এভাবেও ফিরে আসা যায়, শিরদাঁড়া বিক্রি নেই, ফেরাতে হাল ফিরুক লাল, রক্তিম অভিবাদন, চোখে চোখ রেখে লড়াই হবে- এই কটা শব্দ ও লাইনের মাঝে প্রতিটা ফেসবুকীয় বাম্বাচ্চাকে নিখুঁত ভাবে শনাক্ত করে ফেলবেন মূহুর্তে।
এবারে কংগ্রেসের সাথে জোট নেই, অতএব বুড়ো হাবড়া কচি হাবা নেকু ডাঁসা ঝিঙ্কু সেয়ানা সহ, যত প্রজাতির বামমনস্ক ‘মাল’ হতে পারে, তেনারা প্রকাশ্যে-গোপনে গুদাম বা ভাঁড়ারে যেখানে যত মজুদ ছিলো, সবাই গোঁফে তা দিয়ে দাবনা চাবকে টাইমলাইনে বেরিয়ে পরেছে। সময় এগিয়ে গেলেও এনারা মানসিকভাবে সেই আশির দশকের শুরুতেই রয়ে গেছেন, ৯০ এর দশকের মত ছড়া কেটে দেওয়াল লিখছে, তারপর সেটারই ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করছে। পাড়ায় মিটিং হলে মঞ্চের ধারে ভিড় করে দাঁড়াচ্ছে, সবাই মিলে একই লাইভ করছে, সবাই মিলে একই ছবি তুলছে। সবাই ‘অনলি ফ্রেন্ড’ করে পোষ্ট করছে, এবং এরা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের বন্ধু যারা নিজেরা বাকিদের সকলকে ট্যাগও করছে। যদিও ছবি ভিডিও দেখে বোঝার উপায় নেই এটা শ্রাদ্ধ বাড়ির গুমোট পরিবেশ, নাকি গায়ে হলুদের ফাজিল হুল্লোর কিম্বা কোনো রাজনৈতিক গুরুগম্ভীর সভা। মিছিল হলে এরা নেতাদের পিছু পিছু হাঁটছে। এই সব কিছুর মাঝে প্রতি ২ ঘন্টা অন্তর ১১টা সেলফি আর ৩টে গ্রুপ ফটো ফোনের SD কার্ডে জমা হচ্ছে। সেগুলোকে কেটে ছেঁটে with অমুক নেতা & 99 others ট্যাগ মেরে বিপ্লবকে গর্ভবতী করে দিচ্ছে।
এরপর দুপুরে অধিকাংশ দিন মাটিতে বসে নেতা/নেত্রীর সাথে বসে ছ্যাঁচড়া, ডাল ও মাংস ভাত সাঁটিয়ে, অন্তর থেকে ‘সিপিএমে’ অন্তর্ভুক্তির ব্যাপ্টিস্টকরণ সম্পন্ন করছে অত্যন্ত ভক্তির সাথে। যারা হিন্দু, তারা জবরদস্তি সেকুলার সাজতে গিয়ে সর্বক্ষণ বিজেপি এবং RSS কে এলোমেলো আক্রমণ করছে, যে যেখানে সুযোগ পাচ্ছে। যারা মুসলমান, তারা সহানুভুতি আর আর্তির দোকান খুলে- আমার সব গেলো, আমি বঞ্চিত বলে “জীবনটা বেদনা” নামের পণ্য লেনদেনের পসরা সাজিয়ে বসছে।
ক্রিকেটের নিয়ম বলে, কোন বলটা অফ স্ট্যাম্পের ১ ইঞ্চি বাইরে বিষাক্ত বাউন্সার, কোনটা অনসাইডের লোপ্পা ফুলটস আর কোন বলটা ইয়ার্কার সেটা দেখে, তবে তো সেইভাবে ব্যাট চালাতে হবে। ফেসবুকের বাম্বাচ্চারা বল দেখলেই চোখ বন্ধ করে চালাচ্ছে, সেটাতে নিজেদের নেতার মাথার খুলি উড়ে যাক কি আম্পায়ারের হাড় ভাঙুক কিচ্ছু দেখার দরকার নেই।
পৃথিবীতে যে কোন রাজনৈতিক দলের চারটি স্তর থাকে। ১) মূল নেতৃত্ব, ২) কর্মী, ৩) দরদী সমর্থক ও ৪) জনগন। প্রতিটা রাজনৈতিক দলের ভিত্তি দাঁড়িয়ে থাকে দরদী সমর্থকের উপরে। এরাই মূলত জনগণকে প্রভাবিত করে নিয়মিত ও সমাজের সর্বত্র। ফেসবুকীয় বামেরা তাদের সামাজিক সমস্ত দরজা জনলা মোটামুটি বন্ধ করে একটা ছোট্ট বৃত্তের মাঝে নিজেদের বন্দি করে নিয়েছে। একে অন্যের পোষ্টে লাইক কমেন্ট করে নিজেদের গা শোঁকাশুঁকি করে। অথচ, এখন অবধি যতগুলো সাক্ষাৎকার দেখেছি বা শুনেছি CPIM West Bengal পার্টির সম্পাদক সহ বাকি শীর্ষ নেতৃত্বের- সেখানে প্রত্যেকে বারবার একটা জিনিস বলার চেষ্টা করেছে যে, বৃত্তটা বাড়াতে হবে। দরদী সমর্থককে আরো বেশি প্রসারিত হতে হবে, জনগণের কাছে পৌঁছবার যতরকম বৈধ পথ আছে, তার প্রত্যেকটি পথ অবলম্বন করতে হবে।
পার্টির সর্বজনীন সিদ্ধান্ত ‘গ্যায়া ভার মে’, ফেসবুক খুলে অ্যাং ব্যাং চ্যাং যা খুশি লিখে, সেটাকে পার্টির মতামত বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টাতে বাম্বাচ্চাদের মেহনতের ঘাটতি নেই। মনের মাধুরী মিশিয়ে গল্প উপন্যাস বা ডেলি সিরিয়ালের স্ক্রিপ্ট লেখা যায়, রাজনৈতিক বার্তা বা কূটনৈতিক ভাবে এগিয়ে গিয়ে মাত করে দেওয়া যায়না।
উদাহরণ হিসাবে সম্প্রতি উত্তরপাড়ার দীপাঞ্জন বা হুমায়ুনকে তেড়ে ন্যাংটা হয়ে আক্রমণকে উল্লেখ করা যেতে পারে। আরে বাবা ঢঙী দীপাঞ্জন কিছু ভক্তের ভোট কাটলে, কিম্বা রাজনৈতিক পতিতা হুমায়ূন কিছু দুধেল গাই এর ভোট কাটলে তবে উত্তরপাড়ার বামপ্রার্থী কিম্বা অন্যান্য সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনে বামেরা খাতা খোলার গণিতে একলপ্তে প্রথম দুই-এ পৌঁছে যাবে। নতুবা ওই ভোট গুলো সব তোলামুলের ঝাঁপিতে গিয়ে জড়ো হবে। রাজনীতি তো মারপ্যাঁচের খেলা, নিজের ভোট নিজের প্রতীকে ফেলার পাশাপাশি অন্যের শিওর ভোটকেও ল্যাঙ মেরে মেলোমেলো ডাইভার্ট করে দেওয়ার নাম ভোটের রাজনীতি।
পানিহাটিতে বিজেপি প্রার্থীর নাম ঘোষণা হয়ে গেছে, দেওয়ালে দেওয়ালে সবর্ত্র রত্না দেবনাথের নামের পাশে বড় বড় করে আঁকা পদ্মফুল চিহ্ন, তবুও আলগা পিরিতে কোনো ঘাটতি নেই। কখনও অভয়ার মা, কেউ আবার কাকিমা- একাত্ম হওয়ার চেষ্টাতে এ যেন এক প্রতিযোগিতা চলছে। কেন রে ভাই, তিনি কি কোনো ছাড় দিচ্ছে সিপিএমকে? বরং চূড়ান্ত আক্রমণ করে চলেছেন অশালীন ভাষাতে; কারণ ওনাকে লাইম লাইটে আসতে গেলে দ্বিতীয় কোনো উপায় নেই। আমার প্রতিপক্ষকে আমি কতটা ধরব, কোথায় কতটা ছাড়ব- এটাও তো রাজনীতির অন্যতম বড় শিক্ষা। অসম্মান করব না বা অলআউট আক্রমণও করব না, তা বলে হেদিয়ে আত্মীয়তার শুকনো পিরিত দেখাতে যাব কেন? এই গোটা সিস্টেমটাকে বাম্বাচ্চারা দায়িত্ব নিয়ে রোজ ধর্ষন করে দিচ্ছে।
এদের অভিশাপ থেকে পার্টি কীভাবে মুক্তি পাবে তা অজানা, এর কোনও এ্যান্টি ডোট বাজারে নেই। আয়নাতে আপনি আবার কোনো বাম্বাচ্চাকে দেখেননা তো রোজ?
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬
মুসলমান আলেম পরিচয়ে তোলামূলের হয়ে খেপ খাটা এরা আসলে কারা?
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি জটিল অবস্থায় দাঁড়ালে- হিন্দু তৃণমূল বিজেপির দিকে চলে যাবে। তখন মুসলমান গুলো যাতে কংগ্রেস বা বাম জোটের দিকে চলে যেতে না পারে সেই জন্য হুমায়ূনকে সৃষ্টি করা হয়েছে। বিজেপির কোন অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসা সম্ভব নয, একমাত্র তৃণমূল যদি না বিজেপির মধ্যে বিলীন হয়ে যায়। ১১৮টা মুসলমান অধ্যুষিত আসন যেখানে বিজেপির লড়াই নোটার সাথে, আর ৪০টা মতুয়া প্রভাবিত আসল- যেখানে বিজেপিকে ঘাটে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাহলে বাকি সবটা আসনেও ১০০% বিজেপিই জেতে, তাতেও ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারবেনা। তাহলে, কোন মন্ত্রে বিজেপির জুজু দেখাচ্ছে তৃণমূল ও তাদের পোষ্য মিডিয়া ও ভাতাজীবিরা?
হুমায়ূন নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই, গতকাল তাকে নিয়ে আমার বক্তব্য বলে দিয়েছি। যে লোকটা বিজেপির সাথে ইতিমধ্যে ঘর করেছে, যে লোকটা ২ মাস আগে হেলিকাপ্টারে চড়ে প্রচারের ঘোষনা দিয়েছে, যে লোকটা ৩ মাসের দল খুলেই ১৮২টা প্রার্থী দেওয়ার ক্ষমতা ধরেছে, যে লোকটা ৩ মাসের দল খুলেই স্থায়ী প্রতীক পেয়ে গেছে, যে লোকটা রাতারাতি Y ক্যাটেগরির সিকিউরিটি বহর পেয়ে গেছে কেন্দ্র সরকারের থেকে- মাকুন্দ গোপনাঙ্গ বিশিষ্ট আতা ক্যালানে মাল আর মিথ্যাবাদী ছাড়া যেকোনো সুস্থ মানুষ জানতো বিজেপি-তোলামূলের মত কেউ এনাকে পিছন থেকে ব্যাকাপ দিচ্ছে। অতএব, হুমায়ুনকে নিয়ে ঈশপের ‘নীতিমালা’ গল্প ফাঁদার কোনো সুযোগ নেই।
এতোদিন যারা হুমায়ূনের দলে পদাধিকারী ছিলো, তারা কেউ জানতনা হুমায়ূনের এই বিপুল টাকার উৎস কি? আসলে সকলে সবটা জানতো, আর সেই টাকা উচ্ছিষ্ট খেতেই এই মালগুলো দলে দলে ভিড় জমিয়ে ছিলো। যেগুলো আজ ‘তথাকথিত’ বিদ্রোহ করছে, সেগুলো নেহাত বেজন্মা বেশ্যার বাচ্চা, হারামের মালের গন্ধ পেয়ে চেটে, চুষে, কামড়ে, হামলে পরে খাবো বলে গিয়ে আজ সতী সাজছে। খাবো সবটাই, শুধু যেন সেটা জনগণ জানতে না পারে- এই হচ্ছে মোদ্দা ইস্যু।
আচ্ছা, ইসলাম মানে তো কোরানের নির্দেশিকা আর আমাদের নবী করীম(সাঃ) এর জীবনধারা তথা হাদিস এর নীতিমালা। এখানে কোথায় চাঁদা তুলে খাওয়া পীর ফকিরির ব্যবসার উল্লেখ রয়েছে? ইসলামের নীতিমালা কি নতুন করে লেখা হয়েছে? আচ্ছা যিনি এই ইসলাম ধর্মের প্রবর্তন করেছেন সেই নবী করিম(সাঃ) তো নিজে ব্যবসায়ী ছিলেন, তাঁর যারা সরাসরি অনুগামী ছিলো সেই সাহাবী, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈণ- এনারা কি রাষ্ট্রের ভাতাজীবি ছিলেন? এনারা আলেম সেজে সদগা যাকাত তুলে ‘বেতনের’ নামে সেখান থেকে রুটিরুজি যোগার করতেন? এনাদের প্রত্যেকের নিজস্ব পেশা ছিলো, এনারা সকলে স্বনির্ভর ও পরিশ্রমী ছিলেন। কেউ কৃষক ছিলেন, কেউ মজদুর, কেউ শ্রমিক, কেউ মরুদ্যানে সরাইখানা চালাতেন, কেউ নানান মাপের ব্যবসায়ী ছিলেন, অর্থাৎ কেউ ভাতা আর চাঁদা তুলে খেতোনা ইসলামের নামে।
আজকে দেশ ও রাজ্য জুড়ে এই আলেম ও পীরের দোকান খুলে বসা মালগুলো, যারা ইসলামের ঠিকেদারি নিয়ে রেখেছে, এদের রুজিরুটির উৎস কি? এই যে এতো মৌলানা সাহেব, হাফিজ সাহেব, আলেম, ক্বারী, মোহাদ্দিস, ইমাম, যারা ফতোয়া দিচ্ছেন তোলামুলের পক্ষে- এনাদের হালাল পেশা কি? গুটি কয়েক হাতেগোনা ‘মুমিন’ ব্যক্তি বাদ দিলে, এরা প্রত্যেকে ‘ইসলাম ধর্মকে’ পুঁজি বানিয়ে জোব্বা, চোগা, গোঁফ বিহীন দাড়ি আর মাথায় ফেজ টুপির দোকান সাজিয়ে হয় চাঁদা তুলে খাচ্ছে, কিম্বা ঝাড়ফুঁক জলপড়া তেলপড়া তাবিজ কবজের লোক ঠকানো ব্যবসা করে হারামের কামাই খাচ্ছে। এর পাশাপাশি সমানে চেষ্টা থাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বৃত্তের কাছাকাছি পৌঁছে ‘বাইতুল’ মালের যে রাজনৈতিক লুঠ চলছে, সেখান থেকে যেন একটা অংশ তাদের ভাঁড়ারে চলে আসে। তার জন্য এরা ইমান, আমল বিক্রি করা, ইসলামকে বিকৃত করা- সব কিছু করতে রাজি।
আপনি প্রমাণ দেখান, যারা যারা সমাজের ওই অংশ থেকে মানে ‘ইসলামকে’ বেচে খাওয়া লোকজন, তথাকথিত আলেম সমাজ মুসলমানের নেতা হওয়ার চেষ্টা করেছে, এবং মুসলমান সমাজও যাদের হাতে নেতৃত্বের ঝান্ডা দিয়েছে- তারা পিছিয়ে থাকা মুসলমান সমাজের জন্য কি দিয়েছে? বা ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের থেকে কি আদায় করাতে পেরেছে?
মমতা ব্যানার্জির দল সাংসদে তিন তালাক বিলে বিজেপির পক্ষে ছিলো, এই আলেম সাজা চমনচুতিয়া গুলো মুখ খুলেছিলো সেদিন মমতা ও বিজেপির সম্পর্ক নিয়ে? CAA/NRC বিলে তৃণমূলের ৮ জন সাংসদ ভোট দেয়নি, এই বাঁদির বাচ্চা গুলো মুখ খুলেছিলো? দীর্ঘদিন সরকারী মাদ্রাসাতে শিক্ষক নিয়োগ না করে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে পঙ্গু করে দিয়েছে RSS এর প্ল্যান মাফিক, এক শুয়োরের বাচ্চা মুখ খুলেছে এ নিয়ে গত ১৫ বছর? রাজ্যে ৩০% মুসলমান, সরকারী চাকরিতে মুসলমানের ছেলে মেয়েরা মাত্র ৪% অংশীদার, কেউ আন্দোলন করেছে বা সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নুন্যতম দিশা দেখিয়েছে? রাজ্যে ৩০% মুসলমান, রাষ্ট্রীয় জনপ্রতিনিধি মাত্র ১২%, এই শুয়োরের বাচ্চারা এই বিষয়ে একবারও আন্দোলন বা প্রতিবাদ করেছে? OBC তে যে মুসলমান সমাজকে ধোঁকা দেওয়া হলো, ওয়াকফের সম্পত্তি কেড়ে নেওয়া হলো, কোন মামার সন্তান ‘আলেম’ আজ যারা তলামূলকে ভোট দিতে আহ্বান জানাচ্ছে, তারা জান লাগিয়ে প্রতিবাদ করেছিলো?
বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬
হুমায়ূন ও হাজার কোটির ডিলের ভিডিও
না মানে আপনি আজকে টের পেলেন যে হুমায়ুন কবির মানুষটা আসলে খারাপ লোক! নতুবা এতদিন উনি নিরীহ নিষ্পাপ ও ‘নির্দোষ’ ছিলেন! না মানে, আপনি যে এমন অপাপবিদ্ধ নির্মলমতি সরল ও কোমল যে, আপনাকে বা আপনাদের তো ডায়পার পরিয়ে রাখা উচিৎ, কখন যে শিশুর মতো হেগে মুতে ফেলবেন প্যান্টে, টেরই পাবেন না। ভাগ্যিস আপনাদের গোপনাঙ্গে বা বগলে লোম গজায়নি, নাহলে এতদিন লজ্জাতেই মরে যেতেন বার চারেক।
মুর্শিদাবাদের হুমায়ুন কবির সম্পর্কে নতুন একটা ভিডিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে আজ। যেখানে ব্যক্তি হুমায়ুনের মুখ দেখিয়ে কিছু বক্তব্য শোনা ও দেখা যাচ্ছে। যার মাধ্যমে তোলামূল ও তাদের পোষিত সংবাদ মাধ্যম প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে, হুমায়ুন বিজেপির কাছ থেকে টাকা খেয়ে তৃণমূলের সর্বনাশ করার চেষ্টা করেছে। সেই ভিডিও অনুযায়ী, মোট ১০০০ কোটি টাকার ডিল হয়েছে, যার মধ্যে আপাতত ৩০০ কোটি টাকা এডভান্স হিসেবে পেয়েছে, বাকিটা ধাপে ধাপে পাবে। এই হচ্ছে মোদ্দা গল্প। ভিডিও সত্য মিথ্যা আমি কিছুই জানি না, জানার আগ্রহও নেই।
মাকুন্দ গোপোনাঙ্গ বিশিষ্ট এলিট আঁতেল সমাজ, নাবালক ও নিতান্ত মূর্খ ছাড়া প্রত্যেকেই জানে হুমায়ুনের সাথে বিজেপির যোগাযোগ গভীর, যেটা কোনো ভাসা ভাসা লিঙ্ক নয়- একদম গলায় গলায় দহরম মহরম। কারণ তিনি হুমায়ুন কবির ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার দরুন, বিজেপির অন্দরমহলে পৌঁছে ‘ভক্ত’দের বাবাদের সাথে এক বিছানাতে শুয়ে এসেছে, এক থালায় খেয়েও এসেছে। এই সবকিছু জেনেও ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস তথা মমতা ব্যানার্জী এই হুমায়ূন কবিরকে জামাই আদর করে ঘরে নিয়ে এসে প্রার্থী করে জিতিয়ে ছিল বিধানসভাতে।
শুধু কী তাই? ২০২৪ এর লোকসভা ভোটের প্রচার চলাকালীন যোগীর বিরোধী মুখ হিসেবে এই হুমায়ূন কবিরকেই তোলামূল ব্যবহার করেছিল। অধীর চৌধুরী আর মোহাম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে নিকৃষ্ট দৃষ্টিভঙ্গিমূলক চূড়ান্ত সাম্প্রদায়িক ভাষণ দিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার দুটি লোকসভা আসনে তৃণমূলের নিশ্চিত পতন বাঁচিয়ে ছিল। সুতরাং, হুমায়ুন নিজে কাঁচা না পাকা খেলোয়ার জানি না, তবে তার যাবতীয় কিছু খারাপ ও সেই সমস্ত খারাপত্বকে তৃণমূল সর্বোচ্চ পর্যায়ে ব্যবহার করেছে নিয়মিত ও দীর্ঘদিন।
প্রয়াত ‘চাণক্য’ মুকুল রায়, বঙ্গ বিজেপির পোস্টারবয় শুভেন্দু অধিকারী, আর বর্তমান পাবলিক একাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান সুমন কাঞ্জিলাল, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, সব্যসাচী দত্ত, অর্জুন সিং, সৌমিত্র খাঁ, অনুপম হাজরা, দীনেশ ত্রিবেদী, জিতেন্দ্র তিওয়ারি, রুদ্রনীল ঘোষ, হীরণ চ্যাটার্জী, তন্ময় ঘোষ, বাবুল সুপ্রিয়, দীপেন্দু বিশ্বাস, কৃষ্ণ কল্যাণী, মুকুটমনি অধিকারী, লাভপুরের মনিরুল প্রমুখেরা আসলে কোন দলের প্রতিনিধি? এরা সকলেই আসলে RSS এর প্রতিনিধি, গোয়ালঘর থেকে যে দোকানে ডিউটি দেয় নাগপুরের হেড অফিস, এরা সেই দোকানে গিয়ে তেড়েফুঁড়ে লেগে পড়ে। এটা কেবল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পর্যায়ের নেতাদের একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা দিলাম, জেলা বা ব্লক স্তরের তালিকা দিলে তো বিয়েবাড়ির মুদিখানার ফর্দ হয়ে যাবে।
অনেকেই পাল্টা প্রশ্ন করবে, সিপিএম থেকেও তো তোলামুল আর বিজেপিতে দলে দলে নেতা গেছে, তার বেলা। হ্যাঁ, ধান্দাবাজ চোরগুলো গেছে তো, অন্দরে এরা ঘুঘুর বাসা বেঁধে ছিল বলেই তো আজ দল ‘শূন্য’। প্রশ্ন হচ্ছে চলে যাওয়া কাউকে কি কাউকে পুনরায় ফেরানো হয়েছে? তোলামুল বিজেপির কথা বাদ দিন, এরা একে অন্যের বমি-গু সব খায়। বাম দল থেকে যারা যায়, সেগুলো হেগে ফেলার মতো। একবার মলাশয় থেকে বেরিয়ে গেলেই সোজা ফ্ল্যাশ করে দেওয়া হয়। এর পর সেই বর্জ্য ভেসে ভেসে কার দুয়ারে গিয়ে উঠল সেটা খুঁজে ফেরা পোষিত মিডিয়া আর দক্ষিণপন্থী দলগুলোর কাজ। একবার হেগে দিয়ে গু খালাস হয়ে গেলে, শতচেষ্টা করেও তা আর পায়ুপথে ফেরত পাঠানো যায় না।
হুমায়ুন নতুন কোনটা করেছে যা মমতা ব্যানার্জী করেনি? হুমায়ুন নতুন দল খুলেই ১৮২টা কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছেন, ঠিক মমতা ব্যানার্জী যেমন ১৯৯৮ সালে ২৯টা লোকসভা আসনে প্রার্থী দিয়েছিল বিজেপির বগলদাবা করে। হুমায়ুনও তাঁর একদা নেত্রীর দেখানো পদাঙ্কই অনুসরণ করেছে মাত্র। ঠিক যেভাবে মমতা ব্যানার্জী দল খোলার প্রায় সাথে সাথে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক পেয়ে গিয়েছিল বিজেপির সৌজন্যে, হুমায়ুনের দলও তেমন ‘বাঁশি’ চিহ্ন পেয়ে গেছে নাগপুরের বংশী বাদকদের বদান্যতায়। হুয়ায়ুন সাহেব কোলকাতার এক ফাইভস্টার হোটেলে ঘাঁটি বেঁধে রয়েছেন বিগত দেড় মাস, ১ মাস আগে থেকে হেলিকপ্টারে চড়ে প্রচারের ঘোষণা করে রেখেছেন- সেদিন গোপনাঙ্গে মাকুন্দর দল টেরই পায়নি এই টাকার আসলে উৎস কোথায়! আজ ভিডিও প্রকাশ পেতে হুমায়ুনের নাকি জাত নষ্ট হয়েছে! বলি তোদের দেয় কে?
একটা ত্রিভুজের তিনটে বাহু, উপরের শীর্ষ বিন্দুতে নাগপুরের গোয়ালঘর, বাকি দুটো বিন্দুর একটা কালীঘাটের বিন্দুপিসি, অন্যটাতে মুরুলীধর স্ট্রিট- এই বৃত্তে প্রতিনিয়ত নিজেদের মধ্যে চলাচল করে সর্বক্ষণ ‘হটলাইন’ রক্ষা করে চলেছে দুই ফুল। এই ‘নাগপুর ট্রায়াঙ্গেল’ অনেক বেশি প্রকাশ্য বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের চেয়ে, কই এই ‘হটলাইন’ গ্রিন চ্যানেল নিয়ে কোনো গোপোনাঙ্গ মাকুন্দো তো কোনো প্রশ্ন তোলেনি।
প্রশ্ন কখন উঠেছিল? তখন যখন মহঃ সেলিমের সঙ্গে দেখা করার পর, হুমায়ুন কবির তার অতীত কৃতকর্মের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিল জনগণের কাছে- তখন সুশীল সমাজ আর আনন্দবাজার যাত্রাদলের বিবেকের ভূমিকাতে অবতীর্ণ হয়ে রীতিমতো গেলো গেলো রব তুলেছিল। সেদিনও গোপনাঙ্গে মাকুন্দের দল বুঝে উঠেনি হুমায়ুনের সাথে বিজেপির সম্পর্ক ছিল। মিডিয়ার নামে পশ্চিমবঙ্গে যে সব গাজনের সঙের দলেরা হাতে মাইকের বুক আর কপালে অণ্ডকোষ নিয়ে সারাদিন দৌড়ে বেড়ায়, তারাও এতদিন হুমায়ুনের সাথে বিজেপির সংযোগ বিষয়ে জানতে পারেনি। আজ ভিডিও লিক হওয়ার পর বুঝেছে, হুমায়ুন নামের টগর বোষ্টমী, বিজেপি নামক নন্দ মিস্ত্রিকে রান্না ঘরে ঢুকতে দিয়ে আসলেই জাত খুইয়েছে।
আচ্ছা ভেবে দেখুন তো, আজকের এই ভিডিও কোন মিডিয়া হাউস এর কাছে না গিয়ে সরাসরি তৃণমূলের কাছে চলে এলো কীভাবে? এর দ্বারা অন্তত একটা জিনিস নিশ্চিত হওয়া গেল যে, ওই চুক্তির মধ্যে একা হুমায়ুনই শুধু নেই, বিজেপির সাথে তাদের সহোদর তৃণমূল কংগ্রেসও একই সাথে উপস্থিত ছিল ঐ আলোচনার টেবিলে। ওই আলোচনার টেবিলের উল্টো দিকে দাঁড়িয়ে ভিডিওটা কে করছিলো তৃণমূল সে বিষয়ে কিছু বলেছে, বলতেই পারতো বিমান বসু, সেলিম, অধীর চৌধুরী কিম্বা রাহুল গান্ধী নিদেনপক্ষে শুভঙ্করের নামও নিতেই পারতো। ট্রুথ সোশ্যালও ফলো করলাম, ট্রাম্পের তরফেও কোনো ক্রেডিট দাবী করে পোষ্ট আসেনি। কোন গ্রীন চ্যানেলে ভিডিওটা তৃণমূলের কাছে চলে এলো, প্রশ্ন তো এটাও!!
হুমায়ুন সাহেব দাবী করতেই পারেন যে ভিডিওটা AI জেনারেট, কারণ বিষয়টাকে আইনি দীর্ঘসূত্রিতার মাঝে একবার ফেলে দিতে পারলে বিষয়টা সময়ের কবরে দাফন হয়ে যাবে, তারপর মানুষের আর মনেই থাকবে না। সারদা কেসে যেখানে হাজার কোটি টাকার নয় ছয় হয়েছিল সরাসরি তৃণমূলের নেতৃত্বে, আজ তার মালিক জামিন পেয়ে গেলেও কোথাও কোনো সামান্য বিক্ষোভ প্রদর্শনটুকু হয় না- সেখানে ১০ বছর পর যখন এই ভিডিওর সত্যতা সামনে আসবে ল্যাব থেকে, ততক্ষণে মানুষ ভুলেই যাবে কীসের ভিডিও ছিল ওটা।
আসলে জাপানি তেল প্রয়োগ করেও কোনো মিডিয়া হাউস এখন অবধি পশ্চিমবঙ্গের এই ভোটের বাজারে তৃণমূল-বিজেপি বাইনারি সেট করতে পারেনি। তাই এতদিন বিজেপির সাথে ঘর করে চলা তৃণমূলের এই সতীপনা, রাজ্যের সাধারণ জনগণ- বিজেপির সাথে গোপন চুক্তিতে বাইনারি সৃষ্টির প্রচেষ্টা বলেই ধরে নিয়েছে। অনেকে ভাবছে মুসলমান সমাজে বিপরীত প্রতিক্রিয়া হবে হুমায়ুনকে নিয়ে, বরং উল্টোটা হবে। তার যে সব প্রার্থীরা ও সমর্থকেরা দোলাচলে ছিলো যে- বুথ স্তরে তোলামুলের সাথে লড়তে গেলে একটা তো পুঁজি দরকার, হুমায়ুন সাহেব সেটা দিতে পারবেন তো? হুমায়ুনের যারা ভোটার বা সমর্থক ও প্রার্থী তাদের ক্লাসও তো তাদের নেতার মতোই, একটা ভিডিও দেখে তারা কেউ পালাবে না, বরং উল্লসিত হবে যে এত বিপুল পরিমান টাকা আসছে। এরা সকলে আজ আশ্বস্ত হলো যে, ‘নাহ, হুমায়ুন সাহেবের কাছে ‘মাল’ আছে, অতএব, লড়াইটা দিতে পারবে কাঠে কপাটে’।
আরেকটা জিনিস ভুলে যাচ্ছে পাব্লিক তথা বাম সমর্থকেরা, হুমায়ুন তৃণমূলের বাক্স থেকে কিছুটা মুসলমান ভোট কাটবে, এটাকে ধরে নিয়েই তো বামেরা কিছু আসন পেতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে সংখ্যালঘু বেল্টে। পাশাপাশি তোলামুলও এমন খেঁকি কুত্তার মতো চেঁচাচ্ছে মুসলমান ভোট চলে যাওয়ার আতঙ্কে! কারণ এই সেই সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক, যাদেরকে দুধেলগাই সাজিয়ে মমতা ব্যানার্জী ওনার পৈতৃক সম্পত্তি ভেবে রেখেছিলেন। বিজেপির ঔরসে জন্মানো তৃণমূল কংগ্রেস, আজ বিজেপির সাথে পরকীয়া করতে গিয়ে ধরা খাওয়া হুমায়ুনের জাত নিয়ে প্রশ্ন তুলছে! তৃণমূলকে শুধাচ্ছি আপনাদের যে জন্ম হয়েছিল, সেই জন্মদাতা বাপের নামটা কী?
তবে কী জানেন, দিনের শেষে জয়ের হাসিটা কিন্তু আজ হুমায়ুনই হাসল। এই ভিডিওর কল্যাণে আবার ফোকেটে একটা গোটা দিন রাজ্যের সংবাদ শিরোনামে তিনি রয়ে গেলেন। ভোটের বাক্সে তিনি সত্যিকারের হ্যামলিনের ‘বাঁশিওয়ালা’ হয়ে উঠতে পারেন কিনা ৪ঠা মে তার জবাব মিলবে।
বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬
আমেরিকা ইরানের মার থেকে পালিয়ে বাঁচল
Dickhead USA
Democracy
১টা নার্সিসিস্ট উন্মাদ ধর্ষক ক্রিমিনাল, যে সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি দেয় ২ টাকার মাতাল গুন্ডার মত, তাকে যারা আঁটকাতে পারেনা- মুখে করে দিই তাদের 'মহান' রাষ্ট্র আর তাদের তথাকথিত ‘বিশ্বমোড়ল’ সিস্টেমের উপর। USA নামের গোটা রাষ্ট্রটা আসলে মানসিকভাবে জঙ্গি আর হারামের লুঠের টাকায় পুষ্ট, মোটামুটিভাবে প্রতিটা বেজন্মা আমেরিকানই যুদ্ধাপরাধী, শিশু ধর্ষক এপস্টিন ক্লাস ওদের রক্তে বইছে। সভ্যতার স্বার্থে যেকোন মূল্যে আমেরিকার বিনাশই একমাত্র বৈশ্বিক চাহিদা এই মুহুর্তে, এমন উদ্ধতস্বভাব অহংকারী বর্বর যারা- ইতিহাস কখনও তাদের ক্ষমা করেনি।
পাকিস্তান নাকি যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করিয়েছে! চাকরবাকর নাকি মালিককে অনুরোধ করছে! আসলেই মালিকের হুকুমেই চাকরের এই অনুরোধ। দুশ্চরিত্র মনিব তার লুচ্চা চাকরকে দিয়ে ধুতি পরিয়ে নিচ্ছে। পাকিস্তানের কানে বন্দুক রেখে সিজফায়ার করিয়ে আমেরিকা যুদ্ধ থেকে পালিয়ে বাঁচল। ইরাণ ট্রাম্পের এমন পায়ুমর্দন করেছে যে গোটা স্ট্যাচু অফ লিবার্টি সেখান দিয়ে ঢুকিয়ে কিডিনির ব্যালকনিতে সাজিয়ে রাখা যাবে। আপনি বরং মলদ্বারে গরম বোরোলিন দিয়ে নিজের বিজয় ঘোষণা করুন- পিছন মারতে দিলেও, মুখ মারতে দেননি, এর থেকে বড় বিজয় আর কিছু হতে পারে না। চাঁটা ও চোষার জন্য 'আমি' আপনার চাকর পাকিস্তান আছি তো। ফলত, বিশাল ধমকে চমকে স্বঘোষিত বিশ্বনেতা- একতরফা সিজফায়ার হেগেছে। আসলে ৪ তারিখের ব্যার্থ বিমান অভিযান, আমেরিকাকে মানসিকভাবে নির্বীজ খোজা করে দিয়েছে, তাদের ওউকাতে এনে দিয়েছে। বুড়ো ষাঁড় ট্রাম্প কি এবারে শাহবাজ শরীফ আর আসিম মুনিরের জন্য শান্তিতে নোবেলের জন্য নাম প্রস্তাব করবে?
সেনা উদ্ধারের নাটক করে, ইরানের ইউরেনিয়াম হরণের স্টান্টবাজি করতে গিয়েছিল 'মাদুরো অপহরণের' স্টাইলে। প্রায় ২ ডজন নানান জাতের জঙ্গি জাহাজ খুইয়ে, কয়েক ডজন পাইলট আর কমান্ডো খুইয়ে এপস্টিনের সেনারা আরো উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। ল্যাজেগোবরে শব্দটা 'ইস্পাহানে ভরাডুবি' শব্দ দিয়েও আগামীতে বোঝানো যেতে পারে। সব মিলিয়ে আমেরিকার হাতে কেবল লজ্জা, হতাশা, শোচনীয় পরাজয় আর বেধড়ক মার খাওয়ার অপনান, কলঙ্কিত ফক্কা।
ইরানের
সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের একটি ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।
1. ইরানের বিরুদ্ধে অ-আগ্রাসনের (non-aggression) মৌলিক অঙ্গীকার।
2. হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
3. ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম মেনে নেওয়া।
4. সব ধরনের (primary ও secondary) নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।
5. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডের সব রেজুলেশন বাতিল।
6. ইরানকে ক্ষতিপূরণ প্রদান।
7. অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধবাহিনীর প্রত্যাহার।
8. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিশেষ করে “ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স”-এর বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধ।
এটা কার্যকর হলে দৈনিক
১৩০টি জাহাজ যদি হরমুজ দিয়ে অতিক্রম করে, ১৪ দিনে তাদের GDP এর সমপরিমান অর্থ সংগ্রহ
করে নেবে ইরান। খাটে হোক বা মাঠে, টিকে থাকার
নামই বীরত্ব। ১ মিনিটে শীঘ্রপাত- সে তো ট্রাম্পের কাজ। একবার
নেতিয়ে পরলে যন্ত্র আর দাঁড়াবেনা। আগে ট্রাম্প একতরফা সিজফায়ার ঘোষণা দিয়েছে। সে
জানে তার কথার ১ পয়সা ভ্যালু নেই, ফলে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর
অফিসিয়াল বিবৃতি পোষ্ট করে নিজের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রমান দিয়েছে। একে বলে চুড়ান্ত
হ্যাটা করা। আমাদের নপুংসক বিশ্বগুরু যা করতে পারেনি, ট্রাম্প
একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষনা করেছিলো পাকিস্তানের বিপক্ষে। সেই উদ্ধত ট্রম্পকে শিক্ষা
দিয়ে দিলো ইরান। হাঁটু মুড়ে 'প্যাহেলে আপ' সিজফায়ার ঘোষণা। মারের চেয়ে বড় ওষুধ আজও নেই। আর নপুংসক এর বিরুদ্ধেই
আমেরিকার যাবতীয় দম। পুরুষাকার কারো সামনে পরলে যে আমেরিকাও প্যান্টে হাগে- তাই
ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হয়ে গেলো। ট্রম্পের ট্যারিফ যুদ্ধ আর পিস কমিটি আপাতত হরমুজ
প্রনালীর গভীরে তলিয়ে গেছে। আমাদের বিশ্বগুরুর ফাদারল্যান্ড তো কোমায়, ফাদারের বেজন্মা বাচ্চারা কি নতুন বাপ বানাবে ইরানকে?
আরবের
মোল্লা রাজা যেগুলো মার্কিন অন্ডোকোষে অবাঞ্চিত চুলের মত লেগে রয়েছে আমেরিকাকে 'খোদা' মেনে, কারন আমেরিকা তাদের রক্ষাকর্তা এটাকেই তারা বিশ্বের একমাত্র
সত্য মানে। যাদের ভূমি ও আকাশ ব্যবহার করে জায়োনিষ্ট এপস্টিন ক্লাস এই বর্বরতা
চালাচ্ছে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে- তাদের প্রাসাদ গুলো আজও কেন অক্ষত আছে জানিনা।
কুয়েত,
আমিরাত, সৌদি আর জর্ডন-
চারটে হারেমে চারটে মিসাইল, যুদ্ধ ৮০% শেষ হয়ে
যাবে ওখানেই। প্রতিটা হারেমে ইহুদী জায়নিষ্ট বীর্যজাত বেশ্যার বাচ্চারা জন্ম
নিয়েছে,
যারা এপস্টিন বাহিনীর খাদেম হিসাবে সেবা করে চলেছে দশকের পর
দশক।
আমেরিকা যে
আসলে একটা ফাঁপা মাল, যতটা গর্জায় ভেতরে
তার ৫% ও নেই, গত ৮-৯ দশক ধরে লুঠ রাহাজানি করে
কামানো মাল দিয়ে যে হারামের সাম্রাজ্য বানিয়েছে, সেটা দুম করে কাল সকালেই ভেঙে যাবেনা। কিন্তু সেটাকে স্লো পয়জন করেও যে মেরে
ফেলা যায়,
তার হাড়ে মজ্জায় যে ঘুণ ধরিয়ে তার কাঠামোকেই পচিয়ে দেওয়া
যায়- ইরান রোজ সেটা প্রমান করে দিয়েছে।
ওদের যে 'মানবিকতার' দোকান, তার মুখোশ ছিঁড়ে
খুলে ফেলে, ওরাই যে আসল সভ্যতা ধ্বংসের কারিগর, বিশ্বজুড়ে প্রতিটা জঙ্গিগোষ্ঠীর উত্থান ও তাদের লালনের
মাধ্যমে গত ৮০ বছর ধরে USA যেটা করে এসেছে
সভ্যতা বিকাশের নামে- সেটাই আজ পিডো-ষাঁড়টার মুখ দিয়ে স্বীকার করিয়ে নিচ্ছে ইরান।
আমেরিকা তার ভয়ের দোকান টিকিয়ে রাখতে শালীনতার সমস্ত মাত্রা অতিক্রম করে পাশবিক
সত্তাকে তার আইডেন্টিটি হিসাবে বিজ্ঞাপিত করে যাচ্ছে।
চাপানো
যুদ্ধে অস্ত্র বিক্রি, অন্যের প্রাকৃতিক
সম্পদ দখল- সবটাই ছিলো ভয়ের সাথে 'ডিল' করে। আমেরিকা মানে তো একটা হিমশীতল ভয়ের নাম 'ছিলো', সেই ভয় আজ নিজেই 'the fucking
joke' এ পরিনত হয়ে গেছে, সৌজন্যে ইরাণ। ভয়ের ঘরে আজ ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছে পারস্য সভ্যতা। এই কারনেই এপস্টিন
বাহিনী মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে আমেরিকার মুরোদ ওই হম্বিতম্বি আর চারটে ব্রিজ ভাঙা
অবধিই,
নিউক হেড ব্যবহার করতে গেলে- আমেরিকার অন্তত ১২টা শহরে icbm তাক করা রয়েছে বিশ্বের নানান প্রান্ত থেকে। আর মার্কিন আকাশ
প্রতিরোধী ব্যবস্থা যে রথের মেলার পাঁপরভাজা - সেটা তো ইরানই প্রমান করে দিয়েছে
আরেক বিশ্বছেঁড়া কমান্ডার ইজরায়েলে। আয়রণ ডোম আর মোসাদ- মিথ ফিনিস।
তাই
পারমাণবিক হামলা অন্তত এই পর্যায়ে কিছু হবেনা বলেই আমার বিশ্বাস, বরং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাকচারাল এলাকাতে হামলা হতে
পারে তেড়েফুঁড়ে- আসলে আমেরিকার নামে চলা মধ্যপ্রাচ্যের নানান প্রতিষ্ঠানগুলোর ডেথ
সার্টিফিকেট লিখে দিচ্ছে নিজেরাই। এভাবেই আরব এলাকা থেকে রিজিম চেঞ্জ হচ্ছে, USA হেজিমনির রিজিম। ডলার রিজিমের পতন চোখের সামনে ঘটতে দেখছি-
লাইভ।
ইরান, মার্কিন পরাশক্তি নামের সাদা হাতিটাকে, খেঁকি কুত্তার পর্যায়ে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে পাড়ার মোডে।
রাজকীয় তর্জন গর্জন ভুলে, তাদের প্রেসিডেন্ট
এখন কাঁচা খিস্তিখেউর সহযোগে তার মিত্রদের অভিসম্পাত করছে, কখনও বালছাল গু-গোবর লিখে এ্যাটেনশন ক্রিয়েট করার চেষ্টা
করছে তো কখনও ফুটো মস্তানদের মত নির্লজ্জ হুমকি দিচ্ছে। মোদ্দাকথা ছালউঠা কুত্তার
মত ভৌ ভৌ করছে। যুদ্ধবাজদের
সীমাবদ্ধতাগুলো ভয়াবহ প্রকাশ করে বিশ্বের 'বাপ' সাজার গল্পের নটে গাছ মুড়িয়ে দিয়েছে ইরান।
তাদের মিথ
ছিলো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, থাড ইন্টারসেপ্টর
আর প্যাট্রিয়টস সিস্টেম- মোটামুটি এদের ব্যবসা নেই করে দিয়েছে। যাবতীয় স্টিলথ
বিমানের ধাজিয়া উড়িয়ে দিয়েছে; লকহিড মার্টিন আর
বোয়িং,
এদের সক্ষমতা- মিথ থেকে সরাসরি 'নেই'। এক ইরান যদি এই
করে দেয়,
চীনের সাথে যদি যুদ্ধ লাগে তো আমেরিকা প্রথম রাতেই নকআউট
হয়ে যাবে একপ্রকার।
তাদের মিথ
ছিলো যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী এবং রাডার যুক্ত সামরিক ঘাঁটিগুলো। ডেল্টা ফোর্স, মেরিন কপস, নেভি সিল ইত্যাদি, এগুলোর এমন ভিখারির দশা করে দিয়েছে যে, এই রণকৌশল তথা সিস্টেমের কার্যকারিতা নিয়ে আজকের বিশ্বে
প্রশ্ন উঠে গেছে। ইরানি হামলার যুদ্ধ জাহাজ কনসেপ্টটাকেই 'স্ক্র্যাপ' বানিয়ে দিয়েছে। হলিউডের সিনেমাতেই আমেরিকা একমাত্র অপরাজেয়, বাস্তবে মাছিমারা পালোয়ান।
আসলে তাদের মিথ গচ্ছিত ছিলো 'পেট্রোডলারে'। ইরান নামের কুড়ুলটা এইখানে পরেছে। আরবের তেল গ্যাসের টাকা লুঠের মধ্যে দিয়েই তথাকথিত 'সুপার পাওয়ার' আজ সেই তেল-গ্যাসের বধ্যভুমিতে বন্দি। ৮০ বছরের পাপ, ৩৭ দিনে শেষ হবেনা। আমেরিকা নামের অভিশাপকে বিশ্ব থেকে মুক্ত করতে, ইরান নিজেই একটা কামিকাজি ড্রোন হিসাবে সমগ্র অত্যাচারিত বিশ্বের পক্ষ থেকে আবির্ভূত হয়েছে। ইরাণের কাছে গোটা বিশ্ব ঋণী হয়ে গিয়েছে। তাই, ইরানের শাসকদের হরেক দোষ থাকা সত্বেও সে ফুলের মত পবিত্র ও সুন্দর হয়ে উঠেছে, কুৎসিত আমেরিকার বিপক্ষে বীরবিক্রমে দাঁড়িয়ে লড়াই দেওয়ার জন্য।
গণতন্ত্রের ধজাধারী আমেরিকা এবং তাদের সংস্থা মেটা আসলেই যে জায়নবাদী আর মুক্ত মতাদর্শ ও গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধকারী - তা রোজ প্রমান হচ্ছে। ইজরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো কার্টুন, কোন ফ্যাক্ট যুক্ত পোষ্টারকে সে পোষ্ট করতেই দেবেনা। এভাবে সেন্সর করে ইজরায়েলকে টিকিয়ে রাখা যাবে নাকি মেটা নিজে টিকবে? কোনো না কোন ইরাণ এসে যেদিন মেটার গাঁড়ে মিসাইল গুঁজে দেবে, ইজরায়েল বাপের মতই তখন সহানুভূতি ভিক্ষা ফেরি করতে হবে ধ্বংসস্তুপের ছবি দেখিয়ে। কমিউনিটি স্ট্যান্ডারের নামে এপস্টিন বাহিনী আসলে ইহুদী স্ট্যান্ডার্ড স্থাপনা করেছে।
ইরান আসলে
একটা লুঠেরা খুনি দুর্বৃত্ত অসভ্য ন্যাংটা সভ্যতার বিষ দাঁত উঁপরে নিচ্ছে, নিজে সেই বিষ হজম করে। বিশ্ববাসী এবারে নিশ্চিন্ত হতেই পারে, কিছু মাসের মধ্যে ৫০ টি উত্তর আমেরিকান রাষ্ট্রের ইস্কুলের
পাঠ্য ইতিহাসে লেখা থাকবে- আমরা এককালে USA নামের বর্বর দেশের অংশ ছিলাম। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়ে দিয়েছে- মার্কিন পক্ষের প্রতি পূর্ণ অবিশ্বাস নিয়ে
আগামী শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, এই বিষয়ে
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হবে।
সাম্রাজ্য
পতনের শব্দ হয় না।
বাংলার লজ্জা বাঙালীর লজ্জা
বাংলার লজ্জা, বাঙালির লজ্জা আজকে বাংলাতে একটা শার্প শ্যুটার অব্দি নেই, যাকে সুপারি দিয়ে বাঙালি একটা রবীন্দ্র/নজরুলের ঘরানায় কাব্...
-
(১) জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তাল...
-
ছোটবেলায় বাবা বলতেন "শাগ খেলে বাঘের বল"। যদিও তিনি ওটাকে শাকই বলতেন আমরা কচি কানে বাঘের সাথে মিলিয়ে শাগ শুনতাম। এহেন পরিস্থ...


