বর্বরতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বর্বরতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬

আমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি, আতঙ্কে নির্ঘুম দিনরাত কাটাচ্ছি- ইজরাইয়েলি মেয়র



ইসরায়েলের উত্তর গালিলি অঞ্চলে লেবানন সীমান্ত সংলগ্ন একটা ইসরাইলি কমিউনিটির নাম মোশাভ মার্গালিওত। সেটার প্রধান Eitan Davidi গতকাল সংবাদ সম্মেলনে নিজেকে আর সংবরণ করতে না পেরে তাদের যুদ্ধ যন্ত্রণার কথাগুলো এভাবেই উচ্চারণ করলেন। 

নেতানিয়াহুকে উদ্দেশ্য করে বলছে- "এই যুদ্ধ তুমি  বন্ধ করো। আমরা আর সহ্য করতে পারছি না। আমাদের ঘরবাড়িতে আক্রমণ হচ্ছে, গুঁড়িয়ে যাচ্ছে। আমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি, আতঙ্কে নির্ঘুম দিনরাত কাটাচ্ছি। ইরানের মিসাইল সাক্ষাৎ মৃত্যু, হিজুবুল্লাহর হামলা অসহনীয়। এই যুদ্ধের ত্রাস আমরা আর সহ্য করতে পারছি না। এতো মৃত্যু তুমি লুকিও না, মহান মানুষেরা ইসরায়েল তৈরি করেছিলেন, তুমি তাকে ধ্বংসের কিনারাতে নিয়ে এসেছো। এই গণহারে মৃত্যু হলে কাকে নিয়ে ইসরায়েল রাষ্ট্র বানাবে, কবরের দেশ? নাগরিকই না বাঁচলে গ্রেটার ইসরায়েল কাকে নিয়ে বানাবে? তুমি আগামীর স্বপ্নে বর্তমানকে কচুকাটা করে দিচ্ছ। তোমার চেয়ে বড় ইহুদি সংহারক শেষ ৭০ বছরে কেউ আসেনি পৃথিবীতে। তোমার সমকামী পুত্র আর বহুগামী স্ত্রী কেন এক মাস ধরে  মায়ামিতে রয়েছে, ইসরায়েলে না থাকার বদলে? তুমি মিথ্যাবাদী, ধাপ্পাবাজ ও এই মুহূর্তে ইহুদি ও ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় শত্রু। তুমি একটা উন্মাদ বর্বর খুনি, তুমি নরকে যাও।"

🤫🤫🤫🤫🤫

নাহ, এদের প্রতি কোনো সহানুভূতি নেই, সেই ১৯৪৮ সাল থেকে এই মানুষের পূর্বপুরুষগুলো হয়ে আজকে এদের সন্তানেরা অবধি- উত্তরাধিকার সূত্রে ফিলিস্তিনকে নিশ্চিহ্ন করেছে, সেখানকার মানুষের ঘরবাড়ি কেড়ে তাদের অধিকাংশকে হত্যা করেছে, বাকিদের উদ্বাস্তু করে দিয়েছে। ইরানের এই পাল্টা মারের আগে অবধি এরা সবাই নেতানিয়াহু’র ফ্যান ছিল, এবং নিরীহ ফিলিস্তিনি,  লেবানিজ, সিরিয়ান, মিশরের ভূমি দখল করে সেখানকার মানুষদের হত্যা করাটাকেই ধর্মের পবিত্রতম অংশ মনে করেছে। এরা সবাই দূর থেকে বসে ফিলিস্তিন নামক একটা রাষ্ট্র ম্যাপ থেকে মুছে যাওয়া দেখেছে। ফিলিস্তিনি শিশু এবং নারী এবং নিরস্ত্র মানুষের হত্যা শুধু দেখেনি, রীতিমতো উপভোগ করেছে। ফলে ক্রন্দনরত এই ইসরায়েলিদের জন্য আজকে সহানুভূতি দেখানোর কেউ নেই। 

আজ এদের কান্নাতে কোনো সহানুভূতি জাগছে না, বরং এতদিনের অত্যাচারীর ঘরে পাল্টা আক্রমণ হলে এদের আতঙ্কিত আহাজারি দেখাটা একটা পৈশাচিক তৃপ্তিদায়ক লাগছে। এই প্রসঙ্গে জাভেদ মিয়াঁদাদের একটা উক্তি মনে পড়ে গেল।  জাভেদ বলেছিল জয়ী দলের ক্যাপ্টেন লাগে না আর পরাজিত দলের কোনো রকম অজুহাত শোনা হয় না।

ইসরাইলের গোয়েন্দাগিরি, অর্থনীতি, খাদ্যনীতি, বিজ্ঞানী, প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইত্যাদি সহ যাবতীয় 'হামবড়া' ভাবের প্রতিটা অংশের সবটা- পিছন দিক দিয়ে ঢুকিয়ে মুখ দিয়ে বার করে দিয়েছে ইরান। যে কারণে নেতানিয়াহু’র ব্যক্তিগত মুখপাত্র ও চিফ অফ স্টাফ 'জিভ আগমোনে' রীতিমতো নেতানিয়াহুকে খিস্তিখেউড় করার দায়ে পদচ্যুত হয়েছে গতকাল। এখন নিজেদের মধ্যে ঝগড়াঝাটি হবেই, তাই এইসব কথাবার্তা বাইরে চলে আসছে যেগুলো গত ২৫ দিন ধামাচাপা দেওয়া ছিলো। রোজ আরও এমন খবর আসতে থাকবে।

মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

রিজিম চেঞ্জ করতে গিয়ে হাতে ভিক্ষার বাটি।

 

মিথ্যা ধাপ্পাবাজি করে ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া আক্রমণ করে সেই দেশের লোককে ভিখারি বানিয়ে নিজেরা তাদের দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ চুরি করে আধুনিক ও সভ্য সেজেছিলো।

একই পথে ইরাণে চুলকাতে গিয়েছিলো। যে হারে গাঁ ড়ে মিসাইল ঢুকেছে টেম্পু থেকে নেতানুনু, কেউ হাগতে যাচ্ছেনা বলে মোসাদ সুত্রের খবর, হাগতে গেলেই নাকি পোঁদ দিয়ে প্রাণ বায়ু বেরিয়ে যাবে, এমন ভয়ে সেঁধিয়ে রয়েছে। নিজেরাই নিজেদের মিথ্যা বলছে, যে পারছে এর তার ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে। আসলে এভাবে আমেরিকা কুত্তা ক্যালান খেতে পারে সেটা বিশ্বাস বা হজম কোনোটাই হচ্ছেনা। এপস্টিন গ্যাং এর কোনো এক্সিট প্ল্যান নেই এ যাত্রায়, একতরফা বিজয় বলে পালিয়ে যাবারও কোনো পথ খোলা নেই। 

হারেমের আঁধারে জন্মানো জারজ মোল্লা রাজাগুলোর দেশেই হয়তবা রিজিম চেঞ্জ হয়ে গিয়ে ইরানপন্থী সরকার চলে আসবে। যদি ইরান এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে। এমনিতেই ইরান বলে দিয়েছে, যে দেশ আমেরিকা ও ইজরায়েলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে, হরমুজ প্রনালি তার জন্য খোলা। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান শক্তিশালী হয়ে গেলে বিশ্বপরাশক্তি আমেরিকা প্যাকেট হয়ে, কেবলমাত্র রিজিওনাল শক্তি হলে নিজ মহাদেশে রয়ে যাবে। ১৯৫৬ সালে মাইটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্য সুয়েজের জলে তলিয়ে গিয়েছিলো, ঠিক ৭০ বছর পর পারস্য উপসাগরের জলে শ্যাম চাচা তার পিডোফিলিক সাম্রাজ্যকে না ডুবিয়ে ঘরে ফিরবেনা।

আপাতত যুদ্ধের ১০ দিনেই সোস্যালমিডিয়াতে হাজারে হাজারে  'হেল্প ফর ইজরায়েল' ক্রাউড ফান্ডিং এর পেইড প্রোমশন পেজে ছয়লাপ। ভিক্ষা শুধু পাকিস্তানই করেনা, প্রতিটা সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের এটাই জিনগত চরিত্র। ফিলিস্তিনের দখলদার খাজার ইহুদীগুলোও ভিক্ষায় নেমে পরেছে। যুদ্ধ আর ২ সপ্তাহ ধরে চললে আমার আপনার পাড়াতে কী এই শু য়োরের বাচ্চা বেজন্মা ইহুদীগুলোকে রাস্তার মোড়ে ফুটো এ্যালুমিনিয়ামের বাটি হাতে দেখতে পাবো?


রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

আল আকসা আর কতদিন টিকবে?


পরিস্থিতি যা এগোচ্ছে, তাতে আমি একটু শঙ্কিত আল আকসা মসজিদ নিয়ে। ফিলিস্তিনের দখলদার রাষ্ট্র ইজরায়েলের মূল উদ্দেশ্য- মিশরের নীলনদ থেকে ইরাকের ইউফ্রেটিস তথা ফোরাতের মধ্যবর্তী অংশটাকে নিয়ে গ্রেটার ইজরায়েল বানানো হলেও, ইম্মিডিয়েট লক্ষ্য একমাত্র জেরুসালেম দখল করা; আর এই কারণেই গাজাকে খালি করা এত প্রয়োজন। সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন-কানুনকে কাঁচকলা দেখিয়ে এই গণহত্যার সুপরিকল্পিত আয়োজন।

ইহুদীদের ঈশ্বর 'জিহোভার' দ্বারা প্রতিশ্রুত ভূমির সীমানা ওটাই তাদের ধর্মগ্রন্থ তানাখ-তোরাহ অনুযায়ী। আপনি এসব গাঁজাখুরি বিশ্বাস করুন বা না করুন- তাতে তাদের কিছু যায় আসে না, তাদের কাছে সত্যও বদলায় না। আর এই ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী পরিস্থিতি তৈরি করার জন্যই এত হত্যা, এত অত্যাচার; অবশ্য তাতে ওদের সামান্যতম অনুতাপ নেই, কারন ইহুদীরাই একমাত্র ঈশ্বরের 'চুজেন ওয়ান' জাতি, অবশিষ্ট পৃথিবীর সবাই জেনটাইল বা বর্বর দাস সম্প্রদায়ের, যাদের জন্মই হয়েছে ইহুদীদের সেবা করার জন্য, ওদের দ্বারা শাসিত হওয়ার জন্য, সে আপনি মুসলমান, খ্রিস্টান, হিন্দু বৌদ্ধ যা খুশি হোন- কোনো ফারাক নেই। আপনি সামান্যতম প্রতিবাদ করতে গেলেই আপনাকে অ্যান্টি-সেমেটিক নাম দিয়ে দাগিয়ে, আপনার উপরে সাজা ঘোষনা করবে, আপনার সম্পদ কেড়ে নেবে, পরিশেষে যেকোনো ছুঁতোতে হত্যা করবে।

নিকৃষ্ট ব্রাহ্মণ্যবাদের যদি কোনো প্যারামিটার হয়- যারা ইহুদীদের সামনে থেকে দেখেছে, তারা জানে ওই প্যারামিটারে ১ থেকে ১০ অবধি সবটা ইহুদীদের দখলে থাকবে, এর পর আমাদের দেশের  RSS মাইন্ডেড লোকজন। অন্ধবিশ্বাস আর হিংস্রতাতে কেউ ইহুদীদের স্পর্শ করতে পারবে না। পৃথিবীতে এমন একটা পাপ বা অপরাধের নাম বলুন যেটা তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে করেনি বা করছে না! জায়োনিস্ট প্রোপাগান্ডার ফাঁদে পড়ে আপনি নিজেও যদি মানসিকভাবে ইহুদী না হয়ে যান, তাহলে সামান্যতম সুস্থ চিন্তা করলেই এই অভিশপ্ত জাতির প্রতিটা ষড়যন্ত্রকে চোখের সামনে ন্যাংটা ভাবে দেখতে পাবেন, ইতিহাসের সারণী ধরে হাঁটলেই। 

যা বলছিলাম, জেরুসালেম দখল না হলে তাদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী তাদের হাজার বছরের প্রতীক্ষিত প্রফেট বা নবী  তথা ঈশ্বরের দূত 'মাশায়ার' আগমন হবে না। তারা বিশ্বাস করে মশায়া আসা মাত্র ইহুদীরা গোটা বিশ্বের শাসক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সমগ্র বিশ্বের সমস্ত কিছু তারা জেরুসালেম থেকে নিয়ন্ত্রণ করবে, গোটা পৃথিবী একটাই রাষ্ট্র হবে, আক্ষরিকভাবেই তাদের লালিত স্বপ্ন one order word প্রতিষ্ঠিত হবে। এদিকে এই তথাকথিত মাসায়ার আসার প্রাথমিক শর্ত হচ্ছে জেরুসালেমকে অ-ইহুদিদের হাত থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করা। 

আজ অবধি তারা টেম্পল রক দখল করতে পারেনি, মুসলিমদের দখলেই রয়েছে মসজিদটা, বা বেথেল থেকে খ্রিস্টানদেরও তাড়াতে পারেনি। আর না পারার জন্যই তারা অস্থির অধৈর্য হয়ে উঠেছে বর্তমান সময়ে, তাদের ধর্মীয় গণনা অনুযায়ী এই দশকেই মাসায়া বা মেসীর আবির্ভাব ঘটবে, তাই তারা চূড়ান্ত প্রস্তুতিপর্বে রয়েছে মাসায়া বরণের।

ইরাণ বোমা ফেলেছে এমন গল্প শুনিয়ে নিজেরাই ড্রোন বা মিসাইল দিয়ে টেম্পল রক সহ, ডোম রক ও আল আকসা- সবটা নিশ্চিহ্ন করে দিতেই পারে। যাতে তারা সেখানে থার্ড টেম্পল বানাতে পারে? এটাই তো তাদের মূল লক্ষ্য জেরুসালেমকে নিয়ে। সৌদির তেলক্ষেত্র বা সাইপ্রাসের ব্রিটিশ সেনা ছাউনিতে যেভাবে ফলস ফ্লাগ আক্রমণ চালিয়েছে ইজরায়েল- তাতে তারা পারে না এমন কোনো নিকৃষ্ট কাজ নেই পৃথিবীতে।

ওহ, আপনি তো আবার কোট পরিহিত পশ্চিমা ইহুদী-খ্রিস্টান জায়োনিস্টদের দেখে ভাবেন তারা শুধু বিজ্ঞানে বিশ্বাস করে, অন্ধ ধার্মিক নয়। আপনার কানে সপাটে থাপ্পড় মেরে জায়োনিস্টদের বাপ ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে এক অবোধ্য ধর্মীয় রিচুয়াল প্রদর্শনের মাধ্যমে বিজ্ঞানের মা মাসী এক করে দিয়েছে। যদিও আপনি প্রতিটি ইহুদীকে দেখেছেন মাথায় টুপি পড়ে ১ ফুট লম্বা ঝুলফি সহ, তারপরেও তাদের প্রতি আপনার পবিত্র বিশ্বাস তথা ঈমানের জন্য ওদেরকে আপনি ধর্মান্ধ ভাবতেই পারেননি কখনও। যেন ওদেরকে ধর্মান্ধ ভাবলে আপনার নিজের ধর্ম পতিত হয়ে যাবে, আপনি মানুষ কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। আসলে তাদের নিয়ন্ত্রিত গোটা বিশ্বের গণমাধ্যমগুলো আপনাকে এমনটাই ভাবতে শিখিয়েছে। 

ব্রিটেনের পতন না হলে আমেরিকার উত্থান হতো না বিশ্ব পরাশক্তি হিসেবে। জামাল নাসেরের হাত ধরে সুয়েজের জলে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশদের অর্থনৈতিক কূটনৈতিক ও সামাজিক ভরাডুবি ঘটে। অত্যন্ত অপমানজনকভাবে মিশরের মাটি থেকে বাধ্য হয়ে ব্রিটেনকে পালিয়ে যেতে হয়, যার ফলে বৈশ্বিক পরাশক্তির মর্যাদা হারায় ব্রিটেন। এর পরের ৭০ বছর মাইটি আমেরিকার হিংস্র সন্ত্রাসের শতক। ইরানের দৌলতে এবারেই হয়তো হরমুজের জলে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সলিলসমাধি ঘটবে! 

১৯৫৬ সালের ব্রিটেনের ছায়া দেখা যাচ্ছে আমেরিকার মধ্যে। এটাই ইহুদীদের জন্য সুবর্ণ সূযোগ, অন্তত তাদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী- তারা নিজেরা সুপার পাওয়ার বিশ্ব পরাশক্তি হতে চায়। এর জন্য মাসায়াকে আসতে হবে, মাসায়ার জন্য থার্ড টেম্পল বানাতে হবে, থার্ড টেম্পল বানাতে গেলে আল-আকসা মসজিদ নিশ্চিহ্ন করতে হবে- পরিষ্কার ক্রনোলজি।

সে যাই হোক, আল আকসা আর কতদিন টিকে থাকবে সেটাই বড় প্রশ্ন। বর্তমানের ইরাণ যুদ্ধ সর্বনাশের শুরু মাত্র, এই জায়োনিস্ট ইহুদীরা আরও বড় সর্বনাশ  বয়ে নিয়ে আসছে আগামীতে, সমগ্র অ-ইহুদী বিশ্বের জনগণের জন্য যা অভিশাপ।



শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬

ধর্মান্ধ উন্মাদের দল



Iran is run by lunatics, religious fanatic lunatics,” Mr Rubio

নিচের ভিডিওটা ধর্মান্ধ ইরানিদের। একমাত্র বিজ্ঞান ও গণতন্ত্রের বাইরে সমস্ত কিছুকে যে ইরান মিথ্যা বলে এসেছে, তারা আজ  কোনো এক ইশ্বরের কাছে কিছু অবোধ্য মন্ত্র উচ্চারণ এবং কিছু দুর্বোধ্য সাংকেতিক রিচুয়াল তথা আচরণ করে 'প্রার্থনার মাধ্যমে' যুদ্ধে বাঁঁচতে চাইছে। শুধু বাংলাদেশই আয়াতুল কুরশি পড়ে যুদ্ধে যায় না তাহলে- সুপার পাওয়ারের দেশও বিজ্ঞানের মাকে শ্যাওড়া তলায় বসিয়ে রেখে 'দোয়া' মোডে চলে যায়।

৫০০০ বছরের পারস্য সভ্যতার উত্তরাধিকারী আমেরিকা ও বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ট্যেকনোলজির আইরোন ডোম ও শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের দেশ ইজরায়েল, যাদের দেশকে ফিলিস্তিন নামের দখলদারেরা বন্দি করে নিয়েছে, এদের হাতে কম্বল ধোলাই খেয়ে প্রথমে ইরান ডায়লোগ দিচ্ছিল আমরা আমেরিকা ও ইজরায়েলের রিজিম চেঞ্জ করে দেবো। ইরান আপাতত মধ্যপ্রাচ্য থেকে পালিয়ে গেছে, ইরানের জাহাজগুলো ভারতীয় সীমান্তে বাঁধা। রিজিম চেঞ্জের গল্প পরে হবে, আগে প্রাণ বাঁঁচুক।

এর আগে পিডিফিলিক ইরান ভয়ানক নারী ক্ষমতায়নের কথা বলে আমেরিকার ইস্কুলে স্বতঃপ্রণোদিত হামলা চালিয়ে ১৬৭টা শিশু কন্যা হত্যা করেছে, আমেরিকা আর ইজরায়েলের নাবালক শান্তিপ্রিয় নাগরিকের বাসভবনে বোমা মেরে আমেরিকা ও ইজরায়েলের রিজিম চেঞ্জ করতে গিয়েছিল। আমেরিকার রাষ্ট্রনেতাকে হত্যা করেছে অতর্কিতে।


পাল্টা মার খেয়ে এখন ইরান এর আমেরিকার পায়ে ধরে সিজফায়ার চেয়েছে নাবালক ইজরায়েলের কাছে, আমেরিকা মানতে নারাজ, তারা বীরের জাত। আমেরিকা রোজ ইরানে ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে মিসাইল দিয়ে, মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরানের কব্জাতে থাকা ১৯টা ঘাঁটি ছেড়ে ইরান- ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি করে মুখ লুকাচ্ছে। 

ভেনেজুয়েলাতে ইরান যেভাবে ন্যাক্করজনক অভিযান চালিয়ে তাদের রাষ্ট্রপতিকে তুলে এনেছিল স্পেশাল বাহিনী দিয়ে, আমেরিকাতেও সেই একই খেলা খেলতে গিয়ে ৭৬ জন ইরানী সেনা আমেরিকার ফাঁদে বন্দি, তাদের জিম্মি বানিয়েছে আমেরিকা। সুতরাং ইরান এখন সমানে তর্জন গর্জন করছে নিজের দেশে বসে, ওদিকে মাসুম আমেরিকা তার অস্তিত্বের লড়াই লড়ছে।

একমাত্র বিজ্ঞান আর গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মিথ্যাবাদী আর ফাঁপানো বেলুন ইরানের দণ্ডমুন্ডের কর্তারা আজ মিডিয়ার সামনে, ইশ্বরের কাছে দোওয়া তথা প্রার্থনা সভা করে সমগ্র বিশ্বের মানুষের কাছে আশীর্বাদ চেয়েছে- যাতে তারা যে সত্যের পক্ষে লড়াই করছে তারা জিততে পারে।

আমিন বলবেন কিনা আপনার ইচ্ছা। এখন ভিডিওতে আপনি ইরানের বদলে আমেরিকাকে দেখতে পান, জেনে রাখুন, আপনিও একজন পাপী আত্মার অধিকারী হয়ে যাচ্ছেন ক্রমশ। নাহলে সর্বত্র মাসুম আমেরিকাকে দেখতেন না।



ইরানি ফাঁদে আমেরিকা

 


ইরানের ভিতরে ঢুকে এই মার্কিন ডেল্টা ফোর্স আর নেভিসিলের 'অপরাজেয়' যোদ্ধারা ইরানের টপ লেভেলের দুই নেতাকে তুলে আনতে গিয়ে ইরানি বুবিট্রাপে ফেঁসে গেছে- যেভাবে সাদ্দাম হোসেন, গাদ্দাফি ও এই সেদিন ভেনেজুয়েলার মাদুরোকে এনেছিল, ঠিক সেই কায়দাতেই এই চোদনাগুলো ঢুকেছিল ইরানের ভূখন্ডে।

ইরানের এই মিসাইল হামলার নেপথ্যে যে মাস্টারমাইন্ড, সেই আলি লারিজানিকে গোপনে তুলে আনতে গিয়েছিল এই ভোঁদড়ের দল। 

ইরান ভূমে গিয়ে নাবালকের দল এখন লপসি খাচ্ছে, যাবতীয় মার্কিন বীরত্ব আর মিথ এখন গাধার গাঁ' ড়ে। গত বছর জুলাইতে মাইটি ইজরায়েলের কাপড় খুলে নিয়েছিল, এবারে মাইটি আমেরিকার ইজ্জতের নিলামি হচ্ছে প্রতি মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে। ইরান মিডিয়া কয়েকটা ছবি প্রকাশ করেছে। AI জেনারেট কিনা জানি না, কারণ যুদ্ধের বাজারে সবাই নিজে মতো করে প্রোপ্যাগান্ডা চালায়। ইরানের দাবী- ১৮০ জনের কাছাকাছি একটা মার্কিন জঙ্গীদলের সবকটাকে ইঁদুরকলে আঁটকা করে খাঁচায় ভরে রেখেছে।

অস্ত্র আর ডলারের ঝনঝনানিতে যে মার্কিনীরা বাকি দুনিয়াকে গোলাম বানাতে চেয়েছিল, গোটা বিশ্বজুড়ে দাদাগিরি, খুন যখম যুদ্ধ আর লুঠের রাজত্ব তৈরি করেছিল- ইরান সেই সব মজলুমের মুখের ভাষা, আত্মার শক্তি হয়ে শয়তানের বুকের উপরে চড়ে বসেছে। অবশ্য এই সবের পরেও যারা এপস্টিন ফাইলের দাবী অনুযায়ী মুজরো করেছে, সেই মাদারিদের কী বা দিন কী বা রাত, আমেরিকার পোঁদ চাঁটা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

সালমান খানের ওয়ান্টেড মুভিটা যারা দেখেছে, তাদের সিনগুলো মনে থাকবে হয়তো- প্রকাশ রাজ যখন মুম্বাই পুলিশ কমিশনারকে খুন করতে যায়, তখন পুলিশ কমিশনার বলে- তু আয়া নেহি, তেরেকো লায়া গায়া, তেরে রাইট হ্যান্ড কো হামনেই মারা, তেরোকো মজবুর করদিয়া আনেপে। 

যুদ্ধ কি আদপেই আমেরিকা শুরু করেছে? নাকি চীন রাশিয়া উত্তর কোরিয়া আর ইরান মিলে- দম্ভ ঔদ্ধত্য অহংকারে মত্ত আমেরিকাকে বাধ্য করেছে ইরান আক্রমণ করতে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যের ম্যাপ থেকে আমেরিকার নাম মুছে ফেলা যায়। ডলার অর্থনীতিকে কবর দেওয়া যায়। বিশ্বজুড়ে ছিটিয়ে থাকা ৮০০ সন্ত্রাসী ঘাঁটিকে ধ্বংস করা যায়, আমেরিকা নামের সন্ত্রাসী সাম্রাজ্যবাদী রিজিমের পতন ঘটানো যায়! আমার খুব সন্দেহ আছে, আমেরিকা এসেছে না তাকে আসতে বাধ্য করা হয়েছে?

কী ভয়ানক মাত্রার প্রস্তুতি থাকলে, মাত্র ৪ দিনের মধ্যে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার যাবতীয় সামরিক আধিপত্যকে কোমায় পাঠিয়ে দিয়েছে। তারা যে শুধুমাত্র বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান এবং ব্যয়বহুল সামরিক ঘাঁটি, সম্পত্তি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ধ্বংস করেছে এমনটাই নয়, বরং নিজেদের সামরিক আধিপত্যও প্রমাণিত করতে সক্ষম হয়েছে। হারেমখোর মোল্লারাজাগুলো আমেরিকার সায়াতল থেকে পালিয়ে ইরানের সায়াতলে আশ্রয় নেওয়া জাস্ট সময়ের দাবী। 

ছবিটা AI হোক বা না হোক, নিচের ক্রনোলজি দেখুন-


✅ ট্রাম্পকে উত্যক্ত করা

✅ আলোচনার টেবিলে গোয়ার্তমি করা

✅ খামেইনির শাহাদাতের ঘোষণা

✅ প্রতিটা মার্কিন বেসক্যাম্প ধুলোতে মিশিয়ে দেওয়া

✅ মার্কিন বিমানপোত ও রণতরী ধ্বংস

✅ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মার্কিন রাডার আর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা

✅ বেছে মেছে CIA ও মোসাদের দপ্তর ধ্বংস

✅ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া

✅ বোলতার ঝাঁকের মতো ড্রোন অ্যাটাক

✅ ইজরায়েল জুড়ে কার্পেট মিসাইলিং

✅ মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকার উপস্থিতিকে প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার উপক্রম করা

✅ ইউরোপকে রাশিয়ার গ্যাস বন্ধ করা

✅ সৌদি, আমিরাত, কুয়েত ও কাতার মিলে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থমূল্যের সমান মার্কিন চুক্তি বাতিল করা।

✅ কুয়েতের গ্যাস আর হরমুজ দিয়ে যাওয়া তেল না গেলে AI ইন্ড্রাস্ট্রির বুদ্বুদ উবে যাওয়া

✅ এতো মার্কিন প্ররোচনার পরেও, এই যুদ্ধে ফ্রান্স জার্মানি ও ব্রিটেনের যোগ না দেওয়া

✅ স্পেনের দাঁত ভাঙা জবাব

✅ কানাডার আকাশপথ ব্যবহারে মার্কিন সংস্থানে শুল্ক গোণা

✅ নপুংশক মোল্লা রাজাগুলোর এমন কাঠ ক্যালানি খেয়েও চুপ করে ছুঁচো গেলা সাপের মতো পড়ে থাকা।

✅ ট্রাম্পের সমানে উত্তেজিত হয়ে ছটপটিয়ে মিথ্যা বলা। প্রকাশ্যে  প্রার্থনা করা। ট্রাম্প যেন ক্রমশ জলসাঘরের ছবি বিশ্বাস হয়ে যাওয়া।

✅ আমেরিকার রাজপথে মৃত সেনাদের ছবি দেখিয়ে সহানুভূতি ভিক্ষা করা।

✅ গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে খাদ্যসঙ্কটে ফেলে দেওয়া।

✅ আমেরিকাতে AI লবি, অস্ত্রলবি আর তেল গ্যাস লবি- এদের প্রায় ঝাঁপ বন্ধ হবার যোগাড় করা, ইরানের মারে।


এই সব বিতর্ক থেকে বাঁচতেই হিরোইক কিছু করার ছক কষেছিল আমেরিকা। ফলত গোপন স্থল অভিযান চালানো ও আঁটকা পড়া। যদিও আমেরিকা ঠিক এই মুহূর্ত অবধি এই ঘটনা স্বীকার করেনি, অস্বীকারও করেনি তবে করবে। এটাই ওদের প্ল্যান B ছিল, তাতেও মুতে দিয়েছে ইরান। আপাতত কোন পথে যায় সেটাই দেখার। আজতক চ্যানেলের 'অঞ্জনা ওম মোদী', হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিটের বরাতে এই ঘটনা প্রচার করে খুব ট্রোল হয়েছিল গতকাল রাত্রে।

সব যেন ফিল্মের মতো শট বাই শট এগোচ্ছে। আরও কী কী প্ল্যান আছে কে জানে! তবে সব তো প্ল্যান মতো  হয়না, তাই আনেক্সপেক্টেড বহু কিছু ক্ষয়ক্ষতিও হচ্ছে ইরানের, কিন্তু ৯০% প্ল্যান মেপেই হচ্ছে। নতুবা এত ঠান্ডা মাথায় খেলা যায় না, দাবার গুটির মতো ছক না সাজানো থাকলে। এবার লক্ষ্য সম্ভবত দিয়াগো গর্সিয়া আর হাওয়াই দ্বীপ, এই দুটো মার্কিন বেস। সাম্রাজ্যবাদের পাঁজর ভেঙে যাবে এই দুটোকে উড়িয়ে দিলে।

ঠিক এই মুহূর্তে আমেরিকার কাছে কোনো এক্সিট প্ল্যান নেই, পড়ে পড়ে মার খাওয়া ছাড়া। সেকেন্ড প্ল্যান পালিয়ে যাওয়া চুপচাপ, সেটাও একপ্রকার মৃত্যুই। তার পরাশক্তির যে ইমেজ, সেটা মুহুর্মুহ ধর্ষিত হচ্ছে ইরান কর্ত্ক। খাৎনা করার সময়, বাচ্চাছেলেদের যেমন- ওই দেখো বাবু পাখি, এটা বলে টুক করে নুনুর ডগা কেটে দেয় হাজামে, গ্রান্ড মাস্টার ইরান ও তার পিছনে থাকা দুই সেকেন্ড- চীন ও রাশিয়া মিলে, আমেরিকার মুসলমানি দিতে গিয়ে গোঁড়া থেকেই গোটা যন্ত্রে চাকু চালিয়ে দিয়েছে।

এখন প্রশ্ন একটাই, পিডোফিলিক ট্রাম্পের কোনটা আগে হবে? 


অ্যাসাসিনেশন না ইমপিচমেন্ট?

মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬

আমরা কী আমেরিকার কাছে পরাধীন?


 আমাদের দেশের বন্দরে আমেরিকান নৌবাহিনীকে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে কেন? 


মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তাড়া খাওয়া আমেরিকা নামের খেঁকি ঘেয়ো কুত্তাকে আমাদের সমুদ্র বন্দরে এ্যালাও করছে বিশ্বগুরুর সরকার? কোন স্বার্থে? আমাদের পার্লামেন্টের অনুমোদন নিয়েছে? জাতি কী চায় জানতে চেয়েছে? আমরা কি অলিখিতভাবে আমেরিকার উপনিবেশ হয়ে গেছি? আমাদের রাষ্ট্রের কোনো সার্বভৌমত্ব টিকে আছে? নাকি সব বালবিচি ওই নেতানুনু আর বেটিচো দ ট্রাম্পুদের এপস্টিন বাহিনীর কাছে গচ্ছিত রেখেছি? 

আমেরিকা যার বন্ধু, তার আলাদা করে শত্রুর দরকার হয়? মধ্যপ্রাচ্যের মোল্লা রাজাগুলোকে দেখেও শেখেনি ইন্ডিয়ান জেমস বন্ড? ওরাই তো পেট্রোডলার দিয়ে আমেরিকাকে মাইটি বানিয়েছিল। আজ যখন তাদের গাঁ ড়ে মিসাইল দাগা হচ্ছে- কোথায় আমেরিকা? পালিয়ে ভারত উপকুলে এসে প্রাণ বাঁচাচ্ছে। যে কাঠ খেয়েছে সে ফার্নিচার হাগুক, আমরা কেন ভিসকাপের নিচে শোবো? আমেরিকার নৌবাহিনীর জাহাজ আক্রমণ করতে গিয়ে চারটে মিসাইল যদি মুন্দ্রা, কান্ডলা, মুম্বাই, JNPT, মার্মাগাঁও, নিউ ম্যাঙ্গালোর বা কোচিন বন্দরে পরে, সেগুলোকে সওয়ার মুরোদ বা শক্তি আছে তো আমাদের? যেখানে আমেরিকা নিজের থুতু চেটে খেয়ে প্যান্টে হাগছে সেখানে আমাদের প্রতিরোধ শক্তি মার্কিনীদের চেয়েও বেশি? মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইরানের তাড়া খেয়ে ঘেয়ো খেঁকি কুত্তার মতো আমেরিকা যেদিকে পারছে পালাচ্ছে। গ্রীস সহ অনেকেই জায়গা দেয়নি, যদিও স্পেনের একমাত্র প্রকাশ্য বিবৃতি রয়েছে যে, আমাদের মাটিতে যুদ্ধাপরাধী মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কোনো স্থান নেই। ন্যাটোকে একা রাশিয়াই নাশবন্দি ভ্যাসেকটমি করিয়ে দিয়েছে, ন্যাটোর আর উঠে বসার ক্ষমতা নেই।

ইরান ইসরায়েলকেও জাহান্নামে ছুঁড়ে ফেলেছে। তেল আবিবে ফক্স নিউজের প্রতিবেদক বলছে- ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ এতটাই ভয়াবহ যে, ১ কোটি মানুষকে বাঁচার জন্য আড়াল খুঁজতে দৌড়াতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এটা আর কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। পুরো শহর জুড়ে প্রতিটা বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে ক্ষেপণাস্ত্রের বৃষ্টি হচ্ছে - আরও বড়, আরও মারাত্মক, যেন সবকিছু গিলে খাচ্ছে। পুরনো বস্তাপচা স্ক্র‍্যাপ মিসাইল দিয়ে এপস্টিন বাহিনীর প্রতিরোধ সিস্টেমকে মেলার পাঁপড়ভাজা বানাবার পর, এখন ইরান চেপে ধরছে তার অস্ত্রাগার থেকে সেরা মালগুলোর সামান্য কয়েকটা বের করে। ইউক্রেন থেকে ইতিমধ্যেই যা প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এনেছিল সে সব ফিনিস। এখন ইরান ফেলে ক্যালাচ্ছে যায়নবাদী দুই কশাইকে।

মাইনাবের ইস্কুলে অতর্কিত আক্রমণে ১৬৭ জন শিশু কন্যাকে খুন করে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ শুধু তাদেরই মারেনি, আজ গণকবরের দৃশ্যমানতার মাঝে সবচেয়ে বড় অদৃশ্য কবরটা আমেরিকারই ছিল। ইরানের বাঁচার সম্ভাবনা অতিক্ষীন হচ্ছে রোজ, কিন্তু সে নিজে মরতে মরতে আমেরিকা মিথ ও তাদের লুঠের সাম্রাজ্যকে হরমুজের জলে নিয়েই ডুবছে। তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খুন হতেই, ইরান ক্ষ্যাপা জম্বি ষাঁড় হয়ে গেছে। এখন তাদের কোনো কূটনীতি নেই, কোনো পররাষ্ট্রনীতি নেই, বিশ্বের প্রতি মানবতা নেই, আইনকানুন কিচ্ছু নেই। কারণ বাকি দুনিয়া তার জন্য এগুলোর একটাও দেখয়নি, ফলত আজ সে নবারুণের ভাষায়- গাঁ ড় মারি তোর এথিক্সের। ইরানের একটাই নীতি- যে আমেরিকাকে সাপোর্ট দেবে তার গাঁড়ে মিসাইল গোঁজো, তাতে তার দেশে ১০ হাজার শহীদ হলে হোক। একটা নেতা মরতেই আরেক জন এসে হাজির শহীদ হতে, যিনি আরও বিক্রমে মিসাইল ফাটাচ্ছে। তাদের পরিষ্কার দর্শন- আমরা মরছিই, তবে বাকিদের মেরে মরব।

এমন ক্ষ্যাপা জম্বি ষাঁড়ের সামনে আমেরিকা তার নেভাল বাহিনী মানে নৌবাহিনীকে আরবসাগর বরাবর আমাদের ভারতের নানান বন্দরে স্থান দিয়েছে এপস্টিন বাহিনীর ভারতীয় পার্ট- আমাদের চমন চোদনা বিশ্বগুরু। এই হাওয়া বেলুন মার্কিন বাহিনীকে 'আলফা মেল' ভেবে এদ্দিন হারেমখোর মোল্লারাজা গুলো পুষে এসেছে, আজ প্রতিটা আরব মোল্লা রাজার দেশে তান্ডব চালাচ্ছে ইরান নামের উন্মাদ, সে পণ করেছে আমেরিকা আর তার প্রতিটা সহযোগীকে এলাকা ছাড়া করবে। দিশাহীনভাবে অলআউট আক্রমণে যাওয়ার বাইরে একটাই পথ ছিল- আত্মসমর্পণ করা আমেরিকার পায়ে। কিন্তু সবাই তো নরেন্দ্র মোদী নয়, কেউ কেউ তো মানুষও হয় যার মেরুদন্ড আছে। ৪টে মিসাইল আর কিছু কামিকাজে ড্রোনের মার খেতেই যেভাবে আমেরিকা নামের বিশ্বপরাশক্তির মিথকে উলঙ্গ করে ভেতর থেকে খেঁকি কুত্তাটাকে বের করে দিয়েছে, এর পর আর পিছিয়ে আসার জায়গা নেই ইরানের। এক নারকীয় উল্লাসে ইরান বিনাশের খেলায় মেতে উঠেছে- যেটা এপস্টিন বাহিনী নিজেরা যেচে শুরু করেছিলো। এই আমেরিকাই মোদীকে নপুংসক বানিয়ে মাদারির বাঁদরের মতো নাচাচ্ছে।

RSS সমস্যা, তার চেয়েও আমাদের দেশের বড় সমস্যা 'গুজ্জু কার্টেল'। আদানি-আম্বানি-মোদী-শাহ ব্যাস, ভারত সম্পূর্ণ। এদের বিচি আর মগজ দুটোই এপস্টিন বাহিনীর হাতে বন্দি, তাই আমারা ১৪০ কোটি জনগণ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের হাতে জিম্মি হয়ে গেছি। এদিকে ওপেন টিভি চ্যানেলে হিজরায়েলি রাজনীতিবিদ বলছে আমাদের জন্য অস্ত্র তৈরি করতে ১৪০ কোটি ভারতীয় 'দাস' রয়েছে। আমাদের নপুংসক গুলোর একটারও প্রতিবাদ করার অউকাত টুকু নেই, কী করে করবে! আদানি তো ইজরায়েলের হয়ে লক্ষ্মৌ আর নাগপুর অস্ত্র কারখানাতে সত্যিই ইজরায়েলের অস্ত্র বানায়। এরা দেশকে ভালবাসে? এরা নাকি দেশপ্রেম দেখায়? ওয়াক থু তোদের মুখে। এরা মরে গেলেও এদের কঙ্কালের উপরে আগামীতে প্রতিটা ভারতীয়ের পেচ্ছাপ করা নৈতিক দায়িত্ব। সোস্যাল মিডিয়ার একাদধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে- ফাদারল্যান্ডের প্রভু নেতানুনু আমাদের দেশ সম্বন্ধে কেমন ধারণা পোষন করে। ইহুদিদের বাচ্চারা ভারতীদের সাথে কেমন আচরন করে, ভক্তের মূর্খ বাপ এদেরকে পিতাশ্রী বানিয়ে এসেছে। ওয়াক থুঃ

বেটিচো দ ট্রাম্পুর মাইটি আম্রিকা গাঁ ড়ে যা মিসাইল আর ড্রোন ভরেছে, তার বিচি সমেত সমস্ত যন্ত্র কিডনিতে উঠে গেছে। এখন আর প্যান্টেও মোতার মুরোদ নেই, নিজের পেটেই মুতছে। যত দিন যাবে নিজেরা হাগবে নিজেরাই সেটা খাবে। যেকোনো মূল্যে এখন সিজফায়ারের ঘোমটা চাইছে, যাতে পালিয়ে বেঁচে মুখরক্ষা হয়। সে তারা গাঁ ড় মারাক ঘটি হারাক, যুদ্ধ তারা শুরু করেছিল, তারা মূল্য গুনুক- আমরা কেন আমাদের সমুদ্র বন্দরে আমেরিকাকে সেল্টার দেব? দীর্ঘদিনের বন্ধু ইরানকে হারিয়েছি, এ অবধিও ঠিক আছে নাহয়; কিন্তু তাকে শত্রু বানানোর মধ্যে ভারতের কোন স্বার্থ সুরক্ষিত হবে? আর আমেরিকাকে সেল্টার দিয়েই বা আমদের কোন লাভটা হবে? কদম্বা কারওয়ার, মুম্বই, পোরবন্দর, কোচিন ভেন্ডুরুথে, গোয়া ও লাক্ষাদীপ- এই ভারতীয় নৌ সেনাঘাঁটির প্রতিটাতেই নাকি পলাতক কাপুরষ মার্কিন যুদ্ধবাজ নৌসেনাদল তাদের অবশিষ্ট বেঁচে থাকা জাহাজ নিয়ে উপস্থিত হয়েছে- সোস্যালমিডিয়ায় বিভিন্ন এক্সপার্টের দাবী অনুযায়ী। শুধু উপস্থিতই হয়নি, গুজ্জু কার্টেল তাদের জামাই আদরে পুষছে খাদ্য, মদ, মেয়েছেলে- সবের যোগান দিয়ে। কত টাকায় দেশকে বিক্রি করেছে এই গুজ্জু কার্টেল?

কোথায় আমাদের দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো? কেন আমরা রাস্তায় নামছিনা RSS এর এই আত্মঘাতী বিদেশনীতির বিরুদ্ধে? RSS আগে ব্রিটিশের জুতো চাঁটতো, এখন আমেরিকার চাঁটছে। মালিক বদলেছে শুধু, এদের জিনে সাদা চামড়ার প্রতি অকৃত্রিম "I beg to remain, SIR, Your most obedient servant" পরিভাষার কিছুই বদলায়নি।

ঝাড়ের বাঁশ গাঁ ড়ে নেওয়ার মূল্য দিতে আমরা ভারতবাসীরা প্রস্তুত তো? 

তাহলে, বলো আম্রিগা মাই কি....... 


সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬

ইরান যুদ্ধঃ একটা অশ্লীল পোষ্ট


 Disclaimer: অত্যন্ত অশ্লীল ভাষায় কথাবার্তা লেখা আছে এখানে, প্লিজ কেউ পড়বেন না। 


মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে যারা ঘৃণা করেন, তারা কিন্তু এটা পড়লে মানসিক তৃপ্তি পাবেন। আপনি যে ভাষায় বলতে পারছেন না এখানে সেই ভাষাতে লেখা রয়েছে। তবে যারা নাকি সুশীল, কিন্তু লুকিয়ে পানু দেখার অভ্যাসের দরুন ‘ভুল করে’ পড়বেন ভাবছেন- তারা মধু মাখানো তুলসী পাতা দিয়ে পোঁ দে গার্ড দিন, নাহলে আপনার ওটাই মারা যাবে আমার এই অকথ্য ভাষার চোদনে। হালাল হোক বা স্বাত্ত্বিক উপায়ে, যার যেটা পছন্দ ও ওরিয়েন্টেশন- সেই অনুযায়ী পোঁ দের সুরক্ষা নিন; ঠিক যেভাবে ‘আয়রন ডোম’ ইজরায়েলকে সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে। চলুন শুরু করা যাক- 

কার্পেট বোম্বিং দেখেছি, ক্লাস্টার প্রযুক্তির কার্পেট মিসাইলিং- নাবালক চো দা এপস্টিন বাহিনীর কাছে এ রীতিমতো দুঃস্বপ্নের। ইরানের বর্তমান রাষ্ট্রগীত হচ্ছে- ইতনা বোম ফোড়েঙ্গে, কী এলাকা ধুঁয়া ধুঁয়া হো জায়েগা। গাজাকে গাজা বানানোর কারিগরেদের মড়াকান্নার ভিডিওটাও সাথে দিলাম 

এপস্টিন বাহিনীর সেক্রেটারি ডোলান্ড টাম্প, এপস্টিনের প্রেসিডেন্ট বেঞ্জামিন নেতনায়াহু, আর এপস্টিনের স্পেশাল মুজরোওয়ালি ৫৬ ইঞ্চির ভোঁদড়ের দল ভেবেছিল তাদের যৌন শীঘ্রপতনের মতোই- দু’দিনে যুদ্ধ শেষ হবে। খামেইনিকে মার্ডার করে দিলেই উদ্বাহু নেত্ত করতে করতে রেজা পহ্লবীর নেতৃত্বে আবার একটা বিশ্বমাচাদো সরকার আসবে। শুরুটা টিম এপস্টিন প্ল্যানমাফিক করলেও, শেষটা করতে পারল না, শিবলিঙ্গ গড়তে গিয়ে বাপের বাঁ ড়া গড়ে ফেলেছে। চব্বিশ ঘন্টার মধ্যেই আত্মলিঙ্গম পশ্চাদপূরণে বাধ্য করেছে ইরান। পালিয়ে যাবার শেষ উদাহরণ হিসেবে আফগানিস্তানের মাটিতে মার্কিন অহমিকার কবর দেওয়া হয়েছিলো। সেখানে আমেরিকার কাপর খুলে নেওয়া হয়েছে, মার্কিন বেস গুলোতে আজকের দিনে ঘুঘু চড়ছে। কুত্তানিয়াহু প্রথমে গ্রীসে গেছিল সেল্টার নিতে, সেখান থেকে লাথ খেয়ে জার্মানিতে পালিয়েছে।

ইরানের তরফে মিসাইল হামলা হচ্ছে সিংহের মতো করে। সিংহের কামোত্তেজনা উঠলে প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর অন্তর লাগাতার প্রায় সপ্তাহ খানেক তারা এলোমেলোভাবে লাগায় ২৪ ঘন্টা ধরেই। এতেই সিংহী প্রেগন্যান্ট হয়ে যায়, আমেরিকা কি সিংহীর চেয়ে কম কিছু? এদিকে সিংহীও কম তেজী নয়, তার দাঁত নখের আঁচড়ে সিংহ আক্রান্ত রক্তাক্ত হয় বটে, কিন্তু সঙ্গম থামে না। স্বভাবতই আমেরিকার পেট না বাঁধিয়ে ইরান ছাড়বে না, তাতে পুরুষ মৌমাছির মতো লাগাতে লাগাতেই বীর্য আর প্রাণ একসাথে ত্যাগ করতে হলে হয়তো ইরান সেটাই করবে। মৌমাছি, অক্টোপাস, প্যাসিফিক স্যামন, স্কুইড কিম্বা সিংহ- কায়দা যা খুশি হোক, লাগাচ্ছে কেবল ইরান। আমেরিকাই নিজে থেকে লাগাতে এসেছিল, কিন্তু তার ধন কুত্তার মতো ফুটোয় আঁটকে গেছে, এখন সেই গিঁট না ছাড়া অবধি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্যালানি খেতেই হবে আর গলা ছেড়ে ঘেউ ঘেউ করতে হবে। 

আমেরিকার ল্যাওড়ার আইরন ডোম, থার, ডেভিডস স্ল্যাং, প্যট্রিওট, কত কী সব নাম- সব আক্রমণ নাকি আঁটকে দেবে! ডামি মিসাইল দিয়েই এগুলোর এমন ভাবে গুয়া মেরে দিয়েছে যে, পোঁ দের ফুঁটো দিয়ে দাঁত দেখা যাচ্ছে। খেলা শুরু হতে কী দেখা গেল? আমেরিকা পানু ফিল্মের নায়িকা আবেলা ডেঞ্জার, মিয়া খলিফা/মালকোভা বা লানা রোডস সেজে প্রতিটা ফুটো দিয়ে নিজের ভেতরে- ইরানের সমস্ত মিসাইল জনি সিন্সের ডান্ডার মতো শীৎকার করে ভরে নিচ্ছে। সব ধরনের পোজে একা ইরান ১৪টা দেশকে গ্যাংব্যাং এর অর্গাজম দিচ্ছে জাপানি তেল থুরি চাইনিজ তেল লাগিয়ে। আমেরিকার বিলিয়ন ডলারের রাডার সিস্টেমকে মেলার পাঁপর ভাজার মতো করে খাস্তা মুড়মুড়ে করে দুমড়ে মুচড়ে দিয়েছে। ইরানের প্রতি ১০০ ডলার খরচের বিপরীতে আমেরিকার খরচা ১ লাখ ডলার, এখানেও চু দে চাপ, পঞ্চুর বাপ।

আপনি তো আবার ধ্রুবক ধরে বসে আছেন, আমেরিকা মানে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, তার কোনো বিনাশ নেই। ওরে বাবাচোদা ফ্যাদামুখো, আমেরিকার ২৪০ বছরের ইতিহাসের শেষ ২০০ বছরে তারা কোনো যুদ্ধ জেতেনি, আর শেষ ৬০ বছরে তারা প্রতিটা যুদ্ধে ল্যাজে গোবরে হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় ইরান যুদ্ধেও সেটাই হচ্ছে, নাকাল নাজেহাল বিপর্যস্ত অব্যবস্থা আর চুড়ান্ত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি শুরু হবে তাদের মেইন ল্যান্ডেও। শিশু যৌন নিপীড়ক ট্রাম্পু এবারে ট্যারিফ চোদাতে গেলে আর ইরানকে লাগবে না, তাদের দেশের লোকই গাঁড়ে ফ্যাটবয় আর লিটিলম্যান একসাথে গুঁজে দেবে। পাতি বাংলায় বললে, আমেরিকার ফাটা বাঁশে বিচি আঁটকে গেছে, সিজফায়ারের নামে যেকোনো মূল্যে এখন বিচি বাঁচিয়ে পালাতে চাইছে। কিন্তু চাইলেই তো আর হবে না, ইরান মরনপণ বাজি রেখে অলআউটে গেছে, অন্তত মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বিচি কেটে খাসি না করে ছাড়বে না। ব্রিটেন ফ্রান্স জার্মানির বিচি শুকিয়ে কিসমিস করে রেখে দিয়েছে রাশিয়া ভায়া ইউক্রেন যুদ্ধ, তাই তারা দূর থেকে হুক্কাহুয়া করছে ও করবে, তেড়ে ছুটে আসার ভান করবে, কিন্তু কামড়াবার কোনো অউকাত অদের অবশিষ্ট নেই। কামড়ালে পরের মিসাইলগুলো বার্লিন লন্ডন কিম্বা প্যারিসের ভূমিতে ‘ফুল’ ফোটালে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই।

আরবের খোজা মোল্লাদের দেশগুলোকে দিয়ে, ইরান তার ইমানদন্ডকে শুধু চুষিয়ে নিচ্ছে মাঝেমধ্যে- যাতে আমেরিকাকে ঠাপানোর সময় পিচ্ছিলতা বরাবর বজায় থাকে। আসলে চু ত মারা যাচ্ছে আমেরিকার মা মাসির- সামনে পিছনে দুদিক দিয়েই। যা দেখা গেল, আমেরিকার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের চেয়ে চিনা মালের গ্যারান্টি বেশি। আর সেই হিসাবে S-400 তো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিস্ময়, অবশ্য রাশিয়ান মানেই অনেকের চোখে গোলাপি বিস্ময় জাগে। ইজরায়েলকে আলাদা করে উল্লেখ করে লাভ নেই, যৌবনে পুরুষ বীর্যবান হলে যেমন ফ্রিতে বাল গজায় গুপ্তাঙ্গে, ইজরায়েল হচ্ছে আমেরিকার এঁড়-বিচির ঝাঁটের বাল। এর আলাদা কোনো অস্তিত্ব নেই, এক্সটেন্ডেড আমেরিকাই ওটা। যা বাকি বিশ্বে CIA নামে পরিচিত, সেটাই ইজরায়েলী ডাকনাম মোসাদ। আমেরিকাই তার ওই ঝাঁটের বালে শ্যাম্পু সাবান তেল দিয়ে বিনুনি করে রেখেছে, যেদিন আমেরিকার বিচি কেটে খাসি করা হবে সেদিন এঁড়ের বালও আস্তাকুঁড়ে চলে যাবে।

গত বছর ১২ দিনের যুদ্ধে ইজরায়েল ন্যাংটা হয়ে পায়ে ধরে সিজফায়ার নিয়েছিল, এই যুদ্ধে আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কাপড় খুলে নিয়েছে ইরান। বেটিচো দ ট্রাম্পুও এখন লেজ গুটিয়ে পালাতে চাইছে। আমেরিকাও তাদের সক্ষমতার চেয়ে শতগুণ ফোলানো হাওয়া বাঁদর, ইরান সেটাকে উন্মোচন করে দিয়েছে। রীতিমতো পাড়ার মোড়ে ফেলে ক্যালাচ্ছে আমেরিকার ১৯টা ঘাঁটির প্রতিটাতে। আব্রাহাম লিঙ্কন নামের বিমানবাহী জাহাজের খোঁজ নেই, তাকে সম্ভবত জলকবরে পাঠিয়ে দিয়েছে ইরান। বাহারিনের পঞ্চম নৌবহর গাধার গাঁ ড়ে। B-2 কে আনার সাহস দেখাতে পারেনি, কে জানে তার জন্য কোন মিসাইল স্টকে রাখা রয়েছে। B-2 এর একটাকে প্যাকেট করে দিলে তো আমেরিকার ৫০টা ভাই হবে রাতারাতি। তাই তারা পরমাণু বোমা বহনকারী সাবমেরিন আনার হুমকি ধমকি দিচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটা USA এ্যাম্বাসিতে এখন ঘুঘু চরছে। ট্রাম্পের চিৎকার এখন শীৎকার মনে হচ্ছে, হিজরাএলি বীর কুত্তা জার্মানিতে পালিয়েছে- ‘প্রমিশ ল্যান্ডে’ কয়েক লাখ বেজন্মাকে মরার জন্য ফেলে রেখে। সেই বেজন্মারাও পালাতে গিয়ে রোড জ্যাম করে উদোম খিস্তাচ্ছে। আমেরিকা যদি ইরানে পরমানু হামলা করে, রাশিয়া ইউক্রেনে আর কিম জং দক্ষিণ কোরিয়াতেও পরমাণু বোমার ছুঁচো বাজি ছাড়ার লাইসেন্স পেয়ে যাবে। সুতরাং, হরিনাম খাবলা খাবলা করে গাওয়া যাবে না- আমেরিকার মেনল্যান্ড প্রতিটা ICBM মিসাইলের রেঞ্জের মধ্যে। 

হলিউডি সিনেমাতে আমরা প্রতি বছর ২০টা করে এমন সিনেমা দেখি যেখানে আমেরিকা আক্রান্ত, আজ সত্যিই যখন তারা চুলকাতে এসে আক্রান্ত- 'আজকের দিন অবধি' প্যান্টে হেগে ফেলেছে, ইরানের মতো একটা ক্ষুদ্র শক্তির কাছে। যে ইরানের না বিমান বাহিনী আছে, না নৌবহর আছে, না আধুনিক বিমান আক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থা রয়েছে, না আছে সেই মানের আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা তথা রাডার সিস্টেম। যা আছে তা হলো চরম আত্মবিশ্বাস, অকুতোভয় সাহস আর নিবিড় দেশপ্রেম, এর সাথে তাদের মিসাইল প্রযুক্তি। আমাদের ৫৬ ইঞ্চি ভাঁড়ের মতো ট্রাম্পের পোঁ দ চেটে জ্বী হুজুরি তো আরবের মোল্লাচো দা গুলোও করেছে, মানুষ আর মানুষরূপী জানোয়ারের ফারাক থাকবেই। সবাই খামেনিই হতে পারে না।

অবশ্য ফেসবুক টুইটারে কিছু মাল খামেইনির মৃত্যুতে এমন উল্লাস করছে, যেন তার বুড়ি তুবড়ি মাকে পাড়ার কাকারা মিলে গাভিন করে দিয়েছে, তাই ভাই হবার আনন্দে নাচছে জারজ গুলো। তাদের হিসাবে ইরান মহিলাদের বন্দি বানিয়েছে, ওদিকে যারা নারী মুক্তির স্বঘোষিত ধারক বাহক তারা ইরানি বাচ্চা মেয়েদের ইস্কুলে বোমা মেরে ১৫০ জনকে খুন করেছে, কিম্বা কচি ও ডাঁসা বেছে বেছে এপস্টিন দ্বীপ হোক বা আরো অন্যান্য স্থানে নিয়ে গিয়ে সেই মেয়েদের ধর্ষণ করেছে। ইরানে থাই-মাই দেখানো তথাকথিত নারী স্বাধীনতার সময়ে মহিলা শিক্ষার হার ২৪% থেকে বেড়ে আজ ৯৭% পৌঁছেছে। তাদের সরকারি চাকরিতে নারীরা ৫০%, মিসাইল প্রযুক্তির ওয়্যার রুমে নারী বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, কৌশলীরা গিজগিজ করছে। এসব আমাদের দেশের নেড়ীবাদি খেঁকি চমন চুতিয়াদের চোখে-কানে ঢোকে না। আমেরিকান প্রোপাগান্ডা মিডিয়া বলেছে ইরান পচে গেছে, এই বাঞ্চোদেরা সেটাকেই একমাত্র সত্য হিসাবে বাপের বিচির মত আঁকড়ে ধরে বসে আছে। এদের চোখে তার মায়ের মাসিকের রক্তমাখা ন্যাকড়া আর কানে বাপের বাঁ ড়া গোঁজা আছে। এই সব ফেসবুকের আড়াই আনার বিপ্লবীদের জন্ম কীভাবে হয়েছে জানেন? এর বাপেরা বাথরুমে হ্যান্ডেল মারতে গিয়ে কমোডে মাল ফেলেছিল, সেই কমোডের জলে এরা কীভাবে যেন জন্মে গেছে মশার মতো। স্বভাবতই কমোডের গর্ভে জন্মানো মালেদের উল্লাস তখনই হয়, যখন কেউ আবার খিঁচে তাদের মুখে চোখে উষ্ণ বীর্যপাত ও মুত্র বিসর্জন করে দেয়। কে জানে এদের মায়েরাও হয়ত কখনও এপস্টিনের মতো মালেদের খাটে শুয়ে ‘অউফ’ শব্দে অর্গাজম নিয়ে ফেরার ফসল ফলিয়েছিলো কিনা।

সবচেয়ে আনন্দ লাগছে আরবের মোল্লাগুলোর গাঁ ড়ে মিসাইল ভরে দেওয়া দেখে, যেন শৈশবের ঈদের আনন্দ পাচ্ছি। ভেড়াগুলো ভেবেছিল আমেরিকা তাদের বাঁচাবে, তাই গত ৫০ বছর ধরে দুধ কলা আর পেট্রোডলার দিয়ে আমেরিকান সেনাদের পুষে এসেছিল। আজ ইরানের চোদনে আমেরিকার ভাই হবার দশা এসে গেছে, ফলে আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহারিন, ওমান, জর্ডন ও সৌদি- সবকটা বেজন্মা রাজাদের দেশে ইরান মিসাইল-ড্রোন দিয়ে চড়কিবাজি খেলছে। এই সবকটা কাটামোল্লা রাজা বৈভব আর বিলাসিতার চুড়ান্ত পর্যায়ে থাকে সারাবছর, এরা না মুসলমান না ইহুদি না হিন্দু না খ্রিস্টান - এরা জিন্দা শয়তান। এদের হারেমে সাদা চামড়ার বেশ্যাতে ভর্তি, গলা অবধি মদে ডুবে, শুয়োরের মতো ডজন ডজন বাচ্চা পয়দা করাই এদের একমাত্র কাজ। বাচ্চারা যেমন মুখে ললিপপ গুঁজে থাকে, এই শুয়োরের বাচ্চা বেজন্মা মোল্লাগুলো মার্কিনীদের বাঁ ড়া মুখে গুঁজে বসে থাকে। 

দুবাই সহ সমগ্র আরব দেশে চরম খাদ্য সঙ্কট দেখা দেবে অচিরেই। একটারও নিজেদের দেশে খাদ্য উৎপাদন হয় না, বাইরে থেকে আসার উপায় নেই, জল জাহাজ, উড়ো জাহাজ সব পথ বন্ধ। যুদ্ধ পরিস্থিতি আগামী ২ সপ্তাহ চললে খাদ্যের জন্য গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে মোল্লা খা নকির বাচ্চাদের ঘরে ঘরে, শালারা কেরোসিন খেয়ে মরুক। গোটা গাজা’কে যারা মাসের পর মাস অভুক্ত রেখে নিজেরা ফুর্তি লীলা করেছে দিনের পর দিন, আজ সেই সকল গর্ভস্রাব বোকাচো দা দের শুকিয়ে থাকার দিন এসে গেছে। 

বাহারিন নামের দেশটা আপাতত অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে। আর দুবাই এর যা হাল করেছে তাতে আবার তারা ৪০ বছর পিছিয়ে যাবে, সাথে এতো এতো বিদেশী লগ্নির যে বিস্ফোরণ- তাও গাধার গাঁ ড়ে চলে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা। মোল্লাচো দা দের হারেমে একটা করে কামিকাজি ড্রোন গুঁজে দেওয়া না দেখতে পাওয়া অবধি আত্মায় শান্তি আসছে না। সবকটার বিচিতে আলুবোমা দিয়ে ব্লাস্ট করাতে হবে। আলকায়দা আর আইসিস নামের বেশ্যার বাচ্চাগুলো, আরব রেন্ডিদের পেটে আমেরিকার বীর্যজাত বেজন্মা। এদেরকেও এই সময়ে প্যাকেট করে দিতে হবে। ইসলামের নাম নিয়ে কম গণহত্যা খুল লুঠতরাজ এরা করেনি। এই সবকটা মোল্লাদের সর্দার হচ্ছে সৌদি নামে খান কির ছেলেরা, এদের প্রত্যেকটাকে বেছে বেছে আলাদা করে একটা করে মিসাইল পোঁ দে ভরতে হবে। সৌদির পেট বরাবর পূর্ব মাথা থেকে পশ্চিম মাথা অবধি তেলের লাইন পাতা রয়েছে, যা তাদের তেল সরবরাহের মূল ধমনী, সেখানে মিসাইল না গুঁজলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরবে না, ফিরতে পারেনা। শুনলাম তুরস্কে থাকা মার্কিন সেনা ঘাঁটির বিচিতেও নাকি হালকা টঙ্কার মেরেছে আজ ইরানি মিসাইল। ন্যাটোর সাথে মিলে গাজাতে গণহত্যা চালানো- মুসলিম বিশ্বের খলিফা হতে চাওয়া গাঁ ড়দোয়ানের বিচিতেও হালকা চুলকে দিলে, পীর সেজে বায়ানবাজিটা বন্ধ হয়ে হয়।

বর্তমান সভ্যতার বয়স যদি আনুমানিক ৫০০০ বছর হয়, ‘আজকের দিনের’ গণতন্ত্রের বয়স আর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের বয়স একই, কমবেশি ওই ৮০ বছর। দুজনেই একে অন্যের হাত ধরাধরি করে এসেছে বিশ্বের সকলের মা বোন চু দে দিয়ে লুঠতরাজ করতে। ‘গণতন্ত্র’ নামের যে মুলো এপস্টিন বাহিনী গোটা পৃথিবীকে দেখায়, সেটা তারা নিজেরাই কখনও প্রাক্টিস করেনি। এই মাচো দাদের কাছে গণতন্ত্র মানে শুধু লুটপাট আর যুদ্ধ হিংসা। মানবতা, নারী স্বাধীনতার ভরং ধারী বাঁদির বাচ্চারা নিজেরা বাচ্চা মেদের যৌনদাসী বানায়, আর স্বাধীন সার্বভৌম দেশে বোমা মারে, তাদের রাষ্ট্রনেতাকে তুলে নিয়ে যায় সম্পদ আত্মসাৎ করতে। গোটা বিশ্বের একটা শ্রেনীর কাছে পশ্চিমা গণতন্ত্রের এই মুলোই একমাত্র আইডল, তারা তাদের পৈতৃক গাঁ ড়ে মুলো হুড়কো খেজুর গাছ যা খুশি গুঁজুক, আমেরিকা যেদিন ‘লৌড়েন ভোজ্যম’ হয়ে যাবে, আজকের রূপে থাকা গণতন্ত্রও ‘বাপরে’ বলে পটল তুলবে নিশ্চিত।

এসব থেকে যা বোঝা গেল, আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আর মমতা ব্যানার্জীর ভাষন- দুটোই এক। এরা দুজনেই যেটাকে বলে আঁটকে দেব, সেটাকে পরিপূর্ণ employment করে ছাড়বেই। এদিকে ভারতের মিডিয়া আর পেঁপে গাছের খাট- দুটোর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। কুয়েতে একটি F-15 বিমানের মা চু দে দেওয়া হয়েছে, গোদী মিডিয়ার এ্যাঙ্কর জানাচ্ছে সেটা নাকি পড়ে গেছে, ওলে বাবালে, গুলুগুলু। ফাইটার জেট যেন তার বাপের নু নু, সেই যন্ত্রের শীঘ্রপতনের মতো ফাইটার জেটও ঝরে ঝরে পড়ে।

ইজরাইল কিন্তু সহজে শেষ হওয়ার নয়, হবেও না।  আমেরিকাকে বলি দিয়ে টিমটিম করে হলেও তারা কিন্তু টিকে থাকবে। আমেরিকার বয়স ২৪০ বছর ইহুদিরা টিকে আছে সাড়ে তিন হাজার বছর ধরে। এই সাড়ে তিন হাজার বছরে আমেরিকার মতো কত বিশ্বমোচাদো এসেছে গেছে, এই চোদনা গুলো ঠিক টিকে আছে। এদের মতো ধান্দাবাজ শয়তান পৃথিবীতে দ্বিতীয় কোনো জাত নেই। 

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিবিদরা কাল থেকেই বলছিল শেয়ারবাজার খুললে মার্কিন অস্ত্র কোম্পানিগুলোর শীঘ্রপতন অবশ্যম্ভাবি। CNN, FOX এর মতো বিজ্ঞবিচিদের মুখে রজঃস্রাব করে, আজ শেয়ার বাজার মাল ফেলা ধনের মতো নেতিয়ে পড়েছে। SIR নাটিকা আর ইরান যুদ্ধের বাইরে আপাতত এটাই গল্প। এই শেয়ারবাজার পতন থেকে ডিপস্টেট কতটা মুনাফা কামাবে জানি না, কিন্তু পশ্চিমা সাধারণ জনগণের পুঁজির আবার আঠা আঠা করে গাঁ ড়টি মারা গেলো সেটা বলাই বাহুল্য। আমাদের বাংলাতে দোল উৎসব চলছে, সকালের দিকে ফগও থাকছে। আমেরিকা চু দে যেতেই পাকিস্তান এখন অনাথ হয়ে গেছে। আফগানিস্তানের নামে বিল কেটে আমাদের RAW ইসলামাবাদে হীরামান্ডি খুলে বসেছে পাকিস্তানী সেনার মা বোনেদের নিয়ে, এটাও শরীর ঝাঁকিয়ে সুখ দিচ্ছে। শুনছি নূর খানেরও নাকি খাৎনা করে দিয়েছে আবার! নপুনংশক স্যারেন্ডার মোদীর কতটা মুরোদ হবে এমন সুবর্ণ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানকে টুকরো টুকরো করে ফেলার, সেটাই বড় প্রশ্ন।

তবে লোকসান টাকার হলো জানেন, ক্ষতিকুরের। তার পোঁদকাস্টের গাঁ ড় মারা গেছে। SIR নিয়ে তোলামুলের ঢামনামি চাপা পরে গেছে। এতো লক্ষ লক্ষ টাকা খরচা করে i-pac এর যে প্রচেষ্টা, সব মাঠে মারা গেছে ইরান যুদ্ধের কারনে। 

শালে দুখ কা দিন খতম কাহে নেহি হোতা হ্যায় বে!

রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬

ইরান যুদ্ধঃ প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া

 


ইরান ভয়াবহ ক্ষতির মধ্যে রয়েছে কোন সন্দেহ নেই। কতক্ষণ সে প্রতিরোধ করতে পারবে- সে বিষয়েও নিশ্চিত করে কিছু বলার উপায় নেই। এটা তার টিকে থাকার লড়াই। এসবের মধ্যে প্রথম দিনের হালতামামি করে যতটুকু পাওয়া গেল, তার একটা সারসংক্ষেপ মোটামুটি এইরকম -

ভক্তদের বাপের ফাদারল্যান্ডকে আবার একবার গ্যাংব্যাং করে তাদের মা-বোন-মেয়ে সবাইকে এক খাটে শুইয়ে ন্যাংটা মাচাদো করে বাঙ্কারে ঢুকিয়ে চুতিয়া বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। 

নিজেদের সর্বশক্তিমান বলে দাবী করা বিশ্ব মাচাদো আম্রিগা ল্যান্ডের ১৯টা মধ্যপ্রাচ্য ঘাঁটির মধ্যে ১৫টাই দাউদাউ করে জ্বলছে। জাতিসংঘে গিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের নামে চীন রাশিয়ার পা ধরে পালিয়ে বাঁচতে চাইছে পেডোফাইল ট্রাম্পু। আয়রন ডোমকে মুতে ভাসিয়ে দিয়েছিলো আগেই, এ যাত্রায় 'থার' আর প্যাট্রিয়ট ডিফেন্স সিস্টেমের মা-মাসির ১০৮ বার করে দিয়েছে। মার্কিন ডিফেন্স সিস্টেমও যে আসলে বালির বাঁধ, রথের মেলার পাপড় ভাজার মতন ভঙ্গুর তাদের ডিফেন্স সিস্টেম- সেটাকে ন্যাংটাভাবে প্রমান করে দিয়েছে। যা অবস্থা তাতে আব্রাহাম লিংকন হরমুজের জলেই না সলিল সমাধি নেয়। 

আমেরিকার জেতার একমাত্র পথ হচ্ছে পারমাণবিক আক্রমণে যাওয়া। সেক্ষেত্রে রাশিয়া একই ভাষায় ইউক্রেনে লাভ লেটার পাঠাবে। ওদিকে কিম জং উন, মানে আমাদের ছোট ভাই, তাকে কেউ খেলাতে ডাকছে না। এতে করে সে যদি আবার অপমানিত বোধ করে - কার পিছনে মিসাইল গুঁজে দেবে কেউ জানে না। সব মিলিয়ে এক ভজকট পরিস্থিতি। 

ইরানের দাবি মত ১টা 'ওরেসনিক মিসাইল' যদি মার্কিন মেনল্যান্ডে ফেলতে পারে, তাকে বেশী কিছু করতে হবে না, শুধু একটু সাপ বাজির মতন ধোঁয়া আর ছাই তৈরি করতে হবে- তাতেই গোটা ইউরোপের আন্ত্রিক হয়ে যাবে। আমেরিকার বীর সাভারকেরেরাও তখন গর্তে লুকাবে। এটা কোনো কষ্ট কল্পনা নয়- একটা ঘটলে পালটা হিসাবে দ্বিতীয়টাও ঘটবেই । 

আমেরিকা কার্যত এই মুহুর্ত অবধি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ক্যালানি খাচ্ছে। ইরাণের মাটিতে তাদের GPS অকেজো, ফলত অন্ধের মত কার্পেট বোম্বিং করে গণহত্যা করলেও- মূল কাজের কাজ করতে পারেনি। উলটে তাদের মধ্যপ্রাচ্য সেনাকমান্ড, সেনা হেড কোয়ার্টার, রাডার, সেনাঘাঁটি, এয়ার বেস এর অধিকাংশই আপাতত 'গাজা'য় পরিনত হয়েছে। কমলা হ্যারিস ট্রাম্পের ইমপিচমেন্ট চাইছে, নিউয়র্কের রাস্তায়, হোয়াইট হাউস পেন্টাগন ওয়াশিংটন ডিসি - সর্বত্র যুদ্ধ বিরোধী জনগণ মিছিল করছে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছে।

 ব্রিটেন ফ্রান্স জার্মানি সহ আরবের মোল্লা চো দা গুলো আপাতত সকলে রাজনাথ সিং মোডে চলে গেছে- সবাই কেবল কড়ি নিন্দা জানাচ্ছে। 

 BBC, রয়টার্স, ফক্স, ABC মিলে ২৮ তারিখ দুপুর থেকে প্রতি ঘন্টায় খামেইনিকে ২ বার করে হত্যা করেছে। হত্যার তালিকাতে নাম তোলার ক্ষেত্রে ইরানের প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি সেনাপ্রধান বিদেশ মন্ত্রী সহ অনেকেই কয়েকবার নাম তুলেছ এবং ক্রমাগত তুলে যাচ্ছে। নিজেরাই নিজেদের প্রতি আধাঘন্টা অন্তর উদগান্ডু বানাচ্ছে।

 বাহারিন নামের দেশটা আগামীকাল সকাল অবধি থাকবে কিনা কেউ জানেনা। রিয়াধ, জর্ডন, কাতার, কুয়েত সবকটা মার্কিন ঔরসে জন্মানো মোল্লাদের দেশে মিশাইলের গ্রিটিংস পাঠিয়েছে ইরাণ। ওদিকে UAE এর দুবাই আবুধাবিতে T-10 স্টাইলে খেলা হচ্ছে দুবাই এয়ারপোর্ট, জাবেল আলী, জুমেইরা, বুর্জ খলিফাকে- মিয়া খলিফা ভেবে পেলে দিচ্ছে ইরানি ড্রোন আর মিশাইল। 

ইরাণ কতক্ষণ বেঁচে থাকবে জানিনা, কিন্তু এই অবধি আমেরিকাকে এইভাবে উপর্যুপরি ধর্ষিত লাঞ্চিত আর শুয়ে পরে যন্ত্রনায় ছটপট করে পলায়নপর কতরাতে দেখে এক পাশবিক উল্লাস হচ্ছে। যেখানে আমাদের স্বঘোষিত বিশ্বগুরু এক ফোনেই চাড্ডি হলুদ করে ফেলে, ট্যারিফ নামের ভেসলিন দিয়ে পোঁ দ মেরে দিলেও, সামান্য আহ টুকু বের করার মুরোদ হয়না- সেখানে একটা অবরুদ্ধ দেশ তার ক্ষুদ্রশক্তি দিয়ে এভাবে বিশ্বের পরাশক্তিকে ন্যাংটা করে দিচ্ছে- এখানেই তো বেঁচে থাকার সার্থকতা। যুদ্ধবাজ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এমন ধ্বজভঙ্গ দশা আগে দেখা দুরস্থান- কল্পনা করেছিলো কেউ?


সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

দাঙ্গা ALART

 

যেকোনো সময় রাজ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগিয়ে দিতে পারে তৃণমূল বিজেপি ও তাদের বাপ RSS. সমস্ত ধরনের জাপানি তেল, রকেট ক্যাপসুল, ভায়াগ্রা, তন্ত্রমন্ত্র, ঝাড়ফুঁক ইত্যাদি কোনো কিছুতেই বিজেপি - তৃণমূল বাইনারি দাঁড়াচ্ছে না। তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে সংবাদ শিরোনাম ফিরে পেতে।

রাজ্যের মুসলমান ১৫ বছর ধরে রোজ ঠকেছে মমতা ব্যানার্জীর কাছে। সাচার কমিটির রিপোর্ট দেখিয়ে ক্ষমতায় এসে, মুসলমানকে আরও খাদে ঠেলে দিয়েছে। মুসলমানের চাকরি হয়নি, তাদের OBC গেছে, ওয়াকফের সম্পত্তি খেয়ে নিয়েছে তৃণমূল সরকার, মুসলমান বাড়ির ছেলেরা পরিযায়ী হয়ে বালবাচ্চা পরিবার ছেড়ে ভিনরাজ্যে ধুঁকছে- তাই মুসলমান সমাজ এবারে তৃণমূলকে কুরবানি দিয়ে তবে কুরবানির ঈদ পালন করবে বলে একটা সিদ্ধান্তে এসে গেছে।

এদিকে মুসলমান ভোট না পেলে তোলামুলের হাতে হ্যারিকেন পিছনে বাঁশ। ভাইপো সহ গোটা মন্ত্রীসভা ও দলের হোমরাচোমরারা জেলের দেওয়ালে আঁকিবুঁকি কাটবে। স্বভাবতই দেবাংশু, কুণাল ঘোষ, পোষ্য ভাতাজীবি বুদ্ধিবিচি ভাঁড়ের দল, বিশ্বমাচাদো সাংবাদিক কুল, এবং স্বয়ং ভাইপো- চেষ্টার খামতি রাখেনি। কিন্তু কোনো অস্ত্রেই, মমতা ব্যানার্জী এই যাত্রায় বিজেপি জুজু দাঁড় করাতে পারেনি আজ অবধি। তাই বাধ্য হয়ে মোদীকে নামতে হয়েছে আসরে।

তৃণমূলের মুসলমান নেতাদের হাল দেখুন। জাভেদ খান গ্যারেজ, ববি হাকিম প্রতিষ্ঠিত চোর, ওয়াকফের সম্পত্তি চুরি করে রাজনীতি থেকেই পালিয়ে যেতে চাইছে। উত্তরের রব্বানি, হামিদুর, করিম চৌধুরী, আকতারুজ্জামান, খলিলুর, আবু তাহের, গিয়াসউদ্দিন মোল্লা, সহ অধিকাংশ মুসলমান MLA/MP লাগাতার চুরিচামারি করে এখন প্রায় চলৎশক্তিহীন লোলচর্ম বৃদ্ধ। সৌমিক হোসেনরা নেই, মৌসমের মত হাওয়া মোরগের দল আগেই দলবদল করে কংগ্রেসে ফিরেছে। সাবিনা ইয়াসমিন ধুঁকছে, পাবলিক জুতো ছুড়ছে। 

ডোমকলের জাফিকুল ইসলাম কয়েক'শ বিএড কলেজের মালিক ছিল, ইডি রেইড করতেই আতঙ্কে রক্তবমি করে পটল তুলেছে। কালীগঞ্জের নাসিরউদ্দিন আহমেদও মরে গেছে, তারপর সেই বোম কাণ্ডের পরে ওখানে তৃণমূল গোরস্থানে বসে আছে- মাটি দিয়ে জানাজা পড়া বাকি। নাকাশীপাড়ার কল্লোল খাঁ, পাঁচ'ছ বারের MLA, ভয়ংকর ভাবে অ্যান্টি এস্টাবলিশমেন্ট এর কবলে। একই কেস পাঁচলার গুলশন মল্লিকের।

বীরভূমে কাজল সেখ বা শাহনাওয়াজ পাড়ার কুত্তা, ফুটো মস্তান। একদা ফেমাস লাবপুরের মনিরুল কোথায় কেউ জানে না। সিদ্দিকুল্লাহ নিজের দলের কর্মীদের হাতেই সকাল বিকাল ক্যালানি খাচ্ছে। ভাই এর মৃত্যু বেচে নেতা হওয়া রুকবানুর চুরি ছাড়া আর কিছুই করেনি। ইউসুফ পাঠান- না খায় না গায়ে মাখে নিজেই জানেনা। আকবর আলি খন্দকার বা সুলতান আহমেদের বউ সহানুভূতির  বিধবা ভাতা কোটার প্রোডাক্ট। আফরিন আলির সত্যিকারের ধর্ম কেউ জানে না। পার্কস্ট্রিট ধর্ষণ কান্ডের আসামি কাদেরের বান্ধবী ন্যাংটা নুসরত কয়েকটা বিয়ে করে গ্যারেজ।

মমতার মুসলমান প্রেম দেখতে হলে অবিভক্ত মেদিনীপুরের দিকে তাকাতে হবে। এখানকার ৩৫ টা বিধানসভা কেন্দ্র মুসলমানদের কতটা গুরুত্ব দিয়েছে তা নিশ্চিত ভাবে বোঝা  যায়, যখন দুই মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম থেকে মুসলমানদের প্রতিনিধি হচ্ছে জুন মালিয়া আর দেব। বর্ধমানের মুসলমান প্রতিনিধি রাজ চক্রবর্তীর স্ত্রী মহানায়িকা শুভশ্রী। পাঁশকুড়ার পশ্চিমের ফিরোজা বিবির শহীদের রক্তের গল্প ফুরিয়ে গেছে। হুগলিতে ফুরফুরার লাল দাড়ি ত্বহা চাচাকে মাঝে মাঝে ঝাঁপি থেকে বের করে আগে ফোঁস করাত, নৌসাদের চোটে কাকা পীরের দম শেষ। আগে টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম মমতার হয়ে ওয়াজ করতেন, তিনিও দেহ রেখেছেন।

সোনারপুর উত্তরের ফেরদৌসী বেগম 'মোমো কাণ্ডের' ২৫ টা লাশ লুকাতে ব্যস্ত, নিজে টিকিট পাবে কিনা তাই সন্দেহ। ওদিকে আমডাঙার রফিকুর যদি টিকিট না পায়, একদা বাম তথা অধুনা তোলামুলের সম্পদ আব্দুল সাত্তারের পেছনে হুঁড়কো গুঁজে দেবে, অতএব সাত্তার আউট।

কলকাতা সংলগ্ন ২৪ পরগনার ইদ্রিশ আলি, হাজি নুরুল, ইকবাল আহমেদ, এমন অনেকে কবরে শুয়ে কাটমানি খাচ্ছে। থাকার মধ্যে রয়েছে শওকত, কাইজার, আরাবুল, জাহাঙ্গির আর শাহজাহান - এই হচ্ছে মমতার আসল মুসলমান মুখ। সবকটা গন্ডমুর্খ, সবকটা প্রতিষ্ঠিত চোর, সবকটা দুষ্কৃতি সমাজবিরোধী হিসাবে 'বাংলার গর্ব'।  এরাই হচ্ছে মমতার পাঁচে পঞ্চবান।

সবেধন নীলমনি ছিল বেলডাঙার হুমায়ূন, সে তো এখন মোঘল সুলতান। ডেবরার পুলিশ অফিসার হুমায়ূন কবীর যেকোনো দিন মোঘলাই হুমায়ূনের টিমে চলে যাবে। বীরভূমের হাল আরো খারাপ, হাসান, নলহাটি, মুরারই তিনটে কেন্দ্রে প্রায় ৫৫% এর উপরে মুসলমান- মুসলমান জনপ্রতিনিধি নেই।

এরা মুসলমানকে উচ্ছিষ্টভোগী চোর আর লেঠেল বানিয়ে রেখেছে। 

তাহলে তোলামূলের ভোট বৈতরণী কাকে দিয়ে পার করাবে ২০২৬ এর নির্বাচনে? পাতি-কুরে এমনি এমনি লগ্নি করতে করতে হয়নি i-pac কে। তার পরেও মুসলমান ভোটকে ভয় দেখাতে পারছে না মমতা ব্যানার্জী, বিজেপি, RSS ও তাদের খোঁচর সংগঠনগুলো। এটা ভয়ানক সিঁদুরে মেঘ ওদের জন্য, অতএব সাধু সাবধান।

সবজি বাজার আগুন, মুদি, গ্যাস, ওষুধপত্র কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। কেউ হিন্দু বলে কি অন্য হিন্দু দোকানদারটা দাম কম নিচ্ছে? সুতরাং বিজেপির জামানার এই দ্রবমূল্যবৃদ্ধি ও কর্মহীনতা- বিভ্রান্ত হিন্দু ভাইবোনেদের অনেকেরই ধর্মান্ধতার নেশা ছুটিয়ে দিয়েছে।

এই অবস্থায় হিন্দু ও মুসলমান - উভয়ের ভোটকে মেরুকরণ করতে গেলে ভীষণভাবে একটা দাঙ্গা প্রয়োজন। ভীষণ ভীষণ ভীষণ। তাই আপনারা আমরা শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সকলেই যেন হুশিয়ার ও সতর্ক থাকি- তৃণমূল বিজেপির পাতা ফাঁদ থেকে। এরা পারে না হেন কোনো নিকৃষ্ট কাজ নেই। আর দাঙ্গা লাগানোতে RSS সার্টিফায়েড শয়তান। এদের সমস্ত চক্রান্ত আমাকে আপনাকেই ভেস্তে দিতেই হবে। দল হিসাবে CPIM, Indian National Congress, Nawsad Siddique প্রত্যেককে এই বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা মূলক উদ্যোগ নিতে হবে।

মুসলমান সমাজ জানে আগামী ২৭শে মে কোরবানির ঈদ, ২০২৬ বিধানসভা ভোটের ফলাফলও এর আশেপাশেই বের হবে সম্ভবত। এই কোরবানি ঈদেই আমরা তৃণমূল সরকারকে জবাই করে দেব গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে, ইনশাল্লাহ।

বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

আমেরিকার মালিক কে?



গতকাল হিজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী USA  পার্লামেন্টে গিয়েছিলো। সেখানে এই নপুংশকটা উপস্থিত হওয়া মাত্র মার্কিন সাংসদেরা এমন সমস্বরে উলুধ্বনি ও হাততালি দিয়ে উঠলো, যেন তাদের ভাই হয়েছে। এই উচ্ছাসের কী কারন হতে পারে সাদা চোখে? ইজরায়েল বা নেতানিয়াহু কোন এমন কাজটা করেছে, যার জন্য এমন বাঁধভাঙা উল্লাস? কারন একটাই, ইজরায়েল নামের তোলাবাজটা আছে বলে মধ্যপ্রাচ্যে লুঠের দাদাগিরিটা চালিয়ে আমেরিকার পেট চলছে, আমেরিকা নামের রাষ্ট্রটা টিকে আছে।

কেন নপুংশক? ভিডিওটা দেখুন। আমেরিকা, মানে ইজরায়েলেরই পোষক পিতা, সেখানে এই মরদ নিজের সিকিউরিটি নিয়ে এমন আতঙ্কে আছে যে, বিমানবন্দর থেকে সংসদ ভবনে যাবে, সেই গোটা রাস্তাটা বন্ধ করে দিয়েছে। সামনে পিছনে ২০০ সশস্ত্র গাড়ির কনভয়, আকাশে ৪টে হেলিকপ্টার, সর্বত্র ছড়িয়েছিটিয়ে অসংখ্য সার্প শ্যুটার, আশেপাশের বিল্ডিং এ স্পেশাল ইসরাইলি পুলিশ ।  উঁহু, আমেরিকার কোনো রাষ্ট্রপতির জন্য এমনটা করা হয়না।

হ্যাঁ, এটা আমেরিকার রাস্তায় হিজরায়েলী বীরের বীরত্বের নমুনা। গণহত্যাকারী নিজেই সর্বক্ষণ আতঙ্কে থাকে, এও তার ব্যতিক্রম নয়। গোটা আমেরিকা জুড়ে ইহুদিরা বিক্ষোভ করছে এই হিংস্র নরপশুটার আগমনে। ওদিকে আমেরিকার সেনেটে সে কী উল্লাস-

আমেরিকা নামের দেশটার মালিক আসলে কী ইজরায়েল?

বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদঃ সন্ত্রাসী তৈরির আঁতুড়ঘর

 


লেখকঃ রূপ ভট্টাচার্য

ন্যুরেমবার্গ দেখলাম, অবশ্যই সিনেমাটা, জায়গাটা গিয়ে দেখার সৌভাগ্য হয়নি এখনও। ডিসক্লেইমার দিতে হয় কারণ অনেকে এখন এতটাই ছেলেমানুষ যে ভেবে বসবে, আমি সত্যিই সত্যিই গেছি জায়গাটায়, ঠিক যেভাবে ভেবে নেয় তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছে।

এই জিনিস আদিকাল থেকে হয়ে আসছে। ব্রিটিশ, ফ্রেঞ্চ সহ ইউরোপের তাবৎ বড় শক্তি মনে করেছিল জার্মানিতে নাৎসিদের উত্থান তেমন সমস্যার নয়, মনে করেছিল যে হিটলার, সোভিয়েত দেশ আক্রমণ করলে ওদেরই ভালো, নবজাতক সমাজতন্ত্রের অঙ্কুরেই বিনাশ হবে, শুরু হয়েছিল অ্যাপিসমেন্ট পলিসি বা বাংলা মাধ্যমের ইতিহাস বইতে লেখা “তোষণনীতি”। জার্মানির মধ্যে যেটা হচ্ছিল সেটা আরো ভয়ানক। ইউরোপের অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে যে দম ফেলার সময়টুকু থাকে, দেশের মধ্যে তো সেটা থাকেনা তাও তৎকালীন জার্মানির কমিউনিস্ট, ট্রেড ইউনিয়নিস্ট, সোস্যালিস্ট সবাই নাৎসিদের এই উত্থানকে তুচ্ছজ্ঞান করেছিল এটা জেনেও যে, এই শক্তি ক্ষমতায় আসলে প্রথম আক্রমন হবে তাদেরই উপর। যে মার্ক্সীয় বিশ্বদর্শন বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে, যার মাধ্যমে সমাজ বিশ্লেষণ মোটামুটিভাবে অভ্রান্ত সেই তত্ত্বের দিকপাল তাত্ত্বিকেরা সেই সময়ে জার্মানিতে ছিলেন, তাও তারা ধরতে পারেননি কোন উচ্চকোটির অপশক্তি তার সর্পিল দেহ ঘষে ঘষে, অতি সন্তর্পনে জার্মান রাষ্ট্রযন্ত্রের দিকে এগোচ্ছে।

মানুষ ভুল করে কিন্তু মানুষই সেই ভুল শুধরে নিয়ে এমন একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয় যে নতুন ইতিহাস রচিত হয়। নাৎসি শাসিত জার্মান রাইখের বিধ্বংসী সেনার নাম ছিল ওয়ারমাখ্ট, যাদের যুদ্ধনীতি ব্লিৎজক্রিগ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর দিকে ছিল একটা দুঃস্বপ্নের নাম। জার্মান প্রযুক্তির বলে বলীয়ান প্যানজার (যুদ্ধ ট্যাংক) বাহিনীর প্রবল গোলাবর্ষণ, সাথে লুফ্তওয়াফার (বিমান বাহিনী) আকাশ বাতাস ফালাফালা করে দেওয়া গুলিবর্ষন এবং তার পরে প্রায় সাথে সাথেই ইনফ্যান্ট্রি অ্যাসল্ট, এই হচ্ছে ব্লিৎজক্রিগ যুদ্ধ পদ্ধতি। 

এই অজেয় সেনা নিয়ে, একের পর এক ইউরোপের স্বাধীন দেশ দখল করে, ইংল্যান্ড ফ্রান্সকে পায়ের নিচে চেপে, হিটলার আস্তে আস্তে এগোচ্ছিল তার স্বপ্নের থার্ড রাইখের (জার্মান সাম্রাজ্য) দিকে, স্বপ্নের বেলুন ফাটল পোল্যান্ড ক্রস করার পর। অতি বড় কনজারভেটিভও ঢোক গিলে স্বীকার করবে যে নাৎসি দানবকে কে কবর চেনালো, স্বীকার করবে সে হল সদ্যজাত USSR, সোভিয়েত দেশ, লেনিন স্টালিনের সোভিয়েত। যে কমিউনিস্টদের খুন করে, হিটলার, গেরিং, হিমলার, গোয়েবেলসদের ক্ষমতা দখল, সেই কমিউনিস্টদের সোভিয়েত লাল ফৌজ বার্লিন ধ্বংস করে ভাঙা রাইখস্ট্যাগের চূড়ায় উড়িয়ে দিল লাল ঝান্ডা, ঠুকে দিল শেষ পেরেক নাৎসিদের কফিনে। ইতিহাস তার বদলা নিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে কোনো সিনেমা, বা ডকুমেন্টরি বানানোর সময় পুঁজিবাদী মিডিয়াকে একটু বেশি দক্ষতার সাথে কাজ করতে হয়। তারা ভালোই জানে, হিটলার, মুসোলিনি, তোজো ইত্যাদি সবার জন্ম ওদেরই গর্ভে কারণ সাম্রাজ্যবাদ হচ্ছে পুঁজিবাদের শেষ স্তর। নিজের দেশে জিনিস বেচা যাচ্ছেনা, ইকোনমি সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে, সেটা কাটানোর জন্য প্রাচ্যের কৃষিপ্রধান জাতিগুলোকে জোর করে নিজের কন্ট্রোলে নিয়ে আসা। কে করেনি এই কাজ? ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন সবাই উপনিবেশ করেছে, লুঠ করেছে অন্য দেশ। এই সব দেশ মিলিত ভাবে বা একা একাই যথেষ্ট স্বেচ্ছাচার করেছে, খুন, ডাকাতি করেছে, যার ফলে ঘুমন্ত দানব জেগে উঠেছে। তাই যুদ্ধে খেলাটা ঘুরেছে যখন সেই দানব এসে দাঁড়িয়েছে স্টালিনগ্রাদে, মুক্ত মানুষের ফৌজের সামনে, যাদের কিছু হারানোর নেই, যারা মানবিকতার সবচেয়ে পবিত্র আবেগে একজোট হয়েছে আর সেটা হল ভালোবাসা। আচার্য ব্রহ্মানন্দ পারেনি বিক্রমের দিকে তাকাতে কারণ সে ছিল নিষ্পাপ, অজাতশত্রু। এই জিনিস খুব ভালো করেই জানে পুঁজিবাদী মিডিয়া, তাই এইসব সিনেমায় যখন নিজেদেরকে হিরো হিসেবে দেখাতে যায়, প্রাণপণ কৌশলে কয়েকটা জিনিস বাদ দেয়।

ন্যুরেমবার্গ দেখে ভালো লাগলো, কারণ গোটা সিনেমাটা যে ন্যারেটিভের উপর দাঁড়িয়ে অর্থাৎ, মানুষের ভুলেই দানব তৈরি হয় আর সেই মানুষই আবার ভীষণ গোলায়েথের সামনে ক্ষুদ্র কিন্তু মূর্তিমান শমনরূপে ডেভিড হয়ে এসে দাঁড়ায়, সেটা তৈরিই হয়েছে এক নবজাতক সমাজতন্ত্রের অনুগ্রহে। ভালো লাগার একটা কারণ হচ্ছে, পরিচালক থেকে প্রযোজক এই বিষয়টা ভালো করেই জানেন যে যখন বিচারক জ্যাকসন জুরি প্যানেলের দিকে ফিরে বলছেন যে সমস্ত দেশকেই আগ্রাসনের রাজনীতি থেকে সরে আসতে হবে, আইনের শাসনের প্রতি দায়বদ্ধ হতে হবে তখন প্যানেলে বসা সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিনিধি মনে মনে হয়ত বা মুচকি হাসছেন কারণ সোভিয়েত ইউনিয়ন একমাত্র মিত্র শক্তি যারা নিজেদের সাম্রাজ্য বাঁচানোর দায় নিয়ে যুদ্ধে যুক্ত হয়নি, প্রকৃতপক্ষেই হয়েছিল পিতৃভূমি রক্ষার দায় নিয়ে আর ফ্যাসিবাদের হাত থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করার জন্য। 

ছবির প্রযোজক এটাও জানেন, গত শতাব্দীর শেষ থেকে পুঁজিবাদ, বিশ্বকে একমেরু করার জন্য কি পরিমাণ অর্থ আর শ্রম ব্যয় করেছে। সোভিয়েত সহ প্রায় সব সমাজতান্ত্রিক দেশে ঝামেলা করিয়ে, গোলাপী বিদ্রোহ, গুমখুন, বেআইনি আন্তর্জাতিক ট্রায়াল ইত্যাদি সব রকমের পদ্ধতি ব্যবহার করেছে যাতে সমাজতন্ত্রের বদলে বুর্জোয়া গণতন্ত্রকে স্থাপন করা যায়। আজকের দিনে এই একমেরু দুনিয়া আরেকটা দানবের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিণত হচ্ছে এবং তাকে ঠেকানোর জন্য আর কোনো সোভিয়েত বেঁচে নেই। জাস্টিস জ্যাকসন সিনেমায় বলছেন, আমরা কোর্ট মার্শালের বদলে ট্রায়াল করছি কারণ আমরা চাইনা আমাদের কোনো ভুলে এই অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি হোক। 

জ্যাকসন উকিল মানুষ, জানতেন না যে আইনি ট্রায়াল এই রোগের একটা তুচ্ছ সাময়িক উপশম মাত্র। যে বিশ্ব অন্যায় অন্যায্যতাকে মান্যতা দেয়, বৈষম্যকে ভবিতব্য হিসেবে প্রতিপন্ন করে, বড়লোকের হয়ে কাজ করে, সেই বিশ্বে বারবার আর্থসামাজিকভাবে বিপর্যস্ত, বিপথুমান, অতি ক্ষুব্ধ যুবক হিটলার হিসেবে তৈরি হবে।


মিডিয়া প্রোপ্যাগান্ডাঃ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হাতিয়ার


আগামী শতকে যখন আজকের ইতিহাস লেখা হবে বিশ্লেষণের আলোকে, একটাই মূল ও সার সত্য হিসাবে উঠে আসবে- মিডিয়ার চেয়ে ক্ষতি আর কিচ্ছু করেনি সমকালীন সমাজকে, বিশেষ করে বিংশ শতের শেষ ও একবিংশ শতকের প্রথম দেড় দশক, মোট ৩০ বছর। বিষাক্ত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আর তাদের পেটোয়া পুঁজিবাদী প্রতিটা ল্যাসপেন্সারকে বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠা করিয়েছে ক্রমাগত মিথ্যা প্রচারণা আর প্রোপাগাণ্ডা দিয়ে। সংবাদপত্র, রেডিও, নিউজ চ্যানেল- এই ট্রায়ো দিয়ে জনমত তৈরি করেছে। মার্কিন কলোনিয়ালিজম এর মূল অস্ত্র পরমানু বোমা, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৭০০ সেনাঘাঁটি, আধুনিক রণতরী কিম্বা বোমারু বিমান নয়, মার্কিন ইম্পিরিয়ালিজমের মূল অস্ত্র হলো মিডিয়া। 

নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, Fox News, CNN, MSNBC, NBC, CBS, ABC - রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), নিউস কর্পোরেশন (রুপার্ট মারডক), ডিজনি, ওয়ার্নার ব্রাদার্স, ইত্যাদি এগুলো সব মার্কিন মিডিয়া জায়ান্ট। কলোনিয়াল সাম্রাজ্যবাদীদের বাবা অর্থাৎ ইউরোপের সংমাধ্যমগুলো আরো বড় মিথ্যুক, যেমন BBC, AFP, রয়টার্স, গার্ডিয়ান, ল্যা মঁদ বা ডয়েচে ভেলে প্রত্যেকে শয়তান। আমাদের তৃতীয় বিশ্বের প্রতিটা সংবাদ সংস্থার, আন্তর্জাতিক সংবাদের মূখ্য সোর্স এই উপরের প্রতিষ্ঠানগুলোই। এই কারনে ইরাণের কোথায় অশান্তি হচ্ছে সেটা আপনার কানে সর্বক্ষণ বাজানো হলেও, আমেরিকাতে যে রীতিমত গৃহযুদ্ধ চলছে ICE এর ধরপাকরের জন্য, সে খবরের কিছুই জানেননা আপনি। কারন, প্রোপাগান্ডা মেশিনারি আপনাকে জানাতে দিতে চাইনি। আমাদের সংবাদ সংস্থা গুলোর কাছে বিকল্প কোনো অপসনও নেই যেখান থেকে খবর সংগ্রহ করবে। এটাই মিডিয়ার খাদ্যশৃঙ্খল, এভাবেই গত ১০০ বছর ধরে চলে এসেছে, সাম্রাজ্যবাদীরা যেভাবে চেয়েছে যেমনটি চেয়েছে, সেভাবেই প্রচার করেছে। সোভিয়েত খারাপের প্রচার, উত্তর কোরিয়া, ইসলামোফোভিয়া, ‘ফিল্টি’ ভারত, কিম্বা অসভ্য আফ্রিকা- যাকে যা সাজাতে চেয়েছে, মিডিয়ার দ্বারা তারা সেটাই করিয়ে ছেড়েচে। তারা বলেছে ন্যাংটা হয়ে যাওয়া আধুনিকতা, বাকি বিশ্ব সেটাকেই সত্য জেনেছে।   

আজকে সোস্যালমিডিয়া পশ্চিমাদেরই তৈরি, এই অস্ত্র ব্যবহার করেই তিউনিসিয়া থেকে আরব বসন্ত শুরু করেছিলো, যার দ্বারা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে শ্মশান বানিয়ে ছেড়েছে। ইরাণের মাটিতেও যাবতীয় অশান্তি এই সোস্যালমিডিয়া দিয়েই শুরু করেছিলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, ইরান সরকার ইন্টারনেট কেটে দিলেও তারা স্টারলিঙ্ক ডিভাইস দিয়ে সন্ত্রাস জারি রাখার প্রচেষ্টা রেখেছিলো। চিনা প্রযুক্তি, ইলন মাস্কের স্টালিঙ্কের লেজ কেটে দিতে, তবে লাথ খাওয়া ঘেয়ো কুত্তার মত মুখ পুড়িয়ে ফিরেছে CIA  ও মোসাদ বাহিনী। সুতরাং, মিডিয়ার সাহায্য ছাড়া মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ পুরোপুরি অচল, যেমন গোদী মিডিয়া ছাড়া বিজেপি অস্তিত্বহীন। 

বাকি বিশ্বে সোস্যালমিডিয়ার দৌলতেই আজকের জামানাতে প্রিন্ট ও টিভি মিডিয়া পথে বসেছে। মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার সাজানো মিথ্যার বেসাতিতে ফর্দাফাই করে ছিঁড়ে দিচ্ছে, প্রতিটা মুহুর্তে তারা ধরা পরে যাচ্ছে। জবাবদিহি করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে। ইচ্ছামত ন্যারেটিভ বানাতে পারছেনা, সত্য এসে এদের মিথ্যা ফানুস ফাঁসিয়ে দিচ্ছে। নিজেদের তৈরি করা অস্ত্রেই নিজেরা কুপোকাত হয়ে গেছে। ফলত, মিডিয়া ব্যবসা ও এখান থেকে পেট চালানো বেশ্যা সাংবাদিকেরা আজ বাটি হাতে ভিক্ষার পাত্র নিয়ে বসে পরেছে সরকারের পায়ের নিচে। 

আজও তারা সেটাই করছে যা গত ১০০ বছর ধরে করে এসেছে- ক্ষমতার দালালি, পশ্চিমাদের লিখে দেওয়া স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী লাগাতার প্রচার। সেদিন মানুষ এদের অন্ধ বিশ্বাস করত, আজ সার্কাসের মত করে উপভোগ করে। তাদেরই তৈরি টুলকিট লাগাতার যেমন মিথ্যা প্রোপাগান্ডা পোষ্টগুলোকে সামনে আনে, তেমনই কুকি সিস্টেম সেই মিথ্যার পালটা সত্যকেও টাইমলাইনের ফিডে এনে হাজির করে দেয়। ফলে মানুষের সামনে একই সাথে সত্য ও মিথ্যা মুখোমুখি এসে ধরা দেয়। জ্ঞানবানেরা মিডিয়ার এই পক্ষপাতদুষ্টতা ও বিকিয়ে যাওয়া কলমকে দ্রুত ধরে ফেলে, এই জন্য আজ মেইনস্ট্রিম মিডিয়া পথে বসেছে, তাদের গণেশ উল্টানোর দশায় রয়েছে।

মিডিয়ার পাপ ধরতে গেলে রোজ ১০টা করে আর্টিকেল আগামী ১০ বছর ধরে লিখলেও শেষ হবেনা। পুঁজিপতি, এলিট আর ক্ষমতাবানের মুখপত্র হয়ে ছেয়ে রয়েছিলো এই মিডিয়া। সাধারণ মানুষের কথা ততটুকুই এরা ছাপতো, যতটুকু না ছাপলে মুখোশ খুলে যাবে। এই মিডিয়াই করোনার আতঙ্ক বিক্রি করেছিলো, মৃত্যুর খবর রোজ প্রতি ঘন্টায় আপডেট করে 'ভ্যাক্সিন' বিক্রির ব্যাবসার বিজ্ঞাপন করেছিলো। এটা সামান্য উদাহরণ মাত্র। আজ এদের তৈরি নিপা ভাইরাস বাজারে খায়নি। বাংলাদেশের মিডিয়ার দিকে চেয়ে দেখুন, ওদের মিডিয়া T-20 বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নিজেদের জনগণকে কেমন ‘চদু’ বানাচ্ছে। লাগাতার ভারত বিরোধী জনমত তৈরিতে মিডিয়াই তো মূল ভূমিকা পালন করেছে। দুই কোটি রোহিঙ্গা আর ২৬ লাখ ভারতীয়- হিসাবে খুব পার্থক্য রয়েছে কি? দুটো আলাদা আলাদা দেশ, কিন্তু মিথ্যার আকৃতি এক ছাঁচে তৈরি। যেমন গ্যাস চেম্বারে ৬০ লক্ষ বিশেষ ধর্মের জনগণকে হত্যার গল্প বাজারে এসেছিলো ইউরোপে, নন্দীগ্রামের রসুলপুর নদীর কুমিরের মতই। 

মিডিয়ার চেয়ে হারামি ও শয়তান আর কোনো অভিশাপ আধুনিক সমসাময়িক সমাজের উপরে আসেনি। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ থেকে মোদী- সব এই মিডিয়া প্রোপাগান্ডার ফসল। প্রায় ৮০% হিন্দুর দেশের ৩৪% হিন্দু জনগণ বিশ্বাস করে 'হিন্দু খতরেমে হ্যায়', শুধু মাত্র মিডিয়ার প্রচারণার ফলে- বলা ভালো গোদী মিডিয়ার সৌজন্যে। এই মিডিয়াই আগামী বিধানসভা ভোটে ঝাঁপিয়ে পড়বে বাইনারি তৈরি করতে, অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের দাবীকে চাপা দিয়ে মন্দির মসজিদ গরু শুয়োরে ব্যতিব্যস্ত করে রেখে দেবে। কোনো গালিগালাজই এদের জন্য যথেষ্ট নয়।

একটা বোমা একবার মানুষ হত্যা করে ২০০ হোক বা ৫০০ জন। যেকোনো মৌলিবাদী সন্ত্রাসী জঙ্গি হামলাতে নির্দিষ্ট এলাকার নির্দিষ্ট একটা মানুষ মারা যায়। মিডিয়ার সন্ত্রাসী প্রোপাগাণ্ডার ফলে যুগ যুগ ধরে মিথ্যাচার, ঘৃণা আর অবিশ্বাস ছড়ানোর ফলে- গোটা সমাজ পচিয়ে শেষ করে দেয় জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে। মিডিয়ার বাক্য বোমায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানসিকভাবে বন্ধ্যা হয়ে যায়। এরা বিশ্বাস করতে শেখে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ অজেয়, তারাই একমাত্র পৃথিবীর ভালো চায়, এরা শেখে ৭২ হুর প্রাপ্তিই জীবনের আল্টিমেটাম লক্ষ্য, এরা শেখে গোমুত্রেই জীবনের সারবত্তা লুকিয়ে আছে। মিডিয়াই শিখিয়েছে লোনের পাঁকে ডুবে থেকে, ধার করা জীবনের নাম সফলতা। এরা শয়তানকে ঈশ্বর বানায়, ঈশ্বরকে শয়তান। মিডিয়া জনগণের কল্যাণের জন্য নয়, সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদীদের মূল হাতিয়ার ছিলো। হ্যাঁ ছিলো, কারন মেইনস্ট্রিম মিডিয়া আজ তার নিজের পাপের ভারেই ভেন্টিলেশনে চলে গেছে।

গণতন্ত্রের যে ধারা আজ বিশ্বজুড়ে টিকে আছে, সেটা মার্কিনীদের ‘এপস্টিন’ মানবতাবদের অনুপ্রেরণাতে তৈরি। এরাই লাদেন, আলকায়দা, সাদ্দামকে তৈরি করে, আবার এরাই সন্ত্রাসের নামে এদের নিকেশ করে শান্তির দূত সাজে। এদের দাস হলে তুমি যা খুশি করো সব সিদ্ধ, নতুবা গণতন্ত্রের নাম করে ‘ভিয়েতনাম’ বা ‘ইরাক’ বানিয়ে দেবে। মাত্র ১০০ বছরে গণতন্ত্রকে পচিয়ে দিয়েছে এই মিডিয়া। গণতন্ত্রের নামে বিশ্বজুড়ে যা চলছে, সেটারও আপডেট তথা নবায়ন প্রয়োজন। নতুবা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে অন্ধকারে অপহরন করলে, বা কোন দেশ কোথা থেকে তেল কিনবে সেটা মোড়ল রাষ্ট্র ঘোষণা করে যখন, তখন এই গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রশ্ন না উঠলে নিজের সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। একে পচাবার একমাত্র মূখ্য কারিগর গণতন্ত্রেরই চতুর্থ স্তম্ভ- মিডিয়া।

বাকি তিনটে স্তম্ভের কী অবস্থা রয়েছে মিলিয়ে নিন। বিশ্বের সর্বত্র দেখার দরকার নেই, সামান্য নিজেদের রাজ্যটুকুতে দেখুন, তারপর নিজেকে প্রশ্ন করুন।

১ নং স্তম্ভ- আইনসভা। এই গুলো নাচিয়ে গাইয়ে মূর্খ অশিক্ষিত সমাজবিরোধী দিয়ে ভর্তি। কেন্দ্র হোক বা রাজ্য, সর্বত্র এক চিত্র। প্রায় সকলে মিথ্যুক, সকলে চোর। মানুষই এদের ভোট দেয় মিডিয়ার বাইনারিতে ফেঁসে গিয়ে। ২ নং স্তম্ভ- বিচার ব্যবস্থা। পুরোপুরি পচে না গেলেও- আস্থার উপরে ভরষা করে রামমন্দিরের রায় আসে আজকাল। অবসরের পরেই শাসকের দলে নাম লেখায় বিচারকেরা। যাবজ্জীবন দন্ডে দণ্ডিত ধর্ষক রামরহিম নিয়মিত ছাড়া পেলেও বিনা বিচারে উমর খালিদ বন্দি থাকে অর্ধ দশক। শাসকের ইচ্ছামত মামলা ঝুলিয়ে রাখা যায়, DA দিক বা না দিক, আদালত ঠুঁটো জগন্নাথ। আদানির বিরুদ্ধে মামলা শোনার সাহসই নেই আদালতের, কারন সে আইনেরও উর্দ্ধে। কত বলব এমন?

তৃতীয় হলো - পুলিশ ও প্রশাসন। ১৩ পাওয়া পলাতক বিডিও, আর চেয়ারের নিচে লুকানো ঘুষখোর পুলিশ। গণতন্ত্রের মা'কে এরা পতিতাপল্লীতে বেচে দিয়েছে। এদের সম্বন্ধে লেখা মানে নিজেকে নর্দমাতে ছেড়ে দেওয়া। আর শেষ স্তম্ভ হলো এই মিডিয়া। যারা সকল পাপের মা, কারন মিথ্যাচারটা এরাই করে, লাগাতার, বারবার। দাড়ি সুমন থেকে বিজ্ঞ ঘোষাল হয়ে কুণাল ঘোষ কিম্বা ময়ূখ- সামান্য আরামবাগ টিভির চিল্লানোসরাস থেকে বঙ্গ টিভির মহিলাটি, চেয়ে দেখলেই মিডিয়ার চরিত্র ধরা পরে যাবে।

স্বর্গ নরক জান্নাত জাহান্নাম কোনো জীবিত মানুষ দেখেনি, তবে প্রতিটা কঠিন পাপের সাজা জীবদ্দশায় পেয়ে যায় মানুষ ও তাদের সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। মিডিয়া ও তাদের সাথে জুড়ে থাকা প্রতিটা মিথ্যুক খুব দ্রুত কঠিন সাজার মুখে পরবেই, প্রত্যেকে পরবে। কীভাবে পরবে তা মহাকালই জানে। সেদিন তাদের হারামের কামাই এর সম্পদও বাঁচাতে পারবেনা।

মিডিয়াকে ঘৃণা করতে শিখুন ও আমাদের উত্তর প্রজন্মকেও শেখান। এটাই ধর্মের বা ইমানের অন্যতম অঙ্গ হওয়া উচিৎ। 



সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মিথ্যা মামলাঃ ফ্যাসিস্ট শাসকের অস্ত্র

 


‘বাটন’ নামের ভিডিওটি যে বানিয়েছে সেই ছেলেটিকে চিনতামনা, না আগে তার রিল/ভিডিও দেখেছি। তাই এর চরিত্র ভাল মন্দের বিষয়েও কিছুই জানিনা। স্বভাবতই সে নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য থাকতে পারেনা, নেই ও। দেশে আইন আদালত রয়েছে, বিচার করাটা তাদের কাজ। তাই প্রাইমাফেসি দেখে, আমি যেমন ছেলেটিকে নির্দোষ বলতে পারিনা, দোষীও বলতে পারি কী? কোন এভিডেন্সের এগনেস্টে বলবো? অভিযোগকারিনী মেয়েটির মিডিয়া জবানবন্দির প্রমানে?

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-এর ডেটা অনুযায়ী, সমস্ত IPC/BNS মামলার প্রায় ২৩%ই মিথ্যা fabricated মামলা। এগুলো হয়রানির উদ্দেশ্যে বিদ্বেষপূর্ণভাবে দায়ের করা হয় পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার করে। প্রমানিত হওয়ার আগেই লকাপ বা জেলের ভিতরে ঢুকিয়ে রাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর মধ্যে ব্যাক্তিকে অত্যাচার করা হয়। ২০২০ সালের ডেটা অনুযায়ী, ৪৯৮এ পণপ্রথা সংক্রান্ত ১৪.৪% মামলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, কারণ সেগুলো মিথ্যা হিসাবে প্রমানিত হয়েছিলো। ধর্ষণ, মানে ৩৭৬ ধারার ১৭%ই মামলাই পুলিশের সাজানো মিথ্যা তথ্যের জুয়াচোরি

উদাহরণ হিসাবে, রাজস্থানের ৪১%-৪৫% পর্যন্ত মামলাই ভুয়ো হিসাবে প্রমাণ হয়েছে আদালতে। ২০২৩ সালের NCRB প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেষ ১৫ বছরে মিথ্যা অভিযোগের অনুসারে পুলিশের দাখিল করা মিথ্যা ও সাজানো ভুয়ো fabricated মামলা ২৬.৭% বৃদ্ধি পেয়েছে গোটা দেশেএই হচ্ছে সমাজের আয়না, শাসক তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নিজের নাগরিককেই মামলার ফাঁদে ফেলে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করছে। ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্যে রচিত সাংবিধানিক আইনের ধারা, অস্ত্র হিসাবে ব্যবহৃত করছে শাসক।


অভিযোগকারীনি মেয়েটির মেডিকেল টেস্টের রিপোর্ট কি আজ অবধি আদালত দেখেছে? মেয়েটি ক্যামেরার সামনে সেই রিপোর্ট দেখিয়েছে? না, দেখায়নি। মেয়েটিকে সারারাত বেঁধে রেখেছিলো, তার নাকি ফোন কেড়ে নিয়েছিলো, ইত্যাদি। স্বভাবতই তার বাড়ির লোকজন মেয়েটির সাথে যোগাযোগ করতে পারেনি, তারা কি সেই রাত্রে নিকটবর্তী থানায় নুন্যতম একটা ‘GD’ করেছে? দীর্ঘদিন কোর্টে যাতায়াত ও আইনজীবি বন্ধুদের থেকে জানার সুবাদে যেটুকু বুঝলাম, মেয়েটি তো ফার্স্টক্লাস ম্যাজিস্ট্রেটকে গোপন জবানবন্দি দেবে, বিচার পাওয়ার জন্য এটাই নিয়ম। তা না করে শুরুতেই মিডিয়া ট্রায়ালের জন্য একটা জনমত তৈরির চেষ্টা শুরু করেছে, যেটাকে ভিক্টিম কার্ড বলে। রেপ হয়ে থাকলে ভ্যাজাইনাল টেস্ট করতে হয় ৭২ ঘন্টার মধ্যে, যেটাকে ফরেনসিক পরীক্ষার ভাষাতে SATU বলা হয়। সেটা করা হয়েছে? যেহেতু মেয়েটি ও ছেলেটি উভয়েই পরিচিত, তাই TI প্যারেড বিষয়টাকে নাহয় বাদ দিলাম। আমার এতো কিছু গল্প করার উদ্দেশ্য- ছেলেটি দোষী হতেই পারে, কিন্তু মেয়েটি যে অসাধু উদ্দেশ্যে এই মিডিয়া ট্রায়াল করাচ্ছে, সেটাতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।

তবে হ্যাঁ, ছেলেটিকে এ্যারেস্ট না করলেই আশ্চর্য হতাম। মলেস্টের বিষয়টা যদিবা নাও আসতো, অন্য কিছুনা কিছু একটা আসতই, কারন শাসকের বিরুদ্ধে কথা বলেছে, একে নমুনা হিসাবে শাস্তি না দিলে, কাল অন্য আরেকজন বলবে, পরশু আরেকজন। ক্ষমতা কখনও বিরোধীতা পছন্দ করেনা। স্বভাবতই, ওই মলেস্ট ইত্যাদির গল্প গাধার ওখানে না পাঠাতে পারলে, নিজেরটাতেও ভরে নিতে পারেন। হাগেন তো মুখ দিয়ে, আপনার ওটা কোন কাজেই বা লাগে!

কাল হয়ত আমি, পরশু আপনি, এভাবেই কাউকে গাঁজা কেসে, কাউকে মলেস্ট কেসে- ভরে দেবে। ওদিকে এই নপুংসক পুলিশের ক্ষমতা নেই ১৩ পাওয়া BDO, প্রশান্ত বর্মনের নাগাল পায়। ৫০ জন মানুষ পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও এদের ক্ষমতা হয়না সেই WOW মালিকদের লোমের ডগা ছুঁতে। এটাই আজকের পুলিশ প্রশাসনের স্ট্যান্ডার্ড।

কটা দিন প্রতীক্ষা করুন, তোলামুলের প্রার্থী তালিকা ঘোষনা করলেই, কমপক্ষে ৮০ জন সিটিং বিধায়ক টিকিট পাবেনা আগামী নির্বাচনে, তার বাইরেও তোলাবাজদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কম কিছু নেই। পরিস্থিতি কী হবে সেটা জানে i-Pac, প্রতিটা পঞ্চায়েতে কুকুর কেত্তন শুরু হওয়া সময়ের অপেক্ষা, হ্যাঁ ভোটের আগেই। তখন দেখবেন এই পুলিশকেই কেমন ফেলে ক্যালান দিচ্ছে তোলাবাজদের নানান গোষ্ঠী।

তোলামুল ভয় পেয়েছে, চরম ভয় পেয়েছে, ক্ষমতা চলে যাওয়ার ভয়, হারামের সম্পদ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার ভয়, জনগণের ক্যালানি খাওয়ার ভয়, পালিয়ে বেড়াবার ভয়, জনরোষের ভয়, তোলা সিন্ডিকেট ভেঙে পরার ভয়। আর তার জন্য এই পঞ্চায়েতে পঞ্চায়েতে সম্ভাব্য অশান্তি রুখতে রুখতে আইন প্রণয়ন করলো রাজ্যসরকার। ২০২৬ জুলাইয়ের আগে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের কোথাও অনাস্থা আনা যাবে না।

প্রসঙ্গত, জেলা পরিষদের ১০০%, পঞ্চায়েত সমিতির ৯২% ও গ্রাম পঞ্চায়েতের ৮০% তোলামূলের চোর বাহিনীর দখলে আছে।

তোলামুল ভয় পাচ্ছে, আরো ভয় পাবে, রোজ এই ভয় বাড়বে। সাহস করে শুধু বলতে হবে, মেরুদন্ডটা আরেকটু শক্ত করতে হবে, বিশ্বাস করুন এরা নুনের মত গলে যাবে, কারন এরা কাপুরুষের দল, দুর্নীতিগ্রস্থ পুলিশ আর প্রশাসন দিয়ে জঙ্গলের শাসন চলছে। চোরেদের বিরুদ্ধে আমার আপনার গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের ভাষা যদি বিজেপি বা অন্য কারো সাথে মিলে যায়, মিলতে দিন। বিজেপি বিরোধিতা করতে গিয়ে কি আমি শ্বাসবায়ু হিসাবে ওজোন বা সালফাইড গ্যাস নেব, অক্সিজেনের বদলে? যুক্তির হিসাবে বিজেপিও অক্সিজেন নেয়, তাই আমি অক্সিজেনে যাবনা! এই প্রশ্নগুলোও শাসকের নানান ভাতাজীবী গোষ্ঠী, মিডিয়ার দালালেরা তুলবে, যাতে আমি আপনি আওয়াজ না তুলি।


আওয়াজ তুলুন, কতজনকে জেলে ভরবে?

 

 


বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

Board of Peace, কি ও কেন?


 

Board of Peace, কি ও কেন?

 

মূলত গাজায় যুদ্ধবিরতি তদারকি এবং পুনর্গঠনের লক্ষ্যে ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোস শহরে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সাইডলাইনে এই কাউন্সিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তথা আমেরিকার নিজস্ব ও একান্ত উদ্যোগে। বর্তমানে সদস্য হিসেবে ২৬টি দেশ যুক্ত হয়েছে। এই হলো যুদ্ধবাজ আমেরিকার ‘শান্তি কমিটি’ স্থাপনের ইতিবৃত্ত, এ যেন মমতা ব্যানার্জীর উদ্যোগে ‘চোর ও কাটমানিখোর মুক্ত রাষ্ট্র’- এমন নামের সংগঠন তৈরি হওয়া।

পেট্রোডলারের সমাপ্তি, গোটা বিশ্বজুড়ে প্রতিটা দেশের ডি-ডলারাইজেশন এবং BRICS এর উত্থান গোটা আমেরিকার মাথা নষ্ট করে দিয়েছে, ডোলান্ড ট্রাম্প সেই আতঙ্ক সূচকের নমুনা মাত্র। ‘সুপার পাওয়ার’ শব্দটা বিষয়ে আমাদের সকলের সুপার ইলিউশন রয়েছে, এর অন্যতম কারণ আমেরিকার প্রোপ্যাগান্ডা মেশিনারি। গত ৭৫ বছরে ‘সুপার পাওয়ার’ আমেরিকা, তাদের শুরু করা প্রতিটা যুদ্ধ, হয় শেষ হওয়ার আগেই পালিয়েছে আফগানিস্তানের মতো, কিম্বা গোহারা হেরে মুখ লুকিয়ে মজন্তালি সরকারের মতো হাত উঁচিয়ে বলেছে জিতেছি- উদাহরণ ভিয়েতনাম। এপস্টিন ফাইলস পশ্চিমা ক্ষমতাধর ও বিত্তশালীদের তথাকথিত মানবতা, নারী ক্ষমতায়ন আর গণতন্ত্রের বুলি আওড়ানোকে প্রহসনে পরিণত করে, একটা মিথ্যুক বেহায়া ন্যাংটা হিসাবে উন্মোচিত করে দিয়েছে। ইতিহাস লেখা হয় বিজয়ীদের কলমে, এই ন্যাংটারা তাদের নিজেদের সুমহান উন্নত ও সভ্য হিসাবে দেখিয়ে এসেছে, আমরা সেটাকেই অমৃত ভেবে চেটেপুটে খেয়ে চলেছি।

তোমার নাম আমার নাম ভিয়েতনাম ভিয়েতনাম, ছোটবেলায় খুব শুনতাম বামপন্থীদের মুখে। সেই ভিয়েতনাম আজকে আর বামপথে নেই, যুদ্ধ পরবর্তী ভিয়েতনাম ‘Doi-Moi’ বা যাকে বাংলাতে বলে সংস্কার, অর্থাৎ অর্থনীতিকে মার্কিনীদের পায়ে সঁপে দেওয়ার প্রক্রিয়াতে চলে গিয়েছিল, যেমন ভাবে নব্বই এর দশকের শুরুতে গর্বাচেভের রাশিয়া ‘পেরেস্ত্রেইকা’ লাগু করেছিল। সুতরাং, আজকের ভিয়েতনাম আসলে মার্কিনীদের পোষা কুত্তার বেশি কিছু নয়, ফলত ২০ তম দেশ হিসাবে তারা ট্রাম্পের এই ‘এঁটো-কাঁটা’ কমিটিতে থাকবে, এতে আর আশ্চর্য কোথায়! ভিয়েতনামে আবার শেষে ফিরছি।

বাকি ২৫ টা দেশ কারা!  চলুন ম্যাপ অনুযায়ী একটু বোঝার চেষ্টা করি, কারণ বিশ্ব মানচিত্রে তাদের অবস্থানের তাৎপর্যই এখানে একমাত্র বিচার্য। নতুবা গাজার শান্তি নিয়ে প্যারাগুয়ে, মঙ্গোলিয়া, এল-সালভাদর, বেলারুশ বা কসভোর মতো দেশের কাজ কী? আজ ২ বছর ধরে গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে ইজরায়েল, এ বিষয়ে এদের কোনো বক্তব্য ছিল বলে কেউ জানে? এদের সকলের মাথা ঘামানো, অনেকটা ওই ২১শে জুলাই কোলকাতায় ডিম্ভাত খেতে যাওয়ার মতো। আপনার যাওয়া বা না যাওয়া, কোনো কিছুর উপরেই ২১শে জুলাইয়ের মঞ্চে কারা থাকবে সেটা নির্ভর করে না। আপনি না বলতে পারবেন কেন ১৯৯৩ সালে ২১শে জুলাই সমাবেশ হয়েছিল, না উদ্যোক্তারা জানেন আপনার উপস্থিতির কথা। কিন্তু পাড়ার বদ্দা যেহেতু ডেকেছে, তাই আপনি যান, তেমনই এই দেশগুলো কমিটিতে আছে। মিছিলের পিছন থেকে জিন্দাবাদ বলার লোক তো চাই, এছাড়া এদের ফুটো পয়সার গুরুত্ব নেই এই এঁটোকাঁটা কমিটিতে, এরা কখনও বিশ্ব রাজনীতিতে শেষ ৩০০ বছরে নূন্যতম  গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। 

 

১) চীনের উত্তর মাথায় স্থলবেষ্টিত চীন ও রাশিয়ার মধ্যেকার একমাত্র বিভাজক রাষ্ট্র মঙ্গোলিয়া।

২) কাস্পিয়ান সাগরের পূর্ব পাড়ের দুটি পূর্বতন সোভিয়েত রাষ্ট্র- কাজাকস্তান ও তারও দক্ষিণে থাকা উজবেকিস্তান। চীন এবং রাশিয়ার মধ্যে মধ্য এরাই এশিয়ার বৃহত্তম রাষ্ট্র। 

৩) কৃষ্ণসাগর আর কাস্পিয়ান সাগর এর মধ্যবর্তী ককেশীয় রাষ্ট্র, পূর্বতন সোভিয়েতের আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া। 

৪) কৃষ্ণসাগর ও মারমারা সাগরের সংযোগস্থলের বসফরাস প্রণালী তথা ইস্তানবুল প্রণালী এবং মারমারা সাগর ও ভূমধ্যসাগরের সংযোগের রাস্তা দার্দানেলিস প্রণালীর নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র- তুরস্ক। 

৫) কৃষ্ণসাগরের পশ্চিম পাড়ে পূর্বতন সোভিয়েত নিয়ন্ত্রিত ইস্ট ব্লকের বুলগেরিয়া। তারই পশ্চিমে সার্বিয়ার দক্ষিণ মাথার বিতর্কিত অঞ্চলে তৈরি কোসোভো, ম্যাপে তার নিচে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত থাকা রাষ্ট্র আলবেনিয়া ও ইউরোপের কেন্দ্রবিন্দু হাঙ্গেরি। 

৬) পার্সিয়ান গাল্ফের পশ্চিম তীর ও গাল্ফ অফ আরবের পূর্ব পাড়, লোহিত সাগরের পূর্ব দিকে এশিয়া প্রান্তের নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র- সৌদি আরব।

৭) পার্সিয়ান গাল্ফের পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রক সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার ও দ্বীপরাষ্ট্র বাহরাইন। 

৮) গাল্ফ অফ আরবের এর পূর্ব পাড়ের নিয়ন্ত্রক দুই রাষ্ট্রের অন্যতম জর্ডান।

৯) আতলান্তিকের উত্তর পাড় ও ভূমধ্যসাগরে দক্ষিণ মাথায় জিব্রাল্টার প্রণালীর অন্যতম নিয়ন্ত্রক আফ্রিকান রাষ্ট্র- মরক্কো। 

১০) ভারত, চীন ও ইরানের মাঝে আমেরিকান পরমাণু বোমার চৌকিদার, আরব সাগরের উত্তর পাড়ের রাষ্ট্র- পাকিস্তান। 

১১) বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ চীন সাগরের সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালীর দক্ষিণ প্রান্তের নিয়ন্ত্রক রাষ্ট্র- ইন্দোনেশিয়া।

১২) দক্ষিণ আতলান্তিকের পশ্চিম পাড়ে দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাষ্ট্র আর্জেন্টিনা, এবং ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যের স্থলবেষ্টিত রাষ্ট্র প্যারাগুয়ে। মেক্সিকোর লেজের নিচে থাকা এল-সলভাদর। 

১৩) দক্ষিণ চীন সাগরের পূর্ব মাথায় চীনের গা থেকে শুরু করে গাল্ফ অফ থাইল্যান্ড অবধি বিস্তৃত- ভিয়েতনাম। ভিয়েতনামের আরেক পড়শি কম্বোডিয়া।

১৪) রাশিয়া আর ইউক্রেনের পড়শি স্থলবেষ্টিত বেলারুশ। 

১৫) আর এদের সকলের সাথে রয়েছে গাজার উপরে এই গণহত্যার নায়ক ইজরায়েল স্বয়ং।

 

ট্রাম্পের দাবী অনুযায়ী এই কাউন্সিলের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য- ফিলিস্তিনের গাজায় সংগঠিত গণহত্যার প্রেক্ষিতে ‘শান্তি ও পুনর্গঠন’। এখানে ফিলিস্তিন শব্দের কোনো উল্লেখ বা বক্তব্য কিছুই নেই। পাশাপাশি এটার মাধ্যমে গোটা বিশ্বকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়াও হলো যে, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক এবং গোলান উপত্যকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে; তাই বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যে বিশ্বগুরুর দায়িত্ব কেবল- ইসরাইলের শরীরের মধ্যে এক টুকরো খাঁজের ভিতর কোনোমতে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এক ফালি কেকের মতো টুকরো ভূখন্ডিতে। গাজার সাইজ জানেন? লম্বায় ব্যারাকপুর থেকে জোকা, চওড়াতে বড়বাজার থেকে সল্টলেক, ব্যাস এতটুকুই মাত্র। এই লোকগুলোকে গুম খুন করে হাপিস করে না ফেললে, পালিয়ে প্রাণ বাঁচাবার একমাত্র জায়গা হচ্ছে মিশর, সেই মিশর কিন্তু এই কমিটিতে নেই। সুতরাং, একথা লেখার কোনো যুক্তি নেই যে গাজার নামে এই কমিটি বানালেও, এর উদ্দেশ্য কোনোভাবেই গাজা অন্তত নয়।

The UN chief has told states that the organization is at risk of “imminent financial collapse,” citing unpaid fees and a budget rule that forces the global body to return unspent money- এটা গত ৩০শে জানুয়ারি Times of Israel এ প্রকাশিত সংবাদ, গুগুলে খুঁজলেই পেয়ে যাবেন। অর্থাৎ জাতিসঙ্ঘ নামের সাদা হাতিটার ডেথ সার্টিফিকেট লেখাই আপাতত বাকি রয়েছে। অবশ্য তার মুরোদই বা কী ছিল!  গাজায় ১১২ বিলিয়ন ডলার লগ্নি হবে গাজাকে ‘লাক্সারি’ ভাবে পুনঃনির্মান করতে, যার আর্ধেক ৬০ বিলিয়ন দেবে আমেরিকা, বাকিটা সদস্য দেশ ও নানান লগ্নিকারী সংস্থা বিনিয়োগ করবে। 

এর অফিসয়াল নাম ‘প্রোজেক্ট সানরাইজ’, যার শীর্ষে রয়েছে ট্রাম্পের জামাই- জেরার্ড কুশনার। এই ‘রি-বিল্ড’ সময়কালে গাজার মানুষগুলোকে কোথায় সরিয়ে রাখবে? জবাব দেওয়ার কেউ নেই। পরবর্তীতে এই ‘লাক্সারি’ আল্ট্রা হাইটেক গাজা অদৌ সেখানকার অধিবাসীরা ফিরে পাবে? নাকি জেরুজালেম থেকে মাত্র ৬০/৭০ কিমি দূরের সমুদ্র সৈকত বিশিষ্ট গাজাকে একটা জনপ্রিয় টুরিস্ট ডেস্টিনেশন তথা বিজনেস হাব বানানো হবে? এক লক্ষ হাউজিং, ৭৫টা মাল্টি স্পেশালিটি হাসপাতাল, ২০০ আন্তর্জাতিক মানের ইস্কুল, ১৮০টা ধর্মস্থান এগুলো গাজার হাভাতে যুদ্ধ পীড়িতদের জন্য বানানো হচ্ছে? এসব অপ্রিয় প্রশ্নের উত্তর জাতিসঙ্ঘ দেয়নি, ট্রাম্পের এঁটোকাঁটা কমিটিও দেবে না, মাঝখান থেকে গাজার মানুষগুলোকে উচ্ছেদ করে স্থায়ী উদবাস্তু বানিয়ে দেওয়া হবে।  

ট্রাম্পের এই এঁটোকাঁটা কমিটি শুরুর আগে থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ, বিগত ১০০ বছর ধরে আমেরিকার প্রমাণিত বন্ধু দলের কেউ নেই, যেমন সমগ্র পশ্চিম ইউরোপ বা কানাডা। ব্রিটেন, ফ্রান্স, ইতালি ও জার্মানি রীতিমতো লিখিতভাবে এই কমিটিতে না থাকার কথা ঘোষণা দিয়েছে। ট্রাম্প ভারত ও চীনকে ডাকলেও, আজকের দিন অবধি সেই আমন্ত্রণকে দুই দেশের কেউ নূন্যতম গুরুত্ব দেয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এটিকে জাতিসংঘের বিকল্প হিসেবে দেখছে, ফলে আন্তর্জাতিকভাবে আরেক বিতর্কের জন্ম হয়েছে। 

অবশ্য জাতিসংঘ নামের সাদা হাতিটা কী কারণে রয়েছে নিয়ে প্রশ্ন তোলা বারণ। আরব বসন্তের নামে তিউনিসিয়া, মিশর, লিবিয়া, ইয়েমেন এবং সুদানে সরকার ফেলে দিলেও এরা চোখ বন্ধ করে থাকে। ইরাক ও লিবিয়া নামের পেট্রোলিয়াম সম্পদে ভরপুর দেশগুলোতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে তাদের দেউলিয়া ভিখারি বানিয়ে দেওয়া যায়। অনায়াসে সুদান ইয়েমেনকে কেটে দু’টুকরো করে দেওয়া যায়, সিরিয়ার শাসক উৎখাত করা যায়, নাইজেরিয়ার গৃহযুদ্ধ বা ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে গেলেও- গান্ধীজীর বাঁদরের মতো চোখ, কান, মুখ বন্ধ করে থাকা যায়। আর্মেনিয়া, আজারবাইজান কিংবা লাওস, কম্বোডিয়া যুদ্ধ- যখন ইচ্ছা শুরু ও বন্ধ করা যায়। 

ভারত পাকিস্তান সংঘাতের ব্যাপারে যত কম বলা যায় ততই সময় বাঁচে। গুচ্ছের উদাহরণ টেনে আলোচনাটা বড় না করে বরং ঘরের পাশের বাংলাদেশের দিকে তাকালেই দেখা যায়, ইচ্ছামতো সরকার ফেলা বা ইচ্ছামতো অন্য দেশের নাগরিক এনে মন্ত্রীসভা তৈরি করে পৃথিবীর অন্যতম চলমান অর্থনীতিকে পথে বসিয়ে দেওয়া যায়। রাষ্ট্রপুঞ্জ বা জাতিসঙ্ঘ এটাই করে এসেছে শুরু থেকে, যা আমেরিকারই তৈরি ছিল। আজকের এই বহুমেরু পৃথিবীতে, আমেরিকা বা ইজরায়েলের দাদাগিরির বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘের সভাতে প্রতিবাদ হচ্ছে রোজই, তাই নিজের তৈরি সংস্থাকেই বাইপাস করে আবার একটা নতুন ফাঁদ পেতেছে এই নতুন এঁটোকাঁটা কমিটির মাধ্যমে। 

ঠিক এই মুহূর্তে বিশ্বজুড়ে ৬৭ টি যুদ্ধ বা সংঘাত বা উত্তেজনা চালু থাকার পরও, যে সংস্থার মুখে সেলোটেপ মারা থাকে, তার মরে যাওয়াই ভালো। সদস্যদের কার ভেটো পাওয়ার আছে, কার নেই, কী তার উদ্দেশ্য- সেসব নিয়ে বিশ্বের বেশিরভাগ লোকের আজ আর মাথাব্যথা থাকার কথা নয়। একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশের ঘরে ঢুকে, তাদের রাষ্ট্রপতিকে তুলে এনে নিজের কারাগারে বন্দি করে দিলেও, গুটিকয় রাষ্ট্র ছাড়া বাকি সবাই যখন চুপ থাকে, তখন জাতিসঙ্ঘ আসলে আন্তর্জাতিক প্রহসনের সার্কাস হয়ে যায়। 

আধিপত্য টিকিয়ে রাখার নেশায়, বিশ্বজোড়া মানুষের ক্ষোভ বিক্ষোভকে পরিমাপ করতে আর অর্থনীতির উপর নতুন করে নিয়ন্ত্রণ আনার প্রচেষ্টায় নতুন কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বাসনা জন্মায় বটে। এহেন পরিস্থিতিতে আরেকটি আধিপত্যবাদী সমান্তরাল সংস্থার জন্ম হবে, এমন চিন্তার মেঘ উত্তর আটলান্টিকের পশ্চিম পাড়ে অনেক আগেই দানা বেঁধে ছিল; তাই এই পিস ফোরাম এর ভূমিষ্ঠ হওয়াটা মোটেই আশ্চর্য হওয়ার নয়। তবে অন্য সমস্যাও আছে, এই এঁটোকাঁটা কমিটির স্থায়ী সদস্য হতে প্রতি দেশকে নগদ ১০০ কোটি ডলার দিতে, এটাই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শেষ অবধি এই টাকা কতজন দেশ দেবে তা নিয়েও ঘোর সন্দেহ রয়েছে।

হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে যুক্ত করেছে আরব সাগরের সঙ্গে। এই পথ দিয়ে প্রবাহিত হয় বিশ্বের মোট এলপিজি গ্যাসের তিন ভাগের একভাগ আর কাঁচা তেলের ৩৫ শতাংশ। প্রতিবছর ৯৪ হাজার জাহাজ চলাচল করে এই পথে। এশিয়ার সঙ্গে উত্তর আতলান্তিকের তীরে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের প্রধান দেশগুলির জলপথ বাণিজ্যের একমাত্র পথ সুয়েজ ক্যানেল। বসফরাস প্রণালী রাশিয়া এবং ইউক্রেনের কৃষি ও জ্বালানি বাণিজ্যের ভূমধ্যসাগরীয় একমাত্র সংযোগ পথ। সুতরাং, সমস্যা এখানেই বাঁধাবে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হিংস্র থাবা।

বোর্ড অফ পিস ব্লকে সই করা রাষ্ট্রগুলির মাধ্যমে, আসলে কম্পিয়ান সাগর, আরল সাগর, কৃষ্ণসাগর, মারমরা সাগর, সর্বোপরি ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়ার সবদিক থেকে ভূমধ্যসাগরের উপর নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে কের্চ প্রণালী, বসফরাস প্রণালী, দার্দানেলিস প্রণালী, পার্শিয়ান গাল্ফ, গাল্ফ অফ এডেন, লোহিত সাগর, গাল্ফ অফ আরব, জিব্রাল্টার প্রণালী, আরব সাগর, দক্ষিণ চীন সাগর ও গাল্ফ অফ থাইল্যান্ড, পূর্ব থেকে পশ্চিমের বাণিজ্য পথে সংযোগকারী মালাক্কা প্রণালী, সর্বপরি দক্ষিণ আতলান্তিক মহাসাগরের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার কুনাট্য মঞ্চস্থ করা হচ্ছে। 

দৃষ্টি আরেকটু পরিষ্কার করলেই দেখা যাচ্ছে BRICS নতুন মুদ্রা চালু হবার আগে বা BRICS বাণিজ্য জোট সম্পন্ন হওয়ার আগেই বর্তমানে BRICS-এর মধ্যে পূর্ণ সদস্য দেশ গুলির মধ্যে ভাঙ্গন ধরিয়ে ধরিয়ে BRICS-এর উপর থাবা মারার প্রয়াসের অংশ এটা। BRICS এর ১০টি পূর্ণ সদস্য দেশের তালিকায় চোখ বুলালে ব্যাপারটা আরও পরিষ্কার হবে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত। শান্তি চুক্তি জোটের নামে রাশিয়া, চীন, ভারত, ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলের বাণিজ্য পথের উপরে নিয়ন্ত্রণ করার প্রচেষ্টা শুরু করেছে।

চলুন আরেকবার ভিয়েতনামে ফিরি, Đổi Mi নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে, ঘোষিত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র হয়েও, মুক্ত বাজার অর্থনীতিকেই সমাধানের একমাত্র পথ হিসাবে আঁকড়ে ধরে। পদক্ষেপ হিসাবেঃ- 

 

১) অবাধ বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি

২) প্রতিটি বেসরকারি উদ্যোগে নানান ধরণের কর ছাড়

৩) রপ্তানিমুখী শিল্পের উপরে জোর দেওয়া। 


একই সাথে বিদেশ নীতির ১৮০ ডিগ্রী পরিবর্তন করে যুদ্ধের ২০ বছরের মাথায় পুঁজিবাদী আমেরিকার জন্য রেড কার্পেট পেতে দেয় ভিয়েতনাম। US–Vietnam কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ফলে ASEAN অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব বাড়তে থাকে।

ধীরে ধীরে US–Vietnam Trade Agreement আর ভিয়েতনামের WTO সদস্য পদ গ্রহণের মধ্যে দিয়ে, ভিয়েতনাম গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের অংশ হিসাবে আমেরিকান কোম্পানিগুলো গার্মেন্টস, ইলেকট্রনিক্স, চিপ অ্যাসেম্বলি ইউনিট চীন থেকে ভিয়েতনামে সরিয়ে নিয়ে আসে। কৌশলগত সহযোগিতার নামে মার্কিন সামরিক প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা সহযোগিতা শুরু হয়, ভিয়েতনামের উপর থেকে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা প্রতাহার, US Navy র ভিয়েতনাম বন্দরে প্রবেশ, একই সাথে South China Sea এ তেল, গ্যাস, মৎস্য নিয়ে চীন ও ভিয়েতনামের বিরোধও শুরু হয়। রিমোট কন্ট্রোলে কলকাঠি নেড়ে চীনকে রুখে দিতে ভিয়েতনামের মাধ্যমে মার্কিন প্রয়াস চালু হয়। সুতরাং, এই আমেরিকাপন্থী অবস্থানের কারণেই, কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা নিতান্ত সম্পর্কহীন, গাজা শান্তি চুক্তির বোর্ড অফ পিসে সই করার জন্য মনোনীত করা হয়েছে ভিয়েতনামকে। বাকি ২৫টা দেশের ব্যাপারেও এভাবে ধরে ধরে বিশ্লেষণ করাই যায়, তাতে লেখনি লম্বা হবে মাত্র।

সাম্প্রতিককালে ইরানের উদ্দেশ্যে লিবিয়ার প্রাক্তন শাসক, গাদ্দাফি কন্যার একটি চিঠি প্রকাশিত হয়। সেখানে উনি খোলা চিঠিতে ইরানের জনগণের উদ্দেশ্যে আবেদন জানিয়ে বলেন, কীভাবে মার্কিন ফাঁদে পা দিয়ে তার বাবা লিবিয়ার মতো একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতির সর্বনাশ ডেকে এনে, নিজের জীবন দিয়ে শেষে সর্বস্বান্ত লিবিয়াকে ফেলে রেখে যেতে বাধ্য হয়েছিল। হয়তো আগামী দিনে ভিয়েতনাম বা অন্য দেশ থেকেও থেকেও এরকম কোন চিঠি প্রকাশিত হবে, তখন অবশ্য অনেক দেরি হয়ে যাবে। প্রবাদ বাক্যে ন্যাড়া বেলতলা দিয়ে একবার যায়, কিন্তু বাস্তবের ভিয়েতনামেরা বারবার যায়।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার তথাকথিত মুরুব্বি রাষ্ট্রসঙ্ঘ, পরমাণু শক্তিধর সামরিক জোট ন্যাটো, বিশ্ব বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক বলে পরিচিত ইউরোপীয়ান ইউনিয়ন, মোল্লা রাজাদের মধ্যপ্রাচ্য ও খোদ ইসরাইল অবধি, আজ প্রত্যেকেই হাড়ে হাড়ে অনুভব করছে, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আসলে কী এবং তা কতটা নির্মম ও স্বার্থান্ধ হতে পারে।

বামপন্থীরা বহু ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি- এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। নীতি ও আদর্শের সামান্য বিচ্যুতিকেও অনেক সময় অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার ফলে তাদের নিজেদের মধ্যেই ঐক্যের অভাব দেখা দিয়েছে। এর ফলেই হয়তো পৃথিবীর বুকে যে মাত্রার রাজনৈতিক ও সামাজিক আধিপত্য তারা বিস্তার করতে পারত, তা পুরোপুরি সম্ভব হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও, দূরদর্শী বামপন্থীরা যে একটি ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী কুশলতার পরিচয় দিয়েছে, তা হলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে সময়ের অনেক আগেই সঠিকভাবে চিহ্নিত ও বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা। এই বোধ ও সতর্কতা পৃথিবীর অন্য কোনো গোষ্ঠী, সংগঠন বা মতাদর্শ সেই সময়ে দেখাতে পারেনি। বরং তারা ভুল সিদ্ধান্ত ও ভ্রান্ত মূল্যায়নের ফাঁদে পড়ে সময়ের স্রোতে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে গেছে।

 

ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...