সৃষ্টিকর্তা পাহাড় বানিয়েছে, সেখানে সবুজ বন দিয়েছে, আর আছে সেই সবুজ বনের খাঁজে খাঁজে উচ্ছল ঝর্ণা। রয়েছে খরস্রোতা পাহাড়ি নদীর কলধ্বনি যারা বাতাসের সাথে যুগলবন্দিতে একটা মিলনাত্বক বন্দিশের সৃষ্টি করে। পাহাড়ি বনের মাঝে জমে থাকা লক্ষ লক্ষ বছরের প্রাচীন দই-জমা কুয়াশাতে লেখা ছিল আমার ঠিকানা।
কোনো এক অজানা কারনে হঠাৎ করে ভাবনাস্থল গর্ভবতী হওয়ার কারনে অক্ষরের রূপে প্রসবিত কিছু প্রলাপের সংকলন এই ঠেক। গুনী লেখকের সমৃদ্ধশালী লেখনি পড়তে পড়তে, অক্ষমের প্রয়াসে কম্পিউটারের কিবোর্ডে হাত চলে যায়। ফল স্বরূপ, ঘটে চলা রাজনীতি, সমকাল, মানবিক বিকার, সময়চর্চা, ছ্যাঁচোর এর মত রিকেটগ্রস্থ লেখনীর জন্ম হয়। এরই রেশ ধরে সময়চর্চা, রবিবাসরীয়, সমকাল সহ রম্য, রচনা, গল্প ইত্যাদি ভুলভাল গুলোকে সংরক্ষিত করা হয়েছে এই টোলে। এটা সমমনষ্ক মানুষদের ভাব বিনিময়ের স্থান। উন্মাদের টোলে সকলকে স্বাগতম জানাই।
রবিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৩
এক পাহাড় প্রেম
আমাদের জীবনটাও এই পাহাড়ের মতই, দাঁড়িয়েই থাকি অধিকাংশ সময়, কত এবড়োখেবড়ো পথ, কান্নার নদী, হাসির ঝর্ণা, অন্ধকার কুয়াশাচ্ছন্ন আগামীকাল, পাকদণ্ডী বেয়ে শুধুই চড়াই আর উৎরাই, দু'ধারে কত সম্পর্কেরা পরে রয়ে যায় রঙিন পাহাড়ি ফুলের মতো, মেঘের মতই ঋজু বনানীতে জমা থাকে বেদনা, হতাশা আর ব্যর্থতার বাষ্প, ভোরের সুর্যের মত উঁকি দেয় সুখ, তারপর সেই সুখ পুড়িয়ে দিয়ে অস্ত যায় আরেকটা সুখকে আনবে বলে। হিমেল ঠান্ডা, একটা অন্ধকারের চাদর গায়ে শুয়ে পরে পাহাড়, জীবনও। পাহাড়েও ভূমিধ্বস হয়, ঝরে যায় জীবন- কত সমার্থক এই জীবন নামের পাহাড়ের সাথে- জীবন্ত পাহাড়ের। আমরা তো শুধু হেঁটে পেড়িয়ে যাবার চেষ্টা করি মাত্র। না পাহাড়ে বাস করি, না জীবনে- শুধু দৌড়ে মরি।
অথচ আমরা কোথায় ঘুরে মরছি! ভেবে দেখেছেন, আমরা কার সাথে জিতে কী হাসিল করতে চাইছি? সত্যিই আমরা কত কাজ করি, পরিশ্রম করি, বাড়ি-গাড়ি-সংসার-অর্থসম্পদ সঞ্চয় করি, কিন্তু হিসাব কষে বলতে পারবেন- কদিন বেঁচেছিলেন ঠিক যেমনটা বাঁচতে চেয়েছিলেন বা বাঁচা উচিৎ ছিল! আপনার স্মৃতি পটে কী নিজেকে সঞ্চয় করতে পেরেছেন?
এমন কোথাও, এমন কোনোখানে, আমরা গোটা জীবনটা কাটিয়ে দিই, যে জায়গার অধিকাংশটা 'আমার' ছিলইনা কখনও। নিজের সাথে জেতার বদলে আমরা সেই মানুষগুলোর সাথে অলীক রেস লাগিয়ে দিই, যারা কখনই 'আমার' ছিলনা।
বিলাস বস্তু সুখ দিলেও, মানসিক শান্তি দিতে অক্ষম। অভিলাষ আর প্রয়োজনের মাঝে যে বিষয়টা থাকে তার নাম মানসিক পরিতৃপ্তি।
আর এই পরিতৃপ্তির জন্যই আমরা বেড়িয়ে পরি- সেই পরিবেশের উদ্দেশ্যে, যা আমাদের আসল ঠিকানা, যেখানে কৃত্রিমতা নেই, প্রকৃতির মোহনীয় রূপটানের কৌমার্য আজও অক্ষতযোনি-
সময় হলে আসবেন কখনও আমাদের পাড়ায়, হিমালয়ে- যেখানে আনাচেকানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তাল তাল জীবন.....
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
তৃণমূলের প্ররোচনার ফাঁদে পা দেবেন না
⛔ সতর্কতামূলক পোষ্ট ⛔ আজ SIR এর ভোটারলিষ্ট বার হবার পর- জনরোষের দোহায় দিয়ে দিকে দিকে ‘সংগঠিত অশান্তি’ লাগাবার ‘ফুল প্ল্যান’ নিয়ে এগোচ্ছে শাা...
-
(১) জাতীয় ডিম্ভাত দিবস ১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাই এর জমায়েত কী উদ্দেশ্যে হয়েছিলো জানেন? তোলামূলের রাজ্যে না জানাটাই আপনার অধিকার। ভোটার তাল...
-
ছোটবেলায় বাবা বলতেন "শাগ খেলে বাঘের বল"। যদিও তিনি ওটাকে শাকই বলতেন আমরা কচি কানে বাঘের সাথে মিলিয়ে শাগ শুনতাম। এহেন পরিস্থ...
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন