দুর্নীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
দুর্নীতি লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬

ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে গ্রাম বাংলার মা বোনেরা

 

❌ ক্ষুদ্র ঋণের ফাঁদে গ্রাম বাংলার মা-বোনেরা ও তৃণমূল এর তোলাবাজি আর কাটমানির অন্ধকারের রাজত্ব। ❌

🟥 অনিয়ন্ত্রিত ঋণ + উচ্চ সুদ + কম আয় = ঋণের ফাঁস

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষুদ্রঋণ এখন “double-edged sword”, সঠিক ব্যবহার হলে উন্নয়ন, ভুল ব্যবস্থায় ঋণের ফাঁস। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (Self-Help Group) ঋণ বর্তমান ক্ষেত্রে গরিব মানুষের জন্য আশীর্বাদের বদলে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষুদ্র ঋণের প্রাথমিক উদ্দেশ্য অত্যন্ত ভালো ছিলো। এতে করে গ্রামীণ মহিলাদের স্বনির্ভরতা বেড়েছিলো। নানান ধরণের ছোট ব্যবসা, পশু পালন, মাছচাষ ইত্যাদি শুরুও হয়েছিলো। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা একটা বিপুল সংখ্যার মানুষ বিশেষত মহিলারা, রাষ্ট্রের মূল অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে চলে এসেছিলো। গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়েছিলো। তোলাবাজ সরকারের অপদার্থতা আজকে এটাকে মারন ফাঁদে পরিণত করেছে।

বিগত ১৫ বছরে রাজ্যে কোনো শিল্প আসেনি, ভারি বহু কোম্পানি রাজ্য ছেড়ে পালিয়েছে; ফলত কর্মসংস্থান নেই। কৃষি পণ্যের দাম নেই, রাজ্যের ১৮% চাষযোগ্য জমি অনাবাদি হয়ে পরে রয়েছে। সারের কালোবাজারি, কীটনাশকের অভাবের সাথে রয়েছে কৃষিতে কাজ করা শ্রমিকের সমস্যা। কারন, বহু গ্রামীণ মানুষ যারা জমিতে ‘মুনিশ’ খাটতেন তারা পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিনরাজ্যে চলে গেছে। ভাতা রাজনীতি আর করোনার সময় থেকে পাওয়া ‘ফ্রি’ চালের কল্যাণে সমাজের একটা কর্মঠ অংশের মানুষকে মানসিকভাবে ঘড়কুনো কুঁড়ে বানিয়ে দিয়েছে। 

🟢 বাংলার প্রেক্ষাপটে সমস্যা কেন বেড়েছে? 

প্রথমেই রয়েছে কৃষিতে প্রাকৃতিক অনিশ্চয়তা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি তো আছেই; উচ্চমূল্যের ডিজেল, ততোধিক চড়া বিদ্যুতের বিল, বহু স্থানে জলস্তর নেমে যাওয়াতে গভীর নলকূপ সেচ বন্ধ, মেলা খেলার সরকার নদী থেকে ক্যানালের মাধ্যমে সেচের বন্দোবস্ত করতে পারেনি। ফলত, রাজ্যজুড়ে কৃষিতে একটা হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরপর ফসলের ন্যায্য দাম পেতে গেলে সেখানেও শাসক দলের ভয়াবহ তোলাবাজি। অধিকাংশ ‘কোটা’ ফড়েরা ভুয়ো কাগজ জমা করে ভরিয়ে দিচ্ছে তৃণমূলের ক্যাডার আর কিছু অসৎ অফিসারের সাথে ষড়যন্ত্র করে, আসল চাষীরা বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে। স্থানীয় নেতাদের চাঁদাবাজি, রাস্তায় পুলিশের তোলাবাজির উৎপাতে ভিনরাজ্যে কৃষিপন্য রপ্তানি শিল্প এক দুঃস্বপ্ন আজকের পশ্চিমবঙ্গে। ফলত চাষীর হাতে টাকা নেই, গ্রামীণ অর্থনীতি বন্ধ্যা হয়ে গেছে একপ্রকার। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, শ্রমজীবী পরিবারগুলোতে নুনভাত টুকু কোনোক্রমে জুটে গেলেও, অন্য মৌলিক চাহিদা মিটছেনা।

যেহেতু নির্দিষ্ট আয়ের উৎস নেই, ব্যবসা নেই, চাকরি নেই। শিল্প বলতে তোলাবাজি, কাটমানি আর চপ ঘুগনি। প্রথম দুটো তোলামূলের জন্য সংরক্ষিত, বাকি দুটো রাজ্যে শিক্ষিত বেকারদের নিয়ে চরম তাচ্ছিল্য। সরকারের গৃহ প্রকল্পে যে টাকা আসে, তা কাটমানির নামে অর্ধেক আগেই কেটে রাখে তোলামুলের সম্পদেরা, ফলে সেই ঘর শেষ করতে ঋণ নিতে বাধ্য হচ্ছে দরিদ্র মানুষেরা। এমন উদাহরণ ভুরিভুরি রয়েছে। এরপর, মেয়ের বিয়ে, চিকিৎসা, পড়শির সাথে তাল রেখে ঠাটবাট বাড়াতে গিয়ে ভোগ্যপন্য ক্রয়ের ফাঁদ ইত্যাদিতে, মানুষ মাকরসার জালের মত আঁটকা পরে গেছে। ফলত, ঐ ঋণের টাকা কোনো লাভজনক ব্যবসায় না খাটিয়ে পারিবারিক খরচ বা আপদকালীন প্রয়োজনে ব্যয় করলে তা আর ফেরত দেওয়ার ক্ষমতা থাকছে না। লোন নেওয়া পর থেকে- Collection agent-এর চাপ, সাপ্তাহিক মিটিংয়ে অপমান, পরিবারের ওপর মানসিক চাপ ও শেষে গয়না/সম্পত্তি বিক্রি; এই হচ্ছে চক্র।

গ্রামে স্বনির্ভর গোষ্ঠী (SHG), মাইক্রোফাইন্যান্স কোম্পানি বা NGO গুলো খুব সহজ শর্তে ঋণ দেয়। ক্ষুদ্রঋণের সুদ সাধারণ ব্যাঙ্কের তুলনায় ভয়ানক বেশি, অনেক সময় ২৪%–৩৬% পর্যন্ত হয়। ফলে ঋণ ছোট অঙ্কের হলেও অল্প দিনেই সুদ জমে বিপুল বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই উচ্চ সুদের হার সর্বগ্রাসী হয়ে লেলিহান আগুনের মত গ্রাস করেছে গোটা সমাজকে। প্রায় প্রতিটা ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র ঋণদানকারী সংস্থাগুলোর সুদের হার ভয়াবহ, সেই সুদ মেটাতে গিয়ে গরিব মানুষ আরও ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। একটা ঋণের কিস্তি মেটাতে গিয়ে আরেকটা ঋণ নিচ্ছে, ফলত চক্রবৃদ্ধি ঋণের ফাঁদ জড়িয়ে যাচ্ছে গরীব মানুষ। 

পাহাড়প্রমাণ সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তির কড়াকড়ি গরিব মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। যাচ্ছে। আয়ের স্থায়িত্ব না থাকা কৃষক, দিনমজুরের নিয়মিত কিস্তি দেওয়া কঠিন। সারামাসে যা খুদকুঁড়ো জুটিয়ে আনছে, এই মহাজনী সুদের চক্করে ঘটি বাটি সব বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এরপর শুরু হচ্ছে আসল যন্ত্রণা, অধিকাংশ গ্রামীণ গরীব পরিবারগুলো চরম আতঙ্কে থাকে, এ এক ভয়ানক সামাজিক চাপ। ঋণের কিস্তি সময়মতো দিতে না পারলে গোষ্ঠীর অন্য সদস্যদের চাপ ও সামাজিকভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, যা চরম ক্ষেত্রে আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে। 

✅ সমাধান-

🔸সর্বপ্রথম প্রতিটা হাতে স্থায়ী কাজের যোগান দিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে, দয়া ভিক্ষা নয়, কাজের পরিবেশ সৃষ্টি করে দিলে শ্রমজীবী মানুষ খেটে খাবে। আগামী সরকারকে সকলের হাতে কাজের বন্দোবস্ত করতে হবে। 

🔸 দুর্যোগ হলে যাদের আয় বন্ধ হয়ে যায়, ও যারা মৌসুমি কৃষি শ্রমিক হিসাবে কাজ করে, তাদেরকে বৃত্তিমূলক কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘অফ সিজেনে’ রোজগারের বিষয়টা সুনিশ্চিত করতে হবে।

🔸 উৎপাদনমুখী কাজে ঋণ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

🔸 গ্রামের স্বল্পশিক্ষিত মানুষের মাঝে আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে এই চক্রব্যূহ্যে না ফেঁসে যায়। 

🔸 প্রয়োজনে সরকারের তরফে একবার গণহারে ঋণমুক্তি করে পুনরায় এই সাইকেল নতুনভাবে চালু করতে হবে। 

🔸 কম সুদের বিকল্প ঋণ দিতে হবে সরকারি ও কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের মাধ্যমে। 

🔸 সুদের সর্বোচ্চ হার বেঁধে দিয়ে ‘টেনিয়োর’ বাড়িয়ে দিতে হবে। 

🔸 অধিক সুদের লোভে যে সকল সংস্থ পুরাতন ঋণের স্ট্যাটাস না দেখে তার উপরে পুনরায় ঋণ দেয়, তাদের কালো তালিকা ভুক্ত করতে হবে। 

🔸 সরকারি নজরদারি ও নিয়ম কঠোর করতে হবে।

🔸 সরকারকে বাজারের সাপোর্ট নিশ্চিত করতে হবে।



তৃণমূলের স্ট্যাটেস্টিক জালিয়াতি


SIR প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই মমতা ব্যানার্জীর দাবী ছিল ২০২৪ সালের ভোটারলিস্ট দিয়ে এই বিধানসভা নির্বাচনটা করাতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে এ বিষয়ে রীতিমতো হলফনামা দিয়ে তার ওই দাবী রেজিস্টার করে এসেছে। কেন ২০২৪ এর ভোটারলিস্ট এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল মমতা ব্যানার্জীর কাছে, সেটার জন্য কেন্দ্র সরকারের একটা ডেটার দিকে আপনাদের নজর রাখতে হবে। আমরা রোজ বলে এসেছি ভুতুড়ে আর মৃত ভোটারে ভর্তি ২০২৪ এর ভোটারলিস্টই মমতার কারচুপির প্রাণভোমরা। সায়েন্টিফিক রিগিং এর অনুরূপ স্ট্যাটেস্টিক জালিয়াতি।  

🔰 নিচের চার্টের দিকে খেয়াল করুন, এটা ২৮শে ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বের হয়েছিল। 

🟥 ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মোট জনসংখ্যা ছিল ৯ কোটি ১৩ লাখ, যার মধ্যে ১৮+ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ছিল ৬ কোটি ১১ লাখ, আর ভোটার ছিল ৫ কোটি ৬৩ লাখ। 


✅ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ ও ভোটারের অনুপাত ছিলো ৯২.১%


👉 এরপর ২০১৪ সালে দেখুন, উপরোক্ত অনুপাত বেড়ে ৯৮.১% তে পৌঁছে গেছে। ২০১৬ সালে সেটা ৯৯.৪%, এবং যাবতীয় নির্লজ্জতার সীমা অতিক্রম করে ২০১৯ সালে ১০১.৬%, ২০২১ সালে ১০২.৬%, ২০২৪ সালে ১০১.২% ও ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ ১০২.৮% তে পৌঁছে যায়। মানে মূল প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের চেয়ে ভোটারের সংখ্যা বেশি। উন্নয়নের জোয়ার আসলে কোন গুপ্ত নদীতে বইছিল আশাকরি বুঝে গেছেন। 


🔸 প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ১০০ জন, কিন্তু ভোটার প্রায় ১০৩ জন- একেই বলে পারফেক্ট উন্নয়ন। 


এমতোবস্থায় কেন মমতা ব্যানার্জী একটা সুষ্ঠু SIR করতে দেবে বলুন তো? যেই মুহূর্তে SIR লাগু হয়েছে, মমতা ব্যানার্জীর উন্নয়নের ঝুলির বেড়াল গায়েব হয়ে সেই ২০১১ সালের হিসাবের কাছাকাছি ফের ৯২.৬%তে এসে পৌঁছে গেছে প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যা আর ভোটারের আনুপাতিক হার। তৃণমূল তাদের জামানার শুরু থেকে ভোটারলিস্ট কারচুপি করে এসেছে, আসলে শুধু তৃণমূল বললে দুর্বৃত্তায়নের বৃত্তকে খাটো করে দেওয়া হবে, এটা আসলে নাগপুরের মাস্টার গেমপ্ল্যান, তাদের শরিক তৃণমূল এই রাজ্যে সেই গেমপ্ল্যান ইমপ্লিমেন্ট করেছিল মাত্র। ফলত, শুরু থেকেই ২০২৪ এই ভোটারলিস্ট ধরে ভোট করতে মরিয়া মমতা ব্যানার্জী, শেষমেষ BLO ও BDO দের দিয়ে গোটা বিষয়টাকে ঘেঁটে দিয়ে, তার ‘দুধেল গাই’দের জিম্মি বানিয়ে নিল।

আপনি ক্রনোলজি খেয়াল করুন, লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ অসুস্থ হওয়া, কাজের চাপে BLO এর মৃত্যুর প্রোপাগাণ্ডা, পর্যাপ্ত অফিসার না দিয়ে চূড়ান্ত অসহযোগিতা- মানে মমতা ব্যানার্জির পক্ষে যে যে ভাবে সমস্যা তৈরি করা সম্ভব ছিল, সেই সাম-দাম-দন্ড-ভেদ সমস্ত কিছু এপ্লাই করে আজকের এই ডিলিটেড ভোটারের হাহাকার অব্দি পৌঁছে দিয়েছে মুসলমান সম্প্রদায়, তপশিলি জাতি এবং উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষকে। আসলে তৃণমূল চেয়েছিল ঠিক চাকরি চুরির ফর্মুলা অনুযায়ী খেলতে, ঘেঁটে গুলিয়ে দিয়ে চাল কাঁকর মিলিয়ে ভাত রেঁধে খাইয়ে দেবো। SIR এর ক্ষেত্রে এক পলিসি- অফিসার দেবো না, BLO দের দিয়ে ভুল ডেটা ফিড করব, সেম ফর্মুলা সেম প্যাটার্ন। কিন্তু এবারে শেষ রক্ষা করতে পারেনি, নিজেই নর্দমার মধ্যে ডুবে গেছে।

সাবিনা ইয়াসমিনকে দিয়ে বিচারকদের আঁটকে হেনস্থা করাটাও মমতা ব্যানার্জীরই নিঁখুত পরিকল্পনার অংশ। মাঝখান থেকে মোফাক্কেরুল খোদার খাসি হয়েছে কিম্বা খোঁচর হিসাবে 'জেলে যাওয়া ডিরেক্টর হিসাবে' এপোয়েন্টেড ছিল। নতুবা মমতা ব্যানার্জীর অধীনে থাকা SDO/DM/SP এরা কি পায়ে ঘুঙুর বেঁধে মুজরো দেখছিল? নির্দিষ্ট অর্ডার বিনা তারা যদি ইচ্ছাকৃতই ভাবে ১৪ ঘন্টা ধরে নিশ্চুপ থাকে, তাহলে আজও তাদের কাউকে কেন সাসপেন্ড করা হয়নি? তাদের বিরুদ্ধে কেন মামলা করা হয়নি? একটা চুনোপুঁটি মোফাক্কেরুল, একটা বেচারা সাংবাদিক আর একজন ISF এর প্রার্থী, তিনজন 'মুসলমানকে' গ্রেফতার করে বিরাট বীরত্ব দেখাচ্ছে পুলিশের কর্তারা, তার চেয়েও বেশি বগল বাজাচ্ছেন মাননীয়া নিজে। আসলে তিনি প্রমাণ করতে চাইছেন মুসলমানকে মারলে তিনিই মারবেন, বাঁচালে তিনি বাঁচাবেন। যেন উপরওয়ালার কাছ থেকে ইজারা নিয়ে এসেছেন। 

তবে সাবিনা ইয়াসমিন কেন এখনও জেলের বাইরে এ নিয়ে মমতার কোনো জবাব নেই। নির্বাচন কমিশনও বেশ্যাবাড়ির দালালের মতো চক্ষু লজ্জাহীন হয়ে চুপটি মেরে বসে আচ্ছে সাবিনা বিষয়ে। উচ্ছিষ্টভোগী পাপোশ মিডিয়া সানাই এর পোঁ ধরে ‘মূল চক্রী’ গ্রেফতারের ব্রেকিং নিউজ চালিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেবার ব্যর্থ চেষ্টা করলেও, বঙ্গ সমাজে হাসির খোরাক হয়েছে গত পাকিস্তান যুদ্ধে গদি মিডিয়ার লাহোর দখল করে নেওয়ার ফ্যান্টাসি রিয়েলিটি শো এর অনুরূপ।

বিচারক আঁটকে রাখার ঘটনাটা ঘটেছে মালদার কালিয়াচক দুই নম্বর ব্লকে। সেখানকার আসল গল্পটা জানেন? 

জনগণ কিন্তু ওখানে মোটেই অবরোধ করতে যায়নি। যেহেতু বিপুল পরিমাণ মানুষের নাম ‘ডিলিট’ হয়ে গেছে, যাদের বড় অংশটাই স্বল্পশিক্ষিত, তারা বিডিও অফিসে গিয়ে পরিত্রাণের উপায় জানতে গিয়েছিল- কীভাবে এই পরিস্থিতি থেকে তারা মুক্তি পেতে পারে অর্থাৎ বিডিও অফিসের থেকে তারা সাহায্য ও সহযোগিতা চাইতে গেছিল। যেহেতু তৃণমূল সরকারের উদ্দেশ্য অসৎ এবং থানার OC/IC ও BDO দের দলীয় ক্যাডার বানিয়ে বা বাধ্য করে দল চালিয়েছে, এখানেই তার ব্যতিক্রম ঘটনি।  ভুলে গেলে চলবে না যে গত লোকসভার নিরিখে মালদার প্রতিটা বিধানসভা আসনে তৃণমূল গোহারা হেরে রয়েছে।

কালিয়াচক দুই নম্বর ব্লকের BDO কৈলাশ প্রসাদ, বিচারক আঁটক কান্ডে এই অফিসারকে কেন আঁচলের ছায়াতলে আইসোলেট করে রেখেছে মমতা ব্যানার্জী। এই লোকটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বহু অনৈতিক কাজ করেছেন অতীতে, যার মধ্যে বিপুল পরিমাণ মানুষের নামকে এডজুডিকেশনে পাঠানো এনারই হাতযশ। পুরো প্রক্রিয়াকে গুলিয়ে দিয়ে জনগণের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দেওয়ার জন্য, অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে জমায়েত হওয়া মানুষকে এই বিডিও আর সাবিনা ইয়াসমিন সহ তৃণমূল নেতৃত্ব মিথ্যা আশ্বাস দিতে থাকে যে- ‘এইবার তোমাদের সাথে কথা বলা হবে। উপর তলার অফিসারেরা রয়েছেন, ওনারা তোমাদের কথা শুনবে’। বিচারপতিরা যে ওই অফিসের মধ্যে ছিলেন, এই ব্যাপারে সাধারণ মানুষের কাছে কোনো তথ্যই ছিল না। ক্রমশ উদ্বিগ্ন মানুষের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে, যথারীতি শয়তানি কুবুদ্ধি খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ধৈর্যকে বিক্ষোভের দিকে নিয়ে যায় মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন সমেত সংশ্লিষ্ট বিডিও ও ওই অফিসের সরকারি কর্মচারীরূপী তৃণমূল ক্যাডার বাহিনী, সিভিক পুলিশের দল। এই বিডিও কৈলাশ প্রসাদ, গাড়ি চাপা দিয়ে মানুষ খুন করার অপচেষ্টা অবধি করেছিল ওইদিন। অন্যান্য সরকারি কর্মীরা যেখানে নূন্যতম DA টুকু পায় না, সেখানে এই BDO গুলো স্পেশাল ইনক্রিমেন্ট পেয়ে তাদের সেই ‘রেলা’ সাধারণ মানুষের উপরে দেখায়। সরকার পরিবর্তন হলে এদেরকেও পাই পাই হিসাব চুকাতে হবে জনগণ ও আইনের কাঠগড়াতে দাঁড়িয়ে। 

জনগণকে ভিলেন বানানো হচ্ছে সর্বোচ্চ আদালতের সামনে।

গত ০২/০৪/২৬ তারিখ অবধি ৫.৬২ লাখ ভোটারের নাম ডিলিট হয়েছে। এইগুলোর প্রতিটাতেই ভুলভাল আছে, এর পিছনে সঙ্গত কারণও আছে। যে ভুলের মূল চক্রী BLO রূপী তৃণমূলের ক্যাডার বাহিনী, যারা মূলত সরাসরি তোলামূলের কর্মী। AI যেমন যন্ত্র, যারা বিচারক তারাও আসলে যন্ত্রই, প্রাপ্ত ডকুমেন্টের ভিত্তিতে তারা নাম রেখে দিচ্ছেন কিম্বা পর্যাপ্ত ডকুমেন্ট না পেয়ে নাম ডিলিট করে দিচ্ছেন। এখানে কারো সাথে তো ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই বিচারকদের। বিচারকদেরকে ভিলেন বানিয়ে দিচ্ছে তৃণমূলের মিডিয়া সেল, যাতে মানুষ ভুল দিশাতে ছুটে যায় শত্রুর সন্ধানে।

কেন সুপ্রিমকোর্টকে বিচারকদের এই কাজে নিয়োগ করতে হলো? তারা কি কেরানি? নাকি তাদের কাজ বাড়ন্ত ছিল? তারা মানুষের দুর্দশা দূর করতে এসে তৃণমূলের পাঁকে ডুবে গেছেন। ওনারা সারাজীবন সংবিধান, তথ্য, যুক্তি আর প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে বিচার করেন, এখানেও তারা ডকুমেন্ট পেলে অনুমোদন করছেন না পেলে করছেন না।  মমতা ব্যানার্জীর চাল কাঁকর মিলিয়ে গুলিয়ে ঘেঁটে দেওয়ার খেলায় তারা তো শুধু ক্রীড়নক মাত্র। এই যে প্রতিবাদের অপভ্রংশ, জজসায়েবদের অবরোধ করে রাখলেই ওনারা নাম তুলে দেবে, এটা কি আদৌ সম্ভব?

BLO দের দিতে মমতা ব্যানার্জী ঠিক কোন পাপটা করিয়েছে, জানেন?

👇👇👇👇👇👇👇

🔹১) জনগণ ডকুমেন্ট জমা দিয়েছে কিন্তু BLO আপলোড করেনি।

🔹২) আপলোড করলেও অত্যন্ত খারাপ মানের অস্পষ্ট ঝাপসা ছবি আপলোড করেছে, যা দেখে কারও বোঝার ক্ষমতা নেই ওটা বার্থ সার্টিফিকেট নাকি, পাশপোর্ট নাকি তালাকনামা।

🔹৩) হেয়ারিং এ নেওয়া ডকুমেন্ট নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল পার্টি অফিসে দিয়ে এসেছে, সেখানে তৃণমূলের নেতার দল, আইপ্যাকের ভাড়াটে কর্মী আর ডেটা এন্ট্রি অপারেটরেরা মিলে ঠিক করেছে কতগুলো নাম বাদ দেবে। সেইমতো তৃণমূল বিরোধী নাম বেছে বেছে তাদের ডকুমেন্ট ওখানেই পুড়িয়ে দিয়েছে। AERO, ERO, DEO এই প্রতিটা লেভেলে এই পাপ সংগঠিত করিয়েছে তৃণমূল।

🔹৪) BLO কে একটা সার্টিফিকেট দিতে হয় পুরো আপলোড প্রক্রিয়ার শেষে- ‘verified with the original document and found in order অথবা verified with the original document and found correct’. ৯০% এর বেশী ক্ষেত্রে এটা দেয়নি।

নতুবা এমন গণহারে ডিলিট হতে পারে না নাম। উদাহরণ হিসাবে, সামসেরগঞ্জ বিধানসভায় মুসলমান নাম ডিলিটেড ৩৬৭৩৫ জন, অমুসলিম নাম ডিলিটেড ১৫৬ জন। আইনের চোখ বাঁধা থাক বা না থাক, রাষ্ট্র ব্যবস্থা কিন্তু হিন্দু মুসলমান ঠিকিই চিনে নিয়েছে। এটার জবাব অবশ্যই মাননীয় বিচারকদের দিতে হবে, তারা ইচ্ছাকৃত এভাবে মুসলমানদের নাম বাদ দিয়েছে নাকি ওনারা ডকুমেন্টস পাননি বলে নাম বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে, এখানেই মমতা ব্যানার্জী ও তার সরকারের যাবতীয় ষড়যন্ত্র ধরা পড়ে যাবে। সুপ্রিম কোর্টকে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু প্রশ্ন হল RSS কি তার দুর্গার বিরুদ্ধে যাবে? 

যে সকল রাজ্যে বিজেপির শাসন রয়েছে, এবং মুসলমান নিগ্রহে যে উত্তরপ্রদেশ দৈনিক শিরোনামে থাকে, সেখানেও মুসলমান এভাবে অত্যাচারিত হয়নি SIR এর নামে। সেখানে তার নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত হয়নি, এই নির্বাচন কমিশনই সেখানে SIR এর কাজ করেছে। অন্যান্য সকল রাজ্যে এরকম 'এডজুডিকেশন' বলে কোনো তালিকা হয়নি- গুজরাটে নয়, উত্তরপ্রদেশে নয় এমনকি বিহারেও নয়। ভোটের মুখে বিহারে বহু জলজ্যান্ত ভোটারের নাম স্রেফ মৃত হিসেবে বাদ পড়েছিল বলে জাতীয় রাজনীতিতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। আসলে সেই সকল রাজ্যের শাসক দল SIR কে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানায়নি এই পর্যায়ে। মমতা ব্যানার্জী মুসলমান, SC/ST ভোটারদের একাংশকে জিম্মি বানিয়েছিল ভোটের স্বার্থে। মুসলমানের নাম আগে কেটে, পরে মসিহা সেজে তাদের বাঁচানোর নাটক করে বলবে- দেখো আমিই মুসলমানদের ত্রাতা, আমি না থাকলে বিজেপি এসে যাবে। বিজেপি নিকৃষ্ট সাম্প্রদায়িক দল সন্দেহ নেই, কিন্তু মমতা ব্যানার্জী বিজেপির চেয়েও নিকৃষ্ট মিথ্যাবাদী নির্লজ্জ আর বেহায়া।

কেরালা বা তামিলনাড়ুতে কিছু মানুষের তো ১ কিমি লম্বা নাম, ভীষণ খটমট। তারা শুরুতেই হলফনামা করে ইলেকশন কমিশনকে জানিয়ে দিয়েছিলো যে অমুক অমুক অমুক নাম বা পদবী আসলে একই। যেমন Sk, Shek, Seikh কিম্বা মুখার্জী, মুখোপাধ্যায়, Haque, Hoque, Haq এমন তো বাংলার সর্বত্র। মমতা এসবের ধারে কাছে যায়নি, উনি কেবল গুলিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। কেরালা সরকার প্রশাসনিক চাপ ও ভোটারদের সমস্যার কথা উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল SIR বন্ধ/স্থগিত করার জন্য, কারণ একই সময়ে লোকাল বডি নির্বাচন চলছিল। IUML সহ বহু রাজনৈতিক দল SIR বন্ধ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। তামিলনাড়ুতে সিপিএম সহ আরো অনেক রাজনৈতিক দল সুপ্রিম কোর্টে SIR-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলা করেছিল, আমাদের রাজ্য সিপিএমও মোস্তারি বানুকে বাদী করে মামলা করেছিল। যার ফলে আদালত SIR প্রক্রিয়ায় “logical discrepancy”তে থাকা নাম প্রকাশ করতে বাধ্য করে নির্বাচন কমিশনকে। মমতা ব্যানার্জি নাটক ছাড়া কি করেছিল এই পর্যায়ে?

প্রতিটা সংখ্যালঘু মেজরিটি বিধানসভা আসন গুলিতে SIR এর কারণে বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ‘লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির’ মাধ্যমে ডিলিট করা হয়েছে, যেগুলোর একটি সিটেও বিজেপি প্রতিযোগিতাতেই নেই। ভোটার ডিলিট করে বিজেপি অন্তত ওই আসন গুলিতে কোন লাভ করতে পারবে না, ওরা তিন নম্বর ছাগলছানা হয়েই রয়ে যাবে। লড়াই CPIM, ISF, কংগ্রেসের সাথে তৃণমুলের। যে নামগুলো ডিলিট করা হয়েছে, তারা প্রায় সকলেই অঞ্চলে তৃণমূল বিরোধী হিসেবে সুপরিচিত। সাদা খাতার দলদাস BLOরা স্থানীয় তৃণমূল পার্টি অফিসে বসে এদের নাম দায়িত্ব নিয়ে adjudication পাঠিয়ে দিয়েছিল। এইসব মুসলমান ভোট না দিতে পারলে একমাত্র লাভবান হবে তৃণমুল কংগ্রেস।

শুরুর দিন থেকে আমরা রোজ চেঁচিয়ে গেছি, মমতা ব্যানার্জী রাজ্যের একাংশের মুসলমানকে জিম্মি করেছে SIR এর নামে। অন্য কোনো রাজ্যে ডিসক্রিপেন্সি নেই, কিন্তু এ রাজ্যে আছে। প্রতিটা রাজ্যে এই একই SIR প্রক্রিয়া নির্বিগ্নে মিটেছে, কিন্তু বাংলাতে মুসলমানকে আঁটকে দেওয়ার জন্য এই ষড়যন্ত্র মমতা ব্যানার্জী রচনা করেছে। শুরুতেই ১ কোটি ৬৭ লাখ মানুষকে লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সিতে ফেলে দিয়ে পারফেক্ট হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল। হেয়ারিং এ যখন ১ কোটি ৭ লক্ষ ব্যাক্তি ষড়যন্ত্রের জাল কেটে বেরিয়ে এল, মমতা ব্যানার্জী আরও মরিয়া হয়ে অফিসার দেওয়া বন্ধ করে দিল। ৬০ লাখ মানুষকে আন্ডার এডজুডিকেশনে পাঠিয়ে পুরো কাজ থমকে দিল। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে রাজ্যের প্রায় সমস্ত আদালতের স্বাভাবিক কাজকর্ম স্তব্ধ রেখে বিচারকেরা ওই এডজুডিকেট ভোটারের ঠিকুজি কোষ্ঠী বিচারে বসে গেলেন, তারপর আজকের এই ‘ডিলিট’ পরিস্থিতি। বাদ পড়ে যাওয়া বৈধ মানুষেরা জানে না কবে ট্রাইবুনাল চালু হবে, আতঙ্কে দিশাহারা হয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে রাষ্ট্রীয় খড়্গ নেমে আসছে। মুসোলিনি বেঁচে থাকলে ফ্যাসিবাদের ম্যানিফেস্টো যে মমতা ব্যানার্জীকে দেখেই লিখতেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। 

কেন মালদাতেই সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে! মালদা জেলার মৌলভীবাজার সাব ডিভিশন কেটে স্বাধীনতার সময় পূর্ব পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছিল। বিনিময়ে ওখান থেকে যশোর জেলার বনগাঁ সাব ডিভিশন এখানে এসেছিল। মতুয়াদের মধ্যে যে সমস্যা আছে, মালদা জেলায় গাজোল আর হাবিবপুর বাদ দিয়ে প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রে সেই একই সমস্যা আছে। বাংলাদেশের সাথে মুর্শিদাবাদ জেলার পুরোটাই নদী সীমান্ত। কোনো আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট নেই যেখান দিয়ে মানুষজন যাতায়াত করতে পারে, কিন্তু মালদা জেলায় দুটোই আছে। মালদা মুর্শিদাবাদ জেলায়, বিশেষ করে মালদা জেলায় প্রচুর পরিমাণ বাংলাদেশি হিন্দু আছে যারা সাম্প্রতিককালে এসেছে। মুসলমানকে জিম্মি করতে গিয়ে কমপক্ষে ৮-১০ লাখ হিন্দু অনুপ্রবেশকারী বহাল তবিয়তে ভোটারলিস্টে রয়ে গেছে। অবশ্য শুরু থেকেই রাজ্যের একটি রাজনৈতিক দলও হিন্দু অনুপ্রবেশকারীদের কোনোভাবে তাড়াতে চায়নি, সেটা কংগ্রেস হোক, সিপিএম হোক, বিজেপি হোক বা তৃণমূল। তৃণমূল মুসলমানকে জিম্মি করাতে এই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানোটা ধামাচাপা পড়ে গেছে এই পর্বে।

মমতার পুলিশ সাবিনা ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করবে না। দাঙ্গা লাগাবার কারিগরদের মমতা ব্যানার্জী মন্ত্রীত্বের পুরস্কার দেয়, রাজ্যসভায় পাঠায়। অতীতে হাজি নুরুল যেমন ছিল, টাটকা উদাহরণ- আসানসোল দাঙ্গার নায়ক বাবুল সুপ্রিয়র মতো একটা নিকৃষ্ট নর্দমার ছুঁচোকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছে। স্বভাবতই, সাবিনা ইয়াসমিন বা বাকি তোলামূলের নেতৃত্বরা আগামীতে পুরষ্কিত হওয়ার আশায় দিন গুণছে। প্রতিদিন মমতা ব্যানার্জীর মুখোশ একটু একটু করে খসে যাচ্ছে, সরকার থেকে বিসর্জন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা, তারপর মানুষ এদের সুদে-আসলে বুঝে নেবে পাড়ায় পাড়ায়।

SIR এ যাদের নাম ‘Delete’ গেছে, বৈধতার সমস্ত ধরণের প্রমানাদি থাকা সত্বেও, রাষ্ট্র যন্ত্র তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়েছে। ঠিক এই মুহূর্তে তারা বেনাগরিক ও রাষ্ট্রহীন। সেই তারা যখন বাপ দাদা চোদ্দ পুরুষের ভিটেতে দাঁড়িয়ে বৈধ কাগজাদি নিয়ে রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন করছে কেন আমাকে বাদ দেওয়া হলো- বিজেপি, RSS, নির্যাতন কমিশন আর মমতা ব্যানার্জী তাদের হিংস্র দাঁত নখ নিয়ে হামলে পড়ছে নিজের নাগরিকের উপরে সর্বশক্তি দিয়ে, যেন ‘বেনাগরিক’ বানিয়ে দেওয়া মানুষগুলো দুষ্কৃতি বা রাষ্ট্রদ্রোহী। রাষ্ট্রযন্ত্র নিজে ব্যর্থ হয়েছে বা তাকে ব্যর্থ হতে বাধ্য করেছে তার নিজের নাগরিককে চিহ্নিত করতে, সেই ব্যর্থতার দায় থেকে মুখ লুকাতে, পুনরায় সেই আক্রান্ত মানুষগুলোকেই আবার টার্গেট করা হচ্ছে। এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটা পরিকল্পিত চক্রান্ত। 

SIR দুর্নীতিতে তৃণমূল কংগ্রেস তার অতীতের সমস্ত ধরণের জালিয়াতি শয়তানিকে ছাড়িয়ে গেছে। মালদা, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান, নদীয়া তো ছিলই, ৪ঠা এপ্রিল তারিখে মতুয়া সমাজও যশোর রোড অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। কোলকাতার বিভিন্ন ওয়ার্ডে লাগাতার বিক্ষোভ প্রদর্শন চলছে। চালাকি ধরে পরে যাওয়াতে ব্যাকফুটে থাকা মমতা ব্যানার্জী, RSS, ইলেকশন কমিশন আর বিজেপি, প্রত্যেকে একই ভাষায় কথা বলছে; যেন একজন কেউ লিখে দিয়েছে আর সকলেই মূল ভাব বজায় রেখে কপি পেস্ট করে চলছে। ফলত ঠকে যাওয়া মানুষগুলো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গেলেই - রাষ্ট্র তখন গ্রেফতারি, জামিন অযোগ্য মামলা আর CBI/NIA লেলিয়ে দিচ্ছে। এমতাবস্থায় একটাই উপায় বেঁচে থাকে, আদর করা। কিন্তু কাকে আদর করবেন? 

ইরানের মতো নিখুঁত টার্গেট সেট করে ভালবাসাবাসি শুরু করুন। সবার আগে অঞ্চলের BLO কে গিয়ে চেপে ধরুন, প্রশ্ন করুন- তুই কী কী আপলোড করেছিলি দেখা। না দেখাতে পারলেই হালকা করে সোহাগ করে দিন। গড়গড় করে সব সত্য উগরে দিতে শুরু করবে। এরপর তৃণমূলের নেতারা যখন ভোট চাইতে আসবে, অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে ধরে চুমু খান। বেশি নয়, ব্লক, জেলা আর রাজ্য স্তরের ১ গণ্ডা করে তোলামূলের নেতাকে উপর্জুপরি ‘চুমুতে চুমুতে’ ভিজিয়ে দিন, দেখবেন আপনার নাম ডিলিটেড থেকে নিজে থেকেই সাপ্লিমেন্টারি তালিকাতে চলে এসেছে, গণতান্ত্রিক আন্দোলন করলে যারা মিথ্যা মামলা দেয়, 'আদরই' তাদের একমাত্র ওষুধ। এখানে আদর কিন্তু ডাকনাম।

ভাইপো সহ তৃণমূলের নেতারা কোন এমন তালেবর যে তাদের সুরক্ষার জন্য ৩০০০ এর বেশি পুলিশের বহর থাকবে! ৪ঠা মে এর পর এই পুলিশ ওদের কে দেবে? পাব্লিকের ক্যালানির হাত থেকে বাঁচতে ওরা নিজেরাই না কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলোর কাছে গিয়ে ধর্না দেয় যে- আমাকে এরেস্ট করো, জেলে অন্তত বেঁচে থাকব। লাথোকা ভুত বাতোসে নেহি মানতা হ্যায়।



মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬

সাদা খাতার প্রজন্ম

 


সর্বত্র সাদা খাতা কেস, আজকের সাপ্লিমেন্টারী ভোটার লিষ্ট রাষ্ট্র পরিচালিত প্রকাশ্য জালিয়াতি। সাদা খাতার শিক্ষকদের BLO বানিয়ে SIR করানো, সাদা খাতার BDO দিয়ে নোডাল অফিসারের কাজ করানোর পর, মহামান্য বিচারপতিদের এই অপূর্ব শিল্পকলা - সাপ্লিমেন্টারি ভোটারলিস্ট এর নামে সাদা খাতা। মোটাদাগে ভণ্ডামি।

শুক্রবার এসে দাঁড়ালো সোমবারে। সোমবার দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে মাঝরাত্রে সাইট খুললো, কিন্তু তাতে কি? ম্যাজিক-

No adjudication pertaining to this part till 5 PM on 23.3.2026

৩০ লাখের নিষ্পত্তির গল্প শুনিয়ে, আদতে গোটা রাজ্যের হাতে গোনা কয়েকটা বুথে হাজার তিনেকের বেশী কোনো সমস্যার নিষ্পত্তি হয়নি। পুরোটা একটা নির্জলা মিথ্যাচার, ধাপ্পাবাজি। এই অসভ্য ধোঁকাবাজিতে আমাদের বিচারব্যবস্থাও কোনোভাবে দায় এড়াতে পারেনা, তারাও সমান ভাবে এই বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশীদার আজ থেকে।

রাজ্যের সর্বত্র এই এক অবস্থা, মানুষ সারা রাত জেগে চেষ্টা করে যাচ্ছে মরিয়া হয়ে- তার নাম আছে তো নাগরিকের তালিকাতে! অত্যন্ত নিকৃষ্ট একটা নোংরামি করলো এই নির্যাতন কমিশন। ECI এর মত গণতান্ত্রিক কাঠামোর মূল স্তম্ভ যখন এভাবে প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের সামনে এসে ডাঁহা মিথ্যাচার করে, তখন গণতন্ত্রের পোশাকের আড়ালে স্বৈরাচারী একনায়কতন্ত্রের দাঁতনখ গুলো স্পষ্টভাবে ফুটে উঠে।

মিডিয়া আগেই বিকিয়ে গিয়েছে, দেশের সংসদ 'জর্জ অরওয়েলের' পশুখামারের আদর্শ রূপ, এখন বিচারব্যবস্থাও জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সর্বনাশ করতে উঠেপরে লেগেছে, নির্যাতন কমিশনের প্রতারণা খেলার পার্টনার হয়ে গেছে। গণতন্ত্রের শিরচ্ছেদ করে গণকে বলি দিয়ে তন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া। Absolute Bureaucracy 

তোলামূল যেনতেন ভাবে ২০২৪ ভোটার লিস্ট দিয়ে ভোট করাতে মরিয়া, বিজেপি এডজুডিকেশনের নামে পৌনে এক কোটি মানুষকে জিম্মি বানিয়ে, ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে ক্ষমতায় আসতে মরিয়া। বাকি সব রাজনৈতিক দল MLA বানাবার প্রক্রিয়াতে ব্যস্ত, পৌনে ১ কোটি মানুষ বঞ্চিত বেনাগরিক হয়ে চরম দুর্দশায়।

মানুষ এতোদিন চুপ করে সয়ে যাচ্ছিলো, তারপরে আজকের এই প্রতারনার পর যদি এই পৌনে এক কোটি দিশেহারা মানুষ উন্মত্ত হয়ে উঠে দলে দলে রাস্তায় নেমে আসে- রাষ্ট্রের মুরোদ আছে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা? নাকি রাষ্ট্রযন্ত্রই তার নাগরিকদের উপরে বুলেট বৃষ্টি করে মরদ সাজবে? 

বিজেপি কি এটাই চাইছে, যেকোনো মূল্যে অশান্তি দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি করে আইনশৃঙ্খলার দোহায় দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে? নাগরিকত্বের মৌলিক অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা- আসলে আগুন নিয়ে খেলা, যে আগুন দাবানল হয়ে উঠার দ্বারপ্রান্তে।

ক্ষোভ নামের বারুদের স্তুপে আগুন যেকোনো সময় বিস্ফোরণ লাগাতে পারে। নগর পুড়লে কি দেবালয় রক্ষা পাবে? নাকি সেই দেবতারা রক্ষা পাবে যারা ক্ষমতার দম্ভে মত্ত হয়ে নিজেদেরকে দেবতার স্তরে বসিয়ে ফেলেছে!

এক চরম মাৎস্যন্যায় নৈরাজ্যের পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিলো আমাদের রাজ্যকে, আজকের পর প্রতিটা অরাজকতার দায় নির্যাতন কমিশনের। যুদ্ধটা যখন নাগরিকদের সাথে, তারাই বুঝে নেবে কীভাবে চাবকে রাষ্ট্রকে আবার গণতন্ত্রের নামতা শেখাতে হয়।



শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬

খুব সোজা একটা একটা প্রশ্নঃ মোদীর পরিবর্তে কাকে আনবে RSS?


 

খুব সোজা একটা একটা প্রশ্নঃ মোদীর পরিবর্তে কাকে আনবে RSS?


মোদীকে বানপ্রস্থে যেতে হবেই যদিনা মিরাকেল কিছু ঘটে, কারন আদানি। আমাদের চুরি যাওয়া টাকা দিয়ে আদানি ইজরায়েলের হাইফা বন্দর লিজে নিয়েছে বলে? আজ্ঞে না, ইরানের মাটিতে যে সব অস্ত্র গোলাবারুদ ইজরায়েলের তরফে ফেলা হচ্ছে এই যুদ্ধে, তার সিংহভাগ তৈরি করেছে Adani Defence & Aerospace। কোথায় তৈরি করেছে? মোসাদ ও CIA এর ভয়ানক কড়া পাহাড়ায় আমাদের ভারতের মাটিতে, উত্তরপ্রদেশের কানপুর আর প্লাসনা কারখানাতে গোলাবারুদ তৈরি হচ্ছে, তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদ ফ্যাক্টারিতে– ড্রোন উৎপাদন হচ্ছে, কর্ণাটকের বেঙ্গালুরু ফেসেলিটিতে- মিসাইলের যন্ত্রাংশ ও হাইটেক ড্রোনের যন্ত্রাংশ বানানো হচ্ছে। ইজরায়েলের অস্ত্রের সাপ্লাই লাইন মানে Adani Defence, আদানি মানে তার চাকর স্বঘোষিত বিশ্বগুরু, আর আমরা হলাম ভারত রাষ্ট্রের হতভাগ্য নাগরিক। 

আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত কখনই চাপরাশি বা চাকরবাকর ছিল না আজকের মতো, মঞ্চের প্রথম সারির নেতা না হলেও রাজারাজড়ার সাথেই উঠাবসা ছিল। পারিবারিক ঐতিহ্য সম্মান ধরে রাখতে হয়, বিশ্বগুরুর মতো তৃতীয় শ্রেণির নিকৃষ্ট দালাল, আজ দেশের সম্মান নিয়ে লোফালুফি খেলতে খেলতে আজ ভারতকে অচ্ছুতের দলে এনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।যুদ্ধের ১৩ তম দিনে টুইটারে ফার্সি ভাষায় ইরানের প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা হওয়ার যে দাবী, সেটাকে ইরানের প্রধানমন্ত্রী স্বীকারই করেনি। ইরানের প্রধানমন্ত্রী কোনো ‘গাটর গ্যাস বিজ্ঞানী’ নন, সামান্য একজন কার্ডিয়্যাক সার্জেন, তিনি হৃদয়ঘটিত বিষয়টা বেশিই বোঝেন। তারপরেও বিশ্বগুরুর জন্য ১টা অক্ষর খরচা করেননি, অথচ সেখানে রাশিয়া ও পাকিস্তান আছে। অন্য টুইটে অন্য দেশের উল্লেখও রয়েছে। এটা হচ্ছে গোদী মিডিয়ার বানানো বিশ্বগুরুর অউকাত।

‘হিন্দু খতরে মে’ এর মিথ্যা স্লোগানকে আজ সত্যি হতে দেখছি। আদানি প্রভু আর তার পোষ্য বিশ্বগুরু আক্রান্ত হলে আমরা দেশবাসি কীভাবে সুস্থ থাকব! আমরাও কমবেশি সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হবো, যেমন তেল গ্যাস সঙ্কটে ক্ষতির মধ্যে আছে দেশের প্রতিটা মানুষ, প্রতিটা হিন্দু। সত্যিই তো আজ হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়, সৌজনে বিজেপি। সৌজন্য বিশ্বগুরুর লালুভুলু দলের বিদেশনীতি, সৌজন্যে এপস্টিন গ্যাং এর সাথে অতিরিক্ত সখ্যতা, সৌজন্যে গুজরাত কার্টেল। ইরানের নতুন লিডার লিখিত বিবৃতি দিয়েছে যে তারা এবার প্রতিশোধ নেবে ইজরায়েল, আমেরিকা ও তাদের মিত্রদের উপরে; বোঝা গেলো আজ অবধি যা তান্ডব করেছে সেগুলো ‘প্রতিরোধ’ এর নামে নেট প্র্যাকটিস। ইজরায়েলের অস্ত্র কারখানায়, মানে আদানির অস্ত্র কারখানায় মানে আমাদের দেশের শহরগুলোতে! আসলে যেভাবেই আপনি উল্লেখ করুন, জাইগা তো আসলে একটাই- Adani Defence। এটা লেখার জন্য আমাকে কি দেশদ্রোহী ঘোষণা করতে পারে অমিত শাহ এর প্রশাসন?

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে অক্ষটা ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে ইরান যুদ্ধের অজুহাতে, তারা যে কোনো মুল্যে মোদীর রাজনৈতিক নিধন চায়। বিগত ৬ বছর ধরে BRICS এর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা তো আছেই, মূল সমস্যা আরো গভীরে। ইরানের মুখোশ পরে এই যুদ্ধে চিন ও রাশিয়া যে পিছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে তা কুনাল ঘোষের মত ইডিয়ট থার্ডক্লাস মুর্খটাও জানে। চিন আমাদের ঘোষিত শত্রু হলেও রাশিয়া ও ইরান পরম মিত্র হিসাবে গত ৫ দশকের সুসম্পর্ক, আমাদের বিশ্বপ্রভু দায়িত্ব নিয়ে এপস্টিন গ্যাং এর সাথে আতালান্তিকের জলে ডুবিয়ে এসেছে। 

রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক স্বাধীনতার সেই জন্ম লগ্ন থেকে। আলাদা করে ১৯৭১ সালে Indo-Soviet Treaty of Peace, Friendship and Cooperation সই পর্যন্ত হয়েছিল। আজও  ভারতের প্রতিরক্ষা অস্ত্রের বড় অংশ রাশিয়ান, যেকোনো চিন পাকিস্তান যুদ্ধই তার প্রমাণ। আলাদা করে পারমাণবিক শক্তি, মহাকাশ গবেষণা সহযোগিতা, জ্বালানি, শিল্প ও কৃষি বিপ্লবের প্রত্যেকটি ধাপের উন্নতি, রাশিয়া তথা সোভিয়েত ইউনিয়নের হাত ধরেই। আজকে আমাদের অস্ত্র ভাণ্ডারের কোহিনুর ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র, যেটার বলে আমেরিকাও আমাদের সম্ভ্রমের চোখে দেখে, সেটাও রাশিয়ার সহযোগিতায় বানানো। আমাদের ব্রহ্মপুত্র আর রাশিয়ার মস্কোভা নদীর আদ্যংশ জুড়ে তাই এমন নাম।

ইরানের সাথে আমাদের প্রায় ২৫০০ বছরেরও বেশি পৌরাণিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক, বেদ-জেন্দা আবেস্তা কালের চেয়েও পুরাতন। প্রাচীন পারস্য সাম্রাজ্যের সময় থেকেই ভারত ইরানের মধ্যে বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক লেনদেনে নাড়ির যোগাযোগ। স্বাধীনতার পর দেশভাগের কারণে ইরানের সাথে সরাসরি সীমান্ত হারালেও, বন্ধুত্বের স্মারক হিসেবে তাদের দেশের গুরুত্বপূর্ণ চাবাহার বন্দরে বিনিয়োগ এর সুযোগ করে দেয়। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের মাটিতে তৈরি চিনের গদর বন্দরকে টক্কর দেওয়াতে, ভারতের দিকে সম্পূর্ণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো ইরান। এতে করে আফগানিস্তান সহ পুরো মধ্য এশিয়ার বাণিজ্যের দরজার খুলে গিয়েছিল ভারতের ব্যবসায়ীদের জন্য। কিন্তু ওই, চোর আদানি। আদানিকে ইজরায়েল ট্র‍্যাপ করল, তার দেশের অস্ত্র বানানোর জন্য। অমনি দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে আমরা সমস্ত ঐতিহ্য, কূটনীতি, বিদেশনীতি ভুলে ইজরায়েলকে ‘ফাদারল্যান্ড; বানিয়ে ফেললাম। উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির ময়দানে সিগন্যাল পাঠিয়ে দিল, ইরান মোল্লাদের দেশ বলে হিন্দু হৃদয় সম্রাটের এই ইজরায়েলি মাস্টারস্ট্রোক। ফলাফল? তেল-গ্যাস কিনতে গিয়ে ‘হিন্দু খতরেমে’। দেশের মূল সমস্যা আদানি, ওরফে তার পোষ্য চাকরটা।

তেল আভিবের বাতাসে পোড়া লাশের চেয়েও যে খবরটা সবচেয়ে বেশী দুর্গন্ধময় আতঙ্ক ছড়াচ্ছে তা হলো- নেতানুনু অদৌ বেঁচে আছে তো! ওদিকে শ্যাম চাচার দেশে, উন্মাদ ট্রাম্পকে হয়ত CIA ই খালাস করে দিয়ে যুদ্ধের উপসংহার টানবে, স্থায়ী ভাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে পাততাড়ি গুটিয়ে। তাহলে হাতে পেন্সিল ছাড়া আর কি রইলো? একমাত্র আদানি। আদানি সংহার হবেই, যতই তার নিজের কেনা মিডিয়া আর গুজরাত কার্টেলের পে-রোলে থাকা প্রতিটা ধামাধরা চাটুকার মোসায়েবের, বিশ্বগুরুকে গ্লোরিফাই করে পরিস্থিতি ও প্রশ্নকে ধামাচাপা দেওয়া চেষ্টা করুকনা কেন, এ যাত্রায় সম্ভবত রক্ষে নেই আদানি শেঠের, স্বর্গীয় absolute miracle ছাড়া। বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান, এবার ঘুঘু তোমার বধিব পরান।

আদানি ভোগে গেলে বিশ্বগুরুর অস্তিত্বের প্রয়োজনটা কোথায় রাষ্ট্রের কাছে? আক্ষরিক অর্থেই তো তিনি মুর্খ ভাঁড়, বেতনভুক ভৃত্য মাত্র। মালিক যখন চিতায় উঠবে তার পোষ্যকেও সহমরণে যেতে হবে, বাকিরা বলোহরি হরিবোল বলে প্রভুর সাথে সতী বানিয়ে ছবি করে দেবে। আদানির বড় ভাই বিনোদ, এই মালটা সাইপ্রাস দ্বীপের নাগরিক হলেও, বাস করে দুবাই-এ। আমাদের দেশের যাবতীয় চুরচামারির মাল নিয়ে মার্কিন ও ব্রিটিশ সেনা ঘাঁটির কাছাকাছি একটা দূর্গ মত বাড়িতে গচ্ছিত রাখা আছে সাইপ্রাসে। এই কচ্ছপটাকে খ্যাপলা জাল দিয়ে টেনে নিয়ে এসে চাবাহারের মাছ বাজারে আঁশ ছাড়ানো, হলেই প্রভু আদানি প্রাণপাখি ছটপট করা শুরু করবে। এদিকে আম্বানি মোটাভাই আমাদের থেকে চুষে নেওয়া হারামের সম্পদ আমেরিকাতে সাইফন করতে মরিয়া, রাশিয়া-চিন-ইরান অক্ষ ওনাকে আমেরিকায় যেতে দেবে বামাল সহ? আর গেলে জামনগরের অয়েল রিফাইনারি বেঁচে থাকবে বলে আপনি বিশ্বাস করেন?

আমাদের MEA মুখপাত্র সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন- আফ্রিকার নাম না জানা দেশগুলো হরমুজ দিয়ে তেল গ্যাস নিয়ে চলে যাচ্ছে, আমারা যাদের রোজ হ্যাটা করি সেই বাংলাদেশও হরমুজ কূটনীতিতে সফল, সেখানে আমরা মিডিয়া প্রোপাগান্ডা দিয়ে জাহাজ ভরছি তেল গ্যাসের বদলে। আদানির পোষা লেজ বিশিষ্ট কেউ নয়, কোনো একজন ‘ভারতের’ প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দিক- দেশের স্বার্থে হওয়া বিদেশনীতির পক্ষে, ভারতের প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দল বিনা বাধায় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে সর্বদলীয় প্রস্তাব পাশ করিয়ে দেবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে। তখন ওই ইরান, ওই রাশিয়া, ওই চিনা জাহাজ আমাদের  ১৩টা আন্তর্জাতিক সমুদ্র বন্দরে লাইন দিয়ে তেল গ্যাস পৌঁছে দিয়ে যাবে নিজেদের খরচায়। 

২০২৫ এর ফেব্রুয়ারি থেকে ট্রাম্প কাড়া নাগাড়া বাজিয়ে ‘ট্যারিফ’ ওয়্যার শুরু করেছিল, বাবু তার ইচ্ছামতো যাকে খুশি যেমন খুশি ট্যারিফ লাগাচ্ছিলেন, যাকে খুশি স্যাংশন এর সাজা ঘোষণা করে দারুণ একটা খেলা খেলছিল। সেই প্রতিটা ট্যারিফ-স্যাংশনকে আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে ইরান, ২০২৫ জুড়ে ট্রাম্পের পুরো ‘ট্যারিফ’ মেহনত জাগ্রোস পাহাড়ির খাদে কবর দিয়ে দিয়েছে। ট্যারিফ যুদ্ধে চিনের সাথে মুখ থুবড়ে পরলেও রাশিয়ার উপরে হাজারটা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সে যুদ্ধে প্রায় একতরফা জিতে গিয়েছিল আমেরিকা। আমাদের বিশ্বগুরুকে মাদারির বাঁদরের মতো লাঠির ডগায় নাচিয়ে একতরফা শর্তে যখন যেমন খুশি, তেমন বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে, আর আমাদের লালুভুলু কোম্পানি মেনেও নিয়েছে টুঁ শব্দটি না করে। প্যান্টের উপরে লাল জাঙিয়া পরলেই সুপার হিরো হওয়া যায় না, চাড্ডি তো নাগপুরের গোয়ালের রাখালগুলোও পরে। একটা ভিসন লাগে, যা দিয়ে মিশন কমপ্লিট করতে হয়। RSS এর মুচলেকা আর জুতো চাঁটা আদর্শ দিয়ে হিরো হওয়া যায় না, সারেন্ডার করাই যায়।

গত কালও লিখেছিলাম, আমাদের দেশের মূল সমস্যা হচ্ছে বিশ্বগুরু। বাজপেয়ীও বিজেপি তথা RSS ছিলেন, কিন্তু বিশ্বগুরুর মতো এমন প্রকাশ্য নির্লজ্জ মিথ্যাবাদী ছিলেননা, এমন দেশদ্রোহীর মতো কর্পোরেটের গোলামি করেননি। বাজপেয়ী ‘উনিজির’ মতো নিরেট মুর্খও ছিলেন না, নাহলে কংগ্রেস ওনাকে বিরোধীদলের নেতা হিসেবে রাষ্ট্রসঙ্ঘে দেশের প্রতিনিধি করে পাঠাতো না। নেতা, চাকরবাকর আর দালালের মাঝে ঠিক যতটা ফারাক, বিশ্বগুরুর সাথে তার পূর্বসূরিদের পার্থক্য ঠিক ততটাই। বাজপেয়ি দেশের বিদেশনীতি ঘেঁটে দেওয়ার চেষ্টা করেননি, সংসদে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছিলেন- “সাম্রাজ্যবাদী ইসরাইল, ফিলিস্তিনের মাটি থেকে সরে যাও। ভারতবর্ষ অখন্ড ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের পাশে ছিল আছে থাকবে”। 

এখন আমেরিকার এমন শোল পোড়া অবস্থায়, তার যারা চাটুকার ফ্যান বয়, যেমন আমাদের বিশ্বগুরু- ওনাদের কাঠে কপাটে অবস্থা, না বইতে পারছেন- না সইতে পারছেন; প্রাণ খুলে কাঁদার উপায়ও নেই। মন্ডপের মুর্তি যখন বানানো হয়, কাঠামো খড় মাটি লেপে পুঁছে রঙ চড়িয়ে কাপর ফুল মালা দিয়ে অনেক কটা দিন ধরে সাজানো হয়, অনেকগুলো মানুষের মেহনতে; বিসর্জন কিন্তু টুক করে সবটা একসাথে হয়। আমাদের বিশ্বগুরু গেলে তার সাথে তার সাথে থাকা ভক্তের দল, তার পিছনে মিছিল করে চলা গুজরাত কার্টেল, তার অনুগত মিডিয়া বাহিনী, তার রাষ্ট্রযন্ত্র, অতীত বর্তমান সব কিছু নিয়েই উনি অস্ত যাবেন। কেউ কেউ সোলার টোপরের মত হয়তবা ভেসে গিয়ে বেঁচে যাবে। ঠাকুর বিসর্জনের সময় ঢোল কাঁসা নিয়ে তারাই উল্লাস করে কোলাকুলি করে, যারা এতোদিন এই মুর্তিটারই আরাধনা করেছে। সুতরাং, কাঁসি ঢোল নিয়ে RSS ই যে বিসর্জনের ভাসান ড্যান্স করবে, সেটা বলাই বাহুল্য।      

ইরানের পুরাতন নের্তৃত্বের প্রায় সকলকেই খালাস করে দিয়েছে এপস্টিন গ্যাং, নতুন নের্তৃত্ব হিসাবে যারা এসেছে, তাদের নুন্যতম ঘনিষ্টতা নেই বর্তমান ভারতীয় প্রায় সকল নের্তৃত্বের সাথে, ফলত সম্পর্কের লেগাসিও নেই। এই কারনেই প্রথমে লেজারশঙ্কর ও পরে বিশ্বগুরু নিজে ফোন করে মৌখিক মুচলেকা দিলেও, কাজের কাজ হয়নি। চিনা নের্তৃত্ব আমাদের বিশ্বপ্রভুকে কখনও গুনতিতেই ধরেনি মানুষ হিসাবে। ওদিকে শোনা যাচ্ছে রাশিয়ান প্রথম সারির কূটনীতিবিদেরা ফোনের ওপার থেকে বিশ্বগুরুর সাথে কথাই বলতে চায়নি শেষ ২ সপ্তাহ ধরে, গ্রুপ-সি টাইপ চাপরাশি লেভেলের রাশিয়ান কর্তারাও বিশ্বগুরুর মা মাসিকে ‘সম্মান’ করে সম্বোধন করেছে বলে জোর খবর। এই অবস্থায় মস্কোতে গিয়ে মুজরো করলে কোনো কাজে দেবেনা, তেহরানে গিয়ে যে কান ধরে উঠবোস করবে বা নাকে খৎ দেওয়ার রিল বানাবে ‘বিরাট শিক্ষিত’ মন্ত্রী বৈষ্ণবকে দিয়ে, সে সম্ভাবনারও গোঁড়া কেটে দিয়েছে ইরানের প্রধানমন্ত্রী, গতকালের মাত্র ৯০ সেকেন্ডের ফোনালাপে।

দেশে সারের সঙ্কট শুরু হবার মুখে, কৃষক মার খাবে, খাদ্য শস্যে টান পরবে। পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, কাচ ও সিরামিক শিল্প, স্টিল ও ছোট ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যাবে। মিডডে মিল থেকে উৎসব অনুষ্ঠান, হোটেল রেস্টুরেন্ট ও পর্যটন শিল্প ধ্বসে যাচ্ছে রান্নার গ্যাসের অভাবে। অনেকে বলছে রেস্টুরেন্ট বাবু বিবিদের খাবারের জাইগা, আজ্ঞে না, ওখানে যারা কাজ করে তারা অধিকাংশই শ্রমিক ও দিনমজুর, আর দেশে এদের সংখ্যাটা প্রায় ২৮ কোটি মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ রুটিরুজির প্রশ্ন। এক অদ্ভুত গণসঙ্কটের দিকে চলেছি আমরা।

বিশ্বগুরুর ফাঁপা বেলুনে কতক্ষণ আর হাওয়ার ভেসে থাকবে! বিশ্বগুরুকে রোজ সকালে বিকালে নিয়ম করে কান মুলে দেন যিনি, সেই ট্রাম্প ও তার প্রশাসন নিজেরাই ল্যাজেগোবরে, এখন সাহেবকে কে সেল্টার দেবে? মুচলেকা যাদের জিনে রয়েছে, সারেন্ডার তাদের চরিত্রের সৌন্দর্য। এখন কি দলবদল করে রাশিয়া ইরানের পায়ে ধরে বিশ্বপ্রভুকে দিয়ে সারেন্ডার করালে, আদানি প্রভুর মুক্তি মিলবে? আমেরিকা আরেকটা কাজ করতেই পারে, তারা শাহ এর পুত্র, ওই বেঢপ নাকের ভাঁড়টাকে আয়াতেল্লা রেজিমের বিপক্ষে প্রোজেক্ট না করে, আমাদের দেশের শাহ টাকে ওখানে নিয়ে ছেড়ে দিলে তো পারে। ‘টাকলা শাহ জুমলাবাদী’ গাঁজা কেস, রেপ কেস, আর্মস কেস, UAPA দিয়ে কিছু জনকে ভরে দিয়ে, বাকি সবাইকে কিনে নিয়ে মার্কিন পন্থী সরকার বানিয়ে দেবেন। নেহাত সেটাও না হলে, ইরানের নাম চেঞ্জ করে হরমুজে বুলডোজার নামিয়ে দেওয়া শিল্পীও তো আমাদের দেশেই ছিলো। শুধু বিশ্বগুরুর একার দিকে নজর দিতে গিয়ে হোয়াইট হাউজ এই দুটো নমুনা, সরি প্রতিভাকে মর্যাদাই দিতে পারলোনা।

স্বস্তিক বাহিনী স্ট্যালিনগ্রাদে কবরস্থ হয়েছিলো, তার সাথে জাপান, ইতালি সহ হাঙ্গেরি, রোমানিয়া , বুলগেরিয়া, ফিনল্যান্ড, থাইল্যান্ড কেউ রক্ষা পায়নি। হরমুজ নামের আজকের স্ট্যালিনগ্রাদে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ রূপী ‘ভেরমাখট’ বাহিনী একা ডুববেনা, মাই ফ্রেন্ড দোলান্ড মঞ্চে কিম্বা Godhra Meets Gaza সামিটে কোলাকুলি করে ফাদারল্যান্ড আবিষ্কার করা- বিশ্বগুরুর মত মোসায়েব খোঁচর গুলোকে সাথে নিয়েই ডুববে। নিউটনের সুত্র বলে, পতনশীল বস্তুর প্রাপ্ত বেগ সময়ের সাথে সমানুপাতিক। সুদান ইতিমধ্যেই আমিরাতের দখলদার বাহিনীকে খেদা করে দেশ উদ্ধার করা শুরু করেছে, আমাদের দেশেও আদানি আম্বানির খপ্পর থেকে দেশজ সম্পদ ফিরিয়ে আনতে হবে।  ইরানে যদি আয়াতেল্লার হেজিমনি থাকে, আমাদের দেশে সঙ্ঘের হেজিমনি চলছে কর্পোরেটদের সাথে পার্টনারসিপ করে, শেষ দুই দশক ধরে। যারা ইরানের রেজিম চেঞ্জের পক্ষে গলার শিরা ফোলাচ্ছে, সেই তারাই আবার মনুবাদী সঙ্ঘের রেজিমের পক্ষে। এটার নামই হিপোক্রেসি, এই ফাঁদেই আমরা ১৪০ কোটি ভারতীয় আঁটকা পরে বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে জিম্মি হয়ে গেছি।

ভারতের একটা ‘ভারতীয়’ প্রধানমন্ত্রী দরকার, যে চাটুকার ভাঁড় সেজে কোনো কর্পোরেটের দালালি করবেনা, দেশের মানুষের কথা বলবে। সরকারী টাকায় ১১৩ বার বিদেশে প্রমোদ ভ্রমণে গিয়ে, নির্লজ্জের হাসি হেসে ছোটলোকের মত জড়িয়ে ধরবেনা। ইজরায়েলি পতাকার সামনে মাথা নোয়াবেনা। ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে সম্মান করে, দেশের মানুষের জন্য পদক্ষেপ নেবে জাতি ধর্মের উর্ধ্বে উঠে।

পরিস্থিকে যথাসাধ্য ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলাম। অনেকটা এডভান্স লিখে ফেলছি বলে অনেকেরই হজম হবেনা আমার আজকের কথা গুলো, ভক্তরা যারা বিশ্বগুরুর ছবিতে ঈশ্বর প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন, তারা বাদেও অনেক নিরপেক্ষ সুশীলেরও পরিপাক হবেনা। তাই শুরুর প্রশ্নে ফিরে যায়, ইরান যদি না হারে, আদানির বিরুদ্ধে আক্রমনাত্বক হামলা আসবেই। তখন লক্ষবার ধ্যানে বসলেও ক্ষমতার গনেশ উল্টাবেই। এমতাবস্থায়, বিশ্বগুরুর স্থলাভিষিক্ত কে হবে? নতুন আনকোরা কাউকে ঝুলি থেকে বের করবে নাকি পুরাতন কোনো ভাঁড়কে সিংহাসনে বসাবে RSS! 


আপনার কি মনে হয়?

বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬

আমেরিকার কাছে ভারতের সাধারণ জনগন যখন মোদীর কল্যাণে জিম্মি

 


কোনো গনিকাপুত্র বেজন্মা কি- বিশ্বগুরু প্রভুর সরকারকে প্রশ্ন করেছে ~ কেন হোয়াইট হাউস থেকে এই ধরণের 'এ্যাক্টর' উপমা দেবে? কি অউকাত আছে তাদের? সরকারে থাকা 'বিরাট হিন্দু' হৃদয় সম্রাটের কোন দুর্বলতা রয়েছে? গোটা দেশ ওয়াসিংটন থেকে পাওয়া নির্দেশ মত চলছে। 

বেহায়া নির্লজ্জ দু কান কাটা গরুর বাচ্চারা জাবর কাটছে নিশ্চিন্তে, কারন সাদা চামরার জুতো চাঁটা RSS এর জিনে রয়েছে। এই ধরণের প্রকাশ্যে মুখে মুতে দেওয়ার পরেও মিসাইলে পোড়া ফাদারল্যান্ডের ইমানদন্ড মুখে ভরে বসে রয়েছে কেন নাগপুরের জন্তু জানোয়ার গুলো? এপস্টিন দ্বীপে 'পিৎজা'র দাম মেটাচ্ছে এভাবে? 

ইরান যদি যুদ্ধে না হারে, বিশ্বরাজনীতির DNA পরিবর্তন হয়ে যাবে। ভারতের এই গোবোরখেকো আদানির দাস বিশ্বপ্রভুর চর্বি পোঁদ দিয়ে গেলে নেবে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থা। 

ইজরায়েলকে ফাদারল্যান্ড বানিয়ে 'গাজা মিটস গোধরা' সামিটের হালুয়া বানাবে রাশিয়া চিন ইরান মিলে। সমস্যা আমাদের ১৪০ কোটি সাধারণ মানুষের, এই মুর্খ এপস্টিন গ্যাং এর কুর্কর্মের মূল্য আমাদের চোকাতে হবে পাই পাই হিসাবে। 

রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬

দুই ফুলের ধাষ্টামিকে এড়িয়ে যান

 


৬০ লাখ মানুষ যেখানে রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকত্বের প্রশ্নে জিম্মি হয়ে হয়েছে, সেখানে রাষ্ট্রপতি পদে থাকা একজন RSS এর কাঠপুতুলকে নিয়ে সময় নষ্ট করার বাহুল্যতা কি খেটে খাওয়া মানুষের রয়েছে? RSS এর নির্দেশে বিজেপিকে প্রাসঙ্গিক করতে মিডিয়ার ন্যারিটিভ ফিরিয়ে আনতে এই সমস্ত আয়োজন। এই বিতর্কে দেশের কোনো মানুষের কিচ্ছুটি লাভ বা ক্ষতি নেই। এমনিতেই রাজ্যপাল আর রাষ্ট্রপতি পদ দুটোর নামে সাদা হাতি পোষার প্রয়োজন রাষ্ট্রের রয়েছে কিনা সেটাই সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক প্রশ্ন আজকের দিনে দাঁড়িয়ে।

বুকে হাত রেখে বলুন তো, এই ‘ফালতু’ ঘটনা না হলে ভারতের রাষ্ট্রপতির নাম আপনার মনে ছিলো? কালাম সাহেবের পর ভারতের রাষ্ট্রপতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বহীন রবার স্ট্যাম্প মার্কা পদ হয়ে গেছে। গুগল না করে এর আগের রাষ্ট্রপতির নাম বলতে পারবে না অধিকাংশ মানুষ, শুধু এইটুকু মনে আছে আগের রাষ্ট্রপতি তপশিলি জাতির ছিলেন, বর্তমান রাষ্ট্রপতি তপশিলি উপজাতির। গত ১০ বছরে দেশের তপশিলি জাতি ও উপজাতিরা ঠিক কতটা উপকৃত হয়েছে কেউ জানাবেন দয়া করে? 

এখনও অবধি বিজেপি যাদের যাদের সাথে জোট করেছে তাদের সবাইকে খেয়ে ফেলেছে, বাকি শুধু তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা ব্যানার্জী অত্যন্ত নিকৃষ্ট শ্রেনীর রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, চূড়ান্ত অসৎ ও বেপারোয়া। তার পরেও এমন ব্যক্তিকে সেই ১৯৮৯ সাল থেকে বয়ে চলেছ, একদিন হজম করে ফেলবে এই বিশ্বাসে। যেহেতু মমতা ভাবের ঘরে চুরি প্রায় করে না বললেই চলে, তাই তাকে এখনও হজম করা হয়নি বিজেপির। এর মূল কারণ RSS যতটা ছোটলোক ইতর ও বর্বর, প্রয়োজনে মমতা ব্যানার্জী তার থেকেও নিচে নামতে পারেন, দ্রুত ও প্রকাশ্যে। এবারে প্রায় চিবিয়ে এনেছে, শুধু গিলে নিতে হবে ঢক করে, আর ঠিক এই স্থানেই মমতা ব্যানার্জী বিজেপির কন্ঠনালীতে আঁটকে রয়েছে।

রাষ্ট্রপতিকে রাজ্যে প্রাসঙ্গিক করতেই হতো, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়া সম্ভবত সময়ের অপেক্ষা, অন্তত মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেও পরিষ্কার- ‘কদিন বিশ্রাম করে নিয়ে আবার নামতে পারব’।

স্বভাবতই, কোন ভণ্ডামি মঞ্চে কে পায়চারি করছেন, মহুয়া ‘শশী’ মৈত্র কাকে কীভাবে বাঙালি পরিচয়ের সার্টিফিকেট বিলি করছেন, কোথায় কখন রাষ্ট্রপতি এসে কী বলছেন, দাঙ্গা বাবুল এবিপির কাকে চমকালো, চটিচাঁটা গায়িকা ইমন সোশ্যাল মিডিয়াতে ফিরল কিনা, কবির সুমন কোন গান গাইছে বা কোন ধান্দাবাজ কোন দল থেকে কোন আস্তাকুঁড়ে গিয়ে পৌঁছাল তাতে আমাদের কিচ্ছুটি যায় আসে না। যুদ্ধের আবহে তেল গ্যাসের বাজারে আগুন, নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে হাহাকার শুরু হলো বলে, তার উপরে SIR এর নামে ইচ্ছাকৃত নাগরিক বিপর্যয়, এসবকে উপেক্ষা করে দুই ফুলের ধাষ্টামিকে নাকের পোঁটার মতো ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে আন্দোলনের পথেই থাকুন।



শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না


⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔

আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাাসক তৃনমূল ও i-Pac, রাজ্যের সমস্ত মানুষকে ভীষণভাবে সতকর্তা অবলম্বন করার জন্য আন্তরিকভাবে অনুরোধ করছি। বিশেষ করে ‘চাপড়া থেকে চোপড়া’ এই অঞ্চলের মুসলমান অধ্যুষিত এলাকা, SC জনবহুল অঞ্চলে পরিকল্পিত হুজ্জোতি, ভাঙচুর ও অরাজকতা সৃষ্টি করার তালে রয়েছে এই তোলাবাজদের সরকার, যাতে 2024 এর ভুতুরে ভুয়ো ভোটার সম্বলিত ভোটারলিষ্ট অনুযায়ী আগামী বিধানসভা নির্বাচন করাতে পারে।

নির্যাতন কমিশনের ইচ্ছাকৃত সৃষ্ট নানান সমস্যা বিবিধ আইনি পথে সমাধান করতে হবে, তার জন্য সুষ্ঠু আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। যে সকল নাগরিককে নানান ফন্দি ফিকিরে অবৈধ ঘোষণা করবে বিজেপি পরিচালিত নির্যাতন কমিশন- তাদের জন্য নির্দিষ্ট আইনি লড়াই এর প্রস্তুতি নিতে হবে। তৃণমূলের রাজনৈতিক কুহকে পা বাড়ালে, তাদের পুলিশই আপনাদের নামে মামলা মোকদ্দমা দিয়ে জেরবার করে দেবে। সমস্ত ধরণের উস্কানি উত্তেজনাকে উপেক্ষা করে, ধীর স্থির ভাবে নিজেদের সংগঠিত করে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে আন্দোলন গড়ে তুলে নিজেদের হক ফিরিয়ে আনতে হবে। মিথ্যা মামলাতে জড়িয়ে গেলে তার ভোগান্তি একমাত্র আপনার ও আপনার পরিবারের, দল তৃনমূলের লাশ দরকার- তারা আমার আপনার লাশ নিয়ে রাজনীতি করে রাজনৈতিক তুলতে মরিয়া। 

তৃণমূল পোষিত প্রতিটা মিডিয়া হৈ হৈ করে এই সমস্ত অশান্তির খবরই একমাত্র ‘প্রায়োরিটি’ সহকারে Breaking News হিসাবে প্রচার করতে শুরু করবে, যদি তারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে সফল হয়। RSS সম্পূর্ণ ভাবে মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে এই সুযোগে দাঙ্গা বাঁধাবার ফিকির খুঁজবে, বিশেষত মালদা মুর্শিদাবাদ ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে। তখন মুসলমানদের টার্গেট করে মিডিয়া ট্রায়াল শুরু করে দেবে ভাতাজীবি সাংবাদিকদের দল।

তৃণমূল কংগ্রেস একটা সামাজিক আস্তাকুর, রাজনীতির অন্তরালে যেখানে সারা রাজ্যের যত সমাজবিরোধী, দুষ্কৃতি, চোর, ধর্ষক, তোলাবাজ, দাঙ্গাবাদ, ধর্মোন্মাদ পচাগলা মালেদের নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল। নিষিদ্ধ সংগঠন 'সিমি'র ইমরান থেকে আসানসোলের খুনী দাঙ্গাবাজ বাবুল সুপ্রিয়ের পৃষ্ঠপোষকতা তৃণমূল কংগ্রেস করে এ রাজ্যে। সম্প্রীতির মুখোশ খসে পরে তৃণমূলের নিকৃষ্ট মুসলমান বিদ্বেষী মুখটা বাইরে চলে এসেছে আরো একবার- যেখানে RSS নেতার সমকামী কন্যা মুসলমান মৌসম নূরের স্থলাভিষিক্ত হয়। এর পরেও মুসলমান সমাজকে তারা বলে- বিজেপিকে নাকি তারা আঁটকাবে! RSS এর এ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন তৃণমূলই করে দিলে, বিজেপির দরকারটা কোথায়?

🔰 SIR ও মমতা ব্যানার্জী- টাইমলাইন 🔰

✅ SIR আমার মৃতদেহের উপর দিয়ে হবে 
✅ একটা নামও বাদ দিতে দেব না 
✅ একটা বৈধ নাম বাদ দিতে দেবো না

❌ কিন্তু একবারও বলেনি- একটাও অবৈধ নামও থাকতে দেবো না। ❌

উল্টে কি বলেছেন? প্রি SIR যে ভোটার তালিকা অর্থাৎ ২০২৪ সালের যে ভোটার তালিকা সেই তালিকা অনুযায়ী ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন করতে হবে। এটা শুধু মুখে বলেছেন এমনটা নয়, রীতিমত সুপ্রিম কোর্টের হলফনামায় লিখিতভাবে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে এফিডেভিট দিয়ে।

দেশের বারোটা অঙ্গরাজ্যে SIR প্রক্রিয়া কাজ শুরু হয়েছিল, তার মধ্যে কেরল, তামিলনাড়ু জাতীয় বিজেপি বিরোধীদের রাজ্য, এমনকি বিজেপি শাসিত গুজরাট রাজস্থান মধ্যপ্রদেশ ছত্রিশগড় এর মত বড় রাজ্যের প্রত্যেকের পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তাহলে শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গে তালিকা এইরকম আধা-খেঁচড়া অবস্থায় পড়ে আছে কেন?

সাদা খাতার BLO, তৃনমূলের পে রোলে থাকা ডেটা এন্ট্রি অপারেটর দিয়ে সমস্যা তৈরি শুরু করেছিলো। যত সময় গেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের পায়ের তলার মাটি সরে যেতে শুরু করেছে; ততই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অসহযোগিতা শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। দিন যত গড়িয়েছে, পর্যাপ্ত সরকারি অফিসার না দেওয়া, জেলা প্রশাসন ও AERO পর্যায়ে পূর্ণাঙ্গ অসহযোগিতা শুরু করেছিলো। আদালতের নির্দেশের আগে অবধি চূড়ান্ত অসহযোগিতা করা হয়েছে ও হচ্ছে। যার ফল আজকে এরকম একটি অসম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে। প্রত্যেকটি বৈধ নাগরিকের আজকের এই অসহনীয় পরিস্থিতির মুখে পড়ার দায় যতটা নির্যাতন কমিশনের তার চেয়েও বেশী দায় এক ও অদ্বিতীয় শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের। সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য রাজ্যের জনগণের একটা বড় অংশকে নাগরিকত্বের প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। 

সীমান্ত অঞ্চলে বিজেপি যতটা বিপাকে পড়েছে, গোটা রাজ্যজুড়ে তৃণমূল তার থেকেও অনেক বেশি বিপদে পড়েছে। SIR নিয়ে শুরুতে অতি উৎসাহ দেখাতে গিয়ে যখনই বিজেপি বুঝতে পেরে গেছে যে, অবৈধ ভোটার বাদ গেলে প্রকৃতপক্ষে গাড্ডায় পড়তে চলেছে তৃণমূল, আর ২ কোটি রোহিঙ্গা জাতীয় ফাঁপা মিথ্যা কথার জন্য তাদেরকে থুতু চেটে খেতে হবে, তখনই 'বিষাক্ত ভোঁদর' শুভেন্দু মিডিয়া থেকে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে দু-সপ্তাহ আগেই। এমনকি কোলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে হওয়া ২৭শে ফেব্রুয়ারি বিজেপির বড় পর্যায়ের দলীয় মিটিং-এ অবধি শুভেন্দুকে আনেনি তারা, পাছে অতীতের মিথ্যার দরুন অপ্রস্তুতে পরতে হয়।

তাই করজোড়ে অনুরোধ- তৃণমূলের পাতা ফাঁদে পা দিয়ে নিজের ও পরিবারের সর্বনাশ ডেকে আনবেননা। 🙏

বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

সাসপেন্ডেড AERO এর উপরে, মমতার এঁটো দরদ কিসের ইঙ্গিত?

 


মমতা ব্যানার্জীর তৃণমূল কংগ্রেস ভুতুড়ে ভোটারওয়ালা ২০২৪ এর ভোটারলিস্ট দিয়ে ২০২৬ এর নির্বাচন করতে মরিয়া ছিল, তাই গোটা SIR প্রক্রিয়াটাকে গুলিয়ে দিতে অধিকাংশ জালিয়াতি অপকর্ম করেছে। তারা জানে আসন্ন নির্বাচনে জালিয়াতি না করলে সরকার টিকিয়ে রাখতে পারবে না।

SIR হেয়ারিং এর শুরু থেকেই এই কথাগুলো রোজ রোজ চেঁচিয়ে বলেছি- ইচ্ছাকৃত নামের ভুলগুলো মুরুলীধর স্ট্রিটের কেশব ভবন বা দিল্লির অশোক রোডে নির্যাতন কমিশনের সদর দপ্তর থেকে কেউ করেনি। বিজেপি ও নির্যাতন কমিশন উভয়েই শঠ, দুবৃত্ত, প্রবঞ্চক, মিথ্যুক, কিন্তু বাংলাতে এদেরকে ছাড়িয়ে গেছে শাসক তৃণমূল। সাদা খাতা জমা দেওয়া 'শিক্ষক' বাহিনী, বাহুবলী BDO দের দল ও তোলামূলের পে-রোলে থাকা ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এর ত্রিবেণী সঙ্গমের গর্ভে, i-Pac এর ঔরসে গোটা SIR ম্যাসাকারটা সংগঠিত হয়েছে। যাবতীয় হয়রানির মাস্টারমাইন্ড তৃণমূল কংগ্রেস, সাপ হয়ে কেটে ওঝা হয়ে ঝাড়তে এসেছে। না হলে কমিশন যদি দুর্নীতির দায়ে কাউকে সাসপেন্ড করে, মমতা ব্যানার্জীর এঁটো দরদ কেন উথলে পড়ছে? কারণ পরিষ্কার, তারা মমতা ব্যানার্জীর নির্দেশেই ইচ্ছাকৃত এই ভুলগুলো করেছিল।

এ বিষয়ে না আলিমুদ্দিন স্পষ্ট করে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে আজ অবধি, না তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার সর্বজ্ঞ 'আদর্শবাদী' বাম্বাচ্চাগুলো এ নিয়ে হল্লাচিল্লা করেছে, যতটা তারা দীপ্সিতার জামাত বধে উল্লসিত ছিলো। জেনেরিক উদগান্ডু হলে তাদের ভাবনাও আঁটকে যায় ভক্তির পর্দার মাঝে। যেহেতু শুরু থেকে সাদাকে কালো আর কালোকে সাদা শেখানো হয়েছে, তাই যতই আসল 'সাদা-কালো'র প্রভেদটা কেউ চোখে আঙুল দিয়ে দেখাক, এরা গান্ধারির মতো স্বেচ্ছা অন্ধ সেজেই থাকবে।

চুরি দুর্নীতির পাঁকে ডুবে রয়েছেন মমতা ব্যানার্জী। ফলত তার রাজনৈতিক চরিত্রের image cleansing এর জন্য এখন রোজ ‘প্যাথলজিক্যাল মিথ্যা’ সম্বলিত আলফাল বকবেন, মৃত মানুষদের নিয়ে মিথ্যাচার করবেন, নতুন ভড়ং ধরবেন, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ করবেন, ইনশাল্লাহ মাসাল্লাহ বিষ্ণুমাতা জয় জহর ইত্যাদি বকবেন, ছোটখাটো দাঙ্গা লাগাবেন ধর্মীয় মেরুকরণের জন্য, বিরোধী দল ভাঙানোর চেষ্টা করবেন, মিথ্যা মামলাতে ফাঁসিয়ে বিরোধী স্বরকে জেলহাজতে পাঠাবেন- ওনার গোটা রাজনৈতিক জীবনটাই এই কটা স্তম্ভের উপরে দাঁড়িয়ে আছে। পাশাপাশি RSS ও চাইবে না তাদের তাদের ‘দেবী’র গদি টলে যাক। মুসলমানকে SIR এ ভয় দেখানো যায়নি, তাই আতঙ্কিত গোটা তৃণমূল নেতৃত্ব অলআউট আক্রমণে গিয়ে দাঁতনখ দিয়ে ছিঁড়ে খাবার সব ধরণের অগণতান্ত্রিক অসংবিধানিক অপচেষ্টা চালাবে।

এখনও সময় আছে, SIR এ হেয়ারিং এর নামে এই হয়রানি ও তাতে নাম বাদ যাওয়ার মাস্টারমাইন্ড যে তোলামুল, সেটাকে অষ্টপ্রহর সঙ্কীর্তন এর মতো রোজ জনগণের সামনে বাজানো। এসবের বদলে মমতা ব্যানার্জী সাংবাদিকদের কী বলেছেন, সেই নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বস্তুত ওনারই প্রচার করে যাচ্ছে সমস্ত বিরোধী শিবির। এখনও বামাতি লালবাবুদের দল ‘সেটিং’ তত্ত্বের বাইরে বের হয়ে বলতে পারছে না- কোথাও কোনো সেটিং নেই, কেউ বিজেমূল নয়। 

বামেদের গোটা ন্যারেটিভ ‘সেটিং আর বিজেমূল’ তত্ত্বে আঁটকে রয়েছে, যা গত ১০ বছর ধরে লাগাতার ফেল মেরেছে, জনগণ এটা খায়নি প্রত্যাখ্যান করেছে। আসলে TMC ও BJP এরা এক মায়ের পেটের দুই ভাইবোন, এদের একটাই বাপ- RSS, ভাই ভাই-এ বা ভাইবোনে সেটিং হয় না, ওটা ওদের নাড়ির টান। বাকি সবটাই তাদের ঘরোয়া খুনসুটি কিম্বা পারিবারিক কলহ। ওরা কোনো ভিন্ন সত্ত্বা নয়। সেটিং শব্দে আসলে ওদের আলাদা করে দেওয়াই হয়, বিজেমূল নামের হাঁসজারু সন্ধি ওদের অভিন্ন সত্ত্বাকে অস্বীকার করে। গোটা ন্যারেটিভটাই ভুল ‘লাইন’।

ক্রিকেটে আপনি যদি ‘লাইন’ মিস করেন, লোপ্পা ছয় মারার বলেও খোঁচা লাগিয়ে ক্যাচ তুলে দিতে পারেন কিম্বা তিনকাঠি উড়ে যেতে পারে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ স্টেডিয়াম আপনার সমর্থকে ভর্তি, টিভির ওপারে আরও কয়েক কোটি আপনার জয়ের প্রতাশ্যাতে ক্ষণ গুনছে। রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশ, প্রতিপক্ষ চোটগ্রস্থ, আপনি ধড়াচুড়ো পরে রয়েছেন, প্যাড গ্লাভস হেলমেড এ্যাবডোমেন গার্ড সব রয়েছে। বাউন্ডারির বাইরে সাজঘরে দেওয়ালে আপনার সোনালী অতীতের দেওয়ালচিত্রের নিচে বসে থাকা বাঘা বাঘা এ্যানালিস্ট, কোচ, ট্রেনার, ব্রডকাস্টার সবাই প্রস্তুত। কিন্তু ‘লাইন’ মিস করে আপনি আত্মাহুতি দিলে, এই ম্যাচে আপনার কোনো সুযোগ নেই, এই যাত্রাতেও আপনার নামের পাশে ‘আর্যভট্ট’ই লেখা থাকবে। 

আমাদের নীতি, আমাদের প্রয়োজনে সেটার মাপকাঠি আমরা ঠিক করব প্রতিবার, বারংবার। এটা জোর দিয়ে বলতে কুন্ঠা কীসের?

কে গেল কিম্বা আর কে কে যাবে, ও সব ভবিতব্যের উপরে ছেড়ে দিন। যারা যাবার তারা ইতিমধ্যেই মানসিকভাবে চলে গেছে, ধরে বেঁধে রাখলে সেটাতে বড়জোর কিছুদিন লাশটা থাকবে, উল্টে আরও বেশী অন্তর্ঘাতের সুযোগ পেয়ে যাবে তাদের শয়তানি মস্তিষ্ক। গু খাওয়া গরুকে আপনি বেশিদিন ঘাস বিচালি খাওয়াতে পারবেন না, সে দড়ি ছিঁড়ে হলেও গু খেতে পালাবে। তৃণমূল চাইছে অপ্রয়োজনীয় ইস্যুতে বামেদের ফোকাস টলে যাক, তাই চুরির দায়ে জেলখাটা তাদের মূর্খপাত্র নীতি নৈতিকতার জ্ঞান দিচ্ছে, তাবড় মিডিয়াকুলও ঠেকা নিয়ে রেখেছে- কতটা হেলে গেলে বামেদের ‘নৈতিকতা’ কতটা টোল খাবে ইত্যাদি, যেন তাদেরকে নৈতিকতার চ্যুতির ঠিকেদারি দেওয়া আছে। সতীদাহ প্রথায় যেমন মৃতের স্ত্রীদের জ্যান্ত চিতায় জ্বালিয়ে দেওয়া হতো ধর্মীয় আদর্শের কথা বলে, একই ভাবে নীতি আদর্শের নামে বামকে শূন্যতেই রেখে দেওয়ার পবিত্র কর্তব্যে নিয়োজিত  এই দালাল মিডিয়া ও বিশ্বমাচাদো বুদ্ধিজীবিরা।  

আপনারা দ্রুত স্থির করুন করুন- আপনাদের ফোকাস ঠিক কীসে থাকবে আর কোন ‘লাইন’, কোন ন্যারেটিভ আপনাদের প্রচারে গুরুত্ব পাবে। আপনারা ঠিক করুন কোনটা আপনাদের নীতি আর কোনটা আপনাদের আদর্শ। আপনারা যেটাতে সীলমোহর দেবেন, সেটাই সঠিক- মিডিয়ার ঠিক করে দেওয়া পথে হেঁটে সম্ভাবনাকে ভুঁইয়ে মুড়িয়ে রাখার মাঝে আদর্শ নীতি নৈতিকতা বেঁচে থাকবে না। আদর্শ আর নীতি কপচিয়ে সতী হয়ে চিতায় উঠলে, বিপুল কর্মী সমর্থকেরা আপনাদের সাথে সহমরণে যাবে, অনাথ হবে শ্রেণি গরিবগুর্বের দল। মিডিয়া আবার তার রমনের সাথী খুঁজে নেবে আপনাকে চিতায় পাঠিয়ে। 

দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই মতো প্রচার শুরু করে দিন, হাতে সময় নেই আর।





বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদঃ সন্ত্রাসী তৈরির আঁতুড়ঘর

 


লেখকঃ রূপ ভট্টাচার্য

ন্যুরেমবার্গ দেখলাম, অবশ্যই সিনেমাটা, জায়গাটা গিয়ে দেখার সৌভাগ্য হয়নি এখনও। ডিসক্লেইমার দিতে হয় কারণ অনেকে এখন এতটাই ছেলেমানুষ যে ভেবে বসবে, আমি সত্যিই সত্যিই গেছি জায়গাটায়, ঠিক যেভাবে ভেবে নেয় তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে লড়ছে।

এই জিনিস আদিকাল থেকে হয়ে আসছে। ব্রিটিশ, ফ্রেঞ্চ সহ ইউরোপের তাবৎ বড় শক্তি মনে করেছিল জার্মানিতে নাৎসিদের উত্থান তেমন সমস্যার নয়, মনে করেছিল যে হিটলার, সোভিয়েত দেশ আক্রমণ করলে ওদেরই ভালো, নবজাতক সমাজতন্ত্রের অঙ্কুরেই বিনাশ হবে, শুরু হয়েছিল অ্যাপিসমেন্ট পলিসি বা বাংলা মাধ্যমের ইতিহাস বইতে লেখা “তোষণনীতি”। জার্মানির মধ্যে যেটা হচ্ছিল সেটা আরো ভয়ানক। ইউরোপের অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে যে দম ফেলার সময়টুকু থাকে, দেশের মধ্যে তো সেটা থাকেনা তাও তৎকালীন জার্মানির কমিউনিস্ট, ট্রেড ইউনিয়নিস্ট, সোস্যালিস্ট সবাই নাৎসিদের এই উত্থানকে তুচ্ছজ্ঞান করেছিল এটা জেনেও যে, এই শক্তি ক্ষমতায় আসলে প্রথম আক্রমন হবে তাদেরই উপর। যে মার্ক্সীয় বিশ্বদর্শন বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে, যার মাধ্যমে সমাজ বিশ্লেষণ মোটামুটিভাবে অভ্রান্ত সেই তত্ত্বের দিকপাল তাত্ত্বিকেরা সেই সময়ে জার্মানিতে ছিলেন, তাও তারা ধরতে পারেননি কোন উচ্চকোটির অপশক্তি তার সর্পিল দেহ ঘষে ঘষে, অতি সন্তর্পনে জার্মান রাষ্ট্রযন্ত্রের দিকে এগোচ্ছে।

মানুষ ভুল করে কিন্তু মানুষই সেই ভুল শুধরে নিয়ে এমন একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয় যে নতুন ইতিহাস রচিত হয়। নাৎসি শাসিত জার্মান রাইখের বিধ্বংসী সেনার নাম ছিল ওয়ারমাখ্ট, যাদের যুদ্ধনীতি ব্লিৎজক্রিগ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর দিকে ছিল একটা দুঃস্বপ্নের নাম। জার্মান প্রযুক্তির বলে বলীয়ান প্যানজার (যুদ্ধ ট্যাংক) বাহিনীর প্রবল গোলাবর্ষণ, সাথে লুফ্তওয়াফার (বিমান বাহিনী) আকাশ বাতাস ফালাফালা করে দেওয়া গুলিবর্ষন এবং তার পরে প্রায় সাথে সাথেই ইনফ্যান্ট্রি অ্যাসল্ট, এই হচ্ছে ব্লিৎজক্রিগ যুদ্ধ পদ্ধতি। 

এই অজেয় সেনা নিয়ে, একের পর এক ইউরোপের স্বাধীন দেশ দখল করে, ইংল্যান্ড ফ্রান্সকে পায়ের নিচে চেপে, হিটলার আস্তে আস্তে এগোচ্ছিল তার স্বপ্নের থার্ড রাইখের (জার্মান সাম্রাজ্য) দিকে, স্বপ্নের বেলুন ফাটল পোল্যান্ড ক্রস করার পর। অতি বড় কনজারভেটিভও ঢোক গিলে স্বীকার করবে যে নাৎসি দানবকে কে কবর চেনালো, স্বীকার করবে সে হল সদ্যজাত USSR, সোভিয়েত দেশ, লেনিন স্টালিনের সোভিয়েত। যে কমিউনিস্টদের খুন করে, হিটলার, গেরিং, হিমলার, গোয়েবেলসদের ক্ষমতা দখল, সেই কমিউনিস্টদের সোভিয়েত লাল ফৌজ বার্লিন ধ্বংস করে ভাঙা রাইখস্ট্যাগের চূড়ায় উড়িয়ে দিল লাল ঝান্ডা, ঠুকে দিল শেষ পেরেক নাৎসিদের কফিনে। ইতিহাস তার বদলা নিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে কোনো সিনেমা, বা ডকুমেন্টরি বানানোর সময় পুঁজিবাদী মিডিয়াকে একটু বেশি দক্ষতার সাথে কাজ করতে হয়। তারা ভালোই জানে, হিটলার, মুসোলিনি, তোজো ইত্যাদি সবার জন্ম ওদেরই গর্ভে কারণ সাম্রাজ্যবাদ হচ্ছে পুঁজিবাদের শেষ স্তর। নিজের দেশে জিনিস বেচা যাচ্ছেনা, ইকোনমি সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে, সেটা কাটানোর জন্য প্রাচ্যের কৃষিপ্রধান জাতিগুলোকে জোর করে নিজের কন্ট্রোলে নিয়ে আসা। কে করেনি এই কাজ? ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন সবাই উপনিবেশ করেছে, লুঠ করেছে অন্য দেশ। এই সব দেশ মিলিত ভাবে বা একা একাই যথেষ্ট স্বেচ্ছাচার করেছে, খুন, ডাকাতি করেছে, যার ফলে ঘুমন্ত দানব জেগে উঠেছে। তাই যুদ্ধে খেলাটা ঘুরেছে যখন সেই দানব এসে দাঁড়িয়েছে স্টালিনগ্রাদে, মুক্ত মানুষের ফৌজের সামনে, যাদের কিছু হারানোর নেই, যারা মানবিকতার সবচেয়ে পবিত্র আবেগে একজোট হয়েছে আর সেটা হল ভালোবাসা। আচার্য ব্রহ্মানন্দ পারেনি বিক্রমের দিকে তাকাতে কারণ সে ছিল নিষ্পাপ, অজাতশত্রু। এই জিনিস খুব ভালো করেই জানে পুঁজিবাদী মিডিয়া, তাই এইসব সিনেমায় যখন নিজেদেরকে হিরো হিসেবে দেখাতে যায়, প্রাণপণ কৌশলে কয়েকটা জিনিস বাদ দেয়।

ন্যুরেমবার্গ দেখে ভালো লাগলো, কারণ গোটা সিনেমাটা যে ন্যারেটিভের উপর দাঁড়িয়ে অর্থাৎ, মানুষের ভুলেই দানব তৈরি হয় আর সেই মানুষই আবার ভীষণ গোলায়েথের সামনে ক্ষুদ্র কিন্তু মূর্তিমান শমনরূপে ডেভিড হয়ে এসে দাঁড়ায়, সেটা তৈরিই হয়েছে এক নবজাতক সমাজতন্ত্রের অনুগ্রহে। ভালো লাগার একটা কারণ হচ্ছে, পরিচালক থেকে প্রযোজক এই বিষয়টা ভালো করেই জানেন যে যখন বিচারক জ্যাকসন জুরি প্যানেলের দিকে ফিরে বলছেন যে সমস্ত দেশকেই আগ্রাসনের রাজনীতি থেকে সরে আসতে হবে, আইনের শাসনের প্রতি দায়বদ্ধ হতে হবে তখন প্যানেলে বসা সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিনিধি মনে মনে হয়ত বা মুচকি হাসছেন কারণ সোভিয়েত ইউনিয়ন একমাত্র মিত্র শক্তি যারা নিজেদের সাম্রাজ্য বাঁচানোর দায় নিয়ে যুদ্ধে যুক্ত হয়নি, প্রকৃতপক্ষেই হয়েছিল পিতৃভূমি রক্ষার দায় নিয়ে আর ফ্যাসিবাদের হাত থেকে পৃথিবীকে মুক্ত করার জন্য। 

ছবির প্রযোজক এটাও জানেন, গত শতাব্দীর শেষ থেকে পুঁজিবাদ, বিশ্বকে একমেরু করার জন্য কি পরিমাণ অর্থ আর শ্রম ব্যয় করেছে। সোভিয়েত সহ প্রায় সব সমাজতান্ত্রিক দেশে ঝামেলা করিয়ে, গোলাপী বিদ্রোহ, গুমখুন, বেআইনি আন্তর্জাতিক ট্রায়াল ইত্যাদি সব রকমের পদ্ধতি ব্যবহার করেছে যাতে সমাজতন্ত্রের বদলে বুর্জোয়া গণতন্ত্রকে স্থাপন করা যায়। আজকের দিনে এই একমেরু দুনিয়া আরেকটা দানবের আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিণত হচ্ছে এবং তাকে ঠেকানোর জন্য আর কোনো সোভিয়েত বেঁচে নেই। জাস্টিস জ্যাকসন সিনেমায় বলছেন, আমরা কোর্ট মার্শালের বদলে ট্রায়াল করছি কারণ আমরা চাইনা আমাদের কোনো ভুলে এই অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি হোক। 

জ্যাকসন উকিল মানুষ, জানতেন না যে আইনি ট্রায়াল এই রোগের একটা তুচ্ছ সাময়িক উপশম মাত্র। যে বিশ্ব অন্যায় অন্যায্যতাকে মান্যতা দেয়, বৈষম্যকে ভবিতব্য হিসেবে প্রতিপন্ন করে, বড়লোকের হয়ে কাজ করে, সেই বিশ্বে বারবার আর্থসামাজিকভাবে বিপর্যস্ত, বিপথুমান, অতি ক্ষুব্ধ যুবক হিটলার হিসেবে তৈরি হবে।


মিডিয়া প্রোপ্যাগান্ডাঃ মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী হাতিয়ার


আগামী শতকে যখন আজকের ইতিহাস লেখা হবে বিশ্লেষণের আলোকে, একটাই মূল ও সার সত্য হিসাবে উঠে আসবে- মিডিয়ার চেয়ে ক্ষতি আর কিচ্ছু করেনি সমকালীন সমাজকে, বিশেষ করে বিংশ শতের শেষ ও একবিংশ শতকের প্রথম দেড় দশক, মোট ৩০ বছর। বিষাক্ত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আর তাদের পেটোয়া পুঁজিবাদী প্রতিটা ল্যাসপেন্সারকে বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠা করিয়েছে ক্রমাগত মিথ্যা প্রচারণা আর প্রোপাগাণ্ডা দিয়ে। সংবাদপত্র, রেডিও, নিউজ চ্যানেল- এই ট্রায়ো দিয়ে জনমত তৈরি করেছে। মার্কিন কলোনিয়ালিজম এর মূল অস্ত্র পরমানু বোমা, বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৭০০ সেনাঘাঁটি, আধুনিক রণতরী কিম্বা বোমারু বিমান নয়, মার্কিন ইম্পিরিয়ালিজমের মূল অস্ত্র হলো মিডিয়া। 

নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, Fox News, CNN, MSNBC, NBC, CBS, ABC - রাজনৈতিক বিশ্লেষণ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP), নিউস কর্পোরেশন (রুপার্ট মারডক), ডিজনি, ওয়ার্নার ব্রাদার্স, ইত্যাদি এগুলো সব মার্কিন মিডিয়া জায়ান্ট। কলোনিয়াল সাম্রাজ্যবাদীদের বাবা অর্থাৎ ইউরোপের সংমাধ্যমগুলো আরো বড় মিথ্যুক, যেমন BBC, AFP, রয়টার্স, গার্ডিয়ান, ল্যা মঁদ বা ডয়েচে ভেলে প্রত্যেকে শয়তান। আমাদের তৃতীয় বিশ্বের প্রতিটা সংবাদ সংস্থার, আন্তর্জাতিক সংবাদের মূখ্য সোর্স এই উপরের প্রতিষ্ঠানগুলোই। এই কারনে ইরাণের কোথায় অশান্তি হচ্ছে সেটা আপনার কানে সর্বক্ষণ বাজানো হলেও, আমেরিকাতে যে রীতিমত গৃহযুদ্ধ চলছে ICE এর ধরপাকরের জন্য, সে খবরের কিছুই জানেননা আপনি। কারন, প্রোপাগান্ডা মেশিনারি আপনাকে জানাতে দিতে চাইনি। আমাদের সংবাদ সংস্থা গুলোর কাছে বিকল্প কোনো অপসনও নেই যেখান থেকে খবর সংগ্রহ করবে। এটাই মিডিয়ার খাদ্যশৃঙ্খল, এভাবেই গত ১০০ বছর ধরে চলে এসেছে, সাম্রাজ্যবাদীরা যেভাবে চেয়েছে যেমনটি চেয়েছে, সেভাবেই প্রচার করেছে। সোভিয়েত খারাপের প্রচার, উত্তর কোরিয়া, ইসলামোফোভিয়া, ‘ফিল্টি’ ভারত, কিম্বা অসভ্য আফ্রিকা- যাকে যা সাজাতে চেয়েছে, মিডিয়ার দ্বারা তারা সেটাই করিয়ে ছেড়েচে। তারা বলেছে ন্যাংটা হয়ে যাওয়া আধুনিকতা, বাকি বিশ্ব সেটাকেই সত্য জেনেছে।   

আজকে সোস্যালমিডিয়া পশ্চিমাদেরই তৈরি, এই অস্ত্র ব্যবহার করেই তিউনিসিয়া থেকে আরব বসন্ত শুরু করেছিলো, যার দ্বারা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে শ্মশান বানিয়ে ছেড়েছে। ইরাণের মাটিতেও যাবতীয় অশান্তি এই সোস্যালমিডিয়া দিয়েই শুরু করেছিলো মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, ইরান সরকার ইন্টারনেট কেটে দিলেও তারা স্টারলিঙ্ক ডিভাইস দিয়ে সন্ত্রাস জারি রাখার প্রচেষ্টা রেখেছিলো। চিনা প্রযুক্তি, ইলন মাস্কের স্টালিঙ্কের লেজ কেটে দিতে, তবে লাথ খাওয়া ঘেয়ো কুত্তার মত মুখ পুড়িয়ে ফিরেছে CIA  ও মোসাদ বাহিনী। সুতরাং, মিডিয়ার সাহায্য ছাড়া মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ পুরোপুরি অচল, যেমন গোদী মিডিয়া ছাড়া বিজেপি অস্তিত্বহীন। 

বাকি বিশ্বে সোস্যালমিডিয়ার দৌলতেই আজকের জামানাতে প্রিন্ট ও টিভি মিডিয়া পথে বসেছে। মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার সাজানো মিথ্যার বেসাতিতে ফর্দাফাই করে ছিঁড়ে দিচ্ছে, প্রতিটা মুহুর্তে তারা ধরা পরে যাচ্ছে। জবাবদিহি করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে। ইচ্ছামত ন্যারেটিভ বানাতে পারছেনা, সত্য এসে এদের মিথ্যা ফানুস ফাঁসিয়ে দিচ্ছে। নিজেদের তৈরি করা অস্ত্রেই নিজেরা কুপোকাত হয়ে গেছে। ফলত, মিডিয়া ব্যবসা ও এখান থেকে পেট চালানো বেশ্যা সাংবাদিকেরা আজ বাটি হাতে ভিক্ষার পাত্র নিয়ে বসে পরেছে সরকারের পায়ের নিচে। 

আজও তারা সেটাই করছে যা গত ১০০ বছর ধরে করে এসেছে- ক্ষমতার দালালি, পশ্চিমাদের লিখে দেওয়া স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী লাগাতার প্রচার। সেদিন মানুষ এদের অন্ধ বিশ্বাস করত, আজ সার্কাসের মত করে উপভোগ করে। তাদেরই তৈরি টুলকিট লাগাতার যেমন মিথ্যা প্রোপাগান্ডা পোষ্টগুলোকে সামনে আনে, তেমনই কুকি সিস্টেম সেই মিথ্যার পালটা সত্যকেও টাইমলাইনের ফিডে এনে হাজির করে দেয়। ফলে মানুষের সামনে একই সাথে সত্য ও মিথ্যা মুখোমুখি এসে ধরা দেয়। জ্ঞানবানেরা মিডিয়ার এই পক্ষপাতদুষ্টতা ও বিকিয়ে যাওয়া কলমকে দ্রুত ধরে ফেলে, এই জন্য আজ মেইনস্ট্রিম মিডিয়া পথে বসেছে, তাদের গণেশ উল্টানোর দশায় রয়েছে।

মিডিয়ার পাপ ধরতে গেলে রোজ ১০টা করে আর্টিকেল আগামী ১০ বছর ধরে লিখলেও শেষ হবেনা। পুঁজিপতি, এলিট আর ক্ষমতাবানের মুখপত্র হয়ে ছেয়ে রয়েছিলো এই মিডিয়া। সাধারণ মানুষের কথা ততটুকুই এরা ছাপতো, যতটুকু না ছাপলে মুখোশ খুলে যাবে। এই মিডিয়াই করোনার আতঙ্ক বিক্রি করেছিলো, মৃত্যুর খবর রোজ প্রতি ঘন্টায় আপডেট করে 'ভ্যাক্সিন' বিক্রির ব্যাবসার বিজ্ঞাপন করেছিলো। এটা সামান্য উদাহরণ মাত্র। আজ এদের তৈরি নিপা ভাইরাস বাজারে খায়নি। বাংলাদেশের মিডিয়ার দিকে চেয়ে দেখুন, ওদের মিডিয়া T-20 বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নিজেদের জনগণকে কেমন ‘চদু’ বানাচ্ছে। লাগাতার ভারত বিরোধী জনমত তৈরিতে মিডিয়াই তো মূল ভূমিকা পালন করেছে। দুই কোটি রোহিঙ্গা আর ২৬ লাখ ভারতীয়- হিসাবে খুব পার্থক্য রয়েছে কি? দুটো আলাদা আলাদা দেশ, কিন্তু মিথ্যার আকৃতি এক ছাঁচে তৈরি। যেমন গ্যাস চেম্বারে ৬০ লক্ষ বিশেষ ধর্মের জনগণকে হত্যার গল্প বাজারে এসেছিলো ইউরোপে, নন্দীগ্রামের রসুলপুর নদীর কুমিরের মতই। 

মিডিয়ার চেয়ে হারামি ও শয়তান আর কোনো অভিশাপ আধুনিক সমসাময়িক সমাজের উপরে আসেনি। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ থেকে মোদী- সব এই মিডিয়া প্রোপাগান্ডার ফসল। প্রায় ৮০% হিন্দুর দেশের ৩৪% হিন্দু জনগণ বিশ্বাস করে 'হিন্দু খতরেমে হ্যায়', শুধু মাত্র মিডিয়ার প্রচারণার ফলে- বলা ভালো গোদী মিডিয়ার সৌজন্যে। এই মিডিয়াই আগামী বিধানসভা ভোটে ঝাঁপিয়ে পড়বে বাইনারি তৈরি করতে, অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের দাবীকে চাপা দিয়ে মন্দির মসজিদ গরু শুয়োরে ব্যতিব্যস্ত করে রেখে দেবে। কোনো গালিগালাজই এদের জন্য যথেষ্ট নয়।

একটা বোমা একবার মানুষ হত্যা করে ২০০ হোক বা ৫০০ জন। যেকোনো মৌলিবাদী সন্ত্রাসী জঙ্গি হামলাতে নির্দিষ্ট এলাকার নির্দিষ্ট একটা মানুষ মারা যায়। মিডিয়ার সন্ত্রাসী প্রোপাগাণ্ডার ফলে যুগ যুগ ধরে মিথ্যাচার, ঘৃণা আর অবিশ্বাস ছড়ানোর ফলে- গোটা সমাজ পচিয়ে শেষ করে দেয় জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে। মিডিয়ার বাক্য বোমায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম মানসিকভাবে বন্ধ্যা হয়ে যায়। এরা বিশ্বাস করতে শেখে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ অজেয়, তারাই একমাত্র পৃথিবীর ভালো চায়, এরা শেখে ৭২ হুর প্রাপ্তিই জীবনের আল্টিমেটাম লক্ষ্য, এরা শেখে গোমুত্রেই জীবনের সারবত্তা লুকিয়ে আছে। মিডিয়াই শিখিয়েছে লোনের পাঁকে ডুবে থেকে, ধার করা জীবনের নাম সফলতা। এরা শয়তানকে ঈশ্বর বানায়, ঈশ্বরকে শয়তান। মিডিয়া জনগণের কল্যাণের জন্য নয়, সাম্রাজ্যবাদী পুঁজিবাদীদের মূল হাতিয়ার ছিলো। হ্যাঁ ছিলো, কারন মেইনস্ট্রিম মিডিয়া আজ তার নিজের পাপের ভারেই ভেন্টিলেশনে চলে গেছে।

গণতন্ত্রের যে ধারা আজ বিশ্বজুড়ে টিকে আছে, সেটা মার্কিনীদের ‘এপস্টিন’ মানবতাবদের অনুপ্রেরণাতে তৈরি। এরাই লাদেন, আলকায়দা, সাদ্দামকে তৈরি করে, আবার এরাই সন্ত্রাসের নামে এদের নিকেশ করে শান্তির দূত সাজে। এদের দাস হলে তুমি যা খুশি করো সব সিদ্ধ, নতুবা গণতন্ত্রের নাম করে ‘ভিয়েতনাম’ বা ‘ইরাক’ বানিয়ে দেবে। মাত্র ১০০ বছরে গণতন্ত্রকে পচিয়ে দিয়েছে এই মিডিয়া। গণতন্ত্রের নামে বিশ্বজুড়ে যা চলছে, সেটারও আপডেট তথা নবায়ন প্রয়োজন। নতুবা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে অন্ধকারে অপহরন করলে, বা কোন দেশ কোথা থেকে তেল কিনবে সেটা মোড়ল রাষ্ট্র ঘোষণা করে যখন, তখন এই গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রশ্ন না উঠলে নিজের সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। একে পচাবার একমাত্র মূখ্য কারিগর গণতন্ত্রেরই চতুর্থ স্তম্ভ- মিডিয়া।

বাকি তিনটে স্তম্ভের কী অবস্থা রয়েছে মিলিয়ে নিন। বিশ্বের সর্বত্র দেখার দরকার নেই, সামান্য নিজেদের রাজ্যটুকুতে দেখুন, তারপর নিজেকে প্রশ্ন করুন।

১ নং স্তম্ভ- আইনসভা। এই গুলো নাচিয়ে গাইয়ে মূর্খ অশিক্ষিত সমাজবিরোধী দিয়ে ভর্তি। কেন্দ্র হোক বা রাজ্য, সর্বত্র এক চিত্র। প্রায় সকলে মিথ্যুক, সকলে চোর। মানুষই এদের ভোট দেয় মিডিয়ার বাইনারিতে ফেঁসে গিয়ে। ২ নং স্তম্ভ- বিচার ব্যবস্থা। পুরোপুরি পচে না গেলেও- আস্থার উপরে ভরষা করে রামমন্দিরের রায় আসে আজকাল। অবসরের পরেই শাসকের দলে নাম লেখায় বিচারকেরা। যাবজ্জীবন দন্ডে দণ্ডিত ধর্ষক রামরহিম নিয়মিত ছাড়া পেলেও বিনা বিচারে উমর খালিদ বন্দি থাকে অর্ধ দশক। শাসকের ইচ্ছামত মামলা ঝুলিয়ে রাখা যায়, DA দিক বা না দিক, আদালত ঠুঁটো জগন্নাথ। আদানির বিরুদ্ধে মামলা শোনার সাহসই নেই আদালতের, কারন সে আইনেরও উর্দ্ধে। কত বলব এমন?

তৃতীয় হলো - পুলিশ ও প্রশাসন। ১৩ পাওয়া পলাতক বিডিও, আর চেয়ারের নিচে লুকানো ঘুষখোর পুলিশ। গণতন্ত্রের মা'কে এরা পতিতাপল্লীতে বেচে দিয়েছে। এদের সম্বন্ধে লেখা মানে নিজেকে নর্দমাতে ছেড়ে দেওয়া। আর শেষ স্তম্ভ হলো এই মিডিয়া। যারা সকল পাপের মা, কারন মিথ্যাচারটা এরাই করে, লাগাতার, বারবার। দাড়ি সুমন থেকে বিজ্ঞ ঘোষাল হয়ে কুণাল ঘোষ কিম্বা ময়ূখ- সামান্য আরামবাগ টিভির চিল্লানোসরাস থেকে বঙ্গ টিভির মহিলাটি, চেয়ে দেখলেই মিডিয়ার চরিত্র ধরা পরে যাবে।

স্বর্গ নরক জান্নাত জাহান্নাম কোনো জীবিত মানুষ দেখেনি, তবে প্রতিটা কঠিন পাপের সাজা জীবদ্দশায় পেয়ে যায় মানুষ ও তাদের সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। মিডিয়া ও তাদের সাথে জুড়ে থাকা প্রতিটা মিথ্যুক খুব দ্রুত কঠিন সাজার মুখে পরবেই, প্রত্যেকে পরবে। কীভাবে পরবে তা মহাকালই জানে। সেদিন তাদের হারামের কামাই এর সম্পদও বাঁচাতে পারবেনা।

মিডিয়াকে ঘৃণা করতে শিখুন ও আমাদের উত্তর প্রজন্মকেও শেখান। এটাই ধর্মের বা ইমানের অন্যতম অঙ্গ হওয়া উচিৎ। 



মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ঘৃণ্য ব্রাহ্মণ্যবাদ, মমতা ব্যানার্জী ও রাজ্যের মুসলমান সম্প্রদায়

 


বিজেপির রাজনৈতিক ন্যারেটিভ কি?


হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়, কারন আগামী দশ বা বিশ বছরের মধ্যেই নাকি গোটা ভারত মোল্লাদের হাতে চলে যাবে, তারা সংখ্যাতে এতো বেশী বাড়ছে। অতএব বিজেপিকে ভোট দাও, RSS কে আর বেশী শক্তিশালী করো।

RSS এর সফট হিন্দুত্ববাদী ও মুসলমানকে অশিক্ষিত হাঙ্গামাবাজ দুধেলগাই বানাবার প্রধান মুখ- মমতা ব্যানার্জী। তোলামূলের আদর্শ বিজেপির ওই উগ্র হিন্দুত্বের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে, আমাকে ভোট দাও নাহলে বিজেপি চলে আসবে। বাইনারি সম্পূর্ণ।

RSS এর ব্রাহ্মণ্যবাদী উচ্চবর্ণের নেতাগুলো উচ্চবর্ণের হিন্দুদের নেতা তো বটেই, পাশাপাশি মুচি চামার বাগদি সহ প্রতিটা অন্তজ্যদের নেতা, আদিবাসীদের নেতা, মুসলমানদের নেতাও তারাই। এর বাইরে নিম্ন বর্ণের কোনো হিন্দু, কোনো মুসলমান, কোনো খ্রীষ্টান যতক্ষণ ব্রাহ্মণ্যবাদীদের লেঠেল ততক্ষণ সে ঠিক আছে; যদি তাদের কেউ নেতা হিসাবে উঠে আসে বা দাবী করে, এই সমগ্র ব্রাহ্মণ্যবাদী সিস্টেম তাকে সাম্প্রদায়িক হিসাবে দাগিয়ে দেবে। উদাহরণ হিসাবে হুমায়ূনই যথেষ্ট।

সমাজে মাত্র সাড়ে তিন শতাংশের কাছাকাছি একটা সম্প্রদায়, মানে যারা এই ব্রাহ্মণ্যবাদী তথাকথিত উচ্চবর্ণ সমাজ- এরা সকল ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করবে। আর এটাই সেকুলারের সংজ্ঞা, এটাই গণতান্ত্রিক সৌন্দর্য, এটাই রাষ্ট্রবাদীতা। কিন্তু একজন মুসলমান বা একজন হরিজন কিম্বা কোনো খ্রীষ্টান যদি সেই দাবী করে, অমনি সে সাম্প্রদায়িক, সে মৌলবাদী। ব্রাহ্মণ তথা উচ্চবর্ণের হিন্দু হলে সে বাই ডিফল্ট সেকুলার। তারা হেমন্ত বিশ্বশর্মা বা অগ্নিমিত্রা পালের মত প্রকাশ্যে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিলেও- রাষ্ট্রযন্ত্র, আইন, মিডিয়া সেগুলোকে তুচ্ছ হিসাবেই গ্রহণ করে। কারন এই সকল প্রতিষ্ঠানের মাথাতেও ব্রাহ্মণ্যবাদীদেরই ভিড়, স্বভাবতই তারা এ বিষয়ে অন্ধ।

এদিকে বামপন্থী সেলিম, হুমায়ূনের সাথে মিটিং করলে, ISF এর সিদ্দিকি ভায়েরা বক্তিতা দিলে, কিম্বা পূর্ব মেদিনীপুরের রুহুল আমিন নতুন JUP দল খুললেই, সে মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক হয়ে যায়। আর এর প্রচারণাটা কে বা কারা করে? ওই ব্রাহ্মণ্যবাদীদের দ্বারা পরিচালিত, তথা ব্রাহ্মণের ঔরসে ‘নিয়োগপ্রথাতে’ যাদের জন্ম, সেই বেজন্মা মিডয়া হাউজ- যেমন আনন্দবাজার, প্রতিদিন, বর্তমান, আজকাল, জি মিডিয়া, রিপাবলিক, এই সময়- এই জাতীয় মিডিয়ার পতিতারা প্রচারের দায়িত্বে থাকে। এর বাইরে কিছু উচ্ছিষ্টভোগী অন্ত্যজ, যারা ব্রাহ্মণ্যবাদীদের পায়ের নিচে থাকাটাকে মোক্ষ মনে করে, তারাও এই প্রোপাাগান্ডার অংশ। এদের ন্যারেটিভ খুব স্পষ্ট- নেতা অবশ্যই ব্রাহ্মণ হতে হবে, নিদেনপক্ষে ক্ষত্রিয়; মুসলমান, বাগদি, আদিবাসী বা হরিজন তাদের স্বজাতির পক্ষে কথা বললেই সেটা সাম্প্রদায়িকতা, সেটাই মৌলবাদ। স্বজাতির মাঝেও তারা কেন নেতা হবে! নেতা শুধু ব্রাহ্মণবাদীদের মধ্য থেকে হবে।

শুরুটা যা দিয়ে করেছিলাম, আগামী সিকি শতকে ভারত নাকি মোল্লাদের দেশ হয়ে যাবে- তাই হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়, এটাই তো বিজেপির একমাত্র ও আদি ইস্যু। তথ্য কী বলছে? জেনে ও শিখে রাখুন, আগামীতে আপনাদের পেশাজনিত কাজে লাগবে, যারা সাংবাদিকতা করে পেট চালান।

তথ্য মোতাবেক আজকের তারিখে দেশের মোট জনসংখ্যার ১১৫ কোটিই হিন্দু, শতাংশের বিচারে যা ৭৯%। মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ১৫%, সংখ্যার বিচারে যা ২১.৮০ কোটির আশেপাশে। খ্রিস্টানদের সংখ্যা প্রায় ৩% এর আশেপাশে, যদিও কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী এই সংখ্যা ১০% এরও বেশী, যা ক্রমবর্ধনশীল। গোপন ধর্মান্তরের কারণে বিপুল পরিমান হিন্দু ক্যাথোলিক খ্রীষ্টানে কনভার্ট হয়েছে, যেটা তথ্যে আসেনা। শিখধর্ম, বৌদ্ধধর্ম, জৈনধর্ম ও অন্যান্য সম্প্রদায়গুলো যথাক্রমে ১.৭%, ০.৭% এবং জৈনরা ০.৪%।

১৯৫১ সালের তথ্য মোতাবেক সদ্য স্বাধীন দেশে হিন্দু জনসংখ্যা ছিলো ৩০.৪০ কোটি, ১৯৬১ সালে এটা পৌঁছায় ৩৬.৭০ কোটিতে। অর্থাৎ, ১০ বছরে বৃদ্ধি ৬.৩০ কোটি। ১৯৭১ সালে হিন্দু জনসংখ্যা ছিলো ৪৫.৩০ কোটি। এই ১০ বছরে বৃদ্ধি ছিলো ৮.৬০ কোটি। হিন্দু জনসংখ্যা ৫৬.২০ কোটিতে পৌঁছায় ১৯৮১ সালে, এই দশকে ১০.৯০ কোটি বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালের জনগণনাতে ১২.৮০ কোটি বৃদ্ধি পেয়ে এই জনসনংখ্যা ৬৯ কোটিতে দাঁড়ায়। ২০০০ সালের জনগণনা অনুযায়ী হিন্দু জনসংখ্যা ৮২.৮০ কোটিতে পৌঁছায়, ১৩.৮০ কোটির বৃদ্ধি সহ। সর্বশেষ জনগননা ২০১১ মোতাবেক হিন্দু জনসংখ্যা ৯৬.৬০ কোটিতে ছিলো, ২০২৬ এর আগত জাতি-জনগননা অনুযায়ী পরিসংখ্যান বিদেরা অনুমান করছেন হিন্দু জনসংখ্যা ১১৫ কোটি ছোঁবে। এই সংখ্যা শুধু জন্মহারেই বেড়েছে এমনটা নয়, নেপাল, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান থেকে আগত হিন্দু শরনার্থী অনুপ্রবেশকারীরাও রয়েছে।

তথ্যের সাদাকোলো হিসাবে মুসলিম জনসংখ্যার ‘গ্রোথ রেট’ কী বলছে!

১৯৫১ সালের তথ্য মোতাবেক সদ্য স্বাধীন দেশে মুসলমান জনসংখ্যা ছিলো ৩.৫০ কোটি, ১৯৬১ সালে এটা পৌঁছায় ৪.৭০ কোটিতে। অর্থাৎ, ১০ বছরে বৃদ্ধি ১.২০ কোটি। ১৯৭১ সালে মোল্লা জনসংখ্যা ছিলো ৬.১০ কোটি। এই ১০ বছরে বৃদ্ধি ছিলো ১.৪০ কোটি। ইসলাম জনসংখ্যা ৮.১০ কোটিতে পৌঁছায় ১৯৮১ সালে, এই দশকে ১.৯০ কোটি বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালের জনগণনাতে ২.৬০ কোটি বৃদ্ধি পেয়ে এই জনসনংখ্যা ১০.৭০ কোটিতে দাঁড়ায়। ২০০০ সালের জনগণনা অনুযায়ী মুসলমান জনসংখ্যা ১৩.৮০ কোটিতে পৌঁছায় ৩.১০ কোটির বৃদ্ধি সহ। সর্বশেষ জনগননা ২০১১ মোতাবেক মুসলমান জনসংখ্যা ১৭.২০ কোটিতে ছিলো, ২০২৬ এর আগত জাতি-জনগননা অনুযায়ী পরিসংখ্যান বিদেরা অনুমান করছেন দেশে মুসলমানের সংখ্যা ২১.৮০ কোটি ছোঁবে।

শেষ ৭৫ বছরে ভারতে হিন্দু বৃদ্ধি পেয়েছে বছরে ১.৭৯% হারে। পাশাপাশি মুসলমানেরা বৃদ্ধি পেয়েছে ২.৪৭% বাৎসরিক হারে। অঙ্কের হিসাবে এইভাবেই যদি চলতে থাকে, ৩২৬ বছর পর দুই সম্প্রদায়ের সংখ্যা সমান সমান হবে। ১৯৫১ সালের নিরিখে ৭৫ বছর ইতিমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে, আগামীতে হিন্দু মুসলমান সমান সমান হতে আরো ২৫১ বছর সময় লাগবে, ২২৭৭ সাল নাগাদ। এই হিসাব আজকের মত স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে ধ্রুবক ধরে ভাবা হয়েছে, গাজার মত নির্বিচারে মুসলিম হত্যা, আসামে বিশ্বশর্মা সরকারের তীব্র ইসলাম বিদ্বেষ, মিয়ানমারের মত রোহিঙ্গা বিতারণ, কিম্বা বাংলাদেশের মত হিন্দু অত্যাচার ও বিতারণ হলে হিসাব এলোমেলো যাবে।

২৫১ বছর আগের, মানে ১৭৭৫ সালের পৃথিবী কেমন ছিলো জানেন? স্বাধীন আমেরিকা তখনও জন্মায়নি, তখনকার ভারত ধীরে ধীরে ঔপনিবেশিক শাসনের দিকে চলে যাচ্ছে, একেবারে রূপান্তরের মাঝখানে থাকা বহুভাগে বিভক্ত একটা ভূখন্ড। আজকের ভারতের কনসেপ্টই ছিলোনা তখন, না ছিলো গণতন্ত্র। ভারতজুড়ে নানান আঞ্চলিক শক্তি, মারাঠা সাম্রাজ্য, মহীশূরের হায়দার আলি, লক্ষৌ, হায়দরাবাদ, বাংলা ইত্যাদি অঞ্চল বিবিধ নবাবদের দখলে। গ্রামাঞ্চলে জোতদার জমিদারদের রমরমা। পুরোনো সাম্রাজ্য ভাঙছে, নতুন শাসন গড়ে উঠছে। দিল্লির মুঘল সাম্রাজ্য ভাঙনের দোর গোঁড়ায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে দেশে, ১৭৫৭ পলাশীর যুদ্ধ ও ১৭৬৪ সালে বক্সারের যুদ্ধ জয়ের ফলে, ১৭৭৫ নাগাদ বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা কার্যত কোম্পানির অধীনস্ত। না ছিল রেল, না বাস বা ইঞ্জিন চালিত গাড়ি, না বিদ্যুৎ, না আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা। মানুষ চলাফেরা করত, ঘোড়া, হাতি, পালকি, গরুর গাড়ি, নৌকা আর পায়ে হেঁটে। শিক্ষা বলতে পাঠশালা, মাদ্রাসা আর টোল।

আগামী ২৫১ বছর পর, ২২৭৭ খ্রীষ্টাব্দে তৎকালীন সভ্যতা ও বিজ্ঞান আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে কেউ জানিনা, কিন্তু সেই দিনটার ভয় দেখিয়ে আজকের শিক্ষা, আজকের স্বাস্থ্য, আজকের রোজগার, আজকের প্রয়োজনীয় সব দাবিদাওয়া ভুলিয়ে দিয়ে ‘হিন্দু খতরেমে হ্যাঁয়’ বীজমন্ত্র জপিয়ে উলঙ্গ ভোটের রাজনীতি করছে বিজেপি- ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে। আর এই বিজেপিকে রুখতে আপনাকে তোলামূলের চোরগুলোকে ভোট দিতে হচ্ছে, যারা বিজেপিকে রাজনৈতিক জমি দিয়েছে ঘৃণা চাষের জন্য। নিজেকে চার অক্ষরের বোকা বলে মনে হয়না আপনার?

হ্যাঁ, মুসলমাদের এই বৃদ্ধিতে ব্রাহ্মণ্যবাদী RSS এর উচ্চবর্ণের নেতৃত্ব ভয় পেয়েছে বৈকি। ১৯৫১ সালে তাদের জনসংখ্যা ছিলো ওই ৫% এর কাছাকাছি, আজ ২০২৬ সালে সংখ্যাটা কমে সাড়ে তিন শতাংশ হয়ে গেছে। আদতে সংখ্যালঘু হয়ে, এই নিকৃষ্ট ব্রাহ্মন্যবাদীরা রাষ্ট্রের সমস্ত শাঁসালো পদ দখল করে বসে আছে। তারাই সকলের নেতা হয়ে বসে আছে। এরাই জন্মগত সেকুলার, এরা রাষ্ট্রবাদী এবং এরাই একমাত্র গণতান্ত্রিক। আপনি মুসলমান, নেতা হতে চাইলেই এই কায়েমি গোষ্ঠীটা আপনাকে মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক, সমাজবিরোধী এমনকি রাষ্ট্রবিরোধী বলে দাগিয়ে দেবে- আর এর জন্য কোনো প্রমাণ বা তথ্যের দরকার নেই, তাদের মুখের কথাই যথেষ্ট।

বিজেপি শয়তান এতে সন্দেহই নেই, কিন্তু মমতা ব্যানার্জী কি? দিনের শেষে তিনিও তো সেই RSS এরই নেত্রী। সাচার কমিটির রিপোর্ট ফেরি করে উনি মসিহা সেজে মুসলমানের ভোটে ক্ষমতার সিংহাসনে চড়েছিলেন, ওনার ১৫ বছরের রাজত্বে সরকারী চাকরিতে মুসলমানের সংখ্যা আরো আরো কমেছে। মুসলমানের মাথাপিছু রোজগার কমেছে, মুসলমানের ফ্যাক্টারি ও বড় ব্যবসা গুলো বন্ধ করিয়ে দিয়েছে, মুসলমানের সামাজিক সুরক্ষা কমেছে, OBC সংরক্ষণে মুসলমানদের পথে বসিয়েছে, ওয়াকফের বড় একটা সম্পত্তির অংশ ১ নং খতিয়ানে তুলে দিয়েছে।

বিজেপি জুজু দেখিয়ে সারাক্ষণ ভয়ের পরিবেশ টিকিয়ে রাখার জন্য মুসলমানের প্রশাসনিক হয়রানি বাড়িয়েছে। মুসলমান ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার WBCS অফিসার বাড়লে তার ক্রেডিট আল-আমিন মিশন জাতীয় একান্ত ইসলামিক সংগঠন গুলোর সৌজন্যে, মমতা ব্যানার্জীর কোনো কৃতিত্ব নেই। ওনার কৃতিত্ব ওয়াকফের টাকায় ইমাম ভাতা দিয়ে, সেটার উল্টোপিঠে পুরোহিত ভাতা দেওয়া ট্যাক্সের টাকায়। রেডরোডে ঈদের নামাজ হতো যেহেতু, পালটা হিসাবে সেখানে দুর্গা কার্নিভাল হওয়ানো। ট্যাক্সের টাকায় গুচ্ছের মন্দির বানানো, ক্লাবে ক্লাবে পুজোর জন্য টাকা উড়ানো। ওনার অবদান এটুকুই। মালদা মুর্শিদাবাদে একটা নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অদধি করেনি, যাতে সম্প্রদায়টা একটু উন্নত হয়; অবশ্য উন্নত হলে তাদের মানে ব্রাহ্মণ্যবাদীদের হয়ে রক্তক্ষয়ী লড়াই করবে কে!

কিছু সময় বাদ দিলে, গত ১৫টা বছর ধরে রাজ্যের সংখ্যালঘু দপ্তরের মন্ত্রী, ব্রাহ্মণ মমতা ব্যানার্জী। তিনিই মুসলমানদের মসিহা সেজে সম্প্রদায়ের নাম দিয়েছে দুধেলগাই, আজকাল আবার ‘ওই ২৭%’ বলে তাচ্ছিল্যের ডাক ডাকেন উনি। তার বিধানসভায় বিজেপির অগ্নিমিত্রা মুসলমান সমাজকে ক্রিমিনাল বললেও তার মুখে সেলোটেপ বাঁধা থাকে, আসলে ২৯৩টা RSS এর সদস্যের একটা হাউজে কীভাবে মুখ্যমন্ত্রী প্রতিক্রিয়া দেবেন? এখানে দুজনেই RSS কর্মী, সহকর্মী নেত্রীর বিরুদ্ধে বললে নাগপুরে কৈফিয়ত দিতে পারবেন উনি? ব্রাহ্মণ স্পিকার বিমান ব্যানার্জী কী অগ্নিমিত্রা পালের বক্তব্য বিধানসভার কার্য বিবরণী থেকে বাদ দিতে পেরেছেন? সারাবছর তিনি RSS এর মন্দির রাজনীতির বাস্তবায়ন করেন, পরিকল্পিত দাঙ্গা লাগান যাতে মুসলমান ভয়ে থাকে। আর ভোটের আগে মাথায় হিজাব বেঁধে ভড়ং সেজে, মুসলমানকে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ময়দানে নামিয়ে দেয়, লুঠপাঠ মারামারি করে তোলামূলকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে।

শেষ ১৫ বছরে যতগুলো রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশী মরেছে মুসলমান, পরিবারগুলো সর্বশ্রান্ত হয়েছে। এছাড়া মৃতের তালিকাতে নিম্ন বর্নের হিন্দু আছে, কিছু আদিবাসীর দেখাও মেলে; কিন্তু ১টা মৃত এমন দেখান, যিনি ব্রাহ্মণ। অথচ তোলামূলের মন্ত্রীসভা থেকে দলীয় পদের দিকে তাকান, সেখানে মুসলমান প্রায় নেই, থাকলেও ফিরহাদ হাকিমের মত- ‘গুড মুসলিম’। নেহাত SC, ST OBC সংরক্ষিত আসনগুলিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতিনিধি ও রাজ্য জুড়ে ১১০টা মুসলিম ভোটার অধ্যুষিত আসনে মুসলমানদের মধ্যে থেকেই প্রার্থী দিতে হয় বাধ্য হয়ে, নতুবা উনি সেখানেও দক্ষিণ কোলকাতার ব্রাহ্মণ সন্তানদেরই দাঁড় করাতেন, যিনি RSS এর প্রো-হিন্দুত্ববাদের ধ্বজাধারী।

রাজ্যে ২৭% মুসলমান, সেই হিসাবে ২০২১ সালের তোলামূলের ২৯১ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭৮ জন মুসলমান হওয়া উচিৎ ছিলো, টিকিট পেয়েছিলো ৪২ জন। স্বভাবতই তোলামূলের ২২৩ জন MLA এর মধ্যে, ৬০ জন মুসলমান না থেকে, রয়েছে ৪১ জন। ৪৪ জন মন্ত্রীর মধ্যে ১২ জন মুসলমান থাকার বদলে আছে তার অর্ধেক, মাত্র ৬ জন। এই হচ্ছে মমতা ব্যানার্জীর মুখ ও মুখোশ।

বিজেপি আর তোলামূল আলাদা কেউ নয়, দুটোই RSS এর শাখা, একটা মুখ অন্যটা মুখোশ। তাই তোলামূলের বিকল্প কখনও যেমন বিজেপি হতে পারেনা, তেমনই বিজেপি আসুক বা না আসুক- উগ্র হিন্দুত্ববাদ তথা RSS নামের ক্যান্সারের এর বিস্তার থামবেনা তোলামূলের রাজত্বে। গত ১৫ বছরে অফিসিয়ালি ১৫৭% বৃদ্ধি পেয়েছে RSS এর নানান খোঁচর সংস্থা গুলো, যারা সমাজে বিষ ছড়াবার কাজ করে। আপনার ভিতরে সুখের অর্গাজম হচ্ছে, কারন CPM জিরো। এদিকে সেই জিরোর সুবিধা নিয়ে গোটা রাজ্যে RSS এর ১,৪৯২টি শাখা, ৮০০টি মিলন ইউনিট এবং ৩০০টি মণ্ডলী রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্র জুড়ে গজিয়ে উঠেছে। ব্লকের হিসাবে ৩৪১টির মধ্যে ২৬২টিতে তাদের অস্তিত্ব রয়েছে। যারা বিজেপি ও তোলামূল উভয়ের জন্যই কাজ করে। এরা চুড়ান্ত ব্রাহ্মণ্যবাদী, নিম্নবর্ণের হিন্দুদের লেলিয়ে দেয় মুসলমানের সাথে, কিম্বা নিজেদের মধ্যে মিথ্যা কারনে লড়াই করায়, যাতে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা ক্ষমতায় টিকে থাকে। কিন্তু আপনি জানেন CMP জিরো, আর সেই সুখেরই তো ঠিকানা নেই, বাকি কিছু ভাবার সময় কোথায়! 

আপনার নেতা কে হবে আপনি ঠিক করুন। উমা ভারতী, স্বাধ্বী প্রজ্ঞা বা যোগী আদিত্যনাথেরা যত গেরুয়া বস্ত্রের ভেক ধরে মূল ধারার রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার চাষ করবে, তারই উল্টো পিঠে মিমের আসাউদ্দিন ওয়েইসি, ISF এর নৌসাদ কিম্বা সদ্য গঠিত JUP এর রুহুল আমিনেরাও মাথায় ফেজ টুপি পরে মুসলমানদের নেতা হিসাবে আবির্ভুত হবেই। গত ১৫ বছর ধরে মুসলমানেরা ব্রাহ্মণ মমতা ব্যানার্জীকেই তো নিজেদের নেতা মেনে এসেছিলো, তাতে উনি কী দিয়েছেন? ওয়াকফের সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছেন, মুসলমানের সন্তানকে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক বানিয়েছেন, গোটা সম্প্রদায়কে দুধেল গাই বানিয়েছেন, গুন্ডা আর তোলাবাজ সিন্ডিকেটের লুঠেরা বাহিনী বানিয়েছেন, আর সর্বক্ষণ বিজেপির ভয় দেখিয়েছেন। আজ হুমায়ূন যদি বাবরি মসজিদের নামে নেতা হয়ে যায়, সেই দায় একমাত্র মমতা ব্যানার্জীর।

মুসলমান সমাজ ওনাকে নেতা হিসাবে মেনে নেওয়ার সাথে সাথে, ঢেলে ভোট দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতাতে টিকিয়ে রেখেছিলো দেড় দশক। তাতে বিপুল চুরি চামারির শেষে মুসলমানদের জন্য কী করেছেন? বিজেপিকে তাড়াতে গেলে আগে তোলামূল তাড়ান, নতুবা আপনার কোনো ভবিষ্যৎ নেই, আতঙ্কে, দাঙ্গায়, অশিক্ষায় আর দারিদ্রের সাথে পদদলিত হয়ে, ব্রাহ্মণ্যবাদীদের দাস হয়ে বেঁচে থাকা ছাড়া বিকল্প নেই।


ফেসবুকীয় সিপিএমঃ ফিউজড আইনগাইডেড কামিকাজে ড্রোন

  ফেসবুকের ‘সিপিএম’ নামক এই চুড়ান্ত আঁতেল ও প্রায় সর্বজ্ঞ গোষ্ঠীটার পূর্ণ বোধোদয় বা পূর্ণ বিনাশ না ঘটা অবধি রাজ্যের বাম নেতৃত্বের খুব বেশী ...