বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য গতিপথ ও নতুন বিশ্বব্যবস্থা


বিশ্ব রাজনীতির এক যুগান্তকারী সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা। চলমান পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী জিওপলিটিক্সের স্নায়ুতন্ত্রের DNA পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে। এটা বাষ্প-জল-বরফের মতো কোনো অন্তহীন পরিবর্তন চক্র নয়, এটা কাঠ পুড়ে ছাই হওয়ার মতো, যেখানে ছাই কখনই আর কাঠে রুপান্তর হবে না। এটা পক্ষ নেওয়ার সময়, আমি কোন দলে সেটা বেছে নিতে হবে। রাষ্ট্রের পরিচালকেরা তারা নিজের মতো করে বেছে নেবে, অধিকাংশ জনগণ যে পক্ষে থাকবে, রাষ্ট্রকেও সেই পক্ষে যেতেই হবে নতুবা জনগণ রাষ্ট্রের নের্তৃত্বেরই পরিবর্তন ঘটিয়ে দেবে ভোটের মাধ্যমে।

আমাকে অনেকে দাগিয়ে দিচ্ছে, আমি ইরানকে সমর্থন করছি কারণ আমি নিজে মুসলমান বলে। অথচ বাংলাদেশে যখন জুলাই বিপ্লবের সময় আওয়ামি লিগ মার খাচ্ছিলো, একটাও ভারতীয় মুসলমান বাংলাদেশের কোনো মুসলমানের পক্ষ নিয়েছিলো? RSS এর মতো উগ্র ধর্মান্ধ জম্বিদের রাজত্বে এটা বাক্তিগত বিড়ম্বনার কারণ না হলেও, নিয়মিত কটুক্তির সামনে পড়তে হয়, এবং আমি নিশ্চিত এটা শুধু আমাকে নয়, আমার মতো প্রতিটা মুসলমান সহ অসাম্প্রদায়িক হিন্দু ভাই বোনেদেরও হয়রানির শিকার হয়ে হয় RSS এর অনুগামীদের কাছে। বস্তুত, হিন্দুদের সাথে ইহুদিদের ধর্মগত কোনো মিল নেই, তবুও রাজ্যে বা দেশের বড় অংশের হিন্দু ইরানের বিরুদ্ধে। কারণ এরা আমেরিকাকে মানসিকভাবে সমর্থন করছে শুধুমাত্র ইসলামোফোবিয়ার কারণে, যেহেতু ইরান মুসলমান রাষ্ট্র।

আমাদের মতো কিছু মানুষের চরিত্র বড় অদ্ভুত। দেশজ রাজনীতিতে আমরা সিপিএম এর সমর্থক, যারা রাষ্ট্রের খাতায় শূন্য। বিশ্ব রাজনীতিতে আমরা পুতিনের ফ্যান বয়। আমরাই একসময় ভিয়েতনাম ছিলাম, আজ আমরা ভেনেজুয়েলা, আমরা সোমালিয়া, আমরা তালিবান বিরোধী কিন্তু আমরা আফগানিস্তানের সাধারণ নাগরিকের পক্ষে, আমরা কিউবা, মরোক্কো, বসিনিয়া, আর্মেনিয়া, ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া, গাজা, বুরকিনা ফাসো, এমনি করে সেই সব দেশের পক্ষে মানসিকভাবে অবস্থান করি, যারা কোনো না কোনো শক্তির হাতে অত্যাচারিত। এই দেশগুলোর সাথে আমাদের কারও কোনো সম্পর্ক নেই, না কখনও সেখানে গেছি; না সে সব দেশের কাউকে চিনি, কিম্বা তারা আমাদের কাউকে চেনে। কোনো ব্যক্তিগত বা অর্থনৈতিক লেনদেন নেই, তবুও তারা আমার আপন, কারণ তারা অত্যাচারিত। ক্ষমতার দিকে থাকাটা খুব সহজ, চাটুকারিতা আর উপস্থিতি থাকলে পকেটেও লক্ষীলাভও ঘটে। তবুও আমরা কেউ ক্ষমতার পদলেহনে নেই।

হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ এমন মানসিক সংস্থাপনায় বসবাস করেন, যারা গোটা বিশ্বজুড়ে যেখানে যে লোকটা অত্যাচারিত, মানসিকভাবে আমরা তার আত্মীয় ভাই-বেরাদার হয়ে যায়; নিজেদের রিলেট করতে শুরু করি; তাদের ধর্ম কী, জাত কী, বর্ণ কী কিছুই জানি না, জানতেও চাইনি কখনও। আমরা যতটা হলোকাস্টকে ঘেন্না করি, ঠিক ততটাই ঘেন্না করি জায়নবাদকে, সমান ঘেন্না করি আইসিস, আলকায়েদা ও RSS কে। আমরা তোজোকে ঘেন্না করি আবার হিরোশিমা নাগাসাকিতে পরমাণু বোমা ফেলাটাকেও পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্টতম পাপ মনে করি। এমনকি আমরা জেলবন্দি ইমরান খানের পক্ষে, ইসরাইলের পার্লামেন্টে কোন বামপন্থী সাংসদ জিতে এলে আমরা তার পক্ষে

আমেরিকান নাগরিক জর্জ ফ্লয়েডের পক্ষে যেমন আমরা ছিলাম, তেমনই ইরানের আয়াতল্লার বিরুদ্ধে গিয়ে মাসা আমিনির পক্ষ নিয়েছিলাম আমরা। আজকের ইরান আমেরিকার প্রেক্ষিতে, তখন আমাদের পক্ষ বদলে গিয়েছিল, সেদিন আমরা আমেরিকার সাধারণ মানুষের পক্ষে আর ইরানের খামেইনির বিরুদ্ধে ছিলাম। আমরা উন্মত্ত শ্রীলঙ্কার জনগণের পক্ষে ছিলাম, আবার ভারতবিরোধী বাংলাদেশী উন্মত্ত জনগণেরও বিপক্ষে ছিলাম, আমরা ইউনুনের নাবালক সমন্বায়ক সরকারের বিপক্ষে ছিলামআমরা নেপালে জেঞ্জিদের পক্ষে ছিলাম না। আমরা দেশ জুড়ে কৃষক আন্দোলনের পক্ষে, আমাদের ধরে পেটানো তৃণমূলের দলদাস সেই DA না পাওয়া পুলিশটার ন্যায্য দাবীর পক্ষে, আমরা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ করা ‘খাঁটি ভারতীয়’ আদানির বিরুদ্ধে। আমরা দেশজ রাজনীতিতে যেখানে বামেরা নেই সেখানে কংগ্রেসের পক্ষে। বিজেপির তুল্যমূল্য বিচারে আমরা বাজপেয়ী জামানার পক্ষে, আমরা আদবানীর সাথে হওয়া দুর্ব্যবহারের বিপক্ষে।

আমরা সেই অর্থে পাল্টিবাজ ধান্দাবাজ হতে পারিনি। আমাদের বন্ধু বৃত্তের অধিকাংশের বয়সটা ৪০ পেরিয়েছে ইতিমধ্যে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে তো দেখতে হয়, নিজেকে শুধাতে হয়- আমি আসলে কে! আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে থাকা একটা জীবন্ত সত্ত্বা নাকি লোভের পুঁজে ঠাসা মৃত লাশ? আমি সিপিএম নই, আমি কমিউনিজমের ভাবধারায় বিশ্বাসী। আমি কাঠ মোল্লার অন্ধ বিশ্বাসী ফতোয়ার বিপক্ষে কোরানকে শাশ্বত মানা মুসলমান, আমি কখনই নাগপুরের গাইডলাইন মেপে ‘গুড মুসলিম’ নই, বরং আমি দেশের সংবিধানকে সর্বোচ্চ সম্মান করা এভং অন্তরের ভালোমন্দ বোধের প্রতি দায়বন্ধ- একজন ভারতীয় মুসলমান।

মানুষের মনে যদি বিতৃষ্ণা থাকে সেটা কোনো না কোন দিকে, কখনো না কখনো প্রকাশ পাবেই। সেটা ঘটি বাঙাল ইস্যু হতে পারে, হিন্দু মুসলমান ইস্যু, নারী পুরুষ ইস্যু, ধনী-দরিদ্র ইস্যু অথবা এরকম অসংখ্য ছোট বড় ক্ষেত্রে এটা প্রকাশ পাবেই পাবে। তেমনই মুসলমানেদের মাঝেও শিয়া-সুন্নি একটা প্রভেদ আড়াআড়ি ভাবেই রয়েছে। যেহেতু এই যুদ্ধটা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, তাই পৃথিবীর সকল সুন্নিরা সমস্ত রকম প্রভেদ ভুলে শিয়াদের পাশে দাঁড়িয়েছে, দু’চারজন দালাল ব্যাতিরেকে। দেশের শাসক যে দলের খুশি হোক, তার যা খুশি বিদেশনীতি হোক, পৃথিবীর ৮০% মানুষ প্রকাশ্যে বা গোপনে তারা ইরানের সমর্থক। আসলে এরা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে ঘৃণা করে বলে ইরানের উপরে এদের সমর্থন পুঞ্জীভূত হয়েছে, ইরানকে ভালবেসে নয়।

শুধু মুসলমান বলে যদি কেউ ইরানের প্রতি সমর্থন দিয়ে থাকে, তাহলে ইজরায়েল আমেরিকার দিকে বহু লোকের সমর্থন শুধুমাত্র মুসলমানের প্রতি তীব্র ঘৃণা থেকে ইরানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে- এটাকে কীভাবে অস্বীকার করবেন? তুল্যমূল্য আলোচনার টেবিলে, দুটো পয়েন্টই একসঙ্গে এই রূপে হাজির করতে হবে। ধর্মান্ধ মৌলবাদ মানে তো শুধু তো র‍্যাডিক্যাল ইসলাম নয়, প্রতিটা ধর্মকেই সেক্ষেত্রে আতশ কাঁচের নিচে নিয়ে আসতে হবে, তবে সত্য প্রতিষ্ঠা পাবে।

পরিস্থিতিকে সময়ের মানদণ্ডে তুল্যমূল্য বিচার করতে হবে পক্ষপাতমুক্ত হয়ে। আমাদের ভারত সরকারকেও সময়ের নিক্তিতে মেপে দেখতে হবে, নতুবা আমাদের জাতির ভবিষ্যৎ ছবি পরিষ্কার হবে না।

বিজেপি নিশ্চিত সমস্যার, কিন্তু বিশ্বগুরুকে মুজরোওয়ালি সাজিয়ে গুজরাত কার্টেল যেভাবে লুঠ করছে, উলঙ্গ হয়ে আমেরিকা CIA এর দালালি করছে, এই গুজরাত কার্টেল বিজেপির চেয়েও ১ কোটি গুণ বেশি ক্ষতিকর ও বিনাশকারী। বাজপেয়ীও বিজেপিই ছিলেন, তাকেও আমরা খারাপ বলতাম ওনার সময়ে। বিশ্বপ্রভুর নের্তৃত্বে বর্তমানে বিজেপির নামে এই গুজরাত কার্টেল না আসলে কী, বাজপেয়ীকে এতোটা উদার, দুরদৃষ্টিসম্পন্ন নিরপরাধ মনে হতো? আমরা মনমোহন সিংকে পাপেট বা মৌনমোহন বলতাম, আজকে বিশ্বগুরু না এলে আসল পাপেটের সংজ্ঞা জানতাম কি? আজকের দিল্লি সরকারকে আমেরিকা রোজ বলাৎকার করে দিলেও, এদের এতটুকু গাটস নেই আমেরিকার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে পারে; অন্যের বিরুদ্ধে না হোক নিদেনপক্ষে নিজেদের স্বপক্ষেও এরা স্ট্যান্ড নিতে পারে না। আমেরিকার দিকে ন্যূনতম চোখ তুলে তাকাতে পারেনা এরা। ৯৯% মিডিয়াকে ভেড়ুয়া দালাল বানাবার পরেও যার এতটুকু সাহস ও আত্মবিশ্বাস নেই সাংবাদিক সম্মেলন করার, তার চেয়ে বড় পাপেট কে? রাহুল গান্ধীর সাথে রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও সে বিশ্বগুরুর মতো মিথ্যাবাদী, দুশ্চরিত্র, লম্পট, হিংস্র, নির্লজ্জ, বেহায়া, ধর্মান্ধ, গণহত্যাকারী, নিরক্ষর নার্সিসস্ট নয়।

এই মুহূর্তে দেশের মূল সমস্যার নাম তাই নরেন্দ্র মোদী। নপুংশক, ভীতু, দুর্বল, অসুস্থ মানসিক বিকারগ্রস্থ এই বৃদ্ধ, এমন একটা ব্যক্তি, যে প্রশ্নকে ভয় পায়, জনগণকে ভয় পায়, পাছে জবাব দিতে হয়! এনাকে আমাদের দেশের পুঁজিবাদী লুঠেরা গোষ্ঠী ‘সাক্ষীগোপাল’ নেতা বানিয়ে রেখেছে। ট্রাম্পও উন্মাদ মেগালো ম্যানিয়াক, তবুও  সে দৈনিক সাংবাদিক ফেস করছে। আমাদের প্রভু সেই মুরোদ টুকু রাখেন না, অশিক্ষা ও মূর্খামি এনার পুঁজি। এনাকে দিয়ে বিশ্বরাজনীতির মঞ্চে ভারতীয় হিসাবে অপমানিত আর লঞ্চিত হওয়ার বাইরে কিছুই মেলেনি আজ অবধি, মিলবেও না।

গ্যাসের দাম ৫০০০ টাকা হোক, ডিজেল ২০০০ টাকা লিটার হোক, ভক্তরা না হয় ইট চিবিয়ে খেয়ে সহ্য করে নেবে, যারা সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষ- সেই ভারতবাসীদের ভবিষ্যৎ কী?

নরেন্দ্র মোদীর এই শাসনকাল দেশের ভিতে ঠিক কতটা ক্ষতি করেছে, যারা বেঁচে থাকবে আগামী ১৫ বছর পর তারা দেখে যাবে। তৎকালীন বিশ্লেষকেরা ডেটা দিয়ে প্রমাণ করবে, যখন গোদী মিডিয়া সময়ের চিতায় পুড়ে ভষ্ম হয়ে যাবে, দুন্দুভি নাগাড়া বাজিয়ে মোদীর ব্যর্থতাকেই সফলতা হিসাবে মিথ্যা প্রচারের ফানুসে ঢেকে দেবে না। ব্রিটিশরা প্রথম ১০০ বছরে যা লুঠ করেনি, অঙ্কের হিসাবে মোদীর ১২ বছরে জামানাতে আদানি আম্বানি ও এমন কর্পোরেট হাঙরেরা তার চেয়ে বেশী লুঠ করেছে আমাদের জনগণের সম্পদ। বুকে হাত রেখে বলুন, গত ১২ বছরে মোদীর সরকার আপনাকে কোন বেনিফিট দিয়েছে?

সংবিধানের প্রতিটা কাঠামোকে এরা দুমড়ে মুচড়ে তুবড়ে দিয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত বিশ্বাসের ভিত্তিতে রায় দিচ্ছে, বিচারপতিরা অবসরের পরদিনেই বিজেপি জয়েন করছে। বিজেপির মুখপত্র সরাসরি বিচারকের আসনে আসীন হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের কথা নাই বা বললাম, এদের চেয়ে নিকৃষ্ট আর কিছু পৃথিবীতে কিছু আছে কিনা সেটা গবেষণার বিষয়, এরা সরকারকে প্রশ্নের বদলে ক্ষমতার চাটুকারিতা আর দালালি করে, বিরোধীদের টার্গেট করে তাদের malign করে প্রশ্ন করে। নির্বাচন কমিশন ভোট চুরিতে বিজেপিকে সাহায্য করে, আমাদের মতো ৬০ লক্ষ মানুষকে জিম্মি করে রাখে যারা অধিকাংশই মুসলমান, যাতে বিজেপিকে ক্ষমতার কাছাকাছি এনে দেওয়া যায়। আজকের ভারতে সবচেয়ে যে সরকারী সংস্থাকে মানুষ অবিশ্বাস করে সেটা নির্বাচন কমিশন, আর মিথ্যাবাদী গবেট দালাল বললেই চোখের সামনে যাদের ছবি ভেসে উঠে, তারা দেশের মিডিয়া হাউজগুলো। বিজেপির মুখপাত্র রাজ্যপাল হয়ে যাচ্ছে আর রাজ্যপাল বিজেপির মুখপাত্র হয়ে যাচ্ছে গত ১২ বছরে মোদীর সরকার এটাই করেছে, গণতন্ত্রের স্তম্ভগুলোকে খোকলা করে দিয়ে এই ১৪০ কোটির দেশকে এই পর্যায়ে এনে দাঁড় করিয়েছে।

বিশ্বগুরুর শাসনে আজকের ইন্ডিয়ার যা রেপুটেশন, আগামীতে BRICS আমাদের রাখবে কিনা সন্দেহ। শুধু ১৪০ কোটির বাজার দেখলে হবে না, দিল্লি সরকারের বিদেশ দপ্তরের নেড়ি কুত্তাগুলোকে রোজ ঝাঁটা দিয়ে মেরে, মুখে প্রস্রাব করে দিচ্ছে আমেরিকা, এরা নির্বিকার বদনে সেই মুতই গিলছে সামান্য আওয়াজ না করে। মধ্যপ্রাচ্যে গণধোলাই খাওয়া আমেরিকা পরবর্তী বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার প্রাক্কালে, রাশিয়া চিন ইরান সহ সকলেই দেখেছে ইন্ডিয়ান নের্তৃত্বের এই কাপুরুষোচিত অসহায় আত্মসমর্পন। আগামীতে দিল্লিতে এই বর্তমান নের্তৃত্ব যতদিন থাকবে, এদের সাথে ছালউঠা খেঁকি কুত্তার মতোই আচরণ করে তাদের দাবী মানতে বাধ্য করবে, যেমনটা আজ আমেরিকা করছে। বিশ্বে নতুন যে ক্ষমতার অক্ষ তৈরি হচ্ছে, সেই ঘরে ঢুকতে দেবে না আমাদের দেশকে, কারণ মোদী ব্রিক্সের পিছনে ছুরি মেরেছে আমেরিকার পা চাঁটতে গিয়ে। দরকারে ডেকে, ঘরের বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখে দেবে, আমাদের উনিজি তো আবার স্বঘোষিত চৌকিদার। আসলে আমেরিকার বিছানাতে শুয়ে আমাদের জাত গেছে, পেট ভরেনি।

আমাদের দেশের সুবর্ণ সুযোগ, চিতায় তুলে দিয়েছে বিশ্বগুরু আদানি জুটি। আগামীতে BR'I'CS এর I ফর ইন্ডিয়ার বদলে ইরান জুড়ে গেলে আশ্চর্য হব না। ব্রিক্সে, আমাদের ব্যক্তিত্বহীন খোজা বিদেশমন্ত্রী আর এপস্টিন ফাইলের মুজরো প্রভু নের্তৃত্বাধীন ইন্ডিয়ার বিশ্বাসঘাতকতার দরুন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের দেশের বিশ্বাসযোগ্যতা বেশ্যাপল্লীর পতিতাদের সতীত্বের মতো পবিত্র হিসাবে গৃহীত হচ্ছে। গৃহ পরিচারিকার সাথে এক থালায় তবুও খাওয়া যায়, এক পায়খানাতে হাগা যায় না, এটা ভুলে যাবেন না।

মুচলেকা RSS এর জিনে রয়েছে, ইতিমধ্যেই হরমুজের গ্যাস চেয়ে ইরানের কাছে মৌখিক মুচলেকা দিয়েছিল ভয়শঙ্কর; স্বাভাবিকভাবেই ইরান তা মানেনি, আসলে তারা লিখিত মুচলেখা চায়। ক্রমশ পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, নাগপুরের বৃদ্ধ ষন্ড প্রভুর দল ইরানের মোল্লাদের কমোডে ঢুকে- টয়লেট পেপারের বদলে জিভ দিয়ে তাদের শৌচকর্ম না করে দেয়। আমেরিকার এভাবেই তারা তাদের পাছা পরিষ্কার করে চলেছে আমাদের বিদেশ দপ্তরকে দিয়ে। নাগপুরের গোয়ালঘর শক্তের ভক্ত নরমের যম, নেহাত মুর্খ অসভ্য ও বর্বর। এতো কিছুর পরেও- বিতর্কিত ভোটারলিস্ট দিয়ে গত লোকসভার ভোট হলেও, গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচিত সরকার পরে যাক তা কখনই চাইব না, সংবিধানের এই কাঠামোটা বড় জরুরী আমাদের সকলের জন্য, যেটাকে মনুবাদীরা ধ্বংসের জন্য উঠে পড়ে লেগে রয়েছে।

ফ্যাব ফোরে সমসাময়িক হিসাবে বিশ্বের চারটে প্রান্তে যে চারজন প্রায় দুর্বৃত্ত ক্ষমতার শীর্ষে উঠেছিল, তাদের মধ্যে ব্রাজিলের বালসেনারো ২৭ জন্য বছরের জেলে বন্দি। নেতানিয়াহুর মৃত্য নিয়ে সোশ্যালমিডিয়ার প্রোপ্যাগান্ডা গুলোকে মান্যতা না দিলেও, বর্তমান যুদ্ধে ইজরায়েলের যা হাল হয়েছে, আপনি লিখে নিন ইজরায়েলে নেতানিয়াহু অধ্যায় ফিনিশ। তালিকাতে ছাগলের তিন নম্বর ছানা মাই ফ্রেন্ড দোলান্ড। পাতাখোর ছাপড়ির মতো মুখ খুললেই দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে; আতঙ্ক, অপমান, অবিশ্বাসে ভুল বকছে নিয়মিত। আগের একটা প্রতিবেদনে লিখেছিলাম- অ্যাাসাসিনেশন না ইমপিচমেন্ট কোনটা যে আগে হবে সেটাই একমাত্র আলোচনা বিষয়। এবারে আপনিই বলুন, এক যাত্রায় পৃথক ফল কীভাবে সম্ভব? আমাদের বিশ্বপ্রভু কোন মন্ত্রে ফাঁকতালে গলে বেরিয়ে যাবে? ‘Godhra meets Gaza’ সফরে, Power on their minds, Hatred in their hearts, Blood on their hands বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। বাকিটাও brother in the same boat থিওরি মেনেই ঘটবে, সে আপনি বিশ্বাস করুন বা না করুন।

এই রকম ঘৃণ্য DNA যুক্ত শাসক আজকের পৃথিবীতে আরও কয়েক পিস আছে, তারা এদের তুলনাতে কম কুখ্যাত, কিন্তু জিনগত মিল রয়েছে। তুরস্কের এরদোয়ান, ইতালির মেলোনি, পোল্যান্ড দুদা, স্লোভাকিয়া ফিৎসো, হাঙ্গেরির অর্বান, অস্ট্রিয়ার কুর্ৎস, সহ প্রত্যেকের বিদায় ঘটবে, যে মুহূর্তে ইউক্রেনের ভাঁড়টার বিদায় ঘটবে। ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ হলেই এগুলোরও রাজনৈতিক বিসর্জন হয়ে যাবে দ্রুত। আমেরিকার পরাশক্তি সেজে থাকার ধড়াচুড়ো যত খসতে থাকবে, জাপানের কিশিদা, দক্ষিণ কোরিয়ার ইউন সুক ইয়ল, ফিলিপিন্সের দুতার্তে, এবং সিঙ্গাপুরের লি সিয়েন লুং এর চেয়ার তত টলমল হবে। বাকিটা কিম জং উন সামলে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এর মধ্যেই তাইওয়ানকে চিন হজম করে নেমে। বাকি থাকল লাতিনাতে আর্জেন্টিনা আর আর এল-সালভাদর, ব্রাজিলের বর্তমান সরকার টিকে থাকলে এদেরও পিটিয়ে সোজা করে দেবে।

সকলের কথা হলো, ট্রাম্পকে নোবেলের জন্য সুপারিশ করা প্রথম দেশটা তালিকাতে না থাকলে হবে? বিশ্বজুড়ে আমেরিকার সেনা ঘাঁটি থাকলেও, মার্কিন সেনা ও CIA এর একটা নিজস্ব দেশও আছে, সেটা আমাদের পড়শি। যে দেশের হাঁড়ি চলে ভিক্ষা করে, আর আমেরিকার পরমাণু বোমা পাহারা দিয়ে। আমেরিকা ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার আগে সবার আগে পাকিস্তানের রিজিম চেঞ্জ হয়ে যাবে, শরীফ আর মুনির নামের সার্কাসের জোকার দুটোই ইউরোপ বা আমেরিকায় পালাবে।

পাশাপাশি এটাও সত্য, বিশ্বজুড়ে আমেরিকার দাদাগিরি ইলেকট্রিক বাল্বের সুইচ টেপার মতও করে রাতারাতি বন্ধ হবে না, এটাও কয়েক বছরের চলমান প্রক্রিয়া। এই একই সময়ে গোটা বিশ্বজুড়ে বামপন্থীদের উত্থান হতেই হবে, NGO জীবীদের কাছে যে মার্কিন ডলারের স্রোত আসত এতদিন, কমিউনিজমকে ধ্বংস করার জন্য- সেগুলো বন্ধ হলে আমাদের রাজ্যেও বামেদের অবস্থান মজবুত হবে। তার আগে অবশ্যই দলের ভিতরে থাকা প্রতিকুকুর গুলোকে চিহ্নিত করে, তাদের তাড়িয়ে পার্টিকে জঞ্জাল মুক্ত করতে হবে; এরা মমতার চেয়েও বড় ক্ষতিকর।

আরব রাষ্ট্রগুলির পক্ষে মার্কিন ফৌজ সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া যথেষ্ট কঠিন। প্রথমত, সব সময়েই নিজ পরিবারের ভেতর থেকেই অন্তর্ঘাত ও সেনা অভ্যুত্থানের আতঙ্কে ভোগে সেখানকার রাজপরিবারগুলির ক্ষমতাবানেরা। উপসাগরীয় দেশগুলোর জনসংখ্যাও ক্ষুদ্র, সেনাবাহিনীর বহরও তথৈবচ। প্রায় প্রত্যেকেই অগাধ সম্পদের মালিক হওয়ার জন্য নাগরিকদের কেউ সেনা বাহিনীতে যেতে চায় না, ভাড়াটে সৈন্য একমাত্র ভরষা- যারা যেকোনো সময় বিকিয়ে যেতে পারে। সামরিক সহযোগিতাতে চীন বা রাশিয়া কেউই পাশে থাকার বিষয়ে প্রমাণিত নয়, ফলত বিকল্প নিরাপত্তা অক্ষ না থাকার কারণে মধ্যপ্রাচ্য রীতিমতো ধর্ম সঙ্কটে পড়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, উপসাগরীয় দেশগুলির একমাত্র উপার্জনের জায়গা হলো অপরিশোধিত খনিজ তেল ও গ্যাস। বিশ্ববাজারে যা আজও বিক্রি হয় মার্কিন ডলারেই। দৃশ্যত ডলারের কোনো বিকল্প অর্থব্যবস্থা আজকের পৃথিবীতে নেই যা সর্বজনগ্রাহ্য ও প্রতিস্থাপনযোগ্য। স্বভাবতই রাতারাতি আমেরিকার সেনাঘাঁটি ও তাদের মুদ্রা ডলারকে বাতিল করে দিলে সৌদি, আমিরশাহি, কাতার, কুয়েত, ওমান বা বাহরিনের অর্থনীতি রাতারাতি ধ্বসে গিয়ে সিরিয়া বা ইরাকের মতো হয়ে যেতে পারে।

রেজিম চেঞ্জ, মধ্যপ্রাচ্য, হলুদ সাম্রাজ্য, East Block, আরব লীগ সহ আমাদের ভারত- সকলে যুগ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ইরান যুদ্ধটা শুরু করেছিল তাদের দেশের মধ্যে থাকা প্রতিকুরগুলোকে চিহ্নিতকরণের মধ্য দিয়ে। নিজের দেশের বিরোধীরা আজ শাসকের তান্ডব ও পরাক্রম দেখে বিরোধী কন্ঠস্বর রণেভঙ্গ দিয়েছে, ফলে ইরানের আভ্যন্তরীণ সমস্ত রকম বিদ্রোহ চাপা পড়ে গিয়ে তারা একটা ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত হয়েছে। আব্রাহাম এ্যাকর্ড ও পিস ফোরামের মত এঁটোকাঁটা কমিটিকেও কবর দিয়ে দিয়েছে ইরান। পারস্য উপসাগরের ওপারের পাশের দেশগুলোর পরিণতি ওরা দেখে নিয়েছে। ইরান এবারে যুদ্ধটাকে কাস্পিয়ানের দিকে নিয়ে যেতে চাইবে। ডানে বাঁয়ে আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, জর্জিয়া, তুর্কমেনিস্তান, তাজিখ, কিরঘিজ, কাজাখ, উজবেকিস্তানের মতো যে যে দেশে আমেরিকার ঘাঁটি আছে, সেগুলোকে ঘেঁটে দেবে। মোদ্দা কথা আর একটা ওয়্যারফ্রন্ট খুলে দেবে আমেরিকার সামনে, তাদের নাজেহাল করে দেবার জন্য।

আমাদের কী হবে? আগামী ৩ বছর আমাদের দেশেও কমপক্ষে বিজেপি সরকার থাকছেই, সংসদেও লো-কনফিডেন্স কোনো মুভমেন্ট নেই। কিন্তু, নরেন্দ্র মোদী ও তার বর্তমান প্রশাসনের মোটাভাই, ইন্ডিয়ান জেমস বন্ড, কড়ি নিন্দা সিং, ভয়শঙ্কর, বিরাট শিক্ষিত সেলফি মন্ত্রীর মতো লালুভুলুর টিমের রাজনৈতিক বিসর্জন হওয়া একান্ত জরুরী- এটাই জাতির একমাত্র স্বার্থ। বিজেপির অন্য নতুন টিম আসুক, নতুন ভাবনা আসুক, তারা আর কত খারাপ করবে এদের চেয়ে! অবশ্য যোগী গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়াতে তার পক্ষের প্রচারনা শুরু করে দিয়েছে, সে এলে ভারতের প্রতিটা জনগণের জন্য সবচেয়ে ভয়াবহ সময় অপেক্ষা করছে, লিখে নিন। বিরোধী হিসাবে রাহুল গান্ধী পাপ্পু হোক বা না হোক, কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় বোঝা হচ্ছে সোনিয়া গান্ধী, মোদির থেকেও বেশি ক্ষতিকর প্রোডাক্ট এই মহিলা। ইতিহাস সাক্ষী আছে 'once a spy, always a spy', তার মন্ত্র অবশ্যই if you're on the team for life, then you're bound by team rules for life. 

আমেরিকা ডুবন্ত নৌকা, ওতে যে চড়বে তাকে নিয়েই ওরা ডুববে। অনেকেই ভাবছেন এপস্টিন দ্বীপে কোনো যৌন শিশু কেলেঙ্কারির কুকীর্তি করে আসার দরুন, বিশ্বগুরু আমেরিকার হাতের পুতুল হয়ে গেছে। একটা দুধের শিশুও জানে আমেরিকা-ইসরাইলের সাথে ভারতের যে তথাকথিত ‘বন্ধুত্ব’, সেটা সমতা, সক্ষমতা ও পারস্পারিক সম্মান, মূল্যবোধের কূটনৈতিক নিয়মের ভিত্তিতে নয়; এটা একতরফা, অপমানজনক, স্বার্থপরতা হিংসায় ডোবানো তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের একপেশে ব্ল্যাককমেলিং, যেখানে নিয়মিত হীন প্রতিপন্ন করে রোজ একবার আমাদের অউকাত বুঝিয়ে দেয়। এই পশ্চিমা নের্তৃত্ব কখনই মোদীকে তাদের সমকক্ষ মনে করে পাশে বসায়নি, যখনই ডেকেছে চাকরবাকরের মতো কান মুলে তাদের ইচ্ছামত চুক্তিতে সই করিয়ে নিয়ে, সামান্য উচ্ছিষ্ট ছুঁড়ে দিয়ে পিছনে লাথ মেরে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। নিজে থেকে যখন বিদেশ সফরে গেছে, তার দেশজ প্রভু আদানির হয়ে দালালি করতেই গেছে, দেশের কাজে যায়নি। এই হচ্ছে আমাদের দেশের ‘আয়াতোল্লা মোদানীর’ অউকাত।

তাই আমার ভাবনা একটু ভিন্ন, মোদী/RSS এর ভোটে জেতার যে প্রাণভোমরা- সেই যাবতীয় EVM ম্যানিপুলেশন তথা হ্যাকিং এর সিক্রেট তাদের সম্ভবত এপস্টিন গ্যাং এর হাতে রয়েছে। এই কারণেই মোদী ও তার সাঙ্গোপাঙ্গোরা CIA/ইজরায়েল এর বিরুদ্ধে যেতে পারবে না, ঝাঁটা লাথি খেয়েও তাদের দরজার ঝনকাঠে শুয়ে থাকতে হবে নামাজের সিজদা দেওয়ার ভঙ্গিতে।

 

অধিকাংশ জনই এটাকে কন্ট্রোভার্সিয়াল এবং কন্সপিরেসি থিওরি বলে উড়িয়ে দিতে চাইবে, আপনি কী মনে করেন?


বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

আমেরিকার কাছে ভারতের সাধারণ জনগন যখন মোদীর কল্যাণে জিম্মি

 


কোনো গনিকাপুত্র বেজন্মা কি- বিশ্বগুরু প্রভুর সরকারকে প্রশ্ন করেছে ~ কেন হোয়াইট হাউস থেকে এই ধরণের 'এ্যাক্টর' উপমা দেবে? কি অউকাত আছে তাদের? সরকারে থাকা 'বিরাট হিন্দু' হৃদয় সম্রাটের কোন দুর্বলতা রয়েছে? গোটা দেশ ওয়াসিংটন থেকে পাওয়া নির্দেশ মত চলছে। 

বেহায়া নির্লজ্জ দু কান কাটা গরুর বাচ্চারা জাবর কাটছে নিশ্চিন্তে, কারন সাদা চামরার জুতো চাঁটা RSS এর জিনে রয়েছে। এই ধরণের প্রকাশ্যে মুখে মুতে দেওয়ার পরেও মিসাইলে পোড়া ফাদারল্যান্ডের ইমানদন্ড মুখে ভরে বসে রয়েছে কেন নাগপুরের জন্তু জানোয়ার গুলো? এপস্টিন দ্বীপে 'পিৎজা'র দাম মেটাচ্ছে এভাবে? 

ইরান যদি যুদ্ধে না হারে, বিশ্বরাজনীতির DNA পরিবর্তন হয়ে যাবে। ভারতের এই গোবোরখেকো আদানির দাস বিশ্বপ্রভুর চর্বি পোঁদ দিয়ে গেলে নেবে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা। 

ইজরায়েলকে ফাদারল্যান্ড বানিয়ে 'গাজা মিটস গোধরা' সামিটের হালুয়া বানাবে রাশিয়া চিন ইরান মিলে। সমস্যা আমাদের ১৪০ কোটি সাধারণ মানুষের, এই মুর্খ এপস্টিন গ্যাং এর কুর্কর্মের মূল্য আমাদের চোকাতে হবে পাই পাই হিসাবে। 

নাড়ু 'চে' ব্যানার্জী জিন্দাবাদ



বর্ধমানের 'ভিঞ্চিদা' তৌসিফ প্রতিকুর হক যখন ঐ বারোভাতারি হোয়াটস্যাপ গ্রুপ গুলো খুলেছিলো SIR এ 'আন্ডার এডজুডিকেশনে' থাকা মানুষগুলোকে নিয়ে, সেখানে কোনো একটা অংশে তার লিখিত দাবী ছিলো- আমি আলিমুদ্দিনে কথা বলে নিয়েছি, চাপ নেই।

সেদিন ওই খোঁচরের কথার ব্যাপ্তিটা ধরতে না পারলেও, আজকে অসুবিধা হচ্ছেনা, 'সম্প্রীতির সোনাগাছি' বানিয়ে আসলে কে বা কারা তৌসিফকে তথাকথিত অনুমতি দিয়েছিলো। প্রতিকুর একা পচেনি, গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনার পার্টি স্ট্রাকচারটার রন্ধ্রে রন্ধ্রে পচন ছড়িয়েছে। প্রতিকুর সেই পচনের পুঁজ অংশটা যে ফিনকি দিয়ে বেরিয়ে এসেছে। প্রতিকুর সামান্য অংশ মাত্র, আসল পচাগলা অংশটা শরীরের ভিতরেই রয়ে আছে।

নাড়ু ডাক্তারকে কি বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান এমিরেটাস বানানো যায়না আসক্ত নবতিপর বিমান বসুকে বিশ্রাম দিয়ে? বিজেপির ভাবধারায় তৃণমূলের আদর্শে দীক্ষিত মানুষজনের দাবী মত CPIM এর নতুন যে রূপ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে, তার শীর্ষে নাড়ুবাবুর চেয়ে যোগ্য আর কেউ আছে কি? আলিমুদ্দিন নামটাও বড্ড সেকেলে, মোল্লা ছাপ; নারায়ন ব্যানার্জী ভবন হলে এই ভাবের ঘরে চুরির ল্যাটা চুকে যায়।

SIR নিয়ে ভাইপো ও তোলামূলের যা দাবী, ভাইপোর আগের দফায় ভাইপোর ডায়মন্ড কেন্দ্রের বিদায়ী সাংসদ তথা গণশক্তির সম্পাদকের যে 'SIR এ মৃত্যু মিছিল' গল্পটা কী পার্টির বক্তব্য নাকি গণশক্তির নাকি ব্যক্তির নিজের? কারন পার্টি সম্পাদক সহ বাকি নেতৃত্ব তো এই লাইনে যায়নি। ভাইপোর ফ্লপ হওয়া রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডাকে এনারা, এই দক্ষিণ ২৪ পরগণা নের্তৃত্ব কবর থেকে খুঁচিয়ে তুলে আনছেন, কী মনোরম এই দৃশ্য। মিলে সুর মেরা তুমহারা, যেন ৯০ এর দশকের ডিডি ন্যাশেনাল। লালকে গেরুয়া, সবুজ ও নীলে মিশিয়ে দেওয়া- রাজ্য রাজনীতির পলিটিক্যাল ইন্ট্রিগ্রিটি তথা সমন্বয়ের একটা মুখ খুঁজতে হলে সেটা নাড়ু ব্যানার্জীর চেয়ে আদর্শ কেউ হতে পারেনা। ভাইপোর পে-রোলের রেঞ্জ নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবনা চিন্তা করতে হবে জনগণকে।

'চে' ডাক্তার ছিলেন, অনেকেই তার ট্যাটু বানান নিজ শরীরে। নারায়ণ ব্যানার্জী বাবু, আপনিও তো ডাক্তার, বিপ্লবীও বটে। একইসাথে প্রতিটা রাজনৈতিক দলে অবাধ গেরিলা যাতায়াত আপনার। পরেরবার যে যে আলিমুদ্দিনের নেতৃবৃন্ধ আপনার সাথে দেখা করতে আসবে, প্লিজ তাদের কপালে ও পাছায় আপনার চাঁদ বদনের একটা ট্যাটু করে দেবেন। হ্যাঁ পাছাতেও, যাতে যৌণ মিলনের সময়েও সংশ্লিষ্ট নের্তৃত্বের সঙ্গী/সঙ্গীনী আপনার ট্যাট্যুকৃত ছবি দেখে উত্তেজনায় 'বুর্জোয়া' জল খসাতে পারে। নতুবা রাজ্যে ততক্ষণ বামেরা সংখ্যাতে ফিরবেনা, যতক্ষণনা 'চে' এর পোজে আপনার থোবরাঙ্কিত ট্যাটুতে বৈপ্লবিক বীর্যপাতে শাহী স্নান করাচ্ছে। 

আমি আপনার সাথে একমত, একশ্রেনীর উদার বাম নেতা আজ আর 'বস্তাপচা' মার্ক্সবাদে নয়, আপনার দেওয়া আধুনিক 'নাড়ুবাদে' বিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন। তাদের জন্য আপনি ম্যানিফেস্টো রোজই লিখছেন ফেসবুকে, এবার ভোটের আগে সেটাই বই আকারে প্রকাশ করুন প্লিজ, আপনার অনুগামী বামেদের বক্তিতাতে সুবিধা হবে।

- ইতি

আপনার একান্ত ভক্ত, রাষ্ট্রের হাতে জিম্মি থাকা ৬০ লাখের একজন চুড়ান্ত প্রতিক্রিয়াশীল হার্মাদ







মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

রিজিম চেঞ্জ করতে গিয়ে হাতে ভিক্ষার বাটি।

 

মিথ্যা ধাপ্পাবাজি করে ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া আক্রমণ করে সেই দেশের লোককে ভিখারি বানিয়ে নিজেরা তাদের দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ চুরি করে আধুনিক ও সভ্য সেজেছিলো।

একই পথে ইরাণে চুলকাতে গিয়েছিলো। যে হারে গাঁ ড়ে মিসাইল ঢুকেছে টেম্পু থেকে নেতানুনু, কেউ হাগতে যাচ্ছেনা বলে মোসাদ সুত্রের খবর, হাগতে গেলেই নাকি পোঁদ দিয়ে প্রাণ বায়ু বেরিয়ে যাবে, এমন ভয়ে সেঁধিয়ে রয়েছে। নিজেরাই নিজেদের মিথ্যা বলছে, যে পারছে এর তার ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে। আসলে এভাবে আমেরিকা কুত্তা ক্যালান খেতে পারে সেটা বিশ্বাস বা হজম কোনোটাই হচ্ছেনা। এপস্টিন গ্যাং এর কোনো এক্সিট প্ল্যান নেই এ যাত্রায়, একতরফা বিজয় বলে পালিয়ে যাবারও কোনো পথ খোলা নেই। 

হারেমের আঁধারে জন্মানো জারজ মোল্লা রাজাগুলোর দেশেই হয়তবা রিজিম চেঞ্জ হয়ে গিয়ে ইরানপন্থী সরকার চলে আসবে। যদি ইরান এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। এমনিতেই ইরান বলে দিয়েছে, যে দেশ আমেরিকা ও ইজরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে, হরমুজ প্রনালি তার জন্য খোলা। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান শক্তিশালী হয়ে গেলে বিশ্বপরাশক্তি আমেরিকা প্যাকেট হয়ে, কেবলমাত্র রিজিওনাল শক্তি হলে নিজ মহাদেশে রয়ে যাবে। ১৯৫৬ সালে মাইটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্য সুয়েজের জলে তলিয়ে গিয়েছিলো, ঠিক ৭০ বছর পর পারস্য উপসাগরের জলে শ্যাম চাচা তার পিডোফিলিক সাম্রাজ্যকে না ডুবিয়ে ঘরে ফিরবেনা।

আপাতত যুদ্ধের ১০ দিনেই সোস্যালমিডিয়াতে হাজারে হাজারে  'হেল্প ফর ইজরায়েল' ক্রাউড ফান্ডিং এর পেইড প্রোমশন পেজে ছয়লাপ। ভিক্ষা শুধু পাকিস্তানই করেনা, প্রতিটা সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের এটাই জিনগত চরিত্র। ফিলিস্তিনের দখলদার খাজার ইহুদীগুলোও ভিক্ষায় নেমে পরেছে। যুদ্ধ আর ২ সপ্তাহ ধরে চললে আমার আপনার পাড়াতে কী এই শু য়োরের বাচ্চা বেজন্মা ইহুদীগুলোকে রাস্তার মোড়ে ফুটো এ্যালুমিনিয়ামের বাটি হাতে দেখতে পাবো?


সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬

ভারতীয়েরা কী বিপদ টের পাচ্ছি?



যুদ্ধকে যারা আমরা একটা রিয়েলিটি শো এর মতো রোজ উপভোগ করছি ফেসবুক ইউটিউব রিলসে, তাদের ধারণা নেই এই যুদ্ধ আর কিছুদিন চললে আমাদের ভারতের মতো দেশের বিপদ আসলে ঠিক কতটা।

হয়তো ভাবছেন যুদ্ধটা সুদূর মধ্যপ্রাচ্যে, আপনার ডাইনিং টেবিলে তার উত্তাপ পৌঁছাবে না? যুদ্ধের ধোঁয়াতে আকাশ ঢাকতেই কুয়েত, কাতার, বাহারিন সহ সৌদির তেল উত্তোলনে ধস নেমেছে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম রোজ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে। আমেরিকা তেলের দাম ধরে রাখতে মরিয়া, যাতে দেখানো যায় যে ইরানের কোনো ক্ষমতাই নেই তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের। এর ফলে জি-৭ দেশগুলির ইমার্জেন্সি তেল রিজার্ভ হতে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার বিষয়ে বিবেচনা করছে। যদিও এই রিজার্ভ তেল দিয়ে বড়জোর ২ সপ্তাহ মত সাপ্লাই চেইন সামলাতে পারবে। এই সময়টুকু তারা ইরান হুমকি মোকাবেলা ও হরিমুজ প্রনালি মুক্ত করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে। 

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে কেউই গভীরে যাচ্ছেনা, ভাবছে তেল গ্যাসের দাম বাড়ার মতো প্রত্যক্ষ দুটো ক্ষতি হবে, আর পরোক্ষ হিসাবে অল্প বিস্তর দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়বে পরিবহণ ও উৎপাদনের খরচ বাড়ার দরুন। বাস্তবে ভয়টা আরও ভয়াবহ ও সর্বনেশে। ভিডিওতে দেখুন, এক্সপোর্ট মোটামুটি একপ্রকার বন্ধই হয়ে রয়েছে আমাদের পশ্চিম উপকুলের বন্দরগুলো দিয়ে। পেরিসিবল আইটেম মানে কাঁচা মালগুলো আর কয়েকদিনের মধ্যেই পচে যাবে যেগুলো রাস্তায় রয়েছে, ওদিকে উৎপাদনও থেমে নেই। রোজার সময় ওখানে একটা বড় বাজার থাকে, সেটা তো শেষই, নর্মাল বাজারও শেষ। ফলত মারা যাবে আমাদের দেশের চাষী, কৃষিকাজের সাথে জড়িয়ে থাকা ভারতের ৫৮% মানে প্রায় ৮৫ কোটি মানুষ সর্বনাশের সম্মুখীন হবে। আমাদের মত উন্নয়নশীল ‘গরিব’ দেশের জন্য এটা অপূরনীয় ক্ষতি। 

রপ্তানি সংক্রান্ত তথ্যের দিকে নজর দিলে দেখবেন, মধ্যপ্রাচ্য মাত্র ১৫% এর রপ্তানি অনংশীদার। কিন্তু যখন আপনি নির্দিষ্ট করে কৃষি পণ্যের দিকে তাকাবেন, দেখবেন আমাদের চালের  ৪০% এই অঞ্চলেই যায়। মাংস রপ্তানির প্রায় ৭১% এবং ডিমের ৬৭% রপ্তানি এই আরব দেশগুলোতে যায়। মোট মসলা, চা এবং কাজু বাদামের মতো পণ্যের ৫৫% রপ্তানি এই অঞ্চলের বাজারের সাথে যুক্ত। 

সাধারণ চাল ছাড়াও গম এবং ভুট্টা প্রচুর পরিমাণে পাঠানো হয় ওই দেশগুলোতে। মুসুর, মটর, ছোলা এবং অন্যান্য ডালজাতীয় শস্য সহ ঘি, পনির এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত সামগ্রী সবই বিপুল মাত্রায় পাঠাই আমরা। আম, কলা, বেদানা, আঙুর এর মতো তাজা ফল যায় লক্ষ লক্ষ ডলারের। সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন পেঁয়াজের বাইরেও, টমেটো, আলু, ভেন্ডি থেকে লাউশাক কোন সব্জি যায় না? ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত ও পরিশোধিত চিনি রপ্তানি করা হয়। প্রক্রিয়াজাত খাদ্য যেমন ফলের রস, আচার, শুকনো ফল, রেডি-টু-ইট খাবার। মধ্যপ্রাচ্য মূলত একটা হাব, বিশেষত দুবাই, সেখান থেকে ইউরোপ ও আফ্রিকার বহু দেশে ট্রান্সশিপমেন্ট হয়। এই যুদ্ধের কারণে সেটাও সম্পূর্ণভাবে ধ্বসে পরেছে, আসন্ন মুক্তির দিশা নাই।

গোটা বিশ্বকে আজ ক্ষতির সামনে এনে দিয়েছে এপস্টিং গ্যাং এর এই যুদ্ধ। সমগ্র পৃথিবী যুদ্ধের আঁচে জ্বলছে আর আমাদের সরকার সত্য লুকাচ্ছে। যুদ্ধের প্রথম ৬ দিনের হিসাবটা কিছু এমন, এপস্টিন গ্যাং এর দণ্ডমুণ্ডের কর্তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে ৩.২ ট্রিলিয়ন ডলার মুছে গেছে, ভারতীয় টাকার হিসাবে ২৯১ লক্ষ কোটি টাকা। এপস্টিন গ্যাং এর মূল দালাল ইসরায়েল বাজার থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা গায়েব হওয়ার সাথে সাথে প্রতিদিন ভারতীয় মুদ্রাতে ৩৫ হাজার কোটি টাকার অস্ত্র সরঞ্জাম পুড়ে যাচ্ছে, এর সাথে কয়েক লক্ষ টাকার অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি যা তাদের অনুমানের বাইরে ছিল। 

দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, সহ ইউরোপের প্রতিটি দেশের শেয়ার মার্কেট থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূলধন জাস্ট মুছে গেছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, জর্ডন, লেবানন, ওমান সর্বত্র কাজকর্ম উৎপাদন সব বন্ধ, খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে, লুঠপাঠ হচ্ছে রীতিমত। ইরাক ইয়েমেনে আবার দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ শরণার্থী হয়ে গেছে। মাঝখান থেকে পাকিস্তান নামের ভিখারিটা সৌদির সাথে সামরিক চুক্তি করে ফেঁসে গেছে, তার উপরে রমজান মাসে জাকাতের মরসুমে এমন আর্থিক অবরোধে তাদের হাঁড়ি বন্ধ হয়ে যাবার দশা, জ্বালানি গ্যাস ও তেলের আকাল শুরু হয়েছে, দ্রুত পাকিস্তানেও জনবিদ্রোহ শুরু হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে।

ইরানও ধ্বংসের কিনারাতে দাঁড়িয়ে। তাদের ৭০% তেল অবকাঠামো ধ্বংস, ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০ লক্ষ ইরানি জনগণ বাস্তুচ্যুত। যেহেতু তারা খাদ্য উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ, তাই আধপেটা খেয়ে বেঁচে যাবে হয়তো বা, এপস্টিন গ্যাং যায়োনিস্টদের এই বিধ্বংসী মার হজম করে। কারণ ৫০ বছর বৈশ্বিক অবরোধের অভ্যাস তাদের রয়েছে, পাশাপাশি তারা এনার্জিতেও স্বয়ংসম্পূর্ণ।

জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাবেই। চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্য তেল, এসব ৩০-৫০% অবধি বেড়ে যাবে; এলপিজি, কনজিউমার গুডস, ছোটখাটো নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি জিনিস, গরীব ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গিয়ে নাভিশ্বাস তুলে দেবে। এই সংকট বর্তমানে আপনার উঠোনে অপেক্ষা করছে, যেকোনো মুহুর্তে ঘরে ঢুকে পরলো বলে। রফতানি কমলে কলকারখানা বন্ধ হয়ে সাপ্লাই চেন ভেঙে যাবে, মানুষ ভোগ্যপন্য কম ক্রয় করবে, পর্যটন ও রেস্টুরেন্ট শিল্প মার খাবে, গিগ শ্রমিকেরা কর্মহীন হয়ে যাবে; দেশ এক ভয়াবহ দীর্ঘমেয়াদী মন্দার কবলে পড়বে। সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে মরিয়া হয়ে নোট ছাপাবে, আর সেই ছাপানো কাগজের ভিড়ে আপনার জমানো টাকার মান খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে, ১ ডলারের বিপরীরে ভারতীয় টাকা দেড়শো পাড় করে গেলেও আশ্চর্য হবেননা। শ্রমজীবী মানুষের জন্য এ এক অস্তিত্বের সংকট তৈরি করতে পারে।

পার্থিব ইকোসিস্টেমে সূচ থেকে হাতি, সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে বৈশ্ব রাজনীতির বাপ-কাকারা। যারা চাষাবাদ করে খান, তারা অন্তত না খেতে পেয়ে মরবেনা, বাকিদের জন্য অপেক্ষা করছে এক অন্ধকার সময়। এই মহাদুর্যোগে একমাত্র সোনা, রুপা কিংবা ভূমিতে বিনিয়োগ করা লোকেরাই নিজেদের সম্পদ রক্ষা করতে পারবে, কারণ খুব দ্রুত এগুলোর দাম দফার দফায় গতিতে বাড়বে।

আমরা যারা সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ, আমাদের হাতে কোনও উপায় নেই এই যুদ্ধকে নিয়ন্ত্রণ করার, আমাদের দেশেরও বস্তুত কোনো ক্ষমতা নেই এই যুদ্ধ থামাবার দিশা দেখাবার, প্রয়োজনও নেই যুদ্ধের শরিক হওয়ার। কিন্তু অতি উৎসাহী হয়ে আড়ঙের বাজি পটকা ফাটা দেখা আর হলিউডি যুদ্ধের সিনেমাকে লাইভ দেখার মতো করে আনন্দ নেওয়া থেকে মানসিকভাবে বিরত থেকে, নিজেদের আসন্ন অতীত নিয়ে ভীত হতেই পারি। দেশের চাষী মরলে আপনার বেঁচে পালাবার কোনো সুযোগ নেই। কেউ নিরাপদ নয়, কেউ নিরাপদ নয়।

রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

দুই ফুলের ধাষ্টামিকে এড়িয়ে যান

 


৬০ লাখ মানুষ যেখানে রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকত্বের প্রশ্নে জিম্মি হয়ে হয়েছে, সেখানে রাষ্ট্রপতি পদে থাকা একজন RSS এর কাঠপুতুলকে নিয়ে সময় নষ্ট করার বাহুল্যতা কি খেটে খাওয়া মানুষের রয়েছে? RSS এর নির্দেশে বিজেপিকে প্রাসঙ্গিক করতে মিডিয়ার ন্যারিটিভ ফিরিয়ে আনতে এই সমস্ত আয়োজন। এই বিতর্কে দেশের কোনো মানুষের কিচ্ছুটি লাভ বা ক্ষতি নেই। এমনিতেই রাজ্যপাল আর রাষ্ট্রপতি পদ দুটোর নামে সাদা হাতি পোষার প্রয়োজন রাষ্ট্রের রয়েছে কিনা সেটাই সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক প্রশ্ন আজকের দিনে দাঁড়িয়ে।

বুকে হাত রেখে বলুন তো, এই ‘ফালতু’ ঘটনা না হলে ভারতের রাষ্ট্রপতির নাম আপনার মনে ছিলো? কালাম সাহেবের পর ভারতের রাষ্ট্রপতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বহীন রবার স্ট্যাম্প মার্কা পদ হয়ে গেছে। গুগল না করে এর আগের রাষ্ট্রপতির নাম বলতে পারবে না অধিকাংশ মানুষ, শুধু এইটুকু মনে আছে আগের রাষ্ট্রপতি তপশিলি জাতির ছিলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি তপশিলি উপজাতির। গত ১০ বছরে দেশের তপশিলি জাতি ও উপজাতিরা ঠিক কতটা উপকৃত হয়েছে কেউ জানাবেন দয়া করে? 

এখনও অবধি বিজেপি যাদের যাদের সাথে জোট করেছে তাদের সবাইকে খেয়ে ফেলেছে, বাকি শুধু তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা ব্যানার্জী অত্যন্ত নিকৃষ্ট শ্রেনীর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, চূড়ান্ত অসৎ ও বেপারোয়া। তার পরেও এমন ব্যক্তিকে সেই ১৯৮৯ সাল থেকে বয়ে চলেছ, একদিন হজম করে ফেলবে এই বিশ্বাসে। যেহেতু মমতা ভাবের ঘরে চুরি প্রায় করে না বললেই চলে, তাই তাকে এখনও হজম করা হয়নি বিজেপির। এর মূল কারণ RSS যতটা ছোটলোক ইতর ও বর্বর, প্রয়োজনে মমতা ব্যানার্জী তার থেকেও নিচে নামতে পারেন, দ্রুত ও প্রকাশ্যে। এবারে প্রায় চিবিয়ে এনেছে, শুধু গিলে নিতে হবে ঢক করে, আর ঠিক এই স্থানেই মমতা ব্যানার্জী বিজেপির কন্ঠনালীতে আঁটকে রয়েছে।

রাষ্ট্রপতিকে রাজ্যে প্রাসঙ্গিক করতেই হতো, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া সম্ভবত সময়ের অপেক্ষা, অন্তত মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেও পরিষ্কার- ‘কদিন বিশ্রাম করে নিয়ে আবার নামতে পারব’।

স্বভাবতই, কোন ভণ্ডামি মঞ্চে কে পায়চারি করছেন, মহুয়া ‘শশী’ মৈত্র কাকে কীভাবে বাঙালি পরিচয়ের সার্টিফিকেট বিলি করছেন, কোথায় কখন রাষ্ট্রপতি এসে কী বলছেন, দাঙ্গা বাবুল এবিপির কাকে চমকালো, চটিচাঁটা গায়িকা ইমন সোশ্যাল মিডিয়াতে ফিরল কিনা, কবির সুমন কোন গান গাইছে বা কোন ধান্দাবাজ কোন দল থেকে কোন আস্তাকুঁড়ে গিয়ে পৌঁছাল তাতে আমাদের কিচ্ছুটি যায় আসে না। যুদ্ধের আবহে তেল গ্যাসের বাজারে আগুন, নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে হাহাকার শুরু হলো বলে, তার উপরে SIR এর নামে ইচ্ছাকৃত নাগরিক বিপর্যয়, এসবকে উপেক্ষা করে দুই ফুলের ধাষ্টামিকে নাকের পোঁটার মতো ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আন্দোলনের পথেই থাকুন।



আল আকসা আর কতদিন টিকবে?


পরিস্থিতি যা এগোচ্ছে, তাতে আমি একটু শঙ্কিত আল আকসা মসজিদ নিয়ে। ফিলিস্তিনের দখলদার রাষ্ট্র ইজরায়েলের মূল উদ্দেশ্য- মিশরের নীলনদ থেকে ইরাকের ইউফ্রেটিস তথা ফোরাতের মধ্যবর্তী অংশটাকে নিয়ে গ্রেটার ইজরায়েল বানানো হলেও, ইম্মিডিয়েট লক্ষ্য একমাত্র জেরুসালেম দখল করা; আর এই কারণেই গাজাকে খালি করা এত প্রয়োজন। সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন-কানুনকে কাঁচকলা দেখিয়ে এই গণহত্যার সুপরিকল্পিত আয়োজন।

ইহুদীদের ঈশ্বর 'জিহোভার' দ্বারা প্রতিশ্রুত ভূমির সীমানা ওটাই তাদের ধর্মগ্রন্থ তানাখ-তোরাহ অনুযায়ী। আপনি এসব গাঁজাখুরি বিশ্বাস করুন বা না করুন- তাতে তাদের কিছু যায় আসে না, তাদের কাছে সত্যও বদলায় না। আর এই ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী পরিস্থিতি তৈরি করার জন্যই এত হত্যা, এত অত্যাচার; অবশ্য তাতে ওদের সামান্যতম অনুতাপ নেই, কারন ইহুদীরাই একমাত্র ঈশ্বরের 'চুজেন ওয়ান' জাতি, অবশিষ্ট পৃথিবীর সবাই জেনটাইল বা বর্বর দাস সম্প্রদায়ের, যাদের জন্মই হয়েছে ইহুদীদের সেবা করার জন্য, ওদের দ্বারা শাসিত হওয়ার জন্য, সে আপনি মুসলমান, খ্রিস্টান, হিন্দু বৌদ্ধ যা খুশি হোন- কোনো ফারাক নেই। আপনি সামান্যতম প্রতিবাদ করতে গেলেই আপনাকে অ্যান্টি-সেমেটিক নাম দিয়ে দাগিয়ে, আপনার উপরে সাজা ঘোষনা করবে, আপনার সম্পদ কেড়ে নেবে, পরিশেষে যেকোনো ছুঁতোতে হত্যা করবে।

নিকৃষ্ট ব্রাহ্মণ্যবাদের যদি কোনো প্যারামিটার হয়- যারা ইহুদীদের সামনে থেকে দেখেছে, তারা জানে ওই প্যারামিটারে ১ থেকে ১০ অবধি সবটা ইহুদীদের দখলে থাকবে, এর পর আমাদের দেশের  RSS মাইন্ডেড লোকজন। অন্ধবিশ্বাস আর হিংস্রতাতে কেউ ইহুদীদের স্পর্শ করতে পারবে না। পৃথিবীতে এমন একটা পাপ বা অপরাধের নাম বলুন যেটা তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে করেনি বা করছে না! জায়োনিস্ট প্রোপাগান্ডার ফাঁদে পড়ে আপনি নিজেও যদি মানসিকভাবে ইহুদী না হয়ে যান, তাহলে সামান্যতম সুস্থ চিন্তা করলেই এই অভিশপ্ত জাতির প্রতিটা ষড়যন্ত্রকে চোখের সামনে ন্যাংটা ভাবে দেখতে পাবেন, ইতিহাসের সারণী ধরে হাঁটলেই। 

যা বলছিলাম, জেরুসালেম দখল না হলে তাদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী তাদের হাজার বছরের প্রতীক্ষিত প্রফেট বা নবী  তথা ঈশ্বরের দূত 'মাশায়ার' আগমন হবে না। তারা বিশ্বাস করে মশায়া আসা মাত্র ইহুদীরা গোটা বিশ্বের শাসক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সমগ্র বিশ্বের সমস্ত কিছু তারা জেরুসালেম থেকে নিয়ন্ত্রণ করবে, গোটা পৃথিবী একটাই রাষ্ট্র হবে, আক্ষরিকভাবেই তাদের লালিত স্বপ্ন one order word প্রতিষ্ঠিত হবে। এদিকে এই তথাকথিত মাসায়ার আসার প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে জেরুসালেমকে অ-ইহুদিদের হাত থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করা। 

আজ অবধি তারা টেম্পল রক দখল করতে পারেনি, মুসলিমদের দখলেই রয়েছে মসজিদটা, বা বেথেল থেকে খ্রিস্টানদেরও তাড়াতে পারেনি। আর না পারার জন্যই তারা অস্থির অধৈর্য হয়ে উঠেছে বর্তমান সময়ে, তাদের ধর্মীয় গণনা অনুযায়ী এই দশকেই মাসায়া বা মেসীর আবির্ভাব ঘটবে, তাই তারা চূড়ান্ত প্রস্তুতিপর্বে রয়েছে মাসায়া বরণের।

ইরাণ বোমা ফেলেছে এমন গল্প শুনিয়ে নিজেরাই ড্রোন বা মিসাইল দিয়ে টেম্পল রক সহ, ডোম রক ও আল আকসা- সবটা নিশ্চিহ্ন করে দিতেই পারে। যাতে তারা সেখানে থার্ড টেম্পল বানাতে পারে? এটাই তো তাদের মূল লক্ষ্য জেরুসালেমকে নিয়ে। সৌদির তেলক্ষেত্র বা সাইপ্রাসের ব্রিটিশ সেনা ছাউনিতে যেভাবে ফলস ফ্লাগ আক্রমণ চালিয়েছে ইজরায়েল- তাতে তারা পারে না এমন কোনো নিকৃষ্ট কাজ নেই পৃথিবীতে।

ওহ, আপনি তো আবার কোট পরিহিত পশ্চিমা ইহুদী-খ্রিস্টান জায়োনিস্টদের দেখে ভাবেন তারা শুধু বিজ্ঞানে বিশ্বাস করে, অন্ধ ধার্মিক নয়। আপনার কানে সপাটে থাপ্পড় মেরে জায়োনিস্টদের বাপ ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে এক অবোধ্য ধর্মীয় রিচুয়াল প্রদর্শনের মাধ্যমে বিজ্ঞানের মা মাসী এক করে দিয়েছে। যদিও আপনি প্রতিটি ইহুদীকে দেখেছেন মাথায় টুপি পড়ে ১ ফুট লম্বা ঝুলফি সহ, তারপরেও তাদের প্রতি আপনার পবিত্র বিশ্বাস তথা ঈমানের জন্য ওদেরকে আপনি ধর্মান্ধ ভাবতেই পারেননি কখনও। যেন ওদেরকে ধর্মান্ধ ভাবলে আপনার নিজের ধর্ম পতিত হয়ে যাবে, আপনি মানুষ কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। আসলে তাদের নিয়ন্ত্রিত গোটা বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো আপনাকে এমনটাই ভাবতে শিখিয়েছে। 

ব্রিটেনের পতন না হলে আমেরিকার উত্থান হতো না বিশ্ব পরাশক্তি হিসেবে। জামাল নাসেরের হাত ধরে সুয়েজের জলে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশদের অর্থনৈতিক কূটনৈতিক ও সামাজিক ভরাডুবি ঘটে। অত্যন্ত অপমানজনকভাবে মিশরের মাটি থেকে বাধ্য হয়ে ব্রিটেনকে পালিয়ে যেতে হয়, যার ফলে বৈশ্বিক পরাশক্তির মর্যাদা হারায় ব্রিটেন। এর পরের ৭০ বছর মাইটি আমেরিকার হিংস্র সন্ত্রাসের শতক। ইরানের দৌলতে এবারেই হয়তো হরমুজের জলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সলিলসমাধি ঘটবে! 

১৯৫৬ সালের ব্রিটেনের ছায়া দেখা যাচ্ছে আমেরিকার মধ্যে। এটাই ইহুদীদের জন্য সুবর্ণ সূযোগ, অন্তত তাদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী- তারা নিজেরা সুপার পাওয়ার বিশ্ব পরাশক্তি হতে চায়। এর জন্য মাসায়াকে আসতে হবে, মাসায়ার জন্য থার্ড টেম্পল বানাতে হবে, থার্ড টেম্পল বানাতে গেলে আল-আকসা মসজিদ নিশ্চিহ্ন করতে হবে- পরিষ্কার ক্রনোলজি।

সে যাই হোক, আল আকসা আর কতদিন টিকে থাকবে সেটাই বড় প্রশ্ন। বর্তমানের ইরাণ যুদ্ধ সর্বনাশের শুরু মাত্র, এই জায়োনিস্ট ইহুদীরা আরও বড় সর্বনাশ  বয়ে নিয়ে আসছে আগামীতে, সমগ্র অ-ইহুদী বিশ্বের জনগণের জন্য যা অভিশাপ।



শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

দালাল থেকে সাবধানঃ তৌসিফ হক

 


২০২১ এর নো-ভোট্টুর দল নতুন জামা পরে ‘সারা বাংলা বিচারাধীন ভোটার মঞ্চ’ হোয়াটস অ্যাপ ঠেক বানিয়েছে একদল ‘প্রতিকুর’। এই নো-ভোট্টু দের চরিত্র সকল বাম সমর্থকেদের জানা রয়েছে। গতকাল তোলামূলের ভন্ডামি মঞ্চ থেকে, শ্রীমান ভাইপো অফিসিয়ালি নোভোট্টু শাখার সমাপ্তি টেনে নতুন জামায় এদেরকে আনার ঘোষণা দিয়েছে, উপরোক্ত ‘হোয়াটস অ্যাপ মঞ্চ’ সেটারই অন্যতম পার্ট। ধর্ণার মাচা থেকে পাঠ করা ভাইপোর ভাষণ, আর এই whatsapp গ্রুপের এডমিনের বক্তব্য- জেরক্স কপির মতো মিলে যাওয়া কোনো কাকতালীয় নয়। বক্তব্য আসলে একটাই, যেটা i-pac লিখে এদের সকলের কাছে কপি সাপ্লাই করেছে। বাকিটা বোঝার জন্য পোস্টটা পড়ুন।

তৌসিফ হক, নামটা আমাদের মতো বামবৃত্তে যারা রয়েছি তাদের সকলেরই কমবেশি পরিচিত। নিজেকে বাম হিসাবেই পরিচয়ও দেন, আলিমুদ্দিনে যাতায়াতও আছে বলে দাবী করে নানান স্থানে। এই ‘তৌসিফ হক’ যদি সত্যিই বাম হতো- তাহলে ঘোষিতভাবে তৃণমূলের লোকজনের রাজনৈতিক সম্প্রীতির এমন সোনাগাছি গ্রুপ কোন উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছে? CPIM West Bengal তো রাজ্যের সর্বত্র কম বেশি শক্তি অনুসারে রাস্তায় রয়েছে এই ইস্যুতে। অন্যান্য বাম দলগুলোর মধ্যে CPI, RSP, ফরওয়ার্ড ব্লক, এমনকি বিধানসভায় মাত্র একটি MLA নিয়ে প্রবল লড়াই দেওয়া Indian Secular Front এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে Indian National Congress পর্যন্ত সামর্থ্য অনুযায়ী লড়াই করছে, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও আন্দোলনে যুক্ত। এর উদ্দেশ্য সৎ হলে, রাজ্যের সর্বত্র যেখানে বামেরা অবরোধ মিছিল করছে, সেখানে যোগ দেয়নি কেন?

শিল্পী মানুষ, গুণ থাকবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এমন মাদারচোদ যে তলে তলে ‘প্রতিকুর’ হয়ে বসে আছে সেটা গোপন হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে কেউ আমাকে যুক্ত না করলে জানতেই পারতাম না। নিচের ছবিগুলো দেখুন, বাকী বিচারের ভার একান্তই আপনার, একে আপনি কীভাবে দেখবেন! আর এই “সারা বাংলা বিচারাধীন ভোটার মঞ্চের” হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের সাথে বামমনস্ক যারা যুক্ত হয়েছেন ‘আপন’ ভেবে তারা আপনাদের চিহ্নিতকরণের কাজটা করছে i-pac এর হয়ে, যাতে বেছে নিয়ে বাদ দেওয়াটা নিশ্চিত করতে পারে। এরা আপনাকে ডিটেনশন ক্যাম্প অবধি নিয়ে যাবার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, এদের মিছিলে হেঁটে নিজের পেছন নিজে মারাবেন কিনা সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার। পোঁদ আপনার, গণতান্ত্রিক দেশে নিজ নিজ সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন অনুযায়ী কার সামনে প্যান্ট খুলে উবু হয়ে শোবেন সেটাও আপনার চয়েস। প্রত্যেকের বোকাচো দা হওয়ার অধিকার রয়েছে।

এরা রীতিমতো সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ খুলে রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা প্রতারিতদের একস্থানে জড়ো করে তাদের আন্দোলনকে ভুল পথে চালনা করছে। গ্রুপের এডমিনদের একাংশ অতিবাম, কয়েকটা বোকা সিপিএম সমর্থক আর বাকি সবটা i-pac এর পে-রোলে থাকা পোষ্য বুদ্ধিবিচিদের হায়নার দল। আপনি বলবেন একটা হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ কী এমন আর করে নেবে; ভুল। ত্রিপুরাতে এমনই শয়ে শয়ে আপাত নিরীহ হোয়াটাস অ্যাপ গ্রুপ খুলে সেখানে একেকটা ‘প্রতিকুরদের’ বসিয়ে রেখে বাম সমর্থকদের সাথে ধোঁকাবাজি করে বিপথে চালনা করেছিল। ফলাফল আমরা সকলেই জানি, বাম সরকারের পতন হয়েছিল। আমাকে কেউ এমন একটা গ্রুপে জুড়ে দিয়েছিল বলে নাহয় সেই ‘একটা’ গ্রুপের বিষয়ে জানতে পেরেছি, এমন আরও কত শত গোপন গ্রুপ আছে কে বলতে পারবে? এরা একটা হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ খোলেনি, আমি যেটাতে ছিলাম সেটা মাদার গ্রুপ; এখান থেকে প্রতিটা জেলার জন্য ছোট ছোট গ্রুপ, আরো বিভিন্ন সাবগ্রুপ করেছে। ব্লকে ব্লকে এই ছত্রাকের জাল কতটা বিছিয়েছে এখনই জানা যাচ্ছে না।

আমরা যারা বাম মনস্ক ও বাম সমর্থক, তারা সন্দেহাতীত ভাবে একটু বেশিই আবেগী। কেউ দু’বার লাল সেলাম বা ইনক্লাব জিন্দাবাদ বললেই ধরে নিই- এ তো আমার বৃত্তের লোক, পার্টিজান। আর এই সুযোগে মুখোশ পরা চমনচুতিয়ার দল আমাদের আবেগকে পুঁজি করে আমাদের ধোঁকা দেয়। আসলে এরা সকলে মীরজাফর, সরি মীরজাফর অনেক বস্তাপচা একটা উপমা, বরং ‘প্রতিকুর’ শব্দটাই একদম আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত। এই প্রতিকুরেরা লাল পোশাকে সেজে তলে তলে i-pac এর হাতে তামাক খেয়ে দলের ক্ষতি করে চলেছে নিজের সাধ্যমতো। হ্যাঁ, ব্যক্তি তৌসিফ হক কোনো বড় হনু নয়, কিন্তু দলের সর্বত্র এমন ছোট বড় খেঁকি নেড়িতে ভর্তি, যারা আসলে তোলামূলের উচ্ছিষ্ট ভোগী দালাল। তোলামূলের হারামের টাকায় এরা পেট চালায়, আর সোশ্যাল মিডিয়ার একটা বড় অংশের বাম সমর্থকদের কনফিডেন্সে নিয়ে তাদের ভুল পথে চালনা করে। উদাহরনস্বরূপ, এই তৌসিফের ৫৮ হাজার ফলোয়ারের ৫৭ই বাম মনস্ক, লালজামা এদের টোপ এর ফাৎনা। ‘এঁকে খাই’ না, চেটে খাই।

এই বেজন্মার বাচ্চা ‘বামমনস্ক শিল্পী’ অন্তত হাজার খানিক আন্ডার-এডজুডিকেসনে থাকা মানুষদের নিয়ে আন্দোলনের নামে রাজনৈতিক সম্প্রীতির নামে একটা ফাঁদ খুলেছে, যা i-pac এর নির্দেশিত পথে চালনা হচ্ছে। জয়হিন্দ, বিজেপি হটাও ইত্যাদি স্লোগানের প্র্যাকটিস হচ্ছে। আজকের ধর্না মঞ্চে ভাইপোর করা ভাষণের সাথে যার কোনো ফারাক নেই, কমেন্টে সেই ছবি দিলাম। আমি যেই প্রশ্ন করেছি- “ভুল করেও কেউ যেন তৃনমূল হটাও স্লোগান দেবেন না, তাহলে খাসি করে দেবে”। আমার সেই কমেন্ট প্রথমে ডিলিট করে, ও পরে ডিলিটের কারণ জানতে চাইলে আমাকে গ্রুপ থেকে রিমুভ করে। আমি অবশ্য লিখেছিলাম তোদের গ্রুপ তৃণমূলের দালালি করার জন্য জানলে, শুরুতেই গ্রুপে মুতে দিতাম। আমার প্রশ্নে উলঙ্গ হয়ে যেতেই, মহঃ সেলিমের একটা উক্তি সম্বলিত একটা পোস্টার এনে চিপকে দিয়ে নিজেকে সিপিএম প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছে, কতবড় শুয়োরের বাচ্চা এই মালটা। ছবিতে দেখুন।

জয় হিন্দ, বিজেপি হটাও এইসব স্লোগানের আড়ালে কোমায় থাকা তৃণমূলকে আমেরিকায় বসে দালালী করা লোক ধরে এনে বাঁচাবার চেষ্টা করছে। তারা জেনে শুনে এরকম কর্মসূচি নিয়েছে, যাতে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচীতে যাতে কোনো সমস্যা তৈরি না হয়, উল্টে অরাজোনৈতিক মুখোশের আড়ালে মুখ্যমন্ত্রীর ভণ্ডামি মঞ্চে লোক পাঠানো যায়। এই কারণেই গতকাল একটা প্রি প্ল্যান কর্মসূচি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পার্ক সার্কাসের বুকে নিয়েছিল, যাতে ওই দিক থেকে গতকাল ধর্মতলার মঞ্চে দেখানো পার্শ্ব-শিক্ষকদের বিক্ষোভ কর্মসূচির মতো কেউ এসে কেউ বিক্ষোভ দেখাতে না পারে। শয়তানি ১০০ শতাংশ শুধু পেটে পেটে নয় মাথা থেকে পা অব্দি। আপনারা দেখে নেবেন ‘প্রতিকুর’ যখন কোনো ইন্টারভিউ দেয়, তখন তিনজন একসাথে কথা বলে। প্রথমত, ফিকে হয়ে যাওয়া লাল জামা পরে ব্যক্তি প্রতিকুর, দ্বিতীয়ত- প্রতিহিংসাপরায়ণ ঋতব্রত এবং বুদ্ধিদাতা সংস্থা আইপ্যাক। ‘মুসলমান’ প্রতিকুরকে ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখা এখন i-pac তথা তৃণমূলের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। 

আমার টাইমলাইনের বন্ধুবৃত্তে থাকা অনেকেই সেই গ্রুপে রয়েছেন, আপনারা গতকাল সন্ধ্যার সেই চ্যাট নিজেরাই দেখতে পাবেন ওই গ্রুপে স্ক্রল করে উপরের দিকে গেলে। বাকিরা অ্যাটাচড ছবিতে দেখে নিন। এটা বিশেষ একটা বাল-ব্যাটার বিরুদ্ধে কোনো ‘খাপ পঞ্চায়েত’ বসানো নয়, এটা প্রতিকুরদের চিহ্নিতকরণের একটা প্রক্রিয়া। তৌসিফ হক এমন কোনো কিডনি ফুসফুস নয় যে সমাজের কাছে সে ম্যান্ডেটারি কিছু, এগুলো বস্তুত ঝাঁটের বাল, ছেঁটে দিলেই নর্দমাতে শোভা পাবে। 

এদের হোয়াটস অ্যাপ মঞ্চের মুখে পেচ্ছাপ করে দিন। এরা গতকাল শুক্রবার বেলা ১টার সময় পার্কসার্কাসে ধর্ণার আয়োজন কর্মসূচি নিয়েছিল। রোজার মাস, তার উপরে জুম্মাবার। বেলা দেড়টার সময় কে বা কারা যাবে সেখানে? যেখানে বিচারাধীন ভোটারদের ৭৩%ই মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ! যদি না জেনে এমন কর্মসূচি করে থাকে তাদের তাদের বোধবুদ্ধি আর অওকাত বিষয়ে প্রশ্ন উঠবে, আর জেনেবুঝে করে থাকলে, যাতে এই ‘অরাজনৈতিক’ আন্দোলন কোনোভাবেই দানা না বাঁধতে পারে সেই জন্য এমন টাইমিং। পরিষ্কার শয়তানি। অরাজনৈতিক রাত দখলের ডাক দেওয়া যাদবপুরের সেই তথাকথিত ‘বামমনস্ক’ মহিলাকে নিশ্চয়ই কেউ ভুলে যাননি, যিনি সিপিএমকে ভেঙে যেতে দেখার জন্যই আজও বেঁচে রয়েছেন। এরা সকলেই একটা করে প্রতিকুর। কেউ রাতারাতি প্রতিকুর হয় না, দীর্ঘদিন তোলাবাজদের সাথে একথালায় ভাত না খেলে এমন বিশ্বাসঘাতক ‘প্রতিকুর’ জন্মায় না। এদের সর্বাত্মক ছোঁয়াচ না ত্যাগ করলে, কোনদিন দেখবেন আপনাকেও প্রতিকুর বানিয়ে দিয়েছে। 

তাই সাধু সাবধান, তৌসিফের মতো প্রতিকুরেরা ভেড়ার ছাল গাঁয়ে নেকড়ে, আপনার ইজমকে নষ্ট করতে এরা মরিয়া। নতুবা যেই মাত্র তৃণমূলের বিরুদ্ধে বলেছি, ওমনি বিপ্লবী বাবুর গায়ে ফোস্কা পরে গেছে, এবং সাথে সাথে আমাকে রিমুভ করে দিয়েছে। গান্ডু জানে না আমার তো আরও চারটে নম্বর ওখানে থাকতেই পারে, খেলা কি i-pac একাই জানে! আপনি যদি সত্যিই আপনার আন্দোলনকে কোনো সদর্থক পথে নিয়ে যেতে চান, সেক্ষেত্রে যারা ঘোষিত RSS (বিজেপি ও তৃনমূল দুটোই RSS এর শাখা) বিরোধী দল রাস্তায় আছে, যার যে দল পছন্দ তার মিছিলে যান, i-pac এর এই খোঁচরদের ফাঁদে পরলে আপনি জান মাল ইজ্জত সব খোয়াবেন। অতীত থেকে শিক্ষা নিন। 

ইলেকশন কমিশনের মাধ্যমে RSS যে বৃহত্তর বে-নাগরিকী করণের চক্রান্ত করেছে; প্রান্তিক মানুষকে, বিশেষ করে মুসলমান ও তফসিলি হিন্দু সমাজের যে সকল মানুষকে বেনাগরিক করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র রচেছে ‘বিজেপি ও তৃণমূলে’র মাধ্যমে, সেই জাঁতাকলে মানুষগুলো দিশেহারা। যে যার যার মতো করে মরিয়া হয়ে আন্দোলনের পথ খুঁজছে। মানুষ তৃণমূলের ভণ্ডামি ধরে ফেলেছে, রাজ্যসরকারী কর্মী BLO/AREO/BDO ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের একাংশের ইচ্ছাকৃত ভুলের দরুন, ডকুমেন্টস সময়মতো আপলোড না করার দরুন ৬০ লক্ষের বেশি মানুষকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ২৭শে ফেব্রুয়ারিই বলে দিয়েছিল ১ কোটি ২০ লাখ নাম বাদ যেতে চলেছে, তার মানে উনি শুরু থেকেই সবটা জানতেন। বেছে বেছে সংখ্যালঘু মুসলমান, মতুয়া ও নিম্নবর্ণের হিন্দুদের নাম বিচারাধীন তালিকাতে রাখা হয়েছে। ৬০ লাখ মানুষকে জিম্মি বানিয়েছে RSS এর দুই ফুল মিলে।

কেরল এবং তামিলনাড়ু সরকার SIR এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে। DA না দেওয়ার জন্য আদালতের মাছি হয়ে পরে থাকা তৃনমূল সরকার কোনো আদালতে যায়নি, উল্টে মানুষকে মিথ্যা বলেছে যে SIR করতেই দেবো না। অথচ মমতা সরকারই ৮০ হাজার BLO  সাপ্লাই করেছে, BDO অফিসের লোকজন সাপ্লাই করেছে, গোটা প্রক্রিয়ার জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। তারপর আমাদের ফিলাপ করা ফর্ম নিয়ে গিয়ে i-pac এবং তৃণমূল দলের পে-রোলে থাকা ডাটা এন্ট্রি অপারেটর দিয়ে- যার যা খুশি নামের বানান আপলোড করেছে। আমাদের মতো যাদের হিয়ারিংয়ে ডাক পড়েছিল, তাদের ডকুমেন্ট কারও আপলোড করেছে, কারও করেনি। 

বাঙালির পদবীতে ব্যানার্জি-বন্দ্যোপাধ্যায়, চ্যাটার্জী-চট্টোপাধ্যায় কিংবা শেখ বানান চার রকম, হক বানান তিন রকম, মোহাম্মদের হরেক বানান লেখা হয়। সরকার সেটা জানত না? সরকারের তরফ থেকে নির্যাতন কমিশনকে পরিষ্কার করে একটা একটা হলফনামা বিবৃতি দিলে- সমস্যা শুরুর আগেই সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু মমতা ব্যানার্জী তো RSS এর সাথে চুক্তি করেছে মুসলমান, মতুয়া আর তপশিলী হিন্দুদের পথে বসাবে। নতুবা SIR প্রক্রিয়া শুরুর আগেই শুভেন্দুর দাবী করা এক কোটি কুড়ি লাখ, ২৭শে ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর অনুমান করা এক কোটি কুড়ি লাখ, আর ফাইনাল লিস্টের এক কোটি কুড়ি লাখ- হুবহু কী করে মিলে যায়? 

আসামে D-Voter শব্দ একবার ব্যবহার হয়ে গেছে, সেখানে বিতর্কের জন্ম হওয়ার কারণে এবারে নতুন শয়তানি এনেছে নির্যাতন কমিশন- আন্ডার এডুডিকেশন। দুটো একই শব্দ, নতুন বোতলে পুরাতন আইডিয়ার প্রয়োগ। মমতা ব্যানার্জী ও i-pac এর পাশাপাশি, লাল জামা পরিহিত ‘প্রতিকুরদের’ ফাঁদ থেকে বেঁচে থাকাটা বাম সমর্থক ও কর্মীদের প্রাথমিক সফলতা, আপনি কতটা সতর্ক তার উপরে আপনার এই সাফল্য নির্ভর করবে।

শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬

ধর্মান্ধ উন্মাদের দল



Iran is run by lunatics, religious fanatic lunatics,” Mr Rubio

নিচের ভিডিওটা ধর্মান্ধ ইরানিদের। একমাত্র বিজ্ঞান ও গণতন্ত্রের বাইরে সমস্ত কিছুকে যে ইরান মিথ্যা বলে এসেছে, তারা আজ  কোনো এক ইশ্বরের কাছে কিছু অবোধ্য মন্ত্র উচ্চারণ এবং কিছু দুর্বোধ্য সাংকেতিক রিচুয়াল তথা আচরণ করে 'প্রার্থনার মাধ্যমে' যুদ্ধে বাঁঁচতে চাইছে। শুধু বাংলাদেশই আয়াতুল কুরশি পড়ে যুদ্ধে যায় না তাহলে- সুপার পাওয়ারের দেশও বিজ্ঞানের মাকে শ্যাওড়া তলায় বসিয়ে রেখে 'দোয়া' মোডে চলে যায়।

৫০০০ বছরের পারস্য সভ্যতার উত্তরাধিকারী আমেরিকা ও বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ট্যেকনোলজির আইরোন ডোম ও শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের দেশ ইজরায়েল, যাদের দেশকে ফিলিস্তিন নামের দখলদারেরা বন্দি করে নিয়েছে, এদের হাতে কম্বল ধোলাই খেয়ে প্রথমে ইরান ডায়লোগ দিচ্ছিল আমরা আমেরিকা ও ইজরায়েলের রিজিম চেঞ্জ করে দেবো। ইরান আপাতত মধ্যপ্রাচ্য থেকে পালিয়ে গেছে, ইরানের জাহাজগুলো ভারতীয় সীমান্তে বাঁধা। রিজিম চেঞ্জের গল্প পরে হবে, আগে প্রাণ বাঁঁচুক।

এর আগে পিডিফিলিক ইরান ভয়ানক নারী ক্ষমতায়নের কথা বলে আমেরিকার ইস্কুলে স্বতঃপ্রণোদিত হামলা চালিয়ে ১৬৭টা শিশু কন্যা হত্যা করেছে, আমেরিকা আর ইজরায়েলের নাবালক শান্তিপ্রিয় নাগরিকের বাসভবনে বোমা মেরে আমেরিকা ও ইজরায়েলের রিজিম চেঞ্জ করতে গিয়েছিল। আমেরিকার রাষ্ট্রনেতাকে হত্যা করেছে অতর্কিতে।


পাল্টা মার খেয়ে এখন ইরান এর আমেরিকার পায়ে ধরে সিজফায়ার চেয়েছে নাবালক ইজরায়েলের কাছে, আমেরিকা মানতে নারাজ, তারা বীরের জাত। আমেরিকা রোজ ইরানে ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে মিসাইল দিয়ে, মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরানের কব্জাতে থাকা ১৯টা ঘাঁটি ছেড়ে ইরান- ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি করে মুখ লুকাচ্ছে। 

ভেনেজুয়েলাতে ইরান যেভাবে ন্যাক্করজনক অভিযান চালিয়ে তাদের রাষ্ট্রপতিকে তুলে এনেছিল স্পেশাল বাহিনী দিয়ে, আমেরিকাতেও সেই একই খেলা খেলতে গিয়ে ৭৬ জন ইরানী সেনা আমেরিকার ফাঁদে বন্দি, তাদের জিম্মি বানিয়েছে আমেরিকা। সুতরাং ইরান এখন সমানে তর্জন গর্জন করছে নিজের দেশে বসে, ওদিকে মাসুম আমেরিকা তার অস্তিত্বের লড়াই লড়ছে।

একমাত্র বিজ্ঞান আর গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মিথ্যাবাদী আর ফাঁপানো বেলুন ইরানের দণ্ডমুন্ডের কর্তারা আজ মিডিয়ার সামনে, ইশ্বরের কাছে দোওয়া তথা প্রার্থনা সভা করে সমগ্র বিশ্বের মানুষের কাছে আশীর্বাদ চেয়েছে- যাতে তারা যে সত্যের পক্ষে লড়াই করছে তারা জিততে পারে।

আমিন বলবেন কিনা আপনার ইচ্ছা। এখন ভিডিওতে আপনি ইরানের বদলে আমেরিকাকে দেখতে পান, জেনে রাখুন, আপনিও একজন পাপী আত্মার অধিকারী হয়ে যাচ্ছেন ক্রমশ। নাহলে সর্বত্র মাসুম আমেরিকাকে দেখতেন না।



ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য গতিপথ ও নতুন বিশ্বব্যবস্থা

বিশ্ব রাজনীতির এক যুগান্তকারী সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছি আমরা। চলমান পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী জিওপলিটিক্সের স্নায়ুতন্ত্রের DNA পরিবর্তন ঘ...