লেবু পুরাণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
লেবু পুরাণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ২০ মে, ২০১৭

।। রূপচর্চা ।।

(লেবুপূরাণ)
অতঃপর সুজি দিয়া পায়েস রন্ধন করিয়া রোগীনির খাবার পরিবেশন করিবার জন্য প্রস্তুত হইতে লাগিলাম। রোগীনি আমার গৃহিনী, তাহার রুগ্ন হইবার যথাযথ কারণ রহিয়াছে সর্বপ্রথম কারনটি অবশ্যই আমি তাহার ভর্তা। আনুষ্ঠানিক ভাবটি অন্য, কয়েকদিন যাবৎ শ্রীমতী বিঘ্নেশ্বরী দেবী আটা-ময়দা-সুজি ইত্যাদি না মাখিতে পারিয়া, আমার উপর অভিমান স্বরূপ আহারাদি পরিত্যাগ করিয়াছেন। না খাইবার সেই তুমুল প্রচেষ্টার কারনে ক্রমশই সে অসুস্থতার দিকে ধাবিত হইতেছে এদিকে আমি মরিয়া যাই অভাবের তাড়নায়, খাদ্যের প্রয়োজনে আটা-ময়দা-সুজির সংস্থান করিতে না পারিয়া; আর সে মরিতে চায় সেই সকল খাদ্য দ্রব্যাদি মুখমন্ডল ও গ্রাত্রে মাখিতে না পারিয়া।
সে যত পারে গলাধঃকরণ করুক, তাহার খাবার প্রতি আমার কোনো আপত্তি নাই; কিন্তু সেই খাদ্যদ্রব্য মাখিবার নামে অপচয়ের প্রতি আপত্তি রহিয়াছে, এবং ঘোরতর প্রবল আপত্তি। এখন ঘোর গ্রীষ্মকাল, বয়স বাড়িইয়াছে; প্রত্যুষ ১০ ঘটিকার পর রুদ্র রবির দহন তেজে মাথার ব্রহ্মতালু অবধি শুকাইয়া কাষ্ঠলন্যায়, উচ্চরক্তচাপজনিত কারনে এই প্রখর তপ্ত দিবসে বীমাপত্রের মুৎসুদ্দি গিরি করিলে, নামোল্লেখন বলে অচিরেই শ্রীময়ী আমাকৃত বীমারাশির যে মালকিন হইবেন, তাহা বলাই বাহুল্য। অর্থের অনটনে যখন তাহার রূপচর্চার নিমিত্তে আটা-ময়দা-সুজি, মুসুরডাল, বেসন, অন্ড ইত্যাদি প্রভূত দ্রব্য খরিদারি করিতে অসমর্থ হইলাম; তখনই সে অভিমান করিয়া, না খাইয়া, ঝগড়া-ঝাটি করিয়া দিনাতিপাত করিতে লাগিল সাফল্যের সহিত।
সপ্তাহান্তের অভ্যন্তরেই জামাইষষ্ঠী, সুতরাং সেই হেতুই যে এই বায়না তাহা সহজেই অনুমেয়। নাভিকুন্তল উদ্গমের পরবর্তী অধ্যয়ে পুরুষের বয়স উক্ত বস্তুর সমহারে বাড়িতে থাকে, এক্ষেত্রে স্ত্রীধনটি স্বামীর প্রতি যত্নশীল হইলে তাহা পরিচর্যাগুনে দৃশ্যত নিয়ন্ত্রণে থাকে, অন্যথা সমবয়সী হইবা সত্বেও অকাল বৃদ্ধের ন্যায় চেহারার রংরূপ পরিবর্তিত হয়। আমি শ্রী দর্পনারায়ন মল্লিক, ওরফে হাড়কাটা গলির সুবিখ্যাত মল্লিক বাড়ির জ্যেষ্ঠ সন্তান লেবু। বছর দুয়েকের মধ্যেই ধরাভুমে অবতীর্ণ হওয়ার অর্ধশত বৎসর পূর্ণ করিব, গৃহিণী আমা হইতে মাত্র ছয় বৎসরের ফারাকে জন্মগ্রহণ করিয়াছিল, তথাপি আজিকের দিবসে তাহার বয়স ত্রিশের কোঠা অতিক্রম করে নাই ভাবনাতে, মননে যাহা আরো নিন্মমুখী। এদিকে মুংলার কিশোরবেলা মধ্যাহ্নক্রমে। অতএব সহজেই অনুমেয় যে, আসন্ন জামাইষষ্টি উপলক্ষে পিত্রালয়ে গমন হেতু দৃশ্যমান বয়সের মুখে উজ্জ্বল্য আনয়নের ব্যার্থ প্রয়াসের তরে এই সকল মুদিখাদ্যাদ্রব্যাদি বিলাস।
এমতাবস্থায় আমার শ্বশুরকুল্যের বোধোদয় ঘটিল, শ্বশুরমহাশয় স্বয়ং আসিয়া নিজ কন্যাকে স্বগৃহে লইয়া গেলেন। ভাবটি এমনতর যেন, সর্বসাকুল্যে আমার দোষ নির্ধারন করিয়া জনসমক্ষে কর্ণ মলিয়া দিতে চান। শ্বশুর আমার অবসরপ্রাপ্ত, তাহার অবস্থা বর্তমানে আমা অপেক্ষাও অতি দীন, তাই তাহার তুলনায় অবস্থাপন্ন আমাকেই তিনি তাহার একমাত্র কন্যাকে পাত্রস্থ করিয়াছিলেন। সুতরাং ধনী স্বামীর নিকটে রূপচর্চার আবদার করাটা স্ত্রীর মৌলিক অধিকারের অন্তর্গত, এবং সেটা পূরণ করাই যেন স্বামিদিগকের একমাত্র দায়িত্ব  কিন্তু এই চল্লিশ উত্তীর্ণ জীবনে সেই কিশোরী রূপের আনয়ন কিভাবে সম্ভব?
আমার স্ত্রীকে আমি প্রচণ্ড ভালোবাসি নিঃসন্দেহে, কিছুটা স্ত্রৈনও বটে; তাই গৃহে তাহার অভাবে অন্তরে অন্তরে কাঁদিয়া-কাঁটিয়া বেড়াইতেছিলামতাহাকে পিত্রালয় হইতে আনয়নের উদ্দেশ্যে যতবার ভেউভেউ করিয়া কাঁদিতাম সেই অকুস্থলে; তৎক্ষণাৎ তিনি রুদ্ররূপিনী সাজিয়া আমাকে ঘেউঘেউ করিয়া তাড়াইয়া দিত। এদিকে গৃহ আমার প্রতিক্ষনে চুরান্ত অগোছালো অবস্থার মধ্য দিয়ে প্রায় ভাগারে রুপান্তরের দশা উপস্থিত হইল। অবস্থার বেগতিক দেখিয়া আমি বুদ্ধি আঁটিলাম যে, পুরাতন মুখমন্ডল পরিষ্কারক চুঙ্গিতে আমার সমস্ত ক্রন্দনের জল আর তরল নাকের সর্দি জমা রাখিব এবং উহাই ভেষজ ও প্রাকৃতিক উপাদান বলিতা তাহার সম্মুখে উপহার স্বরূপ প্রদান করিব। তাহাই করিলাম, চুঙ্গিটি পূর্ণ হইলে বিদেশী প্রযুক্তির দেশীয় মুখমন্ডল পরিষ্কারক আনিয়াছি ইত্যাদি বলিয়া তাহাকে আনিয়া লইলাম বটে; তবে কথা লইয়াছিল তাহার আটা- ময়দা-সুজির-ডিম্ব-মুসুর দানা ইত্যাদির অভাব অপূর্ণ রাখা যাইবেনা। তৎক্ষণাৎ মনে মনে ভাবিলাম, প্রয়োজনে দশ টাকা দিয়া এক প্যাকেট চক(খড়ি) কিনিয়া তাহা পিষিয়া তাহাতে দুফোটা সুগন্ধী মিশাইয়া পাউডার বলিয়া চালাইয়া লইব। কারন পোড়া মুখে খড়ি হউক বা ল্যকমে , ফলাফল সেই একই। আর বৌ এর রোগটাও যখন মানসিক, সেক্ষেত্রে এটাই যথেষ্ট। অতএব, আমি বলিলাম, আচ্ছা-তাহাই হইবে। যাহাই হউক, বাড়িতে ফিরিয়া মুখমন্ডল পরিষ্কারক পাইয়া অতি খুশিতে বউ আমার লক্ষী হইয়া উঠিল, নিত্যদিন মনের আনন্দে সেই ফেসওয়াস মাখিয়া চলিল; কিছুটা আক্ষেপ ছিল , ইহাতে নাকি কোন খুশবু নেই।
আমি অতি ক্লেশে দিনের খাবার দিনে যোগাড় করিয়া যাই, পায়ের ঘাম মাথায় তুলিয়া সারাদিনে যাহা রোজগার করি, তাহাতে সুজির লোনা পায়েস আর আটা-ময়দার পোড়া রুটিই কেবল গলাধঃকরণ করার জন্য জুটিতে পারে। তবুও ঠিক মতো যোগাড় করিতে পারিনা- দাম অতি চড়া, তুলনায় রোজগার অতি সামান্য। আর রুটিও পোড়াই জোটে, কারন আমার বউয়ের বারবার আয়না দেখিবার জন্য সময়ের বেঘাত ঘটে, অগত্যা...
আটা-ময়দা-সুজি,হলুদ, অন্ড, বেসন, ফলমাকর আর মুসুরির ডালের দাম কেবলই বাড়িয়া চলিয়াছে। যার অন্যতম কারন নিশ্চিন্তে স্ত্রী জাতীর রূপচর্চা জনিত বাড়তি অপচয়; ফলস্বরূপ দ্রব্য সীমিত হইয়া অর্থনীতির হিসাব অনুযায়ী দাম বাড়িয়া গিয়াছে। আমাদের মতো স্বামীর পক্ষে রূপচর্চা তো দূরে থাকুক; খাইবার জন্যও তাহা কিনিবার সামর্থ্য ক্রমে হারাইতেছি। তাছাড়া খাইবার জন্য যখন এইসমস্ত দ্রব্য কিনিয়া আনি, তখন আমার বউ আর আমার সহদোরা তাহা হইতে অধিকাংশ টাই ঊঠাইয়া আলাদা করিয়া রাখিয়া দেন, আর তাহাতে পোড়া বেগুনের মত ক্ষত ভরা মুখমন্ডলের রূপচর্চা হইয়া থাকে- প্রথমে মাখিবার জন্য ও পরে খাইবার জন্য, যদি অবশিষ্ট থাকে।
আমি যখন বিষয়টা বুঝিতে পারিলাম, বোনকে মৃদু ভর্তসনা করিলাম কারন বৈকে ভর্তসনা করা যায় না এই পরিস্থিতিতে। সহোদরাকে যথাসাধ্য বোঝাইলাম যে, সে যেন এই সকল খাদ্য দ্রব্যের অপচয় করা থেকে বিরত থাকে। ইহাতে সে ক্রুদ্ধ হইল, এবং সে স্বদর্পে তাহার বৌদির নিকট সেই আমাকতৃক মুখমন্ডল পরিষ্কারক তৈরির গোপন ফর্মুলা ফাঁস করিয়া দিল। ব্যাস ভুকম্পের আর কোন কারন অবশিষ্ট ছিল না। সেই যাবৎ না খাইয়া, ঝগড়া-ঝাটি করিয়া আমার স্ত্রী রত্নটি অসুস্থ রহিয়াছে। ভাবিয়াছি- আগামী কাল্য হইতে আমার রুটি- পায়েসের ভাগে যে আটা-ময়দা-সুজি ডাল, ডিম্বপাক ব্যয় হয়, সেসমস্ত তাহাদের রূপচর্চার তরেই ব্যয় করিব। তাহাদিগকে খুশি রাখিতে, প্রয়োজনে আমি না খাইয়া থাকিব তাহাতেও আক্ষেপ নেই, এবং যদি তাহাদের কিছু অবশিষ্ট থাকে তাহাই আমি ভক্ষন করিব।
কোন কূলবধু হয়তো বলিবেন, স্বামীর সুস্থ থাকার জন্য ইহার অতি প্রয়োজন রহিয়াছে, কারন বেশি খাইলে মেদ বাড়িয়া যাইবার প্রবল ঝুঁকি, সুতরাং কম খাইবার দরুন খেলো না হওয়াই শ্রেয়। এক্ষনে কেহ বলিবে স্বামীর মনে শান্তি না রাখিয়া শুধু রূপ দেখাইয়া সুখ দিতে যাওয়া অনেক নিম্নবর্গের কর্ম, কিন্তু আমি বলি প্রথমে পেটে শান্তি প্রয়োজন মানসিক শান্তি তো পরবর্তী পরিচ্ছদের পাঠ্য। বউ আমাকে ছাড়িয়া বাপের বাড়িতে যাইয়া থাকিতে পারিবে; কিন্তু আটা-ময়দা-সুজি, ডাল, বেসন, ডিম্ব ইত্যাদি ছাড়িয়া রহিতে পারিবে না, এ সত্য প্রমানিত। পাশাপাশি আমিও বউ বিনা রহিতে পারিব না।
একেক সময় ভাবি, কোনটা স্ত্রীজাতির অঙ্গ। শুভ্র সজ্জা বিশিষ্ট বহিরাঙ্গ? নাকি জন্মগত সুত্র প্রাপ্ত চর্ম সম্বলিত একটি কোমল স্ত্রী হৃদয়।

যে যাহাই হউক, পেটে ও মন দুটোই অভুক্ত। কারন ঘরে ও মনে কোথাও আপাতত স্ত্রী নাই, আছে শুধু অনেক অনেক বেশী রোজগারের প্রয়াস। তাহাতে প্রান বাঁচুক আর না ই বা বাঁচুক সেই পায়েস বর্তমানে প্রস্তুত, জামাইষষ্টির পূর্বে বউকে উতসর্গ করিয়া আমিই গ্রাসাচ্ছাদন করি। 

শনিবার, ১২ নভেম্বর, ২০১৬

আচ্ছে দিন - ৫

হাতমুখ ধুয়ে সবে লাঞ্চ বক্সটা খুলেছেন, ওমনি টিভি সঞ্চালিকার রিনরিনে আওয়াজে লেবুদা শুনলেন:-
"দেশের অর্থনৈতিক ব্যাবস্থা যখন নেতিয়ে পরেছে, উনি তখন বিদেশ ভ্রমনে গেলেন"
মাননীয়া বঙ্গেশ্বরীর উক্তি, ওনার উদ্দেশ্যে।
লেবুদা ভাবলেন অন্য কথা-
অর্থনীতিকে সচল রাখতে শুধু কাগুজে বুলিই যথেষ্ট নয়। পিচ্ছিলতার আর গড়গড়িয়ে চলার জন্য তেলও প্রয়োজন। যেমনটি ইঞ্জিনের জন্য মোবিল। আর ব্যাপারটা যখন নেতিয়ে পড়া......
জাপানী তেলের অবদান বাঙালী ভুলবে কিকরে! মোক্ষোম সময়ে মোক্ষম দেশ বেছেছেন। নির্ভীক সাহষী সিদ্ধান্ত।
নমো: নমো:
আচ্ছে দিন নিশ্চই আসবে তৈলাক্ত জাপানি চুক্তি পথে।
লেবুদা তৈলাক্ত এঁটো হাত ধুতে বেসিন পানে হাঁটা জুড়লেন।



ছবি কৃতজ্ঞতাঃ আনঅফিসিয়াল ডা: অর্নব গোস্বামীর ফেসবুক পেজ

শুক্রবার, ১১ নভেম্বর, ২০১৬

আচ্ছে দিন ~ ৪



লেবুদা অফিস যাবেন বলে দুর্গা দুর্গা বলে সবে সদরের চৌকাঠটুকু ডিঙিয়েছেন, ওমনি...
- সব ব্যাটাকে আমি দেখে নেব, আমি নবান্নে যাব, দরকারে আমি সাউথব্লক যেতে ছারবনা। আমার সাথে চালাকি...
-
আরে, জটুদা যে, সাত সকালে এতো রেগেমেগে, বলি ব্যাপারটা কি?
-
আর বোলোনা লেবু, খানিক আগে পাম্পে গেছিলাম পেট্রোল ভরতে, বললাম পুরো ৫০০ টাকারই দাও, তাচ্ছিল্যর সাথে আমাকে ফিরিয়ে দিল.... আজকাল সিনিয়র সিটিজেনদের কোন কেয়ারই করেনা ছেলেছোকড়ারা, আমি বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলব।
- তা এখন যাচ্ছো কোথায়?
-
দক্ষিন কোলকাতা যাব, তেল কোম্পানীর আপিসে। আমার নামও রিটায়ার্ড সুবেদার জটিলেশ্বর সেন। দেখাবো কত ধানে কত চাল।
তা তুমিও কি আপিস যাবে? তাহলে চাপো পিছনের ক্যারিয়ারে।
- আপনি বসুন জটুদা, আমি সাইকেলটা চালাচ্ছি।
তা কখন গেছিলেন পেট্রোল কিনতে?
-
কেন ওখান থেকেই তো ফিরছিলাম, পথে তোমার সাথে দেখা।
লেবুদা সাইকেল থেকে নেমে জটুবাবুকে বললেন,
-দাদা আপনি একটু বেশিই রেগে আছেন। বাড়িফিরে স্কুটারটা নিয়ে পেট্রোল ভরতে যান, দেখবেন এবার আর কেও হাসাহাসি করবেনা, গোটা টাকারই পেট্রোল দেবে।
জটু বাবু বুঝলেন, তিনি মারাত্বক একটা ভুল করে ফেলেছেন। স্কুটারের বদলে বেখেয়ালে সাইকেলে পেট্রোল ভরতে গিয়ে হাসির খোরাক বনেছেন। লজ্জিত মেকি হেসে, বাড়ির পথ ধরলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা জটুবাবু।
লেবুদা মনে মনে বললেন, হেঁটেই যেতে হবে এটুকু, সাওয়ারির আচ্ছে দিন কে উল্টো পথে তিনিই পাঠালেন যে......


আচ্ছে দিন ~ ৩

লেবুদার কয়েকপিস কালাধন ছিল, কালই বদলে নিয়েছেন লাইনে মাথায় রুমাল দিয়ে।
কারন কদিন আগেই উনি সম্যক বুঝেছিলেন, খোদ আমেরিকাতে কালাধনের দিন ফুরিয়ে এলো।
মিশেল ওবামার জামানা শেষ ফার্স্ট লেডি হিসাবে। হিলারি না জিতলে "কালাধনের" কদর সত্যিই শেষ। অন্তত সুপ্রিম লেভেলে আর থাকবেনা।
এখন সেই ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রচুর ভুসম্পত্তির মালিক হতে পারেন, কিন্তু ওইটি নেই..........
বিদায় বন্ধু "কালাধন"
আমাদের ভারতে তারই রেশ মাত্র। হাজার হোক আমেরিকা বন্ধু দেশ বটে।

কিছু লোকে শুধু শুধু মোদীজিকে দোষ দিচ্ছেন।

বুধবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৬

।। মার্কিন প্রেম ।।


আপাদমস্তক ভারতীয় লেবুদাও একসময় ভীষণ আমেরিকা প্রেমী ছিলেন। এটা অবশ্য তার গোপন কিছু নয়। তার জীবনের অন্যতম চরম আক্ষেপ যে, ব্যক্তি স্বাধীনতার মক্কা হল গিয়ে ওই আমেরিকা, অথচ গ্রহের ফেরে ভীষণভাবে ব্যক্তি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এই শর্মা এই দেশে জন্মেছেন। আর সেই ভাবনা থেকে এমন মুষড়ে পড়েছিলেন যে, তার অভিঘাত প্রতিটি বড় পীক্ষার রেজাল্টে চিরকালের জন্য ছাপ ফেলে গেছে। অন্যের গোলামী করার মত রেজাল্ট তিনি বানাননি, মতান্তরে যোগ্যতা ছিলনা। কিন্তু এটা তার গর্ব। তাই আজ তিনি স্বনির্ভর এজেন্ট।

বেশ কয়েক দশক আগের কথা, লেবুদা তখন সামান্য ছাত্র মাত্র। ওনার স্বর্গীয় পিতার প্রথম ও একমাত্র চারচাকা গাড়িটার কোম্পানী ছিল ফোর্ড। এবং পিতার সেই সিদ্ধান্তের পিছনে তার জেষ্ঠ্যপুত্র দর্পনারায়ণ ওরফে লেবুর প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ ছিল। কারন সেই সময়কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিল জেরাল্ড ফোর্ড। সেই শুরু। লোকে আজকাল যখন হলিউডি সিনেমা নিয়ে আদিখ্যেতা করে বেরাচ্ছে, লেবুদা সেই কালেই, বুকে 'জিম কার্টার' লেখা গেঞ্জি পরে কলেজ গেছেন। তাতে অভিনেতা জিম কার্টারের পাশাপাশি তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জিমি কার্টারকেও ধরতে পেরেছিলেন একমুঠোতে।

আজকের ছেলেছোকরার দল রোলান্ড রোনাল্ড করে পাগল। অথচ সেই আশির দশকের শেষে থেকেই লেবুদা রোনাল্ড ভক্ত। রোনাল্ড রেগন। এর পর কলেজের পাঠ চুকেবুকে গেলে, কিছুদিন পেশাসন্ধানে অতোটা আন্তর্জাতিক খেয়াল রাখতে পারেননি তিনি। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে একটু থিতু হতেই, আবার সেই আমেরিকা প্রেম চাগাড় দিয়ে উঠল। বাবার মত গাড়ি কেনার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু সীমিত রোজগার। অথচ আমেরিকা প্রেমের স্বারক কিছুতো একটা চাই, তাও সর্বক্ষণের জন্য।

অগত্যা......
গ্যালিফ স্ট্রটের পোষ্যবাজার থেকে, স্বস্তাতে একটা খাঁটি দেশীয় কিন্তু তাগড়াই নেড়ি কিনে বাড়ি ফিরলেন। বাড়িতে যে অশান্তি এক্কেবারেই হয়নি তা নয়, কিন্তু তখন যুবক লেবু ‘জল চিবিয়ে খায়’, সুতরাং যাবতীয় বিদ্রোহ কড়াহাতে মোকাবিলা করে আদরের পোষ্যটির নাম দিল ‘বুশ’ । জর্জ হার্বার্ট ওয়াকার বুশ তখন প্রেসিডেন্ট। এর পর থেকেই লেবুদা মানসিক তৃপ্তি লাভ করত ভীষন। বুশ তার উচ্ছিষ্ট খায়, আদরে গাল চেটে দেয়, সোহাগে গররর... গররর... করে ইত্যাদি। সবচেয়ে প্রসন্নতার বিষয়টা ছিল বুশের সাথে গা ঘেঁষাঘেঁষি করে এক ঘরে বাস। এতোটা তৃপ্তি জীবনে তিনি কমই পেয়েছেন।

হাজার হোক, নেড়ি তো। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই, পাড়ার এক মেদ্দির সাথে বুশকে ভয়ঙ্কর আপত্তি জনক অবস্থায় আবিষ্কার করলেন লেবুদা স্বয়ং। প্রথমে ভয়ঙ্কর রাগ হলেও, ভাবনা চিন্তা করে ব্যাপারটা মেনে নিলেন। কারন হাজার হোক নামটা তো আমেরিকান, তাই একটু আধটু বহুগামিতা না থাকলে যে চরিত্রটা খোলতাই হবেনা প্রবাসী মার্কিনি হিসাবে। কিন্তু পরের ভাদরেও সেই একই দৃশ্য, আর বিশ্রী রকমের অহরহ। ঘরের ভালমন্দ খেয়ে দেয়ে উনি পাড়াময় রাসলীলা করে বেড়াচ্ছেন। নাহ এবার আর রেহাই দেয়নি লেবুদা। সোজা বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিলেন। যাকে বলে ত্যাজ্যপুত্র।

বছরখানেক প্রায় মনমরা চুপচাপ থাকার পর, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে আবার আমেরিকান প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন নিয়ে মহা শোরগোল তখন। লেবুদাও সেই সুযোগেতে গা ভাষাতে দেরি করলেননা। এবার আর নেড়ি নয়, সদ্য বিয়ের বছরে, এক্কেবারে সাদা চুলের স্পেনিয়াল কিনে সোজা বাড়ি এসে বৌদির কোলে গিফট করলেন। আহ্লাদিত বৌদি কিছু একটা নাম দিতে যাচ্ছিলেন বটে, লেবুদা তার আগেই জানিয়ে দিলেন এর নাম ‘ ক্লিন্টন’।

ছোট্ট ক্লিন্টন সবার আদরের হয়ে উঠতে সময় নিল না। আসেপাশের বাড়ির ছোট ছোট ছেলে মেয়ে আর বুড়োদের সময় কাটানোর সাথী হয়ে উঠল ক্লিন্টন। ব্যাস কিছুদিন যেতে না যেতেই নানান গোপন কীর্তি ফাঁস হতে লাগল তারও। লেবুদার আর আনন্দ ধরেনা। দত্তবাড়ির সুন্দরী স্পেনিয়াল কন্যাটির সাথে ক্লিন্টনের পরিনয়ও ঘটিয়ে দিলেন, যাতে কোন পরকিয়াতে না জড়িয়ে পরে। কিন্তু ক্লিন্টন এর পরেও বেপরোয়া হয়ে উঠল। বিরক্ত লেবুদা তাকে সেই, বাজারেই বিসর্জন দিয়ে স্বস্তি পেলেন। আর সিদ্ধান্ত নিলেন খুব হয়েছে, আর আমেরিকা প্রীতি নয়, সব ব্যাটা লুজ ক্যারেক্টার।

ততদিনে লেবুদা দুই মেয়ের বাবা। একদিন সকালে সদর দিয়ে বেরোচ্ছেন, একটা ছোট্ট গাট্টাগোট্টা নেড়ি পায়ের কাছে কাঁওকাঁও করতে লাগল। পোষ্যপ্রীতি তো একটা ছিলই। তাই মনে মায়া জেগে উঠল। ওটাকে বাড়িতে টেনে তুললেন। রাত্রে অফিস থেকে বাড়ি ফিরলে বৌদি খবর দিল যে, লেবুদার প্রথম নেড়িটার ছেলেই নাকি এই পাপ্পিটা। একেই বলে অদৃষ্ট। তাই লেবুদা না চাইলেও 'জর্জ বুশ' বহাল তবিয়তে যে যার জাইগা দখল করল।

মুংলা আর জর্জবুশ এখন খেলার সাথী। মাঝেমাঝে ছোট্ট বুশের সাথে, তার মা দেখা করে যায়। বৌদি তাকেও খেতেটেতে দেয়। এমনি করে সেও লেবুদার বাড়ির স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে গেল। কালো দোভাষী জাতের নেড়িটা। খাবারের লোভে সিনিয়র বুশ বাড়ির আসেপাশে ঘোরাঘুরি করলেও, লেবুদা তাকে ঘরে তোলেনি, বৌদি খেতে দিলে অবশ্য কিছু বলতেননা। লেবুদা মনে মনেই হাসেন। বুশের বাবা মা, ওর বাবা মা , ওবামা...

কি সুন্দর মিলে যাচ্ছে। চোখে মুখে একটা প্রশান্তির ছায়া। মেলালেন, এবার লেবুদা নিজেই মেলালেন। চরৈবেতি ......

এরই মধ্যে দত্তবাড়ির ছেলে ভাল চাকরি পেয়ে আমেরিকাতে প্রতিষ্ঠিত। বৃদ্ধ বাবামা কে সেখানে নিয়ে যেতে এসেছে। যাবার বেলাতে, দত্তজা সেই মেয়ে স্পেনিয়ালটিকে লেবুগিন্নিকে গিফট করে দিয়ে গেলেন। হাজার হোক কুকুরসম্পর্কীয় বৌমা তো বটে, তাই ওনার থেকে ভাল আর কে বাসবে ছোট্ট মাদি স্পেনিয়ালটিকে

লেবুদা আবার হাসলেন। মেলালেন তিনি মেলালেন। তিমি আমেরিকা ভুলতে চাইলে কি হবে! লেডি ক্লিন্টন আবার হাজির।

এরপর কয়েক বছর এমনিই নিস্তরঙ্গ জীবন কাটছিল। কিন্তু এখন ছেলে মুংলা বড় হয়েছে। তারও বাবার মত পোষ্যে ভীষন ঝোঁক। রঙিন মাছ, পায়রা, গিনিপিগ কি না বাড়িতে নেই। কদিন আগেই বাবার কাছে আবদার করল- বাবা আমার ডোনাল্ড চাই” । লেবুদা আজকাল আমেরিকা নিয়ে অতো খোঁজ রাখেননা। ভাবলেন ছেলে কার্টুন ভক্ত, তাই ডোনাল্ড ডাকের প্রেমে পরে একটা হাঁস টাস হয়ত বাড়িতে আনবে।

আজ সকালে খানিক আগে লেবুদার মাথায় হাত।

এক বড়লোকের বখে যাওয়া, ঘেয়ো বয়স্ক গোল্ডেন রিট্রিভার নিয়ে হাজির মুংলা।চেল্লানির চোটে গোটা পাড়াতে ত্রাহি ত্রাহি রব। রাগের চোটে লেবুদা ঘরে গিয়ে টিভিটা খুলে বসলেন।

খবরের চ্যানেল অন হতেই নিচের স্ক্রলে দেখলেন –

Donald J Trump, elected 45th President of the United States

লেবুদা বিড়বিড় করতে লাগলেন.........
“মেলালেন, আবার তিনিই মেলালেন”

স্বাগতম ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...