চলতে চলতে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
চলতে চলতে লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৫

দেশবন্ধু

দেশবন্ধু 

সকালের বদলে আজ বাজারে বের হতে বেলা ৯টা বেজে গিয়েছিলো। আমাদের এলাকাতে শীত না পরলেও, AC আপাতত লম্বা ছুটিতে গেছে, আজই ভোরে ফ্যানও বন্ধ করে দিয়ে হয়েছিল উত্তুরে হাওয়ার শিরশিরানির দাপটে। বাজারে নতুন মরসুমি সব্জির সাথে কাঁচা তেঁতুল, চালতা এমনকি কাঁচা আমও রয়েছে। সাথে আমলকি, জলপাই, পেঁয়াজকলি, সার হীন দিশি মুলো, দিশি পালং ও শিমের ভালো আমদানি রয়েছে। দীঘার ইলিশ ১৪০০, গঙ্গার তাজা চিংড়ি- সেও ৭০০ টাকা কেজি। পাবদা, ভোলা, ভেটকি, পার্শে, দিশি পোনা, পাঙাস, রূপচাঁদা, লোটে, সিলভারকার্প, পমফ্রেট সহ চালানি ও সামুদ্রিক মাছের বহরে সারা বাজার থইথই কছে।

কিছু বারোভেজালি ছোট মাছ নিতেই হয় মায়ের বাটি চচ্চরি জন্য, বাবার জন্য বরাদ্দ তাজা দিশি পোনা, ওনার আবার না ভেজে কাঁচা মাছের ঝোল প্রিয়। আমার জন্য বাটা, রিটা, আর পাবদা মাস্ট। শশা, কাঁকুড়, কাঁঠালি কলা, ডাঁসা পেয়ারা সহ প্যাকেটের দুধ, দই, লেড়ো বিস্কুট ইত্যাদি নিয়ে, হাড়কাটা গলির সামনে ওই ভিড়ে টোটোর জন্য প্রতীক্ষা করছি। ভারি ৩টে ব্যাগ নিয়ে রাস্তা পার হওয়াই মুশকিল, জ্যোতি আর চন্দ্রমূখী মিলিয়ে আলুই ৭ কেজি। একটা টোটো এসে দাঁড়ালো, বিবিরহাট বলাতে সে সটান না বলে, সামনে ২০ মিটার মত এগিয়ে গিয়েও আমাকে নাম ধরে ও হাতের ইশারাতে ডাকতে লাগল।

আসলে আমি যেদিকে যাব, সেই রাস্তার বিপরীতে দাঁড়িয়ে ছিলাম, চলতি টোটোকে ইউটার্ণ নিয়ে ঘুরে যেতে হবে। বাইক নিয়ে আসিনা, ভিড়ে পার্কিং করা মহাঝক্কি। ৭-৮ দিনের সব্জি আর আনাজপাতির ব্যাগ লটবহর আড়েবহরে কম হয়না মোটেও, সাধারণনত টোটোতে ২টো সিটের ভাড়াই আমি গুনি। সেই টোটোওয়ালা নিজেই এসে দু’হাতে দুটো ব্যাগ তুলে নিলো, আমি একটা ব্যাগ নিয়ে তার পিছুপিছু গিয়ে গাড়িতে চড়ে বললাম, একজন প্যেসেঞ্জার ইতিমধ্যেই রয়েছে। বললাম, চলো আরো ১০টাকা বেশী নিও না’হয়। টোটো চালক অদ্ভুত হাসি হাসি মুখ করে বললো- তুমি তন্ময়ই তো, আমাকে চিনতে পারোনি! আমি সেই দেশবন্ধু।

এমনিতেই মাথায় হাাজার ফিৎনা, এই মাসেই ৩টে মামলার ডেট আছে, যে কারনে পাহাড়ে উঠতে পারিনি। ফেসবুক ইউটিউবে এ্যাড ক্যাম্পেইন চলছে ট্রাভেল এজেন্সির, ফোনগুলো ভয়েস কল আর মেসেজে গিজগিজ করছে। বাবা তার মেয়ের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ২ দিন হাবজিগুবজি গিলে সমানে হেগে যাচ্ছে, উনাকে আনতে মা বোনের বাড়ি যাবে আমার জন্য রান্না করে দিয়ে, তাই বাজার সহ ঘরে ফেরার তাড়া রয়েছে। সেই সব কিছুর বর্মকে ভেদ করেও দেশবন্ধু নামটা যেন বুলেটের মত সজোরে ব্রহ্মতালুতে গিয়ে আঘাত করল। এক লহমাতে এই দু’কুড়ির জীবনের সেই সুদূর বিদিশা কালের অতীতের ধুলোয় ঢাকা স্মৃতির পাতায় কেউ যেন সজোরে ধাক্কা মারলো।

মুহুর্তে ধুলোর আস্তরণ সরে যেতে দেখলাম, স্মৃতির দলেরা নিবিষ্ট বুদ্ধের মত মহানির্বানের পথে পাড়ি দেওয়ার জন্য যেখানে স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদনে নাম লিখিয়ে অনন্ত প্রতীক্ষারত। হঠাৎ একটা শব্দের আঘাত, ধুসর কোষেদের দুনিয়াতে সে এক লণ্ডভণ্ড কান্ড বাঁধিয়ে হুলুস্থুল বসিয়েছে। সেই বিশৃঙ্খলার ফাঁকে, কোনো এক ‘টিপলার সিলিন্ডার’ বা ‘ওয়ার্মহোলের’ পথ বেয়ে এক লহমাতে ১৯৯১ সালে, ক্লাস ফাইভের প্রথম দিনে পৌঁছে গেলাম।  

গত সাড়ে ৩ দশক সময়ে আমাদের সমুদ্রগড়ের প্রায় সবকিছুই বদলে গেছে, বসাকদের কাপড়ের ব্যবসার উত্থানে স্থানীয় অর্থনীতির জোয়ারের সাক্ষী হওয়া থেকে, আজকে সেই বসাক পরিবারের পুরুষদের পরিযায়ী হতে দেখছি, এর মাঝে গোটা এলাকার ভূগোল ও রসায়ন বদলে গেছে। বদলায়নি শুধু ইতিহাস, তাই আজকেও প্রায় ৩৪ বছর পর, এক মাথা টাকওয়ালা, জালার মত ভুঁড়ি সহ, একমুখ দাড়িগোঁফের জঙ্গল থাকা সত্বেও কেউ, সেই প্রস্তর যুগের ছবির সাথে মিলিয়ে আজকের আমাকে চিনতে পারে। বলল, সে নাকি আমার হাসিমুখ দেখে চিনেছে, কে জানে হাসির মানচিত্র হয়ত বদলায়না। আমি অবশ্য তাকে চিনিনি, শুধু দেশবন্ধু শব্দটা আমাকে ঝাঁকিয়ে দিয়েছে।

দ্রুত গাড়িতে বসতেই সে আমাকে একটা বিড়ি অফার করল, আমি চেইন স্মোকার হলেও বিড়ি খাইনা, তাও ভদ্রতার খাতিরে নিলাম। খেয়াল করলাম সে আমাকে বাড়ির দিকে নিয়ে যাওয়ার বদলে উল্টোদিকে নিয়ে যাচ্ছে। মানুষটা মিশকালো রঙের, তারও একমুখ দাড়ি, স্বাস্থ্য বেশ ভালো, কিন্তু খুব সাধারণ চেহারা, যেখানে আলাদা কোনো বিশেষত্ব নেই হাজার মানুষের ভিড়ে স্বতন্ত্র হওয়ার জন্য। নিজেই বললো- আমাকে চিনতে পারোনি তো! কী করেই বা চিনবে বলো, কম দিন কী হলো! আমি দাস, সেই হাই ইস্কুলে তোমার দেশবন্ধু। সব কেমন যেন দ্রুত মনে পড়ে যেতে লাগলো। এটুকু মনে আছে হাই ইস্কুলে আমার প্রথম ও ঘনিষ্ট বন্ধুটির পদবী ছিলো দাস, কিন্তু তার সাথে বন্ধু যোগ করাতে- দাস থেকে কীভাবে যেন দেশবন্ধু হয়ে গিয়েছিলো।

একদম ছোট বেলাকার বন্ধুগুলোর প্রতি আমাদের বাপ মায়েদেরও বিশেষ লক্ষ্য থাকে, সন্তান কার সাথে মিশছে এ বিষয়ে কড়া নজর থাকে। মন্বন্তরের অপুষ্টিতে ভোরা রিকেটগ্রস্থদের মত সে কালে আমার গড়ন ছিলো। একমাথা শজারুর কাঁটার মত ঝুপসি চুলের নিচে, একটা লিকলিকে হাত’পা ওয়ালা মিশকালো কঙ্কালসার শরীর, সাথে হাড় জ্বালানো তিলে খচ্চর একটা জীব। তারপরেও যেদিন প্রথম হাই ইস্কুলে গিয়েছিলাম মায়ের হাত ধরে, অত বড় ইস্কুলে শত শত ছেলেপিলের ভিড়ে নিজেকে ভয়ানক একা লেগেছিলো। ইয়া বড় দালান বাড়ির ঘরটিতে চুপচাপ এককোনের একটা কাঠের বেঞ্চিতে গিয়ে জবুথবু হয়ে বসেছিলাম, একটা এ্যালুমিনিয়ামের ‘নাম খোদাই’ করা বাক্স নিয়ে। আমারই পাশে আমার থেকেও জবুথবু আরেকজন বসেছিলো হাবাগোবা মুখশ্রী করে। আমার হাই ইস্কুল বেলার প্রথম সাথী, সেই দেশবন্ধু। এর সাথে মেশার জন্য মায়ের তরফে ‘ছাড়পত্র’ ছিলো।

আমরা একসাথেই বাড়ি ফিরতাম, আমাদের বাড়ি টপকে ওদের বাড়ি যেতে হতো, গৌরাঙ্গ পাড়ার ভিতরের দিকে কোথাও একটা ছিলো। আমার নিজের টিফিন নিয়ে যাওয়ার বালাই কোনোকালেই ছিলনা, কিন্তু দেশবন্ধু রোজই কিছু না কিছু আনত ঘর থেকে। মার্বেলের সাইজের তিলের নাড়ু, চালভাজা আর চিনি, ঘরের ঘি মাখানো চিঁড়ে ভাজা, গোলগোল বাদাম চাপ, মুড়কির মোয়া, চালের আটা গুড় আর পাকা কলা দিয়ে মাখা একধরণের দধিকর্মা জাতীয় খাবার, ইত্যাদি গুলোর কথা স্পষ্ট মনে রয়েছে আজও। আমাদের মুসলিম বাড়িতে এই ধরণের অনেক খাদ্যসম্ভার থাকেনা সাধারনত। ফেরার পথে একসাথে গাছে চড়ে কামরাঙ্গা, আঁশফল, কুল আর কদবেল পাড়া, বর্ষার দিনে ঢাউস কচুপাতার নিচে বাক্স বাঁচিয়ে, ভেজা কাক হয়ে কাদা রাস্তায় খেলতে খেলতে ফেরা- স্মৃতিতে আজও অমলিন, শুধু সাথীটার নাম হারিয়ে ফেলেছিলাম।

ইস্কুল বেলার কতশত গল্প দেখলাম তার স্মৃতিতে অবিকল রয়েছে, যার প্রতিটা আমারও জীবনের ঘটনা। ততক্ষণে তুমি বলার সামাজিক দায় ঝেড়ে ফেলে আরো আপন করে তুই সম্বোধনে নেমে এসেছে। বই দেখে পড়ার মত মুখস্ত বলে যেতে লাগল, পাশের জনও দেখলাম সমান সঙ্গত দিচ্ছিলো। উল্টোদিকে চলছি, কিন্তু সে বিষয়ে যেন আমার হুঁশই নেই। পারুলডাঙ্গা ইস্কুলটা পার করে একটা মিষ্টির দোকানে দাঁড়িয়ে পেটাই পরোটা আর দই খাওয়ালো, আমি পয়সা দিতে যাওয়াতে বিচ্ছিরি ধরণের রাগও দেখালো। আবার সামনের দিকে এগোতে থাকল নানান গল্প করতে করতে। গোয়ালপাড়ার আখের পাইকারি বাজারটাকে পাশে রেখে, ঢালাই রাস্তা ধরে ভিতর পানে এগোতে এগোতে শুধালাম- এখানে কোনও প্যাসেঞ্জার আছে নাকি রে! সে জবাব দিলোনা।

জানলাম তার তিনটে মেয়ে, তারপর ১টা ছেলে। খুব ভোরে উঠে একদফা কাপড়ের ডেলিভারি দিয়ে আসে নবদ্বীপে, তারপর ঘরে ফিরে মেয়েদের সাথে হাতেহাতে একটু রান্নাবান্না করে আবার টোটো নিয়ে বেরিয়ে পরে। ছেলেমেয়েরা নিজেরাই খেয়েদেয়ে ইস্কুলে, কলেজে চলে যায়। শুধালাম, বউ কী চাকরি করে! কেমন একটা বেদনা মাখা মুখে একটা কাঁচা খিস্তি সহযোগে বললো- আরে ফোন, ওই ফোনে একজনার পিরিতে মজে সে শালী পালিয়েছে, সুরাত না বোম্বতে থাকে এখন। তার মুখের সেই বেদনামাখা অভিব্যাক্তিতে স্ত্রী হারানোর যন্ত্রণা নাকি সিঙ্গেল ফাদারের জীবন সংগ্রাম ফুটে উঠেছে- ঠাহর করতে পারলামনা। সে বলে চললো- বড় মেয়েটা ১৯শে পরেছে, কলেজ যায়, বড় লক্ষী মেয়ে আমার। কিন্তু কপালটা দেখ, মা অন্য মানুষের সাথে পালিয়েছে, কোন ভালো ঘরের ছেলে ওদের বিয়ে করবে বলল তো ভাই!

তার আক্ষেপ ঝরতেই লাগল- প্রেম করেই বিয়ে করেছিলাম খুব ছোট বয়েসে। ইস্কুল ছাড়ার পর তাঁতের কাজে লেগে যাই, একটু বড় হতে বাইরে বাইরে কাপড় বেচতে যেতাম, বেশ দু’পয়সা কামিয়ে ছিলাম। যে দোকানটাতে টিফিন করলি, সেটাও কিনেছিলাম, করোনার পর বেচে দিয়েছি। শালীটাও ওই সময় ভেগে গেলো, সে সময় নেশা করতাম ভাই সর্বক্ষণ, তাই ধারদেনায় ডুবে গিয়েছিলাম। মেয়েগুলো বড় হচ্ছে, বে’থা দিতে হবে- আবার ভালো হয়ে গেছি। তুই কী করছিস ভাই! কোথায় থাকিস! আমি আমতা আমতা করে জবাব দিলাম। টোটোটা গোয়ালপাড়া গ্রামের অনতি ভিতরে একটা টিনের বাড়ি দেখিয়ে বলল, সেটাই তার মেয়েদের মামার ঘর। আমার গলায় যেন একটা অব্যক্ত আবেগ দলা পাকিয়ে কণ্ঠরোধ করে ধরলো, আওয়াজ বের হচ্ছিলো না। 

আমার সুবিধা হলো আমি দিনের বেলায় রাস্তায় বের হলে সানগ্লাস পরি, কিন্ত সে দামী ফ্রেমের রে-ব্যান চোখ ঢেকে রাখলেও আবেগকে কীভাবে ধামাচাপা দেবে!  আজ ৫ বছর হলো, বিবাহিত স্ত্রী মানুষ একটা পরপুরুষের সাথে পালিয়েছে, তাও কতটা ভালবাসা বেঁচে থাকলে সেই কবে কার বাল্যকালের বন্ধুকে গল্পের ছলে এককালের প্রেমিকার বাড়ি দেখাতে নিয়ে আসে! তার বলার ধরনে মনে হলো সবটা যেন আমার সাথেই ঘটেছে। ক্লাস সেভেনের হাফ ইয়ার্লি পরীক্ষার পর দেশবন্ধু আর স্কুলে আসেনি, শুনেছিলাম তার মা কিম্বা বাবা গত হয়েছিলো, তাই ইস্কুলে আসার বিলাসিতা ফুরিয়ে ছিলো। অথচ আমার শৈশব কৈশোর সবই ‘পিকচার পারফেক্ট’ ভাবে কেটেছিলো, যেমনটা গ্রামীণ মধ্যবিত্তের ছেলেপুলের কাটে। আনন্দে না হলেও, কষ্টের জাইগাতে আমরা সবাই কী সহজে মিশে যেতে পারি।

আসলেই এটা একটা শ্রমজীবী আম মানুষের জীবনের উপন্যাস, যার উপসংহার টানা হয়নি। কিসের বিজেপি, কিসের তৃনমূল আর কিসের সিপিএম, কে হিন্দু, কেই বা মুসলমান। কিসের হানাহানি, কিসের পরকীয়া, রোজ লড়াই এর ময়দানে প্রতিটা মুহুর্তে সময় বদলে যাচ্ছে, বহু কিছুই আমাদের ছেড়ে এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা ভুঁই-এ লুটিয়ে থাকছি। কিসের লোভ, কিসের মোহ মায়া, কার পিছনেই বা ছোটা, ৩৫টা বছর পাড় হয়ে গেছে, অথচ মনে হচ্ছে এই তো সেদিন। এভাবেই একদিন সত্তরে পৌঁছে যাব বেঁচে থাকলে। সেদিনও পিছন ফিরে তাকালে অর্থ সম্পদ কিছুই নজরে আসবেনা, শুধু রোজগার করা সম্পর্ক গুলোকে মনে থাকবে। যাদের কেউ রয়ে গেছে, কেউ ছেড়ে গেছে, কেউ হারিয়ে গেছে।

ফেরার পথে ইচ্ছা গেলো ওর মেয়ে গুলোকে দেখে আসি, ওদিকে ফোনে মায়ের সমানে তাড়া, ঘড়িতে বেলা ১১টা ছুইঁছুঁই। এ যাত্রায় আর দেশবন্ধুর ঘরে যাওয়া হলোনা, সে আমাদের গাড়ি বারান্দা অবধি ব্যাগ গুলো পৌঁছে দিয়ে বললো- যাস ভাই আমাদের বাড়ি। আমিও তাকে স্বপরিবারে পাহাড়ে ঘুরতে যাবার নিমন্ত্রণ জানালাম। যেতে যেতে একসাথে আরো একটা বিড়ি টানতে টানতে বললাম, আরেকটা বিয়েই না হয় কর, তোকে দেখবে কে বুড়ো বয়সে! খানিকক্ষণ নিশ্চুপ থেকে একটা অদ্ভুত প্রশ্ন ভরা চোখে চেয়ে বলল, আমি ওকে তাড়িয়েছি নাকি! আমি ডিভোর্সও দিইনি। সে নেশায় গেছে, নেশা কেটে গেলে ঠিক ফিরবে রে ভাই।

কী সাবলীল ভাবে কথাগুলো বলে দিলো। ভালবাসা প্রকাশের জন্য লক্ষ টাকার হিরের আঙটি লাগে! নাকি বুকে আই লাভ ইউ এর উল্কি আঁকতে হয়! আমরা কত সহজে একটা সম্পর্ককে ঠুনকো তুচ্ছ বিষয়ে ভেঙে দিই, সামান্য রিপালসান টুকুও হয়না পরবর্তীতে। হতেই পারে দেশবন্ধু মাতাল ছিলো, চন্ডাল রাগী ছিলো, কোনো অবৈধ পরকিয়ায় জড়িয়ে গিয়েছিলো, কিন্তু সংসার ছেড়ে পালায়নি, দায়িত্ব এড়ায়নি। তার স্ত্রী’টি সবকিছুই দেখেছিলো, শুধু এই আদিম নাছোড় ভালবাসাটা খুঁজে পায়নি, যেটা আগলে কতশত দেশবন্ধুরা বেঁচে আছে প্রতীক্ষাতে। হ্যান্ডসেক করি না কোলাকুলি, বুঝে উঠতে না পেরে শেষেরটাই করলাম, সে এটার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলোনা, তাই গদগদ হয়ে গেলো।

বড় আশ্চর্য এই মানবজীবন। একজন সংসারের সব কিছুকে মিথ্যা করে স্বামী সংসার সব কিছু ত্যাগ করে নিজের ‘ভালবাসার’ টানে দেশান্তরী হয়েছে। অন্যজন সেই তারই প্রতীক্ষাতে সংসার সাজিয়ে বসে আছে, স্মৃতি আঁকড়ে। তার জীবন সেই বিয়ের দিন, সন্তানের জন্ম, তাদের বেড়ে ওঠার দিনের ‘স্বামী-স্ত্রী’র মিষ্টি খুনসুটির ঘোরেই আচ্ছন্ন। আমাদের ছেলেবেলা, আমাদের সম্পর্ক গুলো এভাবেই এলাকার আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে, একটু খুঁজলেই তাদের দেখা মেলে। চারিদিকে এতো সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক পারিবারিক হানাহানি, এর মাঝে এমন মিথ্যা প্রেমের গল্প, ফাঁপা হয়ে যাওয়া সংসারের স্বপ্ন, এমন শৈশবের গল্প গুলো বড় দুর্লভ।

লজ্জার কথা হলো, আমি দেশবন্ধুর নামটা ভুলে গেছি, সাথে থাকা ছেলেটিও আমাদেরই সহপাঠী ছিলো, তার যাত্রা ১ বছরই ছিলো, তারপর তাকেও কর্মক্ষেত্রে ঢুকে যেতে হয়েছিলো পেটের দায়ে, সত্যি বলতে তাকে আমি এই লেখা অবধিও মনে করতে পারিনি। শরমের মাথা খেয়ে নাম জিজ্ঞাসা করার সাহসও জোটাতে পারিনি, কী দরকার এমন একটা সুন্দর সম্মীলনীর তাল কেটে দেওয়ার! দেশবন্ধু, ওই নামেই থেকে যাক বাকি জীবনটা। সেক্সপিয়ার তো বলেই গেছেন, "What's in a name?   

শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫

অযত্নের তাল



তপ্ত রৌদ্রে পুড়তে পুড়তে ব্যাঙ্ক থেকে ফেরার পথে পথের ধারে বাইক থামাতে এনাকে পেলাম। তালশাঁস। একটা সময় অন্তত আমাদের মত যারা গ্রামে বেড়ে উঠা, তাদের ছেলেবেলায় কিনে খেতে হতোনা ফল-ফুলুড়ি। ঘরে সারাবছরের বাঁধা কাজ করা কির্ষেন-রাখাল থাকত, তারাই গাছে চড়ে আম-জাম-কাঁঠাল-বেল-তাল পেড়ে আনত। একসময় কচি তাল কালের নিয়মে পেকে গেলে তার আঁটি গুলো বাঁশ বাগানে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হত কলআঁটি জন্মাবার জন্য। সেই কল আঁটির স্বাদ আবার আরেক স্বর্গীয় বিষয়।

তালশাঁস বিক্রেতা আজ ১০টাকায় ৪ পিস করে দিতে দিতে তার নিজের আক্ষেপের কথা জানাচ্ছিলো। দক্ষিণে গুপ্তিপাড়া, পশ্চিমে সাতগাছিয়া- কুসুমগ্রাম, পূর্বে কৃষ্ণনগর আর উত্তরে কাটোয়ার আগে অবধি ছিল এনার বাবার এরিয়া, বাবার হাতেই এনার হাতেখড়ি থুড়ি গাছে-দড়ি। এই বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এনারা তালগাছ/খেজুরগাছ ঝুড়তেন। এঁড়ে তালগাছ বাদে, মাদি গাছই ছিল নাকি লাখ দশেক, অন্তত ১০০০ মানুষ এই গাছ কাটার সাথে জুড়ে থাকত, সাথে তাদের রুজিরোজগার।
গরমে তাল, শীতে খেজুর- আর গেরস্তের বাড়ির নারকেল গাছ ঝুড়ে দিয়ে কিছু জুটিয়ে নেওয়া, এই ছিল এনাদের বারোমাস্যা। বর্তমানে রাস্তা চওড়ার নামে রাজ্যজুড়ে সমস্ত পাকারাস্তার ধার ন্যাড়া। মাঠের মাঝে নতুন গাছ সেই অর্থে জন্মাতে দেওয়া হয়না, তার উপরে প্রাকৃতিকভাবে বজ্রপাতের কবলে পরা তালগাছের একটা অভিশাপ। বসত বাড়ির আশেপাশে তালগাছ থাকা নাকি অমঙ্গলের নিশান, স্বভাবতই তাল তমাল কেটে ফেলাই দস্তুর। বিল বা নদীর ধারে যে সকল গাছ ছিল, ঢোঙা নৌকা বানাবার জন্য সেসব কাটা পরে যায়। তালগাছ কেউই প্রায় স্বযত্নে লাগায়না, নিজে থেকেই অযত্নে অবহেলায় বেড়ে উঠার নাম তাল। গাছে উঠে তালের কাঁদি পারা- এ এক শিল্প। তাল গাছের গা- পুরো করাতের মত ধার, নতুন প্রজন্মের কেউ আগ্রহীই নয় এই পেশাতে আসতে। সব মিলিয়ে গোটা বিষয়টাই সঙ্কটে।
কে জানে আগামী ২০ বছর পর সাহেবদের সাধের ‘আইস আপেল’ এর অস্তিত্ব আর থাকবে কতটুকু।


রবিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৩

এক পাহাড় প্রেম



সৃষ্টিকর্তা পাহাড় বানিয়েছে, সেখানে সবুজ বন দিয়েছে, আর আছে সেই সবুজ বনের খাঁজে খাঁজে উচ্ছল ঝর্ণা। রয়েছে খরস্রোতা পাহাড়ি নদীর কলধ্বনি যারা বাতাসের সাথে যুগলবন্দিতে একটা মিলনাত্বক বন্দিশের সৃষ্টি করে। পাহাড়ি বনের মাঝে জমে থাকা লক্ষ লক্ষ বছরের প্রাচীন দই-জমা কুয়াশাতে লেখা ছিল আমার ঠিকানা।

আমাদের জীবনটাও এই পাহাড়ের মতই, দাঁড়িয়েই থাকি অধিকাংশ সময়, কত এবড়োখেবড়ো পথ, কান্নার নদী, হাসির ঝর্ণা, অন্ধকার কুয়াশাচ্ছন্ন আগামীকাল, পাকদণ্ডী বেয়ে শুধুই চড়াই আর উৎরাই, দু'ধারে কত সম্পর্কেরা পরে রয়ে যায় রঙিন পাহাড়ি ফুলের মতো, মেঘের মতই ঋজু বনানীতে জমা থাকে বেদনা, হতাশা আর ব্যর্থতার বাষ্প, ভোরের সুর্যের মত উঁকি দেয় সুখ, তারপর সেই সুখ পুড়িয়ে দিয়ে অস্ত যায় আরেকটা সুখকে আনবে বলে। হিমেল ঠান্ডা, একটা অন্ধকারের চাদর গায়ে শুয়ে পরে পাহাড়, জীবনও। পাহাড়েও ভূমিধ্বস হয়, ঝরে যায় জীবন- কত সমার্থক এই জীবন নামের পাহাড়ের সাথে- জীবন্ত পাহাড়ের। আমরা তো শুধু হেঁটে পেড়িয়ে যাবার চেষ্টা করি মাত্র। না পাহাড়ে বাস করি, না জীবনে- শুধু দৌড়ে মরি।
অথচ আমরা কোথায় ঘুরে মরছি! ভেবে দেখেছেন, আমরা কার সাথে জিতে কী হাসিল করতে চাইছি? সত্যিই আমরা কত কাজ করি, পরিশ্রম করি, বাড়ি-গাড়ি-সংসার-অর্থসম্পদ সঞ্চয় করি, কিন্তু হিসাব কষে বলতে পারবেন- কদিন বেঁচেছিলেন ঠিক যেমনটা বাঁচতে চেয়েছিলেন বা বাঁচা উচিৎ ছিল! আপনার স্মৃতি পটে কী নিজেকে সঞ্চয় করতে পেরেছেন?
এমন কোথাও, এমন কোনোখানে, আমরা গোটা জীবনটা কাটিয়ে দিই, যে জায়গার অধিকাংশটা 'আমার' ছিলইনা কখনও। নিজের সাথে জেতার বদলে আমরা সেই মানুষগুলোর সাথে অলীক রেস লাগিয়ে দিই, যারা কখনই 'আমার' ছিলনা।
বিলাস বস্তু সুখ দিলেও, মানসিক শান্তি দিতে অক্ষম। অভিলাষ আর প্রয়োজনের মাঝে যে বিষয়টা থাকে তার নাম মানসিক পরিতৃপ্তি।
আর এই পরিতৃপ্তির জন্যই আমরা বেড়িয়ে পরি- সেই পরিবেশের উদ্দেশ্যে, যা আমাদের আসল ঠিকানা, যেখানে কৃত্রিমতা নেই, প্রকৃতির মোহনীয় রূপটানের কৌমার্য আজও অক্ষতযোনি-
সময় হলে আসবেন কখনও আমাদের পাড়ায়, হিমালয়ে- যেখানে আনাচেকানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তাল তাল জীবন.....

শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মূর্খ নির্লজ্জ হলে সাংবাদিক হয়



এটা একটা জনপ্রিয় নিউজপোর্টাল এর খবর।


সাংবাদিকেরা কতবড় মূর্খ নির্লজ্জ হলে অবলীলায় এমনটা লিখতে পারে।

এখানে উল্লেখ্য সিঙ্গুরের সঞ্জীব বাবু তিনি কয়েক বিঘা জমির মালিক কিন্তু এই মুহূর্তেও তার কাছে 10 টন ধান মজুদ রয়েছে, মানে কথার প্রসঙ্গে ধরেই নেয়া যায় আগেও তার আরো ধান ছিল।

এক্ষেত্রে সিঙ্গুরের মাটিতে ধানের ফলন বিঘাপ্রতি ৫-৬ কুইন্টালের বেশি হওয়া সম্ভব নয় সেখানে ১০ টন ধান হতেও কমপক্ষে ১৮ থেকে ২০ বিঘা জমি প্রয়োজন। কয়েক বিঘা জমিতে সর্বোচ্চ ২ টন ধান হওয়া সম্ভব তার বেশি হয়। আর যার ২৫-৩০ বিঘা জমি আছে তাকে কয়েক বিঘা বলা যায়?

তাছাড়া সঞ্জীব বাবু, এতোদিন আপনার ধান কে বেশি দামে বাইরে বেচতে মানা করেছিল? আমরা তো ছত্রিশগড়ের চাষীর থেকেও মাল কিনে এনেছি আমাদের ফ্যাক্টারির জন্য, চাষীর নিজের উৎপাদিত শস্য আগে গোটা দেশে বা দেশের বাইরে বেচতে অসুবিধা কোথায় ছিল? আর বাকি রইলো MSP, মমতার জামানাতেও বিগত ১০ বছর ধরে ও তার আগেও বাম জামানায় বেনফেড, নাফেড, ECSC ইত্যাদি সমবায় গুলো গ্রামে গ্রামে ক্যাম্প করে সারা বাংলা জুড়েই ধান সংগ্রহ করেছে। মমতা তো চেকে পেমেন্টও করেছে, তার পরেও প্রতি বছর ধানের দাম আকাশ ছুঁয়েছে যা MSP এর চেয়ে অনেকটাই বেশি। আপনি বা আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্টে কি MSP এর থেকে কমে মাল বিক্রির কোনো নথি আছে?

আদারে নোংরা মানসিকতার চাষী হলে অপরিপক্ষ নরম ভিজে ধান মেসিনে একদিনে কেটে এবারে যদি রাইসমিলারকে MSP তে কিনতে চাপ দেওয়া হয় তা কে নেবে? নর্মাল ধানে ১৬% ময়শ্চার স্বাভাবিক যাকে FAQ মান বলা হয়। এখনকার অধিকাংশ চাষীই অপরিপক্ক ভিজে ধান কেটে নেয়, যাতে কমপক্ষে ২৫% ময়শ্চার থাকে উর্ধে ৩৫% পর্যন্ত। স্বাভাবিকভাবেই ১৬ এর অধিক ময়শ্চার বিজ্ঞানের নিয়মে ওজন হিসাবে বাদ যাবেই। এই ধান ২৪ ঘন্টা মজুদ রাখা যায়না, গাদা করে রাখলে তলায় আগুন ধরে যাবে এমন অবস্থা হয়, সাথে পচে গিয়ে বিচ্ছিরি গন্ধ হয়ে তা থেকে আর গোটা চাল না হয়ে খুদ তৈরি হয়। সুতরাং MSP না পাওয়ার দায় সরকার বা অন্য কারোর নয়, ফসলের মান FAQ কিনা সেটা তো চাষীকেই নির্ধারন করতে হবে।

নতুন বিলে আগামীতে যে আর MSP টাই থাকলোনা, কারন EC এ্যাক্ট ধানে প্রযোজ্য নয়, যে কোনো সময় MSP বিলুপ্ত হতে পারে বিনা নোটিসে, তখন কি করবেন?

যত্তোসব ভুঁয়ো ফালতু গুল-গল্পের ভাঁওতাবাজি-

আসলে ঘরে বসে নেট ঘেঁটে কনটেন্ট রাইটার হয়ে গোদী মিডিয়া বা নাইটি সেলের ভাড়াটে সৈনিক হলে যা হয় আরকি-

ছ্যাঃ

শুক্রবার, ২৯ মার্চ, ২০১৯

।। অনশনঃ মাদ্রাসা কমিশন ।।




উপরের ছবিটা অনশনে বসা মাদ্রাসা কমিশনের পরিক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র ছাত্রীদের।
যথারীতি এনাদের চাকরিও উন্নয়নে আত্মসাৎ করেছে। স্বভাবতই এনারা পথে বসেছেন।
তৃণমূল দল যদি আপনি করেন তাহিলে চুরির রাষ্ট্রীয় অধিকার আপনার রয়েছে। বাড়ি গাড়ি ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স ফরেন ট্রিপ সহ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সব পাবেন। কালীঘাটে ভাগা পৌছে দিলে। এটাই একমাত্র পেশা এই বাংলাতে, বিশ্ববাংলা স্বিকৃত। বাংলার যাবতীয় কুচো থেকে বড় চীর ডাকাতগুলোকে এখানে এক ছাতার তলাতে পেয়ে যাবেন, যাদের পাবেননা তারা প্রাক্তন তৃণমূল মুকুলের আস্তানাতে পাবেন।
নতুন করে বসা মাদ্রাসা কমিশনের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য সাধারন মানুষ খুব বেশি উদ্বেলিত হবেনা বলেই আমার বিশ্বাস।
কারন-
এরা কারা?
এরা তারা যারা এর আগে ও এর পরে কখনও কারো জন্য প্রতিবাদ করেছে বা করবে কিনা কেউ জানেনা। এসেছে শুধু মাত্র নিজের চাকরি টুকু হাসিল করতে। চাকরি পেয়ে গেলেই আজকের শিক্ষক পেশার সাথে যুক্ত যে চাকুরীজিবি গুলো রয়েছেন এরাও তাদেরই দলভুক্ত হয়ে যাবে।

এরা ফেসবুক করবে, কবিতা লিখবে, ভ্রমণের ছবি দেবে, পরিবার পরিজন নিয়ে এতটাই ব্যাস্ত হয়ে পরবে যে আর কেউ এদের মত অনাচারের শিকার হল কিনা জানার ফুরসৎই পাবেনা। এরা মানুষ থেকে উইপোকা বা মৌমাছি হয়ে যাবে।
তাই আমি বা আপনি যারা রোজ দিন আনি দিন খাই কেন যাব?
এই প্রশ্নের পরও আমরা যাব, কারন আমরা যদি পাশে না যায় তাহলে ওদের সাথে আমাদের ফারাকটুকু থাকবেনা। নতুবা কবীর সুমনের মত শুয়োরের বাচ্চাদের মত বলতে হবে- শিক্ষক পেশা রাষ্ট্রের কাছে বোঝা।
আমরা ভাগ্যবান আমরা অধিকাংশ জনই আজকের দিনে শিক্ষক নই, কবীর সুমনও। আমরা অনেকেই যারা শিক্ষক নই তথা বিবেক বেঁচে আছে তারা নিজের লাভের কথা না ভেবে অন্যের সাহায্যে হাত বাড়াই।
কারন আমরাও বিপদে অন্যের বা সহ নাগরিকের সহযোগিতা আশা করি। ব্যাক্তিগত ভাবে আমি নিজেই এমন অনেক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার জন্যই বেঁচে বর্তে আছি।
এদের হয়ে কিছু বলা বা করার জন্য মন চাইনা। সামান্য ফোঁপা প্রতিশ্রুতিতে এরা ভুলে যাবে। ঠিক যখন সমবেত আবেগ ও ক্ষোভ- জিঘাংসা হয়ে শাসকের স্বৈরাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরব পরব, ঠিক তখনই রাষ্ট্র ভুক্ত সারমেয়র সামনে হাড়ের টুকরো ফেলে দিলে - পড়ুন ৩-৪ জন সেট হয়ে গিয়ে বাকিদের সহ সহযোগী সহনাগরিকের যাবতীয় সকল কিছু তাচ্ছিল্য করে কেন্নোর মত গুটিয়ে যায়।
মুখ্যমন্ত্রী চাঁদ সওদাগরের মত বাঁহাতে নৈবদ্য দিয়ে, বুকে তৃণমুলের ব্যাচ লাগিয়ে এসে, অনশনকারীদের তীব্র উপেক্ষা করে সাংবাদিক সম্মেলন ক্যামেরাতে ছবি তুলে চলে গেলে ওটাই পরম পাওয়া।, অন্য রাজনৈতিক দল গেলেই নিষিদ্ধ কিছু এসে গেছে ভাব করবে।
আপনারা একা ওনাকে আনতে পারেননি বন্ধুরা, সমাজের বৃহত্তর একটা অংশ নিয়মিত ওনার মাতৃময়ী সততার মুর্তিতে ঘৃণার কালিমা লেপন করছিল নিয়মিত। আপনারা ভাবলেন আপনারাই দেব- পথ, রথ, মুর্তী সবাই তাই ভাবল। অন্তর্জামী কি ভাবল সেই খবর রাখলেননা-
২৯ দিনের রণক্লান্ত সৈনিকেরা আবার টিউশনির পুরাতন অভ্যাসে ফিরে যাবেন, অনশনের গল্প মুখে মুখে ফিরবে। কিভাবে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ হয়েছিল।
শুধু যেটা বলবেনা- এই মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপেই যাবতীয় শুণ্যপদ হাপিস হয়েছে। নতুন করে আপডেট হয়না ওনারই কল্যানে। ওনার অনুপ্রেরণাতেই দলবদলু পরেশের মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী চাকুরিতে জয়েন করে। প্রতি বছর ১০ হাজার জনের চাকরির নামে কয়েক হাজার কোটির ব্যাবসাও মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপেই হয় বা হচ্ছে। আর এই বেতনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থে- ক্লাবে ক্লাবে ফুর্তির জন্য অনুদান যায়। উৎসবের নামে বিলিবন্টন হয় যাতে ক্যাডাররা পুষ্ট থাকে, যারা ভোটের জন্য খাটবে।
সবটাই জানি আমরা, তারপরেও আমরা ওনার আগমনের কারনে আপ্লুত হয়ে ধেইধেই করে নেচে সব ভুলে যায়।
এ হল ভাবের ঘরে চুরি।
আমরা বরং ভোট রঙ্গ আর IPL এ তেই মজে থাকি। 
নিজের লড়াই নিজেই করুন সুধী।

ঘরে ঘরের ব্যাপার। 
তিনি এলেই মিটে যাবে।
আমরা বলার কে?

তবে-
বাম সহ বিরোধীরা (বিজেপি বাদে) যদি এটাকে প্রচার করতে পারে ঠিকমত- মুসলমান ভোটে ধস শুধু সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু বামেরা ব্যাস্ত APB কি বলল সেই নিয়ে, যেন ওরাই সুপ্রিম কোর্টের বঙ্গ বেঞ্চ। টাইমলাইন জুড়ে ওদেরই সমীক্ষা খন্ডন। বিরোধিতাও গঠনমূলক ও নির্দিষ্ট হওয়া প্রয়োজনীয়তা বোধহয় এনাদের নেই।

সবটাই সময়ের উপরে ছাড়া থাক।
আপনি যদি চোর হন, আমাদের মুখ্যমন্ত্রী আপনার জন্য সর্বতোভাবে সাথে আছেন। ধর্ণাতেও বসবেন। কিন্তু যদি আপনি মেধার অধিকারের জন্য লড়েন? আপনার জন্য থাকবে গণপিটুনি।
উনি...
চোরেদের জন্য
চোরেদের তরে
চোরেদের দ্বারা নির্বাচিত

হোয়াইট কলার চোর।

শুক্রবার, ৯ জুন, ২০১৭

।। কালিম্পং ভ্রমণ - ১ ।।

চলতে চলতে
পঞ্চম পর্ব-১
..................

"স্যারজি, ই তো হামারা হোটেল নাই হেই, ঘর আছে। থোরা এডজাষ্ট কিজিয়ে, আপ মেহমান হ্যায় হামারা, কাষ্টমার নেহি"
খানিকক্ষন আগে মনোসভাই যখন ডিনার সার্ভ করতে করতে কথাগুলো বলছিল, তখন একবারের জন্যও মনে হয়নি এই মানুশটি আমার আত্মীয় নন। অদুরেই রান্নাঘরে ওনার স্ত্রী দাঁড়িয়ে, স্টাটারের সাবুর বড় পাঁপড়ে কামর দিয়ে চোখাচোখি হতেই দেখি, তাঁরও নির্বাক চোখে সেই একই কথার জোরালো প্রতিধ্বনি।
এই প্রত্যন্ত পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড় সুলভ কঠিন পেটানো চেহারা ও মুখমন্ডলে যতটা সম্ভব হাসি আর উজ্জ্বল্য আনা যায়, তার চেয়েও একটু বেশি এনে, সত্যিই এনারা যেন মেয়ের শ্বশুরবাড়ির কুটুম্ব সদৃশ্য খাতিরতোয়াজ করছেন। বসুধৈব কুটুম্বকমের সাক্ষাৎ বিজ্ঞাপন, এটাই ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া, আমার স্বদেশ আমার বাংলা।
গতকাল যখন শিয়ালদা থেকে ট্রেনটা দুপুরে ছাড়ল, গনগনে জৈষ্ঠ্যের বেলা তখন গামছা নিচরানোর মত গতর থেকে ঘাম বের করে চলেছে। চালু টিকিটে ট্রেনে উঠে ভ্রমণ এ আমাদের ভবঘুরে বন্ধু কজনের অনেক দিনের রোগ। যথারীতি টিটিকে ম্যানেজ করা গেল। খাগড়াতে এসে স্থায়ী একটা সিট পাওয়ার আগে পর্যন্ত বেদের দলের মত কাঁধে রুকস্যাক আর হাতের ঝোলা ব্যাগ নিয়ে আর্ধেক ট্রেন চষে ফেললাম। পিঠের ব্যাগে সেই চিরাচরিতভাবে নির্দিষ্ট কিছু জরুরী জিনিস। আর হাতের ঝোলাতে মায়ের গুছিয়ে দেওয়া ভাতের টিফিন, তরকারির কৌটো আর জলের জার। কে ওনাকে বোঝাবে যে আজকাল অনলাইনে রাস্তা জুড়েই খাবার পাওয়া যায়, আর জল? অন্তত শখানেক হকার বোধহয় 'ঠাণ্ডাপানি" বিক্রি করে চলেছে।

সিটটা জুটলো ৭১ নং এ বাথরুমের এক্কেবারে কাছেই। বসেই যেতে হবে গোটা রাস্তাটা, আরেকজনের সাথে। তিনি মাঝবয়সী কোচবিহারী মহিলা, সাথে একটি কিশোর ছেলে ও স্বামী। উল্টোদিকে ৬ টা সিট গোটাটাই আলিপুরদুয়ারের একটা পরিবারের দখলে, সাথে একটা কচি বাচ্চা। ব্যাগপত্তর সিটের নিচে চালান দিয়ে টিশার্ট টা খুলে বসেবসে যেই গা টা এলিয়ে দিয়েছি, ওমনি নিদ্রাদেবী ঢুলুনির প্রোমো চালিয়ে দিয়েছে।
কতক্ষন পর জানিনা, বাঁজখাই গলায় 'উঠুনতো মশাই' আওয়াজ সহ কাঁধে একটা মৃদু ধাক্কা অনুভুত হতেই, মেজাজটা চিড়বিড়িয়ে গেল। কাঁচা ঘুম ভাঙলে যা হয় আর কি। শকুনিমামা স্টাইলে একটা চোখ খুলেই মুখ ফসকে যথারীতি খাঁটি বাংলা উবাচ নির্গত হল- ধুর ওয়ারা, খোঁচাচ্চেন কেনে!!
-কি, আমাকে খিস্তি? টিটি কোথায় টিটি, টিটি.... পুলিশ...
- কি কেলো, আমি তো ঘুমাচ্ছিলাম, কি কেলো হল?
ব্যাগ গুলোর দিকে একবার চোখ বুলিয়ে দেখলাম, ওরা এই ঝামেলার আঁচ পাইনি, শান্তিতেই ঘুমাচ্ছে।

- আপনি জানেন আমি কে? অভদ্র চুয়ার....
এবারে একটু হাসিই পেয়ে গেল, বললাম-
- আপনার পরিচয় পেয়ে পেয়ে ভালই লাগল। তা বলুন কি সাহায্য করতে পারি!
- ওঠ আমার সিট থেকে, আমাকে কিনা খিস্তি! উঠ আমার সিট থেকে

পাশ থেকে একজন বয়স্ক ভদ্রলোক বলে উঠলেন, আহা মাস্টারমশাই অপেক্ষা করুন, এই জাতের লোকজনে আজকাল দেশ ছেয়ে গেছে, আমি রেলের হেল্পলাইনে কল করে দিয়েছি, পুলিশ এলো বলে। উল্টোদিক থেকে একজন মহিলা বলে উঠলেন ক্ষ্যাপা পাগল নয়ত আবার! কেজানে বাবা ভদ্রলোকের মতই কাপড় জামা... আরো বহুকিছু বলছিলেন। 
মজাটা হল এর পর, আমি কানে হেডফোন লাগিয়ে আবার চক্ষু মুদিতেই, ওদের আক্রোশ ফেটে পড়ল। পুরুষটি পুলিশ খুঁজতে গেছে, মহিলাগুলো রীতিমত উচ্চশ্রবে চেঁচিয়ে আমার চোদ্দগুষ্ঠি উদ্ধার করার দরুন কম্পার্টমেন্ট মাথায় তুলে বকি যাত্রিদের বিনোদন যোগাচ্ছেন। আমিও আজন্ম বেয়াড়া ত্যাঁদড়, শিব সেজে জানালাপানে মুখ করে বসে আছি, কারণ টিটি বাবাজী স্বয়ং নিয়মমাফিক চালান কেটে আমার সিট কনফার্ম করে এখানে বসিয়েছেন। তাই সে ব্যাটা না আসা পর্যন্ত এই বান্দর বন্দর ছেড়ে নড়ছেনা।

গাড়ি নিউ ফারাক্কা স্টেশনে পৌছাতেই কিছু হকার উঠল, এক ঝালমুড়ি ওয়ালার থেকে আমতেল মিশ্রিত ঝালমুড়ি আমেজ নিয়ে খাওয়া দেখে ওই ঝিমিয়ে যাওয়া মহিলারা আবার নতুন উদ্যোমে সিরিয়াল শুরু করেদিলেন। ট্রেন এতক্ষণ পর্যন্ত ঠিকঠাকই চলছিল, এখানে প্রায় টানা ২৮ মিনিট পর হুইসেল দিয়ে চাকা গড়াতেই দেখি সেই ভদ্রলোক গোটা দুই RPF আর খান তিনেক TTE নিয়ে হাজির আমাকে সবক শেখাতে। তারপরে সব কিছু চেকচাক করে কিছু না বলেই এক RPF বাবু আচমকা সেই "আমি কে জানিস" ভদ্রলোকের গালে সটান চড়। ফারাক্কা ব্রিজের ঝনঝনা আওয়াজকে ছাপিয়ে পুরো ইয়র্করের মত সকলের কানের পাতায় ধাক্কা খেয়ে বগিময় প্রতিধ্বনিত হতে লাগল সেই সুমিষ্ট আওয়াজ।
যেটা জানলাম, ওই ভদ্রলোকেরও ৭১ নং সিট, কিন্তু S5, আর এটা S4আর যেটা বুঝলাম যে, হামবড়া ব্যাক্তিটি নির্ঘাত এতো পরিমাণ হম্বিতম্বি করে এনাদেরকে এনেছিল, সেটারই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এই ঊনআশি শিক্কার চড়। মহিলাগুলো হঠাৎ করেই যেন লজ্জাবতী লতার মত কেমন নেতিয়ে গিয়ে সঙ্গী বীর পুরুষটির প্রতি কটাক্ষপাত করতে লাগলেন। যথারীতি রাত নটার কাঁটা পার হতেই ট্রেন মালদা টাউনে ঢুকলো। অতএব খাওয়াদাওয়া শুরু, ৫-৭ মিনিটেই আমার পর্ব শেষ হয়ে গেল। এদিকে সামনের সেই বৃহদ পরিবারে আরো বেশ কিছু সদস্য জুটেছে খাবার সময়ে, যারা হয়ত এদিকওদিক ছিটিয়েছড়িয়ে বসেছিল।

মজাটা আরো দীর্ঘায়িত হল এবারে; মালদা স্টেশন এক্কেবারে হকার শুন্য। বন্ধু Debesh নিশ্চই আসল কারনটা বলতে পারবে। অতএব জলওয়ালারা ট্রেন থেকে হাপিস। এদিকে ওই পরিবারের সঞ্চিত জল শেষ। সেই মাঝবয়েসী ভদ্রমহিলা আমাকে অমন একটা পঞ্চাশের দশক মার্কা বেঢপ জারে করে জল বইতে দেখে বেশ মুখ টিপে হেসেছিলেন, তার মাথাতেই এলো কথাটা।
- বলছিলাম কি দাদাভাই, জল আছে? 
জল বলে জল! সেই অবাক জলপানের মত, চোখের জল নাকের জল, ঘামের জল, ট্রেনের ট্যাঙ্কির জল... কত জল চাই! নাহ এ কথাগুলো শুধু ভেবেছি, ওনাদের বলিনি। যেটা বললাম সেটা হল-
- কেন থাকবেনা জল!! আছে তো। বলেই আমিও জারটা ব্যাগ থেকে বেড় করে দিলাম। এমনিতেই NJP তে ফেলেই দিলাম, যাক সৎকারে লেগে গেল।
- জলে কি সুগন্ধী দেওয়া আছে দাদা?

আমি শুনেও অগ্রাহ্য করলাম কথাটা, কারন জানি ওটা আমার মায়ের কীর্তি। উনি যে, ১০০ লেবুর শক্তি সম্পন্ন ভিম লিকুইড দিয়ে জারটি পরিষ্কার করেছিলেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যথারীতি প্রায় নিরুপদ্রবেই বাকি পথটা অতিক্রম করে, ভোর শোয়া তিনটের সময় নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে নেমে এক কাপ চা-পান করে ঘুম তারালাম।

মনের সুখে একটা মান্নাদের গান গুনগুন করতে করতে দীর্ঘ ফুট ওভারব্রিজ বেয়ে বাইরে ট্যক্সি স্ট্যান্ডে এসেই বাজটা পড়ল। একটা গাড়িও পাহাড়ে যাবেনা, গুরুঙ এর নাকি পুরকি আবার চেগেছে। স্বয়ং বড়লাট (স্ত্রীলিঙ্গে পড়ুন) পাহাড়ে অধিষ্ঠান করছেন ভাইগুলোকে (কি জানি কিসের ভাই!!) নিয়ে, অতএব একটা হেব্বি থ্রিলিং। অধিকাংশ পর্যটকের দল ডুয়ার্স, গ্যাঙটক, নেপাল ভুটানের দিকে রওনা দেবে বলে সেই মাঝরাত্রে ডিসিসন নিয়ে অনলাইনে হোটেল খুঁজে বেড়াচ্ছে।
অনেক উঁচু থেকে ঠিকরে পরা সাদা আলোতে ধুয়ে দেওয়া হেরিটেজ রেল ইঞ্জিনের কাছে বসে খান দুয়েক সিগারেটের মুখাগ্নি করে ভাবতে লাগলাম-
যাব্বো কি যাবো না!!!
........ক্রমশ


বৃহস্পতিবার, ৮ জুন, ২০১৭

।। নদিয়া ২ বর্ধমান ।।


নিরুপায় দশা মাঝামাঝেই চর্ম চক্ষুর সাথে সাথে মনের চোখও খুলে দেয়। নাহলে এই ভরা জ্যৈষ্ঠের গ্রীষ্মে কেনই বা বাইক নিয়ে সফরের ভূত মাথায় উঠবে। প্রান্তিক নদীয়া থেকে যাব আধুনা পূর্ব বর্ধমান জেলা সদর বর্ধমানে, মিহিদানার শহর বর্ধমান। গ্রামীণ বর্ধমানের গ্রামাঞ্চলের প্রবাদ “ধান-আগুরি-মুসলমান , তিন নিয়ে বর্ধমান”। কথাটা যে কতটা সত্যে, সেটা একমাত্র এসেই উপলব্ধি করতে হবে। অবশ্য বর্ধমানকে সাবেক বাম আন্দোলনের আতুর ঘর বললেও অত্যুক্তি হয়না। গতমাসে আমাদের পিসিমনি বর্ধমানের লেজ কেটে দিয়েছে, শিল্পাঞ্চল আলাদা, বাকিটা গ্রামীণ।

গ্যারাজে আমার বুলেট বাবাজি স্টার্ট নিলেননা সকালসকাল, অবশ্য সুইচ টিপেই চেষ্টাটা করছিলাম। মেন গেটের বাইরে ঠেলে এনে লাগালাম কিক, এ কি আর যার তার কম্ম! গতরাত্রের ঝড়-বৃষ্টির স্যাঁতসেঁতে পনাতে সম্ভবত ব্যাটারি চার্য ছেরে দিয়েছে। যাই হোক বার পাঁচেকের চেষ্টায় ৫০০ সিসি এর ইঞ্জিন গগনভেদি চিৎকার করে জানান দিল, সে ছোটার জন্য প্রস্তুত। পিঠে হালফ্যাসানের একটা ব্যাকপ্যাক; তাতে একটা গামছা, একটা লুঙ্গি, পাতলা টিশার্ট, ডেলি ব্যবহারের টয়লেট এক্সেসারিজ, পানীয় জলের, আধুনা মোবাইলের পাওয়ার ব্যাকআপ, একটা বোতল আর দুটো বিস্কুটের প্যাকেট একটা খোপে থাকেই থাকে। বাকিগুলোতে যে উদ্দেশ্য নিয়ে গন্তব্যে যাচ্ছি, তার মানানের কাগজপত্র ফাইল ইত্যাদি। আমার কাছের দুটো পাওয়ার ব্যাকআপই জয়দার দেওয়া। এমাসের বাক্সপ্যাটরাতে নতুন সংযোজন বলতে একটা বিগসপার সাইজের ঢাউস নাইলন ব্যাগ। তাতে অত্যন্ত সযত্নে মুড়ে রাখা আমাদের অকপট সাহিত্য পত্রিকা। পথে যদি বড় ও চালু কোনো ম্যাগাজিন স্টল পায়, ২-৫ পিস রেখে যাব এই অভিপ্রায়ে।

আজকাল পিসির ‘সেফ ড্রাইভ- সেভ লাইফ’ বিজ্ঞাপনের জন্য নয়, সেই বাইক প্রেমের শুরুর দিন থেকেই স্টাইলিশ হেলমেটের প্রতিও একটা ভীষণ দুর্বলতা রয়েছে আমার। এখন অবশ্য স্টাইল আর বেঁচে নেই তেমন, কিন্তু হেলমেটের সু অভ্যাসটা যথারীতি রয়েছে। রওনা শুরু করতে করতে দেখি পৌনে নটা, প্রাতরাশ হয়নি; পথে কোথাও একটা করে নিলেই হবে।

প্রথম আধা ঘন্টা তেমন কিছু বলার মত নয়। গঙ্গার উপরে শ্রীচৈতন্য সেতু, পশ্চিমমুখী হয়ে ডানদিকে নদীর নিচে অনেকটা স্থান জুড়ে চড়া পরেছে, ডানদিকে নব নির্মীয়মান ISCON মন্দিরের সুউচ্চ চূড়া চূড়ান্ত বৈভবের প্রতিমূর্তী হয়ে নিজেকে জানান দিচ্ছে। রাস্তার দুধারে টিপিক্যাল নদীয়ার খালবিল, আর দূরে দিগন্তরেখানে কিছু গ্রাম ও মন্দিরের চুড়ো অথবা মসজিদের মিনার। নদীর চড়াতে বেশ কিছু সব্জির চাষ, ফুটি, তরমুজ, শশা, পটল, ঝিঙে ইত্যাদি। দূরে আখ ও ভুট্টার ক্ষেতও জনজরে আসছে। গাঙ্গেয় পলিমাটির উর্বরতার প্রভাবে গঙ্গার দুইপাড়ের বেলেমাটিতে সব্জির চাষ সেই নদীমাতৃক সভ্যতার শুরু থেকেই যে সমৃদ্ধ, সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। নদীয়ার সীমানা অতিক্রম করে বর্ধমানে ঢুকে কয়েক কিমি এসেই একটা তেমাথার মোর মত জাইগাতে জানলাম দুটো রাস্তাই বর্ধমান যাচ্ছে; একটা ভায়া ধাত্রি গ্রাম, অন্যটা ভায়া কুসুমগ্রাম। শেষেরটা ৫-৭ কিমি কম ও সোজা রাস্তা, অতএব সেই পথেই পা বাড়ালাম। তবে আসার পর দেখলাম, এ পথের আসেপাসের ঘরবাড়িগুলোর উঠোন কিন্তু এই রাস্তাটাই।

রাস্তার কথাতে বলি, বেশ কিছুদিন ধরেই দেখছি, গ্রাম বাঙলার রাজ্যসড়ক গুলোর দারুণ ভাবে হাল ফিরেছে। বেশ চওড়া, দুপাশে সহ মাঝে সাধা রঙের বর্ডার, গাঢ় সবুজ বোর্ডে সাদা রঙ দিয়ে জনপদের নাম লেখা ইত্যাদিজনপদগুলোতে দেখি রাস্তার পিচে রেডিয়াম লাইট রিফ্লেক্টার বসানো। বেশ ঝকঝকে, আর বাইক আরহীদের জন্য এই ধরনের রাস্তা এক কথায় স্বর্গ। কিন্তু শুধু সুন্দর রাস্তা আমি বা আমরা বললে তো হবেনা, অন্যেদেরও সুন্দর লাগে অন্যভাবেঅতএব অনেক চাষির কাছে এটাই খামার, ফসল পেটাচ্ছে, শুকাচ্ছে, গাদা দিচ্ছে সহ আর কতো কি। দুএক স্থানে তো গোটা হাটটাই রাস্তার উপরে বসে পরেছে, সে এক কেলেঙ্কারিয়াস কাণ্ডকারখানা। আর সেই দানা বা শাকপাতারির লোভে যতো রাজ্যের পোষ্যের আমদানি এই রাস্তার উপরেই; হাঁস, মুরগি, ছাগল, ভেড়া, গোমাতা, গোপিতা, গোহধর সহ কুকুর, বেড়াল সকল কিছুর অবাধ বিচরন ক্ষেত্র। আর দুরন্ত আবাল মানবশিশুর কথা তো জাষ্ট ইচ্ছা করে উহ্য রাখলাম। জানিনা এমন রাস্তা বাঙলার আর কোথায় আছে গাড়ি ঘোড়ার চাপ তুলনামূলক বেশ কম, অথচ উপরোক্তদের দাপটে মাইল মিটারের কাঁটা ৩০ থেকে পঞ্চাশের মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।

বর্ধমান জেলা ঢুকে প্রায় ৫-৭ কিলোমিটার যাবার পরেই জীবনানন্দের বাংলার সেই চিরাচরিত রূপ। গ্রামীণ বর্ধমানের পরিবেশের সাথে আমি কিছুটা হুগলী, দক্ষিন ২৪ পরগনা আর পূর্ব মেদনীপুর জেলা ছারা সবুজের সাথে মাটির এমন মমত্ব ও এই বিপুল বৈচিত্র আর কোথাও দেখিনি। চাষি ধান কেটে নিয়ে গেছে গত মাসেই, কোথাও সামান্য পাটের ক্ষেত কোথাও কিছু তিল বোনা; বাকিটা কাটা ধান গাছের গোঁড়া বা চলতি ভাষায় নাড়া ভর্তি খালি জমি মাইলের পর মাইল। মাঠে ট্রাক্টারের চাকার ধান বয়ে নিয়ে যাবার দাগ এখনও স্পষ্ট, সেখান থেকে ঝরে পরা ধান গুলো ইতি মধ্যেই অঙ্কুরিত হয়ে বিঘৎ খানিক করে লম্বা হয়েছে বিনা পরিচর্যাতেই। দিগন্ত জোড়া সেই সবুজ গালিচার মধ্যে, জলে পচা, রোদে পোড়া সেই নাড়াগুলো গোটা মাঠটাকে একটা অদ্ভুত সুন্দর পান্ডুর সবুজাভ বর্ণ দান করেছে। মাটি যথারীতি ফুটিফাটা, চাষিও বৃষ্টির প্রতীক্ষায়, এই অনাহুত ঝরে পরা ধান থেকে জন্ম নেওয়া চারা গুলোও বৃষ্টির প্রতীক্ষাতে। অথচ দুজনের লক্ষ্য আলাদা, চাষী এই নাড়া সহ সবুজ চারাগুলোকে ট্রাক্টারের ধারালো ফাল দিয়ে কাঁদার মধ্যে মিশিয়ে দেবে। যেগুলো সার হিসাবে পুষ্টি প্রদান করবে বর্ষার ধানের চারাগুলোকে। আর এদিকে এই ঝরে পরা ধান থেকে জন্মানো চারাগুলো বৃষ্টির আকুল প্রতীক্ষাতে শুধু বেড়ে উঠার জন্য , বাঁচার জন্য। এ এক চরম ও অসম প্রতিযোগিতা।

গোমাতা-পিতা-ভাতৃ-ভগীনের দল রীতিমত পিকনিকের মুডে মাঠের আলের লকলকে ঘাস সহ, কচি ধানের চারা খেয়ে চলেছে। সাথে মোষও চড়ছে ভারী সংখ্যাতে। একটা জিনিস কিছুতেই ভেবে উদ্ধার করতে পারিনি, আজও সেই ভাবনাই ভাবতে লাগলাম। গরুও ঘাস খায়, খড় খায়, খোল খায়, পাচনের বারিও একই। দুজনেই গোবর নাদে, ছরছর করে বালতি বালতি মোতে, সিং আছে, একই ধরনের লেজ এমনকি গাছে মাছি ভনভন করে, গুঁতায় সুযোগ পেলেই এবং হাটেই কেনাব্রচা হয় উভয়েই হাম্বা ডাকে, জাবর কাটে, চাঁট মারে। দুজনেই দুধ দেয়, চারটে করে বাঁট। কারোরই ছাগলের মত দাড়ি নেই যে বুদ্ধিজিবী হিসাবে গন্য হবে। বরঞ্চ মোষ পরিমাণে অনেকটা বেশি দেয়। দুজনেরই মাংস খাওয়া হয়, সারা পৃথিবী জুড়ে। শরীরে যৌনাঙ্গের অবস্থান থেকে রতিক্রিয়ার পদ্ধতিও একই স্টাইলের।

পিতা মোষ বেশি শক্তিশালী গোপিতার চেয়ে, অতএব গাড়ি বা নাঙল- যোঙাল জুড়তে মোষই শ্রেষ্ঠ। গোপিতা মহাদেবের সাথে পূজিত হলে, মোষ মা দূর্গার সাথে পুজিত হয়। এমন কত্তো কি সিমিলারিটিস ছরাছরিঅথচ গো মাতা হয়ে গেল, আর মোষ? সে কিনা মোষই রয়ে গেল? সৎ মা না হয় নাইবা হল, মাতার পিতৃকুল মাতৃকুলের কোনো আত্মীয় তো হতেই পারত। শ্যালিকা, বৌদি, বান্ধবী, সই, সেলুজ ইত্যাদি গুলো নাহয় ফচকে সম্পর্ক, কিন্তু মাসীমা, পিসিমা ঠাকুমা, দিদিমা, রাঙ্গাপিসি, ফুল মাসি, ইত্যাদি নামে তো ডাকাই যেত, এগুলো কি গম্ভীর রিলেসন নয়! মায়ের অধিকার গোমাতা পেলেও এমন তো নয় যে গোমাতার জন্মদাত্রী মা টিকে দিদিমা ডাকার বিলটাও পাস হয়ে গেছে! চূড়ান্ত ফেমিনিজমে আক্রান্ত এই সমাজের সংবিধানে তো শুধুই মা শব্দ ভাই, ভগীনি, নাতি পুতি তো কোন ছার এমনকি পিতারও কোনো ক্রেডিট নেই। গোমাতা যেন এ্যামিবার মত নিজে নিজেই গোহদরা বা গোহদরি প্রসব করেন। 

গো পিতার এমন দুর্ভোগ যে গেরস্তের ঘরে থাকলে আগেই নর সন্তানেরা শিশুপিতার অন্ডকোষ কেটে খোঁজা করে হাতে ধরিয়ে দেয়, থুড়ি মুখে জাল পরিয়ে দেয়। অন্য ভাগ্য হল ভগার নামে রাস্তাতে ছেরে দেওয়া। যত রাজ্যের ফল পাকুরের দোকানে হুজ্জুতি বা তোলা আদায় করার পাশাপাশি ময়লা ফেলা ভ্যাটগুলোর সবুজ সাফ করা, পাইকারি হারে গুতানো ও রাস্তা অবরোধতার ফাঁকে রাস্তা গোবর নাদার ফাঁকে কোনো গোমাতা সু-নজরে এলো, নধর দেহ ছুটিয়ে ইমানদন্ড তরিবারির মত উঁচিয়ে তাঁকে ধাওয়া করে আদর সোহাগ করা। এবিষয়ে অবশ্য কুমারি বা বাচ্চার মাতা ইত্যাদির বাছবিচারের মত নিকৃষ্ট বিলাসিতা গোপিতাদের থাকেনা। অথচ এদিক থেকে মোষ এই সকল চরিত্র গুণ থেকে মুক্ত। প্রকাশ্য রাস্তাতে ধাওয়া করে লাগাতার অন্যের স্ত্রী কন্যা পুত্রবধু ইত্যাদি সম্পর্কিত মহিলাদের ধর্ষনের ইতিহাস মোষেদের বংশে নেই। পার্থক্য বলতে মোষের বাসস্থান খাটাল হয় আর গরুর গোয়াল। দু স্থানেই মশার ভনভনানি, রক্তচোষা ডাঁশ, আর বিচ্ছিরি গন্ধ।

তাহলে এই বৈষম্যের পিছনে কি কারন থাকতে পারে? একটা চক্রান্ত, সেই চিরাচরিত বর্ণ প্রথা। মোষ এলোমেলো লোমযুক্ত কালো বলে ব্রাত্য, আফ্রিকান মানুষদের মত। সেখানে গরু হল গিয়ে হিপিদের মত, কত রঙের বাহার, পেলব কোমল শরীর। তাই গো হল মাতা, আর মোষ রয়ে গেল অসুরই।

এরই নাম কপাল। সে যাই হোক, মাথা থেকে এই সকল আলতু ফালতু ভাবনা ঝেড়ে ফেলতে একটা সিগারেট না ধরালেই নয়, একটা ছোট জনপদে দাঁড়ালাম। আরো কিছু দূর চলে এসেছি, এখানে মাটির চরিত্রে কিছুটা বদল লক্ষ্যনীয় হলজনপদগুলোতে চা, পান, বিড়ি, মিষ্টান্ন, মোবাইল রিচার্জ এর দোকানই বেশি, তাছারা বাকিগুলো সবই প্রায় ব্যাবসায়িক ছোট ছোট আড়ত। গোটা রাস্তা জুড়েই ধানের বস্তা বোঝায় ট্রাকের ছড়াছরি, নিকটবর্তী চালকল গুলো খোরাক এই ট্রাক গুলোই প্রায় প্রতিটি জনপদের কাছে একটা করে স্কুল বিশেষ লক্ষ্যনীয়। দূরে ঘন কালচে সবুজ গাছের সারির ফাঁক দিয়ে ছোট্ট ছোট্ট গ্রাম নজরে আসছে, বাকিটা সেই তেপান্তরের সমতুল্য। রাস্তার ধারের কয়েকটি  বাড়ির পাশের জমিতে কচু, ভেন্ডি, বরবটি, করলা বা উচ্ছে, বারমেসে লঙ্কা, বেগুন সহ বিক্ষিপ্তভাবে শব্জি চাষ হচ্ছে, তবে গোটা রাস্তা জুড়ে মাংসের জন্য বিক্রি হওয়া পোল্ট্রি ফার্ম বেশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যাতে চোখে পড়ল। এছারা বলার মত একমাত্র চালকলের চিমনীগুলো। পরিবেশ দূষনের ভারী ভারী আপ্তবাক্য তথা নিষেধাজ্ঞাকে মধ্যমা আঙুল দেখিয়ে গলগল করে ছাই সহ কালো ধোঁয়াতে আকাশকে ঢেকে দেবার ব্যার্থ প্রচেষ্টাতে রত।

যাত্রা শুরু থেকে প্রায় ৩৫ কিমি চলে এসেছি, সময় ৪৫ মিনিট। এবারে রোদের তেজ বেশ অনুভূত হচ্ছে। হেলমেট মাথাকে এক্সট্রা ঘামিয়ে দিচ্ছে। অতএব আবার বাইক দাঁড় করাতেই হত। কিন্তু রাস্তা চওড়া করতে গিয়ে রাস্তার ধারের গাছগুলো সব আত্মাহুতি দিয়েছে, বেড়েছে শুধু দুধারের নয়ানজুলি গুলো, আড়ে ও বহরে। একটু ছাওয়া খুঁজতে গিয়ে সামান্য দুরেই সেটা পেলাম। একটা বাবলা গাছ। এই চাঁদি ফাটা রোদ্দুরে বাবলা গাছের ওই ছোটছোট পাতার পাতলা ছায়াও যে কতটা স্বস্তিদায়ক, সে শুধু ভুক্তভোগীই জানে। এর আগে বোধহয় কখনই বাবলা গাছকে এতোটা ভাললাগেনি, এতো ভালো করে দেখিওনিএই গরমেও দেখি কি সুন্দর হলুদ হলুদ ফুল ফুটেছে। দু ঢোক জল খেয়ে, একটা পিওর শান্তিনিকেতনী সুতির বড় রুমালকে; বীরেন্দ্র সেহবাগ স্টাইলে মাথায় ব্যান্ডেনা মত বেঁধে মুখটাও মাওবাদীদের মত করে চোখে খোলা রেখে আবৃত করে নিলাম।  নচেৎ পোড়া মুখ আরো পুড়ে জয় বজরঙবালীড় বংশতুতো ভাই সদৃশ্য ধারণ করব।

ওই বাবলার ছায়া এক আশ্চর্য পরিবর্তন আনল মনজগতে, আলফাল ভাবনা সরিয়ে হঠাত করেই দেখার পরিসরকে বিস্তৃত করে দিল। বাইক যত এগোয় ততই দুধারের অবশিষ্ট গাছগাছালি গুলোকে খেয়াল করি মন দিয়েতিরতিরে হাওয়ায় সোনাঝুড়ির ডালে যেন হলুদ রঙের বন্যা লেগেছে, আবার কোথাও কৃষ্ণচূড়ার লাল আগুনে ফুলে সেজে গ্রীষ্ম তার নিজের রূপ জাহির করছে। রংগনের লাল থোকা হোক বা শিরীষের সাদা তীব্র গন্ধ যুক্ত গোটা পরিবেশকে একটা অন্য মাত্রা দান করেছে। রাস্তার ধারের ঝোপ গুলোতেও টগর, জবা, বুনো বেলফুল, সহ অনামী নানান গুল্মতে যে কত রকমের রঙের পসরা, আমরা যাত্রা পথে যদি একটু খেয়াল করি, গরম কোথায় যেন উধাও হয়ে যায়। হলুদ টিকুমা, রাধাচূড়া, কলকেফুল, চাঁপা এমনকি আকন্দও নিজেকে ফুলের সাজে সাজিয়ে রেখেছে। গোটা মাঠ জুড়ে অসংখ্য তাল গাছে জলভরা তালকাঁদি গুলো দুর থেকে পুঁই মিচুরির মত লাগছে, আবার পুরুষ তালগাছ গুলোতেও পুরুষ ফুলের দণ্ড অনেক সুউচ্চে কি গাম্ভির্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এলোমেলো হাওয়ার জন্য পথের ধারের কলাগাছের পাতা গুলো শতচ্ছিন্ন হয়ে কি সুন্দর ছন্দবদ্ধভাবে হাওয়াতে নেচে চলেছে। 

ইউক্যালিপটাস বা ওই জাতীয় কোন গাছের চ্যাপ্টা শুকনো কালো সিমের মত ফলগুলো গোটা রাস্তাময় বিছিয়ে ছরানো। দুধারে পিটুলি, বহল, আঁশ ফল, কড়ুই, গামারি, আঁটির আম, প্যাঁক গজানো সজনের গুড়ি, জারুল, ফলসা, পাকুড়, শ্যাওড়া, ঘোড়ানিম, পাহাড়ি শিমুল, বকুল, কদম সহ কত্তকি যে আমরা অদেখা করে চলে যায় তার লেখাজোখা নেই। বাঁশ ঝাড়েও নতুন কোঁড়া গজিয়েছে, কোঁড়া মানে নতুন চারা বাঁশ গাছ। একটা গ্রাম্যক উন্নয়ন সমিতি দেখলাম লোহার খাঁচা দিয়ে ঘিরে বেশ কয়েক কিলোমিটার জুড়ে রাস্তার দুধারে কলম আমের চারা বসিয়েছে, যদিও তাতে আমের চিহ্ন মাত্র নেই। তাছারা ফল যুক্ত গাছের মধ্যে জাম আর তেঁতুল লক্ষ্যনীয়, ফলের ভারে যেন প্রতিটি গাছই ভেঙে পড়ার উপক্রম। নয়ানজুলির ভিজে জমিতে বড় চওড়া ও ধারালো প্রান্ত যুক্ত লম্বা ঘাসেরই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য, পাশে ঢোলকলমির ঝাড়, কোথাও নোটে শাক, কোথাও মেঠো লতানে কলমি, খারকোন, মানকচুর ঝোপ; এটাই তো আমার শস্য শ্যামলা বাংলা। শুধু কিছু স্থানে পার্থেনিয়ামের বিষ প্রায় সমগ্র অঞ্চলটাকে গ্রাস করে নিয়েছে, যা এক অশনি সঙ্কেত।

কতকিছুই আমাদের রোজকার চলতি পথে দেখেও অদেখা রয়ে যায়, অথচ আমরা বৈচিত্রের খোঁজে কি কি না করে বেড়ায়। সামান্য বট বা অশ্বত্থের নতুন গজানো কালচে পাতা গুলোতে এই নির্দয় জ্যৈষ্ঠের সূর্যকিরন প্রতিফলিত হয়ে চোখে আসলে যে কি এক অপরূপ রূপ পরিলক্ষিত হয় তা কেবল জনান্তিকিই জানে। এর মধ্যেই কখন যে এই গরম, দুরত্বকে অনায়াসে টপকে বর্ধমান শহরের উপকন্ঠে নির্মিয়মান রেলওভার ব্রিজে পৌঁছে গেলাম সেটাই জানিনা। এর পর তো সেই পুর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কাজে হারিয়ে গেলাম। প্রাতরাশটাও কি সুন্দর মধ্যাহ্ন ভোজে রুপান্তরিত হয়ে গেল। 

রবিবার, ২১ মে, ২০১৭

।। হাটে বাজারে ।।

চলতে চলতে - ৩

একে ছাল ক্যেলানো গরম। সকাল থেকেই মনে হচ্ছে, যে মোমো প্যানের ভিতর গ্যোঁত হয়ে বসে আছি। আমার সিল মাছের ব্লাডারের গুঁতো, চর্বিতে চর্বিতে টের পাচ্ছি। বগলে পাওডারের পুরু স্তর প্রবাল প্রাচীরের মত শক্ত হয়ে যাচ্ছে।
তার উপর সক্কাল সক্কাল ধামাধরা দলের কেষ্টু বিষ্টুদের আনাগোনা। শ্লাদের সারা বচ্ছরই মোচ্ছোব; আজ রোববার ঠিক জানে বাড়িতে থাকবো, তাই আমার আপনার মত ম্যাঙ্গো পিউপিলের কাছে চাওয়াটা তাদের তো গনতান্ত্রিক অধিকারজুত অবশ্য খুব একটা হলো না, একটু অসম্মানেই বিদেয় হলো। তার মধ্যে একটা ছিনাল ও ছিলো। ইচ্ছা হচ্ছিলো ওটাকেই একটা কিছু দিই, নিদেনপক্ষে একটা ঝিঙ্গালিলাকি উৎকট পোষাক রে বাওয়া; যৌবনের টায়ারের দাগ টাও মিলিয়ে যাবার পথে, কিন্তু সেটাকে দৃশ্যমান করে রাখার কি আপ্রান প্রচেষ্টা অন্তত একটা ডিও দেবার ও ইচ্ছা শেষমেশ হয়েছিলো। যা ঘামের গন্ধ, আঁতুড়ের স্যারেলাক উঠে আসার যোগার
আমারই বা কম কি!!  একবার মাথা মুছলে এক জামবাটি ভর্তি ঘাম বেড় হচ্ছে, সত্যিকারের হিসু বলতে রাত ছারা গোটাদিনে মোটেই হচ্ছেনা। কিডনির পরিশ্রুত বদ জল সবটাই ঘামের জন্য ব্যবহার হচ্ছে, হিসির ট্যাঙ্কিতে তাই সাপ্লাই নেই। কাজ শুরুর কাজ চলছে, সাইটে একবার রাউন্ড দেবো কি; আধা পথে যেতেই পায়ের জুতো ভিজে সপসপ। অনেকেই লক্ষ্য করছে, সাহস করে বলতে পারছে না, ভাবছে প্যান্টে মুতেছি।
ওরে পাগলা, ওটা ঘামের গঙ্গা যমুনা। মাথার গড়ানো মাল, বুক পিঠ থেকে কালেকসন করতে করতে সরস্বতীর ফল্গু ধারা নিচের দিকে নামছে। যার জন্য অস্বস্তি ঠিকিই আছে, কিন্তু সে রকম কষ্ট নেই। ওটাই কলেবরকে শীতলতা যোগাচ্ছে; তবে চাঁদি ফাটছে। মাথার চুলও শ্লা হালকা হয়ে গেলো, জাষ্ট ঘেমে ঘেমে। লিটার লিটার জল গিলছি, শরবত বৎসর বৎস বাৎসায়ন এক্কেবারে নরকগুলজার। এই গরমেই কেন জামাইষষ্টি হয়? আর সন্ধ্যের কালবোশেখিতেই যত্ত বিয়ের নেমন্তন্ন। একে তো গাড়িতে গাড়িতে পথে ঘাটে ট্রেনে বাসে হাঁসফাঁসে জীবন জেরবার, তার ওপর ফোন! কেন যে এটা আবিষ্কার হয়েছিল কে জানে, মুষ্ঠিযন্ত্র কম, মিথ্যা যন্ত্র বেশি... জ্বলে গেলো জীবনটা।
সকালে উঠে কি খাবো কি খাবো এ একটা ভীষণ যন্ত্রণা। ঝিঙ্কু মামনি বা ডাম্বেলওয়ালা বীরপুরুষ নিদেনপক্ষে মেনিমুখো স্ত্রৈণ মাতৃভক্ত নেকুপুসুটিও নই; যে আধ বাটি দুধে বাইশদানা কর্ণফ্লেক্সের সাথে কুচি কুচি করে কাঁঠালি কলা আর হলুদ কিসমিস ফেলে সাঁটবো। দই চিঁড়ে পোষায়না, মুড়ি চেবানোর সময় নেই। বাকি ম্যাগি, পাস্তা দিয়ে নাস্তা করার মত পকেট সায় দেয়না। পরোটা খাবো তার উপায়ও নেই, সারাটাদিন বদ ঢেঁকুর উঠবে। পেটে বুদ্ধি না থাক, অম্বলের কমতি নেই। অগত্যা দুটো মারি বিস্কুট, চিনি ছারা ঘন দুধচা ই সম্বল, সেটাই এক মগ পুরো। ভারী খাবার মানেই সুজির বিস্বাদ হালুয়া। জলখাবারে লেবু বিট লবন দিয়ে একড্রাম ছাতুর শরবত। আহা, যতই কোন্ডড্রিংকস, রাসনা, গ্লুকনডি বাজারে আসুক ঘোল বা ছাতুর সরবতের কোনো বিকল্প নেই।
এরপর আধা ঘন্টার কমোড সাধনা, আগে আনন্দবাজার নিয়ে ঢুকতাম, সাথে দুটো সিগারেট; এখন মোবাইল। আজ সাদা দাড়ির সুদীপদাকে দেখে বেশ আমলাশোলের মত লাগছিল, বেশ একটা শান্ত পরিতৃপ্ত হয়ে সুকর্মটি করছিলাম, বাইরে থেকে শৌচাগারের লাইট আর এক্সহষ্ট টি বন্ধ হতেই বুঝলাম বেড়োতে হবে ঘড়ির কাঁটা নটার ঘর ছাড়িয়েছে, হাতে বাজারের থলে। পটল আর উচ্ছেতে মানা, তাজা বাটা বাছ আর কাটা পোনার হুকুম হল। বাইকে স্টার্ট দিয়ে পিচ রাস্তাতে নামতেই টের পেলাম, জৈষ্ঠ কাহারে কয়। কোনোক্রমে বাজারের সম্মুখে বাইকটি স্ট্যান্ড করলাম, একটু ছায়া দেখে রাখলয়ামনতুবা কালো সিট রোদের তাপে পুরো তাওয়া হয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করবে; আর তাতে নধর পাছাটি ঠেকলেই ওটি পুড়ে তুন্দুরি হয়ে চকিতেই ওরাংওটাং সদৃশ্য হয়ে যাবে।
ছোটবেলায় দাদুর হাত ধরে বাজারে যাবার পায়েখড়ি। বাজারে যাবার প্রথম আকর্ষন ছিল প্যাঁদানি পরোটা আর জিলাপি। কারন মায়ের কড়া শাসনে ঘরে ওগুলোর কোনো এন্ট্রি ছিলনা। দাদুর সামনে মা কাকিমারা যেতেননা, তাই ওনার সাথে করা যাবতীয় কর্ম মাফ। তখন সপ্তাহে দুদিন বাজার বসত, বাড়িতে ফ্রিজও ছিলনা তাই কাঁচা শব্জি আর কিছু নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছই বাড়িতে আসত। পোলট্রি মাংস দেশে আসেনি। বাজার থেকে মাংস এসেছে মানেই পাঁঠার মাংস বুঝতাম। বাকি মাছের প্রয়োজনে পুকুরে জাল ফেললেই হত, সপ্তাহে ২-৩ বার জাল টানা হত ভোরের দিকে। বেশ কয়েকটা পুকুর ছিল তারাই যাবতীয় মাছের যোগান দিত, ইলিশ আর চিংড়ি ছারা। সব্জিও নিজেদের জমিতেই মুনিষ দিয়ে সারা বছর চাষ করা হত; কারন তখন একান্নবর্তী পরিবারে কমবেশি একেকবারে ১০০ পাত পড়ত এক বেলাতে কাজের লোক নিয়ে। পথে কত লোকের সাথে আলাপ হত দাদুর, কত কথাবার্তা আলাপ কুশল বিনিময়। সাথে দুজন লোক, একজন ছাতা ধরে, অন্যজন ব্যাগ আর আমাদের ধরে। আমরা সংখ্যায় জনা চার পাঁচ তো থাকতামই।  হিরে থেকে জিরে কিনা জিনিস বিক্রি হত বিস্তর দামদড়ের সাথে। বাজারের মাঝে দাদুর ভুষিমালের গদিঘর, সেখান থেকে বসে বসেই বাজার সারা। সে এক দিন ছিল, আজকাল আর সেই দিন নেই, সকলেই ব্যাস্ত, ভীষন ব্যাস্ত। বাইক হাঁকিয়ে এক দৌড়ে কাজ সেরেই ঘরে ফিরে কাজ আর কাজ, হুম ফেসবুক করাটাও কাজই বটে।  
বাজারের মুখেই খারকোন পাতা, কচুর লতি, কচি নিমপাতা, বুড়ো পাটশাক, ছালউঠা তালের শাঁস, ন্যাতানো লাউ শাক, ব্রাহ্মী শাক, অনাথ পুঁই ডাটারা যেভাবে স্বাগত করল, তাতে মনে হল কৃপণ বাড়ির ভোজে এসেছি। চার কেজি আলু ৩৬ টাকা, দুকেজি পেয়াজ ২৪ টাকা, আর শুধাইনি, আদা, রসুন, কাঁচা লঙ্কা, কাঁচা আম, লালশাক, ঝিঙে, ধনেপাতা, পাতিলেবু, ভেন্ডি, একটা ছাঁচিকুমড়ো, এক ফালি মিষ্টি কুমড়োর সাথে, টমাটো, বরবটি, বেগুন, কাঁচকলা, বাঁধাকপি, কাঁকরোল, মাচার শশা ও কেজি দুয়েক কচু। এ দিকের সব্জি বাজার শেষ। মাথার উপরে কালো ত্রিপল চাঁদি ছুঁয়েছে, তার যেন হাত খানেক উপরেই সূর্য বাবাজীবন রোদের শোরুম খুলেছেন। বাজারের সেই ঠিক এক হাত সরু হাঁটা পথের দুপাশে ঝাঁকা নিয়ে শব্জি বিক্রেতারদল শব্জি শিকারীদের সাথে অদৃশ্য যুদ্ধে নিয়োজিত। গোটা চারেক খাসির লাশকে পাশ কাটিয়ে, খাঁচায় বন্দি মুরগী গুলোর ভবিষ্যতকে অগ্রাহ্য করে, গুণে গুণে ১৯ কদম পর পৌছালাম তীব্র আঁশটে গন্ধ ওয়ালা মাছের বাজারের দিকে।
মাছের বাজার, পৃথিবীর এক আশ্চর্য শোরুম। কিনবে লোকে একটিই প্রজাতি, কিন্তু দেখবে গোটা বাজার আর দামদড় করে আর্ধেক বাজারের; নতুবা বাঙালী বাজুরেদের আত্মা শান্তি হবেই না। শিলভারকার্প আজও যথারীতি সস্তা, ৮০ টাকা কেজি ওটাই বেশি বিকোচ্ছে; তার পরেই লোটে, ভোলা, পাঙ্খা ইত্যাদি গঙ্গার চিঙড়ি ৩০০ টাকা কেজি, মোটামুটি ৫০-৬০ গ্রাম সাইজের একেকটা ও ছোট মাথাযুক্তঅন্ধ্রের রুই, একেকটা ১০-১৫ কেজি সাইজের, ভিড় ওখানেও। কিন্তু সবচেয়ে বেশি ভিড় জ্যান্ত কাতলার কাছে, একেকটার সাইজ ৬০০ গ্রাম সাইজের। জল থেকে তুলতেই দেখি আমারই মত মুখ হা করে খাবি খাচ্ছে; সুতরাং স্বজাতীয় ভেবে এদের অগ্রাহ্য করতে পারলাম্না। খান তিনেক নিলাম, ২০০ টাকা করে কেজি। পাশের মাছওয়ালার আমাকে দেখে হাঁকাহাঁকি শুরু করেছে, তার কাছে কিছু গঙ্গার মিক্স-চুনো, কিছু ডোবার ল্যাঠা ও শিঙ্গি রয়েছে। একটা মৃদু হাসি দিয়ে বোঝালাম আজ তোমার দিন নয় আমার জন্য। আরেকটুদুর এগোতেই দেখি ইলিশ... নোলা ছোঁকছোঁক করে উঠল। পাশে বড় পুঁটি, মৃগেল, চিতলও আছে।
অসময়ের ইলিশের দামদড় করাটা ঠিক স্ট্যাটাসে খাপ খায় কি খায়না বুঝে উঠতে পারছিলামনা। ‘দে পচা দুটো ইলিশ দে’ বলতেই পচার হাজা ওয়ালা হাতটা তুলে আমাকে থামানোর ভঙ্গিতে হেসে বলল, কাকা- ইটা ইলিশ লয় গো, চোকটা দেকোনা কেনে...
সত্যিই তো মড়া মাছ গুলো আমাকে বেশ বড় বড় করে চোখ দিয়ে ভর্তসনার ভঙ্গিতে দেখছে, ইতি মধ্যেই পচার ভাই উজো বলে দিয়েছে এটা খয়রা মাছ, কিন্তু বড় সাইজের। যাই হোক ওটাও নিলাম দু পিস, সাড়ে আটশো গ্রাম। ধনেপাতা দিয়ে পোড়াপোড়া চচ্চড়ি বেশ জমে এই মাছের। ঘেমেনেয়ে বাজার সেরে বেড়োচ্ছি, এক্কেবারে গেটের মুখে পাকরাও করল মাতাল সাহেব। আগে ও ছিঁচকে চোর ছিল, পুলিসের ক্যালান খেয়ে আজকাল আর ছুটতে পারেনা। তাই আম বাগান পাহাড়ার কাজ করে, তাদের হয়েই সম্ভবত আম বেচতে এসেছে।
ভাইপো তুমি বাজারে? ছেলেটা আসেনি বুঝি? বুঝলামনা বাজারে আসতে আমার মানা কোথায়। সে আমার বাবার বয়সী, বাপকে নিয়ে একগাদা কথার ফাঁকেই বেশ কয়েক কেজি আম আমার থলেতে দিল। বেছে বেছে কিছু আঁটির আম আর হিমসাগর; এক্কেবারে গাছপাকা। একটা আমের একটা সাইড কালোহয়ে পচ ধরেছে, সেটাকে হাতে দিয়ে বলল, ভাইপো এটা খা; কোকিলেপাদা আম। আমি বুঝে পেলামনা কোকিলের পাদে এমন কালো হয়ে যাবার কারনকি? আর কোকিল বেছে বেছে আমেই বা কেন পাদ দিতে আসবে? অদৌ কি কোকিল পাদ দেয়? বললাম ব্যাগে দাও খুড়ো, হেব্বি গরম, বাড়ি ফিরে খাবো। কুড়ি টাকা কেজি আম, সাথে একগাদা ঝাড় পাতা সমেত লিচুও আছে। টাকা মেটাতে গয়ে প্রমাদ গুনলাম। টাকা শেষ, মুখ দেখে খুড়ো বলল বাড়ি যা, আমি বিকালে গিয়ে নিয়ে আসব।
বাড়ির মহিলাদের এ এক চিরন্তন কীর্তি। সুযোগ পেলে পকেট মারাটা যেন জন্মগত অধিকার, আর তারই ফলাফল উপরের ঘটনা। বাইকে স্টার্ট দিয়ে গিয়ে একটা সিগারেট মুখে নিলাম, তাতেই আবিষ্কার করলাম পকেটে দেশলাই নেই। ছাতা সাইকেলের পর এই দেশলাই। আমার চিরাচরিত অভ্যাস, দেশলাই হারাবেই। শ্লা দরকারের সময় আর খুঁজে পাবো না। যে পকেটেই হাত দিই সিগারেট ১-২ প্যাকেট বেড়োবেই। কিন্তু দেশলাই বা লাইটার!!!! কোন মতেই না। কোথায় যে ফেলি, না কি যে হয় কিছুই জানি না। ওদিকে নেশা মাথায় চড়ে নেত্ত করছে, বাড়িতে অপিসে সর্বত্র লোকে খিস্তি খাচ্ছে......

সারমর্ম:- দেশলাই না হারানোর কৌশল জানা আছে কারো?
Please help me, এবার মনে হচ্ছে উন্মাদই হয়ে যাবো।


তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না

⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...