শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫

অযত্নের তাল



তপ্ত রৌদ্রে পুড়তে পুড়তে ব্যাঙ্ক থেকে ফেরার পথে পথের ধারে বাইক থামাতে এনাকে পেলাম। তালশাঁস। একটা সময় অন্তত আমাদের মত যারা গ্রামে বেড়ে উঠা, তাদের ছেলেবেলায় কিনে খেতে হতোনা ফল-ফুলুড়ি। ঘরে সারাবছরের বাঁধা কাজ করা কির্ষেন-রাখাল থাকত, তারাই গাছে চড়ে আম-জাম-কাঁঠাল-বেল-তাল পেড়ে আনত। একসময় কচি তাল কালের নিয়মে পেকে গেলে তার আঁটি গুলো বাঁশ বাগানে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হত কলআঁটি জন্মাবার জন্য। সেই কল আঁটির স্বাদ আবার আরেক স্বর্গীয় বিষয়।

তালশাঁস বিক্রেতা আজ ১০টাকায় ৪ পিস করে দিতে দিতে তার নিজের আক্ষেপের কথা জানাচ্ছিলো। দক্ষিণে গুপ্তিপাড়া, পশ্চিমে সাতগাছিয়া- কুসুমগ্রাম, পূর্বে কৃষ্ণনগর আর উত্তরে কাটোয়ার আগে অবধি ছিল এনার বাবার এরিয়া, বাবার হাতেই এনার হাতেখড়ি থুড়ি গাছে-দড়ি। এই বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এনারা তালগাছ/খেজুরগাছ ঝুড়তেন। এঁড়ে তালগাছ বাদে, মাদি গাছই ছিল নাকি লাখ দশেক, অন্তত ১০০০ মানুষ এই গাছ কাটার সাথে জুড়ে থাকত, সাথে তাদের রুজিরোজগার।
গরমে তাল, শীতে খেজুর- আর গেরস্তের বাড়ির নারকেল গাছ ঝুড়ে দিয়ে কিছু জুটিয়ে নেওয়া, এই ছিল এনাদের বারোমাস্যা। বর্তমানে রাস্তা চওড়ার নামে রাজ্যজুড়ে সমস্ত পাকারাস্তার ধার ন্যাড়া। মাঠের মাঝে নতুন গাছ সেই অর্থে জন্মাতে দেওয়া হয়না, তার উপরে প্রাকৃতিকভাবে বজ্রপাতের কবলে পরা তালগাছের একটা অভিশাপ। বসত বাড়ির আশেপাশে তালগাছ থাকা নাকি অমঙ্গলের নিশান, স্বভাবতই তাল তমাল কেটে ফেলাই দস্তুর। বিল বা নদীর ধারে যে সকল গাছ ছিল, ঢোঙা নৌকা বানাবার জন্য সেসব কাটা পরে যায়। তালগাছ কেউই প্রায় স্বযত্নে লাগায়না, নিজে থেকেই অযত্নে অবহেলায় বেড়ে উঠার নাম তাল। গাছে উঠে তালের কাঁদি পারা- এ এক শিল্প। তাল গাছের গা- পুরো করাতের মত ধার, নতুন প্রজন্মের কেউ আগ্রহীই নয় এই পেশাতে আসতে। সব মিলিয়ে গোটা বিষয়টাই সঙ্কটে।
কে জানে আগামী ২০ বছর পর সাহেবদের সাধের ‘আইস আপেল’ এর অস্তিত্ব আর থাকবে কতটুকু।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...