খেয়ালপত্র
আতু তোমারে-
সেদিন বিষ্যুধবার বারবেলা, আকাশ জুড়ে চোখধাঁধানো রঙধনুরই মেলা। পেঁজা তুলো বারিদবরণে গোটা নীলাকাশ ছাওয়া, গুণগুণ সুরে তোমারে দেখিয়া হঠাৎ দুকলি গাওয়া। অনেক দিনের জমানো ব্যাথা হৃদিমাঝে অভিঘাত, শুষ্ক আঁখি শুকায়ে রুধির হারায়েছে যেন খাত।
প্রতীক্ষা আতু.... প্রতীক্ষা... আজও, অনাদি অনন্ত; সেদিন কি আর জানতেম আমি, স্থগনেতে এলি পান্থ।
আসিয়া দাঁড়ালে ভীরু ভীরু চাহি কম্পিত তনুকায়া, আলতা রাঙানো মুখেতে সহষা তমসা ঘনের ছায়া। চন্দ্র ললাটে স্বেদবিন্দু, শাসনের ভ্রূকুটি; মনের অতলে প্রেমঅধিকার, দ্বন্দ্ব উঠিছে ফুটি। আলতো করিয়া ঠোঁটের স্পর্শ, অতল জলের আহ্বান, ভরাট সমাজে লোকলাজ সব টুটিয়া খানখান। জড়তা মাখানো কন্ঠে তখন সোহাগের আখ্যান, এমনই দিবসে ছ-সন পূর্বে মিলিছিল দুই প্রাণ। কালের নিয়মে নিয়তির কোপে- ঘেরে বিচ্ছেদ সুর, স্বদেশ ছাড়ায়ে আপনা ভুলিতে পাড়ি দেওয়া বহুদূর। চিরঋণী করে কিভাবে নাজানি রহিয়াছো ধীরলয়ে, এতদিনে কি একটিবারও যায়নি চিত্ত বয়ে? আমাপানে!
কখনও যদি ভালোবাসা পায়, জেনে রেখো আমি আছি; উন্মাদ মাঝি- প্রেমের নোঙর, স্বপ্ন ডিঙার কাছি।
বেহায়ার মত জিতিয়াই গেলে, আমিও হারিনি নিত্য; তোমার বিজয়ে আমারও কুলায়, জেনো এ চির সত্য। অনুরক্তির চাদরে মুড়িয়া রাখিছিলে তুমি সদা, বাদল দিনের নির্জনতায় তুমিই প্রিয়ম্বদা। বন্ধু হইয়া আসিছিলে, সাজায়ে গেছো জীবন; ঠোঁটের কোনের লাজুক হাসি, স্বপ্নে সারাক্ষণ। বুকফাটানো আর্তনাদে কাঁদিতে চাই যে খুব, লক্ষ সংস্রবের ভিড়ে, তোমাতেই দেব ডুব। দূর আকাশে তোমার ডানায় ভাসব দেশান্তরে, তোমার রাজপুত্র হব পক্ষিরাজে চড়ে। আমার সকল কবিতাতে ছন্দ হয়ো তুমি; বৃষ্টি হয়ে ঝরার ছলে, আমায় যেও চুমি।
মনের অবচেতন জুড়িয়া ‘তুই’ ই যত্রতত্র; লুকায়ে খোঁজা সত্তা’রে মোর, তাইতো রচি পত্র।
~ইতি
-তোমার প্রেম
।অবসর বাটিকা, দেওঘর। ২৮শে বৈশাখ ১৪২৫ সন। অপ্রকাশিত 'হা-ঘরে' কাব্যগ্রন্থ হইতে। ২৩৫ শব্দ।

