প্রতিবেদন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রতিবেদন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

“আমায় ক্যালানি থেকে কে বাঁচাবে”

 


আসসালামু আলাইকুম ,

প্রিয় মমতা ব্যানার্জীর উম্মত- দুধেল গাই সম্প্রদায়ের আঁতেল, চোদনা, বোকাচোদা, আলেম চোদা, বুদ্ধিবিচি, ঝুলন্ত বিচি, লাল দাড়ির ধর্মধ্বজী, সুদখোর, মাগীবাজ, মাতাল, গাঁজাখোর, চটিচাটা, চাচার জন্ম, মামার জন্ম, শরিয়তী শুয়োর, মারেফতি ভন্ড, সদগা জাকাতের হারাম খাওয়া উলামা মোহাদ্দিস, হ্যান্ডেল মারা পানুমাস্টার, দুপুর ঠাকুরপো, বেজন্মা ইতর, আতাক্যালানে, চুদিরভাই, নিমকহারাম, মুনাফেক ও সুস্থ সভ্য ভদ্র শিক্ষিত মুসলমান, কর্মঠ শ্রমিক কৃষক সম্প্রদায় গণ। আগামী ২৯ তারিখ ভোটের বোতাম টেপার আগে মনে রেখে ভোটটা দেবেন।

রাজ্যে মমতা ব্যানার্জী ক্ষমতায় থাকলে RSS এর বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার কোনো দরকার নেই। ২০২৬ এর তৃণমূল প্রার্থী তালিকাতে অন্তত ৫০ জন এমন আছে, যারা প্রত্যেকে সক্রিয় RSS কর্মী। উদাহরণ হিসাবে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের পবিত্র কর, ময়না কেন্দ্রের প্রার্থী চন্দন মন্ডল, ১ মাস আগেও এরা বিজেপি ছিল। হাওড়ার বাগনানের অরুনাভ সেন(রাজা) এমন তালিকা শেষ হবে না, যারা প্রকাশ্যে প্রত্যক্ষভাবে RSS এর সাথে যুক্ত। এই তৃণমূল মুসলমানকে শুধু ব্যবহার করে, আর সারা বছর RSS এর হয়ে কাজ করে।

২০১১ থেকে ২০২৬ সবচেয়ে বেশি অনৈতিক দল বদল হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। প্রত্যেকবার পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বিজেপি থেকে হয়েছে, পরবর্তীতে সে তৃণমূলে ঢুকে গেছে। যেহেতু প্রত্যেকটি চুরি যাওয়া টাকার তহবিল অনুমোদন করতে তাকে সই করতে হয়- সেই জন্য সে বাইরে তৃণমূল ভেতরে বিজেপি। বিধানসভার স্পিকার আর বিরোধী দলনেতা বসে বসে মজা নিয়েছে এতদিন, কারণ দুটো দলেরই মালিক এক। পশ্চিমবঙ্গের একটি লোকেরও এতোদিন এই গল্প মনে পড়েনি। নতুন সরকার গঠন হওয়া অবধি এই আইনের কোনো পরিবর্তন চাই না। কারণ তৃণমূল একশ'র নিচে সিট পাবে। সেক্ষেত্রে বিজেপি, কংগ্রেস, আব্বাস আর হুমায়ূন মিলে তৃণমূলকে সেই পথেই শেষ করবে, যেটা এতদিন তাদের অস্ত্র ছিল।

২০২৬ এর ৪ঠা মে, এই প্রথমবার নির্বাচনে একটা ত্রিশঙ্কু অবস্থায় তৈরি হতে চলেছে বাংলাতে, সেখানে তৃণমূল এবং বিজেপির MLA রা গরু ছাগলের মতো বিক্রি হবে এবেলা ওবেলা। তাদের সমর্থকদের সবচেয়ে বেশি ভয় হচ্ছে, আমার ভোট দেওয়া লোকটা আমার না কথা শুনে অন্যদিকে চলে গেলে আমার ক্যালানি কে বাচাবে! পশ্চিমবঙ্গে যে লুঠের রাজত্ব কায়েম ছিল, সেটা শুধুমাত্র সরকারি মদতে হয়নি, এখানে বিরোধী দল বিজেপির সাথে একটা প্রকাশ্য বোঝাপড়া ছিল। শুধু একা তৃণমূল চুরি করেনি, প্রত্যেকটি চুরির সাথে পাবলিক অ্যাকাউন্ট কমিটির চেয়ারম্যান জড়িত ছিল। যেমন সুমন কাঞ্জিলাল, কৃষ্ণ কল্যাণী এরা সকলে RSS এর লোক, মমতা তাদের পদে বসিয়েছে, আর দুই ফুলে রাজ্যটাকে লুঠে খেয়েছে। তৃণমূল সমর্থকরা চুরি করেছে আর বিজেপি সমর্থকেরা সেই চুরিটাকে সমর্থন দিয়ে সই করে দিয়েছে, তাদের বড়বাবুরা ভাগও পেয়েছে। গত পাঁচ বছর ধরে পুরো দুর্নীতির ব্যবস্থাটাকে শুভেন্দু অধিকারী নিজে মদত দিয়েছে, কী মনে হয়- তিনি মাগনা করেছেন এসব?

বিজেপি কখনও তোলামূলের বিকল্প নয়, এরা তোলামূলেরই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী মাত্র। পুরুলিয়ার হরতান বুথ (১৬৩), জয়পুর বিধানসভা (২৪১) এলাকার মানুষেরা নাকি ভোট বয়কট করেছে। তাদের নাকি রাস্তাঘাট নেই, শিক্ষা নেই, রেশন বন্ধ, হাসপাতাল নেই ইত্যাদি এই সব নানা অভিযোগ। আরে শুয়ারের বাচ্চারা, ভোট দেওয়ার সময় বিজেপিকে ভোট দিবি যারা কেবল মাত্র হিন্দু খতরেমে হ্যায় গল্প শুনিয়েছে, কিম্বা তোলামূলকে ভোট দিবি যারা ‘আমরা না এলে বিজেপি চলে আসবে’ জুজু দেখিয়েছে। যারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, উন্নয়নের কথা বলে- তাদের তো শূন্য করে দিয়ে বিজয়ীর হাসি হেসেছিলি। আজ পোঁদ মারা গেলে মুখ ফুটছে কেন! কাঠ খেয়েছিস, ফার্নিচার তোদেরই হাগতে হবে বাছা।

অবশিষ্ট বাংলাবাসীর জন্য এটা একটা বিপদ সঙ্কেত। যে বুঝবে না তাকে আত্মলিঙ্গম পশ্চাদপূরম করতে দিন, আপনি যদি না বোঝেন, আপনার সন্তানের ভবিষ্যতে গ্যামাক্সিন, কাঁদার জন্য ঘরের কোণা টুকু বাঁচবে না, দুই ফুলের গোলকধাঁধায় ঘুরে ঘুরে কুত্তার মতো মরে পড়ে থাকবেন। তাই সাধু সাবধান। 


  • • মুসলমানের ভোটে জেতা এই মমতা ব্যানার্জী ক্ষমতায় থাকাকালীন দীঘায় জগন্নাথ মন্দির, শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির, নিউটাউনে দূর্গা অঙ্গন করেছে, এই ১৫ বছরে মুসলমানদের জন্য কী করেছে? 
  • • বোমা শওকত, তোলাবাজ জাহাঙ্গির, দাঙ্গাবাজ শাহজাহান, জমিয়ত বেচে খাওয়া সিদ্দিকুল্লা, এদের মতো মুনাফেকদের মুসলমানদের নেতা বানিয়ে বাংলার ৩০% মুসলমান জাতি কী পেয়েছে?
  • • আপনার সন্তান নিজের রাজ্যে কাজ পেয়েছে?
  • • কেন সে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে বিজেপি শাসিত পশ্চিমের রাজ্যগুলোতে গিয়ে পড়ে রয়েছে?
  • • বেকারদের কৰ্মসংস্থান কোথায় হয়েছে?
  • • শিক্ষক নিয়োগের নামে নির্লজ্জ ও প্রকাশ্য চাকরি বিক্রি করা সরকার। আদালতে স্বীকার করেছে যে এরা চোর।
  • • চাকুরিজীবীদের কুকুরের সাথে তুলনা করেছে।
  • • মুসলমানকে দুধেল গাই বলে অপমান করেছে।
  • • সরকারি চাকরিতে মুসলমানকে ইতিহাসের সবচেয়ে বঞ্চিত অবস্থানে নিয়ে গেছে এই তৃণমূল সরকার।
  • • ওয়াকফের সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছে, আন্দোলন করতে গেলে দিল্লি যেতে বলা হয়েছে।
  • • OBC থেকে মুসলমান ছাত্রছাত্রীদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
  • • SIR এর নামে মুসলমানদের জিম্মি করে তাদের বেনাগরিক করে দেওয়ার চক্রান্ত করেছে।
  • • কোরানের অপমান করেছে প্রকাশ্যে।
  • • মাদ্রাসা শিক্ষা প্রায় তুলে দিয়েছে।
  • • শুক্রবারে নামাজ পড়তে আসা সকলে সন্ত্রাসী বলে দাগিয়ে দিয়েছে।
  • • ক্লাবে ক্লাবে টাকা বিলি করেছে অন্তহীন, অথচ সরকারি কর্মীদের প্রাপ্য DA দেয়নি।
  • • কয়লা চুরি করে কালো টাকার পাহাড় জমিয়েছে।
  • • রেশনের চাল গম চিনি চুরি করেছে।
  • • ত্রাণের চাল ত্রিপল চুরি করেছে।
  • • আবাস যোজনার টাকায় কাটমানি খেয়েছে।
  • • সরকারি মান্ডিতে ধান বিক্রি করতে গেলেও কাটমানি দিতে হয়েছে।
  • • সর্বত্র সন্ত্রাস আর গুন্ডামির পরিবেশ কায়েম করেছে।
  • • সারদা চিটফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করেছে।
  • • নারদার থেকে প্রকাশ্যে ঘুষ খেয়েছে।
  • • রোজভ্যালি চিটফান্ডের টাকা আত্মসাৎ করেছে।
  • • রাজ্যের সর্বত্র ন্যাংটা তোলাবাজির রাজত্ব কায়েম করেছে।
  • • জমি মাফিয়া।
  • • বালি মাফিয়া।
  • • রাজ্য জুড়ে সিন্ডিকেট রাজ।
  • • চপ শিল্প করতে বলে শিক্ষিত বেকারকে অপমান।
  • • তার দলের পঞ্চায়েত স্তরের নেতারাও কি চপ ঘুগনি কেউ বিক্রি করে?
  • • পঞ্চায়েত নির্বাচনে ব্যাপক সন্ত্রাস (যার বিভৎসতা চরমে পৌঁছে ছিল)।
  • • কাটমানি খেয়ে উড়ালপুল বিপর্যয়।
  • • চোলাই মদ বিপর্যয়।
  • • সিভিক টিচার নিয়োগ।
  • • মাধ্যমিকের সব পত্রের প্রশ্ন ফাঁস।
  • • কোটি টাকার ছবি বিক্রি।
  • • সর্বত্র মেলা খেলা উৎসব, যাতে সেখান থেকে সরকারি টাকা নয়ছয় করা যায়।
  • • মুসলমানকে গুন্ডা বানানো, মারছে মুসলমান মরছে মুসলমান।
  • • চোরদের বাঁচাতে তাদের সমর্থনে রাস্তায় ধর্ণা।
  • • চোরদের বাঁচাতে প্রকাশ্যে তাদের সমর্থন।
  • • ৬০০০০ Group-D কৰ্মী নিয়োগের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি।  
  • • কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে নিজের নামে চালানো।
  • • শিল্প সম্মেলনের নামে মানুষকে বোকা বানানো, পছন্দের লোকেদের কোটি কোটি টাকা পাইয়ে দেওয়া।
  • • ভাইপোর কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির উৎস কী? সে কোন ব্যবসা করে?
  • • সততার প্রতীক স্লোগান কোথায় গেল?
  • • যাত্রা শিল্পীদের 15000 টাকা ভাতা, আর শিক্ষকদের ২০০০ টাকা ভাতা!
  • • কামদুনি ধর্ষণ কান্ডে শাস্তি না হওয়া।
  • • সারের দাম জানতে চাওয়ায় "মাওবাদী" তকমা।
  • • সরকারি টাকায় চামচাদের নিয়ে বিদেশে ফুর্তি মারতে যাওয়া।
  • • যেকোনো মূল্যে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করা।
  • • শিক্ষিত বেকার পরিযায়ী শ্রমিক হবে, ওদিকে গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব কিম্বা চোলাই খেয়ে মরলে হয় ১০ লাখ টাকা কিম্বা সরকারি চাকুরি।
  • • সাদা খাতা জমা দেওয়া BDO ও শিক্ষক নিয়োগ। চাকুরি যারা পেয়ছে তারা কত নম্বর পেয়েছিল?
  • • প্রশ্ন করলেই মাওবাদী তকমা।
  • • পরিযায়ী শ্রমিকদের করোনা এক্সপ্রেস বলা।
  • • নারী সুরক্ষার অবনতি ও RG Kar কান্ডে দোষীদের আড়াল করা।
  • • মুর্শিদাবাদে সামশেরগঞ্জে হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাস খুন।
  • • নদীয়াতে বোমা মেরে তামান্না খাতুনকে খুন।
  • • আইপ্যাকের সবুজ ফাইল লোপাট।
  • • হাসখালী কাণ্ড।
  • • বগটুই কাণ্ড।
  • • নিরন্তর মিথ্যার ফুলঝুরি ছোটানো, উদ্ধত অহংকারী প্রতিহিংসা পরায়ণ আচরণ।
  • • তৃণমূল সরকারের আমলে গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (RSS) বা সঙ্ঘের শাখা ৫৩০টি থেকে বেড়ে ৪,৩০০টির বেশি হয়েছে। এরা নাকি বিজেপিকে রুখবে?
  • • ১৯৯৮ সালে বাজপেয়ী সরকারের রেল চেয়ারপার্সন এই মমতা ব্যানার্জী।
  • • ১৯৯৯ সালে বিজেপি সরকারের রেলমন্ত্রী এই মমতা ব্যানার্জী।
  • • ২০০২ সালে বিজেপির সরকারে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী এই মমতা ব্যানার্জী।
  • • ২০০৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপির সাথে জোট করেছিল এই মমতা ব্যানার্জী।
  • • ২০০৬ সালে বিধানসভা ভোটে পুনরায় বিজেপির সাথে জোট করেছিল এই মমতা ব্যানার্জী।
  • • 'আমি RSS নেতাদের সম্মান করি'- বক্তা এই মমতা ব্যানার্জী।
  • • স্বাধীনতার ইতিহাসে ব্রিটিশের দালালি করা RSS কে ‘প্রকৃত দেশপ্রেমিক’ আখ্যা দিয়েছিল এই মমতা ব্যানার্জী।
  • • RSS এর সর্বোচ্চ নেতা এই মমতা ব্যানার্জীকে দুর্গা বলে সম্বোধন করেছিল।

বিজেপিকে রুখতে মমতা ব্যানার্জীকে দরকার? বিজেপির চাষ কে করেছিল এই রাজ্যে? একটাই নাম, মমতা ব্যানার্জী। মমতা ব্যানার্জি না থাকলে বাংলার মাটিতে বিজেপি আজকের রূপে আসত না। এই অসভ্য, ইতর, চোর, তোলাবাজ, কাটমানিখোর, মুসলমান বিদ্বেষী তোলামুল সরকারকে তাড়ানোটা একজন দায়িত্ববান পশ্চিমবঙ্গবাসী ও একজন ঈমানদার মুসলমান হিসাবে আমাদের সকলের কর্তব্য ও দায়িত্ব।

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

বিজেপি কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসবে না



বিজেপি কোনোভাবেই ক্ষমতায় আসবে না এ রাজ্যে, আসতে পারে না, যদিনা তৃণমূল দলটা তাদের বিজয়ী MLA নিয়ে সরাসরি বিজেপিতে মিশে যায় ভোট পরবর্তী সময়ে বহুমুখী সমীকরণে। তাই তৃণমূল ও মমতা ব্যানার্জী- যে বিজেপি জুজু দেখিয়ে আরও একবার মুসলমান ভোটকে নিজের বাক্সে ফেলতে চাইছে, তার উপরে থুতু ছিটিয়ে দিন। নিচের অঙ্কটা দেখে নিন, বাকি সিদ্ধান্ত আপনার।

২০১৯ লোকসভা, ২০২১ বিধানসভা এবং ২০১৪ লোকসভা, এই তিনটে নির্বাচনের নিরিখে বিজেপি ৫৫ টা আসনে তিন বারই টানা জিতেছে বা এক নম্বর স্থানে ছিল। ৩৮ টা আসনে দু'বার জিতেছে কিংবা এগিয়েছিল। আর ৫৩ টি আসনে এই তিনটে নির্বাচনের, অন্তত একবার তারা জিতেছিল কিংবা এগিয়েছিল। 

সবেধন নীলমনি এই ১৪৬ আসনেই আজ অবধি বিজেপির চাষবাস। একটা নতুন আসনের দোকান খুললে, অন্য ২টো দোকানের ঝাঁপ বন্ধ হয় তাদের, এটাই তাদের ভোট চরিত্রের স্ট্রাকচার। বেশ কয়েকটা এমন আসনও ছিল যেখানে মুসলমান ভোট মেজরিটি। এবারে সেটি হবে না, তেমনই মতুয়া অঞ্চলে বিজেপির 'পতিদাহ' প্রথা পালিত হবে জীবন্ত চিতায় তুলে।

সুতরাং পাটিগণিতের নিয়ম বলুন কিংবা পারমুটেশন কম্বিনেশন, রেসিপ্রোক্যাল, জিওমেট্রি কিম্বা ফিবোনাচ্চি- আপনি যেভাবেই হিসেব করুন না কেন, ইতিহাসের পর্যালোচনা এবং পশ্চিমবঙ্গের জাতি জনঘনত্বের পরিমাপের অঙ্কে, বিজেপি কোনো গণিতের বলেই সংখ্যাটা একলাফে কক্ষণও ১০০ পার করতে পারবে না। বাকিটা মমতা ব্যানার্জীর বিজেপি জুজুর নামে নির্লজ্জ মিথ্যাচার প্রহসন, আর বিজেপির বিপুল অর্থব্যায়ে চালানো প্রচারযন্ত্রের আষাঢ়ে গল্প। তাতেও আজ অবধি ১৪৬টা আসনেই বুড়ি ছুঁতে পেরেছে বিজেপি, আর কনফার্ম বলতে সেই ৫৫টি। বাকিটা গ্যাস বেলুন যা শুধুমাত্র মিডিয়াতেই উপস্থিত।

পশ্চিমবঙ্গের মাটি চৈতন্যের মাটি, সম্প্রীতির মাটি, একটা দীর্ঘ সময় ধরে চলা কমিউনিস্ট আদর্শ ও আন্দোলনের মাটি, এখানে RSS এর উগ্র হিন্দুত্ব আর বাঁদর রাজত্ব- ওই নির্দিষ্ট সংখ্যক একটা জম্বি হিন্দুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাকিরা কেউ মানুষ নয়, সামান্য কিছু ভক্ত, বাকিরা মহাদেবের ধর্মের ষাড়। অধিকাংশ সুস্থ স্বাভাবিক হিন্দুই, সন্ত্রাসী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন RSS কে অন্তর থেকে ঘৃণা করেন, একটা মুসলমান যতটা ঘৃণা করে বরং তার চেয়েও বেশি প্রতিবাদ-প্রতিরোধ দেশের সংখ্যাগুরুদের তরফেই পরিলক্ষিত হয়। 

তাই যারা ভাবছেন বিজেপিই বোধহয় তৃণমূলের বিকল্প, তারা আসলে তৃণমূলের পায়ে শক্তি যোগাচ্ছেন আরও একটা টার্ম ক্ষমতায় আসার দৌড়ে। গত ১৫ বছর ধরে এই বিজেপির বেনা বনে মুক্ত ছড়িয়েছেন, আগে রাম পরে বামের তত্ত্ব ছড়িয়ে ছিলেন। নিট ফল- ফক্কা। মমতার নের্তৃত্বে প্রতিবার RSS এর সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। 

এবারও যদি আপনি হিন্দু ভাইটি বিজেপিকেই ভোট দেন, এবার কিন্তু তৃণমূলের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে না। কারণ মুসলমান সমাজ মমতা ব্যানার্জীর ভন্ডামি প্রতারণা ধরে ফেলেছে ,তাকে উচিত শিক্ষা দিতে সমগ্র মুসলিম সমাজ বদ্ধপরিকর।  সুতরাং আপনারা যারা যেকোনো মূল্যে তৃণমূল-বিজেপি বাইনারির মধ্যে থেকে একটা RSS এর সরকার প্রতিষ্ঠা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ, তাদের জন্য মহা দুঃসংবাদ। ২০২৬ সালে RSS এর সরকার গঠিত হবে না পুনরায়।

গত একুশের নির্বাচনে এবারের প্রথম ফেজে হতে চলা ১৫২টা আসনের মধ্যে তোলামূল পেয়েছিল ৯২টি, আপনি নিশ্চিত থাকুন আজকের ভোটে তোলামূল ৫০ ক্রশ করবে না কোনোভাবেই, আর বিজেপিও যেখানে ছিল তার আশেপাশেই থাকবে, কমলেও কমতে পারে। মালদা মুর্শিদাবাদ এবং দুই দিনাজপুরে তৃণমূল খাতা খুলতে পারলে সেটাই তার জন্য চরম প্রাপ্তি হিসেবে গণ্য হবে। বাকি সমস্ত সমীক্ষা- টিস্যু পেপারে করে যেমন পায়ুপথ মোছে, সেইভাবে মুছে ফেলে দিন ওগুলো। এগুলো সব পেইড প্রোমোশন, আপনার ভাবনাকে ডাইভার্ট করার জন্য। 

সুতরাং তোলাবাজ, কাটমানি খোর, প্রবঞ্চক, প্রতারক, ধর্ষক, চোর, পাতাখোর, দুশ্চরিত্র, মিথ্যাবাদী, সাম্প্রদায়িক এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ এই তোলামূল সরকারকে যদি বিসর্জন দিতে চান তাহলে- বিজেপিকে ভোট দিয়ে সেই লক্ষ্য হাসিল করা সম্ভব নয়। সাম্প্রদায়িক বিজেপি কখনো বিকল্প হতে পারে না শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বাংলাতে, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ,  নজরুল, হাজী মহসিনের বাংলাতে।

তৃণমূল এবং বিজেপি বাদে যে যেখানে শক্তিশালী তাকে ভোট দিন।  বাম জোট-ISF কে পছন্দ হলে তাদের দিন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এদেরই রেকমেন্ড করবো। বামে এলার্জি থাকলে কংগ্রেসকে ভোট দিন। এমনকি হুমায়ূন কিম্বা রুহুল আমিনের প্রার্থীকে পছন্দ না হলেও, সে যদি শক্তিশালী হয় আপনার এলাকায় তাহলে এবারের ভোটটা তাকেই দিন। ভোট যেন নষ্ট না হয়। 

আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন তৃণমূল কোনভাবেই তিন সংখ্যার ভিজিট পার হবে না আগামী ৪ঠা মে। আর বিজেপির অতীত কোষ্ঠী কি বলছে তা উপরে লেখা আছে, তার জিনের মধ্যে ঢুকে রয়েছে তার অউকাত, ঐ সর্বোচ্চ ৯০ এর আশেপাশে- ব্যাস গল্প শেষ। 

যুক্তফ্রন্ট জাতীয় একটা সংযুক্ত সরকার গঠন হতে চলেছে এবারে, যেখানে বামজোট নির্ণায়ক শক্তি হবে। আপনার মূল্যবান ভোট দুই বিষ ফলের মধ্যে কাউকে দিয়ে যদি নষ্ট করেন, তার দায় একান্তই আপনার। এর মূল্য রক্ত দিয়ে চোকাতে হবে। তৃণমূল হোক বা বিজেপি সে আপনার রক্ত চুষে নেবেই।  এর সাথে আপনার সন্তানকেও বইতে হবে আপনার এই পাপের ভার। উত্তর প্রজন্মের কাছে অপরাধী হয়ে জবাবদিহি করতে হবে - ১৫ বছর ধরে প্রতিটি লোকসভা, প্রতিটি বিধানসভা, প্রতিটি পঞ্চায়েত, প্রতিটি পুরসভায়- প্রতিবার ঠকার পরেও একই পাপের পুনরাবৃত্তি কীভাবে করেছিলেন!!


রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে গ্রাম বাংলার মা বোনেরা

 

❌ ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে গ্রাম বাংলার মা-বোনেরা ও তৃণমূল এর তোলাবাজি আর কাটমানির অন্ধকারের রাজত্ব। ❌

🟥 অনিয়ন্ত্রিত ঋণ + উচ্চ সুদ + কম আয় = ঋণের ফাঁস

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষুদ্রঋণ এখন “double-edged sword”, সঠিক ব্যবহার হলে উন্নয়ন, ভুল ব্যবস্থায় ঋণের ফাঁস। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (Self-Help Group) ঋণ বর্তমান ক্ষেত্রে গরিব মানুষের জন্য আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণের প্রাথমিক উদ্দেশ্য অত্যন্ত ভালো ছিলো। এতে করে গ্রামীণ মহিলাদের স্বনির্ভরতা বেড়েছিলো। নানান ধরণের ছোট ব্যবসা, পশু পালন, মাছচাষ ইত্যাদি শুরুও হয়েছিলো। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা একটা বিপুল সংখ্যার মানুষ বিশেষত মহিলারা, রাষ্ট্রের মূল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে চলে এসেছিলো। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছিলো। তোলাবাজ সরকারের অপদার্থতা আজকে এটাকে মারন ফাঁদে পরিণত করেছে।

বিগত ১৫ বছরে রাজ্যে কোনো শিল্প আসেনি, ভারি বহু কোম্পানি রাজ্য ছেড়ে পালিয়েছে; ফলত কর্মসংস্থান নেই। কৃষি পণ্যের দাম নেই, রাজ্যের ১৮% চাষযোগ্য জমি অনাবাদি হয়ে পরে রয়েছে। সারের কালোবাজারি, কীটনাশকের অভাবের সাথে রয়েছে কৃষিতে কাজ করা শ্রমিকের সমস্যা। কারন, বহু গ্রামীণ মানুষ যারা জমিতে ‘মুনিশ’ খাটতেন তারা পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিনরাজ্যে চলে গেছে। ভাতা রাজনীতি আর করোনার সময় থেকে পাওয়া ‘ফ্রি’ চালের কল্যাণে সমাজের একটা কর্মঠ অংশের মানুষকে মানসিকভাবে ঘড়কুনো কুঁড়ে বানিয়ে দিয়েছে। 

🟢 বাংলার প্রেক্ষাপটে সমস্যা কেন বেড়েছে? 

প্রথমেই রয়েছে কৃষিতে প্রাকৃতিক অনিশ্চয়তা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি তো আছেই; উচ্চমূল্যের ডিজেল, ততোধিক চড়া বিদ্যুতের বিল, বহু স্থানে জলস্তর নেমে যাওয়াতে গভীর নলকূপ সেচ বন্ধ, মেলা খেলার সরকার নদী থেকে ক্যানালের মাধ্যমে সেচের বন্দোবস্ত করতে পারেনি। ফলত, রাজ্যজুড়ে কৃষিতে একটা হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরপর ফসলের ন্যায্য দাম পেতে গেলে সেখানেও শাসক দলের ভয়াবহ তোলাবাজি। অধিকাংশ ‘কোটা’ ফড়েরা ভুয়ো কাগজ জমা করে ভরিয়ে দিচ্ছে তৃণমূলের ক্যাডার আর কিছু অসৎ অফিসারের সাথে ষড়যন্ত্র করে, আসল চাষীরা বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের চাঁদাবাজি, রাস্তায় পুলিশের তোলাবাজির উৎপাতে ভিনরাজ্যে কৃষিপন্য রপ্তানি শিল্প এক দুঃস্বপ্ন আজকের পশ্চিমবঙ্গে। ফলত চাষীর হাতে টাকা নেই, গ্রামীণ অর্থনীতি বন্ধ্যা হয়ে গেছে একপ্রকার। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, শ্রমজীবী পরিবারগুলোতে নুনভাত টুকু কোনোক্রমে জুটে গেলেও, অন্য মৌলিক চাহিদা মিটছেনা।

যেহেতু নির্দিষ্ট আয়ের উৎস নেই, ব্যবসা নেই, চাকরি নেই। শিল্প বলতে তোলাবাজি, কাটমানি আর চপ ঘুগনি। প্রথম দুটো তোলামূলের জন্য সংরক্ষিত, বাকি দুটো রাজ্যে শিক্ষিত বেকারদের নিয়ে চরম তাচ্ছিল্য। সরকারের গৃহ প্রকল্পে যে টাকা আসে, তা কাটমানির নামে অর্ধেক আগেই কেটে রাখে তোলামুলের সম্পদেরা, ফলে সেই ঘর শেষ করতে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে দরিদ্র মানুষেরা। এমন উদাহরণ ভুরিভুরি রয়েছে। এরপর, মেয়ের বিয়ে, চিকিৎসা, পড়শির সাথে তাল রেখে ঠাটবাট বাড়াতে গিয়ে ভোগ্যপন্য ক্রয়ের ফাঁদ ইত্যাদিতে, মানুষ মাকরসার জালের মত আঁটকা পরে গেছে। ফলত, ঐ ঋণের টাকা কোনো লাভজনক ব্যবসায় না খাটিয়ে পারিবারিক খরচ বা আপদকালীন প্রয়োজনে ব্যয় করলে তা আর ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা থাকছে না। লোন নেওয়া পর থেকে- Collection agent-এর চাপ, সাপ্তাহিক মিটিংয়ে অপমান, পরিবারের ওপর মানসিক চাপ ও শেষে গয়না/সম্পত্তি বিক্রি; এই হচ্ছে চক্র।

গ্রামে স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG), মাইক্রোফাইন্যান্স কোম্পানি বা NGO গুলো খুব সহজ শর্তে ঋণ দেয়। ক্ষুদ্রঋণের সুদ সাধারণ ব্যাঙ্কের তুলনায় ভয়ানক বেশি, অনেক সময় ২৪%–৩৬% পর্যন্ত হয়। ফলে ঋণ ছোট অঙ্কের হলেও অল্প দিনেই সুদ জমে বিপুল বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই উচ্চ সুদের হার সর্বগ্রাসী হয়ে লেলিহান আগুনের মত গ্রাস করেছে গোটা সমাজকে। প্রায় প্রতিটা ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ঋণদানকারী সংস্থাগুলোর সুদের হার ভয়াবহ, সেই সুদ মেটাতে গিয়ে গরিব মানুষ আরও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। একটা ঋণের কিস্তি মেটাতে গিয়ে আরেকটা ঋণ নিচ্ছে, ফলত চক্রবৃদ্ধি ঋণের ফাঁদ জড়িয়ে যাচ্ছে গরীব মানুষ। 

পাহাড়প্রমাণ সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তির কড়াকড়ি গরিব মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। যাচ্ছে। আয়ের স্থায়িত্ব না থাকা কৃষক, দিনমজুরের নিয়মিত কিস্তি দেওয়া কঠিন। সারামাসে যা খুদকুঁড়ো জুটিয়ে আনছে, এই মহাজনী সুদের চক্করে ঘটি বাটি সব বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এরপর শুরু হচ্ছে আসল যন্ত্রণা, অধিকাংশ গ্রামীণ গরীব পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে থাকে, এ এক ভয়ানক সামাজিক চাপ। ঋণের কিস্তি সময়মতো দিতে না পারলে গোষ্ঠীর অন্য সদস্যদের চাপ ও সামাজিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, যা চরম ক্ষেত্রে আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে। 

✅ সমাধান-

🔸সর্বপ্রথম প্রতিটা হাতে স্থায়ী কাজের যোগান দিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে, দয়া ভিক্ষা নয়, কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করে দিলে শ্রমজীবী মানুষ খেটে খাবে। আগামী সরকারকে সকলের হাতে কাজের বন্দোবস্ত করতে হবে। 

🔸 দুর্যোগ হলে যাদের আয় বন্ধ হয়ে যায়, ও যারা মৌসুমি কৃষি শ্রমিক হিসাবে কাজ করে, তাদেরকে বৃত্তিমূলক কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘অফ সিজেনে’ রোজগারের বিষয়টা সুনিশ্চিত করতে হবে।

🔸 উৎপাদনমুখী কাজে ঋণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

🔸 গ্রামের স্বল্পশিক্ষিত মানুষের মাঝে আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে এই চক্রব্যূহ্যে না ফেঁসে যায়। 

🔸 প্রয়োজনে সরকারের তরফে একবার গণহারে ঋণমুক্তি করে পুনরায় এই সাইকেল নতুনভাবে চালু করতে হবে। 

🔸 কম সুদের বিকল্প ঋণ দিতে হবে সরকারি ও কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের মাধ্যমে। 

🔸 সুদের সর্বোচ্চ হার বেঁধে দিয়ে ‘টেনিয়োর’ বাড়িয়ে দিতে হবে। 

🔸 অধিক সুদের লোভে যে সকল সংস্থ পুরাতন ঋণের স্ট্যাটাস না দেখে তার উপরে পুনরায় ঋণ দেয়, তাদের কালো তালিকা ভুক্ত করতে হবে। 

🔸 সরকারি নজরদারি ও নিয়ম কঠোর করতে হবে।

🔸 সরকারকে বাজারের সাপোর্ট নিশ্চিত করতে হবে।



শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬

মাননীয় Nawsad Siddique Mla Bhangar ,



আপনি আরাবুলকে নিয়ে ভোট করবেন নাকি বামেদের তথা CPIM West Bengal কে নিয়ে চলবেন, এই সিদ্ধান্তটা আপনাকে নিতে হবে আর সেটা দ্রুত নিতে হবে। 

আরাবুল ইসলামকে ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে আপনার দলের প্রতীকে প্রার্থী করবেন, নাকি গত পাঁচ বছরে বহু প্ররোচনা সত্ত্বেও এই ধর্মান্ধ, উত্তপ্ত ও বিষাক্ত পরিবেশে নিজেকে স্বচ্ছ ও সংযত রেখে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াসে- সংখ্যালঘু মানুষের মধ্যে একটি সুস্থ বিকল্প শক্তির ভাবনা সৃষ্টি করে, যা ক্রমশ বিস্তারের ফলে আশার আলো জাগিয়েছিল। সামান্য কিছু লাভের আশায় আজ এই SIR-সদৃশ গণতন্ত্র বিরোধী ও নাগরিকত্ব-হরণমূলক প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে, আপনি এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে লড়াই করে চলা মানুষ গুলোর পাশে দৃঢ় সংকল্প নিয়ে দাঁড়াবেন, নাকি তৃণমূল, বিজেপি তথা RSS-এর সুবিধা করে দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ জোট ভাঙার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেবেন? সিদ্ধান্তটি আপনাকেই নিতে হবে।

আপনাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব কেবলমাত্র মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তোলামুলের স্পেসিফিক বামদমন নীতির অত্যাচারে বহু অমুসলিম সিপিএম সমর্থক যেমন বিজেপিতে লুকিয়ে পড়েছিল, তেমনই মুসলমানেরাও আপনার বা আপনাদের মতো দলে ভিড়ে রয়েছে। তাই ভাববেন না ঝান্ডায় বাঁধা ডান্ডার শক্তির সবটাই একান্তই আপনাদের নিজস্ব। আপনারাও হুমায়ুন আর মিমের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন, সেটা আর গোপন নয়। সেখানে বিশেষ সুবিধা করতে পারেন নি। তৃণমূল আপনাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করবে না, অতএব আপনি নিজেকে বিরাট কোন মসিহা মনে করলে মূর্খের স্বর্গে বাস করছেন। আপনি মোদিজীর মতো কোনো অযৌন পদ্ধতিতে জন্মাননি, আপনাকে ২০২১ সালে রাজনৈতিক ভাবে জন্ম দেওয়া হয়েছিল আলিমুদ্দিন নামের হাসপাতালে, সারোগেসি সিজারিয়ান প্রসেসে।

এবারে একটু চাঁচাছোলা ভাবে কিছু কথা বলি-

জোটের নামে আপনার দল Indian Secular Front যে আসনগুলি দাবি করেছে, তার বাইরে পশ্চিমবঙ্গের কোনো একটা আসনে আপনাদের ভোট দিয়ে একজন বাম প্রার্থীকে জেতাতে পারবেন? মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনার ২-৪টে এলাকার বাইরে আপনারা একটা এমন আসনের নাম বলুন যেখানে আপনারা জামানত বাঁচাতে পারবেন, কিম্বা ১০% বুথে এজেন্ট দেওয়ার অউকাত আপনার দলের রয়েছে? বাংলার অন্তত ১৫টা জেলার অধিকাংশ মানুষ জানেইনা ISF বস্তুটা খায় না মাথায় দেয়! তামিলনাড়ুর PMK যতটা গুরুত্ব রাখে বর্ধমান, মেদিনীপুর, বীরভূম, নদীয়া, মালদা, মুর্শিদাবাদ সহ সমগ্র উত্তরবঙ্গে, আপনার দলের গুরুত্ব ঠিক ততটুকুই- অকিঞ্চিৎকর জবরদস্তি উপস্থিতি।

২০২৪ এর লোকসভা ভোটে বামেদের সাথে আপনাদের আসন সমঝোতা হয়নি, গোটা পশ্চিমবঙ্গের কথা ছেড়ে দিন, দক্ষিণ ২৪ পরগণার বসিরহাট, জয়নগর, মথুরাপুর- এই ৩টে লোকসভায় আপনারা তিন নম্বর ছাগলছানা হয়েছিলেন, এতোই আপনাদের মুরোদ। বামেরা দুর্বল বলেই তো আপনাদের সাথে দায়ে পরে আসন সমঝোতা করেছে, আপনাদের সাথে তো কোনো মতাদর্শ গত জোট নয় এটা। তথাপি, আপনি নিজে এমন কোনো সমাজ সংস্কারকও নন যে, গত ৫ বছরে ভাঙরকে দুবাই বানিয়ে দিয়েছেন সামগ্রিক উন্নতিতে, শিক্ষাদীক্ষায় ইরান বানিয়ে দিয়েছেন। ইরান তবু তার স্বল্পশক্তি দিয়ে আমেরিকা-ইজরায়েলের বিরুদ্ধে আপোষহীন লড়াই দিচ্ছে কাঠে-কপাটে, সেখানে আপনি RSS এর বিরুদ্ধে লড়াই তো দূরস্থান, সামান্য তোলামুলের ‘তাজা নেতা’র লোভে আপোষ করে ফেললেন।

মানুষ যেকোনো মূল্যে RSS এর দুই ফুলের হাত থেকে পরিত্রাণ চাইছে, সেই কারণে সিপিএম নিজে থেকে উদ্যোগী হয়ে RSS বিরোধী আর এই তোলামুল সরকারের বিরোধী প্রতিটা প্রান্তিক শক্তিগুলোকে একটা ছাতার তলায় আনার চেষ্টা করেছে, এতেই আপনারা নিজেদের বিশাল হনু ভেবে বসেছেন। সিপিএম, কংগ্রেসের মতো ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষপ্রাচীন দলের সাথে জোটের মুখে পেচ্ছাপ করে দিয়েছে, সেখানে আপনারা তো স্রোতের পানা, এখনও হামাগুড়ি স্টেজে আছেন রাজনীতির মাঠে; হাত ছেড়ে দিলেই কিছুটা এগিয়ে গিয়ে ঘুর্ণিতে ডুবে যাবেন সময় পাঁকের তলদেশে। 

আমি আপনাকে প্রশ্ন করছি, বামেরা আপনাকে ভাঙড়, ক্যানিং জিততে সহযোগিতা করবে, আপনি কোন আসনে এমন শক্তিশালী আছেন যেখানে আপনাদের দলের সহযোগিতায় বামেরা জেতার স্থানে রয়েছে, অঙ্ক কষে সাংবাদিক সম্মেলন করে ঘোষণা করুন না হয়। বাই দ্য ওয়ে, আপনার যেখানে বাড়ি, সেই ফুরফুরা এলাকার পঞ্চায়েতের বুথগুলোতে আপনাদের প্রার্থীর জামানত বেঁচে ছিল শেষ ২০২৪ নির্বাচনে? আর লেজুরবৃত্তি না কি যেন একটা বলেছেন সম্প্রতি, ওসব বিজ্ঞবিচি মার্কা সংলাপ লুঙ্গির নিচে রাখতে হয়, কারণ ওগুলোকে আমরা ঝাঁটের বাল বলি।

সেলিম সাহেব যথার্থই বলেছেন ‘‘ওই ব্যক্তিকে ‘বগলদাবা’ করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করা যাবে না।’’ তবে, সেলিম সাহেবর কাছেও একটা প্রশ্ন রয়েছে, কাল হঠাৎ করে আরাবুল প্রসঙ্গ ইরানের হাইপারসনিক মিসাইলের মতো কাউকে সুযোগ না দিয়ে মাথায় ভেঙে পড়েনি। শেষ ২-৩ সপ্তাহ ধরে এটা চলছে। আপনারা তখন কি কানে আতর মেখে চাঁদনি রাতে শলমাজরির নক্সা দেখছিলেন? আব্বাস সিদ্দিকির সাথে আপনার তো ভাসুর-ভাদরবৌ সম্পর্ক নয়! শুরুতেই কেন বিড়াল মেরে দেননি যে- এ থাকলে আমরা নেই, রাস্তা দেখো। আপনার সারাজীবনের রাজনৈতিক লেগাসির কাছে এসব চার দিনের বৈরাগীর অদৌ দু-পয়সার গুরুত্ব আছে? আপনারা তো আবার ‘অফিসিয়ালি’ বাম জোটের সমন্বায়ক করে রেখেছেন- নৌসাদের ভাষায় বিমান বসু ‘স্যার’কে; যিনি প্রবাদপ্রতিম নেতা হয়েছেন দীর্ঘ নিরোগ জীবনের কারণে ও কলকাতা ভিত্তিক সমবয়সী কেউ বেঁচে নেই বলে। সুতরাং এমন জগাখিচুড়ি মার্কা রাজনোতিক ঘোলাটে অবস্থা হবে না তো কী হবে! হাতে গোণা কদিন পর ভোট, আর এ যেন ছাদনাতলায় বসে- কণে বলে, হাগা পেয়েছে। ছ্যাঃ 

এভাবে জোট হয়? এটা তো রাজনীতি প্যাঁচ, কারও ব্যক্তি পছন্দের ঘরের বারান্দা নয়। একটি আসনেও যদি বাম-ISF মুখোমুখি লড়াই হয় তাহলে সেটা সামগ্রিক লড়াই হিসেবেই ধরা হবে। যত দ্রুত সম্ভব বীরভূমের মুরারই এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও পাঁশকুড়া পশ্চিম আসন থেকে ISF প্রার্থী প্রত্যাহার করুক, এবং সেটা কোনো ধরণের স্টান্টবাজি না করে। আমাদের মতো বাম কর্মী সমর্থকেরা কিন্তু আলিমুদ্দিনের নেতাদের মতো মার্জিত সভ্য ভদ্র নয় সকলে। খুনি কংগ্রেসকে কেলিয়ে লাট করে বাম কর্মী সমর্থকেরাই পার্টিকে ক্ষমতায় এনেছিল, আজ হোক বা কাল তোলামুলকেও তাড়াবে একই পদ্ধতিতে; তাতে যে সাথে দেওয়ার দেবে, না দিলে পথ দেখো। সারাটা বছর ধরে রাজ্যের প্রতিটা প্রান্তে রাজনৈতিক লড়াইটা মূলত ‘শূন্য’ সিপিএমই করে, তারা কিন্তু ক্যালানি সইতেও জানে, পালটা দিতেও জানে। 

বামেরা আদর্শবাদী দল, তাদের নিজস্ব ইডিওলজি রয়েছে, আগামী আরো ১০ বছর ‘সিপিএম শূন্য’ থাকলেও দলটা মুছে যাবে না। কিন্তু সিপিএম যদি হাত তুলে নেয় আপনাদের মাথার উপর থেকে, আপনাদের আবার ওই ঝাড়ফুঁকের ব্যবসা আর রাতের জলসাতে ‘ঠিক কি বেঠিক’ এর মাচার ব্যবসাতে ফিরে যেতে হবে।

নৌসাদ সিদ্দিকি, আপনার মাথায় ফেজ টুপিটা যতটা ইসলামকে মানার জন্য, তার চেয়েও বেশি ভেক ধরার জন্য। কারণ পীর ফকিরির নামে ‘ইসলাম’ ধর্মটাই আপনাদের ব্যবসার পুঁজি, টুপি পাঞ্জাবি ইত্যাদি ধাড়াচূড়া আপনাদের দোকান। ইসলামে ফেজ টুপি পরা ফরজ বা ওয়াজিব নয়। কোরানে বা সহীহ হাদিসে কোথাও বলা নেই যে নির্দিষ্ট এই টুপি পরতেই হবে। নবী(সাঃ) মাঝে মাঝে মাথা ঢাকতেন পাগড়ি বা কাপড় দিয়ে, কিন্তু সেটাও অবশ্য পালনীয় বিধান হিসেবে নির্ধারিত হয়নি।

আপনাদের ফুরফুরা শরীফ মুসলমান সমাজের জন্য এমন কোনো মহৎ কাজ করেনি গত ১০০ বছরে, যার জন্য বাঙালি সমাজ তো দুরস্থান, আপনার জেলার মুসলমানেরাও সার্বিকভাবে উপকৃত হয়েছে। অথচ আপনাদের বিপুল সম্পত্তি বেড়েছে পারিবারিক ভাবে। এর বাইরে ক্ষমতার লেজুরবৃত্তি করা আপনাদের ফুরফুরার চরিত্র। চাচা সিদ্দিকি সারাজীবন মান্নীয়ার চটি চেঁটে গেছে, নতুক করে আরেকটা কাছিম সিদ্দিকিকে পাঠিয়েছেন। সেলিমের বদান্যতায় আব্বাস সিদ্দিকি পায়ের নিচে রাজনৈতিক মাটি আর মানুষ হিসাবে সমাজে স্বীকৃতি পেয়েছিল। 

মুর্খের নানা দোষ, সে তার অউকাত চেনে না। চেয়ে খাওয়া আর ঝাড়ফুঁকের নামে চিটিংবাজি করে রোজগার করা আপনাদের পরিবার, স্বভাবতই আপনাদের চক্ষুলজ্জাহীন একটা নির্লজ্জতার ঐতিহ্য আছে। সাধারণ লোকে যেটাকে ধর্মকে হিসাবে পালন করে, আপনারা সেটাকে বিক্রি করে খান, আপনাদের কাছে সবকিছুই ক্রয়বিক্রয়ের পণ্য। আপনারা অনুকূল ঠাকুরের মুসলমান ভার্সন। আপনাদের সিদ্দিকি পরিবারের উঠোনে যদি ইজরায়েলের লিকুদ পার্টিও দুটো টিকিট ছুঁড়ে মারে টাকার ঝুলি সহ, আপনাদের পরিবারের অধিকাংশ জনই নেড়ি কুত্তার মতো জিভ দিয়ে সেটাই চেঁটে নিয়ে কামড়াকামড়ি করবেন। এই হচ্ছে আপনাদের পারিবারিক অউকাত। সুতরাং, লেজুরবৃত্তিই আপনার আজকের তারিখে অউকাত।

যদি আরাবুলকে নিয়েই আপনাকে ভোট করাতে হয়, করুন। আলিমুদ্দিনের লেজুরবৃত্তি করতে হবে না। আপনাদের মুরোদ থাকলে একতরফা জোট ভেঙে দিয়ে একলা লড়ে দেখান, বুঝবো বাপের ব্যাটা আপনারা। আলিমুদ্দিন ছিল বলে পায়ের নিচে রাজনৈতিক জমিটা পেয়েছিলেন, আবার আলিমুদ্দিন সরে গেলে আপনার রাজনৈতিক অস্তিত্ব মুছে ওই জলসা, জলপড়া, তাবিক কবজের নামে লোকঠকানো ব্যবসার পাশাপাশি আপনি প্রতিকুর হবেন না পাতি কুকুর হবেন নিজেও জানেন না।


আর এটাই সম্ভবত এটাই আপনাদের ভবিষ্যৎ।



বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬

আমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি, আতঙ্কে নির্ঘুম দিনরাত কাটাচ্ছি- ইজরাইয়েলি মেয়র



ইসরায়েলের উত্তর গালিলি অঞ্চলে লেবানন সীমান্ত সংলগ্ন একটা ইসরাইলি কমিউনিটির নাম মোশাভ মার্গালিওত। সেটার প্রধান Eitan Davidi গতকাল সংবাদ সম্মেলনে নিজেকে আর সংবরণ করতে না পেরে তাদের যুদ্ধ যন্ত্রণার কথাগুলো এভাবেই উচ্চারণ করলেন। 

নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে বলছে- "এই যুদ্ধ তুমি  বন্ধ করো। আমরা আর সহ্য করতে পারছি না। আমাদের ঘরবাড়িতে আক্রমণ হচ্ছে, গুঁড়িয়ে যাচ্ছে। আমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি, আতঙ্কে নির্ঘুম দিনরাত কাটাচ্ছি। ইরানের মিসাইল সাক্ষাৎ মৃত্যু, হিজুবুল্লাহর হামলা অসহনীয়। এই যুদ্ধের ত্রাস আমরা আর সহ্য করতে পারছি না। এতো মৃত্যু তুমি লুকিও না, মহান মানুষেরা ইসরায়েল তৈরি করেছিলেন, তুমি তাকে ধ্বংসের কিনারাতে নিয়ে এসেছো। এই গণহারে মৃত্যু হলে কাকে নিয়ে ইসরায়েল রাষ্ট্র বানাবে, কবরের দেশ? নাগরিকই না বাঁচলে গ্রেটার ইসরায়েল কাকে নিয়ে বানাবে? তুমি আগামীর স্বপ্নে বর্তমানকে কচুকাটা করে দিচ্ছ। তোমার চেয়ে বড় ইহুদি সংহারক শেষ ৭০ বছরে কেউ আসেনি পৃথিবীতে। তোমার সমকামী পুত্র আর বহুগামী স্ত্রী কেন এক মাস ধরে  মায়ামিতে রয়েছে, ইসরায়েলে না থাকার বদলে? তুমি মিথ্যাবাদী, ধাপ্পাবাজ ও এই মুহূর্তে ইহুদি ও ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় শত্রু। তুমি একটা উন্মাদ বর্বর খুনি, তুমি নরকে যাও।"

🤫🤫🤫🤫🤫

নাহ, এদের প্রতি কোনো সহানুভূতি নেই, সেই ১৯৪৮ সাল থেকে এই মানুষের পূর্বপুরুষগুলো হয়ে আজকে এদের সন্তানেরা অবধি- উত্তরাধিকার সূত্রে ফিলিস্তিনকে নিশ্চিহ্ন করেছে, সেখানকার মানুষের ঘরবাড়ি কেড়ে তাদের অধিকাংশকে হত্যা করেছে, বাকিদের উদ্বাস্তু করে দিয়েছে। ইরানের এই পাল্টা মারের আগে অবধি এরা সবাই নেতানিয়াহু’র ফ্যান ছিল, এবং নিরীহ ফিলিস্তিনি,  লেবানিজ, সিরিয়ান, মিশরের ভূমি দখল করে সেখানকার মানুষদের হত্যা করাটাকেই ধর্মের পবিত্রতম অংশ মনে করেছে। এরা সবাই দূর থেকে বসে ফিলিস্তিন নামক একটা রাষ্ট্র ম্যাপ থেকে মুছে যাওয়া দেখেছে। ফিলিস্তিনি শিশু এবং নারী এবং নিরস্ত্র মানুষের হত্যা শুধু দেখেনি, রীতিমতো উপভোগ করেছে। ফলে ক্রন্দনরত এই ইসরায়েলিদের জন্য আজকে সহানুভূতি দেখানোর কেউ নেই। 

আজ এদের কান্নাতে কোনো সহানুভূতি জাগছে না, বরং এতদিনের অত্যাচারীর ঘরে পাল্টা আক্রমণ হলে এদের আতঙ্কিত আহাজারি দেখাটা একটা পৈশাচিক তৃপ্তিদায়ক লাগছে। এই প্রসঙ্গে জাভেদ মিয়াঁদাদের একটা উক্তি মনে পড়ে গেল।  জাভেদ বলেছিল জয়ী দলের ক্যাপ্টেন লাগে না আর পরাজিত দলের কোনো রকম অজুহাত শোনা হয় না।

ইসরাইলের গোয়েন্দাগিরি, অর্থনীতি, খাদ্যনীতি, বিজ্ঞানী, প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইত্যাদি সহ যাবতীয় 'হামবড়া' ভাবের প্রতিটা অংশের সবটা- পিছন দিক দিয়ে ঢুকিয়ে মুখ দিয়ে বার করে দিয়েছে ইরান। যে কারণে নেতানিয়াহু’র ব্যক্তিগত মুখপাত্র ও চিফ অফ স্টাফ 'জিভ আগমোনে' রীতিমতো নেতানিয়াহুকে খিস্তিখেউড় করার দায়ে পদচ্যুত হয়েছে গতকাল। এখন নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি হবেই, তাই এইসব কথাবার্তা বাইরে চলে আসছে যেগুলো গত ২৫ দিন ধামাচাপা দেওয়া ছিলো। রোজ আরও এমন খবর আসতে থাকবে।

মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬

সাদা খাতার প্রজন্ম

 


সর্বত্র সাদা খাতা কেস, আজকের সাপ্লিমেন্টারী ভোটার লিষ্ট রাষ্ট্র পরিচালিত প্রকাশ্য জালিয়াতি। সাদা খাতার শিক্ষকদের BLO বানিয়ে SIR করানো, সাদা খাতার BDO দিয়ে নোডাল অফিসারের কাজ করানোর পর, মহামান্য বিচারপতিদের এই অপূর্ব শিল্পকলা - সাপ্লিমেন্টারি ভোটারলিস্ট এর নামে সাদা খাতা। মোটাদাগে ভণ্ডামি।

শুক্রবার এসে দাঁড়ালো সোমবারে। সোমবার দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে মাঝরাত্রে সাইট খুললো, কিন্তু তাতে কি? ম্যাজিক-

No adjudication pertaining to this part till 5 PM on 23.3.2026

৩০ লাখের নিষ্পত্তির গল্প শুনিয়ে, আদতে গোটা রাজ্যের হাতে গোনা কয়েকটা বুথে হাজার তিনেকের বেশী কোনো সমস্যার নিষ্পত্তি হয়নি। পুরোটা একটা নির্জলা মিথ্যাচার, ধাপ্পাবাজি। এই অসভ্য ধোঁকাবাজিতে আমাদের বিচারব্যবস্থাও কোনোভাবে দায় এড়াতে পারেনা, তারাও সমান ভাবে এই বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশীদার আজ থেকে।

রাজ্যের সর্বত্র এই এক অবস্থা, মানুষ সারা রাত জেগে চেষ্টা করে যাচ্ছে মরিয়া হয়ে- তার নাম আছে তো নাগরিকের তালিকাতে! অত্যন্ত নিকৃষ্ট একটা নোংরামি করলো এই নির্যাতন কমিশন। ECI এর মত গণতান্ত্রিক কাঠামোর মূল স্তম্ভ যখন এভাবে প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের সামনে এসে ডাঁহা মিথ্যাচার করে, তখন গণতন্ত্রের পোশাকের আড়ালে স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্রের দাঁতনখ গুলো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠে।

মিডিয়া আগেই বিকিয়ে গিয়েছে, দেশের সংসদ 'জর্জ অরওয়েলের' পশুখামারের আদর্শ রূপ, এখন বিচারব্যবস্থাও জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সর্বনাশ করতে উঠেপরে লেগেছে, নির্যাতন কমিশনের প্রতারণা খেলার পার্টনার হয়ে গেছে। গণতন্ত্রের শিরচ্ছেদ করে গণকে বলি দিয়ে তন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া। Absolute Bureaucracy 

তোলামূল যেনতেন ভাবে ২০২৪ ভোটার লিস্ট দিয়ে ভোট করাতে মরিয়া, বিজেপি এডজুডিকেশনের নামে পৌনে এক কোটি মানুষকে জিম্মি বানিয়ে, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতায় আসতে মরিয়া। বাকি সব রাজনৈতিক দল MLA বানাবার প্রক্রিয়াতে ব্যস্ত, পৌনে ১ কোটি মানুষ বঞ্চিত বেনাগরিক হয়ে চরম দুর্দশায়।

মানুষ এতোদিন চুপ করে সয়ে যাচ্ছিলো, তারপরে আজকের এই প্রতারনার পর যদি এই পৌনে এক কোটি দিশেহারা মানুষ উন্মত্ত হয়ে উঠে দলে দলে রাস্তায় নেমে আসে- রাষ্ট্রের মুরোদ আছে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা? নাকি রাষ্ট্রযন্ত্রই তার নাগরিকদের উপরে বুলেট বৃষ্টি করে মরদ সাজবে? 

বিজেপি কি এটাই চাইছে, যেকোনো মূল্যে অশান্তি দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করে আইনশৃঙ্খলার দোহায় দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে? নাগরিকত্বের মৌলিক অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা- আসলে আগুন নিয়ে খেলা, যে আগুন দাবানল হয়ে উঠার দ্বারপ্রান্তে।

ক্ষোভ নামের বারুদের স্তুপে আগুন যেকোনো সময় বিস্ফোরণ লাগাতে পারে। নগর পুড়লে কি দেবালয় রক্ষা পাবে? নাকি সেই দেবতারা রক্ষা পাবে যারা ক্ষমতার দম্ভে মত্ত হয়ে নিজেদেরকে দেবতার স্তরে বসিয়ে ফেলেছে!

এক চরম মাৎস্যন্যায় নৈরাজ্যের পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিলো আমাদের রাজ্যকে, আজকের পর প্রতিটা অরাজকতার দায় নির্যাতন কমিশনের। যুদ্ধটা যখন নাগরিকদের সাথে, তারাই বুঝে নেবে কীভাবে চাবকে রাষ্ট্রকে আবার গণতন্ত্রের নামতা শেখাতে হয়।



রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬

ইজরায়েলে কী নেতানিয়াহু রিজিমের পতন ঘটলো?

 



শেষমেশ কি তাহলে রেজিম চেঞ্জ হয়েই গেল? 

না হলে যুদ্ধ চলাকালীন ইসরাইলে বসে ইসরাইলের 'আনন্দবাজার' পত্রিকা হারেৎজ, প্রতিপক্ষ ইরানের নেতা লারজানি সম্পর্কে এরকম উচ্ছাসিত খবর ছাপে কী করে ! 

অন্য সময় হলে আলাদা কথা ছিল, এখন সামনাসামনি যুদ্ধ চলছে, রিজিম চেঞ্জ না হলে সরকারি পার্টির লোক পিটিয়ে ছাল ছাড়িয়ে দেবে। যাইহোক, নেতানুনু আর তার সাগরেদ বেন গাভর মরুক বা গর্তে লুকিয়ে থাকুক, বর্তমান বিষয়টাতে মজা পাইসি।

ঝিনুকের চাঁদ দেখা নিয়ে একটা বহুল প্রচলিত গল্প রয়েছে। আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে পেলে নাকি সামুদ্রিক ঝিনুক তার খোলস খুলে দেয়, আর কাঁকড়ার দল সেই ফুরসতে একটা বড় পাথর তার ভেতরে ফেলে দেয়। আর কী, ঝিনুক শতচেষ্টা করেও খোলস বন্ধ করতে পারেনা। তখন কাঁকড়ার দল ঝিনুকের নরম মাংস কুরে কুরে খায়। চিন আর রাশিয়া মিলে আমেরিকা নামের ঝিনুকটাকে ইরানের আকাশে খামেইনি নামের চাঁদ দেখিয়ে খোলস খুলিয়ে দিয়েছে, এরপর হরমুজ নামের পাথর ফেলে দিয়েছে খোলা ঝিনুকের ভিতরে। বাকিটা তো চোখের সামনে।

এদিকে খবর হচ্ছে, আজ থেকে ইরান 'সিজ্জিন' নামের অস্ত্র প্রয়োগ করবে। আরবিতে সিজ্জিন মানে জাহান্নাম তথা নরকের তলদেশ। এক ফাতাহ এর চোটে কাঁথা কাপড়ে হেগে বসে আছে মাইটি পরাশক্তির দল, সিজ্জিনের ছ্যাঁকা খেলে কী হবে কে জানে! ওদিকে হোয়াইট হাউজের লিখিত বিবৃতি এসেছে- হরমুজ খুলে দিতে পারলেই নাকি আমেরিকা জয়ী হবে। অথচ আমেরিকা ইরানে স্বতপ্রবৃত্ত হয়ে বোমা মারার আগে তো হরমুজ খোলাই ছিলো, তাদের বোমা হরমুজ বন্ধ করেছে। আসলে, গরু হারিয়ে উন্মাদ হলে, বৌকে মা বলে ডাকতে হয়।

তবে বিশ্বগুরুর 'মাই ফেন্ড দোলান' যেভাবে অন্য দেশের সহযোগিতা চাইছে চিনের নাম লিখিতভাবে দিয়ে, তাতে আমেরিকান ড্রিমস এর প্রতি ঐশ্বরিক বিশ্বাস স্থাপন করা মার্কিন ভক্তদের নির্ঘুম রাতগুলো আরো লম্বা হতে চলেছে।


https://www.haaretz.com/middle-east-news/2026-03-14/ty-article-magazine/.highlight/ruthless-leader-brilliant-philosopher-ali-larijani-irans-most-powerful-man/0000019c-e193-d6d5-af9c-e5f35e980000?fbclid=IwY2xjawQkqmRleHRuA2FlbQIxMABicmlkETFCcXZacDg1aDJRdW15dFFyc3J0YwZhcHBfaWQQMjIyMDM5MTc4ODIwMDg5MgABHjjpSodCo_FeeJUt06VWc3s88TWs3U0aWuarz5yh0sRizrI9ayeWgba-pvKH_aem_-qd1kC0N38xTevcE4YnUGw

যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা।

 


গতকালের গিরীশ পার্কের ‘হামলা’, এটা তাদের ভোট প্রচারের ‘আত্মার’ প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতেই।

যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা।

ডিসক্লেইমারঃ- আইপ্যাক অনেক আগেই বুঝে গিয়েছিল দলদাস পুলিশ সরে গেলেই, স্যাটাভাঙা ক্যালানি দিয়ে চোর, কাটমানিখোর তোলাবাজগুলোর পিঠের চামড়া খিঁচে চুরির মাল বের করে নেবে জনতা। সেই ভয়ে ভীত তোলামুলের ওই চোর, কাটমানিখোর তোলাবাজ সম্প্রদায়কে ভরষা দিতেই লেখা হয়েছে এই চরম দূরদর্শী স্লোগানটা- যতই করো হামলা, আবার জতবে বাংলা। বার্তা পরিষ্কার, এই দফাতে ক্যালানি খেয়ে টিকে যেতে পারলে আবার চুরিচামারির সুযোগ পাবি। তাই হামলা হলে ভেঙে পড়িস না, এটুকু সইতেই হবে, পেটে খেলে পিঠে সয়।

এই ছবিটা গত ২৭শে ডিসেম্বর তোলামূলের অফিসিয়াল পেজে প্রকাশিত হয়েছিল। এটাই এবারের ভোট বৈতরণী পেরোতে আইপ্যাকের মস্তিষ্কপ্রসুত ন্যারেটিভ, যেমন একবার ছিল ‘পরিবর্তন চাই’, একবার ‘খেলা হবে’ ইত্যাদি। তা সে যাই হোক, ন্যারেটিভ না হয় নামানো হলো, কিন্তু শাসক দলই যে তোলামূল, হামলা করবেটা কে? করলেই সরকারি পুলিশ প্রশাসন দিয়ে গাঁজা কেস, সাজানো রেপ কেস, মার্ডার কেস ইত্যাদি, এমন শিল্পের তো অভাব নেই প্রতিটা থানার IC/OC ও লোকাল BDO/SDO দের অস্ত্রভান্ডারে।

এদিকে হামলা না হলে ন্যারেটিভ দাঁড় করানো যাচ্ছে না, আবার হামলা হলে আইনশৃঙ্খলা ও গোয়ান্দা ব্যর্থতার দায়ও ঘুরেফিরে পুলিশমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর উপরেই এসে পড়ে। উভয়সঙ্কট পরিস্থিতি। এগোলে সর্বনাশ, না এগোলে নির্বংশ। এদিকে সিপিএম/ISF এর হাতে মার খেলে শুধু জাত যাবে তা ই নয়, প্যান্ডরার বাক্স খুলে যাবার চান্স প্রবল- বাংলা জুড়ে ছোঁয়াচে রোগের মতো কুত্তা ক্যালানি শুরু হয়ে যেতে পারে পাড়ায় পাড়ায়। নিদেন পক্ষে হুমায়ুনের উপরেও ক্যালানি বিষয়ে ভরষা করতে পারেনি কালীঘাট, পাছে সত্যি সত্যি কেলিয়ে লাট করে দেয়। 

তাহলে সব বাঁচিয়ে, কীভাবে ‘হামলা’ পরিস্থিতি তৈরি করা যায়, যেখানে মান খোয়ালেও জাত যাবে না। RSS প্রভুর দারস্থ হতেই, তাদের মূল প্রোডাক্টে সিগন্যাল দিয়ে দেওয়া হলো, বাকিটা তো স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী একটা লং সিন শ্যুট করা। বিজেপিও তাদের প্রভুর সভার দিন মেইনট্রিম টিভি মিডিয়াতে, ‘ব্রিগেড’ শিরোনামে নিরবচ্ছিন্ন বিজ্ঞাপন দেখাবার সুযোগ পেয়ে গেলো সকাল থেকেই। অতএব, মোদীর ব্রিগেডকে লক্ষ করে ব্রাহ্মমুহুর্ত স্থির করা হলো, মোদীর বদলে যদি যোগী বা জুমলা শাহও এমন বড় কোনো পাবলিক মিটিং করতেন এই সময়, সেখানেও এমন হামলা নামের চিৎপুরের যাত্রাপালাটা অনুষ্ঠিত হতো।

এমতাবস্থায়, গতকালের তারিখটাকে বেছে নেওয়া, আসলে আইপ্যাকের এবারের ‘থিম সং’ স্লোগানটা বাস্তবের মঞ্চে মঞ্চস্থ করতে। এমনিতেই ব্রিগেডে বিজেপির সভাতে আসাম, ঝাড়খন্ড বিহার থেকে কয়েক লাখ ভাড়াটে দিনমজুরকে নিয়ে আসেতে হয় মাঠ ভরাতে; এই দিন ‘হামলা’ হলে এই অজ্ঞাত পরিচয়দের নামে বিল ফেড়ে দিলে, জাত কুল দুটোই রক্ষা হবে। হামলাও হলো, দোষও কারো ঘাড়ে পরল না, পারফেক্ট উইন উইন সিচুয়েশান। 

সোনাগাছি থেকে দালাল শ্রেণির কিছু মালকে দিয়ে র‍্যান্ডম ঢিল ছোঁড়ানো চলছিল কোলকাতা পুলিশের কঠোর তত্ত্বাবধান ও নজরদারিতে। প্রথম আধাঘন্টায় কেউ সেভাবে বিষয়টাকে আমলে নেয়নি, কিন্তু একটা বাসে ‘বিজেপি’র কিছু মাতাল বোঝাই ছিল, সেখানে ঢিল পড়তে তারাও খানিক ঢিল ছুঁড়ে ব্রিগেডের দিকে রওনা হয়ে যায়। এ অবধি ঠিকই ছিল, প্রশ্ন হলো এতো ঢিল কোলকাতা শহরের বুকে এলো কীভাবে? হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তি থেকে জানলাম, NASA স্যাটেলাইট চিত্র মোতাবেক, কোলকাতা পুলিশই নাকি পার্কসার্কাস রেললাইনের ধার থেকে খোয়া এনে ‘হামলা’র মঞ্চ প্রস্তুত করে রেখেছিল, কীজানি হবেও হয়তো বা, যারা আন্তর্জাতিক মিডিয়া ফলো করে তারাই ভালো বলতে পারবে এই দাবীর সত্যতা। তো ছিল গতকালের গোটা গল্পটা।

তোলামূলের এবারের থিম যেহেতু ‘হামলা’, আগামীতে ভোটের অন্তিম দিন অবধি আবার এরা নিয়মিত পাতানো ম্যাচে হালকা ফুলকো ক্যালানি খেয়ে সহানুভূতির দোকান খুলে বসবে রোজ। গতকাল যেমন জামার উপর দিয়ে ব্যান্ডেজ বাঁধা আহত রোগী দেখলাম, ভয়ঙ্কর অসুস্থ শশী পাঁজা যিনি নাকি বসতে পারছিলেন না, তিনিও অবলীলায় ১ ঘন্টার উপরে সাংবাদিক সম্মেলন করে গেলেন। এমন টিভি সিরিয়াল মার্কা ‘হামলা’ শুটিং আগামীতে যখনই হবে, জনগণের উচিৎ হাতের কাছে ঝাঁপের লাঠি, খুঁটির বাঁশ যা কিছু পাবে, তাই দিয়ে এলোপাথাড়ি ভাবে ফেলে ক্যালানো চোর, কাটমানিখোর তোলাবাজ সম্প্রদায়কে। ডজন খানকে চোর, কাটমানিখোর তোলাবাজকে সত্যি সত্যি হাসপাতালে পাঠিয়ে দিলেই, এদের এবারের ন্যারেটিভ ধ্বসে যাবে ভোটের আগে।

সিপিএম, কংগ্রেস ও ISF, এদের প্রত্যেকের নৈতিক ও সামাজিক দায় রয়েছে এই হামলাতে অংশ নেওয়া, প্রত্যক্ষ পরোক্ষ যেভাবে খুশি হোক। পাতানো ম্যাচে হামলা নামের খেলা হলে, সেটাকে কাঠে কপাটে লাগিয়ে গণধোলাই এর বন্দোবস্ত করা- জাতির সাথে সাথে আইপ্যাকও সেটাই চাইছে। ফাঁসির আসামীরও শেষ ইচ্ছা পূর্ণ করা হয়, সেখানে তোলামূলের ক্যালানি খাওয়ার শেষ ইচ্ছা পূর্ণ না করলে ‘রাজনাথ সিং’ও আপনাদের জন্য কক্ষণও কড়ি নিন্দা করবে না। আপনারা মহাপাতকের দলে পরিগণিত হবেন। 

তামাম পাবলিককে বিষয়টা জানিয়ে দেওয়ার গুরুদায়িত্ব আপনার, কারণ এবারে ক্যালানি খাবে বলেই বাংলার সর্বত্র হোর্ডিং টাঙিয়েছে তোলামূল, ওদের মনোবাসনা পূর্ণ করা আমাদের পবিত্র কর্তব্য। নতুবা ওরা আবার ফিরে এলে কেন ‘হামলা’ করিনি, এই অপরাধে আমার আপনার চামড়া খিঁচে নেবে, যেমনটা গত ১৫ বছর ধরে করেছে।

সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬

ভারতীয়েরা কী বিপদ টের পাচ্ছি?



যুদ্ধকে যারা আমরা একটা রিয়েলিটি শো এর মতো রোজ উপভোগ করছি ফেসবুক ইউটিউব রিলসে, তাদের ধারণা নেই এই যুদ্ধ আর কিছুদিন চললে আমাদের ভারতের মতো দেশের বিপদ আসলে ঠিক কতটা।

হয়তো ভাবছেন যুদ্ধটা সুদূর মধ্যপ্রাচ্যে, আপনার ডাইনিং টেবিলে তার উত্তাপ পৌঁছাবে না? যুদ্ধের ধোঁয়াতে আকাশ ঢাকতেই কুয়েত, কাতার, বাহারিন সহ সৌদির তেল উত্তোলনে ধস নেমেছে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম রোজ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে। আমেরিকা তেলের দাম ধরে রাখতে মরিয়া, যাতে দেখানো যায় যে ইরানের কোনো ক্ষমতাই নেই তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণের। এর ফলে জি-৭ দেশগুলির ইমার্জেন্সি তেল রিজার্ভ হতে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার বিষয়ে বিবেচনা করছে। যদিও এই রিজার্ভ তেল দিয়ে বড়জোর ২ সপ্তাহ মত সাপ্লাই চেইন সামলাতে পারবে। এই সময়টুকু তারা ইরান হুমকি মোকাবেলা ও হরিমুজ প্রনালি মুক্ত করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করবে। 

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে কেউই গভীরে যাচ্ছেনা, ভাবছে তেল গ্যাসের দাম বাড়ার মতো প্রত্যক্ষ দুটো ক্ষতি হবে, আর পরোক্ষ হিসাবে অল্প বিস্তর দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়বে পরিবহণ ও উৎপাদনের খরচ বাড়ার দরুন। বাস্তবে ভয়টা আরও ভয়াবহ ও সর্বনেশে। ভিডিওতে দেখুন, এক্সপোর্ট মোটামুটি একপ্রকার বন্ধই হয়ে রয়েছে আমাদের পশ্চিম উপকুলের বন্দরগুলো দিয়ে। পেরিসিবল আইটেম মানে কাঁচা মালগুলো আর কয়েকদিনের মধ্যেই পচে যাবে যেগুলো রাস্তায় রয়েছে, ওদিকে উৎপাদনও থেমে নেই। রোজার সময় ওখানে একটা বড় বাজার থাকে, সেটা তো শেষই, নর্মাল বাজারও শেষ। ফলত মারা যাবে আমাদের দেশের চাষী, কৃষিকাজের সাথে জড়িয়ে থাকা ভারতের ৫৮% মানে প্রায় ৮৫ কোটি মানুষ সর্বনাশের সম্মুখীন হবে। আমাদের মত উন্নয়নশীল ‘গরিব’ দেশের জন্য এটা অপূরনীয় ক্ষতি। 

রপ্তানি সংক্রান্ত তথ্যের দিকে নজর দিলে দেখবেন, মধ্যপ্রাচ্য মাত্র ১৫% এর রপ্তানি অনংশীদার। কিন্তু যখন আপনি নির্দিষ্ট করে কৃষি পণ্যের দিকে তাকাবেন, দেখবেন আমাদের চালের  ৪০% এই অঞ্চলেই যায়। মাংস রপ্তানির প্রায় ৭১% এবং ডিমের ৬৭% রপ্তানি এই আরব দেশগুলোতে যায়। মোট মসলা, চা এবং কাজু বাদামের মতো পণ্যের ৫৫% রপ্তানি এই অঞ্চলের বাজারের সাথে যুক্ত। 

সাধারণ চাল ছাড়াও গম এবং ভুট্টা প্রচুর পরিমাণে পাঠানো হয় ওই দেশগুলোতে। মুসুর, মটর, ছোলা এবং অন্যান্য ডালজাতীয় শস্য সহ ঘি, পনির এবং অন্যান্য দুগ্ধজাত সামগ্রী সবই বিপুল মাত্রায় পাঠাই আমরা। আম, কলা, বেদানা, আঙুর এর মতো তাজা ফল যায় লক্ষ লক্ষ ডলারের। সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন পেঁয়াজের বাইরেও, টমেটো, আলু, ভেন্ডি থেকে লাউশাক কোন সব্জি যায় না? ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত ও পরিশোধিত চিনি রপ্তানি করা হয়। প্রক্রিয়াজাত খাদ্য যেমন ফলের রস, আচার, শুকনো ফল, রেডি-টু-ইট খাবার। মধ্যপ্রাচ্য মূলত একটা হাব, বিশেষত দুবাই, সেখান থেকে ইউরোপ ও আফ্রিকার বহু দেশে ট্রান্সশিপমেন্ট হয়। এই যুদ্ধের কারণে সেটাও সম্পূর্ণভাবে ধ্বসে পরেছে, আসন্ন মুক্তির দিশা নাই।

গোটা বিশ্বকে আজ ক্ষতির সামনে এনে দিয়েছে এপস্টিং গ্যাং এর এই যুদ্ধ। সমগ্র পৃথিবী যুদ্ধের আঁচে জ্বলছে আর আমাদের সরকার সত্য লুকাচ্ছে। যুদ্ধের প্রথম ৬ দিনের হিসাবটা কিছু এমন, এপস্টিন গ্যাং এর দণ্ডমুণ্ডের কর্তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার থেকে ৩.২ ট্রিলিয়ন ডলার মুছে গেছে, ভারতীয় টাকার হিসাবে ২৯১ লক্ষ কোটি টাকা। এপস্টিন গ্যাং এর মূল দালাল ইসরায়েল বাজার থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা গায়েব হওয়ার সাথে সাথে প্রতিদিন ভারতীয় মুদ্রাতে ৩৫ হাজার কোটি টাকার অস্ত্র সরঞ্জাম পুড়ে যাচ্ছে, এর সাথে কয়েক লক্ষ টাকার অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি যা তাদের অনুমানের বাইরে ছিল। 

দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন, সহ ইউরোপের প্রতিটি দেশের শেয়ার মার্কেট থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার মূলধন জাস্ট মুছে গেছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, জর্ডন, লেবানন, ওমান সর্বত্র কাজকর্ম উৎপাদন সব বন্ধ, খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে, লুঠপাঠ হচ্ছে রীতিমত। ইরাক ইয়েমেনে আবার দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে, লক্ষ লক্ষ মানুষ শরণার্থী হয়ে গেছে। মাঝখান থেকে পাকিস্তান নামের ভিখারিটা সৌদির সাথে সামরিক চুক্তি করে ফেঁসে গেছে, তার উপরে রমজান মাসে জাকাতের মরসুমে এমন আর্থিক অবরোধে তাদের হাঁড়ি বন্ধ হয়ে যাবার দশা, জ্বালানি গ্যাস ও তেলের আকাল শুরু হয়েছে, দ্রুত পাকিস্তানেও জনবিদ্রোহ শুরু হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে।

ইরানও ধ্বংসের কিনারাতে দাঁড়িয়ে। তাদের ৭০% তেল অবকাঠামো ধ্বংস, ইতিমধ্যেই প্রায় ৪০ লক্ষ ইরানি জনগণ বাস্তুচ্যুত। যেহেতু তারা খাদ্য উৎপাদনে প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ, তাই আধপেটা খেয়ে বেঁচে যাবে হয়তো বা, এপস্টিন গ্যাং যায়োনিস্টদের এই বিধ্বংসী মার হজম করে। কারণ ৫০ বছর বৈশ্বিক অবরোধের অভ্যাস তাদের রয়েছে, পাশাপাশি তারা এনার্জিতেও স্বয়ংসম্পূর্ণ।

জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যাবেই। চাল, ডাল, চিনি, ভোজ্য তেল, এসব ৩০-৫০% অবধি বেড়ে যাবে; এলপিজি, কনজিউমার গুডস, ছোটখাটো নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি জিনিস, গরীব ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গিয়ে নাভিশ্বাস তুলে দেবে। এই সংকট বর্তমানে আপনার উঠোনে অপেক্ষা করছে, যেকোনো মুহুর্তে ঘরে ঢুকে পরলো বলে। রফতানি কমলে কলকারখানা বন্ধ হয়ে সাপ্লাই চেন ভেঙে যাবে, মানুষ ভোগ্যপন্য কম ক্রয় করবে, পর্যটন ও রেস্টুরেন্ট শিল্প মার খাবে, গিগ শ্রমিকেরা কর্মহীন হয়ে যাবে; দেশ এক ভয়াবহ দীর্ঘমেয়াদী মন্দার কবলে পড়বে। সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে মরিয়া হয়ে নোট ছাপাবে, আর সেই ছাপানো কাগজের ভিড়ে আপনার জমানো টাকার মান খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে, ১ ডলারের বিপরীরে ভারতীয় টাকা দেড়শো পাড় করে গেলেও আশ্চর্য হবেননা। শ্রমজীবী মানুষের জন্য এ এক অস্তিত্বের সংকট তৈরি করতে পারে।

পার্থিব ইকোসিস্টেমে সূচ থেকে হাতি, সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে বৈশ্ব রাজনীতির বাপ-কাকারা। যারা চাষাবাদ করে খান, তারা অন্তত না খেতে পেয়ে মরবেনা, বাকিদের জন্য অপেক্ষা করছে এক অন্ধকার সময়। এই মহাদুর্যোগে একমাত্র সোনা, রুপা কিংবা ভূমিতে বিনিয়োগ করা লোকেরাই নিজেদের সম্পদ রক্ষা করতে পারবে, কারণ খুব দ্রুত এগুলোর দাম দফার দফায় গতিতে বাড়বে।

আমরা যারা সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ, আমাদের হাতে কোনও উপায় নেই এই যুদ্ধকে নিয়ন্ত্রণ করার, আমাদের দেশেরও বস্তুত কোনো ক্ষমতা নেই এই যুদ্ধ থামাবার দিশা দেখাবার, প্রয়োজনও নেই যুদ্ধের শরিক হওয়ার। কিন্তু অতি উৎসাহী হয়ে আড়ঙের বাজি পটকা ফাটা দেখা আর হলিউডি যুদ্ধের সিনেমাকে লাইভ দেখার মতো করে আনন্দ নেওয়া থেকে মানসিকভাবে বিরত থেকে, নিজেদের আসন্ন অতীত নিয়ে ভীত হতেই পারি। দেশের চাষী মরলে আপনার বেঁচে পালাবার কোনো সুযোগ নেই। কেউ নিরাপদ নয়, কেউ নিরাপদ নয়।

রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

দুই ফুলের ধাষ্টামিকে এড়িয়ে যান

 


৬০ লাখ মানুষ যেখানে রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকত্বের প্রশ্নে জিম্মি হয়ে হয়েছে, সেখানে রাষ্ট্রপতি পদে থাকা একজন RSS এর কাঠপুতুলকে নিয়ে সময় নষ্ট করার বাহুল্যতা কি খেটে খাওয়া মানুষের রয়েছে? RSS এর নির্দেশে বিজেপিকে প্রাসঙ্গিক করতে মিডিয়ার ন্যারিটিভ ফিরিয়ে আনতে এই সমস্ত আয়োজন। এই বিতর্কে দেশের কোনো মানুষের কিচ্ছুটি লাভ বা ক্ষতি নেই। এমনিতেই রাজ্যপাল আর রাষ্ট্রপতি পদ দুটোর নামে সাদা হাতি পোষার প্রয়োজন রাষ্ট্রের রয়েছে কিনা সেটাই সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক প্রশ্ন আজকের দিনে দাঁড়িয়ে।

বুকে হাত রেখে বলুন তো, এই ‘ফালতু’ ঘটনা না হলে ভারতের রাষ্ট্রপতির নাম আপনার মনে ছিলো? কালাম সাহেবের পর ভারতের রাষ্ট্রপতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বহীন রবার স্ট্যাম্প মার্কা পদ হয়ে গেছে। গুগল না করে এর আগের রাষ্ট্রপতির নাম বলতে পারবে না অধিকাংশ মানুষ, শুধু এইটুকু মনে আছে আগের রাষ্ট্রপতি তপশিলি জাতির ছিলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি তপশিলি উপজাতির। গত ১০ বছরে দেশের তপশিলি জাতি ও উপজাতিরা ঠিক কতটা উপকৃত হয়েছে কেউ জানাবেন দয়া করে? 

এখনও অবধি বিজেপি যাদের যাদের সাথে জোট করেছে তাদের সবাইকে খেয়ে ফেলেছে, বাকি শুধু তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা ব্যানার্জী অত্যন্ত নিকৃষ্ট শ্রেনীর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, চূড়ান্ত অসৎ ও বেপারোয়া। তার পরেও এমন ব্যক্তিকে সেই ১৯৮৯ সাল থেকে বয়ে চলেছ, একদিন হজম করে ফেলবে এই বিশ্বাসে। যেহেতু মমতা ভাবের ঘরে চুরি প্রায় করে না বললেই চলে, তাই তাকে এখনও হজম করা হয়নি বিজেপির। এর মূল কারণ RSS যতটা ছোটলোক ইতর ও বর্বর, প্রয়োজনে মমতা ব্যানার্জী তার থেকেও নিচে নামতে পারেন, দ্রুত ও প্রকাশ্যে। এবারে প্রায় চিবিয়ে এনেছে, শুধু গিলে নিতে হবে ঢক করে, আর ঠিক এই স্থানেই মমতা ব্যানার্জী বিজেপির কন্ঠনালীতে আঁটকে রয়েছে।

রাষ্ট্রপতিকে রাজ্যে প্রাসঙ্গিক করতেই হতো, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া সম্ভবত সময়ের অপেক্ষা, অন্তত মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেও পরিষ্কার- ‘কদিন বিশ্রাম করে নিয়ে আবার নামতে পারব’।

স্বভাবতই, কোন ভণ্ডামি মঞ্চে কে পায়চারি করছেন, মহুয়া ‘শশী’ মৈত্র কাকে কীভাবে বাঙালি পরিচয়ের সার্টিফিকেট বিলি করছেন, কোথায় কখন রাষ্ট্রপতি এসে কী বলছেন, দাঙ্গা বাবুল এবিপির কাকে চমকালো, চটিচাঁটা গায়িকা ইমন সোশ্যাল মিডিয়াতে ফিরল কিনা, কবির সুমন কোন গান গাইছে বা কোন ধান্দাবাজ কোন দল থেকে কোন আস্তাকুঁড়ে গিয়ে পৌঁছাল তাতে আমাদের কিচ্ছুটি যায় আসে না। যুদ্ধের আবহে তেল গ্যাসের বাজারে আগুন, নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে হাহাকার শুরু হলো বলে, তার উপরে SIR এর নামে ইচ্ছাকৃত নাগরিক বিপর্যয়, এসবকে উপেক্ষা করে দুই ফুলের ধাষ্টামিকে নাকের পোঁটার মতো ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আন্দোলনের পথেই থাকুন।



শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬

দালাল থেকে সাবধানঃ তৌসিফ হক

 


২০২১ এর নো-ভোট্টুর দল নতুন জামা পরে ‘সারা বাংলা বিচারাধীন ভোটার মঞ্চ’ হোয়াটস অ্যাপ ঠেক বানিয়েছে একদল ‘প্রতিকুর’। এই নো-ভোট্টু দের চরিত্র সকল বাম সমর্থকেদের জানা রয়েছে। গতকাল তোলামূলের ভন্ডামি মঞ্চ থেকে, শ্রীমান ভাইপো অফিসিয়ালি নোভোট্টু শাখার সমাপ্তি টেনে নতুন জামায় এদেরকে আনার ঘোষণা দিয়েছে, উপরোক্ত ‘হোয়াটস অ্যাপ মঞ্চ’ সেটারই অন্যতম পার্ট। ধর্ণার মাচা থেকে পাঠ করা ভাইপোর ভাষণ, আর এই whatsapp গ্রুপের এডমিনের বক্তব্য- জেরক্স কপির মতো মিলে যাওয়া কোনো কাকতালীয় নয়। বক্তব্য আসলে একটাই, যেটা i-pac লিখে এদের সকলের কাছে কপি সাপ্লাই করেছে। বাকিটা বোঝার জন্য পোস্টটা পড়ুন।

তৌসিফ হক, নামটা আমাদের মতো বামবৃত্তে যারা রয়েছি তাদের সকলেরই কমবেশি পরিচিত। নিজেকে বাম হিসাবেই পরিচয়ও দেন, আলিমুদ্দিনে যাতায়াতও আছে বলে দাবী করে নানান স্থানে। এই ‘তৌসিফ হক’ যদি সত্যিই বাম হতো- তাহলে ঘোষিতভাবে তৃণমূলের লোকজনের রাজনৈতিক সম্প্রীতির এমন সোনাগাছি গ্রুপ কোন উদ্দেশ্যে বানানো হয়েছে? CPIM West Bengal তো রাজ্যের সর্বত্র কম বেশি শক্তি অনুসারে রাস্তায় রয়েছে এই ইস্যুতে। অন্যান্য বাম দলগুলোর মধ্যে CPI, RSP, ফরওয়ার্ড ব্লক, এমনকি বিধানসভায় মাত্র একটি MLA নিয়ে প্রবল লড়াই দেওয়া Indian Secular Front এবং রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে Indian National Congress পর্যন্ত সামর্থ্য অনুযায়ী লড়াই করছে, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও আন্দোলনে যুক্ত। এর উদ্দেশ্য সৎ হলে, রাজ্যের সর্বত্র যেখানে বামেরা অবরোধ মিছিল করছে, সেখানে যোগ দেয়নি কেন?

শিল্পী মানুষ, গুণ থাকবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এমন মাদারচোদ যে তলে তলে ‘প্রতিকুর’ হয়ে বসে আছে সেটা গোপন হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে কেউ আমাকে যুক্ত না করলে জানতেই পারতাম না। নিচের ছবিগুলো দেখুন, বাকী বিচারের ভার একান্তই আপনার, একে আপনি কীভাবে দেখবেন! আর এই “সারা বাংলা বিচারাধীন ভোটার মঞ্চের” হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের সাথে বামমনস্ক যারা যুক্ত হয়েছেন ‘আপন’ ভেবে তারা আপনাদের চিহ্নিতকরণের কাজটা করছে i-pac এর হয়ে, যাতে বেছে নিয়ে বাদ দেওয়াটা নিশ্চিত করতে পারে। এরা আপনাকে ডিটেনশন ক্যাম্প অবধি নিয়ে যাবার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, এদের মিছিলে হেঁটে নিজের পেছন নিজে মারাবেন কিনা সিদ্ধান্ত একান্তই আপনার। পোঁদ আপনার, গণতান্ত্রিক দেশে নিজ নিজ সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন অনুযায়ী কার সামনে প্যান্ট খুলে উবু হয়ে শোবেন সেটাও আপনার চয়েস। প্রত্যেকের বোকাচো দা হওয়ার অধিকার রয়েছে।

এরা রীতিমতো সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ খুলে রাষ্ট্রযন্ত্র দ্বারা প্রতারিতদের একস্থানে জড়ো করে তাদের আন্দোলনকে ভুল পথে চালনা করছে। গ্রুপের এডমিনদের একাংশ অতিবাম, কয়েকটা বোকা সিপিএম সমর্থক আর বাকি সবটা i-pac এর পে-রোলে থাকা পোষ্য বুদ্ধিবিচিদের হায়নার দল। আপনি বলবেন একটা হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ কী এমন আর করে নেবে; ভুল। ত্রিপুরাতে এমনই শয়ে শয়ে আপাত নিরীহ হোয়াটাস অ্যাপ গ্রুপ খুলে সেখানে একেকটা ‘প্রতিকুরদের’ বসিয়ে রেখে বাম সমর্থকদের সাথে ধোঁকাবাজি করে বিপথে চালনা করেছিল। ফলাফল আমরা সকলেই জানি, বাম সরকারের পতন হয়েছিল। আমাকে কেউ এমন একটা গ্রুপে জুড়ে দিয়েছিল বলে নাহয় সেই ‘একটা’ গ্রুপের বিষয়ে জানতে পেরেছি, এমন আরও কত শত গোপন গ্রুপ আছে কে বলতে পারবে? এরা একটা হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ খোলেনি, আমি যেটাতে ছিলাম সেটা মাদার গ্রুপ; এখান থেকে প্রতিটা জেলার জন্য ছোট ছোট গ্রুপ, আরো বিভিন্ন সাবগ্রুপ করেছে। ব্লকে ব্লকে এই ছত্রাকের জাল কতটা বিছিয়েছে এখনই জানা যাচ্ছে না।

আমরা যারা বাম মনস্ক ও বাম সমর্থক, তারা সন্দেহাতীত ভাবে একটু বেশিই আবেগী। কেউ দু’বার লাল সেলাম বা ইনক্লাব জিন্দাবাদ বললেই ধরে নিই- এ তো আমার বৃত্তের লোক, পার্টিজান। আর এই সুযোগে মুখোশ পরা চমনচুতিয়ার দল আমাদের আবেগকে পুঁজি করে আমাদের ধোঁকা দেয়। আসলে এরা সকলে মীরজাফর, সরি মীরজাফর অনেক বস্তাপচা একটা উপমা, বরং ‘প্রতিকুর’ শব্দটাই একদম আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত। এই প্রতিকুরেরা লাল পোশাকে সেজে তলে তলে i-pac এর হাতে তামাক খেয়ে দলের ক্ষতি করে চলেছে নিজের সাধ্যমতো। হ্যাঁ, ব্যক্তি তৌসিফ হক কোনো বড় হনু নয়, কিন্তু দলের সর্বত্র এমন ছোট বড় খেঁকি নেড়িতে ভর্তি, যারা আসলে তোলামূলের উচ্ছিষ্ট ভোগী দালাল। তোলামূলের হারামের টাকায় এরা পেট চালায়, আর সোশ্যাল মিডিয়ার একটা বড় অংশের বাম সমর্থকদের কনফিডেন্সে নিয়ে তাদের ভুল পথে চালনা করে। উদাহরনস্বরূপ, এই তৌসিফের ৫৮ হাজার ফলোয়ারের ৫৭ই বাম মনস্ক, লালজামা এদের টোপ এর ফাৎনা। ‘এঁকে খাই’ না, চেটে খাই।

এই বেজন্মার বাচ্চা ‘বামমনস্ক শিল্পী’ অন্তত হাজার খানিক আন্ডার-এডজুডিকেসনে থাকা মানুষদের নিয়ে আন্দোলনের নামে রাজনৈতিক সম্প্রীতির নামে একটা ফাঁদ খুলেছে, যা i-pac এর নির্দেশিত পথে চালনা হচ্ছে। জয়হিন্দ, বিজেপি হটাও ইত্যাদি স্লোগানের প্র্যাকটিস হচ্ছে। আজকের ধর্না মঞ্চে ভাইপোর করা ভাষণের সাথে যার কোনো ফারাক নেই, কমেন্টে সেই ছবি দিলাম। আমি যেই প্রশ্ন করেছি- “ভুল করেও কেউ যেন তৃনমূল হটাও স্লোগান দেবেন না, তাহলে খাসি করে দেবে”। আমার সেই কমেন্ট প্রথমে ডিলিট করে, ও পরে ডিলিটের কারণ জানতে চাইলে আমাকে গ্রুপ থেকে রিমুভ করে। আমি অবশ্য লিখেছিলাম তোদের গ্রুপ তৃণমূলের দালালি করার জন্য জানলে, শুরুতেই গ্রুপে মুতে দিতাম। আমার প্রশ্নে উলঙ্গ হয়ে যেতেই, মহঃ সেলিমের একটা উক্তি সম্বলিত একটা পোস্টার এনে চিপকে দিয়ে নিজেকে সিপিএম প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছে, কতবড় শুয়োরের বাচ্চা এই মালটা। ছবিতে দেখুন।

জয় হিন্দ, বিজেপি হটাও এইসব স্লোগানের আড়ালে কোমায় থাকা তৃণমূলকে আমেরিকায় বসে দালালী করা লোক ধরে এনে বাঁচাবার চেষ্টা করছে। তারা জেনে শুনে এরকম কর্মসূচি নিয়েছে, যাতে মুখ্যমন্ত্রীর কর্মসূচীতে যাতে কোনো সমস্যা তৈরি না হয়, উল্টে অরাজোনৈতিক মুখোশের আড়ালে মুখ্যমন্ত্রীর ভণ্ডামি মঞ্চে লোক পাঠানো যায়। এই কারণেই গতকাল একটা প্রি প্ল্যান কর্মসূচি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত পার্ক সার্কাসের বুকে নিয়েছিল, যাতে ওই দিক থেকে গতকাল ধর্মতলার মঞ্চে দেখানো পার্শ্ব-শিক্ষকদের বিক্ষোভ কর্মসূচির মতো কেউ এসে কেউ বিক্ষোভ দেখাতে না পারে। শয়তানি ১০০ শতাংশ শুধু পেটে পেটে নয় মাথা থেকে পা অব্দি। আপনারা দেখে নেবেন ‘প্রতিকুর’ যখন কোনো ইন্টারভিউ দেয়, তখন তিনজন একসাথে কথা বলে। প্রথমত, ফিকে হয়ে যাওয়া লাল জামা পরে ব্যক্তি প্রতিকুর, দ্বিতীয়ত- প্রতিহিংসাপরায়ণ ঋতব্রত এবং বুদ্ধিদাতা সংস্থা আইপ্যাক। ‘মুসলমান’ প্রতিকুরকে ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখা এখন i-pac তথা তৃণমূলের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। 

আমার টাইমলাইনের বন্ধুবৃত্তে থাকা অনেকেই সেই গ্রুপে রয়েছেন, আপনারা গতকাল সন্ধ্যার সেই চ্যাট নিজেরাই দেখতে পাবেন ওই গ্রুপে স্ক্রল করে উপরের দিকে গেলে। বাকিরা অ্যাটাচড ছবিতে দেখে নিন। এটা বিশেষ একটা বাল-ব্যাটার বিরুদ্ধে কোনো ‘খাপ পঞ্চায়েত’ বসানো নয়, এটা প্রতিকুরদের চিহ্নিতকরণের একটা প্রক্রিয়া। তৌসিফ হক এমন কোনো কিডনি ফুসফুস নয় যে সমাজের কাছে সে ম্যান্ডেটারি কিছু, এগুলো বস্তুত ঝাঁটের বাল, ছেঁটে দিলেই নর্দমাতে শোভা পাবে। 

এদের হোয়াটস অ্যাপ মঞ্চের মুখে পেচ্ছাপ করে দিন। এরা গতকাল শুক্রবার বেলা ১টার সময় পার্কসার্কাসে ধর্ণার আয়োজন কর্মসূচি নিয়েছিল। রোজার মাস, তার উপরে জুম্মাবার। বেলা দেড়টার সময় কে বা কারা যাবে সেখানে? যেখানে বিচারাধীন ভোটারদের ৭৩%ই মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ! যদি না জেনে এমন কর্মসূচি করে থাকে তাদের তাদের বোধবুদ্ধি আর অওকাত বিষয়ে প্রশ্ন উঠবে, আর জেনেবুঝে করে থাকলে, যাতে এই ‘অরাজনৈতিক’ আন্দোলন কোনোভাবেই দানা না বাঁধতে পারে সেই জন্য এমন টাইমিং। পরিষ্কার শয়তানি। অরাজনৈতিক রাত দখলের ডাক দেওয়া যাদবপুরের সেই তথাকথিত ‘বামমনস্ক’ মহিলাকে নিশ্চয়ই কেউ ভুলে যাননি, যিনি সিপিএমকে ভেঙে যেতে দেখার জন্যই আজও বেঁচে রয়েছেন। এরা সকলেই একটা করে প্রতিকুর। কেউ রাতারাতি প্রতিকুর হয় না, দীর্ঘদিন তোলাবাজদের সাথে একথালায় ভাত না খেলে এমন বিশ্বাসঘাতক ‘প্রতিকুর’ জন্মায় না। এদের সর্বাত্মক ছোঁয়াচ না ত্যাগ করলে, কোনদিন দেখবেন আপনাকেও প্রতিকুর বানিয়ে দিয়েছে। 

তাই সাধু সাবধান, তৌসিফের মতো প্রতিকুরেরা ভেড়ার ছাল গাঁয়ে নেকড়ে, আপনার ইজমকে নষ্ট করতে এরা মরিয়া। নতুবা যেই মাত্র তৃণমূলের বিরুদ্ধে বলেছি, ওমনি বিপ্লবী বাবুর গায়ে ফোস্কা পরে গেছে, এবং সাথে সাথে আমাকে রিমুভ করে দিয়েছে। গান্ডু জানে না আমার তো আরও চারটে নম্বর ওখানে থাকতেই পারে, খেলা কি i-pac একাই জানে! আপনি যদি সত্যিই আপনার আন্দোলনকে কোনো সদর্থক পথে নিয়ে যেতে চান, সেক্ষেত্রে যারা ঘোষিত RSS (বিজেপি ও তৃনমূল দুটোই RSS এর শাখা) বিরোধী দল রাস্তায় আছে, যার যে দল পছন্দ তার মিছিলে যান, i-pac এর এই খোঁচরদের ফাঁদে পরলে আপনি জান মাল ইজ্জত সব খোয়াবেন। অতীত থেকে শিক্ষা নিন। 

ইলেকশন কমিশনের মাধ্যমে RSS যে বৃহত্তর বে-নাগরিকী করণের চক্রান্ত করেছে; প্রান্তিক মানুষকে, বিশেষ করে মুসলমান ও তফসিলি হিন্দু সমাজের যে সকল মানুষকে বেনাগরিক করার ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র রচেছে ‘বিজেপি ও তৃণমূলে’র মাধ্যমে, সেই জাঁতাকলে মানুষগুলো দিশেহারা। যে যার যার মতো করে মরিয়া হয়ে আন্দোলনের পথ খুঁজছে। মানুষ তৃণমূলের ভণ্ডামি ধরে ফেলেছে, রাজ্যসরকারী কর্মী BLO/AREO/BDO ডেটা এন্ট্রি অপারেটরদের একাংশের ইচ্ছাকৃত ভুলের দরুন, ডকুমেন্টস সময়মতো আপলোড না করার দরুন ৬০ লক্ষের বেশি মানুষকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ২৭শে ফেব্রুয়ারিই বলে দিয়েছিল ১ কোটি ২০ লাখ নাম বাদ যেতে চলেছে, তার মানে উনি শুরু থেকেই সবটা জানতেন। বেছে বেছে সংখ্যালঘু মুসলমান, মতুয়া ও নিম্নবর্ণের হিন্দুদের নাম বিচারাধীন তালিকাতে রাখা হয়েছে। ৬০ লাখ মানুষকে জিম্মি বানিয়েছে RSS এর দুই ফুল মিলে।

কেরল এবং তামিলনাড়ু সরকার SIR এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে। DA না দেওয়ার জন্য আদালতের মাছি হয়ে পরে থাকা তৃনমূল সরকার কোনো আদালতে যায়নি, উল্টে মানুষকে মিথ্যা বলেছে যে SIR করতেই দেবো না। অথচ মমতা সরকারই ৮০ হাজার BLO  সাপ্লাই করেছে, BDO অফিসের লোকজন সাপ্লাই করেছে, গোটা প্রক্রিয়ার জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে। তারপর আমাদের ফিলাপ করা ফর্ম নিয়ে গিয়ে i-pac এবং তৃণমূল দলের পে-রোলে থাকা ডাটা এন্ট্রি অপারেটর দিয়ে- যার যা খুশি নামের বানান আপলোড করেছে। আমাদের মতো যাদের হিয়ারিংয়ে ডাক পড়েছিল, তাদের ডকুমেন্ট কারও আপলোড করেছে, কারও করেনি। 

বাঙালির পদবীতে ব্যানার্জি-বন্দ্যোপাধ্যায়, চ্যাটার্জী-চট্টোপাধ্যায় কিংবা শেখ বানান চার রকম, হক বানান তিন রকম, মোহাম্মদের হরেক বানান লেখা হয়। সরকার সেটা জানত না? সরকারের তরফ থেকে নির্যাতন কমিশনকে পরিষ্কার করে একটা একটা হলফনামা বিবৃতি দিলে- সমস্যা শুরুর আগেই সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু মমতা ব্যানার্জী তো RSS এর সাথে চুক্তি করেছে মুসলমান, মতুয়া আর তপশিলী হিন্দুদের পথে বসাবে। নতুবা SIR প্রক্রিয়া শুরুর আগেই শুভেন্দুর দাবী করা এক কোটি কুড়ি লাখ, ২৭শে ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর অনুমান করা এক কোটি কুড়ি লাখ, আর ফাইনাল লিস্টের এক কোটি কুড়ি লাখ- হুবহু কী করে মিলে যায়? 

আসামে D-Voter শব্দ একবার ব্যবহার হয়ে গেছে, সেখানে বিতর্কের জন্ম হওয়ার কারণে এবারে নতুন শয়তানি এনেছে নির্যাতন কমিশন- আন্ডার এডুডিকেশন। দুটো একই শব্দ, নতুন বোতলে পুরাতন আইডিয়ার প্রয়োগ। মমতা ব্যানার্জী ও i-pac এর পাশাপাশি, লাল জামা পরিহিত ‘প্রতিকুরদের’ ফাঁদ থেকে বেঁচে থাকাটা বাম সমর্থক ও কর্মীদের প্রাথমিক সফলতা, আপনি কতটা সতর্ক তার উপরে আপনার এই সাফল্য নির্ভর করবে।

শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না


⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔

আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাাসক তৃনমূল ও i-Pac, রাজ্যের সমস্ত মানুষকে ভীষণভাবে সতকর্তা অবলম্বন করার জন্য আন্তরিকভাবে অনুরোধ করছি। বিশেষ করে ‘চাপড়া থেকে চোপড়া’ এই অঞ্চলের মুসলমান অধ্যুষিত এলাকা, SC জনবহুল অঞ্চলে পরিকল্পিত হুজ্জোতি, ভাঙচুর ও অরাজকতা সৃষ্টি করার তালে রয়েছে এই তোলাবাজদের সরকার, যাতে 2024 এর ভুতুরে ভুয়ো ভোটার সম্বলিত ভোটারলিষ্ট অনুযায়ী আগামী বিধানসভা নির্বাচন করাতে পারে।

নির্যাতন কমিশনের ইচ্ছাকৃত সৃষ্ট নানান সমস্যা বিবিধ আইনি পথে সমাধান করতে হবে, তার জন্য সুষ্ঠু আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। যে সকল নাগরিককে নানান ফন্দি ফিকিরে অবৈধ ঘোষণা করবে বিজেপি পরিচালিত নির্যাতন কমিশন- তাদের জন্য নির্দিষ্ট আইনি লড়াই এর প্রস্তুতি নিতে হবে। তৃণমূলের রাজনৈতিক কুহকে পা বাড়ালে, তাদের পুলিশই আপনাদের নামে মামলা মোকদ্দমা দিয়ে জেরবার করে দেবে। সমস্ত ধরণের উস্কানি উত্তেজনাকে উপেক্ষা করে, ধীর স্থির ভাবে নিজেদের সংগঠিত করে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে আন্দোলন গড়ে তুলে নিজেদের হক ফিরিয়ে আনতে হবে। মিথ্যা মামলাতে জড়িয়ে গেলে তার ভোগান্তি একমাত্র আপনার ও আপনার পরিবারের, দল তৃনমূলের লাশ দরকার- তারা আমার আপনার লাশ নিয়ে রাজনীতি করে রাজনৈতিক তুলতে মরিয়া। 

তৃণমূল পোষিত প্রতিটা মিডিয়া হৈ হৈ করে এই সমস্ত অশান্তির খবরই একমাত্র ‘প্রায়োরিটি’ সহকারে Breaking News হিসাবে প্রচার করতে শুরু করবে, যদি তারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে সফল হয়। RSS সম্পূর্ণ ভাবে মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে এই সুযোগে দাঙ্গা বাঁধাবার ফিকির খুঁজবে, বিশেষত মালদা মুর্শিদাবাদ ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে। তখন মুসলমানদের টার্গেট করে মিডিয়া ট্রায়াল শুরু করে দেবে ভাতাজীবি সাংবাদিকদের দল।

তৃণমূল কংগ্রেস একটা সামাজিক আস্তাকুর, রাজনীতির অন্তরালে যেখানে সারা রাজ্যের যত সমাজবিরোধী, দুষ্কৃতি, চোর, ধর্ষক, তোলাবাজ, দাঙ্গাবাদ, ধর্মোন্মাদ পচাগলা মালেদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল। নিষিদ্ধ সংগঠন 'সিমি'র ইমরান থেকে আসানসোলের খুনী দাঙ্গাবাজ বাবুল সুপ্রিয়ের পৃষ্ঠপোষকতা তৃণমূল কংগ্রেস করে এ রাজ্যে। সম্প্রীতির মুখোশ খসে পরে তৃণমূলের নিকৃষ্ট মুসলমান বিদ্বেষী মুখটা বাইরে চলে এসেছে আরো একবার- যেখানে RSS নেতার সমকামী কন্যা মুসলমান মৌসম নূরের স্থলাভিষিক্ত হয়। এর পরেও মুসলমান সমাজকে তারা বলে- বিজেপিকে নাকি তারা আঁটকাবে! RSS এর এ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন তৃণমূলই করে দিলে, বিজেপির দরকারটা কোথায়?

🔰 SIR ও মমতা ব্যানার্জী- টাইমলাইন 🔰

✅ SIR আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে হবে 
✅ একটা নামও বাদ দিতে দেব না 
✅ একটা বৈধ নাম বাদ দিতে দেবো না

❌ কিন্তু একবারও বলেনি- একটাও অবৈধ নামও থাকতে দেবো না। ❌

উল্টে কি বলেছেন? প্রি SIR যে ভোটার তালিকা অর্থাৎ ২০২৪ সালের যে ভোটার তালিকা সেই তালিকা অনুযায়ী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন করতে হবে। এটা শুধু মুখে বলেছেন এমনটা নয়, রীতিমত সুপ্রিম কোর্টের হলফনামায় লিখিতভাবে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে এফিডেভিট দিয়ে।

দেশের বারোটা অঙ্গরাজ্যে SIR প্রক্রিয়া কাজ শুরু হয়েছিল, তার মধ্যে কেরল, তামিলনাড়ু জাতীয় বিজেপি বিরোধীদের রাজ্য, এমনকি বিজেপি শাসিত গুজরাট রাজস্থান মধ্যপ্রদেশ ছত্রিশগড় এর মত বড় রাজ্যের প্রত্যেকের পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তাহলে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে তালিকা এইরকম আধা-খেঁচড়া অবস্থায় পড়ে আছে কেন?

সাদা খাতার BLO, তৃনমূলের পে রোলে থাকা ডেটা এন্ট্রি অপারেটর দিয়ে সমস্যা তৈরি শুরু করেছিলো। যত সময় গেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের পায়ের তলার মাটি সরে যেতে শুরু করেছে; ততই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অসহযোগিতা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। দিন যত গড়িয়েছে, পর্যাপ্ত সরকারি অফিসার না দেওয়া, জেলা প্রশাসন ও AERO পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ অসহযোগিতা শুরু করেছিলো। আদালতের নির্দেশের আগে অবধি চূড়ান্ত অসহযোগিতা করা হয়েছে ও হচ্ছে। যার ফল আজকে এরকম একটি অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে। প্রত্যেকটি বৈধ নাগরিকের আজকের এই অসহনীয় পরিস্থিতির মুখে পড়ার দায় যতটা নির্যাতন কমিশনের তার চেয়েও বেশী দায় এক ও অদ্বিতীয় শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের। সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য রাজ্যের জনগণের একটা বড় অংশকে নাগরিকত্বের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। 

সীমান্ত অঞ্চলে বিজেপি যতটা বিপাকে পড়েছে, গোটা রাজ্যজুড়ে তৃণমূল তার থেকেও অনেক বেশি বিপদে পড়েছে। SIR নিয়ে শুরুতে অতি উৎসাহ দেখাতে গিয়ে যখনই বিজেপি বুঝতে পেরে গেছে যে, অবৈধ ভোটার বাদ গেলে প্রকৃতপক্ষে গাড্ডায় পড়তে চলেছে তৃণমূল, আর ২ কোটি রোহিঙ্গা জাতীয় ফাঁপা মিথ্যা কথার জন্য তাদেরকে থুতু চেটে খেতে হবে, তখনই 'বিষাক্ত ভোঁদর' শুভেন্দু মিডিয়া থেকে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে দু-সপ্তাহ আগেই। এমনকি কোলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে হওয়া ২৭শে ফেব্রুয়ারি বিজেপির বড় পর্যায়ের দলীয় মিটিং-এ অবধি শুভেন্দুকে আনেনি তারা, পাছে অতীতের মিথ্যার দরুন অপ্রস্তুতে পরতে হয়।

তাই করজোড়ে অনুরোধ- তৃণমূলের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে নিজের ও পরিবারের সর্বনাশ ডেকে আনবেননা। 🙏

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ফ্যাসিজম ও আজকের পৃথিবী


সমগ্র বিশ্বজুড়ে 'ফ্যাসিবাদী ডানপন্থা' ছত্রাকের মত আষ্টেপৃষ্টে বর্বরতার নাগপাশে বেঁধে ফেলেছে। বর্ডারের সীমানা পেরিয়ে মাকিন মুলুকের ট্রাম্প হোক কিম্বা মোল্লাদের সৌদি, ভোগবাদী ইউরোপ  বা RSS এর ভারত- উগ্র জাতীয়তাবাদী মিথ্যা ভুয়ো দেশপ্রেমের নামে দেশের সম্পদ নির্দিষ্ট কিছু পুঁজিবাদী শোষক সংস্থার কাছে তুলে দেওয়ার জন্য যাবতীয় নিপীড়নের আয়োজন। 

১২ বছরের BJP শাসন রাষ্ট্রের প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দিয়েছে, সর্বত্র নোংরা ধর্মীয় মেরুকরন করা হয়েছে ভোটের বাক্সে তাৎক্ষণিক ফায়দা লুঠতে আর এই জন্য যেকোনো মাত্রার সহিংসতাতে মেতে উঠতে এদের কোনো ক্ষেপ-আক্ষেপ থাকেনা। আমাদের ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী সংবিধান ও তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে রোজ আক্রমণের মুখে ফেলে ভঙ্গুর করে তোলা হচ্ছে। সিভিল সোসাইটি উদভ্রান্ত, আদালতের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, নির্বাচন সংস্থার ভূমিকা শাসকের দলদাসের, সর্বত্র একটা অশান্তি আর অবিশ্বাসের পরিবেশ। কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্যাক্তি তথা কয়েকটি পুঁজিবাদী গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে। এরা যেকোনো মূল্যে নির্বাচন বা গণতান্ত্রিক কাঠামোর বিলোপ চায়।

বিরোধী কন্ঠস্বরকে তাচ্ছিল্ল্যের সাথে হিংস্রভাবে দমন করা হচ্ছে সর্বত্র, যাতে প্রশ্ন করতে ভয় পায়। জাতিগত হানাহানি, ধর্মীয় বা অভিবাসী সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক নীতি গ্রহণ করে এরা নাগরিক অধিকার সংকুচিত করতে মরিয়া, তাই কখনও NRC তো কখনও SIR এর মত নিরীহ পদ্ধতিকে ধারালো অস্ত্রের মত ব্যবহার করছে সংখ্যালঘু সংহারের জন্য। ভিন্নমতাবলম্বীদের যেকোনো মুল্যে নৃশংস হাতে দমন করা নিত্য নৈমিত্তিক প্র্যাকটিস। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য বা নিপীড়ন করাটাকে রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টো বানিয়ে ফেলেছে এই চরম ফ্যাসিবাদী RSS. 

স্বাধীন সাংবাদিকতা যা সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখে, তাদের সিংহভাগকে কিনে নিয়ে পোষ্য কুকুর বেড়ালে পরিনত করেছে, তারা সেটাই বলছে যা শাসক চায়। যাদের কিনতে পারেনি তাদের গলায় মামলার বেড়ি লাগিয়ে দিয়েছে, তাতেও না হলে হত্যা করে দিয়েছে। এই হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের ঘুণে ধরা দশা, কোনটা সংবাদ আর কোনটা প্রোপাাগান্ডা সেটার ফারাক করাই আজ জনগণের কাছে কঠিন হয়ে গেছে। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের প্রকোপ আজ সর্বত্র, তা প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া হোক কিম্বা সোশ্যাল মিডিয়া।
.
আমাদের রাজ্যের দিকে তাকালেও একই দশা, একটু অন্য আঙ্গিকে কিন্তু লক্ষ্য সেই এক- প্রশ্নহীন আনুগাত্য। শাসক দল, রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ একদেহে লীন হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় বলে আর কোনো শব্দ নেই, সবটাই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। সর্বত্র চুরি রাহাজানি আর লুঠপাঠ অন্ধকারের রাজত্ব। সরকার নিজে তার কর্মীদের টাকা চুরি করছে প্রাপ্য DA না দিয়ে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কোমায় পাঠিয়ে কর্পোরেট পুঁজির জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করে গেছে গত ১৫ বছর ধরে। RSS এর মন্দির মসজিদ গরু শুয়োরের রাজনীতিকে যথাযত প্রয়োগ করে ঠিক ভোটের আগে দাঙ্গার রাজনীতি করা, ধর্মীয় মেরুকরন ও ভোট লুঠের উদ্দেশ্যে গাঁ-গঞ্জে রক্তের নদী বইয়ে দিয়ে নির্লজ্জ নিরুত্তাপ থাকার এক অদ্ভুত কৌশল আমরা দেখেছি RSS স্পনসর্ড তৃনমূল সরকারের আমলে।

পশ্চিমা ভাবধারার দক্ষিণপন্থা, দিনের শেষে আপনার টুঁটি ধরবেই- তা সে যে ভেক ধরেই আসুকনা কেন। একে প্রতিহত করার নামই বিজয়। গণতন্ত্রে ভোটের মাধ্যমেই নীরব বিপ্লব সংগঠিত হয়, আগামীতে আমাদের সামনে সুযোগ এসেছে সেই বিপ্লবের সাক্ষী হতে, যোদ্ধা হতে, যুগ বদলের অন্যতম কাণ্ডারি হতে। চলুন সমূলে উপড়ে দিয়ে, ছুঁড়ে ফেলি এই বিষাক্ত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে।

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অঙ্কঃ ২০২৬ ভোটের আগেই তৃনমূল ফিনিশ

 

মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক কেরিয়ার শেষ, ভোটের আগেই তৃণমূলও ফিনিস। অঙ্ক সেটাই বলছে। মিলিয়ে নিন নাহয়-

মুখ্যমন্ত্রী মোটামুটি নিশ্চিত ১কোটি ২০ লাখ নাম কাটা যাচ্ছেই। কিছু ভুলভ্রান্তি বাদে, ধরে নেওয়া যায় ১ কোটি ১০ বা ৫ লাখ অবৈধ ও ভুয়ো ভোটার। নিদেন পক্ষে ১ কোটি নাম বাদ যাওয়া কেউ রুখতে পারবেনা।

রাজ্যে ২০২৪ সালের ভোটার লিষ্টে ৭ কোটি ৬০ লাখ ভোটার ছিলো। যার মধ্যে পোল হয়েছিলো ৬ কোটি ৫ লাখ মত ভোট। উপরোক্ত ওই সম্ভাব্য বাদ যাওয়া ১ কোটির আশেপাশে ভুতুরে ভোটারের প্রায় সমস্ত ভোটটাই পোল হয়েছিলো, যার ৮০% তৃণমূলের বাক্সেই গিয়েছিলো, এটা বলার জন্য কোনো বিশেষজ্ঞ হতে হয়না। 

পোলিং ভোটের ৬ কোটির নিরিখে ওই ১ কোটি মানে ১৬.৬৬% ভোট নেই হয়েছে। যার মধ্যে ১৪% এরও বেশী ভোট ভুতুরে ভোট তৃণমূলের ছিলো, যেটা গায়েব হতে, ২০২৪ এর ভোটে প্রাপ্ত তৃণমূলের ৪৩.৬৯% ভোট শেয়ার কমে দাঁড়াবে- ২৯.৬৯% তে। 

২০২৬ এর নিরিখে রাজ্যে মুসলমান ভোট দাঁড়াবে কমবেশী ৩০%, যার মধ্যে বাম+কংগ্রেস ও অন্যান্য ছোট দল মিলে ৫% পায়। বাকি ২৫% এর গোটাটা তৃণমূল পেয়ে এসেছে গত ১৪ বছর ধরে প্রতিটা নির্বাচনে। এখন এই মুসলমান ভোটের মাত্র অর্ধেক, হ্যাঁ- যদি অর্ধেকও যদি তৃণমূলের মুখে ঝাঁটার বারি মারে, তৃণমূলের ২৯.৬৯% ভোট কমে ১৭%তে মুখ থুবড়ে পরবে। ৫০টা আসনে জিতলেই তৃণমূল বর্তে যাবে। এর পর চুরি দুর্নীতির কারনে কিছু বাদ গেলে তো আরো শেষ। 

পিসি ভাইপো গায়ক নায়ক ধমকে চমকে টাকা ছড়িয়ে,  জাপানি তেল রকেট ক্যাপসুল ভায়াগ্রা সর্বিট্রেট RSS কোনো ওষুধই তৃণমূলের শ্মশানযাত্রা আঁটকাতে পারবেনা নিশ্চিত। দুর্নীতিগ্রস্থ BDO/SDO আর থানার অসাধু দলদাস OC/IC এর দলও যদি তৃণমূলের হয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় নেমে পরে উলঙ্গ হয়ে- তারাও জনরোষের শিকার হবে, তাদেরও পরিবার পরিজন আছে। হারামের টাকায় ফুর্তিমারা কোনো চোর বাটপার এবারে পাড় পাবেনা।

সুতরাং, আতঙ্কিত মমতা ও i-Pac সমানে SIR এর মুসলমানকে বাদ দিচ্ছে এমন গল্প ফেঁদে মুসলমান সমাজকে অশান্ত করে রাজ্যে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে। মুসলমান সম্প্রদায়কে ভয় দেখিয়ে উস্কিয়ে রাজ্যে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। আসল সমস্যার লক্ষ গুন মিথ্যা প্রচার। যেমন SIR এর লাইনে লোকে অসুস্থ হবার গল্প ছড়াচ্ছিলো, অথচ বেকার ভাতার লাইনে সবাই ফুর্তিতে রয়েছে। আতঙ্কিত মুসলমান নয়, আতঙ্কিত তৃণমূল। মুসলমানের নাম বাদ কতটা যাবেনা জানিনা, কিন্তু তৃণমূলের নাম নিশান মুছে যাবে রাজ্যের বুক থেকে- এটার দেওয়াল লিখন পড়া যাচ্ছে।

যতটা আতঙ্কিত হবার কথা, তার লক্ষ গুণ আতঙ্ক তৃণমূল নিজে ছড়াচ্ছে তাদের পোষ্য মিডিয়া আনন্দবাজার, সংবাদ প্রতিদিন, TV9 বাংলা, আজকাল আর বর্তমান মিলে। সাথে ফেসবুক আর ইউটিউবের ভাতাজীবি কিছু স্বঘোষিত মিডিয়া আর বিশ্বমাচাদো সাংবাদিক কুল। তোলামূলের হারামের টাকায় পুষ্ট এরা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য জান কবুল লড়াই করছে যাতে তাদের রোজগার বেঁচে থাকে।

মমতা ব্যানার্জীও সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টায় আছে, যেন তেন প্রকারে ২০২৪ এর ভুতুরে ভোটারলিস্ট ধরে ভোট করাতে। SIR নিতে তার মূল আপত্তি ভুতুরে ভোটার বাদ দেওয়া যাবেনা। মমতা ব্যানার্জী নিজেও ভোটে না দাঁড়িয়ে পালাতে চাইছে- এতে তাদের ভয় ও আতঙ্ক স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামীতে যা খুশি হোক- মমতা ব্যানার্জীর রাজনৈতিক কেরিয়ার দৃশ্যত ফিনিস।

সুতরাং, কোমর বেঁধে রাস্তায় নেমে পরুন। আমীতে রাজ্যের ক্ষমতায় কে আসবে তার চিত্র আজও পরিষ্কার নয়, কিন্তু এটা নিশ্চিত যে- ২০২৬শে কোনো অঙ্কে তোলামূল আর ফিরছেনা- এটার চেয়ে সত্যি এই মুহুর্তে আই কিচ্ছু নেই।

CPIM এর জন্যও এ এক চুড়ান্ত সুযোগ, মিডিয়াকে ভৌ ভৌ করতে দিন, কুত্তা ভৌভৌ করবে, কষিয়ে ক্যাৎ করে একটা লাথ মারলে কেঁউকেঁউ করে লেজ গুটিয়ে পালাবে। শুধু মাটিতে দাঁত কামড়ে পড়ে থেকে ভোট গণনা অবধি জান লাগিয়ে দিতে হবে। 


জনগণের বিজয় অদুৱেই। 


মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মুকুল রায়


বাংলায় সন্তজলীয় রাজনীতির অনুপেক্ষনীয় জনক


মুকুল রায়, যিনি ভবিষ্যৎ দেখতে পেতেন, শুধু এমনটা নয়; তিনি ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতেন ছলে বলে কৌশলে। কেউ তাকে চাণক্য বলেন কেউ বলে চোর, যে যা খুশি বলুক তার নিজ দৃষ্টিকোণ থেকে, আমি তাকে ‘মুকুল রায়’ই বলব। বাংলার বুকে দক্ষিণপন্থী রাজনীতিতে প্রাতিষ্ঠানিক পান্ডিত্যের উর্ধ্বে প্রণব মুখার্জির সমমানের ক্ষুরধার মস্তিষ্ক যদি কারো হয়ে থাকে, সেটা মুকুল রায়। চাণক্য তোপ বা পরমাণু বোমা ছিলেন হয়তবা, সেখানে মুকুল রায় সামান্য সূচ; কিন্তু সেই প্রায় অক্ষম সূচই এতটা বিষাক্ত হয়ে তার বিরোধী রাজনীতির শরীরে মনে গেঁথে গিয়েছিল, যেখান থেকে আজও কংগ্রেস ও বামেরা বের হতে পারেনি। 

মমতা ব্যানার্জী তৃণমূল দল তৈরি করেননি, দল অজিত পাঁজা বানিয়েছিলেন। মুকুল রায় সেই সদ্য ভূমিষ্ঠ তৃণমূলেরর সমস্ত ব্যাক অফিস পিঠে করে বয়ে নিয়ে একটা দল বানিয়ে তুলেছিলেন নেপথ্যে থেকে। মুকুল রায়ের ৩০% রাজনৈতিক প্রাজ্ঞতা, রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি, রিস্ক নেওয়ার সাহস, উপস্থিত বুদ্ধি এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যদি আজকের বামেদের সবকটা নেতা মিলিয়েও থাকতো, দলটা কবে দাঁড়িয়ে যেতো। লোকে এটা ভুলে গেছে, মুকুল রায় ২০১৬ সালে তৃণমূল থেকে চলে যেতে আইপ্যাককে আসতে হয়েছিল মমতার পরামর্শদাতা হিসাবে। 

অত্যন্ত লো-প্রোফাইল, ভীষণ ডিসিপ্লিন, সাথে আন্তরিকতা- এটাই তাকে দক্ষ সংগঠক করে তুলেছিলো। যে মানুষ রাগে না, তার চেয়ে ডেডিকেডেট ত্রাস কম জনই হতে পারে, মুকুল রায় ছিল সেই ব্যতিক্রমী চরিত্র, যাকে রাগানো একপ্রকার অসম্ভব ছিল। একটা মানুষ কখন এগিয়ে যায় জানেন? না, প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রী কাউকে ধড়াচূড়া শিক্ষিত বানালেও জ্ঞানী বানাবে তার নিশ্চয়তা নেই। জ্ঞানী সেই লোক যিনি শুধু নিখুঁত পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত বিশ্লেষণ করে ফেলতে পারেন পরিস্থিতি বা ঘটনাকে। জ্ঞানী সেই লোক, যে বলে কম, শোনে বেশি- মুকুল রায় দ্বিতীয় ক্যাটেগরির লোক ছিলেন, যিনি নিজে হামবড়া না সেজে, রাজ্যের প্রায় প্রতিটা হামবড়াদের পথে বসিয়ে দিয়েছিল। এমনকি শেষ কালেও বিজেপি আর তৃণমূলে যে কোনো প্রভেদ নেই, এটাও তিনিই প্রমাণ করে দিয়ে গেছেন অফিসিয়ালি, এটাই মুকুল রায়। সৌজন্যবোধ আর শালীনতা তাকে অহংকারী আর অতিচালাকি করে তোলেনি, তাই তিনি তার রাজনৈতিক লক্ষ্যে অবিচল ও সফল ছিলেন।

তিনি শৈল্পিক ঘরানায় এসরাজ বেহালা তবলা বাজাতেননা, এক উদাসীন ভঙ্গিমায় প্রিলিউড ইন্টারলিউড গাইতেন কথ্য ভাষায়, তাতেই তার বিরোধী রাজনৈতিক মহলে হাহাকার পরে যেত। এটাই শিল্পী মুকুল রায় স্টাইল। মুকুল রায়ের মতন প্রোফাইল প্রতিটা রাজনৈতিক দলে হাজারে হাজারে আছে তারপরেও লোকটা 'স্বতন্ত্র' মুকুল রায় হয়ে বঙ্গীয় রাজনীতিতে অনন্য নিজস্ব ধারা সেট করে যেতে সক্ষম হয়েছে। আপনি ডানধারায় থাকুন কিংবা বামধারায়, মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনীতিকে উপেক্ষা করার উপায় নেই আপনার। আজকের পশ্চিমবঙ্গে যে দক্ষিণপন্থী রাজনীতির ফর্মটাকে আমরা দেখছি, তার ইঞ্জিনিয়ারিং মুকুল রায়ের হাতে তৈরি করা। বঙ্গীয় রাজনীতিতে ঘোড়া কেনাবেচা মুকুল রায়ের তৈরি। চিটফান্ডকে সরাসরি দলীয় ফান্ড হিসেবে ব্যবহার করা, প্রশাসন আর দলকে গুলিয়ে দেওয়া- অত্যন্ত দক্ষতা ও কনফিডেন্টের সাথে প্রতিটা দুষ্কর্ম করেছেন।

এথিক্সহীন নোংরা রাজনৈতিক জামানার জননী মমতা ব্যানার্জী হলে, মুকুল রায় তার সুযোগ্য পালকপিতা। এটার সুচারু শুরু বা এটার গুরুও এই মুকুল রায়ই। তারপরেও একটা সুক্ষ পার্থক্য রয়ে গেছে উভয়ের মাঝে, প্রায় একই নামগোত্রহীন সামাজিক পরিবেশ, অর্থনৈতিক কাঠামো থেকে উঠে আসা মুকুল রায়ের তথাকথিত শিক্ষাগত যোগ্যতার অস্তিত্বকে জাহির করতে কোন অসততা তঞ্চকতার পথ নিতে হয়নি। কথায় কথায় মিথ্যাচার করতে হয়নি, নিজেকে শিল্পী কবি সাহিত্যিক বানাবার চেষ্টা করতে হয়নি, তার এক ও অকৃত্রিম পরিচয় ছিলো- রাজনীতিবিদ। সেই অর্থে মিডিয়ার ব্লু-আইড বয় ইমেজও কখনও ছিল না। মুকুল রায়ের মূল কৃতিত্ব তার ভাবলেশহীন মুখের অসাধারণ ফ্লেক্সিবিলিটি এবং গোপনীয়তা রক্ষা করার এক অনন্য সাধারণ দক্ষতা। এক‌ই পার্টির দুই লবি বা গোষ্ঠী বানানো এবং সেখান থেকে জন্মানো দ্বন্দ কীভাবে মেটাতে হয়, এটার উপরে তার মাস্টার্স করা ছিল। 

পশ্চিমবঙ্গের এত বছরে বাম লেগাসিকে কেলিয়ে লাট করে, নৈতিকতার মুখোশ খুলিয়ে আর্থিক লোভের ফাঁদে ফেলে, যাকে যেভাবে পেরেছে ন্যাংটা করে হাতে বাটি ধরিয়ে, তাদের তীব্র অহং আর ঔদ্ধত্যকে দেওয়াল ধরিয়ে, পিঠের চামড়া গুটিয়ে পোঁদে নামিয়ে দিয়েছিল যে লোকটা- তার নাম মুকুল রায়। শুধু তাই নয়, গোটা বাম সমাজ আজ বাম রাজনীতির নামে যে ‘পার্লামেন্টারি আর জুডিশিয়ারি প্র‍্যাক্টিসের’ নাগপাশে বন্দি, সেই বৃত্তে তাদের গোলগোল ঘুরিয়ে বেরাবার যে ব্লুপ্রিন্ট তা মুকুল রায়ের তৈরি, মমতার নয়। নকশাল, কংগ্রেস, অতিবাম, এসোসুই, NGO, সিদ্দিকুল্লাহ, রাজবংশী, গোর্খা বিচ্ছিন্নতাবাদী, সিমি, জামাত, বিজেপি থেকে মাওবাদী- সমস্ত আলবালছাল এই সকলকে এক ছাতার তলায় আনার ক্রেডিট মুকুল রায়ের, সূচ হয়ে এদের সকলকে এক চাদরের নিচে সেলাই করেছিলেন তিনি। মমতার অগ্নিকন্যা আর সততার প্রতীক ইমেজ ছিল, সেই ইমেজের পারফেক্ট ব্যবহার মুকুল রায় করেছিল। 

ওই যে তাৎক্ষণিক মারপ্যাঁচ ও সেই মতো দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সকলকে যোগাড় করে এনে একটা চাদর বোনা- এটা বিরল কৃতিত্ব ছিল বাম বিরোধী রাজনীতিতে। না তিনি ভাল মঞ্চের বক্তা ছিলেন, না ক্যারিশ্ম্যাটিক উপস্থিতি, না ব্লু-ভেইন বংশমর্যাদা, না হাইফাই শিক্ষাগত যোগ্যোতা, তার পরেও একটা ৩৪ বছরের ক্যাডারভিত্তিক ক্ষমতাসীন আদর্শবাদী পার্টিকে সরাতে এই লোকটা কৃষ্ণের মতো যোগ্য সারথির মতো কাজ করে গেছেন। যিনি জানতেন তার সেই উজ্জ্বল ক্যারিশ্মা নেই, না তার পিছনে জেভিয়ার্স, যাদবপুর বা JNU ট্যাগ রয়েছে, না তিনি আইনজীবি বা অর্থনীতিবিদ, গায়ক, নায়ক ছিলেন। অনেকে বলেন তিনি নাকি ওয়াগান ব্রোকার বা সাট্টা দলের চাঁই ছিলেন- সত্যিও হতে পারে মিথ্যা হতে পারে। ধরে নিলাম এটাই সত্যি, তাহলে সেই নর্দমা থেকে উঠে এসে, কোলকাত্তাইয়া রাজনীতির বৃত্তে ঢুকে পড়ে, একটা তথাকথিত শিক্ষিত মানুষের দলকে পথে বসিয়ে দিয়েছিল, CPIM বাদে বাকি দলগুলোকে সাইনবোর্ড বানিয়ে দিয়েছিল তার কুৎসিত দুর্বুদ্ধি দিয়ে। তিনি তার সমস্ত লিমিটেশন ঢেকে দিয়েছিলেন ক্ষুরধার শয়তানি বুদ্ধি দিয়ে। মমতার ইমেজকে ব্লেডের মতো ব্যবহার করে সর্বত্র ফালাফালা তিনি করেছিলেন।

শত্রুকে ঘৃণা করতেই হবে, কিন্তু রাজনীতি করতে এসে রাজনৈতিক ব্যক্তিকে যে শুধু ঘৃণার বসে যারা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য উপহাস করে, তার মতো হতচ্ছাড়া মূর্খ গাম্বাট আর কেউ হয় না। সমালোচনা হতে পারে তীব্র ভাবে কিংবা প্রশংসা করতে পারেন, উপেক্ষা করতে পারেন না। তার সময়ে তাকে নিয়ে কেউ কেউ আশায় থাকত, কেউ আবার আশঙ্কায়। কিন্তু, এটা নিয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই, যে তিনি যদ্দিন প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে সুস্থ শরীরে ছিলেন- তাঁর নিজের মতো করেই ছিলেন।

এটা হচ্ছে মুকুল রায়ের সম্বন্ধে আমার মূল্যয়ন। আমি তার রাজনৈতিক আদর্শকে ঘেন্না করি, কিন্তু উপহাস করতে পারি না, কারণ সে চোখে আঙুল দিয়ে তার বিরোধী প্রতিটা রাজনৈতিক দলের ফাঁকফোঁকর দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। দম্ভ অহমিকার হাড়ে মজ্জায় জন্মানো ক্যান্সার খুঁচিয়ে দিয়ে তাসের ঘরের মতো একটা নীতি আদর্শবাদী দলকে প্রায় ডোডো পাখি করে দিয়ে গেছেন তার সময়ে। মরে যাওয়ার পর তাকে গালিগালাজ দিয়ে নিজের অপরাগতার ঘায়ে উপশম দেওয়ার ছলনা করা যায়, নিজেদের ব্যর্থতাকে জাস্টফাই করা যায় না। আগামীকাল আপনি সফল হবেন তখনই, যখন মুকুল রায়কে পর্যালোচনা করে দেখবেন যে, সে কোন পথে বাম সাম্রাজ্যকে ধ্বসিয়ে দিয়েছিল। যারা অতীতকে অন্তঃসারশূন্য হয়ে উন্মত্ত ভাবে কেবল ঘৃণা করতে শেখে, সেখান থেকে শিক্ষা নেয় না, তারা কখনও সোজা মানুষ হতে পারে না।


নদী যদি তার স্রোত হারায় তাকেও নর্দমায় পরিণত হতে হয়, শেষ জীবনে মুকুল রায়েরও সেটাই হয়েছিলেন। মৃত্যুর পর একটা মানুষকে সবাই মিলে শ্রদ্ধা দেখাতে হবেই বা কেন? কেনই বা তাকে সবাই মিলে মূল্যায়ন করতে হবে, প্রয়োজন নেই তো, যোগ্যতাই বা কজনের আছে? যারা রাজনীতির ছাত্র, তারা তথ্যগতভাবে ও সময়ের নিরিখে সুক্ষ বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার মন্দ রাজনৈতিক দিকগুলো নিয়ে মূল্যায়ন করবে, প্রয়োজনে তীব্র আক্রমনাত্বক হলেও তাতে দোষ নেই। কিন্তু ২ পয়সার জ্ঞান নিয়ে আপনি তাকে উপহাস তাচ্ছিল্য করতে পারেন না, কারণ এই ব্যাক্তিই আপনার রাজনৈতিক মতাদর্শকে তার ক্ষমতা দিয়ে দুর্বল করার সাথেসাথে, আপনাকেও তুচ্ছ হাসির পাত্র বানিয়ে যাবার কারিগর। আজ সোস্যাল মিডিয়ার সর্বত্র যে সব নপুংসক, ঘরে বসে জাতীয় কংগ্রেস বা কমিউনিস্ট রাজনীতির নামে বিশ্বজয় করে ফেরে, সেই সব কঙ্গু বা বাম্বাচ্চা যাদের প্যাকাটির মতো মেরুদন্ড, এদের প্রত্যেকের জন্ম মুকুল রায়ের বীর্যে। কারণ এদের বাপেদের ধরে ধরে মুকুল রায় খোজা করে দিয়েছিল তার সময়ে।

মাননীয়া মমতা ব্যানার্জী

আজ আমি অনেকক্ষণ ধরে ভাবলাম, যা বুঝলাম- আমি সত্যিকারের একজন মমতাপ্রেমী মানুষ, আপনার সবচেয়ে জাবড়া ফ্যানদের মধ্যের শীর্ষস্থানীয়। আমি চটি চাঁটা ...