সাময়িকী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সাময়িকী লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৫

বাঙালির ভূত

 

ভুতকে সেই অর্থে বাঙালী কোনো কালেই জাতে তুলতে পারেনি। 

সাহিত্যের ভুত কখনই সেভাবে একটা জলজ্যান্ত চরিত্র হতে পারেনি, হাস্য কৌতুক বা গা ছমছমে পিশাচ রূপী পার্শ্ব চরিত্র হয়েই রয়ে গেছে। বাস্তব জীবনে ভুতের ভয়ে বুক ধুকপুক করলেও গবেষণায় দেখা গেছে ৯০% ভীতুর ডিম প্রকাশ্যে ভুতের ভয় স্বীকার করেনা লোকলজ্জায়। আবার অদ্ভুত বাঙালি নাস্তিক সমাজ আছে, যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস না করলেও ভূতে ভয় রয়েছে, সে ভূত অতীতকাল নয়- পাতি বিদেহি আত্মা, তাদের যুক্তিও আছে অতিপ্রাকৃত শক্তির উপরে।

ওদিকে ব্যাঙ্কোর স্কন্দকাটা ভূত, আর ডাইনি নিয়ে নটসম্রাট শেক্সপিয়ার যে কালজয়ী ম্যাকবেথ লিখে গেলেন, তাকে কেউ ভৌতিক উপন্যাস বা নাটক বলেনা, শুধু কাল্ট বা অমর ট্রাজেডি হিসাবে মহা মহা মহা সমাদৃত। ড্রাকুলা কিম্বা মেরি শেলীর ফ্রানকেনস্টাইনও আদতে আধাভৌতিক। এর বাইরে জম্বি, ভ্যাম্পায়ার, গবলিন কিম্বা হালের হ্যারি পটারেও ভূতকে কী দারুন ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। আরব্য রজনী বা ওই যুগের মধ্যপ্রাচ্যের সাহিত্যের  জ্বীন গুলোকে দেখুন, কী সব একেকটা চরিত্র, তাদেরকে কেন্দ্র করে গল্প, তারাই মূল চরিত্র।

পাশাপাশি আমাদের শীর্ষেন্দুর ভুত গোবেচারা বোকার হদ্দ, লীলা মজুমদার হয়ে সত্যজিতের ভুতও জাতে উঠতে পারেনি। বিভূতি বাবুর তারানাথের ভুতও মূল চরিত্র হয়ে উঠতে পারেনি। এমন বহু বাঙালী বা ভারতীয় লেখকের লেখনিতে ভুতের নানান উপদ্রব থাকলেও, সেগুলো শেষমেষ সাইড নায়ক হয়েই রয়ে গেছে। হরিনারায়ন চট্টোপাধ্যায়, সৈয়দ মুজতবা সিরাজ, অদ্রীশ বর্ধণ, হিমানীশ গোস্বামী, প্রমুখেরা ভূতকে এনেছেন সাসপেন্স তৈরির চরিত্র হিসাবে, ভুত কোথাও মুখ্য চরিত্র নয়। যেমন আমাদের ভাতের সাথে নানান পদ খায়, এখানে ভাত নায়ক, তরকারিরা রোজ বদলায়, আমাদের ভূতেরা তেমন মুখোরোচক তরকারি।

আমাদের অধিকাংশ সাহিত্যিক লেখকেরা বিদেশী সাহিত্যিকদের নিরিখে ভূতেদের প্রেস্টিজ পাংচার করে দিয়েছেন। সামান্য কিছু হানাবাড়ি, শ্মশান বা গোরস্থানের কিছুটা গায়ে কাঁটা দেওয়া ছমছমানি থাকলেও, বাকীরা প্রায় সবাই নির্বিষ কোমল হাস্যরস। আমাদের সাহিত্যে ভুতেরাও আত্মহত্যা করতে চায়, ভাবুন অবস্থা। 

সাহিত্যে ভূতের আলাপ হবে আর দাড়িবুড়ো বাদ যাবে সেই ধৃষ্টতা কার রয়েছে। বাংলা সাহিতে তিনিই প্রণম্য, ভূতকে চরিত্র বানাতেও। তিনি সিম্পলি বাকিদের বলতেই পারেন 'তফাৎ যাও তফাৎ যাও, সব ঝুট হ্যায়'। সেই কবিঠাকুরের ক্ষুধিত পাষাণ বাদে, মণিহারা,  কঙ্কাল কিম্বা মাস্টারমশাই, কোথাও ভুত সেভাবে মুখ্য চরিত্র হয়ে উঠেনি যারা রক্ত মাংসের মানুষের সাথে প্রভেদ ঘুচিয়ে দিয়েছে। 

আমাদের বাঙালী শিশুর জন্মই হয় জুজু নামের ভুতের সাথে, এর সাথে রাক্ষস খোক্কসের গল্প দিয়ে শৈশবের যাত্রা শেষ হতে না হতে, কৈশোরে ব্রহ্মদৈত্তি আর মামদোর পাল্লায় পড়ি। প্রথম যৌবনের প্রেমে ছ্যাকা খেয়ে সবাই শাঁকচুন্নি দর্শন করি। আমাদের বাঙালী জীবনটাই ভুতময়, কিন্তু বড্ড রুগ্ন আর অধিকাংশই আদর্শবান সব ভুত, সবাই পার্শ্বচরিত্র। 

সে যাই হোক, কোন সাহিত্য বড় সেটা আলাপের বিষয় নয়, সকলে তার স্থানে সুমহান। বিষয় হচ্ছে আমাদের সংস্কৃতি কোমলমতি ভুতেদের নিয়ে, আদুরে পোষ্যের মত কিছুটা, যেখানে শিরশিরানি ভয়ও আছে আবার এ্যাডভেঞ্চারও আছে। এটাই 'আমাদের' নিজস্বতা।

তাই আজকের এই ভূত চতুর্দশীর সাঁঝবেলাতে এটাই নাহয় থাকুক। এটা যাদের ধর্মীয় উৎসব, তাঁরা ধর্ম হিসাবে পালন করুক, আমরা নাহয় এটা আমাদের ছেলেবেলার ভয়কাতুরে সন্ধ্যা গুলোকে উদযাপন করি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে।

বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৫

সিকিম সরকারের গিমিক

 


এতোদিন ধরে আলাদা কিছু ছিলো কী? এর মধ্যে শেষ ৫ বছরে কোনটা নতুন?


শেষ দু বছর ধরে সিকিমের পর্যটন ব্যবসার ৭০% বেশী পতন হয়েছে। NH 10 এর কোনো সুরাহা নেই, কবে খোলা আর কবে বন্ধ কেউ জানেনা। ঠিক আজ এই মুহুর্তেও রাস্তা বন্ধ, এদের মেরামতির কাজ কখনই শেষ হয়না। বাংলা ছাড়া পূর্ব বিহারের কিছু আর সামান্য আসাম ব্যাতিরেকে, বাইরের রাজ্য থেকে পর্যটক প্রায় আসা বন্ধ। অথচ একসময় দক্ষিণের ৪টে রাজ্য থেকে, মহারষ্ট্র, গুজরাত, রাজস্থান, উড়িষ্যা থেকে ঢেলে পর্যটকের দল আসত। বাংলাদেশের টুরিস্ট একসময় রোজগার দিতো, যা মোট আয়ের ২০% বা তারও বেশী ছিলো, আন্তর্জাতিক রাজনীতির বাধ্যবাধকতায় সেটাও আজ দেড় বছর লাটে উঠেছে, কোনো বিকল্প আসেনি।

২০২৩ থেকে উত্তর সিকিমের লাচেন একপ্রকার বন্ধই, অথচ গুরুদংমারের টানেই অধিকাংশ পর্যটক সিকিম ভ্রমণে আসেন। লাদাখের প্যাংগং হ্রদের রূপ একপ্রকার, কিন্তু গুরুদংমারের ভয়ঙ্করী শান্ত রূপ অনন্য। মাউন্টেন এ্যাডভেঞ্চার বাইকারদের একমাত্র পাখির চোখ এই সুউচ্চ হিমালয়ান হ্রদটিকে কেন্দ্র করেই ঘোরাফেরা করে। যদিও ছাঙ্গু হ্রদ বাদে, কুপুপ বা খেঁচিপেরি নিয়ে পর্যটকদের মাঝে তেমন আগ্রহ নেই। লোনাক, সামিতি কিম্বা সলামো হ্রদ সাধারণ পর্যটকদের অগম্য, পরে পাওয়া চোদ্দ আনার মত- সাংলাফু নামে হ্রদের পাড়ে যাওয়ার কোনও সহজ উপায় বের করতে পারেনি আজও, যাতে পর্যটন ব্যবসা কিছুটা মুক্তি পায় দম বন্ধ করা দশা থেকে। ফলত, গুরুদনংমার যাত্রা বন্ধ থাকলে, এ্যাডভেঞ্চার বাইকারদের আসার হার কমে যায় ৯০% এরও বেশী মাত্রায়। নর্থ সিকিমের ব্যবসাটাই লাটে তুলে দিয়েছে। লাচুং খোলা, কিন্তু সরকারের উদাসীনতাতে কোনো কিছুই স্বচ্ছ নয় পর্যটকের কাছে।

সিকিমেও ডোল পলিটিক্স চলছে, বিজেপি ঘেঁষা সরকার, উন্নয়নের নামে প্রকৃতিকে ধর্ষণ করছে। একটা তিস্তাতে ৪৯টা বাঁধ প্রোজেক্ট, নদী গর্ভেই মদ আর ফার্মা ফ্যাক্টারি বানিয়ে নিয়েছে। আদানি আম্বানি গেঁড়ে বসেছে। স্থানীয় সংস্কৃতি প্রায় হারিয়ে গিয়ে উলঙ্গ পশ্চিমা সংস্কৃতির গ্রাসে গোটা রাজ্যটা। ড্রাইস্টেট বিহারের শুঁড়িখানা আর বাইজি বাড়িতে পরিনত হয়েছে গ্যাংটক- সর্বত্র ছামিয়া ডান্স না রাতপরীদের নিষিদ্ধ হাতছানি যুক্ত নাইটক্লাব। গোটা গ্যাংটকে স্থানীয় সিকিমিজ বাসিন্দার থেকে হোটেল বেশী, একেকটা আবার ১৫-২০ তলা। রাণীপুল থেকে বোজোগাড়ি অবধি সবটা যেন কংক্রিটের স্তুপ, ফাঁক গলে পাহাড়ের দেখা পাওয়াই দুষ্কর। পাহাড়ের ভূমি অদৌ এটার ভার সইতে পারবে! পারলে কতদিন পারবে!

বিবিধ অঞ্চলে প্রতিটা হোটেলে পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট, হোটেল গুলোকে ট্যাঙ্কারে করে জল আনতে হয়। ট্যুরিজমের কোনো নির্দিষ্ট গাইডলাইন নেই, যা আছে খাতায়কলমে। প্রায় সমস্ত হোটেল লিজে চলে, যত খুশি প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটুক, বিল্ডিং মালিককে বাৎসরিক লিজের পুরো পয়সা মেটাতে হবেই। এই বিপুল আর্থিক ক্ষতির কেউ সামান্য দায় নেবেনা, না মালিক না প্রশাসন। যেন বিপর্যয়য়ের দায় একান্তই লিজারের। প্রতিবাদ করলেই স্থানীয় পুলিশের সাথে লিজারকে তুলে নিয়ে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন রোজকার ঘটনা। যেটা আছে সেটা স্থানীয় পয়সাওয়ালা ভুটিয়াদের অত্যাচার, অন্ধকার নামলেই পাতাখোর মাতালদের দাদাগিরি, স্থানীয় হোটেলের দালালদের তোলা আদায়, স্থানীয় লোকেদের কর্মসংস্থান এর নামে কিছু বখাটে ছেলেপুলেকে বসিয়ে খাওয়ানো আর বেতন দেওয়াযত্রতত্র শরীর বিক্রির অলিখিত ধান্দা, আর সিজেনে নিয়ন্ত্রণহীন গাড়ির ভাড়া। কোনো মানুষই অসভ্য হয়ে জন্মায়না। সরকারের মত নিয়ন্ত্রক সংস্থাই যদি নিজে অসভ্য হয়ে যায়, তখন তথাকথিত এই অশিক্ষিতের দল তার ফায়দা নেবেই। এই করতে করতে আজকে সাধারণ পর্যটকদের কাছে সিকিমের গাড়ি মানেই আতঙ্কসিজেনের সময় দেউরালি থেকে MG Marg সংলগ্ন হোটেলে পৌঁছে দিতে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দাবী করে, একটু দূরে হলে রীতিমত ছিনতাই। দাবী মত না দিলেই হুজ্জোতি, পুলিশ প্রশাসন সব মুকখে কুলুপ এঁটে বসে থাকে।

এর সাথে ফাউ লিমিটহীন জানজট, হ্যাচব্যাগ পাবলিক ট্যাক্সিতে ছেয়ে গেছে গোটা শহর, এর সাথে ধনীর দুলালদের একেক জনের ৪টে করে গাড়ির বহর। সামান্য বাজরা স্ট্যান্ড থেকে দেউরালি শিলিগুড়ি স্ট্যান্ডে আসতে গেলে অফসিজেনেও আধাঘন্টা লাগে, সিজেনে খোদা ভরসা। ধনী দরিদ্রের বৈষম্য চরমে। যার আছে সে কোটিপতি, যার নেই সে কাল কী খাবে জানেনা। জনসাধারণের জীবনযাত্রার খরচা সমতলের তিনগুণ, কিন্তু স্বাচ্ছন্দ্য অর্ধেক। দৈনন্দিন আনাজপাতি মুদিদ্রব্যের মাল ছুঁতে গেলে হাত পুড়ে যায়। পর্যটন ব্যবসা যে রাজ্যের মূল রোজগার, তা নিয়ে লোকদেখানো চমক, গিমিকের বাইরে শুধু যেটা আছে সেটা- পশ্চিমবঙ্গ সরকার আর কেন্দ্র সরকারের উপরে দোষ চাপানো

তাই এই সব কোলকাতায় বসে লোমের সাংবাদিকতা না করে, আসল সমস্যা নিয়ে লিখুন। আপনাদের দুপয়সার এই জাতীয় সাংবাদিকতা আসলেই মূল্যহীন। যোগ্য প্রতিবেদন লিখতে চাইলে গ্যাংটকে যান, সিংটামে যান, গেজিং, নিমাচেন, কাবি, রেনক, সিংগিক, গ্যালসিং, গ্যাটসিলিং, ইয়াংতে, মারতাম, সোরেং, জোরথাং, মেল্লি, এসব জাইগাতে গিয়ে, নিজেরা ঘুরে, দেখে, শুনে, বুঝে সেই মত লিখুন- তবে বুঝবেন কী লেখা উচিৎ আর কোনটা ছ্যাবলামো। পাশাপাশি নিজেদের অউকাতটও বুঝে যাবেন


শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

মুজরা সম্রাটের মনিপুর ভ্রমণ

 



রাষ্ট্রপতি শাসন জারিকৃত মনিপুরে, ১০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে রেখে, ১৬টা জেলার ১৩টাতে অঘোষিত কার্ফিউ ঘোষণা করে, ৫৪ টারও বেশী মহকুমার যানবাহন সহ রাস্তাঘাট বন্ধ রাখে, ইস্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় দোকানপাট জবরদস্তি বন্ধ করিয়ে, স্থানীয় জনজীবন সমস্তটা স্তব্ধ করে- বুলেটপ্রুফ বিদেশী গাড়ি বহর নিয়ে, কাঁচ বন্ধ রেখে, AC কোচ থেকে রোড শো করে- ভাঁড় মহাশয়, মণিপুরের মানুষের সাথে একাত্ম হয়ে এসেছেন আজ।

২০২৩ থেকে মণিপুরের সমস্যা কী নিয়ে ছিলো জানেন?

যেকোনো মূল্যে উপজাতিদের উচ্ছেদ করে তাদের জমি কেড়ে নিয়ে সেখানকার খনিজ সম্পদ আদানির হাতে তুলে দেওয়া। হ্যাঁ, এটুকুই, একমাত্র এটাই।
জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার তথ্য মতে, মণিপুরের কুকি অধ্যুষিত জেলা গুলোতে প্রচুর পরিমাণে পেট্রোলিয়াম এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদ মজুদ রয়েছে। কুকি সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ যে- উপত্যকাবাসী ও বিজেপির মদতে থাকা 'মেইতেই' সরকার তাদের সবকিছু কেড়ে নিতে চায়।
সাহেব আজকাল যেখানেই যান, তার আগে ফেউ এর মত Adler Industrial Services এর ডিরেক্টর অশ্বিনী বৈষ্ণব পৌঁছে যায় রেলের নতুন প্রোজেক্ট নিয়ে। যারা হাওড়া সাউথ লাইনে যাতায়াত করেন, তারা জানেন রেলের হাল আসলে কতটা যন্ত্রণাময়। যেগুলো আছে সেই রেল গুলোই সামলাতে গিয়ে হেগে ফেলছে 'শিক্ষিত রেলমন্ত্রী', ওদিকে ‘বৈরাবি-সাইরাং’ নামে নতুন প্রকল্প ঘোষণা করে ভক্তদের গান্ডু বানানোতে কোনও খামতি নেই। রেলের ফ্রেট করিডরের অধিকাংশই ইতিমধ্যে DP World ও আদানিকে বেচে দিয়েছে, যারা আগামীকাল অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে পাকিস্তান ম্যাচ ঘটানোর মূল হোতা।

গত দুই বছর ধরে ৩০০ এর বেশী মানুষ প্রকাশ্যে খুন হয়েছে, ২০০০ এর বেশী মানুষের অঙ্গহানি ঘটেছে, কেউ খোঁড়া, কেউ অন্ধ, কারো হাত নেই, কারো চোয়াল নেই, তো কারো শরীরে গুলি বিঁধে রয়েছে। ৫০০০ এর বেশী মানুষ আহত, ১৫০০ এর বেশী নিখোঁজ মানুষ ও ৯০,০০০ এরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ গৃহহীনের দলে নাম লিখিয়ে- ত্রান শিবিরের আশ্রয়ে কোনো মতে বেঁচে আছে।

এটা কোনো আভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বগত সমস্যা ছিলোনা, না ছিলো হিন্দু-খ্রিষ্ট্রান এর জাতি লড়াই, না ছিলো মায়ানমার থেকে আসা অবৈধ অভিবাসন সমস্যা, না এটা কোনো মাদক সংক্রান্ত সমস্যা ছিলো, এই ধ্বংসাত্মক সংঘাত ছিলো আদানির স্বার্থে তৈরি করা- বিজেপি সৃষ্ট নারকীয় সন্ত্রাস। আর মূল উদ্দেশ্য ঢাকতে নানান মিথ্যা ন্যারেটিভ সেট করা হয়েছিলো বিজেপির প্রোপ্যাগান্ডা মেশিনারি দিয়ে।।
মণিপুর হিংসা ইচ্ছাকৃতভাবে উস্কে দেওয়া একটা পরিকল্পিত দাঙ্গা। যেটা পরিচালনা করেছিলো ‘মেইতেই’ ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার। মেইতেই-রা মূলত হিন্দু, এবং তারা অধিকাংশই ইম্ফল লাগোয়া সমতল ও উপত্যকা অঞ্চলে বসবাস করে। মণিপুরের মাটির তলায় আবিষ্কৃত বিপুল প্ল্যাটিনাম মজুদ রয়েছে। সেই খনি যেকোন মূল্যে আদানির হাতে তুলে দিতেই এই নরসংহার যজ্ঞ ছিলো।
যে অংশে প্ল্যাটিনামের মজুদ রয়েছে, সেটা পাহাড়ের আদিবাসী সম্প্রদায়ের বসবাসের জমিতেই সীমাবদ্ধ। কুকি জনগোষ্ঠীর গাংতে, হমার, পাইতে, সিমতে, সুক্তে, থাদৌ, ভাইফেই, জো এবং কিছু ছোট উপজাতির বাস সেখানে। এছাড়া নাগা উপজাতির আঙ্গামি, কাবুই, কাঁচা নাগা, মাও, মারাম, পৌমাই, সেমা, তাংখুল নামের উপজাতিদেরও বাস ওই অঞ্চলে।
একটা গোটা প্রজন্মের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেছে, উপজাতি পরিবারগুলি গৃহহীন, সেই অঞ্চলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শ্মশানে। অনিশ্চিত ভবিষ্যত আর অপরিমাপযোগ্য ক্ষতির সাথে লড়াই করা মানুষগুলোর জীবনে আজও শান্তি অধরা। সাহেব সেই মানুষগুলোর কাছে যায়নি, তাদের ব্যাথার উপসম হয়ে যন্ত্রণার কথা শোনেননি, উনি কিছু ভাড়াটে লোক দাঁড় করিয়ে আত্মরতি নিয়েছেন কেবল, যাতে গোদি মিডিয়া এই ‘আত্মরিতির’ এডিটেড অংশ সারাদিন টিভিজীবীদের গেলাতে পারে, ভক্তদের অর্গাজম দিতে পারে। স্থানীয় উপজাতিরা তার সামনে নাচতে রাজি না হওয়ার, মুজরা সম্রাটের উপজাতি নৃত্য দেখা হলোনা এ যাত্রায়।
আজকে মাননীয় 'লৌড়েন ভোজ্যম' আসলে ‘জো’ হয়েছে কিনা দেখতে এসেছিলেন- কতদিনে প্রভু আদানির হাতে জমিগুলো তুলে দিতে পারবেন, তার রেইকি করে গেলেন নিজে, সরেজমিনে।

সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

আপনিই তো এটা চেয়েছিলেন



➤আপনার ছেলেটা চাকরি পাচ্ছে না?

➤ব্যবসা বানিজ্য করার মত পুঁজি ও সুযোগ নেই?
রাতবিরেতে বউ মেয়েকে বাইরে বের হতে দিতে ভয় লাগে?
➤ বাজারে যেতে ভয় লাগে আগুন দামের কারণে?
➤ জরুরী ওষুধের দাম আকাশ ছোঁয়া?
➤ ছেলেটা চোরের ধরে নাম লিখিয়েছে?
➤ ধার দেনা করে ব্যবসা শুরু করলেও তোলা দিতে হচ্ছে স্থানীয় সরকারী দলের নেতা ও পুলিশকে?
➤ রাস্তাঘাটের অবস্থা খারাপ?
➤ চতুর্দিকে কৃত্রিম দাঙ্গা পরিস্থিতি?
বড় কষ্ট আপনার, বড় কষ্ট। কিন্তু ভেবে দেখুন তো, প্রতিবার যখন ভোট হয় আপনি কাকে ভোট দেন? উপরের কোন কথাগুলো মাথায় রেখে ভোট দিতে যান? আপনি তো ভোট দেন ৫০০ টাকার লক্ষীর ভান্ডারে বিকিয়ে গিয়ে। আপনি ভোট দেন প্রার্থীর ধর্ম দেখে। আপনি ভোট দেন অন্য ধর্মের লোকগুলোকে শায়েস্তা করতে। আপনি ভোট দেন BJP চলে আসবে সেই ভয়ে!
আপনিই তো শুধু মন্দির চেয়েছিলেন, আপনিই তো চান কাটুয়াদের পাকিস্তান পাঠাতে। আপনিই তো বলেছিলেন শরিয়া শাসন চাই যেকোনো মূল্যে, আপনিই তো মনেপ্রাণে গাজোয়াতুল হিন্দের প্রতীক্ষাতে তসবি গুনছেন। এক কাজ করুন, একবার নিজ পায়ুতে মধ্যমা আঙুল ভরে সেটা শুঁকুন- গুয়ের গন্ধই পাবেন! আর আপনার মস্তিষ্ক ঠিক ওইখানেই রয়েছে, আপনার পোঁদে। খাঁটি বেইন স্টোকস।
বিজেপি চলে এলে কে আসবে? সেই শুভেন্দুই তো, যে মমতার ডানহাত ছিলো। দুটোই তো RSS, গুয়ের এপিঠ ওপিঠ। দুই ফুল মিলে আপনাকে চুতিয়া বানাচ্ছেনা, আপনি আসলেই চুতিয়া, প্যান্ট খুলে উবু হয়ে বসে আছেন পেছন খুলে দিগম্বরী পোজে।
যেদিন রুটি রুজির কথা ভেবে ভোট দিতে পারবেন, যেদিন সন্তানের কথা ভেবে ভোট দেবেন, যেদিন অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের কথা ভেবে শিক্ষিত মানুষকে বেছে নিতে পারবেন, যেদিন সরকারের দিকে আঙুল তুলতে পারবেন, সেদিন উপরের কষ্টগুলো নেই হয়ে যাবে।
আর যতদিন তা না পারছেন অভ্যাস করে নিন, কারণ আগামী আরো দুর্দশা নিয়ে আসছে আপনার জন্য। তৃণমূল আর বিজেপি দুটোই আপনাকে ভয় দেখিয়ে ভোট নেয়, আপনিও তাই দেন জেনেবুঝে। দিনের শেষে আপনি RSS এর মনুবাদী এ্যাজেন্ডারই একটা বোরে মাত্র।
আপনি ভক্ত না দুধেল গাই সেটা আপনি বুঝুন, আমরা শুধু বুঝি আপনাদের মত উদগান্ডুরা আছে বলে ওরা ক্ষমতায় আছে। আর ওরা ক্ষমতায় আছে বলে সাধারণ মানুষের দুর্দশার শেষ নেই।
আপনি থাকছেন স্যার-

শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫

অযত্নের তাল



তপ্ত রৌদ্রে পুড়তে পুড়তে ব্যাঙ্ক থেকে ফেরার পথে পথের ধারে বাইক থামাতে এনাকে পেলাম। তালশাঁস। একটা সময় অন্তত আমাদের মত যারা গ্রামে বেড়ে উঠা, তাদের ছেলেবেলায় কিনে খেতে হতোনা ফল-ফুলুড়ি। ঘরে সারাবছরের বাঁধা কাজ করা কির্ষেন-রাখাল থাকত, তারাই গাছে চড়ে আম-জাম-কাঁঠাল-বেল-তাল পেড়ে আনত। একসময় কচি তাল কালের নিয়মে পেকে গেলে তার আঁটি গুলো বাঁশ বাগানে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হত কলআঁটি জন্মাবার জন্য। সেই কল আঁটির স্বাদ আবার আরেক স্বর্গীয় বিষয়।

তালশাঁস বিক্রেতা আজ ১০টাকায় ৪ পিস করে দিতে দিতে তার নিজের আক্ষেপের কথা জানাচ্ছিলো। দক্ষিণে গুপ্তিপাড়া, পশ্চিমে সাতগাছিয়া- কুসুমগ্রাম, পূর্বে কৃষ্ণনগর আর উত্তরে কাটোয়ার আগে অবধি ছিল এনার বাবার এরিয়া, বাবার হাতেই এনার হাতেখড়ি থুড়ি গাছে-দড়ি। এই বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এনারা তালগাছ/খেজুরগাছ ঝুড়তেন। এঁড়ে তালগাছ বাদে, মাদি গাছই ছিল নাকি লাখ দশেক, অন্তত ১০০০ মানুষ এই গাছ কাটার সাথে জুড়ে থাকত, সাথে তাদের রুজিরোজগার।
গরমে তাল, শীতে খেজুর- আর গেরস্তের বাড়ির নারকেল গাছ ঝুড়ে দিয়ে কিছু জুটিয়ে নেওয়া, এই ছিল এনাদের বারোমাস্যা। বর্তমানে রাস্তা চওড়ার নামে রাজ্যজুড়ে সমস্ত পাকারাস্তার ধার ন্যাড়া। মাঠের মাঝে নতুন গাছ সেই অর্থে জন্মাতে দেওয়া হয়না, তার উপরে প্রাকৃতিকভাবে বজ্রপাতের কবলে পরা তালগাছের একটা অভিশাপ। বসত বাড়ির আশেপাশে তালগাছ থাকা নাকি অমঙ্গলের নিশান, স্বভাবতই তাল তমাল কেটে ফেলাই দস্তুর। বিল বা নদীর ধারে যে সকল গাছ ছিল, ঢোঙা নৌকা বানাবার জন্য সেসব কাটা পরে যায়। তালগাছ কেউই প্রায় স্বযত্নে লাগায়না, নিজে থেকেই অযত্নে অবহেলায় বেড়ে উঠার নাম তাল। গাছে উঠে তালের কাঁদি পারা- এ এক শিল্প। তাল গাছের গা- পুরো করাতের মত ধার, নতুন প্রজন্মের কেউ আগ্রহীই নয় এই পেশাতে আসতে। সব মিলিয়ে গোটা বিষয়টাই সঙ্কটে।
কে জানে আগামী ২০ বছর পর সাহেবদের সাধের ‘আইস আপেল’ এর অস্তিত্ব আর থাকবে কতটুকু।


মঙ্গলবার, ১২ আগস্ট, ২০২৫

KBC তে কুরেশী



Rashtriya Swayamsevak Sangh (RSS) -Bharatiya Janata Party (BJP) কতটা দেউলিয়া হলে এইভাবে খড়কুটো আঁকড়ে বাঁচাতে চাইছে মোদীশাহ এর চোর সরকার কে!

কোন গুরুতর সামরিক অভিযানের পর কি আপনি কখনও এমন কিছু দেখেছেন ইতিহাসে?
অন্য কোনো দেশে এমনটা ঘটেছে?
ভারতীয় সেনাকে নিয়ে যে আবেগ রয়েছে প্রতিটি ভারতীয়ের মনে, সেটাকে এইভাবে বানিজ্যিকরণ করা হচ্ছে কোন উদ্দেশ্যে? কাকে সুবিধা পাইয়ে দিতে? সেনাবাহিনীয় সাফল্য কী মনোরঞ্জনের মত সস্তা বিষয়? এটা কী শাসকদলের পৈতৃক সম্পত্তি?
সরকারী চাকুরিরত ব্যক্তির পক্ষে এমন সম্প্রচারে অংশগ্রহন কী সরকার স্বীকৃত বা আমাদের সংবিধান অনুমোদন করে?
ADGPI - Indian Army এটা কী আপনাদের শৌর্যের সাথে যায়- এমন সস্তা মনোরঞ্জন, তাও একটা প্রাইভেট চ্যানেলে,প্রাইভেট কুইজ শো এ?
ভোট চুরি করে চেয়ার দখল করা মোদী সরকার নির্লজ্জভাবে আমাদের সেনাবাহিনীকে তার তুচ্ছ রাজনীতি এবং উগ্র জাতীয়তাবাদের জন্য ব্যবহার করছে। সেনার আড়ালে নিজেদের চুরি দূর্নীতিকে ঢাকার অপচেষ্টা করছে।
ছিঃ

মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫

বাঙালী অত্যাচার



বাঙালির উপর অত্যাচার আজকে নতুন কিছু নয়। মুম্বাইতে বিহারি খেদাও অভিযান, এটাও খুব পুরানো নয়। আসল কথা গরিবের উপর অত্যাচার। কোন বড়লোকের উপর আজ অব্দি কখনো কোন রাজ্যে, কোন দেশে অত্যাচার হয়নি।

চতুর্দিকে প্রচারণার আলোকে থাকা তথাকথিত 'বাঙালির উপর অত্যাচার', এই ডাইলেক্ট এর বাইরে গিয়ে আমার এই লেখাটা আপনাকে ঝটকা দেবে। প্রচারণার ধাক্কানিনাদে আমরা কি ক্রমশ সত্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছি না?
বাঙালির প্রথম কর্তব্য মমতা ব্যানার্জিকে অবিশ্বাস করা। এটা করতে পারলে আপনি প্রাথমিকভাবে সফল, এবং আপনার চোখ মন এবং ভাবনাচিন্তা সঠিক বিষয় কাজ করবে। নতুবা আপনি এদের প্রচারণার তাবুতে নিজেকে ঢেকে ফেলে ঠিক ততটুকু দেখবেন, যেটা এরা দেখাতে চাইছে।
যে রাজ্যে হামলা হচ্ছে সেখানে মমতা সরকারের কোন বিধায়ক বা সাংসদ যায়নি। না এর বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার কোন বিল পাস করেছে। না সংসদে কোন আওয়াজ তুলেছে তাদের সাংসদেরা। না কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলন করেছে। তৃণমূলের সাংসদ সামিরুল আলম নিয়মিত রোজ মিথ্যাচার করে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। এর সাথে আরও সাঙ্গোপাঙ্গগুলো তো রয়েছেই।
RSS যেমন হিন্দুদের চুতিয়া বানাচ্ছে রোজ, তৃণমূল তথা মমতা ব্যানার্জি দুধেল গাইদের গান্ডু বানাচ্ছে বিজেপি জুজু দেখিয়ে।
মমতা ব্যানার্জি গেছে বীরভূমে, এরপর যাবে মালদা মুর্শিদাবাদে। কারণ এখানকার পরিযায়ী শ্রমিকেরাই আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এদের পরিবারের ভোটগুলোকে সুরক্ষিত করতে তাদের সান্ত্বনা দিতে যাচ্ছে। যেখানে আক্রমণ হচ্ছে সেখানে যায় না গিয়ে।
মাননীয় যে দ্রুত এই সাজানো মামলায় সেমসাইড করবে - সেটা প্রত্যাশিত ছিল। প্রতিটা পদক্ষেপ দূর্নীতিতে ডুবে থাকা এই সরকারের দরকার নতুন নতুন ইস্যু। যাতে করে দুর্নীতির প্রশ্ন কক্ষনো না ওঠে, সাথে রয়েছে সেটিং করে থাকা তথাকথিত বিপ্লবী বিরোধী এবং একই হাঁড়ির রান্না খাওয়া বিজেপি। মানুষ দিশেহারা হচ্ছে, হবেও; তবে শেষও আছে।
শ্রমজীবী মানুষের উপর অত্যাচার হচ্ছে, এর চেয়ে বড় সত্যি ভারতবর্ষে কমই আছে; কিন্তু মাননীয়া যেটা দেখাচ্ছেন সেটা যে অধিকাংশটাই বানোয়াট, এ বিষয়ে সন্দেহ আমারও ছিল না। তাই এ নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে কোন লেখা নামাবার ভরষা পায়নি।
কোথাও তো একটা বড় ষড়যন্ত্র রয়েছে। আগামীতে প্রতিটা গল্প ফাঁস হয়ে যাবে- ঠিক কোথায় কে এই অত্যাচারগুলো করেছিল। লিখে রাখুন, প্রতিটা হামলার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে। যার জন্য তৃণমূলের একটা সেল কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিটা হামলাত এনডোর্সসিং, প্রোডিউস ও প্রোমোট সবটাই করেছে তৃণমূল।
মিডিয়া এই গোটা নাটকের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। টিভি মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় উত্তেজনা তৈরি করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চোর সরকারের পক্ষে। গোটা ষড়যন্ত্রের বড় স্টেক হোল্ডার , দল তৃণমূলের পরেই।
আপনারা সবাই জানেন গুন্ডা কে কন্ট্রোল করে।
বড্ড দুর্বল চিত্রনাট্য, খুব বাজে অভিনয়। সব মিলিয়ে ধরা পরতেই হতো। ভিনরাজ্যে ঘটে চলা প্রতিটা অত্যাচারের পিছনে এই দল তৃণমূল রয়েছে যারা টার্গেট করে কোথাও পুলিশ সেজে কোথাও গুন্ডা সেজে অত্যাচার চালাচ্ছে। প্রতিটা ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রমাণ আছে। হামলাকারী=তৃণমূল। যে জল মাননীয়া ঘোলা করে মানুষকে ঘুলিয়ে দিতে চেয়েছেন, সেটাই উনার জন্য বুমেরাং হয়ে যাবে। যাতে করে এই রাজ্যে একটা অবাঙালি দের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয় এবং সেটাকে কেন্দ্র করে হানাহানি শুরু হয়ে যায়।
সিট বেল্ট বেঁধে বসে পড়ুন, SIR এর নোটিফিকেশনে রাজ্য সরকারি কর্মীদের রীতিমতো হুমকি-ধমকি দিয়ে ফেলেছেন। এরপর আরো নাটক শুরু হবে। কমপ্লিট এন্টারটেইনমেন্ট আসতে চলেছে। মহারাষ্ট্রের মতো এই রাজ্য সোশ্যাল মিডিয়াতে সরকারের সমালোচনা নিষিদ্ধ হলে আশ্চর্য হবেন না।

শুক্রবার, ২ মে, ২০২৫

বঙ্গে গাঁজা

 


 ১) “ডলার এবং মেমসায়েবের লোভে সুকণ্ঠ ভেকধারী বাউলরা ক্রমে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। বাউল-ফকিররা গাঁজা খান। বাউলদের গাঁজা যৌনাচার হিপি ঐতিহ্যের স্মারক। অতএব ওই পথের পথিক মেমসায়েব বাউলের সঙ্গ ধরবে, এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই

সৈয়দ মুস্তফা সিরাজ, দৈনিক আজকাল, ৩০শে মে, ২০০৪; সুধীর চক্রবর্তীর বই নানা মনের চোখে, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, পৃ ১১৪

২) বিদ্যাসাগর জিজ্ঞাসা করলেন, "কি হারান, শুনলাম তুমি নাকি কাশীবাসী হয়েছ? গাঁজা খেতে শিখেছ কি?” হারানবাবু উত্তর দেন, "কাশীবাসী হওয়ার সঙ্গে গাঁজা খাওয়ার কি সম্পর্ক' বুঝতে পারলাম না।" বিদ্যাসাগর বলেন, "এত সহজ ও সোজা সম্পর্ক'টা বুঝতে পারলে না? জান তো, লোকের বিশ্বাস কাশীতে যাঁর মৃত্যু হয় তিনি সাক্ষাৎ শিব হন। শিব হলেন পাঁড় গাঁজাখোর। কাশীতে মৃত্যুর পর যখন শিব হবে তখন তোমাকেও তো গাঁজা খেতে হবে। তাই বলছিলাম, মৃত্যুর আগেই যদি একটু প্র্যাকটিস করে রাখতে, তা হলে শিব হওয়ার সুবিধে হত

কেদারনাথ ভট্টাচার্য, প্রবন্ধ: শিক্ষা ও সংস্কৃতির অনন্য পথিকৃৎ ঈশ্বরচন্দ্র বিস্যাসাগর, 'বঙ্গীয় নবজাগরণের অগ্রপথিক' বইয়ে সংকলিত, পৃ ১৭৪, নবপত্র প্রকাশন, ১৯৫৯, কলকাতা

৩) ৩০ নং পদে প্রধান প্রধান হিন্দু সমাজের সম্প্রদায়গুলির বৈশিষ্ট্যসহ পরিচয় পাওয়া যায়। বৈষ্ণবেরা বিষ্ণুরূপ ধ্যান করত, মালা-তিলক ব্যবহার করত। শাক্ত করত শক্তির সাধনা। পঞ্চতত্ত্বজ্ঞানী পঞ্চোপাসনা করতেন। সপ্তপন্থী ব্যাখ্যা করতেন সপ্তরূপ। আগম-নিগমের উল্লেখ আছে গানে; আছে জটা, লোহার ত্রিশূল, গাঁজা প্রভৃতি ব্যবহারকারী শৈব, শাক্ত সাধুদের ছবি। অনেকে গাঁজা খেয়ে "ব্যোম কালী" ধ্বনি দিতেন। মদ খেয়েও মাতাল হতো অনেকে। নানারকম মালা, মড়ার মাথার খুলি, হাড় ও হাড়ের মালা এরা ব্যবহার করত।

শক্তিনাথ ঝা, ফকির লালন সাঁই: দেশ কাল ও শিল্প, পৃ ২৫৮, সংবাদ প্রকাশ, কলকাতা, ১৯৯৫

৪) গাঁজা খাওয়ার ব্যাপারে আমাদের সরকার মনে হয় নমনীয়। মাজার মানেই গোল হয়ে গাঁজা খাওয়া। লালনের গান শুনতে কুষ্টিয়ায় লালন শাহর মাজারে গিয়েছিলাম। গাঁজার উৎকট গন্ধে প্রাণ বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। এর মধ্যে একজন এসে পরম বিনয়ের সঙ্গে আমার হাতে দিয়ে বলল, 'স্যার, খেয়ে দেখেন। আসল জিনিস। ভেজাল নাই।' সিগারেটের তামাক ফেলে গাঁজা ভরে এই আসল জিনিস বানানো হয়েছে।

হুমায়ুন আহমেদ, হিজিবিজি, প্রবন্ধ: নিষিদ্ধ গাছ, পৃ ৬৫, প্রিন্ট: ২০১৩ 

৫) তবে গাঁজা মহালের প্রজাদের সঙ্গে মিশে আমার একটা শিক্ষা হয়েছিল। ওরা হাতে কলমে শিখেছিল কেমন করে গণতন্ত্র চালাতে হয়, সমাজতন্ত্রের জন্যে এগিয়ে থাকতে হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রামে গ্রামে সমবায় পদ্ধতিতে চাষবাস প্রবর্তন করতে যান। এর জন্যে ভিত পাতা হয়েছিল পঞ্চাশ বছর আগে নওগাঁয়। এখন তার কী অবস্থা জানিনে। কারণ গাঁজা যারা কিনত তারা প্রধানত হিন্দু ও তাদের বাস প্রধানত আজকের দিনের ভারতে। বাংলাদেশ এখন তার গাঁজার বাজার হারিয়েছে। খান সাহেব মোহাম্মদ আফজল লিখেছেন বর্তমানে গাঁজা চাষ ১০০ বিঘা জমির মধ্যে সীমাবদ্ধ। আগেকার সীমা ছিল ৯০০০ একর।

অন্নদাশংকর রায়, যুক্তবঙ্গের স্মৃতি, পৃ ১১, মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ, কলকাতা

৬) অভীষ্ট বস্তুর অনুসন্ধানে অভয়াচরণ সতের বৎসর পাহাড়-পর্বত পরিভ্রমণ করিলেন। বহু সাধু সন্ন্যাসীর সঙ্গে তাঁহার ( অভয় ব্রহ্মচারীর ) সাক্ষাৎ হইল। গঞ্জিকা-সেবন তাঁহার সাধন-ভজনের সহায়ক মনে করিয়া, তিনি ইহা অভ্যাস করিয়াছিলেন। সতের বৎসর পর তিনি পুনরায় ময়মনসিংহে ফিরিয়া আসিয়া নেত্রকোণা মহকুমায় মালনী গ্রামে একটি আশ্রম স্থাপন করিলেন। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁহার আশ্রমটির সংবাদ চতুর্দিকে ছড়াইয়া পড়িল, এবং তিনি "অভয় ব্রহ্মচারী" নামে অভিহিত হইলেন। নানা শ্রেণীর বহু লোক তাঁহার শিষ্য ও ভক্ত হইতে লাগিল।

শ্রী রমেশ চন্দ্র সরকার বি. এ. বি. টি. ; গ্রন্থ: বারদীর শ্রীশ্রীলোকনাথ ব্রহ্মচারী, পৃষ্ঠা নং ৯৯; প্রেসিডেন্সী লাইব্রেরী, কলিকাতা-১২; প্রকাশ: ১৮৯০ সাল

৭) অভয়াচরণ প্রায় প্রতি মুহূর্তেই গাঁজা খেতেন। কিন্তু শিব চতুর্দশীর দিন জীবন্ত শিবের দর্শন পাবেন বলে গাঁজার পিপাসা অতি কষ্টে দমন করে আছেন। অভয়াচরণ আশ্রমে আসার সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্যামী বাবা লোকনাথ তাঁর গাঁজার পিপাসা মেটান তাতে অভয়াচরণের মনে হয়েছিল, বাবার কৃপা অবশ্যই তিনি লাভ করবেন। কিন্তু তিনি যখন বাবার কৃপা প্রার্থনা করেন, তখন বাবা তাঁকে বলেন, তুই নিজেই ত ব্রহ্মচারী। আমার কাছে কৃপা প্রার্থনা করছিস কেন?

পরমপুরুষ শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী, পৃষ্ঠা নং ১৬৫

৮) শ্রীযুত তারাকিশোর চৌধুরী মহাশয়ের একবার খুব জ্বর হয়। তখন তিনি কলিকাতার "হাইকোর্টে" ওকালতি করেন। তাঁহার মনে হইল, শ্রীযুত বাবাজী মহারাজ গাঁজা খান, তাঁহাকে গাঁজা ভোগ দিয়া যদি সেই প্রসাদ পান, তাহা হইলে তাঁহার জ্বর ছাড়িয়া যাইবে। এই মনে করিয়া তিনি শ্রীযুত বাবাজী মহারাজকে গাঁজা ভোগ দিলেন এবং নিজে সেই গাঁজা খাইলেন। গাঁজা খাওয়া তাঁহার কখনও অভ্যাস ছিল না; কিন্তু সেই প্রসাদী গাঁজা যথেষ্ট পরিমাণ খাওয়া সত্ত্বেও তাঁহার কিছুই হইল না, জ্বর ছাড়িয়া গেল

কয়েক মাস পরে তিনি বৃন্দাবনে যান। তাঁহার সেখানে থাকিবার সময় শেষ হইলে তিনি কলিকাতায় ফিরিবার দিন স্থির করিলেন। রওয়ানা হইবার কিছু সময় পূর্ব্বে শ্রীযুত বাবাজী মহারাজ গাঁজার কল্কি হাতে দিয়া বলিলেন-"এ প্রসাদী গাঁজা, তুমি খাও।” সেখানে কয়েকজন ব্রজবাসী বসিয়াছিল, এত সময় শ্রীযুত বাবাজী মহারাজ তাঁহাদের সঙ্গেই গাঁজা খাইতেছিলেন। তন্মধ্যে একজন জিজ্ঞাসা করিল -"বাবু কি গাঁজা খান?" শ্রীযুত বাবাজী মহারাজ-“না, বাবু গাঁজা খান না বটে; তবে জ্বর হ'লে আমাকে ভোগ দিয়ে প্রসাদ পান।” ভাবিয়া দেখ, প্রকৃত সদ্গুরুর শক্তি কি অসীম!

শিশিরকুমার সাহা, কাঠিয়া বাবা, (শ্রীযুক্ত রামদাস কাঠিয়া বাবাজী মহারাজের জীবনী), পৃ ৮২-৮৩, প্রিন্ট ১৯৩০, কলকাতা

৯) ওরশের সময়ে এখানে হিন্দুয়ানী কায়দায় মেলা বসে। মেলায় নারী-পুরুষ সকলেই আসে। গান-বাজনা, মদ-গাঁজা, জুয়ার আড্ডা কিছুই বাদ যায় না। এখানকার খাদেমরা বেশরাহ ফকির। এদের ইংগিতে এখানে অনেক বেশরাহ কার্যকলাপ চলে। হযরত শাহজালালের নামে লেখা বহু গান প্রচলিত আছে। মারেফতী গান গাইলে সওয়াব মিলে, এমন একটা ধারণা অজ্ঞ মুসলমানদের মধ্যে এখনও রয়েছে। তাই নারী-পুরুষে সমস্বরে মারেফতী গান গায়। এ-রকম একটি গান:-

'তুমি রহমতের নদীয়া

দয়া করো মোরে হযরত

শাহজালাল আউলিয়া।'

এই গান যারা গায়, তারা জানে না যে, রহমত একমাত্র আল্লাহর এক্তিয়ারে।

মুহাম্মদ হাবীবুর রহমান, কিতাব: হযরত শাহজালাল (রহ.), পৃ ৪১, জয় প্রকাশন, ঢাকা, প্রিন্ট: ফেব্রুয়ারি, ২০১৮

১০) উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর জেলায় কৃষকদের এক আঞ্চলিক ঠাকুর আছেন, যাঁর নাম 'কাণ্ডী'ইনি স্থানীয় অধিবাসীদের কাছে তাঁদের গবাদি পশুসমূহের রক্ষাকর্তা এবং ঐ সমস্ত পশুদের যন্ত্রণাদায়ক রোগের পরিত্রাতারূপে গণ্য হন। এখন এই দেবতাকেও প্রসন্ন করার জন্য গাঁজা দেওয়া হয় এবং যাতে তিনি ধূমপান করতে পারেন তার জন্য হুঁকা এবং ছিলিমও নিবেদন করা হয়।

— 'উত্তরবঙ্গের গ্রাম্য দেবতা-সমূহ': 'হিন্দুস্থান রিভিয়্যু' ফেব্রুয়ারি ১৯২২; পৃ. ১৫৩-৫৪; বাঘ ও সংস্কৃতি, সনৎকুমার মিত্র সম্পাদিত, পৃ ১৬, পুস্তক বিপণি, কলকাতা, প্রিন্ট ১৯৮০

 

১১) সমস্ত বাউল গাঁজা খায় না। বাউলদের একাংশ গাঁজার ভক্ত কিন্তু মদের বিরোধী। সাঁই এবং রাঢ়ের বহু গায়ক মদ্য-মাংসের একনিষ্ঠ সেবক

লালনের গান থেকে তাঁর সময়ের বহু তথ্য ও ইতিহাসের বহু উপাদান সংগ্রহ করা যেতে পারে। সেকালে তামাক, গাঁজা এবং মদ মাদকদ্রব্য হিসাবে সমাজে প্রচলিত ছিল। লালন নিজে গাঁজা খেতেন কি? তাঁর শিষ্য দুদ্দু গাঁজার তীব্র বিরোধী ছিলেন। প্রবাসীতে লালনের রচিত 'হুকার গান' নামে একটি পদ প্রকাশিত হয়েছিল। এ পদটি থেকে মনে হতে পারে যে তিনি 'হুকা' খেতেন।

শক্তিনাথ ঝা, ফকির লালন সাঁই: দেশ কাল ও শিল্প, পৃ ১৫৭ ও ২৪১, প্রিন্ট: ১৯৯৫, সংবাদ প্রকাশ, কলকাতা

 

১২) হালিশহর কোনা মোড় ছাড়িয়ে বিশালাক্ষ্মী ঘাট পেরোলেই শীতলাতলার সম্মুখে পূর্ণ সাধুর আশ্রম। লোকমুখে তিনি ফক্করবাবা। আশ্রম বলতে গঙ্গার কিনারায় বন-জঙ্গলে ঘেরা খানিকটা পরিত্যক্ত জমি, জমির আসল মালিক শুনেছি শ্যামদাস গুপ্তবাবুরা। পূর্ণ তার উপরে ঘর বেঁধে আছে বহুকাল ধরে জমিটার মাঝ বরাবর। মাথায় চালা ঠ্যাকে। হাত ছয় সাত প্রস্থে দৈর্ঘ্যে ছোট, বারান্দাসহ মাটির দেয়াল দেওয়া ঝুপড়ি ঘরখানিতে পূর্ণ থাকে। উত্তর সীমানায় আর একটু বড় আকারের প্রায় অনুরূপ বেড়া দেওয়া টালির ছাউনি ঘর। ওখানেই থাকেন মহেশ বাবা। সঙ্গে আছেন ওঁর সাধনসঙ্গিনী লীলা মা। নিভৃত নিলয়। পশ্চিমে গা ঘেঁষে গঙ্গা বইছে

বর্ষাকালে সীমানার ভাঙন পেরিয়ে উঠে আগে আসত গঙ্গা। এখন প্রতিরোধ পেয়েছে। সরকারি ওয়াল। এর ধারেই অন্য আর এক মালিকের একখণ্ড জমি। সেখানে ইট বাঁধানো দুর্গামাতার আশ্রমবাড়ি। মূর্তি নেই। ঘটে পুজো হয়। লীলা মা পুজো সারেন। মহেশ বাবার দুর্গামূর্তিতে বিশ্বাস নেই। বললে বলেন, শরীরের ভেতরই দুর্গা রয়েছেন। আলাদা করে আর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করার দরকার কী? মহেশ বাবা তাহেরপুরের বয়সের গাছ-পাথর পেরোনো সাধক দয়াল বাবার শিষ্য। কেউ বলেন, বাবার বয়স একশ বিশ, কেউ বা একশ তিরিশ। আমি গেছি ওঁর ওখানেছিন্নমস্তার উপাসক। বহাল তবিয়তে বেঁচেবর্তে আছেন দিনে একবার গাঁজা সেবা।


সুধাসুন্দরীর কাছ থেকে কোনওমতে পালিয়ে বেঁচেছি আমি। তিনি আমাকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন কথা কিছুদূর এগোতে তাঁর বুকে হাত রাখতে। তাতেই না কি আমি বুঝতে পারব যে, সেখানে কেমন নদী বইছে। তিনি আমাকে এও বলেছিলেন যে, বীর্যধারণ আমাকে তিনি নিজে হাতে শিখিয়ে দেবেন। এতে যার-তার সঙ্গে যখন-তখন শোয়া যাবে। বাচ্চা হওয়ারও ভয় থাকবে না। একসময় তিনি চরম হতাশায় বললেন, 'বিন্দু ধরতে দম লাগে। এ ভৈরব এখন পারেন না। শালার দম নেই। সাধনে আসবেন। সব শেখায়ে দেবো আপনেরে। চলেন পালাই। আশ্রম বানাই।' একবার এক ভৈরব-ভৈরবী দুজনেই আমাকে শেষে বলে বসলেন, 'আপন শক্তিরে এখানে নিয়ে আসবেন। মা আপনার শক্তির দম-শ্বাস শেখাবেন। আমি আপনারে। কত লোকে শিখতে আসে।' বুঝতে আমার একটু অসুবিধে হল না শেখার নামে এখানে শরীর ব্যবসা আসলে চলে রমরমিয়ে। আর এক ভৈরবী আমাকে আরও অবাক করে বলেছিলেন, তাঁদের দেহমিলনের ছবি পর্যন্ত তুলে নিয়ে যায় অনেকে। এ ছবি নাকি ভালো বিক্রি হয়। লোকে দেখেদুখে শেখে। এভাবেই যুগল সাধনায় শরীরী ব্যবসা, নীল ছবির ব্যবসা চলছে রমরম করে প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে। অনেক সময় নিজে দেখেছি প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা পর্যন্ত গিয়ে উঠেছেন তান্ত্রিকদের ডেরায়। মদ-গাঁজা-চরসের প্রাপ্য হিস্যা বুঝে নিতে, আবার মেয়েমানুষের লোভে। তন্ত্রসাধনার এও এক দিক। যেদিকে বিন্দুধারণের নামগন্ধে ম ম করছে কামগন্ধ, ব্যভিচার, যৌনবৃত্তি আর চোরাকারবার। তবে তার আলোর দিকটি গ্রীষ্মজীবনের বাইরে নক্ষত্রে নক্ষত্রে আকাশ ঝিকমিক

হালিশহর শাশানঘাটে বসে মূলাধার চক্রের ব্যাখ্যা এভাবেই আমাকে শোনাচ্ছিলেন তান্ত্রিক আলো সাধু। শ্মশানঘাটে মা ছিন্নমস্তার মন্দির বহুদিন ধরে সামলাচ্ছিলেন তিনি। প্রাজ্ঞ মানুষ তিনি। শাস্ত্রজ্ঞ। আমার সঙ্গে অনেকদিনেরই পরিচয়। আমার কৌতুহলকে তিনি মাঝে মাঝেই নিশ্চিহ্ন করতে সহায়ক হয়ে ওঠেন। আসতে বলেন। বিশেষত অমাবস্যায়। নিজে হাতে ভোগ রান্না করে তিনি তিনি প্রতি অমাবশ্যাতে মা-কে দেন। আমাকে বলেন প্রসাদ নেওয়ার জন্য। আমাকে তিনি তন্ত্রের নানা আয়োজন সম্পর্কে মাঝেসাজেই পাঠ দেন। তবে আমি জিজ্ঞাসা করলেই। না হলে তিনি সদাই ভাবমগ্ন। চুপ করে থাকেন। ভক্ত-শিষ্য আসেন। মদ-গাঁজা আনলে জোরাজুরিতে তিনি একটু প্রসাদ করে দেন।

সোমব্রত সরকার, কাপালিক তান্ত্রিক যোগী কথা, পৃ ১৩, ১০৬, ১৭০

১৩) এ গোকুলে শ্যামের প্রেমে কেবা না মজেছে সখি

কারো কথা কেউ বলে না আমি একা হই কলঙ্কী

অনেকে তো প্রেম করে

এমন দশা ঘটে কারে

গঞ্জনা দেয় ঘরে পরে

শ্যামের পদে দিয়ে আঁখি

তলে তলে তল গাঁজা খায়

লোকের কাছে সতী বলায়,

এমন সৎ অনেক পাওয়া যায়

সদর যে হয় সেই পাতকী

অনুরাগী রসিক হ'লে,

সে কি ডরায় কুলশীলে

লালন বেড়ায় কুছি খেলে

ঘোমটা দিয়ে চায় আড়চোখি ॥

লালন সাঁইয়ের গান, পূর্ণদাস বাউল সম্পাদিত, বই: বৃহৎ বাউল সঙ্গীত, পৃ ৫১, প্রিন্ট: জুলাই, ১৯৫৫, কলকাতা; লালন-গীতিকা, মতিলাল দাশ ও পীযূষকান্তি মহাপাত্র সম্পাদিত, ৩৬৪ নং গান, পৃ ২৫০, প্রিন্ট: ১৯৫৮, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত

১৪) বাসার সামনে এলে হারান ফকির আমার আগ্রহ দেখে আরও কয়েকটা গান শোনাল। প্রশ্ন করে জানতে পারলাম- গানগুলো লালন সাঁইজির। ছেউড়িয়া গ্রামে তাঁর আখড়া। এটা শুনবার পর, পরদিন সেখানে যাবার জন্য প্রস্তুতি নিলাম। তখন কেউই লালন ফকির এবং তাঁর গান সম্বন্ধে জানে না। ছেউড়িয়ার বন্ধু ইসমাইল বলল- তাদের গ্রামেই লালনের আখড়া। বললে, -তুই যাসনে। ওরা গাঁজা খায়। মেয়ে ছেলে একসাথে থাকে। সারারাত গান করে। তুই নামাজ পড়িস। ওখানে গেলে তোকে তুকতাক করে ফেলবে।

ড. সুজিতকুমার বিশ্বাস, বাংলার লোক ঐতিহ্যের অধিকারী যতীন্দ্রনাথ রায়, পৃ ৪২, প্লাসেন্টা পাবলিকেশন্স, নদীয়া, কলকাতা বইমেলা ২০২৪

১৫) "গাঁজা খোর গাঁজার মর্ম বুঝে মান্য করে মারে

বাদশা উজির নেশার ঘোরে

যখন গাঁজা খায় নবাবী ভয়পায়-দমে দম লাগায়

নেশায় ইস্তি কোন খোন্ডা দেবে

তালের আঁটি বানিয়ে খোলা বলে ব্রহ্মার কমণ্ডুল

বলে কৃষ্ণের হাতে বাঁশি

ডুমুরের ডাল লয়েছে করে; এক ছিলিম পুরে

চারইয়ারে লক্ষটাকার মজা মারে

নেশাতে হয় বিদগ্ধ, বলে পেলাম ব্রহ্মপদ যেমন ধারা চতুষ্পদ

কলুর ঘানি আছে ঘাড়ে, গাঁজার পাতা ভাসিয়ে জলে

ধূয়া কলের জাহাজ চলে

বসে থাকে নোঙর ফেলে অকূল পাথার সমুদ্দরে

গোঁসাই চরণ-চাঁদে বলেন কুবির, ভবির কথায় ভুলিসনারে"।

কুবির গোঁসাইয়ের রচিত লোকগীতি, 'সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে নদীয়ার গ্রাম' বইয়ে রণজিৎ কুমার বিশ্বাস কর্তৃক উদ্ধৃত, পৃ ১৯৯, ইন্দিরা প্রকাশনী, কলকাতা, ২০০২

 

   -তাহসিন আরাফত

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...