রাজনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রাজনীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬

নাগপুর ও শিক্ষা দূুর্নীতি


পেপার লিক বা প্রশ্নপত্র ফাঁস কোন বিচ্ছিন্ন দুর্নীতি নয়।  এটা একটা পরিকল্পিত অর্থনৈতিক মডেল যেটা সরাসরি নাগপুর থেকে পরিচালিত হয়। এটার পেছনে একটা পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক কাঠামো কাজ করে, যা কোনো আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলাফল নয়।

পেপার লিক দুর্নীতির ক্ষেত্রে একটা বড় অংশ ইচ্ছাকৃত আঁধারে রেখে দিয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলো, যে বিষয়ে আলোকপাত হওয়া অত্যন্ত জরুরী। গদি মিডিয়া এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন করবে না এটা স্বাভাবিক কিন্তু তথাকথিত নিরপেক্ষ youtube সাংবাদিক কুলও নিম্নলিখিত বিষয়ের উপর কোনো ধরনের আলোকপাত করতে সক্ষম হয়নি। স্বভাবতই রাহুল গান্ধী থেকে দীপকে অব্দি কারও মুখে কোনো রা নেই।

বর্তমানে যে পেপার লিক বিষয়টা নিয়ে এত আন্দোলন, সেটার হুইসেল ব্লোয়ার হিসাবে রাজস্থানের সিকর জেলার রসায়নের শিক্ষক শশীকান্ত সুতার প্রথম বিষয়টি সামনে আনেন। সেখানেই প্রথম FIR হয়। তদন্তে দেখা যায় কয়েকজন বিহারের বাসিন্দা যারা দিল্লি লাগোয়া হরিয়ানার গুরগাঁও থেকে গোটা বিষয়টা অপারেট করত। প্রশ্নপত্র ছাপা হতো রাজস্থানের প্রেসে, সেখান থেকে দিল্লির বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে অবিশ্বাস্য মোটা দামে বিক্রি করা হতো। এই অব্দি দেখে মনে হবে- মোটামুটি সবকিছুই একটা দুষ্ট দুর্নীতি চক্র জড়িত - যেমনটা প্রতিটি দুর্নীতিতে হয়ে থাকে। 

কিন্তু এই প্রশ্ন ফাঁস করেছিল কারা? যারা করেছিল তারা প্রত্যেকে মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা, পেশায় অধ্যাপক। লাতুরের অধ্যাপক পি. ভি. কুলকার্নি ও প্রফেসর শিবরাজ রঘুনাথ মোটেগাঁওকর, পুনের মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে এবং মনীষা হাভালদার, মনীষা বাঘমারে, নাসিকের শুভম খায়রনার ও ধনঞ্জয় লোখান্ডে। এরা প্রত্যেকে মহারাষ্ট্রের। এদের আরো বড় পরিচয় হচ্ছে এরা প্রত্যেকে হয়- অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (ABRSM), কিম্বা ভারতীয় শিক্ষণ মণ্ডল (BSM) অথবা    বিদ্যা ভারতী (Vidya Bharati) সংগঠনের সাথে যুক্ত। এই তিনটে সংগঠনই নাগপুরের গোয়াল ঘরের নিজস্ব সংস্থা।

অর্থাৎ প্রশ্নপত্র ফাঁস দুর্নীতিতে যুক্ত প্রত্যেকে আরএসএস এর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।  এমনকি রাজস্থানের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কে যেসব ছাত্র এবং কাউন্সিলর নামের দালালেরা এই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, তারাও অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP) এর সাথে সম্পৃক্ত। 

প্রতিটা সাংবিধানিক পদ সেটা বিচারব্যবস্থা হোক কিংবা নির্বাচন কমিশন, প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য পদে সরাসরি RSS এর প্রচারকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।  সুতরাং যারা প্রশ্নপত্র তৈরি দায়িত্বে ছিল, তারা সেই দায়িত্ব পেতই না- যদি না তারা সরাসরি নাগপুরের আস্থাভাজন হতো। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বলি দেওয়ার আড়ালে মহারাষ্ট্র সরকার আর আরএসএস নিজেদের লুকিয়ে ফেলতে চাইছে।

এই পেপার লিক থেকে প্রাপ্ত দুর্নীতির আর্থিক লাভের একটা বড় অংশ সরাসরি আরএসএস এর হেডকোয়ার্টারে পৌঁছে যেত বা যায়। বরং বলা ভালো নাগপুর থেকে সরাসরি এই দুর্নীতিটাকে সঞ্চালন করা হতো। যে কারণে এই কেলেঙ্কারিতে ধরা খাওয়া প্রতিটা 'কিংপিন' মহারাষ্ট্রের। অথচ মহারাষ্ট্রের শিক্ষামন্ত্রী, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাড়নবীসের নাম একবারও শুনেছেন এ বিষয়ে? শোনেননি,  কারণ ব্যথা জায়গায় হাত পড়লেই সেই হাত সরাসরি নাগপুরের গোয়াল ঘরে পৌঁছে যাবে। এই কারণেই পেপার লিক হওয়ার পর দেবেন্দ্র ফড়নবীসকে রাজস্থানে ডেকে পাঠিয়েছিল। তাকে ধমকাতে কিংবা তদন্তে সহযোগিতা করতে নয়, কেন ফাঁস হলো সম্ভবত এই বিষয়ে জানার জন্য। 

ধর্মেন্দ্র প্রধান বলি গেছে, সেটা যাওয়ারই ছিল অপদার্থ শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে। কিন্তু মূল মাস্টারমাইন্ড মহারাষ্ট্র সরকার এবং আরএসএস সরাসরি এই দুর্নীতিতে জড়িত। নতুবা এটা কখনও সম্ভব হতো না। একটা ধর্মেন্দ্র গিয়ে আরেকটা নতুন চোর চলে আসবে,  কিন্তু নাগপুরের গোয়াল ঘরের যারা মাস্টারমাইন্ড তারা বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। যতক্ষণ না এদের কান ধরে আইনের সামনে দাঁড় করানো হবে ততদিন এরকম প্রশ্নপত্র ফাঁস চলতেই থাকবে। 

২০১৫ সালের 'ব্যাপম' কেলেঙ্কারিতে ৪০ জনের রহস্য মৃত্যু আমরা কেউ ভুলিনি, কে জানে এবারে কতজন সাক্ষী এবং অপরাধী রহস্য মৃত্যুর শিকার হয়। ব্যাপম কেলেঙ্কারির নায়ক  শিবরাজ সিং চৌহানের সাজা হওয়া তো দূরস্থান, ন্যূনতম তদন্ত টুকু হয়নি। মহারাষ্ট্র সরকার এবং সেই সরকারের মাথা এবং দেবেন্দ্র ফড়নবীশকেও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে মনে হয় না। যে সমস্ত কিংপিন ধরা পড়েছে, সেই অপরাধীরা যে সংগঠনের সঙ্গে জড়িত, সেই RSS এর শিক্ষক সংগঠনগুলোকে কেন তদন্তের আওতায় আনা হবে না? 

মোহন ভাগবত এমনি এমনি জেন-জি কে সার্টিফিকেট বিলি করতে বসে যায়নি কিংবা মাঝরাতে হ্যালো ফ্রেন্ডস বলে বিশ্বভাঁড় মিছিমিছি ভাঁড়ামি করতে আসেনি instagram এ, RSS কে আড়াল করতে যাবতীয় এইসব ফন্দিফিকির।

রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬

হঠাৎ কেন বন্দেমাতরম?



যাদবপুর, এই বিষয়টা ১০ কোটি পশ্চিমবঙ্গবাসীর মধ্যে- ৯ কোটি ৯৯ লক্ষ ৯০ হাজার জন ব্যাক্তি ব্যক্তিগতভাবে কোনোভাবেই 'নূন্যতম' জড়িত নয়।

বন্দেমাতরম, দেশের ১ জন জনগনের রুটি-রুজি জন্যও জরুরী কি? দেশের ইন্ট্রিগ্রিটি, বর্হিশত্রুর আক্রমণ ঠেকাতে জড়িত? এটা গাইলে কী দেশে মেধা, শিল্প, আর্থিক শ্রীবৃদ্ধির বন্যা না হোক, চোরা স্রোতও কি বইবে? যদি সেটা না ই হয়, তাহলে এটাই কেন দেশের একমাত্র প্রাইম ঈশ্যু? দেশদ্রোহী চোর ধর্ষক বিজেপি/RSS এর জন্য এটা একান্ত জরুরী, কারন প্রতারিত 'হিন্দু' জনগনের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্যান্টে হেগেমুতে ফেলছে তাই ধামাচাপা দিতে এটা তাদের জন্য জরুরী। যে হিন্দু জনগণ এদের পরিত্রাতা ভেবেছিল, আজ তারা দেখছে তাদের পরনের কাপড় টুকুও নেই- বিজেপি বেচে দিয়েছে।

আম নাহয় কাটার বাচ্চা, যেকোনো সময় কোনো দেশপ্রেমিক বাঁদর বা বলদের বাচ্চা আমাকে পাকিস্তান পাঠিয়ে দেবে- কিন্তু রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে অষ্টপ্রহর অবিচ্ছিন্ন বন্দেমাতরম গাইলে কী "হিন্দু অস্মিতার" নিশান রামমন্দির বা বৈষ্ণদেবী মন্দিরের চুরি যাওয়া অর্থ ফেরৎ আসবে? বাকি কোনো সামাজিক জলন্ত ঈশ্যুকে নাহয় সামনে আনলামই না।

আমাকে বলুক আমার ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধির জন্য আমাকে সরকারী তহবিল থেকে অতি সামান্য আর্থিক সুবিধা দেবে- যেমনটা আম্বানি আদানি পেয়েছে, তার ভগ্নাংশের ভগ্নাংশ মাত্র; আমি রাস্তার মোড়ে চেঁচিয়ে রোজ ৩ বেলা বন্দেমাতরম গাইবো। 

ভাত দেওয়ার ভাতার নয়, তুমি মরালিটি চোদাবার গোঁসাই। 

শমীক ভট্টাচার্য খুব সচেতন ভাবেই নিজেকে 'কমিক' ভট্টাচার্যে ট্রান্সফর্ম করে- যাত্রাদলের বিবেকের ভূমিকাতে শান্তিগোপাল হয়ে যায়- আপনাকে চুতিয়া বানাতে। RSS/BJP যখন সে ঈশ্যু গুলোকে মুখ্য বানায়, জানতে হবে তারা প্যান্টে হেগে বসে আছে- কিম্বা কোনো বড় চুরির ফাঁদ পেতেছে। তাই আলবাল ঈশ্যু তুলে আপনাকে মানে দেশের ৭০% হিন্দুকে মাতিয়ে রেখে, কিছু লুকাতে চাইছে। দেশ বেচে দিচ্ছে।

গ্যাস, চিনি, বাইকের জ্বালানি, সরসের তেল থেকে প্রতিটা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম রোজ বাড়ছে- বাড়েনি আপনার রোজগার। "ভারত মাতা কি জয়" স্লোগান ওই "জয় শ্রী রাম" স্লোগানের মতই আগামীতে বিজেপির রাজনৈতিক স্লোগান হিসাবে চিহ্নিত হবে। কুলদীপ সেঙ্গার, প্রজ্জ্বল রোভান্না, ব্রিজ ভূষণ সিং, চিন্ময়ানন্দ, আশারাম বাপু বা বাবা রামরহিমও "ভারত মাতা কি জয়" স্লোগানের আড়ালে ধর্ষন করেছে। রামমন্দিরের চাঁদা চোরটাও "জয় শ্রীরাম" বলেই বামাল নিয়ে পালিয়েছে নাগপুরে। এরা সকলে কি বন্দেমাতরম জানত? ধরে নিচ্ছি নিশ্চই জানতো, যেহেতু বিজেপি করতো। সুতরাং, বন্দেমাতরম বললে কোনো কিছুরই সমাধান হবেনা।

ভোটের আগে এই বেজন্মারাই রোহিঙ্গা রোহিঙ্গা করে মুখ পোঁদ সকল ফুটো দিয়ে আওয়াজ বের করত, আজ সেই সব ফুটোতে- হয় বাপের ফাটা কন্ডোম কিম্বা মায়ের মাসিকের ন্যাকড়া গুঁজে রেখেছে। আর রোহিঙ্গা শব্দ কেউ শুনতে পান কেউ? এই শুয়োরের বাচ্চাদের কাজই হচ্ছে আম মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপ্রাপ্তি থেকে আসা প্রশ্ন গুলো থেকে ক্ষোভকে অন্য পথে চালনা করতে এই সব আলবাল ঈশ্যুকে এমন ভাবে সামনে আনে, যেন এটা ছাড়া জীবন অচল। 

একই পথে কোরবানি বন্ধ করতে গিয়ে গোপালক সম্প্রদায়ের পেটে পা দিয়ে দিয়েছে। আজ রাস্তায় নামাজ বন্ধ, আজান বন্ধ, ঝটকা মাংস- এই সব করে একটা শতাংশ উন্মাদের মানসিক অর্গাজম হচ্ছে- তাতে পেট ভরছে কি? সেই তো মেয়ে বৌকে ন্যাংটা করে র‍্যান্ডি নাচ নাচিয়ে টাকা কামাতে হচ্ছে।

পাঁঠা চোদাগুলো বন্দেমাতরম নিয়ে গাঁড় পেঁয়াজির নতুন নক্সা এনেছে। বন্দেমাতরম অদৌ গাইবো কিম্বা কতটা গাইবো- সেটা তো যারা দেশ স্বাধীন করেছিলো তারাই ঠিক করেই দিয়ে গিয়েছে। আজ যখন সমগ্র বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলো ড্রোন টেকনোলজি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে এগোচ্ছে চুতিয়ার বাচ্চারা বন্দেমাতরম নিয়ে হুপ হুপ শুরু করে দিয়েছে। IIT/IIM এ কখনও ক্যালা কাত্তিক মহারাজ তো কখনও শ্রীশ্রী রবিশঙ্করকে ডেকে এনে বক্তিতা দেওয়াচ্ছে- IT সেক্টারে আমাদের দেশের যে উৎকর্ষ ছিলো সেটারও মা-চুদে দেওয়ার পরিকল্পনা একদম খাপে খাপ। ওদিকে ট্রাম্প থেকে পুতিন, যে যখন পারছে বিশ্বগুরুর মায়ের ১০৮ করে দিচ্ছে। 

যেদিন RSS নিজেদের সরকারের খাতায় রেজিস্ট্রেশন করে তাদের সমস্ত সম্পদ ও অর্থের হিসাব দেবে, যেদিন RSS লিখিতভাবে ভারতীয় সংবিধানকে তাদের সংবিধান মানবে, যেদিন "নমস্তে সদা বৎসলে" এর পরিবর্তে সঙ্ঘে বন্দেমাতরম এর পূর্ণ গীত গাওয়া হবে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসাবে- সেদিন তারা ১৫০ কোটি ভারতবাসীকে বাধ্য করুক।

আর তা না করলে, এদের কাঁচা খিস্তিখেউড় করাটা নাগরিক কর্তব্য। যে এদের খিস্তিখেউড় করবেনা, কিন্বা মনে করে এদের খিস্তি দেওয়াটা অন্যায়- তার বাপের DNA এর সাথে নিজের DNA চেক করা দরকার, কে জানে পাড়ার কাকুদের দল দুপুর ঠাকুরপোর ভূমিকাতে আপনার মাতৃদেবীর পোয়াতির কারন হয়েছিলেন কিনা- যেমন আদানি আম্বানি বাবা মিলে "বিজেপির ভারত মাতা"কে পোয়াতি করে দিয়েছে।

শালারা বন্দেমাতরম আর যাদবপুর চোদাচ্ছে।

সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

কানাবাবার পাল্টি



পতঞ্জলি ফুডস লিমিটেড (Patanjali Foods Ltd)-এর শেয়ার দর গত ১ বছরে প্রায় ৪০.০৬% নিচে নেমে এসেছে।

এই বছরের ত্রৈরাশিকের রিপোর্ট বলছে পতঞ্জলির শেয়ার ১০০ টাকারও নিচে চলে যাবে আগামী কয়েকটা কোয়ার্টারে, মানে ৯০% এরও বেশী মার্কেট ভ্যালু ফল করবে। 

ফলত, এই ট্যাঁরাচোদ ভণ্ড বাবা নিজের ব্যবসার সাম্রাজ্য বাঁচাতে ড্রেনের ভাসমান গু'এর মত স্রোতের অনুকুলে ভেসে টিকে থাকার লড়াই করছে। বিগত বছরগুলোতে পতঞ্জলির বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন এবং আধুনিক চিকিৎসার (Allopathy) বিরুদ্ধে মন্তব্যের কারণে সুপ্রিম কোর্ট পতঞ্জলিকে তীব্র তিরস্কার এবং জরিমানা করে। এই সংকটের সময়ে বিজেপি সরকার বা আয়ুষ মন্ত্রক রামদেবকে সুবিধা দেয়নি ফার্মা লবির চাপে। এতে কানাবাবা ক্ষুব্ধ হয়েছে।   

বিজেপির অন্তর্জলী যাত্রা শুরু হয়েছে, আজ অমিত মালব্যের উইকেট গেছে, যে মালব্য গত ১ দশক অমিত ক্ষমতাধর ছিল বিজেপি ও সঙ্ঘের অন্দরে- মিথ্যা প্রোপাগাণ্ডা আর বিদ্বেষমূলক ন্যারেটিভ সেট করার গুণে। রামদেবও এই বিজেপিকে আনতে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা ছিল, এই কানাবাবার এমন "দিমাগি নকশাল" হয়ে যাওয়াটা,বিজেপির পক্ষে অনেকটা আত্মলিঙ্গমভাবো হওয়ার মতই।

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক দুর্নীতি এবং সরকারি চাকরিতে প্রশ্নপত্র ফাঁস (Paper Leak), ইন্টারভিউ প্রক্রিয়ায় প্রায় ৯০% থেকে ৯৯% দুর্নীতির যে গল্প নিয়ে মিডিয়াতে মসিহা সাজার চেষ্টা করছে, দ্রুত এই দুর্নীতি বন্ধ না হলে ২০১১ সালের রামলীলা ময়দানের মতো আবারও বড় আন্দোলনে নামার ফাঁপা আওয়াজ তার চাড্ডির নিচে নামবেনা। এই কানাচোদা নিজেই ভুরি ভুরি দুর্নীতিতে সরাসরি যুক্ত, সাথে নেপালি স্যাঙাৎ টা।  

শ্রম আইন লঙ্ঘন ও কর্মীদের ওপর নির্যাতন, জমি কেলেঙ্কারি, টেন্ডারে ঘাপলা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ভুয়া লোগো ও সার্টিফিকেট ব্যবহার করে করোনিল এর প্রচার, অন্যের তৈরি পণ্য নিজের নামে চালানো, খাবারে ভেজাল ও পেস্টিসাইড, সুপ্রিম কোর্টের অবমাননা, আয়ুর্বেদিক স্কুলের নামে জমি আত্মসাৎ, সরকারী কর্মীকে গুম খুন করে দেওয়া। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হাঁপানি এবং ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় করতে পারার মিথ্যা দাবী করে কোটি কোটি টাকা লুঠ সহ পাপের শেষ নেই। রামদেব আর দূর্নীতি এখন সমার্থক। এখন এই পাপের ঘড়া সম্ভবত পূর্ণ হয়েছে। যার ফলাফল সরাসরি তার ব্যবসাতে পরেছে।

প্রথমত তার সাধু বেসে রাবনের যে ইমেজ তৈরি করেছে, সেটাকে নতুন ভাবে রং করার প্রচেষ্টা, দ্বিতীয়ত উত্তরপ্রদেশ ভোটের আগে নিজের দাম বাড়িয়ে নিতে চাইছে বিজেপির কাছে, এই কারনে খানিকটা ভৌ ভৌ করছে মিডিয়াতে।

সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

ভারতের সর্বোচ্চ বিচার ব্যবস্থা ও RSS

 


গত ১২ বছর যাবৎ অমৃতকালের শাসন ব্যবস্থায় আমাদের সুপ্রিম কোর্ট নিজেই একটা সিলবন্ধ প্রহসনে পরিণত হয়েছে। শাসকের প্রতি আনুগত্যে গদগদ অধিকাংশ জোব্বাধারী ভাঁড়, যাদের কাজ শুধু সরকারকে পরিত্রাণ দেওয়া। কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপির আদর্শিক অভিভাবক RSS- শুরু থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে ভারত রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বিচারব্যবস্থাকে ব্যবস্থা নিজেদের অধীনস্ত দাসানুদাস ও পোষ্য পর্যায়ে টেনে নামিয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণই যখন একমাত্র লক্ষ্য, যেখানে গণতন্ত্র বাঁচল কি মরলো তার কোনো দায় নেই।

সুস্থ গণতন্ত্রে বিচার ব্যবস্থাই গণতন্ত্রের মূল রক্ষাকবচ, যা রাষ্ট্রের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শাসক ও আমলাতন্ত্রের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে, নাগরিকদের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখা ও সংবিধানকে প্রতিষ্ঠা রাখাই বিচার ব্যবস্থার একমাত্র কাজ। ফ্যাসিস্ট শাসকরা সাধারণত নিজেদের ক্ষমতাকে কায়েমি করতে এবং সমস্ত বিরোধিতা দমন করতে শাসনকালের শুরুতেই আইন ব্যবস্থাকে দুর্বল করা শুরু করে। RSS ঠিক এটাই করেছে একদম গোড়াতে। অমিত শাহ তো এক কাঠি সরেস হিসাবেই নিজের সর্বভারতীয় কার্যকাল শুরু করেছিল, জাস্টিস লোয়াকে স্বহাঃ করে দিয়ে।

ফলত, নিম্ন মেধার বিচারক, দলদাস বিচারক, উগ্র মৌলবাদী ভাবধারার বিচারকের পাশাপাশি- বিচার ব্যবস্থার মধ্যে থাকা দুর্নীতিপরায়ণ এমন সমস্ত ব্যক্তিকে খুঁজে তাদের সিস্টেমের শীর্ষ পসে বসানো, যারা ইতিমধ্যেই নানান ধরণের আর্থিক বা নারীঘটিত কেলেঙ্কারিতে গলা অবধি ডুবে। ফলত, তাদের অণ্ডকোষ চিপে রেখে ইচ্ছামত ‘যা খুশি’ কাজ করিয়ে নেওয়া যায় এবং যাচ্ছে। RSS অত্যন্ত মোটা দাগে এটাই করে চলেছে সাফল্যের সাথে প্রকাশ্যে।

বিচারপতি দাত্তু অবধি RSS নামের ভাইরাস ততটা জেঁকে বসেনি বিচার ব্যবস্থাতে। এর পর টি.এস. ঠাকুর, রঞ্জন গগৈ, দীপক মিশ্র, চন্দ্রচূড় হয়ে আজকের মহামহিম সূর্যকান্ত। এনাদের আমলে বিচারের বাণী যেন গুপ্তাঙ্গের লোম, প্রকাশ্য আদালতে দেখানো যা অশোভনীয়। তাই সরকার ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে দাখিল হওয়া প্রতিটি স্পর্শকাতর মামলার তদন্ত রিপোর্ট ‘সিলবন্ধ’ খাম নামের ‘খুড়োর কলে’ জমা পরে অদৃশ্য হয়ে গেছে। এবং প্রতিটা মামলাতে অভিযুক্তরা বেকসুর ছাড়া পেয়ে গেছে, অভিযোগকারী সহ দেশের জনগণ  জানতেই পারেনি- তদন্তে ঠিক উঠে এসেছিল। সাধে কি ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অফ লিগ্যাল স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ সমাবর্তনে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের কাছ থেকে ডিগ্রি গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আগামীতে এই প্রবণতা বৃদ্ধি পাবেই।

গণতন্ত্রকে পঙ্গু করে দেওয়া এমন অনুগত পদলেহনকারী এই সকল দলদাস বিচারকদের নাম গোবরের জলে ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে লেখা থাকবে- সেটা বলাই বাহুল্য। কাল্পনিক শত্রুর ভয় দেখিয়ে দেশে দীর্ঘমেয়াদী জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে ২০১৪ থেকেই, ভোটের আগে দেশপ্রেমের সুড়সুড়ি দিতে পাকিস্তান আর জঙ্গিবাদ চলে আসে। এরপর মন্দির, মসজিদ, গরু শুয়োরের রাজনীতি। একটাই রাষ্ট্রীয় স্লোগান – হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়। পাকিস্তান, হিন্দু, মুসলমান, গরু- এই চারটে শব্দ বাদ দিলে RSS হাতে বক্তব্য দেওয়ার মতো ১০ মিনিটের কোনো সাবজেক্ট যেহেতু নেই, টেলিপ্রম্পটার লাগিয়েও; অতএব প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ১৫০ কোটি জনসংখ্যার দেশে কায়েমি শাসন প্রতিষ্ঠা করতে রঞ্জন গগৈদের মতো চোর শয়তানদের বিকল্প ছিল না নাগপুরের কাছে। এরাই Sealed Cover Jurisprudence এর ব্যবহার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি করে- জাতীয় নিরাপত্তা, দুর্নীতি এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মামলাগুলোতে প্রতিনিয়ত আপোষ করেছে নির্লজ্জভাবে, রাষ্ট্রের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। 


২০১৪ সালে আইপিএল (IPL) স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির তদন্তে বিচারপতির মুকুল মুদগল কমিটি তাদের রিপোর্ট একটি সিলবন্ধ খামে আদালতে জমা দেওয়া থেকে যে পরম্পরা শুরু হয়েছিল, সংখ্যার বিচারেই সেই তালিকা শুধু সুপ্রীম কোর্টের স্পর্শকাতর গুরুত্বপূর্ণ মামলার নিরিখে এমন ‘জাঙিয়ার আড়ালে রাখা যৌনাঙ্গ’ এর অনুরূপ সিলবন্ধ বিচার ব্যবস্থা- বেহায়াপনার সমস্ত সীমারেখা পার করে গেছে। একে একে রাফাল বিমানের দাম কেলেঙ্কারি, আসাম NRC আসাম মামলা, ভীমা কোরেগাঁও মামলা, CBI কর্তা অলোক ভার্মার ঘুষকান্ড, পি. চিদাম্বরম এর জামিন এর বিরোধিতা মামলা, বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন কেলেঙ্কারি মামলা, শাহিনবাগ মামলা, কেরল-ভিত্তিক নিউজ চ্যানেল 'মিডিয়া ওয়ান'-এর সম্প্রচার লাইসেন্স বাতিল মামলা, আদানি-হিন্ডেনবার্গ মামলা, ৩৭০ ধারা বিলোপ মামলা, দিল্লি বার কাউন্সিল নির্বাচন বিতর্ক মামলা, NEET পেপার লিক মামলা, আম্বানির নরহস্তির পেয়ারের ‘বনতারা মামলা’, মণিপুর জাতিগত সহিংসতা অডিও ক্লিপ মামলা, মানে এভাবে যদি তালিকা করা যায় সেটার সংখ্যা এতোদিনে ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে। আজকে ভাইপোর বিদেশ যাত্রার অনুমতি, ঠিক কোন গ্রাউন্ডে মহামান্য বিচারপতিরা অনুমোদন দিয়েছেন, সেটা সিলবন্ধ খামেই হয়ত আঁটকা পরে গেছে। কোনো সন্দেহ নেই, RSS এর অনুমতিক্রমেই এই ‘ডিল’ সম্পন্ন হয়েছে। এর পরেও সুপ্রিম কোর্টের ধারাচূড়ো ধারী ‘খোজা’ বিচারপতিরা আর কিছু পারুক বা না পারুক, আমাকে এই লেখার জন্য বিনা বিচারে উমর খালিদ বানিয়ে দিতেই পারে। 

দুর্নীতিবাজ সরকার বা তার পেয়ারের ডাকাত শেঠেরা যখন জবাবদিহি করার মতো অবস্থায় থাকে না, কিম্বা যে জবাবদিহি পাব্লিক জানতে পারলে হেসেই খুন হবে এবং মূত্র বিসর্জন করে দেবে সিস্টেমের মুখমন্ডলে; সেই হেতু সিলবন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দেওয়ার চেয়ে সুরক্ষিতভাবে ‘চুতিয়া’ বানিয়ে গোটা খেল খতম করে দাও। এটাই তো মাস্টারস্ট্রোক, না রইল বাঁশ না বাজবে বাঁশি। এটাই দেশের সর্বোচ্চ আদালতের কলঙ্কময় বাস্তবতা, আশ্চর্যজনকভাবে এতে এদের কারও নূন্যতম লাজলজ্জা নেই; কোনো এক দার্শনিক বলে গিয়েছিলেন- পতিতাপল্লীতে বসবাস করা বেশ্যাদের নিজেদের পরিবারের মাঝে লজ্জা পেতে নেই, পেলে রুজিরুটি চলবে না। এই লজ্জাহীনতার উপরে ভিত্তি করে দেওয়া বিচারের জন্য- পারম্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে, আইনের মা-বোনকে একসাথে বলাৎকার করে অযোধ্যার বিতর্কিত জমি রামমন্দির কমিটি পেয়ে যায়। এখানে একমাত্র সাংবিধানিক ভিত্তি ছিল ‘নাগপুরের’ প্রতি বিচারকের প্রশ্নহীন আস্থা। ফাঁপা বিশ্বগুরুর ছবিকে লটকে রাখতে মন্দির প্রোজেক্ট বাস্তবায়ন করতেই হতো, অতএব সিলবন্ধ খামই একমাত্র হাতিয়ার। রিপোর্টে কি আছে যেহেতু কেউ জানতে পারলনা, তাই সেই গাঁজাখুরি রিপোর্ট বা নগ্ন সত্যকে সামনে রেখে নতুন করে প্রশ্ন উঠার বদলে, গোটাটাকেই ধামাচাপা দিয়ে দেওয়া হল। 

এভাবে প্রতিটা সিলবন্ধ মামলার ময়না তদন্ত করাই যায়, আশা রাখব পরবর্তী এ্যান্টি RSS সরকার যেদিনই ক্ষমতায় আসুক, তারা প্রকৃত বিচার করবে। জানি না, আমাদের গণতন্ত্রের কঙ্কালটা সেদিন ঠিক কোন লজঝড়ে অবস্থায় থাকবে যখন RSS কে রাজনৈতিক চিতায় বিজেপির সাথে সহমরণে পাঠানো হবে। এই লজঝড়ে অসার গণতন্ত্রের কঙ্কাল নিয়ে এই দেশ কতক্ষণ লড়াই করতে পারবে চিন, পাকিস্তানের মতো শত্রুদের বিপক্ষে?  

এদিকে বাংলাতে মেজোখোকা সরকার ৩ মাসেই চাড্ডিতে ভড়ভড়িয়ে হেগে ফেলেছে। যখন প্রতিটা প্রতিশ্রুতিতে ফেল মেরেছে, তখন মেজোখোকা তার মুখ্যমন্ত্রীত্বের বাসর সাজালেও, কেন্দ্রের ‘আচ্ছে দিন’ এর আরকের নেশা ছুটে গেছে ভক্তদেরও। তার উপরে টিভি মিডিয়া ও আঁটিসেল তুলসীতলায় অন্তিম শ্বাস নিচ্ছে। স্বভাবতই বাংলাতেও শুরুতে RSS এর এ্যাজেন্ডা মতো গরু কুরবানি ঠেকাতে গিয়ে- সেই গরুই বিজেপি ভোটব্যাঙ্কের পায়ুপথে ঢুকে পড়েছে। এরপর রাস্তায় নামাজ নিয়ে ক্যাঁচাল, আম মুসলমান কিচ্ছু প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এখন মসজিদে মাইকে আজান বন্ধ আর ঝটকা মাংসকে মূল ইস্যু বানাচ্ছে, চাড্ডির গুয়ের গন্ধ ঢাকতে। মাইকের সামনে এসে যাত্রাপালার বিবেকের মত ‘আমরা অভয়াকে ভুলিনি’ বলে গলার শিরা ফোলাতে হচ্ছে। সমীকবাবু কি ভালো তোলামুল খুজতেই অতিব্যস্ত!! নতুবা ওনাকে কেউ মনে করিয়ে দিচ্ছেনা কেন, যে- এই মুহুর্তে আপনিই পুলিশ মন্ত্রী, জনগণ যাত্রাপালার সংলাপ নয়, কাজ দেখতে চাইছে, অপরাধের বিচার চাইছে। 

যেকোনো মূল্যে আলোচনাকে গরু-শুয়োর, মন্দির-মসজিদের বৃত্তে আঁটকে রাখতেই হতো। এদিকে কেন্দ্রের ১২ বছর অমৃতকালে সার্ভাইভ করা মুসলমানও তো চালাক হয়েছে, তারা শিখে নিয়েছে- এদের দৌড় কদ্দুর। অতএব, বিভেদের রাজনীতিতে সেভাবে লাভ হচ্ছে না। আম মুসলমান সমাজ শুধু তাচ্ছিল্যের বাঁকা হাসি দিয়েই মেজোখোকাকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। ইস্যুর মা রোজ গর্ভবতী হয়ে যাচ্ছে জাস্ট ‘উপেক্ষার’ বীর্যে; ফলত ‘ভালো তোলামূল’ সরকারের হাতে হ্যাঁরিকেন, পেছনে বাঁশ। মেজোখোকাকেও আগামীতে সিলবন্ধ খামের প্রমাণিত সিস্টেমে ফিরে যেতে হবে, নতুবা বিজেপিকে ভোট দেওয়া তথাকথিত ‘কট্টর হিন্দুরাই রেডি রয়েছে থুতু, পচা ডিম, পচা আলু নিয়ে।

তবে একটা কথা বলা যেতেই পারে, তোলামূলের বিসর্জনের পর তারা মারধোর আর ডিম থেরাপিতেই পার পেয়ে গেছে বৃহত্তর পরিসরে। RSS এর ক্ষেত্রে কিন্তু সেটা হবে না, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যাওয়া মাত্র পরবর্তী ১ মাসে গোটা দেশ জুড়ে কয়েকলক্ষ RSS এর সন্ত্রাসী কারিয়াকর্তা, বিজেপির উগ্রপন্থী নেতামন্ত্রীরা গুম, খুনের শিকার হবে জনরোষের বলি হয়ে। হিন্দুত্বের গাঁজা খাওয়া হিন্দুদের ঘরের ছেলেরাই আজ বেকার, ওদিকে RSS বিজেপির সন্তানেরা বিদেশে বসবাস করে ও কোটি টাকার মালিক। কে জানে, RSS বিজেপির উপরে হওয়া আক্রমণের বিচারও সেদিন সিলবন্ধ খামের তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে করা হবে কিনা, ঠিক আজকের মতো করে। 

বিজেপির শেষের শুরু হয়েছে, ব্রেণ ক্যান্সার- এটাই আশার কথা। বিশ্বগুরুর অন্তর্জলি যাত্রা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। এরপর এই সমস্ত মামলা পুণরায় চালু হয়ে নতুন করে তদন্ত হবে, আর বলাই বাহুল্য- প্রতিটা ক্ষেত্রে ফলাফল কী হবে! ততদিন একটু ধৈর্য ধরুন, সুযোগ আসবে আইনিভাবে RSS কে সমূলে নির্মুল করার, বিচারব্যবস্থাকে কলঙ্কমুক্ত করে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার।

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ফ্যাসিজম ও আজকের পৃথিবী


সমগ্র বিশ্বজুড়ে 'ফ্যাসিবাদী ডানপন্থা' ছত্রাকের মত আষ্টেপৃষ্টে বর্বরতার নাগপাশে বেঁধে ফেলেছে। বর্ডারের সীমানা পেরিয়ে মাকিন মুলুকের ট্রাম্প হোক কিম্বা মোল্লাদের সৌদি, ভোগবাদী ইউরোপ  বা RSS এর ভারত- উগ্র জাতীয়তাবাদী মিথ্যা ভুয়ো দেশপ্রেমের নামে দেশের সম্পদ নির্দিষ্ট কিছু পুঁজিবাদী শোষক সংস্থার কাছে তুলে দেওয়ার জন্য যাবতীয় নিপীড়নের আয়োজন। 

১২ বছরের BJP শাসন রাষ্ট্রের প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে দিয়েছে, সর্বত্র নোংরা ধর্মীয় মেরুকরন করা হয়েছে ভোটের বাক্সে তাৎক্ষণিক ফায়দা লুঠতে আর এই জন্য যেকোনো মাত্রার সহিংসতাতে মেতে উঠতে এদের কোনো ক্ষেপ-আক্ষেপ থাকেনা। আমাদের ঐতিহাসিকভাবে শক্তিশালী সংবিধান ও তার প্রতিষ্ঠানগুলোকে রোজ আক্রমণের মুখে ফেলে ভঙ্গুর করে তোলা হচ্ছে। সিভিল সোসাইটি উদভ্রান্ত, আদালতের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ, নির্বাচন সংস্থার ভূমিকা শাসকের দলদাসের, সর্বত্র একটা অশান্তি আর অবিশ্বাসের পরিবেশ। কয়েকটি নির্দিষ্ট ব্যাক্তি তথা কয়েকটি পুঁজিবাদী গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে। এরা যেকোনো মূল্যে নির্বাচন বা গণতান্ত্রিক কাঠামোর বিলোপ চায়।

বিরোধী কন্ঠস্বরকে তাচ্ছিল্ল্যের সাথে হিংস্রভাবে দমন করা হচ্ছে সর্বত্র, যাতে প্রশ্ন করতে ভয় পায়। জাতিগত হানাহানি, ধর্মীয় বা অভিবাসী সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক নীতি গ্রহণ করে এরা নাগরিক অধিকার সংকুচিত করতে মরিয়া, তাই কখনও NRC তো কখনও SIR এর মত নিরীহ পদ্ধতিকে ধারালো অস্ত্রের মত ব্যবহার করছে সংখ্যালঘু সংহারের জন্য। ভিন্নমতাবলম্বীদের যেকোনো মুল্যে নৃশংস হাতে দমন করা নিত্য নৈমিত্তিক প্র্যাকটিস। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বৈষম্য বা নিপীড়ন করাটাকে রাজনৈতিক ম্যানিফেস্টো বানিয়ে ফেলেছে এই চরম ফ্যাসিবাদী RSS. 

স্বাধীন সাংবাদিকতা যা সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখে, তাদের সিংহভাগকে কিনে নিয়ে পোষ্য কুকুর বেড়ালে পরিনত করেছে, তারা সেটাই বলছে যা শাসক চায়। যাদের কিনতে পারেনি তাদের গলায় মামলার বেড়ি লাগিয়ে দিয়েছে, তাতেও না হলে হত্যা করে দিয়েছে। এই হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের ঘুণে ধরা দশা, কোনটা সংবাদ আর কোনটা প্রোপাাগান্ডা সেটার ফারাক করাই আজ জনগণের কাছে কঠিন হয়ে গেছে। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের প্রকোপ আজ সর্বত্র, তা প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া হোক কিম্বা সোশ্যাল মিডিয়া।
.
আমাদের রাজ্যের দিকে তাকালেও একই দশা, একটু অন্য আঙ্গিকে কিন্তু লক্ষ্য সেই এক- প্রশ্নহীন আনুগাত্য। শাসক দল, রাজ্য প্রশাসন ও পুলিশ একদেহে লীন হয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় বলে আর কোনো শব্দ নেই, সবটাই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। সর্বত্র চুরি রাহাজানি আর লুঠপাঠ অন্ধকারের রাজত্ব। সরকার নিজে তার কর্মীদের টাকা চুরি করছে প্রাপ্য DA না দিয়ে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কোমায় পাঠিয়ে কর্পোরেট পুঁজির জন্য মঞ্চ প্রস্তুত করে গেছে গত ১৫ বছর ধরে। RSS এর মন্দির মসজিদ গরু শুয়োরের রাজনীতিকে যথাযত প্রয়োগ করে ঠিক ভোটের আগে দাঙ্গার রাজনীতি করা, ধর্মীয় মেরুকরন ও ভোট লুঠের উদ্দেশ্যে গাঁ-গঞ্জে রক্তের নদী বইয়ে দিয়ে নির্লজ্জ নিরুত্তাপ থাকার এক অদ্ভুত কৌশল আমরা দেখেছি RSS স্পনসর্ড তৃনমূল সরকারের আমলে।

পশ্চিমা ভাবধারার দক্ষিণপন্থা, দিনের শেষে আপনার টুঁটি ধরবেই- তা সে যে ভেক ধরেই আসুকনা কেন। একে প্রতিহত করার নামই বিজয়। গণতন্ত্রে ভোটের মাধ্যমেই নীরব বিপ্লব সংগঠিত হয়, আগামীতে আমাদের সামনে সুযোগ এসেছে সেই বিপ্লবের সাক্ষী হতে, যোদ্ধা হতে, যুগ বদলের অন্যতম কাণ্ডারি হতে। চলুন সমূলে উপড়ে দিয়ে, ছুঁড়ে ফেলি এই বিষাক্ত ফ্যাসিবাদী শক্তিকে।

বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আমেরিকার মালিক কে?



গতকাল হিজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী USA  পার্লামেন্টে গিয়েছিলো। সেখানে এই নপুংশকটা উপস্থিত হওয়া মাত্র মার্কিন সাংসদেরা এমন সমস্বরে উলুধ্বনি ও হাততালি দিয়ে উঠলো, যেন তাদের ভাই হয়েছে। এই উচ্ছাসের কী কারন হতে পারে সাদা চোখে? ইজরায়েল বা নেতানিয়াহু কোন এমন কাজটা করেছে, যার জন্য এমন বাঁধভাঙা উল্লাস? কারন একটাই, ইজরায়েল নামের তোলাবাজটা আছে বলে মধ্যপ্রাচ্যে লুঠের দাদাগিরিটা চালিয়ে আমেরিকার পেট চলছে, আমেরিকা নামের রাষ্ট্রটা টিকে আছে।

কেন নপুংশক? ভিডিওটা দেখুন। আমেরিকা, মানে ইজরায়েলেরই পোষক পিতা, সেখানে এই মরদ নিজের সিকিউরিটি নিয়ে এমন আতঙ্কে আছে যে, বিমানবন্দর থেকে সংসদ ভবনে যাবে, সেই গোটা রাস্তাটা বন্ধ করে দিয়েছে। সামনে পিছনে ২০০ সশস্ত্র গাড়ির কনভয়, আকাশে ৪টে হেলিকপ্টার, সর্বত্র ছড়িয়েছিটিয়ে অসংখ্য সার্প শ্যুটার, আশেপাশের বিল্ডিং এ স্পেশাল ইসরাইলি পুলিশ ।  উঁহু, আমেরিকার কোনো রাষ্ট্রপতির জন্য এমনটা করা হয়না।

হ্যাঁ, এটা আমেরিকার রাস্তায় হিজরায়েলী বীরের বীরত্বের নমুনা। গণহত্যাকারী নিজেই সর্বক্ষণ আতঙ্কে থাকে, এও তার ব্যতিক্রম নয়। গোটা আমেরিকা জুড়ে ইহুদিরা বিক্ষোভ করছে এই হিংস্র নরপশুটার আগমনে। ওদিকে আমেরিকার সেনেটে সে কী উল্লাস-

আমেরিকা নামের দেশটার মালিক আসলে কী ইজরায়েল?

মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঘৃণ্য ব্রাহ্মণ্যবাদ, মমতা ব্যানার্জী ও রাজ্যের মুসলমান সম্প্রদায়

 


বিজেপির রাজনৈতিক ন্যারেটিভ কি?


হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়, কারন আগামী দশ বা বিশ বছরের মধ্যেই নাকি গোটা ভারত মোল্লাদের হাতে চলে যাবে, তারা সংখ্যাতে এতো বেশী বাড়ছে। অতএব বিজেপিকে ভোট দাও, RSS কে আর বেশী শক্তিশালী করো।

RSS এর সফট হিন্দুত্ববাদী ও মুসলমানকে অশিক্ষিত হাঙ্গামাবাজ দুধেলগাই বানাবার প্রধান মুখ- মমতা ব্যানার্জী। তোলামূলের আদর্শ বিজেপির ওই উগ্র হিন্দুত্বের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে, আমাকে ভোট দাও নাহলে বিজেপি চলে আসবে। বাইনারি সম্পূর্ণ।

RSS এর ব্রাহ্মণ্যবাদী উচ্চবর্ণের নেতাগুলো উচ্চবর্ণের হিন্দুদের নেতা তো বটেই, পাশাপাশি মুচি চামার বাগদি সহ প্রতিটা অন্তজ্যদের নেতা, আদিবাসীদের নেতা, মুসলমানদের নেতাও তারাই। এর বাইরে নিম্ন বর্ণের কোনো হিন্দু, কোনো মুসলমান, কোনো খ্রীষ্টান যতক্ষণ ব্রাহ্মণ্যবাদীদের লেঠেল ততক্ষণ সে ঠিক আছে; যদি তাদের কেউ নেতা হিসাবে উঠে আসে বা দাবী করে, এই সমগ্র ব্রাহ্মণ্যবাদী সিস্টেম তাকে সাম্প্রদায়িক হিসাবে দাগিয়ে দেবে। উদাহরণ হিসাবে হুমায়ূনই যথেষ্ট।

সমাজে মাত্র সাড়ে তিন শতাংশের কাছাকাছি একটা সম্প্রদায়, মানে যারা এই ব্রাহ্মণ্যবাদী তথাকথিত উচ্চবর্ণ সমাজ- এরা সকল ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করবে। আর এটাই সেকুলারের সংজ্ঞা, এটাই গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য, এটাই রাষ্ট্রবাদীতা। কিন্তু একজন মুসলমান বা একজন হরিজন কিম্বা কোনো খ্রীষ্টান যদি সেই দাবী করে, অমনি সে সাম্প্রদায়িক, সে মৌলবাদী। ব্রাহ্মণ তথা উচ্চবর্ণের হিন্দু হলে সে বাই ডিফল্ট সেকুলার। তারা হেমন্ত বিশ্বশর্মা বা অগ্নিমিত্রা পালের মত প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিলেও- রাষ্ট্রযন্ত্র, আইন, মিডিয়া সেগুলোকে তুচ্ছ হিসাবেই গ্রহণ করে। কারন এই সকল প্রতিষ্ঠানের মাথাতেও ব্রাহ্মণ্যবাদীদেরই ভিড়, স্বভাবতই তারা এ বিষয়ে অন্ধ।

এদিকে বামপন্থী সেলিম, হুমায়ূনের সাথে মিটিং করলে, ISF এর সিদ্দিকি ভায়েরা বক্তিতা দিলে, কিম্বা পূর্ব মেদিনীপুরের রুহুল আমিন নতুন JUP দল খুললেই, সে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক হয়ে যায়। আর এর প্রচারণাটা কে বা কারা করে? ওই ব্রাহ্মণ্যবাদীদের দ্বারা পরিচালিত, তথা ব্রাহ্মণের ঔরসে ‘নিয়োগপ্রথাতে’ যাদের জন্ম, সেই বেজন্মা মিডয়া হাউজ- যেমন আনন্দবাজার, প্রতিদিন, বর্তমান, আজকাল, জি মিডিয়া, রিপাবলিক, এই সময়- এই জাতীয় মিডিয়ার পতিতারা প্রচারের দায়িত্বে থাকে। এর বাইরে কিছু উচ্ছিষ্টভোগী অন্ত্যজ, যারা ব্রাহ্মণ্যবাদীদের পায়ের নিচে থাকাটাকে মোক্ষ মনে করে, তারাও এই প্রোপাাগান্ডার অংশ। এদের ন্যারেটিভ খুব স্পষ্ট- নেতা অবশ্যই ব্রাহ্মণ হতে হবে, নিদেনপক্ষে ক্ষত্রিয়; মুসলমান, বাগদি, আদিবাসী বা হরিজন তাদের স্বজাতির পক্ষে কথা বললেই সেটা সাম্প্রদায়িকতা, সেটাই মৌলবাদ। স্বজাতির মাঝেও তারা কেন নেতা হবে! নেতা শুধু ব্রাহ্মণবাদীদের মধ্য থেকে হবে।

শুরুটা যা দিয়ে করেছিলাম, আগামী সিকি শতকে ভারত নাকি মোল্লাদের দেশ হয়ে যাবে- তাই হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়, এটাই তো বিজেপির একমাত্র ও আদি ইস্যু। তথ্য কী বলছে? জেনে ও শিখে রাখুন, আগামীতে আপনাদের পেশাজনিত কাজে লাগবে, যারা সাংবাদিকতা করে পেট চালান।

তথ্য মোতাবেক আজকের তারিখে দেশের মোট জনসংখ্যার ১১৫ কোটিই হিন্দু, শতাংশের বিচারে যা ৭৯%। মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১৫%, সংখ্যার বিচারে যা ২১.৮০ কোটির আশেপাশে। খ্রিস্টানদের সংখ্যা প্রায় ৩% এর আশেপাশে, যদিও কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী এই সংখ্যা ১০% এরও বেশী, যা ক্রমবর্ধনশীল। গোপন ধর্মান্তরের কারণে বিপুল পরিমান হিন্দু ক্যাথোলিক খ্রীষ্টানে কনভার্ট হয়েছে, যেটা তথ্যে আসেনা। শিখধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, জৈনধর্ম ও অন্যান্য সম্প্রদায়গুলো যথাক্রমে ১.৭%, ০.৭% এবং জৈনরা ০.৪%।

১৯৫১ সালের তথ্য মোতাবেক সদ্য স্বাধীন দেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিলো ৩০.৪০ কোটি, ১৯৬১ সালে এটা পৌঁছায় ৩৬.৭০ কোটিতে। অর্থাৎ, ১০ বছরে বৃদ্ধি ৬.৩০ কোটি। ১৯৭১ সালে হিন্দু জনসংখ্যা ছিলো ৪৫.৩০ কোটি। এই ১০ বছরে বৃদ্ধি ছিলো ৮.৬০ কোটি। হিন্দু জনসংখ্যা ৫৬.২০ কোটিতে পৌঁছায় ১৯৮১ সালে, এই দশকে ১০.৯০ কোটি বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালের জনগণনাতে ১২.৮০ কোটি বৃদ্ধি পেয়ে এই জনসনংখ্যা ৬৯ কোটিতে দাঁড়ায়। ২০০০ সালের জনগণনা অনুযায়ী হিন্দু জনসংখ্যা ৮২.৮০ কোটিতে পৌঁছায়, ১৩.৮০ কোটির বৃদ্ধি সহ। সর্বশেষ জনগননা ২০১১ মোতাবেক হিন্দু জনসংখ্যা ৯৬.৬০ কোটিতে ছিলো, ২০২৬ এর আগত জাতি-জনগননা অনুযায়ী পরিসংখ্যান বিদেরা অনুমান করছেন হিন্দু জনসংখ্যা ১১৫ কোটি ছোঁবে। এই সংখ্যা শুধু জন্মহারেই বেড়েছে এমনটা নয়, নেপাল, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান থেকে আগত হিন্দু শরনার্থী অনুপ্রবেশকারীরাও রয়েছে।

তথ্যের সাদাকোলো হিসাবে মুসলিম জনসংখ্যার ‘গ্রোথ রেট’ কী বলছে!

১৯৫১ সালের তথ্য মোতাবেক সদ্য স্বাধীন দেশে মুসলমান জনসংখ্যা ছিলো ৩.৫০ কোটি, ১৯৬১ সালে এটা পৌঁছায় ৪.৭০ কোটিতে। অর্থাৎ, ১০ বছরে বৃদ্ধি ১.২০ কোটি। ১৯৭১ সালে মোল্লা জনসংখ্যা ছিলো ৬.১০ কোটি। এই ১০ বছরে বৃদ্ধি ছিলো ১.৪০ কোটি। ইসলাম জনসংখ্যা ৮.১০ কোটিতে পৌঁছায় ১৯৮১ সালে, এই দশকে ১.৯০ কোটি বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালের জনগণনাতে ২.৬০ কোটি বৃদ্ধি পেয়ে এই জনসনংখ্যা ১০.৭০ কোটিতে দাঁড়ায়। ২০০০ সালের জনগণনা অনুযায়ী মুসলমান জনসংখ্যা ১৩.৮০ কোটিতে পৌঁছায় ৩.১০ কোটির বৃদ্ধি সহ। সর্বশেষ জনগননা ২০১১ মোতাবেক মুসলমান জনসংখ্যা ১৭.২০ কোটিতে ছিলো, ২০২৬ এর আগত জাতি-জনগননা অনুযায়ী পরিসংখ্যান বিদেরা অনুমান করছেন দেশে মুসলমানের সংখ্যা ২১.৮০ কোটি ছোঁবে।

শেষ ৭৫ বছরে ভারতে হিন্দু বৃদ্ধি পেয়েছে বছরে ১.৭৯% হারে। পাশাপাশি মুসলমানেরা বৃদ্ধি পেয়েছে ২.৪৭% বাৎসরিক হারে। অঙ্কের হিসাবে এইভাবেই যদি চলতে থাকে, ৩২৬ বছর পর দুই সম্প্রদায়ের সংখ্যা সমান সমান হবে। ১৯৫১ সালের নিরিখে ৭৫ বছর ইতিমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে, আগামীতে হিন্দু মুসলমান সমান সমান হতে আরো ২৫১ বছর সময় লাগবে, ২২৭৭ সাল নাগাদ। এই হিসাব আজকের মত স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে ধ্রুবক ধরে ভাবা হয়েছে, গাজার মত নির্বিচারে মুসলিম হত্যা, আসামে বিশ্বশর্মা সরকারের তীব্র ইসলাম বিদ্বেষ, মিয়ানমারের মত রোহিঙ্গা বিতারণ, কিম্বা বাংলাদেশের মত হিন্দু অত্যাচার ও বিতারণ হলে হিসাব এলোমেলো যাবে।

২৫১ বছর আগের, মানে ১৭৭৫ সালের পৃথিবী কেমন ছিলো জানেন? স্বাধীন আমেরিকা তখনও জন্মায়নি, তখনকার ভারত ধীরে ধীরে ঔপনিবেশিক শাসনের দিকে চলে যাচ্ছে, একেবারে রূপান্তরের মাঝখানে থাকা বহুভাগে বিভক্ত একটা ভূখন্ড। আজকের ভারতের কনসেপ্টই ছিলোনা তখন, না ছিলো গণতন্ত্র। ভারতজুড়ে নানান আঞ্চলিক শক্তি, মারাঠা সাম্রাজ্য, মহীশূরের হায়দার আলি, লক্ষৌ, হায়দরাবাদ, বাংলা ইত্যাদি অঞ্চল বিবিধ নবাবদের দখলে। গ্রামাঞ্চলে জোতদার জমিদারদের রমরমা। পুরোনো সাম্রাজ্য ভাঙছে, নতুন শাসন গড়ে উঠছে। দিল্লির মুঘল সাম্রাজ্য ভাঙনের দোর গোঁড়ায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে দেশে, ১৭৫৭ পলাশীর যুদ্ধ ও ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধ জয়ের ফলে, ১৭৭৫ নাগাদ বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা কার্যত কোম্পানির অধীনস্ত। না ছিল রেল, না বাস বা ইঞ্জিন চালিত গাড়ি, না বিদ্যুৎ, না আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা। মানুষ চলাফেরা করত, ঘোড়া, হাতি, পালকি, গরুর গাড়ি, নৌকা আর পায়ে হেঁটে। শিক্ষা বলতে পাঠশালা, মাদ্রাসা আর টোল।

আগামী ২৫১ বছর পর, ২২৭৭ খ্রীষ্টাব্দে তৎকালীন সভ্যতা ও বিজ্ঞান আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে কেউ জানিনা, কিন্তু সেই দিনটার ভয় দেখিয়ে আজকের শিক্ষা, আজকের স্বাস্থ্য, আজকের রোজগার, আজকের প্রয়োজনীয় সব দাবিদাওয়া ভুলিয়ে দিয়ে ‘হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়’ বীজমন্ত্র জপিয়ে উলঙ্গ ভোটের রাজনীতি করছে বিজেপি- ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে। আর এই বিজেপিকে রুখতে আপনাকে তোলামূলের চোরগুলোকে ভোট দিতে হচ্ছে, যারা বিজেপিকে রাজনৈতিক জমি দিয়েছে ঘৃণা চাষের জন্য। নিজেকে চার অক্ষরের বোকা বলে মনে হয়না আপনার?

হ্যাঁ, মুসলমাদের এই বৃদ্ধিতে ব্রাহ্মণ্যবাদী RSS এর উচ্চবর্ণের নেতৃত্ব ভয় পেয়েছে বৈকি। ১৯৫১ সালে তাদের জনসংখ্যা ছিলো ওই ৫% এর কাছাকাছি, আজ ২০২৬ সালে সংখ্যাটা কমে সাড়ে তিন শতাংশ হয়ে গেছে। আদতে সংখ্যালঘু হয়ে, এই নিকৃষ্ট ব্রাহ্মন্যবাদীরা রাষ্ট্রের সমস্ত শাঁসালো পদ দখল করে বসে আছে। তারাই সকলের নেতা হয়ে বসে আছে। এরাই জন্মগত সেকুলার, এরা রাষ্ট্রবাদী এবং এরাই একমাত্র গণতান্ত্রিক। আপনি মুসলমান, নেতা হতে চাইলেই এই কায়েমি গোষ্ঠীটা আপনাকে মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক, সমাজবিরোধী এমনকি রাষ্ট্রবিরোধী বলে দাগিয়ে দেবে- আর এর জন্য কোনো প্রমাণ বা তথ্যের দরকার নেই, তাদের মুখের কথাই যথেষ্ট।

বিজেপি শয়তান এতে সন্দেহই নেই, কিন্তু মমতা ব্যানার্জী কি? দিনের শেষে তিনিও তো সেই RSS এরই নেত্রী। সাচার কমিটির রিপোর্ট ফেরি করে উনি মসিহা সেজে মুসলমানের ভোটে ক্ষমতার সিংহাসনে চড়েছিলেন, ওনার ১৫ বছরের রাজত্বে সরকারী চাকরিতে মুসলমানের সংখ্যা আরো আরো কমেছে। মুসলমানের মাথাপিছু রোজগার কমেছে, মুসলমানের ফ্যাক্টারি ও বড় ব্যবসা গুলো বন্ধ করিয়ে দিয়েছে, মুসলমানের সামাজিক সুরক্ষা কমেছে, OBC সংরক্ষণে মুসলমানদের পথে বসিয়েছে, ওয়াকফের বড় একটা সম্পত্তির অংশ ১ নং খতিয়ানে তুলে দিয়েছে।

বিজেপি জুজু দেখিয়ে সারাক্ষণ ভয়ের পরিবেশ টিকিয়ে রাখার জন্য মুসলমানের প্রশাসনিক হয়রানি বাড়িয়েছে। মুসলমান ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার WBCS অফিসার বাড়লে তার ক্রেডিট আল-আমিন মিশন জাতীয় একান্ত ইসলামিক সংগঠন গুলোর সৌজন্যে, মমতা ব্যানার্জীর কোনো কৃতিত্ব নেই। ওনার কৃতিত্ব ওয়াকফের টাকায় ইমাম ভাতা দিয়ে, সেটার উল্টোপিঠে পুরোহিত ভাতা দেওয়া ট্যাক্সের টাকায়। রেডরোডে ঈদের নামাজ হতো যেহেতু, পালটা হিসাবে সেখানে দুর্গা কার্নিভাল হওয়ানো। ট্যাক্সের টাকায় গুচ্ছের মন্দির বানানো, ক্লাবে ক্লাবে পুজোর জন্য টাকা উড়ানো। ওনার অবদান এটুকুই। মালদা মুর্শিদাবাদে একটা নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অদধি করেনি, যাতে সম্প্রদায়টা একটু উন্নত হয়; অবশ্য উন্নত হলে তাদের মানে ব্রাহ্মণ্যবাদীদের হয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াই করবে কে!

কিছু সময় বাদ দিলে, গত ১৫টা বছর ধরে রাজ্যের সংখ্যালঘু দপ্তরের মন্ত্রী, ব্রাহ্মণ মমতা ব্যানার্জী। তিনিই মুসলমানদের মসিহা সেজে সম্প্রদায়ের নাম দিয়েছে দুধেলগাই, আজকাল আবার ‘ওই ২৭%’ বলে তাচ্ছিল্যের ডাক ডাকেন উনি। তার বিধানসভায় বিজেপির অগ্নিমিত্রা মুসলমান সমাজকে ক্রিমিনাল বললেও তার মুখে সেলোটেপ বাঁধা থাকে, আসলে ২৯৩টা RSS এর সদস্যের একটা হাউজে কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিক্রিয়া দেবেন? এখানে দুজনেই RSS কর্মী, সহকর্মী নেত্রীর বিরুদ্ধে বললে নাগপুরে কৈফিয়ত দিতে পারবেন উনি? ব্রাহ্মণ স্পিকার বিমান ব্যানার্জী কী অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য বিধানসভার কার্য বিবরণী থেকে বাদ দিতে পেরেছেন? সারাবছর তিনি RSS এর মন্দির রাজনীতির বাস্তবায়ন করেন, পরিকল্পিত দাঙ্গা লাগান যাতে মুসলমান ভয়ে থাকে। আর ভোটের আগে মাথায় হিজাব বেঁধে ভড়ং সেজে, মুসলমানকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ময়দানে নামিয়ে দেয়, লুঠপাঠ মারামারি করে তোলামূলকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে।

শেষ ১৫ বছরে যতগুলো রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী মরেছে মুসলমান, পরিবারগুলো সর্বশ্রান্ত হয়েছে। এছাড়া মৃতের তালিকাতে নিম্ন বর্নের হিন্দু আছে, কিছু আদিবাসীর দেখাও মেলে; কিন্তু ১টা মৃত এমন দেখান, যিনি ব্রাহ্মণ। অথচ তোলামূলের মন্ত্রীসভা থেকে দলীয় পদের দিকে তাকান, সেখানে মুসলমান প্রায় নেই, থাকলেও ফিরহাদ হাকিমের মত- ‘গুড মুসলিম’। নেহাত SC, ST OBC সংরক্ষিত আসনগুলিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতিনিধি ও রাজ্য জুড়ে ১১০টা মুসলিম ভোটার অধ্যুষিত আসনে মুসলমানদের মধ্যে থেকেই প্রার্থী দিতে হয় বাধ্য হয়ে, নতুবা উনি সেখানেও দক্ষিণ কোলকাতার ব্রাহ্মণ সন্তানদেরই দাঁড় করাতেন, যিনি RSS এর প্রো-হিন্দুত্ববাদের ধ্বজাধারী।

রাজ্যে ২৭% মুসলমান, সেই হিসাবে ২০২১ সালের তোলামূলের ২৯১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭৮ জন মুসলমান হওয়া উচিৎ ছিলো, টিকিট পেয়েছিলো ৪২ জন। স্বভাবতই তোলামূলের ২২৩ জন MLA এর মধ্যে, ৬০ জন মুসলমান না থেকে, রয়েছে ৪১ জন। ৪৪ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১২ জন মুসলমান থাকার বদলে আছে তার অর্ধেক, মাত্র ৬ জন। এই হচ্ছে মমতা ব্যানার্জীর মুখ ও মুখোশ।

বিজেপি আর তোলামূল আলাদা কেউ নয়, দুটোই RSS এর শাখা, একটা মুখ অন্যটা মুখোশ। তাই তোলামূলের বিকল্প কখনও যেমন বিজেপি হতে পারেনা, তেমনই বিজেপি আসুক বা না আসুক- উগ্র হিন্দুত্ববাদ তথা RSS নামের ক্যান্সারের এর বিস্তার থামবেনা তোলামূলের রাজত্বে। গত ১৫ বছরে অফিসিয়ালি ১৫৭% বৃদ্ধি পেয়েছে RSS এর নানান খোঁচর সংস্থা গুলো, যারা সমাজে বিষ ছড়াবার কাজ করে। আপনার ভিতরে সুখের অর্গাজম হচ্ছে, কারন CPM জিরো। এদিকে সেই জিরোর সুবিধা নিয়ে গোটা রাজ্যে RSS এর ১,৪৯২টি শাখা, ৮০০টি মিলন ইউনিট এবং ৩০০টি মণ্ডলী রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে গজিয়ে উঠেছে। ব্লকের হিসাবে ৩৪১টির মধ্যে ২৬২টিতে তাদের অস্তিত্ব রয়েছে। যারা বিজেপি ও তোলামূল উভয়ের জন্যই কাজ করে। এরা চুড়ান্ত ব্রাহ্মণ্যবাদী, নিম্নবর্ণের হিন্দুদের লেলিয়ে দেয় মুসলমানের সাথে, কিম্বা নিজেদের মধ্যে মিথ্যা কারনে লড়াই করায়, যাতে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা ক্ষমতায় টিকে থাকে। কিন্তু আপনি জানেন CMP জিরো, আর সেই সুখেরই তো ঠিকানা নেই, বাকি কিছু ভাবার সময় কোথায়! 

আপনার নেতা কে হবে আপনি ঠিক করুন। উমা ভারতী, স্বাধ্বী প্রজ্ঞা বা যোগী আদিত্যনাথেরা যত গেরুয়া বস্ত্রের ভেক ধরে মূল ধারার রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার চাষ করবে, তারই উল্টো পিঠে মিমের আসাউদ্দিন ওয়েইসি, ISF এর নৌসাদ কিম্বা সদ্য গঠিত JUP এর রুহুল আমিনেরাও মাথায় ফেজ টুপি পরে মুসলমানদের নেতা হিসাবে আবির্ভুত হবেই। গত ১৫ বছর ধরে মুসলমানেরা ব্রাহ্মণ মমতা ব্যানার্জীকেই তো নিজেদের নেতা মেনে এসেছিলো, তাতে উনি কী দিয়েছেন? ওয়াকফের সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছেন, মুসলমানের সন্তানকে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক বানিয়েছেন, গোটা সম্প্রদায়কে দুধেল গাই বানিয়েছেন, গুন্ডা আর তোলাবাজ সিন্ডিকেটের লুঠেরা বাহিনী বানিয়েছেন, আর সর্বক্ষণ বিজেপির ভয় দেখিয়েছেন। আজ হুমায়ূন যদি বাবরি মসজিদের নামে নেতা হয়ে যায়, সেই দায় একমাত্র মমতা ব্যানার্জীর।

মুসলমান সমাজ ওনাকে নেতা হিসাবে মেনে নেওয়ার সাথে সাথে, ঢেলে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতাতে টিকিয়ে রেখেছিলো দেড় দশক। তাতে বিপুল চুরি চামারির শেষে মুসলমানদের জন্য কী করেছেন? বিজেপিকে তাড়াতে গেলে আগে তোলামূল তাড়ান, নতুবা আপনার কোনো ভবিষ্যৎ নেই, আতঙ্কে, দাঙ্গায়, অশিক্ষায় আর দারিদ্রের সাথে পদদলিত হয়ে, ব্রাহ্মণ্যবাদীদের দাস হয়ে বেঁচে থাকা ছাড়া বিকল্প নেই।


সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মিথ্যা মামলাঃ ফ্যাসিস্ট শাসকের অস্ত্র

 


‘বাটন’ নামের ভিডিওটি যে বানিয়েছে সেই ছেলেটিকে চিনতামনা, না আগে তার রিল/ভিডিও দেখেছি। তাই এর চরিত্র ভাল মন্দের বিষয়েও কিছুই জানিনা। স্বভাবতই সে নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য থাকতে পারেনা, নেই ও। দেশে আইন আদালত রয়েছে, বিচার করাটা তাদের কাজ। তাই প্রাইমাফেসি দেখে, আমি যেমন ছেলেটিকে নির্দোষ বলতে পারিনা, দোষীও বলতে পারি কী? কোন এভিডেন্সের এগনেস্টে বলবো? অভিযোগকারিনী মেয়েটির মিডিয়া জবানবন্দির প্রমানে?

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-এর ডেটা অনুযায়ী, সমস্ত IPC/BNS মামলার প্রায় ২৩%ই মিথ্যা fabricated মামলা। এগুলো হয়রানির উদ্দেশ্যে বিদ্বেষপূর্ণভাবে দায়ের করা হয় পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার করে। প্রমানিত হওয়ার আগেই লকাপ বা জেলের ভিতরে ঢুকিয়ে রাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর মধ্যে ব্যাক্তিকে অত্যাচার করা হয়। ২০২০ সালের ডেটা অনুযায়ী, ৪৯৮এ পণপ্রথা সংক্রান্ত ১৪.৪% মামলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কারণ সেগুলো মিথ্যা হিসাবে প্রমানিত হয়েছিলো। ধর্ষণ, মানে ৩৭৬ ধারার ১৭%ই মামলাই পুলিশের সাজানো মিথ্যা তথ্যের জুয়াচোরি

উদাহরণ হিসাবে, রাজস্থানের ৪১%-৪৫% পর্যন্ত মামলাই ভুয়ো হিসাবে প্রমাণ হয়েছে আদালতে। ২০২৩ সালের NCRB প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষ ১৫ বছরে মিথ্যা অভিযোগের অনুসারে পুলিশের দাখিল করা মিথ্যা ও সাজানো ভুয়ো fabricated মামলা ২৬.৭% বৃদ্ধি পেয়েছে গোটা দেশেএই হচ্ছে সমাজের আয়না, শাসক তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নিজের নাগরিককেই মামলার ফাঁদে ফেলে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করছে। ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্যে রচিত সাংবিধানিক আইনের ধারা, অস্ত্র হিসাবে ব্যবহৃত করছে শাসক।


অভিযোগকারীনি মেয়েটির মেডিকেল টেস্টের রিপোর্ট কি আজ অবধি আদালত দেখেছে? মেয়েটি ক্যামেরার সামনে সেই রিপোর্ট দেখিয়েছে? না, দেখায়নি। মেয়েটিকে সারারাত বেঁধে রেখেছিলো, তার নাকি ফোন কেড়ে নিয়েছিলো, ইত্যাদি। স্বভাবতই তার বাড়ির লোকজন মেয়েটির সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি, তারা কি সেই রাত্রে নিকটবর্তী থানায় নুন্যতম একটা ‘GD’ করেছে? দীর্ঘদিন কোর্টে যাতায়াত ও আইনজীবি বন্ধুদের থেকে জানার সুবাদে যেটুকু বুঝলাম, মেয়েটি তো ফার্স্টক্লাস ম্যাজিস্ট্রেটকে গোপন জবানবন্দি দেবে, বিচার পাওয়ার জন্য এটাই নিয়ম। তা না করে শুরুতেই মিডিয়া ট্রায়ালের জন্য একটা জনমত তৈরির চেষ্টা শুরু করেছে, যেটাকে ভিক্টিম কার্ড বলে। রেপ হয়ে থাকলে ভ্যাজাইনাল টেস্ট করতে হয় ৭২ ঘন্টার মধ্যে, যেটাকে ফরেনসিক পরীক্ষার ভাষাতে SATU বলা হয়। সেটা করা হয়েছে? যেহেতু মেয়েটি ও ছেলেটি উভয়েই পরিচিত, তাই TI প্যারেড বিষয়টাকে নাহয় বাদ দিলাম। আমার এতো কিছু গল্প করার উদ্দেশ্য- ছেলেটি দোষী হতেই পারে, কিন্তু মেয়েটি যে অসাধু উদ্দেশ্যে এই মিডিয়া ট্রায়াল করাচ্ছে, সেটাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।

তবে হ্যাঁ, ছেলেটিকে এ্যারেস্ট না করলেই আশ্চর্য হতাম। মলেস্টের বিষয়টা যদিবা নাও আসতো, অন্য কিছুনা কিছু একটা আসতই, কারন শাসকের বিরুদ্ধে কথা বলেছে, একে নমুনা হিসাবে শাস্তি না দিলে, কাল অন্য আরেকজন বলবে, পরশু আরেকজন। ক্ষমতা কখনও বিরোধীতা পছন্দ করেনা। স্বভাবতই, ওই মলেস্ট ইত্যাদির গল্প গাধার ওখানে না পাঠাতে পারলে, নিজেরটাতেও ভরে নিতে পারেন। হাগেন তো মুখ দিয়ে, আপনার ওটা কোন কাজেই বা লাগে!

কাল হয়ত আমি, পরশু আপনি, এভাবেই কাউকে গাঁজা কেসে, কাউকে মলেস্ট কেসে- ভরে দেবে। ওদিকে এই নপুংসক পুলিশের ক্ষমতা নেই ১৩ পাওয়া BDO, প্রশান্ত বর্মনের নাগাল পায়। ৫০ জন মানুষ পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও এদের ক্ষমতা হয়না সেই WOW মালিকদের লোমের ডগা ছুঁতে। এটাই আজকের পুলিশ প্রশাসনের স্ট্যান্ডার্ড।

কটা দিন প্রতীক্ষা করুন, তোলামুলের প্রার্থী তালিকা ঘোষনা করলেই, কমপক্ষে ৮০ জন সিটিং বিধায়ক টিকিট পাবেনা আগামী নির্বাচনে, তার বাইরেও তোলাবাজদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কম কিছু নেই। পরিস্থিতি কী হবে সেটা জানে i-Pac, প্রতিটা পঞ্চায়েতে কুকুর কেত্তন শুরু হওয়া সময়ের অপেক্ষা, হ্যাঁ ভোটের আগেই। তখন দেখবেন এই পুলিশকেই কেমন ফেলে ক্যালান দিচ্ছে তোলাবাজদের নানান গোষ্ঠী।

তোলামুল ভয় পেয়েছে, চরম ভয় পেয়েছে, ক্ষমতা চলে যাওয়ার ভয়, হারামের সম্পদ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ভয়, জনগণের ক্যালানি খাওয়ার ভয়, পালিয়ে বেড়াবার ভয়, জনরোষের ভয়, তোলা সিন্ডিকেট ভেঙে পরার ভয়। আর তার জন্য এই পঞ্চায়েতে পঞ্চায়েতে সম্ভাব্য অশান্তি রুখতে রুখতে আইন প্রণয়ন করলো রাজ্যসরকার। ২০২৬ জুলাইয়ের আগে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের কোথাও অনাস্থা আনা যাবে না।

প্রসঙ্গত, জেলা পরিষদের ১০০%, পঞ্চায়েত সমিতির ৯২% ও গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮০% তোলামূলের চোর বাহিনীর দখলে আছে।

তোলামুল ভয় পাচ্ছে, আরো ভয় পাবে, রোজ এই ভয় বাড়বে। সাহস করে শুধু বলতে হবে, মেরুদন্ডটা আরেকটু শক্ত করতে হবে, বিশ্বাস করুন এরা নুনের মত গলে যাবে, কারন এরা কাপুরুষের দল, দুর্নীতিগ্রস্থ পুলিশ আর প্রশাসন দিয়ে জঙ্গলের শাসন চলছে। চোরেদের বিরুদ্ধে আমার আপনার গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের ভাষা যদি বিজেপি বা অন্য কারো সাথে মিলে যায়, মিলতে দিন। বিজেপি বিরোধিতা করতে গিয়ে কি আমি শ্বাসবায়ু হিসাবে ওজোন বা সালফাইড গ্যাস নেব, অক্সিজেনের বদলে? যুক্তির হিসাবে বিজেপিও অক্সিজেন নেয়, তাই আমি অক্সিজেনে যাবনা! এই প্রশ্নগুলোও শাসকের নানান ভাতাজীবী গোষ্ঠী, মিডিয়ার দালালেরা তুলবে, যাতে আমি আপনি আওয়াজ না তুলি।


আওয়াজ তুলুন, কতজনকে জেলে ভরবে?

 

 


বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

এতো কূনাট্যের কারন কী?


 বাঁশ, তুঁষ, শুকনো পাতা, এমনকি শুকনো আবর্জনা বা ধানের ভুষি দিয়ে চুলো জ্বালাবার পরেও, আগুনকে বারবার খোঁচাতে হয়, নতুবা সেই আগুন ক্রমশ ছাই এর নিচে চাপা পরে নিভে যায়; এই অভিজ্ঞতা আমাদের অনেকেরই রয়েছে। ছাই চাপা আগুনের নিচে যে অবশিষ্ট কার্বন থাকে তা অক্সিজেনের সংস্পর্শ না পেলে নিভে যায়।

SIR ইস্যুতে তোলামূল বিভিন্নভাবে খোঁচাবার চেষ্টা করেছে, বিশেষ করে মুসলমান পাড়াতে। সেই ২০২১ এর মতই এটা NRC ই হতে চলছে, নামটা শুধু আলাদা। এই যে তোমার শুনানিতে তোমার ডাক পড়েছে - একবার উপস্থিত হও, তাহলেই বুঝতে পারবে যে আইবুড়ো ভাতের মত শেষ বার তুমি ভারতীয় হিসেবে ভাত খাচ্ছ, তারপর সোজা NRC ক্যাম্প। মানেটা দাঁড়ালো কী! তোলামূল ও তাদের মগজ i-Pac বারবার খোঁচাখুঁচি করে বাইরে থেকে অক্সিজেন সাপ্লাই করার চেষ্টা করেছে ‘ভয়ের ভাটিতে’, কিন্তু মেটেরিয়াল এর মধ্যে উপযুক্ত পরিমাণ ‘কার্বন’ নেই বলে, হাজার অপচেষ্টা সত্বেও বাংলার বুকে অশান্তির আগুন জ্বালাতে পারেনি তোলামূল সুপ্রিমো।

গতকাল সুপ্রিমকোর্টে মান্নীয়া ও তাঁর দলবল, একগাদা মিথ্যার মাঝখানেও স্বীকার করে নিয়েছে- SIR এ তাদের কোন আপত্তি নেই, শুধু সেটা যেন ২০২৬ ভোটের পরে হয়। সাধারণ মানুষের জন্য মান্নীয়া দিল্লী যায় নি, কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন- যেন ২০২৪ এর ভোটার লিস্ট ধরে ছাপ্পাটা মারা যায় এটা নিশ্চিত করতে।

মান্নীয়া নিজে দুর্নীতির গু এর ট্যাঙ্কে ডুবে রয়েছেন আপাদমস্তক। ওয়াকফ সম্পত্তির কেসে মাত্র পাঁচ দিন আগে সরকার থেকে নোটিশ দিয়ে সমস্ত সম্পত্তি আপলোড করতে বলার দরুন, মুসলমান সম্প্রদায়ের বিপুল সম্পত্তি জেলাশাসকের নামে আপলোড হয়ে গেছে। OBC কে দু ভাগে ভাগ করে দিয়ে এবং বড় অংশের উচ্চবর্ণের হিন্দুকে এর সাথে জুড়ে দিয়ে রাজ্যজুড়ে মুসলমানের যেটুকু সুবিধা ছিল তাকে কেড়ে নেয়া গেছে। দুই ক্ষেত্রেই মুসলমানকে পথে বসাতে পেরেছেন RSS এর নেত্রী মান্নীয়া ব্যানার্জী। পাশাপাশি RSS এজেন্ডা রূপায়নে, দীঘার মন্দির সহ সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে মন্দিরের বন্যা বইয়ের দেবার একটা প্রকল্প চলছে, একই সাথে ইসকনকে বিপুল সরকারী জমি বিনামূল্যে দান করা হয়েছে, উপরের তিনটেই হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির অংশ, যা RSS চায়। এর পরেও দুধেলগাই এর দল কিন্তু মান্নীয়াকে ভোট দেয়।

SIR এর খসড়া তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে, ইচ্ছাকৃত ভুলভাল করে তোলামূল BLA এর দল, মুসলমানকে রীতিমতো পথে বসিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করেছিলো। ভুল হয়েছে বলেই নির্বাচন কমিশন ডাকতে বাধ্য হয়েছে, যদিও অধিকাংশ ষড়যন্ত্রের ফাঁদ থেকে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে যা কিছু প্রচেষ্টা, তা মুসলমান সমাজ নিজের চেষ্টাতে করছে, যা আগে থাকতে প্রস্তুতি নেবার ফলাফল। এদেশীয় মুসলমানের নাম কাটার ক্ষেত্রে এক নম্বরে বিজেপি থাকলে, দু'নম্বরে অবশ্যই তোলামূল কংগ্রেস।

SIR শুরুর সময় থেকে মান্নীয়া রাস্তায় নেমে নাটক করেছিল, জনগণ ওনাকে গুন্তিতে নেয়নি, নাটক ফ্লপ হয়ে যায়। এরপর যেকোনো মৃত্যুকে SIR এর সাথে ম্যাপিং করার মরিয়া প্রচেষ্টাও জনগণ খায়নি। তোলামূলের ভাতাজীবী খোঁচর জিম নওয়াজ কোর্টে মামলা করেছিলো, কেউ জানেনা তার স্ট্যাটাস কি, মাননীয়াও সেই মামলার পার্টি হয়নি। সিদ্দিকুল্লার রাজভবন অভিযানের খবর পাড়ার নেড়িকুত্তা গুলোও টের পায়নি। পাঁচালীর গাড়ি থেকে ফেরি করা ভয়ে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেছে, অকেজো অস্ত্র। শুনানির প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে, যাকে ডেকেছে, তার ‘আপনা হাত জগন্নাথ’, নিজেকে সেই বিপদ থেকে উদ্ধার পেতে হয়েছে, তোলামূলের কোনো প্রতিশ্রুতি কাজে আসেনি।

মরিয়া ভাইপোর নির্বাচন কমিশনের পায়ে ধরতে যাওয়াটাও এই ক্রনোলজিতেই পড়ে; বাইরে এসে হম্বিতম্বি না করলে তাকে কেউ পালোয়ান বলবে কেন! আসলে পিসির ফেউ হিসেবে নির্বাচন কমিশনারকে কোনভাবে ম্যানেজ করা যায় কিনা সেটা পরখ করতে গিয়েছিলো। পাশাপাশি ভাইপো ইম্মিডিয়েট ভোট ঘোষণা করে দেওয়ার দাবীও জানিয়েছিল, যাতে DA মামলার মুখোমুখি না হতে হয়। কিন্তু জ্ঞানেশ গুপ্তা আগেই বিজেপির হারেমের মক্ষীরানি, তোলামুলের ভাইপোর সাথে নষ্ট হতে সে রাজি হয়নি বাঁধাবাবু ছেড়ে। গুপ্তা মালও বাস্তুঘুঘু, SIR এ গোটা দেশের জন্য এক আইন আর পশ্চিমবঙ্গের জন্য আলাদা আইন করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি।

এদিকে আইপ্যাক (i-Pac) বলে দিয়েছে ২০২৪ সালের ভুয়া ভোটার তালিকা ছাড়া তোলামূলকে কোনমতেই পাশ করানো যাবে না। এই কারনেই মান্নীয়া কোর্টের কাছে গিয়েছে যাতে নির্বাচনটা ২০২৪ সালে ভোটার লিষ্ট ধরে করা হয় সেই অপচেষ্টা করতে, কারন SIR এর ফলে অন্তত ৯৩টা এমন কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে বাদ যাওয়া ভোটারের চেয়ে তৃনমূলের জেতার মার্জিন কম। তাই ভুয়ো, মৃত, অবৈধ ও ভুতুরে ভোটার ছাড়া মান্নীয়ার চোরবাহিনী কোনোভাবেই ২৬শে ক্ষমতায় ফিরতে পারবেনা। তাই তার প্রতিটা অস্ত্রকে রাস্তায় নামিয়ে ‘বিরোধী’ মোডে নিয়ে গেছে নিজেকে, যাতে পুরাতন ভোটার লিষ্ট বাতিল না হয়। পাশাপাশি খানিকটা কোরামিন দেওয়া যায় তোলামূলের তোলাবাহিনী কর্মী ও ভাতাজীবী গুলোকে। এই কারনেই মিডিয়াজুড়ে শুধু মান্নীয়ারই জয়জয়কার, যেন দিগ্বিজয় করে ফিরেছেন, এমন মিথ্যাবলয় তৈরি করা হয়েছে তাদের নিজেদের আত্মবিশ্বাসের অভাব ঢাকতে, কারন দেওয়াল লিখন স্পষ্ট।

পশ্চিমবঙ্গের প্রায় প্রতিটা BLO, তোলামূলের BLA দের দ্বারা সত্যি সত্যি বীভৎস চাপের মধ্যে ছিলেন। শেষমেষ ভাবটা এমন যে, আমি কেন ঝামেলা পোয়াবো, আমাকে তো এদের সঙ্গেই থাকতে হবে সারাবছর। এই ছোট্ট নীতিতে অবলম্বন করে যার নাম যে অবস্থায় এসেছে, সেই অবস্থাতেই BLO আপলোড করে দিয়েছিলো। যারা ডেটা এন্ট্রি অপারেটর হিসাবে কাজ করেছে, তারাও i-Pac এর কড়া নজরদারিতে তোলামূলের ইচ্ছানুযায়ী এই ভুলগুলো করেছে, যাতে গতকাল আদালতের ওই কূনাট্য মঞ্চস্থ করা যায়।

শেষ ১ মাস যাবত ধরে হওয়া হেয়ারিং এ ডাক পাওয়া মানুষের জিজ্ঞাসাবাদ করাটাকে, রাজনৈতিক লাভের উদ্দেশে সবার আগে তোলামূল ‘হয়রানি’র নাম দিয়েছে। বিজেপির নাম ইচ্ছা করে নেওয়া হলো না, তার কারণ পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি বলে কোন রাজনৈতিক দলই নেই, তাদের অস্তিত্ব শুধুমাত্র টিভি, অন্যান্য মিডিয়া ও হাওয়াতে। তাদের ভোটব্যাঙ্ক সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত হয় তোলামূল তথা i-Pac দ্বারা যারা নাগপুরের সংবিধান অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে। আপাতত i-Pac, এই SIR শুনানি পর্বে বিজেপিকে গণশত্রুতে পরিণত করে দিয়ে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর রাজ্যের যে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ছিল তা খানিকটা ঘোলাটে করে দিতে সক্ষম হয়েছে। এপস্টিন ফাইলে নাম উঠে যাবার পরও যে নির্লজ্জ ব্যক্তি পদ আঁকড়ে বসে থাকে, তার পক্ষে গোটা দেশের কোন দুর্নীতি বিরুদ্ধে বলা সম্ভব নয়।

হেয়ারিং পর্বের শুরুতে BLO কেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ডকুমেন্ট ভেরিফাই করে আপলোড করার জন্য, একটি বড় অংশের BLO অথবা তাদের নিয়ন্ত্রক i-Pac পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে, ডকুমেন্ট ভেরিফাই করে আপলোড করার পরিবর্তে শুধুমাত্র ডকুমেন্ট ভেরিফাই বা সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে লিখে দেয়- যা মেশিন কোনোমতেই মানেনি। ফলত পাইকারি হারে শুনানিতে ডাক পড়েছে।

শুনানি থেকে ফেরত আসা প্রতিটা ব্যক্তি বুঝে গেছে যে, ওখানে কোন জুজু বুড়ি নেই। যতটা ডকুমেন্ট নিয়ে গেছে বিশেষ করে মুসলমান, তাতে তার মনে অন্তত এইটুকু বিশ্বাস জন্মেছে যে তার নাগরিকত্ব যাবেনা। ৩০ লাখ আন-ম্যাপিং ব্যক্তির মধ্যে যাদের নাম থাকবে না, তারা নিজেরাই বুঝে গেছে। একদম রঘু ডাকাত মালগুলো, যারা সংখ্যাতে প্রায় তিন লাখ, তারা নিজে থেকে আসেনি। যারা চুরি করে ম্যাপিং করেছিলো, তাদের মধ্যেও একটা বড় অংশ যে নাম রাখতে পারবে না সেটাও বুঝে গেছে। ১৩টা ডকুমেন্টের বদলে যারা উল্টোপাল্টা ডকুমেন্টস জমা করেছে হেয়ারিং এ, তাদের নামও ফাইনাল তালিকাতে থাকবেনা, লিখে নিন। পদবীর বানান ভুল, মধ্যম নাম থাকা বা না থাকা, আধার-ভোটার নামের মিসম্যাচ ও পিতা-পুত্রের নামের মিসম্যাচ- এই ক্যাটাগরি কটা ছাড়া বাকি যাদের ডাকা হয়েছে তারাও বেশিরভাগ নাম রাখতে পারবে না। মিসম্যাচ ক্যাটাগরিতে যে ৮৫ লাখকে ডাকা হয়েছে, তাদেরও কমপক্ষে ১০% এর নাম কাটা যাবেই, সেখানেও বিরাট একটা জুয়াচুরি রয়েছে ভুয়ো ভোটারদের।

তোলামূল সরকারের পে-রোলে থাকা তথাকথিত ‘ল্যে-ম্যান’, ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েটর’ কিম্বা ‘অরাজনৈতিক কিন্তু দিদিকে ভালো লাগে’- এমন সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সারেরা শুনানিতে ডাক পাওয়া মাত্র প্রথমে রাউন্ডে ফুটেজ খেয়ে নিতে কসুর করেনি। সমাজ তাকে মেনে নিক বা না নিক, তোলামূল/I-Pac থেকে আসা ভাতা বন্ধ হয়ে যাবার ভয় ছিলো রিলমারানীদের। অতএব সবার আগে নিজের হেয়ারিং ডকুমেন্ট এর ছবি সোস্যাল মিডিয়াতে আপলোড করে খানিকটা হেগে ফেলো, ভাইপোদাকে ট্যাগ করে। বাইচান্স মিনি সেলিব্রিটি হয়ে গেলে লাইভে এসে নিজের বংশের প্রাচীনত্ব প্রমাণ করার জন্য মেসোপটেমিয়া হরপ্পা মহেঞ্জোদারো যুগ থেকে বক্তব্য শুরু করে, যতটা পারা যায় ততটা লম্বা হ্যাজ নামানো। শেষ একমাসে চুম্বকে এটাই ছিলো রিলমারানীদের রোজনামচা।

মানুষের নাগরিকত্ব বিশাল বড় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, অতএব নির্বাচনকে শিয়রে রেখে এখনই এই কাজ করতে হবে, যাতে গত সরকারের পাঁচ বছরের প্রতিশ্রুতি এবং তা রূপায়ন নিয়ে কোন কিছু প্রশ্ন করা বা আলোচনার অবকাশ না থাকে জনগণের কাছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এমনই একটা পরিবেশ তৈরি করার অপচেষ্টা করা হয়েছিলো, এটা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে গেছে আজ। পাতি বাংলাতে, SIR কে সামনে রেখে জনগণকে আতঙ্কিত করে অতীতের যাবতীয় অপকর্ম চাপা দেওয়া এবং সেই ফাঁকতালে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা চালাচ্ছে দিল্লি বিজেপি।

নির্বাচন তালিকা পরিষ্কার হোক এবং এর মাধ্যমে সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক উপায়ে একটি সত্যি কারের জনগণের সরকার ক্ষমতায় আসুক- এই দাবি সবার আগে তুলেছে বামেরা এবং তাদের এই দাবির সাথে সহমত পোষন করেছে রাজ্যের বেশিরভাগ সুস্থ মানুষ। একই সাথে, SIR এর নামে জনগণের হয়রানি, মানসিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সর্বপ্রথম যারা আদালতের দারস্থ হয়েছিলো, সেই মুস্তারি বানু ও তার আইনজীবি সব্যসাচী চ্যাটার্জির রাজনৈতিক পরিচয় যে হার্ডকোর সিপিএম- সেটা জৈষ্ঠের সূর্যের মতই প্রকাশিত।

তারপরেও তোলামূলের সুরে সুর মিলিয়ে বামেরা এরকম মিনমিনে দিশেহারা পরিস্থিতিতে পড়েছে কেন, ভাবলে অবাক হচ্ছি। দোষটা যে কেন্দ্রের শাসক বিজেপি, তাদের নিয়ন্ত্রক নির্বাচন কমিশন, রাজ্যের শাসক তোলামূল, তাদের বুদ্ধিদাতা সংস্থা i-Pac এর। এদের পরিচালিত একটা বড় অংশের সাদা খাতার BLO, তোলামূলের BLA আর তাদের নিয়ন্ত্রিত ডেটা সেন্টার- এই সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল এই নৈরাজ্যের পরিস্থিতি, এটা পরিষ্কার করে মানুষের সামনে বলতে অসুবিধাটা কোথায়? আলিমুদ্দিন এমন ‘মিলে সুর মেরা তুমহারা’ রিংটোনে কথা বললে, রাজ্যের সভ্য ভদ্র শিক্ষিত ও গরিব মুসলমান- এইরকম দুঃসহ অবস্থাতে তোলামূলকে ছেড়ে যাবে কোথায়?

গতকাল মান্নীয়ার কোর্টেরুম সার্কাসের পর আজকে আলিমুদ্দিন স্বাভাবিকভাবেই প্রকাশ করতে চেয়েছে যে- আসল মামলাকারী আমাদেরই পার্টির মোস্তারি বানু। উদ্দেশ্য মহৎ সন্দেহ নেই, কিন্তু আজকের এই সভাতে মোস্তারি বানুকে আনা যেতোনা, ফোন কলের বদলে? ওনার যে বাস্তব সমস্যা, সেটার ‘রাজনৈতিক এ্যানক্যাশ করার চেষ্টায় আরেকটু যত্নবাণ হওয়া যেতো না কি? মন্দের ভালো এটাই যে- ২৪ ঘন্টার মধ্যেই সাংবাদিক সম্মেলন করতে পেরেছেন, এটাও কম অগ্রগতি নয়।

তোলামূলের এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে যদি সিদ্ধান্তহীনতার নামে আলিমুদ্দিনের আঁধার ঘনিয়ে থাকে; তোলামুলের থেকে ভাগাখোর মিডিয়া যদি এক হুমায়ূন অস্ত্রেই গোটা বাম শিবিরকে পক্ষাঘাত করিয়ে রেখে দেয়, এর চেয়ে বড় অপদার্থতায় আর কিছু হতে পারেনা। আমাদের খেলাটা আমাদের নিয়মেই হবে তো, আমরাই প্লেয়ার বাছব, আমরাই শুরু আর শেষের বাঁশি বাজাবো। এখানে কী হচ্ছে? তোলামূল ও তাদের পেটোয়া মিডিয়া, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবীরা হুমায়ূনের সাথে মিটিং নৈতিকতা প্রশ্নেই আলিমুদ্দিনকে আবার কাছিমের মত খোলসের মাঝে নিজেকে ঢুকিয়ে দিয়েছে, এভাবে মানুষ ভরষা করে ভোট দেবে শুধু গাল ভরা ফাঁপা বুলি শুনে?

প্রতিবারের মত এবারও ‘ভয়’ নামের কুমিরছানাকে দেখিয়ে যদি তোলামূল ভোটের বৈতরণী পার করে যায়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের জন্য এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কিছু হবে না।



নাগপুর ও শিক্ষা দূুর্নীতি

পেপার লিক বা প্রশ্নপত্র ফাঁস কোন বিচ্ছিন্ন দুর্নীতি নয়।  এটা একটা পরিকল্পিত অর্থনৈতিক মডেল যেটা সরাসরি নাগপুর থেকে পরিচালিত হয়। এটার পেছনে...