উন্মাদের টোল
কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না
শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ফ্যাসিজম ও আজকের পৃথিবী
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
অঙ্কঃ ২০২৬ ভোটের আগেই তৃনমূল ফিনিশ
মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ, ভোটের আগেই তৃণমূলও ফিনিস। অঙ্ক সেটাই বলছে। মিলিয়ে নিন নাহয়-
মুখ্যমন্ত্রী মোটামুটি নিশ্চিত ১কোটি ২০ লাখ নাম কাটা যাচ্ছেই। কিছু ভুলভ্রান্তি বাদে, ধরে নেওয়া যায় ১ কোটি ১০ বা ৫ লাখ অবৈধ ও ভুয়ো ভোটার। নিদেন পক্ষে ১ কোটি নাম বাদ যাওয়া কেউ রুখতে পারবেনা।
রাজ্যে ২০২৪ সালের ভোটার লিষ্টে ৭ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ছিলো। যার মধ্যে পোল হয়েছিলো ৬ কোটি ৫ লাখ মত ভোট। উপরোক্ত ওই সম্ভাব্য বাদ যাওয়া ১ কোটির আশেপাশে ভুতুরে ভোটারের প্রায় সমস্ত ভোটটাই পোল হয়েছিলো, যার ৮০% তৃণমূলের বাক্সেই গিয়েছিলো, এটা বলার জন্য কোনো বিশেষজ্ঞ হতে হয়না।
পোলিং ভোটের ৬ কোটির নিরিখে ওই ১ কোটি মানে ১৬.৬৬% ভোট নেই হয়েছে। যার মধ্যে ১৪% এরও বেশী ভোট ভুতুরে ভোট তৃণমূলের ছিলো, যেটা গায়েব হতে, ২০২৪ এর ভোটে প্রাপ্ত তৃণমূলের ৪৩.৬৯% ভোট শেয়ার কমে দাঁড়াবে- ২৯.৬৯% তে।
২০২৬ এর নিরিখে রাজ্যে মুসলমান ভোট দাঁড়াবে কমবেশী ৩০%, যার মধ্যে বাম+কংগ্রেস ও অন্যান্য ছোট দল মিলে ৫% পায়। বাকি ২৫% এর গোটাটা তৃণমূল পেয়ে এসেছে গত ১৪ বছর ধরে প্রতিটা নির্বাচনে। এখন এই মুসলমান ভোটের মাত্র অর্ধেক, হ্যাঁ- যদি অর্ধেকও যদি তৃণমূলের মুখে ঝাঁটার বারি মারে, তৃণমূলের ২৯.৬৯% ভোট কমে ১৭%তে মুখ থুবড়ে পরবে। ৫০টা আসনে জিতলেই তৃণমূল বর্তে যাবে। এর পর চুরি দুর্নীতির কারনে কিছু বাদ গেলে তো আরো শেষ।
পিসি ভাইপো গায়ক নায়ক ধমকে চমকে টাকা ছড়িয়ে, জাপানি তেল রকেট ক্যাপসুল ভায়াগ্রা সর্বিট্রেট RSS কোনো ওষুধই তৃণমূলের শ্মশানযাত্রা আঁটকাতে পারবেনা নিশ্চিত। দুর্নীতিগ্রস্থ BDO/SDO আর থানার অসাধু দলদাস OC/IC এর দলও যদি তৃণমূলের হয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় নেমে পরে উলঙ্গ হয়ে- তারাও জনরোষের শিকার হবে, তাদেরও পরিবার পরিজন আছে। হারামের টাকায় ফুর্তিমারা কোনো চোর বাটপার এবারে পাড় পাবেনা।
সুতরাং, আতঙ্কিত মমতা ও i-Pac সমানে SIR এর মুসলমানকে বাদ দিচ্ছে এমন গল্প ফেঁদে মুসলমান সমাজকে অশান্ত করে রাজ্যে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে। মুসলমান সম্প্রদায়কে ভয় দেখিয়ে উস্কিয়ে রাজ্যে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। আসল সমস্যার লক্ষ গুন মিথ্যা প্রচার। যেমন SIR এর লাইনে লোকে অসুস্থ হবার গল্প ছড়াচ্ছিলো, অথচ বেকার ভাতার লাইনে সবাই ফুর্তিতে রয়েছে। আতঙ্কিত মুসলমান নয়, আতঙ্কিত তৃণমূল। মুসলমানের নাম বাদ কতটা যাবেনা জানিনা, কিন্তু তৃণমূলের নাম নিশান মুছে যাবে রাজ্যের বুক থেকে- এটার দেওয়াল লিখন পড়া যাচ্ছে।
যতটা আতঙ্কিত হবার কথা, তার লক্ষ গুণ আতঙ্ক তৃণমূল নিজে ছড়াচ্ছে তাদের পোষ্য মিডিয়া আনন্দবাজার, সংবাদ প্রতিদিন, TV9 বাংলা, আজকাল আর বর্তমান মিলে। সাথে ফেসবুক আর ইউটিউবের ভাতাজীবি কিছু স্বঘোষিত মিডিয়া আর বিশ্বমাচাদো সাংবাদিক কুল। তোলামূলের হারামের টাকায় পুষ্ট এরা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য জান কবুল লড়াই করছে যাতে তাদের রোজগার বেঁচে থাকে।
মমতা ব্যানার্জীও সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টায় আছে, যেন তেন প্রকারে ২০২৪ এর ভুতুরে ভোটারলিস্ট ধরে ভোট করাতে। SIR নিতে তার মূল আপত্তি ভুতুরে ভোটার বাদ দেওয়া যাবেনা। মমতা ব্যানার্জী নিজেও ভোটে না দাঁড়িয়ে পালাতে চাইছে- এতে তাদের ভয় ও আতঙ্ক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামীতে যা খুশি হোক- মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক কেরিয়ার দৃশ্যত ফিনিস।
সুতরাং, কোমর বেঁধে রাস্তায় নেমে পরুন। আমীতে রাজ্যের ক্ষমতায় কে আসবে তার চিত্র আজও পরিষ্কার নয়, কিন্তু এটা নিশ্চিত যে- ২০২৬শে কোনো অঙ্কে তোলামূল আর ফিরছেনা- এটার চেয়ে সত্যি এই মুহুর্তে আই কিচ্ছু নেই।
CPIM এর জন্যও এ এক চুড়ান্ত সুযোগ, মিডিয়াকে ভৌ ভৌ করতে দিন, কুত্তা ভৌভৌ করবে, কষিয়ে ক্যাৎ করে একটা লাথ মারলে কেঁউকেঁউ করে লেজ গুটিয়ে পালাবে। শুধু মাটিতে দাঁত কামড়ে পড়ে থেকে ভোট গণনা অবধি জান লাগিয়ে দিতে হবে।
জনগণের বিজয় অদুৱেই।
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মুকুল রায়
বাংলায় সন্তজলীয় রাজনীতির অনুপেক্ষনীয় জনক
মুকুল রায়, যিনি ভবিষ্যৎ দেখতে পেতেন, শুধু এমনটা নয়; তিনি ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতেন ছলে বলে কৌশলে। কেউ তাকে চাণক্য বলেন কেউ বলে চোর, যে যা খুশি বলুক তার নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে, আমি তাকে ‘মুকুল রায়’ই বলব। বাংলার বুকে দক্ষিণপন্থী রাজনীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক পান্ডিত্যের উর্ধ্বে প্রণব মুখার্জির সমমানের ক্ষুরধার মস্তিষ্ক যদি কারো হয়ে থাকে, সেটা মুকুল রায়। চাণক্য তোপ বা পরমাণু বোমা ছিলেন হয়তবা, সেখানে মুকুল রায় সামান্য সূচ; কিন্তু সেই প্রায় অক্ষম সূচই এতটা বিষাক্ত হয়ে তার বিরোধী রাজনীতির শরীরে মনে গেঁথে গিয়েছিল, যেখান থেকে আজও কংগ্রেস ও বামেরা বের হতে পারেনি।
মমতা ব্যানার্জী তৃণমূল দল তৈরি করেননি, দল অজিত পাঁজা বানিয়েছিলেন। মুকুল রায় সেই সদ্য ভূমিষ্ঠ তৃণমূলেরর সমস্ত ব্যাক অফিস পিঠে করে বয়ে নিয়ে একটা দল বানিয়ে তুলেছিলেন নেপথ্যে থেকে। মুকুল রায়ের ৩০% রাজনৈতিক প্রাজ্ঞতা, রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি, রিস্ক নেওয়ার সাহস, উপস্থিত বুদ্ধি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যদি আজকের বামেদের সবকটা নেতা মিলিয়েও থাকতো, দলটা কবে দাঁড়িয়ে যেতো। লোকে এটা ভুলে গেছে, মুকুল রায় ২০১৬ সালে তৃণমূল থেকে চলে যেতে আইপ্যাককে আসতে হয়েছিল মমতার পরামর্শদাতা হিসাবে।
অত্যন্ত লো-প্রোফাইল, ভীষণ ডিসিপ্লিন, সাথে আন্তরিকতা- এটাই তাকে দক্ষ সংগঠক করে তুলেছিলো। যে মানুষ রাগে না, তার চেয়ে ডেডিকেডেট ত্রাস কম জনই হতে পারে, মুকুল রায় ছিল সেই ব্যতিক্রমী চরিত্র, যাকে রাগানো একপ্রকার অসম্ভব ছিল। একটা মানুষ কখন এগিয়ে যায় জানেন? না, প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রী কাউকে ধড়াচূড়া শিক্ষিত বানালেও জ্ঞানী বানাবে তার নিশ্চয়তা নেই। জ্ঞানী সেই লোক যিনি শুধু নিখুঁত পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত বিশ্লেষণ করে ফেলতে পারেন পরিস্থিতি বা ঘটনাকে। জ্ঞানী সেই লোক, যে বলে কম, শোনে বেশি- মুকুল রায় দ্বিতীয় ক্যাটেগরির লোক ছিলেন, যিনি নিজে হামবড়া না সেজে, রাজ্যের প্রায় প্রতিটা হামবড়াদের পথে বসিয়ে দিয়েছিল। এমনকি শেষ কালেও বিজেপি আর তৃণমূলে যে কোনো প্রভেদ নেই, এটাও তিনিই প্রমাণ করে দিয়ে গেছেন অফিসিয়ালি, এটাই মুকুল রায়। সৌজন্যবোধ আর শালীনতা তাকে অহংকারী আর অতিচালাকি করে তোলেনি, তাই তিনি তার রাজনৈতিক লক্ষ্যে অবিচল ও সফল ছিলেন।
তিনি শৈল্পিক ঘরানায় এসরাজ বেহালা তবলা বাজাতেননা, এক উদাসীন ভঙ্গিমায় প্রিলিউড ইন্টারলিউড গাইতেন কথ্য ভাষায়, তাতেই তার বিরোধী রাজনৈতিক মহলে হাহাকার পরে যেত। এটাই শিল্পী মুকুল রায় স্টাইল। মুকুল রায়ের মতন প্রোফাইল প্রতিটা রাজনৈতিক দলে হাজারে হাজারে আছে তারপরেও লোকটা 'স্বতন্ত্র' মুকুল রায় হয়ে বঙ্গীয় রাজনীতিতে অনন্য নিজস্ব ধারা সেট করে যেতে সক্ষম হয়েছে। আপনি ডানধারায় থাকুন কিংবা বামধারায়, মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতিকে উপেক্ষা করার উপায় নেই আপনার। আজকের পশ্চিমবঙ্গে যে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির ফর্মটাকে আমরা দেখছি, তার ইঞ্জিনিয়ারিং মুকুল রায়ের হাতে তৈরি করা। বঙ্গীয় রাজনীতিতে ঘোড়া কেনাবেচা মুকুল রায়ের তৈরি। চিটফান্ডকে সরাসরি দলীয় ফান্ড হিসেবে ব্যবহার করা, প্রশাসন আর দলকে গুলিয়ে দেওয়া- অত্যন্ত দক্ষতা ও কনফিডেন্টের সাথে প্রতিটা দুষ্কর্ম করেছেন।
এথিক্সহীন নোংরা রাজনৈতিক জামানার জননী মমতা ব্যানার্জী হলে, মুকুল রায় তার সুযোগ্য পালকপিতা। এটার সুচারু শুরু বা এটার গুরুও এই মুকুল রায়ই। তারপরেও একটা সুক্ষ পার্থক্য রয়ে গেছে উভয়ের মাঝে, প্রায় একই নামগোত্রহীন সামাজিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে উঠে আসা মুকুল রায়ের তথাকথিত শিক্ষাগত যোগ্যতার অস্তিত্বকে জাহির করতে কোন অসততা তঞ্চকতার পথ নিতে হয়নি। কথায় কথায় মিথ্যাচার করতে হয়নি, নিজেকে শিল্পী কবি সাহিত্যিক বানাবার চেষ্টা করতে হয়নি, তার এক ও অকৃত্রিম পরিচয় ছিলো- রাজনীতিবিদ। সেই অর্থে মিডিয়ার ব্লু-আইড বয় ইমেজও কখনও ছিল না। মুকুল রায়ের মূল কৃতিত্ব তার ভাবলেশহীন মুখের অসাধারণ ফ্লেক্সিবিলিটি এবং গোপনীয়তা রক্ষা করার এক অনন্য সাধারণ দক্ষতা। একই পার্টির দুই লবি বা গোষ্ঠী বানানো এবং সেখান থেকে জন্মানো দ্বন্দ কীভাবে মেটাতে হয়, এটার উপরে তার মাস্টার্স করা ছিল।
পশ্চিমবঙ্গের এত বছরে বাম লেগাসিকে কেলিয়ে লাট করে, নৈতিকতার মুখোশ খুলিয়ে আর্থিক লোভের ফাঁদে ফেলে, যাকে যেভাবে পেরেছে ন্যাংটা করে হাতে বাটি ধরিয়ে, তাদের তীব্র অহং আর ঔদ্ধত্যকে দেওয়াল ধরিয়ে, পিঠের চামড়া গুটিয়ে পোঁদে নামিয়ে দিয়েছিল যে লোকটা- তার নাম মুকুল রায়। শুধু তাই নয়, গোটা বাম সমাজ আজ বাম রাজনীতির নামে যে ‘পার্লামেন্টারি আর জুডিশিয়ারি প্র্যাক্টিসের’ নাগপাশে বন্দি, সেই বৃত্তে তাদের গোলগোল ঘুরিয়ে বেরাবার যে ব্লুপ্রিন্ট তা মুকুল রায়ের তৈরি, মমতার নয়। নকশাল, কংগ্রেস, অতিবাম, এসোসুই, NGO, সিদ্দিকুল্লাহ, রাজবংশী, গোর্খা বিচ্ছিন্নতাবাদী, সিমি, জামাত, বিজেপি থেকে মাওবাদী- সমস্ত আলবালছাল এই সকলকে এক ছাতার তলায় আনার ক্রেডিট মুকুল রায়ের, সূচ হয়ে এদের সকলকে এক চাদরের নিচে সেলাই করেছিলেন তিনি। মমতার অগ্নিকন্যা আর সততার প্রতীক ইমেজ ছিল, সেই ইমেজের পারফেক্ট ব্যবহার মুকুল রায় করেছিল।
ওই যে তাৎক্ষণিক মারপ্যাঁচ ও সেই মতো দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সকলকে যোগাড় করে এনে একটা চাদর বোনা- এটা বিরল কৃতিত্ব ছিল বাম বিরোধী রাজনীতিতে। না তিনি ভাল মঞ্চের বক্তা ছিলেন, না ক্যারিশ্ম্যাটিক উপস্থিতি, না ব্লু-ভেইন বংশমর্যাদা, না হাইফাই শিক্ষাগত যোগ্যোতা, তার পরেও একটা ৩৪ বছরের ক্যাডারভিত্তিক ক্ষমতাসীন আদর্শবাদী পার্টিকে সরাতে এই লোকটা কৃষ্ণের মতো যোগ্য সারথির মতো কাজ করে গেছেন। যিনি জানতেন তার সেই উজ্জ্বল ক্যারিশ্মা নেই, না তার পিছনে জেভিয়ার্স, যাদবপুর বা JNU ট্যাগ রয়েছে, না তিনি আইনজীবি বা অর্থনীতিবিদ, গায়ক, নায়ক ছিলেন। অনেকে বলেন তিনি নাকি ওয়াগান ব্রোকার বা সাট্টা দলের চাঁই ছিলেন- সত্যিও হতে পারে মিথ্যা হতে পারে। ধরে নিলাম এটাই সত্যি, তাহলে সেই নর্দমা থেকে উঠে এসে, কোলকাত্তাইয়া রাজনীতির বৃত্তে ঢুকে পড়ে, একটা তথাকথিত শিক্ষিত মানুষের দলকে পথে বসিয়ে দিয়েছিল, CPIM বাদে বাকি দলগুলোকে সাইনবোর্ড বানিয়ে দিয়েছিল তার কুৎসিত দুর্বুদ্ধি দিয়ে। তিনি তার সমস্ত লিমিটেশন ঢেকে দিয়েছিলেন ক্ষুরধার শয়তানি বুদ্ধি দিয়ে। মমতার ইমেজকে ব্লেডের মতো ব্যবহার করে সর্বত্র ফালাফালা তিনি করেছিলেন।
শত্রুকে ঘৃণা করতেই হবে, কিন্তু রাজনীতি করতে এসে রাজনৈতিক ব্যক্তিকে যে শুধু ঘৃণার বসে যারা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য উপহাস করে, তার মতো হতচ্ছাড়া মূর্খ গাম্বাট আর কেউ হয় না। সমালোচনা হতে পারে তীব্র ভাবে কিংবা প্রশংসা করতে পারেন, উপেক্ষা করতে পারেন না। তার সময়ে তাকে নিয়ে কেউ কেউ আশায় থাকত, কেউ আবার আশঙ্কায়। কিন্তু, এটা নিয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই, যে তিনি যদ্দিন প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে সুস্থ শরীরে ছিলেন- তাঁর নিজের মতো করেই ছিলেন।
এটা হচ্ছে মুকুল রায়ের সম্বন্ধে আমার মূল্যয়ন। আমি তার রাজনৈতিক আদর্শকে ঘেন্না করি, কিন্তু উপহাস করতে পারি না, কারণ সে চোখে আঙুল দিয়ে তার বিরোধী প্রতিটা রাজনৈতিক দলের ফাঁকফোঁকর দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। দম্ভ অহমিকার হাড়ে মজ্জায় জন্মানো ক্যান্সার খুঁচিয়ে দিয়ে তাসের ঘরের মতো একটা নীতি আদর্শবাদী দলকে প্রায় ডোডো পাখি করে দিয়ে গেছেন তার সময়ে। মরে যাওয়ার পর তাকে গালিগালাজ দিয়ে নিজের অপরাগতার ঘায়ে উপশম দেওয়ার ছলনা করা যায়, নিজেদের ব্যর্থতাকে জাস্টফাই করা যায় না। আগামীকাল আপনি সফল হবেন তখনই, যখন মুকুল রায়কে পর্যালোচনা করে দেখবেন যে, সে কোন পথে বাম সাম্রাজ্যকে ধ্বসিয়ে দিয়েছিল। যারা অতীতকে অন্তঃসারশূন্য হয়ে উন্মত্ত ভাবে কেবল ঘৃণা করতে শেখে, সেখান থেকে শিক্ষা নেয় না, তারা কখনও সোজা মানুষ হতে পারে না।
নদী যদি তার স্রোত হারায় তাকেও নর্দমায় পরিণত হতে হয়, শেষ জীবনে মুকুল রায়েরও সেটাই হয়েছিলেন। মৃত্যুর পর একটা মানুষকে সবাই মিলে শ্রদ্ধা দেখাতে হবেই বা কেন? কেনই বা তাকে সবাই মিলে মূল্যায়ন করতে হবে, প্রয়োজন নেই তো, যোগ্যতাই বা কজনের আছে? যারা রাজনীতির ছাত্র, তারা তথ্যগতভাবে ও সময়ের নিরিখে সুক্ষ বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার মন্দ রাজনৈতিক দিকগুলো নিয়ে মূল্যায়ন করবে, প্রয়োজনে তীব্র আক্রমনাত্বক হলেও তাতে দোষ নেই। কিন্তু ২ পয়সার জ্ঞান নিয়ে আপনি তাকে উপহাস তাচ্ছিল্য করতে পারেন না, কারণ এই ব্যাক্তিই আপনার রাজনৈতিক মতাদর্শকে তার ক্ষমতা দিয়ে দুর্বল করার সাথেসাথে, আপনাকেও তুচ্ছ হাসির পাত্র বানিয়ে যাবার কারিগর। আজ সোস্যাল মিডিয়ার সর্বত্র যে সব নপুংসক, ঘরে বসে জাতীয় কংগ্রেস বা কমিউনিস্ট রাজনীতির নামে বিশ্বজয় করে ফেরে, সেই সব কঙ্গু বা বাম্বাচ্চা যাদের প্যাকাটির মতো মেরুদন্ড, এদের প্রত্যেকের জন্ম মুকুল রায়ের বীর্যে। কারণ এদের বাপেদের ধরে ধরে মুকুল রায় খোজা করে দিয়েছিল তার সময়ে।
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দাঙ্গা ALART
যেকোনো সময় রাজ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে দিতে পারে তৃণমূল বিজেপি ও তাদের বাপ RSS. সমস্ত ধরনের জাপানি তেল, রকেট ক্যাপসুল, ভায়াগ্রা, তন্ত্রমন্ত্র, ঝাড়ফুঁক ইত্যাদি কোনো কিছুতেই বিজেপি - তৃণমূল বাইনারি দাঁড়াচ্ছে না। তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে সংবাদ শিরোনাম ফিরে পেতে।
রাজ্যের মুসলমান ১৫ বছর ধরে রোজ ঠকেছে মমতা ব্যানার্জীর কাছে। সাচার কমিটির রিপোর্ট দেখিয়ে ক্ষমতায় এসে, মুসলমানকে আরও খাদে ঠেলে দিয়েছে। মুসলমানের চাকরি হয়নি, তাদের OBC গেছে, ওয়াকফের সম্পত্তি খেয়ে নিয়েছে তৃণমূল সরকার, মুসলমান বাড়ির ছেলেরা পরিযায়ী হয়ে বালবাচ্চা পরিবার ছেড়ে ভিনরাজ্যে ধুঁকছে- তাই মুসলমান সমাজ এবারে তৃণমূলকে কুরবানি দিয়ে তবে কুরবানির ঈদ পালন করবে বলে একটা সিদ্ধান্তে এসে গেছে।
এদিকে মুসলমান ভোট না পেলে তোলামুলের হাতে হ্যারিকেন পিছনে বাঁশ। ভাইপো সহ গোটা মন্ত্রীসভা ও দলের হোমরাচোমরারা জেলের দেওয়ালে আঁকিবুঁকি কাটবে। স্বভাবতই দেবাংশু, কুণাল ঘোষ, পোষ্য ভাতাজীবি বুদ্ধিবিচি ভাঁড়ের দল, বিশ্বমাচাদো সাংবাদিক কুল, এবং স্বয়ং ভাইপো- চেষ্টার খামতি রাখেনি। কিন্তু কোনো অস্ত্রেই, মমতা ব্যানার্জী এই যাত্রায় বিজেপি জুজু দাঁড় করাতে পারেনি আজ অবধি। তাই বাধ্য হয়ে মোদীকে নামতে হয়েছে আসরে।
তৃণমূলের মুসলমান নেতাদের হাল দেখুন। জাভেদ খান গ্যারেজ, ববি হাকিম প্রতিষ্ঠিত চোর, ওয়াকফের সম্পত্তি চুরি করে রাজনীতি থেকেই পালিয়ে যেতে চাইছে। উত্তরের রব্বানি, হামিদুর, করিম চৌধুরী, আকতারুজ্জামান, খলিলুর, আবু তাহের, গিয়াসউদ্দিন মোল্লা, সহ অধিকাংশ মুসলমান MLA/MP লাগাতার চুরিচামারি করে এখন প্রায় চলৎশক্তিহীন লোলচর্ম বৃদ্ধ। সৌমিক হোসেনরা নেই, মৌসমের মত হাওয়া মোরগের দল আগেই দলবদল করে কংগ্রেসে ফিরেছে। সাবিনা ইয়াসমিন ধুঁকছে, পাবলিক জুতো ছুড়ছে।
ডোমকলের জাফিকুল ইসলাম কয়েক'শ বিএড কলেজের মালিক ছিল, ইডি রেইড করতেই আতঙ্কে রক্তবমি করে পটল তুলেছে। কালীগঞ্জের নাসিরউদ্দিন আহমেদও মরে গেছে, তারপর সেই বোম কাণ্ডের পরে ওখানে তৃণমূল গোরস্থানে বসে আছে- মাটি দিয়ে জানাজা পড়া বাকি। নাকাশীপাড়ার কল্লোল খাঁ, পাঁচ'ছ বারের MLA, ভয়ংকর ভাবে অ্যান্টি এস্টাবলিশমেন্ট এর কবলে। একই কেস পাঁচলার গুলশন মল্লিকের।
বীরভূমে কাজল সেখ বা শাহনাওয়াজ পাড়ার কুত্তা, ফুটো মস্তান। একদা ফেমাস লাবপুরের মনিরুল কোথায় কেউ জানে না। সিদ্দিকুল্লাহ নিজের দলের কর্মীদের হাতেই সকাল বিকাল ক্যালানি খাচ্ছে। ভাই এর মৃত্যু বেচে নেতা হওয়া রুকবানুর চুরি ছাড়া আর কিছুই করেনি। ইউসুফ পাঠান- না খায় না গায়ে মাখে নিজেই জানেনা। আকবর আলি খন্দকার বা সুলতান আহমেদের বউ সহানুভূতির বিধবা ভাতা কোটার প্রোডাক্ট। আফরিন আলির সত্যিকারের ধর্ম কেউ জানে না। পার্কস্ট্রিট ধর্ষণ কান্ডের আসামি কাদেরের বান্ধবী ন্যাংটা নুসরত কয়েকটা বিয়ে করে গ্যারেজ।
মমতার মুসলমান প্রেম দেখতে হলে অবিভক্ত মেদিনীপুরের দিকে তাকাতে হবে। এখানকার ৩৫ টা বিধানসভা কেন্দ্র মুসলমানদের কতটা গুরুত্ব দিয়েছে তা নিশ্চিত ভাবে বোঝা যায়, যখন দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম থেকে মুসলমানদের প্রতিনিধি হচ্ছে জুন মালিয়া আর দেব। বর্ধমানের মুসলমান প্রতিনিধি রাজ চক্রবর্তীর স্ত্রী মহানায়িকা শুভশ্রী। পাঁশকুড়ার পশ্চিমের ফিরোজা বিবির শহীদের রক্তের গল্প ফুরিয়ে গেছে। হুগলিতে ফুরফুরার লাল দাড়ি ত্বহা চাচাকে মাঝে মাঝে ঝাঁপি থেকে বের করে আগে ফোঁস করাত, নৌসাদের চোটে কাকা পীরের দম শেষ। আগে টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম মমতার হয়ে ওয়াজ করতেন, তিনিও দেহ রেখেছেন।
সোনারপুর উত্তরের ফেরদৌসী বেগম 'মোমো কাণ্ডের' ২৫ টা লাশ লুকাতে ব্যস্ত, নিজে টিকিট পাবে কিনা তাই সন্দেহ। ওদিকে আমডাঙার রফিকুর যদি টিকিট না পায়, একদা বাম তথা অধুনা তোলামুলের সম্পদ আব্দুল সাত্তারের পেছনে হুঁড়কো গুঁজে দেবে, অতএব সাত্তার আউট।
কলকাতা সংলগ্ন ২৪ পরগনার ইদ্রিশ আলি, হাজি নুরুল, ইকবাল আহমেদ, এমন অনেকে কবরে শুয়ে কাটমানি খাচ্ছে। থাকার মধ্যে রয়েছে শওকত, কাইজার, আরাবুল, জাহাঙ্গির আর শাহজাহান - এই হচ্ছে মমতার আসল মুসলমান মুখ। সবকটা গন্ডমুর্খ, সবকটা প্রতিষ্ঠিত চোর, সবকটা দুষ্কৃতি সমাজবিরোধী হিসাবে 'বাংলার গর্ব'। এরাই হচ্ছে মমতার পাঁচে পঞ্চবান।
সবেধন নীলমনি ছিল বেলডাঙার হুমায়ূন, সে তো এখন মোঘল সুলতান। ডেবরার পুলিশ অফিসার হুমায়ূন কবীর যেকোনো দিন মোঘলাই হুমায়ূনের টিমে চলে যাবে। বীরভূমের হাল আরো খারাপ, হাসান, নলহাটি, মুরারই তিনটে কেন্দ্রে প্রায় ৫৫% এর উপরে মুসলমান- মুসলমান জনপ্রতিনিধি নেই।
এরা মুসলমানকে উচ্ছিষ্টভোগী চোর আর লেঠেল বানিয়ে রেখেছে।
তাহলে তোলামূলের ভোট বৈতরণী কাকে দিয়ে পার করাবে ২০২৬ এর নির্বাচনে? পাতি-কুরে এমনি এমনি লগ্নি করতে করতে হয়নি i-pac কে। তার পরেও মুসলমান ভোটকে ভয় দেখাতে পারছে না মমতা ব্যানার্জী, বিজেপি, RSS ও তাদের খোঁচর সংগঠনগুলো। এটা ভয়ানক সিঁদুরে মেঘ ওদের জন্য, অতএব সাধু সাবধান।
সবজি বাজার আগুন, মুদি, গ্যাস, ওষুধপত্র কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। কেউ হিন্দু বলে কি অন্য হিন্দু দোকানদারটা দাম কম নিচ্ছে? সুতরাং বিজেপির জামানার এই দ্রবমূল্যবৃদ্ধি ও কর্মহীনতা- বিভ্রান্ত হিন্দু ভাইবোনেদের অনেকেরই ধর্মান্ধতার নেশা ছুটিয়ে দিয়েছে।
এই অবস্থায় হিন্দু ও মুসলমান - উভয়ের ভোটকে মেরুকরণ করতে গেলে ভীষণভাবে একটা দাঙ্গা প্রয়োজন। ভীষণ ভীষণ ভীষণ। তাই আপনারা আমরা শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সকলেই যেন হুশিয়ার ও সতর্ক থাকি- তৃণমূল বিজেপির পাতা ফাঁদ থেকে। এরা পারে না হেন কোনো নিকৃষ্ট কাজ নেই। আর দাঙ্গা লাগানোতে RSS সার্টিফায়েড শয়তান। এদের সমস্ত চক্রান্ত আমাকে আপনাকেই ভেস্তে দিতেই হবে। দল হিসাবে CPIM, Indian National Congress, Nawsad Siddique প্রত্যেককে এই বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা মূলক উদ্যোগ নিতে হবে।
মুসলমান সমাজ জানে আগামী ২৭শে মে কোরবানির ঈদ, ২০২৬ বিধানসভা ভোটের ফলাফলও এর আশেপাশেই বের হবে সম্ভবত। এই কোরবানি ঈদেই আমরা তৃণমূল সরকারকে জবাই করে দেব গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে, ইনশাল্লাহ।
রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
শৃঙ্খলা ও বামপন্থা
(১)
টিভি মিডিয়ার সান্ধ্য খেঁউড়ের আসর আর সোশ্যাল মিডিয়ায় সর্বজ্ঞানী আখড়া থেকে- ২০০৯ পরবর্তী জন্মানো নেতাদের সেন্সর করুন, দেখবেন রাজ্য CPIM পার্টি দু'দিনে দাঁড়িয়ে পড়েছে। মূর্খ সমর্থকের দল শূন্য পাবে এটাই স্বাভাবিক ঘটনা। প্রজা রাজা নির্বাচন করবে, এটাও গণতন্ত্রেরই নিয়ম। বস্তুত, বামপন্থা, বিপ্লব এগুলো গণতন্ত্রের তরোয়াল, আর তরোয়াল মূর্খ গাধার হাতে মানায় না। সমর্থককূল মেরুদন্ড ফেরত পেলে, দল হরিণের মতো ছুটবে, এর জন্য সবার আগে শৃঙ্খলা প্রয়োজন।
কমিউনিস্ট পার্টিগুলো সমগ্র বিশ্বজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে শৃঙ্খলার উপরে। আমাদের পশ্চিমবঙ্গের CPIM সহ বাকি বাম দলগুলোর বর্তমান মূল সমস্যা দেখা দিয়েছে শৃঙ্খলাতে। ২০০৯ পরবর্তী যে সকল তরুণ মুখ এসেছে ভায়া SFI, সবচেয়ে বড় সমস্যা এদের মাঝে। টিভির বুম পেলেই এদের প্রায় সকলে মুখ দিয়ে হাগতে শুরু করে দেয়। আজকাল আবার সেজেগুজে পডকাস্ট নামের এক শ্যো-অফ সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে। ফুটেজের কী নিদারুন লোভ! ফেসবুক ইউটিউভ খুললেই সদ্য লোম গজানো নেতানেত্রীরাও এমন ‘পোস্ট ও বাইট’ দিচ্ছে, যেন আদর্শ নৈতিকতার প্রশ্নে চে, ফিদেল বা চমস্কিকে এনারাই শিক্ষিত করেছিলেন। অধিকাংশ কথাবার্তায় রাজনীতির দূরদূরান্তে কোনো সম্পর্ক নেই। দলেরও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই এদের উপরে।
ছাত্রাবস্থায় বামপন্থা আঁকড়ে ধরে বহু ছেলেমেয়ে মানুষ হয়; সমাজবাদ, সাম্য, বিপ্লব নামের শব্দগুলো তখন নেশার মতো বুড়বুড়ি কাটে চেতনা জুড়ে। একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে মানসিকভাবে এই ভাবনাগুলোকে, মানে বামপন্থাকে নিয়মিত অনুশীলন তথা লালন করতে হয়। যেটা ৯০% ছেলেমেয়ে পারে না, পারিবারিক, সামাজিক, পারিপার্শ্বিক রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা ইত্যাদি নানা কারণে। কিন্তু সদ্য যৌবনের শেখা বামধারার চেতনা, আর ফলিত বাস্তবের লোভ, লালসা ও ভোগের তীব্র আকাঙ্ক্ষা কামনা বা অভিলাষ- মন আর শরীরকে দুটো পৃথক দিকে চালনা করে। পুরনো শিক্ষাও ফেলনা নয়, তাই সেগুলো মাঝে মাঝে বেরিয়ে আসে কিম্বা বের করে আনে সুযোগ সুবিধা মতো। গরুর মতো চর্বিত চর্বন করে জাবর কাটে, যা বিজ্ঞাপিত করে বেচাকেনার বাজারে নিজের দর বাড়িয়ে নেয়।
২০০৯ সাল থেকে এ রাজ্যে যারা SFI এর শীর্ষপদ দখল করেছে, সংগঠনটার সেক্রেটারি প্রেসিডেন্ট পদে থাকার সুবাদে অটোমেটিক রাজ্য কমিটিতে চলে গেছে ‘কোটা’র বলে। কৌস্তভ চ্যাটার্জি-সায়নদীপ মিত্র, দেবজ্যোতি দাস-মধুজা সেন রায়, সৃজন ভট্টাচার্য-প্রতিকুর রহমান অবধি সেই একই ধারা। এরা কোন বিশেষ যোগ্যতায় পার্টির রাজ্য কমিটি অবধি যেতে পেরেছে কেউ জানে না। শেষের দুজনের আমলের মতো জঘন্য পিরিয়ড SFI এর জীবনকালে বেনজির। একের পর এক কলেজে সংগঠনের ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে, সৃজন গিটার বাজিয়েছে আর অমেরুদণ্ডী পরজীবী প্রতীকুর হাত্তালি দিয়েছে। এটা আজ বলছি না, সেই ২০২১ থেকে নিয়মিত বলে এসেছি, আমার টাইমলাইন ঘাঁটলেই পেয়ে যাবেন। কোন বিশেষ অউকাতে বা গুণের কারণে তারা প্রতিটা নির্বাচনে লড়ার টিকিট পেয়েছে- ফেলুদার ভাষায় ‘হাইলি সাসপিসাস’। ক্রমশ পাতালে প্রবেশ ছাড়া দল বা সমাজের প্রাপ্তি কী এদের থেকে?
আমাদের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত তৃতীয় বিশ্বের দেশের রাজনীতিতে ‘সহানুভূতি’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোয়ালিফিকেশন; যে কারণে দলত্যাগ করে পালিয়ে যাবার আগে একটা সহানুভূতির জামা পরিধান করে, ঠিক কাউকে না কাউকে একটা ভিলেন বানিয়ে যাবে- এটাই প্যাটার্ণ। RSS-এর পরিসরে এটা খুব চেনা ছক- দলে থেকে কাজ করতে পারছি না বা আমাকে গলা টিপে ধরা হয়েছিল। তৃণমূল হোক বা বিজেপি, দিনের শেষে সেই তো RSS নামের গু, একটা কাঁচা আর একটা শুকনো।
বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের প্রায় সকলেরই কলেজ জীবন শেষ হওয়ার আগে পার্টি ক্ষমতায় চলে এসেছিল। রাতারাতি প্রশাসক হয়ে গিয়েছিলেন, সময়ের পরিভ্রমণে মধ্য পঞ্চাশ তথা ষাট ছোঁয়ার আগেই এনারা বিরোধী আসনে। ফলত রাস্তায় নেমে যে জঙ্গী আন্দোলনের ধারা, এনারা তেমন কিছুই জানেন না। স্বভাবতই বর্তমান প্রজন্মের মাঝেও সেই স্পৃহা, সেই স্ফুলিঙ্গ ভরে দিতে পারেননি এনারা। ভারতীয় স্পেস টেকনোলজি চাঁদে চলে গেলেও, CPIM পার্টি রয়ে গেছে ষাটের দশকের আমলাতান্ত্রিক শিকলের গেরোতে, যেখানে হেঁচকি তুলতে গেলে লোকাল কমিটি থেকে পলিটব্যুরো- অনুমতি পেতে পেতেই ঈশ্যু পটল তোলে। ফলত আধুনিক ট্যেকস্যাভি সময়ের সাথে পার্টির ফলিত কার্যগত পরিচালনাতে এক ভয়াবহ দ্বান্দ্বিক ফাটল তৈরি হয়েছে, যা শীর্ষ নের্তৃত্বের সংজ্ঞার বাইরে; আর এইখান থেকে যাবতীয় উৎশৃঙ্খলতার সৃষ্টি।
ভাইপো প্লান্টেড পরগাছা রাজনৈতিক সমাজের বুকে, পিসি যদ্দিন ক্ষমতায় আছে তদ্দিন ইনিও আছেন। ক্ষমতা হারালে সবার আগে যে লোকটি তৃণমূল ছেড়ে চম্পট দেবে- তার নাম ভাইপো। সুতরাং, আজকের দিনের তৃণমূল দল যে কোনো স্থায়ী আস্তানা নয়, চার অক্ষরের বোকা ছাড়া তা সকলেই বোঝে। ফলত যা কিছু লেনদেন সবই তাৎক্ষণিক ও সবটাই আর্থিক। তৃণমূল দল উঠে গেলে এই সব দলবদলুদের ছোট একটা অংশ জাতীয় কংগ্রেসের ঘরে পরিচারিকা সেজে ক্ষুন্নিবৃত্তি করবে, বাকিরা "I beg to remain, Sir, Your most obedient servant" জপতে জপতে নাগপুরের গোয়ালঘরে গোমুত্র সেবন করবে। এটাই ভবিতব্য। by the way, মহুয়া মৈত্র কেন কাউকে ৪(চার) লাখের গুচি/লুইভিটোর হাত ব্যাগ গিফট করেছে, এসবের খোঁজও সেলিমকেই একা দায়িত্ব নিয়ে করতে হবে কেন? দলের অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর লালুভুলুর দল কি জাবর কেটেই ক্লান্ত?
দোষ সেলিম সাহেবেরও আছে, একে হাঁড়িতে চাল বাড়ন্ত, তার উপরে রাজ্যেজুড়ে অন্তত ৬টা আলাদা আলাদা শিবির তৈরি হয়েছে; এর দায় মহঃ সেলিম এড়াতে পারেন না CPIM রাজ্য সম্পাদক হিসাবে। SFI এর পারফরম্যান্স ২০১১ পরবর্তী সময়টা আতস কাঁচের তলায় আনা হোক, মিলিয়ে দেখা হোক- অপদার্থ লোক ক্ষমতার বৃত্তে ঢুকে পড়ে কী কী আচরণ করেছিল, এদের সঙ্গে ঋতব্রতর পার্থক্য আসলে কতটা! তবে, কার সদস্যপদ দিল্লিতে আর সেটা সে রিনিউ করল কিনা, সেটার দায় সেলিমের নয়। আমাদের গ্রাম বাংলার রাজনীতিতে আদৌ চুল পরিমান গুরুত্ব রাখেনা এই সব আপদের ‘গলা নাচানো’ উপস্থিতি। কে শতরূপের বিরুদ্ধে প্রার্থী হবে আর কে মীনাক্ষীর বিরুদ্ধে দাঁড়াবে- এসব হিসাবনিকাশের গল্পও কানে আসছে বৈকি। দাঁত কেলিয়ে ‘জল মাপছি’ বলে ফুটেজ খাওয়ার দিন শেষ, হয় এস্পার নয় ওস্পার। আসলে শৃঙ্খলা অবলুপ্ত হলে বেহায়াপনাই সংস্কৃতি হিসাবে নিজেকে জাহির করে।
এদিকে সারদার টাকা চোর কুনাল ঘোষ প্রকাশ্যে জোর গলায় বলছে- আলিমুদ্দিনের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ মিটিং এর মিনিটস ১০ মিনিটে তার কাছে পৌঁছে যায়। পার্টির অভ্যন্তরের গোপনীয়তা, আস্থা ও পারস্পরিক ভরষার বিসর্জনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এই দাবী। এখান থেকে কিন্তু পার্টি বের হতে পারবে না। শুধু একা সেলিম সাহেব নন, গোটা আলিমুদ্দিনকে এই প্রশ্নের জবাব আজ হোক বা কাল দিতেই হবে। সবাই মিলে দল বেঁধে কুণাল ঘোষকে খিল্লি করতেই পারেন, গোপনীয়তার প্রশ্নে কুনাল ঘোষ CPIM দলের প্যান্ট জামা খুলে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। রোগ সেই শৃঙ্খলাহীনতা। আসলে পার্টির কলকাতার বৃত্তের একটা অংশ কুনাল ঘোষের হারেমে খোজা সেজে উপুড় হয়ে শুয়ে পয়সা রোজগার করে।
কোলকাতার বাবু কালচারে জন্ম নেওয়া মধ্যমেধার কিছু উন্নাসিক দাম্ভিক লোকজন নিজেদের কমিউনিস্ট দাবী করে দলটাকে অক্টোপাশের মতো আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে রয়েছে। এই সব কলকাত্তাইয়া বাম, ফেসবুকের নির্বোধ বাম, কলেজ স্ট্রীটের আঁতেল বাম, JNU বাম, হারামের টাকায় আজও ক্যান্টিন চালানো যাদবপুরী বাম, এই সবগুলো অনেকটা ঘেয়ো কুত্তার মতো- কামড়ালেই ১৪টা ইঞ্জেকশন। ভোটের রাজনীতিতে এদের মূল্যমান জাস্ট শূন্য, অথচ এরাই পার্টির নিয়ন্ত্রক। শেষ ১৫ বছরে এই সেক্টর থেকেই বামেদের তথাকথিত ‘তরুন মুখে’দের ৮০% উঠে এসেছে। এদের পাশে গ্রাম মফঃস্বল থেকে আসার নেতানেত্রীরা নেহাতই সংখ্যালঘু, অথচ রাজ্যের ৭০%ই গ্রামাঞ্চল, যেখানে কৃষক পরিযায়ী শ্রমজীবী মানুষের বাস। উপরোক্ত শহুরে অন্তঃসারশূন্য ফাঁপা আদর্শের বুলি কপচানো মধ্যমেধার বামেদের কারণেই CPIM দলের মধ্যে কম্প্রোমাইজ করা অসৎ অংশের সৃষ্টি হয়েছে, এরাই পার্টির পতনের অন্যতম বড় কারণ, এদেরই কেউ কেউ প্যাক মানে খেয়ে দলের অভ্যন্তরে থেকে বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে।
শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রতিটা চোরের 'আঁশ ছাড়ানো' হবে
মাননীয় অপ্রিয় Kunal Ghosh মহাশয় সমীপেষু,
আপনার দল তৃণমূল কংগ্রেস- রাজ্যের মুসলমানকে SIR এ ভয় দেখাতে পারেননি। OBC ও ওয়াকফ ঈশ্যুতে মুসলমান ভোট আপনাদের এই ঈদে 'জাকাতের' খাতায় তুলে দিয়েছে। ফলত আপনাদের মত প্রতিটা বিশেষজ্ঞ জেলখাটা চোরেদের অন্ডকোষ লাফ মেরে যে কপালে উঠে 'আব' হয়ে গেছে, তা আপনাদের ছটপটানি দেখে অনুমান করা কঠিন কিছু নয়।
সমগ্র মিডিয়া থেকে বিজেপি বাইনারি উবে গেছে, এই মুহুর্তে বাংলাতে বিজেপি খোঁজার চেয়ে 'ইয়েতি' খোঁজা সহজ। বিজেপি উবে যেতেই তৃণমূল অস্তিত্ব সঙ্কটে পরে গেছে। নাগরিকত্ব চলে যাওয়ার জুজু আর বিজেপি চলে আসবে আতঙ্ক কাটিয়ে- মুসলমান ঘুরে দাঁড়িয়েছে নিজের যোগ্যতায়। ইজতেমা করে যে মুসলমানদের সমাজে সুড়সুড়ি দেওয়া যাবে, সে গুড়েও বালি। মুসলমান ভোট আপনাদের চাই ই চাই, যেকোনো মূল্যে। উন্নয়ন যে গাধার ঘাড়ে চলে গেছে তা আপনারা জানেন। আপনাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ও i-Pac বলছে মুসলমান সম্প্রদায় আপনাদের হাতে বাটি ধরিয়ে দেবে। তাই আপনারা সিপিএমকে এভাবে টার্গেট করেছেন, কারন মুসলমান ভোট বিজেপিতে যাবেনা, সিপিএমেই ফিরবে। আপনারা চালাক হতেই পারেন, জনগণ উদগান্ডু বোকা নয়।
প্রথমে ডায়মন্ড হারবারের পশুহাট থেকে রোজার শুরুতেই কোরবানির 'পাঁঠা' কিনলেন। আজ ফিরদৌস শামিমের নামে মলেস্ট মলেস্ট খেলা শুরু করেছেন। অচিরেই আপনাদের যে কাঙ্খিত লক্ষ্য- মহঃ সেলিমকে সাম্প্রদায়িক প্রতিপন্ন করা, অন্ধ ছাড়া যে কেউ এই লাইনটা ধরতে পেরে গেছে। আপনারা চালাক আর মানুষ বোকা, এতোটা সরলীকরণ নাইবা করলেন! আপনারা যে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক এ্যাঙ্গেলে খেলা শুরু করেছে আপনাদের পিতা RSS এর নির্দেশে, প্রার্থনা করুন আপনাদের RSS এর সরকারই যেন ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়- সেটা তৃণমূল বা বিজেপি যে ফর্মেই হোকনা কেন। নতুবা চুরির দায়ে জেলা খাটা আসামি আপনি ও আপনার প্রতিটা ছোট বড় স্যাঙাতের 'আঁশ ছাড়ানো' হবে ফেলুদা স্টাইলে।
আমরা বারংবার লিখছি- মুসলমান ভোটেই আপনাদের মানে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাণভোমরা টিকে আছে। তাই মুসলমান বাম যুব নেতাকে কিনেছেন, মুসলমান বাম উকিলকে দুশ্চরিত্র প্রমানে দেওয়াল চাপড়াচ্ছেন, CPIM পার্টি সেক্রেটারি আসলে মুসলমান ও 'সাম্প্রদায়িক মানুষ'- এই সব কেচ্ছার তাস আপনি খেলবেন তা দিনের আলোয় প্রিজন ভ্যান চাপড়ানোর থেকেও পরিষ্কার। মাধ্যমিক পাশ বিশ্বমাচাদো সাংবাদিক আপনি আর আপনারা যাকে নেতা বানাতে চাইছেন- সেই কয়লা চোর মাধ্যমিক পাস বিশ্বমাচাদো বিপ্লবী ভাইপো, আপনাদের ভবিতব্য ওই চাক্কি পিসিং এন্ড পিসিং- তিন ছক্কা পুটে। প্রকাশ্য আদালতে আপনাদের পাপের বিচার হবে আইনের শাসনে।
পুলিশটা আপনাদের কন্ট্রোলে বলে এ সব লিখে বা বলে ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থনা করুন- জনগণ যেন সিপিএমকে সেই ম্যান্ডেট না দেয়। দিলে আপনাদের সান্ধ্য আড্ডার আসরটা জেলের ভিতরের অন্যান্য কয়েদীদের সাথেই হবে। জনৈক কুন্তল ঘোষের জন্য যে হারামের সম্পদ বানিয়ে যাচ্ছেন মূর্খপাত্র সেজে আলবাল বকে, সেই সব সম্পদ 'অপারেশন কাটমানি' করে চামড়ার মত সব খাবলে খুবলে টেনে বের করে নেবে দিনমজুর জনগন, আমরা দাঁড়িয়ে থেকে সেটাতে নেতৃত্ব দেব।
আমাকে মামলা দেবেন? মেয়েছেলে কেস? গাজা কেস? পুরাতন কোনো মামলায় ধারা জুড়বেন? এসব অনেক পুরাতন খেলা, অলরেডি খেলে ফেলেছেন। প্রার্থনা করুন RSS যেন সহায় থাকে শেষ অবধি, নতুবা একই জিনিস আপনাদের সকলের সাথে হবে। তাই প্রার্থনা করুন, সিপিএম যেন নির্নায়ক শক্তি না হয়ে যায় আগামী নির্বাচনে। সততার কসম, এবারে আপনার দাড়ি পা অবধি ঝুলে আসবে, আর ঘুমের ওষুধ ৩০০টা থাকবে কৌটোতে। চক্র কিন্তু ঘুরছে।
চলুন তদ্দিন বিজ্ঞবিচি সেজে বকে যান। আগামীর দিন গুলো আপনাদের মত জেলখাটা প্রতিটা চোরের জন্য ভয়ঙ্কর। প্রতিটা চোরের ঘর থেকে হারামের সম্পদ বার করে এনে গরীব গুর্বোর মাঝে বিলিয়ে দেব। এটাই আমাদের অলিখিত ম্যানিফেস্টো।
সাথের ছবিটা স্মৃতি রোমন্থনের জন্য।
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
সাসপেন্ডেড AERO এর উপরে, মমতার এঁটো দরদ কিসের ইঙ্গিত?
মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেস ভুতুড়ে ভোটারওয়ালা ২০২৪ এর ভোটারলিস্ট দিয়ে ২০২৬ এর নির্বাচন করতে মরিয়া ছিল, তাই গোটা SIR প্রক্রিয়াটাকে গুলিয়ে দিতে অধিকাংশ জালিয়াতি অপকর্ম করেছে। তারা জানে আসন্ন নির্বাচনে জালিয়াতি না করলে সরকার টিকিয়ে রাখতে পারবে না।
SIR হেয়ারিং এর শুরু থেকেই এই কথাগুলো রোজ রোজ চেঁচিয়ে বলেছি- ইচ্ছাকৃত নামের ভুলগুলো মুরুলীধর স্ট্রিটের কেশব ভবন বা দিল্লির অশোক রোডে নির্যাতন কমিশনের সদর দপ্তর থেকে কেউ করেনি। বিজেপি ও নির্যাতন কমিশন উভয়েই শঠ, দুবৃত্ত, প্রবঞ্চক, মিথ্যুক, কিন্তু বাংলাতে এদেরকে ছাড়িয়ে গেছে শাসক তৃণমূল। সাদা খাতা জমা দেওয়া 'শিক্ষক' বাহিনী, বাহুবলী BDO দের দল ও তোলামূলের পে-রোলে থাকা ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এর ত্রিবেণী সঙ্গমের গর্ভে, i-Pac এর ঔরসে গোটা SIR ম্যাসাকারটা সংগঠিত হয়েছে। যাবতীয় হয়রানির মাস্টারমাইন্ড তৃণমূল কংগ্রেস, সাপ হয়ে কেটে ওঝা হয়ে ঝাড়তে এসেছে। না হলে কমিশন যদি দুর্নীতির দায়ে কাউকে সাসপেন্ড করে, মমতা ব্যানার্জীর এঁটো দরদ কেন উথলে পড়ছে? কারণ পরিষ্কার, তারা মমতা ব্যানার্জীর নির্দেশেই ইচ্ছাকৃত এই ভুলগুলো করেছিল।
এ বিষয়ে না আলিমুদ্দিন স্পষ্ট করে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে আজ অবধি, না তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার সর্বজ্ঞ 'আদর্শবাদী' বাম্বাচ্চাগুলো এ নিয়ে হল্লাচিল্লা করেছে, যতটা তারা দীপ্সিতার জামাত বধে উল্লসিত ছিলো। জেনেরিক উদগান্ডু হলে তাদের ভাবনাও আঁটকে যায় ভক্তির পর্দার মাঝে। যেহেতু শুরু থেকে সাদাকে কালো আর কালোকে সাদা শেখানো হয়েছে, তাই যতই আসল 'সাদা-কালো'র প্রভেদটা কেউ চোখে আঙুল দিয়ে দেখাক, এরা গান্ধারির মতো স্বেচ্ছা অন্ধ সেজেই থাকবে।
চুরি দুর্নীতির পাঁকে ডুবে রয়েছেন মমতা ব্যানার্জী। ফলত তার রাজনৈতিক চরিত্রের image cleansing এর জন্য এখন রোজ ‘প্যাথলজিক্যাল মিথ্যা’ সম্বলিত আলফাল বকবেন, মৃত মানুষদের নিয়ে মিথ্যাচার করবেন, নতুন ভড়ং ধরবেন, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ করবেন, ইনশাল্লাহ মাসাল্লাহ বিষ্ণুমাতা জয় জহর ইত্যাদি বকবেন, ছোটখাটো দাঙ্গা লাগাবেন ধর্মীয় মেরুকরণের জন্য, বিরোধী দল ভাঙানোর চেষ্টা করবেন, মিথ্যা মামলাতে ফাঁসিয়ে বিরোধী স্বরকে জেলহাজতে পাঠাবেন- ওনার গোটা রাজনৈতিক জীবনটাই এই কটা স্তম্ভের উপরে দাঁড়িয়ে আছে। পাশাপাশি RSS ও চাইবে না তাদের তাদের ‘দেবী’র গদি টলে যাক। মুসলমানকে SIR এ ভয় দেখানো যায়নি, তাই আতঙ্কিত গোটা তৃণমূল নেতৃত্ব অলআউট আক্রমণে গিয়ে দাঁতনখ দিয়ে ছিঁড়ে খাবার সব ধরণের অগণতান্ত্রিক অসংবিধানিক অপচেষ্টা চালাবে।
এখনও সময় আছে, SIR এ হেয়ারিং এর নামে এই হয়রানি ও তাতে নাম বাদ যাওয়ার মাস্টারমাইন্ড যে তোলামুল, সেটাকে অষ্টপ্রহর সঙ্কীর্তন এর মতো রোজ জনগণের সামনে বাজানো। এসবের বদলে মমতা ব্যানার্জী সাংবাদিকদের কী বলেছেন, সেই নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বস্তুত ওনারই প্রচার করে যাচ্ছে সমস্ত বিরোধী শিবির। এখনও বামাতি লালবাবুদের দল ‘সেটিং’ তত্ত্বের বাইরে বের হয়ে বলতে পারছে না- কোথাও কোনো সেটিং নেই, কেউ বিজেমূল নয়।
বামেদের গোটা ন্যারেটিভ ‘সেটিং আর বিজেমূল’ তত্ত্বে আঁটকে রয়েছে, যা গত ১০ বছর ধরে লাগাতার ফেল মেরেছে, জনগণ এটা খায়নি প্রত্যাখ্যান করেছে। আসলে TMC ও BJP এরা এক মায়ের পেটের দুই ভাইবোন, এদের একটাই বাপ- RSS, ভাই ভাই-এ বা ভাইবোনে সেটিং হয় না, ওটা ওদের নাড়ির টান। বাকি সবটাই তাদের ঘরোয়া খুনসুটি কিম্বা পারিবারিক কলহ। ওরা কোনো ভিন্ন সত্ত্বা নয়। সেটিং শব্দে আসলে ওদের আলাদা করে দেওয়াই হয়, বিজেমূল নামের হাঁসজারু সন্ধি ওদের অভিন্ন সত্ত্বাকে অস্বীকার করে। গোটা ন্যারেটিভটাই ভুল ‘লাইন’।
ক্রিকেটে আপনি যদি ‘লাইন’ মিস করেন, লোপ্পা ছয় মারার বলেও খোঁচা লাগিয়ে ক্যাচ তুলে দিতে পারেন কিম্বা তিনকাঠি উড়ে যেতে পারে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ স্টেডিয়াম আপনার সমর্থকে ভর্তি, টিভির ওপারে আরও কয়েক কোটি আপনার জয়ের প্রতাশ্যাতে ক্ষণ গুনছে। রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশ, প্রতিপক্ষ চোটগ্রস্থ, আপনি ধড়াচুড়ো পরে রয়েছেন, প্যাড গ্লাভস হেলমেড এ্যাবডোমেন গার্ড সব রয়েছে। বাউন্ডারির বাইরে সাজঘরে দেওয়ালে আপনার সোনালী অতীতের দেওয়ালচিত্রের নিচে বসে থাকা বাঘা বাঘা এ্যানালিস্ট, কোচ, ট্রেনার, ব্রডকাস্টার সবাই প্রস্তুত। কিন্তু ‘লাইন’ মিস করে আপনি আত্মাহুতি দিলে, এই ম্যাচে আপনার কোনো সুযোগ নেই, এই যাত্রাতেও আপনার নামের পাশে ‘আর্যভট্ট’ই লেখা থাকবে।
আমাদের নীতি, আমাদের প্রয়োজনে সেটার মাপকাঠি আমরা ঠিক করব প্রতিবার, বারংবার। এটা জোর দিয়ে বলতে কুন্ঠা কীসের?
কে গেল কিম্বা আর কে কে যাবে, ও সব ভবিতব্যের উপরে ছেড়ে দিন। যারা যাবার তারা ইতিমধ্যেই মানসিকভাবে চলে গেছে, ধরে বেঁধে রাখলে সেটাতে বড়জোর কিছুদিন লাশটা থাকবে, উল্টে আরও বেশী অন্তর্ঘাতের সুযোগ পেয়ে যাবে তাদের শয়তানি মস্তিষ্ক। গু খাওয়া গরুকে আপনি বেশিদিন ঘাস বিচালি খাওয়াতে পারবেন না, সে দড়ি ছিঁড়ে হলেও গু খেতে পালাবে। তৃণমূল চাইছে অপ্রয়োজনীয় ইস্যুতে বামেদের ফোকাস টলে যাক, তাই চুরির দায়ে জেলখাটা তাদের মূর্খপাত্র নীতি নৈতিকতার জ্ঞান দিচ্ছে, তাবড় মিডিয়াকুলও ঠেকা নিয়ে রেখেছে- কতটা হেলে গেলে বামেদের ‘নৈতিকতা’ কতটা টোল খাবে ইত্যাদি, যেন তাদেরকে নৈতিকতার চ্যুতির ঠিকেদারি দেওয়া আছে। সতীদাহ প্রথায় যেমন মৃতের স্ত্রীদের জ্যান্ত চিতায় জ্বালিয়ে দেওয়া হতো ধর্মীয় আদর্শের কথা বলে, একই ভাবে নীতি আদর্শের নামে বামকে শূন্যতেই রেখে দেওয়ার পবিত্র কর্তব্যে নিয়োজিত এই দালাল মিডিয়া ও বিশ্বমাচাদো বুদ্ধিজীবিরা।
আপনারা দ্রুত স্থির করুন করুন- আপনাদের ফোকাস ঠিক কীসে থাকবে আর কোন ‘লাইন’, কোন ন্যারেটিভ আপনাদের প্রচারে গুরুত্ব পাবে। আপনারা ঠিক করুন কোনটা আপনাদের নীতি আর কোনটা আপনাদের আদর্শ। আপনারা যেটাতে সীলমোহর দেবেন, সেটাই সঠিক- মিডিয়ার ঠিক করে দেওয়া পথে হেঁটে সম্ভাবনাকে ভুঁইয়ে মুড়িয়ে রাখার মাঝে আদর্শ নীতি নৈতিকতা বেঁচে থাকবে না। আদর্শ আর নীতি কপচিয়ে সতী হয়ে চিতায় উঠলে, বিপুল কর্মী সমর্থকেরা আপনাদের সাথে সহমরণে যাবে, অনাথ হবে শ্রেণি গরিবগুর্বের দল। মিডিয়া আবার তার রমনের সাথী খুঁজে নেবে আপনাকে চিতায় পাঠিয়ে।
দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই মতো প্রচার শুরু করে দিন, হাতে সময় নেই আর।
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
২০২৬ প্রাক বিধানসভা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটঃ সিদ্ধান্ত নেওয়া সময়
শত্রু কখনও বিশ্বাসঘাতকতা করে না, তারা মন দিয়ে শত্রুতা করে; বিশ্বাসঘাতকতা ঘরের লোকে করে।
(৪)
বাংলা এখন ট্রাঞ্জিশন ফেজে রয়েছে, যা CPIM সহ বিরোধীদের জন্য ঘুড়ে দাঁড়াবার সুবর্ণ সুযোগ। সেখানে কবর খুঁড়ে সত্য-অসত্য- অর্ধসত্য মেসানো ইতিহাস হাাজির করছে তৃণমূল, দীপ্সিতার এই ফোঁপরদালালির সৌজন্যে। ১৯৬৪ থেকে ২০০৫, এই দীর্ঘ সময়ে পলিটব্যুরো সম্পূর্ণ মহিলা বর্জিত ছিল। পশ্চিমবঙ্গ, কেরালা এবং ত্রিপুরা এই তিন রাজ্যে কয়েক দশক ধরে শাসন করলেও আশ্চর্যজনকভাবে গত ৬০ বছরে তারা এক জন নারী মুখ্যমন্ত্রীও তৈরি করতে পারেনি, ইত্যাদি ইত্যাদি। পদ্মনিধি ধরকেও টেনে এনেছে ওরা, আপনার চোখে পড়ছে না বলে এগুলো ঘটছে না তা নয়, চোখ বন্ধ করে থাকলে প্রলয় থেমে থাকে না। বিপুল সম্ভাবনা অঙ্কুরে বিনষ্ট হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে।
অনেকেই আবার নওশাদকে নিয়ে খিল্লি করছে তীব্র ভাষায়, এটাও একপ্রকার চরম উন্নাসিক ঔদ্ধত্বের প্রকাশ। টুপি মাথার মুসলমান দেখলেই একশ্রেণির সেকুলারের মুখোশ খুলে যায়, দাঁত নখ বেরিয়ে আসে। এই নওশাদ গত ৫-৬ বছরে বাংলার বুকে ততটুকু গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে দাঁড়িয়ে তারা বামফ্রন্টের কাছে ৪২ টা আসনের দাবি করছে। আজ ১৬/০২/২৬ বিকালে পার্টি সেক্রেটারি নিজে জানিয়েছেন ৫-৬টা আসন নিয়ে ISF এর সাথে মতানৈক্য ব্যাতিরেকে একটা সহমতে চলে এসেছে। ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকা একটা দলকে যখন, নওশাদের মতো ৩ দিনের যোগীর সাথে আসন রফা করতে হয়, সেখানে আপনার মতো ফেসবুকীয় বিশ্বমাচাদোর কোনো অউকাত জন্মায়না ওকে রাজনীতির পাঠ পড়ানোর। দীপ্সিতারা যতদিন এমন লাগামহীন ভাবে বাম দলের নেত্রী থাকবে বা এদের লালন করবে আলিমুদ্দিন, আপনি লিখে নিন- আগামীতে দীপ্সিতা দেবীর দল কটা আসনে লড়াই করবে- সেটা এই সব ৩ দিনের আল-বাল-ছাল যোগীরা ঠিক করে দেবে। উদাহরণ চান? ইতিহাসে ফিরে গিয়ে দেখে আসুন, People's United Left Front (PULF), United Left Front (ULF), United Left Election Committee, Communist Revolutionary League of India (CRLI), West Bengal Socialist Party (WBSP), Nirjatita Samaj Biplabi Party, Right Party of India, The Religion of Man Revolving Political Party of India- এদের সমর্থকেরাও কম বোদ্ধা ছিলেন না নিজের সময়ে, আজ তাদের অস্তিত্ব আছে?
আমার পেশাগত কারণে রোজ কমপক্ষে ৮০-১০০ জন নতুন নতুন মানুষের সাথে আলাপের সুযোগ ঘটে। সকলের সাথে না হলেও অধিকাংশের সাথেই রাজনীতির প্রসঙ্গ চলে আসেই, দরদামের প্রাক্কালে হোক বা রাত্রে সমবেত ডিনারের টেবিলের খেজুরে আলাপে। আমার হোটেল ব্যবসা কোনো এলিট বা ধনীদের নিয়ে নয়, এনারা গোটা পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটা পকেট থেকে আসা নেহাতই গরিব, কেউ মধ্যবিত্ত, বড়জোর উচ্চমধ্যবিত্ত সমাজের, যাদের ৯৫% বাঙালি। ফলত চেয়ারে বসেই নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও এদের আশেপাশের সমাজটাকে জানা যায়, তাদের ভাবনাতে নিজের জ্ঞানকে পুষ্ট করা যায় অনেকটাই। তাই আমাকে প্রতিক্রিয়াশীল উন্মাদ বলে মিডিয়াতে না হয় দীপ্সিতাকে বাঁচিয়ে দিলেন, তাতে আপনাদের ভোটবাক্সে কোনো লাভের প্রতিফলন হবে না।
সোশ্যাল মিডিয়ার তথাকথিত ‘সেকুলার’ অমুসলিম সমাজ ঠিক করে দিচ্ছে মুসলমানদের কোন শব্দে কতটা প্রতিক্রিয়া দিতে হবে কিম্বা হবে না। এদের সাথে তাল মেলাতে গিয়ে কিছু আরবী নামধারী যারা দীপ্সিতার হয়ে গলা চড়াচ্ছেন, তারা কি নিজেরা মসজিদে যান? এতক্ষণে তৃণমূল তো সেখানে সিপিএমের নামে বিষ ঢেলে এসেছে। এখন সেখানে একটা ভ্যানওয়ালা আপনাকে এ বিষয়ে শুধালে জবাব দিতে পারবেন তো? আজ অবধি ইমাম ভাতার টাকা সরকার না ওয়াকফ বোর্ড দেয়- সেটা বোঝাতে পারেননি। লক্ষ্মীর ভান্ডার সহ প্রতিটা সরকারি ভাতার টাকা যে আমার আপনার করের টাকা থেকে আসে, ওটা তৃণমূল বা মমতা ব্যানার্জীর পৈতৃক সম্পত্তি থেকে দেয় না- সেটা বোঝাতে পারেননি, আর দীপ্সিতার ‘উপহাস’ বুঝিয়ে দেবেন, তাও প্রতিকুর বিপর্যয়ের পড়েও! ঘোড়ায় হাসবে কাকা।
যারা হা রে রে করে দীপ্সিতার ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছেন বিরাট সেকুলার হিসাবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, তারা কি নিজেরা জানেন ইনশাল্লাহ সুবহানাল্লাহ আলহামদুল্লিল্লাহ শব্দের মানে? এটা কী অমুসলিম সমাজের কথ্য শব্দমালা, যেমন বাবাগো, মাগো, Oh my God বা সমজাতীয় শব্দের মতো? আপনারা নিজেরা কখনও এই শব্দ দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করেন? এগুলো নির্দিষ্ট করে মুসলমানদের দৈনন্দিন মুখের ভাষা। যুক্তি হিসাবে- মমতা ব্যানার্জীকে ব্যঙ্গ করে নাকি এটা বলেছে। ভালো কথা, মমতা তো RSS এর নেত্রী, প্যাথোলজিকাল লায়ার ও ভড়ং ধরতে উস্তাদ, RSS এর এ্যাজেন্ডা লাগু করতে তার মুখে এই কথাই তো মানায়।
২০২৬ প্রাক বিধানসভা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটঃ অন্তর্ঘাত পর্ব
ভীষণ আনপপুলার অপিনিয়ন
(৩)
দীপ্সিতা ধরকে CPIM সেন্সর করবে নাকি জনগণই তাকে সেন্সর করবে?
ডিসক্লেইমারঃ ও পাড়ের জামাত আর এ পাড়ের RSS, এদেরকে যদি আপনি অন্তর থেকে ঘেন্না না করতে পারেন, তাহলে নিজের মনুষ্যত্ব নিয়ে নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত। তাই জামাত ও তাদের বিষাক্ত আমিরকে নিয়ে ব্যঙ্গোক্তি বিষয়ে- কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের। জামাত কোনো নির্দিষ্ট দেশের নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল নয়, একটা একটা কুৎসিত কনসেপ্ট তথা আদর্শের নাম। নাইজেরিয়াতে বোকো হারাম, আফগানিস্তানের তালিবান, শ্রীলঙ্কার LTTE, মিয়ানমার সামরিক বাহিনী (তাতমাদো), গোটা পাকিস্তান রাষ্ট্র কিম্বা ভারতের RSS, এরা সকলেই জামাত। এদের এক ভাবাদর্শ, একই চিন্তাধারা, শুধু দেশ ভেদে নাম গুলো আলাদা।
বিজেপির জামানাতে তীব্র ইসলামোফোবিয়া আক্রান্ত টক্সিক রাজনীতির অভিঘাতে এদেশের মুসলমানরা প্রতি মুহূর্তে আতঙ্কিত হয়ে রয়েছে। আপনি অমুসলিম হলে সেই আতঙ্কের ধাক্কার ১% অনুভব করতে পারবেন না। এই আতঙ্কই মমতার মূল হাতিয়ার ছিল- তৃণমূলকে ভোট না দিলেই বিজেপি চলে আসবে। আমরা শুরু থেকে বলে আসছি, মমতা ব্যানার্জি প্রান্তিক মুসলমানকে ভয় দেখাতে পারেনি, যে মুসলমানের ভোট পেয়ে উনি ক্ষমতার মসনদে। ২০২১ সালে NRC জুজুতে মুসলমান ভোট পোলারাইজেশন হয়েছিল, SIR ইস্যুতে তৃণমূলের ভয় দেখাবার প্রতিটা চাল বিফলে গেছে। চুরি দুর্নীতি বাদেও OBC ও ওয়াকফ ইস্যুতে গোটা সম্প্রদায় ফুসঁছে। ভোট দিতে পারলে তারা তৃণমূলের বিকল্পেই ভোট দেবে, আর সেটাই CPIM এর সামনে সুবর্ণ সুযোগ। লড়াইটা তো অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের, লড়াইটা খেটে খাওয়া মানুষের রুটিরুজির। গত ১২ তারিখ অবধিও তো সেটাই ছিল। শেষ ৩ দিন ফেসবুক ইউটিউব খুললেই দীপ্সিতা, কেউ পক্ষে তো কেউ বিপক্ষে। গোটাটাই অনর্থক বিষয়ে, এমনকি আমার এই পর্বটাও।
বামেদের এই সমূহ সম্ভাবনাময় পরিস্থিতে একমাত্র নিজেদের ঘর থেকে সাবোটেজ না হলে আশাতীত ফলাফল অপেক্ষা করছে CPIM ও তার শরিকদের জন্য। যেকোনো ধরনের ধর্ম নিয়ে এমন উপহাস বিদ্রুপাত্মক লাগাতার নিকৃষ্ট মন্তব্যের উদাহরণ, অতীতে কোনো বাম নেতার নেই, এটা বামেদের ঘরানাই নয় গোটা বিশ্বজুড়ে।
প্রতিকুর কেন ইস্তফা দিয়েছে জানি না, কিছু আগামীর সম্ভাবনা বীজ পুঁতেই সে যে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটার জন্য গনৎকার হতে হবে না। কেউ যখন আজকে পালাচ্ছে, এটা শুধু ঘোষনার দিন মাত্র; মানসিকভাবে সে ছ’মাস এক বছর আগেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শাসকের মার খাওয়াটা কারো একমাত্র যোগ্যোতা হতে পারে না, রাজ্য জুড়ে প্রতিটা বুথে এমন অসংখ্য বামকর্মী সমর্থক আছে, যারা শাাসকের অত্যাচারে ঘটি বাটি পরিবার সব খুইয়েছে। ফুটেজখোর হয়ে যাওয়াটা ভয়াবহভাবে মানসিক সমস্যা তৈরি করে। সৃজন-প্রতিকুর জুটির আমলে SFI এর সংগঠনের অন্তর্জলী যাত্রা সবচেয়ে দ্রুত হয়েছে, নতুন ইউনিট খোলা তো দূরস্থান বরং একের পর এক কলেজে ঝাঁপ বন্ধ হয়েছে, নির্বাচন হয়নি, তার জন্য আন্দোলনটুকুও করেনি এরা। সৃজন গিটারবাদক হয়ে এবিপিতে গান গেয়েছে, প্রতিকুর হাত্তালি দিয়ে দন্ত বিকশিত করে ওই পথ বেয়ে রাজ্য নেতৃত্বে উত্তীর্ণ হয়েছে।
SFI এর পদ সরে যেতেই প্রচারের লাইমলাইট হাওয়া হয়ে গেছে, এবারে ফুটেজ পেতে গেলে ময়দানে দৌড়ে কাজ করতে হবে কিম্বা সাম্প্রদায়িক এ্যাঙ্গেলে ফেসবুকে খেলতে হবে, দুটোতেই ফেল মেরেছে। এদিকে ISF, INC, JUP এর নিষিদ্ধ হাতছানি তো আছেই, বাকিটা সময় উত্তর দেবে। সৃজন, প্রতিকুর, দীপ্সিতা এদের রোগই হচ্ছে ভোটে দাঁড়ানো, বিধানসভা হোক বা লোকসভা- অমনি দাঁড়িয়ে যাওয়া, ফুটেজের পরাকাষ্ঠা। একই রোগে আক্রান্ত সুজন চক্রবর্তী এবং পার্টি সম্পাদক নিজেও। ভবিষ্যতে যদি দলের হাল আরও খারাপ হয় কখনও, এনারা কোমর বেঁধে পঞ্চায়েত বা মিউনিসিপ্যাল ইলেকশনেও দাঁড়িয়ে পড়বেন অতীতের ট্রেন্ড অনুযায়ী। সকলকে MLA/MP ই হতে হবে কেন? বাম রাজনীতিতে ‘রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা’ নিজেকেই কেন পেতে হবে!
একে তো হিন্দু ভোটের একটা বড় অংশ RSS এর ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক উন্মাদনার কারণে বিভ্রান্তির শিকার। ফলত এনাদের ভোটটা BJP পায়, যেটা প্রায় ১০%। বিজেপির কোর ভোটার ৫-৬%। বাকি প্রায় ২৩% হিন্দু ভোটার CPIMকে শাসক হিসাবে বিশ্বাস করা তো দুরস্থান, সামান্য বিরোধী হিসাবেও ভরষা না করার কারণে, তারা তৃণমূলকে ঠেকাতে বিজেপিকে ভোট দেয়। উত্তরবঙ্গে ৭টা জেলার দিকে তাকালেই তো উদাহরণ পায়ে হেঁটে এসে চোখে ঢুকে যায়। ২৩+১০, এই ৩৩% ভোটকে রাতারাতি সিপিএমের বাক্সে আনা যাবে না যতদিন RSS এর সরকার থাকবে রাজ্যে।
ইনশাল্লাহ সুবাহানাল্লাহ আলহামদুল্লিলাহ বলা জনগোষ্ঠীর পুরো ভোটটা CPIM এর ঘরে ফেরা সম্ভব তৃণমূলের ঘর থেকে। এই সম্প্রদায়ের ০.১% জনগণও বিজেপিকে ভোট দেবে না মরে গেলেও। এদের ভোটার সংখ্যা তালিকাতে ৩০% ছুঁইছুঁই হলেও, পোলিং ভোটের ৪৩%। এই ভোটটা পুঁজি করেই তৃণমূল ক্ষমতায়, যারা নানা ভাবে তৃণমূলের উপরে অতিষ্ট ও মুক্তির পথ খুজঁছে। সেই সময় তাদের পাশে মরমী হয়ে দাঁড়াতে হবে, তাদের আপনজন হতে হবে, দেখনদারিতেও কার্যক্ষেত্রেও। মার্ক্স মাও লেনিন কপচিয়ে, উপহাস, ব্যঙ্গ, বিদ্রুপ করে প্রান্তিক মুসলমানকে ভরষা দিতে পারবেন না।
RSS এর বিরোধিতা করতে গিয়ে কেউ বেদের বিরুদ্ধে, রামায়ণ মহাভারতের বিরুদ্ধে বা হিন্দু ধর্মের আরাধ্য দেবদেবী বা পূজার মন্ত্র নিয়ে উপহাস তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতে পারি না। আমাকে কেউ সেই অধিকার দেয়নি। তাই জামাত বা RSS এর নামের আড়ালে এগুলো যে করে, তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। এতে ধর্মীয় ভাবাবেগ আহত না হলেও সামনের ব্যক্তিটির মনোভাব পরিষ্কার হয়ে যায়।
আসল সমস্যাটা গোড়ায়। আমাদের সমাজের সংখ্যাগুরু হিন্দু সম্প্রদায়ের ৯৭% মানুষ, মুসলমান সমাজের পরিকাঠামো সম্বন্ধে নূন্যতম ধারণা রাখেন না, প্রয়োজনও বোধ করেননি কখনও। যা আছে তা ওই ভাষা ভাষা, ওরা গরু খায়, কাকাতো মাসতুতো ভাই বোনে বিয়ে করে, এক একজন একগাদা বিয়ে করে, ওরা সিমুই লাচ্ছা খেয়ে গাদা গাদা বাচ্চা পয়দা করে, আর ক্রিকেট ম্যাচে পাকিস্তানকে সাপোর্ট করে। ফুলস্টপ। এর বেশি কিচ্ছু জানে না। কিছু নাস্তিক, শহুরে আঁতেল ও সোস্যাল মিডিয়ার মুসলমানকে দেখেই গোটা সম্প্রদায়কে জেনারালাইজড করে ফেলে, যেখানে মুসলমান সমাজে নাস্তিকের সংখ্যা ১% বা তারও কম। গোটা সম্প্রদায়ের ৮৩% মানুষই কৃষক বা শ্রমিক- আমার জ্ঞান মতে এরাই তো শ্রেণি। এরা তত্ত্ব বোঝে না, ইনশাল্লাহ সুবহানাল্লাহ-টা এদের মুখের আম ভাষা, ধর্মের পাশাপাশি তাদের সংস্কৃতি এটা। মমতা ব্যানার্জীর স্টাইলের ভাষা ওগুলো নয়, যেটা উপহাসের সাবজেক্ট।
মুসলমান চাষী, মুসলমান মুনিষ, মুসলমান রাজমিস্ত্রী, সোনার কাজ করে, তাঁতি, দর্জি, জরির কাজ, এমব্রডয়ারি, চামড়ার কাজ, পিতলের কাজ, পালিশের কাজ, বিড়ি বাঁধা, ধুপ তৈরি, পশু পালন, মাছ চাষ, ইত্যাদি জাতীয় পেশাগুলো মোটামুটিভাবে মুসলমান দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত। রাজ্য অর্থনীতিতে মুসলমান নারী সম্পূর্ণভাবে রাজ্যের লক্ষীর ভান্ডারের উপরে নির্ভরশীল নয়। অর্থনৈতিক দিক থেকে মুসলমানকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না, এটা বুঝতে পেরেই একমাত্র বিজেপি জুজুর রাজনীতি আর নাগরিকত্বের প্রশ্নে টালমাটাল করে দেওয়ার মতো আবহ তৈরি করে, মুসলমান ভোটকে এতদিন নিয়ন্ত্রণ করেছে শাসক তৃণমূল।
যারা গাঁ, গঞ্জ, বস্তির প্রান্তিক গরিব মুসলমান, বিশ্বাস করুন তারা সিংহভাগ ওই তিনটে শব্দের বাইরে আল্লাহ আর নবীটুকুই জানে, আর তেমন কিছুই জানে না। কেউ কেউ বড় জোর নামাজের কয়েকটা সূরা, তাই আবার ১ লাইন আরবি শব্দের মানে জানে না অধিকাংশ। তাদের আস্তিক ধর্মাচারণের নিত্যদিনের জ্ঞাপনের ভাষা ওই ইনশাল্লাহ, মাশাল্লাহ। ‘ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত’ এমন ভারি শব্দের মানেও এদের কাছে অচেনা, কিন্তু ওরা এটা বোঝে- কে আপন আর কে নয়। এই ফুটেজখোর উদ্ধত মহিলাটি ‘আমাদেরকে’ উপহাস করছে, ব্যঙ্গ করছে, বারংবার করেছে- এটা না বোঝার মতো নির্বোধ তারা নয়।
আপনি বা আমি লেখার ভাষায় যত খুশি তত্ত্বের কচকচি করি না কেন, আম পাবলিক ততটুকুই নেয়, যতটুকু তার দরকার। সাধারন গরিব মুসলমান তারা ডান বা বামপন্থা বোঝে না, তারা অত্যাচার বোঝে, তারা পরিত্রাণ খোঁজে। আর বোঝে- কে তাদেরকে বোঝে। দীপ্সিতার এই ভাষা, সাধারণ মুসলমানকে CPIM থেকে দূরে সরিয়ে দেবেই। এটা না রাজনৈতিক প্রাজ্ঞতার পরিচয় না বুদ্ধিদীপ্ত সারকাজম। স্যাটায়ার ব্যাকফায়ার করে গোটা বিষয়টাকে ছড়িয়ে লাট করে দিয়েছে। লড়াই এর ময়দানে কোনো স্নো পাউডার, রিটেক, পিছনে ফেরা, কোনো কিচ্ছু নেই। প্রান্তিক মুসলমান সমাজের কাছে বার্তা যাচ্ছে- এদের দলই হয়তো একে খোলা ছেড়ে রেখেছে, কারণ ইনি দলের অন্যতম মহিলা মুখ। এটাই তৃণমূল বোঝাচ্ছে, কারণ তাদের ভোটে জিততে হবে। মুসলমান ভোটেই তাদের প্রাণভোমরা টিকে আছে। সিপিএমের সংগঠন এমন অবস্থাতেও নেই যে তারা তৃণমূলের পাল্টা হিসাবে মাঠে ময়দানে মুসলমান মহল্লাতে ‘পাল্টা’ ন্যারেটিভ পৌঁছে দিতে পারবে। এই নেত্রী ও তার ভক্তকুলের মতো ফেসবুকের ফুটেজ বিপ্লবের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্গাজম দিয়ে শূন্য কাটবে না।
অথচ, বিষয়টা তেমন গুরুত্বপূর্ণই ছিল না। সামান্য তিল, যাকে তাল পাকিয়ে দিয়েছে এ পাড়ের জামাত মনোভাবাপন্নেরা, যারা চায় CPIM শূন্যই থাকুক। এই মহিলা, বারংবার ফাঁপা স্টান্টবাজি করতে গিয়ে এমন কথা প্রতিবার লেখে, যেটা শুধু অশোভনই নয়, নিতান্তই অপ্রয়োজনীয়। এই ফাঁকে জিম নাওয়াজের মতো বিষাক্ত সাপগুলো, ছুপা জামাতেরা দাঁত নখ বের করে আক্রমণের সুযোগ পেয়ে গেছে। ব্যক্তি দীস্পিতা উহ্য হয়ে গিয়ে গাঁ গঞ্জের প্রান্তিক মুসলমানের কাছে CPIM কে মুসলমান বিদ্বেষী হিসাবে প্রতিকৃত করার অপচেষ্টায় লেগে পড়েছে।
তৃণমূল রাজনীতি করতে এসেছে, এমন বহু phd ধারীকে ওরা চাকরবাকর বানিয়ে রেখেছে। ভায়া আইপ্যাক, তারা সোশ্যাল ইঞ্জিয়ারিংটা বোঝে, তাই তারা ইউসুফ পাঠান, জুন মালিয়া বা সায়ন্তিকার মতো অপগন্ডদের জিতিয়ে আনতে পারে। মমতা ব্যানার্জী RSS এর সহযোগিতাতে ইনশাল্লাহ সুবহানাল্লাহ আলহামদুলিল্লাহ করতে করতেই গোটা সম্প্রদায়কে দুধেল গাই বানিয়ে দিয়েছে, আর সেটা থেকেই এই সমাজটা মুক্তি চাইছে। মমতা তার বুলি দিয়েই বামফ্রন্টকে শূন্য করে দিয়েছে। যারা দীপ্সিতার সমর্থনে শেষ ৩ দিন ধরে 'ভুলটা কী বলেছে' জপে গেল- তাদের সেই বোধটা থাকলে আর্যভট্টের আবিষ্কারের সাথে একাত্বীভূত হতে হতো না আপনাদের। জামাত শব্দের ঝুলফাঁদে আপনারা গুলিয়ে দিতে পারবেন না। না জানাটা অপরাধ নয়, কিন্তু সেই নির্বুদ্ধিতাকে প্রমাণ করার তাগিদে গলা ফাটালে সেটা যে শুধু হাস্যকরই হয় তা নয়, ভিতরের অন্তঃসার শূন্যতাটাও প্রকাশ পেয়ে যায়।
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
২০২৬ প্রাক বিধানসভা নির্বাচনী প্রেক্ষাপটঃ ভয় পর্ব
(২)
সোভিয়েত পতনের সাথে সাথে সাথেই পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছোট বড় প্রত্যেকটি পকেটে বামপন্থী কর্মী সমর্থক এবং শাসকের উপরে বিভিন্ন পদ্ধতিতে হামলা শুরু হয়েছিল, পশ্চিমবঙ্গ তার ব্যতিক্রম ছিল না। ১৯৯৩ এ উগ্র বিধ্বংসী আন্দোলনের নামে মমতা ব্যানার্জীর উন্মত্ততা তারই প্রকাশ বলা যেতেই পারে। তাই ৯০ দশকের গোড়াতেই RSS এর ঔরসে কংগ্রেস গর্ভে তৃণমূলের জন্ম নেওয়া যে একটি সুদূর প্রসারী লগ্নি ছিল, তা মেনে নিতে আজ অন্তত দ্বিধা থাকার কথা নয়, যা আজকের তৃণমূলের রাজত্বে প্রমানিত।
১৯৯৮ সালে জন্ম নিয়েই মমতা ব্যানার্জীর তৃনমূল ২৮টা লোকসাভা আসনে লড়াই করার মতো রসদ যোগাড় করেছিল RSS এর মাধ্যমেই, সেটা প্রামান্য নথিতেই রয়েছে। বিজেপির সাথে ২:১ আসন ভাগে লড়ার সিদ্ধান্ত তো RSS ছাড়া হয়নি, ২৮টা লোকসভা আসন মানে ১৯৬টা বিধানসভা আসনে লড়াই করা কী ছেলেখেলা? কে দিয়েছিল সেই বিপুল অর্থ? পাশাপাশি বিজেপিকেও ৯৮টা আসনে শক্তি দিয়েছিল। সেদিন কি বিজেপি সাম্প্রদায়িক ছিল না? বাবরির ঘা তো তখনও শুকায়নি! এই তৃণমূলই আজকে বিজেপিকে রোখার রঙিন গল্প বলে, মুসলমানকে ভয় দেখায়। আশ্চর্যভাবে দুধেলগাইগুলো বিশ্বাসও করেছিল ও করে। কটা দিন যেতে দিন, মমতার চোর ইমেজের ভাবমুর্তি মুছে দিতে তার নানান পডকাস্ট সাক্ষাৎকার বাজারে আসবে, নানান চ্যানেলে; যেন তিনি ‘দেবী’ এমন ভাবে পোট্রেট করা হবে।
৩৪ বছরের বাম শাসনামলে কংগ্রেস, তৃণমূল বা উভয় জোটের ভোটের শতাংশ কখনই ৩৫ শতাংশের নিচে নামেনি। তাই ২০০৯ বা তার পরবর্তী ২০১১ এর রণনীতি সাজাতে তথা কংগ্রেসের গুরুত্ব অনুধাবন করতে- তৃণমূল নেতৃত্বের খুব একটা ভুল হয়নি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ২০১১ এর পরিবর্তন- কংগ্রেসের সাহায্য ছাড়া কোনোমতেই সম্ভব ছিল না। শুধুমাত্র বাম বিরোধিতাকে ভিত্তি করে জন্মানো তৃণমূল- তার জন্মদাত্রী জাতীয় কংগ্রেসের সংগঠন ও ভোটাদের ধীরে ধীরে খেয়ে এমন ছিবড়ে করে ফেলেছে যে, আজকের তারিখে গনি খানের গড়ে তাদের পরিবার কিম্বা অধীর চৌধুরী পর্যন্ত নিজেদের আসন হারিয়ে ফেলেছে। সোমেন মিত্র থেকে মানস ভুঞ্যাঁ, এমন সকলকে চটির নিচে এক লজ্জাজনক আত্মসমর্পন করতে বাধ্য করেছে।
অপারেশন বর্গা ও দীর্ঘ বাম শাসনে রাজ্যের বিরোধী হিসাবে অধিকাংশ সময়কালটাই জাতীয় কংগ্রেসই ছিল। স্বভাবতই তাদের ভোটারের মধ্যে একটা স্থায়ী বাম বিরোধ, বিবাদ বা দ্বন্দ্ব যা খুশি বলুন- এগুলো স্থায়ী হিসাবে চরিত্রে গেঁথে গিয়েছিল। উল্টোদিকে কংগ্রেসের প্রতিও একই অসূয়া বামেদের মধ্যেও তীব্রভাবে ছিল, ফলে উপরতলার জোট তথা সমঝোতা কখনই নিচুতলায় স্বতঃস্ফূর্ততা আনেনি, উল্টে অভিযোগের অন্ত ছিল না। স্বভাবতই কংগ্রেসী ভোটারদের মধ্যে পারিবারিকভাবে একটা স্থায়ী বাম বিরোধীতা অনেকটা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত। তবুও একটা জিনিস বলা যেতে পারে, যেহেতু নির্বাচনে জিতলে শাসন ক্ষমতা মূল চাবিকাঠি বামেদের হাতে থাকতো, তাই জোটের ব্যাপারে বামেরা যতটা আন্তরিক এবং সক্রিয় ছিল; মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতে কংগ্রেস সমর্থকদের পক্ষে বামেদের জন্য ততটা আন্তরিক হওয়া সম্ভব ছিল না এবং বাস্তবে তারা হয়ওনি। 'কংগ্রেস আমাকে ভোট দেয় না' বলে কান্নাকাটি করা ফেসবুকের বাম সমর্থকদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা নিয়ে এই কারণেই বারবার প্রশ্নচিহ্ন ওঠে।
১০ বছরের সম্পর্কে পারস্পারিক অভিযোগগুলো মোটামুটি একই থাকলেও, বামকর্মী সমর্থদের তরফে দাবীগুলোর বাস্তব সারবত্তা ছিল। যেমন, বুথে ঝান্ডা টাঙ্গানোর লোক নেই কংগ্রেসের, পোস্টার ব্যানার ছাপাবার টাকা দেয় না, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ার মঞ্চ থেকে মাইক সব নিজেদের খরচা করতে হয়। যেহেতু সবকিছুই চাঁদা দিয়ে করতে হয় তাই কংগ্রেসের প্রার্থীর নামে কেউ চাঁদা দিতে চায় না। কংগ্রেসী সমর্থকরা বাম নেতৃত্বের মিটিং মিছিলে মাঠে আসে না। বক্তা তালিকা কংগ্রেস নিজেদের মতো ঠিক করে, মঞ্চের টাইমে বামেদের বলার সুযোগ দেয় না বা কম দেয়। চাহিদা মতো কংগ্রেসী কোনো বিশিষ্ট বক্তাকে চাইলে তাদের উপেক্ষা করা। যেকোনো গন্ডগোল হলেই পলায়ন করে, পরবর্তী মামলা মোকদ্দমাতে সাথ দেয়না, ইত্যাদি।
সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল- হাতে গোনা দু-চারটে আসনের বাইরে ৯৯% বুথে কংগ্রেসীদের এজেন্ট না দিতে পারার অক্ষমতা, উলটে বামেদের তরফে এজেন্ট বসাতে হয়েছে। এত কিছু করে ক্যান্ডিডেটকে জেতালে, সে বিক্রি হয়ে তৃণমূলে চলে যাবে না- এই আতঙ্ক সারাক্ষণ তাড়া করে ফিরেছে বামেদের।
২০১৬ পরবর্তী বাম-কংগ্রেস জোটের পরীক্ষা যে একপ্রকার ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৬ এর নির্বাচনের আগে কংগ্রেস নেতৃত্ব তথা রাহুল গান্ধী বিষয়টা বুঝে, একটা স্থির সিদ্ধান্তে আসতে সক্ষম হয়েছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাহুল গান্ধীর কেরলের ওয়েনাড আসনে দাঁড়ানোটাই জোট ভাঙ্গার ইঙ্গিত ছিল, ২০২৪ এ প্রিয়াঙ্কাকে পুনরায় ওখান থেকে প্রার্থী করে সেটাতে সীলমোহর দিয়েছিল। ইয়েচুরি পরবর্তী বাম নেতৃত্বের তরফে দেওয়াল লিখন পড়তে না পারার দায় তাদের নিজস্ব এ্যাচিভমেন্ট, বিশেষ করে বঙ্গ সিপিএম এর। বঙ্গ CPIM কাটা হাতকে সামনে ঝুলিয়ে রেখে, দুটো চারটে আসনে বৈতরিনী পার হওয়ার ঘিনঘিনে প্রচেষ্টা করলেও, মাটিতে টিকে থাকা বামকর্মী সমর্থকরা যে খুব ভালোভাবে নেয়নি, সেটা শুরুর দিন থেকেই পরিষ্কার ছিল। তাই ভোট পরবর্তী নির্বাচনী ফলাফল ব্যাখ্যার নামে বিরাট একটা বিবৃতি প্রকাশের দ্বারা- দায়িত্ব অস্বীকারের যে প্রবণতা নেতৃত্বের মধ্যে দেখা দিয়েছিল, সেখান থেকে বিভিন্ন রকম অজুহাতের মধ্যে ‘আমরা ভোট দিলেও কংগ্রেস আমাদের ভোট দেয় না’ জাতীয় একটি অক্ষম অজুহাত শুরুতেই বাদ পড়ে গেছে।
তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না
⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...
-
ছোটবেলায় বাবা বলতেন "শাগ খেলে বাঘের বল"। যদিও তিনি ওটাকে শাকই বলতেন আমরা কচি কানে বাঘের সাথে মিলিয়ে শাগ শুনতাম। এহেন পরিস্থ...
-
(১) জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তাল...






